Category: BANGLADESH

  •  “বাংলাদেশে ভারতের কপাল পুড়তেছে” – সুমিত গাঙ্গুলী 

     “বাংলাদেশে ভারতের কপাল পুড়তেছে” – সুমিত গাঙ্গুলী
    গৌতম দাস
    ২৭ ডিসেম্বর ২০২৪  সকাল ১০ঃ ৪১
    https://wp.me/p1sCvy-67F

     

    Sumit Ganguly

     

    চলতি বাইডেন প্রশাসন মানে যার ক্ষমতার আয়ু আগামি ২০ জানুয়ারি ২০২৫,  ট্রাম্পের শপথের মধ্য দিয়ে শেষ হতে যাচ্ছে – সেই বাইডেন প্রশাসনের ফেভরিট মিডিয়া ছিল আমেরিকার “ফরেন পলিসি” পত্রিকাটা; বাইডেন প্রশাসনের গৃহিত নীতি-পলিসি বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে এশিয়ায় আমাদের মত দেশে কী প্রতিক্রিয়া আনছে তা বুঝা ও বাইডেন প্রশাসনের কাছে পক্ষের লোকজনকে পৌছে দেওয়ার জন্য এখানে লেখালেখি করতেন। এই ছিল “ফরেন পলিসি”  এর সাথে এরেঞ্জমেন্ট। আবার এর মাধ্যমে যদি এশিয়ান স্থানীয় জনমতও প্রভাবিত করা যায় সেটাও বাড়তি। যেমন ধরেন এমনই এক থিঙ্কট্যাংক ফেলো কুগেলম্যান; তিনি এখানে প্রতি সপ্তাহে এশিয়াতে বাইডেন প্রশাসনের স্বার্থগুলো কোন দিকে হাঁটছে বা লাইনে আছে কিনা এর আগাম ইঙ্গিত প্রশাসনকে জানাতে নিয়মিত লেখা ছাপতেন তিনি এই ফরেন পলিসি পত্রিকায়।  আরো সুনির্দিষ্ট করে যেমন ধরেন, গত ১০ ডিসেম্বর ২০২২ বিএনপি এক কালজয়ী সমাবেশ করেছিল সায়েদাবাদ-গোলাপবাগ মাঠে; হাসিনার শত বাধা সত্বেও তা উপেক্ষা করে। অথচ এই কুগেলম্যান লিখলেন এটা তেমন কোন সমাবেশই নয়! কারণ, কুগেলম্যান সম্ভবত জানতেন, পরের সাত মাসের মধ্যেই মানে সেপ্টে. ২০২৩ বাইডেন-লু পল্টি মারবেন। বিরোধীদলকে রাস্তায় নামানোর পরে হঠাত তাদের হাত ছেড়ে দিবেন। আর উলটা হাসিনার হাত ধরেই “আমরা একসাথে কাজ করব” বলে হাসিনাকে চিঠি (৫ ফেব্রু.২০২৪) লিখবেন!  আর এসবের আগে, আরেকবার হাসিনাকে (৭ জানু.২০২৪) ভোটচুরির ক্ষমতায় হাসিনাকে আসীনে সহায়তা করবেন। ভোটচুরি দেখেন নাই ভান করবেন!  আশা করি পাঠক এখন বুঝতে পারছেন “ফরেন পলিসি”  কী ও কত প্রকার! তো সেরকমই “ফরেন পলিসি”  তে এমন আরেকজনও  প্রায়ই লিখেন এমন কলামিস্ট ব্যক্তিত্ব হলেন সুমিত গাঙ্গুলী।

    [যারা বিস্তারিত পড়তে চান না তারা নিচের প্যারাটা বাদ দিয়ে পরের প্যারায় চলে যেতে পারেন।]
    সুমিত গাঙ্গুলী নামটা শুনে মনে হতে পারে তিনি ইন্ডিয়ার মানে অন্তত কলকাতায় জন্ম ও বড় হয়েছেন নিশ্চয়! কথাটা আংশিক সত্য! যদিও হ্যা, তাঁর নাম থেকে বুঝা যায় তিনি মানে তাঁর ফ্যামিলি কলকাতার ব্রাহ্মণ কোন পরিবার। কিন্তু  সুমিত গাঙ্গুলীর জন্ম ও বেড়ে উঠা ঠিক কী কলকাতায় বা ইন্ডিয়ায়? না, নেটে খুঁজে তা কোথাও পাওয়া যায় না।  বরং জানলাম তিনি আমেরিকার কেন্টাকি রাজ্যের খুবই সস্তা টিউশন ফি [দানের চাঁদা তুলে চলা বলে] এর এক কলেজ হল Berea College । আর সেখান থেকে গ্রাজুয়েশন-অনার্স  দিয়ে তাঁর একাদেমিক লাইফ শুরু করেছিলেন। আর এখন? এখন তিনি পুরা দস্তুর এক আমেরিকান (ভারতীয় নয়) একাদেমিসিয়ান; আর অন্তত দুডজন ইন্সটিটিউট বা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে তিনি জড়িত।  শুধু আমেরিকান হুভার [Hoover Institution] ইন্সটিটিউট মানে প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কন্ডালিসা রাইস যার ডিরেকটর সেই হুভার ইন্সটিটিউট থেকে সুমিত গাঙ্গুলির যে পরিচয়টা হুভার দিয়েছে সে তথ্য প্রায় আধা পাতা জুড়ে ঠাসা বিশ্ববিদ্যালয় আর ইন্সটিটিউটের নামে। সেই লিঙ্ক এখানে দিলাম আগ্রহিদের জন্য।  তবে সবচেয়ে মজার কথা হল, উইকি যা লিখছে -“Sumit Ganguly is an American political scientist. He is a senior fellow at the Hoover Institution and a professor of political science at Indiana University … “। অর্থাৎ সুমিতের পড়াশুনার ভিত্তি হল পলিটিক্যাল সাইন্স কিন্তু তিনি আমেরিকান (কোন ভারতীয় নন) পলিটিক্যাল সাইনটিস্ট। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় হুভার ইন্সটিটিউটে হান্টিংটন প্রোগ্রাম এর পরিচালক তিনি। আসলে ক্যালিফোর্নিয়ার স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে (খরচ-বাজেটের দিক থেকে নিজস্ব পরিচালনা বোর্ড আছে) এমন যে “হুভার ইন্সটিটিউশন”  যা মূলত এক কনজারভেটিভ থিঙ্কট্যাংক। আর সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ হল, হুভারে তিনি এখানে ইন্ডিয়া-আমেরিকা সম্পর্ক খুবই শক্ত করা যায় কী করলে [Huntington Program on Strengthening US-India Relations] তেমন এক প্রোগ্রাম চালান।
    তবে সম্ভবত আরো বিষ্ময়কর হল ব্লুমিংটন শহরে  যে ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি আছে সেখানে ভারতীয় সংস্কৃতি চর্চার এক টেগোর চেয়ার [নামেই রবীন্দ্র গবেষণা ফান্ড বলতে পারি] এরও বড় কর্তা তিনি।

     

    কেন সুমিত গাঙ্গুলীঃ
    এতক্ষণ ধরে কেন সুমিত গাঙ্গুলীর পরিচয় নিয়ে এত কথা বললাম! এক নম্বর কারণ, তিনি আমেরিকা-ইন্ডিয়ার সম্পর্ক শক্ত রাখার এক গবেষণার বড় কর্তা। আর দুই নম্বর কারণ হল, তিনি ঐ “ফরেন পলিসি”তে গত ১৬ ডিসে. ২০২৪ এক কলাম লিখেছেন যার শিরোনাম হল, “বাংলাদেশে ভারতের কপাল পুড়তেছে” [India’s Fortunes Shift in Bangladesh]। এই একই লেখার বাংলা অনুবাদ করে অবশ্য ছেপেছে আমাদের মানবজমিন ২০ ডিসে. ২০২৪ শিরোনাম, “ঢাকা প্রসঙ্গে বদলাতে পারে ভারতের পররাষ্ট্রনীতি“।

    এখন আমাদের অনেকের নিশ্চয় মনে আছে ট্রাম্পের বিজয়ের পর থেকে মোদির বিজেপি শুধু না খোদ শেখ হাসিনাও খুশিতে নেচে আমাদের ভয় দেখাচ্ছিলেন যে এইবার তাদের ট্রাম্প-ভাইয়া এসে পড়েছেন; আর চিন্তা নাই; তিনি নিশ্চয় এবার মোদিকে দিয়ে বাংলাদেশে হাসিনাকে আবার ক্ষমতায় বসায়ে দিবেন???
    সাথে আরো আছে যে আর চিন্তা কইরেন না তুলসি গাবার্ড [Tulsi Gabbard, এককালে ইসকনের চেলা ও দুবছরের জন্য কংগ্রেস মেম্বার ও ‘র’-এর সাথে কাজ করা]  ট্রাম্প বাবাজি তাঁর নির্বাচনি প্রচার কালে হঠাত করেই তুলসিকে তাঁর দলে ভিড়িয়ে নিয়ে স্টেজে তুলেছিলেন।  দলে ভিড়িয়ে নেয়া বললাম এজন্য যে মোদি যে তুলসি কে চিনতেন তিনি ডেমোক্রাট দলীয়। পরে তিনি ডেমোক্রাট দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। এবং এরপর থেকে ইন্ডিয়া বা র-এর সাথে  তুলসির আর সম্পর্ক আছে কিনা তা জানা যায় না। কিন্তু তবু কর্মিদের চাঙ্গা রাখতে বিজেপি মা মোদি তুলসি আসছে বলে প্রপাগান্ডা শুরু করে দিয়েছে।

    বাংলাদেশে ভারতের কপাল পুড়তেছে – কথার অর্থ তাতপর্য কীঃ
    এমনিতেই মোদির ট্রাম্প ভাইয়া আসতেছে প্রপাগান্ডায় ট্রাম্প আসলে – কী ইন্ডিয়া নীতি – নিয়ে এবার ক্ষমতাসীন হচ্ছেন সেদিকটা মোদি সামনে বা আমাদের জানতে আগ্রহী নন। কিন্তু কঠিন সত্যিটা হল আগামি ২০ জানু ২০২৫ শপথের পরের দিনগুলোতেই ট্রাম্পের ডিপোর্টেশন [deporation] মানে বিদেশি অভিবাসী (শ্রমিক, হোয়াইট কালার সব) খেদানো প্রোগ্রাম শুরু হয়ে যাবে। ইন্ডিয়ার দৈনিকগুলোর শিরোনাম হল প্রথম পর্যায়েই “18,000 Indians At Risk Of Deportation……”  মানে প্রাথমিক ধাক্কায় ১৮ হাজার ইন্ডিয়ানক্র বের করে দেয়া হবে। এটা গত ১৪ ডিসেম্বরের ইন্ডিয়ার প্রধান নিউজ ছিল। তবে এটা মনে করা ভুল যে এটা কেবল ইন্ডিয়ার বেলায়; বরং এটা কমবেশি সব দেশের বেলাতেই সত্য; এমনকি বাংলাদেশি যারা হাসিনার আমল দেখায় এই অজুহাতে আমেরিকা ঢুকেছে তারাও ডিপোর্টেশনের আওতায় আসবেন। আর ওদিকে ল্যাটিন আমেরিকা মেক্সিকো ইত্যাদি তো বটেই এমনকি কানাডার বিশেষ সুবিধা যা ছিল তাতে টান পড়বে (কানাডাকে আমেরিকান রাজ্য হয়ে যেতে বলা) ইত্যাদি এসব কিছু।
    এর সাথে আছে যারা এর আগে আমেরিকায় মাইগ্রেন্ট হয়ে পরে একটা (নাগরিকত্ব নয়) রেসিডেন্ট পারমিট হাতে পেলেই (মানে বসবাস ও কাজে যোগ  দেওয়ার অনুমতি প্রাপ্ত হয়েছে), এরপর এদের কোন সন্তান আমেরিকায় জন্মগ্রহণ করলেই তারা আমেরিকান নাগরিক হয়ে যেত; এই শর্ত এখন ২০ জানু. ২০২৫ থেকে প্রত্যাহার করা হবে।  ফলে বাংলাদেশের যারা আগেভাগে দেশে ছুটে এসে এরা (বিএনপির খেদমতে বিশেষত মিডিয়া জগতে ঢুকে পড়ার জন্য) ডেনপারেট তারা ঠিক হাসিনা পতনের জন্য না ট্রাম্প এসে পড়ছে বলেই তাদের এই আমেরিকা ত্যাগের মরিয়া অবস্থা আর বিএনপির নেতাদের পিছনে লাইন দিয়ে খাড়া হয়ে যাওয়া।  এমনকি H-1B ভিসায় (টেকনোলজি জ্ঞান থাকাদের জন্য যেমন আইটি টেকনোলজি) বিশেষ করে ভারতীয়রা যেমন এতদিন ধরে নিত যে এই H-1B ভিসা থেকে তাদেরকে আমেরিকা সহজে বের করে দিতে পারবে না;  এমন ভিসাধারীরাও এখন একই ভাবে অনিশ্চিত নড়বড়ে হবে। একাজে ট্রাম্পকে বুদ্ধিদাতা আর সবচেয়ে ঘনিষ্ট দোস্ত হল ইলন মাস্ক [Elon Musk] যিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা [AI Tech] টেকনোলজিতে বড় বিনিয়োগকারি।  মানে হল। আইটি প্রোগ্রামার বলে যে পেশাটা আমাদের মত দেশগুলা চিনি এই পেশা বা এরা হল তাদের কাজে প্রোডাক্ট তৈরিতে সবচেয়ে শ্রমঘন লেবার অংশটা  – মানে কোড বসানোর কাজ হল এদের।  আর এটাই এলন মাস্ক মনে করেন AI Tech দিয়ে করানো সম্ভব।   ফলে H-1B ভিসায় টেকনোলজিস্টদের ভারত থেকে আনা আর তত জরুতি থাকবে না।  এই হল ইলন মাসকের দাবি!

    আর এবারের ট্রাম্প প্রশাসনে সবার উপরে  যে মূল নীতি-পলিসি হতে যাচ্ছে এর কেন্দ্রটা হল – টেকনিক্যাল ভাষায় ইকোনমিক ন্যাশনালিজম। [এনিয়ে আমার প্রথম পর্বের ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। পরে আরও দুই ডিটেল পর্ব আসতেছে] । সোজা বাংলায় আমদানি-রপ্তানি কমানো; বিশেষ করে আমদানি; আর সেজন্য অন্য যেকোন দেশের পণ্যের উপরেই নুন্যতম ১০% আমদানি ট্যাক্স বাড়ানো আর চীনের মত দেশের বেলায় নুন্যতম ৬০% ট্যাক্স আরোপের এক অর্থনীতি তিনি চালু করবেন। এক কথায় যাই নিজ দেশের মানুষ ভোগ-ব্যবহার করবে এমন সব পণ্য দেশেই যেন হয় সেই মুখি এক অর্থনীতি! তবে একটা হল সেই কল্পিত আকাঙ্খাটার [imagined aspiration] কথা বললাম। বাস্তবে তা কতদূর কী করা যাবে সেটা আলাদা প্রশ্ন!

    কথাটা শুনে এলেখার বেশির ভাগ পাঠক নীতি হিসাবে এটাকে খুবই ভাল মনে করবেন হয়ত; কারণ আমরা বেশির ভাগ পাঠক আসলে জাতিবাদি – নিজেই কামাবো আর নিজেই খাব এর চেয়ে ভাল আর কী নীতি হতে পারে। ধারণাটা মোটা দাগে এধরণের।  আমরা, আমরা আর আমরাই! কিন্তু আমি সরি; এই নীতি এখন যতই শুনতে ভাল লাগুক না কেন এটা এখন অকেজোই শুধু না বাস্তবায়নও অসম্ভব। স্রেফ এককালের কাগুজে কল্পনা।  বিশেষ করে ১৯৮০ সালের পরে দুনিয়ার অর্থনীতি এ্টা ত্যাগ করে অন্যদিকে চলে গেছে।  এমনই অন্যদিকে যে সেটা আর পুরানা দিনে বা চেহারায় ফেরানো অসম্ভব, ফলে অ-বাস্তবানযোগ্য এক কল্পনা মাত্র।
    কেবল একটা মন্তব্য করব এখানে বিস্তারে যাব না,  কমিউনিজম এর (মার্কসের নয় স্টালিনের বুঝের মার্ক্সবাদি) অর্থনীতি এর বুঝও ছিল ঠিক এটাই। এখন ডোনাল্ড ট্রাম্প যেটা করতে চাইছেন এটা সেটাই। যদিও মিলটা কাকতলীয় মানে, ট্রাম্প কমিউনিস্ট হতে চলেছেন ব্যাপারটা  ঠিক তা নয়। তবে সারকথাটা হল আন্ত-রাষ্ট্রীয় বাণিজ্য অদরকারি জিনিষ!  মনে করা – এমন এই বোকা বোধ! আর একটা লাইনে বলিঃ এর মানে হল, কল্পনা করেন বাংলাদেশ থেকে সব গার্মেন্টস বা লেদার প্রডাক্ট রফতানি বন্ধ ফলে কারখানাও বন্ধ; কিংবা আপনাদের গর্বের পাট রপ্তানি অপ্রয়োজনীয় – এমনটা মবনে করলে যা হবে এটা তাই! বিস্তারে পরে অন্য কোথাও আনবো ইস্যুটা। আর এটাই টেকনিক্যাল ভাষায় ইকোনমিক ন্যাশনালিজম; যেটা ট্রাম্প প্রশাসনের মুখ্য নীতি পলিসি হতে যাচ্ছে। কিন্তু আমাদেরেকে এই লেখার মূল প্রসঙ্গে ফিরে যেতে হবে, ফলে নিচে সেদিকে যাচ্ছি…।

    অর্থাৎ  ইন্ডিয়া -আমেরিকা সম্পর্ক যেটা মুখ্যত ক্রম-উত্থিত গ্লোবাল অর্থনীতির নেতা হয়ে উঠতে চাওয়া চীন, এই চীনকে ঠেকাতে ভারতকে ব্যবহার করা (বিনিময়ে বাংলাদেশকে ইন্ডিয়ার হাতে তুলে দেয়া) – এটাই ছিল এই নয়া শতক ২০০১ সাল থেকে আমেরিকান নীতি। যার আয়ু এখন প্রায় ২৪ বছর; আর এতদিনে এখন আমেরিকান নীতি-নির্ধারণী মহলের অনুভব হল এই নীতি-পলিসি আকামের; এতে কোনই লাভ হয় নাই; সব পন্ডশ্রমে গেছে। তাই ২০০০ সালেরও আগের ইন্ডিয়াবিরোধী (বঙ্গোপসাগর, আন্দামান বা উপরের নর্থ-ইস্ট বা বার্মা ইত্যাদি কেন্দ্রিক) যা কিছু স্ট্রাটেজি আমেরিকার ভাবনায় ছিল (কিন্তু ভারতকে জড়িত করে চীন ঠেকানোর লোভে) পরে  সেসব নীতি কার্পেটের নিচে লুকায় ফেলে রেখেছিল এতদিন আমেরিকা। সেসব নীতি-ইচ্ছা-খায়েশগুলো আমেরিকার এখন বের করে আনছে।

    দুঃখ আর হতাশার কথা সুমিত এখনও কলকাতার হিন্দুত্ববাদী জমিদার ব্রাহ্মণের দৃষ্টিভঙ্গিতেঃ
    উপরে ইন্ডিয়া-আমেরিকা সম্পর্কে যে ব্যাপক পরিবর্তন ট্রাম্প আনতে যাচ্ছেন সে সম্পর্কে সুমিত গাঙ্গুলী টের পেয়েছেন বা জানেন এমন কোন বাক্য বা ধারণার ইঙ্গিত তার পুরা লেখার মধ্যে কোথাও নাই! মূলত াজকের নয়া পরিস্থতিতে মোদি বাংলাদেশের উপর আগের মত আধিপত্য এর কিছুই পাবেন না; সব সে খুইয়েছে। আর এটার কারণেই সুমিতের দেয়া শিরোনাম “বাংলাদেশে ভারতের কপাল পুড়তেছে” এর আসল অর্থ; যদিও তা বুঝে সুমিত এই শিরোনাম দেন নাই। তিনি মূলত বলতেছেনঃ  হাসিনা ইন্ডিয়ার বসানো পুতুল-ক্ষমতা ছিল ফলে ইন্ডিয়ার তাতে সব সুবিধা ছিল কিন্তু হাসিনা এখন উতখাত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন না যে হাসিনা আবার ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন – অতএব একারণেই ভারতের কপাল পুড়েছে।

    সুমিত যিনি প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে আমেরিকায় একাদেমিক জীবনে আছেন এবং বিরাট পদবী ও ক্ষমতায় আমেরিকা-ইন্ডিয়া সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ বলে পরিচিত; অথচ ট্রাম্পের হাত ধরে  আমেরিকা-ইন্ডিয়া সম্পর্ক যে নয়া মোড় উলটা যাত্রা নিচ্ছে; ইন্ডিয়া আর আমেরিকার জন্য অত গুরুত্বপুর্ণ থাকছেনা – (কারণ চায়না কনটেইনমেন্ট  বা গত ২০১০ সাল থেকে নেয়া “চীন ঠেকানোর” আমেরিকান নীতি আজ অকেজো প্রমাণিত) অথচ এদিকটা নিয়ে সুমিত একেবারেই বেখবর? এটা অবিশ্বাস্য এবং এতে তাঁর চিন্তার স্টুপিডিটি বা সীমাবদ্ধতা বাইরে প্রকাশিত! আর এতে ফাইনালি তিনি যে এক ইসলামবিদ্বেষী হিন্দুত্ববাদী জমিদারি আধিপত্যের মধ্যেই আছেন তাও প্রতিভাত!  পঞ্চাশ বছর আমেরিকায় কাটানো একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একাদেমিক  আর  উনার পাশাপাশি একজন যে এই পুরাটা সময় কলকাতা নিবাসী আম-হিন্দুত্ববাদী বাসিন্দা ছিলেন – এমন দুজনকে পাশাপাশি রেখে তুলনা করলে দেখা যাবে  এদের মধ্যে আসলে কোন ফারাকই জন্ম নেয় নাই!!!! অবিশ্বাস্য! ছোট থেকে মা, দাদি-নানির কোলে শুয়ে যে মুসলমানবিদ্বেষী গল্প শুনেছে সেগুলোও একজন আমেরিকা নিবাসী লাগাতর পঞ্চাশবছর রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একাদেমিককে কী এখনও তাড়া করে? কীভাবে? তিনি কীভাবে এসব আবর্জনাকে এখনও তাঁর চিন্তার মূল কাঠামো বানিয়ে রাখতে পারেন???

     পঞ্চাশ বছরের আমেরিকান একাদেমিক লাইফ কাটানো সুমিত বেচারার দুঃখঃ 
    এক. সুমিত লিখছেন, “যারা হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সাহায্য করেছিল তাদের মধ্যে ইসলামপন্থী এবং ভারতবিরোধী দল রয়েছে” ????? আচ্ছা এর মধ্যে অস্বাভাবিক জিনিষটা কী? হাসিনা আর মোদি মিলে যদি বাংলাদেশকে গুম-খুন-অপহরণের আয়নাঘর বানায় রেখে  ১৫ বছর ধরে দেশটা চালায় তো তাতে তো  হাসিনা উতখাতে বাংলাদেশের সব অংশের জনগণের অংশগ্রহণ থাকাটাই স্বাভাবিক; নাকি? ইসলামপন্থি মানে ইসলামি রাজনৈতিক দল হলে এটা অপরাধ হবে? – এটা কেমন বোধ উনার? এটাই তো গভীর মুসলমান ঘৃণা!  কিন্তু উত্তরপ্রদেশের বুলডোজার মুখ্যমন্ত্রী যোগী যাকে ভারতের সুপ্রীমকোর্ট তিরস্কার করেছেন, কাজকে অপরাধের ঘটনা বলে সাব্যস্ত করেছেন অথবা বজরং দলের ততপরতা হলে এসব কী সুনিত দেখতেই পান না?  সব মাফ হাততালি দিবেন উনি? মানুষ হিসাবে নিজের সব ইন্দ্রিয়-বোধ সব ভোতা করে রেখে দিয়েছেন উনি? তাইকি?

    আবার তার আরেক নয়া আবিস্কার দেখেন।
    দুই. তিনি লিখেছেন, “ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে, বাংলাদেশ থেকে অনিয়মিত অভিবাসন সর্বদাই একটি জটিল সমস্যা ছিল-যে সরকারই অফিসে থাকুক না কেন……“।  আমি খুবই সরি, এটা আসলে একটা গাধার বক্তব্য।  অভিবাসন বা মাইগ্রেশন শব্দের  অর্থ উনি বুঝেন না এটা ভাবা আমাদের জন্য কঠিন। কোন একটা দেশ যেমন ইন্ডিয়া তাদের বাড়তি লেবারের চাহিদা থাক আর না থাক সেখানে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের হিন্দুরা প্রবেশ করে বসবাস করে। এখন ১৯৪৭ সালের পর থেকে বাংলাদেশ থেকে হিন্দুরা ভারতে বা মুসলমানেরা বাংলাদেশে আসা – এটা কী কারও শখের অভিবাসন? এটা কে কী অভিবাসন বা ইমিগ্রেশন বলছেন উনি কোন বুদ্ধিতে?  নাকি এটা ফোর্সড বা বাধ্য করার এক সামাজিক অবস্থা।  – যা ১৮১৫ সালের রাজা রাম মোহনের চিন্তাততপরতা থেকে শুরু করে কংগ্রেসের জন্ম ও হিন্দুত্ববাদী ভারত বানানোর ইমাজিনেশন পরিকল্পনারই এক করুণ পরিণতি!!! দ্বিতীয়ত ও সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ ফ্যাক্টস হল,  বাংলাদেশ থেকে মূলত তুলনামূলক অবস্থাপন্ন  হিন্দুরাই ভারতে গিয়েছে অর্থাৎ তারা তাদের সঞ্চিত সম্পদও সাথে নিয়েই গিয়েছে যেটা কলকাতার অর্থনীতিতে বাড়তি পুঁজির সরবরাহের উতস হিসাবে কাজ করেছে। ফলে কোন সংজ্ঞায় – বাংলাদেশ থেকে হিন্দুদের যাওয়া – এটাকে তিনি অভিবাসন বলছেন? আসলে গাধা-গরুর ধরনের চিন্তারও একটা ক্লাস থাকে! আবার ১৯৪৭ এর পরে কলকাতার অর্থনৈতিক পতন হয়েছে পুর্ববাংলা হাতছাড়া হওয়াতে। কারণ পুর্ববাংলার জমিদারেরা তাদের কালেকশন কী ঢাকায় রাখতেন???  না কলকাতায়? এটা বুঝতে কী ডক্টরেট ডিগ্রি লাগে?  আর সেটাই মানে সেই জমিদারিই তো উচ্ছেদ হয়ে যায় পুর্ববাংলা থেকে  পাচার হওয়া সেই বাড়তি সঞ্চিত পুঁজি থেকে বঞ্চিত হয় কলকাতা!!! এখন সুমিত আপনি বলেন, আপনি এজন্য কাকে দায়ী করবেন? এর জন্য দায়ী যারা হিন্দুত্বভিত্তিক অখন্ড ভারত বানাতে চেয়েছিল সেই কংগ্রেস নয় কী? সাহস আছে আপনার? থাকলে চিল্লায় বলেন দেখি?  বুঝা যাচ্ছে যা উনার সাবজেক্ট না, দখল নাই তা নিয়ে তিনি কথা বলছেন!!!

    তিন. তিনি লিখছেন, “…কিছু ভারতীয় প্রতিবেদন বাংলাদেশের মাটিতে পরিস্থিতিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে, কিছু ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ হিসাবে চিত্রিত করা হয়েছে”!  অর্থাৎ তিনি বলতে চাইছেন মোদির এই বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের অভিযোগ – এটাকে তিনি ঠিক মনে করছেন না। ভালো, এটা তিনি বুঝছেন! তাই বলছেন এটা তারা  ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে, তাই কিছু ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ হিসাবে চিত্রিত দেখানোটা ভুল মনে করছেন।

    কিন্তু আবার সেই ঘৃণার লাইনঃ
    লিখেছেন,  “হাসিনা বাংলাদেশের ইসলামপন্থী বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন,
    ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনকে আশ্রয় দেননি এবং ভারতীয় বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে এসেছেন। প্রতিক্রিয়ায়, নয়াদিল্লি হাসিনার অধীনে ঢাকায়  গণতন্ত্রের অভাব উপেক্ষা করতে, ভারতীয় বাজারে প্রবেশাধিকার প্রদান করতে এবং আন্তঃসীমান্ত রেল ও সড়ক যোগাযোগ বাড়াতে ইচ্ছুক ছিল।”
    এর মানে কী এখন বাংলাদেশের “ইসলামপন্থী বাহিনীকে” তাহলে নিয়ন্ত্রণ করছে কে? মোদি??? দেখেন এই লোকের কথার কোন তাল আছে? আবার দেখেন আগে লিখতেছিলেন শুধু ইসলামপন্থী, আর এখন সাথে লিখতেছেন ইসলামপন্থী বাহিনী? সারা দুনিয়াতেই বুশ যদি ওয়ার অন টেরর এর নামে সন্ত্রাস চালায় তো এর প্রতিক্রিয়ায় সারা দুনিয়ায় ইসলামপন্থী বাহিনী বা ইসলামপন্থী  হওয়া ছাড়া আর কী হবে? মানে বাংলাদেশের কেউ বুশের প্রতিবাদ করবে না?   আর বাংলাদেশ কী দুনিয়ার বাইরে?
    এছাড়া আরেকটা মারাত্মক দিক আছে। সুনিত নিজেই বলছেন বাংলাদেশে হাসিনা মোদির সাথে মিলে ঢাকায়  গণতন্ত্রের অভাব উপেক্ষা করেছে – তাহলে এই দোষ কার? আবার মোদি বাংলাদেশকে ইন্ডিয়ার একচেটিয়া বাজার বানিয়েছে আর বিনা পয়সায় করিডোর সুবিধা নিয়ে গেছে – এসব কথা সুমিত নিজেই স্বীকার করছেন। তাহলে বাংলাদেশের মানুষ যেকোন পন্থি হয়ে হাসিনাকে উতখাত তো করবেই, নাকী? তো তাহলে ইসলামপন্থী হওয়াটা অস্বাভাবিক কীভাবে???

    হাসিনা তার শাসন আমলে যত কী তার রাজনৈতিক বিরোধী ছিল তাদেরকে তিনি গুম-খুন আয়নাঘর করেছেন – তাদের গায়ে মিথ্যা ইসলামি জঙ্গীর ট্যাগ লাগিয়ে তাদেরকে নিচা দেখায়ছেন।। মজার কথা হল এটা আমার কথা না। এবার মানে ২০২৩ সালের আমেরিকান সন্ত্রাস বাদ ও প্রতিরোধ রিপোর্ট ২০২৩ যা সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে  এতে বাংলাদেশ চাপ্টারে আমেরিকাই একথা লিখে স্বীকার করেছে।  কিন্তু আমেরিকায় বসে থেকে এই হিন্দুত্ববাদের চেলা কলকাতা বামুন সুমিত গাঙ্গুলী সেটা টের পান নাই; খবর করে নাই! নেন প্রথম আলোর বাংলা করা অংশটাই দিলাম। শিরোনাম দেখেন, …“রাজনৈতিক বিরোধিতাকে সন্ত্রাসবাদ বলে চালিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার“।  আবার এখানে ইংরাজি মূল রিপোর্টটাও দিয়ে রাখলাম সুমিত গাঙ্গুলীর জন্য [Country Reports on Terrorism 2023: Bangladesh] – আমেরিকায় বসে উনি এটা নাও খুঁজে পেতে পারেন!!!

    আসলে এসব সুমিত গাঙ্গুলীরা আমেরিকার জন্যও  কলঙ্ক! এরা এখনও কুয়ার ব্যাঙ হয়ে জমিদার-হিন্দুর বয়ান আগলে ওর উপরে বসে আছে। অথচ সুমিত খোদ আমেরিকান সরকারের বয়ান না পড়ে, আমেরিকাতেই বসে আছে্ন।  আর তীব্র মুসলমানবিদ্বেষী হয়ে আমাদেরকেই ইসলামপন্থী (যারা হাসিনাকে উতখাত করেছে) বলে ট্যাগ লাগাইতেছেন; এছাড়া আমরা নাকি সশস্ত্র এর ইঙ্গিত দিতে  ইসলামপন্থী বাহিনী লিখেছে!!!

    আবার কত নিচা মনের কলকাতার কোন স্টেশনের এক  ফেরিওয়ালা যেন তিনি!!! তাই তার এই লেখা শুরু করেছেন,  কেন বাংলাদেশে পাকিস্তান থেকে বাণিজ্যের মালবাহী জাহাজ কেন বাংলাদেশে ভিড়ল। আবার লিখেছেন …Dhaka has also boosted its acquisition of arms and ammunition from Islamabad। মানে ইউনুস সাহেব পাকিস্তান থেকে নাকি অস্ত্র আমদানি করেছেন। অথচ এই তথ্যের কোন সোর্স কোথাও নাই।  কলকাতার কোন বস্তিবাসীও এমন নাইভ বা ভোতা চিন্তার মানুষও এমন বক্তব্য দিবে না।  অথচ তীব্র মুসলমান ঘৃণা মনে পুষে রেখে স্মিত গাঙ্গুলী –   মুসলমান মানেই খারাপ, মুসলমান মানেই জঙ্গী, মানেই অস্ত্রবাজ এসব হচ্ছে তার বমি!!!! …… সুমিত গাঙ্গুলী একজন স্কলার পেশার লোক এত ঘৃণা আর এত মিথ্যা লিখতে গিয়ে টায়ার্ড হয় না?????

    তবে শেষকথাটা হল, বাংলাদেশে মোদির খবর আছে এইটা যেদিক দিয়েই তিনি বুঝছেন বলে আমাদের জানাইছেন! তাই শিরোনাম দিছেন  [India’s Fortunes Shift in Bangladesh]।

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  বিকাল ৪ঃ ৩২    ২৭ ডিসেম্বর ২০২৪

  • প্রথম আলো পুরানা পথেই; তাহলে সামনে কী!

    প্রথম আলো পুরান পথেই; তাহলে সামনে কী!
    গৌতম দাস
    ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪  সন্ধ্যা ০৬ঃ ৫৫
    https://wp.me/p1sCvy-66Q

     

     

     

     

     

     

     

     

    প্রথম আলো কিছুই বদলায় নাই। মানে শিক্ষা নেয় নাই। আর সে মাপেই তার কথিত ‘কূটনৈতিক প্রতিবেদক” সেও কিছু বদলায় নাই।  রাহিদ-এরা ঝামেলা আছে বুঝলে নাম সরিয়ে পদবী লিখে থাকে। তারা জানে যে এমন কাজ গর্হিত কাজ অপ-সাংবাদিকতা। গত ২১ ডিসেম্বর মানে পরশুদিন এমনই এক কথিত বিশ্লেষণ ছাপা হয়েছে প্রথম আলো তে। শিরোনাম, বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কে নতুন অস্বস্তি সৃষ্টি এড়াতে সচেষ্ট থাকা উচিত এভাবে। প্রথমত ভাসুরের নাম মুখে না নিবার মত করে বলা শব্দ হল অস্বস্তি; মানে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক এর মধ্যে “কোন অস্বস্তি বলে” কোন কিছু আছে তাই বুঝানো হচ্ছে। কিন্তু খাড়া বললে এটা হল ইন্ডিয়া ও মোদি অন্তত  আমাদের “আয়নাঘর” আর বিডিয়ার হত্যা ২০০৯  [এছাড়া আরও কত কী যে অপরাধ আছে] এর সাথে সরাসরি যে সংশ্লিষ্ঠতা আছে তা থেকে বাঁচতে বাংলাদেশের উপর হিন্দু নির্যাতন এর প্রপাগান্ডা দিয়ে ব্যাপক চাপ সৃষ্টির পরিকল্পনা নিয়ে এতদিন আগায় ছিল।যার ভিতরে আচে আবার চিন্ময়-ইসপকন সহ আরো কত কী!!! কিন্তু এসব অপরাধগুলো প্রথম আলো উল্লেখ করতে চায় নাই। তাই ছোট শব্দ অস্বস্তি!    এখন এখানে দেখা যাচ্ছে প্রথম আলো এই সম্পর্কে অস্বস্তি নামক শব্দ টা কী নিয়ে তা বলতে চাচ্ছে না। বরং নিরপেক্ষতার ভান ধরেছে।
    আসলে প্রথম আলো ভারতের স্বার্থের সক্রিয় প্রপাগান্ডা মেশিন হয়ে যেমন ছিল এতদিন ১৬ বছর জুড়ে তেমনই থাকতে চাচ্ছে। মানে কোন শিক্ষা হয় নাই; শিক্ষা নেয়ও নাই।

    বিএনপি (আর তার দেখাদেখি জামায়াতও অনেকটাই) ইন্ডিয়ার দাওয়াত-উস্কানিতে যে বিনিময়ে ইন্ডিয়া তাদেরকে কোলে তুলে নিয়ে ক্ষমতায় বসিয়ে দিবে এমন “নয়া হাসিনা” হবার লোভ সামলাওতে পারে নাই। সেদিকে ছুটছে তো ছুটছেই।  একবারও পিছন ফিরে দেখার কথাও মনে নাই যে খোদ ইন্ডিয়াই বাংলাদেশ থেকে ক্রমশ আউট হয়ে যাচ্ছে; অন্তত  আয়নাঘর ও বিডিআর হত্যাকান্ড এই দুইটা ইস্যুও যদি উল্লেখ করি তাহলেও তো কিছু বুঝা যায়! মানে যা নিয়ে সেনাসদরে বিক্রম সাব আমাদেরকে চাপ দিতে এসেছিল তা এখন পুরাই পাবলিকলি উদাম হয়ে গেছে; কারণ এটা আর হাসিনার বাংলাদেশ নয়। কাজেই চিন্ময়-ইসকন ইস্যু বা কথিত হিন্দু নির্যাতনের প্রপাগান্ডা যা দিয়ে ইন্ডিয়া আমাদেরকে চাপে ফেলে কাজ উদ্ধার করতে, নিজের পাপ-ক্রিমিনালিটি ঢাকতে এসেছিল সেই পাশার দানও উলটে গিয়েছে।
    এর  দুদিন পরেই ইতোমধ্যেই গুম কমিশনের প্রাথমিক রিপোর্ট প্রকাশ হয়ে গেছে যেখানে আয়নাঘর-অপহরণ ইস্যুতে ভারতের সংশ্লিষ্টতা এখন বিবিসিসহ সব দেশি সকল মিডিয়াতেই।  এছাড়া আজ বিডিআর হত্যাকান্ড তদন্তের নয়া কমিশনও গঠিত হয়ে গেছে। আর ইতোমধ্যেই এদুই ইস্যুতেই ইন্টারনাশনাল ক্রাইম ট্রাইবুনালে মামলা দায়েরও হয়ে গেছে।
    কাজেই ভারতকেই এখন রাষ্ট্র হিসাবে আসন্ন এসব ক্রিমিনাল মামলায় সংশ্লিষ্টতা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কেলেঙ্কারি মোকাবিলা কেমন করে করবে সেটাই ইস্যু?  এনিয়ে আসন্ন পরিস্থিতি সামলাবে কী করে সে চিন্তায় মোদির ইন্ডিয়ারই ঘুম হারাম হয়ে যাবে এখন। অথচ প্রথম আলো ও তাদের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের ঘুম ভাঙ্গে নাই।
    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জয়সোয়ালের গলার টোন বদলে গেছে। এটা তো অন্তত কারো না দেখতে পাবার কথা না। তিনি সর্বশেষ এখন বলছেন “দায়ীত্বশীলতার” কথা। বলছেন, “…… আমরা সবাইকে মনে করিয়ে দিতে চাই, প্রকাশ্য মন্তব্য যেন ভেবেচিন্তে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে করা হয়”।

    শুধু তাই না, আগামি জানুয়ারি থেকেই ইন্ডিয়া-আমেরিকান বিরোধ আরো তুঙ্গে উঠবে। ইতোমধ্যেই ইন্ডিয়ার উপর আমেরিকার আরোপিত স্যাংশন আমরা যেন ভুলে না যাই। এর সবকিছুর মানে এই বাইডেন আমলের শেষ কদিন থেকেই সব শুরু হচ্ছে।। মানে হল, হাসিনা সহ সারা ইন্ডিয়ার যারাই তাদের ট্রাম্প ভাইয়া এসে তাদের হাতে আবার বাংলাদেশটাই হাসিনা ও ইন্ডিয়ার হাতে তুলে দিবে বলে প্রকাশ্যেই আশা রেখেছিলেন তাদের অবস্থা কী হবে অনুমেয়! এমনকি আমরা নিজেরাই যদি মোদির ভারতের বিবৃতি দেখি বা অনুসরণ করতে জানি তাহলে দেখব ইতোমধ্যেই মোদির ইন্ডিয়ার আমেরিকার বিরুদ্ধে মোদি ফরমাল অভিযোগ তুলেছেন। বলেছেন “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং শিল্পপতি গৌতম আদানিকে নিশানা করেছে আমেরিকান সরকার”। এটা ৮ ডিসেম্বরের ভারতের মিডিয়ার খবর। যার প্রতিক্রিয়ায় আমেরিকা কড়া ভাবে হতাশা জানিয়েছে।

    আমার অনুমান আগামি জানুয়ারি মাস থেকেই আমেরিকা-ইন্ডিয়া সম্পর্ক তলানিতে ঠেকবে! অথচ এর কোন কোন খবর নাই প্রথম আলো ও তাদের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের। তারা ধরেই নিয়েছেন র-এর অর্থ আসবেই আর তারা বাংলাদেশে বসে ইন্ডিয়ার খেদমত করা লেখা লিখেই চালায় যাবেন – যেন কিছুই বদলায় নাই। বদলাবে না। এবার আগেই এসেছিল ত্রাতা মির্জা আলমগীর! নিজের মান-ইজ্জত বাজি রেখে এর বিনিময়ে খুবই মারাত্মক অভিনয় করে ……আপনারা চিন্তা করতে পারেন বলে তার সেই ডায়লগ ……. আজও ইতিহাস হয়ে আছে। এতে তখনকার মত লাভের লাভে জনরোষ থেকে প্রথম আলো বেঁচে গিয়েছিল।   কিন্তু শেষ রক্ষা হয় নাই।, খোদ মির্জা কেই বাচাতে, উসিলা করে বা যেভাবেই হোক ১২ দিনের জন্য সরে যেতে হয়েছিল। আর রিজভি তিনি কত বড় ইন্ডিয়াবিরোধী সেই ছল-অভিনয় করে হলেও সেই কার্ড শো করতে হয়েছিল। কিন্তু কেউ শিক্ষা নেয় নাই। তাদের কপালে যা আছে তা আমরা দেখব।

    কিন্তু প্রথম আলো নিয়ে কথা বলছি এখানে, তাদের আবার সেই একই কায়দার কু-জার্নালিজম আবার শুরু হয়েছে। শুরুতেই যে লেখাটার কথা বলছিলাম, বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কে নতুন অস্বস্তি সৃষ্টি এড়াতে সচেষ্ট থাকা উচিত, সেটাতে আবার  দালালিশুরু হয়েছে।  লেখার শুরুতেই মাথায় লিখে রেখেছে  এটা নাকি বিশ্লেষণ। কিন্তু ভিতরের বডিতে লেখার স্তাইল সেই পুরানাটাই। গায়েবি রেফারেন্স সুত্রে কথা বলা – এই হল, র-এর দালালির অপ-জার্ণালিজমের বৈশিষ্ট। সেটা এখানেও বর্তমান। তাই এলেখায় অন্তত দুবার লিখেছে বিশ্লেষকেরা বলেছেন; একবার বলেছেন কূটনৈতিক সুত্রে জানা গেছে। আরো একবার বলেছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষক বলেছেন……!!!   এভাবে জার্নালিজমকে পানিতে ফেলে দিয়ে হলেও অর্থ কামাতে হবে, র-এর দালালিই করতে হবে – একাজে প্রথম আলো ও তাদের নানান প্রতিনিধি, বা কথিত কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা আবার ফিরে এসেছে!!! এভাবে এবার আরো কতদিন?
    এবার মির্জা ফকরুল আসবেন না কারণ, আশা করছি আগামি মাস থেকেই সম্ভবত তারা নিজেরাই আছাড় খাওয়া শুরু করবেন!! আর হায় হায় করে উঠে তারা ভাববেন গত তিন মাস কোন গাছে তারা তাদের নৌকা বেঁধেছিলেন? যেই গাছ নিজেই এখন উপড়ে পরে যাচ্ছে……!!!!

    উপদেষ্টা মাহফুজ আলম প্রসঙ্গঃ
    সবশেষে, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম প্রসঙ্গ। রোগ সেই পুরানা কমিউনিস্ট রোগ…! তাতে রোগটা নিজের বা তাদের কমিউনিস্ট গুরুর যারই হোক না কেন তাতে ফলাফল পরিণতি কিন্তু একই!
    বাস্তবের দুনিয়াটা কী?  আর এতে দুনিয়াদারিটা কী ও কেমন এ’সম্পর্কে কমিউনিস্টদের কোন ধারণাই নাই। কোনদিনই ছিল না। আমি অনেকবারই বলেছি, ১৯৪৫ সালের দুনিয়াটায় সবচেয়ে গভীর বদলগুলো কী তা এরা একেবারেই জানে না। তাদের গুরুই স্টালিন-ই জানত না। খেয়াল করেন নাই যে সারা দুনিয়া থেকে কলোনিদখল সব উতখাত হয়ে গেল কেমনে? কোন যাদুতে? আবার  এমনকি স্টালিন; তিনিসহ একাল পর্যন্ত সব কমিউনিস্টেরা মনে করেন দুনিয়া ১৯৪৫ সালের পরে কলোনিমুক্ত হয় নাই। সবচেয়ে আজীব কথাটা হল, খোদ স্টালিন ১৯৪২ সালের ১ জানুয়ারি এক ঐতিহাসিক দলিলে স্বাক্ষর করেছিলেন।  [ততদিনে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের নেতৃত্বের জোটে  স্টালিন হিটলারবিরোধী( এন্ড গং -বিরোধী) এই জোটে যোগ দিয়ে ফেলেছেন] আর ঐ দলিলেই লেখা ছিল যে  হিটলার এন্ড গংয়ের পতন আর এই জোট বিজয়ী হলে নয়া দুনিয়াটা একেবারে কলোনিমুক্ত হয়ে যাবে। মানে যারা রুজভেল্টের পক্ষের শক্তি অথচ যারাই মূলত দুনিয়াতে সবচেয়ে বেশি কলোনিদখলদার দেশ তারাই হিটলারের পরাজয়ের পরে নিজ নিজ দখলদারি ছেড়ে নিজ দখলিকৃত কলোনিগুলোকে আপোষে মুক্ত করে ছেড়ে দিয়ে এরপর সোজা হেঁটে  নিজ নিজে মূল দেশে ফিরে  চলে যাবে। [এভাবেই আর সবার মত বৃটিশ-ইন্ডিয়া মুক্ত হয়েছিল ১৯৪৭ সালে। ] আসতে এই শর্ত বা প্রতিশ্রুতি সব কলোনিদখলদারদের পক্ষ থেকে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিল রুজভেল্টকে দিয়েছিলেন। আর এর বিনিময়ে যুদ্ধের প্রধান খরচের দায়ভার একা আমেরিকা নিজের কাঁধে নিয়েছিল।

    ঘটনা হল, স্টালিন নিজে ঐ ১৯৪২ সালের ১ জানুয়ারির দলিল যেখানে তিনি স্বাক্ষর করেছিলেন তা ডিটেল পরে দেখেন নাই; বলে অনুমান করা হয়। কেবল হিটলার উতখাত হবে – এতটুকুতেই ছিল তার মূল আগ্রহ,  সম্ভবত সেই কারণে। আর ইতিহাসে ১৯৪২ সালের ১ জানুয়ারির ঐ দলিল – এটাই জাতিসংঘের জন্ম ঘোষণার দলিল বলে পরিচিত। ইংরাজিতে [Declaration by the United Nations, January 1, 1942]  আর ঐ দলিলের সারকথা হল, কলোনি দখল হারাম! কোন দুই জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্র কেউ কারো ভুখন্ড দখল বা পুরা দেশটাই দখল করলে ( জাতিসংঘের মোট ১৯৩ রাষ্ট্রের সিংঘভাগ সদস্য রাষ্ট্র দখলকারির বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিবে – ঠিক যেমন অবস্থা শেষ পর্যন্ত হয়েছিল সাদ্দাম হোসেনের কুয়েত দখলে………। সেটাই ঘটবে।  যেকোন দুই রাষ্ট্র যদি তাদের সীমান্ত একসাথে বসে মাপামাপি করে একবার একই দলিল ম্যাপ তৈরি করে নেয়; এরপরে ঐ একই ম্যাপের দুইটা কপি দুই দেশের কাছে থেকে যায় তবে সেই মামলা হবে মারাত্মক! কারণ সেক্ষেত্রে আর কখনও তাদের মধ্যে কোন সীমানা নিয়ে যুদ্ধের সুযোগ থাকবে না।  বৃটিশ ইন্ডিয়াতে বেশির ভাগ সীমান্ত শাসক বৃটিশেরা এমন কমন ম্যাপ করে রেখে গেছে। কিন্তু যেগুলা করদ রাজ্য ছিল সেগুলো বৃটিশেরা এই এলাকা গুলোতে তা করতে পারে নাই এক্তিয়ার ছিল না বলে। তেমনই এক সীমান্ত (করদ রাজ্য কাশ্মীরের অংশ বলে) হল ভারত-চীন এদের লাদাখ এলাকা। যেটা একালে নিজেরা বসে আপোষে করে নিতে হত কিন্তু হয় নাই।

    এখন মূল প্রসঙ্গে প্রবেশ করি – মাহফুজ জানেই (কারণ জানলে করত না) না যে, একজন উপদেষ্টা [সরকারী মন্ত্রী] হওয়া মানে কী? তাঁর প্রতিটা আচরণ উনার ব্যক্তিক আচরণ নয়, বরং রাষ্ট্রীয় আচরণ, সিদ্ধান্ত বলে গণ্য হবে যার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী হবেন এখনকার রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহি যিনি মানে, প্রধান উপদেষ্টা ইউনুস সাহেব!
    মাহফুজ আলম মনের খায়েসে পোলাপান যেভাবে ফেসবুকে কতকিছু করে যার সীমা থাকে না। তিনি বাংলাদেশের বাইরে ভারতের এক বিরাট অংশ সাথে যুক্ত করে এক ম্যাপ ছেপে দিয়েছেন। আবার বলছেন মেলা কাজ নাকি বাকি???? মানে ইঙ্গিত হল সেগুলোও দখল করতে হবে – যেন এর ইঙ্গিত দিচ্ছেন!!!

    আমাদের ভাগ্য ভাল যে এই আচরণের জন্য দিল্লিতে আমাদের রাষ্ট্রদুতকে ভারত সরকার তলব করেন নাই; ব্যাখ্যা চান নাই। কেবল মুখপাত্র জয়সোয়াল তার বিবৃতিতে উল্লেখ করে রেখেছেন!

    কিন্তু কেন হল এরকম?
    কারণ তাদের গুরুরা কমিউনিস্ট; ১৯৪৫ সালের আগেপিছের দুনিয়ার জন্য সবচেয়ে নির্ধারক দুনিয়ার ইতিহাস তারা জানেন না, পড়েন নাই। কারণ স্টালিন-ই ীই দলিলে সই করলেও মনোযোগে পড়ে দেখেন নাই! [এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হল তার নিও-কলোনিজম বলে নয়া নামকরণ করা বা নয়া ভোকাবুলারি এর জন্ম দেয়া] সবচেয়ে বড়কথা জাতিসংঘ! মানে ১৯৪৫ সালের পরে দুনিয়াতে যে একটা গ্লোবাল পলিটিক্যাল সিস্টেম [দয়া করে সিস্টেম শব্দটাকে বন্দোবস্ত পড়বেন না] এটা কোন কমিউনিস্টই এখনও খেয়াল করেছেন জানেন, পড়েছেন – আমি দেখি নাই!  তাদের কথিত “এক সাম্রাজ্যবাদ” বলে এক গালির শব্দ ছাড়া তাদের মাথায় কিছুই নাই। তাও শব্দের ব্যবহারের আগা-মাথা নাই।
    যেমন প্রত্যেক দেশের দেশিয় পর্যায়ে যে পলিটিক্যাল সিস্টেম এটাকেই আমরা নিজ নিজ রাষ্ট্র বলে থাকি!  এমন সদস্য রাষ্টগুলোকে নিয়ে তৈরি হওয়া এক গ্লোবাল পলিটিক্যাল সিস্টেম, এমন প্রতিষ্ঠানের নামই হচ্ছে জাতিসংঘ!  তবে বুঝাবুঝিতে কেবল একটাই সাবধানতা দিয়ে রাখি, জাতিসংঘ ঠিক প্রত্যেক সদস্য রাষ্ট্রের উপরে বাপ-কর্তা ধরনের প্রতিষ্ঠান; ঠিক এমনটা নয়! তাহলেও জাতিসংঘের অনেক বাধ্যবাধকতার অধীনে আমরা, বিশেষ করে যারা আমাদের মত ছোট দেশ!

    সারকথায়, কমিউনিস্টদের কাছে ১৯৪৫ সালের পরের দুনিয়াটা কী? এখানে নয়া কী কী হয়েছে তাতে কী করা যায়; আর কী একেবারেই করা যায় না – রাষ্ট্রের মন্ত্রী দূরে থাক ব্যক্তি নাগরিকও করতে পারে না; সরকারের দায়ীত্ব হয়ে যায় তাকে বাধা দেয়া ইত্যাদি এসব এদিকটা নিয়ে কমিউনিস্টেরা একেবারেই সীমাহীন অন্ধকারে। এগুলো অযোগ্য চিন্তার স্টুপিডিটির অবশ্যই; আর এর কারণে এরকম বিপদে বাংলাদেশও আগে পড়েছে। মজার কথা হল, যেসব কমিউনিস্টেরা এমন কান্ড করে বাংলাদেশকে বিপদে ফেলেছে তারা এতই নাদান যে তারা এখনও ঠিক জানেন না যে তারা কী ও কত বড় অপরাধ করেছে!!!!

    এদেরই কিছু চেলা এখনও আজকাল দেখবেন বাহাদুরি করে লিখে নয়া-উপনিবেশ [ইংরাজিতে Neo-colony]; কেউ কেউ আরো ওস্তাদ। এরা লিখবে বি-উপনিবেশায়ন। ডি-কলোনাইজেশন থিউরি আউরাইবেন। অথচ দুনিয়ায়ে যে একটা গ্লোবাল পলিটিক্যাল সিস্টেম খাড়া হয়ে গেছে; এটা কোথা থেকে কীভাবে ঘটলো এদের খবরই নাই!

    এসবের পরিণতি হল, একেকজন শিষ্য মাহফুজ আলম! মন্ত্রী জানেনই না তিনি কী করতে পারেন না অথবা কী করলে এর পরিণতি কী হয়!!!!!

    যাহোক এলেখায় মূল প্রসঙ্গ হল, প্রথম আলো ও তাদের নানান প্রতিনিধি, যারা আবার একইভাবে র-এর দালালি চালায়ে যেতে শুরু করে দিয়েছেন! কিন্তু সমস্যা হল এবার আর কোন (র-এর হাত ধরে ক্ষমতায় যেতে আগ্রহী ফলে) উদ্ধারকর্তা, মির্জা নামে কাউকে পাওয়া যাবে না!

    আর মাহফুজের কথা লিখতে হল কারণ, প্রথম আলোর লেখাটা শুরু হয়েছিল এভাবেঃ
    “৫ আগস্ট–পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এক টানাপোড়েনের মধ্যে পড়েছে। এমন এক পরিবেশে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি ঢাকায় এসে পররাষ্ট্রসচিব মো. জসীম উদ্দিনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করে গেছেন। দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাসের বিরল এই অস্বস্তি কাটানোর প্রথম ধাপ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে এই সফরকে। পরিবর্তিত পরিস্থিতির নিরিখে সম্পর্কের ইতিবাচক বিবর্তনের এমন এক সময়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারত”।

    সেসব দিন আর একই রকম নাই! তাই এখন বাঁচতে চাইলে প্রথম আলোকে নতুন রাস্তা খুঁজতে হবে! বাকি সিদ্ধান্ত তাদের নিজের! হিন্দুত্ববাদ-চাটা আর এসব অপ-জার্ণালিজম দিকটা বাদ দিলে প্রতিষ্ঠানটা ভাল, সবচেয়ে বড় কথা অনেকজনের মেহনতের ফল এটা!  তবে এটাকে ধ্বংস করে ফেলতে চাইলে কে আর তা ঠেকাতে পারে!!!

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  রাত  ১০ঃ ১৫   ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪

  • ‘দশ ট্রাক অস্ত্র’ নিয়ে একটা একাদেমিক আলোচনা

    কোন রাষ্ট্রে সিভিল আদালতের পাশে সামরিক আদালতও কেন থাকে
    [‘দশ ট্রাক অস্ত্র’ নিয়ে একটা একাদেমিক আলোচনা]
    গৌতম দাস
    ২১ ডিসেম্বর ২০২৪    দুপুর ১২ঃ ১৩
    https://wp.me/p1sCvy-64V

     

     

    ‘দশ ট্রাক অস্ত্র’ মামলা নিয়ে এই আলোচনা, একটা একাদেমিক পর্যায়ের সমাজতাত্বিক আলোচনা। যেমন এর প্রসঙ্গ শুরু করব, একট রাষ্ট্রে কয়টা বিচার বিভাগ থাকে? এখান থেকে!
    এমন প্রশ্ন যে কোন একাদেমিক ব্যক্তিত্ব শুনলেই তিনি বলে উঠবেন এটা তো কোন প্রশ্নই হয় নাই। কারণ, জনগণ সব রাষ্ট্রক্ষমতার উতস -এমন রিপাবলিক বা জনপ্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্র তিনটা প্রধান অঙ্গ থাকে। (প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে) নির্বাহি বিভাগ, ২. আইন সভা বা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিত্বমূলক আইন প্রণয়নের সংসদ আর ৩. বিচার বিভাগ। রাষ্ট্রক্ষমতার মূল অংশ থাকে নির্বাহী বিভাগের হাতে; আর সাথে কিয়দংশ থাকে বাকি দুই বিভাগের কাছে। এখন এই বিচার বিভাগ নিয়ে বিস্তারে কথা তুললে বলতে হয় এর কাঠামোটা আবার সাধারণত পিরামিড ধরনের হয়। মানে সমান্তরাল না। নিম্ন আদালতের রায় ওর চেয়ে উচ্চ আদালতে পর্যালোচনা যোগ্য বা বদলে রিভিউয়ের ক্ষমতা রাখা হয়। আর সবার উপরে থাকে সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগ। সেটাও আবার কয় বিচারক মিলে বেঞ্চ গঠিত এবিচারে ফুল বেঞ্চ এর উপরে আর কিছু নাই। এভাবে!
    যেহেতু যেকোন পর্যায়ের আদালতের রায় ওর উপরের আদালতের আবার পর্যালোচনাযোগ্য রাখা হয়; যার লক্ষ্য অনিচ্ছার ভুল বা অবিচার ঘটে যাবার সম্ভাবনা কমানো। এছাড়া বিচারক ভেদে একই ধরনের অপরাধে দুই ধরনের শাস্তি যেন না হয় তাই পেনাল কোড ব্যবহার করা হয় যেখানে অপরাধ ও শাস্তি দুটাই যতটা সম্ভব আগাম সংজ্ঞায়িত করে রাখা হয়; ইত্যাদি এসব খুটিনাটি অনেক দিকই আছে।  এছাড়া নিম্ন আদালতকে সুপ্রীম কোর্টের ব্যবস্থাপনার অধীনে এবং নজরদারি-তদারকিতে রাখা হয়। এসবের কারণেই বিচার ব্যবস্থাটা পিরামিড কাঠামোর হয়ে যায়।  এসব বিষয়ে আইনজ্ঞরা আরো ভাল ভাল দিক তুলে ধরতে পারবেন। এই হল একটা দেশের একক বিচার বিভাগ এবং তা পিরামিড কাঠামোর এমন বিচার বিভাগ।

    যে কোন রিপাবলিক রাষ্ট্রেই মোটাদাগে উপরের এই ভাগেই রাষ্ট্রক্ষমতা বিন্যাস্ত  থাকতে দেখা যায়। কিন্তু এবার একটা ব্যতিক্রমের কথা বলব। সেটা হল এতসব কিছুর পরেও প্রত্যেক রাষ্ট্রেই আবার সিভিল আদালতের বাইরে একটা করে সামরিক আদালত (Martial Court) থাকতে দেখা যায় যেখানে, মূলত প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের কাজ-ততপরতা ও শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয়গুলো বিচার (court Martial) করা হয়। এবং সবচেয়ে বড় কথা এটা ঐ দেশের রাষ্ট্রীয় সিভিল বিচার বিভাগের এক্তিয়ারের বাইরে রাখা হয়। অর্থাৎ সামরিক আদালতকে পিরামিড কাঠামোর সিভিল বিচার বিভাগের ভিতরে কোথাও রাখা হয় না।  কেন?

    মূল সংজ্ঞাটা সোজাঃ
    আপনি যদি রাষ্ট্রীয় সিভিলিয়ান কর্মী হন তবে আপনি কোন সংজ্ঞায়িত অপরাধে জড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে প্রথমে নিজ বিভাগের [জনপ্রশাসনের যে বিভাগের অধীনে কর্মচারি আপনি সেই বিভাগের জন্য গঠিত শৃঙ্খলা কমিটি] অধীনে বিচারের মুখোমুখি হতে হয় যেটাকে সংক্ষেপে অনেক মিডিয়া শুধু “বিভাগীয়” বিচার শাস্তি বলে লেখা হয়। এমনকি  কিন্তু একইভাবে আপনি যদি কোন প্রতিরক্ষাবাহিনীর সদস্য হন  অথবা ঘটনা বা অপরাধের বিষয়টা রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষাবিষয়ক হয়  সেক্ষেত্রে পুরা বিচার শাস্তির প্রক্রিয়াটাই সামরিক আদালতের এক্তিয়ারে সম্পন্ন করা হয়ে থাকে।

    কিন্তু কেন?
    একটা সোজ উদাহরণ দিয়ে বলা যাক। একজন সৈনিক রাষ্ট্রের সুরক্ষা-প্রতিরক্ষার কাজ করতে গিয়ে কাউকে খুন করে ফেলেছে।  এখন এর বিচার কী সিভিল আদালত দেখবে?

    একটা হাইপথিটিক্যাল বা কল্পিত ঘটনা- মামলা নেই। পদ্মা সেতু নির্মাণের সময় সেখানে [ধরা যাক] প্রচুর ভারতীয় র-বাহিনীর ট্রেইন লোক [যারা বাংলা বলতে পারে না, ভাঙ্গাবাংলা বা হিন্দিতেই কথা বলে] তবে যারা তথ্য সংগ্রহে পারদর্শী; এদের  দিনে-রাতে এমন লোকেদের আনাগোনা ঐ এলাকায় বেড়েছে দেখা গেল! তাদের উদ্দেশ্য হল, ব্রীজ নির্মানের কনট্রাক্টর চীনা কোম্পানি এখানে আবার কী করতেছে এটা নিয়ে ইন্ডিয়ার কালো মনে সন্দেহ এর হাল করা। তাই ইন্ডিয়া রিস্ক নিয়ে হলেও এসব তথ্য সংগ্রহে পারদর্শী লোক পাঠিয়েছিল। বলাই বাহুল্য এমন ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশই বিরাট শাস্তিযোগ্য ও অবৈধ কাজ। এর উপর আবার  মনে রাখতে হবে, আমাদের সরকার ঐ নির্মিয়মান সেতু অঞ্চল-এলাকাকে আগে থেকেই কী-পয়েন্ট ইন্সটলেশন [Key-point instalation বা কেপিআই] বলে ঘোষণা করে রেখেছিল। এই টার্মটার সংজ্ঞা হল রাষ্ট্র যেকোন নির্মাণ-স্থাপনা-কে নিজ রাষ্ট্রস্বার্থের জন্য প্রতিরক্ষা পর্যায়ের গুরুত্বপুর্ণ বলে গণ্য করেছে, এমন ঘোষণা করতে পারে। তাই কেপিআই এলাকা মানে হল যা সামরিক নিয়ন্ত্রণে পাহারা এলাকা হয়ে যাবে সেটা। যেমন আপনার কোন ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় প্রবেশ ও ততপরতা সীমিত করে দেয়া হয়। কেবল উপযুক্ত পরিচয় ও অনুমতি সাপেক্ষেই সেখানে প্রবেশ করা যায়। এককথায় ঐ এলাকাটাতে কোন বিদেশি অন্তর্ঘাতমূলক [subversive activity] কাজে বাধা ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা। [subversive শব্দটা অপরিচিত শুনালেও এর অর্থ কঠিন কিছু নয়। sub মানে অধস্তন অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বকে অমান্য করা; নিচা বা খাটো-অধীনস্ত করে দেখা। আর এমনটা দেখে আমরা শঙ্কিত হই যে রাষ্ট্র ও জনগণের জন্য ক্ষতিকর যেকোন কাজে লিপ্ত হওয়া এখানে ঘটতে পারে। ইন্ডিয়ান ‘র’-এই প্রতিষ্ঠানটা বাই-ডেফিনেশন  ইন্ডিয়ার বাইরে অন্তর্ঘাতমূলক [subversive activity] সংগঠিত করার জন্য প্রতিষ্ঠিত!
    এখান আসেন ঐ পদ্মা সেতু কেপিআই এলাকায় র-বাহিনীর ট্রেইন লোককে  সন্দেহজনক ততপরতা রোধ করতে গিয়ে আমাদের সেনাবাহিনী তাকে ধরা যাক হত্যা করে ফেলেছে। তাহলে এখন প্রশ্ন হল যেহেতু হত্যা মামলা তাহলে এটা নিয়ে কী আমাদের সিভিল আদালতে ৩০২ ধারায় মামলা রুজু করা হবে? করা যাবে?  জবাব হল, কোন মতেই হবে না। যেতে পারে না।  আবার প্রায় একই ধরনের ঘটনায় বাংলাদেশের সাথে কোন (কল্পনা করে বলছি) যুদ্ধে  আমাদের সৈনিকেরা যদি প্রতিপক্ষের সৈন্য হত্যা করে ফেলে সেক্ষেত্রেও কী ঘটনাটা হত্যার  যেহেতু তাই আমাদের সিভিল আদালতে আমাদের সেনাদের বিচার হবে? প্রশ্নই আসে না। এমন হলে আর রাষ্ট্র থাকার দরকার কী?  আমাদেরই প্রতিরক্ষা বাহিনী আমাদেরি রাষ্ট্র সুরক্ষা করতে গেছে আর আমরাই সেজন্য তাঁকে আমাদের সিভিল আদালতের মুখোমুখি করবো?????? এটা ত মাথার দোষ থাকলেও কাউকে করতে দেয়া যাবে না!

    কথা লম্বা না করে সারকথাটা বলে দেই। প্রথমত আমাদের দেশরক্ষা করতে গিয়ে আমাদের সেনাদের হাতে বিদেশি কেউ যদি আহত-নিহত হয় সেটা আমাদে সিভিল আদালতে তোলাই যাবে না। কারণ এক. ওরা বিদেশি এবং শত্রুপক্ষ বলে; মানে আমাদের দেশের নাগরিক নয় বলে। এমনকি আমাদের দেশে ভ্রমণে আসা বিদেশি ব্যক্তি  আহত-নিহত হলেও আমাদের সিভিল আদালতে এর বিচার হবে; সেটা হলেও। কারণ এদুইটা একই ধরনের ঘটনা নয়। এককথায় বাংলাদেশের ভুখন্ডে যেকোন হত্যা অপরাধ হওয়া মানেই তা আমাদের সিভিল আদালতের বিচার্য বিষয় বা এক্তিয়ারে নাও আসতে পারে।  কথাটা আরেক দিক থেকে বললে, ঘটনা যদি রাষ্ট্রের সুরক্ষা-প্রতিরক্ষাবিষয়ক হয় সেক্ষেত্রে যেমন, আমাদের একজন সৈনিক রাষ্ট্রের সুরক্ষা-প্রতিরক্ষার কাজ করতে গিয়ে কাউকে খুন করে ফেলে থাকে এটা সিভিল আদালতের এক্তিয়ারের বাইরের ঘটনা হবে। এনিয়ে যদি কিছু করতেই হবে সেটা সামরিক আদালত তাদের বিবেচনা ও এক্তিয়ার অনুসারে যা করার করবে।
    এখানে প্রুডেন্ট একটা খুব গুরুত্বপুর্ণ ধারণাঃ
    প্রুডেন্ট [Prudent]  বা বাংলায় একে বিচক্ষণ বা দুরদর্শী বলতে পারি; এখন প্রুডেন্ট জাজ  বা বিচক্ষণ বিচারক বলে  বা [juris-prudence বলে যে উপ-সাবজেক্ট ডাক্তারদেরও পড়তে হয়] একটা কথা আছে। বিচক্ষণ জাজ বলতে মূলত যে বুকিশ [bookish] নয়; মানে বইয়ে পড়া কোন ধারণা পেলেই তা সাধারণ আক্কেলজ্ঞান বা বুদ্ধিবিবেচনা ছাড়াই যে প্রয়োগ করতে যায় না! যে আইন দেখলে বা জানলেই চোখ বন্ধ করে তা প্রয়োগ করে না অথবা যেকোন মামলা তার সামনে আনলেই তিনি তা বিচারে বসে যান না।  তা না করে বরং এর সুদুর প্রসারি দিক অথবা পারিপাশ্বিক অন্যান্য বিষয়ও যিনি বিবেচনায় আনেন এরপর বিচারে বসেন তিনি প্রুডেন্ট জাজ। প্রুডেন্ট জাজ বুঝতে পারেন কোন মামলা তাঁর গ্রহণ করাই উচিত না।

    এবার আসি ‘দশ ট্রাক অস্ত্র’ মামলায়ঃ
    এবার আসি ‘দশ ট্রাক অস্ত্র’ মামলায়; সম্প্রতি (১৮ ডিসে. ২০২৪) ‘দশ ট্রাক অস্ত্র’ মামলা নিয়ে  [ডেথ রেফারেন্স বিষয়ক] এক মামলার রায় প্রকাশিত হয়েছে। বলা যায় রাজনৈতিক প্রভাবিত হয়ে  গত ১৬ বছর ধরে চলা বাংলাদেশের আদালত ব্যবস্থা চর্চা হাসিনা উতখাতের পরে এবারই প্রথম  এনিয়ে প্রথম একটা রায় দিল। অনেকের সাজা কমানো হয়েছে, অনেককে খালাস ইত্যাদি দেয়া হয়েছে নতুন রায়ে। কিন্তই সেসব দিক এখানে আলোচনার বিষয়বস্তু নয়।

    মূলত এখানে এটা একটা একাদেমিক আলোচনাঃ
    হা ঠিক তাই, এটা একটা একাদেমিক আলোচনা। সুনির্দিষ্ট কোন মামলা নিয়ে নয়। তবে বাস্তবের উদাহরণ হিসাবে ‘দশ ট্রাক অস্ত্র’ মামলাকে সময়ে রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে। বলা যায় এটা একটা লিগাল-একাদেমিক [legal-academic] আলোচনা। আর অনুমান করি,  ফরমাল আদালতে পেশ করা ডকুমেন্টে খুব সম্ভবত সেখানে চোরাচালান শব্দটা আছে। [আমি নিজে দেখিনাই ফলে আমি নিশ্চিত নই।] কোন কোন মিডিয়া রিপোর্টিংয়ে শব্দটা আছে এভাবে যে “দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান” মামলা এটা।  আসলে এটাই এই মামলায় সব রহস্যের গোড়া!
    যেমন এর মানে কী, এটা চোরাচালানের অপরাধ? এভাবে চোরাচালান না বললে এটাকে অপ্রাধ বলা যাচ্ছে না তাই?  – ‘দশ ট্রাক অস্ত্র’ মামলা – এটা কেন মামলা হতে পারল, এখানে অপরাধ টা কী? কেন সেটা অপরাধ – এটাই এই আলোচনার বিষয়বস্তু।

    কী অপরাধ ঘটানোর জন্য এই মামলাঃ
    প্রথম আলোর রিপোর্ট অনুসারে, “.….. ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল সিইউএফএল ঘাট থেকে আটক করা হয় ১০ ট্রাক ভর্তি অস্ত্রের চালান। এ নিয়ে কর্ণফুলী থানায় ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন ও ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে চোরাচালানের অভিযোগ এনে দুটি মামলা হয়। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পুলিশ দুটি মামলা একসঙ্গে তদন্ত করে। এর বিচারও একসঙ্গে শুরু হয়। অস্ত্র আইনে করা অন্য মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ হয় একই আসামিদের।

    সরকারী মামলা দেওয়ার ক্ষেত্রে সাথে বাড়তি ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা দেখা যাচ্ছে দেয়া হয়েছে তাহলে এর অর্থ হল, মামলাকারি সরকার পক্ষ নিশ্চিত হতে চাইছেন যে -মূল যে অভিযোগে মামলা – তা যদি কোন ত্রুটির কারণে প্রতিষ্ঠাই না করা যায় তবে তাতে যে আসামি খালাস হয়ে বের হয়ে না যায় তাই এই ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা সাথে দিয়ে রাখা হয়েছে বলে মনে করা হয়। অর্থাৎ যে মামলাটা দেয়া হয়েছে এর  মূল অপরাধ হল, অস্ত্রের চোরাচালান।  খোলাখুলি বললে অস্ত্রের চোরাচালানি মানে চোরাচালানি ব্যবসা বা ব্যবসার উদ্দেশ্যে চোরাচালানি পণ্য দশ ট্রাক ভর্তি অস্ত্রপাতিকে দেখা বা গ্রহণ করা এক জিনিষ; যেটাকে আমরা অস্ত্রের চোরাচালানি কাজ বলতে পারি। কিন্তু এটা আর ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন – এদুইটা সামঞ্জস্য নাই। কারণ অস্ত্র আইন টা লেখা হয়েছে বা এটা ডিল করে ব্যক্তি বা কিছু ব্যক্তিবর্গ যদি অস্ত্র হেফাজতে রাখে, বহণ করে, কারও উপর ব্যবহার করে এবং সর্বোপরি সেই অস্ত্রগুলো যে বিনা লাইসেন্সের হয়ে থাকে। ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন মোটামুটি এধরণের মামলাগুলোকে ডিল করার জন্য বানান।
    দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা আর ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন  এদুটোর মধ্যে মৌলিক ফারাক হল, প্রথমটা বাংলাদেশে বিক্রি, ব্যবহারের জন্য নয় তৃতীয় দেশে পাচার বা বিক্রির উদ্দেশ্যে। অর্থাৎ এখানে চোরাচালানি পণ্যটা কী সেটার চেয়ে এটা তৃতীয় দেশে চোরাচালানি – সেটাই মুখ্য। আর একটা দিক হল, এই অস্ত্র বাংলাদেশে বিক্রি বা ব্যবহার এর উদ্দেশ্য নয়। সোজাকথায় এই মোটিভ-গুলোই আসলে বলছে এই মামলা ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন এর অপরাধ হিসাবে পড়ে বা সামলানো বা কাভার করার যায় এমন নয়।  কারণ, অস্ত্রের চোরাচালান সামলানীর জন্য ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন রচনা করা হয় নাই।

    অস্ত্রের চোরাচালান সামলানীর জন্য ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন রচনা করা হয় নাই।

    এটা এই আইনি দুর্বলতার কথা, মামলাদাতা সরকার ও সরকারি লোকেরা জানতেন তা বুঝাই যায়। সেজন্যই কী চোরাচালান শব্দটা জুড়ে দিয়েছেন? কিন্তু দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা কী শ্রেফ একটা চোরাচালানি মামলা?
    এমনিতেই “চোরাচালানী রোধে” – সুনির্দিষ্ট করে অস্ত্রের চোরাচালিনী – এবং তাও আবার বাল্ক [bulk] মানে পাইকারি চোরাচালানির বিরুদ্ধে কোন আইনের কথা আমরা জানি না। সারকথায় দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন দিয়ে কাভার করার দিক থেকে খুবই ছোট। কারণ, এটা পাড়ার একটা ছেলে কয়েকটা পিস্তল কিনে এসেছে বিদেশ থেকে তেমন ঘটনা বা মামলা নয়।
    আর এটা সরকার বা মামলাকারিদের কর্তাদের না জানার কথা না।  তাহলে সমস্যাটা কোথায়???

     

    কী ধরনের আইনি মামলা এটা তা সাব্যস্ত করতে মূল সমস্যাটা কোথায়ঃ
    এটাই হল মূল রহস্য।
    দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা – এটা মূলত রাষ্ট্রের সুরক্ষা-নিরাপত্তা [State Security] সংক্রান্ত মামলা। এটা  সেসময়ের সরকার ও সরকারী কর্তারা সকলেই জানতেন। এটা বুঝতে পারা কঠিন কিছু নয় যে এই অস্ত্র আনার মোটিভ বাংলাদেশে এর বিতরণ একেবারেই নয়। বাংলাদেশের বাইরে কোন বিচ্ছিন্নতাবাদি রাজনৈতিক গোষ্ঠির হাতে পাঠানোর জন্যই তা আনা হয়েছিল। যেটা সরাসরি বাংলাদেশের রাষ্ট্রস্বার্থ, এর  সুরক্ষা-নিরাপত্তা [State Security] হতে পারে এবং সেসুত্রে কিছুটা তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সবমিলিয়ে এসব অর্থে রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা ইস্যু। অতএব এই মামলা বাংলাদেশের সিভিল আদালতে তোলার মত কোন মামলাই নয়। আর এনিয়ে যদি কোন ক্রিমিনাল অপরাধ হয়েছে বলে মনে হয় তবে সেটা আমাদের  সামরিক আদালতই দেখবে আর সেটাই এর সঠিক এক্তিয়ার হত। অথচ ইন্ডিয়া হাসিনাকে ক্ষমতায় বসানোর গ্যারান্টার তাই পুরা মামলাটাকেই সিভিল আদালতে ফেলা হয়েছে। যাতে ইচ্ছা মত এটাতে মোচড় দেয়া যায়!

    অথচ যেখানে এই মামলায় অপরাধ টা আসলে কী? এর সদুত্তর নাই। 

    অথচ যেখানে এই মামলায় অপরাধ টা আসলে কী? এর সদুত্তর নাই।  রাষ্ট্র যেখানে নিজ রাষ্ট্রস্বার্থের প্রয়োজনে দেশের বাইরে আরেক স্থানে অস্ত্র পৌছে দিতে কী পারবে না??? এটাকে অপরাধ হিসাবে সিভিল আদালত দেখবে কোন এক্তিয়ারে? অস্ত্রের চোরাচালান মানে কী চারপাঁচটা পিস্তল নিয়ে এসে নিজ রাজধানী শহরে গুন্ডামি করতে দেয়া  – এটা কী এমন কোন মামলা???

    বাস্তবতা হল, পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদি আন্দোলন আছে আর তাতে ইন্ডিয়া সহায়তা করে থাকে বহু যুগ থেকেই। পাকিস্তানও এর পালটা সেই পাকিস্তান আমল থেকে ভারতের নর্থ-ইস্টে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনগুলোকে সহায়তা দিয়ে থাকে! পাকিস্তানে চীনের [৪০ বিলিয়নের উপরে বিনিয়োগ] গোয়াদর প্রকল্প চলছে যার অনেক অংশ চালুও হয়ে গেছে। সেখানে চীনা উইঘুর সন্ত্রাসবাদীদেরকে দিয়ে প্রশ্রয় দিতে হামলা করিয়ে ১৩ জন চিনা ইঞ্জিনিয়ার মেরে ফেলা হয়েছে। যার পিছন থেকে সহায়তা করেছে আমেরিকা ও ইন্ডিয়া !!! এই হল অভিযোগ।  সারকথায় পরস্পর শ্ত্রুদেশ পরস্পরের দেশের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠিওগুলোকে সহায়তা করার টিট ফত টেট ধরনের ততপরতা এগুলা।

    এগুলো সিভিল আদালতে বিচার্য বিষয়ক মামলাই নয়ঃ
    তাই মূলত এগুলো সিভিল আদালতে তুলে বিচার্য বিষয়ক মামলাই নয়। রাষ্ট্রস্বার্থে রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা-নিরাপত্তা [State Security] সংক্রান্ত ঘটনাবলী এগুলো।  রাষ্ট্র সেকাজে কী নীতি নিবে তা সিভিল আদালতের এক্তিয়ার হতেই পারে না। এই গভীর বিবেচনা এতটুকু প্রুডেন্ট বিচারক তার মানে কী আমাদের নাই???? কারও এই পয়েন্টা মাথাতেই এলো না যে এগুলো কী সিভিল আদালতে তোলার মত মামলা??

    ঠিক যেমন ইন্দির গান্ধীকে ১৯৭৫ সালে আমাদের পাহাড়ীদেরকে আমাদের সরকারের বিরুদ্ধে ট্রেনিং দিয়ে অস্ত্র হাতে বাংলাদেশে উস্কানি দেয় নাই। শেখ মুজিব মরার পরে কাদের সিদ্দিকীর বাহিনীকে ট্রেনিং-অস্ত্র দিয়ে ইন্দিরা কী বাংলাদেশে [subversive activity] তে আমাদের পাবলিক যাত্রী-রেলের পাতি তুলে নিতে পাঠায় নাই? তখন এই আদালত এর মুরুব্বিরা  কোথায় ছিল? তার কিইবা করার ছিল? কী প্রতিকার করেছিল? তারা দেখে নাই শুনে নাই এসব ইতিহাস?

    কাজেই আমাদের আবেদন আমাদের আদালত অন্তত একটু প্রুডেন্ট হোক, সেই চর্চায় আলোকপাত করুক!

    আবার আরেকটা হতে পারে যেমন,   পররাষ্ট্রনীতিতে যেমন ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ একমতের একটা চুক্তি করল, যে তারা একে অপরের দেশে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনকে সহায়তা কার করবে না। কিন্তু সেক্ষেত্রেও লক্ষ্যনীয় এটাও আদালতের ইস্যুই নয়।

    কাজেই আদালত প্রুডেন্ট হলেই সেটা বাস্তবে মহামান্য আদালত হয়ে উঠতে পারে!!!

    এসব বিবেচনা থেকে এসপ্তাহের রায়ে প্রকাশিত বিচার রিভিউটাতে যদি পুরা  (দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা) মামলাটাই খারিজ করে দিতে পারত তবে সেটা বোধহয় বুদ্ধিমানের কাজ হত। নইলে যেমন ধরেন,  এধরণের কাজ তো ভবিষ্যতে আমাদের রাষ্ট্রস্বার্থে করতে হতেও পারে। তখন কী তেমন উতসাহী সাহসী সৈনিকদের কে কী আমরা পাবো??? এখন সেসব কাজের জন্য আমাদের সৈনিকদেরকে যদি সিভিল জেল খাটতে হয় এটা তো খারাপ উদাহরণ, আত্মঘাতি!  সাহসী সৈনিক গড়তে কী কষ্ট তা আমাদের অনুমান করা কী কঠিন?? সেখানে আময়ার এক ডিসকারেজিং উদাহরণ রেখে দিচ্ছি!!! তাই না কী? এই মামলায় অনেক গোয়েন্দা বিভাগের সিনিয়ার অফিসারকেও জেল খাটতে হয়েছে। এটা কাউন্টার প্রডাকটিভ। যদিও এমন প্রধান অফিসারও আছেন যারা অর্থের বিনিময়ে বিক্রি হয়ে এই তথ্য সংশ্লিষ্ট দেশে পাচার করে হারাম-আয় করেছেন। সেটা যতটুকু সত্যি-মিথ্যা যাই হোক, এসবও দেখা সামরিক আদালতের এক্তিয়ার!

    আমরা কী সবাই যার যার স্তরে একটু প্রুডেন্ট হতে পারিনা, পারবোনা কেন!! এই দেশটা তো আমাদেরই!!!

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  দুপুর ০২ঃ ০৭   ২১ ডিসেম্বর ২০২৪

     

  • “আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা নেই”

    “আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা নেই”
    গৌতম দাস
    ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪  রাত ১০ঃ ৪০
    https://wp.me/p1sCvy-65f

     

     

    “আওয়ামী লীগের নাকি  নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো বাধা নেই” এমন ফতোয়া মন্তব্য করেছের নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার। বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে রংপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয় মিলনায়তনে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার বিষয়ে মতবিনিময় সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

    ছাগল দিয়ে ধান মারাই হয় না। এটা বহু পুরানা প্রবাদ। সেই অবস্থা হয়েছে বা করেছে বদিউল আলম মজুমদার। ছাগলের মুরোদ থাকে না ধান মারাই এর মেহনত করার!  নামের পিছে একটা ডক্টরেট থাকলেই তিনি সবকিছু করা বা বলার যোগ্য হয়ে যান না। এটা তো উনার নিজেরই জানা না থাকার কোন কারণ নাই। এছাড়া যে ব্যক্তির নিজের সামর্থ সম্পর্কে কোন স্বচ্ছ ও নির্মোহ ধারণা থাকে না – এটা তো নিজের সাথেই অসততা!!!  সব সমাজেই এমন ঘাটের মরা দুচারজন আসলে থাকেই!!!
    তাবু ইউনুস সাব কথিত এক “নির্বাচন সংস্কার কমিশনের” প্রধান তাঁকেই বানিয়ে দিয়েছেন।  যার পিছনের কারণ অথবা উনার এমন নিয়োগ পাবার যোগ্যতা ক্রেডেনশিয়াল কী?  যোগ্যতা একটাই উনি বদিউল এক এনজিও দোকানের মালিক!!!
    এমনিতেই, এনজিও জগতে যারা ম্যাটেরিয়াল বা বস্তুগত জিনিষ যেমন যেকোন ত্রাণ সামগ্রী বা জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী অথবা এমন কি মাক্রোক্রেডিট (ক্ষুদ্র ঋণ) এমন ফিজিক্যাল জিনিষ বিলি করেন এরা তবু একটা “পদের”  হয়।  কিন্তু যারা চাপা মেরে খায় মানে যা মনে চায় কথা বেচে খায় ; যেমন ধরেন এককালে (আশির দশক পর্যন্ত) ভুমিহীন সংগঠিত করাও একধরেণের এনজিও ততপরতা মানা হত যা এখন একেবারেই বন্ধ; ওর পিছনের অর্থদাতা (ইউরোপীয় সোশাল ডেমোক্রাট রাজনীতিক মারা গেছে) নাই তাই। অর্থাৎ এরাও গরীব মানুষকে
    বস্রংতুগত কোন ত্পুরাণ দিলেন না, চাপাবাজি ছাড়া।  আর এর বদলে আমেরিকার সৌজন্যের আরেক ধরনের চাপা বিক্রেতা এনজিও হাজির হয়েছে। তিনারা নাকি আমাদেরকে জনপ্রশাসন (পাবলিক এডমিনিষ্টেশন) শিখাবেন। যার আরো উপরে মেকআপ দিয়ে চেহারা ছুপানী ভাষ্যটা হল এরা নাকি সুশাসন এর ফেরিওয়ালা। এরাও মনে করে রাজনীতি ছাড়া সুশাসন বিলি করা সম্ভব। এমন কী তাহলে রাষ্ট্র বুঝাবুঝির কী হবে? রাষ্ট্র বুঝাবুঝি ছাড়াই গুড গভর্নেস (সুশাসন) – এটা কায়েম করা কী সম্ভব, তাহলে?? গভর্ণ [govern] মানে তো শাসন। তো তাহলে রাষ্ট্র কী, রাজনীতি কী? আপনি বদিউল বুঝেন?  বুঝলে তো আপনি চিন্তাচর্চার কোন পাঠচক্র বা কোন রাজনৈতিক গ্রুপ কিংবা চাইলে একটা রাজনৈতিক দলই খুলে বসেছেন, দেখতাম! নাকি!!!!  অথচ রাষ্ট্র কী, রাজনীতি কী বুঝাবুঝির খবর নাই; আর  এসব না বুঝেই আপনি বদিউল সুশাসন নামে এনজিও দোকান খুলে বসেছেন? আপনি মানুষকে কী বিতরণ করবেন?  আপনার মাথায় তো কোন মাল-ই নাই! কত কী যে দেখব?
    তো আপনি কী করবেন? অরেঞ্জ রেভেলিউশন? জর্জ সোরেস? ওপেন সোসাইটির ফান্ড? সেই মুরোদও আপনার নাই! দেখা যাচ্ছে আপনি যা পারেন তা হল গুম, খুন, অপহরণের রাষ্ট্র কায়েমকারি হাসিনা লীগের রাষ্ট্র – এই হল আপনার সুশাসন-বোধ???? এনজিওও এর টাকা কী মজা তাই না!!!  আপনার মুরোদ হল তৃতীয় শ্রেণীর আওয়ামি দূঃশাসনের, এমন খুনের রাষ্ট্রের দালাল হওয়া!   
    আর তাই  আপনি চিন্তার স্টুপিডিটিতে ভাবছেন এটা লিবারেলিজম! অতএব   আপনি দাবি করেছেন, “আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো বাধা নেই”।

    আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো বাধা নেই বলে মন্তব্য করেছের নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার। বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে রংপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয় মিলনায়তনে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার বিষয়ে মতবিনিময় সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

    রংপুরে নির্বাচন সংস্কার কমিশন প্রধান

     

    আগামিতে আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো বাধা আছে কিংবা নাই – এটা দেখতেই কী ইউনুস সাহেব বদিউলকে নিয়োগ দিয়েছিলেন।

     

    আসলেই এসব একেকটা বদিউলে্রা কোথা থেকে জনসমাজে উদয় হয়??? সরকারের উচিত এমন ব্যক্তিত্ব এরা যেন আর কখন জনস্বার্থ বিষয়ক কোন কাজে জড়িত হওয়া বা কাছাকাছি হওয়া চিরদিনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়! 

    কাজেই এখন প্রধান উপদেষ্টা ইউনুস সাবের জন্য কাজটা একেবারেই সোজাঃ
    ইউনুস সাহেবকে  এখন জনগণের সামনে জানাতে হবে, যে তিনি  বদিউল আলম মজুমদার কে কী কাজের জন্য নিয়োগ দিছিলেন? সেই ট্রার্মস এন্ড কন্ডিশনে কী ছিল? তা জনগণের সামনে এসব এখন উন্মুক্ত করতে হবে। আর দেখাতে হবে যে সেখানে এবিষয়ে ঐ চুক্তিপত্রে কী লিখাছিল? আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো বাধা আছে কিনা সেটা যাচাইয়ের জন্যই কী বদিউল কমিশন? এনিয়ে আমরা জনগণের অংশ নিজেরা যাচাই করতে চাই এটা কীভাবে সম্ভব হল!!
    আর একই ভাবে বদিউল আলম মজুমদার কেও দেখাতে হবে (তার কনট্টাক্ট বা নিয়োগ ডকুমেন্ট ) এর কোন অধিকার বলে তিনি এই মন্তব্য করেছেন যে  “আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো বাধা নেই”। এটা কী তার ম্যান্ডেট? তার এক্তিয়ারভুক্ত কাজ ও মন্তব্য?

    জনগন জানতে চায়।   আর সবার আগে অবিলম্বে ইউনুস সাবের উচিত নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান পদ থেকে  ড. বদিউল আলম মজুমদার এর নিয়োগ বাতিল ও প্রত্যাহার করে নেওয়া।

    অবিলম্বে ইউনুস সাবের উচিত নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান পদ থেকে  ড. বদিউল আলম মজুমদার এর নিয়োগ বাতিল ও প্রত্যাহার করা।

     

    বদিউল সাবের কথা অনুযায়ী কী তাহলে এখন কোন আদালত হাসিনা বা আওয়ামি লীগকে আগামি নির্বাচনে নিষিদ্ধ ধরনের কোন শাস্তি আর দিতে পারবে না? উনার কথিত কমিশন হাসিনা লীগকে এসব থেকে একেবারে খালাস করে দিয়েছেন কী?
    অবস্থা এখন যেন এমন যে বদিউল সাব একেবারে বিচার বিভাগের উপরেও এক মাতবরি রায় ঘোষণা দিয়েছেন!!!!!
    বদিউল আলম মজুমদার – তিনি আসলে যে কী হয়ে গেছেন, যার কোন আর সীমা নাই! তিনিই সব……।  অথচ এমন যেকোন মন্তব্য করার এক্তিয়ার তাকে কে দিয়েছে???

    তাঁকে এসবের জবাবদিহিতার অধীনে এখন আনতে হবে। এটাকী কোন ষড়যন্ত্র? বদিউল কী এর অংশঃ
    মূল সমস্যা আসলে ইউনুস সাবের মনগঠনে; দেখা যায় এনজিও এর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিত্বের প্রতি তাঁর বাছবিচার-হীন আনুগত্য-পছন্দ!  এরই প্রচন্ড ক্ষতিকারক ফল এখন সারা বাংলাদেশের উপর।
    এই ড. বদিউল আলম মজুমদার এন্ড গং এদের উত্থান এরশাদ আমলের স্থানীয় সরকার প্রশাসন কেমন হওয়া উচিত এ’সংক্রান্ত পরামর্শক কনসালটেন্ট হিসাবে নিয়োগ পেয়ে সেসময় তারা হাজির হয়েছিলেন। প্রশাসন কী জিনিষ আর বিশেষত “ম্যানেজমেন্ট” যা এখানে বিশেষত রাষ্ট্র পরিচালনা এই অর্থে ম্যানেজমেন্ট – এই প্রসঙ্গে; অথচ এসব ব্যক্তিদের এনিয়ে কোনই মৌলিক জ্ঞান-ধারণাই নাই। আর সেকারণের আজকের বাংলাদেশে যে দলবাজির প্রশাসন এর কাঠামোগত ভিত্তি তৈরি  হয়ে গিয়েছে এর আসল নায়ক এক বদিউল সাব। আর উনার সাথে আরো ছিল ডঃ তোফায়েল আহমেদ (সাবেক জনপ্রশাসনের শিক্ষক ঢাবি )। এরাই একটা শ্লোগান এনেছিলেন – “পিপলস পার্টিশিপেশন” – “জন-অংশগ্রহণের প্রশাসন” ।  এটা করতে গিয়ে এই বিজ্ঞরা একেকটা জেলাশহর যেন এমপি দেরকে বন্ধক দিয়ে দেবার ব্যবস্থা করেছিলেন। যেহেতু এমপি মানেই জন নির্বাচিত ফলে উনার হাতেি সর্বময় ক্ষমতা দেয়া মানে যেন ওটাই সেই  “পিপলস পার্টিশিপেশন”  এর প্রশাসন ; এই ছিল তাদের গাধা-গরু মার্কা কনসালটেন্সি চিন্তা।
    অর্থাৎ কেউ জন-নির্বাচিত হলে তাকে আর কোন জবাবদিহিতা বা কোন স্থায়ী (স্টাটিটুরি) আইন কনষ্টিটিউশন ইত্যাদির অধীনে আনার আর দরকার নাই। কার্যত সেজন্য জন-নির্বাচিত শব্দের মানে হয়ে গেছিল সাক্ষাত ভগবান; যা বোধহয় কোন রাজার আমলেও রাজারও এমন হুইম [খেয়ালি] শাসন-চিন্তা ছিল না! আর এতে ডিসি হয়ে উঠেছিল এই সাক্ষাত ভগবানের ক্ষমতার আড়ালে নিজ যথেচ্ছাচার!  যেমন খাস জমি কীভাবে বিতরণ হবে এর যে সরকারী বিজনেস রুল আছে তা পালনের দায় এই জন-নির্বাচিত প্রতিনিধির নাই!  আর ডিসি তো ভগবানের আড়ালে, ফলে ত্রাও আগে যতটুকু জবাবদিহিতা ছিল এখন তাও নাই। এই ছিল বদিউল-তোফায়েলের জনপ্রশাসন এর উন্নতমানের জ্ঞান!!! বাইরে থেকে এটাকের আবার আমরা আওয়ামি লীগের ক্যাডার প্রশাসন বলে চিনে; আর বদিউল-তোফায়েলেরা থেকে যায় আড়ালে! সব দোষ হল রাজনীতিবিদ-দের; এনজিও মালিকদের প্রপাগান্ডাও এতে সবল হয়!
    এসবই হল প্রাক্তন পেটি-চিন্তার কমিউনিস্টদের বোধ-বুদ্ধি বা তাদের প্রভাবে বেড়ে উঠা চিন্তার স্টুপিডিটি। যেন আমলা এটা খুবই একটা খারাপ শব্দ। আমলা শব্দটা পজিটিভ ছিল। অর্থ স্কিল্ড – পোড় খাওয়া বা দক্ষ প্রশাসক। অথচ এই ধারনাটাকে তারা উলটে দিয়েছেন। দুনিয়ার সৎ লোক মানেই যিনি জন-নির্বাচিত??? এমনকি তারও কোন দক্ষতার দরকার নাই যেন!!!!

    ঠিক সেই কাজটাই তিনি এখানেও করেছেন। একটা কাজ কাউকে করতে দিলে এর কী কী এক্তিয়ার তাঁকে দেয়া হয়েছে সেদিকে এদের মনোযোগ নাই।  এটাই যেকোন পেটি-চিন্তার মৌলিক বৈশিষ্ট!   এমনকি টার্ম-কন্ডিশনে না বলা থাকলেও যিনি প্রুডেন্ট [prudent] তাঁর তো নিজেই বুঝা উচিত কোনটা করলে সেটা তাঁর এক্তিয়ারের বাইরের কাজ (সেটা নিয়োগবিধিতে উল্লেখ থাক আর নাই থাক) বলে বিবেচিত হবে। অথচ সেই আক্কেল ইনাদের কে আল্লায় দেয় নাই। এনজিও এর দকান খললেই এরা সব একেকজন দ্বিগগজ সবজান্তা হয়ে উঠেন!!!
    দুর্ভাগ্য আমাদের জনগোষ্ঠির!!!

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   রাত ১১ঃ ১৯     ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪
    সর্বশেষ   আপডেটঃ   রাত ১২ঃ ২৩     ২০ ডিসেম্বর ২০২৪

  • কংগ্রেসী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর কান্ধে – গুম-খুনের চটের ব্যাগ না হিন্দুত্ববাদ!

    কংগ্রেসী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর কান্ধে – গুম-খুনের চটের ব্যাগ না হিন্দুত্ববাদ!
    গৌতম দাস
    ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪  বিকাল ০৪ঃ ১০
    https://wp.me/p1sCvy-64l

    ভুল করেন না। ইনি ইন্দিরা গান্ধী নন। ইনি ইন্দিরার ছেলে রাজীব গান্ধীর মেয়ে মানে, ইন্দিরার নাতি প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। রাহুল গান্ধীর ছোট বোন!
    “বাংলাদেশ কে হিন্দুও আউর ঈসাইও কে সাথ খড়ে হো” 

     

     

    বাংলাদেশের কমিউনিস্ট ও প্রগতিশীলদের ধারণা হল একালের মোদি হয়ত খারাপ (হিন্দুত্ববাদী) কিন্তু কংগ্রেস হল একেবারে খাঁটি। এরা সেই নেহেরুর-গান্ধীর আমল থেকেই কংগ্রেসিরা এক্কেবারে প্রগতিশীল! এমনকি নেহেরু তো নাকি সমাজতন্ত্রী ছিলেন?? শুধু তাই না আরও আছে – এরা সেকুলার, অসাম্প্রদায়িক, জাতীয়তাবাদী,  সমাজতন্ত্রী আরও কত কীই না!
    যেমন ধরেন বাংলাদেশে এ’ধরণেরই সমাজতন্ত্রী- প্রগতিশীল একেবারে প্রতীক লোকটা; এমন লোকটা বাংলাদেশে কে? খুব সম্ভবত তাঁর নাম কমিউনিস্টেরা বলবে তিনি হলেন এমিরেটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

    কদিন ধরে ভাবছিলাম এই প্রগতিশীলকে একটু ফুটা করে দেয়া দরকার।  কারণ ইনিই হলেই বিবৃতিবাজ এক নম্বর। প্রগতিশীল-সমাজতন্ত্রী বিবৃতিবাজ বুদ্ধিজীবীতার একনম্বর! আজকাল কিছু ইসলাম-পছন্দ পত্রিকাও দেখি তাঁর লেখা নিবার জন্য লাইন ধরেছে। তিনি এতই  প্রগতিশীল-সমাজতন্ত্রী বিবৃতিবাজ বুদ্ধিজীবী। ইনার নাম থাকে বিবৃতিতে সবার উপরে। কারণ উনার নাম প্রথমেই দেখা গেলে পরে; এরপরে হুটোপটি লেগে যায় কার আগে কে সেখানে নিজের নাম ঢুকাতে হুমড়ি খেয়ে পড়বে!!!
    আড় ইনাদের চোখে কংগ্রেস! ও কংগ্রেস? কংগ্রেস তো হল তাদের সেকুলার এর প্রতীক! কংগ্রেসকে দেখেই তো এই সেকুলার শব্দের জন্ম, এমন অবস্থা! মানে মুসলমান কোপানোর সবচেয়ে যুতসই ধারালো কুড়াল হল – এই কথিত সেকুলার-ধারণা। পড়াশুনা না করা এই ডক্টরেট ডিগ্রীধারীরাই বাংলাদেশে এসব ‘সেকুলার’ সার্টিফিকেট বিলিয়ে বেড়ান।

     

    কিন্তু এরাই আবার কখনও মোদি, আরএসএস-বিজেপি বা তাদের জাগরণ মঞ্চ, কিংবা সনাতনি মঞ্চ, একালের ইসকন এসব সম্পর্কে একেবারে মুখ বন্ধ! মুখে কঠিন তালা দেওয়া। চিন্ময়-ইসকন ইস্যুতে উনারা যেন মৃত!

     

    যাই হোক, সেই প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা! বঢরা নামের এইঅংশটা স্বামীর টাইটেল সুত্রে। ঠিক যেমন হাসিনার নামে ‘শেখ’ থাকার কথা না কারণ ওটা বাপের টাইটেল; আর তিনি সাথে এক সময় স্বামীর টাইটেল ‘ওয়াজেদ’ লিখতেন – এটা তেমনই। 
    উপরের ছবিতে প্রিয়াঙ্কা কাঁধে যে চটের ব্যাগটা সেটাই আলোচনার কেন্দ্র ও বিষয়বস্তু। ওখানে হিন্দিতে (অল্প কোথাও ইংরাজিতেও লেখা আছে )  –বাংলাদেশ কে হিন্দুও আউর ও ঈসাইও কে সাথ খড়ে হো -। মানে হল বাংলাদেশের হিন্দু আর খৃশ্চানদের পক্ষে দাঁড়াও!  

    এখানে চটের ব্যগে ইংরাজিতে লেখা আছে – STAND for MINIRITIES OF BANGLADESH

    অনেকের কাছে মনে হতে হতে পারে, এ আর এমন কী? ভারত সরকারই তো এমন বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন হচ্ছে বলে প্রপাগান্ডায় ভরায় ফেলেছে। সরি, মহাশয়েরা আপনারা মারাত্মক ভুল করলেন।

     

    কংগ্রেস হল পবিত্র আর জিন্নাহ হল পাপী! কংগ্রেস মানে গান্ধী-নেহেরুরা হল পবিত্র, সেকুলার সমাজতন্ত্রী। 

    এই বক্তব্যের অন্যতম পাহারাদার হলেন সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীরা।
    কিন্তু পাঠকদেরকে সাবধান হতে হবে, মিথ্যা থেকে বের হতে হবে – বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন হচ্ছে এই দাবি কিন্তু মোদি ও বিজেপি সরকারের। কিন্তু লক্ষ্য করেন,  মোদি সরকারের দাবি কে মেনে নেওয়া কংগ্রেস এর (সাথে সিপিএম অথবা মমতার তৃণমুল) জন্য বাধ্যতামূলক নয়।

    অথচ আমরা দেখছি রীতিমত চটের ব্যাগ বানিয়ে একে পোস্টারের মত কাঁধে নিয়ে কংগ্রেসিরা সংসদে মিছিল করছে, ফটো সেশনও! মোদি আর কংগ্রেস একাকার! হিন্দুত্ববাদী!!!!!

     

    মোদি কেন এই মিথ্যা প্রপাগান্ডার পথেঃ
    আবার মোদি কেন এই মিথ্যা প্রপাগান্ডা করার পথ ধরেছে? কারণ, বাংলাদেশের হাসিনা আমলের দুইটা ঘটনাঃ
    এক. এখন জানা যাচ্ছে- গুম, খুন অপহরণ ও আয়নাঘর ঘটনায় ইন্ডিয়ার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ আছে!  হাসিনা ইন্ডিয়ার সাথে মিলে এমন আয়নাঘর ততপরতা এমনকি অপহৃত ব্যক্তিকে ইন্ডিয়ার উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার মত কান্ডও ঘটিয়েছে এরা যৌথ ভাবে!!!!
    দুই. ২০০৯ সালের বিডিআর ম্যাসাকার ও আমাদের সৈনিক-অফিসারদের হত্যার সাথে ইন্ডিয়ার সংশ্লিষ্টতা প্রকাশ হয়ে পড়তে পারে!

    এদুই ঘটনাকে চাপা দিতেই বাংলাদেশের উপর প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি এটাই মোদি সরকারের কৌশল ও লক্ষ্য। তাই কথিত এই হিন্দু নির্যাতনের প্রপাগান্ডা।

    তাহলে এখন দাড়ালো কী?
    দাড়ালো যে মোদির বিজেপি আর কংগ্রেস এই প্রশ্নে ভাইভাই!  তাদের ভারত-মাতা কে রক্ষার স্বার্থে কাঁধে ব্যাগ উঠিয়ে নিয়ে মিথ্যা কথা লেখা ও এর মিথ্যা প্রপাগান্ডা – এটাই কংগ্রেসি অপ-ততপরতা!  এই হল কংগ্রেসের পবিত্র সেকুলার ও সমাজতন্ত্রী আচরণ! যেখানে আমরা বাংলাদেশিরা হলাম পাপী – আমরা পাপী মুসলমান বা তাদেরকে সমর্থনকারী!!!

    কাজেই সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে  প্রগতিশীল-সমাজতন্ত্রী বিবৃতিবাজ বুদ্ধিজীবী গণ আপনারা বিবৃতি দিবেন কবে? সেই অপেক্ষায় থাকলাম!!!

     

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ বিকাল ৪ঃ ৪৯   ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪

  • কোথায় ছিলেন বিক্রম?

    কোথায় ছিলেন বিক্রম?
    গৌতম দাস

    ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪
    https://wp.me/p1sCvy-63H

     

     

     

     

    একঘন্টা কোথায় ছিলেন বিক্রম? – এটা আজ সন্ধ্যার হট কেকে আলোচনা। বিশেষ করে সামাজিক আলোচনার অন্যতম প্ল্যাটফর্ম ফেসবুকে!
    যদিও রাষ্ট্রের গোপন বিষয় বা যেকোন গোপন বা অপ্রকাশ্য বৈঠক নিয়ে আলোচনা তুলে আনা বেশ সীমাবদ্ধতার কাজ । অন্তত এখানে এমন অনেক বিষয়-প্রসঙ্গ থাকে যে চাপ্টারটা জানি বা না-জানি তা নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করা যায় না। তা করা একেবারেই সঠিকও না। কারণ রাষ্ট্রস্বার্থের অনেক কিছু তাতে জড়িয়ে থাকতে পারে। সেটা সামলে রাখাই তো দায়ীত্বপুর্ণ নাগরিকের কাজ!  কাজেই কিছু কিছু রেড লাইন আমরা ক্রশ করতেই পারি না; এমনকি নাগরিক অধিকারের দোহাই দিয়েও না।

    তবুও উপরের এসব দিক আমলে রেখেও কিছু আলোচনা তো করাই যায়! হ্যা, তাই আমরা করার চেষ্টা করব এখানে।
    আমার দেখা তিনটা মানে আসলে দুটা মিডিয়ায় এনিয়ে কিছু আলোকপাত করার চেষ্টা করেছে তারা হল, আউটলুক ও মানবজমিন (জনতার চোখ) । তবে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি আমাদের সেনাপ্রধান ও সাথীদের সাথে কী বিষয়ে কথা হয়েছে এদিক নিয়ে কেউই কোন হদিস এর ইঙ্গিতও দিতে পারে নাই। এই হল সীমাবদ্ধতার দিকটা।

    এখন সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যেই থেকেও মানে এটা স্বীকার করে নিয়েও অনেক কথা বলা যায় তাই এখানে বলব।

    কথা এভাবে সেভাবে যত যাই বলি, ঐ বৈঠকে কথার ইস্যু যা হতে পারে তা দুই ধরনের। এক. এমন ইস্যুতে যেটা আসলে প্রত্যক্ষভাবে কিছু নাগরিক ব্যক্তিস্বার্থ ও অধিকার সম্পর্কিত দিকও আছে বা থেকে গেছে। আবার এমন হতে পারে, দুই. কিছু ইস্যুতে রাষ্ট্রস্বার্থ একেবারেই প্রধান যার অর্থ হল পাবলিক ইন্টারেস্ট বা জনস্বার্থ সেখানেও আছে তবে একটু পরোক্ষে।

    গত মাস খানেকের বেশি হবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন যে বিডিআর বিদ্রোহ মামলা আরো স্বচ্ছ করে খুঁজে দেখার জন্য, অসমাপ্ত এদিকটা সম্পন্ন করতে একটা কমিশন গঠন করা হবে।  যা সেকালে (২০০৯) কোন মতে ধামাচাপা দেয়া হয়েছিল; সেসব এবার খুলে সাফা করা হবে। কিন্তু  আজকে হাইকোর্টে কে অবহিত করতে গিয়ে এটর্ণীর অফিস থেকে আদালতকে জানানো হয়েছে সরকার আপাতত কমিশন গঠন নিয়ে আগাচ্ছে না। এখানে আপাতত কথাটা গুরুত্বপুর্ণ;  এর মানে হল, এখন না হলেও পরে হতে পারবে বা পারে। আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার এমন অবস্থানে পিছনের সাফাই যুক্তিতে জানিয়েছে আদালতে নাকি এ’সংক্রান্ত দুইটা আগের মামলা পেন্ডিং আছে। সেগুলো নিষ্পত্তি হয় নাই তাই সরকার করতে পারছে না। যদিও এই রিট যারা আদালতে করেছিলেন সেই বাদীপক্ষ আজ পাবলিকলি জানিয়েছেন যে  এর আগে এমন পেন্ডিং মামলার পরিস্থিতিতেও শেখ মুজিবের হত্যার মামলা বলেছে যা উদাহরণ বা রেফারেন্স আছে। যার অর্থ সরকারী সাফাই সত্যি বা ভ্যালিড নয়; এই হল বাদীপক্ষের দাবি।

    যাই হোক আমাদের প্রাসঙ্গিক মুলকথাটা হল, এখান থেকেই জল্পনা-কল্পনা উঠেছে তাহলে এটাই কী – একঘন্টা কোথায় ছিলেন বৈঠকের ইস্যু – ছিল? সেকারণে ইউনুস সরকার পিছু হটছে??? এই হল সন্দেহ!!

    তবে একেবারে স্পষ্ট করে বললে, এর পক্ষে কোন কনফার্মেশন কোন নিশ্চয়তা কোথাও কার কাছে এখনও নাই! এই অর্থে এটা জল্পনা-কল্পনা পর্যায়েই এখনও থেকে আছে!
    যাই হোক এটা তবে আমার উপরে বলা সেকেন্ড ইস্যুর উদাহরণ। অর্থাৎ পরোক্ষে সব নাগরিক ক্ষতিগ্রস্থ এখানে, আর দেশের নাগরিকের রাষ্ট্র সেই রাষ্ট্রস্বার্থের ক্ষতিগ্রস্থতার উদাহরণ হবে এটা।

    আর প্রথম উদাহরণটা যেখানে কিছু নাগরিক প্রত্যক্ষ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার মামলা।

    এখন আমার সাফ কথাটা বলবঃ
    মামলা নাগরিকের পরোক্ষে সবার অথবা প্রত্যক্ষ কিছু নাগরিকের স্বার্থ ঘটিত যাই হোক না  – যেটা ঘটবেই তা হল, ঐ একঘন্টা কোথায় ছিলেন বৈঠকের আলোচনায় কোন আপোষ রফা যদি হয়েই থাকে সেক্ষেত্রে কিন্তু এটা নিয়ে যেকোন পাবলিক আদালতের শরাণাপন্ন হবেনই। আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি। অন্তত এখনকার মানের সুপ্রীম কোর্ট যদি থেকে যায়। আর সেক্ষেত্রে কোর্টের রায়  “একঘন্টা কোথায় ছিলেন বৈঠকের” সংশ্লিষ্টরা আর খোদ ইউনুস সরকার সবার জন্যই মারাত্মক বিব্রতকর একটা রায় হবে।
    খোদ ইউনুস সরকারও দায়ী হবেন এজন্য যে ঐ রিপোর্ট বলছে ঐ একঘন্টা কোথায় ছিলেন বৈঠকে যেটাই আলোচনা হোক না কেন তা ইতোমধ্যেই সেনা সদস্যরা ইউনুস সাহেব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবগত বা রিপোর্টেড হয়ে গেছে।

    আর যদি, আগামিতে আদালতের মান বদলে দেয় বা যায় কেউ হাসিনা আমলের ও স্টাইলে চলে যায় আদালত  – তবে বলাই ভাল ক্ষুব্ধ নাগরিক জনগণ আবার এক ৫ আগষ্ট সারা বাংলাদেশ দেখবে!

    কাজেই একঘন্টা কোথায় ছিলেন বৈঠকই কোন শেষ কথা নয়। আমরা বহু পথ পরিক্রমা ইতোমধ্যে পার করে ফেলেছি। পিছন ফিরার পথ আর নাই!

    কাজেই একঘন্টা কোথায় ছিলেন বৈঠকই কোন শেষ কথা নয়।

    আসলে ইউনুস সরকার ইতোমধ্যে একটা কথা উচ্চারণ করে ফেলেছেন। কথাটা হল, ভারতের সাথে সম্পর্ক হতে হবে সম মর্যাদার আর ন্যায্য অধিকার – এদুইয়ের উপর ভিত্তি করে। যারাই এর ব্যত্যয় ঘটাবেন তারা নাগরিক জনগণের কাছে বেঈমান বলে পরিচিত হবেন!

    তাই হবু ক্ষমতার কোন রাজনৈতিক দল, বর্তমান ইউনুস সরকার (সাথে সেনা অংশসহ) কারও পক্ষেই ভারতের সাথে কোন আন্ডারহ্যান্ড ডিল – করতে চাইলেও সেটাই শেষ কথা নয়! হবে না! আমার বিশ্বাস সকল পক্ষই আমার একথাটা মনে রাখবেন!

     

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

     

     

  • চোর নিজেই দাবি করছে চুরি বেড়ে গেছে!!

    চোর নিজেই দাবি করছে চুরি বেড়ে গেছে!!
    গৌতম দাস
    ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪   বিকাল ০৪ঃ ১২
    https://wp.me/p1sCvy-62g

     

     

    এ’এক অদ্ভুত বাংলাদেশে প্রবেশ করেছি আমরা! এখানে চোর নিজেই দাবি করেছে যে চুরি খুবই বাইরা গেছে! এই বলে ভাল সাজতেছে! কিন্তু এভাবে কী পাপ ধুয়ে ফেলা যাবে? না যায়?
    ইংরাজি ডিপ্লোম্যাট, জাপানি ফাইনান্স আমেরিকা থেকে প্রকাশিত এক ম্যাগাজিন; যা মাঝে চীন ঠেকাও এর ঠিকা ভারতকে আমেরিকা দেওয়ার কালে জাপান থেকেও বের হত। সেই ডিপ্লোম্যাটে কলকাতার এক সাংবাদিক নাম স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্য  (প্রাক্তন হিন্দুস্তান টাইমসের লেখক) এক লেখা ছাপানো হয়েছে শিরোনামঃ  বিজেপির হিন্দুত্ববাদী আদর্শের উত্থান ঘটছে বাংলাদেশে [The Rise of the BJP’s Hindutva Ideology in Bangladesh]।

    বিজেপির হিন্দুত্ববাদী আদর্শের উত্থান ঘটছে বাংলাদেশে

    আর সেই লেখাটার বাংলা অনুবাদ করে ছাপিয়েছে প্রথম আলো; বিজেপির হিন্দুত্ববাদী আদর্শের উত্থান ঘটছে বাংলাদেশে।  শিরোনাম দেখে অনেকের মনে হতে পারে যে দেখেছো – প্রথম আলো কত ভাল হয়ে গেছে – একেবারে বিজেপির বিরুদ্ধে শুধু না এমনকি হিন্দুত্ববাদের বিরুদ্ধেও লিখছে…!  এমনকি একটা ফেসবুক স্টাটাস দেখলাম ইতোমধ্যেই লিখেছে – প্রথম আলোর একটি সিগনিফিক্যান্ট নিউজ কাভার! তিনি দেখেছেন।   ফলে চাই কী এখন আমাদের প্রেস সচিব শফিকুল সাহেবও  এসব দেখে ভেবে বসতে পারেন যে তাঁর প্রথম আলো কে ভালবাসাটা কতটাই না সঠিক ও নিখাদ ছিল; কেবল বাঙালি মুসলমানেরাই তা বুঝল না! ওরা ‘ভারতীয় সেকুলার’ নয় বলে বুঝল না!!!!

    তাদের জন্য এবার একটু ভান্ড ফাটাতেই হবে।

    তাদের জন্য এবার একটু ভান্ড ফাটাতেই হবে।

    “On August 9, the day after Nobel Laureate Muhammad Yunus took charge as the head of Bangladesh’s interim government, Hindus, a religious minority making up 8 percent of the Bangladeshi population, started hitting the streets in different parts of the country, including the Shahbag Square in the national capital, Dhaka.

    They protested a series of attacks targeting Hindu homes, businesses, and places of worship during August 5-8, when the country descended into lawlessness following Prime Minister Sheikh Hasina’s resignation and hurried exit from the country.”

    উপরের লেখার অংশটা স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্য এর, উনার ডিপ্লোমেটে লেখা থেকে নেয়া। এখন স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্য  এর লেখায় attacks বলে যে শব্দটা ওর পছনের লিঙ্ক – সেটাই প্রথম আলোতে প্রকাশিত এক রিপোর্ট, সেটাকেই উদ্বৃত করে আনা হয়েছে।  যার সোজা মানে হল They protested a series of attacks targeting Hindu homes, businesses, বা বাংলদেশে হিন্দু নির্যাতন চলছে সেই প্রপাগান্ডা বক্তব্যটারই মূল উতস প্রথম আলোর রিপোর্ট।  নিচে  প্রথম আলোর (ইংরাজি) রিপোর্টই সেটা।

    আর তা পড়ে পিছনের ঘটনা কাহিনী না জেনে আমরাই আবার ফেসবুকে লিখছি  প্রথম আলোর একটি সিগনিফিক্যান্ট নিউজ কাভার!-আজকের!!!!

    চোর নিজেই দাবি করছে চুরি সত্যিই বেড়ে গেছে!!
    আসলেই তাই!!!!!  কী তামসা!!

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক

    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   বিকাল ০৫ঃ ৪৮    ১৪ ডিসেম্বর  ২০২৪
    শেষ আপডেটঃ   ডিসেম্বর  ২০২৪

  • আমাদের প্রেস সচিব শফিকুল আলম, বেচারা!

    সবার আগে সেকুলার শব্দটা কবর দিয়ে নেন; এটা অপ্রয়োজনীয়!
    আমাদের প্রেস সচিব শফিকুল আলম, বেচারা!
    গৌতম দাস
    ০৯ ডিসেম্বর ২০২৪
    https://wp.me/p1sCvy-5Zk

     

     

     

     

    সবার আগে সেকুলার শব্দটা কবর দিয়ে নেন; এটা অপ্রয়োজনীয়!
    আমাদের প্রেস সচিব শফিকুল আলম কোন বেচারা নন, অবশ্যই। কিন্তু না হলেও তিনি তাই হয়ে পড়েছেন। মানে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এর কথাই বলছি। তাকে এখন বেচারা-ই মনে হয়! গ্রাম দেশের এক প্রবাদে আছে, তাঁতি তাঁত বুনে দিব্বি সেই আয়র উপর আরামে খাইতেছিল; কিন্তু কাল হল মানে সর্বোনাশ হল তাঁর জমি কিনার পরে!  শফিক সাহেব ঢাকায় ‘বার্তা সংস্থা এএফপির বাংলাদেশ ব্যুরো চিফ’ হিসাবে হেসে খেলে তার সময় আরামেই যাচ্ছিল। কিন্তু তিনিও তাঁতির মত জিমি কিনলেন!  আর এখন? এর পরে!!!!

    এখন তিনি বুঝতেছেন কী ভুলটাই না করেছেন!! কথিত সেকুলারিজম কেই বাপ ডাকতেছেন! অথচ কোন লাভ হচ্ছে না; তবু কোন কুল্কিনারা বনাই। তিনি সেক্যুলার সংবাদপত্র ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে আহবান বা আশ্রয় করে   উঠে দাঁড়াতে চাইছেন।
    এমনকি কোন কোন সংগঠন সেক্যুলার সেই সার্টিফিকেটও বিতিরণ শুরু করে দিয়েছেন তিনি।

    “…আসক একটি সেক্যুলার (ধর্মনিরপেক্ষ) গ্রুপ, বছরের পর বছর ধরে যেটির নেতৃত্বে ছিলেন আওয়ামী লীগের একজন অপরাধ স্বীকারকারী। এর বর্তমান চেয়ারম্যান হলেন মানবাধিকারবাদী আইনজীবী জেড আই খান পান্না। যিনি স্থানীয় মিডিয়াকে বলেছেন যে তিনি বিচারে গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাকে রক্ষা করতে আগ্রহী হবেন।”
    “….The ASK is a secular group, which for years was headed by an Awami League apologist. Its current chairman is lawyer ZI Khan Panna, a human rights defender who has told local media that he would be interested in defending mass murderer Sheikh Hasina in trials.”

    এই হল সার্টিফিকেট বিতরণ। কিন্তু ফ্যাক্টস হল, আইন ও সালিশী কেন্দ্র (আসক) এটা কামাল হোসেন এন্ড গং মূলত এই পরিবারের গড়ে তোলা এক এনজিও। খাঁড়া ভাবে টেক্কা কে টেক্কাই বললে এটা হল, হিন্দুত্ববাদের ভিত্তিতে বাংলাদেশের হিন্দুদের স্বার্থ [কথিত ভিকটিমের স্বার্থ] দেখতে হবে – এমন চিন্তা কাঠামোতে তৈরি করা  বা দাঁড়ানো এক এনজিও প্রতিষ্ঠান। একে সফট হিন্দুত্ববাদের এক আওয়ামি লীগ প্রতিষ্ঠানও বলা যেতে পারে। অথচ শফিকুল আলম এটাকেই সেক্যুলার  গ্রুপ বলেসার্টিফিকেট দিচ্ছেন আমরা দেখছি। আসলে সেই সেকুলারিজমই হল হিন্দুত্ববাদ চিন্তা কাঠামোর উপরে দাঁড়ানো এক চিন্তা!   আর সেকারণেই এই সেক্যুলার আর হিন্দুত্ববাদের মধ্যে কোন ফারাক নাই!

    কিন্তু তামাসাটা হল, প্রেস সচিব শফিকুল আলম এখন তার জীবনের শ্রেষ্ঠ বিপদের মুখোমুখি। কারণ খোদ মোদি সরকার তাঁর হিন্দুত্ববাদ কান্ধে নিয়া জীবনের একবড় বাজিতে নেমেছেন যে চরম মিথ্যা বয়ান দিয়ে হলেও মোদি চাইছেন – “বাংলাদেশে কথিত হিন্দু নির্যাতন হচ্ছে” – এই ডাহামিথ্যা বয়ানটাকে যেভাবেই হোক প্রতিষ্ঠা করবেনই!!! [এই মিথ্যা বয়ানটা প্রতিষ্ঠা করতেই মোদি চিন্ময়- ইসকন নাটক বাংলাদেশে নামিয়েছেন। ]  আর এদিকে চিন্ময়কে বিসদৃশ্যভাবে কোলাকুলি করে থ্যাঙ্ক জানায় (পরে চিন্ময় গ্রেফতার হলে পরে) সে ভান ও ভনিতার  প্রতারক (imposter) এবার দাবী করছে যে চিন্ময়েরও এমন মিথ্যা বয়ান হাজির করার অধিকার আছে!  হিন্দুত্ববাদের জজবা তুলে আঙুন লাগানোর অধিকার তো মোদির অবশ্যই আছে তাই না???? কী বলেন?
    আর এখন শফিকুলের দায় হয়ে উঠেছে কথিত বাংলাদেশের হিন্দু নির্যাতন নিয়ে  মোদির ডাহা প্রপাগান্ডার বিরুদ্ধে লড়াই করে ইউনুস সরকারকে রক্ষা করা।

    আমি নিশ্চিত শফিকুল আলম সাহেব জীবনেও চিন্তা করেন নাই যে কথিত এই সেক্যুলারিজম টা কী? এটা খায় না মাথায় দেয় – এনিয়ে কখনও গভীর ভাবে উল্টাপাল্টে দেখতে গেছিলেন!  এমনকি হিন্দুত্ববাদ এটাই বা কী জিনিষ? এটাই তেমন গভীরে নেমে তাঁর দেখা হয় নাই! এএফপির ব্যুরো প্রধান হতে বা সে জীবনে এসব কখনও এত গুরুত্বপুর্ণ হয়ে আসেই নাই!
    যেমন ধরেন এই কথিত সেকুলারিজম এটা আমেরিকান কনষ্টিটিউশনে নাই। বরং উলটা ধর্ম পালনকে নাগরিক অধিকার মনে করে রাষ্ট্র। দুনিয়ার তিনটা রাষ্ট্র এমন শয়তানি সেক্যুলারের কথা বলে। বৃটিশ, ফরাসী রাষ্ট্র আর ইন্ডিয়াতেই এই শয়তানি আছে। তিনটারই উদ্দেশ্য মুসলমান কোপানো!  তাই এথেকে অর্থহীন দাবী রাষ্ট্র থেকে ধর্ম আলাদা করতে হবে!  যে শয়তানির চিহ্নটাই হল ১৯২৩ সালের পরে তুরস্কের কামাল তুলে কামাল কিয়ার সেকুলার!
    অথচ খো বৃটিশ রাষ্ট্রটাকেই দেখেন, এটা এংলো-ক্যাথলিক ধর্মীয় জাতিরাষ্ট্র। ক্যাথলিক মানে ক্রিশ্চানিটির মূল অর্থডক্স ভার্সানের পরের বড় মাজহাব হল ক্যাথলিক ক্রিশ্চান ধারা। এখন যে সে ক্যাথলিক হলে হবে না।  বৃটিশ রাজ-পরিবার যে ধারা বা ব্যাখ্যার ক্যাথলিসিজম মানেন অনুসরণ করেন সেই ক্যাথলিক মানে এংলো বা ইংলিশ রাজার অনুসৃত ক্যাথলিকই হতে হবে। আর এই এংলো-ক্যাথলিক ক্রিশ্চানিটি ধারার ধর্মের প্রধান বা গুরু হলেন বৃটিশ রাজপরিবারের প্রধান (রাজা বা রাণী)। আবার এই রাজা-রাণীই হলেই বৃটিশ রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক বা সাংবিধানিক প্রধান! তাহলে এবার বৃটিশ রাষ্ট্রটা আসলে কী দাড়ালো?
    আর এই বৃটিশ রাষ্ট্রটাই সেকুলারিজম ফেরি করতে এসেছে? দাবী করছে রাষ্ট্র থেকে ধর্ম আলাদা করতে হবে?????
    আমার মনে হয় না শফিকুল আলম কখনও এতদুর তলায় হাত দিয়ে দেখেন নাই যযে সেকুলার জনিষটা কী??
    আবার দেখেন ভারতের বেলায়। এতা মনে করার কারণ আছে যে ১৯৪৯ সালে ভারতের কনষ্টিটুশন রচনার সময় নেহেরু-গান্ধী জানতেন তারা হিন্দুত্ববাদ – এর উপরে একটা টোপর পরিয়ে ঢেকে ঢুকে একটা ভারত রাষ্ট্র খাড়া করতে যাচ্ছেন। যেটা আসলে হিন্দু-ধর্মীয় জাতবা নেশন বোধ এর উপর দাঁড়ানো এক হিন্দুধর্ম ভিত্তিক জাত-রাষ্ট্র। এক হিন্দু রিপাবলিক! তাই সযত্নে সেক্যলার শব্দটা কোথাও কনষ্টিটিউশনে আনেন নাই।  এটা আসলে ধুর্ত কিন্তু বোকা ইন্দিরা গান্ধীর কাজ। তিনি ১৯৭৬ সালে এই সেকুল্যার শব্দ ভারতের কনষ্টিটিউশনে প্রথম ঢুকিয়েছেন – বাংলাদেশ স্বাধীনহবার পরে মানে বাংলাদেশকে সেকুলার বলে ল্যাজ কেটে দিবার পরে!

    তাহলে সেকুলারিজম ধারণাটাই সৎ নয়? সদ -নয়? কোন সদ-অর্থ কীঃ
    এই নকল বা ইসলাম কোপানী সেকুলার ধারণার বাইরে অবশ্যই একটা সদ-অর্থ এমন ধারণা আছে।
    যারা এনিয়ে একাদেমিক গভীরে নামতে চান তাদের জন্যঃ 1648 westphalia  ended the 30 years war  – এধরণের শব্দগুলা লিখে গুগল সার্চ দিতে পারেন।
    এতে যা যা আসে সে সব আপনার সামর্থ ও সময়ে যা কুলায় পড়ে বুঝবার চেষ্টা করতে পারেন।
    ইউরোপে এক গৃহযুদ্ধ বা ধর্মযুদ্ধ বা যা আসলে খ্রিশ্চানিটির ভিতরেরই নানান ব্যাখ্যা বা ফেকড়ার যুদ্ধ হয়েছিল চলেছিল ১৬১৮-১৬৪৮ এই ত্রিশ বছর; কোথাও কোথাও যা আশি বছর ধরে চলেছিল। আর  ওয়েস্টফিলিয়া জার্মানির এক শহরের নাম যেখানে ১৬৪৮ সালে বসে এই গৃহযুদ্ধের পরিসমাপ্তি টানা হয়েছিল বা খুজে পাওয়া গেছিল। কিন্তু কী সেই ফর্মুলা???

    ধরা যাক কোন মুসলমান রাজা তিনি যে ফেকড়া-মজহাব বা ব্যাখ্যা-ধারার [interpretation] অনুসারি সেই রাজা কী কেবল তার মতই অনুসারি মুসলমান প্রজাকেই বেশি ফেবার করবেন, বেশি সুবিধাদি দিবেন? মানে বাকি প্রজাদের তুলনায়? ফেকড়া-মজহাব এর ভিত্তিতে প্রজাদের মধ্যে বৈষম্য প্রতিষ্ঠা করবেন?

    এই হচ্ছে মূল তর্কটা।
    আর “ওয়েস্টফিলিয়া ১৬৪৮” সম্মেলন কীসের ভিত্তিতে সব গৃহযুদ্ধের অবসান করেছিল?
    সেতা বুঝে নেওয়া খুবই জরুরি।
    সমাধানটা ছিল আসলে খুবই সহজ। আমি উদাহরণে মুসলমান রাজা বললেও ইউরোপে এটা ছিল খ্রিশ্চানিটি। তবে সবার ক্ষেত্রেই এক। সমাধানটা ছিল, রাজা বা শাসক যে ধর্মের যে ফেকড়া-মজহাব এরই অনুসারি হন না কেন যেকোন ফেকড়া-মজহাব অনুসারি সব প্রজাকেই তিনি বৈষম্যহীন ভাবে দেখবেন বা সুবিধাদি দিবেন বা আইন করবেন।  ফেকড়া-মজহাব নির্বিশেষেই শাসন পরিচালনা করবেন।  এটাই বৈষম্যহীন শাসন – এটাই যেকোন অধিকার ভিত্তিক (মানে ধর্ম বা জাতভিত্তিক জাতিবাদি নয়) রিপাবলিকেরও মৌলিক কথা!

    কাজেই বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বৈষম্যহীন কথাটার তাতপর্য এখন জুলাই-আগষ্ট বিপ্লব বা ৫ আগষ্ট বিপ্লবের মধ্যেই উঠে এলেও এর তাতপর্য অনেক গভীরে!
    যেমন ধরেন ওয়েস্টফিলিয়ার ঐ সমাধান বাইরে থেকে ওতা শুধু খ্রিশ্চনিটির সমাজের মধ্যে প্রযোজ্য তা একেবারেই নয়।
    যেমন রাজা,শাসক বা প্রধানমন্ত্রী শুধু খ্রিশ্চানিটির ফেকড়া-মজহাব এর প্রশ্ন নয় যেকোন ধর্মের যেকোন পরিচয়ের নাগরিকের প্রতি বৈষম্যহীন আচরণ করবেন এমন সমাধান তো এখান থেকে টানা যায়। এজন্যই আমি বলি এটা অধিকার ভিত্তিক রিপাবলিক; জাত-ধর্ম ভিত্তিক নয়। এতা সম্ভব। এটাকেই ক্লাসিক্যাল অর্থে রাষ্ট্রে নাগরিক সাম্যতা (অনেক সময় এটা শুধু ‘সাম্য’ লিখা হয়) বা রাজনৈতিক সাম্যের রিপাবলিক – বলে বুঝতে হবে। মজার কথা এটাই হল বাস্তব ও ক্লাসিক্যাল সেকুলার ধারণা।   আরও তাতপর্য হল এটা এই রাজনৈতিক সাম্য  বাস্তবায়ন করতে রাষ্ট্রের কনষ্টিটিউশনে সেকুলার বলে (আসলে মুসলমানবিদ্বেষী) কোন শব্দ রাখারও দরকারই নাই।

    আমি নিশ্চিত এত গভীর জায়গা থেকে শফিকুল আলম চিন্তা করেন নাই আগে!
    অসুবিধা নাই। এখন থেকে যেটা জেনে রাখলেন, অবশ্যই তা আগামিতে কাজ লাগবে!

    সেক্যুলার মিডিয়া বলে কিছু নাইঃ
    আসলেই নাই, সেকুলার মিডিয়া সেটা আবার কী?

    কিন্তু তিনি লিখেছেনঃ

    প্রেস সচিব বলেন, ‘আমরা আশা করি, শীর্ষস্থানীয় সেক্যুলার ও উদারপন্থী সংবাদপত্রগুলো সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে কথিত সহিংসতার ঘটনাগুলো নিয়ে তাদের নিজস্ব তদন্ত করবে……”।

    এমন বাক্য লিখে তিনি আসলে নিজেকেই বোকা বানিয়েছেন। তিনি যা বলতে ছেয়েছেন তা হল বৈষম্যহীনতা; বৈষম্যহীন সাম্য এভাবে সকলের রাজনৈতিক অধিকার। কিন্তু তার এই সেকুলার এর অর্থ হয়েছে বৃটিশ, ফরাসি বা ভারত রাষ্ট্রগুলোর বিশেষ করে ভারতীয় ইসলামবিদ্বেষ এর হিন্দুত্ববাদ যেটাকে এরা সেকুলার বলে ঢাকা দিয়ে চলতে চায় সেই সেকুলারিজম হয়ে দাড়িয়েছে। বা দাড়াবেই। তাই সোজা পথ এই কথিত শব্দটাই ব্যবহার না করা। রাজনৈতিক অধিকারে সাম্য বা শুধু ছোট করে সাম্য – এই শব্দে প্রকাশ করাটাই অনেক ভাল। যাতে হিন্দুত্ববাডেড় খপ্পরে না পড়তে হয়। আর হিন্দুত্ববাদের বিরোধী লড়াইয়ে “রাজনৈতিক সাম্য” এর পক্ষের লোক হওয়া, এটাই তো হতেই হবে।  বৈষম্যহীনতার পক্ষে ধারণা স্বচ্ছ রাখতে হবে!
    যারা মোদির পক্ষের মিডিয়া বা প্রতিষ্ঠান তারা হিন্দুত্ববাদী এভাবে তাদেরকে চিহ্নিত করাই ভাল নয় কী!  মানুষের সমান অধিকারের পক্ষের মিডিয়াও বলতে পারেন; এটাই তো “রাজনৈতিক সাম্য” এর পক্ষের মিডিয়া!  ধর্ম, এথনিক পরিচয়, পাহাড়ী-সমতলি, নারী-পুরুষ, সাদা-কালো চামড়া ইত্যাদি যেকোন বিভাজন ও বৈষম্যমূলক চিন্তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অধিকারে সাম্য! এটাই আপনি সম্ভবত বলতে চেয়েছিলেন!
    কিন্তু অসতর্কতায় বারবার এটা হিন্দুত্ববাদের কবলে ও তাদের পকেটে চলে যাচ্ছিল! কনসেপ্ট পরিস্কার রাখা এজন্য সব পেশার লোকের জন্যই খুব গুরুত্বপুর্ণ!
    প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম কে জানাই 
    তাঁর সকল লড়াইয়ে সফলতা, এই  শুভ কামনা!  হিন্দুত্ববাদ – এই হিটলারিজমের বিরুদ্ধে লড়াই অবশ্যই কঠিন!

     

     

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    শেষ আপডেটঃ  দুপুর   ডিসেম্বর  ২০২৪    

     

  • হিন্দুত্ববাদের বয়ানের উপর দাঁড়িয়ে যেকোন বিবৃতিই অর্থহীন

    হিন্দুত্ববাদের বয়ানের উপর দাঁড়িয়ে যেকোন বিবৃতিই অর্থহীন
    গৌতম দাস
    ০৮ ডিসেম্বর ২০২৪  দুপুর ০১ঃ ০৮
    https://wp.me/p1sCvy-5Yx

     

    ভারতে হিন্দুত্ববাদী শক্তি ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে বিবৃতি অর্থহীন

    হিন্দুত্ববাদের বয়ানের উপর দাঁড়িয়ে ভারতের কারো উদ্দেশ্যেই দেয়া বিবৃতি অর্থহীন; মানে হল সবার আগে মুখ্যত খেয়াল করতে হবে আপনি কার বয়ানে কথা বলবেন? নিজস্ব নাকি ভারতের হিন্দুত্ববাদের?
    এ’সম্পর্কে আপনার সচেতনতা লাগবে। যে বয়ান-পরিভাষা আপনার জনগণের বিরুদ্ধে সেই পরিভাষাই ব্যবহার করে এবং সেই চিন্তা-কাঠামোই ব্যবহার করে আপনি এই শয়তানি ও অসৎ ততপরতার বিরুদ্ধে লড়তে পারবেন না।

    আমি একটু দেরিতে, ইতোমধ্যে গত ৬ ডিসেম্বর ২০২৪  “ভারতের জনগণের উদ্দেশে ১৪৫ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি শিরোনামে রিপোর্ট ছাপা হয়েছে মিডিয়ায়।
    বাইরের চেহারায় এটা সিপিবি ঘরানার চেয়ে আলাদা মনে হতে পারে কারণ মোদি সরকারের বদলে এখানে “ভারতের জনগণের উদ্দেশ্যে” – বলে বলা হয়েছে। কিন্তু এরপরেও এটা যে কার সেই। কারণ, এক. এটা যারা লিখছে তাদের আলাদা কিছু করার প্রয়াস হয়ত কিন্তু তা মর্ম বদল ঘটাতে পারে নাই। আর দ্বিতীয় কারণ, ইতোমধ্যেই ‘ভারতের জনগণ’ আর ‘সরকার’ বলে একটা ছুপা ভাগ তৈরি করেই কিন্তু র-এর পক্ষে কাজ-ততপরতা করতে আরেক প্রতারক-মানব [imposter] ইতোমধ্যেই নিজেকে ধুর্তভাবে হাজির করে রেখেছে। চিন্ময়ের সাথে প্রকাশ্যে বিসদৃশ্য গলাগলি দেখিয়েছে আর চিন্ময়ের পক্ষে বেপরোয়া সাফাই নিয়ে হাজির হয়ে গেছে।  আবার ‘ভারতের জনগণ’  বলে কী কেউ বিজেপি-মোদির হিন্দুত্ববাদী বয়ানের বাইরে কেউ আছে? বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর নির্যাতন হচ্ছে, শাখা সিন্দুর পড়তে পারছে না ইত্যাদি ডাহা মিথ্যা যে বয়ান মোদি দাঁড় করিয়েছে তা কী খোদ সিপিএম, কংগ্রেস, মমতা ইত্যাদি এরা কী এর বাইরে? নাকি মিথ্যাভাবে একই নির্যাতনের গল্পের বিবৃতিতে সবদলগুলোও ইতোমধ্যেই দিয়েছে? এককথায় ভারতের কোন দলই নাই যে মোদির মিথ্যা ভাষ্যের বাইরে! তাহলে এসবের বাইরে কারা এখন “ভারতের জনগণ” আছেন যাদের কাছে পৌছাতে এই বিবৃতি চেষ্টা করছে? অর্থাৎ এককথায় বিজেপি-মোদির বয়ানের বাইরে ভারতের এখন মোটামুটি কেউই আর অবশিষ্ট নাই। কাজে ফাঁকা কল্পনা করে লাভ কী?

    আসলে মূলকথাটা হল সারা ভারত এখন হিন্দুত্ববাদের বয়ানে ইসলামবিদ্বেষী নেকড়ে হয়ে কাঁপতেছে, যেন ঝাপিয়ে পড়বে বাংলাদেশের উপরে!  আর সেই সময়ে আমরা দেখছি ১৪৫ জনের ভাষ্য বলে এক বিবৃতি যার প্রথম কয়েকটা শব্দ হল  ভারতে হিন্দুত্ববাদী শক্তি ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে – নাকি তারা এই বিবৃতি দিচ্ছে????
    কিন্তু এই সাম্প্রদায়িকতা জিনিষটা কী? কাদের বয়ান ভাষ্য ন্যারেটিভের পরিভাষা এটা? এটা তো হিন্দুত্ববাদেরই পুরানা পরিভাষা!!! তার মানে হিন্দুত্ববাদী পরিভাষা –সাম্প্রদায়িকতা, অসাম্প্রদায়িক ইত্যাদি – এসব  ব্যবহার করে এই বিবৃতিদাতারা হিন্দুত্ববাদ এর বিরুদ্ধে লড়তে চাইছেন!!!!
    এখানে লড়া মানে ফিজিক্যাল লড়াই না বরং বয়ান ভাষ্য সামনে রেখে লড়াই। তাহলে আপনি কার বয়ানে নিজের কথা বলবেন ও লড়বেন? নিজস্ব নাকি ভারতের হিন্দুত্ববাদের?

    ভারতের জনগণের উদ্দেশে ১৪৫ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি


    অবশ্য কথাটা এভাবে লেখায় আমাদের ‘দেশি’ বুঝের  জাতিবাদি মন বলে উঠবে অবশ্যই নিজস্ব!! কিন্তু কীভাবে বুঝবেন বয়ান-ভাষ্য আপনাদের নিজস্ব? এর জবাব অত তড়িৎ কারো মুখ দিয়ে আসবে না।
    কারণ, সেক্ষেত্রে মুখ্য বাস্তবতা ও ফ্যাক্টস হল, আপনার কোন আলাদা বয়ানই নাই। মূলত হিন্দুত্ববাদের বয়ানটাকেই আপনি এতদিন প্রগতিবাদী বয়ান মনে করে এসেছেন আর সেটাই আউরাইতেছেন! এছাড়া বিবৃতিতে এই যে হিন্দুত্ববাদ বলে শব্দ লিখেছেন এটাও তো আপনাদের পরিভাষা শব্দ নয়।
    আপনাদের শিখা পরিভাষা হল সাম্প্রদায়িকতা বা অসাম্প্রদায়িক এগুলা যেগুলা চালু করেছিল প্রথমে জমিদার-হিন্দুরা (১৮০০ সালের পর থেকেই) পরে ছুপা কংগ্রেসিরা (১৮৮৫ সালে)! আর আপনারা হিন্দুত্ববাদ এই শব্দটা শিখতে বাধ্য হয়েছেন শাহবাগের পরে [আগে নয়] অন্তত ২০১৪ সালের পরবর্তী বাংলাদেশ। এখন সমস্যা কী হয়েছে দেখেন! আপনারা বিবৃতিতে একইসাথে “ভারতে হিন্দুত্ববাদী শক্তি” আর “সাম্প্রদায়িকতার” এমন দুটার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। অথচ এদুটা একসাথে ব্যবহারযোগ্য শব্দ নয়।  আপনি যদি সত্যিই হিন্দুত্ববাদের বিরুদ্ধ কিছু হতে চান বুঝেশুনে ফিল করে তবে আপনাকে সাম্প্রদায়িক শব্দের ব্যবহার ত্যাগ করতে হবে। কারণ সাম্প্রদায়িক শব্দটা তো জমিদার-হিন্দুদের চালু বয়ানের শব্দ যা পরে ছুপা (সফট হিন্দুত্ববাদী) কংগ্রেসিরা তুলে নিয়ে তাদের বয়ানে স্থাপন করেছে। যেখান থেকে আপনারা এটা পবিত্র জ্ঞান করে তুলে নিয়েছেন! কোন বয়ান নির্মানে কিছু মার্কামারা বয়ান ভাষ্যের প্রতিনিধি চিহ্নমূলক শব্দ থাকে। সাম্প্রদায়িক এই শব্দ ও পিছনের ধারণাটাতে তা আছে – সাম্প্রদায়িক নিজেই এক হিন্দুত্ববাদি বয়ানের মার্কামারা শব্দ!  আপনি চাইলেই  তাই একই সঙ্গে হিন্দুত্ববাদীবিরোধীতা আবার সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী হতে পারেন না, পারবেন না। 

    এখানে হিন্দুত্ববাদের বয়ান কোনটা?
    মুখ্যত  অসাম্প্রদায়িকতা বা সাম্প্রদায়িক ইত্যাদি এসম্পর্কিত যত শব্দ আছে সবগুলোই – হিন্দুত্ববাদের বয়ান-ভাষ্যের চিহ্ন। বহুবার আমি লিখেছি এটা বাংলাদেশের কারও বয়ান বক্তব্যের শব্দ, ভাষ্য হতে পারে না। জমিদারহিন্দু যারপর নাই ক্ষুব্ধ হয়েছিল ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান কায়েম হওয়াতে। কারণ পাকিস্তান হওয়ার সোজা মানে হল তার জমিদারি উচ্ছেদ। যদিও কথিত শ্রেণী-বোদ্ধা কমিউনিস্টেরা আজও ভান করে যে তারা এই জমিদার শ্রেণির (শ্রেণীস্বার্থের) উচ্ছেদের দিকটা দেখতে পান নাই! ার খাঁড়া কথাটা হল, জমিদারি ব্যবস্থার উচ্ছেদ মানে হল জমিদারি কেন্দ্রিক হিন্দুত্ববাদি সকল রাজনৈতিক, সামাজিক, কালচারাল ক্ষমতা ও আধিপত্যের অবসান।  তাই সেই থেকে জমিদার-হিন্দুর সংগ্রাম হয়ে উঠেছিল, চরম মুসলমান বিদ্বেষ জারি করে এমন বয়ান তৈরি। এর প্রথম পদক্ষেপ তাদের পাক্কা ছলনার এক বয়ান যে এটা যেন মূলত জমিদারি উচ্ছেদ ছিল না, এটা যেন পুর্ব-বঙ্গের সকল হিন্দুদের উচ্ছেদ এভাবে ঘটনাকে উপস্থাপন করেছিল তারা।
    অথচ দেশভাগ ঘটে যাওয়াতে, এরপর যে হিন্দু এবং মুসলমান উভয়কেই – দুদিক থেকে দেশান্তর হতে হয়েছিল। হিন্দু হলে ভারতমুখি মুসলমান হলে পাকিস্তান মুখি এটাই তো হয়ে উঠেছিল সবার ভাগ্যেই! নাকি?

    এভাবে সাধারণ হিন্দু-মুসলমানের ভারত অথবা পাকিস্তানের দিকে যাত্রা এর সাথে পুর্ব-পাকিস্তানে জমিদার উচ্ছেদের সরাসরি কোনই সম্পর্ক নাই। তা সত্বেও জমিদারের স্বার্থ উচ্ছেদ হয়ে যাওয়া এটাকে সকল হিন্দুদের স্বার্থ হিসাবে হাজির করা এটাই জমিদার হিন্দুর শঠতাপুর্ণ বয়ানের সাফল্য! জমিদার হিন্দুর নিজ জমিদারি স্বার্থকে প্রজা হিন্দুরও যেন এটা একই স্বার্থ এভাবে হাজির করে ফেলেছিল। তা কোন বিপ্লবী, কোন শ্রেণীবোধের প্রগতিশীল কেউ খেয়াল করে নাই। বরং পুর্ব-পাকিস্তানের (জমিদার-প্রজা নির্বিশেষে) এমন সকল হিন্দুর স্বার্থ যেন এক  কাজেই পুর্ব-পাকিস্তানের হিন্দু মাত্রই ভিকটিম এই নয়া ভিকটিকহুড এর বয়ানই হল – হিন্দুরা তাহলে ‘সাম্প্রদায়িকতার’ শিকার। আর সাম্প্রদায়িকতা মানেই এর জন্য  অরিজিনাল অভিযুক্ত ও দায়ী হল পুর্ব-পাকিস্তানের মুসলমানেরা…! এটাই তো হিন্দুত্ববাদের বয়ান – সাম্প্রদায়িকতা বয়ানের ভিতরের আসল রহস্য বয়ান এবং  পুর্ব-পাকিস্তানের হিন্দু মাত্রই ভিকটিম এই মিথ্যা ভিকটিমহুড এর বয়ান!
    এসব যে মিথ্যা এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হল, পুর্ব-পাকিস্তানে জমিদারি উচ্ছেদ আইনে কী জমিদারি ব্যবস্থা উচ্ছেদের পরে পুর্ব-পাকিস্তানের মুসলমান প্রজারা যেমন নিজ নিজ চাষের জমির মালিকানা পেয়েছিল একইভাবে সমান সুযোগে  পুর্ব-পাকিস্তানে হিন্দু প্রজারাও কী সমান সুযোগে পায় নাই???
    তাহলে, পুর্ব-পাকিস্তানের হিন্দু মাত্রই ভিকটিম এই নয়া ভিকটিকহুড এই বয়ান ভাষ্য বা এই মিথ্যা অনুমানের ভিত্তি কী? 

    আবার যেমন ধরেন, এক ভারতরত্ন মানে পদ্মভূষণ খ্যাত ডঃ আনিসুজ্জামান তিনি পুর্ব-পাকিস্তানে দেশান্তর হয়ে এসেছিলেন, কেন? পশ্চিমবঙ্গের মুসলমান হিসাবে পুরানা এতদিনের আবাস ছেড়ে পরিবারসহ তাঁদের এদেশে আসার ক্ষেত্রে পুর্ব-পাকিস্তানে জমিদারি ব্যবস্থা উচ্ছেদ বা না-উচ্ছেদ এর কোন সম্পর্কই নাই। আর সবচেয়ে বড় কথা তিনি কী কেন তাঁকে কলকাতা ত্যাগ করে আসতে হয়েছিল সেজন্য কী কখনো কলকাতার হিন্দুদের দোষারোপ বা দায়ী মনে করেন বা করেছেন??? কখনই না; বরং ব্যাপারটাকে কপাল বা ভবিতব্য হিসাবে দেখে থাকেন!  অথচ পুর্ব-পাকিস্তানের হিন্দুরা পুর্বপাকিস্তানের মুসলমানদেরকে দেশভাগের জন্য আজও কঠোরভাবে দায়ী করে থাকেন। আবার বদরুদ্দিন উমরের কথাও ধরতে পারেন! তিনি কী বর্ধমান ছেড়ে ঢাকায় এসেছেন বলে বর্ধমানের হিন্দু জনগোষ্ঠিকে দায়ী করেন?

    মজার কথা হল, আনিসুজ্জামান কিন্তু সাথে মাথায় করে হিন্দুত্ববাদি অসাম্প্রদায়িকতার বয়ানই নিয়ে এসেছিলেন! মুসলমান হিসাবে কলকাতার জমিদার-হিন্দু তাঁকে তার পরিবারকে শিখিয়েছিল হিন্দুদের পাশে বসতে চলতে হলে তাদেরকে অসাম্প্রদায়িক হতে হবে। সারকথায় যা জমিদার-হিন্দুর আধিপত্য এটা মানতে হবে; তাদের সেই বয়ান ভাষ্যমতে মুসলমানদের নিজেকে সাজাতে হবে; তবেই মুসলমানেরা হিন্দুদের পাশে তিনি বসবাস শিক্ষা-চাকরির সুযোগ ইত্যাদি পেতে পারেন!

    আর এই সাম্প্রদায়িকতা কী তাহলে? কে কার উপরে করলো?
    সেটা কী আর বলার অপেক্ষায় আছে? সেটা বলাই বাহুল্য যেহেতু হিন্দু মাত্রই (জমিদার-প্রজা নির্বিশেষে) দেশভাগের ভিকটিম! – এই হল মিথ্যা মূল বয়ান!  যে বয়ানে তার মানে দাবী করা হল, পুর্ব-পাকিস্তানের মুসলমানেরাই যেন (জমিদার-প্রজা নির্বিশেষে) এমন সকল হিন্দুকে ভিকটিম বানিয়েছে ও বানানোর জন্য দায়ী????   তাহলে সাম্প্রদায়িক  -এই শব্দের উতপত্তি বয়ান ভাষ্য কার চালু করা কোথা থেকে? এটা কী প্রথমে জমিদার-হিন্দুরা (১৮০০ সালের পর থেকেই) পরে ছুপা কংগ্রেসিরা (১৮৮৫ সালে) হয়ে এখন মোদির হিন্দুত্ববাদের মুখ্য এক বয়ান ভাষ্য নয়!! আর কোন ফাঁকে এই হিন্দুত্ববাদ-ই আবার সকল কমিউনিস্টদেরও বয়ান ভাষ্য হয়ে গেছে??? ভারত (ফলে বাংলাদেশের) সকল কমিউনিস্টদের !!!  তাহলে সেক্ষেত্রে, এই বিবৃতিদাতারা একইসাথে ভারতে হিন্দুত্ববাদী শক্তি ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সরব হবেন বা হলেন কী করে?? এটা কী সম্ভব???
    সব বিবেচনা তাদের হাতেই তুলে রাখলাম!!!

    শেষে আরেকটা কথা দেশভাগঃ

    যদি আপনাদের চিন্তার মুরোদে কুলায় তাহলে দেশভাগ এর জন্য কাকে দায়ী করতে চান সেদিকে আসেন। যারা দেশভাগে ব্যাথ্যা পেয়েছেন তাদেরকে সাহসের সাথে রাজা রামমোহন রায় পড়তে হবে! এখান থেকেই পড়াশুনা শুরু করতে হবে। সেই ১৮১৫ সালে ফিরতে হবে। কেন রামমোহন ১৮১৫ সালে “আত্মীয় সভা” খুলেছিলেন? কেন সেই ১৮১৫ সালেই তিনি এক ব্রাহ্ম সমাজ বলে নতুন ধর্ম চালু করেছিলেন?
    রামমোহনই প্রথম ব্যক্তি যিনি সেকালে বৃটিশদের রিপাবলিক রাষ্ট্র একে চিনেছিলেন, এক এংলো-ক্যাথলিক বৃটিশ রিপাবলিক বলে।   অর্থাৎ জাতিরাষ্ট্র [নেশন স্টেট বা nation State] মানে আদতে তা কোন না কোন ধর্মের ভিত্তিতে জাত এমন রিপাবলিক রাষ্ট্র-ই হতে হবে, হয়। ফলে সেসময়ের চোখ আগামির অখন্ড ভারত – সেটাও আসলে কোন না কোন ধর্মের ভিত্তিতে জাত এমন রিপাবলিক রাষ্ট্র-ই করতে হবে এই ছিল তাঁর বুঝ ও সিদ্ধান্ত! আর সেখান থেকে অসংখ্য জাতভেদে বিভক্ত হিন্দু সমাজ সহ ভারতের সবাইকেই সবার আগে এক নয়া ধর্ম ‘ব্রাহ্ম’ এই নয়া একেশ্বরবাদি ধর্মে দীক্ষিত করে নিয়ে আগানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। একাজে রামমোহনের সবচেয়ে ঘনিষ্টজনেরা যেমন রবীন্দ্রনাথে দাদা দ্বারকানাথ ঠাকুর সহ ঢাকার সুশোভন সরকারের (বেঙ্গল রেনেসাঁর লেখক) দাদা ইত্যাদি সকলেই পরিবারসহ সবার আগে ব্রাহ্ম হয়ে নিয়েছিলেন। যদিও রামমোহনের এই উদ্যোগ – এটাই পরে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, অরবিন্দ ঘোষ বিবেকানন্দ ইত্যাদি হাত ঘুরে হিন্দুত্ববাদ হয়েছিল – আর এটাই হল ভারতে হিন্দুত্ববাদের আদি ভিত্তি ও বয়ান ভাষ্য!   কাজেই হিন্দুত্ববাদী বয়ানে জিন্নাহ কে ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ বলে সব দায় তাঁর এমনকি এই একালেও বিএনপির মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর ভারত-হিন্দুত্ববাদের স্বার্থে নয়া দালাল হতে প্রথম আলো গং কে বাঁচাতে মির্জার – “চিন্তা করতে পারেন ধর্মের ভিত্তিতে……” বলে মিথ্যা আবেগ তুলে অভিনয় করা এসবই আমাদের ত্যাগ করতে হবে। সবার আগে রাজা রামমোহন রায় পড়েন।
    এর আগেই জমিদার-হিন্দু অথবা হিন্দুত্ববাদের সফট বা কড়া ভার্সান
    এর ভক্ত দালাল নিজ মস্তক-বিক্রি এগুলা আর কইরেন না। এবার ছাড়ান দেন!  দেশভাগ আমাদের ভাগ্যে ছিল অথবা সবদোষ হল জিন্নাহ-র এসব হিন্দুত্ববাদের বয়ান আর কতদিন বইবেন???

    একালে যারা রাজা রামমোহন রায় নিয়ে নতুন করে হিন্দুত্ববাদের বিয়ান ভাষ্যের বাইরে এসে পড়তে চান তাদের সবার জন্য প্রথম চয়েজ হল ইন্টারনেট সার্চ করা – সার্চ করতে শিখেন। এখন এতেও আবার গাইড পেতে গেলে আমার নিজের ওয়েব সাইটে দেখতে পারেন।

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    শেষ আপডেটঃ  দুপুর   ডিসেম্বর  ২০২৪    

     

  • মোদির মুসলমান-ঘৃণা ছড়ানো হিটলারিজমের পরিণতি

    মোদির মুসলমান-ঘৃণা ছড়ানো হিটলারিজমের পরিণতি
    গৌতম দাস
    ০৭ ডিসেম্বর ২০২৪  দুপুর ১৩ঃ ০৮
    https://wp.me/p1sCvy-5XN

     

    Protesting residents raised slogans against the former owner Dr Ashok Bajaj, asking him to take the house back – pic- AK Mishra BBC

    ব্যানারে যা লেখা এর বাংলাটা হবে সম্ভবত এরকমঃ
    ডাঃ অশোক বজাজ হায় হায়
    নিজ বাড়ী (মকান) ফেরত নেন
    নিজ বাড়ী ফেরত নেন
    নিবেদকঃ সমস্ত টি.ডি.আই. নিবাসী

    এই পুরা রিপোর্ট এটা বিবিসি ইংলিশ থেকে নেওয়া। লিঙ্ক এখানে নিচে শিরোনা্মের সাথেঃ

    Muslim couple forced to sell house after protests by Hindu neighbours

    ভারতের উত্তর প্রদেশ!  হা ঠিকই ধরেছেন, মুখ্যমন্ত্রী ‘বুলডোজার যোগীর’ উত্তর প্রদেশ!  ভারতের এই রাজ্য বা প্রদেশের পশ্চিম-দিকে এক শহর এর নাম মুরাদাবাদ [Moradabad is an industrial city; Moradabad district] আর এখানেই ঢাকার বারিধারার মত পশ হিন্দু [posh TDI City] মানে উচ্চ আয়ের শহুরে হিন্দুদের বসতবাড়ি এলাকা বা এক কলোনি যার নাম টি.ডি.আই. সিটি।
    উপরের এই ছবিতেই আপনারা দেখছেন কিছু এর বাসিন্দা ব্যানার হাতে দাঁড়িয়ে আছে।
    তাদের এক পড়শি ছিলেন ডাঃ অশোক বাজাজ [Dr Ashok Bajaj] যার চোখ অপারেশনের হাসপাতাল আছে শহরে।  তাঁর প্রায় চল্লিশ বছরের পুরানা কলিগ আরেক ডাক্তার বন্ধু যারা আবার স্বামী-স্ত্রী উভয়েই ডাক্তার [কিন্তু ধর্ম পরিচয়ে তাঁরা মুসলমান]তাদের কাছে টিডিআই কলোনির বাড়িটা বাজাজ সাহেব বিক্রি করেছেন।  এঘটনাকে কেন্দ্র করে ছবির এই হিন্দু বাসিন্দাদের ক্ষোভ হল যে মুসলমানের পাশে তারা বসবাস করতে পারেন না।  তাই তাদের একজন যেমন  […residents Megha Arora saying that Dr Ashok Bajaj, a resident, had sold his house to a Muslim family without consulting them.] মেঘনা অরোরা-র মুখ দিয়ে আসা দাবী হল, বাড়ি বিক্রির আগে বাজাজ সাহেবের এনিয়ে আলোচনা-অনুমতি নেয়া উচিত ছিল। আর তাই তাদের এখনকার দাবী হল যেহেতু ডাঃ বাজাজ সাহেব তা করেন নাই অতএব তাঁর মুসলমান কে বাড়ি বিক্রি এটা ডাঃ বাজাজ-কে এখন বাতিল করতে হবে। তাই ব্যানার টাঙিয়ে তাদের প্রতিবাদ। এরা কিন্তু আম আদমি না। রীতিমত উচ্চ আয়ের পস নাগরিক, পড়ালেখা করে প্রফেশনে আসা তারা ভারতীয়!! পরবতিতে তাই আপোষ। ওয়ার্ড কাউন্সিলারের কথিত মধ্যস্থতায় মুসলমান ডাক্তার দম্পত্তিও তাঁদের কেনা বাড়ি ফেরত-বিক্রির সুযোগ নিতে পেরে যেন জানে বেঁচে গেছেন!!! এই হল, বিবিসি্র এই রিপোর্টার সারকথা!

    এখন মুরাদাবাদ ধরনের ঘটনাগুলো এগুলোই কী আরএসএস-বিজেপির মোদিকে এখনকার বাংলাদেশে মুসলমানবিদ্বেষী মিথ্যা হিন্দু নির্যাতনের অভিযোগ তুলে প্রপাগান্ডা করায় নাই? একই চলমান প্রক্রিয়া নয়? দুই ধর্মীয়-এথনিক জাত, হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের দাঙ্গা [পাঠক দয়া করে এটাকে কথিত সাম্প্রদায়িক শব্দে বলবেন না। কারণ,  সাম্প্রদায়িক শব্দটাও হিন্দুত্ববাদের বয়ান ও এর ভাষ্য। যেমন, ভারত সরকারি ভাষ্যে বলেছিল OIC নাকি ‘সাম্প্রদায়িক’ সংগঠন! সেই কান্ড দেখেন এখানে।  এটাই এথনিক-জাত শ্রেষ্ঠত্ববাদ; [মানে আমার ধর্মীয়-এথনিক জাত এটাই শ্রেষ্ঠ – এমন দাবী করা ] এভাবে, এটাই ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের রাজনীতির মুল ধারা বানিয়ে ফেলেছেন মোদি। এখন পড়শি দেশেও সেই বয়ান তা ছড়াচ্ছেন। এভাবেই পুরা অঞ্চল মানে সব পড়শি হয়ে এশিয়ায় ছড়াবেন তিনি – এশিয়ান হিটলার হয়ে উঠতে চাইছেন মোদি!   কাজেই আপনারা যার যার অবস্থান স্পষ্ট করেন যে, কে কোনদিকে অবস্থান নিবেন!  কেবল আমরা হিন্দু-মুসলমান ভাই ভাই এক থাকতে চাই – এই সুশীল নরম হিন্দুত্ববাদি অবস্থানে আর কুলাবে না। মুলকথাটা হল, এথনিক জাত শ্রেষ্ঠত্ববাদ; আপনি এর পক্ষে না বিপক্ষে থাকবেন সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।    


    “আমরা হিন্দু-মুসলমান ভাই ভাই, এক থাকতে চাই” – এটাও সুশীল নরম হিন্দুত্ববাদি বয়ান; একে “কংগ্রেসি হিন্দুত্ববাদ” বলেও বুঝতে পারেন। এটা একালের ছলনার বয়ান! একালের বিচারে। কারণ মোদি হিটলারিজমের ড্রাম বাজাচ্ছে এ’যুগে; আর আপনি সেকালের প্রগতিশীলতা=হিন্দুত্ববাদের বয়ান এখন আকঁড়ে ধরে ভাবছেন এটা বোধহয় মোদি মোকাবিলার বয়ান! এছাড়া, আপনারা ভাল মানুষ – তা বুঝানো যাবে ভেবে এই সাইনবোর্ড লাগিয়েছেন! আসলে আপনি বোকা ও সরল তাই আপনি এখন প্রতারিত হবেন।  কারণ আপনি জানেনই না শুধু মোদি-ই না দেশীয় প্রতারক (imposter) এরাও সর্বোচ্চ ততপর। ব্ল্যাকমেল হয়ে এরা এখন র-এর হাতে বাধা পুতুল বা দাসী; এদের সব জ্ঞানবুদ্ধি তাই এখন র-এর সেবায় তাদের চরণে নিবেদিত!  এমন লেবাসে যারা – হিন্দু-মুসলমান ভাই ভাই – শ্লোগান দিয়েই কথা বলে আর, এরা চিন্ময়ের গলা জড়িয়ে ধরছে বা কোলে উঠে পড়ছে – অথবা চিন্ময়ের মত  হিটলারি 
    দাঙ্গাবাজদেরও নাকি অধিকার আছে বলে ইউনুসকেও পটিয়ে ফেলতেছে – আপনাকে একালে এদেরকে সবার আগে চিনতে হবে! নাইলে এদের হাতের পুতুল হয়ে থাকবেন আপনি। যখন বুঝবেন তখন অনেক দেরি, সব শেষ হয়ে যাবে হয়ত! 

     

    ঘটনা বিচারে খুবই কমন আমাদের আশপাস এর ঘটনা মনে হবেঃ
    মোদি হতে যাচ্ছেন এশিয়ার হিটলার! এখন আপনি কী এটা চেয়ে চেয়ে দেখবেন? আরেক এথনিক জাত ধর্মীয় শ্রেষ্ঠত্বের জোশে পালটা বেরিয়ে পড়বেন? নাকি সব ধরনের এথনিক জাত শ্রেষ্ঠত্ববাদ – এর বিরুদ্ধে মানে, নয়া হিটলারিজমের বিরুদ্ধে দাড়াবেন?  এটাই আপনার সচেতন সিদ্ধান্ত হতে হবে, নিতে হবে!
    আমরা একাদেমিক শিক্ষিত-অশিক্ষিত নির্বিশেষে খুব কম লোকেই জানি হিটলার কেন কুখ্যাত! বড় জোর আবছা করে আমরা জানি হিটলার একটা খারাপ লোক। তাও তিনি আমাদের এ-অঞ্চলের না ঐ দুরের পশ্চিমা বা ইউরোপের দেশে বোধহয় কিছু একটা করেছে বলে শুনি – এই হল আমাদের শিক্ষিতদের জানাশুনা।  অনেকে ওদেরকে “ইহুদি-খৃশ্চান” অথবা চাইকি “সাদাচামড়াদের” কারবার বলে মনে করে ফেলতে দেখেতে চাইতে পারেন!  সরি, এগুলো এত দুরের কেউ বা কোন ঘটনা না। এটাই মোদি, এশিয়ান হিটলার – হিটলারিজমে আপনাকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে মারতে আগিয়ে আসছে!  জাত শ্রেষ্ঠত্ববাদ এর গর্ব বা এথনিক জাত শ্রেষ্ঠত্ববাদ এর সুরসুরি খুবই ভয়ঙ্কর! আপনি এর শিকার হয়ে যেতেও পারেন যদি আপনিওও কোন না কোন জাতিবাদের ঝান্ডাধারী হন!!!    মোদি আপনাকে ডেকে, টেনে হিচড়ে ওর নিয়মের খেলায় কখন সামিল করে ফেলেছে তা বুঝবার আগেই সব শেষ হয়ে যেতে পারে!

    খুবই কম কথায় বললে, হিটলার অবশ্যই আরেক ‘জাতিবাদি’ ছিলেন। তাতে অনেকের মনে হতে পারে তাতে অসুবিধা কী আমরাও তো বাঙালি জাতিবাদি না হয় বাংলাদেশি জাতিবাদি, ইসলামি জাতিবাদি কিংবা জুম্মু জাতিবাদি ইত্যাদি অনেক কিছুর জাতিবাদি! তবে, এবার যদি বলি হিটলার উগ্র জাতিবাদি তো এবার তারা বলবেন হয়ত – ওমন একটু আধটু উগ্রতা অনেকের (অনেক জাতিবাদির) মধ্যে থাকে!
    তবে এরপর এসবের বিস্তারি জবাব হবে – এসবই আসলে শাহরিয়ারের নির্মুল কমিটি মানে জাত নির্মুল বা এথনিক ক্লিনজিং [ethnic Cleansing] এর কথা। এককথায়, উগ্র জাতিবাদিরা আসলে এটাই!   পড়শি বা অন্য ধর্মের লোকজনকে তাদের গুষ্ঠিসহ ঝেটিয়ে কচুকাটা নির্মুল বা উপড়ে ফেলে দেওয়া – এটাই হিটলারিজম! ।  আর এর শুরুটা সব সময় হয় এভাবেই হিন্দু-মুসলমান, একই ধর্মের দুই মজহাব, কিংবা গায়ের রঙ সাদা বনাম কালো-বাদামি আর এটাই হিটলারের বেলায় ছিল ইহুদি-ঘৃণা ইত্যাদি। শুরুতে হিটলার ছড়িয়েছিলেন যে আমরা জর্মান জাতি দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ জাতি এজন্যই আমাদের চোখ নীল রংয়ের যা সারা ইউরোপেও অন্য কারও নাই। এজন্য বাকি সবাইকে আমাদের কথাই মানতে হবে।  আমরাই শ্রেষ্ঠ – তাই! এই জর্মান জাত শ্রেষ্টত্ববোধ বা শ্রেষ্ঠত্ববাদ – সেকালের হিটলারের জর্মানিতে তিনি এই বয়ানে জর্মানিদের সকলকে কখন আপ্লুত করে করে অন্ধ-ঘৃণায় সামিল করেছিলেন তা পালটা বুঝে বা হুশে ফেরত আসবার  আগেই সব শেষ! যুদ্ধ শেষ! ম্যাসাকার ঘটাসহ সব শেষ! ১৯৪৫ সালের আগষ্ট এসে পড়েছিল!

    এটাকেই আমি বহুবার এথনিক-জাত শ্রেষ্ঠত্ববাদি চিন্তা বলে চিনিয়েছি আপনাদের কাছে।  যা শুরুতে খুবই সাধারণ থাকে আর শেষ হয় একটা নির্মুল বা এথনিক ক্লিনজিং [ethnic Cleansing] এর বিশাল ঘটনা হিসাবে। যখন তাকে আমরা হিটলারিজম বা জাত শ্রেষ্ঠত্ববাদিতা বলে দেখতে পাই। সার কথাটা হল, আমার জাত বা আমার ধর্ম, আমার গায়ের রঙ, আমার ভৌগলিক অবস্থান (পাহাড়ি না সমতলি) ইত্যাদি কোন একটার প্রসঙ্গ তুলে আমিই শ্রেষ্ঠ, আমার এথনিক-জাতই শ্রেষ্ঠ, আমিই শ্রেষ্ঠ – এই বয়ানগুলোর জন্ম হয়! অতএব আমার আধিপত্য, তোমাদের উপর আমার রুস্তমি তোমরা সকলে মেনে নেও – নাইলে আমি তোমাদের নির্মুল করে দিব। এই হল হিটলারিজমের বয়ান, এর মূল লক্ষ্য বা টার্গেট! আমাদের ওমুক যুদ্ধে আমাদের ওমুক ধর্মীয় নেতা কীভাবে বিজয় এনেছিলেন জানো? আমরা সেই  শ্রেষ্ঠ জাত! অথবা শ্রেষ্ঠ ধর্মের লোক! উত্তরসুরী, একালের শ্রেষ্ঠত্ববাদি! সব জাত শ্রেষ্ঠত্ববাদি খুঁজলে তাদের পুরানাকালের ইতিহাসে এমন অনেক গল্পকাহিনী খুঁজে পেতেই পারে। আর সেগুলাই তারা তাদের  নির্মুল কমিটির নামে হাজির করে থাকে। যেমন ধরা যাক খুবই সাদাসিধা মনে হবে এই বয়ান টা যেমন –  আমাদের আছে পদ্মা-মেঘনা-যমুনা বহমান ভূমির শেখ মুজিব!! লও লও লও সালাম শেখ মুজিব  ইত্যাদি ইত্যাদি – দেখেন তো মিলে কিনা!
    মোদির উস্কানি-সুরসুরিতে পা দিয়েন না! গত ২৭ নভেম্বরের [পিপি সাইফুল ইসলাম এর হত্যার পরের দিন] চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের মত শক্ত নিয়ন্ত্রিত ও পরিস্কার হুশে থাকা মানুষ থাকেন!

    পাঠকদের প্রতি আমার বিনীত আবেদন, এলেখা পড়ার পরে দুদন্ড সবাই নিজের সাথে যেন বসবেন! নিজের সাথে একান্তে কথা বলেন! পরে যা হয় সিদ্ধান্ত নিয়েন!!!

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    শেষ আপডেটঃ  দুপুর ০২ঃ ৩২   ০৭  ডিসেম্বর  ২০২৪