Category: BANGLADESH

  • প্রতি বিপ্লব কী? ওয়াকার ম্যাজিক?

    প্রতি বিপ্লব কী? ওয়াকার ম্যাজিক?
    গৌতম দাস
    ২৭ এপ্রিল ২০২৫  সন্ধ্যা ০৬ঃ ৫১
    https://wp.me/p1sCvy-6rH

     

    আমার অবজারভেশন এটাই প্রতি-বিপ্লব বহনের চিহ্ন, ছবিটা বাংলা নিউজ / কালের কন্ঠ থেকে নেয়া

    দুর্ভাগ্যবশত আমাদের দেশে বিপ্লব শব্দটা যতটা পরিচিত; আর এটাও বুঝি বা-বুঝি এটা ব্যবহার করতে দেখি আমরা অনেককেই এবং অতি সহজেই। বিশেষ করে এটা যখন “জুলাইয়ের বিপ্লব” বা “আগষ্ট বিপ্লব” বা “২৪ এর বিপ্লব” এর যুগ বা কাল পার হচ্ছি আমরা। কিন্তু ঠিক তার দ্বিগুণ হল আমাদের অজ্ঞতা বা বেখবর!!! কিন্তু কী নিয়ে? সেটা হল বিপ্লব না হয় যা হয় বুঝলাম; তাহলে প্রতি-বিপ্লব, সেটা আবার কী? এমনিতে বিপ্লব এই কথা বা ধারণাটাকে কমিউনিস্ট-প্রগিতির লোকেরা নিজেদের একচেটিয়া মনে করে থাকে। তারাই সবচেয়ে ভাল বুঝে এমনও মনে করে থাকে। তবুও তাদের মধ্যেও দেখা যায় প্রতই-বিপ্লব জিনিষটা কী? কেন তা আসে? কখন আসে? – এসব প্রশ্নে খুব স্বচ্ছ ধারণা রাখেন না। যদিও তারা প্রতি-বিপ্লব কথাটা শুনেছেন এমন দাবি করে থাকে।

    তত্ব কথা প্রতি-বিপ্লব কে বুঝানো যায়; বুঝাবও অবশ্যই। কিন্তু আগে প্রাকটিক্যালি দেখাবো। এর মূল কারণ, আমরা সকলে প্রগতি বুঝি কিংবা ইসলামিজম বুঝি অথবা আম-জনতা যাই হই না যেন বিপ্লব কী তা ৫ আগষ্টের পর থেকে আমরা সবাই বলব আমরা বুঝি। কারণ এটা বাস্তবে আমাদের সবাইকে দেখায়ে দিছে; আগে না জানলেও এখন জেনে গেছি বিপ্লব কী!
    তাহলে প্রতি-বিপ্লব কী?
    এর ইংরাজি হল,  কাউন্টার-রেভেলিউশন [counter revolution] । বুঝাই যাচ্ছে কাউন্টার মানে একটা ঘটে যাওয়া ঘটনাকে উলটা দিকে ঘুরানো।  অর্থাৎ হাসিনা উতখাত উপড়ে ফেলা যদি বিপ্লব তবে এখানে প্রতিবিপ্লব হচ্ছে হাসিনাকে ফিরে ক্ষমতায় বসানো! হা ব্যাপারটা তাই এখানে একটু টুইস্ট বা মোচড় আছে। হাসিনা ক্ষমতায় ছিল ১৬ বছর ইন্ডিয়ান আধিপত্যের প্রতিনিধি হিসাবে। তাহলে হাসিনার উতখাত মানে আসলে তা সেই ইন্ডিয়ান আধিপত্যেরও উতখাত। তাহলে এখানে প্রতিবিপ্লব মানে কেবল হাসিনাকে নয় মূলত একেবারেও মূল শক্তি হচ্ছে ইন্ডিয়ান আধিপত্য একেই পুনঃপ্রতিষ্ঠা মানে ইন্ডিয়ান আধিপত্যের পুনঃপ্রতিষ্ঠা এটাই হল মৌলিক দিক!
    আর সেখান থেকেই এতে আরো কিছু ভিন্নতা থাকবে বা দেখব আমরা। অর্থাৎ কেবল ঠিক হাসিনার পুনঃপ্রতিষ্ঠা নয় এর বদলে আমরা দেখব মূল শক্তি  ইন্ডিয়ান আধিপত্যের পুনঃপ্রতিষ্ঠা তাই।  এটাই প্রতি-বিপ্লব ও প্রতি-বিপ্লবী চিহ্ন বা মূল প্রতীক।

    এবার আর ইন্ডিয়ান আধিপত্যের পুনঃপ্রতিষ্ঠা এর সাথে আরো দেখব – তারেক জিয়ার বিএনপি, স্পষ্ট করে জামায়াত, ফাঁকে কান্নি মারছে এমন হাসিনার লীগ ইত্যাদি আর সবার উপরে ভাসবে তাদের সমন্বয়ক ওয়াকার।  আর সব মিলিয়ে এরাই হতে যাচ্ছে সম্ভাব্য প্রতিবিপ্লবী শক্তি!

    এবার আরেকটু সার করে বলিঃ তাহলে ৫ আগষ্ট কে যদি ধরি হাসিনার সাজানো সেনাবাহিনী এর অর্ডার ভেঙ্গে দিয়ে এই সেনা প্রতিষ্ঠানেরই (ওয়াকার বাদে) বাকীদের (মূলত জুনিয়র অফিসারদের) আধিপত্যের বিজয় (যেখানে অসহায় ওয়াকার পুরানা পদপদবীসহই ব্যক্তি মাত্র); আর এটাই মূলত হাসিনার উতখাত ও পলায়নের মূল চালিকা শক্তি। আর পরবর্তিতে এই ঘটনাটাই ৫ আগষ্ট ২০২৪ থেকে ছাত্র-জনতার দ্বারা এন্ডোর্সড বা অনুমোদিত হয়ে যাওয়াতে  পুরা পরিবর্তন টাই একটা বিপ্লব; একটা বিল্পবী চরিত্র নিজে হাজির হয়ে যেতে পেরেছিল। যদিও ভিতরে নানান পকেটে অনেক ধরনের দুর্বলতাও থেকে গেছিল। যেমন ওয়াকারকে উপরে প্রতীকী হলেও রেখে দেওয়া। বাওইরে থেকে ইউনুস সাহেব-কে এনে সরকার প্রধান করে বসানো ইত্যাদি অনেকগুলো দুর্বল-পকেট এতে থেকে গেছিল।

    তবুও অর্থ তৈরির দিক থেকে আবেগ-উচ্ছাসে এটা সবার দিক থেকে এটা একটা বিপ্লবই গন্য হয়েছিল ।   আর এই বিপ্লব ও এই বিপ্লবের বিরুদ্ধে প্রথম বিরুদ্ধচারণ শুরু করেছিল ইন্ডিয়া ও মোদি। এদিকটা খেয়াল করলেই ব্যাপারটা বুঝা যাবে। এতবড় সধিপয়ত্য হারানো মূল শক্তি প্রতিবিপ্লব বা বিরোধিতার মূল হাল ধরবে তা বলাই বাহুল্য! কিন্তু এর সাথে সহযোগী হবে তারেকের বিএনপি, আগা-পিছা করা জামায়াত (যার শুরুটা হয়েছিল ইসকন-চিন্ময় আর এদের গলা জড়িয়ে ধরে চুমা দেয়াদের কে দিয়ে)। ওদিকে সেনা প্রতিষ্ঠানের ভিতর বিজয়ী শক্তিরো যতটা সম্ভব খামতি পূরণ করে পয়লা স্ত্র পেরিয়ে নিজেদের সংহত হয়ে দারাতেই নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ লেগে যায়।
    কিন্তু সবচেয়ে বড় আরেক দুর্বলতা ক্রমশ বড় হয়ে উঠতে থাকে। সেটা হল, খো ইউনুস সাব, আসিফ নজরুল ও অন্যেরা। এদের কাজটা ইনোসেন্ট বা নিস্পাপ অজ্ঞতা বলবেন হয়ত অনেকে। কিন্তু এটা আসলে বাচ্চাদের আপাত নির্দোষ পুকুরে ঢিল মআরা যেটা পুকুরের ব্যাঙের দিক থেকে প্রাণঘাতি, এরকম।  না ইউনুস না তার মন্ত্রীসভা (উপদেষ্টারা) কেউই প্রতি-বিপ্লব ব্যাপারটা কী তা আমল করেন নাই শুধু তাই না প্রায় অযোগ্যও বটে। কিন্তু এটা যে গণমানুষ রাষ্ট্রস্বার্থের দিক থেকে বাঁচামরার সেখবর তাদের নাই। এরই প্রমাণ হল, মুজিবের ছবি অবলীলায় মাথার উপরে টাঙাতে অসুবিধাবোধ না করা, লীগেরও রাজনৈতিক অধিকার দিতে ব্রি. শাখাওয়াত প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাচাল কথাবার্তা ও অপসারিত হওয়া অয়থবা ধরেন খোদ ইউনুস সাবের সস্তায় ইলিশ মাছ খাওয়ার রাষ্টড় ও সরকার প্রধান হয়ে থাকার লক্ষ্য নির্ধারণ……!!!  আমাকে বারবার লিখতে হপ্যেছে ক্ষমতা কী? রাষ্ট্রক্ষমতা মানে মারো নাহলে নিজে মরো! ফ্রেন্ড-এনিমি টনটনে বোধ! আগেই আপনাকে নির্মম্ভাবে আপনার ক্ষমতার এনিমি কে মারতে হবে নইলে পরে শত্রুর হাতেই নিজে উতখাত হতে হবে!! ক্ষমতা মানে এটাই।
    এটাই বিপ্লব কে রক্ষা করা! ফলে হয় মারো নয়ত মরো! বিপ্লব কে সুরক্ষা দাও আর নয়ত প্রতি-বিপ্লবে মারা যাও!  একথাতাই কখনও ইউনুস সাবকে পরিস্কার বুঝানো যায় নাই আধা-বুঝ ভাবে উনি থেকে গেছেন। আর ততই উনি মটিভেশন আর স্পিচ নিয়ে নিজের ক্যারিসমা দিয়ে সব জয় করতে রওনা দিয়েছেন। প্রতিবিপ্লব বুঝাতে যান নাই।  এমনকি আমি বলে আপনি নিজেও মারা পড়তে পারেন এই ভাল-ভালাইয়াতে! ক্ষমতা ভাল-ভালাইয়ার জিনিষ নয়।

    যাই হোক, আজ “জেনারেল ওয়াকার ম্যাজিকে গণমানুষের উচ্চাশা” – এই শিরোনামে যে আর্টিকেল ছাপা হয়েছে কালেরকন্ঠ সহ বসুন্ধরা, বাংলাভিষন ও এলাইক মিডিয়াতে একযোগে এতাকে আমি মনে করি আরো ঘনিভুল হয়ে আবার দাড়ানো এক প্রতিবিপ্লবী পরিকল্পনা হিসাবে। ষড়যন্ত্র পরিকল্পনা বলবেন হয়ত অনেকে।

    সরকার প্রধান হওয়া তুলনামূলক সহজ কিন্তু যদি আপনার প্রতি-বিপ্লব ঠেকানো কাজটা কী ও কেন? – এমন ধারণা নাই থেকে থাকে ?????
    তবে আপনি নিজে ব্যক্তিগতভাবে নিজের জন্য, দেশের ও গণস্বার্থ রক্ষার দিক থেকে বিপদজনক! তাই আপনার উচিত এদিকটা রাষ্ট্রক্ষমতা রক্ষা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য  “উপযুক্ত” যাকে ইউনুস সাব আপনার কম্পাটাবল মনে হয়;  তাকে বিশেষ এসাইনমেন্ট ক্ষমতাপ্রাপ্ত করে দিতেই পারেন। বলাই বাহুল্য তিনি ওয়াকার সাব নন! নির্দিষ্ট সময়-অন্তে এর রিভিউ ও অগ্রগতি মনিটর মিটিংয়ের ব্যবস্থাও রাখতে পারেন।


    লেখকঃ

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com


    সবশেষ আপডেটঃ  সন্ধ্যা ০৭ঃ ৩৫,    ২৭ এপ্রিল ২০২৫

  • সম্প্রতি বদরুদ্দিন উমর সাহেব ছাত্রদের আন্দোলন প্রসঙ্গে

    সম্প্রতি বদরুদ্দিন উমর সাহেব ছাত্রদের আন্দোলন প্রসঙ্গে
    গৌতম দাস
    ২৫ এপ্রিল ২০২৫
    https://wp.me/p1sCvy-6qi

     

     

     

     

    [বদরুদ্দিন উমর আমাদের প্রবীন রাজনীতিবিদের মধ্যে অন্যতম যাকে আলাদা করে চেনা যায়।  এখন ৯৪ বছরের উর্ধে তাঁর বয়স। ৫ আগষ্ট-উত্তর মানে, হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি উত্তরকালের এসময়ে, গত দুদিন আগে ২২ এপ্রিল ২০২৫ তার এক সাক্ষাৎকার ছেপেছে প্রথম আলো। সেখানে পরিচিতি অংশে লিখেছে, …”বদরুদ্দীন উমর লেখক-গবেষক ও বামপন্থী রাজনীতিক। ১৯৬১ সালে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতি বিষয়ে পিপিই ডিগ্রি নিয়ে দেশে ফিরে আসেন এবং ১৯৬৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন”……”তিনি (উমর সাহেব প্রথম আলোতে) কথা বলেন চলতি আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ, ছাত্রদের নেতৃত্বে গড়া নতুন দল, অন্তর্বর্তী সরকারের করণীয় ইত্যাদি বিষয় নিয়ে“। আমি প্রথম আলোর সেই পরিচিতিটাই এখানে তুলে দিলাম। এই পরিচয়টা সম্ভবত উইকিপিডিয়া থেকে নেয়া। সেখানেই উমর সাহেবের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে লেখা রয়েছে যে তিনি “একজন বাংলাদেশি মার্কসবাদী–লেনিনবাদী তাত্ত্বিক, রাজনৈতিক সক্রিয়তাবাদী, ইতিহাসবিদ, লেখক, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) (উমর)-এর নেতা”। আমার যদি ভুল না হয়ে থাকে তবে উমর সাহেব হলেন ষাটের দশকে প্রথম্ভাগে (১৯৬৪) বাংলার কমিউনিস্ট আন্দোলন মস্কো-পিকিংয়ে ভাগ হয়ে গেলে তিনি পিকিং ধারার অংশে পড়েন। যেটা আরো সুনির্দিষ্ট করে বললে মো. তোয়াহা গ্রুপের অংশের আর সেটাও তিনি সম্ভবত ত্যাগ করে নিজের ধারা গড়েন ১৯৭১ সালে যুদ্ধের সময়কালের ভিতরেই। পেশা এবং কর্মততপরতা দিক থেকে দেখলে তিনি মূলত একাদেমিক রাজনীতিবিদ। বাংলাদেশে প্রকাশিত ইতিহাস-বিষয়ক বই-পুস্তকের একটা বড় অংশ জুড়ে তাই তাঁরই রচনা।  এখন যাদের বয়েস ২০ বছরের উপরে সেই প্রজন্মের কাছে তাঁর নুন্যতম কিছু পরিচয় করিয়ে দিতে আমার লেখার প্রসঙ্গে প্রবেশের আগে খুবই অল্প কিছু কথা লিখলাম।]

    আমার বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস জানার ক্ষেত্রে পড়াশুনা শুরু হয়েছিল ১৯৭৯ সালে তখনকার প্রকাশনা জগতে পাওয়া তার লেখা বই পাঠের মধ্য দিয়ে।  আগেই বলেছি প্রথম আলোতে এই সাক্ষাতকারে তিনি চলতি আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ, ছাত্রদের নেতৃত্বে গড়া নতুন দল, অন্তর্বর্তী সরকারের করণীয় ইত্যাদি বিষয়ে কথা বলেছেন।  তার সেসব কথা বলায় আরেক রেলেভেন্সি বা গভীর সংশ্লিষ্টতা দিকটা হল, হাসিনার উন্মাদপ্রায় হয়ে নিজ কথিত বাবার ইতিহাস জোর করে লিখবার একটা গভীর ঝোঁক ছিল যা থেকে তৈরি বিশৃঙ্খলায় আমরা সকলেই অস্বস্তি অনুভব করেছি। যেমন  তা্র একটা হল যেমন, অপ্রয়োজনীয়ভাবে ভাষা আন্দোলনও শেখ মুজিবই করেছেন বলে হাসিনার দাবি ও সেভাবে নয়া ইতিহাস রচনার চেষ্টা। যেটা সেসময়ের ঘটনাবলী নিয়ে প্রত্যক্ষ গবেষক হিসাবে সেই অথরিটিতে উমর সাহেব নিয়মিতভাবে হাসিনার দাবির বিরোধিতা ও নাকচ করে গেছেন সাহসের সঙ্গে!  তাই অনুমান করি হাসিনা উতখাতের পরে এটা তারও একটা অর্জন তো বটেই। অন্তত সেই উতপাত তাঁকে বা আমাদেরকে আর মুখোমুখি হতে হবে না এটাই শান্তি!

    রাজনৈতিক ইতিহাসের বয়ানে পরিভাষাঃ
    প্রত্যেক দেশেই রাজনৈতিক ইতিহাস বিশেষ করে কমিউনিস্ট আন্দোলনের লিখিত ইতিহাসের বয়ান ভাষ্যে শব্দ বা পরিভাষা [Terminology] তৈরি হয়ে যায় যেটার সহসা বদল হয় না। যদিও লম্বা সময় পরে  নয়া পরিভাষা তৈরি হয়েও যেতে পারে’ বাংলাদেশে হয়েছেও বলে আমার ধারণা। যেমন আমার কথাই যদি বলি উমর সাহেবদের প্রজন্ম আমার চেয়েও কমপক্ষে ৩০ বছরের সিনিয়র; কিন্তু আমি তাদের প্রজন্মের পরিভাষা সম্পর্কে পরিচিত যদিও এই আমি আবার পরবর্তি প্রজন্মের পরিভাষা সম্পর্কেও পরিচিত।  যেমন একটা উদাহরণ যদি দেই উমর সাহেবের প্রজন্ম – ব্যবহার করতে ভালবাসেন – “সামাজিক বিপ্লব” শব্দটা। মানে বিপ্লব মানেই একে সামাজিক [social] বিপ্লব বলে তাঁরা ব্যতিক্রমহীনভাবে লিখে থাকেন। আর একালে আমাদের ধারণা, বিপ্লব বলতে তা তো আসলে এসেনসিয়ালি পলিটিক্যাল রেভেলিউশনই (রাজনৈতিক বিপ্লবই)। যদিও যেকোন রাজনৈতিক বিপ্লবই এরপরে এর প্রভাবে পরে আনুসাঙ্গিক আরো অন্যান্য সামাজিক নানা বিপ্লবও ঘটাবে অবশ্যই!

    এখানে আম পাঠকের জন্যও একটু জানায় রাখি যে বিপ্লব বলতে ঠিক কী বুঝব? আমার বুঝাবুঝিতে বললে প্রথম মনোযোগ জড়ো করতে হবে যেখানে তা হল, ইভোলিউশন [evolution] আর রিভোলিউশন[revolution] সম্পর্কে। প্রথমটা মানে হল, কর্তা মানুষ [subjective] যা করে নাই; মানে, প্রাকৃতিকভাবে বা নেচারালি যা ঘটেছে। এই অর্থে এটা অবজেক্টিভলি [objectively] ঘটা ঘটনাও বলা যেতে পারে। দুনিয়ার সব প্রাকৃতিক পরিবর্তনের ঘটনাবলী ঘুর্ণঝড়, জলোচ্ছাস, ভুমিকম্প এর মত ঘটনাবলী যেগুলা ওসবই  ইভোলিউশন এর ঘটনা বলা যায়। আর এর বিপরীতে কর্তা মানুষ যেসব পরিবর্তনকে আর প্রাকৃতিক থাকতে দেয় নাই, ঘটনায় মানুষ-কর্তা সক্রিয় হাত ঢুকিয়ে পরিবর্তনে প্রভাব ঘটিয়েছে, নতুন মাত্রা দিয়েছে, জোর খাটিয়ে সুনির্দিষ্ট ডিরেকশনে পাঠিয়েছে, পুরানা অভিজ্ঞতায় জেনে-বুঝে যা বুঝেছে ঘটিয়েছে – এটাই হল রিভোলিউশন। তাই রিভোলিউশন মানেই যেখানে সচেতন কর্তা মানুষ হাজির আছে। আর তিনিই বিপ্লবী তা, বলাই বাহুল্য!

    এরপর আরেকটা পরিভাষাঃ পলিটিক্যাল বা পলিটিক্স মানে কী? ঠিক কী বুঝব?
    মানুষ হিসাবে আমরা অনেক কিছু করি, বিশেষত পরিচয় দেই বা পুর্বনির্ধারিত কারণ বা পরিচয়-বৈশিষ্টগত কারণে তা করে থাকি। যেমন, আমাদের প্রজাতিগত বা রেস [race] পরিচয় য়াছে অথবা পরবর্তি ইতিহাসে মানে মানুষের প্রথম কৃষিকাজ শিখে ফেলার পরের কোন ভুপ্রাকৃতিক-অঞ্চলে স্থির হয়ে বসবাস শুরুর পরের হাজার বছরের মধ্যে আমাদের একটা নয়া এথনিক-ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক স্থায়ী পরিচয়-বৈশিষ্ট লাভ করা হয়ে যায়। মজার কথা হল এই পরিচয় বা বৈশিষ্টগুলো মানুষের জন্মের আগেই নির্ধারিত হয়ে থাকে। মানে যেমন আমি মুসলমান বা বাঙালি হব কিনা এটা আমি ঠিক করি নাই, চয়েজ করি নাই, এতে আমার কোনই ভুমিকা নাই, ছিল না। বরং আমি যে ঘরে জন্ম নিয়েছি, যে পিতামাতার ঘরে ও তাদের রক্ত বা ডিএনএ-তে আর তাদের যে এথনিক পরিচয়ের মধ্যের আমার জন্ম – এতে আমার জন্মের পরে আমার রেসিয়াল-এথনিক-ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক সব পরিচয় কী দাঁড়াবে তা এসবের মধ্য দিয়ে আমার জন্মের আগেই ঠিক হয়ে গেছে।  সবচেয়ে বড়কথা এতে আমার নিজের কোন সক্রিয় ভুমিকা নাই, ছিল না।
    আর ঠিকএর বিপরীতে পলিটিক্স, পলিটিক্যাল বা রাজনৈতিক পরিচয় হল সেটা যেটা আমি নিজেই এবং সচেতনে জেনে-বুঝে কোথায় যাব বা পৌছাবো তা জেনেই তৈরি করেছি। মানুষের  জন্মের থেকে নির্ধারিত রেসিয়াল বা এথনিক বৈশিষ্টকে যদি বলি গিভেন [ GIVEN বা আগে থেকেই দেয়া আছে] বৈশিষ্ট-পরিচয় তাহলে এর বিপরীতে, পলিটিক্যাল বৈশিষ্ট মানে হল যা মানুষ নিজেই এবং সচেতন [conciousness] ও সক্রিয় [active] ভাবে নিজেই নিজেকে নির্মাণ করে নেয়  – গিভেন যা আছে তা আছে এর বাইরে; কিন্তু এসবের উপর ভরসা না করে।  বা তার প্রভাবের কারণে নয় নিজ সক্রিয়তায় মানুষ যা নির্মাণ করে সেটাই মানুষের পলিটিক্যাল বৈশিষ্ট। আর মানুষের পলিটিক্যাল বৈশিষ্ট মানেই তাই  মানুষের নিজ পলিটিক্যাল বৈশিষ্ট। নিজে নির্মিত।  এবং মানুষের পলিটিক্যাল এক্টিভিটি এটাই পলিটিক্স বা রাজনীতি।  রাজনৈতিক ততপরতা।

    এই ফাঁকে সুযোগ নেই একটু। তাহলে পলিটি [polity] কী?
    এর সোজা অর্থ পলিটিক্যাল কমিউনিটি।মানে? মানে হল, একটা পলিটিক্যাল কমিউনিটি গড়ে নিজেদের পলিটিপ্রকাশ করা করে নিতে পারি আমরা।  অনেকে অবশ্য এই পলিটি শব্দের [polity] বাংলা করে রাজনৈতিকতা।
    সেটা আবার কেমন?
    যেমন,  পলিটিক্স মানে আবার কিন্তু আইডিয়া [idea]। অনেকে এটাকে সিরিয়াস অর্থে “ভাব বা গভীর ভাব” বলে। মানে এটা আবার “ভাব দেখানো” নয় কিন্তু।  আমি এরচেয়ে বরং আরেকটা ভাল বাংলা শব্দ আছে; যা ব্যবহারে অনেকেই সাহস করে না, নিশ্চিত না বলে সে শব্দটা হল “চিন্তা”। ইংরাজিতে আইডিয়া মানে হল চিন্তা। অর্থাৎ ফিলসফি-ক্যালী বা দার্শনিক অর্থের দিক থেকে,  পলিটিক্স মানে হল “চিন্তা“।

    তা হলে এবার পলিটি বা রাজনৈতিক কমিউনিটি গড়া বা হয়ে উঠা বলতে ঠিক কী বুঝব?
    বুঝব যেঃ রাজনীতি বা পলিটিক্স – এই কাজ একা করা যায় না। রাজনৈতিক বৈশিষ্টের অধিকারীরা ( আমাদের সব গিভেন বৈশিষ্ট পাশে ফেলে রেখে) আমরা একা একাজ করতে পারি না। সমাজ বা কমিউনিটিতে চর্চা করে হতে হয়।  এখন সারা সমাজে যখন সচেতন ও সক্রিয় মানুষেরা  ততপরতায়  চর্চায় (সব ‘গিভেন’ বৈশিষ্ট পিছনে ফেলে রেখে) এক পলিটিক্যাল কমিউনিটিতে নিজেদের হাজির করে ফেলতে সক্ষম হয় – এটাই পলিটি কায়েম করা বা হয়ে উঠা।

    কিন্তু এখন এই পলিটি কোন কাজে লাগে? খায় না মাথায় দেয়? এর দরকারটা কি?
    উলটা করে জবাব দিবার সুযোগ নিব। রাষ্ট্র মানে আসলে জনগণের রাষ্ট্র মানেই, রিপাবলিক রাষ্ট্র [কিন্তু এটা কমিউনিস্ট চিন্তা-পরিক্রমার বাইরের ঘটনা]। এই রাষ্ট্রচিন্তার স্ফুরণ – গ্লোবাল ইতিহাসে দেখলে, এটা মানুষের মধ্যে এসেছিল ১৬৫০ সালের দিকে বা এরপরে এবং ইউরোপে (আমেরিকাতেও নয়)। আর এটা নিজেকে নুন্যতম পরিশুদ্ধ, অসংলগ্নতা কাটিয়ে আর সৎ বা ন্যয়সম্মত -উপস্থাপনে হাজির হতে হতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ (১৯৪৫) পার হয়ে যায়। সে যাই হোক, এমন রিপাবলিক রাষ্ট্র মানেই সেখানে আবার কনষ্টিটিউশন বলে কিছু একটা থাকতেই হবে। এখন  কনষ্টিটিউশন [constitution]  শব্দের রুট শব্দটা হল কনষ্টিটিউট [constitute]। এর বাংলা করতে পারি গঠন– নিজেদেরকে গঠন করা – গঠিত করে নেয়া – এটাই সংগঠিত [organise] করে নেয়া অর্থে।  আর এটাই পলিটি বা পলিটিক্যাল কমিউনিটিতে নিজেদের গঠন বা কনস্টিটিউট করে নেয়া। যার আউটকাম বা ফলাফল হল একটা কনষ্টিটিউশন এর জন্ম দেয়া। এটা এক অর্থে পলিটি বা পলিটিক্যাল কমিউনিটির পরস্পরের সাথে চুক্তি বা বোঝাপড়া (আন্ডারস্টান্ডিং) প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া যেমন এই যে আমরা এই এই জিনিষ মানুষের অধিকার মনে করি এবং আমরা সেটা রক্ষার্থে পরস্পর পরস্পরের পাশে এসে দাড়াবোই; এরকম। তাহলে সারকথায় একটা জনগণের রাষ্ট্র তখন কায়েম হবে ও কাজ করতে পারবে যখন ওর পিছনে একটা পলিটিবা পলিটিক্যাল কমিউনিটি আগেই গড়ে নিয়ে খাড়া হয়ে আছে।  তাই ঐ রাষ্ট্রে আমাদেরকে কনষ্টিটিউট বা গঠন করামানে সেটাই একটা কনষ্টিটিউশন জন্ম দিয়ে ফেলা  –  এভাবে এগুলা সব আসলে একই কথা।

    এখন আসবো প্রাসঙ্গিকতার প্রশ্নঃ
    উপরে লেখার শিরোনাম বলছে এটা বদরুদ্দিন উমরের সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গে কোন রচনা; তাহলে সেসব কোথায়? আর এতক্ষণ যা লিখলাম সেসবের সাথে এর সম্পর্ক কী?

    সেদিকে এখন যাব। তবে সবার আগে বদরুদ্দিন উমর সাহেব কে গভীর সম্মান, শ্রদ্ধা ও সালাম জানিয়ে শুরু করতে চাই। তিনি আমাদের মুরুব্বি, আমাদের অগ্রজ – আমার থেকেও যদি বিচার করি তাহলেও তিনি আমার চেয়ে ৩০ বছরের পুর্ব-প্রজন্ম! ফলে তার দৃষ্টিভঙ্গির বিপরীতে গিয়ে একালে বসে ভিন্নভাবে দেখে কিছু কথা এখানে তুলবো এই ভরসা যে তিনি আমাকে পাশে এক ভিন্ন একালের দৃষ্টিভঙ্গি বলে জায়গা দিবেন, বেয়াদবি নিবেন না।

    যেমন ধরেন,  উমর সাহেব এই সাক্ষাতকারে প্রথমেই বলছেন, “…… এই যে গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে, এটা তো কোনো সামাজিক বিপ্লব নয়, যদিও এর মধ্য দিয়ে একটা বড় পরিবর্তন হয়েছে”।
    পাঠক লক্ষ্য করবেন এই সামাজিক বিপ্লব বলা – [মানে রাজনৈতিক বিপ্লব না বলে, এটা তাদের প্রজন্মের কথা বলার রেওয়াজ। তাঁরা ব্যতিক্রমহীনভাবে বিপ্লব মানেই সেটাকে সামাজিক বিপ্লব বলে লিখে থাকেন।] আর একালে আমাদের ধারণা, বিপ্লব বলতে তা তো আসলে এসেনসিয়ালি পলিটিক্যাল রেভেলিউশনই (রাজনৈতিক বিপ্লবই)। যদিও যেকোন রাজনৈতিক বিপ্লবই এরপরে এর প্রভাবে প্রায় সবখানেই এর আনুসাঙ্গিক সামাজিক নানান দিকে বিপ্লবও ঘটাবে, অবশ্যই। আর সেসব থেকে এটা সামাজিক বিপ্লবও ঘটেছে পরে তা বলা যাবে। তবে প্রথমে যেটা ঘটবে বা ঘটে থাকে সেটা রাজনৈতিক বিপ্লব। তবু উনারা ব্যাপারটাকে  সামাজিক বিপ্লব এভারেই বলে থাকেন। আসলে এটা হল তাদের আকাঙ্খায় যেটা কমিউনিস্ট বিপ্লব সেটাই বুঝাতে চান। বা তা না হলেও একটা প্রগতিশীল বিপ্লব এমন কিছু একটা। আর সেই তুলনায় আগষ্ট ২০২৪ সালে হাসিনার উতখাত এটা তার বিপ্লব বলে যে আকাঙ্খার নামকরণ এর  ধারেকাছের কিছু নয় বলেই তারা মনে করে থাকেন। তবে তিনি খুবই পরিস্কার নিজের আকাঙ্খা মত তা না হলেও এটাকে তিনি অর্জন মানেন।  তাই কোন কার্পন্য না করে তিনি বলছেন, .“…..একটা নিষ্ঠুর ফ্যাসিস্ট সরকার অক্টোপাসের মতো দেশকে আঁকড়ে ধরেছিল, সেটা উৎখাত হয়েছে। এই অভ্যুত্থানের এটা একটা খুব বড় অর্জন”।

    আবার এরপরের প্যারায় নিজের আকাঙ্খার দিকে নজর ফিরাচ্ছেন। বলছেন, “…কিন্তু এই সংগ্রামের তো কোনো শ্রেণি–পরিচয় নেই, এটা কোনো শ্রেণি–সংগ্রাম ছিল না। একটা রিগ্রেসিভ (নিপীড়নমূলক) সরকারকে ফেলে দিয়েছে এই অভ্যুত্থান। যারা ফেলে দিয়েছে, তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক তাত্ত্বিক ভিত্তি ছিল না। যারা এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে, সেই ছাত্রদের মধ্যে তত্ত্বগত বোঝাপড়া খুব একটা আছে, সেটাও দেখা যাচ্ছে না”।

    আসলে তিনি বলতে চাইছেন, ছাত্রদের মাথায় কমিউনিস্ট চিন্তা নাই। এখানে বলে রাখি, উমর সাহেবদের প্রজন্ম  বিপ্লব মানে তাদের সামাজিক বিপ্লব মানেই কিন্তু তা কমিউনিস্ট বিপ্লব! এভাবে একমাত্র বলে বুঝে থাকেন।  তাও আবার সেটা শ্রেণী সংগ্রামের হতে হবে, রাজনৈতিক (কমিউনিস্ট) তাত্বিক ভিত্তির হতেই হবে। এছাড়াও – এতে  শ্রেণীর পরিচয় থাকতে হবে ইত্যাদি।
    আসলে এগুলো হচ্ছে তাদের মাথায় গেথে বসে থাকা একটা বিপ্লবী ছক বা ইমেজ, যেটা একটা ইমাজিনেশন বা স্বপ্ন-কল্পনার মত। যেটা প্রায় তাঁর বয়সের সমান বয়সী এক কল্পনা মাত্র! এজন্য এটা এক কল্পিত আকাঙ্খা! তবে একটা কথা এখানে নিশ্চিত করেই বলা যায় এটা বিপ্লবের এক আইডিয়েল [ideal] চিন্তা। আইডিয়েল মানে যেটা রিয়েল [real] নয়, রক্তমাংসের বাস্তব মানুষের মত বাস্তব নয়; এই অর্থে। যেটা অবশ্য আইডিয়েল বনাম রিয়েল এর ফারাক জানা  থেকে বুঝতে হবে।

    কিন্তু সেই প্রজন্মের কমিউনিস্ট চিন্তা কেন এমন আইডিয়েল হলঃ
    এর প্রথম কারণ হল যা কিছুই ১৯৪৫ সালের আগের উতপত্তি হওয়া চিন্তা, তা এমনই হবে। হতে বাধ্য।  কারণ, জাতিসংঘের মত গ্লোবাল পলিটিক্যাল অর্ডার বা গ্লোবাল অর্ডার শৃঙ্খলা বলে কিছু  এর আগের কালে জন্মায় নাই। যে কোন যুদ্ধ, আভ্যন্তরীণ ক্ষমতার যুদ্ধ বা আন্তঃরাষ্ট্রীয় তা যেটাই হোক সে যুদ্ধ কোন আন্তর্জাতিক নিয়ম-আইন মেনে হতে হবে এমন কোন গ্লোবাল অথরিটি (জাতিসংঘের মত) এর আগে ছিল না; জন্মই হয় নাই। এমনকি রেডক্রস ধরনের প্রতিষ্ঠানও ছিল না। যুদ্ধবন্দী বলে কোন ধারণা নাই, যুদ্ধেও পালনীয় আইন বলে কিছু ছিল না। আর সবচেয়ে বড় কথা হিউম্যান রাইট বলেও কোন ধারণা বা প্রতিষ্ঠানই তখন ছিল না। জন্ম হয় নাই।
    এখন মজাটা হচ্ছে, একালে এসেও কমিউনিস্ট চিন্তায় মানবাধিকার বলে কিছু নাই; যেটা [জাতিসংঘের (১৯৪৫) জন্ম,] আর (১৯৪৮ সালে) হিউম্যান রাইট চার্টার এর জন্ম হয়ে গেলেও কমিউনিস্টেরা নির্বিকার; তারা  এটা গ্রহণ-বর্জন কিছুই করবে না। অংশও নিবে না। বেশি জোড়াজুড়ি করাতে ১৯৬৬ সালে এসে জাতিসংঘের ফ্রেমে তারা হিউম্যান রাইটের এক নতুন কমিউনিস্ট সংজ্ঞা দিয়ে বসে যে অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিতসা ও বাসস্থান হল নাকি মানবাধিকার????  অধিকার শব্দটাই যে একটা রাজনৈতিক ধারণা;  আর সেই সাথে রাজনৈতিক ধারণা আর অর্থনৈতিক ধারণা বলে যে দুটা মোটা  ক্যাটাগরি খেয়াল রেখা কথা বলতে বা চিন্তা করতে হবে সেটা কমিউনিস্টেরা এখনও আমল করতে রাজি হয় নাই, নিজেরাও আমল করতে শিখে নাই। মূলকথা বৈষয়িক মানুষ আর রাজনৈতিক মানুষ এদু্টা যে শার্প আলাদা বুঝ তা এরা আমল করতে পারে না এখনও!

    খেয়াল করলে দেখব, অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিতসা ও বাসস্থান এগুলা মানুষের বৈষয়িক চাহিদা। এগুলা বৈষয়িক চাহিদা মাত্র। তাহলে পলিটিক্যাল মানে কী? আর অধিকার মানেই তো সেটা পলিটিক্যাল ধারণা পলিটিক্যাল চাহিদা সেদিকে বুঝতে যেতে হবে। না, এগুলো মার্কস তো নয়ই লেলিনের আমলেও এগুলো আমলযোগ্য ধারনা হতে পারে নাই। এর উপরে দুইটা আরো বড় বড় প্রবলেম বা বাধা আছে। এক. শ্রেণীবোধের ধারণায় বিশেষ করে শ্রেণীর রাষ্ট্র ধারণায়। শ্রেণী বুঝ দিয়ে সমাজ ব্যাখ্যা করেন তত্ব সাজান বড় সমস্যা হবে না হয়ত চলবে কোনভাবে। কিন্তু যখনও কমিউনিস্ট বুঝ থেকে শ্রেণীর একনায়কত্বের রাষ্ট্র বানাতে যাবেন মানে শ্রমিক শ্রেণী ক্ষমতায় গেলে অন্য সকল শ্রেণীকে (আবার যাকে ইচ্ছা তাকে অপর সব শ্রেণী আপনার শত্রু শ্রেণী ঘোষণা করে দিতে পারবেন) গুম-খুন অপহরণ ইত্যাদি সবকিছু করতে পারবেন তখন সব শেষ।  [এখনও কমিউনিস্ট চীন যেমন সিটিং প্রতিরক্ষামন্ত্রী বা পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে গুম করে রেখে দিয়েছে।] ঠিক যেমন মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে, বিজয়ী মুক্তিযোদ্ধা শ্রেণীরা  নেতা মানে ক্ষমতায় থাকা হাসিনা যেমন কাজেই তিনি যাকে রাজাকার (বা জঙ্গী) ট্যাগ দিবেন তাকেই তিনি  গুম-খুন অপহরণ ইত্যাদি সবকিছু করতে পারবেন। এটাই তো ছিল ১৫ বছরের হাসিনার [চেতনা] শ্রেণীর রাষ্ট্র!!!!
    সোজা কথায় বললে, কমিউনিস্টেরা এখনও অধিকার শব্দটা নিয়ে কী করবে না করবে জানে না। ফলে তাদের রাষ্ট্র ধারণায়, সকল শ্রেণীর (নাগরিক) অধিকার বলে কিছু থাকে না। বরং সুনির্দিষ্ট কেবল ক্ষমতাসীন শ্রেণীরই যাখুশি অধিকার থাকে ?
    এর উপর আবার শ্রমিক শ্রেণী বা এর নামে যারা ক্ষমতায় থাকবে তারা কী কী করতে পারবে, কাকে কাকে বুর্জয়া বলতে পারবে তার কোন নির্ণায়ক কী কোথাও লেখা থাকবে? বিচার বিভাগ বলে কিছু থাকবে? কনষ্টিটিউশন বলে কী কিছু থাকবে? কোন কমিউনিস্টই তা জানে না। কেউ বুর্জোয়া কিনা তা কে কীভাবে সাব্যস্ত করবে???
    আসলে সমস্যা হল, খোদ মার্কসের মাথাতেই রিপাবলিক বলে কোন ধারণা ছিল না। তার শ্রেণীবোধের তলে সব ঢাকা পরে গেছিল। এছাড়াও বাস্তবত ১৯১৬ সালের পরে আর কোন তাত্বিক লেখা বা বইই নাই। লেনিন মারা গেছে ১৯২৪ জানুয়ারিতে। ফলে যা কিছু ইস্যু এরপরে এনিয়ে কমিউনিস্টেরা বিভ্রান্ত। সাথে এর আগের যা কিছু (চিন্তাগত) খামতি ছিল তা সহ!

    কমিউনিস্ট চিন্তা আরেক বিশাল গ্যাপ হল, ক্ষমতা ধারণা। মানে রাষ্ট্রক্ষমতা ধারণা।

    কথাগুলো বললাম এজন্য যে  হাসিনা উতখাতে যে পালটা ক্ষমতাকে জন্মাতে ও কাজে সফল হতে হয়েছে- সেটা তো সবাই বুঝতে পারে যেটা সেনাবাহিনীর ভিতর থেকে এসেছে। তবু মানুষ ভাবতে ভালবাসে সে ছাত্র-জনতাই সব করেছে! যেটা উমর সাহেব তার দৃষ্টিকোন থেকে  প্রশ্ন তুলছেন, সেই ছাত্রদের শ্রেণী পরিচয় কী?  বলেছেন, তাদের তো শ্রেণি–পরিচয় নেই,  (অতএব) এটা কোনো শ্রেণি–সংগ্রাম ছিল না।
    উমর সাহেব এর শ্রেণীবোধের চিন্তার বিচারে – “তাদের তো শ্রেণি–পরিচয় নেই” বললে আমরা বুঝতে পারি ১৯৪৫ সালের আগের চিন্তায় বা পরে আর কখনও শান না দেয়া চিন্তায় তিনি ঠিক কী বলছেন তা বুঝা যায়।
    কিন্তু  যখন বলছেন, জুলাই-আগষ্ট ২০২৪ এটা কোনো শ্রেণি–সংগ্রাম ছিল না – এখানে এসে বিনীতভাবে বলতে চাই এটা বোধহয় তার অসতর্ক মন্তব্য!
    কারণ তাহলে “আজ পর্যন্ত দুনিয়ার সব ইতিহাস শ্রেণী সংগ্রামের ইতিহাস” – কার্লমার্কসের একথার অর্থ থাকে না। মানে কার্ল মার্কসের জন্ম হওয়ার আগের ইতিহাসও তো শ্রেণী সংগ্রামের ইতিহাস – এটা তাহলে কেমনে হবে?? সেই প্রশ্ন উঠবে।

    যা হোক এসব খুচরা তর্ক থাক। সমস্যার কথা বলি। একালে আমাদের আর্মি সহ রাস্তায় আন্দোলনকারীদেরসহ সবাইকে হাসিনা উতখাতের লড়াইয়েও হিউম্যান রাইট ইস্যুটা কীভাবে সক্রিয় ছিল তা খেয়াল রাখতে হয়। নইলে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোগাড় আমরা করতে ব্যর্থ হতাম। যা একালের যেকোন পরিবর্তনে একটা বড় বিবেচনা। আমাদের আর্মির বেলায় এটা তো আরো মারাত্মক! জাতিসংঘের মানবাধিকার না মানলে তারা আমাদের আর্মিকে মিশনে অংশগ্রহণ থেকে বের করে দিবে – যেটা আসলে এক বিরাট ফাইন্যান্সিয়াল বোঝা হয়ে আমাদের সামনে হাজির হত তাহলে। ফলে ক্ষতিও। কারণ, আমাদের গরীবী পেমেন্ট পাওয়া সাধারণ সৈনিকদের কাছে তাদের মিশন বন্ধ হলে তাদের জীবনের সব আশার প্রদীপ নিভে যাবে। ফলে ইউএন এর কথা খেয়ার রেখে হাসিনা উতখাতে তাদের অংশ নিতে হয়েছে। আবার বিজয়ের পরে তাদেরকে কোন ক্রেডিটই দেয়া যাচ্ছে না। সবই ছাত্র-জনতা বলে এর আড়ালে রেখে দিতেই হচ্ছে।

    এসব দিকগুলো উমর সাহেবদের ইমাজিনেশনের যে বিপ্লব ধারণা যেটাকে আমি আইডিয়াল ধারণা বলছি যেটা একালে ২০২৪ সালে এসেও এটাকে রিয়েল ধারণা নয় বলছি। একালে আন্তর্জাতিক নানান প্রতিষ্ঠান সুবিধা-অসুবিধা দুটাই মারাত্মক! কাজেই বিপ্লব নিয়ে আবার সেটা আইডিয়েল না, রিয়েল ধারণায় ইমাজিনেশন করতে হবে। এককথায় চিন্তার বিভিউ। পুনঃর্গঠন লাগবে। নয় কী!

    আর এই সাক্ষাৎকারটা ছিল অনেক ছোটই। তবু এই ছোট পরিসরে সবচেয়ে কম ব্যবহৃত শব্দ হল, রাজনৈতিক বা পলিটিক্যাল শব্দটা! কিন্তু কেন? কেন সামাজিক বিপ্লব বলছেন রাজনৈতিক বিপ্লব বলছেন না কেন? এটা আমাদেরকে ভাবতে হবে, আগামী প্রজন্মের জন্য চিন্তার এসব দিকের এক ব্যাপক রিভিউ লাগবে।

    সবকিছুতেই শ্রমিক-কৃষক দিয়েই বুঝতে হবে কেনঃ
    উমর সাহেব বলছেন, “কোটার বিরুদ্ধে বৈষম্য না হয় বুঝলাম, সামাজিক বৈষম্য বলতে তারা কী বোঝে? তাদের এখন পর্যন্ত দেশের কৃষক, শ্রমিকের পক্ষে কোনো কথা বলতে শুনিনি”। আসলে সত্যিটা হল, এই ছাত্রদের তো কোন পার্টি পরিচয়ই তো ছিল না। তারা প্রথম পার্টি খুলেছে এই বছর ফেব্রুয়ারি মাসে হাসিনা উতখাতের পরে। আর তাদেরকে কৃষক, শ্রমিকের পক্ষে কথা বলতে দেখতে চাচ্ছেন উমর সাহেব! এর মানে এরা কমিউনিস্ট নাহলে তিন তাদের গোনায় ধরতে পারছেন না!
    আচ্ছা যারা কৃষক, শ্রমিকের পক্ষের বলে – কথা বলতে জানে তারাও কেউ কী বলেছে আমার জানা নাই। যদিও অনেক কমিউনিস্টই দাবি করছে তারা জুলাই বিপ্লবে ভুমিকা রেখেছিল।
    আবার ধরেন বাংলাদেশে যথেষ্ট বিকশিত শ্রমিক মানে বিস্তৃত কারখানা এখনও নাই। তখন কী করব আমরা?

    কথা আরো আছে মারাত্মক!
    আমরা কী খেয়াল করেছি যে আমাদের গার্মেন্ট শিল্প আছে সেখানে ট্রেড ইউনিয়ন কেমন? কেমনে চলছে সেগুলো?
    বইয়ের ভাষায় আমাদের ধারণা হল, গার্মেন্টসে মালিকও আছে শ্রমিকও আছে। তাহলে এটা মালিক শ্রমিকের দ্বন্দ্ব আর আমাদেরকে শ্রমিকের পক্ষে থাকতে হবে। কিন্তু তাই কী বাস্তবতা???

    তাহল একর্ড [accord] গ্রুপ এরা করাঃ
    আমরা কী জানি সেখানে একর্ড বলে একটা বিদেশি বায়ার্স [buyers’] গ্রুপ আছে। আর ট্রেড ইউনিয়ন গুলার সাথে তাদের ব্যাপক খাতির! কেন এমন?
    বায়ার্স গ্রুপ মানে হল যাদেরকে  (স্থানীয়) মালিক মনে করেছি তারাই মালিক নয়। বায়ার্সরাই হল মালিকের উপরে আসল মালিক? তাহলে শ্রমিকদের সাথে তাদের খাতির হবে কেন?

    কাজেই এই বাস্তবতাকে এড়িয়ে ক্লাসিক ধারনা বা মুখস্ত ধারণার – শ্রমিক-কৃষকের কথা বলে যেতে হবে – এটা কতটুকু সঠিক হবে? আবার সেই শ্রমিকের পক্ষে থাকার মানে? এই  বাস্তবতায় এটা কী????
    এথেকে একটা জিনিষ পরিস্কার যে  ক্লাসিক ধারনা বা মুখস্ত ধারণার শ্রমিক-কৃষকের কথা বলা সম্ভবই নয়। বাস্তবের শ্রমিক-কৃষক অন্য জিনিষ!  ফলে এখানেই ক্লাসিক ধারনা বা মুখস্ত ধারণার -শ্রমিক-কৃষক- বলার যে চল সেই কমিউনিস্ট চিন্তারও রিভিউ লাগবে। এর আগে শ্রমিক-কৃষক শ্রেণির পক্ষে কথা বলতে হতেই হবে বলে বা এদিয়ে কিছুই বুঝা যাবে না।

    উপরে যে বক্তব্যের কার্ডটা দেখছেন সেটা প্রথম আলোর উমর সাহেবের সাক্ষাতকারে দেয়া আছে, সেখান থেকে নিয়েছে। এই কার্ডে উমর সাহেবের তিন নম্বর পয়েন্ট টা অস্বস্তিকর! দেখেন, খোদ কমিউনিস্টেরা কী কনষ্টিটিউশন / সংবিধানকে জরুরি কিছু মনে করে? কাজের জিনিষ মনে করে? করে না।
    এমনিতেই কমিউনিস্টদের চিন্তায় পার্টি আর রাষ্ট্র বলে দুটা আলাদা কিছু নয়। এছাড়াও মূলত রিপাবলিক ধারণাটাই মার্কসের ধারনায় নাই। শ্রেণী ধারণা দিয়ে বদলে ফেলেছেন, অপ্রয়োজনীয় করে ফেলেছেন তিনি। কাজেই উমর সাহেবের মুখে  কনষ্টিটিউশন / সংবিধান নিয়ে কথা তোলা এটা কীভাবে দেখব জানি না; অর্থই বা কী হবে?

    আবার কার্ডের প্রথম পয়েন্ট তিনি বলছেন, “কোটার বৈষম্য আর সামাজিক বৈষম্য তো এক জিনিষ নয়”।
    এখানে ভুল বুঝা হচ্ছে মানে মারাত্মক ভুল বুঝা আছে। উমর সাহেব আসলে সামাজিক বৈষম্য বলতে একটা কথাই বুঝেন আর সেটা তিনি মিন করছেন অর্থনৈতিক বৈষম্য। এর বাইরে বৈষম্য  বলে আর কিছু নাই। এধারণাটাও ভুল বলে আমার ধারণা। আসলে বৈষম্য শব্দতার তাতপর্য এখানে (তাতে সেটা কোটা বা সামাজিক বৈষম্য যেটাই বলেন) এটা একটা পলিটিক্যাল শব্দ। অধিকার ভিত্তিক শব্দ বলেও বুঝতে পারেন। কিন্তু ওদিকে রাজনৈতিক বা অধিকার শব্দ কমিউনিস্ট ডিকশনারিতে আবার নাই। এটাই মূল সমস্যা। আর পলিটিক্যাল বৈষম্য বা অধিকারে বৈষম্য করা অপরাধ তা হলেও এটা কমিউনিস্ট এন্টেনায় ধরা পড়বে না।
    সারকথাটা হচ্ছে, ক্লাসিক বা মুখস্ত কমিউনিস্ট ভোকাবুলারি দিয়ে এযুগে কাউকে মুল্যায়ন করা অর্থহীন; যদি না আগেই আমরা ১৯৪৫ সালের আগের ধারণাওগুলোকে নিয়ে ব্যাপক রিভিউ করতে আগেই না বসি। আর পলিটিক্স শব্দের অর্থ তাতপর্য বুঝলে অর্থনৈতিক ক্যাটাগরি দিয়ে কমিউনিস্ট ভাব প্রকাশের ভুল আমরা কাটিয়ে উঠতে পারব।

    সবশেহ উমর সাহেব নিজ ক্লাসিক ধারণা বিবেচনার দ্রুত নির্বাচন দিয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন। আর সেটাকে কাজে লাগাতে উঠে ততপর হয়ে গেছে প্রথম আলো। তারা উমর সাহেবের কথাকে বিএনপি র এখনই নির্বাচিন দাবি – এর সাথে যেন উমর সাহেবও একই কথা বলছেন এই ভাব তৈরি করে নির্বাচন কথাটাকে হাইলাইট করে দিয়েছে!

    আপাতত এতটুকু!

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com


    সবশেষ আপডেটঃ  ,   এপ্রিল ২০২৫

  • বার্মা-আরাকান নিয়ে ইন্ডিয়ান প্রপাগান্ডায় মেতে উঠার কিছু নাই

    বার্মা-আরাকান নিয়ে ইন্ডিয়ান প্রপাগান্ডায় মেতে উঠার কিছু নাই
    গৌতম দাস
    ২০ এপ্রিল ২০২৫
    https://wp.me/p1sCvy-6pT

     

    আরাকান আর্মি, bbc থেকে নেওয়া

     

     

    মাতবর-তালেবরে দুনিয়া তো বটেই ফলে বাংলাদেশও ভরে উঠেছে। ঘটনা হল ইউটিউব-কে নিয়ে।
    ইউটিউবকে কীভাবে দেখব?
    ইউটিউব আরেক ধরনের মিডিয়া যেটা সোশাল মিডিয়া; মানে হল যা মেইন স্ট্রিম মিডিয়া নয়।
    যদিও অনেক সময় মেইনস্ট্রিম মিডিয়া ভিডিও ক্লিপ নিউজ বের করে থাকে।

    আসলে মুল ফারাকটা হল, মেইনস্ট্রিম মিডিয়া মানে হল যা জার্নালিজমের নীতি মেনে চলে। কোন জিনিষ নিউজ বা মিডিয়া রিপোর্ট হতে গেলে যে জার্নালিজমের নীতি মেনে চলতেই হয়। এছাড়া নিউজ, ভিউজ বা এনালাইসিস এর ফারাক যে বজায় রাখে ও পাঠক-দর্শককে সতর্ক করে রাখে। নিউজের মধ্যে যে নিজের (রিপোর্টারের) ভিউজ বা মন্তব্য ঢুকিয়ে না দেয়। ইত্যাদি…।  আর সবার উপরে এটা প্রাতিষ্ঠানিক জার্নালিজম হতেই হয়। যেমন সেখানে একজন দায়ীত্ব দেয়া দায়ীত্ববান এডিটর থাকতেই হয়। রিপোর্টার কিছু লিখে দিলেই তা কোন এডিটর পাশ করে দিবেন না। লেখায় লিখিত অক্ষরে যা দেখা যায় তাই সত্যি না; সত্যি বলে দাবি করা যাবে না – এই নীতি মেনে সম্পাদককে কাজ করতে হয়।

    বিপরীতে সোশাল মিডিয়া (মানে ফেসবুক, এক্স বা ইউটিউব ইত্যাদি) যার এসবের বালাই নাই।  এর মূল কারণ, এটা ব্যক্তি যেভাবে সমাজে কথা বলে; পরিচিত ও বন্ধুবান্ধব বা সার্কেলে যেভাবে কথা বলে এটা তাই। মূল কথা সোশাল মিডিয়ায় এসব বক্তব্যকে জার্নালিজমের নিয়মরীতি বা দায় মেনে বলতে হয় না।

    কিন্তু সোশাল মিডিয়ায় অংশ নেয়া অনেক অসচেতন ব্যক্তি দুই মিডিয়ার এই সীমারেখা খেয়ালই রাখেন না। এর উপর লেখায় লিখিত অক্ষরে যা দেখা যায় তাই সত্যি বলে মনে করার অসচেতনতা ও ব্যাধি আছে তাদের!

    আরেকটু পরিস্কার করে বলিঃ এনালাইসিস আর রিপোর্ট এর ফারাক
    ইউটিউবার এর এনালাইসিস বা এনালাইটিক্যাল লেখা যদি হয় তো শোনা যায়, যার যা পছন্দ অনুসারে তা আমরা ফলো করতে পারি, করিও!
    কিন্তু রিপোর্ট? মানে ইউটুবার এর এ নিয়ে “রিপোর্ট”?
    সরি এবার এর বিশ্বাসযোগ্যতা লাগবে, এটা জার্নালিজম হতে হবে ইত্যাদি……; যা ইউটিউবারের থাকে না।
    আর এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মিথ্যা প্রচারের রমরমা কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে ইউটিউব বা ফেসবুক!
    গরীব রাষ্ট্র ইন্ডিয়া সামরিক বা ফাইন্যান্সিয়াল ব্যয় করার সামর্থ নাই এমন ইন্ডিয়ার তাই নানান সোশাল মিডিয়া বা ছুপা (গদি মিডিয়া খুলে) মিডিয়া প্রপাগান্ডায় লিপ্ত হতে দেখা যায়। এটা হল গরীবের ফাইভ স্টার হোটেল যাপনের কল্পনার মত!
    এমন ইন্ডিয়ার কথা মনে রেখে আমাদেরকে মিডিয়া কোনটা কী তা মনে রাখতেই হবে, সচেতনতা থাকতেই হবে!

    সম্প্রতি,
    “মিয়ানমারের রাখাইন বা আরাকান রাজ্যকে ঘিরে ভূ-রাজনীতির এক চক্রের মধ্যে পড়ে গেছে বাংলাদেশের কূটনীতি ?
    পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে অভ্যন্তরীণ, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতির এক গোলক ধাঁধায় পড়ে এ থেকে বের হয়ে সহজ পথ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে। বাংলাদেশের জন্য এই সমস্যার একদিকে আছে আরসা ও রোহিঙ্গারা এবং আরাকান আর্মি ও জান্তা সরকার, অন্যদিকে আছে চার বৈশ্বিক পরাশক্তি। এমন পরিস্থিতিতে ছায়া যুদ্ধ কি আসন্ন” – মোটামুটি এমন সারকথায় এক ব্যাপক প্রপাগান্ডা ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
    এর মাদার প্রপাগান্ডাটা হল, (সাবেক র-অফিসারের সন্তান) চন্দন নন্দীর লেখা। কাজ যোগাড় করতে না পেরে এটাই তার পেশা হয়ে দাড়িয়েছে। তাই তাঁর এক লেখা হল এর মূল মিথ্যা খবরটা।  যার সার মিথ্যা দাবিটা হল, ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশ আর্মি কে দিয়ে বার্মা বা আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে এক প্রক্সি যুদ্ধের পরিকল্পনা নিচ্ছে। আর সেজন্যই নাকি আমেরিকার দুই স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্তা বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন।- এই হল সারকথায় মিথ্যা বক্তব্যটা!

    এদিকে এনিয়ে আপনার মতামত জানতে চেয়ে ইনবক্স করেছে। চুপ ছিলাম সাড়া দিতে চাই নাই।

    আজ এখানে এনিয়ে একটু সাড়া দিচ্ছিঃ
    ১। বটম লাইন হল, ট্রাম্পের নীতি বলছে তারা নতুন করে দুনিয়ার কোন বিবাদে কোন পক্ষের সাথে জড়াবে না যেখানে ট্রাম্প প্রশাসনকে অর্থ ঢালতে হয়।
    কাজেই বার্মায় আরেকটা যুদ্ধের ফ্রন্ট খুলা (মানে অর্থ ঢালা শুরু করা) ট্রাম্পের নীতি-পলিসিই নয়।

    ২। কাজেই আমার কাছে এমন রিপোর্ট (?) এখনও প্রো-ইন্ডিয়ান জল্পনা-কল্পনাই। যার নুন্যতম কোন ফর্মাল বা মেইনস্ট্রিম মিডিয়া রিপোর্ট নাই। আমি দেখি নাই। ইন্ডিয়ার প্রায় সব মিডিয়ায় এখন মোদির অর্থ খাবার জন্য ভিখারি। তবুও এমন রিপোর্ট সেখানে দেখি নাই।
    বাংলাদেশে যারা সফরে এসেছে তাদের কী কোন ফর্মাল বক্তব্য কী কোথাও ছাপা হয়েছে? হদিস নাই……।।

    ৩। সবচেয়ে বিরক্তিকর দুইটা মন্তব্য হল ১। ড. ইউনূসের চীনে গিয়ে ‘যা চান সব দিয়ে দেব’ ধরণের বশ্যতা দেখানো ২।  সর্বশেষ জেনারেল ওয়াকার রাশিয়া সফরের নেপথ্য ঘটনা
    এর প্রথম বাক্যটা হল, ইন্ডিয়ান জলুনি। এমন কোন বক্তব্য ড. ইউনূস চীন সফরে করেন নাই। আমি নিশ্চিত। আসলে এই সাজানো বাণী থেকে বুঝাই যাচ্ছে এটা ইন্ডিয়া সরকার বা র-এর ক্ষোভ বা অসহায়ত্বের ভাষা!
    আর দ্বিতীয় বাক্যে ওয়াকার সাহেব যেখানেই ঘুরতে যান না কেন তিনি বাংলাদেশ আর্মিকে (as a whole) প্রতিনিধিত্ব করে করেন নাই। এভাবে বুঝলে তা সঠিক হবে বলে মনে করি।

    ৪। এবারের ট্রাম্প প্রশাসনের স্টেট ডিপার্টমেন্ট (পররাষ্ট্র) বা পেন্টাগনেরও এমন খায়েশ থাকতেই পারে। কিন্তু তা মানে, তেমন খায়েশ পুরণ করতে হলে যখনই এমন ফাইল হোয়াইট হাউজ বা ট্রাম্পের অফিস টেবিলে এরা পৌছাতে যাবে ট্রাম্প সেসব ফাইলে ডাস্টবিনে ফেলে রেখেদিবেন। এটাই ট্রাম্পের নীতি-পলিসি। এই একই কাজ ট্রাম্প তার আগের (ট্রাম্প-১) প্রশাসনের আমলেও করেছিলেন।
    ৫। যদিও আগের  বাইডেন প্রশাসন “বার্মা এক্ট” বা আরাকান আর্মি তে হাত ঢুকানো ইত্যাদি নিয়ে অনেক কিছু আগিয়ে ছিলেন।  কিন্তু এবারের ট্রাম্প তার অর্থব্যয় কমানোর নীতির কারণে সেসব দিকে আকর্ষণ রাখেন না।
    ৬। একটা বুঝাবুঝির চিহ্ন দিয়ে / জানিয়ে রাখি। যারা পরাশক্তি এই শব্দটা ব্যবহার করে তারা নাদান ইন্ডিয়ান। সোভিয়েত রাষ্ট্রের (১৯৯১) পতন এর পরে “পরাশক্তি” বলে কিছু নাই। এটা সেকালের একটা ভুল শব্দ মাত্র!  আর যারা ইন্ডিয়াকে যারা চার পরাশক্তির একটা ভাবে এরা গাধা; বোধশক্তি-বুদ্ধি প্রতিবন্ধি!!

    কাজেই নুন্যতম মেইনস্ট্রিম নিউজে কিছু না পাওয়া পর্যন্ত; আর তাতে ট্রাম্পের পরিস্কার কোন মনোভাব যাতে প্রতিফলিত; তা না হওয়া পর্যন্ত এসব কিছুকে ইন্ডিয়ান র-এর প্রপাগান্ডার অধিক কিছু ভাবতে পারছি না। সরি!

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com


    সবশেষ আপডেটঃ  ,   এপ্রিল ২০২৫

  • আরএসএস-বিজেপি দ্বন্দ্ব চরমে, বাংলাদেশকে ১৯৭১-এর মত একটি অপারেশন ও হাসিনাকে রক্ষার ব্যর্থতা নিয়ে

    আরএসএস-বিজেপি দ্বন্দ্ব চরমে,
    বাংলাদেশে ১৯৭১-এর মত একটি অপারেশন না চালানো ও হাসিনাকে রক্ষার ব্যর্থতা নিয়ে
    গৌতম দাস
    ০৯ এপ্রিল ২০২৫  দুপুর ০২ঃ ৩২
    https://wp.me/p1sCvy-6oZ

     

     

    শেষাদ্রি চারি [Seshadri Chari] 

    [আরএসএস-বিজেপি দ্বন্দ্ব এনিয়ে আপনাদেরকে আগে ফেসবুকে কিছু ধারণা দিয়েছিলাম। সেটা এখন আরো চরমে উঠেছে। বাংলাদেশের মোদির ইন্ডিয়া হাসিনার পতন ঠেকাতে পারে নাই এমনকি অজিত দোভাল ঠিকমত জানতেও পারে নাই। (আর আমরাও [মানে আমাদের জুনিয়র আর্মি অফিসার সদস্যরা] সেই কাজটাই ভালভাবে করেছিলাম যেন “র”-এই চিত্রটা আমল করতে ব্যর্থ হয়)। আর এতে সবমিলিয়ে হাসিনার উতখাত ও পরিণতিতে মোদির ভারত বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ হারানোতে – এই ইস্যুটাকে এখন বিজেপি সরকার ও মোদির ব্যর্থতা বলে অভিযোগ তুলেছে তাতে আরএসএস-বিজেপি দ্বন্দ্ব টা এক নয়া মাত্রায় চলে যেতে চাইছে। এরই প্রকাশ ঘটেছে আরএসএস নেতা শেষাদ্রি চারি নামের এক নেতা এসব নিয়ে খোলাখুলি দ্যা প্রিন্ট পত্রিকায় এক কলাম লিখেছেন সেখান থেকে এনিয়েই এই রচনা।]

     

    সময়ে ভিডিও এর চেয়েও গদ্যে লিখলে কোন কোন ঘটনায় জমিয়ে আলাপ করা যায়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও রেফারেন্সগুলো পাঠক নিজে দেখে শুনে আরো ফারদার উল্টে-পাল্টে দেখা যায় এমনকি কেউ কেউ যারা আরো গবেষণায় লিপ্ত হতে চায় তাদের কাজ সহজ হয়। তাই আজ প্রথমে এখন লিখে বলব। কিন্তু ইস্যুটা কী?

    এককথায় ইস্যুটার শিরোনাম – “ইউনুস সাবের চীন সফরে” ভারতের জলুনি আর মোদিকে দোষী ঠাউরানোঃ
    কিন্তু তবু এতে শিরোনামে বলা হয় নাই যে এখানে কর্তা কে? মানে –ইন্ডিয়ার জলুনির প্রকাশ আর মোদিকে দোষী বলে রায় দিল কে? তা বলা হয় নাই।
    আর এটাই সবচেয়ে চমকানো তথ্য তা আপনাদেরকে বলব।

    ইন্ডিয়ার জলুনি প্রকাশ আর মোদিকে দোষী বলে রায় দিল আরএসএসঃ
    আরএসএস এর পক্ষ থেকে কে মোদিকে দোষী করল কীভাবে?
    একাজ করেছেন শেষাদ্রী চারি [Seshadri Chari]।  চারি ছিলেন আরএসএস এর এক দলীয় মুখপাত্র পত্রিকা আছে; প্রাচীন পত্রিকা নাম তার “অর্গানাইজার” (হিন্দিতে সংগঠক)।   এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন চারি, এখন নাই। তিনিই প্রায়ই ইন্ডিয়ান (সম্ভবত সর্বশেষ নয়া) প্রভাবশালী ইংরাজী পত্রিকা দ্যা প্রিন্ট [The Print] ; এখানে অনিয়মিতভাবে কলাম লিখেন। সেটা অনেকটা পার্টি আরএসএসের অবস্থানই তা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার না করেই তিনি লিখে থাকেন।  সবাই জানে ও মানে যে এটা আসলে চীনা সরকারী অবস্থানই কিন্তু স্বীকার না করে লেখা ও পরিচালিত চীনা ইংলিশ পত্রিকা [Global Times] যেন।
    এই চারি এবার লিখেছেন যার শিরোনামঃ “Yunus just offered Indian Ocean to China. India must respond to the neighbour’s shenanigans” । বাংলাদেশে “ভিউ- খাওয়া” বা  হাইপ তুলে লাইক খাওয়া যত দৈনিক আছে এরা কেউই এই লেখার মর্ম বুঝে নাই মনে হচ্ছে। তাই সম্ভবত তারা চারির এই লেখা আমল করে নাই। ওদিকে দ্যা প্রন্টের যে ফেসবুক পেজ আছে সেখানে এই লেখার একটা বাংলা অনুবাদ ছাপা হয়েছে পরেরদিন। সেটার লিঙ্ক এখানে দেখতে পারেন।
    তবে চারির লেখা কলামের সারাংশ যা শিরোনামের নিচে লেখা থাকে সেটার অনুবাদ থেকে লেখাটার সারাংশ জানা যায়। সেটার বাংলা ভাব-অনুবাদ করে বললে হয়ঃ ইন্ডিয়ার “প্রতিবেশী সবার আগে” পলিসি মনে হচ্ছে পোতায় গিয়ে পথ হারিয়েছে আর এতে দেখা যাচ্ছে সবচেয়ে নিকট আর দুরের প্রতিবেশীরা চীনের দিকে হেলে পড়তেছে আর এতেই আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্য এলোমেলো প্রভাবে”।
    অর্থাৎ চারি বলতে চাইছেন মোদির অযোগ্যতাতেই ইন্ডিয়ার প্রতিবেশিরা চীন-অভিমুখি হয়ে ছুটছে। যেটা ইন্ডিয়ার দিক থেকে দেখলে আঞ্চলিক ক্ষমতা ভারসাম্য ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে আর চীনের পক্ষে চলে গেছে।

    India’s ‘neighbourhod first’ policy seems to have gone awry
    with most immediate and distant neighbours tilting toward
    China, impacting the regional balance of power.

     

    যার সোজা মানে হল, চারি বা চারির মুখ দিয়ে আরএসএস এবার বিজেপি-মোদিবিরোধী সংগ্রাম অনেক খোলাখুলি আর সামনাসামনি লড়তে চাইছে। এই সার বক্তব্যের একটা বাংলা পেয়েছে ফেসবুকে যেটা আরও মারাত্মক ভাষায়। হিন্দুত্ববাদী আক্রোশে ভর্তি হলেও যে কিছু করতে অক্ষম – এমন ভাষায় লেখা! নিচে দেখেনঃ

    বাংলাদেশের অসহযোগী মনোভাব ও চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কথা বিবেচনা করে ভারতের উচিত বিমসটেক এর সদর দপ্তর ঢাকা থেকে স্থায়ীভাবে সরাতে। একটি চীন-পাকিস্তান-বাংলাদেশ অক্ষ অবশ্যই বিমসটেককে ধ্বংস করবে, যেমন পাকিস্তান-চীন অক্ষ দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক সহযোগিতা সমিতি (সার্ক) কে করেছিল।
    ভারতের ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতি মনে হচ্ছে সবচেয়ে তাৎক্ষণিক এবং দূরবর্তী প্রতিবেশীরা চীনের দিকে ঝুঁকে পড়েছে, যা ক্ষমতার আঞ্চলিক ভারসাম্যকে প্রভাবিত করছে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান, হিন্দুদের বিরুদ্ধে একটি আন্দোলন এবং এখন ইউনূসের এই বিবৃতি সব সরকারের কাছে বিস্ময় হিসাবে এসেছে, একটি গোয়েন্দা ব্যর্থতার প্রস্তাব, অন্তত বলার জন্য। একটি কোর্স সংশোধন সময়মত হবে। একটি শক্তিশালী সামরিক, বিমানবাহিনী, নৌ ও অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে, ভারতকে পূর্ব ও পশ্চিমে প্রতিবেশীদের হিংস্রতার জবাব দিতে হবে, দ্রুত ও সিদ্ধান্তমূলকভাবে, এমনকি যদি এর মানে ১৯৭১-এর মতো একটি অপারেশন হয়। ‘

    বিশেষ করে শেষ কয়েকটা শব্দ দেখেন; যেমন ……“এমনকি যদি এর মানে ১৯৭১-এর মতো একটি অপারেশন হয়”।
    মানে হলো,
    ১। মোদির ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতি অকার্যকর হয়ে গেছে মোদির জন্যই। 
    ২। আমরা ইন্ডিয়ার পাপেট হাসিনাকে উতখাত করেছি সেটা নয়, বরং ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতি ফেল করেছে বলেই আমরা বাংলাদেশ ইন্ডিয়া ফেলে চীন অভিমুখি হয়ে গেছি।
    ৩। আমাদের হাসিনা উতখাত এটা চারির চোখে নাকি একটা – “হিন্দুদের বিরুদ্ধে একটি আন্দোলন” । মনে হচ্ছে চারি লোকটা মাতাল হয়ে গেছে!
    ৪। হাসিনার উতখাত হয়ে যাওয়া আর সেটা মোদির অজিত দোভালের র-এর জানতেই না পারা এটাই চারির চোখে একটি গোয়েন্দা ব্যর্থতা আর এই অভিযোগ তুলের আরএসএস-বিজেপি দ্বন্দ্ব ও যুদ্ধ চরমে উঠেছে।
    ৫। এখন মোদি বা ইন্ডিয়া সরকারকে তাই বাংলাদেশের উপর আক্রমণ চালাতে হবে “১৯৭১-এর মতো একটি অপারেশন” যেন আমাদেরকে একটা উপযুক্ত জবাব দেয়া হয়……

    আরএসএস মানে রাষ্ট্রীয় সমাজসেবক সংঘ; মানে মোদি যেই রাজনৈতিক দলের প্রধানমন্ত্রী সেই বিজেপি দলের উপরের মুরুব্বি সংগঠন হল এই আরএসএস! যার সভাপতি বা (হিন্দিতে)  সর-সঞ্চালক হলেন মোহন ভগত!  কিন্তু এমন বাপ-সন্তান সম্পর্ক সত্বেও আরএসএস-বিজেপি এর দ্বন্দ্ব এখন চরমে শুধু নয় এটা এখন প্রকাশ্যেই। পাঠকের নিশ্চয় মনে আছে পাঁচদিন আগে আরএসএস-বিজেপি এর দ্বন্দ্ব মারাত্মকভাবে প্রকাশিত হয়ে পড়েছিল যখন জানা গেল যে মোদি ৭৫ বছর বয়স পুর্ণ হয়ে যাবার কারণে (মোদির নিজেরই প্রচলন করা নিয়মে) এবার তা মোদির উপরে আরোপিত হচ্ছে আর তিনি সেটা কবুল করতে আরএসএস এর হেডকোয়ার্টার সফরে গিয়ে তিনিই পদত্যাগ ও অবসরে যাচ্ছেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছেন। এই খবর সারা ইন্ডিয়াতে  ছড়িয়ে পড়াতে তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে।
    আর এর পিছনের কথাগুলো,  সংক্ষেপে বললে গত ২০২৪ এপ্রিল-মে এর কেন্দ্রের নির্বাচন আয়োজনকালে আরএসএস-বিজেপি এর দ্বন্দ্ব প্রথম ব্যাপকভাবে গুমড়ে উঠেছিল। কারণ, সবার খেয়াল ও নজরে ছিল যে সেবারের (২০২৪) নির্বাচন শেষে বছর গড়াতেই মোদিকে অবসরে যেতে হবে তাই উত্তরসুরি কে হবেন – সেটাই দুপক্ষের মাথাতেই প্রধান ইস্যুতে ঘুরপাক খাচ্ছিল। এক্ষেত্রে মোদির পছন্দ হল অমিত শাহ (বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক ঠান্ডামাথার খুনী), আর এর বিপরীতে আরএসএসের পছন্দের প্রার্থী হল বর্তমান উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ যোগী (সংক্ষেপে যোগী যিনি চরম মুসলমানবিদ্বেষী ও মুসলমান নিপীড়ক)। ইন্ডিয়ার কেন্দ্রিয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫৪৩ আসনের মধ্যে একা উত্তরপ্রদেশেই ৮০টা আসন; ফলে উত্তরপ্রদেশ খুবই গুরুত্বপুর্ণ। অথচ আগের নির্বাচনের হিসাবে ৭০ এরও বেশি আসন দখলে থাকা বিজেপির ২০২৪ নির্বাচনে সেটা নেমে এসেছিল ৩৩ আসনে। যার পিছনের মূল কারণ উত্তরসুরি কে? অমিত শাহ না যোগী? – এই প্রশ্নে আরএসএস-বিজেপি এর দ্বন্দ্ব চরমে উঠেছিল। এতে এক পর্যায়ে প্রতিটা নির্বাচনে কার অবদান বেশী – আরএসএস না বিজেপির – তা এমন তর্কে গিয়ে ঠেকেছিল আর সেখান থেকেই আরএসএস এর কোন ধরনের সমর্থন ও প্রভাব ছাড়াই সেবার (২০২৪) এর লোকসভা নির্বাচন বিজেপি একাই লড়ে দেখিয়ে দিবে তারা (মানে আরএসএস ছাড়াই বিজেপি) একাই যথেষ্ট – এই কথাটাই ফাইনাল অবস্থান হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। আর পরের (২০২৪) নির্বাচনে আরএসএস একেবারেই নিজেদের প্রত্যাহার করে রেখেছিল, কোথাও অংশ নেয় নাই। [আর এরই বাংলাদেশে প্রতিক্রিয়া ছিল গোবিন্দ প্রামাণিক (যিনি আরএসএসের লোক) আর বিপরীতে রানা দাসগুপ্ত (যিনি মোদি / বিজেপির লোক) এদুজনের আলাদা আলাদা বক্তব্য। গোবিন্দের দাবি ৫ আগষ্টে হাসিনার পলায়নের পরে বাংলাদেশে কোন হিন্দু নির্যাতন ঘটেই নাই; যতটুকু যা হয়েছে তা এরা হাসিনার সঙ্গী প্রকল্পের অর্থ চোর সেও আওয়ামি পরিচয়ের কারণে। আর রানা দাসগুপ্ত মোদির সাথে সুর মিলিয়ে বক্তব্য দেওয়ার পর সেই থেকে দেশ ছাড়া আর নয়তো গভীর আত্মগোপনে।]  আর ওদিকে ইন্ডিয়াতে ঐ আরএসএস-বিজেপি দ্বন্দ্ব থেকেই  ২০২৪ নির্বাচনে বিজেপি জোট হারতে হারতে বেঁচে গিয়েছিল। বিজেপি দল একা সরকার গঠনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা তো পায়ই নাই এমনকি বিজেপি জোট হিসাবে পায় নাই, প্রায় ৩০ আসনের ঘাটতি ছিল। যেটা আরো দুই নগদ পার্টনার দল যোগাড় / কেনাবেচা করে বিজেপি সেই ঐ ঘাটতি পুরণের পরে  মোদি আবার তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হয়ে এখনও সরকার গড়ে আছেন।

    কিন্তু সেই থেকে আরএসএস-বিজেপি দ্বন্দ্ব বাড়ছে তো বাড়ছেই।

    এখান থেকে আমার বলার মূলকথাগুলো কীঃ
    ১। শেষাদ্রি চারি এর এই লেখা হল প্রমাণ যে আরএসএস-বিজেপি দ্বন্দ্ব এমন মারাত্মক জায়গায় চলে গেছে যে এটাই শেষে সম্ভবত ইন্ডিয়াকে ছিন্নভিন্ন করে না ফেলে থামবে না।
    যার সোজা মানে হল, খুব সম্ভবত না বিজেপি না আরএসএস আগামি ইন্ডিয়ান সরকার গড়ার ক্ষেত্রে কোন রাজনৈতিক শক্তি হয়ে থাকতে ব্যার্থ হচ্ছে। এরই সোজা মানে কোন কোয়ালিশন সরকার হয়েও একটা ঠালমাটাল সরকার গড়াই দিন ইন্ডিয়ায় শেষ হয়ে যাবে। যেটা সেই ১৯৯৯ সালের বিজেপির বাজপেয়ির সরকার থেকে কোয়ালিশন সরকারের কালচার গড়ে এতদিন সরকার চলেছে – সেই যুগের সম্ভবত অবসান ঘটতে যাচ্ছে। এটাকে অন্য ভাষায় বলছি ডিস-ইন্টিগ্রেশন বা ভেঙ্গেচুড়ে ফেলা যা নুন্যতম রাজনৈতিক ঐক্য অসম্ভব এমন এই ইন্ডিয়া হয়ে হাজির হওয়া এটা আসন্ন হয়ে উঠার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
    ২। আরএসএস-বিজেপি দ্বন্দ্ব আজ এমন জায়গায় যে গত দশ-বারো বছর কে কী অপরাধ করেছিল আর একে অপরের সেসব অপরাধ লুকায়ে রেখে দিয়েছিল সেগুলো এখন প্রকাশ করে দিবার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ২০১৫ সালে ঢাকার ইন্ডিয়ান এমবেসিতে এক নারী রেপড ও খুন হয়েছিল এর ইতিহাস বলার এই ভিডিও এখন এভেলএবল হয়েছে।
    ৩। মোদির ইন্ডিয়ার সবচেয়ে বড় কুখ্যাতি হল ইসরায়েল রাষ্ট্রের সাথে তার খাতিরদারি – দুই খুনী দানব পরস্পরের খোলাখুলি সঙ্গী। এনিয়ে আলজাজিরাতে প্রকাশিত রিপোর্ট দেখেন যেখানে প্রকাশিত কোন কোন ইন্ডিয়ান অস্ত্র গাজায় নেতানেহায়ু ব্যবহার করেছেন – শিরোনাম দেখেন বুঝবেন –  “India exports rockets, explosives to Israel amid Gaza war, documents reveal“.  আমার অনুমান আরএসএস-বিজেপি দ্বন্দ্ব এর সুযোগে এসব এখন বাইরে সহজেই ন্যাঙ্গটা হয়ে যাচ্ছে। যেগুলো আরো বেশি করে আমাদের প্রচারে নেয়া উচিত।
    ৪। আরএসএস নেতা শেষাদ্রি ইন্ডিয়ান সরকার যেন বাংলাদেশের উপর ১৯৭১ সালের মত আক্রমণ চালায় – এটা দাবি করেছেন। এনিয়ে আমার ছোট কথা হল আমরাও প্রস্তুত। সময়ে ছোট দেশও ইন্ডিয়ার কী ক্ষতি করে ফেলতে পারে দুনিয়া সেই উদাহরণ তাহলে এবার দেখবে!  এটা ঘটলে তা আমাদের জন্য অনেক সুবিধাই নিয়ে আসবে। তাই আমরা এটা দেখতে চাই!!! নুন্যতম কোন ভারতীয় জেনারেলের সাথে আলাপের পরে যেন আরএসএস নেতারা এমন বকোওয়াজ করে; শেষে এই পরামর্শ রাখব।

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com


    আপডেটঃ  দুপুর  ০২ঃ ৫৯,   ০৯ এপ্রিল ২০২৫
    সবশেষ আপডেটঃ  বিকাল ০৫ঃ ১৪,   ০৯ এপ্রিল ২০২৫

     

  • মোদির র, তারেক ও সাথে আরেক ভাড়াটে মিডিয়া রয়টার্স

    মোদির র, তারেক ও সাথে আরেক ভাড়াটে মিডিয়া রয়টার্স
    গৌতম দাস
    ০১ এপ্রিল ২০২৫ দুপুর ০১ঃ ১৪
    https://wp.me/p1sCvy-6np

     

     

    ডঃ মঈন খান

     

    গতকাল ছিল ঈদের দিন! কিন্তু ষড়যন্ত্রকারী তবে বেকুবেরা বসে ছিল না। মোদির ‘র’ আর তার ফাঁদে আরো বেশি করে আটকে যাওয়া তারেক ও তাঁর বিএনপি এই ততপরতায় সক্রিয়। গতকাল ‘র’ এর দালাল প্রথম আলো একটা খবর ছেপেছে যার শিরোনাম, “নির্বাচন ডিসেম্বরের পরে গেলে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, সতর্ক করল বিএনপি”।
    প্রথম আলো এরকম দালালির আয় দিয়েও পত্রিকাটা চালায় রাখছে জানি আমরা বলে এটা তেমনই একটা কিছু বলে প্রথম চোটে তাই মনে হয়েছিল। কিন্তু এরপর চোখ আটকে যায় সাথের দুটা শব্দে “রয়টার্স নয়াদিল্লি”। শুধু রয়টার্স লিখলেই তো হত সাথে নয়াদিল্লি লিখল কেন? সন্দেহ এখান থেকে ঘনিভুত, আর তা থেকে ভিতরে পড়তে শুরু করি!  এটা বুঝতে যে রয়টার্স তাহলে এবার এক ভাড়াটে রিপোর্ট ছেপেছে! রয়টার্স মূল ইংরাজি নিউজ এর লিঙ্ক এখানে দিয়ে দিলাম। 

    এই গল্পের  সারকথাটা শিরোনাম আকারে আগে বলে নেই।  মোদির ‘র’ আর তার ফাঁদে আটকে যাওয়া তারেকের বিএনপি এক নয়া যৌথ কর্মসুচী নিয়ে মাঠে নেমে গেছে। সেটা হল, বিএনপি সব বড় নেতাগুলাই বেচারা তবু এদের মধ্যে পাতে দেয়া যায় এমন একজন হলেন ডঃ মঈন খান। সেই মঈন খান এখন এই ষড়যন্ত্র কর্মসুচী নিয়ে নিজ দেশ-পরিবার ঈদ ফেলে আমেরিকায় গেছেন। রয়টার্সের এই ভাড়াটে রিপোর্টটা সেই ষড়যন্ত্র পরিকল্পনার কথা আমাদের খোলাখুলি জানিয়েছে। লিখেছে, “বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থানরত মঈন খান বলেন………”। [“……said Khan, speaking from Washington D.C. where he is seeking meetings with U.S. officials to discuss Bangladesh.”]

    “বাংলাদেশের পরিস্থিতি” মানে?
    আসলে মঈনের এই আমেরিকা লবিইং কর্মসুচী থেকে দেখা যাচ্ছে মোদির ‘র’ আর তারেকের বিএনপি – একেবারেই খোলাখুলি এক “যৌথ উদ্যোগে” নেমে পড়েছেন। ব্যাপারটা অনেকটা এই দুপক্ষের যার যা আছে তাই নিয়ে খোলাখুলি নেমে পড়া – হয়ে গেছে। তাতে তারেক বা বিএনপির গায়ে ‘র’-এর স্পষ্ট দাগ লেগে যাবে কিনা এনিয়ে  তারেক বেপরোয়া হতে দেখা যাচ্ছে! যেখানে যার যা হাতিয়ার আছে মানে মোদির ‘র’ এর হাতে আছে “রয়টার্স নয়াদিল্লি” – এটা সাথে নিয়েই মোদির ‘র’ মাঠে নেমে গেছে। এতে ঢাকার প্রথম আলো / স্টার এদের রেট বা ইন্ডিয়ার যেকোন মিডিয়া ভাড়া নেওয়ার রেট এর তুলনায় “রয়টার্স নয়াদিল্লি” এর রেট অনেক মহেঙ্গা – ত্রিশ-চল্লিশ গুণ খরচা বেশি! তবু নিজের ক্ষমতা দেখাতে মোদির ‘র’ এটাই তারেকের জন্য ভাড়া করে দিয়েছেন!

    তো এখন এখানে “বাংলাদেশের পরিস্থিতি” বলতে আমাদেরকে সুনির্দিষ্ট কী বুঝতে হবে?
    এতদিন ‘র’ আর তারেকের যৌথ বয়ান ছিল একঃ
    যে এখনই নির্বাচন” বা তারেকের ভাষায় তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন” দিতে হবে। এই “তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন” এই বুলি টা তারেকের সেই ২০২১ সাল থেকেই যখন বাইডেনের প্রশ্রয়ে মানে, বাইডেন স্যাংশন বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভয় দেখাবেন ফলে আমাদের পক্ষে হাসিনার বিরুদ্ধে রাস্তায় মিছিল ও ব্যাপক জমায়েতের সুযোগ পেয়েছিলাম আমরা। (যদিও ২০২১, ২০২২, ২০২৩ এর মাঝামাঝি এসে বাইডেন পল্টি মেরেছিলেন হাসিনার সাথে একসাথে কাজ করবেন বলে, তবুও সেদিকে এখানে আর যাচ্ছি না)।  তবে সেকালের শুরু থেকেই তারেকের সার বক্তব্য ছিল একটাই ১। হাসিনাকে কে ফেলাবে? কী করে ফেলাবে ক্ষমতাচ্যুত করবে তা আমি জানি না। ২. তবে হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে গেলে (মানে কেউ করে ফেললে) তিনমাসের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে। ৩. আর এই পরিবর্তনের এর মাঝে কোন “সেনাবাহিনী” সংশ্লিষ্ঠতা চলবে না।  এই অবস্থানের সবচেয়ে বড় প্রমাণ হল, ৫ আগষ্ট হাসিনা দেশ ছেড়ে পলায়নের কয়েক ঘন্টা পরের সন্ধ্যায়। তারেকের জাতীয় সরকার গড়তে রাজি না হওয়া আর, তিনমাসের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে দাবি – এর সবচেয়ে ভাল প্রমাণ। এছাড়া সত্যি সত্যি হাসিনা কী করে ক্ষমতাচ্যুত হবে তা তিনি তারেকে একেবারেই সংশ্লষ্ট হতে চান না, এটা মাথাব্যাথা তিনি নিবেন না। সেসব দূরে থাক এমনকি সেনাবাহিনীর কোনই সংশ্লিষ্টতা থাকুক তিনি চান নাই। বারবার নাকচ করেছেন! আজিব ব্যাপারটা হল, যেন সেনাবাহিনীর ভিতরেও একটা আভ্যন্তরীণ পরিবর্তন দরকার নাই বা তাঁর কাম্য নয়; মানে, সেখানে তারেক সিদ্দিকীর পরিচালিত  র-প্রভাবিত অফিসার বনাম এদেরকে পরাজিত করতে চাওয়া বাকি সকল সেনা-অফিসারের লড়াই এবং ফয়সালা ছাড়াই যেনবা হাসিনা ক্ষমতাচ্যুতি সম্ভব ছিল!!!! আর এপ্রসঙ্গে তারেক নিয়মিত বলে চলেছিলেন – হাসিনা ক্ষমতাচ্যুতি (যার সোজা মানে হল, সেনাবাহিনীর ভিতরে ক্ষমতার পালাবদল বা হাসিনা-সিদ্দিকী এন্ড গং বা র-এর দালালদের উচ্ছেদ)  কীভাবে হবে কে করবে এসব তাঁর চিন্তা-বিবেচনার বিষয় না। কিন্তু তিনি কেবল হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি ও তিনমাসের মধ্যে নির্বাচন চান; এই মুখ্য ও নির্ধারক ভাগটা তারেককেই দিতে হবে! এককথায় বললে, তিনি আসলে  হাসিনার জায়গায় নিজেকে প্রতিস্থাপন দেখতে চান!!! কিন্তু কীভাবে তা ঘটবে এর দায় নিবেন না! হেব্বি মজা!!
    আর তাঁর এই অবস্থানটাই মোদির র-এর জন্য খুবই সুইটেবল, ভাল মিলেছে! একারণেই শুধু তোতাপাখির মত ‘দ্রুত নির্বাচন’, ‘এখনই নির্বাচন’ এসবই নয়। সাথে ইন্ডিয়ান কু-ভাষ্যও আছে। যেমন, ইউনুস সরকার হল একটা তত্ববধায়ক সরকার  (মানে ইন্টেরিম বা বাংলায় অন্তর্বর্তিকালীন সরকার নয়)। কেন ইন্ডিয়ার এই ভাষ্য বদল বা শব্দ বদল?
    কারণ, তত্ববধায়ক সরকার মানে তো তিনমাসের সরকার যার কাজ হল একটা নির্বাচন ঘটিয়ে দিয়ে বিদায় নেয়া! কাজেই তিনমাস এর পরেও ইউনুস সরকার বিদায়ে যাচ্ছেন না কেন? এই হল শয়তানি বয়ানটা!

    আসলে র-এর কাজ হল সময়ে বোকা সেজে বসে থাকা! যেমন র-এর দালাল ও চাকর হাসিনা যে  কনষ্টিটিউশন সংশোধন করে বহু আগেই “তত্ববধায়ক সরকার” ধারণাটাই গায়েব করে দিয়েছেন সেটা এখন মোদির ‘র’ সেটা এখন যেন জানেই না – এমন ভাব ধরে বসে গেছে। আর র-এর ভাড়াটে কিছু ব্যক্তিত্ব ও অবসরের পরে ‘র’-এর খেদমত করে দুপয়সা কামানি বিনা সিক্রি এই বয়ান জারি রেখেছে সেদিন থেকে বিবিসি বাংলায় মোদি যেটাকে ভাড়া করে রেখেছে! আর সবচেয়ে বড় কথা, ইউনুস সাবের এই সরকার গঠনের সময় থেকেই নিজেকে  ইন্টেরিম বা বাংলায় অন্তর্বর্তিকালীন সরকার  বলেই চিনিয়েছে ( নিজেদেরকে কখনও কোন তত্ববধায়ক সরকার বলেন নাই)। অন্য কোন কিছু অন্য কোন শব্দ নয়।  আর সবচেয়ে বড় কথা এসব ষড়যন্ত্রকারীরা এসব ঝামেলা পাকাতে চাইবে আমরা জানতাম বলেই (আমি যতটুকু জানি ২০২২ সাল থেকে এটা যে ইন্টেরিম [interim] সরকার বলে গড়তে হবে সে ধারণা পরিস্কার রাখা ছিল। অর্থাৎ কেবল ৫ আগষ্ট ২০২৪ বিকেলে হঠাত করে আমরা ইন্টেরিম [interim] সরকার গড়ি নাই। ) উপরে বলেছি তারেক বা তাঁর বিএনপি তাদের এসব  তো তাদের কনসার্ণ-বিবেচনা ছিল না। সবসময় তারেকের বুঝ ছিল একটাই – তিনমাসের মধ্যে নির্বাচন – দিতে হবে!

    অতি বুদ্ধিমানের গলায় দড়িঃ
    আপনি যখন বলবেন, হাসিনা ক্ষমতাচ্যুতির পরে তিনমাসের মধ্যে নির্বাচন চাই; কিন্তু, হাসিনা কী করে ক্ষমতাচ্যুত হবে সে দায় আপনার নয়, আপনি জানেন না। শুধু তাই নয় হাসিনার পতনে বা অন্তর্বর্তি সময়ে সেনা সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারবে না – তখন আসলে আপনি কী চাচ্ছেন? আসলে কী বললেন? এটা তারেক জিয়া বুঝেন নাই, বুঝতে চান নাই। বুঝার যোগ্যতা নিয়েও আমি সন্দিহান!  এভাবে তারেক আসলে কল্পনা করেছেন যে  যে শক্তি (এক বা একাধিক শক্তির সম্মিলন) হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করবে সেটা তিনি নন শুধু তাই নয় – হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুতকারীরা আবার হবেন ভীষণ বোকা! তাদেরকে বোকা হতেই হবে। না হলে তারা এরপর সেই বিজয়ী ক্ষমতাটা এবার তারেক ও বিএনপির হাতে কেন সঁপে দিবেন???? কেন তারেকের পায়ে সঁপে দিবেন???? কেন? এটাই বোকার, গোয়ারের বুঝ! আমার অভিজ্ঞতা খারাপ! আপনার “পারসোনাল অভিজ্ঞতা” বাসায় রেখে আসেন।  দেশের স্বার্থ, গন ক্ষমতার স্বার্থের কথা বলেন!

    এর সম্ভবত একটা জবাব হতে পারে যে তারেক জিয়াউর রহমানের ছেলে, তারেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে!!! সেজন্য কী? অথবা ধরেন তারেক বড় গুন্ডা অথবা তারেক ঢাকায় কয়েক লাখ লোক জড়ো (যদি এলাও করেন তা করতে) করতে পারেন সেজন্য? কিন্তু সরি! এগুলোই একেবারে অরাজনৈতিক ও বোকা-স্টুপিড চিন্তা!

    আমি বহুবার বলেছি গুন্ডামি আর ক্ষমতা (মানে রাজনৈতিক ক্ষমতা) এক জিনিষ নয়। যে সমন্বিত শক্তি (একাধিক শক্তিগুলা যেমন একটা,  যারা সেনাবাহিনীকে র-মুক্ত করেছে এবং এমন এদেরকে সমস্ত কী-পজিশন থেকে সরিয়ে দিতে পেরেছে, বিচার বা ফোর্স রিটায়ার্ড করিয়ে দিয়েছে যারা আর সাথে আরেক শক্তি বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতার রাস্তাঘাট দখল – জনগণ রাস্তায় নামিয়েছে গণক্ষমতার প্রদর্শন ঘটিয়েছে যারা এই শক্তি আর এরসাথে যারা বুদ্ধি-বিবেচনা খাটিয়ে সময়মত জাতিসংঘকে মানবাধিকার ইস্যুকে নিজের লড়াইয়ের পক্ষে হাজির করতে পেরেছে যারা এরাও আরেক শক্তি) – এই সমন্বিত শক্তি কেন বিজয়ী হবার পরেও তারেক কে নেতা মানবে???? কেন? যে তারেক মনে করে হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি কিভাবে হবে কে করবে তিনি জানেন না! এটা তাঁর দায় না। এতে তারেক মনে করতেই পারেন তার এই অবস্থান খুবই বুদ্ধিমান অবস্থান! কারণ, তিনি গুন্ডামি আর ক্ষমতার ফারাক বুঝেন না। তাই গুন্ডামিকেই ক্ষমতা মনে করেন। আর সাথে তিনি কয়েক লাখ কর্মীর সমাবেশ ঘটাতে পারেন – সেজন্য????
    এর চেয়ে স্টুপিড ভাবনা দুনিয়াতে আর কিছুই হতে পারে না।
    এককথায় যে বা যারা হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারে তারাই এককভাবে ক্ষমতায় আসবেই! এর পাল্টা আমি বড় গুন্ডা (রাজনৈতিক ক্ষমতা কী তা না বুঝা গুন্ডা) অথবা আমার লোক জমায়েতের সামর্থ আছে সক্ষমতা আছে তাই আমি তারেকই ক্ষমতা???? এটা এক স্টুপিড চিন্তা! ক্ষমতা কী এনিয়ে রাজনৈতিক নুন্যতম জ্ঞানশুন্য এক চিন্তা! তারেক কী জানেন যাদের তিনি নিজের কর্মি মনে হয়, ইদানিং তিনি যাদেরকে বেধরক চাদাবাজি করতে উতসাহ দেন অথবা বড় নেতাদেরকে বিভিন্ন হাসিনা-চোরদের সম্পত্তির শেয়ার মালিক বা পুরাই মালিক বানায় দিচ্ছেন তা সত্বেও তারেকের এই নিজস্ব নেতাকর্মিরা তারেককে ছেড়ে চলে যাবে। মুহুর্তের মধ্যেই! কখন???
    যখন বাজারে এই আওয়াজ স্পষ্ট হয়ে যাবে যারা হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারে তারাই ক্ষমতায় আসবেই! তারাই ক্ষমতায় এবং তারাই আগামিতে নির্বাচিত ক্ষমতা হয়েই আসবে, বসবে! সেদিন তারেক হঠাত আবিস্কার করবেন যে তিনি একা!!!!

    তাহলে এখন “বাংলাদেশের পরিস্থিতি” বলতে কী বুঝায়ঃ
    এখন “বাংলাদেশের পরিস্থিতি” বলতে আমেরিকায় বসে মঈন খান  বা তারেক যেটা বুঝাতে চাইছেন তাহল, ইউনুস সাহেব আগামি ডিসেম্বর ২০২৫ নয়ত পরের জুন ২০২৬ সময়কালে যেটা নির্বাচন অনুষ্ঠানের সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ না হলেও যে ধারণা দিয়েছেন সে ধারণাতে ইউনুস সাব যেন ডিসেম্বর ২০২৫ এর মধ্যেই আটকে থাকেন; আরও না সরে যান বা অনির্দিষ্ট না হয়ে যায় – এটা নিয়েই মূলত মঈন খান  বা তারেক এর বড় উদ্বিগ্নতা! বলা যায় এটাই মঈন খান  বা তারেক জিয়ার উদ্বিগ্ন এক “বাংলাদেশের পরিস্থিতি”।

    এথেকে বুঝা যায় তাদের প্রথম অনুসিদ্ধান্ত হল যে,
    মোদির ‘র’ আর তারেকের বিএনপি এরা দুপক্ষই এখন স্বীকার করে নিচ্ছেন যে (তারেকের) তিনমাসের মধ্যে নির্বাচন, বা এখনই নির্বাচন, দ্রুত নির্বাচন ইত্যাদি আর ওদিকে মোদির ‘র’ এর বাংলাদেশের ইন্টেরিম সরকারকে তত্বাবধায়ক সরকার বলে চালিয়ে দেয়া আর তাই তিনমাসের মধ্যেই নির্বাচন (মানে তারেককে ক্ষমতায় বসায় দেয়ার) দাবি আর সেই সাথে ইউনুস সরকারের সাথে মোদির ইন্ডিয়ার কোন সম্পর্ক নয়, পরের নির্বাচিত  (তারেকের) সরকারের সাথেই কেবল তারা সম্পর্ক করবেন যে গোঁ ধরেছিলে এসব সবকিছুই এখন পরাজিত বক্তব্য-বয়ান হয়ে গেছে।
    তাদের দ্বিতীয় অনুসিদ্ধান্ত হল যে,
    তারা দুপক্ষই (মোদির ‘র’ আর তারেকের বিএনপি) শুধু হেরে গেছেন তাই নয় সামনে তাদের আরও বড় পরাজয় অপেক্ষা করছে। আর সেকারণে তারা এখন আরো বেশি করে ঘনিষ্ট হয়েছেন। শুধু তাই না, আরো ঘনিষ্ট হয়ে এবার মোদির র এবার রাজনৈতিক বুদ্ধিশুন্য তারেককে আরেকটা টোপ দিয়েছে। সেটা হল, এবার তারা একসাথে আমেরিকায় গিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনে লবি করবেন যেন ইউনুস সাব আগামি ডিসেম্বরই নির্বাচন দিতে বাধ্য হন (মানে মোদির ‘র’ আর তারেকের বিএনপি এরা দুপক্ষের কপাল খুলে)।
    এখন তাহলে এতে কী দাড়ালো?
    মানে আমরা এবার দেখতে পাচ্ছি ঠিক যেমন হাসিনা কে নানা সময় আমেরিকার কাছে লবি করে দিব বলে মুলা ঝুলিয়ে মোদি-জয়শঙ্কর হাসিনার ফ্যাসিজম দীর্ঘায়িত করে নিজেরা বাংলাদেশকে লুটেছিল ঠিক সেই একই পথে (কেবল হাসিনার জায়গায় তারেককে বসিয়ে) ‘র’-এর সাথে নিজের ভাগ্য বেধে তারেকও এখন হাটছে অজানা উদ্দেশ্যে ও পথে!!! কথা হল, মোদি হাসিনাকে বাচাতে পারে নাই। তারেক কে পারারও কোনই কারণ নাই!

    আমি বারবার বলেছি, এখন আমেরিকায় কে প্রধানমন্ত্রী বা কে রাষ্ট্রপতি কিছু এসে যায় না;  – সারকথাটা হল আমেরিকা-ইন্ডিয়া যে এলায়েন্স গড়ে উঠেছিল ২০০৭ সালে – বাংলাদেশকে ইন্ডিয়ার হাতে তুলে দেওয়ার মাধ্যমে তাহলেও  সেই আমেরিকা-ইন্ডিয়া বুঝাবুঝি বহু আগেই (২০১৬ সালের মধ্যে) নাই হয়ে গেছে। তা সত্বেও ২০১৭ থেকে পরবর্তি আমেরিকান প্রেসিডেন্টেরা ট্রাম্প১ -বাইডেন এই সময়কালে আগের তুলনায় দুর্বল হলেও আমেরিকা-ইন্ডিয়া একটা স্ট্রাটেজিক সম্পর্ক ছিল। যেটা ২০২৪ সালে বাইডেনের হাসিনার সাথে কাজ করার প্রকাশ্য ঘোষিত পলিসি নেয়ার পরের বাইডেন মানেই তিনি তখন থেকেই হাসিনার মতই পরাজিত বাইডেন। এই পরাজিত বাইডেনের দায় আমেরিকান কোন সরকার, পলিসিদাতা, থিঙ্কট্যাঙ্ক ইত্যাদি কেউ আর নিতে চাচ্ছেন না। নেওয়ার কোন কারণ নাই। বরং ইউনুসের মাধ্যমে আমরা তাদেরকে পালানো  আর মুখের কালিমা লুকানোর যে সুযোগ দিয়েছে এবং আমাদের ইউনুস সরকারকে সমর্থনের যে সুযোগ দিয়েছি এতেই তারা কৃতার্থ!
    ওদিকে মোদি ট্রাম্পের সাথে দেখা সাক্ষাত, অস্ত্র কেনার লোভ কিছু দিয়েও বিনিময়ে কোন সম্পর্ক, ট্রাম্পের সাথে নুন্যতম ঘনিষ্ঠতা – কিছুই অর্জন করতে পারেন নাই। এতে সব অর্থ পানিতে গেছে। হাত-পা বেধে ইন্ডিয়ানদের সামরিক প্লেনে তুলে দেয়া, বারবার ইন্ডিয়ান এক্সপোর্টের সবকিছুতে ট্রাক্স আরোপ ইত্যাদি সব কিছুতেই মোদি-জয়শঙ্কর এখন পরাজিত শক্তি। ২০০৭ সাল থেকে আমেরিকান ছাতার নিচে থেকে ইন্ডিয়া বাংলাদেশের উপর রুস্তমির যে সুযোগ এমন সব কিছুই এখন শেষ, আর কোনদিনই যা ফিরে আসবে না। এসব দিনের আলোর মতই পরিস্কার।
    সর্বশেষ তুলসী গাবার্ড কে সাজিয়ে এনে মোদি যা ভাব তৈরি করতে চেয়েছিল সেটাও একেবারে মুখোমুখিতে ট্রাম্পের স্টেট ডিপার্টমেন্টের বিবৃতিতে সব মুছে গেছে; আমরা সবাই দেখেছি। ভাড়াখাটা তুলসী এখন বেকার। মোদির সব অর্থ এরা খেয়ে নিয়েছে, মোদিও বেকার!!

    ঠিক এই অবস্থায় তারেক কেন মোদির র-এর সাথে কোন বুদ্ধিতে নয়া ষড়যন্ত্রে মাততে চাইছে?? যেটা দিবালোকের মত পরিস্কার ট্রাম্পের প্রশাসনকে মোদির প্রভাবিত করার নুন্যতম কোন যোগ্যতা মোদি-জয়শঙ্করের নাই, এটাই তলানিও না এটা শেষ! একমাত্র রাজনৈতিক জ্ঞানশুন্য এক তারেকই এই ছাইয়ের মধ্যেই তবু নিজের ও বিএনপির ভাগ্য খুঁজে ফিরতে পারে। মোদি-জয়শঙ্করেরা তো নিজেরা লবি করতে আমেরিকায় যায় নাই বা নিজেদের কাউকে পাঠায় নাই – তারেকের মঈন খান কে পাঠিয়েছে!!! যাতে এটাও তো ব্যর্থ হবেই। আর ব্যর্থ হলে যাতে তারেক ও তার নিজ কপালকেই দোষারোপ করে চুপচাপ নিজ ব্যর্থতাকে আপন কর্ম বলে মেনে নেয়!
    দুনিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আমার এত পরিস্কার করে বারবার বলার পরেও রাজনীতিক জ্ঞানশুন্যরাই কেবল তবু ঐ মোদি-র-এর গার্বেজের মধ্যেই নিজ ভাগ্য খুঁজে ফিরতে পারে। তারেক নিজ রাজনৈতিক-নেতা জীবনের শেষ স্তর পার করছেন! তিনি এখন কেবল রাজনীতি থেকে একেবারেই উতখাত ফলে প্রভাবশুন্য হবার জন্যই অপেক্ষা করতে পারেন!!

    মোদি যা পারেন তা হল মিথ্যা প্রপাগান্ডাঃ
    তাই তিনি এবার কমপক্ষে দশগুণ বেশি অর্থ দিয়ে রয়টার্স কে ভাড়া করেছেন। এটা দিয়ে তিনি তারেকের মন জয় করতে গেছেন। কিন্তু এতে তারেকের সাথে মোদি ও র-এর ঘনিষ্ঠতার লেভেল কত গভীর তা প্রকাশ হয়ে পড়েছে। আর দ্বিতীয়ত, বিএনপির নেতা-কর্মিরা এখন নিজেই পরিস্কার দেখতে পাবে যে তাদের দলের ভাগ্য এখন কোন গভীর সংকটে। পালানোর কোন পথও নাই!!!

     

    রয়টার্সকে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করতে হবেঃ
    আমি এর আগে সরাসরি ইউনুস সাবকে সতর্ক করে লিখেছিলাম কেন রয়টার্সের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। অথচ আমরা এনিয়ে ইউনুস সাবের কিছুই প্রতিক্রিয়া দেখি নাই। ইউনুস সাহেব কে বুঝতে হবে সব ব্যাপারে ঢিলেঢালা চলে না। গৃহস্থ দেখতেছে চোরে সিঁদ কেটে ঘরে ঢুকেছে। তবুওও তিনি ভাবছেন “দেখি না কী করে”। এরপর চোর বমাল নিয়ে বিদায় নিবার পরে আর কী করবেন???? কাজেই এসব বাদ দেন, একশন চাই! যে মিথ্যা বলে বা ছড়াই তাকে দমন করতেই হবে!

    রয়টার্স এই ভাড়াটে রিপোর্টটা লিখেছে এক বাঙালি হিন্দু কৃষ্ণ এন দাস [Krishna N. Das]; আরেক শয়তান ভাড়াটে রএর দালাল; রুমা পালের যুগ শেষে তাকে সরিয়ে আরেক শয়তান কৃষ্ণ দাস কে তার জায়গায় বসানো হয়েছে। এখন এই কৃষ্ণ তিনি বারবার প্রধান উপদেষ্টা ইউনুস সাবকে প্রধানমন্ত্রী বলে  (লিখেছেন  • Interim PM suggests ) লিখে গেছেন। কেন? নিচা দেখানোর জন্য?? অথচ বাংলাদেশে ইন্টেরিম পিএম বলে তো কেউ নাই!

    দুইঃ
    এরপর  এই কৃষ্ণ দাস নিজ ভাষ্যে এক ভয়ানক প্যারাগ্রাফ লিখেছেনঃ
    “…. An unelected interim government led by Nobel Peace Prize laureate Muhammad Yunus has been running the South Asian country of 173 million since August, after deadly student-led protests forced Prime Minister Sheikh Hasina, a long-time India ally, to flee to New Delhi. ”

    ইউনুস সাহেব নাকি আন-ইলেকটেড!!! দেখেন তিনি নাকি রয়টার্সের রিপোর্টার!!!! কৃষ্ণ দাস মোদির দালালি করছেন? কৃষ্ণ দাস – আপনি কী জানেন স্বাধীন ইন্ডিয়ায় প্রথম কবে কেন্দ্রীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান হয়েছিল? জেনে নিতে পারেন সেটা ছিল ১৯৫১ সাল (25 October 1951)। অথচ নেহেরু তো ক্ষমতায় সেই ১৫ আগষ্ট ১৯৪৭ দিন থেকেই! তাহলে??? তিনি কী তখন ১৯৪৭ সালে নির্বাচিত ছিলেন? তাহলে কী ছিলেন – ইলেকটেড নাকি An unelected?????
    এসব খোঁজ না নিয়ে  বাঁদরামো করতে আসা উচিত না। মোদির  বা ‘র’-এর থেকে অর্থ নিয়েছেন? এই বাদঁরামো করার জন্য?
    আর এই প্যারাগ্রাফ টা আপনি লিখেছেন নিজ ভাষ্যে কারও বরাতে নয়। রয়টার্স এর জার্নালিজমের নীতিতে আপনি কী এমন নিজ ভাষ্য বয়ান লিখতে পারেন???

    আর এখানে রয়টার্স কেও জানিয়ে রাখি, নিজের ফাঁসির দড়ি এভাবে আপনারা নিজের জন্যও তৈরি করলেন!!!

    রয়টার্স কে বলছিঃ কান খুলে শুনে রাখেন। এই যে সব রিপোর্টের শেষ লিখে রাখেনঃ

    Reporting by Krishna N. Das in New Delhi; Editing by Michael Perry
    Our Standards: The Thomson Reuters Trust Principles., opens new tab এভাবে, আপনাদের প্রত্যেকটা রিপোর্টের নিচে লেখা থাকে। এখন বলেন Krishna N. Das এর এই লেখাটা আপনাদের নিজের ঘোষিত স্টান্ডার্ড থমসন রয়টার্স ট্রাস্ট এর প্রিন্সিপাল মেনে কী করা হয়েছে???? নাকি এটাই রয়টার্সের নীতি? এটা জার্নালিজম ?????
    রুমা পালকে নিয়ে আপনাদের কাছে বহুবার লিখেছি। বারবার বলেছি ইন্ডিয়ার ভিতর বসে বাংলাদেশ কাভার করবেন না, এটা বন্ধ করেন! আপনারা কানে শুনেন নাই। এখন আপনাদেরকে বাংলাদেশ থেকেই একেবারে উতখাত করতে হবে। বাংলাদেশের কোন মিডিয়া যেন আপনার ব্যুরো নিউজ কিনতে সাবসক্রাইব না করতে পারে এর ব্যবস্থা করতে হবে আমাদেরকে!!!

    সব শেষে ডঃ মঈন খান সাহেবকে কিছু কথাঃ
    আমার যতটুকু ধারণা ছিল তিনি সম্ভবত সবচেয়ে বয়স্ক ও সিনিয়র নেতার একজন যার খোদ জিয়াউর রহমানের সময়ে জিয়ার সাথে বিএনপিতে কাজ করেছেন অভিজ্ঞতা আছে। কিন্তু তিনি কী বুঝে আমেরিকাতে যেতে রাজি হলেন! আমি বিস্মিত! তারেক সাব বলেছেন আর আপনি রওনা দিয়ে দিলেন? আপনি কী খেয়াল করছেন ইতোমধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আমেরিকার বাংলাদেশ নিয়ে অবস্থান! আপনি কী নজর করেন নাই তুলসী গাবার্ড এর ভরাডুবি! তিনি ইন্ডিয়ায় থাকা অবস্থায় আমেরিকান স্টেট ডিপার্টমেন্ট তার বিরুদ্ধে নিজেদের বাংলাদেশ নীতি প্রকাশ করেছে! এত কী আপনি বুঝেন নাই  আমেরিকায় মোদির দৌড়, প্রভাব ক্ষমতা ইত্যাদি একটা ভুয়া ধারণা! চাপাবাজি!  আর আপনি আর তারেক সেগুলো দেখা-জানা সত্বেও আবার সেই মোদির বগলে সুগন্ধ খুজতে গেছেন??? আমি শুনেছি আপনারই নাকি তারেককে কিছু বুঝিয়ে বলার ব্যক্তিত্ব আছে! তাহলে কোথায় সেগুলা???

    আচ্ছা, আপনি সুস্থ আছেন তো নিশ্চয়! আচ্ছা তাহলে, ইউনুসের সাহেবের বিরুদ্ধে আমেরিকায় লবি করতে যান কোন বুদ্ধিতে? তাও আবার মোদি-জয়শঙ্করের ভরসায়? যাদের নিজেদেরই ভরসা নাই; ট্রাম্পের কাছেই নিজেদের কোন বেইল নাই!!!
    তাহলে আপনি এই বেকুবি ষড়যন্ত্রে শামিল হন কেমনে? আবার দেখেন এটা এমন এক ষড়যন্ত্র যা বেকুবেরা করে। এটা অন্তত আপনাকে নিশ্চয় মানায় নাই! নাকি এটাও বুঝেন না!

    আগামি দিনে বিএনপির ভরাডুবি বা সম্ভবত প্রায়  বিলীন এক মুসলিম লীগ যেন এমন যদি হয় তবে তারেকের পাশে আপনার নামটাও লেখা হয়ে থাকল আজ থেকে!   কোন কিছুর খবর নাই! কীসের নেশায় আপনারা এখনও রাজনীতিক বলে দাবি করে আছেন আমি বুঝতে পারি না!! সরি!! আমি সম্ভবত আমার হতাশাই ব্যক্ত করতে পারি!!!
    আর শেষ কথাটা হল, এই যে আপনি ভুয়া এক হুমকি দিয়েছেন যেন আপনি (সাথে আপনারা) আমেরিকায় গিয়ে কোন এক মহাযজ্ঞ করে ফেলতেছেন বলে ভাব তৈরি করতেছেন বলছেন “নির্বাচন ডিসেম্বরের পরে গেলে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে,  এখন এই কথাগুলো বলে আপনাদের নাড়াচাড়াতেই না আপনাদের প্রিয় নির্বাচনটাই অনির্দিষ্ট হয়ে যায়। এতে হতে পারে এক গণভোটের দাবি সামনে চলে এসেছে। আর সেটাও তো নির্বাচনই! “নির্বাচিত প্রধান উপদেষ্টা” পেয়ে যেতে পারেন হয়ত! তখন কী করবেন? পাবলিক মাইন্ড বুঝতে মনোযোগ প্রচেষ্টা নিয়ে দেখতে পারেন, কান পাতেন!

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

     আপডেটঃ  দুপুর  ০২ঃ ৪০,  ১ এপ্রিল ২০২৫
    সবশেষ আপডেটঃ  দুপুর  ০৪ঃ ১০,  ১ এপ্রিল ২০২৫

     

  • ইউনুস সরকারের কড়া শক্ত হাতের অবস্থান চাই! 

    ইউনুস সরকারের কড়া শক্ত হাতের অবস্থান চাই!
    গৌতম দাস
    ২১ মার্চ ২০২৫ রাত ০৯ঃ ৩৯
    https://wp.me/p1sCvy-6mH

     

    সময়ে রাত একটার পরের কারও কোন স্টাটাস দেয়া তা একটা দেশকে তোলপাড় করে তুলতে পারে। গতকাল বাংলাদেশ এমনই এক রাত কাটিয়েছে। যতটুকু খবর শুনলাম অনেক গুরুত্বপুর্ণ লোক সারারাত ঘুমান নাই!
    গতকাল (দিনশেষের রাত ১২টার পরের) রাত আড়াইটা থেকে হাসনাত আব্দুল্লাহ-র এক পোস্ট থেকে এই তোলপাড়!
    যদিও সেনাপ্রধানের গত ২৫ ফেব্রুয়ারির ফুলস্টপ বক্তৃতার বক্তব্য থেকেই তার নামে দেয়া হাসনাত এর এমন অভিযোগ যে সত্য হতে পারে এমন সন্দেহ সমাজে বিশেষ করে ফেসবুকে আগে থেকেই তা প্রবল ছিল। এককথায় সেনাপ্রধান (মোটাদাগে) পাবলিক আস্থা,  বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছেন বলে মনে হয়েছে – বিশেষত তাঁর ঐ রাওয়া ক্লাবের বক্তৃতার পর থেকে।

    আবার তার ঐ বক্তৃতার পর থেকে তিনি ঐ ইন্ডিয়ান ব্যাগেজ টানা বা বোঝা বওয়া থেকে বের হয়েছেন তা আমার কখনও মনে হয় নাই। বরং মনে হয়েছে তিনি একের পর একটা ট্রাই করে যাচ্ছেন কিছু একটা থেকে মুক্ত হবার বা বের হতে চাছেন কিন্তু কোন কিছুতেই তাঁর লাক ফেবার করছেন না – দিশার আলো হয়ে হাজির হচ্ছে না।
    এই অর্থে তিনি, ইন্ডিয়ান স্বার্থ আর ক্রমশ বড় খেদমতগার হয়ে উঠে বিএনপি, (জামাতও কিছুটা) ইত্যাদি সকলেরই ভাগ্য যেন এক হয়ে গেছে। সবাই তা থেকে বের হবার পথ খুজছে প্রাণপণ!!

    গতরাতে সবচেয়ে তামসার কান্ড ঘটিয়েছে বিএনপি মানে তাদের মিডিয়া সেল! এটা পরিস্কার গত রাতে হাসনাতের স্টাটাসের পরে বিএনপি ইন্ডিয়ার হাতে প্রতাড়িত হয়েছে এমন এক ফিলিং যেন তাদের হয়েছে এমন আচরণ শুরু করেছিল।
    যেমন রাত ০৩ঃ ৩৫, ২১ মার্চ মানে হাসনাতের স্টাটাসের প্রায় এক ঘন্টা পরে মিডিয়া সেল প্রচার করা শুরু করে এক ভিডিও কার্ডঃ

    আওয়ামী লীগ নামে বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারবে না।
    সেই আওয়াজ আমরা উঠাচ্ছি।
    গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আ. লীগের সাংগঠনিকভাবে বিচার দাবি করছি।
    -সালাহউদ্দিন আহমদ, সদস্য, জাতীয় স্থায়ী কমিটি, বিএনপি।
    ০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

     

    অর্থাৎ মির্জা আলমগীরের সেই কুখ্যাত বাক্য – “জনগণ” আওয়ামী লীগের বিচার করবে বা নিষিদ্ধ করবে বা নির্বাচনে অংশ নিতে দিবে কিনা ইত্যাদি সবই  – জনগণ বিচার করবে  – এই লাইনে যেটা ছিল সেখান থেকেও সরে আসা সালাউদ্দিনের এই বক্তব্য। আর যদিও সালাউদ্দিনের এই বক্তব্য গত ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ মানে প্রায় দুমাস আগের। অথচ  সেটাই কেন গতরাত দুপুরে বিএনপির মিডিয়া সেল কেন আবার প্রচার করতে শুরু করেছে এর কোন ব্যাখ্যা দেয় নাই। এমনকি এর  আরও আধা ঘন্টা পরে (০৩ঃ৫৯ am  ২০২৫) ছাত্রদলও ফেসবুক পেজে একই স্টাটাস দিয়েছিল। এসবের সার কথা যেন এরকম ইন্ডিয়া বিএনপি কে ফেলে পুরানা প্রেমিক আওয়ামী লীগের সাথেই চলে গেছে, তাই গোসসা! আর হাসনাত কথিত অভিযোগের আঙুল যেদিকে সেই সেনা প্রধান (বিএনপি বা তাদের দলের সাথে যতই খাতির আছে বলে শুনা যায় তা শেষ) তিনিই লীগকেই (বিএনপিকে ফেবার করা না ) সামনে এনেছেন তাহলে, পুণর্বাসিত করতে আগিয়ে এসেছেনন – হাসনাতের অভিযোগের সারকথা এমন হয়ে গেছে!।
    যদিও পরে দিনের আলো ফোটার পর থেকে বেলা বাড়তে বাড়তে দুপুরের দিকে রিজভি সাহেব দলের অবস্থান আবার পুরান জায়গায় নিয়ে দাড় করিয়েছেন!

    লীগ নিষিদ্ধ হচ্ছে বা নির্বাচন করতে দেয়া হবে কীঃ
    লীগ নিষিদ্ধ হচ্ছে কিনা বা নির্বাচন করতে দেয়া হবে কী এটা নিয়ে গত সাত মাস জুড়েই প্রবল উদ্যোগ ও উদ্বেগে একচেটিয়া ভাবে  থেকেছে ইন্ডিয়া বা মোদি সরকারের।
    আর ক্রমশ এখন সেটা যারাই ইন্ডিয়ান স্বার্থ / দায় যেটাকে আমি প্রায়শই ইন্ডিয়ার বোঝা  মানে, ব্যাগেজ বা লাগেজ বলে থাকি – এটা যারাই কাধে নিয়েছে তাদের সকলেই নিজ নিজ স্বার্থের সাথে ইন্ডিয়ান স্বার্থকে মাখিয়ে একাকার করে দেখছে; যেখান থেকে মনে হচ্ছে তাদের কারই আর বের হবার বা ত্যাগ করার সুযোগ নাই। বা পারবে না!

    ইন্ডিয়া ক্রমাগত বিদেশী (ভাড়া করা) সাংবাদিক পাঠিয়ে ক্রমাগত ইউনুস সাহেবকে প্রশ্ন করে যাচ্ছে যে –  “লীগ নিষিদ্ধ হচ্ছে বা নির্বাচন করতে দেয়া হবে কী না”। আর ঐ চালাকিটা না বুঝে সরল উত্তর দিতে গিয়ে সকলেই পরিস্থতি জটিল করে তুলেছে। মূলত সকলেরই এমন শঠতা-প্রশ্ন এড়ায় যাওয়া উচিত ছিল যেহেতু ঠোস জবাব তাদের হাতে / কাছে প্রস্তুত নাই। যেমন যদি প্রশ্নের জবাবে বলতেন যে, –  আমরা অন্য কিছু নিয়ে প্রায়োরিটি তে এখন ব্যস্ত আছে। ক্রমশ আমরা এসব নিয়ে কোন সিদ্ধান্ত নিলে মিডিয়াকে জানাবো”  –  এভাবে বলে দিতে পারত।
    কিন্তু সকলেই বিপদে পড়েছে কী হলে  – “লীগ নিষিদ্ধ হচ্ছে বা নির্বাচন করতে দেয়া হবে কী”  – এভাবে সেই “শর্তগুলো” তা বলে জবাব দিতে চেষ্টা করতে গিয়ে!

    এজন্যই র-এর দক্ষতা এখানে বার বার যারাই জবাব দিতে গিয়েছে তাদেরকেই বিপদে ফেলতে পেরেছে। অন্ততপক্ষে সাময়িক!
    বাস্তবত আসলে লীগ নিষিদ্ধ হচ্ছে বা নির্বাচন করতে দেয়া হবে কী – না এই বিষয় টা  – অনেক যদি কিন্তুর পরের পরিস্থতিতে কী হবে এর উপর নির্ভরশীল। এর চেয়েও বড় কথা যেকথা আমার শত্রুদের কৌশল ঠিক করতে সহায়তা করবে তার জবার আমরা সহজ ভাবে দিব কেন????

    আমি অনেইকবার বলেছে আমাদের সমাজ অনেক ছোট; আবার আরেক অর্থে খুবই ভাইব্রেন্ট। মানে পাবলিক একদিকে আছে তার জীবন সংগ্রাম নিয়ে আর রাজনীতি বা ব্যারাক এটা তাদের কাছে আরেক জগত – আমরা এমন না। সামাজিক পর্যায়ে আমরা আমরা খুবই কাছেরই। ব্যারাক আর সিভিল সমাজ সব খবর শেয়ার করি। সে হিসাবে আমার ধারণা, বাইরের সমাজের কিছু উত্তেজনা গত রাত থেকে যার শুরু সেটা ব্যারাকের কিছু উত্তেজনা তৈরি করার কথা। এখন আজ রাত সাড়ে নয়টায় মনে হচ্ছে আপাত সব জগতেই সব শান্ত হয়েছে।

    সবার কাছে আমার একটা পরামর্শ হবে, সেসব সরিয়ে রেখে সব পক্ষই ইউনুস সাবের হাতে সব ছেড়ে দেয়া উচিত। উনার বিবেচনায় যেটা স্থায়ীভাবে সব উত্তেজনা স্তিমিত করে এমন সিদ্ধান্ত তিনি দিবেন – এদিকে পরিস্থতিকে থিতু হতে আগিয়ে দেয়াই সঠিক হবে।  নিশ্চয় আমরা ইন্ডিয়া বা বিদেশি কারও হাতের পুতুল হয়ে আমাদেরকে তারা নাচানোর সুযোগ নেক তা হতে দিতে পারি না।
    গত ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে এটা চলছে কাজেই আর নয়! এবার থামাতে হবে সব পক্ষকে!

    ইউনুস সরকারের কড়া শক্ত হাতের অবস্থান চাই!

    সামনে আমাদের অনেক কাজ পড়ে আছে সেসব দিকে মনোযোগ দিতে হবে!

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

     আপডেটঃ  রাত ১০ঃ ০৫, ২১ মার্চ ২০২৫

     

  • ভলকার টুর্ক কেন আমাদের জুলাই ইতিহাসের এক গুরুত্বপুর্ণ ব্যক্তিত্ব!

    ভলকার টুর্ক কেন আমাদের জুলাই ইতিহাসের এক গুরুত্বপুর্ণ ব্যক্তিত্ব!
    গৌতম দাস
    ০৭ মার্চ ২০২৫
    https://wp.me/p1sCvy-6li

    ভলকার টুর্ক [Volker Türk]

     

    কিছু প্রাক-পরিচিতিঃ
    ভলকার টুর্ক [Volker Türk] হলেন বর্তমানে জাতিসংঘ হিউম্যান রাইট ইস্যুতে মুখ্য প্রতিনিধি। আরো ভেঙ্গে বললে, জাতিসংঘ [United Nations; সংক্ষেপে  UN] এই মুল প্রতিষ্ঠানের অধীনে স্পেশালাইজড আরো প্রায় ১৫ টা প্রতিষ্ঠান আছে যাদেরকে ইউএন এর এজেন্সি প্রতিষ্ঠান বলা হয়;  যার মধ্যে সম্ভবত সবচেয়ে বড়টা হল ইউএনডিপি [UNDP] যা আমাদের মত সবদেশেই অফিস আছে কারণ, এটা সামাজিক অবকাঠামোগত প্রকল্প দেখাশুনা্র প্রতিষ্ঠান; তাই ‘ডিপি’ মানে ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম। তো সবদেশেই এই UNDP মানে, মূল UN বা জাতিসংঘের অধীনের এজেন্সি প্রতিষ্ঠান হলেও যেকোন দেশের UNDP অফিসের প্রধানকে, মূল জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় প্রতিনিধি / প্রতিষ্ঠান মানা হয়।
    ঠিক সে রকমই জাতিসংঘ হিউম্যান রাইট ইস্যুতে এক এজেন্সি প্রতিষ্ঠান হল OHCHR [Office of the United Nations High Commissioner for Human Rights]। যার দেখাশুনা বা ডিল করার ইস্যু হল হিউম্যান রাইট বা মানবাধিকার। তাই এটাকে ‘মানবাধিকার হাইকমিশনারের অফিস’ বলাও হয়।  আর এই ভলকার টুর্ক নিজেই হচ্ছেন সেই জাতিসংঘের হিউম্যান রাইট হাইকমিশনার; OHCHR এর প্রধান কর্তা ।
    একটা ছোট আরেকটা কথা এখানে জানায়ে রাখি। সেটা হল, সবাই জানি ইউএন এর হেড কোয়ার্টার আমেরিকার নিউ-ইয়র্কে। হা অবশ্যই, মূল অফিস সহ একগুচ্ছ এজেন্সি হেডকোয়ার্টারও সেখানে একসাথে। কিন্তু এর বাইরে আরেকগুচ্ছ জাতিসঙ্ঘের হেডকোয়ার্টার হল জেনেভায় [Geneva, Switzerland]। এর মধ্যে সবচেয়ে বড়টাই হল এই  মানবাধিকার হাইকমিশনারের অফিস OHCHR।  জাতিসংঘের মোট প্রায় ১৯৩-৪ সদস্য রাষ্ট্রের প্রায় সকল প্রতিনিধিকেই (নিউইয়র্কের বাইরে) জেনেভাতেও অফিস খুলে রাখতে হয়েছে যাতে স্ব স্ব রাষ্ট্রের স্থায়ী প্রতিনিধিরা OHCHR এর সাধারণ সভায় অংশ নিতে পারে।  এই বিচারে জেনেভা হয়ে উঠেছে আসলে লবিইং [lobbying] এর শহর। OHCHR এর কোন সাধারণ সভায় হয়ত দেখা যাবে  কোন ছোট (বাংলাদেশের কাছে অচেনা) রাষ্ট্রকে দিয়ে আমেরিকা  বাংলাদেশের বিরুদ্ধে / পক্ষের কথা ঐ সভায় তুলিয়েছে। এভাবেই ছোট বা বড় সবদেশের ভয়েজ জেনেভায় গুরুত্বপুর্ণ!
    গত দুদিন আগে এমনই এক সভাতেই বাংলাদেশে হাসিনার ২৪ শের জুলাই-আগষ্ট হত্যাকান্ড নিয়ে জাতিসংঘ যে প্রাথমিক অনুসন্ধান রিপোর্ট  তৈরি করেছে তা পেশ করা হয়েছে। বাংলাদেশের আইন মন্ত্রী / উপদেষ্টা সহ ভিকটিমদের কয়েকজন স্বজনও ঐ সভায় অংশ নিয়েছে।  অর্থাৎ এই সভা থেকে হাসিনার অপরাধের চিত্র ও  ডকুমেন্ট এখন থেকে গ্লোবাল হয়ে উঠল। মনে রাখতে হবে, হাসিনার অপরাধ নিয়ে কোন ভুয়া বিতর্ক তৈরি করে হাসিনা (সাথে মোদির ইন্ডিয়া) যেন পালিয়ে না বাঁচতে পারে তা ভেবে  ইউনুস সাব সরাসরি ভলকার টুর্ক এর সাথে কথা বলে এই অনুসন্ধান শুরু করার আহবান রেখেছিলেন সাথে তাঁর সরকারের পুর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিলেন বলেই জাতিসংঘের এই প্রাথমিক অনুসন্ধান এর কাজ সহজেই অল্প সময়ের মধ্যে এক সলিড প্রমাণ আমাদের সবার কাছে তুলে ধরা সম্ভব হয়েছে। ফলে তা সারা দুনিয়ার কাছেও।

    বিবিসির হার্ডটক প্রোগ্রামে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে ভলকার টুর্কঃ
    বিবিসির (ইংলিশ) হার্ডটক [Hard Talk] শিরোনামের এক বহু পুরানা প্রোগ্রাম আছে – মুখের উপর শক্ত প্রশ্ন করা হয় বলে সেখান থেকে এই নাম। এককালে (১৯৯৭-২০০৬)  Tim Sebastian ছিলেন এর এঙ্কর [anchor] বা প্রধান হালধরা ব্যক্তি পরিচালক। আমরা সে আমলের লোক, বলতে পারেন প্রেসিডেন্ট বুশের ওয়ার অন টেরর আমল অথচ আল-জাজিরা তখনও চালু হয় নাই (হয়েছিল ২০০৫ সালে); এমন একটা সময় সেটা। তো সম্প্রতি এই হার্ড টকের  অতিথি হয়েছিলেন  ভলকার টুর্ক নিজেই। এই ফাঁকে একটা কথা সবাইকে বলে রাখিঃ নোট করে রাখতে পারেন। আমাদের জুলাই অভ্যুত্থানের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই ভলকার টুর্ক এর নাম ইতোমধ্যেই গুরুত্বপুর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসাবে জড়িয়ে গেছে, যার নাম আর আলাদা করা যাবে না। এর পিছনের মূল কারণ একাধিক। কী সেই গুলা?

    ১৬ জুলাই ২০২৪ ছিল শেষ দিন। কীসের? এদিক দুপুরের পর থেকে সশস্ত্র ছাত্রলীগ ও দলবাজ পুরা পুলিশ বাহিনী মাঠ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। এরপর সন্ধ্যায় ডিএমপি হেড কোয়ার্টারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনের সব বাহিনীর শীর্ষকর্তাদের বৈঠকে সব বাহিনী প্রত্যাহার করে সরাসরি সামরিক বাহিনীর হাতে সিভিল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়ীত্ব তুলে দেয়া হয়েছিল। যেটা ছিল আসলে হাসিনার দিক থেকে দেখলে এক আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত। যদিও তিনি ভেবেছিলেন সীমাহীন বলপ্রয়োগে কঠোর হাতে দমন আর বেপরোয়া গোলাগুলির ব্যবস্থা করলে ভয়ে ছাত্র-জনতা সব মাঠ ছেড়ে চলে যাবে। কিন্তু ঘটেছিল উলটা! এমন অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, হাই-হ্যান্ডনেস ইত্যাদি এসবই  আসলে ঘুড়ে মাঠের ছাত্র-জনতার পক্ষে আরো ব্যাপক হারে সাধারণ মানুষের সমর্থন পেয়ে বসেছিল।  শুধু তাই না এই পরিস্থিতিটাই আরেক নির্ধারকশক্তি জাতিসংঘ কে পটভুমিতে হাজির করেছিল – এরাই ওয়াকারের নেতৃত্বের সেনাবাহিনী ও হাসিনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে সতর্কতা ওয়ার্নিং জানিয়ে এদের উলটা বিপদের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। ওয়ার্নিং দিয়েছিল যে এমন করলে সেনাসদস্যদের জন্য জাতিসংঘ শান্তিমিশনের দরজা বন্ধ হয়ে যেতে পারে!

    সুবিধাটাই যখন অসুবিধাঃ
    জেনেভা মানবাধিকার হাইকমিশনারের অফিস – এদের কাজই হচ্ছে কোন সদস্য রাষ্ট্রে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের কোন  ঘটনা চলছে কীনা সেদিকে তা নজর রাখা বা করা।  কিন্তু আমাদের কমিউনিস্ট ভায়েরা এটা জাতিসংঘের জন্মের পর থেকে কখনই এই ভাষ্য হজম করতে চায় নাই বা পারে নাই। উলটা তাদের কথা হল, জাতিসংঘ দিয়ে কিছু হয় না, হবে না!  হা সেকথাও  অবশ্যই আংশিক হলেও সত্য; যার মূল কারণ হল, আমেরিকান প্রভাব জাতিসংঘের সব অফিসের উপরই প্রবল!আবার এর পিছনের মূল কারণ, আর কোন রাষ্ট্র জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠান চালানোর ব্যয় বহণ করতে চায় না বা সক্ষম নয় বলে অপারগ! আর উলটা দিক থেকে বললে, এটাই গ্লোবাল নেতা রাষ্ট্রের (আমেরিকার) দায় হয়ে আছে বা যায়!  কিন্তু তাই বলে জাতিসংঘের সবই তুচ্ছ বা অহেতুক এই প্রতিষ্ঠানের থাকা না থাকা – এই অনুমানও একেবারেই ভিত্তিহীন – আমার বাড়িটা পড়শির চেয়ে নিশ্চয় ভাল ধরনের শ্রেষ্ঠত্ববাদিতা বোধ!

    সেই একই ভঙ্গিতে প্রসঙ্গ তোলা হয়েছিল  হার্ডটক অনুষ্ঠানে যেখানে ভলকার টুর্ক ছিলেন প্রধান অতিথি। তিনি সেখানে শক্তভাবে পরিস্কার করে দাবি করেন তাঁর অফিস থেকে বাংলাদেশের সেনাপ্রধানকে ওয়ার্নিং বা সতর্কতামূলক বার্তা দেয়া হয়েছিল (বলে ক্রমেই হাসিনার ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়েছিল) ১৬ জুলাই ২০২৪ তারিখের পরে।  আসলে সেসময় এই বার্তা দেয়া হয়েছিল দুইভাবে। একটা তো সরাসরি মানবাধিকার হাইকমিশনের অফিস থেকে বাংলাদেশের সেনাপ্রধানকে ভায়া ইউএন মিশন নিউইয়র্ক [DPKO], যেখানে মিশন সংশ্লিষ্ট সব সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা বসেন তাদের মাধ্যমে, এভাবে। এটাই ভলকার উল্লেখ করেছেন হার্ডটক অনুষ্ঠানে সেটা এখানে  বাংলাদেশ নিয়ে ফলকার টুর্ক  দেখতে পারেন। বাংলাদেশের সেনাবাহিনী (তিন বাহিনীই) ইউএন মিশনে সর্বাধিক সেনা সরবরাহকারী প্রথম দুই দেশের একটা।  এমনকি কোন কোন সুনির্দিষ্ট মিশনে সবার চেয়ে বেশি তা এক নম্বরে। তবে মিশনে অংশ নেবার ক্ষেত্রে একটা রুল করা হয়েছে একালে – যেকোন সেনা সদস্যের নামে নিজ দেশের অপরাধীর লিস্টে মানবাধিকার লঙ্ঘণের অভিযোগ থাকলে তিনি বাদ পড়বেন সাথে ওদেশের খোদ সরকারই যদি ব্যাপক লঙ্ঘণকারী সরকার হয় সেক্ষেত্রে ঐ সদস্য রাষ্ট্র থেকে সব সেনা সদস্যকেই নিজ দেশে ফিরে যেতে জাতিসংঘ মিশন বলতে পারে। এর পিছনের মুল যুক্তি যে দেশের সেনা নিজ দেশেই মানবাধিকার লঙ্ঘণকারি সেদেশ কীভাবে আরেক দেশে শান্তি মিশন স্থাপনে অংশগ্রহণকারী হতে পারে!!! এটা যথেষ্ট শক্ত যুক্তি অবশ্যই!

    এছাড়াও আরেকটা হুশিয়ারি গিয়েছিল মানবাধিকার র‍্যাপোটিয়ারের কাছ থেকে।  OHCHR অফিসের অনেকগুলো  র‍্যাপোটিয়ার [Rapporteur] থাকেন যারা অবশ্যই OHCHR অফিসের কোন পেড [paid] স্টাফ নন, বেতনভুকও নন; বরং একেবারেই স্বাধীন এবং সুনাম থাকা দেশি-বিদেশি ব্যক্তিত্ব। এই স্বাধীন র‍্যাপোটিয়ারের দেয়া রিপোর্ট এটাকেই মাঠের সত্যের ভিত্তি গণ্য করে আভ্যন্তরীণ ভাবে OHCHR অফিসের যেকোন কমিটি আলোচনা-পর্যালোচনা শেষ সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। বাংলাদেশ ইস্যুতে তখনকার র‍্যাপোটিয়ার  আইরিন খান সরাসরি  হাসিনা সরকার ও সেনাপ্রধানের অফিসের সাথে বাদানুবাদে জড়ান। তিনি পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দাবি করেন মারাত্মক মানবাধিকার লঙ্ঘণের প্রমাণ আছে তার কাছে। আসলে ফিল্ড লেবেলে বাংলাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মানবাধিকার ডিফেন্ডার কর্মীরা ভলিনটিয়ারেরাই এসব তথ্য-প্রমাণ জড়ো করে আইরিনের হাতকে শক্তিশালী করে রেখেছিলেন। তাই তিনিও পাল্টা এমন চ্যালেঞ্জ জানাতে পেরেছিলেন।

    আসলে এর সাথে যুক্ত হয়েছিল দুইটা ইস্যু।
    সেনা তত্বাবধানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব তাদেরকে দেয়ার  মধ্যে –  হেলিকপ্টার থেকে র‍্যাবের গুলি ছোড়া,   বিভিন্ন বাসার উচু ছাদ থেকে আশেপাশে নিচে পুলিশের ( বা সাদা পোষাকে) নির্বিচারে গুলি ছোড়া আর বিশেষ করে রামপুরা-মৌচাক রোডে হাই স্পিডে আর্মোড কার [ armoured car লোহার খাঁচায় মুড়ানো] ফলে ভিতর থেকে বসে আরামে নির্বিচার গুলি ছোড়া ঘটেছিল। এর উপর ঐ কার গুলো ছিল জাতিসংঘের লোগো মার্কা লাগানো সাদা কার – মানে জাতিসংঘ মিশন থেকে ফেরত আসার পর আর রঙ বদলানো হয় নাই গরিমসি করে। তাই এনিয়ে জাতিসংঘ থেকে শক্ত আপত্তি দেয়া হয়েছিল যে এই নিপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞা এতে যেন জাতিসংঘ জড়িয়ে আছে এমন ইঙ্গিত বহন করা হচ্ছে।
    সব মিলিয়ে এক ব্যাপক গ্লোবাস্ল ও স্থানিয় সামাজিক চাপ তৈরি হয়েছিল এতে। আর এর প্রভাবে আমাদের খুবই ঘন বসতির সমাজে আমাদের সেনা সদস্য আর তার সিভিল সমাজ খুব দুরের কিছু নয়। তাই এর সামাজিক উত্তাপ সেনাবাহিনী মেস-ক্যান্টিনের – এই ধরনের কমন সময় কাটানোর জায়গায়  তা জুনিয়র অফিসারদের জন্য প্রকাশ্যেই আলোচনার প্রসঙ্গ হয়ে যায়। সেটা এই বলে যে নিজ জনগণকে নির্বিচারে হত্যার দায় এসে লাগছে তাদের  সেনাসদস্য, কলিগ সকলকে আর তাদের প্রতিষ্ঠানের উপরে!!!!   এনিয়ে সেনাবাহিনীতে  আত্মীয় বন্ধুবান্ধব যাদের আছে তাদের কাছে থেকে ভিতরের ঘটনাবলীতে প্রতিক্রিয়াও বাইরে আসতে থাকে। এসব কথাই আমিও বিস্তারিত তখনই জেনেছিলাম।   অর্থাৎ বাংলাদেশের কম-বেতনপ্রাপ্ত [poor paid] সৈনিক সদস্যদের জন্য জাতিসংঘে যেতে পারা যেমন তাদের জন্য এক বিরাট রিলিফ বা আয়ের বিকল্প ব্যবস্থা হয়ে উঠেছিল   আর সেই বিকল্প ব্যবস্থাটাই আবার হাসিনা ফ্যাসিস্ট-শাসকের জন্য এক বিরাট গলার ফাঁস হয়ে উঠেছিল। সাধারণ সৈনিক আর জুনিয়র অফিসার যারা সেনাজীবনে মোট তিনবার মিশনে যাবার সুযোগ পেয়ে থাকে তারাই এতে হাসিনার নির্বিচার গোলাগুলি গুম-খুনের প্রবল প্রতিবাদি এবং বিরোধী হয়ে উঠেছিল। কারণ পরিস্থিতি তাদের জন্য শান্তিমিশনে যাবার বিরুদ্ধে এমন হয়ে যাচ্ছিল। এটাই ১৯ জুলাই থেকে সেনাপ্রধানকে দিয়ে নির্বিচারে গুলির ভয় দেখিয়ে হাসিনার নিজ জনগণের বিক্ষুব্ধ জনরোষকে নিয়ন্ত্রণ একেবারেই অসম্ভব করে তুলেছিল।  সেনাপ্রধান ওয়াকার এর পরাজয়ের (আত্মীয়ের স্বার্থ -খায়েসের পক্ষে সার্ভিস দিতে না পারা) মূল কারণ ছিল এটাই। শুধু তাই নয়, সেই অপরাধের অভিযোগ এখনও তার মাথার উপরে ঝুলছে। এভাবে  সেনা প্রতিষ্ঠানের এভাবে বিপক্ষে ঘুরে যাওয়া এটাই হাসিনার ক্ষমতা হারানোতে ও পলায়নে  নির্ধারক হয়ে গেছিল। এর কারণে, ওয়াকার তখন বিপরীত পদক্ষেপে,  সেনাসদরে দরবার ডেকে নতুন করে নতুন নীতিতে অস্ত্র সংবরণ এর ঘোষণা ও সংশোধন করে নেয়া ছাড়া ওয়াকারের সেনা-নেতৃত্বের আর কোন উপায় ছিল না।  এটাই সেনাপ্রধানের একক কর্তৃত্ব হারানোর ক্রমশ শক্ত কারণ হয়ে উঠেছিল। পদবী তিনি শেয়ার করছেন না কিন্তু কার্যত তিনি কর্তৃত্ব হারানো বা তা শেয়ার করতে বাধ্য হয়ে যাওয়া অবস্থায় আছেন। বাংলাদেশের সেনা ইতিহাসের এ’এক আজীব পরিস্থিতি বলেই অনুমানে মনে হয়!

    ইতোমধ্যে আপনারা এখন সবাই জানেন ৫ আগষ্ট ২০২৪ হাসিনা পলাতক হন, দেশত্যাগ করেন।  ওদিকে বাসায় বসেই নিয়মিত সব খবরাখবর আমি পেতে থাকি। এরকমই এক ঘরোয়া কথাবার্তায় আমার এক ছোটভাই মাসুদ [Masud zakaria] ক্যামেরা নিয়ে হাজির হয়েছিল একদিন যাতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে আমার টাটকা মন্তব্যগুলো (আগামিদিনের ইতিহাস হিসাবে যা গণ্য হতে পারে) সে রেকর্ড করে রাখতে পারে। সময় দিনক্ষণটা যতটা অনুমান করা যায় তা ২০ আগষ্টের আগে নয়, আমার বাসায় বসেই প্রায় আড়াই ঘন্টার সেই কথোপকথন রেকর্ড করা হয়েছিল। এই কথোপকথন নানা কারণে খুব বেশি প্রচার করা হয় নাই। আমি নিজে পাবলিকলি তা শেয়ার করি নাই। আজ এখানে তা তুলে দিব হয়ত!

    কোন গভীর বা ব্যাপক রাজনৈতিক পরিবর্তন – যেমন আমাদের জুলাই গণঅভ্যুত্থান – এর ইতিহাস লেখা বর্ণনা করা সহজ নয়। এছাড়া তা দেরি করে লেখা ভাল। যাতে এই ভাল-মন্দ দিক পাবলিক ততদিনে ঠান্ডা মাথায় ভেবেচিন্তে রিভিউ করতে সক্ষম হয়। টাটকা অস্থির বা থিতু হয় নাই যখন তখনকার চেয়ে এতে স্থিরতার সুবিধা বেশি পাওয়া যায়।  তবু ঐ কথোপকথন  রেকর্ডিংয়ে আমার চোখে ঘটনাবলি বর্ণনায় আমি তিনটা মুখ্য নির্ধারকের কথা উল্লেখ করেছি – ১। ছাত্র-জনতা  ২। সেনাঅভ্যন্তরে নেতৃত্ব-ক্ষমতায় বদল আর ৩। জাতিসংঘের ভুমিকা(OHCHR অফিস)। বেশিরভাগ জনই এই তৃতীয় ফোর্স ও ফ্যাক্টর টার কথা জানেই না। সেটাই গতকাল ভলকারের বক্তব্যে উঠে এসেছে, শিরোনাম হয়েছে।   যেটা আমার ২০ আগষ্টের পরের রেকর্ডিংয়ে আমি স্পষ্ট  উল্লেখ করেছিলাম।

    ঘটনাবলি বর্ণনায় আমি তিনটা মুখ্য নির্ধারক বা ফ্যাক্টর এর কথা উল্লেখ করেছি –
    ১। ছাত্র-জনতা
    ২। সেনাঅভ্যন্তরে নেতৃত্ব-ক্ষমতায় বদল আর
    ৩। জাতিসংঘের ভুমিকা(OHCHR অফিস)।

     

    আর প্রথম দুইটা নির্ধারক ফোর্স ও ফ্যাক্টর এর কথা প্রসঙ্গে বলব – এই দুইটা ফোর্স বা ফ্যাক্টর আসলে পরস্পরের পরিপূরক!  তবুও  সেনাঅভ্যন্তরে নেতৃত্ব-ক্ষমতায় বদল এই ফ্যাক্টরটাকে  আমি আগিয়ে রাখব। তা এজন্য যে আমার জানামতে এই শক্তির জন্ম ও বিস্তার প্রস্তুতি সেই ২০১৯ সাল থেকে হলেও বাইরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কখনই এর জন্য অনুকুলে আসে নাই। এমনকি লাগাতর তিন বছর বাইডেনের (স্যাংশন ও মানবাধিকারের খড়্গ ) হাসিনার উপর ঝুলে থাকলেও এর সুবিধা নিয়ে হাসিনাবিরোধিদের আন্দোলন মাঠে নামা পর্যন্তই সবকিছু থেমে থেকেছিল – এরপরে দুইটা রাজনৈতিক দলের বারবার অনিহা – মূলত এর (তাদের বিশেষ স্বার্থ, বিশেষ হিসাব মিলে নাই বলে) কারণে এটা আর আগাতে পারে নাই। আর ২৮ অক্টোবর ২০২৩ এটা একেবারেই হাতগুটানো মৃতপ্রায় হয়ে যায়। ইতোমধ্যে এর আগেই অবশ্য বাইডেনও পল্টি মেরেছিল সেপ্টেম্বর ২০২৩ থেকে – পরে যা বাইডেন-হাসিনার সাথে এক হয়ে কাজ করবে  – বলে ফতোয়া দেয়া বাইডেনের হাসিনাকে লিখিত চিঠি প্রকাশ্যে এসেছিল।
    এই বিচারে বলা যায়, যেখানে রাজনৈতিক মাঠ আটকে পড়েছিল সেখান থেকে একে উঠানোর কাজটা বলা যায় নিজের অজান্তেই সম্পন্ন  করে ফেলেছিল ছাত্রদের কোটা আন্দোলন। যা পরে এক দফা বা হাসিনা পতনের ডাক পর্যন্ত উঠে আসার ইচ্ছা ব্যক্ত করাটা এটাকেই পুঁজি করে ‘সেনাঅভ্যন্তরে নেতৃত্ব-ক্ষমতায় বদল”   ব্যাপারটা ঘটিয়ে দিবার সুযোগ নিয়েছিল।
    তাই এককথায় বলা যায়, ছাত্র-জনতা সবল্ভাবে সেসময়ে মাঠে যদি হাজির না হতে পারত তবে ‘সেনাঅভ্যন্তরে নেতৃত্ব-ক্ষমতায় বদল’ – কোনভাবে সম্পন্ন হতে পারলেও এটাকে গণঅভ্যুত্থান বলা দূরে থাকে এটা এক ব্যারাকের ক্যু মানে সামরিক ক্ষমতা দখল বলেই আমাদের ইতিহাসে হাজির হত – একথা নির্দ্বিধায় বলা যায়!
    আবার উলটা দিক থেকে বললে, ‘সেনাঅভ্যন্তরে নেতৃত্ব-ক্ষমতায় বদল’ এর লক্ষ্য বলে যদি কিছু নাই থাকত তবে এই ছাত্র-জনতা রক্তস্নান করে কয়েক হাজার মরে রাস্তায় রাস্তায় পড়ে থাকত! এতে হাসিনা রক্তস্নাত হত অবশ্যই কিন্তু ক্ষমতা নিজ মুঠোর মধ্যেই রেখে দিতে সক্ষম হয়ে যেত!  এই হল মোটা দাগে আমার অনুমান বিশ্লেষণ!
    তবু এরপরে এখনও শেষ একটাই কথা যা অব্যক্ত রেখে দিয়েছি তা হল, সশস্ত্র ছাত্রলীগ ও আওয়ামি-বেপরোয়া-পুলিশ লীগ কীভাবে ও কেন পরাজিত হয়ে গেছিল। আর এর ফলাফলে যা থেকে হাসিনাকে আর্মির উপর নির্ভরশীল করে দিয়েছিল। তা বলা হয় নাই।  ইতিহাসের বহু অধ্যায় বলা হয় ১৫-২০ বছরের আগে ওপেন বলা যায় না।  এটা সম্ভবত সেই অধ্যায়; কেউ হয়ত বলবে সেকথা!

    শেষ করব দুটা কথা বলেঃ
    ভলকার টুর্ক এর অফিস যদি সেনাবাহিনীকে ওয়ার্ণিং না দিত, আপত্তি না তুলত তাহলে  ‘সেনাঅভ্যন্তরে নেতৃত্ব-ক্ষমতায় বদল’ – এটা ঘটত বা সহজে ঘটানো যেত না। এই অর্থে এটা যেন সবকিছুর উপরে প্রধান ফ্যাক্টর-নির্ণায়ক।
    কিন্তু এর উপরও আরেকটা নির্ণায়ক আছে। সেটা হল, কেন বাইডেনের আমেরিকা  ভলকার টুর্ক এর অফিস কে এই স্বাধীনভাবে কাজ করতে এলাও করেছিল?????

    এটা বিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন!
    যদিও জানা থাকলে জবাবটা খুব সহজ মনে হবে!  সাধারণত, ভলকার টুর্ক এর অফিস কে আমেরিকা তার স্টেট ডিপার্ট্মেন্ট মানে আমেরিকান পররাষ্ট্র বিভাগ সব সবসময় নিজ সহায়ক অভিমুখে চলতে সব সময় বাধ্য করে থাকে। যতটা যতক্ষণ আমেরিকা একে প্রভাবিত করতে পারে। এটা সাধারণভাবে সবসময় সত্য! কিন্তু আমাদের আলোচ্য ক্ষেত্রে এটা একটা নতুন ঘটনা হয়ে হাজির ছিল। তা হল,  ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ বাইডেন আনুষ্ঠানিকভাবে হাসিনা সরকারের সাথে একযোগের কাজ করবে বলে চিঠি লিখে তা পাঠিয়েছিল রাষ্ট্রদুত পিটার হাসের হাত দিয়ে। আর তা ব্যাপক মিডিয়া পরিচিতিতেই ঘটেছিল, এমনকি এর আগে ৭ জানু. ২০২৪ কথিত নির্বাচনটা বাইডেন হাসিনাবিরোধী সকলের সাথে বিশ্বাকসঘাতকতা করে হাসিনার কথিত নির্বাচনকেই সমর্ত্থন দিয়েছিল। ফলে এককথায়, বাইডেন ১৮০ ডিগ্রী ঘরে হাসিনার পক্ষে পতাকা উড়িয়ে দিয়েছিল। ফলে বাইডেন প্রশাসন ভাবতেও পারে নাই যে এর চার মাসের মাথায় খোদ হাসিনা ঢাকার এক গণঅভ্যুত্থানে উতখাত হবেন, দেশছাড়া হবেন। তাই এই মিরাকেল হাসিনা উতখাত ঘটে যাওয়া আসন্ন হয়ে উঠলে বাইডেন প্রশাসন নিজ পরাজয় নিজ বোকামিতে মুখ লুকানোটা ফরজ হয়ে যায়।
    কারণ আসলে, বাইডেন-হাসিনা একসাথে কাজ করবে একথা বলে ফেলার পরে হাসিনার উতখাত হয়ে যাওয়া মানে তো বাংলাদেশ থেকে বাইডেন প্রশাসনেরও উতখাত হয়ে যাওয়া। এবং বাস্তবে ঘটে গেছিল সেটাই। ফলে এখন কী হাসিনা পতনের পরে বাংলাদেশে আমেরিকা নিপাত যাক, কমিউনিস্টদের সাম্রাজ্যবাদ নিপাত যাক, ঢাকায় বাইডেনের কুশপুত্তলিকা দাহ কংবা আমেরিকান ফ্ল্যাগ পায়ে দলা বা পুড়ানো শুরু হবে? হাসিনা উতখাতের সাথে তো তাই হওয়াটাই উচিত ও স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু হয় নাই; হতে দেয়া হয় নাই। প্রাকটিক্যাল কারণে। যা্রাই কেবল মাত্র দূরের জিনিষও দেখতে পায় তারাই এটা নিয়ন্ত্রণ করেছিল! এককথায়, আমেরিকা অপরাধী কিন্তু একে সাথে নিয়েই আমরা সামনের দিকে তাকাতে চাই! এটা এজন্য যে আমেরিকা যেন তা আমল করে সামনে আমাদের বিরোধিতা না করে আর ভারতকেই উলটা আমাদের পিছনে লেলায় না দেয়। এতে আমাদের সুবিধা হবে, আমেরিকা-বিচ্ছিন্ন এক ইন্ডিয়াকে আমরা পাবো যাকে মোকাবিলা করতে আমাদের জন্য তুলনামূলক সহজ বাস্তবতা আমাদের সামনে থাকবে। আর আমেরিকা মনে করিয়ে দেয়া যে তুমি অপরাধী; আর তা হলেও আমরা আমেরিকার সাথে ইতিবাচক সম্পর্ক চাই। এই পররাষ্ট্র-নীতির কারণে ইউনুস সরকার এক গ্লোবাল ভারসাম্য তৈরি করে টিকে থাকতে পারছে।
    যদিও (নিজ অযোগ্যতা ও ছদর ঢাকতে) মোদি-জয়শঙ্কর মিথ্যা প্রপাগা্নডার চেষ্টা করেছিল যে বাইডেন প্রশাসনের বিরূপতার কারণেই হাসিনা নাকি উতখাত হয়েছে। কিন্তু এই বয়ান ভাত পায় নাই! আমরা বিজয়ী হয়েছি!
    তাহলে বাইডেন প্রশাসন জুলাই ১৬, ২০২৪ থেকে ভলকার টুর্ক এর অফিস কে কী বলেছিল, কী আমেরিকার নীতি জানিয়েছিল? তা এককথায় বললে,   ভলকার বাংলাদেশ আর্মিকে ওয়ার্ণিং দিতে মনস্ত করলে বাইডেন প্রশাসন তাতে কোন বাধা দেয় নাই। এটুকুই আমাদের জন্য যথেষ্ট উপকারি ছিল! ফলে ভলকার টুর্ক ওয়াকার এন্ড হাসিনা গংয়ের উপর প্রবল হুমকি ও চাপ সৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছিল। আসলে বলতে গেলে এটাই ভলকার টুর্ককে ওয়াকারের উপর (বাই বুক মানে মানবাধিকারের বইয়ে যেভাবে লেখা থাকে সেভাবেই) স্ব উদ্যোগ যা তিনি সফলভাবে চাপ প্রয়োগ করতে পেরেছিল।
    এককথায় বাইডেনের আমেরিকা হাসিনার সাথে এক দড়িতে ফাঁসির আসামি হয়ে গেছিলেন তখন – এটা জানলে পেরে নিজ অপরাধ কমাতে আমাদের সাথে কাজ করতে টুর্ক এর অফিস একে “গো এহেড” জানাইয়েছিল বাইডেন তবে প্রকারন্তরে – আপত্তি নাই মর্মে!  আর এতটুকুই আসলে আমাদের জন্য যথেষ্ট ছিল ওয়াকার এন্ড গং কে পরাজিত করতে!
    আবার এক্সট্রা সুবিধা একটা আমরা পেয়েছিলাম ইউনুস সাবের এক তীক্ষ্ণ বুদ্ধিতে! তিনি ভলকার টুর্ককে ডেকে তাদের হাতে স্বাধীনভাবে তারা তদন্ত করে হাসিনার হাতে গুম-খুনের বিশেষ করে জুলাই-আগষ্ট্রের খুনের ততপরতার স্বাধীন অনুসন্ধান করতে ওপেন হ্যান্ড দিয়েছেন। এতে আমরা ভলকার টুর্কের জাতিসংঘের অফিসের স্বাধীন এক অনুসন্ধান রিপোর্ট আজ পেয়ে গেছি। যাকে নিয়ে কোন ধরনের সন্দেহ বা ইউনুস সরকারের কোন সংশ্লিষ্টতাহীন এক বিশ্বাসযোগ রিপোর্ট আমরা হাতে পেয়ে গেছি।
    এতে গ্লোবালি হাসিনার অপরাধ এর একটা উল্লেখযোগ্য অংশ আজ পানির মত স্বচ্ছভাবে প্রকাশিত হয়ে গেছে!

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

     আপডেটঃ  রাত ০৯ঃ ০৪, ০৭ মার্চ ২০২৫

     সর্বশেষ  আপডেটঃ রাত ১২ঃ ১৫, ০৮ মার্চ   ২০২৫

     

     

  • মোদি-হাসিনা দুজনেই কী আসামি হবেন, না ট্রাম্পের বক্তব্য বুঝে হাসিনাকে ত্যাগ করবেন

    মোদি-হাসিনা দুজনেই কী আসামি হবেন, না ট্রাম্পের বক্তব্য বুঝে হাসিনাকে ত্যাগ করবেন

    “মোদি-হাসিনা দুজনেই কী আসামি হবেন,
    না ট্রাম্পের বক্তব্য বুঝে হাসিনাকে ত্যাগ করবেন”
    গৌতম দাস
    ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫   দুপুর ০২ঃ ১৭
    https://wp.me/p1sCvy-6jH

     

     

     

    মোদি-হাসিনাদের দোকান কী এখন বন্ধ হবে? যে দোকান তারা খুলেছিলেন ৫ আগষ্ট ২০২৪ এরপরে?
    গতকাল ১৩ ফেব্রুয়ারি ছিল মোদি-হাসিনাদের বহু আশা -ভরসা দেখা প্রতিক্ষিত ট্রাম্প-মোদি মিটিং।  মোদি-হাসিনাদের মিথ্যা প্রপাগান্ডার জোর এত তীব্র ছিল যে সব ফ্যাক্টস বা সত্য আমরা তুলে দেখালেও আমার বাংলাদেশিদের শঙ্কা যাচ্ছিলই না। কারণ তারা ঘর-পোড়া গরু – সেই ২০০৭ সালের ১/১১ থেকে যখন আমেরিকা বাংলাদেশকে ইন্ডিয়ার হাতে তুলে দেয়া ঘটেছিল তখন থেকেই লাগাতর -এভাবে নয়ত সেভাবে – নির্যাতিত হয়ে আসছে! হিন্দুত্ববাদের দাপট বাংলাদেশে জঙ্গীবাদ হচ্ছে বলে প্রপাগান্ডার আড়ালে তারা এক গুম-খুন-অপহরণ এর রাষ্ট্র কায়েম করেছিল আর সাথে ছিল রাষ্ট্রীয় সম্পদের সীমাহীন লুটপাট!
    ফলে বাংলাদেশের আম-মানুষের শঙ্কা কাটছিলই না বিশেষত মোদি-হাসিনাদের এই শেষ চেষ্টা যে এবার মোদি-ট্রাম্পের মিটিংয়ের পরে  মোদি-হাসিনার হিন্দুত্ববাদী খুনি এলায়েন্স যদি আবার ফিরে আসে???
    আমি মনে করি সেই দিন শেষ হয়েছে।

    সেই বহু প্রতিক্ষিত অপেক্ষা শেষ হয়েছে।  ট্রাম্প পাবলিকলি বাংলাদেশের উপর ইন্ডিয়ার সব অপরাধের দায় মোদির উপরেই চাপিয়ে দিয়েছেন।  নিচে দেখেন র-এর মিডিয়া ডেইলি স্টারের বাংলা রিপোর্ট থেকে  [স্ন্যাপ শর্ট] ছবি তোলা বক্তব্য!

     

    ট্রাম্পের মুখে মারা জবাবঃ
    ইন্ডিয়ান সাংবাদিক নিজেই প্রথম মার্কিন ডিপস্টেট এর প্রসঙ্গ বা শব্দগুলা ব্যবহার করেছিলেন। আর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সপাটে মুখে মেরে এর জবাব দিয়েছেন। বলেছেন, “এ ক্ষেত্রে আমাদের ডিপ স্টেটের কোনো ভূমিকা ছিল না”। সাথে আরো বলেছেন, “এটা এমন একটি বিষয় যেটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী (মোদি) দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন এবং সত্য বলতে, শত শত বছর ধরে এ বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। কিন্তু আমি এটা প্রধানমন্ত্রীর (মোদির জবাব দিবার কিছু থাকলে) হাতে ছেড়ে দিচ্ছি”। এটা অনেক শয়তান অনুবাদক –  ট্রাম্পের এই কথা টা বাংলাদেশকে ইন্ডিয়ার হাতে ছেড়ে দেওয়া বলে মিথ্যা প্রচার করেছেন!

    আসলে ইন্ডিয়ান সাংবাদিকদের হোমওয়ার্ক সবসময় কম থাকতেই দেখা যায়।  প্রশ্নকর্তার বুঝা উচিত ছিল দুই চোর একসাথে চুরি করতে যাওয়ার পর এক চোরের আরেক চোরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা আর চলে না – সুযোগ থাকে না। কারণ, সেক্ষেত্রে দুই চোরই ধরা খাবে। যদি ২০০৭ সালের ১/১১ থেকে কথা তুলি যখন আমেরিকা বাংলাদেশকে ইন্ডিয়ার হাতে তুলে দেয়া ঘটেছিল – এই ঘটনা তুলে সেসময়ের আমেরিকান ভুমিকা বা  মার্কিন ডিপ-স্টেট কে অভিযুক্ত করে কথা অন্তত ইন্ডিয়ার কেউ তুললে সেটা তো নিজেদের পায়ে কুড়াল মারাই হবে। যদিও এটা স্পষ্ট যে সাংবাদিক সরাসরি বাইডেনের নাম নিয়ে সেই রেফারেন্সে  প্রশ্ন করছেন! কিন্তু সেখানেও একই বিপদ-ই থেকে গেছে।
    এটা ঠিক যে বাইডেনের প্রথম তিন বছর (২০২১-২৩) মানে ২০২৩ সালের আগষ্ট-সেপ্টেম্বরের আগে পর্যন্ত  তিনি হাসিনার উপরে মানবাধিকার-স্যাংশনের নীতিতে আগিয়ে গেছিলেন যেটা বাংলাদেশের বিরোধীদল সুবিধা পেয়েছিল আর মোদির ইন্ডিয়া এতে বাইডেনের আমেরিকার সঙ্গী হতে পারে নাই বা সুযোগ ছিল না বলে গোসসা ঘরে খিল দিয়েছিল, এসময়টাতে।  কিন্তু  ২০২৩ সালের আগষ্ট-সেপ্টেম্বর থেকে বাইডেন পল্টি মেরেছিলেন ইন্ডিয়ান প্ররোচনায়; ফলাফলে ল্যু-বাইডেন হাসিনার হাত ধরেছিল আমাদেরকে রাস্তায় ফেলে পালিয়ে!  এই পল্টি মারাতে হাসিনা কথিত তাঁর ৭ জানুয়ারি নির্বাচন করে নিলে বাইডেন চিঠি লিখে জানিয়েছিল এরপর বাইডেন-হাসিনা একসাথে কাজ করবে!!!
    আর এটাই বাইডেন ও তার সিআইএ (যেটাকে এখন ভারতীয় সাংবাদিক মার্কিন ডিপস্টেট বলে ডাকছেন) তাদের একেবারে গাধা বনে যাওয়ার ঘটনা! কারণ, বাইডেনের ৫ ফেব্রুয়ারির চিঠিতে – একসাথে কাজ করার খায়েশ – জানানো মানে, পরবর্তিতে চারমাসের মধ্যেই যে খোদ হাসিনাই গণঅভ্যুত্থানে উচ্ছেদ হয়ে যাচ্ছেন এইটা তারা কোন আগাম আমল – তা করতেই পারেন নাই! যার আরেক অর্থ হল, বাংলাদেশে সিআইএ ততপরতা (বা কথিত মার্কিন ডিপস্টেট ধারণা যেটা) এখন গুটিয়ে ফেলা উচিত। কারণ, তারা প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে কোন আগাম ধারণাই এরা দিতে পারেন নাই বলেই তো বাইডেন বোকার সাহসে হাসিনার হাত ধরার কথা বলেছিলেন!! অর্থাৎ এখান থেকেই – বাংলাদেশে ৫ আগষ্টে যা দাড়িয়েছিল – তা শুধু হাসিনার উচ্ছেদ না এটা তো একই সাথে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে তাঁর নীতিসহ উতখাত; যে বাইডেন নিজেই হাসিনার দোসর সেজে একসাথে কাজ করতে চাওয়া এক গাধা বনে যান মাত্র!!! বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা এই গাধা আর তার সিআইএ টাইপের আর যেসব আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থা আছে সবাইকেই ছুটিতে পাঠায় দিয়েছিল।
    অথচ এরপরও  মোদি-হাসিনা মিলে উলটা গল্প বানিয়েছে যে –  বাইডেনের আমেরিকান ডিপ-স্টেট নাকি হাসিনাকে উতখাত করেছে!!!  যে বাইডেন দাবি করে হাসিনাকে জানিয়েছিল তারা ফেব্রুয়ারি থেকে একসাথে কাজ করবে সেই আমেরিকান বাইডেন তাঁর কথিত ডিপ-স্টেটের ভুমিকা – বলে মোদি আর তার র-এর গল্প – তা বানালেই যে তা গল্প হবে না তা বুঝিয়ে বলার কী আর দরকার আছে??

    তাহলে ট্রাম্প এখন প্রবলভাবে এই কথিত ডিপ-স্টেটের ভুমিকা সরাসরি নাকচ করল কেন?
    মোদি-হাসিনা যে এমন ডিপ-স্টেটের গল্প বানাইতেছে সেটা গত কয়েকমাস থেকে কমবেশি সবাই জানে। কিন্তু এর বাইরে মূল নিয়ামক ছিল ইউনুস সাহেবের সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালে প্রথম আমেরিকা গিয়ে বাইডেনের সাথে সাক্ষাত। সেখানে ইউনুস সাব বুঝায়ে দেন তাঁর বক্তব্যে যে তাঁর সরকার আমেরিকান পুরানা অপরাধে কথা তুলে সেখানেই আটকে থাকতে চায় না। ইউনুসের সরকার পজিটিভলি সামনে তাকাতে চায়। আর ইউনুসের এই কথা আসলে বাইডেন ও তার সাঙ্গপাঙ্গ ল্যু-সহ সকল স্টাফ শুধু না এমনকি আমেরিকান থিঙ্কট্যাঙ্ক, নীতিনির্ধারক গবেষক বা কর্তা সকলেই হাফ ছেড়েছিল যে আমরা তাদেরকে অভিযুক্ত করাতেই আটকে থাকতে চাই নাই! আসলে আমরাই বুদ্ধিমান হয়ে ” পজিটিভলি সামনে তাকানোর আমাদের নীতির” কথা জানিয়েছিলাম। কারণ, এটা না করলে আজ এদের সকলকে আমরা মোদির কোলে উঠে যেতে দেখতাম!  অর্থাৎ ইউনুসের কথায় আমেরিকান কথিত ডিপস্টেটের সকলেই জেনে যায় যে ইউনুস সাব তাদের মাফ করে সামনে আগাতে চাইতেছে। তাহলে রিয়েলিটি কী ছিল?
    বাইডেনের সাথে আমেরিকান সারা ডিপস্টেট-ই তো বাংলাদেশের হাসিনা সাথে সাথে পরাজিত ও উতখাত হয়ে যায়! ফলে কথিত ডিপ-স্টেটের এই নয়া জীবন লাভ এটাই সাধারণ ব্রিফিং হয়ে যায় আর সেই ব্রিফিং-ই ট্রাম্প এবার প্রেসিডেন্ট হবার পরে পেয়েছেন। তাই তিনি সহজেই ফুতকারে মোদি-হাসিনার বয়ান উড়ায় দিছেন। শুধু তাই না মনে করিয়ে দিয়েছেন ইন্ডিয়া গত শত বছর ধরে বাংলাদেশের উপর হেজিমনি-আধিপত্য কায়েমের চেষ্টা করে গেছে। মানে আমেরিকা সব দায় এখন ইন্ডিয়ার উপর চাপিয়ে দিয়েছে। যা নিয়ে আমাদের ব্যস্ত না হলেও চলবে!!!
    যদিও ডেইলিস্টার পুরানা র-এর এসাইন্ড দালালিতে মোদির হাতে ট্রাম্পের মাইক্রোফোন ছেড়ে দেওয়া বা বলার সুযোগ ছেড়ে দেওয়াকে খোদ বাংলাদেশকেই মোদির হাতে ছেড়ে দেওয়ার ইঙ্গিত  বলে  ভুল অনুবাদ করেছে!

    তাহলে দাঁড়ালো কী?
    এককথায়, মোদি-হাসিনার সব প্রপাগান্ডা মেশিন যে ৫ আগষ্ট থেকে সাজিয়েছিল এর সব ফেলড, পরাজিত!  ধর্ম না ন্যায়ের কল বাতাসেই নড় উঠেছে! ঘন্টা বেজে উঠে জানাচ্ছে সবাইকে!
    এতে মোদি-হাসিনার এতদিনের নিয়মিত মিথ্যা আশ্বাস যে এই তো আমেরিকা ইন্ডিয়ার পিছনে দাঁড়াবে আর ইন্ডিয়া-আমেরিকার যৌথ উদ্যোগে আবার হাসিনা ক্ষমতায় ফিরে আসবে!
    এই সাধারণ প্রপাগান্ডা লাইনের অধীনে আবার সাব-প্রপাগান্ডা বা উপ-প্রপাগান্ডা আরেক লাইন এসেছিল নভেম্বর ২০২৪ সালে যে মোদির ট্রাম্প ভাইয়া জিতে গেছে আর মোদি-হাসিনা, তাদের আর  চিন্তা নাই। ট্রাম্পের শপথের পরে এই তো মোদির ট্রাম্পের সাথে এবার দেখা হল বলে!!! হাসিনার সব দুঃখের অবসান হয়ে যাবে বলে মোদি-হাসিনা মিথ্যা আশা ছড়িয়েও প্রপাগান্ডা চালিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এখন সবই পরাজিত হল।
    এরপর জয়শঙ্কর যখন বুঝলেন ট্রাম্প এভাবে গলবার কোন সম্ভাবনা নাই!! মানে হল, এই পেশাদার কূটনীতিকও ট্রাম্পের নির্বাচনি ক্যাম্পেইনের সময় থেকে ঘোষিত নীতি পড়ে বুঝতে অক্ষম ছিলেন যে হবু ট্রাম্প প্রশাসনের মৌলিক নীতি হবেঃ
    ১। আমেরিকা ফার্স্ট
    ২। যেকোন দেশের উপর  ট্রাম্প  আমেরিকায় রপ্তানির উপরে ট্যাক্স বসাবেন

    এসব তো না বুঝার কিছু নাই!!! মানে মোদি-জয়শঙ্কর তবু না বুঝার ভান করে গেছিলেন! আর ভেবেছিলেন এবারের মোদির সফরে আমেরিকান অস্ত্র কিনতে আগ্রহ দেখালে বোধহয় ট্রাম্প মোদি-হাসিনার শয়তানিকে সমর্থন দিবেন। সেসব বোকার স্বর্গে বাস এখন ন্যাংটা হয়ে গেল!

    তাহলে, এখন আর কী হবে? 
    তাহলে, এখন আর কী হবে? ইম্পিকেশন[implication] বা পরিণতি-প্রভাব কী দেখব? জাতিসংঘের রিপোর্ট !!!

    ইতোমধ্যেই একটা মুখে মারা ঘটনাও ঘটে গেছে। মোদি-ট্রাম্প বৈঠকের আগেই জাতিসংঘের রিপোর্ট – গণহত্যার প্রাথমিক অনুসন্ধান রিপোর্ট প্রকাশিত হয়ে গেছে। যার সোজা মানে হল মোদি-হাসিনা এ’দুই দানব-দানবীই এখন দুনিয়ার চোখে আসামির নজরে! ফলাফল এই যে সারা আমেরিকাকে তো পাগলে তাড়া করে নাই যে এই অবস্থায় ট্রাম্প -এই মোদির সাথে – কোন সম্পর্ক জড়াবেন কোন সংসর্গে থাকবেন??? বরং যতটা সম্ভব মোদির ইন্ডিয়ার সাথে আমেরিকান সংশ্লিষ্ঠতা নাই তা দেখানোর ট্রাম্পের জন্য ভাল উপায় হল মোদিকে দূরে রাখা! ট্রাম্প এই নীতিই অনুসরণ শুরু করে দিয়েছেন!  আর এক্ষেত্রে আমরা – আমাদের ইউনুস সরকার কী সেটাই নিশ্চিত করেছেন, যাতে জাতিসংঘ রিপোর্টটা মোদি-ট্রাম্প সাক্ষাতের ঠিক আগের দিন প্রকাশিত হয়? হ্যা করলে করছেন! অসুবিধা কী? আমরা কোন অন্যায় অযাচিত তো কিছু করি নাই! চোরেরা ধরা পড়লে আমাদের আর কী করার আছে????

    তাহলে এখন কী হতে পারে?
    একটা দল এখন গণ-কেস [gone case]! হাসিনা ও তার লীগ আর উঠে দাঁড়াতে পারছে না! ফলে এটাই মানে, জাতিসংঘের রিপোর্ট টা প্রকাশের পরে এটাই আমাদের জন্য সবচেয়ে ভাল সময় যে, এই লীগ দল ও এর নেতাদেরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার। এমন কী জনগণ দেখতে চায় যে অন্য কোন কোন দল এর (লীগ নিষিদ্ধের) বিরোধিতা করতে চাইছে। আমরা দেখতে চাই কোন কোন দল এর বিরোধী। বুক ফুলিয়ে তারা সামনে আসুক!

    তাহলে অন্য আর দুইটাঃ
    আমার অনুমান বাংলাদেশের  হবু ক্ষমতায় যাবার আকাঙ্খি বিএনপি ও জামাত সহ অন্য যে কোন দল যারা ইন্ডিয়ার পকেটে কম-বেশি হাত ঢুকিয়ে চলে নিজেদের বুদ্ধিমান মনে করে এসেছে – তাদের জন্য কঠিন সিদ্ধান্ত নিবার শেষ সুযোগ এখনই! সেই ইস্যুটা হল, ট্রাম্প বা আমেরিকার মোদিকে ছুড়ে ফেলে দেওয়াটা – এটা কী তারা দেখতে পেয়েছেন? পেলেন?
    আমরা জানি না, তবে জেনে যাবো অচিরেই!

    এমন দলগুলো যদি নিজে বাঁচতে চায় তবে তাদের হাতে সময় থাকবে খুবই কম – বড় জোর আগামি সাত দিন!
    এমন দলগুলোকে দেখাতে হবে যে তারা কোন দুরতম সুত্রেও ইন্ডিয়ার উপর আর কোন আশা ভরসা রাখছে না। ইন্ডিয়ার সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্কও সে অনুসারে নাকচ ও তারা এখন দূরে চলে গেছে – এমনটা আবার মনে মনে করলে হবে না; পরিস্কারভাবে সাধারণ মানুষ যেন বুঝতে পারে এমন আচরণ – বক্তব্য তাদের সামনে আসতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা নিজ জনভিত্তি (নিজ রাজনীতি ও নিজ কনষ্টিটুয়েন্সিতে মনোযোগী) গড়তে যে তারা এখন থেকে মনোযোগী হয়ে গেছে এটা পাবলিকের সামনে নিদর্শন হাসির করে চলতে হবে তাদের।

    এখন এরপরেও ‘অতি- বুদ্ধিমান’ দল কেউ থাকতেই পারে! ধরে নিচ্ছি! যদি থাকে তবে তাদের গণবিচ্ছিন্নতার শেষের দিন গোনা শুরু করতে পারে তারা!
    আমার অনুমান এখন থেকে ইন্ডিয়ার সাথে যোগসুত্র থাকা বা রাখা যাদেরই আছে সেটা ঐ দলের জন্য পাবলিকের সামনে নেগেটিভ পয়েন্ট হিসাবে হাজির হবে।

    সারকথায় আগামি অন্তত একমাস এগুলাই বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের মূল ইস্যু হতে যাচ্ছে!

    আজ ভোর বা সকাল থেকেই অনেকেই আমাকে প্রশ্ন রেখেছেন – মোদি-হাসিনাদের দোকান কী এখন বন্ধ হবে?

    আমার স্থির ধারণাঃ হ্যা সেই সময় আজ সকাল থেকে শুরু হয়ে গেল! আমেরিকা অন্তত বাংলাদেশ ইস্যুতে আর মোদির ভারতের সাথে কথা বলবে না।
    আর এর প্রতিক্রিয়ায় খুব সম্ভবত মোদি-জয়শঙ্কর যদি  বুঝমান হন, এখনও কিছু বুদ্ধি-সুদ্ধি যদি তাদের বেঁচে গিয়ে থাকে তবে কত দ্রুত ইউনুসের নেত্বত্বের বাংলাদেশের  কাছে আসা যায় তাদের সে ততপরতা ও নীতি-পলিসি  অচিরেই দেখব আমরা!

    কিন্তু মোদি কী তাঁর আমেরিকা সফরের ম্যাসেজ পাঠ করতে পারবেন? হাসিনার হাত ছেড়ে দিয়ে বিদায় জানাবেন? সেসব দিকগুলো এখন থেকে পরের সাতদিনে তার নড়াচড়া দেখলেই বুঝতে পারব? তবে যেটাই করেন না কেন এই সতেরো বছর পরে বাংলাদেশ থেকে হাত গুটানো এক ইন্ডিয়া  দেখতে পাবো বলে আমার বিশ্বাস! সেই কাউন্টিং এর শুরু আজ থেকে!

    বাড়তি একটা ছোট ইস্যুঃ মাইলেল কুগেলম্যান
    Michael Kugelman, ইনি আরেকজন বাইডেনের সঙ্গী; ডোনাল্ড ল্যু এর মতই। যিনি ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্রাটেজি জবরদস্তিতে হলেও তা কাজ করছে সেটা দেখাবেনই যেন!!! এমনই গাধা ও গোঁয়াড়! কুগেলম্য্যানের এসাইনমেন্ট ছিল, আমেরিকান ম্যাগাজিন ফরেন পলিসি-তে সাপ্তাহিক কলাম লিখা। আর এর মাধ্যমে তিনি বাইডেন প্রশাসনকে সচেতন করতেন যে দক্ষিণ-এশিয়া থেকে ফিডব্যাক ইনফরমেশন ঐ কলামে লিখে দিয়ে। তাই গত ২০২১-২৩ সালে আমাদের দেশে বিরোধীদলের জমায়েতে বাস্তবেই লোক বেশি হয়ে গেলে উনি খামোখা তর্ক জুড়তেন – দশলাখের জায়গায় এক লাখ দাবি করে! কারণ, উনি জানতেন বাইডেন-ল্যু এর পলিসি হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুতি নয় বরং হাসিনার উপর চাপ দিয়ে তাকে চীনের হাত ছাড়তে বাধ্য করা যাতে এই কুচক্রিদের আসল স্বার্থ ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্রাটেজি সফল বলে দাবি করতে পারে। তাই, বাইডেন যে আগষ্ট-সেপ্টেম্বর ২০২৩ সালে পল্টি মারতে যাচ্ছেন তা ইনার লেখা থেকেই আঁচ করা যাচ্ছিল!
    যাহোক, সেই কুগেলম্যান এখন মোদি-ট্রাম্প বৈঠক নিয়ে টুইট করেছেনঃ

    In the trump-Modi presser, Trump was asked for his view on Bangladesh, and interestionly he dumurred, saying “I’ll leave Bangladesh to the Prime Minister”

    এই টুইটে আসল শব্দটা হল,  dumurred যার আসল অর্থ হল ‘আপত্তি’ বা ‘অনিচ্ছা দেখানো’। বলছেন, ভারতীয় সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাব দিয়ে ট্রাম্পের অনিচ্ছা দেখে তিনি মজা পাইছেন।
    আসলে কুগেলম্যানেরা মজা পান আর দুঃখই পান বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা আপনাদের সকলকেই হাসিনা-সহ উতখাত ও উপড়ে ফেলে দিয়েছে! সেটা পারলে স্বীকার করেন!!!

    সাথে আমেরিকান ডিপ্লোম্যাট জন ড্যানিলঃ
    সে যাই হোক, আরেক সাবেক আমেরিকান ডিপ্লোম্যাট জন ড্যানিল (এই নামে আমাদের এখানে বেশি পরিচিত) [Jon F Danilowicz]; তিনি একসময় বাংলাদেশে ডেপুটে এমব্যাসাডর ছিলেন। তিনি কিন্তু কুগেলম্যানদের মত ছলনা করে কথা বলার বিরুদ্ধে। তিনি ট্রাম্পের মোদির দিকে মাইক্রোফোন আগায় দেবার অর্থ করে টুটে লিখেছেন, যারা ভয় পেয়েছিলেন যে মোদি ট্রাম্পকে বাংলাদেশের ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর হতে ট্রাম্পকে রাজি করায় ফেলবেন তারা এখন আয়েসে নিঃশ্বাস ছাড়তে পারেন”। মানে জন বলতে চাইছেন, তাঁর মনে হয়েছে মোদি তা করতে পারেন নাই।
    এছাড়া তিনি আরো যোগ করেছেন, জাতিসংঘের রিপোর্ট [UN OHCHR report]  প্রকাশ আর ইউনুস সাহেবের ট্রাম্পের (এখনকার প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্টভাবে কাজ করা )  বন্ধু ইলন মাস্কের সাথে ফোনে কথা বলে ব্যবসায়িক আলাপ করা  – এদুই টা ইন্টারন্যাসনাল ফ্রন্টে বাংলাদেশকে অনেক আগিয়ে রেখেছে বলে জন বিশ্বাস করেন। এনিয়ে TBS পত্রিকার লিঙ্ক দেখতে পারেন এখানে।

     

     

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  দুপুর ০৩ঃ২০   ১৪ ফেব্রুয়ারি  ২০২৫

    সর্বশেষ আপডেটঃ  বিকাল ০৫ঃ ১১   ১৪ ফেব্রুয়ারি  ২০২৫

  • ইউনুস সাব কী রয়টার্স-কে শেষ ওয়ার্নিং-টা দিবেন?

    ইউনুস সাব কী রয়টার্স-কে শেষ ওয়ার্নিং-টা দিবেন?
    গৌতম দাস
    ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫    দুপুর ১৩ঃ ০৪
    https://wp.me/p1sCvy-6iV

     

    রয়টার্স আবার অসহ্য হয়ে উঠেছে। গতকাল আদানির বিদ্যুৎ নিয়ে রিপোর্ট ছেপেছে রয়টার্স – রুমা পালের কায়দায়।

    Exclusive: Bangladesh seeks full power supply restoration from Adani plant

    পাঠক জানেন, আদানির যেকোন প্রকল্প মানেই তা মোদির বকলমের দোস্ত ভারতের এক বিলিয়নিয়ার গৌতম আদানিকে সুযোগ সুবিধা দিয়ে ব্যবসা করানো যাতে সে বিজেপি দল চালানোর খরচের যোগানদাতা হন এই আদানি।  তবু ঘটনা টা এখনেই থেমে থাকে নাই। আদানির বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে হাসিবার বাংলাদেশকে খাতক বানিয়ে লুটে নিবার প্রকল্প এক্সটেন্ট করা হয়েছে। যাতে বিজেপি-আওয়ামী লীগ দল দুটা আর লীগ নেতাদের লুটপাটের অর্থ এখান থেকে আসে – মানে বাংলাদেশের জনগণের অর্থ লুট করা যায় বিদ্যুৎ কেনাকে কেন্দ্র করে। বিদ্যুৎ মানেই কোন বিদ্যুৎ না দিয়েই ক্যাপাসিটি চার্জের নামে খাড়া লুটপাট। এক্ষেত্রে এর উপর আছে বাজার দরের চেয়ে ৫৫% বেশি রেট […”Adani’s power costs Bangladesh about 55% more than the average of all Indian power sold to Dhaka… Reuters ] ধরা আছে আদানি বিদ্যুতের ক্ষেত্রে. আরো আছে  – দিল্লি মানে মোদি সরকার ট্যাক্স ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশে এই বিদ্যুৎ বিক্রির প্রকল্পে। অথচ সেই সুবিধা আমাদেরকে না দিয়ে আদানি নিয়ে চলেছে […Bangladesh’s interim government accused Adani of breaching the power-purchase agreement by withholding tax benefits that the Jharkhand plant received from New Delhi…… ] ।  তাই বাংলাদেশের হাইকোর্ট চলতি অন্তর্বর্তি সরকারকে আদেশ দিয়েছে এই প্রকল্পকে এক্সপার্টদের নিয়ে মূল্যায়ন করে ঐ চুক্তি সম্পর্কে রিপোর্ট দিয়ে যাতে এই চুক্তি থেকে বের হওয়া যায় আর বাংলাদেশের কারা কিভাবে এই চুক্তি করেছে তা উন্মোচিত করা যায়।

    এই নির্দেশ  নিয়ে সরকারের কাজ চলছে।
    আর এদিকে যতটা সম্ভব আদানি বিদ্যুৎ কম কিনে (অন্য সোর্স খুজে নিয়ে) চলতে পারা যায় এটাই গত কয়েক মাসে ইউনুসের বিদ্যুৎ উপদেষ্টা গৃহিত পলিসি। যাতে অন্তত ৫৫% সহ আর যত বাড়তি মূল্য বাংলাদেশের জনগণকে গুনতে হয় তা যত কম করে রাখা যায়। অন্তত চুক্তিটা এমনভাবে লেখা যে সহজেই কোন কৌশল পুর্ব-প্রস্তুতি স্টাডি না করে এচুক্তি বাতিল করলে উলটা ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে। এনিয়ে কাজ চলছে। এতে আদানির বিদ্যুৎ প্রকল্প অর্ধেক কাপাসিটি বন্ধ করে রাখা ছিল এতদিন।  তবু আবার চলতি ইউনুস সরকারের উপর বকেয়া এক বিরাট দায় হয়ে চেপে বসেই আছে। কারণ, তথাকথিত ক্যাপাসিটি চার্জ সহ জমে থাকা কোন  বকেয়াই হাসিনা সরকার শোধ করে নাই।

    ইতোমধ্যেই, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ ঘাটতিতে আছে যেতা শীওকাল বলে ততটা মারাত্মক হয়ে পাবলিক লেবেলে অনুভুত হয় নাই। কিন্তু সামনে গ্রীষ্মের কাল গরমে বিদ্যুৎ চাহিদা আরো প্রকট হবে। ইউনুস সরকারের ইচ্ছা রমজান মাসটায় আম-মানুষকে পণ্যমুল্যে যতটা সম্ভব স্বস্তি দেয়া ও প্রাপ্যতা বাড়ানো।  তাই অর্ধেক হয়ে থাকা আদানি বিদ্যুৎ ক্রয় সাময়িক (সম্ভবত তিনমাসের জন্য যেটা আবার স্পষ্ট করে উল্লেখও করা হয় নাই) বাড়ানোর জন্য  ইউনুস সরকার আদানি প্রকল্পকে জানিয়েছে।

    আর এটা নিয়েই শুরু হয়েছে রয়টার্স প্রপাগান্ডা। সাথে যোগ দিয়েছে প্রথম আলো, এমনকি এনটিভি সহ আরো অনেকে।
    আর প্রপাগান্দাটা হল যেন বলতে চায় এরা যে ১.  “দেখেছো, হাসিনার আদানি চুক্তি করা সঠিক ছিল!!”  ২. ইন্ডিয়া ছাড়া, বা তারা দয়া না করলে বাংলাদেশের গতি নাই। ৩.  সারকথায় হাসিনার ফ্যাসিজম ঠিক আছে, জাষ্টিফায়েড।

    যদিও এসব কথা তারা সরাসরি না লিখে খবর প্রেজেন্টেশনটা করা হয়েছে সেভাবে। যেমন রয়টার্স বুঝাই যায়, আদানি প্রকল্পের কাছে থেকে বাংলাদেশের চিঠিটা দেখে নিয়েছে। এরপর তারা কথা বলতে চেয়ে প্রশ্ন পাঠিয়েছে বাংলাদেশের পিডিবি এর প্রধানের কাছে। তিনি যতটা সম্ভব জবাব দিয়েছেন কিন্তু,  কেন বিদ্যুৎ ক্রয় বাড়াতে চাইছেন অথবা আদানি-বাংলাদেশ বিরোধ কী এতে মিটে গেল – এজাতীয় রয়টার্সের প্রশ্নের কোন জবাব দেন নাই; এড়িয়ে গেছেন।
    এটাই কী স্বাভাবিক নয়? কেন ইউনুস সরকার তার আদানি বিদ্যুৎ ক্রয় পলিসি যে কাউকে দিয়ে বলাতে দিবে অথবা দিবে না?

    আর বিপরীতে এখন এই পরিস্থিতিতে জবাব না দেওয়াতে যে – বেনিফিট অব ডাউট পেতে পারেন পিডিবি প্রধান – সেটা না দিয়ে রয়টার্স ইউনুসের বাংলাদেশ   হার মেনে গেছে বা আদানিকে মেনে নিয়েছে এমন ইঙ্গিত তৈরি করেছে। যেই রয়টার্সের নিরপেক্ষতা হারানো বা এতে এখান থেকেই অবজেক্টটিভ রিপোর্টার বা রিপোর্টং টা উধাও হয়ে গেছে।
    রয়টার্সের বলা উচিত ছিল যেখানে যে আবার বাংলাদেশ – বিদ্যুৎ ক্রয় বাড়াতে চাইছে – কেন? সেটা এখনই জানা যায় নাই। এতটুকু বক্তব্যই যথেষ্ট নিরপেক্ষ হতে পারত। কিন্তু তা অনুপস্থিত!

    আর এই রিপোর্টের অনুবাদ ছেপেছে প্রথম আলো ।  যদিও এই রিপোর্ট নিজেই লিখছে,…… “(বাংলাদেশ হাইকোর্টের আদেশে) ওই কমিটির প্রতিবেদন এ মাসে সামনে আসতে পারে। তখন আদানির সঙ্গে চুক্তিটি নিয়ে আবার আলোচনা শুরু হতে পারে বলে জানায় রয়টার্স”। তাহলে বাংলাদেশের পিডিবি এর প্রধানের কেন আবার বিদ্যুত কেনা বাড়াতে চাইছে এনিয়ে জল্পনা-কল্পনা ছড়ানোর তো কোন সুযোগই নাই!!!! যেখানে এটাই তো প্রমাণ কোর্টের নিদ্দেশের কাজ-ততপরতাও সমানে চলছে। যার সোজা মানে এই বিদ্যুৎ ক্রয় এক সাময়িক ব্যবস্থা। আর যতদিন আদানি সাথে চুক্তি বাতিল না হচ্ছে ততদিন বাংলাদেশের বিদ্যুৎ কেনা কমাতে-বাড়াতে কোন আইনি বাধা তো নাই! তাহলে???

    এসব কথা এখানে তোলার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ইন্ডিয়ান-রয়টার্স যে ইন্ডিয়ান সরকার ও (র-এর) অধীনস্ত ততপরতা করে এরই প্রমাণ! সেজন্যই কী এটা ইন্ডিয়ান-রয়টার্সের এক্সক্লুসিভ [exclusive]? মানে র-এর সাথে ইন্ডিয়ান-রয়টার্সের এক্সক্লুসিভ সম্পর্কের রিপোর্ট???

    কোন সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার অধীনে থেকে কী জার্নালিজম করা সম্ভবঃ
    হা, এটা এক অদ্ভুত জার্নালিজম; ইন্ডিয়ান সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার অধীনে থাকা এক জার্নালিজম এটা। তাও আবার রয়টার্সের মত এক গ্লোবাল নিউজ এজেন্সীর!  জার্নালিজমের কোন সংজ্ঞাতেই কোন সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার অধীনে থেকে সেটা আর জার্নালিজম হতেই পারে না! হা, এটাই রুমা পাল মার্কা জার্নালিজম! (র-এর) ছাপ মারা মার্কা জার্নালিজম!

    কবে থেকে এটা এমনঃ
    রয়টার্স [REUTERS] সারা দুনিয়ায় গ্লোবাল নিউজ এজেন্সীগুলো মধ্যে অন্যতম বিশ্বাসযোগ্য প্রতিষ্ঠানঅগুলোর মধ্যে একটা। কিন্তু সেটা ইন্ডিয়ান-রয়টার্সকে বাদ দিয়ে বলতে ও বুঝতে হবে!  তারা গ্লোবাল পরিসরে একটা স্টান্ডার্ড মেনে চলার চেষ্টা করে। কিন্তু দুঃখের কথা এটা ততধিক পতিত একটা নিউজ এজেন্সি যখন ও যেসব নিউজের এডিটিং ও এডিটিং ইন্ডিয়ান-রয়টার্স থেকে পরিচালিত হয়। আপনারা অনেকেই তাদের  রুমা পাল [RUMA PAUL] নামে এক রিপোর্টারকে একালে চিনেছেন, কথা শুনেছেন।  যে যেন এক র-এর কর্মচারী – এভাবে  কাজ-ততপরতায় লিপ্ত।
    যদিও যারা রুমা পাল-কে তার ততপরতাকে চিনে তারা জানে বাংলাদেশের সেই (২০২০) করোনা টিকা কেনার সময় থেকে। যখন তিনি মিথ্যা রিপোর্ট করেছিলেন।

    “চীন প্রথমে নাকি বিনা পয়সায় টিকা দিতে চেয়েও পরে অর্থ দাবি করাতে হাসিনার (বেক্সিমকোর  দরবেশকে সামনে দেখায়ে ৪০০ মিলিয়ন ডলারে) চীনকে ত্যাগ করে ইন্ডিয়ান টিকা কিনতে চাওয়া ঘটেছিল” –  এটা রুমার দাবি।  যদিও ঘটনাটা উলটা! র-এর পাল্লায় পরে হাসিনা দরবেশকে দিয়ে ঐ ৪০০ মিলিয়ন ডলারের ব্যবসার লোভে (বাইরে দেখানো হয়েছিল ব্যক্তি দরবেশ ইন্ডিয়া থেকে টিকা কিনে বাংলাদেশ সরকারকে তা বিক্রি করবে; অথচ হাসিনাই দেশের ব্যাংক থেকে ঐ ৪০০ মিলিয়ন ডলার যোগাড় করিয়ে দিয়েছিল) তখন বিনা পয়সার চীনা টিকা কিনপ্তে ছুটেছিল। ইন্ডিয়া বা (-র-) ভেবেছিল এতে চীন-হাসিনা সখ্যতায় ছেদ ঘটিয়ে ফেলবে; হাসিনাও ৪০০ মিলিয়ন ডলার এর লোভে ইন্ডিয়ার পরিকল্পনায় পা দিবে। শেষ কপাল খারাপ রুমা, র-এর কর্তাদের আর খোদ হাসিনার যে ইন্ডিয়া টিকা সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়েছিল। আর হাসিনাকে তখন পাগলের মত চীনের কাছেই ফিরে গিয়ে হাত-পা ধরে নতুন চুক্তিতে (চীনকে স্ট্রাটেজিক সুবিধা দিবার বিনিময়ে) টিকা পেতে হয়েছিল।

    সারকথায়, রুমা পাল হল সেই এলিমেন্ট যে আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বরাতে মিথ্যা রিপোর্ট ছাপিয়ে  র-এর পরিকল্পনার অংশ হয়েছিল।

    কিন্তু কেন এমন হচ্ছেঃ
    কেন রয়টার্সের মত গ্লোবাল নিউজ এজেন্সী ইন্ডিয়াতে এসে কেন এমন বদনাম কামাতে হয়?

    অনেকের কাছে ব্যাপারটা মিলে না বা রহস্যজনক মনে হতে পারে! কিন্তু আসলে ব্যাপারটা একেবারেই সোজা! পশ্চিমা হোয়াইট স্টাফের তুলনায় ইন্ডিয়ান স্টাফ কম পয়সায় ম্যানেজমেন্ট স্টাফ বা কর্মচারি কেনা যায়, রিক্রুট করা যায়।  সময় একজন হোয়াইট ককেশীয় স্টাফের তুলনায় ইন্ডিয়ান স্টাফ ১০ঃ১ অনুপাত কমে রিক্রুট করা যায়। তাই রয়টার্স বোর্ড-মালিক ম্যানেজমেন্ট প্রাইমারি রিপোর্টার সব ইন্ডিয়ান; মানে ফিল্ড রিপোর্টার যেই হোক যে দেশেরই ঘটনা হোক না কেন এটা ইন্ডিয়ার হায়দ্রাবাদের-রয়টার্সের অফিসে বসে তা সংকলন করে দেয় ইন্ডিয়ান স্টাফ। পরে সে মেলে এডিটিং এর জন্য কোন পশ্চিমা-রয়টার্সের অফিসে পাঠিয়ে দেয়। আর সেই অফিস থেকেই এডিটিং শেষে সেটা রয়টার্সের সার্ভারে আপলোড হয়।  এটা আপনিও বুঝতে পারবেন যদি আপনি রয়টার্সের যেকোন রিপোর্টের শেষে কোন কোন ব্যক্তি এতে কাজ করেছে জড়িত ছিল এই অংশটা স্টাডি করেন। রয়টার্স যে টা মেনটেইন করে তাহল যে কোন রিপোর্টের শেষে সংশ্লিষ্টদের সবার পরিচয় উন্মুক্ত করে সেখানে (মাস্ট) দিয়ে রাখে তবে তাদের ফরম্যাটে।

    Reporting by Krishna N. Das in New Delhi; Editing by Jacqueline Wong and Sonali Paul

    উপরের এই স্টাইলটা মনে রাখতে পারেন।

    কেন রয়টার্স (র-এর) শিকারে পরিণত হয়ঃ
    উপরে আমরা দেখলাম কেন ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি বা এজেন্সি ইন্ডিউ=ইয়ান স্টাফ নির্ভরশীল হয়ে যেচে। কেন সুন্দর পিচাই [Google CEO Sundar Pichai] গুগলের টপ পোস্টের অধিকারি হয়ে যান!  কিন্তু সেখানেই শেষ না। এর পর শুরু হয়, “র” কিভাবে এখান থেকে সব রস বের করে নেয়!  অর্থাৎ রয়টার্স স্বনামধণ্য গ্লোবাল নিউজ এজেন্সী হলেও ওর স্টাফের এক বিরাট অংশ ইন্ডিয়ান ফলে ইন্ডিয়াতে রয়টার্সের অফিস বেশ বড়।
    এবার ইন্ডিয়ান সরকার একতা শর্ত আরোপ করে রেখেছে এধরণের অফিস খোলার উপরে  যে নিউজ মিডিয়া বা হিউম্যান রাইটের অফিস ইত্যাদি পশ্চিমা সংস্থা যেই হোক তাকে ইন্ডিয়ায় বসে কোন পাবলিক রিপোর্ট করতে চাইলে তা ইন্ডিয়ান সরকারের ফরেন পলিসিবিরোধী বা এর সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারবে না। আর সাংঘর্ষিক হবে কিনা তা (এসব বিদেশি প্রতিষ্ঠান) তাদেরকে নিজ উদ্যোগে আগাম ইন্ডিয়ান ফরেন অফিস [MEA, Ministry of external Affairs] থেকে জেনে নিতে হবে। আর এই জেনে নিতে গিয়েই তারা ধরা খায়। তারা ইন্ডিয়ান সরকারের (র-এর) ভাষা, শব্দ ও স্বার্থের ক্যারিয়ার বা বহনকারি হয়েই এই শর্তে রিপোর্ট করতে বাধ্য হয়।
    আর এসব বিদেশি প্রতিষ্ঠান ব্যাপারটাকে পজিটিভ বা অনুগত ভাবে দেখতে-করতে মানে, আইন-মানা এক ইন্ডিয়ান-রয়টার্স হিসাবে হাজির হতে চেয়ে এবার ইন্ডিয়ান-রয়টার্স তাদের রুমা পাল নামের স্টাফের জন্ম দেয়।  অথবা আমেরিকান বিরাট ক্ষমতাধর হিউম্যান রাইট ওয়াচ(HRW)  ইন্ডিয়ায় এসে তাদের স্টাফ মীনাক্ষী গাঙ্গুলি র মত (র-এর) দালাল বা বিড়াল এক স্টফের জন্ম দেয়!

    ইন্ডিয়ান সরকারের ফরেন পলিসিবিরোধী বা এর সাথে সাংঘর্ষিক রিপোর্টিং যদি নাই করা যায় তবে কোন জার্নালিজম বা কোন স্বাধীন ইউম্যান রাইট রিপোর্ট কী সম্ভব???? 

    আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাঃ
    ঘটনাচক্রে আমি সরাসরি বহু আগে থেকেই রুমা পালকে নিয়ে রয়টার্সের সাথে কথা বলেছিলাম। পরিস্কার করে জানিয়েছিলাম, আমি অন্য কোন কথা শুনতে চাই না। রয়টার্স বাংলাদেশ কাভার করতে চাইলে তা ইন্ডিয়ান-রয়টার্সের মাধ্যমে বা অধীনস্ততা থেকে বের করে আনুক! এতে হা দেখছি জাতীয় নন-কমিটাল জবাব ছাড়া কোন ফলাফল হয় নাই। এই প্রথম সাবেক এএফপি [AFP] এর শফিকুল আলম বুঝতেছে তারই ভায়রাভাই” রয়টার্স-ইন্ডিয়া আর তার রুমা পাল কী জিনিষ!  এটা এখন একমাত্র কিছু সম্ভব ইউনুস সাহেব যদি হস্তক্ষেপ করেন।  রয়টার্স-কে ডেকে যদি আমাদের আপত্তি ও স্বার্থ মানতে বাধ্য হতে বলেন। নইলে বাংলাদেশের কোন স্থানীয় মিডিয়া রয়টার্সের কোন নিউজ কিনতে / ছাপতে পারবে না বলে নোটিশ জারি করবেন বলে জানিয়ে দিতে পারেন!

    এখন সবকিছু ইউনুস সরকারের একশনের উপর নির্ভর করছে। রয়টার্স কে অবশ্যই ইন্ডিয়ার বাইরে থেকে বাংলাদেশ নিয়ে রিপোর্টিংয়ে বাধ্য করতে হবে! 

     

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   ফেব্রুয়ারি  ২০২৫

    সর্বশেষ আপডেটঃ  ফেব্রুয়ারি  ২০২৫

  • কারা NDI-IRI, আর জিল্লুরের CGS এর সাথে এর সম্পর্ক কী?

    কারা NDI-IRI, আর জিল্লুরের CGS এর সাথে এর সম্পর্ক কী?
    গৌতম দাস
    ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
    https://wp.me/p1sCvy-6iE

     

     

     

    NDI-IRIএরা নাকি এক গবেষণা-জরিপ করে পেয়েছিল যে হাসিনা আবার ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি নির্বাচনে আবার বিজয়ী হবে। 
    —” A national survey by International Republican Institute found that Sheikh Hasina remains Bangladesh’s most popular leader
    18-08-2023″ লিঙ্ক এখানে, 
    এই কথিত সার্ভের রিপোর্ট তারা বের করেছিল ১৮ আগষ্ট ২০২৩ সালে। এভাবে হাসিনার প্রতিটা চোরা নির্বাচনের আগে এরা কথিত জরিপ রিপোর্টে বের করে গেছিল। 

    চোর ধরা পড়েছে। এখন মিলিয়ে নেন। এই বাটপার এর কাজ দেখেন নিচের লিঙ্কে।
    আর এই বাটপারি যা আসলে আমেরিকান এনজিও আর ইন্ডিয়ান র-এর মিলিত এক উদ্যোগ।
    চোরের নাম IRI [International Republican Institute ]। অনেক সময় একে পাবেন NDI [National Democratic Institute] এমন নামে।
    অনেক খুজে বের করতে হল।
    https://www.ndi.org/who-we-are

    মূল সহায়তাকারি NED – এই নামের আরেক আমেরিকান এনজিওঃ
    আমেরিকান ফান্ড আনার ব্যাপারে মূল সহায়তাকারি হল, THE NATIONAL ENDOWMENT FOR DEMOCRACY [NED]; এটা আমেরিকায় নিজে থিঙ্কট্যাঙ্ক হলেও ইন্ডিয়াতে ২০০৭ সালের পরে এসে এনজিও হিসাবে রেজিষ্ট্রেশন নেয়।
    সাথে আন্ডারহ্যান্ড ডিল হল,  ইন্ডিয়ান -NED আবার NDI-IRI এর অর্থ আমেরিকা থেকে ইন্ডিয়ায় এনে দেয়। মানে ইন্ডিয়া NDI-IRI  কে কোন কারণে, ইন্ডিয়ায় অর্থ আনার অনুমতি দেয় নাই।
    আর এখান থেকে এই ফান্ড রিপ্যাকেজিং হয়ে NDI-IRI এর ফান্ড নামে কিন্তু র-এর সাথে যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে পরিচালিত হয়। এক কথায় এটা এক বড় র‍্যাকেট! সুইডেন ভিত্তিক এক মিডিয়া এভাবেই চলে National Endowment for Democracy (NED) এর অর্থে।

    এরা ইন্ডিয়ান র-এর সাথে যৌথ ততপরতা শুরু করেছিল ২০০৭ সালের ১/১১ এর পরে যখন আমেরিকা বাংলাদেশকে ইন্ডিয়ার হাতে তুলে দিয়েছিল। তবে  NED অথবা NDI-IRI  এরা ঠিক আমেরিকান সরকারী উদ্যোগ নয়; আমেরিকান এনজিও-নন প্রফিট গ্রুপের নামে উদ্যোগ। তাই আমেরিকান সরকার জানে না টাইপের এড়িয়ে যেন যেতে পারে এমনই এক আমেরিকান এনজিও আর র-এর মিলিত উদ্যোগ।

    কিন্তু ২০১৬ সালের পরে মানে ট্রাম্পের আমলে ২০১৭ সাল থেকে বাকি সব এনজিও গুটিয়ে গেলেও কিছু এমন এই যৌথ প্রযোজনা NDI-IRI থেকেই যায়। যার মাধ্যমে র-এর ততপরতা চলছে বাংলাদেশে।

    জিল্লুরের CGS এই এনজিও দোকানটা এই গ্রুপের।
    https://cgs-bd.com/#
    CGS জানিয়েছে, NDI ওর পার্টনার সংগঠন।
    https://cgs-bd.com/articles/106/PARTNERS

    অনুমান করা হচ্ছেঃ
    NDI-IRI ফান্ডের জোরে জিল্লুরের গলা চড়তেছে। জিল্লুর নতুন বাংলাদেশ চায় না। বাংলাদেশ তালেবানী রাষ্ট্র হয়ে গেল – ইত্যাদি এসব বলে সে নিজেই বিএনপির এক নয়া সালাউদ্দিন আহমেদ  (যখন ইতোমধ্যেই সালাউদ্দিন হতাশ হয়ে থেমে গেছে) হয়ে উঠতে চাইছে!  ইন্ডিয়ান কনসার্ণ, স্বার্থ যেন তাকে এতই চাপ দিয়ে ধরে রেখে তাড়িত করতেছে!
    No description available.

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   ফেব্রুয়ারি  ২০২৫

    সর্বশেষ আপডেটঃ  ফেব্রুয়ারি  ২০২৫