Category: BANGLADESH

  • আবার দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

    আবার দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য
    গৌতম দাস
    ৩১ আগষ্ট ২০২৪
    https://wp.me/p1sCvy-5Jg

     

     

    যে একবার ভারতের দালাল সে সব সময় এমনকি সব দুনিয়াতেই দালালি-ই করার সুযোগ খুঁজবে!
    আমি বারবার বলেছি আর  এটা এখন আমার ধারণা যে নতুন সরকারও এটা বুঝে গেছে যে খেলাপি ঋণ চোর খাতকদের গলায় গামছা পেচিয়ে আদায় করা ভিন্ন পথ নেই। কারণ টাকা ছাপিয়ে হাসিনার মত চোরের সমাধানের পথে যাওয়াটা হবে আত্মহত্যা। এটাই দুর্ভিক্ষ ডেকে আনার পথ হবে। মুদ্রাস্ফিতির চাপে গরীব তো বটেই মধ্যবিত্তও সব খাবার কিন্নতে না পেরে মারা যাবে।

    কাজেই বর্তমান ইউনুস সরকারও ব্যাপারটা অনুভব করেছে যে দেশে-বিদেশে থেকে চোর আর ঋণ খাতকদের থেকে অর্থ আদায় এটা এনফোর্স করা ছাড়া বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ভিন্ন পথ নাই। আমাদেরকে ডেসপারেট হলেও হতে হবে; উপায় নাই।

    সেসব সুত্রে গত ২২ আগষ্ট লিখেছিলাম,

    রেহমান সোবহান- দেবপ্রিয়দের সিপিডি (CPD) একটা ভারতীয় স্বার্থের প্রতিষ্ঠান
    অথচ, ইউনুস তাদেরকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থার ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশ এর দায়িত্ব দিয়েছে।
    রেহমান সোবহান- দেবপ্রিয়দের সিপিডি এর এখন উচিত হবে ২০০৪ সাল থেকে বিগত ২০ বছর যত ভারতীয় দালালি এরা নিজেরা করে গেছে এরই শ্বেতপত্র প্রকাশ করা।আমার বক্তব্য আমল পায় নাই। প্রথম আলোর বক্তব্য – অর্থনৈতিক অবস্থার ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশ করা হবে, কমিটির নেতৃত্বে দেবপ্রিয় – এটাই বাস্তবায়িত হয়েছিল। দেবপ্রিয় এর নেতৃত্বে ১২ জনের এক কমিটিও গঠিত হয়েছে।এই গরীবের কথা বাসি হওয়ার পরে ফলেছে।  এনিয়ে আমার আগের লেখার লিঙ্ক এখানেপাবেন। আমি সেখানে প্রমাণ দিয়েছিলাম ২০১১ সাল একচুয়ালি ২০০৭ সাল থেকেই বাংলাদেশ যেন ভারতকে করিডোর দেয় এই দিবার পক্ষে কাছা খুলে দালালি শুরু করেছিল রেহমান সোবহান ও দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ও তাদের  (র-এর অর্থ ছাড়া) অচল সিপিডি [CPD] প্রতিষ্ঠান।
    আর সেই সিপিডির দেবপ্রিয় কেই ইউনুস সাহেব স্বেতপত্র প্রকাশ কমিটির প্রধান করেছেন। এনিয়ে ব্যক্তিগতভাবে কিছু ক্ষমতাবান লোকের সাথে আমাকে সংঘাতে পর্যন্ত যেতে হয়েছে; সম্পর্ক ভেঙ্গে দিতে হয়েছে। তাদের বক্তব্য আমি নাকি ওভার রিয়াক্ট করছি। কিন্তু এখন কী হল?২৯ আগষ্ট দেবপ্রিয় চেহারা দেখিয়েছেনঃ
    গত ২৯ আগষ্ট ছিল দেবপ্রিয়সহ ও ১২জনের কমিটির প্রথম মিডিয়ার সামনে হাজির হবার দিন।
    দেবপ্রিয় কোন রাখডাক আর করেন নাই। সারকথাটা বলেছেন যে, হাসিনা ও তার পরিবার এবং মন্ত্রী-উপদেষ্ঠাসহ পুরাগুষ্ঠি যা কিছু  অর্থ বিদেশে নিয়ে গিয়েছে তা আর ফেরত আনা সম্ভব নয়।অনেকের মনে হতে পারে দেবপ্রিয় ঠিক কী বলেছিল তা জানা দরকার। হা আমারও তাই ইচ্ছা। তাই এখানে NTV এর প্রচারিত ঐদিনের মিডিয়া রিপোর্টের ক্লিপ পাঠক নিজে মনোযোগ দিয়ে পড়ে নেন।

    ভিডিওও টা সবাই নিজে দেখে নেন। এরপরেও ওর ট্রান্সক্রিপ্ট আমি যা বের করেছি তাও এখানে দিয়ে দিচ্ছিঃ

    দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা খুবই জটিল প্রক্রিয়া। মানে বলতে চাইলেন এই অর্থ প্রায় ফেরত আনা যাবে না।
    এনিয়ে NTV এর ভিডিও ক্লিপ সাথে দিয়েছি সবাই নিজে খুলে শুনে নেন।
    এইটা একটা অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া। এই টাকা থেকে যে ঐ বাড়িটা কেনা হয়েছিল ঐ দেশে ওই সময়ে এইটাকে লাগানো ফিট করা এত্তো সহজ নয়। এইটা আনার ক্ষেত্রে যে আইনানুগ চুক্তি থাকে সব দেশের সাথে আমাদের সেই চুক্তিগুলো যথোপযুক্তভাবে নেই। তৃতীয়ত ঐ চুক্তিগুলো কার্যকরভাবে ব্যবহার করার জন্য আইনজীবী থেকে শুরু করে আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞ ইত্যাদি সেই দক্ষতাটুকুও আমাদের নাই।

    এরপরেও অনেকের মনে হতে পারে এত খোলাখুলি তিনি কেমনে বলেন।
    তাই তাদের জন্য, দেবপ্রিয়ের শেষ কথাগুলোঃ
    “তিনি বলেছেন সরকারের লক্ষ্য হওয়া উচিত ভবিষ্যতে যেন অর্থপাচার আর না হয় এবং পাচারকারীদের যেন সর্বোচ্চ শাস্তি হয়”।

    অর্থাৎ এবার এই কমিটি অর্থ ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে তারা কিছুই করতে পারবেন না।  আগামিবার মানে পরের কোন হবু চোর সরকার একই কাজ করলে যাতে সে অর্থ ফেরত আনা যায় সেই ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে চান দেবপ্রিয়!

    দেবপ্রিয়ের এটা খুবই এক স্টুপিড বক্তব্যঃ
    হ্যা, এটা আসলেই দেবপ্রিয়ের এটা খুবই এক স্টুপিড বক্তব্য। কারণ, তিনি নিজেই এই কমিটি গঠনের ন্যায্যতা কী সেই প্রশ্ন নিজেই তুলে ফেলেছেন!
    প্রথমতঃ কোন সরকারের কোন সরকারী কমিটি গঠন (তদন্ত বা স্বেতপত্র প্রকাশের লক্ষ্যে) কোন ফাজলামির বিষয় না। এতে ম্যান্ডেট বা উদ্দেশ্য লেখা থাকতেই হবে, হয়।  কাজেই কমিটি গঠন হয়ে যাবার পরে কমিটিরনেতা কমিটির উদ্দেশ্য-ম্যান্ডেট বা কাজের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন করছেন কেন?
    অথচ দেবপ্রিয়ের বক্তব্য ইউনুসের উদ্দেশ্যকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
    কারণ, দেবপ্রিয়কে প্রধান করে ইউনুসের গঠন করে দেয়া এই কমিটি অর্থ ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে তারা কোন কিছুই যদি নাই করতে পারে তবে ইউনুস সরকারের এই কমিটি গড়ার দরকার কী?
    সেক্ষেত্রে এই যে ১২ জনের কমিটি এদের পিছনে যদি সরকারী একটা পয়সাও খরচ করা হয় সেটাই তো অপচয় হবে, নাকি?তাহলে যে প্রশ্নের সম্মুখীন ইতোমধ্যেই ইউনুস সরকার হয়ে গেছেন বা দেবপ্তারিয় সাহেব করে দিলেন তা হলঃ
    ইউনুস সাহেব কেন এই কমিটি গড়তে গেলেন যারা যোগ্য বা কম্পিটেন্ট না? যারা বলছে এটা কঠিন প্রায় অসম্ভব কাজ! মানে তাঁরা কিছু করতে পারবেন না। তাহলে তারা এখানে কেন?
    এছাড়া এবিষয়টা মানে দেবপ্রিয়ের বক্তব্য কী কমিটির সবার বক্তব্য?   না কেবল দেবপ্রিয় সাহেবের? তা জানা জনগণের দরকার আছে।
    আর এটা তো এখন সন্দেহজনক যে কমিটির উদ্দেশ্য কমিটির সদস্যরাই পরিস্কার জানেন কি না! তাহলে এটা কোন দায়সারা কমিটি?এজন্যই  দেবপ্রিয়ের নেতৃত্বে যারা হাসিনা সরকার ও ভারতের দাবিদারি করে গেছে শুরু থেকেই তাদেরকে দিয়ে কোন কমিটি গড়াকে প্রশ্ন করেছিলাম!
    অথচ পুরা বাংলাদেশের জনগণের দিক থেকে অর্থ পাচার ও খেলাপি ঋণ চোর দেরকে গলায় গামছা দিয়ে আদায় আমাদের জন্য মরা-বাঁচার ইস্যু!
    যেদিকটা দেবপ্রিয়ের বক্তব্যে কোথাও প্রতিফলিত হয় নাই!আর কত? আমরা কী আবার দেবপ্রিয়দের হাতে বারবার পরাজিত হব, ট্রাপড হতেই থাকব?

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ     আগষ্ট ২০২৪
    শেষ আপডেটঃ  আগষ্ট ২০২৪

  • একজন শেখ রোকন: লেখক ও গবেষক; সহযোগী সম্পাদক, সমকাল

    একজন শেখ রোকন: লেখক ও গবেষক; সহযোগী সম্পাদক, সমকাল
    গৌতম দাস
    ২৬ আগষ্ট ২০২৪
    https://wp.me/p1sCvy-5HS

     

    শেখ রোকন, সমকাল


    সরি সরাসরি নাম ধরেই বলতে হল।  তিনি কবে সমকালে ঢুকে গেছেন আমি খেয়াল করি নাই।  কিন্তু এখন মানে হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির আশপাশের কালে সর্বক্ষণ তিনি; ওদিকে চোখ ফেলতে না চাইলেও চোখে পড়ে যাচ্ছেন। কারণ, তিনি যে কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলতা এখন তলানিতে ঠেকেছে সেখানেই মুক্তি খুঁজছেন। তাদের এখনও ত্রাতা ভাবছেন!
    তিনি হয়ত কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলতায় গভীর আস্থা রাখেন। তা রাখেন তাতে নতুন অসুবিধা নাই। সেটা ব্যক্তিগত পছন্দ! কিন্তু সাথে সময়কাল সংক্রান্ত জ্ঞান না থাকলে তা আত্মঘাতি। এই সময়কালটা হল, হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির আশপাশের কাল। হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি উত্তরকালে কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলরা এবার আর নিজেদের নয়া পরিচয়ের কোন নৌকা ভাসাতে ব্যর্থ হয়েছে অথচ এটাও আপনি খেয়াল করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাই তবু সেই তাদেরকেই [কমিউনিস্ট-প্রগতিশীল] যারা নিজেরাই নিজেদের অতলে হারিয়ে ফেলেছেন সেখানেই আপনি এখনও মনিমুক্তা খুঁজছেন!   ঠিক যেমন ২০০৯ সালে হাসিনা উত্থানের যুগের শুরুতে এই গোষ্ঠি তারা কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলতায় হাসিনার গুম-খুনের রাষ্ট্র বানানোটাকে মুক্তিযোদ্ধা শ্রেণীর  চেতনা পক্ষে কাজ গণ্য করে এর পক্ষেই মানে হাসিনার ক্ষমতার পক্ষেই সাফাই যোগাড় কর্তা হয়ে হাজির হয়েছিলেন; শাহবাগে জড়ো হয়েছিলেন! ঠিক সেভাবেই আবার হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির কালেও আবার নৌকা বদলাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মানুষ এদেরকে ২০১৩ সালে তাদের শাহবাগী প্রকল্পের কালেই তাদের চেহারা দেখে ফেলেছিল। তাই হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির কালেও তারা এবার আর কোন নৌকাতেই উঠতে পারেন নাই।
    অথচ আপনি নিয়মিত এদেরকে নয়া (যদিও তা সেই পঁচা) উপস্থাপনাই হাজির করার জায়গা করে দিয়ে চলেছেন! কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলতায় আপনার ভক্তি যাচ্ছেই না; অথচ এই অতিভক্তির খেসারত শুধু আপনি না দেশের মানুষ তো বটেই সাথে আপনার পত্রিকার স্টাফ ও মালিক সকলকেই বইতে হবে। কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলতা গত শতকেই (মানে ২০০০ সালের আগেই) মৃত হয়ে গেছে। তবে এটা মোটা দাগে বলা কথা! একচুয়ালি এটা আনুষ্ঠানিকভাবে মরে গেছে ১৯৯১ ডিসেম্বরে; প্রতীকীভাবে বললে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাবার পরে।
    একথাটা বাংলাদেশিদের বুঝবার জন্য সহজ করে বলি।

    মনিসিংহ-খোকা রায় এসব জমিদার-সন্তানদের হাত ধরে ১৯৪৮ সালে শুরু হওয়া পুর্ব-পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টির (যেটা এখন মূলত সিপিবি নামে) কথা কমবেশী সকলেই জানেন। যেটা একালে মানে ১৯৯১ সালের পরে ভেঙ্গে যাওয়া একাংশ মুজাহিদুল সেলিম বা প্রিন্সদের অংশকে কেবল আপনারা দেখতে পান। অপর অংশ মানে যারা অন্তত এখনও পার্টির সম্পত্তিতে তৈরি হওয়া বহুতল ভবনের অপর অংশের মালিক; এরা এখন কোথায়? এর উত্তরে এটুকু বলা যায় এই অংশ আর সেলিম- মঞ্জুরুলদের মত আরেক সিপিবি’র  কোন ‘কমিউনিস্ট পার্টি’ খুলে নাই। কেন?
    পঙ্কজ ভট্টাচার্য, অজয় রায়েরা কোথায় হারিয়ে গেলেন? আগে যে রীতি চালু ছিল যে বাংলাদেশে হিন্দুরা জন্মানো মাত্রই পরিবারসহ নিজেকে ‘কমিউনিস্ট’ গণ্য করত; এই রীতিতে ছেদ পরেছিল তাতে! কিন্তু কেন?
    এখানেই উত্তর পাবেন কেন জমিদার-সন্তানদের হাত ধরে ১৯৪৮ সাল থেকে নতুন করে “পুর্ব-পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি” শুরু হয়েছিল। মূল ঘটনা হল, পাকিস্তানের জন্ম মানেই কার্যত জমিদার উচ্ছেদ হয়ে যাওয়া – জমিদার-হিন্দু আধিপত্য ও  দুশ বছরের জমিদারি রুস্তমি খতম তাদের শাসন উচ্ছেদ – এটাই ঘটেছিল। এরই লিগাল বা আনুষ্ঠানিক উচ্ছেদ হল পুর্ব-পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে ১৯৫০ সালের জমিদার উচ্ছেদ আইন আনা। যেটা ১৯৫১ সালের আগষ্ঠে অনুমোদিত বা আইনে পরিণত হয়েছিল। আর এতে ক্ষুব্ধ জমিদার-হিন্দুরা এটাকে দেখেছিল এতদিন যাদেরকে তাঁরা পায়ের নিচে দলে  রেখেছিল সেই মুসলমানদের মাথা তুলে দাঁড়ানো। অন্যভাষায়, সেই থেকে – ইসলামই তাদের এনিমি বা স্থায়ী শত্রু। আর একারণে ইসলাম কোপানো (ধর্ম কোপানোর সুবিধা একমাত্র কমিউনিস্ট হলেই পাওয়া যেতে পারে বিবেচনা থেকেই) এই সুবিধা পাবার লোভ থেকেই জমিদার সন্তানেরা কমুউনিস্ট হয়ে গেছিল। না হলে মানে এরা নুন্যতম সাচ্চা কমিউনিস্ট হলে তো সবার আগে জমিদারী উচ্ছেদের পক্ষে তাদের কমিউনিস্ট পার্টির (চীনপন্থি অংশসহ সকলের) অন্তত একটা রেজুলেশন থাকত! তা নাই কেন? সিপিবি’র জবাব দেয়া উচিত!

    ভুমি মালিকানা ব্যবস্থা নিয়ে খোদ কার্ল মার্কসের মৌলিক অবস্থান কী? তা কী এসব হিন্দু-কমিউনিস্ট এরা কখনও পড়ে দেখেছেন? কোন প্রমাণ নাই তাই মনে হয় না। অথচ মার্কস মনে করেন, জমিতে যেকোন (মানে জমিদারিসহ) মালিকানা ব্যবস্থা থাকা মানে ক্যাপিটালিজম বিকাশের পথ রুদ্ধ করা; মানে মার্কসের মূলকথা তাদের ভাষায় “পুরানা ফিউডাল সম্পর্ক”  বা সামন্তবাদ থেকে যাবে; যেমন, জমিদারতন্ত্র বিলুপ্ত হবে না এতে।
    অথচ এই জমিদার নন্দন কমিউনিস্টেরা  আমাদের ইলা মিত্রের (কমিউনিস্ট হবার পরেও) তেভাগার গল্প শুনায় যার স্বামী (পুরানা) রাজশাহীর এক জমিদার ছিলেন। আসলে, কে জমিদার ছিলেন না?
    প্রমথ চৌধুরী, কিশোরগঞ্জের জমিদার নীরোদচন্দ্র চৌধুরী (আত্মঘাতি বাঙালির লেখক)?

    আবার এদের কান্ড দেখেন,  জমিদার-হিঁন্দুর ১৯০৫ সালের “বঙ্গভঙ্গ বিরোধী” আন্দোলন নাকি পুর্ববঙ্গের স্বার্থে! অথচ প্রকৃত ঘটনা এর উলটা। সুর্য সেন ছিলেন, জমিদার-হিঁদুর স্বার্থের লেঠেল বা লাঠিয়াল! প্রীতিলতা বা কল্পনারাও তাই! অথচ তাদের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল!!!  এর বিরুদ্ধেই পরের বছর ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগের জন্ম হয়েছিল। সত্যি কথাটা হল,  পুর্ববঙ্গে জমিদার উচ্ছেদ এর কাজ শুরুর ক্ষেত্রে এক নম্বর প্রথম বীর হলেন হাজী শরীয়তুল্লাহ! এনিয়ে আমার লেখা পড়ে নিতে পারেন! অরিজিনালি লেখাটা প্রথম ছাপা হয়েছিল ২০১১ সালে।

    হাজী শরীয়তুল্লাহ ও গণ-প্রতিরোধ
    গৌতম দাস
    আগস্ট ১২, ২০১৬
    http://wp.me/p1sCvy-1EO

     

    তাই এককথায়, ইসলাম কোপাতেই আর পুরানা জমিদার-হিন্দুর হারানো আধিপত্য যতটা পারা যায় ফিরিয়ে আনা ঘটাতেই ১৯৪৮ সাল থেকে আমাদের এদিকে  “পুর্ব-পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টির” গঠন হয়েছিল। আর তা থেকেই ১৯৪৯ সালে আওয়ামী লীগের জন্ম!

    আর সেকারণেই ১৯৯১ সালে সোভিয়েত পতনের পরে তারা একেবারেই হতাশ হয়ে পরেছিল যে কমিউনিজমের আড়ালে ইসলাম কোপানো ব্যাপারটা আর কাজ করবে না,  এটাই ভেবেছিল।

    যদিও মোট মাত্র ৯ বছরের মধ্যে তারা নতুন রাস্তা খুঁজে নিয়েছিল। ২০০১ সালে প্রায় সকল কমিউনিস্টেরাই আমেরিকান প্রেসিডেন্ট বুশের কোলে উঠে গিয়েছিল – সে তখন থেকেই এক নতুন বাপ তাদের! যে আর “মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ” নয় তখন থেকে!  কারণ সে আবার ইসলাম কোপানোর ফয়দা- এই লভ্যাংশ বা ডিভিডেন্ট দিবে পুরান কমিউনিস্টদেরকে। এই হল, পুরান কমিউনিস্টদের কাছে নাইন-ইলেভেন – টুইন টাওয়ার হামলা – ওয়ার অন টেরর এর মূল তাতপর্য ।  যা এক নয়া রাস্তা হয়ে এসেছিল জমিদার-হিন্দুর হারানো আধিপত্য ফেরত পারার আশা হিসাবে!

    আর এসব কমিউনিস্ট-প্রগতিশীল  এদের ততপরতায় বাংলাদেশের নীট ক্ষতিটা হল, বাংলাদেশের জনমত – ইসলামিজম আর প্রগতিশীল বলে শার্প আর বিপদজনকভাবে দুভাগে বিভক্ত হয়ে গেছিল। সমাজে মতভেদ থাকা একজিনিষ আর ইসলাম কোপানো বা নির্মুলের চিন্তা আরেকটা! আর এর ফাঁক দিয়েই হিন্দুত্ববাদ ও র-এর ততপরতা বাংলাদেশে জেঁকে বসেছিল।
    অথচ হাসিনা উতখাত বা মন্দির রক্ষা আর এখনও জীবন্ত বন্যা মোকাবোলা প্রশ্নে এই প্রথম ২০০১ সাল থেকে চলে আসা নয়া শতকে এখন ২০২৪ সালে এসে, এই প্রথম আমরা একতাবদ্ধ এক জনগোষ্ঠি!

    একারণের বলেছি ২০০০ সালের পরের নয়া শতক থেকে পুরান  কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলতা মৃত হয়ে আছে!  আর তখন থেকে যেকোন পুরান (বেশির ভাগ) কমিউনিস্ট-প্রগতিশীল এর মুখ দিয়ে বেরোনো প্রথম শব্দ হল (যেমন ইনুকে স্মরণ করতে পারেন) জঙ্গীবাদ; মানে আর মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ না।  এসবের হাত ধরেই গত ষোল বছরের হাসিনার ফ্যাসিজম এর পক্ষে সাফাইদাতা হল কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলতা। শাহবাগ কী ছিল? কারা তাত্বিক সমর্থন দিয়েছে সাফাই দিয়ে পত্রিকা বের করেছিল? এরা আর এটাই জমিদার-হিন্দুর কমিউনিজম-প্রগতিশীলতার আড়ালে জমিদারি চিন্তা আধিপত্য রাজনীতি ফিরিয়ে আনার ততপরতা! যে জমিদারি চিন্তা আধিপত্য রাজনীতি এর পিঠে পা দিয়েই ইন্ডিয়া বা র-এর ততপরতা বাংলাদেশে ছেয়ে গেছিল!

    অথচ গত শতকের পুরান কমিউনিজম এর কোন পুণর্মুল্যায়ন মানে আবার একে ভেবে দেখা, ঢেলে সাজানো (খোদ মার্কসের ভাষায় যেটা পর্যালোচনা -Critique) এটা ছাড়া এই মুরোদ ছাড়া কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলতা এরা সকলেই কঠিনতম রাজনৈতিক অপরাধী! যেহেতু নয়া শতকে এসে পুরান কমিউনিজম একেবারেই মৃত!

    আপনি শেখ রোকন এসব দিকে বেখবর! সেকারণে আপনি এসব পঁচা কমিউনিস্ট-প্রগতিশীল নতুন করে কথা বলতে দিবার দাওয়াত দাতা – জায়গা করে দিতে এগিয়ে এসেছেন। আমি “গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি” এর কথা বলছি বুঝতে পারছেন আশা করি।
    গত ৫ আগষ্ট  আপনি এদের প্রধান নেতা সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর একটা সাক্ষাতকার ছাপিয়েছিলেন। শিরোনাম ছিল “উভয় পক্ষকে সাময়িক হলেও সমঝোতায় আসতেই হবে”। অথচ আপনাদের উভয়ের কপাল খারাপ । পরের দিনই হাসিনা পদত্যাগ করে গোপনে ভারতে পালিয়ে যায়। মানে হল না আপনার মিডিয়ার কেউ না, এমনকি  সাক্ষাতকারদাতা চিন্তাও করতে পারেন নাই যে বাস্তব পরিস্থিতি কী? কোন দিকে এর অভিমুখ! এর মূল কারণ  কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলতা তো আসলে মৃত, মুরোদহীন হয়ে আছে এটাই আপনারা জানেনই না; অথচ এই মৃত লাশের উপর মুখ লাগিয়ে আপনারা এর চর্চার গুনগান গাইতেছেন!

    বুয়েটের কনসালটেন্ট শিক্ষক যারা আপনার কাছে পরিবেশবাদ বুঝা বন্ধু-সুহৃদঃ
    যতদুর মনে পড়ে বুয়েটের এক ছাত্র আবরারকে হাসিনা সরকার ও তাদের কমিউনিস্ট-প্রগতিশীল ক্যাডারেরা খুন করার পরে আপনি আমাকে ম্যাসেজ করেছিলেন। আপনার সাথে জেআরসি [জামিলুর রেজা চৌধুরী বুয়েটের প্রবীন শিক্ষক যিনি বাংলাদেশের যে কোন বড় ব্রীজ বা সিভিল প্রজেক্ট এর কনসালটেন্ট] কথা হয় যেখানে স্যার আমার নাম তুলেছিলেন প্রাক্তন ছাত্রনেতা হিসাবে আর সেদিন সেকথা আপনি আমাকে জানিয়েছিলেন। পাঠকেরা অনেকে জানেন হয়ত তবু জানিয়ে রাখি আমি ১৯৭৯ সালে প্রথম বুয়েটে ভর্তি হয়েছি্লাম কিন্তু গ্রাজুয়েট হয়ে বের হয়েছিলাম ১৯৯৩ সা্লে, মানে এরশাদ পতনের পরে বুয়েটে ফিরেছিলাম রেগুলার হয়ে তাই। মাঝের প্রায় দশবছর সক্রিয় রাজনীতি করে বেড়ানোর কারণে বুয়েটের বাইরে ছিলাম, বা ছাত্রত্ব ছিল না।  তবে মূল কথাটা হল আমার কঠিন রাজনৈতিক সক্রিয়তার জন্য (১৯৮০-৮৩) এই সময়কালের খুব কম ছাত্র-শিক্ষককেই পাওয়া যাবে যাদের কাছে আমি পরিচিত এবং ইতি-নেতি চরিত্র ছিলাম না। ভিসি থেকে সিনিয়র শিক্ষকেরা মূলত তাদের এপলিটিক্যাল [রাজনীতি খারাপ জিনিষ] এটিচ্যুডের কারনে আমার রাজনৈতিক সক্রিয়তাকে নেতি চোখে দেখতেন। যদিও এই রিটায়ের্ড বয়সে এসে এদের অনেকেই এখন উলটা আমাকে প্রশংসা করেন । (যদিও আমাকে এখনও ভালবাসেন এমন প্রবীন বুয়েট শিক্ষকের সংখ্যাও কম না।) আপনি শেখ রোকন আমাকে সেকথাই জানায়ছিলেন আমার যতদুর মনে পড়ে বলেছিলেন আমাদের আমল হলে এমন আববার হত্যা আমরা ঘটতেই দিতাম না।

    কিন্তু আমার শিক্ষকদের সম্পর্কে সাধারণভাবে আমার ব্যক্তিগত মুল্যায়ন তখনও যা এখনও তাই আছে!
    এরা মূলত এ-পলিটিক্যাল [রাজনীতি খারাপ জিনিষ মনে করা এটিচ্যুডের]। অথচ এরা প্রায় ব্যতিক্রম খুব কম এভাবে যত বয়স্ক হন ততই সরকারী কনসালটেন্সি পাবার বা ভিসি হবার দৌড়ে সরকারের কোলে উঠে পড়তেও দ্বিধা করেন না। এমনকি এখনও তারা রাজনীতিই বুঝেন না অথচ ভাব করেন তারা রাজনীতির তত্ব বুঝেন এমনকি পরিবেশবাদও বুঝেন! কী এক তামাশা!

    এদের তামাশার একটা নমুনা দেখেনঃ
    যেখন দেখেন এবারের সিলেট-কুমিল্লা-ফেনী-লক্ষীপুর-চট্টগ্রাম ডুবে যাবার পরে – “রাজনীতির অংশ নয় এই বন্যা আইনুন নিশাত – এই লেখাটা ছাপা হয়েছে সমকালে।
    আইনুন নিশাত উনি অরিজিনালি বুয়েটের সিভিলের শিক্ষক; উনি  রাজনীতি বলতে কী বুঝেন? এছাড়া উনি তাহলে কী রাজনীতি বুঝেন? মনে হচ্ছে আসলে উনি রাজনীতি বলতে “দলবাজী” বুঝছেন। বুয়েটের ছাত্র হিসাবে আমার অভিজ্ঞতা হল বুয়েটের কোন শিক্ষকের রাজনৈতিক-বোধ নাই। পলিটি (polity) ধারণা সে তো অনেক দুরের বাত! তা না থাক! কিন্তু তাদের ভান আর কোন দলবাজিকে রাজনীতি বলে বুঝা এটা অসহ্য, অগ্রহণযোগ্য।  এর চেয়ে অসহ্য হল এরাই আবার নিজ পেশার শেষের দিকে সরকারী প্রজেক্টের প্রধান কনসালটেন্ট হওয়া কিংবা ভিসি হওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেন; ফ্যাসিজমের কোলে উঠে গলা জড়িয়ে ধরে ঝুলে পড়তে দ্বিধা করেন না।

    এই যে  আইনুন নিশাত সাহেব “রাজনীতির অংশ নয় এই বন্যা” বলে ফতোয়া দিলেন – তাহলে উনি রাজনীতি বুঝেন বলে দাবি করে বসলেন! নাকি? অথচ এটাই হল তাঁর নিরেট ভারত-প্রীতি। সোজাসাপ্টা করে বললে ভারতের পক্ষে, লীগের পক্ষে দালালি। এছাড়া নিজ ইঞ্জিয়ারিং টেকনোলজি ও এনভায়রণমেন্ট বুঝবার অযোগ্যতাই উনি নিজে ধরেছেন!

    কমন নদী বা প্রবাহিত অভিন্ন নদীর ক্ষেত্রে ভাটির দেশের এমন নদীতে সমান হিস্যা ও অধিকার থাকে। তাই অভিন্ন নদীতে বাধ-ড্যাম বা এর প্রবাহে যে কোন বাধা সৃষ্ঠি করা এমনকি পানি টেনে অন্যদিকে নেওয়া ইত্যাদি সব কাজই অবৈধ; ভাটির দেশের অধিকারকে ক্ষুন্ন করা – এসব কথা উনি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, কথিত পরিবেশবাদী বা দাবিকৃত রাজনৈতিক-বোদ্ধা হয়েও জানেন না। আসলে না জেনে এসব কথা বলার মজাই আলাদা তাই না!

    কী আর বলব? উনি আমাদের শিক্ষক হয়ে বসে আছেন! সারাজীবন এরাই [জেআরসি সহ সেকালের সিনিয়র শিক্ষকেরা] আমার-বিরুদ্ধে গালাগালি করে গেছেন যে আমি নাকি বুয়েটে ছাত্রদের মধ্যে রাজনীতি ঢুকিয়েছি! অথচ তারা প্রায় সকলেই কনসালটেন্ট কিংবা ভিসি হওয়ার জন্য ফ্যাসিজমের কোলে উঠে বসতে দ্বিধা করেন নাই, এখনও করছেন ভারতের দালালি!

    এবার শেখ রোকনের কথায় আসিঃ
    আর শেখ রোকন তিনি নাকি কোন নদী বিষয়ক, পরিবেশ বিষয়ক এনজিও সাথে যুক্ত বিধায় তিনিও  আইনুন নিশাত সাহেব এর সমর্থন পেয়ে দাবি করছেন এবারের বন্যায় সবই বৃষ্টির পানি, ভারতের দোষ নাই। আর সাথে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ও তাঁর সাথে আরও কিছু শাহবাগী কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলদের [যারা সেসময় সর্বজন কথা বের করতেন] পাল্লায় পড়ে তাদের লেখা এখন প্রমোট করছেন শেখ রোকন, হয়ত ভাবছেন আমরা বন্যায় ভারতকে দায়ী করে সাম্প্রদায়িকতা করছি! অথচ শেখ রোকন আপনিও অপরাধী! অজ্ঞ থেকে মিথ্যা প্রপাগান্ডা করার অপরাধে।

    আগে পরিবেশ কী তা বুঝেনঃ
    আগে পরিবেশ কী তা বুঝেন। এটা অন্তত বস্তুবাদ না যে সাইন্স বা বিজ্ঞানের জ্ঞানে আপনি তা বুঝে যাবেন; ইঞ্জিনিয়ারদের লগে ঘুরে ঘষাঘষি করলেই শিখে যাবেন! অন্তত কিছু ফিলসফির মৌলিক জ্ঞান-ধারণা ছাড়া কেউই   পরিবেশ বুঝতে পারবে না। যেমন পরিবেশ শব্দটাই ভুল! প্রাণ-পরিবেশ বলা উচিত তাহলে আপনার যে কিছু হুশ আছে তা বুঝা যাবে।

    আবার আরও কিছু সহজ পথও আছে।
    পারিবারিকভাবে মুসলমান নাম করে আছেন যারা সেই ভরসায় বলছি। নূহ-নবীর নাম না চাইলেও তো জেনেছেন শুনেছেন। এই নাম ও সাথে তার বয়ান ও এর তাতপর্য বুঝতে মনোযোগ দেন। অনেক ফয়দা হবে।  হুমায়ুন আজাদ বা জাফর ইকবালসহ কথিত যত বিজ্ঞানবাদী আছেন তাদেরকে  মাথা থেকে ফেলেন আগে আর এসবের চেয়ে নূহ-নবীর তাতপর্য অতুলনীয় শ্রেষ্ঠ! শুনতে অবাক লাগতে পারে কিন্তু এটাই কঠিন সত্য!
    আচ্ছা আপনা্রা তো কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলতা শ্রেষ্ঠ জ্ঞান করে ইসলাম কোপানো কে ফরজ জ্ঞান করেন। তাই আসেন নূহ-নবী বাদ রাখেন। ক্রিশ্চানিটিতে নোহা [NOAH]  এর কনসেপ্ট আছে। অথবা আসেন হিন্দুত্ববাদই তো শ্রেষ্ঠ প্রগতিবাদ; আসেন সেখানে আসেন। সেখানে মনু-অবতার (অবতার মানে সনাতনি ব্যাখ্যা হল আরেক দুনিয়া থেকে যে এই দুনিয়াতে মানুষকে উদ্ধারে সময় সময়ে ‘অবতরণ’ করে আসেন) খুঁজে দেখেন। সব জায়গায় মানে সব থিওলজিতেই (ধর্মতত্বে) কমন একটা জিনিষ পাবেন একটা নৌকার প্রতীক আর দেখবেন জোড়ায় জোড়ায় প্রাণ-প্রজাতি নূহ-নবীর মতন করে ঐ নৌকায় তুলছেন!
    যেকোন ধর্মতত্ব মেটাফরিক্যাল [metaphor] ভাষায় দুনিয়ায় হাজির হয়;  এর সোজা মানে, এর ভিতর একটা গভীর মানের দিক আরেকটা  সাদা-সাপ্টা মানে থাকে। চিন্তার মুরোদ থাকলে, ওর গুঢ় অর্থের দিকটা তালাশ করেন। রব এর গুণ, প্রতিপালক এর গুণ বৈশিষ্ঠ যদি বুঝেন আপনার উপর হেদায়েত হয়ে থাকে তবে বুঝবেন নূহ-নবী সংক্রান্ত প্রতীক মেটাফোর!

    আবার ভুল বুঝেন না যে আমি আপনাকে ধর্মে মনোযোগী হতে বলছি। সেটা আপনার ব্যক্তিগত! বলছি পারিবারিকভাবেই যেটা আপনার ভিতর যতটুকু আছে যা আপনি কখনও এক্সপ্লোর করেন নাই; মেরে ফেলেছেন কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলদের পাল্লায় পরে; ইসলামবিদ্বেষে আর বিজ্ঞানবাদীতাই – সেটা ফিরে এখনও মনে করে হাতড়ে দেখলে এখনও অনেক কিছু পেতে পারেন। ধর্ম পালন না করেন সেটা আমার এখানে বিবেচ্য নয়; কিন্তু সবার আগে ধর্মতত্বকে তুচ্ছ জ্ঞান করারটা অন্তত ত্যাগ করেন।

    আর যদি মুরোদ হয় তবে ফিলসফির মৌলিক কিছু দিকে পথ ধরে আগাতে হবে। স্পিরিট [Spirit) বুঝতে হবে মানে, মানুষ স্পিরিচুয়ালও। অর্থাৎ মানুষ কেবল বস্তু না – কেবল এক ফিজিক্যাল ফেনোমেনা নয়। তাই কেবল বিজ্ঞান এর বুদ্ধি দিয়ে মানে যেটা ইম্মানুয়েল কান্ট [1724-1804] এর বিজ্ঞানবোধ বা লজিক (চিন্তার লজিক্যাল বা র‍্যাশনাল পদ্ধতি)  – এসব দিয়ে মানুষ বুঝা সম্পন্ন হবে না।  মানুষ স্পিরিচুয়ালও এদিকটা বুঝা যাবে না।। তাই সেদিক্টাও মানে কান্ট এর এই চিন্তার পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতা বুঝতে হবে যেটা কান্ট [মানে kantian logic / rationality] এর সীমাবদ্ধতা! অন্যভাষায় এটাইকেই বলছি,  ফিলসফির মৌলিক কিছু দিকে পথ ধরে আগাতে হবে। স্পিরিট বুঝতে হবে মানে মানুষ স্পিরিচুয়ালও। তাতে স্পিরিটের অর্থ ধর্মতত্ব দিয়ে বুঝেন কিংবা হেগেলের (absolute Spirit) স্পিরিট অর্থেই বুঝেন তাতে অসুবিধা নাই – হেগেলের স্পিরিট যেটার বাংলা অনেকে করেছেন প্রজ্ঞা। আবার  আধাবুঝের ধর্মতত্ব দিয়ে অনেকে এটাকে আধ্যাত্ববাদ বলে এক স্টুপিড বা পচা বাংলাও করে থাকেন অনেকে!
    আর এরপরেও যদি চিন্তার মুরোদে কুলায় তবে হেগেলকে মার্কস কিভাবে ও কোথায় কোথায় বদলে নিয়েছেন ততদুরও যেতে পারেন। এটাই খোদ মার্কসের গুরুত্বপুর্ণ অবদান যেটাকে বলে, আইডিয়াল [ideal] আর রিয়েল [real] এর ফারাক কী – সেই প্রসঙ্গ! তবে মনে রেখেন এই অংশের খবর ব্যক্তি স্টালিন ও স্তালিনের অনুসারী (কার্যত এটাই আবার মার্কসবাদ বলে সারা দুনিয়ায় পরিচিত; যেকারণে আমার অনুবাদ বইয়ে বলেছি মার্কস আর মার্কসবাদ দুইট আলাদা) এমন এদের কারো কাছেই নাই; জানা নাই। এদিকটা বুঝতে জর্মান ইডিওলজি পড়তে হবে। বিশেষ করে ফয়েরবাখ সম্পর্কে মার্কসের গুরুত্বপুর্ণ মূল্যায়ন কী আছে সেখানে, সেটা!
    কেবল একটা নোট দিয়ে রাখতে পারি। আমার নিজের ওয়েব সাইট [goutamdas.com] যেখানে আমার নানান লেখা গত ১০ বছর ৫০০ এর বেশী হয়ে গেছে বলে আমাকে জানিয়েছে। ওখানে গান্ধীর সত্য মানে ‘ট্রুথ’ নয়, ফ্যাক্টস নামে আমার একটা লেখা আছে। ওখান আসলে আমি  আইডিয়াল [ideal] আর রিয়েল [real] নিয়ে মার্কসের ধারণাটা প্রয়োগ করেছি – গান্ধীর চিন্তা ভাবনার বৈপরীত্য-কে দেখিয়ে দেবার জন্য। কাজেই শিরোনাম দেখে ওটা গান্ধীর উপরে লেখা মনে হলেও আসলে ওটাই হেগেল প্রসঙ্গে মার্কসের অবস্থান নিয়ে লেখা! বুদ্ধিমানেরা সেভাবে পড়তে পারেন!

    তবে আমাদের এখানে এই লেখার প্রসঙ্গে মৌলিক রাজনৈতিক বুঝাবুঝির মুল জায়গাটা হল, কমন বা অভিন্ন নদীর পানির উপরে ভাটির দেশের অধিকার বা সম-অধিকার।
    এই জায়গায় আইনুন নিশাত সহ সকল ইঞ্জিনিয়ার বা বিজ্ঞানবাদীতার নামে ভারতীয় দালালদেরকে আমাদের উপরে ফেলে দিতেই হবে!

    এই কথাটা শেখ রোকন যত তাড়াতাড়ি বুঝবেন ততই সেটা উনার ব্যক্তিগত, উনার পত্রিকার স্টাফ ও মালিকের জন্য ভাল ও সঠিক হবে! নইলে এরা সবাই জনগণের হাতে উপড়ে ফেলে দেওয়া দশাতে পড়বেন!

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   ০২ঃ৫৩ দুপুর  ২৬ আগষ্ট ২০২৪
    শেষ আপডেটঃ  ৩ঃ৩০ দুপুর  ২৬ আগষ্ট ২০২৪

     

  • বেনজীর-আজিজদের ‘প্রটেকশন’ দেয়া বা না দেয়ার তর্কের ফাঁকে আলী রীয়াজ!

    বেনজীর-আজিজদের ‘প্রটেকশন’ দেয়া বা না দেয়ার তর্কের ফাঁকে আলী রীয়াজ!
    গৌতম দাস
    ৩০ মে ২০২৪
    https://wp.me/p1sCvy-5E3

    ‘বেনজীর-আজিজকে সরকার প্রটেকশন দেবে না’

    তামাসাটা বেশ ভাল জমেছে! বাংলাদেশের মিডিয়াগুলোতে একটা নতুন পপুলার শব্দ চালু হয়েছে আজিজ-বেনজীর। এমন এই খবরের শিরোনাম হল আজিজ-বেনজীর এর “প্রটেকশন”! আবার পাঠকও ধরে ফেলেছে এই নয়া শব্দের অর্থ কী; যদিও এখনও বিশ্বাস করে নাই। এমনিতেই, “প্রটেকশন” – এটা সঠিক শব্দ একেবারেই নয়। তবু সরকারের মন্ত্রী-উপদেষ্টা যারাই “প্রটেকশন” শব্দটা ব্যবহার করছেন। আর এতে তাদের ধরে নেয়া হয়ে গিয়েছে যেন এই সরকারের স্বাভাবিক কাজ হচ্ছে অসৎ, দুর্নীতিবাজ, পাবলিক মানি লুটেরা সরকারী কর্মচারীদেরকে “প্রটেকশন” দেয়া। যার মানে হল, আদালতসহ রাষ্ট্র-সরকারের যেসব প্রতিষ্ঠান অসৎ, দুর্নীতিবাজ, পাবলিক মানি লুটেরাদের আইনের আওতায় আনার জন্য বিচারের দায়ীত্বপ্রাপ্ত এবং স্টাডিং অর্ডারে দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রীয় অফিসগুলো – এরা যেন ততপর না হয়, দেখেও না দেখে বা কেউ “মুক্তিযোদ্ধা শ্রেণী” এই পক্ষের সদস্য বলে অজুহাতে ছাড় দেয় বা এড়িয়ে যায়; এভাবে প্রতিষ্ঠানগুলোকে  খামোশ করে রাখাই যেন সরকারের কাজ। আর তাই এইবার আজিজ-বেনজিরের কেসে তারা ব্যতিক্রম করবে। তারা আজিজ-বেনজিরকে এবার বাঁচাতে যাবে না। যার সোজা অর্থ হল, গত ১৬ বছর সরকার এভাবে চলেছে বলেই  এই “প্রটেকশন” শব্দের উতপত্তি। নইলে দুদক বা আদালত ধরণের প্রতিষ্ঠান এরা তো কনষ্টিটিউশন অনুযায়ী ‘চোর’ ধরার স্টাডিং অর্ডারে দায়িত্বপ্রাপ্ত; মানে এরা এসব অপরাধের বিরুদ্ধে ততপর হতে চাইলে তো কোন মন্ত্রী বা সরকার আদেশ-নির্দেশ দিছেন কিনা সেজন্য অপেক্ষার দরকার নাই। অর্থাৎ এখানে কাউকে অপরাধ থেকে বাঁচাবে, আড়াল করবে যেটাকে “প্রটেকশন” শব্দ ব্যবহার করে তারা বুঝিয়েছেন, কথা বলছেন – এই শব্দ ব্যবহারের তো কোন জায়গাই নাই। কিন্তু গত ১৬ বছর সরকার এভাবেই মুক্তিযোদ্ধা শ্রেণী বা চেতনা শ্রেণী নামে অথবা এই শ্রেণীকে রক্ষার নামে আজিজ-বেনজীর টাইপের লোকেরা বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত ব্যক্তি – এরা যেন কার্যত আইনের উর্ধে – এই ধারণাই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে!  আর তা হয়েছে বলেই এই “প্রটেকশন” শব্দের উতপত্তি হয়েছে। গত ১৬ বছর যে সরকার এমন প্রাকটিস চালু রেখেছে – ত যেন সরকার এভাবে “প্রটেকশন” শব্দ ব্যবহার করে সরকার তার সেই অসৎ প্রাকটিসকেই স্বীকার করে নিল! সরকারের কাজের স্টাইল ও অভ্যাসই আছে বলেই এবার, আজিজ-বেনজির কেসে বলছে তারা “প্রটেকশন” দিবে না! তাই এককথায় সরকারের “প্রটেকশন” শব্দ ব্যবহার  করে সরকারের অসৎ প্রাকটিসকেই যে স্বাভাবিক গণ্য করে ফেলেছে সেটা পরোক্ষে-অজান্তে বলে ফেলেছে। সারকথায় এবারের আজিজ-বেনজির কেসে সরকার যে – অসৎ প্রাকটিসকেই স্বাভাবিক ধরে নিয়ে চলেছে- সেটা করবে না। মানে ব্যতিক্রম করবে, এই হল সরকারের “প্রটেকশন” শব্দের অর্থ ও ম্যাসেজ!

    আবার শব্দের আরো মারপ্যাচ আছে। যেমন উপরে যা লিখলাম সেখানে “প্রটেকশন” শব্দটা নেগেটিভ অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ নাগরিক ও রাষ্ট্রের সম্পর্কের মধ্যে “প্রটেকশন” খুবই ইতিবাচক শব্দ। রাষ্ট্র নাগরিককে সুরক্ষা বা “প্রটেকশন”[protection] দিবে এটাই তো রাষ্ট্রের কাজ। এই মুখ্য উদ্দেশ্যেই তো নাগরিকেরা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছে। অর্থাৎ লক্ষ্যের দিক থেকে “প্রটেকশন ইজ ফান্ডামেন্টাল” – চাওয়াটা এমন। অথচ বাস্তবে এখানে “প্রটেকশন” শব্দটা নেগেটিভ অর্থে ব্যবহার করেছে – অসৎ প্রাকটিসকেই স্বাভাবিক – মনে করা সরকার।  আর তাই, এবার এখান থেকেই  অনেকে দাবি তুলেছে যে অসৎ প্রাকটিস বাদ রেখে ফেলে দিয়ে নাগরিক সুরক্ষাই বরং সরকারের কাজ। এমনকি একটা ব্যক্তি-নাগরিকের নামে বড় শাস্তিযোগ্য অপরাধের অভিযোগ এসেছে এমন যদি হয়ও সেক্ষেত্রেও, ঐ অভিযুক্ত ব্যক্তিকেও “প্রটেকশন” দেয়াই সরকারের কাজ! আর এটাই “প্রটেকশন” শব্দের ইতিবাচক, সঠিক ও উপযুক্ত ব্যবহার। নাহলে কী হবে?
    সরকার যদি সেক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তিকে কোন ফিজিক্যাল আক্রমণ থেকে প্রটেকশন দিয়েই ঐ ব্যক্তিকে আদালতে বিচারের মুখোমুখি না করে তবে তো আবার পাবলিক বিক্ষুব্ধ হবে। আর এক পর্যায়ে পাবলিক হয়ত  নিজেই ঐ অপরাধী-অত্যাচারীকে শাস্তি দিবার জন্য প্রকাশ্যে নিজ হাতে পাবলিক লিঞ্চিং [public lynching]. যাকে আমরা হাটুরে মার বা গণপিটুনি বলি তেমন একটা কিছুতে কথিত অপরাধীর মৃত্যু হয়ে যেতে পারে; যেটা একেবারেই কাম্য নয়।

    আবার একটু পিছনে ফিরব। নয়া মিডিয়া শব্দ আজিজ-বেনজীর এর অর্থ অনেকেই জানলেও এখানে সব পরিস্কার রাখাই ভাল। এখানে আজিজ মানে হল, ২০১৮ সালের হাসিনাকে বিজয়ী ঘোষণার নির্বাচন ঘটানোর নায়ক সাবেক এই সেনাপ্রধান, জেনারেল আজিজ আহমেদ আর, বেনজির মানে হল সাবেক র‍্যাব প্রধান ও পরে পুলিশ প্রধান হয়ে অবসরে যাওয়া বেনজির আহমেদ।  আর এই আজিজ-বেনজীর শব্দযুগল মানে যেন এক দড়িতে ফাঁসি চাওয়া হচ্ছে এমন এক ইঙ্গিতও আছে!  এদুই নামের বিরুদ্ধে কমন অভিযোগটা হল এরা সীমাহীন দুর্নীতি, অবৈধ আয় লুটপাট ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারকারী। যেন এরা, হাসিনার জন্য কিছু বিরাট কাজ করে দিয়েছে আর এরই কিছু “বিনিময়-মুল্য” নিয়েছে তাঁরা!  আজিজের বেলায়, তিনি সেনা প্রধানের পদ-পদবী ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজ সব অপরাধী ভাইদেরকে  নিজ বাপ-মায়ের নামসহ একেবারেই সব ডাহা মিথ্যা তথ্য দিয়ে ন্যাশনাল আইডি আর পাসপোর্ট বানিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন যা, কোন ছোটখাট না মারাত্মক অপরাধের অভিযোগ। এছাড়া পদ-পদবির জোরে যদি এমন করাই যায় তবে আর কোটি কোটি টাকা খরচ করে সরকারের আইডি আর পাসপোর্ট প্রকল্প করার দরকার কী ছিল? আর এর চেয়েও বড় কথা আজকাল আমাদের গ্রামগুলোর যেকোন মানুষও সম্ভাব্য বিদেশগামী প্রবাসী। এই অর্থে দেশ-বিদেশে এর ফারাক অনেক কমে গেছে। মানে হল, “আইডেনটিফিকেশন” – আপনি দেশ বা বিদেশে যেখানেই থাকেন না কেন – আপনি কে, পরিচয় বা রাষ্ট্রীয় আইডেনটিটি কী? এটা এখন একালে খুবই গুরুত্বপুর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের রাষ্ট্র যদি নাগরিক-ব্যক্তির আইডেনটিটির নিশ্চয়তার দিবার অথরিটির ভুমিকার ক্ষেত্রে শৈথিল্য  মানে  ন্যাশনাল আইডি আর পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষেত্রে দেশ-প্রশাসনেরই বিশ্বাসযোগ্যতাই নিচে নামিয়ে ফেলে ধুলায় মিশায়ে নষ্ট করে ফেলেন তবে যেকোন বিদেশি রাষ্ট্রই আমাদেরকে আর গ্রহণ করবে কেন? তারা তো প্রবেশ করতেই দিবে না। সন্দেহ করবে আর সেখান থেকে শুরু হবে আমাদেরকে আরো নিচা চোখে দেখা! আমি নিশ্চিত জেনারেল আজিজ এসব গভীর দিকের নজর করেন নাই; বরং সারা দেশের প্রতিটা মানুষের মৌলিক স্বার্থ পায়ে দলেই কেবলমাত্র নিজ অপরাধী ভাইদের রক্ষাই তাঁর একমাত্র স্বার্থ-জ্ঞান করে সেনাপ্রধান হয়েও এসব কাজ করেছেন।
    আর ওদিকে বেনজির এর কথা বলে শেষ হবে না। কেবল এবার দুদকের আদালতে যে মামলা তাতে অবৈধ অর্থে ৬২১ বিঘার জমির মালিকানার কথা আছে; সাথে অন্যান্য প্রায় সব ধরণের দেশে-বিদেশে সম্পদের কথাও!

    বিবিসি লিখেছে, “আইনজীবীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত আদালত বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের যে সব সম্পদ জব্দ বা ফ্রিজকরার নির্দেশ দিয়েছেন তার মধ্যে আছে ঢাকার গুলশানে চারটি ফ্ল্যাট, ৩৩টি ব্যাংক হিসেব, তিনটি শেয়ার ব্যবসার বিও অ্যাকাউন্ট, প্রায় ৬২১ বিঘা জমি, উনিশটি কোম্পানির শেয়ার এবং ত্রিশ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র”।

    আবার, এছাড়া আদালতের মুল আবেদনে বলা হয়েছে, বেনজির তার সারা চাকরি জীবনের বেতন ও সুবিধাদি সব মিলিয়ে কোন ব্যয় ছাড়াই মোট আয়ের মুল্যমান ২ কোটি টাকার নীচে। অথচ তাঁর যে সম্পত্তির কথা বলা হচ্ছে এর মুল্য কমপক্ষে ৫০০ কোটি টাকারও বেশী। এটা কিভাবে সম্ভব?

    সেখানে বলা হয়, অথচ ৩৪ বছর সাত মাসের দীর্ঘ চাকরিজীবনে বেনজীর আহমেদ বেতন-ভাতা বাবদ মোট
    আয় করেছেন
    এক কোটি ৮৪ লাখ ৮৯ হাজার ২০০ টাকা। এর বাইরে পদবি অনুযায়ী পেয়েছেন আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা।

    বেনজীর ও আজিজদের বিচারের মুখোমুখি করছে আওয়ামী লীগঃ
    এবিষয়ে গতকাল ছিল খুবই এক সিরিয়াস দিন, তা বলা যায়। কেন তা বলছি?
    বেনজিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে রিপোর্ট করেছিল বসুন্ধরা গ্রুপের কালের কন্ঠ, সেই গত ৩১ মার্চ ২০২৪।  তখনও কিছুই জানা যায় নাই যে এই রিপোর্ট থই পাবে কিনা!! এরকম হাইকোর্টের নির্দেশ এস আলমের নামেও এসেছিল। কিন্তু দুসপ্তাহ পরে তা উর্ধতন কোর্টে খারিজ করে দিয়েছিল। কাজেই এসব যে আস্থা বিশ্বাস রাখার মত ঘটনাবলী নয়, আম-পাবলিকের অনুমান এরকমই। এককথায় তারা এটাকে বলে আই-ওয়াস!  কিন্তু এরপরেই এলো জেনারেল আজিজের উপর আমেরিকান পদক্ষেপ এর নিউজ। আর তা থেকেই এক-পা দুই-পা করে আগাতে আগাতে  ওবায়দুল কাদেরের বিবৃতি আসল যে এতে লীগের কোন দায় নাই কারণ তারা অবসরপ্রাপ্ত। কিন্তু সপ্তাহ দুই পরে দেখা গেল অন্যকিছুর ইঙ্গিত! সেটা এলো আবার নয়া অর্থমন্ত্রীর মুখ দিয়ে। এবারের অর্থমন্ত্রী পেশাগত ভাবে কূটনীতিক ক্যাডার, পররাষ্ট্রমন্ত্রীও ছিলেন। কিন্তু এবার তিনি অর্থমন্ত্রী কারণ সরকার ডলার বা বৈদেশিক মদ্রা সংকটে। তাই সারাদিন কাটে তাঁর আমরা পাবলিকলি তাকে দেখি একটা সোফায় তিনি বসে আছেন বা কথা বলছেন দেশি-বিদেশিদের সাথে। অর্থাৎ ডলার আনার কূটনীতি ততপরতায় আছেন তিনি।   এদিকে বাজেটসহ অর্থ-মন্ত্রণালয়ের বাকি কাজে আমরা দেখছি একজন প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেয়া হয়েছে, তিনিই সামলাইতেছেন। মানে কাজ ভাগ করা হয়েছে। তা হোক, কিন্তু আমাদের আগ্রহ অন্য জায়গায়। গত ২৬ মে এই অর্থমন্ত্রী একটা কথা বলেছেন বাজ পড়ার মত। কিন্তু মন্ত্রীর লো প্রফাইল, অরাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্টডের জন্য সম্ভবত সেটা আম-পাবলিক লেবেল আমল করতে রাজি হয় নাই।
    এমনিতে, অর্থমন্ত্রী হিসাবে তাঁর জেনারেল আজিজকে নিয়ে আমেরিকান নিষধাজ্ঞা বা পদক্ষেপ যা নিয়েছে তাতে এর অর্থ তাতপর্য কী – এটা ঠিক অর্থমন্ত্রীর ইস্যু না। আর জেনারেল আজিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ ঠিক অর্থমন্ত্রণালয়ের প্রত্যক্ষ এক্তিয়ার না। বরং দুদক ও আদালত ধরণের অফিসের ইস্যু। কিংবা বড় জোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কিছু যদি নিজের ইস্যু আছে মনে করে। অথচ তিনি বলেছেন – ‘সরকার কিছু করেনি মানে সেনাবাহিনী কিছু করবে’, সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ সম্পর্কে  এটা ছিল অর্থমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া এবং এটাই মিডিয়ার শিরোনাম হয়েছিল!
    সত্যি বলতে কী খবরটা পড়ার পর কিছুটা বিরক্ত লেগেছিল।  কারণ খবরের শুরুর নাইনটা হল, “অবসরে যাওয়ার পরও বাংলাদেশের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী ব্যবস্থা নেবে”। কথা হল, সেনাবাহিনী যদি ব্যবস্থা নেয়ও তো এই সেনাবাহিনী কী অর্থমন্ত্রণালয়ের অধীনে? অবশ্যই না। তাহলে?
    এর মানে অর্থমন্ত্রীর কথা এরপরেও যদি সত্যি হতে হয় তবে এর একটাই অন্য সুযোগ আছে। তা হল, প্রধানমন্ত্রী আর সাথে পুরা ক্যাবিনেট অথবা বিশেষ দু-চারজন মিনিষ্টার মিলে (অর্থমন্ত্রী যাদের একজন) কোন আসরে বসে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যেটার মুখপাত্র অর্থমন্ত্রী হলে বা না হলেও অর্থমন্ত্রীই সেসব কথার উপর দাঁড়িয়ে হয়ত একথাগুলো বলছেন। এমন কথা মনে হবার পিছনে আরেকটা কারণ আছে। প্রথম আলোর ওই রিপোর্টের পরের বাক্য দেখেন। বলছে, “ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়ে” অর্থমন্ত্রী আজ রোববার দুপুরে সচিবালয়ে … কথা বলছিলেন। এছাড়া ঐ একই রিপোর্ট আরেক স্থানে অর্থমন্ত্রী বলছেন,  ‘এখন ঋণখেলাপিদের ধরতে হবে”।

    অর্থমন্ত্রী নিজেই হঠাৎ বলেন, ‘এখন ঋণখেলাপিদের ধরতে হবে।’ এ বাক্য শেষ করার পর চুপ থাকলে সাংবাদিকেরা তাঁকে প্রশ্ন করেন, ‘পারবেন? ঋণখেলাপিরা তো অনেক শক্তিশালী।’ তখন তিনি বলেন, ‘দেখা যাক পারি কি না।
    আপনারা দেখছেন, সাবেক পুলিশপ্রধানের (বেনজীর আহমেদ) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাঁর কি ক্ষমতা কম ছিল?’

    এমনকি তিনি বেনজিরের বিরুদ্ধেও একই ধরণের কথা বলেছেন যে “…সাবেক পুলিশপ্রধানের (বেনজীর আহমেদ) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাঁর কি ক্ষমতা কম ছিল?”।
    এথেকে একটা অনুমান হচ্ছিল যে কিছু একটা হতে যাচ্ছে। কিন্তু অন্তত প্রধানমন্ত্রী নিজে বা না হলে ওয়ায়দুল কাদের এনিয়ে একই ধরণের কিছু বলেন কিনা সেদিকে লক্ষ্য রাখা! হা ঠিক তাই! গতকাল বুধবার ছিল সেই দিন। ওবায়দুল কাদের বলেন,.”..বেনজীর ও আজিজদের বিচারের মুখোমুখি করছে আওয়ামী লীগ: ওবায়দুল কাদের” । আওয়ামী লীগ বিচারের মুখোমুখি করছে – এটা তো একেবারেই নতুন ডায়লগ। কারণ সপ্তাহ-দশদিন আগে এনিয়ে কাদেরের বক্তব্য ছিল, ওরা দুজন এখন অবসরে যাওয়া ফলে সরকারের দায়দায়িত্ব নাই – ধরণের।
    এবং একই দিনে একটিভ আরেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানও একই কথা বলেছেন; আরো তিন মন্ত্রীর সাথে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সভা শেষে মিডিয়ার কাছে। সালমান বলেছেন, (তিনি কাদেরের রেফারেন্সেও কিছু কথা বলেছেন), “বেনজীর আহমেদ ও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদকে সরকার কোনো ধরনের প্রটেকশন [সুরক্ষা] দেবে না এবং দেশের আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে“।

    সালমান রহমানের গুরুত্ব কী ও কেনঃ
    সুনির্দিষ্ট এক্ষেত্রে সালমান রহমানের গুরুত্ব কী? যেখানে বাকি আরো অনেক সালমানের মত উপদেষ্টারা পাবলিক ডিল কমই করেন? এক্ষেত্রে সম্ভাব্য জবাবটা হল, যেকোন কারণেই হোক আমেরিকার সাথে হাসিনার যেকোন ডিল বা কী দিলে কী পাব ধরণের প্রস্তাব চালাচালিটা দৃশ্যতঃ সালমানের মাধ্যমেই করার একটা চর্চা তৈরি হয়েছে। এবং উভয়দেশ বা পক্ষই এটা ব্যবহার করতে আগ্রহী তা দেখা যায়। এটাই সালমনের গুরুত্ব অনেক মন্ত্রী বা ওবায়দুল কাদেরের থেকেও অনেক সময় বেশী ওজনদার হতে দেখা যায়। তাহলে কী দাঁড়ালো?

    দাঁড়ালো যে আজিজ-বেনজীর  এর পক্ষে “নো প্রটেকশন” এর আওয়াজ – এটা খুব সম্ভবত এদেরকে বলির পাঁঠা বানিয়ে ফাঁসিয়ে বা ডুবিয়ে দিয়ে সরকার ভেসে উঠতে চায়, নিজের ক্রেডিবিলিটি বা বিশ্বাসযোগ্যতা ও সক্ষমতা দেখাতে চায়। আর এটার বিনিময়ে আমেরিকার কাছে তাদের কিছু চাওয়ার আছে সম্ভবত!
    যেমন এবার ল্যু এলে পরে সরকার র‍্যাবের [RAB] নিষেধাজ্ঞা তুলতে কী একশন সরকারকে করে বা নিয়ে দেখাতে হবে যেন তাই জানার মহড়া হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছিল। বেনজিরের বিরুদ্ধে একশন এবং সরকার একেবারেই যদি তাঁর হাত ছেড়ে দেয় – এটা তো একটা ভাল পদক্ষেপ হিসাবে সরকার আমেরিকার কাছে তখন এটা বেচতে বা তুলে ধরতে পারে। ওদিকে আবার র‍্যাবের প্রধান বদলাতে আগ্রহ হয়েছে সরকারের। আর কাকে করা হবে তাতে দেখা যাচ্ছে যে আমেরিকার স্যাংশনে খেয়ে বড় দাগী যে সেই-ই যেন বড় ক্যান্ডিডেট – এই নীতি এবার ব্যত্যয় ঘটেছে। নিষেধাজ্ঞা খাওয়া (তখন তিনি পুলিশ প্রধান) বেনজিরকে জাতিসংঘ ভিজিটে যাচ্ছে এই উসিলায় সরকার স্যাংশন খাওয়া বেনজিরকে আমেরিকা ঘুরিয়ে এনে তাতে নিজের সাফল্য দেখেছিল। যার নিট লাভ হলো স্থানীয় আওয়ামী লীগারদের নিয়ে তাঁর এক হোটেল-সভা করা। অথচ তিনি তো তখনও সরকারী কর্মচারি!!! অবশ্য সাথে আর সাথে দাবি করা যে সরকার আমেরিকান স্যাংশন কেয়ার করে না। আমেরিকাকে উপেক্ষা এই ছিল এতদিন সরকারের মূলনীতি! সেজন্যই কী এবার এক ব্যারিষ্টারকে র‍্যাবের প্রধান করা? সংস্কার করা বলে দেখানো?? আমেরিকার সাথে নুন্যতম একটা ওয়ার্কিং রিলেশনে পৌছানো যার লক্ষ্য? তাই কী?  আমরা এটা নিশ্চিত না; তবে এদিকে কী হচ্ছে তাতে চোখ রাখতে পারি।

    এনিয়ে কিছু সহায়ক তথ্য দেইঃ
    আমেরিকান ফরেন পলিসি পত্রিকায় এশিয়া নিয়ে বাইডেন প্রশাসনের পক্ষে সব ঠিকঠাক চলছে কিনা এনিয়ে এক সাপ্তাহিক রিপোর্ট লিখে থাকেন মাইকেল কুগেলম্যান। তিনিও বর্তমানে আলী রিয়াজের জায়গায় তবে বেশী গুরুত্ববাহী আরেক থিঙ্কট্যাংক ফেলো!  তিনি আজ মানে গত ২৯ মের রিপোর্ট শুরুই করেছেন এমন কিছু তথ্য দিয়ে। যেমন তাঁর প্রথম লাইনটা হল, Hasina makes pitch for U.S. investment. হাসিনা আরো আমেরিকান বিনিয়োগ [FDI] চান! তিনি লিখছেন, হাসিনা যতই আমেরিকার উপর সবসময় রাগ ঝারেন না কেন, তিনি আমেরিকান ব্যবসায়ীদের চান, commercial partnership with Washington এর পক্ষে তিনি এখন; দেশের আগামি সত্তর বছরের বার্ষিকী (২০৪১ সালে) আমেরিকান ব্যবসায়ীদের হাত ধরে উঠে উতযাপন করতে চান! [এটাই কী গত সেপ্টেম্বর ২০২৩ সালের ইন্ডিয়া-আমেরিকান পরিকল্পনা ছিল? ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ এর পরের বাইডেনের প্রস্তাব ছিল? ]
    তবে কুগেলম্যান লিখছেন, হাসিনা আমেরিকান ব্যবসায়িক বিনিয়োগ সহায়তা [ এতে ডলার আসবে অন্তত] চান বিশেষত রিনিউএবল এনার্জি, শিপবিল্ডিং, ফার্মাসিউটিক্যাল ও মেডিকেল যন্ত্রপাতি উতপাদনের খাতে! “হাসিনার এই আবেদনের মধ্যে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক আবেদন আছে বলে মনে করছেন কুগেলম্যান! হাসিনা বাংলাদেশের রপ্তানিতে গার্মেন্টেসের ভিত্তি আবার ফিরিয়ে আনতে চান। আমেরিকান বাজার ধরতে চান আগের মত করে ট্যাক্স মুক্ত বা ছাড়দেয়া কিছু ট্যাক্সে রফতানি সুবিধা চান! যেন এটা বড় রপ্তানি খাত হিসাবে আবার উঠে দাঁড়ায়। [আগ্রহিরা বিস্তারিত দেখে নিতে ফরেন পলিসির সাইথ এশিয়া ব্রিফ থেকে।]

    From South Asia Brief:
    “However, Hasina has always strongly backed commercial partnership with Washington, and on Monday she made a strong pitch for greater investment to a visiting delegation of the U.S.-Bangladesh Business Council. Hasina called on U.S. business leaders to help make Bangladesh a “smart nation” by 2041, referring to a developed country driven by innovation and competition. (The year will commemorate 70 years since Bangladesh’s independence.)”
    “Hasina seeks to expand Bangladesh’s export base, and she singled out investment-ready “high-potential sectors,” including renewable energy, shipbuilding, pharmaceuticals, and medical equipment. Such appeals have both economic and political motivations. One of South Asia’s economic success stories, Bangladesh has suffered a slowdown in the past few years, and economists warn that it’s not sustainable to rely so heavily on garment exports.”

    এখানে বলে রাখা ভাল, হাসিনা সরকার বেনজির-আজিজ নিয়ে ঠিক কী করতে চাইছেন, কেন এবং ঠিক কী লক্ষ্যে তা সুনির্দিষ্ট করে আমরা জানি না। আমি কেবল সম্ভাব্য কিছু তথ্য দিলাম এখানে।

    শুধু ডলার সংকটই নয়, আরেক বড় সংকট হল খেলাপী ঋণ সংকট কীভাবে মিটবেঃ
    দুইটা আলাদা ইস্যু – মানে সরকারের ডলার সংকট কোন একশনে মিটে গেলে তাতেও খেলাপি ঋণ সংকট মিটাবে না। কারণ দুটা সংকট আলাদা। সরাসরি ব্যাপারটা ঝেড়ে বলে ফেলতে হবে। খেলাপি ঋণের একমাত্র সমাধান হচ্ছে খেলাপি ঋণ গ্রহিতাকেই ধরে এনে ঋণ আদায় করা। তাঁর যা সম্পত্তি পাওয়া যায় তা আদালতের মাধ্যমে ক্রোক করা – এরপর অর্থঋণ আদালতের কাছ থেকে নির্দেশ ও রায় নিয়ে সম্পত্তি নিলামে তুলে অর্থ আদায় করতে হবে। যারা বিদেশে পাচার করেছে সেসব দেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করে নিয়ে সেসব নিয়োজিত অর্থ দেশে ফিরানোও সম্ভব। একমাত্র এটাই উপযুক্ত পথ।
    যদি এপথে না যাওয়া হয় তবে এর দায় খেলাপী ঋণের অর্থ এই দায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘাড়ে উঠবে। যার অর্থ আরো টাকা ছাপানো যার সোজা মানে আরো মুদ্রাস্ফীতি। যেটা ১৫% ছাড়ায় কোথায় যায় তা অকল্পণীয়। যার পরিণতি হতে পারে গরীব মানুষের খাদ্য কেনার মত সামর্থ বা অর্থ না থাকা, মানে দুর্ভিক্ষ!!! আর ওদিকে অনিয়ন্ত্রিত গণ ক্ষোভ বিক্ষোভ, বিদ্রোহ ইত্যাদির সম্ভাবনা -শ্রীলঙ্কান পরিস্থিতি্র মত ইত্যাদি!!
    কাজেই দুএকটা  আজিজ-বেনজির নয় সবার বিরুদ্ধেই কোনরূপ ফেবার বা ব্যতিক্রম ছাড়াই ব্যবস্থায় নিতে যেতে হবেই। আবার এটা হাসিনার জন্য উভয় সংকট অবশ্যই! যাদের “বঙ্গবন্ধু জিন্দাবাদ” ধ্বনি শুনে হাসিনা ও তাঁর দল আত্মতৃপ্তি নিয়েছেন এরাই তো সেই ঋণ খেলাপী! যতবড় ঋণ খেলাপী তত তার গলায় জোর, উচ্চস্বর!!! কাজেই ঋণ খেলাপীর বিরুদ্ধে একশন মানে এক অর্থে নিজ দলের বিরুদ্ধে হয়ত একশন হবে সেটা!! তাহলে এখন হাসিনা কী এমন একশনে যেতে পারবেন? আমরা কিছুই জানি না। তিনি হয়ত বেছে বেছে আগানোর পথ নিতে পারেন; যেমন বেছে বেছে কিছু লোকের উপরে একশন। কিন্তু এটা একেবারেই ফল দিবে না। কারণ এটা আই-ওয়াশের ইস্যু নয়; মেজর খেলাপী বা পাচারকারিদের অর্থ ফেরত এনে দেখানোর বিষয় এটা। আর এর উপর নির্ভর করছে অর্থনীতি আবার ফিরবে কীনা, কী সে? নাকি এটা মুদ্রাস্ফীতি আকাশ্চুম্বি করবে!!
    অনেক শক্ত হাতে, লম্বা হাতের ডিসিশন লাগবে – হতে হবে এটা!!!

    সব শেষে আলী রিয়াজ প্রসঙ্গঃ
    আলী রিয়াজ আরেক আমেরিকান থিঙ্ক ট্যাংক ফেলো; যিনি স্পষ্ট করতে চান না যে তিনি বাংলাদেশ নয়, বরং আমেরিকান রাষ্ট্রস্বার্থের পক্ষে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন, কথা বলেন। তিনি গত ২৬ মে দেশে এই বেনজির-আজিজ ইস্যুর মুখে কিছু মন্তব্যসুচক বক্তব্য রেখেছেন যেটা প্রথম আলো মতামত-কলামের ঢংয়ে ছেপেছে। পাওয়া যাবে এখানে, আওয়ামী লীগকেই দায় নিতে হবে – এই শিরোনামে।আলী রীয়াজের কথা ঠিকই আছে, এনিয়ে আপত্তির কিছু নাই। কিন্তু তাঁর কথাটা অসম্পুর্ণ। ঘটনার জন্য কী কেবল আওয়ামি লীগই দায়ী? নাকি থিঙ্কট্যাঙ্ক ফেলো আলী রীয়াজ-সহ ২০০৭ সাল থেকে সকল আমেরিকান প্রশাসন ও প্রেসিডেন্ট সকলেই দায়ী?   এর উত্তর না দেওয়াতে বা বিবেচনায় না নেওয়াতে যেন তিনি নিজেকে ও আমেরিকাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন এই লেখা দিয়ে এমন দাড়িয়েছে ব্যাপারটা।
    আলো রীয়াজ যদি বুঝে থাকেন এর দায় আওয়ামী লীগেরই তবে তিনি তো বহু আগে থেকেই জানতেন বা না জানার কোন কারণ নাই যে এর দায় তাঁর এবং আমেরিকান প্রশাসনেরও!
    আবার যেহেতু সেসময় থেকেই তিনি জানতেন তাহলে এনিয়ে কী কিছু লিখেছেন তিনি? জানিয়েছেন তার পাঠককে আজকের মত যে কে  কে দায়ী?
    বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে একটা গভীর গুম,খুন, অপহরণ এর রাষ্ট্র হিসাবে হাজির করা ; সরকারবিরোধী যেকোন ব্যক্তি নাগরিক ও রাজনীতিককে গুম, খুন করা, ভয় দেখানো আর এসবই করা হয়েছে সেই ২০০৭ সাল থেকে; এদের সকলকে কোন প্রমাণ ছাড়াই বাচবিচারহীন এরা সশস্ত্র ইসলামি রাজনীতির লোক অথবা জঙ্গী সন্ত্রাসী বলে ট্যাগ লাগিয়ে দিয়ে। আর হাসিনা যে ২০০৯ সাল থেকে এটাই করবে এই নীতিতে চলবে তাতো আমেরিকা ২০০৮ সালেই হাসিনার স্টেট ডিপার্টমেন্ট সফরের সময় থেকেই জানত। এমনকি হাসিনার ক্ষমতা চর্চার সবঘটনাই তো আমেরিকা প্রশাসন দেখেছে, জানে ও ওয়াকিবহাল থেকেছে কিন্তু মুখে কুলুপ এটে চলেছে। বাংলাদেশের আমেরিকান রাষ্ট্রদুতের আমেরিকার বদলে ২০১৩ সালে ভারতে গিয়ে ব্রিফ নিয়ে আসার কথা কে না জানে? এই ভারত প্রীতির কাফফারা আমেরিকা আজ এড়াবে কী করে?  পরে ঐ ২০১৩ সালের শেষের দিকে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিংয়ের বাংলাদেশ সফর আর এরশাদকে বিরোধি দল বানিয়ে দিয়ে যাওয়া ইত্যাদি করে প্রত্যক্ষ্য ভারতীয় হস্তক্ষেপ এটাক কী তখন আমেরিকার চোখের সামনে ঘটে নাই? এসব সময়ের ঘটনাবলীতে বেনজির-আজিজদের ভুমিকা কী ছিল? এরা কারা ছিল তা কী আমেরিকা প্রশাসন তখন দেখে নাই জানে না? সব আমেরিকান প্রশাসন হাসিনা সরকারের এসব কাজকে – জঙ্গী দমন- বলে কী জায়েজ করে নাই? এসবই কী অর্থহীন ও আত্মঘাতি ইসলামবিরোধীতা, ইসলামবিদ্বেষের ততপরতা আর নয়া ঘৃণা ছড়ানোর ততপরতা ছিল না?  সবচেয়ে বড় কথা এর কোনকিছুই হাসিনা একা করে নাই। সব সময় সে পশ্চিমা অনুমোদন পেয়ে গিয়েছে।  কথিত থিঙ্কট্যাঙ্ক ও আমেরিকান প্রশাসনের এর সবকাজেই প্রকাশ্যে বা গোপনে অনুমোদন ছিল না কী? ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপিকে অংশগ্রহণে প্রলুব্ধ করে টেনে আনা অথচ হাসিনার সাথে তাদের কী গোপন ডিলে আমেরিকান রণে ভঙ্গ ঘটলো? কী কারণে? কেন আমেরিকান রাষ্ট্রদুত অসময়ে ঢাকা ছেড়েছিলেন,  ঐ নির্বাচনের আগে  আচমকা রাষ্ট্রদুত বদল ঘটেছিল কেন?  সেকথা আমেরিকার চেয়ে ভাল কে জানে?
    কাজেই আলী রিয়াজ যেটা বলছেন, আওয়ামী লীগকেই দায় নিতে হবে – সেটা ঠক আছে হয়ত কিন্তু  থিঙ্কট্যাঙ্ক ফেলো গং এবং সব আমেরিকান প্রশাসন এর দায় থেকে দূরে থাকবেন কীভাবে, কেন?

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    [এই লেখা কোন নিউজ নয়, ব্যক্তির নিজস্ব রাজনৈতিক বিশ্লেষণ মাত্র। ফলে পাঠকের এ’লেখা পড়ে কিছুই বহন করা বা মান্য করার বাধ্যবাধকতা নাই। কেবল জানলেন যে এমন একটা মতামত আছে!]

    আপডেটঃ     মে ২০২৪  রাত
    শেষ আপডেটঃ   ০২ জুন মে ২০২৪, সকাল ১০ঃ ৫৭

  • জেনারেল আজিজের উপর আমেরিকান নয়া ‘পদক্ষেপ’ কেন?

    জেনারেল আজিজের উপর আমেরিকান নয়া ‘পদক্ষেপ’ কেন?

    গৌতম দাস
    ২১ মে ২০২৪
    https://wp.me/p1sCvy-5DG

     

    ছবি ডেইলি স্টার থেকে নেয়া 

     

     

    গতকাল দুপুর থেকেই খবরটা  ঢাকায় ক্রমশঃ ছড়িয়ে পড়ছিল যে সাবেক এক ‘বাংলাদেশ আর্মি চীফ’ জেনারেল আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে আমেরিকান অসন্তোষ বা এনিয়ে তাদের “নয়া পদক্ষেপ” এর খবর। আজ ডেইলিস্টার লিখেছে, “আমেরিকা আজিজ আহমেদ ও তাঁর নিকটাত্মীয়দের উপর [“United States has imposed sanctions on former chief of Bangladesh Army Aziz Ahmed and his immediate family…”] স্যাংশন  দিয়েছে। এলেখায় বেশির ভাগ সময় জেনারেল আজিজকে নিয়ে আমেরিকান বিবৃতিকে  আমি “আমেরিকান পদক্ষেপ” বা শুধু “পদক্ষেপ” বলে চিহ্নিত করব। যদিও ডেইলি স্টার সহ অনেক মিডিয়াই এটাকে স্যাংশন আরোপ করা বলেছে। আর এর বিপরীতে আমেরিকান বিবৃতিতে স্যাংশন শব্দটা দেখিনি। তাই, এই বতর্ক থেকে দূরে থাকতে  একে “আমেরিকান পদক্ষেপ” বলব এখানে।

    “আমেরিকান পদক্ষেপ” বলতে শব্দে যাই থাক, বাংলাদেশে সামাজিকভাবে এক বড় খুশির প্রতিক্রিয়া হয়েছে দেখার মত। এতে লক্ষ্যণীয় যে,  বিগত দুবছরের সরকারবিরোধী আন্দোলনকালে যারা আমেরিকান সাপোর্ট ও সহায়তার ব্যাপারে গভীরভাবে বাইডেন-লু এর আমেরিকার উপর “রাজনৈতিক আস্থা” রেখেছিল; গভীর নির্ভরশীলতায় আপন বোধ করত প্রবল খুশির প্রতিক্রিয়া এসেছে মূলত তাদের থেকে।  কিন্তু এসব সত্বেও , সেসময়ে এরাই আবার বাধ্য হয়েছিল নির্বাচনের আগে যখন আমেরিকা  নিজেই নিজ কমিটমেন্টের উলটা ঘুরে গিয়ে বাংলাদেশকে ফেলে পালিয়ে গিয়েছিল শুধু না, একেবারে “বিজয়ী” হাসিনার কোলে গিয়ে উঠেছিল; আর তা দেখে লজ্জায় মারা গিয়েছিল যারা মূলত তারাই এবার জেনারেল আজিজের বিরুদ্ধে আমেরিকান পদক্ষেপ দেখে আর নিজেদের চাপা কষ্ট বা প্রতারিতবোধের কষ্ট আর লুকিয়ে রাখতে পারে নাই। বাংলাদেশের এই “আমেরিকা সমর্থক গোষ্ঠি” লজ্জায় মরমে মরে গিয়েছিল, নির্বাচন ঘটে যাবার পর থেকে এতদিন পর্যন্ত। বিশেষ করে এখন বাইডেন-হাসিনা নাকি “কেমন জানি বন্ধু” যা নিয়ে আবার মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের উচ্ছ্বাস জানিয়ে বিএনপিকে টিটকিরি দিয়ে কথা বলে চলেছে। এদিকে আমেরিকার ধারণা তারা একসাথে বাইডেন-হাসিনা ‘কী জানি’ [ইন্দো-প্যাসেফিক স্ট্রাটেজি] উতযাপনও শুরু করে দিয়েছিল ইত্যাদি!  তাই গত চার-পাঁচ মাস “আমেরিকা সমর্থক গোষ্ঠি”দের কেটেছে এসব নখড়া দেখতে দেখতে!  অতএব পালটা এবার এদের উচ্ছ্বাসের প্রতিক্রিয়াই ছিল আজ দেখার মত। যেন তারা বলতে চাচ্ছে – তাদের প্রিয় আমেরিকা অনেক সুইট – এরা বিট্রে করে না, ফেলে পালায় না ইত্যাদি। মানে যেন সিনেমার ডায়লগের ভাষায়,   উদ্ধার করতে ‘মেরা অর্জুন [এখানে আমেরিকা] জরুর আয়েগা”। কিন্তু আসলেই কী তাই? এটার মানে কী আমেরিকার ফিরে এসেছে?   আমেরিকা কী ফিরে এসে গেছে? বা আসবে?

    বলা বাহুল্য উচ্ছ্বসিত এই আমেরিকা সমর্থকেরা কঠোর সরকারবিরোধী; তারা সরকারের পতন দেখার জন্য উন্মুখ বহুদিন থেকেই জেনুইনলি। কিন্তু তারা সকলে কী তা এবার দেখতে পাবে?
    এনিয়ে আমার মন্তব্য ও পরামর্শ হবে – এখনও উচ্ছ্বসিত না হয়ে “ধীরে চলেন”। প্রচুর [if, not, but’] এসবের যদি, কিন্তু আছে সামনে; সেসব ব্যাপারে – আমেরিকা কী অবস্থান নেয় সুযোগ থাকে; পরিস্থিতি কতটা আমেরিকার ফেবারে থাকে বা আমেরিকা চায় তা এখনও অনিশ্চিত। আর সবচেয়ে বড় কথা আমেরিকা যাদের ভরসায় বা যাদের সমর্থন পেতে বা খুশি করতে চেয়ে বা লক্ষ্য করে এই “পদক্ষেপ ঘোষণা” নিয়ে থাকুক না কেন বাংলাদেশের সেই রাজনৈতিক অংশ কী আমেরিকাকে আগের মতই গ্রহণ করবে? এটাই এখন একেবারেই অনিশ্চিত। যেমন, মির্জা আলমগীর প্রতিক্রিয়া দেখা যাক!

    আজ বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মির্জা আলমগীর প্রতিক্রিয়াঃ
    আজকে বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মির্জা আলমগীর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, “আজিজ আহমেদের নিষেধাজ্ঞা আরেকটা বিভ্রান্ত করাঃ মির্জা ফখরুল”। এর সোজা মানে হল, আমেরিকা আগেও বিভ্রান্ত করেছে তাই আবার আরেকটা বিভ্রান্তি আনা বলেই দেখতে চাচ্ছে বিএনপি – আমেরিকান এই পদক্ষেপকে!  কেন তিনি এমনটা বললেন সেটা বুঝার চেষ্টা করতে পারেন আমেরিকা সমর্থকেরা। উচ্ছ্বসিত আমেরিকা সমর্থকদের মত করে, আলমগীর সাহেবেরও তো অন্তত ইতিবাচক মন্তব্য করার কথা! কিন্তু এই মন্তব্য অন্তত নেতিবাচক! কিন্তু সেটাই বা কেন?  এছাড়া আরেকটা কথাও তিনি ওখানে বলেছেন।  আলমগীর সাহেব বলছেন – “নিজের ঘরকে যদি নিজে সামলাতে না পারি, অন্য কেউ সামাল দেবে না। নিজের শক্তি নিয়ে দাঁড়াতে হবে, নিজের শক্তি দিয়ে তাদের (আওয়ামী লীগ) পরাজিত করতে হবে”। এই বাক্যের মূল শব্দ নিজের শক্তিতে দাঁড়ানো, আমেরিকার না। এদিকটা মনোযোগ দিয়ে বুঝতে হবে।
    কাজেই আমার মন্তব্য ও পরামর্শ হবে – বাংলাদেশের “উচ্ছ্বসিত আমেরিকা সমর্থক”, আপনারা একেবারেই ধীরে চলেন; স্থির হয়ে নেন আগে! আর সমস্ত স্ব-সক্ষমতা  দিয়ে পরিস্থিতি বুঝতে ও ব্যাখ্যা পেতে চেষ্টা করেন সবার আগে। এর আগে কোন মুভ করলে ভুল হবে।

    এখন কেন এই আমেরিকান পদক্ষেপঃ  
    জবাবটা এবার এখানে খাড়া বলে ফেলি। ভারতের নির্বাচনে মোদি নাকি এবার হেরে যাবেন। আমেরিকান এই পদক্ষেপ এমন এই অনুমানের উপর নির্ভর করে নেয়া হয়েছে; যেটা এখনও ঘটে নাই। আগামি ৪ জুনে প্রকাশিতব্য ভারতের নির্বাচনী ফলাফলে মোদি হেরে গেছে – এটা আমেরিকাসহ আমরা সকলেই শুনতে পাব হয়ত। এই হল সেই অনুমান। সোজা কথা এটা এখনও ঘটে নাই; ঘটতেও পারে!

    তাই বলাই বাহুল্য যদি উলটা হয়। মানে মোদি যদি নিজেকে বিজয়ী বলে ঘোষণা দেখাতে পারেন তবে সেক্ষেত্রে বলাই বাহুল্য – “আমেরিকার পদক্ষেপের” এখানেই আপাতত ইতি হয়ে যাবে।
    তবে মির্জা ফকরুলের নেতি-প্রতিক্রিয়ার কারণ ভিন্ন। এর সাথে আমরা যেন আবার আমেরিকার ভাবনা বা অনুমানের সাথে সম্পর্কিত করে না দেখি; এটা সম্পর্কিত নয় তাই। সেটা বিএনপির নিজস্ব আলাদা কারণ।

    এখন আমার অনুমান হাসিনা বা মোদি সরকারও খুব নিশ্চিত নন যে আমেরিকা বা বাইডেন-লু ঠিক কী বুঝে এমন বেমাক্কা এক পদক্ষেপ হাঁকালেন?  বিবৃতির কাগজে আমেরিকা  “ডেজিগনেশন” [designation] এই শব্দটা ব্যবহার করেছে। মানে নামকরণে সাবেক জেনারেল আজিজকে অপরাধী বলে চিহ্নিত করে ফেললো।
    তবে আমি মন্ত্রী হাসান মাহমুদ যে কথা বলেছেন যে আমাদের সরকার জানত দুদিন আগে বাংলাদেশের আমেরিকার এমবেসিকে বাইডেন প্রশাসন জানিয়েছিল, এনিয়ে কিছু বলছি না।

    আরেকটা কথা, হাসান মাহমুদ যে কথা বলেছেন যে – এটা “ভিসা স্যাংশন নয়” – একথা কিন্তু সত্য [US sanction on Aziz not under visa policy: foreign minister]। বরং অরিজিনাল স্টেট ডিপার্টমেন্টের বিবৃতিতেও স্যাংশন বলে কোন শব্দই নাই। এছাড়া আমেরিকার ঐ বিবৃতিতে আজিজ ও তাঁর নিকটাত্মীয়দের  – আমেরিকায় প্রবেশ নিষেধ বা সম্পত্তি বায়োজাপ্ত ইত্যাদি কোন শব্দাবলীও নাই।

    কেবল একটাই শব্দ আছে “ডেজিগনেশন”। মানে, বাংলায় বললে “চিহ্নিত করা” ধরণের বা নামকরণ করা যেন। তাই বলছে, আমেরিকান প্রশাসন সাবেক জেনারেল আজিজকে দুর্নীতিবাজ যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধবংস বা বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করেছে। এই হলো অভিযোগ ও নামকরণ। একথা অবশ্যই বেশ ওজনদার!  কিন্তু সেজন্য আমেরিকার দিক থেকে শাস্তি কী বা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ কী আরোপ করা হবে – এধরণের কোন বাক্য আর সেখানে নাই। তবে কোন আইনে এই ডেজিগনেশন এর একটা ধারা নম্বরউল্লেখ করা আছে; তা হল  [7031(c)] ।  হতে পারে ঐ ধারার বিস্তারে কোন শাস্তির কথা লেখা আছে। তবে আপাতত আমরা তা জানি না।

    তাই,  উপরে আমি লিখেছে, জেনারেল আজিজের উপর স্যাংশন আরোপ করা হয়েছে। হা বলেছি তবে নিজ বরাতে না। বলেছি ডেইলিস্টারের বরাতে। বিবৃতিতে স্যাংশন শব্দটাই নাই আগেই বলেছি; আমি গত রাতে পড়েছি। তাই ঢাকার মিডিয়ায় কীভাবে আসছে এমনকি হাসান মাহমুদ তিনিওও স্যাংশন আরোপ হয়েছে বলেছেন।

    তাহলে মূলকথাটা হল, আগামী ৪ জুন ভারতের নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের দিন। এদিন যদি মোদিই হেরে গেছেন বলে প্রকাশিত হয় তবেই আমেরিকান বিবৃতি আরো পাতা খুলে ফুলে-ফলে বিকশিত হয়ে উঠতে চাইবে। এবং সেক্ষেত্রে খুব দ্রুতই বহু বহু সব ঘটনা ঘটবে।   ইতোমধ্যেই অবশ্য ভারতে রাষ্ট্রক্ষমতার করিডোরে প্রবল আলোড়ন বয়ে যাচ্ছে যে মোদি এবার হারছেন। ভারতের যত জুয়ার আড্ডা আছে বড় বড় সব বিখ্যাত ডেরা সেখানে মোদি হেরে যাওয়ার পক্ষে বাজি ধরা জুয়ারি লোকের সংখ্যাই বেশী, রেটও হাই। এটা একটা খুবই তাতপর্যময় তথ্য! ইতোমধ্যে ভারতীয় শেয়ার বাজারও সব বিক্রি করে দাম ফেলে মানে আগে নিজ বিনিয়োগ বাচাও – এমন জোয়ার তুলেছিল আমরা দেখেছি।  আার অন্যদিকে, ভারতে ভোটপ্রদানের % যদি ৬০ এর নিচে যায় তবে মনে করা হয় এটা মোদির হারার লক্ষণ! সেটাও চারপর্বের পর থেকে দেখা যাচ্ছে!
    তবুও আমার শেষ কথা, এমন যত আলামতই দেখা যাক না কেন –  মোদির হাতে থাকা “ভোট বাক্সকে সফটওয়ার ম্যানিপুলেশনের সক্ষমতা” যদি অকার্যকর হয়ে থাকে তবেই একমাত্র তবেই, উপরে যা বলেছি তা সত্য হতেও পারে, নইলে মোদি নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করবেনই আগেরবারের মতই!!
    এবার এক বাক্যে বলি,  যদি মোদি হেরে যায় তবে সবচেয়ে কঠিন সঙ্কটে পড়বে হাসিনা সরকার! আর হবু সেটাই আমেরিকার পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য!
    নিচে আমেরিকান বিবৃতিটা সেঁটে দেয়া হলঃ

    Designation of Former Bangladesh Official for SIGNIFICANT Corruption:

    The U.S. Department of State announced today the public designation of former General Aziz Ahmed, previously Chief of the Bangladesh Army Staff, due to his involvement in significant corruption.  His actions have contributed to the undermining of Bangladesh’s democratic institutions and the public’s faith in public institutions and processes.

    Aziz Ahmed engaged in significant corruption by interfering in public processes while helping his brother evade accountability for criminal activity in Bangladesh.  Aziz also worked closely with his brother to ensure the improper awarding of military contracts and accepted bribes in exchange for government appointments for his personal benefit.

    This designation reaffirms the U.S. commitment to strengthening democratic institutions and rule of law in Bangladesh.  The United States supports anticorruption efforts in Bangladesh through assistance to make government services more transparent and affordable, improve the business and regulatory environment, and build capacity in investigating and prosecuting money laundering and other financial crimes.

    These public designations are made under Section 7031(c) of the annual Department of State, Foreign Operations, and Related Programs Appropriations Act.  This action renders Aziz and his immediate family members generally ineligible for entry into the United States.

     

     

     

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    [এই লেখা কোন নিউজ নয়, ব্যক্তির নিজস্ব রাজনৈতিক বিশ্লেষণ মাত্র। ফলে পাঠকের এ’লেখা পড়ে কিছুই বহন করা বা মান্য করার বাধ্যবাধকতা নাই। কেবল জানলেন যে এমন একটা মতামত আছে!]

    আপডেটঃ    ২১ মে ২০২৪  রাত ১১ঃ ২৬
    শেষ আপডেটঃ   ২৩ মে ২০২৪, ভোর  ০৫ঃ ৪৬

  • ভারতের নির্বাচনী তামাসা ও আগামি দক্ষিণ এশিয়ার হবু চিত্র!

    ভারতের নির্বাচনী তামাসা ও আগামি দক্ষিণ এশিয়ার হবু চিত্র!
    গৌতম দাস
    ১৭ মে ২০২৪  সন্ধ্যা ০৬ঃ ৫৪
    https://wp.me/p1sCvy-5Cc

     

       “ভারতের নির্বাচন কমিশনের ‘হাঁটু কি এখন দুর্বল’?”  – এটা গত ২০১৯ সালের ভারতের নির্বাচনের সময়ের বিবিসির রিপোর্ট। যা ভারতের নির্বাচনি তামাসা বুঝবার জন্য এখনও গুরুত্বপুর্ণ।

     

    ভারতের নির্বাচনী তামাসা!
    ভারতে এখন নির্বাচন চলছে। মানে সাতপর্বে ১৯ এপ্রিল থেকে ০১ জুন পর্যন্ত সাতটা আলাদা আলাদা দিনে বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মূলত মোট একই সিকিউরিটি ফোর্স বারবার কিন্তু নানান আসনে ব্যবহারের সুবিধা পাবার জন্য এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। নইলে, যেটা একই দিনে সব আসনে নির্বাচন হলে আসন প্রতি ফোর্সের সংখ্যা কমাতে হত, তা এখানে এড়ানো সম্ভব। আজ ১৭ মে ২০২৪;  মানে ইতোমধ্যে ভারতের চার পর্বেই নির্বাচন সম্পন্ন হয়ে গেছে। এখন বাকি আছে ২০ মে, ২৫ মে আর ০১ জুনের নির্বাচন। মানে ০১ জুনেই সাত পর্বের নির্বাচন সম্পন্ন হয়ে যাবে। এরপর দুদিন গ্যাপ দিয়ে ফলাফলের জন্য ৪ জুন সকাল থেকে সব ভোটের বাক্স নানা রাজ্যে একই দিনে একসাথে গণনা শুরু হবে। আর ঐদিনই দুপুর ১২ টার মধ্যে মিডিয়ায় বিশেষত টিভিগুলোতে কে কোথায় আগিয়ে আছে এই ট্রেন্ড [trend] বা অভিমুখ অনুমানের সুযোগ দর্শক-পাবলিকের কাছে এসে যাবে। যদিও সব ভোট গণনায় আরো সময় লাগবে। এরপর ঐদিনেই সন্ধ্যা সাতটার পর থেকে ক্রমশ আরো স্পষ্ট হতে থাকবে; ভোটের ফলাফলের আরো স্পষ্ট  অভিমুখ কোনদিকে। আর ঐদিনই রাত বারোটার মধ্যে অভিমুখ তো বটেই ফলাফলেও একেবারেই স্পষ্ট হয়ে যাবে যে কোন দলের জোট বিজয়ী হতে যাচ্ছে।  এই হলো এবারের ভারতের নির্বাচনি দিন-তারিখ!

    এবারের ভারতের নির্বাচন নিয়ে আমি  এপর্যন্ত এবারের হবু বা ইতোমধ্যেই ঘটে যাওয়া ঘটনাবলী যা আসছে ও ঘটবে এসবের অর্থ তাতপর্য অথবা বিশ্লেষণ নিয়েও কিছুই লিখি নাই। তুলনায় গতবার মানে গত ২০১৯ সালের নির্বাচনের বেলায় সম্ভবত মোট আট / দশটা লেখা দিয়েছিলাম। তাহলে এবার দূরে আছি কেন?
    মূল কারণ, ২০১৯ সালে পুরা নির্বাচনের সময়ের ঘটনাবলীর খুবই কমই মনিটর করতে বাদ রেখেছিলাম। যেমন ভোটের আগের অন্তত তিনটা সার্ভে গ্রুপের সার্ভে সম্পর্কে স্টাডি ও ফলো করেছিলাম। যারা আবার একই সাথে  “বুথ ফেরত ভোটারদের” সাক্ষাতকার নিয়ে সার্ভে রিপোর্ট নিয়েও আমার স্টাডিতে অনেক সময় দিয়েছিলাম। শেষের দিকে ভারতের অনেক মিডিয়ার সাথে আমিও ধারণা দিচ্ছিলাম যে মোদির দল বিজেপি ও তাদের জোট[এনডিএ] সম্ভবত নির্বাচনের হেরে যাবে। কিন্তু না। মোদি-অমিত শাহের হাতে ভোটের বাক্স ম্যানিপুলেশনের [অবৈধ হাত ঢুকিয়ে ফলাফল উলটানো] ব্যবস্থা আছে। এবং তা খুবই সুনির্দিষ্ট করে ফল আনতে পারে এমন বা  যেখানে যতটুকু ফলাফল পালটানো দরকার তা করার ক্ষমতা সম্পন্ন। এদিকটা তখন আমল করা হয় নাই। তাই বিপত্তি। আর এবারও অনেক কিছুই পরিবর্তন হলেও মোদি-অমিত শাহের হাতে ভোটের বাক্স ম্যানিপুলেশনের ব্যবস্থা বহাল ও অটুট আছে বলেই জানি। তাই এবার দূরে থেকেছি লিখা থেকে যদিও, এবারেরও খবরাখবর রাখছি কিন্তু কিছু লিখি নাই।

    গতবারও এমন সব পর্বের নির্বাচনের পরে গণনার দিন শুরুর আগে এমন চারদিনের গ্যাপ ছিল। মনে করা হয় ঐ গ্যাপের দিনগুলোই মোদি-অমিতের চোখে এসব ম্যানিপুলেশনের উপযুক্ত সময় আর তা তখনই করা হয়ে থাকে বলে এপর্যন্ত যতটুকু জানা যায়। যেমন দেখেন, উপরে যে ছবিটা ব্যবহার করেছি সেটা ২০১৯ সালের নির্বাচনে বিবিসির একটা রিপোর্ট থেকে নিয়েছি। যেখানে তখনকার শিরোনাম ছিল কত এগ্রেসিভ বা উদগ্র আক্রমানাত্মক! শিরোনাম লিখেছিল – “ভারতের নির্বাচন কমিশনের ‘হাঁটু কি এখন দুর্বল’!!!
    সেসময়ের অমিত শাহ যিনি এখন কেন্দ্র-সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (তখন তিনি কোন মন্ত্রীই ছিলেন না, কেবল ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক) তিনি তখন এক টিভি লাইভ শোতে এসে বলেছিলেন বিজেপি ৩০০ পার করবে। ভারতে সরকার গড়তে ২৭২+ আসনে বিজয়ী হতে হয়। তো ৩০০ পার মানে হল ৩০০ এর বেশী আসন পাবে। সত্যিই তাই ঘটেছিল। ২০১৯ সালে, একা বিজেপির মোট আসন পেয়ে হয়েছিল ৩০৩।  মোদি সেসময় মানে ঐ টিভি শো এর দিন কাশী (উত্তরপ্রদেশের খুবই গুরুত্বপুর্ণ হিন্দুদের এক তীর্থস্থান মনে করা হয়) থেকে ফিরেছেন। সেখানে নাকি তিনি কয়েকদিনের ধ্যানে বসেছিলেন!!! সেবারের নির্বাচনের শেষদিনের আগেই  মোদি কাশীতে গিয়ে ধ্যানে বসেছিলেন তাঁর হরেক রকমের রংঢঙ আর প্রপাগান্ডার অংশ হিসাবে। তাই সেই শো তে তিনি অমিত শাহের পাশে বসে থাকলেও বেশী কথা বলছিলেন না। তবে অমিত শাহের সেদিনের ঘোষণা ছিল যে তারা ৩০০ আসন পার করবেনই, এটা শোনার পর থেকে আমার মনে গভীরতম সন্দেহ শুরু হয়েছিল যে অমিত শাহের কথাই সম্ভবত সত্য হতে যাচ্ছে! আমি বোকা হয়ে যাচ্ছি!

    আগেই বলেছি অমিত শাহের কথা সত্য হয়েছিল; নিজ দলের আসন ছিল ৩০৩ আর সাথে বিজেপির নিজ জোট [NDA] এর আসন সহ মোট আসন হয়েছিল ৩৫৩। সেবারের মূলত এমন ম্যানুপুলেটেড বা হস্তক্ষেপ করা ফলাফলের কারণেই এবার ভারতের নির্বাচন নিয়ে কোন ধরণের লেখা লিখিই নাই। এড়িয়ে গিয়েছি। আর তাই এবার এটাই প্রথম লেখা। তাহলে আবার কেন ভোট পর্বের মাঝামাঝি সময়ে এখন লিখতে আসলাম?
    সেসব আরেক কাহিনী যা বাংলাদেশেও ছড়িয়েছে। ছড়িয়েছে কারণ এবার এক প্রবল অনুমান হল, মোদি এবার নির্বাচনে নাকি হেরে যাবেন। আর তাতে কংগ্রেসের রাহুল এন্ড গং মানে তাদের জোট ক্ষমতায় আসলে আমেরিকার সাথে তাদের বিশেষ সম্পর্কের সরকার হবে সেটা।  তাই বলাই বাহুল্য এর প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের আয়ুসহ আনাচে কানাচে। সেকারণে এখন বাংলাদেশে যাই ঘটছে বা ঘটবে সেসকল ঘটনার সাথেও এইসব (মোদি হারবেন ধরণের) কল্পিত-অনুমিত ঘটানাবলীর মিল আছে কিনা সেই জল্পনা-কল্পনাও প্রবলে উঠেছে।

    যদিও এমন বহু ঘটনা – গুজব, আধা গুজব, আধা সত্যি  ইত্যাদি সবই কানে আসছে। তবুও ভারতের এবারের নির্বাচন নিয়ে আমার নিজ অবস্থান হল, মোদি-অমিত শাহের হাতে বাক্স ম্যানিপুলেশনের মেকানিজম নাই তা খর্ব বা অকেজো হয়ে গেছে একথা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত  শেষ বিচারে মোদির হারের কোন সম্ভাবনা (অন্তত আমার কাছে) নাই আর তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। যদিও এবার ইতোমধ্যেই এমনকি এখন ভারতের ইন্টেলিজেন্স প্রতিষ্ঠান -র- বলতে সেটা,  ‘মোদির র’ আর ‘কংগ্রেসি র’ বলেও ভাগের কথা উঠে গেছে, এমনটা সত্বেও!

    এমনিতে রাহুলের কংগ্রেস বা তাদের জোটের [I N D I A] পক্ষে বাইডেন প্রশাসন এবার দাঁড়িয়েছিল বেশ আগেই।  আর তাতেই  মোদিকে বিপুল অর্থদাতা ও তাঁর অবাধে খরচে উৎস যে আদানি গ্রুপ; আর এর বিরুদ্ধে বাইডেন প্রশাসনের লেগে পড়াতেই তাতে এই গ্রুপের শেয়ারে ধ্বস নামিয়ে দিয়েছিল, বলে মনে করা হয়। ওপেন সোসাইটি খ্যাত বা হেজ ফান্ড ব্যবসায়ী জর্জ সোরেস নিজেই [একালে বিভিন্ন দেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে আমেরিকান হস্তক্ষেপের ধারা বজায় রাখতে যে অর্থের প্রয়োজন হয় তা যোগাতে আমেরিকা প্রশাসন আগের তুলনায় দুর্বল হয়ে গেছে; তাই সেই অভাব পূরণে অর্থের চালান যোগাতে এখন সবচেয়ে বড় যোগান দাতা হয়েছে এই ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশন নামের থিঙ্কট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠান। পুরানা সোভিয়েত রাষ্ট্র ভেঙ্গে গেলে তা যে ১৫ রাষ্ট্র হয়েছিল এমন সব রাষ্ট্রেই আমেরিকান (এনজিও) হস্তক্ষেপ এর উসিলায় অর্থ ঢেলেছে এই প্রতিষ্ঠান। এটাকে তারা অরেঞ্জ রেভেলিউশন বলে ডেকে থাকে। ]
    বাইডেনের হয়ে ভারতে  আদানির বিরুদ্ধে দাড়িয়েছিলেন জর্জ সোরেস; এক পাবলিক বক্তৃতা দিয়ে তিনি নিজে আদানির বিরুদ্ধে মার্কেট তাতিয়ে  ছিলেন। কিন্তু এতকিছু করে বাইডেন প্রশাসন আগিয়েও মাঝে হঠাত কংগ্রেসী রাহুলদের সব ততপরতায় ভাটা দেখতে পাই আমরা। রাহুলের জোটও অসংলগ্ন বা আভ্যন্তরীণ দ্বিধায় শ্লথ হতেই দেখেছিলাম। কিন্তু এবার ডোনাল্ড লু এর সফর [তিনি এমাসে বাংলাদেশে আসার আগে ভারত পরে শ্রীলঙ্কা সফর করে এসেছিলেন।] যেটা  বাইডেন প্রশাসনেরও ভাটা বা শেষ সময়ে সফর এটা; এবার তাঁর রুট ছিল ইন্ডিয়া-শ্রীলংকা হয়ে বাংলাদেশ।  আর লু এর এবারের ভারত সফরের পরে আমরা দেখি যে ‘ইন্ডিয়া’ জোটে সরব বা চাঞ্চল্য শুরু হয়েছে। ওদিকে ভোট প্রদান চতুর্থ পর্বে এসে অবজারভেশন বলছে, ভোটপ্রদানের হার নিম্নমুখি। আর ভারতের ভোট বিশ্লেষকেরা একমত যে  মোট ভোটপ্রদানের নিম্নহার (%) মানে তা মোদির ভোট  কম  হবার লক্ষণ।  আবার ওদিকে ইরানের সাথে মিলে চাবাহার [Chābahār ] সমুদ্র বন্দর চালু ও ব্যবহারের ততপরতা শুরু করেছে ভারত বহুদিন এই প্রকল্প পরিত্যক্ত থাকার পরে। যদিও আবার ততপর হওয়াতে বাইডেন প্রশাসন ভারতকে থ্রেট করেছে, নিষেধাজ্ঞা বা ব্যবস্থা নিবার হুমকি দিয়েছে।
    ইত্যাদি এসব কিছু নতুন সব ঘটনাবলীতে মুল ঘটনা হয়ে উঠে আসছে বাইডেন প্রশাসন ও কংগ্রেসের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা অনেকদূর আগিয়ে গিয়েছে। আর তা থেকেই নিট ফলাফল হল, মোদির এবার হেরে যাওয়ার আলাপ, সম্ভাবনা বা গুজব উঠে আসছে তা বলা যায়। এককথায় বললে, বাইডেন প্রশাসনের কাছে, চলতি নির্বাচনে এক প্রো -আমেরিকান নয়া সরকার দেখতে চাওয়া হল তাদের প্রায়োরিটি। এই আকাঙ্খাটা খুব একটা কোথাও লুকানো ঠিক তা নয়। বরং কোথাও কোথাও এনিয়ে গভীর সব পরবর্তি পরিকল্পনা করতে বসে গেছে সংশ্লিষ্ট অনেকেই।  এমনকি তাতে কথিতভাবে মোদি আর অমিত শাহের মধ্যে গভীর দ্বন্দ্বের কথাও আবিস্কার করে রেখেছে অনেকে। অথচ এরা জানেনা মোদি-অমিত এরা দুজন ‘হরি আর হর এর মত’ হরিহরাত্মা!
    আর এই মিলিত-আত্মার জন্ম হয়েছিল ২০০২ সালে গুজরাত কিলিং  বা মুসলমান নিধনের কালে যখন গুজরাটি মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন মোদি আর তাঁর ডানহাত ছিল এই অমিত শাহ, যিনি ছিলেন আবার ঐ মোদির রাজ্য সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী! এই যুগল একসাথে আরএসএস-কে হাত করে, প্রভাবিত করে বিজেপি থেকে – লাল কৃষ্ণ আদভানি এবং অন্য দু’জন নেতা মুরলী মনোহর যোশি ও উমা ভারতী (এরা তিনজন হলেন আদালতের খাতায় বাবরি মসজিদ ভাঙার মূল আসামি) সহ অন্যান্য সব বুড়াদেরকে বয়সের অজুহাত তুলে দলের সব কমিটি থেকে বিদায় করে দিয়েছিল!  এরপর গত দশবছর ভারতের ক্ষমতায় থেকে তারা যা যা করেছে তা কেবলমাত্র এদুই জনের আজীবনের প্লান ও খায়েস বলে মনে করা হয়। এদের মাঝে আর কেউ নাই। তবে লিডার কেবল মোদিই। কাজেই যারা মোদি- অমিতের বিচ্ছেদ বা দ্বন্দ্বের কথার গল্প ছড়াচ্ছেন এই বিচারে তারা তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে এখনও শিশু!
    এছাড়াও, সবকথার শেখ কথা হল, মোদি-অমিতের হাতে যতক্ষণ ভোটবাক্স ম্যানিপুলেশনের সক্ষমতা আছে ততক্ষণ সব জল্পনা-কল্পনা অনুমান লু-তত্ব সবই ভুয়া আর অকেজো বলে হাজির হবেই বলে আমার ধারণা। মোদি আবার বিজয়ী হবেনই, সম্ভবত এভাবেই। এপ্রসঙ্গ আরেকটু কথায় শের দিকে আবার আসব। এর আগে উপরের কথা শেষ করে নেই।

     

    সফটওয়ার ভিত্তিক বাক্স ম্যানিপুলেশনঃ
    ততদিনে কানে আসছিল অন্য আরেক দিকের তথ্য, (দেশি-বিদেশি) ইন্টেলিজেন্স ইনফরমেশন যে মোদি ভোটের বাক্স বা ইভিএম বাক্স ম্যানিপুলেট (বাইরে থেকে প্রোগ্রামিং ব্যবহার করে ফল গণনা শুরুর আগেই হবু ফলাফল উলটে রাখা) করার সফটওয়ার সংগ্রহ করেছেন। অনুমান করা হয়ে থাকে এটা জুয়ারি শহর ম্যাকাও [Macao] আর- উত্তরকোরিয়া ভিত্তিক সফটওয়ার গ্রুপ যারা সাহায্য করছে বা করে চলেছে। অনেকে এমনকি এটাও মনে করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ হ্যাকিংয়েও এই গ্রুপের কেউ কেউ টেকনিক্যাল কাজ ও দিকে এসব অর্থে ও সুত্রে জড়িত ছিল। তবে সবচেয়ে ভয়ংকর দিকটা হল, এদিকটা নিয়ে মানে ভারতের নির্বাচনে ভোটের বাক্সের স্বচ্ছতা রাখা নিয়ে যত আবেদন  বা দাবি এপর্যন্ত তোলা হয়েছে এর সবই হয় ভারতের নির্বাচন কমিশন নিজে বা সুপ্রীম কোর্ট – এরা সেসব নাকচ করে ফেলে রেখেছে। কখনও সুপ্রীম কোর্ট বলেছে এটা কমিশনের কাজের উপর হস্তক্ষেপ হবে তাই তারা কিছু করবে না; আবার কখনও  (নির্বাচন) কমিশনের  কাছে মামলা ফেরত পাঠিয়ে হাত ধুয়ে ফেলেছে। আর নির্বাচন কমিশন বেশির ভাগ সময় যেকোন পাবলিকের আবেদনের ক্ষেত্রে জবাবই দেয় নাই বা নাকচ করে ফেলে রেখেছে। এনিয়ে আমার অন্তত তিনটা পুরানা লেখায় এসব নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছি। বেশিরভাগ সময় ফেরত পাঠানোর যুক্তিতে বলা হয়েছে যে এতে নির্বাচন ব্যবস্থা ফলাফল দিতে দেরি করবে বা ম্যানুয়াল ভোটের মত হয়ে যাবে তাই এতে হাত দেয়া যাবে না। অর্থাৎ যেন স্বচ্ছ নির্বাচন করা এটা প্রধান বিবেচনা নয়; এর বদলে অস্বচ্ছ ও কারচুপির সুযোগ রেখে দেওয়া আর এভাবেই তাড়াতাড়ি ফল আসার নির্বাচনী ব্যবস্থা গড়ে তোলাটাই আদালত ও কমিশনের কাছে লক্ষ্য!
    মজার কথা হল, এই অবস্থা সত্বেও কয়েকমাস আগে ভারতের প্রধান বিচারপতি বাংলাদেশে এসেছিলেন আমাদেরকে সবক শিখাতে যে ভারতের বা কোন দেশের নির্বাচন ব্যবস্থায়  সুপ্রীম কোর্ট আর নির্বাচন কমিশনের ভুমিকা কতই না মহান ও পবিত্র! আগ্রহিরা দেখতে পারেন এনিয়ে আমার পুরানা লেখা।

    যেটা অনুমান করা যায় সারকথায়,  মোদির তৈরি এটা একটা বিরাট র‍্যাকেট; অর্থ ও নানান ব্যক্তিগত সুবিধার আয়োজন ঘটিয়ে এই সিস্টেমটা দাঁড় করানো হয়েছে মোদি আর অমিত শাহের জুটিতে।  এবং ততই খোলাখুলি তাদের কাজের ধরণ। যেমন ২০১৯ সালের নির্বাচনে আইনভঙ্গের জন্য অনেক প্রার্থীকে সতর্ক করে ফাইন বা শাস্তি দিয়েছিল কমিশন। কিন্তু মোদির নামে বহু অভিযোগ জমা পড়লেও বা স্থানীয় নির্বাচনী কমিশন কর্তারা একশনের অনুমতি চাইলেও কমিশনারেরা তাতে অনুমতি দেয় নাই। অর্থাৎ প্রার্থী মোদি বিরুদ্ধে নির্বাচনি আইন ভঙ্গের সব অভিযোগই ব্যবস্থাহীন পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে থেকেছিল সেবার।  ভারতের নির্বাচন কমিশন প্রধান-সহ তিন সদস্য বিশিষ্ট। এটা সব সময় তাদের দুই-এক ভোটে এমন সিদ্ধান্ত দিয়েছিল সেসময়। আর তৃতীয় সদস্য অশোক লাভাসা, তাঁর আপত্তি ভোট সবসময় সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখিয়ে উপেক্ষা করা হয়েছে। সেই নির্বাচন শেষে কয়েক বছরের মধ্যে শেষে অশোক লাভাসাকে কমিশন ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। আপোষ করে তিনি এখন ম্যানিলায় বিশ্বব্যাংক সমতুল্য এডিবি-তে ভারত সরকারের প্রতিনিধি হয়ে লটকে আছেন। মানে নির্বাচন কমিশন থেকে তাঁকে বের করে দেয়া হয়েছে কায়দা করে।
    এমনকি এখনকার যে নির্বাচন কমিশন তা এবারের নির্বাচনী তারিখ ঘোষণার আগের সপ্তাহেও হয়ে পড়েছিল, এক সদস্য বিশিষ্ট; মানে কেবল প্রধান কমিশনার বিশিষ্ট। কারণ, আভ্যন্তরীণ আয়োজনে মোদি বাকি দুজনের পদত্যাগ করায়ছেন যাতে মোদি নয়া দুজন নতুন পছন্দের কমিশনার নিতে পারেন। তাই-ই হয়েছিল। আর এরপর তিন-সদস্য বিশিষ্ট হয়েই দুদিন পরে ঐ কমিশন এবারের নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা করেছিল। আমাদের দুদকের মত তথাকথিত এমন নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান মোদির হাতে অনেকগুলো। যেমন সিবিআই [Central Bureau of Investigation], ইডি[Enforcement Directorate] ,  এনআইএ [National Investigation Agency], আইবি [Intelligence Bureau (India]; এছাড়া আয়কর বিভাগ আছে। আর এর বাইরে যে আর কত এমন প্রতিষ্ঠান আছে অগুনতি। কিন্তু সারকথা হল, বিভিন্ন রাজ্যের বিরোধীদলের বিরুদ্ধে মোদি্র এদের লাগিয়ে দেয়া, হয়রানি করা, বিজেপির সাথে আপোষে আসতে বাধ্য করাই এদের মুল লক্ষ্য হয়ে আছে মোদির ইচ্ছায়। এসবই মূলত পলিটিক্যাল স্বার্থে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অপব্যবহার।
    আর এর বাইরে গত পাঁচ বছরে ধরে চলেছে মোদির আরেক মারাত্মক ব্যবস্থা। এর আনুষ্ঠানিক নাম ইলেকটোরাল বন্ড [electoral bonds] স্কিম। সরকারী ব্যাংক স্টেট ব্যাংক [SBI] থেকে এটা কেবল যেন বিজেপি-কে চাঁদা আদায়ের এ’এক আজিব ব্যবস্থা। এই ব্যাংক আসলে বড় ব্যবসায়ীদেরকে এই বন্ড বিক্রি করে থাকে; কিন্তু কে কিনল সে পরিচয় পাবলিকলি দেখায় না। আর বিজেপি সরকার উপরে যে দুদক সমতুল্য প্রতিষ্ঠানের কিছু নাম দেখালাম, এদেরকে দিয়ে হয়রানির ভয় দেখিয়ে ঐ ব্যাংকে চাঁদা জমা করে আসতে মানে বন্ড কিনতে বাধ্য করে থাকে। এখাতে এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুসারে প্রায় একমাত্র সুবিধাভোগী হল বিজেপি। আর মোট এমন বন্ডের পরিমাণ ১২ হাজার কোটি রুপীরও বেশী। গত ২০১৯ সালের নির্বাচনের আগে থেকে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। এটা পাঁচ বছর লুটপাট করতে দিবার পরে এবার নির্বাচনের আগে সুপ্রীম কোর্ট বীর হয়ে উঠেছিল। তারা ওসব চাঁদাদাতা সবার নামের তালিকা চলতি নির্বাচনের কয়েকদিন আগেই একদিনের মধ্যে  প্রকাশ করতে “স্টেট ব্যাংক-কে পালনীয় বাধ্যতামূলক” বলে নোটিফাই করেছিল। আর তাতেই সব নাম বের হয়ে আসে। অথচ পাঁচ বছর আগেই একাজ তারা করতে পারত।
    সবচেয়ে বড় কথা উপরে যেসব ইনভেস্টিগেশন প্রতিষ্ঠানের অল্পকিছু তালিকা দিয়েছি সেগুলো অপব্যবহার করেই বিজেপি সব বিরোধীদল আর ব্যবসায়ীদেরকে সাইজ করে গেছে যাচ্ছে। অথচ না সুপ্রীম কোর্ট বা নির্বাচন কমিশন এদিকে তাকায়-ই নাই। এটাই মূলত মোদির নামে এখন ফ্যাসিজমের অভিযোগ তুলেঅনেককে আগিয়ে আসতে দেখছি। কিন্তু এমন অভিযোগ তোলার ক্ষমতা এখনও যেন তাদের দেশের বাইরে – বাইডেন প্রশাসনের হাতে! এমনই দুর্দশা!

    আর এমন মোদি-ব্যবস্থার মধ্যেই আবার এবারের নির্বাচন হচ্ছে! আর কোর্ট বা কমিশন এব্যাপারে নির্বিকার! দেখেন এটা কমবেশি এখন সবাই জানে যে সরাসরি মুসলমানবিদ্বেষ করে ঘৃণা জাগিয়ে মোদি ভোটের প্রপাগান্ডা পরিচালনা চালিয়ে যাচ্ছে! অথচ এটা ঠেকানোই ছিল কোর্ট এবং কমিশন   এর মুখ্য দায়ীত্ব! কিন্তু এরা নির্বিকার! এটাই প্রমান করে ভারত কোন চুলায় মাথা লুকায়েছে! অথচ সমাজ অসহায়! এমনকি মোদিকে ফ্যাসিবাদ বলতেও যেন সাহস করছে না!

    এখন দুইটা শেষ কথাঃ
    অনেকাংশেই কথাগুলো বলব ভারত-ইরানের চাবাহার পোর্ট কে কেন্দ্র করে। সম্প্রতি ইরান-ভারত চুক্তি হয়েছে। আর তাতে পোর্ট পরিচালনা ভারতকে দেয়া হয়েছে। আর তাতেই আমেরিকা ভারতকে কড়া স্যাংশনের হুশিয়ারি দিয়েছে।

    ১। এই নির্বাচনে মোদি ফিরে জিতুক কিংবা বিরোধি কোয়ালিশন জিতুক – একটা মূল কথা হল, ভারত ক্রমশ আমেরিকা থেকে দূরে যেতে থাকবে।  মানে ততই ভারত একেবারে চীনের কোলে উঠে না গেলেও অন্তত নিউট্রাল বা একধরণের গভীর ব্যবসায়িক সম্পর্ক করতে অনেক ধাপ আগিয়ে যাবে। এককথায় বললে, চীন-ভারত উভয়ের স্ট্রাটেজিক স্বার্থ বিষয়ক দুরত্বটা ফিকে হতে থাকবে। আর ব্যবসায়িক স্বার্থ ততই ওর জায়গা নিবে।
    বাংলাদেশের গত কথিত নির্বাচনের কয়েকদিন আগে আমি লিখেছিলাম আমেরিকা আমাদেরকে রাস্তায় ফেলে চলে গেলে তা এশিয়া থেকেই আমেরিকার বিদায়ের সুত্রপাত ঘটবে। এখানে সেই কথাটাই বলছি তবে আরেক ভাবে আরেক দিক থেকে। এবার মোদি ক্ষমতায় নিজেকে বিজয়ী দাবি করে টিকে গেলে ইন্ডিয়া-আমেরিকার সম্পর্কের পতন ও পারস্পরিক দুরত্ব ঘটবে খুবই দ্রুত। আর যদি কংগ্রেস এন্ড গং জিততে পারে তবে সাময়িক এই নয়া সরকার আমেরিকা-ঘনিষ্ট বলে নিজেদের দেখানো শুরু করবে। কিন্তু সেটা হবে সাময়িক ক্ষীণ আয়ুর এক ঘটনা। মানে জমবে না। অচিরেই একেবারে সাধারণ ব্যাবসায়িক স্বার্থের বিরোধ বাধা হবে।
    যেমন ধরা যাক, ভারত-ইরানের চাবাহার পোট [Chabahar Port ]। এটা এদুই দেশের জন্যই গুরুত্বপুর্ণ , তবু ভারতের জন্য বেশী।  পাকিস্তানের গোয়াদর গভীর সমুদ্র বন্দর ভারত পুরানা ক্যাচালের কারণে ব্যবহার করতে পারবে না। এর মানে হল, সেন্ট্রাল এশিয়া বা আফগানিস্তানে (ল্যান্ডলক দেশ) পণ্য পাঠাতে অসুবিধায় পড়তে হবে। অথচ ঐ রুটে শুধু গোয়াদরের সুবিধা না। আর গোয়াদর ব্যবহার করতে পারলে এরপর ওদিকে চীনের বেল্ট-রোধ ধরে একদিকে একেবারে ইউরোপ পর্যন্ত ট্রেন বা সড়ক পথে পরিবহনের যে সুবিধা; অন্যদিকে ইরান থেকে পুবে সেন্ট্রাল এশিয়া আফগানিস্থান যে সড়ক ও রেল সুবিধা তৈরি হয়েছে তা থেকে ভারত বঞ্চিত হয়ে আছে।  এসব কিছুরই অন্তত এক ছোট বিকল্প হলেও চাবাহার ভারতের জন্য এক ভাল বিকল্প ও বাস্তবতা।
    কিন্তু আমেরিকা ইরানের সাথে কোন সম্পর্কই রাখা যাবে না কেউ রাখলে তার উপর স্যাংশন দেয়া হবে – এই হুশিয়ারিই আমেরিকার এশিয়া থেকে বিদায় হয়ে যাবার পথেই তাকে কয়েক ধাপ ঠেলে দিবে। কারণ, ভারতে মোদি অথবা রাহুল যাদের সরকারই আসুক কারোই চাবাহারের পক্ষে না থাকার বিকল্প নাই। কারণ, এটা ভারতের জন্য বিরাট এক বাণিজ্যিক সুযোগ। কাজেই আমেরিকা বিরোধিতার পথেই ভারতকে যেতে হবে।

    আবার সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ  আরেকদিকের কথা বলিঃ
    ইরানের ভারতকে দেয়া এই অফার – এবিষয়ে আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি এতে চীনের সম্মতি আছে। আর আছে বলেই ইরান সহজেই এতদুর আগিয়ে পোর্ট পরিচালনার ভার ভারতকে দিয়ে দিয়েছে। যেখানে আমেরিকান সুবিধা খেতে ট্রাম্পের আমলে ভারত ইরানের হাত ছেড়ে পালিয়েছিল। সেসময় ইরান তেল ভারতে পৌছে দিতে চেয়েছিল তাও ভারত ইরানের তেল কিনতে রাজি হয় নাই। বরং রাজি না হয়ে এই সিদ্ধান্তকে বিক্রি করে আমেরিকার থেকে সুবিধা নিয়েছিল। সেই থেকে চাবাহার প্রায় পরিত্যক্ত হয়ে গেছিল। কিন্তু প্রতিশোধ ভুলে এখন ইরানের আবার আগানো এটা চীনের আগ্রহ ও প্ররোচনাতেই বলে অনুমেয়। চীনের ক্যালকুলেশন পাকা যে ইরান এই সুবিধা দিলেই ভারতের আমেরিকার বিরোধিতা বাস্তবতা হয়ে উঠবে।  আর সেটা দেখতেই ইরানকে দিয়ে এই অফার। বাণিজ্যিক দিক থেকে এতে ইরানেরও তো ক্ষতি নাই।
    আবার এ’ঘটানার মাধ্যমে চীন ভারতের কাছে ম্যাসেজ দিয়েছে যে ভারতেরও বাণিজ্য সুবিধা কার্টেল / ছেটে ছোট করা চীনের নীতি নয়, তাতে চীন-ভারত যতই বিরোধ থাকুক। আসলে চীন ভারতকে বলতে চায় ভারতও গোয়াদর ডিপ পোর্ট হয়ে বেল্ট-রোড ধরে সেন্ট্রাল এশিয়া বা আফগানিস্থানে বা অন্যদিকে, ইউরোপ পর্যন্ত চীনা বেল্ট-রোডের রেল ও সড়ক ফেসিলিটিজও ব্যবহার করতে পারে। চীন এনিয়ে বাধা তৈরির বদলে পজিটিভলি আহবান জানাচ্ছে। ভারতের অর্থনীতি বিকাশে চীনের ক্ষতি নাই, লাভ আছে। এছাড়া সবচেয়ে বড় লাভ দক্ষিণ এশিয়া থেকে আমেরিকাকে আউট করা হবে তাতে। কারণ, আমেরিকা ভারতে পা রাখতে সুযোগ পায় বলেই বার্মা, বাংলাদেশের মত দেশে যা খুশি করার চেষ্টা করে থাকে।
    এখন মোদি ক্ষমতায় ফিরলে আমেরিকা-ভারতের সম্পর্কের ইতি দ্রুত ঘটবে। আর আমেরিকা ভারতের উপর স্যাংশন দিলে তাতে ভারতও দ্বন্দ্ব ভুলে বাধ্য হয়ে ডলার ফেলে ইউয়ানে বাণিজ্য শুরু করে দিবে।  আবার যদি কংগ্রেস কোয়ালিশন ক্ষমতায় আসে তাহলেও এটাই ঘটবে। হয়ত শুরুর এক বড় জোর দুই বছর একটু আমেরিকান-ভারত (কংগ্রেস) ঘষাঘষি জারি থাকবে। আর ক্রমশ সেটা ভারতের বাণিজ্য স্বার্থেই হবু কংগ্রেস সরকারও একই পথ ধরবে। খুব সম্ভবত সেক্ষেত্রে মোদির চেয়ে দ্রুতই কংগ্রেস চীনের কোলে গিয়ে উঠার সুযোগ নিতে চাইবে।

    ২। মোদি যদি ক্ষমতায় ফিরতে পারেনঃ
    সেক্ষেত্রে এটা চরম দানব এক মোদি হবে। বিরোধী বলে কারো অস্তিত্ব নিয়ে টিকাই মুশকিল হয়ে যাবে। ইতোমধ্যেই কানাঘুষা তিনি ভারতের কনষ্টিটিউশনেও হাত দিবেন।  এই ধারা যতই তীব্র হবে হিন্দুত্ববাদী – এই উগ্র জাতিবাদি মোদির ভারত ততই পরিণতিতে বিচ্ছিন্নতা বাদের মুখোমুখি হবে। আর তা ঘটে গেলে ভারত মেজর তিন টুকরা হবে। মোদি এখন ক্ষমতায় টিকে আছে ভারতরাষ্ট্র গঠনগত দিক থেকে এক সেন্ট্রালাইজড কুক্ষিগত ক্ষমতার আর এর উপর আবার উগ্র হিন্দু-জাতিবাদি রাষ্ট্র বলে। আবার এটাই আবার মোদির আগামিতে ক্ষমতায় উত্থান ঘটলে এই গঠন বৈশিষ্টই মোদির ভারতকে ভাঙ্গনের দিকে নিয়ে যাবে দ্রুত!

    সব মিলিয়ে ভারতের প্রতিটা পরিবর্তনের ধাক্কা চাপ (এমনকি শরণার্থীর) বাংলাদেশে এসে আছড়ে পড়তে পারে সেক্ষেত্রে! বাকি যা কিছু পাঠক আন্দাজ করে নিয়েন। এই হল, আগামি দিনের দক্ষিণ এশিয়ার কিছু বিচ্ছিন্ন চিত্র!

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    [এই লেখা কোন নিউজ নয়, ব্যক্তির নিজস্ব রাজনৈতিক বিশ্লেষণ মাত্র। ফলে পাঠকের এ’লেখা পড়ে কিছুই বহন করা বা মান্য করার বাধ্যবাধকতা নাই। কেবল জানলেন যে এমন একটা মতামত আছে!]

    আপডেটঃ    ১৭ মে ২০২৪  সন্ধ্যা ০৭ঃ ১৮
    শেষ আপডেটঃ   ২৪ মে ২০২৪  বিকাল ০৩ঃ ৫৫

  • হাসিনা কী আদৌ চীন সফরে যেতে পারবেন?

    হাসিনা কী আদৌ চীন সফরে যেতে পারবেন?
    গৌতম দাস
    ১০ মে ২০২৪  সন্ধ্যা ১৮ঃ ৫৩
    https://wp.me/p1sCvy-5zZ

     

    আমেরিকা আর ভারত দুই সরকারই ক্ষেপে উঠেছে। এরই মধ্যে ডেইলি স্টারকে দিয়ে বা ডেইলি স্টার একটা রিপোর্ট ছেপেছে যেটাকে “গাছে কাঁঠাল গোফে তেল” – রিপোর্ট বলতে পারে কেউ। মানে এটা একটা হবু বা WOULD BE – রিপোর্ট। যেমন আমি আজ দেশের রাজা হলে কী হত – এধরণের রিপোর্ট। গত ৮মে ২০২৪ এর এই রিপোর্টের শিরোনাম “Beyond Dollar: Bangladesh to seek over 36b yuan in Chinese loans” । শিরোনামের শুরুর দুই শব্দ [Beyond Dollar] বোকামির নিদর্শন। এখানে ধরে নেয়া হয়েছে যে চীনের কাছে হাসিনা ডলার ছাড়িয়ে মানে ডলারে নয় ইউয়ানে ঋণ চাওয়ার কথা ভাবছে। আর এখানে ডলার না চাওয়াটা খারাপ বা নেতি দিক। এমন মন্তব্য জুড়ে দিয়ে বা ইঙ্গিত দিয়ে এমন শিরোনাম দেওয়ার দরকারটা কী?  এটা কী ডেইলিস্তার বুঝাতে চায় যে তারা মূলত ইন্ডিয়ার পোঁ-ধরা মিডিয়া ও এমন ফান্ডে চলা মিডিয়া হলেও সরকারের হয়ে এই রিপোর্টটা করছে বলে যেন কেউ এটা তার “সুনামের” বিরুদ্ধ কিছু বলে না মনে করে? এরকম?
    এখানে দুইটা কথা। এক. এটা সোর্স উল্লেখ করে একটা রিপোর্ট মানে সোর্সের মা-বাপ হীন। তার উপর এটা এখনও হয় নাই হতে পারে ধরণের রিপোর্ট। চীনা ইউয়ানে নগদে পাঁচ বিলিয়ন ডলার সমতুল্য অর্থ আদৌ চীন দিতে রাজি হয়েছে কীনা তা আমরা নিশ্চিত না, স্পষ্টও না।  রিপোর্টটা তা দাবি করেও বলতে পারে নাই। বরং এনিয়ে “হবু কথা ও নিগোশিয়েশনে” বাংলাদেশ কী বলবে তা নিয়েই এই (সোর্স ছাড়া) রিপোর্ট। এমনকি যেখানে চুক্তি করতে বসলেও শেষে চুক্তি নাও হতে পারে।  এই সোর্স হীন রিপোর্টই লিখেছে, Chinese minister said his government in principle agreed to it and asked Ahasanul to proceed. মানে চীনা মন্ত্রী নাকি ঋণদানের প্রস্তাব নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন। কিন্তু একথা আমাদের যে মন্ত্রীর নামে লেখা হচ্ছে তা আমাদের মন্ত্রী পাবলিকলি বলেন নাই – কয়েকজন সাংবাদিকের সামলে বা সাংবাদিক সম্মেলনেও বলেন নাই। ফলে বিশ্বাসযোগ্যতা কম। মানে মন্ত্রী অস্বীকার করলে কিছুই করার নাই।
    কথা দুইঃ বাংলাদেশের রিজার্ভ যে তলানিতে ফলে সংকটে তাতে এটা ইউয়ান না ডলার মুদ্রা তা বাছার অবস্থায় সে নাই। যে ভিক্ষা নিতে বের হয় সেই ভিখারির কাছে চালটা অনেক জরুরি; সেটা ময়মন্সিঙ্ঘ না চট্টগ্রামের চাল তাতে কিছু যায় আসে না। তাইলে ডেইলিস্টারের কাছে ইউয়ান আমাদের সরকারের “ডলার ছাড়াইন্না” চাওয়া কিনা একথা মনে করিয়ে দেয়া কেন? এত ডলার ভক্ত রিপোর্টার তাহলে দেখাক,  নগদ পাঁচ বিলিয়ন ডলার কোন দেশ দিতে সক্ষমতা রাখে? বাজারে ডালের দাম যদি চড়া হয় তবে ভাতের প্লেটে ছোট গর্ত করে এরপর ডাল নিতে হয়। তাই না?
    এখন মুল প্রসঙ্গে ফিরব; এর আগে আমার ব্যক্তিগত অনুমান হল, চীন নগদ ইউয়ানে পাঁচ বিলিয়ন ডলার সমতুল্য অর্থ বাজেট সহায়তা দিতে (নীতিগতভাবেও) রাজী হয়েছে এটা এখনও বিশ্বাস-আস্থায় নিবার মত সংবাদ হয়ই নাই। বরং আগামিতে এর সত্য হবার সম্ভাবনা খুবই কম! চীনের হাত ছেড়ে আবার এখন তার কোলে উঠে বসতে চাইলেই তা ঘটার সম্ভাবনা তো প্রায় নাই-ই হবে!

    এসব সত্বেও ডেইলিস্টারের উড বি রিপোর্টের আগে ও পরে দেখা যাচ্ছে, আমেরিকা আর ভারত দুই সরকারই ক্ষেপে উঠেছে। ভারতের সচিব কোয়েত্রা আর আমেরিকার সহকারিমন্ত্রী ডোনাল্ড ল্যু এদের ঢাকা সফর হাসিনার কথিত চীন সফরকে কেন্দ্র করেই বলে অনুমান হয়। পুরান কথাটা হল, ২০২৩ এর কথিত নির্বাচনের আগে এদুই দেশ একসাথ হয়েছিল; হাসিনাকে অবাধে নির্বাচনি প্রহসন করতে দিয়েছিল। নির্বাচনে যাই হোক, হাসিনা নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করেছিল আর এই দেশদুটো তা আয়েশ করে তা দেখে মজা নিয়েছিল। এদের উদ্দেশ্য একটাই যে, কথিত নির্বাচনের পরে – হাসিনার সাথে চীনের কোন সম্পর্ক, ঋণ, প্রভাব কিছুই থাকবে না; তা বাস্তবায়নের কাজে এদুই শক্তি নেমে পড়েছিল।

    আর হাসিনার জীবনের সবচেয়ে বড় নিজেরই পায়ে কুড়াল মারা কাজটা তিনি করে ফেলেছিলেন তখনই। তিনি সেই টোপ খেয়েছিলেন।  এখন তিন মাস যেতেই সেসব বেড়িয়ে আসছে। হাসিনা এখন হাহাকার করছেন চীন, চীন করে! তিনি নাকি চীন সফরে যাচ্ছেন, অথচ কোনপক্ষের  সরকারী ভাষ্যে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু দেখি নাই। কেবল ভারত বলছে তাই বাংলাদেশে  আমরা জেনেছি, আর জপ করতে দেখছি। ভারত কায়দা করে নিজেদের গুরুত্ব জাহির করতে আমাদের জানিয়েছে  এভাবে যে “চীন সফরে যাবার আগে” হাসিনা ভারতে যাচ্ছেন। তো সেটা “চীন সফরে যাবার আগে” কিনা সেটা কী ভারতের বলার কথা? এর এক্তিয়ারই বা কী? এছাড়া অনেকটা যেন ব্রিফ করতে ও অনুমতি নিতে যাচ্ছেন হাসিনা এমনভাবে কথা ছড়ানো হচ্ছে যে কোন সীমার মধ্যে হাসিনাকে চীনের সাথে কথা বলতে / থাকতে হবে? এছাড়াও হাসিনা যে চীন যাচ্ছেনই তা ভারতকে কে নিশ্চিত করল? কেউ জানে না। এমনকি চীনও কী আশা করছে যে এক্সপেকটেড বা আগ্রহি যে তারা হাসিনাকে অতিথি হিসাবে দেখতে চাচ্ছেন? তাও সরকারিভাবে চীনও তা এখনও নিশ্চিত করে নাই। সম্ভাব্য আলোচনার ইস্যু কী হতে পারে তাও কেউ জানে না। তবে ভারতের মুখ দিয়ে প্রচারিত হচ্ছে যে এটা নাকি হবে তিস্তা প্রকল্পের কথা!

    মনে রাখতে হবে গত ২৮ জানুয়ারি ২০২৪ এর পরে চীনের সাথে আমাদের সরকার প্রধান বা উচ্চমহলে কোন দেখা সাক্ষাত আলাপ হয়েছে এমন কেউ জানে না। কেবল গতমাসে একটাই শীতল আলাপের কথা জানা যায় তাও আমাদের সরকারী মিডিয়া সুত্রে। গত ৩ এপ্রিল ২০২৪, চীনা রাষ্ট্রদুত নাকি প্রধানমন্ত্রীর অফিসে না বাসায় এক আমন্ত্রণে দেখা করতে গেছিলেন। যা নিয়ে সরকারী বাসস এর লেখা একটা ভাষ্য “দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে চীনের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী” – এই শিরোনামে কয়েকটা পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল। সেই বাসসের ভাষ্যেও লেখা আছে যে জবাবে “চীনের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন”। যার অন্তর্নিহীত অর্থ হল, বুরোক্রাসির লাল ফিতা; মানে,  আগে ফরমালি অনুরোধ পাঠান এরপর আমরা লাল ফিতায় বাধা ফাইল চাপা দিয়ে সেটা ফেলে রাখব হয়ত!

    কেন বাসসের এই খবরটায় যা কিছু দাবি করা হয়েছে এর বিশ্বাসযোগ্যতা কম?
    মানে এটা ঘরে বসে বানানো ধরণের। কারণ, এর একটা উপ-শিরোনাম আছে – “পায়রায় একটি গভীর সমুদ্র বন্দর হবে এবং চীন সে সুযোগকে কাজে লাগাতে পারে।” – এটা বাংলাদেশের দিক থেকে বলা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু ফ্যাক্টস হল, পায়রায় কোন গভীর সমুদ্র দূরে থাক – চট্টগ্রামের মত ড্রাফটের ছোট জাহাজের বন্দরের জন্য এই লোকেশন উপযোগী না। সেটা সাবেক অর্থমন্ত্রী মুহিত নিজেই মিডিয়ার সামনে বলে গেছেন। মূল কারণ, ঐ বন্দর এলাকায় পানি নাব্যতা খুবই কম আর এরচেয়েও বড় কথা যতটুকু এখন আছে এটা বজায় রাখতে হলেও সবসময় ড্রেজিং করাতে হবে। এই লোকেশনে বন্দর নির্মানে মূল উতসাহি ছিল ভারত। অথচ বিনিয়োগ দেওয়ার কথা উঠলে ভারত ভেগে যায়। আবার চীনা ঋণ যাতে পায়রা প্রকল্পে না ঢুকে এব্যাপারে ততপর ছিল ভারত। শেষ আমাদের রিজার্ভ ভেঙ্গে এই প্রকল্প শেষ করতে হ্যেছে। এই হল গাছে তুলে মই কেড়ে নেওয়া। তাহলে এই মিছা কথা যে পায়রাতে এখন  গভীর সমুদ্র করার উপযোগী – এই মিছা কথা বলা আর তাতে এখন চীনকে বিনিয়োগের জন্য কথিত ডাকাডাকি এটা কী সত্যি?  আমাদের বিরাট সন্দেহ রাখার সুযোগ আছে।

    যাই হোক হাসিনার কথিত চীন সফর – এনিয়ে ভারতের লাফালাফিটাই বেশ বেশি,  যা অনেকটা এমন যেখানে, যাদের বিয়ে তাদের খবর নাই – অবস্থা। মানে হাসিনার কথিত চীন সফর নিয়ে চীন বা বাংলাদেশের এনিয়ে তেমন সরকারি ভাষ্য নাই অথচ পিনাক রঞ্জনকে দিয়ে এতদিন এতে ভারতের চাহিদা কী তা নিয়ে প্রপাগান্ডা চালানোর [আর আমাদের মানবজমিন এসব গারবেজকে মিথ্যা গুরুত্বের hype তুলে রিপ্রিন্ট করেছে ] পরে; এখন ভারতের পররাষ্ট্র সচিবই বাংলাদেশে হাজির যে তারা চীন সফরের আগে হাসিনাকে ভারত সফরের দাওয়াত দিতে এসেছেন। আর চীনের বদলে তারাই তিস্তা প্রকল্প করে দিতে চান এই প্রস্তাব নিয়েও হাজির।

    হাসিনার এখন তিস্তা প্রকল্প বা এমন কোন প্রকল্প নয় দরকার ৫ বিলিয়নের নগদ ঋণ বা বাজেট সহায়তাঃ
    হাসিনার জন্য এখন কঠিন ও নেতি বাস্তবতাটা হল, তাঁর সরকার চরম রিজার্ভ সংকটে। এছাড়াও আবার আদায় অযোগ্য প্রায় প্রত্যেক আওয়ামি ব্যাংকের খেলাপী ঋণের ভারে ব্যাংকগুলোসহ খোদ অর্থনীতিটাই ভেঙ্গে পড়ার অবস্থায়!  কাজেই হাসিনা সরকারের এখন তিস্তা প্রকল্প বা এমন কোন প্রকল্প নয়, দরকার ৫ বিলিয়নের নগদ ঋণ বা বাজেট সহায়তা। এই সুনির্দিষ্ট দিকটা  ভারত বা আমেরিকার অজানা থাকার কোনই কারণ নাই। অথচ তাদের ভাল-ভনিতা দেখেন!  আবার তারা ভয়ে আছে যদি হাসিনা চীনকে তিস্তা প্রকল্প দেওয়ার শর্তে ঋণ নেয়!    মানে হল, হাসিনার দিক থেকে দেখলে  বৈদেশিক মুদ্রার এই কঠিন সংকটে এখন গত তিন মাসে ভুল ও লোভি সিদ্ধান্তে সব হারানো উপলব্দি করে আবার হাসিনা চীনের কথা তোলাতেই এর প্রতিক্রিয়ায়, ভারত আর আমেরিকা দিশাহারা ছোটাছুটিতে ক্ষেপে উঠেছে। এদিকে তাই ডোনাল্ড ল্যু তিনিও আসতেছেন।
    মূলকথাটা হল, ক্যাশ বা নগদ বৈদেশিক মুদ্রা লাগবে হাসিনার বাংলাদেশের; নুন্যতম ৫বিলিয়ন ডলার; যা দশ বিলিয়ন হলে একটা অর্থনৈতিক পুণরুদ্ধারে দিক থেকে ভাল স্টার্ট হয়।  কিন্তু না আমেরিকা না ভারত এদের সেদিকে মন নাই। আর না আছে তাদের মুরোদ বা যোগ্যতা যে এমন বড় অর্থ তারা দিতে পারে অথবা এমনকি এটা আইএমএফ এরও সামর্থ নাই; কাউকে দিয়েছে এমন রেকর্ড আছে জানা যায় না। তাহলে এরা কেন আসতেছেন? হাসিনা চাহিদা আর এই দুই দেশের আনা-গোনা বকোয়াজি তো এক নয়, এক সুরেরও কথা না।
    সবচেয়ে বড় কথা এদুই দেশ আসতেছে হাসিনাকে চীন যাওয়া ঠেকাতে! অথচ হাসিনা কী আসলেই চীন যেতে পারতেছেন? চীনও কী তাকে স্বাগত জানাতে রাজি হয়েছে? কোনটারই কোন নিশ্চয়তা কোথাও নাই! তবুও ভারতের কোয়াত্রা গেলেন, এবার ল্যু আসতেছেন! আর এদের দুজনের কমন দিকটা হল, কারোরই মুরোদ নাই হাসিনাকে কোন নগদ বৈদেশিক মুদ্রা দিবার।

    এবার বিস্তারিততে যাবঃ
    বাংলাদেশকে চীনের প্রভাবশুণ্য করা মানে বাংলা ভাষায়,  চীন ঠেকানো বা বাংলাদেশ থেকে চীন খেদানো – এই হচ্ছে তাদের বিশেষত আমেরিকার মুখ্য টার্গেট আর এই লক্ষ্য পুরণের উপায় সেই “ঘ্যাগের ওষুধ” নাকি এরা পেয়ে গিয়েছে! আর এই খুশিতে আমেরিকা তার ‘গণতন্ত্র ও মানবাধিকার’ প্রতিষ্ঠা আর সাথে ‘স্যাংশন আরোপ’ এর ফরেন পলিসি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রয়োগ ভুলে গিয়ে, ফেলে দিয়ে বরং আমেরিকা হাসিনাকে অবাধে নির্বাচনি প্রহসন করতে গত বছর শেষের দিকে সেই সুযোগ দেওয়ার রাস্তা ধরেছিল। এভাবেই বাংলাদেশকে আবার ভারতের হাতে তুলে দিয়েছিল।

    অথচ গত ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর থেকে আমেরিকা সারা দুনিয়াকে জানিয়ে বিশাল হুঙ্কার তুলেছিল যে বাংলাদেশে তারা ‘গণতন্ত্র ও মানবাধিকার’ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। একাজ করে আমেরিকা সারা দুনিয়াকেই ফকফকা পরিস্কার করে জানিয়ে দিয়েছিল যে ‘গণতন্ত্র ও মানবাধিকার’ আর সাথে ‘স্যাংশন আরোপ’ এসবই নাকি আমেরিকার টার্গেট।

    অথচ এটা মিথ্যা কথা; এটা বাইডেনের ক্ষমতায় আসার আগে পরে এবং গত দুবছর সবসময়ও ছিল ডাহা মিথ্যা কথা। কারণ, আমেরিকার মূল লক্ষ্য আমাদের মত দেশে দেশ উঠতি চীনের প্রভাব ঠেকানো। অথচ এই চীনের প্রভাব ঠেকানো অসম্ভব কারণ এটা অবজেকটিভ – ঘুর্ণিঝড় জলোচ্ছাসের মত ঘটনা।  ইতিহাসের এক একটা সময়ে একেকটা দেশের অর্থনীতি চরমভাবে উদ্বৃত্বের দেশ বা সারপ্লাসের অর্থনীতির দেশ হিসাবে বেড়ে উঠে্ছে। এই সারপ্লাস সম্পদই সে দেশ তখন অন্যান্য দেশে অবকাঠামো ঋণ-অনুদান দাতা ও বিনিয়োগ দাতা হিসাবে হাজির হয়েই যায় – অপ্রতিরোধ্য ভাবে। এটাই আরেক অর্থে আমরা তখন সেই দেশকে গ্লোবাল নেতা, বা গ্লোবাল প্রভাব-ধারী নেতা, ইত্যাদি নানান ভাবে ডাকি। এভাবে ১৯৪৫ সালের পর থেকে আমেরিকা ছিল সেই গ্লোবাল প্রভাবের নেতা। একইভাবে সময় এসেছিল জাপানেরও একসময়, সেই ১৯৬৫ সালের পর থেকে। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে সে আমেরিকান অনুগত থাকতে বাধ্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপান হারুপার্টি বলে আর পরে এর পুণর্গঠনে আমেরিকান কমসুদের বিনিয়োগ সহায়তার জন্য। তাই জাপানের রাজনৈতিক শক্তির দিক আমরা অনুভব করি নাই। বরং অর্থনৈতিক প্রভাবটাও আমেরিকারই যেন – এভাবেই তা প্রকাশিত ছিল। আমরা এমনকি খেয়ালও করি নাই যে এডিবির [ADB] বড় মালিকানা কার?
    আর একালে একই ভাবে এখন এটাই চীনের উত্থানের কাল! তাতে আমরা আমেরিকাকেই ভালবাসি নাকি চীন-কে সহ্যই করতে পারি কিংবা পারি না,  তাতে কোনটাতেই কিছু আসবে যাবে না। এটা চীনা প্রভাব বিস্তারের কাল, এই হল অবজেকটিভ ফ্যাক্টস। কারণ এটা চীনা ঋণ-বিনিয়োগের কাল। এমনকি বিলিয়ন ডলারের অবকাঠামো প্রকল্প চীন মাঙনা করে দিতে পারে নিজ স্ট্রাটেজিক স্বার্থে ও সুবিধা হবে বলে। যেমন পাকিস্তানের গোয়াদর গভীর সমুদ্র বন্দর এটা আসলে চীনের স্ট্রাটেজিক প্রকল্প। এটা পাকিস্তানকে সে মাঙনায় করে দিলেও চীনের তাতেও অমুল্য সুবিধার স্ট্রাটেজিক লাভ হবে। কারণ, চীনের একমাত্র বন্দর কেবল পুব দিকে যেটা মালাক্কা প্রণালি বন্ধ করে দিলে চীনের সব শেষ। তাই সে পুরা উলটা পশ্চিমদিকে যেটা আসলে ১৮ হাজার ফুট উচু পর্বতমালায় ঘেরা সেটা ফুঁরেও চীন গোয়াদর গভীর সমুদ্র বন্দর ব্যবহারের সুযোগ লাভ করে ফেললো। অথচ আমেরিকাই প্রথম মালাক্কা প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে বলে আলাপ তুলেছিল। নিজ সিনেটে (মানে প্রকাশ্যেই পবেষণা পেপার পড়া হয়েছিল) আলোচনা করেছিল। কিন্ত এতে শেষ কার লাভ হল?

    অথচ আমেরিকা জিদ ধরেছে যে চীনের উত্থিত এই প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতার কালে আমেরিকা তার অর্থনৈতিক মুরোদ নাই হয়ে গেলেও নিজ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করা  ও সামরিক সক্ষমতা দিয়ে নিজ অর্থনৈতিক সক্ষমতা সে পূরণ করতে পারবে!! কিন্তু জিদ আর বাস্তবতা এক না। হাসিনার আজকের দুর্দশা আমেরিকান এই জিদ এর পরিণতি।  গত ২৮ জানুয়ারি থেকে আমেরিকা ভারতকে সাথে নিয়ে হাসিনাকে প্রলুব্ধ করতে পেরেছিল দুইটা জিনিষ দিয়ে। একটা হল খুব সম্ভবত ২০৪৫ সাল পর্যন্ত সম্ভবত তাঁকে ক্ষমতায় রাখার লোভ দেখানো। আর দুই, অর্থনৈতিক সংকট যা আছে (যে সংকটটা নিয়ে হাসিনা পরিপুণ্য সজ্ঞান ছিলেন বলেই এবারের নির্বাচনের পর থেকে ১২-২৮ জানুয়ারি চীনের সাথে সখ্যতা ও সফর নিয়ে কথা বলে গেছিলেন। এমনকি – “বাংলাদেশ রিজার্ভ সংকটে পড়লে পাশে থাকবে চীন— রাষ্ট্রদূত”; এমন কথাও উঠেছিল তখন)। কিন্তু এত সবকিছু জানা থাকা সত্বেও – কথায় আছে লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু দশা হয়েছিল হাসিনার। তিনি সম্ভবত সুখস্বপ্ন দেখেছিলেন যে, ২০১৩-১৮ সাল ধরে যেভাবে তিনি ভারতের মাধ্যমে আমেরিকান চাহিদা মিটিয়েছেন; ডিল করে টিকে থেকেছেন তেমন এক স্বর্ণ না হলেও “তামার যুগে” তিনি আবার আরামে থাকতে পারবেন! অথচ তিনি ভুলে গেছিলেন তার অর্থনীতি সংকটে, যাতে নগদ বৈদেশিক মুদ্রা এক প্রধান চাহিদা! যা স্বচ্ছন্দে পুরণ করে দিতে পারবে চীন! কিন্তু সেই চীন কী আর হাসিনার বাংলাদেশের জন্য আছে? না, হাসিনা নিজে সেই হাসিনা আছেন

    তাই বেশী না মাত্র তিন মাস! এই তিন মাসের মধ্যে হাসিনা আর সাথে ভারত-আমেরিকা সবপক্ষকেই বাংলাদেশের অর্থনীতির দুর্দশার সামনে এখন হাজির করে দিয়েছে।  যেটাকে  ২৮ জানুয়ারির পরে ভারত-আমেরিকা নানান চাপাচুপা মেরে হাসিনাকে ভুলিয়ে প্রলুব্ধ করে রেখে দিতে তখন সক্ষম হয়েছিল ; আর হাসিনাও তাতে মিথ্যা ক্ষমতার স্বর্গসুখে  ‘বহল গয়া’ মানে  আউলায়ে ভেসে গেছিল! কিন্তু এখন? ডোনাল্ড ল্যু আসতেছেন তিনি কী করবেন? তিনি কী হাসিনাকে অন্তত ৫ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা যোগাড় করে দিতে পারবেন? সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউএস-এইড এর কোন প্রকল্প কী এমন বড় পরিমাণের বা যা হাসিনা সরকারের জন্য এখন চালু আছে? আমেরিকা লাস্ট কবে কাকে এমন বড় পরিমানের প্রকল্প দিয়েছে?  মনে রাখতে হবে হাসিনার কিন্তু প্রকল্প দরকার নাই, নগদ বৈদেশিক মুদ্রা যা বাজেট সহায়তা নামে আসে তা হতে হবে। আছে আমেরিকার মুরোদ?
    এর সোজা মানে হল, হাসিনা এবং বাংলাদেশের অর্থনীতি – এরা সকলে ডুবে মরে যায় যাক; আমেরিকার টার্গেট একটাই বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ, ঋণ বা প্রভাব ইত্যাদি এসব সে কিছুই দেখতে চায় না!  সে নিজস্বার্থ, নিজ টার্গেট নিয়েই ব্যস্ত থাকতে থাকবে!!!!

    অথচ আমেরিকা ঠিকই জবরদস্তিতে বা প্রলুব্ধ করে হাসিনাকে চীনের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করাতে চায় এটাই আমেরিকার একমাত্র টার্গেট ও বিদেশনীতি।
    একারণের গত বছর মোটামুটি সেপ্টেম্বর থেকেই তাই দানব হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখে দিলে যদি আমেরিকা মনে করে তার লক্ষ্য হাসিল হবে তো সেই করবে – আর এটাই সে করেছিল! তাতে বিগত দুই বছর সে বিরোধী রাজনৈতিক আন্দোলনকে প্রচ্ছন্নে সমর্থন করে চললেও সে এটা ত্যাগ করে চলে গেছিল!  কারণ, শুরুর দিকে আমেরিকার মনে হয়েছিল হাসিনাকে উতখাত করলে তার বাংলাদেশে ‘চীন ঠেকাও’  – এই লক্ষ্য পূরণ হবে। কিন্তু মোটামুটি সেপ্টেম্বর ২০২৩ সালের পর থেকে আমেরিকা বাংলাদেশকে হাসিনার শাসনেই থাক বলে ফেলে পালিয়েছিল। এটা ভারতের নিরন্তর ঘ্যানর ঘ্যানর এর জন্যই হোক অথবা আমেরিকা নিজ লক্ষ্য অর্জন (‘গণতন্ত্র ও মানবাধিকার’ প্রতিষ্ঠা নয় কিন্তু বরং চীন ঠেকানো) অসম্ভব জ্ঞান করাতে মানে তা যেটাই হোক;  আমেরিকা আমাদের ফেলে পালিয়েছিল।

    এক নিঃশ্বাসে বলা পরের ঘটনাবলী হল, ৭ জানুয়ারির কথিত নির্বাচন, পরে ১১ জানুয়ারির মধ্যেই নয়া এমপি, নয়া মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের শপথ গ্রহণও সমাপ্ত। এরপর থেকে ২৮ জানুয়ারি সকাল পর্যন্ত প্রতিদিনের মিডিয়া হেডলাইন ছিল হাসিনার সাথে চীনের সম্পর্ক নিয়ে। নগদ ডলার (বাজেট সহায়তা) সংকট, তিস্তাসহ নতুন চিনা প্রকল্প ইত্যাদির কিছু বাকি ছিল না যা নিয়ে কথা উঠে নাই। আর এর প্রত্যেকটাতেই চীনারা হাসিনা সরকারকে সহায়তা করতে রাজি – এই ছিল সারকথা। এজন্য এমনকি হাসিনা চীন সফরে যাচ্ছেন এর জন্য চীনা আমন্ত্রণও দেয়া হয়ে গেছিল।
    কিন্তু হায়! ঐ ২৮ জানুয়ারির বিকেল থেকেই পরিস্থতি একেবারে উলটা হয়ে যায়। ঐ সন্ধ্যায় ওবায়দুল কাদেরের সাথে দেখা করেছিলেন ভারতীয় রাষ্ট্রদুত প্রণয় ভার্মা। তিনি আসলে সেদিন একা ভারত না ‘আমেরিকার এডভান্স পার্টি’ হয়েও কথা বলেছিলেন। মানে হল, আমেরিকা আমাদের ফেলে পিছটান দিছিল ভারতের সাথে শলাপরামর্শ করে আর তাতে তারা কী সাব্যস্ত করেছিলেন তা বয়ান করেছিলেন। এরপরের এক সপ্তাহের ঘটনা হল, অজিত দোভালের সরকারিভাবে অস্বীকৃত থেকে যাওয়া ঢাকা সফর আর শেষ ৪ ফেব্রুয়ারি হাসিনাকে লেখা নয়া উদ্যোগে একসাথে কাজ করার আগ্রহ জানিয়ে  বাইডেনের চিঠি -ঢাকায় হস্তান্তর।

    আলী রিয়াজের এসাইনমেন্টঃ
    অনেকদিন পরে দেখলাম তিনি ডিপ্লোম্যাটে লেখা ছেপেছেন গতকাল। যার সারকথা একটাই চীনারা খারাপ!
    পুরানা কথা, চীনা ঋণ কত খারাপ আর পরিশোধ অযোগ্য হয়ে গেছে ইত্যাদি।
    আমার মনে হয় না, আলী রিয়াজ কখনও আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের দেয়া ঋণ তলিয়ে গেছে; কেউ শোধ দিতে পারে নাই – এমন একটা ক্যাটাগরির দেশের লিসট আছে যা তিনি স্টাডিকরেছেন। এর নাম HEAVILY INDEBTED POOR COUNTRIES (HIPC) । নেটে সার্চ দিলে পাবেন। যেমন এমনই একটা সাইট হল, এখানে DEBT RELIEF UNDER THE HEAVILY INDEBTED POOR COUNTRIES (HIPC) INITIATIVE।
    এর কথা এখানে আনার মানে হল, এমন অবকাঠামো ঋণ বিতরণ করতে গিয়ে সবারই ব্যর্থতা আছে। কিন্তু সেজন্য যে ঋণ ব্যবসায়ী বা ঋণের জ্বালে ফাঁসানোর দেশ – এসব প্রপাগান্ডার মানে হয়। মানে আমি বলতে চাই, HIPC এর এক্টিভিটি দেখে আলীরিয়াজ নিশ্চয় বলবেন না যে তাহলে  আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক কোন “ঋণ ব্যবসায়ী বা ঋণের জ্বালে ফাঁসানোর” প্রতিষ্ঠান। হাল্কা মন্তব্য না করাই ভাল।

    আলী রিয়াজের লেখার আরেক সারকথা এখানে,

    “China’s influence on Bangladesh increased remarkably after 2009 when the
    relationship between India and Bangladesh has been described as a “golden era.”
    This development juxtaposed with the upcoming joint military exercise of
    Bangladesh and China, and the possibility of Chinese involvement in the 
    Teesta project, indicates that the geopolitical great game in Bangladesh
    will be more intense.”

    তিনি আসলে আমেরিকান স্বার্থের চোখ দিয়ে দেখে লিখেছেন। নিশ্চয় আমাদের রাষ্ট্রস্বার্থ আলাদা; এর উপর আবার হাসিনা নিজেও নিজের ক্ষমতায় থাকবার স্বার্থও এর মধ্যে পাঞ্চ করবেন।

    চীনা ঋণের সাথে চীনের পলিটিক্যাল এজেন্ডা থাকে তাই এটা খারাপ, আর আমেরিকান ঋণ সুচিশুভ্রঃ
    ব্যাপারটা কী তাই?  চীনা ঋণের সাথে চীনের পলিটিক্যাল এজেন্ডা থাকেই আর আমেরিকান স্বর্ণ যুগে যখন সে একাই দুনিয়ার ঋণদাতা ছিল সেই ঋণ সুচিশুভ্র? কোন পলিটিক্যাল এজেন্ডা ছিল না? তাই কী আলী রিয়াজ বলতে চাইছেন?
    তিনি লিখেছেন,  Loans and investments from China, particularly the former, come with a political agenda of increasing its sphere of influence.
    আমারটাই শ্রেষ্ঠ – এই মনোভাব ধারণ করলে এমন সবাইই নিশ্চিহ্ন হবে। শ্রেষ্ঠত্বই হিটলারিজম। এথনিক নির্মুলের পক্ষে আমাদের নিয়ে ফেলবে। কাজেই সাবধান। ঋণ-বিনিয়োগ দিবার সক্ষমতা নিয়ে উপরে অনেক বলেছি। পরিস্কার করে বলেছি সবধরণের ঋণ-বিনিয়োগ দিবার সক্ষমতা এটাই যেকোন দেশের অন্যের উপর কম-বেশি খারাপ-ভাল এবং তা নানান মাত্রার এটা হাজির হবেই। এখানে রাজনৈতিক প্রভাবের বেলায় আমার হলে সেটা ভাল আর চীনের হলে সেটা খারাপ এটাই শ্রেষ্ঠত্ববোধের সমস্যা হয়ে হাজির হবে।
    তবে মজার কথা হল, এই চীনেরই অর্থনৈতিক শক্তি হিসাবে উত্থান এর পিছনে আছে আমেরিকান বিনিয়োগ – ওয়াল স্টিট বিনিয়োগ – যারা সবচেয়ে বেশী এর সুবিধাভোগী;  এখনও চীনের প্রতি তারা উদার। বিশ্বব্যাংকের সস্কারের প্রস্তাব তাদেরই। চীনের নেতৃত্বে ব্রিকস গঠনের বুদ্ধি পরামর্শ রেকমন্ডেশন ছিল তাদেরই।
    তাহলে তখন নিশ্চয় চীনের উপর আরেরিকারও রাজনৈতিক এজেন্ডা ও প্রভাব ছিল? তাহলে সেগুলোচীন টপকাতেও পেরেছিল! সেটা এভাবে বা সেভাবে? কাজেই এগুলো শেষ কথা নয়। আবার ভাল করেলক্ষ্য করবেন রৃণদাতা আর গ্রহিতার মধ্যকার সম্পর্কও আগের মত না। অনেক বদল এসেছে তাতে। যেমন চীনের এব্যাপারে ডায়লগ হল এটা উইন-উইন সিচুয়েশন। না এতা একদম পবিত্র তা বলা আমার উদ্দেশ্য না। আমি কেবল এটুকু বলছি এটা অন্তত আমেরিকার যুগের মত নয়!
    এখন ঋণ নেয়া ছাড়া আমরা প্রাক্তন কলোনি দেশের বিকল্প কী আছে? যেখানে আমাদের নিজস্ব সারপ্লাস দখলদারের লুটে নিয়ে গেছে। আবার আমাদের শাসকেরা ঋণের নয়ছয় করবে সেতা কতটা কম রাখা যায় এভাবেই আমাদেরকে আগাতে হয়। এছাড়া আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের আমেরিকা-চীনের কিনে নেওয়ার অভ্যাস-রেওয়াজও তো আছেই!

    GOLD BACKED CURRENCY -ইংরাজি কথাটার মানে হল, শুরুতে ডলারসহ সব দেশের মুদ্রাই গোল্ড ব্যাকড ছিল। শুরুতে মানে সব মুদ্রাই জন্ম থেকেই। আর এটা ছিল ফিক্সড মুল্যমানের। মানে, আমেরিকান ডলার এর মান ছিল – এক আউন্স সোনা সমান ২৫ ডলার – এই স্থায়ী মূল্যের। ফলে এখনকার মত আজকের ডলারেররেট কী – এমন প্রশ্ন কেউ করত না। আর ডলার ছাপাবনার আগে সেই ব্যাংককে নিজ ভল্টে প্রতি ২৫ ডলার পরিমান নোট ছাপবার আগে এক আউন্স করে সোনা রাখতেই হত। কারণ যেকোন নোতধারী এসে ব্যাংকে সোনা ফেরত চাইলে তা দিতে বাধ্য থাকতে হত।
    আমি আমেরিকান প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের নামে রেফারেন্স দিয়ে কথা বলেছি বহুবার। আজ আবার একটা দিতে হচ্ছে।  তিনি জিতেছিলেন প্রথম ১৯৩২ সালের নভেম্বরের নির্বাচনে। পরের ১৯৩৩ সালের ২০ জানুয়ারি শপথ নিবার পরে তিনিওই প্রথম প্রেসিডেন্ট ডলারের অবমুল্যায়ন করার ঘোষনা দেন। তাতে এক আউন্স সোনার মূল্য হয় ৩৫ ডলার। তাঁর যুক্তি ছিল কথা সত্যও বটে সারা ইউরোপঅই ইতোমধ্যে নিজ নিজ মুদ্রার অবমূল্যায়ন ঘটিয়ে ফেলে৪ছে। মূলত প্রথম বিশ্বযুদ্ধের খরচ মিটাতে না পেরে। আর তা থেকেই ১৯৩০ সালের দুনিয়াব্যাপী যে প্রথম মহামন্দা দেখা দিয়েছিল তা থেকেই সারা ইউরোপের প্রত্যেকটা দেশ এই অবমূল্যায়ন ঘটিয়েছিল। রুজভেল্টের পয়েন্ট হল, তিনি ইউরোপের মুদ্রাগুলোর সাথে নিজ ডলারকে সামতুল্য করতে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।
    পরে এই মুল্যাও স্থিত্মুল্য হয়ে যায়। এমনকি আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক ১৯৪৫ সালে জন্মের সময়ও এই ৩৫ ডলার স্থায়ীমুল্য ধরে প্রতিষ্ঠান দুটা যাত্রা শুরু করেছিল। কিন্তু ১৯৫৮ সালে এসে হঠাত আমেরিকা ঘোষণা দেয় যে সোনা ভল্টে জমা রাখার নিয়ম বাধ্যবাধকতা সে মানে নাই অনেক দিন ধরেই। আর এখন তার আর কিছুই করার নাই।

    সারা দুনিয়া পড়ে এক বিরাট গর্তে। এরই উপায়হীন সমাধান হিসাবে আসে নয়া নিয়ম, মুদ্রার বাজার দর ব্যবস্থা। মানে প্রতিদিনের (সেকালে টপ লেনদেনের) চারটা কারেন্সির মুল্য গড় করে তা আবার ডলারে প্রকাশের এক ব্যবস্থা চালু হয়। যেটা আবার আইএমএফের কারেন্সি [SDR]তে প্রকাশ করা হয়। প্রতিদিনের আইএমএফের সাইটে পাওয়া যায় আজকের কারেন্সি রেট কী। আর এসব নয়া নিয়ম সামলাতে নতুন করে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক এর ম্যান্ডেট লিখতে হয়েছিল সত্তরের দশকের শুরুতে।
    এখন  আমেরিকা রাষ্ট্রের সারা দুনিয়ার কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ – এটা কী আলী রিয়াজ শুনেছেন কখনও! আমেরিকান এই প্রতারণা নিয়ে তাঁর মন্তব্য কী?

    ১/১১ কী? তা বাংলাদেশের সবাই জানে। কিন্ত্য এই ক্ষমতাদখল ঘটিয়ে আমেরিকা বাংলাদেশকে ভারতের হাতে তুলে দিয়েছিল কেন? তাঁর নিজেরও প্রথম ফেলো হিসাবে নিয়োগ সেসময়কালেরই ঘটনা।  কাজেই বাস্তবসম্মত ও একাদেমিক  থেকে কথা বলাই ভাল। নইলে তো ভাড়াখাটা ভাড়াটে মনে হবে। আলোচনা আর আলোচনা থাকবে না।
    কাজেই আমেরিকা সব সততার দৃষ্টান্ত – এমন মনোভাবে না লিখাই ভাল। অবশ্য আপনাকে লেখার এসাইমেন্ট দিলে আর আপনি কী করবেন!!!!
    কী আর করার; বুদ্ধিমান হন, ঠিক কাজটা করেন!

     

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    [এই লেখা কোন নিউজ নয়, ব্যক্তির নিজস্ব রাজনৈতিক বিশ্লেষণ মাত্র। ফলে পাঠকের এ’লেখা পড়ে কিছুই বহন করা বা মান্য করার বাধ্যবাধকতা নাই। কেবল জানলেন যে এমন একটা মতামত আছে!]

  • রেহমান সোবহান কেন বললেন – জিয়া ঋণ খেলাপীর জনক; কথাটা কী সত্য?

    রেহমান সোবহান কেন বললেন – জিয়া ঋণ খেলাপীর জনক; কথাটা কী সত্য?
    হাসিনা থেকে পদক, সম্মাননা পেতে তিনি এত মরিয়া কেন?
    গৌতম দাস
    ২৯ এপ্রিল ২০২৪  সন্ধ্যা ১৮ঃ ৪৬
    https://wp.me/p1sCvy-5xj

     

    দেশে খেলাপি ঋণের জনক জিয়াউর রহমান: রেহমান সোবহান

     

    [রেহমান সোবহান কেন বললেন – জিয়া দেশে ঋণ খেলাপীর জনক; কথাটা কী সত্য?
    এছাড়া তিনি হাসিনা থেকে পদক সম্মাননা পেতে এত মরিয়া কেন?]

    বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সিপিডি [CPD] এর প্রতিষ্ঠাতা প্রধান ও চেয়ারম্যান হলেন অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান,  যার বয়স এখন ৮৯ বছর। ভেবেছিলাম এই বয়সে আর তাঁকে নিয়ে কিছু বলব না; অন্তত তিনি মুরুব্বি বয়সের, এই খাতিরে! কিন্তু না। তিনি নিজেই যেন তা হতে দিতে চান না! মানুষের জীবনকালের কাজে-কর্মে ইচ্ছা-অনিচ্ছায় ভুল শুদ্ধ বহু কিছুই হয়, হতেই পারে। কিন্তু জীবন সায়হ্নে এসেও স্বাভাবিক বাস্তবতা থেকে পালিয়ে কেউ যখন নিজেকে ভুলহীন বিশুদ্ধজ্ঞানে উপস্থাপন করতে চায় অথবা এদিকটা যেন বুঝেবই নাই, খেয়াল করেন নাই অথবা নিজ কৃতকর্মের কোন দায় নিতে চায় না ইত্যাদি আচরণ করে বসে,  এটা খুবই পীড়াদায়ক!  একারণেই মনে হচছে, এই শেষ জীবনে এসে এখন তিনি যেন “বাঙালি জাতিবাদের” এক ভগবান হয়ে উঠতে চাইছেন। যিনি আবার যেন সব ভুল-শুদ্ধের উর্ধে! অন্যদিকে আবার হাসিনার এই পনেরো-ষোল বছরের শাসনের দিকে তাকালে দেখতে পাই – যারা হাসিনার বাবার আমলে মানে তাঁর বাবার সাথে কাজ করেছেন, স্মৃতি আছে তাদের অনেকের প্রতি হাসিনা বিশেষ “আনুকুল্য” দেখিয়েছেন। পদক প্রদান, বিশেষ সম্মাননা থেকে বৈষয়িক লাভালাভ পাইয়ে দেয়া ইত্যাদি্র ভাল-মন্দ তিনি করেছেন।  আর এটাই আবার অনেকের ক্ষেত্রে কাল হয়ে দাড়িয়েছে যে জীবন সায়হ্নে এসে হলেও যেভাবেই হোক হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করে কিছু একটা উসিলায় হাসিনার আনুকুল্য আদায় করে তবেই বাকি জীবন শেষ করতে চান!
    যদিও এই দৃষ্টি-আকর্ষণ করে সুবিধা নেয়ার ফেনোমেনা – এটা আবার দেখা যায় সুবিধা-বাদিদের কেবল শেষ জীবনের আকাঙ্খার বিষয় না। যেমন উপরের দিকের সরকারী আমলারা জেনে গেছেন যে নিজ পরিবারের কেউ আওয়ামি লীগ করতেন বা তিনি নিজে ছাত্রলীগ করেছেন এটা বেচে সুবিধা নেওয়ার সুযোগ আছে; এমন অনেকেই সচিব হওয়া বা ভাল পদোন্নতি নিয়েছেন এটা তো হাসিনার এই আমলে ডাল-ভাতের রেওয়াজ।  এমনকি সারা জীবন জাসদ বা বাসদ করেছেন অথচ এখন হাসিনার ছাত্রলীগ করেছেন বলে দেখিয়ে দাবি করে সচিব বা সমতুল্য পদোন্নতি নিয়েছেন এমন অনেক পরিচিত, সহপাঠি বা অপরিচিতকেও চিনি। এসব এখন খুবই কমন! এটাকেই অনেকে আবার মুক্তিযোদ্ধা শ্রেণী এখন ক্ষমতায় অথবা এটাই ‘চেতনার” রাজনীতিক ক্ষমতার মহিমা ও তাতপর্য বলেও  এক নামি কমিউনিস্ট একবার আমাকেই বুঝিয়েছিলেন!

    বাংলাদেশ যাত্রা শুরু কথিত এক  “সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি” দিয়ে, কারা ছিলেন এর মূল কারিগরঃ
    বাংলাদেশে জন্মযাত্রার শুরুতে কথিত এই  “সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির” এক অন্যতম কারিগর ছিলেন রেহমান সোবহান। তবে কমিউনিস্ট-সমাজতন্ত্রীদের আবেগ-বিবেকের তর্কের চক্কড়ে না পড়ে, ব্যাপারগুলো আরেক দিক থেকে দেখব ও দেখাব।  বাংলাদেশের ইতিহাসে কমিউনিস্টদের কমিউনিস্ট ভাবনা থেকে আনা গজব, সবচেয়ে ক্ষতিকর ব্যবহারিক কাজ হল কথিত এই  “সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি”; ১৯৭২ সাল থেকেই যার নেতৃত্বে ছিলেন তাজউদ্দিন আহমেদ – ততকালীন অর্থমন্ত্রী, পরিকল্পনা মন্ত্রী ও পাট মন্ত্রী এসবগুলোই ছিলেন তাজউদ্দিন একাই। তাঁর নেতৃত্বেই কথিত “সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি” কায়েম করতে যাওয়া হয়েছিল। যার করুণ পরিণতিই হল ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ! এমনকি এখান থেকেই যে শেখ মুজিবের হত্যা বা মৃত্যুর পরিস্থিতি যে আসন্ন হয়ে উঠবে এমনটা খুব কেউ বুঝেনই নাই। তবে তখন এমন অনুঘটক রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পিছনের মূল কারণ কিন্তু এই কথিত সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির ডেকে আনা  দুর্ভিক্ষ – এই করুণ পরিণতি, সেটা বলাই বাহুল্য! তবে এই কথিত সমাজতন্ত্রের সারকথা বা মুখ্য বাণী-টা ছিল যে, দেশের কারখানাসহ “সকল উতপাদন ব্যবস্থাকে সরকারী মালিকানায়” নিয়ে যেতে পারলেই নাকি মোক্ষলাভ ঘটবে!

    এমনিতেই কোন প্রতিষ্ঠানের ‘ম্যানেজমেন্ট’ মানে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ব্যবস্থা যা ঐ প্রতিষ্ঠান/অফিসের, দক্ষতার সাথে উতপাদন ব্যবস্থার জন্য খুবই জরুরি; আর এছাড়া, প্রতিষ্ঠানটা টিকতে পারবে কিনা এর জন্য ভাইটাল বিষয়। কিন্তু সোভিয়েত কমিউনিজম এর চোখে ম্যানেজমেন্ট ধারণাটাই নাকি এক “শোষণ ব্যবস্থার” ধারণা; তাই এটা তাদের চক্ষুশুল ছিল!  অর্থাৎ ম্যানেজমেন্ট মানে দক্ষ উতপাদক হওয়া এটা নাকি বুর্জোয়া ধারণা; আর এটা নাকি তাই শোষণের হাতিয়ার!

    কোন নীতি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় তা কাজ করছে আগাচ্ছে যেটা বুঝার ঊপায় কিঃ
    তবু এসব কথা এখন থাক; এসব কথা এখন পাশে ফেলে রেখে যদি একটু আগাই তবে, একটা দেশের সমগ্র অর্থনীতিক পরিকল্পনা নিয়ে আগানো (তা বিশেষ “পবিত্র জ্ঞান করা” সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি বা যেকোন অর্থনীতিই হোক না কেন)  বা বাস্তবায়নে চলে গেলে এরপর এই অগ্রগতি কাঙ্খিতভাবে চলছে কীনা এটা দেখার কোন ব্যবস্থাও সাথে থাকাটা খুবই প্রয়োজনীয় একটা দিক। এটাকেই বলে মনিটরিং বা অগ্রগতি মনিটর ব্যবস্থা যার থাকাটা খুবই এসেনশিয়াল আর প্রফেশনাল কাজের পুর্বশর্ত। এখান থেকেই মনিটরিং এর ইন্ডেক্স [index] বাংলায় যেটাকে আমরা সূচক বা নির্দেশক নামে চিনি বা বলি – তা খুবই গুরুত্বপুর্ণ!  কারণ কী দেখে বুঝব অগ্রগতি  পরিকল্পনা মাফিক ও দিকে চলছে কিনা?   কারণ না হলে যদি পরিকল্পনাটা পাঁচবছরের হয় তাহলে কী কেবল পাঁচবছরে পরেই জানা যাবে যে পুরা পরিকল্পনাটাই আসলে ফেল করেছে? অথবা সফল হতে যাচ্ছে?  নাকি প্রকল্প শুরু হওয়ার সুনির্দিষ্ট সময় পরে পরে যেমন ধরা যাক,  প্রতি তিনমাস পরে কখন কী কী  অগ্রগতি ও লক্ষণ-সুচক দেখা যাবে; এভাবে বা ওভাবে কখন কী দেখা যেতে  হবে  – এটাই সুচক ইন্ডেক্স এর মাপামাপি।  অর্থনীতির অভিমুখের সিগনাল দেয় এটা!   কিন্তু যদি অন্তত শুরুর একবছর পরেও এমন কোন রেজাল্টই না দেখা যায় তবে আগেই বুঝে নিতে হবে যে এই প্রকল্প ফেল করতে যাচ্ছে, ইত্যাদি। এগুলোকেই মোটাদাগে – অগ্রগতি মনিটর ব্যবস্থা- বলে বুঝা হয়।

    এখন তাজউদ্দিনের সেই “সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি”  কায়েমের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অপরাধ ও অঘটনমূলক ঘটনাটা ছিল যে, তারা সমাজতন্ত্র  প্রতিষ্ঠার এই “পবিত্রকাজে” রওনা করার পরে মানে একেবারে আড়াই বছর পরেই দেখলেন ও জানলেন যে এটা নুন্যতম সফলতা দূরে থাক তাদের এই পবিত্র অর্থনীতি দেশে এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ডেকে এনে সব শেষ করে দিয়েছে। রাষ্ট্র-সরকার মুখ থুবড়ে পড়েছে। এই ফলাফল দেখে আমাদের অনুমান কোন মনিটরিং ব্যবস্থার সুচক সেখানে রাখা হয় নাই; বরং বিপ্লবী রাজনৈতিক আবেগে সবাই ভরপুরভাবে ডুবে ছিল!!

    আর এই পরিণতি  দেখে সবার আগে এসব “অকর্মা সমাজতন্ত্রীদের” সকলকে পদত্যাগ করিয়ে সরিয়ে দিয়েছিলেন ক্ষুব্ধ শেখ মুজিব।  শুধু তাই না, ঐ ১৯৭৪ সালেরই সেপ্টেম্বরে (সেবারের জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদানের উসিলায়) আমেরিকা গিয়ে কিসিঞ্জারের সাথে প্রথম দেখা করেছিলেন তিনি। উদ্দেশ্য সেই প্রথম বিশ্বব্যাংক-কে সংশ্লিষ্ট করা; মানে দ্রুত অনুদান, ঋণ জোগাড়। গত ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের সদস্যপদ লাভ করলেও মুজিব সরকার বা অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দিন  আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের সাথে কার্যকরি কোন সম্পর্ক করতে যান নাই; তাঁরা সম্পর্ক না রাখাটাই বিপ্লবীপনা বলে বুঝেছিলেন!  ফলে আমাদের অর্থনীতিতে বিশ্বব্যাংকের অনুদান, সাহায্য যোগাড় ধরণের কোন খাতাই খোলা হয় নাই। কারণ এই মন্ত্রী তাজউদ্দিন ও তাঁর সহ বিপ্লবীরা কেনিয়াতে ১৯৭৩ সালেও সে সময়ের বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের [রবার্ট ম্যাকনামারা] সাথে আলোচনার প্রস্তাব (পরিচিতি ও সৌজন্য সাক্ষাত) পেলেও এই সোভিয়েত বিপ্লবীরা তা প্রত্যাখ্যান করে ফেলে রেখেছিলেন। প্রতি পরের-বছর বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলন হয় দুনিয়ার নানান দেশে; সেটাই সেবার হয়েছিল KENYA 1973 হিসাবে; এখানে এক আর্কাইভ লিঙ্ক দেওয়া হল যারা এবিষয়ে আরও গভীরে যেতে চান এমন আগ্রহিদের জন্য। আবার একালেও অনেক বিপ্লবীকে (আনু মোহম্মদ ও তাঁর বন্ধুদের) দেখা যায় বিশ্বব্যাংককে এই প্রত্যাখানকে নিয়ে গর্ব করতে।  আসলে না জানার অনেক সুবিধা যা খুশি বলা যায়!!!  এছাড়া যদিও এর আগে ১৯৭২ সালে প্রেসিডেন্ট ম্যাকনামারা বাংলাদেশে এসে শেখ মুজিবের সাথে দেখা করে একই প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এছাড়া, VOA এর এক ভিডিও তে দেখা যায় তাজউদ্দিনও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

    এবার মূল প্রসঙ্গে আসি;  রেহমান সোবহান ক্রমশ চরম বিপদজনক হয়ে উঠছেন। যেন দেশ জাহান্নামে গেলেও মৃত্যুর আগে তাঁকে হাসিনার থেকে পদক-সম্মাননা পেতেই হবে! জীবন সায়হ্নে হাসিনার দৃষ্টি ও আনুকুল্য পেতে যাতে তিনি “বাঙালি জাতিবাদের” এক ভগবান হিসাবে কোন পদক বা সম্মাননা পেতে পারেন যেন একারণেই মরিয়া হয়ে উঠেছেন। বাংলাদেশ জন্মের পরে সেই ১৯৭২ সাল থেকেই তিনি কথিত “পরিকল্পিত ও সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি” কায়েমের কালে টপ তিন-চারজনের একজন ছিলেন। তিনি ছিলেন স্বাধীনতা পরবর্তি সেকালের পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য।  আবার মনে রাখতে হবে সেকালের পরিকল্পনা কমিশন মানে সাংঘাতিক ব্যাপার, আজকের মত গুরুত্বহীন না। এর মূল বৈশিষ্ট বুঝতে হবে এভাবে যে, সেকালে সমাজতন্ত্র মানেই হল পরিকল্পিত অর্থনীতি এমনটাই গর্বের সাথে বুঝা হত;  আবার এর অর্থনীতিক পরিকল্পনা হত পাঁচসালা, পাঁচ বছরের জন্য। তাই সব সময়ই দেশের অর্থনীতি এক চলমান পাঁচসালা পরিকল্পনার অংশ হয়ে থাকত। কিন্তু ১৯৭৪ এর দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশে সমাজতন্ত্রের এসব ভংচং সবকিছুই নিজ গৌরবে খতম হয়ে গেলেও এই পাঁচসালা পরিকল্পনার রেওয়াজটা পরেও কিছুদিন চালু ছিল।। স্মরণ হাতড়ে বলছি ১৯৮০ এর দশকে এটা লুপ্ত হয়ে যায়। কাজেই রেহমান সোবহানের সেকালে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য থাকা ছিল অনেক ভারী জিনিষ। একালে দেখছি সিপিডি থেকে প্রকাশিত তাঁর বায়োডাটায় ব্যপারটা লেখা আছে এভাবে ……He served as Member, Bangladesh Planning Commission, in charge of the Divisions of Industry, Power and Natural Resources, । সেই সাথে ওখানে আরো লেখা আছে যে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত তিনি প্রেসিডেন্টের এডভাইসারি কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন যার এক্তিয়ার বা কর্মক্ষেত্র ছিল পরিকল্পনা বিভাগ ও অর্থনীতির ইআরডি [ERD] বিভাগ। এখানে  পাঠককে জানিয়ে রাখা ভাল যে বাংলাদেশে বাকশাল শাসন (২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫) কায়েমের পর থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত দেশে প্রেসিডেন্সিয়াল সরকার ব্যবস্থা চালু ছিল।  যার সারকথা হল সেটা প্রধানমন্ত্রী ব্যবস্থা নয় বরং প্রেসিডেন্টই সব ক্ষমতার উতস ও সরকারের প্রধান নির্বাহি ক্ষমতাধারী; মানে কোন প্রধানমন্ত্রী নয় বরং প্রেসিডেন্টের হাতেই সব ক্ষমতা ন্যস্ত ছিল। তাই রেহমান সোবহানের ১৯৯১ সাল পর্যন্ত – প্রেসিডেন্টের এডভাইসারি কাউন্সিলের সদস্য- কথার মানে ও ওজনদার তাতপর্য, সেটা আমাদের বুঝতে হবে। আর তা জিয়া ও এরশাদ এদুই প্রেসিডেন্টের আমল জুড়ে সেটাও বুঝতে হবে।

    আবার সম্প্রতি দেখলাম সম্ভবত রেহমান সোবহান তার জীবনী প্রকাশ উপলক্ষ্যে তিনি যা বলছেন এর সারকথা হল, বৃটেনে থাকার সময়ের লেবার পার্টি করেই তিনি ‘কমিউনিজম’ শেখেছেন। কি সাংঘাতিক কথা আর, কী সহজ তাই না!!  এর মানে কার্ল মার্কসের কোন মূল লেখা বই বা কোন গুরুত্বপুর্ণ আর্টিকেল পাঠ নিয়ে কিছু জেনেছেন – এভাবে এটা তাঁর জানবার পথ ছিল না। এখন তাই তাঁর নিজেই নিজেকে মুল্যায়ন করা উচিত যে, শুধু এটুকু দিয়ে “সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি” করতে যাওয়া কী ঠিক হইছে? বাংলাদেশের প্রতিটা সাধারণ মানুষ যার দ্বারা এফেক্টেড ও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল??? এটা কী কোন ছেলেখেলার বিষয়?  বিশেষ করে বৃটিশ লেবার পার্টি মানে তো ওয়ার অন টেররের কালে প্রেসিডেন্ট বুশের সহযোগী প্রধানমন্ত্রী ব্লেয়ার এর পার্টি! এছাড়া বড় জোর ওর জ্ঞানের দৌড় হল এক ট্রেড ইউনিয়নিস্ট এর যেমন থাকে! লেনিন কেন নিজ পার্টিরই কোন ট্রেড ইউনিয়ন করার বিরুদ্ধে ছিলেন, আগ্রহিরা সেটা জেনে নিতে পারেন!

     রেহমান সোবহানের “ভ্যালু এডিশন” বুঝঃ
    আমি অনেকবার বলেছিল রেহমান সোবহান হলেন, বাংলাদেশে বসে ভারতের স্বার্থরক্ষা ও দেখার কনসাল্টেন্ট। বাংলাদেশের ঘাড়ে চড়ে ভারতকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার ইন্ডিয়ান এজেন্ট হল রেহমান সোবহান ও তাঁর এইকাজের প্রতিষ্ঠানটাই হল সিপিডি। উলটা করে বললে, সিপিডির সর্ববৃহত ক্লায়েন্ট হল ভারত সরকার বা তার গোয়েন্দা বাহিনী। যদিও তিনি নিজে এটাকে “প্রগতিশীল আর ইতিবাচক” কাজ হিসাবেই গণ্য করে থাকেন!!!
    Regional Comprehensive Economic Partnership (RCEP) is a free-trade agreement (FTA) – এদুই ধারণার মধ্যে FTA সারকথায় এর মানে হল আন্তঃরাষ্ট্রীয় বাণিজ্যে একে অপরের বাজারে পণ্য নিয়ে ঢুকলে কত কী শুল্ক ছাড় দিবে বা শুল্কই আরোপ করবে না এরই ছুক্তি। এমন FTA বানিজ্য জোটের ভিতর আবার RCEP একেবারেই নতুন ধারণা। আর এই RCEP এটাই হল এক “ভ্যলু এডেড চেইন” এই ধারণার ভিত্তিতে পণ্য উতপাদন ও ভোগ – তা শেয়ার করার ব্যবস্থা। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ ধারণা হল ভ্যলু (value); এই ভ্যালু আসলে কী? মনে রাখতে হবে মার্কস সারপ্লাস ভ্যলু তত্বের জন্য বিখাত আর এটাই তাঁর জীবিনের মুখ্য অবদান মানেন অনেক। তাই ভ্যলু (value) সম্পর্কে তার বিস্তারে লেখা রচনা আছে। একেবারেই সার কথায় ভ্যলু (value) মানে হল কোণ পণ্য উতপাদনে একদিকে থাকে কাঁচামাল আর এই কাঁচামালের উপর মানুষের শ্রম যোগ করেই পণ্য উতপাদন করা হয়। এই শ্রম যোগ করা এটাই ভ্যলু (value) এডিশন। একারণের উতপাদিত পণ্যের মূল্য কাঁচামানের মুল্যের চেয়ে ছাড়িয়ে। কাজের উতপাদনে শ্রম যোগ করাই ভ্যালু এডিশন। এখন কয়েকটা দেশ মিলে কোন অর্থনৈতিক জোট যদি কোন পণ্য উতপাদনের ক্ষেত্রে যে দেশ যে অংশটায় দক্ষতার সাথে ভ্যালু এড করতে পারে তা করে ফাইনালি কোন একটা দেশে যদি তা এসেম্বল করে ফিনিস প্রডাক্ট-টা তৈরি হয় আর এবার ঐ পণ্য যদি জোটের সব দেশ কিনে ও ভোগ করে তবে ঐ উতপাদিত ঐ পণ্য হল  “ভ্যলু এডেড চেইন” পদ্ধতিতে উতপাদিত ও ভোগ্য এক পণ্য। আর বলাই বাহুল্য এই পণ্য যেহেতু সবদেশেরই শ্রম আছে তাই কেউই আর এর প্রবেশের উপর শুল্ক-আরোপ করে না আর সুবিধাটা সদস্য সকল দেশ পাবে। এমনই চীনা উদ্যোগের প্রথম জোট হল RCEP  যা পুর্ব-এশিয় আশিয়ান দশ দেশ ও এর বাইরে ঐ অঞ্চলের আরো ছয় FTA সদস্য দেশ; যাদের মধ্যে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, নিউজিল্যান্ড, অষ্টেলিয়াও আছে। আইডিয়াটা হাজির করা হয় ২০১১ সালে।
    এমন জোট বাস্তবায়িত হয় ২০২০ সালে। কিন্তু ভারতের স্বার্থ-ধর রেহমান সোবহান ব্যাপারটা জানার পর সম্ভবত ভেবেছিলেন তাঁর ক্লায়েন্ট ভারতকে সুবিধার হাড়ি খুলে চমকে দিতে হবে। তিনি ক্লায়েন্ট ভারতকে খুশি করতে বিবেচনাবোধ হারিয়ে দাবি তুললেন ভারত-বাংলাদেশকে মিলে  “ভ্যলু এডেড চেইন” পণ্য উতপাদনে যেতে হবে।

    আবার ভারতও সব শুনে মনে করেছিল রেহমান সোবহানের কাছে খুবই জ্ঞানের এক কথা তারা শুনলেন। কারণ ভারত ভেবেছিল এটাকরতে পারলে তাহলে ভারতও তো চীনের সমতুল্য এক বিরাট দেশ হয়ে যাবে!!  তারা রাজি হয়ে যায়।  রেহমান সোবহান ঠিক করে দেন এই জ্ঞানের আলোচনাটা ঢাকায় হবে আর এটা ডেইলি স্টারের নামে আয়োজন করা হবে। তাই হয় আর এতে ভারত সরকারের হুকুমে ভারতীয় আমলারা দল বেধে অংশ নিয়েছিল।  এটাসি ঘটেছিল ২০১৬ সালে তিনি ডেইলি স্টারকে দিয়ে আয়োজিত সেমিনারে ভারতীয় আমলাদেরও ঢাকায় জড়ো করেছেন – উদ্দেশ্য “ভ্যলু এডেড চেইন” শিখাবেন।

    ‘ভ্যালু এডিশন চেইনে’ উতপাদন, উগ্র অর্থনীতিক জাতিবাদ এর জন্য হারামঃ 
    চোথা মারা মানের অপরের ধারণা বুঝে বা বুঝে টুকলিফাই করা – ব্যাপারটা শেষে তাই হয়েছিল। গোড়ার ফ্যাক্টস হল, রেহমান সোবহান ‘ভ্যালু এডিশন চেইন’ জিনিষটাই ঠিকমত বুঝেন নাই; এছাড়া মার্কসের ভ্যলু সম্পর্কেও প্রাথমক কিছু ধারণা থাকতে হবে। তিনি ভেবেছিলেন চীন বা RCEP এর ধারণাটা তিনি সহজেই ক্লায়েন্ট ভারতের কাছে বেচে দিতে পারবেন। কিন্তু ফাঁকি বা চোথা মারা ধারণার কারণে ভ্যলু এডিশনের সাথে শুল্ক-আরোপের সম্পর্ক কী তিনি জানেন নাই। আবার মনে রাখতে হবে বিদেশি পণ্যের উপর শুল্ক আরোপ করা আর এভাবেই বিদেশি পণ্যের প্রবেশ ঠেকিয়ে দেয়া ১৯৪৫ সালের পরে জাতিবাদি ও কলোনিমুক্ত দেশগুলোতে খুবই পপুলার পদক্ষেপ ছিল। এটাকেই ইকোনমিক ন্যাশনালিজম বলে।  সব জাতিবাদিরাই ইকোনমিক ন্যাশনালিস্ট, মোদির মত উগ্র হলে তা আরও বেশী। এমনকি স্তালিন ও তার কমিউনিজম ও আসলে ইকোনমিক ন্যাশনালিস্ট।  মুল কারণ, এরা বা এই চিন্তার মধ্যে আন্তঃরাষ্ট্রীয় বাণিজ্য ধারণাটাই নাই। আর একারণেই আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের সদস্য না হয়েও সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৯৪৫-১৯৯১ সাল পর্যন্ত টিকে ছিল। এমনকি সোভিয়েত ব্লকের রাষ্ট্রগুলোর মধ্যেও কোন আন্তঃরাষ্ট্রীয় বাণিজ্য ব্যাবস্থা ছিল না;  আসলে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের সদস্য না হলে কোন আন্তঃরাষ্ট্রীয় বাণিজ্যই সম্ভব নয়।

    কিন্তু রেহমান সোবহান এসব জানতেন পড়াশুনা আছে তা তাঁর কাজদেখে এমন জানা যায় না। যেমন ধরেন, তিনি কী জানেন উগ্র জাতিবাদী রাষ্ট্র ভ্যালু এডিশন বুঝতেই পারবে না।  গ্রহণ করবে না বা সম্ভব না? কারণ এই রাষ্ট্র-সরকার উগ্র জাতিবাদী মানে সে ইকোনমিক ন্যাশনালিজম করে বেড়ায় – মানে অন্য দেশের পণ্যকে সে কড়া ট্যাক্স বসিয়ে নিজ সীমান্তের বাইরে রাখাটাই সঠিক মনে করে। নিজ অদক্ষপুর্ণ দামে প্রস্তুত পণ্যকে যে এভাবেই প্রটেক্ট করে; আর দেশের মানুষকে তাই কিনতে বাধ্য করে থাকে। এটাই তো ইকোনমিক ন্যাশনালিজম । তাহলে তিনি মোদীর ভারতকে ভ্যালু এডিশন বুঝাবেন কেমন করে? রেহমান সোবহান সেদিকটা না বুঝেই বাগড়ম্বরা করতে গেছেন ইন্ডিয়া বাংলাদেশের পাটের উপর, ব্যাটারির উপর, বাথ সোপের উপর এরকম ট্যাক্স বসিয়ে রেখেছে। আর রেহমান সোবহান বলছেন ভারত-বাংলাদেশ নাকি “ভ্যলু এডেড চেইন”  এর যৌথ পণ্য উতপাদন করতে যাওয়া উচিত!!! এই হল প্রগতিশীল বিরাট বুঝমান রেহমান সোবহান!    দেখেন এখানে এনিয়ে ২০১৬ সালের ডেইলিস্টারের রিপোর্ট। এছাড়া এসব ইস্যু নিয়ে আমার পুরানা লেখা আগ্রহিরা এখানে  আর এখানে দেখতে পারেন।

    কিন্তু তবু এত ক্ষমতাধর রেহমান সোবহান কখনও ১৯৭৪ এর কথিত সমাজতন্ত্রী অর্থনীতির পরাজয় ও দেশকে একটা দুর্ভিক্ষে নিয়ে ফেলা এজন্য কোন দায় কখনও নেনই নাই। কোন একাদেমিক আলোচনাও টেনেছেন জানা যায় না।  এমনকি যদি কেন ঐ অর্থনীতি ফেল করেছিল এনিয়ে কোন সৎ মূল্যায়ন বা তাঁর কোন সৎ অনুভবও কোথায় আলোচনা করেছেন জানা যায় না।

    বিআইডিএস ও রেহমান সোবহানঃ
    বিআইডিএস [BIDS] কী তা এই প্রজন্ম কমই জানে, আমার অনুমান। আসলে বাংলাদেশের রাজনীতিক চিন্তা ও সক্রিয়তায় কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলতা যেভাবে এখন উপেক্ষিত কোনঠাসা, গুরুত্ব-প্রভাবহীন নিস্তেজ হয়ে গেছে বিআইডিএস এই প্রতিষ্ঠানের দশাও তাই। আমাদের প্রজন্মের একাদেমিক যৌবনে বিআইডিএস – একে দেখা হত এক বিরাট প্রগতিশীল জ্ঞান ও গবেষণার প্রতিষ্ঠান।  বিআইডিএস সরকারী ফান্ডে চলা এক আধা-সরকারি বা স্বায়ত্বশাসিত এক গবেষণা প্রতিষ্ঠান। অরিজিনালি বিআইডিএস এর জন্ম পাকিস্তান আমলে করাচিতে; আর নাম ছিল পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ ডেভেলপমেন্ট ইকনোমিকস বা পাইড [PIDE]। ১৯৭১ সাল ঘুরে,  একে বাংলাদেশে এনে ১৯৭৪ সালে এসে এর নাম হয় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ  বিআইডিএস [BIDS]। বিস্তারে গিয়ে কথা না বললেও, অরিজিনালি করাচিতে এটা আমেরিকা প্রভাবিত এক প্রতিষ্ঠান ছিল; মানে কমিউনিস্ট ভাবাদর্শী নয়।  কিন্তু বাংলাদেশে এসে এটা হয়ে যায় কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলদের প্রতিষ্ঠান; এমনকি এখনও প্রচ্ছন্নে এটা তাই মানা হয়। দুই বাক্য উপরে ডেভেলবমেন্ট শব্দটা আমি সবুজ রঙ দিয়েছি; আর BIDS শব্দের D যার প্রতীক! ক্রিটিক্যালি বললে এই ডেভেলবমেন্ট বা বাংলায় উন্নয়ন – এই শব্দ ও ধারণাটাই এন্টি কমিউনিস্ট।  কেন? ডেভেলবমেন্ট মানে হল – মানে এর পুরা কথাটা হল “ইনফ্রাস্টাকচার ডেভেলবমেন্ট” – কিন্তু একে সংক্ষেপে বলতে শুধু ডেভেলবমেন্ট শব্দটা নেয়া হয়েছে। আর বাংলাতে বললে এটা অবকাঠামো উন্নয়ন [Infrastructure Development] যাকে সংক্ষেপে আমরা শুধু উন্নয়ন বলি।  ১৯৪৫ সালে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক এর জন্মের সাথে সম্পর্কিত এক মুখ্য কনসেপ্ট হল এই “ইনফ্রাস্টাকচার ডেভেলবমেন্ট”। মনে রাখা যেতে পারে বিশ্বব্যাংক এটাও এর সংক্ষিপ্ত নাম। আর এই প্রতিষ্ঠানের পুর্ণনাম হল, International Bank for Reconstruction and Development (IBRD)।

     কমিউনিস্টদের কাঙ্খিত ক্যাপিটালিজমের বিনাশ বা পতন এখনও হয় নাইঃ
    খুবই সংক্ষেপে বললে, খোদ কার্ল মার্কস সহ কমিউনিস্টদের আকাঙ্খা ও অনুমান ছিল যে দুনিয়াতে ক্যাপিটালিজম টিকবে না; টিকতে পারবে না। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই এই অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিজ গুনেই ভেঙ্গে পড়বে। কার্কস তাঁর সারপ্লাস ভ্যলু তত্বের প্রেক্ষিত এমনটা মনে করতেন। তাই এই আকাঙ্খা-বিশ্বাস খোদ মার্কসের (১৮১৮-১৮৮৩) ছিল; একইভাবে লেনিনেরও (১৮৭০-১৯২৪) ছিল। ফলে পরবর্তি প্রায় সকল কমিউনিস্টদেরও। কিন্তু কমিউনিস্ট অনুমান বা ভবিষ্যতবাণীকে মিথ্যা প্রমাণ করা এক্ট বা এমন প্রধান ততপরতা মনে করা হয় – এই ১৯৪৫ সালে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের জন্ম হওয়া।  যেটা লেনিন পরবর্তিতে ১৯৪৫ সালের এসে সোভিয়েত  প্রেসিডেন্ট জোসেফ স্তালিন চেয়ে চেয়ে দেখেছিলেন যে  আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের জন্ম হচ্ছে। কিন্তু তিনি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে বসেছিলেন। কোন প্রতিক্রিয়া দেন নাই, দেখান নাই, কিছু লেখেনও নাই। সম্ভবত তিনি অস্পষ্ট ছিলেন, নিশ্চিত ছিলেন না যে কী বলা ঠিক হবে! অন্যদিকে এদুই প্রতিষ্ঠানের জনক  বা ফাউন্ডিং ফাদার মনে করে খোদ আইএমএফ-ই নিজের ওয়েব সাইটে লিখে রেখেছে যাদের নাম – এমন দুজন হলেন, বৃটিশ অর্থনীতিবিদ কেইনস [John Maynard Keynes ]  আর অপর জন হলেন সেকালে আমেরিকান ট্রেজারি মন্ত্রণালয়ের চীফ ইকোনমিস্ট ডেক্সটার [Harry Dexter White]। এরা মূলত দুনিয়ায় উন্নত দেশ মানে অর্থনীতিতে সারপ্লাসের দেশ থেকে গরীব দেশের জন্য অবকাঠামোগত ঋণ এর ব্যবস্থা করে দুনিয়াকে এক নয়া গ্লোবাল ক্যাপিটালিজমের পথে সাজিয়ে ফেলেছিলেন। এদিকের ১৯৪৫ সালের পরের দুনিয়া জুড়ে কলোনিমুক্ত স্বাধীন দেশের এক দুনিয়া হয়ে উঠেছিল। তাই, সারপ্লাস অর্থনীতির বড় দেশগুলো তাদের সম্পদের একটা ছোট অংশ আমাদের মত দেশে অবকাঠামোগত ঋণ (প্রায় নাই সুদে) দেওয়ার একটা গ্লোবাল কাঠামো ও প্রতিষ্ঠান (আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক) গড়াতে এদুই প্রতিষ্ঠান শুরুতে খুবই প্রাণবন্ত ও সচল এক গ্লোবাল ক্যাপিটালিজম চালু করতে পেরেছিলেন। এটাই অবকাঠামো উন্নয়নের অর্থনীতি। সংক্ষেপে উন্নয়নের অর্থনীতি।  মজার কথা হল জনবহুল চীন এই অর্থনীতির সুবিধা নিবার পথ ধরেই আজ প্রায় খোদ আমেরিকাকেই ছাড়িয়ে যাওয়া দুনিয়ার বড় অর্থনীতি যা আগামিতে পালাবদলে নেতা আমেরিকার স্থান নিবার পথে উঠে  আসছে!  অর্থাৎ অবকাঠামো উন্নয়নের ধারণাটাই কমিউনিস্ট আগের ভবিষ্যতবাণীকে আপাতত নাকচ করে রেখেছে, এটা এক কঠিন বাস্তব সত্য।  আর একারণে বলাই বাহুল্য যে “উন্নয়ন”, এটা এন্টি কমিউনিস্ট ধারণা; যা কমিউনিস্ট প্রেডিকশনকেও নাকচ করে রেখেছে।

    এজন্যই BIDS [প্রাক্তন নাম PIDE] কে বলেছি এটা আমেরিকা প্রভাবিত ধারণা। আবার তামাসাটা হল, এই BIDS ১৯৭৪ সালের পর থেকে কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলদের গবেষণা প্রতিষ্ঠান হয়ে যায়; যা এখনও কম-বেশি তাই।  আর রেহমান সোবহান প্রগতিশীল পরিচয়েই অবসরের (১৯৯২) আগে পর্যন্ত এই BIDS এর  ডিজি বা প্রধান ছিলেন।  সারকথায়,  ১৯৭৪ এর আগে পর্যন্ত রেহমান সোবহান বাংলাদেশে “সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি” গড়ার বিরাট কুতুব কারিগর; আবার ১৯৭৪ সালের পরবর্তিতে BIDS জেগে উঠলে মানে পুঁজিতান্ত্রিক অবকাঠামো উন্নয়নের অর্থনীতি শুরু হলে পরে (১৯৮০) তিনিই আবার BIDS এর প্রধান হয়ে বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের উন্নয়নের অর্থনীতিরই মুল্যায়নকারী, প্রকল্পের গবেষক! ব্যাপারটা হেভি মজার নিঃসন্দেহে। তবে একটা বাক্য পাওয়া যায় উইকিতে যেটা রেহমান সোবহানের  বায়ো বা পরিচিতি্র অংশ। সেই বাক্যটা এরকম, …… After the liberation of Bangladesh in 1971, Sobhan was appointed a member of the Planning Commission. He quit when he, along with others, fell from the grace of Sheikh Mujib in 1975. । বাংলায় বললে, ১৯৭৫ আসতে আসতে শেখ মুজিব কমিশনের সকলকে বের করে দেন; তারা সকলে নিজে পদত্যাগ করতে বলেন  আর এভাবেই তাঁরা শেখ মুজিবের অনুগ্রহ বা গুড-বুক থেকে  সকলে ঝড়ে পরেছিলেন।

    অথচ, ১৯৭২ সাল থেকেই এই প্রগতিশীল কথিত “কমিউনিস্ট অর্থনীতির গোষ্ঠির” এরা আমাদের দেশে বিশ্বব্যাংক সাহায্য করতে বা অনুদান দিতে অথবা প্রায় না সুদে ঋণ দিতে চাইলেও এরা তা ঠেকিয়ে রেখেছিল। যেটার জন্যই  শেখ মুজিবকে পরে তবে ঐ ১৯৭৪ সেপ্টেম্বরেই নিউইয়র্ক গিয়ে কিসিঞ্জারের সাথে দেখা করে প্রথম বিশ্বব্যাংকের সাহায্য নিতে তাঁর আগ্রহ তিনি পুনরায় প্রকাশের সুযোগ নিয়ে তা নিশ্চিত করে এসেছিলেন।   কিসিঞ্জার তাতে একমত হলেও তা বাংলাদেশে আসার প্রস্তুস্তি শেষ করে আসতে আসতে ১৯৭৬ সালের বাজেট বছর শুরু হতে সময় লেগে যায়। আর ততদিনে শেখ মুজিব নিহত, এই কাফফারা দিতে হয়! বিশ্বব্যাংক সেই প্যাকেজে প্রথমে অনুদান (যার সুদ-আসল কিছুই ফেরত দিতে হয় না ) সাহায্য আর পরে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (প্রায় না সুদের ০.৭৫%) ঋণ দেয়া শুরু করলে এর স্থানীয় ইভ্যালুয়েটর ও সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রভাব বিবেচনার কনসালটেন্সি পায় কিন্তু আধা-সরকারি বিআইডিএস [BIDS] আর এই বি আইডিএসের প্রধান ছিলেন রেহমান সোবহান। মানে দাড়িয়েছিল এমন যে, দুভিক্ষ লাগানো কথিত সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির এক কর্তা তখন হয়ে গেছেন বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংক প্রকল্পের ইভ্যালুয়েটর!!!

    এখন পুরাই বিষটাকে যদি ইতিবাচকভাবে দেখি তবে এটা ছিল রেহমান সোবহানের জন্য একটা খুবই ভাল সুযোগ। তিনি এই দুই প্রচেষ্টা [কথিত সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি আর পরে বিশ্বব্যাংকের উন্নয়নের অর্থনীতি ]  এই দুই অর্থনীতির ব্যবহারিক তুলনা (আতলামো না) এমন ভালো-মন্দের মুল্যায়ন মন্তব্য তিনি নিজ সৎ -অভিজ্ঞতা আকারে হলেও লিখে যেতে পারতেন! যা নিঃসন্দেহে পরবর্তি প্রজন্মের জন্য এক মৌলিক সোর্স হতে পারত!  কিন্তু হায়! কিছুর বলার নাই। রেহমান সোবহান এখন একালে বাংলাদেশ যেন ভারতকে  করিডোর দেয় – এই জবরদস্তি ও বিনা পয়সায় তা দেওয়ার দালাল হয়েছেন!

    এমনিতেই ২০০৭ সাল থেকে (আসলে ২০০৪ সালে সিপিডির সৎপ্রার্থী আন্দোলনের সময় থেকেই) তিনি বাংলাদেশে ভারতের লুটে নেয়া স্বার্থ হাসিল বা পাইয়ে দিবার ক্ষেত্রে সরাসরি এজেন্টের ভুমিকায় নেমে গেছিলেন। যেটা এখনও নানা উছিলায় ও ডালপালায় সক্রিয় আছে। যেমন বাংলাদেশ থেকে ভারতকে বিনা পয়সায় আর বাংলাদেশের স্বার্থ ত্যাগ করে কেবল একচেটিয়া ভারতের স্বার্থে ভারতকে করিডোর পাইয়ে দিবার পক্ষে তিনি এক নম্বর ওকালতকারি।  এমনকি যারা ভারতকে করিডোর দিবার বিপক্ষে তাদেরকে তিনি প্রকাশ্য সভায় ‘অশিক্ষিত’ বলেছেন; এতই ঘামন্ডি আত্মদর্পী তিনি। দেখুন ১। ট্রানজিট বিরোধিতাকে ‘অশিক্ষিতদের বিতর্ক’ বললেন রেহমান সোবহান; ২।  “Bangladesh is the only country to see debate over transit, which is very usual through borders,” ……“I think it’s a debate of ignorant people,”। 

    এগুলো হল এখন তাঁর ক্রেডেনশিয়াল; বিরাট অর্জন!!! বাংলাদেশে এই লবি আর দালালি করে দিয়েই তিনি শেষ জীবনে সিপিডি [CPD] কে খাড়া করেছেন। এটা নাকি তাঁর যোগ্যতা!! আর প্রতীকিভাবে বললে যেমন ধরেন মুচকুন্দ দুবে যিনি ভারতের এক সাবেক আমলা কূটনীতিক; বাংলাদেশে এক সাবেক ভারতীয় রাষ্ট্রদুত ও বলা যায় যিনি প্রো-কংগ্রেসী। তিনি একালে ঢাকা আসলে পরে রেহমান সোবহান তাঁকে নিয়ে যেন পবিত্র তীর্থে যাচ্ছেন এভাবে তাঁরা দুজনে প্রথম আলোর অফিসে এসে মতিউর রহমানের সাথে মোলাকাত করবেন! আবার অনেকে বলেন, প্রথম আলো আর সরকারের মধ্যে যে টেনশন বা যেমন প্রধানমন্ত্রীর অফিসে অনা-আমন্ত্রণ বা ঢুকতে না দেওয়া এসব পেরিয়ে তাদের মধ্যে প্রধান মধ্যস্থতাকারি হলেন রেহমান সোবহান! ইত্যাদি।

    কিন্তু কেন এই লেখাঃ
    উপরে এতক্ষণ যা যা লিখেছি তা বলার জন্য  মূলত এলেখা লিখতে বসি নাই।  সেগুলো পটভুমি মাত্র! আর এখন সেই মূল প্রসঙ্গে যাব।  সম্প্রতিকালে রেহমান সোবহান এক মহৎ কর্ম করেছেন!!
    গত দুবছর একটু একটু করে এবছরে এসে বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে গভীর দুর্দশায় নিমজ্জিত; এটা সারা দেশের লোক টের পাচ্ছে। বিশেষ করে প্রত্যেকটা বাণিজ্যিক ব্যংক ব্যাপক অনাদায়ী খেলাপি ঋণ এর ভারে ডুবে আছে। যদিও কম বেশী আছে যা থেকে দুর্বল আর সবল ব্যাংক এর ধারণা টানা হয়েছে। যেখান থেকে মূল সমস্যাটা হল, প্রত্যেকটা ব্যাংক তার আমানত মানে আম পাবলিকের জমা টাকা খেয়ে ফেলেছে – অনাদায়ী খেলাপি ঋণ এর সংকট কথাটার প্রকৃত অর্থ এটাই। তাই মিডিয়া রিপোর্ট আসছে যে প্রায় প্রত্যেকটা ব্যংকই বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা ধার করে টিকে আছে, প্রতিদিনের দায় মিটাচ্ছে। এই সময় রেহমান সোবহান এক সভায় বক্তৃতায় বলেছেন, “দেশে খেলাপি ঋণের জনক জিয়াউর রহমান: রেহমান সোবহান”। খোজ নিয়ে জানা গেল এমন কথা তিনি ২০১৮ সালেও একবার বলেছেন। দেখুন, ঋণ খেলাপির সংস্কৃতি জিয়ার আমলে শুরু: রেহমান সোবহান।

    কোন একাদেমিক বা গবেষকের জন্য এমন বক্তব্য অপরাধমূলক; এক ক্রিমিনাল বক্তব্য। জনমানুষকে বিভ্রান্তকারি বক্তব্য। কেন এমন বলছি??

    তাঁর এই বক্তব্যকে দুভাবে দেখব। এক,  বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ বনাম বিএনপি এদের বিতর্ক-ঝগড়া কোন সিরিয়াস আলোচনায় আনার যোগ্য নয়। যদিও তাদের এমন ঝগড়া কালচারে পরিণত হয়েছে। আমরা এক্ষেত্রে বড়জোড় যা পারি তা হল, কোন সিরিয়াস আলোচনায় অথবা একাদেমিক টেবিলে বা জগতে এসব তর্ক-কে না আনতে পারি; এড়িয়ে যেতে পারি। অর্থাৎ ইতিবাচক  ও অর্থপুর্ণ আলোচনার তাগিদ থাকলে কোন একাদেমিশিয়ানের এই বিতর্ক-ঝগড়া সচেতনভাবেই টেবিলে আনার কথা না বরং এড়িয়ে চলার কথা। কিন্তু আমরা দেখছি রেহমান সোবহান এটা এনেছেন। ১৯৮০-৮১ সালের ঘটনাকে লীগ বনাম বিএনপির ক্যাচালের মত করে এখানে তুলে এনেছেন। কেন এনেছেন?

    কারণ দুই, তিনি বর্তমানে দুর্দশায় নিমজ্জিত অর্থনীতির এই কালে হাসিনার বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ জনমানুষের ক্ষোভ বা তা থেকে উঠা হাসিনার সংকটকে লঘু করে দিয়ে চেয়েছেন। যেন বলতে চেয়েছেন যে খোদ জিয়াউর রহমানই যেহেতু এটা শুরু করেছেন আজ থেকে ৪৫ বছর আগে তাইলে আর একালে হাসিনার আর দোষ কী? কিন্তু আসলেই কী তাই যে, জিয়াই খেলাপী ঋণের কালচার সৃষ্ট করেছিলেন কী?

    অন্যদিকে আমরা অবাক বিস্ময়ে দেখছি কথাটা হাসিনা, ওবায়দুল কাদের বা লীগের কেউ রেহমান সোবহানের এই চাতুরিকে প্রশ্রয় দেয় নাই, পিক-আপ করেই নাই। যাকে বলে লীগের কেউ এতে মাতে নাই!!! কেন? খুব সম্ভবত হাসিনা খেলাপি ঋণ নিয়ে আলোচনাতেই ঢুকতে চায় নাই। কারণ তিনি জানেন প্রায় প্রত্যেকটা ব্যাংকই অনাদায়ী খেলাপি ঋণের দুর্গতি আটকে আছে। শুধু তাই না এই খেলাপিরা সোজা বা ঘুর পথে সরকারী দলের বা আড়ালে থেকে সুবিধা খেয়ে নিয়েছে।  আসলে এগুলো আদায় করার মুরোদ সেটা সরকারেরও নাই!  আর সবচেয়ে বড়কথা ঋণগুলো যারা নিয়ে ভেগে গেছে এরা বেশির ভাগই তার দলীয় নেতা বলে সরকার এদের বিরুদ্ধে কিছুই করতে পারবে না। খুব সম্ভবত এটাই সরকারের মূল্যায়ন!

    কিন্তু রেহমান সোবহানের এনিয়ে এত তাগিদ উতলা কেন?
    এলেখাতেই শুরুতে বলেছি, হাসিনা তাঁর বাবার আমলের লোক, শেখ মুজিবের সাথে কাজ করেছেন স্মৃতি আছে এমন ব্যক্তিত্বদের একালে  পদক প্রদান, বিশেষ সম্মাননা থেকে বৈষয়িক লাভালাভ পাইয়ে দেয়া তিনি করেছেন। আবার আরেকটা ফ্যাক্টস হল, রেহমান সোবহানের পেশাগত এক বড়ভাই আছে। নাম প্রফেসর নুরুল ইসলাম (গতবছর ২০২৩ সালে মারা গেছেন)। যিনি ১৯৭২ সালে গঠিত সরকারী পরিকল্পনা কমিশনের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট। কথাটা একটু বুঝায়ে বলতে হবে। সোভিয়েত ভাষ্য বলে থাকে যে তারা পরিকল্পিত অর্থনীতি করে থাকে। তাই পরিকল্পনা কমিশন বা মন্ত্রণালয়, সেখানে এটা খুব গুরুত্বপুর্ণ। সেই আদলে, আমাদের পরিকল্পনা কমিশনের তখন একজন ভাইস প্রেসিডেন্ট আর প্রেসিডেন্ট পদ ছিল। পদাধিকার বলে প্রধানমন্ত্রীই কমিশনের প্রেসিডেন্ট হতেন। আর এর প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন (একালের হিসাবে যেটা পরিকল্পনামন্ত্রী পদ) তবে এটা টেকনিক্যাল পোস্ট – আর এই নুরুল ইসলাম ছিলেন সেই ভাইস প্রেসিডেন্ট।

    এখন আওয়ামি আমলে কথিত আছে যে পাকিস্তান আমলে এই সিনিয়র অর্থনীতিবিদ নুরুল ইসলাম আর জুনিয়র রেহমান সোবহান এরাই নাকি শেখ মুজিবের ১৯৬৬ সালের ছয়দফার প্রনেতা বা ড্রাফটকারি। শুধু তাই নয় এরাই দুই পাকিস্তান অংশের অর্থনীতির দশা ইকোনমিক ডাটা ব্যবহার করে তুলে দেখিয়েছিলেন যে তুলনায় পুর্ব পাকিস্তান বঞ্চিত ও অসাম্যের শিকার!  সেকালের এসব ততপরতা থেকেই এরা নিজেদের হিরো ভাবতে ভালবাসেন আর তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে শেখ মুজিব ঘনিষ্ট ছিলেন। তাই সেকাল থেকেই এই ক্রেডিট কিছু বিনিময় মূল্য কিছু বিশেষ করে রাখা ইত্যাদি তারা তাদের শেষ জীবন্বের মরিয়া হয়ে চেয়ে থাকেন।  কিন্তু সমস্যা হল, আগেই বলেছি বাংলাদেশের শুরুতে কথিত ঐ  সমাজতান্তিক অর্থনীতি দুর্ভিক্ষ ঘটিয়ে শেষ হলে শেখ মুজিব তাজউদ্দিন সহ সকলকে পদচ্যুত করেন, মানে পদত্যাগ করতে বলেন। এতে তাদের স্বাধীনতা-পুর্ব সব ক্রেডিট কালো হয়ে যায়।  অর্থনীতিবিদ নুরুল ইসলাম এর কেসটা আবার আরো খারাপ। কারণ, তিনি সেকালের অর্থনৈতিক দুর্দশা আর দুর্ভিক্ষের মধ্যেই বা কিছুটা আগেই (সম্ভবত সেপ্টেম্বর ১৯৭৪) বিদেশে জাতিসংঘের [FAO] er চাকরি নিয়ে তিনি দেশ ছেড়ে চলে যান। যেটা শেখ মুজিবকে আহত করেছিল। আবার বলা হয় একবছরের ছুটি নিয়ে গেলেও আর ফিরে আসেন নাই।
    অথচ বিদেশি চাকরি শেষ করে গত কয়েক বছর ধরে তিনি দেশে এসে হাসিনার মন, দৃষ্টি ও স্বীকৃতি পেতে কোন কিছুই করতে বাদ রাখেন নাই। উদ্দেশ্য একটাই হাসিনা যেন স্বাধীনতা-পুর্ব অবদানের ঘটনায় তাদের স্বীকৃতি দেন। কিন্তু তাঁর দেশত্যাগ ও শেখ মুজিবের আহত হওয়া; আর ওদিকে এমনকি অনেকে দাবি করেন ১৯৭৪ সালে তাজউদ্দিননের পদত্যাগ উত্তরকালে শেখ মুজিব নুরুল ইসলামকেই নাকি অর্থমন্ত্রী করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নুরুল ইসলাম তখন দেশত্যাগে ব্যস্ত। খুব সম্ভবত, সমাজতন্ত্রী করতে গিয়ে দেশকে দুর্ভিক্ষে ফেলা আর নুররুল ইসলাম-সহ এমন তাদের অন্যান্যা সহযোগী অনেকেই নিজ উন্নতির লক্ষ্যে হারিয়ে যান। (যেমন আনিসুর রহমান, মোসাররফ ইত্যাদি অনেকেই যেখানে একমাত্র ব্যতিক্রম  সম্ভবত প্রফেসর মোজাফফর আহমেদ যাকে জিয়া নিজ ক্যাবিনেটে শিল্পমন্ত্রী উপদেষ্টা করে রেখেছিলেন, যিনি বিশেব্যাংকের অনুদানে ঢাবিতে আইবিএ প্রতিষ্টান সাজিয়ে নেন। ) এসব বিবেচনা থেকেই শেখ হাসিনা সমাজতন্ত্রী অর্থনীতিবিদ এই গোষ্ঠির কাউকেই কোন আনুকুল্য বা কোন বিশেষ সম্মন্ননা জানাতে এখনও কারও প্রতি রাজি হন নাই। হাসিনার এই মুল্যায়ন খারাপ বা ভুল তা বলা কঠিন; বা অন্যভাবে বললে, এমন বলার মত যথেষ্ট পয়েন্ট আমাদের হাতে নাই। বিরাট জ্ঞানীরা দেশে দুর্ভিক্ষ লাগিয়ে দিয়ে কেটে পড়বেন বা কোন দায় নিবেন না, রিকভারিতে হাত লাগাবেন না – তো এরা তাহলে দেশের জন্য কারা? রেহমান সোবহানও পরের পাঁচ বছর বিদেশে চাকরিতে ছিলেন।

    তামাসার কথাটা হল, গত বছর নুরুল ইসলাম মারা [৯মে ২০২৩] যান, য়ার এতে সঙ্গীসাথীদের নিয়ে যে শোক সভা ডাকা হয়েছিল সেখানে উপস্থিত প্রগতিশীল গোষ্ঠির তরফ থেকে তাতে বক্তারা সবাই প্রত্যক্ষ-পরোক্ষে হাসিনাকে দুষে কথা বলেছিলেন। এখানে   এখানে  এখানে দেখুন।    এছাড়া দেশে ফিরার পর থেকে নুরুল ইসলাম মৃত্যুর আগে পর্যন্ত  তার আক্ষেপ ছড়িয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সাক্ষাতকার দিয়ে গেছিলেন। যার সর্বশেষটা সম্ভবত এইটা। আর এতে লক্ষ্য করা যায় কেউই সমাজতন্ত্রী অর্থনীতির দুর্ভিক্ষ এই পরিণতি নিয়ে, এর দায় নিয়ে কোন প্রসঙ্গই তুলেন নাই। আমার ধারণা অন্তত একারণে, তারা কোন কিছুর বিশেষ প্রাপ্তির দাবিদার হওয়াটা নিজেরাই ম্লান করে দিয়েছেন! আবার নুরুল ইসলামের মৃত্যুর পরে খোদ রেহমান সোবহানের লেখাটাও এখানে দেখতে পারেন।

    তবু এই লেখায়  মুলকথাটা হল, রেহমান সোবহান এর ভাষায় তার “কমরেড” নুরুল ইসলামকে হাসিনার পাত্তা না দেয়া বা নিরুত্তাপ থাকা – এটা দেখার পরও মনে হচ্ছে রেহমান সোবহান হাসিনার মত পেতে হাল ছাড়তে রাজি না। তিনি সম্ভবত ভেবেছেন, তাঁর লাস্ট ট্রাম্প হল – দেশে খেলাপি ঋণের জনক জিয়াউর রহমান -একথাটা রটায় দিলে নিশ্চয় হাসিনা এবার তাঁকে কোলে তুলে নিবেনই!!! কিন্তু হায়!  রেহমান সোবহানের পোড়া কপাল, তেমন কিছুই ঘটে নাই! হাসিনাও একথা তুলে নিয়ে প্রেসিডেন্ট জিয়াকে কোন ব্যাশিং করতে যান নাই!

    তবে মূল প্রশ্ন, আসলেই কী জিয়া ঋণ খেলাপীর জনক? নাকি এই বক্তব্য রেহমান সোবহানের এক অসৎ কাজ – এক ইন্টেকচুয়াল অসততা?
    প্রথম কথা হল জিয়ার আমলে ঋণ খেলাপীর ঘটনা ঘটেছে।  কিন্তু ফ্যাক্টস হল, এমন ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট জিয়ার ছিলই না।  এই সিদ্ধান্ত ছিল খোদ বিশ্বব্যাংকের।
    এর প্রমাণ, আমি নিচে বাংলা অর্থসুচক পত্রিকা থেকে রেহমান সোবহানের এই বক্তব্য নিয়ে ছাপানো রিপোর্ট উঠিয়ে এনেছি আর নিচে সেঁটে দিয়েছি।  ওখানে দেখা যাচ্ছে রেহমান সোবহান বলছেন, “বিশ্বব্যাংকই এই ঋণদানে চালিকাশক্তি। তাদের পরামর্শেই ওই সময়
    বেসরকারি খাতের উন্নয়নে বিপুল ঋণ দেওয়া হয়েছে”
    ।

    “সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে দেশে খেলাপি ঋণের জনক হিসেবে আখ্যা দিয়ে রেহমান সোবহান বলেন,
    ওই সময় বিশ্বব্যাংকও খেলাপি ঋণ তৈরিতে চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। তাদের পরামর্শেই ওই সময়
    বেসরকারি খাতের উন্নয়নে বিপুল ঋণ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ব্যাংকের ব্যালান্স শিটের দিকে তাকানো হয়নি।
    শিল্প ব্যাংক ও শিল্প ঋণ সংস্থার মাধ্যমে দেশের বেসরকারি খাতে ঋণ দেওয়া হয়েছে। এরপর তাদের খেলাপি
    ঋণ বেড়ে গেলে বিশ্বব্যাংক একটি কথাও বলেনি, যদিও পরবর্তীকালে তারাই খেলাপি ঋণের বিষয়ে সোচ্চার…”

     

    পয়েন্ট দুইঃ
    রেহমান সোবহান কী চেক করেছেন কোন কোন ব্যাঙ্ক এমন ঋণ বিতরণ করেছে যা খেলাপি ঋণ হয়ে গেছিল?

    এর জবাবটা রেহমান সোবহান  নিজেই সম্ভবত অজান্তেই আমাদের জন্য সহজ করে দিয়েছেন।

    ১। সেকালের খেলাপি ঋণ যে ব্যাংকের সে ব্যাংকের কার আমানতের অর্থ এটা?
    রেহমান সোবহান নিজেই বলেছেন এগুলো – “শিল্প ব্যাংক ও শিল্প ঋণ সংস্থার মাধ্যমে দেশের বেসরকারি খাতে ঋণ দেওয়া হয়েছে” -সেই ঋণ।  এখন শিল্প ব্যাংক ও শিল্প ঋণ সংস্থার যে ঋণ দিয়েছে খেলাপি হয়ে যাবার জন্য সেই অর্থ মানে ব্যাংকের আমানত কাদের অর্থ? কারা এদুই ব্যাংকে অর্থ রেখেছিল, অর্থ আমানত রেখেছিল যাতে তা ঋণ হিসাবে বিতরণ করা যায়? [যে ঋণ পরে অনাদায়ী খেলাপি ঋণ হয়ে যায়?]। এর জবাব হচ্ছে,  এই অর্থ আম পাবলিকের কারও না। সরকারেরও না।
    কারণ শিল্প ব্যাংক ও শিল্প ঋণ সংস্থা – এদুই নামে এরা ব্যাংক হলেও এদের গ্রাহক বা সেবা-ক্রেতারা সাধারণ মানুষ নয়। এদুই ব্যাংকে কোন সাধারণ মানুষ বা স্বল্প আয়ের মানুষের একাউন্ট নাই। তাই এমন আম নাগরিকের কোন অর্থ এখানে রাখা নাই, একাউন্ট খুলে দেয় না। এদুই ব্যাংক কেবল মাত্র যারা সম্ভাব্য উদ্যোক্তা যারা শিল্প- কারখানা গড়বেন তাদেরকে ঋণ দেওয়া ও ফেরত নেওয়ার ব্যাংক। কেবল এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আমানত ও একাউন্ট আছে। এককথায় এগুলো বিশেষায়িত ব্যংক। যাদের সার্ভিস-ক্রেতা জনসাধারণ নয়। কেবল সম্ভাব্য শিল্প উদ্যোক্তারাই এর খাতক। তাও আবার এই খাতকেরা কিন্তু এই ব্যাংকে তাদের নিজের অর্থ আমানত হিসাবে রাখতে আসেন নাই।

    এখন আসেন আরো সরাসরি প্রশ্ন তাহলে,  এই দুই ব্যাংক তাহলে ঋণ দিবার মত অর্থ কোথা থেকে পায়? কারা এই অর্থদাতা?

    এর জবাব হল, এই অর্থই বিশ্বব্যাঙ্ক আমাদের সরকারের মাধ্যমে দুই বিশেষায়িত সরকারী ব্যাংক শিল্প ব্যাংক ও শিল্প ঋণ সংস্থা কে দিয়েছে; যাতে এদুই ব্যাংক সিলেক্টেড উদ্যোক্তা যাদের ঋণের আবেদন অনুমোদিত হয়েছে তাদেরকেই কেবল বিতরণ করবে এমন ব্যাংক। এর মানে সোজা ভাষায় হবু শিল্প উদ্যোক্তাদেরকে বিতরণের জন্য দেয়া এই অর্থ যা, না আমাদের সরকারী অর্থ, না তা কোন সাধারণ মানুষের অর্থ। অর্থাৎ এই ঋণদান শেষে খেলাপি হয়ে গেলেও এর দায়ভার সরকারের নয়।  এসবের প্রকৃত কারণ এটা ছিল বিশ্বব্যাংকের এক এক্সপেরিমেন্ট প্রকল্প এর ঋণ যে বাংলাদেশের শিল্পায়ন ঘটাতে গেলে তাদেরকে কিভাবে আগাতে হবে এজন্য তাদের বুঝাবুঝি শক্ত করার প্রকল্প এটা।

    বিশ্বব্যাংক-কে বুঝাবুঝিঃ
    আইএমএফ-বিশ্বব্যাংককে বুঝাবুঝির সমস্যা, এটা আসলে কী ধরণের প্রতিষ্ঠান, এর কাজ ও ম্যান্ডেট কী এটা নিয়ে কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলদের বুঝা-পড়া সবচেয়ে করুণ!  ব্যাপারটা তাদের কাছে নিপাত যাক বলতে পারার মধ্যে সীমাবদ্ধ!
    তবুও সেকালের বিশ্বব্যাংক কেন এমন করেছিল তা নিয়ে আরো বিস্তারিত বুঝাবুঝি যারা প্রবেশ করতে চান তাদেরকে সত্তর ও আশির দশকের বিশ্বব্যাংককে স্টাডির বিষয় হিসাবে নিতেই হবে। এছাড়া তাদের জন্য আরেক বড়কাজ হবে – ROBERT McNAMARA  (5th President of the World Bank Group, April 1, 1968 – June 30, 1981) – এই ব্যক্তিত্বকে জানতেই হবে; তার  কাজ ও জীবনী প্রক্রিয়াকে।  তবে সাবধান; তাঁর কাজ ন্যয়সম্মত নাকি অন্যায় এসব মুল্যায়ন পাঠকের হাতেই থাক! কিন্তু ফ্যাক্টসগুলো জানা থাকতেই হবে – তাতে বা পাঠকের কাছে নেতি বা ইতিবাচক যাই হোক! এটাই আমার আবেদন থাকবে।
    কেন তাকে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট করা হয়েছিল? তিনি ছিলেন আসলে আমেরিকান ফোর্ড মটোর কোম্পানির প্রেসিডেন্ট। পরে তাঁকে (১৯৬১-৬৮) আমেরিকান সরকারের নিরাপত্তা মন্ত্রী  [Defence Secretary] করা হয়। এরপর তিনি বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট করা হয়েছিলেন। কিন্তু কেন? কী তার এক্সপার্টিজ যা তাঁকে নিয়ে এত চাহিদা তৈরি করেছিল? খুবই সংক্ষিপ্তভাবে একটু উত্তর দেই। তিনি তাঁর বিশেষ ম্যানেজমেন্ট কোয়ালিটি এই সক্ষমতার জন্য বিখ্যাত বলে নিয়োগদাতারা বিশ্বাস করতেন। তাঁর প্রতিরক্ষামন্ত্রীর আমলটাই ছিল আসলে আমেরিকার ভিয়েতনাম যুদ্ধের কাল। আর সবশেষে বিশ্বব্যাংকে তাঁকে আনা হয়েছিল এটা মনে করে যে তাঁর আগমনের আগে বিশ্বব্যাংক এশিয়াতে এসে ভাল কাজ করতে পারছিল না। এর সুরাহা করতে। এশিয়ায় সরকারগুলোর সাথে মিলে কোন দেশের মূল অর্থনীতি খাঁড়া করলেও এর সুবিধা নিয়ে প্রান্তিক অঞ্চলের বহু গরীব লোককে তা স্পর্শ করতে পারছিল না। ঐ দেশের অর্থনীতিক কার্যক্রমে একেবারে প্রান্তিক গরীবদেরকে তাতে সামিল করতে পারছিল না। এটাই এককথায় বিশ্বব্যাংকের কর্মসুচি গ্রামের প্রান্তে ছড়িয়ে পড়তে সমস্যার  মুখোমুখি হচ্ছিল। এটা ভাঙতেই ম্যাকনামারার ম্যানেজমেন্ট বুদ্ধি কাজে আসবে মনে করা হয়েছিল।
    তাই ম্যাকনামারার টেকনিক অনুসরণ করতে গেলে এজন্য অর্থ অপচয় কিছু হলে হোক, এই নীতি নেয়া হয়েছিল। তিনি এক নয়া টার্গেট নেন প্রান্তিক অঞ্চলে যেভাবেই হোক কম সুদের ঋণ সহজলভ্য করতেই হবে – তাতে কিছু চোর বাটপার বিশ্বব্যাংকের অর্থ মেরে দিলেও ক্ষতি নাই। একবার প্রান্তিক অঞ্চলে অর্থ (ঋণ বা মূলধন) এভেলএবল করতে পারলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠি তাদেরকে ক্যাপিটালিজম এর অংশ করে ফেলতে পারলে পরে এরা নিজেরাই এগিয়ে আসবে। তাতে শুরুতে কিছু অর্থ ফেরত আসবে না, মেরে দিবে, অপচয় হবে তা হলেও কেবল শুরুতে এই পথেই আগাতে হবে। বিশ্বব্যাংক তাই অনুসরণ করেছিল। আর এসময়কালের অপচয় নিয়েই আনু মোহম্মদের মত অনেকেই সেকালের বাস্তবতায় লিখেছেন, এর অনেক অভিযোগ আছে। কিন্তু আশির দশকের শেষে বিশেষ করে ৯১ সালের পরে এসব এলোমেলো হয়ে থাকা অব্যবস্থা, ক্ষতি, অপচয় ইত্যাদি সবকিছুকেই কঠোর এক জবাবদীহিতার অধীনে আনা হয়। ইন্টিগ্রইটি [INTEGRITY] বা জবাবদীহিতা শাখাকে মূল আলাদা এক প্যারালাল শাখা তৈরি করা হয় যারা কেবল বিশ্বব্যাংকের বোর্ডের কাছে জবাবদীহিতা করবে। এভাবেই ম্যাকনামারার আমলের ইচ্ছা করে তৈরি কিছু আবর্জনা তখন সব সাফা করা হয়। এই পরীক্ষারই আরেক অংশ ছিল আমাদের শিল্প ব্যাংক ও শিল্প ঋণ সংস্থা মত  প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিল্পঋণ বিতরণ করার উদ্যোগ। যেখানে বিশ্বব্যাংকের অনেক অর্থেরই অপচয় হয়েছিল। এতে বলাই বাহুল্য এই সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট জিয়ার সরকারের নয়, তাই এতে অনাদায়ী খেলাপী ঋণের দায়ও বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের উপর চাপায় নাই। কিন্তু সেকথা উল্লেখ না করে জিয়াকে দায়ী করে এমন বক্তব্য দেয়া ইন্টেলেকুচুয়ালি গ্রহণযোগ্য নয়! সৎ ততপরতা নয়!

    আরেকটা কথা বলে শেষ করব, এটা মার্কসের এক তত্ব যে যেকোন দেশের শিল্পায়নের শুরুতে যে পুঁজির যোগাড় তা এসেছে অন্যের অর্থ আত্মসাত করেই বা সরকারী ট্যাক্সের অর্থ না দিয়ে সেই অর্থ মেরে দিয়ে ইত্যাদি ধরণের সব অসদুপায় ব্যবহার করেই। এটাই মার্কসের আদিম পুঁজি সঞ্চয়ের তত্ব।  ম্যাকনামারার বিশ্বব্যাংক এটাকেই ইতিবাচকভাবে নিয়েছিল। তাই খেলাপি ঋণের নামে অর্থ লোপাট করতে দিয়েছিল।  যেমন একটা একসময়ের বিড়ি ফ্যাক্টরির কথা জানি যে ১৯৯৯ সালের ১০০ কোটি টাকা আবগারি টাক্স মেরে দিয়েছিল যা সরকারের প্রাপ্য ছিল। কিন্তু সে ছিল আসলেই ভাল উদ্যোক্তা। তাই সে মেরে দেওয়া সেই ১০০ কোটি সেকালের বিচারে অনেক টাকা। সেই অর্থ দিয়ে সে ছয়টা নতুন কোম্পানি খুলেছিল যার চাওরটাই ছিল কারখানা আর দুইটা মার্কেটিংয়ের। এবং সবগুলোই এখন খুবই ভাল চলে এখন সে শীর্ষ পর্যায়ের ব্যবসায়ী। ম্যাকনামারা এই পথ ধরার পক্ষপাতি ছিলেন।
    কিন্তু ম্যাকনামারার শেষ জীবন কাটে হতাশায়। শেষ পনেরো বছর তিনি কারো সাথে দেখা করতেন না। কোন সাক্ষাতকারো না। এভাবেই তিনি ২০০৯ সালে মারা যান। কিন্তু কেন তিনি একান্তে চলে গেছিলেন সেটাই জানা জরুরি। তাঁর কোনকিছুই   গ্রহণ করে নিবার কথা আমি বলছি না। তবে তাকে বিস্তারিত জানা আমাদের অনেক কাজে লাগবে বলে আমি মনে করি।

    শেষ কথাটা হল, নিশ্চয় আমি রেহমান সোবহানকে এসব দিক জানাবার বা শিখাবার কেউ নই; আমি তুলনার অনেক ছোট্ট তুচ্ছ। তবে দাবি ও আশা করব অন্তত তিনি এসব জেনে নিয়ে তবেই না মূল্যায়ন করে মন্তব্য করবেন যে দেশে খেলাপি ঋণের জনক জিয়াউর রহমান – কথাটা সত্যি কিনা!! অবশ্যই আমি এবিষয়ে তাঁকে শিখাবার কেউ না, এটা আমার কাজও না। তাঁর প্রতি কোন উদ্ধত্ত দেখানো এটাও আমার জন্য হারাম। তিনি আমাদের কাছে সম্মানিত অবশ্যই! কিন্তু কম বা যথেষ্ট চিন্তা না করে কেউ একটা মন্তব্য বা কথা বলে ফেলবে এটাও আশা করি না!  অগ্রহণযোগ্য!

    ২।  এবার তুলনা করব। বাংলাদেশের এখন যে ঋণ খেলাপির ঘোরতর সমস্যা তা কী শিল্প ব্যাংক ও শিল্প ঋণ সংস্থার এর খেলাপি ঋণের মতন?
    প্রশ্নই আসেনা। পদ্মা ব্যাংকের কথাই যদি ধরি, পদ্ম্যা ব্যাংকের খাতক আর শিল্প ব্যাংকের সেবা খাতক এক নয়। সবচেয়ে বড়কথা আমানতের প্রশ্ন। পদ্মা বা ন্যাশনাল ব্যাংকের আমানত সরাসরি দেশের আম জনতার। আপনার-আমার বাসায় গৃহিকর্মী হেল্পারের কাজ যারা করে এখন গরীব মহিলাদের অর্থ। যারা মাসে দুশ-পাচশ করে টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করে, তাদের কষ্টার্জিত আমানত করা টাকা। আর সে টাকাই ঋণ দিয়ে খেলাপী করা হয়েছে। তাই কোনভাবেই ন্যাশনাল ব্যাংক আর শিল্প ব্যাংকের খেলাপি ঋণ এক বা তুলনীয় উদাহরণ নয়। কারণ, শিল্পব্যাংকের আমানত বিশ্বব্যাংকের দেয়া আর তারা জানে এটা তাদের এক্সপেরিমেন্ট; তাই অর্থ ফেরত নাও আসতে পারে।

    তাহলে এখন প্রশ্ন রেহমান সোবহানের মত এক ব্যক্তিত্ব তিনি ন্যশনাল ব্যাংক ধরণের ক্রাইসিসে পরা ব্যাংকের খেলাপি হওয়া আর শিল্প ব্যাংকের খেলাপি – এদুটাকে এক করে দেখলেন কেন? কীভাবে?  এ যেন “সোবহান” যার যার নামের সাথে আছে তারা সবাই কী একই রকম ব্যবহারের হবেই? তেমনই অনাদায়ী খেলাপি ঋণ মানেই কী এমন সব কেসগুলো একই?  তাহলে  এসব ফারাক বুঝা কী রেহমান সোবহান সাহেব এর জন্য কঠিন কোন কাজ? আমরা বুঝতে অক্ষম!

    একমাত্র পথ হল, ইন্টেলেকচুয়াল সততা বজায় রেখে আমাদের সকলের কাজ-মন্তব্য করা উচিত!

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    [এই লেখা কোন নিউজ নয়, ব্যক্তির নিজস্ব রাজনৈতিক বিশ্লেষণ মাত্র। ফলে পাঠকের এ’লেখা পড়ে কিছুই বহন করা বা মান্য করার বাধ্যবাধকতা নাই। কেবল জানলেন যে এমন একটা মতামত আছে!]

    আপডেটঃ     ০৩ এপ্রিল ২০২৪  সন্ধ্যা ৬ঃ ১৫
    এই আপডেটে মূলত -‘ভ্যালু এডিশন চেইন’ নিয়ে অংশটাই একটু বিস্তার ঘটানো হয়েছে।

     

     

     

  • মোদি-চন্দ্রচূড়ের আদালত কী বাংলাদেশের জন্য ‘মডেল’ প্রশিক্ষক হতে চায়?

    মোদি-চন্দ্রচূড়ের আদালত কী বাংলাদেশের জন্য ‘মডেল’ প্রশিক্ষক হতে চায়?
    গৌতম দাস
    ০৩ মার্চ ২০২৪  সন্ধ্যা ০৬ঃ ৫৭
    https://wp.me/p1sCvy-5sa

     

     

     

    একটা অন্যায়-অপরাধের প্রতিকার বলতে আরেকটা অন্যায় করা নয়! কিন্তু মানুষের জিঘাংসা এতই তীব্র, সে প্রতিহিংসার আগুনে এতই সাইকো যে মানুষ সে পথেই যায়!
    আর নিজের করা বর্তমানের অন্যায়-অপরাধের সাফাই হিসাবে সে আগে তার উপরে ঘটা অন্যায়-অপরাধকে হাজির করে!  তাতে কিছুই মুছে না, দুটাই অন্যায়-ই হয়ে জ্বল জ্বলে থেকে যায়!

    গত সপ্তাহে ২৩-২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট আয়োজিত ঢাকার এক অনুষ্ঠানে ভারতের সুপ্রীম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ধনঞ্জয় যশোবন্ত চন্দ্রচূড়-কে [CJI  D. Y. CHANDRACHUD]  দাওয়াত দিয়ে আনা হয়েছিল। অফিসিয়াল দাওয়াত কার্ডের লেখা অনুসারে ব্যাপারটা ছিল – “The supreme Court of Bangladesh is going to organize an international conference on “South Asian Constitutional Court in The Twenty-First Century: Lessons from Bangladesh and India” on 23 & 24 February 2024. The valedictory scession of the conference will be held on 24 February 2024, at 10:00AM at the Bangabandhu International Conference center (BICC). – এরকম।
    মানে হল এই আন্তর্জাতিক কনফারেন্স আয়োজন করা হয়েছে; যদিও এতে অংশগ্রহণকারী কেবল ভারত ও বাংলাদেশ। আবার বলা হয়েছে, এটা দক্ষিণ এশিয়ার কনষ্টিটিউশনাল কোর্টের অভিজ্ঞতা নিয়ে আলাপ; যেখানে আবার কেবল ভারত আর বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা-পাঠ [lessions] নিয়ে আলোচনা হবে। কিন্তু ঘটনা হল, দক্ষিণ-এশিয়া বলতে কেবল ভারত-বাংলাদেশই বুঝায় না। এভাবে ভারত কখনই তার দক্ষিণ-এশিয়ার ধারণা বাস্তবের সাথে মিলাতে না পারলেও একই কান্ড করে থাকে! আসলে ঘটেছে যেটা ভারতের মিথ্যা আধিপত্যের খপ্পরে পড়েছে বাংলাদেশ! আর সেটা ঢাকতেই এটা “দক্ষিণ-এশিয়ার ব্যাপার” বলে নোংরামি ঢেকে রাখার ভারতের এই অক্ষম প্রচেষ্টা!

     

    অনুষ্ঠানের আরো দৃষ্টিকটু দিকঃ
    ঘটনার আরো সব মারাত্মক দিক আছে। সবচেয়ে দৃষ্টিকটু হল, একটা জুডিশিয়ারি ক্ষমতা তা যেন এক্সিকিউটিভ (বা প্রধানমন্ত্রীর) ক্ষমতার অধীনে আছে ও থাকতে হবে এই অনুমানে দাঁড়িয়ে সবকিছু আয়োজন করা হয়েছে। কোন রাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী বিভাগের অধীনে থাকে না। রাখা যায় না। বিচার বিভাগ জনপ্রশাসন বিভাগের মত নির্বাহি-প্রধানমন্ত্রীর অধীনের কোন প্রতিষ্ঠান নয়, পুলিশ বা সামরিক বিভাগের মতও নয় যে এসব অফিস বা বিভাগের মত বিচার বিভাগও প্রধানমন্ত্রীর অধীনের কোন সরকারি অফিস-প্রতিষ্ঠান নয়। তাহলে এটা আর রিপাবলিক রাষ্ট্র থাকে না! জনগণই ঐ প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতার উতস  তা আর কার্যত থাকে না!
    সেপারেশন অব পাওয়ার” বা বিচার বিভাগকে প্রধানমন্ত্রী (বা রাজার) নির্বাহী ক্ষমতা থেকে বিচ্ছিন্ন বা আলাদা করার কনসেপ্ট এটা ইউরোপে রাজতন্ত্রের আমল থেকেই চালু এক পজিটিভ ধারণা। অর্থাৎ পরবর্তিতে জনগণই সব শাসন ক্ষমতার উতস – যেটাকে ঐ শাসন ক্ষমতার উতস কোন রাজা-বাদশা নয়; তাদের ডায়নেস্টির বংশ-পরম্পরা বা রাজার ছেলে রাজাও আর নয় এমন নয়া এই রিপাবলিক রাষ্ট্র ধারণার মুলকথা চালু হয়েছিল। বলা হয় যা রাজতন্ত্র ব্যবস্থাকে নির্মুল করে ক্ষমতা নিয়েছিল – সেই রিপাবলিক রাষ্ট্র ধারণা আসার আগেই এটা চালু হয়েছিল যে বিচার বিভাগকে রাজার (বা পরে সমতুল্য নির্বাহী প্রধানমন্ত্রীর) ক্ষমতা থেকে  আলাদা বা সেপারেট করতেই হবে। নইলে বিচার করা অর্থহীন। নির্বাহী ক্ষমতার শাসকের মুখ চেয়ে যে রায় দেয়া হয় ওটা বিচার নয়!

    তাই একালে রিপাবলিক নামে এক বাংলাদেশ রাষ্ট্র বা জনগণের শাসনের নামে কিছু একটা চালু আছে আমরা দেখছি  অথচ কিছু লোক মনে করছে যেন বিচার বিভাগও সর্বময় ক্ষমতার প্রধানমন্ত্রীর বাইরে থাকে কী করে?? অধীনেই তো থাকা উচিত! বিএনপি-জামাত জঙ্গীবাদ ঠেকাতে নির্বাহী প্রধানমন্ত্রীর অধীনেই বিচার বিভাগ গড়তে হবে যারা সহি মনে করছেন এটা তাঁরা গড়ে তুললে সেটা প্রধানমন্ত্রীর মুখ চেয়ে বিচার ও রায় দিবার এক বিচার বিভাগই হবে! এর বাইরে কিছু হবার সুযোগ নাই! এমনিতেই যেটা নিয়ে সরকার-বিরোধী যেকোন নাগরিকের ইতোমধ্যেও অভিযোগ করে আসছে। আমাদের বিচার বিভাগকেই ঢেলে সাজাতে হবে বলে মনে করে এমন অভিযোগকারিরা! সেখানে সুপ্রীম কোর্ট আয়োজিত এই কনফারেন্স আসলে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগকেই পুষ্ট করল!

    এই আয়োজনে দৃষ্টিকটু ঘটনার শেষ নাই। যেমন প্রধানমন্ত্রীকে প্রধান অতিথি করে আনা হয়েছে। অথচ ব্যাপারটা মূলত দুদেশের সুপ্রীম কোর্টের এক অনুষ্ঠান মাত্র।  কোর্ট যেকোন নির্বাহী (প্রধানমন্ত্রীর) ক্ষমতা থেকে দুরে বা আলাদা থাকবে সেটাই স্বাভাবিক হত। অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে তারা এনেছে হয়ত সেটা বড় সমস্যা হত না যদি নিজ পরিমিতবোধে প্রেসিডেন্ট – তিনিও কোন রাজনৈতিক বক্তব্য আনছেন না বা এড়িয়ে গেছেন। এরপর থেমে যাওয়া উচিত ছিল।  কারণ, কোন চীফ জাস্টিস প্রধানমন্ত্রীর সাথে এক আসরে হাজির থাকেন না – খুবই সীমিত ও নির্দিষ্ট কিছু আনুষ্ঠানিকতার আসর ছাড়া!  প্রধানমন্ত্রী আর বিচার বিভাগের ক্ষমতা আলাদা – এটা সব জায়গাতেই প্রতিষ্ঠিত রাখতেই হয়!

    পুর্ব-সংস্কার বা প্রিযুডিস [prejudes]
    সেপারেশনের ইস্যুটা ছাড়াও আরেকটা বিরাট বিবেচনা নিয়ে বিচারকদের চলতেই হয়, মানতেই হয়। সেটা হল – পুর্ব-সংস্কার বা প্রিযুডিস [pre-judes]। বিচারক সকালে উঠে বাসায় নাস্তার টেবিলে এক ঘনিষ্ট আত্মীয়,বন্ধু বা হয়ত নিজ স্ত্রীর মুখে মন্তব্য শুনলেন যে আজ এজলাসে যে কেসের শুনানী তিনি শুনবেন সেই আসামীই আসল বা মূল খুনী অপরাধী – এধরণের একটা মন্তব্য!  কিন্তু বিচারকের কাজ হচ্ছে কোন কারও কানকথা না শুনা, কানেই না আসে সে ব্যবস্থা করা! আর এজলাসে বসে কেস ডকুমেন্ট আর শুনানীতে বাদী-বিবাদির উকিল কী তথ্য আর যুক্তি তুলছেন কেবল সেসবের ভিত্তিতে আসামী সম্পর্কে ধারণা তৈরি করা। যেটা একমাত্র এজলাসেই তৈরি হয়, শুনতে শুনতে জন্মায়। কাজের সকালে বাসায় যদি কিছু শুনেছেন আর এতে তার মন যেভাবে প্রভাবিত হয়েছে – এটাই প্রিযুডিস বা পুর্ব-সংস্কার বলা হবে। এককথায় সেটা আসলে এজলাসে-বিচারে বসার আগেই প্রভাবিত হয়ে বিচার করে ফেলার অবস্থায় নিতে পারে বিচারককে!  একজন বিচারকের জন্য প্রিযুডিস তাই সবচেয়ে বড় অপরাধের কাজ মনে করা হয়!
    বিচারকেরা তাই নিজ জীবন সাজান যেন প্রিযুডিস এড়ানো জীবনাচার হয় নিজের! এজন্য সামাজিক-পারিবারিক নিজ জীবন তিনি নিয়ন্ত্রিত করেন। সবার দাওয়াতে তিনি যান না, সব সামাজিক অনুষ্ঠানে তিনি অংশ নেন না; খুবই ঘনিষ্টজনেরটা ছাড়া! যাতে আবার কোন ব্যক্তিগত আলাপে তিনি জেনে বা না-জেনে যেন কারো দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে যান! এভাবে সতর্কতা নিতে হয় তাঁকে! কাজেই প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা-সাক্ষাত সেটা তো অনেক দুরের যেখানে নিজ সব আত্মীয়স্বজন বন্ধুর সাথেও কোন বিচারকের ততটা মেলামিশার কথাই না!

    অথচ এখানে হয়েছে উলটা প্রধানমন্ত্রীকেই এখানে চীফ গেষ্ট করা হয়েছিল। আর প্রধানমন্ত্রী প্রায় ত্রিশ মিনিটের বক্তৃতার পুরাটাই ছিল রাজনৈতিক বক্তব্য! আমাদের বিটিভির রেকর্ডেড এই বক্তৃতা ইউটিউবে পাওয়া যাচ্ছে। এটা পুরা অনুষ্ঠানেরই ভিডিও প্রায় দুই ঘন্টার বেশি; এর মধ্যে ১ঃ৪৪ মানে একঘন্টা ৪৪ মি এর পর থেকে প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা শুরু হয়েছে।
    ওদিকে আরেক বড় অস্বস্তিকর ব্যাপার হল, এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে বলা হয়েছে সমাপনী বক্তা অতিথি [valedictory scession]। এটা সকাল দশটায় শুরু হলেও এটাই সমাপনি অনুষ্ঠান নয়। কারন, ঐদিনই বিকালে তিনটা থেকে ২৪ তারিখেওর আলোচনা অনুষ্ঠান হয়েছে।

    এই অনুষ্ঠানের আয়োজন কেন? মূল উদ্দেশ্য কী?
    এর জবাবটা হাসিনার দিক থেকে দেখে বললে মানে, হাসিনার আধাঘন্টার বক্তৃতার দিকে তাকিয়ে বুঝতে চেষ্টা করলে যা পাওয়া যায় তা হল, এদিনটা আসলে ছিল হাসিনার ১৯৮১ সালে বাংলাদেশে ফিরে আসার পর থেকে এপর্যন্ত তিনি কী কী অর্জন করেছে এর একটা তালিকা হাজির করা আর এসবের জন্য ভারতের সরকার সেনাবাহিনী সহ ভারতের ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান প্রায় সবাইকেই ধন্যবাদ জানানো। এর ভিতরে আবার ভারতের হাসিনাকে ছয় বছর আশ্রয় দেয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে। এর সাথে হাসিনার ভাষায় বিচার বিভাগ যেভাবে   নিয়ন্ত্রিত ভাবে আচরণ করে ১৯৭৫ সালের আগষ্টের পর থেকে বখে গেছিল একে তিনি এবার শুদ্ধ করে নিজের মত করে সাজিয়েছেন – এই অর্জনকে ভারতের সামনে তুলে ধরতে চেয়েই যেন এই কনফারেন্স আয়োজন করা হয়েছে বলে মনে হয়েছে!
    এই হল, হাসিনার আধাঘন্টার বক্তৃতার সারকথা!
    কিন্তু প্রধান বিচারপতি  চন্দ্রচূড় এর কিছু মন্তব্য সব আউলায়ে দিয়েছে।  কিন্তু এরও আগে, চন্দ্রচুড়  আবার এই কনফারেন্স সম্পর্কে হাসিনার নিজ ভাষ্যকে পাশ কাটিয়ে নিজ ভাষ্য খাড়া করেছেন।

    কনফারেন্সের দাওয়াতপত্রের ভাষ্য ভারতেরঃ
    কেন ভারতের পুরা বিচার বিভাগ না হলেও এর মাথা সুপ্রীম কোর্ট এমন কনফারেন্সে যোগ দিল – এনিয়ে তাদের মনেও অস্বস্তি ছিল তা বুঝা যাচ্ছিল। যেমন, হাসিনার সাথে ভারতের বিচার বিভাগের লেনা-দেনা কী? আমাদের বিচার বিভাগের যেকারণে আমাদের নির্বাহী প্রধানমন্ত্রীর সাথে ঘনিষ্ট হওয়া অস্বস্তিকর কারণ তাদেরকে নির্বাহী ক্ষমতা থেকে সেপারেশনে দূরে থাকাটাই একমাত্র স্বাভাবিক! বাকিটা অস্বাভাবিক!! তাহলে ঠিক একই যুক্তিতে ভারতের সুপ্রীম কোর্টও তাই অস্বাভাবিক কিছু করেছে???  তাদেরও কোন লেনা-দেখা থাকতেই পারে না। এছাড়া ভারত ও বাংলাদেশ এদুই সুপ্রীম কোর্ট কী একাদেমিক-টেকনিক্যাল বৈশিষ্ঠের কোন কনফারেন্সে মত্ত হয়েছিল? জবাব হল যে একেবারেই না। কারণ তাহলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাথে তাদের কোন কাজ থাকার কথা না ??

    তাই এই অস্বাভাবিক দিক, এদিকটা সাফাই দিতেই চন্দ্রচুড় এন্ড গং বিচারপতিরা তার সঙ্গি হয়ে এসেছেন – অনুমান করা যায় তারা অনুষ্ঠান সুচির পাতার শুরুতেই ১০-১২ লাইনের কিছু বক্তব্য ঢুকানো দেখে। নিচে তেমনই পাতাটা দেখেন।

    এককথায় বললে এটা ভারতের জুড়িশিয়াল পেশাদারদের কিছু অপ্রয়োজনীয় আতলামী ছাড়া আর কিছুই নয়। তাদের ভারত যেন এশিয়ায় না হলেও দক্ষিণ এশিয়ায় বিচারীয় বিষয়ের বিরাট কুতুব এক অথরিটি!  এমন আগাম অনুমান ধরে নিয়ে তারা কথা বলেছে! যেমন বাক্যের প্রথমেই একটা শব্দ ব্যবহার করেছে পোস্ট-কলোনিয়াল। অনেকে আবার  পোস্ট-কলোনিয়াল শব্দটা কাউকে ব্যবহার করতে দেখলে এটা যেন বক্তার বিরাট এক জ্ঞানের বহরের প্রকাশ ভেবে মাথা নিচা করে সালাম-আনুগত্য জানাতে-বুঝাতে চায়।  অথচ এই ভাষ্যের সারকথা হল, ১৯৪৫ সালের আগের পশ্চিমাবিশ্বের অভিজ্ঞতা পরের কলোনিমুক্ত দেশে যেন আর অত কাজের না। তাই লিখেছে  – where constitutional borrowing has occured in the region rather than from europe & America. -মানে হল  পোস্ট কলোনিয়াল সময়ে ইউরোপ ও আমেরিকার চেয়ে আমাদের এই রিজিয়নে [মানে যার একছত্র নেতা হল ভারত বলে বক্তার ভুয়া অনুমান] আমাদের নিজেদের মধ্যকার অভিজ্ঞতা ধার নেয়া বেশী ঘটেছে। ফলে ভারত হল বাংলাদেশের জুডিশিয়াল বা বিচারীয় জ্ঞানের জগতে এক একছত্র নেতা ওস্তাদ। অতএব মোদি-চন্দ্রচূড় এন্ড গং-দের কথা শুনে বাংলাদেশ তুমি অনুগত হয়ে চল!!!!  আর আমাদের সুপ্রীম কোর্ট ভারতের সুপ্রীম কোর্টকে বড়ভাই মেনে আনুগত্য করুক!  কিন্তু আসলেই কী ভারতের সুপ্রীম কোর্ট এর অর্জন এতই গৌরবেই? আসেন একটু চেক করে দেখি!

    প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা তাঁর বিরুদ্ধে ইলাহাবাদ হাইকোর্টের রায় মানতে রাজি হন নাইঃ 
    ভারত রাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রথম ধাক্কা খেয়েছিল ১৯৭৫ সালে। আর এতে ভারত এরপর থেকে নিজে আর কোন রিপাবলিক রাষ্ট্র বলে নিজেকে দাবি করতে পারে কিনা সেই প্রশ্ন উঠেছিল। কেন?
    গত ১৯৭২ সালের কেন্দ্র-নির্বাচনে ইন্দিরার আসনে তিনি কারচুপি করেছেন আর এভাবেই তিনি এমপি আর শেষে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এমন মামলা করে তার প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী! এই মামলার হাইকোর্টের রায় বের হয় ১৯৭৫ সালে। বিচারক তাকে প্রধানমন্ত্রী পদ ত্যাগ করার সময় দিয়ে সাজা ভোগ করতে রায় দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী এই রায় অমান্য করতে পালটা দেশে জরুরি আইন জারি করে পরিস্থিতি নিজের হাতে এনে নিয়ন্ত্রণে নেন; যাতে সাজা ভোগের প্রসঙ্গ চাপা পড়ে। সারকথা একটা রিপাবলিক রাষ্ট্রে বিচার বিভাগ আর নির্বাহী প্রধানমন্ত্রী – এরা যদি কেউ কাউকে কনষ্টিটিউশনাল বাধ্যবাধ্যকতা মান্য করতে  বা কাজ করতে দিতে না চায় – এটা ছিল সেই কেস। যার সার-অর্থ হল, রাষ্ট্রটা নাই হয়ে গেছে!! ঠিক তাই হয়েছিল ভারতে।  যদিও পরে ইন্দিরা সরকারের পতন ঘটে – নির্বাচনে বিরোধী মোরারজি দেশাই এরা ক্ষমতায় আসে। আমি আর সে  সব ফারদার বিস্তারে যাচ্ছি না এখন।

    [অনেকে ভাবতে পারেন কেবল ভারত রাষ্ট্রই ইন্দিরার হাতে এমন সংকটে পরেছিল। না, একেবারেই সত্য না। শেখ মুজিবের বাংলাদেশ রাষ্ট্রও ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি শেখ মুজিবের হাতেই এমন নাই হয়ে গেছিল। আমার পুরানা  ২০১০ সালের লেখা পড়েন এখানে।]

    কিন্তু এরপর থেকে ভারতের আইন পেশার একাদেমিক, উকিল বা বিচারক কমিউনিটি দুভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। যাদের মধ্যে ডমিনেটিং ভাষ্য হল, বিচার বিভাগের প্রধানমন্ত্রীকে সমীহ করে কম্প্রমাইজে চলা উচিত ছিল! বিচারকদেরও প্রধানমন্ত্রী জিন্দাবাদ বলতে হত!  শহরের এলিটদের বিরুদ্ধে যেভাবে গরীবেরা দাড়াতেই পারে না আগের মানসিকভাবে হেরে গিয়ে থাকে বলে – এটা ছিল অনেকটা সেরকম!
    আর সেই থেকে ভারতে এই “দেশের স্বার্থে” বলে আপোষি জাতিবাদিদের আপোষ ধারাটাই চলে আসছে এখনও। নানান বাঁক পেরিয়ে। এমনকি এখনও এই চন্দ্রচূড়েরা একই কাজ করে চলছেন! মুসলমান নিধন অত্যাচার নিগৃহ বৈষম্য চন্দ্রচুড়েরা দেখতেই পান না!  এমনকি চন্দ্রচূড় ঢাকায় এসেছেন মোদি-হাসিনার রাজনৈতিক আলোচনার ফলশ্রুতিতে। কিন্তু চন্দ্রচুড় কেন এই আলোচনায় অংশ নিবেন? মোদি বা হাসিনার সাথে এই প্যাচ-আপে তিনি কেন অংশ নিবেন? তিনি কী মোদির অধীনে কোন মন্ত্রণালয়ের সচিব?? এর উপর আবার মোদি  যে বাংলাদেশে নিজ কলোনি শাসন – আধিপত্য কায়েম করতে চলেছেন। আর চন্দ্রচূড় “পোষ্ট-কলোনিয়াল” বলে হুঙ্কার তুলে মোদির কলোনিদখলের নৌকায় উঠে বাংলাদেশে এসেছেন!  প্রধানমন্ত্রীকে সমীহ করে কম্প্রমাইজে চলা প্রধান বিচারপতির চন্দ্রচূড়ের তো পরিণতি এমনই হবার কথা; নয় কী!!!

    চন্দ্রচূড় ভাব ধরতে চান কলোনিয়াল পশ্চিমারা খুব খারাপ। একমাত্র তিনিই বীর! তো রিপাবলিক ধারণাটা কোথায় পাইছেন, মহাশয়?  ব্যক্তি-বোধ, নাগরিক, রাষ্ট্র রাজনীতি ইত্যাদি সহ ভারতে রিপাবলিক ধারণা কিভাবে এলো? মোগল আমলে ছিল?? কাজেই বকোয়াজ বন্ধ করেন। ইউরোপের আমাদের মত দেশকে কলোনি করা অন্যায় নিঃসন্দেহে! কিন্তু কলোনিদখলদারদের দেশে শাসন ব্যবস্থা চালু ছিল বলে এই হিসাবে রিপাবলিক – জনগণ ক্ষমতার উতস – রাজনীতি নাগরিক ইত্যাদি সব ধারণাওগুলো আমরা বৃটিশদের থেকেই পেয়েছি। এটা পজিটিভ পাওনা! আর বৃটিশেরাও আবার সে ধারণার গোড়াটা পেয়েছে রোমান-দের কাছে থেকে। এটা শুরুতে প্রাচীন রোম থেকে পরে হোলি রোমান এম্পায়ার সমাজ থেকে!
    এখনও আমাদের হাইকোর্টের বিচারকেরা রায় লেখার সময় দুচারটা এক্সিওম [AXIOM] বা স্বতসিদ্ধ সত্য বলে কিছু বাণীর উল্লেখ করতে খুবই ভালবাসেন। এর মাহাত্ম হল, তিনি যে রোমান এক্সিওমগুলো মুখস্ত করেছেন সেটাই যাহির করে দেখানো! এখন চন্দ্রচূড়েরা কী বৃটিশ-রোমানদেরকে কলোনি শাসক বলে তুচ্ছ বা অস্বীকার করবেন? পশ্চিমা কলোনি শাসকদের গালি দিয়ে আবার, এখন ভারতকেই  কলোনিদখলদার (বাংলাদেশকে দখল) করে গড়তে চাইবেন? মোদির হাতধরে বাংলাদেশে আসবেন???

    বৃটিশদের কাছ থেকে রাজা রামমোহন রায় বৃটিশ রিপাবলিক ধারণাটা প্রথম বুঝেছিলেন। তিনিই প্রথম এটা বুঝে তা কাজে লাগাতে গেছিলেন। কিন্তু বুঝেছিলেন উলটা। ভেবেছিলেন, রিপাবলিক জাতি-রাষ্ট্র মানে একটা ধর্মীয়-জাতি ধারণা। সেটা অর্জন করতেই তিনি অসংখ্য জাতে বিভক্ত হিন্দুদেরকে সহ সকলেই আগে এক নয়া এক ব্রাহ্ম ধর্মে নিতেচেয়েছিলেন। আর এরই শেষ আজ পরিণতি বিজেপি-আরএসএসের হিন্দুত্ববাদ! 
    একটু পড়ালেখা করেন বুঝা কঠিন না। কিন্তু হুদাই পশ্চিমাবিরোধী সাইজেন না! এর পরিণতিতেই তো বাংলাদেশকেই একালে ভারতের কোলোনি সম্পর্কে বেধে ফেলার কাজে মোদির সঙ্গি হয়ে এসেছেন!

    চন্দ্রচুড়ের হাত ধুয়ে ফেলার কোশেশঃ
    কিন্তু এসব সত্বেও চন্দ্রচুড় নিজের হাত ধুয়ে রাখতে চেয়েছেন। হাসিনার উপস্থিতিতে ঐ অনুষ্ঠানের সবটা বিটিভি সংগ্রহ ও রেকর্ডিং করেছে। কিন্তু ভারতের ইন্ডিয়া টুডে আবার সেখান থেকে নিয়ে নিজেই ইউটিউব ভিডিও করে ছেড়েছে, বিশেষ করে চন্দ্রচূড়ের আধাঘন্টা কথা। কিন্তু তাতেই এরা সনুষ্ট হয় নাই। এ’বাদেও ঐ আধাঘন্টা থেকে আবার বিশেষ আড়াই মিনিটের একটা বক্যব্যের ভিডিও-ও তারা ছেড়েছে। মনে রাখতে হবে ইন্ডিয়া টুডে মোদি সরকারেরই বা র-এর আরেক হাতিয়ার। যখন বাংলাদেশে বিরোধী বা বাংলাদেশকে টার্গেট করে কিছু তাদের প্রপাগান্ডা করার থাকে তখন তারা এই মিডিয়া ব্যবহার করে থাকে। সেই আড়াই মিনিটের লিঙ্ক এখানে। চন্দ্রচূড়ের এই অংশের বয়ানটুকুকে  তাই এন্ডিয়া টুডে নিচে লিখিত টেলপ দিয়ে এক মলিয়া পড়ে শুনিয়ে দিয়েছেন  যাতে কেউ মোদির দোষে অসৎ কাজের সঙ্গী বলে চন্দ্রচুড়কে অভিযুক্ত না করেন। চন্দ্রচুড় খারাপ ও অনিশ্চিত সময়ের কথা বলছেন যে এসব সময়ে সুপ্রীম কোর্ট আর নির্বাচন কমিশনের মত প্রতিষ্ঠানগুলো কনষ্টিটিউশনের উপর মানুষের আস্থা-বিশ্বাস ধরে রাখার পক্ষে এগিয়ে আসে। এসব প্রতিষ্ঠানের ঠিকমত সচল থাকাটা সেজন্য গুরুত্বপুর্ন।

    In a time of uncertainty and ambiguity, the pillar of democracy are put to the test. CJ DYC speaking at the south asian constitutional court conference in Bangladesh emphasis the crucial role of institution like supreme court and election commission in upholding the trust of the people in the constitution.
    Speaking at the conference, CJ DYC said, the constitution is not like the income tax act. The legitimacy of our Governance institutions hinges on their functionality.
    He stressed that the confidence of the people in the constitution solidify when these institutions rise to the occasion.

    সারকথায় তিনি বলছেন  সুপ্রীম কোর্ট আর নির্বাচন কমিশনের সচল ও কর্মক্ষম থাকাটা গুরুত্বপুর্ণ। মানে তিনি রেকর্ড রাখতে চান যে এদুটা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব তিনি আমাদের বুঝাইছিলেন! কিন্তু বাংলাদেশের বেলায় গত পনেরো বছরে এটা হাসিনা সরকারের অধীনে একটা প্রতিষ্ঠানেরও এমন যোগ্য হয় নাই এটা কে না জানে! আর নির্বাচন কমিশন??? নিশ্চয় এবার ৭ জানুয়ারী ভোট দিয়ে জনগণ খুবই খুশি!!!! কারণ, হাসিনা বলেছেন স্বাধীন বাংলাদেশে এটাই নাকি বেস্ট নির্বাচন!  অর্থাৎ চন্দ্রচুড় হুদাই কীছু বকোয়াজ করে গেলেন আরকি!
    অবশ্য ভারতের অনেকের মনে হতে পারে সব হল আমরা মুসলমানদের স্মস্যা। আমরা পশ্চাদপদ আমরা তাই কিছু পারি না!।    তাহলে আচ্ছা ভারতের সুপ্রীম কোর্ট কী খুব একটিভ আর নির্বাচন কমিশন খুবই সুনামের?
    একই কথা বার বার লেখার চেয়ে আমার নিজেরই এক পুরানা লিখার লিঙ্ক এখানে, কী ভয়াবহ অবস্থা দেখেন এখানে। লেখাটার শিরোনাম ছিল ভারত-রাষ্ট্রের ভেঙ্গে পড়া ও রবি কান্তের হতাশা । চন্দ্রচুড়ের নিজের সুপ্রীম কোর্টের অবস্থা বুঝবার জন্য। এবং এই আবেদনে নির্বাচন কমিশন ভাল হয়ে যায় নাই।
     আর ভারতের খোদ নির্বাচন কমিশন??? সে আরেক ভয়াবহ অবস্থা!!!  ভারতের নির্বাচন কমিশন তিন সদস্যের; প্রধান ছাড়া আরো দুজন কমিশনার। কম কথায় বললে মামলা টা ২০১৯ সালে ভাএরতের নির্বাচনের। মোদিসহ আরো অনেক প্রার্থীই নির্বাচনি আইন ভেঙ্গে সাজা পেয়েছেন বা  ফাইন দিয়েছেন। কিন্তু একমাত্র নরেন্দ্র মোদি ছাড়া। তার নামে যৎগুলো অভিযোগ দায়ের হয়েছিল কমিশন তার একটাতেও কোনই পদক্ষেপ নিতেই যান নাই। এনিয়ে কমিশন প্রধান এক সদস্যকে পাশে পেয়ে দু-এক ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখিয়ে কোন একশনে যান নাই। আর তৃতীয়জন অশোক লাভাসা তার নাম – তিনি এরপর সরকারি নিগ্রহের শিকার হতে থাকেন – আর তা উনার স্ত্রীসহ যিনি উচ্চপদস্ত ব্যাংকার। তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতিটা সিদ্ধান্তে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে রাখা ব্যক্তি ছিলেন। কয়েকবছর পরে আর চাপ সহ্য করতে না পেরে অশোক লাভাসা আপোষ করতে বাধ্য হন। রফাটা হল এখন তিনি নির্বাচন কমিশন ছেড়ে দিয়েছেন; [ADB] এডিবিতে ভারত সরকার পক্ষের আমলা প্রতিনিধি হিসাবে আছেন!

    অর্থাৎ সুপ্রীম কোর্ট আর নির্বাচন কমিশনের সচল ও কর্মক্ষম থাকাটা গুরুত্বপুর্ণ বলে বিরাট জ্ঞানের কথা ছাড়লেও প্রধান বিচারপতি হিসাবে তিনি সরাসরি এর জন্য দায়ী!  অথচ বাংলাদেশে এসে জ্ঞানের কথা ছাড়ছেন???

    আমি এখনও পরিস্কার না বুঝি নাই, আমাদের প্রধানমন্ত্রী ঠিক কী চান? কেন চন্দ্রচুড় ঢাকায় এসেছিলেন?  আমাদের কাছে এক প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সিনহা তার ঘটনাবলী এখনও জলজ্যান্ত আছে। তিনি গুজরাটে গেছিলেন এক বেসরকারি ল কলেজের অডিটরিয়াম উদ্বোধন – এই আমন্ত্রণে। গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হাসিনা বাংলাদেশের হিন্দুদের জন্য কত কী ভাল করেছেন এর ফিরিস্তি দিয়ে বক্তৃতা করে গেছিলেন। ভুলে গেছিলেন তিনি বিচার বিভাগের লোক যা প্রধানমন্ত্রীর অধীনে নয়। আর তিনি কোন সচিবও নন। প্রধানমন্ত্রীর জন্য এসব জয়গাথা ছড়ানো তার কাজ দায়ীত্বের সাথে অসামন্বস্যপুর্ণ!  কিন্তু তিনি ফাঁদে পড়লেন যে তিনি কার কথা কে বেশী গুরুত্ব দিবেন! হিন্দু মনে ভাবলেন কাকা-বাবু এখানে প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে প্রেফারেন্সিয়াল! ফলাফল আমরা সবাই জানি! এর মানে  আমাদের সব অভিজ্ঞতাই বলছে এসবের একটাও কাজ করে নাই! এরপরেও ঠিক কী জানতে বাকী আছে???? আমার বুঝাবুঝি-নাগালের বাইরে!

    একটা গুরুত্বপুর্ণ বিষয় “আরবিট্রেশন” – এটা ভুলে গেছিলাম, এখন যোগ করে দিচ্ছিঃ
    ধনঞ্জয় চন্দ্রচুড় তাঁর বক্তৃতায় বিচার ব্যবস্থার ভিতরেই সালিশ ব্যবস্থাও [arbitration] যোগ করার প্রস্তাব করেছিলেন।  সালিশি মানে বুঝতে হবে – যেখানে কেউ অপরাধী বলে রায় দেয়া হয় না, কাউকে সাজা দেয়া হয় না। এটা এক আপোষ-মীমাংসার পথ। ফলে স্বভাবতই কোন ক্রিমিনাল কেসে এর ব্যবহার করা যায় না। কিন্তু চন্দ্রচুড় এই সালিশ-ব্যবস্থার কথাও আসলে বলেনই নাই। তাহলে?
     
    তিনি আসলে  মিন করেছেন – মানে আরবিট্রেশনের কথা বলে এই আড়ালে (হিন্দুত্ববাদী) সরকারের চাওয়ার পক্ষে রায় দেয়া। এর ইঙ্গিত দিয়েছেন। সেটাই আমরা এখন নিচে দেখব।
    বাবরি মসজিদ ধবংস করা হয়েছিল ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর। যদিও মানুষে নানানভাবে এঘটনাকে ব্যাখ্যা করে কেবল নিজের পক্ষে সাফাই টেনে থাকে। আর আমার ধারণা হল এটা ছিল মুসলমানবিরোধী ঘৃণা সাজিয়ে  সেই উস্কানিতে আরএসএস-বিজেপি যে ভোটের রাজনীতি ক্ষমতাদখল ব্যবস্থা আনতে যাচ্ছে এরই আগমনী সিগনাল- বার্তা ছিল।  তাদের হিসাবে এটা ছিল এভাবে হিন্দুত্ববাদী ক্ষমতা আনবার জন্য পারফেক্ট টাইমিং; হয়েছিলোও তাই। এরই পরিণতি-প্রমাণ হল গত দশবছরের নরেন্দ্র মোদীর শাসন! ও বিচারকদের আছে তাঁর নানান চাওয়া – এর জন্য চাপ সৃষ্টি! আর এর পুর্ণতা দিবার পিছনের অন্যতম এক বিচারক হলেন ভারতের বর্তমান প্রধান বিচারপতি ধনঞ্জয় যশোবন্ত চন্দ্রচূড়! তারঁ বাবা যশোবন্ত বিষ্ণু চন্দ্রচূড় [YBC]ও এর আগে প্রধান বিচারপতি ছিলেন। ধনঞ্জয় [DYC] হার্ভার্ড ল স্কুল গ্রাজুয়েট ও পিএইচডি হোল্ডার।  কিন্তু হায়!
    ১৯৯২ সালের মসজিদ ধবংস মামলায়  সুপ্রীম কোর্টের ফাইনাল রায় ঘোষণা হয় ২০১৯ সালে।  ধনঞ্জয় সেখানে রায় দাতা পাঁচ  বিচারকের একজন বিচারক! যেখানে বিচারকদের রায়ের সারকথা হল, মসজিদের স্থানে মন্দির করতে দেয়া হোক আর মসজিদের জন্য সরকার আলাদা জায়গা দেক! এই হল, ধনঞ্জয় চন্দ্রচূড়দের বিচারের রায়ের নামে সরকারের দালালি আর ইঙ্গিত দেয়া এটাই তাদের সালিশি ব্যবস্থা????
    তার মানে ধনঞ্জয় চন্দ্রচূড় কী আমাদের বিচার বিভাগকে সালিশের চর্চার কথা বলে  বিভিন্ন মামলায় সরকারের পক্ষে রায় দিবার কথা বলে গেলেন? মনে রাখতে হবে, প্রধানমন্ত্রীর চাওয়ার পক্ষেই বিচার বিভাগকে থাকতে হবে রায় দিতে হবে – এই অভ্যাস সেই যে ১৯৭৫ সাল থেকে ইন্দিরার হাতে শুরু হয়েছিল ভারতের বিচার বিভাগ এথেকে বের হতে পারে নাই। বরং এই চামচামির ধারা বজায় রেখে নিজের আখের গুছানো বিচারক প্রধান বিচারক হওয়াটাই ভারতের বিচার বিভাগের অনুসৃত নীতি হয়ে গেছে!

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    [এই লেখা কোন নিউজ নয়, ব্যক্তির নিজস্ব রাজনৈতিক বিশ্লেষণ মাত্র। ফলে পাঠকের এ’লেখা পড়ে কিছুই বহন করা বা মান্য করার বাধ্যবাধকতা নাই। কেবল জানলেন যে এমন একটা মতামত আছে!]

    আপডেটঃ ০৩ মার্চ ২০২৪ ০৭ঃ ১৯   সন্ধ্যা
    আপডেটঃ ০৪ মার্চ ২০২৪ ০৮ঃ ১০   রাত

     

     

     

     

     

  • “ডোনাল্ড ল্যু ফের…” কোথাও আসেন নাই; আমাদেরকে ভারতের কোলে তুলে দিতে চাইছেন

    “ডোনাল্ড ল্যু ফের…” কোথাও আসেন নাই;
    আমাদেরকে ভারতের কোলে তুলে দিতে চাইছেন

    গৌতম দাস
    ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ সন্ধ্যা ১৯ঃ ৫৮
    https://wp.me/p1sCvy-5pM

    The Indo-Pacific Strategy in Action: Commemorating the Second Anniversary

     

    আপনি যদি হন কোন পাগলা-প্রেমিক যে প্রেমিকা মেয়েটার  মন পাবার জন্য নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে বসে আছেন আর তাতে আবার আপনিই নিজ চোখে যদি দেখতে পান সেই মেয়েটাই আসলে আপনাকে না আরেক পুরুষের মন পাবার জন্য তাঁকে চিঠি মানে আকুল হয়ে প্রেমপত্র লিখছে – তাহলে এর মানে কী বুঝবেন??? এর অর্থ হল আপনি শুধু বেকুব পাগলা না, গাধাও বটে!!! সে “আকুল প্রেমপত্র” খানা আপনার হাতে আসার পরেও যদি আপনি নিজের সাথে প্রতারণা করেন, নিজেকে মিথ্যা প্রবোধ দিতে থাকেন যে আমেরিকার বাইডেন-ল্যু আবার আসবে, এই এলো বলে ইত্যাদি তবে আর আপনাকে আপনারই গড়া মিথ্যা মায়ার জগত ভেঙ্গে বাস্তবের জগতে আপনাকে কেউ আনতে পারবে?
    একারণেই “ডোনাল্ড ল্যু আবার…… ” – এটুকু সংবাদের শিরোনাম শুনলেই বাংলাদেশের বিরোধী-মন ফেসবুকার-সহ সকলে হুটোপটি শুরু করে দিচ্ছে! খুবই বিপদজনক লক্ষণ এটা সন্দেহ নাই!!

    মানুষ জন্মানো শিশু অবস্থায় মায়ের পেট থেকে বাইরের দুনিয়ায় একবার চলে আসা মানে, যেটাকে আমরা জন্ম নেওয়া বলি তা, একবারেরই ঘটনা। একবার জন্ম নেয়া শিশু পরে আবার সে মায়ের গর্ভে ফিরে যেতে পারে না। কোন সুযোগ নাই। আর ফিরা যায় না এমন একমুখিতা বা irreversible ঘটনা এটা! এছাড়া  মায়ের গর্ভেরও সেই পুর্ব-পরিবেশ দশা পরিস্থিতিও আর থাকে না যে সেখানে ফিরে গিয়ে শিশু চাইলেই আবার আশ্রয়-বসবাস করতে পারে! কিন্তু তবু মানুষের মধ্যে কল্পনা থাকে। ফ্যান্টাসি করে মানুষ, মানে কল্পনায় এমন বসবাস করতে চায় মানুষ! আর সেভাবে  চলে যেতে চায়; বুঝতে চায় সে অনুভুতি কেমন, ইত্যাদি। যদিও মানুষ একেবারে পরিস্কারই জানে – মানুষ জানে যে এটা একেবারেই অবাস্তবতা; তবু ফ্যান্টাসিতে করতে চায়! তাই সেখান থেকেই একটা কথ্য-ভাষ্য দেখা যায় “মায়ের গর্ভে ফিরে যাবার মতই অসম্ভব”! কোন একটা ব্যাপার একেবারেই অসম্ভব বুঝাতে তাই অনেকে বলে জন্ম নেওয়া বাচ্চার মায়ের গর্ভে ফিরে যাবার মতই অসম্ভব!

    আবার ইংরাজিতে এমনই আরেকটা বাগধারা শব্দ আছে – ব্যাক টু দা প্যাভেলিয়ন! কথাটা ক্রিকেট খেলায় বেশী ব্যবহৃত হয়।  মানে ব্যাটসম্যান খেলতে নেমে আউট হয়ে যাবার পর ক্রিকেট ফিল্ডের বাইরে চলে আসতে ও নিজ শিবিরে আশ্রয় নিতেই হয়।  আর সারকথায় এর অর্থ হল – “আপনি আউট, আপনি ব্যর্থ তাই আপনার স্থান এখন বাইরে”!!! অথবা এভাবটা বুঝাতে চায় যে – আপনি ব্যর্থ এখন তাই আপনি যেখান থেকে এসেছিলেন সেই প্যাভিলিয়া্নে বা মাঠের বাইরে ফিরে চলে যান। এই অর্থে ব্যাক টু প্যাভেলিয়ান মানে আপনি হেরে গেছেন কথাটাই আসলে একটু সুন্দর করে বলা!

    বাইডেন ব্যাক টু দা প্যাভেলিয়ন!
    হা ঠিকই ধরেছেন কথাগুলো হচ্ছে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে নিয়ে!  বাইডেন ব্যাক টু দা প্যাভেলিয়ন!! মানে বাইডেন, “তুমি হেরে গেছো তাই তুমি এখন মাঠের বাইরে যাও”!!!
    তবে কথাটা আমি বলি নাই! যারা বাইডেনের পরাজয় হয়ে গেছে বুঝে তা এখন আবার তা ঢাকতেও শুরু করেছে অথচ পরাজয় পরবর্তি বাইডেনের সকল ততপরতাই বলে দিচ্ছে যে তিনি হেরে গেছেন!  এমনিতেই বাংলাদেশিদের জন্য বাইডেন যে পরাজিত হয়েছেন তা বুঝে ফেলার ক্ষেত্রে আমরা  সবার চেয়ে একটু আগিয়ে আছি বলতেই হয়। যেমন, বাইডেনের আমেরিকাই দাবি করে জানিয়েছে যে বাংলাদেশে কোন “ফেয়ার ইলেকশন” ঘটে নাই। আর আমরা দেখতেছি  কথিত এই নির্বাচনের পরে হাসিনা-ই আবারও সরকারে আছেন, নতুন করে বসেছেন। তাই ফেয়ার ইলেকশন না হওয়ার কথা তো আর অন্তত ঢাকার কাউকেই বুঝায় বলার কিছু নাই। যার আরেক অর্থ হল, বাইডেনের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার (যেটা নাকি বাইডেনের পররাষ্ট্রনীতির মুখ্য বৈশিষ্ট ও নীতি-পলিসি বলে দাবি করা হয়েছিল তা) এছাড়া এর সাথে বাইডেনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও ভিসা নিষেধাজ্ঞা বিষয়ক যেসব পলিসি ছিল সেসব এখন ভাগাড়ে গেছে,  গোল্লায় গেছে, অকেজো হয়ে কোথায় হারিয়ে গেছে। এটা বাংলাদেশিরা নিজ শরীরি অনুভবেই টের পেয়েছে!

    কিন্তু এঘটনাটা বাইডেন নিজে বা তাঁর অন্তত মন্ত্রী সভাসদ এরা কীভাবে দেখছে? তারা কী এটা খোলাখুলি স্বীকার করেছে?  না করে নাই, করছে না।  কারণ তা করলে এরপর সম্ভবত বাইডেনকেই প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ছেড়ে ভাইস প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতা দিয়ে চলে যেতে হত; এছাড়া সেক্ষেত্রে, শাসনের নৈতিক শক্তি হারানো কোন ক্ষমতা মানে সে তো পরাজিত ক্ষমতাই! তার আর কিছুই অবশিষ্ট  থাকে না বলে স্বীকারের প্রসঙ্গ উঠতে পারছে না! তাহলে?

    যদি মনে রাখি তবে এসবেরই ঘটনা-আলামত শুরু হয়েছিল বলতে পারি –  গত বড়দিন (২৫ ডিসেম্বর ২০২৩) থেকে যখন, পিটার হাস এই বড়দিন এবার পালন করেছিলেন নয়াদিল্লিতে বসে। সেই থেকে আমাদের কাছে আমেরিকার পলায়নের সন্দেহ গভীরে বাড়ছিল কিন্তু একেবারে সুনির্দিষ্ট করে কিছু জানা বা বলা যাচ্ছিল না!  এরপর ৭ জানুয়ারির নির্বাচন হতে দেওয়ার “স্বাভাবিকতা” দেখে এরপর থেকে পরে ঘোষিত ফলাফল আর একেবারে ৪ ফেব্রুয়ারি, বাইডেনের লেখা শেখ হাসিনাকে চিঠি পর্যন্ত আরো সব আলামত ক্রমশ সব প্রকাশিত হচ্ছিল। এরপরেই শুরু হয়েছিল বাইডেনের ইন্দো-প্যাসেফিক স্ট্রাটেজি – একে এক সফল কার্যক্রম বলে প্রচার যা শুরু হয়েছিল ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে যেটা শেষে ১৫ ফেব্রুয়ারিতে ডোনাল্ড ল্যু এর ইন্দো-প্যাসেফিক স্ট্রাটেজির দুবছর কথিত সফল সমাপ্তি উতযাপন দেখলাম আমরা।  আসলে এক আমেরিকান থিঙ্কট্যাঙ্ক হল ” ইউএস ইন্সটিটিউট অফ পিস” মানে, USIP [U.S. Institute of Peace], গত ১৫ ফেব্রুয়ারি এদিন আইপিএস এর দুবছর পুর্তিতে সফলতা উতযাপনে ডোনাল্ড ল্যু কে তারা  আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। আর ঐ সভাতেই ল্যু এর দেয়া বক্তৃতার এক-দুইটা বাক্য মাত্র ছিল বাংলাদেশকে নিয়ে। আর তাতেই বাংলাদেশের মিডিয়াগুলো ঝড় বইয়ে ফেলেছিল। আবার যদিও সেখানে ল্যু বার্মা বলতে ঠিক সেখানে যে বর্তমান সশস্ত্র সংঘাত চলছে এর কথা তুলেন নাই বা বলেন নাই। সাধারণভাবে কথা বলেছিলেন। তিনি ২০১৭ সাল থেকে রোহিঙ্গা সমস্যর দায় বাংলাদেশ বইছে তা নিয়ে তিনি কথা বলেছিলেন।   মজার কথা হল সে অনুষ্ঠান ১৫ ফেব্রুয়ারি হলেও বাংলাদেশে এর প্রতিক্রিয়া হয় ১৮ ফেব্রুয়ারিতে। আর বাংলাদেশ এই শব্দ যোগ করে দিয়ে বলা পুরা কথা থেকে কেবল  ০১ঃ৪৬ মিনিটের বক্তব্যটুকুর ভিডিও এনেছে চ্যানেল ২৪ যা দেখা যাবে এখানে।

    আর যারা ঐ অনুষ্ঠানের পুরা ১ ঘন্টা ৪৬ মিনিটের রেকর্ডিং-টাই পেতে চান তা পাবেন এখানে।  তবে মনে রাখবেন, এর রেকর্ডিং চালুর আবার প্রথম ১৬ মিনিট পরে অনুষ্ঠানটা শুরু হয়েছিল তাই প্রথম ঐ ১৬ মিনিট পেরিয়ে বা বাদ দিয়ে শুরু করতে পারেন। আর শুরুর আবার ২৭ঃ৩৫ মিনিটে গিয়ে ল্যু এর প্রথম বক্তব্য শুরু হয়েছে। কিন্তু দুঃখের কথা এই বক্তৃতায় ল্যু বাংলাদেশ নিয়ে কিছুই বলেন নাই – শব্দটাও উচ্চারণ করেন নাই। এই অংশে তাঁর পুরা বক্তব্যটার প্রসঙ্গ হল কেবল শ্রীলঙ্কা। পরে সেকেন্ড রাউন্ডে সবার বক্তব্য শুরু হলে ল্যু আবার বলার সুযোগ নেন ৫৩ঃ ৫৪ মিনিটে।  আর তখনই তিনি কেবল দেড় মিনিটের বক্তব্যে বাংলাদেশ শব্দ উচ্চারণ করেছিলেন আর সেটাই চ্যানেল২৪ রেকর্ড ক্লিপ এনেছে।

    একটা সোজা কথায় সে প্রশ্নটা করা যাকঃ
    ডোনাল্ড ল্যু নিজের আইপিএস উতযাপন বক্তৃতায় ছোট্ট করে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ এনেছেন। তিনি বলেছেন বার্মা বা রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু ফেরার প্রসঙ্গটা দীর্ঘায়িক হতে পারে; জটিলতা বাড়তেও পারে। তাই বাংলাদেশ আর ভারতকে নাকি সতর্ক থাকতে হবে! কিন্তু কী আশ্চর্য বাইডেন-ল্যু এর বার্মা এক্ট বলে কী জানি একটা ছিল না? যেটা নাকি আমাদের রক্ষকবচ? ল্যু-রা এই বার্মা এক্ট দিয়েই নাকি আমাদেরকে রক্ষা করবেন??? এটাই তো দয়াময়ী বাইডেন-ল্যু এর আশ্বাস বাক্য ছিল না??? তো সেটা এখন কোথায় গেল?? এর তো কোনই হদিসও নাই!!!! আর উলটা ল্যু আমাদেরকে নিজ নিজেই নিজের আত্মরক্ষার কানপড়া দিচ্ছেন কেন??? আমাদের রক্ষাকর্তা হবার সাধ-আল্লাদ ছিল যার সেই আমেরিকা – আহা রে আমেরিকা – আমাদের ত্রাতা আমেরিকা তুমি কোথায় গেলে তাহলে?  

    তাই এবারের আবার ল্যু এর প্রসঙ্গ –  এটা অবশ্যই আমাদের মিডিয়ার সৃষ্টি হৈ চৈ! মানে একটা উচ্ছ্বাস বা হাইপ তোলা যেন পাঠক হৈ চৈ শুরু হয়ে এসব মিডিয়ার হিট বা TRP বাড়ে বা দর্শক আছড়ে পরে তাদের নিউজে – এটা সেধরণের এক নিউজ রিপোর্ট ছিল।
    যেমন মানবজমিনেরটা দেখা যাক – ওর শিরোনাম হল  ডনাল্ড লু ফের দৃশ্যপটে। এই শিরোনামটাই উস্কানিমূলক!  কারণ, বিগত দুবছর বাইডেনের আমেরিকা যেভাবে বাংলাদেশের বিরোধী রাজনীতির পক্ষে, ওর পিছনে দাঁড়িয়ে নিজ নানান পদক্ষেপ বা ঘোষণায় আন্দোলনকে সাহস দিয়ে গেলেও গত সেপ্টেম্বর ২০২৩ থেকে এরাই আবার মাঠ ছেড়ে চলে গেছিল। তবু বিরোধীদলগুলো এখনও আমেরিকান সমর্থন আবার আসবে, আমেরিকা আবার এই এলো বলে ইত্যাদি অনুমান ছড়িয়ে রেখে চলছেই – কিছুই গুটায়ে ফেলে নাই – তাতে করে আম-জনতার মনে একটা গভীর কিন্তু ভুল আশা এখনো জিইয়ে আছেই যে আমেরিকা আবার আসবেই……! !

    অথচ এই বাংলাদেশের বেলাতেই বাইডেন ব্যাক টু দা প্যাভেলিয়ন! কথার আসল অর্থ হল এবার বাইডেন-ল্যু আবার বাংলাদেশকে ভারতের হাতে তুলে দিতে এসেছে! গত ২০০৮ সাল মানে গত ২০০৭ সালে বাংলাদেশে ১/১১ এর ক্ষমতাদখলের পরের বছর যেভাবে আমেরিকা বাংলাদেশকে ভারতের হাতে তুলে দিয়েছিল যেই দগদগে ক্ষত আমাদের ভুলবার নয় – আর যা পরে ২০১৭ সাল নাগাদ ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে তিনি আমেরিকাকে এখন থেকে প্রত্যাহার করে নিলেও কার্যত হাসিনা সরকারের ভারত-নির্ভরতা ও ভারতকে কোলে ধরে রাখার চেষ্টা থেকেই গিয়েছিল। কারণ, বাংলাদেশ বা ভারতে দুদেশেই পুরানা ক্ষমতাসীন সরকারেরাই থেকে গেছিল বলে আমেরিকান প্রত্যাহারের কোনকিছুই প্রকাশ করতে হয় নাই বা প্রকাশ্যে দেখাতে বাধ্য হয় নাই। এছাড়া নানান উসিলায় প্রায়ই নয়া আমেরিকান চাপ আসছিলই! তাই হাসিনা ততই ভারতকে চেপে ধরে রেখে চলছিলেন যা রুটিন ওয়ার্ক  এর মত ডাল-ভাত হয়ে গেছিল!

    আবার এখন বাইডেন-ল্যু এখন ব্যাক টু দা প্যাভেলিয়ন! হয়ে গেলেও তাদের ইন্দো-প্যাসেফিক স্ট্রাটেজি [আইপিএস] একেবারেই অর্থহীন অকেজো আর নুন্যতম ফল দেখাতে পারছে না অথচ সামনে্র নভেম্বর ২০২৪ বাইডেনকে আমেরিকান  নির্বাচনে নিজ জনগণের মুখোমুখি হতে হবে, তাঁর চলতি সরকারের সাফল্য কী এনিয়ে কথা বলতে হবে!  তাই মিথ্যা হলেও এবারের ১৫ ফেব্রুয়ারিতে আইপিএস এর দুবছর পালনের দিন বাইডেন-ল্যু দাবি করছেন যে তারা এক সফল আইপিএস পলিসি যেন দেখিয়েছেন। চিঠি লিখে বাইডেন হাসিনাকে খায়েশ ব্যক্ত করে বলছেন যে বাংলাদেশ-আমেরিকা একসাথে  সফল আইপিএস পলিসি উতযাপন করতে চান!! আর বাস্তবতা হল, হাসিনার লিখিত আইপিএস বাইডেনের থেকে আলাদা!  হাসিনার আইপিএস-এ চীন কোন এনিমি  বা শত্রু নয় বা এভাবে দেখানো হয় নাই। বরং চীনের নামই নেন নাই হাসিনা!

    তাহলে বাইডেন-হাসিনা একসাথে সফল(?) আইপিএস পলিসি উতযাপন করবেন কীভাবে?  আর অন্তত হাসিনা তো বাস্তবে তা করেনও নাই!

    কিন্তু পরাজিত বাইডেন আবার বাংলাদেশকে ভারতের হাতে তুলে দিয়েছেন। এটা করে হলেও বাইডেন নিজেকে সফল বলে দেখাতে চাইছেন!!!! তিনি এতই মরিয়া!! কিন্তু হাসিনা সরকার কী তা মেনে নিয়েছে!!! বা কিভাবে নিয়েছে?
    গত ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের দিনের পরের ১১ জানুয়ারির মধ্যেই হাসিনার নয়া এমপিদের শপথ থেকে শুরু করে নয়া সরকারের মন্ত্রীদেরো শপথ অনুষ্ঠানও শেষ করে ফেলেছিলেন। এরপর ১১-২৭ জানুয়ারি মোটামুটি টানা প্রায় প্রতিদিন আমরা দেখেছি চীনের প্রসঙ্গ আর ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদুতের সাথে নানা দেখা সাক্ষ্যাত, আলোচনা পরিকল্পনা। এমনকি হাসিনার সম্ভাব্য চীন সফরের লক্ষ্যে চীনা দাওয়াত জানানোও ঘটে গিয়েছিল!!
    কিন্তু হায় সব ওলট-পালট! ২৮ জানুয়ারি থেকে ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভিন্ন চিত্র। ৪ ফেব্রুয়ারি বাইডেনের লেখা  হাসিনাকে চিঠি আর এর আগে ভারতের অজিত দোভালের সফর থেকে সব উলটা চিত্র হয়ে যায়। আজও কেউ বা মিডিয়ার কেউ জানে না অজিত দোভাল ঠিক কবে এসেছিলেন, কয়দিন ছিলেন- এছাড়া ঠিক কী নিয়ে আলাপ করতে এসেছিলেন।  সরকারের দিক থেকেও এই সফর সম্পর্কে আজও মিডিয়াকে কিছুই জানানো হয় নাই। তাই বাংলাদেশের মিডিয়ায় যে যতটুকু জানিয়েছে তা মূলত অনুমান-নির্ভর আর নয়ত ভারতের মিডিয়ায় ছাপানো গারবেজ-প্রপাগান্ডার বরাতে যা খুশি লেখা!  অর্থাৎ সবমিলিয়ে  – বাইডেনের হাসিনাকে লেখা চিঠি ছাড়া সব কিছুই অস্পষ্ট। আর প্রবল ইঙ্গিত ছড়ানো হয়েছে যেন বাংলাদেশে ভারতের প্রভাব (আগের ২০২১ সাল বাইডেন ক্রষমতার শপথ নিবার আগের মত”  বাইডেনের গণতন্ত্র-মানবাধিকার পলিসি নিয়ে হাজির হবার আগের মতই যেন আছে!

    আগেই বলেছি গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ছিল বাইডেন-ল্যু এর পেয়ারের কিন্তু অকেজো ইন্দো-প্যাসেফিক স্ট্রাটেজি [আইপিএস] শুরুর দুবছর পুর্তি-সমাপ্তির দিন। যে দিনকে আইপিএসের কথিত সাফল্য এর দিন; আর যা বাইডেন-হাসিনা যৌথভাবে উতযাপনের জন্য প্রস্তাব রেখেছেন বাইডেন। কিন্তু হাসিনা এনিয়ে কোন সাড়া দিয়েছে আমাদের জানা নাই। তিনি নিজের কাজ নিয়ে নিজের মত ব্যস্ত থাকলেও  আমরা ডোনাল্ড ল্যু-কে পাই USIP এই থিঙ্কট্যাঙ্কের সাথে উতযাপন করতে।
    শুধু তাই না, ঐ উতযাপন অনুষ্ঠানে ডোনাল্ড ল্যু – কিছুদিন আগে শ্রীলঙ্কায় অর্থনীতিতে দুর্যোগ বা ভেঙ্গে পড়া ঘটেছিল তা থেকে উঠে জাগার ঘটনাকে আইপিএসের সাফল্য বলে দেখাচ্ছেন। এখানেই শেষ না তিনি একাজে ভারতেরও অংশগ্রহণকে আমেরিকা-ভারতের সাফল্য হিসাবে এই প্রথম তুলে ধরেছেন। যেটা এর আগে কখনই আমরা দেখি নাই শুধু না বরং ভারতেরই অসন্তোষ দেখেছি যে শ্রীলঙ্কায় ভারতের সব প্রভাব সাফল্য একা আমেরিকা নিয়ে গেল বলে। শ্রীলঙ্কায় নগদ অর্থ বা ঋণদান নয়, ভারত বস্তুগতভাবে খাদ্যপণ্য আর জ্বালানি গ্যাসের সিলিন্ডারের সরবরাহ জুগিয়েছিল। তাদের দাবি মত যা নাকি তিন বিলিয়ন ডলার মুল্যমানের মত । কিন্তু ফলাফলে দেখা যায় চীন-ভারত সবাইকে ফেলে শেষে আমেরিকার প্রভাবের সেখান জয়জয়কার হয়। অথচ এখন ল্যু শ্রীলঙ্কার এই অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে আমেরিকা-ভারতের সাফল্য হিসাবে হাজির করেছেন।

    USIP এর ঐ অনুষ্ঠানের ভিডিওতে দেখা যায় কেবল ল্যু-ই নন অন্যান্য আলোচকেরা আবার কোয়াড [QUAD] এর প্রসঙ্গ আনছেন কেন? কোয়াড কী কার্যত মৃত নয়ঃ
    USIP এর ঐ অনুষ্ঠানের ভিডিওতে দেখা যায় কেবল ল্যু-ই নন অন্যান্য আলোচকেরাও এমনভাবে ভারতের প্রসঙ্গ এনেছেন বাইডেনের গত তিন বছরের শাসনামলে যেন বাইডেন খুবই ভারত-ঘনিষ্ট ছিলেন!!!  যেটা বাস্তবে একেবারেই উলটা ছিল!  আর সেটা বাইডেনের চয়েস ছিল না। মূল কারণ, বাইডেন ভারতের উপরও নিজের  গণতন্ত্র-মানবাধিকার পলিসি প্রয়োগ করতে গেছিলেন। প্রতিবছর ভারতের মুসলমানেরা ধর্ম-পালনে ও জীবনযাপনে নিগৃহিত হচ্ছে এই ছিল তাঁর মূল বক্তব্য এবং আমেরিকান প্রশাসনিক সিস্টেমে এক স্বাধীন (ধর্মীয়) কমিশনার আছেন যার কাজই হল এনিয়ে প্রেসিডেন্টকে রিপোর্ট দেয়া যে কোন দেশের মানুষের ধর্ম পালনের অধিকার ক্ষুন্ন হল! তাই বাইডেন এনিয়ে বহুবার মোদির বিরুদ্ধে  সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন। শুধু তাই না বিপরীতে, বাইডেন কংগ্রেসের রাহুলের সাথেও যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। রাহুলদের যেন সুবিধা হয় তাই মোদির জিগরি দোস্ত গৌতম আদানির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছেন। বেচারার শেয়ার মালিকানায় ধ্বস নামিয়ে দিয়েছেন।  হেজ [Hedge] ফান্ড ব্যবসায়ী বা “ওপেন সোসাইটি” এই দাতব্য বা থিঙ্কট্যাঙ্কের মূল ফাইন্যান্সার জর্জ সোরেস-কে দিয়ে বাইডেন মোদির প্রিয় ব্যবসায়ী গৌতম আদানির ব্যবসায়িক সব গুমো্র আর কথিত অপততপরতার ফিরিস্তি দিয়ে শেষ বিচারে শুধু আদানিকেই নয় খোদ, মোদিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন!  বাইডেন নিয়মিত ভারতীয় মুসলমানদেরকে নিপীড়নের জন্য মোদিরকে দায়ী করেছেন। যে কারণে এক পর্যায়ে পুরানা প্রেসিডেন্ট ওবামাও মোদিকে হুশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন মোদির এই মুসলমানবিদ্বেষী নীতির কারণে একদিন ভারত বিভক্ত হয়ে যেতে পারে!  অর্থাৎ গত তিনবছর ধরে বাইডেন তার গণতন্ত্র-মানবাধিকার পলিসির লাইনে মোদিকে আক্রমণ করে গেছিলেন।
    অথচ এখন এবারের ঐ আইপিএস সাফল্য উতযাপন সভায় ভারতের প্রশংসায় সব ভরে উঠেছিল! আবার কোয়াড [QUAD] নিয়েও ভারতের সাথে কাজের স্মৃতি আউড়ানো হয়েছে সেখানে। অথচ কোয়াড কার্যত মৃত! কারণ, অষ্ট্রেলিয়ার আমেরিকান পারমানবিক সাবমেরিন কেনাকে কেন্দ্র করে AUKUS  নিয়ে একপর্যায়ে ভারত জানিয়ে দিয়েছিল যে ভারত কোয়াড বা অন্যকিছুর নামে অন্য দেশ বা জোটে সেটাকে সামরিক জোট বুঝায় বা  এমন ততপরতাও বুঝায় –  এমন কিছুতে ভারত থাকতে চায় না; জড়াবে না। এথেকেই QUAD অকার্যকর হয়েছিল আর AUKUS নিয়ে কিছুদিন চর্চা হয়ে সব শেষ ঠান্ডা হয়েগেছিল। যার মূল কারণ বলা যায়, মোদি সরকারের উপর বাইডেনের গণতন্ত্র-মানবাধিকার পলিসির চাপাচাপি।
    অথচ এখন তাহলে ল্যু এন্ড গংয়ের  আইপিএস সাফল্য উতযাপন সভায় ভারতের প্রশংসা কিভাবে? পুরা পরিস্থতিকে তারা এমন ভাবে তুলে ধরেছেন যেন বাইডেনের তিনবছর ভারতের সাথে সম্পর্ক তার আগের ওবামা আমলে [২০০৮ সালে বুশের সময়েই বাংলাদেশকে ভারতের হাতে তুলে দেয়া হয়েছিল যাতে ভারত বাংলাদেশ নিয়ে যা খুশিকরতে পারে যা পুরা ওবামা আমলেও বজায় ছিল ] যেমন ছিল – (ভারতের হাতে তুলে দেওয়া এক বাংলাদেশ) ঠিক তেমনই যেন আছে।  যা খুবই খারাপ ইঙ্গিতপুর্ণ! যার থেকে আমাদের শঙ্কা যে বাইডেন-ল্যু পিটার হাসেরা আমাদেরকে আবার ভারতের কোলে উঠিয়ে দিতে চাইছে!!!

    এসব কারণেই এই অনুমান জল্পনা-কল্পনা বেড়েছে যে বাইডেন ক্ষমতা শেষ হয়ে যাবার আগে কী নিজ ব্যর্থতা ঢাকতে আবার বাংলাদেশকে ভারতের হাতে সওদা করে দিয়ে যেতে চাচ্ছেন?
    এটা আমাদেরকে আরো স্পষ্ট পরিস্কার করে খুটিনাটি-সহ সব বুঝতে হবে। তবে ইতোমধ্যেই যেটা দৃশ্যমান তা হল হাসিনার মুখ থেকে উঠা চীন এখন আর প্রসঙ্গই নয়। আবার এর মানে বাইডেনের আমেরিকা-ভারত কোন নয়া উদ্যোগ বা অফার পেয়ে কী হাসিনা খুশি? উতফুল্ল? না তাওও নয়! মানে প্রধান দ্বন্দ্ব – গত দুবছরের বাইডেন-ল্যু এর সাথে হাসিনার দুরত্ব আর গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে হাসিনা তা ভুলে এখন বাইডেনের দিকে আগিয়ে আসছেন বলে মনে হচ্ছে না!  আর এসবের পরিণতি হল যেন সবকিছু স্থবির হয়ে গেছে! আর তামাশা হিসাবে বারবার উঠে আসছে বাইডেন-ল্যু এর বোকা বোকা পানিপ্রার্থীর মত সব আচরণ – হাসিনার মান ভাঙ্গানোর নানান কসরত ইংরাজিতে যেটাকে উউ [WOO] বলে! আর ভদ্র তবে সংস্কৃত-ঘেঁষা বাংলায় বলে “প্রণয় ভিক্ষা” চাওয়া! যেগুলোর দিকে তাকানো যায় না এমনই অসহ্য!!! এই হল এখনকার বাইডেনের পরিণতি!!!

    যদিও আগামি একমাসের মধ্যে হাসিনার মধ্যে আবারও যদি চীন সফরে যাবার জন্য ব্যাকুল-উদগ্রীব হতে দেখি তো আমাদের অবাক না হওয়াই সম্ভবত সঠিক হবে! 

    সবশেষে একটা কথাই বলব! বাইডেন-ল্যু এর দশা যদি হয় হাসিনা সরকারের প্রণয় ভিক্ষুক হওয়া; তবে আমাদের বিরোধীদলেরা সেই – বাইডেন-ল্যু এরাই আবার আমাদেরকেও নাকি উদ্ধারে আসবে; এই আসতেছে –  আসতেছে বলে তারাই বা তাহলে কার কাছে কী ভিক্ষা করছে!!! এর কোন জবাব খুঁজে পাই নাই!!! কেবলই বিস্মিত হয়ে আছি, থাকছি! আর বিরোধীদের এ এক অদ্ভুত অসহায়ত্ব দেখে যাচ্ছি!!!

     আপডেটঃ  ১৯ ফেব্রুয়ারি  ২০২৪, সন্ধ্যা সাতটা ১৮
    সর্বশেষ আপডেটঃ  ২০ ফেব্রুয়ারি  ২০২৪, দুপুর দুইটা ৪৫

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

     

  • বার্মা নিয়ে আমেরিকান বোকা পরিকল্পনায় উলটা, সব নিয়ন্ত্রণ এখন চীনের হাতে উঠার পথে

    বার্মা নিয়ে আমেরিকান বোকা পরিকল্পনায় উলটা,
    এখন সব নিয়ন্ত্রণ চীনের হাতে উঠার পথে
    গৌতম দাস
    ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ সন্ধ্যা ১৭ঃ ৪৮
    https://wp.me/p1sCvy-5mC

     

    China success, Western failure in revolutionary Myanmar

     

     

    বর্তমানের বার্মা নিয়ে বিশেষ করে তার “সীমান্ত যুদ্ধ” নিয়ে অজানা আশঙ্কা ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে।  যদিও এটা দুই দেশ বার্রমা ও বাংলাদেশের মধ্যে – “সীমান্তে ঘটা কোন যুদ্ধ”- নয়। বরং একই বার্মার সেনা সরকার আর বিদ্রোহী এথনিক (ethnic) গোষ্ঠির যুদ্ধ। কিন্তু ঘটনাস্থল যেহেতু বাংলাদেশ-বার্মা সীমান্ত আর সেনা সরকারের বাহিনী বলতে তারা কার্যত বার্মার সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিজিপি বা Border Guard Police) ফলে, “বিজিপি বনাম বিদ্রোহী গোষ্টির” যুদ্ধের গোলা কখনও কখনও বাংলাদেশে এসে পড়ছে। আর এটাই সীমান্ত সংলগ্ন বাংলাদেশিদের জনজীবনকে মারাত্মক আতঙ্কিত করছে। এতে এলাকার বাংলাদেশি প্রশাসন বাসিন্দাদের সরিয়ে নিরাপদ দুরত্বে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যেটা সঠিক সিদ্ধান্ত।

    বার্মা কী আর, কোথা থেকে এখানে, এর পিছনের পটভুমি নিয়ে কিছু কথাঃ
    বার্মার পিছনের পটভুমির দিক নিয়ে অল্প কথায় বললে, প্রথমত, বার্মা কখনও জনগণের ক্ষমতার উপর দাঁড়ানো অন্তত মুখে বা কনষ্টিটিউশনে লিখে স্বীকার করা অর্থেও কোন রিপাবলিক রাষ্ট্র করা হয় নাই, ছিল না আর এখনও নয়। রিপাবলিক বলতে বুঝায় যে, ঐদেশের শাসনক্ষমতা (ruler) যখন স্বীকার করে নেয় যে তার ক্ষমতার উতস একমাত্র জনগণ; মানে ঐ দেশের বাসিন্দা-পাবলিকেরা নিজ দেশের শাসকদেরকে একটা শাসন ব্যবস্থা স্থাপনের লক্ষ্যে (গণভোটে বা জনপ্রতিনিধিত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে)  রায়-ম্যান্ডেট দিয়েছে। আবার এই শাসকেরা রাজা-বাদশা নয় অথবা রাজা-বাদশার উত্তরাধিকার সুত্র তারা নিজেদের রাজা বলে দাবী করছে না।  এই অর্থে বার্মা কখনই কোন রিপাবলিক নয়। এমনকি দেশের নামেও রিপাবলিক শব্দটা নাই; তাহলে বার্মা কী এর সবই অস্পষ্ট। তাই বার্মার শাসক বলতে আসলে, এখানে মূল ক্ষমতাটা এক ধরণের মিলিটারীদের একটা ক্লাবের হাতে যাদের উপরে কেউ নাই; আর তারাই দেশটাই মালিক ও ক্ষমতাধারী। এভাবেই এটা চলে আসছে অং সান সুচি এর বাবাদের [আমরা যে নামে চিনি এই “সু চি” এর বাবার নাম অং সান (Aung San)] আমল থেকে।
    কেন এরকম? এর মৌলিক কারণ হল বার্মা দেশের বাসিন্দাদের মেন্টর (Mentor) [মানে যাদের চিন্তা অনুসরণে বা প্রভাবিত হয়ে] – বার্মার এই মেন্টর কারা ছিল সেটা বুঝতে হবে আগে। যেমন, আমাদের উপর মেন্টর – প্রভাবক ভুমিকা যদি বৃটিশ কলোনিদখলদার বা ভারতের উপর বৃটিশদের রাজনৈতিক শাসন ব্যবস্থা-কে বলি তবে বার্মার মেন্টর হল সেকালের রাজতন্ত্রী জাপান। যখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে (১৯৩৯-৪৫) এশিয়ায় হিটলারের সহযোগী একমাত্র শাসক ছিল জাপান আর সে জাপান তখনও সম্রাট শাসিত ছিল। অর্থাৎ বিশ্বযুদ্ধে দুপক্ষের প্রধান রাষ্ট্রগুলো সকলেই রিপাবলিক হলেও জাপান ছিল এক ব্যতিক্রম – ছিল সম্রাটের সাম্রাজ্য। একারণে, এখনও জাপান রাষ্ট্রের নাম কি – তা খুঁজে দেখলে সেই আনুষ্ঠানিক নামে কোন রিপাবলিক শব্দ নাই। এর বদলে সব জায়গায় ‘ইউনিয়ন’ বলে একটা শব্দ আছে যার আবার সুনির্দিষ্ট অর্থ নাই। অর্থাত পাবলিক বা জনগণের ক্ষমতা বলে বা বুঝায় – এমন কোন ধারণা ইঙ্গিতও নাই।

    বৃটিশেরা ভারতের মতই বার্মা দখল ও কলোনি করেছিল ১৮২৪ সালে। কিন্তু এই দখলি বার্মা-কে তারা ভারতের সাথে মাখিয়েই শাসন করে গেছিল। যেমন দখলি-বার্মা ভুখন্ড যেন ভারতেরই আরেকটা প্রদেশ এভাবেই তারা শাওন শুরু করেছিল। তবে এনিয়ে তরুণ বার্মীজদের মনে চরম অসন্তুষ্টি টের পেয়ে গত ১৯৩৭ সালের এপ্রিলে প্রথম  বৃটিশ-ভারত বর্মাকে ভারত থেকে আলাদা করে বৃটিশদের কলোনি শাসন কায়েম করেছিল। অর্থাৎ এর আগে পর্যন্ত বৃটিশ-ভারতেরই আরেকটা প্রদেশ যেন বার্মা – এভাবেই বৃটিশেরা বার্মা শাসন করে গিয়েছিল।  আর চলমান ব্যাপক এই ক্ষোভে বিক্ষুব্ধ বিশ্ববিদ্যালয় তরুণদের মধ্যে থেকে নানা ঘটনাবলী শেষে একপর্যায়ে প্রথমে এদের ত্রিশজনকে (যারা বার্মার শাসকদের ভয়ে তখন থাইল্যান্ডে পালিয়ে ছিল) –  এদের জাপানে নিয়ে ট্রেনিং দিয়েছিল জাপানের রাজতন্ত্রী সরকার। এই ত্রিশজনের একজন হলেন সু চির বাবা। কিন্তু তাদের ঐ ট্রেনিংয়ের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা বা খারাপ দিকটা হল, বৃটিশ শাসকের বিরুদ্ধে যারা এই ট্রেনিং দিয়েছিল তারা রাজতন্ত্রী। তাই এই ট্রেনিং কোন রাজনৈতিক ট্রেনিং ছিল না। কোন মনার্কি [monarchy] বা রাজা-বাদশার দেশে রাজনীতি ধারণা বা রাজনৈতিক দল ভোট ইত্যাদি কিছুই থাকে না। রাজার দেশে প্রজারা স্বাধীন ব্যক্তি নয়। প্রজা মানেই তো অধীনস্ত [sub-ordinate] মানেই সে স্বাধীন সত্বা নয়। তাই সমাজে স্বাধীন ব্যক্তি ধারণা ও ব্যক্তি ধারণা উত্থান এর ধারণা আসা খুবই গুরুত্বপুর্ণ! একেবারে পুর্বশর্তের মত জরুরি।   রাজনীতিটাই বাদ দিয়ে সামরিক ট্রেনিং মাত্র; যা মারধর, গোলাগুলি আর টর্চার কিভাবে করতে হয় এসব শিখা সর্বস্ব! অথচ ঐ ত্রিশজন ট্রেইন্ড তরুণই একাল পর্যন্ত বার্মার শাসন ক্ষমতা ও কাঠামো যা হয়েছে সবকিছুর উদগাতা, কিন্তু যারা “রাজনীতি” বলতে কি তা জানে নাই একারণেই পরবর্তিতে এটা আর্মির একটা ক্লাব ছাড়া আর কিছুতে গিয়ে পৌছাতে পারে নাই। এই ত্রিশজনই তাই হয়ে উঠেছিল বার্মার সকল ক্ষমতার উৎস এবং শাসক। এটাই ১৯৪২ সালে বৃটিশ ইন্ডিয়ার সাথে লড়াই করে শাসক বৃটিশদেরকে পরাজিত করে (তবে জাপানের কোলে বসে) নিজেরা বার্মাকে স্বাধীন করেছে বলে ক্রেডিট নিত। ১৯৪৮ সালে ভারতের মত বার্মাও বৃটিশ কলোনি-শাসকেরা ত্যাগ করে চলে যায়। আর শুরু হয় “স্বাধীন বার্মায়” ঐ ত্রিশ জনের শাসন। যারা এরপর মূল দুভাগে বিভক্ত হয়ে যায় কেউ সামরিক বাহিনীতে কেউ রাজনীতিতে রাজনৈতিক শাসক – এভাবে। এতে শাসন ব্যররথতার জন্য একে অপরকে দায়ী করতে থাকে। যা সমাপ্ত হয়  যখন ১৯৬২ সালের শেষ নির্বাচনের পরে ঐ মিলিটারি অংশটাই জেনারেল নে উইনের নেতৃত্বে সব ক্ষমতা দখল করে বসেছিল। এসবের উত্তরসুরি আজকের ক্ষমতাসীন সামরিক ক্লাব। তবে নে উইন সেকালে নিজেকে সোভিয়েত কমিউনিস্ট ধারার কমিউনিস্ট বলে পরিচয় দিতেন।

    অন্যদিকে, এথনিক (ethnic)-জাত বিভক্তি বার্মাতে মারাত্মক। মূল এথনিক গোষ্টি বর্মীরা [Bamar (68%)] আর বাকিদের মধ্যে আবার তুলনায় সংখ্যায় বড় এমন আরও সাতটা [The eight ‘official’ groups are the Bamar (68%), Chin (2.5%), Kachin (1.5%), Karen (7%), Kayah (1.83%), Mon (2%), Rakhine (4%) and Shan (9%).] – এভাবে এথনিক জাত গোষ্ঠির কথা আলোচিত হয়, এরা এই সাত জনগোষ্ঠি সকলেই বর্মীদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহী যোদ্ধা।   মনে রাখতে হবে এতসব জাত-বিভক্তি সত্বেও এর একমাত্র সমাধান হল – কেবল রাজনীতিই পারে সকল এথনিক পক্ষকেই সাথে নিয়ে একটা রাজনৈতিক শাসন ব্যবস্থা (রিপাবলিক) কায়েম করে সকলে সমান অধিকার বসবাস করা। কিন্তু  এটাই স্বাধীন বার্মার জন্মের আগে থেকেই অনুপস্থিত। শাসক বর্মী বা বামার-রা বার্মা নাম বদলে মায়ানমার রেখেছিল সাধু সাজতে; কিন্তু তা লোক দেখানি ছিল বলে অন্য এথনিক কেউ আমল করে নাই।
    গত ১৯৮৯ সালে নে উইনের শাসনও ক্ষমতাচ্যুত হয়, ক্ষমতা নেয় সাত-আট বর্মী জেনারেলদের একটা গোষ্ঠি; কিন্তু জাতিসংঘের অবরোধ আরোপে সেই সরকারও দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কিন্তু সীমান্ত আছে বলে একমাত্র চীনই হয়ে যায় বার্মার সাথে বাকি দুনিয়ার যোগাযোগের মাধ্যম; ইনফরমাল চোরাচালানি টাইপের ‘বাণিজ্য সম্পর্ক’ শুরু হয়েছিল সেই থেকে। পরে ২০০৭ সালে ভারতের কূটবুদ্ধি-পরামর্শে দুতয়ালিতে আমেরিকা-ইউরোপ-পশ্চিমারা চীনের পাশাপাশি তারাও বার্মার মাখন খেতে এগিয়ে আসে। যার দলিল হল ২০০৮ সালের কথিত কনষ্টিটিউশন মানে সামরিক ক্ষমতাকে স্বীকৃতি (উদ্ভট ভাবে, আর্মি প্রতিনিধিরাও সংসদে ২৫% হয়ে বসবে) দিয়ে এক কনষ্টিটিউশন। এছাড়া বাইরে দেখাবে সুচি কে  যেন  তিনি সিভিল-শাসন বলে তারা সাইনবোর্ড হিসাবে রাখবে। ভারতের কূটবুদ্ধি-পরামর্শ এত তীব্র হয়ে উঠেছিল যে জেনারেলেরা এই প্ররোচনায় ইসলামবিদ্বেষী হয়ে রোহিঙ্গাদের ২০১৭ সালে মেরেধরে দেশত্যাগ করতে, বাংলাদেশে যেতে বাধ্য করেছিল। মজার কথা হল, তখন আমেরিকা, চীন, ভারত, ইউ ইত্যাদি কেউই শাসক জেনারেলদেরকে দায়ী বা দোষারোপ করে নাই। সকলেই কথিত এক আরসা (ARSA) বাহিনীকে এদের উপর দোষ চাপিয়েছিল। কারণ, বর্মি জেনারেলেরা ওসব (আমেরিকা, চীন, ভারত, ইউ ইত্যাদি) সকল-বিদেশিকেই নানান ব্যবসা বিতরণ করে দিচ্ছিল। যেটা কেউই হারাতে চায় নাই। ফলে কোন বার্মা এক্ট বা গণতন্ত্র-মানবাধিকারের কথা কারই মনে ছিল না।  কিন্তু সেটাও অচল হয়ে পড়ে ২০২০ সালের নির্বাচনের পরে, আর্মি আবার সব ভেঙ্গে দিয়ে নিজের হাতে সব ক্ষমতা নেয়।

    এবার চলতি ঘটনার দিকেঃ   
    বার্মা নানান কারণে এক অদ্ভুত জায়গা ও পরিস্থিতি। চীন বার্মায় একই সাথে সেনা সরকার এবং বিদ্রোহী এথনিক গোষ্ঠিগুলার সাথে ‘ঘনিষ্ট’ সম্পর্ক রেখে চলতে পারে। সেনা সরকার আপত্তি করে না। এমন খুব কম দেশই পাওয়া যাবে বা নাই। মানে জেনারেলদের এতই চীনকে দরকার যে বিদ্রোহী গোষ্ঠিগুলার অস্ত্রের উৎসও চীন অবলীলায় হতে পারে। তবে এতদিন চীন কোনপক্ষকেই একে-অন্যের উপর চড়াও হয়ে উঠতে দেয় নাই, ভারসাম্য বজায় চলতে বাধ্য করে রাখতে পেরেছিল। এটাই চীনের বর্মীজ সেনা ও বিদ্রোহীদের মধ্যে যেন একটা লাইন টেনে, বিবদমান প্রত্যেকের সীমারেখা বাতলে দিয়ে আর তাতে চীন নিজেই এক ভারসাম্য শাসক হয়ে দুপক্ষের উপর দাঁড়িয়ে থাকা শুরু হয়েছিল।  তবে মোটামুটি গত (২০২৩) ডিসেম্বরকে টার্গেট করে চীন এই ভারসাম্যটা ভেঙ্গে জেনারেলকে নিচে বা কোনঠসা করে বিদ্রোহীদেরকে চড়াও হয়ে উঠতে এলাও করেছে। কিন্তু সেটা কেন?

    আমেরিকার বার্মা এক্টঃ
    চীনের এমন আগের ভারসাম্য কিছুটা ভেঙ্গে আবার নয়াভিত্তিতে আরেক ভারসাম্য আনার লক্ষ্যে ততপর হবার পিছনের কারণ আমেরিকার কথিত বার্মা এক্ট।  বাইডেনের আমেরিকার সমস্যা হল, মুরোদ থাক আর নাই থাক সবকিছু আগেই লেড়েচেড়ে আউলা করে দিতে হবে – এই নীতিরই এক ফসল হল বার্মা এক্ট। যতদুর আন্দাজ করা যায় মোটা দাগে এতে আমেরিকান পরিকল্পনাটা হল, বার্মায় দখল দেয়া মানে জেনারেলদের পতন ঘটিয়ে যেন সামরিক ক্যু হয়েছে এমনভাবে পছন্দের জেনারেল বসিয়ে তা করা। আর এর সাফাই হিসাবে বার্মায় গণতন্ত্র-ও-মানবাধিকার আনবেন বাইডেন, এর নামই বার্মা এক্ট!  ব্যাপারটা সামরিক আবার আফগানিস্তানের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে আমেরিকা নিজ মেরিন বার্মার মাটিতে নামাবে না, কেবল এরিয়াল (arial) কভার মানে আকাশপথে কাউকে উড়তেই দিবে না – যাতে বার্মার কোন উড়োজাহাজই মাটি ছেড়ে ডানা না মেলতে পারে। আর বাংলাদেশের পদাতিক ব্যবহার করবে আমেরিকান মেরিনের জায়গায়।  আবার বাংলাদেশের পদাতিক মুভ করাতে চাইলে আগে আমাদের  সরকারের উপর দখল লাগবে। তাইবাংলাদেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের নামে বিরোধিরা বিজয়ী হতে পারলে এর সুবিধার উপর ভর করে তাতে “বাইরের” সুবিধাটা (মানে যেমন বার্মা দখল) আমেরিকা পেত। কিন্তু আগেই বলেছি আমেরিকান মুরোদের খবর নাই! তাই সবকিছু লেড়েচেড়ে আউলিয়ে সবাইকে পথে নামিয়ে ভন্ডুল করে – পুরানা সব ভারসাম্য নষ্ট করে এখন বাইডেন পলাইছে শুধু না। হাসিনাকে ‘ব্যক্তিগত’ চিঠি লিখতেছে।

    যদিও বিষয়গুলো এত সহজ নয়। পুরানা ভারসাম্য ভাঙ্গার একটা খেসারত তো থাকবেই। মোটামুটি গত ডিসেম্বর ছিল বাংলাদেশের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা – অন্তত চীনের ক্যালকুলেশন এটাই ছিল। এভাবে মার্ক করে চীনও আমেরিকান বার্মা এক্টকে মোকাবিলার নিজ পরিকল্পনা সাজাইয়েছিল। অর্থাৎ চীনের দিক থেকেও ডিসেম্বর ছিল টার্গেট; তবে তা ঠিক বাংলাদেশ নিয়ে নয় ভিন্ন অর্থে মানে, বার্মাকে নিয়ে। এইযা ভিন্নতা!

    বার্মায় কী ঘটছে এর একটা সোর্স এশিয়া টাইমসঃ
    এশিয়ান টাইমস এটা হংকং থেকে প্রকাশিত একটা সমৃদ্ধ ওয়েব ম্যাগাজিন। এটাকে এটাকে সম্ভবত এশিয়ার “ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল” বললে অত্যক্তু হবে না। অর্থাৎ নিউইয়র্কের আদি ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল যেমন বাবা গ্লোবাল পুঁজি বাজার যদি ধরি তবে চীন -কেন্দ্রিক নয়া এশিয়ান পুঁজি বাজার তৈরি হয়েছে হংকং-সিঙ্গাপুর কেন্দ্রিক; আর এসবকে কেন্দ্র করে জর্নাল-টা হল এশিয়ান টাইমস। যার আবার ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস বলে আলাদা পত্রিকা হয়েছে, সাথে আরো একটা। প্রায় আটজনের একটা গ্রুপ যাদের ওয়াল স্ট্রিটে মিডিয়ায় কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে তারাই মূলক এই পত্রিকাটা চালায়। এদের উপর ভর করে আবার একদল পলিটিক্যাল এনালিস্ট গড়ে উঠেছে বার্মাসহ আশিয়ান জোট এলাকার রাজনৈতিক ঘটনাবলীতে কাজ করা যাদের এলাকা। এদের একজন হল ডেভিড স্কট ম্যাথুসন [DAVID SCOTT MATHIESON]; যিনি নিজের পরিচয় লেখেন – an independent analyst working on conflict, humanitarian and human rights issues – এভাবে। এসব ততপরতা গুলোকে বলা যায় গ্লোবাল নেতা আমেরিকা-পরবর্তিতে এশিয়ায় কী হতে যাচ্ছে এরই রিপোর্টার এনাস্লিস্ট হচ্ছেন এরা।
    সেই ডেভিড স্কট বর্তমান বার্মার পরিস্থিতি নিয়ে নিএই দুখানা এনালাইটিক্যাল রিপোর্ট ছেপেছেন। আর একই সাথে নিউইয়র্ক টাইমসে ছাপা হওয়া একটা রিপোর্টের রেফারেন্স দিয়েছেন যেটা আসলে আমেরিকান প্ররোচনায় বিদেশে গঠন করা জান্তাবিরোধী সু চির সরকার এর করুন হাল নিয়ে লেখা রিপোর্ট। আনুষ্ঠানিকভাবে সু চুদের সরকারকে আমেরিকার নিজের মত করে সাজিয়ে নেয়া National Unity Government of Myanmar বা সংক্ষেপে NUG বলে ডাকা হয়।  যাদের অবস্থা হল বাংলাদেশে এখনকার বাংলাদেশি বিরোধীদলের মত যারা হাসিনা পতন বা নির্বাচন ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েও পুরানা গান-ই গাইছে। এই অবস্থাকে বুঝাতে ইংরাজিতে শব্দটা হল এবানডান (abandon) বা পরিত্যক্ত বলতে যা বুঝায়! তো বাইডেনের আমেরিকান পরিত্যক্ত আমাদের বিরোধীদলের মতই, সু চিদের NUG সরকারের অবস্থা। নিউইয়র্ক টাইমসে ছাপা হওয়া সেই করুণ রিপোর্টও দেখতে পারেন এখানে।  এদেরকেই বাইডেন তার বার্মা এক্টের খোরাক বা কথিত হবু সরকার বানাতে চেয়েছিল, আর তাদের অবস্থা আমাদের বিরোধীদলের মত!!!

    বার্মা এক্টকে মোকাবিলার চীনা নিজ পরিকল্পনাঃ
    চীনের দিক থেকে নিজ পাল্টা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন আমেরিকার নিজেরটার চেয়ে তুলনামূলক অনেক সহজ ছিল। এর মূল কারণ, আগে দীর্ঘদিন থেকেই  বর্মার সেনা সরকার আর বিদ্রোহী – এভাবে দুপক্ষের উপরই চীনা নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখাই ছিল। মানে যদি বার্মার ভিতরের তিনটা পক্ষ আছে ধরলে, এর একটা হল জেনারেলদের জান্তা সেনা সরকার; দুই হল, সাত-আটটা এথনিক-জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্টি যারা আবার এখন চীনের প্ররোচনায় ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স নামে একত্রিত হয়েছে। নয়া পরিস্থিতিতেও জেনারেলেরা আর ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স দুইটাই এখনো চীনের নিয়ন্ত্রণে। আর তৃতীয় পক্ষটা হচ্ছে কেবল আমেরিকার নিয়ন্ত্রণের সু চিদের NUG। যেটারই এখন পরিত্যক্ত অবস্থা!
    আর  এবারের চীনা পরিকল্পনা ছিল জেনারেলদের হাতটা ধরেই রাখা কিন্তু এবার একটু ঢিলা করে ধরা যাতে বিদ্রোহীরা একটু আপার হ্যান্ড পায়। এতে যদিও আগের ভারসাম্য মানে জেনারেল আর বিদ্রোহীরা আগে প্রত্যেকে যে সীমারেখার মেনে চলার মধ্যে দিয়ে ভারসাম্য তৈরি করে বসবাস করছিল  – সেটাই এখন চীন ভেঙ্গে দিতে চাচ্ছে। আর তা দিলে চীনের স্বার্থের এতে কোন ক্ষতি হবে না কেন? এই প্রশ্নের জবাব খুঁজব। মানে জেনারেলেরা এতে বিগড়ে গিয়ে চীনবিরোধী হয়ে যায় যদি? চাইকি আমেরিকার হাত ধরে ফেলে যদি?

    জবাব হল, চীন জানতে এমন দুটাই অসম্ভব। কারণ জেনারেলদের চীনবিরোধী হওয়া মানে কি ভারত? নাকি রাশিয়া বা খোদ আমেরিকার হাতধরা? না, এমন প্রত্যেকটাই বাস্তবে অসম্ভব।  চীনবিরোধী হয়ে রাশিয়া একচুলও অন্যদিকে যাবে না। আর আমেরিকা? আগেই বলেছি বাইডেনের যতই “বার্মা এক্ট” থাকুক বা সু চিদের NUG  থাকুক এই আমেরিকা তো এখন বাংলাদেশ ছেড়েই ভেগে গেছে কাজেই – মানে বাংলাদেশ থেকে সামরিক সহায়তা পাবার বাস্তবতাই আউলায়ে গেছে – আর এতে আমেরিকা তার বার্মা এক্টও এখন কিছু ছেড়া কাগজ মাত্র- মুরোদহীন। আর এতদিন আমেরিকা তো এই জেনারেলদের বিরুদ্ধেই হম্বিতম্বি করে গেছিল। ফলে সেই জেনারেলেরা এখন চীনের উপর ক্ষেপে গিয়ে বাইডেনের হাত ধরার কোন বাস্তবতাই নাই। আবার আমেরিকা বার্মার ঠিক কার হাত ধরার কথা ভেবেছিল জেনারেলেরা নাকি সু চিদের NUG দের??? অবশ্যই সেটা সু চিদের NUG। মানে জেনারেলদের ভাগ্যে আমেরিকান দীয়া-আশীর্বাদের কোন সুযোগই ছিল নাই, ছিলই না।  আর এখন তো বাইডেন নিজেই পরিত্যক্ত।  আর ওদিকে ভারতও এসবের ভিতর উল্লেখ-অযোগ্য। কারণ এর না আছে অর্থনৈতিক বা সামরিক সক্ষমতা। পারে কেবল কূটকাচালি বা প্যাচ-লাগানি। যেটাও এখানে সম্ভব না; যদিও ভারতের হম্বিতম্বি আছে সেকথায় শেষে যাবো! তবে সেটাও কারও ঘাড়ে চড়ে করতে চাইবে ভারত আর এটাই সম্হভবত হাসিনা সরকার!! আর মনে রাখতে হবে আমেরিকান বার্মা এক্ট পরিকল্পনা তো ভারতেরও স্বার্থবিরোধী করে সাজানো ছিল।
    কাজেই চীনের দিক থেকে জেনারেলদের হাত হাল্কা করে ধরার এটাই ছিল পারফেক্ট টাইম। কারণ তারা তবু চীনকে ছেড়ে কোথাও যাবার জায়গা নাই। সেজন্যই শুরুতেই যেটা বলেছি, বার্মীজ সেনা সরকারের উপর বিদ্রোহীদের চড়াও হতে দেওয়াটা আসলে চীনা পরিকল্পনার বাস্তবায়ন। যার দুচারটা গোলা বাংলাদেশে এসে পড়ছে। চীনা পরিকল্পনায় বাংলাদেশে সম্ভাব্য সরকার বদলের সময়কাল ছিল ডিসেম্বর-কেন্দ্রিক। তাই জেনারেলদের উপর বিদ্রোহীদের সওয়ার হওয়ার টাইমিং-টা ছিল সে-মোতাবেক !
    তাই বার্মা এক্ট সফল করতে হাসিনাকে সরাতে আমেরিকার এগিয়ে আসার আগেই সেক্ষেত্রে বাইডেন দেখত বার্মা বিদ্রোহীদের ক্ষমতায় কিন্তু জেনারেলরাই নাই, উধাও! কিন্তু এখন বাইডেনের পলায়ন ঘটে যাওয়াতে এতে নিট কিছু লাভ হতে পারে জেনারেলদের। তারা আয়ু পাবে। কিন্তু আরও অনেক পরে।

    এবার আবার ডেভিড স্কটের রিপোর্ট থেকে এনিয়ে তার বক্তব্য তুলে আনব।
    তিনি বলছেন, একটা ভুল আশা ছড়িয়ে পড়েছিল যে থাইল্যান্ডের মাধ্যমে ইউক্রেনের মতো মিয়ানমারকে অস্ত্র সরবরাহ করবে যুক্তরাষ্ট্র। পুরা বক্তব্যটাই নিচে কোট করে দিয়েছে। ডেভিড স্কটের রিপোর্ট এর মূল লেখাটার শিরোনাম হল, China success, Western failure in revolutionary Myanmar এখানে। যার বাংলা অনুবাদ ছেপেছিল প্রথম আলো। আমি সেই অনুবাদের লিঙ্ক হল এখানে।

    মিয়ানমারের ক্ষেত্রে চীন আন্তর্জাতিক পরিসরের সবচেয়ে বড় খেলোয়াড়। মিয়ানমারের ওপর চীনের প্রভাবকে স্পষ্টভাবে আলাদা করা
    যায়। তিন বছর ধরে একটি চিৎকারই প্রতিধ্বনিত হয়ে চলেছে যে মিয়ানমারের প্রতিরোধ আন্দোলনে বাইরে থেকে অস্ত্র দরকার। একটা ভুল আশা ছড়িয়ে
     পড়েছিল যে থাইল্যান্ডের মাধ্যমে ইউক্রেনের মতো মিয়ানমারকে অস্ত্র সরবরাহ করবে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, মিয়ানমারের প্রতিরোধযোদ্ধাদের
    নীরবে সমর্থন জুগিয়ে যাচ্ছে চীন। থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সের ওপর চীনের কৌশলগত সমর্থন না থাকলে অপারেশন ১০২৭ সম্ভবপর হতো না।

    আর ডেভিড স্কটের শিরোনামেই প্রায় সবকথা বলা আছে। লিখছেন চায়না সাকসেস আর ওয়েস্টার্ণ ফেইলিওর। মনে রাখতে হবে ডেভিডেরা সুইডেন, সুইজারল্যান্ড বা নরওয়ের শান্তি নিয়ে কাজ করা গ্রুপের সাথে সম্পর্কিত। তবে ডেভিডের সবচেয়ে মারাত্মক কথা যে –  “একটা ভুল আশা ছড়িয়ে পড়েছিল যে থাইল্যান্ডের মাধ্যমে ইউক্রেনের মতো মিয়ানমারকে অস্ত্র সরবরাহ করবে যুক্তরাষ্ট্র”। আর এটাই বাংলাদেশের এখনকার বিরোধী দলেরও সেই একই অবস্থা! ডেভিড আরো লিখছেন, “কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, মিয়ানমারের প্রতিরোধযোদ্ধাদের  নীরবে সমর্থন জুগিয়ে যাচ্ছে চীন। থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সের ওপর চীনের কৌশলগত সমর্থন না থাকলে অপারেশন ১০২৭ সম্ভবপর হতো না”।
    এই হচ্ছে ডেভিট স্কটের তথ্য ও ব্যাখ্যা। আর ঐ অপারেশন ১০২৭ হচ্ছে সেনা সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহীদের সম্মিলিত অপারেশনের কোন নাম – যেটা চীন সমর্থিত।

    আমেরিকার বোকা পরিকল্পনায় এখন উলটা, সব নিয়ন্ত্রণ এখন একা চীনের হাতেঃ
    কথা ঠিক, পরিশেষে পুরা পরিস্থিতির সবটাই চীনা নিয়ন্ত্রণে।  বার্মার তিনপক্ষের সু চিরা বাইডেন হাতছেড়ে দেওয়ায় পত্রিত্যক্ত! আর বাকি দুপক্ষ মানে জেনারেলেরা আর বিদ্রোহিদের মধ্যে থে বর্তমানে চীন বিদ্রোহীদেরকে আপার হ্যান্ডে বসিয়ে রেখেছে।   কিন্তু আমি মনে করি না চীন বার্মা বিদ্রোহীদেরকে জেনারেলদের উপরে বসায় দিবে – জিতিয়ে বা জিততে দিবে। এর চেয়ে চীন বরং আবার জেনারেল আর বিদ্রোহীদের মধ্যে মানে উভয়ের ক্ষমতা ও এক্তিয়ার প্রসঙ্গে আবার নয়া এক ভারসাম্য ব্যবস্থা তৈরি করে দিবে। চীন যদি বুদ্ধিমান হয় তো এটাই করবে। তবে এটা অবশ্যই নয়া আরেক ভারসাম্যে – মানে পুরান হিসাবে নয়। এতে অনেক কিছুতেই বিদ্রোহিরা এবার আপার হ্যান্ড পাবে। আর এসবের মূল নিয়ন্ত্রণ চীনের হাতে আরও সবল হবে। রোহিঙ্গারা ফিরবে কিনা সে ইস্যুতে চীন এখন এককভাবে নির্ধারক হবে। অর্থাৎ মুল কথা – বার্মার যে এথনিক জাতিহগত সংঘাত এটা মিটানোর মত রাজনীতির হদিস বা রাজনৈতিক জ্ঞান বা বুঝাবুঝি এখনও বার্মার কোন কোণাতেই নাই।  চীনেরও জানা নাই। কারণ সমাধানটা হল ফেডারেলিজম (Federalism)। অনেকে আমেরিকান ফেডারেলিজম বললে বুঝে। আর এটা আমেরিকার বাইরে – মানে ইউরোপেরই কোথাও নাই। আর সবচেয়ে বড় কথা এটা হল – জাতিবাদ বা কমিউনিস্টদের জাতীয়তাবাদের বিপরীত ধারণা। অর্থাৎ জাতিবাদি লড়াই (এথনিক বিবাদ) অনেক দেশের মত বার্মারও এখন প্রধান শত্রু! 

    আর সব হারানি ভারত এসবের ফয়দা খেতে এখন হাসিনার মাধ্যমে – অন্তত বর্মা ইস্যুতে তাকে চীনবিরোধী অবস্থানে জায়গা করতেই হবে মনে করছে। এককথায়, বর্মা সীমান্তে বিশৃঙ্খলা সাময়িক হলেও ভারতেরও স্বপ্নে পোলাও খাবার মত  এক আশা তৈরি হয়েছে  যে, হাসিনা সরকারের কাঁধে চড়ে ভারতের বার্মা দখলের মুরোদ না থাকলেও একটা শেয়ার নিতে চায়। ভারত আবার প্রবল একটা আশাও খাড়া করেছে যে একাজে আমেরিকার তাদের পিছনে দাঁড়াবে। ভারতের এই অবাস্তব আশা – উচ্চাশা এটাই এখন হাসিনা সরকারকে বেচাইন করে তুলছে!  এসবের কারণে, সরকার এতে ততটাই চীন থেকে দূরে না চাইলেও হয়ে পড়ছে। সরকার সতর্ক না হলে ভুল পদক্ষেপ দিয়ে ফেললে তাতে শুধু সরকার না পুরা বাংলাদেশই – সরকারের ভারতপ্রীতিতে বা চাপে পড়ে – বিরাট বিপর্যয় ডেকে আনবে! যদিও সবকিছুই এখনও – প্রাইমারি অভিমুখ কোনটা নিবে  – সেই প্রাথমিক পর্যায়ে আছে – কিন্তু লক্ষণগুলো খুবই খারাপ ঝোঁকের! এক ব্যাপক  দেশি-বিদেশি নয়া পোলারাইজেশনও ঘটাবার চেষ্টা শুরু হয়েছে। তা কতদুত সফল হবে এখনই জানি না। যদিও একারণে, ব্যাপক উঁকিঝুঁকি মারা শুরু হয়েছে!

     

    সর্বশেষ আপডেটঃ  ১১ ফেব্রুয়ারি  ২০২৪, ভোর চারটা দশ মিনিট

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com