Category: BANGLADESH

  • মক্কা জোট নিয়ে বাসনা বনাম বাস্তবতা

    মক্কা জোট নিয়ে বাসনা বনাম বাস্তবতা
    গৌতম দাস
    ০৪ সেপ্টে. ২০২৬
    https://wp.me/p1sCvy-6C5

    এটা আমাদের bdnews24 থেকে নেয়া ছবি। অভিযোগ মোদিকে বাদ দেয়া হয়েছে শাহবাজ শরীফকে মধ্যখানে দেখাতে…..Pakistan crops Modi, Iran’s Pezeshkian from SCO photo to centre Shehbaz

     

    [এটা মক্কা জোট নিয়ে আমার নতুন কোন অবস্থান না, অনেকে কিছু প্রশ্ন রেখেছেন এর ব্যাখ্যা মাত্র! ]

     

    “চাহানা সে হর কৌয়ি আপনা না-হি হোতি” ….
    এক্সপেক্ট বা আশা, বাসনা করলেই সেটা নিজের হয় না; যেটা আমার বাসনা তা আমার ইচ্ছা মোতাবেক বাস্তব হয়ে যায় না। স্বপ্ন-কল্পনা মোতাবেক বাস্তবতা হয় না। কোনটা আমরা কামনা মানে এক স্বপ্ন-কল্পনা মাত্র কিন্তু বাস্তব না – এই হুশ হারানো যাবে না! 

    বুশের ওয়ার অন টেররের যুগটা অন্তত মুসলমানদের কাছে আসলে কী ছিলঃ
    ওয়ার অন টেরর এর যুগ মানে ২০০১ সালের শেষের দিকে সারা দুনিয়ার মুসলমানদের উপর পশ্চিমা বিশেষত আমেরিকান রাষ্ট্র এর দিক থেকে যখন চরম নিপীড়ন নেমে এসেছিল – সেটাই এই ওয়ার অন টেরর এর যুগ। আর এটা চলেছিল বলা যায় ২০২১ সালে আগষ্ট পর্যন্ত। এই সময় পর্যন্ত শেষে (২০২১ সালে) আমেরিকান আর্মি আফগানিস্তানে তালেবানদের সাথে চুক্তি করে পরে কোনমতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে পালিয়েছিল। মোটামুটি এরপরেই বলা যায় দুনিয়ার মুসলমানদের উপর নির্মম নিপীড়ন ক্রমশ কমতে থাকে, তবু এখন একেবারে চলে গেছে তা বলা যাবে না।
    আমেরিকার টুইন টাওয়ারের হামলা বা ৯/১১ এর উসিলায় প্রেসিডেন্ট (জুনিয়র) বুশ এই ওয়ার অন টেরর এর দুনিয়াব্যাপী মুসলমানদের উপর যুদ্ধ-ঘোষণার এক চরম নিপীড়ন এর যাত্রা শুরু করেছিলেন।  সব ক্রিয়ারই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া থাকে!

    ক্রিয়ার বিপরীত ও সমান প্রতিক্রিয়াঃ
    এখানেও তার ব্যতিক্রম হয় নাই! আমেরিকার টুইন টাওয়ারে হামলা বা ৯/১১ এর হামলায় যে সরকারি মামলা হয়েছিল তাতে যাদেরকে আসামি করা হয়েছিল তারা মোট মাত্র ১৯জন। যার মধ্যে সম্ভবত একজনও আফগানি নন! তবু আফগানিস্তানেই প্রথম আমেরিকান সেনারা হামলা করে তা দখল করে নিয়েছিল যা বিশ বছর পরে ২০২১ সালে এসে ছেড়ে যায়।
    এটা আমেরিকান নানান থিঙ্কট্যাঙ্ক এরই বক্তব্য যে,  মামলার ঐ ১৯ আসামিকে দুনিয়ার যেখানে পাওয়া যায় ধরে নিয়ে এসে আমেরিকায় বিচার করলেই ত যথেষ্ট হত। কিন্তু বুশ সেপথে গেলেন না কেন?  কেন ৯/১১ কে ওয়ার অন টেরর এর পথে যাবার উসিলা বানালেন? কারণ, এটা আমাদের না বুঝার কিছু নাই যে “টুইন টাওয়ারে” হামলা মূলত তাদের সম্মান শ্রেষ্ঠত্ববোধে আঘাত দিয়েছে। ঠিক তাও না, বরং এভাবে ব্যাখ্যা করে এক মেরুর দুনিয়া শাসন করতে পারবেন এখন থেকে এই লোভ রিপাবলিকানদের মনে গোপন বাসনা হয়ে জেঁকে বসেছিল। এনিয়ে বিস্তারিত পরে কখনও!
    সেজন্য ঐ ১৯জনকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসাটাই অনেক যথেষ্ট হতে পারত তা জানলেও কিন্তু বুশ সেটাকে প্রতিহিংসায় দুনিয়াব্যাপী মুসলমানদের উপর যুদ্ধ-ঘোষণার এক চরম বিষাক্ত নিপীড়ন এর যাত্রা শুরু করেছিলেন। যেন সেটা ছিল সমগ্র এথনিক মুসলমান ধর্মীয়-জাত এর বিরুদ্ধে লড়াই। এভাবেই প্রেসিডেন্ট বুশ এই নির্মুলের অপরাধ ঘটিয়েছিলেন।  অথচ আমেরিকার নিজস্ব আইন বা কনষ্টিটিশন কোন এথনিক বিভক্তি বা কাউকে এথনিক শত্রুজ্ঞান করা এটা অনুমোদন করে না। অথচ ততদিনে মেজর আমেরিকান জনমত বুশ ততদিনে নিজ নীতির পক্ষে জাগিয়ে ফেলেছিলেন। তাতে আমেরিকান আইন ঐ মামলায় ১৯ জন আসামির বাইরে বিশতম ব্যক্তিকে হত্যা বা বিচারের অনুমোদন দেয় না- তা সত্য হলেও।

    কোন ক্রিয়া যতই ‘জ্ঞানবুদ্ধি-হীন’ যথেষ্ট ‘সাফাই-যুক্তিহীন’ হয় তাতে বিপরীত এর চরমতম প্রতিক্রিয়াও সে রকমই হয়। মূল কারণ কোন হিতাহিত জ্ঞান শুন্য হয়ে সমগ্র মানবজাতির স্বার্থ উপেক্ষা করে কেবল একটা এথনিক-ধর্মীয় গোষ্ঠিকে নির্মুল-উতখাতের পরিণতি কী হয় তা একেবারেই বিবেচনা না নলে তো এমনই হবে।
    আমরা খুব ভাল করেই চিনি এই “এথনিক নির্মুল” শব্দের অর্থ ও পরিণতি কেমন হয়; শাহরিয়ার কবির এখনও আইসিটি কোর্টে পেটে বেল্ট বেধে আসা-যাওয়া করতেছে! সম্ভবত স্বাভাবিক মৃত্যুর আগে পর্যন্ত এটাই তাকে করে যেতে হবে। তাঁর প্রায়শ্চিত্ত হয়ত এভাবেই বেঁচে থাকা অবস্থায় সম্পন্ন হবে! জাতিসংঘের  আইসিসি কোর্টও তাই “এথনিক নির্মুল” বা “এথনিক ক্লিনজিং (ethnic cleansing) বা বাংলা করে বললে, একটা এথনিক মানবগোষ্ঠিকে মুছে ফেলা বা ফেলার চেষ্টা – এই অপরাধকে সর্বোচ্চ শাস্তির অপরাধ গণ্য করেছে। এর মূল কারণ, নির্মুলের ধারণাটা খুবই ছোঁয়াচে। কোন একটা এথনিক গোষ্ঠিকে নির্মুল করার চেষ্টা মানে আত্মরক্ষায় সেও আপনাকে নির্মুল করে বাঁচবার চেষ্টাই করবে। আর একবার যদি এই পরস্পরকে নির্মুল করা শুরু করে দেই তবে এটা দুনিয়াতে আর কোন এথনিক গোষ্ঠি বেঁচে থাকবে না! এমন অবস্থায় দুনিয়া চলে যেতে পারে! আল্লাহর দুনিয়ায় ‘মানব প্রজাতি (human species)’ বলে কিছু আর বেঁচে থাকবে না! এটা এতই ভয়ংকর আর তাই এতই ছোঁয়াচে উস্কানি! কারণ, সোজা যে  যুক্তিটা প্রথমে মানুষের মাথায় কাজ করে যে আমাকে আমার প্রজাতি (এখানে ধর্মীয় এথনিক জাতকে) নির্মুল করতে আসবে আমার তো তাকেই নির্মুল করা ছাড়া রাস্তা নাই। এমনটাই মাথায় আসে। সাথে এটা ভুলে গিয়ে যে এই উস্কানি ভীষণ ছোঁয়াচে যার পরিণতি হবে আল্লাহর দুনিয়ায় ‘মানব প্রজাতি (human species)’ বলে কিছু-কেউ আর বেঁচে থাকবে না! কিন্তু একথা মাথা ঠান্ডা হলে তবেই না চিন্তার সুযোগ আসবে! মানে এখনই আমাকে কেউ তাড়া করছে না একটু সাময়িক বিরতি পেলে তখন চিন্তা করলে হয়ত বুঝা যেতে পারে। কিন্তু সব অঘটন এর আগে শেষ হয়ে যেতে পারে!

    এই হয়ত-টা ঘটে নাই। আমরাও এর প্রতিকার হিসাবে, এক মুসলমানের দুনিয়া বা কেবল মুসলমানের দুনিয়া কায়েম করা ছাড়া অন্য কোন দুনিয়ার কল্পনা আর আমাদের মাথায় কাজ করে নাই।
    এই বোধ এখনও আমাদের মাথায় কাজ করে তবে সময়ে সময়ে, বিশেষ করে যখন আমাদেরকে যে কোন ‘অনিরাপদ-বোধ’ এই চিন্তা আমাদের চিন্তিত করে ফেলতে পারলে!  মাথায় আসলেই এমনটা হয়! এলেই আমাদেরও মনে হতে থাকে – “কেবল এক মুসলমানের দুনিয়া কায়েম করা ছাড়া” আমাদের নিরাপত্তা কোথাও নাই। আমি মুসলমান – মুসলমান হিসাবে এই বাস্তব দুনিয়াটায় আমি নিরাপদ না – এই বোধ আমাদেরকেও একইভাবে ভাবায় এভাবে যে – আমাদের এনিমি হয়ে যে দাড়ায় তাকেই ঐ একইভাবে নির্মুল করা ছাড়া আমাদের ত বাচোয়া নাই এমন উপায়ের দিকে যেতে সাফাই মনে যোগাতে থাকে – উপযুক্ত পরিবেশ  পেলে যা হয়ত আরও বড়ও হয়ে যেতে পারে! আর সেসময় মাথা ঠান্ডা না থাকলে আল্লাহর বিধানের কথাও মাথায় কাজ করে না!

    মক্কা  নিরাপত্তা জোট গঠনঃ
    সাম্প্রতিক মক্কা নিরাপত্তা জোট (The Mecca Joint Defence Agreement is a) গঠন – এটা (সংক্ষেপে “মক্কা জোট” বলব এখানে) আমাদেরকে এসব একটু পিছনে ফেলা স্মৃতি আবার জাগিয়েছে।
    তবে আসলে ঠিক এটাই না, আরো একটা মুল বা প্রধান দিক আছে। সেটা হল, এই মক্কা জোটের বিরুদ্ধে ইন্ডিয়ান অপ্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া। ইন্ডিয়ান ভয়ের প্রসঙ্গ পরে আসতেছি।
    বাংলাদেশের মানুষের কাছে আসলে মূল বিষয় ঠিক ‘মক্কা জোট’ না; এটা পরে এসেছে। আমাদেরকে প্রথম যা উস্কানি দিয়েছে বিশেষ করে আবার মুসলমান হিসাবে নিজের ভিতরে যা ‘অনিরাপদবোধ’ জাগিয়েছে সেটা হল ইন্ডিয়া; ইন্ডিয়ান বিবৃতির প্রতিক্রিয়া। আমরা আবার এমন চিন্তায়ও (যারা কম চিন্তায় অভ্যস্ত) অভ্যস্ত যে যা ইন্ডিয়া আমাদের বিরুদ্ধে বলে বা আমাদের জন্য খারাপ বলে প্রতিক্রিয়া / হুমকি দেয় সেটাই আমাদের জন্য সঠিক ও ভাল! তাই মক্কা জোট নিয়ে ইন্ডিয়ার এই বিরোধী-বিবৃতি এটাই আমাদের প্রথমে ‘পুরানা’ “অনিরাপদবোধ” আবার জাগিয়েছে। আর সেখান থেকেই প্রতিকার হিসাবে আমরা চোখ-বন্ধ করে ‘মক্কা জোটই’ আমাদের এখনকার একমাত্র চাওয়া বলে আমাদেরকে চরমে প্রভাবিত করেছে। বলে আমার অনুমান!
    এই অবস্থায় ব্যক্তি হিসাবে আমার অনুভব হল যে কেন এমনচিন্তা ভুল বা সঠিক তা শুনবার অবস্থায় (চিন্তা করার সুযোগ সুস্থিরতা এরপরের অবস্থা) আমরা কোন কারণে যখন থাকি না তখনই এসব ঘটে। তাই এনিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে কোন নতুন কথা আমি এখন বলব না; সমীচিন না বা সময় ঠিক না বলে আমি বুঝেছি।

    একটা কথা আমরা নিশ্চিত করে মনে রাখতে পারিঃ
    আমার বিচারে আমাদের আম-প্রতিক্রিয়ার শুরুটা ইন্ডিয়ার এই শয়তানি থেকে; মিথ্যা ভয় দেখানে থেকে। তাই এনিয়ে দুইটা বাক্য বলব।
    ইন্ডিয়া আজ অথবা আগামি অন্তত ২০-২৫ বছর বাংলাদেশে সামরিক আক্রমণ ধরণের যেকোন কিছু করার কথা চিন্তাও করবে না; আমি বলতে চাই ইন্ডিয়া সাহসই করবে না। কেন?
    কারণ, বাংলাদেশের সাথে চীনের আগেই কোন সামরিক চুক্তি থেকে থাক আর নাই থাক – ইন্ডিয়ান আক্রমণের পরিস্থিতিতে এর বিরুদ্ধে আমাদের পক্ষে যেদেশ সবার আগে আগায় আসবে সেটা হবে চীন। এবং সেটা কোন দয়া করে না। চীনের নিজস্ব যুদ্ধকৌশলগত (স্ট্রাটেজিক) মৌলিক (core)স্বার্থ এটাই – সেজন্য। বাংলাদেশ ইন্ডিয়ান কবলে চলে গেলে চীনের  ক্ষতি কো অংশে কম হবে না!  তাতে সেক্ষেত্রে ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে আমাদের রক্ষায় চীনা – যেদিন থেকে যুদ্ধে নেমে যাবে সরাসরি অথবা প্রক্সি যুদ্ধে – এর ভিতরেই কবে যে বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে এক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর হয়ে গেছে যা জানা যাবে হয়ত পরে। এছাড়া চীনের স্ট্রাটেজিক এক নাম্বার পার্টনার রাশিয়ার মাধ্যমে যখন মোদিকে আত্মঘাতি না হতে, বিরত থাকতে বার্তা যাবে আমার মনে হয় এটাই মোদির হুশ আনার জন্য যথেষ্ট হয়ে যেতে পারে।

    গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত Shanghai Cooperation Organisation (SCO) এর সম্মেলনঃ
    একটা তথ্য এখানে যোগ করি। Shanghai Cooperation Organisation (SCO) নিয়ে। এই জোট যা ২০০১ সালে মাত্র ৫ দেশীয় জোট শুরুতে ছিল; চীন-রাশিয়া আর সেন্ট্রাল এশিয়ার ৩ দেশ এভাবে চীন, রাশিয়া আর কিরগিজস্তান, কাজাখস্তান, তাজিখস্তান, মোট মাত্র পাঁচ দেশ ফলে এটাকে অনেকে সাংহাই ফাইভ বলেও ডাকত। পরে উজবেকিস্তান যোগ হয়। এমনকি সেকালে আমেরিকাও এটা প্রচ্ছন্নে সমর্থন করেছিল। পরবর্তিকালে এখন ইরান, ইন্ডিয়া পাকিস্তান আর বেলারুশ সহ মোট সদস্য ১০ রাষ্ট্রের SCO। গত সপ্তাহে  কিরগিজস্তান এর রাজধানি বিশকেক এ SCO এর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল।( 2026 Bishkek SCO summit, (31 August to 1 September 2026 in Bishkek, Kyrgyzstan.)
    আর এই SCO জোটকেই তাদের এবারের সম্মেলন থেকেই এটা যেকোন পশ্চিমা জোটের পালটা কেন্দ্র বলা হয়েছে। দেখেন;

    SCO challenges West as diverse group of nations pursues multipolar future

    এমনকি তুরস্কও সেভাবে দেখে। আর এই সম্মেলন থেকেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন আমাদের মূল সমস্যা ইরানের উপর আগ্রাসন। আমার দেশ লিখেছে, (এটা অনেকেই কোট করে আমাকে পাঠিয়েছে তাই) “ শাহবাজ শরীফ বলেন, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার অন্যতম সদস্য ইরান চলতি বছরের শুরুতে হামলার শিকার হয় এবং দেশটির সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘিত হয়”। তাহলে ইরান এই হামলার শিকার হয় কার হাতে? যেটাতে ইরানের “সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘিত” হয়েছে বলে মনে করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী!
    না, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর এই কথা আমার মুখ্য পয়েন্ট নয়। বরং আসেন প্রশ্ন করেন যে, বিশকেক এর এবারের SCO সম্মেলনে মোদি কেন যোগ দিলেন? এককথায় জবাব বাধ্য হয়েছেন। এমনকি উপরে যে শাহবাজ শরীফের বক্তব্যের কথা বললাম সেটা স্টেজে সবাইকে (উপস্থিত মোদিসহ) সামনে রেখেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বলা কথা।

    আসলে মোদি বড় শত্রু হল মক্কা জোটঃ
    আসলে মোদি বড় শত্রু হল মক্কা জোট।
    কিন্তু সবাই যেটা ধরে নিয়েছেন যে এটা মুসলমানদের জোট সেজন্য! এই অনুমান, এই অংশটা ভিত্তিহীন! এর প্রথম কারণ হল,
    ১. মক্কা জোট মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি থেকে উতপত্তি বা জাত। এর বাস্তবায়ক ইসলামি দেশগুলো হলেও ইন্ডিয়ান উদ্বেগ ঠিক সেটা না, অন্তত এখানে।
    ২. ইন্ডিয়ার উদ্বেগের প্রধান কারণ এতে পাকিস্তান আমেরিকার বন্ধু তো ছিলই এখান আরো প্রো-আমেরিকান ইসলামি দেশের দ্বারা সমর্থিত হল পাকিস্তান। এর উপর পাশে তুরস্ক। তুরস্ককে ইন্ডিয়া শত্রু জ্ঞান করে ঠিক মুসলমান দেশ বলে না বরং এই তুরস্ক আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতির অনুসারি – মার্কিন বোমারু উড়োজাহাজের অস্ত্র ও যন্ত্রাংশ উতপাদনকারী! ফলে এই ‘পাকিস্তানের’ কাছে ইন্ডিয়া মৃতপ্রায় তুচ্ছ ত বটেই!
    ৩. তামাশার কথাটা হল, মোদি নিজে কী উপরের কথাওগুলো জানে না? অবশ্যই জানেন। কিন্তু তাহলে এবার বুঝেন সেই মোদির ইন্ডিয়া তাহলে এসময়ে SCO সম্মেলনে গিয়ে আশ্রয় খুঁজতে হয়েছে কেন?
    ৪. কারণ নাহলে আরো কঠিন শত্রু আমেরিকার পাল্লায় (যে তুরস্ক, পাকিস্তানকে সমর্থন করে) পড়তে হবে। মূল কারণ, মোদির ইন্ডিয়া এখন নিশ্চিত যে আমেরিকা আর কখনো ইন্ডিয়ার পক্ষে না আসুক অন্তত ইন্ডিয়াকে আমেরিকা নিজ কৌশলগত মিত্রের মর্যাদা দেক – এটাই দুরস্ত হয়ে গেছে। কখনও  দুনিয়া আর এমন দিন ফিরবে না!  কারণ,  ট্রাম্প পরিস্কার যে মোদিকে তাঁর আর একেবারেই দরকার নাই। অতএব, তুলনায় SCO জোট মোদিকে যতটুকু নিরাপত্তা দিতে পারে (রাশিয়া আছে সেখানে বলে) ততটুকুই মোদির ভরসা। তাতে মোদিকে ইরানের প্রেসিডেন্টের সাথে সাইড লাইনে ওয়ান-টু-ওয়ান মিডিয়ার সামনে কথা বলতে হলেও মোদি নিরুপায়। একইভাবে নিরুপায় একই সম্মেলন মোদিকে দেখতে হচ্ছে, শাহবাজ শরীফ গলা তুলে ইরানকে সমর্থন করে দেখিয়ে দিচ্ছে যে পাকিস্তানকে ট্রাম্প সমর্থন করে তা সত্বেও পাকিস্তান এমন গলা তুলতে পারে! মোদি কত ক্ষুদ্র এক প্রধানমন্ত্রী এটা প্রকাশ হয়ে পড়া সত্বেও ইন্ডিয়াকে SCO সম্মেলনে যেতে হয়েছে! ওথচ আমরা উলটা ইন্ডিয়াকেই তার বিবৃতি দেখে ভয় পাচ্ছি! মনে রাখতে হবে ইন্ডিয়া পাকিস্তানের চেয়েও তুরস্ককে বেশি ভয় পায় বেশি ও বড় নিজ শত্রুজ্ঞান করে কারণ, তুরস্ক পাকিস্তানের চেয়েও অনেক বেশি ট্রাম্পের ফরেনপলিসি ঘনিষ্ট!

    কেন ঢাকার ইরানি রাষ্ট্রদুত এমন কথা বলছেনঃ
    যুদ্ধের ব্যয়ে একেবারেই দিশাহারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প! সে চায় সৌদির মত ন্মধ্যপ্রাচ্যের দেশ তাকে এই যুদ্ধ ব্যয়ের দায়ীত্ব কিছু অন্তত শেয়ার করুক। আমেরিকার দিক থেকে এটাই মক্কা চুক্তি তাদের চোখে! সেখান থেকে মক্কা জোটকে
    সৌদিদের সাহায্যে ট্রাম্প দেখাতে চায়, এই আওয়াজ উঠাতে চায় যে,  ইরান মুসলমানদের কেউ না। কারণ তারা মূলত শিয়া! এখন এই পরিস্থতিতে ইরানি রাষ্ট্রদুত তো বলতে পারে না যে হা আমরা সৌদিদেরকে শত্রু মনে করি। এতে তো ট্রাম্পই জিতে যাবেন। তাই তিনি কৌশলে মনে করিয়ে দিচ্ছেন – ইরান তো সৌদিতে আমেরিকান ঘাটি যেখানে এর বাইরের কোন সৌদি ভুমিতে তো আঘাত করে নাই। মানে আমেরিকা যেখান থেকে গোলা ছুড়তেছে সেই ভুখন্ড অংশটাই কেবল ইরান শত্রু বিবেচনা করে। অর্থাৎ মূল সৌদি আরব ইরানের কোন শত্রুই নয়!   অর্থাত ইরানি রাষ্ট্রদুত (আমার জানামতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে সুন্নি এবং একাদেমিক) এর অবস্থান দাড়ালো যে, “ আমরা মক্কা চুক্তির বিরোধী না (তবে সেটা এই অর্থে যে এই মক্কা চুক্তি যেন ট্রাম্পের ফরেন পলিসি থেকে উতপন্ন নয় ফলে সম্পর্ক নাই এমন মনে করা হোক)। অর্থাৎ এক জবর কূটনৈতিক পরিভাষায় তিনি ইরানের অবস্থান তুলে ধরছেন ঐ SCO সম্মেলনে!  

    শেষে খুব ছোট করে তারেক সরকারের মানে খলিলের অবস্থান নিয়েঃ
    গত প্রায় দুবছর ধরে খলিল-ইউনুসের অবস্থান প্রতিটা ক্ষেত্রে আমেরিকান বা ট্রাম্পের ফরেন-পলিসির অনুগত। অর্থাৎ আমেরিকান ফরেন পলিসির বাইরে তাদের কোন মতামত নাই।  অর্থাৎ ট্রাম্পের সাথে একই অবস্থানে। এখন যেকোন বুঝ থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেকেও আবার এটা মেনে নিয়েছেন; খুব সম্ভবত তাঁর ‘ভারসাম্য’ প্রীতি (ঠিক যেমন ভারসাম্যের পট্টি পরিয়ে বোয়িং কেনানো হয়েছে) এই ভয় নাকি বেকুবি মানে ঐ যে বলে না – বনের বাঘ না মনের বাঘই মানুষকে খায় – এই সুত্রে – খলিল এই সুবিধাটা ফিক্সড করে গেছে তারেকের মনে গেথে দিয়ে। যেটা এখন তাই  হুমায়ন কবিরের প্রকাশ্য অবস্থান।  আর এই সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের উসিলায় আমেরিকায় গেলে দুমিনিটের জন্য ট্রাম্প দেখা দিলে তো তারেক জাত-নেতা হবে এমন লোভও খলিল পেশ করেছে বলে জানি!

    এখানেই শেষ করবঃ তাহলে শত্রু কে?
    কেবল একটাই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে বলব আমার পাঠকদেরকে তাতে বাংলাদেশের আম-মানুষ যার যে অবস্থানই থাকুক। আপনারা যেকারণেই মক্কা চুক্তিকে সম্পর্থন করেন না কেন একবার নিজেকেই জিজ্ঞাসা করে নিবেন তাহলে, আপনার বুঝাবুঝিতে মক্কা চুক্তির শত্রু টা কে? মানে এনিমি টা কে? দয়া করে শত্রু তাহলে কে হল – এটা নিশ্চিত না জেনে বা না হয়ে শুধু আপনি মক্কা চুক্তির পক্ষে (হয়ত তা ইন্ডিয়ার ভয়ে) এই অবস্থান তো অর্থহীন হবে! এটা মনে রাখবেন! ইরানসহ সবাই যদি মক্কা চুক্তির পক্ষে যায় তাহলে শত্রুটাকে? এর জবাব আমাকে দিবার দরকার নাই, নিজেই নিজেকে সন্তুষ্ট করতে পারে এমন জবাব দিয়ে রেখেন।  

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক

    ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

     

  • কেন ইন্ডিয়া সাথে ইউনুসের চেয়ে একা তারেক কাম্য ভাবছে?

    কেন ইন্ডিয়া সাথে ইউনুসের চেয়ে একা তারেক কাম্য ভাবছে?
    গৌতম দাস
    ০২ আগষ্ট ২০২৬
    https://wp.me/p1sCvy-6BC

    এমন একটা প্রশ্ন তৈরি করে জবাব দেওয়ার উসিলায় এই লেখা।
    কেন ইন্ডিয়া তারেকের সাথে ক্ষমতার ভাগীদারি ইউনুসের চেয়ে একা তারেক বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী থাকুক এটা তাদের জন্য ভাল ফলে কাম্য ভাবছে?  এই প্রশ্নটা এরকমই প্রায় তবে অন্য  নিজভাষায় সাজিয়ে আমার এক পাঠক ফেসবুঝে দিয়েছিল। সেখানে ওর জবাব দিয়েছি। কিন্তু প্রশ্নটা আরও সাধারণের প্রশ্ন হলে কেমন হত সেই কল্পনা করে এই প্রশ্নোত্তর এখানে!
    অরিজিনাল প্রশ্নটা ছিল অনেকটা ম্যাথামেটিক্যালঃ তার মানে ভারতের জন্য তারেক+চায়না বেটার দেন ইউনুস+ আমেরিকা? দাদা ভারত ঠিক কি কারনে চায়না থেকে আমেরিকাকে বেশী ঝামেলার মনে করে?

    জবাবটা এখান থেকেঃ
    বাংলাদেশের উপর ইন্ডিয়ার আধিপত্যের রুস্তমি চালায় যেতে ইন্ডিয়া মনে করে তার সেসব পাওয়ার স্বর্ণযুগ ছিল ২০০৭-১৬ সাল যা আমেরিকা তাকে তখন দিয়েছিল। আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইন্সটিটিউট নামের এক আমেরিকান থিঙ্কট্যাংকের আয়োজিত ইন্টারনাল সভা থেকে, ২০০৭ সালের জুনের আগে আগে। যেখানে আমেরিকার দিক থেকে উপস্থিত বড়কর্তা ছিলেন (আমাদের ভাষায় যেটা মন্ত্রণালয় সচিব) আন্ডার সেক্রেটারি  R. Nicholas Burns (served until March 2008)।বাংলাদশের দিক থেকে দেখলে, এটাই ২০০৭ সালের ১/১১ বা ১১ জানুয়ারির ক্যু; যেটা ছিল মঈন-ফকরুদ্দিনের  আমেরিকার হয়ে এক ক্ষমতাদখল ঘটিয়ে দেয়া।  এরই পরবর্তি ছয় মাসের মধ্যকার ঘটনা!
    এটা ছিল আবার ইন্ডিয়ার দিক থেকে দেখলে, আমেরিকার বাংলাদেশ দখল করে ইন্ডিয়াকে পাইয়ে দেয়া – বাংলাদশের উপর ইন্ডিয়ার এমন মাঙনা কর্তৃত্ব হেজিমনি বা আধিপত্য যার রুস্তমি ইন্ডিয়ার কেউ বাপের জন্মেও চিন্তা করে নাই। তাই এটা এখন ট্রাম্প-২ এর আমলে এসে একেবারেই নাই হয়ে গেলেও কংগ্রেস-বিজেপি সবার কাছেই পুরানা স্মৃতিটা এখনও এমন চির-কাম্য যেন এককালে মামার বাড়ি গিয়ে কিছু খাওয়া যা আজীবন মোচে লেগে আছে এমনই এক সুখ স্বপ্ন-অনুভুতি! যা ইন্ডিয়ার মুরোদে আগে স্বপ্নেও ছিল না।
    বাংলাদেশের (পুর্ব-পাকিস্তানের) উপর দিয়ে কখনও নেহেরু-গান্ধিকে করিডোর নিতে হবে এটা তাদের স্বপ্নেও ছিল নাঃ
    নেহেরু-গান্ধী কেন (এমন ইন্ডিয়া-পাকিস্তানের ভাগ মেনে নিছিলেন কোন আওয়াজ ছাড়াই) যেটা ইন্ডিয়ার পুরা নর্থ-ইস্ট জুড়ে [বাংলাদেশের মাথার উপরে একদিকে আসাম থেকে অন্যদিকে নিচে ত্রিপুরা / উপরে নাগাল্যান্ড] একমাত্র শিলিগুড়ির চিকেন নেক দিয়ে বাকি ইন্ডিয়ার সাথে কানেক্ট থাকুক এটাই চেয়েছিলেন এবং এটা মেনে নিয়েই ১৯৪৭ এর ইন্ডিয়া-পাকিস্তান ভাগাভাগি হয়েছিল। সবচেয়ে বড় কথা নেহেরু-গান্ধি তাদের সারা জীবনে কখনও কোন কথা বলে নাই। ক্ষোভ, আগ্রহ বা চাহিদা প্রকাশ করেন নাই। শিলিগুড়ির চিকেন নেক দিয়েই নর্থ-ইস্ট সংযুক্ত থাকুক ও থাকবে – এনিয়ে তেরে জীবিতক্লে কোন কথাই তুলেন নাই। উলটা করে বললে, বাংলাদেশের উপর দিয়ে ইন্ডিয়ার করিডোর লাগবে না, সেটা কোন কাজে লাগবে?  এমন একটা ধারণা তাদের ছিল। এছাড়াও এরচেয়ে কম চাহিদার, কম পরিচিত আর এক কোনে পড়ে থাকার আসাম-ত্রিপুরার নর্থ-ইস্ট (আনন্দবাজারের ভাষায় শান্তির পিসফুলনেস আসাম-ত্রিপুরার নর্থ-ইস্ট) হলে বরং ভাল; সেটা ভেবেই তো (চিকেন নেক সংযুক্তিই ইন্ডিয়ার জন্য সবচেয়ে ভাল আর সেফ) এটাই চেয়েছিলেন। তাহলে ২০০৭ সালের পরে ইন্ডিয়ার বাংলাদেশের দেশের উপর দিয়েই করিডোর লাগবে, বাংলাদেশের সমুদ্র বন্দর লাগবেই এই চাহিদার ললা বের হচ্ছে কোথা থেকে? এটাই মাঙনা পেলে ডাকাতের আলকাতরাও খেতে চাওয়া।
    এটাই এশিয়ায় ইন্ডিয়ার আমেরিকান-প্রিয়তার শুরু!
    প্রেসিডেন্ট বুশের সেকেন্ড (২০০৫-৮) টার্ম সেটা।  আর ২০০৭ সালেই প্রেসিডেন্ট (ইনফরমালি) জেনে যায় যে চীন অর্থনৈতিক গ্লোবাল নেতা হিসাবে উঠে আসতেছে। এনিয়ে আমেরিকার নিজস্ব স্টাডির রিপোর্টটা প্রকাশিত হয়েছিল ২০০৮ সালে। সেখান থেকেই পাল্টা প্রতিকার হিশাবে প্রোগ্রামের  চীন ঠেকানো [Containment of China]। যদিও ঐ রিপোর্টেই সাবধান করা ছিল এই উত্থান ঠেকানোর অযোগ্য [irreversible]। কিন্তু সেকথা কানে না নিয়ে বুশ এগিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আর সেখান থেকেই ইন্ডিয়া আমেরিকাকে এশিয়ায় চীন ঠেকায়ে দিতে সহায়তা হবে চিন্তা করেছিল – আমেরিকার প্রেসিডেন্ট! সেখান থেকেই একটা হাসিনা-পুতুল বসায়ে দিয়ে ইন্ডিয়ার ১৭ বছরের বাংলাদেশ দখল!
    কিন্তু আমেরিকা ২০১৬ সাল থেকেই টের পেয়ে যায় যে  ইন্ডিয়াকে এই দেয়াথুয়ায় আমেরিকান কোন লাভ হচ্ছে না। তাই পরের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প-১ এর আমলে ২০১৭ সাল থেকেই ইন্ডিয়াকে আগে দেয়া সকল সুবিধা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। এরচেয়ে বঙ্গোসাগরে আমেরিকান নৌ-উপস্থিতির নিশ্চিত করা ছিল আমেরিকান অনেক পুরান স্বপ্ন, বেশি প্রয়োজনীয় মনে করে আসত সেটা সামনে আসে। যেটা প্রেসিডেন্ট বুশ এতদিন পাশে সরিয়ে রেখেছিল; ২০০৪ সাল থেকেই ইন্ডিয়ার সাথে খাতিরের সম্পর্ক শুরু করে পারমানবিক টেক দেয়া শুরু হয়। ২০০৬ সালে তিনি নিজেই ইন্ডিয়া সফরেও গেছিলেন।  কিন্তু ২০১৬ সালের পর থেকে যেক্ষেত্রে আবার আমেরিকার-ইন্ডিয়ার মধ্যকার সবচেয়ে পুরানা বিবাদ বা চাহিদা-সংঘাত সঙ্গোপনে হাজির হতে থাকে। যদিও উপরে আরেকটা নয়াপর্দা তখনও টাঙ্গিয়ে দেয়া হয়েছিল। ইন্ডিয়াও লোভি তো হয়েই ছিল!
    তাই বাস্তবে, ২০১৭ সাল থেকে আমেরিকার বাংলাদেশ ইন্ডিয়াকে দিয়ে দেয়া সমর্থন করে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেলেও পরের আরো দশবছর ইন্দো-প্যাসেফিক স্ট্রাটেজি (IPS) বা কোয়াডের(QUAD) এসব নানান নামে আমেরিকার-ইন্ডিয়ার কেবল স্ট্রাটেজিক সম্পর্ক ধরে রেখেছিল। কিন্তু সেটাও তেমন কোন ফল দিচ্ছে না বলে আমেরিকান মনে করা পারসেপশন শুরু হয়েছিল। কারণ, আমেরিকা এসব স্ট্রাটেজিক সম্পর্ক থেকে একটা সামরিক জোটে এটাকে রুপান্তরের পদক্ষেপ নিতে চাচ্ছিল। আর তা থেকেই তাল কেটে যাওয়া শুরু হয়। তাই ট্রাম্প আমলে এসে এসব শেষ। উলটা ট্রাম্পের ৫০-১০০% শুল্ক ছাড়া কথা নাই। তবু ইন্ডিয়ার স্বপ্নের পোলাও হয়ে থেকে গেছে সেই ২০০৭-১৬ সালের দিনগুলো যদি ফেরত পাওয়া যেত!!! এর পিছনের বড় কারণ হল ২০১৩ সাল থেকে ইন্ডিয়ার ধরেই নিয়েছিল নীতি-পলিসি সাজিয়ে ফেলেছিল (এমনকি কোন কোন স্কুলে বাচ্চাদের শিখিয়েও ফেলেছিল তাদের প্রধান শত্রু এখন পাকিস্তান নয় চীন) যে  রাইজিং চীনের সাথে ইন্ডিয়ার আর সম্পর্ক-ব্যবসা-ঋণ লাগবে না। তাই এই উলটা প্রকাশ্য বিরোধিতা করত এই ভেবে যে  এটা করে দেখাতে পারলে আমেরিকা খুশি হয়ে আবার যদি ফিরে!!!  সেই কল্পনা-লোভ ইন্ডিয়ার চোখে চকচক করে উঠে! যদি তা কল্পনা মাত্র!
    এখনকার বাংলাদেশে ‘আমেরিকান রাষ্ট্রস্বার্থ প্রতিনিধির নাম ইউনুসঃ এটা ইন্ডিয়ার জন্য অকল্পনীয়
    এখন একালে এসেও যদি সেই আমেরিকা বলতে আমেরিকান রাষ্ট্রস্বার্থ প্রতিনিধির নাম ইউনুস হয়যে বাংলাদেশের পরিচালক (আধা ক্ষমতার হলেও) হয়ে ফিরে আসে? যদি বলে আসামসহ ইন্ডিয়ার নর্থ-ইস্টকে বঙ্গোপসাগরে যেতে হলে আমাদের সাথে কথা বলতে হবে; কারণ আমরা বঙ্গোপসাগরের গার্ডিয়ান!!!!
    সেক্ষেত্রে স্বভাবতই মোদি এই নয়া ইউনুস ঠেকাতে বলবে বাবা তারেক তুমিই আমার আসল বাবা,তুমিই একমাত্র বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর হকদার হয়েই থাকো; আর আমি তো আছিই তোমার সাথে। আর তুমি বললে ত আমি কালকেই হাসিনাকে ইন্ডিয়া থেকে বের করে দিচ্ছি তুমি চিন্তা করো না। আর মনে মনে ইন্ডিয়া নিজেকে বলছে কল্পনা করছে এই আমেরিকান ইউনুস-খলিল যেন বাংলাদেশের ত্রিসীমানায় না দেখি! সেটা কী আল্লাহ দিবে?
    তবু কথা শেষ হয় নাই। ইন্ডিয়ার আবার ভয়ও হয় যদি ইউনুসের প্রভাবের সামনে না তারেক পা পারে, ফেল করে, পেরে না উঠে?

    এই চিন্তা করে দীনেশ ত্রীবেদীর সার্গিও গরের সাথে দেখা করে একটা অনুরোধ – বাংলাদেশে যাই করেন ওস্তাদ – ইউনুস-খলিলের এই দুজনকে বাংলাদেশের ক্ষমতার সাথে রেখে কোন ব্যবস্থার চিন্তা কইরেন না! আপয়ার দোহাই লাগে…..

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    ০২ আগষ্ট ২০২৬

     

  • বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ইসলামের চার খলিফার নামে চার নয়া কোম্পানীর নামকরণ এক স্বাভাবিক কাজ

    ইসলামের চার খলিফার নামে  সেনা-কোম্পানী নাম রাখা এক স্বাভাবিক কাজ
    গৌতম দাস
    ০৩ জুলাই ২০২৬
    https://wp.me/p1sCvy-6zT

    বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ইসলামের চার খলিফার নামে চার নয়া কোম্পানীর নামকরণ করেছে। ত এতে কাদের জ্বলে যাচ্ছে? কারা ওরা? বাংলাদেশ ভুখন্ডটাই কি ইন্ডিয়ার সম্পত্তি? যে তাদেরকে খুশি করে মন জুগিয়ে আমাদের চলতে হবে? একটা সেনাবাহিনী পরিচালনা করার ক্ষেত্রে এর ভালমন্দ বা বিবেচনাযোগ্য ফ্যাক্টরগুলো আমল করা আমাদের চেয়ে ভাল কে বুঝবে? ইন্ডিয়া? প্রগতিশীল হিন্দুত্ববাদ অথবা যারা আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের বিরোধী?

    Brahmos Missile  এটা কাদের?
    বাংলায় লিখলে এটা হল ‘ব্রহ্মোস’ ক্ষেপণাস্ত্র! মানে ‘ব্রহ্ম’ নামের ইন্ডিয়ান মিসাইল এর নাম এটা। এখন ব্রহ্ম মানে কি? বা কে?
    তিনি হলেন হিন্দু ধর্ম অনুসারেঃ দুনিয়া সৃষ্টির দেবতা; তাই অনেকটা স্বর্গের দেবতাদের দেবতা ধরণের এক ধারণা। তাই সেকারণে, তাদের ভাষায়, পৌরাণিক কাহিনীতে ব্রহ্মাস্ত্র বলে এক অস্ত্র এর কথা আছে যা তাদের ভাষ্যে “সবচেয়ে শক্তিশালী এক অস্ত্র যা স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা কর্তৃক নির্মিত সবচেয়ে শক্তিশালী ও ধ্বংসাত্মক অস্ত্র”।
    এখন সেখান থেকে ইন্ডিয়ার আবিস্কৃত ও ব্যবহৃত এক মিসাইল এর নাম তারা রেখেছে ‘ব্রহ্মোস’ বা Brahmos Missile!
    এখন ইন্ডিয়ান আর্মি চন্দন নন্দী-দের কাছে ব্রহ্মা এক স্বয়ং ভগবান গণ্য হতেই পারে। ফলে,  ওরা মিশাইলের নাম ‘ব্রহ্মোস’ রাখলে সেক্ষেত্রে চুলকানির বদলে তাদের বুক ফোলানো গর্ববোধ হতেই পারে! কিন্তু সাবধান – স্বাধীন সাবভৌম বাংলাদেশের দিকে আঙুল উঠাবেন না আপনার! সেক্ষেত্রে আপনাদের আঙুল ভেঙ্গে দেয়া ছাড়া আমাদের কিছুই করার থাকবে না!

    আরো কথা বলার আগে ছোটভাই শিশির [ফ্যাক্টস চেকার ওয়েব সাইট THe dessent এর পরিচালনাকারী] কে বিরাট এক ধন্যবাদ জানাতে চাই। বুক ফুলিয়ে তাদের একাজ করার জন্য!
    এনিয়ে তার সাইট এক লম্বা রিপোর্ট করেছে যেখানে, ইন্ডিয়ান সেনাবাহিনীতে এমন পৌরাণিক বা হিন্দু ধর্মীয় কারেকটারের নামে নাম রাখা কত কি কি আছে এর একটা ছোট তালিকাও সেই রিপোর্টে দেয়া আছে। আগ্রহিরা দেখে নিতে পারেন! প্রগতিশীল=হিন্দুত্ববাদীরা দেখতে যেয়েন না লজ্জা থাকলে লজ্জা পেতে পারেন!

    বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়ে কিছু কথা!
    এখন সবশেষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়ে কিছু কথা! এককথায় আমাদের সেনাবাহিনীর পরিচালনায় এর সুবিধা / অসুবিধা বিবেচনা একান্তই আমাদের নিজের। এতে আমরা সীমানার বাইরের বা ভিতরের যারা ইন্ডিয়ান স্বার্থের প্রতিনিধি মানে ইন্ডিয়ান স্বার্থের ভিতরে যারা নিজ ব্যক্তিস্বার্থ দেখে – এমন দেরকে আমাদের সেনাবাহিনী নিয়ে কোন কিছুই বলতে এলাও করতে চাই না, করব না; করতেই পারি না। তাই করবই না! তাদের ভালর জন্য বলছি আপনারা নিজ নিজ স্বার্থে এই ইস্যুতে দূরে থাকেন!

    এটা খুবই স্বাভাবিক আমাদের সেনাবাহিনী পরিচালনা করতে গিয়ে আমাদের আভ্যন্তরীণ যেসব বিবেচনা মাথায় রাখতে হয় সেসব একান্তই আমাদের। এটা আমাদের সার্বভৌমত্ববিরোধী কারও সাথে শেয়ার করার কিছু নাই। তা একেবারেই অপ্রয়োজনীয়! কাজেই আমরা কেন চার খলিফার নামে আমাদের সেনাবাহিনীর নয়া কোম্পানীর নাম রাখব সেটা একেবারেই আমাদের আভ্যন্তরীণ যেসব বিবেচনা ফ্যাক্টর!
    সেনাবাহিনী আমাদের সমাজের একেবারে বাইরের কেউ না, কোন প্রতিষ্ঠান নয়। এমন বোকা অনুমানের কোন ভিত্তি নাই! কাজেই সমাজ বিচ্ছিন্ন এমন কোন কিছু করে আমাদের সেনাবাহিনী কাঠামো গড়তেই পারি না। তাই, এর মধ্যে আমাদের সামাজিক, ধর্মীয়, এবং সর্বোপরি (প্রাকটিসিং কালচারের) সংস্কৃতির ছাপ থাকবে; শুধু তাই না তা এমনটাই রাখতে হবে এটাই স্বাভাবিক। এককথায় তাই, সেক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর ভিতরের সংস্কৃতি আমাদের সামাজিক সংস্কৃতিরই এক্সটেনডেড অংশ গণ্য হবে। সমাজ বিচ্ছিন্ন তো একেবারেই নয়, আবার কোন অতিরিক্ত বা বাড়াবাড়িও নয়। এককথায়, আমরা আমাদের সেনাবাহিনীকে ধর্মচর্চার বাইরে বা বিচ্ছিন্ন করে রাখতেই পারি না; আবার বাড়াবাড়িও করতে পারি না যা বাহিনীর মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থি! এই মৌলিক তত্বগত দিকটা ছাড়া আর অন্যকিছু আমাদের প্রকাশ্যে আম-জনতার সাথে ওপেন আলাপের কিছু নাই! তাই সীমিতভাবে সেটাই করছি তাও এজন্য যে – প্রগতিশীল=হিন্দুত্ববাদীরা – এদের কারণে আমাদের ভিতরে যেন কেউ বিভ্রান্তি ছড়াবার সুযোগ না নিতে পারে!  
    দীর্ঘদিন আমি আফ্রিকায় জাতিসংঘ মিশনে কাজে থাকার জন্য আমাদের সেনাবাহিনীর আভ্যন্তরীণ গঠন এর ভিতরের গৌরব করার দিক এর স্টেন্থ বা শক্তির এবং সাধারণভাবে চ্যালেঞ্জগুলো বা এর ভালমন্দ অনেক কিছুই আমার কাছে উন্মুক্ত! আমার আগ্রহ ও কমপক্ষে টানা  দশবছরে আমাদের সেনা ভাইদের সাথে উঠাবসা লাইফ শেয়ার এর ফলস্রুতির কারণেই এসব আমার জানা! অতএন এর উপর দাঁড়িয়ে,  আমি বুক ফুলিয়ে সার্টিফাই করতে পারি ধর্ম প্রসঙ্গে আমাদের সেনাবাহিনীর গঠন কাঠামো খুবই বিচক্ষণ একটা কাজ হয়ে আছে! গঠন কাঠামো নিয়ে এই প্রসঙ্গটা এলেই আমার (প্রেসিডেন্ট ও) জেনারেল জিয়াউর রহমানের নাম মনে আসে – যিনি তার আমলে বসেই বহু আগামিদিন  আগেই দেখতে পেতেন – পেয়েছেন আর এর ছাপ রেখে গেছেন! তাই অজান্তেই যেন সবসময় মাথা ঝুকিয়ে সালাম করে ফেলে থাকি!
    বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জিন্দাবাদ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব জিন্দাবাদ!
    আমাদের সেনাবাহিনী, সার্বভৌমত্ব আমাদের এক্তিয়ার!

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    ০৩ জলাই ২০২৬

  • তারেক সরকারের চীন সফর; কোথায় দাঁড়ালো? ‘আগষ্ট বিপদ’ কতদূর?

    তারেক সরকারের চীন সফর; কোথায় দাঁড়ালো? ‘আগষ্ট বিপদ’ কতদূর?
    গৌতম দাস
    ২৮ জুন ২০২৬
    https://wp.me/p1sCvy-6zp

    President Xi Jinping meets with Bangladeshi Prime Minister Tarique Rahman 

    বহু আলোচিত, প্রতীক্ষিত তারেক জিয়ার চীন সফর শেষ হয়েছে। বাস্তব পরিস্থিতি মানে দেশি ও বিদেশিস্বার্থগুলো আর মোটের উপর আমাদের পাবলিক আশা-আকাঙ্খা একটা চরম চূড়ায় উঠেছিল এই সফরকে কেন্দ্র করে। মানে এই সফর ফলাফল কী নিয়ে আসে তা সকলের নিজ নিজ বুঝাবুঝির ফ্রেমে ফেলে তা দেখতে, বুঝে নিতে প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। এখন সরাসরি প্রশ্ন হল, এই আকাঙ্খাগুলো কতটা পূরণ বা আশ্বস্ত হল?

    এর জবাব নিয়ে কথা শুরুর আগে দুভাগে ভাগ করে নেই বলবার সুবিধা করার জন্যঃ প্রথমটা যা ‘এখনই আমরা দেখতে চাই’ আর অপরটা হল, যা বুঝি এসব ‘এখনই’ চাওয়ার জিনিষ না তবে এর স্বপক্ষে আশ্বস্ত হওয়ার মত লক্ষণ, বাস্তবতা এই সফর-আলোচনা থেকে উঠে এসেছে এমন অনুভব পেতে চাই! এর মধ্যে আবার প্রবল আগ্রহের ইস্যু ছিল স্ট্রাটেজিক-সামরিক সম্পর্ক বিশেষ করে, আমাদের চীনা বিমান বহর পাওয়া!

    এবার আমি যেভাবে বুঝেছি, এককথায় সে জবাব হল, যা “এখনই দেখতে চাই” সেসব কিছুই এই সফর থেকে আশ্বস্ত হবার মত পাওয়া যায় নাই। পাবলিকলি, আমার জানা নাই! যেমন, এমন ইস্যু হল, সংসদে এখন বাজেট সেশন চলছে – “বাজেট সহায়তা” কি পেয়েছি – পাচ্ছি? এর কোন নগদ প্রতিশ্রুতি?
    আমরা মিডিয়ায় কোথাও এনিয়ে কোন সরাসরি কিছু ত নয়ই বরং ইঙ্গিতও কিছু দেখি নাই। এটা নিশ্চয় লজ্জা পাওয়া বা লজ্জা না-পাবার বিষয়ই নয়, আমাদের ইমিডিয়েট প্রয়োজনের বিষয় নিয়ে চীনের সাথে একফাঁকে সরাসরি আলাপ তোলা – এটাই ত স্বাভাবিক! কিন্তু এমন কোন আলাপের চিহ্ন আমরা কোন সফর ফেরত ব্রিফিংয়ে পাই নাই। উলটা খলিলুর সাবের ধমক – ‘আমরা ভিক্ষার থলি নিয়ে যাই নাই। দুই দেশের সম্পর্কে অভিমুখ ঠিক করতে এই সফর। এটা ঠিক হলে বাকিগুলো ভবিষ্যতে আসবে। একটু আত্মসম্মানবোধ রাখেন। এ ধরনের বিব্রতকর প্রশ্ন করবেন না।‘
    কিংবা তিনি বলছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে সেখানে যাননি। তিনি গেছেন দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা প্রতিষ্ঠার জন্য। আমরা অন্য জায়গায় পৌঁছে গেছি, এটা বিশ্বাস করুন।’
    পেটে ভাত / বাজেট নাই বাস্তবতায় এলিট ভাব ধরা আমেরিকান প্রতিনিধির এভাবে পাবলিককে ধমক নিয়ে নিজ অযোগ্যতা ঢাকবার চেষ্টা স্বাভাবিক মনে হতেই পারে!  নাকি আসলে এটাই তাঁর সাফল্য!!! যে বাংলাদেশকে [হাসিনার মত বাজেট দিতে না পেরে সেই অযোগ্যতার পরিস্থিতিকে রাজাকারের নাতিপুতির মামলা হিসাবে ঘুরায়ে দেয়া আর পরিণতিতে] পলায়ন / পতনে ফেলতে পারছেন বলে হয়ত তিনি অন্তরে খুশিও হতে পারেন! তা এই ভেবে যে খুবই সফল্ভাবে তিনি বাংলাদেশ-চীনের হবু সম্পর্ককে ফেইল করিয়ে দিতে পেরেছেন?  তাই কী?

    খলিলের এধরণের বক্তব্য/ আচরণ খুবই বিরক্তিকর, আপত্তিরও! খলিল সাব কী বলতে চান আমাদের এবারের বাজেট করার মত অর্থ যোগাড়ের কোন সমস্যাই এই সরকারের নাই? নাকি চীন বাদে মানে চীনকে ছাড়াই বিকল্প “বাজেট সহায়তার” অর্থ ম্যান্ডেট খসরু করিতকর্ম দেখিয়ে যোগাড় করে ফেলেছেন??? সত্যি নাকি? বিখ্যাত খলিল সাব কী অস্বীকার করবেন – ২০২৪ সাল থেকে পরপর তিন বছর বাজেট মানে অর্থনীতিতে একটা নুন্যতম বিনিয়োগের অবস্থা কী আমরা এবার তৈরি করেই ফেলেছি?
    খলিল কী জানে, হাসিনা কেন কোন অর্থনীতির ফ্যাক্টরে উতখাত/পতন হয়েছিল? জানা থাকলে তাকে অবশ্যই আমাদের জানাবেন আপনি! কিছু “ধান্দাবাজ ছাত্রনেতা” আমেরিকার প্রতিনিধি ইউনুসকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিয়েছিল আর তাতে বিনা কসরতে আপনারও বিরাট কুতুব হয়ে ঐ সরকারে জেঁকে বসার এই মহান সুযোগ হয়েছিল, এটা সবাই জানে! এতা খাইওতেছেন খাইয়া লন যতদিন পারেন!  তাতে হাসিনা কেন উতখাত হয়েছিলেন তা জানাবুঝা হয়ে যাবে এমন মনে করার সাথে কোন সম্পর্ক নাই! আপনারা আমেরিকার প্রতিনিধি হতে পারেন কিন্তু সেজন্য হাসিনা পতনের অর্থনৈতিক দিকটা আপনাতেই আপনাদের জানা হয়ে যাবে না। এর চেয়েও বড় কথা (জেনে রাখেন) আপনারা ইউনুস-খলিল গং নিজ মুরোদে ২০২৫ সালের বাংলাদেশের বাজেট হাজির করতে পারেন নাই। সেটাও মনে রেখেন! প্রায় আড়াই বিলিয়ন ডলার এই চীনই বাজেট সহায়তা দিয়েছিল; কিন্তু কাদের কথায়???? আজও জানেন না কেবল বাবা আমেরিকার কাছে ক্রেডিট নিছেন। আমেরিকা বা জাপান কারও থেকেই কোন অর্থ আনার মুরোদ হয় নাই আপনারা আমেরিকান স্বার্থের বীরপুঙ্গবদের! কেবল এনজয় করেছিলেন! সর্বোচ্চ আমেরিকান মালিকানা শেয়ারের IMF-WB থেকে মানে আপনাদের পেয়ারের আমেরিকা বাবা থেকেও ত কোন বাজেট সহায়তা আনতে পারেন নাই! কেন?
    ফলে চীন কেন গতবারও বাজেট সহায়তা দিছিল তাও আপনারা শুধু জানতে চান নাই তাইই নয় এটা যে আপনারা ইউনুস-খলিল গংদের আমেরিকান দালালির অযোগ্যতা আর নিজেদের এতে যে একবিন্দু অবদান নাই  – নিজেদের সে অযোগ্যতার বাস্তবতাও উপলব্দি করেন নাই! তাহলে আপনারা বাংলাদেশের জন্য কারা? নিজেকে জিজ্ঞাসা করেন? আর এভাবে বাংলাদেশের ঘাড়ের উপরে বসে আর কয়দিন চুসবেন? নিজ ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করবেন?

    গতকালের সফর ফেরত তারেক সরকারের মানে খলিলুরের ব্রিফিং এর পর থেকে  পুরা বিষয়টাতেই দেশ একেবারেই এমন হতাশ করেছে যা এনিয়ে যেকোন  আলোচনার উপর একটা বড় প্রভাব রাখবে।

    ঘটনা হল, বাংলাদেশের দিক থেকে দেখলে হাসিনা আমাদেরকে ২০২৪ সালে পলায়নে যাবার আগে পর্যন্ত আমাদেরকে কী বিপদে ডুবিয়ে দিয়ে গেছিলেন?
    তারা মনে করেন, আগষ্ট মাস নাকি হাসিনা গংয়ের বাবাদের চোখে নাকি চরম শোকের মাস! তো সেটা তাদেরই থাক; ওনিয়ে আমাদের আগ্রহ নাই! কিন্তু হাসিনার ২০২৪ সালের পলায়ন/ পতনের দিনটাও কিন্তু ঐ আগষ্টের – ৫ আগষ্ট! শুধু তাই না; পাঠকদের মনে করিয়ে দেই হাসিনার পতনের পিছনের মূল অর্থনৈতিক কারণ ছিল জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি – ইউক্রেন যুদ্ধের উসিলায়! তিনি তেলের দাম বাড়িয়েছিলেন প্রায় ৫০%! আর সে ঘটনাও ৫ আগষ্ট ২০২২ তারিখের। আগষ্টের কী মহিমা! মহিমান্বিত!

    হাসিনা-রএর পত্রিকা ডেইলি স্টার পর্যন্ত পরের দিন এনিয়ে এক সম্পাদকীয় লিখেছিল যার শিরোনাম ছিল তেলের দাম বাড়ানোর ইতিহাসের এক কালো দিন! (A black day in the history of fuel prices)। Record hike in fuel prices

    আর এটা ছিল, হাসিনা যেসব উচুদরের চোর পেলে-পুষে চলত তাদের জন্য শেষ খাওয়া/ লুটে নিয়ে পলায়নের নির্দেশ এর মত! আর তা থেকেই তাদের ব্যাংক লুটের মহোৎসব  (পরে ব্যাংকের কাগজপত্রে মিথ্যা করে যা “খেলাপী ঋণ” হিসাবে দেখানো)। যার বাইরের প্রমাণ হল ডলারের দাম ৮৫-১২৯ টাকায় জাম্প করে উঠে যাওয়া! কারণ, ডলারের এই চাহিদা তো বাজারের স্বাভাবিক চাহিদা ছিল নয়। এটা ছিল লুটেরা অর্থপাচারকারীদের ডলার চাহিদা! চুরি-ছেচড়ামো করে হাসিনা এমন বেপরোয়া ছিলেন যে বুঝতেই পারেন নাই এভাবে তেলের দাম বাড়ানো এটা নিজ ফাঁসির আদেশে নিজ স্বাক্ষর!
    ঠিক তাই-ই হয়েছিল! দুবছরের মধ্যে এসব বেপরোয়া চুরির কীর্তির সোজা ফল হল, অর্থনীতি ভেঙ্গে পড়া যার মূল কারণ – ব্যাংক ব্যবস্থাটাই ভেঙ্গে পড়া! যার বাইরের দিকটা হল ২০২৪ সালের বাজেট করার অর্থের সংস্থান নাই!  এর উপর আবার অর্থ আনতে চীন যাবেন  নাকি ইন্ডিয়া (আশ্রয়স্থল নিশ্চিত করা) যাবেন  এই দোটানায় পরার কারণে চীন একেবারেই খালি হাতে বিদায় করে দিছিল তিনদিনের ভিজিট সিডিউলকে একদিনেই খতম করে দিয়ে!

    এরই সোজা ফলাফল হল,  পরের ৩৬ দিনের মধ্যে হাসিনার পতন/পলায়ন! এটাই ‘আগষ্ট বিপদ’ নামে খ্যাত! 
    কিন্তু আমাদের জন্য গুরুত্বপুর্ণ হল, সেই ২০২২ সাল থেকে আমাদের অর্থনীতি আর উঠে দাড়ায় নাই! এটা ২০২৬ সাল, প্রায় ৫ বছর হতে যাচ্ছে!
    আর খলিল সাব আমাদের ধমকাতেছেন? কেন? কোন সাফল্যে????

    তো বলেন খলিল সাব  আমাদের বাজেটের কী হবে? বলেন ৎ দেখি বাজেট করার ক্ষেত্রে আমাদের মূল সমস্যাটা কী? আপনি ত ধমকায়ে দিলেন “আমরা ভিক্ষার থলি নিয়ে যাই নাই। দুই দেশের সম্পর্কে অভিমুখ ঠিক করতে এই সফর।”-মানে যেন এক অবিবাহিত বাউন্ডলে পুরুষের বোকাস্বপ্ন যে  – “হবে ছাওয়াল ডাকবে বাপ তবেই জুড়াইব মনের তাপ”? মানে যার বিয়ে হবে কিনা কোন চাকরি বা কিছুর খবর নাই সে সন্তানের বাপ হলে কী সুখ হবে সেই স্বপ্ন দেখতেছে? বাংলাদেশ যদি নুন্যতম অর্থনৈতিকভাবে খারা হতে না পারে  তবে “চীন-বাংলাদেশের অভিমুখ” –  ঠিক করার লম্বা সময় কী তার হাতে আছে? এটা ত মসকরা! নাকি এর আগেই অর্থনীতি ফেল করবে, দুর্ভিক্ষ অবস্থায় পড়বে, সরকার টিকবে না খবর নাই এটা কী টপ প্রায়োরিটি নয়? আপনি কোন বাস্তবতায় আছেন? আপনি কী চাচ্ছেন বাংলাদেশ-চীনের সম্পর্কটা বাস্তবে না খাড়া হোক – ট্রাম্প বাইডেন দের স্বপ্ন পূরণ হোক? বাস্তবতা অস্বীকার করে  একারণে ধমকাতেছেন?
    ওদিকে বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল সংকট খেলাপী ঋণ উদ্ধার না হওয়া! ইউনুস-খলিল গং পাক্কা দেড়টা বছর এই ইস্যুতে হাতই দেন নাই। কেন? বাংলাদেশ-চীনের সম্পর্কটা যেন ফেল করে? এটাই কী আপনাদের লক্ষ্য? সফর থেকে ফিরেই ইউনুসের কাছে গেছিলেন কেন? রিপোর্টিং করতে?
    তিনি ত নয়া দোকান খুলেছেন “তিনশুন্য” বলে? সেখানে আপনার কী কাম? আর সেখানে যাবার আগে প্রধানমন্ত্রীকে বলে গেছিলেন? ক্ষমতার দেড় বছরে তিনশুন্য কোথায় ছিল? আবার সাথে বেধে নিয়ে গেছিলেন আশিককে? মনে হইতেছে আপনি দুই স্বামীর ঘর করতেছেন! তাই দুজায়গায় রিপোর্টিং?
    আচ্ছা ইউনুস ত মূলত অর্থনীতিবিদ! তিনি কী জানতেন না যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে খাড়া করা না গেলে বাংলাদেশে কিছুই করা সম্ভব নয়? যেখানে মূল সমস্যাটাও হল, খেলাপী ঋণের নামে চুরির কারণে বাংলাদেশের ব্যাংক ব্যবস্থাটাই ভেঙ্গে পড়েছে? তাহলে এনিয়ে তিনি দেড়টা বছর কোন পদক্ষেপ নিলেন না; ফেলে রাখলেন কেন?
    তাহলে আপনি নিশ্চিত বাংলাদেশ-চীনের সম্পর্কটা যেন ফেল করে? আপনি তা ফেল করাবেনই?

    আমি সরি, আপনি পারবেন না? 
    ইউনুস ২০২৫ সালে চীন সফরে গেছিলেন, তারেকের মতই চারদিনের সফরে। তিনি মেলা খাতির পেয়েছিলেন! কিন্তু আজও তিনি জানেনই না কেন পেয়েছিলেন? সেটা এখন আর তেমন কিছুই নাই কেন?
    কিছু সোজা কথায় আসি! চীন-বাংলাদেশ সংযোগ [সড়ক বা ট্রেন] এর আলাপ প্রস্তাব চীন দিয়েছে কেন? কারণ এটাই আপনার মানে আপনাকে টেস্ট কেস?
    আপনি ইতোমধ্যেই এটাকে আপনার (আমেরিকান স্বার্থের আরাকান করিডোর) প্রস্তাব-পরিকল্পনার সাথে কমন পরে গেছে তাই?
    আপনি কী জানেন এই প্রস্তাব নতুন না ২০১৩ সালেরও আগের? যেটা ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ-বার্মা-চীন এই সংযোগ সড়কের আলাপ ছিল? যেটা ইন্ডিয়া ভেঙ্গে দেয়। দিয়ে কেবল, ইন্ডিয়া -বার্মা- বাংলাদেশ করতে চায়?
    আপনি এখানে শিশু! চীনের সক্ষমতা, বুদ্ধির কাছে। চীনারা আগাম গবেষণা চিন্তা-ভাবনা না করে হঠাত করে কিছু বলে না, নিশ্চিত থাকতে পারেন!
    শেষ কথাটা বলে শেষ করি; পরিশেষে  বাংলাদেশ-চীনের সম্পর্কটা হবেই। আপনি ফেল করাতে পারবেন না। তবে ততদিনে আপনি থাকবেন না! তারেক সরকার থাকবে কিনা তা তারেকের বুদ্ধিমত্তা, মানে সঠিক সময়ে সঠিক কাজ করতে পারার উপর নির্ভর করে। এনিয়ে নতুন করে আরও বলার কিছু বাকি নাই! আমি যতটুকু আগামিটা নজর বা আন্দাজ করতে পারি সেই সাপেক্ষে বললাম!
    তবে আপনি কেন বুঝেন না আপনি এখানে এভাবে মিসফিট!

    আপাতত এখানেই……

    নিচের অংশটা নতুন এখন যোগ করছিঃ
    যারা চীনের সাথে আমাদের স্ট্রাটেজিক-সামরিক চুক্তি বিশেষ করে যুদ্ধবিমান পাবার চুক্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন তাদেরকে একটা ইঙ্গিতপুর্ণ কথার যোগসুত্র ধরায় দেই।
    আচ্ছা, বাংলাদেশে ছোট-বড় মিলায়ে প্রায় সাতটা লালমনিরহাট-সহ নয়া বানিজ্যিক এয়ারপোর্টের আলাপ এটা কীভাবে কখন কোন সরকারের আমলে (বা সফরে) হয়েছিল তা কয়জনের জানা আছে?
    আবার আমরা চীনা যুদ্ধবিমান কিনতে যাচ্ছি তা কবে কিভাবে আপনি জানলেন? আর সেটা কোন সফরে চুড়ান্ত হয়েছে?
    আমি নিশ্চিত আপনারা প্রায় কেউই তা সঠিক বলতে পারবেন না। এর এক নাম্বার উত্তরঃ এটা ইউনুসের আমলে কিন্তু ইউনুস এর বিন্দু খানিকটাও জানে না! ব্রডলি কিছুটা আন্দাজ করা ছাড়া।
    আসলে, সামরিক বিষয়ক এমন আলাপ/চুক্তি কখনই আমরা পাবলিকলি করি না। সাধারণত এটা সরকার প্রধানের সফরের সময়কালে ঘটে। তবে্‌ তবে……। আমাদের যে সামরিক প্রতিনিধি এর প্রধান হিসাবে এর সফর করে থাকেন তিনি সরকারি প্রতিনিধির সাথে যানই না। তিনি আলাদা যান। একদিন আগে / পরে আর একদিন আগেই ফিরে আসেন। আর জনগণের সরকার প্রধান হলে, তিনি ডিটেল বা মোটামুটিভাবে জেনে থাকেন। কিন্তু চুক্তির বিষয়টা সামরিক ঘেরটোপের মধ্যেই থেকে যায়।
    যেখানে ছেচড়া র-এর লোকে দেশটা ভর্তি; কে কখন প্রগতিশীলতার নামে কাকে কী তথ্য দিয়ে দেয় সেখানে আমাদের পাবলিকেরও কম কম জেনে থাকাই ত ভাল; মোটামুটি জানলেই ত হয়!
    অতএব যে যাই বলুক সব ঠিক চলছে; আগাচ্ছে! চিন্তার কিছু নাই!

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক

  • এবারের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের তামাশাগুলো

    এবারের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের তামাশাগুলো
    গৌতম দাস
    ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫   বিকাল ৫ঃ ১৭
    https://wp.me/p1sCvy-6yb

     

    [এই লেখাটার পিছনে একটা দুঃখের কাহিনী আছে। সংক্ষেপে বললে, এলেখা দুদিন আগে আমার সাপ্তাহিক লেখা হিসাবে দৈনিক যুগান্তরে পেশ করা হয়েছিল, ছাপানোর জন্য। কিন্তু সম্পাদকীয় বিভাগ এটা সেদিন থেকে ছাপতে পারছিল না। অবশেষে আজ বিকালে আমাকে জানায় দিল তারা আর আমার লেখা ছাপতে পারবে না। না আমার এই লেখার বিষয় কী বা শিরোনাম কী ইত্যাদি সেটা কোন প্রশ্নই নয়। প্রশ্ন হল আমি নিজেই।  গৌতম দাসের কোন লেখা তারা ছাপতে পারবে না। অনুমানে যে ধারণা পেলাম কোন রাজনৈতিক দলের আপত্তি! মানে এরা ক্ষমতায় আসীন না হলেও হওয়ার আগেই তারা সেনসরশীপ বা মিডিয়া ডিকটেশন চালু করে দিয়েছে। অর্থাৎ হাসিনা ফিরে না আসলেও ইউনুস ক্ষমতায় থাকতে থাকতেই নয়া হাসিনারা একটিভ হয়ে গেছে! রক্তের ফোঁটা এখনও ঝড়ছেই এর আগেই পুরানা জমানা আসন ফেলে বসে গেছে। এনি ওয়ে। তাই সে লেখাটাই কোন কিছু না বদলিয়ে এখানে এখনই হুবহু ছাপিয়ে দিলাম। ]

     

     

    প্রতিবছর সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহের কয়েকদিন ধরে জাতিসংঘের জেনারেল এসেম্বলি বা সাধারণ পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হবে নির্ধারিতই থাকে।যেকোন আম-সদস্যরাষ্ট্র এখানে এসে ঐসময়েই একমাত্র বক্তব্য রাখতে ইচ্ছা প্রকাশ করলে তা করতে পারেন।
    এটা প্রতিবছর সাধারণত সেপ্টেম্বর মাসের (দেখা যায় মাসের ২০ তারিখের) পরের মঙ্গলবারে চালু হয়ে থাকে। সাধারণ পরিষদ মানে যেখানে (১৯৩ মোট সদস্যরাষ্ট্রের যেকোন) সাধারণ সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধি ঐ সময়েই কেবল উপস্থিতি হয়ে তার বক্তব্য রাখতে পারে। একটু সাথে বলে রাখা ভাল এটা সাধারণ পরিষদ হলেও অন্য এক জাতিসংঘ ফোরাম মানে – “সর্বোচ্চ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের” পরিষদ এটা নয়। সেটা জাতিসংঘেরই আরেকটা ফোরাম / কমিটি আছে যার নাম ‘সিরিউরিটি কাউন্সিল’ বা নিরাপত্তা পরিষদ; যার মোট সদস্য ১৫। এর মধ্যে আবার পাঁচটা স্থায়ী বা ভেটোক্ষমতা-ওয়ালা রাষ্ট্র আর বাকি দশটা ভৌগলিক বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঐ অঞ্চলের সদস্যরাষ্ট্রের সমর্থনে নির্বাচিত প্রতিনিধি এমন সদস্যরাষ্ট্র, যারা রোটেশনে একেক সময়ে একেকটা রাষ্ট্র সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসে। আর ওদের আয়ু থাকে সুনির্দিষ্ট দুই বছর। আর এই নিরাপত্তা পরিষদে দুইটা বৈশিষ্ট মেনে চলতে হয়। এক মোট নয় সদস্য একদিকে হলেই সেই সিদ্ধান্ত বলে গৃহিত হয়েছে ধরা হয়। আর দুই. সেটা হল আরেক সাধারণ বৈশিষ্ট যে, নিরাপত্তা পরিষদের ভেটোক্ষমতার কোন একটা সদস্য যদি ‘না’ করে দেয় তো সেই প্রস্তাব আর আলোচনাই হবে না; সিদ্ধান্ত তো অনেক দুরের কথা। জাতিসংঘের যেকোন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার একক বডি হল এই নিরাপত্তা কাউন্সিল; যার উপর কথা নাই। আজকের মূল প্রসঙ্গ সাধারণ পরিষদ কিন্তু আমি সাথে তুলনার জন্য ‘নিরাপত্তা কাউন্সিল’ এর কথাটাও জানায় রাখলাম।
    আমাদের প্রধান নির্বাহি ডঃ ইউনুস এবার ২১ সেপ্টেম্বর রাতেই ঢাকা ছেড়েছিলেন সে এক বড় লটবহর নিয়ে যা প্রায় হাসিনার মতই। তফাত খালি তিনি ব্যক্তিগত ঘোড়ায় মানে ‘বাংলাদেশ বিমানে’ চড়ে যান নাই যে বাসায় ঢুকার আগে বাইরের দরজায় ঐ সাত / দশদিন খামোখা ঘোড়াটা বেধে রাখবেন। বাণিজ্যিক বিমানেই গিয়েছেন। যদিও তিনি বাংলাদেশ বিমানের বাণিজ্যিক ফ্লাইটে গিয়ে আর কেবল ঘোড়া দরজায় অচল বসিয়ে না রাখলেই হত – এমন করতে পারতেন।
    এছাড়া এবারের সফরসঙ্গির সংখ্যা দৃষ্টকটু আর হাসিনার মত বাহুল্যই মনে হয়েছে। এনিয়ে কথাও শুরু হয়েছে। টিআইবি নামের এনজিও যারা নিজেকে সততার মূল দোকান মনে করে তারা সফরসঙ্গি ১০০ এর কাছাকাছি হওয়াতে সমালোচনা করেছে। যদিও অপরজন দাবি করছেন সংখ্যাটা ৬২ আর সেটাও গত বছরের সংখ্যা ৫৭ – মানে এর চেয়েও বেশি।  এবার ইউনুসের উপদেষ্টা বা সমতুল্য প্রধান সহকারিরা মিলিয়ে প্রায় দশজন সাথে গিয়েছেন।
    এককথায় বললে বাংলাদেশ সরকারের কাজেকর্মে হাসিনা যেসব কুঅভ্যাসে যেসব ভাইস বা পাপের জীবানু ঢুকিয়ে বা চালু করে দিয়ে গেছেন সেটা মন্ত্রণালয়ের ঘুষ থেকে শুরু করে সবকিছুতেই – এর কিছুই পরবর্তি একালে সহজে আমাদের পিছু ছাড়ছে না। বরং সেটাই “মডেল” হয়ে গেছে দেখা যাচ্ছে।

    এদিকে গতকাল ছিল ইউনুসের বক্তব্য রাখার পালা। সেখানে “ত্রি-জিরো” টাইপের উদ্বুদ্ধকরণ প্যাচাল বা মিথ্যা উত্তেজনা তৈরি এবার কমই ছিল বলা যায়। কিন্তু রোহিঙ্গা ইস্যুতে কচলানি, হাতিঘোড়া মারার কথা এবার দূরে থাক দেশে রোহিঙ্গা পালবার যে খরচ এর কিছুই তিনি এখনও জোগাড় করতে সক্ষম হন নাই; স্বভাবতই।
    ইউনুস-খলিল এর বিশেষত মহামান্য খলিল সারাজীবন ইউএন কম্পাউডে চক্কর কাটা লোক হলেও আমেরিকান প্রেসিডেন্টের ঘোষিত পলিসিও স্টাডি করার যোগ্যতা তাঁর নাই; তিনি প্রমাণ করেছেন তিনি এব্যাপারে খামোখা! এরই শোচনীয় পরাজয় আমরা দাড়ায় দাড়ায় দেখেই চলছি। তাদের কাছে আমেরিকা মানে যেন একই আমেরিকা যেটা সেই ১৯৪৫ সাল থেকে চলে আসে আমেরিকা।  আর তাতে আমেরিকা কী খেতে বা খাবলা দিতে ভালবাসে সে অনুযায়ী মন যুগিয়ে বা যোগাড় করে দেওয়াটাই প্রেসিডেন্টের প্রশাসনের চোখে পড়া আর ইউনুস-খলিলদের কেউকেটা হওয়ার সহজ পথ!
    একাজটা যে অনেক সহজেই করা সম্ভব যদি তারা হবু প্রেসিডেন্ট নির্বাচনি প্রচারণার সময় থেকেই যেসব মৌলিক পলিসি বা গাইডলাইন তাঁরা হাজির করেন সেটা স্টাডি করার; আর এটাই সঠিক এক একাদেমিক / প্রফেশনাল এপ্রোচ সেটা ইউনুস বা খলিল কখনও বুঝেছেন তা মনে হয় না। তাদের লাইন হল তারা থিঙ্কট্যাংক, প্রভা্ব ফেলা কর্তকর্তা আর লবির খাতিরদারির জগতেই লেপ্টে থাকতে চান। এর বাইরে প্রেসিডেন্টের পলিসি বুঝবার যে আসল পথ আছে তা কখনও তারা আমল করেছেন মনে হয় না।
    যেমন, ইউনুস-খলিল মনে করেছেন আমেরিকাকে বার্মা-আরাকান দখল করিয়ে দিয়ে তারা আমেরিকার কাছে বিশাল কুতুব-প্রিয়পাত্র হবেন সহজেই! অথচ তাদের যে পলিসি স্টাডিরই মুরোদ নাই তা এখনও টের পেয়েছেন মনে হয় নাই। তারা স্বপ্ন দেখেছেন রোহিঙ্গাদেরকে পরবর্তি ঈদের আগেই তারা ফেরত পাঠিয়ে যার যার বাড়িতে তারা বাবা-মায়ের করব জিয়ারত করার সুযোগ করে দিয়ে পারবেন।
    অথচ কেউ ট্রাম্পের পলিসি স্টাডি দূরে থাকে সেটা খুলেই দেখেন নাই।

    সবাই কান খুলে শুনে রাখতে পারেনঃ ট্রাম্পের প্রকাশিত মৌলিক পলিসি হল তিনি নিজ রাষ্ট্র পরিচালনার খরচ জবরদস্তিতে হলেও কমাবেনই। এরই অংশ হিসাবে তিনি ইউএসএইড যে সরকারী সংস্থা দিয়ে সরকার লিল্লাহে-দান খয়রাত করে সেই সংস্থা প্রায় বন্ধই করে দিয়েছেন। শুরুতেই একবারে বন্ধ করেছেন ‘রিভিউ’ এর নামে। পরবর্তিতে কোন এনজিওকে আগের মত আর দান-খয়রাত ফিরে চালু করেছেন জানা যায় না।
    আর এরই সোজা প্রভাব হল, রোহিঙ্গাদের এখন ফেরত পাঠানো দূরে থাক, তাদেরকে বাংলাদেশ বছরে খাওয়াবার যে বাজেট সেটাই এখন মাত্র ৩৫% আদায় বা প্রতিশ্রুতি যোগাড় করতে পেরেছেন ইউনুস-খলিল!!! আর বাকি অর্থ? ট্রাম্প আর অর্থ দিবেন না জানিয়েছেন। মানে বছরের বাকি দিন কী রোহিঙ্গারা না খেয়ে কাটাবেন? হা বাস্তবতা প্রায় তাই! উলটা এখানে বিশ্বব্যাংক খুবই সদয়(?)! তারা এই লিল্লাহ মহা পুর্ণীর কাজে বাংলাদেশকে ৪০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ অনুমোদন করে দিয়েছে ঝড়ের গতিতে। এখন বাংলাদেশের জনগন নিজে না খেতে পেলেও রোহিঙ্গাদেরকেই বসে বসে খাওয়াবে! কী মজা না? আমরা কত মহান জাতি!!!!

    আমেরিকান দালাল হতেও যে কিছু পড়াশুনা লাগে; সেকাজে ব্যর্থ হওয়া পড়াশুনা না করা ইউনুস-খলিল এর পাল্লায় পরে আজ আমাদের এই দশা! ট্রাম্পের আমেরিকা ইউনুস-খলিলের দালালিতে আরাকান করিডোর, বার্মার “রেয়ার আর্থ মিনারেল” দখল, চীনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বার্মা দখল রুস্তমি ইত্যাদিতে অন্তত ট্রাম্পের আমেরিকার কোন আগ্রহই নাই! সেটা বেচারা ইউনুস-খলিল দেখতেই পান নাই! উলটা এখন রোহিঙ্গা পালার ৪০০ মিলিয়ন ঋণ দায় বাংলাদেশের আম-জনগণের উপরে! সেটা  ইউনুস-খলিলের এক বিরাট সাকসেস তা মানতেই হবে!  ইউনুস    এর পরেও গতকালের বক্তব্যে ক্ষীণভাবে রোহিঙ্গা ইস্যু এনেছেন এমনকি এবারও রোহিঙ্গা নিয়ে এক গ্লোবাল নেতা সমাবেশ ডেকেছেন জাতিসংঘেই!

    কিন্তু, কিন্তু কিন্তু – কী হবে তাতে????
    দুনিয়ার অবস্থা ট্রাম্পের পাগলামির এই কালে কী তা এবারের জাতিসংঘে খোলে-আম প্রকাশিত! ট্রাম্পের ভয়ে সারা ইউরোপই চুপ! মুখে তালা! ইউক্রেন যুদ্ধ থামা দূরে থাক আবার আরো জোরে শুরু করার দিকে! কে কার কথা শুনে? ধনি-গরীব সব রাষ্ট্রই আগে নিজে বাঁচলে বাপের নাম  – অবস্থায়! এই পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা ফেরতের আলোচনা দূরে থাক; রোহিঙ্গাদের বাতসরিক খাওয়া খরচ নিয়েই কোন কমিটমেন্ট করতে ইউরোপ আগ্রহি নয়!
    এই অবস্থায় ইউনুস-খলিলের গো-ধরেছে যে আরেকবার এটা তৃতীয়বার তারা রোহিঙ্গা ইস্যুতে নেতাদের আবার ঢাকবেন, সরকারী অর্থ সময় ব্যয় করবেন। যারা পড়াশুনা করে না; ট্রাম্পের ঘোষিত পলিসি স্টাডি করতে জানে না, নিজ মুরোদ যোগ্যতার খবর নাই কেবল চোখভরা চকচকে লোভ আছে দালালির – আমেরিকান দালাল হবে, কী করে বাংলাদেশকে আরো ভালভাবে আমেরিকার হাতে তুলে দিবে – এদের পরিণতি তো এমনই হবে!!!

    এবার আসি ট্রাম্পের বক্তৃতায়ঃ
    এককথায় বললে এবার ট্রাম্পের ক্ষমতার বা তার পলিসির সার কথাটা হল – রিভার্স মানে উলটা দিকে হাটা। মানে?
    স্টাডি করলে দেখা যাবে পুরা দুই বিশ্বযুদ্ধ জুড়ে আমেরিকান পলিসি ছিল ঠিক কী করলে গ্লোবাল নেতা হয়ে উঠা যায়। আরেকটু ভিতরে গিয়ে বললে – কী করলে আমেরিকার বিপুল সঞ্চিত সারপ্লাস বিনিয়োগ পুঁজি হিসাবে আমাদের মত দেশকে এর গ্রাহক / ক্রেতা বানানো যায়। কিন্তু সেকালে যার সামনে প্রধান বাধা ছিল সারা ইউরোপের মূলত পাঁচ দেশ  যারা সারাদুনিয়াকে কলোনিদখল করে অর্থনৈতিকভাবে স্থবির করে রেখেছে। কারণ কলোনিদখলের লক্ষ্য কেবল আমাদের মত দেশ থেকে বাড়তি সম্পদ যা আমাদের অর্থনীতি জমা কর যাচ্ছিল সেই বাড়তিমূল্য-সারপ্লাস সমূলে নিজ নিজ মাস্টার দেশে পাচার করা; এরই মহোতসব। আর ততই আমাদের মত দেশ স্থবির – অর্থনৈতিক ততপরতা কমে আসছে।
    এককথায় এই পরিস্থিতিটাই ছিল আমেরিকার গ্লোবাল নেতা হবার খায়েস বাস্তবায়নের সঠিক সময়! আমেরিকা  আমাদের মত দেশ কলোনিমুক্ত স্বাধীন করে আমাদেরকে নিজ বিনিয়োগ-পুঁজির ক্রেতা বানাবে – এমনই এক নীতিতে কিন্তু আমেরিকান নেতৃত্ব-প্রভাবের গ্লোবাল ইকোনমিরীক নয়া দুনিয়ার রূপ দেওয়া ছিল আমেরিকান নীতি।  যা ১৯৪৫ সালে যুদ্ধ সকলেই হেরে বা অধীনস্ত গেলে পরে আমেরিকা গ্লোবাল নেতা হয়ে আসন নিয়েছিল – সেই সাথে দুনিয়া থেকে যুদ্ধ যত কমানো যায় (কারণ যেকোন যুদ্ধ মানেই পুঁজি নষ্ট বা ধ্বংস) এই লক্ষ্যে একটা জাতিসংঘ বানিয়েছিল আমেরিকাস্ন উদ্যোগে যাতে গ্লোবাল পলিটিক্যাল ইন্সটিটিউট বলে প্রতিষ্ঠান একটা শুরু করা যায়।
    ফলে স্বভাবতই গ্লোবাল যত দানখয়রাত এর দায়ও একা আমেরিকাকেই নিতে হয়। এর এমনই মাত্র একটা প্রতিষ্ঠান হল জাতিসংঘের অধীনে বিশ্বখাদ্য সংস্থা (ডব্লিউএফও)। লিল্লাহ না খেয়ে থাকা মানুষকে গম বা খাদ্য দিয়ে সহায়তা করে থাকে। আমরাও এই ডব্লিউএফও এর গম খেয়েই শেখের আমলে বেঁচে ছিলাম!

    কিন্তু ট্রাম্পই প্রথম কোন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট যিনি বলছেন তিনি আর দান-দাতব্য প্রতিষ্ঠান চালাবার দায় নিবেন না। কথাটা অন্যভাষায় বললে, আমেরিকা আর গ্লোবাল অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সবকিছুতে নেতা থাকতেই চাইছে না। সেটা ট্রাম্প কতটা কী বুঝে বলছেন তা নিয়্যে সন্দেহ থাকলেই ট্রাম্পের সারকথা – আমেরিকা রাষ্ট্রের খরচ কমাতেই হবে। এটা ৩৪ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণের বোঝা গ্লোবাল বাজার থেকে ইতোমধ্যে নিজ মাথায় নিয়ে ফেলেছে। সাথে গ্লোবাল বাজারে থেকে নয়া ঋণ (সরকারী বন্ড বিক্রি করা) নেয়ার ব্যবস্থাতেও বন্ডের চাহিদা বা কেনার গ্রাহক মারাত্মক কমে গেছে।
    মানে হল, যেটা পড়তি গ্লোবাল অর্থনীতির নেতা আমেরিকা আর উঠতি চীনের পালাবদল কীভাবে ঘটবে তা নিয়ে দুনিয়াতে প্রবল আগ্রহ জন্মে আছে সেখানে আমরা সকলে দেখছি ট্রাম্প আগেই রণেভঙ্গ দিয়ে আমেরিকাকে ফিরিয়ে নিতে চাচ্ছে। না তিনি ঠিক নেতাগিরি ছেড়ে দিতে চান তা মনে করেন না। তার কথা হল, তিনি রাষ্ট্রীয় খরচ কমাতে চাচ্ছেন তাতে এর অন্য যা যা অর্থ যাই হোক! কিন্তু আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি যে ট্রাম্পের এই নীতি-পলিসি গ্লোবাল নেতৃত্বে ব্যাপক পরিবর্তন যেটা এমনিতেই চীনা নেতৃত্বে আসন্ন সেটাকেই আরো ত্বরান্বিত করে ফেলবে। এছাড়া, সবচেয়ে বড় ফাঁদে পড়ে গেছে খোদ ইইউ যারা এখন একেবারেই দুনিয়াতে প্রভাব রাখার মত কোন নেতা এমন “কেউ না” হয়ে গেছে, আরো যাবে? তারা এখন কীভাবে স্ব স্ব রাষ্ট্রকেই টিকাবে (সারা ইইউ নয়) সেদিকে হাটছে। তাই কোন গ্লোবাল দায় দায়ীত্ব নিতে একেবারেই আগ্রহি নয়।

    একারণেই ট্রাম্প যেন নিজেই নিজেকে এক ‘গাধা’ বলে প্রচার শুরু করেছে। যেমন জাতিসংঘ বক্তৃতা দিবার সময় লিমিট ১৫মি. অথচ তিনি এক ঘন্টা নিয়েছেন। এটা পশ্চিমা কালচারে এক আনকুথ স্বভাবের প্রকাশ! এর উপর আবার গত কয়েক মাস ক্ষমতায় থেকে আমেরিকার কী কী উন্নতি তিনি করেছে এর ফিরিস্তি দিতে এসেছেন জাতিসংঘের বক্তৃতায়! এটাকেই বলে আক্কেল জ্ঞানহীনতা!
    সবচেয়ে বড় কথা তিনি যে আমেরিকান ইতিহাস বিশেষ করে ১৯১৪ সালের পর থেকে গ্লোবাল পরিবর্তনে আমেরিকান ভুমিকার ইতিহাস সহ ইউএন এর জন্ম ইতিহাস একেবারেই পড়েন নাই তা তার প্রতিটা কথায় প্রকাশিত!
    ফলে একালে এসে আজ – এই দেশ তো কাল সেই দেশ – দখল করে নিবেন বলে ট্রাম্প হুমকি দেয়া শুরু করেছেন। মনে হয় না তিনি প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের নাম শুনেছেন। জাতিসংঘ জন্ম ঘোষণার প্রথম অনুচ্ছেদটাই হল কেউ (চুক্তিতে স্বাক্ষারকারি যেকেউ) ‘নিজ নিজ দেশের ভুখন্ড বাড়িয়ে নেয়া্র খায়েস অবশ্যই ত্যাগ করবে”।  অথচ দেখেন ট্রাম্প আফগান বাগমার এয়ারপোর্ট প্রকাশ্যে দখলের খায়েশ ব্যক্ত করছেন!

    এবারের সাধারণ পরিষদ তাই যেন এক তামাসার হাট!

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক

    লেখা হয়েছিলঃ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

     

  • সৌদি-পাকিস্তান সামরিক চুক্তির কী ক্রমশঃ ‘মুসলিম ন্যাটো’ জোট হয়ে উঠতে পারবে

    সৌদি-পাকিস্তান সামরিক চুক্তির কী ক্রমশঃ মুসলিম ন্যাটো জোট হয়ে উঠতে পারবে
    গৌতম দাস
    ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫   ভোর রাত ০২ঃ ৩৭
    https://wp.me/p1sCvy-6xS

     

     

    সৌদি-পাকিস্তান চুক্তি:

     

    গ্লোবাল প্রভাব ফেলতে পারে এমন এক সামরিক চুক্তিতে সই করেছে সৌদি আরব ও পাকিস্তান গত বুধবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫।  ইতোমধ্যেই তাতেই দুনিয়াজুড়ে বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক স্বার্থের দেশগুলোতে ও আমাদের এ অঞ্চলেও ব্যাপক হইচই পড়ে গেছে। অনেক পশ্চিমা মিডিয়া একে পৃথিবীর ভূমিগঠন কাঠামোতে কয়েকটা ইট খুলে নেওয়ার মতো ‘টেকটনিক’  [Tectonic] পদক্ষেপ বলেছে।

    কী সেই চুক্তিঃ
    আনুষ্ঠানিকভাবে এর নাম ‘কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’ যা ইংরাজিতে ‘স্ট্রাটেজিক মিউচুয়াল ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’ [Strategic Mutual Defense Agreement (SMDA)]। এখানে ‘মিউচুয়াল ডিফেন্স’ [Mutual defence] শব্দগুলো সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ। এককথায় এর অর্থ হচ্ছে, কোনো শত্রুর দ্বারা চুক্তির এক রাষ্ট্র আক্রান্ত হলে সেটা অপর রাষ্ট্র নিজের ওপর আক্রমণ বলে মনে করবে, আর নিজ বন্ধুকে রক্ষায় মোকাবিলায় এগিয়ে সক্রিয় পদক্ষেপ নেবে; দুই. এতে দুই বন্ধুর শত্রুর বিরুদ্ধে যৌথভাবে লড়বে।

    ‘মিউচুয়াল ডিফেন্স’ শব্দটার অর্থ খুবই গভীর। আর তা হওয়ার পেছনে বা এই আইডিয়ার উপরই দাঁড়িয়ে জন্ম নিয়েছিল ও আছে  সেই ১৯৪৯ সালে জন্লম নেয়া থেকে ন্যাটো (নর্থ আটল্যান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন NATO)। ন্যাটোর জন্ম দলিলের বিখ্যাত হল  ‘অনুচ্ছেদ পাঁচ’। এটা লেখা হয়েছে উপরে ‘মিউচুয়াল ডিফেন্স’ ধারণার আলোকে। দুনিয়াতে সেটাই প্রথম মিউচুয়াল ডিফেন্স ধারণার ব্যবহার। বইয়ের ভাষায় একে ‘কালেকটিভ ডিফেন্স প্রিন্সিপালও’ বলা হয়ে থাকে। মোট ৩২ সদস্যের ন্যাটোর কোনো এক সদস্য ন্যাটোর বাইরের কোন দেশ দ্বারা আক্রান্ত হলে এর বিরুদ্ধে ন্যাটো-সদস্যরা সবাই একসঙ্গে প্রতিরোধে নেমে পড়তে বাধ্য।

    এ কারণে অনেকেই সৌদি আরব-পাকিস্তানের এই চুক্তিকে মুসলিম ন্যাটো চুক্তির দিকে এটা যাবে এই প্রেরণা থেকে  উচ্ছ্বসিত হচ্ছে; আর ততই এটা ভারতের জন্য হচ্ছে হতাশার। কারণ সৌদির সঙ্গে অপর দেশটা হল পাকিস্তান,  আবার যে পারমাণবিক শক্তিধর! আর পাকিস্তানের অপর পার্টনার সৌদি আরব বলে এর অর্থ হল, সামরিক প্রস্তুতিতে ব্যয়ের ক্ষেত্রে অর্থ আর বড় কোনো বাধা নয়। এই নিয়ে ইংলিশ বিবিসির শিরোনাম হল, ইন্ডিয়ার কাপাকাপি শুরু হয়ে গিয়েছে [Why the Pakistan-Saudi Arabia defence pact is unsettling India]।  আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কংগ্রেস এটা মোদির ফরেন পলিসির পরাজয় বলে চারদিকে বিবৃতির হৈ চৈ তুলেছে [পাকিস্তান-সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে নরেন্দ্র মোদির ব্যর্থতা দেখছে কংগ্রেস]।
    আর সেই সঙ্গে এখন ক্রমশ জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে যে এই চুক্তিতে শামিল হতে চাইবে পুরো মধ্যপ্রাচ্য বাদশাহশাসিত দেশের ‘জিসিসি [GCC] জোটে’র ছয় দেশ (সৌদি ছাড়াও বাকি পাঁচ দেশ-ইউএই আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহারাইন ও ওমান)। সেই জল্পনাকে আরো উস্কে দিয়েছে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী – তিনি বলেছেন সৌদিদের সাথে চুক্তি করে আমরা তো অন্যদের জন্য দরজা বন্ধ করে দেই নাই। DOOR NOT CLOSED শিরোনামে পাকিস্তানী ডন পত্রিকা সেকথাই লিখেছে। আমেরিকান পয়সায় স্থানীয় থিঙ্কট্যাংক এনজিও চালায় এমন ইন্ডিয়ান ব্রহ্ম চেলানী খুবই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেছেন – সৌদিরা জানত এই চুক্তিকে ইন্ডিয়া নিজের জন্য এক সিকিউরিটি থ্রেট হিসাবে দেখবে / নিবে এরপরেও তারা এদিকে এগিয়েছে” –

    “Riyadh knew India would construe the Saudi-Pakistan pact as a direct threat to its security, yet it went ahead,”
    Brahma Chellaney, an Indian strategist, posted on X. –  BBC

    অনেকে অবশ্য আরেক সম্ভাবনার দিকটা দেখে বলতে শুরু করেছেন যে, এটা হয়তো ইরানকে একঘরে করার সৌদির পরিকল্পনা। না, এটা একেবারেই ভুল ব্যাখ্যা হবে। এটা কার্যত মুসলিম দুনিয়ার রাষ্ট্রগুলোর আন্তঃসম্পর্কের মধ্যে দুর্বলতাগুলোকে বড় করে দেখিয়ে ‘মুসলিম ন্যাটো’ হয়ে ওঠার সম্ভাবনাকে জেনে না জেনে, মুসলমান ফেরকার কথা তুলে নাকচ বা খামোশ করার এক বৃথা চেষ্টা হবে।

    তাহলে এমন দুর্বলের বদলে সবল দিকটা কীঃ
    সারা দুনিয়ায়  এর নানা ভৌগোলিক অঞ্চলের আন্তঃরাষ্ট্রীয় নানা রাষ্ট্রস্বার্থ দ্বন্দ্ব থাকে, থাকবেই। কিন্তু এসবের বাইরেও তবু সবকিছুর ঊর্ধ্বে দেখা যাবে আবার একটাই ‘প্রধান দ্বন্দ্ব’ থাকবে! যেমন, এখনকার দুনিয়ায় সেই প্রধান দ্বন্দ্বটা হল ‘চীন-আমেরিকার স্বার্থদ্বন্দ্বের বিরোধ’! এগুলো মূলত অর্থনৈতিক স্বার্থের দ্বন্দ্ব – মূল কারণ এক পালাবদল মানে একালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নেতৃত্বের পালাবদলের কাল এটা। যদিও ক্রমশই এটা সামরিক, কৌশলগত, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ইত্যাদি এবং সর্বোপরি এক নয়া বয়ান হয়ে সব ফ্রন্টেরও দ্বন্দ্ব হয়ে ক্রমশই ছড়িয়ে পড়বে।

    আর আমরাও বাকি সব রাষ্ট্রই ক্রমশ এই চীন-আমেরিকা দ্বন্দ্বে নিজ নিজ রাষ্ট্রস্বার্থের আগ্রহে বা বিচারে এ দুই রাষ্ট্রের কোনো একটার স্পষ্ট পক্ষভুক্ত হতে থাকব। অনেকে ইতোমধ্যেই হয়ে গেছি বা আছি। যদিও দ্বন্দ্ব-বিকাশিত হওয়ার বর্তমান স্তরে বা পর্যায়ে পরিষ্কার করে আমাদের-হয় আমেরিকা না হয় চীনের পক্ষে দাঁড়িয়ে যাওয়া – এমনটা এখনই দেখা নাও যেতে পারে। এখন হয়তো দেখা যাবে, একটা রাষ্ট্র এখনই ৫০-৮০ শতাংশ যদি চীনের পক্ষভুক্ত হয়ে গিয়েও তবু পাশাপাশি সে রাষ্ট্র আবার আমেরিকার সঙ্গেও অবশিষ্ট মাত্রার ঘনিষ্ঠতা রাখছে। যেমন পাকিস্তান। পাকিস্তানে চীনা বিনিয়োগ ইতোমধ্যেই ২০ বিলিয়ন ঢুকে পড়েছে, আর তা আগাচ্ছে পাইপলাইনে থাকা বাকি অংশের দিকে সবমিলিয়ে তা ৫০ বিলিয়নের আশপাশে যাওয়ার লক্ষ্যে। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে বিশেষ মজার ব্যাপারটা হল এই বিনিয়োগের বেনিফিট ব্যবহারকারী আবার খোদ চীন (একা পাকিস্তান না) নিজেও – আর সেটাই গোয়াদর প্রকল্পকে কেন্দ্র করে (যা শুধু একটা গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্প নয়)। আসলে এটা সাড়ে তিনদিক ল্যান্ডলকড চীন যার আবার পশ্চিমদিক একেবারে সুউচ্চ (হিমালয়) পর্বতমালা দিয়ে ব্লকড। তবু এই পশ্চিম দিকটা দিয়েই পাকিস্তানের সারা বুক চিরে এখন সমুদ্রে ডিপ সি-পোর্টে [গোয়াদর পোর্ট] পৌঁছানোরই অবকাঠামো নির্মাণ করে নেওয়া হয়েছে; যার বৃহৎ ব্যবহারকারী হবে চীন নিজেই। তাই বলা যায়, চীন-পাকিস্তানের সম্পর্ক মূলত অর্থনৈতিক অবকাঠামো বিনিয়োগের উপরে হলেও সব কিছুর উপরে এটা খোদ চীনের স্ট্রাটেজিক স্বার্থ – এক কথায়, চীন নিজ পুবদিকের চীন সাগর ছাড়াও চীন এখন নিজ পশ্চিমদিক দিয়ে সরাসরি আরব সাগরে পৌঁছাতে পারে।

    অথচ এতকিছুর পরও পাকিস্তান আমেরিকার হাতও ছাড়েনি; একটু দুর্বলভাবে হলেও সঙ্গেই ধরে আছে। আবার পাকিস্তানের মূল অর্থনৈতিক সম্পর্কের পুরোটাই চীননির্ভর। আবার এই সৌদি-পাকিস্তান সামরিক চুক্তির পর থেকে পাকিস্তান হয়ে গেল মুসলমান জনসংখ্যাপ্রধান রাষ্ট্রগুলোর চোখে রক্ষাকর্তাঃ অন্য ভাষায় হবু ইসলামি ‘ন্যাটোর’ মধ্যমণি।

    কেন আমেরিকান পরপর প্রেসিডেন্টরা নেতানেয়াহুর খেদমতগারির প্রতিযোগিতায়ঃ
    ইসরাইল ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ফিলিস্তিনিদের জায়গাজমি দখল, তাদের উদ্বাস্তু বানানো থেকে শুরু করে এমনকি ক্রমাগত হত্যা, নির্যাতন করে চলেছে। এর সবই নাকি দখলবাজদের ‘আত্মরক্ষার অধিকারের কাজ’ বলে সাফাই দিয়ে প্রেসিডেন্ট ওবামাসহ সারা পশ্চিমাজগৎ জায়োনিজমকে উসকানি গেছে। এসবই জায়োনিস্ট ইসরাইলের প্রতিষ্ঠা ও বিস্তারের নৃশংস ইতিহাস। বিশ্বযুদ্ধ শেষে বৈশ্বিক নেতা হিসাবে আমেরিকান উত্থান আর ইসরাইল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা একসঙ্গে হাত ধরাধরি করেই চলেছে। এক কথায় ইসরাইলকে প্রটেকশন দিয়ে অন্যের দেশভূমি দখল করে ইসরায়েলের নিজ বিস্তার ঘটানো-প্রটেকটর যেহেতু আমেরিকা, তাই পরিষ্কার করেই বলা যায় যে, দুনিয়া থেকে জায়োনিজমের অবসান ও ইসরাইল রাষ্ট্রের বিলুপ্তি বৈশ্বিক নেতা হিসাবে আমেরিকার পতনের ভেতরই নিহিত। প্রটেকটর আমেরিকার নেতাগিরির পতনের ভেতর দিয়েই একমাত্র ইসরাইলের বিনাশ ঘটতে পারে, তা বলাই বাহুল্য।

    আবার আমেরিকার নেতাগিরির অবসানের মানে হল, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নেতা হিসাবে চীনের উত্থান। এই উত্থানকে ত্বরান্বিত করার অন্তত একটা চাবিকাঠি আবার সৌদি আরবের হাতে আছে। তা হলো, আমেরিকান ডলার বাদে অন্য মুদ্রায় (যেমন ইউয়ানে) সৌদি তেল বিক্রি শুরু করা। কারণ সৌদি তেল বিক্রি যা সর্বোচ্চ তা কেবল আমেরিকান ডলারেই কেনাবেচা হয়। এতে ডলারের কারেন্সি ভ্যালু অটুট রাখার ক্ষেত্রে – একটা বড় ফ্যাক্টর হল কেবল ডলারেই সৌদি তেল বিক্রি করা।

    আর এতে আমেরিকান ডলার এক আধিপত্যশীল কারেন্সি হিসাবে বৈশ্বিক বাণিজ্যে আমেরিকার নেতাগিরি টিকে যাওয়ার প্রধান কারণ। আর আমেরিকান ডলার ডমিনেন্সি টিকে থাকা মানে এটাই ইসরাইলের দানবীয় আচরণ দেখানোর শক্তির উৎস। চীনা মুদ্রা ইউয়ানে সৌদি তেল বিক্রি করা শুরু করলেই এর ফলাফলে ডলার দুর্বল হয়ে যাবে আর এতে আমেরিকা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নেতা থেকে পতন হওয়ার এক বড় ঘটনা হতে পারে সেটা।

    কিন্তু সৌদিরা এটা করতে এপর্যন্ত ভয় পেয়ে এসেছে। বরং সৌদি সরকার ভয়ে ভয়ে কাজ করেছে উলটা; সৌদিরা আমেরিকার কাছেই নিজ নিরাপত্তার গ্যারান্টি চেয়ে বসে আছে। এদিকে চলতি মাসে ৯ সেপ্টেম্বর ইসরাইল সৌদি আরবের সীমান্ত দেশ কাতারেই বোমাহামলা চালায়। বলাই বাহুল্য, এটাকে সৌদিশাসকরা আমেরিকান ‘প্রতিরক্ষার আশ্বাসের’ বরখেলাপ গণ্য করেছিল।

    এখন সেখান থেকে প্রতিক্রিয়ায় সৌদিরা সরাসরি তেল বিক্রিতে ডলার ব্যবহার বন্ধ করতে পারত। কিন্তু তা কঠোর আর ভারী হয়ে যাবে ভেবে সেদিকে না গিয়ে সৌদি শাসকরা এক তুলনামূলক নরম পদক্ষেপ নিয়েছে – এটাই পাকিস্তানের সঙ্গে ‘মিউচুয়াল ডিফেন্স’ চুক্তি করে বসা।

    এদিকে পাকিস্তানের ডন পত্রিকা লিখেছে, এটা দুই দেশের মধ্যকার চুক্তি হলেও এটা জিসিসি সদস্য দেশের মধ্যেও বিস্তার ঘটিয়ে বাকি গালফ দেশকেও একই ‘মিউচুয়াল ডিফেন্স’ চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা নেই। মানে কাতারসহ জিসিসির বাকি দেশগুলোও এ চুক্তিতে একইভাবে সৌদিদের মতো পক্ষভুক্ত হতেই পারে।

    কিন্তু তবু অনেকের মনে খচখচ করতে পারে এই ভেবে, এটা তো ঠিক ‘ইসলামি ন্যাটো’-এর মতো হচ্ছে না। কারণ ইরান বা তুরস্ক এতে শামিল নয় বা সেটা হবে কী করে?

    আমি এখানে একটা সূত্র বলে দেই। এক্ষেত্রে ইরান মুসলিম দেশের মধ্যে সবার আগে চীনের সঙ্গে পক্ষভুক্ত হয়ে গেছে। আর তা পেরে গেছে বলেই ইরান সাহসের সঙ্গে ফিলিস্তিনির পক্ষে হামাস, হিজবুল্লাহসহ অন্যদের সংগঠিত ও সহযোগিতা করে আসছে। ইরানের তেল কেনার জন্য চীন-ইরান ২৫ বছরের চুক্তি করা আছে।

    অতএব, সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ‘মিউচুয়াল ডিফেন্স’ মানেই পাকিস্তান নিজ আরেক হাতে চীনের সঙ্গে সে যুক্ত-এটাও মনে রাখতে হবে। ফলে ইরানও এতে (আপাতত) পরোক্ষে যুক্ত!

    সৌদিদের দিক থেকে এটা হল, আমেরিকাকে দেওয়া হুঁশিয়ারি যে আমেরিকা সংশোধিত না হলে, জায়োনিস্ট রক্ষকের কাজ ত্যাগ না করলে তখন সৌদি শাসকরা সরাসরি ডলারে তেল বিক্রি বন্ধের পথে যাওয়ার কথা ভাববে।

    এক কথায় দিন শেষে এটাই দখলদার জায়োনিস্টদের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক সর্বোচ্চ পদক্ষেপ হয়ে ওঠার পথে হাঁটবেই।

    গৌতম দাস : রাজনৈতিক বিশ্লেষক

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫    


    [এই লেখাটা এর আগে প্রথম ভার্সানে ছাপা হয়েছিল দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় আমারই লেখা এক কলাম হিসাবে, গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫।  আজ এখানে সে লেখাটারই  আরেক বর্ধিত এক নয়া এডিটেড ভার্সান এখানে আমার নিজ সাইটে ছাপা হল। বলাই বাহুল্য এখানে শিরোনামটাই শুধু নতুন নয় বরং এমন অনেক প্রসঙ্গই নয়া এখানে যোগ করা হয়েছে যেটা পত্রিকার ভার্সানে ছিল না। আসলে পত্রিকার কলাম ভার্সান মানে যেটা যুগান্তরের এডিটরিয়াল পলিসি সঠিক মনে করে সেই ভার্সান; এভাবে দেখাটাই সঠিক হবে। আর তুলনায় এটা আমার নিজ পরিবর্ধিত-এডিটেড ভার্সান মনে করলেই সঠিক হবে বলে আমার বিশ্বাস! ]

  • সংক্ষেপে কিছু খাড়া কথা

    সংক্ষেপে কিছু খাড়া কথা
    গৌতম দাস
    ০৭ আগষ্ট ২০২৫   দুপুর ১ঃ ৪৬
    https://wp.me/p1sCvy-6v7

     

    অধ্যাপক ইউনূসের সাথে তারেক রহমানের বৈঠক হয় লন্ডনে – ছবি বিবিসি থেকে নেয়া

     

    ইউনুস সাব  ৫ আগষ্ট বর্ষপুর্তি পালন করেছেন, বৃষ্টিতে ভিজে অনুষ্ঠান করে। ঐরাতেই টিভিতে এক ভাষণও দিয়েছেন। যেখানে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে রমজানের আগেই নির্বাচন হবে ঘোষণা করেছেন।
    এগুলো হল বাইরে দেখতে পাওয়া কথা।  আর ভিতরে?

    এটা পরিস্কার যে একাজগুলো করতে তিনি বিএনপির তারেককে সবচেয়ে বেশি আদর করেছেন কোলে নিয়েছেন। কেন? কারণ এভাবেই তিনি নিজ একক রচিত ‘জুলাই সনদ’ ঘোষণা এবং সাথে ‘জুলাই ঘোষণা’ করতে গিয়ে তিনি এটাকেই উপায় হিসাবে ব্যবহার করেছেন। মানে এই  কথিত – সনদ বা ঘোষণা – কোনটাই তার পক্ষে এটা ছাড়া সম্ভব হচ্ছিল না। মুল সমস্যাটা হল, মূল তিন-চারটা দলকেও তিনি ডেকে নিলেই এদের সব আলাদা আলাদা অবস্থান-গুলো বাইরে চলে আসত; ফলে ভাব নিয়েছেন এটা তিনি নিজের ক্ষমতায় করলেন। কিন্তু আসলে?
    আসলে তিনি (১) তারেককে দুবছরের সময় ঘুষ দিয়েছেন। মানে ‘জুলাই ঘোষণা’ বলে যা তিনি -কথিত সংস্কার- রচিত করেছেন তা এখনই মানে কোন নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগেই আইনী ভিত্তি দিতে হবেই না। যার সোজা মানে আগে আইনি ভিত্তি পরে সেই ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান, এমনটা করতে হবে না।  অর্থাৎ এগুলোর কোন কনষ্টিটিউশনাল ভিত্তি এখনই দিতে হবে না। আগে নির্বাচন হয়ে যাবে হাওয়ার উপর দাঁড়িয়ে  মানে কোন আইনি ভিত্তি ছাড়া আর পরে যেই ক্ষমতায় আসবে সে পরে এটা সংসদে পাশ করে নিবে। এর আবার সোজা মানে হল, নয়া ক্ষমতাসীন দল সেটা না করলে বা ইচ্ছা-মনমত বদল করে নিয়ে করলেও চলবে! এটাকেই আমি দুবছর তারেককে ঘুষ দেয়া বলছি।

    তবে পাঠকেরা সাবধান!   
    উপরের উল্লেখ করা ইউনুসের বক্তৃতায়, দুইটা জিনিষ অস্পষ্ট বা ফাঁক রাখা আছে। আপনারা ধরে নিয়েছেন সেটা আপনারা যা বুঝেছেন তাই-ই লেখা আছে। কিন্তু না! যেমন ইউনুসের টিভিতে দেয়া স্পিচ যেটা অনেক পত্রিকাই টেক্সট করে ছাপিয়েছে সেখানে নির্বাচন হবে একথা বলা হয়েছে সব জায়গায় কিন্তু কোন নির্বাচন? প্রেসিডেন্সিয়াল শাসনের প্রেসিডেন্ট (যেমন জিয়ার প্রেসিডেন্ট হওয়ার নির্বাচন, যেটা হয়েছিল রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ১৯৭৮, ৩ জুন ১৯৭৮ সালে) নির্বাচন নাকি জাতীয় সংসদ এর নির্বাচন সেটা স্পষ্ট করা নাই। জিয়ার আমলে আগে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ১৯৭৮ হয়েছিল  আর পরে দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১৯৭৯, বাংলাদেশে ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯ সালে অনুষ্ঠিত হয়।
    আর, দ্বিতীয় অস্পষ্ট বা ফাঁক রাখা ইস্যুটা হল, তাহলে নির্বাচন হচ্ছে ইউনুস সরকারের অধীনে! তাই কী? অর্থাৎ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আদালতের দ্বারা জীবিত (ও অস্পষ্ট) হয়ে  থাকলেও এর কথা আর কেউ এখন তুলছে না। এই এখন মানে? এখন মানে হল, ৫ আগষ্ট্রের ইউনুসের ভাষনের পরে।

    ইতোমধ্যে আগেই আমি বলেছিল্লাম ইউনুস (নির্বাহী ক্ষমতার প্রেসিডেন্ট, প্রেসিডেন্ট জিয়ার মত) প্রেসিডেন্ট হতে চান! এমনকি সাথে এনসিপির কেউ কেউ তার সাথে মন্ত্রী থাকতে চান সেকথাও উল্লেখ করেছিলেন!
    এখন যেটা বিস্ময়কর তা হল, এনসিপি ইউনুসের ৫ আগষ্ট্রের টিভি স্পিচকে স্বাগত জানিয়েছে, বিচ্ছিন্নভাবে। তবে গতকাল ৬ আগষ্ট সেক্রেটারি আখতার হোসেন যে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন তাতেও এমন কথা নাই যে আগে কনষ্টিটিউশনাল  আইনি ভিত্তি পরে সেই ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান – এভাবে পরিস্কার করে কিছু বলা হয় নাই। তবে ঐক্যমত্য কমিশনে যা যা নিয়ে ঐক্যমত হয়েছে তা বাস্তবায়ন এর নিশ্চয়তা কোথায় ও কীভাবে হবে এনিয়ে সাধারণ প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আবার তাদের দল নয়া কনষ্টিটিউশন চাওয়ার দল সেটাই কেবল উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ না কনষ্টিটিউশন না হলে অথবা সংস্কার শেষ হওয়া ও এর আইনি ভিত্তি না থাকলে এনসিপি নির্বাচনে যাবে এমন সোজাসাপ্টা কিছুই সেখানে বলা হয় নাই।   মানে এর এমন মানে করা সম্ভব যে আরেকবার বলিলেই খাইব!  শেষ পর্যন্ত সামনে যাই ঘটুক (আগাম নিশ্চয়তা কিছু পেলে!) আমরা কথিত ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নির্বাচনে অংশ নিবই!!! – এমন অর্থ বের করার সুযোগ রেখে দেয়া আছে – জেনে বা না জেনে!
    আর জামায়াতঃ জামায়াতই প্রথম থেকে নির্বাচনের সময়ের তত্বাবধায়ক সরকারের আইনি ভিত্তি না থাকলে “মানবেন না” তা অনেক স্পষ্ট করে বলেছিল।  আর এখন মানে ইউনুসের বক্তৃতার পরে অতটা জোর দিয়ে বলছেন না; যদিও বলেছেন এমনকি নরম করে হলেও না হলে আন্দোলনে যাবেন তা উল্লেখ করেছেন।

    “পিআর পদ্ধতি ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলেও জানান তাহের।…..
    সংস্কার, গণহত্যার বিচার ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশার কথা জানান আবদুল্লাহ মো. তাহের। তিনি বলেন,
    দাবি না মেনে নির্বাচন দিলে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে জামায়াত।”

    আর হাত পাখা ইসলামি আন্দোলন তাদের প্রতিক্রিয়া পাওয়া একটা ভিডিও ক্লিপ পাওয়া যাচ্ছে। তাতে দেখা যায় তাদের ডাকে নাই, মানে ইউনুস একা একাই সব ঘোষণা করেছেন এনিয়ে তাদের আপত্তি আছে ইত্যাদি।

    তাহলে যে কথা দিয়ে শুরু করেছিলাম, ইউনুস সাব বুঝেছিলেন যে ঐক্যমত্য কমিশনে কিছুই ঐক্যমত হবেই না। এর চেয়ে কাউকে দুবছরের ঘুষ দিয়ে কাউকে অন্য কিছু বা এককথায় পক্ষগুলোর সাথে আলাদা আলাদা একটা ডিল করে এগিয়ে যেতে হবে। এবং এভাবেই তিনি এপর্যস্নত আগষ্ট পার হয়ে চলেছেন।

    তাহলে কী তিনি সব সমাধান করে ফেললেন?
    এমন বাক্যে জটিলতা টা হল, কোন নির্বাচন হচ্ছে তাহলে ইউনুসকে প্রেসিডেন্ট না তারেককে প্রধানমন্ত্রী? নাকি এর মানে ইউনুস প্রেসিডেন্ট আর তারেক ছোটভাই এমন নয়ত????? এর পরিস্কার ধারণা পাওয়া যায় না। যদিও তারেকের সাথে পশ্চিমা দেশের কূটনীতিকেরা লন্ডন উড়ে গিয়ে দেখা করছেন – এমন খবরে বিএনপি সমর্থকেরা উতফুল্ল হয়ে উঠেছে! এদিকটা এখনই একেবারেই পরিস্কার নয়। আরো সময় লাগবে!

    কিন্তু একটা গভীরতম কাঁটা মানে একটা পক্ষ এখনও উপরের আলোচনার বাইরেঃ
    সেটা হল আর্মি!
    যতদুর জানা যায় ওয়াকারের মূল সমস্যা বা ব্যক্তিগত স্বার্থ হল, ১৪০০+ মৃত্যুর মুল হুকুমদাতা হাসিনার প্রথম বাস্তবায়ক (বা সেনাদেরকে প্রধান কমান্ড রেস্পনসিবিলিটির দায়) হিসাবে বিচার; যেটা আবার জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের পাঠানো সংশ্লিষ্টদের তালিকা ও বিচারের অনুরোধ এবং বিচার শেষে রিপোর্ট পাঠানোর আদেশ / অনুরোধ / পরামর্শ! এখান থেকে মুক্ত হওয়া খুবই কঠিন। যদিও কথিত ধারণা এখন চলছে যে ইউনুসের আকাঙ্খার নির্বাচন টা সমাপ্ত করে দিতে পারলে ওয়াকারকে স্বেচ্ছা অবসর নিয়ে তিনি সম্ভবত আমেরিকায় তাঁর মেয়ের কাছে চলে যেতে দিবেন!  কিন্তু নিশ্চয়তা?  সেটা এক আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে একেবারেই নাই! কারণ, দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক অনেক ধরনের ফ্যাক্টর এখানে জড়িত!
    এদিকে তাঁর সঙ্গিসাথীরা মানে ৪৫০ জনের বাকীরা? বিশেষ করে এই গ্রুপের লিডার সিনিয়ার আর্মিরা? এদের ভাগ্য কী হবে সেক্ষেত্রে?  এনিয়ে ইউনুসের কোন ভাবনা / পরিকল্পনা আছে জানা যায় না। সম্ভবত তা নাই!   তাহলে তাঁরা নিউট্রাল বা স্থির হবে কী প্রকারে???? যদিও মুরোদের কথা এদিক থেকে ভাবলে যতটুকু জানা যায় এরা বিদ্রোহ করা বা একটা ক্যাওয়াজ গন্ডগোল লাগাতে পারবে হয়ত কিন্তু সফলতার কোন সম্ভাবনা নাই! এদের অনেকে আবার এখনও ইন্ডিয়ার সাথে সম্পর্কিত; সেকারণে অনেকে মনে করে ইউনুসের পরিকল্পনায় ইন্ডিয়ার ভাগে কিছুই যদি না আসে তবে এসব কথিত বিদ্রোহিরা নিজেদের শক্তিশালী অনুভব করতে পারে। কিন্তু আসল কথাটা যদিও  শক্তিশালী অনুভব আর বাস্তবে শক্তিশালী হওয়া এদুটো এক কথা না!  বরং আকাশ-পাতালের ফারাক!
    যাহোক, সারকথাটা হল, এটা একটা ফ্যাক্টর!
    এখন এই সুত্রে আরেক অংশ মানে ওয়াকার-বিরোধী, এরাও আরো বড় ফ্যাক্টর। কিন্তু আমার জানা মতে এদের অবস্থান মনোচাব কনসার্ণ বা বক্তব্য নিয়ে ইউনুস আমল করেছেন বা করছেন তা আমার জানা নাই। বরং তিনি ধরেই নিয়েছেন যেন ওরা তো আছেই তাঁকে সমর্থন দিয়ে যাবে মানে তিনি যা করবেন তাতেই!!!!!
    কিন্তু এই অনুমান একেবারেই ভিত্তিহীন!  সারকথায় বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায়, আমেরিকা তাও আবার সেয়ান পাগলা ট্রাম্পের আমেরিকা বাংলাদেশকে যেভাবে দেখতে ছাইবে সাজাতে চাইবে  সেদিন আর নাই। আমেরিকা আমাদেরকে ইন্ডিয়ার হাতে তুলে দিয়েছিল যাতে ইন্ডিয়া আমাদেরকে নিয়ে যা খুশি করতে পারে। সেদিনও নাই, আমেরিকার সে মুরোদও নাই। সর্বোপরি আমেরিকার সেই আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে অপমান আমরা ভুলবো না শুধু তাই নয় বরং সেই সুত্রে তৈরি হওয়া ইন্ডিয়ান দানব হাসিনার ফ্যাসিজমের উত্থান ঘটেছিল। আর সেই ইন্ডিয়াসহ সেই দানবকে আমরা উপড়ে ফেলে দিয়েছি। ফলে আবার সেই আমেরিকার কোলে এবার সরাসরি বাংলাদেশকে তুলে দিবার চেষ্টা হলে ইউনুসের দশা-পরিণতি হবে হাসিনার চেয়েও খারাপ! তা বলাই বাহুল্য! একথাটা ইউনুস সাবকে মনে রাখতে হবে!!!! যদিও ইদানিং তার মুভমেন্টে এর ঘাটতি দেখছি আমরা!

    এবার হেড লাইনে সারকথাঃ
    ১। ফেব্রুয়ারিতে কী নির্বাচন হবে? আমরা তো এখনও নিশ্চিত জানি না সেটা কিসের নির্বাচন –  নির্বাহি প্রেসিডেন্টের নাকি জাতীয় সংসদের? সেটা এখনও কেউ জানে না। ফলে অনিশ্চিত!
    ২। আমেরিকা রাষ্ট্রদুত ট্রেসি লন্ডনে তারেককে বুঝাতে গিয়েছিল ইউনুসের হয়ে, সেটা এই বলে যে তারেক যেন ইউনুস সাবের সাথে “ক্ষমতার ছোট ভাই” হয়ে থাকে; কিন্তু সেটা কী তারেক রাজি হবে, পালন করতে? তাই এটাও অনিশ্চিত!
    ৩।  ইউনুস সাবের বাংলাদেশকে একচেটিয়া আমেরিকার কাছে বন্ধক রাখার চেষ্টা কী তিনি সংবরণ করবেন? থামবেন? এটাও অনিশ্চিত! যদিও আরও একটু বাড়লে তিনি উতখাত হওয়ার রিস্ক নিবেন তা বলা যায়!
    ৪। উনি নির্বাহি প্রেসিডেন্ট হতে হলে আইনি ভিত্তি কোথায় পাবেন? যেখানে এখনও কথিত ফেব্রুয়ারী নির্বাচনেরই কোন আইনি ভিত্তি নাই এবং তা অনিশ্চিত?
    ৫। এতদিন পর্যন্ত ইউনুস সাব ‘আর্মি ফ্যাক্টরকে’  উপেক্ষা বা আন্ডার-এস্টিমেট করে চলছেন বলে আমার বুঝাবুঝি! অথচ একচেটিয়াভাবে না আমেরিকা, না চীন এর কোলে উঠানো যাবে না। যারাই বাংলাদেশকে উঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টাকরতে যাবেন এমন চেষ্টা কে “আর্মি ফ্যাক্টর” প্রতিহত করবেই নিজ স্বার্থে – এটা ইউনুস সাবের বুঝতে পারা উচিত! আর এবিষয়ে সেটা যদি ইন্ডিয়া হয় তো এনিয়ে আর্মির অবস্থান হাসিনাকে উপড়ে ফেলা দেখে যে কারো আগেই বুঝে যাওয়া উচিত! এসব কারণে, যেকোন সময় ইউনুস সাবের ভুলে বা সীমা ছাড়ালে তিনি নিজে ক্ষমতাকে অনিশ্চিত  করে ফেলতে পারেন!

    তাই,  কথিত ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হচ্ছে কিনা-সহ আমাদের জন্য সামনের দিনগুলো সবই অনিশ্চিত!

     

     

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   ০৭ আগষ্ট, ২০২৫    রাত ০৮ঃ৪৮
     

     

     

     

     

  • মাইকেল কুগেলম্যান মূলতঃ ইন্ডিয়া-হাসিনার এক অদ্ভুত দালাল। গুজব ছড়াচ্ছে এখনও

    মাইকেল কুগেলম্যান মূলতঃ ইন্ডিয়া-হাসিনার এক অদ্ভুত দালাল। গুজব ছড়াচ্ছে এখনও
    গৌতম দাস
    ৩০ মে ২০২৫  রাত ২২ঃ ২৭
    https://wp.me/p1sCvy-6tu

     

    কুগেলম্যান

     

    [এই লেখাটায় অনেক ইংরাজি উদ্ধৃতি আছে। এতে বাংলা পড়ুয়াদের ঘাবড়াবার কিছু নাই।  সেক্ষেত্রে  যে স্টাইলে পড়তে হবে তা হল, ইংরাজী শব্দ বা বাক্যগুলো সরাসরি এড়িয়ে বা টপকে গেলে কোন অসুবিধাই হবে না পাঠকের একথা মনে রেখে পরে যেতে হবে। কারণ, পাশেই ঐ ইংরাজিটা বাংলায় লেখা পাবেন। তাই ইংরাজী শব্দগুলো যেন নাই এমন মনে করে আগিয়ে যান। তাতে বুঝতে কোনই অসুবিধা হবে না। ]

    এক মাইকেল কুগেলম্যান নিয়ে কথা বলব গত বাইডেনের আমল থেকে এখনও যিনি মূলত ইন্ডিয়াপ্রেমী। সেটা এমন ইন্ডিয়াপ্রেমী যিনি  আদতে মনে করেন –  “আমেরিকার ইন্দো-প্যাসেফিক পলিসি বাস্তবায়িত হতে পারে বাংলাদেশকে ইন্ডিয়ার হাতে তুলে দিলে”।  এককথায় উনার মূল টার্গেট চীনকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ-ছাড়া করা; এটাই আমেরিকার ইন্দো-প্যাসেফিক পলিসির সম্ভাব্য সফলতার পথ; যেটা আরেক ভাষায় বললে, বাংলাদেশকে ইন্দো-প্যাসেফিক পলিসিতে অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়ার একমাত্র উপায়।    চীনের সাথে

    মাইকেল কুগেলম্যান[Michael Kugelman] এক অদ্ভুত আমেরিকান; তিনি এক আমেরিকান থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক “উড্রো উইলশন সেন্টার” [Woodrow Wilson International Center] এর ফেলো। যেখানে ফেলো মানে হল যে বছরে [salary range for this position is $120-135k] অর্থে নিয়োগপ্রাপ্ত এর গবেষক ও লেখক নিয়োগ। তবে কী নিয়ে গবেষণা (বা গবেষণার নামে কি নিয়ে উনি মেতে থাকবেন) আর লিখবেন এটা নির্ভর করবে নিয়োগদাতা ঐ থিঙ্কট্যাঙ্ক আমেরিকা-রাষ্ট্রের কোন নীতি-পলিসি লাইনের প্রবক্তা। সেই লাইন বলতে আবার এরা নিজেরা ডেমোক্রাট না রিপাবলিক  কোন দলের সমর্থক অথবা আবার কখনও বাই-পার্টিজান বা উভয় দলের মিশানো এক গোষ্ঠি কিন্তু সুনির্দিষ্ট একটা ইস্যু বা চিন্তা-কৌশল লাইনের পক্ষে কাজ করার প্রতিজ্ঞা নিয়ে গড়ে উঠা থিঙ্কট্যাঙ্ক হতে পারে।
    এই বিচারে “উড্রো উইলশন সেন্টার” বা সংক্ষেপে “উইলশন সেন্টার” এটাকে বাই পার্টিজান বলা যেতে পারে। তবে এমন মনে করার কারণ হল, সাধারণত থিঙ্কট্যাঙ্ক মানে হল  এরা আমেরিকার নিজস্ব দাতব্য প্রতিষ্ঠান টাইপের হয়ে থাকে মানে, সরকারী ফান্ড সাধারণত এতে থাকে না। দাতব্য অর্থে পরিচালিত হয়ে থাকে।  কিন্তু  “উইলশন সেন্টার” ব্যতিক্রম; এখানে 4০% ফান্ড সরকারী অনুদান। সম্ভবত সেকারণে যখন যে প্রেসিডেন্ট থাকে সে সাধারণত এই থিঙ্কট্যাংক  প্রভাবিত হয়েই থাকে।
    আরো সুনির্দিষ্ট করে এবার বললে, “উইলশন সেন্টার” কম করে হলেও গত প্রায় ১৫ বছর ধরে ওবামা আমল (২০০৯-১৭, দুই টার্ম) থেকেই একট ইস্যু নিয়ে কাজ করছে যেটাকে [China containment] বা চায়না ঠেকানো পলিসি বলা যেতে পারে।  যে পলিসির সবচেয়ে বড় দুর্বল দিক বা বয়ানে খামতির দিকটা হল, এর বাস্তবায়ন সম্ভব কিনা এদিকটা তলিয়ে দেখতে ততধিক অনাগ্রহ।

    এবার সরাসরি আসি। কুগেলম্যান হল বাইডেনের আমলে যখন ইন্দো-প্যাসেফিক গান সর্বোচ্চ স্বরে উঠেছিল সে আমলের সাউথ-ইস্ট এশিয়ায় বাইডেনের কোর লোক। যার এসাইনমেন্ট ছিলঃ
    ১। বাংলাদেশকে চীন ছাড়া করে ইন্দো-প্যাসেফিক কৌশল – এই উদ্যোগের সদস্য বানানো।
    ২। এতে তাদের কোর ইন্টারেস্ট হল আলটিমেটলি বাংলাদেশকে ভারতের কোলে তুলে দেয়া।
    ৩। কিন্তু তারা প্রথম এবং আপাতত কৌশল হিসাবে প্রকাশ্যে উলটা পথে হেটেছিল। ইন্ডিয়াকে দূরে রেখে বাংলাদেশ স্যাংশন আর মানবাধিকারের বুলি আওয়াজ উঠিয়েছিল। যাতে হাসিনার বিরুদ্ধে বিরোধীদলকে চেগানো যায়। এতে হাসিনাকে বিপদে চাপে ফেলে তাকে বাধ্য করে ইন্দো-প্যাসেফিক কৌশল – এই উদ্যোগের সদস্য বানানো পথে ঠেলে দিতে পারে। এই অবস্থাটাই ঘটেছিল ২০২৩ সালের জুনের পরে। বাইডেন তখন থেকে ইন্ডিয়ার মাধ্যমে (ইন্ডিয়াকে সচল করে) হাসিনার সাথে ডিলিংয়ে চলে যায়। আর বিরোধী দল মা-বাপ হীন দিশেহারা হয়ে পড়েছিল।
    এখন থেকে ৭ জানু নির্বাচনে ওয়াকভার এর ইঙ্গিত দিয়ে কেটে পরা শুরু করেছিল বাইডেন প্রশাসন। আর তা থেকে ২০২৪ এর ৭ জানু নির্বাচনের পরে ৫ ফেব্রুয়ারী বাইডেনের হাসিনাকে পাঠানো চিঠি যেখানে বলা ছিল যে, বাইডেন প্রশাসন হাসিনার সাথে একসাথে কাজ করবে।

    এখন উপরে যে এসাইনমেন্টের কথা বললাম এর সত্যতা, নিশ্চয়তা-প্রমাণ কীঃ
    এর প্রমাণ হল, কুগেলম্যানকে ফলো করেন। ফলো করা বলতে???

    ফলো বলতে এই তিন-বছরেরও বেশি সময়ে কুগেলম্যান প্রতি সপ্তাহে আমেরিকান ফরেন পলিসি  পত্রিকায় যে সাপ্তাহিক কলাম লিখে গেছেন, সেগুলো ফলো করেন।
    কিন্তু না এই তিন চার বছরের ফলো মানে অনেক হ্যাপা, অনেক লেখা পড়তে হবে। না তা করতে হবে না। আমি সেখান থেকে বেছে তিন-চারটা আপনাদেরকে পড়তে বলব। আর তাতেই আপনি বাইডেন-ল্যু-কুগেলম্যানদের পুরা পরিকল্পনাটাই জানতে পারবেন।

    ১। কুগেলম্যানের একেবারে প্রথম আলোতে লেখা একটা কলাম, লিখেছিলঃ

    লেখা: মাইকেল কুগেলম্যান।    প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০২১, ২০: ০১

    এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য খারাপও হতে পারে

    এটা ছিল ১০ ডিসেম্বর ২০২১ আন্তর্জাতিক  মানবাধিকার দিবসের পরের দিন; বাইডেন প্রশাসন তার বাংলাদেশ (সাথে আরো কিছু দেশও ছিল) সরকারের উপর  স্যাংশন আর মানবাধিকার লঙ্ঘণের প্রবল অভিযোগ তুলে এই রাজনৈতিক লাইনের যাত্রা শুরু করেছিল সেদিন থেকে পরের তিন বছর ধরে। যাতে বাংলাদেশের বিরোধী দলগুলো হাসিনার বিরুদ্ধে রাস্তায় সরব হয়ে উঠে। কিন্তু লক্ষ করেন এই সময়ে লেখা এই কলামে, কুগেলম্যান উলটা সাবধান করছেন বাইডেন প্রশাসন কে যে বাইডেনের এই সিদ্ধান্ত আমেরিকান স্বার্থের জন্য খারাপও হতে পারে!!!!! কেন? কুগেলম্যানের কেন এই উলটা গান?
    এটা আপাতত নোট করে রাখেন যে আমাদেরকে এর জবাব পেতে হবে।

    ২। পরেরটা বেছে তুলে আনছি এক রিপোর্ট যেটা ইউএনবি (UNB মানে হাসিনার প্রিয় আরেক কেনা নিউজ এজেন্সী) থেকে করা আর যেটা অনেক পত্রিকাই আবার ইউএনবি বরাতে ছেপেছিল ২০২৩ সালের ১৫ জানুয়ারি তে।

    “AL retains significant level of support because of success stories, says South Asia policy analyst Michael Kugelman” 

    ২০২৩ সালের ১৫ জানুয়ারি মানে হাসিনার অর্থনীতি যখন মরণ দশায়। দলের লোক আর চোরা ব্যবসায়ীরা যখন নিজেদের চুরির অর্থ ডলারের কনভার্ট করে পালাতে ব্যস্ত। যা শুরু হয়েছল ২০২১ সালে তেলের দাম বাড়ানো কে কেন্দ্র করে ; যা দেশে ডলারের দাম ৮৫ টাকা থেকে ১২০ টাকার আশেপাশে চলে যায়। অথচ এই কুগেলম্যান দেখেন কীরকম উলটা কথা বলছে, দাবি করছেন হাসিনা নাকি সফলভাবে দেশ পরিচালনা করে যাচ্ছিলেন তখন।

    লিখছেনঃ
    ক)    “We have to keep in mind that the ruling party Awami League has been in power since 2009 and it retains a significant level of support,” [মানে লীগ খুবই গণসমর্থিত দল ও ক্ষমতায় তারা; এটা, সেই ২০০৯ সাল থেকে]   he said, noting that the party has been able to bring success stories on the economic front [অর্থনৈতিক ফ্রন্টে নাকি সফলতায় ছেয়ে ফেলেছে] and in countering terrorism.[আর সেই সাথে জঙ্গিবাদ নির্মুলেও সফলতা দেখিয়ে যাচ্ছে] ” ।

    খ)  “Kugelman said that even if someone talks about all the bad things happening in Bangladesh [বাংলাদেশে খারাপ সব কিছু ঘটছে বলে কেউ কেউ বললেও], the bottom line is that there is still a lot for the government in Bangladesh which helps it sustain a significant level of success [শেষ কথাটা হল, এরপরেও বাংলাদেশ সরকার উল্লেখযোগ্য পর্যায়ের সফলতা দেখাচ্ছে] and there are people who see reasons to support it” [ক্ষমতাসীন দলের প্রতি সমর্থন দেখানোর মত ব্যপক জনগণ এখনও আছে].

    গ) “Responding to a question, Kugelman said Bangladesh has been a regional success story for its economic growth. ‘It’s a global success story.’ ” মানে কুগেলম্যান বাংলাদেশের স্বীকৃত মুদ্রাস্ফীতি ১২-১৪% হয়ে গেলেও রিজার্ভ নিয়ে টানা পোরেন খেজুর, ছোলার মত আইটেম আমদানি করতেও পারে না এমন অর্থনীতিকে প্রশংসা করে বলছেন, এটাই নাকি হাসিনার গ্লোবাল সাকসেস স্টোরি।

    ঘ)  Kugelman, however, said the protests launched by the opposition parties “was not a mass protest” but a partisan protest.   এটা সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং। অর্থাৎ তখনও ঢাকার মাঠে বাইডেন বাংলাদেশে বিরোধীদের উতসাহ নিয়ে মাঠে নামাচ্ছেন।  আর কুগেলম্যান এই জেগে উঠা হাসিনা বিরোধিতাকে কেমন তুচ্ছ চোখে দেখে বর্ণনা করছেন। বলছেন, বিরোধীদের রাস্তার প্রতিবাদ এটা নাকি গণ-প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ নয়। এটা কেবল দলীয় প্রতিবাদ।

    অর্থাৎ সারকথায়,    বাইদেন-ল্যু একদিকে বিরোধী দলকে সমর্থন দিয়ে মাঠে নামিয়ে হাসিনার উপর চাপ সৃষ্টি করলেও কিন্তু এই কুগেলম্যান চালাইতেছে উলটা গান – হাসিনার পক্ষে দাড়িয়ে এই ফ্যাসিজমের ক্ষমতাকে প্রসংসা করে চলছেন। মজা না! কারন, এই ২০২৩ সালের জুনেই বাইডেন-হাসিনা রফা হবে। যেটার প্রশংসা করে কুগেলম্যান লিখছেন, বাংলাদেশে এবার ইন্দোপ্যাসিফিক কৌশলে যোগ দিল। 

    এবার, সবশেষে,  কুগেলম্যান নিয়ে ৫ আগষ্ট মানে হাসিনা পতনের পরের  আর একটা রিপোর্ট পড়াবো পাঠকদের। সেবার কুগেলম্যান একেবারে ঢাকায় এসে হাজির শুধু না। একেবারে ইন্ডিয়ার পক্ষ খোলাখুলি যুক্তি তুলে ধরা শুরু করেছেন।

    দেখেন নিচের রিপোর্টঃ
    Kugelman in panel discussion
    Bangladesh is going to be under pressure to make choices
    Diplomatic Correspondent, Dhaka; Updated: 31 Jan 2025, 17: 59

    কুগেলম্যান বলছেনঃ
    “A growing number of geopolitical rivalries have been present in Bangladesh. There has been India, China, US, and now Russia is joining in. Bangladesh has historically maintained varying degrees of good relations with all four countries. It is a difficult place to be in because Bangladesh is going to be under pressure to make choices if the Trump administration puts pressure on Bangladesh to do less with China” . হাসিনা উতখাতের পরে সব চায়না নিয়ে গেল!

    এবার সরাসরি ইন্ডিয়ার কোলে বসে তিনি বলছেন,
    A)  “……If the Trump administration puts pressure on Bangladesh to do less with China, Bangladesh is going to have to respond to that in some way.”

     B) “Michael Kugelman commented that following the fall of the Hasina government, the interim administration appears to be leaning towards China [হাসিনা পড়ার পরে চীন সব নিয়ে গেল]. It remains uncertain how the Trump administration will respond to this shift.

    C)Regarding Bangladesh’s relations with India, Kugelman noted, “For India, what’s most concerning now is the Jamaat factor and the Pakistan factor, and particularly Bangladesh’s efforts to to build up a better relationship with with Pakistan.” এখানে এসে কুগেলম্যান যে ইন্ডিয়ার দালাল সেটা আর লুকায়ে রাখতে পারলেন না। তিনি বলছে ইন্ডিয়া জামায়াত ফ্যাক্টর আর পাকিস্তান ফ্যাক্টর নিয়ে উদ্বিগ্ন। 

    D) “My sense is that India would like to see an election here sooner rather later. If there is an election anytime in the relatively near future, there’s a good chance that BNP would come back. And I think India might feel that if BNP is serious about ending its alliance with Jamaat, that could create more opportunities for India to actually be comfortable engaging with the government in Dhaka.”

    এই শেষে এসে কুগেলম্যান এবার একেবারে কাছাখোলা। ইন্ডিয়া, ওয়াকার আর তারেকের সুরে তিনি সোজা বলে দিলেন – এখনই নির্বাচন [see an election here sooner rather later]।  এবং তথাকথিত জামায়াত ভীতি। 

    তাহলে যেকথা দিয়ে শুরু করেছিলাম, কুগেলম্যান হল, ইন্ডিয়ান এজেন্ট যিনি ইন্ডিয়ার হাতে আবার বাংলাদেশকে তুলে দিতে চান। আর এতে এখন মৃত [ট্রাম্প ২.০ এর আমলে কথিত ইন্দো-প্যাসেফিক কৌশল অথবা কোয়াড] হলেও কুগেলম্যান এখনও স্বপ্ন দেখতে ভুলতে রাজি না যে  বাংলাদেশকে ইন্ডিয়ার হাতে তুলে দিলে তাতে ইন্দো-প্যাসেফিক কৌশল অথবা কোয়াড আবার জেগে উঠতে পারত! যদিও মানতেছেন ট্রাম্পের কারণ এসব কিছুই হচ্ছে না। তবুওও তিনি এখনকার ইন্ডিয়ার বাংলাদেশের নীতির পক্ষে আছেন সেটা জানাতে দ্বিধা করছেন না, জানিয়ে চলছেন।
    কুগেলম্যান এবার সবশেষে গতকালকে একই ফরেন পলিসি পত্রিকায় তার সাপ্তাহিক কলাম লিখেছেন। সেতার এক বাংলা অনুবাদ কালের কন্ঠ ছেপে দিয়েছে, লিঙ্ক এখানে

    মার্কিন সাময়িকী ফরেইন পলিসির প্রতিবেদন : হট সিটে ড. ইউনূস

    বলা যায় এটা হল কুগেলম্যান ইন্ডিয়াকে দেয়া সর্বশেষ সার্ভিস – সরাসরি এক ময়থ্যা গুজব যে ইউনুস সাহেবের ক্ষমতা নাকি খুব বিপদে আছে। এটা শতভাগ চাপা পিটানো একটা হাইপ!

    শেষ কথাটা হল, এটা অবশ্যই ওয়াকারের জন্য দুঃখের কথা যে তিনি গতকাল থেকে জেনে গেছেন যে বাংলাদেশে তাঁর ইন্ডিয়ার আর বিএনপিকে সাথে নিয়ে গড়া ও করা ততপরতা এটা শুধু ট্রাম্পই অনাগ্রহ বা বিন্দুমাত্র অনাগ্রহীই নয়, খোদ সিআইএ-ও পছন্দ করছে না বলে ওয়াকার ব্লক জানতে পেরে গেছে। বলাই বাহুল্য যেটা একটা হতাশা ডেকে এনেছে তাদের ব্লক মনমানসিকতায়!

     

     

     

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ ৩০ মে, ২০২৫    রাত ১০ঃ ৪৮
    শেষ আপডেটঃ  ৩১ মে, ২০২৫    রাত ১২ঃ ২০

     

  • ওয়াকার এন্ড গং, দিনশেষে কোথায় দাঁড়ালো?

    ওয়াকার এন্ড গং, দিনশেষে কোথায় দাঁড়ালো?
    গৌতম দাস
    ২৫ মে, ২০২৫   মধ্যরাত ১২ঃ ৩৯
    https://wp.me/p1sCvy-6t4

     

    দিন শেষে কী দাঁড়ালো?
    ওয়াকার ইস ওভার! এ নেম ফর আ লষ্ট গেম!
    এন্ড দ্যা উইনার ইস ডঃ ইউনুস!

    সরি, ওয়াকার সাব এভাবেই লিখতে হল। কারণ, আপনি নিজেই এক পরিচয় বেছে নিয়েছেন যেখানে আপনি সেনাপ্রধান কম, পলিটিক্যাল জগতে এন্ট্রুডার [intruder]  বেশি; মানে সীমা ক্রশ করা অনুপ্রবেশকারী হয়ে গেছেন। হয়ত জেনে বা না-জেনে! এক অবিবেচক রিস্ক টেকার হওয়াতে আপনাকে এখন খেসারত দিতে হবেই!

    এটাই ঘটবে তা আমি গতকাল সন্ধ্যা থেকে যারাই আমাকে নক করেছিল তাদের সবাইকে বলেছিলাম! বেশিরভাগই বিশ্বাস করে নাই। আজ কেবল বিকালের পর থেকে করেছে, করতে শুরু করেছিল।
    কারণ, আমি বুঝেছিলাম ওয়াকার সাব নিজ সক্ষমতা কতটা যেটাকে বলে “এসেসমেন্ট অফ সেলফ স্ট্রেন্থ” – সেটা তিনি করেনই নাই। অথবা তা করেন নাই জেনেও করা ছাড়াই আবেগী সিদ্ধান্তে চলে গেছেন! আপনি তো একজন সৈনিক! কিন্তু এটাই আপনার জীবনের সবচেয়ে অসৈনিক-সুলভ আচরণ করেছেন! যা আপনার অনিচ্ছায় অজান্তে প্রমাণিত যে আপনি সৈনিকই নন!

    আপনার স্ট্রেন্থ এর ঘাটতি মানে আপনার ক্ষমতার মুরোদের ঘাটতি টা আপনি ভেবেছিলেন ব্যারাকের বাইরের শক্তি যেমন, বিএনপির মত দল আর র-এর দালাল মিডিয়াগুলোকে দিয়ে কাভার করে ফেলতে পারবেন!!!  কিন্তু হায় ওয়াকার! এটা কী করলেন আপনি!!!
    সামরিক বা ফিজিক্যাল সক্ষমতার ঘাটতি প্রপাগান্ডা মিডিয়া দিয়ে পূরণ হয় না! বুঝা যাচ্ছে এটা আপনাকে কেউ শিখায় নাই! খুব সম্ভবত নিয়মিত লেগে থাকা র-এর উস্কানি আপনাকে এই পথে এই আত্মঘাতি পথে ঠেলে দিয়েছে! কারণ, তাদের কাছে আপনি মরলে কী এসে যায়? তারা তো দুদন্ড না থেমেই আপনাকে ফেলে সোজা হাটা দিয়ে অন্য একটা শিকার ধরতে চলে যাবে বা গেছে অলরেডী! কিন্তু এখন আপনার কী হবে???

    এখন আপনার অপশন কী? কী আর বাকী হবে???
    অপশন একঃ
    সৈনিক মর্যাদাবোধ কিছু যদি অবশিষ্ট থাকে তবে স্বচ্বচ্ছায় পদত্যাগ করে বেনিফিটগুলো নিশ্চিত করে আর সম্মান নিশ্চিত করে বিদায় নিতে পারেন।
    অপশন দুইঃ
    আরো বড় বোকা হয়ে হাজির হতে পারেন। বুডা হাড়ে লড়ে যাবার বোকামি মাথায় চেপে বসে গেলে মানুষের যা হয় তেমন আর কি! যার শেষটা অবশ্যই হবে খুবই নির্মম; যা আপনার কল্পনাকেও ছাড়িয়ে যাবে। নিশ্চিত থাকতে পারেন।  সবচেয়ে বড়কথা সেক্ষেত্রে নিজেকে চরমতম অসম্মান করবেন; অসম্মানের মধ্যে ফেলে দিবেন। যাকে বলে লষ্ট ইওর টোটাল মাইন্ড!

    তবে ওয়াকার সাব এটা বুঝে গিয়েছিলেন দুপুর থেকেই – একেবারে ঘরে-বাইরে! ঘরের কথাটা থাক। বাইরেরটাই মানে আম-মানুষের পরিচিত দিকটা নিয়েই বলি!

    এর প্রধান চিহ্নটা হল, শান্তনা রহমান। ওরফে (alias) মতিউর রহমান চৌধুরীর সীমা ছাড়ানি উদ্ধত্বপুর্ণ শিরোনাম – “পদত্যাগ নয়, নতুন করে ঘুঁটি সাজানো হচ্ছে” এর লেখাটা।
    বোকা মতি শেষ জীবনে এসে এতটাই ডেসপারেট আর অবুঝ রিস্ক নিয়ে বসলেন যে ওয়াকারকে তিনি খাড়া করবেনই! অর্থাৎ তিনি ধরে নিলেন ওয়াকার জিতবেনই; তাই তিনিও। অথচ মতি সাবের নুন্যতম এনালাইটিক্যাল পাওয়ার কখনই ছিল না নাই যা দিয়ে তিনি বুঝবেন বা বুঝে নিলেন কীসের ভরসায় যে কেন ওয়াকার সাব জিতবেন?
    তাই মনে হচ্ছে বুঝাবুঝি না, নিজ জীবনের বড় খুব কিছু হতে না পারার হতাশা থেকেই যেন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে ওয়াকার সাবকে নিয়ে বাজী ধরার যায়। যেন ওয়াকার সাবকে মিথ্যা মিডিয়া প্রপাগান্ডা সার্ভিস দিয়েই তিনি বাজি লুটবেন – তিনি জিতবেনই!
    ওয়াকার সাবও ডেসপারেট, কেউ বুদ্ধি দিল ওসব ফেসবুকীয় নাইন সার্ভিস কিনে সেখানেই লেপ্টে থাকার জন্য এর কারণেই তাঁর সাফল্য আসছে না।তাই সেখান থেকে মেইনস্ট্রিম সার্ভিস কিনে নিবার ডেসপারেট সিদ্ধান্তে যেতে ঝাপিয়ে পরেন। কারণ, তিনিও ততক্ষণে বুঝে গেছিলেন তার সময় ফুরিয়ে আসছে – বেশি সময় আর পাবেন না। তিনি হেরে যাচ্ছেন। অতএব এই ডেসপারেট সিদ্ধান্ত – মানবজমিন সার্ভিস কিনতে ঝাপিয়ে পড়া।
    আসলে যে কথা বলছিলাম,
    লেখাটা মনে হবে চরম আক্রমণ করতে এগিয়ে যাচ্ছেন ওয়াকার-মতি জোট! কিন্তু না! আসলে মরবে জেনেও আগানো এমন মরিয়া দশা বা ফেজ সেটা!
    এর চিহ্নটা হল, মতি সাবের শিরোনামটা দেখেন!
    “পদত্যাগ নয়, নতুন করে ঘুঁটি সাজানো হচ্ছে” !!!!!
    আচ্ছা মতি সাব না হয় আদেশপ্রপ্ত লোক কিন্তু ওয়াকার? তিনি কী জানতেন না যে প্রথমদিনের শেষ রাতেই ইউনুস সাব পদত্যাগের ফাইল আবার ক্লোজ করে ফেলেছেন? এর স্পবক্ষে লোক সমর্থক জড়ো করে ফেলেছেন?  এই তথ্য ওয়াকার সাবের অজানা থাকতেই পারে না। তাঁর নিজস্ব (ইন্ডিপেন্ডেন্ট) ইন্টেজিন্স এম আই [M I] কী তাকে বলে নাই একথা???? তাই এটা অবিশ্বাস্য যে ওয়াকার সাব এটা জানলেন না।

    তাহলে তিনি সেটা জেনেও গতকাল দুপুরে কী করে মতি সাব কে এই শিরোনাম দিতে বলেন যে “পদত্যাগ নয়, নতুন করে ঘুঁটি সাজানো হচ্ছে”???কারণ গতকাল মানে তো আটচল্লিশ ঘন্টা পরের শিরোনাম এটা!!
    এছাড়া ঘুটি শব্দের ব্যবহার ওয়াকার-মতির জন্য আত্মঘাতি যা তাঁরা জেনেও ব্যবহার করেছেন শুধু না। হেরে যাবার আগে এটা বিরাট উস্কানিমূলক! নিজ অপরাধ স্বীকারের ইঙ্গিত না দিয়ে উলটা চোর কোতয়ালকে বকা দিচ্ছে যেন! এটা একেবারেই অপ্রয়োজনীয়, কিন্তু এক আগ্রাসী এটিচ্যুড! নিবুদ্ধিতার! 

    অতেব সারকথায়, ওয়াকার লস্ট দা হোল গেম!

    আর বিপরীতে ইউনুস সাহেব শুধু জিতেছেন তাই নয়। এখন পুরা পরিস্থতি ইউনুস সাবের মুঠোয় চলে গেছে। গতকাল উনার উপদেষ্ট পরিষদের বিবৃতি [

    দায়িত্ব পালন অসম্ভব করে তুললে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার

    ]ফলো করতে পারেন!

    আসলে ওয়াকারের সাথে মতি চৌধুরীও জীবনের শেষ বড় ভুল করে শেষ হয়ে গেলেন। মানবজমিন এখন টিস্যু পেপার হয়ে গেল – কালবেলার চেয়েও নিচা মানের!!!

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  , মধ্যরাত ১২ঃ ৪৫   ২৫ মে  ২০২৫
    শেষ আপডেটঃ  , 

     

     

     

  • তাহলে আওয়ামী লীগ / হাসিনার বিচার ও নিষিদ্ধ কী হচ্ছে? আসন্ন?

    তাহলে কী আওয়ামী লীগ  নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছে আর সাথে হাসিনার বিচার শুরুও কী হচ্ছে? আসন্ন?
    গৌতম দাস
    ০৯ মে ২০২৫     দুপুর ১১ঃ ৫১
    https://wp.me/p1sCvy-6sz

    May be an image of 8 people, dais and text that says 'গণহত্যার দায়ে আ' ''লীগকে বিচারের আওতায় আনা হোক "আওয়ামী লীগকে বিচারের আওতায় আনার দাবি আমরা প্রকাশ্যে করেছি, লিখিতভাবে করেছি, সরকারকে জানিয়েছি। আমরা চাই আওয়ামী লীগকে গণহত্যার মানবতাবিরোধী ধী অপরাধের দায়ে বিচারের আওতায় আনা হোক। এজন্য সংবিধানের ধানের 89 অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইন করা যায় এবং আইন সংশোধন করা যায়। সালাউদ্দিন আহমেদ এপ্রিল ২০২৫ ছেফা জতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের পর। BИP PMERIACEL ΜΕBΙΑ CELL f0ro0d RIRLK'

     

     

    তাহলে আওয়ামী লীগ / হাসিনার বিচার ও নিষিদ্ধ কী হচ্ছে? আসন্ন?

    সালহউদ্দিন আহমেদ, দ্যা বস (above Mirza fokrul) এবং দ্যা ‘র’ – পক্ষ থেকে অথরাইজার; তিনি এক বক্তব্য দিয়েছেন। খাস বক্তব্য ধরে নিচ্ছি কারণ এটা বিএনপির মিডিয়া সেল ফেসবুক পেজ থেকে ছাপানো প্রচার হয়েছে (লিঙ্ক এখানে) আধা ঘন্টা আগে।
    ইদানিং আমি সালহউদ্দিন আহমেদকে দেখে মানে ফেস রিডিংয়ে নিশ্চিত হচ্ছি, মনে ভিন্ন মতলব থাকলে সেটা ফেস বা মুখে প্রতিফলিত হবেই!  বেচারা!!

    কিন্তু এত তাড়াতাড়ি বিএনপি ভচকায়ে যাবে???? তাহলে কীসের ভরসায় জনগণ বিচার করবে বলে  অবস্থান নিয়েছিল? জাস্ট র-এর হুকুম, নির্দেশ? বেচারা তারেক জিয়া ও তার বিএনপি! গতকাল দেখলাম প্রণয় ভার্মা তাকে রবীন্দ্রনাথ গিলিয়েছে একটা বিবৃতি আদায় করে নিয়েছে! যা বিএনপি তাঁর বাবা জিয়াউর রহমানের আমন থেকে কখনই এমন রবীন্দ বয়ান দেয় নাই! দেওয়ার কথাও না! কালকেও প্রণয় ভার্মা রবীন্দ্রনাথের মুখোশ পরে বাংলাদেশের উপর ইন্ডিয়ান আধিপত্য কায়েমের বক্তৃতা দিয়েছে!

    May be an image of 8 people, dais and text that says 'গণহত্যার দায়ে আ' ''লীগকে বিচারের আওতায় আনা হোক "আওয়ামী লীগকে বিচারের আওতায় আনার দাবি আমরা প্রকাশ্যে করেছি, লিখিতভাবে করেছি, সরকারকে জানিয়েছি। আমরা চাই আওয়ামী লীগকে গণহত্যার মানবতাবিরোধী ধী অপরাধের দায়ে বিচারের আওতায় আনা হোক। এজন্য সংবিধানের ধানের 89 অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইন করা যায় এবং আইন সংশোধন করা যায়। সালাউদ্দিন আহমেদ এপ্রিল ২০২৫ ছেফা জতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের পর। BИP PMERIACEL ΜΕBΙΑ CELL f0ro0d RIRLK'

    তাহলে কী দাঁড়ালো? মির্জা আলমগীর সাব?
    আপনার জনগণ বিচার করবে – এই মহান বক্তব্য এখন কোথায়? সবই র-এর খেলা, অনুমোদন! আর আপনারা র-এর হাতের পুতুল!!!!

    এই বুড়া বয়সেও আপনার আক্কেল হল না। আত্মসম্মান? সবই ক্ষমতা আর অর্থের লোভ! এভাবে নিজে অপমানিত হলেন তাতে কী? তাই না? ক্ষমতা তো পাবেনই; তাই ভাবছেন তো? সেটাও পাবেন না। বাংলাদেশের মানুষের চোখে আপনারা নিকৃষ্ট ইন্ডিয়ার দালাল! সেটা কী টের পাচ্ছেন?

    গতরাত থেকেই মুখ্য প্রায় সব ছাত্র সংগঠন ও তাদের সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল ইউনুসের যমুনা বাসা / অফিস এর সামনে অবস্থান নিয়েছে; অন্য অনেক রাজনৈতিক দলও সেখানে উপস্থিত ছিল। আজ সকালে জামায়াতও অন্তত বিএনপি মানে র-এর সাথে পুরানা অবস্থানে থাকে নাই; তারা মিছিল পাঠিয়েছে, মানে সংহতি জানিয়েছে ধরে নিতে পারি।

    কথিত বামপন্থি?
    আসলে যারা বামপন্থার নামে মূলত হিন্দুত্ববাদী ও মোদির ফলোয়ার তারা এখন কী করবে? সিপিবি-বাসদ ঘরানা? আপনাদেরকেও কী র-অনুমোদন দিবে? আনতে পারবেন? না নিজেই নখড়া করবেন?

    একটা সময় আসে যখন ভয়ে সব দালালি / চাটুকারিতা হিন্দুত্ববাদী ভন্ডামি সব কিছুর লেবাস খুলে যায়! সব ন্যাংটা দেখা যায়? সবই খোলা মাঠ!

    সকাল থেকে দেখি প্রথম আলোর সুরও বদলে গিয়েছে!

    তাহলে কী সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ জিন্দাবাদ? তিনি ন্যাংটা হয়ে আমাদের চোখ খুলে দিলেন? ঘটনা লারায় দিলেন?  কিন্তু আমরা তো দেখছি র-এর দালাল গুলাই ন্যাংটা হয়ে ডিগবাজি দিচ্ছে! সত্যি দেখার মত এ-এক   র-অনুমোদিত খেলাধুলা!!!!!

     

    আবার পল্টিঃ
    তিন ঘন্টা যেতে না যেতেই আবার পল্টি!
    তিন ঘন্টা আগে প্রচার করলোঃ
    আমরা চাই আওয়ামী লীগকে গণহত্যার ও মানবট্কাতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিচারের আওতায় আনা হোক!

    6h 
    “আওয়ামী লীগকে বিচারের আওতায় আনার দাবি আমরা প্রকাশ্যে করেছি, লিখিতভাবে করেছি, সরকারকে জানিয়েছি।
    আমরা চাই আওয়ামী লীগকে গণহত্যার ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিচারের আওতায় আনা হোক। এজন্য সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইন করা যায় এবং আইন সংশোধন করা যায়।”

    আর এখন বলতেছেঃ
    আমরা বিএনপি হিসেবে তো, এই সিদ্ধান্ত নেয়ার মালিক নই।

    1h 

    যার সোজা মানে হল, 
    আমরা বিএনপি মোদি বাবার র-এর কাছে তাদের কোলের এক নম্বর পার্টি হয়ে থাকতে চাই।
    May be an image of 3 people and text that says 'ਦ ENIAS GHASN ਆন S আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন ও সরকার নিতে পারে। বিএনপি এই সিদ্ধান্ত নেয়ার মালিক না। -ড. আবদুল মইন খান উ্জ্ারবার, ৯. ২০২৫, যুক্তরা্তরভিিন্তক দা কার্টার সেন্টারের পরতিনিধি দলের সাথে বিএনপির বৈরঠক বৈংক শেষে। •NF MIBIA ELL f08000'

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  , দুপুর ১২ঃ ১৫   ৯ মে  ২০২৫
    শেষ আপডেটঃ  , বিকাল ০৪ঃ ৪৯   ৯ মে  ২০২৫