Category: গৌতম দাস

  • দ্বিতীয় পর্বঃ সিরিয়ায় কী হচ্ছে; আবার ওবামা-হিলারির নাটক?

    দ্বিতীয় পর্বঃ সিরিয়ায় কী হচ্ছে; আবার ওবামা-হিলারির নাটক?
    গৌতম দাস
    ১২ ডিসেম্বর ২০২৪   বিকাল ০৪ঃ ১৭
    https://wp.me/p1sCvy-61D

    HILARY, OBAMA & Joe Biden 

    দ্বিতীয় পর্বঃ সিরিয়ায় কী হচ্ছে; আবার ওবামা-হিলারির নাটক?

    সবার আগে খবরের সোর্স নিয়ে দুটাকথা বলে নেইঃ
    সিরিয়ায় ক্ষমতায় পালাবদল এসেছে এতে সবপক্ষকেই আমাদের সবার পছন্দ-অপছন্দ যাই থাক একে বাস্তব বা রিয়েলিটি বলে না মানার আর সুযোগ নাই।
    কিন্তু  সিরিয়ায় তাহলে হলটা কী তা বুঝার জন্য আমি আসলে অপেক্ষা করছিলাম মুখ্যত দুইটা ভাষ্য পাবার এক. ইরান মানে আসলে খামেনী [Ali Khamenei] এর বক্তব্য-ব্যাখ্যার জন্য । কারণ, ক্ষমতার এই পালাবদলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ইরানের গ্লোবাল স্ট্রাটেজি। আর দুই. এরদোয়ান (যে লাভবান হয়েছে সবচেয়ে বেশি; অন্তত আপাতত চোখে) অথবা এর বিকল্প আমেরিকান প্রশাসনের কোন বক্তব্য পাবার জন্য। ইতোমধ্যে রাশিয়ারটা জানা গেছে।

    গতকাল বুধবার খামেনীর বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল তিনি দিয়েছেন। যেখানে তিনি এরদোয়ান বা তুরস্ক সরকারকে অভিযুক্ত করে বক্তব্য দিয়েছেন, যদিও দেশের নাম নেন নাই, সিরিয়ার পড়শি দেশ বলেছেন।  এপ্রসঙ্গ ভাল কাভারেজ আছে রয়টার্সে আর একেবারে গভীরের  কিছু খবর আছে লন্ডন টেলিগ্রাফে। আর সাথে বাড়তি কিছু আছে লন্ডন গার্ডিয়ানে। আসলে আমি অন্তত ইরান বা খামেনীর বক্তব্য পাবার জন্য সিরিয়া নিয়ে লিখতে দেরি করছিলাম। আর আরেকটা অসুবিধা ছিল ইরানের ক্ষতি হল (যেটা উলটে বললে তুরস্ক-আমেরিকা লাভবান) বলে এই প্রসঙ্গে আমেরিকান (বা সাধারণভাবে পশ্চিমা) নিউজ এজেন্সি খবর দিতে পারবে না বা চাইবে না; তা বুঝতে পারছিলাম। সেজন্যই সিরিয়ান খবর মানে তা হয়ে উঠেছিল  বিদ্রোহি এলায়েন্স [কেউ অবশ্য আগ্রহি না যে এরাই নয়া নামে পুরান আই এস] কে বিজয়ী দেখানো  হিরোগিরি যেন তারাই বীর, ঘটনার আসল নায়ক বলে প্রচারের খবর। সেটাকে আমি প্রথম পর্বে বাংলাদেশে এরশাদের পতনে কথিত বিজয়ীদের দাবির সাথে তুলনা করেছি। এসব মিলিয়েই এককথায় বললে কোন আমেরিকান নিউজ এজেন্সির কাছে কোন মিনিংফুল খবর নাই; বা অন্যভাবে বলা যায়, সব খবরের সোর্স হয়ে উঠেছে লন্ডন। ওদিকে ফাঁকে, আল জাজিরা থাকলেও তারা [মানে আসলে কাতার সরকার] ইরান বা তুরস্ক কারো বিরুদ্ধেই যেতে চায় না  প্লাস কাতারে আমেরিকার বড় সামরিক ঘাটি বলে বাসারের সিরিয়াবিরোধী অনেক কাজ তাদের এতদিন করে দিতে হয়েছে। অতএব নয়া ঝামেলা এড়ানো লাইনে তাদের খবরের ফোকাস হল, ঘন্টায় ঘন্টায় দামাস্কাস শহরে কী হল বা নতুন সরকারে কে এল – এসব সাধারণ বর্ণনার নিউজ!
    রয়টার্স লিখেছে, আসাদ চলে যাবার পরে তারই নিয়োজিত প্রধানমন্ত্রী [With Syria’s Assad gone, his PM agrees to hand power to rebel administration] ক্ষমতা হস্তান্তরে আগ্রহি ও রাজি, এটা ১০ ডিসেম্বরে। মানে হল, আসাদ একাজে রাজি; এই সুত্রে তাহলে রাশিয়াও রাজি!  এখান থেকেই এটা একটা পর্দার আড়ালে বিরোধের আপোষ-সমাধান। সে খবর এখান থেকে ডালপালা ছড়াবে স্বাভাবিক। আর এই গল্পটা তুলে ধরতে গিয়েই  বিদ্রোহি কোয়ালিশন [rebel-led Salvation] ধারণাটার আমদানি। আর এটাই সিরিয়ার বর্তমান পরিবর্তনে হাতঢুকানোর হাতিয়ার বা টুলস যার সামনের দেশ হিসাবে আছে তুরস্ক আর এরও পিছনে আছে আমেরিকা; ফলে আরও পিছনে ইসরায়েল!
    আর খামেনীর বুধবারের বক্তব্য নিয়ে বোমা ফেলেছে লন্ডন টেলিগ্রাফ ও গার্ডিয়ান। গার্ডিয়ান এর শিরোনাম খামেনীর দাবিঃ “আসাদের ক্ষমতাচ্যুতি আমেরিকা ও ইসরায়েলের পরিকল্পনায় ঘটেছে”  [Assad downfall was planned by US and Israel, claims Iran’s supreme leader]।  আসলে তিনি মুখ্য বা ফ্রন্টাল প্রতিনিধি মেনে নাম করতে চেয়েছেন তুরস্কের। তুরস্ক বুঝাতে বলেছেন, “Yes, a neighbouring government” – এভাবে আরো বলেছেন, এই পড়শী সরকার… in Syria plays an obvious role in this regard, and is still playing it – everyone sees this…সকলেই এর ততপরতা দেখেছে। এরই বাংলা অনুবাদ আমাদের ইত্তেফাক ছেপেছে।

    সংক্ষিপ্ত ঘটনা বর্ণনাঃ
    যাদেরকে বিদ্রোহি কোয়ালিশন [এইচ-টি-এস Hayat Tahrir al-Sham.] নাম বলা হচ্ছে  হঠাত তাদের ততপরতার গল্প প্রেসিডেন্ট আসাদের কানে দেয়া হয়। এই ইন্টেলিজেন্স তথ্য যাদের সমন্বয়ে তৈরি হয় তার মধ্যে ইরানের কুদস ফোর্সের লোক ও রাশিয়ান ইন্টেলিজেন্স এর লোকও। সেটা এতই ভয়ার্তভাবে আসাদের সামনে তারা তুলে ধরেছিল যে আসাদ দেশত্যাগে রাজি হয়ে যায়। বলা হয়েছিল, এই HTS বাহিনী এসে গেল বলে আর ওরা এলে আসাদ আটকে পড়বেন তাই তাঁর আগে থেকে দেশত্যাগ করা ভাল। এতে এরপরে আসাদ পুতিনের সাথে ফোনে পরামর্শ করলে পুতিন জানান আপনি দেশত্যাগ করতে চাইলে সে সিদ্ধান্ত আপনার তবে আমরা আপনাকে এটা বাস্তবায়নে আপনাকে আশ্রয় দিব সাহায্য করব।  এরপরে আসাদ নিজ জেট বিমানে দেশত্যাগ করেন – আর সেটা সিরিয়াতেই এক রাশিয়ান মিলিটারি ঘাঁটির উদ্দেশ্যে। মনে করা হচ্ছে সেখান থেকে বিমান বদল করে রাশিয়ান সামরিক বিমানে তিনি রাশিয়া পৌছান সপরিবারে।

     লন্ডন টেলিগ্রাফ ১১ ডিসেম্বর লিখছে, “According to Sergey Markov, a pro-Kremlin commentator on Telegram, Moscow’s rescue of Assad proved that its government had already been successfully negotiating with the Syrian rebels. বাংলা করে বললে, রাশিয়ান সরকার প্রসঙ্গে মন্তব্য করে থাকেন এমন কমেন্টটেটর বলেছেন মস্কোর আসাদ কে উদ্ধার করে আনা – এর অর্থ হল, রাশিয়া ইতোমধ্যেই সিরিয়া বিদ্রোহি গোষ্ঠির সাথে কোন আপোষ-রফায় এক মীমাংসা করে ফেলেছে!”

    লন্ডনের গার্ডিয়ান সহ অনেকেই বলেছে, আসাদের দেশত্যাগ ইরানের জন্য এক বিরাট ধাক্কা।
    তবে লন্ডন টেলিগ্রাফের গভীরে গিয়ে রিপোর্টিং রিপোর্ট সেটা হল, ইরানের Islamic Revolutionary Guard Corps (IRGC) এর দুই সিনিয়র কর্তার বরাতে এক রিপোর্ট। যেখানে ওদুই কর্তা আলাদা আলাদা করে অনেক তথ্য জানিয়েছেন। যার সারকথা হল, ইরানি এই গার্ড বাহিনীর ভিতরে আসাদের পতন কে কেন্দ্র করে একে অপরকে দোষারোপ আর হতাশায় নিজের মাথার চুল ছিড়ে ফেলার দশায় পরেছে। নেতা খামেনী তা নিয়ন্ত্রণ ও ঠান্ডা করার আপ্রান চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এমন খবরের লন্ডন টেলিগ্রাফ এর ৯ ডিসেম্বরের শিরোনাম দেয়া হয়েছে,Iran’s armed forces ‘at war with themselves’ over fall of Assad। বলা হয়েছে ইরানের কাছে ঠিক আসাদ নয়, মূলত লেবাননের হিজবুল্লাহকে সামরিক রসদ ইত্যাদি [main route for supplying Hezbollah] সরবরাহ আর অন্যদিকে ইসরায়েল এর পৌছানোর সুযোগ নেয়া – এবং সে ভিত্তিতে ইরানের নিজেকে সাজানো এই ছিল বিপ্লবী ইরানের কাছে আসাদের গুরুত্ব!

    “No one ever imagined seeing Assad fleeing, as the focus for 10 years had been only on keeping him in power. And it was not because we were in love with him, it was because we wanted to maintain proximity to Israel and Hezbollah.”

    কিন্তু ট্রাজিক কথাটা হল, লন্ডন গার্ডিয়ান খবর দিচ্ছে – আসাদের পতনে হামাস এই পতনের পক্ষে বিবৃতি দিয়েছে – .…..Hamas, the leaders of the Palestinian resistance in Gaza, has welcomed the fall of Iran’s ally Assad. ওদিকে আবার কাতার সেও – কাতার নয়া সিরিয়াতে এখন এমবেসি খোলার কথা জানিয়েছে। .…..Qatar, a country that refused to recognise Assad, is due to reopen its embassy shortly, and is likely to be a key player in trying to persuade the Sunni HTS …।

    HTS সম্পর্কে তথ্যঃ 
    এই তথ্য দিচ্ছে রয়টার্স তার আর্কাইভ থেকে। লিখেছে, জাতিসংঘের চোখে HTS এখনো এক টেররিস্ট গ্রুপ! মূল অকারণ, এর ইরাকে প্রথমে আল কায়েদার হয়ে পরে আইএস এর হয়ে টেররিস্ট ততপরতা। এর নেতা গোলানি [Golani] দীর্ঘদিন আমেরিকান কারাগারে আটক ছিলেন। HTS is still designated as a terrorist group by the United Nations, but has spent years trying to soften its image to reassure foreign states and minority groups within Syria. The group’s leader Golani, who spent years in U.S. custody as an insurgent in Iraq but later broke with al Qaeda and Islamic State, has vowed to rebuild Syria.
    সেখান থেকেই কী তাঁর আমেরিকার সাথে সম্পর্ক যোগাযোগ ও বিকাশে আজকের অবস্থায়?

    আমেরিকার এই কালো অধ্যায়েরঃ
    আমেরিকার এই কালো অধ্যায়ের নাম ও কালপর্ব হল, ২০০৯-১২ সালের ওবামা-হিলারি প্রশাসন; তাদের হাতে আসলে আইএস এর জন্ম। তিনারাই  Abu Musab al-Zarqawi [আবু মুসাব আল-জারকাউই] কে নিয়োগ দিছিলেন। সেটা আল-কায়েদা অনেক দেরিতে টের পায় বলে এর আগে তাকে (জারকাউই মূলত জর্দানি, আলকায়েদা তার ঘরানা নয়, গুরুও নয়) রীতিমত বায়াত নিয়ে পরে ইরাকে আল-কায়েদা, ইরাক এভাবে সংগঠন খুলতে দেয়া হয়েছিল। তার গ্রুপ কে ওবামা প্রথম নিয়োগ দিয়েছিলেন ইরাকে; মূলত শিয়া-সুন্নি বিভক্তি আনতে ঘটাতে। যদিও এর আগেই  আমেরিকা জারকাউই কে বিমান থেকে গুলি করে মেরে ফেলেছিল; খুব সম্ভবত আলকায়েদা ঘটনা সব জেনে ফেলেছিল বলে। পরের ঘটনা সংক্ষেপ করে বললে, পরে (জারকাউই বাদে) এই গ্রুপকেই ওবামা-হিলারি নিয়োগ দিছিলেন লিবিয়ার বেনাগাজিতে বসে গাদ্দাফি কে বধ করার জন্য। তারা কাজ করে দিয়েছিল ঠিকই। পরে এই গ্রুপকেই সিরিয়ার আসাদকে উতখাত হত্যার এসাইমেন্ট দিয়েছিল। এবার ততদিনে তারা বিট্রে করে বা নিজের পথে নিজ নামে (আইএস) নিজেরা আত্মবিকাশ ঘটিয়ে রওনা দিয়েছিল। আর তখনই কেবল তারা নিজেরা যে নাম নিয়েছিল সেটাই আইএস বা (ISIL)।  সেসময় যা যা ঘটিয়েছিল ১। গাদ্দাফিকে হত্যা করার পরে তাদের একটা গ্রুপ লম্বা গাড়িবহরে লিবিয়ান অস্রত্র বোঝাই করে আফ্রিকার মালি তে চলে যায়। ২। বেনগাজিতে আমেরিকান রাষ্ট্রদুতের অফিসেই রাষ্ট্রদুত সহ সকল স্টাফকেই মেরে ফেলে যায় তাঁরা। ৩। কিন্তু এর আগেই আমেরিকাই এই গ্রুপকেই সিরিয়ায় আসাদকে উতখাতে এসাইমেন্ট দিয়ে বিমানে করে অস্ত্রসহ পৌছানোর  ব্যবস্থা করে দিয়েছিল। ৪। আসলে সিরিয়ায় পৌছানোর পরে নিজেরা সংহত হয়ে নিয়ে এরপরেই প্রথম আইওএস নামে আত্মপ্রকাশ করেছিল । আর এর চেয়েও বড় কাজ ও কথা হল, তারা সিরিয়া থেকে রওনা দিয়ে ইরাকে আইএস নামে সশস্ত্র লড়াইয়ে ঝাপিয়ে পরছিল।

    সেটাও ওবামার দ্বিতীয়বারের প্রেসিডেন্টের আমল। তিনি ততদিনে ইরাক-আফগানিস্তান থেকে আমেরিকান সৈন্য ফিরিয়ে নিয়ে গেছিলেন (২০১৪ সালের ডিসেম্বরে) আমেরিকান অর্থনৈতিক সামর্থ যুদ্ধের খরচ বইবার মত আর না থাকার কারণে। কাজেই ওবামার নিজের হাতেই জন্ম দেয়া সশস্ত্র গ্রুপ যাদের তিনি সিরিয়ায় এনেছিলেন তারাই বোগদাদি খলিফা প্রতিষ্ঠা করে  ইরাকী আইএস নামে আত্মপ্রকাশ করে ফেলেছে।  কী তামসা!!!
    আর ওবামা বোকা হয়ে গেছেন তার আমেরিকান সৈন্য তিনি ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছেন সেই ২০১৪ সালের আগেই!!!  অতএব এখান থেকেই এবার ইরাকী আইএস  খেদাতে ইরানের সরকারের শরণাপন্ন হন; যদি তারা ইরাকী আইএস খেদায়ে দেয়। ফলে ইরানের সরকারের সাথ ওবামার আমেরিকা প্রশাসন এক চুক্তিতে আসে এটাই ইরানের সাথে পরমাণু চুক্তি! নামে খ্যাত। ঠাট্টা করে বললে এটাই ওবামা-হিলারির বেশি বুদ্ধিমান হতে চাওয়া আই-এস এর জন্ম দান আর এর অন্তত  ইরাকী আইএস অংশটাকে হত্যা করা। ইরান ওবামার সাথে চুক্তি মোতাবেক  নিজের IRGC বাহিনী দিয়ে ইরাকী আইএস কে ইরাক থেকে নির্মুল করে দিয়েছিল।

    তাহলে এখন সিরিয়ায় যেটা হচ্ছে, সেটা কী?
    এটাই কী আবার প্রাক্তন আইএস দেরই প্রতিশোধ? তবে নতুন নামে! ইরানের উপর প্রতিশোধ? 
    কিন্তু সেটা আবার পুরান আইএস – তাদেরই নয়া নামে কিন্তু সেই পুরানা দোস্ত আমেরিকারই হাত ধরে?
    তাদেরই এখন নয়া নাম বিদ্রোহি কোয়ালিশন বা  এইচ-টি-এস [ Hayat Tahrir al-Sham]। আমেরিকান এখনকার কী হবে?  শ্লোগান হবে জয় হোক HTS, এভাবে!!!! নাকি জয় হোক ISIL, এভাবে!!!!
    আবার তুরস্কও তাদের পক্ষে, রাশিয়ায় পাইপ লাইনে???  

    হেব্বি সব মজার কাহিনী, তাই না!!!!

    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ    ১৪ ডিসেম্বর  ২০২৪
    শেষ আপডেটঃ   ডিসেম্বর  ২০২৪

  • আমাদের প্রেস সচিব শফিকুল আলম, বেচারা!

    সবার আগে সেকুলার শব্দটা কবর দিয়ে নেন; এটা অপ্রয়োজনীয়!
    আমাদের প্রেস সচিব শফিকুল আলম, বেচারা!
    গৌতম দাস
    ০৯ ডিসেম্বর ২০২৪
    https://wp.me/p1sCvy-5Zk

     

     

     

     

    সবার আগে সেকুলার শব্দটা কবর দিয়ে নেন; এটা অপ্রয়োজনীয়!
    আমাদের প্রেস সচিব শফিকুল আলম কোন বেচারা নন, অবশ্যই। কিন্তু না হলেও তিনি তাই হয়ে পড়েছেন। মানে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এর কথাই বলছি। তাকে এখন বেচারা-ই মনে হয়! গ্রাম দেশের এক প্রবাদে আছে, তাঁতি তাঁত বুনে দিব্বি সেই আয়র উপর আরামে খাইতেছিল; কিন্তু কাল হল মানে সর্বোনাশ হল তাঁর জমি কিনার পরে!  শফিক সাহেব ঢাকায় ‘বার্তা সংস্থা এএফপির বাংলাদেশ ব্যুরো চিফ’ হিসাবে হেসে খেলে তার সময় আরামেই যাচ্ছিল। কিন্তু তিনিও তাঁতির মত জিমি কিনলেন!  আর এখন? এর পরে!!!!

    এখন তিনি বুঝতেছেন কী ভুলটাই না করেছেন!! কথিত সেকুলারিজম কেই বাপ ডাকতেছেন! অথচ কোন লাভ হচ্ছে না; তবু কোন কুল্কিনারা বনাই। তিনি সেক্যুলার সংবাদপত্র ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে আহবান বা আশ্রয় করে   উঠে দাঁড়াতে চাইছেন।
    এমনকি কোন কোন সংগঠন সেক্যুলার সেই সার্টিফিকেটও বিতিরণ শুরু করে দিয়েছেন তিনি।

    “…আসক একটি সেক্যুলার (ধর্মনিরপেক্ষ) গ্রুপ, বছরের পর বছর ধরে যেটির নেতৃত্বে ছিলেন আওয়ামী লীগের একজন অপরাধ স্বীকারকারী। এর বর্তমান চেয়ারম্যান হলেন মানবাধিকারবাদী আইনজীবী জেড আই খান পান্না। যিনি স্থানীয় মিডিয়াকে বলেছেন যে তিনি বিচারে গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাকে রক্ষা করতে আগ্রহী হবেন।”
    “….The ASK is a secular group, which for years was headed by an Awami League apologist. Its current chairman is lawyer ZI Khan Panna, a human rights defender who has told local media that he would be interested in defending mass murderer Sheikh Hasina in trials.”

    এই হল সার্টিফিকেট বিতরণ। কিন্তু ফ্যাক্টস হল, আইন ও সালিশী কেন্দ্র (আসক) এটা কামাল হোসেন এন্ড গং মূলত এই পরিবারের গড়ে তোলা এক এনজিও। খাঁড়া ভাবে টেক্কা কে টেক্কাই বললে এটা হল, হিন্দুত্ববাদের ভিত্তিতে বাংলাদেশের হিন্দুদের স্বার্থ [কথিত ভিকটিমের স্বার্থ] দেখতে হবে – এমন চিন্তা কাঠামোতে তৈরি করা  বা দাঁড়ানো এক এনজিও প্রতিষ্ঠান। একে সফট হিন্দুত্ববাদের এক আওয়ামি লীগ প্রতিষ্ঠানও বলা যেতে পারে। অথচ শফিকুল আলম এটাকেই সেক্যুলার  গ্রুপ বলেসার্টিফিকেট দিচ্ছেন আমরা দেখছি। আসলে সেই সেকুলারিজমই হল হিন্দুত্ববাদ চিন্তা কাঠামোর উপরে দাঁড়ানো এক চিন্তা!   আর সেকারণেই এই সেক্যুলার আর হিন্দুত্ববাদের মধ্যে কোন ফারাক নাই!

    কিন্তু তামাসাটা হল, প্রেস সচিব শফিকুল আলম এখন তার জীবনের শ্রেষ্ঠ বিপদের মুখোমুখি। কারণ খোদ মোদি সরকার তাঁর হিন্দুত্ববাদ কান্ধে নিয়া জীবনের একবড় বাজিতে নেমেছেন যে চরম মিথ্যা বয়ান দিয়ে হলেও মোদি চাইছেন – “বাংলাদেশে কথিত হিন্দু নির্যাতন হচ্ছে” – এই ডাহামিথ্যা বয়ানটাকে যেভাবেই হোক প্রতিষ্ঠা করবেনই!!! [এই মিথ্যা বয়ানটা প্রতিষ্ঠা করতেই মোদি চিন্ময়- ইসকন নাটক বাংলাদেশে নামিয়েছেন। ]  আর এদিকে চিন্ময়কে বিসদৃশ্যভাবে কোলাকুলি করে থ্যাঙ্ক জানায় (পরে চিন্ময় গ্রেফতার হলে পরে) সে ভান ও ভনিতার  প্রতারক (imposter) এবার দাবী করছে যে চিন্ময়েরও এমন মিথ্যা বয়ান হাজির করার অধিকার আছে!  হিন্দুত্ববাদের জজবা তুলে আঙুন লাগানোর অধিকার তো মোদির অবশ্যই আছে তাই না???? কী বলেন?
    আর এখন শফিকুলের দায় হয়ে উঠেছে কথিত বাংলাদেশের হিন্দু নির্যাতন নিয়ে  মোদির ডাহা প্রপাগান্ডার বিরুদ্ধে লড়াই করে ইউনুস সরকারকে রক্ষা করা।

    আমি নিশ্চিত শফিকুল আলম সাহেব জীবনেও চিন্তা করেন নাই যে কথিত এই সেক্যুলারিজম টা কী? এটা খায় না মাথায় দেয় – এনিয়ে কখনও গভীর ভাবে উল্টাপাল্টে দেখতে গেছিলেন!  এমনকি হিন্দুত্ববাদ এটাই বা কী জিনিষ? এটাই তেমন গভীরে নেমে তাঁর দেখা হয় নাই! এএফপির ব্যুরো প্রধান হতে বা সে জীবনে এসব কখনও এত গুরুত্বপুর্ণ হয়ে আসেই নাই!
    যেমন ধরেন এই কথিত সেকুলারিজম এটা আমেরিকান কনষ্টিটিউশনে নাই। বরং উলটা ধর্ম পালনকে নাগরিক অধিকার মনে করে রাষ্ট্র। দুনিয়ার তিনটা রাষ্ট্র এমন শয়তানি সেক্যুলারের কথা বলে। বৃটিশ, ফরাসী রাষ্ট্র আর ইন্ডিয়াতেই এই শয়তানি আছে। তিনটারই উদ্দেশ্য মুসলমান কোপানো!  তাই এথেকে অর্থহীন দাবী রাষ্ট্র থেকে ধর্ম আলাদা করতে হবে!  যে শয়তানির চিহ্নটাই হল ১৯২৩ সালের পরে তুরস্কের কামাল তুলে কামাল কিয়ার সেকুলার!
    অথচ খো বৃটিশ রাষ্ট্রটাকেই দেখেন, এটা এংলো-ক্যাথলিক ধর্মীয় জাতিরাষ্ট্র। ক্যাথলিক মানে ক্রিশ্চানিটির মূল অর্থডক্স ভার্সানের পরের বড় মাজহাব হল ক্যাথলিক ক্রিশ্চান ধারা। এখন যে সে ক্যাথলিক হলে হবে না।  বৃটিশ রাজ-পরিবার যে ধারা বা ব্যাখ্যার ক্যাথলিসিজম মানেন অনুসরণ করেন সেই ক্যাথলিক মানে এংলো বা ইংলিশ রাজার অনুসৃত ক্যাথলিকই হতে হবে। আর এই এংলো-ক্যাথলিক ক্রিশ্চানিটি ধারার ধর্মের প্রধান বা গুরু হলেন বৃটিশ রাজপরিবারের প্রধান (রাজা বা রাণী)। আবার এই রাজা-রাণীই হলেই বৃটিশ রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক বা সাংবিধানিক প্রধান! তাহলে এবার বৃটিশ রাষ্ট্রটা আসলে কী দাড়ালো?
    আর এই বৃটিশ রাষ্ট্রটাই সেকুলারিজম ফেরি করতে এসেছে? দাবী করছে রাষ্ট্র থেকে ধর্ম আলাদা করতে হবে?????
    আমার মনে হয় না শফিকুল আলম কখনও এতদুর তলায় হাত দিয়ে দেখেন নাই যযে সেকুলার জনিষটা কী??
    আবার দেখেন ভারতের বেলায়। এতা মনে করার কারণ আছে যে ১৯৪৯ সালে ভারতের কনষ্টিটুশন রচনার সময় নেহেরু-গান্ধী জানতেন তারা হিন্দুত্ববাদ – এর উপরে একটা টোপর পরিয়ে ঢেকে ঢুকে একটা ভারত রাষ্ট্র খাড়া করতে যাচ্ছেন। যেটা আসলে হিন্দু-ধর্মীয় জাতবা নেশন বোধ এর উপর দাঁড়ানো এক হিন্দুধর্ম ভিত্তিক জাত-রাষ্ট্র। এক হিন্দু রিপাবলিক! তাই সযত্নে সেক্যলার শব্দটা কোথাও কনষ্টিটিউশনে আনেন নাই।  এটা আসলে ধুর্ত কিন্তু বোকা ইন্দিরা গান্ধীর কাজ। তিনি ১৯৭৬ সালে এই সেকুল্যার শব্দ ভারতের কনষ্টিটিউশনে প্রথম ঢুকিয়েছেন – বাংলাদেশ স্বাধীনহবার পরে মানে বাংলাদেশকে সেকুলার বলে ল্যাজ কেটে দিবার পরে!

    তাহলে সেকুলারিজম ধারণাটাই সৎ নয়? সদ -নয়? কোন সদ-অর্থ কীঃ
    এই নকল বা ইসলাম কোপানী সেকুলার ধারণার বাইরে অবশ্যই একটা সদ-অর্থ এমন ধারণা আছে।
    যারা এনিয়ে একাদেমিক গভীরে নামতে চান তাদের জন্যঃ 1648 westphalia  ended the 30 years war  – এধরণের শব্দগুলা লিখে গুগল সার্চ দিতে পারেন।
    এতে যা যা আসে সে সব আপনার সামর্থ ও সময়ে যা কুলায় পড়ে বুঝবার চেষ্টা করতে পারেন।
    ইউরোপে এক গৃহযুদ্ধ বা ধর্মযুদ্ধ বা যা আসলে খ্রিশ্চানিটির ভিতরেরই নানান ব্যাখ্যা বা ফেকড়ার যুদ্ধ হয়েছিল চলেছিল ১৬১৮-১৬৪৮ এই ত্রিশ বছর; কোথাও কোথাও যা আশি বছর ধরে চলেছিল। আর  ওয়েস্টফিলিয়া জার্মানির এক শহরের নাম যেখানে ১৬৪৮ সালে বসে এই গৃহযুদ্ধের পরিসমাপ্তি টানা হয়েছিল বা খুজে পাওয়া গেছিল। কিন্তু কী সেই ফর্মুলা???

    ধরা যাক কোন মুসলমান রাজা তিনি যে ফেকড়া-মজহাব বা ব্যাখ্যা-ধারার [interpretation] অনুসারি সেই রাজা কী কেবল তার মতই অনুসারি মুসলমান প্রজাকেই বেশি ফেবার করবেন, বেশি সুবিধাদি দিবেন? মানে বাকি প্রজাদের তুলনায়? ফেকড়া-মজহাব এর ভিত্তিতে প্রজাদের মধ্যে বৈষম্য প্রতিষ্ঠা করবেন?

    এই হচ্ছে মূল তর্কটা।
    আর “ওয়েস্টফিলিয়া ১৬৪৮” সম্মেলন কীসের ভিত্তিতে সব গৃহযুদ্ধের অবসান করেছিল?
    সেতা বুঝে নেওয়া খুবই জরুরি।
    সমাধানটা ছিল আসলে খুবই সহজ। আমি উদাহরণে মুসলমান রাজা বললেও ইউরোপে এটা ছিল খ্রিশ্চানিটি। তবে সবার ক্ষেত্রেই এক। সমাধানটা ছিল, রাজা বা শাসক যে ধর্মের যে ফেকড়া-মজহাব এরই অনুসারি হন না কেন যেকোন ফেকড়া-মজহাব অনুসারি সব প্রজাকেই তিনি বৈষম্যহীন ভাবে দেখবেন বা সুবিধাদি দিবেন বা আইন করবেন।  ফেকড়া-মজহাব নির্বিশেষেই শাসন পরিচালনা করবেন।  এটাই বৈষম্যহীন শাসন – এটাই যেকোন অধিকার ভিত্তিক (মানে ধর্ম বা জাতভিত্তিক জাতিবাদি নয়) রিপাবলিকেরও মৌলিক কথা!

    কাজেই বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বৈষম্যহীন কথাটার তাতপর্য এখন জুলাই-আগষ্ট বিপ্লব বা ৫ আগষ্ট বিপ্লবের মধ্যেই উঠে এলেও এর তাতপর্য অনেক গভীরে!
    যেমন ধরেন ওয়েস্টফিলিয়ার ঐ সমাধান বাইরে থেকে ওতা শুধু খ্রিশ্চনিটির সমাজের মধ্যে প্রযোজ্য তা একেবারেই নয়।
    যেমন রাজা,শাসক বা প্রধানমন্ত্রী শুধু খ্রিশ্চানিটির ফেকড়া-মজহাব এর প্রশ্ন নয় যেকোন ধর্মের যেকোন পরিচয়ের নাগরিকের প্রতি বৈষম্যহীন আচরণ করবেন এমন সমাধান তো এখান থেকে টানা যায়। এজন্যই আমি বলি এটা অধিকার ভিত্তিক রিপাবলিক; জাত-ধর্ম ভিত্তিক নয়। এতা সম্ভব। এটাকেই ক্লাসিক্যাল অর্থে রাষ্ট্রে নাগরিক সাম্যতা (অনেক সময় এটা শুধু ‘সাম্য’ লিখা হয়) বা রাজনৈতিক সাম্যের রিপাবলিক – বলে বুঝতে হবে। মজার কথা এটাই হল বাস্তব ও ক্লাসিক্যাল সেকুলার ধারণা।   আরও তাতপর্য হল এটা এই রাজনৈতিক সাম্য  বাস্তবায়ন করতে রাষ্ট্রের কনষ্টিটিউশনে সেকুলার বলে (আসলে মুসলমানবিদ্বেষী) কোন শব্দ রাখারও দরকারই নাই।

    আমি নিশ্চিত এত গভীর জায়গা থেকে শফিকুল আলম চিন্তা করেন নাই আগে!
    অসুবিধা নাই। এখন থেকে যেটা জেনে রাখলেন, অবশ্যই তা আগামিতে কাজ লাগবে!

    সেক্যুলার মিডিয়া বলে কিছু নাইঃ
    আসলেই নাই, সেকুলার মিডিয়া সেটা আবার কী?

    কিন্তু তিনি লিখেছেনঃ

    প্রেস সচিব বলেন, ‘আমরা আশা করি, শীর্ষস্থানীয় সেক্যুলার ও উদারপন্থী সংবাদপত্রগুলো সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে কথিত সহিংসতার ঘটনাগুলো নিয়ে তাদের নিজস্ব তদন্ত করবে……”।

    এমন বাক্য লিখে তিনি আসলে নিজেকেই বোকা বানিয়েছেন। তিনি যা বলতে ছেয়েছেন তা হল বৈষম্যহীনতা; বৈষম্যহীন সাম্য এভাবে সকলের রাজনৈতিক অধিকার। কিন্তু তার এই সেকুলার এর অর্থ হয়েছে বৃটিশ, ফরাসি বা ভারত রাষ্ট্রগুলোর বিশেষ করে ভারতীয় ইসলামবিদ্বেষ এর হিন্দুত্ববাদ যেটাকে এরা সেকুলার বলে ঢাকা দিয়ে চলতে চায় সেই সেকুলারিজম হয়ে দাড়িয়েছে। বা দাড়াবেই। তাই সোজা পথ এই কথিত শব্দটাই ব্যবহার না করা। রাজনৈতিক অধিকারে সাম্য বা শুধু ছোট করে সাম্য – এই শব্দে প্রকাশ করাটাই অনেক ভাল। যাতে হিন্দুত্ববাডেড় খপ্পরে না পড়তে হয়। আর হিন্দুত্ববাদের বিরোধী লড়াইয়ে “রাজনৈতিক সাম্য” এর পক্ষের লোক হওয়া, এটাই তো হতেই হবে।  বৈষম্যহীনতার পক্ষে ধারণা স্বচ্ছ রাখতে হবে!
    যারা মোদির পক্ষের মিডিয়া বা প্রতিষ্ঠান তারা হিন্দুত্ববাদী এভাবে তাদেরকে চিহ্নিত করাই ভাল নয় কী!  মানুষের সমান অধিকারের পক্ষের মিডিয়াও বলতে পারেন; এটাই তো “রাজনৈতিক সাম্য” এর পক্ষের মিডিয়া!  ধর্ম, এথনিক পরিচয়, পাহাড়ী-সমতলি, নারী-পুরুষ, সাদা-কালো চামড়া ইত্যাদি যেকোন বিভাজন ও বৈষম্যমূলক চিন্তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অধিকারে সাম্য! এটাই আপনি সম্ভবত বলতে চেয়েছিলেন!
    কিন্তু অসতর্কতায় বারবার এটা হিন্দুত্ববাদের কবলে ও তাদের পকেটে চলে যাচ্ছিল! কনসেপ্ট পরিস্কার রাখা এজন্য সব পেশার লোকের জন্যই খুব গুরুত্বপুর্ণ!
    প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম কে জানাই 
    তাঁর সকল লড়াইয়ে সফলতা, এই  শুভ কামনা!  হিন্দুত্ববাদ – এই হিটলারিজমের বিরুদ্ধে লড়াই অবশ্যই কঠিন!

     

     

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    শেষ আপডেটঃ  দুপুর   ডিসেম্বর  ২০২৪    

     

  • মোদির মুসলমান-ঘৃণা ছড়ানো হিটলারিজমের পরিণতি

    মোদির মুসলমান-ঘৃণা ছড়ানো হিটলারিজমের পরিণতি
    গৌতম দাস
    ০৭ ডিসেম্বর ২০২৪  দুপুর ১৩ঃ ০৮
    https://wp.me/p1sCvy-5XN

     

    Protesting residents raised slogans against the former owner Dr Ashok Bajaj, asking him to take the house back – pic- AK Mishra BBC

    ব্যানারে যা লেখা এর বাংলাটা হবে সম্ভবত এরকমঃ
    ডাঃ অশোক বজাজ হায় হায়
    নিজ বাড়ী (মকান) ফেরত নেন
    নিজ বাড়ী ফেরত নেন
    নিবেদকঃ সমস্ত টি.ডি.আই. নিবাসী

    এই পুরা রিপোর্ট এটা বিবিসি ইংলিশ থেকে নেওয়া। লিঙ্ক এখানে নিচে শিরোনা্মের সাথেঃ

    Muslim couple forced to sell house after protests by Hindu neighbours

    ভারতের উত্তর প্রদেশ!  হা ঠিকই ধরেছেন, মুখ্যমন্ত্রী ‘বুলডোজার যোগীর’ উত্তর প্রদেশ!  ভারতের এই রাজ্য বা প্রদেশের পশ্চিম-দিকে এক শহর এর নাম মুরাদাবাদ [Moradabad is an industrial city; Moradabad district] আর এখানেই ঢাকার বারিধারার মত পশ হিন্দু [posh TDI City] মানে উচ্চ আয়ের শহুরে হিন্দুদের বসতবাড়ি এলাকা বা এক কলোনি যার নাম টি.ডি.আই. সিটি।
    উপরের এই ছবিতেই আপনারা দেখছেন কিছু এর বাসিন্দা ব্যানার হাতে দাঁড়িয়ে আছে।
    তাদের এক পড়শি ছিলেন ডাঃ অশোক বাজাজ [Dr Ashok Bajaj] যার চোখ অপারেশনের হাসপাতাল আছে শহরে।  তাঁর প্রায় চল্লিশ বছরের পুরানা কলিগ আরেক ডাক্তার বন্ধু যারা আবার স্বামী-স্ত্রী উভয়েই ডাক্তার [কিন্তু ধর্ম পরিচয়ে তাঁরা মুসলমান]তাদের কাছে টিডিআই কলোনির বাড়িটা বাজাজ সাহেব বিক্রি করেছেন।  এঘটনাকে কেন্দ্র করে ছবির এই হিন্দু বাসিন্দাদের ক্ষোভ হল যে মুসলমানের পাশে তারা বসবাস করতে পারেন না।  তাই তাদের একজন যেমন  […residents Megha Arora saying that Dr Ashok Bajaj, a resident, had sold his house to a Muslim family without consulting them.] মেঘনা অরোরা-র মুখ দিয়ে আসা দাবী হল, বাড়ি বিক্রির আগে বাজাজ সাহেবের এনিয়ে আলোচনা-অনুমতি নেয়া উচিত ছিল। আর তাই তাদের এখনকার দাবী হল যেহেতু ডাঃ বাজাজ সাহেব তা করেন নাই অতএব তাঁর মুসলমান কে বাড়ি বিক্রি এটা ডাঃ বাজাজ-কে এখন বাতিল করতে হবে। তাই ব্যানার টাঙিয়ে তাদের প্রতিবাদ। এরা কিন্তু আম আদমি না। রীতিমত উচ্চ আয়ের পস নাগরিক, পড়ালেখা করে প্রফেশনে আসা তারা ভারতীয়!! পরবতিতে তাই আপোষ। ওয়ার্ড কাউন্সিলারের কথিত মধ্যস্থতায় মুসলমান ডাক্তার দম্পত্তিও তাঁদের কেনা বাড়ি ফেরত-বিক্রির সুযোগ নিতে পেরে যেন জানে বেঁচে গেছেন!!! এই হল, বিবিসি্র এই রিপোর্টার সারকথা!

    এখন মুরাদাবাদ ধরনের ঘটনাগুলো এগুলোই কী আরএসএস-বিজেপির মোদিকে এখনকার বাংলাদেশে মুসলমানবিদ্বেষী মিথ্যা হিন্দু নির্যাতনের অভিযোগ তুলে প্রপাগান্ডা করায় নাই? একই চলমান প্রক্রিয়া নয়? দুই ধর্মীয়-এথনিক জাত, হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের দাঙ্গা [পাঠক দয়া করে এটাকে কথিত সাম্প্রদায়িক শব্দে বলবেন না। কারণ,  সাম্প্রদায়িক শব্দটাও হিন্দুত্ববাদের বয়ান ও এর ভাষ্য। যেমন, ভারত সরকারি ভাষ্যে বলেছিল OIC নাকি ‘সাম্প্রদায়িক’ সংগঠন! সেই কান্ড দেখেন এখানে।  এটাই এথনিক-জাত শ্রেষ্ঠত্ববাদ; [মানে আমার ধর্মীয়-এথনিক জাত এটাই শ্রেষ্ঠ – এমন দাবী করা ] এভাবে, এটাই ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের রাজনীতির মুল ধারা বানিয়ে ফেলেছেন মোদি। এখন পড়শি দেশেও সেই বয়ান তা ছড়াচ্ছেন। এভাবেই পুরা অঞ্চল মানে সব পড়শি হয়ে এশিয়ায় ছড়াবেন তিনি – এশিয়ান হিটলার হয়ে উঠতে চাইছেন মোদি!   কাজেই আপনারা যার যার অবস্থান স্পষ্ট করেন যে, কে কোনদিকে অবস্থান নিবেন!  কেবল আমরা হিন্দু-মুসলমান ভাই ভাই এক থাকতে চাই – এই সুশীল নরম হিন্দুত্ববাদি অবস্থানে আর কুলাবে না। মুলকথাটা হল, এথনিক জাত শ্রেষ্ঠত্ববাদ; আপনি এর পক্ষে না বিপক্ষে থাকবেন সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।    


    “আমরা হিন্দু-মুসলমান ভাই ভাই, এক থাকতে চাই” – এটাও সুশীল নরম হিন্দুত্ববাদি বয়ান; একে “কংগ্রেসি হিন্দুত্ববাদ” বলেও বুঝতে পারেন। এটা একালের ছলনার বয়ান! একালের বিচারে। কারণ মোদি হিটলারিজমের ড্রাম বাজাচ্ছে এ’যুগে; আর আপনি সেকালের প্রগতিশীলতা=হিন্দুত্ববাদের বয়ান এখন আকঁড়ে ধরে ভাবছেন এটা বোধহয় মোদি মোকাবিলার বয়ান! এছাড়া, আপনারা ভাল মানুষ – তা বুঝানো যাবে ভেবে এই সাইনবোর্ড লাগিয়েছেন! আসলে আপনি বোকা ও সরল তাই আপনি এখন প্রতারিত হবেন।  কারণ আপনি জানেনই না শুধু মোদি-ই না দেশীয় প্রতারক (imposter) এরাও সর্বোচ্চ ততপর। ব্ল্যাকমেল হয়ে এরা এখন র-এর হাতে বাধা পুতুল বা দাসী; এদের সব জ্ঞানবুদ্ধি তাই এখন র-এর সেবায় তাদের চরণে নিবেদিত!  এমন লেবাসে যারা – হিন্দু-মুসলমান ভাই ভাই – শ্লোগান দিয়েই কথা বলে আর, এরা চিন্ময়ের গলা জড়িয়ে ধরছে বা কোলে উঠে পড়ছে – অথবা চিন্ময়ের মত  হিটলারি 
    দাঙ্গাবাজদেরও নাকি অধিকার আছে বলে ইউনুসকেও পটিয়ে ফেলতেছে – আপনাকে একালে এদেরকে সবার আগে চিনতে হবে! নাইলে এদের হাতের পুতুল হয়ে থাকবেন আপনি। যখন বুঝবেন তখন অনেক দেরি, সব শেষ হয়ে যাবে হয়ত! 

     

    ঘটনা বিচারে খুবই কমন আমাদের আশপাস এর ঘটনা মনে হবেঃ
    মোদি হতে যাচ্ছেন এশিয়ার হিটলার! এখন আপনি কী এটা চেয়ে চেয়ে দেখবেন? আরেক এথনিক জাত ধর্মীয় শ্রেষ্ঠত্বের জোশে পালটা বেরিয়ে পড়বেন? নাকি সব ধরনের এথনিক জাত শ্রেষ্ঠত্ববাদ – এর বিরুদ্ধে মানে, নয়া হিটলারিজমের বিরুদ্ধে দাড়াবেন?  এটাই আপনার সচেতন সিদ্ধান্ত হতে হবে, নিতে হবে!
    আমরা একাদেমিক শিক্ষিত-অশিক্ষিত নির্বিশেষে খুব কম লোকেই জানি হিটলার কেন কুখ্যাত! বড় জোর আবছা করে আমরা জানি হিটলার একটা খারাপ লোক। তাও তিনি আমাদের এ-অঞ্চলের না ঐ দুরের পশ্চিমা বা ইউরোপের দেশে বোধহয় কিছু একটা করেছে বলে শুনি – এই হল আমাদের শিক্ষিতদের জানাশুনা।  অনেকে ওদেরকে “ইহুদি-খৃশ্চান” অথবা চাইকি “সাদাচামড়াদের” কারবার বলে মনে করে ফেলতে দেখেতে চাইতে পারেন!  সরি, এগুলো এত দুরের কেউ বা কোন ঘটনা না। এটাই মোদি, এশিয়ান হিটলার – হিটলারিজমে আপনাকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে মারতে আগিয়ে আসছে!  জাত শ্রেষ্ঠত্ববাদ এর গর্ব বা এথনিক জাত শ্রেষ্ঠত্ববাদ এর সুরসুরি খুবই ভয়ঙ্কর! আপনি এর শিকার হয়ে যেতেও পারেন যদি আপনিওও কোন না কোন জাতিবাদের ঝান্ডাধারী হন!!!    মোদি আপনাকে ডেকে, টেনে হিচড়ে ওর নিয়মের খেলায় কখন সামিল করে ফেলেছে তা বুঝবার আগেই সব শেষ হয়ে যেতে পারে!

    খুবই কম কথায় বললে, হিটলার অবশ্যই আরেক ‘জাতিবাদি’ ছিলেন। তাতে অনেকের মনে হতে পারে তাতে অসুবিধা কী আমরাও তো বাঙালি জাতিবাদি না হয় বাংলাদেশি জাতিবাদি, ইসলামি জাতিবাদি কিংবা জুম্মু জাতিবাদি ইত্যাদি অনেক কিছুর জাতিবাদি! তবে, এবার যদি বলি হিটলার উগ্র জাতিবাদি তো এবার তারা বলবেন হয়ত – ওমন একটু আধটু উগ্রতা অনেকের (অনেক জাতিবাদির) মধ্যে থাকে!
    তবে এরপর এসবের বিস্তারি জবাব হবে – এসবই আসলে শাহরিয়ারের নির্মুল কমিটি মানে জাত নির্মুল বা এথনিক ক্লিনজিং [ethnic Cleansing] এর কথা। এককথায়, উগ্র জাতিবাদিরা আসলে এটাই!   পড়শি বা অন্য ধর্মের লোকজনকে তাদের গুষ্ঠিসহ ঝেটিয়ে কচুকাটা নির্মুল বা উপড়ে ফেলে দেওয়া – এটাই হিটলারিজম! ।  আর এর শুরুটা সব সময় হয় এভাবেই হিন্দু-মুসলমান, একই ধর্মের দুই মজহাব, কিংবা গায়ের রঙ সাদা বনাম কালো-বাদামি আর এটাই হিটলারের বেলায় ছিল ইহুদি-ঘৃণা ইত্যাদি। শুরুতে হিটলার ছড়িয়েছিলেন যে আমরা জর্মান জাতি দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ জাতি এজন্যই আমাদের চোখ নীল রংয়ের যা সারা ইউরোপেও অন্য কারও নাই। এজন্য বাকি সবাইকে আমাদের কথাই মানতে হবে।  আমরাই শ্রেষ্ঠ – তাই! এই জর্মান জাত শ্রেষ্টত্ববোধ বা শ্রেষ্ঠত্ববাদ – সেকালের হিটলারের জর্মানিতে তিনি এই বয়ানে জর্মানিদের সকলকে কখন আপ্লুত করে করে অন্ধ-ঘৃণায় সামিল করেছিলেন তা পালটা বুঝে বা হুশে ফেরত আসবার  আগেই সব শেষ! যুদ্ধ শেষ! ম্যাসাকার ঘটাসহ সব শেষ! ১৯৪৫ সালের আগষ্ট এসে পড়েছিল!

    এটাকেই আমি বহুবার এথনিক-জাত শ্রেষ্ঠত্ববাদি চিন্তা বলে চিনিয়েছি আপনাদের কাছে।  যা শুরুতে খুবই সাধারণ থাকে আর শেষ হয় একটা নির্মুল বা এথনিক ক্লিনজিং [ethnic Cleansing] এর বিশাল ঘটনা হিসাবে। যখন তাকে আমরা হিটলারিজম বা জাত শ্রেষ্ঠত্ববাদিতা বলে দেখতে পাই। সার কথাটা হল, আমার জাত বা আমার ধর্ম, আমার গায়ের রঙ, আমার ভৌগলিক অবস্থান (পাহাড়ি না সমতলি) ইত্যাদি কোন একটার প্রসঙ্গ তুলে আমিই শ্রেষ্ঠ, আমার এথনিক-জাতই শ্রেষ্ঠ, আমিই শ্রেষ্ঠ – এই বয়ানগুলোর জন্ম হয়! অতএব আমার আধিপত্য, তোমাদের উপর আমার রুস্তমি তোমরা সকলে মেনে নেও – নাইলে আমি তোমাদের নির্মুল করে দিব। এই হল হিটলারিজমের বয়ান, এর মূল লক্ষ্য বা টার্গেট! আমাদের ওমুক যুদ্ধে আমাদের ওমুক ধর্মীয় নেতা কীভাবে বিজয় এনেছিলেন জানো? আমরা সেই  শ্রেষ্ঠ জাত! অথবা শ্রেষ্ঠ ধর্মের লোক! উত্তরসুরী, একালের শ্রেষ্ঠত্ববাদি! সব জাত শ্রেষ্ঠত্ববাদি খুঁজলে তাদের পুরানাকালের ইতিহাসে এমন অনেক গল্পকাহিনী খুঁজে পেতেই পারে। আর সেগুলাই তারা তাদের  নির্মুল কমিটির নামে হাজির করে থাকে। যেমন ধরা যাক খুবই সাদাসিধা মনে হবে এই বয়ান টা যেমন –  আমাদের আছে পদ্মা-মেঘনা-যমুনা বহমান ভূমির শেখ মুজিব!! লও লও লও সালাম শেখ মুজিব  ইত্যাদি ইত্যাদি – দেখেন তো মিলে কিনা!
    মোদির উস্কানি-সুরসুরিতে পা দিয়েন না! গত ২৭ নভেম্বরের [পিপি সাইফুল ইসলাম এর হত্যার পরের দিন] চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের মত শক্ত নিয়ন্ত্রিত ও পরিস্কার হুশে থাকা মানুষ থাকেন!

    পাঠকদের প্রতি আমার বিনীত আবেদন, এলেখা পড়ার পরে দুদন্ড সবাই নিজের সাথে যেন বসবেন! নিজের সাথে একান্তে কথা বলেন! পরে যা হয় সিদ্ধান্ত নিয়েন!!!

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    শেষ আপডেটঃ  দুপুর ০২ঃ ৩২   ০৭  ডিসেম্বর  ২০২৪    

     

  • লীগ নিষিদ্ধঃ জুলাই হত্যাকান্ডের বিচারে মুখ্য বিবেচনা কোনটা

    লীগ নিষিদ্ধঃ জুলাই হত্যাকান্ডের বিচারে মুখ্য বিবেচনা কোনটা
    গৌতম দাস
    ২৩ নভেম্বর ২০২৪

    https://wp.me/p1sCvy-5PC

    বিচারের শুদ্ধতার জন্য ট্রাইব্যুনালে আপিলের বিধান: আসিফ নজরুল

     

    [এককথায় মুখ্য বিবেচনার প্রসঙ্গটা হল, জুলাই হত্যাকান্ডে সংশ্লিষ্ট দল ও সরকারের যে সম্মিলিত কমান্ড স্ট্রাকচার এভাবে সেই দল-সরকারের কাঠামোটাকেও
    বিচারের আওতায় আনবেন কিনা। ফলে এটা মোটেও বিচ্ছিন্ন ভাবে আওয়ামি লীগকে নিষিদ্ধ করা হবে কিনা – সেই প্রশ্নই নয়। ]

    ব্যক্তি ইউনুস এবং ইউনুস সরকারের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হল, রাষ্ট্র (ও রাষ্ট্রক্ষমতাও) বুঝতে না পারা এবং এই অর্থে অরাজনৈতিক থেকে যাওয়া।

    যেমন দেখেন, এখনকার জলন্ত ইস্যুটা হল, যারা জুলাইয়ের হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে এবং ওর সহযোগী ছিল তাদের কে শাস্তি দেওয়া হবে না হলে কীভাবে?
    এটা কী কেবল কিছু ব্যক্তির নামে মামলা হবে এরপর নানান লটরপটর করে সময় নষ্ট করে শেষ সব আউলায়ে ওরা নিজেরাই নিজেদের মাপ করায় নিবে?

    আরো সুনির্দিষ্ট করে বললে যারা জুলাই হত্যাকান্ডের জন্য অপরাধী তাদের বিচার কী কেবল তারা বিচ্চিন্ন ব্যক্তি হিসাবে দেখা হবে নাকি, এটা একটা অরগানাইজ ক্রাইম হিসাবে দেখে এর শিরোমনি হিসাবে শেখ হাসিনা এবং এদের কমান্ড পরম্পরা ও এরই সাথে তাদের দল আওয়ামি লীগের কমান্ড কাঠামোর হিসাবে নানান কমিটির নেতাদের এক সম্মিলিত অপরাধ হিসাবে দেখা হবে এবং সে হিসাবে বিচার করা হবে?

    কিন্তু ভারতসহ দেশের আওয়ামি প্রগতিশীল (মানে আসলে হিন্দুত্ববাদের এদেশীয় দোসরেরা) ও এর সহযোগী সবাইওকে এই পুরা বিষয়টাকে   শধু কয়েকটা শব্দ – আওয়ামি লীগকে নিষিদ্ধ করা হবে কিনা এতে পর্যবসিত করে দিয়েছে। আর ইউনুস সাহেব নিজে ও তাঁর উপদেষ্টা মন্ত্রীরাও এই শব্দগুলো ও এর বয়ান মেনে নিয়ে এই অসৎ তর্কের ফাঁদে পা দিয়েছে। এতে মুল ইস্যুটাই হারিয়ে গেছে।

    ইউনুস ও উপদেষ্টারা প্রশ্ন করতে ভুলে গেছে কেন  আওয়ামি লীগকে নিষিদ্ধ করা হবে কিনা – এভাবে কথা বলছেন?  কেন লীগ নিষিদ্ধ করার কথা বলছেন পালটা এই প্রশ্ন করাই ছিল সঠিকভাবে তাদের বয়ানকে চ্যালেঞ্জ করার আসল পথ। যেন লীগ কে নিষিদ্ধ করার যে রিভেঞ্জ – ইউনুসেরা তা নিবেন কিনা এই প্রশ্ন ভারতের দোসরেরা পুরা সমাজকে এই প্রভাবিত করে ফেলেছে।    অথচ মুল ইস্যুটা ছিল, জুলাই হত্যাকান্ডের বিচারটা কীভাবে করা হবে? কেবল বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি অপরাধী হিসাবে না তারা সকলেই ছিল একটা রাজনৈতিক দল ও এই দলের সরকার – এভাবে৪ দল-সরকারের যে সম্মিলিত কমান্ড স্টাকচার সেই দল-সরকারের কাঠামোও আমলে নিয়ে বিচার করা হবে?

    মুল ইস্যুটা ছিল, জুলাই হত্যাকান্ডের বিচারটা কীভাবে করা হবে?
    কেবল বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি অপরাধী হিসাবে না তারা সকলেই ছিল একটা
    রাজনৈতিক দল ও এই দলের সরকার – এভাবে দল ও সরকারের যে
    সম্মিলিত কমান্ড স্ট্রাকচার সেই দল-সরকারের কাঠামোটাকেও আমলে
    নিয়ে এই বিচারটা করা হবে কিনা?
    অথচ একে বদলে নিয়ে এক নয়া ভাষ্য বানানো হয়েছে
    যে – “আওয়ামি লীগ নিষিদ্ধ করা হবে কিনা”?

     

    অর্থাৎ “আওয়ামি লীগ নিষিদ্ধ করা হবে কিনা” – এই বাক্যের আগে পিছে কিছু নাই – এটা তো ইস্যুই না, ছিল না। অথচ ভারতের হেজিমনির দোসরেরা কখন কিভাবে ব্যাপারটাকে শুধু লীগ নিষিদ্ধের ইস্যু বানিয়ে ফেলেছে তা ইউনুস নিজে বা উপদেষ্টারা (বিশেষ করে আসিফ নজরুল) কেউই হুশ করেন নাই। তাদের উচিত ছিল এভাবে শুধু লীগ নিষিদ্ধের প্রশ্ন তুললে এর জবাব না দিয়ে পালটা প্রশ্ন করা যে কেন আওয়ামি লীগ নিষিদ্ধের কথা তুলছেন আপনি আর কী বুঝে? সেট আগে আপনার প্রশ্নের ভিতর হাজির করেন তবেই আমি জবাব দিব!

    এককথায় কেন কেউ আওয়ামি লীগ নিষিদ্ধের কথা  তুলছে সেটা উহ্য এবং অস্পষ্ট রেখেই এর জবাব দিতে গিয়ে ভ্যাবাচেকা খেয়ে চলেছেন ইউনুস সরকার! যেন  আওয়ামি লীগের উপর ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা বা কোন কারণ ছাড়াই তারা এনিয়ে কথার জবাব দিতেছেন!!!

    পোলাপানি ও অরাজনৈতিক আচরণের এক ইউনুস সরকারঃ
    এটাই মূলত এক নাইভ [Naive বা ভোলেভালা] বা পোলাপানি ও অরাজনৈতিক আচরণ ইউনুস সরকার সংশ্লিষ্ট সকলের। খুবই দুঃখের কথা এটা যে এই সরকার না রাষ্ট্রক্ষমতা কী জিনিষ, না রাজনীতি কী জিনিষ সেটা কখনও মনোযোগ দিয়ে বুঝতে গেছিলেন!   অথচ ইন্ডিয়ান হেজিমনির দোসরদের বয়ান কখন আপনাদের মুখে তুলে দিয়ে গেছে খেয়ালো করেন নাই!
    ইউনুস সরকার ও মন্ত্রীদের বলার কথা বা উচিত ছিল যে, আমরা  “আওয়ামি লীগ নিষিদ্ধ করা হবে কিনা” এমন কোন ইস্যু আমাদের টেবিলাই নাই। তবে, জুলাই হত্যাকান্ডের বিচারটা আমরা কী সেসময়ের ক্ষমতাসীন দল ও সরকার যারা ছিল তাদেরকে বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি হিসাবে বিচার না তারা দল ও সরকারের এক  সম্মিলিত কমান্ড স্ট্রাকচার এর অধঈনে ততপর থাকার অপরাধী সেভাবে বিচার করব – এব্যাপারে আমাদের সিদ্ধান্তের একটা বিষয় আছে। আমরা মনে করি  সেসময়ের দল ও সরকারের এক  সম্মিলিত কমান্ড স্ট্রাকচারকে সাথে বিবেচনায় নিয়ে এই বিচারকাজ পরিচালনার দিকে আমাদের যেতে হবে।

    এবং সেই লক্ষ্য এক গুরুত্বপুর্ণ সিদ্ধান্তঃ
    সেসময়ের ক্ষমতাসীন দল ও সরকারের এক  সম্মিলিত কমান্ড স্ট্রাকচারকে সাথে বিবেচনায় নিয়ে এই বিচার অনুষ্ঠানে দায়েরকৃত যেকোন মামলা নিষ্পত্তিতে যাদেরকে আদালত অপরাধী গণ্য করবে এমন সংশ্লিষ্ট দল ও সরকারি সকল ব্যক্তি আগামি জীবনের উপর কখনও জনপ্রতিনিধি (ইউপি সদস্য থেকে প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত) না হতে পারেন সেই নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হবে।  সংশিষ্ট সেই রাজনৈতিক দলের সকল ততপরতা নিষিদ্ধ হবে এবং দলের গুরুত্বপুর্ণ সকল নির্বাহি কমিটির সকল সদস্যও অভিযোগের আওয়তায় আসবে। এরা সকলের জন্য আগামিতে জনপ্রতিনিধি হওয়া নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হবে।

    যারাই যেকোন স্তরের জনপ্রতিনিধি হওয়া সত্বেও জনগণের উপর বেপরোয়া হত্যাযজ্ঞে সামিল হবে এমন ক্ষমতা অপব্যবহারকারী সকলের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা যাবে। আমাদের সরকার অচিরেই এ’সংক্রান্ত এক অধ্যাদেশ জারি করবো। যেটা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল সহ যেকোন প্রচলিত আদালতে এই অভিযোগে মামলা করা যাবে।
    মোটা দাগে এই হতে পারে  সেই আইন। আইনি বিষয়ে অনেক খুটিনাটি ও টেকনিক্যাল দিক থাকে। যা মেনে এই আইডিয়াটা প্রকাশ করা হয় নাই। আশাকরি সেকাজে দক্ষরা কথাটা বুঝবেন।
    এছাড়া এবিষয়ে উপদেষ্টা সবার কথা না বলে নির্দিষ্ট করে দেয়া যেতে পারে যে আইন মন্ত্রী ও প্রধান উপদেষ্টা এনিয়ে বাইরে বা মিডিয়ায় কথা বলবেন।

    সারকথায় ভারতীয় আধিপত্যবাদের খপ্পর থেকে বাংলাদেশের রাজনীতি বের করে আনতে পারতে হবে আমাদের। আর তা পারতে হলে “আওয়ামি লীগ নিষিদ্ধ করা হবে কিনা”  – এজাতীয় প্রশ্নকে ভেঙ্গে দিতে হবে, প্রশ্ন সংশোধন করে না আনলে জবাব দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে এই বলে যে প্রশ্নটা অস্পষ্ট। আর এথেকে সবচেয়ে বড় লাভটা হবে যে, বিএনপি বা জামায়াত ধরণের দলগুলো – আমরা “আওয়ামি লীগ নিষিদ্ধ করার বিপক্ষে বা কোন দল নিষিদ্ধ্বের বিপক্ষে বা চালাকি জবাব যে এটা জনগণ করবে বলা – যেখানে এই সবগুলোই আসলে ভারতীয়দেরকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া যে তাদের পেয়ারের আওয়ামি লীগ আবার ক্ষমতায় ফিরতে তারা ব্যবস্থা করে দিবে – এই সবই লোপাট করে দেয়া যাবে।

    মূলত ইউনুস সরকারের এতসব দিক বিবেচনায় না নেওয়ার ফলেই এ নিয়ে – যেন ইস্যুটা “আওয়ামি লীগ নিষিদ্ধ করা হবে  কীংবা হবে না ” – এর মধ্যে আটকে ফেলা হয়েছে। যার সবটা অসৎ সুবিধা নিয়েছে   ভারতীয় আধিপ্ত্যবাদ; যার একে সহযোগিতা করেছে বিএনপি ও জামায়াত!

    কাজেই যতদ্রুত সম্ভব এসব অসততার প্যাচ থেকে নিজেদের বের করে আনার পক্ষে ইউনুস সরকার কে পদক্ষেপ নিতে হবে!
    কাজেই আসিফ নজরুল যেভাবে পাশ কাটিয়েছেন  যে তারা নাকি বিচারটা শুদ্ধ রাখতেই এসব কান্ড করেছেন – এসব ফালতু শুদ্ধ-অশুদ্ধতার কথা তুলে পাশকাটানোর কিছু নাই। এটা কোন খাঁটি-অখাঁটি মানে পিওর [pure] বা পিউরিটানদের [Puritanism] আলাপই নয়!
    মনে রাখতে হবে এটা যে সে কোন বেপরোয়া হত্যাকান্ড নয় বরং এই হত্যাকান্ডে কেবল শিশু [যারা দুদ্ধপোষ্য, বিছানায় মায়ের কোলে শুয়ে দুগ্ধপানরত ছিল, বা দাদি-নানিকে জড়িয়ে বিছানায় ঘুমিয়েছিল অথবা মা ব্যালকনি বা জানালায় দাঁড়িয়ে বাচ্চাকে ঘুম পারাচ্ছিল ] কেবল এমন সব গুলিবিদ্ধ শিশুর সংখ্যাই হল নুন্যতম ১০৫ জন [দেখেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ১০৫ জন শিশু নিহত: শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা – ফলে অন্তত এই তথ্যটা মাথায় রাখলে বুঝবেন এটা খাঁটি-বিচার বা শুদ্ধতার কিছু নয়! যেমন দেখেন – বিচারের শুদ্ধতার জন্য ট্রাইব্যুনালে আপিলের বিধান: আসিফ নজরুল এই অদ্ভুত বক্তব্যটাকে দেখেন তাহলে বুঝবেন!

    জুলাই হত্যাকান্ডের বিচারের রায়ে যারাই অপরাধী বিবেচিত হবেনঃ
    ১। তারা আর কখনও মানে আজীবন জনপ্রতিনিধি হওয়ার নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসবেন।
    ২। যে দল ও সরকারের অধীনে থেকে এই অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত হবেন সেই দলও নিষিদ্ধ থাকবে; জনপ্রতিনিধি হয়েও খোদ জনগণের বিরুদ্ধে হত্যাযজ্ঞ চালানো কাজে এই দল লিপ্ত ছিল বলে।

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  সন্ধ্যা ০৬ঃ ৪০   ২৩ নভেম্বর  ২০২৪
    শেষ আপডেটঃ      ২০২৪

     

  • আবার দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

    আবার দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য
    গৌতম দাস
    ৩১ আগষ্ট ২০২৪
    https://wp.me/p1sCvy-5Jg

     

     

    যে একবার ভারতের দালাল সে সব সময় এমনকি সব দুনিয়াতেই দালালি-ই করার সুযোগ খুঁজবে!
    আমি বারবার বলেছি আর  এটা এখন আমার ধারণা যে নতুন সরকারও এটা বুঝে গেছে যে খেলাপি ঋণ চোর খাতকদের গলায় গামছা পেচিয়ে আদায় করা ভিন্ন পথ নেই। কারণ টাকা ছাপিয়ে হাসিনার মত চোরের সমাধানের পথে যাওয়াটা হবে আত্মহত্যা। এটাই দুর্ভিক্ষ ডেকে আনার পথ হবে। মুদ্রাস্ফিতির চাপে গরীব তো বটেই মধ্যবিত্তও সব খাবার কিন্নতে না পেরে মারা যাবে।

    কাজেই বর্তমান ইউনুস সরকারও ব্যাপারটা অনুভব করেছে যে দেশে-বিদেশে থেকে চোর আর ঋণ খাতকদের থেকে অর্থ আদায় এটা এনফোর্স করা ছাড়া বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ভিন্ন পথ নাই। আমাদেরকে ডেসপারেট হলেও হতে হবে; উপায় নাই।

    সেসব সুত্রে গত ২২ আগষ্ট লিখেছিলাম,

    রেহমান সোবহান- দেবপ্রিয়দের সিপিডি (CPD) একটা ভারতীয় স্বার্থের প্রতিষ্ঠান
    অথচ, ইউনুস তাদেরকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থার ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশ এর দায়িত্ব দিয়েছে।
    রেহমান সোবহান- দেবপ্রিয়দের সিপিডি এর এখন উচিত হবে ২০০৪ সাল থেকে বিগত ২০ বছর যত ভারতীয় দালালি এরা নিজেরা করে গেছে এরই শ্বেতপত্র প্রকাশ করা।আমার বক্তব্য আমল পায় নাই। প্রথম আলোর বক্তব্য – অর্থনৈতিক অবস্থার ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশ করা হবে, কমিটির নেতৃত্বে দেবপ্রিয় – এটাই বাস্তবায়িত হয়েছিল। দেবপ্রিয় এর নেতৃত্বে ১২ জনের এক কমিটিও গঠিত হয়েছে।এই গরীবের কথা বাসি হওয়ার পরে ফলেছে।  এনিয়ে আমার আগের লেখার লিঙ্ক এখানেপাবেন। আমি সেখানে প্রমাণ দিয়েছিলাম ২০১১ সাল একচুয়ালি ২০০৭ সাল থেকেই বাংলাদেশ যেন ভারতকে করিডোর দেয় এই দিবার পক্ষে কাছা খুলে দালালি শুরু করেছিল রেহমান সোবহান ও দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ও তাদের  (র-এর অর্থ ছাড়া) অচল সিপিডি [CPD] প্রতিষ্ঠান।
    আর সেই সিপিডির দেবপ্রিয় কেই ইউনুস সাহেব স্বেতপত্র প্রকাশ কমিটির প্রধান করেছেন। এনিয়ে ব্যক্তিগতভাবে কিছু ক্ষমতাবান লোকের সাথে আমাকে সংঘাতে পর্যন্ত যেতে হয়েছে; সম্পর্ক ভেঙ্গে দিতে হয়েছে। তাদের বক্তব্য আমি নাকি ওভার রিয়াক্ট করছি। কিন্তু এখন কী হল?২৯ আগষ্ট দেবপ্রিয় চেহারা দেখিয়েছেনঃ
    গত ২৯ আগষ্ট ছিল দেবপ্রিয়সহ ও ১২জনের কমিটির প্রথম মিডিয়ার সামনে হাজির হবার দিন।
    দেবপ্রিয় কোন রাখডাক আর করেন নাই। সারকথাটা বলেছেন যে, হাসিনা ও তার পরিবার এবং মন্ত্রী-উপদেষ্ঠাসহ পুরাগুষ্ঠি যা কিছু  অর্থ বিদেশে নিয়ে গিয়েছে তা আর ফেরত আনা সম্ভব নয়।অনেকের মনে হতে পারে দেবপ্রিয় ঠিক কী বলেছিল তা জানা দরকার। হা আমারও তাই ইচ্ছা। তাই এখানে NTV এর প্রচারিত ঐদিনের মিডিয়া রিপোর্টের ক্লিপ পাঠক নিজে মনোযোগ দিয়ে পড়ে নেন।

    ভিডিওও টা সবাই নিজে দেখে নেন। এরপরেও ওর ট্রান্সক্রিপ্ট আমি যা বের করেছি তাও এখানে দিয়ে দিচ্ছিঃ

    দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা খুবই জটিল প্রক্রিয়া। মানে বলতে চাইলেন এই অর্থ প্রায় ফেরত আনা যাবে না।
    এনিয়ে NTV এর ভিডিও ক্লিপ সাথে দিয়েছি সবাই নিজে খুলে শুনে নেন।
    এইটা একটা অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া। এই টাকা থেকে যে ঐ বাড়িটা কেনা হয়েছিল ঐ দেশে ওই সময়ে এইটাকে লাগানো ফিট করা এত্তো সহজ নয়। এইটা আনার ক্ষেত্রে যে আইনানুগ চুক্তি থাকে সব দেশের সাথে আমাদের সেই চুক্তিগুলো যথোপযুক্তভাবে নেই। তৃতীয়ত ঐ চুক্তিগুলো কার্যকরভাবে ব্যবহার করার জন্য আইনজীবী থেকে শুরু করে আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞ ইত্যাদি সেই দক্ষতাটুকুও আমাদের নাই।

    এরপরেও অনেকের মনে হতে পারে এত খোলাখুলি তিনি কেমনে বলেন।
    তাই তাদের জন্য, দেবপ্রিয়ের শেষ কথাগুলোঃ
    “তিনি বলেছেন সরকারের লক্ষ্য হওয়া উচিত ভবিষ্যতে যেন অর্থপাচার আর না হয় এবং পাচারকারীদের যেন সর্বোচ্চ শাস্তি হয়”।

    অর্থাৎ এবার এই কমিটি অর্থ ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে তারা কিছুই করতে পারবেন না।  আগামিবার মানে পরের কোন হবু চোর সরকার একই কাজ করলে যাতে সে অর্থ ফেরত আনা যায় সেই ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে চান দেবপ্রিয়!

    দেবপ্রিয়ের এটা খুবই এক স্টুপিড বক্তব্যঃ
    হ্যা, এটা আসলেই দেবপ্রিয়ের এটা খুবই এক স্টুপিড বক্তব্য। কারণ, তিনি নিজেই এই কমিটি গঠনের ন্যায্যতা কী সেই প্রশ্ন নিজেই তুলে ফেলেছেন!
    প্রথমতঃ কোন সরকারের কোন সরকারী কমিটি গঠন (তদন্ত বা স্বেতপত্র প্রকাশের লক্ষ্যে) কোন ফাজলামির বিষয় না। এতে ম্যান্ডেট বা উদ্দেশ্য লেখা থাকতেই হবে, হয়।  কাজেই কমিটি গঠন হয়ে যাবার পরে কমিটিরনেতা কমিটির উদ্দেশ্য-ম্যান্ডেট বা কাজের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন করছেন কেন?
    অথচ দেবপ্রিয়ের বক্তব্য ইউনুসের উদ্দেশ্যকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
    কারণ, দেবপ্রিয়কে প্রধান করে ইউনুসের গঠন করে দেয়া এই কমিটি অর্থ ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে তারা কোন কিছুই যদি নাই করতে পারে তবে ইউনুস সরকারের এই কমিটি গড়ার দরকার কী?
    সেক্ষেত্রে এই যে ১২ জনের কমিটি এদের পিছনে যদি সরকারী একটা পয়সাও খরচ করা হয় সেটাই তো অপচয় হবে, নাকি?তাহলে যে প্রশ্নের সম্মুখীন ইতোমধ্যেই ইউনুস সরকার হয়ে গেছেন বা দেবপ্তারিয় সাহেব করে দিলেন তা হলঃ
    ইউনুস সাহেব কেন এই কমিটি গড়তে গেলেন যারা যোগ্য বা কম্পিটেন্ট না? যারা বলছে এটা কঠিন প্রায় অসম্ভব কাজ! মানে তাঁরা কিছু করতে পারবেন না। তাহলে তারা এখানে কেন?
    এছাড়া এবিষয়টা মানে দেবপ্রিয়ের বক্তব্য কী কমিটির সবার বক্তব্য?   না কেবল দেবপ্রিয় সাহেবের? তা জানা জনগণের দরকার আছে।
    আর এটা তো এখন সন্দেহজনক যে কমিটির উদ্দেশ্য কমিটির সদস্যরাই পরিস্কার জানেন কি না! তাহলে এটা কোন দায়সারা কমিটি?এজন্যই  দেবপ্রিয়ের নেতৃত্বে যারা হাসিনা সরকার ও ভারতের দাবিদারি করে গেছে শুরু থেকেই তাদেরকে দিয়ে কোন কমিটি গড়াকে প্রশ্ন করেছিলাম!
    অথচ পুরা বাংলাদেশের জনগণের দিক থেকে অর্থ পাচার ও খেলাপি ঋণ চোর দেরকে গলায় গামছা দিয়ে আদায় আমাদের জন্য মরা-বাঁচার ইস্যু!
    যেদিকটা দেবপ্রিয়ের বক্তব্যে কোথাও প্রতিফলিত হয় নাই!আর কত? আমরা কী আবার দেবপ্রিয়দের হাতে বারবার পরাজিত হব, ট্রাপড হতেই থাকব?

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ     আগষ্ট ২০২৪
    শেষ আপডেটঃ  আগষ্ট ২০২৪

  • একজন শেখ রোকন: লেখক ও গবেষক; সহযোগী সম্পাদক, সমকাল

    একজন শেখ রোকন: লেখক ও গবেষক; সহযোগী সম্পাদক, সমকাল
    গৌতম দাস
    ২৬ আগষ্ট ২০২৪
    https://wp.me/p1sCvy-5HS

     

    শেখ রোকন, সমকাল


    সরি সরাসরি নাম ধরেই বলতে হল।  তিনি কবে সমকালে ঢুকে গেছেন আমি খেয়াল করি নাই।  কিন্তু এখন মানে হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির আশপাশের কালে সর্বক্ষণ তিনি; ওদিকে চোখ ফেলতে না চাইলেও চোখে পড়ে যাচ্ছেন। কারণ, তিনি যে কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলতা এখন তলানিতে ঠেকেছে সেখানেই মুক্তি খুঁজছেন। তাদের এখনও ত্রাতা ভাবছেন!
    তিনি হয়ত কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলতায় গভীর আস্থা রাখেন। তা রাখেন তাতে নতুন অসুবিধা নাই। সেটা ব্যক্তিগত পছন্দ! কিন্তু সাথে সময়কাল সংক্রান্ত জ্ঞান না থাকলে তা আত্মঘাতি। এই সময়কালটা হল, হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির আশপাশের কাল। হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি উত্তরকালে কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলরা এবার আর নিজেদের নয়া পরিচয়ের কোন নৌকা ভাসাতে ব্যর্থ হয়েছে অথচ এটাও আপনি খেয়াল করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাই তবু সেই তাদেরকেই [কমিউনিস্ট-প্রগতিশীল] যারা নিজেরাই নিজেদের অতলে হারিয়ে ফেলেছেন সেখানেই আপনি এখনও মনিমুক্তা খুঁজছেন!   ঠিক যেমন ২০০৯ সালে হাসিনা উত্থানের যুগের শুরুতে এই গোষ্ঠি তারা কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলতায় হাসিনার গুম-খুনের রাষ্ট্র বানানোটাকে মুক্তিযোদ্ধা শ্রেণীর  চেতনা পক্ষে কাজ গণ্য করে এর পক্ষেই মানে হাসিনার ক্ষমতার পক্ষেই সাফাই যোগাড় কর্তা হয়ে হাজির হয়েছিলেন; শাহবাগে জড়ো হয়েছিলেন! ঠিক সেভাবেই আবার হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির কালেও আবার নৌকা বদলাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মানুষ এদেরকে ২০১৩ সালে তাদের শাহবাগী প্রকল্পের কালেই তাদের চেহারা দেখে ফেলেছিল। তাই হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির কালেও তারা এবার আর কোন নৌকাতেই উঠতে পারেন নাই।
    অথচ আপনি নিয়মিত এদেরকে নয়া (যদিও তা সেই পঁচা) উপস্থাপনাই হাজির করার জায়গা করে দিয়ে চলেছেন! কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলতায় আপনার ভক্তি যাচ্ছেই না; অথচ এই অতিভক্তির খেসারত শুধু আপনি না দেশের মানুষ তো বটেই সাথে আপনার পত্রিকার স্টাফ ও মালিক সকলকেই বইতে হবে। কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলতা গত শতকেই (মানে ২০০০ সালের আগেই) মৃত হয়ে গেছে। তবে এটা মোটা দাগে বলা কথা! একচুয়ালি এটা আনুষ্ঠানিকভাবে মরে গেছে ১৯৯১ ডিসেম্বরে; প্রতীকীভাবে বললে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাবার পরে।
    একথাটা বাংলাদেশিদের বুঝবার জন্য সহজ করে বলি।

    মনিসিংহ-খোকা রায় এসব জমিদার-সন্তানদের হাত ধরে ১৯৪৮ সালে শুরু হওয়া পুর্ব-পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টির (যেটা এখন মূলত সিপিবি নামে) কথা কমবেশী সকলেই জানেন। যেটা একালে মানে ১৯৯১ সালের পরে ভেঙ্গে যাওয়া একাংশ মুজাহিদুল সেলিম বা প্রিন্সদের অংশকে কেবল আপনারা দেখতে পান। অপর অংশ মানে যারা অন্তত এখনও পার্টির সম্পত্তিতে তৈরি হওয়া বহুতল ভবনের অপর অংশের মালিক; এরা এখন কোথায়? এর উত্তরে এটুকু বলা যায় এই অংশ আর সেলিম- মঞ্জুরুলদের মত আরেক সিপিবি’র  কোন ‘কমিউনিস্ট পার্টি’ খুলে নাই। কেন?
    পঙ্কজ ভট্টাচার্য, অজয় রায়েরা কোথায় হারিয়ে গেলেন? আগে যে রীতি চালু ছিল যে বাংলাদেশে হিন্দুরা জন্মানো মাত্রই পরিবারসহ নিজেকে ‘কমিউনিস্ট’ গণ্য করত; এই রীতিতে ছেদ পরেছিল তাতে! কিন্তু কেন?
    এখানেই উত্তর পাবেন কেন জমিদার-সন্তানদের হাত ধরে ১৯৪৮ সাল থেকে নতুন করে “পুর্ব-পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি” শুরু হয়েছিল। মূল ঘটনা হল, পাকিস্তানের জন্ম মানেই কার্যত জমিদার উচ্ছেদ হয়ে যাওয়া – জমিদার-হিন্দু আধিপত্য ও  দুশ বছরের জমিদারি রুস্তমি খতম তাদের শাসন উচ্ছেদ – এটাই ঘটেছিল। এরই লিগাল বা আনুষ্ঠানিক উচ্ছেদ হল পুর্ব-পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে ১৯৫০ সালের জমিদার উচ্ছেদ আইন আনা। যেটা ১৯৫১ সালের আগষ্ঠে অনুমোদিত বা আইনে পরিণত হয়েছিল। আর এতে ক্ষুব্ধ জমিদার-হিন্দুরা এটাকে দেখেছিল এতদিন যাদেরকে তাঁরা পায়ের নিচে দলে  রেখেছিল সেই মুসলমানদের মাথা তুলে দাঁড়ানো। অন্যভাষায়, সেই থেকে – ইসলামই তাদের এনিমি বা স্থায়ী শত্রু। আর একারণে ইসলাম কোপানো (ধর্ম কোপানোর সুবিধা একমাত্র কমিউনিস্ট হলেই পাওয়া যেতে পারে বিবেচনা থেকেই) এই সুবিধা পাবার লোভ থেকেই জমিদার সন্তানেরা কমুউনিস্ট হয়ে গেছিল। না হলে মানে এরা নুন্যতম সাচ্চা কমিউনিস্ট হলে তো সবার আগে জমিদারী উচ্ছেদের পক্ষে তাদের কমিউনিস্ট পার্টির (চীনপন্থি অংশসহ সকলের) অন্তত একটা রেজুলেশন থাকত! তা নাই কেন? সিপিবি’র জবাব দেয়া উচিত!

    ভুমি মালিকানা ব্যবস্থা নিয়ে খোদ কার্ল মার্কসের মৌলিক অবস্থান কী? তা কী এসব হিন্দু-কমিউনিস্ট এরা কখনও পড়ে দেখেছেন? কোন প্রমাণ নাই তাই মনে হয় না। অথচ মার্কস মনে করেন, জমিতে যেকোন (মানে জমিদারিসহ) মালিকানা ব্যবস্থা থাকা মানে ক্যাপিটালিজম বিকাশের পথ রুদ্ধ করা; মানে মার্কসের মূলকথা তাদের ভাষায় “পুরানা ফিউডাল সম্পর্ক”  বা সামন্তবাদ থেকে যাবে; যেমন, জমিদারতন্ত্র বিলুপ্ত হবে না এতে।
    অথচ এই জমিদার নন্দন কমিউনিস্টেরা  আমাদের ইলা মিত্রের (কমিউনিস্ট হবার পরেও) তেভাগার গল্প শুনায় যার স্বামী (পুরানা) রাজশাহীর এক জমিদার ছিলেন। আসলে, কে জমিদার ছিলেন না?
    প্রমথ চৌধুরী, কিশোরগঞ্জের জমিদার নীরোদচন্দ্র চৌধুরী (আত্মঘাতি বাঙালির লেখক)?

    আবার এদের কান্ড দেখেন,  জমিদার-হিঁন্দুর ১৯০৫ সালের “বঙ্গভঙ্গ বিরোধী” আন্দোলন নাকি পুর্ববঙ্গের স্বার্থে! অথচ প্রকৃত ঘটনা এর উলটা। সুর্য সেন ছিলেন, জমিদার-হিঁদুর স্বার্থের লেঠেল বা লাঠিয়াল! প্রীতিলতা বা কল্পনারাও তাই! অথচ তাদের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল!!!  এর বিরুদ্ধেই পরের বছর ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগের জন্ম হয়েছিল। সত্যি কথাটা হল,  পুর্ববঙ্গে জমিদার উচ্ছেদ এর কাজ শুরুর ক্ষেত্রে এক নম্বর প্রথম বীর হলেন হাজী শরীয়তুল্লাহ! এনিয়ে আমার লেখা পড়ে নিতে পারেন! অরিজিনালি লেখাটা প্রথম ছাপা হয়েছিল ২০১১ সালে।

    হাজী শরীয়তুল্লাহ ও গণ-প্রতিরোধ
    গৌতম দাস
    আগস্ট ১২, ২০১৬
    http://wp.me/p1sCvy-1EO

     

    তাই এককথায়, ইসলাম কোপাতেই আর পুরানা জমিদার-হিন্দুর হারানো আধিপত্য যতটা পারা যায় ফিরিয়ে আনা ঘটাতেই ১৯৪৮ সাল থেকে আমাদের এদিকে  “পুর্ব-পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টির” গঠন হয়েছিল। আর তা থেকেই ১৯৪৯ সালে আওয়ামী লীগের জন্ম!

    আর সেকারণেই ১৯৯১ সালে সোভিয়েত পতনের পরে তারা একেবারেই হতাশ হয়ে পরেছিল যে কমিউনিজমের আড়ালে ইসলাম কোপানো ব্যাপারটা আর কাজ করবে না,  এটাই ভেবেছিল।

    যদিও মোট মাত্র ৯ বছরের মধ্যে তারা নতুন রাস্তা খুঁজে নিয়েছিল। ২০০১ সালে প্রায় সকল কমিউনিস্টেরাই আমেরিকান প্রেসিডেন্ট বুশের কোলে উঠে গিয়েছিল – সে তখন থেকেই এক নতুন বাপ তাদের! যে আর “মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ” নয় তখন থেকে!  কারণ সে আবার ইসলাম কোপানোর ফয়দা- এই লভ্যাংশ বা ডিভিডেন্ট দিবে পুরান কমিউনিস্টদেরকে। এই হল, পুরান কমিউনিস্টদের কাছে নাইন-ইলেভেন – টুইন টাওয়ার হামলা – ওয়ার অন টেরর এর মূল তাতপর্য ।  যা এক নয়া রাস্তা হয়ে এসেছিল জমিদার-হিন্দুর হারানো আধিপত্য ফেরত পারার আশা হিসাবে!

    আর এসব কমিউনিস্ট-প্রগতিশীল  এদের ততপরতায় বাংলাদেশের নীট ক্ষতিটা হল, বাংলাদেশের জনমত – ইসলামিজম আর প্রগতিশীল বলে শার্প আর বিপদজনকভাবে দুভাগে বিভক্ত হয়ে গেছিল। সমাজে মতভেদ থাকা একজিনিষ আর ইসলাম কোপানো বা নির্মুলের চিন্তা আরেকটা! আর এর ফাঁক দিয়েই হিন্দুত্ববাদ ও র-এর ততপরতা বাংলাদেশে জেঁকে বসেছিল।
    অথচ হাসিনা উতখাত বা মন্দির রক্ষা আর এখনও জীবন্ত বন্যা মোকাবোলা প্রশ্নে এই প্রথম ২০০১ সাল থেকে চলে আসা নয়া শতকে এখন ২০২৪ সালে এসে, এই প্রথম আমরা একতাবদ্ধ এক জনগোষ্ঠি!

    একারণের বলেছি ২০০০ সালের পরের নয়া শতক থেকে পুরান  কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলতা মৃত হয়ে আছে!  আর তখন থেকে যেকোন পুরান (বেশির ভাগ) কমিউনিস্ট-প্রগতিশীল এর মুখ দিয়ে বেরোনো প্রথম শব্দ হল (যেমন ইনুকে স্মরণ করতে পারেন) জঙ্গীবাদ; মানে আর মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ না।  এসবের হাত ধরেই গত ষোল বছরের হাসিনার ফ্যাসিজম এর পক্ষে সাফাইদাতা হল কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলতা। শাহবাগ কী ছিল? কারা তাত্বিক সমর্থন দিয়েছে সাফাই দিয়ে পত্রিকা বের করেছিল? এরা আর এটাই জমিদার-হিন্দুর কমিউনিজম-প্রগতিশীলতার আড়ালে জমিদারি চিন্তা আধিপত্য রাজনীতি ফিরিয়ে আনার ততপরতা! যে জমিদারি চিন্তা আধিপত্য রাজনীতি এর পিঠে পা দিয়েই ইন্ডিয়া বা র-এর ততপরতা বাংলাদেশে ছেয়ে গেছিল!

    অথচ গত শতকের পুরান কমিউনিজম এর কোন পুণর্মুল্যায়ন মানে আবার একে ভেবে দেখা, ঢেলে সাজানো (খোদ মার্কসের ভাষায় যেটা পর্যালোচনা -Critique) এটা ছাড়া এই মুরোদ ছাড়া কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলতা এরা সকলেই কঠিনতম রাজনৈতিক অপরাধী! যেহেতু নয়া শতকে এসে পুরান কমিউনিজম একেবারেই মৃত!

    আপনি শেখ রোকন এসব দিকে বেখবর! সেকারণে আপনি এসব পঁচা কমিউনিস্ট-প্রগতিশীল নতুন করে কথা বলতে দিবার দাওয়াত দাতা – জায়গা করে দিতে এগিয়ে এসেছেন। আমি “গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি” এর কথা বলছি বুঝতে পারছেন আশা করি।
    গত ৫ আগষ্ট  আপনি এদের প্রধান নেতা সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর একটা সাক্ষাতকার ছাপিয়েছিলেন। শিরোনাম ছিল “উভয় পক্ষকে সাময়িক হলেও সমঝোতায় আসতেই হবে”। অথচ আপনাদের উভয়ের কপাল খারাপ । পরের দিনই হাসিনা পদত্যাগ করে গোপনে ভারতে পালিয়ে যায়। মানে হল না আপনার মিডিয়ার কেউ না, এমনকি  সাক্ষাতকারদাতা চিন্তাও করতে পারেন নাই যে বাস্তব পরিস্থিতি কী? কোন দিকে এর অভিমুখ! এর মূল কারণ  কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলতা তো আসলে মৃত, মুরোদহীন হয়ে আছে এটাই আপনারা জানেনই না; অথচ এই মৃত লাশের উপর মুখ লাগিয়ে আপনারা এর চর্চার গুনগান গাইতেছেন!

    বুয়েটের কনসালটেন্ট শিক্ষক যারা আপনার কাছে পরিবেশবাদ বুঝা বন্ধু-সুহৃদঃ
    যতদুর মনে পড়ে বুয়েটের এক ছাত্র আবরারকে হাসিনা সরকার ও তাদের কমিউনিস্ট-প্রগতিশীল ক্যাডারেরা খুন করার পরে আপনি আমাকে ম্যাসেজ করেছিলেন। আপনার সাথে জেআরসি [জামিলুর রেজা চৌধুরী বুয়েটের প্রবীন শিক্ষক যিনি বাংলাদেশের যে কোন বড় ব্রীজ বা সিভিল প্রজেক্ট এর কনসালটেন্ট] কথা হয় যেখানে স্যার আমার নাম তুলেছিলেন প্রাক্তন ছাত্রনেতা হিসাবে আর সেদিন সেকথা আপনি আমাকে জানিয়েছিলেন। পাঠকেরা অনেকে জানেন হয়ত তবু জানিয়ে রাখি আমি ১৯৭৯ সালে প্রথম বুয়েটে ভর্তি হয়েছি্লাম কিন্তু গ্রাজুয়েট হয়ে বের হয়েছিলাম ১৯৯৩ সা্লে, মানে এরশাদ পতনের পরে বুয়েটে ফিরেছিলাম রেগুলার হয়ে তাই। মাঝের প্রায় দশবছর সক্রিয় রাজনীতি করে বেড়ানোর কারণে বুয়েটের বাইরে ছিলাম, বা ছাত্রত্ব ছিল না।  তবে মূল কথাটা হল আমার কঠিন রাজনৈতিক সক্রিয়তার জন্য (১৯৮০-৮৩) এই সময়কালের খুব কম ছাত্র-শিক্ষককেই পাওয়া যাবে যাদের কাছে আমি পরিচিত এবং ইতি-নেতি চরিত্র ছিলাম না। ভিসি থেকে সিনিয়র শিক্ষকেরা মূলত তাদের এপলিটিক্যাল [রাজনীতি খারাপ জিনিষ] এটিচ্যুডের কারনে আমার রাজনৈতিক সক্রিয়তাকে নেতি চোখে দেখতেন। যদিও এই রিটায়ের্ড বয়সে এসে এদের অনেকেই এখন উলটা আমাকে প্রশংসা করেন । (যদিও আমাকে এখনও ভালবাসেন এমন প্রবীন বুয়েট শিক্ষকের সংখ্যাও কম না।) আপনি শেখ রোকন আমাকে সেকথাই জানায়ছিলেন আমার যতদুর মনে পড়ে বলেছিলেন আমাদের আমল হলে এমন আববার হত্যা আমরা ঘটতেই দিতাম না।

    কিন্তু আমার শিক্ষকদের সম্পর্কে সাধারণভাবে আমার ব্যক্তিগত মুল্যায়ন তখনও যা এখনও তাই আছে!
    এরা মূলত এ-পলিটিক্যাল [রাজনীতি খারাপ জিনিষ মনে করা এটিচ্যুডের]। অথচ এরা প্রায় ব্যতিক্রম খুব কম এভাবে যত বয়স্ক হন ততই সরকারী কনসালটেন্সি পাবার বা ভিসি হবার দৌড়ে সরকারের কোলে উঠে পড়তেও দ্বিধা করেন না। এমনকি এখনও তারা রাজনীতিই বুঝেন না অথচ ভাব করেন তারা রাজনীতির তত্ব বুঝেন এমনকি পরিবেশবাদও বুঝেন! কী এক তামাশা!

    এদের তামাশার একটা নমুনা দেখেনঃ
    যেখন দেখেন এবারের সিলেট-কুমিল্লা-ফেনী-লক্ষীপুর-চট্টগ্রাম ডুবে যাবার পরে – “রাজনীতির অংশ নয় এই বন্যা আইনুন নিশাত – এই লেখাটা ছাপা হয়েছে সমকালে।
    আইনুন নিশাত উনি অরিজিনালি বুয়েটের সিভিলের শিক্ষক; উনি  রাজনীতি বলতে কী বুঝেন? এছাড়া উনি তাহলে কী রাজনীতি বুঝেন? মনে হচ্ছে আসলে উনি রাজনীতি বলতে “দলবাজী” বুঝছেন। বুয়েটের ছাত্র হিসাবে আমার অভিজ্ঞতা হল বুয়েটের কোন শিক্ষকের রাজনৈতিক-বোধ নাই। পলিটি (polity) ধারণা সে তো অনেক দুরের বাত! তা না থাক! কিন্তু তাদের ভান আর কোন দলবাজিকে রাজনীতি বলে বুঝা এটা অসহ্য, অগ্রহণযোগ্য।  এর চেয়ে অসহ্য হল এরাই আবার নিজ পেশার শেষের দিকে সরকারী প্রজেক্টের প্রধান কনসালটেন্ট হওয়া কিংবা ভিসি হওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেন; ফ্যাসিজমের কোলে উঠে গলা জড়িয়ে ধরে ঝুলে পড়তে দ্বিধা করেন না।

    এই যে  আইনুন নিশাত সাহেব “রাজনীতির অংশ নয় এই বন্যা” বলে ফতোয়া দিলেন – তাহলে উনি রাজনীতি বুঝেন বলে দাবি করে বসলেন! নাকি? অথচ এটাই হল তাঁর নিরেট ভারত-প্রীতি। সোজাসাপ্টা করে বললে ভারতের পক্ষে, লীগের পক্ষে দালালি। এছাড়া নিজ ইঞ্জিয়ারিং টেকনোলজি ও এনভায়রণমেন্ট বুঝবার অযোগ্যতাই উনি নিজে ধরেছেন!

    কমন নদী বা প্রবাহিত অভিন্ন নদীর ক্ষেত্রে ভাটির দেশের এমন নদীতে সমান হিস্যা ও অধিকার থাকে। তাই অভিন্ন নদীতে বাধ-ড্যাম বা এর প্রবাহে যে কোন বাধা সৃষ্ঠি করা এমনকি পানি টেনে অন্যদিকে নেওয়া ইত্যাদি সব কাজই অবৈধ; ভাটির দেশের অধিকারকে ক্ষুন্ন করা – এসব কথা উনি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, কথিত পরিবেশবাদী বা দাবিকৃত রাজনৈতিক-বোদ্ধা হয়েও জানেন না। আসলে না জেনে এসব কথা বলার মজাই আলাদা তাই না!

    কী আর বলব? উনি আমাদের শিক্ষক হয়ে বসে আছেন! সারাজীবন এরাই [জেআরসি সহ সেকালের সিনিয়র শিক্ষকেরা] আমার-বিরুদ্ধে গালাগালি করে গেছেন যে আমি নাকি বুয়েটে ছাত্রদের মধ্যে রাজনীতি ঢুকিয়েছি! অথচ তারা প্রায় সকলেই কনসালটেন্ট কিংবা ভিসি হওয়ার জন্য ফ্যাসিজমের কোলে উঠে বসতে দ্বিধা করেন নাই, এখনও করছেন ভারতের দালালি!

    এবার শেখ রোকনের কথায় আসিঃ
    আর শেখ রোকন তিনি নাকি কোন নদী বিষয়ক, পরিবেশ বিষয়ক এনজিও সাথে যুক্ত বিধায় তিনিও  আইনুন নিশাত সাহেব এর সমর্থন পেয়ে দাবি করছেন এবারের বন্যায় সবই বৃষ্টির পানি, ভারতের দোষ নাই। আর সাথে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ও তাঁর সাথে আরও কিছু শাহবাগী কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলদের [যারা সেসময় সর্বজন কথা বের করতেন] পাল্লায় পড়ে তাদের লেখা এখন প্রমোট করছেন শেখ রোকন, হয়ত ভাবছেন আমরা বন্যায় ভারতকে দায়ী করে সাম্প্রদায়িকতা করছি! অথচ শেখ রোকন আপনিও অপরাধী! অজ্ঞ থেকে মিথ্যা প্রপাগান্ডা করার অপরাধে।

    আগে পরিবেশ কী তা বুঝেনঃ
    আগে পরিবেশ কী তা বুঝেন। এটা অন্তত বস্তুবাদ না যে সাইন্স বা বিজ্ঞানের জ্ঞানে আপনি তা বুঝে যাবেন; ইঞ্জিনিয়ারদের লগে ঘুরে ঘষাঘষি করলেই শিখে যাবেন! অন্তত কিছু ফিলসফির মৌলিক জ্ঞান-ধারণা ছাড়া কেউই   পরিবেশ বুঝতে পারবে না। যেমন পরিবেশ শব্দটাই ভুল! প্রাণ-পরিবেশ বলা উচিত তাহলে আপনার যে কিছু হুশ আছে তা বুঝা যাবে।

    আবার আরও কিছু সহজ পথও আছে।
    পারিবারিকভাবে মুসলমান নাম করে আছেন যারা সেই ভরসায় বলছি। নূহ-নবীর নাম না চাইলেও তো জেনেছেন শুনেছেন। এই নাম ও সাথে তার বয়ান ও এর তাতপর্য বুঝতে মনোযোগ দেন। অনেক ফয়দা হবে।  হুমায়ুন আজাদ বা জাফর ইকবালসহ কথিত যত বিজ্ঞানবাদী আছেন তাদেরকে  মাথা থেকে ফেলেন আগে আর এসবের চেয়ে নূহ-নবীর তাতপর্য অতুলনীয় শ্রেষ্ঠ! শুনতে অবাক লাগতে পারে কিন্তু এটাই কঠিন সত্য!
    আচ্ছা আপনা্রা তো কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলতা শ্রেষ্ঠ জ্ঞান করে ইসলাম কোপানো কে ফরজ জ্ঞান করেন। তাই আসেন নূহ-নবী বাদ রাখেন। ক্রিশ্চানিটিতে নোহা [NOAH]  এর কনসেপ্ট আছে। অথবা আসেন হিন্দুত্ববাদই তো শ্রেষ্ঠ প্রগতিবাদ; আসেন সেখানে আসেন। সেখানে মনু-অবতার (অবতার মানে সনাতনি ব্যাখ্যা হল আরেক দুনিয়া থেকে যে এই দুনিয়াতে মানুষকে উদ্ধারে সময় সময়ে ‘অবতরণ’ করে আসেন) খুঁজে দেখেন। সব জায়গায় মানে সব থিওলজিতেই (ধর্মতত্বে) কমন একটা জিনিষ পাবেন একটা নৌকার প্রতীক আর দেখবেন জোড়ায় জোড়ায় প্রাণ-প্রজাতি নূহ-নবীর মতন করে ঐ নৌকায় তুলছেন!
    যেকোন ধর্মতত্ব মেটাফরিক্যাল [metaphor] ভাষায় দুনিয়ায় হাজির হয়;  এর সোজা মানে, এর ভিতর একটা গভীর মানের দিক আরেকটা  সাদা-সাপ্টা মানে থাকে। চিন্তার মুরোদ থাকলে, ওর গুঢ় অর্থের দিকটা তালাশ করেন। রব এর গুণ, প্রতিপালক এর গুণ বৈশিষ্ঠ যদি বুঝেন আপনার উপর হেদায়েত হয়ে থাকে তবে বুঝবেন নূহ-নবী সংক্রান্ত প্রতীক মেটাফোর!

    আবার ভুল বুঝেন না যে আমি আপনাকে ধর্মে মনোযোগী হতে বলছি। সেটা আপনার ব্যক্তিগত! বলছি পারিবারিকভাবেই যেটা আপনার ভিতর যতটুকু আছে যা আপনি কখনও এক্সপ্লোর করেন নাই; মেরে ফেলেছেন কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলদের পাল্লায় পরে; ইসলামবিদ্বেষে আর বিজ্ঞানবাদীতাই – সেটা ফিরে এখনও মনে করে হাতড়ে দেখলে এখনও অনেক কিছু পেতে পারেন। ধর্ম পালন না করেন সেটা আমার এখানে বিবেচ্য নয়; কিন্তু সবার আগে ধর্মতত্বকে তুচ্ছ জ্ঞান করারটা অন্তত ত্যাগ করেন।

    আর যদি মুরোদ হয় তবে ফিলসফির মৌলিক কিছু দিকে পথ ধরে আগাতে হবে। স্পিরিট [Spirit) বুঝতে হবে মানে, মানুষ স্পিরিচুয়ালও। অর্থাৎ মানুষ কেবল বস্তু না – কেবল এক ফিজিক্যাল ফেনোমেনা নয়। তাই কেবল বিজ্ঞান এর বুদ্ধি দিয়ে মানে যেটা ইম্মানুয়েল কান্ট [1724-1804] এর বিজ্ঞানবোধ বা লজিক (চিন্তার লজিক্যাল বা র‍্যাশনাল পদ্ধতি)  – এসব দিয়ে মানুষ বুঝা সম্পন্ন হবে না।  মানুষ স্পিরিচুয়ালও এদিকটা বুঝা যাবে না।। তাই সেদিক্টাও মানে কান্ট এর এই চিন্তার পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতা বুঝতে হবে যেটা কান্ট [মানে kantian logic / rationality] এর সীমাবদ্ধতা! অন্যভাষায় এটাইকেই বলছি,  ফিলসফির মৌলিক কিছু দিকে পথ ধরে আগাতে হবে। স্পিরিট বুঝতে হবে মানে মানুষ স্পিরিচুয়ালও। তাতে স্পিরিটের অর্থ ধর্মতত্ব দিয়ে বুঝেন কিংবা হেগেলের (absolute Spirit) স্পিরিট অর্থেই বুঝেন তাতে অসুবিধা নাই – হেগেলের স্পিরিট যেটার বাংলা অনেকে করেছেন প্রজ্ঞা। আবার  আধাবুঝের ধর্মতত্ব দিয়ে অনেকে এটাকে আধ্যাত্ববাদ বলে এক স্টুপিড বা পচা বাংলাও করে থাকেন অনেকে!
    আর এরপরেও যদি চিন্তার মুরোদে কুলায় তবে হেগেলকে মার্কস কিভাবে ও কোথায় কোথায় বদলে নিয়েছেন ততদুরও যেতে পারেন। এটাই খোদ মার্কসের গুরুত্বপুর্ণ অবদান যেটাকে বলে, আইডিয়াল [ideal] আর রিয়েল [real] এর ফারাক কী – সেই প্রসঙ্গ! তবে মনে রেখেন এই অংশের খবর ব্যক্তি স্টালিন ও স্তালিনের অনুসারী (কার্যত এটাই আবার মার্কসবাদ বলে সারা দুনিয়ায় পরিচিত; যেকারণে আমার অনুবাদ বইয়ে বলেছি মার্কস আর মার্কসবাদ দুইট আলাদা) এমন এদের কারো কাছেই নাই; জানা নাই। এদিকটা বুঝতে জর্মান ইডিওলজি পড়তে হবে। বিশেষ করে ফয়েরবাখ সম্পর্কে মার্কসের গুরুত্বপুর্ণ মূল্যায়ন কী আছে সেখানে, সেটা!
    কেবল একটা নোট দিয়ে রাখতে পারি। আমার নিজের ওয়েব সাইট [goutamdas.com] যেখানে আমার নানান লেখা গত ১০ বছর ৫০০ এর বেশী হয়ে গেছে বলে আমাকে জানিয়েছে। ওখানে গান্ধীর সত্য মানে ‘ট্রুথ’ নয়, ফ্যাক্টস নামে আমার একটা লেখা আছে। ওখান আসলে আমি  আইডিয়াল [ideal] আর রিয়েল [real] নিয়ে মার্কসের ধারণাটা প্রয়োগ করেছি – গান্ধীর চিন্তা ভাবনার বৈপরীত্য-কে দেখিয়ে দেবার জন্য। কাজেই শিরোনাম দেখে ওটা গান্ধীর উপরে লেখা মনে হলেও আসলে ওটাই হেগেল প্রসঙ্গে মার্কসের অবস্থান নিয়ে লেখা! বুদ্ধিমানেরা সেভাবে পড়তে পারেন!

    তবে আমাদের এখানে এই লেখার প্রসঙ্গে মৌলিক রাজনৈতিক বুঝাবুঝির মুল জায়গাটা হল, কমন বা অভিন্ন নদীর পানির উপরে ভাটির দেশের অধিকার বা সম-অধিকার।
    এই জায়গায় আইনুন নিশাত সহ সকল ইঞ্জিনিয়ার বা বিজ্ঞানবাদীতার নামে ভারতীয় দালালদেরকে আমাদের উপরে ফেলে দিতেই হবে!

    এই কথাটা শেখ রোকন যত তাড়াতাড়ি বুঝবেন ততই সেটা উনার ব্যক্তিগত, উনার পত্রিকার স্টাফ ও মালিকের জন্য ভাল ও সঠিক হবে! নইলে এরা সবাই জনগণের হাতে উপড়ে ফেলে দেওয়া দশাতে পড়বেন!

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   ০২ঃ৫৩ দুপুর  ২৬ আগষ্ট ২০২৪
    শেষ আপডেটঃ  ৩ঃ৩০ দুপুর  ২৬ আগষ্ট ২০২৪

     

  • বেনজীর-আজিজদের ‘প্রটেকশন’ দেয়া বা না দেয়ার তর্কের ফাঁকে আলী রীয়াজ!

    বেনজীর-আজিজদের ‘প্রটেকশন’ দেয়া বা না দেয়ার তর্কের ফাঁকে আলী রীয়াজ!
    গৌতম দাস
    ৩০ মে ২০২৪
    https://wp.me/p1sCvy-5E3

    ‘বেনজীর-আজিজকে সরকার প্রটেকশন দেবে না’

    তামাসাটা বেশ ভাল জমেছে! বাংলাদেশের মিডিয়াগুলোতে একটা নতুন পপুলার শব্দ চালু হয়েছে আজিজ-বেনজীর। এমন এই খবরের শিরোনাম হল আজিজ-বেনজীর এর “প্রটেকশন”! আবার পাঠকও ধরে ফেলেছে এই নয়া শব্দের অর্থ কী; যদিও এখনও বিশ্বাস করে নাই। এমনিতেই, “প্রটেকশন” – এটা সঠিক শব্দ একেবারেই নয়। তবু সরকারের মন্ত্রী-উপদেষ্টা যারাই “প্রটেকশন” শব্দটা ব্যবহার করছেন। আর এতে তাদের ধরে নেয়া হয়ে গিয়েছে যেন এই সরকারের স্বাভাবিক কাজ হচ্ছে অসৎ, দুর্নীতিবাজ, পাবলিক মানি লুটেরা সরকারী কর্মচারীদেরকে “প্রটেকশন” দেয়া। যার মানে হল, আদালতসহ রাষ্ট্র-সরকারের যেসব প্রতিষ্ঠান অসৎ, দুর্নীতিবাজ, পাবলিক মানি লুটেরাদের আইনের আওতায় আনার জন্য বিচারের দায়ীত্বপ্রাপ্ত এবং স্টাডিং অর্ডারে দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রীয় অফিসগুলো – এরা যেন ততপর না হয়, দেখেও না দেখে বা কেউ “মুক্তিযোদ্ধা শ্রেণী” এই পক্ষের সদস্য বলে অজুহাতে ছাড় দেয় বা এড়িয়ে যায়; এভাবে প্রতিষ্ঠানগুলোকে  খামোশ করে রাখাই যেন সরকারের কাজ। আর তাই এইবার আজিজ-বেনজিরের কেসে তারা ব্যতিক্রম করবে। তারা আজিজ-বেনজিরকে এবার বাঁচাতে যাবে না। যার সোজা অর্থ হল, গত ১৬ বছর সরকার এভাবে চলেছে বলেই  এই “প্রটেকশন” শব্দের উতপত্তি। নইলে দুদক বা আদালত ধরণের প্রতিষ্ঠান এরা তো কনষ্টিটিউশন অনুযায়ী ‘চোর’ ধরার স্টাডিং অর্ডারে দায়িত্বপ্রাপ্ত; মানে এরা এসব অপরাধের বিরুদ্ধে ততপর হতে চাইলে তো কোন মন্ত্রী বা সরকার আদেশ-নির্দেশ দিছেন কিনা সেজন্য অপেক্ষার দরকার নাই। অর্থাৎ এখানে কাউকে অপরাধ থেকে বাঁচাবে, আড়াল করবে যেটাকে “প্রটেকশন” শব্দ ব্যবহার করে তারা বুঝিয়েছেন, কথা বলছেন – এই শব্দ ব্যবহারের তো কোন জায়গাই নাই। কিন্তু গত ১৬ বছর সরকার এভাবেই মুক্তিযোদ্ধা শ্রেণী বা চেতনা শ্রেণী নামে অথবা এই শ্রেণীকে রক্ষার নামে আজিজ-বেনজীর টাইপের লোকেরা বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত ব্যক্তি – এরা যেন কার্যত আইনের উর্ধে – এই ধারণাই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে!  আর তা হয়েছে বলেই এই “প্রটেকশন” শব্দের উতপত্তি হয়েছে। গত ১৬ বছর যে সরকার এমন প্রাকটিস চালু রেখেছে – ত যেন সরকার এভাবে “প্রটেকশন” শব্দ ব্যবহার করে সরকার তার সেই অসৎ প্রাকটিসকেই স্বীকার করে নিল! সরকারের কাজের স্টাইল ও অভ্যাসই আছে বলেই এবার, আজিজ-বেনজির কেসে বলছে তারা “প্রটেকশন” দিবে না! তাই এককথায় সরকারের “প্রটেকশন” শব্দ ব্যবহার  করে সরকারের অসৎ প্রাকটিসকেই যে স্বাভাবিক গণ্য করে ফেলেছে সেটা পরোক্ষে-অজান্তে বলে ফেলেছে। সারকথায় এবারের আজিজ-বেনজির কেসে সরকার যে – অসৎ প্রাকটিসকেই স্বাভাবিক ধরে নিয়ে চলেছে- সেটা করবে না। মানে ব্যতিক্রম করবে, এই হল সরকারের “প্রটেকশন” শব্দের অর্থ ও ম্যাসেজ!

    আবার শব্দের আরো মারপ্যাচ আছে। যেমন উপরে যা লিখলাম সেখানে “প্রটেকশন” শব্দটা নেগেটিভ অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ নাগরিক ও রাষ্ট্রের সম্পর্কের মধ্যে “প্রটেকশন” খুবই ইতিবাচক শব্দ। রাষ্ট্র নাগরিককে সুরক্ষা বা “প্রটেকশন”[protection] দিবে এটাই তো রাষ্ট্রের কাজ। এই মুখ্য উদ্দেশ্যেই তো নাগরিকেরা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছে। অর্থাৎ লক্ষ্যের দিক থেকে “প্রটেকশন ইজ ফান্ডামেন্টাল” – চাওয়াটা এমন। অথচ বাস্তবে এখানে “প্রটেকশন” শব্দটা নেগেটিভ অর্থে ব্যবহার করেছে – অসৎ প্রাকটিসকেই স্বাভাবিক – মনে করা সরকার।  আর তাই, এবার এখান থেকেই  অনেকে দাবি তুলেছে যে অসৎ প্রাকটিস বাদ রেখে ফেলে দিয়ে নাগরিক সুরক্ষাই বরং সরকারের কাজ। এমনকি একটা ব্যক্তি-নাগরিকের নামে বড় শাস্তিযোগ্য অপরাধের অভিযোগ এসেছে এমন যদি হয়ও সেক্ষেত্রেও, ঐ অভিযুক্ত ব্যক্তিকেও “প্রটেকশন” দেয়াই সরকারের কাজ! আর এটাই “প্রটেকশন” শব্দের ইতিবাচক, সঠিক ও উপযুক্ত ব্যবহার। নাহলে কী হবে?
    সরকার যদি সেক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তিকে কোন ফিজিক্যাল আক্রমণ থেকে প্রটেকশন দিয়েই ঐ ব্যক্তিকে আদালতে বিচারের মুখোমুখি না করে তবে তো আবার পাবলিক বিক্ষুব্ধ হবে। আর এক পর্যায়ে পাবলিক হয়ত  নিজেই ঐ অপরাধী-অত্যাচারীকে শাস্তি দিবার জন্য প্রকাশ্যে নিজ হাতে পাবলিক লিঞ্চিং [public lynching]. যাকে আমরা হাটুরে মার বা গণপিটুনি বলি তেমন একটা কিছুতে কথিত অপরাধীর মৃত্যু হয়ে যেতে পারে; যেটা একেবারেই কাম্য নয়।

    আবার একটু পিছনে ফিরব। নয়া মিডিয়া শব্দ আজিজ-বেনজীর এর অর্থ অনেকেই জানলেও এখানে সব পরিস্কার রাখাই ভাল। এখানে আজিজ মানে হল, ২০১৮ সালের হাসিনাকে বিজয়ী ঘোষণার নির্বাচন ঘটানোর নায়ক সাবেক এই সেনাপ্রধান, জেনারেল আজিজ আহমেদ আর, বেনজির মানে হল সাবেক র‍্যাব প্রধান ও পরে পুলিশ প্রধান হয়ে অবসরে যাওয়া বেনজির আহমেদ।  আর এই আজিজ-বেনজীর শব্দযুগল মানে যেন এক দড়িতে ফাঁসি চাওয়া হচ্ছে এমন এক ইঙ্গিতও আছে!  এদুই নামের বিরুদ্ধে কমন অভিযোগটা হল এরা সীমাহীন দুর্নীতি, অবৈধ আয় লুটপাট ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারকারী। যেন এরা, হাসিনার জন্য কিছু বিরাট কাজ করে দিয়েছে আর এরই কিছু “বিনিময়-মুল্য” নিয়েছে তাঁরা!  আজিজের বেলায়, তিনি সেনা প্রধানের পদ-পদবী ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজ সব অপরাধী ভাইদেরকে  নিজ বাপ-মায়ের নামসহ একেবারেই সব ডাহা মিথ্যা তথ্য দিয়ে ন্যাশনাল আইডি আর পাসপোর্ট বানিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন যা, কোন ছোটখাট না মারাত্মক অপরাধের অভিযোগ। এছাড়া পদ-পদবির জোরে যদি এমন করাই যায় তবে আর কোটি কোটি টাকা খরচ করে সরকারের আইডি আর পাসপোর্ট প্রকল্প করার দরকার কী ছিল? আর এর চেয়েও বড় কথা আজকাল আমাদের গ্রামগুলোর যেকোন মানুষও সম্ভাব্য বিদেশগামী প্রবাসী। এই অর্থে দেশ-বিদেশে এর ফারাক অনেক কমে গেছে। মানে হল, “আইডেনটিফিকেশন” – আপনি দেশ বা বিদেশে যেখানেই থাকেন না কেন – আপনি কে, পরিচয় বা রাষ্ট্রীয় আইডেনটিটি কী? এটা এখন একালে খুবই গুরুত্বপুর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের রাষ্ট্র যদি নাগরিক-ব্যক্তির আইডেনটিটির নিশ্চয়তার দিবার অথরিটির ভুমিকার ক্ষেত্রে শৈথিল্য  মানে  ন্যাশনাল আইডি আর পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষেত্রে দেশ-প্রশাসনেরই বিশ্বাসযোগ্যতাই নিচে নামিয়ে ফেলে ধুলায় মিশায়ে নষ্ট করে ফেলেন তবে যেকোন বিদেশি রাষ্ট্রই আমাদেরকে আর গ্রহণ করবে কেন? তারা তো প্রবেশ করতেই দিবে না। সন্দেহ করবে আর সেখান থেকে শুরু হবে আমাদেরকে আরো নিচা চোখে দেখা! আমি নিশ্চিত জেনারেল আজিজ এসব গভীর দিকের নজর করেন নাই; বরং সারা দেশের প্রতিটা মানুষের মৌলিক স্বার্থ পায়ে দলেই কেবলমাত্র নিজ অপরাধী ভাইদের রক্ষাই তাঁর একমাত্র স্বার্থ-জ্ঞান করে সেনাপ্রধান হয়েও এসব কাজ করেছেন।
    আর ওদিকে বেনজির এর কথা বলে শেষ হবে না। কেবল এবার দুদকের আদালতে যে মামলা তাতে অবৈধ অর্থে ৬২১ বিঘার জমির মালিকানার কথা আছে; সাথে অন্যান্য প্রায় সব ধরণের দেশে-বিদেশে সম্পদের কথাও!

    বিবিসি লিখেছে, “আইনজীবীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত আদালত বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের যে সব সম্পদ জব্দ বা ফ্রিজকরার নির্দেশ দিয়েছেন তার মধ্যে আছে ঢাকার গুলশানে চারটি ফ্ল্যাট, ৩৩টি ব্যাংক হিসেব, তিনটি শেয়ার ব্যবসার বিও অ্যাকাউন্ট, প্রায় ৬২১ বিঘা জমি, উনিশটি কোম্পানির শেয়ার এবং ত্রিশ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র”।

    আবার, এছাড়া আদালতের মুল আবেদনে বলা হয়েছে, বেনজির তার সারা চাকরি জীবনের বেতন ও সুবিধাদি সব মিলিয়ে কোন ব্যয় ছাড়াই মোট আয়ের মুল্যমান ২ কোটি টাকার নীচে। অথচ তাঁর যে সম্পত্তির কথা বলা হচ্ছে এর মুল্য কমপক্ষে ৫০০ কোটি টাকারও বেশী। এটা কিভাবে সম্ভব?

    সেখানে বলা হয়, অথচ ৩৪ বছর সাত মাসের দীর্ঘ চাকরিজীবনে বেনজীর আহমেদ বেতন-ভাতা বাবদ মোট
    আয় করেছেন
    এক কোটি ৮৪ লাখ ৮৯ হাজার ২০০ টাকা। এর বাইরে পদবি অনুযায়ী পেয়েছেন আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা।

    বেনজীর ও আজিজদের বিচারের মুখোমুখি করছে আওয়ামী লীগঃ
    এবিষয়ে গতকাল ছিল খুবই এক সিরিয়াস দিন, তা বলা যায়। কেন তা বলছি?
    বেনজিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে রিপোর্ট করেছিল বসুন্ধরা গ্রুপের কালের কন্ঠ, সেই গত ৩১ মার্চ ২০২৪।  তখনও কিছুই জানা যায় নাই যে এই রিপোর্ট থই পাবে কিনা!! এরকম হাইকোর্টের নির্দেশ এস আলমের নামেও এসেছিল। কিন্তু দুসপ্তাহ পরে তা উর্ধতন কোর্টে খারিজ করে দিয়েছিল। কাজেই এসব যে আস্থা বিশ্বাস রাখার মত ঘটনাবলী নয়, আম-পাবলিকের অনুমান এরকমই। এককথায় তারা এটাকে বলে আই-ওয়াস!  কিন্তু এরপরেই এলো জেনারেল আজিজের উপর আমেরিকান পদক্ষেপ এর নিউজ। আর তা থেকেই এক-পা দুই-পা করে আগাতে আগাতে  ওবায়দুল কাদেরের বিবৃতি আসল যে এতে লীগের কোন দায় নাই কারণ তারা অবসরপ্রাপ্ত। কিন্তু সপ্তাহ দুই পরে দেখা গেল অন্যকিছুর ইঙ্গিত! সেটা এলো আবার নয়া অর্থমন্ত্রীর মুখ দিয়ে। এবারের অর্থমন্ত্রী পেশাগত ভাবে কূটনীতিক ক্যাডার, পররাষ্ট্রমন্ত্রীও ছিলেন। কিন্তু এবার তিনি অর্থমন্ত্রী কারণ সরকার ডলার বা বৈদেশিক মদ্রা সংকটে। তাই সারাদিন কাটে তাঁর আমরা পাবলিকলি তাকে দেখি একটা সোফায় তিনি বসে আছেন বা কথা বলছেন দেশি-বিদেশিদের সাথে। অর্থাৎ ডলার আনার কূটনীতি ততপরতায় আছেন তিনি।   এদিকে বাজেটসহ অর্থ-মন্ত্রণালয়ের বাকি কাজে আমরা দেখছি একজন প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেয়া হয়েছে, তিনিই সামলাইতেছেন। মানে কাজ ভাগ করা হয়েছে। তা হোক, কিন্তু আমাদের আগ্রহ অন্য জায়গায়। গত ২৬ মে এই অর্থমন্ত্রী একটা কথা বলেছেন বাজ পড়ার মত। কিন্তু মন্ত্রীর লো প্রফাইল, অরাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্টডের জন্য সম্ভবত সেটা আম-পাবলিক লেবেল আমল করতে রাজি হয় নাই।
    এমনিতে, অর্থমন্ত্রী হিসাবে তাঁর জেনারেল আজিজকে নিয়ে আমেরিকান নিষধাজ্ঞা বা পদক্ষেপ যা নিয়েছে তাতে এর অর্থ তাতপর্য কী – এটা ঠিক অর্থমন্ত্রীর ইস্যু না। আর জেনারেল আজিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ ঠিক অর্থমন্ত্রণালয়ের প্রত্যক্ষ এক্তিয়ার না। বরং দুদক ও আদালত ধরণের অফিসের ইস্যু। কিংবা বড় জোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কিছু যদি নিজের ইস্যু আছে মনে করে। অথচ তিনি বলেছেন – ‘সরকার কিছু করেনি মানে সেনাবাহিনী কিছু করবে’, সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ সম্পর্কে  এটা ছিল অর্থমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া এবং এটাই মিডিয়ার শিরোনাম হয়েছিল!
    সত্যি বলতে কী খবরটা পড়ার পর কিছুটা বিরক্ত লেগেছিল।  কারণ খবরের শুরুর নাইনটা হল, “অবসরে যাওয়ার পরও বাংলাদেশের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী ব্যবস্থা নেবে”। কথা হল, সেনাবাহিনী যদি ব্যবস্থা নেয়ও তো এই সেনাবাহিনী কী অর্থমন্ত্রণালয়ের অধীনে? অবশ্যই না। তাহলে?
    এর মানে অর্থমন্ত্রীর কথা এরপরেও যদি সত্যি হতে হয় তবে এর একটাই অন্য সুযোগ আছে। তা হল, প্রধানমন্ত্রী আর সাথে পুরা ক্যাবিনেট অথবা বিশেষ দু-চারজন মিনিষ্টার মিলে (অর্থমন্ত্রী যাদের একজন) কোন আসরে বসে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যেটার মুখপাত্র অর্থমন্ত্রী হলে বা না হলেও অর্থমন্ত্রীই সেসব কথার উপর দাঁড়িয়ে হয়ত একথাগুলো বলছেন। এমন কথা মনে হবার পিছনে আরেকটা কারণ আছে। প্রথম আলোর ওই রিপোর্টের পরের বাক্য দেখেন। বলছে, “ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়ে” অর্থমন্ত্রী আজ রোববার দুপুরে সচিবালয়ে … কথা বলছিলেন। এছাড়া ঐ একই রিপোর্ট আরেক স্থানে অর্থমন্ত্রী বলছেন,  ‘এখন ঋণখেলাপিদের ধরতে হবে”।

    অর্থমন্ত্রী নিজেই হঠাৎ বলেন, ‘এখন ঋণখেলাপিদের ধরতে হবে।’ এ বাক্য শেষ করার পর চুপ থাকলে সাংবাদিকেরা তাঁকে প্রশ্ন করেন, ‘পারবেন? ঋণখেলাপিরা তো অনেক শক্তিশালী।’ তখন তিনি বলেন, ‘দেখা যাক পারি কি না।
    আপনারা দেখছেন, সাবেক পুলিশপ্রধানের (বেনজীর আহমেদ) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাঁর কি ক্ষমতা কম ছিল?’

    এমনকি তিনি বেনজিরের বিরুদ্ধেও একই ধরণের কথা বলেছেন যে “…সাবেক পুলিশপ্রধানের (বেনজীর আহমেদ) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাঁর কি ক্ষমতা কম ছিল?”।
    এথেকে একটা অনুমান হচ্ছিল যে কিছু একটা হতে যাচ্ছে। কিন্তু অন্তত প্রধানমন্ত্রী নিজে বা না হলে ওয়ায়দুল কাদের এনিয়ে একই ধরণের কিছু বলেন কিনা সেদিকে লক্ষ্য রাখা! হা ঠিক তাই! গতকাল বুধবার ছিল সেই দিন। ওবায়দুল কাদের বলেন,.”..বেনজীর ও আজিজদের বিচারের মুখোমুখি করছে আওয়ামী লীগ: ওবায়দুল কাদের” । আওয়ামী লীগ বিচারের মুখোমুখি করছে – এটা তো একেবারেই নতুন ডায়লগ। কারণ সপ্তাহ-দশদিন আগে এনিয়ে কাদেরের বক্তব্য ছিল, ওরা দুজন এখন অবসরে যাওয়া ফলে সরকারের দায়দায়িত্ব নাই – ধরণের।
    এবং একই দিনে একটিভ আরেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানও একই কথা বলেছেন; আরো তিন মন্ত্রীর সাথে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সভা শেষে মিডিয়ার কাছে। সালমান বলেছেন, (তিনি কাদেরের রেফারেন্সেও কিছু কথা বলেছেন), “বেনজীর আহমেদ ও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদকে সরকার কোনো ধরনের প্রটেকশন [সুরক্ষা] দেবে না এবং দেশের আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে“।

    সালমান রহমানের গুরুত্ব কী ও কেনঃ
    সুনির্দিষ্ট এক্ষেত্রে সালমান রহমানের গুরুত্ব কী? যেখানে বাকি আরো অনেক সালমানের মত উপদেষ্টারা পাবলিক ডিল কমই করেন? এক্ষেত্রে সম্ভাব্য জবাবটা হল, যেকোন কারণেই হোক আমেরিকার সাথে হাসিনার যেকোন ডিল বা কী দিলে কী পাব ধরণের প্রস্তাব চালাচালিটা দৃশ্যতঃ সালমানের মাধ্যমেই করার একটা চর্চা তৈরি হয়েছে। এবং উভয়দেশ বা পক্ষই এটা ব্যবহার করতে আগ্রহী তা দেখা যায়। এটাই সালমনের গুরুত্ব অনেক মন্ত্রী বা ওবায়দুল কাদেরের থেকেও অনেক সময় বেশী ওজনদার হতে দেখা যায়। তাহলে কী দাঁড়ালো?

    দাঁড়ালো যে আজিজ-বেনজীর  এর পক্ষে “নো প্রটেকশন” এর আওয়াজ – এটা খুব সম্ভবত এদেরকে বলির পাঁঠা বানিয়ে ফাঁসিয়ে বা ডুবিয়ে দিয়ে সরকার ভেসে উঠতে চায়, নিজের ক্রেডিবিলিটি বা বিশ্বাসযোগ্যতা ও সক্ষমতা দেখাতে চায়। আর এটার বিনিময়ে আমেরিকার কাছে তাদের কিছু চাওয়ার আছে সম্ভবত!
    যেমন এবার ল্যু এলে পরে সরকার র‍্যাবের [RAB] নিষেধাজ্ঞা তুলতে কী একশন সরকারকে করে বা নিয়ে দেখাতে হবে যেন তাই জানার মহড়া হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছিল। বেনজিরের বিরুদ্ধে একশন এবং সরকার একেবারেই যদি তাঁর হাত ছেড়ে দেয় – এটা তো একটা ভাল পদক্ষেপ হিসাবে সরকার আমেরিকার কাছে তখন এটা বেচতে বা তুলে ধরতে পারে। ওদিকে আবার র‍্যাবের প্রধান বদলাতে আগ্রহ হয়েছে সরকারের। আর কাকে করা হবে তাতে দেখা যাচ্ছে যে আমেরিকার স্যাংশনে খেয়ে বড় দাগী যে সেই-ই যেন বড় ক্যান্ডিডেট – এই নীতি এবার ব্যত্যয় ঘটেছে। নিষেধাজ্ঞা খাওয়া (তখন তিনি পুলিশ প্রধান) বেনজিরকে জাতিসংঘ ভিজিটে যাচ্ছে এই উসিলায় সরকার স্যাংশন খাওয়া বেনজিরকে আমেরিকা ঘুরিয়ে এনে তাতে নিজের সাফল্য দেখেছিল। যার নিট লাভ হলো স্থানীয় আওয়ামী লীগারদের নিয়ে তাঁর এক হোটেল-সভা করা। অথচ তিনি তো তখনও সরকারী কর্মচারি!!! অবশ্য সাথে আর সাথে দাবি করা যে সরকার আমেরিকান স্যাংশন কেয়ার করে না। আমেরিকাকে উপেক্ষা এই ছিল এতদিন সরকারের মূলনীতি! সেজন্যই কী এবার এক ব্যারিষ্টারকে র‍্যাবের প্রধান করা? সংস্কার করা বলে দেখানো?? আমেরিকার সাথে নুন্যতম একটা ওয়ার্কিং রিলেশনে পৌছানো যার লক্ষ্য? তাই কী?  আমরা এটা নিশ্চিত না; তবে এদিকে কী হচ্ছে তাতে চোখ রাখতে পারি।

    এনিয়ে কিছু সহায়ক তথ্য দেইঃ
    আমেরিকান ফরেন পলিসি পত্রিকায় এশিয়া নিয়ে বাইডেন প্রশাসনের পক্ষে সব ঠিকঠাক চলছে কিনা এনিয়ে এক সাপ্তাহিক রিপোর্ট লিখে থাকেন মাইকেল কুগেলম্যান। তিনিও বর্তমানে আলী রিয়াজের জায়গায় তবে বেশী গুরুত্ববাহী আরেক থিঙ্কট্যাংক ফেলো!  তিনি আজ মানে গত ২৯ মের রিপোর্ট শুরুই করেছেন এমন কিছু তথ্য দিয়ে। যেমন তাঁর প্রথম লাইনটা হল, Hasina makes pitch for U.S. investment. হাসিনা আরো আমেরিকান বিনিয়োগ [FDI] চান! তিনি লিখছেন, হাসিনা যতই আমেরিকার উপর সবসময় রাগ ঝারেন না কেন, তিনি আমেরিকান ব্যবসায়ীদের চান, commercial partnership with Washington এর পক্ষে তিনি এখন; দেশের আগামি সত্তর বছরের বার্ষিকী (২০৪১ সালে) আমেরিকান ব্যবসায়ীদের হাত ধরে উঠে উতযাপন করতে চান! [এটাই কী গত সেপ্টেম্বর ২০২৩ সালের ইন্ডিয়া-আমেরিকান পরিকল্পনা ছিল? ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ এর পরের বাইডেনের প্রস্তাব ছিল? ]
    তবে কুগেলম্যান লিখছেন, হাসিনা আমেরিকান ব্যবসায়িক বিনিয়োগ সহায়তা [ এতে ডলার আসবে অন্তত] চান বিশেষত রিনিউএবল এনার্জি, শিপবিল্ডিং, ফার্মাসিউটিক্যাল ও মেডিকেল যন্ত্রপাতি উতপাদনের খাতে! “হাসিনার এই আবেদনের মধ্যে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক আবেদন আছে বলে মনে করছেন কুগেলম্যান! হাসিনা বাংলাদেশের রপ্তানিতে গার্মেন্টেসের ভিত্তি আবার ফিরিয়ে আনতে চান। আমেরিকান বাজার ধরতে চান আগের মত করে ট্যাক্স মুক্ত বা ছাড়দেয়া কিছু ট্যাক্সে রফতানি সুবিধা চান! যেন এটা বড় রপ্তানি খাত হিসাবে আবার উঠে দাঁড়ায়। [আগ্রহিরা বিস্তারিত দেখে নিতে ফরেন পলিসির সাইথ এশিয়া ব্রিফ থেকে।]

    From South Asia Brief:
    “However, Hasina has always strongly backed commercial partnership with Washington, and on Monday she made a strong pitch for greater investment to a visiting delegation of the U.S.-Bangladesh Business Council. Hasina called on U.S. business leaders to help make Bangladesh a “smart nation” by 2041, referring to a developed country driven by innovation and competition. (The year will commemorate 70 years since Bangladesh’s independence.)”
    “Hasina seeks to expand Bangladesh’s export base, and she singled out investment-ready “high-potential sectors,” including renewable energy, shipbuilding, pharmaceuticals, and medical equipment. Such appeals have both economic and political motivations. One of South Asia’s economic success stories, Bangladesh has suffered a slowdown in the past few years, and economists warn that it’s not sustainable to rely so heavily on garment exports.”

    এখানে বলে রাখা ভাল, হাসিনা সরকার বেনজির-আজিজ নিয়ে ঠিক কী করতে চাইছেন, কেন এবং ঠিক কী লক্ষ্যে তা সুনির্দিষ্ট করে আমরা জানি না। আমি কেবল সম্ভাব্য কিছু তথ্য দিলাম এখানে।

    শুধু ডলার সংকটই নয়, আরেক বড় সংকট হল খেলাপী ঋণ সংকট কীভাবে মিটবেঃ
    দুইটা আলাদা ইস্যু – মানে সরকারের ডলার সংকট কোন একশনে মিটে গেলে তাতেও খেলাপি ঋণ সংকট মিটাবে না। কারণ দুটা সংকট আলাদা। সরাসরি ব্যাপারটা ঝেড়ে বলে ফেলতে হবে। খেলাপি ঋণের একমাত্র সমাধান হচ্ছে খেলাপি ঋণ গ্রহিতাকেই ধরে এনে ঋণ আদায় করা। তাঁর যা সম্পত্তি পাওয়া যায় তা আদালতের মাধ্যমে ক্রোক করা – এরপর অর্থঋণ আদালতের কাছ থেকে নির্দেশ ও রায় নিয়ে সম্পত্তি নিলামে তুলে অর্থ আদায় করতে হবে। যারা বিদেশে পাচার করেছে সেসব দেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করে নিয়ে সেসব নিয়োজিত অর্থ দেশে ফিরানোও সম্ভব। একমাত্র এটাই উপযুক্ত পথ।
    যদি এপথে না যাওয়া হয় তবে এর দায় খেলাপী ঋণের অর্থ এই দায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘাড়ে উঠবে। যার অর্থ আরো টাকা ছাপানো যার সোজা মানে আরো মুদ্রাস্ফীতি। যেটা ১৫% ছাড়ায় কোথায় যায় তা অকল্পণীয়। যার পরিণতি হতে পারে গরীব মানুষের খাদ্য কেনার মত সামর্থ বা অর্থ না থাকা, মানে দুর্ভিক্ষ!!! আর ওদিকে অনিয়ন্ত্রিত গণ ক্ষোভ বিক্ষোভ, বিদ্রোহ ইত্যাদির সম্ভাবনা -শ্রীলঙ্কান পরিস্থিতি্র মত ইত্যাদি!!
    কাজেই দুএকটা  আজিজ-বেনজির নয় সবার বিরুদ্ধেই কোনরূপ ফেবার বা ব্যতিক্রম ছাড়াই ব্যবস্থায় নিতে যেতে হবেই। আবার এটা হাসিনার জন্য উভয় সংকট অবশ্যই! যাদের “বঙ্গবন্ধু জিন্দাবাদ” ধ্বনি শুনে হাসিনা ও তাঁর দল আত্মতৃপ্তি নিয়েছেন এরাই তো সেই ঋণ খেলাপী! যতবড় ঋণ খেলাপী তত তার গলায় জোর, উচ্চস্বর!!! কাজেই ঋণ খেলাপীর বিরুদ্ধে একশন মানে এক অর্থে নিজ দলের বিরুদ্ধে হয়ত একশন হবে সেটা!! তাহলে এখন হাসিনা কী এমন একশনে যেতে পারবেন? আমরা কিছুই জানি না। তিনি হয়ত বেছে বেছে আগানোর পথ নিতে পারেন; যেমন বেছে বেছে কিছু লোকের উপরে একশন। কিন্তু এটা একেবারেই ফল দিবে না। কারণ এটা আই-ওয়াশের ইস্যু নয়; মেজর খেলাপী বা পাচারকারিদের অর্থ ফেরত এনে দেখানোর বিষয় এটা। আর এর উপর নির্ভর করছে অর্থনীতি আবার ফিরবে কীনা, কী সে? নাকি এটা মুদ্রাস্ফীতি আকাশ্চুম্বি করবে!!
    অনেক শক্ত হাতে, লম্বা হাতের ডিসিশন লাগবে – হতে হবে এটা!!!

    সব শেষে আলী রিয়াজ প্রসঙ্গঃ
    আলী রিয়াজ আরেক আমেরিকান থিঙ্ক ট্যাংক ফেলো; যিনি স্পষ্ট করতে চান না যে তিনি বাংলাদেশ নয়, বরং আমেরিকান রাষ্ট্রস্বার্থের পক্ষে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন, কথা বলেন। তিনি গত ২৬ মে দেশে এই বেনজির-আজিজ ইস্যুর মুখে কিছু মন্তব্যসুচক বক্তব্য রেখেছেন যেটা প্রথম আলো মতামত-কলামের ঢংয়ে ছেপেছে। পাওয়া যাবে এখানে, আওয়ামী লীগকেই দায় নিতে হবে – এই শিরোনামে।আলী রীয়াজের কথা ঠিকই আছে, এনিয়ে আপত্তির কিছু নাই। কিন্তু তাঁর কথাটা অসম্পুর্ণ। ঘটনার জন্য কী কেবল আওয়ামি লীগই দায়ী? নাকি থিঙ্কট্যাঙ্ক ফেলো আলী রীয়াজ-সহ ২০০৭ সাল থেকে সকল আমেরিকান প্রশাসন ও প্রেসিডেন্ট সকলেই দায়ী?   এর উত্তর না দেওয়াতে বা বিবেচনায় না নেওয়াতে যেন তিনি নিজেকে ও আমেরিকাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন এই লেখা দিয়ে এমন দাড়িয়েছে ব্যাপারটা।
    আলো রীয়াজ যদি বুঝে থাকেন এর দায় আওয়ামী লীগেরই তবে তিনি তো বহু আগে থেকেই জানতেন বা না জানার কোন কারণ নাই যে এর দায় তাঁর এবং আমেরিকান প্রশাসনেরও!
    আবার যেহেতু সেসময় থেকেই তিনি জানতেন তাহলে এনিয়ে কী কিছু লিখেছেন তিনি? জানিয়েছেন তার পাঠককে আজকের মত যে কে  কে দায়ী?
    বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে একটা গভীর গুম,খুন, অপহরণ এর রাষ্ট্র হিসাবে হাজির করা ; সরকারবিরোধী যেকোন ব্যক্তি নাগরিক ও রাজনীতিককে গুম, খুন করা, ভয় দেখানো আর এসবই করা হয়েছে সেই ২০০৭ সাল থেকে; এদের সকলকে কোন প্রমাণ ছাড়াই বাচবিচারহীন এরা সশস্ত্র ইসলামি রাজনীতির লোক অথবা জঙ্গী সন্ত্রাসী বলে ট্যাগ লাগিয়ে দিয়ে। আর হাসিনা যে ২০০৯ সাল থেকে এটাই করবে এই নীতিতে চলবে তাতো আমেরিকা ২০০৮ সালেই হাসিনার স্টেট ডিপার্টমেন্ট সফরের সময় থেকেই জানত। এমনকি হাসিনার ক্ষমতা চর্চার সবঘটনাই তো আমেরিকা প্রশাসন দেখেছে, জানে ও ওয়াকিবহাল থেকেছে কিন্তু মুখে কুলুপ এটে চলেছে। বাংলাদেশের আমেরিকান রাষ্ট্রদুতের আমেরিকার বদলে ২০১৩ সালে ভারতে গিয়ে ব্রিফ নিয়ে আসার কথা কে না জানে? এই ভারত প্রীতির কাফফারা আমেরিকা আজ এড়াবে কী করে?  পরে ঐ ২০১৩ সালের শেষের দিকে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিংয়ের বাংলাদেশ সফর আর এরশাদকে বিরোধি দল বানিয়ে দিয়ে যাওয়া ইত্যাদি করে প্রত্যক্ষ্য ভারতীয় হস্তক্ষেপ এটাক কী তখন আমেরিকার চোখের সামনে ঘটে নাই? এসব সময়ের ঘটনাবলীতে বেনজির-আজিজদের ভুমিকা কী ছিল? এরা কারা ছিল তা কী আমেরিকা প্রশাসন তখন দেখে নাই জানে না? সব আমেরিকান প্রশাসন হাসিনা সরকারের এসব কাজকে – জঙ্গী দমন- বলে কী জায়েজ করে নাই? এসবই কী অর্থহীন ও আত্মঘাতি ইসলামবিরোধীতা, ইসলামবিদ্বেষের ততপরতা আর নয়া ঘৃণা ছড়ানোর ততপরতা ছিল না?  সবচেয়ে বড় কথা এর কোনকিছুই হাসিনা একা করে নাই। সব সময় সে পশ্চিমা অনুমোদন পেয়ে গিয়েছে।  কথিত থিঙ্কট্যাঙ্ক ও আমেরিকান প্রশাসনের এর সবকাজেই প্রকাশ্যে বা গোপনে অনুমোদন ছিল না কী? ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপিকে অংশগ্রহণে প্রলুব্ধ করে টেনে আনা অথচ হাসিনার সাথে তাদের কী গোপন ডিলে আমেরিকান রণে ভঙ্গ ঘটলো? কী কারণে? কেন আমেরিকান রাষ্ট্রদুত অসময়ে ঢাকা ছেড়েছিলেন,  ঐ নির্বাচনের আগে  আচমকা রাষ্ট্রদুত বদল ঘটেছিল কেন?  সেকথা আমেরিকার চেয়ে ভাল কে জানে?
    কাজেই আলী রিয়াজ যেটা বলছেন, আওয়ামী লীগকেই দায় নিতে হবে – সেটা ঠক আছে হয়ত কিন্তু  থিঙ্কট্যাঙ্ক ফেলো গং এবং সব আমেরিকান প্রশাসন এর দায় থেকে দূরে থাকবেন কীভাবে, কেন?

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    [এই লেখা কোন নিউজ নয়, ব্যক্তির নিজস্ব রাজনৈতিক বিশ্লেষণ মাত্র। ফলে পাঠকের এ’লেখা পড়ে কিছুই বহন করা বা মান্য করার বাধ্যবাধকতা নাই। কেবল জানলেন যে এমন একটা মতামত আছে!]

    আপডেটঃ     মে ২০২৪  রাত
    শেষ আপডেটঃ   ০২ জুন মে ২০২৪, সকাল ১০ঃ ৫৭

  • ভারতের নির্বাচনী তামাসা ও আগামি দক্ষিণ এশিয়ার হবু চিত্র!

    ভারতের নির্বাচনী তামাসা ও আগামি দক্ষিণ এশিয়ার হবু চিত্র!
    গৌতম দাস
    ১৭ মে ২০২৪  সন্ধ্যা ০৬ঃ ৫৪
    https://wp.me/p1sCvy-5Cc

     

       “ভারতের নির্বাচন কমিশনের ‘হাঁটু কি এখন দুর্বল’?”  – এটা গত ২০১৯ সালের ভারতের নির্বাচনের সময়ের বিবিসির রিপোর্ট। যা ভারতের নির্বাচনি তামাসা বুঝবার জন্য এখনও গুরুত্বপুর্ণ।

     

    ভারতের নির্বাচনী তামাসা!
    ভারতে এখন নির্বাচন চলছে। মানে সাতপর্বে ১৯ এপ্রিল থেকে ০১ জুন পর্যন্ত সাতটা আলাদা আলাদা দিনে বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মূলত মোট একই সিকিউরিটি ফোর্স বারবার কিন্তু নানান আসনে ব্যবহারের সুবিধা পাবার জন্য এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। নইলে, যেটা একই দিনে সব আসনে নির্বাচন হলে আসন প্রতি ফোর্সের সংখ্যা কমাতে হত, তা এখানে এড়ানো সম্ভব। আজ ১৭ মে ২০২৪;  মানে ইতোমধ্যে ভারতের চার পর্বেই নির্বাচন সম্পন্ন হয়ে গেছে। এখন বাকি আছে ২০ মে, ২৫ মে আর ০১ জুনের নির্বাচন। মানে ০১ জুনেই সাত পর্বের নির্বাচন সম্পন্ন হয়ে যাবে। এরপর দুদিন গ্যাপ দিয়ে ফলাফলের জন্য ৪ জুন সকাল থেকে সব ভোটের বাক্স নানা রাজ্যে একই দিনে একসাথে গণনা শুরু হবে। আর ঐদিনই দুপুর ১২ টার মধ্যে মিডিয়ায় বিশেষত টিভিগুলোতে কে কোথায় আগিয়ে আছে এই ট্রেন্ড [trend] বা অভিমুখ অনুমানের সুযোগ দর্শক-পাবলিকের কাছে এসে যাবে। যদিও সব ভোট গণনায় আরো সময় লাগবে। এরপর ঐদিনেই সন্ধ্যা সাতটার পর থেকে ক্রমশ আরো স্পষ্ট হতে থাকবে; ভোটের ফলাফলের আরো স্পষ্ট  অভিমুখ কোনদিকে। আর ঐদিনই রাত বারোটার মধ্যে অভিমুখ তো বটেই ফলাফলেও একেবারেই স্পষ্ট হয়ে যাবে যে কোন দলের জোট বিজয়ী হতে যাচ্ছে।  এই হলো এবারের ভারতের নির্বাচনি দিন-তারিখ!

    এবারের ভারতের নির্বাচন নিয়ে আমি  এপর্যন্ত এবারের হবু বা ইতোমধ্যেই ঘটে যাওয়া ঘটনাবলী যা আসছে ও ঘটবে এসবের অর্থ তাতপর্য অথবা বিশ্লেষণ নিয়েও কিছুই লিখি নাই। তুলনায় গতবার মানে গত ২০১৯ সালের নির্বাচনের বেলায় সম্ভবত মোট আট / দশটা লেখা দিয়েছিলাম। তাহলে এবার দূরে আছি কেন?
    মূল কারণ, ২০১৯ সালে পুরা নির্বাচনের সময়ের ঘটনাবলীর খুবই কমই মনিটর করতে বাদ রেখেছিলাম। যেমন ভোটের আগের অন্তত তিনটা সার্ভে গ্রুপের সার্ভে সম্পর্কে স্টাডি ও ফলো করেছিলাম। যারা আবার একই সাথে  “বুথ ফেরত ভোটারদের” সাক্ষাতকার নিয়ে সার্ভে রিপোর্ট নিয়েও আমার স্টাডিতে অনেক সময় দিয়েছিলাম। শেষের দিকে ভারতের অনেক মিডিয়ার সাথে আমিও ধারণা দিচ্ছিলাম যে মোদির দল বিজেপি ও তাদের জোট[এনডিএ] সম্ভবত নির্বাচনের হেরে যাবে। কিন্তু না। মোদি-অমিত শাহের হাতে ভোটের বাক্স ম্যানিপুলেশনের [অবৈধ হাত ঢুকিয়ে ফলাফল উলটানো] ব্যবস্থা আছে। এবং তা খুবই সুনির্দিষ্ট করে ফল আনতে পারে এমন বা  যেখানে যতটুকু ফলাফল পালটানো দরকার তা করার ক্ষমতা সম্পন্ন। এদিকটা তখন আমল করা হয় নাই। তাই বিপত্তি। আর এবারও অনেক কিছুই পরিবর্তন হলেও মোদি-অমিত শাহের হাতে ভোটের বাক্স ম্যানিপুলেশনের ব্যবস্থা বহাল ও অটুট আছে বলেই জানি। তাই এবার দূরে থেকেছি লিখা থেকে যদিও, এবারেরও খবরাখবর রাখছি কিন্তু কিছু লিখি নাই।

    গতবারও এমন সব পর্বের নির্বাচনের পরে গণনার দিন শুরুর আগে এমন চারদিনের গ্যাপ ছিল। মনে করা হয় ঐ গ্যাপের দিনগুলোই মোদি-অমিতের চোখে এসব ম্যানিপুলেশনের উপযুক্ত সময় আর তা তখনই করা হয়ে থাকে বলে এপর্যন্ত যতটুকু জানা যায়। যেমন দেখেন, উপরে যে ছবিটা ব্যবহার করেছি সেটা ২০১৯ সালের নির্বাচনে বিবিসির একটা রিপোর্ট থেকে নিয়েছি। যেখানে তখনকার শিরোনাম ছিল কত এগ্রেসিভ বা উদগ্র আক্রমানাত্মক! শিরোনাম লিখেছিল – “ভারতের নির্বাচন কমিশনের ‘হাঁটু কি এখন দুর্বল’!!!
    সেসময়ের অমিত শাহ যিনি এখন কেন্দ্র-সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (তখন তিনি কোন মন্ত্রীই ছিলেন না, কেবল ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক) তিনি তখন এক টিভি লাইভ শোতে এসে বলেছিলেন বিজেপি ৩০০ পার করবে। ভারতে সরকার গড়তে ২৭২+ আসনে বিজয়ী হতে হয়। তো ৩০০ পার মানে হল ৩০০ এর বেশী আসন পাবে। সত্যিই তাই ঘটেছিল। ২০১৯ সালে, একা বিজেপির মোট আসন পেয়ে হয়েছিল ৩০৩।  মোদি সেসময় মানে ঐ টিভি শো এর দিন কাশী (উত্তরপ্রদেশের খুবই গুরুত্বপুর্ণ হিন্দুদের এক তীর্থস্থান মনে করা হয়) থেকে ফিরেছেন। সেখানে নাকি তিনি কয়েকদিনের ধ্যানে বসেছিলেন!!! সেবারের নির্বাচনের শেষদিনের আগেই  মোদি কাশীতে গিয়ে ধ্যানে বসেছিলেন তাঁর হরেক রকমের রংঢঙ আর প্রপাগান্ডার অংশ হিসাবে। তাই সেই শো তে তিনি অমিত শাহের পাশে বসে থাকলেও বেশী কথা বলছিলেন না। তবে অমিত শাহের সেদিনের ঘোষণা ছিল যে তারা ৩০০ আসন পার করবেনই, এটা শোনার পর থেকে আমার মনে গভীরতম সন্দেহ শুরু হয়েছিল যে অমিত শাহের কথাই সম্ভবত সত্য হতে যাচ্ছে! আমি বোকা হয়ে যাচ্ছি!

    আগেই বলেছি অমিত শাহের কথা সত্য হয়েছিল; নিজ দলের আসন ছিল ৩০৩ আর সাথে বিজেপির নিজ জোট [NDA] এর আসন সহ মোট আসন হয়েছিল ৩৫৩। সেবারের মূলত এমন ম্যানুপুলেটেড বা হস্তক্ষেপ করা ফলাফলের কারণেই এবার ভারতের নির্বাচন নিয়ে কোন ধরণের লেখা লিখিই নাই। এড়িয়ে গিয়েছি। আর তাই এবার এটাই প্রথম লেখা। তাহলে আবার কেন ভোট পর্বের মাঝামাঝি সময়ে এখন লিখতে আসলাম?
    সেসব আরেক কাহিনী যা বাংলাদেশেও ছড়িয়েছে। ছড়িয়েছে কারণ এবার এক প্রবল অনুমান হল, মোদি এবার নির্বাচনে নাকি হেরে যাবেন। আর তাতে কংগ্রেসের রাহুল এন্ড গং মানে তাদের জোট ক্ষমতায় আসলে আমেরিকার সাথে তাদের বিশেষ সম্পর্কের সরকার হবে সেটা।  তাই বলাই বাহুল্য এর প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের আয়ুসহ আনাচে কানাচে। সেকারণে এখন বাংলাদেশে যাই ঘটছে বা ঘটবে সেসকল ঘটনার সাথেও এইসব (মোদি হারবেন ধরণের) কল্পিত-অনুমিত ঘটানাবলীর মিল আছে কিনা সেই জল্পনা-কল্পনাও প্রবলে উঠেছে।

    যদিও এমন বহু ঘটনা – গুজব, আধা গুজব, আধা সত্যি  ইত্যাদি সবই কানে আসছে। তবুও ভারতের এবারের নির্বাচন নিয়ে আমার নিজ অবস্থান হল, মোদি-অমিত শাহের হাতে বাক্স ম্যানিপুলেশনের মেকানিজম নাই তা খর্ব বা অকেজো হয়ে গেছে একথা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত  শেষ বিচারে মোদির হারের কোন সম্ভাবনা (অন্তত আমার কাছে) নাই আর তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। যদিও এবার ইতোমধ্যেই এমনকি এখন ভারতের ইন্টেলিজেন্স প্রতিষ্ঠান -র- বলতে সেটা,  ‘মোদির র’ আর ‘কংগ্রেসি র’ বলেও ভাগের কথা উঠে গেছে, এমনটা সত্বেও!

    এমনিতে রাহুলের কংগ্রেস বা তাদের জোটের [I N D I A] পক্ষে বাইডেন প্রশাসন এবার দাঁড়িয়েছিল বেশ আগেই।  আর তাতেই  মোদিকে বিপুল অর্থদাতা ও তাঁর অবাধে খরচে উৎস যে আদানি গ্রুপ; আর এর বিরুদ্ধে বাইডেন প্রশাসনের লেগে পড়াতেই তাতে এই গ্রুপের শেয়ারে ধ্বস নামিয়ে দিয়েছিল, বলে মনে করা হয়। ওপেন সোসাইটি খ্যাত বা হেজ ফান্ড ব্যবসায়ী জর্জ সোরেস নিজেই [একালে বিভিন্ন দেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে আমেরিকান হস্তক্ষেপের ধারা বজায় রাখতে যে অর্থের প্রয়োজন হয় তা যোগাতে আমেরিকা প্রশাসন আগের তুলনায় দুর্বল হয়ে গেছে; তাই সেই অভাব পূরণে অর্থের চালান যোগাতে এখন সবচেয়ে বড় যোগান দাতা হয়েছে এই ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশন নামের থিঙ্কট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠান। পুরানা সোভিয়েত রাষ্ট্র ভেঙ্গে গেলে তা যে ১৫ রাষ্ট্র হয়েছিল এমন সব রাষ্ট্রেই আমেরিকান (এনজিও) হস্তক্ষেপ এর উসিলায় অর্থ ঢেলেছে এই প্রতিষ্ঠান। এটাকে তারা অরেঞ্জ রেভেলিউশন বলে ডেকে থাকে। ]
    বাইডেনের হয়ে ভারতে  আদানির বিরুদ্ধে দাড়িয়েছিলেন জর্জ সোরেস; এক পাবলিক বক্তৃতা দিয়ে তিনি নিজে আদানির বিরুদ্ধে মার্কেট তাতিয়ে  ছিলেন। কিন্তু এতকিছু করে বাইডেন প্রশাসন আগিয়েও মাঝে হঠাত কংগ্রেসী রাহুলদের সব ততপরতায় ভাটা দেখতে পাই আমরা। রাহুলের জোটও অসংলগ্ন বা আভ্যন্তরীণ দ্বিধায় শ্লথ হতেই দেখেছিলাম। কিন্তু এবার ডোনাল্ড লু এর সফর [তিনি এমাসে বাংলাদেশে আসার আগে ভারত পরে শ্রীলঙ্কা সফর করে এসেছিলেন।] যেটা  বাইডেন প্রশাসনেরও ভাটা বা শেষ সময়ে সফর এটা; এবার তাঁর রুট ছিল ইন্ডিয়া-শ্রীলংকা হয়ে বাংলাদেশ।  আর লু এর এবারের ভারত সফরের পরে আমরা দেখি যে ‘ইন্ডিয়া’ জোটে সরব বা চাঞ্চল্য শুরু হয়েছে। ওদিকে ভোট প্রদান চতুর্থ পর্বে এসে অবজারভেশন বলছে, ভোটপ্রদানের হার নিম্নমুখি। আর ভারতের ভোট বিশ্লেষকেরা একমত যে  মোট ভোটপ্রদানের নিম্নহার (%) মানে তা মোদির ভোট  কম  হবার লক্ষণ।  আবার ওদিকে ইরানের সাথে মিলে চাবাহার [Chābahār ] সমুদ্র বন্দর চালু ও ব্যবহারের ততপরতা শুরু করেছে ভারত বহুদিন এই প্রকল্প পরিত্যক্ত থাকার পরে। যদিও আবার ততপর হওয়াতে বাইডেন প্রশাসন ভারতকে থ্রেট করেছে, নিষেধাজ্ঞা বা ব্যবস্থা নিবার হুমকি দিয়েছে।
    ইত্যাদি এসব কিছু নতুন সব ঘটনাবলীতে মুল ঘটনা হয়ে উঠে আসছে বাইডেন প্রশাসন ও কংগ্রেসের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা অনেকদূর আগিয়ে গিয়েছে। আর তা থেকেই নিট ফলাফল হল, মোদির এবার হেরে যাওয়ার আলাপ, সম্ভাবনা বা গুজব উঠে আসছে তা বলা যায়। এককথায় বললে, বাইডেন প্রশাসনের কাছে, চলতি নির্বাচনে এক প্রো -আমেরিকান নয়া সরকার দেখতে চাওয়া হল তাদের প্রায়োরিটি। এই আকাঙ্খাটা খুব একটা কোথাও লুকানো ঠিক তা নয়। বরং কোথাও কোথাও এনিয়ে গভীর সব পরবর্তি পরিকল্পনা করতে বসে গেছে সংশ্লিষ্ট অনেকেই।  এমনকি তাতে কথিতভাবে মোদি আর অমিত শাহের মধ্যে গভীর দ্বন্দ্বের কথাও আবিস্কার করে রেখেছে অনেকে। অথচ এরা জানেনা মোদি-অমিত এরা দুজন ‘হরি আর হর এর মত’ হরিহরাত্মা!
    আর এই মিলিত-আত্মার জন্ম হয়েছিল ২০০২ সালে গুজরাত কিলিং  বা মুসলমান নিধনের কালে যখন গুজরাটি মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন মোদি আর তাঁর ডানহাত ছিল এই অমিত শাহ, যিনি ছিলেন আবার ঐ মোদির রাজ্য সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী! এই যুগল একসাথে আরএসএস-কে হাত করে, প্রভাবিত করে বিজেপি থেকে – লাল কৃষ্ণ আদভানি এবং অন্য দু’জন নেতা মুরলী মনোহর যোশি ও উমা ভারতী (এরা তিনজন হলেন আদালতের খাতায় বাবরি মসজিদ ভাঙার মূল আসামি) সহ অন্যান্য সব বুড়াদেরকে বয়সের অজুহাত তুলে দলের সব কমিটি থেকে বিদায় করে দিয়েছিল!  এরপর গত দশবছর ভারতের ক্ষমতায় থেকে তারা যা যা করেছে তা কেবলমাত্র এদুই জনের আজীবনের প্লান ও খায়েস বলে মনে করা হয়। এদের মাঝে আর কেউ নাই। তবে লিডার কেবল মোদিই। কাজেই যারা মোদি- অমিতের বিচ্ছেদ বা দ্বন্দ্বের কথার গল্প ছড়াচ্ছেন এই বিচারে তারা তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে এখনও শিশু!
    এছাড়াও, সবকথার শেখ কথা হল, মোদি-অমিতের হাতে যতক্ষণ ভোটবাক্স ম্যানিপুলেশনের সক্ষমতা আছে ততক্ষণ সব জল্পনা-কল্পনা অনুমান লু-তত্ব সবই ভুয়া আর অকেজো বলে হাজির হবেই বলে আমার ধারণা। মোদি আবার বিজয়ী হবেনই, সম্ভবত এভাবেই। এপ্রসঙ্গ আরেকটু কথায় শের দিকে আবার আসব। এর আগে উপরের কথা শেষ করে নেই।

     

    সফটওয়ার ভিত্তিক বাক্স ম্যানিপুলেশনঃ
    ততদিনে কানে আসছিল অন্য আরেক দিকের তথ্য, (দেশি-বিদেশি) ইন্টেলিজেন্স ইনফরমেশন যে মোদি ভোটের বাক্স বা ইভিএম বাক্স ম্যানিপুলেট (বাইরে থেকে প্রোগ্রামিং ব্যবহার করে ফল গণনা শুরুর আগেই হবু ফলাফল উলটে রাখা) করার সফটওয়ার সংগ্রহ করেছেন। অনুমান করা হয়ে থাকে এটা জুয়ারি শহর ম্যাকাও [Macao] আর- উত্তরকোরিয়া ভিত্তিক সফটওয়ার গ্রুপ যারা সাহায্য করছে বা করে চলেছে। অনেকে এমনকি এটাও মনে করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ হ্যাকিংয়েও এই গ্রুপের কেউ কেউ টেকনিক্যাল কাজ ও দিকে এসব অর্থে ও সুত্রে জড়িত ছিল। তবে সবচেয়ে ভয়ংকর দিকটা হল, এদিকটা নিয়ে মানে ভারতের নির্বাচনে ভোটের বাক্সের স্বচ্ছতা রাখা নিয়ে যত আবেদন  বা দাবি এপর্যন্ত তোলা হয়েছে এর সবই হয় ভারতের নির্বাচন কমিশন নিজে বা সুপ্রীম কোর্ট – এরা সেসব নাকচ করে ফেলে রেখেছে। কখনও সুপ্রীম কোর্ট বলেছে এটা কমিশনের কাজের উপর হস্তক্ষেপ হবে তাই তারা কিছু করবে না; আবার কখনও  (নির্বাচন) কমিশনের  কাছে মামলা ফেরত পাঠিয়ে হাত ধুয়ে ফেলেছে। আর নির্বাচন কমিশন বেশির ভাগ সময় যেকোন পাবলিকের আবেদনের ক্ষেত্রে জবাবই দেয় নাই বা নাকচ করে ফেলে রেখেছে। এনিয়ে আমার অন্তত তিনটা পুরানা লেখায় এসব নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছি। বেশিরভাগ সময় ফেরত পাঠানোর যুক্তিতে বলা হয়েছে যে এতে নির্বাচন ব্যবস্থা ফলাফল দিতে দেরি করবে বা ম্যানুয়াল ভোটের মত হয়ে যাবে তাই এতে হাত দেয়া যাবে না। অর্থাৎ যেন স্বচ্ছ নির্বাচন করা এটা প্রধান বিবেচনা নয়; এর বদলে অস্বচ্ছ ও কারচুপির সুযোগ রেখে দেওয়া আর এভাবেই তাড়াতাড়ি ফল আসার নির্বাচনী ব্যবস্থা গড়ে তোলাটাই আদালত ও কমিশনের কাছে লক্ষ্য!
    মজার কথা হল, এই অবস্থা সত্বেও কয়েকমাস আগে ভারতের প্রধান বিচারপতি বাংলাদেশে এসেছিলেন আমাদেরকে সবক শিখাতে যে ভারতের বা কোন দেশের নির্বাচন ব্যবস্থায়  সুপ্রীম কোর্ট আর নির্বাচন কমিশনের ভুমিকা কতই না মহান ও পবিত্র! আগ্রহিরা দেখতে পারেন এনিয়ে আমার পুরানা লেখা।

    যেটা অনুমান করা যায় সারকথায়,  মোদির তৈরি এটা একটা বিরাট র‍্যাকেট; অর্থ ও নানান ব্যক্তিগত সুবিধার আয়োজন ঘটিয়ে এই সিস্টেমটা দাঁড় করানো হয়েছে মোদি আর অমিত শাহের জুটিতে।  এবং ততই খোলাখুলি তাদের কাজের ধরণ। যেমন ২০১৯ সালের নির্বাচনে আইনভঙ্গের জন্য অনেক প্রার্থীকে সতর্ক করে ফাইন বা শাস্তি দিয়েছিল কমিশন। কিন্তু মোদির নামে বহু অভিযোগ জমা পড়লেও বা স্থানীয় নির্বাচনী কমিশন কর্তারা একশনের অনুমতি চাইলেও কমিশনারেরা তাতে অনুমতি দেয় নাই। অর্থাৎ প্রার্থী মোদি বিরুদ্ধে নির্বাচনি আইন ভঙ্গের সব অভিযোগই ব্যবস্থাহীন পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে থেকেছিল সেবার।  ভারতের নির্বাচন কমিশন প্রধান-সহ তিন সদস্য বিশিষ্ট। এটা সব সময় তাদের দুই-এক ভোটে এমন সিদ্ধান্ত দিয়েছিল সেসময়। আর তৃতীয় সদস্য অশোক লাভাসা, তাঁর আপত্তি ভোট সবসময় সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখিয়ে উপেক্ষা করা হয়েছে। সেই নির্বাচন শেষে কয়েক বছরের মধ্যে শেষে অশোক লাভাসাকে কমিশন ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। আপোষ করে তিনি এখন ম্যানিলায় বিশ্বব্যাংক সমতুল্য এডিবি-তে ভারত সরকারের প্রতিনিধি হয়ে লটকে আছেন। মানে নির্বাচন কমিশন থেকে তাঁকে বের করে দেয়া হয়েছে কায়দা করে।
    এমনকি এখনকার যে নির্বাচন কমিশন তা এবারের নির্বাচনী তারিখ ঘোষণার আগের সপ্তাহেও হয়ে পড়েছিল, এক সদস্য বিশিষ্ট; মানে কেবল প্রধান কমিশনার বিশিষ্ট। কারণ, আভ্যন্তরীণ আয়োজনে মোদি বাকি দুজনের পদত্যাগ করায়ছেন যাতে মোদি নয়া দুজন নতুন পছন্দের কমিশনার নিতে পারেন। তাই-ই হয়েছিল। আর এরপর তিন-সদস্য বিশিষ্ট হয়েই দুদিন পরে ঐ কমিশন এবারের নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা করেছিল। আমাদের দুদকের মত তথাকথিত এমন নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান মোদির হাতে অনেকগুলো। যেমন সিবিআই [Central Bureau of Investigation], ইডি[Enforcement Directorate] ,  এনআইএ [National Investigation Agency], আইবি [Intelligence Bureau (India]; এছাড়া আয়কর বিভাগ আছে। আর এর বাইরে যে আর কত এমন প্রতিষ্ঠান আছে অগুনতি। কিন্তু সারকথা হল, বিভিন্ন রাজ্যের বিরোধীদলের বিরুদ্ধে মোদি্র এদের লাগিয়ে দেয়া, হয়রানি করা, বিজেপির সাথে আপোষে আসতে বাধ্য করাই এদের মুল লক্ষ্য হয়ে আছে মোদির ইচ্ছায়। এসবই মূলত পলিটিক্যাল স্বার্থে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অপব্যবহার।
    আর এর বাইরে গত পাঁচ বছরে ধরে চলেছে মোদির আরেক মারাত্মক ব্যবস্থা। এর আনুষ্ঠানিক নাম ইলেকটোরাল বন্ড [electoral bonds] স্কিম। সরকারী ব্যাংক স্টেট ব্যাংক [SBI] থেকে এটা কেবল যেন বিজেপি-কে চাঁদা আদায়ের এ’এক আজিব ব্যবস্থা। এই ব্যাংক আসলে বড় ব্যবসায়ীদেরকে এই বন্ড বিক্রি করে থাকে; কিন্তু কে কিনল সে পরিচয় পাবলিকলি দেখায় না। আর বিজেপি সরকার উপরে যে দুদক সমতুল্য প্রতিষ্ঠানের কিছু নাম দেখালাম, এদেরকে দিয়ে হয়রানির ভয় দেখিয়ে ঐ ব্যাংকে চাঁদা জমা করে আসতে মানে বন্ড কিনতে বাধ্য করে থাকে। এখাতে এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুসারে প্রায় একমাত্র সুবিধাভোগী হল বিজেপি। আর মোট এমন বন্ডের পরিমাণ ১২ হাজার কোটি রুপীরও বেশী। গত ২০১৯ সালের নির্বাচনের আগে থেকে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। এটা পাঁচ বছর লুটপাট করতে দিবার পরে এবার নির্বাচনের আগে সুপ্রীম কোর্ট বীর হয়ে উঠেছিল। তারা ওসব চাঁদাদাতা সবার নামের তালিকা চলতি নির্বাচনের কয়েকদিন আগেই একদিনের মধ্যে  প্রকাশ করতে “স্টেট ব্যাংক-কে পালনীয় বাধ্যতামূলক” বলে নোটিফাই করেছিল। আর তাতেই সব নাম বের হয়ে আসে। অথচ পাঁচ বছর আগেই একাজ তারা করতে পারত।
    সবচেয়ে বড় কথা উপরে যেসব ইনভেস্টিগেশন প্রতিষ্ঠানের অল্পকিছু তালিকা দিয়েছি সেগুলো অপব্যবহার করেই বিজেপি সব বিরোধীদল আর ব্যবসায়ীদেরকে সাইজ করে গেছে যাচ্ছে। অথচ না সুপ্রীম কোর্ট বা নির্বাচন কমিশন এদিকে তাকায়-ই নাই। এটাই মূলত মোদির নামে এখন ফ্যাসিজমের অভিযোগ তুলেঅনেককে আগিয়ে আসতে দেখছি। কিন্তু এমন অভিযোগ তোলার ক্ষমতা এখনও যেন তাদের দেশের বাইরে – বাইডেন প্রশাসনের হাতে! এমনই দুর্দশা!

    আর এমন মোদি-ব্যবস্থার মধ্যেই আবার এবারের নির্বাচন হচ্ছে! আর কোর্ট বা কমিশন এব্যাপারে নির্বিকার! দেখেন এটা কমবেশি এখন সবাই জানে যে সরাসরি মুসলমানবিদ্বেষ করে ঘৃণা জাগিয়ে মোদি ভোটের প্রপাগান্ডা পরিচালনা চালিয়ে যাচ্ছে! অথচ এটা ঠেকানোই ছিল কোর্ট এবং কমিশন   এর মুখ্য দায়ীত্ব! কিন্তু এরা নির্বিকার! এটাই প্রমান করে ভারত কোন চুলায় মাথা লুকায়েছে! অথচ সমাজ অসহায়! এমনকি মোদিকে ফ্যাসিবাদ বলতেও যেন সাহস করছে না!

    এখন দুইটা শেষ কথাঃ
    অনেকাংশেই কথাগুলো বলব ভারত-ইরানের চাবাহার পোর্ট কে কেন্দ্র করে। সম্প্রতি ইরান-ভারত চুক্তি হয়েছে। আর তাতে পোর্ট পরিচালনা ভারতকে দেয়া হয়েছে। আর তাতেই আমেরিকা ভারতকে কড়া স্যাংশনের হুশিয়ারি দিয়েছে।

    ১। এই নির্বাচনে মোদি ফিরে জিতুক কিংবা বিরোধি কোয়ালিশন জিতুক – একটা মূল কথা হল, ভারত ক্রমশ আমেরিকা থেকে দূরে যেতে থাকবে।  মানে ততই ভারত একেবারে চীনের কোলে উঠে না গেলেও অন্তত নিউট্রাল বা একধরণের গভীর ব্যবসায়িক সম্পর্ক করতে অনেক ধাপ আগিয়ে যাবে। এককথায় বললে, চীন-ভারত উভয়ের স্ট্রাটেজিক স্বার্থ বিষয়ক দুরত্বটা ফিকে হতে থাকবে। আর ব্যবসায়িক স্বার্থ ততই ওর জায়গা নিবে।
    বাংলাদেশের গত কথিত নির্বাচনের কয়েকদিন আগে আমি লিখেছিলাম আমেরিকা আমাদেরকে রাস্তায় ফেলে চলে গেলে তা এশিয়া থেকেই আমেরিকার বিদায়ের সুত্রপাত ঘটবে। এখানে সেই কথাটাই বলছি তবে আরেক ভাবে আরেক দিক থেকে। এবার মোদি ক্ষমতায় নিজেকে বিজয়ী দাবি করে টিকে গেলে ইন্ডিয়া-আমেরিকার সম্পর্কের পতন ও পারস্পরিক দুরত্ব ঘটবে খুবই দ্রুত। আর যদি কংগ্রেস এন্ড গং জিততে পারে তবে সাময়িক এই নয়া সরকার আমেরিকা-ঘনিষ্ট বলে নিজেদের দেখানো শুরু করবে। কিন্তু সেটা হবে সাময়িক ক্ষীণ আয়ুর এক ঘটনা। মানে জমবে না। অচিরেই একেবারে সাধারণ ব্যাবসায়িক স্বার্থের বিরোধ বাধা হবে।
    যেমন ধরা যাক, ভারত-ইরানের চাবাহার পোট [Chabahar Port ]। এটা এদুই দেশের জন্যই গুরুত্বপুর্ণ , তবু ভারতের জন্য বেশী।  পাকিস্তানের গোয়াদর গভীর সমুদ্র বন্দর ভারত পুরানা ক্যাচালের কারণে ব্যবহার করতে পারবে না। এর মানে হল, সেন্ট্রাল এশিয়া বা আফগানিস্তানে (ল্যান্ডলক দেশ) পণ্য পাঠাতে অসুবিধায় পড়তে হবে। অথচ ঐ রুটে শুধু গোয়াদরের সুবিধা না। আর গোয়াদর ব্যবহার করতে পারলে এরপর ওদিকে চীনের বেল্ট-রোধ ধরে একদিকে একেবারে ইউরোপ পর্যন্ত ট্রেন বা সড়ক পথে পরিবহনের যে সুবিধা; অন্যদিকে ইরান থেকে পুবে সেন্ট্রাল এশিয়া আফগানিস্থান যে সড়ক ও রেল সুবিধা তৈরি হয়েছে তা থেকে ভারত বঞ্চিত হয়ে আছে।  এসব কিছুরই অন্তত এক ছোট বিকল্প হলেও চাবাহার ভারতের জন্য এক ভাল বিকল্প ও বাস্তবতা।
    কিন্তু আমেরিকা ইরানের সাথে কোন সম্পর্কই রাখা যাবে না কেউ রাখলে তার উপর স্যাংশন দেয়া হবে – এই হুশিয়ারিই আমেরিকার এশিয়া থেকে বিদায় হয়ে যাবার পথেই তাকে কয়েক ধাপ ঠেলে দিবে। কারণ, ভারতে মোদি অথবা রাহুল যাদের সরকারই আসুক কারোই চাবাহারের পক্ষে না থাকার বিকল্প নাই। কারণ, এটা ভারতের জন্য বিরাট এক বাণিজ্যিক সুযোগ। কাজেই আমেরিকা বিরোধিতার পথেই ভারতকে যেতে হবে।

    আবার সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ  আরেকদিকের কথা বলিঃ
    ইরানের ভারতকে দেয়া এই অফার – এবিষয়ে আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি এতে চীনের সম্মতি আছে। আর আছে বলেই ইরান সহজেই এতদুর আগিয়ে পোর্ট পরিচালনার ভার ভারতকে দিয়ে দিয়েছে। যেখানে আমেরিকান সুবিধা খেতে ট্রাম্পের আমলে ভারত ইরানের হাত ছেড়ে পালিয়েছিল। সেসময় ইরান তেল ভারতে পৌছে দিতে চেয়েছিল তাও ভারত ইরানের তেল কিনতে রাজি হয় নাই। বরং রাজি না হয়ে এই সিদ্ধান্তকে বিক্রি করে আমেরিকার থেকে সুবিধা নিয়েছিল। সেই থেকে চাবাহার প্রায় পরিত্যক্ত হয়ে গেছিল। কিন্তু প্রতিশোধ ভুলে এখন ইরানের আবার আগানো এটা চীনের আগ্রহ ও প্ররোচনাতেই বলে অনুমেয়। চীনের ক্যালকুলেশন পাকা যে ইরান এই সুবিধা দিলেই ভারতের আমেরিকার বিরোধিতা বাস্তবতা হয়ে উঠবে।  আর সেটা দেখতেই ইরানকে দিয়ে এই অফার। বাণিজ্যিক দিক থেকে এতে ইরানেরও তো ক্ষতি নাই।
    আবার এ’ঘটানার মাধ্যমে চীন ভারতের কাছে ম্যাসেজ দিয়েছে যে ভারতেরও বাণিজ্য সুবিধা কার্টেল / ছেটে ছোট করা চীনের নীতি নয়, তাতে চীন-ভারত যতই বিরোধ থাকুক। আসলে চীন ভারতকে বলতে চায় ভারতও গোয়াদর ডিপ পোর্ট হয়ে বেল্ট-রোড ধরে সেন্ট্রাল এশিয়া বা আফগানিস্থানে বা অন্যদিকে, ইউরোপ পর্যন্ত চীনা বেল্ট-রোডের রেল ও সড়ক ফেসিলিটিজও ব্যবহার করতে পারে। চীন এনিয়ে বাধা তৈরির বদলে পজিটিভলি আহবান জানাচ্ছে। ভারতের অর্থনীতি বিকাশে চীনের ক্ষতি নাই, লাভ আছে। এছাড়া সবচেয়ে বড় লাভ দক্ষিণ এশিয়া থেকে আমেরিকাকে আউট করা হবে তাতে। কারণ, আমেরিকা ভারতে পা রাখতে সুযোগ পায় বলেই বার্মা, বাংলাদেশের মত দেশে যা খুশি করার চেষ্টা করে থাকে।
    এখন মোদি ক্ষমতায় ফিরলে আমেরিকা-ভারতের সম্পর্কের ইতি দ্রুত ঘটবে। আর আমেরিকা ভারতের উপর স্যাংশন দিলে তাতে ভারতও দ্বন্দ্ব ভুলে বাধ্য হয়ে ডলার ফেলে ইউয়ানে বাণিজ্য শুরু করে দিবে।  আবার যদি কংগ্রেস কোয়ালিশন ক্ষমতায় আসে তাহলেও এটাই ঘটবে। হয়ত শুরুর এক বড় জোর দুই বছর একটু আমেরিকান-ভারত (কংগ্রেস) ঘষাঘষি জারি থাকবে। আর ক্রমশ সেটা ভারতের বাণিজ্য স্বার্থেই হবু কংগ্রেস সরকারও একই পথ ধরবে। খুব সম্ভবত সেক্ষেত্রে মোদির চেয়ে দ্রুতই কংগ্রেস চীনের কোলে গিয়ে উঠার সুযোগ নিতে চাইবে।

    ২। মোদি যদি ক্ষমতায় ফিরতে পারেনঃ
    সেক্ষেত্রে এটা চরম দানব এক মোদি হবে। বিরোধী বলে কারো অস্তিত্ব নিয়ে টিকাই মুশকিল হয়ে যাবে। ইতোমধ্যেই কানাঘুষা তিনি ভারতের কনষ্টিটিউশনেও হাত দিবেন।  এই ধারা যতই তীব্র হবে হিন্দুত্ববাদী – এই উগ্র জাতিবাদি মোদির ভারত ততই পরিণতিতে বিচ্ছিন্নতা বাদের মুখোমুখি হবে। আর তা ঘটে গেলে ভারত মেজর তিন টুকরা হবে। মোদি এখন ক্ষমতায় টিকে আছে ভারতরাষ্ট্র গঠনগত দিক থেকে এক সেন্ট্রালাইজড কুক্ষিগত ক্ষমতার আর এর উপর আবার উগ্র হিন্দু-জাতিবাদি রাষ্ট্র বলে। আবার এটাই আবার মোদির আগামিতে ক্ষমতায় উত্থান ঘটলে এই গঠন বৈশিষ্টই মোদির ভারতকে ভাঙ্গনের দিকে নিয়ে যাবে দ্রুত!

    সব মিলিয়ে ভারতের প্রতিটা পরিবর্তনের ধাক্কা চাপ (এমনকি শরণার্থীর) বাংলাদেশে এসে আছড়ে পড়তে পারে সেক্ষেত্রে! বাকি যা কিছু পাঠক আন্দাজ করে নিয়েন। এই হল, আগামি দিনের দক্ষিণ এশিয়ার কিছু বিচ্ছিন্ন চিত্র!

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    [এই লেখা কোন নিউজ নয়, ব্যক্তির নিজস্ব রাজনৈতিক বিশ্লেষণ মাত্র। ফলে পাঠকের এ’লেখা পড়ে কিছুই বহন করা বা মান্য করার বাধ্যবাধকতা নাই। কেবল জানলেন যে এমন একটা মতামত আছে!]

    আপডেটঃ    ১৭ মে ২০২৪  সন্ধ্যা ০৭ঃ ১৮
    শেষ আপডেটঃ   ২৪ মে ২০২৪  বিকাল ০৩ঃ ৫৫

  • হাসিনা কী আদৌ চীন সফরে যেতে পারবেন?

    হাসিনা কী আদৌ চীন সফরে যেতে পারবেন?
    গৌতম দাস
    ১০ মে ২০২৪  সন্ধ্যা ১৮ঃ ৫৩
    https://wp.me/p1sCvy-5zZ

     

    আমেরিকা আর ভারত দুই সরকারই ক্ষেপে উঠেছে। এরই মধ্যে ডেইলি স্টারকে দিয়ে বা ডেইলি স্টার একটা রিপোর্ট ছেপেছে যেটাকে “গাছে কাঁঠাল গোফে তেল” – রিপোর্ট বলতে পারে কেউ। মানে এটা একটা হবু বা WOULD BE – রিপোর্ট। যেমন আমি আজ দেশের রাজা হলে কী হত – এধরণের রিপোর্ট। গত ৮মে ২০২৪ এর এই রিপোর্টের শিরোনাম “Beyond Dollar: Bangladesh to seek over 36b yuan in Chinese loans” । শিরোনামের শুরুর দুই শব্দ [Beyond Dollar] বোকামির নিদর্শন। এখানে ধরে নেয়া হয়েছে যে চীনের কাছে হাসিনা ডলার ছাড়িয়ে মানে ডলারে নয় ইউয়ানে ঋণ চাওয়ার কথা ভাবছে। আর এখানে ডলার না চাওয়াটা খারাপ বা নেতি দিক। এমন মন্তব্য জুড়ে দিয়ে বা ইঙ্গিত দিয়ে এমন শিরোনাম দেওয়ার দরকারটা কী?  এটা কী ডেইলিস্তার বুঝাতে চায় যে তারা মূলত ইন্ডিয়ার পোঁ-ধরা মিডিয়া ও এমন ফান্ডে চলা মিডিয়া হলেও সরকারের হয়ে এই রিপোর্টটা করছে বলে যেন কেউ এটা তার “সুনামের” বিরুদ্ধ কিছু বলে না মনে করে? এরকম?
    এখানে দুইটা কথা। এক. এটা সোর্স উল্লেখ করে একটা রিপোর্ট মানে সোর্সের মা-বাপ হীন। তার উপর এটা এখনও হয় নাই হতে পারে ধরণের রিপোর্ট। চীনা ইউয়ানে নগদে পাঁচ বিলিয়ন ডলার সমতুল্য অর্থ আদৌ চীন দিতে রাজি হয়েছে কীনা তা আমরা নিশ্চিত না, স্পষ্টও না।  রিপোর্টটা তা দাবি করেও বলতে পারে নাই। বরং এনিয়ে “হবু কথা ও নিগোশিয়েশনে” বাংলাদেশ কী বলবে তা নিয়েই এই (সোর্স ছাড়া) রিপোর্ট। এমনকি যেখানে চুক্তি করতে বসলেও শেষে চুক্তি নাও হতে পারে।  এই সোর্স হীন রিপোর্টই লিখেছে, Chinese minister said his government in principle agreed to it and asked Ahasanul to proceed. মানে চীনা মন্ত্রী নাকি ঋণদানের প্রস্তাব নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন। কিন্তু একথা আমাদের যে মন্ত্রীর নামে লেখা হচ্ছে তা আমাদের মন্ত্রী পাবলিকলি বলেন নাই – কয়েকজন সাংবাদিকের সামলে বা সাংবাদিক সম্মেলনেও বলেন নাই। ফলে বিশ্বাসযোগ্যতা কম। মানে মন্ত্রী অস্বীকার করলে কিছুই করার নাই।
    কথা দুইঃ বাংলাদেশের রিজার্ভ যে তলানিতে ফলে সংকটে তাতে এটা ইউয়ান না ডলার মুদ্রা তা বাছার অবস্থায় সে নাই। যে ভিক্ষা নিতে বের হয় সেই ভিখারির কাছে চালটা অনেক জরুরি; সেটা ময়মন্সিঙ্ঘ না চট্টগ্রামের চাল তাতে কিছু যায় আসে না। তাইলে ডেইলিস্টারের কাছে ইউয়ান আমাদের সরকারের “ডলার ছাড়াইন্না” চাওয়া কিনা একথা মনে করিয়ে দেয়া কেন? এত ডলার ভক্ত রিপোর্টার তাহলে দেখাক,  নগদ পাঁচ বিলিয়ন ডলার কোন দেশ দিতে সক্ষমতা রাখে? বাজারে ডালের দাম যদি চড়া হয় তবে ভাতের প্লেটে ছোট গর্ত করে এরপর ডাল নিতে হয়। তাই না?
    এখন মুল প্রসঙ্গে ফিরব; এর আগে আমার ব্যক্তিগত অনুমান হল, চীন নগদ ইউয়ানে পাঁচ বিলিয়ন ডলার সমতুল্য অর্থ বাজেট সহায়তা দিতে (নীতিগতভাবেও) রাজী হয়েছে এটা এখনও বিশ্বাস-আস্থায় নিবার মত সংবাদ হয়ই নাই। বরং আগামিতে এর সত্য হবার সম্ভাবনা খুবই কম! চীনের হাত ছেড়ে আবার এখন তার কোলে উঠে বসতে চাইলেই তা ঘটার সম্ভাবনা তো প্রায় নাই-ই হবে!

    এসব সত্বেও ডেইলিস্টারের উড বি রিপোর্টের আগে ও পরে দেখা যাচ্ছে, আমেরিকা আর ভারত দুই সরকারই ক্ষেপে উঠেছে। ভারতের সচিব কোয়েত্রা আর আমেরিকার সহকারিমন্ত্রী ডোনাল্ড ল্যু এদের ঢাকা সফর হাসিনার কথিত চীন সফরকে কেন্দ্র করেই বলে অনুমান হয়। পুরান কথাটা হল, ২০২৩ এর কথিত নির্বাচনের আগে এদুই দেশ একসাথ হয়েছিল; হাসিনাকে অবাধে নির্বাচনি প্রহসন করতে দিয়েছিল। নির্বাচনে যাই হোক, হাসিনা নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করেছিল আর এই দেশদুটো তা আয়েশ করে তা দেখে মজা নিয়েছিল। এদের উদ্দেশ্য একটাই যে, কথিত নির্বাচনের পরে – হাসিনার সাথে চীনের কোন সম্পর্ক, ঋণ, প্রভাব কিছুই থাকবে না; তা বাস্তবায়নের কাজে এদুই শক্তি নেমে পড়েছিল।

    আর হাসিনার জীবনের সবচেয়ে বড় নিজেরই পায়ে কুড়াল মারা কাজটা তিনি করে ফেলেছিলেন তখনই। তিনি সেই টোপ খেয়েছিলেন।  এখন তিন মাস যেতেই সেসব বেড়িয়ে আসছে। হাসিনা এখন হাহাকার করছেন চীন, চীন করে! তিনি নাকি চীন সফরে যাচ্ছেন, অথচ কোনপক্ষের  সরকারী ভাষ্যে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু দেখি নাই। কেবল ভারত বলছে তাই বাংলাদেশে  আমরা জেনেছি, আর জপ করতে দেখছি। ভারত কায়দা করে নিজেদের গুরুত্ব জাহির করতে আমাদের জানিয়েছে  এভাবে যে “চীন সফরে যাবার আগে” হাসিনা ভারতে যাচ্ছেন। তো সেটা “চীন সফরে যাবার আগে” কিনা সেটা কী ভারতের বলার কথা? এর এক্তিয়ারই বা কী? এছাড়া অনেকটা যেন ব্রিফ করতে ও অনুমতি নিতে যাচ্ছেন হাসিনা এমনভাবে কথা ছড়ানো হচ্ছে যে কোন সীমার মধ্যে হাসিনাকে চীনের সাথে কথা বলতে / থাকতে হবে? এছাড়াও হাসিনা যে চীন যাচ্ছেনই তা ভারতকে কে নিশ্চিত করল? কেউ জানে না। এমনকি চীনও কী আশা করছে যে এক্সপেকটেড বা আগ্রহি যে তারা হাসিনাকে অতিথি হিসাবে দেখতে চাচ্ছেন? তাও সরকারিভাবে চীনও তা এখনও নিশ্চিত করে নাই। সম্ভাব্য আলোচনার ইস্যু কী হতে পারে তাও কেউ জানে না। তবে ভারতের মুখ দিয়ে প্রচারিত হচ্ছে যে এটা নাকি হবে তিস্তা প্রকল্পের কথা!

    মনে রাখতে হবে গত ২৮ জানুয়ারি ২০২৪ এর পরে চীনের সাথে আমাদের সরকার প্রধান বা উচ্চমহলে কোন দেখা সাক্ষাত আলাপ হয়েছে এমন কেউ জানে না। কেবল গতমাসে একটাই শীতল আলাপের কথা জানা যায় তাও আমাদের সরকারী মিডিয়া সুত্রে। গত ৩ এপ্রিল ২০২৪, চীনা রাষ্ট্রদুত নাকি প্রধানমন্ত্রীর অফিসে না বাসায় এক আমন্ত্রণে দেখা করতে গেছিলেন। যা নিয়ে সরকারী বাসস এর লেখা একটা ভাষ্য “দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে চীনের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী” – এই শিরোনামে কয়েকটা পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল। সেই বাসসের ভাষ্যেও লেখা আছে যে জবাবে “চীনের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন”। যার অন্তর্নিহীত অর্থ হল, বুরোক্রাসির লাল ফিতা; মানে,  আগে ফরমালি অনুরোধ পাঠান এরপর আমরা লাল ফিতায় বাধা ফাইল চাপা দিয়ে সেটা ফেলে রাখব হয়ত!

    কেন বাসসের এই খবরটায় যা কিছু দাবি করা হয়েছে এর বিশ্বাসযোগ্যতা কম?
    মানে এটা ঘরে বসে বানানো ধরণের। কারণ, এর একটা উপ-শিরোনাম আছে – “পায়রায় একটি গভীর সমুদ্র বন্দর হবে এবং চীন সে সুযোগকে কাজে লাগাতে পারে।” – এটা বাংলাদেশের দিক থেকে বলা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু ফ্যাক্টস হল, পায়রায় কোন গভীর সমুদ্র দূরে থাক – চট্টগ্রামের মত ড্রাফটের ছোট জাহাজের বন্দরের জন্য এই লোকেশন উপযোগী না। সেটা সাবেক অর্থমন্ত্রী মুহিত নিজেই মিডিয়ার সামনে বলে গেছেন। মূল কারণ, ঐ বন্দর এলাকায় পানি নাব্যতা খুবই কম আর এরচেয়েও বড় কথা যতটুকু এখন আছে এটা বজায় রাখতে হলেও সবসময় ড্রেজিং করাতে হবে। এই লোকেশনে বন্দর নির্মানে মূল উতসাহি ছিল ভারত। অথচ বিনিয়োগ দেওয়ার কথা উঠলে ভারত ভেগে যায়। আবার চীনা ঋণ যাতে পায়রা প্রকল্পে না ঢুকে এব্যাপারে ততপর ছিল ভারত। শেষ আমাদের রিজার্ভ ভেঙ্গে এই প্রকল্প শেষ করতে হ্যেছে। এই হল গাছে তুলে মই কেড়ে নেওয়া। তাহলে এই মিছা কথা যে পায়রাতে এখন  গভীর সমুদ্র করার উপযোগী – এই মিছা কথা বলা আর তাতে এখন চীনকে বিনিয়োগের জন্য কথিত ডাকাডাকি এটা কী সত্যি?  আমাদের বিরাট সন্দেহ রাখার সুযোগ আছে।

    যাই হোক হাসিনার কথিত চীন সফর – এনিয়ে ভারতের লাফালাফিটাই বেশ বেশি,  যা অনেকটা এমন যেখানে, যাদের বিয়ে তাদের খবর নাই – অবস্থা। মানে হাসিনার কথিত চীন সফর নিয়ে চীন বা বাংলাদেশের এনিয়ে তেমন সরকারি ভাষ্য নাই অথচ পিনাক রঞ্জনকে দিয়ে এতদিন এতে ভারতের চাহিদা কী তা নিয়ে প্রপাগান্ডা চালানোর [আর আমাদের মানবজমিন এসব গারবেজকে মিথ্যা গুরুত্বের hype তুলে রিপ্রিন্ট করেছে ] পরে; এখন ভারতের পররাষ্ট্র সচিবই বাংলাদেশে হাজির যে তারা চীন সফরের আগে হাসিনাকে ভারত সফরের দাওয়াত দিতে এসেছেন। আর চীনের বদলে তারাই তিস্তা প্রকল্প করে দিতে চান এই প্রস্তাব নিয়েও হাজির।

    হাসিনার এখন তিস্তা প্রকল্প বা এমন কোন প্রকল্প নয় দরকার ৫ বিলিয়নের নগদ ঋণ বা বাজেট সহায়তাঃ
    হাসিনার জন্য এখন কঠিন ও নেতি বাস্তবতাটা হল, তাঁর সরকার চরম রিজার্ভ সংকটে। এছাড়াও আবার আদায় অযোগ্য প্রায় প্রত্যেক আওয়ামি ব্যাংকের খেলাপী ঋণের ভারে ব্যাংকগুলোসহ খোদ অর্থনীতিটাই ভেঙ্গে পড়ার অবস্থায়!  কাজেই হাসিনা সরকারের এখন তিস্তা প্রকল্প বা এমন কোন প্রকল্প নয়, দরকার ৫ বিলিয়নের নগদ ঋণ বা বাজেট সহায়তা। এই সুনির্দিষ্ট দিকটা  ভারত বা আমেরিকার অজানা থাকার কোনই কারণ নাই। অথচ তাদের ভাল-ভনিতা দেখেন!  আবার তারা ভয়ে আছে যদি হাসিনা চীনকে তিস্তা প্রকল্প দেওয়ার শর্তে ঋণ নেয়!    মানে হল, হাসিনার দিক থেকে দেখলে  বৈদেশিক মুদ্রার এই কঠিন সংকটে এখন গত তিন মাসে ভুল ও লোভি সিদ্ধান্তে সব হারানো উপলব্দি করে আবার হাসিনা চীনের কথা তোলাতেই এর প্রতিক্রিয়ায়, ভারত আর আমেরিকা দিশাহারা ছোটাছুটিতে ক্ষেপে উঠেছে। এদিকে তাই ডোনাল্ড ল্যু তিনিও আসতেছেন।
    মূলকথাটা হল, ক্যাশ বা নগদ বৈদেশিক মুদ্রা লাগবে হাসিনার বাংলাদেশের; নুন্যতম ৫বিলিয়ন ডলার; যা দশ বিলিয়ন হলে একটা অর্থনৈতিক পুণরুদ্ধারে দিক থেকে ভাল স্টার্ট হয়।  কিন্তু না আমেরিকা না ভারত এদের সেদিকে মন নাই। আর না আছে তাদের মুরোদ বা যোগ্যতা যে এমন বড় অর্থ তারা দিতে পারে অথবা এমনকি এটা আইএমএফ এরও সামর্থ নাই; কাউকে দিয়েছে এমন রেকর্ড আছে জানা যায় না। তাহলে এরা কেন আসতেছেন? হাসিনা চাহিদা আর এই দুই দেশের আনা-গোনা বকোয়াজি তো এক নয়, এক সুরেরও কথা না।
    সবচেয়ে বড় কথা এদুই দেশ আসতেছে হাসিনাকে চীন যাওয়া ঠেকাতে! অথচ হাসিনা কী আসলেই চীন যেতে পারতেছেন? চীনও কী তাকে স্বাগত জানাতে রাজি হয়েছে? কোনটারই কোন নিশ্চয়তা কোথাও নাই! তবুও ভারতের কোয়াত্রা গেলেন, এবার ল্যু আসতেছেন! আর এদের দুজনের কমন দিকটা হল, কারোরই মুরোদ নাই হাসিনাকে কোন নগদ বৈদেশিক মুদ্রা দিবার।

    এবার বিস্তারিততে যাবঃ
    বাংলাদেশকে চীনের প্রভাবশুণ্য করা মানে বাংলা ভাষায়,  চীন ঠেকানো বা বাংলাদেশ থেকে চীন খেদানো – এই হচ্ছে তাদের বিশেষত আমেরিকার মুখ্য টার্গেট আর এই লক্ষ্য পুরণের উপায় সেই “ঘ্যাগের ওষুধ” নাকি এরা পেয়ে গিয়েছে! আর এই খুশিতে আমেরিকা তার ‘গণতন্ত্র ও মানবাধিকার’ প্রতিষ্ঠা আর সাথে ‘স্যাংশন আরোপ’ এর ফরেন পলিসি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রয়োগ ভুলে গিয়ে, ফেলে দিয়ে বরং আমেরিকা হাসিনাকে অবাধে নির্বাচনি প্রহসন করতে গত বছর শেষের দিকে সেই সুযোগ দেওয়ার রাস্তা ধরেছিল। এভাবেই বাংলাদেশকে আবার ভারতের হাতে তুলে দিয়েছিল।

    অথচ গত ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর থেকে আমেরিকা সারা দুনিয়াকে জানিয়ে বিশাল হুঙ্কার তুলেছিল যে বাংলাদেশে তারা ‘গণতন্ত্র ও মানবাধিকার’ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। একাজ করে আমেরিকা সারা দুনিয়াকেই ফকফকা পরিস্কার করে জানিয়ে দিয়েছিল যে ‘গণতন্ত্র ও মানবাধিকার’ আর সাথে ‘স্যাংশন আরোপ’ এসবই নাকি আমেরিকার টার্গেট।

    অথচ এটা মিথ্যা কথা; এটা বাইডেনের ক্ষমতায় আসার আগে পরে এবং গত দুবছর সবসময়ও ছিল ডাহা মিথ্যা কথা। কারণ, আমেরিকার মূল লক্ষ্য আমাদের মত দেশে দেশ উঠতি চীনের প্রভাব ঠেকানো। অথচ এই চীনের প্রভাব ঠেকানো অসম্ভব কারণ এটা অবজেকটিভ – ঘুর্ণিঝড় জলোচ্ছাসের মত ঘটনা।  ইতিহাসের এক একটা সময়ে একেকটা দেশের অর্থনীতি চরমভাবে উদ্বৃত্বের দেশ বা সারপ্লাসের অর্থনীতির দেশ হিসাবে বেড়ে উঠে্ছে। এই সারপ্লাস সম্পদই সে দেশ তখন অন্যান্য দেশে অবকাঠামো ঋণ-অনুদান দাতা ও বিনিয়োগ দাতা হিসাবে হাজির হয়েই যায় – অপ্রতিরোধ্য ভাবে। এটাই আরেক অর্থে আমরা তখন সেই দেশকে গ্লোবাল নেতা, বা গ্লোবাল প্রভাব-ধারী নেতা, ইত্যাদি নানান ভাবে ডাকি। এভাবে ১৯৪৫ সালের পর থেকে আমেরিকা ছিল সেই গ্লোবাল প্রভাবের নেতা। একইভাবে সময় এসেছিল জাপানেরও একসময়, সেই ১৯৬৫ সালের পর থেকে। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে সে আমেরিকান অনুগত থাকতে বাধ্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপান হারুপার্টি বলে আর পরে এর পুণর্গঠনে আমেরিকান কমসুদের বিনিয়োগ সহায়তার জন্য। তাই জাপানের রাজনৈতিক শক্তির দিক আমরা অনুভব করি নাই। বরং অর্থনৈতিক প্রভাবটাও আমেরিকারই যেন – এভাবেই তা প্রকাশিত ছিল। আমরা এমনকি খেয়ালও করি নাই যে এডিবির [ADB] বড় মালিকানা কার?
    আর একালে একই ভাবে এখন এটাই চীনের উত্থানের কাল! তাতে আমরা আমেরিকাকেই ভালবাসি নাকি চীন-কে সহ্যই করতে পারি কিংবা পারি না,  তাতে কোনটাতেই কিছু আসবে যাবে না। এটা চীনা প্রভাব বিস্তারের কাল, এই হল অবজেকটিভ ফ্যাক্টস। কারণ এটা চীনা ঋণ-বিনিয়োগের কাল। এমনকি বিলিয়ন ডলারের অবকাঠামো প্রকল্প চীন মাঙনা করে দিতে পারে নিজ স্ট্রাটেজিক স্বার্থে ও সুবিধা হবে বলে। যেমন পাকিস্তানের গোয়াদর গভীর সমুদ্র বন্দর এটা আসলে চীনের স্ট্রাটেজিক প্রকল্প। এটা পাকিস্তানকে সে মাঙনায় করে দিলেও চীনের তাতেও অমুল্য সুবিধার স্ট্রাটেজিক লাভ হবে। কারণ, চীনের একমাত্র বন্দর কেবল পুব দিকে যেটা মালাক্কা প্রণালি বন্ধ করে দিলে চীনের সব শেষ। তাই সে পুরা উলটা পশ্চিমদিকে যেটা আসলে ১৮ হাজার ফুট উচু পর্বতমালায় ঘেরা সেটা ফুঁরেও চীন গোয়াদর গভীর সমুদ্র বন্দর ব্যবহারের সুযোগ লাভ করে ফেললো। অথচ আমেরিকাই প্রথম মালাক্কা প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে বলে আলাপ তুলেছিল। নিজ সিনেটে (মানে প্রকাশ্যেই পবেষণা পেপার পড়া হয়েছিল) আলোচনা করেছিল। কিন্ত এতে শেষ কার লাভ হল?

    অথচ আমেরিকা জিদ ধরেছে যে চীনের উত্থিত এই প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতার কালে আমেরিকা তার অর্থনৈতিক মুরোদ নাই হয়ে গেলেও নিজ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করা  ও সামরিক সক্ষমতা দিয়ে নিজ অর্থনৈতিক সক্ষমতা সে পূরণ করতে পারবে!! কিন্তু জিদ আর বাস্তবতা এক না। হাসিনার আজকের দুর্দশা আমেরিকান এই জিদ এর পরিণতি।  গত ২৮ জানুয়ারি থেকে আমেরিকা ভারতকে সাথে নিয়ে হাসিনাকে প্রলুব্ধ করতে পেরেছিল দুইটা জিনিষ দিয়ে। একটা হল খুব সম্ভবত ২০৪৫ সাল পর্যন্ত সম্ভবত তাঁকে ক্ষমতায় রাখার লোভ দেখানো। আর দুই, অর্থনৈতিক সংকট যা আছে (যে সংকটটা নিয়ে হাসিনা পরিপুণ্য সজ্ঞান ছিলেন বলেই এবারের নির্বাচনের পর থেকে ১২-২৮ জানুয়ারি চীনের সাথে সখ্যতা ও সফর নিয়ে কথা বলে গেছিলেন। এমনকি – “বাংলাদেশ রিজার্ভ সংকটে পড়লে পাশে থাকবে চীন— রাষ্ট্রদূত”; এমন কথাও উঠেছিল তখন)। কিন্তু এত সবকিছু জানা থাকা সত্বেও – কথায় আছে লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু দশা হয়েছিল হাসিনার। তিনি সম্ভবত সুখস্বপ্ন দেখেছিলেন যে, ২০১৩-১৮ সাল ধরে যেভাবে তিনি ভারতের মাধ্যমে আমেরিকান চাহিদা মিটিয়েছেন; ডিল করে টিকে থেকেছেন তেমন এক স্বর্ণ না হলেও “তামার যুগে” তিনি আবার আরামে থাকতে পারবেন! অথচ তিনি ভুলে গেছিলেন তার অর্থনীতি সংকটে, যাতে নগদ বৈদেশিক মুদ্রা এক প্রধান চাহিদা! যা স্বচ্ছন্দে পুরণ করে দিতে পারবে চীন! কিন্তু সেই চীন কী আর হাসিনার বাংলাদেশের জন্য আছে? না, হাসিনা নিজে সেই হাসিনা আছেন

    তাই বেশী না মাত্র তিন মাস! এই তিন মাসের মধ্যে হাসিনা আর সাথে ভারত-আমেরিকা সবপক্ষকেই বাংলাদেশের অর্থনীতির দুর্দশার সামনে এখন হাজির করে দিয়েছে।  যেটাকে  ২৮ জানুয়ারির পরে ভারত-আমেরিকা নানান চাপাচুপা মেরে হাসিনাকে ভুলিয়ে প্রলুব্ধ করে রেখে দিতে তখন সক্ষম হয়েছিল ; আর হাসিনাও তাতে মিথ্যা ক্ষমতার স্বর্গসুখে  ‘বহল গয়া’ মানে  আউলায়ে ভেসে গেছিল! কিন্তু এখন? ডোনাল্ড ল্যু আসতেছেন তিনি কী করবেন? তিনি কী হাসিনাকে অন্তত ৫ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা যোগাড় করে দিতে পারবেন? সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউএস-এইড এর কোন প্রকল্প কী এমন বড় পরিমাণের বা যা হাসিনা সরকারের জন্য এখন চালু আছে? আমেরিকা লাস্ট কবে কাকে এমন বড় পরিমানের প্রকল্প দিয়েছে?  মনে রাখতে হবে হাসিনার কিন্তু প্রকল্প দরকার নাই, নগদ বৈদেশিক মুদ্রা যা বাজেট সহায়তা নামে আসে তা হতে হবে। আছে আমেরিকার মুরোদ?
    এর সোজা মানে হল, হাসিনা এবং বাংলাদেশের অর্থনীতি – এরা সকলে ডুবে মরে যায় যাক; আমেরিকার টার্গেট একটাই বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ, ঋণ বা প্রভাব ইত্যাদি এসব সে কিছুই দেখতে চায় না!  সে নিজস্বার্থ, নিজ টার্গেট নিয়েই ব্যস্ত থাকতে থাকবে!!!!

    অথচ আমেরিকা ঠিকই জবরদস্তিতে বা প্রলুব্ধ করে হাসিনাকে চীনের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করাতে চায় এটাই আমেরিকার একমাত্র টার্গেট ও বিদেশনীতি।
    একারণের গত বছর মোটামুটি সেপ্টেম্বর থেকেই তাই দানব হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখে দিলে যদি আমেরিকা মনে করে তার লক্ষ্য হাসিল হবে তো সেই করবে – আর এটাই সে করেছিল! তাতে বিগত দুই বছর সে বিরোধী রাজনৈতিক আন্দোলনকে প্রচ্ছন্নে সমর্থন করে চললেও সে এটা ত্যাগ করে চলে গেছিল!  কারণ, শুরুর দিকে আমেরিকার মনে হয়েছিল হাসিনাকে উতখাত করলে তার বাংলাদেশে ‘চীন ঠেকাও’  – এই লক্ষ্য পূরণ হবে। কিন্তু মোটামুটি সেপ্টেম্বর ২০২৩ সালের পর থেকে আমেরিকা বাংলাদেশকে হাসিনার শাসনেই থাক বলে ফেলে পালিয়েছিল। এটা ভারতের নিরন্তর ঘ্যানর ঘ্যানর এর জন্যই হোক অথবা আমেরিকা নিজ লক্ষ্য অর্জন (‘গণতন্ত্র ও মানবাধিকার’ প্রতিষ্ঠা নয় কিন্তু বরং চীন ঠেকানো) অসম্ভব জ্ঞান করাতে মানে তা যেটাই হোক;  আমেরিকা আমাদের ফেলে পালিয়েছিল।

    এক নিঃশ্বাসে বলা পরের ঘটনাবলী হল, ৭ জানুয়ারির কথিত নির্বাচন, পরে ১১ জানুয়ারির মধ্যেই নয়া এমপি, নয়া মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের শপথ গ্রহণও সমাপ্ত। এরপর থেকে ২৮ জানুয়ারি সকাল পর্যন্ত প্রতিদিনের মিডিয়া হেডলাইন ছিল হাসিনার সাথে চীনের সম্পর্ক নিয়ে। নগদ ডলার (বাজেট সহায়তা) সংকট, তিস্তাসহ নতুন চিনা প্রকল্প ইত্যাদির কিছু বাকি ছিল না যা নিয়ে কথা উঠে নাই। আর এর প্রত্যেকটাতেই চীনারা হাসিনা সরকারকে সহায়তা করতে রাজি – এই ছিল সারকথা। এজন্য এমনকি হাসিনা চীন সফরে যাচ্ছেন এর জন্য চীনা আমন্ত্রণও দেয়া হয়ে গেছিল।
    কিন্তু হায়! ঐ ২৮ জানুয়ারির বিকেল থেকেই পরিস্থতি একেবারে উলটা হয়ে যায়। ঐ সন্ধ্যায় ওবায়দুল কাদেরের সাথে দেখা করেছিলেন ভারতীয় রাষ্ট্রদুত প্রণয় ভার্মা। তিনি আসলে সেদিন একা ভারত না ‘আমেরিকার এডভান্স পার্টি’ হয়েও কথা বলেছিলেন। মানে হল, আমেরিকা আমাদের ফেলে পিছটান দিছিল ভারতের সাথে শলাপরামর্শ করে আর তাতে তারা কী সাব্যস্ত করেছিলেন তা বয়ান করেছিলেন। এরপরের এক সপ্তাহের ঘটনা হল, অজিত দোভালের সরকারিভাবে অস্বীকৃত থেকে যাওয়া ঢাকা সফর আর শেষ ৪ ফেব্রুয়ারি হাসিনাকে লেখা নয়া উদ্যোগে একসাথে কাজ করার আগ্রহ জানিয়ে  বাইডেনের চিঠি -ঢাকায় হস্তান্তর।

    আলী রিয়াজের এসাইনমেন্টঃ
    অনেকদিন পরে দেখলাম তিনি ডিপ্লোম্যাটে লেখা ছেপেছেন গতকাল। যার সারকথা একটাই চীনারা খারাপ!
    পুরানা কথা, চীনা ঋণ কত খারাপ আর পরিশোধ অযোগ্য হয়ে গেছে ইত্যাদি।
    আমার মনে হয় না, আলী রিয়াজ কখনও আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের দেয়া ঋণ তলিয়ে গেছে; কেউ শোধ দিতে পারে নাই – এমন একটা ক্যাটাগরির দেশের লিসট আছে যা তিনি স্টাডিকরেছেন। এর নাম HEAVILY INDEBTED POOR COUNTRIES (HIPC) । নেটে সার্চ দিলে পাবেন। যেমন এমনই একটা সাইট হল, এখানে DEBT RELIEF UNDER THE HEAVILY INDEBTED POOR COUNTRIES (HIPC) INITIATIVE।
    এর কথা এখানে আনার মানে হল, এমন অবকাঠামো ঋণ বিতরণ করতে গিয়ে সবারই ব্যর্থতা আছে। কিন্তু সেজন্য যে ঋণ ব্যবসায়ী বা ঋণের জ্বালে ফাঁসানোর দেশ – এসব প্রপাগান্ডার মানে হয়। মানে আমি বলতে চাই, HIPC এর এক্টিভিটি দেখে আলীরিয়াজ নিশ্চয় বলবেন না যে তাহলে  আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক কোন “ঋণ ব্যবসায়ী বা ঋণের জ্বালে ফাঁসানোর” প্রতিষ্ঠান। হাল্কা মন্তব্য না করাই ভাল।

    আলী রিয়াজের লেখার আরেক সারকথা এখানে,

    “China’s influence on Bangladesh increased remarkably after 2009 when the
    relationship between India and Bangladesh has been described as a “golden era.”
    This development juxtaposed with the upcoming joint military exercise of
    Bangladesh and China, and the possibility of Chinese involvement in the 
    Teesta project, indicates that the geopolitical great game in Bangladesh
    will be more intense.”

    তিনি আসলে আমেরিকান স্বার্থের চোখ দিয়ে দেখে লিখেছেন। নিশ্চয় আমাদের রাষ্ট্রস্বার্থ আলাদা; এর উপর আবার হাসিনা নিজেও নিজের ক্ষমতায় থাকবার স্বার্থও এর মধ্যে পাঞ্চ করবেন।

    চীনা ঋণের সাথে চীনের পলিটিক্যাল এজেন্ডা থাকে তাই এটা খারাপ, আর আমেরিকান ঋণ সুচিশুভ্রঃ
    ব্যাপারটা কী তাই?  চীনা ঋণের সাথে চীনের পলিটিক্যাল এজেন্ডা থাকেই আর আমেরিকান স্বর্ণ যুগে যখন সে একাই দুনিয়ার ঋণদাতা ছিল সেই ঋণ সুচিশুভ্র? কোন পলিটিক্যাল এজেন্ডা ছিল না? তাই কী আলী রিয়াজ বলতে চাইছেন?
    তিনি লিখেছেন,  Loans and investments from China, particularly the former, come with a political agenda of increasing its sphere of influence.
    আমারটাই শ্রেষ্ঠ – এই মনোভাব ধারণ করলে এমন সবাইই নিশ্চিহ্ন হবে। শ্রেষ্ঠত্বই হিটলারিজম। এথনিক নির্মুলের পক্ষে আমাদের নিয়ে ফেলবে। কাজেই সাবধান। ঋণ-বিনিয়োগ দিবার সক্ষমতা নিয়ে উপরে অনেক বলেছি। পরিস্কার করে বলেছি সবধরণের ঋণ-বিনিয়োগ দিবার সক্ষমতা এটাই যেকোন দেশের অন্যের উপর কম-বেশি খারাপ-ভাল এবং তা নানান মাত্রার এটা হাজির হবেই। এখানে রাজনৈতিক প্রভাবের বেলায় আমার হলে সেটা ভাল আর চীনের হলে সেটা খারাপ এটাই শ্রেষ্ঠত্ববোধের সমস্যা হয়ে হাজির হবে।
    তবে মজার কথা হল, এই চীনেরই অর্থনৈতিক শক্তি হিসাবে উত্থান এর পিছনে আছে আমেরিকান বিনিয়োগ – ওয়াল স্টিট বিনিয়োগ – যারা সবচেয়ে বেশী এর সুবিধাভোগী;  এখনও চীনের প্রতি তারা উদার। বিশ্বব্যাংকের সস্কারের প্রস্তাব তাদেরই। চীনের নেতৃত্বে ব্রিকস গঠনের বুদ্ধি পরামর্শ রেকমন্ডেশন ছিল তাদেরই।
    তাহলে তখন নিশ্চয় চীনের উপর আরেরিকারও রাজনৈতিক এজেন্ডা ও প্রভাব ছিল? তাহলে সেগুলোচীন টপকাতেও পেরেছিল! সেটা এভাবে বা সেভাবে? কাজেই এগুলো শেষ কথা নয়। আবার ভাল করেলক্ষ্য করবেন রৃণদাতা আর গ্রহিতার মধ্যকার সম্পর্কও আগের মত না। অনেক বদল এসেছে তাতে। যেমন চীনের এব্যাপারে ডায়লগ হল এটা উইন-উইন সিচুয়েশন। না এতা একদম পবিত্র তা বলা আমার উদ্দেশ্য না। আমি কেবল এটুকু বলছি এটা অন্তত আমেরিকার যুগের মত নয়!
    এখন ঋণ নেয়া ছাড়া আমরা প্রাক্তন কলোনি দেশের বিকল্প কী আছে? যেখানে আমাদের নিজস্ব সারপ্লাস দখলদারের লুটে নিয়ে গেছে। আবার আমাদের শাসকেরা ঋণের নয়ছয় করবে সেতা কতটা কম রাখা যায় এভাবেই আমাদেরকে আগাতে হয়। এছাড়া আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের আমেরিকা-চীনের কিনে নেওয়ার অভ্যাস-রেওয়াজও তো আছেই!

    GOLD BACKED CURRENCY -ইংরাজি কথাটার মানে হল, শুরুতে ডলারসহ সব দেশের মুদ্রাই গোল্ড ব্যাকড ছিল। শুরুতে মানে সব মুদ্রাই জন্ম থেকেই। আর এটা ছিল ফিক্সড মুল্যমানের। মানে, আমেরিকান ডলার এর মান ছিল – এক আউন্স সোনা সমান ২৫ ডলার – এই স্থায়ী মূল্যের। ফলে এখনকার মত আজকের ডলারেররেট কী – এমন প্রশ্ন কেউ করত না। আর ডলার ছাপাবনার আগে সেই ব্যাংককে নিজ ভল্টে প্রতি ২৫ ডলার পরিমান নোট ছাপবার আগে এক আউন্স করে সোনা রাখতেই হত। কারণ যেকোন নোতধারী এসে ব্যাংকে সোনা ফেরত চাইলে তা দিতে বাধ্য থাকতে হত।
    আমি আমেরিকান প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের নামে রেফারেন্স দিয়ে কথা বলেছি বহুবার। আজ আবার একটা দিতে হচ্ছে।  তিনি জিতেছিলেন প্রথম ১৯৩২ সালের নভেম্বরের নির্বাচনে। পরের ১৯৩৩ সালের ২০ জানুয়ারি শপথ নিবার পরে তিনিওই প্রথম প্রেসিডেন্ট ডলারের অবমুল্যায়ন করার ঘোষনা দেন। তাতে এক আউন্স সোনার মূল্য হয় ৩৫ ডলার। তাঁর যুক্তি ছিল কথা সত্যও বটে সারা ইউরোপঅই ইতোমধ্যে নিজ নিজ মুদ্রার অবমূল্যায়ন ঘটিয়ে ফেলে৪ছে। মূলত প্রথম বিশ্বযুদ্ধের খরচ মিটাতে না পেরে। আর তা থেকেই ১৯৩০ সালের দুনিয়াব্যাপী যে প্রথম মহামন্দা দেখা দিয়েছিল তা থেকেই সারা ইউরোপের প্রত্যেকটা দেশ এই অবমূল্যায়ন ঘটিয়েছিল। রুজভেল্টের পয়েন্ট হল, তিনি ইউরোপের মুদ্রাগুলোর সাথে নিজ ডলারকে সামতুল্য করতে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।
    পরে এই মুল্যাও স্থিত্মুল্য হয়ে যায়। এমনকি আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক ১৯৪৫ সালে জন্মের সময়ও এই ৩৫ ডলার স্থায়ীমুল্য ধরে প্রতিষ্ঠান দুটা যাত্রা শুরু করেছিল। কিন্তু ১৯৫৮ সালে এসে হঠাত আমেরিকা ঘোষণা দেয় যে সোনা ভল্টে জমা রাখার নিয়ম বাধ্যবাধকতা সে মানে নাই অনেক দিন ধরেই। আর এখন তার আর কিছুই করার নাই।

    সারা দুনিয়া পড়ে এক বিরাট গর্তে। এরই উপায়হীন সমাধান হিসাবে আসে নয়া নিয়ম, মুদ্রার বাজার দর ব্যবস্থা। মানে প্রতিদিনের (সেকালে টপ লেনদেনের) চারটা কারেন্সির মুল্য গড় করে তা আবার ডলারে প্রকাশের এক ব্যবস্থা চালু হয়। যেটা আবার আইএমএফের কারেন্সি [SDR]তে প্রকাশ করা হয়। প্রতিদিনের আইএমএফের সাইটে পাওয়া যায় আজকের কারেন্সি রেট কী। আর এসব নয়া নিয়ম সামলাতে নতুন করে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক এর ম্যান্ডেট লিখতে হয়েছিল সত্তরের দশকের শুরুতে।
    এখন  আমেরিকা রাষ্ট্রের সারা দুনিয়ার কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ – এটা কী আলী রিয়াজ শুনেছেন কখনও! আমেরিকান এই প্রতারণা নিয়ে তাঁর মন্তব্য কী?

    ১/১১ কী? তা বাংলাদেশের সবাই জানে। কিন্ত্য এই ক্ষমতাদখল ঘটিয়ে আমেরিকা বাংলাদেশকে ভারতের হাতে তুলে দিয়েছিল কেন? তাঁর নিজেরও প্রথম ফেলো হিসাবে নিয়োগ সেসময়কালেরই ঘটনা।  কাজেই বাস্তবসম্মত ও একাদেমিক  থেকে কথা বলাই ভাল। নইলে তো ভাড়াখাটা ভাড়াটে মনে হবে। আলোচনা আর আলোচনা থাকবে না।
    কাজেই আমেরিকা সব সততার দৃষ্টান্ত – এমন মনোভাবে না লিখাই ভাল। অবশ্য আপনাকে লেখার এসাইমেন্ট দিলে আর আপনি কী করবেন!!!!
    কী আর করার; বুদ্ধিমান হন, ঠিক কাজটা করেন!

     

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    [এই লেখা কোন নিউজ নয়, ব্যক্তির নিজস্ব রাজনৈতিক বিশ্লেষণ মাত্র। ফলে পাঠকের এ’লেখা পড়ে কিছুই বহন করা বা মান্য করার বাধ্যবাধকতা নাই। কেবল জানলেন যে এমন একটা মতামত আছে!]

  • গত পরশু পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তীর মিথ্যা প্রপাগান্ডা

    গত পরশু পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তীর মিথ্যা প্রপাগান্ডা
    গৌতম দাস
    ৩১ মার্চ ২০২৪ সন্ধ্যা ০৭ঃ ৫৩
    https://wp.me/p1sCvy-5tZ

    ‘ভারতের কঠোর অবস্থানের কারণেই পিটার হাস গা ঢাকা দিয়েছেন’

     

    রাতে বাসায় ফেরার পথে বাঁশ বাগানের নিচ দিয়ে যেতে যেতে পথিক ভুতের ভয়ে উচ্চস্বরে গান গেয়ে থাকে। সে অবস্থা হয়েছে ভারতের পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তীর! পিনাক বাংলাদেশে ২০০৭ সালে, ১/১১ এর শুরুর কালে ভারতীয় রাষ্ট্রদুত ছিলেন। আর, বর্তমানে রিটায়ার্ড সরকারী কূটনৈতিক চাকরি থেকে; তবে এখন নয়াদিল্লি-কেন্দ্রিক এক স্থানীয় থিঙ্কট্যাংক [ORF] এর ফেলো। ভারত সরকারের হয়ে বা র-এর হয়ে বয়ান দিতে তিনি সময় সময়ে ক্ষেপ মারা বক্তব্য দিয়ে থাকেন। এবারও তাই!  সম্প্রতি বাংলাদেশকে নিয়ে তিনি শতভাগ মিথ্যা – যেটাকে ডাহা মিথ্যা বলা হয় – এমন এক বয়ান ছেড়েছেন। পত্রিকার শিরোনামে তা হল, ‘ভারতের কঠোর অবস্থানের কারণেই পিটার হাস গা ঢাকা দিয়েছেন’। আমাদের বাংলা ট্রিবিউন পত্রিকা যেটাকে বলা যায় প্রো-ভারত এজেন্সির দ্বিতীয় প্রজন্ম – এদের পত্রিকা; এরা হাসিনার এই কালে নিয়মিত নয়াদিল্লির এক রঞ্জন বসুর কলাম ছেপে থাকেন।  বসুন্ধরার সময় খারাপ যাচ্ছে; পত্রিকায় অর্থ ব্যয় কমিয়ে দিয়েছে। তাই এবার এমন ফোকাস কাজের কনট্যাক্ট পেয়েছে যেন এই বাংলা ট্রিবিউন। এখানে ছাপা হওয়া প্রোপান্ডা নিউজের শিরোনাম হল  ‘ভারতের কঠোর অবস্থানের কারণেই পিটার হাস গা ঢাকা দিয়েছেন’। এটা লিড প্রোপাগান্ডিস্ট এর খবর। আর বাকি আরো তিনটা পত্রিকাও (যুগান্তর, ভোরের কাগজ,  প্রথম আলো ইত্যাদি) একই খবরটা নিজেরা করছে সুত্রবিহীন গায়েবি খবর হিসাবে তারা ছেপেছে। প্রথম আলোর কায়দাটা মোক্ষম, তারা একই বয়ান কিন্তু দাবি করেছে এটা তাদের দিল্লির প্রতিবেদক সৌম্য ব্যানার্জি এর পাঠানো খবর।

    ঘটনাস্থল দিল্লি কিন্তু আওয়াজ বাংলাদেশেঃ
    ঘটনাস্থল দিল্লি যেখানে পিনাক রঞ্জনের এক বই-প্রকাশ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। তার তাতে সেই বইয়ের খবর পাশে ফেলে রেখে দিয়ে, – এই ডাহা মিথ্যা প্রপাগান্ডাটা ছড়ানো হয়েছে মূলত পিনাক রঞ্জনের মুখ দিয়ে।  আর এই প্রপান্ডা খবরের ব্যাকগ্রাউন্ড বা পটভুমিটা হল বাংলাদেশে ক্রমশ তুঙ্গে উঠা ভারত-বিরোধিতার ক্ষোভ যা ভারতের পণ্য বর্জন নামে শুরু হলেও এখন ভারত খেদাও বলে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করতে চাইছে। রাজনীতিতে যা কিছুই হাসিনাবিরোধী বা সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বা গণ-মানুষের স্বার্থবিরোধী বা অপছন্দের – তাই, একই সাথে ভারতের ইন্ধনে ঘটছে বলে তা ভারতবিরোধীও – এই হল এর প্রধান বক্তব্য – প্রাইম ন্যারেটিভ লাইন অব পলিটিক্স!  আর সর্বশেষ এতে বিএনপি কার্যত পুরাদমে নেমে পড়াতে এর মোমেন্টাম এখন তুঙ্গে উঠেছে!  তা এখনই খোদ হাসিনা সরকার ও মোদির ভারতও দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। অথচ এই পরিস্থিতি তো খোদ সরকারই ডেকে এনেছে।  যেমন  – “ভারত পাশে ছিল বলেই” – নাকি সরকার এখন ক্ষমতায় বলে ভারতকে হাসিনা সরকার নিজের ভগবান বানিয়ে ফেলেছে। এমন বক্তব্যটাই যে সরকারের বিরুদ্ধে যেতে পারে তা সরকার ভাবেই নাই।  এই বাড়াবাড়িটাই কী শেষে নিজেদেরই বিরুদ্ধে  চলে যাচ্ছে – বলে হাসিনা-ভারতের মনে “কু-ডাকা” শুরু করেছে বলে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে!
    আর এই দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতা থেকে বের হতেই সম্ভবত হাজির করানো হয়েছে পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তীকে। আর এবার তাঁর সাথে আছে ইসলাম  বা এনিয়ে এথনিক উন্নাসিকতার প্রতিবিম্ব বীনা সিক্রি। সাথে আমাদের “এক সাবেক” শহিদুল হকও ডাক পেয়ে বর্তে গেছেন; কিছু কাজ পেয়েছেন বেকার জীবনে!

    সবচেয়ে বড় তামাসাটা হল  একটা শিয়ালেরও যে বুদ্ধি আছে – মানে একটা শিয়ালও জানে বাঘ মামাকে কেন মামা বলে তোয়াজ করতে হবে! আবার তাই বলে মামার আসনে বসে নিজেকেই “বনের রাজা” দাবি করা বা ভাব ধরা যে চরম গর্হিত কাজ সেটা শিয়াল পরিস্কার বুঝে! তাই একাজ সে কখনও করে না!  কিন্তু পিনাক রঞ্জন তাও বুঝে নাই। তিনি দাবি করেছেন যেন মোদির ভারতই পরাশক্তি আর পিটার হাসের আমেরিকা হল ভারতের অনুসারি এক স্যাটেলাইট রাষ্ট্র! তাই ভারতের এক হুঙ্কারে –  ভারতের কঠোর অবস্থানের কারণেই– নাকি পিটার হাস হাসিনাকে বিরক্ত করা ছেড়ে একেবারেই পালিয়েছে!!!! যুগান্তর এনিয়ে লিখেছে পিটার হাস নাকি এই হুঙ্কারেই আত্মগোপনে চলে গেছেন।  এই হল আমেরিকার জায়গায় যেন ভারতই হল যে পরাশক্তি – এমন ভাবনায় মোদির দালালটা হলেন পিনাক রঞ্জন!

    ভারতের কঠোর অবস্থান জিনিষটা কীঃ
     এখনও আমেরিকাই এক পরাশক্তি  – তাতে আমরা যতই আমেরিকান অযোগ্যতা তুলে ধরি না কেন; অথবা আমরা যতই প্রমাণ দেই যে আমেরিকার পুরান সক্ষমতা ঢিলা হয়ে যাচ্ছে। আমাদের এসব অবজারভেশন সত্য হলেও আমেরিকা এখনও পরাশক্তি!  এটা মাথায় রেখে আমাদের কথা বলতে হবে। বাইডেনের গত দুই বছরের প্রচেষ্টা ছিল মূলত চীনের বাইরেটাতে এশিয়াকে কতটা চীন-মুক্ত করা যায় এরই প্রচেষ্টা ও পরীক্ষা করতে বসা। তাই এশিয়াকে চীন-মুক্ত অর্থে বাংলাদেশকেও কতটা চীন-মুক্ত করা যায়; এই লক্ষ্যে বাইডেন তিনটা জিনিষ প্রয়োগ করেছিল – গণতন্ত্র, মানবাধিকার আর স্যাংশন।  কিন্তু ডিসেম্বর ২০২৩ ছিল টাইম লিমিট।  আর এই সময়কালের মধ্যে তারা নিজেদের টার্গেট কিছুই তেমন অর্জন করতে পারছেনা  – এটা টের পাবার পরেই তারা ২০০৭ সালের মতই দ্বিতীয়বার বাংলাদেশকে ভারতের হাতে তুলে দিয়ে কেটে পড়ার পথে রওয়ানা দিয়েছে – আমার আগের লেখায় আমি এটাই বলছি। যেটাকে আমরা আমেরিকার ফেলে পালানো বা প্রতারণা বলছি। আর এই বিষয়টাকে আমরা তুলে ধরাতে এই সুযোগে মোদির চামচা  পিনাক রঞ্জন র-এর খেপ মারতে এসে হাজির!  ভারতের ফাঁকা বাহাদুরি যে যেন ভারত হুঙ্কার দিয়েছে বলেই  বা ভারতের কঠোর অবস্থানের কারণেই– নাকি পিটার হাসের আমেরিকা ভাগছে!  ভারতের এসব হামবড়া বা মুই কি হনু রে ভাব এসব মফস্বলি ভাব-স্বভাব সেই নেহেরু আমলের!  যে সবসময় ভাব করতে চায় বৃটিশেরা চলে গেলেও নেহেরুই এখন ভাইসরয় বা রাণীর রেখে যাওয়া প্রতিনিধি!!! অথচ রাণীর শাসন মানে এক ঘৃণিত কলোনি দখলদারের শাসন সেটাই ভারত এখনও বুঝতে পারল না! এসব কথা বার্তা এতই পেটি-সংকীর্ণ যে কথা বলতে অস্বস্তি লাগে। যেমন পিনাক লিখছেন শুনিয়ে দেয়া – বলছেন “কড়া বার্তাটা (আমেরিকাকে) শুনিয়ে দেয়া হয়েছিল”। মানে ব্যাপারটা যেন নিম্ন আয়ের ঘরের বউ-শাশুড়ি বা বউ-ননদের কথা শুনিয়ে দেওয়ার তৃপ্তি…!  কথা শুনানোর তৃপ্তি তিনি কলকাতায় থাকার সময়ে শিখেছিলেন; এখন অভ্যাস হয়ে গেছে! অথচ সেই স্বভাব না গেলেও বনে গেছেন তো কূটনীতিক!!!

    যাহোক আমরা যদি গত ২০২৩ সাল জুড়ে র-এর তিন হাতা-চামচা; মানে সুবীর ভৌমিক, এএমএন আবদি  আর চন্দন নন্দী – এই তিনের কথা মানে তারা এসময়ে যত কিছু লিখেছেন তা পিনাক রঞ্জনকে দেখতে বলি, পরামর্শ দেই –  কারণ, তাদের সেসব লেখাই পিনাক রঞ্জন-কে মিথ্যাবাদি বলে দেখাবে! সেসময়ের এই তিন জন সমানে প্রতিটা লেখায় আকুলিবিকুলি করে গেছে আমেরিকার সমীপে আবেদন করে। যার সার কথা, আমেরিকা তুমি হাসিনা সরকারকে স্যাংশন দিয়ে দিলে বা তাতে এসরকার ক্ষমতাচ্যুত হলে ভারতের আর বাংলাদেশকে চুষে লুটে খাবার গত ১৫ বছরের সুখ সব শেষ হয়ে যাবে। তাহলে এখন পিনাক রঞ্জন কী বলতে চাচ্ছেন এটাই ভারতের কঠোর অবস্থান এর নমুনা???? নিজেকেই এসব আত্ম-প্রতারণা কেন করছেন তিনি?
    এমনকি শেষ লেখায় ফেডারল পত্রিকায় সুবীর মন্তব্য করেছেন – হাসিনা সম্ভাব্য ক্ষমতাচ্যুতির পরে আমেরিকা বার্মার দখল নিলে সেটা নাকি এক []Will US do a Bosnia on Myanmar?….]https://thefederal.com/opinion/will-us-do-a-bosnia-on-myanmar-no-fly-zone-move-may-involve-india/ মানে বসনিয়া কসোভো ম্যাসাকারে এথনিক ক্লিনজিং বা নির্মুল এর মত ঘটনা হবে।  র-এর এই তিন এজেন্ট এর লেখাগুলোই বড় সাক্ষী যে গত ২০২৩ সাল জুড়ে ভারতের অবস্থান আর মুরোদ কী ছিল! পিনাক রঞ্জনের উচিত ছিল আগে কিছু পড়াশুনা করা; না আমাদের লেখা পড়ার কথা বলছি না। এবারের বই প্রকাশের নামে প্রপাগান্ডায় এসাইমেন্ট নিয়ে নামার আগে পিনাক রঞ্জনের উচিত ছিল এটুক হোম-ওয়ার্ক করে আসা!

    সেক্রেটারি ওবায়দুল কাদের কবে থেকে বলা শুরু করেন – “ভারত পাশে ছিল বলেইঃ”
    এটা নিয়েও পিনাক রঞ্জনের সবার আগে স্টাডি করে আসা দরকার ছিল – বিশেষত এবারের এসাইনমেন্ট নিবার আগে!  কারণ, সেটাই পিনাক রঞ্জনের এবারের দাবি যে পুরাটাই মিথ্যা – এরই আরেক অকাট্য প্রমাণ!
    কাদের দাবি করে বলে যাচ্ছেন যে “ভারত পাশে ছিল বলেই” – বিএনপি আমেরিকান সহায়তা নিয়ে নির্বাচন বানচাল করতে পারে নাই! আর একথারই পিনাক রঞ্জনি ভাষ্য হল, ভারতের কঠোর অবস্থানের কারণেই পিটার হাস বাবাজি ভেগে গেছিল।

    কিন্তু প্রশ্ন হল তাহলে কাদের কবে থেকে মানে কবে প্রথম বলা শুরু করলেন যে “ভারত পাশে ছিল বলেই” – …?
    আর সাথে দুইটা প্রশ্ন। কাদের কী নির্বাচনের আগে থেকে বলা শুরু করেছিলেন, না পরে? প্রশ্ন দুইঃ পরে হলে ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের কতদিন পরে?
    জবাদটা আগেই জানায় দেই। কাদের একথা বলা শুরু করেছেন ২৮ জানুয়ারি ২০২৪ থেকে।  মানে ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের পরে। এবং নির্বাচনের  প্রায় তিন সপ্তাহ পরে।

    তাই, এর জবাব হাতে গুনে বলে দেয়া সম্ভব।  ওবায়দুল কাদের “ভারত পাশে ছিল বলেই” – এটা বলাটা নির্বাচনের আগে বলেন নাই। এমনকি নির্বাচনের পরে বা ৭ জানুয়ারির পরে পরেও না। এককথায় বলা যায়, ২৮ জানুয়ারি ২০২৪ এর আগে কখনই কাদের বলেন নাই।

    কেন?
    এবার ধারাক্রমে বলে দেয়া যাক!
    ১। ৮ জানুয়ারি ২০২৪ প্রথম ভারতীয় রাষ্ট্রদুত প্রণয় ভার্মা, হাসিনাকে ফোন করে কেবল নির্বাচনী বিজয়ে অভিনন্দন জানাতে পেরেছিলেন। যদিও এই খবরটুকুও দাবি করেছে কেবল আনন্দবাজার তাদের ইংলিশ ABPlive এর দাবি করা সেটা  – Indian Envoy Calls On Bangladesh PM Hasina After Her Election Victory For 5th Term। তাও আবার কিছুটা মিথ্যা দাবি আর চাতুরিতে এটা করা হয়েছে। যেমন শিরোনামে দেখেন Calls On আছে যার অর্থ কারও সাথে গিয়ে দেখা করা। এমনকি এই নিউজে একটা ছবি ব্যবহার করা হয়েছে যে হাসিনার সাথে প্রণয় ভার্মা কথা বলছেন। কিন্তু এটা কোনভাবেই কোন কল অন Calls On নয়, এটা ছিল ফোনে কথা বলা আর ঐকথার বিষয়বস্তু হল সংক্ষিপ্তভাবে নির্বাচনী বিজয়ে অভিনন্দন জানানো।  অর্থাৎ কাদেরের “ভারত পাশে ছিল বলেই” .অথবা পিনাকের ভারতের কঠোর অবস্থানের কারণেই ইত্যাদি বলার সময় সেটা ছিল না। অথবা কোন মিডিয়াও এটা দাবি করে নাই।

    ২। পরের সাক্ষাত সেটা ঠিক সাক্ষাত না, ১৪ জানুয়ারি ২০২৪ সম্প্রীতির বাংলাদেশ নামে ভারতীয় কিছু পরিচিত বাংলাদেশি এজেন্টদের খুশি প্রকাশ। সারকথায় প্রণয় ভার্মা সেখানে সরকারের কারও সাথে কথা বলেও যান নাই। ‘মিট দ্যা সোসাইটি’ শীর্ষক আলোচনা  – এনিয়ে একমাত্র ইত্তেফাক এখানে বিরাট সার্ভিস দেয়া এক রিপোর্ট করেছে।

    ৩। পরের সাক্ষাত একেবারে ১৫ জানুয়ারি ২০২৪। বাংলাদেশ-ভারত দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাত; কারণ ওটা ছিল এর আগেই ১১ জানুয়ারিতে শপথ নেয়া নয়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদের সাথে প্রণয় ভার্মার প্রথম সাক্ষাত। কিন্তু সেখানেও কথাবার্তায় মুখ্য বিষয় কী ছিল? সেটাও – কাদেরের “ভারত পাশে ছিল বলেই” .অথবা পিনাকের ভারতের কঠোর অবস্থানের কারণেই ইত্যাদি কোন প্রসঙ্গ ছিল না। এনিয়ে সরকারি বাসসের নিউজের শিরোনাম, দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্যে টাকা-রুপি ব্যবহারের উদ্যোগ প্রশংসনীয় : সৌজন্য সাক্ষাতে এলে প্রণয় ভার্মা’কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী – অর্থাৎ এখানেও এটা কাদের বা পিনাক রঞ্জনের দাবি করা ইস্যু নাই।  এই ইস্যুতে বনিক বার্তার রিপোর্ট এর শিরোনাম দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো গতিশীল হবে -ভারতীয় হাইকমিশনার যার মানে হল ভারত এখানে “উন্নয়ন অংশীদারত্ব” হতে চলে গেছে। কোনই রাজনৈতিক ইস্যু এটা ছিল না। অর্থাৎ প্রণয় ভার্মা খুজে পাচ্ছিলেন না ৭ জানুয়ারির পরে কী নিয়ে বাংলাদেশের সাথে কথা শুরু করলে তা সঠিক হবে।

    ৪।  এরপরেই একেবারে ২৮ জানুয়ারী ২০২৪।
    এদিন থেকেই কাদের ও প্রণয় ভার্মা  উভয়েই কথা মানে কথা বলার ইস্যু – খুঁজে পাওয়া শুরু করতেন।  দেশ রুপান্তর এর শিরোনাম, নির্বাচনের সময় ভারতে আমাদের পাশে জোরালোভাবে দাঁড়িয়েছিল। এরপর কালবেলা এর শিরীনাম –  অবিশ্বাসের দেয়াল ভেঙেছেন দুদেশের প্রধানমন্ত্রী : ওবায়দুল কাদের। এরপর  টিবিএস এর রিপোর্ট-  India stood beside Bangladesh when BNP tried to foil polls with another country’s help: Quader । কেন ডেইলি স্টার এর শিরোনাম – India played its part as ‘honest neighbour’: Quader । এর সোজা মানে হল, কাদের এর আগে জানতেনই না যে  আমাদের কথিত ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে-পরে “ভারত পাশে ছিল বলেই” – কিনা?
    একইভাবে পিনাক রঞ্জনও জানতেন না যে   ভারতের কোন কঠোর অবস্থানের কারণেই ইত্যাদিতে আমেরিকার পিটার হাস পালিয়ে গেছিলেন কিনা!!

    চীন আর চীন-ময়ঃ
    ৭ জানুয়ারি নির্বাচন হয়েছিল। সেই থেকে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন আমাদের মিডিয়া শিরোনামে চীন থেকেছিল।

    ধারাক্রমে সেসব খবরঃ
    ১। ২২ জানুয়ারি বিডিনিউজ চীনা রাষ্ট্রদুত আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালের সাথে দেখা করেছেন সেই রিপোর্ট
    ২। ২২ জানুয়ারি   নয়াদিগন্ত আরেকটা রিপোর্ট নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশিক্ষণের পরিধি বাড়াতে চীনের প্রতি অনুরোধ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

    ৩। ২৫ জানুয়ারি আরেক রিপোর্ট ‘শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রী পুনর্নির্বাচিত হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত ছিলেন শি’ – হাসিনার সাথে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধির সাক্ষাতে। এটা বাসসের রিপোর্ট ছাপিয়েছে যুগান্তর।

    ৪। ২৫ জানুয়ারি আরেক রিপোর্ট বাংলা ট্রিবিউন, চীনের কাছে আরও সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

    ৫। ২৮ জানুয়ারির বনিক বার্তার রিপোর্ট বাংলাদেশ রিজার্ভ সংকটে পড়লে পাশে থাকবে চীন— রাষ্ট্রদূত
    ৬। ২৮ জানুয়ারি আরেক মারাত্মক নিউজ হাসিনার চীন সফরের দাওয়াত নিয়ে, China invites PM Hasina on official visit to Beijing। মজার কথা হল এটা সরকারি রিপোর্ট। মানে বাসসের করা রিপোর্ট যা ছেপেছে ইংলিশ ট্রিবিউন।

    ৬। ৩০ জানুয়ারি বিবিসি বাংলা (এরা বাংলাদেশের ভিতরের রিপোর্ট ছাপতে ছাপতে দেরি করে ফেলে তাই) বাংলাদেশ রিজার্ভ সংকটে পড়লে চীন ‘পাশে থাকবে’ কীভাবে?

    তাহলে সারকথাটা কী দাড়ালোঃ
    মূলকথাটা হল, পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী ডাহা মিথ্যা বলছেন। এর সোজা মানে হল, ৭ জানুয়ারি কথিত নির্বাচনের আগে-পরে ভারতের হুঙ্কারে পিটার হাসের আমেরিকা ভেগে গেছিল – এটা পুরাটাই মিথ্যা দাবি।  বরং ৭ জানুয়ারির আগে ভারত অসহায়ত্ব প্রকাশ করে গেছে, আক্ষেপ করেছে।  আর সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ হল, নির্বাচনের পরের বিশদিন। প্রতিদিনের সংবাদের শিরোনাম হয়ে থেকেছিল চীন। গত ১১১ জানুয়ারি নয়া মন্ত্রীরা আর সংসদ সদস্যরা সকলেই নিজ নিজ শপথ গ্রহণ এবং নয়া মন্ত্রীসভা গঠন সব সম্পন্ন করে ফেলেছিলেন। সেই থেকে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চীন ছিল সব খবরের উপরে আর তা প্রতিদিন!

    কিন্তু হায় ২৮ জানুয়ারি ২০২৪ ছিল জংশন পয়েন্ট।    ঐদিনের পরে আর চীনের সাথে সরকারের কোন সম্পর্ক আলাপ দেখা সাক্ষাতের খবর মিডিয়ায় আর দেখা যায় নাই। মানে এসব ঘটেছে এমন কোন সংবাদ নাই। সোজা কথায় এসব আর ঘটে নাই। বরং একই ২৮ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি ওবায়দুল কাদের সিঙ্গাপুর থেকে ফিরে ঢাকায় প্রণয় ভার্মার সাথে সাক্ষাত করেন। আর এরপর থেকে সব কিছু ঘুরে যায়। মজার কথা হল, ২৮ জানুয়ারি নিয়ে মিডিয়া রিপোর্টগুলো ছোট দুলাইনের। কিন্তু দিনশেষে সরকারি ভাষ্যটা আসে। যেটা সরকার UNB কে দিয়ে প্রকাশ করে। আর এতে মিডিয়ায় প্রাণ আসে। কারণ নাহলে অনুমিত কানাঘুষা শোনা দিয়ে রিপোর্ট হয় না। যেমন এজন্য ডেইলি স্টারের বড় রিপোর্টটা ২৯ জানুয়ারির।
    আর এই সরকারি ভাষ্য থেকেই শুরু হয়েছিল ভারত পাশে ছিল বলেই নির্বাচন নিয়ে কোনো দেশ অশুভ খেলার সাহস পায়নি :। যদিও ২৮ জানুয়ারির পরেই বক্তব্যটা এমন ছিল না। এমন বক্তব্য এসেছে আরো পরে ১৬ মার্চ ২০২৪। আর এর আগের বক্তব্যটা ছিল “India stood beside Bangladesh when BNP tried to foil polls with another country’s help: Quader – এরকম। এটাই ছিল খাটী সরকারি ভাষ্য। কারণ এটা টিবিএস UNB কে সরকারের প্রকাশিত বক্তব্যটাই হুবহু ছেপেছিল।  আর একই UNB এর সরকারী ভাষ্যই তবে অন্য অংশ থেকে তুলে এনে শিরোনাম করেছিল কালবেলা  অবিশ্বাসের দেয়াল ভেঙেছেন দুদেশের প্রধানমন্ত্রী : ওবায়দুল কাদের।
    প্রশ্ন হল, এখানে ২৮ জানুয়ারি কাদের কারকথা বলেছেন যার সাথে হাসিনার অবিশ্বাসের দেওয়াল ছিল??

    উত্তর সহজ। পিনাক রঞ্জন যদি দাবি করতে চান নির্বাচনের আগেই –  “ভারতের কঠোর অবস্থানের কারণেই পিটার হাস বাবাজি ভেগে গেছিল”।  তাহলে এখন ব্যাখ্যা দেক উনি যে কাদের কেন ভারতের সাথে অবিশ্বাসের দেওয়ালের কথা বলছেন? অর্থাৎ অবিশ্বাস যে ছিল এটা তো পরিস্কার। এখানে অবিশ্বাস মানে হল আস্থাহীনতা যে ভারত কিছুই করতে পারলো না! এছাড়া আমরা উপরে দেখলাম ২৮ জানুয়ারির আগে ভারত কোন বোলচাল দাড় করাতেই পারে নাই।
    বরং এরপর ভারতের অজিত দোভাল এসেছেন ৫ ফেব্রুয়ারির আশেপাশের সময়ে। কারনে তার সফর নিয়ে আমাদের সরকার কোন পাবলিক বক্তব্য দেয় নাই। তবে কিছু কিছু পত্রিকায় অনুমিত নিউজ দেখা গেছে যেমন নিউ এজ এরটা – Ajit Doval completes brief visit to Bangladesh – ।
    আর এরপর থেকেই হাসিনা সরকার চীনের হাত ছেড়ে গাট্টিবোচকা নিয়ে ভারতের কোলে উঠা সম্পন্ন করেছিল।

    কিন্তু সাবধান! অনেকেই মনে করবেন হয়ত যে,  বুঝাই যাচ্ছে এরপর থেকেই পিনাক রঞ্জনের কাহিনী শুরু হয়েছে!! তাই কী????

    না সেটাও একেবারেই মিথ্যা।  কারণ এটা কোন পিটার হাসের আমেরিকাকে কোন “ভারতের কঠোর অবস্থানের কারণেই – ছিল না। বরং উলটা হাসিনা সরকারের ভারতের কোলের পক্ষে ভারতের সমর্থন প্রকাশিত হয়েছিল ঐ একই ৫ ফেব্রুয়ারিতে। বাইডেন চিঠি লিখেছিলেন হাসিনাকে যেতা পিটার হাস সরকারকে পৌছে দিয়েছিলেন। অজিত দোভালের সফর আর পরে বাইডেনের আপোষের চিঠি সবটা মিলিয়েই হাসিনা চীন ত্যাগ করেছিলেন।
    আর এখন চান্স মত পিনাক রঞ্জন চাপাবাজির ঝুলি নিয়ে হাজির হয়েছেন – আমেরিকাকে কথিত ধমকদাতা হয়ে!

    আর সেই সাথে , কমপক্ষে গত ১৭ বছর ধরে “ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক” এক মহান অথবা চিরায়ত অথবা আমরা আমরাই তো ইত্যাদি ধরণের অসংখ্যা মিথ্যা আবেগ তুলে বারবার, ভাষ্য খাড়া করে গেছে ভারত; যার সার কথা হল বাংলাদেশ ভারতের সম্পত্তি বা ভারতের কলোনি। ভারতের এই  মনোভাবকে আমাদের কবর দিতে বন্দোবস্ত করতে হবে।
    এককথায়, ভারত আমেরিকার যৌথ উদ্যোগেই  হাসিনা সরকার চীনের হাত ছেড়ে গাট্টিবোচকা নিয়ে ভারতের কোলে উঠা সম্পন্ন করেছিল।  আর এটাকেই পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তীর মত মফস্বলী ভেবেছেন তিনি এখানে ডাহা মিথ্যা এক চাপাবাজি করলেও কেউ বুঝতে পারবে না। তাই ভারতের আমেরিকাকে ধমক দেয়া বা ভারতের কঠোর অবস্থানের কারণেই – বলে ডাহা মিথ্যা গল্প সাজিয়েছেন।

    তবে এসব যাই হোক হাসিনা-মোদি দুই সরকারেরি অনিশ্চয়তা টেনশন ক্রমশ বাড়ছে ভারত খেদাও পরিস্থিতিতে জনমত কী তারা নিজেরাই ডেকে আনলেন? এই ডেকে এনে কী তারা ভুল করলেন?
    বাকিটা আগামিতে……।

     

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    [এই লেখা কোন নিউজ নয়, ব্যক্তির নিজস্ব রাজনৈতিক বিশ্লেষণ মাত্র। ফলে পাঠকের এ’লেখা পড়ে কিছুই বহন করা বা মান্য করার বাধ্যবাধকতা নাই। কেবল জানলেন যে এমন একটা মতামত আছে!]

    আপডেটঃ     মার্চ ২০২৪ ০৭ঃ ১৯   সন্ধ্যা
    আপডেটঃ     মার্চ ২০২৪ ০৮ঃ ১০   রাত