Category: গৌতম দাস

  • তাহলে আওয়ামী লীগ / হাসিনার বিচার ও নিষিদ্ধ কী হচ্ছে? আসন্ন?

    তাহলে কী আওয়ামী লীগ  নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছে আর সাথে হাসিনার বিচার শুরুও কী হচ্ছে? আসন্ন?
    গৌতম দাস
    ০৯ মে ২০২৫     দুপুর ১১ঃ ৫১
    https://wp.me/p1sCvy-6sz

    May be an image of 8 people, dais and text that says 'গণহত্যার দায়ে আ' ''লীগকে বিচারের আওতায় আনা হোক "আওয়ামী লীগকে বিচারের আওতায় আনার দাবি আমরা প্রকাশ্যে করেছি, লিখিতভাবে করেছি, সরকারকে জানিয়েছি। আমরা চাই আওয়ামী লীগকে গণহত্যার মানবতাবিরোধী ধী অপরাধের দায়ে বিচারের আওতায় আনা হোক। এজন্য সংবিধানের ধানের 89 অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইন করা যায় এবং আইন সংশোধন করা যায়। সালাউদ্দিন আহমেদ এপ্রিল ২০২৫ ছেফা জতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের পর। BИP PMERIACEL ΜΕBΙΑ CELL f0ro0d RIRLK'

     

     

    তাহলে আওয়ামী লীগ / হাসিনার বিচার ও নিষিদ্ধ কী হচ্ছে? আসন্ন?

    সালহউদ্দিন আহমেদ, দ্যা বস (above Mirza fokrul) এবং দ্যা ‘র’ – পক্ষ থেকে অথরাইজার; তিনি এক বক্তব্য দিয়েছেন। খাস বক্তব্য ধরে নিচ্ছি কারণ এটা বিএনপির মিডিয়া সেল ফেসবুক পেজ থেকে ছাপানো প্রচার হয়েছে (লিঙ্ক এখানে) আধা ঘন্টা আগে।
    ইদানিং আমি সালহউদ্দিন আহমেদকে দেখে মানে ফেস রিডিংয়ে নিশ্চিত হচ্ছি, মনে ভিন্ন মতলব থাকলে সেটা ফেস বা মুখে প্রতিফলিত হবেই!  বেচারা!!

    কিন্তু এত তাড়াতাড়ি বিএনপি ভচকায়ে যাবে???? তাহলে কীসের ভরসায় জনগণ বিচার করবে বলে  অবস্থান নিয়েছিল? জাস্ট র-এর হুকুম, নির্দেশ? বেচারা তারেক জিয়া ও তার বিএনপি! গতকাল দেখলাম প্রণয় ভার্মা তাকে রবীন্দ্রনাথ গিলিয়েছে একটা বিবৃতি আদায় করে নিয়েছে! যা বিএনপি তাঁর বাবা জিয়াউর রহমানের আমন থেকে কখনই এমন রবীন্দ বয়ান দেয় নাই! দেওয়ার কথাও না! কালকেও প্রণয় ভার্মা রবীন্দ্রনাথের মুখোশ পরে বাংলাদেশের উপর ইন্ডিয়ান আধিপত্য কায়েমের বক্তৃতা দিয়েছে!

    May be an image of 8 people, dais and text that says 'গণহত্যার দায়ে আ' ''লীগকে বিচারের আওতায় আনা হোক "আওয়ামী লীগকে বিচারের আওতায় আনার দাবি আমরা প্রকাশ্যে করেছি, লিখিতভাবে করেছি, সরকারকে জানিয়েছি। আমরা চাই আওয়ামী লীগকে গণহত্যার মানবতাবিরোধী ধী অপরাধের দায়ে বিচারের আওতায় আনা হোক। এজন্য সংবিধানের ধানের 89 অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইন করা যায় এবং আইন সংশোধন করা যায়। সালাউদ্দিন আহমেদ এপ্রিল ২০২৫ ছেফা জতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের পর। BИP PMERIACEL ΜΕBΙΑ CELL f0ro0d RIRLK'

    তাহলে কী দাঁড়ালো? মির্জা আলমগীর সাব?
    আপনার জনগণ বিচার করবে – এই মহান বক্তব্য এখন কোথায়? সবই র-এর খেলা, অনুমোদন! আর আপনারা র-এর হাতের পুতুল!!!!

    এই বুড়া বয়সেও আপনার আক্কেল হল না। আত্মসম্মান? সবই ক্ষমতা আর অর্থের লোভ! এভাবে নিজে অপমানিত হলেন তাতে কী? তাই না? ক্ষমতা তো পাবেনই; তাই ভাবছেন তো? সেটাও পাবেন না। বাংলাদেশের মানুষের চোখে আপনারা নিকৃষ্ট ইন্ডিয়ার দালাল! সেটা কী টের পাচ্ছেন?

    গতরাত থেকেই মুখ্য প্রায় সব ছাত্র সংগঠন ও তাদের সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল ইউনুসের যমুনা বাসা / অফিস এর সামনে অবস্থান নিয়েছে; অন্য অনেক রাজনৈতিক দলও সেখানে উপস্থিত ছিল। আজ সকালে জামায়াতও অন্তত বিএনপি মানে র-এর সাথে পুরানা অবস্থানে থাকে নাই; তারা মিছিল পাঠিয়েছে, মানে সংহতি জানিয়েছে ধরে নিতে পারি।

    কথিত বামপন্থি?
    আসলে যারা বামপন্থার নামে মূলত হিন্দুত্ববাদী ও মোদির ফলোয়ার তারা এখন কী করবে? সিপিবি-বাসদ ঘরানা? আপনাদেরকেও কী র-অনুমোদন দিবে? আনতে পারবেন? না নিজেই নখড়া করবেন?

    একটা সময় আসে যখন ভয়ে সব দালালি / চাটুকারিতা হিন্দুত্ববাদী ভন্ডামি সব কিছুর লেবাস খুলে যায়! সব ন্যাংটা দেখা যায়? সবই খোলা মাঠ!

    সকাল থেকে দেখি প্রথম আলোর সুরও বদলে গিয়েছে!

    তাহলে কী সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ জিন্দাবাদ? তিনি ন্যাংটা হয়ে আমাদের চোখ খুলে দিলেন? ঘটনা লারায় দিলেন?  কিন্তু আমরা তো দেখছি র-এর দালাল গুলাই ন্যাংটা হয়ে ডিগবাজি দিচ্ছে! সত্যি দেখার মত এ-এক   র-অনুমোদিত খেলাধুলা!!!!!

     

    আবার পল্টিঃ
    তিন ঘন্টা যেতে না যেতেই আবার পল্টি!
    তিন ঘন্টা আগে প্রচার করলোঃ
    আমরা চাই আওয়ামী লীগকে গণহত্যার ও মানবট্কাতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিচারের আওতায় আনা হোক!

    6h 
    “আওয়ামী লীগকে বিচারের আওতায় আনার দাবি আমরা প্রকাশ্যে করেছি, লিখিতভাবে করেছি, সরকারকে জানিয়েছি।
    আমরা চাই আওয়ামী লীগকে গণহত্যার ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিচারের আওতায় আনা হোক। এজন্য সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইন করা যায় এবং আইন সংশোধন করা যায়।”

    আর এখন বলতেছেঃ
    আমরা বিএনপি হিসেবে তো, এই সিদ্ধান্ত নেয়ার মালিক নই।

    1h 

    যার সোজা মানে হল, 
    আমরা বিএনপি মোদি বাবার র-এর কাছে তাদের কোলের এক নম্বর পার্টি হয়ে থাকতে চাই।
    May be an image of 3 people and text that says 'ਦ ENIAS GHASN ਆন S আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন ও সরকার নিতে পারে। বিএনপি এই সিদ্ধান্ত নেয়ার মালিক না। -ড. আবদুল মইন খান উ্জ্ারবার, ৯. ২০২৫, যুক্তরা্তরভিিন্তক দা কার্টার সেন্টারের পরতিনিধি দলের সাথে বিএনপির বৈরঠক বৈংক শেষে। •NF MIBIA ELL f08000'

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  , দুপুর ১২ঃ ১৫   ৯ মে  ২০২৫
    শেষ আপডেটঃ  , বিকাল ০৪ঃ ৪৯   ৯ মে  ২০২৫

     

     

  • বার্মা-আরাকান নিয়ে ইন্ডিয়ান প্রপাগান্ডায় মেতে উঠার কিছু নাই

    বার্মা-আরাকান নিয়ে ইন্ডিয়ান প্রপাগান্ডায় মেতে উঠার কিছু নাই
    গৌতম দাস
    ২০ এপ্রিল ২০২৫
    https://wp.me/p1sCvy-6pT

     

    আরাকান আর্মি, bbc থেকে নেওয়া

     

     

    মাতবর-তালেবরে দুনিয়া তো বটেই ফলে বাংলাদেশও ভরে উঠেছে। ঘটনা হল ইউটিউব-কে নিয়ে।
    ইউটিউবকে কীভাবে দেখব?
    ইউটিউব আরেক ধরনের মিডিয়া যেটা সোশাল মিডিয়া; মানে হল যা মেইন স্ট্রিম মিডিয়া নয়।
    যদিও অনেক সময় মেইনস্ট্রিম মিডিয়া ভিডিও ক্লিপ নিউজ বের করে থাকে।

    আসলে মুল ফারাকটা হল, মেইনস্ট্রিম মিডিয়া মানে হল যা জার্নালিজমের নীতি মেনে চলে। কোন জিনিষ নিউজ বা মিডিয়া রিপোর্ট হতে গেলে যে জার্নালিজমের নীতি মেনে চলতেই হয়। এছাড়া নিউজ, ভিউজ বা এনালাইসিস এর ফারাক যে বজায় রাখে ও পাঠক-দর্শককে সতর্ক করে রাখে। নিউজের মধ্যে যে নিজের (রিপোর্টারের) ভিউজ বা মন্তব্য ঢুকিয়ে না দেয়। ইত্যাদি…।  আর সবার উপরে এটা প্রাতিষ্ঠানিক জার্নালিজম হতেই হয়। যেমন সেখানে একজন দায়ীত্ব দেয়া দায়ীত্ববান এডিটর থাকতেই হয়। রিপোর্টার কিছু লিখে দিলেই তা কোন এডিটর পাশ করে দিবেন না। লেখায় লিখিত অক্ষরে যা দেখা যায় তাই সত্যি না; সত্যি বলে দাবি করা যাবে না – এই নীতি মেনে সম্পাদককে কাজ করতে হয়।

    বিপরীতে সোশাল মিডিয়া (মানে ফেসবুক, এক্স বা ইউটিউব ইত্যাদি) যার এসবের বালাই নাই।  এর মূল কারণ, এটা ব্যক্তি যেভাবে সমাজে কথা বলে; পরিচিত ও বন্ধুবান্ধব বা সার্কেলে যেভাবে কথা বলে এটা তাই। মূল কথা সোশাল মিডিয়ায় এসব বক্তব্যকে জার্নালিজমের নিয়মরীতি বা দায় মেনে বলতে হয় না।

    কিন্তু সোশাল মিডিয়ায় অংশ নেয়া অনেক অসচেতন ব্যক্তি দুই মিডিয়ার এই সীমারেখা খেয়ালই রাখেন না। এর উপর লেখায় লিখিত অক্ষরে যা দেখা যায় তাই সত্যি বলে মনে করার অসচেতনতা ও ব্যাধি আছে তাদের!

    আরেকটু পরিস্কার করে বলিঃ এনালাইসিস আর রিপোর্ট এর ফারাক
    ইউটিউবার এর এনালাইসিস বা এনালাইটিক্যাল লেখা যদি হয় তো শোনা যায়, যার যা পছন্দ অনুসারে তা আমরা ফলো করতে পারি, করিও!
    কিন্তু রিপোর্ট? মানে ইউটুবার এর এ নিয়ে “রিপোর্ট”?
    সরি এবার এর বিশ্বাসযোগ্যতা লাগবে, এটা জার্নালিজম হতে হবে ইত্যাদি……; যা ইউটিউবারের থাকে না।
    আর এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মিথ্যা প্রচারের রমরমা কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে ইউটিউব বা ফেসবুক!
    গরীব রাষ্ট্র ইন্ডিয়া সামরিক বা ফাইন্যান্সিয়াল ব্যয় করার সামর্থ নাই এমন ইন্ডিয়ার তাই নানান সোশাল মিডিয়া বা ছুপা (গদি মিডিয়া খুলে) মিডিয়া প্রপাগান্ডায় লিপ্ত হতে দেখা যায়। এটা হল গরীবের ফাইভ স্টার হোটেল যাপনের কল্পনার মত!
    এমন ইন্ডিয়ার কথা মনে রেখে আমাদেরকে মিডিয়া কোনটা কী তা মনে রাখতেই হবে, সচেতনতা থাকতেই হবে!

    সম্প্রতি,
    “মিয়ানমারের রাখাইন বা আরাকান রাজ্যকে ঘিরে ভূ-রাজনীতির এক চক্রের মধ্যে পড়ে গেছে বাংলাদেশের কূটনীতি ?
    পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে অভ্যন্তরীণ, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতির এক গোলক ধাঁধায় পড়ে এ থেকে বের হয়ে সহজ পথ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে। বাংলাদেশের জন্য এই সমস্যার একদিকে আছে আরসা ও রোহিঙ্গারা এবং আরাকান আর্মি ও জান্তা সরকার, অন্যদিকে আছে চার বৈশ্বিক পরাশক্তি। এমন পরিস্থিতিতে ছায়া যুদ্ধ কি আসন্ন” – মোটামুটি এমন সারকথায় এক ব্যাপক প্রপাগান্ডা ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
    এর মাদার প্রপাগান্ডাটা হল, (সাবেক র-অফিসারের সন্তান) চন্দন নন্দীর লেখা। কাজ যোগাড় করতে না পেরে এটাই তার পেশা হয়ে দাড়িয়েছে। তাই তাঁর এক লেখা হল এর মূল মিথ্যা খবরটা।  যার সার মিথ্যা দাবিটা হল, ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশ আর্মি কে দিয়ে বার্মা বা আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে এক প্রক্সি যুদ্ধের পরিকল্পনা নিচ্ছে। আর সেজন্যই নাকি আমেরিকার দুই স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্তা বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন।- এই হল সারকথায় মিথ্যা বক্তব্যটা!

    এদিকে এনিয়ে আপনার মতামত জানতে চেয়ে ইনবক্স করেছে। চুপ ছিলাম সাড়া দিতে চাই নাই।

    আজ এখানে এনিয়ে একটু সাড়া দিচ্ছিঃ
    ১। বটম লাইন হল, ট্রাম্পের নীতি বলছে তারা নতুন করে দুনিয়ার কোন বিবাদে কোন পক্ষের সাথে জড়াবে না যেখানে ট্রাম্প প্রশাসনকে অর্থ ঢালতে হয়।
    কাজেই বার্মায় আরেকটা যুদ্ধের ফ্রন্ট খুলা (মানে অর্থ ঢালা শুরু করা) ট্রাম্পের নীতি-পলিসিই নয়।

    ২। কাজেই আমার কাছে এমন রিপোর্ট (?) এখনও প্রো-ইন্ডিয়ান জল্পনা-কল্পনাই। যার নুন্যতম কোন ফর্মাল বা মেইনস্ট্রিম মিডিয়া রিপোর্ট নাই। আমি দেখি নাই। ইন্ডিয়ার প্রায় সব মিডিয়ায় এখন মোদির অর্থ খাবার জন্য ভিখারি। তবুও এমন রিপোর্ট সেখানে দেখি নাই।
    বাংলাদেশে যারা সফরে এসেছে তাদের কী কোন ফর্মাল বক্তব্য কী কোথাও ছাপা হয়েছে? হদিস নাই……।।

    ৩। সবচেয়ে বিরক্তিকর দুইটা মন্তব্য হল ১। ড. ইউনূসের চীনে গিয়ে ‘যা চান সব দিয়ে দেব’ ধরণের বশ্যতা দেখানো ২।  সর্বশেষ জেনারেল ওয়াকার রাশিয়া সফরের নেপথ্য ঘটনা
    এর প্রথম বাক্যটা হল, ইন্ডিয়ান জলুনি। এমন কোন বক্তব্য ড. ইউনূস চীন সফরে করেন নাই। আমি নিশ্চিত। আসলে এই সাজানো বাণী থেকে বুঝাই যাচ্ছে এটা ইন্ডিয়া সরকার বা র-এর ক্ষোভ বা অসহায়ত্বের ভাষা!
    আর দ্বিতীয় বাক্যে ওয়াকার সাহেব যেখানেই ঘুরতে যান না কেন তিনি বাংলাদেশ আর্মিকে (as a whole) প্রতিনিধিত্ব করে করেন নাই। এভাবে বুঝলে তা সঠিক হবে বলে মনে করি।

    ৪। এবারের ট্রাম্প প্রশাসনের স্টেট ডিপার্টমেন্ট (পররাষ্ট্র) বা পেন্টাগনেরও এমন খায়েশ থাকতেই পারে। কিন্তু তা মানে, তেমন খায়েশ পুরণ করতে হলে যখনই এমন ফাইল হোয়াইট হাউজ বা ট্রাম্পের অফিস টেবিলে এরা পৌছাতে যাবে ট্রাম্প সেসব ফাইলে ডাস্টবিনে ফেলে রেখেদিবেন। এটাই ট্রাম্পের নীতি-পলিসি। এই একই কাজ ট্রাম্প তার আগের (ট্রাম্প-১) প্রশাসনের আমলেও করেছিলেন।
    ৫। যদিও আগের  বাইডেন প্রশাসন “বার্মা এক্ট” বা আরাকান আর্মি তে হাত ঢুকানো ইত্যাদি নিয়ে অনেক কিছু আগিয়ে ছিলেন।  কিন্তু এবারের ট্রাম্প তার অর্থব্যয় কমানোর নীতির কারণে সেসব দিকে আকর্ষণ রাখেন না।
    ৬। একটা বুঝাবুঝির চিহ্ন দিয়ে / জানিয়ে রাখি। যারা পরাশক্তি এই শব্দটা ব্যবহার করে তারা নাদান ইন্ডিয়ান। সোভিয়েত রাষ্ট্রের (১৯৯১) পতন এর পরে “পরাশক্তি” বলে কিছু নাই। এটা সেকালের একটা ভুল শব্দ মাত্র!  আর যারা ইন্ডিয়াকে যারা চার পরাশক্তির একটা ভাবে এরা গাধা; বোধশক্তি-বুদ্ধি প্রতিবন্ধি!!

    কাজেই নুন্যতম মেইনস্ট্রিম নিউজে কিছু না পাওয়া পর্যন্ত; আর তাতে ট্রাম্পের পরিস্কার কোন মনোভাব যাতে প্রতিফলিত; তা না হওয়া পর্যন্ত এসব কিছুকে ইন্ডিয়ান র-এর প্রপাগান্ডার অধিক কিছু ভাবতে পারছি না। সরি!

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com


    সবশেষ আপডেটঃ  ,   এপ্রিল ২০২৫

  • আরএসএস-বিজেপি দ্বন্দ্ব চরমে, বাংলাদেশকে ১৯৭১-এর মত একটি অপারেশন ও হাসিনাকে রক্ষার ব্যর্থতা নিয়ে

    আরএসএস-বিজেপি দ্বন্দ্ব চরমে,
    বাংলাদেশে ১৯৭১-এর মত একটি অপারেশন না চালানো ও হাসিনাকে রক্ষার ব্যর্থতা নিয়ে
    গৌতম দাস
    ০৯ এপ্রিল ২০২৫  দুপুর ০২ঃ ৩২
    https://wp.me/p1sCvy-6oZ

     

     

    শেষাদ্রি চারি [Seshadri Chari] 

    [আরএসএস-বিজেপি দ্বন্দ্ব এনিয়ে আপনাদেরকে আগে ফেসবুকে কিছু ধারণা দিয়েছিলাম। সেটা এখন আরো চরমে উঠেছে। বাংলাদেশের মোদির ইন্ডিয়া হাসিনার পতন ঠেকাতে পারে নাই এমনকি অজিত দোভাল ঠিকমত জানতেও পারে নাই। (আর আমরাও [মানে আমাদের জুনিয়র আর্মি অফিসার সদস্যরা] সেই কাজটাই ভালভাবে করেছিলাম যেন “র”-এই চিত্রটা আমল করতে ব্যর্থ হয়)। আর এতে সবমিলিয়ে হাসিনার উতখাত ও পরিণতিতে মোদির ভারত বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ হারানোতে – এই ইস্যুটাকে এখন বিজেপি সরকার ও মোদির ব্যর্থতা বলে অভিযোগ তুলেছে তাতে আরএসএস-বিজেপি দ্বন্দ্ব টা এক নয়া মাত্রায় চলে যেতে চাইছে। এরই প্রকাশ ঘটেছে আরএসএস নেতা শেষাদ্রি চারি নামের এক নেতা এসব নিয়ে খোলাখুলি দ্যা প্রিন্ট পত্রিকায় এক কলাম লিখেছেন সেখান থেকে এনিয়েই এই রচনা।]

     

    সময়ে ভিডিও এর চেয়েও গদ্যে লিখলে কোন কোন ঘটনায় জমিয়ে আলাপ করা যায়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও রেফারেন্সগুলো পাঠক নিজে দেখে শুনে আরো ফারদার উল্টে-পাল্টে দেখা যায় এমনকি কেউ কেউ যারা আরো গবেষণায় লিপ্ত হতে চায় তাদের কাজ সহজ হয়। তাই আজ প্রথমে এখন লিখে বলব। কিন্তু ইস্যুটা কী?

    এককথায় ইস্যুটার শিরোনাম – “ইউনুস সাবের চীন সফরে” ভারতের জলুনি আর মোদিকে দোষী ঠাউরানোঃ
    কিন্তু তবু এতে শিরোনামে বলা হয় নাই যে এখানে কর্তা কে? মানে –ইন্ডিয়ার জলুনির প্রকাশ আর মোদিকে দোষী বলে রায় দিল কে? তা বলা হয় নাই।
    আর এটাই সবচেয়ে চমকানো তথ্য তা আপনাদেরকে বলব।

    ইন্ডিয়ার জলুনি প্রকাশ আর মোদিকে দোষী বলে রায় দিল আরএসএসঃ
    আরএসএস এর পক্ষ থেকে কে মোদিকে দোষী করল কীভাবে?
    একাজ করেছেন শেষাদ্রী চারি [Seshadri Chari]।  চারি ছিলেন আরএসএস এর এক দলীয় মুখপাত্র পত্রিকা আছে; প্রাচীন পত্রিকা নাম তার “অর্গানাইজার” (হিন্দিতে সংগঠক)।   এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন চারি, এখন নাই। তিনিই প্রায়ই ইন্ডিয়ান (সম্ভবত সর্বশেষ নয়া) প্রভাবশালী ইংরাজী পত্রিকা দ্যা প্রিন্ট [The Print] ; এখানে অনিয়মিতভাবে কলাম লিখেন। সেটা অনেকটা পার্টি আরএসএসের অবস্থানই তা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার না করেই তিনি লিখে থাকেন।  সবাই জানে ও মানে যে এটা আসলে চীনা সরকারী অবস্থানই কিন্তু স্বীকার না করে লেখা ও পরিচালিত চীনা ইংলিশ পত্রিকা [Global Times] যেন।
    এই চারি এবার লিখেছেন যার শিরোনামঃ “Yunus just offered Indian Ocean to China. India must respond to the neighbour’s shenanigans” । বাংলাদেশে “ভিউ- খাওয়া” বা  হাইপ তুলে লাইক খাওয়া যত দৈনিক আছে এরা কেউই এই লেখার মর্ম বুঝে নাই মনে হচ্ছে। তাই সম্ভবত তারা চারির এই লেখা আমল করে নাই। ওদিকে দ্যা প্রন্টের যে ফেসবুক পেজ আছে সেখানে এই লেখার একটা বাংলা অনুবাদ ছাপা হয়েছে পরেরদিন। সেটার লিঙ্ক এখানে দেখতে পারেন।
    তবে চারির লেখা কলামের সারাংশ যা শিরোনামের নিচে লেখা থাকে সেটার অনুবাদ থেকে লেখাটার সারাংশ জানা যায়। সেটার বাংলা ভাব-অনুবাদ করে বললে হয়ঃ ইন্ডিয়ার “প্রতিবেশী সবার আগে” পলিসি মনে হচ্ছে পোতায় গিয়ে পথ হারিয়েছে আর এতে দেখা যাচ্ছে সবচেয়ে নিকট আর দুরের প্রতিবেশীরা চীনের দিকে হেলে পড়তেছে আর এতেই আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্য এলোমেলো প্রভাবে”।
    অর্থাৎ চারি বলতে চাইছেন মোদির অযোগ্যতাতেই ইন্ডিয়ার প্রতিবেশিরা চীন-অভিমুখি হয়ে ছুটছে। যেটা ইন্ডিয়ার দিক থেকে দেখলে আঞ্চলিক ক্ষমতা ভারসাম্য ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে আর চীনের পক্ষে চলে গেছে।

    India’s ‘neighbourhod first’ policy seems to have gone awry
    with most immediate and distant neighbours tilting toward
    China, impacting the regional balance of power.

     

    যার সোজা মানে হল, চারি বা চারির মুখ দিয়ে আরএসএস এবার বিজেপি-মোদিবিরোধী সংগ্রাম অনেক খোলাখুলি আর সামনাসামনি লড়তে চাইছে। এই সার বক্তব্যের একটা বাংলা পেয়েছে ফেসবুকে যেটা আরও মারাত্মক ভাষায়। হিন্দুত্ববাদী আক্রোশে ভর্তি হলেও যে কিছু করতে অক্ষম – এমন ভাষায় লেখা! নিচে দেখেনঃ

    বাংলাদেশের অসহযোগী মনোভাব ও চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কথা বিবেচনা করে ভারতের উচিত বিমসটেক এর সদর দপ্তর ঢাকা থেকে স্থায়ীভাবে সরাতে। একটি চীন-পাকিস্তান-বাংলাদেশ অক্ষ অবশ্যই বিমসটেককে ধ্বংস করবে, যেমন পাকিস্তান-চীন অক্ষ দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক সহযোগিতা সমিতি (সার্ক) কে করেছিল।
    ভারতের ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতি মনে হচ্ছে সবচেয়ে তাৎক্ষণিক এবং দূরবর্তী প্রতিবেশীরা চীনের দিকে ঝুঁকে পড়েছে, যা ক্ষমতার আঞ্চলিক ভারসাম্যকে প্রভাবিত করছে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান, হিন্দুদের বিরুদ্ধে একটি আন্দোলন এবং এখন ইউনূসের এই বিবৃতি সব সরকারের কাছে বিস্ময় হিসাবে এসেছে, একটি গোয়েন্দা ব্যর্থতার প্রস্তাব, অন্তত বলার জন্য। একটি কোর্স সংশোধন সময়মত হবে। একটি শক্তিশালী সামরিক, বিমানবাহিনী, নৌ ও অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে, ভারতকে পূর্ব ও পশ্চিমে প্রতিবেশীদের হিংস্রতার জবাব দিতে হবে, দ্রুত ও সিদ্ধান্তমূলকভাবে, এমনকি যদি এর মানে ১৯৭১-এর মতো একটি অপারেশন হয়। ‘

    বিশেষ করে শেষ কয়েকটা শব্দ দেখেন; যেমন ……“এমনকি যদি এর মানে ১৯৭১-এর মতো একটি অপারেশন হয়”।
    মানে হলো,
    ১। মোদির ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতি অকার্যকর হয়ে গেছে মোদির জন্যই। 
    ২। আমরা ইন্ডিয়ার পাপেট হাসিনাকে উতখাত করেছি সেটা নয়, বরং ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতি ফেল করেছে বলেই আমরা বাংলাদেশ ইন্ডিয়া ফেলে চীন অভিমুখি হয়ে গেছি।
    ৩। আমাদের হাসিনা উতখাত এটা চারির চোখে নাকি একটা – “হিন্দুদের বিরুদ্ধে একটি আন্দোলন” । মনে হচ্ছে চারি লোকটা মাতাল হয়ে গেছে!
    ৪। হাসিনার উতখাত হয়ে যাওয়া আর সেটা মোদির অজিত দোভালের র-এর জানতেই না পারা এটাই চারির চোখে একটি গোয়েন্দা ব্যর্থতা আর এই অভিযোগ তুলের আরএসএস-বিজেপি দ্বন্দ্ব ও যুদ্ধ চরমে উঠেছে।
    ৫। এখন মোদি বা ইন্ডিয়া সরকারকে তাই বাংলাদেশের উপর আক্রমণ চালাতে হবে “১৯৭১-এর মতো একটি অপারেশন” যেন আমাদেরকে একটা উপযুক্ত জবাব দেয়া হয়……

    আরএসএস মানে রাষ্ট্রীয় সমাজসেবক সংঘ; মানে মোদি যেই রাজনৈতিক দলের প্রধানমন্ত্রী সেই বিজেপি দলের উপরের মুরুব্বি সংগঠন হল এই আরএসএস! যার সভাপতি বা (হিন্দিতে)  সর-সঞ্চালক হলেন মোহন ভগত!  কিন্তু এমন বাপ-সন্তান সম্পর্ক সত্বেও আরএসএস-বিজেপি এর দ্বন্দ্ব এখন চরমে শুধু নয় এটা এখন প্রকাশ্যেই। পাঠকের নিশ্চয় মনে আছে পাঁচদিন আগে আরএসএস-বিজেপি এর দ্বন্দ্ব মারাত্মকভাবে প্রকাশিত হয়ে পড়েছিল যখন জানা গেল যে মোদি ৭৫ বছর বয়স পুর্ণ হয়ে যাবার কারণে (মোদির নিজেরই প্রচলন করা নিয়মে) এবার তা মোদির উপরে আরোপিত হচ্ছে আর তিনি সেটা কবুল করতে আরএসএস এর হেডকোয়ার্টার সফরে গিয়ে তিনিই পদত্যাগ ও অবসরে যাচ্ছেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছেন। এই খবর সারা ইন্ডিয়াতে  ছড়িয়ে পড়াতে তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে।
    আর এর পিছনের কথাগুলো,  সংক্ষেপে বললে গত ২০২৪ এপ্রিল-মে এর কেন্দ্রের নির্বাচন আয়োজনকালে আরএসএস-বিজেপি এর দ্বন্দ্ব প্রথম ব্যাপকভাবে গুমড়ে উঠেছিল। কারণ, সবার খেয়াল ও নজরে ছিল যে সেবারের (২০২৪) নির্বাচন শেষে বছর গড়াতেই মোদিকে অবসরে যেতে হবে তাই উত্তরসুরি কে হবেন – সেটাই দুপক্ষের মাথাতেই প্রধান ইস্যুতে ঘুরপাক খাচ্ছিল। এক্ষেত্রে মোদির পছন্দ হল অমিত শাহ (বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক ঠান্ডামাথার খুনী), আর এর বিপরীতে আরএসএসের পছন্দের প্রার্থী হল বর্তমান উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ যোগী (সংক্ষেপে যোগী যিনি চরম মুসলমানবিদ্বেষী ও মুসলমান নিপীড়ক)। ইন্ডিয়ার কেন্দ্রিয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫৪৩ আসনের মধ্যে একা উত্তরপ্রদেশেই ৮০টা আসন; ফলে উত্তরপ্রদেশ খুবই গুরুত্বপুর্ণ। অথচ আগের নির্বাচনের হিসাবে ৭০ এরও বেশি আসন দখলে থাকা বিজেপির ২০২৪ নির্বাচনে সেটা নেমে এসেছিল ৩৩ আসনে। যার পিছনের মূল কারণ উত্তরসুরি কে? অমিত শাহ না যোগী? – এই প্রশ্নে আরএসএস-বিজেপি এর দ্বন্দ্ব চরমে উঠেছিল। এতে এক পর্যায়ে প্রতিটা নির্বাচনে কার অবদান বেশী – আরএসএস না বিজেপির – তা এমন তর্কে গিয়ে ঠেকেছিল আর সেখান থেকেই আরএসএস এর কোন ধরনের সমর্থন ও প্রভাব ছাড়াই সেবার (২০২৪) এর লোকসভা নির্বাচন বিজেপি একাই লড়ে দেখিয়ে দিবে তারা (মানে আরএসএস ছাড়াই বিজেপি) একাই যথেষ্ট – এই কথাটাই ফাইনাল অবস্থান হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। আর পরের (২০২৪) নির্বাচনে আরএসএস একেবারেই নিজেদের প্রত্যাহার করে রেখেছিল, কোথাও অংশ নেয় নাই। [আর এরই বাংলাদেশে প্রতিক্রিয়া ছিল গোবিন্দ প্রামাণিক (যিনি আরএসএসের লোক) আর বিপরীতে রানা দাসগুপ্ত (যিনি মোদি / বিজেপির লোক) এদুজনের আলাদা আলাদা বক্তব্য। গোবিন্দের দাবি ৫ আগষ্টে হাসিনার পলায়নের পরে বাংলাদেশে কোন হিন্দু নির্যাতন ঘটেই নাই; যতটুকু যা হয়েছে তা এরা হাসিনার সঙ্গী প্রকল্পের অর্থ চোর সেও আওয়ামি পরিচয়ের কারণে। আর রানা দাসগুপ্ত মোদির সাথে সুর মিলিয়ে বক্তব্য দেওয়ার পর সেই থেকে দেশ ছাড়া আর নয়তো গভীর আত্মগোপনে।]  আর ওদিকে ইন্ডিয়াতে ঐ আরএসএস-বিজেপি দ্বন্দ্ব থেকেই  ২০২৪ নির্বাচনে বিজেপি জোট হারতে হারতে বেঁচে গিয়েছিল। বিজেপি দল একা সরকার গঠনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা তো পায়ই নাই এমনকি বিজেপি জোট হিসাবে পায় নাই, প্রায় ৩০ আসনের ঘাটতি ছিল। যেটা আরো দুই নগদ পার্টনার দল যোগাড় / কেনাবেচা করে বিজেপি সেই ঐ ঘাটতি পুরণের পরে  মোদি আবার তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হয়ে এখনও সরকার গড়ে আছেন।

    কিন্তু সেই থেকে আরএসএস-বিজেপি দ্বন্দ্ব বাড়ছে তো বাড়ছেই।

    এখান থেকে আমার বলার মূলকথাগুলো কীঃ
    ১। শেষাদ্রি চারি এর এই লেখা হল প্রমাণ যে আরএসএস-বিজেপি দ্বন্দ্ব এমন মারাত্মক জায়গায় চলে গেছে যে এটাই শেষে সম্ভবত ইন্ডিয়াকে ছিন্নভিন্ন করে না ফেলে থামবে না।
    যার সোজা মানে হল, খুব সম্ভবত না বিজেপি না আরএসএস আগামি ইন্ডিয়ান সরকার গড়ার ক্ষেত্রে কোন রাজনৈতিক শক্তি হয়ে থাকতে ব্যার্থ হচ্ছে। এরই সোজা মানে কোন কোয়ালিশন সরকার হয়েও একটা ঠালমাটাল সরকার গড়াই দিন ইন্ডিয়ায় শেষ হয়ে যাবে। যেটা সেই ১৯৯৯ সালের বিজেপির বাজপেয়ির সরকার থেকে কোয়ালিশন সরকারের কালচার গড়ে এতদিন সরকার চলেছে – সেই যুগের সম্ভবত অবসান ঘটতে যাচ্ছে। এটাকে অন্য ভাষায় বলছি ডিস-ইন্টিগ্রেশন বা ভেঙ্গেচুড়ে ফেলা যা নুন্যতম রাজনৈতিক ঐক্য অসম্ভব এমন এই ইন্ডিয়া হয়ে হাজির হওয়া এটা আসন্ন হয়ে উঠার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
    ২। আরএসএস-বিজেপি দ্বন্দ্ব আজ এমন জায়গায় যে গত দশ-বারো বছর কে কী অপরাধ করেছিল আর একে অপরের সেসব অপরাধ লুকায়ে রেখে দিয়েছিল সেগুলো এখন প্রকাশ করে দিবার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ২০১৫ সালে ঢাকার ইন্ডিয়ান এমবেসিতে এক নারী রেপড ও খুন হয়েছিল এর ইতিহাস বলার এই ভিডিও এখন এভেলএবল হয়েছে।
    ৩। মোদির ইন্ডিয়ার সবচেয়ে বড় কুখ্যাতি হল ইসরায়েল রাষ্ট্রের সাথে তার খাতিরদারি – দুই খুনী দানব পরস্পরের খোলাখুলি সঙ্গী। এনিয়ে আলজাজিরাতে প্রকাশিত রিপোর্ট দেখেন যেখানে প্রকাশিত কোন কোন ইন্ডিয়ান অস্ত্র গাজায় নেতানেহায়ু ব্যবহার করেছেন – শিরোনাম দেখেন বুঝবেন –  “India exports rockets, explosives to Israel amid Gaza war, documents reveal“.  আমার অনুমান আরএসএস-বিজেপি দ্বন্দ্ব এর সুযোগে এসব এখন বাইরে সহজেই ন্যাঙ্গটা হয়ে যাচ্ছে। যেগুলো আরো বেশি করে আমাদের প্রচারে নেয়া উচিত।
    ৪। আরএসএস নেতা শেষাদ্রি ইন্ডিয়ান সরকার যেন বাংলাদেশের উপর ১৯৭১ সালের মত আক্রমণ চালায় – এটা দাবি করেছেন। এনিয়ে আমার ছোট কথা হল আমরাও প্রস্তুত। সময়ে ছোট দেশও ইন্ডিয়ার কী ক্ষতি করে ফেলতে পারে দুনিয়া সেই উদাহরণ তাহলে এবার দেখবে!  এটা ঘটলে তা আমাদের জন্য অনেক সুবিধাই নিয়ে আসবে। তাই আমরা এটা দেখতে চাই!!! নুন্যতম কোন ভারতীয় জেনারেলের সাথে আলাপের পরে যেন আরএসএস নেতারা এমন বকোওয়াজ করে; শেষে এই পরামর্শ রাখব।

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com


    আপডেটঃ  দুপুর  ০২ঃ ৫৯,   ০৯ এপ্রিল ২০২৫
    সবশেষ আপডেটঃ  বিকাল ০৫ঃ ১৪,   ০৯ এপ্রিল ২০২৫

     

  • আদিবাসী বলা না বলা – কেন ও কীসের ভিত্তিতে

    আদিবাসী বলা না বলা – কেন ও কীসের ভিত্তিতে
    গৌতম দাস
    ১৮ জানুয়ারি ২০২৫   দুপুর ১২ঃ ০৭
    https://wp.me/p1sCvy-6eQ

     

     

     

    আদিবাসী বলা না বলা

    শুনতে অবাক লাগলেও কথা সত্যি যে দুনিয়াতে নানান রাষ্ট্র মানেই তা একেকটা এথনিক [Ethnic] জাতির নিজ নিজ ভুখন্ডেই গড়ে নেয়া রাষ্ট্র নয়। আজকের আমেরিকার এথনিক জাত অরিজিন মূলত বৃটিশ (সাধারণভাবে ইউরোপীয়) অথচ তারা আমেরিকা মহাদেশ বা নর্থ আমেরিকায় মাইগ্রেটেড হয়ে গিয়ে সেখানে “নিজেদের” রাষ্ট্র কায়েম করেছেন।  আর উলটা বা সবচেয়ে কমন চিত্র হল যেমন এথনিক পুর্ববঙ্গের বাঙালি নিজ ভুখন্ডেই নিজ রাষ্ট্র গড়েছে।
    এথনিক – শব্দ শুনেই ঘাবড়াবার কিছু নাই।   ইংরাজিতে জাত বলতে দুইটা শব্দ আছে race আর ethnic এভাবে দুইটা। যার প্রথমটা মূলত মানুষের ১০ লাখ বছরেরও আগের যাযাবর জীবনকালের সময়ে একেক মানুষের সাথে অপর মানুষের মধ্যে পরিচয় (identity) বৈশিষ্টে যে ভিন্নতা দেখা যেত; সেটাকে ব্যাখ্যা করে।  যেমন,  সেগুলোকে কে কোন জাত-ক্যাটাগরির যেমন গায়ের রঙ কেমন, চুলের বৈশিষ্ট কী ইত্যাদি দিয়ে বিভক্তি-পরিচয় দাঁড় করানো – এভাবে জাত পরিচয় করাটাকে ইংরাজিতে RACE বা রেস অর্থে জাতি পরিচয় বুঝায়। যেমন আরেক বিভক্তি-চিহ্ন, দুনিয়ার প্রতিটা রেস অর্থে জাতির রক্তের ডিএনএ বৈশিষ্ট আলাদা।
    আর পরেরটা বা অন্য জাতি ধারণাটা হল, এথনিক অর্থে জাতি। এটা মূলত যখন মানুষের যাযাবর বৈশিষ্টের জীবনযাপন এর সুদীর্ঘ মিলিয়ন বছরকালের পরে এর বদলে কৃষিকাজভিত্তিক যে জীবনযাপন শুরু হয়ে গেছিল সেই কালপর্ব সম্পর্কিত হল এথনিক জাতি।  মোটামুটি ছয় হাজার বছর আগে শুরু হয়েছিল এই বৈশিষ্টের জীবন যাপন। আর যার প্রধান বৈশিষ্ট হল যাযাবর-গিরি ছেড়ে ভুমিতে থিতু হয়ে বসবাস; মানে, চাষবাস শিখে ফেলার পরের মানুষ-জীবন। কৃষিকাজভিত্তিক  জীবনযাপনের শুরু, এখান থেকে এথনিক জাত ধারণা মানুষের আবির্ভাব। আমরা কী খাই, কেমনে রেঁধে খাই, কী কালচার, ধর্মবোধ ও পালন ইত্যাদি সব এর অন্তর্ভুক্ত বৈশিষ্ট।  অন্যভাষায় এটাকে আমরা সিভিলাইজেশন এর শুরুও বলি। যেমন আমরা সিন্ধু সভ্যতা (Indus-Valley Civilization) এর অংশ; সেখান থেকে একটা উপ-বিভাগ ‘বাঙালি’; সেই “বাঙালি” এথনিক জাতির অংশ। বাঙালি আমাদের এথনিক জাতিগত নাম।  এবং আমাদের রাষ্ট্র হিসাবে যা পুর্ববঙ্গের বাঙালি সংখ্যাগরিষ্ট; যার এখনকার নাম বাংলাদেশ। আবার রাষ্ট্রগঠনের বিচারে এর ভিতরে অনেক ভিন্ন ভিন্ন এথনিক জনগোষ্ঠি যেমন বাঙালি হিন্দু, বাঙালি মুসলমান এবং অনেক ছোট ছোট মঙ্গোলয়েড [Mongoloid] এথনিক অরিজিনের মানুষ আছে। সাধারণ বিচারে আমরা সবাই সমতলভুমিতে বসবাসকারী অর্থে সমতলি। তবে মঙ্গোলয়েড [Mongoloid] এথনিক অরিজিনের মানুষদের একটা অংশ সমতলি নয় তুলনামূলক তারা পাহাড়ে বাস করে বলে অনেকে তাদের পাহাড়ী বলে থাকে। এরা অন্তত ১৯৯৭ সালের পরে নিজেরাই নিজেদেরকে পাহাড়ী বলেও ডেকেছে।
    রাষ্ট্র মূলত রাজনৈতিক বিচারে ভিত্তিতে গঠন হয় বলে ( মানে কেবল এথনিক বিচারেই নয়) এথনিক সহ আমাদের মধ্যে অন্য যতই ভিন্নতা যাই থাক, একই রাষ্ট্রের ভিতরের আমরা সবাই সম-মর্যাদার ও সম-অধিকারের নাগরিক।

    সবার আগে একটা সাবধানবাণীঃ
    এই আলোচনায় মানুষ যেই এথনিক বা রেসিয়াল [racial] অরিজিনের হোক না কেন কাউকেই কারো চেয়ে উঁচা-নিচা দেখা বা দেখানো যাবে না। ভাবা যাবে না। এটা বড় অপরাধ হবে। এই ভাবনাটা মনের পিছনে সবসময় জাগিয়ে রেখে, জীবন্ত রেখে তাই এই আলোচনাটা পড়তে হবে। এতে অনেক কিছুই ঠিকঠাক বুঝা হবে।

    অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, মঙ্গোলয়েড বলতে তারা প্রধানত পাহাড়ে বা উচু ভুমিতে যাদের শুরুর বসবাস; যদিও লম্বা কালপর্বে তারা ক্রমশ সমতলের দিকে ছড়িয়ে পড়েছিল, এরকম! মঙ্গোলয়েড ধারণাটা যত না ethonic পরিচয় ঘটিত এর চেয়ে এটা রেসিয়াল [racial] বিচার-বৈশিষ্ঠের এক পরিচয়। আসলে এটা কোন ভুগোলে (সমতলে না পাহাড়ে এভাবে কোন ভৌগলিক অবস্থানে) বাস করে সেটাই প্রধান করে দেখে একটা বিচার-বৈশিষ্ট। অক্সফোর্ড ভাষার ডেফিনেশন অনুসারে, এটা – “relating to the broad division of humankind including the indigenous peoples of East Asia, SE Asia, and the Arctic region of North America.”।

    এখানে এই আলোচনাটা শুরু করেছি যেখান থেকে,  সেটা ঠিক এথনিক বা রেসিয়াল অরিজিনের বিচার প্রসঙ্গে না; বরং এর চেয়েও কে কোথায় এই একালে (মানে ১৬০০ সালের পরে) রাষ্ট্র গড়েছে – রাষ্ট্র পত্তন করেছে – সেদিকে ফোকাস রেখে। মানে নিজ এথনিক ভুমিতে  সে রাষ্ট্র গড়েছে তা হ্যা কিংবা না এমন কিনা – এদিকে ফোকাস করে।

    আরেক ধরনের রাষ্ট্র পত্তন; মাস মাইগ্রেশনঃ
    এবার আরেক ধরনের রাষ্ট্র পত্তন বা গড়ার দিকে যাব। এর মূল বৈশিষ্ট হল এরা নিজ এথনিক ভুমির থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে পরিকল্পিত স্থানান্তর [মাইগ্রেশন বা migration] করে অন্য এথনিক জনগোষ্ঠির দেশে নিজ রাষ্ট্র গড়ে নিয়েছিল। এধরণের এখনকার সবচেয়ে ভাল উদাহরণ হল, আমেরিকা, কানাডা, অষ্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ইত্যাদি  রাষ্ট্র!
    যারা সকলেই পুরা লট ধরে এথনিক ইউরোপের বাসিন্দা যার আবার সংখ্যাগরিষ্ট অংশটাই বৃটিশ অরিজিন পরে অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের যারা এতে অংশ নিয়েছিল। ঐতিহাসিক নথিপত্র বলছে, বৃটিশ কোম্পানির জাহাজ ১৬০৭ সালে সর্বপ্রথম নর্থ আমেরিকা মানে এখন যেটা ইউএসএ এর এক অঙ্গরাজ্য ভার্জিনিয়াতে জাহাজ ভর্তি বৃটিশ গরীব কৃষক নিয়ে ল্যান্ড করেছিল। কৃষকদের বলা হয়েছিল মাঙনা আমেরিকায় তাদের নেয়া হবে, প্রচুর চাষাবাদের জমি দেয়া হবে সাথে চাষাবাদি-জীবনযাপনে্র জন্য শুরুর অর্থও দেওয়া হবে। অর্থাৎ উদ্দেশ্য পরিকল্পিত এক এথনিক মাইগ্রেশন।  মাইগ্রেশন এর বাংলা উদ্বাস্তু হলেও এখানে ব্যাপারটা উলটা। মাস (গণ) মাইগ্রেশনের লোকেরা এখন আমেরিকার নায়ক শুধু না, সারা দুনিয়ার নায়ক হয়ে থাকছিল যার প্রভাবই এখনও প্রবল!
    এখানে উভয় পক্ষ মানে, এই মাইগ্রশনে যে নিয়ে যাবার আয়োজন-খরচ করেছে আর যাকে (কৃষক) নিয়ে গেছে উভয়েই মূলত একই এথনিকগোষ্ঠি – বৃটিশ। কিন্তু উভয়ের আসল সম্পর্ক টা ঠিক এথনিক পরিচয়ের নয়। বরং এদুইয়ের বৃটিশ একপক্ষ (সংখ্যায় কম) অন্যের ভুখন্ড-জমিতে হয়েছে কলোনিদখলদার আর অন্য বৃটিশ পক্ষ হল যাদেরকে জাহাজ ভরে ঐ দখলি ভুমিতে নিয়ে ফেলা হয়েছে যাতে তারা চাষাবাদের দখলি জমিতে “প্রজা” হতে পারে!

    তাহলে ১৭৭৬ সালে আমেরিকান স্বাধীনতা, স্বাধীন রাষ্ট্র এসব কথার অর্থ কী?
    এর সোজা অর্থ হল, আমেরিকায় চাষাবাদের জমি দখলদার আর চাষাবাদের জমির প্রজা উভয়ের যারা এথনিকভাবে বৃটিশ তাদের দুই অংশের মধ্যে (প্রায় দেড়শ বছর পরে) পরস্পরের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু হয়েছিল। আর পরিণতিতে চাষাবাদের প্রজাদের বিজয় ঘটেছিল। আর এটাই ১৭৭৬ সালের স্বাধীন আমেরিকা! অর্থাৎ বৃটিশ বা ইউরোপীয় এথনিক অরিজিনের প্রজা কৃষকদের বিজয়-টাকে আমেরিকান স্বাধীনতা বলে আমরা জানি।
    [এই রচনা লিখার সময়ে তা সংক্ষেপ রাখার জন্য অনেক কিছুই বিস্তারে বলি নাই; অবশ্য তা আমার অন্য প্রসঙ্গের লেখায় আছে সেগুলো এড়িয়ে মূল প্রসঙ্গে চলে গেছি।]

    তাহলে স্থানীয় এথনিক – কথিত রেড ইন্ডিয়ান যারা – এরা কোথায় গেলো?
    সেটা বুঝতে গেলে, এই মাইগ্রেশন প্যাটার্ণটা বুঝতে হবে। জাহাজগুলো হবু প্রজাদের দখলিভুমিতে খালাস করে দিবার পরে প্রজারা স্থানীয় জমি বাছাবাছি আর বাড়িঘর স্থাপন চাষাবাদ ইত্যাদি করতে শুরুতে মনোযোগী হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয়রা (যাদেরকে কলোনিদখলদারদের ভাষায় দেয়া নাম রেড ইন্ডিয়ান) যেসব জমিতে আগেই বসবাস করছিল সেগুলা তো সব পরীক্ষিত চাষাবাদের [arable land] জমি। ফলে স্বভাবতই মাইগ্রেন্ট প্রজাদেরকে স্থানীয় রেড ইন্ডিয়ানদের সাথে রক্তক্ষয়ী মারামারিতে জড়িত হতে হয়েছিল, এতে অস্ত্র অবিকশিত বলে স্থানীয়দের পরাজয় ও ফলাফলে আপোষে স্থানীয়রা তাদেরকেই আরো গহীন বনাঞ্চলের দিকে সরে গিয়ে বসতি স্থাপন করা – এটাই ঘটেছিল। আর এটাই এখনকার কানাডা-আমেরিকার অতীত, পিছনকালের মুখ্য বৈশিষ্ট।

    আমরা এখন নর্থ আমেরিকা থেকে ল্যাটিন আমেরিকার দিকে যাব। এগুলো আবার বৃটিশ বা ফ্রেঞ্চ এরা নয় এই পুরা অঞ্চল্টাই স্প্যানিশ নয়ত পর্তুগীজ কলোনি দখলে চলে যায়, প্রায় পাশাপাশিই তবে বৃটিশদের থেকে কিছুটা আগে ১৪৯৩ সালে ক্যারিবীয় দ্বীপগুলো স্পানিশ কলোনি হবার মধ্য দিয়ে এটা শুরু হয়েছিল। যদিও একটা বড় ফারাক আছে এখানে, আসছি সেদিকে।

    বামপন্থিদের কল্যাণে আমরা কলোনি-সম্পর্কিত বিষয় খুব ভাল বুঝি বলে ধারণা আছে; যদিও কথা সত্য না। প্রধানত বৃটিশ সাথে সারা ইউরোপ যখন ব্যাপক কলোনি দখলে মেতে উঠেছিল এর শুরু বলেছি ১৬০৭ সাল। আর একই বৃটিশেরা অবিভক্ত-ইন্ডিয়াকেও কলোনি করার শুরু ১৭৫৭ সাল। মানে, প্রায় দেড়শ বছর পরে।

    তাহলে অবিভক্ত-ইন্ডিয়া কলোনিদখল হয়ে যাওয়া আর নর্থ আমেরিকার কলোনি হওয়া এদুইয়ের মধ্যে কী কোন ফারাক আছে?
    হা আছে। আর এটা খুবই গুরুত্বপুর্ণ ও প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন। এককথায় মূল ফারাক জাহাজ ভরে হবু-প্রজা নিয়ে যাওয়া! – এই ঘটনা-চিহ্ন বৃটিশেরা ইন্ডিয়া দখলের কালে জাহাজ ভরে বৃটিশ- কৃষক বা হবু প্রজা সাথে আনে নাই। অর্থাত নর্থ আমেরিকার ক্ষেত্রে ছিল কলোনিদখল ও মাইগ্রেশন দুটাই একসাথে। আর বৃটিশ-ইন্ডিয়া ছিল কেবল কলোনিদখল।
    এসবের সোজা মানে হল, আমেরিকা, কানাডা, অষ্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ইত্যাদি এরা হল কলোনিদখল ও মাইগ্রেশন দুটাই একসাথে ঘটাবার আদর্শ উদাহরণ। আর স্থানীয় ট্রাইবাল জনগোষ্ঠিকে মেরে কেটে এরা একদম প্রান্তিক মানুষ করে দেয়া হয়েছিল শুধু তাই না তারা মাইগ্রেটেড দখলদারদের গড়া শহরের কেউ না; অস্তিত্ববিহীন এমন করে রেখে দিয়েছিল।

    এদিকে ল্যাটিন আমেরিকা এটা নিজেই সুনির্দিষ্ট কিছুটা আরেকটা ধরনের। যেমন এটা মূলত বৃটিশ-ইন্ডিয়ার মতই; মানে, জাহাজভরা মাইগ্রেশন আনা নয়, কেবল কলোনিদখল। কিন্তু সমস্যা আরেকটা এবং বড় সমস্যা। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আবার দুইটা ধরণ।  এর একদল যারা আমাদের বৃটিশ-ইন্ডিয়ার চোখে নেটিভ এই অর্থে যে স্থানীয় আর যাদের সাথে ছিল বৃটিশদের উঠা-বসা আর উচা-নিচা বজায় রেখেই একই শহরে বসবাস ছিল এরাই নেটিভ তেমন। কিন্তু এর বাইরেও এক বিরাট ট্রাইব জনগোষ্ঠি এবং ততোধিক বনাঞ্চল ও বনাঞ্চলের বাসিন্দা থেকে গেছিল। যারা ঠিক বৃটিশদের বেলায় স্থানীয় নেটিভ বলতে যা বুঝায় ঠিক তা্রা নয়। আর বনাঞ্চলের বাসিন্দা হলেও সংখ্যায় তারা বিরাট!

    আসলে ঘটনা আরেকটু খুলে বলতে হবে। ঘটনাটা হল, আগে বলেছিলামঃ আমেরিকা, কানাডা, অষ্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ইত্যাদি এরা শুধু কলোনিদখল ও মাইগ্রেশন দুটাই একসাথে ঘটাবার আদর্শ উদাহরণই নয়। এরা স্থানীয় ট্রাইবাল জনগোষ্ঠিকে মেরে কেটে এরা একদম প্রান্তিক মানুষ শুধু না তারা মাইগ্রেটেড দখলদারদের গড়া শহরের কেউ না; অস্তিত্ববিহীন করে রেখে দিয়েছিল।
    এর বাইরেও আরো ঘটনা আছে। আর এবার পুরা ঘটনায় শুধু উপরের চার দেশ নয় সাথে ল্যাটিন আমেরিকাকেও সামিল করে বুঝতে হবে। সেই তথ্যটা হল, মাইগ্রেন্টেরা শুধু স্থানিয় রেড ইন্ডিয়ান টাইপের লোকেদের বসতভিটা চাষাবাদের ভাল ও তৈরি জমিই দখল নিয়ে নিয়েছিল তাই না দ্বিতীয় পর্বে তা আরো ব্যাপক হয়েছিল। একটা আগে বলেছি যে তাতে স্থানীয় ট্রাইবাল জনগোষ্ঠিকে আরো প্রান্তিক এলাকায় বনাঞ্চলের গহীনে ঠেলে দিয়েছিল।

    আর এবার দ্বিতীয় পর্বের উচ্ছেদের কথা শুনেন। দু-চারশ বছর পরে কলোনি মাইগ্রেন্টরাই (আমেরিকার মত) রাষ্ট্র বানায় ফেললে এরপর তাদের চোখ পড়ে যে আরো গহীন বনাঞ্চলের মাটির নিচের সম্পদের (তেল বা খনিজ) প্রতি। ফলে একারণে এবার গহীন বনাঞ্চল দখল ও এক্সপ্লোর বা খোড়াখুড়ি করা অঞ্চলের লোভে এবার তারা আবার আরেক ব্যাপক উচ্ছেদ ঘটিয়েছিল।

    এবার আমাদের মূল প্রসঙ্গঃ
    গহীন বনাঞ্চলের মাটির নিচের সম্পদের (তেল বা খনিজ) খোঁজে দ্বিতীয় উচ্ছেদ থেকেই এর পালটা ব্যাপক প্রতিক্রিয়াটাই হয়ে উঠেছিল  গ্লোবাল হয়ে। কারণ ততদিনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে জাতিসংঘ (১৯৪৫) গঠিত হয়ে গেছে।
    তাই মোটামুটি ১৯৫৫ সালের পর থেকেই এমন উচ্ছেদের বিরুদ্ধে কী করা যায় তা জাতিসংঘের আলোচনায় আসতে থাকে। আসলে ল্যাটিন আমেরিকার ক্ষেত্রে সেখানকার ঘটনায় এর প্রতিক্রিয়া হয়েছিল সবচেয়ে বেশি। আর এই প্রসঙ্গটা জাতিসংঘের বিভিন্ন ফোরামে উঠতে থাকে।

    ওদিকে জাতিসংঘের আরেক আভ্যন্তরীণ গঠন সমস্যা ছিল – হিউম্যান রাইট ইস্যুতে। সমস্যার উতস হল, কমিউনিস্ট সদস্য রাষ্ট্রগুলো “হিউম্যান রাইট” মানে না’; এটা তাদের ইস্যু বা তাদের রাষ্ট্রের ইস্যু মনে করে না তারা এই যুক্তিতে। যদিও কমিউনিস্টদেরকেও সাথে নিয়েই তো রুজভেল্ট জাতিসংঘ গড়ে তুলেছিলেন এবং এছাড়াও ১৯৪৮ সালে ইউএন হিউম্যান রাইট চার্টার ঘোষিত হয়েছিল।  তাই এমন বাস্তবতায়  কলোনিদখল ও মাইগ্রেশন ইস্যুতে হাত দিবার আগেই জাতিসংঘ কমিউনিস্ট- ডিফারেন্স যতটা সম্ভব কমানো মানে মেরামত ও কমিয়ে আনতে  উদ্যোগ নিতে হয়েছিল।  সেসব বিস্তারিত দিকে এখানে যাচ্ছি না। তাই প্রতিক্রিয়া আনতে জাতিসংঘের দেরি হয়েছিল।
    এবার এক ঝটকায় বলে দেই অবশেষে ২০০৭ সালে জাতিসংঘের  United Nations Declaration on the Rights of Indigenous Peoples – ঘোষিত হয়েছিল; আর সেটা হয়েছিল অধিকারের দিক থেকে বা বলা যায় ১৯৪৮ সালের হিউম্যান রাইট চার্টারের মত করে। যার মূল উদ্দেশ্য ছিল, কলোনিদখল ও মাইগ্রেশন এককালের এদুই ঘটনা ও এর প্রেক্ষিতে দ্বিতীয় পর্যায়ের  ট্রাইবাল জনগোষ্ঠিকে আরেক উচ্ছেদের হাত থেকে রক্ষা করা।

    এখন যারা আরও বিস্তারে যেতে বুঝতে চান আমি মূল ঘোষণাটার লিঙ্ক দিয়ে রেখেছি উপরে সেখান থেকে দেখে নিতে পারেন। এখন আমি এখানে নিচে কেবল মূলকথাটা নিজ ভাষায় তুলে ধরব।
    উপরের ঘোষণার শিরোনামের মধ্যেই বলা আছে এটা Rights of Indigenous Peoples – বা ইন্ডিজিনিয়াস জনগণের অধিকার সংক্রান্ত ঘোষণা। ফলে প্রথম সমস্যা হল,  ইন্ডিজিনিয়াস [Indigenous] কাদেরকে গণ্য করা হবে। এই Indigenous এর বাংলা অনেকে করেছেন আদিবাসী। অনেকে ভুমিপুত্র ইত্যাদি এমন কিছুওও অনেকে করে থাকেন। বাংলাদেশে চাতুরিটা এখান থেকেই।

    এখানে খেয়াল রাখতে হবে এই Indigenous শব্দটা এসেছে মাইগ্রেশন এর বিপরীত শব্দ হিসাবে – কিন্তু আমেরিকান মাইগ্রেশন সমস্যার প্রেক্ষিতে। কিন্তু বাংলাদেশে এই আমেরিকান মহাদেশীয় কলোনিদখল ও মাইগ্রেশন  – এই বিশেষ প্রেক্ষিত থেকে আলাদা করে আনা হয়েছে। 
    মানে ইউরোপীয়  কলোনিদখল ও মাইগ্রেশন এদুইটা একসাথে চলার কালে যারা সারা আমেরিকাতে (বা এমন ভুখন্ডে) ইউরোপীয় এথনিক মাইগ্রশন যেটা হয়েছিল সেই সাপেক্ষে এই ইন্ডিজিনিয়াস রাইটের সুত্রপাত হলেও বাংলাদেশের পাহাড়িরা আকমেরিকান প্রেক্ষিত ফেলে দিয়েই এটা বাংলাদেশে প্রয়োগ করতে চায়। আবার শুধু কোন ভুখন্ডের আগের বাসিন্দা কারা ছিল সেটা বুঝাতেই এই Indigenous বা যা থেকে বাংলায় আদিবাসী অর্থ করেছেন অনেক।

     

    এখন আমাদের পাহাড়ি জনগোষ্ঠির দাবি তাদেরকে সরকারীভাবে তাদেরকে আদিবাসী বলে পরিচয়ে ডাকতে হবে।
    কিন্তু কেন এমনটা হল? আর তাদের এই দাবি কবে থেকে?

     

    কিন্তু বাংলাদেশে পাহাড়ি জনগোষ্ঠি এই Indigenous অর্থে নিজেদের আদিবাসী বলে দাবি করা শুরু করেছে।  যেখানে ঠিক যেমন এখনকার নর্থ বা আমেরিকা রাষ্ট্রে ইউরোপীয় এথনিক অরিজিনের সাদা আমেরিকান দেরকে  সহজেই  স্বীকার করতেই হবে যে তারা আমেরিকায় Indigenous বলে কেউ নয়।  Indigenous বলতে যে কোন সাদা আমেরিকানকে স্বীকার করতেই হবে যে Indigenous হল একমাত্র রেড ইন্ডিয়ানেরা। কিন্তু এই অবস্থাটা কী বাংলাদেশেও?

    অর্থাৎ জাতিসংঘের Indigenous রাইট ঘোষণা টা যে অর্থে সাদা আমেরিকানেরাও নিজেদের Indigenous মনে করার সুযোগ নাই। কিন্তু সেই একই অর্থে বাংলাদেশের পাহাড়িরা কী Indigenous বা আদিবাসী? কোনভাবেই না। কারণ, বাঙালিরা নিজ এই ভুখন্ডে মাইগ্রেন্ট নয়।  আর সবচেয়ে বড় কথা ইউএন এর Indigenous রাইট ঘোষণা টা যে অর্থে সেই অর্থে বাংলাদেশে না পাহাড়িরা রেড ইন্ডিয়ানদের মত আদিবাসী, না বাঙালিরা সাদা আমেরিকানদের মত ইউরোপীয়ান মাইগ্রেন্ট! 
    অথচ বাংলাদেশে পাহাড়ি জনগোষ্ঠি নিজেদেরকে এই Indigenous অর্থে নিজেদের আদিবাসী দাবি মানে হল আমরা যেন মাইগ্রেন্ট – মাইগ্রেশন করে বাংলাদেশে এসেছি আর পাহাড়িরা হল এর আদিবাসী বা ভুমিপুত্র!!!!!

     

    বাংলাদেশে না পাহাড়িরা রেড ইন্ডিয়ানদের মত আদিবাসী, না বাঙালিরা সাদা আমেরিকানদের মত ইউরোপীয়ান বা কোন মাইগ্রেন্ট! 

     

    কিন্তু সাবধান, সবচেয়ে রহস্যময় জায়গা হল,  পাহাড়িরা তাদেরকে আদিবাসী মানে Indigenous বলে ঘোষণা দিতে বাংলাদেশ সরকারের কাছেই দাবি জানাচ্ছে কেন?
    কারণ, কে Indigenous  এনিয়ে জাতিসংঘের স্বীকৃত কোন সংজ্ঞা নাই। তাই বাংলাদেশ সরকার নিজেই যদি পাহাড়িদের Indigenous জনগোষ্ঠি বলে স্বীকার করে নেয় তবে পাহাড়িরা এবার জাতিসংঘকে তারা আদিবাসী (রেড ইন্ডিয়ানদের মত) সার্টিফিকেট দেখায় কাজটা সহজ করে নিতে পারবে;  ফলে তাদের দাবি বাস্তবায়ন করতে পাহাড়িরা এরপর জাতিসংঘের কাছে দাবি জানাবে সংজ্ঞার সমস্যা মিটে গেছে। তাই  সারা বাংলাদেশ বা এর কোন ভুখন্ড পাহাড়িদের রাষ্ট-ভুখন্ড বলে  (জাতিসংঘ মিশন বসিয়ে) তা বুঝিয়ে দিয়ে যাবে। এই হল পাহাড়িদের মনোবাসনা। কিন্তু বাঙালি এথনিক গোষ্ঠি তারা কেন নিজেদেরকে বাংলাদেশের রেড ইন্ডিয়ান যেনবা তা কেন সাজাবে এর কোন ব্যাখ্যা কারো কাছে নাই!

    সেকারণেই হাসিনা সরকার এসব “ষড়যন্ত্র” থেকে দূরে থাকতে ২০১০ সাল থেকেই (দীপুমনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমল) আদিবাসী বলা যাবে না বলে ইন্টারনাল নির্দেশ জারি করে জাতিসংঘের বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি পর্যন্ত।  যদিও ১৯৯৭ সাল থেকেই জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যাবে বলে সন্তু লারমা এন্ড গং দের পক্ষে এলাইন হয়ে থাকার নীতি চালিয়ে গেছে। আর এই ষড়যন্ত্র বাংলাদেশে এনেছে কথিত রাজা দেবাশীষ লন্ডনে ব্যারিস্টারি পড়তে গিয়ে জেনেছিলেন সেখানকার কিছু ষড়যন্ত্রকারি যাদের বাইরের পরিচয় তারা নাকি মানবাধিকার উকিল!

    কেন ষড়যন্ত্র বলছিঃ
    স্বাধীন বাংলাদেশে হবার পরের থেকে যদি ধরি পাহাড়িরা ইন্ডিয়ানদের কবলে পড়েছে তাদের হাতের পুতুল হয়েছে কমপক্ষে সেই ১৯৭৫ সাল থেকে। শেখ মুজিবের খুনের পরে  ইন্দিরা গান্ধীই শেখ মুজিবের ভুল [তোরা বাঙালি হয়ে যা] ও সৃষ্ট জটিলতাকে ব্যবহার করে পাহাড়িদেরকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলেছিল যা এখনও ইন্ডিয়া ব্যবহার করে চলেছে। আর রাষ্ট্র আর কলোনিদখলের ইতিহাস না জেনে যা কিছুই ইন্ডিয়ান অবস্থান তা নিশ্চয় প্রগতিশীল এই বুঝ থেকে প্রগতিশীলেরা  Indigenous বা আদিবাসী দাবির পক্ষে।  ফলে জেনে না জেনে কথিত প্রগতিশীলেরা এর পক্ষে! যদিও এদের  নেতারা (বিশ্ব শিক্ষক, এনজিও মালিকেরা) কিন্তু জেনেশুনেই ইন্ডিয়ানদের হাতিয়ার এজেন্ট! এরা এখনকার বাংলাদেশে ইন্ডিয়ান আধিপত্য ফিরিয়ে আনা চক্রে অংশ নিয়েছে। ইউনুস সরকারকে ক্রমাগত ডিস্টার্বেন্সের মধ্যে রাখা যার প্রধান উদ্দেশ্য!   আর সাধারণভাবে ইন্ডিয়ার উদ্দেশ্য হল, পাহাড়িরা যেকোন কিছুতে (অস্ত্র-অর্থ সবধরণের) সাপোর্ট করে বাংলাদেশকে বিব্রত করা। ইন্ডিয়ার অনুমান এটা করলে তা ভারতের নর্থ-ইস্ট সামলাতে মাইলেজ পাবে।  অনেক সময় বিনিময় মুল্যও এতে পারে ইত্যাদি!
    মজার কথা হল আজ TIB এর দাবি করেছে Indigenous বা আদিবাসী দাবি না মানাটা নাকি কর্তৃত্ববাদী সরকারের কাজ।

    এমনটা অবশ্য বেশির ভাগ অথাকথিত উদার মানুষের ধারণা, আদিবাসী বলার দাবি এটা যেন বাচ্চাদের চকলেট চাওয়ার কোন আবদার  মানে, – “দিয়ে দাও না, দিলে কী হয়” ধরনের ধারণা।  মানে হল জাতিসংঘের এপ্রসঙ্গে (Indigenous) ও কোন প্রেক্ষিত পটভুমিতে এই ঘোষণা সে  সম্পর্কে তারা ওয়াকিবহাল তা মনে হয় না।  অথবা কেন আমাদের পাহাড়িরা আদিবাসী সরকারী স্বীকৃতি চাচ্ছে তা এরা জানতেীদের কোন কৌতুহলও নাই। সবই উদারতা যেন দিয়ে দেও না কী হয়। অথচ (কর্মিরা না জানলেও) এর নেতারা সকলের জেনেশুনেই ইন্ডিইয়ার এজেন্ডায় দালালিতে।   ফলে এরা বিশেষ করে এই সময়ে এরা জেনে না জেনে কার্যত ইন্ডিয়ান খেদমতগার হয়ে চলছে।
    আবার ১৫ লাখের আশেপাশের এই ভুখন্ড (আমাদের একটা বড় উপজেলার কাছাকাছি) এর অন্যান্য (ভুমি বিতর্ক সহ) যেসব দাবি সেগুলো মিটিয়ে ফেলা এবং একটা শক্ত অর্থনৈতিক ভিত্তির উপর পাহাড়ি জনগোষ্ঠিকে দাড় করিয়ে দেয়া তেমন অমীমাংসেয় কোন সমস্যাই না।  কিন্তু কার সাথে আমরা ডিল করব? যেখানে তথাকথিত জুম্মুল্যান্ডের নামে ভারতীয় হাতের পুতুল হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।  এদিকে ইন্ডিয়া বাংলাদেশে আধিপত্য ফেরত চায় অন্যদিকে তার নর্থ ইস্টের সমস্যায় আমাদের ব্যবহার করতে চায় পাহাড়িদেরকে নিয়ন্ত্রণ করে।

    এখন কিছু কথা একদম সোজাঃ
    পাহাড়িরা যদি একবার মূল্যায়ন করে দেখত এতদিন ধরে একাজে তাদের আন্দোলনের লাভক্ষতি কী হয়েছে।
    এতদিন বলতে কিন্তু এটা অনেক পুরানা সেই ১৯৬২ সালের আশেপাশে আয়ুব খান কাপ্তাই নদীতে বাধ দিয়ে পানিবিদ্যুত বের করার খায়েস থেকে। সেকালে পরিবেশ বলে ধারণা তেমন কিছু ছিল না। আর এতে পরিবেশগত ক্ষতিও কম ছিল না। হ্রদের পানি আটকানোতে পানির স্থায়ী উচ্চতায় রাজার ঘরবাড়ি-সহ লেকের আশেপাশে সব পানির নিচে চলে গেছিল। সব সমসয়া কিন্তু এটুকুর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। যেটুক বাসিন্দা এতে উচ্ছেদ হয়েছিল তাদের টাইবাল-এথনিক অপর অংশ মেঘালয়ের বাসিন্দা বলে বাংলাদেশের অংশ ক্রমশ সেখানে গিয়েই থিতু হয়েছিল। আর এখন ভারতের সুপ্রীম কোর্টের এক রায়ে এনিয়ে কোন বিতর্ক অস্থিরতা এখন আর নাই।
    আর আয়ুবের শখের এই পানিবিদ্যুত ছিল মাত্র ৯০ মেগাওয়াটের যা একালে বাংলাদেশের চাহিদার তুলনায় কিছুই না – জাপার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ কে হাসিনা যে উপহার দিয়ে ঐ নেতাকে কিনে পকেটে রেখেছিল সেটা ছিল ১০০ মেগাওয়াতের এক রেন্টাল বিদ্যুৎ। ফলে কাপ্তাই বাধ এখন ভেঙ্গে দিলেও বাংলাদেশের বিদ্যুতে এর প্রভাব নাই। আর পানি কমে যাওয়াতে এর উতপাদনও এখন তেমন নয়; খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি! কিন্তু কেন বাংলাদেশে এসব কারেকশনে যাবে? আর সবচেয়ে বড়কথা কার সাথে নিগোশিয়েশন করে সব বিতর্ক ও বিবাদ মিটিয়ে ফেলবে??? কারণ, পাহাড়ী নেতারা জুম্মল্যান্ডের স্বপ্নে বিভোর আর ইন্ডিয়ার পুতুল হয়ে থাকার কবলে থাকতেই বেশি পছন্দ।

    যেকথা বলছিলাম পাহাড়িদের এতদিনে লাভ-লোকশান কী?
    তাদের যে ভুমি সমস্যা এটা আগে কোনদিনই ছিল না। এখানে আগে মানে? আগে মানে ১৯৭৫ সালের আগে।
    সোজাকথায়, ১৯৬২ সালে বাধ দেওয়ার সমস্যা মিটাতে গিয়ে এবার তারা নিজ চাষাবাদের জায়গা জমি হারিয়েছে বা বিতর্কিত হয়ে আছে। অর্থাৎ সমস্যা মিটবার বদলে বেড়েছে আর তা অনিশ্চিত হয়েছে। ১৯৭৫ সালের ইন্দিরার প্ররোচনায় বাংলাদেশ ত্যাগ করে ফরে ভারতীয় ট্রেনিং ও অস্ত্রে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে শশস্ত্র আক্রমণ এর পথে তারা গিয়েছে তাতে ইন্ডিয়ার হয়ত লাভ হয়েছে। আর পাহাড়িদের হয়েছে জমি হারানোর ক্ষতি। আবার কাজ ফুরিয়ে গেলে ইন্ডিয়া তাদেরকে বাংলাদেশের হাতে ডাম্প করে দিয়ে গেছে ১৯৯৭ সালে! নিচা হয়ে তাদের চুক্তি করতে হয়েছে। এরপর নিয়মিত তারা বাংলাদেশের কাছে ভাল দায়ীত্বশীল অপরপক্ষ কখনই হতে পারে নাই বা চায় নাই মূলত ভারতের পুতুল হয়ে থাকার কারনে।  ভাল নেতৃত্ব না হবার কারণে, ভুয়া স্বপ্ন দেখা আর ভারতের পুতুল হয়ে আয়েসী জীবনের নেতৃত্ব। এটা খুবই সম্ভব পাহাড়িদের ভুমিসমস্যা একবছরের মধ্যে আইনি দলিল হাতে ধরিয়ে মীমাংসা করে ফেলা, একধণের স্বায়ত্বশাসন, কালচারাল বৈশিষ্ট সংরক্ষণ এবং সর্বোপরি মাত্র ১৫ লাখের মত লোকেদেরকে বাকি ১৬-১৮ কোটি সমতল বাসিন্দাদের সাথে পণ্য-বিনিময় সম্পর্ক গড়ে তুললে কাদের বেশি লাভ হবে?  পনেরো লাখ লোক ১৬ কোটি লোকের বাজার পাবে। কিন্তু কোন দায়ীত্বশীল অপরপক্ষ না থাকলে এর কিছুই হবে না। হচ্ছে না।
    এত কিছু সংঘাতের মাঝেও তারা কেবল চাকমা জনগোষ্ঠির দিকে তাকায় তাহলে বুঝবে শিক্ষা ও পেশায় দক্ষ জনগোষ্ঠি  হিসাবে তাদের উত্থান ও বিকাশ বাকি সকল পাহাড়িদের কাছে ঈর্ষণীয়! এক ৫% কোটার সুবিধা থেকেই তারা স্যাচুরেটেড। ইতোমধ্যেই পাহাড়ি কৃষিপণ্য ঢাকার বাজারে এক বিরাট ঘটনা হয়ে দাড়িয়েছে! সেজন্য আলাপ-আলোচনা দরকার – দায়ীত্বশীল অপরপক্ষ দরকার! কোথায় সেটা?
    সেই বাধের ইস্যু এখন সব পক্ষের কাছে অপ্রয়োজনীয়, কোন ইস্যুই না। কোন ফোকাস-ই নয়। ১৯৭৫ সালে ইন্ডিয়ায় যাওয়া এই সিদ্ধান্ত তাদের যে নেতৃত্ব নিয়েছিল তারা কী এর দায়দায়ীত্ব নিবে?  কিন্তু তা নতুন যেসব ক্ষত তৈরি হয়েছে ক্রমাগত একালের ফোকাস সেখানেই।  এর মানে এককথায় বললে, ১৯৭৫ সালের আগেও তারা এখনকার মত এত ক্ষতিকর ও কঠিন জীবনে ছিল না! তাহলে ইন্ডিয়ায় যাওয়া- সশস্ত্র সংগ্রাম এসবের এই সিদ্ধান্তের মুল্যায়ন কী, পিছন ফিরে দেখার হিম্মত কী তাদের হবে?

    পাহাড়ি নেতারা ভেবেছিল হাসিনা তাদের ত্রাতা কারণ হাসিনা জিয়াউর রহমান বা আমাদের আর্মির বিরুদ্ধে তারা একে অপরকে ব্যবহার করতে পারবে। এখান থেকে পাহাড়ি ইস্যুতে প্রগতিবাদীর প্রবেশ ঘটেছিল। কিন্তু ২০১০ সালের হাসিনা? তিনি এই মামার বাড়ির আব্দারের মত আদিবাসী বলে ডেকে বাংলাদেশ নিজেই নিজ দেশ উদ্বাস্ত বা মাইগ্রেন্টের পরিচয় নিবে – এটা কী হাসিনা করতে রাজি হয়েছিল?

    নিচে ২০২২ সালের এক নোটিশটা পড়ে দেখতে পারেন

    এককথায় পাহাড়ি নেতৃত্ব নিজেও নিজেদেরকে  রিভিউ-মুল্যায়ন করতে অক্ষম। বরং যেন তারা প্রগতিশীলতার নামে হিন্দুত্ববাদী বা ইন্ডিয়ার হাতের পুতুল হয়ে থাকতেই বেশি পছন্দ করে। অথচ পাহাড়ীদের অর্জন কী? তারা এতদিনে আগিয়েছে নাকি ক্রমশ আরো পিছয়ে গেছে???
    পাহাড়ি নেতৃত্বের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা ছাড়াই, বর্তমানের ব্বাংলাদেশে যে ডিস্টার্বেন্স তৈরি এটাও পুরাটাই ইন্ডিয়ার পকেটেই যাবে! কিন্তু কে এসবের মুল্যায়ন করবে????

     

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   সন্ধ্যা ০৭ঃ ৩৯    ১৮  জানুয়ারি ২০২৫

     

     

  • ‘জনগণতন্ত্রী’ কনষ্টিটিউশন সংস্কার কমিটি

    “জনগণতন্ত্রী” কনষ্টিটিউশন সংস্কার কমিটি
    গৌতম দাস
    ১৬ জানুয়ারি ২০২৫  রাত আটটা
    https://wp.me/p1sCvy-6dV

    গতকাল কয়েকটা সংস্কার কমিশন তাদের রিপোর্ট ইউনুস সরকারের কাছে জমা দিয়েছে।  প্রায় তিন মাস আগে সেপ্টেম্বরে ইউনুস  (প্রথম পর্যায়ের) যে ছয়টা কমিশন গঠন করেছিলেন তাদেরই অনেকে গতকাল এমন রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। এগুলোর মধ্যে আলী রীয়াজের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল সংবিধান সংস্কার কমিশন, এরা তাদের একটা।
    “সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ বিবিসি বাংলাকে বলেন, সংস্কারের প্রস্তাবনা তৈরি করার ক্ষেত্রে ক্ষমতার এককেন্দ্রীকরণ রোধ, ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টন, জবাবদিহিতা, রাষ্ট্র পরিচালনায় সবার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার মত বিষয়গুলোকে বিবেচনায় নিয়েছেন তারা”। এই বাক্য থেকে আমরা একটা ধারণা করতে পারি পারে যে তাদের কাজের মূল উদ্দেশ্য-লক্ষ্য কী ছিল!

    অনেক মিডিয়ার ভাষ্য অনুসারে,  সংস্কার এর উল্লেখযোগ্য সুপারিশ মূলত ছয় টাঃ

    উল্লেখযোগ্য সুপারিশ
    • ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ পরিবর্তন করে ‘জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশ’।
    • পাঁচ মূলনীতি হলো সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ ও গণতন্ত্র।
    • দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা, সংসদের মেয়াদ ৪ বছর।
    • নিম্নকক্ষে ১০ শতাংশ আসনে তরুণ-তরুণীদের মধ্য থেকে প্রার্থী। ২১ বছর হলে প্রার্থী হওয়া যাবে।
    • অর্থবিল ছাড়া নিম্নকক্ষের সদস্যরা দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে।
    • নারী আসনেও সরাসরি ভোট।

    যার মধ্যে আবার একটা  দেখা যাচ্ছে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা।
    এখন কথা হচ্ছে এক. দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা জিনিষটা কী ও কেন?
    মানে প্রচলিত জাতীয় সংসদ ছাড়াও আরও একটা ভিন্ন নামে ও পদ্ধতির আলাদা সংসদ। আমেরিকাকে অনুসরণ করলে সাধারণত এর নাম হয় সিনেট। সংস্কার কমিশন কী সিনেট বুঝিয়েছেন? এটা একেবারেই স্পষ্ট নয়। বরং যার যা খুশি ভাবে ব্যাখ্যা পাবার সম্ভাবনাই বেশি। এমনিতেই সাধারণভাবে বললে এই সংস্কার প্রস্তাবে অনেক কিছুই সংস্কার করে তাঁরা নয়া কী করতে চায়, নয়া রূপ কী দিতে চায় ইত্যাদি এনিয়ে অনেক সুপারিশই আছে। কিন্তু যা নাই তা হল সাফাই বা জাস্টিফিকেশন যে কেন এভাবে সংস্কার? এই জবাবটা প্রায় নাই-ই। এতে সংস্কারের সব কথাই খেয়াল [whim] এর কারবার মনে হতে পারে! কারণ, যেকোন সংস্কার সেটা এভাবে কেন – এই কেন এর জবাব সহ না ব্যাখ্যা  বা সংস্কারের প্রস্তাব না করলে সেটা হুইম বা খামখেয়ালি, চটকদার বাক্যবাগীশতাই হয়ে দাঁড়াবে!

    এছাড়া দ্বিতীয় কথা টা হচ্ছে, যেসব সুপারিশ  করা হয়েছে এর প্রতিটা কীভাবে এই সংস্কার কমিটির লক্ষ্য-উদ্দেশ্য [সেটা যদি ক্ষমতার এককেন্দ্রীকরণ রোধ, ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টন, জবাবদিহিতা, রাষ্ট্র পরিচালনায় সবার প্রতিনিধিত্ব ধরে নেই] এর সাথে ও কেন সামঞ্জস্যপুর্ণ? সেটা কী সংস্কার কমিটি ব্যাখ্যা করা দরকার ছিল; ফলে পাঠক এর অভাব বোধ করবে।  যদি উদ্দেশ্যের দিকে লক্ষ্য রেখে তাঁরা যথেষ্ট সাফাই-মূলক বক্তব্য না দেন তবে এই সংস্কার কমিটি খামোখা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

    তাই এসব প্রস্তাব দরকার কেন, সেই কেন এর জবাব সহঃ
    কথাটা সোজা আপনি এমন বা অমন যেকোন সংস্কার প্রস্তাব তো করতেই পারেন। কিন্তু সেটা অর্থপুর্ণ কিনা গুরুত্বপুর্ণ কেন এর জবাব পাবলিককে পেতেই হবে।
    যেমন, এব্যাপারে সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ ইস্যু হল সিনেট বা দ্বিকক্ষ আইনসভা কেন!

    এমনিতেই কমিটির সদস্যরা কে কতটা “সিনেট” বিষয়ে স্টাডি করে নিয়েছেন তানিয়ে আমার ধারণা নাই বা জানা নাই। কারণ, ইস্যুটা যথেষ্ট গভীর, গম্ভীর ও সুনির্দিষ্ট।  যেমন দুনিয়াতে সিনেট ধরনের আইনসভা বা পার্লামেন্ট থাকা রাষ্ট্র বলতে এর সফল ও পরীক্ষিত ধারণার রাষ্ট্র হল আমেরিকা; মানে ১৭৭৬ সালের স্বাধীন ঘোষিত আমেরিকা [USA, United States of America]। বলাই বাহুল্য যে আমেরিকা এটা এক রিপাবলিক স্টেট এর ধারণা এর উপর এটা আসলে আবার এক ফেডারল [Federal] স্টেট এর ধারণা।  ফেডারল এর বাংলা অর্থ হতে পারে একই ধরনের ও সমমর্যাদাপুর্ণ বন্ধু রাজ্য; ফলে – এমন রাজ্যগুলোর রাষ্ট্রই হল ফেডারল (রিপাবলিক) রাষ্ট্র।  যেমন আমরা জানি আমেরিকা স্বায়ত্বশাসিত এবং আলাদা এমন সমমর্যাদার ৫০টা রাজ্যের এক ফেডারল (রিপাবলিক) রাষ্ট্র।

    এখন  ফেডারল রাষ্ট্র হলেই সেখানে সিনেট বলে আলাদা বা দ্বিকক্ষ সংসদের ধারণা থাকতে দেখা যায়। অন্যভাবে বললে, ফেডারল আর সিনেট ধারণা – এদুইয়ের আন্তঃসম্পর্ক টা কী? সংস্কার কমিটি কী এদিকটা নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছেন?
    মনে রাখতে হবে শেখ মুজিবও একটা বাংলাদেশকে ৬১ জেলায় বিভক্ত মানে
    ৬১ টা গভর্ণর শাসিত জেলার বাংলাদেশ ঘোষণা করে গেছিলেন! যার উদ্দেশ্য ছিল কথিত কমিউনিস্ট সংস্কার নামের আড়ালে সবক্ষমতা একেবারে একহাতে কুক্ষিগত করা! কাজেই সব সংস্কার মানেই তা কাজের এবং অর্থপুর্ণ – সেটা নাও হতে পারে!
    আর সংস্কার কমিটির লক্ষ্য যদি হয় ক্ষমতার এককেন্দ্রীকরণ রোধ, ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টন, জবাবদিহিতা, রাষ্ট্র পরিচালনায় সবার প্রতিনিধিত্ব ইত্যাদি – তবে অতি অবশ্যই  এই কমিটিকে বাংলাদেশে একটা  সিনেট বা দ্বিকক্ষ আইনসভা কেন দরকার সেই ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করতেই হবে।  এমন প্রমাণ চিহ্নও যেখানে থাকবে!

    ভয়ের কথা আরো আছেঃ
    ওদিকে ইউরোপ  কখনই ফেডারল ধারণাকে গ্রহণ বা প্রশংসা করে নাই বা নিজেরা ব্যবহার করে নাই। বিশেষ করে যারা সারা দুনিয়ায় “কলোনি দখলদার” রাষ্ট্র (বৃটিশ, ফ্রেঞ্চ, ডাচ, স্প্যানিশ বা পর্তুগীজ) বলে পরিচিত।  যারা অন্যের দেশ-ভুখন্ড দখল করাটা, লুটের শাসন করাটা জায়েজ মনে করে তারা কীভাবে নিজ ভুখন্ডের মধ্যে ফেডারল শাসন দরকার মনে করবে, দিতে চাইবে? খুব সম্ভবত এটাই ইউরোপের ফেডারল ধারণা গ্রহণ না করার কারণ!  আবার আমরা এই -ঐতিহাসিক সত্যও ভুলতে পারিনা  যে দুনিয়াতে রাজতন্ত্রের বিপরীতে পাবলিক বা গণপ্রজাতন্ত্রী শাসন ও সরকার ব্যবস্থা ইউরোপেই (ইংল্যান্ডে) প্রথম শুরু হলেও সেই রিপাবলিক রাষ্ট্রশাসন ব্যবস্থা এর অর্থনৈতিক ভিত্তি ছিল “কলোনিদখল” – নানান ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি – মানে ব্যবসায়িক কোম্পানী খুলে জাহাজ ভাসিয়ে এবার কলোনিদখল ও তাদের সম্পদ লুটপাট! আর এটাই ছিল রিপাবলিক রাষ্ট্রের প্রধান অর্থনীতি! 

    আরেকটা মজার তথ্য হল, আমেরিকা যখন নিজেদেরকে বৃটিশ কলোনিদখলকে (কোম্পানি) উচ্ছেদ করে নিজেরা স্বাধীন হচ্ছে শুধু নাীর সাথে নিজেদের নয়া রাষ্ট্র গড়ছে এক ফেডারল (রিপাবলিক) রাষ্ট্রকাঠামোতে তখনও ইউরোপ মেতে আছে কলোনিদখলের অর্থনীতির উপরে দাঁড়ানো এক জাতিরাষ্ট্রের রিপাবলিক হয়ে! অর্থাৎ আমেরিকা থেকে পিছিয়ে পড়ে ও বেখবর থেকে গিয়ে!

    অথচ এখনও আমাদের দেশে নাদানি তর্ক হল আমরা কী ওয়েস্ট মিনিস্টারি বা প্রেসিডেন্সিয়াল সরকার কাঠামো চাই!
    অতএব আমার সন্দেহ আছে সংস্কার কমিটি কী ভেবে, কতদূর ভেবে দ্বিকক্ষ আইনসভা এর সুপারিশ জানিয়েছে? যদি তারা কেন এই সুপারিশ – এর জবাব সহ পরিস্কার সুপারিশ রাখতে পারে বা করে তখন আমাদের তাদের কথা বা ব্যাখ্যা থেকে তাদের ভাবনা বুঝতে পারতাম! আমরা নিশ্চয় আশা করি না, দ্বিকক্ষ আইনসভা এর সুপারিশ এটা কোন চটকদারি বকোয়াজ হোক!

    সমস্যা অনেকঃ
    আমাদের  সমস্যার শেষ নাই! গত শতকের শেষ চল্লিশ বছরের (১৯৭০-২০০০) কথাই যদি বলি আমরা সেটা সহ এই নয়া শতকে প্রথম  দশকের পরেই কেবল এমন এক ভাবনা ত্যাগ করে খুবই ধীরে ধীরে বের হচ্ছি – যা প্রগতিশীলতা, কমিউনিজম নামে পরিচিত। আর ঐসময়কালের এমন চিন্তায় সমাজে তখন গণ্য হয়ে এসেছিল যে প্রগতিশীলতা, কমিউনিজম নাকি সবচেয়ে অগ্রসর চিন্তা।  অথচ গভীর সমস্যা টা হল, কমিউনিজম তাদের রাষ্ট্র চিন্তায় বা ভোকাবুলারিতে কোন রিপাবলিক ধারণা নাই; বিচারের [Justice] ধারণা নাই! আছে কেবল শ্রেণী বা শ্রেণীর একনায়কতন্ত্র এমনকি কথিত শ্রেণীস্বার্থে গুম-খুন-অপহরণ কে জায়েজের ধারণা!  যার ফলে, আমাদের সংস্কার কমিটিগুলোতেও কমিউনিস্ট বা প্রগতিশীল চিন্তাই  এখনও (ডমিনেটিংলি) আধিপত্য করে আছে, থেকে আছে! যার সোজা মানে যে রিপাবলিক রাষ্ট্রের আলাপ-সংস্কার এরা করতে এসেছেন তাতে তাতে প্রগতিবাদিতা আধিপত্যে; উলটা করে বললে এটাই রিপাবলিক-ফেডারল বোধ বা এমন রাষ্ট্রবোধ ততটাই কম! আপনি তো একই সাথে শ্রেণীর রাষ্ট্র-বোধ আর রিপাবলিক-ফেডারল বোধ (ডানপন্থি) এদুটা একসাথে অনুসারী হতে পারবেন না।  এমনকি যেখানে প্রগতিবাদী এরা রিপাবলিক, ফেডারল বা সংসদ ইত্যাদির ধারণাকে তারা “ডানপন্থী” বা নিচা ধারণা বলে শিখে বিশ্ববিদ্যালয় পার করেছে! এর উপর আবার একালে যখন প্রগতিশীলতা মানে তা আর লুকানো নাই, প্রায় খোলাখুলিই হিন্দুত্ববাদ হয়ে গেছে!

    আবার যেমন ধরেন ভারতের রাজ্য সভা – এটা কী ফেডারেলিজম মানে ফেডারল রাষ্ট্র ব্যবস্থা? কারণ, অনেকেই সাফাই দিতে পারেন যে ওটাও তো দ্বিকক্ষ ব্যবস্থা!!!! তাহলে আমাদের সংস্কার কমিটির প্রস্তাবিত “দ্বিকক্ষ” এটাও কেন রাজ্যসভা ব্যবস্থা নয়?  ইন্ডিয়ান হেজিমনি ফিরিয়ে আনার যে মরিয়া চেষ্টা চলছে যাতে আমাদের অনেক রাজনৈতিক দলও এতে সামিল হয়ে গেছে এরা কী  আমাদের সংস্কার কমিটির প্রস্তাবিত “দ্বিকক্ষ”  প্রস্তাব – এটাকে রাজ্যসভা ধরনের দ্বিকক্ষ-ব্যবস্থা বলে চালিয়ে দিতে মাঠে নেমে যাবে? কারণ, আমাদের এমন অনেক দলের সংস্কার প্রস্তাবেও দ্বিকক্ষ আইনসভা করার কথা আছে!

    আবার আরেক তথ্য হল, ইন্ডিয়া, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান এই তিন দেশের মধ্যে একমাত্র পাকিস্তানেই দ্বিকক্ষ বা “সিনেট” ব্যবস্থা বিদ্যমান। এর জন্ম  বাবা-ভুট্টোর আমলে সেই ১৯৭৩ সালের কনষ্টিটিউশন লেখার সময়ে। আর যদিও পরে সময়ের সাথে এর সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে এখন ১০০ এর কাছাকাছি। কিন্তু হতাশার কথা হল এটা অকেজো, খামোখা হয়ে আছে!!!  এটা খায় না মাথায় দেয়, সেটা জানা নাই এমনই অবস্থায়!

    একটা দুঃখ আর হতাশার কথা বলে শেষ করব!
    “প্রজা”
    শব্দটা নিয়ে সংবিধান সংস্কার কমিটি বিরাট পেরেসানিতে পরেছে, বুঝা যাচ্ছে। উপরে দেখেন লেখা হয়েছে সংস্কার কমিটি – ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ পরিবর্তন করে ‘জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশ’ – চেয়েছে। আমাদের অনেকের ধারণা –প্রজা– “শব্দটার ব্যবহার আমাদের করা উচিত না। আমরা কী কারো প্রজা নাকি? প্রজা মানে তো অধস্তন, সাব-অর্ডিনেট তাই!  এটা খুবই পশ্চাতপদ ধারণা……ইত্যাদি ইত্যাদি!” – এমন প্রশ্নবোমা তাদের আছে!
    অথচ ব্যবাপারটা হয়েছে এরকম যে কারো নাম গোলাম রহমান; তাই নিজেকে বুদ্ধিমান ভাবা কেউ বলতে চাইছেন, গোলাম – এটা কোন নাম হল? অথচ প্রত্যেক শব্দের বা অর্থের একটা পশ্চাৎ-পটভুমি বা প্রেক্ষিত থাকে; থাকে ইতিহাসও! সেসব সেগুলো না জেনে বা পাশ কাটিয়ে আমরা এমন অনেকেই ছদ্ম বুদ্ধিমান সাজতেই পারি! কী আর করা।  অথচ মানুষের নাম গোলাম থাকা মানেই এর অর্থ আল্লাহর গোলাম (বা রহমানুর রহিম এর গোলাম) এমন ধারণা থেকে আসছে!  কাজেই পটভুমি-ইতিহাস-প্রেক্ষিত না জেনে বুঝে এমন মন্তব্য নিজেকেই ছোট করা হবে! এরপরেও তা সমাজে হয় অনেক আসরে!

    প্রজা নিজেই তেমন কান্ডই হয়েছে!
    কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলের অত্যাচারে আমরা খুব কম জনই রিপাবলিক শব্দের উতপত্তির ইতিহাস, ব্যবহার ও তাতপর্য জানি।  খোদ কার্ল মার্কসই রিপাবলিক শব্দ বা এর ধারণা নিজের লেখায় ব্যবহার করেন নাই। অথচ থেকেছেন (1849-1883) ইংল্যান্ডের বৃটিশ লাইব্রেরীতে কাটিয়ে এমন এক সময়ে যখন রিপাবলিক, সার্বজনীন ভোটাধিকার এর ধারণা ইউরোপের আকার নিচ্ছে বলা যায়! সংক্ষেপে ঘটনাটা হল, যখন কোন ভুখন্ডে রাজতন্ত্র চালু আছে প্রবল দাপটে সেই সময়ে সেই রাজা-সম্রাটের শাসনের বিপরীতে মানুষ সমবেত হয়েছিল বিকল্প শাসন ব্যবস্থা কী করা যায় এনিয়ে। ফলে সে আমলে বলে রাজার শাসন বা রাজার তন্ত্রের বিপরীত ধারণা হিসাবে তারা সেকালে কল্পনা করেছিল যে এবার প্রজার শাসন শুরু করলে কেমন হয়????
    যেমন তুলনা করে দেখেন, যে কোন রাজাই বলতে পারবে না যে তাকে শাসন ক্ষমতা কে দিয়েছে? এর বিপরীতে জনগণের  ম্যান্ডেট-অনুমতি-ভোট অর্থাৎ জনপ্রতিনিধিরাই দেশ শাসন করবে, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এবং প্রজাদের অনুমতিতে! আর এটাই ছিল সেই প্রজাতন্ত্র ধারণা। এখান থেকেই ধারনা ও শব্দটা আকার নিয়েছিল প্রজাতন্ত্র হিসাবে রিপাবলিক আকারে! আজ রাজতন্ত্র নাই বলে কনটেক্সট-টা বদলে গেছে তাই বুঝতে কষ্ট হতেই পারে।  আর প্রজার শাসন ধারণার আমলে পাবলিক বা জন অথবা গণ ইত্যাদি ধারণাগুলো তখনো আসে নাই বা স্পষ্ট হয় নাই, এটাও এক বড় কারণ। ফলে যাদের মধ্যে প্রজা শব্দ বদলানোর চুলকানি – বুঝতে হবে সে সম্ভবত কমিউনিস্ট আর নয়ত চটকদারি দেখানোতে পেয়ে বসেছে!

    জনগণতান্ত্রিক কেন কোথা থেকেঃ
    আবার জনগণতান্ত্রিক এই ধারণাটা চীনা কমিউনিস্ট প্রভাবিত!  আমাদের সর্বহারা পার্টি ধরনের যারা  বিশেষত চীনাধারার কমিউনিস্ট পার্টি তারাই এর বেশি ব্যবহার করে থাকে। লক্ষ্য করেন এরা মূল রিপাবলিক ধারণা থেকে অনেক দূরে আর ততটাই গণতন্ত্র ধারণায় প্রবেশ করে গেছে।  অর্থাৎ রিপাবলিক বলব না গণতন্ত্র – এই বিভ্রান্তি এখানে প্রবল! সংস্কার কমিটিতেও এই বিভ্রান্তি প্রবল মনে হয়েছে। আসলে বিভ্রান্তি থেকে এর জন্ম। চীনের মাও রিপাবলিক আর গণতন্ত্রের ঝামেলা মিটাতে ব্যবহার করেছিলেন আরেক শব্দ পিপলস [Peoples]। আর এতে সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ দিকটা হল, তিনি লেনিনের এবিষয়ে  কী অবস্থান বা সে তর্কে না গিয়ে রিপাবলিক মেনে নিছিলেন তবে সাথে একটা বিশেষণ লাগিয়ে দিয়েছিলেন সোভিয়েত – নয়া বিপ্লবী দেশের নাম রেখেছিলেন সোভিয়েত রিপাবলিক [ইউনাইটেড সোভিয়েত সোশালিস্ট রিপাবলিক, USSR]। কিন্তু এটাই মাও এর জন্য অসুবিধাজনক কারণ চীনা বিপ্লব কোন ধরনের সোভিয়েত গড়ে গড়ে সম্পন্ন হয় নাই। [সোভিয়েত শব্দের মুখ্য অর্থ হবে প্রতিরোধ কমিটি বা আমাদের দেশের রাজনৈতিক কালচারের স্টাইলে যেটাকে আমরা সংগ্রাম পরিষদ বলে যা বুঝি, তাই।]   মাও এসব ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকতেই পিপলস শব্দের ব্যবহার শুরু করেন যেমন, তাঁর নয়া বিপ্লবী দেশের নাম  পিপলস রিপাবলিক অব চায়না [PRC]। আর এখান থেকেই ওদের – আমাদের বাংলাদেশে ব্যাংক মানে কেন্দ্রিয় ব্যাংক এর সমতুল্য  চীনা প্রতিষ্ঠানের নাম পিপলস ব্যাংক অব চায়না [PBOC]  । তাই  এখান থেকেই আমাদের  চীনাপন্থিরা মাওয়ের পিপলসের বাংলা করেছিল জনগণতন্ত্র!

    তাহলে, সংস্কার কমিটি কী সচেতনে চীনা ধারণার দিকেই যদি যাবেন তো পিপলস নিলেই ভাল চাইনিজ পন্থা হত হয়ত!!!!
    অর্থাৎ আবার সেই ‘কেন’ এর প্রশ্ন। মানে কেন? এই কেন এর জবাব না দিয়ে কিছুই লুকানো যাবে না যে আপনারদের মনে কী চলতেছে!!! সব খামোখা হয়ে যাবে????

    আর শেষে আবার সেই গোড়ার প্রশ্ন – “কেন” এমন সেই সংস্কার প্রস্তাব এনেছেন আর এতে নিশ্চয়তা কী ও কেন যে এটা ক্ষমতার এককেন্দ্রীকরণ রোধ করতে নয়া হাসিনার উত্থান ঠেকাতে পারবে-???
    আসলে আপনাদের যারা নিজেদের খোলাখুলি ডানপন্থী মনে করতে পারেন না; ডরান; তারা কিছুই পারবেন না। কারণ ঐতিহাসিকভাবে রিপাবলিক গড়ার কাজটা তো বামপন্থীদেরই না; এটা ডানপন্থী কাজ!!! সাহস থাকলে চিল্লায় বলেন!

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   দুপুর ১১ঃ ৩৪    ১৭  জানুয়ারি ২০২৫

  • ১৫% ভ্যাট আইএমএফের চাপঃ কেন? এটা আসলে কাদের চাপ?

    ১৫% ভ্যাট আইএমএফের চাপঃ কেন? এটা আসলে কাদের চাপ?
    গৌতম দাস
    ১৫ জানুয়ারি ২০২৫
    https://wp.me/p1sCvy-6dr

     

     

    ১৫% ভ্যাট আরোপ করতে আইএমএফের চাপ????
    এটা আইএমএফ এর ভারতীয় অরিজিন স্টাফদের এক গোপন কাজ! সুক্ষ্ম কারচুপির মত?
    উদ্দেশ্য কী? ইউনুস সরকার যেন ফেল করে বা আনপপুলার হয়? অর্থনীতি সোজা না হয়???

    আইওএমএফের ভারতীয় অরিজিন স্টাফদের বিরুদ্ধে অভিযোগ টা খুবই কড়া।
    আইএমএফ-ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের বড় শেয়ার মালিক আমেরিকার। ফলে এর সোজা মানে হল,  আমেরিকান সরকারের এখানে অনেক কিছুই বলার আছে, করার আছে। কাজেই এখনই আমেরিকান প্রশাসন যদি এদিকটায় মনোযোগী না হয় যে এখানে কী চলছে তবে এটা ক্রমশ বাংলাদেশকে চীনের ঘনিষ্ট হওয়ার রাস্তায় ঠেলে দিবে। সেটা আমেরিকার ভাল লাগলে ভাল!!!!
    ফলে সিদ্ধান্ত আমেরিকার, সময় থাকতে যা করার করেন আপনারা!
    আর আমরা এই ইস্যুটা নিয়ে ইন্ডিয়া যাদেরকে ক্ষমতায় বসানোর লোভ দেখাচ্ছে এমন বাংলাদেশের দলগুলোর ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে  এটা হুমকির হাতিয়ার করুক, তা হতে দিব না।  দেখতে চাই না। সবাই সাবধান হন! 
    দেখেন ভিডিও ক্লিপ টাঃ
    ভ্যাট মানে কীঃ
    এটা ইংরাজী VAT (Value added tax)  থেকে আমরা বাংলায় ভ্যাট করে নিয়েছি। যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক তার রাজস্ব ( নানান ধরনের ট্যাক্স, শুল্ক) আদায় আমাদের মত দেশের জন্য সবসময় এক বিরাট চ্যালেঞ্জ।  কাজেই দ্রুত কমিউনিস্ট হয়ে যেয়েন নাই। অন্তত বাস্তববাদী হন, তাহলেই হবে। এর সমাধানে কী করা যায় তানিয়ে ভ্যাট হল আইএমএফ-ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের নিয়োজিত এক গবেষণা লব্ধ সুপারিশ ও সমাধান!

    আমাদের মত গরীব দেশে ট্যাক্স আদায় করা খুবই কঠিন। সরকার ট্যাক্স বাড়ায় দিলে চাপটা শেষমেশে ঐ গরীব বা স্বল্প আয়ের মানুষের উপরেই পড়বে!  এদিকে দেশে শিল্পায়ন বড় কারখানাই গড়ে উঠেনি তেমন! এর উপরে এনবিআরের (সরকারের রাজস্ব বোর্ড) অদক্ষতা আর ঘুষ চুরি তো আছেই। ফলে এটা মারাত্মক উভয় সঙ্কট ধরনের। আবার ক্ষমতাসীন সরকার ট্যাক্স আদায় না করতে পারলে নিজ সরকার চালানোর ব্যয় তো আছেই সাথে প্রতিবছরের এডিপি (ADP বা বার্ষিক অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ কর্মসুচীতে) তে ব্যয় করার সামর্থ থাকবে না। বা কমে যাবে। এর সোজা অর্থ সামগ্রিক অর্থনীতিতে বিনিয়োগ কমে যাবে। কাজ সৃষ্টি হবে না এমন আরো কত বিপদ!  অবকাঠামো মানে হল গ্রামে রাস্তাঘাট কালভার্ট ইত্যাদি বিনা পয়সায় সরকার যদি গড়ে দিতে না পারে তবে গ্রামের মানুষটার আয় বাড়বে না; ঐ গ্রামের আমাদের মূল অর্থনীতিরতে অংশ নিতে পারবে না উলটা বোঝা হয়ে থাকবে।  অবকাঠামো কথাটার অর্থই এটা। দুটা জিনিষ এক অর্থনীতিতে ফিজিক্যাল কাঠামো (রাস্তাঘাট ব্রিজ ইত্যাদি) তৈরি আর মানব সম্পদ তৈরিতে বিনিয়োগ (নুন্যতম চিকিতসা ও শিক্ষায় বিনিয়োগ) এগুলোতে সরকার যত অর্থব্যয় বাড়াবে ততই মূল অর্থনীতি দ্রুত বেগে সচল হয়ে উঠবে! কাজ সৃষ্টির রেট বাড়বে!  কাজেই ট্যাক্স আদায় ছাড়া অর্থনীতির চাকা সবলের কোল বিকল্প নাই।
    তাই এই উভয় সঙ্কট সমস্যা সমাধানের বিষয়ে ভ্যাট হল, আইএমএফ-ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের এক গবেষণা লব্ধ সুপারিশ ও সমাধান। যার সারকথা হল, সরকার সব শ্রেণীর ভোক্তা মানুষের উপর দোকানি কেনাবেচায় আড়াই বা ২.৫% ট্যাক্স যদি আরোপ করে তবে একটা ভাল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ হতে পারে সরকারের।
    এটাই সারা দুনিয়াতে আইএমএফ-ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সদস্য গরীব রাষ্ট্রগুলোর উপর প্রযোজ্য শুরু হয়েছিল নব্বই এর দশক থেকে। বাংলাদেশে শুরু হয়েছিল ১৯৯১ সালের খালেদা জিয়া সরকারের সাইফুর রহমানের আমল থেকে।
    আড়াই পার্সেন্ট খুব বড় পরিমাণ নয় বলে এটা নিয়ে কখনই ভোক্তা প্রতিক্রিয়া হয় নাই বা দেখা যায় নাই। কিন্তু এখন ১৫% কেন?
    হাসিনার আরেক চোর অর্থমন্ত্রী লোটাস কামালের বুদ্ধিতে এটাকে নিজে নিজে বাড়িয়ে ৫% করে দেন তিনি। এটাও আইএমএফ-ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের এক গবেষণা লব্ধ রেকমন্ডেশনের বাইরে করা হয়েছিল। কারণ, মনে রাখতে হবে ২.৫% ভ্যাট এটা কেবল বাংলাদেশের জন্য নির্ধারণ করা হয় নাই। এমন সকল আইএমএফ-ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সদস্য যারা গরীব বা স্বল্প আয়ের দেশ ( যারা IDA লোন খাতক যার সুদ .০.৭৫%  অথবা যা্রা মধ্য-আয়ের দেশে প্রবেশ করেছে এমন যারা 2% সুদ দাতা) – এমন সকল সদস্য দেশের উপর প্রযোজ্য!
    অর্থাত সারা দুনিয়াতে আইএমএফ-ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের এক গবেষণা লব্ধ রেকমন্ডেশন ২.৫%। তাই আপনি আফ্রিকাতে যান সেখানেও দেখবেন ২.৫% ভ্যাট।  সারকথা এটা কেবল বাংলাদেশের জন্য আরোপিত কোন কিছু নয়! আর সবচেয়ে বড়কথা এটা ২.৫% এত কম রাখা হয়েছিল যেন এটা গরীব ভোক্তার উপর জুলুম না হয়ে যায়।
    কারণ, মনে রাখতে হবে ভোক্তা মানুষ যদি ব্যয় কমিয়ে দেয় এতেও মূল অর্থনীতি মারাত্মক ভাবে ভেঙ্গে পড়বে, ব্যহত হবে। অর্থাৎ এটা ভারসাম্যপুর্ণ একটা পার্সেন্ট – এই ২.৫% যা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
    অথচ এখন, এই ইউনুস সরকারের আমলে?
    আর এখন এই ভারতীয় অরিজিনের কুতুবগুলা এটাকে এক ধাক্কায় ১৫% করে দিয়েছে! কেন?
    যাতে ইউনুস সরকার আনপপুলার হয়? অর্থনীতি সোজা না হয়???
    এটা তো আইএমএফ-ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের এক গবেষণা লব্ধ রেকমন্ডেশন বা সুপারিশকেই উল্টে দিয়েছে!  এখন ১৫% ভ্যাট-ট্যাক্সের চাপে অর্থনীতির গতি উঠে দাড়ানোর আগেই আবার শ্লথ হয়ে যেতে পারে! এর দায় কে নিবে?

    আমাদের অনেক রাজনৈতিক দল সমালোচনাটা ইউনুসের উপর চাপাচ্ছে – আইএমএফ-ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের নি নীতিবিরুদ্ধ কাজের উপরে না কিংবা এর ভারতীয় স্টাফদের শয়তানির দিকটাতে নয়। কেন?

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   রাত ০৮ঃ ৫৯     ১৪  জানুয়ারি ২০২৫

  • শেখর গুপ্তার ইউনুস পাঠ ভুয়া!

    শেখর গুপ্তার ইউনুস পাঠ ভুয়া!
    গৌতম দাস
    ১৪ জানুয়ারি ২০২৫   বিকাল ০৪ঃ ৪২
    https://wp.me/p1sCvy-6cg

     

    Prof Yunus, ThePrint

    ছবিতে শেখর গুপ্তা

    আজ সকালে ডেইলিস্টারের খবর হল, বিএনপি এবছরের মাঝামাঝিতে নির্বাচন চায় [BNP wants national polls by mid-2025 ]। গতকাল সন্ধ্যায় বিএনপির যে স্থায়ী কমিটির মিটিং ছিল সেখানকার সিদ্ধান্ত এটা। এর চেয়েও বড় খবর হল, কিন্তু তা সত্বেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থায়ী কমিটির সদস্য একথা ডেইলিস্টারকে বলেছে।
    এবার এর সাথে মিলিয়ে দেখেন গতকাল (১৩ জানু.২০২৫) সারাদিনে ইন্ডিয়ান মিডিয়ায় বাংলাদেশে নির্বাচন তারা এবার ঘটাবেই – সবচেয়ে দ্রুত – এমন আক্রমণের এক নয়া উদ্যোগ যেটা শুরু হয়েছে। ইন্ডিয়ান সেনাপ্রধান থেকে শুরু করে ইন্ডিয়ার সকল মিডিয়া ভয়েজ এখন এটাই।
    মোদির ইন্ডিয়া ও র-এর পরিকল্পনা একেবারে ডেস্পারেট (মানে পাগলা হয়া গেছে) বা মরিয়া যে বাংলাদেশে একটা নয়া হাসিনা দল ও সরকার কায়েম তারা এবার করবেই! এতদিন একাজে মোদির মিথ্যা প্রপাগান্ডা-মিডিয়াগুলোকে লাগিয়ে একাজ করছিল; বিশেষত সেই চিন্ময়-ইসকন কান্ড থেকে। এর মানে হল, নয়া হাসিনা আর নয়া হাসিনার দল যাকে মোদি বানাবেন  তা তিনি এবার পেয়ে গেছেন।
    কিন্তু এবার এতে আরো সংযোজন হল একেবারে প্রথম সারির মিডিয়া – দ্যা প্রিন্ট ও এর বর্ষীয়ান সম্পাদক (আসলে তিনি এখন এর সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি ও মালিক) শেখর গুপ্তা।  পাঞ্জাবের কোন এক অখ্যাত গ্রামে ১৯৫৭ সালে জন্ম নেয়া এই গ্রামের ছেলে যার যাত্রা শুরু হয়েছিল আরএসএস পরিচালিত এক প্রাইমারি স্কুল থেকে সেকালে সে ব্যাপারটা শেখর গুপ্তার  নিজেরই ভাষায় বললে, -” আরএসএস এর দুইটা অনুগ্রহের সুযোগ নিয়ে সেই শেখর গুপ্তা নানা পথ পরিক্রমের পরে এখন দ্যা প্রিন্ট এই পত্রিকার 56.39% শেয়ার  বা   ১৩৯ কোটি রুপির শেয়ারের মালিক তিনি এক শেখর গুপ্তা।   এই দ্যা প্রিন্ট এটা একটা   ব্রান্ড নাম বলা যায় যার কোম্পানী নাম প্রিন্টলাইন মিডিয়া । যার অফিসিয়াল জন্ম ২০১৬ সালে।

     

    কিন্তু কেন এত ডিটেইল বলছিঃ
    বলছি এজন্য যে মোদি যখন শেখর গুপ্তাকে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইউনুস, এই ব্যক্তি ও সরকারের বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডা করতে নিয়োগ দিয়ে দিছেন তখন বুঝতে হবে এটা অনেক বড় বাজি ধরা স্টেক। তাহলে কে এই শেখর গুপ্তা?
    অন্যভাবে বললে, এক অর্থে ভারতের মিডিয়ার উত্থান বিকাশ ও শেষে – গোদি মিডিয়া – হয়ে যাওয়া এর সবটাই যেন  শেখর গুপ্তার উত্থান বিকাশ ও গোদি মিডিয়াম্যান হয়ে যাওয়া! প্রায় সমার্থক ঘটনা! যেমন ভারতের মিডিয়া বুঝতে গেলে দুটা টার্ণিং পয়েন্ট আপনাকে মনে রাখতে হবে। অনেক আগেও বলেছি, ভারতের প্রিন্টেড মিডিয়া বাংলাদেশের মত নয় যে এর কোনটাই মালিকের ভর্তুকিতে চলে। মানে বাংলাদেশে যেমন প্রত্যেকটা প্রিন্ট মিডিয়াই মালিকের অন্য ব্যবসার আয় সেখান থেকে আনা লাভ এখানে ভর্তুকি হিসাবে ব্যবহার করে করে বলেই এটা টিকে আছে। আর মালিক বিনিময়ে এই প্রিন্ট মিডিয়াকে ব্যবহার করে থাকে হুমকি দিয়ে অন্যের ক্ষমতাকে ম্যানেজ করতে! বা ক্ষমতাসীন সরকারকে সেবা দিয়ে সন্তুষ্ট করতে! এই হল বাংলাদেশি মিডিয়া ব্যবস্থা!
    বিপরীতে ইন্ডিয়ান প্রিন্ট মিডিয়া নিজে কোম্পানি যে নিজের আয়ব্যয় সামলাতে হয়; যার অনেকগুলো সেই বৃটিশ আমলে জন্ম!  কিন্তু একালে এসে এসব পুরান ভ্যানিটি-গৌরব সব শেষ!  যার প্রথম দুর্যোগটা ২০১৪ সালের শেষে বা ২০১৫ সালের শুরুতে; যা আসলে এককথায় বিজেপির মোদির প্রথমবারের মত ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হবার পরে পরেই। কারণ,  মোদি সরকার ও র-এর প্রকল্প হল, মিডিয়াকে টাকা খাইয়ে ম্যানেজ করা তাই শুরু হয়ে যায় অর্ণব গোস্বামীদের যুগ!  পত্রিকার লাইসেন্স যার নামে তিনি জানেনই না আজ পত্রিকার প্রধান শিরোনাম কী!  তিনি এমন ভাবেই মোদি ও র-এর হাতে ম্যানেজমেন্ট-পরিচালনা ছেড়ে দিয়েছেন। বিনিময়ে নিজ স্বার্থ বুঝে নিয়েছেন।  মোটা দাগে এই হয়ে উঠেছিল ট্রেন্ড।
    এরপর ঘটে আরেক দ্বিতীয় ঘটনা। সেটা হল, কোভিড পরবর্তী ইন্ডিয়া যখন অর্থনীতির সবকিছু ভেঙ্গে পড়েছিল আর এর ঝাপটায় ২০২১ সাল থেকে প্রায় সকল মিডিয়াই কম-বেশি মোদির ভিক্ষায় টিকে থাকা মিডিয়া হয়ে যায়।
    এদুই ঘটনাই বলে দেয় মোদি মিডিয়া কিনে নেওয়া কিভাবে শুরু  হয়েছিল আর তা কত মারাত্মক ছিল। পরের বছর ২০২২ সালে বিবিসি এই প্রসঙ্গে একটা রিপোর্ট করেছিল; শিরোনাম ছিল, ভারতের মূল ধারার মিডিয়া যেভাবে সরকারের বশংবদে পরিণত হচ্ছে। এবং  এই রিপোর্টের মধ্যেই এক উপশিরোনাম আছে – ‘কিনে নাও সব চ্যানেলকেই’– এভাবে।

    এদিকে, ঘটনাক্রমে এই শেখর গুপ্তা খুবই প্রভাবশালী হয়ে উঠেছিলেন সাথে যার একটা তুলনামূলক ক্লিন ইমেজও ছিল অনেককাল। কথাটা এভাবে বলা যায় যতদিন তিনি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকার সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী [CEO] ছিলেন 19 years from 1996 to 2015। তাঁর পেশাদার জীবন সেকালে মূলত এই ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস আর ইন্ডিয়া টুডে তেই কেটেছে। সাথে এক লম্বা সময় প্রায় ১৯ বছর তিনি  ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এর সম্পাদক ছিলেন। এটাই তার ইমেজ শিখরে উঠবার সময় ছিল। বিশেষ করে এনডিটিভি তে তাঁর ওয়াক অন টক [Walk on Talk] এই শিরোনামে ইন্টারভিউ গুলো তাকে পপুলার করেছিল। তিনি সেকালে কত বড় কেউকেটা ছিলেন এনিয়ে কৌতুহলীরা দেখতে পারেন এই লিঙ্কে । যখন তাঁর বাসা-বাড়িটা হয়ে উঠেছিল ক্ষমতার করিডোর!
    কিন্তু ২০১৬ সালের পরে নিজের মালিকানাধীন পত্রিকা দ্যা প্রিন্ট বের করার পর থেকে তিনি আস্তে আস্তে গোদি মিডিয়ার (এলিট অংশ) হয়ে উঠতে শুরু করেন। শুরুতে শেখর গুপ্তা-সহ  এসব মিডিয়া মোগলেরা এদের অজুহাত ও সাফাইয়ে তারা বলত কোভিড কালে কর্মচারিদের বেতন দিতে না পারাতে মোদির সহায়তায় যেতে – এটা করতে হয়েছিল। পরে আমরা দেখি এতে নানান ইস্যুতে শেখর গুপ্তার  ভাষ্য বক্তব্যও বদলাতে শুরু করে। [আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হল, মূলত এসময়কাল থেকেই আমি এরপর থেকে আর এই পত্রিকাটা নিয়মিত ফলো করা থেকে সরে আসি। অথচ আমার অনেক পুরানা লেখায় দেখবেন আমি মূলত দ্যা প্রিন্ট কেই রেফার করেছি। ]। যেমন, তিনি মোদির হিন্দুত্ববাদী বা ইসলামবিদ্বেষী অবস্থানের পক্ষে দাড়াতে শুরু করেন – অপ্রত্যক্ষের ভাব ধরে। তাঁর আরেক বৈশিষ্ট হল, তিনি বড় সম্পাদক হলেও নিয়মিত তিনি কলাম লেখা (বা ভিডিও ক্লিপ তৈরি) চালিয়ে গেছেন। আর তার কলাম প্রকাশিত হত – ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট কলাম – এই নাম দিয়ে।

    আসলে এটাই শেখরের কারসাজিঃ
    জার্নানিজম আর দেশপ্রেমিকতা কী একই জিনিষ? বা একই সাথে করার জিনিষ?   নাকি আগে জার্নানিজম আর পরে দেশপ্রেমিকতা? এই জিনিষটাই গোলমাল পাকিয়ে রেখে দিয়েছেন শেখর গুপ্তা!
    মূল তর্কে গোলমাল পাকানো হয়েছে যেন দেশপ্রেমিক জার্নালিজম বলে কিছু একটা আছে। যেখানে দেশপ্রেমিকতার নামে অপ-জার্নালিজম-কে জায়গা করে দেয়া যায়! এমনকি শেখরের নিজ লেখা কলামের নাম  ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট নাম দেওয়াটাই এর প্রমাণ। মানে তিনি বলতে চাইছেন, যেন তিনি জাতীয় স্বার্থের জার্ণালিস্ট! শুনে আর না বুঝে ব্যাপারটা অনেকের ভালই লাগবে হয়ত! কিন্তু সাবধান! জাতিবাদি হয়ে যেয়েন না এত সহজে। যদি প্রশ্ন করি আপনি কী মোদির স্বার্থের পক্ষে  থাকাটাকে জাতীয়স্বার্থ বলে ভেবে এর পক্ষে থাকবেন নাকি যা সত্যি ফ্যাক্টস অর্থে সত্যি এর পক্ষে থাকবেন? [একই কথা আরেকভাবে বলা যায় যেমন মুসলমান কী মুসলমানের পক্ষে থাকবেই নাকি সবসময় তাকে ইসলাম / না-ইসলাম নির্বিশেষে ইনসাফের পক্ষেই থাকতে হবে?]
    শেখর যেন বলতে চান ন্যায়পরায়ণতা নয় -ইনসাফ নয়, ফ্যাক্টস অর্থে সত্যি ঘটনা নয় বরং কথিত জাতীয় স্বার্থের পক্ষে থাকাটাই জার্নালিজম! আর এটাই নাকি তথাকথিত দেশপ্রেমিকতা!!!! মানে ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট????  অথচ জার্ণালিজম চোখবন্ধ দেশপ্রেমিকতা বা জাতিবাদিতা একেবারেই নয়! বরং এব্যাপারে মুলকথাটাই হল, ন্যায়-ইনসাফ বোধ! অথচ এই ছুপা হিন্দুত্ববাদি দেশপ্রেমিকতা এরা জাতিবাদিতার নামে অসৎ জার্ণালিজম কে জায়েজ করে ফেলতে চায়!  আর এভাবেই তিনি প্রায় দেড়শ কোটি রুপির মালিক!
    কবছর আগে G-20 এর সম্মেলন ইন্ডিয়ায় হলে মোদি এই সম্মলনের একটা সেশন বিতর্কিত কাশ্মীরে অনুষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন। আর তাতে সমর্থন যুগিয়ে সাফাই দিয়েছিলেন এই শেখরগুপ্তা কলাম লিখেছিলেন।

    আর এবার? এবার ইউনুস কোপানির ঠিকাঃ
    এবার শেখর গুপ্তা ইউনুস কোপানির বড় ঠিকা নিয়ে এসেছেন।  তিনি এবার ইউনুস (ব্যক্তি ও ইউনুস সরকার) এদেরকে কোপাবেনই! তাতে খেলার নিয়ম-আইন ভেঙ্গে [বক্সিং খেলায় রিং এর মধ্যে প্লেয়ারেরা একে অপরের তলপেটে হিট করতে পারে না] হলেও শেখর এখন ইউনুস সাব কে কোপানো শুরু করেছেন। কিভাবে?
    শেখর স্বভাবসুলভ এক কলাম লিখেছেন, যার শিরোনামঃ  “প্রফেসর ইউনুসকে লেখা এক খোলা চিঠি” [ছাপা হয়েছে An open letter to Prof Muhammad Yunus দ্যা প্রিন্ট পত্রিকায় ১১ জানু. ২০২৫ । এতে শেখর তাঁর এই কলাম-বক্তব্যের সারকথা নিজেই করে দিয়ে লিখেছেন, “হাসিনা আপনার ব্যাংক [গ্রামীন ব্যাংক বুঝিয়েছেন] নিয়ে গেছে তাই আপনি হাসিনার উপর প্রতিশোধ নিয়েছেন” [Hasina took away your bank and you’ve served revenge.]।

    ঘটনা হল বিষয়টা তা ছিলই না! মানে ইউনুস সাব এক সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন ২০১৬ সালে শেখরকে। সেখানে শেখর সাজেশন রেখে জিজ্ঞাসা করেছিলেন হাসিনা আপনার ব্যাংক নিয়ে নিয়েছেন বলেই কী আপনি প্রতিহিংসায় পশিমা দেশে আপনার ব্যাংক খুলেছেন? সেখানে ইউনুস সাব পরিস্কারই বলেছিলেন, না অবশ্যই প্রতিহিংসাবশত কিছু করি নাই। সেকথা এই কলাম লেখাতেই শেখর উল্লেখ করেছেন। শেখর লিখেছেন, “You said we’re not seeking revenge, but just doing the right thing.”।  তাহলে ইউনুস সাবের এই কথার পরও শেখর কেন লিখছেন এটা প্রতিহিংসা???

     

    আমরা এবার শেখরকে দেয়া এই সাক্ষাৎকারকে পাশে ফেলে রেখে অন্যদিকে মানে, ভিতরে তাকাবোঃ
    শেখরের এসব দাবি শুনে মনে হইয়েছে শেখর ধরেই নিয়েছেন যে, ইউনুস সাহেব যেন ৫ আগষ্ট বিপ্লব বা হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির নেতা! তিনিই মূল নেতা !!! তাই  ইউনুস সাব এখন  তিনি হাসিনার উপর প্রতিহিংসাবশত হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করেছেন!!! অথচ এর চেয়ে হাস্যকর কথা আর হয় না!
    আমি অনেকবার বলেছি, ফ্যাক্টস হল – হাসিনার পতনে ভুমিকা রাখা ফ্যাক্টর তিনটাঃ [যার একটাতেও ইউনুস সাহেব সংশ্লষ্টই নয়] এক. কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ক্রমশ তাতে দেশের হাসিনাবিরোধী জনগণের জনসমর্থন আর এছাড়া, দূর থেকে হলেও রাজনৈতিক দলের সমর্থন এভাবে সব মিলিয়ে এক ছাত্র-জনতার উত্থান – এই ছিল প্রধান ঘটনা। আর এটাকে লক্ষ করে একে কাজে লাগিয়ে সেনাবাহিনীর নিজস্ব আভ্যন্তরীণ ক্ষমতায় (কমান্ডিং ক্ষমতা) বদল ঘটিয়ে নেয় (যারা হাসিনা-মুক্ত হবার চেষ্টায় ছিল অনেকদিন ধরে সেই অংশ)। এরা হল দ্বিতীয় ফ্যাক্টর। এরাই ছাত্র-জনতার সাথে হাত মিলানোতেই তা মিলিতভাবে নিয়ামক নির্ধারক ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছিল। আর তৃতীয় ফ্যাক্টর হল, জাতিসংঘের মানবাধিবাধিকার কমিশন (তাদের নিয়মিত হুশিয়ারি; যার সোজা অর্থ ইউএন মিশন থেকে আমাদের সেনাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায় বের করে দেয়া হতে পারে)।
    এই তিন ফ্যাক্টরের কোনটার সাথে ইউনুসের নুন্যতম সম্পর্ক, যোগাযোগ কিছুই ইউনুসের ছিল না। এছাড়া সেসময় তিনি দেশে নয় ছিলেন আমেরিকায়;  ফিরেছেন ঐ ৮ আগষ্টই যেদিন সন্ধ্যায় ফিরে তিনি ক্ষমতার শপথ নেন!  এককথায় হাসিনার পতন ও পলায়নের আগে ঢাকার কেউই তার সাথে যোগাযোগও করেন নাই। আর এমনিতেই তিনি  রাজনীতিবিমুখ, বিশেষত ১/১১ এর ঘটনার পর থেকে! তাহলে কিসের ভিত্তিতে শেখর গুপ্তার এই ভুয়া অনুমান?  এককথায় বললে যেখানে এটা হাসিনা বনাম ইউনুসের ক্ষমতার পাল্টাপাল্টি ধরণের কিছুই নয়??? হাসিনা পতনের নুন্যতম অবদান রাখা কোন ছোট-বড় নায়ক এর কিছুই নন ইউনুস সাব! আর এমনটা ইউনুস সাহেব কোথাও দাবিওও করেন নাই!
    তাইলে?
    তাহলে, এতে যা দাঁড়িয়েছে তা হল, এতে শেখর গুপ্তার হাসিনা-প্রেম প্রকাশ হয়ে পড়েছে! যা আসলে মোদির হাসিনা প্রেম!!!!  এটা প্রমাণ করে যে শেখর তিনি মোদির বা গোদি মিডিয়ার এসাইমেন্টে নেমেছেন, তাই নয় কী?

    দ্বিতীয়তঃ
    প্রধান উপদেষ্টা হবার পরে ইউনুস সাব গ্রামীণ ব্যাংকের কেউ কী না; অথবা গ্রামীণ ব্যাংকের স্বার্থে তিনি ক্ষমতাকে ব্যবহার করতে চান কিনা – এককথায় গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে তিনি কোন বক্তব্য বা ইস্যু তার মাথায় আছে তা তিনি কোথাও প্রকাশ করেন নাই; কোথাও প্রকাশ পায় নাই। তিনি নিজের পুরানা পরিচয় গত প্রায় ৫ মাসে আলাদা করে রেখে দিতেই সক্ষম হয়েছেন। কাজেই এতে হাসিনার প্রতি ইউনুসের প্রতিহিংসা তো অনেক দুরের কথা! এমনকি কমপক্ষে শপথের পরের প্রথম কয়েক সপ্তাহ তিনি ও তার উপদেষ্টা (মন্ত্রীদের) এটিচ্যুড ছিল হাসিনা বা তার দলের সাথেও কোন সরাসরি সংঘাত ছাড়াই তারা মিলজুল করে বা পাশ কাটিয়ে তাদের কার্যকাল শেষ করে দিতে চান! আর এই নীতি প্রকাশ হয়ে পড়লেই ববং রিভল্ট আসে। এনিয়ে প্রকাশ্যে আমারই কঠোর সমালোচনা আমি লিখেছি কয়েকটা। যার পরে তার সরকার এটা কারেক্ট করে এমনকি এর পরিণতিতে মন্ত্রীসভা ঢেলে সাজানো বা রিসাফল হয়; বিশেষ করে নয়া স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নিয়োজিত হয়। এমনকি পরের সেপ্টেম্বর মাসে ফেনীসহ ঐ অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেওয়ার আগে পর্যন্ত তিনি চেষ্টা করেছেন হাসিনা বা ভারত ইস্যু নিয়ে বিরোধ এড়িয়ে চলতে। প্রত্যক্ষ নাম উল্লেখ না করে কথা বলতে!  কিন্তু মূলত ফেনীর উজানে ত্রিপুরায় বাঁধ খুলে দেয়া থেকেই যখন তাকে ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থা-আপত্তি না তোলার জন্য অভিযুক্ত করা শুরু হয়েছিল (আমিওও কঠোর আপত্তি জানিয়ে তাকে তুলোধনা করেছিলাম) একমাত্র তখনই তিনি প্রকাশ্যে ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছেন। আর সেখান থেকেই ভারতের সাথে কমন নদীর পানির ন্যায্য হিসস্যা; ভাটির দেশের পানির অধিকার, ইন্ডিয়ার সাথে সম-মর্যাদা ও সম-অধিকার – এভাবে বাংলাদেশ ভারতের আচরণ আশা করে -ইত্যাদি সব ভান্ড-পোটলা একসাথে খুলে যায়! ততদিনে ইউনুস সরকারের আয়ু একমাস ও এক সপ্তাহ পার হয়ে গেছিল।
    তাহলে কী দাঁড়ালো? দাঁড়ালো এই যে এটা শেখর গুপ্তার জন্য একটা শিক্ষা! যে এরপর থেকে মোদির এসাইমেন্ট পেলেই দৌড় দিবেন না। আগে একটু পড়াশুনা করে নিবেন মাঝের যেমন ইউনুস সরকার গঠন হবার পরের এক-দুই মাসে বাংলাদেশে কী হয়েছে কীভাবে কেটেছে! আর তা না করলে এই এসাইনমেন্টের জার্নালিজম এটাও সফল দূরে থাক এটাও টিকবে না।
    শেখর গুপ্তা কে বুঝতে হবে ইউনুস বা তাঁর গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে ততপরতার বিরুদ্ধে সমালোচনা কী করে করতে হয় সেটা শেখরকে বাংলাদেশ থেকেই শিখতে জানতে হবে। আমার নিজেরই  এমন বহু সমালোচনামূলক লেখা আছে। কিন্তু সেগুলোর একটাও ইউনুস সরকারের কোন সমালোচনার মধ্যে আনি নাই। আমার বিশ্বাস ইউনুস সাহেব এটা জানেন যে সমাজে গ্রামীণ নিয়ে সমালোচনা আছে যেগুলোকে তিনি তাঁর এখনকার সরকারের গায়ে অযথা লাগিয়ে মাখায় ফেলা ঠিক হবে না। এবং দূরে আলাদা রাখা এটাই তো সঠিক সিদ্ধান্ত। আবার শেখর গুপ্তাকে জেনে রাখতে হবে গ্রামীণ ব্যাংক বা মাইক্রোক্রেডিটের ভাল দিক কী? কেন পশ্চিমাদেশ এটাকে গুরুত্বপুর্ণ মনে করে! পশ্চিমারা নিশ্চয় আবেগী বা বোকা না। আর এছাড়া সারা পশ্চিমে সবাই ক্লিনটন নন!  এমনকি ইন্ডিয়াতে কেন মাইক্রোক্রেডিট চিন্তাটাকে বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসাবে হাজির করানো হল? এদিকটা খোঁজ করেন, আমাদেরকে না নিজেদেরকেই দয়া করেন একাজ করে; আপনাদের অবশ্যই এতে বরকত মিলবে! গ্যারান্টি!!!

    ইন্ডিয়া বাংলাদেশে একটা ফেয়ার নির্বাচন চায় সেটা আবার যতদ্রুত সম্ভবঃ
    কী সাংঘাতিক কথা! তাহলে হাসিনার আমলে কী করেছেন?
    এটা একটা সত্যিই তামাসা যে  ইন্ডিয়া বাংলাদেশে একটা ফেয়ার (অবাধ, সুষ্ঠ কারচুপিহীন) নির্বাচন চায় সেটা আবার যতদ্রুত সম্ভব! আচ্ছা, গত ১৬ বছর আপনারা কোথায় ছিলেন? এমন কথা কখনও বলেন নাই কেন?  ঐসময়ের বিনা নির্বাচনের হাসিনাকে নিয়ে আপনাদের খুশিতে গদগদ থাকা, উতফুল্লতা এসবের পক্ষে  অন্তত একটা সাফাই দেন তো দেখি? আপনারা কীভাবে এখন বাংলাদেশে একটা ফেয়ার ও দ্রুত নির্বাচনের সৈনিক হয়ে গেলেন?? এনিয়ে এখন ইউনুস সরকারকে সবদিক থেকে চাপাচাপির রাস্তা ধরে ফেললেন, কেন? এমন রাতারাতি ফেয়ার ও দ্রুত নির্বাচনের সৈনিক? এটা আমরা বুঝি যে নয়া হাসিনা পার্টি আপনারা খাড়া করে ফেলেছেন; সাথে জামায়াতকেও রেখেছেন। আবার বিভ্রান্ত করতে প্রকাশ্যে জামায়াতের বিরুদ্ধে হিন্দুত্ববাদী গোলাগুলিও ছুড়ছেন, তাও বুঝি! আদানির অর্থ ছড়িয়েও আপনারা বাংলাদেশের দল নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছেন!  তাই বলে কেন ধরে নিচ্ছেন যা চাইবেন তাই পাবেন?
    উল্টাটাও হতে পারে! সাধারণ মানুষ একবার যদি টের পায় যে ইন্ডিয়া বিএনপিকে নয়া হাসিনা বানায়ে বাংলাদেশে ভোটারদের সামনে পেশ করতে চাইছে – তাই ইন্ডিয়ার এত চাপাচাপি এবং ফেয়ার ও দ্রুত নির্বাচনের সৈনিক হয়ে যাওয়া তাহলে এতে সাধারণ মানুষ জাস্ট উলটা দিকে ঘুরে যাবে বলেই আমার ধারণা। হাসিনার অত্যাচারে সাধারণ মানুষের কী পরিমাণ ক্ষুব্ধ এটা বুঝলে আপনাদেরকে থামতে হবে! এত বুদ্ধিমান ভাবা বন্ধ করতে হবে।  সাধারণ মানুষের সবচেয়ে খারাপ প্রতিবাদটা হবে যদি এমন ঘটে যায় যে তারা আর কোন উপায় না পেয়ে (হাসিনা আমলের মত) ভোটকেন্দ্রেই না যায়; ১০-১২% ভোট পরে?
    আপনাদেরকে মনে রাখতে হবে কোন রাজনৈতিক মুল্যবোধ, নুন্যতম মুল্যবোধ আপনাদের নাই – এটাই ইন্ডিয়ার সবচেয়ে বড় অযোগ্যতা! যা যখন ইন্ডিয়ার স্বার্থে আপনারার তখনই তার ভক্ত – এই হল আপনাদের মোদি বা ইন্ডিয়ার নীতি!

    এই কারণে, এখন ফেয়ার ও দ্রুত নির্বাচনের সৈনিক হয়ে যাওয়া অথবা আমাদের কনষ্টিটিউশনে কী আছে কী নাই আপনাদের ইত্যাদি নিয়ে আপনাদের কোন বক্তব্যই আমাদের কারো কাছে পাত্তা পাবে না, কোন গুরুত্ব নাই! কারণ আপনারা নৈতিক ভাবে স্খলিত; নুন্যতম মূল্যবোধ নাই! আপনারা যদি গত ১৬ বছর একবার অন্তত ফেয়ার ও দ্রুত নির্বাচনের সৈনিক বলে হাজির হতেন, আমরা হাসিনা সরকারে যে কনষ্টিটিউশন মানে না এরই অধীনে; বরং হাসিনা ইচ্ছামত আইন নিয়ম বানিয়ে চলছে এসবের বিরুদ্ধে একবার অন্তত কথা তুলতেন! পররাষ্ট্রসচিব সুজাতা সিং এসে ঠিক করে দিতেন না যে আমাদের বিরোধীদল বিএনপি নয় জাতীয় পার্টিই হবে??????

     

    ভারতের পররাষ্ট্রসচিব সুজাতা সিং এসে ঠিক করে দিতেন না যে আমাদের বিরোধীদল বিএনপি নয় জাতীয় পার্টিই হবে! আর আজ তারাই ফেয়ার ও দ্রুত নির্বাচনের সৈনিক! কী সাংঘাতিক!!!!

     

    তাহলে এখন কোনমুখে আপনারা গণতন্ত্রী সাজতেছেন?  ফেয়ার ও দ্রুত নির্বাচনের সৈনিক সেজে কনষ্টিটিউশন শিখাচ্ছেন? বিএনপিকে নয়া হাসিনার দল হিসাবে সাজাতে চাইছেন? আমি নিশ্চিত এতে বিএনপিরই কপাল পুড়বে!  এটা একটা নয়া হাসিনার আওয়ামি লীগ এই ইমেজ পেয়ে বসলে এই দল শেষ!!!! তখন আপনারা কী করবেন??? সেটাও ভাবুন! দুনিয়া এত সহজ নয়! অথচ শেখর গুপ্তার পত্রিকা দ্যা প্রিন্টই আরেকটা ভিডিও ক্লিপ বানিয়েছে ইউনুস কে খাটো দেখানোর জন্য।

    শুনে রাখেন, আপনাদের (বোকার) স্বার্থের দিক থেকে হাসিনা আপনাদের চোখে মডেল হতে পারে!  আর বিএনপিকে হাসিনার জায়গায় বসানোর লোভ দেখাতে পারেন! কিন্তু হায়! হাসিনার খুনী সিদ্ধান্তে মাত্র একমাসের মধ্যে ১২-১৫শত হত্যা, ১০৫ জন দুগ্ধপোষ্য শিশুকে তাদের বিছানায় শুয়ে থাকা অবস্থায় মেরে ফেলা হয়েছে, প্রায় ৭০০-হাজার গুম- অপহরণ করা হয়েছে; জঙ্গী বলে যাকে তাকে হত্যা,   ছাত্রশিবিরের কতগুলো কর্মি যে পায়ে গুলি খাওয়া চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছে এর খবর নাই! আর আনুপাতিকভাবে এবার দশগুণ করেন তবে আনুমানিক আহত দের সংখ্যা পাবেন! যাদের চোখ অথবা হাত-পা নাই!!! এখন বলেন, আমাদের সমাজ-রাজনীতি এসব ভুলে যাবে, এর কোন ইমপ্যাক্ট নাই, পড়বে না?  ভোটের বাক্সেও না?  বা আপনাদের নয়া হাসিনা বানাতে চাওয়া বিএনপির উপরে এর কোনই ছাপ পড়বে না, ছাপ থাকবে না????? সবই ক্ষমতা আর টাকাপয়সা দিয়ে, বিলিয়ে মুখবন্ধ সমাধান করে ফেলবেন!!!

    নিশ্চিত থাকেন আপনারা হেরে যাবেন! কারণ,  আপনাদের পলিটিক্যাল বা থিওলজিক্যাল কোন মূল্যবোধ, নুন্যতম ইথিকস, নীতিকথা ইত্যাদি কোন কিছুর দরকার নাই? মনে করেন, জাস্ট মানুষের কেবল বিষয়-আশয়ের স্বার্থ আছে????  ঘিনঘিনানি স্বার্থ? দুনিয়া এভাবে চলে নাই, এ’পর্যন্ত আসে নাই!!!!! আগামিতেও চলবে না!

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   রাত ০৮ঃ ৫৯     ১৪  জানুয়ারি ২০২৫

  • প্রথম আলো পুরানা পথেই; তাহলে সামনে কী!

    প্রথম আলো পুরান পথেই; তাহলে সামনে কী!
    গৌতম দাস
    ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪  সন্ধ্যা ০৬ঃ ৫৫
    https://wp.me/p1sCvy-66Q

     

     

     

     

     

     

     

     

    প্রথম আলো কিছুই বদলায় নাই। মানে শিক্ষা নেয় নাই। আর সে মাপেই তার কথিত ‘কূটনৈতিক প্রতিবেদক” সেও কিছু বদলায় নাই।  রাহিদ-এরা ঝামেলা আছে বুঝলে নাম সরিয়ে পদবী লিখে থাকে। তারা জানে যে এমন কাজ গর্হিত কাজ অপ-সাংবাদিকতা। গত ২১ ডিসেম্বর মানে পরশুদিন এমনই এক কথিত বিশ্লেষণ ছাপা হয়েছে প্রথম আলো তে। শিরোনাম, বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কে নতুন অস্বস্তি সৃষ্টি এড়াতে সচেষ্ট থাকা উচিত এভাবে। প্রথমত ভাসুরের নাম মুখে না নিবার মত করে বলা শব্দ হল অস্বস্তি; মানে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক এর মধ্যে “কোন অস্বস্তি বলে” কোন কিছু আছে তাই বুঝানো হচ্ছে। কিন্তু খাড়া বললে এটা হল ইন্ডিয়া ও মোদি অন্তত  আমাদের “আয়নাঘর” আর বিডিয়ার হত্যা ২০০৯  [এছাড়া আরও কত কী যে অপরাধ আছে] এর সাথে সরাসরি যে সংশ্লিষ্ঠতা আছে তা থেকে বাঁচতে বাংলাদেশের উপর হিন্দু নির্যাতন এর প্রপাগান্ডা দিয়ে ব্যাপক চাপ সৃষ্টির পরিকল্পনা নিয়ে এতদিন আগায় ছিল।যার ভিতরে আচে আবার চিন্ময়-ইসপকন সহ আরো কত কী!!! কিন্তু এসব অপরাধগুলো প্রথম আলো উল্লেখ করতে চায় নাই। তাই ছোট শব্দ অস্বস্তি!    এখন এখানে দেখা যাচ্ছে প্রথম আলো এই সম্পর্কে অস্বস্তি নামক শব্দ টা কী নিয়ে তা বলতে চাচ্ছে না। বরং নিরপেক্ষতার ভান ধরেছে।
    আসলে প্রথম আলো ভারতের স্বার্থের সক্রিয় প্রপাগান্ডা মেশিন হয়ে যেমন ছিল এতদিন ১৬ বছর জুড়ে তেমনই থাকতে চাচ্ছে। মানে কোন শিক্ষা হয় নাই; শিক্ষা নেয়ও নাই।

    বিএনপি (আর তার দেখাদেখি জামায়াতও অনেকটাই) ইন্ডিয়ার দাওয়াত-উস্কানিতে যে বিনিময়ে ইন্ডিয়া তাদেরকে কোলে তুলে নিয়ে ক্ষমতায় বসিয়ে দিবে এমন “নয়া হাসিনা” হবার লোভ সামলাওতে পারে নাই। সেদিকে ছুটছে তো ছুটছেই।  একবারও পিছন ফিরে দেখার কথাও মনে নাই যে খোদ ইন্ডিয়াই বাংলাদেশ থেকে ক্রমশ আউট হয়ে যাচ্ছে; অন্তত  আয়নাঘর ও বিডিআর হত্যাকান্ড এই দুইটা ইস্যুও যদি উল্লেখ করি তাহলেও তো কিছু বুঝা যায়! মানে যা নিয়ে সেনাসদরে বিক্রম সাব আমাদেরকে চাপ দিতে এসেছিল তা এখন পুরাই পাবলিকলি উদাম হয়ে গেছে; কারণ এটা আর হাসিনার বাংলাদেশ নয়। কাজেই চিন্ময়-ইসকন ইস্যু বা কথিত হিন্দু নির্যাতনের প্রপাগান্ডা যা দিয়ে ইন্ডিয়া আমাদেরকে চাপে ফেলে কাজ উদ্ধার করতে, নিজের পাপ-ক্রিমিনালিটি ঢাকতে এসেছিল সেই পাশার দানও উলটে গিয়েছে।
    এর  দুদিন পরেই ইতোমধ্যেই গুম কমিশনের প্রাথমিক রিপোর্ট প্রকাশ হয়ে গেছে যেখানে আয়নাঘর-অপহরণ ইস্যুতে ভারতের সংশ্লিষ্টতা এখন বিবিসিসহ সব দেশি সকল মিডিয়াতেই।  এছাড়া আজ বিডিআর হত্যাকান্ড তদন্তের নয়া কমিশনও গঠিত হয়ে গেছে। আর ইতোমধ্যেই এদুই ইস্যুতেই ইন্টারনাশনাল ক্রাইম ট্রাইবুনালে মামলা দায়েরও হয়ে গেছে।
    কাজেই ভারতকেই এখন রাষ্ট্র হিসাবে আসন্ন এসব ক্রিমিনাল মামলায় সংশ্লিষ্টতা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কেলেঙ্কারি মোকাবিলা কেমন করে করবে সেটাই ইস্যু?  এনিয়ে আসন্ন পরিস্থিতি সামলাবে কী করে সে চিন্তায় মোদির ইন্ডিয়ারই ঘুম হারাম হয়ে যাবে এখন। অথচ প্রথম আলো ও তাদের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের ঘুম ভাঙ্গে নাই।
    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জয়সোয়ালের গলার টোন বদলে গেছে। এটা তো অন্তত কারো না দেখতে পাবার কথা না। তিনি সর্বশেষ এখন বলছেন “দায়ীত্বশীলতার” কথা। বলছেন, “…… আমরা সবাইকে মনে করিয়ে দিতে চাই, প্রকাশ্য মন্তব্য যেন ভেবেচিন্তে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে করা হয়”।

    শুধু তাই না, আগামি জানুয়ারি থেকেই ইন্ডিয়া-আমেরিকান বিরোধ আরো তুঙ্গে উঠবে। ইতোমধ্যেই ইন্ডিয়ার উপর আমেরিকার আরোপিত স্যাংশন আমরা যেন ভুলে না যাই। এর সবকিছুর মানে এই বাইডেন আমলের শেষ কদিন থেকেই সব শুরু হচ্ছে।। মানে হল, হাসিনা সহ সারা ইন্ডিয়ার যারাই তাদের ট্রাম্প ভাইয়া এসে তাদের হাতে আবার বাংলাদেশটাই হাসিনা ও ইন্ডিয়ার হাতে তুলে দিবে বলে প্রকাশ্যেই আশা রেখেছিলেন তাদের অবস্থা কী হবে অনুমেয়! এমনকি আমরা নিজেরাই যদি মোদির ভারতের বিবৃতি দেখি বা অনুসরণ করতে জানি তাহলে দেখব ইতোমধ্যেই মোদির ইন্ডিয়ার আমেরিকার বিরুদ্ধে মোদি ফরমাল অভিযোগ তুলেছেন। বলেছেন “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং শিল্পপতি গৌতম আদানিকে নিশানা করেছে আমেরিকান সরকার”। এটা ৮ ডিসেম্বরের ভারতের মিডিয়ার খবর। যার প্রতিক্রিয়ায় আমেরিকা কড়া ভাবে হতাশা জানিয়েছে।

    আমার অনুমান আগামি জানুয়ারি মাস থেকেই আমেরিকা-ইন্ডিয়া সম্পর্ক তলানিতে ঠেকবে! অথচ এর কোন কোন খবর নাই প্রথম আলো ও তাদের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের। তারা ধরেই নিয়েছেন র-এর অর্থ আসবেই আর তারা বাংলাদেশে বসে ইন্ডিয়ার খেদমত করা লেখা লিখেই চালায় যাবেন – যেন কিছুই বদলায় নাই। বদলাবে না। এবার আগেই এসেছিল ত্রাতা মির্জা আলমগীর! নিজের মান-ইজ্জত বাজি রেখে এর বিনিময়ে খুবই মারাত্মক অভিনয় করে ……আপনারা চিন্তা করতে পারেন বলে তার সেই ডায়লগ ……. আজও ইতিহাস হয়ে আছে। এতে তখনকার মত লাভের লাভে জনরোষ থেকে প্রথম আলো বেঁচে গিয়েছিল।   কিন্তু শেষ রক্ষা হয় নাই।, খোদ মির্জা কেই বাচাতে, উসিলা করে বা যেভাবেই হোক ১২ দিনের জন্য সরে যেতে হয়েছিল। আর রিজভি তিনি কত বড় ইন্ডিয়াবিরোধী সেই ছল-অভিনয় করে হলেও সেই কার্ড শো করতে হয়েছিল। কিন্তু কেউ শিক্ষা নেয় নাই। তাদের কপালে যা আছে তা আমরা দেখব।

    কিন্তু প্রথম আলো নিয়ে কথা বলছি এখানে, তাদের আবার সেই একই কায়দার কু-জার্নালিজম আবার শুরু হয়েছে। শুরুতেই যে লেখাটার কথা বলছিলাম, বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কে নতুন অস্বস্তি সৃষ্টি এড়াতে সচেষ্ট থাকা উচিত, সেটাতে আবার  দালালিশুরু হয়েছে।  লেখার শুরুতেই মাথায় লিখে রেখেছে  এটা নাকি বিশ্লেষণ। কিন্তু ভিতরের বডিতে লেখার স্তাইল সেই পুরানাটাই। গায়েবি রেফারেন্স সুত্রে কথা বলা – এই হল, র-এর দালালির অপ-জার্ণালিজমের বৈশিষ্ট। সেটা এখানেও বর্তমান। তাই এলেখায় অন্তত দুবার লিখেছে বিশ্লেষকেরা বলেছেন; একবার বলেছেন কূটনৈতিক সুত্রে জানা গেছে। আরো একবার বলেছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষক বলেছেন……!!!   এভাবে জার্নালিজমকে পানিতে ফেলে দিয়ে হলেও অর্থ কামাতে হবে, র-এর দালালিই করতে হবে – একাজে প্রথম আলো ও তাদের নানান প্রতিনিধি, বা কথিত কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা আবার ফিরে এসেছে!!! এভাবে এবার আরো কতদিন?
    এবার মির্জা ফকরুল আসবেন না কারণ, আশা করছি আগামি মাস থেকেই সম্ভবত তারা নিজেরাই আছাড় খাওয়া শুরু করবেন!! আর হায় হায় করে উঠে তারা ভাববেন গত তিন মাস কোন গাছে তারা তাদের নৌকা বেঁধেছিলেন? যেই গাছ নিজেই এখন উপড়ে পরে যাচ্ছে……!!!!

    উপদেষ্টা মাহফুজ আলম প্রসঙ্গঃ
    সবশেষে, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম প্রসঙ্গ। রোগ সেই পুরানা কমিউনিস্ট রোগ…! তাতে রোগটা নিজের বা তাদের কমিউনিস্ট গুরুর যারই হোক না কেন তাতে ফলাফল পরিণতি কিন্তু একই!
    বাস্তবের দুনিয়াটা কী?  আর এতে দুনিয়াদারিটা কী ও কেমন এ’সম্পর্কে কমিউনিস্টদের কোন ধারণাই নাই। কোনদিনই ছিল না। আমি অনেকবারই বলেছি, ১৯৪৫ সালের দুনিয়াটায় সবচেয়ে গভীর বদলগুলো কী তা এরা একেবারেই জানে না। তাদের গুরুই স্টালিন-ই জানত না। খেয়াল করেন নাই যে সারা দুনিয়া থেকে কলোনিদখল সব উতখাত হয়ে গেল কেমনে? কোন যাদুতে? আবার  এমনকি স্টালিন; তিনিসহ একাল পর্যন্ত সব কমিউনিস্টেরা মনে করেন দুনিয়া ১৯৪৫ সালের পরে কলোনিমুক্ত হয় নাই। সবচেয়ে আজীব কথাটা হল, খোদ স্টালিন ১৯৪২ সালের ১ জানুয়ারি এক ঐতিহাসিক দলিলে স্বাক্ষর করেছিলেন।  [ততদিনে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের নেতৃত্বের জোটে  স্টালিন হিটলারবিরোধী( এন্ড গং -বিরোধী) এই জোটে যোগ দিয়ে ফেলেছেন] আর ঐ দলিলেই লেখা ছিল যে  হিটলার এন্ড গংয়ের পতন আর এই জোট বিজয়ী হলে নয়া দুনিয়াটা একেবারে কলোনিমুক্ত হয়ে যাবে। মানে যারা রুজভেল্টের পক্ষের শক্তি অথচ যারাই মূলত দুনিয়াতে সবচেয়ে বেশি কলোনিদখলদার দেশ তারাই হিটলারের পরাজয়ের পরে নিজ নিজ দখলদারি ছেড়ে নিজ দখলিকৃত কলোনিগুলোকে আপোষে মুক্ত করে ছেড়ে দিয়ে এরপর সোজা হেঁটে  নিজ নিজে মূল দেশে ফিরে  চলে যাবে। [এভাবেই আর সবার মত বৃটিশ-ইন্ডিয়া মুক্ত হয়েছিল ১৯৪৭ সালে। ] আসতে এই শর্ত বা প্রতিশ্রুতি সব কলোনিদখলদারদের পক্ষ থেকে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিল রুজভেল্টকে দিয়েছিলেন। আর এর বিনিময়ে যুদ্ধের প্রধান খরচের দায়ভার একা আমেরিকা নিজের কাঁধে নিয়েছিল।

    ঘটনা হল, স্টালিন নিজে ঐ ১৯৪২ সালের ১ জানুয়ারির দলিল যেখানে তিনি স্বাক্ষর করেছিলেন তা ডিটেল পরে দেখেন নাই; বলে অনুমান করা হয়। কেবল হিটলার উতখাত হবে – এতটুকুতেই ছিল তার মূল আগ্রহ,  সম্ভবত সেই কারণে। আর ইতিহাসে ১৯৪২ সালের ১ জানুয়ারির ঐ দলিল – এটাই জাতিসংঘের জন্ম ঘোষণার দলিল বলে পরিচিত। ইংরাজিতে [Declaration by the United Nations, January 1, 1942]  আর ঐ দলিলের সারকথা হল, কলোনি দখল হারাম! কোন দুই জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্র কেউ কারো ভুখন্ড দখল বা পুরা দেশটাই দখল করলে ( জাতিসংঘের মোট ১৯৩ রাষ্ট্রের সিংঘভাগ সদস্য রাষ্ট্র দখলকারির বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিবে – ঠিক যেমন অবস্থা শেষ পর্যন্ত হয়েছিল সাদ্দাম হোসেনের কুয়েত দখলে………। সেটাই ঘটবে।  যেকোন দুই রাষ্ট্র যদি তাদের সীমান্ত একসাথে বসে মাপামাপি করে একবার একই দলিল ম্যাপ তৈরি করে নেয়; এরপরে ঐ একই ম্যাপের দুইটা কপি দুই দেশের কাছে থেকে যায় তবে সেই মামলা হবে মারাত্মক! কারণ সেক্ষেত্রে আর কখনও তাদের মধ্যে কোন সীমানা নিয়ে যুদ্ধের সুযোগ থাকবে না।  বৃটিশ ইন্ডিয়াতে বেশির ভাগ সীমান্ত শাসক বৃটিশেরা এমন কমন ম্যাপ করে রেখে গেছে। কিন্তু যেগুলা করদ রাজ্য ছিল সেগুলো বৃটিশেরা এই এলাকা গুলোতে তা করতে পারে নাই এক্তিয়ার ছিল না বলে। তেমনই এক সীমান্ত (করদ রাজ্য কাশ্মীরের অংশ বলে) হল ভারত-চীন এদের লাদাখ এলাকা। যেটা একালে নিজেরা বসে আপোষে করে নিতে হত কিন্তু হয় নাই।

    এখন মূল প্রসঙ্গে প্রবেশ করি – মাহফুজ জানেই (কারণ জানলে করত না) না যে, একজন উপদেষ্টা [সরকারী মন্ত্রী] হওয়া মানে কী? তাঁর প্রতিটা আচরণ উনার ব্যক্তিক আচরণ নয়, বরং রাষ্ট্রীয় আচরণ, সিদ্ধান্ত বলে গণ্য হবে যার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী হবেন এখনকার রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহি যিনি মানে, প্রধান উপদেষ্টা ইউনুস সাহেব!
    মাহফুজ আলম মনের খায়েসে পোলাপান যেভাবে ফেসবুকে কতকিছু করে যার সীমা থাকে না। তিনি বাংলাদেশের বাইরে ভারতের এক বিরাট অংশ সাথে যুক্ত করে এক ম্যাপ ছেপে দিয়েছেন। আবার বলছেন মেলা কাজ নাকি বাকি???? মানে ইঙ্গিত হল সেগুলোও দখল করতে হবে – যেন এর ইঙ্গিত দিচ্ছেন!!!

    আমাদের ভাগ্য ভাল যে এই আচরণের জন্য দিল্লিতে আমাদের রাষ্ট্রদুতকে ভারত সরকার তলব করেন নাই; ব্যাখ্যা চান নাই। কেবল মুখপাত্র জয়সোয়াল তার বিবৃতিতে উল্লেখ করে রেখেছেন!

    কিন্তু কেন হল এরকম?
    কারণ তাদের গুরুরা কমিউনিস্ট; ১৯৪৫ সালের আগেপিছের দুনিয়ার জন্য সবচেয়ে নির্ধারক দুনিয়ার ইতিহাস তারা জানেন না, পড়েন নাই। কারণ স্টালিন-ই ীই দলিলে সই করলেও মনোযোগে পড়ে দেখেন নাই! [এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হল তার নিও-কলোনিজম বলে নয়া নামকরণ করা বা নয়া ভোকাবুলারি এর জন্ম দেয়া] সবচেয়ে বড়কথা জাতিসংঘ! মানে ১৯৪৫ সালের পরে দুনিয়াতে যে একটা গ্লোবাল পলিটিক্যাল সিস্টেম [দয়া করে সিস্টেম শব্দটাকে বন্দোবস্ত পড়বেন না] এটা কোন কমিউনিস্টই এখনও খেয়াল করেছেন জানেন, পড়েছেন – আমি দেখি নাই!  তাদের কথিত “এক সাম্রাজ্যবাদ” বলে এক গালির শব্দ ছাড়া তাদের মাথায় কিছুই নাই। তাও শব্দের ব্যবহারের আগা-মাথা নাই।
    যেমন প্রত্যেক দেশের দেশিয় পর্যায়ে যে পলিটিক্যাল সিস্টেম এটাকেই আমরা নিজ নিজ রাষ্ট্র বলে থাকি!  এমন সদস্য রাষ্টগুলোকে নিয়ে তৈরি হওয়া এক গ্লোবাল পলিটিক্যাল সিস্টেম, এমন প্রতিষ্ঠানের নামই হচ্ছে জাতিসংঘ!  তবে বুঝাবুঝিতে কেবল একটাই সাবধানতা দিয়ে রাখি, জাতিসংঘ ঠিক প্রত্যেক সদস্য রাষ্ট্রের উপরে বাপ-কর্তা ধরনের প্রতিষ্ঠান; ঠিক এমনটা নয়! তাহলেও জাতিসংঘের অনেক বাধ্যবাধকতার অধীনে আমরা, বিশেষ করে যারা আমাদের মত ছোট দেশ!

    সারকথায়, কমিউনিস্টদের কাছে ১৯৪৫ সালের পরের দুনিয়াটা কী? এখানে নয়া কী কী হয়েছে তাতে কী করা যায়; আর কী একেবারেই করা যায় না – রাষ্ট্রের মন্ত্রী দূরে থাক ব্যক্তি নাগরিকও করতে পারে না; সরকারের দায়ীত্ব হয়ে যায় তাকে বাধা দেয়া ইত্যাদি এসব এদিকটা নিয়ে কমিউনিস্টেরা একেবারেই সীমাহীন অন্ধকারে। এগুলো অযোগ্য চিন্তার স্টুপিডিটির অবশ্যই; আর এর কারণে এরকম বিপদে বাংলাদেশও আগে পড়েছে। মজার কথা হল, যেসব কমিউনিস্টেরা এমন কান্ড করে বাংলাদেশকে বিপদে ফেলেছে তারা এতই নাদান যে তারা এখনও ঠিক জানেন না যে তারা কী ও কত বড় অপরাধ করেছে!!!!

    এদেরই কিছু চেলা এখনও আজকাল দেখবেন বাহাদুরি করে লিখে নয়া-উপনিবেশ [ইংরাজিতে Neo-colony]; কেউ কেউ আরো ওস্তাদ। এরা লিখবে বি-উপনিবেশায়ন। ডি-কলোনাইজেশন থিউরি আউরাইবেন। অথচ দুনিয়ায়ে যে একটা গ্লোবাল পলিটিক্যাল সিস্টেম খাড়া হয়ে গেছে; এটা কোথা থেকে কীভাবে ঘটলো এদের খবরই নাই!

    এসবের পরিণতি হল, একেকজন শিষ্য মাহফুজ আলম! মন্ত্রী জানেনই না তিনি কী করতে পারেন না অথবা কী করলে এর পরিণতি কী হয়!!!!!

    যাহোক এলেখায় মূল প্রসঙ্গ হল, প্রথম আলো ও তাদের নানান প্রতিনিধি, যারা আবার একইভাবে র-এর দালালি চালায়ে যেতে শুরু করে দিয়েছেন! কিন্তু সমস্যা হল এবার আর কোন (র-এর হাত ধরে ক্ষমতায় যেতে আগ্রহী ফলে) উদ্ধারকর্তা, মির্জা নামে কাউকে পাওয়া যাবে না!

    আর মাহফুজের কথা লিখতে হল কারণ, প্রথম আলোর লেখাটা শুরু হয়েছিল এভাবেঃ
    “৫ আগস্ট–পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এক টানাপোড়েনের মধ্যে পড়েছে। এমন এক পরিবেশে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি ঢাকায় এসে পররাষ্ট্রসচিব মো. জসীম উদ্দিনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করে গেছেন। দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাসের বিরল এই অস্বস্তি কাটানোর প্রথম ধাপ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে এই সফরকে। পরিবর্তিত পরিস্থিতির নিরিখে সম্পর্কের ইতিবাচক বিবর্তনের এমন এক সময়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারত”।

    সেসব দিন আর একই রকম নাই! তাই এখন বাঁচতে চাইলে প্রথম আলোকে নতুন রাস্তা খুঁজতে হবে! বাকি সিদ্ধান্ত তাদের নিজের! হিন্দুত্ববাদ-চাটা আর এসব অপ-জার্ণালিজম দিকটা বাদ দিলে প্রতিষ্ঠানটা ভাল, সবচেয়ে বড় কথা অনেকজনের মেহনতের ফল এটা!  তবে এটাকে ধ্বংস করে ফেলতে চাইলে কে আর তা ঠেকাতে পারে!!!

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  রাত  ১০ঃ ১৫   ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪

  • “আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা নেই”

    “আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা নেই”
    গৌতম দাস
    ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪  রাত ১০ঃ ৪০
    https://wp.me/p1sCvy-65f

     

     

    “আওয়ামী লীগের নাকি  নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো বাধা নেই” এমন ফতোয়া মন্তব্য করেছের নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার। বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে রংপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয় মিলনায়তনে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার বিষয়ে মতবিনিময় সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

    ছাগল দিয়ে ধান মারাই হয় না। এটা বহু পুরানা প্রবাদ। সেই অবস্থা হয়েছে বা করেছে বদিউল আলম মজুমদার। ছাগলের মুরোদ থাকে না ধান মারাই এর মেহনত করার!  নামের পিছে একটা ডক্টরেট থাকলেই তিনি সবকিছু করা বা বলার যোগ্য হয়ে যান না। এটা তো উনার নিজেরই জানা না থাকার কোন কারণ নাই। এছাড়া যে ব্যক্তির নিজের সামর্থ সম্পর্কে কোন স্বচ্ছ ও নির্মোহ ধারণা থাকে না – এটা তো নিজের সাথেই অসততা!!!  সব সমাজেই এমন ঘাটের মরা দুচারজন আসলে থাকেই!!!
    তাবু ইউনুস সাব কথিত এক “নির্বাচন সংস্কার কমিশনের” প্রধান তাঁকেই বানিয়ে দিয়েছেন।  যার পিছনের কারণ অথবা উনার এমন নিয়োগ পাবার যোগ্যতা ক্রেডেনশিয়াল কী?  যোগ্যতা একটাই উনি বদিউল এক এনজিও দোকানের মালিক!!!
    এমনিতেই, এনজিও জগতে যারা ম্যাটেরিয়াল বা বস্তুগত জিনিষ যেমন যেকোন ত্রাণ সামগ্রী বা জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী অথবা এমন কি মাক্রোক্রেডিট (ক্ষুদ্র ঋণ) এমন ফিজিক্যাল জিনিষ বিলি করেন এরা তবু একটা “পদের”  হয়।  কিন্তু যারা চাপা মেরে খায় মানে যা মনে চায় কথা বেচে খায় ; যেমন ধরেন এককালে (আশির দশক পর্যন্ত) ভুমিহীন সংগঠিত করাও একধরেণের এনজিও ততপরতা মানা হত যা এখন একেবারেই বন্ধ; ওর পিছনের অর্থদাতা (ইউরোপীয় সোশাল ডেমোক্রাট রাজনীতিক মারা গেছে) নাই তাই। অর্থাৎ এরাও গরীব মানুষকে
    বস্রংতুগত কোন ত্পুরাণ দিলেন না, চাপাবাজি ছাড়া।  আর এর বদলে আমেরিকার সৌজন্যের আরেক ধরনের চাপা বিক্রেতা এনজিও হাজির হয়েছে। তিনারা নাকি আমাদেরকে জনপ্রশাসন (পাবলিক এডমিনিষ্টেশন) শিখাবেন। যার আরো উপরে মেকআপ দিয়ে চেহারা ছুপানী ভাষ্যটা হল এরা নাকি সুশাসন এর ফেরিওয়ালা। এরাও মনে করে রাজনীতি ছাড়া সুশাসন বিলি করা সম্ভব। এমন কী তাহলে রাষ্ট্র বুঝাবুঝির কী হবে? রাষ্ট্র বুঝাবুঝি ছাড়াই গুড গভর্নেস (সুশাসন) – এটা কায়েম করা কী সম্ভব, তাহলে?? গভর্ণ [govern] মানে তো শাসন। তো তাহলে রাষ্ট্র কী, রাজনীতি কী? আপনি বদিউল বুঝেন?  বুঝলে তো আপনি চিন্তাচর্চার কোন পাঠচক্র বা কোন রাজনৈতিক গ্রুপ কিংবা চাইলে একটা রাজনৈতিক দলই খুলে বসেছেন, দেখতাম! নাকি!!!!  অথচ রাষ্ট্র কী, রাজনীতি কী বুঝাবুঝির খবর নাই; আর  এসব না বুঝেই আপনি বদিউল সুশাসন নামে এনজিও দোকান খুলে বসেছেন? আপনি মানুষকে কী বিতরণ করবেন?  আপনার মাথায় তো কোন মাল-ই নাই! কত কী যে দেখব?
    তো আপনি কী করবেন? অরেঞ্জ রেভেলিউশন? জর্জ সোরেস? ওপেন সোসাইটির ফান্ড? সেই মুরোদও আপনার নাই! দেখা যাচ্ছে আপনি যা পারেন তা হল গুম, খুন, অপহরণের রাষ্ট্র কায়েমকারি হাসিনা লীগের রাষ্ট্র – এই হল আপনার সুশাসন-বোধ???? এনজিওও এর টাকা কী মজা তাই না!!!  আপনার মুরোদ হল তৃতীয় শ্রেণীর আওয়ামি দূঃশাসনের, এমন খুনের রাষ্ট্রের দালাল হওয়া!   
    আর তাই  আপনি চিন্তার স্টুপিডিটিতে ভাবছেন এটা লিবারেলিজম! অতএব   আপনি দাবি করেছেন, “আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো বাধা নেই”।

    আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো বাধা নেই বলে মন্তব্য করেছের নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার। বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে রংপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয় মিলনায়তনে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার বিষয়ে মতবিনিময় সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

    রংপুরে নির্বাচন সংস্কার কমিশন প্রধান

     

    আগামিতে আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো বাধা আছে কিংবা নাই – এটা দেখতেই কী ইউনুস সাহেব বদিউলকে নিয়োগ দিয়েছিলেন।

     

    আসলেই এসব একেকটা বদিউলে্রা কোথা থেকে জনসমাজে উদয় হয়??? সরকারের উচিত এমন ব্যক্তিত্ব এরা যেন আর কখন জনস্বার্থ বিষয়ক কোন কাজে জড়িত হওয়া বা কাছাকাছি হওয়া চিরদিনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়! 

    কাজেই এখন প্রধান উপদেষ্টা ইউনুস সাবের জন্য কাজটা একেবারেই সোজাঃ
    ইউনুস সাহেবকে  এখন জনগণের সামনে জানাতে হবে, যে তিনি  বদিউল আলম মজুমদার কে কী কাজের জন্য নিয়োগ দিছিলেন? সেই ট্রার্মস এন্ড কন্ডিশনে কী ছিল? তা জনগণের সামনে এসব এখন উন্মুক্ত করতে হবে। আর দেখাতে হবে যে সেখানে এবিষয়ে ঐ চুক্তিপত্রে কী লিখাছিল? আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো বাধা আছে কিনা সেটা যাচাইয়ের জন্যই কী বদিউল কমিশন? এনিয়ে আমরা জনগণের অংশ নিজেরা যাচাই করতে চাই এটা কীভাবে সম্ভব হল!!
    আর একই ভাবে বদিউল আলম মজুমদার কেও দেখাতে হবে (তার কনট্টাক্ট বা নিয়োগ ডকুমেন্ট ) এর কোন অধিকার বলে তিনি এই মন্তব্য করেছেন যে  “আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো বাধা নেই”। এটা কী তার ম্যান্ডেট? তার এক্তিয়ারভুক্ত কাজ ও মন্তব্য?

    জনগন জানতে চায়।   আর সবার আগে অবিলম্বে ইউনুস সাবের উচিত নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান পদ থেকে  ড. বদিউল আলম মজুমদার এর নিয়োগ বাতিল ও প্রত্যাহার করে নেওয়া।

    অবিলম্বে ইউনুস সাবের উচিত নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান পদ থেকে  ড. বদিউল আলম মজুমদার এর নিয়োগ বাতিল ও প্রত্যাহার করা।

     

    বদিউল সাবের কথা অনুযায়ী কী তাহলে এখন কোন আদালত হাসিনা বা আওয়ামি লীগকে আগামি নির্বাচনে নিষিদ্ধ ধরনের কোন শাস্তি আর দিতে পারবে না? উনার কথিত কমিশন হাসিনা লীগকে এসব থেকে একেবারে খালাস করে দিয়েছেন কী?
    অবস্থা এখন যেন এমন যে বদিউল সাব একেবারে বিচার বিভাগের উপরেও এক মাতবরি রায় ঘোষণা দিয়েছেন!!!!!
    বদিউল আলম মজুমদার – তিনি আসলে যে কী হয়ে গেছেন, যার কোন আর সীমা নাই! তিনিই সব……।  অথচ এমন যেকোন মন্তব্য করার এক্তিয়ার তাকে কে দিয়েছে???

    তাঁকে এসবের জবাবদিহিতার অধীনে এখন আনতে হবে। এটাকী কোন ষড়যন্ত্র? বদিউল কী এর অংশঃ
    মূল সমস্যা আসলে ইউনুস সাবের মনগঠনে; দেখা যায় এনজিও এর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিত্বের প্রতি তাঁর বাছবিচার-হীন আনুগত্য-পছন্দ!  এরই প্রচন্ড ক্ষতিকারক ফল এখন সারা বাংলাদেশের উপর।
    এই ড. বদিউল আলম মজুমদার এন্ড গং এদের উত্থান এরশাদ আমলের স্থানীয় সরকার প্রশাসন কেমন হওয়া উচিত এ’সংক্রান্ত পরামর্শক কনসালটেন্ট হিসাবে নিয়োগ পেয়ে সেসময় তারা হাজির হয়েছিলেন। প্রশাসন কী জিনিষ আর বিশেষত “ম্যানেজমেন্ট” যা এখানে বিশেষত রাষ্ট্র পরিচালনা এই অর্থে ম্যানেজমেন্ট – এই প্রসঙ্গে; অথচ এসব ব্যক্তিদের এনিয়ে কোনই মৌলিক জ্ঞান-ধারণাই নাই। আর সেকারণের আজকের বাংলাদেশে যে দলবাজির প্রশাসন এর কাঠামোগত ভিত্তি তৈরি  হয়ে গিয়েছে এর আসল নায়ক এক বদিউল সাব। আর উনার সাথে আরো ছিল ডঃ তোফায়েল আহমেদ (সাবেক জনপ্রশাসনের শিক্ষক ঢাবি )। এরাই একটা শ্লোগান এনেছিলেন – “পিপলস পার্টিশিপেশন” – “জন-অংশগ্রহণের প্রশাসন” ।  এটা করতে গিয়ে এই বিজ্ঞরা একেকটা জেলাশহর যেন এমপি দেরকে বন্ধক দিয়ে দেবার ব্যবস্থা করেছিলেন। যেহেতু এমপি মানেই জন নির্বাচিত ফলে উনার হাতেি সর্বময় ক্ষমতা দেয়া মানে যেন ওটাই সেই  “পিপলস পার্টিশিপেশন”  এর প্রশাসন ; এই ছিল তাদের গাধা-গরু মার্কা কনসালটেন্সি চিন্তা।
    অর্থাৎ কেউ জন-নির্বাচিত হলে তাকে আর কোন জবাবদিহিতা বা কোন স্থায়ী (স্টাটিটুরি) আইন কনষ্টিটিউশন ইত্যাদির অধীনে আনার আর দরকার নাই। কার্যত সেজন্য জন-নির্বাচিত শব্দের মানে হয়ে গেছিল সাক্ষাত ভগবান; যা বোধহয় কোন রাজার আমলেও রাজারও এমন হুইম [খেয়ালি] শাসন-চিন্তা ছিল না! আর এতে ডিসি হয়ে উঠেছিল এই সাক্ষাত ভগবানের ক্ষমতার আড়ালে নিজ যথেচ্ছাচার!  যেমন খাস জমি কীভাবে বিতরণ হবে এর যে সরকারী বিজনেস রুল আছে তা পালনের দায় এই জন-নির্বাচিত প্রতিনিধির নাই!  আর ডিসি তো ভগবানের আড়ালে, ফলে ত্রাও আগে যতটুকু জবাবদিহিতা ছিল এখন তাও নাই। এই ছিল বদিউল-তোফায়েলের জনপ্রশাসন এর উন্নতমানের জ্ঞান!!! বাইরে থেকে এটাকের আবার আমরা আওয়ামি লীগের ক্যাডার প্রশাসন বলে চিনে; আর বদিউল-তোফায়েলেরা থেকে যায় আড়ালে! সব দোষ হল রাজনীতিবিদ-দের; এনজিও মালিকদের প্রপাগান্ডাও এতে সবল হয়!
    এসবই হল প্রাক্তন পেটি-চিন্তার কমিউনিস্টদের বোধ-বুদ্ধি বা তাদের প্রভাবে বেড়ে উঠা চিন্তার স্টুপিডিটি। যেন আমলা এটা খুবই একটা খারাপ শব্দ। আমলা শব্দটা পজিটিভ ছিল। অর্থ স্কিল্ড – পোড় খাওয়া বা দক্ষ প্রশাসক। অথচ এই ধারনাটাকে তারা উলটে দিয়েছেন। দুনিয়ার সৎ লোক মানেই যিনি জন-নির্বাচিত??? এমনকি তারও কোন দক্ষতার দরকার নাই যেন!!!!

    ঠিক সেই কাজটাই তিনি এখানেও করেছেন। একটা কাজ কাউকে করতে দিলে এর কী কী এক্তিয়ার তাঁকে দেয়া হয়েছে সেদিকে এদের মনোযোগ নাই।  এটাই যেকোন পেটি-চিন্তার মৌলিক বৈশিষ্ট!   এমনকি টার্ম-কন্ডিশনে না বলা থাকলেও যিনি প্রুডেন্ট [prudent] তাঁর তো নিজেই বুঝা উচিত কোনটা করলে সেটা তাঁর এক্তিয়ারের বাইরের কাজ (সেটা নিয়োগবিধিতে উল্লেখ থাক আর নাই থাক) বলে বিবেচিত হবে। অথচ সেই আক্কেল ইনাদের কে আল্লায় দেয় নাই। এনজিও এর দকান খললেই এরা সব একেকজন দ্বিগগজ সবজান্তা হয়ে উঠেন!!!
    দুর্ভাগ্য আমাদের জনগোষ্ঠির!!!

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   রাত ১১ঃ ১৯     ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪
    সর্বশেষ   আপডেটঃ   রাত ১২ঃ ২৩     ২০ ডিসেম্বর ২০২৪

  • কোথায় ছিলেন বিক্রম?

    কোথায় ছিলেন বিক্রম?
    গৌতম দাস

    ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪
    https://wp.me/p1sCvy-63H

     

     

     

     

    একঘন্টা কোথায় ছিলেন বিক্রম? – এটা আজ সন্ধ্যার হট কেকে আলোচনা। বিশেষ করে সামাজিক আলোচনার অন্যতম প্ল্যাটফর্ম ফেসবুকে!
    যদিও রাষ্ট্রের গোপন বিষয় বা যেকোন গোপন বা অপ্রকাশ্য বৈঠক নিয়ে আলোচনা তুলে আনা বেশ সীমাবদ্ধতার কাজ । অন্তত এখানে এমন অনেক বিষয়-প্রসঙ্গ থাকে যে চাপ্টারটা জানি বা না-জানি তা নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করা যায় না। তা করা একেবারেই সঠিকও না। কারণ রাষ্ট্রস্বার্থের অনেক কিছু তাতে জড়িয়ে থাকতে পারে। সেটা সামলে রাখাই তো দায়ীত্বপুর্ণ নাগরিকের কাজ!  কাজেই কিছু কিছু রেড লাইন আমরা ক্রশ করতেই পারি না; এমনকি নাগরিক অধিকারের দোহাই দিয়েও না।

    তবুও উপরের এসব দিক আমলে রেখেও কিছু আলোচনা তো করাই যায়! হ্যা, তাই আমরা করার চেষ্টা করব এখানে।
    আমার দেখা তিনটা মানে আসলে দুটা মিডিয়ায় এনিয়ে কিছু আলোকপাত করার চেষ্টা করেছে তারা হল, আউটলুক ও মানবজমিন (জনতার চোখ) । তবে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি আমাদের সেনাপ্রধান ও সাথীদের সাথে কী বিষয়ে কথা হয়েছে এদিক নিয়ে কেউই কোন হদিস এর ইঙ্গিতও দিতে পারে নাই। এই হল সীমাবদ্ধতার দিকটা।

    এখন সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যেই থেকেও মানে এটা স্বীকার করে নিয়েও অনেক কথা বলা যায় তাই এখানে বলব।

    কথা এভাবে সেভাবে যত যাই বলি, ঐ বৈঠকে কথার ইস্যু যা হতে পারে তা দুই ধরনের। এক. এমন ইস্যুতে যেটা আসলে প্রত্যক্ষভাবে কিছু নাগরিক ব্যক্তিস্বার্থ ও অধিকার সম্পর্কিত দিকও আছে বা থেকে গেছে। আবার এমন হতে পারে, দুই. কিছু ইস্যুতে রাষ্ট্রস্বার্থ একেবারেই প্রধান যার অর্থ হল পাবলিক ইন্টারেস্ট বা জনস্বার্থ সেখানেও আছে তবে একটু পরোক্ষে।

    গত মাস খানেকের বেশি হবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন যে বিডিআর বিদ্রোহ মামলা আরো স্বচ্ছ করে খুঁজে দেখার জন্য, অসমাপ্ত এদিকটা সম্পন্ন করতে একটা কমিশন গঠন করা হবে।  যা সেকালে (২০০৯) কোন মতে ধামাচাপা দেয়া হয়েছিল; সেসব এবার খুলে সাফা করা হবে। কিন্তু  আজকে হাইকোর্টে কে অবহিত করতে গিয়ে এটর্ণীর অফিস থেকে আদালতকে জানানো হয়েছে সরকার আপাতত কমিশন গঠন নিয়ে আগাচ্ছে না। এখানে আপাতত কথাটা গুরুত্বপুর্ণ;  এর মানে হল, এখন না হলেও পরে হতে পারবে বা পারে। আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার এমন অবস্থানে পিছনের সাফাই যুক্তিতে জানিয়েছে আদালতে নাকি এ’সংক্রান্ত দুইটা আগের মামলা পেন্ডিং আছে। সেগুলো নিষ্পত্তি হয় নাই তাই সরকার করতে পারছে না। যদিও এই রিট যারা আদালতে করেছিলেন সেই বাদীপক্ষ আজ পাবলিকলি জানিয়েছেন যে  এর আগে এমন পেন্ডিং মামলার পরিস্থিতিতেও শেখ মুজিবের হত্যার মামলা বলেছে যা উদাহরণ বা রেফারেন্স আছে। যার অর্থ সরকারী সাফাই সত্যি বা ভ্যালিড নয়; এই হল বাদীপক্ষের দাবি।

    যাই হোক আমাদের প্রাসঙ্গিক মুলকথাটা হল, এখান থেকেই জল্পনা-কল্পনা উঠেছে তাহলে এটাই কী – একঘন্টা কোথায় ছিলেন বৈঠকের ইস্যু – ছিল? সেকারণে ইউনুস সরকার পিছু হটছে??? এই হল সন্দেহ!!

    তবে একেবারে স্পষ্ট করে বললে, এর পক্ষে কোন কনফার্মেশন কোন নিশ্চয়তা কোথাও কার কাছে এখনও নাই! এই অর্থে এটা জল্পনা-কল্পনা পর্যায়েই এখনও থেকে আছে!
    যাই হোক এটা তবে আমার উপরে বলা সেকেন্ড ইস্যুর উদাহরণ। অর্থাৎ পরোক্ষে সব নাগরিক ক্ষতিগ্রস্থ এখানে, আর দেশের নাগরিকের রাষ্ট্র সেই রাষ্ট্রস্বার্থের ক্ষতিগ্রস্থতার উদাহরণ হবে এটা।

    আর প্রথম উদাহরণটা যেখানে কিছু নাগরিক প্রত্যক্ষ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার মামলা।

    এখন আমার সাফ কথাটা বলবঃ
    মামলা নাগরিকের পরোক্ষে সবার অথবা প্রত্যক্ষ কিছু নাগরিকের স্বার্থ ঘটিত যাই হোক না  – যেটা ঘটবেই তা হল, ঐ একঘন্টা কোথায় ছিলেন বৈঠকের আলোচনায় কোন আপোষ রফা যদি হয়েই থাকে সেক্ষেত্রে কিন্তু এটা নিয়ে যেকোন পাবলিক আদালতের শরাণাপন্ন হবেনই। আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি। অন্তত এখনকার মানের সুপ্রীম কোর্ট যদি থেকে যায়। আর সেক্ষেত্রে কোর্টের রায়  “একঘন্টা কোথায় ছিলেন বৈঠকের” সংশ্লিষ্টরা আর খোদ ইউনুস সরকার সবার জন্যই মারাত্মক বিব্রতকর একটা রায় হবে।
    খোদ ইউনুস সরকারও দায়ী হবেন এজন্য যে ঐ রিপোর্ট বলছে ঐ একঘন্টা কোথায় ছিলেন বৈঠকে যেটাই আলোচনা হোক না কেন তা ইতোমধ্যেই সেনা সদস্যরা ইউনুস সাহেব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবগত বা রিপোর্টেড হয়ে গেছে।

    আর যদি, আগামিতে আদালতের মান বদলে দেয় বা যায় কেউ হাসিনা আমলের ও স্টাইলে চলে যায় আদালত  – তবে বলাই ভাল ক্ষুব্ধ নাগরিক জনগণ আবার এক ৫ আগষ্ট সারা বাংলাদেশ দেখবে!

    কাজেই একঘন্টা কোথায় ছিলেন বৈঠকই কোন শেষ কথা নয়। আমরা বহু পথ পরিক্রমা ইতোমধ্যে পার করে ফেলেছি। পিছন ফিরার পথ আর নাই!

    কাজেই একঘন্টা কোথায় ছিলেন বৈঠকই কোন শেষ কথা নয়।

    আসলে ইউনুস সরকার ইতোমধ্যে একটা কথা উচ্চারণ করে ফেলেছেন। কথাটা হল, ভারতের সাথে সম্পর্ক হতে হবে সম মর্যাদার আর ন্যায্য অধিকার – এদুইয়ের উপর ভিত্তি করে। যারাই এর ব্যত্যয় ঘটাবেন তারা নাগরিক জনগণের কাছে বেঈমান বলে পরিচিত হবেন!

    তাই হবু ক্ষমতার কোন রাজনৈতিক দল, বর্তমান ইউনুস সরকার (সাথে সেনা অংশসহ) কারও পক্ষেই ভারতের সাথে কোন আন্ডারহ্যান্ড ডিল – করতে চাইলেও সেটাই শেষ কথা নয়! হবে না! আমার বিশ্বাস সকল পক্ষই আমার একথাটা মনে রাখবেন!

     

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com