Tag: GOUTAM DAS

  • চোর নিজেই দাবি করছে চুরি বেড়ে গেছে!!

    চোর নিজেই দাবি করছে চুরি বেড়ে গেছে!!
    গৌতম দাস
    ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪   বিকাল ০৪ঃ ১২
    https://wp.me/p1sCvy-62g

     

     

    এ’এক অদ্ভুত বাংলাদেশে প্রবেশ করেছি আমরা! এখানে চোর নিজেই দাবি করেছে যে চুরি খুবই বাইরা গেছে! এই বলে ভাল সাজতেছে! কিন্তু এভাবে কী পাপ ধুয়ে ফেলা যাবে? না যায়?
    ইংরাজি ডিপ্লোম্যাট, জাপানি ফাইনান্স আমেরিকা থেকে প্রকাশিত এক ম্যাগাজিন; যা মাঝে চীন ঠেকাও এর ঠিকা ভারতকে আমেরিকা দেওয়ার কালে জাপান থেকেও বের হত। সেই ডিপ্লোম্যাটে কলকাতার এক সাংবাদিক নাম স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্য  (প্রাক্তন হিন্দুস্তান টাইমসের লেখক) এক লেখা ছাপানো হয়েছে শিরোনামঃ  বিজেপির হিন্দুত্ববাদী আদর্শের উত্থান ঘটছে বাংলাদেশে [The Rise of the BJP’s Hindutva Ideology in Bangladesh]।

    বিজেপির হিন্দুত্ববাদী আদর্শের উত্থান ঘটছে বাংলাদেশে

    আর সেই লেখাটার বাংলা অনুবাদ করে ছাপিয়েছে প্রথম আলো; বিজেপির হিন্দুত্ববাদী আদর্শের উত্থান ঘটছে বাংলাদেশে।  শিরোনাম দেখে অনেকের মনে হতে পারে যে দেখেছো – প্রথম আলো কত ভাল হয়ে গেছে – একেবারে বিজেপির বিরুদ্ধে শুধু না এমনকি হিন্দুত্ববাদের বিরুদ্ধেও লিখছে…!  এমনকি একটা ফেসবুক স্টাটাস দেখলাম ইতোমধ্যেই লিখেছে – প্রথম আলোর একটি সিগনিফিক্যান্ট নিউজ কাভার! তিনি দেখেছেন।   ফলে চাই কী এখন আমাদের প্রেস সচিব শফিকুল সাহেবও  এসব দেখে ভেবে বসতে পারেন যে তাঁর প্রথম আলো কে ভালবাসাটা কতটাই না সঠিক ও নিখাদ ছিল; কেবল বাঙালি মুসলমানেরাই তা বুঝল না! ওরা ‘ভারতীয় সেকুলার’ নয় বলে বুঝল না!!!!

    তাদের জন্য এবার একটু ভান্ড ফাটাতেই হবে।

    তাদের জন্য এবার একটু ভান্ড ফাটাতেই হবে।

    “On August 9, the day after Nobel Laureate Muhammad Yunus took charge as the head of Bangladesh’s interim government, Hindus, a religious minority making up 8 percent of the Bangladeshi population, started hitting the streets in different parts of the country, including the Shahbag Square in the national capital, Dhaka.

    They protested a series of attacks targeting Hindu homes, businesses, and places of worship during August 5-8, when the country descended into lawlessness following Prime Minister Sheikh Hasina’s resignation and hurried exit from the country.”

    উপরের লেখার অংশটা স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্য এর, উনার ডিপ্লোমেটে লেখা থেকে নেয়া। এখন স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্য  এর লেখায় attacks বলে যে শব্দটা ওর পছনের লিঙ্ক – সেটাই প্রথম আলোতে প্রকাশিত এক রিপোর্ট, সেটাকেই উদ্বৃত করে আনা হয়েছে।  যার সোজা মানে হল They protested a series of attacks targeting Hindu homes, businesses, বা বাংলদেশে হিন্দু নির্যাতন চলছে সেই প্রপাগান্ডা বক্তব্যটারই মূল উতস প্রথম আলোর রিপোর্ট।  নিচে  প্রথম আলোর (ইংরাজি) রিপোর্টই সেটা।

    আর তা পড়ে পিছনের ঘটনা কাহিনী না জেনে আমরাই আবার ফেসবুকে লিখছি  প্রথম আলোর একটি সিগনিফিক্যান্ট নিউজ কাভার!-আজকের!!!!

    চোর নিজেই দাবি করছে চুরি সত্যিই বেড়ে গেছে!!
    আসলেই তাই!!!!!  কী তামসা!!

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক

    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   বিকাল ০৫ঃ ৪৮    ১৪ ডিসেম্বর  ২০২৪
    শেষ আপডেটঃ   ডিসেম্বর  ২০২৪

  • সিরিয়ায় কী হচ্ছে; এ’ক্ষমতাবদলের অর্থ-তাতপর্য

    সিরিয়ায় কী হচ্ছে; এ’ক্ষমতাবদলের অর্থ-তাতপর্য
    গৌতম দাস
    ১১ ডিসেম্বর ২০২৪  রাত ০৯ঃ ৩৮
    https://wp.me/p1sCvy-61c

     

    মস্কোয় সিরিয়ার দূতাবাসে উড়ল বিরোধীদের পতাকা

    [সিরিয়ায় কী হচ্ছে; এ’ক্ষমতাবদলের অর্থ-তাতপর্য। এই লেখা অবশ্যই এক প্রাথমিক বুঝাপড়া থেকে। এতক্ষণ পর্যন্ত যতটুকু পর্দা উন্মোচিত হয়েছে; যার বেশির ভাহটাই ঘটে গেছে পর্দার অন্তরালে। যেখানে অতি অবশ্যই বাইডেন-পুতিন এর বুঝাপড়া আছে। সাথে কিছুটা  বলা বাহুল্য  বাইডেন-নেতানেহায়ু এরাও আছেন। গোলান-হাইট দখল এর ইঙ্গিত। 
    এক্ষণ এর সাথে কী ইউক্রেন-ও একই ডিলের অংশ!  এরকম একটা ভাষ্য ভেসে বেড়াচ্ছে যে ট্রাম্প বলছেন সিরিয়ার পর তাহলে ইউক্রেন ইস্যুও দ্রুত সামনে আনা উচিত! আমার অনুমান এমন অনেক কিছুই এখনও হিডেন বা পর্দার আরালেই রয়ে আছে বা রাখা আছে। তবে একটা মূলসুত্র বলে দেই যে কীভাবে দেখতে হবে এই অর্থে, আগামি ২০ জানুয়ারি ২০২৫ ট্রাম্পের ক্ষমতা আরোহনের শপথের দিন। এর আগে পর্যন্ত বাইডেন এমন অনেক কিছুই করে নিবেন। যার মধ্যে কতগুলো থাকবে ট্রাম্প প্রশাসনকে বিপদে ফেলে দিয়ে যাবার জন্য। আবার কতগুলো থাকবে বাই পার্টিজান মানে আমেরিকান সংসদগুলোর দুপার্টির মিলিত সিদ্ধান্তে নেয়া যা বাস্তবায়িত করে দিয়ে যাবেন এখনও যে আছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন!]

     

    সিরিয়ায় কী হচ্ছে, কী চলছে এনিয়ে একটা বাংলাদেশের উদাহরণ মনে পড়ল। ঘটনাটা হল বাংলাদেশে এরশাদের পতন। বাসার আসাদের পতন এর সাথে এরশাদের পতনের অনেক মিল আছে।   আচ্ছা, এরশাদের পতন কবে হয়েছিল?
    এটা শুনলে আমাদেরকে পুরান কাগজপত্র ওয়েবে বা কাগজের গাট্টিতে খুঁজতে বসতে হবে।  তারিখ হিসাবে সেটা হল, ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর। সেকালের মিডিয়া বলতে (মূলত ইত্তেফাক আর সংবাদ; এর বাইরে ইনকিলাব এসেছে কেবল আর ওদিকে দৈনিক খবর ছিল এরশাদের হাত ধরে তবে সবই মূলত খুচরা প্রপাগান্ডা পত্রিকা)। আর টিভি বলতে একমাত্র বিটিভি। ওয়েব বা নেট বলতে কী বুঝায় আমরা তখনও কেউ জানিই না, চিনতাম না।  সম্ভবত আমরা ছুটছিলাম ৬ ডিসেম্বর সকালে প্রেসক্লাব-পল্টনের দিকে, কারণ খবর যা কিছুই ঘটে বা হয় তা ওখানেই। যেন আমাদের কথিত “বিপ্লবের স্কয়ার”! আমিও বাসা থেকে রওনা দিয়েছিলাম। যদিও বাসা ভর্তি আমরা সকাল থেকেই কথা শুনেও নিশ্চিত বিশ্বাস করছিলাম না।
    এর আগে (ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের না), বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সম্মীলিত সবচেয়ে বড় আন্দোলন হয়ে গেছিল সেটাই ছিল “১০ নভেম্বর ১৯৮৭ ঢাকা ঘেরাও”। যে  কর্মসুচিতে গ্রেফতার হয়ে আমি ছয় মাস ডিটেনশনে জেল খেটেছিলাম। বের হয়ে (১০ মে ১৯৮৮) দেখি পুরা রাজনৈতিক পরিস্থিতি এরশাদের নিয়ন্ত্রণে।  ফলে এরশাদ বিরোধীদলকে কোন পাত্তাই না দিয়ে আর বিরোধীদল ঘরে বউ-বাচ্চা নিয়ে সবাই শান্তিতে এই ছিল পরিস্থিতি।  আর সেরকমই বজায় ছিল ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরেও।
    তাহলে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদের পতন হল কী করে। সেদিন বা আশেপাশের সময়ে বিরোধীদলের কোন ঘরোয়া সভাও ডাকা ছিল না। তাহলে? কার হুমকি-তে এরশাদের পতন ঘটেছিল? এখনও কেউ বলতে পারবে? একেবারেই হাতে গোনা দু-একজন ছাড়া?

    আর ঠিক একই রকম প্রশ্ন  ঘটনা হল সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদের বেলায়। আসাদের পতন হল কেন? কে করলো? ঠিক কোন ঘটনাটা এখানে স্পার্ক করলো, আগুন টা লাগলো? কোন ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়াতেও এর সমন্বিত কোন ব্যাখ্যা নাই। ঘটনাটা ঘটে যাবার পরে রাজধানীর দিকে সশস্ত্র কোন গ্রুপ কারা এগিয়ে আসছ্বে এসে কী করছে – এগুলোই নিউজ। আর সাথে আছে ওদের আয়নাঘরগুলো কেমন ও কোথায় কোথায় ছিল এগুলোকেই প্রধান করে নিয়ে খবর বিক্রি!
    ঠিক যেমন এরশাদের পতনের পরে বিজয়নগর নাংটিঙ্গেল রেস্তোরা সহ কী কী ভাঙ্গা হয়েছিল সেই বীরত্বগাথা গল্য়প নিয়ে মিডিয়ায় হৈ চৈ মাতম!
    সাম্প্রতিকালের কালে বাসারের বিরুদ্ধে বড় কোন চোখপড়ার মত বিদ্রোহি সশস্ত্র যুদ্ধের কথা জানা যায় না। যা ছিল তা সবই নিয়মিত হয়ে পড়েছিল যা। গত ২০১১ সালের মার্চ থেকে সিরিয়ার অভ্যন্তরে চারদিকেই অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ায় এক গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে থাকা দেশ ছিল। প্রতিটা পড়শি বর্ডারে অসংখ্য বিভক্তিতে ছোট ছোট সশস্ত্র গ্রুপ একে অপরের বিরুদ্ধে – পড়শি দেশের সমর্থনে আর বিপক্ষে। আর আসাদ কেবল রাজধানী দামাসকাসে সামলে সেখানে ক্ষমতায়, মোটাদাগে এই ছিল চিত্র।
    তাহলে আসাদ কেন দেশত্যাগ করে উড়াল দিলেন???

    এখানেই এরশাদের সাথে আসাদের গভীর মিলঃ
    এরশাদের পতন ঘটেছিল আমাদের আভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংঘাতের কারনে একেবারেই নয়! বাইরের বা গ্লোবাল রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে ঘটনায় – শিরোনামে বললে, ইরাকের প্রেসিডেন্টের সাদ্দামের কারণে। যদিও সাদ্দামের সাথে এরশাদ সাদাচোখে কোনভাবেই সম্পর্কিত নয়! তবু এটা ঘটেছিল।
    সাদ্দাম ১৯৯০ সালের ২ আগষ্টে পড়শি দেশ কুয়েত দখল করে নিয়েছিল। বোকা কমিউনিস্টদের মতনই। যেমন বাংলাদেশের অনেক কমিউনিস্টো আছে যে মনে করে ওয়ার অন টেররে আমলে নির্বাচিত সরকারের সাথে যদি সশস্ত্র ইসলামি গ্রুপকে মিলিয়ে দিয়ে ততপরতায় নামিয়ে দেয়া যায় তাহলে সেটা নাকি বাংলাদেশে আমেরিকাবিরোধী (তাদের ভাষায় সাম্রাজ্যবাদবিরোধী) একটা হেব্বি কাজ হবে সেটা!  আসলে জাতিসংঘ বা গ্লোবাল রাজনৈতিক সিস্টেম ব্যবস্থা টা সম্পর্কে কোনই ধারণা না থাকলে যা হয় এখানে তাই হয়েছে। এরা সত্যি একেবারেই জানে না এই গ্লোবাল ব্যবস্থাটা কী? এটা কী কী পারে আর কী এর সীমাবদ্ধতা! ইদানিং অনেক ময়ুখ নামের ইন্ডিয়ান লোক এমন সাদ্দাম হতে চাচ্ছে – চট্টগ্রাম দখল করে নিবে – খায়েশ করেছে কারণ, এটা ইন্ডিয়ার নাকি দরকার তাই!
    এরা (কমিউনিস্ট এন্ড গং) এখনও জানে না এরপর সাদ্দামের কী হয়েছিল? পতন হল কেন? কোন সুবিধাটা আমেরিকা নিয়েছিল……!
    কুয়েত দখলের পরের ঘটনা-সংক্ষেপ হল, জাতিসংঘ এই দখলকে কঠোরভাবে নিন্দা করে প্রস্তাব এনেছিল। আর তাতে প্রবলভাবে ভোট দিয়েছিল বিশেষ করে ছোট দেশগুলো। কারণ তারা ছোট বলে কুয়েতের মধ্যে নিজ নিজ দেশ ও ভাগ্যকে দেখে ফেলেছিল। জাতিসংঘের সদস্য দেশের দখল বা স্বীকৃত ম্যাপ চেঞ্জ করা যায় না এটা অনেকেই জানে না। মনে করে সবকিছুরই প্রধান নির্ণায়ক নিজ নিজ সামরিক শক্তি! আবার জাতিসংঘের এই নিন্দার মানে কিন্তু এই নয় যে এর ফলে কুয়েতের বাদশাদের কুয়েত ফেরত পেয়ে যাওয়া অবশ্যইনা! তাহলে এই নিন্দার গুরুত্ব কী, লাভালাভ কী? মনে রাখতে হবে তখনও সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যায় নাই অথবা সেটা ওয়ার অন টেররের আমল বা ওর প্রথম যুগ (২০০১-১৪) নয়। ফলে গ্লোবাল ভারসাম্য সোভিয়েত-আমেরিকা ব্লকে বিভক্ত আর ইরাক সোভিয়েত ব্লকে।

    জাতিসংঘের কোন নিন্দাতে কুয়েত তখনই দখলমুক্ত হয়ে যায় নাই। কিন্তু  এতে এমন একটা পরিস্থতি তৈরি হয়ে যায় যে কোন পরাশক্তি দেশ আমেরিকা লিড নিয়ে ইরাকের সাদ্দামের বিরুদ্ধে দাঁড়ালে  সাদ্দদামের পিছন হটা ঘটতে বাধ্য হয়ে যায়। এর একেবারে মূল কারণ, সাদ্দামের নৈতিকভাবে জাতিসংঘের আসরে হেরে যাওয়া!  বাস্তবে তাই ঘটেছিল, আমেরিকা ইরাকের উপর নো-ফ্লাই জোন ঘোষণা [মানে হল ওদেশের যতই সামরিক-বিমানের সক্ষমতা থাকুক একটা হেলিকপ্টার উড়লেও তা আমেরিকার বোমা খেয়ে লুটায়ে পড়বে এই শর্ত, চাপ বা হুমকি আরোপ।] আরোপ করেছিল কোন ব্লক এর বিরোধিতা করতে আগায় আসে নাই।  পরের বছর ফেব্রুয়ারিতে কুয়েত মুক্ত স্বাধীন হয় আবার।
    কিন্তু আমাদের প্রসঙ্গে আসি। সাদ্দামের কুয়েত দখলের সাথে শাসক এরশাদের সম্পর্ক হল, ঐ দখলের কারণে তেলের দাম ডাবল হয়ে যায়। আর এতে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক আঘাতে গরীব-বড়লোক নির্বিশেষে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল আর স্বভাবতই কোন দেশের সব ক্ষোভ নিশ্চিতভাবে শাসকের বিরুদ্ধে যাবে, যায়।
    আর প্রগতিশীল প্রভাবিত রাজনীতি ও দল এই ক্ষোভকে দেশে দেশে আমেরিকার বিরুদ্ধে পরিচালিত করে দেওয়াতে আমেরিকার টনক নড়ে। তারা আমাদের মত সব দেশে বিশেষ কূটনীতিক প্রতিনিধি পাঠিয়েছিল। তিনি ঢাকায় এসে আবিস্কার করেন নয়বছর এরশাদ ক্ষমতায় একছত্র ওদিকে বিরোধিরা সংসদেও নাই।  কাজেই আমেরিকান স্বার্থ হয়ে উঠে এরশাদকে বিদায় করে খোলা নির্বাচনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দিকে চলে যাওয়া; আর আর্মিকেও এরশাদের হাত-নিয়ন্ত্রণের বাইরে নেওয়া যাতে তিনি নিজ রাজনৈতিক শাসনক্ষমতায় একে আর ব্যবহার না করতে পারেন। আর আমেরিকা সেটা বাস্তবায়ন করেছিল নুরুদ্দিনের নেতৃত্বের  আর্মিকে (এরশাদের নিয়ন্ত্রণ-নেতৃত্বে আর নয়) নিয়ে যাওয়া আর তাদেরকে জাতিসংঘ মিশনে পাঠানোর লোভ দেখিয়ে। সেই থেকে শুরু হয়েছিল আমাদের আর্মির জাতিসংঘ মিশন; প্রথম মিশন ছিল – কুয়েত মিশন ১৯৯১!   আর এরশাদ??? তিনি আর কারও কোন কাজে লাগে এমন কেউ রইলেন না!  মূলত পর্দার অন্তরালের এসব ঘটনার কারণেই ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদের ক্ষমতাচ্যুত-পদত্যাগ ঘটেছিল। এর চেয়েও বড় চিহ্ন হল, তখন মানে, ১৯৮৮ মে মাসের পর থেকে ১৯৯০ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজনৈতিক পাড়া একেবারে নিশ্চুপ ছিল তা সত্বেও বিনা মেঘে বজ্রপাতের মত আশেপাশে কোন রাজনৈতিক দল বা জোটের কোনই কর্মসুচী না থাকা সত্বেও হঠাত ছয় ডিসেম্বর সকালে এরশাদের পদত্যাগের খবর ভেসে উঠেছিল। মূল কারণ, তেলের দামের কারণে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ যেন প্রবল আমেরিকাবিরোধী না হয়ে উঠে (বিরোধিরা যার সুবিধা নিয়ে ফেলতে পারে) তাই আমেরিকা আমাদেরকে বিনা আন্দোলনেই এরশাদের পতন ঘটিয়ে দিয়েছিল।

    তাহলে সিরিয়া প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ হঠাত উড়াল দিলেন পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে যেখানে মাঠে বড় কোন সশস্ত্রতা বা কোন মুভমেন্ট ক্রিয়াশীল নাই তখন আসাদ এমন করলেন কেন?
    অর্থাৎ পর্দার অন্যরালের আয়োজনে এরেঞ্জমেন্ট যখন ঘটে তখন এরশাদ বা আসাদের এভাবেই পদত্যাগ করে থাকে! এর আরেক বড় লক্ষণ হল – শান্তিপুর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর!

    তাই সিদ্ধান্তগুলো দেখেন শিরোনাম আকারেঃ
    ১। আসাদেরই নিজ নিয়োজিত প্রধানমন্ত্রীই ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন।
    ২। শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে যারা এদেরকে বলা হচ্ছে বিদ্রোহি কোয়ালিশন এইচ-টি-এস [The main rebel coalition is led by Hayat Tahrir al-Sham.]
    ৩। এটা খুবই মজার না যে আপনি দলেবলে সশস্ত্র হলে একটা রাজধানী শহরে ঢুকছেন বিনা বাধা-প্রতিরোধে; শুধু তাই না উপস্থিত প্রধানমন্ত্রী আপনাকে ক্ষমতা হস্তান্তরে তৈরি হয়ে অপেক্ষায়।.
    ৪। এবার মিলিয়ে দেখেন ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০ আমরাও প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তায় বসে বাদাম চিবাতে চিবাতে এরশাদের গুষ্ঠি-উদ্ধার করে শ্লোগান দিলাম আর পরে শুনতেছি এটাই নাকি ছিল “এরশাদবিরোধী নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান”।  মজা না!!
    ৫। ছাত্র জনতার নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান  এই যে বিনা মেঘের নয়া নামকরণ হয়েছিল আমাদের বেলায়, সেটাই কী সিরিয়ার বেলায় বিদ্রোহি কোয়ালিশন এইচ-টি-এস!!! এই নামকরণ!
    ৬। আমি মনে করি সবচেয়ে তাতপর্যপুর্ণ চিহ্ন হল, পুতিনের রাশিয়ার মানে রাশিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রী লাভরভ [sergey lavrov] এর সহযোগিতা।  ১। প্রথম ঘোষণা আসাদ নিজ প্লেন উড়ায়ে দেশত্যাগ করে অজানা গন্তব্যে রওনা দিয়েছে। ২। ৭-৮ ঘন্টা পরে লাভরভ জানাচ্ছেন আসাদ রাশিয়ার আশ্রয় নিয়েছেন।
    ৭। এই  বিদ্রোহি কোয়ালিশন এইচ-টি-এস [–এর মধ্যকার সবচেয়ে বড় গোষ্ঠি যেটা  তারা রাশিয়ার মস্কোতে অফিসে দলীয় পতাকা উড়াচ্ছেন।  এই ঘটনা এটা সবচেয়ে তাতপর্যময় ও ইঙ্গিতপুর্ণ।
    ৮। এটা ফরমাল বক্তব্যঃ  “রাশিয়া সব সময় সিরিয়া সঙ্কটের রাজনৈতিক সমাধানের পক্ষে ছিল এবং জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে”।

    [এই হল, মোটা দাগে ঘটনাবলীকে আমি যেভাবে দেখছি।
    এছারা আরও কিছু বাড়তি অংশ বা বাড়তি প্রসঙ্গ এতে যোগ করব। সেটা আজ রাতেই নয়ত কাল সকালে, ঘোষণা দিয়ে সবাইকে তা জানানো হবে। আপাতত এতটুকুই এই পর্বে!]

     

    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   রাত ১০ঃ ৪৯   ১১  ডিসেম্বর  ২০২৪
    শেষ আপডেটঃ   ডিসেম্বর  ২০২৪

     

     

     

  • হিন্দুত্ববাদের বয়ানের উপর দাঁড়িয়ে যেকোন বিবৃতিই অর্থহীন

    হিন্দুত্ববাদের বয়ানের উপর দাঁড়িয়ে যেকোন বিবৃতিই অর্থহীন
    গৌতম দাস
    ০৮ ডিসেম্বর ২০২৪  দুপুর ০১ঃ ০৮
    https://wp.me/p1sCvy-5Yx

     

    ভারতে হিন্দুত্ববাদী শক্তি ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে বিবৃতি অর্থহীন

    হিন্দুত্ববাদের বয়ানের উপর দাঁড়িয়ে ভারতের কারো উদ্দেশ্যেই দেয়া বিবৃতি অর্থহীন; মানে হল সবার আগে মুখ্যত খেয়াল করতে হবে আপনি কার বয়ানে কথা বলবেন? নিজস্ব নাকি ভারতের হিন্দুত্ববাদের?
    এ’সম্পর্কে আপনার সচেতনতা লাগবে। যে বয়ান-পরিভাষা আপনার জনগণের বিরুদ্ধে সেই পরিভাষাই ব্যবহার করে এবং সেই চিন্তা-কাঠামোই ব্যবহার করে আপনি এই শয়তানি ও অসৎ ততপরতার বিরুদ্ধে লড়তে পারবেন না।

    আমি একটু দেরিতে, ইতোমধ্যে গত ৬ ডিসেম্বর ২০২৪  “ভারতের জনগণের উদ্দেশে ১৪৫ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি শিরোনামে রিপোর্ট ছাপা হয়েছে মিডিয়ায়।
    বাইরের চেহারায় এটা সিপিবি ঘরানার চেয়ে আলাদা মনে হতে পারে কারণ মোদি সরকারের বদলে এখানে “ভারতের জনগণের উদ্দেশ্যে” – বলে বলা হয়েছে। কিন্তু এরপরেও এটা যে কার সেই। কারণ, এক. এটা যারা লিখছে তাদের আলাদা কিছু করার প্রয়াস হয়ত কিন্তু তা মর্ম বদল ঘটাতে পারে নাই। আর দ্বিতীয় কারণ, ইতোমধ্যেই ‘ভারতের জনগণ’ আর ‘সরকার’ বলে একটা ছুপা ভাগ তৈরি করেই কিন্তু র-এর পক্ষে কাজ-ততপরতা করতে আরেক প্রতারক-মানব [imposter] ইতোমধ্যেই নিজেকে ধুর্তভাবে হাজির করে রেখেছে। চিন্ময়ের সাথে প্রকাশ্যে বিসদৃশ্য গলাগলি দেখিয়েছে আর চিন্ময়ের পক্ষে বেপরোয়া সাফাই নিয়ে হাজির হয়ে গেছে।  আবার ‘ভারতের জনগণ’  বলে কী কেউ বিজেপি-মোদির হিন্দুত্ববাদী বয়ানের বাইরে কেউ আছে? বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর নির্যাতন হচ্ছে, শাখা সিন্দুর পড়তে পারছে না ইত্যাদি ডাহা মিথ্যা যে বয়ান মোদি দাঁড় করিয়েছে তা কী খোদ সিপিএম, কংগ্রেস, মমতা ইত্যাদি এরা কী এর বাইরে? নাকি মিথ্যাভাবে একই নির্যাতনের গল্পের বিবৃতিতে সবদলগুলোও ইতোমধ্যেই দিয়েছে? এককথায় ভারতের কোন দলই নাই যে মোদির মিথ্যা ভাষ্যের বাইরে! তাহলে এসবের বাইরে কারা এখন “ভারতের জনগণ” আছেন যাদের কাছে পৌছাতে এই বিবৃতি চেষ্টা করছে? অর্থাৎ এককথায় বিজেপি-মোদির বয়ানের বাইরে ভারতের এখন মোটামুটি কেউই আর অবশিষ্ট নাই। কাজে ফাঁকা কল্পনা করে লাভ কী?

    আসলে মূলকথাটা হল সারা ভারত এখন হিন্দুত্ববাদের বয়ানে ইসলামবিদ্বেষী নেকড়ে হয়ে কাঁপতেছে, যেন ঝাপিয়ে পড়বে বাংলাদেশের উপরে!  আর সেই সময়ে আমরা দেখছি ১৪৫ জনের ভাষ্য বলে এক বিবৃতি যার প্রথম কয়েকটা শব্দ হল  ভারতে হিন্দুত্ববাদী শক্তি ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে – নাকি তারা এই বিবৃতি দিচ্ছে????
    কিন্তু এই সাম্প্রদায়িকতা জিনিষটা কী? কাদের বয়ান ভাষ্য ন্যারেটিভের পরিভাষা এটা? এটা তো হিন্দুত্ববাদেরই পুরানা পরিভাষা!!! তার মানে হিন্দুত্ববাদী পরিভাষা –সাম্প্রদায়িকতা, অসাম্প্রদায়িক ইত্যাদি – এসব  ব্যবহার করে এই বিবৃতিদাতারা হিন্দুত্ববাদ এর বিরুদ্ধে লড়তে চাইছেন!!!!
    এখানে লড়া মানে ফিজিক্যাল লড়াই না বরং বয়ান ভাষ্য সামনে রেখে লড়াই। তাহলে আপনি কার বয়ানে নিজের কথা বলবেন ও লড়বেন? নিজস্ব নাকি ভারতের হিন্দুত্ববাদের?

    ভারতের জনগণের উদ্দেশে ১৪৫ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি


    অবশ্য কথাটা এভাবে লেখায় আমাদের ‘দেশি’ বুঝের  জাতিবাদি মন বলে উঠবে অবশ্যই নিজস্ব!! কিন্তু কীভাবে বুঝবেন বয়ান-ভাষ্য আপনাদের নিজস্ব? এর জবাব অত তড়িৎ কারো মুখ দিয়ে আসবে না।
    কারণ, সেক্ষেত্রে মুখ্য বাস্তবতা ও ফ্যাক্টস হল, আপনার কোন আলাদা বয়ানই নাই। মূলত হিন্দুত্ববাদের বয়ানটাকেই আপনি এতদিন প্রগতিবাদী বয়ান মনে করে এসেছেন আর সেটাই আউরাইতেছেন! এছাড়া বিবৃতিতে এই যে হিন্দুত্ববাদ বলে শব্দ লিখেছেন এটাও তো আপনাদের পরিভাষা শব্দ নয়।
    আপনাদের শিখা পরিভাষা হল সাম্প্রদায়িকতা বা অসাম্প্রদায়িক এগুলা যেগুলা চালু করেছিল প্রথমে জমিদার-হিন্দুরা (১৮০০ সালের পর থেকেই) পরে ছুপা কংগ্রেসিরা (১৮৮৫ সালে)! আর আপনারা হিন্দুত্ববাদ এই শব্দটা শিখতে বাধ্য হয়েছেন শাহবাগের পরে [আগে নয়] অন্তত ২০১৪ সালের পরবর্তী বাংলাদেশ। এখন সমস্যা কী হয়েছে দেখেন! আপনারা বিবৃতিতে একইসাথে “ভারতে হিন্দুত্ববাদী শক্তি” আর “সাম্প্রদায়িকতার” এমন দুটার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। অথচ এদুটা একসাথে ব্যবহারযোগ্য শব্দ নয়।  আপনি যদি সত্যিই হিন্দুত্ববাদের বিরুদ্ধ কিছু হতে চান বুঝেশুনে ফিল করে তবে আপনাকে সাম্প্রদায়িক শব্দের ব্যবহার ত্যাগ করতে হবে। কারণ সাম্প্রদায়িক শব্দটা তো জমিদার-হিন্দুদের চালু বয়ানের শব্দ যা পরে ছুপা (সফট হিন্দুত্ববাদী) কংগ্রেসিরা তুলে নিয়ে তাদের বয়ানে স্থাপন করেছে। যেখান থেকে আপনারা এটা পবিত্র জ্ঞান করে তুলে নিয়েছেন! কোন বয়ান নির্মানে কিছু মার্কামারা বয়ান ভাষ্যের প্রতিনিধি চিহ্নমূলক শব্দ থাকে। সাম্প্রদায়িক এই শব্দ ও পিছনের ধারণাটাতে তা আছে – সাম্প্রদায়িক নিজেই এক হিন্দুত্ববাদি বয়ানের মার্কামারা শব্দ!  আপনি চাইলেই  তাই একই সঙ্গে হিন্দুত্ববাদীবিরোধীতা আবার সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী হতে পারেন না, পারবেন না। 

    এখানে হিন্দুত্ববাদের বয়ান কোনটা?
    মুখ্যত  অসাম্প্রদায়িকতা বা সাম্প্রদায়িক ইত্যাদি এসম্পর্কিত যত শব্দ আছে সবগুলোই – হিন্দুত্ববাদের বয়ান-ভাষ্যের চিহ্ন। বহুবার আমি লিখেছি এটা বাংলাদেশের কারও বয়ান বক্তব্যের শব্দ, ভাষ্য হতে পারে না। জমিদারহিন্দু যারপর নাই ক্ষুব্ধ হয়েছিল ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান কায়েম হওয়াতে। কারণ পাকিস্তান হওয়ার সোজা মানে হল তার জমিদারি উচ্ছেদ। যদিও কথিত শ্রেণী-বোদ্ধা কমিউনিস্টেরা আজও ভান করে যে তারা এই জমিদার শ্রেণির (শ্রেণীস্বার্থের) উচ্ছেদের দিকটা দেখতে পান নাই! ার খাঁড়া কথাটা হল, জমিদারি ব্যবস্থার উচ্ছেদ মানে হল জমিদারি কেন্দ্রিক হিন্দুত্ববাদি সকল রাজনৈতিক, সামাজিক, কালচারাল ক্ষমতা ও আধিপত্যের অবসান।  তাই সেই থেকে জমিদার-হিন্দুর সংগ্রাম হয়ে উঠেছিল, চরম মুসলমান বিদ্বেষ জারি করে এমন বয়ান তৈরি। এর প্রথম পদক্ষেপ তাদের পাক্কা ছলনার এক বয়ান যে এটা যেন মূলত জমিদারি উচ্ছেদ ছিল না, এটা যেন পুর্ব-বঙ্গের সকল হিন্দুদের উচ্ছেদ এভাবে ঘটনাকে উপস্থাপন করেছিল তারা।
    অথচ দেশভাগ ঘটে যাওয়াতে, এরপর যে হিন্দু এবং মুসলমান উভয়কেই – দুদিক থেকে দেশান্তর হতে হয়েছিল। হিন্দু হলে ভারতমুখি মুসলমান হলে পাকিস্তান মুখি এটাই তো হয়ে উঠেছিল সবার ভাগ্যেই! নাকি?

    এভাবে সাধারণ হিন্দু-মুসলমানের ভারত অথবা পাকিস্তানের দিকে যাত্রা এর সাথে পুর্ব-পাকিস্তানে জমিদার উচ্ছেদের সরাসরি কোনই সম্পর্ক নাই। তা সত্বেও জমিদারের স্বার্থ উচ্ছেদ হয়ে যাওয়া এটাকে সকল হিন্দুদের স্বার্থ হিসাবে হাজির করা এটাই জমিদার হিন্দুর শঠতাপুর্ণ বয়ানের সাফল্য! জমিদার হিন্দুর নিজ জমিদারি স্বার্থকে প্রজা হিন্দুরও যেন এটা একই স্বার্থ এভাবে হাজির করে ফেলেছিল। তা কোন বিপ্লবী, কোন শ্রেণীবোধের প্রগতিশীল কেউ খেয়াল করে নাই। বরং পুর্ব-পাকিস্তানের (জমিদার-প্রজা নির্বিশেষে) এমন সকল হিন্দুর স্বার্থ যেন এক  কাজেই পুর্ব-পাকিস্তানের হিন্দু মাত্রই ভিকটিম এই নয়া ভিকটিকহুড এর বয়ানই হল – হিন্দুরা তাহলে ‘সাম্প্রদায়িকতার’ শিকার। আর সাম্প্রদায়িকতা মানেই এর জন্য  অরিজিনাল অভিযুক্ত ও দায়ী হল পুর্ব-পাকিস্তানের মুসলমানেরা…! এটাই তো হিন্দুত্ববাদের বয়ান – সাম্প্রদায়িকতা বয়ানের ভিতরের আসল রহস্য বয়ান এবং  পুর্ব-পাকিস্তানের হিন্দু মাত্রই ভিকটিম এই মিথ্যা ভিকটিমহুড এর বয়ান!
    এসব যে মিথ্যা এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হল, পুর্ব-পাকিস্তানে জমিদারি উচ্ছেদ আইনে কী জমিদারি ব্যবস্থা উচ্ছেদের পরে পুর্ব-পাকিস্তানের মুসলমান প্রজারা যেমন নিজ নিজ চাষের জমির মালিকানা পেয়েছিল একইভাবে সমান সুযোগে  পুর্ব-পাকিস্তানে হিন্দু প্রজারাও কী সমান সুযোগে পায় নাই???
    তাহলে, পুর্ব-পাকিস্তানের হিন্দু মাত্রই ভিকটিম এই নয়া ভিকটিকহুড এই বয়ান ভাষ্য বা এই মিথ্যা অনুমানের ভিত্তি কী? 

    আবার যেমন ধরেন, এক ভারতরত্ন মানে পদ্মভূষণ খ্যাত ডঃ আনিসুজ্জামান তিনি পুর্ব-পাকিস্তানে দেশান্তর হয়ে এসেছিলেন, কেন? পশ্চিমবঙ্গের মুসলমান হিসাবে পুরানা এতদিনের আবাস ছেড়ে পরিবারসহ তাঁদের এদেশে আসার ক্ষেত্রে পুর্ব-পাকিস্তানে জমিদারি ব্যবস্থা উচ্ছেদ বা না-উচ্ছেদ এর কোন সম্পর্কই নাই। আর সবচেয়ে বড় কথা তিনি কী কেন তাঁকে কলকাতা ত্যাগ করে আসতে হয়েছিল সেজন্য কী কখনো কলকাতার হিন্দুদের দোষারোপ বা দায়ী মনে করেন বা করেছেন??? কখনই না; বরং ব্যাপারটাকে কপাল বা ভবিতব্য হিসাবে দেখে থাকেন!  অথচ পুর্ব-পাকিস্তানের হিন্দুরা পুর্বপাকিস্তানের মুসলমানদেরকে দেশভাগের জন্য আজও কঠোরভাবে দায়ী করে থাকেন। আবার বদরুদ্দিন উমরের কথাও ধরতে পারেন! তিনি কী বর্ধমান ছেড়ে ঢাকায় এসেছেন বলে বর্ধমানের হিন্দু জনগোষ্ঠিকে দায়ী করেন?

    মজার কথা হল, আনিসুজ্জামান কিন্তু সাথে মাথায় করে হিন্দুত্ববাদি অসাম্প্রদায়িকতার বয়ানই নিয়ে এসেছিলেন! মুসলমান হিসাবে কলকাতার জমিদার-হিন্দু তাঁকে তার পরিবারকে শিখিয়েছিল হিন্দুদের পাশে বসতে চলতে হলে তাদেরকে অসাম্প্রদায়িক হতে হবে। সারকথায় যা জমিদার-হিন্দুর আধিপত্য এটা মানতে হবে; তাদের সেই বয়ান ভাষ্যমতে মুসলমানদের নিজেকে সাজাতে হবে; তবেই মুসলমানেরা হিন্দুদের পাশে তিনি বসবাস শিক্ষা-চাকরির সুযোগ ইত্যাদি পেতে পারেন!

    আর এই সাম্প্রদায়িকতা কী তাহলে? কে কার উপরে করলো?
    সেটা কী আর বলার অপেক্ষায় আছে? সেটা বলাই বাহুল্য যেহেতু হিন্দু মাত্রই (জমিদার-প্রজা নির্বিশেষে) দেশভাগের ভিকটিম! – এই হল মিথ্যা মূল বয়ান!  যে বয়ানে তার মানে দাবী করা হল, পুর্ব-পাকিস্তানের মুসলমানেরাই যেন (জমিদার-প্রজা নির্বিশেষে) এমন সকল হিন্দুকে ভিকটিম বানিয়েছে ও বানানোর জন্য দায়ী????   তাহলে সাম্প্রদায়িক  -এই শব্দের উতপত্তি বয়ান ভাষ্য কার চালু করা কোথা থেকে? এটা কী প্রথমে জমিদার-হিন্দুরা (১৮০০ সালের পর থেকেই) পরে ছুপা কংগ্রেসিরা (১৮৮৫ সালে) হয়ে এখন মোদির হিন্দুত্ববাদের মুখ্য এক বয়ান ভাষ্য নয়!! আর কোন ফাঁকে এই হিন্দুত্ববাদ-ই আবার সকল কমিউনিস্টদেরও বয়ান ভাষ্য হয়ে গেছে??? ভারত (ফলে বাংলাদেশের) সকল কমিউনিস্টদের !!!  তাহলে সেক্ষেত্রে, এই বিবৃতিদাতারা একইসাথে ভারতে হিন্দুত্ববাদী শক্তি ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সরব হবেন বা হলেন কী করে?? এটা কী সম্ভব???
    সব বিবেচনা তাদের হাতেই তুলে রাখলাম!!!

    শেষে আরেকটা কথা দেশভাগঃ

    যদি আপনাদের চিন্তার মুরোদে কুলায় তাহলে দেশভাগ এর জন্য কাকে দায়ী করতে চান সেদিকে আসেন। যারা দেশভাগে ব্যাথ্যা পেয়েছেন তাদেরকে সাহসের সাথে রাজা রামমোহন রায় পড়তে হবে! এখান থেকেই পড়াশুনা শুরু করতে হবে। সেই ১৮১৫ সালে ফিরতে হবে। কেন রামমোহন ১৮১৫ সালে “আত্মীয় সভা” খুলেছিলেন? কেন সেই ১৮১৫ সালেই তিনি এক ব্রাহ্ম সমাজ বলে নতুন ধর্ম চালু করেছিলেন?
    রামমোহনই প্রথম ব্যক্তি যিনি সেকালে বৃটিশদের রিপাবলিক রাষ্ট্র একে চিনেছিলেন, এক এংলো-ক্যাথলিক বৃটিশ রিপাবলিক বলে।   অর্থাৎ জাতিরাষ্ট্র [নেশন স্টেট বা nation State] মানে আদতে তা কোন না কোন ধর্মের ভিত্তিতে জাত এমন রিপাবলিক রাষ্ট্র-ই হতে হবে, হয়। ফলে সেসময়ের চোখ আগামির অখন্ড ভারত – সেটাও আসলে কোন না কোন ধর্মের ভিত্তিতে জাত এমন রিপাবলিক রাষ্ট্র-ই করতে হবে এই ছিল তাঁর বুঝ ও সিদ্ধান্ত! আর সেখান থেকে অসংখ্য জাতভেদে বিভক্ত হিন্দু সমাজ সহ ভারতের সবাইকেই সবার আগে এক নয়া ধর্ম ‘ব্রাহ্ম’ এই নয়া একেশ্বরবাদি ধর্মে দীক্ষিত করে নিয়ে আগানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। একাজে রামমোহনের সবচেয়ে ঘনিষ্টজনেরা যেমন রবীন্দ্রনাথে দাদা দ্বারকানাথ ঠাকুর সহ ঢাকার সুশোভন সরকারের (বেঙ্গল রেনেসাঁর লেখক) দাদা ইত্যাদি সকলেই পরিবারসহ সবার আগে ব্রাহ্ম হয়ে নিয়েছিলেন। যদিও রামমোহনের এই উদ্যোগ – এটাই পরে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, অরবিন্দ ঘোষ বিবেকানন্দ ইত্যাদি হাত ঘুরে হিন্দুত্ববাদ হয়েছিল – আর এটাই হল ভারতে হিন্দুত্ববাদের আদি ভিত্তি ও বয়ান ভাষ্য!   কাজেই হিন্দুত্ববাদী বয়ানে জিন্নাহ কে ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ বলে সব দায় তাঁর এমনকি এই একালেও বিএনপির মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর ভারত-হিন্দুত্ববাদের স্বার্থে নয়া দালাল হতে প্রথম আলো গং কে বাঁচাতে মির্জার – “চিন্তা করতে পারেন ধর্মের ভিত্তিতে……” বলে মিথ্যা আবেগ তুলে অভিনয় করা এসবই আমাদের ত্যাগ করতে হবে। সবার আগে রাজা রামমোহন রায় পড়েন।
    এর আগেই জমিদার-হিন্দু অথবা হিন্দুত্ববাদের সফট বা কড়া ভার্সান
    এর ভক্ত দালাল নিজ মস্তক-বিক্রি এগুলা আর কইরেন না। এবার ছাড়ান দেন!  দেশভাগ আমাদের ভাগ্যে ছিল অথবা সবদোষ হল জিন্নাহ-র এসব হিন্দুত্ববাদের বয়ান আর কতদিন বইবেন???

    একালে যারা রাজা রামমোহন রায় নিয়ে নতুন করে হিন্দুত্ববাদের বিয়ান ভাষ্যের বাইরে এসে পড়তে চান তাদের সবার জন্য প্রথম চয়েজ হল ইন্টারনেট সার্চ করা – সার্চ করতে শিখেন। এখন এতেও আবার গাইড পেতে গেলে আমার নিজের ওয়েব সাইটে দেখতে পারেন।

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    শেষ আপডেটঃ  দুপুর   ডিসেম্বর  ২০২৪    

     

  • বগলে মোদিকে নিয়ে বাংলাদেশে জাপান যে ফাঁদে

    বগলে মোদিকে নিয়ে বাংলাদেশে জাপান যে ফাঁদে
    গৌতম দাস
    ০৬ ডিসেম্বর ২০২৪ রাত ২১ঃ ১৮
    https://wp.me/p1sCvy-5WO

     

    Bangladesh-India-Japan conclave discusses path……

     

     

     

     

    আজ বণিক বার্তায় একটা রিপোর্ট ছাপা হয়েছে, “বাংলাদেশ-ভারত এর উত্তেজনা” শব্দ ব্যবহার করে। আশা করি এলেখা নিয়ে কিছু আলোচনা করব বলে বণিক বার্তা মাইন্ড করবে না। কারণ আমি কোন  “প্রগতিবাদী” আলোচক নই। এই রিপোর্টে একটা প্রচ্ছন্ন ম্যাসেজ হচ্ছে বাংলাদেশ জাপান এর এডিবি এর নেহায়েতই একটা একটা উন্নয়ন প্রকল্প আছে। কিন্তু “বাংলাদেশ-ভারত এর উত্তেজনায়” সেটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাই আমরা যেব “বাংলাদেশ-ভারত এর উত্তেজনা” কমাই – উন্নয়ন প্রকল্পের খাতিরে।
    সরি, জাপান সরকার লেখক এবং বনিকবার্তাও। আপনাদের এই পারসেপশন অনুমান এবং বর্তমান ঘটনাকে “বাংলাদেশ-ভারত এর উত্তেজনা” হিসাবে দেখা ও দেখানো সঠিক নয়। একেবারে মূল কারণ, জাপান মোদির মতই বাংলাদেশকে চুষতে একটা তথাকথিত কানেকটিভিটি প্রকল্পে ঢুকেছিল। কানেকটিভিটি শব্দটা দেখলেই আমাদের বুঝতে হবে এটা ভারতকে বিনা পয়সায় করিডোর দেয়া আর সাথে এজন্য ভারতকে অবকাঠামো সুবিধা দিতে বাংলাদেশের মানুষের কাঁন্ধে বিদেশি অবকাঠামোঋণের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে বিনা পয়সায় ভারতকে করিডোর দেওয়ার খেলাতার নামই হচ্ছে কানেকটিভিটি।
    এবার জাপান হয়েছিল সেই অবকাঠামো ঋণদাতা যে ভারতের মতই কানেকটিভিটি  এর নামে বাংলাদেশকে চুষবে।  এক্ষেত্রে ভারত ও জাপান দুই সরকারই ধরে নিয়েছিল আসলে বলা উচিত জুয়া-বাজি ধরেছিল যে মোদির বসানো হাসিনা আরো টিকে যাবে ফলে তাদের কানেকটিভিটি ব্যবসাও।  কিন্তু আল্লাহ মেহেরবান বলতেই হবে!
    সব জুয়ার বোর্ড উলটা দিয়ে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা জাপান-ভারতের চোখে অবিশ্বাস্যভাবে হাসিনা কেই উপরে ফেলে দিয়েছে। আর এখন এতে জাপান বণিকবার্তা কিনে নিয়ে নাকি কান্না গাইতে এসেছে নেহায়েতই একটা একটা উন্নয়ন প্রকল্প এর খাতিরে যেন আমরা বাংলাদেশ-ভারত এর উত্তেজনা থামাই…।

    বাংলাদেশ-ভারত উত্তেজনায় দুশ্চিন্তায় জাইকা ও এডিবি

    এলেখা ছাপা হওয়াতে এটা হল সেই চিহ্ন যে, বাংলাদেশ-ভারত এর সম্পর্কটা তৃতীয় দেশের স্বীকার করার মত উত্তেজনা হয়ে হাজির হয়ে গেছে ইতোমধ্যেই।  আর দ্বিতীয়ত, এই তৃতীয় দেশ হল, মোদির প্রিয় জাপান ভাইয়া! কোন জাপান ভাইয়া? নিচে দেখেন।

    মোদির ভাইয়া কেন?  মানে হুদাই চীনবিরোধী সেজে বা দেখায়ে সেইটা বেঁচে আমেরিকার কাছ থেকে কিছু বাড়তি সুবিধা ও আমেরিকান ক্ষমতার এঁটো-উচ্ছিষ্ট লেগে থাকা পাত্রে (মানে খাওয়া হয়ে গেলে সে পাত্রকে এঁটো বা ঝুটা পাত্র জ্ঞান করা হয়) একটু চাটা দিবার সুযোগ পেতেই – এটা হল মোদির ভারতের আমেরিকা প্রীতির লালচামি আর সেটা দেখায়,  নিজ মুরোদ থাক না-থাক, এখান থেকেই বাংলাদেশের উপর আধিপত্য, এটার মোদির রুস্তমির খায়েশ!
    অথচ মোদির ভারত সস্তা বিদেশি ঋণচাহিদার দেশ বা “বিনিয়োগ দরকারের ভারত” এই অর্থে ভারত কিন্তু আমাদের পর্যায়ের বা মানেরই ঋণ চাহিদার দেশ। কাজেই আমেরিকার কাছে ভারতকে চীনবিরোধী দেখায়ে সেই মিথ্যা-চেহারা বেচতে গিয়ে মোদির ভারতের চীনের কাছে থেকে দূর থেকে দূরে মানে তুলনামূলক অনেক সস্তায় যে ঋণ পাবার সুযোগ ছিল চীনের কাছ থেকে  – কিন্তু সেই পথ ভারত নিজেরাই বন্ধ করে ফেলেছে। [যদিও ২০১৪ সালে প্রথম প্রধানমন্ত্রী হবার পর কয়েক বছরে বড় বড় চীনা ঋণপ্রকল্প মোদি নিয়েছিলেন।] কিন্তু এরপর থেকেই  চীনের চেয়ে তুলনামূলক কম সুবিধাদি ও উচ্চসুদের জাপানি ঋণ হয়ে পড়েছে ভারতের একমাত্র ভরসা! এখন মোদির ভারতের  জাপানি ঋণ নিবার অভিমুখ করে পররাষ্ট্রনীতি সাজাতেই পারে – এতে গাড্ডায় পরা বা না-পরা সবই তাদের ইচ্ছা। তাহলে বাংলাদেশে আমরা কেন কথা বলছি?

    করিডোর একটা চরমতম বিতর্কিত শুধু নয় ক্ষতিকর প্রকল্পঃ
    এটা এমনই চরমতম বিতর্কিত প্রকল্প যে কলোনি আমলেও বৃটিশেরা এভাবে আমাদের চুষে নাই। করিডোর নামে যেকোন প্রকল্প এটা ভারতের বাংলাদেশকে খোলাখুলি চুষে নেয়া, খাবলে খাওয়া এক প্রকল্প। বাংলাদেশের উপর দিয়ে ভারতকে অবাধে সবকিছু পরিবহণের তা মাটির নিচে, সড়ক, রেললাইন, পানিপথে  – এভাবে সবধরণের যানবাহনে, যেকোন সীমান্ত দিয়ে যতখুশি এবং সবই বিনা পয়সায় বা নামমাত্র (সময়ে বাংলাদেশিদের চেয়েও কম) মুল্যে নিয়ে এসব করিডোর আমাদের ভারতকে দিতেই হবে – এজন্য এটা ক্ষতিকর প্রকল্প।

    অথচ জাপান এই প্রকল্পে নিজেকে ঘোরতরভাবে জড়িয়েছে, অর্থ ঢেলেছে – বলা হয়েছে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার। এতে জাপান যে ক্ষমার অযোগ্য কাজ করেছে তা হল,
    এক. একেবারেই ভারতের স্বার্থে বাংলাদেশের জনগণের নামে ঋণপ্রকল্প নিবে  বাংলাদেশের হাসিনা চোর-সরকার; আর জাপান সরকার সে প্রকল্পে প্রধান ঋণদাতা হয়ে জড়িয়ে যাবে?  মানে ভারতের স্বার্থে কোন ঋণ প্রকল্পে ঋণ নেয়া আর বাংলাদেশের মানুষকে এই ঋণ এর বোঝা টানতে, পরিশোধ করতে হবে। জাপানের তাতে পরোয়া নাই?  শুধু তাই না ভারত এতে নির্মিত সব অবকাঠামোর মুল ব্যবহারকারি, সকল সুবিধাভোগী হবে; অথচ এমনকি এর যে টোল আসবে সেটাও ভারত বইবে না। টোল দিবেই না বা ভারতের জন্য বিশেষ ছাড় নামমাত্র কিছু একটা হবে। হাসিনার উপদেষ্টা বলেছিলেন ভারতের কাছে টোল বা ট্যাক্স চাওয়াটাই নাকি অভদ্রতা!!!  অথচ  নেয়া ঋণ পরিশোধের দায় ভারত সরকারের না। এমনকি এর সুবিধা ব্যবহারকারি বাংলাদেশি হলেও যে টোল নির্ধারিত হবে সেটাও ভারত পরিশোধ করবে না। চাইলে নাকি সেটা অসভ্যতা হবে! অথচ এসব লুটপাটের খবর চোখের সামনে ঘটবে ঘটেছে সেটা দেখে-জেনেও জাপান এই প্রকল্পে বিনিয়োগ বা ঋণ দিতে এসেছিল।

    কিন্তু তাই বলে বাংলাদেশের ঘাড়ে  মোদির জাপান ভাইয়া প্রকল্প লটকায়ে দিবে?  বিশেষ করে যখন একদিকে, এটা অর্থনৈতিক স্বার্থে দেখে নেয়া প্রকল্প নয়, কথিত স্ট্রাটেজিক স্বার্থ মুখ্য করে দেখে নেয়া মোদির প্রকল্প! আর তাতে জাপান নিজেই নিজেকে সংশ্লিষ্ট করেছে? এর মানে ঋণের অর্থ ভেরত পাবে কী করে সেটা বিবেচনা করে এসব প্রকল্প জাপান নেয় হয় নাই। অন্যদিকে জাপান কী দেখে নাই জানে বরং দেখেও না দেখা করে ফেলে রেখেছে যে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এর মূল সুবিধাভোগী ভারত অথচ ঋণ পরিশোধের ভার বাংলাদেশের জনগণের! এধরণের একটা প্রকল্পে জাপান নিজেকে জড়িয়েছে কেন? আর এখন কান্নাকাটি কেন? 
    এমনকি আরেকটা তথ্য এখানে জানায় রাখি। একটা অবকাঠামো হিসাবে গড়া রাস্তা বা ব্রিজ এর টোল একজন বাংলাদেশির বেলায় যা চার্জ করা হবে একজন বিদেশির বেলায় সবচেয়ে বৈধভাবেই তা হতে হবে এর চেয়ে অনেক বেশি। মূল কারণটা বুঝে রাখেন। কেউ বাংলাদেশি মানেই হল, যুগ যুগ ধরে আমাদের পাবলিকের দেয়া ট্যাক্স এটাই সরকারের সকল আয়-সম্পদের উতস যেখানে ঐ  রাস্তা বা ব্রিজ এই অবকাঠামো সেটাও সরকারের সম্পদ মানে পাবলিকের। তাই বাংলাদেশিরা যাদের দেয়া ট্যাক্সের অর্থ থেকেই সরকার চালানো টিকানো ইত্যাদি সব ব্যয় নির্বাহ করা হয় বলে ঐ সরকার চালানোর অর্থের যে অংশ এই টোল নির্ধারণে যুক্ত হওয়ার কথা তা যুক্ত করা হয় না।বা কম করা হয়। কিন্তু একজন বিদেশি যখন এর ব্যবহারকারী যারা সরকার পরিচালন কাঠামো খাড়া করা ও এর দৈনিন্দিন ব্যয় সেসব খরচের দায় তো তার নয় বা তাঁর থেকে নেয়া হয় নাই। তাই একজন বাংলাদেশি যে তার বাপ-চোদ্দপুরুষ সরকারকে প্রত্যক্ষে-পরোক্ষে ট্যাক্স দিয়ে আসছে যেটা আসলে সব রাষ্ট্রীয় সম্পদের উতস – তার অবদান আর একজন বিদেশির অবদান এক নয় বলেই – অবকাঠামোর টোল বিদেশির বেলায় বেশি ও ভিন্ন হবে।
    আবার সাবধান আপনি ব্যাংককে গিয়ে স্থানীয়দের রেটেই টোল পরিশোধ করতে পারেন। কিন্তু আপনার ভুখন্ড পেরিয়ে যখন একটা বিদেশি-পড়শিদেশের ট্রাক বা ট্রেন পরিচালিত হবে উদাহরণ গুলো এক্ষেত্রে চিন্তা করতে হবে।

    আরেকটা আরও বড় পয়েন্ট হল,  ভারত বাংলাদেশ থেকে এই করিডোর পেলে ওর যা সুবিধা ও অর্থ সাশ্রয় হবে (যেমন নর্থ ইস্ট থেকে কলকাতা যেতে যেখানে পুরাটাই ভারতের ভুখন্ড এর উপর দিয়ে যাত্রা হলে সেক্ষেত্রে যাত্রাপথ হল প্রায় ১৭৫০কিমি আর বাংলাদেশের বুক চিরে গেলে এইপথ নেমে আসবে প্রায় ৩৫০ কিমি।) এই সুবিধা সবটাই একা ভারত নিবে [এর অর্থনৈতিক বেনিফিট এর কিছুই সে বাংলাদেশকে দিবে না]। আবার ভারতকে এই সুবিধা দিতে হলে নয়া পথ-অবকাঠামো তৈরির যে ঋণ নিবে বাংলাদেশ আর তা পরিশোধের দায়ও নিবে বাংলাদেশের জনগণ! কী মজা তাই না? ভারতের জন্য সবই লাভ আর লাভ! আর জাপান এখানে এসেছে এরই মাখনের ভাগ খেতে!
    এখন জাপান কী – এই প্রকল্পের সুবিধাভোগী কে আর দায় পরিশোধ করবে কে এসবের কোন কিছু জানে না?  নাদান সে?  না জেনেই এই প্রকল্পে একেবারে শুধু জাইকা না একেবারে তার প্রভাবিত এডিবি ঋণ এনে জাপান ঝাপিয়ে পড়েছে কী এমনি? এমন ভাবার কোন কারণ নাই!
    এখন কথাটা আসলে খুব সোজা।  জাপান যদি এসব প্রকল্পের অর্থনৈতিক ভায়াবিলিটির [viable বা দায় বইবার যোগ্যতা] যাচাই না করে থাকে বা উপেক্ষা করে থাকে তবে এর দায় কী বাংলাদেশের বা অন্য কারো? নাকি তা সরাসরি জাইকা ও এডিবির হবে; তাই নয় কী? 

    আরো বড় কথা হল, এই পুরা প্রকল্পটা হল,  ভারতে বাংলাদেশের উপর অবৈধ প্রভাব এর উপর দাঁড়ানো হয়ে শুরু হয়েছিল। ভারত বাংলাদেশে জবরদস্তিতে একজন হাসিনাকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিবে আর এই সরকারের উপর দেশি-আন্তর্জাতিক সব ধরণের সমর্থন যোগাড় করে এনে দিবে আর এর বিনিময়ে হাসিনা ভারতকে বৈষয়িক সব ধরণের সুবিধা ও মারাত্মক সব অসম চুক্তি করে সুবিধা দিবে – এই ছিল অবৈধ প্রভাবে ভারতের বসানো এক হাসিনা সরকার।  আর এটা তো জাপান সরকারের অজানা ছিল না। এর আগের যে জাপানি রাষ্ট্রদুত বাংলাদেশে ছিলেন তিনি তো ২০২৩ সালে বাংলাদেশে রাজনীতিতে – অনির্বাচিত অবস্থা নিয়ে – প্রকাশ্যে মুখ খুলেও ফেলেছিলেন একবার।  তাহলে বৈধতার খবর না থাকা অথবা নড়বড়ে থাকা – মোদির বসানো পুতুল হাসিনা সরকারের সাথেই জাপান সরকার কেন ঋণ চুক্তি করেছিল?  এর দায় কী জাপান সরকারের নিজেরই নয়?

    এবার এর রিপোর্টের লেখকের প্রসঙ্গেঃ
    বণিকবার্তায় এই রিপোর্টটা লেখা হয়েছে ভারতের চোখে বা ভারত-জাপানের মিলিত চোখে দেখে লেখা। যেমন কানেকটিভিটি [connectivity] এই একটা বিশেষ শব্দই অনেক কিছু এটা প্রকাশ করে।  এই বিশেষ কানেকটিভিটি শব্দটা ব্যবহার করে কেউ কথা বলে বা লিখলে এর অর্থ হল, তিনি জেনে না-জেনে জবরদস্তিতে ভারতের বাংলাদেশের উপর দিয়ে করিডোর সুবিধা নেওয়ার এক সাফাইমূলক শব্দ ব্যবহার করে কথা বলছেন।    ভারত জানে বিনা পয়সার করিডোর সুবিধার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে কথা উঠবে। তাই আগেভাগে এটাকে শব্দের মারপ্যাচে যেটুকু শুশীল ভদ্র ফেয়ার একটা ইমেজ  – যে বিনা পয়সায় করিডোর নেয়াটা কোন অন্যায্য কাজ হয় নাই – এটা দেখাতেই এই শব্দ। এই শব্দ দিয়ে ভারত (বা তার হাইকমিশনার) বুঝাতে চায় যে আমরা এই অঞ্চলের দেশগুলো একসাথে পারস্পরিক বাণিজ্যিক সুবিধা দেয়ার জন্য যেন এসব করছি – আমরা যেন এক কথিত বাণিজ্যিক কানেকটিভিটি যোগাযোগের বাণিজ্য ব্যবস্থা করতে মেতে উঠেছি।   আসলে ব্যাপারটা এর উলটা। এটা কেবলমাত্র ভারত সরকারকে সুবিধা দিতেই ক্থা হয়েছে। ফলে এতে কোন আঞ্চলিক  বা অনেক রাষ্ট্রের মিলিত উদ্যোগ নয়, এমনকি এটা সবার কোন বাণিজ্যিক উদ্যোগ নয়। কেবলমাত্র  একমুখি  – ভারতের সুবিধা মুখি এই ততপরতা।  বিনিময়ে বাংলাদেশের একজনই এর সুবিধা পেতেন তিনি শেখ হাসিনা। সেটা হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখার নিশ্চয়তা!!!

    কী হতে পারত কোন বাণিজ্যিক করিডোর ব্যবস্থাঃ
    আসেন কল্পনা করি; বাংলাদেশের উপর দিয়ে গড়া একেবারেই বাণিজ্যিক করিডোর ব্যবস্থাটা কী হতে পারত। ভারতের নর্থ ইস্ট এটাই দুনিয়ার শেষ সীমানা নয়। এর ওপারে বা আরো উত্তরে আছে চীনের তিব্বতের একাংশ; এছাড়াও আছে ভারত পেরিয়ে নেপাল ও ভুটান এর ভুখন্ড ইত্যাদি।  এসব ভুখন্ড বা এদিকগুলো একেবারেই ল্যান্ডলকড। কাজেই আসেন ভারতও এসব দেশ-ভুখন্ডকে ভারতের উপর দিয়ে করিডোর দিয়ে দেক। যাতে ভারতের নর্থ ইস্ট সহ যেকোন দেশই বাংলাদেশের উপর দিয়ে তৈরি সব অবকাঠামোই ব্যবহার করতে পারে। তাতে সেটা মাটির নিচে, উপরে রেল সড়ক, নদিতে পোর্ট এমনকি মংলা বন্দর এমনকি আরো বড় আমাদের সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্র বন্দর ইত্যাদি সব ধরণের অবকাঠাম ব্যবহারকারি যেকোন দেশকেই বাংলাদেশ এই সুবিধা দিতে পারে। আর সকলকে সতর্ক ও সাবধান করে দেই। সোনাদিয়া সহ বাংলাদেশের এমন সব অবকাঠামোই হবে একেবারেই বাণিজ্যিক-অর্থনৈতিক বৈশিষ্ঠের। মানে কোন সামরিক-স্ট্রাটেজিক কোন কিছু তাতে থাকবে না, রাখা হবে না। সামরিক ব্যবহার থাকবে না তা বাংলাদেশ প্রতিশ্রুত থাকবে ব্যবহারকারি সবদেশের কাছে।
    এতে ভারত বা জাপান কী রাজি? এদিকটা ভারত বা জাপানের সরকার বা তাদের বিখ্যাত সব এক্সপার্ট এরাকেউই কী চোখ দিয়ে কী দেখেছিল? দেখে নাই কেন?

    উত্তর খুব সহজ। দেখে নাই। বরং জাপানের লোভি চোখ যদি মদির মত হয় –  ভারত যেভাবে হাসিনাকে জবরদস্তিতে ক্ষমতায় বসিয়ে অবৈধ অনির্বাচিত ও গুম-খুনের রাজত্বের এক সরকার রেখে বাংলাদেশের সব লুটতে পারে তবে জাপানও কেন এর ভাগ নিবে না – এটাই ছিল জাপানের চোখ ও অবস্থান। শুধু তাই না, বলা যায় জাপান এই ঋণচুক্তি টা করেছিল এটা ধরেই নিয়ে যে  হাসিনা যেন চিরদিন বাংলাদেশের ক্ষমতায় থেকে যাবে – বাংলাদেশের জনগন চিরদিন যেন এই অবৈধ ভারতের চর হাসিনার ক্ষমতাকে সহ্য করবেই – উপরে ফেলবে না। এটাই ধরে নেয়া ছিল!  যার সোজা অর্থ জাপান সরকার তো কোন ঋণ দানের চুক্তি করে নাই আসলে যেন জুয়া খেলতে বসেছিল। জুয়ার রিস্ক নিয়েছিল যে ভারতের পুতুল হাসিনা ক্ষমতায় থেকেই যাবে.…..!!!  কিন্তু জুয়াখেলার জাপান হেরে গেছে। সেই হার এটা। জাপান সেই জুয়া খেলায় হেরে গেছে। কাজেই বিশ বিলিয়নের ঋণ এর দায় কী কেবল এবং কেবলমাত্র  ভারত-জাপানের নয়? বাংলাদেশের জনগণ এর কোন দায় কেন নিবে?

    এখানে সবচেয়ে ইতরোচিত শব্দ হল ইন্দো-প্যাসেফিকঃ
    লেখক বলছেন এ বিষয়ে জাইকার ওয়েবসাইটে বলা আছে, ‘এ বিষয়ে জাইকার ওয়েবসাইটে বলা আছে, ‘অবাধ ও মুক্ত ইন্দোপ্যাসিফিক নিয়ে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার পরিকল্পনার ভিত্তিতে দ্য বে অব বেঙ্গল-নর্থইস্ট ইন্ডিয়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভ্যালু চেইন ধারণাটিকে সামনে নিয়ে এসেছে জাপান।

    “এ বিষয়ে জাইকার ওয়েবসাইটে বলা আছে, ‘অবাধ ও মুক্ত ইন্দোপ্যাসিফিক নিয়ে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার পরিকল্পনার ভিত্তিতে দ্য বে অব বেঙ্গল-নর্থইস্ট ইন্ডিয়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভ্যালু চেইন ধারণাটিকে সামনে নিয়ে এসেছে জাপান।”

    যার সারার্থ হল, এটা ভারত-জাপান করেছে তাদের ইন্দো-প্যাসিফিক স্বার্থ বাস্তবায়নের কারনে। আর এটাই নাকি তাদের – অবাধ ও মুক্ত ইন্দোপ্যাসিফিক এর ধারণা ও নমুনা!!!
    আমরা উপরে দেখলাম এটা আসলে ছিল জাপান সরকারের এক জুয়া খেলা যে হাসিনা ক্ষমতায় থেকে যাবে আর ভারত-জাপান যোথভাবে বাংলাদেশকে চুষতেই থাকবে……!এখানে হা হা হা করে এক লম্বা হাসি হবে।

    বণিকবার্তা ও এর লেখক এটাকেই অবাধ ও মুক্ত ইন্দোপ্যাসিফিক এর ধারণা ও নমুনা বলে চালিয়ে দিতে এসেছেন?
    উপরে আমরা দেখেছি লেখক এটাকে কানেকটিভিটি বলে চালাতে এসেছিলেন।
    এর সাথে লিখার ভিতর পাবেন ভারতের কথিত লুকইস্ট জাতীয় প্রপাগান্ডা।  আবার দেখেন লেখকও আমাদের বিশ্বাস করতে বলেছে এসব নাকি কোন -“উপ-আঞ্চলিক জোট সাউথ এশিয়া সাবরিজিওনাল ইকোনমিক কো-অপারেশনের (সাসেক)” এর অধীনস্ত প্রকল্প! তো ভারত ছাড়া আর বাকি দেশ কারা ওখানে? মানে কানেকটিভিটা একা ভারতের স্বার্থ নয় এটা সবসময় ভারত তুলে ধরবে এতা অঞ্চলিক আরো অনেক দেশের যেন! অথচ খুজে সুবিধাভোগী হিসাবে ভারত ছাড়া কেউ নাই!
    এর মানে এই রিপোর্টের লেখক (বা হতে পারে খোদ বনিকবার্তাও) জাপান-ভারতের স্বার্থের পক্ষে এক প্রপাগান্ডা করতে এই রিপোর্ট হরেছে। আর নয়ত এরা একেবারেই ন্যাকা-বোকা সরল! সেজন্য জাপানের ওয়েব সাইট খুজে সাফফাই খুজে নিয়ে আসতে গেছে!

    মূল বিষয়টা কিঃ
    শুরুতে ও শিরোনামে – “বাংলাদেশ-ভারত উত্তেজনায়…” বলে যেশব্দ কয়টা লিখেছেন সেটাই মুল বিষয়।  হাসিনাকে পুতুল সরকার বসিয়ে আগে থেকে ভারত পরে তাতে যোগ দেয়া জাপান যাতে তারা বাংলাদেশকে লুটতে পারে। ফলে এখন যেটাকে তারা বাংলাদেশ-ভারত উত্তেজনা বলছেন সেটা আসলে আরো বড় কিছু। এতা আসলে আগামিত্এ মোদির ভারত আবার লুটের ব্যবস্থা চালু করতে একটা সরকার বসাতে পারবে কংবা পারবেই না – এখনকার লট=ড়াই যেটাকে তারা শুধু উত্তেজনা বলছেন  এরই মুল লড়াই। বাংলাদেশে আবার ভারতের আধিপত্যের কোন ১৬ বছরের সরকার কায়েম হবে কি হবেই না এরই লড়াই চলছে। তাতে এটাকে লেখক বাংলাদেশ-ভারত উত্তেজনা বলে লঘু করতে চেয়ে লাভ নাই। এর প্রথম পর্যায়ে জাপান সরকার জুয়ায় হেরেই গেছে! তাই কোন রিপোর্টার এথেকে জাপানকে আর জিতাতে পারবে না!!! সরি জাপান!! হাসিনার বেনিফিসারি লোভি জাপান, সরি!!!

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   ৬ ডিসেম্বর  ২০২৪    রাত ১১ঃ ১৭
    শেষ আপডেটঃ      ২০২৪

     

     

     

     

  • নিকাহ আর তালাক একসাথে করার মত কাজ না

    নিকাহ আর তালাক একসাথে  করার মত কাজ না
    গৌতম দাস
    ০৪ ডিসেম্বর ২০২৪   সন্ধ্যা ০৬ঃ ৩১
    https://wp.me/p1sCvy-5W0

    ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের মধ্যে কোন ভারত ন্যায়  বা সমকক্ষতা এর জায়গা নাই। এটাই ভারতের অবস্থান। কাজেই ভারতের হাত ধরে ক্ষমতায় যেতে চাওয়া আবার পানির ন্যায্য হিস্যা চাওয়া – এদুটো একসাথে চাওয়া যাবে না।
    ঠিক যেমন,  নিকাহ আর তালাক একসাথে  করা যায় না। একসাথে করার কাজ না। এটা কে না জানে?
    দুইটার মধ্যে ঠিক কেবল যেটা চান এমন কেবল একটাই নিতে পারবেন আপনি। একসাথে দুইটাই নিবেন এটা পারবেন না আপনি। হবে না; শত চাইলেই পারবেন না।  পাবেন না।
    কিন্তু বিএনপি বা তারেক জিয়া যেন এমন পরস্পরবিরোধী দুটাই একসাথে চেয়ে ফেলেছে। হয়ত অসর্তকতায়! 

    আমি গত এক সপ্তাহ (বা হয়ত এরও বোধহয় বেশি হবে) ধরে লাগাতর বলে আসছি যে বিএনপি (সাথে জামায়াতও) গত ২০০১-৬ তাদের সরকারের আমলে যদি কিছু মারাত্মক ভুল, অন্যায়, ত্রুটি হয়েই থাকে বলে তাদের এখন উপলব্দি হয়ে থাকে সেটা কোনই সমস্যা না। এজন্য সোজা পথ হল, আপনার কনষ্টিটিউয়েন্সি মানে পাবলিকের কাছে যান যারা আপনাদেরকে আগে নির্বাচিত করেছিল এবং আগামিও করতে পারে – সেই একমাত্র ক্ষমতাবান হল জনগণ, যারা সব ক্ষমতার মূল উতস তাদের কাছে যান। সব খুলে বলেন, কোনই অসুবিধা নাই। এজায়গায় পাবলিক সব বুঝে। কোন দোষটা খাটো করে দেখতে হবে বা কোনটা প্রধান করে বা কোনটা তখনকার মত মাফ করে দিতে হবে ইত্যাদি সব পরিস্কার বুঝতে পারে পাবলিক – একেবারে আম-আদমি মাঠে বা শহরের যারা ওয়ার্কিং ক্লাস – এরা এজায়গায় সব বুঝতে পারে।
    কাজেই সৎ ভবাবে তাদেরকে খুলে বললে তারা সবসময় সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়ে থাকে; ইতিহাসও তাই বলে।  ফলে বিএনপি (সাথে জামায়াতও) তাদের উচিত অবস্থান হতে হবে একমাত্র জনগণের কাছে সারেন্ডার। অন্য কারো কাছে নয়। অনেকে মনে করতে পারে আপনার শত্রুরা এটা নিয়ে মাতম তুলবে তখন কী হবে? আমি মনে করি কিছুই হবে না। আপনি প্রতিশ্রুতি দেন, পাবলিকের মনে বিশ্বাস জন্মানোর মত করে ব্যাখ্যা করেন আপনাদের কিছুই হবে না। বিশেষ করে যখন আপনি দেখাতে পারবেন যে আপনার আরেক ভুয়া আত্মঘাতি বিকল্প ছিল আপনার ভারতের কাছে যাওয়া কিন্তু আপনি যান নাই।
    কারণ,  ভারতের কাছে নিজের দুর্বলতা তুলে ধরে প্রকাশ করে তাদের অধীনে তাদের পায়ে চুমা দিয়ে তাদের খেদমতে তাদের স্বার্থে দেশের স্বার্থ বেচে দেন নাই।  নিজের দুর্বলতা তুলে ধরে প্রকাশ করে ভারত যেন এনিয়ে দেশ-বিদেশে কথা ছড়িয়ে না দিয়ে আপনাকেই যেন ক্ষমতায় ফিরে আসার ব্যবস্থা করে দেন – এই চিন্তা, এই অবস্থান বা কথিত রাজনীতি  দেখিয়ে আপনি আবার কোন চোরের ক্ষমতা তৈরি করতে চান এটা কখনই সৎ ও বাস্তবোচিত পদক্ষেপ হবে না। তাহলে তো হাসিনা টিকেই যেন এভাবেই!!!  কোন মানুষ কারো হাতে ব্ল্যাকমেলের স্বীকার হয়ে তা রেখে দিতে পারে না। এর চেয়ে মৃত্যু হাজার গুনে শ্রেয়! ভারতের অনুগ্রহের ক্যাম্পে যাওয়া মানে  নিজের দুর্বলতা/ভুল তাদের হাতে তুলে দেওয়ার সোজা মানে যারা আপনাকে একপর ব্ল্যাকমেল করবেই আপনি জানেন তাদের হাতেই নিজেকে সঁপে দেওয়া। আপনার কোন বিশেষ মুর্হুর্তের একান্ত পারসোনাল ছবি আপনি কারো হাতেই তুলে দিতে পারেন না। আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি আমরা এভাবে এরপর আজীবন ব্ল্যাকমেলার দের কব্জায় থেকে যাবো।  তাই একমাত্র বিকল্প  ও সোজা রাস্তা হল নিজ জনগণের কাছে যাওয়া।

    কিন্তু বিএনপি ইতোমধ্যেই অনেক দুরেঃ
    কিন্তু বিএনপি ইতোমধ্যেই সে পথে অনেকদুর আগিয়ে গেছে। বিশেষ করে কিন্তু মির্জা ফকরুলকে সামনে দিয়ে তার মুখ দিয়ে বিএনপির মুখ্য নেতারা যা করে ফেলছেন তা ভারতের আধিপত্য ঢেকে আনার পথে অনেকদুর চলে যাওয়া। বিশেষ করে মির্জার  দুইটা কাজ; এক. “আপনারা ভাবতে পারেন ………..” – বলে প্রতারকের আবেগ তুলে যে বক্তৃতা আর দুই. প্রায় ২১ টা রাজনৈতিক দলকে (যারা হবু সংসদের এক-আধটা সদস্য আকাঙ্খীরা সহ যারা ভারত তাদের ক্ষমতায় বসিয়ে দিবে বসে ক্ষমতার স্বপ্ন দেখছে, বিভোর হয়ে গেছে ) সাথে  নিয়ে প্রতীকীভাবে বললে – যার সামনে প্রথম আলো [এটা নাকি এক স্বাধীন সংবাদপত্রের উদাহরণ] আর পিছনে মোদি / র-এর হাত রাখা আছে – এভাবে বাংলাদেশের মেজর রাজনৈতিক দলকে সংগঠিত করে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া।  এতাই আগামিদনের ইতিহাসে এই কালপর্বকে কিভাবে আঁকা হবে সেটারই চিত্র হয়ে গেছে।
    তবে এসব ঘটানার শেষপর্ব এখনও মঞ্চে আসে নাই। যেমন, বিএনপি কী আগামিতে ও বাস্তবে এই অবস্থান কে সংশোধন করে নিয়ে চাইলেই নয়া বিএনপি হয়ে উঠে আসতে পারবে? অথবা কতটা সংশোবিত হয়ে উঠতে পারবে? নাকি আর এমন কিছুই করার সব পথ তারা নিজেরাই বন্ধ করে ফেলেছে ইতোমধ্যেই? এসবই real বা বাস্তবের মাঠে ও সময়ে হাজির কী করে হয় তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। যদিও আমার ব্যক্তিগত ফিলিং হল সব শেষ ও ফাইনাল! গত দুদিন যতজন বড় নেতার সাথে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি মানে তাদের ভাবনা বুঝাবুঝি জানতে পেরেছি তাতে  মনে হয়েছে তারা আর ফিরতেই পারবেন না!  ডিল ডান!!!

    কিন্তু আজকে এলেখার প্রসঙ্গ বাড়তি আরো কিছু, মানে উপরের কথাগুলোরও বাইরেঃ
    বাড়তি প্রসঙ্গটা কী?
    নিচের ভিডিও টা সবার আগে দেখে নিতে পারেন।

    ভারত থেকে পানির নায্য হিস্যা নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক আদালতে লড়াই হবে: তারেক রহমান | BNP

    সাদা চোখে শিরোনাম বা ভিডিও দেখেও মনে হতে পারে যে, আরে, এটাই তো বিএনপির জন্য সঠিক লাইন!! কিন্তু এটা আপতিক। মানে আপাতত অর্থে হয়ত এসব কথা সঠিক! কিন্তু গুঢ় দিক বলে আরেক দিক আছে। সেটা এখানে চাপা পড়ে যাচ্ছে।

    সোজাসাপ্টা একথাটার উত্তর খুজেন, আপনি যদি আপনার পানির হিস্যা এবং ন্যায্য হিস্যা চান তাহলে আবার একইসাথে  কী আপনি  ভারতের সাথে নুন্যতম কোন আপোষ,  ভারতের অধীনে থেকে তাদের তুলে দেওয়া ক্ষমতায় আসীন হওয়ার চিন্তা করতে পারেন?

    আসলে এই হচ্ছে, নিকাহ আর তালাক একসাথে  করার চিন্তা।  অর্থাৎ এগুলো হল, অর্থহীন চিন্তা; কারণ আগের চিন্তা-অবস্থানের সাথে পরের চিন্তা-অবস্থান যে মিল হচ্ছে না সেদিকটা আমল না করে কথা বলার বোকামি!

    এরপরেও আরেকটা তথ্য দেইঃ
    এখানে পাবেন ইমিডিয়েট সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান কী হবে – সে সংক্রান্ত ধারণা।
    আমি সবসময় পাঠক তো বটেই রাজনৈতিক নেতা, নীতি-অবস্থা নির্ধারকদেরকে বলি পড়াশুনা করতে। আপনাদের সময় ও এক্সপার্ট-বোধ নাও থাকতে পারে সেক্ষেত্রে ওস্তাদ পলিটিক্যাল বোধসম্পন্ন লোক ভাড়া করেন। তাতে সমাবেশে হাজার খালেক লোক কম হলেও এর ইমপ্যাক্ট বা বেনিফিট বেশি হবে।
    কিন্তু আবার সাবধান! যেমন মির্জা আলমগীর তিনি কিন্তু ইতোমধ্যেই এমন কিছুটা প্রাকটিস করে থাকেন! তাহলে সমস্যাটা ঠিক কোথায়? তবে তিনি মনে করেন দুনিয়ার ওস্তাদ পলিটিক্যাল বোধসম্পন্ন মানুষ মানেই হল কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলেরা। তাই তিনি কেবল কামাল নামের কমিউনিস্টদের কাছেই যান।  মানে যেতেন  যারা আবার সত্তর দশকের কমিউনিস্ট।  যারা মনে করেন বিএনপি তো একটা নির্বাচন-ক্ষমতার দল। তাই কোন রেডিক্যাল কাজ বিএনপির জন্য হারাম! তো রেডিক্যাল মানে? একেবারে অরিজিনাল মানে হল, আপোষহীন রাস্তার লড়াই-গণ আন্দোলন এগুলো তো বটেই এমনকি সময়ে সেমি-সশস্ত্র বা সশস্ত্র পর্যন্ত যেতে হবে যেয়ে বসবে।  এই কমিউনিস্টেরা আসলে এখন শুধু বাংলাদেশ না, সারা দুনিয়ার জন্য অভিশাপ! আল্লা আএদের যত তাড়াতাড়ি উঠায়ে নেয় ততই দুনিয়ার জন্য মঙ্গল!
    আচ্ছা তাহলে বলেন তো -কমিউনিস্ট মশাই-  আওয়ামি লীগ কী তাহলে রেডিক্যাল  বা বিপ্লবী দল? অথচ বিএনপির মতই (আপনাদের তুচ্ছ চোখে দেখা দল বিএনপি) বুর্জোয়া – নির্বাচন আর ক্ষমতার লোভের ‘নিচা’ দল কী আওয়ামি লীগও নয়????   তাহলে ১৯৭১ সালে সশস্ত্র যুদ্ধের নেতা আওয়ামি লীগ কী করে পারলো হলো???  মানে হল,  যা আওয়ামি লীগের বেলায় হালাল তা বিএনপির বেলায় হারাম,  কেন? এমন প্রগতিশীলতা ভাগাড়ে ফেলে আসেন আগে! এই পরামর্শ তিনি ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর (যেদিন খালেদা জিয়াকে বাসার সামনে বালির ট্রাক দিয়ে……) মির্জাকে দিয়েছিলেন। আর সেজন্য এই কমিউনিস্ট-পরামর্শ মির্জা আলমগীর শুনার পরে নেতিয়ে পরে শুয়ে গেছিলেন। আর এটাই মূল কারণ ঐ দিনের ব্যর্থতার। বহু প্রস্তুতি থাকার পরেও বিএনপি রাস্তাতেই নামে নাই।
    অতএব এখনকার জন্য মূলকথাটা হল, এই ঘটনা থেকে শিক্ষাটা হল,  ওস্তাদ পলিটিক্যাল বোধসম্পন্ন মানুষ অবশ্যই হায়ার করবেন; কিন্তু একটাই শর্ত উনাদের লেজ তুলে চেক করে নিবেন যে মানুষটা কমিউনিস্ট কিনা! হলে সটান বাদ দিতে হবে, এতাই একমাত্র ক্রাইটেরিয়া!

    তারেক জিয়া কথাগুলো বলেছিলেন, একটা সম্ভবত প্রাইভেট বিশ. এর আসরে। একাদেমিক জায়গা হিসাবে বক্তব্য হয়ত ঠিক! কিন্তু যখন আওপনার মাথায় ঢুকে গেছে যে ভারতের সাথে একটা রফা একটা আপোষরফা করেই আপনাকে ক্ষমতা পাবার পথ তখন – এই বক্তব্ব্য স্ববিরোধী বা কনফ্লিক্টিং!
    যেকথা বলছিলাম, আরেকটা তথ্য – এখনকার মোদি / র – এখন থেকে কোন অবস্থান নিয়ে বাংলাদেশের সাথে কথা বলবে দল অথবা সরকারের সাথে এধারণা তারা দিয়ে দিয়েছে ও তাদের প্রকাশিত সেই মনোভাব আছে বিবিসি বাংলার এক লেখায়। তা আমি আগে আলোচনা করেছি সে লেখার শিরোনাম ছিল  – ‘রোড ম্যাপ’ – আসলে কাদের দাবি? ভারতের! এখানে। আর ঐ পুরা লেখাটাই যে রেফারেন্সে লেখা সেটাই হল বিবিসি বাংলায় প্রকাশিত ভারতের পক্ষ থেকে লেখাটা। খুবই মজার শিরোনাম – বিবিসির,

    হিন্দু, হাসিনা, হতাশা : যে সব কারণে দিল্লি ও ঢাকার সম্পর্ক কিছুতেই সহজ হচ্ছে না

    এই লেখার সারকথা হল, ভারতের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে,
    ১।  ভারতের সাথে বাংলাদেশ সমান – এমন সমান মর্যাদা বোধ বা সমকক্ষতা – এটা মেনে কোন সম্পর্ক ভারত বাংলাদেশের সাথে করবে না।
    ২। তাই,  পানির হিস্যা এবং ন্যায্য হিস্যা এজাতীয় কোন ন্যায়  বা সমকক্ষতা এসব ধারণা ভারতের কাছে গ্রহনীয় নয়।
    ৩। ইতোমধ্যে ইউনুস সাহেব ভারতের সাথে পানির হিস্যা এবং ন্যায্য হিস্যা ইতোমধ্যে এসব কথা তুলে মিডিয়ায় বসে ফেলেছেন তাই ভারত ইউনুস সরকার কে স্বীকার করবে না, কোন ডিল করবে না।  আসলে সেই থেকে একারণেই এখন প্রতিদিন ভারতের আগ্রাসী স্টেপ প্রতিদিন বাড়ছে।

    এজন্যই ভারত দ্রুত নির্বাচনী রোড ম্যাপের পক্ষে সমস্ত পথে চাপ সৃষ্ট করে চলছে। যাতে নির্বাচিত বিএনপি-জামাত ইত্যাদি কেউ এসে গেলে ইউনুস ফেলে দিতে ভারত ন্যায়  বা সমকক্ষতা এসব ধারণা ভারত বাইরে রেখেই যেকোন ডিল বা সম্পর্ক করতে পারে।

    তাহলে, এখন এই মুহুর্তে তারেক জিয়ার

    এই বাক্যের প্রতিটা শব্দ বিএনপির ভারতীয় ইস্যুতে মির্জা ফকরুল কে দিয়ে বলানো আগের সব অবস্থানের সাথে কনফ্লিক্টিং।

    তাহলে????
    বিএনপিকে দ্রুত সতর্কতার সাথে এই দুরকম অবস্থান সংশোধন করে নিতে হবে। হয় ভারতের সাথে নিকাহ আর না হয় তালাক এক টাই করতে হবে। অপশন এতটুকুই। একসাথে দুটা করা যাবে না। ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের মধ্যে কোন ন্যায়  বা সমকক্ষতা এর জায়গা নাই।

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  ডিসেম্বর  ২০২৪
    শেষ আপডেটঃ      ২০২৪

  • আসলে সিপিএম এর সাথে মমতাও হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিতে

    আসলে সিপিএম এর সাথে মমতাও হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিতে
    গৌতম দাস
    ০৩ ডিসেম্বর ২০২৪   দুপুর ১২ঃ ৩৩
    https://wp.me/p1sCvy-5UX

     

    বাংলাদেশে জাতিসংঘের শান্তি সেনা পাঠানো হোক, চান মমতা

     

    গতকাল ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার অফিসে হামলা হয়েছে। যার সোহা বাংলাটা হল, মোদি-জয়শঙ্কর এর গ্রাম্য মোড়লের মত চিন্তায় এই হামলা করিয়েছেন, হতে দিয়েছেন। আবার ঘটনা ঘটানোর পরে মাফ চাইতেছেন।
    মোদি-জয়শঙ্কর কে গ্রাম্য মোড়লের বোকা-চিন্তা বললাম এজন্য যে যেন এরা ধরে নিয়েছেন যে ঢাকার মানুষেরা ভারতীয় হাইকমিশনের অফিস কোথায় চিনে না, ঢাকায় প্রণয় ভার্মা কোন বাসাতে থাকেন তা ঢাকার মানুষেরা জানে না! অথবা মোদি-জয়শঙ্কর এর মত এসব স্থানগুলোতে একটা হামলা ঘটিয়ে দিয়ে এরপর আমাদের পররাষ্ট্র  উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বোধহয় কম নাটুকেপনা করতে পারবেন!!!
    একমাত্র মোদি-জয়শঙ্কর এর মত মফস্বলি চিন্তার লোকেরাই এমন ভাবতে পারে।  বিশেষ করে মফস্বলি রাজনীতিতে বিজেপি-আরএসএস এর ট্রেনিং পাওয়া মোদি এমনটা ভাবতে পারেন। কিন্তু জয়শঙ্কর??? উনি তো পেশাদার কূটনীতিক ক্যাডার ছিলেন! কাজেই উনার তো জেনেভা কনভেনশনের আইন-নিয়মকানুন না জানার কোন সুযোগই নাই! এর অর্থ তিনিও নিজ পদমর্যাদা ভুলে মোদির পা-চাটার জন্য মোদির মফস্বলি খায়েশ পূরণে সম্মতি দিয়েছেন???
    আগরতলায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার অফিস মানে জেনেভা কনভেনশন অনুসারে ওটা বাংলাদেশ-ভুখন্ড সমতুল্য গন্য করতেই হবে; এই স্থাপনা যেকোন ভারতীয়ের আক্রমণ দূরে থাক স্পর্শ থেকেও দূরে রাখতে হবে ভারত সরকারকে। সেকাজে যা যা নিরাপত্তা লাগে সব যোগান ভারত-সরকার দিতে বাধ্য, এমন লিখিত প্রতিশ্রুতির পরে বাংলাদেশে সেদেশে গিয়েছে!  কাজেই এখানে সরি বলবারও কোন অবকাশ নাই!
    মোদি-জয়শঙ্কর যদি মনে না রাখেন যে এপর্যন্ত প্রতিবার এমন ঘটনাগুলোতে বাংলাদেশ সরকার তার নিজ জনগণকে মটিভেট করে যেকোন ভারতের উস্কানিতে শান্ত থেকেছে। গত ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রামে সরকারের কর্মি আদালতে সরকার নিজ বা বাদিপক্ষের বক্তব্য উপস্থাপনে আদালতে নিয়োজিত কর্মী যাকে পাবলিক প্রসিকিউটর বা সংক্ষেপে পিপি নামে ডাকা হয় – সেই পিপি সাইফুল ইসলাম আলিফ কেন আদালতে ইসকনের চিন্ময় এর জামিনের বিরোধিতা করল এই অজুহাতে আলিফ কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এসব গুন্ডামি কী বাংলাদেশের মানুষ কম জানে? কিন্তু বাংলাদেশের সরকার ও আম-জনগণ এরপরেও নিজেদের সংযত রেখেছে – পরেরদিনের চারচারটা জানাজার আয়োজন করেছে চট্টগ্রামবাসী; এভাবে তাদের মনের ক্ষোভ, দুঃখ বেদনা মানসিক চাপ ইত্যাদি সবকিছুকে ঐ জানাজার মধ্যে দাফন করে দিয়ে আম-জনগোষ্ঠির এক  জন-ঐক্য  সৃষ্টি  ও দায়ীত্বপুর্ণ আচরণে সবাইকে পরিচালিত করে আমরা উঠে দাড়িয়েছিলাম – এক অনন্য নজির করেছিল সেদিন!

    অথচ মোদি-জয়শঙ্কর এর মফস্বলি আচরণের মত একটু ইশারাই কী যথেষ্ট ছিল না?  – মুহুর্তের মধ্যে ইসকন-চিন্ময় গং চিহ্ন লোপাট হয়ে যেত না? রক্তের বন্যায় আমরা এরপরে কোনপক্ষই আর কেউ নিজেদের কাছেই মানুষ হিসাবে মুখ দেখাতে পারতাম না!  কিন্তু আমরা সেসব দিকে যাই নাই, সেসবের কিছুই করি নাই!  নিজেদের সংযত রেখেছি। যদিও বারবার মোদি-জয়শঙ্কর আমাদেরকে উস্কানি দিয়ে যাচ্ছে! আমরা ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে সব বিদেশি কূটনীতিকদের মাধ্যমে সারা দুনিয়াকে সব ঘটনাই জানিয়েছি।  মোদি-জয়শঙ্কর আপনারা কিছু পেটি-স্বার্থে আর কত নিচে নামবেন? বাংলাদেশ আপনাদের কোন হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি বা স্বার্থের কাছে মাথা ঝুকাবে না!
    এখানে সবচেয়ে বড় তামাশাটা হল, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলেরা যারা প্রতি মুহুর্তে গত দুশ বছর ধরে মুসলমান মানেই নিচা মানুষ, এরা জঙ্গি পশ্চাদপদ ইত্যাদি তাই মুসলমানকে তাদের পায়ের নিচে দাবায় রাখতে হবে বলে প্রোপাগান্ডা-বয়ান খাড়া করে গেছে – যে প্রপাগান্ডার মুখ্য শব্দ বা কয়েন করা শব্দ হল সাম্প্রদায়িকতা – কিছু হলেই হিন্দুত্ববাদ যাকিছুই অপরাধ করুক উস্কানি দেক না কেন আমাদের হিন্দুত্ববাদকেই রক্ষা করতে হবে মানে  আমাদেরকেই তথাকথিত অ-সাম্প্রদায়িক হয়ে থাকতে হবে। মানে হিন্দুত্ববাদ এর কোন দোষ-অপরাধ নাই, ওর এর গায়ে টোকাও দেয়া যাবে না, উল্টা রক্ষা করে যেতে হবে। আর এটাই কমিউনিস্ট-প্রগতিশীল অ-সাম্প্রদায়িকতা রাজনীতি ও অবস্থান!  এতে আসলে প্রমাণ হয় যে কমিউনিস্ট-প্রগতিশীল নামের আড়ালে এরাই প্রকৃত হিন্দুত্ববাদী।  একারণেই এরা সবাই এখন মোদি-জয়শঙ্করের ভারতের মফস্বলি আচরণ ও উস্কানির বিরুদ্ধে কোন টু-শব্দ নাই; প্রথম আলো নিঃশ্চুপ, এই ইস্যুতে কমিউনিস্ট-প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবী [কোন ৩৪জন বুদ্ধিজীবীর প্যাকেজ] এদেরকে আর দেখা যাচ্ছে না। এরা মুখে তালা দিয়ে কোথায় যেন লুকিয়ে বসে আছে!!! কী সুন্দর  বাংলাদেশ তাই না!!!  যেখানে কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলেরা মোদির হিন্দুত্ববাদের পক্ষে দাঁড়িয়ে ততপর থাকে! 

    এটা কী সুন্দর  বাংলাদেশ তাই না!!!  যেখানে কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলেরা অবলীলালায় মোদির হিন্দুত্ববাদের পক্ষে দাঁড়িয়ে ততপর থাকে! আর উলটা আমাদেরকেই কথিত ‘অসাম্প্রদায়িক’ থাকবার বাণী শোনায়!!!!  

    আরেক মফস্বলি মমতা বন্দোপাধ্যায়ঃ
    কলকাতার আরেক মফস্বলি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়, তিনি বাংলাদেশকে জাতিসংঘ শান্তিবাহিনীর অধীনে নিতে চান! এখানে দেখেন বিবিসির নিউজ। 
    আরে ভাই আগে  জাতিসংঘ কী, শান্তিবাহিনী কী – এগুলো কী খায় না মাথায় দেয় – সেটা জানেন! জানার পরেই না হয় মুখ খুলেন? নাকি?
    এখন বাংলাদেশের মিডিয়া স্বাধীনতা মানে হল হিট বাড়ানোর জন্য সত্য-মিথ্যার পরোয়ার দরকার নাই। জার্নালিজমের নীতি মানা হচ্ছে কিনা পরোয়ার দরকার নাই!  কারণ, ওয়েবে যত বেশি দর্শক-পাঠক কে উস্কানি তুলে ডেকে নিয়ে আসো কোন অসুবিধা নাই, আর এটাই তো এভাবে হিট বাড়িয়ে অর্থ কামানোর সহজ পথ!  এই হল, এখনকার বাংলাদেশের মিডিয়া স্বাধীনতা  আর প্রথম আলো যেখানে যার আদর্শ ও মডেল! শুধু তাই নাই আমাদের বিখ্যাত রাজনীতিবিদ মির্জা ফকরুল এখন খোলাখুলি র-এর এজেন্সি নিয়েছেন। তিনিওই আগামি সংসদের যারা আসন ভিক্ষা করেন এমন সবদলকে আসন ভিক্ষা দিবার নেতা কারণ তার হাতে র-এর এজেন্সি এসে গিয়েছি। আর তাই এমন সম্ভবত ২১টা মানে প্রায় সব নির্বাচনি দল এখন ফকরুলের নেতৃত্বে এমন এই প্রথম আলো মার্কা  বাংলাদেশের মিডিয়া স্বাধীনতার পক্ষে খাঁড়ায় গেছে। এটা হল পাঠকে বিক্রি করে দেওয়ার মিডিয়া স্বাধীনতা। তার মানে, এরা কী সাংঘাতিক গণতন্ত্রী! আপনারা চিন্তা করতে পারেন……।
    তো বাংলাদেশের এমন দুই “স্বাধীন মিডিয়া” – প্রথম আলো আর মানবজমিন – তাদের আবার আজকাল নাকি কলকাতার সংবাদদাতাও আছে!  ফলে মমতার বক্তব্যকে কত সেনসেটিভ বা হাইপ তুলে রিপোর্টটা করা যায় সেদিকে এরা ব্যস্ত হয়ে উঠে। এমন জব্বর খবর – এই পয়সার মাল –  এটা নিয়ে উত্তেজনা উঠানোর (মানে অঢেল অর্থ বা হিট কামানোর) সুযোগ তো হাতছাড়া করা যায় না?
    কিন্তু এতে সবই হয়েছে আর খোদ জার্নালিজম টাই বাদ হয়ে গেছে!

    প্রথম কথা হল, এই মিডিয়া স্বাধীনতা ওয়ালারা খেয়ালই করেন নাই যে – মমতার কথাগুলো অসামঞ্জস্যপুর্ণ। বাংলায় যেটাকে আমরা বলে কথার মধ্যে তাল নাই। একেকবার একেক অর্থ করে কথা বলেছেন। উনি কার কথা কাকে নিয়ে বলছেন তাই আউলায়ে ফেলেছেন। অথচ এদিকটা  সেটাই কেউ সামনে আনে নাই, গুরুত্ব দেয় নাই। প্রথম আলো আর মানবজমিন  এর নিউজ পাবেন এখানে।
    সবার আগে মমতার কথাগুলো যে অসামঞ্জস্যপুর্ণ তা নিয়ে অন্তত একটা বাক্য খরচ করেছে বিবিসি বাংলা।

    “……এ জাতীয় ঘটনা (সহিংসতার) ঘটতে থাকে তাহলে আমরা আমাদের লোকেদের ফিরিয়ে আনব। সরকার উদ্যোগ নেবে। তারা ফিরে আসলে থাকার, খাওয়ার কোনও সমস্যা হবে না। কোনও ভারতীয়ের উপর অত্যাচার হবে সেটা আমরা হতে দিতে পারি না।”

    উপরের এই বাক্যগুলো ছিল মমতার মূল কোট-আনকোট বক্তব্য। এখানে মমতার ধারণা বাংলাদেশে গত ৫ আগষ্টের কথিত হিন্দু নির্যাতন হচ্ছে মোদি, ইসকন ইত্যাদি এদের যে প্রপাগান্ডা ভারত সরকার করছে তাতে মমতার ধারণা কথিত যে নির্যাতন তা ভারতীয় হিন্দুদের উপর হচ্ছে।  এখন এতে যে বিভ্রান্ত তা হল,
    এক. নির্যাতিতরা ভারতীয় হিন্দু হলে তারা বাংলাদেশে বসে থেকে নির্যাতন খাইতেছে কেন?
    দুই. মমতা তো কথিত নির্যাতিতদেরকে  “আমাদের লোকেদের  বলেছেন। আমাদের লোকেদের ফিরিয়ে আনব – বলেছেন???? আরো পরিস্কার করে পরের বাক্যে বলেছেন, ভারতীয়ের উপর অত্যাচার হবে সেটা আমরা হতে দিতে পারি না। তাহলে?
    তিন. মমতা আসলে বেদিশ [বেদিশা] হয়ে গেছেন! সেক্ষেত্রে বাংলাদেশে ভারতীয় হিন্দুরা এদের থাকাটাই তো অপরাধ! নাকি? এর কী হবে?
    চার. নাকি মমতা মোদি-বিজেপি-আরএসএস এর ভক্ত হয়ে উঠেছেন?  সেটা এই কারণে যে – “সারা দুনিয়ার হিন্দুদের (তিনি যে দেশেরই নাগরিক হন না কেন, সে হিন্দুর) রক্ষকর্তা একমাত্র মোদি, মোদির সরকার – ইদানিক এই বক্তব্য রেখেছে তারা বিবিসির এক রিপোর্টে; এখন মমতা কী সেই বক্তব্যের ভিক্ত অনুসারি হয়ে উঠেছেন? আর সেকারণেই বাংলাদেশে কথিত নির্যাতিত হিন্দু সে বাংলাদেশি / ভারতীয় সকলের রক্ষাকর্তার দায়ীত্ব তো মহান ভারত ও মহান মোদি নিয়েছে – ফলে এখন মমতাও মহান মমতা হয়ে সেই দায় বোধ করে কথা বলছেন! তাই কী????

    এসবেরই সারকথা, একটা ইস্যুতে কোন ঘটনা-বিবরণ না জেনেই লাঠি হাকিয়ে দেয়া বলতে যা বুঝায় মমতা তাই করে স্টুপিড হয়ে গেছেন!
    আর সেকারণেই ব্যাপারটা নজর করেছে বিবিসি তারা বুঝাতে চাইছে মমতার এই স্টুপিডিটি এই বিবৃতির সাথে বিবিসি নাই; তার এর কোন দায় নিচ্ছেনা।
    আর তাই ঐ রিপোর্টে বিবিসির মন্তব্য বা সতর্কবার্তা লিখাছে যে  ‘ভারতীয়দের উপর অত্যাচার’ বলতে তিনি কাদের বুঝিয়েছেন, তা ওই বক্তব্যে পরিষ্কার করেননি। মানে বিবিসি এই “কথা হয় না কথার” কোন দায় নেয় নাই। 

    অথচ আমাদের বাংলার স্বাধীন মিডিয়া এসব বাদ দিয়ে মমতা শান্তি রক্ষী বাহিনী দেয়েছে এদিকে পাটয়হককে নিয়ে গেলেন। অথচ, বাংলাদেশি পত্রিকা হিসাবে মমতা কে দেখার ও তার বক্তব্য-চিন্তার মধ্যে বাংলাদেশ সম্পর্কে যে স্টুপিড চিন্তা কাজ করছে সেদিকে চোখ ফেলে নাই। মমতার কথা যে মৌলিকভাবে অসামঞ্জস্যপুর্ণ এদিকটা যেন তারা দেখেই নাই অথবা এদিকটা নিজ নিজ পত্রিকা পাঠককে সাবধান করে দেয়া যেন তাদের দায়ীত্ব না। সলে তারা আছে হিট কামাতে আর এতে পরোক্ষে হিন্দুত্ববাদের  অসাম্প্রদায়িকতা জাগিয়ে রাখতে।
    তবে প্রথম আলোর কলকাতা রিপোর্টার একটা বাড়তি তথ্য দিয়েছেন সেকথা আসছি।

    মমতা কেন এমন পোলাপানি বিবৃতি দিতে গেলেনঃ
    পুরা কলকাতায় তো বটেই ভারতের এখনকার রাজনীতিতে হিন্দুত্ববাদকে প্রধান করে তুলেএনেছেন মোদি সরকার এন্ড গং।  আর বাকি দলগুলো এই হিন্দুত্ববাদ করে সাজানো মোদির নির্বাচনি রাজনীতিকে আপন করে নিয়েছেন বা আত্মাহুতি দিয়েছেন। এর পিছনের মূল কারণ ভারতের রাজনীতিটাই গড়ে উঠেছে সেই ১৮১৫ সাল থেকে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষে, কখনও আবছা বা স্পষ্ট করে, মূলত হিন্দুত্ববাদ কে কেন্দ্র করে।  ভারতের সব রাজনীতিই কমবেশি হিন্দুত্ববাদ প্রভাবিত। যেমন এথেকে কমিউনিস্ট সিপিএমও এর বাইরে না। বরং সবসময় হিন্দুত্ববাদকেই সামনে আনার ক্ষেত্রে শীর্ষভুমিকা পালন করে গেছে। অনেকের শুনে অবাক লাগতে পারে কথাটা। কিন্তু এনিয়ে একটা রেফারেন্সই যথেষ্ট।  সেটা হল, কেন সুশোভন সরকার বেঙ্গল রেনেসাঁ নামে বইটা বের করেছিলেন? [বইটার গুগল পিডিএফ-ও পাওয়া যায় নেটে তবে ইংরাজিতে ] আর কেন এই বইটায় খোদ কমিউনিস্ট পার্টি (যার একচুয়াল ততপরতা ১৯৩৫ সাল থেকে শুরু হয়েছিল) সেকালে সাপোর্ট দিয়েছিল, পার্টি সেক্রেটারি পিসি যোশী একটা ভুমিকা লিখে দিয়েছিলেন? কেন? আর ঐ বইয়ে কী আছে? বিশেষ করে হিন্দুমেলার চাপ্টারটা?? এটা কজন পড়েছেন?
    এটা প্রমাণ করে খোদ কমিউনিস্ট পার্টি টা শুরুই হচ্ছে হিন্দুত্ববাদকে সাথে নিয়ে।

    যাই সেকথা, প্রথম আলো মমতা নিয়ে লিখেছে, “……গত ২৮ নভেম্বর সিপিআইএমের পলিটব্যুরো বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ শান্তি সেনা পাঠানোর প্রস্তাব করলেন”।
    এটাই হল সেই গুরুত্বপুর্ণ দিক। মমতা মনে করেন কলকাতার ভোটের রাজনীতিতে তার প্রধান বয়ান-রাজনীতি বা ইডিওওলজির দিক থেকে প্রধান প্রতিপক্ষ-এনিমি হল সিপিএম। এর পাল্টা সিপিএম আরো বেশি করে মনে করে মোদি-বিজেপি নয়, সারা ভারতে তাদের প্রধান রাজনীতির এনিমি হল মমতা। কারণ মমতাই তাদের ৩০ বছরের কলকাতার ক্ষমতা থেকে উপড়ে ফেলে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমতায়। শুধু তান না একারণে, সিপিএম তার ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের প্রশ্নে মোদির কোলে উঠে বসতেও বা অপ্রকাশ্য এলায়েন্স করতেও রাজি। করেছেও তাই।
    আর সেকারণেই তারা মোদির হিন্দুত্ববাদি রাজনীতির পক্ষে সিপিএম এই মিথ্যা দাবিতে মোদি সরকারের অনুরূপ বিবৃতি দিয়েছে। দেখতে যায় নাই যে বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের এই উন্মাদনা কেন সত্যি না। সেটা ইনডিপেন্ডেন্টলি ভেরিভাই করতে যায় নাই, চাই নাই। এতে সারা ভারত হিন্দু ভোটের লোভে মোদি যেন হিন্দুত্বের শুরসুরি দিয়ে সব নিয়ে যা যায় সেটা ঠেকাতে তারা সকলে কংগ্রেসের প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, সিপিএম ও মমতা ইত্যাদি লাইন ধরে হিন্দুত্ববাদের রাজনীতিকে আপন করে নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। সত্য-মিথ্যা বা ফ্যাক্টসের ধার ধারে নাই। মূলত সিপিওএম এর বিবৃতির পরে মমতাও বিবৃতি দিতে অস্থির হয়ে পড়েন।

    এমনকি যেখানে দুদিন আগেও মমতা বলেছিলেন্, এটা কেন্দ্রের মানে কেন্দ্রীয় মোদি সরকারের দেখভালের ইস্যু। তাই তিনি এনিয়ে তেমন কিছু বলতে চান না। অথচ নিজের বক্তব্যের বিরোধিতা করেই তিনি শান্তিবাহিনী ডাকার বিবৃতি দফিয়ে ফেলেছেন। যেন শান্তিবাহিনী হিন্দুসেনা সব!!!!! ডাক দিলেই এসে যাবে!  প্রথম কথা এই শান্তিবাহিনী বসানোর অর্থ কী ভারত দিবে? বইতে রাজি আছে? বাজারে ডালের দাম না জেনে প্লেটের ভাতে বিরাট এক গর্ত করেছে ডাল নিবে বলে………!!! এদেরকে আর কী বলব?

    সারকথায়, যতদিন ভারতের যেকোন দল, কেন হিন্দুত্ববাদ বিরোধিতা করতে হবে, আর তা কী করে এনিয়ে চিন্তা-ততপরতায় সোচ্চার না হবে ততদিন এদের কারো মুক্তি নাই। ভারত ভাঙনের দিকে এগিয়ে যাবেই। এথনিক জাত শ্রেষ্ঠত্ববাদী চিন্তার  হিটলারের উতখাত ছাড়া যেমন জর্মানির প্রতিবেশি কোন ইউরোপীয় রাষ্ট্রে শান্তি  তো বটেই সারা দুনিয়ায় শান্তি আসে নাই, দুনিয়াতে শান্তি আসে নাই; ঠিক সেরকম মোদির ভারতও এশিয়ার হিটলারই হয়ে উঠবে ক্রমশ!
    আর ২৯% মুসলমান ভোটের উপর দাঁড়ানো মমতাও কেবল হারতেই থাকবেন; উলটাপালটা বকবেন তাতে কোন লাভ হবে না!

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

     ০৩ ডিসেম্বর ২০২৪  দুপুর ০১ঃ ২৩  

    আপডেটঃ    ২০২৪  

  • সরি ইউনুস সাব, আপনার সিপিডি প্রেমে আমরা ক্ষুব্দ হতাশ – চিটেড বোধ করছি

    সরি ইউনুস সাব, আপনার সিপিডি প্রেমে আমরা ক্ষুব্দ হতাশ – চিটেড বোধ করছি
    গৌতম দাস
    ০১ ডিসেম্বর ২০২৪  রাত ২২ঃ ১০

    https://wp.me/p1sCvy-5U8

    সিপিডির ৩০ বছর পূর্তিতে ড. ইউনূসের বিশেষ বার্তা | Dr Yunus | CPD | Ekhon TV

     

     

    এটা আন-একসেপ্টেবল! এটা অগ্রহণযোগ্য!

    প্রধান উপদেষ্টা ডঃ ইউনুস, আপনি নিজ ব্যক্তিস্বার্থে আর সেই সুত্রে লব্ধ ব্যক্তিবোধ-অনুভব ইত্যাদির সাথে আপনার বর্তমান পদ-পদবীর স্বার্থ ও মর্যাদা মাখায় ফেলতে পারেন না।
    এটা অপরাধের পর্যায়ে পরে! কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট – অন্তত এদিকটা আমল করতেই হত আপনাকে!

    আমি ক্ষুব্ধ, আমরা হতাশ!!! এটা হতে পারে না।

    সিপিডি প্রতিষ্ঠানের ট্রাস্টি হতে পারেন প্রধান উপদেষ্টা ইউনুস!
    আর প্রফেসর রেহমান সোবহান তাঁর শিক্ষকও হয়ত!

    বাট ডাজ ইন মিন আপনি ইউনুস আপনার এই ব্যক্তিগত আনুগত্য বোধ দিয়ে সিপিডি প্রতিষ্ঠান ও রেহমান সোবহান  এর মুল্যায়ন করবেন? আপনি?
    যেখানে ছাত্র-জনতার আন্দোলন ৫ আগষ্ট সম্পর্কে আপনি প্রায়ই বলে থাকেন এই শিক্ষার্থী নেতারাই আপনাকে চেয়ারে বসিয়েছে। কিন্তু সিপিডি ও রেহমান সোবহান এদের গত ১৬ বা (তারও বেশি) বছরের অবস্থান ছিল এর একেবারেই উলটা।
    কিন্তু আপনি কী জানেন ২০০৭ সালে ১/১১ এর ক্ষমতা দখলের পরপরেই রেহমান সোবহান ভারতের স্বার্থের দালালি শুরু করে দিয়েছিলেন।
    তিনি দাবী করেছিলেন ভারতকে করিডোর দিলে [কানেকটিভিটি নামে এক দালালি শব্দ আবিস্কার করেছিলেন]  তাতে নাকি বাংলাদেশেরই লাভ হবে। এথেকে মানে ভারতকে করিডোর দিয়ে বিনিময়ে বাংলাদেশ যে প্রচুর আর লাভজনক ভাবে অর্থ আয় করবে। আর সেতা এতই অর্থ যে আমরা নাকি সিঙ্গাপুরের মত উন্নত দেশ হয়ে যাব। উনি এখানেই থামেন নাই, বলেছিলেন যারা তার এই অবস্থানের বিরোধীতা করবে তারা সবাই অশিক্ষিত!
    আসলে এই ক্যাম্পেইনের জন্য তার প্রতিষ্ঠান সিপিডি যেন ভারতের সাথে কন্টাক্ট নিয়েছে এমন এক বেপরোয়া ততপরতা আমরা দেখেছি সে সময়ে। দেখেন এখানে

    ‘ট্রানজিট নিয়ে বিতর্ক অশিক্ষিত বিতর্ক’

    এছাড়াও বাস্তবে কী হয়েছিল? হাসিনা সরকারের অর্থ উপদেষ্টা বলেছিলেন কেন ভারতের থেকে অর্থ নেয়া হবে এটা তো অসভ্যতা। ২। বাস্তবে বাংলাদেশ বিদেশি দাতাদের থেকে অবকাঠামো ঋণ নিয়ে সেই অর্থে রাস্তা-ব্রিজ-বন্দর ইত্যাদি যেসব অবকাঠামো তৈরি করেছে সেসবই প্রায় বিনা পয়সায় ভারত ব্যবহার করে গিয়েছে বিনা পয়সায়। বিনিময়ে হাসিনা সরকারকে জবরদস্তি ক্ষমতার রাখার ব্যবস্থা করে গেছে ভারত। আর ঐ ঋণের অর্থ সুদ সহ পরিশোধের বোঝা এখনও বয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের জনগণ!
    আর এটাই হল সিপিডি ও রেহমানের সোবহানের ১৬ বছরের ততপরতার কিছু অবদান! আমার পাঠকেরা জানেন নিশ্চয় এনিয়ে আমি গত চারমাসে অন্তত তিনটা লেখা দিয়েছি।
    বিশেষ করে, আপনি ইউনুস বেপরোয়াভাবে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যকে আপনি এক সংস্কার কমিটির নেতা করেছিলেন যখন।

    আরো আছে যেমন, সিপিডি এই প্রতিষ্ঠানটা হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশের ইসকনি হিন্দুদের সাথে মোদির যোগাযোগ করিয়ে দেয়ার বৈঠকখানা! শ্রীরাধা দত্ত এখন আমেরিকান ফান্ডেডঃ এশিয়ান থিঙ্কট্যাঙ্কে নিজেকে যুক্ত করেছেন। এর আগে পুরা সময়টাই তিনি ছিলেন আরএসএস এর মালিকানায় পরিচালিত থিঙ্কট্যাঙ্ক বিবেকানন্দ ফাউন্ডেশন এর কর্তা। অজিত দোভাল যে দলীয় থিঙ্কট্যাঙ্কের প্রধান কর্তা।  আর বাংলাদেশের  ইসকনি হিন্দু নেতারা এই শ্রীরাধা দত্তকে কল করেই এই মাধ্যমেই মোদির কাছে নালিশ ইত্যাদি পৌছাতেন। শ্রীরাধা ঢাকায় এলে এই সিপিডি তেই আসন গাড়তেন। হাসিনা আমলে  সিপিডি ও রেহমান সোবহান এভাবে হয়ে উঠেছিলেন ভারতের স্বার্থ দেখভালের লোকাল স্টেশন। বাংলাদেশে মোদির এজেন্ট প্রতিষ্ঠানে রানা দাসগুপ্তের হিন্দু বৌধ্য সংগঠনের সভার প্রধান অতথি বা বিশেষ অতিথি হয়ে থাকতেন রেহমান সোবহান ও দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
    বাইডেনের আমলে তার সাময়িক কিছু নয়া নীতিতেই বিরোধিদল রাস্তায় নামতে পেরেছিল। বাইডেন হাসিনার  বাংলাদেশকে ১০ডিসেম্বর ২০২১ এক মানবাধিকার সম্মেলনে দাওয়াত দেন নাই। এজন্য সিপিডির সভায় শ্রীরাধা দত্ত এন্ড গং সকলে এজন্য যেন এক শান্ত্বনা সভার আয়োজন করেছিল। দেখেন গণতন্ত্র সম্মেলনে আমন্ত্রণ না পাওয়া আশীর্বাদ।
    রেহমান সোবহান ছিলেন (হয়ত এখনও আছেন) প্রথম আলোর সাথে হাসিনার বিরোধ কমিয়ে একসাথে ধরে রাখার এজেন্ট। কোন প্রথম আলো? প্রথম আলো বন্ধুসভার এক ট্রাস্টি হলেন, হাসিনার এক ক্যাশিয়ার সামিট গ্রুপের মূলকর্তা। অর্থাৎ এবার নেটওয়ার্ক টা বুঝে নেন! এমন
    আরো রেফারেন্স দিবার দরকার নাই।

    আর আপনি ইউনুস আজ সিপিডি আর রেহমান সোবহান কে সার্টিফিকেট দিয়ে ভাষায় দিলেন! আমার যতটুকু ধারণা প্রধান উপদেষ্টা হয়ে যাবার পরে আপনার এর আগের সব অলংকার, কোন কমিটির কে ইত্যাদি সবই সাময়িক জুতে বাইরে খুলে ঘরে প্রবেশের মত বাইরে রেখে আসার কথা। যে পুর্বশর্ত যেমনই থাক নিজেকে সৎ ও নৈতিকভাবে পরিকার রাখার জন্য আর সবচেয়ে বড় কথা অন্য যেকোন প্রতিষ্ঠানের সাথে আপনার প্রধান উপদেষ্টা পদবি ও চেয়ারটাকে – কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট – এড়ানোর স্বার্থে আপনি ত্যাগ করে আসবেন এটাই কী কায় ছিল না???

    আপনি প্রধান উপদেষ্টা হবার পরেও সিপিডির ট্রাস্টি সদস্য থাকেন কেন? কী করে?

    বিশেষ করে যে সিপিডি যখন বাংলাদেশে ভারতের স্বার্থের এক এজেন্ট প্রতিষ্ঠান!

    আবার আপনি ছাত্র বা শিক্ষার্থীদের ৫ আগষ্ট বিপ্লবের প্রতিনিধি হিসাবে প্রধান উপদেষ্টা বলে পরিচয় দিতে ভাল বাসেন! এর মানে হল, শিক্ষার্থীদের এই অর্জনের গায়ে ভারতের স্বার্থের প্রতীক সিপিডি ও রেহমান সোবহান এর আবর্জনা ঢেলে দিলেন????
    অথচ আজ আপনার সাহসেই দেবপ্রিয় এখন ৫ আগষ্ট বিপ্লবের নেতা হয়ে উঠা বা দাবী করতে চাইছেন……!

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    ০১ ডিসেম্বর ২০২৪  রাত ১১ঃ ৩৯ 

    আপডেটঃ    ২০২৪  

     

  • তরুণ উপদেষ্টা মাহফুজ আলম!

     তরুণ উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের কান্ড!
    গৌতম দাস
    ২৯ নভেম্বর ২০২৪  সন্ধ্যা ০৭ঃ ১৬
    https://wp.me/p1sCvy-5Tb

    সব দল ও অংশীজনের সঙ্গে বসে দেশের উত্তেজনা সমাধানের আশা মাহফুজ আলমের

    ইউনুস সাহেবের চোখে বুঝাবুঝিতে যিনি শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক মাস্টারমাইন্ড এমনকি বিল ক্লিনটনের সামনে যাকে এভাবে ইউনুস সাহেব এভাবে পরিচয় করিয়েছেন তিনি হলেন উপদেষ্টা মাহফুজ আলম!
    তিনি বর্তমানে কোন মন্ত্রণালয় বিহীন মন্ত্রী (উপদেষ্টা)। মানে তিনি হচ্ছেন রাজনৈতিক উপদেষ্টা তাই কোন একটা মন্ত্রণালয়ের তিনি নন – এমনই একটা অর্থ এখানে উহ্য আছে।   তা হতেই পারে এটা কোন ইস্যু না।

    কিন্তু গতকালের প্রথম আলোর এক শিরোনাম হল, “সব দল ও অংশীজনের সঙ্গে বসে দেশের উত্তেজনা সমাধানের আশা মাহফুজ আলমের“।
    এমনিতেই অংশীজন খুব বিপদজনক বা উলটাপালটা ব্যবহারের শব্দ। এর চেয়েও এটা পেটি-এনজিও-কর্তা যারা অনেক সময় শব্দের অর্থ তাতপর্য যথেষ্ট বুঝাবুঝি না সেরে পশ্চিমের শব্দ ব্যহার করে ক্ষতিকর বা আত্মঘাতি কাজ করে ফেলেন। এটা ইংরাজি [stakeholder] স্টেক-হোল্ডার (মানে সংশ্লিষ্ট যাদের স্বার্থ আছে এমন স্বার্থ-জনদের) থেকে পশ্চিমা নিয়েছে। যার রূট আবার জুয়ার বোর্ড সংশ্লিষ্ট। জুয়ার আসরে প্রবেশ ও বসতে গেলে আগে কয়েন বা টিকেট কিনতে হয় যা অনেক সময় ক্যারামের গুটির মত প্লাস্টিকের চাকা বা কয়েনের মত হয়। আর তা নিয়ে এবার তা থাক থাক করে সাজিয়ে জুয়ার আসরে পাসে নিয়ে বসতে হয়। এভাবে সাজিয়ে বসাটাই স্টেক আর জুয়ারি ব্যক্তিটা হল এর মালিক বা স্টেকের মালিক বা হোল্ডার। এ’অর্থে জুয়ায় অর্থলগ্নি করাটারই স্টেকহোল্ডার হওয়া।
    এরই কাছাকাছি এমনই আরেক শব্দ আছে। সেটা হল, অংশীদারি নেয়া বা পিপলস পার্টিশিপেশন [people’s praticipation]  বা জনগণের অংশগ্রহণ।  মানে প্রশাসনে ‘জনগণের অংশগ্রহণ’ – আমলার বদলে জনপ্রতিনিধি কর্তৃত্বে প্রশাসন। তবে সাবধান এটা হল খায়েশের কথা। বাস্তব এর কথা নয়।   পিপলস পার্টিশিপেশন এই শব্দটা এনজিও-আঁতেল [বদিউল আলম মজুমদার, ডঃ তোফায়েল আহমেদ ধরণের ব্যক্তিবর্গ ] এদের আবিস্কার এরশাদের আমলে ৪৬০ উপজেলা চালু করাকে কেন্দ্র করে। কিছুই না বুঝেই এরা – আমলা সরিয়ে জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা এই শ্লোগানের আড়ালে ‘পিপলস পার্টিশিপেশন’ ঘটাতে যাচ্ছেন মনে করেছিলেন। আর এরই পরিণতি হচ্ছে আজকের দলবাজি শুধু না একেবারে দলীয় ক্যাডার দিয়ে সাজানো প্রশাসন। (বিএনপিরও আছে তবে সর্বোচ্চটা হাসিনার) আমলা প্রশাসন আর এমপি-দের তান্ডবের প্রশাসন। যার জেরে ইউনুস সরকার এখন হয়রান; আমলাদের কাকে ছেড়ে কাকে কোন পদে বসাবে – আজ পর্যন্ত তারা ডিসি বদলের কাজে হাত-ই দিতে পারেন নাই।
    কাজেই অংশি- বলে এসব মুখস্ত বিদ্যায় সবখানে মুখস্ত শব্দ ‘অংশীজন’ বলে যত্রতত্র ব্যবহার না করাই ভাল বলে আমার মনে হয়। অংশী – এটুকু শুনলেই তাই  আমি সতর্ক হয়ে যাই!

    গত ১৯৮৩-৮৪ সালে ডঃ তোফায়েল আহমেদ ছিলেন ঢাবি’র পাবলিক এডমিনিস্ট্রেশনের শিক্ষকমাত্র। কনসালটেন্সি ব্যবসা – বলে কিছু তখনও ঢাকার বাজারে চালু ছিল না। তাই শিক্ষকমাত্র বলছি। অথচ তিনি হয়েগেছিলেন ওয়ার্ল্ডব্যাংক এর স্থানীয় সরকার (মানে উপজেলা) প্রজেক্টের কনসালটেন্ট। আর তাঁর সাথে এনজিওকর্তা জুটেছিল বদিউল মজুমদার ধরণের ব্যক্তিরা।  মজার কথা হল, এই ব্যক্তিবর্গেরা আজও জানেনই না যে আমলা শাসন সরিয়ে উপজেলায় চেয়ারম্যান বা জেলায় এমপির কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে দিলেই সেটাতে আমলার খবরদারি সরিয়ে অংশীদারি নেয়া বা পিপলস পার্টিশিপেশন ঘটে যাবে – এই ছিল তাদের বিপ্লবী (এনজিও নেতারা ডমিনেটিংলি প্রাক্তন কমিউনিস্ট বা প্রভাবিত) বুঝ। অথচ আজও তারা জানলেনই না যে আজ আওয়ামি ক্যাডারে ভর্তি তিন জেনারেশনের পুলিশসহ সিভিল প্রশাসন আমরা দেখছি; একে দলবাজি বা ক্যাডার বাজি বলছি – এর ভিত্তি গেড়ে দিয়েছিলেন এরাই! এই “পিপলস পার্টিশিপেশন” ওয়ালারাই!

    এখন আসেন মূল প্রসঙ্গেঃ
    “দেশের উত্তেজনা” সমাধানের আশা করছেন মাহফুজ আলম! তো এই – দেশের উত্তেজনা – এটা কী জিনিষ? প্রথম আলো লিখছে, ……উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেন, বাংলাদেশে একধরনের – সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা – আছে। ইসকন ও তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেকে এখানে জড়িয়ে পড়েছেন”।

    এখন দেখেন কান্ড! তাহলে “দেশের উত্তেজনা” বলতে এর মানে তিনি বুঝায়েছেন  “সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা”।   কি সাংঘাতিক! এই জ্ঞানবুদ্ধি দিয়ে রাজনৈতিক উপদেষ্টা থাকা যাবে?
    “সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা” মানে কী? চিন্ময়-ইসকন দের ততপরতা এটা কী বাংলাদেশে হিন্দু-মুসলমানের উত্তেজনা??? নাকি এটা ভারতীয় আধিপত্য গত ১৬ বছরের মতই আবার ভারত বিএনপিকে ক্ষমতায় বসানোর লোভ দেখিয়ে আগামি ১৬ বছরের ভারতীয় আধিপত্যের আবার এক বাংলাদেশ হবে কী হবে না এরই লড়াই? আর ‘র’ সেই কাজে   তাদের অগ্রগামি দল হিসাবে চিন্ময়-ইসকন কে পাঠিয়েছে বলেই এই উত্তেজনা?  অর্থাৎ র-এর পরিকল্পনার পক্ষেও আমরা যাব কী যাবো না এর উত্তেজনা এটা – যেখানে, ভারতের পক্ষে লিড নিয়েছে বিএনপি। এসবের সোজা মানে হল, চিন্ময়-ইসকন ইস্যু এটা কোন হিন্দু-মুসলমান বা এর কথিত শব্দ সাম্প্রদায়িকতার নামীয় ইস্যুই না। এটা ভারতের দখল বা হেজিমনির পক্ষ-বিপক্ষের উত্তেজনা এভাবে বলা যেতে পারে।

    কাজেই এখানে মাহফুজের সমস্যা বা রাজনৈতিক চিন্তায় মারাত্মক খামতি হল দুইটা। এক. ভারতের বাংলাদেশ দখল বা হেজিমনি প্রতিষ্ঠার পক্ষ-বিপক্ষের উত্তেজনা – এদিকটাকে দেখতে না পেয়ে একে  হিন্দু-মুসলমান বা কথিত শব্দ সাম্প্রদায়িকতার ইস্যু বলে চালায় দেয়া।  আর দুই. এতে বরং চিন্ময়-ইসকন বা প্রথম আলোরই লাভালাভ হল। কারণ তাদের প্রজেক্ট হল, ভারতের বাংলাদেশ দখল বা হেজিমনি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা  এই অপরাধকে লঘু করতে এটা বাংলাদেশের এক আভ্যন্তরীণ হিন্দু-মুসলমান এর লড়াই বা ইস্যু হিসাবে উপদেষ্টা মাহফুজই যদি হাজির করে দেন তাহলে তো ভারতের উপস্থিতি ও হস্তক্ষেপের হাতটাই আড়াল পেয়ে গেল। অর্থাৎ প্রথম আলো এবার ভারতের বাংলাদেশ দখল বা হেজিমনি প্রতিষ্ঠার চেষ্টাকে আমাদের বিরোধিতা ও লড়াইকে আমরা সাম্প্রদায়িকতা করছি বলে কালি লাগায়ে প্রপাগান্ডা শুরু করবে।

    এরচেয়েও আরেক ভয়াবহ দিক হল, সাম্প্রদায়িকতা এটা আবার কী?
    এককথায় এটা হিন্দুত্ববাদি এক বয়ান, মুসলমান কোপানো বা কোনঠাসা করার জন্য জমিদার-হিন্দু যে ধারণার  মূল উদগাতা।
    সাম্প্রদায়িকতা এটা কোনদিনই কোন একাদেমিক ট্রার্ম  বা বিশ্ববিদ্যালয়ে এনথ্রপলজি ফ্যাকাল্টির কোন ক্যাটাগরি ছিল না, নয়। এটা হিন্দুত্ববাদের আধিপত্য ও এর বয়ানের শব্দ ও ধারণা। যদি মুরোদে কুলায় তাহলে বলতে হবে, এটা কোন সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বলে কিছু নাই বা নয়। চিন্ময়-ইসকন চাইছে একটা এথনিক উত্তেজনা কায়েম হোক!  তবে আরও ভেঙ্গে বলা যেত এটা হিন্দু-মুসলমান এই এথনিক-জাত বিষয়ক উত্তেজনা তৈরির অপচেষ্টা। কিন্তু মনে রাখতে হবে এখানে বাস্তবে কোন এথনিক উত্তেজনা তারা তৈরি করাতে চেয়েও পারে নাই। ২৭ নভেম্বর সারা চট্টগ্রামে (আগের দিন পিপি সাইফুল ইসলাম আলিফকে নৃশংস হত্যা করে উত্তেজনা তৈরি করার পরেও চিন্ময়-ইসকন দের আকাঙ্খা মত আমরা কোন পালটা সহিংসতায় জড়াই নাই। কেবল চার চারটা জানাজা – ব্যাপক লোক সমাগমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে – আর আমরা বুদ্ধিমানের মত সবকিছুর উর্ধে উঠে আমাদের সমস্ত রাগ, ক্ষোভ, অন্তরের রক্তক্ষরণ, দুঃখকে ঐ জানাজার দোয়ার মধ্যে সামিল করেছি; দাফনায় দিয়েছি  – যার চেয়ে ইতিবাচক, দায়ীত্বশীল ভাবে ক্ষুব্দ ক্ষোভ কে সামলিয়ে এর প্রকাশ আর হতে পারে না।  এভাবেই আমরা  আসলে যেটা ছিল ভারতীয় হেজিমনি ঠেকানো – এর সপক্ষে জনগণের লড়াই! তা সম্মুন্নত রেখেছি!

    “দুই দলই তাঁকে (ইউনুসকে) ইতিবাচক প্রস্তাব” দিয়েছেঃ
    এই বক্তব্য মিথ্যা ও মাহফুজের আত্মহত্যা মূলক কাজ! গত ২৭ নভেম্বর মির্জা সাব ইউনুসের সঙ্গের সাক্ষাত করা নিয়ে খোদ প্রথম আলো যখন রিপোর্ট করেছে,

    [ইউনুস-মির্জা] বৈঠকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সংগঠন ‘ইসকন’ ও বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ ওঠে।
    তাঁকে গ্রেপ্তারের কারণও তাঁরা জানতে চান। ইতিমধ্যে বিভিন্ন দল ও সংগঠন ইসকনকে নিষিদ্ধ করার যে দাবি তুলেছে, এর সঙ্গে বিএনপি দ্বিমত জানিয়েছে;
    বরং তারা ইসকনকে আলোচনায় ডেকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারকে। বিশেষ করে দুটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমের
    ওপর আক্রমণ, বিভাজন সৃষ্টি ও বিদ্বেষ ছড়ানোর বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে বলেছে বিএনপি।

    এর সোজা মানে হল, মির্জার বেইমানির দায়ভার প্রথম আলো নিতে চায় নাই; যদিও প্রথম আলো মির্জার এই বক্তব্য-অবস্থানের বেনিফিসিয়ারি, তা সত্বেও। সারকথায় মির্জা সোজা চিন্ময়-ইসকন দের পক্ষ নিয়েছেন। গিয়ে ওদের মুক্ত করে দিতে দাবী করেছেন। এমনই বিএনপির ক্ষমতায় যাবার লোভে ভারতের দালালি ও চাটাচাটি! অর্থাৎ মির্জা আসলে আপোষ করতে প্রস্তাব রেখেছেন অথচ মাহফুজ আলম দাবী করছেন তারা নাকি ইতিবাচক প্রস্তাব রেখেছেন!!!!!

    কেন?
    কেন এই লুকোছাপা? মাহফুজ কাকে লুকাতে চাইছেন?
    ইউনুস সরকার যে  চিন্ময়-ইসকন ইস্যুতে মির্জার বিপরীত অবস্থানে সেটা তো সরকারের চিন্ময় কে গ্রেফতার করার সাহস দেখানোই শুধু না – এই গংয়ের ব্যাংক হিসাব তলব পর্যন্ত চলে গেছে সরকার  – আর ওদিকে পিপি আলিফকে খুনের মামলার আসামির দের খুঁজে বের করে পুলিশের কাস্টডিতে নেয়া ইত্যাদি অনেক ভিতরে হাত দিয়ে দিছেন। যদিও এখনও তা যথেষ্ট নয় বা আসল জায়গায় সরকার পৌছায় নাই, আরও যেতে হবে। তবু প্রশাসন যা ইতোমধ্যে করেছে তা মির্জার অবস্থানের ১৮০ ডিগ্রি উলটা দিকে। কাজেই এসব কাজ-অবস্থান ও সরকারের ততপরতা তো ইউনুস সরকারের একশন মানে আপনি মাহফুজ যে সরকারের অংশ  – সুতরাং এর বাইরে বা উলটা প্রলেপ দেয়া কোন বক্তব্য ত আপনি দিতে পারেন না। তাহলে আপনি কাকে লুকাতে বা সেভ করাতে চাইছেন? আবার, কেঁচো খুড়তে গিয়ে সাপ বের করে আনার মত করে বলছেন –  “শুধু ইসকন ইস্যু নয়, মাজারেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। মাজারে হামলার ঘটনাও সরকারের নজরে আছে”। এসবের মানে কী তত্বগুরুর কোলে উঠবেন না তাকেই হাজতে ঢুকাবেন? নাকি নিজেই ছাটাই হবেন?
    সেটা যাই হোকনা কেন আপনি এখানে ইউনুস সরকারের অবস্থানের বহু পিছনে পড়ে গেছেন। মানে রাজনৈতিক উপদেষ্টা নিজেই কাঙ্খিত অবস্থানে থাকতে পারেন নাই। বিপরীত লাইনে চলে গেছেন।

    সবচেয়ে মারাত্মক যে আকাম করেছেন – সব দল ও অংশীজনের সঙ্গে বসে দেশের উত্তেজনা সমাধানের আশা-  বলছেন; প্রথম যেটাকে হেডিং করেছে। এসবের অর্থ কী?
    সব দল মানে মির্জাকেও সাথে নিয়েই (মানে যিনি র-এর পক্ষে বা চিন্ময়-ইস্কনের পক্ষে আগেই পতাকা উড়ায়ে দিয়েছেন) তাকেও সাথে নিয়েই আপনি দেশের উত্তেজনা সমাধানের আশা  করছেন????
    এটা তো আপনার দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে মানে ভারতের খেদমতে চলে যাবার অপরাধের পর্যায়ে চলে যাওয়া হয়ে গেল! তাই না কী?  যে ভারত আধিপত্য চায় আর মির্জা যার সঙ্গি এদের সাথে আপনি কী আপোষ করে নিবেন????

    ষ্পষ্ট করে বললে আপনি সরকারের মাঠের একশনে প্রকাশিত অবস্থানের বাইরে চলে গেছেন।
    মির্জাদের সাথে আপনি (বা সরকার) একসাথে থাকার পৌছানোর পথ বের করতে পারেন কিনা সে নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে এ অবস্থায় এনিয়ে প্রসঙ্গ তুলে কথা বলতে যাওয়াটাই তো আলগা মাতব্বরি; যার সমাধান আপনার হাতে এখনই নাই; কাজেই এনিয়ে কথা বলতে যাবার আপনার কী প্রয়োজন?

    আপনি আসলে পলিটিক্স কী তা বুঝা – পলিটিক্যাল হওয়া, পলিটিক্যাল উপদেষ্টা ইত্যাদির অযোগ্য হবার দিকে নিজেকে নিয়ে তুলছেন; ঠেলে দিয়েছেন!!! আমরা জানি না এর পিছনে কী হেতু!
    যদিও আমরা জানি না আপনি নিজেকে এখন সংশোধিত করে নিবার সুযোগ পাবেন বা তা আদৌ নিবেন কিনা! আসলে এই আউলানো দশা-পরিস্থতি!
    আগামি রোববার সকাল থেকেই দেশের অবস্থা কোন দিকে যাবে এমন বহু সিদ্ধান্ত দিতে হবে এর আগেই, এই সরকারকে!

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  নভেম্বর  ২০২৪
    শেষ আপডেটঃ      ২০২৪

  • বিএনপি কী ‘র’ বা ভারতীয় আধিপত্যের নয়া বাহক ১৬ বছরের পথে? 

    বিএনপি কী ‘র’ বা ভারতীয় আধিপত্যের নয়া বাহক ১৬ বছরের পথে?
    গৌতম দাস
    ২৮ নভেম্বর ২০২৪
    https://wp.me/p1sCvy-5S6

     

    ধর্মকে কেন্দ্র করে উন্মাদনা, উদ্বিগ্ন মির্জা ফখরুল | Mirza Fakhrul Islam Alamgir | BNP | Somoy TV

    আজ কী চলতেছে?
    গতকাল থেকে আজ  এ’পর্যন্ত মূলত যা চলতেছে তা হল, উপর উপর দেখলে এটা ইসকন কে নিষিদ্ধ প্রশ্নের ফয়সালা বা এনিয়ে আমাদের রাজনীতিতে দুই মেরুর লড়াই।  যা আসলে গত ১৬ বছরের মত বাংলাদেশে র-এর ততপরতা বা ভারতীয় আধিপত্য কী কন্টিনিউটি বা ধারাবাহিকতা রক্ষা করে চলতেই থাকবে কী থাকবে না – এরই রাজনৈতিক দুপক্ষের লড়াই এবং এর ফয়সালা কোন দিকে হতে যাচ্ছে এরই কালপর্ব এটা।
    আর এই কালপর্বে মুখ্য ভিলেনের ভুমিকায় নেমে গেছে বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর। এটা কেউ ঠিক বিএনপি না বরং এটা আওয়ামি লীগ ২.০ হয়ে বিএনপির আসন্ন ক্ষমতায় আসার কসরত-মহড়া বলতে পারেন।  আর সেই মহড়ায় মির্জা সাহেব ওবায়দুল কাদেরের জায়গায় নিজেকে বসিয়ে নিয়েছেন তো বটেই বরং সাথে আরো অনেক বেশি হাসিনার চরিত্রও নিয়ে ফেলার অবস্থায় চলে গেছেন। এই সামান্য ব্যতিক্রমের কারণ আওয়ামি লীগ ২.০ এর সভাপতি শারীরিকভাবে দেশে অনুপস্থিত তাই।

    গতকালকে মির্জার যে পারফরমেন্স এটা বলা যায় কারো যদি মনে হয় ক্ষমতা এই তো হাতের মুঠোয় দুহাত দূরে তখন একটু-আধটু কাপড় খোলা গেলে সেটা তেমন অসুবিধা কী বলেই মনে হবে। আর সেই খোলা শরীর ঢাকতে তিনি তখন শতভাগ কোশেশে নেমে পড়েন যাতে তাকে  শুশীল এবং বিখ্যাত (আসলে কুখ্যাত) হিন্দুত্ববাদ=প্রগতিবাদ হয়ে হাজির হইয়েছেন মনে হয়।
    গতকাল ছিল মির্জার দুইটা পারফরমেন্স দেখানোর দিন; বা অন্যভাষায় বলা যায় আসন্ন দুহাত দুরের ক্ষমতায় চড়ে বসার ক্ষেত্রে “হুজুর নাকি সন্ন্যাসীদের (কলকাতা আজকাল ‘র’এর ততপরতাকে সন্ন্যাসী  ততপরতা বলে পরিচয় করাচ্ছে ) বলব যেটাই হোক তাদের দেয়া দুইটা এসাইনমেন্ট সম্পন্ন করার দিন।  এর একটা হল, সকাল সকাল প্রথম আলোর জন্য মায়াকান্না। তবে এর চেয়ে অভিযোগ বা সাফাই টা বেশি মজার। “তার অফিস পুড়িয়ে দিচ্ছে! – মানে ঢাকায় প্রথম আলোর অফিস কী পোড়ায় দেয়া হয়েছে??

    না কী ঢাকায় অফিস টাচ করা হয় নাই ফলে ধর্মীয় উন্মাদলার কথা আনা যাচ্ছে না তাই ভাড়াটে নিজেদের লোক দিয়ে রাজশাহীতে যেখানে কোনায় এক-দুজন বসে ওর সাইনবোর্ড খোলার ছবি তুলে এনে এবার প্রোপাগান্ডা করা হয়েছে!
    তবে মানতেই হবে মির্জার অভিনয় ভাল হয়েছে! এতদিনে মির্জা যে অতীতের কমিউনিস্টগরি করেছেন তা যে বিএনপির ঘরে এসে বৃথা যায় নাই ব্যাপক কাজে লেগেছে কেঁদে ফেলার মত আবেগী অভিনয় করে বলা চিন্তা করতে পারেন চিন্তা করতে পারেন – বলা সত্যি চোখে পানি এসে যাবার মত হয়েছে। আর নিশ্চয় চেয়ারম্যান সাহেব তাঁকে  এক বড় পিঠচাপড়ানো উপহার দিবেন।

     

    আপনি চিন্তা করতে পারেন, ধর্মকে কেন্দ্র করে কী উন্মাদনা শুরু হয়েছে বাংলাদেশে! আপনি চিন্তা করতে পারেন, যে মুক্ত স্বাধীন মিডিয়ার জন্য
    আমরা এত দিন লড়াই করলাম, তার অফিস পুড়িয়ে দিচ্ছে! এই বাংলাদেশ তো আমরা দেখতে চাই না, আমি অন্তত চাই না।’

     

    আসলে আমরা জানতামই না যে মির্জা সাহেব মিডিয়া রক্ষার জন্য এতবড় জান কোরবানী দেয়া লোক! এটা এখন হয়ে গেছে যেন একটা কম্পিটিশন যে গরু জবেহ দেওয়াতে গরুটা নাকি মির্জা সাহেব এর এই কোরবানী হওয়ার ইচ্ছাটা কে বেশি কষ্ট পেয়েছে?

    মির্জা সাহেব তর্কটা হলঃ র-এর অর্থে বাংলাদেশের ভারতের স্বার্থে প্রপাগান্ডা করাটা কী জার্নালিজম? এটা কী মুক্ত স্বাধীন মিডিয়া র নমুনা? কাকে জার্নালিজম বলবেন আর কোনটাকে মুক্ত মিডিয়া স্বাধীনতা বলবেন? আপনি ও আপনার বিএনপি তো আসলে ভারতের অর্থ নিয়ে প্রপাগান্ডা করার মিডিয়া স্বাধীনতার পক্ষে নাটক করতে এসেছেন! তাই না? এজন্য নিচে দেখেন বাক্যটা হবে আসলে উলটাঃ

    আপনি চিন্তা করতে পারেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রস্বার্থের বিরুদ্ধে ভারতীয় আধিপত্য ডেকে আনার শর্তে হলেও বিএনপি মরিয়া হয়ে কী উন্মাদনা শুরু হয়েছে বাংলাদেশে! আপনি চিন্তা করতে পারেন, যে মুক্ত স্বাধীন মিডিয়ার নামের আড়ালে  আওয়ামি লীগ ২.০ হয়ে বিএনপির আসন্ন ক্ষমতায় আসার জন্য উন্মাদ হয়ে উঠেছে!!! 
    আমরা এত দিন লড়াই করলাম, কী এই জন্য! এই বাংলাদেশ তো আমরা দেখতে চাই না, আমি অন্তত চাই না।’ এটাই আসলে পালটা আপনাদের প্রতি পাবলিক ভাষ্য!
    সারা বাংলাদেশ ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে আর আপনারা এর উলটা দিকে বাইতেছেন!

     

    ভিডিও টা এখানে দেখতে পারেন।
    আর সেজন্যই কী গতকাল সারাদিন সরকারী এপিপি কেন তিনি সরকারী অবস্থান মোতাবেক দাঙ্গাবাজ র-এর স্বার্থের বাহক এজেন্ট চিন্ময় (যার আসল নাম চন্দন কুমার ধর) এর জামিনের বিরোধিতা করলেন তাই চিন্ময়ের সাগরেগেরা এপিপি সাইফুল ইসলাম কে কুপিয়ে খুন করে ফেললো। অথচ আপনি এক বিরাট দল বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এতে কোন প্রতিক্রিয়াই দেখালেন না? গতকাল সারাদিন চট্টগ্রামবাসীকে ধন্যবাদ দিতে হয় যে তারা ইসকনের কোন উস্কানিতে না মেতে কেবল আইনি প্রতিবাদ করে গেছেন। জনমানুষের সমসস্ত ক্ষোভ দুঃখকে তিনটা জানাজার মধ্যে শান্তভাবে ধরে রেখেছেন – অথচ কথিত কোন  ধর্মীয় উন্মাদনা দেখতে না চাওয়া আপনার কমিউনিস্ট মন  এসব তাতপর্যের কিছুই দেখতেই পেলেন না??? আপনি তো আসলেই কমিউনিস্ট? এবং কোন মানুষ না!  রক্তমাংসের মানুষ যা যেমন চিনি আপনি তা নন!! আপনি আপনার চেয়ারম্যান কে ক্ষমতা উপহার দিতে চান তাতে সেটা অভিনয় করে, আওয়ামি লীগ ২.০ হয়ে হলেও আপনার দলের নীতি-পলিসির সেদিকে কোন ভ্রুক্ষেপ নাই! বেপরোয়া!

    আর দ্বিতীয় এসাইমেন্ন্ধ্যাট হল, ইউনুস সাহেব এর সাথে সন্ধ্যায় ইসকন নিষিদ্ধের প্রশ্নে উলটা আপনারা বলে এসেছেন যে  উলটা ১।  চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে কেন গ্রেফতার করা হলো, তার কারণও জানতে চেয়েছেন আপনারা আর ISCKON এর সাথে আলোচনায় বসে শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে যাওয়ার মতো পরামর্শও প্রদান করে। ২। দৈনিক প্রথম আলো এবং The Daily Star এর ওপর যে (কথিত কল্পিত )আক্রমণ হয়েছে, সেটার ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখবার জন্য BNP এর পক্ষ হতে সরকারকে পরামর্শ দেওয়া হয়।

    সার কথা র- এবং মোদির হাত ধরে আপনারা যেকোন ভাবে ক্ষমতায় যেতে চান। তাতে সারা বাংলাদেশ আবার ১৬ বছরের জন্য ভারতীয় আধিপত্যের কবলে পড়ে গেলেও আপনারা নির্বিকার! এই হল আপনাদের দেশবিক্রির নয়া রাস্তা!

    নিচের ছবিটার দিকে দেখেন।
    মির্জা ফকরুল আলমগীরের এই উন্নতি একেবারে প্রগতিশীল=হিন্দুত্ববাদ গোষ্ঠির মধ্যমনি হয়ে আসরে জায়গা পাওয়া – এটা বিএনপি জন্মের পর থেকে যত নেতা এর ছিল তারা কেউ চিন্তাও করতে পারবেন?


    একেবারে রাতারাতি মির্জার ইমেজ বদলে গেছে। তিনি কমিউনিস্ট প্রগতিবাদের পরিচয় ধারণ করে ফেলেছে। যেখানে ১৯৯১ সাল খালেদা জিয়া যখন প্রথম বারের মত প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন – তখনও টিভি বলতে এক বিটিভি। সেই যুগে বিএনপি করা লোক দিয়ে বিটিভি চালাইবেন এই মুরোদ বিএনপির ছিল না। বিতিভি তখন নানান  কমিউনিস্ট প্রগতিবাদী প্রযোজকদের [মানে অনুষ্ঠান পরিচালক] চালাইতে হইত।
    অথচ এক রাতেই মির্জা সব কমিউনিস্ট প্রগতিবাদী প্রযোজকদের বাপ হয়ে বসেছেন!! কী মজা মজা না? তাও আবার যে সে আসর না। কবি-কবিতা সাহিত্যের আসর!!! চিন্তা করা যায়???  কমু সেলিমের পাসে আসন নিয়ে বসেছেন! আমরা এটা তাহইলে কী দেখতেছি??????? রাতারাতি বিএনপির কমিউনিস্ট বিপ্লব????? এটা দেখার জন্য সম্ভবত আমি এতদিন মরি নাই!!!
    দাবী করেছেন

    ফ্যাসিবাদের ফিরে আসার সম্ভাবনা বেড়ে গেছে: ফখরুল

    কারণ ফকরুলই তাই, সবকিছুতে ওবায়দুল কাদের কেও ছাড়িয়ে গেছেন!

    একটা কথা বলা শেষ করবঃ
    জেনারেল মঈন ও তার দুই সঙ্গী এখন কোন মতে আমেরিকায় মুদি দোকানে চাকরি নিয়েই প্রকাশ্যে আসতে পারেন না।
    আগেরবারের ১৬ বছরের আধিপত্য ভারত শুধু হাসিনাকে ক্ষমতায় বসিয়েই কায়েম করতে পারে নাই। অন্যতম যে কাজ করতে হয়েছিল তা হল ২০০৯ সালের পিলখানা। সেবার যা কেবল উর্দি এমন ব্যক্তিবর্গের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছিল।  যারা ভেবে গুটি সাজাচ্ছেন অভিনয় করতেছেন আর ভাবছেন ওসব তো কেবল উর্দিদের উপর চলবে, পিলখানা হয়ে ফলে তাতে আপনার কী? সবকিছু একইভাবে দুবার ঘটে না। বিশেষ করে ‘প্রহসন’ যেগুলা!! এবার সেটা উর্দি সহ ইউনুস সরকার ও তা ছাড়িয়ে সিভিলিয়ান বহুদুর পর্যন্ত যাবে ……..!!! বেশির ভাগেরই তা জানা নাই। কাজেই দুপক্ষের মাঝে পড়েও কাটা পড়তে পারেন! অবজেকটিভ বা আল্লার দেয়া  বিশ্বাসঘাতকতা আর লোভের শাস্তি কত কিছু হয়!
    তখন আপনি কোনদিকে মানে কোন ভুমিকায় থাকবেন? কাদের না হাসিনা? নাকি আজকের কাদের-হাসিনা!!!  হুশ করেন!

    নিজের স্বার্থের দিকে তাকিয়ে সেসব অন্তত বুঝে নিয়েন! তাই না?  আর শেষ কথা টা হল আপনি একজন পুওর অভিনেতা!
    আর ক্ষমতা আদতে কিন্তু খুবই নোংরা আর এর চেয়ে বেশি তা রক্তাক্ত! এই অর্থে ক্ষমতা মানে কখনও লোভ করে পেতে যাওয়া বা চাওয়া ক্ষমতা [যার প্রতীক হয়ে আছেন ব্রি. খালেদ মোসাররফ], সে নিজে খুন হয় আর দেশসহ সবাইকেই খুন করে যায়!
    যে ‘র’ কী, এটা কীভাবে কাজ করে; আর এর সাথে মোদির রাজনীতি যেটা আসলে একমাত্র তুলনীয় হিটলারের সাথে ফলে মোদি আর র – এদুইয়ের কম্বিনেশন এর অর্থ তাতপর্যই হল একটা ম্যাসাকার – এসব যে জানে নাই সে এখনও মায়ের গর্ভে আছে! মানে সে আসলে এখনও নিজ জন্মের পুর্বাবস্থায় আছে! তাই সে নাদান হওয়ারও উর্ধে; যোগ্য হয় নাই!

    তবুও আপনার জন্য শুভ কামনা!

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ      ২ ডিসে.  দুপুর দুইটা  ২০২৪
    শেষ আপডেটঃ      নভেম্বর ২০২৪

     

     

  • কেন বাংলাদেশ বারবার হিন্দুত্ববাদের কাছে হেরে যায়!

    কেন বাংলাদেশ বারবার হিন্দুত্ববাদের কাছে হেরে যায়
    গৌতম দাস
    ২৭ নভেম্বর ২০২৪ বিকেল ০৪ঃ ১১
    https://wp.me/p1sCvy-5QA

    বুধবার দুপুরে নগরের টাইগারপাস মোড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিক্ষোভ সমাবেশ হয়- সমকাল

    প্রথমে নিচের  (উপরেরটা নয়) ছবিটার দিকে দেখেন। পরামর্শ হল, “বন্ধু দেশের জন্য তো অনেক লড়ছো এবার ধর্মের জন্য লড়াই করতে প্রস্তুত হও”। এটা একজনের ফেসবুক থেকে নেওয়া।

    যা সারকথায় “দেশ অনেক হয়েছে এখন আসো ধর্মের জন্য লড়ি”। এভাবে দেশ-রাষ্ট্র বোধ আর বিপরীতে ধর্মের মধ্যে  গন্ডগোল করে ফেলা – এটার মূলে আছে আমাদের রাষ্ট্রস্বার্থ-বোধ-হীনতা।
    রাষ্ট্র বনাম মুসলমানিত্ব (ধর্ম) – আসলে আমরা কোনটা পেয়েছি? এই বিভ্রান্তির শুরু সেই ১৯৪৭ সাল থেকে।  যার মূল হল রাষ্ট্রবোধ হীনতা। বা রাষ্ট্রস্বার্থ-বোধ হীনতা।
    আর এই রাষ্ট্রস্বার্থ-বোধ হীনতা যেটা আসলে রাষ্ট্র কী ও রাজনীতি কী এর বোধহীনতা – এটার কারণেই আমরা বাংলাদেশ বারবার হিন্দুত্ববাদের কাছে হেরে যাবো ও গিয়েছি।

    একারণেই বারবার প্রথম আলোর পক্ষে কোন একদল ‘৩৪ জন’ বিবৃতি
    দাতা জুটে যাচ্ছে, গিয়েছে সব সময়!
    অথচ এযুগে বিশেষ করে ২০০১ সালের পরে জঙ্গী-ইসলামিস্ট ট্যাগ এড়িয়ে মানে সুযোগ না দিয়ে আর নিজ নিজ রাষ্ট্রস্বার্থবোধের উপর দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক লড়াই করার কাল এটা।  ধর্মীয় জাতিবাদ বোধ এখানে পিছনে রাখতে হবে নইলে ট্যাগের শিকার হবেন আপনি।  অথচ এসব বিবেচনা ভুলে ধর্মযুদ্ধ যেন সেসব ইঙ্গিত প্রকট করে তুলতে চেয়ে বসছি আমরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে; এটাই প্রধান ধারা হয়ে যায় বলে বহু জেনুইন উদ্যোগ মাঝপথেই মারা যায়!

    ১৯৪৭ সালের  পাকিস্তান কায়েমকে কী করে দেখাবো বা দেখবোঃ 
    ১৯৪৭ সালের পাকিস্তান কায়েমকে কী করে দেখবো? মানে সেটা কী রাষ্ট্র পেয়েছি না ধর্ম (ইসলাম / মুসলমান) পেয়েছি? এই বিভ্রান্তি আসলে সেই থেকে। এর উত্তর হল, মুসলমান জনগোষ্ঠির প্রায় সকলে মনে করেছিল তারা নাকি ধর্ম মানে ইসলাম / মুসলমান হতে পেরেছে যেমন সেটা এই অর্থে যে তারা নাকি এখন খোলা বাতাসে শ্বাস নিয়ে বলতে পারবে তারা মুসলমান! কিন্তু তাই যদি হবে তাহলে রাষ্ট্র জিনিষটা কী? বা আরো প্রত্যক্ষ প্রশ্ন, নয়া এমন কি হল যে এখন তারা খোলা বাতাসে শ্বাস নিয়ে নিজেদের মুসলমান ভাববার সুযোগ পাবে? যেমন ধরেন তাহলে জিন্নাহ কে? আর পাকিস্তানই বা কী? কেন পাকিস্তানের ফরমাল নাম “ইসলামি রিপাবলিক অব পাকিস্তান”?
    সরাসরি জিজ্ঞাসা করলে যেমন, পাকিস্তান কী তাহলে? এটা অন্তত কিছু একটা নয়া প্রতিষ্ঠান তা তো বুঝাই যাচ্ছে; কিন্তু  এর কী দরকার? জবাবটা হল, এই নয়া প্রতিষ্ঠান এটারই নামই হল রাষ্ট্র যা এর জনগোষ্ঠির (যাদেরকে নাগরিক বলা হয়) স্বার্থ আকাঙ্খা বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু রাষ্ট্র (!) সেটা আবার কী? এটা খায় না মাথায় দেয়  – এই ছিল আমাদের বোধের অবস্থা!

    এই অবস্থাটাই এখনও আছে। তাই উপরে দেখেন আমরা অবলীলায় বলে চলছি – এটা একজনের গতকালের  এই উপলব্দি / স্টাটাস। তিনি বলছেন যে  “বন্ধু দেশের জন্য তো অনেক লড়ছো এবার ধর্মের জন্য লড়াই করতে প্রস্তুত হও”!! যেখানে দেশের লড়াই আর ধর্মের লড়াই একেবারেই আলাদা?????
    কিন্তু আসলে সেকালে কায়েম হওয়া নয়া রাষ্ট্র পাকিস্তান – এর হাজির হওয়ার মূল তাতপর্য ছিলঃ পাকিস্তান এক নয়া রাষ্ট্র  আর এটাই ছিল ঐ ভুখন্ড অন্তর্গত জনগোষ্ঠির প্রধান ‘রাজনৈতিক’ প্রতিষ্ঠান ও ‘রাজনৈতিক ক্ষমতার’ প্রতিষ্ঠান।  কিন্তু এই রাজনৈতিক এর মানে?
    যা হওয়ার কথা ছিল কাম্য ছিল কিন্তু আজও হয় নাই এই আইডিয়াল ধারণাটা হল, নয়া পাকিস্তানের জনগণ এক নয়া রাজনৈতিক জনগোষ্ঠি [পলিটিক্যাল কমিউনিটি বা POLITY] হিসাবে নিজেদের রাজনৈতিকভাবে গঠন [constitute]  করে নিবে, সে অনুসারে তাদের নয়া কনষ্টিটিউশন, নয়া জনআকাঙ্খার প্রকাশ হিসাবে নির্বাচন ও সরকার গঠন করে নিবে।
    কিন্তু হতাশার কথা হল, এসবই হয়ে থেকে গেছিল আইডিয়াল কথাবার্তা  বা বইয়ের কথা;   যা এর বিপরীতে রিয়েল [real] বা বাস্তব হয়ে উঠতে পারে নাই কখনই। এর মূল সমস্যাটা হল রাষ্ট্রবোধ শুণ্যতা। আর বিপরীতে যেন পাকিস্তান পাওয়া বা কায়েম যেন ছিল এক ধর্মযুদ্ধ আর সেই ধর্মযুদ্ধে জয়লাভের ঘটনা – এই বোধটাই প্রধান বা আধিপত্যশীল ধারণা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।  যদিও রাষ্ট্রবোধের উপর দাঁড়িয়ে এক পাকিস্তান রাষ্ট্র কায়েম  হলে সেই রাষ্ট্রই জনগণের বৈষয়িক স্বার্থ ও স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার রাষ্ট্র এবং একই সাথে  মুসলমানসহ সকল জনগোষ্ঠির নিজ নিজ ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ধর্মপালনে স্বাধীনতা রক্ষার রাষ্ট্র হওয়ার কথা ছিল।
    বাস্তবের পাকিস্তানে যার কোনটাই হয় নাই।

    বরং এরপরেও আবার আরেক বিতর্ক যে পাকিস্তান হওয়াতে আমরা কী ইসলাম পেলাম নাকি ভালো মুসলমান হওয়ার সুযোগ পেলাম, এভাবে রাজনীতিক বা পলিটিক্যাল হওয়ার মানে কী, তা অস্পষ্ট হয়ে থাকায় এসব অপ্রাসঙ্গিক তর্কে সমাজ ডুবে যেতে থাকে। এর সাথে আরো নয়া তর্ক যে কোন ব্যাখ্যার (ফেকড়া বা মাজহাব) ইসলামটা সহি এনিয়ে এক অনন্ত ভেদাভেদের তর্কে আমরা বিভক্ত হয়ে ডুবে যেতে থাকলাম! অথচ রাজনৈতিক হওয়া বা – রাজনৈতিক কমিউনিটি- হয়ে উঠার সাথে নিজ মুসলমান পরিচয় ঢিলা হয়ে যাওয়া বা হারানোর কোন সম্পর্ক না থাকলেও রাজনীতি ও রাষ্ট্র জিনিষটা কী তা আজও সমস্ত বোধ-হুশজ্ঞান থেকে দূর থেকে দুরস্তেই চলে যেতে থেকেছিল। যার প্রভাব এখনও।

    “জীবনে কোন দিন নামাজ পড়া ত দূর কি বাত,পশ্চিম দিকে উষ্ঠা না খাওয়া কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর কাছে মুসলিমরা আজীবন ঋণী থাকবে
    দু’দুটো স্বাধীন মুসলিম ভূখন্ডের জন্য। বৃটিশ আর হিন্দুত্ববাদীদের গ্রাস থেকে এই জমিন আমরা পেয়েছি যার অবদানে তাকে ভুলে গেলে চলবে না। ৪৭ তাই এখনও প্রাসঙ্গিক।”

    গতকালের ঘটনা-প্রতিক্রিয়ায় এটা আরেকজনের ফেসবুক প্রতিক্রিয়া, যা ছিল এরকম উপরের এই দুই লাইন। শুনতে ভাল লাগলেও আমার মনে হয় না কথাটা সঠিক। যেমন জিন্নাহর কাছে মুসলিমরা আজীবন ঋণী থাকবে কেন? কেবল, স্বাধীন মুসলিম ভূখন্ডের জন্য? পাকিস্তান রাষ্ট্র পাওয়াটা তাহলে কিছু না? অর্থাৎ এখানে রাষ্ট্র ও রাজনীতি বোধ বাদ দিয়ে বা পাশ কাটিয়ে কেবল “মুসলমান” এর অপ্রাসঙ্গিক জয়গান?? এ’এক না-বুঝ অবুঝ জয়গান! এভাবে এই বোধ নিয়ে কী চলা যাবে আর কতদিন চলা যাবে?
    ইতিহাস বলছে না এভাবে একটুও চলে নাই।

    ইতিহাস বলছে – না এভাবে চলে নাইঃ
    ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান কায়েমের পরে মাত্র সাত বছর পাকিস্তানের ১৯৫৪ সালের প্রথম নির্বাচনেই সব সাফা – পাকিস্তান কায়েমের নায়ক বিপ্লবী মুসলিম লীগ ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যায়, অন্তত পুর্ব-পাকিস্তান থেকে।  যুক্তফ্রন্ট যা পরে ক্রমশ দশ বছরের মধ্যে আওয়ামি লীগ হয়ে হাজির হয়ে যায়।
    এভাবে মাত্র সাত বছরের মধ্যে ইসলাম বা মুসলমানের ভুখন্ড পাওয়া গর্ব এর (রাষ্ট্রবোধ শূন্যতা) পাকিস্তান – সেটা ১৯৫৪ সালের নির্বাচনেই হাওয়ায় মিলিয়ে যায়।
    একটা মজার তথ্য দেই।

    জমিদারি ব্যবস্থাঃ
    ১৯৪৭ সালের আগের বৃটিশ-ইন্ডিয়ার বেঙ্গলে পুর্ববঙ্গও সারা বেঙ্গলের মতই জমিদারি ভূমি মালিকানা ব্যবস্থার অন্তর্গত ছিল। ফলে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান কায়েম হওয়ার  পরের নয়া সোজাসাপ্টা অর্থ হল, পুর্ব পাকিস্তানের হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সকল প্রজা কৃষকের  আর জমিদার-হিন্দুর প্রজা থেকে যাওয়া নয়; কার্যত এথেকে মুক্ত হয়ে গেছিল তারা। একেবারে জমিদারি উচ্ছেদ হয়ে যাওয়া আর সেই প্রথম সমাজের সবচেয়ে নিচে পড়ে থাকা অসহায় উপেক্ষিত তুচ্ছ ‘মুসলমান চাষা’ এই প্রজা-মুসলমান পরিচয় ঘুচিয়ে তাদের এই প্রথম ভূমি মালিক মুসলমান হওয়া, এই ছিল পাকিস্তান কায়েমের মুখ্য তাতপর্য।  আর আইনগতভাবে তা ঘটেছিল ১৯৫১ সালে নয়া প্রজাস্বত্ব আইন [সরকারি কাগজে এই নামে – রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০] ।  

    এখন আমাদের নিজেরাই নিজেদের সাথে কেমন তামাসা করেছি দেখেন। গ্রামের গরীব মুসলমানেরা এই আইনের কারণে, [আসলে জমিদার হিন্দুকে খাজনা দেয়া মাঠে বন্ধ হয়ে যায় ১৯৪৭ সালের পর থেকেই, শুধু তাই না পরে ১৯৫১ সালে  জমিদারি উচ্ছেদ ও নিজে  ভূমি মালিক মুসলমান হওয়ার পক্ষে আইনি দলিল হাতে পায়]; তাই এই প্রথম নিজেদের জীবন-মান উন্নতির পথে যাত্রার দিশা পেয়েছিল। ফলে স্বভাবতই এবার প্রান্তিক মুসলমান চাষা ভূমি মালিক মুসলমান হওয়ার  যার সোজা মানে হল তখন থেকে অনেক প্রান্তিক মুসলমানের ছেলেরাও তাদের বাপের অর্থে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যেতে পারে।

    অথচ  ভূমি মালিক মুসলমান এই নয়া শ্রেণীই পরের বছর মানে ১৯৫২ সালে আরেক রূপে হাজির হয়েছিল।  ভাষা আন্দোলন ইস্যুতে সেই প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পাঠানো তাঁর সন্তানের উপর কেন গুলি চালানো হলে এটা তাঁর আগামি তাঁর স্বপ্নের পথে বাধা গণ্য করে সেবার থেকে সে শাসক মুসলিম লীগ এর হাত ছেড়ে দিয়েছিল। আর সেই থেকে  বা তাই থেকে; ক্রমশ কমিউনিস্ট-প্রগতিশীল বয়ানের চক্করে পড়ে এই নয়া শিক্ষিত মুসলমান মধ্যবিত্তের ঝোঁক বাড়তে থাকে কথিত প্রগতিশীলতার ঝান্ডা ধরার। এডুকেটেড মুসলমানেই এর অর্থ হয়ে যায়, হয়ে দাড়ায় যে – কিসের জিন্নাহ কিসের পাকিস্তান ইত্যাদি সব ফেলে দেও; আর হয়ে যাও জেনে না জেনে প্রত্যক্ষে-পরোক্ষে “প্রগতিশীল”।  প্রগতিশীলতাই যে আসলে হিন্দুত্ববাদ তা আজও শিক্ষিত মুসলমানের মধ্যে তাই স্পষ্ট সচেতনা নাই এই অবস্থা হয়ে যায়।

    অনেকে আমার উপরের এই বাক্য শুনে মনে করবেন বা মিথ্যা প্রপাগান্ডা করবেন বা করতে পারেন যে আমি বোধহয় হিন্দুত্ববাদের কথা তুলে শিক্ষিত মুসলমানদেরকে ইসলামিস্ট (জঙ্গি) হতে উস্কানি দিলাম! তাই, কী করে বুঝবেন আমি ঠিক কী বলেছি?
    কথাটা বুঝা একদম সোজা। আমি বলতে চেয়েছি আপনাকে যা হতে হবেঃ

    আপনি বাংলাদেশি নয়া শিক্ষিত মুসলমান (হিন্দুসহ সকলেই) জনগোষ্ঠি যারা অন্তত আর
    ১। কলকাতাকে কেবলা মনে করেন না।
    ২। তারা মুসলমান হয়েই পাপ করেছেন
    এমন কোন ধারণা মনে জায়গা দেন না;
    ৩।  বরং তারাও কলকাতার চেয়ে ভিন্ন আরেক ধরণের বাঙালি যারা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে ফলে নয়া রাজধানি ঢাকা-কেন্দ্রিক তাদের
    এক নয়া বৈশিষ্টের বাঙালি তাঁরা ও তাদের বাংলা ভাষা; এরা তাই কলকাতা বাঙালি জনগোষ্ঠির কাউকে ফলো করে না, চলে না।
    ৪। তাই তাদের কালচারাল প্রকাশ নয়া, আগের সবার চেয়ে ভিন্ন। ৫। কলকাতার
    জমিদার-হিন্দুর প্রভাবের হাতে আকার পাওয়া কালচার তা, কোন সুত্রেই এটা তাদের পুর্বপ্রজন্ম নয়। ফলে এর আনুগত্য তাদের জন্য হারাম। কলকাতাকে আমাদের পুর্বপুরুষ গণ্য করে আবার নিজে মুসলমান বলে মনে কোনভাবেই কোন পাপবোধে কলকাতা তাদের নমস্য বা অনুকরণীয় ইত্যাদি এসব কথা কঠোর ভাবে মনে থেকে বের করে দিতে হবে –
    এনিয়ে কোন ধরণের হীনমন্নতাবোধ যেন জায়গা পায়। এই হলো মূল ফ্রেম বা চিন্তা কাঠামোটা।

     

    এরপর বাংলাদেশের এই নয়া জনগোষ্ঠি্র মধ্যকার কে কে আধুনিক হবে, তাতে পশ্চিমা অনুসরণ করবে বা একেবারেই করবে না; কে অল্প বা বিস্তর ভাবে সাথে মুসলমান পরিচয়ও ধারণ করবেঃ এমনকি কী মাত্রায় ইসলামিস্ট হবে বা একেবারেই হবে না ইত্যাদি এসবের যে কোনটা পছন্দ করবার স্বাধীনতা তাদের যার যার।  কথা একটাই কোনভাবেই কলকাতার কালচারাল আনুগত্য নয় বা ভারতের আধিপত্যের আনুগত্য নয় – এব্যাপারে কঠোর হারাম জ্ঞান ভিতরে জাগাতে হবে। এককথায় এটা হতে হবে এডুকেটেড মুসলমান এবং এডুকেটেড যে কোন বাংলাদেশির নয়া রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অভিমুখ।

    যেমন লক্ষ্য করেন, এখনকার সাদা আমেরিকানেরা, এরা আর বৃটিশেরা উভয়েই একই বৃটিশ (আমেরিকার বেশির ভাগ) এথনিক অরিজিনের মানুষ। মানে উভয়ের এথনিক অরিজিন একই।  কিন্তু তা হওয়া সত্বেও ১৭৭৬ সালের [১৭৭৬ সালে আমেরিকা বৃটিশবিরোধী, বৃটিশ কলোনিশাসন বিরোধী এক স্বাধীন রাষ্ট্র হয়ে যায়] পরের স্বাধীন আমেরিকা (যেমন তাদের পুরানা এথনিক পরিচয় যে তারা) বৃটিশ- এংলো এটা পরিত্যাগ করে নিজেদের নয়া যেন এক এথনিক পরিচয় ধারণ করেছিল যে তারা স্বাধীন আমেরিকান; (আসলে বাস্তবে সেটা হয়েছিল আর কোন এথনিক-ই নয় বরং রাজনৈতিক পরিচয়) এমন এক নয়া পরিচয় প্রতিষ্ঠা করেছিল;  আমাদেরকেও সেটাই বা তেমনই একটা কিছু করতে হবে। ফলে বুঝতেই পারছেন ভারতের আধিপত্য এর বিরোধিতা ও কলকাতার কালচারাল আধিপত্য এদুটাকে ত্যাগ করে নিজেদেরকে নয়া ভাবে উঠে গড়া – আমি এর কথাই বলছি। বলাই বাহুল্য এটা কোন সুনির্দিষ্ট ইসলামিজম বা ধর্মীয় কোন কিছুই নয়।  ভারতের আধিপত্য এবং কলকাতার কালচারাল আধিপত্যকে অস্বীকার ও বিরোধিতা করতে বলা মানেই আমি কোন ইসলামিজমের কথা বলছি না।  যদিও বুদ্ধিমান হলে, ইসলামিজমকে একেবারেই অন্তরের, ভিতরের বিষয় করে সাথে রাখতে পারেন। নইলে না।

    এই কথাগুলো যতক্ষণ আমরা রিয়েলাইজ বা অনুভব না করব ততক্ষণ আমরা বারবার হারতেই থাকবো। প্রথম আলো-রা ফাঁকফোকড় দিয়ে টিকে যাবে। বারবার ৩৪জন করে হিন্দুত্ববাদি=প্রগতিবাদিরা প্রথম আলোদের পক্ষে বিবৃতি দিয়ে উঠে দাঁড়াবে আর অভিযোগ করবে যে যারা প্রথম আলোর বিরুদ্ধে তারা নাকি  –“সাম্প্রদায়িক উসকানি ও বিভেদ (আসলে কলকাতা থেকে বিভেদ)”  ছড়াচ্ছে তাই তাদের এই বিবৃতি।
    এধরণের সাফাই চলতেই থাকবে যতদিন আমাদের রাষ্ট্রস্বার্থ বোধ কাজ না করবে। সবকিছুকেই যেন ধর্মযুদ্ধ – এমন ধর্মীয় বয়ানে নিজেদের হাজির করতে থাকবো ততবার এটা এসব ৩৪ বুদ্ধিহারানোদের বিবৃতি আসতেই থাকবে ও তাদেরকে সুবিধা করে দেয়া হবে। আর তাদেরকে বিরোধিতা করা মানেই আমরা “ইসলামিস্ট” ততপরতা করছি  বা তাদের ভাষায় ‘সাম্প্রদায়িক’ বা ‘মৌলবাদি’ কাজ করছি ইত্যাদি এসব বয়ান দিয়ে তাদেরকেই শক্তিশালী করা হবে। তা আমরা না চাইলেও। এই ফাঁক দিয়ে তারা ভারতীয় দালালি ও ভারতীয় বয়ানের আড়ালে নিজেদের লুকিয়ে রাখার জায়গা করে নিবে।
    আর একারণেই ইসকন নিয়ে তাদেরকে কোন অসুবিধা বা অস্বস্তি বোধ করতে দেখবেন না। ইসকন বা চিন্ময়দের ততপরতা এমনকি এরা সরকারী পিপি কে হত্যা এটা কোন ব্যাপারই হবে না কোন ইস্যু হবে না তাদের কাছে। বরং উলটা চিন্ময়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে দাবী করবে যে আমাদের ইসকনের বিরোধিতা নাকি – “আত্মঘাতী সাম্প্রদায়িক রাজনীতি” -এভাবে খোলাখুলি ভারতের দালালি শুরু করেছে ও করে যাবে এরা। যেমন ফকরুল বলতে চাচ্ছেন – আসুন, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মুক্তির দাবীতে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকি ।

    এখন আমার একটা দুঃখের কথা বলিঃ
    ইদানিং দেখলাম, অনেকে ফেসবুকে তর্ক তুলছেন যে পাকিস্তান কায়েম হয়েছিল তাতে আমার প্রধান অর্জন কোনটা এনিয়ে। তারা দাবী করছেন যে এখন মানে পাকিস্তান কায়েমের পর থেকে তারা কোরবানি দেওয়া (গরু কোরবানি বা জবেহ দেওয়া) দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বাধীনতা ভোগ করা শুরু করেছেন।
    ঠিক এটাই আমার দুঃখ যে পাকিস্তান কায়েমের ফলে আমাদের প্রধান অর্জন হল জমিদারি উচ্ছেদ। যা না হলে, আমরা এখন গরীর প্রান্তিক ও সমাজের সবচেয়ে নিচু জাতের ( চরম জাতপ্রথা চিন্তায় দুষ্ট হিন্দুধর্মীয় সবচেয়ে নিচের জাত বলে চিহ্নিত যে মুসলমানের অবস্থান ছিল) এই অবস্থানে থাকা প্রজা মুসলমানেরা কোনদিনই এই সামাজিক অবস্থান থেকে মুক্তি পেত না – কোনদিনই নিজ চাষের জমির মালিক নিজেই হতে পারত না। যেই মুসলমান জনগোষ্ঠিই এখন সেই থেকে আপন উত্থান আমার মুক্তির দুয়ার খুলতে খুলতে আজ ৫০ বিলিয়নের ডলারের এক্সপোর্ট ব্যবসা সামলানোর মত ম্যানেজমেন্ট তারা দক্ষ হয়ে উঠেছে – আমাদের সেই মুসলমান চাষা জনগোষ্ঠিই। (কারণ মনে রাখতে হবে এই রপ্তানি মানে হল, যেদিন যতটার সময়ের মধ্যে মাল পৌছানোর কথা থাকবে তা ঘটাতে না পারলে ঐ সমস্ত মালামাল বিদেশি আমদানিকারক-গ্রহিতারা আর গ্রহণ করবেন না। তাই দক্ষতায় উতকর্ষ না হলে আপনি এই উতপাদন ব্যবস্থায় টিকতে পারবেন না। )   তাই এটা অকল্পনীয় উন্নতি, সুযোগ দিলে দাবিয়ে রাখা এই চাষা মুসলমান কত উপরে উঠতে পারে এর এক চমকপ্রদ উদাহরণ এটা। অথচ আমরাই মানে আমাদের একাংশ দাবী করছে পাকিস্তান কায়েমের ফলে আমাদের উন্নতি বা অগ্রগতির মাপকাঠি হল  কোরবানি দেওয়ার স্বাধীনতা অর্জন……!!!!!
    আর ওদিকে আমাদের এই চিন্তা-কৌশল ও নিজেকে উপস্থাপনের এই ব্যর্থতার দশা – এটাকে দেখিয়েই প্রথম আলো-রা দেখায় যে আমরা পশ্চাতপদ, আমরা জঙ্গী, ইসলামিস্ট! এসব আঙুল তুলবার সুযোগ নিয়ে প্রগতিবাদের নামে ভারতের আধ্যিপত্যের দালালেরা নিজেদের অপরাধ লুকিয়ে ফেলার সুযোগ নেয়, কত শত ৩৪জনও জুটে যায় তাদের পক্ষে বিবৃতি দেওয়ার জন্য!!!!!

    বলস [balls] – এই বল মানে মূলত খেলাধুলার বল। কিন্তু এই একই শব্দের একটা স্ল্যাং ব্যবহারও আছে। বহুবচনে ‘বলস’ বলা হয় তখন।  আমি প্রায়শই -মুরোদ- বলে একটা শব্দ ব্যবহার করে থাকি।  কথাটা মুলত ক্ষমতা – মানে যেমন আপনার “ক্ষমতা” আছে  কিনা এটা বুঝাতে ব্যবহার করি। এই মুরোদ বা ক্ষমতা আছে কিনা তা বুঝাতেও স্ল্যাং শব্দ হিসাবে ‘বলস’ ব্যবহার দেখা যায়।   যেমন আপনার ‘বলস’ আছে? মানে আপনার মুরোদ আছে? অথবা ধরেন বলা হল, ‘বলস’ কাকে দিয়ে আসছেন? মানে হল, কার দালালি করতে, কার মুঠোর মধ্যে আপনার বলস দিয়ে এসেছেন বা আপনার সমস্ত ক্ষমতা আটকে রেখে আসছেন?

    তো ইদানিং ঢাকায় এমন আরেকটা কথার প্রচলন বাড়ছে। যেমন, আজকাল “র-এর হাতে বলস আটকে যাওয়া” লোকের সংখ্যা বাড়ছে বা বেশি দেখা যাচ্ছে। মানে শুধু র-এর প্রভাবের প্রথম-আলো বা ডেইলিস্টারের মত প্রতিষ্ঠানই না, এমন প্রভাবের ব্যক্তির সংখ্যা বা কথিত বুদ্ধিজীবির সংখ্যাও বাড়ছে। এরা এমনকি এটাও লিখছেন – “আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা বাংলাদেশের পক্ষে নয়”। তাই দালালি করতে হবে, দালালিটা জায়েজ ইত্যাদি! অথচ অন্তত বিশ বছর আগে এরাই ক্ষমতাসীন সরকারের সাথে জেএমবির সম্পর্ক করিয়ে দেয়াকে সেকালে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী বিপ্লবীপনা গণ্য করেছিলেন।
    অর্থাৎ এদের এখন নিজের বলস র-এর হাতে আটকে পড়ার কারণে বা ছেড়ে দিয়ে আসার কারণে সবহারিয়ে এরাই এখন এসব বলে মানে করছেন যে – তখন বাস্তবতা নাকি “আমাদের  জেএমবির পক্ষে” ছিল, এখন নাই!!!!  তাই তিনি সব ধ্বংস করে নিজে ধ্বংস হয়ে এখন ইসকন-চিন্ময়-ভারতীয় আধিপত্যের পক্ষে নিজের বলস ভাড়া দিয়েছেন।

    সবচেয়ে মজার কথা হল, বলস আটকা পড়াদের এই লেখা দেখে অনেকে আবার এর মধ্যে বিরাট জ্ঞানের কথা আবিস্কার করেছেন। এটা নাকি  – তুলসি গ্যাবার্ড [Tulsi Gabbard] a Samoan American এর সঙ্গে সদ্ভাব করে আমাদের এখন বাঁচবার নাকি একমাত্র পথ বলে এসব নয়া মুরিদ অর্থ বের করেছেন। তাই চিন্ময়ের পায়ে ধরে মাফ চাইতে হবে – আর এটাই সঠিক লাইন – বলে দাবী করছেন। বলস আটকা পড়া বুদ্ধিবীচিদের পক্ষে সাফাই যোগাড় করে দিচ্ছেন। বুঝেন অবস্থা!

    কিন্তু তুলসি গ্যাবার্ড – এটা আবার কেঃ
    আসলে ‘র’ এখন – তাদের হাতে এসব বলস আটকানো লোকের মাধ্যমে আমাদেরকে জুজুর ভয় দেখাতে নেমে পড়েছে। আর এই ফাঁকে এসব পতিতরা ভারতীয় দালালিটা হালাল করে নিতে চাচ্ছেন।
    এদের কয়জন তুলসি গাবার্ডকে চিনেন কবে থেকে? কী জানেন তার সম্পর্কে?

    তুলসি আসলে আমেরিকার এক সাবেক নারী লেঃ কর্ণেল; মানে আমেরিকার দ্বীপ রাজ্য হাওয়াই এর মিলিটারিতে ছিলেন তিনি সেখান থেকে এই পদবী। পরে ২০১৮ সালে দুবছরের জন্য কংগ্রেস সদস্যও হয়েছিলেন।  এদের দাবী তুলসির মা সাদা চামড়ার হলেও তিনি নাকি হিন্দুত্ব নিয়েছেন। তবে তুলসি নন। কিন্তু তুলসির সাথে মোদির  ফলে আরএসএস ও ইসকন এর সাথে তিনি সম্পর্কিত।  সবচেয়ে মজার কথা হল যারা তুলসিকে নিয়ে আমাদেরকে ভয় দেখাচ্ছেন বা এই সুযোগে নিজেদের দালালি হালাল করতে চাচ্ছেন তারা কী জানেন তুলসি আমেরিকার কোন দলের সাথে সম্পর্কিত – ডেমোক্রাট নাকি রিপাবলিক?

    এবারের আমেরিকান নির্বাচনকালে সেপ্টেম্বরে ট্রাম্পের নির্বাচন-প্রচার কালে হঠাত তুলসি ট্রাম্পের পক্ষে প্রচারণায় প্রথম অংশ নিতে শুরু করেন। যার মানে হল, তুলসি আগে ডেমোক্রাট ছিলেন; মানে যতদিন ইসকনে ছিলেন তুখন তিনি আসলে ট্রাম্পের দলে না বরং বিপরীতে ডেমোক্রাট দলের লোক ছিলেন। এবং মোদির অর্থে প্রতিপালিত হতেন (এনিয়ে বিস্তারিত আমার পুরানা লেখা দেখতে পারেন, প্রিয়া সাহা- ইসকন ইস্যুতে)।
    কিন্তু এবার তিনি পুরানা দলসহ সবকিছু ছেড়ে ট্রাম্পের রিপাবলিকে যোগ দিয়েছেন। আর ট্রাম্প তাকেই নিজের আগামি প্রশাসনে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর উপরে কো-অর্ডিনেটর প্রধান হিসাবে বসাতে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখন যদি আমেরিকান দুই হাউজ এটা অনুমোদন করে।

    আর এটা শুনেই মোদি এন্ড গং আগেই প্রপাগান্ডা শুরু করে দিয়েছেন যে ট্রাম্প নাকি মোদির পক্ষে চলে গেছে? কিন্তু কীভাবে, এর কোন হদিস বা ব্যাখ্যা দিতে তারা রাজি না।  শুধু তাই নয়; এর মাধ্যমে ট্রাম্প নাকি একেবারে ইসকনকেই কোলে তুলে নিয়েছে। আসলে প্রপাগান্ডা গল্প বানাতে হয় কী করে তা যেন আমরা র-এর কাছ থেকে একটু শিখি, কানে কানে বলে মিথ্যা প্রচার কী জিনিষ তা যেন একটু শিখি জানি।

    তুলসি ডেমোক্রাট বা বাইডেনকে ছেড়েছিলেন ২০২০ সালে তিনি নিজেই প্রথম যখন সেবার ডেমোক্রাট প্রাইমারিতেই নিজেকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী করতে খায়েশ করেছিলেন, এর পরপরেই। স্বভাবতই এতে প্রথম ধাপই তিনি পার হতে পারেন নাই।  আর পরে বাইডেনের সাথে তাঁর মৌলিক বিরোধ বাধে যখন তিনি হঠাত যুদ্ধবিরোধী বলে নিজেকে হাজির করেন; ফলে বিশেষ করে ইউক্রেনের যুদ্ধ এর। এথেকে তিনি ডেমোক্রাট দলত্যাগ করে বসেছিলেন। আর ট্রাম্প তাকেই এবার নির্বাচনি প্রচারের শেষের দিকে তুলে নেন মূলত তুলসির যুদ্ধবিরোধি অবস্থান এটাকেই তিনি ব্যবহার করতে চান তাই। আমাদের মনে রাখতে হবে ট্রাম্পের নির্বাচনি নীতি হল – বিজয়ী হলে তার আমলে আমেরিকা কোন যুদ্ধে মেতে উঠবে না। মূলত এটা ট্রাম্পের রাষ্ট্রের ব্যয় সংকোচনের নীতি, তাই। তাই বেকার বসে থাকা তুলসিকে একাজে ব্যবহারের   ইচ্ছা থেকেই তুলসির আবার দৃশ্যপটে হাজির হওয়া। কিন্তু ট্রাম্পের বাকি সব নীতি কী প্রো-ইন্ডিয়ান?
    না বরং একেবারেই উলটা। আর তুলসি কী এখনও মোদি-ইসকনের সাথে যোগাযোগ রাখেন? জবাব হল দেখা যায় নাই, জানা যায় না।
    তার মানে মূলত ট্রাম্পের ভারত ইস্যুতে আসল অবস্থান কী দাড়ায় (ট্রাম্পের নীতির বেশির ভাগই ভারতের স্বার্থবিরোধি বলে প্রকাশিত) এর উপর সুযোগ হবে তুলসি ভারতের আদৌও কোন কাজে লাগে কিনা।  অথচ এখনই র-এর হাতে বলস ছেড়ে দেওয়া লোকেরা নিজেদের ভারতীয় দালালি হালাল করতে এখনই এরা তুলসি প্রপাগান্ডা হাজির করে দিয়েছে।

    এখন আসল কথায় আসি। ধরা যাক আগামিতে ট্রাম্প-তুলসি মিলেই ইসকনকে জাপ্টায় ধরলো। সেক্ষেত্রে বা সেজন্য কী আমরা আগেই এখন থেকেই ইসকন-চিন্ময়-ভারতীয় আধিপত্যের পায়ে চুম্মা দেয়া শুরু করবো?
    আর কেউ যদি বুদ্ধিবীচি না হন, তিনি কী আমাদেরকে এখনই পদচুম্বনে শরিক করাতে মাঠে নেমে যেতে পারেন? আহবান জানাতে পারেন?
    নাকি এসবের বিপরীতে আমাদের এখনই আমাদের স্বার্থের ভিত্তিতে ভারতীয় আধিপত্যবিরোধী মেরুকরণে মাঠে নেমে যাওয়ার কৌশলের পথে চলে যেতে হবে? কোন যুক্তিতেই কী আমরা বাংলাদেশে আবার ১৬ বছরের ভারতীয় র-এর আধিপত্য ডেকে আনতে পারি? পারি না। আমেরিকা সহ সারা পশ্চিমও যদি আরেকবার তা চায় সেক্ষেত্রে আমাদের এর প্রাণপণ বিরোধিতার নেমে পড়া ছাড়া আর কী করার আছে????
    একমাত্র ভারতীয় দালাল ও যাদের বলস আটকে গেছে র-এর হাতে এমন ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান তারাই কেবল তাদের নিজেদের দালালির পক্ষে সাফাই যোগাড়ের জন্য আমাদের বিরোধিতা করতে পারে…।

    সব শেষে  আজ বিএনপি-জামায়াত কী নিয়ে ব্যস্তঃ
    তারা ব্যস্ত যে সরকারী পিপি সাইফুল ইসলাম আলিফ কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে – সে কী বিএনপি নাকি জামায়েতের সমর্থক লোক? এই হল, তাদের গতকাল থেকেই ব্যস্ততার মূল ইস্যু। কারণ সাইফুলের বাডী লোহাগড়া জামায়াতের শাহজাহান চৌধুরি এর কনস্টিটুয়েন্সি। একই দাবী বিএনপির। অর্থাৎ সব বিবেচনা এখন লোহাগড়ার কনষ্টিটুয়েন্সি কেন্দ্রিক – আগামি নির্বাচনি বক্তৃতায় কে কী বলবেন, তাই। এই হল তাদের ইস্যু। তাই দুপক্ষই দলিল দস্তাবেজ বের করে সাইফুলকে তাদের লোক প্রমাণ করতে। কাজেই সব কী সুন্দর তাই না?

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  সন্ধ্যা ০৬ঃ ১০   ২৭ নভেম্বর  ২০২৪
    শেষ আপডেটঃ   সকাল ১১ঃ ৩০   ৩০ নভেম্বর ২০২৪