Tag: GOUTAM DAS

  • কারা NDI-IRI, আর জিল্লুরের CGS এর সাথে এর সম্পর্ক কী?

    কারা NDI-IRI, আর জিল্লুরের CGS এর সাথে এর সম্পর্ক কী?
    গৌতম দাস
    ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
    https://wp.me/p1sCvy-6iE

     

     

     

    NDI-IRIএরা নাকি এক গবেষণা-জরিপ করে পেয়েছিল যে হাসিনা আবার ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি নির্বাচনে আবার বিজয়ী হবে। 
    —” A national survey by International Republican Institute found that Sheikh Hasina remains Bangladesh’s most popular leader
    18-08-2023″ লিঙ্ক এখানে, 
    এই কথিত সার্ভের রিপোর্ট তারা বের করেছিল ১৮ আগষ্ট ২০২৩ সালে। এভাবে হাসিনার প্রতিটা চোরা নির্বাচনের আগে এরা কথিত জরিপ রিপোর্টে বের করে গেছিল। 

    চোর ধরা পড়েছে। এখন মিলিয়ে নেন। এই বাটপার এর কাজ দেখেন নিচের লিঙ্কে।
    আর এই বাটপারি যা আসলে আমেরিকান এনজিও আর ইন্ডিয়ান র-এর মিলিত এক উদ্যোগ।
    চোরের নাম IRI [International Republican Institute ]। অনেক সময় একে পাবেন NDI [National Democratic Institute] এমন নামে।
    অনেক খুজে বের করতে হল।
    https://www.ndi.org/who-we-are

    মূল সহায়তাকারি NED – এই নামের আরেক আমেরিকান এনজিওঃ
    আমেরিকান ফান্ড আনার ব্যাপারে মূল সহায়তাকারি হল, THE NATIONAL ENDOWMENT FOR DEMOCRACY [NED]; এটা আমেরিকায় নিজে থিঙ্কট্যাঙ্ক হলেও ইন্ডিয়াতে ২০০৭ সালের পরে এসে এনজিও হিসাবে রেজিষ্ট্রেশন নেয়।
    সাথে আন্ডারহ্যান্ড ডিল হল,  ইন্ডিয়ান -NED আবার NDI-IRI এর অর্থ আমেরিকা থেকে ইন্ডিয়ায় এনে দেয়। মানে ইন্ডিয়া NDI-IRI  কে কোন কারণে, ইন্ডিয়ায় অর্থ আনার অনুমতি দেয় নাই।
    আর এখান থেকে এই ফান্ড রিপ্যাকেজিং হয়ে NDI-IRI এর ফান্ড নামে কিন্তু র-এর সাথে যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে পরিচালিত হয়। এক কথায় এটা এক বড় র‍্যাকেট! সুইডেন ভিত্তিক এক মিডিয়া এভাবেই চলে National Endowment for Democracy (NED) এর অর্থে।

    এরা ইন্ডিয়ান র-এর সাথে যৌথ ততপরতা শুরু করেছিল ২০০৭ সালের ১/১১ এর পরে যখন আমেরিকা বাংলাদেশকে ইন্ডিয়ার হাতে তুলে দিয়েছিল। তবে  NED অথবা NDI-IRI  এরা ঠিক আমেরিকান সরকারী উদ্যোগ নয়; আমেরিকান এনজিও-নন প্রফিট গ্রুপের নামে উদ্যোগ। তাই আমেরিকান সরকার জানে না টাইপের এড়িয়ে যেন যেতে পারে এমনই এক আমেরিকান এনজিও আর র-এর মিলিত উদ্যোগ।

    কিন্তু ২০১৬ সালের পরে মানে ট্রাম্পের আমলে ২০১৭ সাল থেকে বাকি সব এনজিও গুটিয়ে গেলেও কিছু এমন এই যৌথ প্রযোজনা NDI-IRI থেকেই যায়। যার মাধ্যমে র-এর ততপরতা চলছে বাংলাদেশে।

    জিল্লুরের CGS এই এনজিও দোকানটা এই গ্রুপের।
    https://cgs-bd.com/#
    CGS জানিয়েছে, NDI ওর পার্টনার সংগঠন।
    https://cgs-bd.com/articles/106/PARTNERS

    অনুমান করা হচ্ছেঃ
    NDI-IRI ফান্ডের জোরে জিল্লুরের গলা চড়তেছে। জিল্লুর নতুন বাংলাদেশ চায় না। বাংলাদেশ তালেবানী রাষ্ট্র হয়ে গেল – ইত্যাদি এসব বলে সে নিজেই বিএনপির এক নয়া সালাউদ্দিন আহমেদ  (যখন ইতোমধ্যেই সালাউদ্দিন হতাশ হয়ে থেমে গেছে) হয়ে উঠতে চাইছে!  ইন্ডিয়ান কনসার্ণ, স্বার্থ যেন তাকে এতই চাপ দিয়ে ধরে রেখে তাড়িত করতেছে!
    No description available.

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   ফেব্রুয়ারি  ২০২৫

    সর্বশেষ আপডেটঃ  ফেব্রুয়ারি  ২০২৫

  • ইন্ডিয়ান হেজিমনি উচ্ছেদ হবেই! কোন এনজিও রাজনীতি করতে পারে না!!

    ইন্ডিয়ান হেজিমনি উচ্ছেদ হবেই! কোন এনজিও রাজনীতি করতে পারে না!!
    গৌতম দাস
    ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
    https://wp.me/p1sCvy-6ip

     

    লীগ-সহ বিএনপি, জামায়াত যারা বিভিন্ন মাত্রায় র-প্রভাবিত হয়ে ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে – এই তো ক্ষমতায় চলেই যাচ্ছে ভেবে – লাগতে গেছিল এরা সব শেষ!!

    ৩২ নম্বর ভাঙ্গা দিয়ে শুরু হয়ে এরা সকলে এখন “ডেভিল হান্টে” পলায়নপর দৌড়াচ্ছে, যদি জান বাঁচে!
    এরপরেও এখন আমেরিকান-এনজিও-ফান্ডের [NDI-IRI] নামে, ছলে লুকানো র-প্রভাবিত কিছু লোকাল এনজিও ততপরতা চালু আছে। এরা ভালুকের পোষাক পড়া কিন্তু ক্ষুদ্রপ্রাণী (নরকের কীট) যারা ইউনুস সাবের বগলে আশেপাশেও চলে গেছে, আছে চেহারা লুকিয়ে! এরা হুন্ডিতে অর্থ নিয়ে এসে ইন্ডিয়ান স্বার্থের রাজনৈতিক শ্লোগান দিচ্ছে! এবার এদের উচ্ছেদ হতেই হবে!!!! ইন্ডিয়ান হেজিমনি উচ্ছেদ হবেই!!!!

    মনে রাখতে হবে এরাই বারবার দেশে ভুয়া নির্বাচনের আগে হাসিনাই আবার বিজয়ী হবে বলে মিথ্যা গবেষণা রিপোর্ট দিয়ে গেছিল – এমনই টাউট বাটপার এরা!

    একটা ক্লু দিয়ে রাখি। যারা – “বন্দোবস্ত” – শব্দটা ব্যবহার করে এদের থেকে দূরে থাকেন! এরাও ক্যারিয়ার!

    জেনে না জেনে এই শব্দ ব্যবহার করবেন না, প্লিজ!!

    এখানে বিবৃতিদাতাদের মধ্যে আছে অনেকে – তবে এর বাইরেও আছে।

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  ০৫ঃ ৩৫, ১০ ফেব্রুয়ারি  ২০২৫

    সর্বশেষ আপডেটঃ  ফেব্রুয়ারি  ২০২৫

  • হিউম্যান রাইট ওয়াচ কী হাসিনা বা ইন্ডিয়া প্রভাবিত!

    হিউম্যান রাইট ওয়াচ কী হাসিনা বা ইন্ডিয়া প্রভাবিত!
    গৌতম দাস
    ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫    সন্ধ্যা ১৭ঃ ০৯
    https://wp.me/p1sCvy-6hG

     

    হিউম্যান রাইট ওয়াচ [HRW]

     

    হিউম্যান রাইট ওয়াচ [HRW] এক আমেরিকান মানবাধিকার সংস্থা। আমাদের প্রথম আলো জানাচ্ছে তারা এই বলে বিবৃতি দিয়েছে  যে, “ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ন্যায্য হলেও আইনের লঙ্ঘন ন্যায্য নয়”। যেকথার সোজা মানে হল, “ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কোন আইন লঙ্ঘন করা যাবে না।  তাহলে এখানে আইন লঙ্ঘন মানে কী? ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে কোন গণ-প্রতিরোধ সৃষ্টি করা হলে তাতে পালটা ক্ষমতার জন্ম দিলে তা আইন লঙ্ঘন হয়ে যাবে? যার সোজা মানে হল, যেকোন বিপ্লবই অবৈধ; এমন কাজ এক আইন লঙ্ঘন মাত্র? কার আইন? কোন আইন?

    ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ন্যায্য হলেও আইনের লঙ্ঘন ন্যায্য নয়

    কোন আইন লঙ্ঘন?
    তাহলে যে দেশের মানবাধিকার সংস্থা এই HRW সেই আমেরিকার ১৭৭৬ সালের বিপ্লবও অবৈধ ও আইন লঙ্ঘন; অথবা ধরেন,  বাংলাদেশের ১৯৭১ সাল মুক্তিযূদ্ধ এসবই আইন লঙ্ঘন?   নাকি? কী বলেন? HRW এর জ্ঞানী সাহেবানেরা?
    বলেন তো দেখি,  ১৭৭৬ সালে কী আমেরিকান বিপ্লবীরা অস্ত্র হাতে তুলে নেয় নাই? সেটা কোন আইনে? কোন আইনি ন্যায্যতায়? নাকি HRW বলতে চায় সেটাও অবৈধ ও আইনের লঙ্ঘন???

    জীবন্ত নয়া গণক্ষমতার উত্থানঃ
    প্রধান সুত্রটা হল, কোন নতুন ও জীবন্ত গণক্ষমতার আগে বা উপরে কোন আইন নাই। আগে ক্ষমতা এরপর সেই ক্ষমতার মুরোদ থেকে আইন-কনষ্টিটিউশন জন্ম হতে পারে।
    আসলে এই হল, মানবাধিকার এর নিজ সীমাবদ্ধতা না জানা মানবাধিকার ধারণা!  খাড়া বাংলায় এটাকেই আমরা বেশি বুঝা বুলি!
    ঘটনা হল যেকোন গণ-প্রতিরোধ সৃষ্টি করা হলে তাতে এক পালটা গণক্ষমতার জন্ম হয় যা জীবন্ত! আর যা আগের সকল ক্ষমতা সকল আইন কনষ্টিটিউশনকে নাকচ করে দেয়। পাবলিক নিজেই জীবন্তভাবে গণক্ষমতা নিজে হাজির হয়ে যায়। যার সামনে আগের সকল ক্ষমতা সকল আগের আইন, কনষ্টিটিউশন সব নাকচ হয়ে যায়। নতুন ক্ষমতার সামনে সকল আইন অন্যায্য বাতিল হয়ে যায়। তাতে সেটা ঘোষণা করে আগের কনষ্টিটিউশন বাতিল বলা হোক আর নাই হোক! হাতে গুনে মনে রাখতে হবে সকল নতুন ও জীবন্ত ক্ষমতা থেকে এরপরে সকল আইন নতুন করে শুরু হতে পারে।  সবসময় আগে নতুন ক্ষমতা পরে আসবে সেই সুত্রে আইন। আগে থেকে থেকে থাকা কোন আইন নতুন ক্ষমতা তৈরির পরে আর প্রযোজ্য থাকে না; কার্যকারিতা রাখে না!

    যেমন আমরা কী ১৯৭১ সালের আগে থেকে থাকা (পুর্ববাংলা বা পুর্ব-পাকিস্তানের যাক প্রযোজ্য ছিল) পাকিস্তানের  আইন-কনষ্টিটিউশন মেনে নিয়ে এরপর মুক্তিযুদ্ধ করতে পারতাম? নয়া কোন গণ-ক্ষমতা তৈরি করতে বা জন্ম দিতে পারতাম? পুরান যেকোন আইন-কনষ্টিটিউশন মানলে যেকোন অস্ত্র-ধারণই তো অবৈধ এবং রাষ্ট্রদ্রোহিতা হবে এবং হত?
    এককথায় তাই সোজা ফর্মুলাটা হল, যেকোন নতুন গণ-ক্ষমতা জন্ম নিলে এর পর সে নতুন সব আইনের জন্ম দিতে পারে!  আর গণ-ক্ষমতা জন্ম এর আগের কোন আইন সে মানবে না। ক্ষমতার আগে কোন আইন নাই! নয়া ক্ষমতা থেকেই এবং এর পরেই কেবল নয়া আইন-কনষ্টিটিউশন হতে পারে যা তার জন্য মান্য! ১৭৭৬ সালে কী আমেরিকান বিপ্লবীরাও তাই করেছিল। তারা অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল আর এরপর আগের কোন আইন-কনষ্টিটিউশন তাদের উপর আর প্রযোজ্য নয়, ছিল না; থাকতে পারে না।
    ১৯৭১ সালেও মুক্তিযুদ্ধের গণক্ষমতার আগের কোন আইন-কনষ্টিটিউশন তাদের উপর আর প্রযোজ্য নয়, ছিল না; থাকতে পারে না। ২০২৪ সালের জুলাই-আগষ্ট গণ-অভ্যুত্থান এই গণক্ষমতার উপরে আগের কোন আইন তাদের উপর আর প্রযোজ্য নয়, ছিল না; থাকতে পারে না।  তাহলে তো ফ্যাসিস্ট হাসিনা তার যেসব পুলিশ, আর্মি, হেলিকপ্টা্‌ র‍্যাব আমাদের বিরুদ্ধে পাঠিয়েছিল তাদেরকে গণ প্রতিরোধে প্রতিহত করা [যাতে অনেক খুনি পুলিশ আহত-নিহত হয়েছে]  এটা তো হাসিনার পুরানা আইন-কনষ্টিটিউশন অনুসারে  অন্যায্য ও আইনের লঙ্ঘন! কিন্তু না এতা হতেই পারে না। নয়া গণক্ষমতার উপর আগে থেকে থাকা কোন আইন আর প্রযোজ্য নয়, ছিল না; থাকতে পারে না। এটা যেকোন বিপ্লবী নয়া ক্ষমতার মুখ্য বৈশিষ্ট!

    এখন মানবাধিকারের নামে কোন পুরানা পতিত বা পলাতক শাসক নিজের ন্যায্যতা জেতাতে সামনে আসতে পারে না। ঠিক যেমন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা গত ৫ ফেব্রয়ারির বক্তৃতায় তাঁর  যেসব পুলিশ, আর্মি হেলিকপ্টার র‍্যাব আমাদের বিরুদ্ধে পাঠিয়েছিল তাদের ততপরত্তাকে বৈধ বলে দাবি করেছেন! হাসিনা আমলে যেসব মিথ্যা মামলা মাদের উপর নির্বিচারে দায়ের করে গেছিলেন সেগুলো ইউনুস সরকারের বাতিল করাকে অন্যায্য, অবৈধ বলেছেন!

    এখন তামাশার কথা হল, HRW নিজেও হাসিনার বয়ানে ভাষায় ও ভাষ্য কথা বলছে। দাবি করছে  “লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আইনের লঙ্ঘন ন্যায্য নয়”! আসলেই এ’এক অদ্ভুত মিল! যার সোজা অর্থ হয়েছে এরা যেন হাসিনা নিয়োজিত এক HRW ; এক মানবাধিকার বয়ান! এই মানবাধিকার ফেরিকারকেরা জানে না যে যেকোন আইন কনষ্টিটিউশন  মানে মানবাধিকারের উতস কী? কোথা থেকে এর শুরু? স্থায়ী আইন কনষ্টিটিউশন বলে কিছু নাই! প্রত্যেকটা নয়া জীবন্ত গণক্ষমতার পর থেকে – এথেকেই বারবার নয়া আইন কনষ্টিটিউশন এর জন্ম হবে! 
    এর বাইরে বা উপর থেকে মানবাধিকার ফলাতে চাইলে তা হবে মানবাধিকার ব্যবসায়ীর কাজ!
    জেনে বা না জেনে HRW এই মানবাধিকার ব্যবসায়ীর  মত কাজ করে ফেলেছে! নিজ সীমাবদ্ধতা বা নিজ শুরু কোথা থেকে তা খেয়াল করে নাই! বা কারও খারাপ মতলবে বা হাতে প্ররোচিতও হতে পারে।

    জীবন্ত গণক্ষমতার উত্থানকাল লম্বা বা ছোটও হতে পারেঃ
    আমাদের ২০২৪ জুলাই-আগষ্ট অভ্যুত্থান অনেকের মনে হতে পারে এটা বড় জোর দুমাসের জীবন্ত গণক্ষমতা ছিল! না, এই অনুমান একেবারেই ভুল। একতা বিপ্লবী জীবন্ত গণক্ষমতা জন্মের শুরু আর শেষ বা তা থিতু হলে বছরেরও বেশি লেগে যেতে পারে। খোদ রাশিয়ায় এটা ছিল ১৯১৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর। ১৯৭৯ সালের ইরান বিপ্লবে তো শুরু আর শেষের মাঝে মানে ক্ষমতাধর শাহ উচ্ছেদের পরে পরপর চারটা সরকার গঠিত হয়ে গেছে আর ভেঙ্গে গেছে একই বছরে। আর সবশেষে যেটা খোমেনির বিপ্লব হয়ে থিতু হয়েছিল।  ফলে এর সবটাকেই জীবন্ত ক্ষমতার উত্থানকাল হিসাবে গুনতে হবে, ধরতে হবে!
    কাজেই মানবাধিকার কর্মী বা প্রবক্তা হয়ে হাজির হতে চান তারা সাবধান ও সতর্ক হয়ে যান। বিভ্রান্তি তৈরি করবেন না। হাসিনার বয়ানে কথা বলবেন না। সবার আগে নিজ মানবাধিকার বোধের সীমাবদ্ধতাটা কী সেটা আগে জেনে নিন। বিপ্লবী জীবন্ত গণক্ষমতার সাথে লাগতে আসবেন না। তামাসা করবেন না। নিজ চিন্তার মৌলিক সীমাবদ্ধতা [LIMIT] জেনে-বুঝে এরপর মানবাধিকার মারাতে  আসবেন! জীবন্ত গণক্ষমতার জন্মের আগের কোনই আইন নাই, হতে পারে না যা সে মানতে বাধ্য বা তার উপর প্রযোজ্য! এটাই সংক্ষেপে বললে, আগে ক্ষমতা পরে তা থেকে আইন! উল্টাটা কখনও না!

    সবশেষে একটা পরামর্শঃ
    HRW যদি  নিজ লিমিট খেয়াল করে বলতে পারত রাজনৈতিক সংগ্রামে সহিংসতা দীর্ঘায়িত না করা বা এড়িয়ে চলার কথা; তবে বুঝা যেত তারা নিজ ভাষ্য-বয়ানের লিমিট সম্পর্কে সচেতন! কিন্তু দুভাগ্য আমাদের এরা হাসিনার (ইন্ডিয়ার) ভাষ্যের উপর দাঁড়িয়ে কথা বলতে এসেছে!
    আমেরিকা-ভিত্তিক HRW কে মনে হয় আর একটা কথা মনে করিয়ে দেওয়াই যায়। ট্রাম্পের শপথ নেতা একমাসও হয় নাই। আর এসেই তিনি খোদ জাতিসংঘের ICC কোর্টের বিরুদ্ধেই স্যাংশন আরোপ করেছেন। কারণ কী? অভিযোগ-অযুহাত কী?
    অভিযোগ হল ICC  কেন নেতেনিহাহুর বিরুদ্ধে একশন গ্রেপ্তার এর কথা তুলেছে? দাবী করেছে ইসরায়েল আমেরিকার বন্ধু রাষ্ট্র [our allies]; মজা না? (নিচে ট্রাম্পের ভাষ্যটা দেখে নেন) আমাদের ধারণা,  তিন হাজারের উপর হত্যা, গুম-খুন অপহরণের ১৬ বছরের যথেচ্ছাচারের নায়িকা পতিত হাসিনার জন্য খাড়ানোর চেয়ে তাদের শ্রম-ঘামের বেশি অংশটা সেদিকে দেয়া উচিত! সবার আগে মানবাধিকার ইস্যুটাকে গ্লোবাল ক্ষমতাধর দেশের আজ্ঞাবহ হওয়া, প্রভাবিত হওয়া থেকে বের করার বা হবার উপায় খুঁজেন!

    “This malign conduct in turn threatens to infringe upon the sovereignty of the United States and undermines the critical national security and foreign policy work of the United States government and our allies, including Israel,” he added.

    সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ হল যারা ক্ষমতা বুঝে না – ক্ষমতা ধারণার পিছনের দর্শন বিশেষ করে গণক্ষমতা যেটা জীবন্ত গণক্ষমতার উত্থান যেটা আবার যেকোন রি-পাবলিক ধারণায়  পাবলিক এর ক্ষমতা বা পিপলস পাওয়ার ধারণার মূলভিত্তি  – এসব সম্পর্কিত করে রাজনীতির মাঠে যে জীবন্ত পিপলস পাওয়ারের জন্ম হয় তা সম্পর্কে বেহুশ – এরা মানবাধিকার ধারণা বইবার ধারণ করার জন্য নুন্যতম যোগ্যতা রাখেন না। যদিও বা কেউ রাখেন তবে সেক্ষেত্রে আপনারাই মানবাধিকার ধারণাকে সুশীল মানে, না বুঝা সিভিল সোসাইটি ধরনের মানবাধিকারের দোকান বানাইয়ে রেখে দিছেন! কাজেই সময় থাকতে সাবধান হন! লেজুড় হবেন না!

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  সন্ধ্যা ০৬ঃ ১৩, ০৮ ফেব্রুয়ারি  ২০২৫

    সর্বশেষ আপডেটঃ  সন্ধ্যা ০৭ঃ ৫০, ০৮ ফেব্রুয়ারি  ২০২৫

     

     

  • এখন দুদিন চলবে বয়ানের যুদ্ধঃ এদেরকেও পরাজিত করতেই হবে

    এখন দুদিন চলবে বয়ানের যুদ্ধঃ এদেরকেও পরাজিত করতেই হবে
    গৌতম দাস
    ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, সন্ধ্যা ০৬ঃ ২০
    https://wp.me/p1sCvy-6gk

     

     

     

    হাসিনার বক্তৃতাঃ নিজের ১৬ বছরের গুম-খুমের শাসন, নির্বিচারে সরকারি বা পাবলিক অর্থ সম্পত্তির লুটপাট এর পক্ষে হাসিনা এক সাফাই-বক্তব্য রেখেছেন। আগেই প্রচার করা এই সুচি বলেছিল যে তিনি ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ভার্চুয়ালি অডিওতে আসবেন।
    আর এর বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ছাত্র-জনতা। হাসিনার সকল অপ-শাসন এর সিম্বল বা যেগুলো প্রতীক হয়ে উঠেছিল সেগুলো তারা এর প্রতিক্রিয়ায় ঐদিনই গুড়িয়ে দিয়েছে।
    অর্থাৎ কেবল বস্তুগত স্থাপনা যেগুলা সেসব প্রতীক-ই ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে, ফ্যাসিস্ট হাসিনার গলাবাজি ও সাফাই দিবার চেষ্টার বিরুদ্ধে। কিন্তু কোন প্রাণহানি বা নুন্যতম রক্তপাত না, এখানে ঘটে নাই। টার্গেটও ছিল না।

    গত ৫ ফেব্রুয়ারী ছিল হাসিনার বক্তৃতা ও এর প্রতিক্রিয়ায় ৩২ নম্বর-কে ধুলায় মিশানোর মিশন। এখানে, ৩২ নম্বর (সাথে বিভিন্ন জেলায় ফ্যাসিজমের জেলানেতাদের প্রতীকী স্থাপনা) মানে হল যা হাসিনা বা আওয়ামী ফ্যাসিজমের সিম্বল। ফলে সকল বস্তুগত স্থাপনা ভাঙ্গা ফ্যাসিজমের প্রতীকগুলোর বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আক্রমণ।  এর উদ্দেশ্য ছিল জনগণকে সাথে নিয়ে প্রতীকগুলোকে চিনিয়ে দেওয়া আর তাতে বুঝিয়ে দেয়া যে গণশত্রু কারা কারা! আর আবার বলছি এতে সহিংসতা বা রক্তপাত শব্দ ব্যবহারের কোন সুযোগ না রেখে এগুলো পরিচালিত করা হয়েছে।  এককথায় খুবই প্রতীকীভাবে তাঁদের একাজ সম্পন্ন হয়েছে।

    কিন্তু প্রতিক্রিয়াঃ এরা কারা?
    ছাত্র-জনতার এই ততপরতায় খুবই বিপদে পড়েছে অনেকেই! কিন্তু এই অনেকেই, এরা কারা?
    এদের প্রধান সমস্যা হল, এটা ফ্যাসিজমের প্রতীক যেগুলো কেবল এর উপর আক্রমণ হয়েছে কোন ব্যক্তির উপরে নয়; অর্থাৎ ফ্যাসিজমের প্রতীক  মানে যেগুলো বস্তুগত প্রতীক মানে সরাসরি কোন ব্যক্তি – রক্ত-মাংসের কোন ব্যক্তিমানুষ একেবারেই নয়- আর এটাই এদের জন্য বিরাট সমস্যা হয়ে গেছে। কারণ, মানবাধিকারের কথা এতে আনা যাচ্ছে না!  কেন ছাত্র-জনতা কেবল বস্তুগত বা ফিজিক্যাল স্থাপনা যেগুলো সেসব কিছুকে চিনিয়ে দেয়ায় শেষ করল কেন এই হল তাদের আক্ষেপ!  এমনকি কোন ফ্যাসিস্ট ব্যক্তিকেও আক্রমণ করা হয় নাই। তাই নুন্যতম রক্তপাতও এখানে নাই! একারণের যারা ছুপা যারা, গোপনে নিজ চেহারা আড়ালে রেখে  হাসিনার ফ্যাসিজমের পক্ষে কাজ করতে মাঠে নেমে থাকছিল এতদিন –  এরা খুবই বিপদে পড়েছে। মূল কারণ এখন ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচীর বিরুদ্ধে তারা কী বলবে কীভাবে বলবে? এই বয়ান তাদের কাছে নাই!  বিশেষ করে কোন ব্যক্তি-মানুষের উপর সহিংসতা রক্তপাতও যেখানে নাই!  তাহলে তাদের বয়ান দাঁড়াবে কার উপরে?
    এবার একটু সার করে বলি, তাহলে ৩২ নম্বর-কে ধুলায় মিশানোর মিশন এটা আসলে হল, এক রক্তপাতহীন ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচী ছিল এটা!
    তবে এটা কি ছাত্র-জনতা খুব পরিকল্পিত ভাবে করেছে? না, ঠিক তা বলা ভুল হবে। আসলে তাদের মন স্বচ্ছ ছিল যে কোন রক্তপাত ঘটানো – এটা ঠিক তাদের লক্ষ্য নয়। বস্তুগত প্রতীকের উপর জোর দেয়া – এটাই ছিল তাদের লক্ষ্য এবং মন-ভাবনা!  আর এতেই হাসিনার পক্ষের ছুপা দালালেরা  চরম বিপদে পরে গেছে! মূল কারণ, নুন্যতম এটা সহিংসতা বলেও শক্ত কোন বয়ান তারা দাঁড় করাতে পারছে না! কোন ছদ্ম মানবাধিকারের বয়ান বা ছদ্ম মানবাধিকার ইস্যু তারা খাড়া করতে পারছে না!

    সবচেয়ে বড় হাসিনার ফ্যাসিজম সমর্থক – ইন্ডিয়াঃ
    কারা কারা ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচীতে বিপদে? এর শীর্ষে আছে ইন্ডিয়া!
    ইন্ডিয়ার বিদেশ মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য-বিবৃতিঃ

    আগেই বলেছি যারা ছুপা হাসিনা-স্বার্থের এদের মধ্যে শীর্ষে আছে ইন্ডিয়া! যাদের প্রধান সমস্যা বয়ান-ভাষ্য কী বানাবে যখন রক্তপাতও নাই???

    তাই লক্ষ্য করেন, তারা বলছে ৩২ নম্বর বা শেখ মুজিবের বাড়ি এটা নাকি হল historic residence – মানে ঐতিহাসিক গুরুত্ব থাকা বাড়ি বা বাসস্থান। এটা নাকি “a symbol of the heroic resistance of the people of Bangladesh”. মানে হল, বাংলাদেশের মানুষের বীরত্বপুর্ণ প্রতিরোধের প্রতীক! কিন্তু তাতে ইন্ডিয়া সরকারের কী? এটা কিভাবে ইন্ডিয়ার স্বার্থ বা কথা বলবার এক্তিয়ার? 

    তাই এতে এখন ইন্ডিয়ান সরকারী তামাসাটা দেখেন! গত ১৬ বছর যে ইন্ডিয়া হাসিনার ফ্যাসিজমকে ক্ষমতায় বসায়ে বাংলাদেশ শাসন করে গেছে, হেজমনি বা ইন্ডিয়ান আধিপত্য-দখল চালিয়ে গেছে সেই তারাই এখন বয়ান দিতেছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইতিহাস বা ঐতিহাসিক কোনটা? বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানে র-এর এজেন্ট ঢুকয়ে যারা ১৬ বছর শাসন-আধিপত্য চালিয়ে গেছে যারা এখন পরাজিত (যাদেরকে খুঁজে খুঁজে উপরে ফেলে নির্মুল করা বা বের করে দেওয়া ও মুক্ত করার পথে আমরা এখনকা্র বাংলাদেশ)  সেই পরাজিত ইন্ডিয়া  তারা এখন আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাস বা এর বয়ান কোনটা হবে সেটাও এখন নির্ধারণ করতে চাইছে!

    আসলে  ইন্ডিয়ার মনে রাখা উচিত,  ভাষা আন্দোলন কেবল বাংলাদেশে না, ইন্ডিয়াতেও হয়েছে; বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতে তামিলনারুতে! সে ইতিহাস আমরাও জানি! নেহেরু দক্ষিণ ভারতে হিন্দি ভাষা চাপিয়ে দিতে গিয়ে মার খেয়ে ফেরত এসেছিলেন ১৯৬৪ সালে (বলা হয় এই শোকেই ), সেটা আমরাও জানি!  যা থেকে আজ পর্যন্ত তামিলনারুতে কোন হিন্দি-প্রিয় দল কংগ্রেস বা একালের বিজেপি কখনও রাজ্য সরকারে ক্ষমতায় আসতে পারে নাই। সব থেকে বড় চিহ্ন হল,  সেই থেকে ইন্ডিয়ান কনষ্টিটিউশনে রাষ্ট্রভাষা বলে কিছুই নাই। এবং কিছুই যে নাই সেকথা জানিয়ে ইন্ডিয়ার সুপ্রীম কোর্ট এক রায় দিয়ে রেখেছে।
    তো এখন ইন্ডিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাস কোনটা?  মোদি-কংগ্রেসিরা যে ইন্ডিয়ায় পরাজয়ের ইতিহাস লুকায় রেখেছে সেটা কী এখন আমরা বাংলাদেশিরা দাবি করব যে লুকায় রাখা ইতিহাস এটাই  বা সেটা ইন্ডিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাস???? আমরা নট ইন্টারেস্টেড – ছেচড়ামো আমাদের স্বভাবে নাই।  নানান দেশের ইতিহাস জানার জন্য যতটুকু আগ্রহ থাকা লাগে ততটুকুতেই আমরা সীমাবদ্ধ!

    কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস কী এবং কোনটা কতখানি  – এটা একান্তই বাংলাদেশের; এর নির্ধারক একান্তই বাংলাদেশের জনগণ! ইন্ডিয়ান রাষ্ট্র-সরকারকে আমরা এই হুশিয়ারি জানাই দিয়ে রাখতে চাই! কাজেই আমাদের এই নির্ধারক ক্ষমতার মধ্যে ভাগ বসাতে হাত বাড়ালে সেই হাত জ্বালায় দেয়া হবে! জ্বলে পুড়ে যাবে।  এখানে হাত ঢুকানোর চেষ্টা মানে এটাও আরেক ধরনের ইন্ডিয়ান অযাচিত হস্তক্ষেপ, আধিপত্য দেখানোর চেষ্টা। আমরা ইন্ডিয়ার এই অপ-ততপরতা কে উপড়ে  ফেলে দিব, অবশ্যই! বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস এর বয়ান একমাত্র আমাদের জনগণ দ্বারা নির্ধারিত হবে। কাজেই গতকাল ইন্ডিয়ান সরকারী ভাষ্য-বয়ান আমরা প্রত্যাখান করি, নিন্দা জানাই! বাংলাদেশের বয়ানে হাত ঢুকানো বা হাসিনার পক্ষের বয়ান নিয়ে দাঁড়ানো আমরা অবশ্যই প্রতিহত করবো! এনিয়ে ইন্ডিয়ান সরকারের সীমা লঙ্ঘণ চরমভাবে অগ্রহণযোগ্য, এটা মনে রেখে ইন্ডিয়ার যেকোন সরকারকে চলতে হবে! চলা উচিত!

    ভারতের গার্বেজ যারা কাঁধে নিয়েছে এমন বাংলাদেশি রাজনৈতিক দলঃ
    বাংলাদেশে যারা হবু ক্ষমতায় আসীন হতে স্বপ্ন দেখেন এমন সব রাজনৈতিক দলের দুর্দশা হল এরা প্রায় সকলেই  – ভারতের গার্বেজ বা আবর্জনা এরা নিজের কাঁধে নিয়ে হাঁটা শুরু করে দিয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে। এরা ইন্ডিয়া প্রযোজিত কিছু বাংলাদেশি রাজনৈতিক দল হবার পথে রওনা দিয়েছে। এমন ইন্ডিয়া প্রযোজিত দল সকলেই আজ বয়ান সংকটে পড়েছে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচীর কারণে  এরা এখন বয়ান সংকটে দিশাহারা! এরা যে  ৩২ নম্বরের ঘটনার বিরুদ্ধে, সেটা এরা প্রকাশ করতে পারছে না। এটাই মূলত তাদের ভারত প্রযোজিত দল হিসাবে চিহ্নিত হয়ে পড়ার সংকট!  টানা ২৪ ঘন্টা নিশ্চুপ থাকার পরে ইন্ডিয়া প্রযোজিত দলগুলো বহুকষ্টে এখন তারা বলেছে  ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচী – এই ঘটনার পিছনে ইন্ডিয়া আছে কিনা তাদেরকে দেখতে হবে!!!! হা হা হা !! কী আজিব অর্থহীন কথা!

    কী এক সমস্যা দেখেন!
    ভাষ্য-বয়ান কী দিবে কিছুই খুজে পাচ্ছে না! উল্টা-পাল্টা বকছে! তাতে বয়ানের কোন অর্থ হল কী না হল তাও দেখার অবস্থায়ও নাই!  সে এক মহা দুর্দশা! এটাও বাংলাদেশকে দেখতে হচ্ছে!! এরা নাকি নির্বাচনে ক্ষমতায় যাবার স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশের বড় দলের দাবিদার! তবে (মূল দলীয় ভাষ্য নয় তবে) এই দলের সমর্থক যারা – এই তো তারা ক্ষমতায় যাচ্ছে বলে – স্বপ্ন দ্যাখে এমন ব্যক্তিরা তাদের ফেসবুকে একটা শব্দ খুজে পেয়েছে দেখা যাচ্ছে। শব্দটা হল, অরাজকতা! অর্থাৎ ৫ ফেব্রু. ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচী এটা নাকি এক অরাজকতা ছিল! মানে হল তারা আইনি পথে থাকার লোক! আচ্ছা! কিন্তু এরা কী আইনি-বেআইনি বিষয়টা বুঝে???
    এই ছুপা ইন্ডিয়ান-হাসিনা প্রেমি এরা ভেবেছে এভাবে তারা নিজেদের দালালির স্বার্থ লুকায় রাখতে চলতে পারবে! অথচ এদের আইনি-বেআইনি তর্ক বা রাজকতা বনাম অরাজকতা তর্ক  এটাই তো অর্থহীন! যেমন, এরা ভেবে দেখতে পারে যে, ১৯৭১ সালে যারা মুক্তিযোদ্ধার রাজনৈতিক ভুমিকায় নেমেছিলেন সেটা কী অরাজকতা ছিল না?
    হা অবশ্যই ছিল, তবে সেটা আমাদের সে সময়ের যুদ্ধের প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের মানে, আমাদের শত্রুপক্ষের আইনি বা কনষ্টিটিউশনের দিক থেকে দেখলে তবেই!  পাকিস্তানের আইনি বা কনষ্টিটিউশনের দিক থেকে দেখলে আমরা ছিলাম অরাজক শক্তি! এর সোজা অর্থ হল তাহলে, হাসিনা ও ইন্ডিয়ান আধিপত্যের জায়গায় বসে দেখলে ৫ ফেব্রু. ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচী ছিল অরাজকতা! অর্থাৎ যারা ৫ ফেব্রু. কে অরাজকতা হিসাবে দেখছেন এরা  হাসিনা ও ইন্ডিয়ান স্বার্থের লোক! ঠিক যেমন জুলাই-আগষ্ট্রের আন্দোলনে যারা ছাত্রলীগের গুন্ডা অস্ত্রবাজ, পুলিশ ও হেলিকপ্টারের বিরুদ্ধে বহুকষ্টে লড়ে বিজয় লাভ করেছে আর তাতে শেষে অনেক পুলিশ মারাও গিয়েছে – হাসিনা ৫ ফেব্রুয়ারির বক্তৃতায় এই পুলিশ-ছাত্রলীগকে হিরো মেনেছেন। মেনে যাদের বিরুদ্ধে হাসিনার দেওয়া ভুয়া মামলা ছিল, পুলিশ মারার মামলা ছিল সেগুলা এখন ইউনুস সরকারের ডিসমিস করে দেওয়ার উদ্যোগ বা প্রত্যাহার করে দেওয়া (ইনডেমিনিটি) এসবকে অবৈধ বলেছেন হাসিনা! তাহলে যারা অরাজকতা বলে বয়ান আনতে চাইছেন তাদের উচিত প্রকাশ্যে অবস্থান পরিস্কার করে কথা বলা! তারা কী ছাত্র-জনতাকে হাসিনা-ইন্ডিয়ার মত “অরাজক শক্তি” মনে করেন তা স্পষ্ট করে বলেন! পারবেন? পারলে সামনে আসেন! বুক ফুলায়ে বলেন!!!  পাবলিক আপনাদেরকে দেখুক যে কারা গত ৫ ফেব্রুয়ারি ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচী কে অরাজকতা হিসাবে দেখছেন! এবং কেন দেখছেন???
    একই সমস্যায় ভুগছে জামায়াত!
    কি বলবে?  কথা খুজে না পেয়ে বলেছে, সবাইকে ধৈর্য ধরতে! মানে ইন্ডিয়ান লিঙ্ক ছুটে যায় কীনা সেই দুশ্চিন্তা বিবেচনা প্রবল রেখে কোনমতে একটা ভাষ্য তৈরি করেছে তারা! তাতে এর কোন অর্থ হোক আর নাই হোক!

    এই ফাঁকে আইন সালিসি কেন্দ্রঃ
    এরা আসলে সবসময়  “হাসিনা লীগ টু”!
    কামাল হোসেন এন্ড গং!  মূলত এরা ইন্ডিয়ান হেজিমনি ফেরত আনার পক্ষের শক্তি! কিন্তু ছল নিয়েছে তারা মানবাধিকার কর্মি! এদেরই এক জামাই প্রশ্ন তুলেছেন – “Who is running Bangladesh? Muhammad Yunus?” – যেন বিরাট মানবাধিকার কর্মি! কায়দাটা অসম্ভব ছুপা! এরাই হল অরাজকতা দেখার গোষ্ঠি! অথচ আসলে এরা ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট! ৩২ নম্বর যাদের প্রাণ!  গত ১৬ বছর হাসিনার ফ্যাসিজম তারা দেখেও দেখে না; কিন্তু প্রতীকী এই ৩২ নম্বর একে পবিত্র জ্ঞান করা তাদের বয়ান। হাসিনা তাঁর গুম-খুন লুটপাটের ফ্যসিজম আর ৩২ নম্বর বা শেখের মুর‍্যাল এই প্রতীক সব একাকার করেছিলেন খোদ শেখ হাসিনা! তবু এখন ৩২ নম্বরের সিম্বল এই বয়ান-দৃষ্টিভঙ্গি আর ইন্ডিয়ান স্বার্থ বা তাদেররও বয়ান – এদুটা একজায়গায় মিলেছে। তাই কামাল হোসেন এন্ড গং! এরা আসলে ঘুরে-ফিরে ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট! এরাই ১৯৭১ সালের ঘটনাকে পাকিস্তানের আইন-কনষ্টিটিউশনের জায়গায় বসে দেখলে  (অরাজকতার ভাষ্য ) যেমন হবে এরা সেভাবে দেখার লোক! এরা হাসিনা-ইন্ডিয়ার স্বার্থের জায়গায় বসে এরা ৫ ফেব্রুয়ারি ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচী কে অরাজকতা বলে দেখছেন। আর মানবাধিকার এর মিথ্যা-মোড়কে মুড়িয়ে বয়ান হাজির করার কু-চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

    সাথে আছে চিন্ময়-ইসকন বামপন্থীঃ
    সাথে আরও আছে কিছু প্রগতিশীল বামপন্থী যারা আসলে ইন্ডিয়ান স্বার্থের আরও ঘোরতর এজেন্ট! বিচি আটকে যাওয়া এজেন্ট! কিন্তু নিজেদেরকে ছুপায় রাখতে চায় যে তারা প্রগতিশীল! এরা প্রশ্ন তুলতেছে যে ৩২ নম্বর ভেঙ্গে কী লাভ?
    আসলে প্রগতিশীলদের রূপের শেষ নাই! যদিও সব রূপের কমন দিকটা হল তারা ছুপা ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট!। অথচ এরা নিজেরাও মানতে চায়না যেন জানে না যে এই অবস্থানটা বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে অন্য রাষ্ট্রস্বার্থের দালালি! এদের নয়া সংযুক্তি হল, সাথে বলা এগুলো – “এগুলো ইহুদী-খ্রীষ্টান প্রকল্পের অংশ”। এরা জানে সাধারণভাবে ইসলামিস্টদের কাছে বা এমন রাজনীতিতে –  “ইহুদী-খ্রীষ্টান প্রকল্প বা বয়ানের বিরুদ্ধে তাদের শক্ত ও কমন অবস্থান আছে। তো সেই বয়ান কে ছদ্ম বা ভুয়া স্পর্শ করতে তাদের এই নয়া ছিল। টেনে হিচড়ে কোন ব্যাখ্যা কে আমেরিকান বা সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্ত বা ট্রাম্পের অবস্থান বলে (মিলুক আর নাই মিলে যাক) -এগুলো ইহুদী-খ্রীষ্টান প্রকল্পের অংশ – বলে ট্যাগ দিয়ে এরা হাজির করেছে আজকাল অথচ এরা সরাসরি র-এর মানে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির চক্কড়ে আটকে হানি ট্রাম্পড হওয়া ব্যাক্তি বা গোষ্ঠি-সকল!
    আবার অনেকে বয়ান-যুক্তি দিচ্ছেন ৩২ নম্বর স্থাপনা ভাঙ্গালেও ফ্যাসিজম ভাঙবে না । তাই ৩২ নম্বর ভাইঙ্গো না! অথচ ছাত্র-জনতার কেউ কী দাবি করেছে এটা? নাকি গত ১৬ বছরে এরাই হাসিনাকে ভুল বুঝানো হয়েছে বলেছিল অথবা শাহবাগী জজবা তুলে এরাই হাসিনাকে জঙ্গীবাদবিরোধিতার নামে গুম-খুন হত্যার ফ্যাসিজম কায়েম করতে বয়ান যোগান দিয়েছিল??? অথচ এরাই ৩২ নম্বর স্থাপনা না ভাঙ্গার ফ্যাসিজম শিখাতে এসেছে!  এরা ভুলায় দেতি চায় যে যারা ৩২ নম্বর স্থাপনা ভাঙ্গতে উতসাহ দিয়েছে তারাও তো বলছে এটা প্রতীকগুলোকে ভেঙ্গে দিয়ে ফ্যাসইজম ভাঙ্গতে হবে সেকথাই বলছে, সেই বয়ান খাড়া করেছে!!

    আবার প্রগতিশীলতার কেউ কেউ বলার চেষ্টা করছে যে  ফেব্রুয়ারি ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচী এটা অরাজকথা!  এর চেয়ে আয়নাঘর ভাঙ্গা ভাল! যেন এরা আয়নাঘর ভাঙ্গার নয়া সৈনিক!
    এরা আসলে বাংলাদেশে একটা সেনাবাহিনী থাকুক আর সেটা র-এর এজেন্ট বের করে দেয়া সেনাবাহিনী হোক মুলত এটাই তারা চায় না। খুবই কষ্ট পায় আর ব্যাথা তাদের! এই অর্থে তারাও হাসিনা ও ইন্ডিয়ান স্বার্থের লোক বা রাজনীতি করা লোক!
    বাংলাদেশে ১৯৭৫ সালের পরে শেখ মুজিব উতখাত হওয়াতে সাধারণভাবে আর্মির বিরুদ্ধে এক বয়ান খাড়া করেছিল লীগ-হাসিনা! সাধারণভাবে আর্মি কথাগুলো খেয়াল করেন। বয়ানের মূল কথা হল, আর্মি মানেই এন্টি শেখ মুজিব!
    অথচ আপনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রের পক্ষের হলে তাহলে আর আপনি সাধারণভাবে আর্মির বিরুদ্ধে থাকতে চাইলেও থাকতে পারেন না। থাকলে এর সোজা মানে হবে আপনি খোদ বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে।

    মূলকথাটা হল, হাসিনার ১৬ বছরের আর্মি আর এখনকার আর্মি – এদুটাই তো আর্মি। কিন্তু একই আর্মি নয়! যারা এদুটোকে মিশিয়ে একাকার করে শুধু আর্মি বলবে এরা জেনে না জেনে ইন্ডিয়া-হাসিনার পক্ষের লোক!  আপনাকে অবশ্যই এদুটোকে আলাদা করে বুঝাতে এবার সাথে বিশেষণ লাগিয়ে বলতে হবে। যেমন  হাসিনা আমলের আর্মি  নাকি  হাসিনা উতখাত-পরবর্তি আর্মি!   ফলে যারাই সবকিছুকেই শুধু আর্মি বলে একটা শব্দ ব্যবহার করবে এরাই বাংলাদেশ রাষ্ট্র-বিরোধী এবং ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট(!) হওয়ার সম্ভাবনা ষোলভাগ! জেনে অথবা না জেনে! যদিও অনেক সময় এরা গ্রুপবদ্ধ থাকলে তাদের বেলায়, এদের টপ নেতারা জানে তারা ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট কিন্তু নিচের কর্মিরা না জেনেই ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট!- এই হল ফারাক!
    ফলে আয়নাঘর মানে একে “আর্মি” এই শব্দটাকে সাধারণভাবে মানে বিশেষণ ছাড়া অর্থাৎ আয়নাঘর মানে সাধারণভাবে – আর্মি মাত্রই খারাপ – এই প্রতীকী  ব্যবহার করতে চায় এরা। এজন্য এরা জেনে না জেনে ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট হয়ে থাকছে। হাজির হচ্ছে বা থাকতে চাইছেন। আজ, ৩২ নম্বরের নিচে সাততলা আয়নাঘর এর কথা কথা বলা হচ্ছে, সন্দেহ ও খোঁজাখুজি শুরু হয়েছে। এখন যারা মনে করেন ইউনুস সরকার আয়নাঘর দেখতে দিতে চায় না তারা কী করবেন?  এবার স্বরূপে হাজির হন, হবেন? “৩২ নম্বরের চেয়ে আয়নাঘর ভাঙ্গা ভাল” যারা বলছিলেন; আর কত ছুপা থাকবেন! সাততলায় ঝাপায় পরে খোজাখুজি করে প্রমাণ করেন আপনারা আসলেই কেবল মানবাধিকারের পক্ষের লোক!
    আবার আরেক বিপ্লবী প্রগতিশীলতা আছে  যারা চিন্ময়-ইসকন এর অধিকারের পক্ষে খাড়াইতে চায় (এভাবে র-এর স্বার্থ হাসিলের কর্তা) অথচ নিজেকে নয়া কনষ্টিটুশনের পক্ষের যেন বিপ্লবী এই ভেক ধরে হাজির থাকতে চায়!

    সারকথায়, এখন দুদিন চলবে বয়ানের লড়াই! এই লড়াইয়েও আমাদেরকে অবশ্যই জিততে হবে! হাসিনা ও ইন্ডিয়ান হেজিমনি ফেরত আনার পক্ষের শক্তিকে বয়ানেও পরাজিত করতেই হবে! সবাই সাবধান!
    আর যারা মানবাধিকার ব্যবসা করে  বা এর আড়ালে ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট এর কাজ করে এদের সামনের দিন আরো খারাপ হবে! আর তা থেকে বাঁচতে চাইলে একটাই উপায় – আড়ালে ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট-গিরি তাদের ত্যাগ করতে হবে। যেমন হাসিনার ১৬ বছরে আসক (আইন সালিসি কেন্দ্র) যা যা করে টিকে ছিল হাসিনার গায়ে গুম-খুন মানবাধিকার ভঙ্গের অভিযোগের টোকা লাগতে দেয় নাই – আপনারাও সেসব করে মানবাধিকার ব্যবসায় থাকেন! আর নাইলে উতখাত হয়ে যাবেন। যারাই, পারসোনালি বা হুন্ডিতে বিদেশি অর্থ এনে মানবাধিকারের নামে আড়ালে ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট হতে বা থাকতে চাইছেন এরা সকলে অবশ্যই উতখাত হবেনই! দিনকে দিন এদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের একশন শক্ত হবেই!  আয়নাঘরের বিরুদ্ধে আপনারা এক ভয়েজ যেন এই চেহারার আড়ালে মানবাধিকারের ঝান্ডার আড়ালে অর্থ কামাবেন তা হয়ত করতে পারেন; কিন্তু আর্মি এই শব্দটাকে সাধারণভাবে মানে বিশেষণ ছাড়া ব্যবহার করবেন তাহলে আপনারা উতখাত হবেন!

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   সন্ধ্যা ৭ঃ ২৬ , ০৭ ফেব্রুয়ারি  ২০২৫
    শেষ আপডেটঃ   রাত ৮ঃ ৩৬ , ০৭ ফেব্রুয়ারি  ২০২৫

  • বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মোদি আবার বিবিসিকে ভাড়া করেছে

    বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মোদি আবার বিবিসিকে ভাড়া করেছে
    গৌতম দাস
    ১০ ডিসেম্বর ২০২৫   বিকাল ০৪ঃ ৩১
    https://wp.me/p1sCvy-6be

     

    দিল্লি-ঢাকা সম্পর্ক 

    গত পরশু আবার বিবিসি বাংলা ভাড়া নিয়েছে মোদি সরকার। হাসিনার পলায়নের পর গত পাঁচ মাসে  এটা হল মোদির তৃতীয়বার বিবিসি ভাড়া নেওয়া। টেম্পো-সিএনজিতে যেমন লেখা থাকে ভাড়ায় চালিত এটা অনেকটা সেরকম। বিবিসি বাংলার উচিত তার নিজের কপালে এমন একটা সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দেয়া যে ভাড়ায় চালিত জার্নালিজম করি আমরা! এখন মোদি ভাড়ায় চালিত জার্নালিজম এর মানে কী, এমনটা তারা পছন্দ করে কেন?
    এর জবাব হল, দায়দায়িত্ব না নিয়ে মিডিয়ায় যা মনে চায় কথা ছড়ানো।  যেমন বিবিসি বাংলায় এধরণের রিপোর্ট করতেছে শুভজ্যোতি ঘোষ যিনি, আমি আগে অনেকবার বলেছি, আরএসএস নেতা তথাগত রায়ের শিষ্য! এতে মোদির সুবিধা হল তিনি দাবি করবেন যে শুভজ্যোতির এই লেখার সাথে আমার সরকারের সম্পর্ক নাই। এটা অনেকটা চিন্ময়-ইসকনকে দিয়ে বাংলাদেশে মোদি সরকারের দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা যেটাকে মোদি সরকার আবার অস্বীকার করবেন যে চিন্ময়-ইসকন মোদি সরকারের কেউ নয়! যদিও চিন্ময় গ্রেফতার হয়ে গেলে তখন কিন্তু মোদি খোলস ছেড়ে ন্যাংটা হয়ে চিন্ময়-ইসকনের পক্ষে বিবৃতি দিবে!  এই হল মোদির ভাড়ায় চালিত চিন্ময়-ইসকন ততপরতা অথবা ভাড়ায় চালিত বিবিসি জার্নালিজম কিনে পরিচালনা!

    এবারের শিরোনামঃ

    দিল্লি কি অবশেষে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক সহজ করতে চাইছে?

    বলাই বাহুল্য বিবিচির এমন রিপোর্টের স্টাইল হবে যেন বাংলাদেশের জন্য এটা সৌভাগ্য যে ইন্ডিয়া যেন দয়া করছে – এভাবে লেখা। যেমন এখানে আমরা দেখছি লেখা হয়েছে – দিল্লি কী (দয়া করে) ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক সহজ করতে চাইছে!  আর ভিতরে মানে রিপোর্টের বডিতে লেখা হয়েছে একটা মৌলিক অনুমানে ধরে নেয়া কথা যেন বাংলাদেশ এক ইন্ডিয়ান কলোনি; ফলে ইন্ডিয়া যা দাবি করবে বাংলাদেশকে সেটাই করতে হবে। এককথায়, বাংলাদেশ যেন ইন্ডিয়ান ডিকটেশন [dictation] বা ফরমানে চলা এক দেশ! অর্থাৎ স্বাধীন-সার্বভৌম কোন দেশ নয়; ফলে এটা ইন্ডিয়ার হুকুমে চলা। তাই এই লেখায় ইন্ডিয়ান যারাই কথা বলেছেন তারা বাংলাদেশ তো ইন্ডিয়ান হুকুমে চলা দেশ এই মিথ্যা ভ্যানিটি বা অনুমানে ধরে নেয়া ভাবনার উপর দাঁড়িয়ে কথা বলে গেছেন। আর যেখানে বিবিসির শুভজ্যোতির কাজ হচ্ছে এমন অনুমানকে প্রশ্ন না করে চলতে দেয়া। মোদির ইন্ডিয়ার এমন খায়েসকে জায়গা করে দেয়া। কারণ, শুভজ্যোতিও তো এক ভাড়ায় চালিত বালক!
    এটা আবার বলা যায় অনেকটা যেন ধরে নেওয়া যে গত ষোল বছরের (ইন্ডিয়ার বসানো) হাসিনা শাসন যেন এখনও আছে, চলছেই!  তাই এই ডিকটেশন স্টাইলে বক্তব্য বা দাবি! এজন্যই যেটাকে আমি ভদ্র ভাষায় বলেছি – এটাই ইন্ডিয়ান হেজিমনি বা আধিপত্যবাদ। এক হিন্দুত্ববাদী আধিপত্য কায়েমের প্রচেষ্টা!  কাজেই বাংলাদেশের আগামি রাজনীতির মুখ্য বৈশিষ্ট  ইন্ডিয়ান আধিপত্য-বিরোধী এটাই হবে!  যদি না হতে পারে যে রাজনীতির ঝোঁক টা বিএনপির মধ্যে উঁকি দিতে দেখা যাচ্ছে এর মুখ্য বৈশিষ্ট হবে ইন্ডিয়ান আধিপত্য এর পক্ষে!

    এবার সোজা আসা যাক মূল প্রসঙ্গেঃ
    বিবিসির এধরণের তৃতীয় রিপোর্ট দিয়ে মোদির ইন্ডিয়া যা বলতে চেয়েছে  তা হল, তারা এখন বাংলাদেশের সাথে দ্রুত সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চায়।  কিন্ততু এতে যেন তারা বাংলাদেশকে একটা বিরাট ফেবার করছে এই ভাব ফুটিয়ে ধরে তাদের ইউজুয়াল কিছু গোয়ার্তুমিও  সাথে রেখেছে যেমন, “তাদেরকে বড় ভাই মানতে হবে”।  যেটা অন্যভাষায় বললে তারা দুটা শর্ত দিয়েছে। বিবিসি লিখেছেঃ

    “ভারতের দিক থেকে এই প্রচেষ্টা হবে পুরোপুরি ‘শর্তাধীন’ – অর্থাৎ ভারতের দেওয়া বিশেষ কয়েকটি শর্ত পূরণ না হলে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে দিল্লি সম্ভবত খুব একটা গরজ দেখাবে না”।
    “…..আর এর মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দু তথা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা কিংবা পরবর্তী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অন্তর্ভুক্ত করার মতো অতি স্পর্শকাতর বিষয়ও থাকতে পারে”।

    এতটুকুই না তবে এটাই মুল দাবি! মানে সাথে খুচরা দাবিও কিছু আছে সেকথায়  পরে আসব।

    তবে ইন্ডিয়ার আগ্রহ যে একেবারে গলে পড়তেছে তার ছাপ-ইঙ্গিত রেখে বিবিসি লিখছেঃ

    “গত তেসরা জানুয়ারি (শুক্রবার) দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিং-এ বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে মুখপাত্র নতুন দু’টো শব্দ যোগ করেন।
    মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল একটি প্রশ্নের জবাবে বলেন, “ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের সাম্প্রতিক ঢাকা সফরের পরই প্রেস বিবৃতির আকারে এই মনোভাব স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, ভারত একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ ও প্রগতিশীল, ইনক্লুসিভ বাংলাদেশকে সমর্থন করে”।”

    বিবিসি এরপরে নিজেই মন্তব্য জুড়ে দিয়ে লিখছেঃ “বছরখানেক আগেকার চেয়ে ভারতের এই বক্তব্যে নতুন শব্দ দু’টো হচ্ছে – গণতান্ত্রিক আর ইনক্লুসিভ (অন্তর্ভুক্তিমূলক)“।

    ইন্ডিয়া আসলে বিশ্বযুদ্ধ-উত্তর রাষ্ট্র ধারণাটা এখনও বুঝল নাঃ
    এভাবে শিরোনামে আ লিখেছি যে “ইন্ডিয়া আসলে বিশ্বযুদ্ধ-উত্তর রাষ্ট্র ধারণাটা এখনও বুঝল না” – ঠিক এটাই বুঝাতে চেয়েছি।  আসলে এখন এটা বলাই যায় যে এখন পর্যন্ত দুনিয়ার ইতিহাসের মোটা দাগে তিনটা পর্যায় দেখা যাচ্ছেঃ এক. বিশ্বযুদ্ধ-পুর্ব কলোনিদখলের দুনিয়া  দুই. কলোনিমুক্ত আমেরিকান নেতৃত্বে গ্লোবাল অর্ডারের দুনিয়া আর তিন. (এটা আসন্ন মানে হবু) চীনের গ্লোবাল অর্থনৈতিক নেতৃত্বে উইন-উইন [win-win] এর দুনিয়া।ীভাবে তিনটা পর্ব ভাগ করেছিল একই কলোনিদখল ধারণাটার ভিত্তিতে। বিশ্বযুদ্ধ-পুর্ব মানে ১৯৪৫ সালের আগের দুনিয়াটা ছিল ছোট বড় পাঁচ (বৃটিশ, ফরাসী, ডাচ, স্পানিশ ও পর্তুগীজ) কলোনিদখলদারের দুনিয়া; যারা সারা দুনিয়ার কোন ভুখন্ড খালি ছিল না সবটাই এই পাঁচ কুতুবের কেউ না কেউ দখল করে রেখেছিল – এমনই সেই দুনিয়াটা। ফলে প্রধান বৈশিষ্ট কোন আন্তঃরাষ্ট্রীয় পণ্য বাণিজ্য বিনিময় নয় (সেখানে ছিল না) বংরং কলোনি দখল আর লুট – আমাদের মত দেশের অর্থনীতির সারপ্লাস বা বাড়তি মূল্য বা সঞ্চয় সব লুট ও নিজ কলোনি মালিক দেশে পাচার – এই ছিল ওর মুখ্য বৈশিষ্ট।
    আর দুইঃ বা দ্বিতীয় ধারার মূল বৈশিষ্ট হল,  অন্যের ভুখন্ড কলোনি করে রাখা অপরাধ মানে একটা কলোনিমুক্ত স্বাধীন রাষ্ট্রের দুনিয়া এবং এমন স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর সকলকে সদস্য করে নিয়ে একটা পুঞ্জীভুত [ইউনাইটেড] রাষ্ট্রপুঞ্জ [United Nations বা জাতিসংঘ] প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থায় গড়া একটা গ্লোবাল অর্ডার [Global Order] দাঁড় করানো।  যার আরেক বৈশিষ্ট হল, আন্তঃরাষ্ট্রীয় পণ্য বাণিজ্য এর গ্লোবাল এক্সচেঞ্জ বা বিনিময় ব্যবস্থা স্থাপন [আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে]। প্রাতিষ্ঠানিকতা হিসাবে মুলত জাতিসংঘ,  আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক; এদের মাধ্যমে আমেরিকার নেতৃত্বে একটা গ্লোবাল অর্ডার (গ্লোবাল সিস্টেম) প্রতিষ্ঠা পায় তাতে যেটা মূলত এক গ্লোবাল পলিটিক্যাল সিস্টেম আর একটা  গ্লোবাল ইকোনমিক সিস্টেম গড়ে তুলেছে।  এভাবে এক
    আর তিনঃ এটাকে বলেছি চীনের গ্লোবাল অর্থনৈতিক নেতৃত্বে উইন-উইন বৈশিষ্টের দুনিয়া। এই পর্বকে বুঝতে হবে আন্তঃরাষ্ট্রীয় পণ্য বাণিজ্য বিনিময়ের দ্বিতীয় পর্যায় হিসাবে। আর এই দ্বিতীয় পর্যায়টাই উইন-উইন পর্যায়।
    অর্থাৎ হবু চীনের নেতৃত্বের দুনিয়াতেও আগে তৈরি হওয়া গ্লোবাল অর্ডারেও আরো পরিবর্তন আসবে। কিন্তু সেটা পলিটিক্যাল ও ইকোনমিক দুই ক্ষেত্রেই নয় বরং মূখ্যত সেটা ইকোনমিক অর্ডার বা সিস্টেমে। মানে গ্লোবাল বিকাশ পর্বের এই তিনটা পর্যায়কে যদি গরীব দেশের অর্থনীতির সারপ্লাস বা বাড়তি মূল্য বা সঞ্চয় সব লুট ও নিজ কলোনি মালিক দেশে পাচার – এই চিন্তা ফ্রেমের মধ্যে থেকে দেখি তবে প্রথম পর্বটা হলঃ সারপ্লাস পশ্চিমে নিয়ে যাওয়া আর যেখানে দ্বিতীয় পর্বটা হল, ঐ সারপ্লাস ফিরে পশ্চিম থেকে পুবে (এশিয়া ও আফ্রিকা ল্যাটিনো ভুখন্ডে) যার নতুন নাম বিনিয়োগ – এই নামে লূট করা সারপ্লাস এর ফিরে আসা।

    তাহলে তৃতীয় পর্বের বৈশিষ্ট কী? উইন-উইন কেন?
    এই পর্বের মূল বৈশিষ্ট হবে ১। স্বীকার করে নেয়া হবে পুরানা তৃতীয় বিশ্ব (বা একালে চীন যেটাকে গ্লোবাল সাউথ বলছে) ধারণার দেশগুলোকে। সেটা এই অর্থে যে গ্লোবাল আন্তঃরাষ্ট্রীয় পণ্য বাণিজ্য বিনিময় ব্যবস্থায় তোমরা আসলে  খুবই গুরুত্বপুর্ণ পার্টনার।   অর্থাৎ আগে যেমন ভাবা হয়েছিল  – তোমরা তৃতীয়বিশ্ব হইলা আমরা যাদের লুট করবো সে আইটেম মাত্র। তোমাদের ভুমিকা হইল নিজেকে লুট হতে দেওয়া। আর সেখান থেকে (দ্বিতীয় পর্ব বলেছি যেটাকে) আমেরিকান নেতৃত্ব যে আন্তঃরাষ্ট্রীয় পণ্য বাণিজ্য বিনিময় এর যাত্রা এতে ইতিবাচক দিকটা হল, আমাদের মত দেশ বিনিয়োগ পেয়ে পুরানা স্থবির অর্থনীতি সচল হয়েছিল। যদিও এই বিনিময়টাই ছিল অসম। তাই তৃতীয় পর্বে এসে এই অসাম্য অনেকটাই কমবে পুরাটা নির্মুল না হলেও। আর সবচেয়ে বড় কথা এখানে গরীবদেশকেই বড়লোকেরা সাহায্য করতে এসেছে তাই তারা দাতা এই ভাবনাটা ঢিলা হয়ে যাবে। এর জায়গা নিবে পার্টনার কনসেপ্ট। যেমন বাংলাদেশ একটা ভাল বিনিয়োগের জায়গা বলেই চিনা বিনিয়োগ গন্তব্য বাংলাদেশ! তাই বাংলাদেশে চীনের কাছেও তার জন্যও দরাকারি এক গুরুত্বপুর্ণ পার্টনার। এটাই একটা বিনিময়ের উভয় প্রান্তের রাষ্ট্রের লাভালাভ এর ধারণা – তাই এটা উইন-উইন! যে বিনিয়োগকারী রাষ্ট্র উইন-উইন দিকটা আমল না করবে সে ব্যবসা-সম্পর্ক হারাবে। এছাড়া শেয়ার্ড ভ্যালু চেন ধরনের এক নয়া উতপাদন ব্যবস্থা আসতেছে। এখানে সেসব দিক বিস্তার করলাম না।   আমাদের মূল প্রসঙ্গে ফিরে যাই।

    কিন্তু ইন্ডিয়া সেই তিমিরেঃ
    যেটা বলছিলাম ইন্ডিয়ান বুঝাবুঝিতে (একাদেমিক বা ব্যবহারিক রাষ্ট্র-সরকারে) সবখানে রাষ্ট্র তাদের কাছে কে কাকে কলোনিদখল করে আধিপত্য প্রভাবে রাখতে পারে এর বেশি কিছুই না। এটাই সেট করে দিয়ে যাওয়া নেহেরুয়ান রাষ্ট্র বুঝাবুঝি। এর সারকথা হল, রাষ্ট্র মানেই কে বুদ্ধি খাটিয়ে কার উপর আধিপত্য খাটাতে পারে যেন এই খেলা একটা। যেটা আসলে শাসক বলতে যদি আপনি বৃটিশ শাসক বুঝেন আর এটাই স্থায়ীভাবে শাসক সম্পর্কে ধারণা জ্ঞান করেন তাহলে যেখানে আপনি পৌছাবেন। কাজেই দুনিয়ার তাবত পরিবর্তনগুলো হচ্তেছে বা আসছে তাতে অন্যকোন দিকে তাকানো যাবে না বরং এতে অন্যরাষ্ট্রকে নিজ কলোনি বা আধিপত্যের ক্ষেত্র হিসাবে ব্যবহারের যেসব সুযোগ যদি দেখতে পাওয়া যায় তবে ঝাপায় পরে গ্রহণ করা -এটাই ইন্ডিয়ায় কংগ্রেস-বিজেপি নির্বিশেষে শাসক চিন্তা যা আসলে তাদের রাষ্ট্র-বোধ!  এটাই আসলে নেহেরুয়ান আধিপত্যকামী এক রাষ্ট্র-চিন্তা!  ইন্ডিয়া তাই সারা দুনিয়াতে না পারুক তার পড়শী এলাকায় এমন হেরুয়ান আধিপত্যকামী এক রাষ্ট্র-চিন্তা দিয়ে পরিচালিত হতে যায়। এটাই তার পররাষ্ট্রনীতি বা বোধ!
    অতএব বাংলাদেশ ইন্ডিয়ার চোখে আধিপত্য কায়েম করে একে নিয়ন্ত্রণ করার এক রাষ্ট্র মাত্র।
    তবে এই সুযোগটা সে পেয়েছিল ২০০৭ সালের আমেরিকা বাংলাদেশকে ইন্ডিয়ার হাতে তার আধিপত্যে আমাদেরকে সঁপে দিয়েছিল বলে। বিনিময়ে ইন্ডিয়া আমেরিকার  চীন ঠেকানী (অর্থনৈতিক উত্থান ঠকানী) হাতিয়ার হতে পারবে এই অনুমানে, এই চুক্তিতে। কিন্তু ধর্মের কল বাতাসে নড়ে!  মানে চীনের প্রভাব (যেটাতা চীনের ঋণ-বিনিয়োগদানের সক্ষমতা থেকে উতসারিত) এটা কমে যাওয়া বা আমেরিকার তা ঠেকিয়ে দেওয়া দূরে থাক কোনই ফয়দা আনে নাই।  বাংলাদেশে চীনা ঠেসে দেওয়া ঋণ-বিনিয়োগ এর বাস্তবতা ও চীনের সক্ষমতাই বলে দেয় আমেরিকার চিন্তা-আকাঙ্খা ছিল অবাস্তব!
    কাজেই বাংলাদেশের উপর ইন্ডিয়ার আধিপত্য খাটানোর কোন বাস্তব সুযোগ অনুপস্থিত!
    কিন্তু এসব বুঝাবুঝি ইন্ডিয়ার একাদেমিক, রাষ্ট্রীয় নীতি বা কূটনীতিক জ্ঞানের মধ্যে অনুপস্থিত।  নেহেরুয়ান রাষ্ট্র বুঝাবুঝি বা ১৯৪৫ সালের পরের দুনিয়াটা আসলে কী সেই বোধ না থাকার জন্য।

    কাজেই আমরা এখন ফিরে যাই বিবিসি যেটা লিখেছে ভারতের “…প্রেস বিবৃতির নিজ মনোভাব আকারে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে,  (বাংলাদেশে) ভারত একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ ও প্রগতিশীল, ইনক্লুসিভ বাংলাদেশকে সমর্থন করে”। আর এই বিবৃতিতে নাকি দুইটা নয়া শব্দ আছে গণতান্ত্রিক আর ইনক্লুসিভ।
    যার অর্থ আবার বিবিসি-ই বলে দিয়েছে সেটা হল মানুষের ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার সে দেশে ক্ষমতায় আসুক, আর দুই বা ইনক্লুসিভের অর্থ হল, – “সমাজজীবনে সংখ্যালঘুদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত” –  আর “রাজনীতিতে সব ধরনের শক্তিকে ঠাঁই দেওয়ার” মানে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে দেওয়া বুঝানো হয়েছে……।

    বাংলাদেশ কীভাবে চলবে সেটা কী ইন্ডিয়া ঠিক করে দিতে পারেঃ
    প্রথম প্রশ্ন হল, বাংলাদেশকে কী ইন্ডিয়ার কথা শুনে চলতে হবে? কেন? বাংলাদেশ কী ইন্ডিয়ার কলোনি?
    ইন্ডিয়া যদি বাংলাদেশের হিন্দুদের রক্ষাকর্তা হিসাবে নিজেকে হাজির করতে চায় তাহলে আমরাও কী ভারতের মুসলমানদের রক্ষাকর্তা হবো না কেন? মোদি সেটা মানবেন না কেন? সবার আগে মোদির ইন্ডিয়ার সবাইকে এর জবাব দিতে হবে।
    দুইঃ এটা বড়ই তামাসার যে ইন্ডিয়া এখন ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার চাইতেছে। কেন? তাহলে গত ১৬ বছর হাসিনা কীভাবে ক্ষমতায় ছিল? তখন কেন এমন শর্ত ইন্ডিয়ার মুখ থেকে বের হয় নাই? তার মানে ইন্ডিয়া আসলে ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার নয় হাসিনাকেই আবার যেকোন ভাবে ক্ষমতায় সরকারে দেখতে চাইছে।
    আসলে হাসিনা ও তার দল আগামি রাজনীতিতে বা নির্বাচনে অংশ নীতে পারবে কিনা সেটা ঠিক হবে আমাদের আদালতে! তাদের উপর যে গুম-খুন, অপহরণের মামলা আছে সেই মামলার রায়ের দ্বারা এটা নির্ধারিত হবে। আর এনিয়ে ইন্ডিয়ার কোন কিছু দাবি করার কোন সুযোগ স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে নাই।
    অথচ বিনা সিক্রি যার জীবিনটা কেটেছে একজন পেশাদার কূটনীতিক হিসাবে তিনি এসব দাবি করছেন। যেন তিনি কূটনীতিক নয় এক দাইনি বুড়ির পরিচয় পেতে চাইছেন!!!

    যেমন শর্ত দিচ্ছেন আমরা পাকিস্তানের সাথে কেমন কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখব। বলছেন, “বাংলাদেশের মাটিকে পাকিস্তান যে কোনওভাবে ভারতের নিরাপত্তা স্বার্থের বিরুদ্ধে বা সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে ব্যবহার করবে না, সেটা নিয়ে শতকরা একশোভাগ নিশ্চিত হতে পারলে তবেই ভারত এই সম্পর্ক নিয়ে এগোতে পারবে”, বলেন ভিনা সিক্রি।  এখন তামাসাটা হল, মোদির ইন্ডিয়া ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক করেছে। এখন বিনা সিক্রির মত আমরা কী ভারতকে ইসরায়েল নিয়ে বলতে গিয়েছি? নাকি বিনা চাচ্ছেন আমরাও ইসরায়্বেল নিয়ে আমরাও মোদিকে পাল্টা শর্ত দেই???
    আবার বিবিসি লিখছে, “…ভিনা সিক্রির কথায়, “যত দ্রুত সম্ভব সে দেশে নির্বাচন আয়োজনের ওপর ভারত জোর দেবে। শুধু তাই নয়, সে নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হতে হবে, এবং তাতে সব দল ও মতাবলম্বীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।”
    আমরা নির্বাচন দ্রুত না দেরিতে করব এনিয়ে বিনা বলার কে? আর সব দল বলতে আমাদের আদালত হাসিনা ও লীগকে বাইরে রাখে কিনা তা ঠিক করবে সেখানে বিনা কথা বলার কে?

    আসলে যেকথা বলছিলাম, ১৯৪৫ সাল পরবর্তী রাষ্ট্র ধারণাটা কোনদিকে গিয়েছে এনিয়ে সারা ইন্ডিয়াতেই বুঝাবুঝি নাই।  তাই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে বিনা সিক্রি কী দাবি করতে পারেন না সেই লাগাম-বোধও তাদের গড়ে উঠে নাই। কাজেই বিনা সিক্রি আপনি পরে আসেন……।

    ইন্ডিয়ান হেজিমনি বা আধিপত্য উচ্ছেদই হবে বাংলাদেশে আগামি রাজনীতির মূল বৈশিষ্ট! এটা হতেই হবে তা আমরা আরো নিশ্চিত হলাম!!!
    আর এমন হলে, মানে ইন্ডিয়া যদি আধিপত্যশীল এক কলোনি-মালিক যেন এমন থাকতেই চায় তবে,   ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক সহজ স্বাভাবিক হবার হবার দরকার কী, সুযোগই বা কৈ? যেখানে সহজ স্বাভাবিক সম্পর্ক মানেই হল ইন্ডিয়ান আধিপত্য! এর কী আমাদের দরকার আছে?

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  সন্ধ্যা  ০৭ঃ ২৫   ১০  জানুয়ারি ২০২৫

  • জ্যাক সুলিভান এর ভারত সফর; আমাদের শঙ্কা, কানও খাড়া

    জ্যাক সুলিভান এর ভারত সফর; আমাদের শঙ্কা, কানও খাড়া
    গৌতম দাস
    ০৬ জানুয়ারি ২০২৫     সকাল ১১ঃ ৪৮
    https://wp.me/p1sCvy-69K

    Sullivan & Doval

     

    জ্যাক সুলিভান [Jake Sullivan] , চলতি বাইডেন প্রশাসনের ন্যাশনাল সিকিউরিটি এডভাইজার [NSA]; যারা আর দুসপ্তাহ ক্ষমতায় আছেন।
    সুলিভান বর্তমানে ইন্ডিয়া সফরে আছেন তার ৫-৬ জানুয়ারি ২০২৫ সফর কর্মসুচিতে। প্রশ্ন উঠেছে ক্ষমতা ছাড়ার মাত্র দুসপ্তাহ আগে কেন তিনি ইন্ডিয়া সফরে?

    আমাদের শঙ্কা, কানও খাড়াঃ 
    ইন্ডিয়া-আমেরিকার যে কোন ছোট বা বড় মাখামাখিতে তা সবচেয়ে রুটিন কোন সফর হলেও বাংলাদেশে আমরা কান খাড়া রাখি! আপনাতেই!  কারণ গত ১৬ বছর আমাদেরকে অত্যাচার নির্যাতন, স্বার্থ-অর্থ লুট, বাজার দখল, বিনা পয়সার করিডোর, জঙ্গি নাটক সাজানো; এমনকি বাংলাদেশ রাষ্ট্র বলতে কার্যত যেসব প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রের প্রতীক এমন সেনাসহ সব ধরনের প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি কী নাই যা ইন্ডিয়া ধ্বংস করে দেয় নাই – এসব আমরা দেখেছি। আর ইন্ডিয়া তা করে যেতে পেরেছে কারণ আমেরিকা বাংলাদেশকে ভারতের হাতে তুলে দিয়েছিল এককালে, সেই ২০০৭ সাল থেকে। যদিও এতে পরে ভাটা পরেছে আমেরিকার দিক থেকে, ২০১৬ সালের পর থেকে; মানে, এতে ইন্ডিয়ান আগ্রাসী-পনা কমিয়েছে  হয়ত, যদিও ট্রাম্পের আগের আমলে তা ছেড়ে দেয় নাই। মূল আধিপত্য ইন্ডিয়া কখনও বাংলাদেশের উপর থেকে সরে নাই।  এমনকি ট্রাম্পের পরে বাইডেন প্রশাসন এসে ভাব ধরেছিল তিন বছর ধরে যেন সে হাসিনার ফ্যাসিজম ভাঙতেই স্যাংশন-মানবাধিকারের অস্ত্র ব্যবহার করতেই এসেছে। মানে যাতে এর ফলে বাংলাদেশের মানুষেরা একটা নুন্যতম রাজনৈতিক অধিকার পায়, আমাদের বিরোধীদল রাজনীতির মাঠে বের হতে পারে। আর এই তিন বছর হাসিনা যতটা পারে নিজের ফ্যাসিজমে অটুট থাকার চেষ্টা করে গেছে ইন্ডিয়ার নিরন্তর সমর্থন -সহায়তায়। আর সেই সাথে প্রায় এই তিন বছর (২০২১-২৩) ইন্ডিয়া এই বলে বাইডেন প্রশাসনের কানভাড়ি করে গেছে যে আগের মতই ইন্ডিয়ার মাথায় আমেরিকান হাত থাকলে বিনিময়ে হাসিনা এবার আরও ভালভাবে আমেরিকাকে সেবা দিবে!
    কিন্তু হায়! শেষে তাতেও বাইডেনের আমেরিকা প্রতারণা করেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে  ল্যু-বাইডেন চক্রের নাম ইতিহাসে প্রতারক চক্র হিসাবেই লেখা হয়ে গেছে। মধ্য ২০২৩ সাল থেকে ইন্ডিয়া- ল্যু-বাইডেন চক্র আবার সঙ্গোপনে একজোট ও সক্রিয় হয়, একেবারে ভাই-ভাই!  তাতে হাসিনাকে ক্ষমতাসীন করতে ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচন করতেও সহায়তার এক নয়া ডালি খুলে বসেছিল এই চক্র।

    সব থিওলজিক্যাল “কিতাব” সেখানে  দাজ্জাল বা অনুরূপ দানবের উত্থান ও পরিণতির বর্ণনা আছে যা আসলে দুনিয়ার সাধারণ বা আম-মানুষযারা সারা জীবনে এতশত নির্যাতনের পরেও আত্মহত্যা না করে কষ্ট সহ্য করে হলেও বেঁচে থাকে – কেন? কারণ তাঁদের বাঁচার সাহস ও অনুপ্রেরণা যোগানদার হল এসব দাজ্জালের গল্পকথা! এটাই সাহস যুগিয়ে গেছে সারা জীবন! আর এসব কথার মূল ধারণাটা হল, একদিন না একদিন ডিভাইন-বিচারের দিন আসবে –  অথবা এই দুনিয়াতেই হয়ত আল্লাহ বিচার করে দিবেন; সব দাজ্জাল বা হাসিনার ফ্যাসিজম পরিণতির দিনে পৌছাবে তাতে  – দুনিয়ায় যত অত্যাচারই আসুক এই আশার আলো জাগিয়ে রেখে গেছে এসব মেটাফোরিক্যাল গল্পকথা!  একারণে, এসব সব থিওলজি-কেই বুকভরা শ্রদ্ধা ও সালাম জানাই!

    আর তাতে আমরা সেসময় দেখলাম হাসিনা ৭ জানুয়ারি ইলেকশন ক্য্যারিকেচার করে ফেলেছে  আর সাথে বাইডেনও নির্লজ্জ পল্টি মেরে সেই হাসিনার সাথেই তারা একসাথে কাজ করবে বলে চিঠি পাঠিয়েছিল পিটার হাসের হাত দিয়ে। কিন্তু হায় হায়! দাজ্জাল বা  ভণ্ড মসিহ সাজে যে চরিত্র – এদের দিন ফুরিয়ে এলে বা  হয়ে গেলে কোনকিছুই তা ঠেকাতে পারে না! তাই হাসিনা পলাতক ফ্যাসিস্ট হয়ে যান! আর বাইডেন মুখ লুকিয়েছিল!  আর ইন্ডিয়া????
    সেই থেকে আজও মোদির ইন্ডিয়া পাগলপ্রায় অবস্থায়! কোনকিছুই মানতে পারছে না! ইউনুস এই নাম বা এই সরকার এখন সারা ইন্ডিয়াতে একটা ত্রাস; একটা শত্রু বা এনিমির নাম হয়ে দাড়িয়েছে! আসলে এখানে ইউনুস মানে কি?

    আসলে এখানে ইউনুস মানে কি?
    এখানে ইউনুস মানে হল  যে এক দাজ্জাল প্রতিরোধের প্রতীক; এই দাজ্জাল প্রতিরোধকারী আমরা বাংলাদেশ; এখানে যাদের প্রতীকী নাম হল ইউনুস!!  ইন্ডিয়ান আধিপত্যের বিরুদ্ধে  মানে এই দাজ্জালের বিরুদ্ধে আমাদের সম্মিলিত উঠে দাঁড়ানো আমরা বাংলাদেশের আম-জনগণ! মোদির ইন্ডিয়া – বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের কাহিনী বলে বলে এখন ক্লান্ত; মিথ্যা বাঘ আসছে এই গল্প বলা রাখাল বালক হল মোদি! তিনি হিন্দু নির্যাতনের বানানো কাহিনী  দুনিয়াকে বিশ্বাস করাতে পারেন নাই; আবার ওদিকে চিন্ময়-ইসকন এখন খুনের আসামি হয়ে জেলে! আর এদিকে চিন্ময়ের সাগরেদ যারা আমাদেরকে চিন্ময়ের সাথে তাঁর অস্বস্তিকর মেলামেশা-গলাগলি দেখিয়েছিল – তা ইতিহাস হয়ে থাকবে! কেউ ছাড়া পাবে না! ফলে এই  মোদির-ইন্ডিয়া এখন একেবারেই অসহায়; সবগুলো চালই তাদের ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে ইন্ডিয়ান মিডিয়ার চোখে, বাংলাদেশে তাদের চোখে একনম্বর ভিলেন হল ইউনুস এই নামটা!  যেমন ধরেন বাংলাদেশ থেকে ৫০ জন জেলা জজ পর্যায়ের ব্যক্তি (সম্ভবত এটা ছিল সেকেন্ড ব্যাচ। হাসিনার আমলে, গত ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ইন্ডিয়ার প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড় এর বাংলাদেশ সফর থেকে এর শুরু। বাংলাদেশের বিচারকদেরকে সফরের লোভ দেখিয়ে হিন্দুত্ববাদ-বয়ানের পক্ষে মস্তক ধোলাই এর এক কর্মসুচি ছিল এটা); এদের ইন্ডিয়া সফরে যাওয়া প্রায় ফাইনাল ছিল কিন্তু তা গতকাল বাতিল করা হয়েছে।  তাই এই ক্ষোভে কলকাতার আনন্দবাজারের শিরোনাম দেখেন, “ভারতের খরচেই ভারতে এসে প্রশিক্ষণের কথা ছিল বাংলাদেশি বিচারকদের, আটকাল ইউনূস সরকার”। মানে ইউনুস এই নামটাই ইন্ডিয়ার কাছে এখন এক ত্রাসের নাম; যা সবকিছু আটকে দেয়!!!  মানে ইন্ডিয়ান আধিপত্য রুখে দিবার এক কর্তা এমন নাম-বাচক শব্দ এটা!

    এমন পরিস্থিতিতে  জ্যাক সুলিভান ইন্ডিয়া সফরেঃ
    এমন পরিস্থিতি বলতে – এর মানে কী? এর অর্থ এখানে বুঝতে হবে মোদির ভারত যখন ভাটিতে চলছে বা পশ্চাদ-অপসারণে। যেমন ধরেন, এবার তাদের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি বাংলাদেশ সফরে আসার মূল পরিকল্পনাটা ছিল বাংলাদেশকে ভয় দেখিয়ে কব্জা করার শেষ চেষ্টা। কারণ, গুম-খুন-আয়নাঘর কান্ডে শুধু হাসিনা না সাথে মোদি-ইন্ডিয়াও জড়িত এই প্রমাণ সংগৃহিত হয়ে গেছে। এবং সেই প্রাথমিক রিপোর্ট ইউনুস সরকারের কাছেও আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর করা হয়ে গেছে যা মিডিয়া রিপোর্টও এভেলএবল! ফলে অনুমান করা যায় সেসব দলিল এখন জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের অফিসের দিকে রওনা হবে বা দৌড়াচ্ছে!!!! যেখানে এমনকি বিএনপির নেতা যারা অপহরণ-গুম হয়েছিল তাদেরকেও মোদির র-বাহিনী ম্যানেজ করে ফেলেছে।  বা তারাই এখন বিএনপিতে র-এর স্বার্থ-ইচ্ছার ক্যারিয়ার!  ফলে এটা মোদি-ইন্ডিয়ার জন্য এক বিরাট কেলেঙ্কারির ঘটনা হিসাবে আসতেছে! আর এর সাথে আরও ছিল ২০০৯ সালের বিডিআর হত্যাকান্ড নয়া তদন্ত কমিশন। এদুটাই যেন বাংলাদেশ খাতা-বন্ধ করে রাখে মুলত এনিয়েই আবদার বা দরকষাকষি করতে এসেছিলেন বিক্রম মিশ্রি! কিন্তু শেষ পর্যন্ত মিশ্রির সফর-উত্তর বাংলাদেশ এসব দালালি-প্রলোভন বা ভয় দেখানি অতিক্রম করে গেছে!!!  নিজেদের সংহত করে ফেলেছে যার সোজা মানে ইন্ডিয়ান হেজমনি-বিরোধীরা এখন আবার ফিরে সংহত হয়ে গেছে। ফলে ইন্ডিয়ার চোখে সবকিছু নষ্টের গোড়া এখন একটাই নাম ইউনুস সরকার!!

    তাহলে আবার সেই পুরানা প্রশ্ন, তাহলে জ্যাক সুলিভান ইন্ডিয়া সফরের অর্থ – আমাদের জন্য এর অর্থ কী? কোন বিপদের কী?
    একটা ক্লু দিয়ে শুরু করি। সুলিভানের এবারের ইন্ডিয়া সফরে র সাথে তিনি বাংলাদেশও ঘুরতে আসেন নাই; এমন সিডিউল-পরিকল্পনাও নাই; যেটা এর আগে ল্যু-বাইডেন জমানার এর তিন বছরে বেশিরভাগ সময় ঘটেছে। এর বদলে এখন বরং আলাদা করে ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ মানে দুসপ্তাহ আগেই ইউনূসের সঙ্গে সুলিভানের ফোনালাপ হয়েছে একটা। এটা সিগনাল দেয় যে আমেরিকার ইন্ডিয়ান ডেস্ক বা  এর কায়-কারবার কার্যতই বাংলাদেশ ডেস্ক থেকে আলাদা। নাইলে আমরা দেখতাম ইন্ডিয়া থেকে সুলেভান বাংলাদেশও ঘুরে যাচ্ছেন।

    এছাড়া আরেকটা কড়া কথা বলব। গত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ইউনুসের (জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বার্ষিক বক্তৃতার সফর এর সুযোগে) প্রথম এবং মুখ্যত ইউনুস সরকারের নীতি (আমেরিকা প্রসঙ্গে নীতি কী) তা মুখোমুখি বসে আলাপ করার সুযোগ পেয়েছিল আমেরিকা!
    কোন আমেরিকা????

    এই প্রশ্নটা গুরুত্বপুর্ণ! যেই ল্যু-বাইডেনের আমেরিকা গত  ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ সালের হাসিনার সাথে একসাথে কাজ করবে বলে লিখিত চিঠি দিয়েছিল। আর সেই হাসিনা মানে বাইডেনের পার্টনার হাসিনা সরকারকে  বাংলাদেশের মানুষ উতখাত করে দিয়েছিল বাইডেনের ঐ খায়েসের চারমাসের মধ্যেই!!! মানে প্রথমত আমেরিকান ইন্টেলিজেন্স সব ভুয়া, কাগুজে বাঘ মাত্র! আর এটাই প্রমাণিত হয়েছিল! আর সবচেয়ে বড় কথা এরপরেও আমরা –  ইউনুস সাবকে আমেরিকা পাঠিয়েছি। বাইডেনকে তিনি বলেছেন আর পিছনে না,  সামনের দিকে তাকিয়ে হাঁটতে!!! শুধু তাই না, দেখেন ল্যু-বাইডেনের ইন্দো-প্যাসিফিক পলিসি কেউ খাইলো না। সেটা এখন মৃত! আর বিপরীতে আমরা এর চেয়েও এক বাস্তব প্রস্তাব,  বাংলাদেশ-আমেরিকার উভয়ের স্বার্থ আছে এমন পলিসির প্রস্তাব আমরাই বাইডেনকে জানিয়েছি। সাথে এটাও যেখানে লুকানো নয় যে চীনের সাথে আমাদের ঋণ-বাণিজ্য এবং সস্তায় অস্ত্রদাতা ইত্যাদি সব সম্পর্কও চলবে! যা নিয়ে আমেরিকার ভয় পাবার কিছুই নাই। আমরা আমেরিকান (FDI) প্রাইভেট বিনিয়োগও ওয়েলকাম করব!
    এসব কারণে, আমার দৃঢ় বিশ্বাস আমেরিকা যদি আরেকবার বেকুব হতে না চায় তবে আমেরিকা (যে প্রশাসনেরই হোক) বাংলাদেশ প্রশ্নে ইন্ডিয়াকে দূরে রাখবে! ইন্ডিয়া-আমেরিকা সম্পর্ক যেমন-ই থাক বা না থাক এর ভিতর বাংলাদেশ কোন প্রসঙ্গ হবে না,  আসবে না – এই নীতি-বৈশিষ্ট বজায় রাখবে; এই সীমারেখা মেনে চলবে!
    তাহলে এটাও এখানে বলে রাখা যায় যে আমেরিকা যদি এই – বাংলাদেশকে আলাদা রাখার নীতি-বৈশিষ্ট – মেনে না চলে তবে স্বভাবতই আমরা সারা বাংলাদেশ সরাসরি এন্টি-আমেরিকানও হয়ে যাব!! কোন আমেরিকা? যে আমেরিকা আমাদেরকে ভারতের হাতে তুলে দিয়েছিল ২০০৭ সালে! আমাদেরকে ভারতের করদ রাজ্যে পরিণত করা হয়েছিল তখন থেকে! ইউনুস সরকার গত চার মাসে এই প্রসঙ্গ কখনও বাঁকা-কথা বা রেফারেন্স হিসাবে আনে নাই। কেবল ইন্ডিয়ার আধিপত্যের বিরোধ করে গেছি আমরা ইউনুস সরকারের মাধ্যমে! কিন্তু এবারও আমেরিকা সোজা না হলে, আত্মঘাতি হলে আমরা সরাসরি আমেরিকাবিরোধী দেশ-সরকার হয়ে যাব। সবচেয়ে বড় কথা (আর কোন ভারসাম্য নয়) আমরা সেক্ষেত্রে প্রকাশ্যেই চীনের কোলে গিয়ে উঠবে এমন বাংলাদেশ হব হয়ত! আর এর সম্পুর্ণ দায়দায়িত্ব বর্তাবে আমেরিকার উপর; যা সবাই খোলা চোখেই দেখতে পাবে!!!

    এবার শেষাংশ, এটা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপুর্ণঃ
    আমি মনে করি উপরে যা যা বললাম এসব কারণে সুলিভান এই ইন্ডিয়া সফরে (ফাঁকে-ফোকরেও) বাংলাদেশ প্রসঙ্গ আনবেন না।
    এছাড়া ইতোমধ্যেই সুলেভানের এই সফরের মুল কারণ যা সব প্রধান এজেন্সি মিডিয়াতেই ছাপা হয়েছে বিশেষত রয়টার্স সেখানে সোজা আমেরিকান প্রশাসনের রেফারেন্স দিয়ে বলা হয়েছে এই সফর মূলত [about the impact of Chinese dams,] নদীতে বাঁধ ও বিদ্যুৎ প্রকল্প যেটা চীন নিয়েছে – সে প্রসঙ্গে ভারতের আপত্তিওগুলো কী তা নিয়ে নীতিগত অবস্থানের নৈকট্য কী করা যায় তা নিয়ে।
    এখন আরেকটু ভেঙ্গে বলি। আমাদের দেশে যেটা মূল ব্রহ্মপুত্র নদ নামে পরিচিত [চীনের তিব্বতে ইয়ারলুং জাংবো নদ এটাই ভারত-বাংলাদেশে যার পরিচিতি  ব্রহ্মপুত্র নামে] যা ভারতের আসাম হয়ে কুড়িগ্রাম-ময়মনসিংহ দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে। এই নদী মূলত চীনের মেকং অঞ্চল থেকে শুরু হয়ে চীনের তিব্বত থেকেই ইন্ডিয়ায় (আসামে) প্রবেশ করেছে। পরে আসাম হয়ে বাংলাদেশে। বাংলাদেশে এসে আমরা এটাকে ব্রহ্মপুত্র বলি!  চীন উজানে এই নদিতে নানান জায়গায় বাধ ও জলবিদ্যুত প্রকল্প করেছে। আমেরিকা ভারতের উপর এর প্রতিক্রিয়া প্রভাব নিয়ে কথা বলতে এসেছে […… about the impact of Chinese dams,]...।
    তবে এটা ঠিক নদীর পানি নিয়ে মারামারি নয়; আমেরিকা বুদ্ধিমানের মত এটাকে  পরিবেশ ইস্যু হিসাবে তুলতে চায়। নিচে সুলিভানের ইন্ডিয়া সফর কেন তা নিয়ে আমেরিকান প্রশাসনের মূল বক্তব্যটা কি দিয়েছে তা তুলে দিলাম। এটা রয়টার্স থেকে নেয়া। বাকি সব মিডিয়ার বক্তব্যের সারকথাও এইটাইঃ

    “We’ve certainly seen in many places in the Indo-Pacific that upstream dams that the Chinese have created, including in the Mekong region, can have really potentially damaging environmental but also climate impacts on downstream countries,” a senior U.S. official said ahead of Sullivan’s visit.

    তাহলে সারাংশে বললে, সুলেভানের সফরে বাংলাদেশ কোন প্রসঙ্গই নয়।  এই বিচারে তা নিশ্চিত করেই বলা যায়।
    আর নিশ্চিত করেই আমেরিকান প্রশাসন জানিয়েছে, আলোচনার টপিক হল (civilian nuclear cooperation, artificial intelligence, space, military licensing and Chinese economic overcapacity)এগুলা। অর্থাৎ যার কোনটাই বাংলাদেশ সম্পর্কিত নয়। যদিওও ভারতের কিছু প্রপাগান্ডা মিডিয়া ভয় দেখানো সুত্রহীন রিপোর্ট ছেপেছে।

    Washington also expects that topics such as civilian nuclear cooperation, artificial intelligence, space, military licensing and Chinese economic overcapacity will be brought up in the visit, the U.S. official said

     

    কিন্তু একটা নতুন সুবিধার দুয়ার উন্মোচিতঃ
    ইন্ডিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালোয়ের মুখপাত্র এখন এক রণধীর জয়সোয়াল! [এই অংশটার জন্য দুটো মিডিয়া রিপোর্ট পাঠকের ভাল কাজে লাগবে। একটা হল ভারতের Mint-Livemint আর আরেকটা হল আমাদের ইত্তেফাক। লিঙ্ক সাথে দিয়ে দিলাম। কারণ জয়সোয়ালের মন্তব্য এখানে ভাল কাভার করেছে এরা।  ]
    গত চারমাস তাঁকে আমরা দেখেছি কেবল – বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন চলছে – এনিয়ে কথা বলতে। কিন্তু এবার সুলেভানির সফর নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি নিজে ও ইন্ডিয়ার জন্য এক বিপদ ডেকে এনেছেন।
    কমন নদীর পানিতে ভাটির দেশের সমান অধিকার থাকে। এটাই আন্তর্জাতিক আইন। যে বোধটা এতদিন বাংলাদেশে উপেক্ষিত, সব শাসকের কাছেই।  এই প্রথম বহু কাঠখর পুড়িয়ে ইউনুসের মুখ দিয়ে সামএ আনা গেছে ফেনীতে এবারের বণ্য বা ইন্ডিয়ার বাধ খুলে দেয়া কে কেন্দ্র করে।

    মজার কথা হল, সুলিভানের সফরে চীন-ভারত কমন নদীর পানি ইস্যুতে এই জয়সোয়াল দাবি করেছেন যে তিনি জানেন, যে ভাটির দেশের (মানে ইন্ডিয়ার) এক্ষেত্রে সমান অধিকার আছে।

    রণধীর জয়সোয়াল বলেন, অভিন্ন নদীর ক্ষেত্রে ভাটির দেশেরও কিছু অধিকার আছে। রাজনৈতিক ও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে সেই অধিকারের কথা বারবার জানানো হয়েছে। সেই অধিকার ও স্বার্থের বিষয়ে ভারতের পর্যবেক্ষণ জারি আছে। সরকার সেইমতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও গ্রহণ করবে।

    তাহলে এটা কী আমাদের জন্যও সুযোগ না যে ঠিক একই কারণে আমাদের সাথে ভারতের ৫৪ নদীর পানির হিস্যায় আমাদেরও ভাটির দেশ হিসাবে ইন্ডিয়ার সাথে সমান অধিকার আছে। -এবং এটা তো জয়সোয়াল জানেনই -! সুতরাই নদীর পানি ইস্যুতে আমাদের সমান ও ন্যায্য ভাগীদারির কথাটা এখন আমরা সহজেই তুলতে পারার রাস্তা উন্মোচিত হচ্ছে সেটা এখানে দেখতে পাওয়াটা জরুরি!
    ফলে সে অনুযায়ী আমাদের ফরেন অফিস তার কাজ ও নীতি সামলানো এখন ফরজ!
    এই মাজা ভাঙ্গা উপদেষ্টা যদি এখানে পারফরমেন্স দেখাতে না পারেন তবে তাকে বদলানোর দায়ীত্ব ইউনুস সাহেবের। পাবলিক তৌহিদ সাহেব চিনে না। আমরা একাজে ততপর ফরেন অফিস না দেখতে পেলে কিন্তু আমরা ইউনুস সাহেবকেই দায়ী করব! কাজেই আমাদেরকে এই ইস্যুতে এখনই পদক্ষেপ দেখানোর উপর নির্ভর করছে ইউনুস সরকারের সার্থকতা!!! নাইলে এটা একটা খামোখা সরকার হয়ে দাঁড়াবে!!!

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  বিকাল ০৪ঃ ৩৫    ০৬ জানুয়ারি ২০২৫

     

     

     

     

     

     

     

     

     

     

  • যেকোন রাষ্ট্রদ্রোহী বিবৃতির জবাবঃ এরদোয়ান-একশনঃ হয় মারো নয়ত মরো! 

    যেকোন রাষ্ট্রদ্রোহী বিবৃতির জবাব, এরদোয়ান-একশনঃ হয় মারো নয়ত মরো!
    গৌতম দাস
    ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪  সকাল ০৭ঃ ৫৪
    https://wp.me/p1sCvy-68N

     

     

    তুরস্কে গুলেন পার্টির ব্যর্থ ক্যু – এর পরে এরদোয়ানের একশন; সরকারী এডমিন কর্তা সহ মিলিটারি, বিচার বিভাগ এবং অন্যান্যা ছুটকা…. গ্রেফতার ও বিচার

    বাংলাদেশে গত ২৭ জুলাই বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যসোসিয়েশেনের এক বিবৃতি ছাপা হয়েছে। সোজা বাংলায়, এতে জুলাই-আগষ্টের আন্দোলনকে  লেখা হয়েছে, ছাত্র-জনতার জুলাই-আগষ্ট্রের আন্দোলন হল রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকান্ড। এককথায় এটা ইউনুস সরকারের ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করা। তাহলে এখন!!!!
    এই বিবৃতিতে আসলে আগষ্ট অভ্যুত্থানের আপামর ছাত্র-জনতাকেই রাষ্ট্রদ্রোহি বলেছে, চ্যালেঞ্জ করেছে! একদল সরকারী কর্মচারি হয়ে পাবলিকের অর্থে বেতন নিয়ে পাবলিককেই হুমকি দিচ্ছে!!! 

    গত ২০১৬ সালে জুলাই এরদোয়ানের তুরস্কে গুলেন পার্টিদের (ওবামা প্রশাসনের প্ররোচনায়) এক ব্যর্থ ক্যু ঘটেছিল। সেই ক্যু সামলে নিয়ে ও একে ব্যর্থ করে দেওয়ার পরে জুলাই-নভেম্বর এরদোয়ান যে একশনে গেছিলেন তাতে ১৫,০০০ এডিমিন স্টাফকে তিনি ছাটাই করে দিছিলেন। নিচে টাইম ম্যাগাজিনে সেই সংক্রান্ত নিউজে দেখেন,

    Here’s a Time Line of the Insane Number of People Turkey’s President Has Fired Since July 15

    আর ঐ রিপোর্টের প্রথম লাইন লেখেছিলঃ Turkey fired 15,000 state employees, including soldiers, police officers, tax inspectors, and midwives in the latest round of purges since the failed coup of July 15.

    আর এরদোয়ান তা করেছিলেন স্রেফ দুটা ডিক্রি বা অধ্যাদেশ জারি করে। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এনিয়ে লিখেছিলঃ  এনিয়ে সবর্সাকুল্যে সোয়া লাখ সরকারী এডমিন কর্তা সহ মিলিটারি, বিচার বিভাগ এবং অন্যান্যা ছুটকা সব মিলিয়ে শেষে মোট সোয়া লাখ রাষ্ট্রবিরোধী দালালের বিরুদ্ধে এজকশনে গিয়েছিলেন  এরদোয়ান। [he dismissals, announced in two decrees, bring to more than 125,000 the number of people sacked or suspended in the military, civil service, judiciary and elsewhere since July’s coup attempt. About 36,000 have been jailed pending trial in the crackdown condemned by Western allies and rights groups.] যাদের মধ্যে ৩৬ হাজার এখনও বিচারাধীন।

    রাষ্টক্ষমতা কী সেটা আগে বুঝেন। একই কথা বারবার বলতে বিরক্ত লাগে কিন্তু কী করব! আমাদের এমম্নই কপাল প্রাক্তন এনজিও কর্তারাই বাংলাদেশে নিজেদেরকে স পারে সব বুঝে এমন বিশাল ক্ষমতা বুঝা লোক হিসাবে হাজির হয়ে যায়। এদের ধারণা রাষ্ট্র মানে পাবলিককে সেবা দেওয়া সস্তায় ইলিশ মাছ খাওয়ানো।  রাষ্টড় পাবলিক সেবা দেয় অবশ্যই। কিন্তু সেটা করতে রাষ্ট্রের অধীনে চার-পাচটা শহরে মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনই যথেষ্ট। ক্কিন্তু রাষ্টড় মানে মেয়রগিরি না। এটা আর কয়বার আমাকে স্মরণ করাতে হব্বএ জানি না।

    ক্ষমতা মানে সোজা বাংলায় মার-ধর। আপনার রাষ্ট্রক্ষমতার এনিমি যে তাকে আপনি চিনেনই না;  আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন সে আপনাকে মারবে উতখাত করবে। কাজেই জনগণকে বাঁচাতে যদি ক্ষমতায় থাকতে চান তবে আপনাকেই সবার আগে রাষ্ট্রের শত্রু পড়শি দেশের দালালদেরকে উতখাত করতে হবেই। যদি আপনি এখানে শুশীল থাকেন, উদার বা লিবারেল-গিরি মারাতে যান তাহলে আপনি ক্ষমতায় থাকার অযোগ্য, নিকৃষ্ট কোন প্রাণী!   এক কথায় ক্ষমতার সাথে শুশীল, উদার বা লিবারেল-গিরির সম্পর্ক নাই শুধু নাই, ক্ষমতা মানে ঠিক এর উলটা! ক্ষমতা খুবই নির্মম নৃশংস কিছুই করার নাই। হয় আপনি মারবেই নাহলে ওদের (শত্রুদের) হাতে মরবেন! এখন চয়েজ আপনার! এতে কোন মাফ নাই; একটা পক্ষে আপনাকে যেতেই হবে!

    এরদোয়ান ক্ষমতা রক্ষার কাজটা ঠিক ঠিকভাবেই বুঝেছিলেন। কিন্তু আমরা ?????

    ইউনুস সাহেব, আমাদেরকে দয়া করেন, মাফ করেন! একটা পক্ষ নেন। কারণ আপনি এখন প্রধান ক্ষমতায়!
    জনগণের স্বার্থের মূল ধারক প্রতিষ্ঠানটাই হচ্ছে রাষ্ট্র ও এই রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতায় যিনি আছেন। অর্থাৎ যেটা এখন আপনি। এখন এতে এই বুড়া বয়সে আপনার যদি নির্মম নৃশংসতা ভাল না লাগে তাহলে একটা কেবল ছোট কাজ আছে। কাউকে, ধরেন সেনাপ্রধান বা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এমন কাউকে রাষ্ট্রক্ষমতাকে রক্ষার কাজটা আপনার পক্ষ থেকে অফিসিয়ালি এসাইন করে দেন। আর নিয়মিত ফলাফল কতটুকু হল গেল কেবল সেটুকুর নিয়মিত রিপোর্ট নেন। আর নইলে শেষ উপায় হল, আপনি প্রধান নির্বাহী মানে  প্রধান উপদেষ্টা পদ থেকে সরে আসেন। প্রেসিডেন্ট হতে চাইলে হন। অথবা শুভানুধ্যায়ী হয়ে বাসায় রেষ্ট করেন। কিন্তু দয়া করে বাংলাদেশ রাষ্ট্রক্ষমতাটাকে হাসিনা-মোদির পায়ের নিচে রেখে দিয়েন না।

    পাঠক নিশ্চিয় বুঝতে পারছেন আমি কী বলছি। সরকারী কর্মচারীরা তাদের   এর আগে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যসোসিয়েশেনের বিবৃতি ছাপা হয়েছে। এখন  আপনি ইউনুস সাহেব কী এটা জেনেছেন? 

    অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যসোসিয়েশেনের বিবৃতি

    এটা কোন সরকারী কর্মচারীদের বিবৃতি মনে হয় নাই। মনে হয়েছে এরাই রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী পদের কেউ, মানে প্রধানমন্ত্রী! এমনকি হাসিনা-মোদির যৌথ বিবৃতিও মনে হয়েছে সময়ে!  খোদ বাংলাদেশে যেন তাদের মানি ব্যাগের সম্পত্তি! কিংবা চাকর-বাকর!  ইচ্চছে করলেই যাদেরকে তারা ধমকাতে পারে।  বিবৃতির শুরুটা দেখেনঃ

    কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড,………।।

    মানে কী দাঁড়ালো? ছাত্র-জনতার জুলাই-আগষ্ট্রের আন্দোলন হল রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকান্ড?????  ৫ আগষ্টের হাসিনার পলায়ন ও ৮ আগষ্টে নতুন সরকার গঠনও তো তাহলে মারাত্মক রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড? এমনকি আপনি ইউনুস সাহেব তাহলে  আপনিও সবচেয়ে বেশি অপরাধী কারণ আপনি হাসিনা উতখাত পরবর্তি প্রধান উপদেষ্টা!!!!

    এখন জানতে চাই এই বিবৃতি কী আপনি এখনও দেখেছেন? কোন পদক্ষেপ নিয়েছেন? নাকি যমুনা ভবনে খুন হয়ে যাবার জন্য অপেক্ষা করছেন!!!!!!  রাষ্ট্রক্ষমতার শত্রুদের আগে মারতে হয়, নয়ত নিজে মরতে হয়। সবকিছু শেষ হয়ে যাবার আগে – ক্ষমতা কী – সেটা একটু বুঝেন অন্তত!! নিজেকে রক্ষা করার স্বার্থে!

    এরা  চাকরিরত অবস্থায় অফিসের কাজ ফেলে প্রকাশ্য সমাবেশ করে সরকারকে আলটিমেটাম দিয়েছে। আর ইউনুস সাহেব আপনি উদার – ভেবেছেন না হয় একটু বলেছেই!!!!!
    এরপর সচিবালয়ে আগুন দিয়ে পুরা মন্ত্রণালয়ই সাফা করে দিয়েছে। তাতেই একশন নাই।

    আর তাতে এরা, আপনি ইউনুস সাহেব আপনার ক্ষমতাকেও চ্যালেঞ্জ করেছে!

    এখন??????

     একটাই পথ আমাদের এখন নির্মম “এরদোয়ান একশন” দরকার? অথবা উলটা করে বললে যিনি একশন নিতে পারবেন তিনি হবেন বাংলাদেশের এরদোয়ান; যিনি ওবামাকেও পরোয়া করেন নাই!!!

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  সকাল ৯ঃ ০৭    ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪

  •  “বাংলাদেশে ভারতের কপাল পুড়তেছে” – সুমিত গাঙ্গুলী 

     “বাংলাদেশে ভারতের কপাল পুড়তেছে” – সুমিত গাঙ্গুলী
    গৌতম দাস
    ২৭ ডিসেম্বর ২০২৪  সকাল ১০ঃ ৪১
    https://wp.me/p1sCvy-67F

     

    Sumit Ganguly

     

    চলতি বাইডেন প্রশাসন মানে যার ক্ষমতার আয়ু আগামি ২০ জানুয়ারি ২০২৫,  ট্রাম্পের শপথের মধ্য দিয়ে শেষ হতে যাচ্ছে – সেই বাইডেন প্রশাসনের ফেভরিট মিডিয়া ছিল আমেরিকার “ফরেন পলিসি” পত্রিকাটা; বাইডেন প্রশাসনের গৃহিত নীতি-পলিসি বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে এশিয়ায় আমাদের মত দেশে কী প্রতিক্রিয়া আনছে তা বুঝা ও বাইডেন প্রশাসনের কাছে পক্ষের লোকজনকে পৌছে দেওয়ার জন্য এখানে লেখালেখি করতেন। এই ছিল “ফরেন পলিসি”  এর সাথে এরেঞ্জমেন্ট। আবার এর মাধ্যমে যদি এশিয়ান স্থানীয় জনমতও প্রভাবিত করা যায় সেটাও বাড়তি। যেমন ধরেন এমনই এক থিঙ্কট্যাংক ফেলো কুগেলম্যান; তিনি এখানে প্রতি সপ্তাহে এশিয়াতে বাইডেন প্রশাসনের স্বার্থগুলো কোন দিকে হাঁটছে বা লাইনে আছে কিনা এর আগাম ইঙ্গিত প্রশাসনকে জানাতে নিয়মিত লেখা ছাপতেন তিনি এই ফরেন পলিসি পত্রিকায়।  আরো সুনির্দিষ্ট করে যেমন ধরেন, গত ১০ ডিসেম্বর ২০২২ বিএনপি এক কালজয়ী সমাবেশ করেছিল সায়েদাবাদ-গোলাপবাগ মাঠে; হাসিনার শত বাধা সত্বেও তা উপেক্ষা করে। অথচ এই কুগেলম্যান লিখলেন এটা তেমন কোন সমাবেশই নয়! কারণ, কুগেলম্যান সম্ভবত জানতেন, পরের সাত মাসের মধ্যেই মানে সেপ্টে. ২০২৩ বাইডেন-লু পল্টি মারবেন। বিরোধীদলকে রাস্তায় নামানোর পরে হঠাত তাদের হাত ছেড়ে দিবেন। আর উলটা হাসিনার হাত ধরেই “আমরা একসাথে কাজ করব” বলে হাসিনাকে চিঠি (৫ ফেব্রু.২০২৪) লিখবেন!  আর এসবের আগে, আরেকবার হাসিনাকে (৭ জানু.২০২৪) ভোটচুরির ক্ষমতায় হাসিনাকে আসীনে সহায়তা করবেন। ভোটচুরি দেখেন নাই ভান করবেন!  আশা করি পাঠক এখন বুঝতে পারছেন “ফরেন পলিসি”  কী ও কত প্রকার! তো সেরকমই “ফরেন পলিসি”  তে এমন আরেকজনও  প্রায়ই লিখেন এমন কলামিস্ট ব্যক্তিত্ব হলেন সুমিত গাঙ্গুলী।

    [যারা বিস্তারিত পড়তে চান না তারা নিচের প্যারাটা বাদ দিয়ে পরের প্যারায় চলে যেতে পারেন।]
    সুমিত গাঙ্গুলী নামটা শুনে মনে হতে পারে তিনি ইন্ডিয়ার মানে অন্তত কলকাতায় জন্ম ও বড় হয়েছেন নিশ্চয়! কথাটা আংশিক সত্য! যদিও হ্যা, তাঁর নাম থেকে বুঝা যায় তিনি মানে তাঁর ফ্যামিলি কলকাতার ব্রাহ্মণ কোন পরিবার। কিন্তু  সুমিত গাঙ্গুলীর জন্ম ও বেড়ে উঠা ঠিক কী কলকাতায় বা ইন্ডিয়ায়? না, নেটে খুঁজে তা কোথাও পাওয়া যায় না।  বরং জানলাম তিনি আমেরিকার কেন্টাকি রাজ্যের খুবই সস্তা টিউশন ফি [দানের চাঁদা তুলে চলা বলে] এর এক কলেজ হল Berea College । আর সেখান থেকে গ্রাজুয়েশন-অনার্স  দিয়ে তাঁর একাদেমিক লাইফ শুরু করেছিলেন। আর এখন? এখন তিনি পুরা দস্তুর এক আমেরিকান (ভারতীয় নয়) একাদেমিসিয়ান; আর অন্তত দুডজন ইন্সটিটিউট বা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে তিনি জড়িত।  শুধু আমেরিকান হুভার [Hoover Institution] ইন্সটিটিউট মানে প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কন্ডালিসা রাইস যার ডিরেকটর সেই হুভার ইন্সটিটিউট থেকে সুমিত গাঙ্গুলির যে পরিচয়টা হুভার দিয়েছে সে তথ্য প্রায় আধা পাতা জুড়ে ঠাসা বিশ্ববিদ্যালয় আর ইন্সটিটিউটের নামে। সেই লিঙ্ক এখানে দিলাম আগ্রহিদের জন্য।  তবে সবচেয়ে মজার কথা হল, উইকি যা লিখছে -“Sumit Ganguly is an American political scientist. He is a senior fellow at the Hoover Institution and a professor of political science at Indiana University … “। অর্থাৎ সুমিতের পড়াশুনার ভিত্তি হল পলিটিক্যাল সাইন্স কিন্তু তিনি আমেরিকান (কোন ভারতীয় নন) পলিটিক্যাল সাইনটিস্ট। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় হুভার ইন্সটিটিউটে হান্টিংটন প্রোগ্রাম এর পরিচালক তিনি। আসলে ক্যালিফোর্নিয়ার স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে (খরচ-বাজেটের দিক থেকে নিজস্ব পরিচালনা বোর্ড আছে) এমন যে “হুভার ইন্সটিটিউশন”  যা মূলত এক কনজারভেটিভ থিঙ্কট্যাংক। আর সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ হল, হুভারে তিনি এখানে ইন্ডিয়া-আমেরিকা সম্পর্ক খুবই শক্ত করা যায় কী করলে [Huntington Program on Strengthening US-India Relations] তেমন এক প্রোগ্রাম চালান।
    তবে সম্ভবত আরো বিষ্ময়কর হল ব্লুমিংটন শহরে  যে ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি আছে সেখানে ভারতীয় সংস্কৃতি চর্চার এক টেগোর চেয়ার [নামেই রবীন্দ্র গবেষণা ফান্ড বলতে পারি] এরও বড় কর্তা তিনি।

     

    কেন সুমিত গাঙ্গুলীঃ
    এতক্ষণ ধরে কেন সুমিত গাঙ্গুলীর পরিচয় নিয়ে এত কথা বললাম! এক নম্বর কারণ, তিনি আমেরিকা-ইন্ডিয়ার সম্পর্ক শক্ত রাখার এক গবেষণার বড় কর্তা। আর দুই নম্বর কারণ হল, তিনি ঐ “ফরেন পলিসি”তে গত ১৬ ডিসে. ২০২৪ এক কলাম লিখেছেন যার শিরোনাম হল, “বাংলাদেশে ভারতের কপাল পুড়তেছে” [India’s Fortunes Shift in Bangladesh]। এই একই লেখার বাংলা অনুবাদ করে অবশ্য ছেপেছে আমাদের মানবজমিন ২০ ডিসে. ২০২৪ শিরোনাম, “ঢাকা প্রসঙ্গে বদলাতে পারে ভারতের পররাষ্ট্রনীতি“।

    এখন আমাদের অনেকের নিশ্চয় মনে আছে ট্রাম্পের বিজয়ের পর থেকে মোদির বিজেপি শুধু না খোদ শেখ হাসিনাও খুশিতে নেচে আমাদের ভয় দেখাচ্ছিলেন যে এইবার তাদের ট্রাম্প-ভাইয়া এসে পড়েছেন; আর চিন্তা নাই; তিনি নিশ্চয় এবার মোদিকে দিয়ে বাংলাদেশে হাসিনাকে আবার ক্ষমতায় বসায়ে দিবেন???
    সাথে আরো আছে যে আর চিন্তা কইরেন না তুলসি গাবার্ড [Tulsi Gabbard, এককালে ইসকনের চেলা ও দুবছরের জন্য কংগ্রেস মেম্বার ও ‘র’-এর সাথে কাজ করা]  ট্রাম্প বাবাজি তাঁর নির্বাচনি প্রচার কালে হঠাত করেই তুলসিকে তাঁর দলে ভিড়িয়ে নিয়ে স্টেজে তুলেছিলেন।  দলে ভিড়িয়ে নেয়া বললাম এজন্য যে মোদি যে তুলসি কে চিনতেন তিনি ডেমোক্রাট দলীয়। পরে তিনি ডেমোক্রাট দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। এবং এরপর থেকে ইন্ডিয়া বা র-এর সাথে  তুলসির আর সম্পর্ক আছে কিনা তা জানা যায় না। কিন্তু তবু কর্মিদের চাঙ্গা রাখতে বিজেপি মা মোদি তুলসি আসছে বলে প্রপাগান্ডা শুরু করে দিয়েছে।

    বাংলাদেশে ভারতের কপাল পুড়তেছে – কথার অর্থ তাতপর্য কীঃ
    এমনিতেই মোদির ট্রাম্প ভাইয়া আসতেছে প্রপাগান্ডায় ট্রাম্প আসলে – কী ইন্ডিয়া নীতি – নিয়ে এবার ক্ষমতাসীন হচ্ছেন সেদিকটা মোদি সামনে বা আমাদের জানতে আগ্রহী নন। কিন্তু কঠিন সত্যিটা হল আগামি ২০ জানু ২০২৫ শপথের পরের দিনগুলোতেই ট্রাম্পের ডিপোর্টেশন [deporation] মানে বিদেশি অভিবাসী (শ্রমিক, হোয়াইট কালার সব) খেদানো প্রোগ্রাম শুরু হয়ে যাবে। ইন্ডিয়ার দৈনিকগুলোর শিরোনাম হল প্রথম পর্যায়েই “18,000 Indians At Risk Of Deportation……”  মানে প্রাথমিক ধাক্কায় ১৮ হাজার ইন্ডিয়ানক্র বের করে দেয়া হবে। এটা গত ১৪ ডিসেম্বরের ইন্ডিয়ার প্রধান নিউজ ছিল। তবে এটা মনে করা ভুল যে এটা কেবল ইন্ডিয়ার বেলায়; বরং এটা কমবেশি সব দেশের বেলাতেই সত্য; এমনকি বাংলাদেশি যারা হাসিনার আমল দেখায় এই অজুহাতে আমেরিকা ঢুকেছে তারাও ডিপোর্টেশনের আওতায় আসবেন। আর ওদিকে ল্যাটিন আমেরিকা মেক্সিকো ইত্যাদি তো বটেই এমনকি কানাডার বিশেষ সুবিধা যা ছিল তাতে টান পড়বে (কানাডাকে আমেরিকান রাজ্য হয়ে যেতে বলা) ইত্যাদি এসব কিছু।
    এর সাথে আছে যারা এর আগে আমেরিকায় মাইগ্রেন্ট হয়ে পরে একটা (নাগরিকত্ব নয়) রেসিডেন্ট পারমিট হাতে পেলেই (মানে বসবাস ও কাজে যোগ  দেওয়ার অনুমতি প্রাপ্ত হয়েছে), এরপর এদের কোন সন্তান আমেরিকায় জন্মগ্রহণ করলেই তারা আমেরিকান নাগরিক হয়ে যেত; এই শর্ত এখন ২০ জানু. ২০২৫ থেকে প্রত্যাহার করা হবে।  ফলে বাংলাদেশের যারা আগেভাগে দেশে ছুটে এসে এরা (বিএনপির খেদমতে বিশেষত মিডিয়া জগতে ঢুকে পড়ার জন্য) ডেনপারেট তারা ঠিক হাসিনা পতনের জন্য না ট্রাম্প এসে পড়ছে বলেই তাদের এই আমেরিকা ত্যাগের মরিয়া অবস্থা আর বিএনপির নেতাদের পিছনে লাইন দিয়ে খাড়া হয়ে যাওয়া।  এমনকি H-1B ভিসায় (টেকনোলজি জ্ঞান থাকাদের জন্য যেমন আইটি টেকনোলজি) বিশেষ করে ভারতীয়রা যেমন এতদিন ধরে নিত যে এই H-1B ভিসা থেকে তাদেরকে আমেরিকা সহজে বের করে দিতে পারবে না;  এমন ভিসাধারীরাও এখন একই ভাবে অনিশ্চিত নড়বড়ে হবে। একাজে ট্রাম্পকে বুদ্ধিদাতা আর সবচেয়ে ঘনিষ্ট দোস্ত হল ইলন মাস্ক [Elon Musk] যিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা [AI Tech] টেকনোলজিতে বড় বিনিয়োগকারি।  মানে হল। আইটি প্রোগ্রামার বলে যে পেশাটা আমাদের মত দেশগুলা চিনি এই পেশা বা এরা হল তাদের কাজে প্রোডাক্ট তৈরিতে সবচেয়ে শ্রমঘন লেবার অংশটা  – মানে কোড বসানোর কাজ হল এদের।  আর এটাই এলন মাস্ক মনে করেন AI Tech দিয়ে করানো সম্ভব।   ফলে H-1B ভিসায় টেকনোলজিস্টদের ভারত থেকে আনা আর তত জরুতি থাকবে না।  এই হল ইলন মাসকের দাবি!

    আর এবারের ট্রাম্প প্রশাসনে সবার উপরে  যে মূল নীতি-পলিসি হতে যাচ্ছে এর কেন্দ্রটা হল – টেকনিক্যাল ভাষায় ইকোনমিক ন্যাশনালিজম। [এনিয়ে আমার প্রথম পর্বের ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। পরে আরও দুই ডিটেল পর্ব আসতেছে] । সোজা বাংলায় আমদানি-রপ্তানি কমানো; বিশেষ করে আমদানি; আর সেজন্য অন্য যেকোন দেশের পণ্যের উপরেই নুন্যতম ১০% আমদানি ট্যাক্স বাড়ানো আর চীনের মত দেশের বেলায় নুন্যতম ৬০% ট্যাক্স আরোপের এক অর্থনীতি তিনি চালু করবেন। এক কথায় যাই নিজ দেশের মানুষ ভোগ-ব্যবহার করবে এমন সব পণ্য দেশেই যেন হয় সেই মুখি এক অর্থনীতি! তবে একটা হল সেই কল্পিত আকাঙ্খাটার [imagined aspiration] কথা বললাম। বাস্তবে তা কতদূর কী করা যাবে সেটা আলাদা প্রশ্ন!

    কথাটা শুনে এলেখার বেশির ভাগ পাঠক নীতি হিসাবে এটাকে খুবই ভাল মনে করবেন হয়ত; কারণ আমরা বেশির ভাগ পাঠক আসলে জাতিবাদি – নিজেই কামাবো আর নিজেই খাব এর চেয়ে ভাল আর কী নীতি হতে পারে। ধারণাটা মোটা দাগে এধরণের।  আমরা, আমরা আর আমরাই! কিন্তু আমি সরি; এই নীতি এখন যতই শুনতে ভাল লাগুক না কেন এটা এখন অকেজোই শুধু না বাস্তবায়নও অসম্ভব। স্রেফ এককালের কাগুজে কল্পনা।  বিশেষ করে ১৯৮০ সালের পরে দুনিয়ার অর্থনীতি এ্টা ত্যাগ করে অন্যদিকে চলে গেছে।  এমনই অন্যদিকে যে সেটা আর পুরানা দিনে বা চেহারায় ফেরানো অসম্ভব, ফলে অ-বাস্তবানযোগ্য এক কল্পনা মাত্র।
    কেবল একটা মন্তব্য করব এখানে বিস্তারে যাব না,  কমিউনিজম এর (মার্কসের নয় স্টালিনের বুঝের মার্ক্সবাদি) অর্থনীতি এর বুঝও ছিল ঠিক এটাই। এখন ডোনাল্ড ট্রাম্প যেটা করতে চাইছেন এটা সেটাই। যদিও মিলটা কাকতলীয় মানে, ট্রাম্প কমিউনিস্ট হতে চলেছেন ব্যাপারটা  ঠিক তা নয়। তবে সারকথাটা হল আন্ত-রাষ্ট্রীয় বাণিজ্য অদরকারি জিনিষ!  মনে করা – এমন এই বোকা বোধ! আর একটা লাইনে বলিঃ এর মানে হল, কল্পনা করেন বাংলাদেশ থেকে সব গার্মেন্টস বা লেদার প্রডাক্ট রফতানি বন্ধ ফলে কারখানাও বন্ধ; কিংবা আপনাদের গর্বের পাট রপ্তানি অপ্রয়োজনীয় – এমনটা মবনে করলে যা হবে এটা তাই! বিস্তারে পরে অন্য কোথাও আনবো ইস্যুটা। আর এটাই টেকনিক্যাল ভাষায় ইকোনমিক ন্যাশনালিজম; যেটা ট্রাম্প প্রশাসনের মুখ্য নীতি পলিসি হতে যাচ্ছে। কিন্তু আমাদেরেকে এই লেখার মূল প্রসঙ্গে ফিরে যেতে হবে, ফলে নিচে সেদিকে যাচ্ছি…।

    অর্থাৎ  ইন্ডিয়া -আমেরিকা সম্পর্ক যেটা মুখ্যত ক্রম-উত্থিত গ্লোবাল অর্থনীতির নেতা হয়ে উঠতে চাওয়া চীন, এই চীনকে ঠেকাতে ভারতকে ব্যবহার করা (বিনিময়ে বাংলাদেশকে ইন্ডিয়ার হাতে তুলে দেয়া) – এটাই ছিল এই নয়া শতক ২০০১ সাল থেকে আমেরিকান নীতি। যার আয়ু এখন প্রায় ২৪ বছর; আর এতদিনে এখন আমেরিকান নীতি-নির্ধারণী মহলের অনুভব হল এই নীতি-পলিসি আকামের; এতে কোনই লাভ হয় নাই; সব পন্ডশ্রমে গেছে। তাই ২০০০ সালেরও আগের ইন্ডিয়াবিরোধী (বঙ্গোপসাগর, আন্দামান বা উপরের নর্থ-ইস্ট বা বার্মা ইত্যাদি কেন্দ্রিক) যা কিছু স্ট্রাটেজি আমেরিকার ভাবনায় ছিল (কিন্তু ভারতকে জড়িত করে চীন ঠেকানোর লোভে) পরে  সেসব নীতি কার্পেটের নিচে লুকায় ফেলে রেখেছিল এতদিন আমেরিকা। সেসব নীতি-ইচ্ছা-খায়েশগুলো আমেরিকার এখন বের করে আনছে।

    দুঃখ আর হতাশার কথা সুমিত এখনও কলকাতার হিন্দুত্ববাদী জমিদার ব্রাহ্মণের দৃষ্টিভঙ্গিতেঃ
    উপরে ইন্ডিয়া-আমেরিকা সম্পর্কে যে ব্যাপক পরিবর্তন ট্রাম্প আনতে যাচ্ছেন সে সম্পর্কে সুমিত গাঙ্গুলী টের পেয়েছেন বা জানেন এমন কোন বাক্য বা ধারণার ইঙ্গিত তার পুরা লেখার মধ্যে কোথাও নাই! মূলত াজকের নয়া পরিস্থতিতে মোদি বাংলাদেশের উপর আগের মত আধিপত্য এর কিছুই পাবেন না; সব সে খুইয়েছে। আর এটার কারণেই সুমিতের দেয়া শিরোনাম “বাংলাদেশে ভারতের কপাল পুড়তেছে” এর আসল অর্থ; যদিও তা বুঝে সুমিত এই শিরোনাম দেন নাই। তিনি মূলত বলতেছেনঃ  হাসিনা ইন্ডিয়ার বসানো পুতুল-ক্ষমতা ছিল ফলে ইন্ডিয়ার তাতে সব সুবিধা ছিল কিন্তু হাসিনা এখন উতখাত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন না যে হাসিনা আবার ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন – অতএব একারণেই ভারতের কপাল পুড়েছে।

    সুমিত যিনি প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে আমেরিকায় একাদেমিক জীবনে আছেন এবং বিরাট পদবী ও ক্ষমতায় আমেরিকা-ইন্ডিয়া সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ বলে পরিচিত; অথচ ট্রাম্পের হাত ধরে  আমেরিকা-ইন্ডিয়া সম্পর্ক যে নয়া মোড় উলটা যাত্রা নিচ্ছে; ইন্ডিয়া আর আমেরিকার জন্য অত গুরুত্বপুর্ণ থাকছেনা – (কারণ চায়না কনটেইনমেন্ট  বা গত ২০১০ সাল থেকে নেয়া “চীন ঠেকানোর” আমেরিকান নীতি আজ অকেজো প্রমাণিত) অথচ এদিকটা নিয়ে সুমিত একেবারেই বেখবর? এটা অবিশ্বাস্য এবং এতে তাঁর চিন্তার স্টুপিডিটি বা সীমাবদ্ধতা বাইরে প্রকাশিত! আর এতে ফাইনালি তিনি যে এক ইসলামবিদ্বেষী হিন্দুত্ববাদী জমিদারি আধিপত্যের মধ্যেই আছেন তাও প্রতিভাত!  পঞ্চাশ বছর আমেরিকায় কাটানো একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একাদেমিক  আর  উনার পাশাপাশি একজন যে এই পুরাটা সময় কলকাতা নিবাসী আম-হিন্দুত্ববাদী বাসিন্দা ছিলেন – এমন দুজনকে পাশাপাশি রেখে তুলনা করলে দেখা যাবে  এদের মধ্যে আসলে কোন ফারাকই জন্ম নেয় নাই!!!! অবিশ্বাস্য! ছোট থেকে মা, দাদি-নানির কোলে শুয়ে যে মুসলমানবিদ্বেষী গল্প শুনেছে সেগুলোও একজন আমেরিকা নিবাসী লাগাতর পঞ্চাশবছর রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একাদেমিককে কী এখনও তাড়া করে? কীভাবে? তিনি কীভাবে এসব আবর্জনাকে এখনও তাঁর চিন্তার মূল কাঠামো বানিয়ে রাখতে পারেন???

     পঞ্চাশ বছরের আমেরিকান একাদেমিক লাইফ কাটানো সুমিত বেচারার দুঃখঃ 
    এক. সুমিত লিখছেন, “যারা হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সাহায্য করেছিল তাদের মধ্যে ইসলামপন্থী এবং ভারতবিরোধী দল রয়েছে” ????? আচ্ছা এর মধ্যে অস্বাভাবিক জিনিষটা কী? হাসিনা আর মোদি মিলে যদি বাংলাদেশকে গুম-খুন-অপহরণের আয়নাঘর বানায় রেখে  ১৫ বছর ধরে দেশটা চালায় তো তাতে তো  হাসিনা উতখাতে বাংলাদেশের সব অংশের জনগণের অংশগ্রহণ থাকাটাই স্বাভাবিক; নাকি? ইসলামপন্থি মানে ইসলামি রাজনৈতিক দল হলে এটা অপরাধ হবে? – এটা কেমন বোধ উনার? এটাই তো গভীর মুসলমান ঘৃণা!  কিন্তু উত্তরপ্রদেশের বুলডোজার মুখ্যমন্ত্রী যোগী যাকে ভারতের সুপ্রীমকোর্ট তিরস্কার করেছেন, কাজকে অপরাধের ঘটনা বলে সাব্যস্ত করেছেন অথবা বজরং দলের ততপরতা হলে এসব কী সুনিত দেখতেই পান না?  সব মাফ হাততালি দিবেন উনি? মানুষ হিসাবে নিজের সব ইন্দ্রিয়-বোধ সব ভোতা করে রেখে দিয়েছেন উনি? তাইকি?

    আবার তার আরেক নয়া আবিস্কার দেখেন।
    দুই. তিনি লিখেছেন, “ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে, বাংলাদেশ থেকে অনিয়মিত অভিবাসন সর্বদাই একটি জটিল সমস্যা ছিল-যে সরকারই অফিসে থাকুক না কেন……“।  আমি খুবই সরি, এটা আসলে একটা গাধার বক্তব্য।  অভিবাসন বা মাইগ্রেশন শব্দের  অর্থ উনি বুঝেন না এটা ভাবা আমাদের জন্য কঠিন। কোন একটা দেশ যেমন ইন্ডিয়া তাদের বাড়তি লেবারের চাহিদা থাক আর না থাক সেখানে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের হিন্দুরা প্রবেশ করে বসবাস করে। এখন ১৯৪৭ সালের পর থেকে বাংলাদেশ থেকে হিন্দুরা ভারতে বা মুসলমানেরা বাংলাদেশে আসা – এটা কী কারও শখের অভিবাসন? এটা কে কী অভিবাসন বা ইমিগ্রেশন বলছেন উনি কোন বুদ্ধিতে?  নাকি এটা ফোর্সড বা বাধ্য করার এক সামাজিক অবস্থা।  – যা ১৮১৫ সালের রাজা রাম মোহনের চিন্তাততপরতা থেকে শুরু করে কংগ্রেসের জন্ম ও হিন্দুত্ববাদী ভারত বানানোর ইমাজিনেশন পরিকল্পনারই এক করুণ পরিণতি!!! দ্বিতীয়ত ও সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ ফ্যাক্টস হল,  বাংলাদেশ থেকে মূলত তুলনামূলক অবস্থাপন্ন  হিন্দুরাই ভারতে গিয়েছে অর্থাৎ তারা তাদের সঞ্চিত সম্পদও সাথে নিয়েই গিয়েছে যেটা কলকাতার অর্থনীতিতে বাড়তি পুঁজির সরবরাহের উতস হিসাবে কাজ করেছে। ফলে কোন সংজ্ঞায় – বাংলাদেশ থেকে হিন্দুদের যাওয়া – এটাকে তিনি অভিবাসন বলছেন? আসলে গাধা-গরুর ধরনের চিন্তারও একটা ক্লাস থাকে! আবার ১৯৪৭ এর পরে কলকাতার অর্থনৈতিক পতন হয়েছে পুর্ববাংলা হাতছাড়া হওয়াতে। কারণ পুর্ববাংলার জমিদারেরা তাদের কালেকশন কী ঢাকায় রাখতেন???  না কলকাতায়? এটা বুঝতে কী ডক্টরেট ডিগ্রি লাগে?  আর সেটাই মানে সেই জমিদারিই তো উচ্ছেদ হয়ে যায় পুর্ববাংলা থেকে  পাচার হওয়া সেই বাড়তি সঞ্চিত পুঁজি থেকে বঞ্চিত হয় কলকাতা!!! এখন সুমিত আপনি বলেন, আপনি এজন্য কাকে দায়ী করবেন? এর জন্য দায়ী যারা হিন্দুত্বভিত্তিক অখন্ড ভারত বানাতে চেয়েছিল সেই কংগ্রেস নয় কী? সাহস আছে আপনার? থাকলে চিল্লায় বলেন দেখি?  বুঝা যাচ্ছে যা উনার সাবজেক্ট না, দখল নাই তা নিয়ে তিনি কথা বলছেন!!!

    তিন. তিনি লিখছেন, “…কিছু ভারতীয় প্রতিবেদন বাংলাদেশের মাটিতে পরিস্থিতিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে, কিছু ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ হিসাবে চিত্রিত করা হয়েছে”!  অর্থাৎ তিনি বলতে চাইছেন মোদির এই বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের অভিযোগ – এটাকে তিনি ঠিক মনে করছেন না। ভালো, এটা তিনি বুঝছেন! তাই বলছেন এটা তারা  ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে, তাই কিছু ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ হিসাবে চিত্রিত দেখানোটা ভুল মনে করছেন।

    কিন্তু আবার সেই ঘৃণার লাইনঃ
    লিখেছেন,  “হাসিনা বাংলাদেশের ইসলামপন্থী বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন,
    ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনকে আশ্রয় দেননি এবং ভারতীয় বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে এসেছেন। প্রতিক্রিয়ায়, নয়াদিল্লি হাসিনার অধীনে ঢাকায়  গণতন্ত্রের অভাব উপেক্ষা করতে, ভারতীয় বাজারে প্রবেশাধিকার প্রদান করতে এবং আন্তঃসীমান্ত রেল ও সড়ক যোগাযোগ বাড়াতে ইচ্ছুক ছিল।”
    এর মানে কী এখন বাংলাদেশের “ইসলামপন্থী বাহিনীকে” তাহলে নিয়ন্ত্রণ করছে কে? মোদি??? দেখেন এই লোকের কথার কোন তাল আছে? আবার দেখেন আগে লিখতেছিলেন শুধু ইসলামপন্থী, আর এখন সাথে লিখতেছেন ইসলামপন্থী বাহিনী? সারা দুনিয়াতেই বুশ যদি ওয়ার অন টেরর এর নামে সন্ত্রাস চালায় তো এর প্রতিক্রিয়ায় সারা দুনিয়ায় ইসলামপন্থী বাহিনী বা ইসলামপন্থী  হওয়া ছাড়া আর কী হবে? মানে বাংলাদেশের কেউ বুশের প্রতিবাদ করবে না?   আর বাংলাদেশ কী দুনিয়ার বাইরে?
    এছাড়া আরেকটা মারাত্মক দিক আছে। সুনিত নিজেই বলছেন বাংলাদেশে হাসিনা মোদির সাথে মিলে ঢাকায়  গণতন্ত্রের অভাব উপেক্ষা করেছে – তাহলে এই দোষ কার? আবার মোদি বাংলাদেশকে ইন্ডিয়ার একচেটিয়া বাজার বানিয়েছে আর বিনা পয়সায় করিডোর সুবিধা নিয়ে গেছে – এসব কথা সুমিত নিজেই স্বীকার করছেন। তাহলে বাংলাদেশের মানুষ যেকোন পন্থি হয়ে হাসিনাকে উতখাত তো করবেই, নাকী? তো তাহলে ইসলামপন্থী হওয়াটা অস্বাভাবিক কীভাবে???

    হাসিনা তার শাসন আমলে যত কী তার রাজনৈতিক বিরোধী ছিল তাদেরকে তিনি গুম-খুন আয়নাঘর করেছেন – তাদের গায়ে মিথ্যা ইসলামি জঙ্গীর ট্যাগ লাগিয়ে তাদেরকে নিচা দেখায়ছেন।। মজার কথা হল এটা আমার কথা না। এবার মানে ২০২৩ সালের আমেরিকান সন্ত্রাস বাদ ও প্রতিরোধ রিপোর্ট ২০২৩ যা সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে  এতে বাংলাদেশ চাপ্টারে আমেরিকাই একথা লিখে স্বীকার করেছে।  কিন্তু আমেরিকায় বসে থেকে এই হিন্দুত্ববাদের চেলা কলকাতা বামুন সুমিত গাঙ্গুলী সেটা টের পান নাই; খবর করে নাই! নেন প্রথম আলোর বাংলা করা অংশটাই দিলাম। শিরোনাম দেখেন, …“রাজনৈতিক বিরোধিতাকে সন্ত্রাসবাদ বলে চালিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার“।  আবার এখানে ইংরাজি মূল রিপোর্টটাও দিয়ে রাখলাম সুমিত গাঙ্গুলীর জন্য [Country Reports on Terrorism 2023: Bangladesh] – আমেরিকায় বসে উনি এটা নাও খুঁজে পেতে পারেন!!!

    আসলে এসব সুমিত গাঙ্গুলীরা আমেরিকার জন্যও  কলঙ্ক! এরা এখনও কুয়ার ব্যাঙ হয়ে জমিদার-হিন্দুর বয়ান আগলে ওর উপরে বসে আছে। অথচ সুমিত খোদ আমেরিকান সরকারের বয়ান না পড়ে, আমেরিকাতেই বসে আছে্ন।  আর তীব্র মুসলমানবিদ্বেষী হয়ে আমাদেরকেই ইসলামপন্থী (যারা হাসিনাকে উতখাত করেছে) বলে ট্যাগ লাগাইতেছেন; এছাড়া আমরা নাকি সশস্ত্র এর ইঙ্গিত দিতে  ইসলামপন্থী বাহিনী লিখেছে!!!

    আবার কত নিচা মনের কলকাতার কোন স্টেশনের এক  ফেরিওয়ালা যেন তিনি!!! তাই তার এই লেখা শুরু করেছেন,  কেন বাংলাদেশে পাকিস্তান থেকে বাণিজ্যের মালবাহী জাহাজ কেন বাংলাদেশে ভিড়ল। আবার লিখেছেন …Dhaka has also boosted its acquisition of arms and ammunition from Islamabad। মানে ইউনুস সাহেব পাকিস্তান থেকে নাকি অস্ত্র আমদানি করেছেন। অথচ এই তথ্যের কোন সোর্স কোথাও নাই।  কলকাতার কোন বস্তিবাসীও এমন নাইভ বা ভোতা চিন্তার মানুষও এমন বক্তব্য দিবে না।  অথচ তীব্র মুসলমান ঘৃণা মনে পুষে রেখে স্মিত গাঙ্গুলী –   মুসলমান মানেই খারাপ, মুসলমান মানেই জঙ্গী, মানেই অস্ত্রবাজ এসব হচ্ছে তার বমি!!!! …… সুমিত গাঙ্গুলী একজন স্কলার পেশার লোক এত ঘৃণা আর এত মিথ্যা লিখতে গিয়ে টায়ার্ড হয় না?????

    তবে শেষকথাটা হল, বাংলাদেশে মোদির খবর আছে এইটা যেদিক দিয়েই তিনি বুঝছেন বলে আমাদের জানাইছেন! তাই শিরোনাম দিছেন  [India’s Fortunes Shift in Bangladesh]।

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  বিকাল ৪ঃ ৩২    ২৭ ডিসেম্বর ২০২৪

  • ‘দশ ট্রাক অস্ত্র’ নিয়ে একটা একাদেমিক আলোচনা

    কোন রাষ্ট্রে সিভিল আদালতের পাশে সামরিক আদালতও কেন থাকে
    [‘দশ ট্রাক অস্ত্র’ নিয়ে একটা একাদেমিক আলোচনা]
    গৌতম দাস
    ২১ ডিসেম্বর ২০২৪    দুপুর ১২ঃ ১৩
    https://wp.me/p1sCvy-64V

     

     

    ‘দশ ট্রাক অস্ত্র’ মামলা নিয়ে এই আলোচনা, একটা একাদেমিক পর্যায়ের সমাজতাত্বিক আলোচনা। যেমন এর প্রসঙ্গ শুরু করব, একট রাষ্ট্রে কয়টা বিচার বিভাগ থাকে? এখান থেকে!
    এমন প্রশ্ন যে কোন একাদেমিক ব্যক্তিত্ব শুনলেই তিনি বলে উঠবেন এটা তো কোন প্রশ্নই হয় নাই। কারণ, জনগণ সব রাষ্ট্রক্ষমতার উতস -এমন রিপাবলিক বা জনপ্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্র তিনটা প্রধান অঙ্গ থাকে। (প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে) নির্বাহি বিভাগ, ২. আইন সভা বা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিত্বমূলক আইন প্রণয়নের সংসদ আর ৩. বিচার বিভাগ। রাষ্ট্রক্ষমতার মূল অংশ থাকে নির্বাহী বিভাগের হাতে; আর সাথে কিয়দংশ থাকে বাকি দুই বিভাগের কাছে। এখন এই বিচার বিভাগ নিয়ে বিস্তারে কথা তুললে বলতে হয় এর কাঠামোটা আবার সাধারণত পিরামিড ধরনের হয়। মানে সমান্তরাল না। নিম্ন আদালতের রায় ওর চেয়ে উচ্চ আদালতে পর্যালোচনা যোগ্য বা বদলে রিভিউয়ের ক্ষমতা রাখা হয়। আর সবার উপরে থাকে সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগ। সেটাও আবার কয় বিচারক মিলে বেঞ্চ গঠিত এবিচারে ফুল বেঞ্চ এর উপরে আর কিছু নাই। এভাবে!
    যেহেতু যেকোন পর্যায়ের আদালতের রায় ওর উপরের আদালতের আবার পর্যালোচনাযোগ্য রাখা হয়; যার লক্ষ্য অনিচ্ছার ভুল বা অবিচার ঘটে যাবার সম্ভাবনা কমানো। এছাড়া বিচারক ভেদে একই ধরনের অপরাধে দুই ধরনের শাস্তি যেন না হয় তাই পেনাল কোড ব্যবহার করা হয় যেখানে অপরাধ ও শাস্তি দুটাই যতটা সম্ভব আগাম সংজ্ঞায়িত করে রাখা হয়; ইত্যাদি এসব খুটিনাটি অনেক দিকই আছে।  এছাড়া নিম্ন আদালতকে সুপ্রীম কোর্টের ব্যবস্থাপনার অধীনে এবং নজরদারি-তদারকিতে রাখা হয়। এসবের কারণেই বিচার ব্যবস্থাটা পিরামিড কাঠামোর হয়ে যায়।  এসব বিষয়ে আইনজ্ঞরা আরো ভাল ভাল দিক তুলে ধরতে পারবেন। এই হল একটা দেশের একক বিচার বিভাগ এবং তা পিরামিড কাঠামোর এমন বিচার বিভাগ।

    যে কোন রিপাবলিক রাষ্ট্রেই মোটাদাগে উপরের এই ভাগেই রাষ্ট্রক্ষমতা বিন্যাস্ত  থাকতে দেখা যায়। কিন্তু এবার একটা ব্যতিক্রমের কথা বলব। সেটা হল এতসব কিছুর পরেও প্রত্যেক রাষ্ট্রেই আবার সিভিল আদালতের বাইরে একটা করে সামরিক আদালত (Martial Court) থাকতে দেখা যায় যেখানে, মূলত প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের কাজ-ততপরতা ও শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয়গুলো বিচার (court Martial) করা হয়। এবং সবচেয়ে বড় কথা এটা ঐ দেশের রাষ্ট্রীয় সিভিল বিচার বিভাগের এক্তিয়ারের বাইরে রাখা হয়। অর্থাৎ সামরিক আদালতকে পিরামিড কাঠামোর সিভিল বিচার বিভাগের ভিতরে কোথাও রাখা হয় না।  কেন?

    মূল সংজ্ঞাটা সোজাঃ
    আপনি যদি রাষ্ট্রীয় সিভিলিয়ান কর্মী হন তবে আপনি কোন সংজ্ঞায়িত অপরাধে জড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে প্রথমে নিজ বিভাগের [জনপ্রশাসনের যে বিভাগের অধীনে কর্মচারি আপনি সেই বিভাগের জন্য গঠিত শৃঙ্খলা কমিটি] অধীনে বিচারের মুখোমুখি হতে হয় যেটাকে সংক্ষেপে অনেক মিডিয়া শুধু “বিভাগীয়” বিচার শাস্তি বলে লেখা হয়। এমনকি  কিন্তু একইভাবে আপনি যদি কোন প্রতিরক্ষাবাহিনীর সদস্য হন  অথবা ঘটনা বা অপরাধের বিষয়টা রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষাবিষয়ক হয়  সেক্ষেত্রে পুরা বিচার শাস্তির প্রক্রিয়াটাই সামরিক আদালতের এক্তিয়ারে সম্পন্ন করা হয়ে থাকে।

    কিন্তু কেন?
    একটা সোজ উদাহরণ দিয়ে বলা যাক। একজন সৈনিক রাষ্ট্রের সুরক্ষা-প্রতিরক্ষার কাজ করতে গিয়ে কাউকে খুন করে ফেলেছে।  এখন এর বিচার কী সিভিল আদালত দেখবে?

    একটা হাইপথিটিক্যাল বা কল্পিত ঘটনা- মামলা নেই। পদ্মা সেতু নির্মাণের সময় সেখানে [ধরা যাক] প্রচুর ভারতীয় র-বাহিনীর ট্রেইন লোক [যারা বাংলা বলতে পারে না, ভাঙ্গাবাংলা বা হিন্দিতেই কথা বলে] তবে যারা তথ্য সংগ্রহে পারদর্শী; এদের  দিনে-রাতে এমন লোকেদের আনাগোনা ঐ এলাকায় বেড়েছে দেখা গেল! তাদের উদ্দেশ্য হল, ব্রীজ নির্মানের কনট্রাক্টর চীনা কোম্পানি এখানে আবার কী করতেছে এটা নিয়ে ইন্ডিয়ার কালো মনে সন্দেহ এর হাল করা। তাই ইন্ডিয়া রিস্ক নিয়ে হলেও এসব তথ্য সংগ্রহে পারদর্শী লোক পাঠিয়েছিল। বলাই বাহুল্য এমন ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশই বিরাট শাস্তিযোগ্য ও অবৈধ কাজ। এর উপর আবার  মনে রাখতে হবে, আমাদের সরকার ঐ নির্মিয়মান সেতু অঞ্চল-এলাকাকে আগে থেকেই কী-পয়েন্ট ইন্সটলেশন [Key-point instalation বা কেপিআই] বলে ঘোষণা করে রেখেছিল। এই টার্মটার সংজ্ঞা হল রাষ্ট্র যেকোন নির্মাণ-স্থাপনা-কে নিজ রাষ্ট্রস্বার্থের জন্য প্রতিরক্ষা পর্যায়ের গুরুত্বপুর্ণ বলে গণ্য করেছে, এমন ঘোষণা করতে পারে। তাই কেপিআই এলাকা মানে হল যা সামরিক নিয়ন্ত্রণে পাহারা এলাকা হয়ে যাবে সেটা। যেমন আপনার কোন ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় প্রবেশ ও ততপরতা সীমিত করে দেয়া হয়। কেবল উপযুক্ত পরিচয় ও অনুমতি সাপেক্ষেই সেখানে প্রবেশ করা যায়। এককথায় ঐ এলাকাটাতে কোন বিদেশি অন্তর্ঘাতমূলক [subversive activity] কাজে বাধা ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা। [subversive শব্দটা অপরিচিত শুনালেও এর অর্থ কঠিন কিছু নয়। sub মানে অধস্তন অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বকে অমান্য করা; নিচা বা খাটো-অধীনস্ত করে দেখা। আর এমনটা দেখে আমরা শঙ্কিত হই যে রাষ্ট্র ও জনগণের জন্য ক্ষতিকর যেকোন কাজে লিপ্ত হওয়া এখানে ঘটতে পারে। ইন্ডিয়ান ‘র’-এই প্রতিষ্ঠানটা বাই-ডেফিনেশন  ইন্ডিয়ার বাইরে অন্তর্ঘাতমূলক [subversive activity] সংগঠিত করার জন্য প্রতিষ্ঠিত!
    এখান আসেন ঐ পদ্মা সেতু কেপিআই এলাকায় র-বাহিনীর ট্রেইন লোককে  সন্দেহজনক ততপরতা রোধ করতে গিয়ে আমাদের সেনাবাহিনী তাকে ধরা যাক হত্যা করে ফেলেছে। তাহলে এখন প্রশ্ন হল যেহেতু হত্যা মামলা তাহলে এটা নিয়ে কী আমাদের সিভিল আদালতে ৩০২ ধারায় মামলা রুজু করা হবে? করা যাবে?  জবাব হল, কোন মতেই হবে না। যেতে পারে না।  আবার প্রায় একই ধরনের ঘটনায় বাংলাদেশের সাথে কোন (কল্পনা করে বলছি) যুদ্ধে  আমাদের সৈনিকেরা যদি প্রতিপক্ষের সৈন্য হত্যা করে ফেলে সেক্ষেত্রেও কী ঘটনাটা হত্যার  যেহেতু তাই আমাদের সিভিল আদালতে আমাদের সেনাদের বিচার হবে? প্রশ্নই আসে না। এমন হলে আর রাষ্ট্র থাকার দরকার কী?  আমাদেরই প্রতিরক্ষা বাহিনী আমাদেরি রাষ্ট্র সুরক্ষা করতে গেছে আর আমরাই সেজন্য তাঁকে আমাদের সিভিল আদালতের মুখোমুখি করবো?????? এটা ত মাথার দোষ থাকলেও কাউকে করতে দেয়া যাবে না!

    কথা লম্বা না করে সারকথাটা বলে দেই। প্রথমত আমাদের দেশরক্ষা করতে গিয়ে আমাদের সেনাদের হাতে বিদেশি কেউ যদি আহত-নিহত হয় সেটা আমাদে সিভিল আদালতে তোলাই যাবে না। কারণ এক. ওরা বিদেশি এবং শত্রুপক্ষ বলে; মানে আমাদের দেশের নাগরিক নয় বলে। এমনকি আমাদের দেশে ভ্রমণে আসা বিদেশি ব্যক্তি  আহত-নিহত হলেও আমাদের সিভিল আদালতে এর বিচার হবে; সেটা হলেও। কারণ এদুইটা একই ধরনের ঘটনা নয়। এককথায় বাংলাদেশের ভুখন্ডে যেকোন হত্যা অপরাধ হওয়া মানেই তা আমাদের সিভিল আদালতের বিচার্য বিষয় বা এক্তিয়ারে নাও আসতে পারে।  কথাটা আরেক দিক থেকে বললে, ঘটনা যদি রাষ্ট্রের সুরক্ষা-প্রতিরক্ষাবিষয়ক হয় সেক্ষেত্রে যেমন, আমাদের একজন সৈনিক রাষ্ট্রের সুরক্ষা-প্রতিরক্ষার কাজ করতে গিয়ে কাউকে খুন করে ফেলে থাকে এটা সিভিল আদালতের এক্তিয়ারের বাইরের ঘটনা হবে। এনিয়ে যদি কিছু করতেই হবে সেটা সামরিক আদালত তাদের বিবেচনা ও এক্তিয়ার অনুসারে যা করার করবে।
    এখানে প্রুডেন্ট একটা খুব গুরুত্বপুর্ণ ধারণাঃ
    প্রুডেন্ট [Prudent]  বা বাংলায় একে বিচক্ষণ বা দুরদর্শী বলতে পারি; এখন প্রুডেন্ট জাজ  বা বিচক্ষণ বিচারক বলে  বা [juris-prudence বলে যে উপ-সাবজেক্ট ডাক্তারদেরও পড়তে হয়] একটা কথা আছে। বিচক্ষণ জাজ বলতে মূলত যে বুকিশ [bookish] নয়; মানে বইয়ে পড়া কোন ধারণা পেলেই তা সাধারণ আক্কেলজ্ঞান বা বুদ্ধিবিবেচনা ছাড়াই যে প্রয়োগ করতে যায় না! যে আইন দেখলে বা জানলেই চোখ বন্ধ করে তা প্রয়োগ করে না অথবা যেকোন মামলা তার সামনে আনলেই তিনি তা বিচারে বসে যান না।  তা না করে বরং এর সুদুর প্রসারি দিক অথবা পারিপাশ্বিক অন্যান্য বিষয়ও যিনি বিবেচনায় আনেন এরপর বিচারে বসেন তিনি প্রুডেন্ট জাজ। প্রুডেন্ট জাজ বুঝতে পারেন কোন মামলা তাঁর গ্রহণ করাই উচিত না।

    এবার আসি ‘দশ ট্রাক অস্ত্র’ মামলায়ঃ
    এবার আসি ‘দশ ট্রাক অস্ত্র’ মামলায়; সম্প্রতি (১৮ ডিসে. ২০২৪) ‘দশ ট্রাক অস্ত্র’ মামলা নিয়ে  [ডেথ রেফারেন্স বিষয়ক] এক মামলার রায় প্রকাশিত হয়েছে। বলা যায় রাজনৈতিক প্রভাবিত হয়ে  গত ১৬ বছর ধরে চলা বাংলাদেশের আদালত ব্যবস্থা চর্চা হাসিনা উতখাতের পরে এবারই প্রথম  এনিয়ে প্রথম একটা রায় দিল। অনেকের সাজা কমানো হয়েছে, অনেককে খালাস ইত্যাদি দেয়া হয়েছে নতুন রায়ে। কিন্তই সেসব দিক এখানে আলোচনার বিষয়বস্তু নয়।

    মূলত এখানে এটা একটা একাদেমিক আলোচনাঃ
    হা ঠিক তাই, এটা একটা একাদেমিক আলোচনা। সুনির্দিষ্ট কোন মামলা নিয়ে নয়। তবে বাস্তবের উদাহরণ হিসাবে ‘দশ ট্রাক অস্ত্র’ মামলাকে সময়ে রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে। বলা যায় এটা একটা লিগাল-একাদেমিক [legal-academic] আলোচনা। আর অনুমান করি,  ফরমাল আদালতে পেশ করা ডকুমেন্টে খুব সম্ভবত সেখানে চোরাচালান শব্দটা আছে। [আমি নিজে দেখিনাই ফলে আমি নিশ্চিত নই।] কোন কোন মিডিয়া রিপোর্টিংয়ে শব্দটা আছে এভাবে যে “দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান” মামলা এটা।  আসলে এটাই এই মামলায় সব রহস্যের গোড়া!
    যেমন এর মানে কী, এটা চোরাচালানের অপরাধ? এভাবে চোরাচালান না বললে এটাকে অপ্রাধ বলা যাচ্ছে না তাই?  – ‘দশ ট্রাক অস্ত্র’ মামলা – এটা কেন মামলা হতে পারল, এখানে অপরাধ টা কী? কেন সেটা অপরাধ – এটাই এই আলোচনার বিষয়বস্তু।

    কী অপরাধ ঘটানোর জন্য এই মামলাঃ
    প্রথম আলোর রিপোর্ট অনুসারে, “.….. ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল সিইউএফএল ঘাট থেকে আটক করা হয় ১০ ট্রাক ভর্তি অস্ত্রের চালান। এ নিয়ে কর্ণফুলী থানায় ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন ও ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে চোরাচালানের অভিযোগ এনে দুটি মামলা হয়। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পুলিশ দুটি মামলা একসঙ্গে তদন্ত করে। এর বিচারও একসঙ্গে শুরু হয়। অস্ত্র আইনে করা অন্য মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ হয় একই আসামিদের।

    সরকারী মামলা দেওয়ার ক্ষেত্রে সাথে বাড়তি ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা দেখা যাচ্ছে দেয়া হয়েছে তাহলে এর অর্থ হল, মামলাকারি সরকার পক্ষ নিশ্চিত হতে চাইছেন যে -মূল যে অভিযোগে মামলা – তা যদি কোন ত্রুটির কারণে প্রতিষ্ঠাই না করা যায় তবে তাতে যে আসামি খালাস হয়ে বের হয়ে না যায় তাই এই ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা সাথে দিয়ে রাখা হয়েছে বলে মনে করা হয়। অর্থাৎ যে মামলাটা দেয়া হয়েছে এর  মূল অপরাধ হল, অস্ত্রের চোরাচালান।  খোলাখুলি বললে অস্ত্রের চোরাচালানি মানে চোরাচালানি ব্যবসা বা ব্যবসার উদ্দেশ্যে চোরাচালানি পণ্য দশ ট্রাক ভর্তি অস্ত্রপাতিকে দেখা বা গ্রহণ করা এক জিনিষ; যেটাকে আমরা অস্ত্রের চোরাচালানি কাজ বলতে পারি। কিন্তু এটা আর ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন – এদুইটা সামঞ্জস্য নাই। কারণ অস্ত্র আইন টা লেখা হয়েছে বা এটা ডিল করে ব্যক্তি বা কিছু ব্যক্তিবর্গ যদি অস্ত্র হেফাজতে রাখে, বহণ করে, কারও উপর ব্যবহার করে এবং সর্বোপরি সেই অস্ত্রগুলো যে বিনা লাইসেন্সের হয়ে থাকে। ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন মোটামুটি এধরণের মামলাগুলোকে ডিল করার জন্য বানান।
    দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা আর ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন  এদুটোর মধ্যে মৌলিক ফারাক হল, প্রথমটা বাংলাদেশে বিক্রি, ব্যবহারের জন্য নয় তৃতীয় দেশে পাচার বা বিক্রির উদ্দেশ্যে। অর্থাৎ এখানে চোরাচালানি পণ্যটা কী সেটার চেয়ে এটা তৃতীয় দেশে চোরাচালানি – সেটাই মুখ্য। আর একটা দিক হল, এই অস্ত্র বাংলাদেশে বিক্রি বা ব্যবহার এর উদ্দেশ্য নয়। সোজাকথায় এই মোটিভ-গুলোই আসলে বলছে এই মামলা ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন এর অপরাধ হিসাবে পড়ে বা সামলানো বা কাভার করার যায় এমন নয়।  কারণ, অস্ত্রের চোরাচালান সামলানীর জন্য ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন রচনা করা হয় নাই।

    অস্ত্রের চোরাচালান সামলানীর জন্য ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন রচনা করা হয় নাই।

    এটা এই আইনি দুর্বলতার কথা, মামলাদাতা সরকার ও সরকারি লোকেরা জানতেন তা বুঝাই যায়। সেজন্যই কী চোরাচালান শব্দটা জুড়ে দিয়েছেন? কিন্তু দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা কী শ্রেফ একটা চোরাচালানি মামলা?
    এমনিতেই “চোরাচালানী রোধে” – সুনির্দিষ্ট করে অস্ত্রের চোরাচালিনী – এবং তাও আবার বাল্ক [bulk] মানে পাইকারি চোরাচালানির বিরুদ্ধে কোন আইনের কথা আমরা জানি না। সারকথায় দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন দিয়ে কাভার করার দিক থেকে খুবই ছোট। কারণ, এটা পাড়ার একটা ছেলে কয়েকটা পিস্তল কিনে এসেছে বিদেশ থেকে তেমন ঘটনা বা মামলা নয়।
    আর এটা সরকার বা মামলাকারিদের কর্তাদের না জানার কথা না।  তাহলে সমস্যাটা কোথায়???

     

    কী ধরনের আইনি মামলা এটা তা সাব্যস্ত করতে মূল সমস্যাটা কোথায়ঃ
    এটাই হল মূল রহস্য।
    দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা – এটা মূলত রাষ্ট্রের সুরক্ষা-নিরাপত্তা [State Security] সংক্রান্ত মামলা। এটা  সেসময়ের সরকার ও সরকারী কর্তারা সকলেই জানতেন। এটা বুঝতে পারা কঠিন কিছু নয় যে এই অস্ত্র আনার মোটিভ বাংলাদেশে এর বিতরণ একেবারেই নয়। বাংলাদেশের বাইরে কোন বিচ্ছিন্নতাবাদি রাজনৈতিক গোষ্ঠির হাতে পাঠানোর জন্যই তা আনা হয়েছিল। যেটা সরাসরি বাংলাদেশের রাষ্ট্রস্বার্থ, এর  সুরক্ষা-নিরাপত্তা [State Security] হতে পারে এবং সেসুত্রে কিছুটা তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সবমিলিয়ে এসব অর্থে রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা ইস্যু। অতএব এই মামলা বাংলাদেশের সিভিল আদালতে তোলার মত কোন মামলাই নয়। আর এনিয়ে যদি কোন ক্রিমিনাল অপরাধ হয়েছে বলে মনে হয় তবে সেটা আমাদের  সামরিক আদালতই দেখবে আর সেটাই এর সঠিক এক্তিয়ার হত। অথচ ইন্ডিয়া হাসিনাকে ক্ষমতায় বসানোর গ্যারান্টার তাই পুরা মামলাটাকেই সিভিল আদালতে ফেলা হয়েছে। যাতে ইচ্ছা মত এটাতে মোচড় দেয়া যায়!

    অথচ যেখানে এই মামলায় অপরাধ টা আসলে কী? এর সদুত্তর নাই। 

    অথচ যেখানে এই মামলায় অপরাধ টা আসলে কী? এর সদুত্তর নাই।  রাষ্ট্র যেখানে নিজ রাষ্ট্রস্বার্থের প্রয়োজনে দেশের বাইরে আরেক স্থানে অস্ত্র পৌছে দিতে কী পারবে না??? এটাকে অপরাধ হিসাবে সিভিল আদালত দেখবে কোন এক্তিয়ারে? অস্ত্রের চোরাচালান মানে কী চারপাঁচটা পিস্তল নিয়ে এসে নিজ রাজধানী শহরে গুন্ডামি করতে দেয়া  – এটা কী এমন কোন মামলা???

    বাস্তবতা হল, পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদি আন্দোলন আছে আর তাতে ইন্ডিয়া সহায়তা করে থাকে বহু যুগ থেকেই। পাকিস্তানও এর পালটা সেই পাকিস্তান আমল থেকে ভারতের নর্থ-ইস্টে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনগুলোকে সহায়তা দিয়ে থাকে! পাকিস্তানে চীনের [৪০ বিলিয়নের উপরে বিনিয়োগ] গোয়াদর প্রকল্প চলছে যার অনেক অংশ চালুও হয়ে গেছে। সেখানে চীনা উইঘুর সন্ত্রাসবাদীদেরকে দিয়ে প্রশ্রয় দিতে হামলা করিয়ে ১৩ জন চিনা ইঞ্জিনিয়ার মেরে ফেলা হয়েছে। যার পিছন থেকে সহায়তা করেছে আমেরিকা ও ইন্ডিয়া !!! এই হল অভিযোগ।  সারকথায় পরস্পর শ্ত্রুদেশ পরস্পরের দেশের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠিওগুলোকে সহায়তা করার টিট ফত টেট ধরনের ততপরতা এগুলা।

    এগুলো সিভিল আদালতে বিচার্য বিষয়ক মামলাই নয়ঃ
    তাই মূলত এগুলো সিভিল আদালতে তুলে বিচার্য বিষয়ক মামলাই নয়। রাষ্ট্রস্বার্থে রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা-নিরাপত্তা [State Security] সংক্রান্ত ঘটনাবলী এগুলো।  রাষ্ট্র সেকাজে কী নীতি নিবে তা সিভিল আদালতের এক্তিয়ার হতেই পারে না। এই গভীর বিবেচনা এতটুকু প্রুডেন্ট বিচারক তার মানে কী আমাদের নাই???? কারও এই পয়েন্টা মাথাতেই এলো না যে এগুলো কী সিভিল আদালতে তোলার মত মামলা??

    ঠিক যেমন ইন্দির গান্ধীকে ১৯৭৫ সালে আমাদের পাহাড়ীদেরকে আমাদের সরকারের বিরুদ্ধে ট্রেনিং দিয়ে অস্ত্র হাতে বাংলাদেশে উস্কানি দেয় নাই। শেখ মুজিব মরার পরে কাদের সিদ্দিকীর বাহিনীকে ট্রেনিং-অস্ত্র দিয়ে ইন্দিরা কী বাংলাদেশে [subversive activity] তে আমাদের পাবলিক যাত্রী-রেলের পাতি তুলে নিতে পাঠায় নাই? তখন এই আদালত এর মুরুব্বিরা  কোথায় ছিল? তার কিইবা করার ছিল? কী প্রতিকার করেছিল? তারা দেখে নাই শুনে নাই এসব ইতিহাস?

    কাজেই আমাদের আবেদন আমাদের আদালত অন্তত একটু প্রুডেন্ট হোক, সেই চর্চায় আলোকপাত করুক!

    আবার আরেকটা হতে পারে যেমন,   পররাষ্ট্রনীতিতে যেমন ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ একমতের একটা চুক্তি করল, যে তারা একে অপরের দেশে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনকে সহায়তা কার করবে না। কিন্তু সেক্ষেত্রেও লক্ষ্যনীয় এটাও আদালতের ইস্যুই নয়।

    কাজেই আদালত প্রুডেন্ট হলেই সেটা বাস্তবে মহামান্য আদালত হয়ে উঠতে পারে!!!

    এসব বিবেচনা থেকে এসপ্তাহের রায়ে প্রকাশিত বিচার রিভিউটাতে যদি পুরা  (দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা) মামলাটাই খারিজ করে দিতে পারত তবে সেটা বোধহয় বুদ্ধিমানের কাজ হত। নইলে যেমন ধরেন,  এধরণের কাজ তো ভবিষ্যতে আমাদের রাষ্ট্রস্বার্থে করতে হতেও পারে। তখন কী তেমন উতসাহী সাহসী সৈনিকদের কে কী আমরা পাবো??? এখন সেসব কাজের জন্য আমাদের সৈনিকদেরকে যদি সিভিল জেল খাটতে হয় এটা তো খারাপ উদাহরণ, আত্মঘাতি!  সাহসী সৈনিক গড়তে কী কষ্ট তা আমাদের অনুমান করা কী কঠিন?? সেখানে আময়ার এক ডিসকারেজিং উদাহরণ রেখে দিচ্ছি!!! তাই না কী? এই মামলায় অনেক গোয়েন্দা বিভাগের সিনিয়ার অফিসারকেও জেল খাটতে হয়েছে। এটা কাউন্টার প্রডাকটিভ। যদিও এমন প্রধান অফিসারও আছেন যারা অর্থের বিনিময়ে বিক্রি হয়ে এই তথ্য সংশ্লিষ্ট দেশে পাচার করে হারাম-আয় করেছেন। সেটা যতটুকু সত্যি-মিথ্যা যাই হোক, এসবও দেখা সামরিক আদালতের এক্তিয়ার!

    আমরা কী সবাই যার যার স্তরে একটু প্রুডেন্ট হতে পারিনা, পারবোনা কেন!! এই দেশটা তো আমাদেরই!!!

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  দুপুর ০২ঃ ০৭   ২১ ডিসেম্বর ২০২৪

     

  • কংগ্রেসী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর কান্ধে – গুম-খুনের চটের ব্যাগ না হিন্দুত্ববাদ!

    কংগ্রেসী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর কান্ধে – গুম-খুনের চটের ব্যাগ না হিন্দুত্ববাদ!
    গৌতম দাস
    ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪  বিকাল ০৪ঃ ১০
    https://wp.me/p1sCvy-64l

    ভুল করেন না। ইনি ইন্দিরা গান্ধী নন। ইনি ইন্দিরার ছেলে রাজীব গান্ধীর মেয়ে মানে, ইন্দিরার নাতি প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। রাহুল গান্ধীর ছোট বোন!
    “বাংলাদেশ কে হিন্দুও আউর ঈসাইও কে সাথ খড়ে হো” 

     

     

    বাংলাদেশের কমিউনিস্ট ও প্রগতিশীলদের ধারণা হল একালের মোদি হয়ত খারাপ (হিন্দুত্ববাদী) কিন্তু কংগ্রেস হল একেবারে খাঁটি। এরা সেই নেহেরুর-গান্ধীর আমল থেকেই কংগ্রেসিরা এক্কেবারে প্রগতিশীল! এমনকি নেহেরু তো নাকি সমাজতন্ত্রী ছিলেন?? শুধু তাই না আরও আছে – এরা সেকুলার, অসাম্প্রদায়িক, জাতীয়তাবাদী,  সমাজতন্ত্রী আরও কত কীই না!
    যেমন ধরেন বাংলাদেশে এ’ধরণেরই সমাজতন্ত্রী- প্রগতিশীল একেবারে প্রতীক লোকটা; এমন লোকটা বাংলাদেশে কে? খুব সম্ভবত তাঁর নাম কমিউনিস্টেরা বলবে তিনি হলেন এমিরেটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

    কদিন ধরে ভাবছিলাম এই প্রগতিশীলকে একটু ফুটা করে দেয়া দরকার।  কারণ ইনিই হলেই বিবৃতিবাজ এক নম্বর। প্রগতিশীল-সমাজতন্ত্রী বিবৃতিবাজ বুদ্ধিজীবীতার একনম্বর! আজকাল কিছু ইসলাম-পছন্দ পত্রিকাও দেখি তাঁর লেখা নিবার জন্য লাইন ধরেছে। তিনি এতই  প্রগতিশীল-সমাজতন্ত্রী বিবৃতিবাজ বুদ্ধিজীবী। ইনার নাম থাকে বিবৃতিতে সবার উপরে। কারণ উনার নাম প্রথমেই দেখা গেলে পরে; এরপরে হুটোপটি লেগে যায় কার আগে কে সেখানে নিজের নাম ঢুকাতে হুমড়ি খেয়ে পড়বে!!!
    আড় ইনাদের চোখে কংগ্রেস! ও কংগ্রেস? কংগ্রেস তো হল তাদের সেকুলার এর প্রতীক! কংগ্রেসকে দেখেই তো এই সেকুলার শব্দের জন্ম, এমন অবস্থা! মানে মুসলমান কোপানোর সবচেয়ে যুতসই ধারালো কুড়াল হল – এই কথিত সেকুলার-ধারণা। পড়াশুনা না করা এই ডক্টরেট ডিগ্রীধারীরাই বাংলাদেশে এসব ‘সেকুলার’ সার্টিফিকেট বিলিয়ে বেড়ান।

     

    কিন্তু এরাই আবার কখনও মোদি, আরএসএস-বিজেপি বা তাদের জাগরণ মঞ্চ, কিংবা সনাতনি মঞ্চ, একালের ইসকন এসব সম্পর্কে একেবারে মুখ বন্ধ! মুখে কঠিন তালা দেওয়া। চিন্ময়-ইসকন ইস্যুতে উনারা যেন মৃত!

     

    যাই হোক, সেই প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা! বঢরা নামের এইঅংশটা স্বামীর টাইটেল সুত্রে। ঠিক যেমন হাসিনার নামে ‘শেখ’ থাকার কথা না কারণ ওটা বাপের টাইটেল; আর তিনি সাথে এক সময় স্বামীর টাইটেল ‘ওয়াজেদ’ লিখতেন – এটা তেমনই। 
    উপরের ছবিতে প্রিয়াঙ্কা কাঁধে যে চটের ব্যাগটা সেটাই আলোচনার কেন্দ্র ও বিষয়বস্তু। ওখানে হিন্দিতে (অল্প কোথাও ইংরাজিতেও লেখা আছে )  –বাংলাদেশ কে হিন্দুও আউর ও ঈসাইও কে সাথ খড়ে হো -। মানে হল বাংলাদেশের হিন্দু আর খৃশ্চানদের পক্ষে দাঁড়াও!  

    এখানে চটের ব্যগে ইংরাজিতে লেখা আছে – STAND for MINIRITIES OF BANGLADESH

    অনেকের কাছে মনে হতে হতে পারে, এ আর এমন কী? ভারত সরকারই তো এমন বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন হচ্ছে বলে প্রপাগান্ডায় ভরায় ফেলেছে। সরি, মহাশয়েরা আপনারা মারাত্মক ভুল করলেন।

     

    কংগ্রেস হল পবিত্র আর জিন্নাহ হল পাপী! কংগ্রেস মানে গান্ধী-নেহেরুরা হল পবিত্র, সেকুলার সমাজতন্ত্রী। 

    এই বক্তব্যের অন্যতম পাহারাদার হলেন সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীরা।
    কিন্তু পাঠকদেরকে সাবধান হতে হবে, মিথ্যা থেকে বের হতে হবে – বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন হচ্ছে এই দাবি কিন্তু মোদি ও বিজেপি সরকারের। কিন্তু লক্ষ্য করেন,  মোদি সরকারের দাবি কে মেনে নেওয়া কংগ্রেস এর (সাথে সিপিএম অথবা মমতার তৃণমুল) জন্য বাধ্যতামূলক নয়।

    অথচ আমরা দেখছি রীতিমত চটের ব্যাগ বানিয়ে একে পোস্টারের মত কাঁধে নিয়ে কংগ্রেসিরা সংসদে মিছিল করছে, ফটো সেশনও! মোদি আর কংগ্রেস একাকার! হিন্দুত্ববাদী!!!!!

     

    মোদি কেন এই মিথ্যা প্রপাগান্ডার পথেঃ
    আবার মোদি কেন এই মিথ্যা প্রপাগান্ডা করার পথ ধরেছে? কারণ, বাংলাদেশের হাসিনা আমলের দুইটা ঘটনাঃ
    এক. এখন জানা যাচ্ছে- গুম, খুন অপহরণ ও আয়নাঘর ঘটনায় ইন্ডিয়ার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ আছে!  হাসিনা ইন্ডিয়ার সাথে মিলে এমন আয়নাঘর ততপরতা এমনকি অপহৃত ব্যক্তিকে ইন্ডিয়ার উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার মত কান্ডও ঘটিয়েছে এরা যৌথ ভাবে!!!!
    দুই. ২০০৯ সালের বিডিআর ম্যাসাকার ও আমাদের সৈনিক-অফিসারদের হত্যার সাথে ইন্ডিয়ার সংশ্লিষ্টতা প্রকাশ হয়ে পড়তে পারে!

    এদুই ঘটনাকে চাপা দিতেই বাংলাদেশের উপর প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি এটাই মোদি সরকারের কৌশল ও লক্ষ্য। তাই কথিত এই হিন্দু নির্যাতনের প্রপাগান্ডা।

    তাহলে এখন দাড়ালো কী?
    দাড়ালো যে মোদির বিজেপি আর কংগ্রেস এই প্রশ্নে ভাইভাই!  তাদের ভারত-মাতা কে রক্ষার স্বার্থে কাঁধে ব্যাগ উঠিয়ে নিয়ে মিথ্যা কথা লেখা ও এর মিথ্যা প্রপাগান্ডা – এটাই কংগ্রেসি অপ-ততপরতা!  এই হল কংগ্রেসের পবিত্র সেকুলার ও সমাজতন্ত্রী আচরণ! যেখানে আমরা বাংলাদেশিরা হলাম পাপী – আমরা পাপী মুসলমান বা তাদেরকে সমর্থনকারী!!!

    কাজেই সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে  প্রগতিশীল-সমাজতন্ত্রী বিবৃতিবাজ বুদ্ধিজীবী গণ আপনারা বিবৃতি দিবেন কবে? সেই অপেক্ষায় থাকলাম!!!

     

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ বিকাল ৪ঃ ৪৯   ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪