Category: Politics

  • ‘রোড ম্যাপ’ – আসলে কাদের দাবি? ভারতের!

    ‘রোড ম্যাপ’ – আসলে কাদের দাবি? ভারতের!
    গৌতম দাস
    ১৮ নভেম্বর ২০২৪ সকাল ১০ঃ ৪১
    https://wp.me/p1sCvy-5NY

     

     

     

     

     

     

    ‘রোড ম্যাপ’ – আসলে কাদের দাবী?
    বলে না যে, নাই চাইতেই পানি; এটা একেবারে সেই অবস্থা! ভারত নিজেই স্বীকার করে দিয়েছে যে ইউনুস সরকারের উপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করে কেবল রোড ম্যাপ প্রকাশের দাবী আসলে ভারতের দাবী। এই অর্থে বিএনপি ও জামায়াতের দাবিটা হলচ্ছে ভারতের পক্ষে ঠট মিলানো বা লিপ সার্ভিস! গতকালকে বিবিসি বাংলায় প্রকাশিত এক লেখায় এসব কিছু উঠে এসেছে!

    এর লেখক শুভজ্যোতি ঘোষ! বহুবার আমার লেখায় তাঁকে পরিচিত করিয়েছি যে বিবিসি বাংলার লেখক কলকাতার এই শুভজ্যোতি কলকাতার আরএসএস এর নেতা তথাগত রায়ের আমল থেকে তাঁর হাতে একেবারে বায়াত নেয়া এক মুরিদান, কথিত সাংবাদিক এই শুভজ্যোতি ঘোষ।  মানে, আগে বলেছি বিদেশি (ইউরোপীয় বা আমেরিকান) প্রচারিত কোন বাংলা মিডিয়া কখনই অর্থনৈতিকভাবে ভায়াবল মানে স্টাফদের বেতনও যোগাড়ের মত আয় করতে পারে না। তাই বিবিসি বা ডয়েচ ভেলে বা একালের ঠিকানা এসব মিডিয়াই হল ‘র’-এর বাচ্চা প্রসবের জায়গা।  কারণ ‘র’-এর প্রপাগান্ডা করতে এরা নিজের পেজ বা ব্রডকাস্টিং টাইম ভাড়া দেওয়া এসব কাজ করেই কেবল দুইটা পয়সার মুখ দেখতে পারে – এসব বিদেশি কথিত মিডিয়া!  তাই একে বিবিসি বাংলা এর উপর সাথে মুরিদ শুভজ্যোতি ঘোষ এদুইয়ের কম্বিনেশন মানেই হল এক ‘র’-এর কোন প্রপাগান্ডা বয়ান এখানে প্রসবিত হবে। হয়েছেও তাই!
    গতকাল সকালে এই লেখাটা প্রকাশিত হয়েছিল। “হিন্দু, হাসিনা, হতাশা : যে সব কারণে দিল্লি ও ঢাকার সম্পর্ক কিছুতেই সহজ হচ্ছে না” – এই লম্বা শিরোনামে বিবিসি বাংলায় এক লেখা ছাপা হয়েছে।

    যেন মোদি আর ‘র’-এর লোকেরা রাগ দেখিয়ে বলেছিল আর কোনদিন ভাত খাবে না। ভেবেছিল অনেকেই সাধাসাধি করবে!
    কিন্তু এখন কপাল খারাপ সাধাসাধি দূরে থাক কেউ ডাকেও না যে আসেন চারটা ভাত খান  – এখন এমন ফাঁদে পড়ার দশা
    হয়েছে ভারতের। আর বিবিসি বাংলায় এই প্রপাগান্ডা লেখার শেষ দুই বাক্য হল এরকমঃ
    তবে অন্তর্বর্তী সরকার সে দেশে দ্রুত নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করলে দিল্লির এই মনোভাবের পরিবর্তন হতে পারে, সেই ইঙ্গিতও কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে।

    অর্থাৎ সারকথায় বলতে চাচ্ছে যে,  “যতদিন না সেটা বাস্তবে ঘটছে, দিল্লি ও ঢাকার শীতল কূটনৈতিক সম্পর্কের বরফ গলবে সেই সম্ভাবনা সত্যিই আসলে খুব ক্ষীণ!”।

    তাহলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখনই রোড ম্যাপ দাও বনাম ইউনুস সরকারের সংস্কার – এই প্রধান ইস্যুতে সোচ্চার হিসাবে বিএনপি ও জামায়াত এদুই দলকে আমরা সাদা চোখে দেখতে পেলেও আসলে রোড ম্যাপ ঘোষণা চাওয়ার প্রকৃত দাবিদার কী  এর মানে  ভারত????
    তাহলে  এদুই দল কী মোদির মুখপাত্র? এডভান্স পার্টি? অগ্রগামি ভারতীয় চাওয়া ইঙ্গিতে বলার দল? সেকারণেই শুভজ্যোতি লিখছেন – “……অন্তর্বর্তী সরকার সে দেশে দ্রুত নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করলে দিল্লির এই মনোভাবের পরিবর্তন হতে পারে” ?

    মানে তখন আরেকবার ডাকিলে মোদি খাইতে আসিবে???

    বুঝা যাচ্ছে বিবিসি বাংলার “এই লেখা” এদুই দলকে ভালই ভুগাবে!!!! কারণ, এই লেখা প্রকাশ করিয়ে ভারত তার মনবাসনা উদাম করেছে।
    ইতোমধ্যেই এ দুইদল (বিএনপি ও জামায়াত) তারা “আওয়ামি লীগ নিষিদ্ধের” মধ্যে নাই; অথবা  “নিষিদ্ধ জনগণ করবে“; অথবা আরেক দল জামায়াত – বারে বারে ফ্যাসিবাদ বলে ডাকতে না করেছেন, পছন্দ করেন না জানিয়েছেন; কারণ উনারা নাকি সবাইকে নিয়েই ‘সংসার’ করতে চান…। এসব বক্তব্যের সমালোচনায় মিডিয়া এমনিতেই উপচে উঠে আছে অবস্থায় যখন। তখনই বিবিসি বাংলায় প্রকাশিত এই কান্ড এসেছে!!!

    শুভজ্যোতির এই লেখার শিরোনাম থেকেই আসি। শুভজ্যোতি খোলাখুলি – হিন্দু, হাসিনা ও হতাশা – শব্দ ব্যবহার করেছেন।
    মানে – হিন্দু বলতে – এতদিন জোটবদ্ধ মোদি-হাসিনার যৌথ প্রচেষ্টায় বাংলাদেশে “হিন্দু নির্যাতন হচ্ছে” বলে যে এরা দাপায়ে বেরিয়েছিল তা তাদের কাঙ্খিত ফল দেয় নাই বা ফল আনে নাই এটাই বুঝাচ্ছে যেন। তাই মোদি-হাসিনার এই ‘জুটি’ এখন হতাশ????
    ফলে নয়া লাইন হল বিবিসি বাংলা – একে পয়সা দিয়ে কিনে – কেন মোদির ভারত রাগ দেখিয়ে গুসসা ঘরে খিল-দরজা আটকিয়ে বসে আছে তা – এখন এরা নিজেরাই তা জানানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

    এছাড়া এই প্রপান্ডা লেখায় অদ্ভুত সব তথ্য দেয়া হয়েছে।
    যেমন এক ডক্টরেট ডিগ্রীধারী ডঃ শুভ্রকমল দত্ত এর কথা বলা হয়েছে। পরিচয় বলা হয়েছে – বিজেপির ঘনিষ্ঠ পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ শুভ্রকমল দত্ত! মানে এক সাংঘাতিক ব্যাপার! ডক্টরেট ডিগ্রীধারী তাহলে নিশ্চয় তিনি জ্ঞানী, এর উপরে তিনি নাকি আবার “পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ” !

    কিন্তু তিনি কী বলছেন,
    “সারা বিশ্বে নির্যাতিত হিন্দুদের সুরক্ষার ভার যে নরেন্দ্র মোদী সরকার নিজে থেকেই নিয়েছে বলে বারবার ঘোষণা করেছে – তাদের পক্ষে এই পরিস্থিতিতে নীরব থাকা সম্ভব নয় বলেই বিজেপি নেতারা যুক্তি দিচ্ছেন।
    এর মানে – বাংলাদেশের হিন্দুদের সুরক্ষার ভার মোদি সাব নিজেই নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন – খোলাখুলিই এটা বলছেন।

    তাহলে,  এখন একইভাবে ভারতীয় মুসলমানদের সুরক্ষার ভার যদি ইউনুস সাহেব নিজে থেকেই নিতে চান সেটা কী এই জ্ঞানী সুভ্রকমল বা খোদ মোদি সাহেব স্বাগত জানাবেন? এই দত্ত সাব নাকি আবার কথিত “পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ”!!! তাহলে এই কী বিশেষজ্ঞের নমুনা??? এটা কী কোন দেশের পররাষ্ট্রনীতি হতে পারে যেমন, – মোদি স্বেচ্ছায় বাংলাদেশের হিন্দুদের সুরক্ষার ভার নিজ হাতে উঠায় নিলেন?

    আবার বাংলাদেশের কোন হিন্দু যদি এতে মোদির হাতে সুরক্ষা পেতে নিজেকে সঁপে দেন তাতে কী তিনি এরপরেও বাংলাদেশের নাগরিক হিসাবে থাকতে পারেন? নাকি এটাই নিজদেশের প্রতি আনুগত্যহীনতার প্রকাশ হয়ে হাজির হবে? দেখা হবে নাকি? বাংলাদেশের কোন হিন্দু নাগরিকের অধিকার বিনষ্ট হলে নিজ দেশের আদালত, সরকার, সমাজ, নিজ জনগণ ইত্যাদি সবার কাছে নালিশ নিয়ে যেতে পারেন; চাইকি বিদেশি অধিকারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠনের কাছে বা জাতিসংঘের আদালতেও যেতে পারেন; আন্দোলন করতে পারেন, গণঅভ্যুত্থান পর্যন্তও যেতে পারেন!!! এভাবে নিজদেশের সরকার, কনষ্টিটিউশন আইন ইত্যাদি সব বদলে ফেলতে পারেন। এটাই হতে পারে তাঁর দাবী আদায়ের একমাত্র ও সদর রাস্তা।
    কিন্তু বিপরীতে সদর রাস্তা ফেলে বাংলাদেশের কোন হিন্দু নাগরিক যদি আরেক রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী মোদির কাছে নিজ সুরক্ষা চাইতে যান, তাকে আপন সুরক্ষাদাতা ক্ষমতা মনে করেন তবে এটাই প্রকৃত রাষ্ট্রদ্রোহিতা হবে! কারণ এটা সার্বভৌমত্ব ও আনুগত্যের প্রশ্ন যা আপনি লঙ্ঘন করেছেন।
    কারণ,  মোদি তো ইউনুস সাহেব (বা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব) এর উপরের কোন কর্তা নন হতে পারেন না যে, ধমকায়ে দিবেন!!! আপনি বাংলাদেশের হিন্দু নাগরিক প্রকৃতই কোন নির্যাতিতা হলেও আরেক রাষ্ট্রের সরকারপ্রধানের আনুগত্য করতে পারেন না। অথচ আপনাকে এটা করাতেই উস্কানি দিয়ে চলেছে মোদি ও তাঁর চেলা এই সুভ্রকমল গংয়েরা!!!! একই কারণে, মোদি খায়েশ করলেও সারাবিশ্বের হিন্দুদের সুরক্ষার দায় নিতে বা রক্ষকর্তা হতে খায়েশ উঠায় নিতে পারেন না। ঠিক যেমন ভারতের মুসলমান সুরক্ষাদাতা হিসাবে ইউনুস সরকারকে মোদি এলাও করবেন না। “পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ” সুভ্রকমলও এলাও করবেন না যদি তিনি প্রকৃতই “পররাষ্ট্রনীতি” জিনিষটা কী এর নুন্যতম কিছু বুঝে থাকেন!

    এরপরেও শুভ্রকমল দত্ত সাব থামেন নাই। শুভজ্যোতি বলছেন শুভ্রকমল দত্ত নাকি এমনও বলছেন, – “বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর এই নির্যাতন অব্যাহত থাকলে ভারতের উচিত হবে ড. ইউনূসের সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা – যেমনটা করা হয়েছে আফগানিস্তানে তালেবান শাসকদের সঙ্গেও!”।
    কথা হল দেখাই তো যাচ্ছে ভারত আফগানিস্তানে শেষে যেয়ে কি করেছে! য়ার বাংলাদেশের ক্ষেত্রে দেখতেছি বরং অর্থ ঘুষ দিয়ে শুভজ্যোতিকে কিনেছেন, বিবিসি বাংলার এই পাতা বা স্পেস-টা কিনেছেন। আর এই জ্ঞানি দত্ত সাবও এখানে এসে আবোল-তাবোল বকছেন!  আর ওদিকে আফগানিস্তানে কী হয়েছে? ভারত কী করতে পেরেছে? শেষে ঐ তালেবান আমীর সরকারের কোলেই কী মোদি আবার ঝাঁপায় পরেন নাই??? কাজেই যে “রাগের কোন দাম” বা বাজারমুল্য নাই তা দেখাতে যান কেন?
    আসলে ভুয়া রাগের দাম না পেয়ে মোদি ক্ষেপে গেছেন। তাই এখন তাদের রাগের পক্ষে সাফাই কী ছি তা জাহির করতে বিবিসিকে ভাড়া নিছেন! তাই শুভজ্যোতি লিখেছেন, “ফলে বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা বা অত্যাচারের আসল মাত্রা যতটাই হোক, বিষয়টা ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্কে ছায়াপাত করছে খুব গভীরভাবে”।

    পেটি ভারতীয় কুটনীতিকঃ
    কিছু ভারতীয় কূটনীতিক হন মফস্বলী, অসভ্য এবং সর্বোপরি পেটিবুর্জোয়া বা পেটি মধ্যবিত্ত ঘর থেকে উঠে আসা ফলে মানসিক চিন্তায় নিম্ন পরিসরের। দুনিয়ার বড় দিকটা যারা কখনই দেখে নাই, দেখতে পাবেন না। এমন একজন হলেন পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী যিনি ১/১১ এর আমলে ঢাকায় ভারতীয় রাষ্ট্রদুত ছিলেন। এখন এক থিঙ্কট্যাংক ফাউন্ডেশনে [ORF] যুক্ত আছেন।  বিবিসি বাংলার এ’লেখায় এমন কূটনীতিক আরেকজনের নাম আনা হয়েছে – নাম বলেছে – “শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিবিদ টিসিএ রাঘবন”।
    তৃতীয় আরেকজনের কথা বলা হয়েছে কিন্তু তার নাম লুকিয়ে উহ্য রাখা হয়েছে। যিনি উপরে উল্লেখিত পিনাক ও রাঘবন এদুইজনের একজন বলে অনুমান! সবচেয়ে বাজে ও অসভ্য ও মিথ্যা কথাগুলো বলা হয়েছে তার নামের আড়ালে! আর অসভ্য ভাষায় কথা বলার অভ্যাস কলকাতার বাঙালি পিনাক রঞ্জনের যা তিনি অতীতে ঢাকায় থাকতেও অনেকবার স্বাক্ষর রেখেছেন। এমনকি তিনি আরেক সাবেক রাষ্ট্রদুত বিনা সিক্রি (যিনি হয়ত হিন্দুত্ববাদিতা অবস্থানের বিচারে পিনাকের চেয়েও বড় হিন্দুত্ববাদি ) কিন্তু পিনাক রঞ্জন অসভ্যতা দেখানোর প্রশ্নে এদের সবাইকে ছাড়িয়ে!
    যেমন, বিবিসি বাংলায় লেখা হয়েছে এভাবে, “ঢাকায় ভারতের রাষ্ট্রদূত ছিলেন, এমনই একজন সাবেক সিনিয়র কর্মকর্তা যেমন বিবিসিকে বলছিলেন – মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদী সরকার পূর্ণ মর্যাদায় ও সমানে-সমানে ডিল করবে ‘এটা আসলে আশা করা উচিতই নয়!’
    এটা এক ঘোরতর বেয়াদবি-মূলক বাক্য ও উচ্চারণ নিঃসন্দেহে! কোন পেশাদার কূটনীতিক বেনামেও এমন বাক্য বলবেন না! কারণ ভদ্র ভাষা ও ঠান্ডা মাথায় কড়া কথা বলাটাই তো কূটনীতিক পেশাদারিত্বের কাজ!
    অথচ এখানে দেখেন নাম ছুপানো সেই লোক অবলীলায় বলছেন, বাংলাদেশকে মোদি সরকার নাকি – “পূর্ণ মর্যাদায় ও সমানে-সমানে ডিল” করবে না। তাও আরো সেটা বলতেছেন বাংলাদেশের বা ইউনুস সাহেবের সেটা নাকি – “আশা করা উচিতই নয়”।

    এই হল, হুশ হারানো উগ্র হিন্দুত্ববাদি ও অপেশাদারি ক্ষুদ্রমনের মানুষের কথা বলার স্টাইল! আসলে এটা নেহেরুর মধ্যেও ছিল সেই ধারাবাহিকতাই!  শাসক বলতে তিনি কলোনি শাসকের অনুকরণে নিজেকে শাসক বুঝতেন – সেই বুঝেরই প্রতিধ্বনি!  নেহেরু কখন বুছতেই পারেন নাই যে ১৯৪৫ সালে বিশ্বযুদ্ধ শেষের – পরের দুনিয়াটা মানে কি? তা হল সকলেই তখন থেকে এক কলোনিমুক্ত স্বাধীন রাষ্ট্র এরই দুনিয়া। তাই কূটনৈতিক অর্থে ডিলিংয়ে ছোট-বড় সব রাষ্ট্র সকলেই একে-অপরের ভিন্ন-রাষ্ট্রের সাথে ও চোখে সমান মর্যাদার ও সম্মানীয়! কারণ হল, এখানে আরেক ভিনরাষ্ট্র ক্ষুদ্র বা সামরিক দিক থেকে কিছুই না তা হলেও ঐ ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের জনগণ তারা সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। তাই তখন থেকে এই রেওয়াজ; ছোট-বড় প্রত্যেক রাষ্ট্রই অপর রাষ্ট্রকে এই মান্যতা ও সম্মান না দিলে ১৯৪৫ সালের পরের দুনিয়ায় চলা অসম্ভব বা পাশাপাশি জাতিসংঘের আসরে দুই দেশের প্রতিনিধির পক্ষে বসা সম্ভব নয়! কিন্তু নেহেরুর মত একটা কলোনি-মনের মানুষ বলে তিনি এটা উপলব্দিই করতে পারেন নাই। কারণ, পুরানা অধস্তন বৃটিশ রাজপ্রতিনিধি চাকর বা ভাইসরয় হওয়া ছিল নেহেরুর মডেল! তাই  স্বাধীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে যতটা তিনি গর্ব করতে পারেন না, এরচেয়ে নিজেকে কল্পনায় ভাইসরয় ভাবতে বেশী সুখ স্বস্তি পেতেন!

    সে যাক, অসভ্য লোকেরাও তো সমাজেই থাকে! এবার আসল জায়গায় আসি। কেন বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় যাবার বা পাবার লোভে আত্মহননকারি বা নিজ অস্বস্তিত্ব বিলিঙ্কারি হয়ে উঠেছে তা আমরা দেখব।

    শুভজ্যোতি এরপরের বাক্য লিখছেন, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই প্রাক্তন রাষ্ট্রদূতের কথায়,

    “ড. ইউনূসকে বলব, আপনার সরকারের সাংবিধানিক ভিত্তি কী, সেটাই তো স্পষ্ট নয়! আর আদৌ যদি কোনও বৈধতা থেকে থাকে – সেটা নব্বই দিনের বেশি নয়, আর তাও শুধু নির্বাচন আয়োজনের জন্য!”
    “সেই জায়গায় আমরা কী দেখছি, নব্বই দিন কেটে গেছে আর আপনারা দেশ সংস্কারে নেমেছেন! ইন্টারভিউ দিয়ে বলছেন, তিস্তা সহ অভিন্ন নদীগুলোর পানিবণ্টন হতে হবে সমতা আর ন্যায্যতার ভিত্তিতে।”
    “আরে বাবা, ভারত আপনাদের সঙ্গে তিস্তা নিয়ে কথা বলতে যাবে কোন দুঃখে?”

    এই হল বিবিসি বাংলার লেখাটার আসল জায়গা; যে মোদির সরকার কেন ইউনুস সরকারের সাথে কথাই বলবে না, বাংলাদেশের কোন সরকার বলে প্রায় স্বীকারই করবে না; বরং উলটা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সাবভারসিভ [subversive] বা গোপন নাশকতামূলক কাজ বা গুপ্ত আক্রমণে ষড়যন্ত্রের পথে  – কখনও হিন্দু নির্যাতন তো কখনও ইসকনের তান্ডব; অথবা কখনও ১৫ আগষ্টে ৩২ নম্বর বা ১০ নভেম্বরের জরো পয়েন্ট ইত্যাদিতে হাসিনাকে দিয়ে বাংলাদেশে হস্তক্ষেপের নোংরা [nasty] পথে আগাবে – ইউনুস সরকারকে নিয়মিত ডিস্টার্ব ও উস্কানি তৈরি করবে। কারণ, মোদির গোষ্ঠি দেখাতে চায় তারা ইউনুস সরকারকে মানে না। কিন্তু ঠিক কেন এমন কঠোর শাস্তি?
    কারণ,  ঐ পরিচয় লুকানো লোক বলে দিচ্ছেন, ইউনুস সাহেব কেন – “……ইন্টারভিউ দিয়ে বলছেন, তিস্তা সহ অভিন্ন নদীগুলোর পানিবণ্টন হতে হবে সমতা আর ন্যায্যতার ভিত্তিতে।”

    মানে হল, আমাদের ইউনুস সাহেব এই যে দাদাদের মুখের উপরে এত বড় কথা – সমতা আর ন্যায্যতার ভিত্তিতে পানির হিস্যা দাবী করছেন – এটা মোদি সাব মেনে নিতে পারেন নাই! এজন্যই তিনি (ঐ গুপ্ত কূটনীতিক) বলছেন ইউনুস সরকার যেন মোদি সরকারের কাছে “পূর্ণ মর্যাদায় ও সমানে-সমানে ডিল” আশা না করেন! বাংলাদেশ রাষ্ট্র নিজ মর্যাদায় নিজ হিস্যা চাইতে পারবে না – এই হল মোদির সার কথা।

    বরং যত তাড়াতাড়ি ইউনুস সরকারকে খেদিয়ে বিএনপি (সাথে বিরোধিদলের আসনে জামায়াত) কে সরকারে বসানো যায় এরই এক নির্বাচনি রোড ম্যাপ দেখতে এজন্য ভারত উদগ্রীব!
    আর এখানে রোড ম্যাপ রোড ময়প বলে এই একটাই ভাষ্যে ভারত-বিএনপি-জামায়াত সবাই সবার একাকার এবং একই স্বার্থে।

    তাই পরিস্কার করেই বলছেন, “আরে বাবা, ভারত আপনাদের সঙ্গে তিস্তা নিয়ে কথা বলতে যাবে কোন দুঃখে?”

    কারণ তাদের হাতে আছে একই রোড ম্যাপ আকাঙ্খাকারি বিএনপি (সাথে হবু বিরোধিদল জামায়াত)।

    ভারত তার এই হস্তক্ষেপ-আকাঙ্খি অবস্থানের পক্ষে সাফাইয়ে ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে বলছে – “বাংলাদেশের মানুষের ভোটে জিতে আপনারা ক্ষমতায় আসেননি, আপনাদের কোনও ম্যান্ডেটও নেই এটা নিয়ে কথা বলার,” চাঁছাছোলা ভাষায় জানিয়ে দেন তিনি।

    প্রথমত, এমন কথার মানে হল, এখনকার দুনিয়াতে ভারত হল একমাত্র রাষ্ট্র যে ইউনুস সরকারের পিছনে গণরায় বা ম্যান্ডেট আছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। না আমেরিকা না ইউরোপীয় ইউনিয়ন, না চীন বা এশিয়ান কোন দেশ এনিয়ে এমন বোকার প্রশ্ন করেছে। কথা হল,  বাংলাদেশের বাইরের আরেক কোন রাষ্ট্র এমন প্রশ্ন করার কে, ভারত কী বাংলাদেশের নিজ জনগণের উর্ধে কেউ? তার উর্ধে উঠছেন?  বোকারাই তো এমন বোকার প্রশ্ন করতে পারে।

    এর মানে ওই কথিত রাষ্ট্রদুত ধরে নিয়েছেন তিনিই বাংলাদেশের সংবিধানের ব্যাখ্যাদাতা। আর ইউনুস সরকার হল যেন কেবল নব্বই দিনের এক তত্বাবধায়ক সরকার!
    সম্প্রতি ইউনুস সরকার সংবিধানে হাত দিতে পারবে না  – বলে বিএনপির প্রায়ই এমন হাত দিবার বিরুদ্ধে আপত্তি ও  হুশিয়ারি তুলে থাকে। সেটা কী তাহলে এজন্যই? এমনকি বর্তমান এটর্ণী জেনারেল যিনি বিএনপি চেয়ারম্যানের ‘বিশেষ’ তিনিও এখন ইউনুস সরকারেরই এটর্ণী জেনারেল হয়েও এক বক্তৃতা করে দাবী করেছেন – কেন ইউনুস সরকার কনষ্টিটিশনে হাত দিতে পারেন না।
    অর্থাৎ এখানেও ভারত-বিএনপি-জামায়াত সকলেরই কনষ্টিটিশন-ভক্ত হয়ে উঠার অদ্ভুত মিল দেখতে পাই আমরা। কনষ্টিটিশন যেন এক খুব পবিত্র জিনিষ ফলে এতে হাত লাগানো যাবে না এমন এক ফতোয়া!

    এদের সকলের প্রতি কম কথায় বলা যাবে এমন কিছু বলিঃ
    আমাদের বিগত ১/১১ এর সরকার, এটা ছিল হাসিনা ও ভারতের (বিশেষ করে তখনকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জির কাছে) খুবই আপন ও পবিত্র সরকার এবং তাদের চোখে এক বৈধ সরকার।
    কিন্তু ১/১১ এর ক্ষমতাদখল কী আমাদের কনষ্টিটিশন অনুসারে বৈধ? আবার এটা কী নিজে কোন তত্বাবধায়ক সরকার মানে নব্বুই দিনের সরকার ছিল? [কোন ভাবেই না। এটা দুবছরের বেশী ক্ষমতায় ছিল।] যেমন টা এখনকার এই লেখার ‘পরিচয় লুকিয়া থাকা রাষ্ট্রদুত’ দাবী করছেন?
    তাহলে ১/১১ এর ফকুরুদ্দিন-মঈনউদ্দিনের সরকার কেন হাসিনা ও ভারতের কাছে পবিত্র ছিল? শুধু তাই না একতা মজার গল্প শুনেন!!!

    এই মুখ লুকানো রাষ্ট্রদুত কিংবা প্রণয় ভার্মা বা মোদি সরকার – এরা ইউনুস সরকারকে প্রায় স্বীকারই করবেন না; বরং  বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন করবেন – এই হল তাদের অবস্থান। অথচ ভারত ১/১১ এর আমলে সে সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন করেন নাই খবর নেন নাই। আর  এমন ১/১১ এর ফকুরুদ্দিন-মঈনউদ্দিনের সরকার ছিল ভারতের কাছে সবচেয়ে আপন।

    কত আপন?
    পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব ১/১১ সরকারের আমলে একাধিক বার ঢাকায় এসেছেন – মানে এখনকার জয়শঙ্কর যেমন ইউনুস সরকারের সাথে ছুয়াছুয়িও এড়িয়ে চলতে চান সেকালে প্রণব ছিলেন এর একদম উলটা। মানে কনষ্টিটিউশনে বৈধতা খুঁজার দিক থেকে  ১/১১ এর ফকুরুদ্দিন-মঈনউদ্দিনের সরকার বা এখনকার ইউনুস সরকারের অবস্থান এক হওয়া সত্বেও – প্রণব ঢাকায় এসেছিলেন। শুধু তাই নয় এসে কী করেছিলেন সেটাই বেশি ইন্টারেস্টিং!

    হাসিনা তখন জেলে মানে সংসদ ভবন এলাকার একটা বাসাকে জেল ঘোষণা করে দেওয়া বাসায় বন্দি। অথচ প্রণব সাথে দুদেশের সরকারী কর্তা মানুষ নিয়ে হাসিনার সাথে দেখা করতেও গিয়েছেন। ব্যক্তিগত সম্পর্কে ঐ টিমের সাথে  ছিলেন এমন এক ব্যক্তির বর্ণনায় – সবাইকে পিছনে নিয়ে মন্ত্রী প্রণব হেঁটে যেতে যেতে সিড়ি পেরিয়ে যেখানে হাসিনা দাড়িয়েছিলেন ওয়েলকাম করার জন্য – ঠিক সেখানে পৌছানোর পরে ঘরে ঢুকেই প্রণব মুখের উপর সাথে সঙ্গী সকলকেই বাইরে রেখে দরজা ভিতর থেকে আটকে দিয়েছিলেন আর এভাবেই একান্তে ওয়ান-টু-ওয়ান হাসিনার কথা বলে নিবার ব্যবস্থাও করে নিয়েছিলেন।

    এখন সেই পরিচয় লুকিয়ে কথা বলা কথিত রাষ্ট্রদুত যিনি ইউনুস সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন করছেন – আপনাকে আঙুল তুলে জিজ্ঞাসা করি, ১/১১ সরকার কোন হিসাবে বৈধ ছিল, কিভাবে দুবছরের বেশী তারা ক্ষমতায় ছিল – এই প্রশ্ন সেসময় ভারত সরকারের ছিল না কেন?
    বরং তুলনায় এখনকার ইউনুস সরকার আসার আগের বেলার রাস্তায় আন্দোলন,  সেখানে গণউপস্থিতি, গণঅভ্যুত্থান প্রকাশ্য পাবলিক সমর্থন ইত্যাদি সবকিছু ছিল যার কোনটাই ১/১১ সরাকারের ক্ষেত্রে ছিল না। এককথায় ৫ আগষ্টের তুলনায় ১/১১ এর পক্ষে কোন পাবলিক সংশ্লিষ্টতাই ছিল না। গণ অর্থে পাবলিক রাস্তায় নেমে কোন কিছুকে বাধ্য করে নাই, সংশ্লিষ্টতাই ছিল না। কার্ফুর মধ্যে ঘরে বসে কান্ড দেখেছিল।  অর্থাৎ তুলনায় ১/১১ সরকার ছিল আপনাদের নব্বুই দিনের সরকারের ফর্মুলার বুঝ অনুসারে আরো নিশ্চিতভাবেই অবৈধ। আর ১/১১ সরাকার অবৈধ বলে তার আয়োজিত কথিত নির্বাচনে হাসিনাকে ক্ষমতায় বসানো এটাও ছিল অবৈধ – তাই নয় কী?

    আসলে এসবের কিছুই মাপকাঠি না। মাপকাটি একটাই ভারতের স্বার্থ। নিজ স্বার্থে গেলে সবকিছু ভারতের চোখ বৈধ!!

    তাহলে সারকথায়, ইউনুস সাহেবের মূল “অপরাধ” হল তিনি কেন “……ইন্টারভিউ দিয়ে বলছেন, তিস্তা সহ অভিন্ন নদীগুলোর পানিবণ্টন হতে হবে সমতা আর ন্যায্যতার ভিত্তিতে”। এইটা তো হিন্দুত্ববাদের চোখে মহা ঔদ্ধত্য যা তাদের চোখে অমার্যণীয়!!! তাই তারা বাংলাদেশ সমমর্যাদার আরেক রাষ্ট্র বলে স্বীকার করবে না। তাই ভিসা, রেলওয়েসহ প্রায় সবকিছুই যোগাযোগে স্থবির!
    তাই মোদি এখন আমাদের বিএনপি-জামায়াত কে সাথে নিয়ে ইউনুস সরকারের কাছে রোড ম্যাপের দাবী জানাচ্ছে। যাতে বিএনপিকে ক্ষমতায় এনে (জামায়াত বিরোধী দল) তাহলে  এরপর আর সেই বাংলাদেশকে “সমতা আর ন্যায্যতার ভিত্তিতে” অধিকার দিতে হবে না। এতে শুরু হবে আরেক ১৬ বছরের দাসত্বের কালপর্ব।

    উপরের এই সারকথাটায় যা যা লিখেছি এর সবকিছুই বিবিসি বাংলার শুভজ্যোতির লেখায় পরিস্কার করে দেয়া আছে – ফলে রেডি রেফারেন্স এটাই।

    অবজারভার হিসাবে দূরে গ্যালারিতে বসেঃ
    এখন অবজারভার হিসাবে গ্যালারিতে বসে দেখার মানে ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নয় এমন এক দর্শকের চোখ হয়ে কিছু কথা বলব।

    প্রথমত, ভারত নিজেদের এসব ষড়যন্ত্র বা মনবাসনা বা অলীক কল্পনা যাই বলেন তা আর তারা নিজেরাই বুকে চেপে ধরে রাখতে পারছিল না। কারণ, ফলাফল আসছিল না। তাই বিবিসির পাতা কিনে তাতে ছেপে দিয়েছে। সেকথাও বিবিসিই লিখে দিয়েছে। বলছে,  “এই উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকেই দিল্লিতে ক্ষমতার অন্দরমহলে বাংলাদেশকে ঘিরে জন্ম নেয় একটা ‘ফ্রাসট্রেশন’ বা হতাশা– যার প্রতিফলন এখন ঢাকার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কেও দেখা যাচ্ছে”।

    অর্থাৎ খোদ ভারতই নিজ এক অকেজো পদক্ষেপ নিয়ে তাতে কোন ফলাফল না আসাতে পরে নিজেই  হতাশা ঢুবে গেছে। কারণ ফলাফল ঈস্পিত নয়।

    এছাড়া আরেকটা মজার দিক ছিলঃ
    তাদের আশা ছিল যে বাংলাদেশের অর্থনীতি খারাপ ছেড়াবেড়া করে থুয়ে গেছে হাসিনা আর তাই নিশ্চয় এটা শ্রীলঙ্কার মত খারাপ অবস্থায়! কিন্তু শ্রীলঙ্কা কেন? কারণ, শ্রীলঙ্কায় যেমন মোদি সরকার প্রায় দুই বিলিয়ন ডলারের বস্তগত সাহায্য (নগদ অর্থ নয় খাদ্য দ্রব্য ও সিলিন্ডার গ্যাস ইত্যাদি) পাঠিয়ে নিজ প্রভাবের হাত ঢুকানোর সুযোগ নিয়েছিল শ্রীলঙ্কায়; তাই আশা করেছিল  ইউনুসের সরকারও নিশ্চয় মোদিকে আব্বা ডেকে সাহায্যের হাত পাতবে!

    কিন্তু ভাগাড়ের শকুনের সাঁপে বা বদদোয়ায় মহল্লায় গরু মরে না;  এমন বদদোয়ার এফেক্ট নাই হয়না! তাই  এর বদলে ওদিকে ইউনুস সরকার বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ পেয়েছে বলে ভারতের খুবই গোসসা হয়েছে।
    যেমন এপ্রসঙ্গে শুভজ্যোতি লিখেছে – “……বাংলাদেশ হাত পাতলেও সেটা পেতেছে পশ্চিমা দেশগুলো কিংবা বিশ্ব ব্যাঙ্ক-আইএমএফের কাছে– আর ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটা ‘ডিফায়ান্ট’ বা পরোয়া-করি-না ভঙ্গি দেখানোর চেষ্টা করে চলেছে। এতে (ভারতের সাথে) দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে অস্বস্তি বেড়েছে নিঃসন্দেহে”।
    আবার আরো লিখেছে – “তার আগের দেড় দশক ধরে শেখ হাসিনার জমানায় ভারত বাংলাদেশে যে পরিমাণ অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক ‘লগ্নি’ করেছে, তার ভবিষ্যৎ এখন কী হবে সেটাও দিল্লিকে উদ্বিগ্ন করে তোলে”।


    তাহলে এখন আগামিতে বাংলাদেশে কী হতে পারে?

    এক.
    সোজা ভাষায় বললে, ব্যক্তি ইউনুস ও তার সরকার “……ইন্টারভিউ দিয়ে বলছেন, তিস্তা সহ অভিন্ন নদীগুলোর পানিবণ্টন হতে হবে সমতা আর ন্যায্যতার ভিত্তিতে” – এটা পরীক্ষিত ভাবে  তিনি দেখাতে পেরেছেন। তার তা বলেই নিঃসন্দেহে এই লেখার বাজারে আলোচিত হতে থাকলে ক্রমশ এখন থেকে ইউনুস হয়ে উঠতে পারেন এখনকার হিরো!
    শুভজ্যোতির এই লেখাটাই বরং এখন বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ, আম-পাবলিকের কাছে সাক্ষ্য-দলিল হিসাবে হাজির হবে হয়ত – সেটা এই বলে যে তিনিই প্রথম ভারতের মুখের উপর বাংলাদেশের সমমর্যাদায় আপন স্বার্থগুলো নিয়ে দাঁড়িয়ে কথা বলেছেন। তিনি প্রণয় ভার্মাকে ডেকে নিয়ে এসব কথাগুলো বলেছিলেন। কাজেই তিনি হতে পারেন আমাদের অগ্রদুত ও এই খারাপ সময়ের ভারতীয় আধিপত্যবাদ-বিরোধিতার মডেল। তাতে তাঁর সরকারের অনেক অসফলতা তা যাই থাক সবকিছুই এখন এর পিছনে পড়ে থাকবে।
    ব্যক্তি ইউনুস ও তার সরকার এভাবে যতই হিরো হয়ে উঠতে পারেন যদি ততই বিএনপি ও জামায়াত এদুই দল তাদের নিজ কর্মি সমর্থকদের কাছে প্রশ্নের সম্মুখীন হবে তাদের নি সমথকদের সমর্থন হারানর অবস্থার দিকে পরিস্থিতি চলে যাবে।
    আর ততই ইউনুসের সংস্কার তথাকথিত রোড ম্যাপ চাওয়া এই দাবির বিপরীতে শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে ও জেনুইনলি রাজনৈতিকভাবে পাবলিকের গণস্বার্থের প্রধান লাইন হিসাবে উঠে আস্বেতে পারে।

    দুই.
    এর আবার সোজা অর্থ হল, বিএনপি ও জামায়াত ন্যুনতম গণস্বার্থের প্রতিনিধিত্বকারি দল হিসাবে নিজের আসন-অবস্থান ঢিলা করে ফেলবে। আর এটা যতই ঢিলা হতে থাকবে বা একেবার আসনচ্যুত না হলেও ঢিলা বা দুর্বল দল হওয়া মানেই কিন্তু  সমাজে নয়া রাজনৈতিক  দলের চাহিদা তৈরি হওয়া। আর এখানে ততই প্রতিযোগিতায় বিএনপি ও জামায়াত নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা পিছনে পড়তে থাকবে এমন এক নয়া সমাজ হাজির হতে থাকবে। যার মূল বৈশিষ্ট হবে এন্টি ইন্ডিয়ান হেজিমনি – এই ভিত্তিতে এক বা একাধিক নয়া দলের উত্থান। সবচেয়ে বড় কথা বিএনপি ও জামায়াত সেক্ষেত্রে – সেগুলো সব কিংস পার্টি – বলে অভিযোগের আঙ্গুল তুলেও পাত্তা পাবে না । কারণ, যখন বিএনপি ও জামায়াত বাদে  এন্টি ইন্ডিয়ান হেজিমনির নয়া দল খুঁজতে মানুষ বের হওয়া হবে সেটাই হবে আগামিদিনের দিনের প্রধান চাহিদা – ডমিনেটিং অর্ডার অব দা ডে! তাই সেক্ষেত্রে তখন বিএনপি ও জামায়াত কতজন মানুষের কাছে কিংস পার্টি বানানোর অভিযোগ তুলবে? তুললেও সুবিধা করতে পারবে???

    তাই খুব সম্ভবত সবচেয়ে স্বাভাবিক এক সামাজিক প্রক্রিয়া হিসাবে এই পালাবদল ঘটে যাবে। মূলকারণ, ইতোমধ্যেই বিএনপি ও জামায়াত আওয়ামি লীগ ও ভারতপ্রীতির দল হিসাবে প্রশ্ন বিদ্ধ। ‘ফ্যাসিজম বলা যাবে না’ ; “লীগ নিষিদ্ধ্বের কথা বলা যাবে না” বা “বলতে পারবে না” -ইত্যাদি ভাষ্যগুলো ইতোমধ্যেই আম-মানুষ ভালচোখে দেখে নাই। ভারতের চাটুকারিতা হিসাবে দেখেছে।
    বাকিটা রূপালি পর্দায় দেখব…… সেই পর্যন্ত!

  • ভারতীয় আধিপত্যের হাতিয়ার ইসকন ও আমাদের রাষ্ট্রস্বার্থবোধ

    ভারতীয় আধিপত্যের হাতিয়ার ইসকন ও আমাদের রাষ্ট্রস্বার্থবোধ
    গৌতম দাস
    ১৫ নভেম্বর ২০২৪
    https://wp.me/p1sCvy-5NP

     

     

    ইসকন একটা আন্তর্জাতিক সংগঠন,  অরিজিনালি যা মূলত এক ধর্মীয় সংগঠন আর যার প্রধান অফিস আমেরিকায় নিউইয়র্কে। ভারতের মায়াপুরিতেও (নদিয়া, পশ্চিমবঙ্গ) এর অফিস আছে।
    আবার বাংলাদেশেও ইসকন একালে হাজির ও ততপর। বিশেষ করে ২০১৪ সালে মোদি প্রথম ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবার পর থেকে প্রবল ভাবে।

    ‘ইসকন’ [ISKCON] ১৯৬৬ সালে আমেরিকায় রেজিস্টার্ড এক হিন্দুধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, যা ‘কৃষ্ণনাম চর্চার এক বিশেষ ব্যাখ্যা’ বলে দাবী করে সেসবেরই এক প্রচারের সংগঠন হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল। কিন্তু তা সত্বেও চলতি শতকে (২০০০+) এসে আমেরিকান সংসদে ও সিনেটে ভারত সরকারের পক্ষে আমেরিকান নীতি পলিসিকে প্রভাবিত করা বা লবি [lobby] করতে ভারত আমেরিকায় যেসব প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির মিলিত এক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল, ক্রমেই ইসকনই হয়ে উঠে এর এক প্রধান অংশ ও প্রধান ভুমিকায়। এর নিট ফলাফল হল ইসকন। ফলে এটা আর নেহায়েতই ধর্মপ্রচারের সংগঠন থাকেনি। এর ফোকাস বদলে রাজনৈতিক সংগঠন হয়ে যায়। শুধু তাই না, এটা ভারতের ‘র’-এর অন্তর্ঘাতমূলক কাজের কুখ্যাতির সংগঠন – এর মত গোয়েন্দা সংস্থাও এতে সামিল হয়ে যায়।

    বাংলাদেশে এর ততপরতার মুখ্য লক্ষ্য হল, এককথায় বললে –  বাংলাদেশের হিন্দু নাগরিকদের  সাথে সরাসরি মোদির সম্পর্ক করার মধ্যস্থতাকারী সংগঠন যেন হয়ে উঠে ইসকন! যেকোন রাষ্ট্রের নাগরিকেরা সুরক্ষা চায় ও তা পেতে পারে কেবল নিজ রাষ্ট্রের কাছ থেকে; এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মোদির (বিজেপি-আরএসএস) লক্ষ্য হল – বাংলাদেশের হিন্দু নাগরিকদের ক্ষেত্রে তাঁরা হিন্দু বলে তাঁদের সুরক্ষাদাতা এক বিদেশি প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা ও হাজির করতে চান মোদি! যাতে এসব (ইসকন ততপরতার ভিতর দিয়ে) প্রভাবিত হিন্দুদের মাধ্যমে বাংলাদেশের শাসন-ক্ষমতা ও আভ্যন্তরীণ রাজনীতির উপর হস্তক্ষেপ করে বাংলাদেশে ভারতের স্বার্থ ও প্রভাব প্রতিষ্ঠা করা যায়।
    অথচ ঘটনা হল কোন নাগরিক নিজ রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা কোন ভিনদেশি প্রধানমন্ত্রীর থেকে আশা করতে পারে না বা গ্রহণও করতে পারে না। কারণ, এটা নিজ দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘণ করা হবে। ভিনদেশি প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুরক্ষা চাওয়া হবে – যা প্রকৃত অর্থেই এই প্রকৃতই রাষ্ট্রদ্রোহিতা মূলক অপরাধ!

    একারণে বাংলাদেশ রাষ্ট্র মূলত – কোন ইসকন সংগঠনের ততপরতা থাকতে পারে না, চলতে দিতেই পারে না। অথচ বাস্তবতা উলটা। বিশেষ করে গত ১৬ বছর এটা কোন অনুমতিতে ততপরতা চালাচ্ছে খোলামেলাভাবে এর সদুত্তর বাংলাদেশ সরকার বা এর কোন প্রতিষ্ঠান দিচ্ছে না। এমনকি ইউনুস সরকার নাকি হিন্দু-জনগোষ্ঠির উপর নির্যাতন চালাচ্ছে বলে এরা মিথ্যা প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে। বিবিসি নিজেই এনিয়ে এক রিপোর্টে দেখিয়েছে এগুলো ভুয়া অভিযোগ।

    বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবী বা দাতব্য (এনজিও) সংগঠনের ততপরতা অনুমোদনঃ
    বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বাংলাদেশে কোন স্বেচ্ছাসেবী বিশেষত বিদেশী সংগঠন ততপরতা চালানোর পুর্বে আমাদের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এর অনুমোদন পাওয়া এর পুর্বশর্ত। এছাড়া এমন এই পুর্ব নিবন্ধন পাওয়া পরে এই সাপেক্ষেই কেবল কোন বিদেশী সংগঠন ততপরতা শুরু্র প্রাথমিক যোগ্যতা লাভ করতে পারে। আর এর চেয়েও বড় কথা এর বাইরে আরো আছে —- এরপরে বিদেশ থেকে ফান্ড আনার অনুমতি বা অনুমোদন পাওয়া যেটা আমাদের দেশে “এনজিও ব্যুরো” – প্রধানমন্ত্রীর অফিসের অধীনের এই প্রতিষ্ঠান অনুমোদন দিয়ে থাকে। একটু ভেঙ্গে বললে, এখানে “এনজিও ব্যুরো”  আসলে রাষ্ট্রের প্রায় ছয়-সাতটা সামরিক-অসামরিক গোয়েন্দা সংস্থাকে সংশ্লিষ্ট করে তদন্ত-অনুসন্ধান করতে আর শেষে এদের সবার রিপোর্ট ইতিবাচক পেলে তবেই অনুমোদন মিলতে পারে।

     

    যেমন নিচের লিঙ্ক দেখেনঃ
    https://dss.gov.bd/site/page/a7389e64-bfd2-4bf1-96ec-f2569bee2b06/%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9B%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A7%80-%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A6%BE-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A6%A8

    এটা সবচেয়ে প্রাথমিক অনুমোদন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে।

    এরপরের ধাপ হল বিদেশী স্বেচ্ছাসেবি প্রতিষ্ঠান এর বেলায় বিদেশি ফান্ড আনার ক্ষেত্রে এই পুর্ব অনুমোদন অপরিহার্য; আর এটাই দেখেশুনা করে “এনজিও ব্যুরো”।

    প্রেসিডেন্ট জিয়ার আমলে, বাংলাদেশের ফরেন ডোনেশন এক্ট ১৯৭৮ চালু হয়েছিল। তবে বর্তমানে হাসিনা আমলে এর সর্বশেষ সংশোধিত আইনটা হল ২০১৬ সালের। যা অনুসারে কোন বিদেশী সংগঠন কাজ-ততপরতা শুরুর আগে এই আইন অনুসারে অনুমোদন নেয়া বাধ্যতামূলক।

    এছাড়াও তৃতীয় আরেকটা অনুমোদনের ধাপ আছে। আর সেটা যে কোন দাতব্য তবে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বেলায় প্রযোজ্য। এদেরকে বাংলাদেশের ফরেন ডোনেশন এক্ট -২ এর অনুমোদন নিতে হয়। কারণ, ধর্মিয় প্রতিষ্ঠান ততপরতার বেলায় লোভ দেখায়ে ধর্মান্তকরণ ঘটতে পারে। তাই বিস্তারিত ভাবে তাদেরকে সেদিক থেকে পরীক্ষা করে দেখতে হয়।

     

    ইসকন শুধু একটা বিদেশী স্বেচ্ছাসেবি প্রতিষ্ঠানই নয় এটা ধর্মীয় সংগঠনও বটে। তাই আইনত,
    বাংলাদেশের ফরেন ডোনেশন এক্ট দুই অনুসারে ধর্মীয় সংগঠনের ইসকনের বেলায় এই আইন অনুসরণ করে আগাম অনুমোদন ছাড়া কোন ততপরতা বাংলাদেশে নিষিদ্ধ। কাজেই ইসকনের এমন অনুমোদন লাভের ডকুমেন্ট প্রদর্শন করতে বাধ্য।

    গত হাসিনার আমলের ১৬ বছর এমন ডকুমেন্ট “এনজিও ব্যুরো” থেকে কেউ যোগাড় করে দিতে পারে নাই।

    আমরা যদি ইসকনের ব্যাপারে সিরিয়াস হতে চাই তবে আমাদেরকে

    এক) ইসকনকে শো-কজ পাঠিয়ে এমন অনুমোদন প্রদর্শন করতে বাধ্য করতে হবে। চেক করতে হবে কোন প্রতিষ্ঠান কিসের ভিত্তিতে এমন অনুমোদন দিয়েছে বা আদৌও দিয়েছে কিনা? এতে  ব্যর্থ হলে আইনানুগ ব্যবস্থা সব সিলগালা করে এদের সংশ্লিষ্ট দেশি-বিদেশি সকলকে জেলে নিতে হবে।

    যেমন ধরেন বাংলাদেশের কোন এমন এক দাতব্য প্রতিষ্ঠান যদি ভারতের মুসলমানদেরকে নিয়ে কাজ-ততপরতা করতে চায় সেক্ষেত্রে কী হবে?

    প্রথমত বাংলাদেশের ভারতীয় হাইকমিশনার এটা জানা-শোনা মাত্র আপনাকে নিরুতসাহিত করবে, এমন সব বাক্য বলতেথাকবে।
    এরপরেও যদি আপনি নাছোরবান্দা হন তাহলে তখন বলবে আপনি আপনারভ সংগঠনের উদ্দেশ্য-লক্ষ্য সম্বলিত সব কাগজপত্র সবার আগে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে বলবে।
    এই মন্ত্রণালয় ভারতের ঘোষিত পররাষ্ট্র নীতির সাথে কোন বিরোধ সংঘাত বৈপরিত্য আছে কিনা তা চেক করবে।
    অর্থাৎ ভারতীয় রাষ্ট্রস্বার্থের সাথে ম্যাচ করতে হবে। এরপরে আমাদের মতই বাকি তিন প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন লাগবে।

    সারকথাটা হল, বিদেশি দাতব্য সংগঠনের কাজ-ততপরতা মানেই যেকোন রাষ্ট্র এভাবেই সব পরীক্ষানিরীক্ষা করবে। কাজেই বাংলাদেশ কোন বাড়তি কিছু করছে না বা করবে না – রাষ্ট্রস্বার্থ – সার্বভৌমত্ব সবার আছে বিবেচ্য!

    অথচ ইসকনের গত দুসপ্তাহের ততপরতা ও হুমকি দেখে যদিও তামনে হয় না।
    এব্যাপারে ইউনুস সরকার কী ঘুমায়েই থাকবে!!! সাথে আমরাও?
    মনে রাখতে হবে কোন বাংলাদেশি হিন্দু নাগরিক নিজে ইসকন নামের দোকান খুলে বসতে পারে না!

    আমরা বাংলাদেশের হিন্দু-মুসলমান কাউকেই – ভারতীয় আধিপত্যের হাতিয়ার ইসকন – এর দোকান খুলতে দিতে পারি না!

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   নভেম্বর  ২০২৪
    শেষ আপডেটঃ      ২০২৪

     

  • বক্তব্য সংশোধনী দিয়ে রিজভীর বিবৃতি

    বক্তব্য সংশোধনী দিয়ে রিজভীর বিবৃতি
    গৌতম দাস
    ১২ নভেম্বর ২০২৪
    https://wp.me/p1sCvy-5NF

    বক্তব্য সংশোধনী দিয়ে রিজভীর বিবৃতি | কালবেলা

     

    “বক্তব্য সংশোধনী দিয়ে রিজভীর বিবৃতি” –

    অল্পের উপর দিয়ে গেছে; একটু ইজ্জত গেছে কেবল এই আর কী!
    আর দেরি করলে এর সবটাই যেতো; এ’এক বিরাট শিক্ষা!
    কিন্তু বিএনপি বা তারেক রহমান কী একে শিক্ষা হিসাবে নিবেন??
    এটাই বিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন!
    যদি শিক্ষা না নেন তবে এটাই হবে তাদের দলের জন্য আত্মহত্যা বা জাপানি ভাষায় হারিকিরি!!! নিজেই নিজের দলটাকে খুন করে ফেলা!
    বিএনপির ছোট-বড়-টপ সব নেতাদেরকে দুইটা কথা বুঝতে হবে।
    এক. রাজনীতি আর চালাকি এক জিনিষ না। তাই রাজনীতি করা শিখেন, বুঝেন ও পড়াশুনা করেন। চালাকি আর রাজনীতি মাখায় ফেলতে যাইয়েন না। দয়া করে!!
    হাসিনা যেমন তাঁর চরিত্রের প্রতিহিংসাকেই নিজ রাজনীতি বলে চালাতে গিয়েছিলেন – সেই একই ভুল কইরেন না!
    ইতিবাচক হন; নিজ জনগোষ্ঠির জন্য একটা রাষ্ট্রের জন্য – গঠন [constitute], সংগঠিত [organize] করা; একটা স্থিতিশীল কিছু করতে সব প্রচেষ্টা নিবব্ধ রাখেন। স্রেফ ক্ষমতায় যাওয়ার লোভে চালাকির আশ্রয় নিয়ে কিংবা আওয়ামি ভোটার (আওয়ামি দল বা অঙ্গসংগঠন এর ভোট না) দের ১৫-২০% ভোট পেয়ে যাবার লোভে হাসিনার ফ্যাসিজমের দায় নিজের কাঁধে নিতে যাবেন না। ভারতীয়দের পকেটে একটা হাত ঢুকিয়ে রাখা বুদ্ধিমান হতে যাবেন না। সেটা এখন থেকে বাংলাদেশের যেকোন দলের জন্য হয়ে গেছে এক আত্মঘাতি দায় – এই কথাটা মনে রাখবেন দয়া করে!!!
    আর দুইঃ
    সবসময় মনে রাখবেন; আগামি দিনে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ডমিনেটিং যে আইডিয়া বা “রুলিং আইডিয়া” হয়ে বিরাজ করবে সেটা হল, ভারতীয় আধিপত্যবিরোধিতা বা এন্টি ইন্ডিয়ান-হেজিমনি। ফলে যারাই বা যে দলই এটা আপহোল্ড করবে না – নিজের রাজনৈতিক বৈশিষ্ট বলে আঁকড়ে ধরতে দ্বিধা দেখাবে তারা এমন সকলেই ক্ষমতা থেকে ছিটকে পড়বেই! জুলাই-আগষ্ট এর আন্দোলন এভাবেই নিজেই নিজের মৌলিক পরিচয়-বৈশিষ্টে হাজির হতে যাচ্ছে।
    কাজেই বেঈমানি করবেন তো একেবারে কাটা পরে যাবেন! এখন সিদ্ধান্ত আপনাদের নিজের………
    বক্তব্য সংশোধনী দিয়ে রিজভীর বিবৃতি | কালবেলা

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  সকাল নভেম্বর  ২০২৪
    শেষ আপডেটঃ      ২০২৪

  • ট্রাম্পের বিজয়ে বাংলাদেশের জন্য এক সংক্ষিপ্ত নোট

    ট্রাম্পের বিজয়ে বাংলাদেশের জন্য এক সংক্ষিপ্ত নোট
    গৌতম দাস
    ০৬ নভেম্বর ২০২৪     সন্ধ্যা ০৭ঃ ২৫
    https://wp.me/p1sCvy-5Nm

     


    2024 U.S. Presidential Election ট্রাম্পের বিজয় 

     

     

    ট্রাম্পের বিজয়ে বাংলাদেশের জন্য এক সংক্ষিপ্ত নোটঃ
    ‘হাসিনা এন্ড গং’ বাদে বাংলাদেশের প্রায় সকলের ভয়/আশঙ্কা হল, আমেরিকান নির্বাচনের ফলাফল থেকে না এই হাসিনা-গোষ্ঠি কোন সুবিধা পেয়ে যায়। তাতে আবার কেউ কেউ বলত ট্রাম্প জিতলে হাসিনা সুবিধা পাবে আবার সংখ্যায় কম হলেও কেউ কেউ বলত কমলা জিতলে সেটা হবে!
    এখন পর্যন্ত, অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে ট্রাম্পকে পরিস্কার বিজয়ী (২৭৯ ইলেক্ট্ররাল ভোটে) দেখা যাচ্ছে।

    আমার অবস্থান হিসাবে অনেক আগে থেকেই আমি বলেছিলাম, ট্রাম্পই জিতবে – ‘আমেরিকান মন’ আমি যতটুকু বুঝি। মুল কারণ, কে বেশি মিডিয়ার সরব – ট্রাম্পের পক্ষ না কমলার? এই প্রশ্নে সবসময় ডেমোক্রাটেরা (কমলা) এগিয়ে থাকে। আসলে এদের আওয়াজ পাবলিকলি ও মিডিয়ায় বেশী উচ্চারিত হয় বলে এমন মনে হয়। তুলনায় রিপাবলিকান ট্রাম্পের আম ভোটার-সমর্থকেরা হল, ‘কোর এথনিক হোয়াইট ওয়ার্কিং ক্লাস’, যাদের আওয়াজ মিডিয়ায় কম আসে।  আর তা দেখেই মিডিয়া অনুমানে কমলা জিততেছে অনুমানের জন্ম হয়ে থাকে!! এনি-ওয়ে সেসব এখন অতীত; মূলকথা এখন  ট্রাম্প বিজয়ী!
    গ্লোবাল পরিসরে তাকিয়ে কিছু কথা বললে, মোটা দাগে সবার উপরে ট্রাম্প এবারও আগেরবারের মতই কট্টর ‘জাতিবাদি’ হবেন। এই যে – এথনিক সাদাচামড়ার শ্রেষ্ঠত্বের – সুরসুরি তোলা ‘জাতিবাদি’ নীতি – এতা আগেরবার কার্যত অকেজো থাকলেও এবারও সেটাই তিনি সবার উপরে ছেয়ে রাখবেন; সে ধারণা তিনি দিয়ে রেখেছেন।
    এখন বাংলাদেশিদের আশঙ্কা / চিন্তা যেখানে সেটা হল বাংলাদেশে সরকারের উপর ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিঃ  এটা কী হাসিনা-গোষ্ঠি অভিমুখি হবে??? এই হল মুখ্য প্রশ্ন!

    আসলে ঠিক এটাও মুখ্য প্রশ্ন না। আমরা যা বুঝতে চাচ্ছি তাতে মুখ্য প্রশ্ন হল, ভারত-আমেরিকা কী আগের মতই বাংলাদেশ প্রশ্নে ‘একসাথে’ ও ‘এক নীতিতে’ এবং ‘ভারতের চোখ দিয়ে দেখে’ কাজ করবে?  এর মানে, আমাদের উদ্বিগ্নতা আসলে ট্রাম্পের আমেরিকা বাংলাদেশ প্রশ্নে কতটা ভারতের ঘনিষ্ট থাকবে???

    এককথায় এর জবাব, বাংলাদেশ প্রশ্নে ট্রাম্পের আমেরিকা ও ভারত আর একসাথে কাজ করতে পারবে না। করবে না, সম্ভব নয়!

    মৌলিক কারণগুলোঃ
    ১। ইতোমধ্যেই গত সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে ভারত-আমেরিকা পরস্পর থেকে ২০০৭ সালের আগের মতই – দূরে চলে গেছে।
    ২। এছাড়া, ভারতের প্রায়োরিটি বা প্রধান স্বার্থই বদলে গেছে। চীনবিরোধী হয়ে আমেরিকার সঙ্গে খাতির থেকে (বাংলাদেশের উপর দখল-মাতব্বরিসহ) ভারতের যা কিছু এতদিনের “প্রাপ্তি” ঘটেছে এর চেয়ে – আমেরিকার সে হাত ও ঘনিষ্ঠতা ছেড়ে দিয়ে ভারত বরং চীনের (সাথে রাশিয়া বা ব্রিকস ক্যাম্পে থাকলে) ঘনিষ্ট হলে নয়া যেসব প্রাপ্তি তা ভারতের জন্য এখন বেশী কাম্য ও লোভনীয়। যেমন, চীনা ঋণ ভারতকে এখন পেতেই হবে যা এতদিন দূরে থাকার কারণে সে লস করেছে।
    ৩। এনিয়ে চীন-ভারত হাত ধরাধরি করে এখন অনেক ঘনিষ্ঠ ও অনেক দূর চলে গিয়েছে এবং এক লম্বা-দুরি পথ তারা যাবে বলে ঠিক করে ফেলেছে। মানে সহসাই এই পথ থেকে আর সরবে বা ফিরবে না।
    ৪। অনাষ্ঠুনিকভাবে ট্রাম্প বিজয়ী হতে না হতেই আজকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের ছোট ভিডিও ক্লিপ দেখে নেন। সেখানে জয়শঙ্কর জানিয়েছেন তিনি মনে করেন (সারকথায়) আমেরিকা এখন থেকে আইসোলেশন [isolation] মানে, বাকি দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন বা আলাদা হয়ে চলতে যাচ্ছে – এমন নীতির ফাঁদে আমেরিকা পড়ে গেছে।

    অতএব যারা অজানা আশঙ্কায় ভয় পাচ্ছেন অথবা হাসিনা গোষ্ঠি যারা নিজেদের দিকে আশার আলো খুঁজছেন – এমন উভয় পক্ষের ভাগে কিছু জুটছে না তা বুঝা যাচ্ছে। ট্রাম্পের বিজয়ে আম-বাংলাদেশিদের আশঙ্কার কোন কারণ নাই। আবার হাসিনা-গোষ্টিদের আগামি জীবন হতাশাতেই পরিপুর্ণ থাকতেছে – সে ইঙ্গিত একেবারে পুষ্ট ও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।

    আর সবার উপরে ইউনুস সাহেবের যে ব্যক্তি পরিচিতি আমেরিকায় মানে তাদের – কোর থিঙ্কট্যাঙ্ক ও অন্যান্য ইন্টেলেক্ট ও একাদেমিক বা পলিটিক্যাল কর্তাদের – মধ্যে আছে তারাই বরং ট্রাম্প প্রশাসনকে গাইড করবে এই বলে যে এতদিন বাংলাদেশে আমেরিকান নীতির যে বেইজ্জতি ও দেউলিয়া  হয়ে থাকা দশা ছিল সেটা থেকে তাদেরকে উদ্ধারের জন্য বরকত হিসাবে এসেছেন ইউনুস! কাজেই তাঁকে বরণ করে আগলে রাখেন, এই হবে সম্ভাব্য নীতি! মোটা দাগে এই হয়ে পারে ট্রাম্পের হবু নীতি এবং এরচেয়েও গুরুত্বপুর্ণ হল, আমেরিকান এই অবস্থানটা হবে বাই-পার্টিজান – মানে আমেরিকার প্রধান দুই দলই এটা সাপোর্ট করবে!!!

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  সকাল ১১ঃ ০০  ০৭ নভেম্বর  ২০২৪
    শেষ আপডেটঃ      ২০২৪

     

  • গতকালের মোদির চীনের কোলে উঠে যাওয়া প্রসঙ্গে আরো দুইটা পয়েন্ট

    গতকালের মোদির চীনের কোলে উঠে যাওয়া প্রসঙ্গে আরো দুইটা পয়েন্ট
    গৌতম দাস
    ২৯ অক্টোবর ২০২৪
    https://wp.me/p1sCvy-5MU

     

    Chinese President Xi and India Prime Minister Modi meet in Kazan BRICS summit: China and India should manage differences, Xi tells Modi

    গতকালের একটা বড় পয়েন্ট বাদ পড়েছে। সেটা এখানে বলব। সাথে আমার লেখা পাঠ করার একটা গাইড লাইনও বলব এখানে।
    [আমি সরি, লিখতে চাইলে আমার অনেক এনার্জি লাগে যা আমার শরীর এখনও অত সবল হয় নাই। তাই আরো অনেক পয়েন্ট জানা থাকলেও বাদ পড়ে যায়; ফাঁকিবাজি করে ফেলি।]

    গ্লোবাল পাঁচটা টপ নিউজ এজেন্সির কথা যদি বলি তো এর মধ্যে আমার কাছে বেস্ট হল রয়টার্স। আমি তাদের অনেক পুরানা পাঠক, সেই ২০১০-১১ সাল থেকে; এটা তারা জানে। আমার ইমেইল জানে তারা। প্রায়ই কোয়েশ্চেনায়ার পাঠিয়ে আমার মতামত নেয় আর এই সুযোগ তাদের যেকোন নিউজ আমি তাদের সাইটে একেবারে নিজ ইমেইল দিয়ে অবাধে লগ-ইন করে পাঠ করতে পারি।

    তো এই রয়টার্সের যেকোন রিপোর্টের শুরুতে, একটা সাম-আপ বা সংক্ষিপ্তসার দেয়া থাকে। আমার প্রথম পয়েন্টটা সহজে হাজির করার জন্য এমনই একটা সাম-আপ হাজির করব এখানে।

    ২১ অক্টোবরের এমন এই নিউজ এর সাম-আপ হল এরকমঃ
    • Deal would help defuse four-year conflict, India says
    • Pact follows rounds of military, diplomatic talks
    • Modi, Xi could meet on sidelines of this week’s BRICS summit
    • Border stand-off strained ties, hit business interactions
    https://www.reuters.com/world/asia-pacific/india-china-have-arrived-border-patrolling-pact-indias-top-diplomat-says-2024-10-21/
    আমাদের প্রসঙ্গের জন্য গুরুত্বপুর্ণ হল চতুর্থ পয়েন্ট টা। যার বাংলা অর্থ হল, “(চীন-ভারতের) সীমান্তে মুখোমুখি হয়ে দাঁড়িয়ে থাকাটা ব্যবসায়িক লেনদেনকেও খুব ক্ষতি করছে” –
    তার মানে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে আমেরিকা মোদির হাতে আগের মত করে বাংলাদেশ তুলে দেয়া থেকে বিরত থাকাতে মোদি চীনের কোলে গিয়ে উঠেছে শুধু সীমান্ত সমস্যা কিছুটা স্বাভাবিক করতেই নয়। বরং মোদির আসল লক্ষ্য বাংলাদেশের মাখন খেতে গিয়ে সে চীনের কাছ থেকে ব্যবসা ও বিনিয়োগ না পেয়ে মেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেটা এবার পুষিয়ে নিতে চায়। শুধু সীমান্ত নয়, চীনা বিনিয়োগ পাওয়া তার আসল লক্ষ্য।

    একইভাবে এবার ২৩ অক্টোবরের আরেক নিউজ এর সাম-আপ হল এরকমঃ
    • Summary
    • Xi and Modi hold first formal talks in five years
    • Two leaders meet on the sidelines of the BRICS summit
    • Comes after deal to resolve stand-off over disputed frontier
    • Talks expected to result in more Chinese investment into India
    https://www.reuters.com/world/asia-pacific/modi-meets-xi-india-china-ties-recover-2020-military-clash-2024-10-23/

    এবার এই পঞ্চম বা শেষের পয়েন্টটা লক্ষ্য করেন এটা এই ২৩ অক্টোবর মানে যেদিন রাশিয়ার কাজানে মোদি-সি প্রথম সাক্ষাত হয়েছিল; তা নিয়ে রয়টার্সের পরেকার রিপোর্ট। বলা হচ্ছে – বাংলা করলে হয়, “এরপরে ভারতে চীনা বিনিয়োগ নিয়ে আরো কথা চলবে; লক্ষ্য ভারতের চীনা বিনিয়োগ পাওয়া”।

    আমেরিকা বাংলাদেশকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া শুরু হয়েছিল ২০০৭ সালে কংগ্রেসের প্রণবের আমলে যেটা ২০১৪ সাল থেকে মোদির ১০+ বছর ক্ষমতামলেও একইভাবে কন্টিনিউ করেছিল। যা এই প্রথম বেশ কড়া ভাবে ছাড়াছাড়িতে।
    মানে হল এতদিন বাংলাদেশ চুষে খেতে গিয়ে ভারত চীনা বিনিয়োগ পেতে পারে নাই।
    আর মোদি এখন সেই ঘাটতি পোষায় নিতে ছুটছে; মানে কী?

    মানে হল, ভারত বা মোদি সহসাই আবার (বাংলাদেশকে পেতে) আমেরিকার কাছে যেতে সহজেই চীন ছেড়ে আসবে না। কারণ মোদির এখনকার মুল লক্ষ্য শুধু চীনের সাথে সম্পর্ক ভাল করা না বা সীমান্তে টেনশন কমানো না বরং আরো গভীরে যাতে চীনা বিনিয়োগ না পেয়ে বুভুক্ষ ভারতের চাহিদার একটা সুরাহা করা।
    যার সোজা মানে যারা গত দুদিন ধরে ডনাল্ড ল্যু এর যে গল্প ছড়ানো হয়েছে হিট বাড়িয়ে অর্থ কামানোর লক্ষ্যে এমন খবরের কোন উতস কেউ দেখায় নাই। শুধু তাই না, মোদির এসব লক্ষ্য ও পদক্ষেপ বলছে তিনিও আমেরিকার কাছে ফেরার সুযোগ দেখছেন না। একারণে, লম্বা দাও মারতে – চীনা বিনিয়োগ  হাসিলের লক্ষ্যে আগিয়ে যাওয়ার পথে আছেন!

    অনেকের এখন মনে হতে পারে চীন কী একা বিনিয়োগদাতা?
    জবাব হল, না অবশ্যই নয়। তবে চীন একা ঋণদাতা না হলেও সবচেয়ে সুবিধাজনক শর্তের ঋণদাতা অবশ্যই। সাথে মনে রাখতে হবে আমেরিকার কোন ধরণের ঋণ দিবার মুরোদটাই এখন চলে গেছে। যেটা এখন চলে গেছে চীনের হাতে।  আর তা হয়েছে বলেই চীন আমেরিকার মুল প্রতিদ্বন্দ্বি; আমেরিকাকে ছাড়িয়ে গ্লোবাল অর্থনীতির (কেবল অর্থনীতি বলেছি) মূল কান্ডারি হতে চলেছে। অনেকের মনে জাপানের কথা আসতে পারে। কিন্তু সুদের হার ও শর্তের দিক থেকে তা চীনের দেয়া সুবিধার সাথে তুলনীয় নয়। যেমন কোন ঋণ নেওয়ার পরে সুদ দেয়া শুরু করার সময় হয়ে গেলে, চীন ভারতকে অবলীলায় ছাড় দিয়ে দিবে  – আচ্ছা, আপনাদের অসুবিধা হচ্ছে তাহলে ২-৫ বছর পর থেকে পরিশোধ শুরু করেন। এযুগে এই মুরোদ কেবল চীনের আছে। মানে চীন নিজ স্ট্রাটেজিক সুবিধা দেখলে সুদ দেরিতে ফেরত নেয়া, সুদ কমানো বা মাফ করে দেয়া এমন বহু সুবিধাই অফার করার মুরোদ রাখে।

    চীন অথবা আমেরিকা পন্থি কোনটাই হওয়া যাবে নাঃ
    উপরের যেকথাগুলো বললাম তাতে অনেকের মনে হতে পারে এসব আমার চীন পন্থি কথা!
    এখানে আপনার ভুল হল বা হবে যে আপনি পন্থির [পন্থি-পনার] পাল্লায় পড়েছেন! মানে একটা ফেনোমেনাকে আপনি কোল্ড ওয়ারের সোভিয়েত না আমেরিকান ব্লক বা পন্থি দিয়ে ব্যাখ্যার খপ্পরে পড়ছেন।  এর কোনই প্রয়োজন নাই শুধু না। এটা বাস্তবেও নাই।

    আপনি ঠিকমত নীতি-পলসি ঠিক করতে জানলে আপনাকে না চীন-পন্থি বা আমেরিকা-পন্থি হবার দরকার হবে।
    যেমন ইউনুস সরকার যতদুর উঠে এসেছে এখন পর্যন্ত তাতে এটা কী এখন  এক আমেরিকা পন্থি  সরকার হয়ে গেছে? বিশেষ করে মোদি আমেরিকা প্রত্যাখ্যাত হবার পরে চীন কোলে উঠে যাওয়াতে?
    অনেকে এরাই লিখতেও শুরু করে দিয়েছেন যে হা আমাদেরকে আমেরিকা পন্থিই হতে হবে – আর চীন থেকে দূরে থাকতে হবে। এরাই ভাল ইত্যাদি……।
    সরি এরা ঠিক বলছে না; ঠিক বুঝছেও না। উলটা ‘পন্থি’পনা দেখাতে বলছেন!

    যেমন ইউনুস সরকারের সাথে চীনাদের সাথে সম্পর্ক কত গভীরে চলে গেছে এরা এর কিছুই জানে না। কেবল সারফেসে একটু এসেছে বাংলাদেশের চীনা সাবমেরিন প্রসঙ্গে যেখানে চীনা এক সামরিক জাহাজ বাংলাদেশ সফরে এসেছে।  এখানে দেখেনঃ

    As China’s navy docks in Bangladesh, India watches with ‘growing concern’

    এতে ভারতের চোখ বড় বড় করা উপেক্ষা করে এবং এর সাথে সাথে  আরো নানান চীনা অর্থনৈতিক প্রকল্প ও ঋণের ইস্যুতে আলাপও সমানে চলছে বলে আমি জানি যা পরিপক্ক হয়ে গেলে সবার সামনে আসবে।
    যার সোজা মানে হল, ইউনুস সরকার আমেরিকা এবং চীনের দুটোর সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্ক রাখছে, করেছে এবং এটা সম্ভব। আবার আমেরিকা-চীন দুপক্ষই ওয়াকেবহাল বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে।

    আসলে এটাই আমার দ্বিতীয় পয়েন্ট। যে পন্থি হয়েন না, দরকার নাই।  নিজ স্বার্থ বজায় রেখেই আবার আমেরিকা-চীন দুপক্ষ এদের সাথেও ঘনিষ্ট সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। নিজ বুদ্ধির যোগ্যতা ও মুরোদ দেখাতে পারলে, পররাষ্ট্রনীতি সাজাতে পারলে – এটা অবশ্যই সম্ভব। কাজেই পন্থি-পনা ত্যাগ করেন। এই পন্থা-পদ্ধতিতে কোন কিছুকে বুঝতে যেয়েন না, ব্যাখ্যা করতে যেয়েন না। নিশ্চিত থাকেন এটা এক ভুল পথ পরিক্রমা। সামনে তাকান!

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ      ২০২৪
    শেষ আপডেটঃ      ২০২৪

    [ এখানে নিচে এই প্রসঙ্গ আমার প্রথম দিনের লেখাটাও জুড়ে দিলাম (সংরক্ষণের জন্য), যেটা কেবল আমার ফেসবুকেই ছিল।]

    ~~আজ ছিল গুজবের দিন ~~
    সরাসরি বললে গুজবটা হল যে, “ভারত-বাংলাদেশ মিলিয়ে দিবার জন্য নাকি ডোনাল্ড ল্যু কাজ করছেন!!!”
    না, এটা একেবারেই মিথ্যা কথা। “ডনাল্ড ল্যুকে এমন দায়িত্ব দেয়া হয়েছে” – বলে কোন নিউজ কেউ দেখাতে পারে নাই।
    ঘটনার শুরু অবশ্য গতদিন থেকেই। আজকাল ইউটিউব ব্যবসা মানে ইউটিউবে গুজবের খুবই জমজমাট। ফলে ইউটিউবে এই ডনাল্ড ল্যু গুজব শুরু হয়েছিল। বিশেষত ফিরোজের ইউটিউব গুজবে।
    এরপরে দেখি RTV একই ব্যবসার পথে।
    আর এছাড়া মতিউর রহমান চৌধুরী খেয়ে না খেয়ে উঠে পড়ে লেগেছেন। তাঁর মানবজমিন তো আছেই। আর নতুন প্রকল্প “জনতার চোখে” কে নিয়ে।
    এদের সবার উদ্দেশ্য একটাই হাইপ [hype] তোলা। মানে মিথ্যা উত্তেজনা তুলে পাঠকের আগ্রহ আকর্ষণ। যাতে হিট বাড়ে আর তাতে যেন অনলাইন আয় বাড়ে। যারা ইউটিউবার তারা প্রধান ধারার মিডিয়া না হলেও তাদের লক্ষ্য একই মিথ্যা বলে হিট বাড়ানো যেন অনলাইন আয় বাড়ে।
    কিন্তু এতে মতি চৌধুরী এমনই বেপরোয়া হয়েছেন যে যেখানে তার মানবজমিন-ই ট্যাবলয়েড বা গুজবের জার্নালিজমের দাগ পুরা মুছতে পারে নাই। সেখানে তিনি মরিয়া যেভাবেই হোক একই বুদ্ধিতে “জনতার চোখে” কে খাড়া করবেনই। তিনি বুঝতে চাইছেন না এতে এটা তো আরেকটা মানবজমিনই হবে; মানে মানবজমিনেরই প্রতিদ্বন্দ্বিই হবে- এর বেশী কিছু না!
    কাজেই এখন আম পাঠক দর্শক তাহলে কোথায় যাবেন?
    একটাই পথ – কোনটা গুজব – তা বুঝতে পারতেই হবে।
    কোনটা জার্নালিজমই না; কোনটা কোন নিউজই না তা বুঝার তরিকা জেনে নিতে হবে।
    আর তা হল, খবরের সোর্স কে?
    খবর শুধু পড়লে হবে না সাথে কার সোর্স রিপোর্টার লিখছে; মানে কার বরাতে কথা বলছে? সেটা চেক করতেই হবে।
    যেমন যদি লিখে “ওয়াকিবহাল সুত্রে”, “বিশেষ সুত্রে” বিশ্বস্ত সুত্র এমন – তাহলে বুঝতে হবে এই রিপোর্টটা গুজব।
    তবে কেউ কেউ আছে আরো স্মার্ট – যেমন এরা নিজের সুত্র বা বরাত কে এনিয়ে কিছুই লিখে না। যেন তার কাছে খবরটা গোপ্নে নাজেল হয়েছে – এমন করে থাকে।
    কাজেই ইতোমধ্যে প্রকাশিত আজকের গুলা সহ সব দনাল্ড ল্যু ওয়ালা গুব গুলাকে আরেকবার পাঠকেরা পড়ে দেখতে পারেন। এতে প্রাকটিসটাও হয়ে যাবে।
    অন্যদিকে যদি ইংরাজি পড়তে পারেন তাহলে দেখতে পারেন – কাজান সম্মেলন সংখান্ত খবর। গত সপ্তাহে রাশিয়ার কাজান শহরে বসেছিল এবারের ব্রিক্সের [BRICS] সম্মেলন। এই সম্মেলন শুরুর আগে চীন-ভারত ২০২০সালের পরে এই প্রথম সীমান্ত বিবাদের একটা বড় পর্ব আপোষ করে নিয়েছে – সরাসরি মোদি-সি বৈঠকে বসেছিল। স্ল্যাং ভাষায় বললে, মোদি সি এর কোলে উঠে পড়েছে।
    এনিয়ে ভারতেরই মিডিয়া রিপোর্টগুলো অন্তত পড়ে দেখতে পারেন।
    এতদিন এই বিরোধকে টিকিয়ে রেখে সেটাই আমেরিকার কাছে বেচে বাংলাদেশের উপর ভারতের খবরদারির পক্ষে আমেরিকান সম্মতি কিনে এসেছে মোদি।
    All reactions:

    সাইফুল ইসলাম, Hemayetuddin Ahmed and 111 others

    কিছু প্রশ্ন-উত্তরঃ

    سنوار حسین

    এখন আমেরিকা চীন-ভারত সমঝোতা কিভাবে নেবে,যেখানে কথা ছিল ভারত চীন ঠেকানোর ভাড়া খাটবে??
    3d
    Faruk Sobhan

    سنوار حسین [আপনার আরবী নাম বাংলার সাথে লেখা যায় নাই- ডান বামের লাইন সমস্যা হয়।]
    আমেরিকা বাংলাদেশকে সরাসরি নিজের পক্ষে পেয়েছে; বাংলাদেশে বিনিয়োগে আমেরিকাকে সুবিধা দিবে বলেছে; আমেরিকার গ্লোবাল পলিটিক্যাল গুরুত্ব মানে বলে জানিয়েছে এটাই বাংলাদেশকে আমেরিকার ইন্দো-প্যাসেফিক পলিসিতে পেল বা না পেল এটা কম কী!!
    বিশেষত, যখন আমেরিকা বাংলাদেশে পুরাপুরি বেইজ্জতি অবস্থায় পড়ে গেছিল! “বেইজ্জতি” ব্যাপারটা বুঝে নেন।
    বাইডেনের আমেরিকা বাংলাদেশে বিরোধীদলকে হাসিনাবিরোধী হতে পলিসি সহায়তা যেমন, মানবাধিকার, স্যাংশনের লাঠি দিয়ে লীগের চোর নেতা-মন্ত্রীদের শায়েস্তা করা আর খোদ হাসিনা সরকারের বাহিনী যেন পালটা চড়াও না হতে পারে সেটা নিয়ন্ত্রণে আনা। কিন্তু ২০২৪ নির্বাচনের আগে এসে সেপ্টেম্বর ‘২৩ এর মধ্যেই আমেরিকা ভারতের প্ররোচনায় হাসিনার নির্বাচনের পক্ষে পল্টি মারে। ৭ জানু. নির্বাচন হতে দেয়। পরে হাসিনার সাথে বাইডেন একসাথে কাজ করবে বলে ঘোষণা করে।
    অর্থাৎ দুইটা একেবারে উলটা পল্টি ইতোমধ্যে দেয়া হয়ে গেছে। তাহলে এর চার মাস যায় নাই হাসিনা উতখাত হয়ে গেল কেন?
    তার মানে আমেরিকা এমন সম্ভাবনা একেবারেই দেখে নাই বলেই হাসিনার সাথে (ভারতকে বগলে নিয়ে) আঁতাত করতে গেছিল!!! তাই না কী?
    তাহলে হাসিনা উতখাত হয়ে গেল মানে বাইডেন বোকা!! ওর বাংলাদেশ পলিসি ঠিক নাই, বাংলাদেশে কী হচ্ছে হতে চাইছে এনিয়ে কোন ধারণা নাই। এটাই প্রমাণিত হয়ে গেছিল। আর তাই এনিয়ে সিনেটে ফরেন রিলেশন কমিটিতে হৈ চৈ আর আত্মসমালোচনা মানে কোথায় মুখ লুকাবে সে জায়গা খোজাখুজি চলছিল। আর প্রমাণিত হয়ে গেছিল কথিত চীন ঠেকানোর আমেরিকান ইচ্ছায় ভারতকে ভাড়া করা আর বাংলাদেশকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া – সব বেকার! অকার্যকর। বেগার খাটা হয়েছে! কোনটাতেই আমেরিকার কোন লাভ হয় নাই। এসবই বদলে যাওয়া বাংলাদেশে আমেরিকার জন্য ছিল সবচেয়ে বড় বেইজ্জতি।
    কিন্তু এমন খারাপ সময়ে ইউনুস যখন বাইডেনের সাথে কথা বলতে আসে সেপ্টেম্বর ‘২৪ – আসলে এটা ছিল আমেরিকার (দুই পার্টির} কাছেই পড়ে পাওয়া বর বা বরকত!
    মূলত ইউনুস পরিস্কার করে যখন বলেছিল যে আমরা কোন পন্থী (চীনের বা আমেরিকার) নই। মানে হবো না। আমাদের কাছে আমেরিকাও খুব গুরুত্বপুর্ণ। একথাওগুলো আমেরিকার কোন দলই ভাবেই নাই যে তাদের এমন বেইজ্জতির পরেও বাংলাদেশে তাদেরও জায়গা আছে।
    তাই বাইডেনের দিক থেকে বাংলাদেশ প্রশ্নে ভারতের হাত ছেড়ে দেওয়া এখান থেকেই ফাইনাল হয়ে যায়।
    আর ওদিকে ইন্ডিয়া এবার -চীন-ভারত সমঝোতা করতে ছুটে গিয়ে- এমন কিছু নতুন করবে না যেটা আগে করছিল না। যেমন, শুধু যদি পুরা ইউক্রেন যুদ্ধের সময়টা দেখি, রাশিয়ার তেল এনে রিফাইন করে রফতানিকারক দেশ হয়েছে ভারত যেখানে আমেরিকা রাশিয়ার উপর ডলার স্যাংশন দিয়ে রেখেছিল।
    • Like

    • Reply
    • Edited
    5

    Mazharul Islam Roni

    দারুণ লিখেছেন দাদা
    • Like

    • Reply

     

  • রেহমান সোবহান- দেবপ্রিয়দের সিপিডি (CPD) একটা ভারতীয় স্বার্থের প্রতিষ্ঠান

    রেহমান সোবহান- দেবপ্রিয়দের সিপিডি (CPD) একটা ভারতীয় স্বার্থের প্রতিষ্ঠান
    গৌতম দাস
    ১৬ অক্টোবর ২০২৪
    https://wp.me/p1sCvy-5MI

    রেহমান সোবহান- দেবপ্রিয়দের সিপিডি (CPD) একটা ভারতীয় স্বার্থের প্রতিষ্ঠান
    আর ইউনুস তাদেরকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থার ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশ এর দায়িত্ব দিয়েছে।
    রেহমান সোবহান- দেবপ্রিয়দের সিপিডি এর এখন উচিত হবে ২০০৪ সাল থেকে বিগত ২০ বছর যত ভারতীয় দালালি এরা নিজেরা করে গেছে এরই শ্বেতপত্র প্রকাশ করা।
    বাংলাদেশের উপর দিয়ে ভারতকে করিডোর দিবার পক্ষে ওকালতি করা, বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর বানানোর গল্প ছড়ানো আর যারা তাদের বিরোধিতা করছে তাদেরকে -মুর্খ- বলেছিলেন এই রেহমান সোবহান। আসলে করিডোরের পক্ষে ওকালতির দালালি এটাই CPD এর প্রথম দালালির কাজ যোগাড় ছিল।
    CPD এই দোকানটা ছিল ফাইন্যান্সিয়ালি একটা অচল প্রজেক্ট। গত ১৬ বছর এটা চলেছে (মানে নিজ কর্মচারিদের বেতন দিয়েছে) র-এর দালালির পয়সা ভিক্ষা করে এনে।
    এটা এত নিম্ন শ্রেণীর দালালি যে শেষের দিকে রেহমান সোবহান- দেবপ্রিয়রা হিন্দু সেজে রানা দাসগুপ্তের ঐক্য পরিষদের (মানে মূলত কংগ্রেসি হিন্দু হলেও এখন বাংলাদেশে মোদির হিন্দু সংগঠনের আর যা নিয়ে গোবিন্দ প্রামাণিকের সাথে বিরোধ) ঘরোয়া সভার প্রধান অতিথি হয়েছে অবলীলা বেপরোয়ায়।

    অনেকে বলেন ইউনুস নাকি প্রো-আমেরিকান! অথচ তিনিই এইবার সেই ভারতীয় CPD কে “শ্বেতপত্র” প্রকাশ এর কাজ দিচ্ছেন।প্রথম আলোর রিপোর্টঃ

    অর্থনৈতিক অবস্থার ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশ করা হবে, কমিটির নেতৃত্বে দেবপ্রিয়

    মানে যারা কমপক্ষে ১৬ বছর হাসিনা ও র-এর দালালি করে গেল তারাই এখন নাকি হাসিনার অর্থনীতি লুটের শ্বেতপত্র প্রকাশের কাজ করবে!

    তামাশা কি জিনিষ ও কত প্রকার?

    Faruk Sobhan

    ভারতের এক এনজিও এজেন্ট শ্রীরাধা দত্ত; তিনি এবছর থেকে এজেন্টশীপ বদলেছেন। পাঠক এতে বিভ্রান্ত হয়েন না। রাধা আগে ছিলেন RSS এর মালিকানাধীন (অজিত দোভাল যার প্রধান কর্তা) থিঙ্কট্যাঙ্ক “বিবেকানন্দ ফাউন্ডেশন” এর ফেলো। মানে রাধা ছিলেন ওর মাঠকর্তা চাকুরে।
    এই শ্রীরাধা প্রতিবছর কয়েকবার ঢাকায় আসতেন, আর এলে প্রায় সারাদিন CPD তেই কাটাতেন। বাংলাদেশের হিন্দু নেতা-সাংবাদিকেরা বলত শ্রীরাধাই ছিলেন মোদির কাছে বাংলাদেশের হিন্দু নেতাদের পৌছানোর টেলিফোন অপারেটর। মানে রাধাকে ফোনে বলে দিতে পারলে সেটা মোদির কানে পৌছাতো! ইসকনের কী নেটওয়ার্ক!
    তবে পাঠকের জেনে রাখা ভাল শ্রীরাধা এখন চাকরি বা আনুগত্য বদলিয়েছে। তিনি এখন আর “বিবেকানন্দ ফাউন্ডেশন” এর কেউ নন। গত দু-এক বছরে তিনি সিঙ্গাপুর ইউনি এর আমেরিকান থিঙ্কট্যাংকের যে দোকান আছে [আরেক প্রো-আমেরিকান ইন্ডিয়ান C. Raja Mohan যার প্রধান কর্তা] তার ফেলো এখন শ্রীরাধা দত্ত। তাই বাতচিত আগের চেয়ে সময়ে ভিন্ন!
    শেষে একটু সংযোজন করে দেই। শ্রীরাধা এখন চাকরি বদলাইছেন বলে আলী রিয়াজের সাথে শ্রীরাধার ঘনিষ্ঠতা একসাথে সেমিনার করা বেড়েছে। সব রসুনের কোয়া এক জায়গায়?
    পাঠক who is who বুঝে নেন!
    নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে পশ্চিমাদের সাথে সম্পর্ক সঙ্কুচিত হবে ওয়েবিনারে রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কব
    DAILYNAYADIGANTA.COM
    নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে পশ্চিমাদের সাথে সম্পর্ক সঙ্কুচিত হবে ওয়েবিনারে রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কব

    নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে পশ্চিমাদের সাথে সম্পর্ক সঙ্কুচিত হবে ওয়েবিনারে রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কব

    CPD এর অসততার নমুনাঃ
    ২০১১ সালের রেহমান সোবহান-দেবপ্রিয়দের ভারতকে করিডোর দেওয়ার পক্ষে দালালির রিপোর্ট ছাপা হয়েছিল
    ttp://www.banglanews24.com/national/news/bd/28499.details
    এদুই লিঙ্কে। তা এখন আমি খুজে পাচ্ছি না
    কিন্তু এখন দেখেন ডেলিস্টারের এই নিউজে
    অসততাতেও সিপিডি চ্যাম্পিয়ান

    Faruk Sobhan

    আর এটা ছিল অরিজিনাল খবরটাঃ

    ট্রানজিট বিরোধিতাকে ‘অশিক্ষিতদের বিতর্ক’ বললেন রেহমান সোবহান
    | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
    ট্রানজিট বিরোধিতাকে ‘অশিক্ষিতদের বিতর্ক’ বললেন রেহমান সোবহান
    | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
    আপডেট: ২০১১-০২-০৫ ৭:৩৩:১২ পিএম
    ভারতকে ট্রানজিট দেয়ার বিরোধিতাকারীদের কড়া সমালোচনা করলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ’র (সিপিডি)চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান।
    চট্টগ্রাম : ভারতকে ট্রানজিট দেয়ার বিরোধিতাকারীদের কড়া সমালোচনা করলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ’র (সিপিডি)চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান।
    ট্রানজিট বিরোধিতাকে ‘অশিতিদের বিতর্ক’ বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সীমানা ধরে পণ্য পরিবহন খুবই স্বাভাবিক বিষয়। অথচ বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যেখানে ট্রানজিট দেয়া নিয়ে বিতর্কের ইস্যু করা হয়েছে।’ শনিবার চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি, চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেহমান সোবহান এ কথা বলেন।
    রেহমান সোবহান বলেন, ‘ট্রানজিট চুক্তি বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ দণি-পুর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে। উত্তর-পুর্ব ভারতের বিশাল ক্যাপিটাল মার্কেট বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে আসবে। এছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যান্য দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সুদৃঢ় হবে।’
    সম্মেলন উদ্বোধন করেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপিকা হান্নানা বেগম। আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন অর্থনীতি সমিতি চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মদ সিকান্দার খান এবং সাধারন সম্পাদক ড.তৌফিক আহমেদ চৌধুরী। বক্তারা বলেন, বিশ্বে আঞ্চলিক সহযোগিতা বেড়েছে। এটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেশের অন্যতম দুইটি প্রধান সমুদ্রবন্দরের যে সম্ভাবনা আছে তাকে কাজে লাগানো গেলে তা দণি এশিয়ার উন্নয়নে ভুমিকা রাখতে পারবে।
    সেমিনারে অংশ নেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলাম ও ড. ইরশাদ কামাল খান, চবি কলা অনুষদের ডিন ড.জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত, সিপিডি’র নির্বাহী পরিচালক ড. মুস্তাফিজুর রহমান, প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ, অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান চৌধুরী, অধ্যাপক ড. আলী আশরাফ প্রমুখ।
    বাংলাদেশ সময় : ১৯১৮ ঘন্টা, ফেব্রৃয়ারি ০৫, ২০১১
    সিপিডি আর শ্রীরাধা দত্তের যৌথ ততপরতার কিছু নমুনাঃ
    বিবিসি ও শ্রীরাধা দত্ত
    গৌতম দাস
    ৩০ মে ২০২৩

    [এই লেখাটা আমারই ফেসবুক [যেটা ফারুক সোবহান Faruk Sobhan এই নামে চলে] সেখানে আমার স্টাটাস হিসাবে দিয়েছিলাম গত ২২ আগষ্ট ২০২৪ – সেটাই এখানে স্থায়ী ভাবে রাখার জন্য তুলে আনা হল আজ ১৬ অক্টোবর ২০২৪।]

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

  • ‘আলোকিত’ মারানিদের থেকে সাবধান!

    ‘আলোকিত’ মারানিদের থেকে সাবধান!
    গৌতম দাস
    ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪
    https://wp.me/p1sCvy-5Ls

    বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ যাকে উইকিপিডিয়ায় মূল ব্যক্তিত্ব বলে পরিচয় দেয়া আছে। আবু সায়ীদ সাহেবকে নিয়ে আমার কোন সমস্যা নাই কেবল একটা ছাড়া। আমার ঢাকায় আসা (১৯৭৯) ও বুয়েটে ভর্তি হবার কালে তার উত্থান যখন তিনি ঢাকা কলেজের শিক্ষকতা থেকে অবসর বা ছেড়েছেন বা ছাড়ার পথে। কিন্তু তার ততপরতার উদ্দেশ্য বুঝতে আমার সময় লেগেছে; কারণ তখনও আমি আলোকিত শব্দের আসল অর্থ বুঝি না। বরং তখন কমিউনিস্ট করি ফলে না বুঝলেও ইতিবাচকই মনে হত। কেবল সেকালে তিনি কেন বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র গড়তে গিয়ে লিভার ব্রাদার্স এই বহুজাতিক কোম্পানির ডোনেশন নিয়েছিলেন এনিয়ে তর্কে আমার লোকটার সম্পর্কে নেতি ধারণা হয়েছিল।

    সে যাক, কিন্তু গত কয়েকদিন সোশাল মিডিয়ায় তাঁর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন নিয়ে অবস্থান-বক্তব্য ছাপা হচ্ছে। এটা পীড়াদায়ক!
    তাঁর বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র নিয়ে ব্যস্ত থাকা জীবনের সবচেয়ে বড় অপরাধ হল ইসলাম-বিদ্বেষ!  এটা অনেকটা হুমায়ন আজাদ, জাফর ইকবাল ধরণের শিক্ষকদের যে মিথ্যা অনুমানের উপর দাঁড়ানো অবস্থান যে তারা সবাই এনলাইটেনমেন্ট লোক। ইংরাজি enlightenment শব্দের বাংলা তারা করেন  আলোকিত। শব্দটা ইংরাজি enlightenment শব্দটার কলকাতায় করে নেয়া বাংলা। এর চেয়েও বড় পরিচয় এই শব্দকে আপন করে দিবার প্রধান উদ্দেশ্য ইসলাম (বা ধর্ম) কোপাও! কারণ, তাদের দাবি ইসলাম ধর্ম হল পশ্চাতপদ!  তাই ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে বিজ্ঞান এর পথে আসো। স্কুল বা যেকোন হায়ার স্টাডিতে যতই বিজ্ঞান পড়বা ততই তোমরা ধর্মবিমুখ হইবা। কারণ, বিজ্ঞান নাকি উচ্চমার্গের জ্ঞান!
    যদিও এই অতি বিজ্ঞাননাদিতার মুল সুরসুরিদাতা হল বাংলার জমিদার-হিন্দুরা।  কারণ তারা মনে করে জমিদারি ব্যবস্থা উচ্ছেদের পক্ষে তুলনায় মুসলমানেরা বেশী সোচ্চার, অথচ হিন্দু প্রজারা একেবারেই না। মনে রাখতে হবে ১৮১৮-১৯ সাল থেকেই হাজি শরীয়তুল্লাহ জমিদারবিরোধী আন্দোলন শুরু করে দিয়েছেন। পরে তিতুমীরও একইভাবে উত্তর চব্বিশ পরগণা কাঁপিয়েছিলেন! এর বিস্তারিত এখন এখানে নয় ভবিষ্যতে অন্য কোথায় পাবেন।

    এখন বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ কে নিয়ে যে প্রশ্ন ও জবাবদীহিতা চাইবো তা হল, ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনের সাথে আপনার খাতিরটা কেন? হাইকমিশন, বাতিঘর পাবলিশার্স (যাকে মাথার উপরে দোকান করতে দিয়েছেন), শিক্ষামন্ত্রণালয়ের এক বিশেষ বিভাগ ও প্রকল্প ইত্যাদি এর এই র‍্যাকেটটা কী এবং কেন খুলে ছিলেন? তরুণদের বই পড়াবেন ভাল কথা – কিন্তু ভারতীয় হাইকমিশনের সাথে এই ঢলাঢলিটা কেন? আলোকিত করবেন  ভারতীয় হাইকমিশনের তত্বাবধানে? বাংলাদেশের মুসলমান তরুণদের আলোকিত করবেন  ভারতীয় হাইকমিশনের তত্বাবধানে? আর একাজ চালিয়ে দিবেন জঙ্গীবাদবিরোধী ততপরতা হিসাবে? আর ঐ প্রকল্পের অর্থ লুটতে বাতিঘর বই বেঁচবে?  বাতিঘরকে আবার রাখাল বালক গভর্নর থেকে বিনাসুদে ব্যাংক লোন নিবে? কী বিশাল আপনাদের আত্মসাত চক্র তাই না? আবার খাসা এক ইসলাম কোপানোর চক্র মানতেই হয়! 
    আমি জানি ৭ জানুয়ারি ২০২৪ নির্বাচনের পরে নয়া শিক্ষামন্ত্রী নওফেলের সাথে দেনা-পাওনার ঝগড়ায় আপনারা ঐ প্রকল্প থেকে সরে আসেন। কিন্তু আগের গুলা সম্পর্কে বলেন, জবাবদীহিতা করেন?

    ১। জঙ্গীবাদের সাথে বই পড়ানোর কী সম্পর্ক?
    ২। বিজ্ঞান পড়লে জঙ্গীবাদ কমবে কেন, কী সম্পর্ক?
    ৩। বিজ্ঞানবাদিতা দিয়ে আপনি ধর্মতত্বকে পরাস্ত করবেন?

    এগুলোর একটাই উত্তর যে, একমাত্র কোন স্টুপিড চিন্তাই এমন ভাবতে পারে! আপনার ইসলাম বা কোন ধর্ম মানতে বা পালন করতে ইচ্ছা করে না তো করেন না। কোন বাধ্যবাধকতা নাই, সেটা আপনার স্বাধীনতা। কিন্তু ইসলামবিদ্বেষ আর সাথে হিন্দুত্ববাদের দালালি বা জমিদারি হারানো জমিদার-হিঁদুর জমিদারি ফেরত পাবার না হলেও কিছু সামাজিক-কালচারাল আধিপত্য ফেরত পাবার প্রকল্প থেকে একদম সরে থাকবেন।  সের দালালিতে জড়াবেন না। জানেন তো ধর্ম-বিদ্বেষ ঘৃণা ছারানো এটা এথনিক টর্চার নিস্পেষণ – এটা জাতিসংঘের আইনে র্সবোচ্চ শাস্তি মানে যাবজ্জীবন কারাগার! 

    প্রথমত আপনি হলেন একজন হিন্দুত্ববাদী এই অর্থে ভারতের মোদি আরএসএস এর দালাল!
    দুই, আপনি জানেনই না যে মানুষের “চিন্তারও পদ্ধতি” বলে ব্যাপার আছে।    বিজ্ঞানের সাথে ধর্মতত্ব এদুইটার  “চিন্তা পদ্ধতি” আলাদা।  বিজ্ঞানের চিন্তা পদ্ধতিটা তুলনায় খাটো এই অর্থে যে তা কম বিষয় বা প্রসঙ্গ কাভার করে।  যেটাকে আলোকিত বলছেন মানে enlightenment এটা কেবল বিজ্ঞানের চিন্তা পদ্ধতিটা আর সেটা এই অর্থে যে এটা কেবল লজিক্যাল বা র‍্যাশনাল ম্যাথড এর উপর দাঁড়ানো। নিউটনের গতিসুত্র এর উপর এটা ভাল কাজ করবে। কিন্তু মানুষ ব্যাখ্যা করতে এটা কাজ করবে না। কারণ, মানুষ কেবলই লজিক্যাল বা র‍্যাশনাল নয় সে আরো কিছু বিয়ন্ড [beyound]. ধর্মতাত্বিকদের ভাষায় তারা বলবে মানুষের এর বাইরে “গায়েবী” দিকও আছে।  আমি জানি গায়েবী শুনে আপনার অস্বস্তি হবে। কারণ, আপনি স্টুপিড-চিন্তায় শিখেছেন বিজ্ঞানই সর্বোচ্চ জ্ঞান। আবার আপনি চিন্তারও যে ম্যাথড বলে কিছু আছে তা জানেন না তা জানি।  হুমায়ন আজাদ, জাফর ইকবাল এমনকি তাদের সাগরেদ বুয়েটের ইলেক্ট্রনিক বিভাগের কিছু শিক্ষকও সাথে আছে যারা কেউ জানেনই না যে চিন্তারও ম্যাথড বলে কিছু আছে।   এদের চিনবার চিহ্নটা হল, যারা ইসলাম বা ধর্ম কোপানো বিজ্ঞানবাদি অথচ এরা কেউই জানে না যে চিন্তারও ম্যাথড বলে ব্যাপার আছে। আসলে যাকে তারা বিজ্ঞান বলে জানে সেটা নিজেই আসলে এক চিন্তা পদ্ধতি – লজিক্যাল ও র‍্যাশনাল চিন্তা পদ্ধতি। আর এটা দিয়ে দুনিয়ার কেবলমাত্র যা ফিজিক্যাল ফেনোমেনা তা ভাল ব্যাখ্যা করতে ব্যবহার করা যায়।

    কিন্তু মানুষ? মানুষ কেবল ফিজিক্যাল বস্তু বা ফেনোমেনা নয় সে একই সাথে স্পিরিচুয়াল [স্পিরিচুয়ালিটির দার্শনিক মানে করে নিয়েন]। তাই মানুষের যেকোন রিলেশন এর ফিজিক্যাল ব্যাখ্যা করা যাবে কিন্তু তা সম্পুর্ণ না। ওর স্পিরিচুয়াল (রিলেশনাল) দিকটা বাদ পড়ে থাকবে তাতে। নিজের স্ত্রী-সন্তানের সাথে আপনার সম্পর্ক এটাকে কেবল ফিজিক্যাল ভেবে থাকেন পশ্চিমের বেশির ভাগ মানুষ; ফলে, কানেকটেড [connected, সংযুক্ত বা সম্পর্কিত] ফিল করেন না কারো সাথে। ভাবেন লজিক্যাল কথা না শুনলে  স্ত্রী-সন্তানকে বের করে দিবেন। আর এটারই পরিণতি LGBTQ.  কিন্তু সেখানেও শান্তি কই?
    আর প্রত্যেক থিওলজিতে তাই একটা আল্লাহ বা এর সমতুল্য যেমন গড বা ভগবানের ধারণা আছে কেন জানেন? থিওলজি বলে আমরা দুনিয়ার সবাই এই আল্লাহ এর মাধ্যমে (through GOD) বস্তু-অবস্তু প্রাণ প্রকৃতির সকলেই কানেকটেড। একারণে আপনাদের বিজ্ঞান অসম্পুর্ণ। কারণ সে বলে এনভায়রণমেন্ট বা পরিবেশ। অথচ আসলে সত্যিটা হল প্রাণ ও প্রকৃতি থাকতে হবে! কিন্তু প্রাণ কে ব্যাখ্যা করবেন কীভাবে? বিজ্ঞানের মুরোদ আছে?

    সারকথায় এক বিজ্ঞান দিয়ে সব বুঝে ফেলবেন এই চিন্তাটা  এটাই তো আসলে জমিদার-হিন্দুর চিন্তা। মুসলমান প্রজাদের পায়ে নিচে দাবায় রাখার জন্য।
    বিশেষ করে পাকিস্তান কায়েম হয়ে যাবার পরে যখন জমিদারেরা টের পেলেন যে এবার তো জমিদারি ব্যবস্থা এই রুস্তমিটাই উচ্ছেদ হয়ে যাবে। তাই এই বিজ্ঞানবাদিতা, ইসলামবিদ্বেষ, কমিউনিস্ট পার্টিতে সন্তানদের যোগদান ইত্যাদি জোরেসোরে ঘটালেন।
    যদিও ১৯৩৫ সাল প্রথম গোছানো কমিউনিস্ট পার্টি চালু হয়েছিল। তখনই তারা ইউরোপের রেনেসাঁ-এনলাইটেনমেন্ট আন্দোলনকে নিজের করে নিতে মানে ইসলাম কোপানোর উপযোগী করে নিতে আর  নতুন নামকরণে (মানে শুধুই রেনেসাঁ বা ইউরোপের রেনেসাঁ নয়) নিজেরাই বই লিখেছিলেন যার নাম বেঙ্গল রেনেসাঁ। মূল ইংরাজী বইটাই গুগল ওয়েব লিঙ্ক পেয়েছি। এখানে পাবেন, pdf চুজ করে নামিয়ে ফেলতে পারেন।  পাঠকের কাছে আমার একটাই চাওয়া বই নিজে পড়েন। কলকাতার হিন্দুত্ববাদকে উপড়ে ফেলুন।

    যার সাথে রোম-ফ্লোরেন্স থেকে শুরু ও সারা ইউরোপে ছড়ানো ইউরোপের রেনেসাঁ-এনলাইটেনমেন্ট আন্দোলনের কোন সম্পর্ক নাই। মুল ফারাকটা হল, ঠিক খ্রীশ্চান ধর্মটা কোপাতেই হবে এটা তো ইউরোপের রেনেসাঁ ছিল না। বরং নতুন করে চিন্তা করতে হবে (তাই নব জাগরণ যা রেনেসাঁর বাংলা অর্থ) – মানে এককালে আগে অনেক অগ্রসর চিন্তা ছিল যা বাদ পরে বা চাপা পড়ে গেছে – এই ছিল তাদের মুলকথা।

    জমিদার-হিন্দুর ছানা-পোনারা এটা টের পেয়েছিল বলেই আর শুধু রেনেসাঁ বলা বা ওর অনুবাদে যায় নাই। তারা শুধু রেনেসাঁ না বলে বেঙ্গল রেনেসাঁ বলেছেন। মানে নিজের স্বার্থ উপযোগী এক অর্থ ও ভাষ্য বের করে হাজির করেছে – এটাই বেঙ্গল রেনেসাঁ। যার সাথে মূল রেনেসাঁর কোন সম্পর্ক নাই।  আর বলেছেন বা হাজির করেছেন ধর্ম কোপানোর কথা বলে, ধর্ম পশ্চদপদ বলে।  কিন্তু কোপায়েছেন কেবল ইসলাম কে মানে মুসলমানদেরকে; তারা পশ্চাদপদ আর সব বাঙালি হিন্দুরা হল অগ্রসর-প্রগতিশীল এভাবে হাজির করেছেন।
    তবু একালে যারা মূল রেনেসাঁ ধারণাটা পেতে চান, আর আমি সবাইকেই বলি গুগল সার্চ দিয়ে নিজে খুজে বের করেন। সাধারণত এনসাইক্লোপিডিয়া ধরণের ওয়েব সাইটে এগুলো পাবেন।  যেমন britanica [যদিও এটা পুরানা কলোনি বৃটিশ মুল্যবোধে ঘেরা]; আর বিকল্প হয়ে পারে একালের  History.com। এছাড়া আপনি মুক্ত অনুভব করে সবকিছু ঘেটে বেড়াতে পারেন। তবে সুনির্দিষ্ট করে ও প্রাসঙ্গিক হিসাবে এই পেজ দেখতে পারেন। 
    বেঙ্গল রেনেসাঁ বইয়ের লেখক হলেন অধ্যাপক সুশোভন সরকার। যদিও লিখেছিলেন ছদ্ম নামে। তিনিই  প্রথম কমিউনিস্ট পার্টির দলিল ড্রাফট করেছিলেন। আমাদের জগন্নাথ কলেজের আশেপাশের হিন্দুপাড়ায় বড় হয়েছিলেন, দ্বারকা-রবীন্দ্র ঠাকুরদের  ব্রাহ্ম হিসাবে সেকালে। ইতিহাসের অধ্যাপক। তার এই বেঙ্গল রেনেসাঁ বইয়ের শুরুতে একটা পরিচয়পত্র জুড়ে দেয়া আছে যা লিখেছেন কমিউনিস্ট পার্টি প্রথম সম্পাদক পি সি যোশী মহাশয়। সারকথা হল, এটা যোশী সাহেব পার্টির দলিল হিসাবে গ্রহণ করাতে চান এর আগে সবাই যাতে পড়ে মতামত দেয়। বইটা ইংরাজিতে তবে গুগল পুরানা কপিরাইটহীন বিহীন বই হিসাবে ওয়েবে দিয়ে দিয়েছে, নামিয়ে নিতে পারেন। একালে এর একটা অনুবাদ আমি করিয়েছি যদিও করানোর পরে আমি দেখতে সময় দিতে পারি নাই। সেটা পাবলিক করে দেয়া যায় কী করে তা চিন্তা করছি। ঐ বইয়ে আকর্ষণীয় দিক হল – হিন্দু মেলা – এই বলে একটা চ্যাপ্টার। এক কথায় হিন্দুত্ববাদ জন্ম ও ত্তৈরি হচ্ছে কী করে এবইয়ের পরতে পরতে এর দলিল পাওয়া যাবে। তবে আমার পাঠকদের প্রতি আমার বিশেষ অনুরোধ বইটা হিন্দুরা কত খারাপ এভাবে একেবারেই দেখা যাবে না। জমিদার-হিন্দু বনাম পুর্ববঙ্গের বাসিন্দাদের জমিদারি উচ্ছেদের লড়াই য়ার এতে আমাদের বিজয়ের লড়াই -এটা সবসময় মনে রেখে পড়বেন, এটা হিন্দু-মুসলমানের লড়াই নয়।
    একারণাই  অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ সম্পর্কে বলেছি তিনি আমাদেরকে আলোকিত করার নামে হিন্দুত্ববাদের প্রকল্পে ডুবে আমাদেরকেও ডুবাতে চেয়েছেন। হাসিনার প্রকল্পের সাথে মিলিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনের সাথে জড়িয়ে ইসলাম কোপানো আর ঘৃণা ছড়ানোর কাজে লিপ্ত হয়েছিলেন।
    এই হল, আলোকিত! এদেরকে যেখানেই এই শব্দে কাউকে দেখবেন বুঝবেন এরা হাসিনাকে পুনর্বাসনের দালাল, মানে ভারতের দালালটা ‘আলোকিত” এই অজুহাতের আড়ালে আবার উঠে দাড়াতে চাইছে!

    খুব সংক্ষেপে একটু কথা বলি। লক্ষ্য করেছি এমন আলোচনায় সবসময় “আলোকিত” শব্দটা আসে। কিন্তু প্রায় কেউই এই শব্দের দিকে মনোযোগ দেয় না। অথচ এটাই সবচেয়ে অসৎ আর ইসলামবিদ্বেষী শব্দ, জমিদার হিন্দুর প্রতিপত্যি, দখল, প্রভাব টিকিয়ে রাখার খায়েসের শব্দ।
    আলোকিত শব্দটা ইংরাজি enlightenment শব্দটার কলকাতায় করে নেয়া বাংলা। enlightenment এর আক্ষরিক বাংলা হতে পারে “আলো এনে নেওয়া” এধরণের। en-যুক্ত করা হয় কোন নাউন(noun) কে verb হিসাবে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে। তাই enlightenment খুব কোন কঠিন ইংরাজি না।
    এখন আসেন শব্দটার পিছনের আইডিয়া বা দর্শনটা কী?
    এটা আসলে সেকালের রোমে-ফ্লোরেন্সে মোটামুটি ১৪০০ বছরের কালে একটা সামাজিক আন্দোলন (রেনেসাঁ আন্দোলন) শুরু হয়েছিল, সেখান থেকে শুরুর একটা কথা। সেকালের রোমের সম্রাট সহ দেশবাসি ৩১৩ খ্রীষ্টাব্দে সকলেই খ্রীশ্চান হয়ে যায়। কিন্তু এই ১৪০০ খ্রী. বা সালের দিকে এসে তাদের মধ্যে শিল্পকলার লোকেদের অনুভব হয় যে তারা ৩১৩ সালে যত কিছু জানত তা থেকেও এখন পিছনে পরে আছে। এখানে থেকেই রেনেসাঁ আন্দোলনের শুরু; রেনেসাঁর বাংলা করলে হয় নব-জাগরণ। বা ফেলে আসা জিনিষের প্রতি পুনরায় গুরুত্ব দিয়ে দেখা বা আবিস্কার।
    এই আন্দোলন সারা ইউরোপ ছড়য়ে পড়তে এক-দেড়শ বছর সময় নিয়েছিল। যেমন ১৪৯৯ সালে এটা ফ্রান্সে হাজির হয় – এরাসমুস [Desiderius Erasmus] প্রমুখের হাতে।
    কিন্তু ততদিনে রোমে আবার পালটা প্রতিক্রিয়া শুরু হয়ে গেছিল। কারণ ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা আবার এটা ধর্মীয় আইনে (খ্রীশচানিটি অবমাননা আইনে শাস্তিদান) সক্রিয় করলে এই রেনেসাঁ ঝিমিয়ে পড়েছিল। কিন্তু পরলেও; তা আশ্রয় পায় একাদেমিক স্তরে – কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ধরনের একাডেমিক ঝগড়া নয় [non-confrontational] এমন চর্চায়। কিন্তু তখন এর নাম বদলে হয়ে গেছিল বা নিয়েছিল এই enlightenment – এই নাম। এরপরে ফরাসী দার্শনিক ইম্মানুয়েল কান্ট Kant এর লেখা “What is Enlightenment?”  (১৭৮৪)- সবচেয়ে প্রভাবশালী।
    দুনিয়ার কোন বিতর্কে, তত্ব আগে না প্রয়োগ-বাস্তবায়ন আগে এই তর্কে দুপক্ষেরই লোক পাওয়া যাবে। আগে প্রয়োগ রূপ হাজির হয় আর পরে তা কোন দার্শনিক ঠিক দেখতে পেয়ে পরে একে তত্ব রূপে হাজির করলে সেটা কেমন হবে এর সম্ভবত সবচেয়ে ভাল উদাহরণ হল কান্টের Enlightenment কী, এনিয়ে লেখা। কেবল সাবধান করে দেই Enlightenment – এর চিন্তা পদ্ধতি দিয়ে কোন ধর্মতত্ব ব্যাখ্যা দূরে থাক দাঁত বসানোও যাবে না। ফলে গাধামি বা চিন্তার স্টুপিডিটি করা যাবে না।  তবে বিজ্ঞানের (লজিক্যাল ও র‍্যাশনাল চিন্তার) বিস্তারের জন্য ওর ভুমিকা অপরিসীম।
    সেদিকে আর এখন বেশী যাচ্ছি না।

    আমার পাঠকদের কাছে একটা তথ্য জানানোর সুযোগ নেওয়া যাক।
    রেনেসাঁ থেকে এনলাইটেনমেন্টঃ এই নামে দুই পর্বে সমাপ্ত আমার একটা গত বছরের লেখা আছে। ওর লিঙ্ক এখানে দিলাম। যারা আরও পড়াশুনা করতে চান এই আলোকিত মারানিদের পরাজিত করতে আগ্রহী তাদের জন্য।

    রেনেসাঁ থেকে এনলাইটেনমেন্টঃ
    বিজ্ঞান বা র‍্যাশনালিটির সীমা কোথায়?
    গৌতম দাস
    ০৮ জানুয়ারি ২০২৩  
    ০০ঃ০২  সোমবার
    https://wp.me/p1sCvy-4l1

    রেনেসাঁ থেকে এনলাইটেনমেন্টঃ
    বিজ্ঞান বা র‍্যাশনালিটির সীমা কোথায়?
    (২য় ও শেষ পর্ব)
    গৌতম দাস
    ০৮ জানুয়ারি ২০২৩  ০০ঃ২২ রবিবার
    https://wp.me/p1sCvy-4lO

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ     আগষ্ট ২০২৪
    শেষ আপডেটঃ     আগষ্ট ২০২৪

  • মোদিকে হুশ করে পা ফেলতে হবে, নইলে নিজ মরণ ডেকে আনবেন

    মোদিকে হুশ করে পা ফেলতে হবে, নইলে নিজ মরণ ডেকে আনবেন
    গৌতম দাস
    ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪
    https://wp.me/p1sCvy-5JW

     

     

              রাজনাথ সিং, ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী

    শিরোনামের কথাগুলো ঠিক কোন হুমকি নয়, তাই মোদিকে দেয়া হুমকি হিসাবে না পড়ে বরং সবকিছুকেই “লড়কে লেঙ্গে” মনে করে থাকে যে উগ্র জাতিবাদ মানে ভারতীয় “হিন্দুত্ববাদী মন” আর এভাবেই সে সবকিছু এভাবে দেখে থাকতে অভস্ত হয়ে আছে সেই মনটাকে উদ্দেশ্য করে বলা। যদিও এই বক্তব্য তাদের কানে ঢুকবে, তাঁরা আমল করবে সে সম্ভাবনা খুবই কম; আশা রাখা যায় না এমন। তবু ইতিহাসে লিখে রাখা, একটা রেকর্ড রাখা আর এখনও যদি কিঞ্চিত হুশ-ওয়ালা মানুষ ভারতে থেকে থাকে তাদের কাছে পৌছানোর জন্য এই লেখা।
    কথা যদি শুরু করি রাজনাথ সিং থেকে তিনি বলছেন, “ভারতের সামরিক বাহিনীর শীর্ষ স্থানীয় কমান্ডারদের বাংলাদেশে চলমান পরিস্থিতি পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।
    ‘ভারত একটি শান্তিপ্রিয় দেশ’ দাবি করে একই সঙ্গে ‘অপ্রত্যাশিত’ ঘটনার মুখোমুখি হলে শান্তি রক্ষার স্বার্থে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।”

    কারো যেন এতে সন্দেহ না থাকে তাই তিনি মিডিয়ার সামনে আরো পরিস্কার করে বলেছেন – ভারতের সংবাদমাধ্যম জানতে চাইলে রাজনাথ তার বক্তব্যের পক্ষে অনঢ় থেকেই বলেছেন, “ভারতীয় সামরিক বাহিনীর যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকা দরকার।”
    তো থাকেন! আমরা আর কী বলব? আপনার ঘোড়ার উপরে আপনি খাঁজ কেটে দিয়ে চড়তে চাইলে যদি আপনার সুখ সুখ মনে হয় তো করবেন! আমাদের এতে বলার কী আছে?

    তাতে কী দাড়ালো? রাজনাথ বাংলাদেশে আমাদেরকে সামরিক  হুমকি দিলেন।
    প্রথমত এতটুকুই বলব যা বলবেন – হা মোদি-রাজনাথ আপনারা হুমকি দিলেন। আর উত্তর আমরা এতটুকুই বলবঃ মহাশয়, মোদিসহ আপনি বুঝেশুনে কথা বলবেন যাতে পরে আপনাদেরকে আপশোষ না করতে হয় অথচ বলা কথা আবার বদলানোরও সুযোগ নাই দশায় পরে যান।

    আর এযুগেও যাদের এখনও চোখ ফুটে নাই নাবালক থেকে গেছেন তাই কলোনি আমলের (১৯৪৫ সালের আগের) মত উগ্র জাতিবাদীই হয়ে আছেন; আবার বৃটিশদের মত যদি এযুগেও কলোনি-দখলদার হতে পারতেন বলে মনে বাসনা পুষে রাখেন – এমন আপনাদের সকলেরই মূল সমস্যা হল আপনাদের দেশের সাধারণ মানুষ সহ জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত আপনারা কেউ এখনও দুনিয়া চিনেন নাই! আপসোস! এর ট্রেন্ড অভিমুখ কী, এটা কোন দিকে পরিবর্তিত হয়ে গেছে ও যাচ্ছে এর সবটাতেই আপনারা বেখবর!
    একটা কথা মনে রাখতে পারেন আপনারা, যে রাষ্ট্র একালে অপর দেশে পণ্য রপ্তানি করা শুরু করেছে সে রাষ্ট্র আর আপনাদের উদ্ভট অবাস্তব কল্পনায় কল্পিত ইকোনমিক জাতিবাদী ভারত আর নাই।  আপনাদের সমস্যা হল যে এটা যে আর নাই তা বুঝতেও পারেন না; অযোগ্য। একালে এটা যে আপনাদের কারো পছন্দ-অপছন্দ নির্বিশেষে এক গ্লোবাল ক্যাপিটালিজম আর সব রাষ্ট্র গ্লোবাল এক উতপাদন ও পণ্যবিনিময়ের জগতে তা এমন শক্তভাবে প্রবেশ করে গেছে যে এটা ইরিভারসিব্যাল [ir-reversible] মানে যে গাড়ির ব্যাক-গিয়ার নাই এমন অবস্থা হয়ে গেছে তা আপনাদের হুশ নাই। বিশেষ করে ভারতের সকল রাজনৈতিক নেতৃত্বের। অথচ ভারতের উগ্র জাতিবাদ এর খবর তো রাখেই না আর মনে করে উগ্রতা জবরদস্তি আর এযুগেও কলোনিদখলের চিন্তা প্রয়োগ তারা করতে পারবেন যেহেতু তারা খুব বুদ্ধিমান – আর এসব  দিয়েই সে কেবল অন্যের দেশে রপ্তানি চালিয়ে যেতে পারবে।  ভারতের এই চালাকির পররাষ্ট্রনীতি কেউ টের পাবে না – কারণ ভারত তো মহান! আর যেহেতু তারা শয়তান-বুদ্ধিমান তাই তারা অন্যদেশকে তাদের দেশে রপ্তানি করতে দিবে না ঠেকায় রাখবে বা রাখতে পারবে! না হলে যুদ্ধের ভয় দেখাবে। এই বোকা-স্টুপিড চিন্তারই বহিপ্রকাশ হল, আরএসএস-বিজেপির এক সংগঠন আছে নাম জাগরণ চক্র যারা এমন প্রপাগান্ডা চালায়ে থাকে।
    এনিয়ে এককথায় এটুকুই বলা যায় এধরণের স্টুপিড চিন্তার কোন ভবিষ্যত নাই; বিশেষ করে যারা গ্লোবাল দুনিয়াদারি কিভাবে আছে কাজ করছে তা আমল করতে শিখেই নাই! এসবকিছুর শুরু হল নেহেরুর এক বোকা ও নাদান চিন্তা!  যে ভারতকে তিনি বৃটিশদের মত কলোনিদখলদার রাষ্ট্র বানাবেন, পড়শি দেশের উপর কলোনি কায়দায় সম্পর্ক করতে বাধ্য করবেন ইত্যাদি। এর মানে তিনি জানেননই না যে জাতিসংঘ কী?কেমন সংগঠন-প্রতিষ্ঠান?  অথচ ১৯৪২ সালের ১ জানুয়ারিতে স্বাক্ষরিত জাতিসংঘের জন্ম ঘোষণায় লেখা আছে সারকথায় যে কলোনিদখল রাখা হারাম ও শাস্তিযোগ্য! তাতে, লেখা আছে কোন ভুখন্ড বা দেশের একমাত্র বাসিন্দারাই ঠিক করবে তারা কীভাবে শাসিত হবে; দুনিয়ার অন্য কেউ না। এমনকি তাদের নিজ ভুখন্ডের কোন পুরানা রাজাও যদি থেকে থাকেন তিনিও না!  অথচ অজ্ঞ নেহেরু সেসব নিয়ে একটু পড়াশুনা বা পড়েও দেখলেন না। বৃটিশ কলোনি দখলদারদের নকল করে পড়শিদেশের সাথে কলোনি আচরণ করবেন আর এভাবেই শুরু হয়েছিল ভারতের প্রথম পররাষ্ট্রনীতি। বলাই বাহুল্য এটা উগ্র জাতিবাদি বা হিন্দুত্ববাদি আর সেতাই একালে মোদি আরো পালিশ লাগিয়ে চকচকে করে মোদি-রাজনাথের হুঙ্কার হয়ে আমাদের সামনে আসছে! এর সারকথাটা হল, হয় আমরা আরেকবার বা আরেকটা পাপেট হাসিনাকে ক্ষমতায় বসাতে দিব; নইলে ভারত আমাদের সামরিক হুমকি দিবে!

    হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি ও ভারতে পলায়নের পরে ভারতের কেন্দ্রিয় সংসদ এক সর্বদলীয় বৈঠিক ডেকেছিল। যেন বাংলাদেশে কে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় থাকবে সেটা ভারতকে জানিয়ে ঠিক করতে হবে; স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র জাতিসংঘের সদস্য এসব কোন ধারণা যেন দুনিয়াতেনাই!  এটাই জলজ্যান্ত প্রমাণ যে ভারতের রাজনীতিবিদেরা পড়াশুনা না করা স্টুপিড আর না হয় মফস্বলিয়া গোয়াড় – যাদের গ্লোবাল পলিটিক্যাল প্রতিষ্ঠান (জাতিসংঘ) ও এর নর্মস সম্পর্ক যাদের কোন ধারণাই নাই।  এজন্যই তারা এখনও নেহেরুর কলোনিদখলের খায়েস রাখা পররাষ্ট্রনীতি এখনও চর্চা করতে চায়!

    আমাদের বর্তমান সরকারের নির্বাহী ক্ষমতার [প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা] প্রধান ইউনুস সাহেব। এপিয়ারেন্স মানে প্রাথমিকভাবে একটা মানুষের মুখ দেখে যে রিডিং তাতে তিনি খুবই নরম সরম। মারবো-ধরবো ভাষায় কথা বলেন না এমন ইমেজের। এটা সময়ে আমাদের জন্য খুব কাজে লাগবে অবশ্যই। তিনি গত ৮ আগষ্ট ২০২৪ শপথ নিবার দিনেই এক সাক্ষাতকারে খুবই নরম ভাষায় একটা কথা বলেছিলেন, [এখানে আমাদের কালের কন্ঠের অনুবাদ রিপোর্টটা পাবেন] যেটা আসলে তিনি বলেছিলেন ভারতের মোদির গোদি মিডিয়া বলে খ্যাত ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে।   কিন্তু খুবই নরম ভাষায় আর নিজ নরম ইমেজে বলেছিলেন বলে উনার ঐ বক্তব্যের শক্ত দিকটা অনেকেই বিশেষ করে ভারত উপেক্ষা করার সুযোগ নিয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, “দেশ অস্থিতিশীল হলে মিয়ানমার ও ভারতের উত্তর-পূর্বেও ছড়াবে : ড. মুহাম্মদ ইউনূস”।

    (বাংলা)দেশ অস্থিতিশীল হলে তা মিয়ানমার ও ভারতের উত্তর-পূর্বেও ছড়াবে : ড. মুহাম্মদ ইউনূস

    আসলে এটাই ছিল ছিল তার নরম ভাষায় ভারতকে বলা আগাম হুশিয়ারি। বলা যায় এটাই গত দুদিন আগে (৬ সেপ্টেম্বর) দেয়া রাজনাথ যা বলেছেন এর প্রতি আগাম হুশিয়ারি। যার সারকথাটা হল, ভারত আপনারা হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে তাকে দিয়ে নুইসেন্স-হুমকি দেওয়াবেন কিংবা আপনাদের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথকে দিয়ে সামরিক হামলার হুমকি দেওয়াবেন না। এককথায় বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইবেন তো এর সোজা পরিণতি হবে ভারতের উত্তর-পুর্ব আসামসহ সাত রাজ্যেও সেই অশান্তি ছড়িয়ে পড়বে।
    এছাড়াও গতকাল ও পড়শুদিন আরো দুটি ভারি বক্তব্য দিয়েছেন ভারতকে।
    এক. শেখ হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ না জানানো পর্যন্ত তাঁকে চুপ থাকতে হবে: ড. ইউনূস
    দুই. তিস্তার পানিবণ্টন সমস্যার সমাধান হতে হবে: পিটিআইকে প্রধান উপদেষ্টা

    প্রথমত, দুটাই ক্যাটাগরিক্যালি সুনির্দিষ্ট ও  স্পষ্ট দাবি। কোন দুরকম মানের সুযোগ এখানে নাই। শুধু তাই না। আমাদের দ্বিতীয় বিবৃতিটার ভাষার দিকে নজর দিতে হবে।
    তিনি বলছেন, দুই দেশের মধ্যে পানিবণ্টনের বিষয়টি অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী হতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো ভাটির দেশগুলোর অধিকার সমুন্নত রাখার সুনির্দিষ্ট অধিকার রয়েছে।

    “দুই দেশের মধ্যে পানিবণ্টনের বিষয়টি অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী হতে হবে উল্লেখ করে তিনি
    বলেন, বাংলাদেশের মতো ভাটির দেশগুলোর অধিকার সমুন্নত রাখার সুনির্দিষ্ট অধিকার রয়েছে।”

    এটা অবশ্যই খুবিই সঠিক ও স্ট্রং এক নতুন ভাষায় বলা বাংলাদেশের অধিকারকে মুখ্য করে বলা চোখে চোখ রেখে বলা কথা!
    আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অভিন্ন (shared) নদীতে ভাটির দেশের সম-অধিকার – এই কথাগুলোই এই প্রথম কোন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় থাকা “শাসক উচ্চারণে” ভারতকে জানিয়ে দিয়েছে। যা হয়ত ভারত কোনদিন চিন্তাও করে নাই; ফলে হজম হচ্ছে না! এমন বাংলাদেশের জন্যই আমি এতদিন কথা বলেছি। বিএনপি বিগত সরকারের সময় এভাবে বলতে না পারলেও এখন যে তা মির্জা ফকরুল বিবৃতিতে এখন এটাই উচ্চারণ করেছে, এর তাতপর্য অনেক। এটা শুধু এখন বিএনপি নয় বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক সামাজিক দলকে একযোগে ভয়েজ তুলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা এভাবে অনেক দূর যেতে পারব বলে আমি বিশ্বাস করি।
    আবার ঘটনা হল, এতে আরেক কাজ হয়ে গেছে যে, এর মাধ্যমে আমরা যে আর হাসিনাকে যেভাবে ভারত আমাদের কাঁধে বসিয়ে দিয়েছিল এখনকার আমরা যে আর তা নয় এক অন্তত একটা প্রমাণ আমরা হাজির করতে পেরেছি।

    অনেকে খেয়াল করেছেন আমি আমার ঐ লেখায় দাবি করেছি, এনিয়ে ফরমাল দুদেশের আলোচনা উঠলে যদি ভারত দাবি করে যে আন্তর্জাতিক আইন-কনভেনশনে  তারা সেটা [ratify] বা অনুসমর্থন করে নাই তাই ভারতের দায় নাই সেক্ষাত্রে আমাদের দিক থেকে জবাব হবে যে ভারত আমাদের সাথে তাদের অভিন্ন নদীতে ভাটির দেশেরও সম-অধিকার মান্য করে না তেমন ভারতের সাথে আমাদের কোন ধরণের সম্পর্ক (বাণিজ্যিক-মানবিকসহ) থাকবে না।

    সবচেয়ে বড় কথা, এই বক্তব্যের উপর দাঁড়িয়ে একদল উতসাহী যোদ্ধা-কর্মী দশ-ট্রাকের উপর মানুষ নিয়ে এই ইস্যুটাকে ক্যাম্পেইনে নিয়ে ত্রিপুরার ডুম্বুর বাধ অভিমুখে প্রতীকী প্রতিবাদে নেমে পড়েছে। এমন অনেক প্রচারে আমাদের বের হতে হবে সারা বাংলাদেশ জুড়ে যাতে এই ইস্যুতে আমাদের সবার গলায় এক স্বরে আওয়াজ উঠে।

    এই প্রসঙ্গে একটা কথা বলা দরকার। অনেকে বলেছেন, এই ট্রাক মিছিল যারা আয়োজক তারা ইসলামিস্ট বা কেউ কেউ বলছেন তারা আমেরিকান সালাফিস্ট ইসলামি।
    আমি তাদের সকলকে উদ্দেশ্য করে একটা কথা সবাইকে বলব।

    কথাটা হল, আপনারা কমবেশি সকলেই হাজী শরীয়তুল্লাহ এর নাম শুনেছেন। বৃটিশ আমলে ১৭৯৩ সালে বাংলায় জমিদারি বন্দোবস্ত আইন চালু হয়েছিল। এর ছয় বছরের মধ্যে ১৭৯৯ সালে হাজি শরীয়তুল্লাহ হ্বজে গিয়েছিলেন। সেকালের হ্বজ; যাতাযাত খুব কঠিন।  যে কারণেই হোক তিনি দেশে ফিরেন দির্ঘ ১৮ বছর পরে। আমি যতটুকু পড়েছি বুঝেছি তিনিওই প্রথম বাঙালি মুসলমানকে ধর্মপালনের বিস্তারিত শিখিয়েছিলেন, সাদা পগড়ি বেধে চিল্লায় বের হবার মত তার দল বের হত।
    সবচেয়ে মজার কথাটা হল, তিনি সৌদি থেকে ফিরেছিলেন অনেকেই দাবি করেন তিনি সৌদি সালাফি হয়ে ফিরেছিলেন।  ইতিহাস বলে, সৌদি সালাফিজম আগেও থাকলেও অটোমান অধীনে থাকার কারণে এই ফেকড়া বা ধারা তত প্রকাশ্য ছিল না তবে ভাল্ভাবেই ছিল। যেটা ১৯১৮ সালের দিকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষে অটোমান সাম্রাজ্যের দুঃখজনক হারের পরে সৌদি সালাফিজম তুলনায় অনেক হাত-পা ছেড়ে চর্চা শুরু করতে পেরেছিল। তবে আমি দাবি করার কেউ নই যে হাজি শরীয়তুল্লাহ সৌদি সালাফিস্ট ছিলেন অথবা কতটা ছিলেন। বরং আমি প্রকাশ্যেই বলব এটা সত্যি বা পুরাটাই মিথ্যা আমার চোখে হাজি শরীয়তুল্লাহ-র কর্ম ও জীবন এবং এর মহিমা এবং বাঙালি মুসলমানসহ (হিন্দু প্রজাদের জীবনেও) এর সুদুর প্রসারী অবদান আমরা ধর্ম-নির্বিশেষে পুর্ববঙ্গের যারা এমন সকলের সম্মানযোগ্য ও মাথায় তুলে রাখার মত ঘটনা। কারণ তিনিই আমাদের ইতিহাসের প্রধান নায়ক, প্রথম বীর যিনি জমিদারি মালিকানা ও জমিদার-হিন্দুর অন্যায় অত্যাচার, বারোমাসে তের পার্বনের অবৈধ চাঁদা দাবি এবং তা মুসলমানদের উপরে  পথবা আজ জমিদারের অমুখের মুখে ভাত তো তমুকের বিয়ে তার অবৈধ চাদা দাবি এসব কিছুর বিরুদ্ধে জমিদারি শাসনের বিরুদ্ধে প্রজা-মুসলমানকে প্রথম সংগঠিত করেছিলেন তিনি।

    এখন আপনাদের মনে প্রশ্ন হতে পারে যে আমি কেন আমাদের জনগোষ্ঠির প্রথম বীর হাজী শরীয়তুল্লাহ এর প্রসঙ্গ এখানে তুললাম কেন?
    সোজাসাপ্টা বললে, আই সত্যিই ডোন্ট কেয়ার তিনি সৌদি সালাফিজমে আপ্লুত হয়ে পুর্ববঙ্গে ফিরেছিলেন কিনা। কারণ আমি তার আইডিয়া বা ধর্মীয় মতাদর্শ কী এটা দিয়ে তাকে বিচারের চেয়ে তার কর্ম দিয়ে বিচারের পক্ষপাতি।
    আইডোলজি হিসাবে আমি ইসলামের কোন এক ফেকড়া বা কমিনিজম দিয়ে আসতেই পারেন। কিন্তু যখন আপনি আর আইডিয়া বা আইডিয়াল না বাস্তবের মানুষ; বাস্তবের মানুষের সাথে বাস্তব সমস্যা নিয়ে কাজ করবেন তখন আইডিয়ার চেয়ে এর উপরে বাস্তব কাজ ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিতে হবে।
    এতে হয়ত আইডিয়ার থেকে (আইডিয়া তো আইডিয়াই যা বাস্তব না; কিন্তু মানুষ, মানুষের হাহাকার আর জুলুমবাজের হাতে অত্যাচারিত মজলুম ইত্যাদি এগুলোই একমাত্র বাস্তব) আপনই একটু দুরে চলে যেতেও পারেন কিন্তু মানুষের “জালিম মুক্তি” এই লক্ষ্যই আপনার গাইডিং ফোর্স হয়ে থাকতেই হবে। তাই এদিক দিয়েই আমার চোখে হাজী শরীয়তুল্লাহ (এবং তার ছেলে) আমার চোখে “দ্যা হিরো” বাংলার প্রথম হিরো!  কাজেই ঠিক আইডিওলজি না, আম মানুষের জন্য তাদের “জালিম মুক্তি” এই লক্ষ্যই আপনি বা আশেপাশে যারা আছেন তাদের গাইডিং ফোর্স কিনা এটাই তাদেরকেও বিচার্চের মাপকাঠি। এখানে আদর্শকে একটু দূরে রাখেন। আইডিয়াল মানুষ না বাস্তবের রক্ত-মাংসের মানুষ থাকেন, তাহলেই ঐক্যের পথ বের হবে।
    আর ঐক্য মানে জনগণের ঐক্য, নানান রাজনীতির মত ও পথের নুন্যতম ঐক্য এটা খুবই জরুরী। এই ঐক্যটা হলে পারে যেসব ভিত্তিতে যেমন এক. জনগণই সব ক্ষমতার উতস কোন রাজা বাদশা, কোন শেখ মুজিব বা কোন সম্রাট বা খলিফা নয়; দুই. ধর্ম, বা কোন এথনিক জাত বৈশিষ্ঠ পরিচয় নির্বিশেষে দেশের বাসিন্দা সকলেই বৈষন্যহীন ভাবে সমান অধিকারের নাগরিক এই ভিত্তিতে গঠিত রাষ্ট্র যাকে রিপাবলিক রাষ্ট্র বলে তা হতে পারে আমাদের ঐক্যের ভিত্তি।   

    আবার একটু প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথের আমাদেরকে সামরিক হুঙ্কারের কথায় ফিরিঃ
    প্রথম কথা দুনিয়া এখন গ্লোবাল স্বার্থ বা গ্লোবাল এলায়েন্সের যুগে প্রবেশ করেছে। যার সোজা মানে বাংলাদেশ ভারতের তুলনায় সামরিকভাবে কত ক্ষুদ্র এটা একালে অত বিবেচ্য  আর নয়। এজন্যই আমি সের এর উপরে সোয়া সেরের গল্প বলি। ইন্ডিয়া যদি এলায়েন্স করে শক্তি দেখায় আমাদেরকেই পালটা এলায়েন্সে যেতেই হবে। মানে, আমাদেরকে ভারত হুমকি দিয়ে যদি কোন বিদেশি শক্তির সাথে এলায়েন্স গড়ার দিকে ঠেলে দেয় এর দায় হবে ভারতের; কারণ আমরা এখন শান্ত-শিষ্ট, ডায়লগে বিবাদ শেষ করতে চাওয়া দেশ।  এজন্যই বলেছি মোদিকে হুশ করে পা ফেলতে হবে, নইলে নিজ মরণ ডেকে আনা হবে। আবার আমাদের পররাষ্ট্রনীতি না কেবল আমেরিকাপন্থি না কেবল চীনপন্থি – এরকম কোনটাই হবে না, করব না আমরা। এখন ভারত যদি আমাদের অন্যথা হতে বাধ্য করে এর দায় ভারতকেই নিতে হবে। আমরা তো আমাদের স্বার্থ আদায় করতে সর্বচ্চ প্রচেষ্টা নিবই! ভারতের সকল রাজনৈতিক দলকে বুঝতে হবে যে একটা পাপেট শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিয়ে এরপর করিডোর, পোর্ট, বাণিজ্যের বাজার, অকেজো করে রাখা সেনাবাহিনী, বর্ডার কিলিং এসব কিছুতে ভারতের রামরাজত্ব চলবে সেই দিন ফুরিয়েছে। এমনকি এখন থেকে আমেরিকাও যদি ২০০৭ সালে ভারতের হাতে বাংলাদেশকে তুলে দিয়ে আবার নীতি নেই তো সেটাও আমরা প্রতিরোধ করব। এটা আর ২০০৭ সাল না!

    এই প্রসণ্নগে একটা কথা ভারত বা রাজনাথ বা মোদিকে মনে করিয়ে দিয়ে রাখি। একদিকে ভারতের নর্থ-ইস্ট ভারতের জন্য দুস্থ ও দুর্বলতার অঞ্চল। এরচেয়ে বড় কথা এর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ দখল পেতে চীন ও আমেরিকা উভয়েই আগ্রহী!
    কিন্তু কোন চীন ও আমেরিকা? এখালে আমি বলি এটা পালাবদলের যুগ। মানে গ্লোবাল অর্থনৈতিক নেতৃত্বে পালাবদলের যুগ এটা আমেরিকা দুর্বল বা ক্রমশ অপসারণ হচ্ছে আর ক্রমশ চীন সেজায়গাটা নিয়তে চাইছে। এই সেই চীন-আমেরিকা। তাই সারকথাটা বললে, ভারতের নর্থ-ইস্টের জন্য বা চীন না আমেরিকা কোন রাষ্ট্রই ভারতের বন্ধু এলায়েন্স বা পক্ষের লোক হওয়ার সুযোগ নাই। এটাই বাস্তবতা। কাজেই বাংলাদেশে অশান্তি করলে আমরা চীন বা আমেরিকা যেদিকেই একটু কান্নি মারি না কেন নাভিশ্বা উঠবে কিন্তু ভারতের। কাজেই নিরপেক্ষ বাংলাদেশকে তার নিজের মত থাকতে দেওয়াই ভারতের জন্য সবচেয়ে ভাল স্বার্থ!  হাসিনা যুগ আর ফিরিবে না! বাংলাদেশের মানুষ রক্তবিন্দু থাকতে এটা হতে দিবে না।

    এই প্রসঙ্গে কলকাতার মুখ্যমন্ত্রীর কথাও রাজনাথ-মোদি মনে রাখতে পারেন, তিনি বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গ অস্থির করলে   অন্য রাজ্যো সুস্থিত থাকবে না। এতে প্রবল ও ভয় মিশালো তবে কড়া সাড়া দিয়েছেন বিজেপির আসারের মুখ্যমন্ত্রী। আমি বিশ্বাস করি মমতার হুমকি জেনুইন! যতটুকু ইনটেলিজেন্স আমার একসেস নাগালে এসেছে তা থেকে! পশ্চিমবঙ্গে ২৯% মুসলমান ভোটার মমতার পক্ষে ভোট দিয়েছে। কাজেই আবার সেই কথা – মোদিকে হুশ করে পা ফেলতে হবে, নইলে নিজ মরণ ডেকে আনা হবে। ঢিল মারলেই পাটকেল খেতে হবে। কোন মাফ নাই!
    সবশেষে একটা নিউজ দেখেন,

    মণিপুরে ড্রোনের পর এবার রকেট হামলা, সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে একজন নিহত, সংবাদদাতা কলকাতা প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১৩: ৩১

    এসব আমাদের এই অঞ্চলের কারও জন্যই শুভ ইঙ্গিত না। আবার বিপরীতে একথাও সত্য যে ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদ নর্থ-ইস্টের সাথ ছোট ও ট্রাইবাল রাজ্যে কোন শাস্ত আনতে পারবেই না। কারণ, হিন্দুত্ববাদে এর সমাধান নাই। সেটা কংগ্রেসের সফট হিন্দুত্ববাদেও নাই। ভারতের নাম করা দশ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাদেমিকদের নিয়ে কোন কমিটি গড়লেও তারা সমাধান বলতে পারবে না। কারণ, দুনিয়া কোথায় চলে গেছে আর ওরা এখনও সাম্প্রদায়িকতা মৌলবাদ বলে হিন্দুত্ববাদী গালির চর্চা করছে আর নিজেদেরকে অচল একটা আইডিয়া কমিউনিস্ট-প্রগতিবাদে আটকে রেখেছে! ফলে ভারতকে ফাংশনাল রাখার মত আইডিয়া নীতি চিন্তার যে ঘাটতি ও ইসমালবিদ্বেষ এর ছড়াছড়ি এত মুল্য এখন সারা ভারতকে চুকাতে হবে। তাই আমাদের ইউনুস সাহেব ঠিকই বলেছে আওয়ামী বাদে সবাইকে ইসলামিস্ট বলে সবখানে ট্যাগ লাগানো বন্ধ করেন। এগুলা ছাড়ান দেন। আখিরাতে ফল পাবেন! কাজেই রাজনাথ সিং সাব ভয় দেখাবেন না!  চোখ রাঙায়েন না – নিজের দিকে তাকান; দেখেন কার উপরে বসে আছেন!!

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  রাত ১১ঃ০৯  ০৭ আগষ্ট ২০২৪
    শেষ আপডেটঃ    সকাল ০৯ঃ২৫   ০৮ আগষ্ট ২০২৪

  • আবার দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

    আবার দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য
    গৌতম দাস
    ৩১ আগষ্ট ২০২৪
    https://wp.me/p1sCvy-5Jg

     

     

    যে একবার ভারতের দালাল সে সব সময় এমনকি সব দুনিয়াতেই দালালি-ই করার সুযোগ খুঁজবে!
    আমি বারবার বলেছি আর  এটা এখন আমার ধারণা যে নতুন সরকারও এটা বুঝে গেছে যে খেলাপি ঋণ চোর খাতকদের গলায় গামছা পেচিয়ে আদায় করা ভিন্ন পথ নেই। কারণ টাকা ছাপিয়ে হাসিনার মত চোরের সমাধানের পথে যাওয়াটা হবে আত্মহত্যা। এটাই দুর্ভিক্ষ ডেকে আনার পথ হবে। মুদ্রাস্ফিতির চাপে গরীব তো বটেই মধ্যবিত্তও সব খাবার কিন্নতে না পেরে মারা যাবে।

    কাজেই বর্তমান ইউনুস সরকারও ব্যাপারটা অনুভব করেছে যে দেশে-বিদেশে থেকে চোর আর ঋণ খাতকদের থেকে অর্থ আদায় এটা এনফোর্স করা ছাড়া বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ভিন্ন পথ নাই। আমাদেরকে ডেসপারেট হলেও হতে হবে; উপায় নাই।

    সেসব সুত্রে গত ২২ আগষ্ট লিখেছিলাম,

    রেহমান সোবহান- দেবপ্রিয়দের সিপিডি (CPD) একটা ভারতীয় স্বার্থের প্রতিষ্ঠান
    অথচ, ইউনুস তাদেরকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থার ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশ এর দায়িত্ব দিয়েছে।
    রেহমান সোবহান- দেবপ্রিয়দের সিপিডি এর এখন উচিত হবে ২০০৪ সাল থেকে বিগত ২০ বছর যত ভারতীয় দালালি এরা নিজেরা করে গেছে এরই শ্বেতপত্র প্রকাশ করা।আমার বক্তব্য আমল পায় নাই। প্রথম আলোর বক্তব্য – অর্থনৈতিক অবস্থার ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশ করা হবে, কমিটির নেতৃত্বে দেবপ্রিয় – এটাই বাস্তবায়িত হয়েছিল। দেবপ্রিয় এর নেতৃত্বে ১২ জনের এক কমিটিও গঠিত হয়েছে।এই গরীবের কথা বাসি হওয়ার পরে ফলেছে।  এনিয়ে আমার আগের লেখার লিঙ্ক এখানেপাবেন। আমি সেখানে প্রমাণ দিয়েছিলাম ২০১১ সাল একচুয়ালি ২০০৭ সাল থেকেই বাংলাদেশ যেন ভারতকে করিডোর দেয় এই দিবার পক্ষে কাছা খুলে দালালি শুরু করেছিল রেহমান সোবহান ও দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ও তাদের  (র-এর অর্থ ছাড়া) অচল সিপিডি [CPD] প্রতিষ্ঠান।
    আর সেই সিপিডির দেবপ্রিয় কেই ইউনুস সাহেব স্বেতপত্র প্রকাশ কমিটির প্রধান করেছেন। এনিয়ে ব্যক্তিগতভাবে কিছু ক্ষমতাবান লোকের সাথে আমাকে সংঘাতে পর্যন্ত যেতে হয়েছে; সম্পর্ক ভেঙ্গে দিতে হয়েছে। তাদের বক্তব্য আমি নাকি ওভার রিয়াক্ট করছি। কিন্তু এখন কী হল?২৯ আগষ্ট দেবপ্রিয় চেহারা দেখিয়েছেনঃ
    গত ২৯ আগষ্ট ছিল দেবপ্রিয়সহ ও ১২জনের কমিটির প্রথম মিডিয়ার সামনে হাজির হবার দিন।
    দেবপ্রিয় কোন রাখডাক আর করেন নাই। সারকথাটা বলেছেন যে, হাসিনা ও তার পরিবার এবং মন্ত্রী-উপদেষ্ঠাসহ পুরাগুষ্ঠি যা কিছু  অর্থ বিদেশে নিয়ে গিয়েছে তা আর ফেরত আনা সম্ভব নয়।অনেকের মনে হতে পারে দেবপ্রিয় ঠিক কী বলেছিল তা জানা দরকার। হা আমারও তাই ইচ্ছা। তাই এখানে NTV এর প্রচারিত ঐদিনের মিডিয়া রিপোর্টের ক্লিপ পাঠক নিজে মনোযোগ দিয়ে পড়ে নেন।

    ভিডিওও টা সবাই নিজে দেখে নেন। এরপরেও ওর ট্রান্সক্রিপ্ট আমি যা বের করেছি তাও এখানে দিয়ে দিচ্ছিঃ

    দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা খুবই জটিল প্রক্রিয়া। মানে বলতে চাইলেন এই অর্থ প্রায় ফেরত আনা যাবে না।
    এনিয়ে NTV এর ভিডিও ক্লিপ সাথে দিয়েছি সবাই নিজে খুলে শুনে নেন।
    এইটা একটা অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া। এই টাকা থেকে যে ঐ বাড়িটা কেনা হয়েছিল ঐ দেশে ওই সময়ে এইটাকে লাগানো ফিট করা এত্তো সহজ নয়। এইটা আনার ক্ষেত্রে যে আইনানুগ চুক্তি থাকে সব দেশের সাথে আমাদের সেই চুক্তিগুলো যথোপযুক্তভাবে নেই। তৃতীয়ত ঐ চুক্তিগুলো কার্যকরভাবে ব্যবহার করার জন্য আইনজীবী থেকে শুরু করে আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞ ইত্যাদি সেই দক্ষতাটুকুও আমাদের নাই।

    এরপরেও অনেকের মনে হতে পারে এত খোলাখুলি তিনি কেমনে বলেন।
    তাই তাদের জন্য, দেবপ্রিয়ের শেষ কথাগুলোঃ
    “তিনি বলেছেন সরকারের লক্ষ্য হওয়া উচিত ভবিষ্যতে যেন অর্থপাচার আর না হয় এবং পাচারকারীদের যেন সর্বোচ্চ শাস্তি হয়”।

    অর্থাৎ এবার এই কমিটি অর্থ ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে তারা কিছুই করতে পারবেন না।  আগামিবার মানে পরের কোন হবু চোর সরকার একই কাজ করলে যাতে সে অর্থ ফেরত আনা যায় সেই ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে চান দেবপ্রিয়!

    দেবপ্রিয়ের এটা খুবই এক স্টুপিড বক্তব্যঃ
    হ্যা, এটা আসলেই দেবপ্রিয়ের এটা খুবই এক স্টুপিড বক্তব্য। কারণ, তিনি নিজেই এই কমিটি গঠনের ন্যায্যতা কী সেই প্রশ্ন নিজেই তুলে ফেলেছেন!
    প্রথমতঃ কোন সরকারের কোন সরকারী কমিটি গঠন (তদন্ত বা স্বেতপত্র প্রকাশের লক্ষ্যে) কোন ফাজলামির বিষয় না। এতে ম্যান্ডেট বা উদ্দেশ্য লেখা থাকতেই হবে, হয়।  কাজেই কমিটি গঠন হয়ে যাবার পরে কমিটিরনেতা কমিটির উদ্দেশ্য-ম্যান্ডেট বা কাজের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন করছেন কেন?
    অথচ দেবপ্রিয়ের বক্তব্য ইউনুসের উদ্দেশ্যকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
    কারণ, দেবপ্রিয়কে প্রধান করে ইউনুসের গঠন করে দেয়া এই কমিটি অর্থ ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে তারা কোন কিছুই যদি নাই করতে পারে তবে ইউনুস সরকারের এই কমিটি গড়ার দরকার কী?
    সেক্ষেত্রে এই যে ১২ জনের কমিটি এদের পিছনে যদি সরকারী একটা পয়সাও খরচ করা হয় সেটাই তো অপচয় হবে, নাকি?তাহলে যে প্রশ্নের সম্মুখীন ইতোমধ্যেই ইউনুস সরকার হয়ে গেছেন বা দেবপ্তারিয় সাহেব করে দিলেন তা হলঃ
    ইউনুস সাহেব কেন এই কমিটি গড়তে গেলেন যারা যোগ্য বা কম্পিটেন্ট না? যারা বলছে এটা কঠিন প্রায় অসম্ভব কাজ! মানে তাঁরা কিছু করতে পারবেন না। তাহলে তারা এখানে কেন?
    এছাড়া এবিষয়টা মানে দেবপ্রিয়ের বক্তব্য কী কমিটির সবার বক্তব্য?   না কেবল দেবপ্রিয় সাহেবের? তা জানা জনগণের দরকার আছে।
    আর এটা তো এখন সন্দেহজনক যে কমিটির উদ্দেশ্য কমিটির সদস্যরাই পরিস্কার জানেন কি না! তাহলে এটা কোন দায়সারা কমিটি?এজন্যই  দেবপ্রিয়ের নেতৃত্বে যারা হাসিনা সরকার ও ভারতের দাবিদারি করে গেছে শুরু থেকেই তাদেরকে দিয়ে কোন কমিটি গড়াকে প্রশ্ন করেছিলাম!
    অথচ পুরা বাংলাদেশের জনগণের দিক থেকে অর্থ পাচার ও খেলাপি ঋণ চোর দেরকে গলায় গামছা দিয়ে আদায় আমাদের জন্য মরা-বাঁচার ইস্যু!
    যেদিকটা দেবপ্রিয়ের বক্তব্যে কোথাও প্রতিফলিত হয় নাই!আর কত? আমরা কী আবার দেবপ্রিয়দের হাতে বারবার পরাজিত হব, ট্রাপড হতেই থাকব?

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ     আগষ্ট ২০২৪
    শেষ আপডেটঃ  আগষ্ট ২০২৪

  • একজন শেখ রোকন: লেখক ও গবেষক; সহযোগী সম্পাদক, সমকাল

    একজন শেখ রোকন: লেখক ও গবেষক; সহযোগী সম্পাদক, সমকাল
    গৌতম দাস
    ২৬ আগষ্ট ২০২৪
    https://wp.me/p1sCvy-5HS

     

    শেখ রোকন, সমকাল


    সরি সরাসরি নাম ধরেই বলতে হল।  তিনি কবে সমকালে ঢুকে গেছেন আমি খেয়াল করি নাই।  কিন্তু এখন মানে হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির আশপাশের কালে সর্বক্ষণ তিনি; ওদিকে চোখ ফেলতে না চাইলেও চোখে পড়ে যাচ্ছেন। কারণ, তিনি যে কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলতা এখন তলানিতে ঠেকেছে সেখানেই মুক্তি খুঁজছেন। তাদের এখনও ত্রাতা ভাবছেন!
    তিনি হয়ত কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলতায় গভীর আস্থা রাখেন। তা রাখেন তাতে নতুন অসুবিধা নাই। সেটা ব্যক্তিগত পছন্দ! কিন্তু সাথে সময়কাল সংক্রান্ত জ্ঞান না থাকলে তা আত্মঘাতি। এই সময়কালটা হল, হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির আশপাশের কাল। হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি উত্তরকালে কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলরা এবার আর নিজেদের নয়া পরিচয়ের কোন নৌকা ভাসাতে ব্যর্থ হয়েছে অথচ এটাও আপনি খেয়াল করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাই তবু সেই তাদেরকেই [কমিউনিস্ট-প্রগতিশীল] যারা নিজেরাই নিজেদের অতলে হারিয়ে ফেলেছেন সেখানেই আপনি এখনও মনিমুক্তা খুঁজছেন!   ঠিক যেমন ২০০৯ সালে হাসিনা উত্থানের যুগের শুরুতে এই গোষ্ঠি তারা কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলতায় হাসিনার গুম-খুনের রাষ্ট্র বানানোটাকে মুক্তিযোদ্ধা শ্রেণীর  চেতনা পক্ষে কাজ গণ্য করে এর পক্ষেই মানে হাসিনার ক্ষমতার পক্ষেই সাফাই যোগাড় কর্তা হয়ে হাজির হয়েছিলেন; শাহবাগে জড়ো হয়েছিলেন! ঠিক সেভাবেই আবার হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির কালেও আবার নৌকা বদলাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মানুষ এদেরকে ২০১৩ সালে তাদের শাহবাগী প্রকল্পের কালেই তাদের চেহারা দেখে ফেলেছিল। তাই হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির কালেও তারা এবার আর কোন নৌকাতেই উঠতে পারেন নাই।
    অথচ আপনি নিয়মিত এদেরকে নয়া (যদিও তা সেই পঁচা) উপস্থাপনাই হাজির করার জায়গা করে দিয়ে চলেছেন! কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলতায় আপনার ভক্তি যাচ্ছেই না; অথচ এই অতিভক্তির খেসারত শুধু আপনি না দেশের মানুষ তো বটেই সাথে আপনার পত্রিকার স্টাফ ও মালিক সকলকেই বইতে হবে। কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলতা গত শতকেই (মানে ২০০০ সালের আগেই) মৃত হয়ে গেছে। তবে এটা মোটা দাগে বলা কথা! একচুয়ালি এটা আনুষ্ঠানিকভাবে মরে গেছে ১৯৯১ ডিসেম্বরে; প্রতীকীভাবে বললে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাবার পরে।
    একথাটা বাংলাদেশিদের বুঝবার জন্য সহজ করে বলি।

    মনিসিংহ-খোকা রায় এসব জমিদার-সন্তানদের হাত ধরে ১৯৪৮ সালে শুরু হওয়া পুর্ব-পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টির (যেটা এখন মূলত সিপিবি নামে) কথা কমবেশী সকলেই জানেন। যেটা একালে মানে ১৯৯১ সালের পরে ভেঙ্গে যাওয়া একাংশ মুজাহিদুল সেলিম বা প্রিন্সদের অংশকে কেবল আপনারা দেখতে পান। অপর অংশ মানে যারা অন্তত এখনও পার্টির সম্পত্তিতে তৈরি হওয়া বহুতল ভবনের অপর অংশের মালিক; এরা এখন কোথায়? এর উত্তরে এটুকু বলা যায় এই অংশ আর সেলিম- মঞ্জুরুলদের মত আরেক সিপিবি’র  কোন ‘কমিউনিস্ট পার্টি’ খুলে নাই। কেন?
    পঙ্কজ ভট্টাচার্য, অজয় রায়েরা কোথায় হারিয়ে গেলেন? আগে যে রীতি চালু ছিল যে বাংলাদেশে হিন্দুরা জন্মানো মাত্রই পরিবারসহ নিজেকে ‘কমিউনিস্ট’ গণ্য করত; এই রীতিতে ছেদ পরেছিল তাতে! কিন্তু কেন?
    এখানেই উত্তর পাবেন কেন জমিদার-সন্তানদের হাত ধরে ১৯৪৮ সাল থেকে নতুন করে “পুর্ব-পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি” শুরু হয়েছিল। মূল ঘটনা হল, পাকিস্তানের জন্ম মানেই কার্যত জমিদার উচ্ছেদ হয়ে যাওয়া – জমিদার-হিন্দু আধিপত্য ও  দুশ বছরের জমিদারি রুস্তমি খতম তাদের শাসন উচ্ছেদ – এটাই ঘটেছিল। এরই লিগাল বা আনুষ্ঠানিক উচ্ছেদ হল পুর্ব-পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে ১৯৫০ সালের জমিদার উচ্ছেদ আইন আনা। যেটা ১৯৫১ সালের আগষ্ঠে অনুমোদিত বা আইনে পরিণত হয়েছিল। আর এতে ক্ষুব্ধ জমিদার-হিন্দুরা এটাকে দেখেছিল এতদিন যাদেরকে তাঁরা পায়ের নিচে দলে  রেখেছিল সেই মুসলমানদের মাথা তুলে দাঁড়ানো। অন্যভাষায়, সেই থেকে – ইসলামই তাদের এনিমি বা স্থায়ী শত্রু। আর একারণে ইসলাম কোপানো (ধর্ম কোপানোর সুবিধা একমাত্র কমিউনিস্ট হলেই পাওয়া যেতে পারে বিবেচনা থেকেই) এই সুবিধা পাবার লোভ থেকেই জমিদার সন্তানেরা কমুউনিস্ট হয়ে গেছিল। না হলে মানে এরা নুন্যতম সাচ্চা কমিউনিস্ট হলে তো সবার আগে জমিদারী উচ্ছেদের পক্ষে তাদের কমিউনিস্ট পার্টির (চীনপন্থি অংশসহ সকলের) অন্তত একটা রেজুলেশন থাকত! তা নাই কেন? সিপিবি’র জবাব দেয়া উচিত!

    ভুমি মালিকানা ব্যবস্থা নিয়ে খোদ কার্ল মার্কসের মৌলিক অবস্থান কী? তা কী এসব হিন্দু-কমিউনিস্ট এরা কখনও পড়ে দেখেছেন? কোন প্রমাণ নাই তাই মনে হয় না। অথচ মার্কস মনে করেন, জমিতে যেকোন (মানে জমিদারিসহ) মালিকানা ব্যবস্থা থাকা মানে ক্যাপিটালিজম বিকাশের পথ রুদ্ধ করা; মানে মার্কসের মূলকথা তাদের ভাষায় “পুরানা ফিউডাল সম্পর্ক”  বা সামন্তবাদ থেকে যাবে; যেমন, জমিদারতন্ত্র বিলুপ্ত হবে না এতে।
    অথচ এই জমিদার নন্দন কমিউনিস্টেরা  আমাদের ইলা মিত্রের (কমিউনিস্ট হবার পরেও) তেভাগার গল্প শুনায় যার স্বামী (পুরানা) রাজশাহীর এক জমিদার ছিলেন। আসলে, কে জমিদার ছিলেন না?
    প্রমথ চৌধুরী, কিশোরগঞ্জের জমিদার নীরোদচন্দ্র চৌধুরী (আত্মঘাতি বাঙালির লেখক)?

    আবার এদের কান্ড দেখেন,  জমিদার-হিঁন্দুর ১৯০৫ সালের “বঙ্গভঙ্গ বিরোধী” আন্দোলন নাকি পুর্ববঙ্গের স্বার্থে! অথচ প্রকৃত ঘটনা এর উলটা। সুর্য সেন ছিলেন, জমিদার-হিঁদুর স্বার্থের লেঠেল বা লাঠিয়াল! প্রীতিলতা বা কল্পনারাও তাই! অথচ তাদের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল!!!  এর বিরুদ্ধেই পরের বছর ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগের জন্ম হয়েছিল। সত্যি কথাটা হল,  পুর্ববঙ্গে জমিদার উচ্ছেদ এর কাজ শুরুর ক্ষেত্রে এক নম্বর প্রথম বীর হলেন হাজী শরীয়তুল্লাহ! এনিয়ে আমার লেখা পড়ে নিতে পারেন! অরিজিনালি লেখাটা প্রথম ছাপা হয়েছিল ২০১১ সালে।

    হাজী শরীয়তুল্লাহ ও গণ-প্রতিরোধ
    গৌতম দাস
    আগস্ট ১২, ২০১৬
    http://wp.me/p1sCvy-1EO

     

    তাই এককথায়, ইসলাম কোপাতেই আর পুরানা জমিদার-হিন্দুর হারানো আধিপত্য যতটা পারা যায় ফিরিয়ে আনা ঘটাতেই ১৯৪৮ সাল থেকে আমাদের এদিকে  “পুর্ব-পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টির” গঠন হয়েছিল। আর তা থেকেই ১৯৪৯ সালে আওয়ামী লীগের জন্ম!

    আর সেকারণেই ১৯৯১ সালে সোভিয়েত পতনের পরে তারা একেবারেই হতাশ হয়ে পরেছিল যে কমিউনিজমের আড়ালে ইসলাম কোপানো ব্যাপারটা আর কাজ করবে না,  এটাই ভেবেছিল।

    যদিও মোট মাত্র ৯ বছরের মধ্যে তারা নতুন রাস্তা খুঁজে নিয়েছিল। ২০০১ সালে প্রায় সকল কমিউনিস্টেরাই আমেরিকান প্রেসিডেন্ট বুশের কোলে উঠে গিয়েছিল – সে তখন থেকেই এক নতুন বাপ তাদের! যে আর “মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ” নয় তখন থেকে!  কারণ সে আবার ইসলাম কোপানোর ফয়দা- এই লভ্যাংশ বা ডিভিডেন্ট দিবে পুরান কমিউনিস্টদেরকে। এই হল, পুরান কমিউনিস্টদের কাছে নাইন-ইলেভেন – টুইন টাওয়ার হামলা – ওয়ার অন টেরর এর মূল তাতপর্য ।  যা এক নয়া রাস্তা হয়ে এসেছিল জমিদার-হিন্দুর হারানো আধিপত্য ফেরত পারার আশা হিসাবে!

    আর এসব কমিউনিস্ট-প্রগতিশীল  এদের ততপরতায় বাংলাদেশের নীট ক্ষতিটা হল, বাংলাদেশের জনমত – ইসলামিজম আর প্রগতিশীল বলে শার্প আর বিপদজনকভাবে দুভাগে বিভক্ত হয়ে গেছিল। সমাজে মতভেদ থাকা একজিনিষ আর ইসলাম কোপানো বা নির্মুলের চিন্তা আরেকটা! আর এর ফাঁক দিয়েই হিন্দুত্ববাদ ও র-এর ততপরতা বাংলাদেশে জেঁকে বসেছিল।
    অথচ হাসিনা উতখাত বা মন্দির রক্ষা আর এখনও জীবন্ত বন্যা মোকাবোলা প্রশ্নে এই প্রথম ২০০১ সাল থেকে চলে আসা নয়া শতকে এখন ২০২৪ সালে এসে, এই প্রথম আমরা একতাবদ্ধ এক জনগোষ্ঠি!

    একারণের বলেছি ২০০০ সালের পরের নয়া শতক থেকে পুরান  কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলতা মৃত হয়ে আছে!  আর তখন থেকে যেকোন পুরান (বেশির ভাগ) কমিউনিস্ট-প্রগতিশীল এর মুখ দিয়ে বেরোনো প্রথম শব্দ হল (যেমন ইনুকে স্মরণ করতে পারেন) জঙ্গীবাদ; মানে আর মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ না।  এসবের হাত ধরেই গত ষোল বছরের হাসিনার ফ্যাসিজম এর পক্ষে সাফাইদাতা হল কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলতা। শাহবাগ কী ছিল? কারা তাত্বিক সমর্থন দিয়েছে সাফাই দিয়ে পত্রিকা বের করেছিল? এরা আর এটাই জমিদার-হিন্দুর কমিউনিজম-প্রগতিশীলতার আড়ালে জমিদারি চিন্তা আধিপত্য রাজনীতি ফিরিয়ে আনার ততপরতা! যে জমিদারি চিন্তা আধিপত্য রাজনীতি এর পিঠে পা দিয়েই ইন্ডিয়া বা র-এর ততপরতা বাংলাদেশে ছেয়ে গেছিল!

    অথচ গত শতকের পুরান কমিউনিজম এর কোন পুণর্মুল্যায়ন মানে আবার একে ভেবে দেখা, ঢেলে সাজানো (খোদ মার্কসের ভাষায় যেটা পর্যালোচনা -Critique) এটা ছাড়া এই মুরোদ ছাড়া কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলতা এরা সকলেই কঠিনতম রাজনৈতিক অপরাধী! যেহেতু নয়া শতকে এসে পুরান কমিউনিজম একেবারেই মৃত!

    আপনি শেখ রোকন এসব দিকে বেখবর! সেকারণে আপনি এসব পঁচা কমিউনিস্ট-প্রগতিশীল নতুন করে কথা বলতে দিবার দাওয়াত দাতা – জায়গা করে দিতে এগিয়ে এসেছেন। আমি “গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি” এর কথা বলছি বুঝতে পারছেন আশা করি।
    গত ৫ আগষ্ট  আপনি এদের প্রধান নেতা সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর একটা সাক্ষাতকার ছাপিয়েছিলেন। শিরোনাম ছিল “উভয় পক্ষকে সাময়িক হলেও সমঝোতায় আসতেই হবে”। অথচ আপনাদের উভয়ের কপাল খারাপ । পরের দিনই হাসিনা পদত্যাগ করে গোপনে ভারতে পালিয়ে যায়। মানে হল না আপনার মিডিয়ার কেউ না, এমনকি  সাক্ষাতকারদাতা চিন্তাও করতে পারেন নাই যে বাস্তব পরিস্থিতি কী? কোন দিকে এর অভিমুখ! এর মূল কারণ  কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলতা তো আসলে মৃত, মুরোদহীন হয়ে আছে এটাই আপনারা জানেনই না; অথচ এই মৃত লাশের উপর মুখ লাগিয়ে আপনারা এর চর্চার গুনগান গাইতেছেন!

    বুয়েটের কনসালটেন্ট শিক্ষক যারা আপনার কাছে পরিবেশবাদ বুঝা বন্ধু-সুহৃদঃ
    যতদুর মনে পড়ে বুয়েটের এক ছাত্র আবরারকে হাসিনা সরকার ও তাদের কমিউনিস্ট-প্রগতিশীল ক্যাডারেরা খুন করার পরে আপনি আমাকে ম্যাসেজ করেছিলেন। আপনার সাথে জেআরসি [জামিলুর রেজা চৌধুরী বুয়েটের প্রবীন শিক্ষক যিনি বাংলাদেশের যে কোন বড় ব্রীজ বা সিভিল প্রজেক্ট এর কনসালটেন্ট] কথা হয় যেখানে স্যার আমার নাম তুলেছিলেন প্রাক্তন ছাত্রনেতা হিসাবে আর সেদিন সেকথা আপনি আমাকে জানিয়েছিলেন। পাঠকেরা অনেকে জানেন হয়ত তবু জানিয়ে রাখি আমি ১৯৭৯ সালে প্রথম বুয়েটে ভর্তি হয়েছি্লাম কিন্তু গ্রাজুয়েট হয়ে বের হয়েছিলাম ১৯৯৩ সা্লে, মানে এরশাদ পতনের পরে বুয়েটে ফিরেছিলাম রেগুলার হয়ে তাই। মাঝের প্রায় দশবছর সক্রিয় রাজনীতি করে বেড়ানোর কারণে বুয়েটের বাইরে ছিলাম, বা ছাত্রত্ব ছিল না।  তবে মূল কথাটা হল আমার কঠিন রাজনৈতিক সক্রিয়তার জন্য (১৯৮০-৮৩) এই সময়কালের খুব কম ছাত্র-শিক্ষককেই পাওয়া যাবে যাদের কাছে আমি পরিচিত এবং ইতি-নেতি চরিত্র ছিলাম না। ভিসি থেকে সিনিয়র শিক্ষকেরা মূলত তাদের এপলিটিক্যাল [রাজনীতি খারাপ জিনিষ] এটিচ্যুডের কারনে আমার রাজনৈতিক সক্রিয়তাকে নেতি চোখে দেখতেন। যদিও এই রিটায়ের্ড বয়সে এসে এদের অনেকেই এখন উলটা আমাকে প্রশংসা করেন । (যদিও আমাকে এখনও ভালবাসেন এমন প্রবীন বুয়েট শিক্ষকের সংখ্যাও কম না।) আপনি শেখ রোকন আমাকে সেকথাই জানায়ছিলেন আমার যতদুর মনে পড়ে বলেছিলেন আমাদের আমল হলে এমন আববার হত্যা আমরা ঘটতেই দিতাম না।

    কিন্তু আমার শিক্ষকদের সম্পর্কে সাধারণভাবে আমার ব্যক্তিগত মুল্যায়ন তখনও যা এখনও তাই আছে!
    এরা মূলত এ-পলিটিক্যাল [রাজনীতি খারাপ জিনিষ মনে করা এটিচ্যুডের]। অথচ এরা প্রায় ব্যতিক্রম খুব কম এভাবে যত বয়স্ক হন ততই সরকারী কনসালটেন্সি পাবার বা ভিসি হবার দৌড়ে সরকারের কোলে উঠে পড়তেও দ্বিধা করেন না। এমনকি এখনও তারা রাজনীতিই বুঝেন না অথচ ভাব করেন তারা রাজনীতির তত্ব বুঝেন এমনকি পরিবেশবাদও বুঝেন! কী এক তামাশা!

    এদের তামাশার একটা নমুনা দেখেনঃ
    যেখন দেখেন এবারের সিলেট-কুমিল্লা-ফেনী-লক্ষীপুর-চট্টগ্রাম ডুবে যাবার পরে – “রাজনীতির অংশ নয় এই বন্যা আইনুন নিশাত – এই লেখাটা ছাপা হয়েছে সমকালে।
    আইনুন নিশাত উনি অরিজিনালি বুয়েটের সিভিলের শিক্ষক; উনি  রাজনীতি বলতে কী বুঝেন? এছাড়া উনি তাহলে কী রাজনীতি বুঝেন? মনে হচ্ছে আসলে উনি রাজনীতি বলতে “দলবাজী” বুঝছেন। বুয়েটের ছাত্র হিসাবে আমার অভিজ্ঞতা হল বুয়েটের কোন শিক্ষকের রাজনৈতিক-বোধ নাই। পলিটি (polity) ধারণা সে তো অনেক দুরের বাত! তা না থাক! কিন্তু তাদের ভান আর কোন দলবাজিকে রাজনীতি বলে বুঝা এটা অসহ্য, অগ্রহণযোগ্য।  এর চেয়ে অসহ্য হল এরাই আবার নিজ পেশার শেষের দিকে সরকারী প্রজেক্টের প্রধান কনসালটেন্ট হওয়া কিংবা ভিসি হওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেন; ফ্যাসিজমের কোলে উঠে গলা জড়িয়ে ধরে ঝুলে পড়তে দ্বিধা করেন না।

    এই যে  আইনুন নিশাত সাহেব “রাজনীতির অংশ নয় এই বন্যা” বলে ফতোয়া দিলেন – তাহলে উনি রাজনীতি বুঝেন বলে দাবি করে বসলেন! নাকি? অথচ এটাই হল তাঁর নিরেট ভারত-প্রীতি। সোজাসাপ্টা করে বললে ভারতের পক্ষে, লীগের পক্ষে দালালি। এছাড়া নিজ ইঞ্জিয়ারিং টেকনোলজি ও এনভায়রণমেন্ট বুঝবার অযোগ্যতাই উনি নিজে ধরেছেন!

    কমন নদী বা প্রবাহিত অভিন্ন নদীর ক্ষেত্রে ভাটির দেশের এমন নদীতে সমান হিস্যা ও অধিকার থাকে। তাই অভিন্ন নদীতে বাধ-ড্যাম বা এর প্রবাহে যে কোন বাধা সৃষ্ঠি করা এমনকি পানি টেনে অন্যদিকে নেওয়া ইত্যাদি সব কাজই অবৈধ; ভাটির দেশের অধিকারকে ক্ষুন্ন করা – এসব কথা উনি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, কথিত পরিবেশবাদী বা দাবিকৃত রাজনৈতিক-বোদ্ধা হয়েও জানেন না। আসলে না জেনে এসব কথা বলার মজাই আলাদা তাই না!

    কী আর বলব? উনি আমাদের শিক্ষক হয়ে বসে আছেন! সারাজীবন এরাই [জেআরসি সহ সেকালের সিনিয়র শিক্ষকেরা] আমার-বিরুদ্ধে গালাগালি করে গেছেন যে আমি নাকি বুয়েটে ছাত্রদের মধ্যে রাজনীতি ঢুকিয়েছি! অথচ তারা প্রায় সকলেই কনসালটেন্ট কিংবা ভিসি হওয়ার জন্য ফ্যাসিজমের কোলে উঠে বসতে দ্বিধা করেন নাই, এখনও করছেন ভারতের দালালি!

    এবার শেখ রোকনের কথায় আসিঃ
    আর শেখ রোকন তিনি নাকি কোন নদী বিষয়ক, পরিবেশ বিষয়ক এনজিও সাথে যুক্ত বিধায় তিনিও  আইনুন নিশাত সাহেব এর সমর্থন পেয়ে দাবি করছেন এবারের বন্যায় সবই বৃষ্টির পানি, ভারতের দোষ নাই। আর সাথে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ও তাঁর সাথে আরও কিছু শাহবাগী কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলদের [যারা সেসময় সর্বজন কথা বের করতেন] পাল্লায় পড়ে তাদের লেখা এখন প্রমোট করছেন শেখ রোকন, হয়ত ভাবছেন আমরা বন্যায় ভারতকে দায়ী করে সাম্প্রদায়িকতা করছি! অথচ শেখ রোকন আপনিও অপরাধী! অজ্ঞ থেকে মিথ্যা প্রপাগান্ডা করার অপরাধে।

    আগে পরিবেশ কী তা বুঝেনঃ
    আগে পরিবেশ কী তা বুঝেন। এটা অন্তত বস্তুবাদ না যে সাইন্স বা বিজ্ঞানের জ্ঞানে আপনি তা বুঝে যাবেন; ইঞ্জিনিয়ারদের লগে ঘুরে ঘষাঘষি করলেই শিখে যাবেন! অন্তত কিছু ফিলসফির মৌলিক জ্ঞান-ধারণা ছাড়া কেউই   পরিবেশ বুঝতে পারবে না। যেমন পরিবেশ শব্দটাই ভুল! প্রাণ-পরিবেশ বলা উচিত তাহলে আপনার যে কিছু হুশ আছে তা বুঝা যাবে।

    আবার আরও কিছু সহজ পথও আছে।
    পারিবারিকভাবে মুসলমান নাম করে আছেন যারা সেই ভরসায় বলছি। নূহ-নবীর নাম না চাইলেও তো জেনেছেন শুনেছেন। এই নাম ও সাথে তার বয়ান ও এর তাতপর্য বুঝতে মনোযোগ দেন। অনেক ফয়দা হবে।  হুমায়ুন আজাদ বা জাফর ইকবালসহ কথিত যত বিজ্ঞানবাদী আছেন তাদেরকে  মাথা থেকে ফেলেন আগে আর এসবের চেয়ে নূহ-নবীর তাতপর্য অতুলনীয় শ্রেষ্ঠ! শুনতে অবাক লাগতে পারে কিন্তু এটাই কঠিন সত্য!
    আচ্ছা আপনা্রা তো কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলতা শ্রেষ্ঠ জ্ঞান করে ইসলাম কোপানো কে ফরজ জ্ঞান করেন। তাই আসেন নূহ-নবী বাদ রাখেন। ক্রিশ্চানিটিতে নোহা [NOAH]  এর কনসেপ্ট আছে। অথবা আসেন হিন্দুত্ববাদই তো শ্রেষ্ঠ প্রগতিবাদ; আসেন সেখানে আসেন। সেখানে মনু-অবতার (অবতার মানে সনাতনি ব্যাখ্যা হল আরেক দুনিয়া থেকে যে এই দুনিয়াতে মানুষকে উদ্ধারে সময় সময়ে ‘অবতরণ’ করে আসেন) খুঁজে দেখেন। সব জায়গায় মানে সব থিওলজিতেই (ধর্মতত্বে) কমন একটা জিনিষ পাবেন একটা নৌকার প্রতীক আর দেখবেন জোড়ায় জোড়ায় প্রাণ-প্রজাতি নূহ-নবীর মতন করে ঐ নৌকায় তুলছেন!
    যেকোন ধর্মতত্ব মেটাফরিক্যাল [metaphor] ভাষায় দুনিয়ায় হাজির হয়;  এর সোজা মানে, এর ভিতর একটা গভীর মানের দিক আরেকটা  সাদা-সাপ্টা মানে থাকে। চিন্তার মুরোদ থাকলে, ওর গুঢ় অর্থের দিকটা তালাশ করেন। রব এর গুণ, প্রতিপালক এর গুণ বৈশিষ্ঠ যদি বুঝেন আপনার উপর হেদায়েত হয়ে থাকে তবে বুঝবেন নূহ-নবী সংক্রান্ত প্রতীক মেটাফোর!

    আবার ভুল বুঝেন না যে আমি আপনাকে ধর্মে মনোযোগী হতে বলছি। সেটা আপনার ব্যক্তিগত! বলছি পারিবারিকভাবেই যেটা আপনার ভিতর যতটুকু আছে যা আপনি কখনও এক্সপ্লোর করেন নাই; মেরে ফেলেছেন কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলদের পাল্লায় পরে; ইসলামবিদ্বেষে আর বিজ্ঞানবাদীতাই – সেটা ফিরে এখনও মনে করে হাতড়ে দেখলে এখনও অনেক কিছু পেতে পারেন। ধর্ম পালন না করেন সেটা আমার এখানে বিবেচ্য নয়; কিন্তু সবার আগে ধর্মতত্বকে তুচ্ছ জ্ঞান করারটা অন্তত ত্যাগ করেন।

    আর যদি মুরোদ হয় তবে ফিলসফির মৌলিক কিছু দিকে পথ ধরে আগাতে হবে। স্পিরিট [Spirit) বুঝতে হবে মানে, মানুষ স্পিরিচুয়ালও। অর্থাৎ মানুষ কেবল বস্তু না – কেবল এক ফিজিক্যাল ফেনোমেনা নয়। তাই কেবল বিজ্ঞান এর বুদ্ধি দিয়ে মানে যেটা ইম্মানুয়েল কান্ট [1724-1804] এর বিজ্ঞানবোধ বা লজিক (চিন্তার লজিক্যাল বা র‍্যাশনাল পদ্ধতি)  – এসব দিয়ে মানুষ বুঝা সম্পন্ন হবে না।  মানুষ স্পিরিচুয়ালও এদিকটা বুঝা যাবে না।। তাই সেদিক্টাও মানে কান্ট এর এই চিন্তার পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতা বুঝতে হবে যেটা কান্ট [মানে kantian logic / rationality] এর সীমাবদ্ধতা! অন্যভাষায় এটাইকেই বলছি,  ফিলসফির মৌলিক কিছু দিকে পথ ধরে আগাতে হবে। স্পিরিট বুঝতে হবে মানে মানুষ স্পিরিচুয়ালও। তাতে স্পিরিটের অর্থ ধর্মতত্ব দিয়ে বুঝেন কিংবা হেগেলের (absolute Spirit) স্পিরিট অর্থেই বুঝেন তাতে অসুবিধা নাই – হেগেলের স্পিরিট যেটার বাংলা অনেকে করেছেন প্রজ্ঞা। আবার  আধাবুঝের ধর্মতত্ব দিয়ে অনেকে এটাকে আধ্যাত্ববাদ বলে এক স্টুপিড বা পচা বাংলাও করে থাকেন অনেকে!
    আর এরপরেও যদি চিন্তার মুরোদে কুলায় তবে হেগেলকে মার্কস কিভাবে ও কোথায় কোথায় বদলে নিয়েছেন ততদুরও যেতে পারেন। এটাই খোদ মার্কসের গুরুত্বপুর্ণ অবদান যেটাকে বলে, আইডিয়াল [ideal] আর রিয়েল [real] এর ফারাক কী – সেই প্রসঙ্গ! তবে মনে রেখেন এই অংশের খবর ব্যক্তি স্টালিন ও স্তালিনের অনুসারী (কার্যত এটাই আবার মার্কসবাদ বলে সারা দুনিয়ায় পরিচিত; যেকারণে আমার অনুবাদ বইয়ে বলেছি মার্কস আর মার্কসবাদ দুইট আলাদা) এমন এদের কারো কাছেই নাই; জানা নাই। এদিকটা বুঝতে জর্মান ইডিওলজি পড়তে হবে। বিশেষ করে ফয়েরবাখ সম্পর্কে মার্কসের গুরুত্বপুর্ণ মূল্যায়ন কী আছে সেখানে, সেটা!
    কেবল একটা নোট দিয়ে রাখতে পারি। আমার নিজের ওয়েব সাইট [goutamdas.com] যেখানে আমার নানান লেখা গত ১০ বছর ৫০০ এর বেশী হয়ে গেছে বলে আমাকে জানিয়েছে। ওখানে গান্ধীর সত্য মানে ‘ট্রুথ’ নয়, ফ্যাক্টস নামে আমার একটা লেখা আছে। ওখান আসলে আমি  আইডিয়াল [ideal] আর রিয়েল [real] নিয়ে মার্কসের ধারণাটা প্রয়োগ করেছি – গান্ধীর চিন্তা ভাবনার বৈপরীত্য-কে দেখিয়ে দেবার জন্য। কাজেই শিরোনাম দেখে ওটা গান্ধীর উপরে লেখা মনে হলেও আসলে ওটাই হেগেল প্রসঙ্গে মার্কসের অবস্থান নিয়ে লেখা! বুদ্ধিমানেরা সেভাবে পড়তে পারেন!

    তবে আমাদের এখানে এই লেখার প্রসঙ্গে মৌলিক রাজনৈতিক বুঝাবুঝির মুল জায়গাটা হল, কমন বা অভিন্ন নদীর পানির উপরে ভাটির দেশের অধিকার বা সম-অধিকার।
    এই জায়গায় আইনুন নিশাত সহ সকল ইঞ্জিনিয়ার বা বিজ্ঞানবাদীতার নামে ভারতীয় দালালদেরকে আমাদের উপরে ফেলে দিতেই হবে!

    এই কথাটা শেখ রোকন যত তাড়াতাড়ি বুঝবেন ততই সেটা উনার ব্যক্তিগত, উনার পত্রিকার স্টাফ ও মালিকের জন্য ভাল ও সঠিক হবে! নইলে এরা সবাই জনগণের হাতে উপড়ে ফেলে দেওয়া দশাতে পড়বেন!

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   ০২ঃ৫৩ দুপুর  ২৬ আগষ্ট ২০২৪
    শেষ আপডেটঃ  ৩ঃ৩০ দুপুর  ২৬ আগষ্ট ২০২৪