Category: GOUTAM DAS

  • একজন শেখ রোকন: লেখক ও গবেষক; সহযোগী সম্পাদক, সমকাল

    একজন শেখ রোকন: লেখক ও গবেষক; সহযোগী সম্পাদক, সমকাল
    গৌতম দাস
    ২৬ আগষ্ট ২০২৪
    https://wp.me/p1sCvy-5HS

     

    শেখ রোকন, সমকাল


    সরি সরাসরি নাম ধরেই বলতে হল।  তিনি কবে সমকালে ঢুকে গেছেন আমি খেয়াল করি নাই।  কিন্তু এখন মানে হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির আশপাশের কালে সর্বক্ষণ তিনি; ওদিকে চোখ ফেলতে না চাইলেও চোখে পড়ে যাচ্ছেন। কারণ, তিনি যে কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলতা এখন তলানিতে ঠেকেছে সেখানেই মুক্তি খুঁজছেন। তাদের এখনও ত্রাতা ভাবছেন!
    তিনি হয়ত কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলতায় গভীর আস্থা রাখেন। তা রাখেন তাতে নতুন অসুবিধা নাই। সেটা ব্যক্তিগত পছন্দ! কিন্তু সাথে সময়কাল সংক্রান্ত জ্ঞান না থাকলে তা আত্মঘাতি। এই সময়কালটা হল, হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির আশপাশের কাল। হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি উত্তরকালে কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলরা এবার আর নিজেদের নয়া পরিচয়ের কোন নৌকা ভাসাতে ব্যর্থ হয়েছে অথচ এটাও আপনি খেয়াল করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাই তবু সেই তাদেরকেই [কমিউনিস্ট-প্রগতিশীল] যারা নিজেরাই নিজেদের অতলে হারিয়ে ফেলেছেন সেখানেই আপনি এখনও মনিমুক্তা খুঁজছেন!   ঠিক যেমন ২০০৯ সালে হাসিনা উত্থানের যুগের শুরুতে এই গোষ্ঠি তারা কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলতায় হাসিনার গুম-খুনের রাষ্ট্র বানানোটাকে মুক্তিযোদ্ধা শ্রেণীর  চেতনা পক্ষে কাজ গণ্য করে এর পক্ষেই মানে হাসিনার ক্ষমতার পক্ষেই সাফাই যোগাড় কর্তা হয়ে হাজির হয়েছিলেন; শাহবাগে জড়ো হয়েছিলেন! ঠিক সেভাবেই আবার হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির কালেও আবার নৌকা বদলাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মানুষ এদেরকে ২০১৩ সালে তাদের শাহবাগী প্রকল্পের কালেই তাদের চেহারা দেখে ফেলেছিল। তাই হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির কালেও তারা এবার আর কোন নৌকাতেই উঠতে পারেন নাই।
    অথচ আপনি নিয়মিত এদেরকে নয়া (যদিও তা সেই পঁচা) উপস্থাপনাই হাজির করার জায়গা করে দিয়ে চলেছেন! কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলতায় আপনার ভক্তি যাচ্ছেই না; অথচ এই অতিভক্তির খেসারত শুধু আপনি না দেশের মানুষ তো বটেই সাথে আপনার পত্রিকার স্টাফ ও মালিক সকলকেই বইতে হবে। কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলতা গত শতকেই (মানে ২০০০ সালের আগেই) মৃত হয়ে গেছে। তবে এটা মোটা দাগে বলা কথা! একচুয়ালি এটা আনুষ্ঠানিকভাবে মরে গেছে ১৯৯১ ডিসেম্বরে; প্রতীকীভাবে বললে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাবার পরে।
    একথাটা বাংলাদেশিদের বুঝবার জন্য সহজ করে বলি।

    মনিসিংহ-খোকা রায় এসব জমিদার-সন্তানদের হাত ধরে ১৯৪৮ সালে শুরু হওয়া পুর্ব-পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টির (যেটা এখন মূলত সিপিবি নামে) কথা কমবেশী সকলেই জানেন। যেটা একালে মানে ১৯৯১ সালের পরে ভেঙ্গে যাওয়া একাংশ মুজাহিদুল সেলিম বা প্রিন্সদের অংশকে কেবল আপনারা দেখতে পান। অপর অংশ মানে যারা অন্তত এখনও পার্টির সম্পত্তিতে তৈরি হওয়া বহুতল ভবনের অপর অংশের মালিক; এরা এখন কোথায়? এর উত্তরে এটুকু বলা যায় এই অংশ আর সেলিম- মঞ্জুরুলদের মত আরেক সিপিবি’র  কোন ‘কমিউনিস্ট পার্টি’ খুলে নাই। কেন?
    পঙ্কজ ভট্টাচার্য, অজয় রায়েরা কোথায় হারিয়ে গেলেন? আগে যে রীতি চালু ছিল যে বাংলাদেশে হিন্দুরা জন্মানো মাত্রই পরিবারসহ নিজেকে ‘কমিউনিস্ট’ গণ্য করত; এই রীতিতে ছেদ পরেছিল তাতে! কিন্তু কেন?
    এখানেই উত্তর পাবেন কেন জমিদার-সন্তানদের হাত ধরে ১৯৪৮ সাল থেকে নতুন করে “পুর্ব-পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি” শুরু হয়েছিল। মূল ঘটনা হল, পাকিস্তানের জন্ম মানেই কার্যত জমিদার উচ্ছেদ হয়ে যাওয়া – জমিদার-হিন্দু আধিপত্য ও  দুশ বছরের জমিদারি রুস্তমি খতম তাদের শাসন উচ্ছেদ – এটাই ঘটেছিল। এরই লিগাল বা আনুষ্ঠানিক উচ্ছেদ হল পুর্ব-পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে ১৯৫০ সালের জমিদার উচ্ছেদ আইন আনা। যেটা ১৯৫১ সালের আগষ্ঠে অনুমোদিত বা আইনে পরিণত হয়েছিল। আর এতে ক্ষুব্ধ জমিদার-হিন্দুরা এটাকে দেখেছিল এতদিন যাদেরকে তাঁরা পায়ের নিচে দলে  রেখেছিল সেই মুসলমানদের মাথা তুলে দাঁড়ানো। অন্যভাষায়, সেই থেকে – ইসলামই তাদের এনিমি বা স্থায়ী শত্রু। আর একারণে ইসলাম কোপানো (ধর্ম কোপানোর সুবিধা একমাত্র কমিউনিস্ট হলেই পাওয়া যেতে পারে বিবেচনা থেকেই) এই সুবিধা পাবার লোভ থেকেই জমিদার সন্তানেরা কমুউনিস্ট হয়ে গেছিল। না হলে মানে এরা নুন্যতম সাচ্চা কমিউনিস্ট হলে তো সবার আগে জমিদারী উচ্ছেদের পক্ষে তাদের কমিউনিস্ট পার্টির (চীনপন্থি অংশসহ সকলের) অন্তত একটা রেজুলেশন থাকত! তা নাই কেন? সিপিবি’র জবাব দেয়া উচিত!

    ভুমি মালিকানা ব্যবস্থা নিয়ে খোদ কার্ল মার্কসের মৌলিক অবস্থান কী? তা কী এসব হিন্দু-কমিউনিস্ট এরা কখনও পড়ে দেখেছেন? কোন প্রমাণ নাই তাই মনে হয় না। অথচ মার্কস মনে করেন, জমিতে যেকোন (মানে জমিদারিসহ) মালিকানা ব্যবস্থা থাকা মানে ক্যাপিটালিজম বিকাশের পথ রুদ্ধ করা; মানে মার্কসের মূলকথা তাদের ভাষায় “পুরানা ফিউডাল সম্পর্ক”  বা সামন্তবাদ থেকে যাবে; যেমন, জমিদারতন্ত্র বিলুপ্ত হবে না এতে।
    অথচ এই জমিদার নন্দন কমিউনিস্টেরা  আমাদের ইলা মিত্রের (কমিউনিস্ট হবার পরেও) তেভাগার গল্প শুনায় যার স্বামী (পুরানা) রাজশাহীর এক জমিদার ছিলেন। আসলে, কে জমিদার ছিলেন না?
    প্রমথ চৌধুরী, কিশোরগঞ্জের জমিদার নীরোদচন্দ্র চৌধুরী (আত্মঘাতি বাঙালির লেখক)?

    আবার এদের কান্ড দেখেন,  জমিদার-হিঁন্দুর ১৯০৫ সালের “বঙ্গভঙ্গ বিরোধী” আন্দোলন নাকি পুর্ববঙ্গের স্বার্থে! অথচ প্রকৃত ঘটনা এর উলটা। সুর্য সেন ছিলেন, জমিদার-হিঁদুর স্বার্থের লেঠেল বা লাঠিয়াল! প্রীতিলতা বা কল্পনারাও তাই! অথচ তাদের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল!!!  এর বিরুদ্ধেই পরের বছর ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগের জন্ম হয়েছিল। সত্যি কথাটা হল,  পুর্ববঙ্গে জমিদার উচ্ছেদ এর কাজ শুরুর ক্ষেত্রে এক নম্বর প্রথম বীর হলেন হাজী শরীয়তুল্লাহ! এনিয়ে আমার লেখা পড়ে নিতে পারেন! অরিজিনালি লেখাটা প্রথম ছাপা হয়েছিল ২০১১ সালে।

    হাজী শরীয়তুল্লাহ ও গণ-প্রতিরোধ
    গৌতম দাস
    আগস্ট ১২, ২০১৬
    http://wp.me/p1sCvy-1EO

     

    তাই এককথায়, ইসলাম কোপাতেই আর পুরানা জমিদার-হিন্দুর হারানো আধিপত্য যতটা পারা যায় ফিরিয়ে আনা ঘটাতেই ১৯৪৮ সাল থেকে আমাদের এদিকে  “পুর্ব-পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টির” গঠন হয়েছিল। আর তা থেকেই ১৯৪৯ সালে আওয়ামী লীগের জন্ম!

    আর সেকারণেই ১৯৯১ সালে সোভিয়েত পতনের পরে তারা একেবারেই হতাশ হয়ে পরেছিল যে কমিউনিজমের আড়ালে ইসলাম কোপানো ব্যাপারটা আর কাজ করবে না,  এটাই ভেবেছিল।

    যদিও মোট মাত্র ৯ বছরের মধ্যে তারা নতুন রাস্তা খুঁজে নিয়েছিল। ২০০১ সালে প্রায় সকল কমিউনিস্টেরাই আমেরিকান প্রেসিডেন্ট বুশের কোলে উঠে গিয়েছিল – সে তখন থেকেই এক নতুন বাপ তাদের! যে আর “মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ” নয় তখন থেকে!  কারণ সে আবার ইসলাম কোপানোর ফয়দা- এই লভ্যাংশ বা ডিভিডেন্ট দিবে পুরান কমিউনিস্টদেরকে। এই হল, পুরান কমিউনিস্টদের কাছে নাইন-ইলেভেন – টুইন টাওয়ার হামলা – ওয়ার অন টেরর এর মূল তাতপর্য ।  যা এক নয়া রাস্তা হয়ে এসেছিল জমিদার-হিন্দুর হারানো আধিপত্য ফেরত পারার আশা হিসাবে!

    আর এসব কমিউনিস্ট-প্রগতিশীল  এদের ততপরতায় বাংলাদেশের নীট ক্ষতিটা হল, বাংলাদেশের জনমত – ইসলামিজম আর প্রগতিশীল বলে শার্প আর বিপদজনকভাবে দুভাগে বিভক্ত হয়ে গেছিল। সমাজে মতভেদ থাকা একজিনিষ আর ইসলাম কোপানো বা নির্মুলের চিন্তা আরেকটা! আর এর ফাঁক দিয়েই হিন্দুত্ববাদ ও র-এর ততপরতা বাংলাদেশে জেঁকে বসেছিল।
    অথচ হাসিনা উতখাত বা মন্দির রক্ষা আর এখনও জীবন্ত বন্যা মোকাবোলা প্রশ্নে এই প্রথম ২০০১ সাল থেকে চলে আসা নয়া শতকে এখন ২০২৪ সালে এসে, এই প্রথম আমরা একতাবদ্ধ এক জনগোষ্ঠি!

    একারণের বলেছি ২০০০ সালের পরের নয়া শতক থেকে পুরান  কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলতা মৃত হয়ে আছে!  আর তখন থেকে যেকোন পুরান (বেশির ভাগ) কমিউনিস্ট-প্রগতিশীল এর মুখ দিয়ে বেরোনো প্রথম শব্দ হল (যেমন ইনুকে স্মরণ করতে পারেন) জঙ্গীবাদ; মানে আর মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ না।  এসবের হাত ধরেই গত ষোল বছরের হাসিনার ফ্যাসিজম এর পক্ষে সাফাইদাতা হল কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলতা। শাহবাগ কী ছিল? কারা তাত্বিক সমর্থন দিয়েছে সাফাই দিয়ে পত্রিকা বের করেছিল? এরা আর এটাই জমিদার-হিন্দুর কমিউনিজম-প্রগতিশীলতার আড়ালে জমিদারি চিন্তা আধিপত্য রাজনীতি ফিরিয়ে আনার ততপরতা! যে জমিদারি চিন্তা আধিপত্য রাজনীতি এর পিঠে পা দিয়েই ইন্ডিয়া বা র-এর ততপরতা বাংলাদেশে ছেয়ে গেছিল!

    অথচ গত শতকের পুরান কমিউনিজম এর কোন পুণর্মুল্যায়ন মানে আবার একে ভেবে দেখা, ঢেলে সাজানো (খোদ মার্কসের ভাষায় যেটা পর্যালোচনা -Critique) এটা ছাড়া এই মুরোদ ছাড়া কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলতা এরা সকলেই কঠিনতম রাজনৈতিক অপরাধী! যেহেতু নয়া শতকে এসে পুরান কমিউনিজম একেবারেই মৃত!

    আপনি শেখ রোকন এসব দিকে বেখবর! সেকারণে আপনি এসব পঁচা কমিউনিস্ট-প্রগতিশীল নতুন করে কথা বলতে দিবার দাওয়াত দাতা – জায়গা করে দিতে এগিয়ে এসেছেন। আমি “গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি” এর কথা বলছি বুঝতে পারছেন আশা করি।
    গত ৫ আগষ্ট  আপনি এদের প্রধান নেতা সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর একটা সাক্ষাতকার ছাপিয়েছিলেন। শিরোনাম ছিল “উভয় পক্ষকে সাময়িক হলেও সমঝোতায় আসতেই হবে”। অথচ আপনাদের উভয়ের কপাল খারাপ । পরের দিনই হাসিনা পদত্যাগ করে গোপনে ভারতে পালিয়ে যায়। মানে হল না আপনার মিডিয়ার কেউ না, এমনকি  সাক্ষাতকারদাতা চিন্তাও করতে পারেন নাই যে বাস্তব পরিস্থিতি কী? কোন দিকে এর অভিমুখ! এর মূল কারণ  কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলতা তো আসলে মৃত, মুরোদহীন হয়ে আছে এটাই আপনারা জানেনই না; অথচ এই মৃত লাশের উপর মুখ লাগিয়ে আপনারা এর চর্চার গুনগান গাইতেছেন!

    বুয়েটের কনসালটেন্ট শিক্ষক যারা আপনার কাছে পরিবেশবাদ বুঝা বন্ধু-সুহৃদঃ
    যতদুর মনে পড়ে বুয়েটের এক ছাত্র আবরারকে হাসিনা সরকার ও তাদের কমিউনিস্ট-প্রগতিশীল ক্যাডারেরা খুন করার পরে আপনি আমাকে ম্যাসেজ করেছিলেন। আপনার সাথে জেআরসি [জামিলুর রেজা চৌধুরী বুয়েটের প্রবীন শিক্ষক যিনি বাংলাদেশের যে কোন বড় ব্রীজ বা সিভিল প্রজেক্ট এর কনসালটেন্ট] কথা হয় যেখানে স্যার আমার নাম তুলেছিলেন প্রাক্তন ছাত্রনেতা হিসাবে আর সেদিন সেকথা আপনি আমাকে জানিয়েছিলেন। পাঠকেরা অনেকে জানেন হয়ত তবু জানিয়ে রাখি আমি ১৯৭৯ সালে প্রথম বুয়েটে ভর্তি হয়েছি্লাম কিন্তু গ্রাজুয়েট হয়ে বের হয়েছিলাম ১৯৯৩ সা্লে, মানে এরশাদ পতনের পরে বুয়েটে ফিরেছিলাম রেগুলার হয়ে তাই। মাঝের প্রায় দশবছর সক্রিয় রাজনীতি করে বেড়ানোর কারণে বুয়েটের বাইরে ছিলাম, বা ছাত্রত্ব ছিল না।  তবে মূল কথাটা হল আমার কঠিন রাজনৈতিক সক্রিয়তার জন্য (১৯৮০-৮৩) এই সময়কালের খুব কম ছাত্র-শিক্ষককেই পাওয়া যাবে যাদের কাছে আমি পরিচিত এবং ইতি-নেতি চরিত্র ছিলাম না। ভিসি থেকে সিনিয়র শিক্ষকেরা মূলত তাদের এপলিটিক্যাল [রাজনীতি খারাপ জিনিষ] এটিচ্যুডের কারনে আমার রাজনৈতিক সক্রিয়তাকে নেতি চোখে দেখতেন। যদিও এই রিটায়ের্ড বয়সে এসে এদের অনেকেই এখন উলটা আমাকে প্রশংসা করেন । (যদিও আমাকে এখনও ভালবাসেন এমন প্রবীন বুয়েট শিক্ষকের সংখ্যাও কম না।) আপনি শেখ রোকন আমাকে সেকথাই জানায়ছিলেন আমার যতদুর মনে পড়ে বলেছিলেন আমাদের আমল হলে এমন আববার হত্যা আমরা ঘটতেই দিতাম না।

    কিন্তু আমার শিক্ষকদের সম্পর্কে সাধারণভাবে আমার ব্যক্তিগত মুল্যায়ন তখনও যা এখনও তাই আছে!
    এরা মূলত এ-পলিটিক্যাল [রাজনীতি খারাপ জিনিষ মনে করা এটিচ্যুডের]। অথচ এরা প্রায় ব্যতিক্রম খুব কম এভাবে যত বয়স্ক হন ততই সরকারী কনসালটেন্সি পাবার বা ভিসি হবার দৌড়ে সরকারের কোলে উঠে পড়তেও দ্বিধা করেন না। এমনকি এখনও তারা রাজনীতিই বুঝেন না অথচ ভাব করেন তারা রাজনীতির তত্ব বুঝেন এমনকি পরিবেশবাদও বুঝেন! কী এক তামাশা!

    এদের তামাশার একটা নমুনা দেখেনঃ
    যেখন দেখেন এবারের সিলেট-কুমিল্লা-ফেনী-লক্ষীপুর-চট্টগ্রাম ডুবে যাবার পরে – “রাজনীতির অংশ নয় এই বন্যা আইনুন নিশাত – এই লেখাটা ছাপা হয়েছে সমকালে।
    আইনুন নিশাত উনি অরিজিনালি বুয়েটের সিভিলের শিক্ষক; উনি  রাজনীতি বলতে কী বুঝেন? এছাড়া উনি তাহলে কী রাজনীতি বুঝেন? মনে হচ্ছে আসলে উনি রাজনীতি বলতে “দলবাজী” বুঝছেন। বুয়েটের ছাত্র হিসাবে আমার অভিজ্ঞতা হল বুয়েটের কোন শিক্ষকের রাজনৈতিক-বোধ নাই। পলিটি (polity) ধারণা সে তো অনেক দুরের বাত! তা না থাক! কিন্তু তাদের ভান আর কোন দলবাজিকে রাজনীতি বলে বুঝা এটা অসহ্য, অগ্রহণযোগ্য।  এর চেয়ে অসহ্য হল এরাই আবার নিজ পেশার শেষের দিকে সরকারী প্রজেক্টের প্রধান কনসালটেন্ট হওয়া কিংবা ভিসি হওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেন; ফ্যাসিজমের কোলে উঠে গলা জড়িয়ে ধরে ঝুলে পড়তে দ্বিধা করেন না।

    এই যে  আইনুন নিশাত সাহেব “রাজনীতির অংশ নয় এই বন্যা” বলে ফতোয়া দিলেন – তাহলে উনি রাজনীতি বুঝেন বলে দাবি করে বসলেন! নাকি? অথচ এটাই হল তাঁর নিরেট ভারত-প্রীতি। সোজাসাপ্টা করে বললে ভারতের পক্ষে, লীগের পক্ষে দালালি। এছাড়া নিজ ইঞ্জিয়ারিং টেকনোলজি ও এনভায়রণমেন্ট বুঝবার অযোগ্যতাই উনি নিজে ধরেছেন!

    কমন নদী বা প্রবাহিত অভিন্ন নদীর ক্ষেত্রে ভাটির দেশের এমন নদীতে সমান হিস্যা ও অধিকার থাকে। তাই অভিন্ন নদীতে বাধ-ড্যাম বা এর প্রবাহে যে কোন বাধা সৃষ্ঠি করা এমনকি পানি টেনে অন্যদিকে নেওয়া ইত্যাদি সব কাজই অবৈধ; ভাটির দেশের অধিকারকে ক্ষুন্ন করা – এসব কথা উনি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, কথিত পরিবেশবাদী বা দাবিকৃত রাজনৈতিক-বোদ্ধা হয়েও জানেন না। আসলে না জেনে এসব কথা বলার মজাই আলাদা তাই না!

    কী আর বলব? উনি আমাদের শিক্ষক হয়ে বসে আছেন! সারাজীবন এরাই [জেআরসি সহ সেকালের সিনিয়র শিক্ষকেরা] আমার-বিরুদ্ধে গালাগালি করে গেছেন যে আমি নাকি বুয়েটে ছাত্রদের মধ্যে রাজনীতি ঢুকিয়েছি! অথচ তারা প্রায় সকলেই কনসালটেন্ট কিংবা ভিসি হওয়ার জন্য ফ্যাসিজমের কোলে উঠে বসতে দ্বিধা করেন নাই, এখনও করছেন ভারতের দালালি!

    এবার শেখ রোকনের কথায় আসিঃ
    আর শেখ রোকন তিনি নাকি কোন নদী বিষয়ক, পরিবেশ বিষয়ক এনজিও সাথে যুক্ত বিধায় তিনিও  আইনুন নিশাত সাহেব এর সমর্থন পেয়ে দাবি করছেন এবারের বন্যায় সবই বৃষ্টির পানি, ভারতের দোষ নাই। আর সাথে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ও তাঁর সাথে আরও কিছু শাহবাগী কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলদের [যারা সেসময় সর্বজন কথা বের করতেন] পাল্লায় পড়ে তাদের লেখা এখন প্রমোট করছেন শেখ রোকন, হয়ত ভাবছেন আমরা বন্যায় ভারতকে দায়ী করে সাম্প্রদায়িকতা করছি! অথচ শেখ রোকন আপনিও অপরাধী! অজ্ঞ থেকে মিথ্যা প্রপাগান্ডা করার অপরাধে।

    আগে পরিবেশ কী তা বুঝেনঃ
    আগে পরিবেশ কী তা বুঝেন। এটা অন্তত বস্তুবাদ না যে সাইন্স বা বিজ্ঞানের জ্ঞানে আপনি তা বুঝে যাবেন; ইঞ্জিনিয়ারদের লগে ঘুরে ঘষাঘষি করলেই শিখে যাবেন! অন্তত কিছু ফিলসফির মৌলিক জ্ঞান-ধারণা ছাড়া কেউই   পরিবেশ বুঝতে পারবে না। যেমন পরিবেশ শব্দটাই ভুল! প্রাণ-পরিবেশ বলা উচিত তাহলে আপনার যে কিছু হুশ আছে তা বুঝা যাবে।

    আবার আরও কিছু সহজ পথও আছে।
    পারিবারিকভাবে মুসলমান নাম করে আছেন যারা সেই ভরসায় বলছি। নূহ-নবীর নাম না চাইলেও তো জেনেছেন শুনেছেন। এই নাম ও সাথে তার বয়ান ও এর তাতপর্য বুঝতে মনোযোগ দেন। অনেক ফয়দা হবে।  হুমায়ুন আজাদ বা জাফর ইকবালসহ কথিত যত বিজ্ঞানবাদী আছেন তাদেরকে  মাথা থেকে ফেলেন আগে আর এসবের চেয়ে নূহ-নবীর তাতপর্য অতুলনীয় শ্রেষ্ঠ! শুনতে অবাক লাগতে পারে কিন্তু এটাই কঠিন সত্য!
    আচ্ছা আপনা্রা তো কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলতা শ্রেষ্ঠ জ্ঞান করে ইসলাম কোপানো কে ফরজ জ্ঞান করেন। তাই আসেন নূহ-নবী বাদ রাখেন। ক্রিশ্চানিটিতে নোহা [NOAH]  এর কনসেপ্ট আছে। অথবা আসেন হিন্দুত্ববাদই তো শ্রেষ্ঠ প্রগতিবাদ; আসেন সেখানে আসেন। সেখানে মনু-অবতার (অবতার মানে সনাতনি ব্যাখ্যা হল আরেক দুনিয়া থেকে যে এই দুনিয়াতে মানুষকে উদ্ধারে সময় সময়ে ‘অবতরণ’ করে আসেন) খুঁজে দেখেন। সব জায়গায় মানে সব থিওলজিতেই (ধর্মতত্বে) কমন একটা জিনিষ পাবেন একটা নৌকার প্রতীক আর দেখবেন জোড়ায় জোড়ায় প্রাণ-প্রজাতি নূহ-নবীর মতন করে ঐ নৌকায় তুলছেন!
    যেকোন ধর্মতত্ব মেটাফরিক্যাল [metaphor] ভাষায় দুনিয়ায় হাজির হয়;  এর সোজা মানে, এর ভিতর একটা গভীর মানের দিক আরেকটা  সাদা-সাপ্টা মানে থাকে। চিন্তার মুরোদ থাকলে, ওর গুঢ় অর্থের দিকটা তালাশ করেন। রব এর গুণ, প্রতিপালক এর গুণ বৈশিষ্ঠ যদি বুঝেন আপনার উপর হেদায়েত হয়ে থাকে তবে বুঝবেন নূহ-নবী সংক্রান্ত প্রতীক মেটাফোর!

    আবার ভুল বুঝেন না যে আমি আপনাকে ধর্মে মনোযোগী হতে বলছি। সেটা আপনার ব্যক্তিগত! বলছি পারিবারিকভাবেই যেটা আপনার ভিতর যতটুকু আছে যা আপনি কখনও এক্সপ্লোর করেন নাই; মেরে ফেলেছেন কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলদের পাল্লায় পরে; ইসলামবিদ্বেষে আর বিজ্ঞানবাদীতাই – সেটা ফিরে এখনও মনে করে হাতড়ে দেখলে এখনও অনেক কিছু পেতে পারেন। ধর্ম পালন না করেন সেটা আমার এখানে বিবেচ্য নয়; কিন্তু সবার আগে ধর্মতত্বকে তুচ্ছ জ্ঞান করারটা অন্তত ত্যাগ করেন।

    আর যদি মুরোদ হয় তবে ফিলসফির মৌলিক কিছু দিকে পথ ধরে আগাতে হবে। স্পিরিট [Spirit) বুঝতে হবে মানে, মানুষ স্পিরিচুয়ালও। অর্থাৎ মানুষ কেবল বস্তু না – কেবল এক ফিজিক্যাল ফেনোমেনা নয়। তাই কেবল বিজ্ঞান এর বুদ্ধি দিয়ে মানে যেটা ইম্মানুয়েল কান্ট [1724-1804] এর বিজ্ঞানবোধ বা লজিক (চিন্তার লজিক্যাল বা র‍্যাশনাল পদ্ধতি)  – এসব দিয়ে মানুষ বুঝা সম্পন্ন হবে না।  মানুষ স্পিরিচুয়ালও এদিকটা বুঝা যাবে না।। তাই সেদিক্টাও মানে কান্ট এর এই চিন্তার পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতা বুঝতে হবে যেটা কান্ট [মানে kantian logic / rationality] এর সীমাবদ্ধতা! অন্যভাষায় এটাইকেই বলছি,  ফিলসফির মৌলিক কিছু দিকে পথ ধরে আগাতে হবে। স্পিরিট বুঝতে হবে মানে মানুষ স্পিরিচুয়ালও। তাতে স্পিরিটের অর্থ ধর্মতত্ব দিয়ে বুঝেন কিংবা হেগেলের (absolute Spirit) স্পিরিট অর্থেই বুঝেন তাতে অসুবিধা নাই – হেগেলের স্পিরিট যেটার বাংলা অনেকে করেছেন প্রজ্ঞা। আবার  আধাবুঝের ধর্মতত্ব দিয়ে অনেকে এটাকে আধ্যাত্ববাদ বলে এক স্টুপিড বা পচা বাংলাও করে থাকেন অনেকে!
    আর এরপরেও যদি চিন্তার মুরোদে কুলায় তবে হেগেলকে মার্কস কিভাবে ও কোথায় কোথায় বদলে নিয়েছেন ততদুরও যেতে পারেন। এটাই খোদ মার্কসের গুরুত্বপুর্ণ অবদান যেটাকে বলে, আইডিয়াল [ideal] আর রিয়েল [real] এর ফারাক কী – সেই প্রসঙ্গ! তবে মনে রেখেন এই অংশের খবর ব্যক্তি স্টালিন ও স্তালিনের অনুসারী (কার্যত এটাই আবার মার্কসবাদ বলে সারা দুনিয়ায় পরিচিত; যেকারণে আমার অনুবাদ বইয়ে বলেছি মার্কস আর মার্কসবাদ দুইট আলাদা) এমন এদের কারো কাছেই নাই; জানা নাই। এদিকটা বুঝতে জর্মান ইডিওলজি পড়তে হবে। বিশেষ করে ফয়েরবাখ সম্পর্কে মার্কসের গুরুত্বপুর্ণ মূল্যায়ন কী আছে সেখানে, সেটা!
    কেবল একটা নোট দিয়ে রাখতে পারি। আমার নিজের ওয়েব সাইট [goutamdas.com] যেখানে আমার নানান লেখা গত ১০ বছর ৫০০ এর বেশী হয়ে গেছে বলে আমাকে জানিয়েছে। ওখানে গান্ধীর সত্য মানে ‘ট্রুথ’ নয়, ফ্যাক্টস নামে আমার একটা লেখা আছে। ওখান আসলে আমি  আইডিয়াল [ideal] আর রিয়েল [real] নিয়ে মার্কসের ধারণাটা প্রয়োগ করেছি – গান্ধীর চিন্তা ভাবনার বৈপরীত্য-কে দেখিয়ে দেবার জন্য। কাজেই শিরোনাম দেখে ওটা গান্ধীর উপরে লেখা মনে হলেও আসলে ওটাই হেগেল প্রসঙ্গে মার্কসের অবস্থান নিয়ে লেখা! বুদ্ধিমানেরা সেভাবে পড়তে পারেন!

    তবে আমাদের এখানে এই লেখার প্রসঙ্গে মৌলিক রাজনৈতিক বুঝাবুঝির মুল জায়গাটা হল, কমন বা অভিন্ন নদীর পানির উপরে ভাটির দেশের অধিকার বা সম-অধিকার।
    এই জায়গায় আইনুন নিশাত সহ সকল ইঞ্জিনিয়ার বা বিজ্ঞানবাদীতার নামে ভারতীয় দালালদেরকে আমাদের উপরে ফেলে দিতেই হবে!

    এই কথাটা শেখ রোকন যত তাড়াতাড়ি বুঝবেন ততই সেটা উনার ব্যক্তিগত, উনার পত্রিকার স্টাফ ও মালিকের জন্য ভাল ও সঠিক হবে! নইলে এরা সবাই জনগণের হাতে উপড়ে ফেলে দেওয়া দশাতে পড়বেন!

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   ০২ঃ৫৩ দুপুর  ২৬ আগষ্ট ২০২৪
    শেষ আপডেটঃ  ৩ঃ৩০ দুপুর  ২৬ আগষ্ট ২০২৪

     

  • বেনজীর-আজিজদের ‘প্রটেকশন’ দেয়া বা না দেয়ার তর্কের ফাঁকে আলী রীয়াজ!

    বেনজীর-আজিজদের ‘প্রটেকশন’ দেয়া বা না দেয়ার তর্কের ফাঁকে আলী রীয়াজ!
    গৌতম দাস
    ৩০ মে ২০২৪
    https://wp.me/p1sCvy-5E3

    ‘বেনজীর-আজিজকে সরকার প্রটেকশন দেবে না’

    তামাসাটা বেশ ভাল জমেছে! বাংলাদেশের মিডিয়াগুলোতে একটা নতুন পপুলার শব্দ চালু হয়েছে আজিজ-বেনজীর। এমন এই খবরের শিরোনাম হল আজিজ-বেনজীর এর “প্রটেকশন”! আবার পাঠকও ধরে ফেলেছে এই নয়া শব্দের অর্থ কী; যদিও এখনও বিশ্বাস করে নাই। এমনিতেই, “প্রটেকশন” – এটা সঠিক শব্দ একেবারেই নয়। তবু সরকারের মন্ত্রী-উপদেষ্টা যারাই “প্রটেকশন” শব্দটা ব্যবহার করছেন। আর এতে তাদের ধরে নেয়া হয়ে গিয়েছে যেন এই সরকারের স্বাভাবিক কাজ হচ্ছে অসৎ, দুর্নীতিবাজ, পাবলিক মানি লুটেরা সরকারী কর্মচারীদেরকে “প্রটেকশন” দেয়া। যার মানে হল, আদালতসহ রাষ্ট্র-সরকারের যেসব প্রতিষ্ঠান অসৎ, দুর্নীতিবাজ, পাবলিক মানি লুটেরাদের আইনের আওতায় আনার জন্য বিচারের দায়ীত্বপ্রাপ্ত এবং স্টাডিং অর্ডারে দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রীয় অফিসগুলো – এরা যেন ততপর না হয়, দেখেও না দেখে বা কেউ “মুক্তিযোদ্ধা শ্রেণী” এই পক্ষের সদস্য বলে অজুহাতে ছাড় দেয় বা এড়িয়ে যায়; এভাবে প্রতিষ্ঠানগুলোকে  খামোশ করে রাখাই যেন সরকারের কাজ। আর তাই এইবার আজিজ-বেনজিরের কেসে তারা ব্যতিক্রম করবে। তারা আজিজ-বেনজিরকে এবার বাঁচাতে যাবে না। যার সোজা অর্থ হল, গত ১৬ বছর সরকার এভাবে চলেছে বলেই  এই “প্রটেকশন” শব্দের উতপত্তি। নইলে দুদক বা আদালত ধরণের প্রতিষ্ঠান এরা তো কনষ্টিটিউশন অনুযায়ী ‘চোর’ ধরার স্টাডিং অর্ডারে দায়িত্বপ্রাপ্ত; মানে এরা এসব অপরাধের বিরুদ্ধে ততপর হতে চাইলে তো কোন মন্ত্রী বা সরকার আদেশ-নির্দেশ দিছেন কিনা সেজন্য অপেক্ষার দরকার নাই। অর্থাৎ এখানে কাউকে অপরাধ থেকে বাঁচাবে, আড়াল করবে যেটাকে “প্রটেকশন” শব্দ ব্যবহার করে তারা বুঝিয়েছেন, কথা বলছেন – এই শব্দ ব্যবহারের তো কোন জায়গাই নাই। কিন্তু গত ১৬ বছর সরকার এভাবেই মুক্তিযোদ্ধা শ্রেণী বা চেতনা শ্রেণী নামে অথবা এই শ্রেণীকে রক্ষার নামে আজিজ-বেনজীর টাইপের লোকেরা বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত ব্যক্তি – এরা যেন কার্যত আইনের উর্ধে – এই ধারণাই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে!  আর তা হয়েছে বলেই এই “প্রটেকশন” শব্দের উতপত্তি হয়েছে। গত ১৬ বছর যে সরকার এমন প্রাকটিস চালু রেখেছে – ত যেন সরকার এভাবে “প্রটেকশন” শব্দ ব্যবহার করে সরকার তার সেই অসৎ প্রাকটিসকেই স্বীকার করে নিল! সরকারের কাজের স্টাইল ও অভ্যাসই আছে বলেই এবার, আজিজ-বেনজির কেসে বলছে তারা “প্রটেকশন” দিবে না! তাই এককথায় সরকারের “প্রটেকশন” শব্দ ব্যবহার  করে সরকারের অসৎ প্রাকটিসকেই যে স্বাভাবিক গণ্য করে ফেলেছে সেটা পরোক্ষে-অজান্তে বলে ফেলেছে। সারকথায় এবারের আজিজ-বেনজির কেসে সরকার যে – অসৎ প্রাকটিসকেই স্বাভাবিক ধরে নিয়ে চলেছে- সেটা করবে না। মানে ব্যতিক্রম করবে, এই হল সরকারের “প্রটেকশন” শব্দের অর্থ ও ম্যাসেজ!

    আবার শব্দের আরো মারপ্যাচ আছে। যেমন উপরে যা লিখলাম সেখানে “প্রটেকশন” শব্দটা নেগেটিভ অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ নাগরিক ও রাষ্ট্রের সম্পর্কের মধ্যে “প্রটেকশন” খুবই ইতিবাচক শব্দ। রাষ্ট্র নাগরিককে সুরক্ষা বা “প্রটেকশন”[protection] দিবে এটাই তো রাষ্ট্রের কাজ। এই মুখ্য উদ্দেশ্যেই তো নাগরিকেরা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছে। অর্থাৎ লক্ষ্যের দিক থেকে “প্রটেকশন ইজ ফান্ডামেন্টাল” – চাওয়াটা এমন। অথচ বাস্তবে এখানে “প্রটেকশন” শব্দটা নেগেটিভ অর্থে ব্যবহার করেছে – অসৎ প্রাকটিসকেই স্বাভাবিক – মনে করা সরকার।  আর তাই, এবার এখান থেকেই  অনেকে দাবি তুলেছে যে অসৎ প্রাকটিস বাদ রেখে ফেলে দিয়ে নাগরিক সুরক্ষাই বরং সরকারের কাজ। এমনকি একটা ব্যক্তি-নাগরিকের নামে বড় শাস্তিযোগ্য অপরাধের অভিযোগ এসেছে এমন যদি হয়ও সেক্ষেত্রেও, ঐ অভিযুক্ত ব্যক্তিকেও “প্রটেকশন” দেয়াই সরকারের কাজ! আর এটাই “প্রটেকশন” শব্দের ইতিবাচক, সঠিক ও উপযুক্ত ব্যবহার। নাহলে কী হবে?
    সরকার যদি সেক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তিকে কোন ফিজিক্যাল আক্রমণ থেকে প্রটেকশন দিয়েই ঐ ব্যক্তিকে আদালতে বিচারের মুখোমুখি না করে তবে তো আবার পাবলিক বিক্ষুব্ধ হবে। আর এক পর্যায়ে পাবলিক হয়ত  নিজেই ঐ অপরাধী-অত্যাচারীকে শাস্তি দিবার জন্য প্রকাশ্যে নিজ হাতে পাবলিক লিঞ্চিং [public lynching]. যাকে আমরা হাটুরে মার বা গণপিটুনি বলি তেমন একটা কিছুতে কথিত অপরাধীর মৃত্যু হয়ে যেতে পারে; যেটা একেবারেই কাম্য নয়।

    আবার একটু পিছনে ফিরব। নয়া মিডিয়া শব্দ আজিজ-বেনজীর এর অর্থ অনেকেই জানলেও এখানে সব পরিস্কার রাখাই ভাল। এখানে আজিজ মানে হল, ২০১৮ সালের হাসিনাকে বিজয়ী ঘোষণার নির্বাচন ঘটানোর নায়ক সাবেক এই সেনাপ্রধান, জেনারেল আজিজ আহমেদ আর, বেনজির মানে হল সাবেক র‍্যাব প্রধান ও পরে পুলিশ প্রধান হয়ে অবসরে যাওয়া বেনজির আহমেদ।  আর এই আজিজ-বেনজীর শব্দযুগল মানে যেন এক দড়িতে ফাঁসি চাওয়া হচ্ছে এমন এক ইঙ্গিতও আছে!  এদুই নামের বিরুদ্ধে কমন অভিযোগটা হল এরা সীমাহীন দুর্নীতি, অবৈধ আয় লুটপাট ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারকারী। যেন এরা, হাসিনার জন্য কিছু বিরাট কাজ করে দিয়েছে আর এরই কিছু “বিনিময়-মুল্য” নিয়েছে তাঁরা!  আজিজের বেলায়, তিনি সেনা প্রধানের পদ-পদবী ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজ সব অপরাধী ভাইদেরকে  নিজ বাপ-মায়ের নামসহ একেবারেই সব ডাহা মিথ্যা তথ্য দিয়ে ন্যাশনাল আইডি আর পাসপোর্ট বানিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন যা, কোন ছোটখাট না মারাত্মক অপরাধের অভিযোগ। এছাড়া পদ-পদবির জোরে যদি এমন করাই যায় তবে আর কোটি কোটি টাকা খরচ করে সরকারের আইডি আর পাসপোর্ট প্রকল্প করার দরকার কী ছিল? আর এর চেয়েও বড় কথা আজকাল আমাদের গ্রামগুলোর যেকোন মানুষও সম্ভাব্য বিদেশগামী প্রবাসী। এই অর্থে দেশ-বিদেশে এর ফারাক অনেক কমে গেছে। মানে হল, “আইডেনটিফিকেশন” – আপনি দেশ বা বিদেশে যেখানেই থাকেন না কেন – আপনি কে, পরিচয় বা রাষ্ট্রীয় আইডেনটিটি কী? এটা এখন একালে খুবই গুরুত্বপুর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের রাষ্ট্র যদি নাগরিক-ব্যক্তির আইডেনটিটির নিশ্চয়তার দিবার অথরিটির ভুমিকার ক্ষেত্রে শৈথিল্য  মানে  ন্যাশনাল আইডি আর পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষেত্রে দেশ-প্রশাসনেরই বিশ্বাসযোগ্যতাই নিচে নামিয়ে ফেলে ধুলায় মিশায়ে নষ্ট করে ফেলেন তবে যেকোন বিদেশি রাষ্ট্রই আমাদেরকে আর গ্রহণ করবে কেন? তারা তো প্রবেশ করতেই দিবে না। সন্দেহ করবে আর সেখান থেকে শুরু হবে আমাদেরকে আরো নিচা চোখে দেখা! আমি নিশ্চিত জেনারেল আজিজ এসব গভীর দিকের নজর করেন নাই; বরং সারা দেশের প্রতিটা মানুষের মৌলিক স্বার্থ পায়ে দলেই কেবলমাত্র নিজ অপরাধী ভাইদের রক্ষাই তাঁর একমাত্র স্বার্থ-জ্ঞান করে সেনাপ্রধান হয়েও এসব কাজ করেছেন।
    আর ওদিকে বেনজির এর কথা বলে শেষ হবে না। কেবল এবার দুদকের আদালতে যে মামলা তাতে অবৈধ অর্থে ৬২১ বিঘার জমির মালিকানার কথা আছে; সাথে অন্যান্য প্রায় সব ধরণের দেশে-বিদেশে সম্পদের কথাও!

    বিবিসি লিখেছে, “আইনজীবীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত আদালত বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের যে সব সম্পদ জব্দ বা ফ্রিজকরার নির্দেশ দিয়েছেন তার মধ্যে আছে ঢাকার গুলশানে চারটি ফ্ল্যাট, ৩৩টি ব্যাংক হিসেব, তিনটি শেয়ার ব্যবসার বিও অ্যাকাউন্ট, প্রায় ৬২১ বিঘা জমি, উনিশটি কোম্পানির শেয়ার এবং ত্রিশ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র”।

    আবার, এছাড়া আদালতের মুল আবেদনে বলা হয়েছে, বেনজির তার সারা চাকরি জীবনের বেতন ও সুবিধাদি সব মিলিয়ে কোন ব্যয় ছাড়াই মোট আয়ের মুল্যমান ২ কোটি টাকার নীচে। অথচ তাঁর যে সম্পত্তির কথা বলা হচ্ছে এর মুল্য কমপক্ষে ৫০০ কোটি টাকারও বেশী। এটা কিভাবে সম্ভব?

    সেখানে বলা হয়, অথচ ৩৪ বছর সাত মাসের দীর্ঘ চাকরিজীবনে বেনজীর আহমেদ বেতন-ভাতা বাবদ মোট
    আয় করেছেন
    এক কোটি ৮৪ লাখ ৮৯ হাজার ২০০ টাকা। এর বাইরে পদবি অনুযায়ী পেয়েছেন আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা।

    বেনজীর ও আজিজদের বিচারের মুখোমুখি করছে আওয়ামী লীগঃ
    এবিষয়ে গতকাল ছিল খুবই এক সিরিয়াস দিন, তা বলা যায়। কেন তা বলছি?
    বেনজিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে রিপোর্ট করেছিল বসুন্ধরা গ্রুপের কালের কন্ঠ, সেই গত ৩১ মার্চ ২০২৪।  তখনও কিছুই জানা যায় নাই যে এই রিপোর্ট থই পাবে কিনা!! এরকম হাইকোর্টের নির্দেশ এস আলমের নামেও এসেছিল। কিন্তু দুসপ্তাহ পরে তা উর্ধতন কোর্টে খারিজ করে দিয়েছিল। কাজেই এসব যে আস্থা বিশ্বাস রাখার মত ঘটনাবলী নয়, আম-পাবলিকের অনুমান এরকমই। এককথায় তারা এটাকে বলে আই-ওয়াস!  কিন্তু এরপরেই এলো জেনারেল আজিজের উপর আমেরিকান পদক্ষেপ এর নিউজ। আর তা থেকেই এক-পা দুই-পা করে আগাতে আগাতে  ওবায়দুল কাদেরের বিবৃতি আসল যে এতে লীগের কোন দায় নাই কারণ তারা অবসরপ্রাপ্ত। কিন্তু সপ্তাহ দুই পরে দেখা গেল অন্যকিছুর ইঙ্গিত! সেটা এলো আবার নয়া অর্থমন্ত্রীর মুখ দিয়ে। এবারের অর্থমন্ত্রী পেশাগত ভাবে কূটনীতিক ক্যাডার, পররাষ্ট্রমন্ত্রীও ছিলেন। কিন্তু এবার তিনি অর্থমন্ত্রী কারণ সরকার ডলার বা বৈদেশিক মদ্রা সংকটে। তাই সারাদিন কাটে তাঁর আমরা পাবলিকলি তাকে দেখি একটা সোফায় তিনি বসে আছেন বা কথা বলছেন দেশি-বিদেশিদের সাথে। অর্থাৎ ডলার আনার কূটনীতি ততপরতায় আছেন তিনি।   এদিকে বাজেটসহ অর্থ-মন্ত্রণালয়ের বাকি কাজে আমরা দেখছি একজন প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেয়া হয়েছে, তিনিই সামলাইতেছেন। মানে কাজ ভাগ করা হয়েছে। তা হোক, কিন্তু আমাদের আগ্রহ অন্য জায়গায়। গত ২৬ মে এই অর্থমন্ত্রী একটা কথা বলেছেন বাজ পড়ার মত। কিন্তু মন্ত্রীর লো প্রফাইল, অরাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্টডের জন্য সম্ভবত সেটা আম-পাবলিক লেবেল আমল করতে রাজি হয় নাই।
    এমনিতে, অর্থমন্ত্রী হিসাবে তাঁর জেনারেল আজিজকে নিয়ে আমেরিকান নিষধাজ্ঞা বা পদক্ষেপ যা নিয়েছে তাতে এর অর্থ তাতপর্য কী – এটা ঠিক অর্থমন্ত্রীর ইস্যু না। আর জেনারেল আজিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ ঠিক অর্থমন্ত্রণালয়ের প্রত্যক্ষ এক্তিয়ার না। বরং দুদক ও আদালত ধরণের অফিসের ইস্যু। কিংবা বড় জোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কিছু যদি নিজের ইস্যু আছে মনে করে। অথচ তিনি বলেছেন – ‘সরকার কিছু করেনি মানে সেনাবাহিনী কিছু করবে’, সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ সম্পর্কে  এটা ছিল অর্থমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া এবং এটাই মিডিয়ার শিরোনাম হয়েছিল!
    সত্যি বলতে কী খবরটা পড়ার পর কিছুটা বিরক্ত লেগেছিল।  কারণ খবরের শুরুর নাইনটা হল, “অবসরে যাওয়ার পরও বাংলাদেশের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী ব্যবস্থা নেবে”। কথা হল, সেনাবাহিনী যদি ব্যবস্থা নেয়ও তো এই সেনাবাহিনী কী অর্থমন্ত্রণালয়ের অধীনে? অবশ্যই না। তাহলে?
    এর মানে অর্থমন্ত্রীর কথা এরপরেও যদি সত্যি হতে হয় তবে এর একটাই অন্য সুযোগ আছে। তা হল, প্রধানমন্ত্রী আর সাথে পুরা ক্যাবিনেট অথবা বিশেষ দু-চারজন মিনিষ্টার মিলে (অর্থমন্ত্রী যাদের একজন) কোন আসরে বসে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যেটার মুখপাত্র অর্থমন্ত্রী হলে বা না হলেও অর্থমন্ত্রীই সেসব কথার উপর দাঁড়িয়ে হয়ত একথাগুলো বলছেন। এমন কথা মনে হবার পিছনে আরেকটা কারণ আছে। প্রথম আলোর ওই রিপোর্টের পরের বাক্য দেখেন। বলছে, “ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়ে” অর্থমন্ত্রী আজ রোববার দুপুরে সচিবালয়ে … কথা বলছিলেন। এছাড়া ঐ একই রিপোর্ট আরেক স্থানে অর্থমন্ত্রী বলছেন,  ‘এখন ঋণখেলাপিদের ধরতে হবে”।

    অর্থমন্ত্রী নিজেই হঠাৎ বলেন, ‘এখন ঋণখেলাপিদের ধরতে হবে।’ এ বাক্য শেষ করার পর চুপ থাকলে সাংবাদিকেরা তাঁকে প্রশ্ন করেন, ‘পারবেন? ঋণখেলাপিরা তো অনেক শক্তিশালী।’ তখন তিনি বলেন, ‘দেখা যাক পারি কি না।
    আপনারা দেখছেন, সাবেক পুলিশপ্রধানের (বেনজীর আহমেদ) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাঁর কি ক্ষমতা কম ছিল?’

    এমনকি তিনি বেনজিরের বিরুদ্ধেও একই ধরণের কথা বলেছেন যে “…সাবেক পুলিশপ্রধানের (বেনজীর আহমেদ) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাঁর কি ক্ষমতা কম ছিল?”।
    এথেকে একটা অনুমান হচ্ছিল যে কিছু একটা হতে যাচ্ছে। কিন্তু অন্তত প্রধানমন্ত্রী নিজে বা না হলে ওয়ায়দুল কাদের এনিয়ে একই ধরণের কিছু বলেন কিনা সেদিকে লক্ষ্য রাখা! হা ঠিক তাই! গতকাল বুধবার ছিল সেই দিন। ওবায়দুল কাদের বলেন,.”..বেনজীর ও আজিজদের বিচারের মুখোমুখি করছে আওয়ামী লীগ: ওবায়দুল কাদের” । আওয়ামী লীগ বিচারের মুখোমুখি করছে – এটা তো একেবারেই নতুন ডায়লগ। কারণ সপ্তাহ-দশদিন আগে এনিয়ে কাদেরের বক্তব্য ছিল, ওরা দুজন এখন অবসরে যাওয়া ফলে সরকারের দায়দায়িত্ব নাই – ধরণের।
    এবং একই দিনে একটিভ আরেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানও একই কথা বলেছেন; আরো তিন মন্ত্রীর সাথে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সভা শেষে মিডিয়ার কাছে। সালমান বলেছেন, (তিনি কাদেরের রেফারেন্সেও কিছু কথা বলেছেন), “বেনজীর আহমেদ ও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদকে সরকার কোনো ধরনের প্রটেকশন [সুরক্ষা] দেবে না এবং দেশের আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে“।

    সালমান রহমানের গুরুত্ব কী ও কেনঃ
    সুনির্দিষ্ট এক্ষেত্রে সালমান রহমানের গুরুত্ব কী? যেখানে বাকি আরো অনেক সালমানের মত উপদেষ্টারা পাবলিক ডিল কমই করেন? এক্ষেত্রে সম্ভাব্য জবাবটা হল, যেকোন কারণেই হোক আমেরিকার সাথে হাসিনার যেকোন ডিল বা কী দিলে কী পাব ধরণের প্রস্তাব চালাচালিটা দৃশ্যতঃ সালমানের মাধ্যমেই করার একটা চর্চা তৈরি হয়েছে। এবং উভয়দেশ বা পক্ষই এটা ব্যবহার করতে আগ্রহী তা দেখা যায়। এটাই সালমনের গুরুত্ব অনেক মন্ত্রী বা ওবায়দুল কাদেরের থেকেও অনেক সময় বেশী ওজনদার হতে দেখা যায়। তাহলে কী দাঁড়ালো?

    দাঁড়ালো যে আজিজ-বেনজীর  এর পক্ষে “নো প্রটেকশন” এর আওয়াজ – এটা খুব সম্ভবত এদেরকে বলির পাঁঠা বানিয়ে ফাঁসিয়ে বা ডুবিয়ে দিয়ে সরকার ভেসে উঠতে চায়, নিজের ক্রেডিবিলিটি বা বিশ্বাসযোগ্যতা ও সক্ষমতা দেখাতে চায়। আর এটার বিনিময়ে আমেরিকার কাছে তাদের কিছু চাওয়ার আছে সম্ভবত!
    যেমন এবার ল্যু এলে পরে সরকার র‍্যাবের [RAB] নিষেধাজ্ঞা তুলতে কী একশন সরকারকে করে বা নিয়ে দেখাতে হবে যেন তাই জানার মহড়া হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছিল। বেনজিরের বিরুদ্ধে একশন এবং সরকার একেবারেই যদি তাঁর হাত ছেড়ে দেয় – এটা তো একটা ভাল পদক্ষেপ হিসাবে সরকার আমেরিকার কাছে তখন এটা বেচতে বা তুলে ধরতে পারে। ওদিকে আবার র‍্যাবের প্রধান বদলাতে আগ্রহ হয়েছে সরকারের। আর কাকে করা হবে তাতে দেখা যাচ্ছে যে আমেরিকার স্যাংশনে খেয়ে বড় দাগী যে সেই-ই যেন বড় ক্যান্ডিডেট – এই নীতি এবার ব্যত্যয় ঘটেছে। নিষেধাজ্ঞা খাওয়া (তখন তিনি পুলিশ প্রধান) বেনজিরকে জাতিসংঘ ভিজিটে যাচ্ছে এই উসিলায় সরকার স্যাংশন খাওয়া বেনজিরকে আমেরিকা ঘুরিয়ে এনে তাতে নিজের সাফল্য দেখেছিল। যার নিট লাভ হলো স্থানীয় আওয়ামী লীগারদের নিয়ে তাঁর এক হোটেল-সভা করা। অথচ তিনি তো তখনও সরকারী কর্মচারি!!! অবশ্য সাথে আর সাথে দাবি করা যে সরকার আমেরিকান স্যাংশন কেয়ার করে না। আমেরিকাকে উপেক্ষা এই ছিল এতদিন সরকারের মূলনীতি! সেজন্যই কী এবার এক ব্যারিষ্টারকে র‍্যাবের প্রধান করা? সংস্কার করা বলে দেখানো?? আমেরিকার সাথে নুন্যতম একটা ওয়ার্কিং রিলেশনে পৌছানো যার লক্ষ্য? তাই কী?  আমরা এটা নিশ্চিত না; তবে এদিকে কী হচ্ছে তাতে চোখ রাখতে পারি।

    এনিয়ে কিছু সহায়ক তথ্য দেইঃ
    আমেরিকান ফরেন পলিসি পত্রিকায় এশিয়া নিয়ে বাইডেন প্রশাসনের পক্ষে সব ঠিকঠাক চলছে কিনা এনিয়ে এক সাপ্তাহিক রিপোর্ট লিখে থাকেন মাইকেল কুগেলম্যান। তিনিও বর্তমানে আলী রিয়াজের জায়গায় তবে বেশী গুরুত্ববাহী আরেক থিঙ্কট্যাংক ফেলো!  তিনি আজ মানে গত ২৯ মের রিপোর্ট শুরুই করেছেন এমন কিছু তথ্য দিয়ে। যেমন তাঁর প্রথম লাইনটা হল, Hasina makes pitch for U.S. investment. হাসিনা আরো আমেরিকান বিনিয়োগ [FDI] চান! তিনি লিখছেন, হাসিনা যতই আমেরিকার উপর সবসময় রাগ ঝারেন না কেন, তিনি আমেরিকান ব্যবসায়ীদের চান, commercial partnership with Washington এর পক্ষে তিনি এখন; দেশের আগামি সত্তর বছরের বার্ষিকী (২০৪১ সালে) আমেরিকান ব্যবসায়ীদের হাত ধরে উঠে উতযাপন করতে চান! [এটাই কী গত সেপ্টেম্বর ২০২৩ সালের ইন্ডিয়া-আমেরিকান পরিকল্পনা ছিল? ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ এর পরের বাইডেনের প্রস্তাব ছিল? ]
    তবে কুগেলম্যান লিখছেন, হাসিনা আমেরিকান ব্যবসায়িক বিনিয়োগ সহায়তা [ এতে ডলার আসবে অন্তত] চান বিশেষত রিনিউএবল এনার্জি, শিপবিল্ডিং, ফার্মাসিউটিক্যাল ও মেডিকেল যন্ত্রপাতি উতপাদনের খাতে! “হাসিনার এই আবেদনের মধ্যে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক আবেদন আছে বলে মনে করছেন কুগেলম্যান! হাসিনা বাংলাদেশের রপ্তানিতে গার্মেন্টেসের ভিত্তি আবার ফিরিয়ে আনতে চান। আমেরিকান বাজার ধরতে চান আগের মত করে ট্যাক্স মুক্ত বা ছাড়দেয়া কিছু ট্যাক্সে রফতানি সুবিধা চান! যেন এটা বড় রপ্তানি খাত হিসাবে আবার উঠে দাঁড়ায়। [আগ্রহিরা বিস্তারিত দেখে নিতে ফরেন পলিসির সাইথ এশিয়া ব্রিফ থেকে।]

    From South Asia Brief:
    “However, Hasina has always strongly backed commercial partnership with Washington, and on Monday she made a strong pitch for greater investment to a visiting delegation of the U.S.-Bangladesh Business Council. Hasina called on U.S. business leaders to help make Bangladesh a “smart nation” by 2041, referring to a developed country driven by innovation and competition. (The year will commemorate 70 years since Bangladesh’s independence.)”
    “Hasina seeks to expand Bangladesh’s export base, and she singled out investment-ready “high-potential sectors,” including renewable energy, shipbuilding, pharmaceuticals, and medical equipment. Such appeals have both economic and political motivations. One of South Asia’s economic success stories, Bangladesh has suffered a slowdown in the past few years, and economists warn that it’s not sustainable to rely so heavily on garment exports.”

    এখানে বলে রাখা ভাল, হাসিনা সরকার বেনজির-আজিজ নিয়ে ঠিক কী করতে চাইছেন, কেন এবং ঠিক কী লক্ষ্যে তা সুনির্দিষ্ট করে আমরা জানি না। আমি কেবল সম্ভাব্য কিছু তথ্য দিলাম এখানে।

    শুধু ডলার সংকটই নয়, আরেক বড় সংকট হল খেলাপী ঋণ সংকট কীভাবে মিটবেঃ
    দুইটা আলাদা ইস্যু – মানে সরকারের ডলার সংকট কোন একশনে মিটে গেলে তাতেও খেলাপি ঋণ সংকট মিটাবে না। কারণ দুটা সংকট আলাদা। সরাসরি ব্যাপারটা ঝেড়ে বলে ফেলতে হবে। খেলাপি ঋণের একমাত্র সমাধান হচ্ছে খেলাপি ঋণ গ্রহিতাকেই ধরে এনে ঋণ আদায় করা। তাঁর যা সম্পত্তি পাওয়া যায় তা আদালতের মাধ্যমে ক্রোক করা – এরপর অর্থঋণ আদালতের কাছ থেকে নির্দেশ ও রায় নিয়ে সম্পত্তি নিলামে তুলে অর্থ আদায় করতে হবে। যারা বিদেশে পাচার করেছে সেসব দেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করে নিয়ে সেসব নিয়োজিত অর্থ দেশে ফিরানোও সম্ভব। একমাত্র এটাই উপযুক্ত পথ।
    যদি এপথে না যাওয়া হয় তবে এর দায় খেলাপী ঋণের অর্থ এই দায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘাড়ে উঠবে। যার অর্থ আরো টাকা ছাপানো যার সোজা মানে আরো মুদ্রাস্ফীতি। যেটা ১৫% ছাড়ায় কোথায় যায় তা অকল্পণীয়। যার পরিণতি হতে পারে গরীব মানুষের খাদ্য কেনার মত সামর্থ বা অর্থ না থাকা, মানে দুর্ভিক্ষ!!! আর ওদিকে অনিয়ন্ত্রিত গণ ক্ষোভ বিক্ষোভ, বিদ্রোহ ইত্যাদির সম্ভাবনা -শ্রীলঙ্কান পরিস্থিতি্র মত ইত্যাদি!!
    কাজেই দুএকটা  আজিজ-বেনজির নয় সবার বিরুদ্ধেই কোনরূপ ফেবার বা ব্যতিক্রম ছাড়াই ব্যবস্থায় নিতে যেতে হবেই। আবার এটা হাসিনার জন্য উভয় সংকট অবশ্যই! যাদের “বঙ্গবন্ধু জিন্দাবাদ” ধ্বনি শুনে হাসিনা ও তাঁর দল আত্মতৃপ্তি নিয়েছেন এরাই তো সেই ঋণ খেলাপী! যতবড় ঋণ খেলাপী তত তার গলায় জোর, উচ্চস্বর!!! কাজেই ঋণ খেলাপীর বিরুদ্ধে একশন মানে এক অর্থে নিজ দলের বিরুদ্ধে হয়ত একশন হবে সেটা!! তাহলে এখন হাসিনা কী এমন একশনে যেতে পারবেন? আমরা কিছুই জানি না। তিনি হয়ত বেছে বেছে আগানোর পথ নিতে পারেন; যেমন বেছে বেছে কিছু লোকের উপরে একশন। কিন্তু এটা একেবারেই ফল দিবে না। কারণ এটা আই-ওয়াশের ইস্যু নয়; মেজর খেলাপী বা পাচারকারিদের অর্থ ফেরত এনে দেখানোর বিষয় এটা। আর এর উপর নির্ভর করছে অর্থনীতি আবার ফিরবে কীনা, কী সে? নাকি এটা মুদ্রাস্ফীতি আকাশ্চুম্বি করবে!!
    অনেক শক্ত হাতে, লম্বা হাতের ডিসিশন লাগবে – হতে হবে এটা!!!

    সব শেষে আলী রিয়াজ প্রসঙ্গঃ
    আলী রিয়াজ আরেক আমেরিকান থিঙ্ক ট্যাংক ফেলো; যিনি স্পষ্ট করতে চান না যে তিনি বাংলাদেশ নয়, বরং আমেরিকান রাষ্ট্রস্বার্থের পক্ষে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন, কথা বলেন। তিনি গত ২৬ মে দেশে এই বেনজির-আজিজ ইস্যুর মুখে কিছু মন্তব্যসুচক বক্তব্য রেখেছেন যেটা প্রথম আলো মতামত-কলামের ঢংয়ে ছেপেছে। পাওয়া যাবে এখানে, আওয়ামী লীগকেই দায় নিতে হবে – এই শিরোনামে।আলী রীয়াজের কথা ঠিকই আছে, এনিয়ে আপত্তির কিছু নাই। কিন্তু তাঁর কথাটা অসম্পুর্ণ। ঘটনার জন্য কী কেবল আওয়ামি লীগই দায়ী? নাকি থিঙ্কট্যাঙ্ক ফেলো আলী রীয়াজ-সহ ২০০৭ সাল থেকে সকল আমেরিকান প্রশাসন ও প্রেসিডেন্ট সকলেই দায়ী?   এর উত্তর না দেওয়াতে বা বিবেচনায় না নেওয়াতে যেন তিনি নিজেকে ও আমেরিকাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন এই লেখা দিয়ে এমন দাড়িয়েছে ব্যাপারটা।
    আলো রীয়াজ যদি বুঝে থাকেন এর দায় আওয়ামী লীগেরই তবে তিনি তো বহু আগে থেকেই জানতেন বা না জানার কোন কারণ নাই যে এর দায় তাঁর এবং আমেরিকান প্রশাসনেরও!
    আবার যেহেতু সেসময় থেকেই তিনি জানতেন তাহলে এনিয়ে কী কিছু লিখেছেন তিনি? জানিয়েছেন তার পাঠককে আজকের মত যে কে  কে দায়ী?
    বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে একটা গভীর গুম,খুন, অপহরণ এর রাষ্ট্র হিসাবে হাজির করা ; সরকারবিরোধী যেকোন ব্যক্তি নাগরিক ও রাজনীতিককে গুম, খুন করা, ভয় দেখানো আর এসবই করা হয়েছে সেই ২০০৭ সাল থেকে; এদের সকলকে কোন প্রমাণ ছাড়াই বাচবিচারহীন এরা সশস্ত্র ইসলামি রাজনীতির লোক অথবা জঙ্গী সন্ত্রাসী বলে ট্যাগ লাগিয়ে দিয়ে। আর হাসিনা যে ২০০৯ সাল থেকে এটাই করবে এই নীতিতে চলবে তাতো আমেরিকা ২০০৮ সালেই হাসিনার স্টেট ডিপার্টমেন্ট সফরের সময় থেকেই জানত। এমনকি হাসিনার ক্ষমতা চর্চার সবঘটনাই তো আমেরিকা প্রশাসন দেখেছে, জানে ও ওয়াকিবহাল থেকেছে কিন্তু মুখে কুলুপ এটে চলেছে। বাংলাদেশের আমেরিকান রাষ্ট্রদুতের আমেরিকার বদলে ২০১৩ সালে ভারতে গিয়ে ব্রিফ নিয়ে আসার কথা কে না জানে? এই ভারত প্রীতির কাফফারা আমেরিকা আজ এড়াবে কী করে?  পরে ঐ ২০১৩ সালের শেষের দিকে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিংয়ের বাংলাদেশ সফর আর এরশাদকে বিরোধি দল বানিয়ে দিয়ে যাওয়া ইত্যাদি করে প্রত্যক্ষ্য ভারতীয় হস্তক্ষেপ এটাক কী তখন আমেরিকার চোখের সামনে ঘটে নাই? এসব সময়ের ঘটনাবলীতে বেনজির-আজিজদের ভুমিকা কী ছিল? এরা কারা ছিল তা কী আমেরিকা প্রশাসন তখন দেখে নাই জানে না? সব আমেরিকান প্রশাসন হাসিনা সরকারের এসব কাজকে – জঙ্গী দমন- বলে কী জায়েজ করে নাই? এসবই কী অর্থহীন ও আত্মঘাতি ইসলামবিরোধীতা, ইসলামবিদ্বেষের ততপরতা আর নয়া ঘৃণা ছড়ানোর ততপরতা ছিল না?  সবচেয়ে বড় কথা এর কোনকিছুই হাসিনা একা করে নাই। সব সময় সে পশ্চিমা অনুমোদন পেয়ে গিয়েছে।  কথিত থিঙ্কট্যাঙ্ক ও আমেরিকান প্রশাসনের এর সবকাজেই প্রকাশ্যে বা গোপনে অনুমোদন ছিল না কী? ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপিকে অংশগ্রহণে প্রলুব্ধ করে টেনে আনা অথচ হাসিনার সাথে তাদের কী গোপন ডিলে আমেরিকান রণে ভঙ্গ ঘটলো? কী কারণে? কেন আমেরিকান রাষ্ট্রদুত অসময়ে ঢাকা ছেড়েছিলেন,  ঐ নির্বাচনের আগে  আচমকা রাষ্ট্রদুত বদল ঘটেছিল কেন?  সেকথা আমেরিকার চেয়ে ভাল কে জানে?
    কাজেই আলী রিয়াজ যেটা বলছেন, আওয়ামী লীগকেই দায় নিতে হবে – সেটা ঠক আছে হয়ত কিন্তু  থিঙ্কট্যাঙ্ক ফেলো গং এবং সব আমেরিকান প্রশাসন এর দায় থেকে দূরে থাকবেন কীভাবে, কেন?

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    [এই লেখা কোন নিউজ নয়, ব্যক্তির নিজস্ব রাজনৈতিক বিশ্লেষণ মাত্র। ফলে পাঠকের এ’লেখা পড়ে কিছুই বহন করা বা মান্য করার বাধ্যবাধকতা নাই। কেবল জানলেন যে এমন একটা মতামত আছে!]

    আপডেটঃ     মে ২০২৪  রাত
    শেষ আপডেটঃ   ০২ জুন মে ২০২৪, সকাল ১০ঃ ৫৭

  • হাসিনা কী আদৌ চীন সফরে যেতে পারবেন?

    হাসিনা কী আদৌ চীন সফরে যেতে পারবেন?
    গৌতম দাস
    ১০ মে ২০২৪  সন্ধ্যা ১৮ঃ ৫৩
    https://wp.me/p1sCvy-5zZ

     

    আমেরিকা আর ভারত দুই সরকারই ক্ষেপে উঠেছে। এরই মধ্যে ডেইলি স্টারকে দিয়ে বা ডেইলি স্টার একটা রিপোর্ট ছেপেছে যেটাকে “গাছে কাঁঠাল গোফে তেল” – রিপোর্ট বলতে পারে কেউ। মানে এটা একটা হবু বা WOULD BE – রিপোর্ট। যেমন আমি আজ দেশের রাজা হলে কী হত – এধরণের রিপোর্ট। গত ৮মে ২০২৪ এর এই রিপোর্টের শিরোনাম “Beyond Dollar: Bangladesh to seek over 36b yuan in Chinese loans” । শিরোনামের শুরুর দুই শব্দ [Beyond Dollar] বোকামির নিদর্শন। এখানে ধরে নেয়া হয়েছে যে চীনের কাছে হাসিনা ডলার ছাড়িয়ে মানে ডলারে নয় ইউয়ানে ঋণ চাওয়ার কথা ভাবছে। আর এখানে ডলার না চাওয়াটা খারাপ বা নেতি দিক। এমন মন্তব্য জুড়ে দিয়ে বা ইঙ্গিত দিয়ে এমন শিরোনাম দেওয়ার দরকারটা কী?  এটা কী ডেইলিস্তার বুঝাতে চায় যে তারা মূলত ইন্ডিয়ার পোঁ-ধরা মিডিয়া ও এমন ফান্ডে চলা মিডিয়া হলেও সরকারের হয়ে এই রিপোর্টটা করছে বলে যেন কেউ এটা তার “সুনামের” বিরুদ্ধ কিছু বলে না মনে করে? এরকম?
    এখানে দুইটা কথা। এক. এটা সোর্স উল্লেখ করে একটা রিপোর্ট মানে সোর্সের মা-বাপ হীন। তার উপর এটা এখনও হয় নাই হতে পারে ধরণের রিপোর্ট। চীনা ইউয়ানে নগদে পাঁচ বিলিয়ন ডলার সমতুল্য অর্থ আদৌ চীন দিতে রাজি হয়েছে কীনা তা আমরা নিশ্চিত না, স্পষ্টও না।  রিপোর্টটা তা দাবি করেও বলতে পারে নাই। বরং এনিয়ে “হবু কথা ও নিগোশিয়েশনে” বাংলাদেশ কী বলবে তা নিয়েই এই (সোর্স ছাড়া) রিপোর্ট। এমনকি যেখানে চুক্তি করতে বসলেও শেষে চুক্তি নাও হতে পারে।  এই সোর্স হীন রিপোর্টই লিখেছে, Chinese minister said his government in principle agreed to it and asked Ahasanul to proceed. মানে চীনা মন্ত্রী নাকি ঋণদানের প্রস্তাব নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন। কিন্তু একথা আমাদের যে মন্ত্রীর নামে লেখা হচ্ছে তা আমাদের মন্ত্রী পাবলিকলি বলেন নাই – কয়েকজন সাংবাদিকের সামলে বা সাংবাদিক সম্মেলনেও বলেন নাই। ফলে বিশ্বাসযোগ্যতা কম। মানে মন্ত্রী অস্বীকার করলে কিছুই করার নাই।
    কথা দুইঃ বাংলাদেশের রিজার্ভ যে তলানিতে ফলে সংকটে তাতে এটা ইউয়ান না ডলার মুদ্রা তা বাছার অবস্থায় সে নাই। যে ভিক্ষা নিতে বের হয় সেই ভিখারির কাছে চালটা অনেক জরুরি; সেটা ময়মন্সিঙ্ঘ না চট্টগ্রামের চাল তাতে কিছু যায় আসে না। তাইলে ডেইলিস্টারের কাছে ইউয়ান আমাদের সরকারের “ডলার ছাড়াইন্না” চাওয়া কিনা একথা মনে করিয়ে দেয়া কেন? এত ডলার ভক্ত রিপোর্টার তাহলে দেখাক,  নগদ পাঁচ বিলিয়ন ডলার কোন দেশ দিতে সক্ষমতা রাখে? বাজারে ডালের দাম যদি চড়া হয় তবে ভাতের প্লেটে ছোট গর্ত করে এরপর ডাল নিতে হয়। তাই না?
    এখন মুল প্রসঙ্গে ফিরব; এর আগে আমার ব্যক্তিগত অনুমান হল, চীন নগদ ইউয়ানে পাঁচ বিলিয়ন ডলার সমতুল্য অর্থ বাজেট সহায়তা দিতে (নীতিগতভাবেও) রাজী হয়েছে এটা এখনও বিশ্বাস-আস্থায় নিবার মত সংবাদ হয়ই নাই। বরং আগামিতে এর সত্য হবার সম্ভাবনা খুবই কম! চীনের হাত ছেড়ে আবার এখন তার কোলে উঠে বসতে চাইলেই তা ঘটার সম্ভাবনা তো প্রায় নাই-ই হবে!

    এসব সত্বেও ডেইলিস্টারের উড বি রিপোর্টের আগে ও পরে দেখা যাচ্ছে, আমেরিকা আর ভারত দুই সরকারই ক্ষেপে উঠেছে। ভারতের সচিব কোয়েত্রা আর আমেরিকার সহকারিমন্ত্রী ডোনাল্ড ল্যু এদের ঢাকা সফর হাসিনার কথিত চীন সফরকে কেন্দ্র করেই বলে অনুমান হয়। পুরান কথাটা হল, ২০২৩ এর কথিত নির্বাচনের আগে এদুই দেশ একসাথ হয়েছিল; হাসিনাকে অবাধে নির্বাচনি প্রহসন করতে দিয়েছিল। নির্বাচনে যাই হোক, হাসিনা নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করেছিল আর এই দেশদুটো তা আয়েশ করে তা দেখে মজা নিয়েছিল। এদের উদ্দেশ্য একটাই যে, কথিত নির্বাচনের পরে – হাসিনার সাথে চীনের কোন সম্পর্ক, ঋণ, প্রভাব কিছুই থাকবে না; তা বাস্তবায়নের কাজে এদুই শক্তি নেমে পড়েছিল।

    আর হাসিনার জীবনের সবচেয়ে বড় নিজেরই পায়ে কুড়াল মারা কাজটা তিনি করে ফেলেছিলেন তখনই। তিনি সেই টোপ খেয়েছিলেন।  এখন তিন মাস যেতেই সেসব বেড়িয়ে আসছে। হাসিনা এখন হাহাকার করছেন চীন, চীন করে! তিনি নাকি চীন সফরে যাচ্ছেন, অথচ কোনপক্ষের  সরকারী ভাষ্যে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু দেখি নাই। কেবল ভারত বলছে তাই বাংলাদেশে  আমরা জেনেছি, আর জপ করতে দেখছি। ভারত কায়দা করে নিজেদের গুরুত্ব জাহির করতে আমাদের জানিয়েছে  এভাবে যে “চীন সফরে যাবার আগে” হাসিনা ভারতে যাচ্ছেন। তো সেটা “চীন সফরে যাবার আগে” কিনা সেটা কী ভারতের বলার কথা? এর এক্তিয়ারই বা কী? এছাড়া অনেকটা যেন ব্রিফ করতে ও অনুমতি নিতে যাচ্ছেন হাসিনা এমনভাবে কথা ছড়ানো হচ্ছে যে কোন সীমার মধ্যে হাসিনাকে চীনের সাথে কথা বলতে / থাকতে হবে? এছাড়াও হাসিনা যে চীন যাচ্ছেনই তা ভারতকে কে নিশ্চিত করল? কেউ জানে না। এমনকি চীনও কী আশা করছে যে এক্সপেকটেড বা আগ্রহি যে তারা হাসিনাকে অতিথি হিসাবে দেখতে চাচ্ছেন? তাও সরকারিভাবে চীনও তা এখনও নিশ্চিত করে নাই। সম্ভাব্য আলোচনার ইস্যু কী হতে পারে তাও কেউ জানে না। তবে ভারতের মুখ দিয়ে প্রচারিত হচ্ছে যে এটা নাকি হবে তিস্তা প্রকল্পের কথা!

    মনে রাখতে হবে গত ২৮ জানুয়ারি ২০২৪ এর পরে চীনের সাথে আমাদের সরকার প্রধান বা উচ্চমহলে কোন দেখা সাক্ষাত আলাপ হয়েছে এমন কেউ জানে না। কেবল গতমাসে একটাই শীতল আলাপের কথা জানা যায় তাও আমাদের সরকারী মিডিয়া সুত্রে। গত ৩ এপ্রিল ২০২৪, চীনা রাষ্ট্রদুত নাকি প্রধানমন্ত্রীর অফিসে না বাসায় এক আমন্ত্রণে দেখা করতে গেছিলেন। যা নিয়ে সরকারী বাসস এর লেখা একটা ভাষ্য “দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে চীনের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী” – এই শিরোনামে কয়েকটা পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল। সেই বাসসের ভাষ্যেও লেখা আছে যে জবাবে “চীনের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন”। যার অন্তর্নিহীত অর্থ হল, বুরোক্রাসির লাল ফিতা; মানে,  আগে ফরমালি অনুরোধ পাঠান এরপর আমরা লাল ফিতায় বাধা ফাইল চাপা দিয়ে সেটা ফেলে রাখব হয়ত!

    কেন বাসসের এই খবরটায় যা কিছু দাবি করা হয়েছে এর বিশ্বাসযোগ্যতা কম?
    মানে এটা ঘরে বসে বানানো ধরণের। কারণ, এর একটা উপ-শিরোনাম আছে – “পায়রায় একটি গভীর সমুদ্র বন্দর হবে এবং চীন সে সুযোগকে কাজে লাগাতে পারে।” – এটা বাংলাদেশের দিক থেকে বলা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু ফ্যাক্টস হল, পায়রায় কোন গভীর সমুদ্র দূরে থাক – চট্টগ্রামের মত ড্রাফটের ছোট জাহাজের বন্দরের জন্য এই লোকেশন উপযোগী না। সেটা সাবেক অর্থমন্ত্রী মুহিত নিজেই মিডিয়ার সামনে বলে গেছেন। মূল কারণ, ঐ বন্দর এলাকায় পানি নাব্যতা খুবই কম আর এরচেয়েও বড় কথা যতটুকু এখন আছে এটা বজায় রাখতে হলেও সবসময় ড্রেজিং করাতে হবে। এই লোকেশনে বন্দর নির্মানে মূল উতসাহি ছিল ভারত। অথচ বিনিয়োগ দেওয়ার কথা উঠলে ভারত ভেগে যায়। আবার চীনা ঋণ যাতে পায়রা প্রকল্পে না ঢুকে এব্যাপারে ততপর ছিল ভারত। শেষ আমাদের রিজার্ভ ভেঙ্গে এই প্রকল্প শেষ করতে হ্যেছে। এই হল গাছে তুলে মই কেড়ে নেওয়া। তাহলে এই মিছা কথা যে পায়রাতে এখন  গভীর সমুদ্র করার উপযোগী – এই মিছা কথা বলা আর তাতে এখন চীনকে বিনিয়োগের জন্য কথিত ডাকাডাকি এটা কী সত্যি?  আমাদের বিরাট সন্দেহ রাখার সুযোগ আছে।

    যাই হোক হাসিনার কথিত চীন সফর – এনিয়ে ভারতের লাফালাফিটাই বেশ বেশি,  যা অনেকটা এমন যেখানে, যাদের বিয়ে তাদের খবর নাই – অবস্থা। মানে হাসিনার কথিত চীন সফর নিয়ে চীন বা বাংলাদেশের এনিয়ে তেমন সরকারি ভাষ্য নাই অথচ পিনাক রঞ্জনকে দিয়ে এতদিন এতে ভারতের চাহিদা কী তা নিয়ে প্রপাগান্ডা চালানোর [আর আমাদের মানবজমিন এসব গারবেজকে মিথ্যা গুরুত্বের hype তুলে রিপ্রিন্ট করেছে ] পরে; এখন ভারতের পররাষ্ট্র সচিবই বাংলাদেশে হাজির যে তারা চীন সফরের আগে হাসিনাকে ভারত সফরের দাওয়াত দিতে এসেছেন। আর চীনের বদলে তারাই তিস্তা প্রকল্প করে দিতে চান এই প্রস্তাব নিয়েও হাজির।

    হাসিনার এখন তিস্তা প্রকল্প বা এমন কোন প্রকল্প নয় দরকার ৫ বিলিয়নের নগদ ঋণ বা বাজেট সহায়তাঃ
    হাসিনার জন্য এখন কঠিন ও নেতি বাস্তবতাটা হল, তাঁর সরকার চরম রিজার্ভ সংকটে। এছাড়াও আবার আদায় অযোগ্য প্রায় প্রত্যেক আওয়ামি ব্যাংকের খেলাপী ঋণের ভারে ব্যাংকগুলোসহ খোদ অর্থনীতিটাই ভেঙ্গে পড়ার অবস্থায়!  কাজেই হাসিনা সরকারের এখন তিস্তা প্রকল্প বা এমন কোন প্রকল্প নয়, দরকার ৫ বিলিয়নের নগদ ঋণ বা বাজেট সহায়তা। এই সুনির্দিষ্ট দিকটা  ভারত বা আমেরিকার অজানা থাকার কোনই কারণ নাই। অথচ তাদের ভাল-ভনিতা দেখেন!  আবার তারা ভয়ে আছে যদি হাসিনা চীনকে তিস্তা প্রকল্প দেওয়ার শর্তে ঋণ নেয়!    মানে হল, হাসিনার দিক থেকে দেখলে  বৈদেশিক মুদ্রার এই কঠিন সংকটে এখন গত তিন মাসে ভুল ও লোভি সিদ্ধান্তে সব হারানো উপলব্দি করে আবার হাসিনা চীনের কথা তোলাতেই এর প্রতিক্রিয়ায়, ভারত আর আমেরিকা দিশাহারা ছোটাছুটিতে ক্ষেপে উঠেছে। এদিকে তাই ডোনাল্ড ল্যু তিনিও আসতেছেন।
    মূলকথাটা হল, ক্যাশ বা নগদ বৈদেশিক মুদ্রা লাগবে হাসিনার বাংলাদেশের; নুন্যতম ৫বিলিয়ন ডলার; যা দশ বিলিয়ন হলে একটা অর্থনৈতিক পুণরুদ্ধারে দিক থেকে ভাল স্টার্ট হয়।  কিন্তু না আমেরিকা না ভারত এদের সেদিকে মন নাই। আর না আছে তাদের মুরোদ বা যোগ্যতা যে এমন বড় অর্থ তারা দিতে পারে অথবা এমনকি এটা আইএমএফ এরও সামর্থ নাই; কাউকে দিয়েছে এমন রেকর্ড আছে জানা যায় না। তাহলে এরা কেন আসতেছেন? হাসিনা চাহিদা আর এই দুই দেশের আনা-গোনা বকোয়াজি তো এক নয়, এক সুরেরও কথা না।
    সবচেয়ে বড় কথা এদুই দেশ আসতেছে হাসিনাকে চীন যাওয়া ঠেকাতে! অথচ হাসিনা কী আসলেই চীন যেতে পারতেছেন? চীনও কী তাকে স্বাগত জানাতে রাজি হয়েছে? কোনটারই কোন নিশ্চয়তা কোথাও নাই! তবুও ভারতের কোয়াত্রা গেলেন, এবার ল্যু আসতেছেন! আর এদের দুজনের কমন দিকটা হল, কারোরই মুরোদ নাই হাসিনাকে কোন নগদ বৈদেশিক মুদ্রা দিবার।

    এবার বিস্তারিততে যাবঃ
    বাংলাদেশকে চীনের প্রভাবশুণ্য করা মানে বাংলা ভাষায়,  চীন ঠেকানো বা বাংলাদেশ থেকে চীন খেদানো – এই হচ্ছে তাদের বিশেষত আমেরিকার মুখ্য টার্গেট আর এই লক্ষ্য পুরণের উপায় সেই “ঘ্যাগের ওষুধ” নাকি এরা পেয়ে গিয়েছে! আর এই খুশিতে আমেরিকা তার ‘গণতন্ত্র ও মানবাধিকার’ প্রতিষ্ঠা আর সাথে ‘স্যাংশন আরোপ’ এর ফরেন পলিসি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রয়োগ ভুলে গিয়ে, ফেলে দিয়ে বরং আমেরিকা হাসিনাকে অবাধে নির্বাচনি প্রহসন করতে গত বছর শেষের দিকে সেই সুযোগ দেওয়ার রাস্তা ধরেছিল। এভাবেই বাংলাদেশকে আবার ভারতের হাতে তুলে দিয়েছিল।

    অথচ গত ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর থেকে আমেরিকা সারা দুনিয়াকে জানিয়ে বিশাল হুঙ্কার তুলেছিল যে বাংলাদেশে তারা ‘গণতন্ত্র ও মানবাধিকার’ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। একাজ করে আমেরিকা সারা দুনিয়াকেই ফকফকা পরিস্কার করে জানিয়ে দিয়েছিল যে ‘গণতন্ত্র ও মানবাধিকার’ আর সাথে ‘স্যাংশন আরোপ’ এসবই নাকি আমেরিকার টার্গেট।

    অথচ এটা মিথ্যা কথা; এটা বাইডেনের ক্ষমতায় আসার আগে পরে এবং গত দুবছর সবসময়ও ছিল ডাহা মিথ্যা কথা। কারণ, আমেরিকার মূল লক্ষ্য আমাদের মত দেশে দেশ উঠতি চীনের প্রভাব ঠেকানো। অথচ এই চীনের প্রভাব ঠেকানো অসম্ভব কারণ এটা অবজেকটিভ – ঘুর্ণিঝড় জলোচ্ছাসের মত ঘটনা।  ইতিহাসের এক একটা সময়ে একেকটা দেশের অর্থনীতি চরমভাবে উদ্বৃত্বের দেশ বা সারপ্লাসের অর্থনীতির দেশ হিসাবে বেড়ে উঠে্ছে। এই সারপ্লাস সম্পদই সে দেশ তখন অন্যান্য দেশে অবকাঠামো ঋণ-অনুদান দাতা ও বিনিয়োগ দাতা হিসাবে হাজির হয়েই যায় – অপ্রতিরোধ্য ভাবে। এটাই আরেক অর্থে আমরা তখন সেই দেশকে গ্লোবাল নেতা, বা গ্লোবাল প্রভাব-ধারী নেতা, ইত্যাদি নানান ভাবে ডাকি। এভাবে ১৯৪৫ সালের পর থেকে আমেরিকা ছিল সেই গ্লোবাল প্রভাবের নেতা। একইভাবে সময় এসেছিল জাপানেরও একসময়, সেই ১৯৬৫ সালের পর থেকে। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে সে আমেরিকান অনুগত থাকতে বাধ্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপান হারুপার্টি বলে আর পরে এর পুণর্গঠনে আমেরিকান কমসুদের বিনিয়োগ সহায়তার জন্য। তাই জাপানের রাজনৈতিক শক্তির দিক আমরা অনুভব করি নাই। বরং অর্থনৈতিক প্রভাবটাও আমেরিকারই যেন – এভাবেই তা প্রকাশিত ছিল। আমরা এমনকি খেয়ালও করি নাই যে এডিবির [ADB] বড় মালিকানা কার?
    আর একালে একই ভাবে এখন এটাই চীনের উত্থানের কাল! তাতে আমরা আমেরিকাকেই ভালবাসি নাকি চীন-কে সহ্যই করতে পারি কিংবা পারি না,  তাতে কোনটাতেই কিছু আসবে যাবে না। এটা চীনা প্রভাব বিস্তারের কাল, এই হল অবজেকটিভ ফ্যাক্টস। কারণ এটা চীনা ঋণ-বিনিয়োগের কাল। এমনকি বিলিয়ন ডলারের অবকাঠামো প্রকল্প চীন মাঙনা করে দিতে পারে নিজ স্ট্রাটেজিক স্বার্থে ও সুবিধা হবে বলে। যেমন পাকিস্তানের গোয়াদর গভীর সমুদ্র বন্দর এটা আসলে চীনের স্ট্রাটেজিক প্রকল্প। এটা পাকিস্তানকে সে মাঙনায় করে দিলেও চীনের তাতেও অমুল্য সুবিধার স্ট্রাটেজিক লাভ হবে। কারণ, চীনের একমাত্র বন্দর কেবল পুব দিকে যেটা মালাক্কা প্রণালি বন্ধ করে দিলে চীনের সব শেষ। তাই সে পুরা উলটা পশ্চিমদিকে যেটা আসলে ১৮ হাজার ফুট উচু পর্বতমালায় ঘেরা সেটা ফুঁরেও চীন গোয়াদর গভীর সমুদ্র বন্দর ব্যবহারের সুযোগ লাভ করে ফেললো। অথচ আমেরিকাই প্রথম মালাক্কা প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে বলে আলাপ তুলেছিল। নিজ সিনেটে (মানে প্রকাশ্যেই পবেষণা পেপার পড়া হয়েছিল) আলোচনা করেছিল। কিন্ত এতে শেষ কার লাভ হল?

    অথচ আমেরিকা জিদ ধরেছে যে চীনের উত্থিত এই প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতার কালে আমেরিকা তার অর্থনৈতিক মুরোদ নাই হয়ে গেলেও নিজ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করা  ও সামরিক সক্ষমতা দিয়ে নিজ অর্থনৈতিক সক্ষমতা সে পূরণ করতে পারবে!! কিন্তু জিদ আর বাস্তবতা এক না। হাসিনার আজকের দুর্দশা আমেরিকান এই জিদ এর পরিণতি।  গত ২৮ জানুয়ারি থেকে আমেরিকা ভারতকে সাথে নিয়ে হাসিনাকে প্রলুব্ধ করতে পেরেছিল দুইটা জিনিষ দিয়ে। একটা হল খুব সম্ভবত ২০৪৫ সাল পর্যন্ত সম্ভবত তাঁকে ক্ষমতায় রাখার লোভ দেখানো। আর দুই, অর্থনৈতিক সংকট যা আছে (যে সংকটটা নিয়ে হাসিনা পরিপুণ্য সজ্ঞান ছিলেন বলেই এবারের নির্বাচনের পর থেকে ১২-২৮ জানুয়ারি চীনের সাথে সখ্যতা ও সফর নিয়ে কথা বলে গেছিলেন। এমনকি – “বাংলাদেশ রিজার্ভ সংকটে পড়লে পাশে থাকবে চীন— রাষ্ট্রদূত”; এমন কথাও উঠেছিল তখন)। কিন্তু এত সবকিছু জানা থাকা সত্বেও – কথায় আছে লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু দশা হয়েছিল হাসিনার। তিনি সম্ভবত সুখস্বপ্ন দেখেছিলেন যে, ২০১৩-১৮ সাল ধরে যেভাবে তিনি ভারতের মাধ্যমে আমেরিকান চাহিদা মিটিয়েছেন; ডিল করে টিকে থেকেছেন তেমন এক স্বর্ণ না হলেও “তামার যুগে” তিনি আবার আরামে থাকতে পারবেন! অথচ তিনি ভুলে গেছিলেন তার অর্থনীতি সংকটে, যাতে নগদ বৈদেশিক মুদ্রা এক প্রধান চাহিদা! যা স্বচ্ছন্দে পুরণ করে দিতে পারবে চীন! কিন্তু সেই চীন কী আর হাসিনার বাংলাদেশের জন্য আছে? না, হাসিনা নিজে সেই হাসিনা আছেন

    তাই বেশী না মাত্র তিন মাস! এই তিন মাসের মধ্যে হাসিনা আর সাথে ভারত-আমেরিকা সবপক্ষকেই বাংলাদেশের অর্থনীতির দুর্দশার সামনে এখন হাজির করে দিয়েছে।  যেটাকে  ২৮ জানুয়ারির পরে ভারত-আমেরিকা নানান চাপাচুপা মেরে হাসিনাকে ভুলিয়ে প্রলুব্ধ করে রেখে দিতে তখন সক্ষম হয়েছিল ; আর হাসিনাও তাতে মিথ্যা ক্ষমতার স্বর্গসুখে  ‘বহল গয়া’ মানে  আউলায়ে ভেসে গেছিল! কিন্তু এখন? ডোনাল্ড ল্যু আসতেছেন তিনি কী করবেন? তিনি কী হাসিনাকে অন্তত ৫ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা যোগাড় করে দিতে পারবেন? সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউএস-এইড এর কোন প্রকল্প কী এমন বড় পরিমাণের বা যা হাসিনা সরকারের জন্য এখন চালু আছে? আমেরিকা লাস্ট কবে কাকে এমন বড় পরিমানের প্রকল্প দিয়েছে?  মনে রাখতে হবে হাসিনার কিন্তু প্রকল্প দরকার নাই, নগদ বৈদেশিক মুদ্রা যা বাজেট সহায়তা নামে আসে তা হতে হবে। আছে আমেরিকার মুরোদ?
    এর সোজা মানে হল, হাসিনা এবং বাংলাদেশের অর্থনীতি – এরা সকলে ডুবে মরে যায় যাক; আমেরিকার টার্গেট একটাই বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ, ঋণ বা প্রভাব ইত্যাদি এসব সে কিছুই দেখতে চায় না!  সে নিজস্বার্থ, নিজ টার্গেট নিয়েই ব্যস্ত থাকতে থাকবে!!!!

    অথচ আমেরিকা ঠিকই জবরদস্তিতে বা প্রলুব্ধ করে হাসিনাকে চীনের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করাতে চায় এটাই আমেরিকার একমাত্র টার্গেট ও বিদেশনীতি।
    একারণের গত বছর মোটামুটি সেপ্টেম্বর থেকেই তাই দানব হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখে দিলে যদি আমেরিকা মনে করে তার লক্ষ্য হাসিল হবে তো সেই করবে – আর এটাই সে করেছিল! তাতে বিগত দুই বছর সে বিরোধী রাজনৈতিক আন্দোলনকে প্রচ্ছন্নে সমর্থন করে চললেও সে এটা ত্যাগ করে চলে গেছিল!  কারণ, শুরুর দিকে আমেরিকার মনে হয়েছিল হাসিনাকে উতখাত করলে তার বাংলাদেশে ‘চীন ঠেকাও’  – এই লক্ষ্য পূরণ হবে। কিন্তু মোটামুটি সেপ্টেম্বর ২০২৩ সালের পর থেকে আমেরিকা বাংলাদেশকে হাসিনার শাসনেই থাক বলে ফেলে পালিয়েছিল। এটা ভারতের নিরন্তর ঘ্যানর ঘ্যানর এর জন্যই হোক অথবা আমেরিকা নিজ লক্ষ্য অর্জন (‘গণতন্ত্র ও মানবাধিকার’ প্রতিষ্ঠা নয় কিন্তু বরং চীন ঠেকানো) অসম্ভব জ্ঞান করাতে মানে তা যেটাই হোক;  আমেরিকা আমাদের ফেলে পালিয়েছিল।

    এক নিঃশ্বাসে বলা পরের ঘটনাবলী হল, ৭ জানুয়ারির কথিত নির্বাচন, পরে ১১ জানুয়ারির মধ্যেই নয়া এমপি, নয়া মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের শপথ গ্রহণও সমাপ্ত। এরপর থেকে ২৮ জানুয়ারি সকাল পর্যন্ত প্রতিদিনের মিডিয়া হেডলাইন ছিল হাসিনার সাথে চীনের সম্পর্ক নিয়ে। নগদ ডলার (বাজেট সহায়তা) সংকট, তিস্তাসহ নতুন চিনা প্রকল্প ইত্যাদির কিছু বাকি ছিল না যা নিয়ে কথা উঠে নাই। আর এর প্রত্যেকটাতেই চীনারা হাসিনা সরকারকে সহায়তা করতে রাজি – এই ছিল সারকথা। এজন্য এমনকি হাসিনা চীন সফরে যাচ্ছেন এর জন্য চীনা আমন্ত্রণও দেয়া হয়ে গেছিল।
    কিন্তু হায়! ঐ ২৮ জানুয়ারির বিকেল থেকেই পরিস্থতি একেবারে উলটা হয়ে যায়। ঐ সন্ধ্যায় ওবায়দুল কাদেরের সাথে দেখা করেছিলেন ভারতীয় রাষ্ট্রদুত প্রণয় ভার্মা। তিনি আসলে সেদিন একা ভারত না ‘আমেরিকার এডভান্স পার্টি’ হয়েও কথা বলেছিলেন। মানে হল, আমেরিকা আমাদের ফেলে পিছটান দিছিল ভারতের সাথে শলাপরামর্শ করে আর তাতে তারা কী সাব্যস্ত করেছিলেন তা বয়ান করেছিলেন। এরপরের এক সপ্তাহের ঘটনা হল, অজিত দোভালের সরকারিভাবে অস্বীকৃত থেকে যাওয়া ঢাকা সফর আর শেষ ৪ ফেব্রুয়ারি হাসিনাকে লেখা নয়া উদ্যোগে একসাথে কাজ করার আগ্রহ জানিয়ে  বাইডেনের চিঠি -ঢাকায় হস্তান্তর।

    আলী রিয়াজের এসাইনমেন্টঃ
    অনেকদিন পরে দেখলাম তিনি ডিপ্লোম্যাটে লেখা ছেপেছেন গতকাল। যার সারকথা একটাই চীনারা খারাপ!
    পুরানা কথা, চীনা ঋণ কত খারাপ আর পরিশোধ অযোগ্য হয়ে গেছে ইত্যাদি।
    আমার মনে হয় না, আলী রিয়াজ কখনও আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের দেয়া ঋণ তলিয়ে গেছে; কেউ শোধ দিতে পারে নাই – এমন একটা ক্যাটাগরির দেশের লিসট আছে যা তিনি স্টাডিকরেছেন। এর নাম HEAVILY INDEBTED POOR COUNTRIES (HIPC) । নেটে সার্চ দিলে পাবেন। যেমন এমনই একটা সাইট হল, এখানে DEBT RELIEF UNDER THE HEAVILY INDEBTED POOR COUNTRIES (HIPC) INITIATIVE।
    এর কথা এখানে আনার মানে হল, এমন অবকাঠামো ঋণ বিতরণ করতে গিয়ে সবারই ব্যর্থতা আছে। কিন্তু সেজন্য যে ঋণ ব্যবসায়ী বা ঋণের জ্বালে ফাঁসানোর দেশ – এসব প্রপাগান্ডার মানে হয়। মানে আমি বলতে চাই, HIPC এর এক্টিভিটি দেখে আলীরিয়াজ নিশ্চয় বলবেন না যে তাহলে  আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক কোন “ঋণ ব্যবসায়ী বা ঋণের জ্বালে ফাঁসানোর” প্রতিষ্ঠান। হাল্কা মন্তব্য না করাই ভাল।

    আলী রিয়াজের লেখার আরেক সারকথা এখানে,

    “China’s influence on Bangladesh increased remarkably after 2009 when the
    relationship between India and Bangladesh has been described as a “golden era.”
    This development juxtaposed with the upcoming joint military exercise of
    Bangladesh and China, and the possibility of Chinese involvement in the 
    Teesta project, indicates that the geopolitical great game in Bangladesh
    will be more intense.”

    তিনি আসলে আমেরিকান স্বার্থের চোখ দিয়ে দেখে লিখেছেন। নিশ্চয় আমাদের রাষ্ট্রস্বার্থ আলাদা; এর উপর আবার হাসিনা নিজেও নিজের ক্ষমতায় থাকবার স্বার্থও এর মধ্যে পাঞ্চ করবেন।

    চীনা ঋণের সাথে চীনের পলিটিক্যাল এজেন্ডা থাকে তাই এটা খারাপ, আর আমেরিকান ঋণ সুচিশুভ্রঃ
    ব্যাপারটা কী তাই?  চীনা ঋণের সাথে চীনের পলিটিক্যাল এজেন্ডা থাকেই আর আমেরিকান স্বর্ণ যুগে যখন সে একাই দুনিয়ার ঋণদাতা ছিল সেই ঋণ সুচিশুভ্র? কোন পলিটিক্যাল এজেন্ডা ছিল না? তাই কী আলী রিয়াজ বলতে চাইছেন?
    তিনি লিখেছেন,  Loans and investments from China, particularly the former, come with a political agenda of increasing its sphere of influence.
    আমারটাই শ্রেষ্ঠ – এই মনোভাব ধারণ করলে এমন সবাইই নিশ্চিহ্ন হবে। শ্রেষ্ঠত্বই হিটলারিজম। এথনিক নির্মুলের পক্ষে আমাদের নিয়ে ফেলবে। কাজেই সাবধান। ঋণ-বিনিয়োগ দিবার সক্ষমতা নিয়ে উপরে অনেক বলেছি। পরিস্কার করে বলেছি সবধরণের ঋণ-বিনিয়োগ দিবার সক্ষমতা এটাই যেকোন দেশের অন্যের উপর কম-বেশি খারাপ-ভাল এবং তা নানান মাত্রার এটা হাজির হবেই। এখানে রাজনৈতিক প্রভাবের বেলায় আমার হলে সেটা ভাল আর চীনের হলে সেটা খারাপ এটাই শ্রেষ্ঠত্ববোধের সমস্যা হয়ে হাজির হবে।
    তবে মজার কথা হল, এই চীনেরই অর্থনৈতিক শক্তি হিসাবে উত্থান এর পিছনে আছে আমেরিকান বিনিয়োগ – ওয়াল স্টিট বিনিয়োগ – যারা সবচেয়ে বেশী এর সুবিধাভোগী;  এখনও চীনের প্রতি তারা উদার। বিশ্বব্যাংকের সস্কারের প্রস্তাব তাদেরই। চীনের নেতৃত্বে ব্রিকস গঠনের বুদ্ধি পরামর্শ রেকমন্ডেশন ছিল তাদেরই।
    তাহলে তখন নিশ্চয় চীনের উপর আরেরিকারও রাজনৈতিক এজেন্ডা ও প্রভাব ছিল? তাহলে সেগুলোচীন টপকাতেও পেরেছিল! সেটা এভাবে বা সেভাবে? কাজেই এগুলো শেষ কথা নয়। আবার ভাল করেলক্ষ্য করবেন রৃণদাতা আর গ্রহিতার মধ্যকার সম্পর্কও আগের মত না। অনেক বদল এসেছে তাতে। যেমন চীনের এব্যাপারে ডায়লগ হল এটা উইন-উইন সিচুয়েশন। না এতা একদম পবিত্র তা বলা আমার উদ্দেশ্য না। আমি কেবল এটুকু বলছি এটা অন্তত আমেরিকার যুগের মত নয়!
    এখন ঋণ নেয়া ছাড়া আমরা প্রাক্তন কলোনি দেশের বিকল্প কী আছে? যেখানে আমাদের নিজস্ব সারপ্লাস দখলদারের লুটে নিয়ে গেছে। আবার আমাদের শাসকেরা ঋণের নয়ছয় করবে সেতা কতটা কম রাখা যায় এভাবেই আমাদেরকে আগাতে হয়। এছাড়া আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের আমেরিকা-চীনের কিনে নেওয়ার অভ্যাস-রেওয়াজও তো আছেই!

    GOLD BACKED CURRENCY -ইংরাজি কথাটার মানে হল, শুরুতে ডলারসহ সব দেশের মুদ্রাই গোল্ড ব্যাকড ছিল। শুরুতে মানে সব মুদ্রাই জন্ম থেকেই। আর এটা ছিল ফিক্সড মুল্যমানের। মানে, আমেরিকান ডলার এর মান ছিল – এক আউন্স সোনা সমান ২৫ ডলার – এই স্থায়ী মূল্যের। ফলে এখনকার মত আজকের ডলারেররেট কী – এমন প্রশ্ন কেউ করত না। আর ডলার ছাপাবনার আগে সেই ব্যাংককে নিজ ভল্টে প্রতি ২৫ ডলার পরিমান নোট ছাপবার আগে এক আউন্স করে সোনা রাখতেই হত। কারণ যেকোন নোতধারী এসে ব্যাংকে সোনা ফেরত চাইলে তা দিতে বাধ্য থাকতে হত।
    আমি আমেরিকান প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের নামে রেফারেন্স দিয়ে কথা বলেছি বহুবার। আজ আবার একটা দিতে হচ্ছে।  তিনি জিতেছিলেন প্রথম ১৯৩২ সালের নভেম্বরের নির্বাচনে। পরের ১৯৩৩ সালের ২০ জানুয়ারি শপথ নিবার পরে তিনিওই প্রথম প্রেসিডেন্ট ডলারের অবমুল্যায়ন করার ঘোষনা দেন। তাতে এক আউন্স সোনার মূল্য হয় ৩৫ ডলার। তাঁর যুক্তি ছিল কথা সত্যও বটে সারা ইউরোপঅই ইতোমধ্যে নিজ নিজ মুদ্রার অবমূল্যায়ন ঘটিয়ে ফেলে৪ছে। মূলত প্রথম বিশ্বযুদ্ধের খরচ মিটাতে না পেরে। আর তা থেকেই ১৯৩০ সালের দুনিয়াব্যাপী যে প্রথম মহামন্দা দেখা দিয়েছিল তা থেকেই সারা ইউরোপের প্রত্যেকটা দেশ এই অবমূল্যায়ন ঘটিয়েছিল। রুজভেল্টের পয়েন্ট হল, তিনি ইউরোপের মুদ্রাগুলোর সাথে নিজ ডলারকে সামতুল্য করতে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।
    পরে এই মুল্যাও স্থিত্মুল্য হয়ে যায়। এমনকি আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক ১৯৪৫ সালে জন্মের সময়ও এই ৩৫ ডলার স্থায়ীমুল্য ধরে প্রতিষ্ঠান দুটা যাত্রা শুরু করেছিল। কিন্তু ১৯৫৮ সালে এসে হঠাত আমেরিকা ঘোষণা দেয় যে সোনা ভল্টে জমা রাখার নিয়ম বাধ্যবাধকতা সে মানে নাই অনেক দিন ধরেই। আর এখন তার আর কিছুই করার নাই।

    সারা দুনিয়া পড়ে এক বিরাট গর্তে। এরই উপায়হীন সমাধান হিসাবে আসে নয়া নিয়ম, মুদ্রার বাজার দর ব্যবস্থা। মানে প্রতিদিনের (সেকালে টপ লেনদেনের) চারটা কারেন্সির মুল্য গড় করে তা আবার ডলারে প্রকাশের এক ব্যবস্থা চালু হয়। যেটা আবার আইএমএফের কারেন্সি [SDR]তে প্রকাশ করা হয়। প্রতিদিনের আইএমএফের সাইটে পাওয়া যায় আজকের কারেন্সি রেট কী। আর এসব নয়া নিয়ম সামলাতে নতুন করে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক এর ম্যান্ডেট লিখতে হয়েছিল সত্তরের দশকের শুরুতে।
    এখন  আমেরিকা রাষ্ট্রের সারা দুনিয়ার কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ – এটা কী আলী রিয়াজ শুনেছেন কখনও! আমেরিকান এই প্রতারণা নিয়ে তাঁর মন্তব্য কী?

    ১/১১ কী? তা বাংলাদেশের সবাই জানে। কিন্ত্য এই ক্ষমতাদখল ঘটিয়ে আমেরিকা বাংলাদেশকে ভারতের হাতে তুলে দিয়েছিল কেন? তাঁর নিজেরও প্রথম ফেলো হিসাবে নিয়োগ সেসময়কালেরই ঘটনা।  কাজেই বাস্তবসম্মত ও একাদেমিক  থেকে কথা বলাই ভাল। নইলে তো ভাড়াখাটা ভাড়াটে মনে হবে। আলোচনা আর আলোচনা থাকবে না।
    কাজেই আমেরিকা সব সততার দৃষ্টান্ত – এমন মনোভাবে না লিখাই ভাল। অবশ্য আপনাকে লেখার এসাইমেন্ট দিলে আর আপনি কী করবেন!!!!
    কী আর করার; বুদ্ধিমান হন, ঠিক কাজটা করেন!

     

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    [এই লেখা কোন নিউজ নয়, ব্যক্তির নিজস্ব রাজনৈতিক বিশ্লেষণ মাত্র। ফলে পাঠকের এ’লেখা পড়ে কিছুই বহন করা বা মান্য করার বাধ্যবাধকতা নাই। কেবল জানলেন যে এমন একটা মতামত আছে!]

  • গত পরশু পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তীর মিথ্যা প্রপাগান্ডা

    গত পরশু পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তীর মিথ্যা প্রপাগান্ডা
    গৌতম দাস
    ৩১ মার্চ ২০২৪ সন্ধ্যা ০৭ঃ ৫৩
    https://wp.me/p1sCvy-5tZ

    ‘ভারতের কঠোর অবস্থানের কারণেই পিটার হাস গা ঢাকা দিয়েছেন’

     

    রাতে বাসায় ফেরার পথে বাঁশ বাগানের নিচ দিয়ে যেতে যেতে পথিক ভুতের ভয়ে উচ্চস্বরে গান গেয়ে থাকে। সে অবস্থা হয়েছে ভারতের পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তীর! পিনাক বাংলাদেশে ২০০৭ সালে, ১/১১ এর শুরুর কালে ভারতীয় রাষ্ট্রদুত ছিলেন। আর, বর্তমানে রিটায়ার্ড সরকারী কূটনৈতিক চাকরি থেকে; তবে এখন নয়াদিল্লি-কেন্দ্রিক এক স্থানীয় থিঙ্কট্যাংক [ORF] এর ফেলো। ভারত সরকারের হয়ে বা র-এর হয়ে বয়ান দিতে তিনি সময় সময়ে ক্ষেপ মারা বক্তব্য দিয়ে থাকেন। এবারও তাই!  সম্প্রতি বাংলাদেশকে নিয়ে তিনি শতভাগ মিথ্যা – যেটাকে ডাহা মিথ্যা বলা হয় – এমন এক বয়ান ছেড়েছেন। পত্রিকার শিরোনামে তা হল, ‘ভারতের কঠোর অবস্থানের কারণেই পিটার হাস গা ঢাকা দিয়েছেন’। আমাদের বাংলা ট্রিবিউন পত্রিকা যেটাকে বলা যায় প্রো-ভারত এজেন্সির দ্বিতীয় প্রজন্ম – এদের পত্রিকা; এরা হাসিনার এই কালে নিয়মিত নয়াদিল্লির এক রঞ্জন বসুর কলাম ছেপে থাকেন।  বসুন্ধরার সময় খারাপ যাচ্ছে; পত্রিকায় অর্থ ব্যয় কমিয়ে দিয়েছে। তাই এবার এমন ফোকাস কাজের কনট্যাক্ট পেয়েছে যেন এই বাংলা ট্রিবিউন। এখানে ছাপা হওয়া প্রোপান্ডা নিউজের শিরোনাম হল  ‘ভারতের কঠোর অবস্থানের কারণেই পিটার হাস গা ঢাকা দিয়েছেন’। এটা লিড প্রোপাগান্ডিস্ট এর খবর। আর বাকি আরো তিনটা পত্রিকাও (যুগান্তর, ভোরের কাগজ,  প্রথম আলো ইত্যাদি) একই খবরটা নিজেরা করছে সুত্রবিহীন গায়েবি খবর হিসাবে তারা ছেপেছে। প্রথম আলোর কায়দাটা মোক্ষম, তারা একই বয়ান কিন্তু দাবি করেছে এটা তাদের দিল্লির প্রতিবেদক সৌম্য ব্যানার্জি এর পাঠানো খবর।

    ঘটনাস্থল দিল্লি কিন্তু আওয়াজ বাংলাদেশেঃ
    ঘটনাস্থল দিল্লি যেখানে পিনাক রঞ্জনের এক বই-প্রকাশ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। তার তাতে সেই বইয়ের খবর পাশে ফেলে রেখে দিয়ে, – এই ডাহা মিথ্যা প্রপাগান্ডাটা ছড়ানো হয়েছে মূলত পিনাক রঞ্জনের মুখ দিয়ে।  আর এই প্রপান্ডা খবরের ব্যাকগ্রাউন্ড বা পটভুমিটা হল বাংলাদেশে ক্রমশ তুঙ্গে উঠা ভারত-বিরোধিতার ক্ষোভ যা ভারতের পণ্য বর্জন নামে শুরু হলেও এখন ভারত খেদাও বলে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করতে চাইছে। রাজনীতিতে যা কিছুই হাসিনাবিরোধী বা সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বা গণ-মানুষের স্বার্থবিরোধী বা অপছন্দের – তাই, একই সাথে ভারতের ইন্ধনে ঘটছে বলে তা ভারতবিরোধীও – এই হল এর প্রধান বক্তব্য – প্রাইম ন্যারেটিভ লাইন অব পলিটিক্স!  আর সর্বশেষ এতে বিএনপি কার্যত পুরাদমে নেমে পড়াতে এর মোমেন্টাম এখন তুঙ্গে উঠেছে!  তা এখনই খোদ হাসিনা সরকার ও মোদির ভারতও দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। অথচ এই পরিস্থিতি তো খোদ সরকারই ডেকে এনেছে।  যেমন  – “ভারত পাশে ছিল বলেই” – নাকি সরকার এখন ক্ষমতায় বলে ভারতকে হাসিনা সরকার নিজের ভগবান বানিয়ে ফেলেছে। এমন বক্তব্যটাই যে সরকারের বিরুদ্ধে যেতে পারে তা সরকার ভাবেই নাই।  এই বাড়াবাড়িটাই কী শেষে নিজেদেরই বিরুদ্ধে  চলে যাচ্ছে – বলে হাসিনা-ভারতের মনে “কু-ডাকা” শুরু করেছে বলে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে!
    আর এই দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতা থেকে বের হতেই সম্ভবত হাজির করানো হয়েছে পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তীকে। আর এবার তাঁর সাথে আছে ইসলাম  বা এনিয়ে এথনিক উন্নাসিকতার প্রতিবিম্ব বীনা সিক্রি। সাথে আমাদের “এক সাবেক” শহিদুল হকও ডাক পেয়ে বর্তে গেছেন; কিছু কাজ পেয়েছেন বেকার জীবনে!

    সবচেয়ে বড় তামাসাটা হল  একটা শিয়ালেরও যে বুদ্ধি আছে – মানে একটা শিয়ালও জানে বাঘ মামাকে কেন মামা বলে তোয়াজ করতে হবে! আবার তাই বলে মামার আসনে বসে নিজেকেই “বনের রাজা” দাবি করা বা ভাব ধরা যে চরম গর্হিত কাজ সেটা শিয়াল পরিস্কার বুঝে! তাই একাজ সে কখনও করে না!  কিন্তু পিনাক রঞ্জন তাও বুঝে নাই। তিনি দাবি করেছেন যেন মোদির ভারতই পরাশক্তি আর পিটার হাসের আমেরিকা হল ভারতের অনুসারি এক স্যাটেলাইট রাষ্ট্র! তাই ভারতের এক হুঙ্কারে –  ভারতের কঠোর অবস্থানের কারণেই– নাকি পিটার হাস হাসিনাকে বিরক্ত করা ছেড়ে একেবারেই পালিয়েছে!!!! যুগান্তর এনিয়ে লিখেছে পিটার হাস নাকি এই হুঙ্কারেই আত্মগোপনে চলে গেছেন।  এই হল আমেরিকার জায়গায় যেন ভারতই হল যে পরাশক্তি – এমন ভাবনায় মোদির দালালটা হলেন পিনাক রঞ্জন!

    ভারতের কঠোর অবস্থান জিনিষটা কীঃ
     এখনও আমেরিকাই এক পরাশক্তি  – তাতে আমরা যতই আমেরিকান অযোগ্যতা তুলে ধরি না কেন; অথবা আমরা যতই প্রমাণ দেই যে আমেরিকার পুরান সক্ষমতা ঢিলা হয়ে যাচ্ছে। আমাদের এসব অবজারভেশন সত্য হলেও আমেরিকা এখনও পরাশক্তি!  এটা মাথায় রেখে আমাদের কথা বলতে হবে। বাইডেনের গত দুই বছরের প্রচেষ্টা ছিল মূলত চীনের বাইরেটাতে এশিয়াকে কতটা চীন-মুক্ত করা যায় এরই প্রচেষ্টা ও পরীক্ষা করতে বসা। তাই এশিয়াকে চীন-মুক্ত অর্থে বাংলাদেশকেও কতটা চীন-মুক্ত করা যায়; এই লক্ষ্যে বাইডেন তিনটা জিনিষ প্রয়োগ করেছিল – গণতন্ত্র, মানবাধিকার আর স্যাংশন।  কিন্তু ডিসেম্বর ২০২৩ ছিল টাইম লিমিট।  আর এই সময়কালের মধ্যে তারা নিজেদের টার্গেট কিছুই তেমন অর্জন করতে পারছেনা  – এটা টের পাবার পরেই তারা ২০০৭ সালের মতই দ্বিতীয়বার বাংলাদেশকে ভারতের হাতে তুলে দিয়ে কেটে পড়ার পথে রওয়ানা দিয়েছে – আমার আগের লেখায় আমি এটাই বলছি। যেটাকে আমরা আমেরিকার ফেলে পালানো বা প্রতারণা বলছি। আর এই বিষয়টাকে আমরা তুলে ধরাতে এই সুযোগে মোদির চামচা  পিনাক রঞ্জন র-এর খেপ মারতে এসে হাজির!  ভারতের ফাঁকা বাহাদুরি যে যেন ভারত হুঙ্কার দিয়েছে বলেই  বা ভারতের কঠোর অবস্থানের কারণেই– নাকি পিটার হাসের আমেরিকা ভাগছে!  ভারতের এসব হামবড়া বা মুই কি হনু রে ভাব এসব মফস্বলি ভাব-স্বভাব সেই নেহেরু আমলের!  যে সবসময় ভাব করতে চায় বৃটিশেরা চলে গেলেও নেহেরুই এখন ভাইসরয় বা রাণীর রেখে যাওয়া প্রতিনিধি!!! অথচ রাণীর শাসন মানে এক ঘৃণিত কলোনি দখলদারের শাসন সেটাই ভারত এখনও বুঝতে পারল না! এসব কথা বার্তা এতই পেটি-সংকীর্ণ যে কথা বলতে অস্বস্তি লাগে। যেমন পিনাক লিখছেন শুনিয়ে দেয়া – বলছেন “কড়া বার্তাটা (আমেরিকাকে) শুনিয়ে দেয়া হয়েছিল”। মানে ব্যাপারটা যেন নিম্ন আয়ের ঘরের বউ-শাশুড়ি বা বউ-ননদের কথা শুনিয়ে দেওয়ার তৃপ্তি…!  কথা শুনানোর তৃপ্তি তিনি কলকাতায় থাকার সময়ে শিখেছিলেন; এখন অভ্যাস হয়ে গেছে! অথচ সেই স্বভাব না গেলেও বনে গেছেন তো কূটনীতিক!!!

    যাহোক আমরা যদি গত ২০২৩ সাল জুড়ে র-এর তিন হাতা-চামচা; মানে সুবীর ভৌমিক, এএমএন আবদি  আর চন্দন নন্দী – এই তিনের কথা মানে তারা এসময়ে যত কিছু লিখেছেন তা পিনাক রঞ্জনকে দেখতে বলি, পরামর্শ দেই –  কারণ, তাদের সেসব লেখাই পিনাক রঞ্জন-কে মিথ্যাবাদি বলে দেখাবে! সেসময়ের এই তিন জন সমানে প্রতিটা লেখায় আকুলিবিকুলি করে গেছে আমেরিকার সমীপে আবেদন করে। যার সার কথা, আমেরিকা তুমি হাসিনা সরকারকে স্যাংশন দিয়ে দিলে বা তাতে এসরকার ক্ষমতাচ্যুত হলে ভারতের আর বাংলাদেশকে চুষে লুটে খাবার গত ১৫ বছরের সুখ সব শেষ হয়ে যাবে। তাহলে এখন পিনাক রঞ্জন কী বলতে চাচ্ছেন এটাই ভারতের কঠোর অবস্থান এর নমুনা???? নিজেকেই এসব আত্ম-প্রতারণা কেন করছেন তিনি?
    এমনকি শেষ লেখায় ফেডারল পত্রিকায় সুবীর মন্তব্য করেছেন – হাসিনা সম্ভাব্য ক্ষমতাচ্যুতির পরে আমেরিকা বার্মার দখল নিলে সেটা নাকি এক []Will US do a Bosnia on Myanmar?….]https://thefederal.com/opinion/will-us-do-a-bosnia-on-myanmar-no-fly-zone-move-may-involve-india/ মানে বসনিয়া কসোভো ম্যাসাকারে এথনিক ক্লিনজিং বা নির্মুল এর মত ঘটনা হবে।  র-এর এই তিন এজেন্ট এর লেখাগুলোই বড় সাক্ষী যে গত ২০২৩ সাল জুড়ে ভারতের অবস্থান আর মুরোদ কী ছিল! পিনাক রঞ্জনের উচিত ছিল আগে কিছু পড়াশুনা করা; না আমাদের লেখা পড়ার কথা বলছি না। এবারের বই প্রকাশের নামে প্রপাগান্ডায় এসাইমেন্ট নিয়ে নামার আগে পিনাক রঞ্জনের উচিত ছিল এটুক হোম-ওয়ার্ক করে আসা!

    সেক্রেটারি ওবায়দুল কাদের কবে থেকে বলা শুরু করেন – “ভারত পাশে ছিল বলেইঃ”
    এটা নিয়েও পিনাক রঞ্জনের সবার আগে স্টাডি করে আসা দরকার ছিল – বিশেষত এবারের এসাইনমেন্ট নিবার আগে!  কারণ, সেটাই পিনাক রঞ্জনের এবারের দাবি যে পুরাটাই মিথ্যা – এরই আরেক অকাট্য প্রমাণ!
    কাদের দাবি করে বলে যাচ্ছেন যে “ভারত পাশে ছিল বলেই” – বিএনপি আমেরিকান সহায়তা নিয়ে নির্বাচন বানচাল করতে পারে নাই! আর একথারই পিনাক রঞ্জনি ভাষ্য হল, ভারতের কঠোর অবস্থানের কারণেই পিটার হাস বাবাজি ভেগে গেছিল।

    কিন্তু প্রশ্ন হল তাহলে কাদের কবে থেকে মানে কবে প্রথম বলা শুরু করলেন যে “ভারত পাশে ছিল বলেই” – …?
    আর সাথে দুইটা প্রশ্ন। কাদের কী নির্বাচনের আগে থেকে বলা শুরু করেছিলেন, না পরে? প্রশ্ন দুইঃ পরে হলে ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের কতদিন পরে?
    জবাদটা আগেই জানায় দেই। কাদের একথা বলা শুরু করেছেন ২৮ জানুয়ারি ২০২৪ থেকে।  মানে ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের পরে। এবং নির্বাচনের  প্রায় তিন সপ্তাহ পরে।

    তাই, এর জবাব হাতে গুনে বলে দেয়া সম্ভব।  ওবায়দুল কাদের “ভারত পাশে ছিল বলেই” – এটা বলাটা নির্বাচনের আগে বলেন নাই। এমনকি নির্বাচনের পরে বা ৭ জানুয়ারির পরে পরেও না। এককথায় বলা যায়, ২৮ জানুয়ারি ২০২৪ এর আগে কখনই কাদের বলেন নাই।

    কেন?
    এবার ধারাক্রমে বলে দেয়া যাক!
    ১। ৮ জানুয়ারি ২০২৪ প্রথম ভারতীয় রাষ্ট্রদুত প্রণয় ভার্মা, হাসিনাকে ফোন করে কেবল নির্বাচনী বিজয়ে অভিনন্দন জানাতে পেরেছিলেন। যদিও এই খবরটুকুও দাবি করেছে কেবল আনন্দবাজার তাদের ইংলিশ ABPlive এর দাবি করা সেটা  – Indian Envoy Calls On Bangladesh PM Hasina After Her Election Victory For 5th Term। তাও আবার কিছুটা মিথ্যা দাবি আর চাতুরিতে এটা করা হয়েছে। যেমন শিরোনামে দেখেন Calls On আছে যার অর্থ কারও সাথে গিয়ে দেখা করা। এমনকি এই নিউজে একটা ছবি ব্যবহার করা হয়েছে যে হাসিনার সাথে প্রণয় ভার্মা কথা বলছেন। কিন্তু এটা কোনভাবেই কোন কল অন Calls On নয়, এটা ছিল ফোনে কথা বলা আর ঐকথার বিষয়বস্তু হল সংক্ষিপ্তভাবে নির্বাচনী বিজয়ে অভিনন্দন জানানো।  অর্থাৎ কাদেরের “ভারত পাশে ছিল বলেই” .অথবা পিনাকের ভারতের কঠোর অবস্থানের কারণেই ইত্যাদি বলার সময় সেটা ছিল না। অথবা কোন মিডিয়াও এটা দাবি করে নাই।

    ২। পরের সাক্ষাত সেটা ঠিক সাক্ষাত না, ১৪ জানুয়ারি ২০২৪ সম্প্রীতির বাংলাদেশ নামে ভারতীয় কিছু পরিচিত বাংলাদেশি এজেন্টদের খুশি প্রকাশ। সারকথায় প্রণয় ভার্মা সেখানে সরকারের কারও সাথে কথা বলেও যান নাই। ‘মিট দ্যা সোসাইটি’ শীর্ষক আলোচনা  – এনিয়ে একমাত্র ইত্তেফাক এখানে বিরাট সার্ভিস দেয়া এক রিপোর্ট করেছে।

    ৩। পরের সাক্ষাত একেবারে ১৫ জানুয়ারি ২০২৪। বাংলাদেশ-ভারত দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাত; কারণ ওটা ছিল এর আগেই ১১ জানুয়ারিতে শপথ নেয়া নয়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদের সাথে প্রণয় ভার্মার প্রথম সাক্ষাত। কিন্তু সেখানেও কথাবার্তায় মুখ্য বিষয় কী ছিল? সেটাও – কাদেরের “ভারত পাশে ছিল বলেই” .অথবা পিনাকের ভারতের কঠোর অবস্থানের কারণেই ইত্যাদি কোন প্রসঙ্গ ছিল না। এনিয়ে সরকারি বাসসের নিউজের শিরোনাম, দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্যে টাকা-রুপি ব্যবহারের উদ্যোগ প্রশংসনীয় : সৌজন্য সাক্ষাতে এলে প্রণয় ভার্মা’কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী – অর্থাৎ এখানেও এটা কাদের বা পিনাক রঞ্জনের দাবি করা ইস্যু নাই।  এই ইস্যুতে বনিক বার্তার রিপোর্ট এর শিরোনাম দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো গতিশীল হবে -ভারতীয় হাইকমিশনার যার মানে হল ভারত এখানে “উন্নয়ন অংশীদারত্ব” হতে চলে গেছে। কোনই রাজনৈতিক ইস্যু এটা ছিল না। অর্থাৎ প্রণয় ভার্মা খুজে পাচ্ছিলেন না ৭ জানুয়ারির পরে কী নিয়ে বাংলাদেশের সাথে কথা শুরু করলে তা সঠিক হবে।

    ৪।  এরপরেই একেবারে ২৮ জানুয়ারী ২০২৪।
    এদিন থেকেই কাদের ও প্রণয় ভার্মা  উভয়েই কথা মানে কথা বলার ইস্যু – খুঁজে পাওয়া শুরু করতেন।  দেশ রুপান্তর এর শিরোনাম, নির্বাচনের সময় ভারতে আমাদের পাশে জোরালোভাবে দাঁড়িয়েছিল। এরপর কালবেলা এর শিরীনাম –  অবিশ্বাসের দেয়াল ভেঙেছেন দুদেশের প্রধানমন্ত্রী : ওবায়দুল কাদের। এরপর  টিবিএস এর রিপোর্ট-  India stood beside Bangladesh when BNP tried to foil polls with another country’s help: Quader । কেন ডেইলি স্টার এর শিরোনাম – India played its part as ‘honest neighbour’: Quader । এর সোজা মানে হল, কাদের এর আগে জানতেনই না যে  আমাদের কথিত ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে-পরে “ভারত পাশে ছিল বলেই” – কিনা?
    একইভাবে পিনাক রঞ্জনও জানতেন না যে   ভারতের কোন কঠোর অবস্থানের কারণেই ইত্যাদিতে আমেরিকার পিটার হাস পালিয়ে গেছিলেন কিনা!!

    চীন আর চীন-ময়ঃ
    ৭ জানুয়ারি নির্বাচন হয়েছিল। সেই থেকে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন আমাদের মিডিয়া শিরোনামে চীন থেকেছিল।

    ধারাক্রমে সেসব খবরঃ
    ১। ২২ জানুয়ারি বিডিনিউজ চীনা রাষ্ট্রদুত আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালের সাথে দেখা করেছেন সেই রিপোর্ট
    ২। ২২ জানুয়ারি   নয়াদিগন্ত আরেকটা রিপোর্ট নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশিক্ষণের পরিধি বাড়াতে চীনের প্রতি অনুরোধ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

    ৩। ২৫ জানুয়ারি আরেক রিপোর্ট ‘শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রী পুনর্নির্বাচিত হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত ছিলেন শি’ – হাসিনার সাথে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধির সাক্ষাতে। এটা বাসসের রিপোর্ট ছাপিয়েছে যুগান্তর।

    ৪। ২৫ জানুয়ারি আরেক রিপোর্ট বাংলা ট্রিবিউন, চীনের কাছে আরও সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

    ৫। ২৮ জানুয়ারির বনিক বার্তার রিপোর্ট বাংলাদেশ রিজার্ভ সংকটে পড়লে পাশে থাকবে চীন— রাষ্ট্রদূত
    ৬। ২৮ জানুয়ারি আরেক মারাত্মক নিউজ হাসিনার চীন সফরের দাওয়াত নিয়ে, China invites PM Hasina on official visit to Beijing। মজার কথা হল এটা সরকারি রিপোর্ট। মানে বাসসের করা রিপোর্ট যা ছেপেছে ইংলিশ ট্রিবিউন।

    ৬। ৩০ জানুয়ারি বিবিসি বাংলা (এরা বাংলাদেশের ভিতরের রিপোর্ট ছাপতে ছাপতে দেরি করে ফেলে তাই) বাংলাদেশ রিজার্ভ সংকটে পড়লে চীন ‘পাশে থাকবে’ কীভাবে?

    তাহলে সারকথাটা কী দাড়ালোঃ
    মূলকথাটা হল, পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী ডাহা মিথ্যা বলছেন। এর সোজা মানে হল, ৭ জানুয়ারি কথিত নির্বাচনের আগে-পরে ভারতের হুঙ্কারে পিটার হাসের আমেরিকা ভেগে গেছিল – এটা পুরাটাই মিথ্যা দাবি।  বরং ৭ জানুয়ারির আগে ভারত অসহায়ত্ব প্রকাশ করে গেছে, আক্ষেপ করেছে।  আর সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ হল, নির্বাচনের পরের বিশদিন। প্রতিদিনের সংবাদের শিরোনাম হয়ে থেকেছিল চীন। গত ১১১ জানুয়ারি নয়া মন্ত্রীরা আর সংসদ সদস্যরা সকলেই নিজ নিজ শপথ গ্রহণ এবং নয়া মন্ত্রীসভা গঠন সব সম্পন্ন করে ফেলেছিলেন। সেই থেকে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চীন ছিল সব খবরের উপরে আর তা প্রতিদিন!

    কিন্তু হায় ২৮ জানুয়ারি ২০২৪ ছিল জংশন পয়েন্ট।    ঐদিনের পরে আর চীনের সাথে সরকারের কোন সম্পর্ক আলাপ দেখা সাক্ষাতের খবর মিডিয়ায় আর দেখা যায় নাই। মানে এসব ঘটেছে এমন কোন সংবাদ নাই। সোজা কথায় এসব আর ঘটে নাই। বরং একই ২৮ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি ওবায়দুল কাদের সিঙ্গাপুর থেকে ফিরে ঢাকায় প্রণয় ভার্মার সাথে সাক্ষাত করেন। আর এরপর থেকে সব কিছু ঘুরে যায়। মজার কথা হল, ২৮ জানুয়ারি নিয়ে মিডিয়া রিপোর্টগুলো ছোট দুলাইনের। কিন্তু দিনশেষে সরকারি ভাষ্যটা আসে। যেটা সরকার UNB কে দিয়ে প্রকাশ করে। আর এতে মিডিয়ায় প্রাণ আসে। কারণ নাহলে অনুমিত কানাঘুষা শোনা দিয়ে রিপোর্ট হয় না। যেমন এজন্য ডেইলি স্টারের বড় রিপোর্টটা ২৯ জানুয়ারির।
    আর এই সরকারি ভাষ্য থেকেই শুরু হয়েছিল ভারত পাশে ছিল বলেই নির্বাচন নিয়ে কোনো দেশ অশুভ খেলার সাহস পায়নি :। যদিও ২৮ জানুয়ারির পরেই বক্তব্যটা এমন ছিল না। এমন বক্তব্য এসেছে আরো পরে ১৬ মার্চ ২০২৪। আর এর আগের বক্তব্যটা ছিল “India stood beside Bangladesh when BNP tried to foil polls with another country’s help: Quader – এরকম। এটাই ছিল খাটী সরকারি ভাষ্য। কারণ এটা টিবিএস UNB কে সরকারের প্রকাশিত বক্তব্যটাই হুবহু ছেপেছিল।  আর একই UNB এর সরকারী ভাষ্যই তবে অন্য অংশ থেকে তুলে এনে শিরোনাম করেছিল কালবেলা  অবিশ্বাসের দেয়াল ভেঙেছেন দুদেশের প্রধানমন্ত্রী : ওবায়দুল কাদের।
    প্রশ্ন হল, এখানে ২৮ জানুয়ারি কাদের কারকথা বলেছেন যার সাথে হাসিনার অবিশ্বাসের দেওয়াল ছিল??

    উত্তর সহজ। পিনাক রঞ্জন যদি দাবি করতে চান নির্বাচনের আগেই –  “ভারতের কঠোর অবস্থানের কারণেই পিটার হাস বাবাজি ভেগে গেছিল”।  তাহলে এখন ব্যাখ্যা দেক উনি যে কাদের কেন ভারতের সাথে অবিশ্বাসের দেওয়ালের কথা বলছেন? অর্থাৎ অবিশ্বাস যে ছিল এটা তো পরিস্কার। এখানে অবিশ্বাস মানে হল আস্থাহীনতা যে ভারত কিছুই করতে পারলো না! এছাড়া আমরা উপরে দেখলাম ২৮ জানুয়ারির আগে ভারত কোন বোলচাল দাড় করাতেই পারে নাই।
    বরং এরপর ভারতের অজিত দোভাল এসেছেন ৫ ফেব্রুয়ারির আশেপাশের সময়ে। কারনে তার সফর নিয়ে আমাদের সরকার কোন পাবলিক বক্তব্য দেয় নাই। তবে কিছু কিছু পত্রিকায় অনুমিত নিউজ দেখা গেছে যেমন নিউ এজ এরটা – Ajit Doval completes brief visit to Bangladesh – ।
    আর এরপর থেকেই হাসিনা সরকার চীনের হাত ছেড়ে গাট্টিবোচকা নিয়ে ভারতের কোলে উঠা সম্পন্ন করেছিল।

    কিন্তু সাবধান! অনেকেই মনে করবেন হয়ত যে,  বুঝাই যাচ্ছে এরপর থেকেই পিনাক রঞ্জনের কাহিনী শুরু হয়েছে!! তাই কী????

    না সেটাও একেবারেই মিথ্যা।  কারণ এটা কোন পিটার হাসের আমেরিকাকে কোন “ভারতের কঠোর অবস্থানের কারণেই – ছিল না। বরং উলটা হাসিনা সরকারের ভারতের কোলের পক্ষে ভারতের সমর্থন প্রকাশিত হয়েছিল ঐ একই ৫ ফেব্রুয়ারিতে। বাইডেন চিঠি লিখেছিলেন হাসিনাকে যেতা পিটার হাস সরকারকে পৌছে দিয়েছিলেন। অজিত দোভালের সফর আর পরে বাইডেনের আপোষের চিঠি সবটা মিলিয়েই হাসিনা চীন ত্যাগ করেছিলেন।
    আর এখন চান্স মত পিনাক রঞ্জন চাপাবাজির ঝুলি নিয়ে হাজির হয়েছেন – আমেরিকাকে কথিত ধমকদাতা হয়ে!

    আর সেই সাথে , কমপক্ষে গত ১৭ বছর ধরে “ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক” এক মহান অথবা চিরায়ত অথবা আমরা আমরাই তো ইত্যাদি ধরণের অসংখ্যা মিথ্যা আবেগ তুলে বারবার, ভাষ্য খাড়া করে গেছে ভারত; যার সার কথা হল বাংলাদেশ ভারতের সম্পত্তি বা ভারতের কলোনি। ভারতের এই  মনোভাবকে আমাদের কবর দিতে বন্দোবস্ত করতে হবে।
    এককথায়, ভারত আমেরিকার যৌথ উদ্যোগেই  হাসিনা সরকার চীনের হাত ছেড়ে গাট্টিবোচকা নিয়ে ভারতের কোলে উঠা সম্পন্ন করেছিল।  আর এটাকেই পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তীর মত মফস্বলী ভেবেছেন তিনি এখানে ডাহা মিথ্যা এক চাপাবাজি করলেও কেউ বুঝতে পারবে না। তাই ভারতের আমেরিকাকে ধমক দেয়া বা ভারতের কঠোর অবস্থানের কারণেই – বলে ডাহা মিথ্যা গল্প সাজিয়েছেন।

    তবে এসব যাই হোক হাসিনা-মোদি দুই সরকারেরি অনিশ্চয়তা টেনশন ক্রমশ বাড়ছে ভারত খেদাও পরিস্থিতিতে জনমত কী তারা নিজেরাই ডেকে আনলেন? এই ডেকে এনে কী তারা ভুল করলেন?
    বাকিটা আগামিতে……।

     

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    [এই লেখা কোন নিউজ নয়, ব্যক্তির নিজস্ব রাজনৈতিক বিশ্লেষণ মাত্র। ফলে পাঠকের এ’লেখা পড়ে কিছুই বহন করা বা মান্য করার বাধ্যবাধকতা নাই। কেবল জানলেন যে এমন একটা মতামত আছে!]

    আপডেটঃ     মার্চ ২০২৪ ০৭ঃ ১৯   সন্ধ্যা
    আপডেটঃ     মার্চ ২০২৪ ০৮ঃ ১০   রাত

     

  • মোদি-চন্দ্রচূড়ের আদালত কী বাংলাদেশের জন্য ‘মডেল’ প্রশিক্ষক হতে চায়?

    মোদি-চন্দ্রচূড়ের আদালত কী বাংলাদেশের জন্য ‘মডেল’ প্রশিক্ষক হতে চায়?
    গৌতম দাস
    ০৩ মার্চ ২০২৪  সন্ধ্যা ০৬ঃ ৫৭
    https://wp.me/p1sCvy-5sa

     

     

     

    একটা অন্যায়-অপরাধের প্রতিকার বলতে আরেকটা অন্যায় করা নয়! কিন্তু মানুষের জিঘাংসা এতই তীব্র, সে প্রতিহিংসার আগুনে এতই সাইকো যে মানুষ সে পথেই যায়!
    আর নিজের করা বর্তমানের অন্যায়-অপরাধের সাফাই হিসাবে সে আগে তার উপরে ঘটা অন্যায়-অপরাধকে হাজির করে!  তাতে কিছুই মুছে না, দুটাই অন্যায়-ই হয়ে জ্বল জ্বলে থেকে যায়!

    গত সপ্তাহে ২৩-২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট আয়োজিত ঢাকার এক অনুষ্ঠানে ভারতের সুপ্রীম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ধনঞ্জয় যশোবন্ত চন্দ্রচূড়-কে [CJI  D. Y. CHANDRACHUD]  দাওয়াত দিয়ে আনা হয়েছিল। অফিসিয়াল দাওয়াত কার্ডের লেখা অনুসারে ব্যাপারটা ছিল – “The supreme Court of Bangladesh is going to organize an international conference on “South Asian Constitutional Court in The Twenty-First Century: Lessons from Bangladesh and India” on 23 & 24 February 2024. The valedictory scession of the conference will be held on 24 February 2024, at 10:00AM at the Bangabandhu International Conference center (BICC). – এরকম।
    মানে হল এই আন্তর্জাতিক কনফারেন্স আয়োজন করা হয়েছে; যদিও এতে অংশগ্রহণকারী কেবল ভারত ও বাংলাদেশ। আবার বলা হয়েছে, এটা দক্ষিণ এশিয়ার কনষ্টিটিউশনাল কোর্টের অভিজ্ঞতা নিয়ে আলাপ; যেখানে আবার কেবল ভারত আর বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা-পাঠ [lessions] নিয়ে আলোচনা হবে। কিন্তু ঘটনা হল, দক্ষিণ-এশিয়া বলতে কেবল ভারত-বাংলাদেশই বুঝায় না। এভাবে ভারত কখনই তার দক্ষিণ-এশিয়ার ধারণা বাস্তবের সাথে মিলাতে না পারলেও একই কান্ড করে থাকে! আসলে ঘটেছে যেটা ভারতের মিথ্যা আধিপত্যের খপ্পরে পড়েছে বাংলাদেশ! আর সেটা ঢাকতেই এটা “দক্ষিণ-এশিয়ার ব্যাপার” বলে নোংরামি ঢেকে রাখার ভারতের এই অক্ষম প্রচেষ্টা!

     

    অনুষ্ঠানের আরো দৃষ্টিকটু দিকঃ
    ঘটনার আরো সব মারাত্মক দিক আছে। সবচেয়ে দৃষ্টিকটু হল, একটা জুডিশিয়ারি ক্ষমতা তা যেন এক্সিকিউটিভ (বা প্রধানমন্ত্রীর) ক্ষমতার অধীনে আছে ও থাকতে হবে এই অনুমানে দাঁড়িয়ে সবকিছু আয়োজন করা হয়েছে। কোন রাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী বিভাগের অধীনে থাকে না। রাখা যায় না। বিচার বিভাগ জনপ্রশাসন বিভাগের মত নির্বাহি-প্রধানমন্ত্রীর অধীনের কোন প্রতিষ্ঠান নয়, পুলিশ বা সামরিক বিভাগের মতও নয় যে এসব অফিস বা বিভাগের মত বিচার বিভাগও প্রধানমন্ত্রীর অধীনের কোন সরকারি অফিস-প্রতিষ্ঠান নয়। তাহলে এটা আর রিপাবলিক রাষ্ট্র থাকে না! জনগণই ঐ প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতার উতস  তা আর কার্যত থাকে না!
    সেপারেশন অব পাওয়ার” বা বিচার বিভাগকে প্রধানমন্ত্রী (বা রাজার) নির্বাহী ক্ষমতা থেকে বিচ্ছিন্ন বা আলাদা করার কনসেপ্ট এটা ইউরোপে রাজতন্ত্রের আমল থেকেই চালু এক পজিটিভ ধারণা। অর্থাৎ পরবর্তিতে জনগণই সব শাসন ক্ষমতার উতস – যেটাকে ঐ শাসন ক্ষমতার উতস কোন রাজা-বাদশা নয়; তাদের ডায়নেস্টির বংশ-পরম্পরা বা রাজার ছেলে রাজাও আর নয় এমন নয়া এই রিপাবলিক রাষ্ট্র ধারণার মুলকথা চালু হয়েছিল। বলা হয় যা রাজতন্ত্র ব্যবস্থাকে নির্মুল করে ক্ষমতা নিয়েছিল – সেই রিপাবলিক রাষ্ট্র ধারণা আসার আগেই এটা চালু হয়েছিল যে বিচার বিভাগকে রাজার (বা পরে সমতুল্য নির্বাহী প্রধানমন্ত্রীর) ক্ষমতা থেকে  আলাদা বা সেপারেট করতেই হবে। নইলে বিচার করা অর্থহীন। নির্বাহী ক্ষমতার শাসকের মুখ চেয়ে যে রায় দেয়া হয় ওটা বিচার নয়!

    তাই একালে রিপাবলিক নামে এক বাংলাদেশ রাষ্ট্র বা জনগণের শাসনের নামে কিছু একটা চালু আছে আমরা দেখছি  অথচ কিছু লোক মনে করছে যেন বিচার বিভাগও সর্বময় ক্ষমতার প্রধানমন্ত্রীর বাইরে থাকে কী করে?? অধীনেই তো থাকা উচিত! বিএনপি-জামাত জঙ্গীবাদ ঠেকাতে নির্বাহী প্রধানমন্ত্রীর অধীনেই বিচার বিভাগ গড়তে হবে যারা সহি মনে করছেন এটা তাঁরা গড়ে তুললে সেটা প্রধানমন্ত্রীর মুখ চেয়ে বিচার ও রায় দিবার এক বিচার বিভাগই হবে! এর বাইরে কিছু হবার সুযোগ নাই! এমনিতেই যেটা নিয়ে সরকার-বিরোধী যেকোন নাগরিকের ইতোমধ্যেও অভিযোগ করে আসছে। আমাদের বিচার বিভাগকেই ঢেলে সাজাতে হবে বলে মনে করে এমন অভিযোগকারিরা! সেখানে সুপ্রীম কোর্ট আয়োজিত এই কনফারেন্স আসলে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগকেই পুষ্ট করল!

    এই আয়োজনে দৃষ্টিকটু ঘটনার শেষ নাই। যেমন প্রধানমন্ত্রীকে প্রধান অতিথি করে আনা হয়েছে। অথচ ব্যাপারটা মূলত দুদেশের সুপ্রীম কোর্টের এক অনুষ্ঠান মাত্র।  কোর্ট যেকোন নির্বাহী (প্রধানমন্ত্রীর) ক্ষমতা থেকে দুরে বা আলাদা থাকবে সেটাই স্বাভাবিক হত। অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে তারা এনেছে হয়ত সেটা বড় সমস্যা হত না যদি নিজ পরিমিতবোধে প্রেসিডেন্ট – তিনিও কোন রাজনৈতিক বক্তব্য আনছেন না বা এড়িয়ে গেছেন। এরপর থেমে যাওয়া উচিত ছিল।  কারণ, কোন চীফ জাস্টিস প্রধানমন্ত্রীর সাথে এক আসরে হাজির থাকেন না – খুবই সীমিত ও নির্দিষ্ট কিছু আনুষ্ঠানিকতার আসর ছাড়া!  প্রধানমন্ত্রী আর বিচার বিভাগের ক্ষমতা আলাদা – এটা সব জায়গাতেই প্রতিষ্ঠিত রাখতেই হয়!

    পুর্ব-সংস্কার বা প্রিযুডিস [prejudes]
    সেপারেশনের ইস্যুটা ছাড়াও আরেকটা বিরাট বিবেচনা নিয়ে বিচারকদের চলতেই হয়, মানতেই হয়। সেটা হল – পুর্ব-সংস্কার বা প্রিযুডিস [pre-judes]। বিচারক সকালে উঠে বাসায় নাস্তার টেবিলে এক ঘনিষ্ট আত্মীয়,বন্ধু বা হয়ত নিজ স্ত্রীর মুখে মন্তব্য শুনলেন যে আজ এজলাসে যে কেসের শুনানী তিনি শুনবেন সেই আসামীই আসল বা মূল খুনী অপরাধী – এধরণের একটা মন্তব্য!  কিন্তু বিচারকের কাজ হচ্ছে কোন কারও কানকথা না শুনা, কানেই না আসে সে ব্যবস্থা করা! আর এজলাসে বসে কেস ডকুমেন্ট আর শুনানীতে বাদী-বিবাদির উকিল কী তথ্য আর যুক্তি তুলছেন কেবল সেসবের ভিত্তিতে আসামী সম্পর্কে ধারণা তৈরি করা। যেটা একমাত্র এজলাসেই তৈরি হয়, শুনতে শুনতে জন্মায়। কাজের সকালে বাসায় যদি কিছু শুনেছেন আর এতে তার মন যেভাবে প্রভাবিত হয়েছে – এটাই প্রিযুডিস বা পুর্ব-সংস্কার বলা হবে। এককথায় সেটা আসলে এজলাসে-বিচারে বসার আগেই প্রভাবিত হয়ে বিচার করে ফেলার অবস্থায় নিতে পারে বিচারককে!  একজন বিচারকের জন্য প্রিযুডিস তাই সবচেয়ে বড় অপরাধের কাজ মনে করা হয়!
    বিচারকেরা তাই নিজ জীবন সাজান যেন প্রিযুডিস এড়ানো জীবনাচার হয় নিজের! এজন্য সামাজিক-পারিবারিক নিজ জীবন তিনি নিয়ন্ত্রিত করেন। সবার দাওয়াতে তিনি যান না, সব সামাজিক অনুষ্ঠানে তিনি অংশ নেন না; খুবই ঘনিষ্টজনেরটা ছাড়া! যাতে আবার কোন ব্যক্তিগত আলাপে তিনি জেনে বা না-জেনে যেন কারো দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে যান! এভাবে সতর্কতা নিতে হয় তাঁকে! কাজেই প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা-সাক্ষাত সেটা তো অনেক দুরের যেখানে নিজ সব আত্মীয়স্বজন বন্ধুর সাথেও কোন বিচারকের ততটা মেলামিশার কথাই না!

    অথচ এখানে হয়েছে উলটা প্রধানমন্ত্রীকেই এখানে চীফ গেষ্ট করা হয়েছিল। আর প্রধানমন্ত্রী প্রায় ত্রিশ মিনিটের বক্তৃতার পুরাটাই ছিল রাজনৈতিক বক্তব্য! আমাদের বিটিভির রেকর্ডেড এই বক্তৃতা ইউটিউবে পাওয়া যাচ্ছে। এটা পুরা অনুষ্ঠানেরই ভিডিও প্রায় দুই ঘন্টার বেশি; এর মধ্যে ১ঃ৪৪ মানে একঘন্টা ৪৪ মি এর পর থেকে প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা শুরু হয়েছে।
    ওদিকে আরেক বড় অস্বস্তিকর ব্যাপার হল, এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে বলা হয়েছে সমাপনী বক্তা অতিথি [valedictory scession]। এটা সকাল দশটায় শুরু হলেও এটাই সমাপনি অনুষ্ঠান নয়। কারন, ঐদিনই বিকালে তিনটা থেকে ২৪ তারিখেওর আলোচনা অনুষ্ঠান হয়েছে।

    এই অনুষ্ঠানের আয়োজন কেন? মূল উদ্দেশ্য কী?
    এর জবাবটা হাসিনার দিক থেকে দেখে বললে মানে, হাসিনার আধাঘন্টার বক্তৃতার দিকে তাকিয়ে বুঝতে চেষ্টা করলে যা পাওয়া যায় তা হল, এদিনটা আসলে ছিল হাসিনার ১৯৮১ সালে বাংলাদেশে ফিরে আসার পর থেকে এপর্যন্ত তিনি কী কী অর্জন করেছে এর একটা তালিকা হাজির করা আর এসবের জন্য ভারতের সরকার সেনাবাহিনী সহ ভারতের ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান প্রায় সবাইকেই ধন্যবাদ জানানো। এর ভিতরে আবার ভারতের হাসিনাকে ছয় বছর আশ্রয় দেয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে। এর সাথে হাসিনার ভাষায় বিচার বিভাগ যেভাবে   নিয়ন্ত্রিত ভাবে আচরণ করে ১৯৭৫ সালের আগষ্টের পর থেকে বখে গেছিল একে তিনি এবার শুদ্ধ করে নিজের মত করে সাজিয়েছেন – এই অর্জনকে ভারতের সামনে তুলে ধরতে চেয়েই যেন এই কনফারেন্স আয়োজন করা হয়েছে বলে মনে হয়েছে!
    এই হল, হাসিনার আধাঘন্টার বক্তৃতার সারকথা!
    কিন্তু প্রধান বিচারপতি  চন্দ্রচূড় এর কিছু মন্তব্য সব আউলায়ে দিয়েছে।  কিন্তু এরও আগে, চন্দ্রচুড়  আবার এই কনফারেন্স সম্পর্কে হাসিনার নিজ ভাষ্যকে পাশ কাটিয়ে নিজ ভাষ্য খাড়া করেছেন।

    কনফারেন্সের দাওয়াতপত্রের ভাষ্য ভারতেরঃ
    কেন ভারতের পুরা বিচার বিভাগ না হলেও এর মাথা সুপ্রীম কোর্ট এমন কনফারেন্সে যোগ দিল – এনিয়ে তাদের মনেও অস্বস্তি ছিল তা বুঝা যাচ্ছিল। যেমন, হাসিনার সাথে ভারতের বিচার বিভাগের লেনা-দেনা কী? আমাদের বিচার বিভাগের যেকারণে আমাদের নির্বাহী প্রধানমন্ত্রীর সাথে ঘনিষ্ট হওয়া অস্বস্তিকর কারণ তাদেরকে নির্বাহী ক্ষমতা থেকে সেপারেশনে দূরে থাকাটাই একমাত্র স্বাভাবিক! বাকিটা অস্বাভাবিক!! তাহলে ঠিক একই যুক্তিতে ভারতের সুপ্রীম কোর্টও তাই অস্বাভাবিক কিছু করেছে???  তাদেরও কোন লেনা-দেখা থাকতেই পারে না। এছাড়া ভারত ও বাংলাদেশ এদুই সুপ্রীম কোর্ট কী একাদেমিক-টেকনিক্যাল বৈশিষ্ঠের কোন কনফারেন্সে মত্ত হয়েছিল? জবাব হল যে একেবারেই না। কারণ তাহলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাথে তাদের কোন কাজ থাকার কথা না ??

    তাই এই অস্বাভাবিক দিক, এদিকটা সাফাই দিতেই চন্দ্রচুড় এন্ড গং বিচারপতিরা তার সঙ্গি হয়ে এসেছেন – অনুমান করা যায় তারা অনুষ্ঠান সুচির পাতার শুরুতেই ১০-১২ লাইনের কিছু বক্তব্য ঢুকানো দেখে। নিচে তেমনই পাতাটা দেখেন।

    এককথায় বললে এটা ভারতের জুড়িশিয়াল পেশাদারদের কিছু অপ্রয়োজনীয় আতলামী ছাড়া আর কিছুই নয়। তাদের ভারত যেন এশিয়ায় না হলেও দক্ষিণ এশিয়ায় বিচারীয় বিষয়ের বিরাট কুতুব এক অথরিটি!  এমন আগাম অনুমান ধরে নিয়ে তারা কথা বলেছে! যেমন বাক্যের প্রথমেই একটা শব্দ ব্যবহার করেছে পোস্ট-কলোনিয়াল। অনেকে আবার  পোস্ট-কলোনিয়াল শব্দটা কাউকে ব্যবহার করতে দেখলে এটা যেন বক্তার বিরাট এক জ্ঞানের বহরের প্রকাশ ভেবে মাথা নিচা করে সালাম-আনুগত্য জানাতে-বুঝাতে চায়।  অথচ এই ভাষ্যের সারকথা হল, ১৯৪৫ সালের আগের পশ্চিমাবিশ্বের অভিজ্ঞতা পরের কলোনিমুক্ত দেশে যেন আর অত কাজের না। তাই লিখেছে  – where constitutional borrowing has occured in the region rather than from europe & America. -মানে হল  পোস্ট কলোনিয়াল সময়ে ইউরোপ ও আমেরিকার চেয়ে আমাদের এই রিজিয়নে [মানে যার একছত্র নেতা হল ভারত বলে বক্তার ভুয়া অনুমান] আমাদের নিজেদের মধ্যকার অভিজ্ঞতা ধার নেয়া বেশী ঘটেছে। ফলে ভারত হল বাংলাদেশের জুডিশিয়াল বা বিচারীয় জ্ঞানের জগতে এক একছত্র নেতা ওস্তাদ। অতএব মোদি-চন্দ্রচূড় এন্ড গং-দের কথা শুনে বাংলাদেশ তুমি অনুগত হয়ে চল!!!!  আর আমাদের সুপ্রীম কোর্ট ভারতের সুপ্রীম কোর্টকে বড়ভাই মেনে আনুগত্য করুক!  কিন্তু আসলেই কী ভারতের সুপ্রীম কোর্ট এর অর্জন এতই গৌরবেই? আসেন একটু চেক করে দেখি!

    প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা তাঁর বিরুদ্ধে ইলাহাবাদ হাইকোর্টের রায় মানতে রাজি হন নাইঃ 
    ভারত রাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রথম ধাক্কা খেয়েছিল ১৯৭৫ সালে। আর এতে ভারত এরপর থেকে নিজে আর কোন রিপাবলিক রাষ্ট্র বলে নিজেকে দাবি করতে পারে কিনা সেই প্রশ্ন উঠেছিল। কেন?
    গত ১৯৭২ সালের কেন্দ্র-নির্বাচনে ইন্দিরার আসনে তিনি কারচুপি করেছেন আর এভাবেই তিনি এমপি আর শেষে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এমন মামলা করে তার প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী! এই মামলার হাইকোর্টের রায় বের হয় ১৯৭৫ সালে। বিচারক তাকে প্রধানমন্ত্রী পদ ত্যাগ করার সময় দিয়ে সাজা ভোগ করতে রায় দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী এই রায় অমান্য করতে পালটা দেশে জরুরি আইন জারি করে পরিস্থিতি নিজের হাতে এনে নিয়ন্ত্রণে নেন; যাতে সাজা ভোগের প্রসঙ্গ চাপা পড়ে। সারকথা একটা রিপাবলিক রাষ্ট্রে বিচার বিভাগ আর নির্বাহী প্রধানমন্ত্রী – এরা যদি কেউ কাউকে কনষ্টিটিউশনাল বাধ্যবাধ্যকতা মান্য করতে  বা কাজ করতে দিতে না চায় – এটা ছিল সেই কেস। যার সার-অর্থ হল, রাষ্ট্রটা নাই হয়ে গেছে!! ঠিক তাই হয়েছিল ভারতে।  যদিও পরে ইন্দিরা সরকারের পতন ঘটে – নির্বাচনে বিরোধী মোরারজি দেশাই এরা ক্ষমতায় আসে। আমি আর সে  সব ফারদার বিস্তারে যাচ্ছি না এখন।

    [অনেকে ভাবতে পারেন কেবল ভারত রাষ্ট্রই ইন্দিরার হাতে এমন সংকটে পরেছিল। না, একেবারেই সত্য না। শেখ মুজিবের বাংলাদেশ রাষ্ট্রও ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি শেখ মুজিবের হাতেই এমন নাই হয়ে গেছিল। আমার পুরানা  ২০১০ সালের লেখা পড়েন এখানে।]

    কিন্তু এরপর থেকে ভারতের আইন পেশার একাদেমিক, উকিল বা বিচারক কমিউনিটি দুভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। যাদের মধ্যে ডমিনেটিং ভাষ্য হল, বিচার বিভাগের প্রধানমন্ত্রীকে সমীহ করে কম্প্রমাইজে চলা উচিত ছিল! বিচারকদেরও প্রধানমন্ত্রী জিন্দাবাদ বলতে হত!  শহরের এলিটদের বিরুদ্ধে যেভাবে গরীবেরা দাড়াতেই পারে না আগের মানসিকভাবে হেরে গিয়ে থাকে বলে – এটা ছিল অনেকটা সেরকম!
    আর সেই থেকে ভারতে এই “দেশের স্বার্থে” বলে আপোষি জাতিবাদিদের আপোষ ধারাটাই চলে আসছে এখনও। নানান বাঁক পেরিয়ে। এমনকি এখনও এই চন্দ্রচূড়েরা একই কাজ করে চলছেন! মুসলমান নিধন অত্যাচার নিগৃহ বৈষম্য চন্দ্রচুড়েরা দেখতেই পান না!  এমনকি চন্দ্রচূড় ঢাকায় এসেছেন মোদি-হাসিনার রাজনৈতিক আলোচনার ফলশ্রুতিতে। কিন্তু চন্দ্রচুড় কেন এই আলোচনায় অংশ নিবেন? মোদি বা হাসিনার সাথে এই প্যাচ-আপে তিনি কেন অংশ নিবেন? তিনি কী মোদির অধীনে কোন মন্ত্রণালয়ের সচিব?? এর উপর আবার মোদি  যে বাংলাদেশে নিজ কলোনি শাসন – আধিপত্য কায়েম করতে চলেছেন। আর চন্দ্রচূড় “পোষ্ট-কলোনিয়াল” বলে হুঙ্কার তুলে মোদির কলোনিদখলের নৌকায় উঠে বাংলাদেশে এসেছেন!  প্রধানমন্ত্রীকে সমীহ করে কম্প্রমাইজে চলা প্রধান বিচারপতির চন্দ্রচূড়ের তো পরিণতি এমনই হবার কথা; নয় কী!!!

    চন্দ্রচূড় ভাব ধরতে চান কলোনিয়াল পশ্চিমারা খুব খারাপ। একমাত্র তিনিই বীর! তো রিপাবলিক ধারণাটা কোথায় পাইছেন, মহাশয়?  ব্যক্তি-বোধ, নাগরিক, রাষ্ট্র রাজনীতি ইত্যাদি সহ ভারতে রিপাবলিক ধারণা কিভাবে এলো? মোগল আমলে ছিল?? কাজেই বকোয়াজ বন্ধ করেন। ইউরোপের আমাদের মত দেশকে কলোনি করা অন্যায় নিঃসন্দেহে! কিন্তু কলোনিদখলদারদের দেশে শাসন ব্যবস্থা চালু ছিল বলে এই হিসাবে রিপাবলিক – জনগণ ক্ষমতার উতস – রাজনীতি নাগরিক ইত্যাদি সব ধারণাওগুলো আমরা বৃটিশদের থেকেই পেয়েছি। এটা পজিটিভ পাওনা! আর বৃটিশেরাও আবার সে ধারণার গোড়াটা পেয়েছে রোমান-দের কাছে থেকে। এটা শুরুতে প্রাচীন রোম থেকে পরে হোলি রোমান এম্পায়ার সমাজ থেকে!
    এখনও আমাদের হাইকোর্টের বিচারকেরা রায় লেখার সময় দুচারটা এক্সিওম [AXIOM] বা স্বতসিদ্ধ সত্য বলে কিছু বাণীর উল্লেখ করতে খুবই ভালবাসেন। এর মাহাত্ম হল, তিনি যে রোমান এক্সিওমগুলো মুখস্ত করেছেন সেটাই যাহির করে দেখানো! এখন চন্দ্রচূড়েরা কী বৃটিশ-রোমানদেরকে কলোনি শাসক বলে তুচ্ছ বা অস্বীকার করবেন? পশ্চিমা কলোনি শাসকদের গালি দিয়ে আবার, এখন ভারতকেই  কলোনিদখলদার (বাংলাদেশকে দখল) করে গড়তে চাইবেন? মোদির হাতধরে বাংলাদেশে আসবেন???

    বৃটিশদের কাছ থেকে রাজা রামমোহন রায় বৃটিশ রিপাবলিক ধারণাটা প্রথম বুঝেছিলেন। তিনিই প্রথম এটা বুঝে তা কাজে লাগাতে গেছিলেন। কিন্তু বুঝেছিলেন উলটা। ভেবেছিলেন, রিপাবলিক জাতি-রাষ্ট্র মানে একটা ধর্মীয়-জাতি ধারণা। সেটা অর্জন করতেই তিনি অসংখ্য জাতে বিভক্ত হিন্দুদেরকে সহ সকলেই আগে এক নয়া এক ব্রাহ্ম ধর্মে নিতেচেয়েছিলেন। আর এরই শেষ আজ পরিণতি বিজেপি-আরএসএসের হিন্দুত্ববাদ! 
    একটু পড়ালেখা করেন বুঝা কঠিন না। কিন্তু হুদাই পশ্চিমাবিরোধী সাইজেন না! এর পরিণতিতেই তো বাংলাদেশকেই একালে ভারতের কোলোনি সম্পর্কে বেধে ফেলার কাজে মোদির সঙ্গি হয়ে এসেছেন!

    চন্দ্রচুড়ের হাত ধুয়ে ফেলার কোশেশঃ
    কিন্তু এসব সত্বেও চন্দ্রচুড় নিজের হাত ধুয়ে রাখতে চেয়েছেন। হাসিনার উপস্থিতিতে ঐ অনুষ্ঠানের সবটা বিটিভি সংগ্রহ ও রেকর্ডিং করেছে। কিন্তু ভারতের ইন্ডিয়া টুডে আবার সেখান থেকে নিয়ে নিজেই ইউটিউব ভিডিও করে ছেড়েছে, বিশেষ করে চন্দ্রচূড়ের আধাঘন্টা কথা। কিন্তু তাতেই এরা সনুষ্ট হয় নাই। এ’বাদেও ঐ আধাঘন্টা থেকে আবার বিশেষ আড়াই মিনিটের একটা বক্যব্যের ভিডিও-ও তারা ছেড়েছে। মনে রাখতে হবে ইন্ডিয়া টুডে মোদি সরকারেরই বা র-এর আরেক হাতিয়ার। যখন বাংলাদেশে বিরোধী বা বাংলাদেশকে টার্গেট করে কিছু তাদের প্রপাগান্ডা করার থাকে তখন তারা এই মিডিয়া ব্যবহার করে থাকে। সেই আড়াই মিনিটের লিঙ্ক এখানে। চন্দ্রচূড়ের এই অংশের বয়ানটুকুকে  তাই এন্ডিয়া টুডে নিচে লিখিত টেলপ দিয়ে এক মলিয়া পড়ে শুনিয়ে দিয়েছেন  যাতে কেউ মোদির দোষে অসৎ কাজের সঙ্গী বলে চন্দ্রচুড়কে অভিযুক্ত না করেন। চন্দ্রচুড় খারাপ ও অনিশ্চিত সময়ের কথা বলছেন যে এসব সময়ে সুপ্রীম কোর্ট আর নির্বাচন কমিশনের মত প্রতিষ্ঠানগুলো কনষ্টিটিউশনের উপর মানুষের আস্থা-বিশ্বাস ধরে রাখার পক্ষে এগিয়ে আসে। এসব প্রতিষ্ঠানের ঠিকমত সচল থাকাটা সেজন্য গুরুত্বপুর্ন।

    In a time of uncertainty and ambiguity, the pillar of democracy are put to the test. CJ DYC speaking at the south asian constitutional court conference in Bangladesh emphasis the crucial role of institution like supreme court and election commission in upholding the trust of the people in the constitution.
    Speaking at the conference, CJ DYC said, the constitution is not like the income tax act. The legitimacy of our Governance institutions hinges on their functionality.
    He stressed that the confidence of the people in the constitution solidify when these institutions rise to the occasion.

    সারকথায় তিনি বলছেন  সুপ্রীম কোর্ট আর নির্বাচন কমিশনের সচল ও কর্মক্ষম থাকাটা গুরুত্বপুর্ণ। মানে তিনি রেকর্ড রাখতে চান যে এদুটা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব তিনি আমাদের বুঝাইছিলেন! কিন্তু বাংলাদেশের বেলায় গত পনেরো বছরে এটা হাসিনা সরকারের অধীনে একটা প্রতিষ্ঠানেরও এমন যোগ্য হয় নাই এটা কে না জানে! আর নির্বাচন কমিশন??? নিশ্চয় এবার ৭ জানুয়ারী ভোট দিয়ে জনগণ খুবই খুশি!!!! কারণ, হাসিনা বলেছেন স্বাধীন বাংলাদেশে এটাই নাকি বেস্ট নির্বাচন!  অর্থাৎ চন্দ্রচুড় হুদাই কীছু বকোয়াজ করে গেলেন আরকি!
    অবশ্য ভারতের অনেকের মনে হতে পারে সব হল আমরা মুসলমানদের স্মস্যা। আমরা পশ্চাদপদ আমরা তাই কিছু পারি না!।    তাহলে আচ্ছা ভারতের সুপ্রীম কোর্ট কী খুব একটিভ আর নির্বাচন কমিশন খুবই সুনামের?
    একই কথা বার বার লেখার চেয়ে আমার নিজেরই এক পুরানা লিখার লিঙ্ক এখানে, কী ভয়াবহ অবস্থা দেখেন এখানে। লেখাটার শিরোনাম ছিল ভারত-রাষ্ট্রের ভেঙ্গে পড়া ও রবি কান্তের হতাশা । চন্দ্রচুড়ের নিজের সুপ্রীম কোর্টের অবস্থা বুঝবার জন্য। এবং এই আবেদনে নির্বাচন কমিশন ভাল হয়ে যায় নাই।
     আর ভারতের খোদ নির্বাচন কমিশন??? সে আরেক ভয়াবহ অবস্থা!!!  ভারতের নির্বাচন কমিশন তিন সদস্যের; প্রধান ছাড়া আরো দুজন কমিশনার। কম কথায় বললে মামলা টা ২০১৯ সালে ভাএরতের নির্বাচনের। মোদিসহ আরো অনেক প্রার্থীই নির্বাচনি আইন ভেঙ্গে সাজা পেয়েছেন বা  ফাইন দিয়েছেন। কিন্তু একমাত্র নরেন্দ্র মোদি ছাড়া। তার নামে যৎগুলো অভিযোগ দায়ের হয়েছিল কমিশন তার একটাতেও কোনই পদক্ষেপ নিতেই যান নাই। এনিয়ে কমিশন প্রধান এক সদস্যকে পাশে পেয়ে দু-এক ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখিয়ে কোন একশনে যান নাই। আর তৃতীয়জন অশোক লাভাসা তার নাম – তিনি এরপর সরকারি নিগ্রহের শিকার হতে থাকেন – আর তা উনার স্ত্রীসহ যিনি উচ্চপদস্ত ব্যাংকার। তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতিটা সিদ্ধান্তে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে রাখা ব্যক্তি ছিলেন। কয়েকবছর পরে আর চাপ সহ্য করতে না পেরে অশোক লাভাসা আপোষ করতে বাধ্য হন। রফাটা হল এখন তিনি নির্বাচন কমিশন ছেড়ে দিয়েছেন; [ADB] এডিবিতে ভারত সরকার পক্ষের আমলা প্রতিনিধি হিসাবে আছেন!

    অর্থাৎ সুপ্রীম কোর্ট আর নির্বাচন কমিশনের সচল ও কর্মক্ষম থাকাটা গুরুত্বপুর্ণ বলে বিরাট জ্ঞানের কথা ছাড়লেও প্রধান বিচারপতি হিসাবে তিনি সরাসরি এর জন্য দায়ী!  অথচ বাংলাদেশে এসে জ্ঞানের কথা ছাড়ছেন???

    আমি এখনও পরিস্কার না বুঝি নাই, আমাদের প্রধানমন্ত্রী ঠিক কী চান? কেন চন্দ্রচুড় ঢাকায় এসেছিলেন?  আমাদের কাছে এক প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সিনহা তার ঘটনাবলী এখনও জলজ্যান্ত আছে। তিনি গুজরাটে গেছিলেন এক বেসরকারি ল কলেজের অডিটরিয়াম উদ্বোধন – এই আমন্ত্রণে। গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হাসিনা বাংলাদেশের হিন্দুদের জন্য কত কী ভাল করেছেন এর ফিরিস্তি দিয়ে বক্তৃতা করে গেছিলেন। ভুলে গেছিলেন তিনি বিচার বিভাগের লোক যা প্রধানমন্ত্রীর অধীনে নয়। আর তিনি কোন সচিবও নন। প্রধানমন্ত্রীর জন্য এসব জয়গাথা ছড়ানো তার কাজ দায়ীত্বের সাথে অসামন্বস্যপুর্ণ!  কিন্তু তিনি ফাঁদে পড়লেন যে তিনি কার কথা কে বেশী গুরুত্ব দিবেন! হিন্দু মনে ভাবলেন কাকা-বাবু এখানে প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে প্রেফারেন্সিয়াল! ফলাফল আমরা সবাই জানি! এর মানে  আমাদের সব অভিজ্ঞতাই বলছে এসবের একটাও কাজ করে নাই! এরপরেও ঠিক কী জানতে বাকী আছে???? আমার বুঝাবুঝি-নাগালের বাইরে!

    একটা গুরুত্বপুর্ণ বিষয় “আরবিট্রেশন” – এটা ভুলে গেছিলাম, এখন যোগ করে দিচ্ছিঃ
    ধনঞ্জয় চন্দ্রচুড় তাঁর বক্তৃতায় বিচার ব্যবস্থার ভিতরেই সালিশ ব্যবস্থাও [arbitration] যোগ করার প্রস্তাব করেছিলেন।  সালিশি মানে বুঝতে হবে – যেখানে কেউ অপরাধী বলে রায় দেয়া হয় না, কাউকে সাজা দেয়া হয় না। এটা এক আপোষ-মীমাংসার পথ। ফলে স্বভাবতই কোন ক্রিমিনাল কেসে এর ব্যবহার করা যায় না। কিন্তু চন্দ্রচুড় এই সালিশ-ব্যবস্থার কথাও আসলে বলেনই নাই। তাহলে?
     
    তিনি আসলে  মিন করেছেন – মানে আরবিট্রেশনের কথা বলে এই আড়ালে (হিন্দুত্ববাদী) সরকারের চাওয়ার পক্ষে রায় দেয়া। এর ইঙ্গিত দিয়েছেন। সেটাই আমরা এখন নিচে দেখব।
    বাবরি মসজিদ ধবংস করা হয়েছিল ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর। যদিও মানুষে নানানভাবে এঘটনাকে ব্যাখ্যা করে কেবল নিজের পক্ষে সাফাই টেনে থাকে। আর আমার ধারণা হল এটা ছিল মুসলমানবিরোধী ঘৃণা সাজিয়ে  সেই উস্কানিতে আরএসএস-বিজেপি যে ভোটের রাজনীতি ক্ষমতাদখল ব্যবস্থা আনতে যাচ্ছে এরই আগমনী সিগনাল- বার্তা ছিল।  তাদের হিসাবে এটা ছিল এভাবে হিন্দুত্ববাদী ক্ষমতা আনবার জন্য পারফেক্ট টাইমিং; হয়েছিলোও তাই। এরই পরিণতি-প্রমাণ হল গত দশবছরের নরেন্দ্র মোদীর শাসন! ও বিচারকদের আছে তাঁর নানান চাওয়া – এর জন্য চাপ সৃষ্টি! আর এর পুর্ণতা দিবার পিছনের অন্যতম এক বিচারক হলেন ভারতের বর্তমান প্রধান বিচারপতি ধনঞ্জয় যশোবন্ত চন্দ্রচূড়! তারঁ বাবা যশোবন্ত বিষ্ণু চন্দ্রচূড় [YBC]ও এর আগে প্রধান বিচারপতি ছিলেন। ধনঞ্জয় [DYC] হার্ভার্ড ল স্কুল গ্রাজুয়েট ও পিএইচডি হোল্ডার।  কিন্তু হায়!
    ১৯৯২ সালের মসজিদ ধবংস মামলায়  সুপ্রীম কোর্টের ফাইনাল রায় ঘোষণা হয় ২০১৯ সালে।  ধনঞ্জয় সেখানে রায় দাতা পাঁচ  বিচারকের একজন বিচারক! যেখানে বিচারকদের রায়ের সারকথা হল, মসজিদের স্থানে মন্দির করতে দেয়া হোক আর মসজিদের জন্য সরকার আলাদা জায়গা দেক! এই হল, ধনঞ্জয় চন্দ্রচূড়দের বিচারের রায়ের নামে সরকারের দালালি আর ইঙ্গিত দেয়া এটাই তাদের সালিশি ব্যবস্থা????
    তার মানে ধনঞ্জয় চন্দ্রচূড় কী আমাদের বিচার বিভাগকে সালিশের চর্চার কথা বলে  বিভিন্ন মামলায় সরকারের পক্ষে রায় দিবার কথা বলে গেলেন? মনে রাখতে হবে, প্রধানমন্ত্রীর চাওয়ার পক্ষেই বিচার বিভাগকে থাকতে হবে রায় দিতে হবে – এই অভ্যাস সেই যে ১৯৭৫ সাল থেকে ইন্দিরার হাতে শুরু হয়েছিল ভারতের বিচার বিভাগ এথেকে বের হতে পারে নাই। বরং এই চামচামির ধারা বজায় রেখে নিজের আখের গুছানো বিচারক প্রধান বিচারক হওয়াটাই ভারতের বিচার বিভাগের অনুসৃত নীতি হয়ে গেছে!

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    [এই লেখা কোন নিউজ নয়, ব্যক্তির নিজস্ব রাজনৈতিক বিশ্লেষণ মাত্র। ফলে পাঠকের এ’লেখা পড়ে কিছুই বহন করা বা মান্য করার বাধ্যবাধকতা নাই। কেবল জানলেন যে এমন একটা মতামত আছে!]

    আপডেটঃ ০৩ মার্চ ২০২৪ ০৭ঃ ১৯   সন্ধ্যা
    আপডেটঃ ০৪ মার্চ ২০২৪ ০৮ঃ ১০   রাত

     

     

     

     

     

  • আলী রীয়াজদের সংকট এবং আইলিন এর এবারের ঢলে পরা সফরে! 

    আলী রীয়াজদের সংকট এবং
    আইলিন এর এবারের ঢলে পরা সফরে! 

    গৌতম দাস
    ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ সন্ধ্যা সাতটা নয়
    https://wp.me/p1sCvy-5qQ

     

       র‌্যাবের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ৫ পর্যবেক্ষণ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

     

     

    প্রতীকীভাবে “আলী রীয়াজদের” বললেও এরা আসলে কারা? বলতে চেয়েছি যারা দ্বৈত নাগরিক মানে, বিশেষ দ্বৈততার দিক আছে। তাও এটা ঠিক দ্বৈত নাগরিক মাত্রই এমন সবার কথা বলছি না। একজন ব্যবসায়ী, চাকুরিজীবী বা সাধারণ মানুষ যারা আপন ভাগ্য-অন্বেষণে  আমেরিকায় (বা বিদেশে) নাগরিকত্ব যোগাড় করেছেন বা যোগাড় করতে না পারলেও রেসিডেন্ট পারমিট – মানে সে দেশে থেকেই বসবাস ও কাজ-চাকুরি করার অনুমতি পেয়ে নিয়েছেন – এমন সকল মাইগ্রেন্ট বা প্রবাসী – এদের সকলকে বাইরে রেখে বাকিদের কথা বলছি। অর্থাৎ সাধারণদের প্রায় সকলকেই একেবারেই বাইরে রাখছি।  এমন এরা সকলকেই এই আলোচনার বাইরে রেখে কথা বলছি।  তাতে যাদের কথা বলছি, এরাও দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়েছেন বা না নিয়েছেন, তাতেও কোন ফারাক নাই।  কারণ, আমার এই কথাগুলো সাধারণদের নিয়ে নয়। তাহলে?

    আমি কথা বলছি যারাও মাইগ্রেন্ট অবশ্যই, কিন্তু যারা সেদেশের সরকারের নীতি-পলিসি সংশ্লিষ্ট পেশা নিয়েছেন যেমন কোন আমেরিকান থিঙ্ক ট্যাংক ফেলো। এছাড়াও যারা আমেরিকা সরকারের নীতি-নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পর্কিত। অথবা আরেকটা চিহ্ন যাদিয়ে এদের আলাদা করা যায় যে যারা তাদের পেশাগত কাজটাই এমন যে তাঁকে আমেরিকান প্রশাসনের পক্ষে সাফাই দেয়া বা যুক্তি-অবস্থান যোগানোই যাদের একমাত্র কাজ; এভাবেই তাদের লিখা বা কথা বলতে হয়। ফলে বলাই বাহুল্য যারা দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়েছেন বা রেসিডেন্ট পারমিট হোল্ডার শুধু নন; বরং বাড়তি আরো যারা প্রত্যক্ষ-পরোক্ষে আমেরিকান প্রশাসনের সাথে জড়িয়ে আছেন বা গেছেন – আমি কেবল এদের কথা বলছি। এখানে “আলী রীয়াজদের” বলতে তাদের কথা বুঝিয়েছি। এই অর্থে এদের বিশেষ দ্বৈততার দিকেই আমার নজর তাতে এরা নাগরিক অথবা যাদের মধ্যে অনেকে শুধু-ই রেসিডেন্ট পারমিট হোল্ডার হলেও! 

    বাংলাদেশে আমেরিকান ফরেন পলিসির প্রয়োগ আছে স্বাভাবিকভাবেই আর, আপনি এই বিশেষ দ্বৈততায় নাগরিক বা হয়ত না; কিন্তু আপনি  আমেরিকান পলিসি-প্রশাসনের কর্ম প্রয়োগ-ততপরতার সাথে জড়িত; যেমন ধরা যাক আলী রিয়াজ এক আমেরিকান থিঙ্কট্যাঙ্ক এর ফেলো। এখন আলী রিয়াজ বাংলাদেশের সিরিয়াস রাষ্ট্রস্বার্থ জড়িত এমন কোন ইস্যুতে আমেরিকান পলিসি সম্পর্কিত কোন আলোচনায় অংশ নিয়েছেন; আর সেখানে আলী রিয়াজের কথা বক্তব্য-অবস্থান – যা কিছু তিনি সেখানে বলবেন বা লিখবেন, এটাতে তিনি কাকে প্রতিনিধিত্ব করছে বলে ধরে নিব? আমেরিকান রাষ্ট্রস্বার্থ নাকি বাংলাদেশের  রাষ্ট্রস্বার্থ? কথাটা বলা হচ্ছে এটা মনে রেখে যে আলী রিয়াজ বাংলাদেশ-অরিজিন আমেরিকান!  তাই এককথায়, ছোট করে প্রশ্ন হচ্ছে আলী রিয়াজের ভাষ্য কী আমেরিকান রাষ্ট্রস্বার্থ নাকি বাংলাদেশের  রাষ্ট্রস্বার্থ এর ভাষ্য? কোনটা বলে ধরে নিব?

    এখন আমরা স্বীকার করি বা স্বীকৃতি দেই আর না দেই – বাস্তবতা হল এখানে এক গভীর “কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট” মানে, দুই রাষ্ট্রস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সংঘাত-বিরোধ আছে। আর এর একেবারে প্রাথমিক কিছু অবলিগেশন [obligation] বা দায় আছে আলী রীয়াজদের! নুন্যতম সততা স্বচ্ছতার খাতিরে তাদের এবিষয়ে একটা ঘোষিত অবস্থান থাকা উচিত।  কথাটা এমন হতে পারে যে, “আমি (আলী রিয়াজেরাদের কেউ) যাকিছু পলিটিক্যাল-ইকোনমিক বক্তব্য রাখি  সেখানে আমি সুনির্দিষ্ট করে ভিন্ন কিছু উল্লেখ না করলে ধরে নিতে হবে সেখানে আমি কেবল আমেরিকাকে প্রতিনিধিত্ব করেই বক্তব্য দিয়েছি ও দেই বলেই মনে করা সঠিক হবে”।
    যদিও থিঙ্কট্যাঙ্ক ফেলোদের কাজ হল আমেরিকার ক্ষমতাসীন প্রশাসনের পক্ষে ঢোল বাজানো। এমনকি সেটা প্রকাশ্যে ক্রিটিক্যাল বা নেগেটিভ অবজারভেশন দেয়াও না।

    মনে রাখতে হবে থিঙ্কট্যাঙ্ক এর চাকরি বা সার্ভিস দেওয়ার চুক্তিপত্র করা, এটা কিন্তু আমেরিকায় গিয়ে কোন ইঞ্জিয়ারিং-টেকনোলজি ফার্মের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে তাদেরকে সার্ভিস দেয়া ও আয় করার মত ঘটনা একেবারেই নয়; সমতুলনীয় ঘটনা নয়। কারণ, থিঙ্কট্যাংক ফেলো বা আমেরিকাকে বাংলাদেশী-কনসালটেন্ট সার্ভিস দেওয়ার পেশাটা শতভাগ রাজনীতিক ও রাষ্ট্রস্বার্থ-মুলক কাজ!  কেউ এথনিক বাঙালি জনগোষ্ঠির লোক বলে সেই ইমেজকে ব্যবহার করে নিজেকে আড়ালে রাখার সুবিধা নেয়া ভুল ও অসততা হবে। মানে, এর উপর দাঁড়িয়ে সে সুবিধা নিয়ে আমেরিকান স্বার্থ বাস্তবায়নের কথা খেয়াল করে বক্তব্য দিয়ে যাওয়া  – এটা খুবই অস্বচ্ছ কাজ এই অর্থে তা অপ-ততপরতা হতে পারে! আমেরিকান রাষ্ট্রস্বার্থের পক্ষে সার্ভিস দিয়ে আয় করা হয়ত সাধারণভাবে অপরাধ নয় তবে,  আগে নিজ পরিচয়-অবস্থান পরিস্কার করে রাখলে সেটাই সততা হবে যে আমি আমেরিকান রাষ্ট্রস্বার্থের পক্ষে চাকরি-কাজে বা সার্ভিস দেওয়াতে আছি! 

    সম্প্রতি এবিষয়টা খুবই সিরিয়াস পর্যায়ে গেছে বলে আমার মনে হয়। ওয়েবিনার [webinar] মানে অনলাইন টকশোতে কথা বলা যাকে বলি, তার মধ্যে।  ওয়েবিনার মানে, কয়েক ব্যক্তি যারা নানান দেশে বসে আছেন কিন্তু তা সত্বেও যেন তারা একসাথে এক দেশের এক রুমে বসে আলোচনা করছেন – এমন এক গোলটেবিল বৈঠকের মত সেটা। এটা সম্ভব কারণ, তারা ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রত্যেকে অডিও-ভিডিও সব অর্থেই কানেকটেড থাকেন সেখানে। অনেকে এটাকে তাই ভার্চুয়াল [virtual] বৈঠকও বলেন। [ভার্চুয়াল মানে হল, যা বাস্তব নয় কিন্তু যেন বাস্তব মনে করে নেয়া হয়েছে ও সে  অনুযায়ী আচরণ করা হচ্ছে; যার বাংলা অনেকে করে বলেন – “জ্ঞানত” বা অনুমিত]  তেমনই সম্প্রতি এক বৈঠকের খবর প্রসঙ্গে রিপোর্ট করেছে প্রথম আলো। শিরোনাম “প্রতিবেশীদের কাছ থেকে সুবিধা আদায় করছে ভারত” । আর এই ওয়েবিনার বৈঠকের নিজস্ব শিরোনাম ছিলঃ ওয়েবিনারের শিরোনাম ছিল ‘বাংলাদেশ ও তার প্রতিবেশী: বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের প্রভাব’।
    সেখানেই এই প্রশ্ন যে অংশগ্রহণকারী প্রবাসীরা তাঁরা কাদের প্রতিনিধিত্ব করে কথা বলছিলেন –  আমেরিকান রাষ্ট্রস্বার্থ নাকি বাংলাদেশের  রাষ্ট্রস্বার্থ? –

    এমন অস্পষ্টতা ছিল পীড়াদায়ক ও বিভ্রান্তকর! 
    কারণ, শিরোনাম দেখেই জানা যাচ্ছে – তারা বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের হস্তক্ষেপ নিয়ে এবার কথা বলছেন অথচ আমেরিকাকে বাইরে রেখে এর সব দায় কেবল ভারতের উপর চাপাচ্ছিলেন। অথচ তাঁরা কারা? মানে তারা কাকে প্রতিনিধিত্ব করছেন? মানে প্রবাসী ব্যক্তিদের কোন রাষ্ট্রীয় পরিচয়? তারা অনেকেই বাংলাদেশি-অরিজিন আমেরিকান। তাই ঐ ওয়েবিনারে তারা কী বাংলাদেশি রাষ্ট্রস্বার্থের নাকি আমেরিকান বা বিদেশি রাষ্ট্রস্বার্থের নাগরিক-প্রতিনিধি হিসাবে কথা বলছিলেন?


    কারণ, বিষয়টাতে এই প্রশ্ন ওখানে খুবই সিরিয়াস দিক ছিল? বাংলাদেশের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের জন্য দায়ী করা হচ্ছিল কেবল ভারতকে!  কিন্তু এটা ছিল
    বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একেবারে ভারত-আমেরিকার যৌথ প্রযোজনায় ঘটা হস্তক্ষেপ!
    আমরা তো ভুলতে পারি না যে ২০০৭ সালের ১/১১ এর সেনা ক্ষমতাদখল ছিল এক আমেরিকান প্রযোজনা। যার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশকে ভারতের হাতে
    তুলে দেওয়া।  আমেরিকার পক্ষ থেকে ভারতকে ঠিকা দেয়া কাজ – এশিয়ায় ভারত চীন ঠেকানোর চেষ্টা করবে – আর বিনিময়ে এরই উপহার ছিল বাংলাদেশকে
    ভারতের হাতে তুলে দেয়া! কিন্তু আমেরিকা বাংলাদেশকে তুলে দিবার কে??? এটা তো চরম অপরাধ??
    আর এখন ওয়েবিনারের যে শিরোনাম “প্রতিবেশীদের কাছ থেকে সুবিধা আদায় করছে ভারত”
    এই একই কাজ যার শুরু তো সেই ১/১১ এর পর থেকেই, গত সতের বছর ধরে। তাহলে???
    আর এখন সব দায় একা ভারতের উপর চাপাচ্ছে কেন আলী রীয়াজেরা???? আমেরিকার হাত ধুয়ে ফেলানো???? এটা ঘোরতর অসততা!

    ওয়েবিনারের এই শিরোনাম আমাদেরকে নিজেই জানিয়ে দিয়েছে যে সেখানে আলোচনার প্রসঙ্গ হল – বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের হস্তক্ষেপ। যদিও তামাসা করে বললে, এটা কিন্তু তাদের একটা ভাল অগ্রগতিও বটে!
    ভারতের বাংলাদেশে হাত ঢুকানো তো নতুন না। কারণ গত ১/১১ এর সময়ে বাংলাদেশে আমেরিকার সামরিক ক্ষমতা দখলের এক প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশকে নিয়ে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া যাতে ভারত পক্ষে অসংখ্য সব ধরণের করিডোর এবং সবই বিনা-পয়সায় বাংলাদেশ থেকে আদায়; এমনকি ভারতের সুবিধা করে দিতে এজন্য যা অবকাঠামো নির্মাণ ব্যয় বইবার দায়ীত্ব এটাও বাংলাদেশের অর্থ ও দায়! অন্যদিকে পুরা বাংলাদেশকে ভারতের নিজ পণ্যের একচেটিয়া বাজার বানানো; এনফোর্সড ও অবৈধভাবে রেমিটেন্স আদায়ের জন্য বাংলাদেশকে উতস দেশ হিসাবে ব্যবহার ইত্যাদি সহ হেন ভারতীয় স্বার্থ নাই যা তখন থেকে লুট করা শুরু করা হয় নাই। যেটা ২০১৭ সালের পর থেকে একটু ঝিমিয়ে গেলেও চলতি ফেব্রুয়ারি থেকে তা আবার আমেরিকান প্রটেকশনে বিপুল বেগে চালু করার ব্যবস্থা নেয়া শুরু হয়েছে। আর এটা এতই তীব্র ও প্রকাশ্য যে আলী রীয়াজেরা এই ইস্যুতেই কেবল ভারতকেই দায়ী করে হলেও এবার বৈঠক ডেকে বসতে বাধ্যই হয়েছে। বাধ্য বলছি কারণ, গত ১৫ বছর তো আলী রিয়াজদের এনিয়ে কোন ততপরতা দেখি নাই। আলী রীয়াজদের এই চিকণ বুদ্ধির প্রশংসা করতেই হয়!! এতে ভারতবিরোধী সাজা গেছে আবার আমেরিকান নীতি-পলিসি অবস্থানের পক্ষে সার্ভিসও দেয়া গেছে!
    আলী রিয়াজ আমেরিকান এক থিঙ্কট্যাঙ্ক ফেলো হিসাবে জয়েন বা চুক্তিবদ্ধ হবার পরপরই সেসময় (২০০৭) মূলত আমেরিকান পলিসি যে – এশিয়ায় চীনের বিস্তার ঠেকাও – যা তাদের ভাষায় চায়না ঠেকাও বা China Containment নামে ডাকত তারা – একাজের সারকথা ছিল –  বাংলাদেশকে উপহার হিসাবে ভারতের হাতে তুলে দেয়া – আর তাই করা হয়েছিল। কাজেই আলী রীয়াজের এই অপরাধ এটা অজানা থাকার কোন কারণ নাই। যখন তিনি তো সেখানে আমেরিকান রাষ্ট্রস্বার্থের পক্ষে বাংলাদেশ এক্সপার্ট হিসাবেই রিক্রুটেড!   আমি জানি এনিয়ে আলী রিয়াজকে কোন পাবলিক সভায় বা বাংলাদেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয় সভাতে এনিয়ে প্রশ্ন করলেও তিনি এনিয়ে তিনি কিছু জানেন না – এমন ধারণাই দিয়ে গিয়েছিলেন।  কথাটা অন্যভাবেও বলা যায় গত ১৫-১৭ বছরে আলী রীয়াজেরা যেন আমেরিকার বাংলাদেশকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া  এই গর্হিত অপরাধ কাজ কখনও হতে দেখেনই নাই!! তাই যেন এবারই প্রথম বলতে চাইছেন যে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে সুবিধা আদায় করছে ভারত” । এক কথায় বললে আলী রীয়াজেরা ভান করছেন যেন আগে আমেরিকার এমন অপরাধের ঘটনা দেখা যায় নাই। আর সে কারণেই নিশ্চয় আলী রীয়াজেরা এমন ইস্যুতে কখনও কিছু লিখেছেন, বলেছেন এমনটার দরকার হয় নাই! তাই তা আমরা জানি না!  আবার আলী রিয়াজদের পক্ষে আমেরিকান ততপরতা দায় নিয়ে কথা বলা এটা আমাদের আশা করা কী ঠিক হবে?  কারো এনিয়ে জানা থাকলে এখনও শেয়ার করতে পারেন, বাধিত হব। তবে যারাই আগে কখনও কিছু বলেন নাই এটাকে তাদের অপরাধ – আমরা এটাই বলব! যদি বাংলাদেশী পরিচয়কে প্রতিনিধিত্ব করেন তবে ঘোরতর অপরাধকারী এরা। আর আমেরিকাকে প্রতিনিধিত্ব বা চাকুরির খাতিরে করলে এমন কাজ করা – এরা বাংলাদেশ রাষ্ট্রস্বার্থের চোখে প্রকাশ্য শত্রু! যারা আমেরিকার বাংলাদেশকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার ছুপা এজেন্ট!!

    কিন্তু আসলেই কী এটা তাঁদের অগ্রগতিঃ
    আলী রীয়াজেরা এবার এনিয়ে ওয়েবিনার বৈঠক করেছে। মানে “প্রতিবেশীদের কাছ থেকে সুবিধা আদায় করছে ভারত” এটা বুঝতে এদের ১৫-১৭ বছর লেগেছে।  এই অগ্রগতিটুকু হতে – মানে আসলেই কী এটা তাঁদের জন্য অগ্রগতি? সন্দেহ আছে! কেন?
    কারণ তারা এসেছে এবার আমেরিকাকে বাঁচাতে! যেন ভারত-আমেরিকাকে একই দড়িতে ফাঁসি না চড়ে!

    বাইডেনের আমে্রিকা এবার স্পষ্ট করেছিল অন্তত গত শেষ দুবছরে [১০ ডিসেম্বর ২০২১ থেকে] যে বাইডেন প্রশাসন শুধু হাসিনার বাংলাদেশ না, মোদির ভারতের উপরেও গণতন্ত্র-মানবাধিকার বা স্যাংশন আরোপে পিছপা হবে না। মূলকথাটা ছিল এবারের বাইডেন প্রশাসন ভারতের হাত ধরে এশিয়াতে আসে নাই বা নিজের “এশিয়া নীতি” সাজায় নাই। ফলে ভারতের চোখ দিয়ে এশিয়া দেখতে বাইডেন যেন আসেন নাই আমাদেরকে তিনি সেই ধারণাই দিয়ে গেছিলেন। কিন্তু হায় হায়! শেষ অন্তত চার মাসে (সেপ্টেম্বর ২০২৩ থেকে) বাইডেন এন্ড গং আর কাপড় ঠিক রাখতে পারেন নাই! ন্যাংটা হয়ে গেছেন। আর শেষে ইন্ডিয়ার কোলেই মুখ লুকিয়েছেন, এশিয়ার সব ভরসা আর নিজ আশ্রয়স্থল করেছেন ভারত। আমেরিকান এই পল্টি-মারা সত্যি অতুলনীয়!

    এককথায় বললে, বাইডেন পল্টি মেরেছেন কারণ, তিনি দেখেছেন, হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখেই নাকি বাংলাদেশে চীন ঠেকানো বা চীন প্রভাব রোধ করা সম্ভব। তাই আমরা এখন সরাসরি বলতে পারি বাইডেনের নীতি-পলিসি গণতন্ত্র-মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কোন  স্যাংশন-ট্যাংশন আরোপ ছিল না। সোজা লক্ষ্য ছিল,  বাংলাদেশে চীন ঠেকানো বা চীন প্রভাব রোধ করা। তাই আমেরিকা গত সেপ্টেম্বর ২০২৩  থেকেই আমাদের বিরোধীদল ছেড়ে পল্টি মেরেছিল। যা এখন ক্রমশ আমাদের কাছে স্পষ্ট হচ্ছে। আর স্পষ্টতই এটা ভারতের বিজয়! বুড়া বাইডেন এখন সব ফেলে দিয়ে ভারতের কোলে কেলায় পড়েছে! আর এতে দ্বিতীয়বার বাংলাদেশকে ভারতের হাতে স্পষ্ট করে তুলে দেয়া ঘটলো!

    আর এব্যাপারে আলী রীয়াজদের মত সবার চেয়ে মুশফিকুল ফজল আনসারী অন্তত সৎ! টেক্কাকে টেক্কা বলার পদক্ষেপ তিনি নিয়েছেন। যদিও তার পারস্পেকটিভ মানে, যে ওয়েব পত্রিকার তিনি নির্বাহী সেখানে প্রকাশিত কিছু আর্টিকেল থেকেই এটা পরিস্কার বুঝা যাচ্ছিল যে আমেরিকা পল্টি মারার সিদ্ধান্ত নিয়েছে! তবু আনসারী নিজের পারস্পেকটিভ-এ লিখতে না পারলেও অন্তত ভারতের WIRE পত্রিকায় নিজের বক্তব্য ছেপে দিয়েছেন। যার বাংলা করে ছেপেছে মানবজমিন!

     

    আইলিন লা-বাকার [Eileen Laubacher] আবার বাংলাদেশ সফরেঃ
    লা-বাকারের এটা দ্বিতীয় বাংলাদেশ সফর; মানে ২০২৩ সালের ৮-১০ জানুয়ারি। সেবার তাঁর পরিচয় দেখেছিলাম যা আমাদেরকে তখন UNB দিয়েছিল যে লাবাকার আমেরিকার একজন National Security Council’s Senior Director for South Asia । আর এবার তাঁর আরো একটা বাড়তি পরিচয় যোগ হয়েছে দেখা যাচ্ছে। সেটা হল, তিনি একইসাথে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের বিশেষ সহকারী-ও [Special Assistant]। অবশ্য এমনিতেই তিনি আমেরিকান নেভির এক সিনিয়র অফিসার – রিয়ার এডমিরাল আইলিন লা-বাকার!
    লা-বাকারকে নিয়ে  মানে তার এবারের সফর  নিয়ে এখনই সবটা লিখা যাবে না। এর টেকনিক্যাল প্রবলেমটা হল, তিনি কেবল গতকালকেই ঢাকায় তাঁর প্রকাশ্য ততপরতা শুরু করেছেন যা অন্তত আজ ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। এটাই তাঁর অফিশিয়াল সিডিউল! ফলে ২৭ ফেব্রুয়ারির পরে তা আবার আমাদের করতে হতে পারে। তাই এখন একটা কেবল তুলনা করব যে, লা-বাকারের আগের বছরের সফর আর এবারের সফর নিয়ে।
    গতবারের লাবাকার এর সফরের পরে আমার এক পুরানা লেখা আছে; লিঙ্ক এখানে।

    একটা আসল কথাই বলতে ভুলে গেছি। গতবার মানে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আইলিন লাবাকার এর প্রথম সফরের সময় ভারতের হয়ে আমাদের
    কাছে কুখ্যাত সুবীর ভৌমিক কী লিখেছিলেন?
    তার সেই লেখার শিরোনাম ছিল – “আমেরিকা কী বার্মা-কে বসনিয়া বানাবে? নো ফ্লাই জোনের পরিকল্পনায় ভারতকেও নিষেধাজ্ঞায় সামিল করবে”
    – অয়ার আজ সেই ডোনাল্ড লু হয়েছে ভারতের কোলে বসা এক গুডি গুডি আদরের দুধ-বালক! ল্যু এখন সুবীরদের বাপ হয়ে গেছে!
    সুবীরের পুরানা সেই লেখার লিঙ্কঃ

    সেকালে লিখেছিলাম, “বাইডেনের এক প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আইলিন লা বাকারকে [Director for South Asia Rear Admiral Eileen Laubacher] পাঠানো; যার  উদ্দেশ্য খোদ হাসিনাকেই বার্মা দখল প্রোগ্রামে সামিল করা বিনিময়ে তাঁর ক্ষমতাচ্যুতির প্রসঙ্গ চাপা দিয়ে রাখা হবে – এই প্রস্তাব কতটা কার্যকর করা যায় তা দেখতে”।
    এছাড়াও সেখানে তখন এর কয়েকলাইন আগে বা উপরে লিখেছিলাম, “আমেরিকার বার্মা দখলের বাসনা বলতে এমনকি আবার সেটাও ঠিক যে এটা শুধু- সু চিকে মুক্ত করা বা বার্মিজ জেনারেলদের উতখাত ও শায়েস্তা করা নয়। এগুলো পরোক্ষ উদ্দেশ্য। আর মুখ্য বা প্রধান উদ্দেশ্য হল এশিয়াতেই চীনবিরোধীতা [কোয়াড বা ইন্দো-প্যাসেফিক স্ট্রাটেজির খাড়া করার মতই তবে আরেকটা পদক্ষেপ] ও চীনকে চ্যলেঞ্জ করে নয়া কল্পিত হবু বার্মায়  আমেরিকান উপস্থিতি ঘটিয়ে দেখানো”।

    আর এবারের পরিস্থিতি হল, হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি এখন আর ইস্যু বা বাস্তবতা নয়। দ্বিতীয়ত, খোদ শাসক বার্মার জেনারেলেরাই এখন বিদ্রোহীদের হাতে নাস্তানাবুদ। তাই, বার্মার ক্ষমতা এখন – জেনারেল বা বিদ্রোহী – এভাবে কার কাছে কতটুকু সেটা এক গবেষণার ব্যাপার এমনই এক অস্থির পরিস্থিতি এটা। কাজেই এর ভিতরে আবার আমেরিকা বার্মাকে দখল পেতে চাইলে কাকে উতখাত করবে – জেনারেল না বিদ্রোহীদের – সেই মূল বিষয়টাই অস্পষ্ট!  কাজেই আমেরিকার বার্মাদখল ইচ্ছা – সেটা এখন আমেরিকার মনের ভিতরে আরো অস্পষ্ট হয়ে থাকাই স্বাভাবিক। ফলে এখনই হাসিনাকে বার্মা ইস্যুতে ভারত-আমেরিকার পক্ষে আসতে বলা অর্থহীন!
    ওদিকে হাসিনা সরকার বা সেনাবাহিনী উভয়েই যুদ্ধের বিপক্ষে। আর তা প্রায় প্রকাশ্য! আবার হাসিনারও এনিয়ে না-বুঝা-নাই যে  নিজ অর্থনৈতিক সংকটের ভিতরে আবার যুদ্ধ লাগানো বা অন্যের লাগানো যুদ্ধের মধ্যে পরা – এর মানে কী দাঁড়াবে? কাজেই আমেরিকার বার্মাদখল ইস্যু হাসিনার কাছে এক নন-স্টার্টার ফুড এর মত মানে, যা খাওয়া শুরুর জন্য কোন সুস্বাদ এর খাদ্য না; বরং করলা ভাজার মতই তিতা!

    তাহলে আইলিন লাবাকারের এবারের কাজটা কী? ফোকাস?
    বাংলাদেশের সরকার-বিরোধীদেরকে রাস্তায় নামিয়ে পরে বিনাবাক্যে পলায়ন বা পল্টি মারা – এটা আগামিতে আমাদের মত দেশে আমেরিকাকে আর কোন সরকার বা বিরোধী দল সহজে বিশ্বাস করতে চাইবে না! আমেরিকার এই পরিচয়ের সিল পরে গেছে!  সম্ভবত এর খেসারত-কাফফারা দিতে দিতেই আমেরিকাকে গ্লোবাল শক্তি হিসাবে ক্রমশই উত্থানরহিত হয়েই শেষ হয়ে যেতে হবে বা যোগ্যতায় দুনম্বর অবস্থানে চলে যেতে হবে!  বিশ্বযুদ্ধের পরে আমেরিকাকে নেতার জায়গা ছেড়ে দিয়ে যেভাবে বৃটিশ সাম্রাজ্যের সুর্যও যে ঢুবে যায় সেটা বৃটিশেরা নিজেই তা প্রমাণ করেছিল – আমেরিকা সম্ভবত সেদিকে হাঁটতে থাকবে!  সম্প্রতি স্থানীয় পার্টনারদের সাথে আলোচনায় যখন এক পশ্চিমা এমবেসি জানতে পারে যে বর্তমানে বাংলাদেশের এনজিও-গুলো আর পাবলিকও আমেরিকার উপর আর আস্থা রাখছে না, হারিয়েছে। হাসিনার টিকে যাওয়া তাদের কাছে বিরাট বাজে ও অবিশ্বাস্য উদাহরণ হয়ে কপালে লটকে গেছে! ওদিকে বিপরীতে এনজিও – এই কালচার বা ততপরতা এখনও পশ্চিমেরই একচেটিয়া; চীন এখনও এনজিও ততপরতা বলে কোনকিছুতে আগ্রহী নয় তাই শুরুই করে নাই। কখনও করবে কিনা এরই কোন পাত্তা নাই। তা সত্বেও নাকি স্থানীয় পার্টনারেরা জানিয়েছে যে বিকল্প হিসাবে  এনজিও-রা সরকারি দলে ভিরে যেতে চাইছে আর নয়ত চীন-বিকল্প হবে কবে কখন তা নিয়ে আলাপ শুরু করে দিয়েছে। মজার কথা হল, উপস্থিত পশ্চিমা প্রতিনিধিদের জন্য এই আলোচনা শোনা ছিল পাপের মত; আর তথ্য ছিল অবিশ্বাস্য আর মারাত্মক তিতা অভিজ্ঞতা!  তারা আশা করেছিল বাংলাদেশের মানুষ বড় জোর আরো কঠিন করে  আমেরিকাসহ পশ্চিমাদের সমালোচনা করবে!! কিন্তু উলটা বিকল্প হিসাবে চীনের নাম সামনে নিয়ে আসা – এটা তারা স্বপ্নেও ভাবে নাই!!!

    তবু আমেরিকান চোখ বা তাঁদের বিবেচনায় বসে দেখলে, তারা মনে করে শুধু আমেরিকার পলায়ন এটা তো কোন পলায়নই না নিজ স্বার্থে সময়ে সঠিক কাজটা করা। আর সেই সাথে এথেকে ভারত-আমেরিকা মিলে গিয়ে যৌথভাবে এবং খোলাখুলি চীন ঠেকানোর কাজে নেমে পড়া নিশ্চয় বাইডেনের এক এশিয়ান অর্জন!  কাজেই লাবাকারের আপাত প্রধান ফোকাস হাসিনা সরকারকে কতটা আমেরিকার কাছের বলে অনুভব করানো যায়! কিন্তু কাজটা খুবই কঠিন! গত দুবছর ধরে হাসিনাকে আমেরিকা যে নাকানি-চুবানি খাইয়েছে সেই ক্ষত-ই এখনও শুকায় নাই; কাজের এর বিপরীত মেরুতে গিয়ে গভীর সদ্ভাবের এক সম্পর্কে  রূপান্তর খুবই কঠিন!  ব্যাপারটা যেখানে প্রধানমন্ত্রীর নিজ পরিবারের উপর অত্যাচার হিসাবে গড়িয়ে আছে – নিয়েছিলেন !  সেই আমেরিকার সাথেই আবার কী নির্ভরশীলতার সম্পর্ক আবার হাসিনা সরকার করতে চাইবেন বা সফল হবেন – মনে জমে থাকা ক্ষোভ-অবিশ্বাসের উপর দাঁড়িয়ে বাইরে বাইরে কতটা আর বাইডেনের আমেরিকার ঘনিষ্ট হতে পারবেন হাসিনা?

    মানুষ একমাত্র মুরোদ-ধর ক্ষমতার কাছেই যায়; আর তাতে সেখানে কিছুটা নিজেকে নত দেখায়ে হলেও রাজি হয়ে। কিন্তু  একবার যদি কারো মুরোদ নিয়ে আস্থা নষ্ট হয়ে যায়, মুরোদ নিয়ে সন্দেহ জাগে তাহলে সব শেষে!  আমেরিকার অবস্থা এখন সে জায়গায়, সে নিজেই নিজেকে সে জায়গায় নিয়েছে!
    আর হাসিনাও জেনে গেছেন যে বাইডেনকেই অত পাত্তা না দিয়েও টিকে যাওয়া যায়!
    কাজেই এখন ইন্দো-প্যাসেফিক স্ট্রাটেজির সাফল্য আমেরিকার সাথে একসাথে বাংলাদেশের উতযাপন এর কথা বলে লাবাকার কতদুর যেতে পারবেন? বরং হাসিনার প্রেফার করার সম্রভাবনা বেশী যে আমেরিকাকে যতটুকু তাঁর দরকার তা ভারতের মাধ্যমে পেয়ে নিতে; ডিমান্ড নোট পাঠিয়ে। আর এতে মোদি-জয়শঙ্কর ততই নিজেদের ক্ষমতাবান মনে করতে থাকবে হয়ত!

    কিন্তু নগদ ডলার মানে, হাসিনা সরকারের অর্থনীতিতে এর  গভীর চাহিদা হয়ে আছে এর সুরাহা কী হবে এ নিয়ে তো কিছুই হয় নাই!   কিভাবে হবে সেটাও সব অস্পষ্ট! সবাই ঘুরায়-ফিরায় চীনের বিকল্প হিসাবে জাপানকে ধরতে হবে – বলতে চায়! কিন্তু জাপানকে ধরতে চাইলে তা হাসিনা নিজেই পারে, লাবাকার-বাইডেনদেরকে হাসিনার এখানে দরকার নাই। আসলে সমস্যা তো অন্য জায়গায় –  জাপান এখন আর সেই ইয়াং  বা উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তি নয়। যখন সেই সময় বলতে, ১৯৬৬ সালের আশেপাশে মানে যখন নয়া এশিয়ান ডেভলবমেন্ট ব্যাংক [ADB] খুলেছিল, সেই ১৯৬৬ সালের শেষের পর থেকে। যখন সে বড় ভাইয়া আমেরিকার অনুমতি নিয়ে এই দুদেশ মিলে এডিবি’র  সবচেয়ে বড় দুই শেয়ার-হোল্ডার মালিক হয়ে নিয়েছিল। সেই উদীয়মান জাপানের জোশ আর এখন খুজলে তো হবে না, নাই! এছাড়া, জাপানেরর সুদের হারও বেশী; ঋণ দান ক্ষমতা সামর্থও চীনের মত লেবেলের না! এই অবস্থায় আমেরিকা আর ইইউ এদুই গোষ্ঠিও যদি তাদের ঋণদানের অক্ষমতায় সেইও জাপান-ভরসা, মামে স্কলেই জাপান ভরসার গান গেয়ে উসুল করতে চায় তা আর কতটুকু বাস্তবায়ন সম্ভব? অথচ গ্লোবাল নেতা হবার এই পালা বদলের কালে চীনের তুলনায় আমেরিকার ক্রাইসিস ও অযোগ্যতা তো এটাই!!   সিংহও একদিন বুড়া হয়! শিকার করতে অযোগ্য হয়ে না খেয়ে শুকিয়ে একদিন মরে যায়!

    কাজেই আইলিন লাবাকার এরা যতই বাংলাদেশকে রাস্তায় ফেলে রেখে পল্টি মেরে নিজেদের বুদ্ধিমান বিজয়ী ও ইন্দো-প্যাসেফিকে নিজেদের বিজয় হয়েছে বলে জোশ তুলতে চান না কেন সেটা কার্যত – বাংলাদেশকে আরেকবার ভারতের কাছে বিক্রি করে দেওয়াই হবে! হয়েছেও তাই! এবং বাইডেনের বকোয়াজ পরিণতিতে তাই হয়েছে! আবার এদিকটাও যে হাসিনা বুঝেন না তাও তো না!  কাজেই বাইডেনের টিম যা এসেছে বাংলাদেশে বা আগামিতে আসবে সবই এমন অর্থহীন-ই হবে!

    তবে এটা জানতেও কারও বাকি নাই যে বাইডেনের প্রশাসনের জন্য এটা হল ক্ষমতার শেষ বছর অতএব বাকি কিছু মাস তাইরে-নাইরে করে পার করে দেয়া যাকে, আমরা টাইম পাস বলি!! এটাই বাকারদের লক্ষ্য!
    সক্রিয়ভাবে বাইডেন প্রশাসন তো আর তো মাত্র ছয়-আট মাস ! আগামি নভেম্বর ২০২৪ এর প্রথম সপ্তাহেই পরবর্তি আমেরিকান প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। ফলাফল কমবেশি স্পষ্ট যে সম্ভাব্য প্রার্থী ট্রাম্পই সম্ভবত বিজয়ী হচ্ছেন!  অর্থাৎ অন্তত বাইডেন আর নয়! যেটা এর মূলকথা!! ফলে যারা এবছর বাইডেন প্রশাসনের হয়ে বাংলাদেশে আসছেন তাদের কেরিয়ারও শেষ! ফুল স্টপ!!

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ০৭ঃ৫৬ সন্ধ্যা

     

     

     

     

     

     

     

     

     

    নিচে উপরের লেখাটারই একটা সাদামাটা রচনা বা Plain Text ভার্সান দেয়া হল পরীক্ষামূলকভাবে,  অনেকে বলছেন এতে লেখা মোবাইলে পড়তে সুবিধা হবে। পাঠকেরা মন্তব্য জানাবেন আশা করিঃ

    আলী রীয়াজদের সংকট এবং
    আইলিন এর এবারের ঢলে পরা সফরে!
    গৌতম দাস

    ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ সন্ধ্যা সাতটা নয়
    https://wp.me/p1sCvy-5qQ

    প্রতীকীভাবে “আলী রীয়াজদের” বললেও এরা আসলে কারা? বলতে চেয়েছি যারা দ্বৈত নাগরিক মানে, বিশেষ দ্বৈততার দিক আছে। তাও এটা ঠিক দ্বৈত নাগরিক মাত্রই এমন সবার কথা বলছি না। একজন ব্যবসায়ী, চাকুরিজীবী বা সাধারণ মানুষ যারা আপন ভাগ্য-অন্বেষণে  আমেরিকায় (বা বিদেশে) নাগরিকত্ব যোগাড় করেছেন বা যোগাড় করতে না পারলেও রেসিডেন্ট পারমিট – মানে সে দেশে থেকেই বসবাস ও কাজ-চাকুরি করার অনুমতি পেয়ে নিয়েছেন – এমন সকল মাইগ্রেন্ট বা প্রবাসী – এদের সকলকে বাইরে রেখে বাকিদের কথা বলছি। অর্থাৎ সাধারণদের প্রায় সকলকেই একেবারেই বাইরে রাখছি।  এমন এরা সকলকেই এই আলোচনার বাইরে রেখে কথা বলছি।  তাতে যাদের কথা বলছি, এরাও দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়েছেন বা না নিয়েছেন, তাতেও কোন ফারাক নাই।  কারণ, আমার এই কথাগুলো সাধারণদের নিয়ে নয়। তাহলে?

    আমি কথা বলছি যারাও মাইগ্রেন্ট অবশ্যই, কিন্তু যারা সেদেশের সরকারের নীতি-পলিসি সংশ্লিষ্ট পেশা নিয়েছেন যেমন কোন আমেরিকান থিঙ্ক ট্যাংক ফেলো। এছাড়াও যারা আমেরিকা সরকারের নীতি-নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পর্কিত। অথবা আরেকটা চিহ্ন যাদিয়ে এদের আলাদা করা যায় যে যারা তাদের পেশাগত কাজটাই এমন যে তাঁকে আমেরিকান প্রশাসনের পক্ষে সাফাই দেয়া বা যুক্তি-অবস্থান যোগানোই যাদের একমাত্র কাজ; এভাবেই তাদের লিখা বা কথা বলতে হয়। ফলে বলাই বাহুল্য যারা দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়েছেন বা রেসিডেন্ট পারমিট হোল্ডার শুধু নন; বরং বাড়তি আরো যারা প্রত্যক্ষ-পরোক্ষে আমেরিকান প্রশাসনের সাথে জড়িয়ে আছেন বা গেছেন – আমি কেবল এদের কথা বলছি। এখানে “আলী রীয়াজদের” বলতে তাদের কথা বুঝিয়েছি। এই অর্থে এদের বিশেষ দ্বৈততার দিকেই আমার নজর তাতে এরা নাগরিক অথবা যাদের মধ্যে অনেকে শুধু-ই রেসিডেন্ট পারমিট হোল্ডার হলেও!

    বাংলাদেশে আমেরিকান ফরেন পলিসির প্রয়োগ আছে স্বাভাবিকভাবেই আর, আপনি এই বিশেষ দ্বৈততায় নাগরিক বা হয়ত না; কিন্তু আপনি  আমেরিকান পলিসি-প্রশাসনের কর্ম প্রয়োগ-ততপরতার সাথে জড়িত; যেমন ধরা যাক আলী রিয়াজ এক আমেরিকান থিঙ্কট্যাঙ্ক এর ফেলো। এখন আলী রিয়াজ বাংলাদেশের সিরিয়াস রাষ্ট্রস্বার্থ জড়িত এমন কোন ইস্যুতে আমেরিকান পলিসি সম্পর্কিত কোন আলোচনায় অংশ নিয়েছেন; আর সেখানে আলী রিয়াজের কথা বক্তব্য-অবস্থান – যা কিছু তিনি সেখানে বলবেন বা লিখবেন, এটাতে তিনি কাকে প্রতিনিধিত্ব করছে বলে ধরে নিব? আমেরিকান রাষ্ট্রস্বার্থ নাকি বাংলাদেশের  রাষ্ট্রস্বার্থ? কথাটা বলা হচ্ছে এটা মনে রেখে যে আলী রিয়াজ বাংলাদেশ-অরিজিন আমেরিকান!  তাই এককথায়, ছোট করে প্রশ্ন হচ্ছে আলী রিয়াজের ভাষ্য কী আমেরিকান রাষ্ট্রস্বার্থ নাকি বাংলাদেশের  রাষ্ট্রস্বার্থ এর ভাষ্য? কোনটা বলে ধরে নিব?

    এখন আমরা স্বীকার করি বা স্বীকৃতি দেই আর না দেই – বাস্তবতা হল এখানে এক গভীর “কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট” মানে, দুই রাষ্ট্রস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সংঘাত-বিরোধ আছে। আর এর একেবারে প্রাথমিক কিছু অবলিগেশন [obligation] বা দায় আছে আলী রীয়াজদের! নুন্যতম সততা স্বচ্ছতার খাতিরে তাদের এবিষয়ে একটা ঘোষিত অবস্থান থাকা উচিত।  কথাটা এমন হতে পারে যে, “আমি (আলী রিয়াজেরাদের কেউ) যাকিছু পলিটিক্যাল-ইকোনমিক বক্তব্য রাখি  সেখানে আমি সুনির্দিষ্ট করে ভিন্ন কিছু উল্লেখ না করলে ধরে নিতে হবে সেখানে আমি কেবল আমেরিকাকে প্রতিনিধিত্ব করেই বক্তব্য দিয়েছি ও দেই বলেই মনে করা সঠিক হবে”।

    যদিও থিঙ্কট্যাঙ্ক ফেলোদের কাজ হল আমেরিকার ক্ষমতাসীন প্রশাসনের পক্ষে ঢোল বাজানো। এমনকি সেটা প্রকাশ্যে ক্রিটিক্যাল বা নেগেটিভ অবজারভেশন দেয়াও না।

    মনে রাখতে হবে থিঙ্কট্যাঙ্ক এর চাকরি বা সার্ভিস দেওয়ার চুক্তিপত্র করা, এটা কিন্তু আমেরিকায় গিয়ে কোন ইঞ্জিয়ারিং-টেকনোলজি ফার্মের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে তাদেরকে সার্ভিস দেয়া ও আয় করার মত ঘটনা একেবারেই নয়; সমতুলনীয় ঘটনা নয়। কারণ, থিঙ্কট্যাংক ফেলো বা আমেরিকাকে বাংলাদেশী-কনসালটেন্ট সার্ভিস দেওয়ার পেশাটা শতভাগ রাজনীতিক ও রাষ্ট্রস্বার্থ-মুলক কাজ!  কেউ এথনিক বাঙালি জনগোষ্ঠির লোক বলে সেই ইমেজকে ব্যবহার করে নিজেকে আড়ালে রাখার সুবিধা নেয়া ভুল ও অসততা হবে। মানে, এর উপর দাঁড়িয়ে সে সুবিধা নিয়ে আমেরিকান স্বার্থ বাস্তবায়নের কথা খেয়াল করে বক্তব্য দিয়ে যাওয়া  – এটা খুবই অস্বচ্ছ কাজ এই অর্থে তা অপ-ততপরতা হতে পারে! আমেরিকান রাষ্ট্রস্বার্থের পক্ষে সার্ভিস দিয়ে আয় করা হয়ত সাধারণভাবে অপরাধ নয় তবে,  আগে নিজ পরিচয়-অবস্থান পরিস্কার করে রাখলে সেটাই সততা হবে যে আমি আমেরিকান রাষ্ট্রস্বার্থের পক্ষে চাকরি-কাজে বা সার্ভিস দেওয়াতে আছি!

    সম্প্রতি এবিষয়টা খুবই সিরিয়াস পর্যায়ে গেছে বলে আমার মনে হয়। ওয়েবিনার [webinar] মানে অনলাইন টকশোতে কথা বলা যাকে বলি, তার মধ্যে।  ওয়েবিনার মানে, কয়েক ব্যক্তি যারা নানান দেশে বসে আছেন কিন্তু তা সত্বেও যেন তারা একসাথে এক দেশের এক রুমে বসে আলোচনা করছেন – এমন এক গোলটেবিল বৈঠকের মত সেটা। এটা সম্ভব কারণ, তারা ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রত্যেকে অডিও-ভিডিও সব অর্থেই কানেকটেড থাকেন সেখানে। অনেকে এটাকে তাই ভার্চুয়াল [virtual] বৈঠকও বলেন। [ভার্চুয়াল মানে হল, যা বাস্তব নয় কিন্তু যেন বাস্তব মনে করে নেয়া হয়েছে ও সে  অনুযায়ী আচরণ করা হচ্ছে; যার বাংলা অনেকে করে বলেন – “জ্ঞানত” বা অনুমিত]  তেমনই সম্প্রতি এক বৈঠকের খবর প্রসঙ্গে রিপোর্ট করেছে প্রথম আলো। শিরোনাম “প্রতিবেশীদের কাছ থেকে সুবিধা আদায় করছে ভারত” । আর এই ওয়েবিনার বৈঠকের নিজস্ব শিরোনাম ছিলঃ ওয়েবিনারের শিরোনাম ছিল ‘বাংলাদেশ ও তার প্রতিবেশী: বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের প্রভাব’।

    সেখানেই এই প্রশ্ন যে অংশগ্রহণকারী প্রবাসীরা তাঁরা কাদের প্রতিনিধিত্ব করে কথা বলছিলেন –  আমেরিকান রাষ্ট্রস্বার্থ নাকি বাংলাদেশের  রাষ্ট্রস্বার্থ? –

    এমন অস্পষ্টতা ছিল পীড়াদায়ক ও বিভ্রান্তকর!
    কারণ, শিরোনাম দেখেই জানা যাচ্ছে – তারা বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের হস্তক্ষেপ নিয়ে এবার কথা বলছেন অথচ আমেরিকাকে বাইরে রেখে এর সব দায় কেবল ভারতের উপর চাপাচ্ছিলেন। অথচ তাঁরা কারা? মানে তারা কাকে প্রতিনিধিত্ব করছেন? মানে প্রবাসী ব্যক্তিদের কোন রাষ্ট্রীয় পরিচয়? তারা অনেকেই বাংলাদেশি-অরিজিন আমেরিকান। তাই ঐ ওয়েবিনারে তারা কী বাংলাদেশি রাষ্ট্রস্বার্থের নাকি আমেরিকান বা বিদেশি রাষ্ট্রস্বার্থের নাগরিক-প্রতিনিধি হিসাবে কথা বলছিলেন?

    কারণ, বিষয়টাতে এই প্রশ্ন ওখানে খুবই সিরিয়াস দিক ছিল? বাংলাদেশের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের জন্য দায়ী করা হচ্ছিল কেবল ভারতকে!  কিন্তু এটা ছিল
    বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একেবারে ভারত-আমেরিকার যৌথ প্রযোজনায় ঘটা হস্তক্ষেপ!
    আমরা তো ভুলতে পারি না যে ২০০৭ সালের ১/১১ এর সেনা ক্ষমতাদখল ছিল এক আমেরিকান প্রযোজনা। যার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশকে ভারতের হাতে
    তুলে দেওয়া।  আমেরিকার পক্ষ থেকে ভারতকে ঠিকা দেয়া কাজ – এশিয়ায় ভারত চীন ঠেকানোর চেষ্টা করবে – আর বিনিময়ে এরই উপহার ছিল বাংলাদেশকে
    ভারতের হাতে তুলে দেয়া! কিন্তু আমেরিকা বাংলাদেশকে তুলে দিবার কে??? এটা তো চরম অপরাধ??
    আর এখন ওয়েবিনারের যে শিরোনাম “প্রতিবেশীদের কাছ থেকে সুবিধা আদায় করছে ভারত” এই একই কাজ যার শুরু তো সেই ১/১১ এর পর থেকেই, গত সতের বছর ধরে। তাহলে???
    আর এখন সব দায় একা ভারতের উপর চাপাচ্ছে কেন আলী রীয়াজেরা???? আমেরিকার হাত ধুয়ে ফেলানো???? এটা ঘোরতর অসততা!

    ওয়েবিনারের এই শিরোনাম আমাদেরকে নিজেই জানিয়ে দিয়েছে যে সেখানে আলোচনার প্রসঙ্গ হল – বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের হস্তক্ষেপ। যদিও তামাসা করে বললে, এটা কিন্তু তাদের একটা ভাল অগ্রগতিও বটে!

    ভারতের বাংলাদেশে হাত ঢুকানো তো নতুন না। কারণ গত ১/১১ এর সময়ে বাংলাদেশে আমেরিকার সামরিক ক্ষমতা দখলের এক প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশকে নিয়ে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া যাতে ভারত পক্ষে অসংখ্য সব ধরণের করিডোর এবং সবই বিনা-পয়সায় বাংলাদেশ থেকে আদায়; এমনকি ভারতের সুবিধা করে দিতে এজন্য যা অবকাঠামো নির্মাণ ব্যয় বইবার দায়ীত্ব এটাও বাংলাদেশের অর্থ ও দায়! অন্যদিকে পুরা বাংলাদেশকে ভারতের নিজ পণ্যের একচেটিয়া বাজার বানানো; এনফোর্সড ও অবৈধভাবে রেমিটেন্স আদায়ের জন্য বাংলাদেশকে উতস দেশ হিসাবে ব্যবহার ইত্যাদি সহ হেন ভারতীয় স্বার্থ নাই যা তখন থেকে লুট করা শুরু করা হয় নাই। যেটা ২০১৭ সালের পর থেকে একটু ঝিমিয়ে গেলেও চলতি ফেব্রুয়ারি থেকে তা আবার আমেরিকান প্রটেকশনে বিপুল বেগে চালু করার ব্যবস্থা নেয়া শুরু হয়েছে। আর এটা এতই তীব্র ও প্রকাশ্য যে আলী রীয়াজেরা এই ইস্যুতেই কেবল ভারতকেই দায়ী করে হলেও এবার বৈঠক ডেকে বসতে বাধ্যই হয়েছে। বাধ্য বলছি কারণ, গত ১৫ বছর তো আলী রিয়াজদের এনিয়ে কোন ততপরতা দেখি নাই। আলী রীয়াজদের এই চিকণ বুদ্ধির প্রশংসা করতেই হয়!! এতে ভারতবিরোধী সাজা গেছে আবার আমেরিকান নীতি-পলিসি অবস্থানের পক্ষে সার্ভিসও দেয়া গেছে!

    আলী রিয়াজ আমেরিকান এক থিঙ্কট্যাঙ্ক ফেলো হিসাবে জয়েন বা চুক্তিবদ্ধ হবার পরপরই সেসময় (২০০৭) মূলত আমেরিকান পলিসি যে – এশিয়ায় চীনের বিস্তার ঠেকাও – যা তাদের ভাষায় চায়না ঠেকাও বা China Containment নামে ডাকত তারা – একাজের সারকথা ছিল –  বাংলাদেশকে উপহার হিসাবে ভারতের হাতে তুলে দেয়া – আর তাই করা হয়েছিল। কাজেই আলী রীয়াজের এই অপরাধ এটা অজানা থাকার কোন কারণ নাই। যখন তিনি তো সেখানে আমেরিকান রাষ্ট্রস্বার্থের পক্ষে বাংলাদেশ এক্সপার্ট হিসাবেই রিক্রুটেড!   আমি জানি এনিয়ে আলী রিয়াজকে কোন পাবলিক সভায় বা বাংলাদেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয় সভাতে এনিয়ে প্রশ্ন করলেও তিনি এনিয়ে তিনি কিছু জানেন না – এমন ধারণাই দিয়ে গিয়েছিলেন।  কথাটা অন্যভাবেও বলা যায় গত ১৫-১৭ বছরে আলী রীয়াজেরা যেন আমেরিকার বাংলাদেশকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া  এই গর্হিত অপরাধ কাজ কখনও হতে দেখেনই নাই!! তাই যেন এবারই প্রথম বলতে চাইছেন যে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে সুবিধা আদায় করছে ভারত” । এক কথায় বললে আলী রীয়াজেরা ভান করছেন যেন আগে আমেরিকার এমন অপরাধের ঘটনা দেখা যায় নাই। আর সে কারণেই নিশ্চয় আলী রীয়াজেরা এমন ইস্যুতে কখনও কিছু লিখেছেন, বলেছেন এমনটার দরকার হয় নাই! তাই তা আমরা জানি না!  আবার আলী রিয়াজদের পক্ষে আমেরিকান ততপরতা দায় নিয়ে কথা বলা এটা আমাদের আশা করা কী ঠিক হবে?  কারো এনিয়ে জানা থাকলে এখনও শেয়ার করতে পারেন, বাধিত হব। তবে যারাই আগে কখনও কিছু বলেন নাই এটাকে তাদের অপরাধ – আমরা এটাই বলব! যদি বাংলাদেশী পরিচয়কে প্রতিনিধিত্ব করেন তবে ঘোরতর অপরাধকারী এরা। আর আমেরিকাকে প্রতিনিধিত্ব বা চাকুরির খাতিরে করলে এমন কাজ করা – এরা বাংলাদেশ রাষ্ট্রস্বার্থের চোখে প্রকাশ্য শত্রু! যারা আমেরিকার বাংলাদেশকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার ছুপা এজেন্ট!!

     

    কিন্তু আসলেই কী এটা তাঁদের অগ্রগতিঃ
    আলী রীয়াজেরা এবার এনিয়ে ওয়েবিনার বৈঠক করেছে। মানে “প্রতিবেশীদের কাছ থেকে সুবিধা আদায় করছে ভারত” এটা বুঝতে এদের ১৫-১৭ বছর লেগেছে।  এই অগ্রগতিটুকু হতে – মানে আসলেই কী এটা তাঁদের জন্য অগ্রগতি? সন্দেহ আছে! কেন?
    কারণ তারা এসেছে এবার আমেরিকাকে বাঁচাতে! যেন ভারত-আমেরিকাকে একই দড়িতে ফাঁসি না চড়ে!

    বাইডেনের আমে্রিকা এবার স্পষ্ট করেছিল অন্তত গত শেষ দুবছরে [১০ ডিসেম্বর ২০২১ থেকে] যে বাইডেন প্রশাসন শুধু হাসিনার বাংলাদেশ না, মোদির ভারতের উপরেও গণতন্ত্র-মানবাধিকার বা স্যাংশন আরোপে পিছপা হবে না। মূলকথাটা ছিল এবারের বাইডেন প্রশাসন ভারতের হাত ধরে এশিয়াতে আসে নাই বা নিজের “এশিয়া নীতি” সাজায় নাই। ফলে ভারতের চোখ দিয়ে এশিয়া দেখতে বাইডেন যেন আসেন নাই আমাদেরকে তিনি সেই ধারণাই দিয়ে গেছিলেন। কিন্তু হায় হায়! শেষ অন্তত চার মাসে (সেপ্টেম্বর ২০২৩ থেকে) বাইডেন এন্ড গং আর কাপড় ঠিক রাখতে পারেন নাই! ন্যাংটা হয়ে গেছেন। আর শেষে ইন্ডিয়ার কোলেই মুখ লুকিয়েছেন, এশিয়ার সব ভরসা আর নিজ আশ্রয়স্থল করেছেন ভারত। আমেরিকান এই পল্টি-মারা সত্যি অতুলনীয়!

    এককথায় বললে, বাইডেন পল্টি মেরেছেন কারণ, তিনি দেখেছেন, হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখেই নাকি বাংলাদেশে চীন ঠেকানো বা চীন প্রভাব রোধ করা সম্ভব। তাই আমরা এখন সরাসরি বলতে পারি বাইডেনের নীতি-পলিসি গণতন্ত্র-মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কোন  স্যাংশন-ট্যাংশন আরোপ ছিল না। সোজা লক্ষ্য ছিল,  বাংলাদেশে চীন ঠেকানো বা চীন প্রভাব রোধ করা। তাই আমেরিকা গত সেপ্টেম্বর ২০২৩  থেকেই আমাদের বিরোধীদল ছেড়ে পল্টি মেরেছিল। যা এখন ক্রমশ আমাদের কাছে স্পষ্ট হচ্ছে। আর স্পষ্টতই এটা ভারতের বিজয়! বুড়া বাইডেন এখন সব ফেলে দিয়ে ভারতের কোলে কেলায় পড়েছে! আর এতে দ্বিতীয়বার বাংলাদেশকে ভারতের হাতে স্পষ্ট করে তুলে দেয়া ঘটলো!

    আর এব্যাপারে আলী রীয়াজদের মত সবার চেয়ে মুশফিকুল ফজল আনসারী অন্তত সৎ! টেক্কাকে টেক্কা বলার পদক্ষেপ তিনি নিয়েছেন। যদিও তার পারস্পেকটিভ মানে, যে ওয়েব পত্রিকার তিনি নির্বাহী সেখানে প্রকাশিত কিছু আর্টিকেল থেকেই এটা পরিস্কার বুঝা যাচ্ছিল যে আমেরিকা পল্টি মারার সিদ্ধান্ত নিয়েছে! তবু আনসারী নিজের পারস্পেকটিভ-এ লিখতে না পারলেও অন্তত ভারতের WIRE পত্রিকায় নিজের বক্তব্য ছেপে দিয়েছেন। যার বাংলা করে ছেপেছে মানবজমিন!

    আইলিন লা-বাকার [Eileen Laubacher] আবার বাংলাদেশ সফরেঃ
    লা-বাকারের এটা দ্বিতীয় বাংলাদেশ সফর; মানে ২০২৩ সালের ৮-১০ জানুয়ারি। সেবার তাঁর পরিচয় দেখেছিলাম যা আমাদেরকে তখন UNB দিয়েছিল যে লাবাকার আমেরিকার একজন National Security Council’s Senior Director for South Asia । আর এবার তাঁর আরো একটা বাড়তি পরিচয় যোগ হয়েছে দেখা যাচ্ছে। সেটা হল, তিনি একইসাথে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের বিশেষ সহকারী-ও [Special Assistant]। অবশ্য এমনিতেই তিনি আমেরিকান নেভির এক সিনিয়র অফিসার – রিয়ার এডমিরাল আইলিন লা-বাকার!

    লা-বাকারকে নিয়ে  মানে তার এবারের সফর  নিয়ে এখনই সবটা লিখা যাবে না। এর টেকনিক্যাল প্রবলেমটা হল, তিনি কেবল গতকালকেই ঢাকায় তাঁর প্রকাশ্য ততপরতা শুরু করেছেন যা অন্তত আজ ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। এটাই তাঁর অফিশিয়াল সিডিউল! ফলে ২৭ ফেব্রুয়ারির পরে তা আবার আমাদের করতে হতে পারে। তাই এখন একটা কেবল তুলনা করব যে, লা-বাকারের আগের বছরের সফর আর এবারের সফর নিয়ে।

    গতবারের লাবাকার এর সফরের পরে আমার এক পুরানা লেখা আছে; লিঙ্ক এখানে।

    একটা আসল কথাই বলতে ভুলে গেছি। গতবার মানে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আইলিন লাবাকার এর প্রথম সফরের সময় ভারতের হয়ে আমাদের
    কাছে কুখ্যাত সুবীর ভৌমিক কী লিখেছিলেন?
    তার সেই লেখার শিরোনাম ছিল – “আমেরিকা কী বার্মা-কে বসনিয়া বানাবে? নো ফ্লাই জোনের পরিকল্পনায় ভারতকেও নিষেধাজ্ঞায় সামিল করবে”
    – অয়ার আজ সেই ডোনাল্ড লু হয়েছে ভারতের কোলে বসা এক গুডি গুডি আদরের দুধ-বালক! ল্যু এখন সুবীরদের বাপ হয়ে গেছে!
    সুবীরের পুরানা সেই লেখার লিঙ্কঃ  https://thefederal.com/…/will-us-do-a-bosnia-on…/

    সেকালে লিখেছিলাম, “বাইডেনের এক প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আইলিন লা বাকারকে [Director for South Asia Rear Admiral Eileen Laubacher] পাঠানো; যার  উদ্দেশ্য খোদ হাসিনাকেই বার্মা দখল প্রোগ্রামে সামিল করা বিনিময়ে তাঁর ক্ষমতাচ্যুতির প্রসঙ্গ চাপা দিয়ে রাখা হবে – এই প্রস্তাব কতটা কার্যকর করা যায় তা দেখতে”।

    এছাড়াও সেখানে তখন এর কয়েকলাইন আগে বা উপরে লিখেছিলাম, “আমেরিকার বার্মা দখলের বাসনা বলতে এমনকি আবার সেটাও ঠিক যে এটা শুধু- সু চিকে মুক্ত করা বা বার্মিজ জেনারেলদের উতখাত ও শায়েস্তা করা নয়। এগুলো পরোক্ষ উদ্দেশ্য। আর মুখ্য বা প্রধান উদ্দেশ্য হল এশিয়াতেই চীনবিরোধীতা [কোয়াড বা ইন্দো-প্যাসেফিক স্ট্রাটেজির খাড়া করার মতই তবে আরেকটা পদক্ষেপ] ও চীনকে চ্যলেঞ্জ করে নয়া কল্পিত হবু বার্মায়  আমেরিকান উপস্থিতি ঘটিয়ে দেখানো”।

    আর এবারের পরিস্থিতি হল, হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি এখন আর ইস্যু বা বাস্তবতা নয়। দ্বিতীয়ত, খোদ শাসক বার্মার জেনারেলেরাই এখন বিদ্রোহীদের হাতে নাস্তানাবুদ। তাই, বার্মার ক্ষমতা এখন – জেনারেল বা বিদ্রোহী – এভাবে কার কাছে কতটুকু সেটা এক গবেষণার ব্যাপার এমনই এক অস্থির পরিস্থিতি এটা। কাজেই এর ভিতরে আবার আমেরিকা বার্মাকে দখল পেতে চাইলে কাকে উতখাত করবে – জেনারেল না বিদ্রোহীদের – সেই মূল বিষয়টাই অস্পষ্ট!  কাজেই আমেরিকার বার্মাদখল ইচ্ছা – সেটা এখন আমেরিকার মনের ভিতরে আরো অস্পষ্ট হয়ে থাকাই স্বাভাবিক। ফলে এখনই হাসিনাকে বার্মা ইস্যুতে ভারত-আমেরিকার পক্ষে আসতে বলা অর্থহীন!

    ওদিকে হাসিনা সরকার বা সেনাবাহিনী উভয়েই যুদ্ধের বিপক্ষে। আর তা প্রায় প্রকাশ্য! আবার হাসিনারও এনিয়ে না-বুঝা-নাই যে  নিজ অর্থনৈতিক সংকটের ভিতরে আবার যুদ্ধ লাগানো বা অন্যের লাগানো যুদ্ধের মধ্যে পরা – এর মানে কী দাঁড়াবে? কাজেই আমেরিকার বার্মাদখল ইস্যু হাসিনার কাছে এক নন-স্টার্টার ফুড এর মত মানে, যা খাওয়া শুরুর জন্য কোন সুস্বাদ এর খাদ্য না; বরং করলা ভাজার মতই তিতা!

    তাহলে আইলিন লাবাকারের এবারের কাজটা কী? ফোকাস?
    বাংলাদেশের সরকার-বিরোধীদেরকে রাস্তায় নামিয়ে পরে বিনাবাক্যে পলায়ন বা পল্টি মারা – এটা আগামিতে আমাদের মত দেশে আমেরিকাকে আর কোন সরকার বা বিরোধী দল সহজে বিশ্বাস করতে চাইবে না! আমেরিকার এই পরিচয়ের সিল পরে গেছে!  সম্ভবত এর খেসারত-কাফফারা দিতে দিতেই আমেরিকাকে গ্লোবাল শক্তি হিসাবে ক্রমশই উত্থানরহিত হয়েই শেষ হয়ে যেতে হবে বা যোগ্যতায় দুনম্বর অবস্থানে চলে যেতে হবে!  বিশ্বযুদ্ধের পরে আমেরিকাকে নেতার জায়গা ছেড়ে দিয়ে যেভাবে বৃটিশ সাম্রাজ্যের সুর্যও যে ঢুবে যায় সেটা বৃটিশেরা নিজেই তা প্রমাণ করেছিল – আমেরিকা সম্ভবত সেদিকে হাঁটতে থাকবে!  সম্প্রতি স্থানীয় পার্টনারদের সাথে আলোচনায় যখন এক পশ্চিমা এমবেসি জানতে পারে যে বর্তমানে বাংলাদেশের এনজিও-গুলো আর পাবলিকও আমেরিকার উপর আর আস্থা রাখছে না, হারিয়েছে। হাসিনার টিকে যাওয়া তাদের কাছে বিরাট বাজে ও অবিশ্বাস্য উদাহরণ হয়ে কপালে লটকে গেছে! ওদিকে বিপরীতে এনজিও – এই কালচার বা ততপরতা এখনও পশ্চিমেরই একচেটিয়া; চীন এখনও এনজিও ততপরতা বলে কোনকিছুতে আগ্রহী নয় তাই শুরুই করে নাই। কখনও করবে কিনা এরই কোন পাত্তা নাই। তা সত্বেও নাকি স্থানীয় পার্টনারেরা জানিয়েছে যে বিকল্প হিসাবে  এনজিও-রা সরকারি দলে ভিরে যেতে চাইছে আর নয়ত চীন-বিকল্প হবে কবে কখন তা নিয়ে আলাপ শুরু করে দিয়েছে। মজার কথা হল, উপস্থিত পশ্চিমা প্রতিনিধিদের জন্য এই আলোচনা শোনা ছিল পাপের মত; আর তথ্য ছিল অবিশ্বাস্য আর মারাত্মক তিতা অভিজ্ঞতা!  তারা আশা করেছিল বাংলাদেশের মানুষ বড় জোর আরো কঠিন করে  আমেরিকাসহ পশ্চিমাদের সমালোচনা করবে!! কিন্তু উলটা বিকল্প হিসাবে চীনের নাম সামনে নিয়ে আসা – এটা তারা স্বপ্নেও ভাবে নাই!!!

    তবু আমেরিকান চোখ বা তাঁদের বিবেচনায় বসে দেখলে, তারা মনে করে শুধু আমেরিকার পলায়ন এটা তো কোন পলায়নই না নিজ স্বার্থে সময়ে সঠিক কাজটা করা। আর সেই সাথে এথেকে ভারত-আমেরিকা মিলে গিয়ে যৌথভাবে এবং খোলাখুলি চীন ঠেকানোর কাজে নেমে পড়া নিশ্চয় বাইডেনের এক এশিয়ান অর্জন!  কাজেই লাবাকারের আপাত প্রধান ফোকাস হাসিনা সরকারকে কতটা আমেরিকার কাছের বলে অনুভব করানো যায়! কিন্তু কাজটা খুবই কঠিন! গত দুবছর ধরে হাসিনাকে আমেরিকা যে নাকানি-চুবানি খাইয়েছে সেই ক্ষত-ই এখনও শুকায় নাই; কাজের এর বিপরীত মেরুতে গিয়ে গভীর সদ্ভাবের এক সম্পর্কে  রূপান্তর খুবই কঠিন!  ব্যাপারটা যেখানে প্রধানমন্ত্রীর নিজ পরিবারের উপর অত্যাচার হিসাবে গড়িয়ে আছে – নিয়েছিলেন !  সেই আমেরিকার সাথেই আবার কী নির্ভরশীলতার সম্পর্ক আবার হাসিনা সরকার করতে চাইবেন বা সফল হবেন – মনে জমে থাকা ক্ষোভ-অবিশ্বাসের উপর দাঁড়িয়ে বাইরে বাইরে কতটা আর বাইডেনের আমেরিকার ঘনিষ্ট হতে পারবেন হাসিনা?

    মানুষ একমাত্র মুরোদ-ধর ক্ষমতার কাছেই যায়; আর তাতে সেখানে কিছুটা নিজেকে নত দেখায়ে হলেও রাজি হয়ে। কিন্তু  একবার যদি কারো মুরোদ নিয়ে আস্থা নষ্ট হয়ে যায়, মুরোদ নিয়ে সন্দেহ জাগে তাহলে সব শেষে!  আমেরিকার অবস্থা এখন সে জায়গায়, সে নিজেই নিজেকে সে জায়গায় নিয়েছে!

    আর হাসিনাও জেনে গেছেন যে বাইডেনকেই অত পাত্তা না দিয়েও টিকে যাওয়া যায়!
    কাজেই এখন ইন্দো-প্যাসেফিক স্ট্রাটেজির সাফল্য আমেরিকার সাথে একসাথে বাংলাদেশের উতযাপন এর কথা বলে লাবাকার কতদুর যেতে পারবেন? বরং হাসিনার প্রেফার করার সম্রভাবনা বেশী যে আমেরিকাকে যতটুকু তাঁর দরকার তা ভারতের মাধ্যমে পেয়ে নিতে; ডিমান্ড নোট পাঠিয়ে। আর এতে মোদি-জয়শঙ্কর ততই নিজেদের ক্ষমতাবান মনে করতে থাকবে হয়ত!

    কিন্তু নগদ ডলার মানে, হাসিনা সরকারের অর্থনীতিতে এর  গভীর চাহিদা হয়ে আছে এর সুরাহা কী হবে এ নিয়ে তো কিছুই হয় নাই!   কিভাবে হবে সেটাও সব অস্পষ্ট! সবাই ঘুরায়-ফিরায় চীনের বিকল্প হিসাবে জাপানকে ধরতে হবে – বলতে চায়! কিন্তু জাপানকে ধরতে চাইলে তা হাসিনা নিজেই পারে, লাবাকার-বাইডেনদেরকে হাসিনার এখানে দরকার নাই। আসলে সমস্যা তো অন্য জায়গায় –  জাপান এখন আর সেই ইয়াং  বা উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তি নয়। যখন সেই সময় বলতে, ১৯৬৬ সালের আশেপাশে মানে যখন নয়া এশিয়ান ডেভলবমেন্ট ব্যাংক [ADB] খুলেছিল, সেই ১৯৬৬ সালের শেষের পর থেকে। যখন সে বড় ভাইয়া আমেরিকার অনুমতি নিয়ে এই দুদেশ মিলে এডিবি’র  সবচেয়ে বড় দুই শেয়ার-হোল্ডার মালিক হয়ে নিয়েছিল। সেই উদীয়মান জাপানের জোশ আর এখন খুজলে তো হবে না, নাই! এছাড়া, জাপানেরর সুদের হারও বেশী; ঋণ দান ক্ষমতা সামর্থও চীনের মত লেবেলের না! এই অবস্থায় আমেরিকা আর ইইউ এদুই গোষ্ঠিও যদি তাদের ঋণদানের অক্ষমতায় সেইও জাপান-ভরসা, মামে স্কলেই জাপান ভরসার গান গেয়ে উসুল করতে চায় তা আর কতটুকু বাস্তবায়ন সম্ভব? অথচ গ্লোবাল নেতা হবার এই পালা বদলের কালে চীনের তুলনায় আমেরিকার ক্রাইসিস ও অযোগ্যতা তো এটাই!!   সিংহও একদিন বুড়া হয়! শিকার করতে অযোগ্য হয়ে না খেয়ে শুকিয়ে একদিন মরে যায়!

    কাজেই আইলিন লাবাকার এরা যতই বাংলাদেশকে রাস্তায় ফেলে রেখে পল্টি মেরে নিজেদের বুদ্ধিমান বিজয়ী ও ইন্দো-প্যাসেফিকে নিজেদের বিজয় হয়েছে বলে জোশ তুলতে চান না কেন সেটা কার্যত – বাংলাদেশকে আরেকবার ভারতের কাছে বিক্রি করে দেওয়াই হবে! হয়েছেও তাই! এবং বাইডেনের বকোয়াজ পরিণতিতে তাই হয়েছে! আবার এদিকটাও যে হাসিনা বুঝেন না তাও তো না!  কাজেই বাইডেনের টিম যা এসেছে বাংলাদেশে বা আগামিতে আসবে সবই এমন অর্থহীন-ই হবে!

    তবে এটা জানতেও কারও বাকি নাই যে বাইডেনের প্রশাসনের জন্য এটা হল ক্ষমতার শেষ বছর অতএব বাকি কিছু মাস তাইরে-নাইরে করে পার করে দেয়া যাকে, আমরা টাইম পাস বলি!! এটাই বাকারদের লক্ষ্য!

    সক্রিয়ভাবে বাইডেন প্রশাসন তো আর তো মাত্র ছয়-আট মাস ! আগামি নভেম্বর ২০২৪ এর প্রথম সপ্তাহেই পরবর্তি আমেরিকান প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। ফলাফল কমবেশি স্পষ্ট যে সম্ভাব্য প্রার্থী ট্রাম্পই সম্ভবত বিজয়ী হচ্ছেন!  অর্থাৎ অন্তত বাইডেন আর নয়! যেটা এর মূলকথা!! ফলে যারা এবছর বাইডেন প্রশাসনের হয়ে বাংলাদেশে আসছেন তাদের কেরিয়ারও শেষ! ফুল স্টপ!!

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

     

    আপডেটঃ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ০৭ঃ৫৬ সন্ধ্যা

     

  • পাকিস্তানের নির্বাচন ও সাংবাদিক হামিদ মীর

    পাকিস্তানের নির্বাচন ও সাংবাদিক হামিদ মীর
    গৌতম দাস
    ২৮ জানুয়ারি ২০২৪
    https://wp.me/p1sCvy-5kJ

     

                        Pakistan’s Elections Will Be ‘Selections’; Nawaz Sharif Will Be ‘Imposed’ as PM: Hamid Mir

     

    হামিদ মীর [Hamid Mir]।

    পাকিস্তান এর সাংবাদিক। কেরিয়ার শুরু করেছিলেন প্রিন্ট পত্রিকার সাংবাদিক হিসাবে। সবাই যেমন হয়, তেমনই। আলাদা করে মনে রাখার মত তাঁর কিছু তখন ছিল না। কিন্তু উঠে আসেন প্রধানত তিনটা ঘটনায়।   ১. ওয়ার অন টেররের আমলের এক কথিত “লিবারেল সাংবাদিক পরিচয়” বানিয়ে নিবার সুযোগে উত্থিত। ২। লা-দে-নের সাক্ষাতকার নিয়েছিলেন বলা হয় সেকালে। ৩। পাকিস্তান প্রেসিডেন্ট জেনারেল মোশাররফ এর প্রায় নয় বছরের আমলের মাঝামাঝিতে যখন পাকিস্তানের মিডিয়া – একটা তুলনামূলক কিছু খবর ছাপতে দেয় এই অর্থে লিবারেল মিডিয়া করে দেওয়ার শখ জেগেছিল প্রেসিডেন্ট বুশের।

    একই পারস্য উপসাগরে মাঝের ইরানের দুদিকে  দুবাই আর পাকিস্তান; যাদের এরিয়াল মানে বাণিজ্যিক বিমানে যাতায়াতের দুরত্ব বা ফ্লাইয়িং টাইম মাত্র দুঘন্টার। যেন একই ভারতের পুব থেকে পশ্চিমে (মুম্বাই-কলকাতা) যাবার বিমান ভ্রমণ দুরত্ব। অনেক প্রবাসী পাকিস্তানি দুবাইয়ে চাকরি করেন। এমনিতেই দুবাইয়ের ক্ষমতার করিডোরে বাংলাদেশের চেয়ে পাকিস্তানের প্রবেশাধিকার নানা কারণে বেশী। ওদিকে মোশাররফ এরও বুশের পরামর্শ / নির্দেশ মানবার বাধ্যবাধকতা আছে। তাই তিনি এক আজিব ব্যবস্থা খাড়া করলেন। সেটা টিভি মিডিয়ায় তুলনামূলক এক মুক্ত আবহ। লিগালি টিভি খোলা হয় দুবাইয়ের কোম্পানি হিসাবে, সেখান থেকে প্রচারিতও। কিন্তু টার্গেট পাকিস্তানের আম-জনতা আর এটা ফ্রি মানে বাংলাদেশের স্থানীয় টিভি যেমন বাংলাদেশিরা ব্যবহার করে।
    আর মূল প্রোগ্রাম স্টুডিও কোথায় হবে? শুরুতে তা থেকে গেছিল দুবাইয়েই। পরে সাক্ষাতকার নেয়া, বা রিপোর্টিং সংগ্রহ করতে গিয়ে তা খোদ পাকিস্তানের মূল মূল শহরে কিন্তু বিদেশি টিভি হিসাবে এর আবির্ভাব ঘটেছিল। এভাবেই চালু হয়েছিল GEO TV।  [ARY টিভি গ্রুপ এটাও তেমনই একগুচ্ছ টিভি পরিচালনা করে থাকে ] আর জিও টিভির প্রধান কর্তা হিসাবে মানুষ চিনতে শুরু করেছিল হামিদ মীরকে। এই টিভির লিবারেলিজম বা উদারতা এমনই যে, যতটুকু মনে পরে সম্ভবত ২০০৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমি বাসায় আফ্রিকায় আমার পাকিস্তানি কলিগদের সাথে বসে বাংলাদেশ নিয়ে টিভিতে আলোচনা দেখছি। আর সেখানে বাংলাদেশের ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত সাহেবই সম্ভবত আলোচনার প্যানেলে। জিও টিভি গ্লোবাল ব্রডকাস্টেড টিভি চ্যানেল ছিল তাই আফ্রিকাতে বসেই তা দেখা যেত।

    হামিদ মীর বাংলাদেশেও ঘুরে গিয়েছেন। ওয়ার অন টেররের রমরমা কালে। কিন্তু এই হামিদ মীর ক্রমশ আমেরিকান মুখপাত্র হয়ে উঠতে থাকলেন। বিশেষ করে এই ডোনাল্ড ল্যু এর যুগে এসে, সবচেয়ে আগ্রাসী ভাবে।
    ইমরানকে যখন বাইডেনের আমেরিকার ডোনাল্ড ল্যু উতখাত করতেছেন তখন ব্যাপারটা ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করার প্রধান সংবাদদাতা হয়ে উঠেছিলেন এই হামিদ মীর। প্রথম আলো পাকিস্তানের যে মিডিয়ার খবর সবচেয়ে বেশী করে কোট করে তুলে আনত তা ছিল হামিদ মীরের রিপোর্ট।  কারণ সেগুলো হত প্রো-আমেরিকান করে সাজানো।

    আর এখন?
    মানে আগামি মাসে দিন দশকের মধ্যে পাকিস্তানে (ডোনাল্ড ল্যু এর) সাধারণ নির্বাচন আটই ফেব্রুয়ারি ২০২৪।
    এদিকে হামিদ মীর পুরান অভ্যাস পরিচয়ে উদার সাংবাদিক; সৎ কথা নাকি বলতে পারেন। আর ভারতের THE WIRE ওয়েব পত্রিকাটা তুলনায় মোদির আমলে যেখানে সব পত্রিকাই মোদির কাছে ভিক্ষার পাত্র বাড়িয়ে দাড়ায় থাকার যুগ পার করছে সেখানে এই মিডিয়া এখনও সেসব লোভ বা ধান্দায় নাই। যদিও উগ্র জাতিবাদী কথিত জাতিস্বার্থের ধারণার বাইরে নয় এই মিডিয়া।  ওয়ারের করণ থাপর [Karan Thapar] হামিদ মীরের এক ভিডিও সাক্ষাতকার নিয়েছেন। এর ভিতর কি আছে তা শিরোনামেই প্রকাশিত প্রতীকিভাবে। শিরোনামটা বাংলা অনুবাদ করলে তা হয়ঃ  “পাকিস্তানের (আসন্ন) নির্বাচনে  আগাম বেছে রাখা এক “সিলেকশন” হতে যাচ্ছে; নওয়াজ শরীফকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তুলে নিয়ে তা চাপিয়ে দেয়া হবে” – হামিদ মীর। 

     Pakistan’s Elections Will Be ‘Selections’; Nawaz Sharif Will Be ‘Imposed’ as PM: Hamid Mir

    তাহলে এটা কি দাঁড়ালো?
    দাড়ালো যে তাহলে ইমরানের উতখাতের সময় থেকে এত খুশি ছিলেন কেন হামিদ মীর! সেসব এখন বিব্রতকর প্রশ্ন!!
    তবে এখন এটা পরিস্কার যে এককালে পাকিস্তানের আদালতে প্রমাণিত চোর এই নওয়াজ শরীফ এর গায়ের পচা দুর্গন্ধও ল্যু এর কাছে খুবই ভাল সুগন্ধ লাগছে!  বাইডেন-ল্যু এটাকেই তাদের বিরাট অর্জন বিজয় মনে করছেন! এটাই তাদের সম্ভবত এক মাত্র চীনবিরোধী বিজয়! ঙ্ন্তুকি হামিদ মীর জানেন এই লাশের ভার কত ওজনের! তাই তিনি আগে ভাগেই হাত ধুঁয়ে ফেলে আমাদের জানালেন যে আর এর দায় তিনি নিতে চান না!

    আর পাকিস্তানের বেলায় এই ডোনাল্ড ল্যু আর আমাদের বাংলাদেশের বেলায় ল্যু – এদুটা কি একই ব্যক্তি?
    হা সন্দেহতীতভাবে একই ব্যক্তি!  আর আমাদের মধ্যে একমাত্র সুজন ব্যক্তিরাই তা বুঝিয়ে আমাদেরকে বলতে পারবে!

     

    সর্বশেষ আপডেটঃ   জানুয়ারি   ২০২৪,

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

     

     

     

     

  • নির্বাচন হয়েই যেতে পারে, এনিয়ে ভারতই ভীত! কেন?

     

    নির্বাচন হয়েই যেতে পারে, এনিয়ে ভারতই ভীত! কেন?
    গৌতম দাস
    ০২ জানুয়ারী ২০২৪  রাত   ২০ঃ ২৬
    https://wp.me/p1sCvy-5fN

    বিবিসি থেকে নেয়া

     

     

    খুবই তাজ্জব সব ঘটনা! ‘র’-এর প্রপাগান্ডা মুখপাত্র সেজে চলা সুবীর ভৌমিক এক নয়া লেখা ছেপেছেন গতকাল। এতদিনের বাংলাদেশ নিয়ে ‘র’-এর হয়ে প্রপাগান্ডা (যেমন সুবীর, আবদি বা চন্দন নন্দী ইত্যাদি) মুখপাত্রদের অবস্থান ছিল আমেরিকান স্যাংশন ও চাপে বাংলাদেশের নির্বাচনে হাসিনার আবার জিতে আসা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তাহলে ভারতের স্বার্থের কী হবে!!! এনিয়ে সরাসরি নাকি-কান্নায় সবচেয়ে আগিয়ে ছিলেন আবদি! আর এবার সেই তুলনায় একেবারে উল্টারথ অবস্থানে সুবীর ভৌমিক! তিনি হাসিনার নির্বাচন সম্পন্ন যেন না হয় সহানুভুতি ঘুরিয়ে দিয়েছেন। আর এই সহানুভুতি ঘুরানোর পক্ষের কিছু উদাহরণ টানতেই বাংলাদেশে আর্মি ইলেকশনের ডিউটিতে যেতে চাচ্ছে না দাবি করে এবার তাঁর লেখা লিখেছেন। যদিও সুবীরের লেখার সত্য-মিথ্যা আমরা জানি না।

    কাজেই সুবীরের লেখার মুডটা আমাদের জন্য প্রধান ইস্যু!  সেটা হল যে, হাসিনার নির্বাচন আরামে সম্পন্ন হয়ে যাক এর পক্ষে তো নয়ই বরং বিপরীতে, মানে হাসিনার “এমন করাটা ভাল হবে না” এমন ইঙ্গিত দিয়ে তিনি কথা বলেছেন। তিনি বলছেন,  বাংলাদেশে আর্মি ইলেকশনের ডিউটিতে না যেতে চাওয়া মনোভাব নাকি বাড়ছে। যুক্তি হল নাকি, এই নির্বাচন বিতর্কিত। দেশে-বিদেশে সরকার ও সাংবাদিকেরা এর অগ্রহণযোগ্যতা নিয়ে ক্রমাগত লিখে চলেছে। ফলে সরকারের এমন জনস্বার্থবিরোধী ততপরতার কারণে এর সাথে আর্মি প্রতিষ্ঠানটাও কালার হয়ে বা দাগ লেগে যাবে। এনিয়েই তারা উদ্বিগ্ন”। সুবীরের কথা সত্য-মিথ্যা আমরা জানি না। অন্তত প্রকাশ্যে বা মিডিয়ায় এমন নিউজ চোখে পড়ে নাই।
    যদিও এটা বুঝা কঠিন না যে বাংলাদেশ আর্মির একটা উভয় সংকট আছে। তা হল, একদিকে সরকার নির্বাচনে তাদেরকে নিয়োগ চাইছে এর কী হবে? আর বিপরীতে এতে কী তাদের এই বিতর্কিত নির্বাচনে অংশগ্রহণ হয়ে যাবে? দেখা হবে? যেখানে, জাতিসংঘের দিক থেকে সাধারণভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কাজে আমাদের বাহিনীকে সংশ্লিষ্ট হতে সতর্ক করা আছে! তা কী লঙ্ঘন বলে দেখা হবে? এমনিতেই এই নির্বাচন নিয়ে নিয়ে জাতিসংঘ এটাকে খুবই নেগেটিভ মার্কিং ও মূল্যায়ন করছে ও আরো করবে। আর এটা এখন প্রকাশ্য যে, ইতোমধ্যেই জাতিসংঘ আমাদের নির্বাচনে নিজ সহায়তা বা সংশ্লিষ্ঠতা বুঝায় এমন সব কাজ থেকে দূরে সরে গেছে। এই অবস্থায় এটা জাতিসংঘের কাছে আমাদের সেনাদের ইমেজ ভাল হবে না এমন শঙ্কা জোরদার করবে সন্দেহ নাই।  আর অনেকেই বোধহয় জানেন যে জাতিসংঘের কাছে আমাদের রাষ্ট্রের গত ১৫ বছরের গুম-খুন-অপহরণ ঘটার অভিযোগ আর অন্যদিকে তাতে আমাদের বাহিনীর সংশ্লিষ্ঠতার অভিযোগের কারণে এখনকার জাতিসংঘের কড়া নির্দেশ হল, কোন মানবাধিকার লঙ্ঘনের কাজে আমাদের বাহিনী সংশ্লিষ্ট হতে পারবে না। হলে এতে মিশন তাদের জন্য আন-ওয়েলকাম বা  মিশন তাদেরকে চাচ্ছে না এমন হয়ে যেতে পারে। এই হল অনুমান।
    সুবীর  এই বাস্তবতাটাকেই কাজে লাগিয়েছে।  দাবি করেছেন, এঅবস্থায় এই নির্বাচনে ইলেকশনের ডিউটি করা মানে জবরদস্তিতে হাসিনা সরকারের নির্বাচন করে নেয়া ও আবার ক্ষমতায় থেকে যাওয়া কাজের মূল সহায়ক খুঁটি হিসাবে দেখবে দেশে-বিদেশে, এমন কথাও বলে বসেছেন। এটাকেই আমি বলছি সুবীর ভৌমিকের পল্টি দেওয়া। যারা এতদিন কেন আমেরিকা স্যাংশন দিয়ে হাসিনার সম্ভাবনা কমাচ্ছে এর পক্ষে যুক্তি দিত! কিন্তু এবার এমনকি আগের জেনারেল আজিজের ২০১৮ সালের রাতের ভোটের নির্বাচনের ঘটনা-কর্তা হিসাবেও তার সাথে তুলনাও করেছেন। আর তা করে এখনকার বাহিনী যেন তা না করুক এমন সেদিকে সুবীরের কামনা ও সমর্থন দেখিয়ে তিনি এলেখা লিখেছেন। আর এটাই সবচেয়ে বিস্ময়কর ঘটনা। এককথায় তা বললে, ইন্ডিয়া বা ‘র’-এর অবস্থান স্পষ্টত বদলে গেছে! তারা কী হাসিনার এই নির্বাচন ভন্ডুলের পক্ষে যেতে চাচ্ছে? সুবীরের এই লেখার ইঙ্গিত সেটাই!! সেই ইঙ্গিত যাই হোক – মুল প্রশ্ন হল, কেন? কেন এই বদলের আমরা দেখছি? ইন্ডিয়া বা ‘র’-এতদিনের কামনা, এত প্রিয় হাসিনার বিজয়ে এই অনিহা কেন?

    সাথে অন্যদিকে আবার বিবিসির বোমাঃ 
    এককথায় বললে এটা এক আনলাইক বিবিসি রিপোর্ট। এবং মনে রাখতে হবে, ইংলিশ বিবিসি-র রিপোর্ট এটা। আনলাইক বিবিসি মানে বিবিসি এমন করে লেখে না, এটা ব্যতিক্রম।
    আর বাংলা বিবিসির গুরুত্ব নাই কেন? মানে এই ইংলিশ রিপোর্টটা বাংলায় হলেও এত গুরুত্ব দেওয়ার কিছু ছিল না। বা দিতাম না! কেন?
    বাংলা বিবিসি – অর্থ-রাজস্ব আয়ের দিক থেকে মূল বিবিসির এক লুজিং কনসার্ণ। বাংলা বিবিসি এর স্টাটাস হল মূল ইংরাজি বিবিসিরও অন্যান্য আঞ্চলিক ভাষায় প্রচারিত এক প্রোগ্রাম। ঠিক যেমন উর্দু বিবিসি। কিন্তু এই ভেঞ্চারটা লাভজনক নয় এখন। সরকারের পক্ষে ভর্তুকি দিয়ে দিয়ে এটা চালানোতে তারা ক্ষমা দিতে চায়! এজন্য অনেক ছাটাইও হয়েছে।  আর সেটা করতে গিয়ে এর নীতিতেও কিছু বদল এসেছে। যেমন হাসিনা সরকার বা র-এর পক্ষে প্রপাগান্ডা ছাপিয়ে আয় বাড়ানো। এমন নীতিবিরুদ্ধে কাজে বাংলাকে ছাড় দেয়া আছে। তবু যদি টিকে থাকতে পারে, এই ভেবে! এটা বাংলা বিবিসির বেলায় ছাড় কিন্তু ইংরাজি বিবিসি এটা নীতিগত কারণে করবেই না। অর্থাৎ বাংলা বিবিসি রিপোর্ট অর্থের লোভে প্রপাগান্ডা নিউজ হওয়াটাই বেশী সম্ভাবনা ও সুযোগ!  তাই, এই বিচারে বললাম এটা ইংলিশ বিবিসি তাই এই রিপোর্টের গুরুত্ব বেশী! এমনকি ইংলিশ বিবিসি – এতে বৃটিশ সরকারের অবস্থান প্রতিফলিত হয় এমন রিপোর্ট হবার সম্ভাবনা অনেক বেশী! যদিও তা অপ্রকাশ্যে হবে এবং কাকতলীয় ভাবে হয়েছে ভাব ধরে তা দেখানো হবে!

    আলোচিত বিবিসির এই [রিপোর্ট দেখা যাবে এই লিঙ্কে] এর শিরোনামটাই অনেক সাহসী।  বাংলায় বললে শিরোনাম হল, “বাংলাদেশঃ যে নির্বাচন এক-নারীর নাটক হয়ে দাড়িয়েছে” । [Bangladesh: The election that has turned into a one-woman show]।
    যথেষ্ট ঠেস-মারা ভাষায় এই শিরোনাম। আর পুরা রিপোটটা হল, হাসিনার বিরুদ্ধে সব (মানবাধিকার বা রাজনৈতিক-রিপাবলিক-রাষ্ট্রের নর্মস বা আচার ভঙ্গের) অভিযোগগুলো এক সংকলন। আর সবশেষে ব্যতিক্রমি দুইটা প্যারা যেখানে আরো কড়া ভাষায় ইন্ডিয়ার কানমলে দেয়া হয়েছে। কিন্তু এই দু’কথাই হাজার কথার সংকলন হয়ে গেছে।

    বিবিসির ভারত ধোলাইয়ের দুইটা প্যারাঃ
    মানুষের শোয়ার ঘরের ভিতরে একটা হাতি ঢুকে গেল কেমন হবে? কল্পনা করেন! সেটা হবে একটা তান্ডব ও বিশৃঙ্খলা হিসাবে। কারণ হাতিটা ঘরের ভিতর নুন্যতম নড়াচড়া করলেই একেকটা দেয়ালের সাথে ধাক্কা খাবে তাতে ঘরটাই ভেঙ্গে যেতে পারে। সেটা না হলেও অন্তত ঘরে আসবাব বলতে কিছু থাকবে না। তাই, কারো কারো উপস্থিতির কারণে ঘটনাস্থল একটা তান্ডব হাজির হয়েছে বুঝাতে ঘরের ভিতর হাতির তুলনাটা ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশের নির্বাচন ঘটনাবলিতে ভারতের অবস্থান-উপস্থিতিকে বিবিসি তাই  ঘরে হাতির ঢুকার  মত বলে তুলনা করেছে। লিখেছে  The elephant in the room is neighbouring India, which opposes…। যে ভারত বাংলাদেশের ভিতরে কোন পরিবর্তন-সংশোধন করে নেওয়ার বিরোধী। এমনকি ভারত এটাও চায় বিনা-পয়সায় বাংলাদেশের রাস্তা ও নদি দিয়ে ভারতের নর্থ-ইস্টের অবাধ চলাচল চালু থাকুক! এমনই এর আবদার! – ভারতের এমন খারাপ মতলবের কথাও বিবিসি প্রকাশ্যে লিখে দিয়েছে!

    The elephant in the room is neighbouring India, which opposes
    any coercive action against Bangladesh.
    Delhi wants road and
    river transport access
    for its seven north-eastern states through Bangladesh.

    যদিও শেষে একটু সহানুভুতির সুরে লিখেছে, Officials in Delhi are afraid it is strategically vulnerable in any potential conflict with India’s rival, China. বাংলাকরে বললে,  দিল্লিতে ভারতীয় কর্তারা নাকি চীনের ভয়ে চিন্তিত যে যে চীনের চাপে ভারতের বড় – কৌশলগত দুর্দশা – দেখা দিতে পারে। এতে কথাটার মানে হয়ে গেছে যেন চীনের কাছে ভারতের  কৌশলগত দুর্দশা কাটানোর জন্যই হলেও জবরদস্তিতে বাংলাদেশ থেকে ভারতের করিডোর সুবিধা জায়েজ বা ভারতকে তা পাইয়ে দিতে হবে…।
    এই হল পশ্চিমা সমস্যা। মনে করে তাদের এই দালালি আমরা ধরে ফেলব না।

    এতদিন মানে ধরেন চলতি নয়া শতক যার এখন ২৩ বছর পার হল। এই তেইশ বছরে দুনিয়ার সচেতন সবাই মনে করেছিল দুনিয়ার প্রধান দ্বন্দ্ব এখন আমেরিকা বনাম চীন। মানে গ্লোবাল নেতৃত্বের এক পালাবদল হতে যাচ্ছে; আর এই পালাবদলকে কেন্দ্র করে এই দ্বন্দ্ব।  আবার দুনিয়ার কিছু অবুঝ বেদিশ বা নাদান এটাকে অর্থহীন এক শব্দ -ভূরাজনীতি [geo-politics]  – বলেও ব্যাখ্যা করে থাকে! যাই হোক এখন দুনিয়া মানে হল, আমেরিকা-চীনের দ্বন্দ্ব এর দুনিয়া! আর এই দ্বন্দ্ব কাঠামোর মধ্যে ভারত তার কথিত চীনবিরোধিতা দেখানোর উসিলায় আমেরিকার কোলে চড়ে বসতে চেয়ে গেছে অন্তত ২০০৭ সাল থেকে। এটাই আমরা দেখতাম। ভারতের লক্ষ্য আমেরিকা যেন আবার তাকে চীন ঠেকানোর ঠিকা দেক! সেই ঠিকা বা এসাইনমেন্ট যেটা মোটামুটি ২০১৭ সাল থেকেই আমেরিকা  প্রত্যাহার করে নিয়েছে। যদিও চীনবরোধী কোন ইস্যু থাকলে ভারত-আমেরিকা তা নিয়ে পরস্পর সমন্ব্য় করে কাছে থাকার চেষ্টা অব্যহত রাখে।

    বাংলাদেশের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সব পক্ষ-বিপক্ষ এলোমেলোঃ 
    চীন-আমেরিকার দ্বন্দ্ব ইস্যুতে এটা দেখে এতদিন মনে হতে পারে ভারত তো আমেরিকার কোলেই আছে। যদিও বাংলাদেশে আমেরিকান স্যাংশন আর ভিসা নিষেধাজ্ঞা প্রবল হয়ে উঠলে ভারত ছটপট করে উঠছিল। প্রকাশ্যেই তাদের লোকজন বলত যে তাহলে তো স্যাংশনের কারণে ভারতের অধীনে থাকা খেদমতগার হাসিনা আর জিতে আসতে পারবে না।  বাংলাদেশে ১৫ বছর ধরে ভারতের লুটেপুটে খাওয়ার স্বার্থের কী হবে তাহলে? কিন্তু তা সত্বেও কোথায় যেন একটা নিজেই আস্থা পেত এই বলে যে  শেষে আমেরিকা নিশ্চয় ভারতের স্বার্থকেও একোমডেট মানে ভারতের জন্য লুটের কিছু একটা জায়গা করে দিবে! সরকথায় শেষে আমেরিকা বা আঙ্কেল স্যাম ভারতকে বাঁচাবে! এমন একটা বোধ তাদের মধ্যে কাজ করত!

    কিন্তু নাঃ
    ভারত এখন টের পেয়েছে বিরাট ওলটপালট হয়ে গেছে! কেন?
    ব্যাপারটা আগে অতটা বুঝা যায় নাই। কিন্তু এখন যতই ৭ জানুয়ারি এগিয়ে আসছে ততই এক নয়া বাস্তবতা সবাই অনুভব করছে। যেটা এর আগে পর্যন্ত সবাই আঙ্কেল স্যাম এর উপর ভরসা করে বসেছিল। নিশ্চয় তিনি একটা কিছু করবেন যা সকলের জন্যই ভাল হয়! কিন্তু হায়!!!
    এটা ঠিক এক নয়া বাস্তবতা হাজির হয়েছে অবশ্যই।  যা আর অস্বীকারের উপায় নাই! তাই ভারত অস্থির হয়ে উঠেছে!
    আর ব্যাপারটা এসেছে এভাবে –  দেখি না কী করে! – সেই গল্পের মত এই ঘটনা! যে গৃহস্তের বাসায় চোর এসেছে আর গৃহস্ত ভাবছে দেখি না চোর কী করে – একেবারে শেষে ধরব! আর এটা করতে করতে চোর তার কাজকর্ম প্রায় শেষ আর বমাল নিয়ে চলে যাবার অবস্থায়…!  আঙ্কেল স্যাম এর উপর ভারতসহ সকলের ভরসারই পরিণতি হল যেন এটা!

    এখন ভারতের কাছেও পরিস্কার যে ৭ জানুয়ারি দিন শেষ সন্ধ্যা থেকেই হাসিনা দাবি করতে থাকবে যে সে বিজয়ী হয়ে গেছে!  এর চেয়েও বড়কথা এক বাস্তবতা সম্ভবত হবে এরকম যে  দুই থেকে দশদিনের মধ্যে হাসিনা চীনের সাথে  চুক্তি আলাপ আলোচনায় বসে যাবে। মানে যেতে হবেই মূলত এজন্য যে এর মুখ্য কারণ দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা তলানিতে, মোটা আর নগদ ডলার লাগবে। পাঠকদের কাছে চীন ভাল না মন্দ, চীন পছন্দ করেন কিনা এসব বিবেচনা এখানে একেবারেই অপ্রয়োজনীয়, গুরুত্বহীন। বাস্তবতা হল, এমন নগদ অর্থ (প্রজেক্ট-প্রকল্প নয়) দিবার সম্ভাব্য দাতা যাদের কাছেই একমাত্র হাসিনার একসেস আছে, চাইতে পারে ও তারা দিতেও পারে সেটা হল চীন।
    এককথায় বললে, বাংলাদেশে নির্বাচন নামে কিছু একটা হয়েছে আর হাসিনা তাতে নির্রচিত বলে দাবি করতে পারলেই, হাসিনা চীনের কোলে শক্ত হয়ে বসে যাবার সম্ভাবনা প্রায় ষোল আনা!  এবং ইন্ডিয়ার তোয়াক্কা না করে, চীন একে পায়ের নিচে রেখে হাসিনার থেকে সবকিছু আদায় করে নিবার এরচেয়ে ভাল সুযোগ চীন আগে কখনই পায় নাই। এই অবস্থাটা তৈরি হবে সেখানে অবলীলায়! অনেকটা টিকা-ইস্যুতে যেমন হয়েছিল!  অতএব এখন ইন্ডিয়ার কানে পানি গেছে! কিন্তু তার কিছু করার নাই!

    ফলাফলঃ তাই সুবীর ভৌমিক মানে ইন্ডিয়া বা রএর অবস্থান হল তাই হাসিনার নির্বাচন হয়ে যাকে  তারা এর বিরোধী!  সবচেয়ে তামাশার কথা ২০২১ সাল থেকে ভারত বাংলাদেশে আমেরিকার অবরোধ দেওয়ার বিরোধীতা করে গেছে, হাসিনা তাদের কত পেয়ারের বা হাসিনা ছাড়া বাচবে না – এনিয়ে তারা নাকি কান্না প্রদর্শন করে গেছে। মানে এতদিন তারা একটা প্রহসনের নির্বাচনেরই পক্ষে দ্বিধাহীন সমর্থক ছিল এটাই প্রকাশ্যে স্বীকার ও লিখে বলে করে চলেছিল। অথচ এখন উলটা?

    একটা তামাসা দেখেনঃ
    ভারতের গোয়েন্দা-গুষ্টির সবাইএখন যারপরনাই হাসিনার নির্বাচনবিরোধী! কিন্তু  সেটা কেমনে কী?
    সুবীর ভৌমিক এলেখায় আমাদেরকে আরেক ভারতীয়ের সাথে পরিচয় করিয়েছেন। যা্র নাম শুখরঞ্জন দাসগুপ্ত [ Sukhoranjan Dasgupta ]। একে তিনি পরিচয় করিয়েছেন এক Bangladesh analyst বলে। আসলে তিনি অনেক পুরানা মানে সেই শেখের আমলের ‘র’-এর এজেন্ট। যখন তার বাইরের পরিচয় ছিল তিনি আনন্দবাজার পত্রিকার ঢাকার সংবাদদাতা। পরে তিনি আনন্দবাজার ছেড়ে দেন আর কেবল ‘র’-এর এজেন্ট-ই থেকে যান। বাংলাদেশ তার খবর সোর্স এমন সংগ্রহের উতস অনেক। তিনি বাংলাদেশের বিডিনিউজ২৪ কলাম লিখেন, সাথের মাঝে মধ্যে অন্য অনেক বাংলাদেশি ‘প্রগতিশীল’ পত্রিকাতেও। তার বরাতে এবার সুবীর বলছেন,  “সক্রিয় ও কার্যকর গণতন্ত্রিক চর্চার ব্যতিক্রম ঘটিয়ে বাংলাদেশে ৭ জানুয়ারির যে নির্বাচনটা হচ্ছে তা পুরানা সংসদটা ভেঙ্গে না দিয়ে আর তাতে মন্ত্রী ও এমপিদের  পদাধিকার বহাল থেকে গেছে। ফলে এই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে তারা প্রভাবিত করার সব সুবিধা সাথে নিয়েই নির্বাচন করছে”।

    এই বক্তব্য (ইংরাজিটা নিচে দেখেন) সুবীর আর সুখরঞ্জনের বাংলাদেশের প্রতি এক দারুণ সার্ভিস!!! যেন আমরা এটা জানতামই না।
    কিন্তু ঘটনা হল, ভারতের গোয়েন্দা-প্রবরেরা এতদিন এটা তারাই জানত না ভান করে চেপে থাকত।  কিন্তু এখন কেন? এই পল্টি দেয়া কেন?
    হাসিনাকে ছাড়া তাদের চলবেই না কিংবা আমেরিকান স্যাংশন্ ভুয়া সেসব কান্না কাটি তারা তাহলে কেন করছিলেন এতদিন?

    “Unlike in most functional democracies, Bangladesh is going into the
    January 7 polls with a prorogued and not a dissolved parliament which
    allows ruling party ministers and MPs to influence the poll process…” – 

    বাংলাদেশের জন্য একটা ভাল নির্বাচন দেখতে চাওয়ার ভারতীয় আকাঙ্খা! তা ভাল কিন্তু এতদিন উলটা গান গেয়ে চলছিলেন আপনারা??? আগে সেটা বলেন।  না। পুণ্যি করলেই কেবল এমনটা দেখতে পাওয়া যেতে পারে!
    যদিও এর নীট অর্থ কী? সেটা হল, বাংলাদেশের নির্বাচন পন্ড হয়ে যাক এটাই এখন বদলে যাওয়া ভারতীয় আকাঙ্খা…! মজা না???

    ঘটনাটা কিছু শুনেছিলাম অনেকেই বলছিলেন, পিটার হাসের ভারত সফরের ঘটনা। সেখানে ভারতের সাথে কোন আনুষ্ঠানিক কিছু ছিল না। আর সেটা প্রটোকলেও পড়বে না। তবে ভারতে পিটার হাস বেড়াতে গেলে এমবেসিতে বড়দিনের ডিনার বলে ২৫ ডিসেম্বরের সামাজিক সাক্ষাত তো হতেই পারে! আর সাথে কথায় কথায় সেখানে কিছু তিক্ত কথাবার্তাও নাকি উঠে এসেছিল। যার প্রসঙ্গ ছিল চীন! ভারতের অভিযোগ বাংলাদেশে ভারতের স্ট্রাটেজিক স্বার্থ দেখা হচ্ছে না; আমেরিকা দেখছে না। অথচ ভারত তো নাকি এক আঞ্চলিক ‘মহারাজা’। তাসি এটা তো তার অপমান! …! শেষে আলোচনা – কে কত চীনবিরোধী তা জানা আছে, হয়ে গেছে –  টাইপের উদাহরণ দেয়ার দিকে নেয়া যায়। আর তা থেকেই ভারত বুঝে যায় সে একা হয়ে গেছে! বাংলাদেশে কোথাও বা বাংলাদেশকে নিয়ে কোথাও তার বেল নাই…! বলা কথাগুলো শুনেছিলাম সম্ভবত ২৮ ডিসেম্বর!  তবে সাবধান কেউ এগুলোকে হুবহু এরকমই হুবহু ভাষ্য হিসাবে নিবেন না। এটা একজন থেকে আরেকজনেরে এভাবে ছড়ানো কথা!  আমিও শুনেছি দেশের বাইরের বক্তা থেকে। তিনিও শুনেছেন আমেরিকান সোর্স থেকে, এভাবে।
    কথাগুলো পরে ভুলেই গেছিলাম। এবার বিবিসির এই রিপোর্টটা পড়ে মনে হচ্ছে পশ্চিমারা এমনি এমনি ইন্ডিয়াকে তান্ডব মানে ঘরের ভিতর হাতি এমন আপদের সাথে তুলনা করে নাই???

     

     

    সর্বশেষ আপডেটঃ  ০৩ জানুয়ারি   ২০২৪, মধ্যরাত ১২ঃ ৩৫

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

  • আমাদের নির্বাচন ও একজন প্রতীম রঞ্জন বোস

    বাংলাদেশের নির্বাচন ও একজন প্রতীম রঞ্জন বোস
    গৌতম দাস
    ২৯ ডিসেম্বর ২০২৩  রাত ২০ঃ ২৭
    https://wp.me/p1sCvy-5ef

            Bangladesh: As elections draw close, India needs to rethink its strategies

    বাংলাদেশে নির্বাচন হচ্ছে মনে করে এনিয়ে পাড়া-পড়শি বিদেশি বিশেষ করে ভারতের ঘুম নাই। আপ্রাণ খেদমত করে চলেছে, যেভাবে পারে যেন কোনকিছুই মিস না হয়!। এর উপর আছে ভারতের মিডিয়াগুলো তারা গড়ে মনে হয় প্রতিদিন একেকটা করে মন্তব্য আর্টিকেল ছেপে চলেছে। যেসবের হিসাব রাখাও কঠিন! গত ২১ ডিসেম্বর ২০২৩ তেমনই একজন প্রতীম রঞ্জন বোস [ PRATIM RANJAN BOSE]; তিনি লিখেছেন MONEY CONTROL নামে এক পত্রিকায়। যেটা বিজনেস ইনভেস্টমেন্ট ফোকাস এক ওয়েব পত্রিকা। যাকে বাংলাদেশের খুব কম মানুষই চিনে আবার নামটা বিদঘুটে  ও একটু অপ্রচলিত বলে হয়ত বাংলাদেশে অপরিচিত তো বটেই; আমিও আগে দেখেছি কিন্তু এই প্রথম এর এত ভিতরে গিয়ে খোঁজ নিলাম। কিন্তু সেটা না, এর এই লেখক বরং নিজের পরিচয় দিয়েছেন এভাবে যে তিনি ইন্ডিপেন্ডেন্ট কলামিস্ট, রিসার্চার ও কনসালটেন্ট!  এসব কিছুর মধ্যে ভারতের প্রেক্ষিতে ইন্ডিপেন্ডেন্ট শব্দটা বড় অদ্ভুত ও বেমানান। ভারতে এখন মিডিয়া ও এর লেখক বলতে বুঝায় যারা জার্ণালিজম ভুলে পেশাদার প্রপাগান্ডিস্ট যারা সত্য-মিথ্যা মিশিয়ে এর ঢোল পিটানোর ওস্তাদ লোক হয়েছে! আর তাই বেশির ভাগ সময়ে দেখা যাচ্ছে যার টাকা আছে বা খোদ মোদি সরকার যে অর্থ বিলায় এরা চোখ বন্ধ করে তা খেয়ে নিয়ে এরই ঢোল পিটায়, প্রপাগান্ডা করে বেড়ায়। এটাকে সাংবাদিকতা মনে করে আবার, স্পেশালিস্ট বলে দাবিও করে।  তাতে ভারতের শেখর গুপ্তার মত সিনিয়র সম্পাদক  হলেও সবার স্বভাব এখন এক; মানে  ‘একই ওষুধ প্যারাসিটামলের’ স্বভাব বৈশিষ্ঠই সকলের! লক্ষ্য যা করেই হোক অর্থ আয় আর খেয়ে পড়ে বৌ-বাচ্চা নিয়ে টিকা থাকাই তাদের জীবন ব্রত!  মোদির পক্ষে সাফাইয়ের চিল্লা দিলে সবচেয়ে বেশী অর্থ মিলে তাই সবার লক্ষ্য এখন সেদিকে! কার উপরে কে যাবের প্রতিযোগিতা!

    তো ভারতের এমন মিডিয়া আসরে কেউ যখন লিখে দাবি করেন তিনি ইন্ডিপেন্ডেন্ট, এটা একটা কাহিনী তো বটেই। এর অবশ্য এক নেগেটিভ মানেও হয় যে বাজারের যারা প্রপাগান্ডা-সওদা কিনবেন এমন কাউকে তিনি যোগাড় করতে পারেন নাই তাই তিনি ইন্ডিপেন্ডেন্ট বা স্বাধীন সাজছেন হয়ত।  সেটা যাই হোক তবে আমরা সেটাও পরীক্ষা করব।

    ন্যায়-ইনসাফ  নাকি দেশপ্রেমঃ
    একটা বিতর্কে প্রবেশ করা যাক!  ন্যায়-ইনসাফ  নাকি দেশপ্রেম – সবার আগে কোনটা  মানুষের বিবেচনায় প্রধান্য হওয়া উচিত? মানুষের এদুইয়ের কোনটার ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত? কোনটা বেছে নিব আমরা?  মানে, ধরা যাক কোন দেশ বা মানুষের জন্য  কোন  বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এখন এক্ষেত্রে দুইটার একটা বেছে নিতে হবে – ন্যায়-ইনসাফ  নাকি দেশপ্রেম – তাহলে আমাদের কী বেছে নেয়া উচিত?  এই মারাত্মক প্রশ্নটা আগে ফয়সালা করতে হবে; খুব জরুরি এটা।

    “দেশপ্রেম” নিয়ে একটু বলে নেই। দেশপ্রেম ধারণাটা প্রবল হয়ে উঠেছিল বিশেষ করে বিশ্বযুদ্ধের (১৯৪৫) পরে যখন সারা দুনিয়া কলোনিমুক্ত হয়েছিল তখন আমাদের মত দেশের মানুষ স্বাধীন জাতিরাষ্ট্র (নেশন স্টেট বা Nation State) হয়েছিল। জনগণের শাসনের ব্যবস্থা বলতে রিপাবলিক রাষ্ট্রই বুঝা হত। তবে তা নেশন স্টেট বা জাতিরাষ্ট্র রূপ্টাই রিপাবলিক রাষ্ট্র মনে করা হত। অর্থাৎ কোন না কোন জাতি পরিচয়ের রাষ্ট্র ধারণা ছিল সেটা। আর বলা বাহুল্য সেটা এর বিপরীতে অধিকার-ভিত্তিক রিপাবলিক রাষ্ট্র ধারণা ছিল না। যাই হোক জাতিরাষ্ট্র ধারণার সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু বোধের অন্যতম হয়ে উঠেছিল এই “দেশপ্রেম” ধারণা। সে কারণে “দেশপ্রেম” ধারণাকে সর্বোচ্চ জ্ঞানের কথা  বলে জেনেছে-শিখেছে বলে মনে করাও শুরু হয়েছিল তখন। আর দেশপ্রেম-বোধ এটাকে এক উচ্চমার্গের জ্ঞানবোধ মনে করা হয়েছিল। আর এরই ফাঁদে পড়ে তারা এতদিনের ন্যায়-ইনসাফ বোধ যাকে যেকোন জ্ঞানের মুখ্য ও কেন্দ্রিয় বিষয় বলে আমাদের মত দেশের  মানুষ ভাবত যেখানে বাকি সবকিছু এর পরে সেই নীতি – এই ভুল পথে এবার তারা পুর্ব অবস্থান ত্যাগ করা শুরু করেছিল,  তুচ্ছ করে ফেলেছিল।  ফলে এদের চোখে দেশপ্রেম বড় বা প্রধান হয়ে যাওয়া থেকেই বা গণ্য হওয়াতেই ন্যায়-ইনসাফ বোধ পিছনে পরে যাওয়া শুরু হয়েছিল।  আর তারা দেশপ্রেমের চক্করে পরে নিজের বিচার-বিবেচনার উপর ভরসা না করে আবেগ বা দেশপ্রেমের আবেগ – এর ব্যবহার বা কাজে লাগানোর বাটপারীর পথেও রওনা হয়েছিল। আর তাই জাতিরাষ্ট্র মানেই হয়ে উঠেছিল হুশ হারিয়ে আবেগ-সর্বস্ব দেশপ্রেমের জয়গান গাইতে শুরু করা। অথচ যুগ যুগ ধরে একমাত্র ন্যায়-ইনসাফই সমাজকে ভিত্তি দিয়েছে, স্থিতিশীলতা দিয়ে গেছে; তা ভুলে এরা সকলে দূরে চলে যেতে লাগল। যেখানে এই কথিত দেশপ্রেমের জাতিরাষ্ট্র এমনও বলতে শুরু করল যে আমার নিজ ধর্মের অনুসারীদের পক্ষে থাকাই নাকি দেশপ্রেম! অথচ এব্যাপারে ধর্মের ভাষ্য-অবস্হানও হল ইনসাফ! দেশপ্রেম নয়।  আর ওদিকে এই আলগা বুঝের দেশপ্রেমের কারণে, তাতে দেশের সব ধরণের নাগরিক সমান অধিকার, সমাদর (সম-আদর বা ট্রিটমেন্ট) ও সমান মর্যাদার ধারণ আর জায়গা পেল না; আর এসব কথিত দেশপ্রেমিকেরা এথেকে বেখবর থেকে গেল!   অথচ ন্যায়-ইনসাফের পক্ষে ও ভিত্তিতে নেয়া সিদ্ধান্ত ও এমন থাকার নীতিই কেবল একমাত্র এক দেশপ্রেমের রাষ্ট্র হতে পারে। যেখানে দেশপ্রেমকে ন্যায়-ইনসাফের অধীনে রাখতে হবে – এই হল নীতি!  যেখানে ন্যায়-ইনসাফ ছাড়া কোন কিছুকে দেশপ্রেমের ভিত্তি বলে বিবেচিত হতে পারে না।

    ঠিক যেমন, সমাজে গায়ের জোরে কোন ব্যক্তি শক্তিশালী এর ভিত্তিতে সমাজ পরিচালিত হতে পারে না আর কোনটা বা কারো কোন কাজটা সঠিক তা নির্ধারণ হতে পারে না। এভাবে সমাজ উঠে দাড়ায় না। একমাত্র ন্যায়-ইনসাফের ভিত্তিতেই সমাজ গড়ে উঠতে পেরেছিল, স্থিতিশীল হয়েছিল; এটা আমরা ভুলতে পারি না!
    আমরা শরীরের প্রবাহিত রক্ত কেমন ও কী জাতের কোন পুর্বসুরি জনজীবনের – এই অর্থে রেস [race]  এর বাংলা জাতি। এই অর্থে দুনিয়ার নানা ভুগোলে নানান মানুষ-জাতিতে আমরা অনেক রেস হয়ে দুনিয়াতে আছি। আবার  ধর্ম, সমাজ, কালচার, খাদ্যাভাস, ভাষা ভিত্তিক ইত্যাদির আরেক জাতি ধারণাও আছে যাকে এথনিক [Ethnic] জাতি বলা হয়। এটা আরেক ধরণের জাত-পরিচয়। যে অর্থে আমরা বাঙ্গালী – সেটা আসলে এক এথনিক জাতি পরিচয়। তাহলে এখন কথা হল, আমার বাঙালি জাতির লোকের পক্ষে থাকা মানেই কী সেটা আপনাতেই এক ন্যায়-ইনসাফের পক্ষে থাকা হবে বা হয়ে যাবে???? কথাটা আরও সোজা করে বললে, বাঙ্গালী জাতিরাষ্ট্রে স্বার্থের পক্ষে থেকে দাঁড়িয়ে দেশপ্রেম দেখানো মানেই কী সেটা ন্যায়-ইনসাফের পক্ষে থাকা হয়ে যাবে?  না, অবশ্যই না। যেকোন দেশপ্রেমের কথারও আগেই মানে, সবার আগে ন্যায়-ইনসাফের কথা বা বিবেচনাবোধ আসতেই হবে।  কিন্তু এখানে কেন দেশপ্রেমের আগেই ন্যায়-ইনসাফের কথাটা তুললাম?

    ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রতীম রঞ্জন বোস, আসলে কেঃ
    উপরের ন্যায়-ইনসাফ বনাম দেশপ্রেম তর্কটা এনেছিলাম এজন্য যে  প্রতীম নিজেকে ইন্ডিপেন্ডেন্ট মানে স্বাধীন বলে দাবি করছে। তাতে তিনি হয়ত মোদির যুগে ব্যাপকভাবে বিক্রি হয়ে যাওয়া মিডিয়া মানুষ নন তিনি – এই যুগেও হয়ত কারও দ্বারা প্রভাবিত নন বা কেউ তাকে কিনে পরিচালিত করছেন এমন না; এই অর্থ সেটা হতেও পারে। কিন্তু এই অর্থেও হয়ত প্রতীম নিজেকে স্বাধীন দাবি করছেন বললেও এই কথাটাও সঠিক না। কেন? কথাটা আরেকভাবে বলি,  এটা সত্যি যে তিনি সুবীর ভৌমিক, আবদি বা চন্দন নন্দীর মত “র”-এর প্রপাগান্ডা এসাইনমেন্ট খাটা বা নেওয়া ব্যক্তিরা যেমন হয় ঠিক সেরকম লেখক নন হয়ত, এমনই মনে হয়েছে। এই বিবেচনায় হয়ত তিনি স্বাধীন নিজের মতামত-ই লিখেছেন। কিন্তু তিনি দেশপ্রেমি নেগেটিভ অর্থে! যারা ধরে নিয়েছেন দেশপ্রেমের পক্ষে থাকা মানেই তা ন্যায়-ইনসাফ এর পক্ষে নেয়া অবস্থান।  ফলে এদের কাছে কথিত দেশপ্রেম মানেই তা জায়েজ!! এই হল প্রতীম রঞ্জনের এক গভীর ও মূল সমস্যা!

    এমনিতেই ইন্ডিয়া হিন্দুত্ব জাতবাদী এক ‘নেশন স্টেট’ হয়ে আছে জন্ম থেকেই; এর উপর আছে আবার উগ্র-হিন্দুত্ববাদী এক রাষ্ট্র ও সরকার; ফলে এর যেখানে দেশপ্রেম মানেই হিন্দুত্ববাদ ভিন্ন আর কোন ব্যাখ্যা নাই মানে,  এখানে উগ্র দেশপ্রেমের আড়ালে চলা  উগ্র হিন্দুত্ববাদের দেশ এটা – সেখানে এই লেখক প্রতীম রঞ্জন বোস তিনিও দেশপ্রেমের নামে আউড়ালে এর মানে কী দাঁড়ায় পাঠক বুঝে নেন; আর প্রতীম তার সব কাজ জায়েজ করতে এসেছেন দেশপ্রেমের কথা তুলে!!!। বলাই বাহুল্য এটা চরম বে-ইনসাফি ন্যায়ভ্রষ্ট; এই হল মারাত্মক ফারাক! কারণ, তার কথিত দেশপ্রেম যা ভারত রাষ্ট্রের স্বার্থের পক্ষে থাকার দেশপ্রেম বলে আপাত মনে হয় সেটা আসলে ন্যায়-ইনসাফের তোয়াক্কা না করা এক অন্ধ বিপদজনক দেশপ্রেম। এককথায়, ভারতের স্বার্থের পক্ষে থাকা মানেই দেশপ্রেম তাতে, এতে ন্যায়-ইনসাফের লেশমাত্র না থাকলেও তা জায়েজ! এই ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে এলেখা লেখা হয়েছে!

    লেখা কলামের পর্যালোচনাঃ
    প্রতীমের এই লেখার শিরোনাম বাংলা করে লিখলে – “বাংলাদেশঃ এর নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে, ভারতের উচিত নিজ অনুসৃত কৌশল পুনর্বিবেচনা করা” [Bangladesh: As elections draw close, India needs to rethink its strategies]।  আমাদের মানবজমিন (২২ ডিসেম্বর ২০২৩) অবশ্য এর একটা অনুবাদ ছেপেছে, শিরোনাম – বাংলাদেশে নির্বাচন আসন্ন, ভারতকে তার কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে হবে।

    শুরুতেই প্রীতম তার লেখার এক সারসংক্ষেপ নিজেই লিখেছে এভাবেঃ “
    ভারতের এই পুবের পড়শি (মানে বাংলাদেশ) একটা নিখুঁত ফ্রি-ফেয়ার নির্বাচন-ই করতে হবে এমন গোঁ ধরা ধ্যান-জ্ঞানের দেশ কখনই ছিল না। তার মানে আবার এও নয় যে এখানে নির্বাচনকে একটা ধারাবাহিক ঠাট্টা বানায় ফেলতে হবে তা নয়। তবে এটা জানা বেশ উতসাহের হবে যে ঢাকার আজকের উপস্থিত পরিস্থিতি এটা কীভাবে ভারতের স্বার্থের পক্ষে এখন যাচ্ছে ও আগামিতেও যাবে। Holding a free and fair election was never a virtue of India’s eastern neighbour. But elections had never been as consistently farcical either. It would be of keen interest to know how the prevailing scenario in Dhaka had been helping and would help the Indian cause.

    উপরে প্রীতমের শেষ বাক্যটা লক্ষ্য করা যাক। লিখেছেন, ঢাকার আজকের উপস্থিত পরিস্থিতি এটা কীভাবে ভারতের স্বার্থের পক্ষে  এখন যাচ্ছে ও আগামিতেও যাবে। কিন্তু এমন যাওয়াটা কী ঠিক? ন্যায়সঙ্গত বা ইনসাফের? না, সরি। প্রীতম এদিকে উতসাহী নন একেবারেই। বরং  প্রতীম এটা ভারতের স্বার্থের দিকেই যাচ্ছে তাতেই চরম আহ্লাদিত!!! আর এটাকে ভারতের অন্যায়ের স্বার্থমুখী করে নেয়া হয়েছে কীভাবে ও তা কারা করেছে তা নিয়েও প্রতীম মোটেই উতসাহী হয়। তার কাছে নিজ দেশপ্রেমের স্বার্থই পরম!! সবার উপরে; আর বাকি সব মিথ্যা!
    এমনকি গত ২৮ ডিসেম্বর মোদির আরেক চ্যালা শুভজ্যোতি ঘোষ, ভারত কী করে গত ১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের তিন নির্বাচনে  অন্যায়ের পক্ষে থেকে বাংলাদেশকে ক্রিমিনালের মত লুটেছে তা বিবিসিতে এক লেখায় বেপরোয়াভাবে লিখেছে। দেখুন এখানে, বাংলাদেশে বিগত তিনটি সংসদ নির্বাচনে ভারতের যে ধরনের ভূমিকা ছিল। ভারত যে  ক্রিমিনাল অপরাধীর মত লুটেছে সেটা খোদ শেখ হাসিনাও মনে করেন। তিনি প্রকাশ্যেই বলেছেন, তিনি ভারতকে কী না দিয়েছেন (মানে তবু তিনি প্রতিদান পাননি), এটা ভারত একদিন বুঝবে (মানে আপসোস করবে)।  কিন্তু একালে প্রতীম সেসব ঘটনাবলী-ইতিহাস নিয়ে মোটেও আগ্রহি না। তাঁর দেশপ্রেমের চোখে তিনি দেখছে – নিজ দেশ পেয়েছে, পেয়ে যাচ্ছে পেয়েও নাকি যাবে। এসবই তার কাছে সুপ্রীম – ফলে ন্যায়-ইনসাফ আবার কী!!

    প্রতীম সাফাই দিতে বলছেন, “মোট ২৯ টা দল নির্বাচনে অংশ নিয়েছে” (বলতে চাইছেন, সুতরাং এটা নিশ্চয় নির্বাচন হচ্ছে) আর বলছেন তৃতীয় বৃহত্তম দল জাতীয় পার্টি অংশ নিচ্ছে (বলতে ইঙ্গিত দিচ্ছেন তাহলে তো আর কথাই নাই) “A total of 29 parties including League and a faction of the third-largest, Jatiya Party, will contest the election.”। কিন্তু তিনি এখানে যা লুকালেন তা হল এই কথিত তৃতীয় পার্টিকে (এরশাদের জাতীয় পার্টি) বিরোধীদল হতেই হবে সেটা সাজিয়ে দিয়ে গেছিল ২০১৩ সালে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং। আর বাংলাদেশের উপর ভারতের এই প্রকাশ্য হস্তক্ষেপ এই  তথ্য বিবিসির শুভজ্যোতিও স্বীকার করেছেন। কিন্তু প্রতীম মহাশয় মনে হচ্ছে তবু তা জানতেই পারেন নাই!  আর সেঘটনার পুনরাবৃত্তি এবারও হয়েছে। এরশাদের ভাই এখনকার জাপা নেতা কাদেরও ভারত থেকে ফিরে সে ইঙ্গিত দিয়ে কথা বলেছিলেন।  আর অনেক নাটক করে শেষে নির্বাচনে সঙ্গি হয়েছেনও। কিন্তু খুব সম্ভবত এবার তিনি অতি চালাকি আর নাটক করতে গিয়ে ধরা খাবেন, দেখা যাক! কিন্তু প্রতীক মহাশয়ের চোখে সবই ভারতের সাফল্য!!

    প্রতীমের পরের প্রসঙ্গ আর্মিঃ
    সামরিক আর বেসামরিক শাসন নিয়ে তুলনা আর শেষে খোদ যেকোন প্রকারের বেসামরিক শাসনের পক্ষে রায় দেয়া – এই চাতুরি বয়ানের  চর্চা চালু করে গেছিলেন প্রথম আলোর মিজানুর রহমান খান (এখন মারা গেছেন)। তিনি নিজেই একালেও বাকশালের পক্ষে কথা বলতে লজ্জা পেতেন না, এতই অবুঝ বাকশাল-প্রেমি ছিলেন। আসলে, তখন রাষ্ট্রটাকেই নাই করে দেয়া হয়েছিল এমন কনষ্টিটিউশন সংশোধনী আনা হয়েছিল; যেটাকে আমরা বাকশাল বা চতুর্থ সংশোধনী বলে চিনি। মিজানুর বলতেন রাজনৈতিক দলের এই কান্ডটাও জায়েজ কারণ তা মুজিবের বেসামরিক শাসন সেটা করেছিল।  মানে তুলনায় সামরিক শাসন সেটা খুবই খারাপ!

    এই বক্তব্য শঠতাপুর্ণ বা চাতুরির। সাধারণভাবে বাংলাদেশে –  রাজনীতি জিনিষটা কী এনিয়ে চিন্তা-বোধ এর বিকাশ খুবই দুর্বল। এর পিছনের প্রধান কারণ সমাজতন্ত্রী-প্রগতিশীলতা ধারণা।  সমাজতন্ত্রী-প্রগতিশীলরা মনে করেই তারাই নাকি সবচেয়ে অগ্রসর ধারণা। কাজেই রাষ্ট্র-রাজনীতি কী সেটা জানার দরকার নাই, এগুলো তো পশ্চাতপদ, ডানপন্থি বা বুর্জোয়া ধারণা। অথচ  যারা মৌলিকভাবে রাজনীতি-রাষ্ট্র জিনিষটা কী, রিপাবলিক ধারণাটা কী এসবনিয়ে নুন্যতম ধারণা জানা-বুঝার আগেই সমাজতন্ত্রী-প্রগতিশীল হয়ে গিয়ে এমন আত্মঘাতি হয়ে আছেন। অবশ্য সেটা এমন হয়ে যাবার যুগও ছিল, সেটা অন্তত গতশতকের শেষ অর্ধেক জুড়েই (১৯৪৫-২০০০) মৌমাছির মত সেকালের তরুণদেরকে টেনেছিল। সোভিয়েত পতনের পরে এটা আর টিকে থাকতে পারে নাই। নিজ-অযোগ্যতায় এর জোশের সিংঘভাগই এখন খামোশ হয়ে গেছে।  কিন্তু আমাদের বেলায় যা ক্ষতি করে দিয়ে যাবার তা ঘড়েগিয়েছিল। এরই প্রমাণ হল, বাকশাল সম্পর্কে – কেন বাকশাল আপত্তিকর তা হল তা নিয়ে প্রকাশিত ধারণা গুলোকে দেখেন। ন্যাপ-কমিউনিস্ট বা ইসলামিদল গুলোর (পরে এরা বিএনপি করা শুরু করলেও) সবার মুখে মুখে সেসময়ের বয়ান হল যে, এটা একদলীয় ব্যবস্থা আর চারটা সংবাদপত্রের শাসন; এটাই মুখ্য অভিযোগ। এই হলো আমাদের বুঝ ও সমালোচনা। অথচ রিট [writ] কী আমরা খবর নেই নাই, জানি না। একটা কনষ্টিটিউশনে যদি রিট করার সুযোগ না থাকে তাহলে কী ক্ষতি; কী আসে যায় আমরা জানি নাই। সমাজতন্ত্রী-প্রগতিশীলতার এতই দৌরাত্ম! বাকশাল সংশোধনী আমাদের কনষ্টিটিউশন থেকে রিট করার সুযোগ তুলেই দিছিল – তা আমরা বাকশালবিরোধীরা কেউ টের পাইনি!

    মানে? মানে হল – রিট কথাটার সোজা মানে হল যে কোন কনষ্টিটিউশনের মুখ্য বা কেন্দ্রীয় বিষয় বা জায়গা হচ্ছে নাগরিকের মৌলিক অধিকার আর তার রক্ষাকবচ কিসাবে কী রাখা হয়েছে সেসব অংশগুলো। আমাদের কনষ্টিটিউশনের এটাই তৃতীয় অধ্যায়। এখন নাগরিকের প্রাপ্য মৌলিক অধিকার যদি সরকার বা কনষ্টিটিউশন প্রণেতারা রোধ করে দেয় বা রোধ-কারী কোন আইনই সংসদ পাশ করে দেয় তাহলে প্রতিকার হিসাবে নাগরিকের কী করার আছে? আইডেয়েলি বললে, নাগরিক তখন অধিকার হারানোর বিষয়টা হাইকোর্টের নজরে আনতে পারে। এটাই সব সৎ কনষ্টিটিউশন প্রণেতারা স্কোপ করে রাখেন। এভাবে আদালতের এই নজরে আনা বা প্রতিকার চেয়ে নালিশ দেয়াটাই রিট করা। পরে আদালত ঐ নালিশের শুনানিতে একমত হলে এরপর আদালত সরকারকে বাধ্য করতে আদেশ দিতে ক্ষমতা রাখে। এমনকি সংসদে পাশ করা কোন আইন তৈরি হয়ে গেলেও তা বাতিল ঘোষণা করে দিতে পারে। এই হল, খুবই সংক্ষেপে রীটের সারকথা।
    আর আমাদের ঐ বাকশাল সংশোধনীর আগের কনষ্টিটিউশনে দুই জায়গায় আলাদা করে এমন রীট করার অধিকার দেয়া ছিল। প্রথমটা নাগরিককে দেয়া তাদের যেকোন ইস্যুতে রীট করার অধিকার হিসাবে। আবার একইভাবে ১০২ অনুচ্ছেদে উচ্চ-আদালত (হাইকোর্ট ও এর উপরের) সকল বিচারককে রীট শুনবার অধিকারও পরিস্কার ও আলাদা করে দেয়া ছিল। আর গুরুত্বপুর্ণ কথা হল ২৫ জানুয়ারী ১৯৭৫ সালে পাশ হওয়া চতুর্থ সংশোধনী বা বাকশাল সংশোধনী রীট সংক্রান্ত এদুই অধিকারকেই হয় বিলুপ্ত বা স্থগিত করে রেখে দিয়েছিল। ফলে বাকশাল চালুর পরে দেশে কারও পক্ষেই আর রীট করা বা রীট শোনার আর কোন বালাই এক্তিয়ার থাকে নাই।

    মজার কথা হল পরে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসাবে জিয়াউর রহমান  তিনিই নাগরিকের রীট করা ও আদালতের তা শোনার অধিকার ফিরে কায়েম করেছিলেন – সেকালের সিনিয়র এডভোকেট বা সাবেক বিচারকদের পরামর্শে জিয়া একাজ করেছিলেন। তিনি এই মর্মে এক প্রেসিডেন্সিয়াল অধ্যাদেশ জারি করেছিলেন। এখন পাঠকেরাই বলেন বা ভাবেন বেসামরিক শাসন ক্ষমতার জোরে বাকশাল সংশোধনী জারি করা নাকি সামরিক শাসনের ক্ষমতাবলে (যা আবার পরে পঞ্চম সংশোধনীতে জায়েজ করে নেয়া) রিট করার অধিকার ফেরত দেয়া কোনটা জায়েজ বা কোনটা তুলনায় ভাল ও সৎ পদক্ষেপ?

    তবে আমাদের এই আলোচনার জন্য মুখ্য ইস্যু হচ্ছে এটা বুঝতে পারার যে নাগরিকের রিট করার অধিকার কেন ফান্ডামেন্টাল? কেন রিটের অধিকার না থাকার মানে সেটা  আর কোন রাষ্ট্র-ই না; বরং কার্যত তা এক রাজতান্ত্রিক শাসন, সেটা আর রিপাবলিক বা জনগণের ক্ষমতার শাসন নয়!   অথচ সমাজতন্ত্রী-প্রগতিশীল মন ও শিক্ষা আমাদের টেরও পেতে দিল না যে বাকশাল সংশোধনীতে বাংলাদেশ এই স্বাধীন রিপাবলিক খোদ রাষ্ট্রটাই নাই হয়ে গেছিল। এমনই সমাজতন্ত্রী বোদ্ধা সব একেকজন!  বাকশাল-কে গালি বানাতে পেরেছি কিন্তু রাষ্ট্র-রাজনীতি-জনগণ এসবের অর্থ আজও ঠিকমত বুঝি নাই! এনিয়ে আমার অনেক পুরানা একটা লেখা আছে। লেখাটা এখন খুঁজে পেয়েছি যার শিরোনাম ছিল – “পঞ্চম সংশোধনী বিতর্ক”। লিঙ্ক এখানে।  আর সেটা সেই ২০১০ সালে লিখেছিলাম। [আর ২০১০ সালে আমি তখনও জাতিসংঘে কর্মরত। আর ওয়ার অন টেররের পরে আমাদের একটা ইন্টারনাল সার্কুলার হয়েছিল যে আমরা যিন কোন রাজনীতির পক্ষে-বিপক্ষে না জড়াই, মতামত না রাখি। রাখলে এর পরিণতি হবে ২৪ ঘন্টার মধ্যে দেশে ফিরার টিকিট হাতে ধরিয়ে দেয়া। তাই আমি বেনামে ফিদা হাসান নাম নিয়ে লিখেছিলাম এই লেখাটা] এখনই সেই পুরানা লেখাটার একটা লিঙ্ক এখানেও পারেন।
    । সাথে সংশ্লিষ্ট আরেকটা লেখাও পড়তে পারেন আগ্রহিরা। এটা ২০১৭ সালে লেখা – প্রথম আলোর রাজনীতির একটি ব্যবচ্ছেদ। এটা আমার লিজের নামেই লেখা।


    কিন্তু এর সাথে প্রতীম রঞ্জনের কী সম্পর্ক?

    তিনি লিখেছেন, “Army was at the helm in Bangladesh between 1975 and 1990.”। বাংলা করলে, “১৯৭৫ ও ১৯৯০ সালের দিকে বাংলাদেশে আর্মি সব ক্ষমতার শীর্ষে ছিল!”।  এই বাক্যটা মিজান খানের বাকশালী সামরিক বনাম বেসামরিক এর মধ্যে কোনটা তুলনায় ভালো এই চাতুরির ধারণা লুকিয়ে আছে। বেসামরিক শাসন হলেই একে ভাল বলতে হবে – এটা একেবারেই শঠতার এক বক্তব্য! সেজন্যই উপরে দেখালাম, বেসামরিকতা দিয়েই [বেসামরিকতা মানেই যেন এক পবিত্র ক্ষমতা] একটা জনগণের ক্ষমতার রাষ্ট্র বা রিপাবলিক রাষ্ট্রকে নাই করে দিয়ে একে রাজতান্ত্রিক বা স্বৈরাচারি শাসন বানিয়ে ফেলা হয়েছিল। কিন্তু এই মিজান এন্ড বাকশালী গং আমাদেরকে বেসামরিক শাসনের পবিত্রতা শিখাচ্ছে! আর একালের প্রতীম মহাশয়ও আমাদের সেই সামরিক শাসনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    এমনিতেই সেকালের সোভিয়েত-মার্কিন [ সেটা ছিল ব্লকের যুগ মানে  দুই দেশের দুই ব্লকের সদস্য হওয়ার যুগ] বা কোল্ড ওয়ারের যুগে (১৯৫৩-৯১)। আমাদের মত দেশে আমেরিকা মাস-পপুলার লেবেলে  সোভিয়েত প্ররভাবের সাথে না পেরে সামরিক শাসন জারি করে আমাদের মত দেশগুলোর উপর নিজ সব ধরণের প্রভাব জারি রাখত। তাই সামরিক শাসনের সরকার ছিল প্রধান ফেনোমেনা। আবার আমাদের বেলায় ছিল আরেক সমস্য। ১৯৭১ সালের যুদ্ধ থেকে স্বাধীন বাংলাদেশে পৌছানো কখনই হত না যদি না আমরা সেই সময়ে স্পষ্ট করে সোভিয়েত ব্লকে যোগ না দিতাম! আবার এতে কমিউনিস্ট গিরি সমাজে রাজনীতিতে বেড়ে যাওয়াতে স্বাধীনের পরের সাড়ে তিন বছর কথিত সমাজতন্ত্রের অর্থনীতি করতে আমরা বাধ্য হয়েছিলাম। আর তাজউদ্দিন এন্ড গংয়ের এই প্রচেষ্টাইয় গিয়ে তা শেষে এমন পরাজয় ও ব্যর্থতা আসলো যে দুর্ভিক্ষে মানুষ মারলাম। আবার দুর্ভিক্ষের জন্য একে-তাকে দোষ চাপালাম। আবার অন্যদিকে কোন রাষ্ট্র একবার সোভিয়েত ব্লকে ঢুকলে তা থেকে বের হওয়া বিরাট খেসারত, বিরাট মুল্য চুকাতে হয়। আমাদের বেলাতেও এর ব্যতিক্রম হয় নাই। শেখ মুজিব আমাদের সোভিয়েত ব্লক থেকে বের করার ব্যবস্থা করে গেছিলেন কিন্তু তা দেখে যাবার আগেই জীবন দিয়েছিলেন। এই ছিল আমাদের সত্যিকার ১৯৭৫।  যা সবদিক থেকে দেখে ব্যাখ্যা করতেই হবে কারণ পুরা ফেনোমেনা-ঘটনাটা নেহায়তই কোন সামরিক শাসনের প্লট নয়! এটা শ্রেফ একটা সামরিক শাসন জারি করার মামলা একেবারেই নয়!
    আর ১৯৯০ সাল বলে – যেটা বলছেন সেটা আসলে এরশাদের ১৯৮২ সালের সামরিক ক্ষমতা দখল। কিন্তু এই ক্ষমতা দখলের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বব্যাংকের আমাদের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কার। ফলে এটাও কোন সামরিক প্লট না। যা সামরিক শাসন খুবই খারাপ বলে ব্যাখ্যা করা যাবে না।  সেই আশির দশকের শুরুতেও আমাদের দেশে কমিউনিস্ট প্রভাব যথেষ্ট ভারি ছিল। বিশেষত ট্রেড ইউনিয়নে আর রাজনৈতিক কালচারে। যেমন প্রায় সব উতপাদন ছিল সরকারি মালিকানায়। যেকোন অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানে সংস্কার মানেই প্রথম পর্যায়ে শ্রমিক বা কর্মি ছাটাই হবেই। কিন্তু সংস্কারের বা ঢেলে সাজানোর পরে কত মানুষ চাকরি পাবে সেটা দিয়ে এর সাফল্য মাপতে হবে।  শুধু শ্রমিক ছাটাই হচ্ছে কেন তা দিয়ে নয়! এখন বাংলাদেশে সংস্কারের কাজে নামলে বিশেষত বিশ্বব্যাংক একাজে কমিউনিস্ট চাপে (বিশেষত ছাটাই ইস্যুতে) পড়তে পারে যেটা তারা মুখোমুখি হতে চায় না। তাই আগে সামরিক শাসন জারি করে নিয়ে সংস্কার কাজ শুরু করতে মনস্থ করেছিল আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক। তাই এরশাদের ক্ষমতা দখল। নিশ্চয় এরশাদ এত বুদ্ধিমান ছিলেন না যে প্রশাসনিক সংস্কার (পপুলারলি উপজেলা) তার মাথা থেকে বের হয়েছে!
    এখন এখানে এতসব দিককে আপনি স্রেফ সামরিক লোকেরাই সবকিছুর নষ্টের গোড়া বলে বাহাদুরি-গাথা গাইতেই পারেন! অজ্ঞতায় কতকিছুই না দাবি করে ফেলা যায়!
    আর কিছুই না-বুঝে  প্রতীম রঞ্জন বোস এসব  সামরিকবিরোধী বাহাদুরি-গাথার পাল্লায় পড়েছে। আসলে এতে বুঝা গেল ভারতের ১৯৯০ সালের আইএমএফের সাথে ব্যালেন্স অফ পেমেন্টের ঘাটতিতে পরে তা মোকাবোলায় সেখান থেকে কেন ভারতকে সংস্কারের পথে যেতেই হয়েছিল এসব নিয়ে প্রতীম রঞ্জন বোস এর কোন স্টাডি অনুমান কিছুই নাই। এমনকি এখনও এই মোদি আমলে ভারতে আরও অর্থনৈতিক সংস্কারের কথা উঠছে কেন; সেটা কখনও তিনি আমল করেন নাই বলেই মনে হয়।
    অথচ তিনি এসেছেন গাধা-বোকাদের সামরিক-বেসামরিক তর্কে প্রবেশ অরে এনিয়ে কথা বলতে!!!

    চীনা প্রসঙ্গঃ
    প্রতীম রঞ্জন বোস খুবই নাদান কিসিমের তাই যেসব ইস্যু নিয়ে তিনি কথা তোলার যোগ্য হন নাই, সাবজেক্টটা বুঝতেই শেখেন নাই তা নিয়ে তিনি কলাম লিখে ফেলায়ছেন। তার আপত্তি হল, বাংলাদেশে চীনের গুরুত্ব কেন ভারতের নাই কেন?  অথচ উনি কী জানেন  একই ভাবে খোদ ভারতের চীনের গুরুত্ব আছে, দেয়া হয়? যে জানে সে দেয়! কিন্তু চীনের গুরুত্ব কথার মানে কী?

    এটা কেউ চীনকে বেশী ভালবাসে বলে দেয় ব্যাপারটা কী সেরকম?
    একেবারেই না। চীনের গুরুত্ব কথার সিধা মানেটা হল, আমাদের মত দেশ (এমনকি ভারতেও) অবকাঠামো খাতে একালে ঋণ দেবার সক্ষমতা একমাত্র চীনের আছে। যা সমতুল্য আমেরিকারও নাই।  তবে এটাই আমেরিকারও ছিল। সেকারণেই একালে চীনের এই গুরুত্ব। এখন প্রতীম কী জানেন ভারতেও চীনা এমন অবকাঠামো প্রকল্পগুলো ছিল? বিশেষত ২০১৪ সালে মোদি প্রথম ক্ষমতায় আসার পরে! কোথায় সেসব প্রকল্পগুলো, তাদের কী হল? সেগুলো বাতিল করে দেয়া হলে সেই সরকারি ঘোষণাটাই বা কই? রেল ব্যবস্থা আধুনিকিকরণ, স্টাফ ট্রেনিং সহ যে চীনা প্রকল্প ছিল তা এখন কোথায়? আগামিতে ভারতে আরো প্রায় পঞ্চাশটা শহর গড়ে উঠতে যাচ্ছে। সেগুলোর অনেকগুলোই পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলার অবকাঠামোগত বিনিয়োগের দায়ীত্বে চীনের যাবার কথা হয়েছিল সেগুলোই বা কোথায়? এর সব তথ্য নেট থেক সরায় নেয়া হয়েছে কেন? গৌতম আদানিরা চীনা লোন (হংকং থেকে এনেছে বলে চালিয়ে দিয়ে) বিদ্যুৎ কেন্দ্র বানিয়ে সেই  বিদ্যুৎ বাংলাদেশে রপ্তানি করে এবার ভারত নিজেকে চীনবিরোধী দাবি করছে? এতে করে লাভ কি?
    এখন ভারত কী অবকাঠামো ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে চীনের প্রতিদ্বন্দ্বি? নাকি ভারত নিজেই অবকাঠামো ঋণের এখনও খাতক?  কাজেই এসব সম্পর্কে নুন্যতম ওয়াকেবহাল না থেকে এক দেশপ্রেমিক ভারতীয় সেজে বাংলাদেশে সব ইস্যুতে চীন কেন – এই প্রশ্ন করা মানে বুঝিয়ে দেয়া যে আপনি ইস্যুই বুঝেন না, আর আপনার কাছে নুন্যতম তথ্যই নাই।

    তিনি লিখেছেন,
    Despite all the drumbeating about bilateral co-operation, the last five years were marked
    by unprecedented consolidation of Chinese interests in Bangladesh while Indian interests suffered.

    সারকথায় বললে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশে চীনা স্বার্থ কেন উপরে আর ভারতের স্বার্থ কেন নিচে? প্রশ্নটা তিনি তুলছেন অবকাঠামো প্রসঙ্গে। তবু প্রথম কথা হল, বাংলাদেশ এমনকি হাসিনার বাংলাদেশে তিনি কাকে বেশী গুরুত্ব দিবেন ভারত না চীনকে – এটা নির্ধারণের এক্তিয়ার তো হাসিনার?  নাকি না?  প্রতীম মহাশয় তিনি কী বলতে চাইছেন হাসিনা ভারতের দালাল তাই তিনি ভারতকে চীনের উপরে দিচ্ছেন না কেন? এরকম?
    আসলে এসব কথা নিয়ে নিজেকে ইন্ডিপেডেন্টে বুঝানো যায় না! বরং এসব ইস্যু নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে নিজে কতটা অযোগ্য তা বুঝা যায়!  আমরা কেবল এতটুকু বলতে পারি এই নির্বাচন যদি হয়েই যায় তখন ভারতের কী দুর্দশা হয় সেটা নিয়ে বরং মুরোদে কুলালে প্রতীম মহাশয় ব্যস্ত হয়ে উঠতে পারেন। কারণ, এটাই সম্ভবত হট-কেকে হয়ে উঠতে যাচ্ছে!

    ভারত কেন বাংলাদেশে কখনই পপুলার নয়ঃ
    সবক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে যা প্রতীক মহাশয় ডিল করলে পারেন না সেসবেই তার আগ্রহ!   এভারেজ এক ইন্ডিয়ানের মত তাঁরও পুঁজি হল কেবল এক উগ্র দেশপ্রেম? থচ columnist, researcher, and consultant.এর আকাঙ্খা রাখেন? সেকাজে তো নুন্যতম সমাজতত্ব, সমাজবিজ্ঞান ও অর্থনীতির পাঠ থাকতে হবে, নাকি? অথচ তিনি বলতেছেন,

    … India was never popular in Bangladesh, not even in December 1971, when Delhi
    became a party to their Liberation War. This is largely due to religious differences
    that were the prime inspiration behind the creation of Pakistan.

    এটা কী কোন গবেষকের বক্তব্য হতে পারে? যোগ্য? বলছেন ১৯৭১ সাল থেকেই ভারত কখনও বাংলাদেশে পপুলার ছিল না। ভালকথা, কিন্তু কেন? এর একটা বুদ্ধিমত্তা-সম্পন্ন ব্যাখ্যা করেন তাহলে! কিন্তু না। এই মহা বিদ্যান লোক ফতোয়া দিলেন এক মহা আবিস্কারের যে নাকি ধর্মীয় ভিন্নতার কারণে ভারত বাংলাদেশে পপুলার না! কান্ড দেখেন, প্রতীম রঞ্জন মফস্বলের চা দোকানের বেঞ্চিতে বসা আলাপ তুলেছেন তিনি!!!
    সাধারণভাবে বললে, প্রায়ই এই প্রশ্নটা সামনে চলে আসে যে ভারত আমাদের সাহায্য করতে আসার উসিলায় নিজের স্বার্থ হাসিলে ততপর। এখন এমন প্রশ্ন উঠাই স্বাভাবিক। তাই আগাম এমন বুঝাবুঝি যেন না উঠে আসা তা নিয়ে সতর্ক থাকা। কিন্তু তা তো হয় নাই। বরং সব জায়গায় ১৯৪৭ সালের দেশভাগের প্রতিশোধ নিবার বাসনা প্রকাশিত হয়েছে যেন! আর সবচেয়ে খারাপ কাজটা করেছেন ইন্দিরা গান্ধী! তাঁর তো অন্তত এমন কিছুই করা উচিত না যেটা ভারতের নিজের ক্ষতি ডেকে আনবে। অথচ তিনি তাই করেছেন। কেন তিনি হবু বাংলাদেশ কী হবে কী পরিচয় তা নিয়ে এমন সব ধারণা ব্যবহার করেছেন যা ভারত নিজেই নয়। যেমন কথিত সেকুলার, অসাম্প্রদায়িক, প্রগতিশীল, জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র ইত্যাদি হয়ে হবে হবু বাংলাদেশকে! কিন্তু কেন?
    তারচেয়েও বড়কথা খোদ ভারতই তেমন কোন রাষ্ট্র নয়; আর এর কথার বেশির ভাগই অর্থহীন!  অথবা যা বলছে ওর ব্যবহারিক রূপটা এর উলটা। বরং সারকথায় বাংলাদেশ ৯০ ভাগের মত মুসলমান জনসংখ্যা। এখন কী বলে কী করে ঈই মুসলমান পরিচয় দাবিয়ে রেখে দেয়া যায় এই ছিল ইন্দিরার সব কসরতের মূল্কথা! অথচ সবচেয়ে বড় অসংগতি হল খোদ ভারত-ই তো হিন্দুত্ব বা হিন্দু-জাতিরাষ্ট্রের দেশ হয়ে আছে যে পথ  কংগ্রেস নিয়েছে সেই ১৮৮৫ সাল থেকে! তাহলে হবু বাংলাদেশের ভারতকে অনুসরণের সুযোগ বাস্তবতা কোথায়?

    আসলে কথা একটাই জমিদার আমল থেকেই জমিদার-হিন্দুদের মুসলমানদের উপর আধিপত্যের আকাঙ্খার শুরু সেই নীতি সব জায়গায় থেকেই গেছে। মূল সমস্যা আধিপত্য – রাজনৈতিক বা সাংস্ক্ররতিক আধিপত্য ভারতকে বা জমিদার হিন্দুদেরকে করতেই হবে বা পেতেই হবে – এটাই রূপ সমস্যা। অথচ সকলেই আম=বার ব্যভারিকভাবে বুঝুক না বুঝউক   এক রিপাবলিক রাষ্ট্রই গড়তে গিয়েছে। যার সারকথা হল, নাগরিক সাম্য। মানে এক জনগোষ্ঠির অপরের উপর আধিপত্য করা বা সুযোগ নেয়া নয়। বরং আধিপত্যের উলটা, এক নাগরিক সাম্য। যেটা সেকালের না ইন্দিরা বা কোনকালে খোদ কংগ্রেস বুঝতেই পারে নাই। একেবারে প্রতীম রঞ্জন বোস পর্যন্ত একই গান চলছে!

    যা হোক, এই গল্প-কেচ্ছার শেষ নাই। কেবল আমাদেরকে আমাদের মত থাকতে দেক, এটাই কাম্য!

    প্রতীম রঞ্জনের সবচেয়ে বিরক্তিকর কান্ডটা হল, তিনি শিরোনামে বলছে ভারতকে নিজ স্ট্রাটেজি পুনর্বিবেচনা করতে হবে। অথচ তিনি পরিস্কার বলতেই পারলেন না বদল করে কোথায় নিবে? মানে চাপাবাজির ভাবসাব আরকি!!!

     

    সর্বশেষ আপডেটঃ    ৩০  ডিসেম্বর ২০২৩,   দুপুর ১২ঃ ৩৬

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

  • বিএনপি-কে নিয়ে গতকাল, রয়টার্স এর রুমা পালের উচ্ছ্বাস!

     

    বিএনপি-কে নিয়ে গতকাল, রয়টার্স এর রুমা পালের উচ্ছ্বাস!
    গৌতম দাস
    ১৭ ডিসেম্বর ২০২৩

    https://wp.me/p1sCvy-5aD

     

                      Tens of thousands rally in Bangladesh to demand new elections

     

    গতকাল মানে ১৬ ডিসেম্বরের বাংলাদেশ নিয়ে বিএনপি কী ততপরতা করেছে তা নিয়ে রয়টার্স এর খবর খুবই তাতপর্যপুর্ণ এবং তা ইঙ্গিতপুর্ণও বটে!
    বিজয় দিবসের সমাবেশের উসিলায় গতকাল ১৬ ডিসেম্বর বিএনপি পল্টনে নিজ পার্টি অফিসের সামনে জমায়েত ঘটিয়েছিল। এনিয়ে প্রায় প্রত্যেকটা মিডিয়া রিপোর্ট উল্লেখ করেছে যে গত ২৮ অক্টোবর এর ব্যাপক সমাবেশের পরে এটাই আবার বিএনপির ব্যাপক সমাবেশ।  যেমন ধরা যাক, বিডিনিউজ২৪ এনিয়ে তাদের রিপোর্টে লিখেছে , “……গত ২৮ অক্টোবর নয়া পল্টনে সংঘর্ষের কারণে মহাসমাবেশ পণ্ড হওয়ার পর থেকেই তালাবন্ধ নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়। ওই বন্ধ কার্যালয়ের সামনেই ছোট একটি ট্রাকের ওপরে অস্থায়ী মঞ্চে বিএনপির নেতারা শোভাযাত্রা শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন”।
    গত ২০১৪ সালের কথিত নির্বাচনের পরে বিএনপি ‘জঙ্গীবাদ’ করছে বা বিএনপি ‘অগ্নিসন্ত্রাস’ করছে ইত্যাদিতে সরকারের দিক থেকে এমন সব অভিযোগ তুলে বিরোধীদের কাবু করা হয়েছিল আর এমন মিথ্যা বয়ানকেই পশ্চিমাদের প্রত্যক্ষ সমর্থন ছিল ব্যাপক। তাই সরকারের পক্ষে ব্যাপকভাবে মামলা দিয়ে সেবার বিএনপির রাজনীতির প্রকাশ্য ততপরতা স্তব্ধ করে দেয়া সহজ হয়েছিল।  সম্ভবত সে অভিজ্ঞতার কথা মনে রেখে  এবার ২৮ অক্টোবর পল্টনে মহাসমাবেশে সরকার পন্ড করে দিবার পরে তাই এবার যারা ব্যাপারটা অবজার্ভ বা মনিটর করে চলেছে এমন দেশি-বিদেশি অনেকের মনে প্রশ্ন ছিল আগামি ৭ জানুয়ারি ‘২৪ ঘোষিত নির্বাচনের  তারিখের আগে আর কী বিএনপিকে তারা আবার রাজপথে দেখতে পাবে? এমন সন্দেহ কার্যকর ছিল। বাইরের অবজারভার, এমনকি যারা আশা করছিল বিএনপি মাঠে ফিরবেই, ব্যাপক সমাগম নিয়েই ফিরবে তারাও মনে একটা সন্দেহ রেখেছিল। যেটা প্রকাশ পেয়েছে  ১৬ ডিসেম্বর বিএনপির বাস্তবে সমাবেশ ঘটিয়ে দিবার পরে এনিয়ে প্রকাশিত দেশি-বিদেশি মিডিয়া রিপোর্টগুলোতে।

    বিডিনিউজ২৪ কে মনে করা হয় ইন্ডিয়ার গোয়েন্দা বা ফরেন অফিসগুলোর জন্য বাংলাদেশে প্রকাশিত প্রতিদিনের নিউজ পেপার কাটিং সংগ্রহ ও সরবরাহের প্রতিষ্ঠান। এজন্য তারা নাকি নামে-বেনামে বিডিনিউজের  শেয়ার কিনে রেখেছে এমন কথা ঢাকায় প্রচলিত আছে। আইনি দিক থেকে যা হয়ত তেমন বড় ব্যাপার নয়। তবে বটম লাইনটা হল, আমাদের সমাজের একটা কমন ধারণা যে,  ভারতের সাথে বিডিনিউজ২৪ এর সাথে “কোন একটা বিশেষ সম্পর্ক” আছে।   সে যাই হোক এই বিডিনিউজ এর গতকালের শিরোনাম ছিল –” বিএনপির শোভাযাত্রায় নেতাকর্মীদের ঢল“। এমনকি বিএনপির এই সমাবেশে সরকারের নির্যাতন বা নিগৃহিত হওয়া এড়াতে বিএনপির আত্মগোপনে থাকা অনেক নেতাও সাহস নিয়ে হলেও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন; এর একটা ছোট তালিকাও বিডিনিউজ তাদের এই রিপোর্টে উল্লেখ করে দিয়ে রেখেছে।   মানে আমি আসলে উপরের কথাগুলো লিখেছি বিডিনিউজ২৪ এর এমন শিরোনামের কথা মাথায় রেখে যে তারো মনে করছে “বিএনপির শোভাযাত্রায় নেতাকর্মীদের ঢল নেমেছিল” ।  এমনকি বিএনপির ১৬ ডিসেম্বরের সভায় যিনি সভাপতিত্ব করেন বিএনপির সেই ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী তিনিও উল্লেখ করেছেন – “সভাপতির বক্তব্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী কয়েক ঘণ্টার আয়োজনে বিপুল উপস্থিতির উল্লেখ করে বলেন, বিএনপি হারিয়ে যায়নি, বিএনপি পালিয়ে যায়নি” – এটাই প্রথম আলো আমাদের জানিয়েছে।

    কিন্তু আসলে তবুও আজকের এই লিখাটা  লিখার প্ররোচনা আমি তখনও বোধ করি নাই। যদিও গত কয়েকদিন ধরে, বাংলাদেশের কথিত নির্বাচন নিয়ে ভারতসহ বিদেশের অনেক পত্রিকার রিপোর্ট পড়েছিলাম।  যেখানে আনন্দবাজার ছাড়া কোন মিডিয়া রিপোর্টই বাংলাদেশের নির্বাচন পরিস্থিতিতে তাদের খুশি, আস্থা বা সন্তুষ্টি বা ইতিবাচক কোন বক্তব্যের রিপোর্ট আমি দেখি নাই! প্রকাশিত বিদেশি এমন রিপোর্ট মিডিয়ায় ছাপানো হয়েছে যেগুলো, এর একটা বড় অংশই আমেরিকান থিঙ্কট্যাংক-গবেষকদের লেখা। যেমন দ্যা ডিপ্লোম্যাট [The Diplomat.com/] ; এই পত্রিকাটা জাপানি ফান্ডে চলা পত্রিকা যা আমেরিকার ভার্জিনিয়া থেকে পরিচালিত। আর কয়েকবছর আগে (যখন আমেরিকা বাংলাদেশকে ভারতের হাতে তুলে দেয়া আর ভারতকে  চীন ঠেকানোর ঠিকা দিয়ে রেখেছিল] তখন এই পত্রিকার  এক বিশেষ ভার্সান প্রতিদিন জাপান থেকেও প্রকাশিত হত। এখন যা আর দেখি না। সেই ডিপ্লোম্যাটে পরশু ১৫ ডিসেম্বর ২০২৩ প্রকাশিত বাংলাদেশের নির্বাচন প্রস্তুতি নিয়ে একেবারেই বাস্তব সত্য ফলে নেতিবাচক রিপোর্ট ছাপা হয়েছে। শিরোনাম, কেন বাংলাদেশে একটা ভুয়া (বা ভারসাম্যহীন) নির্বাচন হতে যাচ্ছে [Why Bangladesh is About to Have a Lopsided Election.]।  আর এটা এতই ডিটেইল রিপোর্ট যে আমাদের ঝালকাঠিতে একটা নির্বাচনে কমিশনের তরফে খরচের বরাদ্দকৃত সীমা কত আর তা কেন অবাস্তব সে কথাও বলা হয়েছে। সেখানে [The Commission has declared that the expenditure per voter should not be more than 10 takas, equivalent to 9 cents.] এমন বাক্যও আছে।

    এই লেখা লিখতে মূলত কেন প্ররোচিত হলামঃ
    এককথায় এর জবাব, ১৬ ডিসেম্বরের বিএনপির সমাবেশ নিয়ে রয়টার্স একটা রিপোর্ট করেছে গতকাল সন্ধ্যা প্রায় সাড়ে সাতটার মধ্যে। দেখা যাচ্ছে এটা আবার বিএনপির জন্য খুবই ইতিবাচক রিপোর্ট। ফলে কদাচিত দেখা যায় এমন।  এমনি এই রিপোর্টের শিরোনাম হল – (বাংলায় বললে) “হাজার হাজার লোক সমাগমে বাংলাদেশের বিরোধী দলের র‍্যালী থেকে সরকারের প্রতি পদত্যাগের আহবান” – [Tens of thousands attend Bangladesh opposition rally calling for government to resign.]। ইংরাজি ফরমাল ডিকশনারী মতে টেন অব থাউজ্যান্ড বলতে সমাগম একলাখের নিচে বুঝাতে যে শব্দ  ব্যবহৃত হয়।

    বিস্তারে যাবার আগে  এই রিপোর্টের রিপোর্টারকে নিয়ে কিছু কথা বলে নেই। এটাই গুরুত্বপুর্ণ।
    এর রিপোর্টার হলেন রুমা পাল [RUMA PAUL]।  কোন রুমা পাল? যতদুর অনুমান তিনি কলকাতার বাঙালি যদিও, যে ইংরাজি বানানে তিনি নিজের নামের বানানটা লিখেন তা যদি RUMA PAL (মানে PAUL এর জায়গায় PAL) হত তবে নিশ্চিত হতাম যে তিনি হিন্দু বাঙালি! আর PAUL বানানটা মানে সাধারণত যা খ্রীশ্চান “পল” বুঝাতে ব্যবহৃত হয়। সেক্ষেত্রে তিনি বাঙালি খ্রীশ্চান বলে অনুমান হয়। তবে সেসব যাই হোক, তিনি বাংলাদেশের সচেতন মানুষের কাছে অনেক পরিচিত; আর তা খারাপ বা নেতিভাবেই। আর কবে থেকে? সেটা ২০২০ সাল থেকে তো বটেই! তাকে ভারতের ‘র’-এর স্বার্থ-ইচ্ছার পক্ষে কাজ করতে দেখেছি আমরা!
    দুনিয়ায় তিনটা গ্লোবাল নিউজ এজেন্সী প্রভাবশালী ও বড় বিনিয়োগে গড়া প্রতিষ্ঠান যাদের নিজস্ব মালিকানায় স্যাটেলাইট আছে যেমন – রয়টার্স, এএফপি ও এপি। আর এরা যথাক্রমে বৃটিশ, ফ্রান্স আর আমেরিকা ভিত্তিক তাতে তাদের এখনকার অফিস গ্লোবালি যেকোন দেশেই থাকুক। এদের মধ্যে রয়টার্সে সবচেয়ে বেশি ভারতীয় অরিজিন স্টাফ আছে। যারা ভাল প্রফেশনাল আর এমন একগুচ্ছ রিপোর্টারের উপরে একজন করে পশ্চিমা অরিজিন এডিটর রাখা হয়েছে যাদের নামও প্রকাশিত রিপোর্টের মধ্যেই ছাপানো থাকে। যেমন আলোচ্য রিপোর্টের শেষে লেখা আছে [Reporting by Ruma Paul; editing by Clelia Oziel]। নিয়মিত পাঠক হিসাবে রয়টার্স সাধারণভাবে আমার চোখে তুলনামূলক আস্থা বেশি রাখার মত এজেন্সী। কেবল ব্যতিক্রম এই রুমা পাল; যে র’ এর এসাইনমেন্ট কাঁধে নিয়ে ঘুরে আমরা দেখেছি। অল্প করে সেই রেফারেন্স এখানে দিয়ে রাখি।

    চীনা করোনা টিকা ইস্যুতে সেকালে মানে ২০২০ সালের ঘটনা। টিকা ইস্যুর একেবারে প্রথম দিকে যখন দুনিয়াতে কোন উতপাদকের হাতে বা বাজারে টিকা তখনও আসে নাই। ভারতীয় টিকাও আমাদের দরবেশ-কে চারশ মিলিয়ন ডলারে গছানো হবে (যা শেষ পর্যন্ত সময়ে সরবরাহ করা হয় নাই) – সেই চুক্তিও হয় নাই; আসলে সেই প্রসঙ্গও তখনও আসে নাই! সেসময়ে মূলত, চীন আমাদেরকে তাদের টিকা গবেষনার থার্ড ফেজ বা তৃতীয় ও শেষ পর্যায়ে যুক্ত হতে কিছু বাংলাদেশিকে পরীক্ষামূলকভাবে টিকা দেওয়ার প্রোগ্রাম ছিল সেটা।  মানে মুল পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হয়েছে চীনের বাইরে যেমন বাংলাদেশিদের শরীর এই টিকার গ্রহণযোগ্যতা কেমন হবে এই পরীক্ষায় পর্যায়। আর এতে অংশ নিলে পরোক্ষিত এই টিকার বাণিজ্যিক উতপাদনের বিনা পয়সায় হকদার হব আমরা। যেমন চীনা উতপাদিত কিছু টিকা পাবে আর টিকার ফর্মুলা নিজ দেশে ব্যবহার করে নিজ উতপাদনেও যেতে পারবে বাংলাদেশ। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার এই প্রোগ্রামে রাজি হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিতে সইয়ের যে আনুষ্ঠানিকতা ছিল তা সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করে নাই। কারণ, এসময়েই ভারত ঐ প্রাইভেট অফার দিয়েছিল যে বাংলাদেশের প্রাইভেট কোম্পানি চারশ মিলিয়ন ডলার আগাম বিনিয়োগ দিলে তারা বাংলাদেশ সরকারের জন্য টিকা নিতে পারবে। মূলত বাংলাদেশ এই অফারটা নিবে না চীনের সাথে গবেষণায় অংশ নিবে এনিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় সময় নষ্ট করে ফেলেছিল। ওদিকে চীনাদের পক্ষেও বাংলাদেশের জন্য তার টিকা পরীক্ষার শেষ পর্যায়টায় বাংলাদেশকে আরো সময় দেয়া সম্ভব ছিল না কারণ চীনা ঐ সিনাভ্যাক টিকা ছিল চীনের উতপাদিত প্রথম টিকা; তাই এটা শেষ করার তাদের প্রচন্ড তাগিদ ছিল। তাই চীন বাংলাদেশের জন্য আর অপেক্ষা না করে ইস্ট এশিয়ার এক দেশ (সম্ভবত ইন্দোনেশিয়াকে বাংলাদেশের জায়গায়) সামিল করে নিয়েছিল।  আর এদিকে বাংলাদেশ পরে চীনা টিকা পাওয়ার সম্ভাবনা খুইয়ে আর সাথে ভারতীয় টিকা প্রাইভেট কোম্পানিকে দিকে কিনিয়ে ব্যবসা হবার লোভে ভারতের সাথে যুক্ত হওয়াকেই প্রেফার করেছিল। সেই সাথে নিজেদের অবহেলাকে ঢাকতেই এক প্রপাগান্ডা বা নিউজ-টুইস্ট করেছিল যে চীনের ঐ টিকা পরীক্ষার প্রোগ্রামে বাংলাদেশকে সামিল করতে টাকা চেয়েছিল বলেই নাকি চুক্তিটা সই হয় নাই…। আর এই রিপোর্টাই করেছিল রুমা পাল। আগ্রহিরা এখানে সে রিপোর্টটা এখনও দেখতে বা পেতে পারেন। আমাদেরসহ অনেক দেশি-বিদেশি পত্রিকা রয়টার্সের রিপোর্ট বলে রুমা পালের সেই রিপোর্ট রয়াটার্সের বরাতে ছেপেছিল বা কপি করেছিল। ফলে এই নিউজ-টুইস্ট বাজার পেয়েছিল। কিন্তু একই সাথে কয়েকদিনের মধ্যে বেনার নিউজও এনিয়ে একটা রিপোর্ট করেছিল। বেনার নিউজ [benarnews]  আমেরিকা ফান্ডেড একটা ইংলিশ পত্রিকা যার বাংলা ভার্সানও আছে।  বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এক সাক্ষাতকারের ভিত্তিতে রুমা পালের ঐ রিপোর্ট ছিল। যদিও তা ছিল একটা পুর্ব-বুঝাবুঝির ভিত্তিতে। বেনার নিউজের রিপোর্ট সেটাও ছিল স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বরাতে। কিন্তু এখানে কিছু বাড়তি কথা পুরা জিনিষটাকেই ওপেন করে দিয়েছিল। আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বলা সেই বাড়তি বাক্যটা হল,

    “Possibly, they want to leave since we are unable to pay them the money they asked for the trial.”

    বাংলায় বললে মন্ত্রী বলছেন,  তারা (মানে চীনারা) টীকা ট্রায়ালের জন্য চাওয়া অর্থ আমরা দিতে পারি নাই বলেই  সম্ভবত ঐ প্রোগ্রামে আমাদের ছেড়ে চলে গেছে”। অর্থাৎ মন্ত্রী নিশ্চিত নন যে কেন চীনারা নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছে। কিন্তু এর পরেও মন্ত্রীর বরাতে লেখা হয়েছে চীনারা নাকি অর্থ চেয়েছিল (কো-ফাইন্যান্সিং)! মহার কথা হল, রুমা পাল  – অর্থ চেয়েছিল (কো-ফাইন্যান্সিং) শব্দটা শিরোনামে এনেছিল। কিন্তু বেনার নিউজ তা করে নাই। কেবল সাদামাটা বলেছে চীনার প্রোগ্রামটা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। আবার মজার কথা হল চীনারা যে অর্থ চেয়েছে এর স্বপক্ষে মন্ত্রী কোন (চীনাদের বাংলাদেশকে দেয়া চিঠি) চিঠি বা ডকুমেন্ট দেখাচ্ছেন না বা রেফার করছেন না। কিন্তু প্রপাগান্ডা সমানে চলছে। বেনার নিউজের সেই রিপোর্ট এখানে পেতে পারেন।

    কিন্তু অসততার কপাল সবসময়ই মন্দ হবার সম্ভাবনা থাকে! হয়েছিলোও তাই। অর্থলাভের লোভে বাংলাদেশের ক্ষমতাবানেরা সকলে ভারতের টিকা কিনতে ছুটেছিল অথচ এই টিকা পরে মোদি আর বাংলাদেশে সরবরাহ-ই হতে দেন নাই। আগে ভারতের চাহিদা মিটবে (মানে আমাদের অর্থে ভারত আগে নিজের চাহিদা মিটাবে এরপর) – এই উগ্র হিন্দুত্ববাদী-অর্থনীতি বয়ানের ঝাপ্টা। কারণ, এই বাংলাদেশের (প্রাইভেট ব্যবসায়ীর হাত দিয়ে) আগাম অর্থ পরিশোধ এটা ঠিক কোন পণ্যকেনার জন্য আগাম পেমেন্ট ছিল না বরং এটা ছিল ঐ টিকা উতপাদক কোম্পানির উতপাদন সক্ষমতা বারানোর জন্য কারখানা সম্প্রসারণে আগাম বিনিয়োগের অর্থ দান। ফলে এতে কারখানার যে সক্ষমতা বেড়েছিল এই অংশের পুরা উতপাদনের হকদার বাংলাদেশ একা!
    পরিণতিতে আবার চীনের কাছে সরকার ফিরে যায়। হাত-পা ধরে একটা খারাপ চুক্তিতে আমরা চীনা টিকা পেয়েছিলাম, তবে ভাল দিক হল আমাদেরকে আর সকল চাহিদার টিকা পাবার জন্য কোন অর্থই দিতে হয় নাই। এই হল, ‘র’-এর এসাইনমেন্ট হোল্ডার রুমা পাল আর বাংলাদেশের সম্পর্ক আর গল্প!

    এখন প্রশ্ন হল, সেই রুমা পাল এখন বিএনপিকে প্রশ্নগসা বা সম্ভাবনা হিসাবে দেখে গতকালের রিপোর্ট-টা কেন?
    এর অর্থ কী? ভারত হাসিনার উপর আস্থা হারিয়েছে? অনেকের ধারণা ফিল্ড লেভেলে ‘র’ ততপর থাকলেও  জয়শঙ্করের ফরেন অফিস মানে মোদিসহ এরা দুরত্ব তৈরির অবস্থান নিয়েছে।
    একথা সত্যি যে এখন তো ভারত-আমেরিকান সম্পর্ক তলানিতে। বিশেষ করে কানাডায় কানাডীয় শিখ নাগরিক হত্যার পরে আবার খোদ আমেরিকায় শিখ হত্যার উদ্বোগ আমেরিকা ব্যর্থ করে দিবার পরে এই অবস্থায় দুই দেশ!
    ফলে মোদির অবস্থান এখন এপিজিং [appeasing] মানে বাংলায় যেটাকে আমরা মান ভাকঙ্গানো বা তেল মারা বলি! আরো বিশেষ করে আমেরিকার বাইডেন আগামি ২৬ জানুয়ারি ভারতের রিপাবলিক ডে [১৯৫০ সালে যেদিন প্রথম  নয়া কনষ্টিটিউশন চালু বা কার্যকর ঘোষণা করা হয়]  উদযাপনে প্রধান অতিথি হতে অ-রাজি হন।

    সেজন্যই কী রুমা পাল এবার উজানে উল্টা বাইতেছেন!!! এছাড়া ভারতের বেশিরভাগ মিডিয়াই এবার রয়টার্সের রুমা পালের খবরটাই  ছেপেছে?

     


    সর্বশেষ আপডেটঃ  ২০২৩,  রাত

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com