Category: GOUTAM DAS

  • প্রথম আলো পুরানা পথেই; তাহলে সামনে কী!

    প্রথম আলো পুরান পথেই; তাহলে সামনে কী!
    গৌতম দাস
    ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪  সন্ধ্যা ০৬ঃ ৫৫
    https://wp.me/p1sCvy-66Q

     

     

     

     

     

     

     

     

    প্রথম আলো কিছুই বদলায় নাই। মানে শিক্ষা নেয় নাই। আর সে মাপেই তার কথিত ‘কূটনৈতিক প্রতিবেদক” সেও কিছু বদলায় নাই।  রাহিদ-এরা ঝামেলা আছে বুঝলে নাম সরিয়ে পদবী লিখে থাকে। তারা জানে যে এমন কাজ গর্হিত কাজ অপ-সাংবাদিকতা। গত ২১ ডিসেম্বর মানে পরশুদিন এমনই এক কথিত বিশ্লেষণ ছাপা হয়েছে প্রথম আলো তে। শিরোনাম, বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কে নতুন অস্বস্তি সৃষ্টি এড়াতে সচেষ্ট থাকা উচিত এভাবে। প্রথমত ভাসুরের নাম মুখে না নিবার মত করে বলা শব্দ হল অস্বস্তি; মানে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক এর মধ্যে “কোন অস্বস্তি বলে” কোন কিছু আছে তাই বুঝানো হচ্ছে। কিন্তু খাড়া বললে এটা হল ইন্ডিয়া ও মোদি অন্তত  আমাদের “আয়নাঘর” আর বিডিয়ার হত্যা ২০০৯  [এছাড়া আরও কত কী যে অপরাধ আছে] এর সাথে সরাসরি যে সংশ্লিষ্ঠতা আছে তা থেকে বাঁচতে বাংলাদেশের উপর হিন্দু নির্যাতন এর প্রপাগান্ডা দিয়ে ব্যাপক চাপ সৃষ্টির পরিকল্পনা নিয়ে এতদিন আগায় ছিল।যার ভিতরে আচে আবার চিন্ময়-ইসপকন সহ আরো কত কী!!! কিন্তু এসব অপরাধগুলো প্রথম আলো উল্লেখ করতে চায় নাই। তাই ছোট শব্দ অস্বস্তি!    এখন এখানে দেখা যাচ্ছে প্রথম আলো এই সম্পর্কে অস্বস্তি নামক শব্দ টা কী নিয়ে তা বলতে চাচ্ছে না। বরং নিরপেক্ষতার ভান ধরেছে।
    আসলে প্রথম আলো ভারতের স্বার্থের সক্রিয় প্রপাগান্ডা মেশিন হয়ে যেমন ছিল এতদিন ১৬ বছর জুড়ে তেমনই থাকতে চাচ্ছে। মানে কোন শিক্ষা হয় নাই; শিক্ষা নেয়ও নাই।

    বিএনপি (আর তার দেখাদেখি জামায়াতও অনেকটাই) ইন্ডিয়ার দাওয়াত-উস্কানিতে যে বিনিময়ে ইন্ডিয়া তাদেরকে কোলে তুলে নিয়ে ক্ষমতায় বসিয়ে দিবে এমন “নয়া হাসিনা” হবার লোভ সামলাওতে পারে নাই। সেদিকে ছুটছে তো ছুটছেই।  একবারও পিছন ফিরে দেখার কথাও মনে নাই যে খোদ ইন্ডিয়াই বাংলাদেশ থেকে ক্রমশ আউট হয়ে যাচ্ছে; অন্তত  আয়নাঘর ও বিডিআর হত্যাকান্ড এই দুইটা ইস্যুও যদি উল্লেখ করি তাহলেও তো কিছু বুঝা যায়! মানে যা নিয়ে সেনাসদরে বিক্রম সাব আমাদেরকে চাপ দিতে এসেছিল তা এখন পুরাই পাবলিকলি উদাম হয়ে গেছে; কারণ এটা আর হাসিনার বাংলাদেশ নয়। কাজেই চিন্ময়-ইসকন ইস্যু বা কথিত হিন্দু নির্যাতনের প্রপাগান্ডা যা দিয়ে ইন্ডিয়া আমাদেরকে চাপে ফেলে কাজ উদ্ধার করতে, নিজের পাপ-ক্রিমিনালিটি ঢাকতে এসেছিল সেই পাশার দানও উলটে গিয়েছে।
    এর  দুদিন পরেই ইতোমধ্যেই গুম কমিশনের প্রাথমিক রিপোর্ট প্রকাশ হয়ে গেছে যেখানে আয়নাঘর-অপহরণ ইস্যুতে ভারতের সংশ্লিষ্টতা এখন বিবিসিসহ সব দেশি সকল মিডিয়াতেই।  এছাড়া আজ বিডিআর হত্যাকান্ড তদন্তের নয়া কমিশনও গঠিত হয়ে গেছে। আর ইতোমধ্যেই এদুই ইস্যুতেই ইন্টারনাশনাল ক্রাইম ট্রাইবুনালে মামলা দায়েরও হয়ে গেছে।
    কাজেই ভারতকেই এখন রাষ্ট্র হিসাবে আসন্ন এসব ক্রিমিনাল মামলায় সংশ্লিষ্টতা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কেলেঙ্কারি মোকাবিলা কেমন করে করবে সেটাই ইস্যু?  এনিয়ে আসন্ন পরিস্থিতি সামলাবে কী করে সে চিন্তায় মোদির ইন্ডিয়ারই ঘুম হারাম হয়ে যাবে এখন। অথচ প্রথম আলো ও তাদের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের ঘুম ভাঙ্গে নাই।
    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জয়সোয়ালের গলার টোন বদলে গেছে। এটা তো অন্তত কারো না দেখতে পাবার কথা না। তিনি সর্বশেষ এখন বলছেন “দায়ীত্বশীলতার” কথা। বলছেন, “…… আমরা সবাইকে মনে করিয়ে দিতে চাই, প্রকাশ্য মন্তব্য যেন ভেবেচিন্তে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে করা হয়”।

    শুধু তাই না, আগামি জানুয়ারি থেকেই ইন্ডিয়া-আমেরিকান বিরোধ আরো তুঙ্গে উঠবে। ইতোমধ্যেই ইন্ডিয়ার উপর আমেরিকার আরোপিত স্যাংশন আমরা যেন ভুলে না যাই। এর সবকিছুর মানে এই বাইডেন আমলের শেষ কদিন থেকেই সব শুরু হচ্ছে।। মানে হল, হাসিনা সহ সারা ইন্ডিয়ার যারাই তাদের ট্রাম্প ভাইয়া এসে তাদের হাতে আবার বাংলাদেশটাই হাসিনা ও ইন্ডিয়ার হাতে তুলে দিবে বলে প্রকাশ্যেই আশা রেখেছিলেন তাদের অবস্থা কী হবে অনুমেয়! এমনকি আমরা নিজেরাই যদি মোদির ভারতের বিবৃতি দেখি বা অনুসরণ করতে জানি তাহলে দেখব ইতোমধ্যেই মোদির ইন্ডিয়ার আমেরিকার বিরুদ্ধে মোদি ফরমাল অভিযোগ তুলেছেন। বলেছেন “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং শিল্পপতি গৌতম আদানিকে নিশানা করেছে আমেরিকান সরকার”। এটা ৮ ডিসেম্বরের ভারতের মিডিয়ার খবর। যার প্রতিক্রিয়ায় আমেরিকা কড়া ভাবে হতাশা জানিয়েছে।

    আমার অনুমান আগামি জানুয়ারি মাস থেকেই আমেরিকা-ইন্ডিয়া সম্পর্ক তলানিতে ঠেকবে! অথচ এর কোন কোন খবর নাই প্রথম আলো ও তাদের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের। তারা ধরেই নিয়েছেন র-এর অর্থ আসবেই আর তারা বাংলাদেশে বসে ইন্ডিয়ার খেদমত করা লেখা লিখেই চালায় যাবেন – যেন কিছুই বদলায় নাই। বদলাবে না। এবার আগেই এসেছিল ত্রাতা মির্জা আলমগীর! নিজের মান-ইজ্জত বাজি রেখে এর বিনিময়ে খুবই মারাত্মক অভিনয় করে ……আপনারা চিন্তা করতে পারেন বলে তার সেই ডায়লগ ……. আজও ইতিহাস হয়ে আছে। এতে তখনকার মত লাভের লাভে জনরোষ থেকে প্রথম আলো বেঁচে গিয়েছিল।   কিন্তু শেষ রক্ষা হয় নাই।, খোদ মির্জা কেই বাচাতে, উসিলা করে বা যেভাবেই হোক ১২ দিনের জন্য সরে যেতে হয়েছিল। আর রিজভি তিনি কত বড় ইন্ডিয়াবিরোধী সেই ছল-অভিনয় করে হলেও সেই কার্ড শো করতে হয়েছিল। কিন্তু কেউ শিক্ষা নেয় নাই। তাদের কপালে যা আছে তা আমরা দেখব।

    কিন্তু প্রথম আলো নিয়ে কথা বলছি এখানে, তাদের আবার সেই একই কায়দার কু-জার্নালিজম আবার শুরু হয়েছে। শুরুতেই যে লেখাটার কথা বলছিলাম, বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কে নতুন অস্বস্তি সৃষ্টি এড়াতে সচেষ্ট থাকা উচিত, সেটাতে আবার  দালালিশুরু হয়েছে।  লেখার শুরুতেই মাথায় লিখে রেখেছে  এটা নাকি বিশ্লেষণ। কিন্তু ভিতরের বডিতে লেখার স্তাইল সেই পুরানাটাই। গায়েবি রেফারেন্স সুত্রে কথা বলা – এই হল, র-এর দালালির অপ-জার্ণালিজমের বৈশিষ্ট। সেটা এখানেও বর্তমান। তাই এলেখায় অন্তত দুবার লিখেছে বিশ্লেষকেরা বলেছেন; একবার বলেছেন কূটনৈতিক সুত্রে জানা গেছে। আরো একবার বলেছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষক বলেছেন……!!!   এভাবে জার্নালিজমকে পানিতে ফেলে দিয়ে হলেও অর্থ কামাতে হবে, র-এর দালালিই করতে হবে – একাজে প্রথম আলো ও তাদের নানান প্রতিনিধি, বা কথিত কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা আবার ফিরে এসেছে!!! এভাবে এবার আরো কতদিন?
    এবার মির্জা ফকরুল আসবেন না কারণ, আশা করছি আগামি মাস থেকেই সম্ভবত তারা নিজেরাই আছাড় খাওয়া শুরু করবেন!! আর হায় হায় করে উঠে তারা ভাববেন গত তিন মাস কোন গাছে তারা তাদের নৌকা বেঁধেছিলেন? যেই গাছ নিজেই এখন উপড়ে পরে যাচ্ছে……!!!!

    উপদেষ্টা মাহফুজ আলম প্রসঙ্গঃ
    সবশেষে, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম প্রসঙ্গ। রোগ সেই পুরানা কমিউনিস্ট রোগ…! তাতে রোগটা নিজের বা তাদের কমিউনিস্ট গুরুর যারই হোক না কেন তাতে ফলাফল পরিণতি কিন্তু একই!
    বাস্তবের দুনিয়াটা কী?  আর এতে দুনিয়াদারিটা কী ও কেমন এ’সম্পর্কে কমিউনিস্টদের কোন ধারণাই নাই। কোনদিনই ছিল না। আমি অনেকবারই বলেছি, ১৯৪৫ সালের দুনিয়াটায় সবচেয়ে গভীর বদলগুলো কী তা এরা একেবারেই জানে না। তাদের গুরুই স্টালিন-ই জানত না। খেয়াল করেন নাই যে সারা দুনিয়া থেকে কলোনিদখল সব উতখাত হয়ে গেল কেমনে? কোন যাদুতে? আবার  এমনকি স্টালিন; তিনিসহ একাল পর্যন্ত সব কমিউনিস্টেরা মনে করেন দুনিয়া ১৯৪৫ সালের পরে কলোনিমুক্ত হয় নাই। সবচেয়ে আজীব কথাটা হল, খোদ স্টালিন ১৯৪২ সালের ১ জানুয়ারি এক ঐতিহাসিক দলিলে স্বাক্ষর করেছিলেন।  [ততদিনে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের নেতৃত্বের জোটে  স্টালিন হিটলারবিরোধী( এন্ড গং -বিরোধী) এই জোটে যোগ দিয়ে ফেলেছেন] আর ঐ দলিলেই লেখা ছিল যে  হিটলার এন্ড গংয়ের পতন আর এই জোট বিজয়ী হলে নয়া দুনিয়াটা একেবারে কলোনিমুক্ত হয়ে যাবে। মানে যারা রুজভেল্টের পক্ষের শক্তি অথচ যারাই মূলত দুনিয়াতে সবচেয়ে বেশি কলোনিদখলদার দেশ তারাই হিটলারের পরাজয়ের পরে নিজ নিজ দখলদারি ছেড়ে নিজ দখলিকৃত কলোনিগুলোকে আপোষে মুক্ত করে ছেড়ে দিয়ে এরপর সোজা হেঁটে  নিজ নিজে মূল দেশে ফিরে  চলে যাবে। [এভাবেই আর সবার মত বৃটিশ-ইন্ডিয়া মুক্ত হয়েছিল ১৯৪৭ সালে। ] আসতে এই শর্ত বা প্রতিশ্রুতি সব কলোনিদখলদারদের পক্ষ থেকে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিল রুজভেল্টকে দিয়েছিলেন। আর এর বিনিময়ে যুদ্ধের প্রধান খরচের দায়ভার একা আমেরিকা নিজের কাঁধে নিয়েছিল।

    ঘটনা হল, স্টালিন নিজে ঐ ১৯৪২ সালের ১ জানুয়ারির দলিল যেখানে তিনি স্বাক্ষর করেছিলেন তা ডিটেল পরে দেখেন নাই; বলে অনুমান করা হয়। কেবল হিটলার উতখাত হবে – এতটুকুতেই ছিল তার মূল আগ্রহ,  সম্ভবত সেই কারণে। আর ইতিহাসে ১৯৪২ সালের ১ জানুয়ারির ঐ দলিল – এটাই জাতিসংঘের জন্ম ঘোষণার দলিল বলে পরিচিত। ইংরাজিতে [Declaration by the United Nations, January 1, 1942]  আর ঐ দলিলের সারকথা হল, কলোনি দখল হারাম! কোন দুই জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্র কেউ কারো ভুখন্ড দখল বা পুরা দেশটাই দখল করলে ( জাতিসংঘের মোট ১৯৩ রাষ্ট্রের সিংঘভাগ সদস্য রাষ্ট্র দখলকারির বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিবে – ঠিক যেমন অবস্থা শেষ পর্যন্ত হয়েছিল সাদ্দাম হোসেনের কুয়েত দখলে………। সেটাই ঘটবে।  যেকোন দুই রাষ্ট্র যদি তাদের সীমান্ত একসাথে বসে মাপামাপি করে একবার একই দলিল ম্যাপ তৈরি করে নেয়; এরপরে ঐ একই ম্যাপের দুইটা কপি দুই দেশের কাছে থেকে যায় তবে সেই মামলা হবে মারাত্মক! কারণ সেক্ষেত্রে আর কখনও তাদের মধ্যে কোন সীমানা নিয়ে যুদ্ধের সুযোগ থাকবে না।  বৃটিশ ইন্ডিয়াতে বেশির ভাগ সীমান্ত শাসক বৃটিশেরা এমন কমন ম্যাপ করে রেখে গেছে। কিন্তু যেগুলা করদ রাজ্য ছিল সেগুলো বৃটিশেরা এই এলাকা গুলোতে তা করতে পারে নাই এক্তিয়ার ছিল না বলে। তেমনই এক সীমান্ত (করদ রাজ্য কাশ্মীরের অংশ বলে) হল ভারত-চীন এদের লাদাখ এলাকা। যেটা একালে নিজেরা বসে আপোষে করে নিতে হত কিন্তু হয় নাই।

    এখন মূল প্রসঙ্গে প্রবেশ করি – মাহফুজ জানেই (কারণ জানলে করত না) না যে, একজন উপদেষ্টা [সরকারী মন্ত্রী] হওয়া মানে কী? তাঁর প্রতিটা আচরণ উনার ব্যক্তিক আচরণ নয়, বরং রাষ্ট্রীয় আচরণ, সিদ্ধান্ত বলে গণ্য হবে যার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী হবেন এখনকার রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহি যিনি মানে, প্রধান উপদেষ্টা ইউনুস সাহেব!
    মাহফুজ আলম মনের খায়েসে পোলাপান যেভাবে ফেসবুকে কতকিছু করে যার সীমা থাকে না। তিনি বাংলাদেশের বাইরে ভারতের এক বিরাট অংশ সাথে যুক্ত করে এক ম্যাপ ছেপে দিয়েছেন। আবার বলছেন মেলা কাজ নাকি বাকি???? মানে ইঙ্গিত হল সেগুলোও দখল করতে হবে – যেন এর ইঙ্গিত দিচ্ছেন!!!

    আমাদের ভাগ্য ভাল যে এই আচরণের জন্য দিল্লিতে আমাদের রাষ্ট্রদুতকে ভারত সরকার তলব করেন নাই; ব্যাখ্যা চান নাই। কেবল মুখপাত্র জয়সোয়াল তার বিবৃতিতে উল্লেখ করে রেখেছেন!

    কিন্তু কেন হল এরকম?
    কারণ তাদের গুরুরা কমিউনিস্ট; ১৯৪৫ সালের আগেপিছের দুনিয়ার জন্য সবচেয়ে নির্ধারক দুনিয়ার ইতিহাস তারা জানেন না, পড়েন নাই। কারণ স্টালিন-ই ীই দলিলে সই করলেও মনোযোগে পড়ে দেখেন নাই! [এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হল তার নিও-কলোনিজম বলে নয়া নামকরণ করা বা নয়া ভোকাবুলারি এর জন্ম দেয়া] সবচেয়ে বড়কথা জাতিসংঘ! মানে ১৯৪৫ সালের পরে দুনিয়াতে যে একটা গ্লোবাল পলিটিক্যাল সিস্টেম [দয়া করে সিস্টেম শব্দটাকে বন্দোবস্ত পড়বেন না] এটা কোন কমিউনিস্টই এখনও খেয়াল করেছেন জানেন, পড়েছেন – আমি দেখি নাই!  তাদের কথিত “এক সাম্রাজ্যবাদ” বলে এক গালির শব্দ ছাড়া তাদের মাথায় কিছুই নাই। তাও শব্দের ব্যবহারের আগা-মাথা নাই।
    যেমন প্রত্যেক দেশের দেশিয় পর্যায়ে যে পলিটিক্যাল সিস্টেম এটাকেই আমরা নিজ নিজ রাষ্ট্র বলে থাকি!  এমন সদস্য রাষ্টগুলোকে নিয়ে তৈরি হওয়া এক গ্লোবাল পলিটিক্যাল সিস্টেম, এমন প্রতিষ্ঠানের নামই হচ্ছে জাতিসংঘ!  তবে বুঝাবুঝিতে কেবল একটাই সাবধানতা দিয়ে রাখি, জাতিসংঘ ঠিক প্রত্যেক সদস্য রাষ্ট্রের উপরে বাপ-কর্তা ধরনের প্রতিষ্ঠান; ঠিক এমনটা নয়! তাহলেও জাতিসংঘের অনেক বাধ্যবাধকতার অধীনে আমরা, বিশেষ করে যারা আমাদের মত ছোট দেশ!

    সারকথায়, কমিউনিস্টদের কাছে ১৯৪৫ সালের পরের দুনিয়াটা কী? এখানে নয়া কী কী হয়েছে তাতে কী করা যায়; আর কী একেবারেই করা যায় না – রাষ্ট্রের মন্ত্রী দূরে থাক ব্যক্তি নাগরিকও করতে পারে না; সরকারের দায়ীত্ব হয়ে যায় তাকে বাধা দেয়া ইত্যাদি এসব এদিকটা নিয়ে কমিউনিস্টেরা একেবারেই সীমাহীন অন্ধকারে। এগুলো অযোগ্য চিন্তার স্টুপিডিটির অবশ্যই; আর এর কারণে এরকম বিপদে বাংলাদেশও আগে পড়েছে। মজার কথা হল, যেসব কমিউনিস্টেরা এমন কান্ড করে বাংলাদেশকে বিপদে ফেলেছে তারা এতই নাদান যে তারা এখনও ঠিক জানেন না যে তারা কী ও কত বড় অপরাধ করেছে!!!!

    এদেরই কিছু চেলা এখনও আজকাল দেখবেন বাহাদুরি করে লিখে নয়া-উপনিবেশ [ইংরাজিতে Neo-colony]; কেউ কেউ আরো ওস্তাদ। এরা লিখবে বি-উপনিবেশায়ন। ডি-কলোনাইজেশন থিউরি আউরাইবেন। অথচ দুনিয়ায়ে যে একটা গ্লোবাল পলিটিক্যাল সিস্টেম খাড়া হয়ে গেছে; এটা কোথা থেকে কীভাবে ঘটলো এদের খবরই নাই!

    এসবের পরিণতি হল, একেকজন শিষ্য মাহফুজ আলম! মন্ত্রী জানেনই না তিনি কী করতে পারেন না অথবা কী করলে এর পরিণতি কী হয়!!!!!

    যাহোক এলেখায় মূল প্রসঙ্গ হল, প্রথম আলো ও তাদের নানান প্রতিনিধি, যারা আবার একইভাবে র-এর দালালি চালায়ে যেতে শুরু করে দিয়েছেন! কিন্তু সমস্যা হল এবার আর কোন (র-এর হাত ধরে ক্ষমতায় যেতে আগ্রহী ফলে) উদ্ধারকর্তা, মির্জা নামে কাউকে পাওয়া যাবে না!

    আর মাহফুজের কথা লিখতে হল কারণ, প্রথম আলোর লেখাটা শুরু হয়েছিল এভাবেঃ
    “৫ আগস্ট–পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এক টানাপোড়েনের মধ্যে পড়েছে। এমন এক পরিবেশে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি ঢাকায় এসে পররাষ্ট্রসচিব মো. জসীম উদ্দিনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করে গেছেন। দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাসের বিরল এই অস্বস্তি কাটানোর প্রথম ধাপ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে এই সফরকে। পরিবর্তিত পরিস্থিতির নিরিখে সম্পর্কের ইতিবাচক বিবর্তনের এমন এক সময়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারত”।

    সেসব দিন আর একই রকম নাই! তাই এখন বাঁচতে চাইলে প্রথম আলোকে নতুন রাস্তা খুঁজতে হবে! বাকি সিদ্ধান্ত তাদের নিজের! হিন্দুত্ববাদ-চাটা আর এসব অপ-জার্ণালিজম দিকটা বাদ দিলে প্রতিষ্ঠানটা ভাল, সবচেয়ে বড় কথা অনেকজনের মেহনতের ফল এটা!  তবে এটাকে ধ্বংস করে ফেলতে চাইলে কে আর তা ঠেকাতে পারে!!!

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  রাত  ১০ঃ ১৫   ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪

  • “আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা নেই”

    “আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা নেই”
    গৌতম দাস
    ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪  রাত ১০ঃ ৪০
    https://wp.me/p1sCvy-65f

     

     

    “আওয়ামী লীগের নাকি  নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো বাধা নেই” এমন ফতোয়া মন্তব্য করেছের নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার। বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে রংপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয় মিলনায়তনে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার বিষয়ে মতবিনিময় সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

    ছাগল দিয়ে ধান মারাই হয় না। এটা বহু পুরানা প্রবাদ। সেই অবস্থা হয়েছে বা করেছে বদিউল আলম মজুমদার। ছাগলের মুরোদ থাকে না ধান মারাই এর মেহনত করার!  নামের পিছে একটা ডক্টরেট থাকলেই তিনি সবকিছু করা বা বলার যোগ্য হয়ে যান না। এটা তো উনার নিজেরই জানা না থাকার কোন কারণ নাই। এছাড়া যে ব্যক্তির নিজের সামর্থ সম্পর্কে কোন স্বচ্ছ ও নির্মোহ ধারণা থাকে না – এটা তো নিজের সাথেই অসততা!!!  সব সমাজেই এমন ঘাটের মরা দুচারজন আসলে থাকেই!!!
    তাবু ইউনুস সাব কথিত এক “নির্বাচন সংস্কার কমিশনের” প্রধান তাঁকেই বানিয়ে দিয়েছেন।  যার পিছনের কারণ অথবা উনার এমন নিয়োগ পাবার যোগ্যতা ক্রেডেনশিয়াল কী?  যোগ্যতা একটাই উনি বদিউল এক এনজিও দোকানের মালিক!!!
    এমনিতেই, এনজিও জগতে যারা ম্যাটেরিয়াল বা বস্তুগত জিনিষ যেমন যেকোন ত্রাণ সামগ্রী বা জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী অথবা এমন কি মাক্রোক্রেডিট (ক্ষুদ্র ঋণ) এমন ফিজিক্যাল জিনিষ বিলি করেন এরা তবু একটা “পদের”  হয়।  কিন্তু যারা চাপা মেরে খায় মানে যা মনে চায় কথা বেচে খায় ; যেমন ধরেন এককালে (আশির দশক পর্যন্ত) ভুমিহীন সংগঠিত করাও একধরেণের এনজিও ততপরতা মানা হত যা এখন একেবারেই বন্ধ; ওর পিছনের অর্থদাতা (ইউরোপীয় সোশাল ডেমোক্রাট রাজনীতিক মারা গেছে) নাই তাই। অর্থাৎ এরাও গরীব মানুষকে
    বস্রংতুগত কোন ত্পুরাণ দিলেন না, চাপাবাজি ছাড়া।  আর এর বদলে আমেরিকার সৌজন্যের আরেক ধরনের চাপা বিক্রেতা এনজিও হাজির হয়েছে। তিনারা নাকি আমাদেরকে জনপ্রশাসন (পাবলিক এডমিনিষ্টেশন) শিখাবেন। যার আরো উপরে মেকআপ দিয়ে চেহারা ছুপানী ভাষ্যটা হল এরা নাকি সুশাসন এর ফেরিওয়ালা। এরাও মনে করে রাজনীতি ছাড়া সুশাসন বিলি করা সম্ভব। এমন কী তাহলে রাষ্ট্র বুঝাবুঝির কী হবে? রাষ্ট্র বুঝাবুঝি ছাড়াই গুড গভর্নেস (সুশাসন) – এটা কায়েম করা কী সম্ভব, তাহলে?? গভর্ণ [govern] মানে তো শাসন। তো তাহলে রাষ্ট্র কী, রাজনীতি কী? আপনি বদিউল বুঝেন?  বুঝলে তো আপনি চিন্তাচর্চার কোন পাঠচক্র বা কোন রাজনৈতিক গ্রুপ কিংবা চাইলে একটা রাজনৈতিক দলই খুলে বসেছেন, দেখতাম! নাকি!!!!  অথচ রাষ্ট্র কী, রাজনীতি কী বুঝাবুঝির খবর নাই; আর  এসব না বুঝেই আপনি বদিউল সুশাসন নামে এনজিও দোকান খুলে বসেছেন? আপনি মানুষকে কী বিতরণ করবেন?  আপনার মাথায় তো কোন মাল-ই নাই! কত কী যে দেখব?
    তো আপনি কী করবেন? অরেঞ্জ রেভেলিউশন? জর্জ সোরেস? ওপেন সোসাইটির ফান্ড? সেই মুরোদও আপনার নাই! দেখা যাচ্ছে আপনি যা পারেন তা হল গুম, খুন, অপহরণের রাষ্ট্র কায়েমকারি হাসিনা লীগের রাষ্ট্র – এই হল আপনার সুশাসন-বোধ???? এনজিওও এর টাকা কী মজা তাই না!!!  আপনার মুরোদ হল তৃতীয় শ্রেণীর আওয়ামি দূঃশাসনের, এমন খুনের রাষ্ট্রের দালাল হওয়া!   
    আর তাই  আপনি চিন্তার স্টুপিডিটিতে ভাবছেন এটা লিবারেলিজম! অতএব   আপনি দাবি করেছেন, “আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো বাধা নেই”।

    আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো বাধা নেই বলে মন্তব্য করেছের নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার। বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে রংপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয় মিলনায়তনে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার বিষয়ে মতবিনিময় সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

    রংপুরে নির্বাচন সংস্কার কমিশন প্রধান

     

    আগামিতে আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো বাধা আছে কিংবা নাই – এটা দেখতেই কী ইউনুস সাহেব বদিউলকে নিয়োগ দিয়েছিলেন।

     

    আসলেই এসব একেকটা বদিউলে্রা কোথা থেকে জনসমাজে উদয় হয়??? সরকারের উচিত এমন ব্যক্তিত্ব এরা যেন আর কখন জনস্বার্থ বিষয়ক কোন কাজে জড়িত হওয়া বা কাছাকাছি হওয়া চিরদিনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়! 

    কাজেই এখন প্রধান উপদেষ্টা ইউনুস সাবের জন্য কাজটা একেবারেই সোজাঃ
    ইউনুস সাহেবকে  এখন জনগণের সামনে জানাতে হবে, যে তিনি  বদিউল আলম মজুমদার কে কী কাজের জন্য নিয়োগ দিছিলেন? সেই ট্রার্মস এন্ড কন্ডিশনে কী ছিল? তা জনগণের সামনে এসব এখন উন্মুক্ত করতে হবে। আর দেখাতে হবে যে সেখানে এবিষয়ে ঐ চুক্তিপত্রে কী লিখাছিল? আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো বাধা আছে কিনা সেটা যাচাইয়ের জন্যই কী বদিউল কমিশন? এনিয়ে আমরা জনগণের অংশ নিজেরা যাচাই করতে চাই এটা কীভাবে সম্ভব হল!!
    আর একই ভাবে বদিউল আলম মজুমদার কেও দেখাতে হবে (তার কনট্টাক্ট বা নিয়োগ ডকুমেন্ট ) এর কোন অধিকার বলে তিনি এই মন্তব্য করেছেন যে  “আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো বাধা নেই”। এটা কী তার ম্যান্ডেট? তার এক্তিয়ারভুক্ত কাজ ও মন্তব্য?

    জনগন জানতে চায়।   আর সবার আগে অবিলম্বে ইউনুস সাবের উচিত নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান পদ থেকে  ড. বদিউল আলম মজুমদার এর নিয়োগ বাতিল ও প্রত্যাহার করে নেওয়া।

    অবিলম্বে ইউনুস সাবের উচিত নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান পদ থেকে  ড. বদিউল আলম মজুমদার এর নিয়োগ বাতিল ও প্রত্যাহার করা।

     

    বদিউল সাবের কথা অনুযায়ী কী তাহলে এখন কোন আদালত হাসিনা বা আওয়ামি লীগকে আগামি নির্বাচনে নিষিদ্ধ ধরনের কোন শাস্তি আর দিতে পারবে না? উনার কথিত কমিশন হাসিনা লীগকে এসব থেকে একেবারে খালাস করে দিয়েছেন কী?
    অবস্থা এখন যেন এমন যে বদিউল সাব একেবারে বিচার বিভাগের উপরেও এক মাতবরি রায় ঘোষণা দিয়েছেন!!!!!
    বদিউল আলম মজুমদার – তিনি আসলে যে কী হয়ে গেছেন, যার কোন আর সীমা নাই! তিনিই সব……।  অথচ এমন যেকোন মন্তব্য করার এক্তিয়ার তাকে কে দিয়েছে???

    তাঁকে এসবের জবাবদিহিতার অধীনে এখন আনতে হবে। এটাকী কোন ষড়যন্ত্র? বদিউল কী এর অংশঃ
    মূল সমস্যা আসলে ইউনুস সাবের মনগঠনে; দেখা যায় এনজিও এর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিত্বের প্রতি তাঁর বাছবিচার-হীন আনুগত্য-পছন্দ!  এরই প্রচন্ড ক্ষতিকারক ফল এখন সারা বাংলাদেশের উপর।
    এই ড. বদিউল আলম মজুমদার এন্ড গং এদের উত্থান এরশাদ আমলের স্থানীয় সরকার প্রশাসন কেমন হওয়া উচিত এ’সংক্রান্ত পরামর্শক কনসালটেন্ট হিসাবে নিয়োগ পেয়ে সেসময় তারা হাজির হয়েছিলেন। প্রশাসন কী জিনিষ আর বিশেষত “ম্যানেজমেন্ট” যা এখানে বিশেষত রাষ্ট্র পরিচালনা এই অর্থে ম্যানেজমেন্ট – এই প্রসঙ্গে; অথচ এসব ব্যক্তিদের এনিয়ে কোনই মৌলিক জ্ঞান-ধারণাই নাই। আর সেকারণের আজকের বাংলাদেশে যে দলবাজির প্রশাসন এর কাঠামোগত ভিত্তি তৈরি  হয়ে গিয়েছে এর আসল নায়ক এক বদিউল সাব। আর উনার সাথে আরো ছিল ডঃ তোফায়েল আহমেদ (সাবেক জনপ্রশাসনের শিক্ষক ঢাবি )। এরাই একটা শ্লোগান এনেছিলেন – “পিপলস পার্টিশিপেশন” – “জন-অংশগ্রহণের প্রশাসন” ।  এটা করতে গিয়ে এই বিজ্ঞরা একেকটা জেলাশহর যেন এমপি দেরকে বন্ধক দিয়ে দেবার ব্যবস্থা করেছিলেন। যেহেতু এমপি মানেই জন নির্বাচিত ফলে উনার হাতেি সর্বময় ক্ষমতা দেয়া মানে যেন ওটাই সেই  “পিপলস পার্টিশিপেশন”  এর প্রশাসন ; এই ছিল তাদের গাধা-গরু মার্কা কনসালটেন্সি চিন্তা।
    অর্থাৎ কেউ জন-নির্বাচিত হলে তাকে আর কোন জবাবদিহিতা বা কোন স্থায়ী (স্টাটিটুরি) আইন কনষ্টিটিউশন ইত্যাদির অধীনে আনার আর দরকার নাই। কার্যত সেজন্য জন-নির্বাচিত শব্দের মানে হয়ে গেছিল সাক্ষাত ভগবান; যা বোধহয় কোন রাজার আমলেও রাজারও এমন হুইম [খেয়ালি] শাসন-চিন্তা ছিল না! আর এতে ডিসি হয়ে উঠেছিল এই সাক্ষাত ভগবানের ক্ষমতার আড়ালে নিজ যথেচ্ছাচার!  যেমন খাস জমি কীভাবে বিতরণ হবে এর যে সরকারী বিজনেস রুল আছে তা পালনের দায় এই জন-নির্বাচিত প্রতিনিধির নাই!  আর ডিসি তো ভগবানের আড়ালে, ফলে ত্রাও আগে যতটুকু জবাবদিহিতা ছিল এখন তাও নাই। এই ছিল বদিউল-তোফায়েলের জনপ্রশাসন এর উন্নতমানের জ্ঞান!!! বাইরে থেকে এটাকের আবার আমরা আওয়ামি লীগের ক্যাডার প্রশাসন বলে চিনে; আর বদিউল-তোফায়েলেরা থেকে যায় আড়ালে! সব দোষ হল রাজনীতিবিদ-দের; এনজিও মালিকদের প্রপাগান্ডাও এতে সবল হয়!
    এসবই হল প্রাক্তন পেটি-চিন্তার কমিউনিস্টদের বোধ-বুদ্ধি বা তাদের প্রভাবে বেড়ে উঠা চিন্তার স্টুপিডিটি। যেন আমলা এটা খুবই একটা খারাপ শব্দ। আমলা শব্দটা পজিটিভ ছিল। অর্থ স্কিল্ড – পোড় খাওয়া বা দক্ষ প্রশাসক। অথচ এই ধারনাটাকে তারা উলটে দিয়েছেন। দুনিয়ার সৎ লোক মানেই যিনি জন-নির্বাচিত??? এমনকি তারও কোন দক্ষতার দরকার নাই যেন!!!!

    ঠিক সেই কাজটাই তিনি এখানেও করেছেন। একটা কাজ কাউকে করতে দিলে এর কী কী এক্তিয়ার তাঁকে দেয়া হয়েছে সেদিকে এদের মনোযোগ নাই।  এটাই যেকোন পেটি-চিন্তার মৌলিক বৈশিষ্ট!   এমনকি টার্ম-কন্ডিশনে না বলা থাকলেও যিনি প্রুডেন্ট [prudent] তাঁর তো নিজেই বুঝা উচিত কোনটা করলে সেটা তাঁর এক্তিয়ারের বাইরের কাজ (সেটা নিয়োগবিধিতে উল্লেখ থাক আর নাই থাক) বলে বিবেচিত হবে। অথচ সেই আক্কেল ইনাদের কে আল্লায় দেয় নাই। এনজিও এর দকান খললেই এরা সব একেকজন দ্বিগগজ সবজান্তা হয়ে উঠেন!!!
    দুর্ভাগ্য আমাদের জনগোষ্ঠির!!!

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   রাত ১১ঃ ১৯     ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪
    সর্বশেষ   আপডেটঃ   রাত ১২ঃ ২৩     ২০ ডিসেম্বর ২০২৪

  • কোথায় ছিলেন বিক্রম?

    কোথায় ছিলেন বিক্রম?
    গৌতম দাস

    ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪
    https://wp.me/p1sCvy-63H

     

     

     

     

    একঘন্টা কোথায় ছিলেন বিক্রম? – এটা আজ সন্ধ্যার হট কেকে আলোচনা। বিশেষ করে সামাজিক আলোচনার অন্যতম প্ল্যাটফর্ম ফেসবুকে!
    যদিও রাষ্ট্রের গোপন বিষয় বা যেকোন গোপন বা অপ্রকাশ্য বৈঠক নিয়ে আলোচনা তুলে আনা বেশ সীমাবদ্ধতার কাজ । অন্তত এখানে এমন অনেক বিষয়-প্রসঙ্গ থাকে যে চাপ্টারটা জানি বা না-জানি তা নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করা যায় না। তা করা একেবারেই সঠিকও না। কারণ রাষ্ট্রস্বার্থের অনেক কিছু তাতে জড়িয়ে থাকতে পারে। সেটা সামলে রাখাই তো দায়ীত্বপুর্ণ নাগরিকের কাজ!  কাজেই কিছু কিছু রেড লাইন আমরা ক্রশ করতেই পারি না; এমনকি নাগরিক অধিকারের দোহাই দিয়েও না।

    তবুও উপরের এসব দিক আমলে রেখেও কিছু আলোচনা তো করাই যায়! হ্যা, তাই আমরা করার চেষ্টা করব এখানে।
    আমার দেখা তিনটা মানে আসলে দুটা মিডিয়ায় এনিয়ে কিছু আলোকপাত করার চেষ্টা করেছে তারা হল, আউটলুক ও মানবজমিন (জনতার চোখ) । তবে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি আমাদের সেনাপ্রধান ও সাথীদের সাথে কী বিষয়ে কথা হয়েছে এদিক নিয়ে কেউই কোন হদিস এর ইঙ্গিতও দিতে পারে নাই। এই হল সীমাবদ্ধতার দিকটা।

    এখন সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যেই থেকেও মানে এটা স্বীকার করে নিয়েও অনেক কথা বলা যায় তাই এখানে বলব।

    কথা এভাবে সেভাবে যত যাই বলি, ঐ বৈঠকে কথার ইস্যু যা হতে পারে তা দুই ধরনের। এক. এমন ইস্যুতে যেটা আসলে প্রত্যক্ষভাবে কিছু নাগরিক ব্যক্তিস্বার্থ ও অধিকার সম্পর্কিত দিকও আছে বা থেকে গেছে। আবার এমন হতে পারে, দুই. কিছু ইস্যুতে রাষ্ট্রস্বার্থ একেবারেই প্রধান যার অর্থ হল পাবলিক ইন্টারেস্ট বা জনস্বার্থ সেখানেও আছে তবে একটু পরোক্ষে।

    গত মাস খানেকের বেশি হবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন যে বিডিআর বিদ্রোহ মামলা আরো স্বচ্ছ করে খুঁজে দেখার জন্য, অসমাপ্ত এদিকটা সম্পন্ন করতে একটা কমিশন গঠন করা হবে।  যা সেকালে (২০০৯) কোন মতে ধামাচাপা দেয়া হয়েছিল; সেসব এবার খুলে সাফা করা হবে। কিন্তু  আজকে হাইকোর্টে কে অবহিত করতে গিয়ে এটর্ণীর অফিস থেকে আদালতকে জানানো হয়েছে সরকার আপাতত কমিশন গঠন নিয়ে আগাচ্ছে না। এখানে আপাতত কথাটা গুরুত্বপুর্ণ;  এর মানে হল, এখন না হলেও পরে হতে পারবে বা পারে। আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার এমন অবস্থানে পিছনের সাফাই যুক্তিতে জানিয়েছে আদালতে নাকি এ’সংক্রান্ত দুইটা আগের মামলা পেন্ডিং আছে। সেগুলো নিষ্পত্তি হয় নাই তাই সরকার করতে পারছে না। যদিও এই রিট যারা আদালতে করেছিলেন সেই বাদীপক্ষ আজ পাবলিকলি জানিয়েছেন যে  এর আগে এমন পেন্ডিং মামলার পরিস্থিতিতেও শেখ মুজিবের হত্যার মামলা বলেছে যা উদাহরণ বা রেফারেন্স আছে। যার অর্থ সরকারী সাফাই সত্যি বা ভ্যালিড নয়; এই হল বাদীপক্ষের দাবি।

    যাই হোক আমাদের প্রাসঙ্গিক মুলকথাটা হল, এখান থেকেই জল্পনা-কল্পনা উঠেছে তাহলে এটাই কী – একঘন্টা কোথায় ছিলেন বৈঠকের ইস্যু – ছিল? সেকারণে ইউনুস সরকার পিছু হটছে??? এই হল সন্দেহ!!

    তবে একেবারে স্পষ্ট করে বললে, এর পক্ষে কোন কনফার্মেশন কোন নিশ্চয়তা কোথাও কার কাছে এখনও নাই! এই অর্থে এটা জল্পনা-কল্পনা পর্যায়েই এখনও থেকে আছে!
    যাই হোক এটা তবে আমার উপরে বলা সেকেন্ড ইস্যুর উদাহরণ। অর্থাৎ পরোক্ষে সব নাগরিক ক্ষতিগ্রস্থ এখানে, আর দেশের নাগরিকের রাষ্ট্র সেই রাষ্ট্রস্বার্থের ক্ষতিগ্রস্থতার উদাহরণ হবে এটা।

    আর প্রথম উদাহরণটা যেখানে কিছু নাগরিক প্রত্যক্ষ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার মামলা।

    এখন আমার সাফ কথাটা বলবঃ
    মামলা নাগরিকের পরোক্ষে সবার অথবা প্রত্যক্ষ কিছু নাগরিকের স্বার্থ ঘটিত যাই হোক না  – যেটা ঘটবেই তা হল, ঐ একঘন্টা কোথায় ছিলেন বৈঠকের আলোচনায় কোন আপোষ রফা যদি হয়েই থাকে সেক্ষেত্রে কিন্তু এটা নিয়ে যেকোন পাবলিক আদালতের শরাণাপন্ন হবেনই। আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি। অন্তত এখনকার মানের সুপ্রীম কোর্ট যদি থেকে যায়। আর সেক্ষেত্রে কোর্টের রায়  “একঘন্টা কোথায় ছিলেন বৈঠকের” সংশ্লিষ্টরা আর খোদ ইউনুস সরকার সবার জন্যই মারাত্মক বিব্রতকর একটা রায় হবে।
    খোদ ইউনুস সরকারও দায়ী হবেন এজন্য যে ঐ রিপোর্ট বলছে ঐ একঘন্টা কোথায় ছিলেন বৈঠকে যেটাই আলোচনা হোক না কেন তা ইতোমধ্যেই সেনা সদস্যরা ইউনুস সাহেব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবগত বা রিপোর্টেড হয়ে গেছে।

    আর যদি, আগামিতে আদালতের মান বদলে দেয় বা যায় কেউ হাসিনা আমলের ও স্টাইলে চলে যায় আদালত  – তবে বলাই ভাল ক্ষুব্ধ নাগরিক জনগণ আবার এক ৫ আগষ্ট সারা বাংলাদেশ দেখবে!

    কাজেই একঘন্টা কোথায় ছিলেন বৈঠকই কোন শেষ কথা নয়। আমরা বহু পথ পরিক্রমা ইতোমধ্যে পার করে ফেলেছি। পিছন ফিরার পথ আর নাই!

    কাজেই একঘন্টা কোথায় ছিলেন বৈঠকই কোন শেষ কথা নয়।

    আসলে ইউনুস সরকার ইতোমধ্যে একটা কথা উচ্চারণ করে ফেলেছেন। কথাটা হল, ভারতের সাথে সম্পর্ক হতে হবে সম মর্যাদার আর ন্যায্য অধিকার – এদুইয়ের উপর ভিত্তি করে। যারাই এর ব্যত্যয় ঘটাবেন তারা নাগরিক জনগণের কাছে বেঈমান বলে পরিচিত হবেন!

    তাই হবু ক্ষমতার কোন রাজনৈতিক দল, বর্তমান ইউনুস সরকার (সাথে সেনা অংশসহ) কারও পক্ষেই ভারতের সাথে কোন আন্ডারহ্যান্ড ডিল – করতে চাইলেও সেটাই শেষ কথা নয়! হবে না! আমার বিশ্বাস সকল পক্ষই আমার একথাটা মনে রাখবেন!

     

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

     

     

  • দ্বিতীয় পর্বঃ সিরিয়ায় কী হচ্ছে; আবার ওবামা-হিলারির নাটক?

    দ্বিতীয় পর্বঃ সিরিয়ায় কী হচ্ছে; আবার ওবামা-হিলারির নাটক?
    গৌতম দাস
    ১২ ডিসেম্বর ২০২৪   বিকাল ০৪ঃ ১৭
    https://wp.me/p1sCvy-61D

    HILARY, OBAMA & Joe Biden 

    দ্বিতীয় পর্বঃ সিরিয়ায় কী হচ্ছে; আবার ওবামা-হিলারির নাটক?

    সবার আগে খবরের সোর্স নিয়ে দুটাকথা বলে নেইঃ
    সিরিয়ায় ক্ষমতায় পালাবদল এসেছে এতে সবপক্ষকেই আমাদের সবার পছন্দ-অপছন্দ যাই থাক একে বাস্তব বা রিয়েলিটি বলে না মানার আর সুযোগ নাই।
    কিন্তু  সিরিয়ায় তাহলে হলটা কী তা বুঝার জন্য আমি আসলে অপেক্ষা করছিলাম মুখ্যত দুইটা ভাষ্য পাবার এক. ইরান মানে আসলে খামেনী [Ali Khamenei] এর বক্তব্য-ব্যাখ্যার জন্য । কারণ, ক্ষমতার এই পালাবদলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ইরানের গ্লোবাল স্ট্রাটেজি। আর দুই. এরদোয়ান (যে লাভবান হয়েছে সবচেয়ে বেশি; অন্তত আপাতত চোখে) অথবা এর বিকল্প আমেরিকান প্রশাসনের কোন বক্তব্য পাবার জন্য। ইতোমধ্যে রাশিয়ারটা জানা গেছে।

    গতকাল বুধবার খামেনীর বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল তিনি দিয়েছেন। যেখানে তিনি এরদোয়ান বা তুরস্ক সরকারকে অভিযুক্ত করে বক্তব্য দিয়েছেন, যদিও দেশের নাম নেন নাই, সিরিয়ার পড়শি দেশ বলেছেন।  এপ্রসঙ্গ ভাল কাভারেজ আছে রয়টার্সে আর একেবারে গভীরের  কিছু খবর আছে লন্ডন টেলিগ্রাফে। আর সাথে বাড়তি কিছু আছে লন্ডন গার্ডিয়ানে। আসলে আমি অন্তত ইরান বা খামেনীর বক্তব্য পাবার জন্য সিরিয়া নিয়ে লিখতে দেরি করছিলাম। আর আরেকটা অসুবিধা ছিল ইরানের ক্ষতি হল (যেটা উলটে বললে তুরস্ক-আমেরিকা লাভবান) বলে এই প্রসঙ্গে আমেরিকান (বা সাধারণভাবে পশ্চিমা) নিউজ এজেন্সি খবর দিতে পারবে না বা চাইবে না; তা বুঝতে পারছিলাম। সেজন্যই সিরিয়ান খবর মানে তা হয়ে উঠেছিল  বিদ্রোহি এলায়েন্স [কেউ অবশ্য আগ্রহি না যে এরাই নয়া নামে পুরান আই এস] কে বিজয়ী দেখানো  হিরোগিরি যেন তারাই বীর, ঘটনার আসল নায়ক বলে প্রচারের খবর। সেটাকে আমি প্রথম পর্বে বাংলাদেশে এরশাদের পতনে কথিত বিজয়ীদের দাবির সাথে তুলনা করেছি। এসব মিলিয়েই এককথায় বললে কোন আমেরিকান নিউজ এজেন্সির কাছে কোন মিনিংফুল খবর নাই; বা অন্যভাবে বলা যায়, সব খবরের সোর্স হয়ে উঠেছে লন্ডন। ওদিকে ফাঁকে, আল জাজিরা থাকলেও তারা [মানে আসলে কাতার সরকার] ইরান বা তুরস্ক কারো বিরুদ্ধেই যেতে চায় না  প্লাস কাতারে আমেরিকার বড় সামরিক ঘাটি বলে বাসারের সিরিয়াবিরোধী অনেক কাজ তাদের এতদিন করে দিতে হয়েছে। অতএব নয়া ঝামেলা এড়ানো লাইনে তাদের খবরের ফোকাস হল, ঘন্টায় ঘন্টায় দামাস্কাস শহরে কী হল বা নতুন সরকারে কে এল – এসব সাধারণ বর্ণনার নিউজ!
    রয়টার্স লিখেছে, আসাদ চলে যাবার পরে তারই নিয়োজিত প্রধানমন্ত্রী [With Syria’s Assad gone, his PM agrees to hand power to rebel administration] ক্ষমতা হস্তান্তরে আগ্রহি ও রাজি, এটা ১০ ডিসেম্বরে। মানে হল, আসাদ একাজে রাজি; এই সুত্রে তাহলে রাশিয়াও রাজি!  এখান থেকেই এটা একটা পর্দার আড়ালে বিরোধের আপোষ-সমাধান। সে খবর এখান থেকে ডালপালা ছড়াবে স্বাভাবিক। আর এই গল্পটা তুলে ধরতে গিয়েই  বিদ্রোহি কোয়ালিশন [rebel-led Salvation] ধারণাটার আমদানি। আর এটাই সিরিয়ার বর্তমান পরিবর্তনে হাতঢুকানোর হাতিয়ার বা টুলস যার সামনের দেশ হিসাবে আছে তুরস্ক আর এরও পিছনে আছে আমেরিকা; ফলে আরও পিছনে ইসরায়েল!
    আর খামেনীর বুধবারের বক্তব্য নিয়ে বোমা ফেলেছে লন্ডন টেলিগ্রাফ ও গার্ডিয়ান। গার্ডিয়ান এর শিরোনাম খামেনীর দাবিঃ “আসাদের ক্ষমতাচ্যুতি আমেরিকা ও ইসরায়েলের পরিকল্পনায় ঘটেছে”  [Assad downfall was planned by US and Israel, claims Iran’s supreme leader]।  আসলে তিনি মুখ্য বা ফ্রন্টাল প্রতিনিধি মেনে নাম করতে চেয়েছেন তুরস্কের। তুরস্ক বুঝাতে বলেছেন, “Yes, a neighbouring government” – এভাবে আরো বলেছেন, এই পড়শী সরকার… in Syria plays an obvious role in this regard, and is still playing it – everyone sees this…সকলেই এর ততপরতা দেখেছে। এরই বাংলা অনুবাদ আমাদের ইত্তেফাক ছেপেছে।

    সংক্ষিপ্ত ঘটনা বর্ণনাঃ
    যাদেরকে বিদ্রোহি কোয়ালিশন [এইচ-টি-এস Hayat Tahrir al-Sham.] নাম বলা হচ্ছে  হঠাত তাদের ততপরতার গল্প প্রেসিডেন্ট আসাদের কানে দেয়া হয়। এই ইন্টেলিজেন্স তথ্য যাদের সমন্বয়ে তৈরি হয় তার মধ্যে ইরানের কুদস ফোর্সের লোক ও রাশিয়ান ইন্টেলিজেন্স এর লোকও। সেটা এতই ভয়ার্তভাবে আসাদের সামনে তারা তুলে ধরেছিল যে আসাদ দেশত্যাগে রাজি হয়ে যায়। বলা হয়েছিল, এই HTS বাহিনী এসে গেল বলে আর ওরা এলে আসাদ আটকে পড়বেন তাই তাঁর আগে থেকে দেশত্যাগ করা ভাল। এতে এরপরে আসাদ পুতিনের সাথে ফোনে পরামর্শ করলে পুতিন জানান আপনি দেশত্যাগ করতে চাইলে সে সিদ্ধান্ত আপনার তবে আমরা আপনাকে এটা বাস্তবায়নে আপনাকে আশ্রয় দিব সাহায্য করব।  এরপরে আসাদ নিজ জেট বিমানে দেশত্যাগ করেন – আর সেটা সিরিয়াতেই এক রাশিয়ান মিলিটারি ঘাঁটির উদ্দেশ্যে। মনে করা হচ্ছে সেখান থেকে বিমান বদল করে রাশিয়ান সামরিক বিমানে তিনি রাশিয়া পৌছান সপরিবারে।

     লন্ডন টেলিগ্রাফ ১১ ডিসেম্বর লিখছে, “According to Sergey Markov, a pro-Kremlin commentator on Telegram, Moscow’s rescue of Assad proved that its government had already been successfully negotiating with the Syrian rebels. বাংলা করে বললে, রাশিয়ান সরকার প্রসঙ্গে মন্তব্য করে থাকেন এমন কমেন্টটেটর বলেছেন মস্কোর আসাদ কে উদ্ধার করে আনা – এর অর্থ হল, রাশিয়া ইতোমধ্যেই সিরিয়া বিদ্রোহি গোষ্ঠির সাথে কোন আপোষ-রফায় এক মীমাংসা করে ফেলেছে!”

    লন্ডনের গার্ডিয়ান সহ অনেকেই বলেছে, আসাদের দেশত্যাগ ইরানের জন্য এক বিরাট ধাক্কা।
    তবে লন্ডন টেলিগ্রাফের গভীরে গিয়ে রিপোর্টিং রিপোর্ট সেটা হল, ইরানের Islamic Revolutionary Guard Corps (IRGC) এর দুই সিনিয়র কর্তার বরাতে এক রিপোর্ট। যেখানে ওদুই কর্তা আলাদা আলাদা করে অনেক তথ্য জানিয়েছেন। যার সারকথা হল, ইরানি এই গার্ড বাহিনীর ভিতরে আসাদের পতন কে কেন্দ্র করে একে অপরকে দোষারোপ আর হতাশায় নিজের মাথার চুল ছিড়ে ফেলার দশায় পরেছে। নেতা খামেনী তা নিয়ন্ত্রণ ও ঠান্ডা করার আপ্রান চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এমন খবরের লন্ডন টেলিগ্রাফ এর ৯ ডিসেম্বরের শিরোনাম দেয়া হয়েছে,Iran’s armed forces ‘at war with themselves’ over fall of Assad। বলা হয়েছে ইরানের কাছে ঠিক আসাদ নয়, মূলত লেবাননের হিজবুল্লাহকে সামরিক রসদ ইত্যাদি [main route for supplying Hezbollah] সরবরাহ আর অন্যদিকে ইসরায়েল এর পৌছানোর সুযোগ নেয়া – এবং সে ভিত্তিতে ইরানের নিজেকে সাজানো এই ছিল বিপ্লবী ইরানের কাছে আসাদের গুরুত্ব!

    “No one ever imagined seeing Assad fleeing, as the focus for 10 years had been only on keeping him in power. And it was not because we were in love with him, it was because we wanted to maintain proximity to Israel and Hezbollah.”

    কিন্তু ট্রাজিক কথাটা হল, লন্ডন গার্ডিয়ান খবর দিচ্ছে – আসাদের পতনে হামাস এই পতনের পক্ষে বিবৃতি দিয়েছে – .…..Hamas, the leaders of the Palestinian resistance in Gaza, has welcomed the fall of Iran’s ally Assad. ওদিকে আবার কাতার সেও – কাতার নয়া সিরিয়াতে এখন এমবেসি খোলার কথা জানিয়েছে। .…..Qatar, a country that refused to recognise Assad, is due to reopen its embassy shortly, and is likely to be a key player in trying to persuade the Sunni HTS …।

    HTS সম্পর্কে তথ্যঃ 
    এই তথ্য দিচ্ছে রয়টার্স তার আর্কাইভ থেকে। লিখেছে, জাতিসংঘের চোখে HTS এখনো এক টেররিস্ট গ্রুপ! মূল অকারণ, এর ইরাকে প্রথমে আল কায়েদার হয়ে পরে আইএস এর হয়ে টেররিস্ট ততপরতা। এর নেতা গোলানি [Golani] দীর্ঘদিন আমেরিকান কারাগারে আটক ছিলেন। HTS is still designated as a terrorist group by the United Nations, but has spent years trying to soften its image to reassure foreign states and minority groups within Syria. The group’s leader Golani, who spent years in U.S. custody as an insurgent in Iraq but later broke with al Qaeda and Islamic State, has vowed to rebuild Syria.
    সেখান থেকেই কী তাঁর আমেরিকার সাথে সম্পর্ক যোগাযোগ ও বিকাশে আজকের অবস্থায়?

    আমেরিকার এই কালো অধ্যায়েরঃ
    আমেরিকার এই কালো অধ্যায়ের নাম ও কালপর্ব হল, ২০০৯-১২ সালের ওবামা-হিলারি প্রশাসন; তাদের হাতে আসলে আইএস এর জন্ম। তিনারাই  Abu Musab al-Zarqawi [আবু মুসাব আল-জারকাউই] কে নিয়োগ দিছিলেন। সেটা আল-কায়েদা অনেক দেরিতে টের পায় বলে এর আগে তাকে (জারকাউই মূলত জর্দানি, আলকায়েদা তার ঘরানা নয়, গুরুও নয়) রীতিমত বায়াত নিয়ে পরে ইরাকে আল-কায়েদা, ইরাক এভাবে সংগঠন খুলতে দেয়া হয়েছিল। তার গ্রুপ কে ওবামা প্রথম নিয়োগ দিয়েছিলেন ইরাকে; মূলত শিয়া-সুন্নি বিভক্তি আনতে ঘটাতে। যদিও এর আগেই  আমেরিকা জারকাউই কে বিমান থেকে গুলি করে মেরে ফেলেছিল; খুব সম্ভবত আলকায়েদা ঘটনা সব জেনে ফেলেছিল বলে। পরের ঘটনা সংক্ষেপ করে বললে, পরে (জারকাউই বাদে) এই গ্রুপকেই ওবামা-হিলারি নিয়োগ দিছিলেন লিবিয়ার বেনাগাজিতে বসে গাদ্দাফি কে বধ করার জন্য। তারা কাজ করে দিয়েছিল ঠিকই। পরে এই গ্রুপকেই সিরিয়ার আসাদকে উতখাত হত্যার এসাইমেন্ট দিয়েছিল। এবার ততদিনে তারা বিট্রে করে বা নিজের পথে নিজ নামে (আইএস) নিজেরা আত্মবিকাশ ঘটিয়ে রওনা দিয়েছিল। আর তখনই কেবল তারা নিজেরা যে নাম নিয়েছিল সেটাই আইএস বা (ISIL)।  সেসময় যা যা ঘটিয়েছিল ১। গাদ্দাফিকে হত্যা করার পরে তাদের একটা গ্রুপ লম্বা গাড়িবহরে লিবিয়ান অস্রত্র বোঝাই করে আফ্রিকার মালি তে চলে যায়। ২। বেনগাজিতে আমেরিকান রাষ্ট্রদুতের অফিসেই রাষ্ট্রদুত সহ সকল স্টাফকেই মেরে ফেলে যায় তাঁরা। ৩। কিন্তু এর আগেই আমেরিকাই এই গ্রুপকেই সিরিয়ায় আসাদকে উতখাতে এসাইমেন্ট দিয়ে বিমানে করে অস্ত্রসহ পৌছানোর  ব্যবস্থা করে দিয়েছিল। ৪। আসলে সিরিয়ায় পৌছানোর পরে নিজেরা সংহত হয়ে নিয়ে এরপরেই প্রথম আইওএস নামে আত্মপ্রকাশ করেছিল । আর এর চেয়েও বড় কাজ ও কথা হল, তারা সিরিয়া থেকে রওনা দিয়ে ইরাকে আইএস নামে সশস্ত্র লড়াইয়ে ঝাপিয়ে পরছিল।

    সেটাও ওবামার দ্বিতীয়বারের প্রেসিডেন্টের আমল। তিনি ততদিনে ইরাক-আফগানিস্তান থেকে আমেরিকান সৈন্য ফিরিয়ে নিয়ে গেছিলেন (২০১৪ সালের ডিসেম্বরে) আমেরিকান অর্থনৈতিক সামর্থ যুদ্ধের খরচ বইবার মত আর না থাকার কারণে। কাজেই ওবামার নিজের হাতেই জন্ম দেয়া সশস্ত্র গ্রুপ যাদের তিনি সিরিয়ায় এনেছিলেন তারাই বোগদাদি খলিফা প্রতিষ্ঠা করে  ইরাকী আইএস নামে আত্মপ্রকাশ করে ফেলেছে।  কী তামসা!!!
    আর ওবামা বোকা হয়ে গেছেন তার আমেরিকান সৈন্য তিনি ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছেন সেই ২০১৪ সালের আগেই!!!  অতএব এখান থেকেই এবার ইরাকী আইএস  খেদাতে ইরানের সরকারের শরণাপন্ন হন; যদি তারা ইরাকী আইএস খেদায়ে দেয়। ফলে ইরানের সরকারের সাথ ওবামার আমেরিকা প্রশাসন এক চুক্তিতে আসে এটাই ইরানের সাথে পরমাণু চুক্তি! নামে খ্যাত। ঠাট্টা করে বললে এটাই ওবামা-হিলারির বেশি বুদ্ধিমান হতে চাওয়া আই-এস এর জন্ম দান আর এর অন্তত  ইরাকী আইএস অংশটাকে হত্যা করা। ইরান ওবামার সাথে চুক্তি মোতাবেক  নিজের IRGC বাহিনী দিয়ে ইরাকী আইএস কে ইরাক থেকে নির্মুল করে দিয়েছিল।

    তাহলে এখন সিরিয়ায় যেটা হচ্ছে, সেটা কী?
    এটাই কী আবার প্রাক্তন আইএস দেরই প্রতিশোধ? তবে নতুন নামে! ইরানের উপর প্রতিশোধ? 
    কিন্তু সেটা আবার পুরান আইএস – তাদেরই নয়া নামে কিন্তু সেই পুরানা দোস্ত আমেরিকারই হাত ধরে?
    তাদেরই এখন নয়া নাম বিদ্রোহি কোয়ালিশন বা  এইচ-টি-এস [ Hayat Tahrir al-Sham]। আমেরিকান এখনকার কী হবে?  শ্লোগান হবে জয় হোক HTS, এভাবে!!!! নাকি জয় হোক ISIL, এভাবে!!!!
    আবার তুরস্কও তাদের পক্ষে, রাশিয়ায় পাইপ লাইনে???  

    হেব্বি সব মজার কাহিনী, তাই না!!!!

    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ    ১৪ ডিসেম্বর  ২০২৪
    শেষ আপডেটঃ   ডিসেম্বর  ২০২৪

  • আমাদের প্রেস সচিব শফিকুল আলম, বেচারা!

    সবার আগে সেকুলার শব্দটা কবর দিয়ে নেন; এটা অপ্রয়োজনীয়!
    আমাদের প্রেস সচিব শফিকুল আলম, বেচারা!
    গৌতম দাস
    ০৯ ডিসেম্বর ২০২৪
    https://wp.me/p1sCvy-5Zk

     

     

     

     

    সবার আগে সেকুলার শব্দটা কবর দিয়ে নেন; এটা অপ্রয়োজনীয়!
    আমাদের প্রেস সচিব শফিকুল আলম কোন বেচারা নন, অবশ্যই। কিন্তু না হলেও তিনি তাই হয়ে পড়েছেন। মানে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এর কথাই বলছি। তাকে এখন বেচারা-ই মনে হয়! গ্রাম দেশের এক প্রবাদে আছে, তাঁতি তাঁত বুনে দিব্বি সেই আয়র উপর আরামে খাইতেছিল; কিন্তু কাল হল মানে সর্বোনাশ হল তাঁর জমি কিনার পরে!  শফিক সাহেব ঢাকায় ‘বার্তা সংস্থা এএফপির বাংলাদেশ ব্যুরো চিফ’ হিসাবে হেসে খেলে তার সময় আরামেই যাচ্ছিল। কিন্তু তিনিও তাঁতির মত জিমি কিনলেন!  আর এখন? এর পরে!!!!

    এখন তিনি বুঝতেছেন কী ভুলটাই না করেছেন!! কথিত সেকুলারিজম কেই বাপ ডাকতেছেন! অথচ কোন লাভ হচ্ছে না; তবু কোন কুল্কিনারা বনাই। তিনি সেক্যুলার সংবাদপত্র ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে আহবান বা আশ্রয় করে   উঠে দাঁড়াতে চাইছেন।
    এমনকি কোন কোন সংগঠন সেক্যুলার সেই সার্টিফিকেটও বিতিরণ শুরু করে দিয়েছেন তিনি।

    “…আসক একটি সেক্যুলার (ধর্মনিরপেক্ষ) গ্রুপ, বছরের পর বছর ধরে যেটির নেতৃত্বে ছিলেন আওয়ামী লীগের একজন অপরাধ স্বীকারকারী। এর বর্তমান চেয়ারম্যান হলেন মানবাধিকারবাদী আইনজীবী জেড আই খান পান্না। যিনি স্থানীয় মিডিয়াকে বলেছেন যে তিনি বিচারে গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাকে রক্ষা করতে আগ্রহী হবেন।”
    “….The ASK is a secular group, which for years was headed by an Awami League apologist. Its current chairman is lawyer ZI Khan Panna, a human rights defender who has told local media that he would be interested in defending mass murderer Sheikh Hasina in trials.”

    এই হল সার্টিফিকেট বিতরণ। কিন্তু ফ্যাক্টস হল, আইন ও সালিশী কেন্দ্র (আসক) এটা কামাল হোসেন এন্ড গং মূলত এই পরিবারের গড়ে তোলা এক এনজিও। খাঁড়া ভাবে টেক্কা কে টেক্কাই বললে এটা হল, হিন্দুত্ববাদের ভিত্তিতে বাংলাদেশের হিন্দুদের স্বার্থ [কথিত ভিকটিমের স্বার্থ] দেখতে হবে – এমন চিন্তা কাঠামোতে তৈরি করা  বা দাঁড়ানো এক এনজিও প্রতিষ্ঠান। একে সফট হিন্দুত্ববাদের এক আওয়ামি লীগ প্রতিষ্ঠানও বলা যেতে পারে। অথচ শফিকুল আলম এটাকেই সেক্যুলার  গ্রুপ বলেসার্টিফিকেট দিচ্ছেন আমরা দেখছি। আসলে সেই সেকুলারিজমই হল হিন্দুত্ববাদ চিন্তা কাঠামোর উপরে দাঁড়ানো এক চিন্তা!   আর সেকারণেই এই সেক্যুলার আর হিন্দুত্ববাদের মধ্যে কোন ফারাক নাই!

    কিন্তু তামাসাটা হল, প্রেস সচিব শফিকুল আলম এখন তার জীবনের শ্রেষ্ঠ বিপদের মুখোমুখি। কারণ খোদ মোদি সরকার তাঁর হিন্দুত্ববাদ কান্ধে নিয়া জীবনের একবড় বাজিতে নেমেছেন যে চরম মিথ্যা বয়ান দিয়ে হলেও মোদি চাইছেন – “বাংলাদেশে কথিত হিন্দু নির্যাতন হচ্ছে” – এই ডাহামিথ্যা বয়ানটাকে যেভাবেই হোক প্রতিষ্ঠা করবেনই!!! [এই মিথ্যা বয়ানটা প্রতিষ্ঠা করতেই মোদি চিন্ময়- ইসকন নাটক বাংলাদেশে নামিয়েছেন। ]  আর এদিকে চিন্ময়কে বিসদৃশ্যভাবে কোলাকুলি করে থ্যাঙ্ক জানায় (পরে চিন্ময় গ্রেফতার হলে পরে) সে ভান ও ভনিতার  প্রতারক (imposter) এবার দাবী করছে যে চিন্ময়েরও এমন মিথ্যা বয়ান হাজির করার অধিকার আছে!  হিন্দুত্ববাদের জজবা তুলে আঙুন লাগানোর অধিকার তো মোদির অবশ্যই আছে তাই না???? কী বলেন?
    আর এখন শফিকুলের দায় হয়ে উঠেছে কথিত বাংলাদেশের হিন্দু নির্যাতন নিয়ে  মোদির ডাহা প্রপাগান্ডার বিরুদ্ধে লড়াই করে ইউনুস সরকারকে রক্ষা করা।

    আমি নিশ্চিত শফিকুল আলম সাহেব জীবনেও চিন্তা করেন নাই যে কথিত এই সেক্যুলারিজম টা কী? এটা খায় না মাথায় দেয় – এনিয়ে কখনও গভীর ভাবে উল্টাপাল্টে দেখতে গেছিলেন!  এমনকি হিন্দুত্ববাদ এটাই বা কী জিনিষ? এটাই তেমন গভীরে নেমে তাঁর দেখা হয় নাই! এএফপির ব্যুরো প্রধান হতে বা সে জীবনে এসব কখনও এত গুরুত্বপুর্ণ হয়ে আসেই নাই!
    যেমন ধরেন এই কথিত সেকুলারিজম এটা আমেরিকান কনষ্টিটিউশনে নাই। বরং উলটা ধর্ম পালনকে নাগরিক অধিকার মনে করে রাষ্ট্র। দুনিয়ার তিনটা রাষ্ট্র এমন শয়তানি সেক্যুলারের কথা বলে। বৃটিশ, ফরাসী রাষ্ট্র আর ইন্ডিয়াতেই এই শয়তানি আছে। তিনটারই উদ্দেশ্য মুসলমান কোপানো!  তাই এথেকে অর্থহীন দাবী রাষ্ট্র থেকে ধর্ম আলাদা করতে হবে!  যে শয়তানির চিহ্নটাই হল ১৯২৩ সালের পরে তুরস্কের কামাল তুলে কামাল কিয়ার সেকুলার!
    অথচ খো বৃটিশ রাষ্ট্রটাকেই দেখেন, এটা এংলো-ক্যাথলিক ধর্মীয় জাতিরাষ্ট্র। ক্যাথলিক মানে ক্রিশ্চানিটির মূল অর্থডক্স ভার্সানের পরের বড় মাজহাব হল ক্যাথলিক ক্রিশ্চান ধারা। এখন যে সে ক্যাথলিক হলে হবে না।  বৃটিশ রাজ-পরিবার যে ধারা বা ব্যাখ্যার ক্যাথলিসিজম মানেন অনুসরণ করেন সেই ক্যাথলিক মানে এংলো বা ইংলিশ রাজার অনুসৃত ক্যাথলিকই হতে হবে। আর এই এংলো-ক্যাথলিক ক্রিশ্চানিটি ধারার ধর্মের প্রধান বা গুরু হলেন বৃটিশ রাজপরিবারের প্রধান (রাজা বা রাণী)। আবার এই রাজা-রাণীই হলেই বৃটিশ রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক বা সাংবিধানিক প্রধান! তাহলে এবার বৃটিশ রাষ্ট্রটা আসলে কী দাড়ালো?
    আর এই বৃটিশ রাষ্ট্রটাই সেকুলারিজম ফেরি করতে এসেছে? দাবী করছে রাষ্ট্র থেকে ধর্ম আলাদা করতে হবে?????
    আমার মনে হয় না শফিকুল আলম কখনও এতদুর তলায় হাত দিয়ে দেখেন নাই যযে সেকুলার জনিষটা কী??
    আবার দেখেন ভারতের বেলায়। এতা মনে করার কারণ আছে যে ১৯৪৯ সালে ভারতের কনষ্টিটুশন রচনার সময় নেহেরু-গান্ধী জানতেন তারা হিন্দুত্ববাদ – এর উপরে একটা টোপর পরিয়ে ঢেকে ঢুকে একটা ভারত রাষ্ট্র খাড়া করতে যাচ্ছেন। যেটা আসলে হিন্দু-ধর্মীয় জাতবা নেশন বোধ এর উপর দাঁড়ানো এক হিন্দুধর্ম ভিত্তিক জাত-রাষ্ট্র। এক হিন্দু রিপাবলিক! তাই সযত্নে সেক্যলার শব্দটা কোথাও কনষ্টিটিউশনে আনেন নাই।  এটা আসলে ধুর্ত কিন্তু বোকা ইন্দিরা গান্ধীর কাজ। তিনি ১৯৭৬ সালে এই সেকুল্যার শব্দ ভারতের কনষ্টিটিউশনে প্রথম ঢুকিয়েছেন – বাংলাদেশ স্বাধীনহবার পরে মানে বাংলাদেশকে সেকুলার বলে ল্যাজ কেটে দিবার পরে!

    তাহলে সেকুলারিজম ধারণাটাই সৎ নয়? সদ -নয়? কোন সদ-অর্থ কীঃ
    এই নকল বা ইসলাম কোপানী সেকুলার ধারণার বাইরে অবশ্যই একটা সদ-অর্থ এমন ধারণা আছে।
    যারা এনিয়ে একাদেমিক গভীরে নামতে চান তাদের জন্যঃ 1648 westphalia  ended the 30 years war  – এধরণের শব্দগুলা লিখে গুগল সার্চ দিতে পারেন।
    এতে যা যা আসে সে সব আপনার সামর্থ ও সময়ে যা কুলায় পড়ে বুঝবার চেষ্টা করতে পারেন।
    ইউরোপে এক গৃহযুদ্ধ বা ধর্মযুদ্ধ বা যা আসলে খ্রিশ্চানিটির ভিতরেরই নানান ব্যাখ্যা বা ফেকড়ার যুদ্ধ হয়েছিল চলেছিল ১৬১৮-১৬৪৮ এই ত্রিশ বছর; কোথাও কোথাও যা আশি বছর ধরে চলেছিল। আর  ওয়েস্টফিলিয়া জার্মানির এক শহরের নাম যেখানে ১৬৪৮ সালে বসে এই গৃহযুদ্ধের পরিসমাপ্তি টানা হয়েছিল বা খুজে পাওয়া গেছিল। কিন্তু কী সেই ফর্মুলা???

    ধরা যাক কোন মুসলমান রাজা তিনি যে ফেকড়া-মজহাব বা ব্যাখ্যা-ধারার [interpretation] অনুসারি সেই রাজা কী কেবল তার মতই অনুসারি মুসলমান প্রজাকেই বেশি ফেবার করবেন, বেশি সুবিধাদি দিবেন? মানে বাকি প্রজাদের তুলনায়? ফেকড়া-মজহাব এর ভিত্তিতে প্রজাদের মধ্যে বৈষম্য প্রতিষ্ঠা করবেন?

    এই হচ্ছে মূল তর্কটা।
    আর “ওয়েস্টফিলিয়া ১৬৪৮” সম্মেলন কীসের ভিত্তিতে সব গৃহযুদ্ধের অবসান করেছিল?
    সেতা বুঝে নেওয়া খুবই জরুরি।
    সমাধানটা ছিল আসলে খুবই সহজ। আমি উদাহরণে মুসলমান রাজা বললেও ইউরোপে এটা ছিল খ্রিশ্চানিটি। তবে সবার ক্ষেত্রেই এক। সমাধানটা ছিল, রাজা বা শাসক যে ধর্মের যে ফেকড়া-মজহাব এরই অনুসারি হন না কেন যেকোন ফেকড়া-মজহাব অনুসারি সব প্রজাকেই তিনি বৈষম্যহীন ভাবে দেখবেন বা সুবিধাদি দিবেন বা আইন করবেন।  ফেকড়া-মজহাব নির্বিশেষেই শাসন পরিচালনা করবেন।  এটাই বৈষম্যহীন শাসন – এটাই যেকোন অধিকার ভিত্তিক (মানে ধর্ম বা জাতভিত্তিক জাতিবাদি নয়) রিপাবলিকেরও মৌলিক কথা!

    কাজেই বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বৈষম্যহীন কথাটার তাতপর্য এখন জুলাই-আগষ্ট বিপ্লব বা ৫ আগষ্ট বিপ্লবের মধ্যেই উঠে এলেও এর তাতপর্য অনেক গভীরে!
    যেমন ধরেন ওয়েস্টফিলিয়ার ঐ সমাধান বাইরে থেকে ওতা শুধু খ্রিশ্চনিটির সমাজের মধ্যে প্রযোজ্য তা একেবারেই নয়।
    যেমন রাজা,শাসক বা প্রধানমন্ত্রী শুধু খ্রিশ্চানিটির ফেকড়া-মজহাব এর প্রশ্ন নয় যেকোন ধর্মের যেকোন পরিচয়ের নাগরিকের প্রতি বৈষম্যহীন আচরণ করবেন এমন সমাধান তো এখান থেকে টানা যায়। এজন্যই আমি বলি এটা অধিকার ভিত্তিক রিপাবলিক; জাত-ধর্ম ভিত্তিক নয়। এতা সম্ভব। এটাকেই ক্লাসিক্যাল অর্থে রাষ্ট্রে নাগরিক সাম্যতা (অনেক সময় এটা শুধু ‘সাম্য’ লিখা হয়) বা রাজনৈতিক সাম্যের রিপাবলিক – বলে বুঝতে হবে। মজার কথা এটাই হল বাস্তব ও ক্লাসিক্যাল সেকুলার ধারণা।   আরও তাতপর্য হল এটা এই রাজনৈতিক সাম্য  বাস্তবায়ন করতে রাষ্ট্রের কনষ্টিটিউশনে সেকুলার বলে (আসলে মুসলমানবিদ্বেষী) কোন শব্দ রাখারও দরকারই নাই।

    আমি নিশ্চিত এত গভীর জায়গা থেকে শফিকুল আলম চিন্তা করেন নাই আগে!
    অসুবিধা নাই। এখন থেকে যেটা জেনে রাখলেন, অবশ্যই তা আগামিতে কাজ লাগবে!

    সেক্যুলার মিডিয়া বলে কিছু নাইঃ
    আসলেই নাই, সেকুলার মিডিয়া সেটা আবার কী?

    কিন্তু তিনি লিখেছেনঃ

    প্রেস সচিব বলেন, ‘আমরা আশা করি, শীর্ষস্থানীয় সেক্যুলার ও উদারপন্থী সংবাদপত্রগুলো সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে কথিত সহিংসতার ঘটনাগুলো নিয়ে তাদের নিজস্ব তদন্ত করবে……”।

    এমন বাক্য লিখে তিনি আসলে নিজেকেই বোকা বানিয়েছেন। তিনি যা বলতে ছেয়েছেন তা হল বৈষম্যহীনতা; বৈষম্যহীন সাম্য এভাবে সকলের রাজনৈতিক অধিকার। কিন্তু তার এই সেকুলার এর অর্থ হয়েছে বৃটিশ, ফরাসি বা ভারত রাষ্ট্রগুলোর বিশেষ করে ভারতীয় ইসলামবিদ্বেষ এর হিন্দুত্ববাদ যেটাকে এরা সেকুলার বলে ঢাকা দিয়ে চলতে চায় সেই সেকুলারিজম হয়ে দাড়িয়েছে। বা দাড়াবেই। তাই সোজা পথ এই কথিত শব্দটাই ব্যবহার না করা। রাজনৈতিক অধিকারে সাম্য বা শুধু ছোট করে সাম্য – এই শব্দে প্রকাশ করাটাই অনেক ভাল। যাতে হিন্দুত্ববাডেড় খপ্পরে না পড়তে হয়। আর হিন্দুত্ববাদের বিরোধী লড়াইয়ে “রাজনৈতিক সাম্য” এর পক্ষের লোক হওয়া, এটাই তো হতেই হবে।  বৈষম্যহীনতার পক্ষে ধারণা স্বচ্ছ রাখতে হবে!
    যারা মোদির পক্ষের মিডিয়া বা প্রতিষ্ঠান তারা হিন্দুত্ববাদী এভাবে তাদেরকে চিহ্নিত করাই ভাল নয় কী!  মানুষের সমান অধিকারের পক্ষের মিডিয়াও বলতে পারেন; এটাই তো “রাজনৈতিক সাম্য” এর পক্ষের মিডিয়া!  ধর্ম, এথনিক পরিচয়, পাহাড়ী-সমতলি, নারী-পুরুষ, সাদা-কালো চামড়া ইত্যাদি যেকোন বিভাজন ও বৈষম্যমূলক চিন্তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অধিকারে সাম্য! এটাই আপনি সম্ভবত বলতে চেয়েছিলেন!
    কিন্তু অসতর্কতায় বারবার এটা হিন্দুত্ববাদের কবলে ও তাদের পকেটে চলে যাচ্ছিল! কনসেপ্ট পরিস্কার রাখা এজন্য সব পেশার লোকের জন্যই খুব গুরুত্বপুর্ণ!
    প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম কে জানাই 
    তাঁর সকল লড়াইয়ে সফলতা, এই  শুভ কামনা!  হিন্দুত্ববাদ – এই হিটলারিজমের বিরুদ্ধে লড়াই অবশ্যই কঠিন!

     

     

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    শেষ আপডেটঃ  দুপুর   ডিসেম্বর  ২০২৪    

     

  • মোদির মুসলমান-ঘৃণা ছড়ানো হিটলারিজমের পরিণতি

    মোদির মুসলমান-ঘৃণা ছড়ানো হিটলারিজমের পরিণতি
    গৌতম দাস
    ০৭ ডিসেম্বর ২০২৪  দুপুর ১৩ঃ ০৮
    https://wp.me/p1sCvy-5XN

     

    Protesting residents raised slogans against the former owner Dr Ashok Bajaj, asking him to take the house back – pic- AK Mishra BBC

    ব্যানারে যা লেখা এর বাংলাটা হবে সম্ভবত এরকমঃ
    ডাঃ অশোক বজাজ হায় হায়
    নিজ বাড়ী (মকান) ফেরত নেন
    নিজ বাড়ী ফেরত নেন
    নিবেদকঃ সমস্ত টি.ডি.আই. নিবাসী

    এই পুরা রিপোর্ট এটা বিবিসি ইংলিশ থেকে নেওয়া। লিঙ্ক এখানে নিচে শিরোনা্মের সাথেঃ

    Muslim couple forced to sell house after protests by Hindu neighbours

    ভারতের উত্তর প্রদেশ!  হা ঠিকই ধরেছেন, মুখ্যমন্ত্রী ‘বুলডোজার যোগীর’ উত্তর প্রদেশ!  ভারতের এই রাজ্য বা প্রদেশের পশ্চিম-দিকে এক শহর এর নাম মুরাদাবাদ [Moradabad is an industrial city; Moradabad district] আর এখানেই ঢাকার বারিধারার মত পশ হিন্দু [posh TDI City] মানে উচ্চ আয়ের শহুরে হিন্দুদের বসতবাড়ি এলাকা বা এক কলোনি যার নাম টি.ডি.আই. সিটি।
    উপরের এই ছবিতেই আপনারা দেখছেন কিছু এর বাসিন্দা ব্যানার হাতে দাঁড়িয়ে আছে।
    তাদের এক পড়শি ছিলেন ডাঃ অশোক বাজাজ [Dr Ashok Bajaj] যার চোখ অপারেশনের হাসপাতাল আছে শহরে।  তাঁর প্রায় চল্লিশ বছরের পুরানা কলিগ আরেক ডাক্তার বন্ধু যারা আবার স্বামী-স্ত্রী উভয়েই ডাক্তার [কিন্তু ধর্ম পরিচয়ে তাঁরা মুসলমান]তাদের কাছে টিডিআই কলোনির বাড়িটা বাজাজ সাহেব বিক্রি করেছেন।  এঘটনাকে কেন্দ্র করে ছবির এই হিন্দু বাসিন্দাদের ক্ষোভ হল যে মুসলমানের পাশে তারা বসবাস করতে পারেন না।  তাই তাদের একজন যেমন  […residents Megha Arora saying that Dr Ashok Bajaj, a resident, had sold his house to a Muslim family without consulting them.] মেঘনা অরোরা-র মুখ দিয়ে আসা দাবী হল, বাড়ি বিক্রির আগে বাজাজ সাহেবের এনিয়ে আলোচনা-অনুমতি নেয়া উচিত ছিল। আর তাই তাদের এখনকার দাবী হল যেহেতু ডাঃ বাজাজ সাহেব তা করেন নাই অতএব তাঁর মুসলমান কে বাড়ি বিক্রি এটা ডাঃ বাজাজ-কে এখন বাতিল করতে হবে। তাই ব্যানার টাঙিয়ে তাদের প্রতিবাদ। এরা কিন্তু আম আদমি না। রীতিমত উচ্চ আয়ের পস নাগরিক, পড়ালেখা করে প্রফেশনে আসা তারা ভারতীয়!! পরবতিতে তাই আপোষ। ওয়ার্ড কাউন্সিলারের কথিত মধ্যস্থতায় মুসলমান ডাক্তার দম্পত্তিও তাঁদের কেনা বাড়ি ফেরত-বিক্রির সুযোগ নিতে পেরে যেন জানে বেঁচে গেছেন!!! এই হল, বিবিসি্র এই রিপোর্টার সারকথা!

    এখন মুরাদাবাদ ধরনের ঘটনাগুলো এগুলোই কী আরএসএস-বিজেপির মোদিকে এখনকার বাংলাদেশে মুসলমানবিদ্বেষী মিথ্যা হিন্দু নির্যাতনের অভিযোগ তুলে প্রপাগান্ডা করায় নাই? একই চলমান প্রক্রিয়া নয়? দুই ধর্মীয়-এথনিক জাত, হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের দাঙ্গা [পাঠক দয়া করে এটাকে কথিত সাম্প্রদায়িক শব্দে বলবেন না। কারণ,  সাম্প্রদায়িক শব্দটাও হিন্দুত্ববাদের বয়ান ও এর ভাষ্য। যেমন, ভারত সরকারি ভাষ্যে বলেছিল OIC নাকি ‘সাম্প্রদায়িক’ সংগঠন! সেই কান্ড দেখেন এখানে।  এটাই এথনিক-জাত শ্রেষ্ঠত্ববাদ; [মানে আমার ধর্মীয়-এথনিক জাত এটাই শ্রেষ্ঠ – এমন দাবী করা ] এভাবে, এটাই ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের রাজনীতির মুল ধারা বানিয়ে ফেলেছেন মোদি। এখন পড়শি দেশেও সেই বয়ান তা ছড়াচ্ছেন। এভাবেই পুরা অঞ্চল মানে সব পড়শি হয়ে এশিয়ায় ছড়াবেন তিনি – এশিয়ান হিটলার হয়ে উঠতে চাইছেন মোদি!   কাজেই আপনারা যার যার অবস্থান স্পষ্ট করেন যে, কে কোনদিকে অবস্থান নিবেন!  কেবল আমরা হিন্দু-মুসলমান ভাই ভাই এক থাকতে চাই – এই সুশীল নরম হিন্দুত্ববাদি অবস্থানে আর কুলাবে না। মুলকথাটা হল, এথনিক জাত শ্রেষ্ঠত্ববাদ; আপনি এর পক্ষে না বিপক্ষে থাকবেন সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।    


    “আমরা হিন্দু-মুসলমান ভাই ভাই, এক থাকতে চাই” – এটাও সুশীল নরম হিন্দুত্ববাদি বয়ান; একে “কংগ্রেসি হিন্দুত্ববাদ” বলেও বুঝতে পারেন। এটা একালের ছলনার বয়ান! একালের বিচারে। কারণ মোদি হিটলারিজমের ড্রাম বাজাচ্ছে এ’যুগে; আর আপনি সেকালের প্রগতিশীলতা=হিন্দুত্ববাদের বয়ান এখন আকঁড়ে ধরে ভাবছেন এটা বোধহয় মোদি মোকাবিলার বয়ান! এছাড়া, আপনারা ভাল মানুষ – তা বুঝানো যাবে ভেবে এই সাইনবোর্ড লাগিয়েছেন! আসলে আপনি বোকা ও সরল তাই আপনি এখন প্রতারিত হবেন।  কারণ আপনি জানেনই না শুধু মোদি-ই না দেশীয় প্রতারক (imposter) এরাও সর্বোচ্চ ততপর। ব্ল্যাকমেল হয়ে এরা এখন র-এর হাতে বাধা পুতুল বা দাসী; এদের সব জ্ঞানবুদ্ধি তাই এখন র-এর সেবায় তাদের চরণে নিবেদিত!  এমন লেবাসে যারা – হিন্দু-মুসলমান ভাই ভাই – শ্লোগান দিয়েই কথা বলে আর, এরা চিন্ময়ের গলা জড়িয়ে ধরছে বা কোলে উঠে পড়ছে – অথবা চিন্ময়ের মত  হিটলারি 
    দাঙ্গাবাজদেরও নাকি অধিকার আছে বলে ইউনুসকেও পটিয়ে ফেলতেছে – আপনাকে একালে এদেরকে সবার আগে চিনতে হবে! নাইলে এদের হাতের পুতুল হয়ে থাকবেন আপনি। যখন বুঝবেন তখন অনেক দেরি, সব শেষ হয়ে যাবে হয়ত! 

     

    ঘটনা বিচারে খুবই কমন আমাদের আশপাস এর ঘটনা মনে হবেঃ
    মোদি হতে যাচ্ছেন এশিয়ার হিটলার! এখন আপনি কী এটা চেয়ে চেয়ে দেখবেন? আরেক এথনিক জাত ধর্মীয় শ্রেষ্ঠত্বের জোশে পালটা বেরিয়ে পড়বেন? নাকি সব ধরনের এথনিক জাত শ্রেষ্ঠত্ববাদ – এর বিরুদ্ধে মানে, নয়া হিটলারিজমের বিরুদ্ধে দাড়াবেন?  এটাই আপনার সচেতন সিদ্ধান্ত হতে হবে, নিতে হবে!
    আমরা একাদেমিক শিক্ষিত-অশিক্ষিত নির্বিশেষে খুব কম লোকেই জানি হিটলার কেন কুখ্যাত! বড় জোর আবছা করে আমরা জানি হিটলার একটা খারাপ লোক। তাও তিনি আমাদের এ-অঞ্চলের না ঐ দুরের পশ্চিমা বা ইউরোপের দেশে বোধহয় কিছু একটা করেছে বলে শুনি – এই হল আমাদের শিক্ষিতদের জানাশুনা।  অনেকে ওদেরকে “ইহুদি-খৃশ্চান” অথবা চাইকি “সাদাচামড়াদের” কারবার বলে মনে করে ফেলতে দেখেতে চাইতে পারেন!  সরি, এগুলো এত দুরের কেউ বা কোন ঘটনা না। এটাই মোদি, এশিয়ান হিটলার – হিটলারিজমে আপনাকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে মারতে আগিয়ে আসছে!  জাত শ্রেষ্ঠত্ববাদ এর গর্ব বা এথনিক জাত শ্রেষ্ঠত্ববাদ এর সুরসুরি খুবই ভয়ঙ্কর! আপনি এর শিকার হয়ে যেতেও পারেন যদি আপনিওও কোন না কোন জাতিবাদের ঝান্ডাধারী হন!!!    মোদি আপনাকে ডেকে, টেনে হিচড়ে ওর নিয়মের খেলায় কখন সামিল করে ফেলেছে তা বুঝবার আগেই সব শেষ হয়ে যেতে পারে!

    খুবই কম কথায় বললে, হিটলার অবশ্যই আরেক ‘জাতিবাদি’ ছিলেন। তাতে অনেকের মনে হতে পারে তাতে অসুবিধা কী আমরাও তো বাঙালি জাতিবাদি না হয় বাংলাদেশি জাতিবাদি, ইসলামি জাতিবাদি কিংবা জুম্মু জাতিবাদি ইত্যাদি অনেক কিছুর জাতিবাদি! তবে, এবার যদি বলি হিটলার উগ্র জাতিবাদি তো এবার তারা বলবেন হয়ত – ওমন একটু আধটু উগ্রতা অনেকের (অনেক জাতিবাদির) মধ্যে থাকে!
    তবে এরপর এসবের বিস্তারি জবাব হবে – এসবই আসলে শাহরিয়ারের নির্মুল কমিটি মানে জাত নির্মুল বা এথনিক ক্লিনজিং [ethnic Cleansing] এর কথা। এককথায়, উগ্র জাতিবাদিরা আসলে এটাই!   পড়শি বা অন্য ধর্মের লোকজনকে তাদের গুষ্ঠিসহ ঝেটিয়ে কচুকাটা নির্মুল বা উপড়ে ফেলে দেওয়া – এটাই হিটলারিজম! ।  আর এর শুরুটা সব সময় হয় এভাবেই হিন্দু-মুসলমান, একই ধর্মের দুই মজহাব, কিংবা গায়ের রঙ সাদা বনাম কালো-বাদামি আর এটাই হিটলারের বেলায় ছিল ইহুদি-ঘৃণা ইত্যাদি। শুরুতে হিটলার ছড়িয়েছিলেন যে আমরা জর্মান জাতি দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ জাতি এজন্যই আমাদের চোখ নীল রংয়ের যা সারা ইউরোপেও অন্য কারও নাই। এজন্য বাকি সবাইকে আমাদের কথাই মানতে হবে।  আমরাই শ্রেষ্ঠ – তাই! এই জর্মান জাত শ্রেষ্টত্ববোধ বা শ্রেষ্ঠত্ববাদ – সেকালের হিটলারের জর্মানিতে তিনি এই বয়ানে জর্মানিদের সকলকে কখন আপ্লুত করে করে অন্ধ-ঘৃণায় সামিল করেছিলেন তা পালটা বুঝে বা হুশে ফেরত আসবার  আগেই সব শেষ! যুদ্ধ শেষ! ম্যাসাকার ঘটাসহ সব শেষ! ১৯৪৫ সালের আগষ্ট এসে পড়েছিল!

    এটাকেই আমি বহুবার এথনিক-জাত শ্রেষ্ঠত্ববাদি চিন্তা বলে চিনিয়েছি আপনাদের কাছে।  যা শুরুতে খুবই সাধারণ থাকে আর শেষ হয় একটা নির্মুল বা এথনিক ক্লিনজিং [ethnic Cleansing] এর বিশাল ঘটনা হিসাবে। যখন তাকে আমরা হিটলারিজম বা জাত শ্রেষ্ঠত্ববাদিতা বলে দেখতে পাই। সার কথাটা হল, আমার জাত বা আমার ধর্ম, আমার গায়ের রঙ, আমার ভৌগলিক অবস্থান (পাহাড়ি না সমতলি) ইত্যাদি কোন একটার প্রসঙ্গ তুলে আমিই শ্রেষ্ঠ, আমার এথনিক-জাতই শ্রেষ্ঠ, আমিই শ্রেষ্ঠ – এই বয়ানগুলোর জন্ম হয়! অতএব আমার আধিপত্য, তোমাদের উপর আমার রুস্তমি তোমরা সকলে মেনে নেও – নাইলে আমি তোমাদের নির্মুল করে দিব। এই হল হিটলারিজমের বয়ান, এর মূল লক্ষ্য বা টার্গেট! আমাদের ওমুক যুদ্ধে আমাদের ওমুক ধর্মীয় নেতা কীভাবে বিজয় এনেছিলেন জানো? আমরা সেই  শ্রেষ্ঠ জাত! অথবা শ্রেষ্ঠ ধর্মের লোক! উত্তরসুরী, একালের শ্রেষ্ঠত্ববাদি! সব জাত শ্রেষ্ঠত্ববাদি খুঁজলে তাদের পুরানাকালের ইতিহাসে এমন অনেক গল্পকাহিনী খুঁজে পেতেই পারে। আর সেগুলাই তারা তাদের  নির্মুল কমিটির নামে হাজির করে থাকে। যেমন ধরা যাক খুবই সাদাসিধা মনে হবে এই বয়ান টা যেমন –  আমাদের আছে পদ্মা-মেঘনা-যমুনা বহমান ভূমির শেখ মুজিব!! লও লও লও সালাম শেখ মুজিব  ইত্যাদি ইত্যাদি – দেখেন তো মিলে কিনা!
    মোদির উস্কানি-সুরসুরিতে পা দিয়েন না! গত ২৭ নভেম্বরের [পিপি সাইফুল ইসলাম এর হত্যার পরের দিন] চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের মত শক্ত নিয়ন্ত্রিত ও পরিস্কার হুশে থাকা মানুষ থাকেন!

    পাঠকদের প্রতি আমার বিনীত আবেদন, এলেখা পড়ার পরে দুদন্ড সবাই নিজের সাথে যেন বসবেন! নিজের সাথে একান্তে কথা বলেন! পরে যা হয় সিদ্ধান্ত নিয়েন!!!

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    শেষ আপডেটঃ  দুপুর ০২ঃ ৩২   ০৭  ডিসেম্বর  ২০২৪    

     

  • প্রথম আলোই  “স্বাধীন সাংবাদিকতা” করছে  আর এরাই স্বাধীন “গণমাধ্যম”!

    প্রথম আলোই  “স্বাধীন সাংবাদিকতা” করছে  আর এরাই স্বাধীন “গণমাধ্যম”!
    গৌতম দাস
    ২৯ নভেম্বর ২০২৪
    https://wp.me/p1sCvy-5SJ

     

     

     

    সব দল ও অংশীজনের সঙ্গে বসে দেশের উত্তেজনা সমাধানের আশা মাহফুজ আলমের

    প্রথম আলোই  “স্বাধীন সাংবাদিকতা” করছে  আর এরাই স্বাধীন “গণমাধ্যম?
    প্রায় সব রাজনৈতিক দলের দাবী ও সার্টিফিকেট দিয়েছে যে প্রথম আলোই “স্বাধীন সাংবাদিকতা” করছে  আর এরাই স্বাধীন “গণমাধ্যম!

    আজ এক খুশির দিন!   বাংলাদেশের মানুষ এখন খুবই স্বস্তি ও নিরাপদ বোধ করতেই পারে! আমাদের আর চিন্তা নাই, বাংলাদেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দল খোদ প্রথম আলোর নেতৃত্বেই – “আক্রমণের মুখে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান” বলে প্রথম আলো কে রক্ষা করতে মাঠে নেমে পড়েছেন।
    কোন প্রথম আলো আর কোন গণমাধ্যম? যারা গত ১৬ বছর ভারতীয় অর্থে র-এর খেদমত করে গেছে; মিথ্যা রিপোর্ট করে গেছে। এ সকল রাজনীতিবিদেরা প্রথম আলোর এসব ততপরতাকেই জার্নালিজম বলতে চাচ্ছেন? তাও আবার এটা “স্বাধীন সাংবাদিকতা”? “গণমাধ্যম?” – এই আপনাদের দাবী????    “সুত্র বলছে”, “বিশ্বস্ত সুত্রে জানা যাচ্ছে”  ধরণের অসৎ ও মিথ্যা রিপোর্ট যারা ছেপে চলেছে।  এটা কী জার্নালিজম আপনারা বলতে চাচ্ছেন?  যেখানে বাংলাদেশের প্রেস মানে ব্যাপারটা হয়ে দাড়িয়েছিল যেন বাংলাদেশে ভারত রাষ্ট্রের স্বার্থে মিথ্যা রিপোর্ট ছাপানোর এক মহৎ উতসব চলছে!  আর যারাই এর বিরোধিতা করেছে তাকেই জঙ্গী বানিয়ে দিয়ে ভারতীয় অর্থে নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থ ও সংসার চালিয়েছে যারা তারা স্বাধীন সাংবাদিক ও প্রেস???

    এই ছবিটা খুবই সিম্বলিক। একেবারে প্রতীকী! বহুকথা একটা শব্দও খরচ না করে বলে দেয়া হয়েছে এখানে।
    ১। যারা নির্বাচনি রাজনীতি করে এমন কোন দল (কয়েকটা ইসলামি সহ) যেন বাকি নাই এখানে।
    ৩। মূলত যেসব দল বা নেতার সাথে চিন্ময় (আসল নাম অন্যকিছু) এর সাথে ছবি তুলেছেন ফেসবুকে পাওয়া যাচ্ছে তারাই আসলে ক্ষমতার বা উচ্ছিষ্ট খার লোভে ‘র’-এর কবলে পড়েছেন। নিজেদের সঁপে দিয়েছেন।
    ২। কারা এদেরকে এক ব্যানারে জড়ো করল? মাঝখানে আছে মির্জা  সাহেব। তিনি? অনেকেই এমন মতামত দিবেন হয়ত। ব্যাখ্যাও দিতে পারেন হয়ত এগুলা সংবাদপত্র-মত্র বা এর স্বাধীনতা এসব কিছু না। আসল ঘটনা হল (কমিউনিস্ট বাদে) ছোট দলগুলো  আগামি সংসদে উচ্ছিষ্টের মত দু-একটা আসন পাওয়া (যেখানে দা্তা হল বিএনপি) যাতে ছুটে না যায় তাই তাঁরা মির্জার পাশে দাঁড়িয়ে সেই অর্থ তৈরিতে ছুটে এসেছেন। আর তাতেই সবার অলক্ষ্যে এমন ম্যাসেজ তৈরি হয়ে গেছে যে বিএনপি কে ঘিরে থাকা আসন পাবার জন্য তারা এমনটা করেছেন। তাতে পিছনের ব্যানারে কী লেখা থাকলো – যাই লেখা থাক তাদের এনিয়ে পরোয়া করার সময় নাই এখন। এভাবে উচ্ছিষ্ট এক-দুইটা আসন পাওয়া বা খাওয়ার লোভে গাদ্দারি আবার ১৬ বছরের দেশবিক্রি এটাই কী বাংলাদেশের আগামি ভবিষ্যত??
    ৩। কিন্তু তাহলে আবার ফিরে প্রশ্ন, বিএনপির পিছনে কে তাহলে? বিএনপির ইতিহাসে এই দল কী এমন প্রথম আলো ঘনিষ্ট নাকি? নাকি ডিইউজে এর দলবাজিতে বিএনপি-জামাতের ডিইউজে অংশ বা এর সদস্যরা প্রথমালো-স্টার বা এই প্রগতিশীল=হিন্দুত্ববাদি অংশের সাংবাদিক??? তাহলে এখন প্রথম আলো  “স্বাধীন সাংবাদিকতা” করছে  আর এরাই স্বাধীন “গণমাধ্যম?”এমন সার্টিফিকেট বিতরণে বিএনপি প্রধান দল কবে থেকে? ডিইউজে-বিএফইউজে [DUJ-BFUJ] এসব ভাগাভাগি কী তাহলে সত্য না, ভুল ইতিহাস?
    ৪। তাহলে এই ছবিটা হল, বাংলাদেশের র-এর ক্ষমতা কী ও কতখানি এর প্রকাশিত রূপ। মানে আমাদের দলগুলো কতটা র-এর চাকর-বাকর বা এর হাতের মুঠোয় এরই প্রতিচ্ছবি এটা! এক বিএনপি-জামায়াত কে কব্জা করেই র’ সিপিবি থেকে বিএনপি হয়ে জামাত পর্যন্ত সকলকে প্রথম আলো রক্ষা করতে হাজির করে ফেলেছে। যা বাংলাদেশের ইতিহাস এটা অকল্পনীয় ছিল এতদিন।

    তাহলে বাংলাদেশের ভবিষ্যত কী?
    সেটারও প্রতিচ্ছবি উপরের এই ছবি! সব কথা লিখা আছে এই ছবিতে।

    মানে হল, এমন সব দলকে বগলদাবা করে ভারতের চাহিদা ও দাবির মত রোড ম্যাপ চাই বলে ইউনুস সাব কে একটা হুঙ্কার দিলেই তো সরকার কাপড় খারাপ করে ফেলার কথা, নাকি!!!!
    এটাই তো বাংলাদেশের ভবিষ্যত, নাকি!!!

    তবে মুল বিষয়টা হল, এতে মির্জা সাহেবের চেয়ারম্যান বা বিএনপি দলের গায়ে যত পুরান কালিমা লেগে আছে বা ভারত লাগিয়ে রেখেছে যেমন জেএমবি, দশ ট্রাক, বা গ্রেনেড ইত্যাদি এসবের একটাও র-এর মুছবে না। বরং হানি ট্রাপের (যেকাজে দক্ষতার জন্য র-এর কুখ্যাতি) মত মানে মধুমক্ষির মত এগুলোকে একেক টা ট্রাপ হিসাবে বিএনপি-জামাতের উপর ক্রমাগত ও বারবার ব্যবহার করেই চলবে – যখন ভারত যেভাবে যা বলবে র-যা চাইবে তাই তখন করে দিতে হবেই। নিজের ‘বলস’ কারো হাতে তুলে দেওয়ার ফলাফল তো এমনই হবার কথা!

     

    মির্জা ফকরুল দুদিন আগে ইউনুসের সাথে দেখা করেছিল। যেদিন সারাদিনের ঘটনায় (সরকারী পিপি আলিফ কে নৃশংস হত্যার পরদিন) মির্জা একবারের জন্যও এই হত্যা বা চিন্ময় প্রসঙ্গ প্রকাশ্যে কোথাও তুলে নাই; নিন্দা করেন নাই। সন্ধায় ইউনুসের সাথে দেখা করে বেরিয়ে সাংবাদিকের সাথে কথা বলার সময় তিনি ও পাশে দাঁড়ানো ঞ্জরুলের সাহেদের সাথে তিনি এক মিচকি হাসি দিচ্ছেলেন। সাইকোলজির টার্মে এটাকে বলে যখন মানুষ অন্যের তুলনায় নিজেকে বড়-শ্রেষ্ঠ বোধ আছে, অন্যকে তুচ্ছ মনে করেন সেটারই বডি-ল্যাঙ্গুয়েজ হল এটা। তিনি কী বলতে চাইছিলেন যে র-এখন বিএনপির মাথায় হাত রেখেছে কাজেই ইউনুস সাহেব কে যখন চ্যলেঞ্জ করেছি চিন্ময় কে ধরেছেন কেন, ওকে ছেড়ে দেন সব আপোষ মীমাংসা করে ওদেরস আথে আপোষ করে নেন –  এভাবে চিন্ময়-ইসকন-র-ভারতের সেবাদাস হতে ইউনুসের উপর দাবি বা চাপ সৃষ্টিকেই মির্জা দাবী করেছেন – এটাই নাকি মির্জার কথিত   জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির আহ্বান !!!! মানে যেটা হল প্রত্যক্ষ র-এর প্রতিনিধি চিন্ময়, একে জড়িয়ে ধরে চুম্মা দিয়ে চিন্ময়-কেন্দ্রিক এক কথিত ‘জাতি’ আর এরই জাতীয় ঐক্য!  ভারী মজার না! (এখানে একটু হাততালি হবে) আর একাজ করে আসতে পেরে নিজের পারফরমেন্সের প্রশংসা করছিলেন কী তিনি মনে মনে তাই এই ভ্রুকুটি তোলা হাসি!!!!
    তা হতেও পারে। যদিও বলতেই হয় যে এই হাসিটা অভদ্রতা! মানুষের সাথে মানুষের স্বার্থের,  বা ক্ষমতা পাওয়া নিয়ে দ্বন্দ্ব লড়াই হতেই পারে কিন্তু সেজন্য অভদ্রতা ম্যান্ডেটারি  তো নয়, তাই না!!!

    আচ্ছা চিন্ময়কে বিএনপি তার চেয়ারম্যান করে নিলেই তো সব লেঠা চুকে যায়!

    নাকি কোন মিরাকল কিছু ঘটবে? দালাল ও দেশ বেচা স্বার্থের সব দলকে মাটি চাপা দিয়ে জনগণ উঠে দাঁড়াবে, প্রায় অসম্ভব মনে হওয়াকেই সম্ভব করে দেখাবে?
    পাবলিক কে সাথে নিয়ে ইউনুস ও আমরা সব বাহিনী উঠে দাঁড়িয়ে যাব, যা ভারতের পরিকল্পনা নস্যাত করে ও এজেন্টদের উপরে ফেলে দিবে???

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  নভেম্বর  ২০২৪
    শেষ আপডেটঃ      ২০২৪

     

  • লীগ নিষিদ্ধঃ জুলাই হত্যাকান্ডের বিচারে মুখ্য বিবেচনা কোনটা

    লীগ নিষিদ্ধঃ জুলাই হত্যাকান্ডের বিচারে মুখ্য বিবেচনা কোনটা
    গৌতম দাস
    ২৩ নভেম্বর ২০২৪

    https://wp.me/p1sCvy-5PC

    বিচারের শুদ্ধতার জন্য ট্রাইব্যুনালে আপিলের বিধান: আসিফ নজরুল

     

    [এককথায় মুখ্য বিবেচনার প্রসঙ্গটা হল, জুলাই হত্যাকান্ডে সংশ্লিষ্ট দল ও সরকারের যে সম্মিলিত কমান্ড স্ট্রাকচার এভাবে সেই দল-সরকারের কাঠামোটাকেও
    বিচারের আওতায় আনবেন কিনা। ফলে এটা মোটেও বিচ্ছিন্ন ভাবে আওয়ামি লীগকে নিষিদ্ধ করা হবে কিনা – সেই প্রশ্নই নয়। ]

    ব্যক্তি ইউনুস এবং ইউনুস সরকারের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হল, রাষ্ট্র (ও রাষ্ট্রক্ষমতাও) বুঝতে না পারা এবং এই অর্থে অরাজনৈতিক থেকে যাওয়া।

    যেমন দেখেন, এখনকার জলন্ত ইস্যুটা হল, যারা জুলাইয়ের হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে এবং ওর সহযোগী ছিল তাদের কে শাস্তি দেওয়া হবে না হলে কীভাবে?
    এটা কী কেবল কিছু ব্যক্তির নামে মামলা হবে এরপর নানান লটরপটর করে সময় নষ্ট করে শেষ সব আউলায়ে ওরা নিজেরাই নিজেদের মাপ করায় নিবে?

    আরো সুনির্দিষ্ট করে বললে যারা জুলাই হত্যাকান্ডের জন্য অপরাধী তাদের বিচার কী কেবল তারা বিচ্চিন্ন ব্যক্তি হিসাবে দেখা হবে নাকি, এটা একটা অরগানাইজ ক্রাইম হিসাবে দেখে এর শিরোমনি হিসাবে শেখ হাসিনা এবং এদের কমান্ড পরম্পরা ও এরই সাথে তাদের দল আওয়ামি লীগের কমান্ড কাঠামোর হিসাবে নানান কমিটির নেতাদের এক সম্মিলিত অপরাধ হিসাবে দেখা হবে এবং সে হিসাবে বিচার করা হবে?

    কিন্তু ভারতসহ দেশের আওয়ামি প্রগতিশীল (মানে আসলে হিন্দুত্ববাদের এদেশীয় দোসরেরা) ও এর সহযোগী সবাইওকে এই পুরা বিষয়টাকে   শধু কয়েকটা শব্দ – আওয়ামি লীগকে নিষিদ্ধ করা হবে কিনা এতে পর্যবসিত করে দিয়েছে। আর ইউনুস সাহেব নিজে ও তাঁর উপদেষ্টা মন্ত্রীরাও এই শব্দগুলো ও এর বয়ান মেনে নিয়ে এই অসৎ তর্কের ফাঁদে পা দিয়েছে। এতে মুল ইস্যুটাই হারিয়ে গেছে।

    ইউনুস ও উপদেষ্টারা প্রশ্ন করতে ভুলে গেছে কেন  আওয়ামি লীগকে নিষিদ্ধ করা হবে কিনা – এভাবে কথা বলছেন?  কেন লীগ নিষিদ্ধ করার কথা বলছেন পালটা এই প্রশ্ন করাই ছিল সঠিকভাবে তাদের বয়ানকে চ্যালেঞ্জ করার আসল পথ। যেন লীগ কে নিষিদ্ধ করার যে রিভেঞ্জ – ইউনুসেরা তা নিবেন কিনা এই প্রশ্ন ভারতের দোসরেরা পুরা সমাজকে এই প্রভাবিত করে ফেলেছে।    অথচ মুল ইস্যুটা ছিল, জুলাই হত্যাকান্ডের বিচারটা কীভাবে করা হবে? কেবল বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি অপরাধী হিসাবে না তারা সকলেই ছিল একটা রাজনৈতিক দল ও এই দলের সরকার – এভাবে৪ দল-সরকারের যে সম্মিলিত কমান্ড স্টাকচার সেই দল-সরকারের কাঠামোও আমলে নিয়ে বিচার করা হবে?

    মুল ইস্যুটা ছিল, জুলাই হত্যাকান্ডের বিচারটা কীভাবে করা হবে?
    কেবল বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি অপরাধী হিসাবে না তারা সকলেই ছিল একটা
    রাজনৈতিক দল ও এই দলের সরকার – এভাবে দল ও সরকারের যে
    সম্মিলিত কমান্ড স্ট্রাকচার সেই দল-সরকারের কাঠামোটাকেও আমলে
    নিয়ে এই বিচারটা করা হবে কিনা?
    অথচ একে বদলে নিয়ে এক নয়া ভাষ্য বানানো হয়েছে
    যে – “আওয়ামি লীগ নিষিদ্ধ করা হবে কিনা”?

     

    অর্থাৎ “আওয়ামি লীগ নিষিদ্ধ করা হবে কিনা” – এই বাক্যের আগে পিছে কিছু নাই – এটা তো ইস্যুই না, ছিল না। অথচ ভারতের হেজিমনির দোসরেরা কখন কিভাবে ব্যাপারটাকে শুধু লীগ নিষিদ্ধের ইস্যু বানিয়ে ফেলেছে তা ইউনুস নিজে বা উপদেষ্টারা (বিশেষ করে আসিফ নজরুল) কেউই হুশ করেন নাই। তাদের উচিত ছিল এভাবে শুধু লীগ নিষিদ্ধের প্রশ্ন তুললে এর জবাব না দিয়ে পালটা প্রশ্ন করা যে কেন আওয়ামি লীগ নিষিদ্ধের কথা তুলছেন আপনি আর কী বুঝে? সেট আগে আপনার প্রশ্নের ভিতর হাজির করেন তবেই আমি জবাব দিব!

    এককথায় কেন কেউ আওয়ামি লীগ নিষিদ্ধের কথা  তুলছে সেটা উহ্য এবং অস্পষ্ট রেখেই এর জবাব দিতে গিয়ে ভ্যাবাচেকা খেয়ে চলেছেন ইউনুস সরকার! যেন  আওয়ামি লীগের উপর ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা বা কোন কারণ ছাড়াই তারা এনিয়ে কথার জবাব দিতেছেন!!!

    পোলাপানি ও অরাজনৈতিক আচরণের এক ইউনুস সরকারঃ
    এটাই মূলত এক নাইভ [Naive বা ভোলেভালা] বা পোলাপানি ও অরাজনৈতিক আচরণ ইউনুস সরকার সংশ্লিষ্ট সকলের। খুবই দুঃখের কথা এটা যে এই সরকার না রাষ্ট্রক্ষমতা কী জিনিষ, না রাজনীতি কী জিনিষ সেটা কখনও মনোযোগ দিয়ে বুঝতে গেছিলেন!   অথচ ইন্ডিয়ান হেজিমনির দোসরদের বয়ান কখন আপনাদের মুখে তুলে দিয়ে গেছে খেয়ালো করেন নাই!
    ইউনুস সরকার ও মন্ত্রীদের বলার কথা বা উচিত ছিল যে, আমরা  “আওয়ামি লীগ নিষিদ্ধ করা হবে কিনা” এমন কোন ইস্যু আমাদের টেবিলাই নাই। তবে, জুলাই হত্যাকান্ডের বিচারটা আমরা কী সেসময়ের ক্ষমতাসীন দল ও সরকার যারা ছিল তাদেরকে বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি হিসাবে বিচার না তারা দল ও সরকারের এক  সম্মিলিত কমান্ড স্ট্রাকচার এর অধঈনে ততপর থাকার অপরাধী সেভাবে বিচার করব – এব্যাপারে আমাদের সিদ্ধান্তের একটা বিষয় আছে। আমরা মনে করি  সেসময়ের দল ও সরকারের এক  সম্মিলিত কমান্ড স্ট্রাকচারকে সাথে বিবেচনায় নিয়ে এই বিচারকাজ পরিচালনার দিকে আমাদের যেতে হবে।

    এবং সেই লক্ষ্য এক গুরুত্বপুর্ণ সিদ্ধান্তঃ
    সেসময়ের ক্ষমতাসীন দল ও সরকারের এক  সম্মিলিত কমান্ড স্ট্রাকচারকে সাথে বিবেচনায় নিয়ে এই বিচার অনুষ্ঠানে দায়েরকৃত যেকোন মামলা নিষ্পত্তিতে যাদেরকে আদালত অপরাধী গণ্য করবে এমন সংশ্লিষ্ট দল ও সরকারি সকল ব্যক্তি আগামি জীবনের উপর কখনও জনপ্রতিনিধি (ইউপি সদস্য থেকে প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত) না হতে পারেন সেই নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হবে।  সংশিষ্ট সেই রাজনৈতিক দলের সকল ততপরতা নিষিদ্ধ হবে এবং দলের গুরুত্বপুর্ণ সকল নির্বাহি কমিটির সকল সদস্যও অভিযোগের আওয়তায় আসবে। এরা সকলের জন্য আগামিতে জনপ্রতিনিধি হওয়া নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হবে।

    যারাই যেকোন স্তরের জনপ্রতিনিধি হওয়া সত্বেও জনগণের উপর বেপরোয়া হত্যাযজ্ঞে সামিল হবে এমন ক্ষমতা অপব্যবহারকারী সকলের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা যাবে। আমাদের সরকার অচিরেই এ’সংক্রান্ত এক অধ্যাদেশ জারি করবো। যেটা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল সহ যেকোন প্রচলিত আদালতে এই অভিযোগে মামলা করা যাবে।
    মোটা দাগে এই হতে পারে  সেই আইন। আইনি বিষয়ে অনেক খুটিনাটি ও টেকনিক্যাল দিক থাকে। যা মেনে এই আইডিয়াটা প্রকাশ করা হয় নাই। আশাকরি সেকাজে দক্ষরা কথাটা বুঝবেন।
    এছাড়া এবিষয়ে উপদেষ্টা সবার কথা না বলে নির্দিষ্ট করে দেয়া যেতে পারে যে আইন মন্ত্রী ও প্রধান উপদেষ্টা এনিয়ে বাইরে বা মিডিয়ায় কথা বলবেন।

    সারকথায় ভারতীয় আধিপত্যবাদের খপ্পর থেকে বাংলাদেশের রাজনীতি বের করে আনতে পারতে হবে আমাদের। আর তা পারতে হলে “আওয়ামি লীগ নিষিদ্ধ করা হবে কিনা”  – এজাতীয় প্রশ্নকে ভেঙ্গে দিতে হবে, প্রশ্ন সংশোধন করে না আনলে জবাব দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে এই বলে যে প্রশ্নটা অস্পষ্ট। আর এথেকে সবচেয়ে বড় লাভটা হবে যে, বিএনপি বা জামায়াত ধরণের দলগুলো – আমরা “আওয়ামি লীগ নিষিদ্ধ করার বিপক্ষে বা কোন দল নিষিদ্ধ্বের বিপক্ষে বা চালাকি জবাব যে এটা জনগণ করবে বলা – যেখানে এই সবগুলোই আসলে ভারতীয়দেরকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া যে তাদের পেয়ারের আওয়ামি লীগ আবার ক্ষমতায় ফিরতে তারা ব্যবস্থা করে দিবে – এই সবই লোপাট করে দেয়া যাবে।

    মূলত ইউনুস সরকারের এতসব দিক বিবেচনায় না নেওয়ার ফলেই এ নিয়ে – যেন ইস্যুটা “আওয়ামি লীগ নিষিদ্ধ করা হবে  কীংবা হবে না ” – এর মধ্যে আটকে ফেলা হয়েছে। যার সবটা অসৎ সুবিধা নিয়েছে   ভারতীয় আধিপ্ত্যবাদ; যার একে সহযোগিতা করেছে বিএনপি ও জামায়াত!

    কাজেই যতদ্রুত সম্ভব এসব অসততার প্যাচ থেকে নিজেদের বের করে আনার পক্ষে ইউনুস সরকার কে পদক্ষেপ নিতে হবে!
    কাজেই আসিফ নজরুল যেভাবে পাশ কাটিয়েছেন  যে তারা নাকি বিচারটা শুদ্ধ রাখতেই এসব কান্ড করেছেন – এসব ফালতু শুদ্ধ-অশুদ্ধতার কথা তুলে পাশকাটানোর কিছু নাই। এটা কোন খাঁটি-অখাঁটি মানে পিওর [pure] বা পিউরিটানদের [Puritanism] আলাপই নয়!
    মনে রাখতে হবে এটা যে সে কোন বেপরোয়া হত্যাকান্ড নয় বরং এই হত্যাকান্ডে কেবল শিশু [যারা দুদ্ধপোষ্য, বিছানায় মায়ের কোলে শুয়ে দুগ্ধপানরত ছিল, বা দাদি-নানিকে জড়িয়ে বিছানায় ঘুমিয়েছিল অথবা মা ব্যালকনি বা জানালায় দাঁড়িয়ে বাচ্চাকে ঘুম পারাচ্ছিল ] কেবল এমন সব গুলিবিদ্ধ শিশুর সংখ্যাই হল নুন্যতম ১০৫ জন [দেখেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ১০৫ জন শিশু নিহত: শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা – ফলে অন্তত এই তথ্যটা মাথায় রাখলে বুঝবেন এটা খাঁটি-বিচার বা শুদ্ধতার কিছু নয়! যেমন দেখেন – বিচারের শুদ্ধতার জন্য ট্রাইব্যুনালে আপিলের বিধান: আসিফ নজরুল এই অদ্ভুত বক্তব্যটাকে দেখেন তাহলে বুঝবেন!

    জুলাই হত্যাকান্ডের বিচারের রায়ে যারাই অপরাধী বিবেচিত হবেনঃ
    ১। তারা আর কখনও মানে আজীবন জনপ্রতিনিধি হওয়ার নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসবেন।
    ২। যে দল ও সরকারের অধীনে থেকে এই অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত হবেন সেই দলও নিষিদ্ধ থাকবে; জনপ্রতিনিধি হয়েও খোদ জনগণের বিরুদ্ধে হত্যাযজ্ঞ চালানো কাজে এই দল লিপ্ত ছিল বলে।

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  সন্ধ্যা ০৬ঃ ৪০   ২৩ নভেম্বর  ২০২৪
    শেষ আপডেটঃ      ২০২৪

     

  • জামায়াতের উপর আনন্দবাজারি ইসলামিবিদ্বেষ

    জামায়াতের উপর আনন্দবাজারি ইসলামিবিদ্বেষ
    গৌতম দাস
    ২২ নভেম্বর ২০২৪ বিকাল ১৭ঃ ৫২
    https://wp.me/p1sCvy-5OI

     

     

     

    ১।  রাজনীতি আর চালাকি এক জিনিষ না। এক করে দেখলে খেসারত দিতেই হবে।
    ২। দাওয়া পার্টি (ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার সংগঠন) আর রাজনৈতিক দল একেবারেই এক নয়।  তাতে আপনারা দাওয়া পার্টিওই থেকে যাবেন, রাজনৈতিক দল কখনই হতে পারবেন না।
    ৩। সবার আগে রাজনীতি বা পলিটিক্স ধারণাটার অর্থ তাতপর্য কী তা ভাল করে বুঝে নেন।  বিশেষ করে রাজনীতি বলতে কী কী না – তা স্পষ্ট করে বুঝে নেন।

    এমন তিনটা প্রশ্নের জবাব নিয়ে সব ইসলামি দলের আগে কিছু হোমওয়ার্ক করে নেয়া উচিত!

    জামায়াতের কেন্দ্রিয় সভাপতি ডাঃ শফিকুর রহমানের উপর কিছু একটা খারাপ প্রভাব ভর করেছে, মনে হচ্ছে।  নইলে তিনি কলকাতার ইসলামবিদ্বেষী পত্রিকায় সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হবেন কেন???
    কলকাতার  আনন্দবাজার পত্রিকা (যেটা ইসলামবিদ্বেষ ছাড়া একটা বাক্য লিখতে পারে না এমন প্রবল হিন্দুত্ববাদী) সেই পত্রিকা ডাঃ শফিক সাহেবের সাক্ষাৎকার ছেপেছে।  সবচেয়ে বড় কথা তাদের করা প্রশ্ন এটা কোন সাংবাদিকতা বা জার্নালিজমের নীতিমালায় পরে না।

    যেমন প্রশ্নগুলো দেখেনঃ
    ১। জামায়াতে ইসলামীর ভারত-বিরোধিতা সর্বজনপরিচিত। কী বলবেন?

    ২। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীকে দেখা হয় কট্টর ইসলামি সংস্থা হিসাবে, অন্যান্য ইসলামি রাষ্ট্রে যে ‘ইসলামিক ব্রাদারহুড’ রয়েছে তার অংশ হিসাবে। নিজেদের সংগঠনকে কী ভাবে দেখেন?

    ৩। কিন্তু বিএনপি-র একটি অংশ আপনাদের কট্টরপন্থী মনোভাব নিয়ে অস্বস্তিতে। কী বলবেন?

    ৪। অন্তর্বর্তী সরকার আসার পর থেকেই সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় তাদের বিরুদ্ধে হিংসার প্রতিবাদে সরব। কী ভরসা দেবেন?

    ৫। শেখ হাসিনা সরকারের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। আপনারা সরকারে এলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক কোন দিকে যাবে?

    ৬। একটা আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার এবং জামায়াত মিলিমিশে আওয়ামী লীগের পর এ বার বিএনপি-কেও সরিয়ে দিতে চাইছে। দুই বড় রাজনৈতিক দলকে বাইরে রেখে নতুন শক্তির উত্থান হবে। কতটা ঠিক?

    অর্থাৎ আনন্দবাজার এটা আসলে কোন মিডিয়া না। এটা  নিজেই -“আরেকটা রাজনৈতিক সত্বা বা এনটিটি” – যার আবার বাংলাদেশ নিয়ে এক হিন্দুত্ববাদি অবস্থান আছে।
    আর জামায়াতের সভাপতিকে এখন সেই হিন্দুত্ববাদি আক্রমণ ভেদ করে নিজের কথা বলার জায়গা বের করতে হবে!!!

    প্রস্তুতিহীন জামায়াত সভাপতিঃ
    সবার আগে বলি, এবার ৫ আগষ্টের পরে জামায়াতের ভিতর এক স্ফুর্তি দেখা যাচ্ছে যেন দলের রাজনীতি ও অবস্থান কিছুই ঠিক না করে শুধু গলার জোরে বা চালাকি-পুর্ণ বাকচাতুরি দিয়ে সবার মন জয় করে ফেলবে। এমনকি যেন হিন্দুত্ববাদি মনের ভারতেরও!  অথচ সবার আগে নিজেদের কোন কোন অবস্থান-বক্তব্যগুলো দুর্বল তা কাটানো নিয়ে কোন হোমওয়ার্ক করেন নাই জামায়াত গত ১৬ বছর; যা  তাদের এখনকার কাজ-ততপরতায় ছাপ ফেলে চলেছে। কিন্তু কোন রিয়েলাইজেশন বা আত্ম-উপলব্দি নাই।

    যেমন ধরেন,  ৫ আগষ্টের পরে বিশেষ করে এবারের দুর্গাপুজা-কেন্দ্রিক মন্দির স্থাপনায় কমিউনিটি-পাহারায় জামায়াতের অংশ নেয়া – এপর্যন্ত ঠিক আছে। বরং ভারতীয় প্রপাগান্ডার বিরুদ্ধে এটা বড় ইতিবাচক জবাব তো বটেই সাথে যাকে বলে ঠেসে চড় মারার মত জবাব, অবশ্যই!
    কিন্তু এর পরে কোথায় থামতে হবে তারা সে আক্কেল দেখাতে ব্যর্থ হলেন। তারা জামায়াতের হিন্দু শাখা খুলে বসতে গেলেন। সবচেয়ে মারাত্মক করলেন পুজা মন্ডপ পাহারায় গিয়ে জোশের ঠেলায় ওটা ইসলামের দাওয়া বা প্রচার ছড়ানোর জায়গা মনে করলেন সেটাকে। ‘ইসলামি সঙ্গিত’ পরিবেশন করে আসলেন। কী এক জটিল অবস্থা! ফলাফল বুঝতেই পারেন যা ক্রেডিট এতদিন জামায়াত কামিয়েছিল তা সব পানিতে গেল!

    আচ্ছা উপরে  আনন্দবাজারের অগ্নি রায়ের প্রশ্নগুলো দেখেন। এটা দেখার পরে এখন জামায়াতের নেতারা কী বুঝেছেন যে বাংলাদেশে তাদের পুজা বা হিন্দু সার্ভিস দেওয়ার কায়দা ও এর নতিজা কী? কোন ইতিবাচক প্রভাব কী আছে আনন্দবাজারিদের তাদের প্রশ্নের মধ্যে??? নাকি এটা আরো আক্রমাণাত্মক এক হিন্দুত্ববাদের মুখোমুখি হয়েছিলেন সভাপতি ডাঃ শফিক??
    যার সোজা মানে হল, কোন কাজ কীভাবে করতে হবে, হিন্দুত্ববাদি মনকে ডিল করবেন কীভাবে? এর জন্য এক ভাল ও আগাম প্রস্তুতি লাগবেই! যতদিন তা রপ্ত না হয় ততদিন নিজেদের বিরত রাখেন, ওদের এড়ায়ে চলেন – এটাই একমাত্র পথ! ৫ আগষ্টের পরের জোশে, সব জয় করে ফেলতে পারবেন বলে বিনা প্রস্তুতিতে আগায় যাওয়া ঘটালে এর চেয়ে বড় আত্মহত্যা আর কী হতে পারে?

    আরেকটা দিক হল, জানায়াত নেতাদের মধ্যে এক অদ্ভুত ধারণা। তা হল, তারা এখন ইন্ডিয়ান রাজনীতি মানে, মোদি সরকার, র-এর প্রতিনিধি, বা কোন হিন্দুত্ববাদি নেতা এমন যে কারো সাথে তারা এখন বোধহয় খুবই আপন হয়ে গেছেন!!!!!  এটা হতে পারে কোন র-এর লোকের সাথে কথা হয়েছে আপনাদের, তাদের মিঠা মিঠা কথা ছিল যেখানে ধরা যাক – আওয়ামি লীগের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ না তুললে বা উচ্চবাচ্য না করলে – সদয় আচরণ প্রকাশ করলে বোধহয় তারা জামায়াতকে এখন থেকে অনেক আপন করে নিবে!!! সহাবস্থান তৈরি হবে? তাই কী??? কাজেই জামায়াতের এত উতফুল্ল খোশ-মেজাজের কারণ কী?

    সম্প্রতিকালে অর্থহীন ও কোন ব্যাখ্যা বিহীনভাবে জামায়াতের আওয়ামি লীগ ও ভারতের প্রতি উদারতা প্রকাশ বাংলাদেশের রাজনীতির পরিসরে ব্যাপক সন্দেহ ও ক্ষোভ তৈরি করেছে। তা তো জামায়াত নেতৃত্বের অগোচরে থাকার কথা নয়!  যে উদ্দেশ্য  আওয়ামি লীগ বা ভারত প্রীতি দেখানো – এতে ফলাফল কী একেবারে উলটা হয়ে যায় নাই, উলটা আসে নাই? লাভ দূরে থাক বদনাম আর গায়ে লাগা কালি কী তার চেয়ে বেশি হয় নাই?

    সর্বোপরি, কথিত এই সাক্ষাতকার কী প্রমাণ করে?
    এই হিন্দুত্ববাদি মিডিয়া জামায়াত দল ও এর সভাপতিকে নুন্যতম মর্যাদা দিয়ে কথা বলেছে? উত্তর হল যে, না।
    তাহলে এথেকে জামায়াত দল ও এর নেতারা কী শিক্ষা নিলেন বা নিবেন?
    হিন্দুত্ববাদি ভারতের কারও কথায় পটতে হয় না – তাতে তিনি  মিডিয়ার লোক কিংবা র-এর লোক যেই হন না কেন! তাই নয় কী? আর সবার উপরে নিজের সম্মান রক্ষা করতে হয় সবার আগে নিজেকে। কখনও অন্যের হাতে তা ছেড়ে দেয়া যায় না!

    জামায়াত ও বিএনপির জন্য কিছু শিক্ষা রেখে গেছেঃ
    সবচেয়ে বড় কথা বিএনপি ও জামায়াত কে মনে রাখা দরকার তাদের এই হিন্দুত্ববাদি রাজনীতির সরকারের সাথে অবস্থান থেকে তাদের মিডিয়া ও তাদের আম জনতার অবস্থান এসব কিছু পক্ষে কখনই -বিএনপি ও জামায়াত – বিশেষ করে জামায়াতকে তাদের দরকার কারণ  তাদের সাফাই বা জাস্টিফিকেশন দরকার যে কেন তারা নিজেরা এমন উগ্র হিন্দুত্ববাদি একরোখা? অন্যভাবে বললে, তারা জানে তাদের হিন্দুত্ববাদি রাজনীতির বিরুদ্ধে অজস্র মানুষ প্রশ্ন তুলে থাকে যার জবাব তাদের কাছে নাই। আর সেই ঘাটতি পূরণ  করতে তারা  -বিএনপি ও জামায়াত- কে বাঁকা ভাবে হাজির করবেই। যাতে এটা তাদের অসৎ কাজের সাফাই হয়ে হাজির হয়!!!
    কাজেই বিএনপি-জামায়াতের শীর্ষ নেতারা যারা ভাবছেন – ভারতের সমর্থন পিছনে নিয়ে (র-এর লোকেরা মিঠা আশ্বাস দিয়েছে )  বা পিছনে থাকলে তাদের আগামি নির্বাচনে বড় আসন নিয়ে সংসদে হাজির হওয়া প্রায় সমাগত – এই তো একটু দূরে – এমন তাদের সকলের জন্য আনন্দবাজারের এই কথিত সাকক্ষাতকার হল এক কঠিন শিক্ষা! যে গ্রহণ করবে, বুঝবে এটা তার জন্য শিক্ষণীয়; আর যে বুঝবে না তার জন্য এটা তেজপাতা!!!
    এরা মুখে যা আশ্বাসই দিক না কেন তারা ইসলামবিদ্বেষের জায়গা থেকে বিএনপি ও জামায়াত এর নেতাদের সুযোগ পেলে অপমান করবেই!
    অন্তত জামায়াত নেতাদের এতে কী কোন আক্কেল হবে???

    ভারতীয় মিডিয়াকে মোকাবিলা করতে কিছু পরামর্শঃ
    প্রথম প্রশ্নটার ক্ষেত্রেই দেখা যাক।

    এর জবাবে বলা যেতে পারত যেমন, আমরা ভারত-বিরোধিতা না বরং আমরা বাংলাদেশে ভারতের আধিপত্যের খায়েসের বিরোধিতা করি –
    এতে ওদের তোলা বয়ানকে ফুটো করে  তা ফিরে ওদেরই মুখে মারা হতে পারত!
    সাথে আরেকটা বলা যেত যে ব্যাপারটা – সর্বজনপরিচিত যদি হয়েই গিয়ে থাকে তাহলে আর প্রশ্ন করতে এসেছেন কেন?

    পরের প্রশ্নঃ জামায়াত কে নিয়ে এই প্রশ্ন প্রায়ই আমাদের দেশেও প্রগতিবাদই=হিন্দুত্ববাদিদের থেকে  উঠতে দেখা যায় যা খুবই বিরক্তিকর। প্রশ্নটা হল যেমন – “জামায়াতে ইসলামীকে দেখা হয় কট্টর ইসলামি সংস্থা” বা জামায়াত একক কট্টর সংগঠন বা অনেক বলে এক জঙ্গি সংগঠন!

    এর জবাব হতে পারত যা তা নিয়ে কথা।  আসলে জামায়াত কখনও এসব ফালতু অভিযোগ কে চ্যলেঞ্জ করে নাই বা করতে পারে নাই।  অথচ জামায়াতের উচিত সোজা পালটা চ্যালেঞ্জ করা। দেখাতে বলা যে কোন ঘটনার কারণে কট্টর, জঙ্গী বা এজাতীয় বিশেষনের প্রমাণ কী? বা  এটা বলতে কী বুঝাতে চাইছেন? জামায়াত কী কোন সশস্ত্র সংগঠন? কেন এসব বিশেষণ ব্যবহার করা হুচ্ছে? বাংলাদেশের রাজনৈতিক কালচারে যা পারমিশেবল (মানে চলে বা গ্রহণযোগ্য) যেমন ককটেল, লাঠি, ইট ইত্যাদি বড়জোর কখনও দেশি পিস্তল  বিশেষ করে তা ছাত্র সংগঠন পর্যায়ে লীগ, বিএনপি, জাসদ ইত্যাদি সকলেই করে থাকে। জামায়াতও এসবের বাইরে না। কিন্তু গত ১৬ বছরের ছাত্রলীগ যেভাবে পেটোয়া বাহিনী, হেলমেট লীগ, বা পুলিশের  হাত ধরে পাশাপাশি অস্ত্র হাতে বিরোধিদলের মিছিলে আক্রমণ, খুন করে ফেলা ইত্যাদি করে গেছে – আর যারা এসবের দিকে নজর করে নাই এরা সকলেই হিন্দুত্ববাদি…! মিলিয়ে দেখেন।  এরকম পালটা জবাবে রুখে দাঁড়ানো যেত!
    সোজাকথা, আমাদের গড়ে উঠা নিজের রাজনীতির কালচার অনুযায়ী লীগ, বিএনপি, জাসদ ইত্যাদি যা করে জামায়াত কখনই এর বাইরে নয়; বাইরে যায় নাই। কাজেই এসব কট্টর বা জঙ্গী শব্দের ব্যবহার কেন? বরং এসব প্রশ্নের বিরুদ্ধে পালটা অভিযোগ করা যায় যে আপনি কী উতরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগীর কট্টরতা (মুসলমান হলেই তাঁর বাড়িঘর বুলডোজ করায় চ্যাম্পিয়ান) ও নৃশংসতার সাথে তুলনা করে কথা বলছেন?
    যেমন আমাদের এক নারী উপদেষ্টা একইভাবে – বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন প্রসঙ্গে জবাব দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, যে না তেমন কিছু না। অন্তত ভারতে বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার সাথে যে তান্ডব ঘটেছিল এর তুলনায় কিছুই হয় নাই বাংলাদেশে!

    তিন নম্বর প্রশ্নটা দেখেন। বলছে, – বিএনপি-র একটি অংশ আপনাদের কট্টরপন্থী মনোভাব নিয়ে অস্বস্তিতে আছে – এরপালটা জবাবে বলা যেত যেমন, আপনি কী বিএনপির সাথে আমাদের ঝগড়া লাগিয়ে দেবার চেষ্টা করছেন? কিন্তু সেটা কী আপনার কাজ? আপনার এসব হাইপথিটিক্যাল (কল্পনা করে নেয়া প্রশ্ন) প্রশ্ন আনবেন না প্লিজ! সরি আপনার প্রশ্ন ঠিক নাই। এই বলে এই প্রশ্নের আর কোন কথা বলতেন না, এমন করা যেত!

    চতুর্থ প্রশ্নঃ ……অন্তর্বর্তী সরকার আসার পর থেকেই সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় তাদের বিরুদ্ধে হিংসার প্রতিবাদে সরব। কী ভরসা দেবেন?
    জবাবে বলা যেতঃ আপনার প্রশ্নটাই কী বলছে না যে এটা আপনাদের উস্কানি! না হলে, “অন্তর্বর্তী সরকার আসার পর থেকেই” – এভাবে বলছেন কেন? আমাদের বর্তমান অন্তর্বর্তি সরকার বহুবার বলেছে এটা বাড়িয়ে বলা ভারতের প্রপাগান্ডা। এনিয়ে অন্তত আপনাদের প্রিয় বিবিসি বাংলার রিপোর্ট টা দেখে নিয়েন! তারা কেন এটাকে প্রপাগান্দা বলেছে দেখে নিতে পারেন!

    পঞ্চম প্রশ্নঃ শেখ হাসিনা সরকারের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। আপনারা সরকারে এলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক কোন দিকে যাবে?
    এখানে বলা যেত, এর মানে তাহলে,  হাসিনার ১৬ বছরের ফ্যাসিজম ও এই গুম-খুনের শাসনের পিছনে ও সহায়তায় যে ভারত ছিল তা স্বীকার করে নিচ্ছেন? তবে আপনার প্রশ্নের জবাব হল, এটা ভারতের উপরই নির্ভর করে। ভারত যদি আবার হাসিনা মত ঘনিষ্ট কাউকে তার পেতেই হবে বলে খুঁজে এর দায়ভার ও পরিণতি ভারতকেই নিতে হবে! তাই না?

    ষষ্ঠ প্রশ্নঃ
    একটা আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার এবং জামায়াত মিলিমিশে আওয়ামী লীগের পর এ বার বিএনপি-কেও সরিয়ে দিতে চাইছে। দুই বড় রাজনৈতিক দলকে বাইরে রেখে নতুন শক্তির উত্থান হবে। কতটা ঠিক?
    এর জবাব হতে পারত এভাবে –  এটা আপনার  সীমা ছাড়ানি এক কল্পিত বা হাইপথিটিক্যাল প্রশ্ন ? আপনি নিজেই তো এখনও নিশ্চিত হন নাই যে আপনার কথা-অনুমান সঠিক কিনা। তাই না? তো আগে সিওর হয়ে নেন এর পরে না এই প্রশ্ন করবেন?

    সারকথায়, জামায়াতের প্রতি আনন্দবাজারি এই ঘৃণ্য আচরণ থেকে বিএনপিও চাইলে শিক্ষা নিতে পারে। যারাই ভারতের মোদির সাথে ঘনিষ্ট হতে যাবে, সবকিছুকে খুব সহজ মনে করবে তাদের সবার জন্য এই একই ফলাফল অপেক্ষা করছে!  ভারতকে ডমিনেট বা আধিপত্য করতে দেয়া, বাংলাদেশের বাপ-মা হয়ে উঠতে চাওয়া – এটা নিয়ে যে কেউ নিশ্চিত থাকতে পারে যে যা দেখছেন এটাই এর পরিণতি হবে। আর এটাকেই তো আমরা নাম দিয়েছে ইন্ডিয়ান হেজিমনি বা ভারতীয় আধিপত্য!!!
    এমনকি হাসিনাও  – “ভারতকে আমি যা কিছু দিয়েছি ……” ডায়লগটা স্মরণ করতে পারেন, যদি না ইতোমধ্যেই অন্ধ না হয়ে গিয়ে থাকেন! আর বাংলাদেশের পাবলিক!!!
    ইতোমধ্যেই জনপরিসরে আপনাদের ইজ্জতের কী হয়েছে তা সাহস করে একটু খবর নিতে পারেন। যা সামনে আপনাদেরকে আরো ছিন্নভিন্ন করে দিবে!!!  চুড়ান্ত গণবিচ্ছিন্ন হবেন আপনারা!! – যদি চান, চাইতেই থাকেন!!!

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  সন্ধ্যা ০৬ঃ ৪০   ২২ নভেম্বর  ২০২৪
    শেষ আপডেটঃ      ২০২৪

  • আবার দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

    আবার দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য
    গৌতম দাস
    ৩১ আগষ্ট ২০২৪
    https://wp.me/p1sCvy-5Jg

     

     

    যে একবার ভারতের দালাল সে সব সময় এমনকি সব দুনিয়াতেই দালালি-ই করার সুযোগ খুঁজবে!
    আমি বারবার বলেছি আর  এটা এখন আমার ধারণা যে নতুন সরকারও এটা বুঝে গেছে যে খেলাপি ঋণ চোর খাতকদের গলায় গামছা পেচিয়ে আদায় করা ভিন্ন পথ নেই। কারণ টাকা ছাপিয়ে হাসিনার মত চোরের সমাধানের পথে যাওয়াটা হবে আত্মহত্যা। এটাই দুর্ভিক্ষ ডেকে আনার পথ হবে। মুদ্রাস্ফিতির চাপে গরীব তো বটেই মধ্যবিত্তও সব খাবার কিন্নতে না পেরে মারা যাবে।

    কাজেই বর্তমান ইউনুস সরকারও ব্যাপারটা অনুভব করেছে যে দেশে-বিদেশে থেকে চোর আর ঋণ খাতকদের থেকে অর্থ আদায় এটা এনফোর্স করা ছাড়া বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ভিন্ন পথ নাই। আমাদেরকে ডেসপারেট হলেও হতে হবে; উপায় নাই।

    সেসব সুত্রে গত ২২ আগষ্ট লিখেছিলাম,

    রেহমান সোবহান- দেবপ্রিয়দের সিপিডি (CPD) একটা ভারতীয় স্বার্থের প্রতিষ্ঠান
    অথচ, ইউনুস তাদেরকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থার ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশ এর দায়িত্ব দিয়েছে।
    রেহমান সোবহান- দেবপ্রিয়দের সিপিডি এর এখন উচিত হবে ২০০৪ সাল থেকে বিগত ২০ বছর যত ভারতীয় দালালি এরা নিজেরা করে গেছে এরই শ্বেতপত্র প্রকাশ করা।আমার বক্তব্য আমল পায় নাই। প্রথম আলোর বক্তব্য – অর্থনৈতিক অবস্থার ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশ করা হবে, কমিটির নেতৃত্বে দেবপ্রিয় – এটাই বাস্তবায়িত হয়েছিল। দেবপ্রিয় এর নেতৃত্বে ১২ জনের এক কমিটিও গঠিত হয়েছে।এই গরীবের কথা বাসি হওয়ার পরে ফলেছে।  এনিয়ে আমার আগের লেখার লিঙ্ক এখানেপাবেন। আমি সেখানে প্রমাণ দিয়েছিলাম ২০১১ সাল একচুয়ালি ২০০৭ সাল থেকেই বাংলাদেশ যেন ভারতকে করিডোর দেয় এই দিবার পক্ষে কাছা খুলে দালালি শুরু করেছিল রেহমান সোবহান ও দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ও তাদের  (র-এর অর্থ ছাড়া) অচল সিপিডি [CPD] প্রতিষ্ঠান।
    আর সেই সিপিডির দেবপ্রিয় কেই ইউনুস সাহেব স্বেতপত্র প্রকাশ কমিটির প্রধান করেছেন। এনিয়ে ব্যক্তিগতভাবে কিছু ক্ষমতাবান লোকের সাথে আমাকে সংঘাতে পর্যন্ত যেতে হয়েছে; সম্পর্ক ভেঙ্গে দিতে হয়েছে। তাদের বক্তব্য আমি নাকি ওভার রিয়াক্ট করছি। কিন্তু এখন কী হল?২৯ আগষ্ট দেবপ্রিয় চেহারা দেখিয়েছেনঃ
    গত ২৯ আগষ্ট ছিল দেবপ্রিয়সহ ও ১২জনের কমিটির প্রথম মিডিয়ার সামনে হাজির হবার দিন।
    দেবপ্রিয় কোন রাখডাক আর করেন নাই। সারকথাটা বলেছেন যে, হাসিনা ও তার পরিবার এবং মন্ত্রী-উপদেষ্ঠাসহ পুরাগুষ্ঠি যা কিছু  অর্থ বিদেশে নিয়ে গিয়েছে তা আর ফেরত আনা সম্ভব নয়।অনেকের মনে হতে পারে দেবপ্রিয় ঠিক কী বলেছিল তা জানা দরকার। হা আমারও তাই ইচ্ছা। তাই এখানে NTV এর প্রচারিত ঐদিনের মিডিয়া রিপোর্টের ক্লিপ পাঠক নিজে মনোযোগ দিয়ে পড়ে নেন।

    ভিডিওও টা সবাই নিজে দেখে নেন। এরপরেও ওর ট্রান্সক্রিপ্ট আমি যা বের করেছি তাও এখানে দিয়ে দিচ্ছিঃ

    দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা খুবই জটিল প্রক্রিয়া। মানে বলতে চাইলেন এই অর্থ প্রায় ফেরত আনা যাবে না।
    এনিয়ে NTV এর ভিডিও ক্লিপ সাথে দিয়েছি সবাই নিজে খুলে শুনে নেন।
    এইটা একটা অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া। এই টাকা থেকে যে ঐ বাড়িটা কেনা হয়েছিল ঐ দেশে ওই সময়ে এইটাকে লাগানো ফিট করা এত্তো সহজ নয়। এইটা আনার ক্ষেত্রে যে আইনানুগ চুক্তি থাকে সব দেশের সাথে আমাদের সেই চুক্তিগুলো যথোপযুক্তভাবে নেই। তৃতীয়ত ঐ চুক্তিগুলো কার্যকরভাবে ব্যবহার করার জন্য আইনজীবী থেকে শুরু করে আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞ ইত্যাদি সেই দক্ষতাটুকুও আমাদের নাই।

    এরপরেও অনেকের মনে হতে পারে এত খোলাখুলি তিনি কেমনে বলেন।
    তাই তাদের জন্য, দেবপ্রিয়ের শেষ কথাগুলোঃ
    “তিনি বলেছেন সরকারের লক্ষ্য হওয়া উচিত ভবিষ্যতে যেন অর্থপাচার আর না হয় এবং পাচারকারীদের যেন সর্বোচ্চ শাস্তি হয়”।

    অর্থাৎ এবার এই কমিটি অর্থ ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে তারা কিছুই করতে পারবেন না।  আগামিবার মানে পরের কোন হবু চোর সরকার একই কাজ করলে যাতে সে অর্থ ফেরত আনা যায় সেই ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে চান দেবপ্রিয়!

    দেবপ্রিয়ের এটা খুবই এক স্টুপিড বক্তব্যঃ
    হ্যা, এটা আসলেই দেবপ্রিয়ের এটা খুবই এক স্টুপিড বক্তব্য। কারণ, তিনি নিজেই এই কমিটি গঠনের ন্যায্যতা কী সেই প্রশ্ন নিজেই তুলে ফেলেছেন!
    প্রথমতঃ কোন সরকারের কোন সরকারী কমিটি গঠন (তদন্ত বা স্বেতপত্র প্রকাশের লক্ষ্যে) কোন ফাজলামির বিষয় না। এতে ম্যান্ডেট বা উদ্দেশ্য লেখা থাকতেই হবে, হয়।  কাজেই কমিটি গঠন হয়ে যাবার পরে কমিটিরনেতা কমিটির উদ্দেশ্য-ম্যান্ডেট বা কাজের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন করছেন কেন?
    অথচ দেবপ্রিয়ের বক্তব্য ইউনুসের উদ্দেশ্যকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
    কারণ, দেবপ্রিয়কে প্রধান করে ইউনুসের গঠন করে দেয়া এই কমিটি অর্থ ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে তারা কোন কিছুই যদি নাই করতে পারে তবে ইউনুস সরকারের এই কমিটি গড়ার দরকার কী?
    সেক্ষেত্রে এই যে ১২ জনের কমিটি এদের পিছনে যদি সরকারী একটা পয়সাও খরচ করা হয় সেটাই তো অপচয় হবে, নাকি?তাহলে যে প্রশ্নের সম্মুখীন ইতোমধ্যেই ইউনুস সরকার হয়ে গেছেন বা দেবপ্তারিয় সাহেব করে দিলেন তা হলঃ
    ইউনুস সাহেব কেন এই কমিটি গড়তে গেলেন যারা যোগ্য বা কম্পিটেন্ট না? যারা বলছে এটা কঠিন প্রায় অসম্ভব কাজ! মানে তাঁরা কিছু করতে পারবেন না। তাহলে তারা এখানে কেন?
    এছাড়া এবিষয়টা মানে দেবপ্রিয়ের বক্তব্য কী কমিটির সবার বক্তব্য?   না কেবল দেবপ্রিয় সাহেবের? তা জানা জনগণের দরকার আছে।
    আর এটা তো এখন সন্দেহজনক যে কমিটির উদ্দেশ্য কমিটির সদস্যরাই পরিস্কার জানেন কি না! তাহলে এটা কোন দায়সারা কমিটি?এজন্যই  দেবপ্রিয়ের নেতৃত্বে যারা হাসিনা সরকার ও ভারতের দাবিদারি করে গেছে শুরু থেকেই তাদেরকে দিয়ে কোন কমিটি গড়াকে প্রশ্ন করেছিলাম!
    অথচ পুরা বাংলাদেশের জনগণের দিক থেকে অর্থ পাচার ও খেলাপি ঋণ চোর দেরকে গলায় গামছা দিয়ে আদায় আমাদের জন্য মরা-বাঁচার ইস্যু!
    যেদিকটা দেবপ্রিয়ের বক্তব্যে কোথাও প্রতিফলিত হয় নাই!আর কত? আমরা কী আবার দেবপ্রিয়দের হাতে বারবার পরাজিত হব, ট্রাপড হতেই থাকব?

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ     আগষ্ট ২০২৪
    শেষ আপডেটঃ  আগষ্ট ২০২৪