Category: GOUTAM DAS

  • মক্কা জোট নিয়ে বাসনা বনাম বাস্তবতা

    মক্কা জোট নিয়ে বাসনা বনাম বাস্তবতা
    গৌতম দাস
    ০৪ সেপ্টে. ২০২৬
    https://wp.me/p1sCvy-6C5

    এটা আমাদের bdnews24 থেকে নেয়া ছবি। অভিযোগ মোদিকে বাদ দেয়া হয়েছে শাহবাজ শরীফকে মধ্যখানে দেখাতে…..Pakistan crops Modi, Iran’s Pezeshkian from SCO photo to centre Shehbaz

     

    [এটা মক্কা জোট নিয়ে আমার নতুন কোন অবস্থান না, অনেকে কিছু প্রশ্ন রেখেছেন এর ব্যাখ্যা মাত্র! ]

     

    “চাহানা সে হর কৌয়ি আপনা না-হি হোতি” ….
    এক্সপেক্ট বা আশা, বাসনা করলেই সেটা নিজের হয় না; যেটা আমার বাসনা তা আমার ইচ্ছা মোতাবেক বাস্তব হয়ে যায় না। স্বপ্ন-কল্পনা মোতাবেক বাস্তবতা হয় না। কোনটা আমরা কামনা মানে এক স্বপ্ন-কল্পনা মাত্র কিন্তু বাস্তব না – এই হুশ হারানো যাবে না! 

    বুশের ওয়ার অন টেররের যুগটা অন্তত মুসলমানদের কাছে আসলে কী ছিলঃ
    ওয়ার অন টেরর এর যুগ মানে ২০০১ সালের শেষের দিকে সারা দুনিয়ার মুসলমানদের উপর পশ্চিমা বিশেষত আমেরিকান রাষ্ট্র এর দিক থেকে যখন চরম নিপীড়ন নেমে এসেছিল – সেটাই এই ওয়ার অন টেরর এর যুগ। আর এটা চলেছিল বলা যায় ২০২১ সালে আগষ্ট পর্যন্ত। এই সময় পর্যন্ত শেষে (২০২১ সালে) আমেরিকান আর্মি আফগানিস্তানে তালেবানদের সাথে চুক্তি করে পরে কোনমতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে পালিয়েছিল। মোটামুটি এরপরেই বলা যায় দুনিয়ার মুসলমানদের উপর নির্মম নিপীড়ন ক্রমশ কমতে থাকে, তবু এখন একেবারে চলে গেছে তা বলা যাবে না।
    আমেরিকার টুইন টাওয়ারের হামলা বা ৯/১১ এর উসিলায় প্রেসিডেন্ট (জুনিয়র) বুশ এই ওয়ার অন টেরর এর দুনিয়াব্যাপী মুসলমানদের উপর যুদ্ধ-ঘোষণার এক চরম নিপীড়ন এর যাত্রা শুরু করেছিলেন।  সব ক্রিয়ারই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া থাকে!

    ক্রিয়ার বিপরীত ও সমান প্রতিক্রিয়াঃ
    এখানেও তার ব্যতিক্রম হয় নাই! আমেরিকার টুইন টাওয়ারে হামলা বা ৯/১১ এর হামলায় যে সরকারি মামলা হয়েছিল তাতে যাদেরকে আসামি করা হয়েছিল তারা মোট মাত্র ১৯জন। যার মধ্যে সম্ভবত একজনও আফগানি নন! তবু আফগানিস্তানেই প্রথম আমেরিকান সেনারা হামলা করে তা দখল করে নিয়েছিল যা বিশ বছর পরে ২০২১ সালে এসে ছেড়ে যায়।
    এটা আমেরিকান নানান থিঙ্কট্যাঙ্ক এরই বক্তব্য যে,  মামলার ঐ ১৯ আসামিকে দুনিয়ার যেখানে পাওয়া যায় ধরে নিয়ে এসে আমেরিকায় বিচার করলেই ত যথেষ্ট হত। কিন্তু বুশ সেপথে গেলেন না কেন?  কেন ৯/১১ কে ওয়ার অন টেরর এর পথে যাবার উসিলা বানালেন? কারণ, এটা আমাদের না বুঝার কিছু নাই যে “টুইন টাওয়ারে” হামলা মূলত তাদের সম্মান শ্রেষ্ঠত্ববোধে আঘাত দিয়েছে। ঠিক তাও না, বরং এভাবে ব্যাখ্যা করে এক মেরুর দুনিয়া শাসন করতে পারবেন এখন থেকে এই লোভ রিপাবলিকানদের মনে গোপন বাসনা হয়ে জেঁকে বসেছিল। এনিয়ে বিস্তারিত পরে কখনও!
    সেজন্য ঐ ১৯জনকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসাটাই অনেক যথেষ্ট হতে পারত তা জানলেও কিন্তু বুশ সেটাকে প্রতিহিংসায় দুনিয়াব্যাপী মুসলমানদের উপর যুদ্ধ-ঘোষণার এক চরম বিষাক্ত নিপীড়ন এর যাত্রা শুরু করেছিলেন। যেন সেটা ছিল সমগ্র এথনিক মুসলমান ধর্মীয়-জাত এর বিরুদ্ধে লড়াই। এভাবেই প্রেসিডেন্ট বুশ এই নির্মুলের অপরাধ ঘটিয়েছিলেন।  অথচ আমেরিকার নিজস্ব আইন বা কনষ্টিটিশন কোন এথনিক বিভক্তি বা কাউকে এথনিক শত্রুজ্ঞান করা এটা অনুমোদন করে না। অথচ ততদিনে মেজর আমেরিকান জনমত বুশ ততদিনে নিজ নীতির পক্ষে জাগিয়ে ফেলেছিলেন। তাতে আমেরিকান আইন ঐ মামলায় ১৯ জন আসামির বাইরে বিশতম ব্যক্তিকে হত্যা বা বিচারের অনুমোদন দেয় না- তা সত্য হলেও।

    কোন ক্রিয়া যতই ‘জ্ঞানবুদ্ধি-হীন’ যথেষ্ট ‘সাফাই-যুক্তিহীন’ হয় তাতে বিপরীত এর চরমতম প্রতিক্রিয়াও সে রকমই হয়। মূল কারণ কোন হিতাহিত জ্ঞান শুন্য হয়ে সমগ্র মানবজাতির স্বার্থ উপেক্ষা করে কেবল একটা এথনিক-ধর্মীয় গোষ্ঠিকে নির্মুল-উতখাতের পরিণতি কী হয় তা একেবারেই বিবেচনা না নলে তো এমনই হবে।
    আমরা খুব ভাল করেই চিনি এই “এথনিক নির্মুল” শব্দের অর্থ ও পরিণতি কেমন হয়; শাহরিয়ার কবির এখনও আইসিটি কোর্টে পেটে বেল্ট বেধে আসা-যাওয়া করতেছে! সম্ভবত স্বাভাবিক মৃত্যুর আগে পর্যন্ত এটাই তাকে করে যেতে হবে। তাঁর প্রায়শ্চিত্ত হয়ত এভাবেই বেঁচে থাকা অবস্থায় সম্পন্ন হবে! জাতিসংঘের  আইসিসি কোর্টও তাই “এথনিক নির্মুল” বা “এথনিক ক্লিনজিং (ethnic cleansing) বা বাংলা করে বললে, একটা এথনিক মানবগোষ্ঠিকে মুছে ফেলা বা ফেলার চেষ্টা – এই অপরাধকে সর্বোচ্চ শাস্তির অপরাধ গণ্য করেছে। এর মূল কারণ, নির্মুলের ধারণাটা খুবই ছোঁয়াচে। কোন একটা এথনিক গোষ্ঠিকে নির্মুল করার চেষ্টা মানে আত্মরক্ষায় সেও আপনাকে নির্মুল করে বাঁচবার চেষ্টাই করবে। আর একবার যদি এই পরস্পরকে নির্মুল করা শুরু করে দেই তবে এটা দুনিয়াতে আর কোন এথনিক গোষ্ঠি বেঁচে থাকবে না! এমন অবস্থায় দুনিয়া চলে যেতে পারে! আল্লাহর দুনিয়ায় ‘মানব প্রজাতি (human species)’ বলে কিছু আর বেঁচে থাকবে না! এটা এতই ভয়ংকর আর তাই এতই ছোঁয়াচে উস্কানি! কারণ, সোজা যে  যুক্তিটা প্রথমে মানুষের মাথায় কাজ করে যে আমাকে আমার প্রজাতি (এখানে ধর্মীয় এথনিক জাতকে) নির্মুল করতে আসবে আমার তো তাকেই নির্মুল করা ছাড়া রাস্তা নাই। এমনটাই মাথায় আসে। সাথে এটা ভুলে গিয়ে যে এই উস্কানি ভীষণ ছোঁয়াচে যার পরিণতি হবে আল্লাহর দুনিয়ায় ‘মানব প্রজাতি (human species)’ বলে কিছু-কেউ আর বেঁচে থাকবে না! কিন্তু একথা মাথা ঠান্ডা হলে তবেই না চিন্তার সুযোগ আসবে! মানে এখনই আমাকে কেউ তাড়া করছে না একটু সাময়িক বিরতি পেলে তখন চিন্তা করলে হয়ত বুঝা যেতে পারে। কিন্তু সব অঘটন এর আগে শেষ হয়ে যেতে পারে!

    এই হয়ত-টা ঘটে নাই। আমরাও এর প্রতিকার হিসাবে, এক মুসলমানের দুনিয়া বা কেবল মুসলমানের দুনিয়া কায়েম করা ছাড়া অন্য কোন দুনিয়ার কল্পনা আর আমাদের মাথায় কাজ করে নাই।
    এই বোধ এখনও আমাদের মাথায় কাজ করে তবে সময়ে সময়ে, বিশেষ করে যখন আমাদেরকে যে কোন ‘অনিরাপদ-বোধ’ এই চিন্তা আমাদের চিন্তিত করে ফেলতে পারলে!  মাথায় আসলেই এমনটা হয়! এলেই আমাদেরও মনে হতে থাকে – “কেবল এক মুসলমানের দুনিয়া কায়েম করা ছাড়া” আমাদের নিরাপত্তা কোথাও নাই। আমি মুসলমান – মুসলমান হিসাবে এই বাস্তব দুনিয়াটায় আমি নিরাপদ না – এই বোধ আমাদেরকেও একইভাবে ভাবায় এভাবে যে – আমাদের এনিমি হয়ে যে দাড়ায় তাকেই ঐ একইভাবে নির্মুল করা ছাড়া আমাদের ত বাচোয়া নাই এমন উপায়ের দিকে যেতে সাফাই মনে যোগাতে থাকে – উপযুক্ত পরিবেশ  পেলে যা হয়ত আরও বড়ও হয়ে যেতে পারে! আর সেসময় মাথা ঠান্ডা না থাকলে আল্লাহর বিধানের কথাও মাথায় কাজ করে না!

    মক্কা  নিরাপত্তা জোট গঠনঃ
    সাম্প্রতিক মক্কা নিরাপত্তা জোট (The Mecca Joint Defence Agreement is a) গঠন – এটা (সংক্ষেপে “মক্কা জোট” বলব এখানে) আমাদেরকে এসব একটু পিছনে ফেলা স্মৃতি আবার জাগিয়েছে।
    তবে আসলে ঠিক এটাই না, আরো একটা মুল বা প্রধান দিক আছে। সেটা হল, এই মক্কা জোটের বিরুদ্ধে ইন্ডিয়ান অপ্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া। ইন্ডিয়ান ভয়ের প্রসঙ্গ পরে আসতেছি।
    বাংলাদেশের মানুষের কাছে আসলে মূল বিষয় ঠিক ‘মক্কা জোট’ না; এটা পরে এসেছে। আমাদেরকে প্রথম যা উস্কানি দিয়েছে বিশেষ করে আবার মুসলমান হিসাবে নিজের ভিতরে যা ‘অনিরাপদবোধ’ জাগিয়েছে সেটা হল ইন্ডিয়া; ইন্ডিয়ান বিবৃতির প্রতিক্রিয়া। আমরা আবার এমন চিন্তায়ও (যারা কম চিন্তায় অভ্যস্ত) অভ্যস্ত যে যা ইন্ডিয়া আমাদের বিরুদ্ধে বলে বা আমাদের জন্য খারাপ বলে প্রতিক্রিয়া / হুমকি দেয় সেটাই আমাদের জন্য সঠিক ও ভাল! তাই মক্কা জোট নিয়ে ইন্ডিয়ার এই বিরোধী-বিবৃতি এটাই আমাদের প্রথমে ‘পুরানা’ “অনিরাপদবোধ” আবার জাগিয়েছে। আর সেখান থেকেই প্রতিকার হিসাবে আমরা চোখ-বন্ধ করে ‘মক্কা জোটই’ আমাদের এখনকার একমাত্র চাওয়া বলে আমাদেরকে চরমে প্রভাবিত করেছে। বলে আমার অনুমান!
    এই অবস্থায় ব্যক্তি হিসাবে আমার অনুভব হল যে কেন এমনচিন্তা ভুল বা সঠিক তা শুনবার অবস্থায় (চিন্তা করার সুযোগ সুস্থিরতা এরপরের অবস্থা) আমরা কোন কারণে যখন থাকি না তখনই এসব ঘটে। তাই এনিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে কোন নতুন কথা আমি এখন বলব না; সমীচিন না বা সময় ঠিক না বলে আমি বুঝেছি।

    একটা কথা আমরা নিশ্চিত করে মনে রাখতে পারিঃ
    আমার বিচারে আমাদের আম-প্রতিক্রিয়ার শুরুটা ইন্ডিয়ার এই শয়তানি থেকে; মিথ্যা ভয় দেখানে থেকে। তাই এনিয়ে দুইটা বাক্য বলব।
    ইন্ডিয়া আজ অথবা আগামি অন্তত ২০-২৫ বছর বাংলাদেশে সামরিক আক্রমণ ধরণের যেকোন কিছু করার কথা চিন্তাও করবে না; আমি বলতে চাই ইন্ডিয়া সাহসই করবে না। কেন?
    কারণ, বাংলাদেশের সাথে চীনের আগেই কোন সামরিক চুক্তি থেকে থাক আর নাই থাক – ইন্ডিয়ান আক্রমণের পরিস্থিতিতে এর বিরুদ্ধে আমাদের পক্ষে যেদেশ সবার আগে আগায় আসবে সেটা হবে চীন। এবং সেটা কোন দয়া করে না। চীনের নিজস্ব যুদ্ধকৌশলগত (স্ট্রাটেজিক) মৌলিক (core)স্বার্থ এটাই – সেজন্য। বাংলাদেশ ইন্ডিয়ান কবলে চলে গেলে চীনের  ক্ষতি কো অংশে কম হবে না!  তাতে সেক্ষেত্রে ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে আমাদের রক্ষায় চীনা – যেদিন থেকে যুদ্ধে নেমে যাবে সরাসরি অথবা প্রক্সি যুদ্ধে – এর ভিতরেই কবে যে বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে এক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর হয়ে গেছে যা জানা যাবে হয়ত পরে। এছাড়া চীনের স্ট্রাটেজিক এক নাম্বার পার্টনার রাশিয়ার মাধ্যমে যখন মোদিকে আত্মঘাতি না হতে, বিরত থাকতে বার্তা যাবে আমার মনে হয় এটাই মোদির হুশ আনার জন্য যথেষ্ট হয়ে যেতে পারে।

    গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত Shanghai Cooperation Organisation (SCO) এর সম্মেলনঃ
    একটা তথ্য এখানে যোগ করি। Shanghai Cooperation Organisation (SCO) নিয়ে। এই জোট যা ২০০১ সালে মাত্র ৫ দেশীয় জোট শুরুতে ছিল; চীন-রাশিয়া আর সেন্ট্রাল এশিয়ার ৩ দেশ এভাবে চীন, রাশিয়া আর কিরগিজস্তান, কাজাখস্তান, তাজিখস্তান, মোট মাত্র পাঁচ দেশ ফলে এটাকে অনেকে সাংহাই ফাইভ বলেও ডাকত। পরে উজবেকিস্তান যোগ হয়। এমনকি সেকালে আমেরিকাও এটা প্রচ্ছন্নে সমর্থন করেছিল। পরবর্তিকালে এখন ইরান, ইন্ডিয়া পাকিস্তান আর বেলারুশ সহ মোট সদস্য ১০ রাষ্ট্রের SCO। গত সপ্তাহে  কিরগিজস্তান এর রাজধানি বিশকেক এ SCO এর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল।( 2026 Bishkek SCO summit, (31 August to 1 September 2026 in Bishkek, Kyrgyzstan.)
    আর এই SCO জোটকেই তাদের এবারের সম্মেলন থেকেই এটা যেকোন পশ্চিমা জোটের পালটা কেন্দ্র বলা হয়েছে। দেখেন;

    SCO challenges West as diverse group of nations pursues multipolar future

    এমনকি তুরস্কও সেভাবে দেখে। আর এই সম্মেলন থেকেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন আমাদের মূল সমস্যা ইরানের উপর আগ্রাসন। আমার দেশ লিখেছে, (এটা অনেকেই কোট করে আমাকে পাঠিয়েছে তাই) “ শাহবাজ শরীফ বলেন, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার অন্যতম সদস্য ইরান চলতি বছরের শুরুতে হামলার শিকার হয় এবং দেশটির সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘিত হয়”। তাহলে ইরান এই হামলার শিকার হয় কার হাতে? যেটাতে ইরানের “সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘিত” হয়েছে বলে মনে করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী!
    না, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর এই কথা আমার মুখ্য পয়েন্ট নয়। বরং আসেন প্রশ্ন করেন যে, বিশকেক এর এবারের SCO সম্মেলনে মোদি কেন যোগ দিলেন? এককথায় জবাব বাধ্য হয়েছেন। এমনকি উপরে যে শাহবাজ শরীফের বক্তব্যের কথা বললাম সেটা স্টেজে সবাইকে (উপস্থিত মোদিসহ) সামনে রেখেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বলা কথা।

    আসলে মোদি বড় শত্রু হল মক্কা জোটঃ
    আসলে মোদি বড় শত্রু হল মক্কা জোট।
    কিন্তু সবাই যেটা ধরে নিয়েছেন যে এটা মুসলমানদের জোট সেজন্য! এই অনুমান, এই অংশটা ভিত্তিহীন! এর প্রথম কারণ হল,
    ১. মক্কা জোট মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি থেকে উতপত্তি বা জাত। এর বাস্তবায়ক ইসলামি দেশগুলো হলেও ইন্ডিয়ান উদ্বেগ ঠিক সেটা না, অন্তত এখানে।
    ২. ইন্ডিয়ার উদ্বেগের প্রধান কারণ এতে পাকিস্তান আমেরিকার বন্ধু তো ছিলই এখান আরো প্রো-আমেরিকান ইসলামি দেশের দ্বারা সমর্থিত হল পাকিস্তান। এর উপর পাশে তুরস্ক। তুরস্ককে ইন্ডিয়া শত্রু জ্ঞান করে ঠিক মুসলমান দেশ বলে না বরং এই তুরস্ক আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতির অনুসারি – মার্কিন বোমারু উড়োজাহাজের অস্ত্র ও যন্ত্রাংশ উতপাদনকারী! ফলে এই ‘পাকিস্তানের’ কাছে ইন্ডিয়া মৃতপ্রায় তুচ্ছ ত বটেই!
    ৩. তামাশার কথাটা হল, মোদি নিজে কী উপরের কথাওগুলো জানে না? অবশ্যই জানেন। কিন্তু তাহলে এবার বুঝেন সেই মোদির ইন্ডিয়া তাহলে এসময়ে SCO সম্মেলনে গিয়ে আশ্রয় খুঁজতে হয়েছে কেন?
    ৪. কারণ নাহলে আরো কঠিন শত্রু আমেরিকার পাল্লায় (যে তুরস্ক, পাকিস্তানকে সমর্থন করে) পড়তে হবে। মূল কারণ, মোদির ইন্ডিয়া এখন নিশ্চিত যে আমেরিকা আর কখনো ইন্ডিয়ার পক্ষে না আসুক অন্তত ইন্ডিয়াকে আমেরিকা নিজ কৌশলগত মিত্রের মর্যাদা দেক – এটাই দুরস্ত হয়ে গেছে। কখনও  দুনিয়া আর এমন দিন ফিরবে না!  কারণ,  ট্রাম্প পরিস্কার যে মোদিকে তাঁর আর একেবারেই দরকার নাই। অতএব, তুলনায় SCO জোট মোদিকে যতটুকু নিরাপত্তা দিতে পারে (রাশিয়া আছে সেখানে বলে) ততটুকুই মোদির ভরসা। তাতে মোদিকে ইরানের প্রেসিডেন্টের সাথে সাইড লাইনে ওয়ান-টু-ওয়ান মিডিয়ার সামনে কথা বলতে হলেও মোদি নিরুপায়। একইভাবে নিরুপায় একই সম্মেলন মোদিকে দেখতে হচ্ছে, শাহবাজ শরীফ গলা তুলে ইরানকে সমর্থন করে দেখিয়ে দিচ্ছে যে পাকিস্তানকে ট্রাম্প সমর্থন করে তা সত্বেও পাকিস্তান এমন গলা তুলতে পারে! মোদি কত ক্ষুদ্র এক প্রধানমন্ত্রী এটা প্রকাশ হয়ে পড়া সত্বেও ইন্ডিয়াকে SCO সম্মেলনে যেতে হয়েছে! ওথচ আমরা উলটা ইন্ডিয়াকেই তার বিবৃতি দেখে ভয় পাচ্ছি! মনে রাখতে হবে ইন্ডিয়া পাকিস্তানের চেয়েও তুরস্ককে বেশি ভয় পায় বেশি ও বড় নিজ শত্রুজ্ঞান করে কারণ, তুরস্ক পাকিস্তানের চেয়েও অনেক বেশি ট্রাম্পের ফরেনপলিসি ঘনিষ্ট!

    কেন ঢাকার ইরানি রাষ্ট্রদুত এমন কথা বলছেনঃ
    যুদ্ধের ব্যয়ে একেবারেই দিশাহারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প! সে চায় সৌদির মত ন্মধ্যপ্রাচ্যের দেশ তাকে এই যুদ্ধ ব্যয়ের দায়ীত্ব কিছু অন্তত শেয়ার করুক। আমেরিকার দিক থেকে এটাই মক্কা চুক্তি তাদের চোখে! সেখান থেকে মক্কা জোটকে
    সৌদিদের সাহায্যে ট্রাম্প দেখাতে চায়, এই আওয়াজ উঠাতে চায় যে,  ইরান মুসলমানদের কেউ না। কারণ তারা মূলত শিয়া! এখন এই পরিস্থতিতে ইরানি রাষ্ট্রদুত তো বলতে পারে না যে হা আমরা সৌদিদেরকে শত্রু মনে করি। এতে তো ট্রাম্পই জিতে যাবেন। তাই তিনি কৌশলে মনে করিয়ে দিচ্ছেন – ইরান তো সৌদিতে আমেরিকান ঘাটি যেখানে এর বাইরের কোন সৌদি ভুমিতে তো আঘাত করে নাই। মানে আমেরিকা যেখান থেকে গোলা ছুড়তেছে সেই ভুখন্ড অংশটাই কেবল ইরান শত্রু বিবেচনা করে। অর্থাৎ মূল সৌদি আরব ইরানের কোন শত্রুই নয়!   অর্থাত ইরানি রাষ্ট্রদুত (আমার জানামতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে সুন্নি এবং একাদেমিক) এর অবস্থান দাড়ালো যে, “ আমরা মক্কা চুক্তির বিরোধী না (তবে সেটা এই অর্থে যে এই মক্কা চুক্তি যেন ট্রাম্পের ফরেন পলিসি থেকে উতপন্ন নয় ফলে সম্পর্ক নাই এমন মনে করা হোক)। অর্থাৎ এক জবর কূটনৈতিক পরিভাষায় তিনি ইরানের অবস্থান তুলে ধরছেন ঐ SCO সম্মেলনে!  

    শেষে খুব ছোট করে তারেক সরকারের মানে খলিলের অবস্থান নিয়েঃ
    গত প্রায় দুবছর ধরে খলিল-ইউনুসের অবস্থান প্রতিটা ক্ষেত্রে আমেরিকান বা ট্রাম্পের ফরেন-পলিসির অনুগত। অর্থাৎ আমেরিকান ফরেন পলিসির বাইরে তাদের কোন মতামত নাই।  অর্থাৎ ট্রাম্পের সাথে একই অবস্থানে। এখন যেকোন বুঝ থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেকেও আবার এটা মেনে নিয়েছেন; খুব সম্ভবত তাঁর ‘ভারসাম্য’ প্রীতি (ঠিক যেমন ভারসাম্যের পট্টি পরিয়ে বোয়িং কেনানো হয়েছে) এই ভয় নাকি বেকুবি মানে ঐ যে বলে না – বনের বাঘ না মনের বাঘই মানুষকে খায় – এই সুত্রে – খলিল এই সুবিধাটা ফিক্সড করে গেছে তারেকের মনে গেথে দিয়ে। যেটা এখন তাই  হুমায়ন কবিরের প্রকাশ্য অবস্থান।  আর এই সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের উসিলায় আমেরিকায় গেলে দুমিনিটের জন্য ট্রাম্প দেখা দিলে তো তারেক জাত-নেতা হবে এমন লোভও খলিল পেশ করেছে বলে জানি!

    এখানেই শেষ করবঃ তাহলে শত্রু কে?
    কেবল একটাই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে বলব আমার পাঠকদেরকে তাতে বাংলাদেশের আম-মানুষ যার যে অবস্থানই থাকুক। আপনারা যেকারণেই মক্কা চুক্তিকে সম্পর্থন করেন না কেন একবার নিজেকেই জিজ্ঞাসা করে নিবেন তাহলে, আপনার বুঝাবুঝিতে মক্কা চুক্তির শত্রু টা কে? মানে এনিমি টা কে? দয়া করে শত্রু তাহলে কে হল – এটা নিশ্চিত না জেনে বা না হয়ে শুধু আপনি মক্কা চুক্তির পক্ষে (হয়ত তা ইন্ডিয়ার ভয়ে) এই অবস্থান তো অর্থহীন হবে! এটা মনে রাখবেন! ইরানসহ সবাই যদি মক্কা চুক্তির পক্ষে যায় তাহলে শত্রুটাকে? এর জবাব আমাকে দিবার দরকার নাই, নিজেই নিজেকে সন্তুষ্ট করতে পারে এমন জবাব দিয়ে রেখেন।  

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক

    ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

     

  • কেন ইন্ডিয়া সাথে ইউনুসের চেয়ে একা তারেক কাম্য ভাবছে?

    কেন ইন্ডিয়া সাথে ইউনুসের চেয়ে একা তারেক কাম্য ভাবছে?
    গৌতম দাস
    ০২ আগষ্ট ২০২৬
    https://wp.me/p1sCvy-6BC

    এমন একটা প্রশ্ন তৈরি করে জবাব দেওয়ার উসিলায় এই লেখা।
    কেন ইন্ডিয়া তারেকের সাথে ক্ষমতার ভাগীদারি ইউনুসের চেয়ে একা তারেক বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী থাকুক এটা তাদের জন্য ভাল ফলে কাম্য ভাবছে?  এই প্রশ্নটা এরকমই প্রায় তবে অন্য  নিজভাষায় সাজিয়ে আমার এক পাঠক ফেসবুঝে দিয়েছিল। সেখানে ওর জবাব দিয়েছি। কিন্তু প্রশ্নটা আরও সাধারণের প্রশ্ন হলে কেমন হত সেই কল্পনা করে এই প্রশ্নোত্তর এখানে!
    অরিজিনাল প্রশ্নটা ছিল অনেকটা ম্যাথামেটিক্যালঃ তার মানে ভারতের জন্য তারেক+চায়না বেটার দেন ইউনুস+ আমেরিকা? দাদা ভারত ঠিক কি কারনে চায়না থেকে আমেরিকাকে বেশী ঝামেলার মনে করে?

    জবাবটা এখান থেকেঃ
    বাংলাদেশের উপর ইন্ডিয়ার আধিপত্যের রুস্তমি চালায় যেতে ইন্ডিয়া মনে করে তার সেসব পাওয়ার স্বর্ণযুগ ছিল ২০০৭-১৬ সাল যা আমেরিকা তাকে তখন দিয়েছিল। আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইন্সটিটিউট নামের এক আমেরিকান থিঙ্কট্যাংকের আয়োজিত ইন্টারনাল সভা থেকে, ২০০৭ সালের জুনের আগে আগে। যেখানে আমেরিকার দিক থেকে উপস্থিত বড়কর্তা ছিলেন (আমাদের ভাষায় যেটা মন্ত্রণালয় সচিব) আন্ডার সেক্রেটারি  R. Nicholas Burns (served until March 2008)।বাংলাদশের দিক থেকে দেখলে, এটাই ২০০৭ সালের ১/১১ বা ১১ জানুয়ারির ক্যু; যেটা ছিল মঈন-ফকরুদ্দিনের  আমেরিকার হয়ে এক ক্ষমতাদখল ঘটিয়ে দেয়া।  এরই পরবর্তি ছয় মাসের মধ্যকার ঘটনা!
    এটা ছিল আবার ইন্ডিয়ার দিক থেকে দেখলে, আমেরিকার বাংলাদেশ দখল করে ইন্ডিয়াকে পাইয়ে দেয়া – বাংলাদশের উপর ইন্ডিয়ার এমন মাঙনা কর্তৃত্ব হেজিমনি বা আধিপত্য যার রুস্তমি ইন্ডিয়ার কেউ বাপের জন্মেও চিন্তা করে নাই। তাই এটা এখন ট্রাম্প-২ এর আমলে এসে একেবারেই নাই হয়ে গেলেও কংগ্রেস-বিজেপি সবার কাছেই পুরানা স্মৃতিটা এখনও এমন চির-কাম্য যেন এককালে মামার বাড়ি গিয়ে কিছু খাওয়া যা আজীবন মোচে লেগে আছে এমনই এক সুখ স্বপ্ন-অনুভুতি! যা ইন্ডিয়ার মুরোদে আগে স্বপ্নেও ছিল না।
    বাংলাদেশের (পুর্ব-পাকিস্তানের) উপর দিয়ে কখনও নেহেরু-গান্ধিকে করিডোর নিতে হবে এটা তাদের স্বপ্নেও ছিল নাঃ
    নেহেরু-গান্ধী কেন (এমন ইন্ডিয়া-পাকিস্তানের ভাগ মেনে নিছিলেন কোন আওয়াজ ছাড়াই) যেটা ইন্ডিয়ার পুরা নর্থ-ইস্ট জুড়ে [বাংলাদেশের মাথার উপরে একদিকে আসাম থেকে অন্যদিকে নিচে ত্রিপুরা / উপরে নাগাল্যান্ড] একমাত্র শিলিগুড়ির চিকেন নেক দিয়ে বাকি ইন্ডিয়ার সাথে কানেক্ট থাকুক এটাই চেয়েছিলেন এবং এটা মেনে নিয়েই ১৯৪৭ এর ইন্ডিয়া-পাকিস্তান ভাগাভাগি হয়েছিল। সবচেয়ে বড় কথা নেহেরু-গান্ধি তাদের সারা জীবনে কখনও কোন কথা বলে নাই। ক্ষোভ, আগ্রহ বা চাহিদা প্রকাশ করেন নাই। শিলিগুড়ির চিকেন নেক দিয়েই নর্থ-ইস্ট সংযুক্ত থাকুক ও থাকবে – এনিয়ে তেরে জীবিতক্লে কোন কথাই তুলেন নাই। উলটা করে বললে, বাংলাদেশের উপর দিয়ে ইন্ডিয়ার করিডোর লাগবে না, সেটা কোন কাজে লাগবে?  এমন একটা ধারণা তাদের ছিল। এছাড়াও এরচেয়ে কম চাহিদার, কম পরিচিত আর এক কোনে পড়ে থাকার আসাম-ত্রিপুরার নর্থ-ইস্ট (আনন্দবাজারের ভাষায় শান্তির পিসফুলনেস আসাম-ত্রিপুরার নর্থ-ইস্ট) হলে বরং ভাল; সেটা ভেবেই তো (চিকেন নেক সংযুক্তিই ইন্ডিয়ার জন্য সবচেয়ে ভাল আর সেফ) এটাই চেয়েছিলেন। তাহলে ২০০৭ সালের পরে ইন্ডিয়ার বাংলাদেশের দেশের উপর দিয়েই করিডোর লাগবে, বাংলাদেশের সমুদ্র বন্দর লাগবেই এই চাহিদার ললা বের হচ্ছে কোথা থেকে? এটাই মাঙনা পেলে ডাকাতের আলকাতরাও খেতে চাওয়া।
    এটাই এশিয়ায় ইন্ডিয়ার আমেরিকান-প্রিয়তার শুরু!
    প্রেসিডেন্ট বুশের সেকেন্ড (২০০৫-৮) টার্ম সেটা।  আর ২০০৭ সালেই প্রেসিডেন্ট (ইনফরমালি) জেনে যায় যে চীন অর্থনৈতিক গ্লোবাল নেতা হিসাবে উঠে আসতেছে। এনিয়ে আমেরিকার নিজস্ব স্টাডির রিপোর্টটা প্রকাশিত হয়েছিল ২০০৮ সালে। সেখান থেকেই পাল্টা প্রতিকার হিশাবে প্রোগ্রামের  চীন ঠেকানো [Containment of China]। যদিও ঐ রিপোর্টেই সাবধান করা ছিল এই উত্থান ঠেকানোর অযোগ্য [irreversible]। কিন্তু সেকথা কানে না নিয়ে বুশ এগিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আর সেখান থেকেই ইন্ডিয়া আমেরিকাকে এশিয়ায় চীন ঠেকায়ে দিতে সহায়তা হবে চিন্তা করেছিল – আমেরিকার প্রেসিডেন্ট! সেখান থেকেই একটা হাসিনা-পুতুল বসায়ে দিয়ে ইন্ডিয়ার ১৭ বছরের বাংলাদেশ দখল!
    কিন্তু আমেরিকা ২০১৬ সাল থেকেই টের পেয়ে যায় যে  ইন্ডিয়াকে এই দেয়াথুয়ায় আমেরিকান কোন লাভ হচ্ছে না। তাই পরের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প-১ এর আমলে ২০১৭ সাল থেকেই ইন্ডিয়াকে আগে দেয়া সকল সুবিধা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। এরচেয়ে বঙ্গোসাগরে আমেরিকান নৌ-উপস্থিতির নিশ্চিত করা ছিল আমেরিকান অনেক পুরান স্বপ্ন, বেশি প্রয়োজনীয় মনে করে আসত সেটা সামনে আসে। যেটা প্রেসিডেন্ট বুশ এতদিন পাশে সরিয়ে রেখেছিল; ২০০৪ সাল থেকেই ইন্ডিয়ার সাথে খাতিরের সম্পর্ক শুরু করে পারমানবিক টেক দেয়া শুরু হয়। ২০০৬ সালে তিনি নিজেই ইন্ডিয়া সফরেও গেছিলেন।  কিন্তু ২০১৬ সালের পর থেকে যেক্ষেত্রে আবার আমেরিকার-ইন্ডিয়ার মধ্যকার সবচেয়ে পুরানা বিবাদ বা চাহিদা-সংঘাত সঙ্গোপনে হাজির হতে থাকে। যদিও উপরে আরেকটা নয়াপর্দা তখনও টাঙ্গিয়ে দেয়া হয়েছিল। ইন্ডিয়াও লোভি তো হয়েই ছিল!
    তাই বাস্তবে, ২০১৭ সাল থেকে আমেরিকার বাংলাদেশ ইন্ডিয়াকে দিয়ে দেয়া সমর্থন করে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেলেও পরের আরো দশবছর ইন্দো-প্যাসেফিক স্ট্রাটেজি (IPS) বা কোয়াডের(QUAD) এসব নানান নামে আমেরিকার-ইন্ডিয়ার কেবল স্ট্রাটেজিক সম্পর্ক ধরে রেখেছিল। কিন্তু সেটাও তেমন কোন ফল দিচ্ছে না বলে আমেরিকান মনে করা পারসেপশন শুরু হয়েছিল। কারণ, আমেরিকা এসব স্ট্রাটেজিক সম্পর্ক থেকে একটা সামরিক জোটে এটাকে রুপান্তরের পদক্ষেপ নিতে চাচ্ছিল। আর তা থেকেই তাল কেটে যাওয়া শুরু হয়। তাই ট্রাম্প আমলে এসে এসব শেষ। উলটা ট্রাম্পের ৫০-১০০% শুল্ক ছাড়া কথা নাই। তবু ইন্ডিয়ার স্বপ্নের পোলাও হয়ে থেকে গেছে সেই ২০০৭-১৬ সালের দিনগুলো যদি ফেরত পাওয়া যেত!!! এর পিছনের বড় কারণ হল ২০১৩ সাল থেকে ইন্ডিয়ার ধরেই নিয়েছিল নীতি-পলিসি সাজিয়ে ফেলেছিল (এমনকি কোন কোন স্কুলে বাচ্চাদের শিখিয়েও ফেলেছিল তাদের প্রধান শত্রু এখন পাকিস্তান নয় চীন) যে  রাইজিং চীনের সাথে ইন্ডিয়ার আর সম্পর্ক-ব্যবসা-ঋণ লাগবে না। তাই এই উলটা প্রকাশ্য বিরোধিতা করত এই ভেবে যে  এটা করে দেখাতে পারলে আমেরিকা খুশি হয়ে আবার যদি ফিরে!!!  সেই কল্পনা-লোভ ইন্ডিয়ার চোখে চকচক করে উঠে! যদি তা কল্পনা মাত্র!
    এখনকার বাংলাদেশে ‘আমেরিকান রাষ্ট্রস্বার্থ প্রতিনিধির নাম ইউনুসঃ এটা ইন্ডিয়ার জন্য অকল্পনীয়
    এখন একালে এসেও যদি সেই আমেরিকা বলতে আমেরিকান রাষ্ট্রস্বার্থ প্রতিনিধির নাম ইউনুস হয়যে বাংলাদেশের পরিচালক (আধা ক্ষমতার হলেও) হয়ে ফিরে আসে? যদি বলে আসামসহ ইন্ডিয়ার নর্থ-ইস্টকে বঙ্গোপসাগরে যেতে হলে আমাদের সাথে কথা বলতে হবে; কারণ আমরা বঙ্গোপসাগরের গার্ডিয়ান!!!!
    সেক্ষেত্রে স্বভাবতই মোদি এই নয়া ইউনুস ঠেকাতে বলবে বাবা তারেক তুমিই আমার আসল বাবা,তুমিই একমাত্র বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর হকদার হয়েই থাকো; আর আমি তো আছিই তোমার সাথে। আর তুমি বললে ত আমি কালকেই হাসিনাকে ইন্ডিয়া থেকে বের করে দিচ্ছি তুমি চিন্তা করো না। আর মনে মনে ইন্ডিয়া নিজেকে বলছে কল্পনা করছে এই আমেরিকান ইউনুস-খলিল যেন বাংলাদেশের ত্রিসীমানায় না দেখি! সেটা কী আল্লাহ দিবে?
    তবু কথা শেষ হয় নাই। ইন্ডিয়ার আবার ভয়ও হয় যদি ইউনুসের প্রভাবের সামনে না তারেক পা পারে, ফেল করে, পেরে না উঠে?

    এই চিন্তা করে দীনেশ ত্রীবেদীর সার্গিও গরের সাথে দেখা করে একটা অনুরোধ – বাংলাদেশে যাই করেন ওস্তাদ – ইউনুস-খলিলের এই দুজনকে বাংলাদেশের ক্ষমতার সাথে রেখে কোন ব্যবস্থার চিন্তা কইরেন না! আপয়ার দোহাই লাগে…..

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    ০২ আগষ্ট ২০২৬

     

  • আজকের দিনটা দাগিয়ে রাখার মত রিমার্কেবল

    আজকের দিনটা দাগিয়ে রাখার মত রিমার্কেবল হয়ে থাকল!
    “তারেক ক্ষমতায় থাকলেও মূল ক্ষমতা আমার হাতেই থাকবে” – সেদিন কী এসে গেল?
    গৌতম দাস
    ২৯ জুলাই ২০২৬
    https://wp.me/p1sCvy-6AO

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, খলিলুর রহমান ও সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস

     

    আজকের দিনটা দাগিয়ে রাখার মত রিমার্কেবল হয়ে থাকল! যদিও বেশিরভাগ জনেরই এটা ত ঠাহরের বাইরে এখনও।
    কিন্তু হলটা কী, হয়েছে টা কী? তা অনেকভাবেই বলা যায়! যেমন বললাম, তারেক রহমানের ন্যানি বদল হয়ে গেছে তিনি জানেন না। ‘ন্যানি’ মানে জানেন নিশ্চয়।  অবস্থাপন্ন লোকেদের স্ত্রীদের নিজহাতে কোলে করে বাচ্চা মানুষ করতেই হয় না। যার কোলে (সে বেতনভুক এক নানি যেন  এমন সহকারি; বাচ্চা পালাই তার কাজ) ওর দেখভালেই বড় হয় বাচ্চা আর সেই-ই ন্যানি। অনেকসময় তাই বাচ্চা বড় হয়ে গেলেও ন্যানির সাথে তার এটাচমেন্ট অনেকদিন বেশি ঘনিষ্টই থেকে যায়। আর আসল মা? সে তো নিজ শরীর আকৃতি ঠিক রাখার জন্য বুকের দুধটাও ঠিকমত খাওয়াতে চায় না। যত কম করে চালানো যায় এভাবেই পার করে দেয় প্রথম দুবছরটা।
    ওদিকে তারেকের দিক থেকে দেখলে, রাজনীতি কী? জিনিষটা ঠিক আসলে কী? কিভাবে তা জানতে বা এর কোন ট্রেনিং, পড়াশুনা ওরিয়েন্টেশন কখনই তারেকের নেয়ার সুযোগ হয় নাই। জন্মগত ভাবেই সে নেতা এসব না জানা, না কোন অভিজ্ঞতা থাকলেও। কাজেই একটা “রাজনৈতিক ন্যানি” তো মাস্ট তাঁর লাগতই। কিন্তু প্রবলেম আরো একটা। ১৭ বছর সে বিদেশে যে সময়টাতে সে তার পরিণত বয়সটা পার করেছে তাই ততদিনে জেনে ফেলার বয়স তখনও অনেক কিছুই। বিশেষ করে রাজনীতিটা। অথচ তাঁর আশেপাশে কেউ নাই, ছিল না। যে তাঁকে সাহায্য করবে! তাই হাসিনা-উত্তর দেশে ফিরে কে তাঁকে নেতৃত্ব মানে একেবারে সরকারের ক্ষমতা বসতে তৈরি জায়গা করে দিবে সেটাই ছিল বিশাল এক বিশাল সমস্যা। আর ঠিক এটারই অফার তাঁর মুখের সামনে নিয়ে এসে তুলে ধরেছিলেন খলিলের মাধ্যমে ইউনুস!
    সেই অর্থে ইউনুস হয়ে যায় তারেক রহমানের ন্যানি!
    পরবর্তিকালের কিছু ঘটনা দেখে অনুমান হয় তারেক সম্ভবত ভেবেছিল আগে রাজা হয়ে তো নেই পরে ন্যানিকে না হয় কিছু “অবসরভাতা’ দিয়ে বিদায় করে দিব!!!
    তারেকের সেই থেকে যে একেবারেই কাঁচা নবিশ আর বিপরীতে ন্যানি ইউনুস যে আমেরিকার ‘ডেমোক্রাট থিঙ্ক ট্যাঙ্ক’ আর সোরেস ফাউন্ডেশন থেকে ট্রেইনড তা মনে হচ্ছে তারেকের ধারণাতেই ছিল না। আজকে তাই সকাল থেকেই (যা কয়েকদিন থেকেই অনুমিত হচ্ছিল) মানে দৃশ্যপটে খলিলুর রহমানের আগমন হওয়া থেকে পুরা পরিস্থিতি এখন খলিল-ইউনুসের হাতের মুঠোয় চলে গেল অনুমান হচ্ছে। এমনকি মোদি (বা তার বাইরের ছবি ঢাকার হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদি) এদের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে সব হারিয়ে মোদিও এই প্রথম ইউনুস-খলিলের পোষাকের আঁচল ধরে হাটা শুরু করেছে; আর উপায়ন্ত সব হারিয়ে এতেই এরা মহা খুশি!
    ত্রিবেদি প্রায় মাস খানেক ঢাকায় এসে থাকছেন তবু আজই প্রথম আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে খলিলের সাথে বিশেষ মোলাকাত করে সে আহ্লাদিত তা জানিয়েছে। মানে যেন আর তারেক কী সিদ্ধান্ত দেয় এই দুশ্চিন্তায় থাকতে হবে না; এখন আসল লোক খলিলকেই পাওয়া গেছে তাই আহ্লাদ হয়েছে!

    ইউনুস সাব আনুষ্ঠানিক সরকারের ক্ষমতা ছেড়েছেন ১৭ ফেব্রু. ২০২৬। এর অন্তত তিনমাস আগে থেকেই তিনি যাকেই তার ঘনিষ্ঠ মনে করেছেন, সামরিক-বেসামরিক সবাইকেই তিনি জানিয়ে গেছেন অবলীলায় যে তারেক ক্ষমতায় এলেও আসল ক্ষমতা আগের মতই তাঁর হাতেই থাকছে। এমনকি একথাগুলো বিশ্বাস করানোর জন্য তিনি এতই কসরত করেন গেছেন যে এর বিস্তারিত বলাটাও বিপদজনক; বিচার বিভাগই ভেঙ্গে পড়তে পারে এমন!  আমি এদের অনেককেই দেখেছি পরের অন্তত তিন-চার মাস পর্যন্ত তারা যে এটা বিশ্বাস করছেন, তখনও করেন সেটাও তখনও তা আমাকে জানিয়েছেন।
    তাই আজকেরদিনের পরে এমন সকলেই এখন ইউনুস-কে কুর্ণীশ করতে চাইবেন; হয়ত এতা ভাববেন যে হুজুরে-ওয়ালা এবার ঠিকই এসে  নাজিল হয়েগেছেন!

    তাহলে আজকের ঘটনাটা ঠিক কী ঘটেছেঃ
    গত প্রায় মাসখানেক ধরেই আমি কামান দাগছিলাম “ভারসাম্য” শব্দটার উপর। ইংরাজিতে যা ব্যালেন্স – এই সম্পর্ক এই কথাটার উপরে। আমি অনুম,আন করেছিলাম তাই বলছিলাম – খলিল-ইউনুস এখন আবার দাবি করবে তারা বাংলাদেশের জন্য এক ভারসাম্যপুর্ণ সম্পর্কের পক্ষে আছেন কাজ করছেন। সুশীলভাবে বলবেন হা চীনকেও দরকার কিন্তু পাশাপাশি আমেরিকার সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্ক রাখতে হবে এজন্যই তারা আমেরিকার জন্য কাজ করতেছেন।
    আমার সেই অনুমানই সঠিক হয়েছে।

    খলিলুর রহমান বলেছেন, “একজনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষতি করে আরেকজনের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি করছে—আমরা কখনও সেটা করবো না। সব দেশের সঙ্গে স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে আমরা সম্পর্ক বৃদ্ধির চেষ্টা করেছি।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, “এটা তো স্ত্রী ও সতিনের মধ্যে মারামারি নয়। এটা হচ্ছে স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক, যেখানে আমাদের স্বার্থ, আমরা সেখানে যাবো।”  – বাংলা ট্রিবিউন ২৯ জূলাই’২৬

    “কূটনীতিতে আমরা আন্দাজে কাজ করি না। আমরা বাস্তবতার ভিত্তিতে কাজ করি—এটা মনে রাখবেন। কারও সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন মানে এই নয় যে আরেকজনের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে। চীনে আমাদের অত্যন্ত ভালো সফর হয়েছে। ভবিষ্যতে যদি ভারতে আমাদের প্রধানমন্ত্রী যান, ভালো। আমরা আশা করবো সেই সফরটিও অত্যন্ত ভালো হোক।”  – বাংলা ট্রিবিউন ২৯ জূলাই’২৬

     “এই যে মার্কিন দূত আসবেন, আমার সঙ্গে সেক্রেটারি অব স্টেটের (Marco Rubio)  দেখা হয়েছে। এই ইন্টারেকশনগুলোর মাধ্যমে আমরা সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চাচ্ছি। বাংলাদেশের সঙ্গে তো একটা দেশের না, বহু দেশের সম্পর্ক আছে। এটা তো স্ত্রী এবং সতিনের মধ্যে মারামারি নয়। এটা হচ্ছে স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক, যেখানে আমাদের স্বার্থ আমরা সেখানে যাবো।” মার্কিন দূতের আগমন ঘিরে কোন চাপ অনুভব করছেন কিনা—এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা কোনও চাপ অনুভব করছি না।”  – উপরের লিঙ্কটাই

    মিডিয়া রিপোর্ট বলছে  খলিল গতকালই আমেরিকা, ফিলিপাইন ও মালদ্বীপ সফর শেষে দেশে ফিরেছেন। আর সকাল থেকে পরিকল্পিতভাবে কাজ শুরু করেছেন।
    আমি আগে যেটা বলছিলাম ভারসাম্য কথাটার মূল অর্থকে বদলে দিয়ে এই শব্দটাকে টুইস্ট করে নতুন অর্থদান করবেন  ইউনুস-খলিল। ঠিক সেটাই হয়েছে। খলিল বলছেন, একজনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষতি করে আরেকজনের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি করছে—আমরা কখনও সেটা করবো না।
     আসলে এটাই তো ওবামা আমল (২০১৬) থেকে চালু আমেরিকা ফরেন পলিসি। যার সারকথা হল, বাংলাদেশের মত দেশ চীনের সাথে (কমসুদের অবকাঠামো) ঋণসহ অন্যান্য সব বাণিজ্যিক সম্পর্কও আর রাখতে পারবে না। রাখতে সব ধরণের বাধা দেয়া হবে। এটাই কালক্রমে শেষে গুছিয়ে নামকরণ কর হয় ইন্দো-প্যাসেফিক পলিসি / স্ট্রাটেজি [IPS]। যেটা এবার ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পরই (ট্রাম্পের প্রথমবারে (২০১৭-২০) তিনি IPS পলিসি অনুসরণ করা সত্বেও এবার তা নয় বরং ) এতে গুরুত্ব না দিয়ে যা ইচ্ছা শুল্ক আরোপে মেতেছেন।
    এখন এই অবস্থায় চীনও তাই একই পলিসিতে তার কাছে কেউ (যেমন বাংলাদেশ) সম্পর্ক করতে গেলে আগে চেক করে যে আমেরিকার সাথে সেই দেশের সম্পর্ক হাল্কা বা দুর্বল আগে হয়ে আছে বা করেছে কিনা। যদি না করে তাহলে চীনও অর্থ ছাড় করার সময় এলেই শ্লথ – ধীরে অগ্রসব হওয়া শুরু করে দেয়। এছাড়া আগেই ব্রিকস, আশিয়ান, RCEP, SCO ইত্যাদি গ্রুপের সদস্য হয়ে আসতে বলে। কারণ চীন জানে এসব সদস্য হওয়া আমেরিকার না পছন্দ!
    তাহলে এই বাস্তবতায় ভারসাম্য কথার কী কোন ব্যবহারিক অর্থ আর থাকে?  এককথায় আমেরিকার (খলিল-ইউনুসের) হাত না ছাড়লে চীন সে দেশের সাথে সম্পর্কের সিরিয়াস স্তরের ভিতরে প্রবেশই করবে না। এটাই আরো উতসাহ ভরে চীন যেন সম্পর্কটাই না হয় সেটা করাই চীনের নীতি হলেও –  ইউনুসের বেলায় ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বাইডেনের সাথে সাক্ষাতের সফরের আগে ইউনুসকে পই পই করে বলে দেয়া হয়েছিল। অথচ তিনি শুরু আমেরিকাকেই কী কী ব্যবসা দেয়া যায় সেই সম্পর্ক অগ্রসর করে এসেছিলেন। পিটার হাস সরকারি চাকরি ছেড়ে কোম্পানির একজিকিউটিভ হয়ে আসেন সেজন্যই।  তবু চীন বাজেট সহায়তা দিয়েছিল বলে ২০২৫ সালের বাজেট দিতে পেরেছিলেন ইউনুস। অথচ নিজ বেইমানি চালিয়ে গেছেন – আমেরিকার পক্ষ নিয়ে নিজ আমেরিকান পাওয়ার লবি শক্ত করেছেন আর বাংলাদেশের সাথে বেইমানি করেছেন।
    এককথায় বললে আমেরিকার IPS পলিসি মানেই চীনের সাথে সম্পর্ক করতে যেন না পারি আমরা। অথচ ভারসাম্যের কথা তুলে মিথ্যা বলছেন খলিলুর। চালায় দিতে চাইছেন যে উনারা নাকি ভারসাম্য করতেছেন তাই আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষতি করে আরেকজনের মানে চীনের সাথে সম্পর্ক করবেন না।

    এছাড়াও এবার আরো একটা এডিশন বা নতুন যোগ আছে। দিনকে দিন মোদি টের পেয়েছেন তারেক তার সাথে ডিল করবে না। তাই উপায় না পেয়ে মোদি এখন ইউনুস-খলিলের নৌকায় উঠেছেন। তাই খলিলুর বলছেন, ভবিষ্যতে যদি ভারতে আমাদের প্রধানমন্ত্রী যান, ভালো। আমরা আশা করবো সেই সফরটিও অত্যন্ত ভালো হোক। অর্থাৎ তিনি ইতোমধ্যে তারেককে মোদি সফরে যেতে উস্কায়ে এসেছেন।  আর তাতে দীনেশ ত্রীবেদি এতই খুশি হয়েছেন যে আজ খলিলের সাথে প্রথমবার পররাষ্ট্র গিয়ে মুলাকাত-ই করে এসেছেন।
    যার মানে হল, আমেরিকা তো তারেকের কান্ধে উঠছেই মানে খলিল তুলে দিলেন সাথে ফেউ হিসাবে ইন্ডিয়াকেও তারেকের কান্ধে! অথচ কেউ খেয়াল করছেন না, এতদিন “আপা ফিরতেছে”-ওয়ালারা মোদির উপর আর ভরসা রাখতে পারছিলেন না; হতাশ হয়ে গেছিলেন। এর অর্থ এখন আজ খলিলের বাণী শুনে আবার লীগের চাপও এখন তারেককে মোকাবিলা করতে হবে।

    সবশেষে আরেকটা দিক দেখাবো। ইউনুস তারেকের উপর  সৃষ্টি করার বা করতে কিছু বাদ রাখেন নাই। আর সেজন্যই কী হবিগঞ্জের এনসিপি-বিএনপির মুখোমুখি হয়ে যাওয়াটা এর প্রমাণ!  মানে ইউনুস এনসিপি কেও রেডি করে তারেকের উপরে চাপ দিয়েছেন? তাঁর কথা না শুনলে কী হবে সেই হুশিয়ারি ছিল কী এটা?

    তাহলে তারেক এখন ভিজা বিড়ালের মত যদি ইউনুস-খলিলের অনুগত হয়ে কোন মতে সবার আগে জিন ক্ষমতা বাচানোতে সব মনোযোগ ঢেলে থাকেন তাহলে এখন আমরা কী দেখব? আমাদের কী হবে?
    ১। ইউনুস যেকথা ক্ষমতা ছাড়ার তিন মাসের  আগে থেকে বলে আসছিলেন যে তারেক প্রধানমন্ত্রী হলেও আসল ক্ষমতা তার হাতেই থাকবে আগের মত সেটাই কী আমরা এখন দেখব?
    ২। অনুমান করা যাক এখান থেকেই চীনের সাথে সম্পর্ক যতটা আগায়ছিল তা এখন থেকেই ফুলষ্টপ হয়ে যাবে। মানে আমরা চীনবিরোধী আমেরিকান নীতি-পলিসির অনুগামি হব?
    ৩।। সেটা যদি হয়ও কিন্তু আমাদের বাজেটে অর্থ “বাজেট সহায়তা” কই পাবো?  অর্থ নাই মানে অর্থনীতিও তলানীতে শেষ হবে।  IMF এর প্রতিশ্রুত সংস্কার  নিজ বাজেটে অর্থ না থাকলে সংস্কার বলে বাস্তবে কিছু কী করা যাবে? মুদ্রস্ফীতি হবার সম্ভাবনা বড় রকমের; ত কোথায় যাব আমরা তখন? আর  কোন বিদেশি বিনিয়োগও তো আসবে না।
    ৪। আজকেই নিউজ হল, যেটুকু প্রাইভেট বিনিয়োগ এসেছে এর ৯২% হল চীনা মালিকদের। তাহলে চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক ঝুঁকে গেছে বা নাই হয়ে গেলে কী এরা থাকবে?

    সারকথায় ইউনুস-খলিল খুশি হবে, নিজেদের বিজয় দেখতে পাবে কিন্তু খোদ বাংলাদেশ অর্থনীতি ভেঙে পড়বে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা, সহিংসতায় সব শেষ হবে।।
    এনসিপি ১১ দলকে যে ইউনুসে সাথে রেখেছেন তাতে ক্ষমতায় কে থাকবে? হাসিনার জাতীয়পার্টি ফর্রমুলাও যদি চিন্তা করি সেটা কী ইউনুসেরা খাড়া করতে সক্ষম হবে?  জাতীয় পার্টিটা কে হবে? পুরাই ১১ দল? মানে হাসিনার মতই সব নির্বাচন হবে! তাই কী?
    সবার উপরে অর্থনীতিই যদি না থাকে রাজনীতিসহ  কোন কিছুই কী  আর দেশে করা যাবে?  এসব জবাব কার কাছে চাইব??

    _
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    ২৯ জুলাই ২০২৬ রাত ১১ঃ৩০
    আপডেটঃ ৩০ জুলাই ২০২৬, ০০ঃ ৪২ এএম

     

  • জরিপ বলছে, ৩৬টা দেশের আমজনতার মনোভাবে আমেরিকার চেয়ে চীন এগিয়ে

    জরিপ বলছে, ৩৬টা দেশে আমজনতার ইতি-মনোভাবে আমেরিকার চেয়ে চীন এগিয়ে
    গৌতম দাস
    ১৬ জুলাই ২০২৬
    https://wp.me/p1sCvy-6A4

     

                                                                   China overtakes US in global favourability: StudyChina overtakes US in global favourability: Study                                                                                                                   বিশ্বজুড়ে বাড়ছে চীনের গ্রহণযোগ্যতা

    এই জনমত জরিপটা করেছেআমেরিকার এক বিশ্বাসযোগ্য(credible) প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টার (PEW RESEARCH CENTER) । যার ব্যাপ্তি ছিল ৩৬টা দেশ জুড়ে। মোট survey of 42,151 people/ অমানে যেতাকে আমরা সার্ভে সাইজ বলি। যেটা মুখ্য জানার ছিল পাবলিক পারসেপশন যে চীন ও আমেরিকার মধ্যে কোন দেশের উপর দুনিয়ার বেশি মানুষ এখনও আস্থা রাখে। যেমন তারা গ্লোবাল প্রয়োজনীয় নিয়টি-পলিসি নেয়া ও তা বাস্তবায়নের জন্য সব প্রচেষ্টা নেওয়ার ক্ষেত্রে জনমত এর চোখে কোন দেশের উপর তাদের আস্থা। নিচের ছবির দিকে দেখেন।  কিভাবে আমেরিকার সরকারের উপর গ্লোবাল জন আস্থা কছিল আর কীভাবে ততই চীনের প্রতি গণ আস্থা বাড়ছিল।   

    উপরের ছবিটা AXIOS এর রিপোর্ট থেকে নেওয়া। লিঙ্ক সাথেঃ

    China surpasses U.S. in global favorability, poll finds
    Rebecca Falconer
    https://www.axios.com/2026/07/16/us-china-pew-survey-popularity
    7 hours ago 160726
    এছাড়া বিবিসি এর রিপোর্টাই TBS ছেপেছে, সেটার লিঙ্ক এখানে।

    তবে একটা ব্যাপারে সাবধান এটা জনমতে কেমন মানে ৩৫টা বিভিন্ন দেশের মানুষের ধারনা (perception) কেমন. আর ধারণা মানে তা বাস্তবের সত্যটাই হুবহু না হতেও পারে। তবে আম-মানুষ বা জনতা কীভাবে এটা দেখে সেটার সঠিক ধারণা পাওয়া যায় অবশ্যই। ঠিক যেমন আমাদের দেশে সরকারি অফিসে ঘুষ দেয়া-নেয়া কেমন পরিমাণ চলে এনিয়ে পাবলিক  ধারনায় (perception)   সেটা হুবহু সত্য নাও হতে পারে। তবে এটা বাস্তব ফিগারের কাছাকাছিও হয় বলে মনে করা হয়।

    কিন্তু কেন আমি এটা নিয়ে এই লেখা ও এই ইস্যুকে গুরুত্ব দিচ্ছিঃ
    আমি  দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকায় নিয়মিত একটানা কলাম লেখা শুরু করেছিলাম ২০১৪ সালের শুরুর দিকে। ২০১২ সালে স্থায়ীভাবে চাকরি শেষ করে দেশে ফেরার পরে ২০১৩ সালের বিখ্যাত ৫ মে শাপলা চত্তর ঐতিহাসিক ঘটনার পর আমি অনুভব করি যে বাস্তব মাঠের ঘটনাবলিতে আমরা এই প্রথম হিন্দুত্ববাদকে ( কথিত ততকালের শাহবাগ আন্দোলন) পরাজিত করেছি ঠিকই কিন্তু আমরা বয়ানের দিক থেকে ততটা আগিয়ে নাই। ফলে, এই বিজয়ের পক্ষে প্রয়োজনীয় ও শক্ত বয়ান হাজির না করতে পারলে আমরা আবার হারিয়ে যাব, পিছিয়ে পড়ব। এসব বিবেচনা থেকে আমার লেখার প্রসঙ্গ নির্ধারণ করি। তখনই আমি প্রথম শাহবাগকে বা প্রগতিশীলতাকে হিন্দুত্ববাদ বলে পরিচিত করানো শুরু করেছিলাম।

    একইভাবেই ছিল আরেকটা যা গ্লোবাল ইস্যুঃ 
    এটাই হল, আমেরিকার গ্লোবাল নেতৃত্ব ঢলে পড়তেছে। যেটা আমার মত ক্ষুদ্র এক ব্যক্তির বক্তব্য অবশ্যই না। ২০০৭ সালে (আনুষ্ঠানিকভাবে ২০০৮ সালে) আমেরিকা নিজেরই করা এক স্টাডির প্রকাশ্য রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল। যেখানে বলা হয়েছিল আমেরিকা আর গ্লোবাল নেতৃত্বে থাকছে না।

    পুঁজি বা ক্যাপিটালঃ
    পুঁজির স্বভাব বা ধর্ম হচ্ছে সারপ্লাস বা বাড়তি মূল্য তৈরি করা। অন্যভাষায় পূঁজির স্বভাব পুঞ্জীভুত বা সঞ্চিত হওয়া (একুমুলেশন accumulation) বা ঘণীভূত হয়ে সাইজ বাড়িয়ে চলা। এটাই এরপর থেকে নাম বদলিয়ে হয় বিনিয়োগ (ইনভেস্টমেন্ট) এর সক্ষমতা। এটা ট্রাডিশনাল নিয়ম যা অনুসরণ করেশুরু হয়েছিল সবদেশেরই ক্যাপিটালিজম। কিন্তু পুরা প্রক্রিয়াটাই আউলায়ে যায় ১৬০৭ সাল থেকে শুরু হওয়া ইউরোপের মুখ্য পাঁচ দেশের কলোনি দখলদারিত্ব। আমাদের মত দেশের ন্যাচারাল ক্যাপিটালিজম থেকে বৃটিশ দখলদারেরা এর সব একুমুলেশন সব সারপ্লাস ও বিনিয়োগ ক্ষমতা সবই লুট হয়ে চলে যায় ইংল্যান্ডে। এর এভাবেই এশিয়া, আফ্রিকা বা ল্যাটিন আমেরিকার  সব সম্পদ লুটে ইউরোপে স্থানান্তর হয়ে গেছিল। কালক্রমে এটা আমেরিকাতেও। এককথায় এটাকেই আমরা পশ্চিম বা পশ্চিমা ক্ষমতা বলে চিনি।
    কিন্তু ২০০৮ সালে প্রকাশিত আমেরিকান স্টাডি রিপোর্টের সারকথা শুরুতেই হাফ পেজে লেখে ছিল। আর তাতেই বলা হয়েছিল,  পশ্চিম থেকে বিনিয়োগ সক্ষমতা বা পুঁজি পুব বা এশিয়ামুখী হয়ে পড়েছে। সাথে আরও ভয়ংকর কথা লেখা ছিল তাতে যে এই এশিয়ামুখি অভিমুখে ধাবমানতা এটা irriversible যার বাংলা মানে হল এটা একমুখী যা আর কখনও উলটা দিকে বা reverse যাবে না। অন্যভাষায়, পশ্চিম অতিরিক্ত সঞ্চিত পুঁজিতে সয়লাব হয়ে গেছে যা আর তা ধারণ করতে পারবে না। এরচেয়ে তুলনায় ভাল বিনিয়োগের স্থান এশিয়া (আফ্রিকা বা অন্য মহাদেশ কারও চেয়ে)। বলাই বাহুল্য এশিয়ার বড় অর্থনীতির নেতা দেশটা চীন বা চীনা অর্থনীতি।

    পরাশক্তি বা সুপার পাওয়ার ধারণায় ভুল বা সীমাবদ্ধতা কী ছিলঃ
    এতদিন মনে করা হল, শক্তি মানে কোন দেশের শক্তি কত এমন প্রশ শক্তি বলতে সামরিক শক্তি বুঝতে হবে। এখন একাদেমিকেরা পরিস্কার যে পুরা পরাশক্তি ধারণায় ভুল অংশটা কী ছিল।
    সংক্ষেপে বললে, বাইরে থেকে দেখে শক্তি বলতে সামরিক শক্তিই বুঝা সঠিক মনে হতে পারে। তবে সামরিক শক্তিটাও আসে বিশাল অর্থনৈতিক শক্তি থেকে। আগে অর্থনৈতিক শক্তিতে বিশাল সঞ্চিত পুঁজি বা বিশাল বিনিয়োগ সক্ষমতা যা শুধু নিজ দেশেই না বাইরে যাকে পছন্দ এমন অভাবি দেশেও এই বিনিয়োগ সক্ষমতা ঐ দেশ ধার দিতে পারে খুবই কম সুদে।  ধরা যাক উঠতি দেশটা এখন চীন।  তাহলে চীনের আমাদের মত দেশকে বিনিয়োগ দিবার যে সক্ষমতা এটাই ক্রমশ চীনের গ্লোবাল অর্থনৈতিক প্রভাব হিসাবে হাজির হবেই। ঠিক যেমন প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকেই আমেরিকা ইউরোপকে মানে বড় সব কলোনিদখলদার দেশকে ধার দেয়ার একমাত্র দেশ হয়ে উঠেছিল। যেটা আরো অর্গানাইজভাবে ১৯৪৫ সালের পর থেকে (জাতিসংঘ, IMF-WB গ্লোবাল প্রাতিষ্ঠানিকতা গড়ে নিয়ে)  সারা দুনিয়ায় একমাত্র গ্লোবাল শক্তি হিসাবে উত্থিত হয়েছিল।

    কিন্তু তবু তা অপরিস্কার ধারণায় ছিলঃ
    কোন ধারণা টা অপরিস্কার ছিল? ধারণা হল, শক্তি মানে কী?  আমেরিকা কী সামরিকভাবেই বড় বা সবচেয়ে শক্তিশালী তাই ১৯৪৫ সালের পরের আমেরিকার শক্তি বলতে বুঝব? নাকি আমেরিকা গ্লোবাল অর্থে সবার উপরের বড় অর্থনৈতিক শক্তি – এটাই আমেরিকার শক্তি কথার অর্থ? অর্থাৎ কম সুদে ধার দেয়ার সক্ষমতা নাকি সামরিক এদুইয়ের মধ্যে কোনটাকে আমেরিকার শক্তি বলে বুঝব?
    এই সন্দেহের পিছনে একতা মূল কারণ ছিল আমেরিকার যে প্রতিদ্বন্দ্বি সেসময়ে মানে (১৯৪৫-৫৩ বা ততপরবর্তি) সে দেশ হল সোভিয়েত ইউনিয়ন। এখন সোভিয়েত ত সমাজতান্ত্রিক মানে, আমেরিকার মত কম সুদে ধার দেয়ার সক্ষমতার দেশ ত সোভিয়েত নয়। তাহলে সোভিয়েত-আমেরিকার দ্বন্দ্ব-প্রতিযোগিতা মানে নিশ্চয় সামরিক শক্তি – এই ধারণাটা (ভুল হলেও) ভিত্তি পেয়ে যায়। এটাকেই আমরা বলি মানে তখন বলতাম কোল্ড ওয়ারের [cold war] যুগ।  কিন্তু সোভিয়েত ১৯৯১ ডিসেম্বরে ভেঙ্গে গেল এরপর আর পরাশক্তি ধারণাটাই অস্পষ্ট বা হারায়ে যেতে থেকেছিল।

    শক্তি মানে সামরিক না অর্থনৈতিক বা অন্যকিছু? আসলে সঠিক ধারণাটা কী?
    আসল কথাটা আগে বলে নেই।
    ফর্মুলাটা হল, সামরিক শক্তি তখনই একটা শক্তি যখন ওর সামরিক খরচ বইবার মত পিছনে একটা ফাংশনাল শক্ত অর্থনীতি কার্যকর আছে। এই শক্তিটা না থাকলে সামরিক শক্তিটা শুরুতে দাঁড়াবেও না বা দাঁড়িয়ে গেলেও টিকবে না। কারণ সামরিক সক্ষমতা নিজে কোন আয়কারী ততপরতা নয় – ফাইন্যান্সিয়াল ভেনচার নয়। বরং সামরিক সক্ষমতা মানেই একপক্ষীয় কেবল খরচ যার কোন সরাসরি রিটার্ণ নাই। যেটা ছিল কলোনিদখল আমলে তেমন তো নয়ই!
    অতএব কোন দেশের গ্লোবাল সামরিক শক্তি হয়ে উঠার প্রথম ধাপতা হল গ্লোবাল অর্থনৈতিক শক্তি হওয়া। এতে ইতোমধ্যেই আমাদের মত দেশে চীনের মত দেশের কম সুদের ঋণ ও বিনিয়োগ দেওয়ায়র সক্ষমতা হাজির হয়ে থাকা মানে এটাই প্রভাব এক গ্লোবাল ক্রমশ বড় হচ্ছে এমন অর্থনৈতিক প্রভাব। বিশেশ করে যখন আবার আগের আমেরিকা যে জায়গাটা দখল করে ছিল সেই আবার এদিকে ততই বিনিয়োগ সক্ষমতা হারানোর পথে!
    পয়েন্ট দুই যখন চীন অর্থনৈতিকভাবে গ্লোবাল অর্থনৈতিক শক্তি তখন থেকে নিজ সামরিক বাহিনীতে ব্যয় করার সক্ষমতা ক্রমশ আমেরিকাকেই ছাড়িয়ে যেতে চাইবে। ঠিক একারণে যেমন চীনের রাডার টেকনোলজি গবেষণা আমেরিকাকে ছাড়িয়েছে। ফোনের ব্যাপারে দেখেন আমেরিকান বেল টেকনোলজি পিছিয়ে কোথায় হারিয়ে গেছে অথচ চীন 5G ছাড়িয়ে  6G বা আরো বিস্তারে। অর্থনৈতিক শক্তিতে দুর্বল থাকলে টেকনোলজিক্যাল গবেষণায় খরচ করার সক্ষমতা সীমিত হতেই থাকবে। ইদানিং একটা ফর্মুলা কেউ কেউ মানে যে পোক্ত গ্লোবাল অর্থনৈতিক শক্তি অর্জন হয়ে গেলে সামরিক শক্তিতেো তার নিজের প্রতিদ্বন্দ্বিদের ছাড়িয়ে যেতে নুন্যতম দশ বছর হলেই হয়!

    এই কথাগুলো বলছি কেন বা তুললাম কেন?
    সরাসরি বলি।
    শুরুর দিকে যখন এই কথাগুলো আমি বলতে শুরু করি সেতা এই ২০১৪ সাল থেকে। কিন্তু এর আগে আমি আএরিকান স্টাডি রিপোর্তটা আমার হাতে এসেছিল ২০০৮ সালের শেষে। কিন্তু এনিয়ে লেখা বারণ ছিল। আমি তখন ঘোরতরভাবে জাতিসংঘ মিশনের স্টাফ। তাই প্রকাশ্যে নিজের নামে কোন রাজনৈরিক লেখালেখি ওয়ার অন টেররের আমলে (সেটা ছিল প্রেসিডেন্ট বুশের আমল) নিষধ ও কঠোর শাস্তি র হুশিয়ারি দিয়ে সারকুলার জারি হয়েছিল। তাই সঙ্গোপনে বেনামে ছদ্মনামে লিখুতাম। অন্তত তিনটা নামে। এসব মিলিয়ে ২০১৪ সালটা ছিল আমার জন্য নয়া স্বাধীনভাবে লিখালিখি শুরুর সময়কাল! ফলে আমি এই আমেরিকার পতন আর চীনের উত্থান – এটাকেই আমি পালাবদলের যুগ বলি  – এনিয়ে প্রথম লেখালিখি শুরু করেছিলাম।
    কিন্তু ক্রমশই দেখলাম এই বিষটে আমার পাঠকদের কোন ধারণাই নাই নতুন বিষয় এর উপর আমার প্রগতিশীলতার প্রভাবে কেউ কেউ আমাকে আড়ালে টিটকারী দেয়া শুরু করেছিল যে আমি চীনের দালাল। কেউ কেউ অর্থ করল আমি প্রাক্তন কমিউনিস্ট সেজন্য চীন ভালবাসি তাই এসব কথা বলছি! একালে তামশার কথা যারা এখন একটা চীনা স্কলারশীপ পাওয়ার জন্য কাঙাল –  হোক না সেটা তিন মাস বা কয়েকবছর হলে তো কথাই নাই – সেসবের লোভে যে কারো পায়ে পড়তে দ্বিধা করছি না দেখছি আমি!

    কোন কোন দেশে আমেরিকা এগিয়েঃ
    ইন্ডিয়া, পোল্যান্ড, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও ইসরায়েল।
    আর, এ বছর ইতালি, স্পেন, কলম্বিয়া, মেক্সিকো, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া ও তুরস্কে চীন সম্পর্কে ইতিবাচক মতামত রেকর্ড সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

    • Representatives for the White House did not immediately respond to Axios’ request for comment.

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    ১৬ জুলাই ২০২৬

     

     

  • বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ইসলামের চার খলিফার নামে চার নয়া কোম্পানীর নামকরণ এক স্বাভাবিক কাজ

    ইসলামের চার খলিফার নামে  সেনা-কোম্পানী নাম রাখা এক স্বাভাবিক কাজ
    গৌতম দাস
    ০৩ জুলাই ২০২৬
    https://wp.me/p1sCvy-6zT

    বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ইসলামের চার খলিফার নামে চার নয়া কোম্পানীর নামকরণ করেছে। ত এতে কাদের জ্বলে যাচ্ছে? কারা ওরা? বাংলাদেশ ভুখন্ডটাই কি ইন্ডিয়ার সম্পত্তি? যে তাদেরকে খুশি করে মন জুগিয়ে আমাদের চলতে হবে? একটা সেনাবাহিনী পরিচালনা করার ক্ষেত্রে এর ভালমন্দ বা বিবেচনাযোগ্য ফ্যাক্টরগুলো আমল করা আমাদের চেয়ে ভাল কে বুঝবে? ইন্ডিয়া? প্রগতিশীল হিন্দুত্ববাদ অথবা যারা আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের বিরোধী?

    Brahmos Missile  এটা কাদের?
    বাংলায় লিখলে এটা হল ‘ব্রহ্মোস’ ক্ষেপণাস্ত্র! মানে ‘ব্রহ্ম’ নামের ইন্ডিয়ান মিসাইল এর নাম এটা। এখন ব্রহ্ম মানে কি? বা কে?
    তিনি হলেন হিন্দু ধর্ম অনুসারেঃ দুনিয়া সৃষ্টির দেবতা; তাই অনেকটা স্বর্গের দেবতাদের দেবতা ধরণের এক ধারণা। তাই সেকারণে, তাদের ভাষায়, পৌরাণিক কাহিনীতে ব্রহ্মাস্ত্র বলে এক অস্ত্র এর কথা আছে যা তাদের ভাষ্যে “সবচেয়ে শক্তিশালী এক অস্ত্র যা স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা কর্তৃক নির্মিত সবচেয়ে শক্তিশালী ও ধ্বংসাত্মক অস্ত্র”।
    এখন সেখান থেকে ইন্ডিয়ার আবিস্কৃত ও ব্যবহৃত এক মিসাইল এর নাম তারা রেখেছে ‘ব্রহ্মোস’ বা Brahmos Missile!
    এখন ইন্ডিয়ান আর্মি চন্দন নন্দী-দের কাছে ব্রহ্মা এক স্বয়ং ভগবান গণ্য হতেই পারে। ফলে,  ওরা মিশাইলের নাম ‘ব্রহ্মোস’ রাখলে সেক্ষেত্রে চুলকানির বদলে তাদের বুক ফোলানো গর্ববোধ হতেই পারে! কিন্তু সাবধান – স্বাধীন সাবভৌম বাংলাদেশের দিকে আঙুল উঠাবেন না আপনার! সেক্ষেত্রে আপনাদের আঙুল ভেঙ্গে দেয়া ছাড়া আমাদের কিছুই করার থাকবে না!

    আরো কথা বলার আগে ছোটভাই শিশির [ফ্যাক্টস চেকার ওয়েব সাইট THe dessent এর পরিচালনাকারী] কে বিরাট এক ধন্যবাদ জানাতে চাই। বুক ফুলিয়ে তাদের একাজ করার জন্য!
    এনিয়ে তার সাইট এক লম্বা রিপোর্ট করেছে যেখানে, ইন্ডিয়ান সেনাবাহিনীতে এমন পৌরাণিক বা হিন্দু ধর্মীয় কারেকটারের নামে নাম রাখা কত কি কি আছে এর একটা ছোট তালিকাও সেই রিপোর্টে দেয়া আছে। আগ্রহিরা দেখে নিতে পারেন! প্রগতিশীল=হিন্দুত্ববাদীরা দেখতে যেয়েন না লজ্জা থাকলে লজ্জা পেতে পারেন!

    বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়ে কিছু কথা!
    এখন সবশেষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়ে কিছু কথা! এককথায় আমাদের সেনাবাহিনীর পরিচালনায় এর সুবিধা / অসুবিধা বিবেচনা একান্তই আমাদের নিজের। এতে আমরা সীমানার বাইরের বা ভিতরের যারা ইন্ডিয়ান স্বার্থের প্রতিনিধি মানে ইন্ডিয়ান স্বার্থের ভিতরে যারা নিজ ব্যক্তিস্বার্থ দেখে – এমন দেরকে আমাদের সেনাবাহিনী নিয়ে কোন কিছুই বলতে এলাও করতে চাই না, করব না; করতেই পারি না। তাই করবই না! তাদের ভালর জন্য বলছি আপনারা নিজ নিজ স্বার্থে এই ইস্যুতে দূরে থাকেন!

    এটা খুবই স্বাভাবিক আমাদের সেনাবাহিনী পরিচালনা করতে গিয়ে আমাদের আভ্যন্তরীণ যেসব বিবেচনা মাথায় রাখতে হয় সেসব একান্তই আমাদের। এটা আমাদের সার্বভৌমত্ববিরোধী কারও সাথে শেয়ার করার কিছু নাই। তা একেবারেই অপ্রয়োজনীয়! কাজেই আমরা কেন চার খলিফার নামে আমাদের সেনাবাহিনীর নয়া কোম্পানীর নাম রাখব সেটা একেবারেই আমাদের আভ্যন্তরীণ যেসব বিবেচনা ফ্যাক্টর!
    সেনাবাহিনী আমাদের সমাজের একেবারে বাইরের কেউ না, কোন প্রতিষ্ঠান নয়। এমন বোকা অনুমানের কোন ভিত্তি নাই! কাজেই সমাজ বিচ্ছিন্ন এমন কোন কিছু করে আমাদের সেনাবাহিনী কাঠামো গড়তেই পারি না। তাই, এর মধ্যে আমাদের সামাজিক, ধর্মীয়, এবং সর্বোপরি (প্রাকটিসিং কালচারের) সংস্কৃতির ছাপ থাকবে; শুধু তাই না তা এমনটাই রাখতে হবে এটাই স্বাভাবিক। এককথায় তাই, সেক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর ভিতরের সংস্কৃতি আমাদের সামাজিক সংস্কৃতিরই এক্সটেনডেড অংশ গণ্য হবে। সমাজ বিচ্ছিন্ন তো একেবারেই নয়, আবার কোন অতিরিক্ত বা বাড়াবাড়িও নয়। এককথায়, আমরা আমাদের সেনাবাহিনীকে ধর্মচর্চার বাইরে বা বিচ্ছিন্ন করে রাখতেই পারি না; আবার বাড়াবাড়িও করতে পারি না যা বাহিনীর মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থি! এই মৌলিক তত্বগত দিকটা ছাড়া আর অন্যকিছু আমাদের প্রকাশ্যে আম-জনতার সাথে ওপেন আলাপের কিছু নাই! তাই সীমিতভাবে সেটাই করছি তাও এজন্য যে – প্রগতিশীল=হিন্দুত্ববাদীরা – এদের কারণে আমাদের ভিতরে যেন কেউ বিভ্রান্তি ছড়াবার সুযোগ না নিতে পারে!  
    দীর্ঘদিন আমি আফ্রিকায় জাতিসংঘ মিশনে কাজে থাকার জন্য আমাদের সেনাবাহিনীর আভ্যন্তরীণ গঠন এর ভিতরের গৌরব করার দিক এর স্টেন্থ বা শক্তির এবং সাধারণভাবে চ্যালেঞ্জগুলো বা এর ভালমন্দ অনেক কিছুই আমার কাছে উন্মুক্ত! আমার আগ্রহ ও কমপক্ষে টানা  দশবছরে আমাদের সেনা ভাইদের সাথে উঠাবসা লাইফ শেয়ার এর ফলস্রুতির কারণেই এসব আমার জানা! অতএন এর উপর দাঁড়িয়ে,  আমি বুক ফুলিয়ে সার্টিফাই করতে পারি ধর্ম প্রসঙ্গে আমাদের সেনাবাহিনীর গঠন কাঠামো খুবই বিচক্ষণ একটা কাজ হয়ে আছে! গঠন কাঠামো নিয়ে এই প্রসঙ্গটা এলেই আমার (প্রেসিডেন্ট ও) জেনারেল জিয়াউর রহমানের নাম মনে আসে – যিনি তার আমলে বসেই বহু আগামিদিন  আগেই দেখতে পেতেন – পেয়েছেন আর এর ছাপ রেখে গেছেন! তাই অজান্তেই যেন সবসময় মাথা ঝুকিয়ে সালাম করে ফেলে থাকি!
    বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জিন্দাবাদ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব জিন্দাবাদ!
    আমাদের সেনাবাহিনী, সার্বভৌমত্ব আমাদের এক্তিয়ার!

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    ০৩ জলাই ২০২৬

  • তারেক সরকারের চীন সফর; কোথায় দাঁড়ালো? ‘আগষ্ট বিপদ’ কতদূর?

    তারেক সরকারের চীন সফর; কোথায় দাঁড়ালো? ‘আগষ্ট বিপদ’ কতদূর?
    গৌতম দাস
    ২৮ জুন ২০২৬
    https://wp.me/p1sCvy-6zp

    President Xi Jinping meets with Bangladeshi Prime Minister Tarique Rahman 

    বহু আলোচিত, প্রতীক্ষিত তারেক জিয়ার চীন সফর শেষ হয়েছে। বাস্তব পরিস্থিতি মানে দেশি ও বিদেশিস্বার্থগুলো আর মোটের উপর আমাদের পাবলিক আশা-আকাঙ্খা একটা চরম চূড়ায় উঠেছিল এই সফরকে কেন্দ্র করে। মানে এই সফর ফলাফল কী নিয়ে আসে তা সকলের নিজ নিজ বুঝাবুঝির ফ্রেমে ফেলে তা দেখতে, বুঝে নিতে প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। এখন সরাসরি প্রশ্ন হল, এই আকাঙ্খাগুলো কতটা পূরণ বা আশ্বস্ত হল?

    এর জবাব নিয়ে কথা শুরুর আগে দুভাগে ভাগ করে নেই বলবার সুবিধা করার জন্যঃ প্রথমটা যা ‘এখনই আমরা দেখতে চাই’ আর অপরটা হল, যা বুঝি এসব ‘এখনই’ চাওয়ার জিনিষ না তবে এর স্বপক্ষে আশ্বস্ত হওয়ার মত লক্ষণ, বাস্তবতা এই সফর-আলোচনা থেকে উঠে এসেছে এমন অনুভব পেতে চাই! এর মধ্যে আবার প্রবল আগ্রহের ইস্যু ছিল স্ট্রাটেজিক-সামরিক সম্পর্ক বিশেষ করে, আমাদের চীনা বিমান বহর পাওয়া!

    এবার আমি যেভাবে বুঝেছি, এককথায় সে জবাব হল, যা “এখনই দেখতে চাই” সেসব কিছুই এই সফর থেকে আশ্বস্ত হবার মত পাওয়া যায় নাই। পাবলিকলি, আমার জানা নাই! যেমন, এমন ইস্যু হল, সংসদে এখন বাজেট সেশন চলছে – “বাজেট সহায়তা” কি পেয়েছি – পাচ্ছি? এর কোন নগদ প্রতিশ্রুতি?
    আমরা মিডিয়ায় কোথাও এনিয়ে কোন সরাসরি কিছু ত নয়ই বরং ইঙ্গিতও কিছু দেখি নাই। এটা নিশ্চয় লজ্জা পাওয়া বা লজ্জা না-পাবার বিষয়ই নয়, আমাদের ইমিডিয়েট প্রয়োজনের বিষয় নিয়ে চীনের সাথে একফাঁকে সরাসরি আলাপ তোলা – এটাই ত স্বাভাবিক! কিন্তু এমন কোন আলাপের চিহ্ন আমরা কোন সফর ফেরত ব্রিফিংয়ে পাই নাই। উলটা খলিলুর সাবের ধমক – ‘আমরা ভিক্ষার থলি নিয়ে যাই নাই। দুই দেশের সম্পর্কে অভিমুখ ঠিক করতে এই সফর। এটা ঠিক হলে বাকিগুলো ভবিষ্যতে আসবে। একটু আত্মসম্মানবোধ রাখেন। এ ধরনের বিব্রতকর প্রশ্ন করবেন না।‘
    কিংবা তিনি বলছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে সেখানে যাননি। তিনি গেছেন দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা প্রতিষ্ঠার জন্য। আমরা অন্য জায়গায় পৌঁছে গেছি, এটা বিশ্বাস করুন।’
    পেটে ভাত / বাজেট নাই বাস্তবতায় এলিট ভাব ধরা আমেরিকান প্রতিনিধির এভাবে পাবলিককে ধমক নিয়ে নিজ অযোগ্যতা ঢাকবার চেষ্টা স্বাভাবিক মনে হতেই পারে!  নাকি আসলে এটাই তাঁর সাফল্য!!! যে বাংলাদেশকে [হাসিনার মত বাজেট দিতে না পেরে সেই অযোগ্যতার পরিস্থিতিকে রাজাকারের নাতিপুতির মামলা হিসাবে ঘুরায়ে দেয়া আর পরিণতিতে] পলায়ন / পতনে ফেলতে পারছেন বলে হয়ত তিনি অন্তরে খুশিও হতে পারেন! তা এই ভেবে যে খুবই সফল্ভাবে তিনি বাংলাদেশ-চীনের হবু সম্পর্ককে ফেইল করিয়ে দিতে পেরেছেন?  তাই কী?

    খলিলের এধরণের বক্তব্য/ আচরণ খুবই বিরক্তিকর, আপত্তিরও! খলিল সাব কী বলতে চান আমাদের এবারের বাজেট করার মত অর্থ যোগাড়ের কোন সমস্যাই এই সরকারের নাই? নাকি চীন বাদে মানে চীনকে ছাড়াই বিকল্প “বাজেট সহায়তার” অর্থ ম্যান্ডেট খসরু করিতকর্ম দেখিয়ে যোগাড় করে ফেলেছেন??? সত্যি নাকি? বিখ্যাত খলিল সাব কী অস্বীকার করবেন – ২০২৪ সাল থেকে পরপর তিন বছর বাজেট মানে অর্থনীতিতে একটা নুন্যতম বিনিয়োগের অবস্থা কী আমরা এবার তৈরি করেই ফেলেছি?
    খলিল কী জানে, হাসিনা কেন কোন অর্থনীতির ফ্যাক্টরে উতখাত/পতন হয়েছিল? জানা থাকলে তাকে অবশ্যই আমাদের জানাবেন আপনি! কিছু “ধান্দাবাজ ছাত্রনেতা” আমেরিকার প্রতিনিধি ইউনুসকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিয়েছিল আর তাতে বিনা কসরতে আপনারও বিরাট কুতুব হয়ে ঐ সরকারে জেঁকে বসার এই মহান সুযোগ হয়েছিল, এটা সবাই জানে! এতা খাইওতেছেন খাইয়া লন যতদিন পারেন!  তাতে হাসিনা কেন উতখাত হয়েছিলেন তা জানাবুঝা হয়ে যাবে এমন মনে করার সাথে কোন সম্পর্ক নাই! আপনারা আমেরিকার প্রতিনিধি হতে পারেন কিন্তু সেজন্য হাসিনা পতনের অর্থনৈতিক দিকটা আপনাতেই আপনাদের জানা হয়ে যাবে না। এর চেয়েও বড় কথা (জেনে রাখেন) আপনারা ইউনুস-খলিল গং নিজ মুরোদে ২০২৫ সালের বাংলাদেশের বাজেট হাজির করতে পারেন নাই। সেটাও মনে রেখেন! প্রায় আড়াই বিলিয়ন ডলার এই চীনই বাজেট সহায়তা দিয়েছিল; কিন্তু কাদের কথায়???? আজও জানেন না কেবল বাবা আমেরিকার কাছে ক্রেডিট নিছেন। আমেরিকা বা জাপান কারও থেকেই কোন অর্থ আনার মুরোদ হয় নাই আপনারা আমেরিকান স্বার্থের বীরপুঙ্গবদের! কেবল এনজয় করেছিলেন! সর্বোচ্চ আমেরিকান মালিকানা শেয়ারের IMF-WB থেকে মানে আপনাদের পেয়ারের আমেরিকা বাবা থেকেও ত কোন বাজেট সহায়তা আনতে পারেন নাই! কেন?
    ফলে চীন কেন গতবারও বাজেট সহায়তা দিছিল তাও আপনারা শুধু জানতে চান নাই তাইই নয় এটা যে আপনারা ইউনুস-খলিল গংদের আমেরিকান দালালির অযোগ্যতা আর নিজেদের এতে যে একবিন্দু অবদান নাই  – নিজেদের সে অযোগ্যতার বাস্তবতাও উপলব্দি করেন নাই! তাহলে আপনারা বাংলাদেশের জন্য কারা? নিজেকে জিজ্ঞাসা করেন? আর এভাবে বাংলাদেশের ঘাড়ের উপরে বসে আর কয়দিন চুসবেন? নিজ ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করবেন?

    গতকালের সফর ফেরত তারেক সরকারের মানে খলিলুরের ব্রিফিং এর পর থেকে  পুরা বিষয়টাতেই দেশ একেবারেই এমন হতাশ করেছে যা এনিয়ে যেকোন  আলোচনার উপর একটা বড় প্রভাব রাখবে।

    ঘটনা হল, বাংলাদেশের দিক থেকে দেখলে হাসিনা আমাদেরকে ২০২৪ সালে পলায়নে যাবার আগে পর্যন্ত আমাদেরকে কী বিপদে ডুবিয়ে দিয়ে গেছিলেন?
    তারা মনে করেন, আগষ্ট মাস নাকি হাসিনা গংয়ের বাবাদের চোখে নাকি চরম শোকের মাস! তো সেটা তাদেরই থাক; ওনিয়ে আমাদের আগ্রহ নাই! কিন্তু হাসিনার ২০২৪ সালের পলায়ন/ পতনের দিনটাও কিন্তু ঐ আগষ্টের – ৫ আগষ্ট! শুধু তাই না; পাঠকদের মনে করিয়ে দেই হাসিনার পতনের পিছনের মূল অর্থনৈতিক কারণ ছিল জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি – ইউক্রেন যুদ্ধের উসিলায়! তিনি তেলের দাম বাড়িয়েছিলেন প্রায় ৫০%! আর সে ঘটনাও ৫ আগষ্ট ২০২২ তারিখের। আগষ্টের কী মহিমা! মহিমান্বিত!

    হাসিনা-রএর পত্রিকা ডেইলি স্টার পর্যন্ত পরের দিন এনিয়ে এক সম্পাদকীয় লিখেছিল যার শিরোনাম ছিল তেলের দাম বাড়ানোর ইতিহাসের এক কালো দিন! (A black day in the history of fuel prices)। Record hike in fuel prices

    আর এটা ছিল, হাসিনা যেসব উচুদরের চোর পেলে-পুষে চলত তাদের জন্য শেষ খাওয়া/ লুটে নিয়ে পলায়নের নির্দেশ এর মত! আর তা থেকেই তাদের ব্যাংক লুটের মহোৎসব  (পরে ব্যাংকের কাগজপত্রে মিথ্যা করে যা “খেলাপী ঋণ” হিসাবে দেখানো)। যার বাইরের প্রমাণ হল ডলারের দাম ৮৫-১২৯ টাকায় জাম্প করে উঠে যাওয়া! কারণ, ডলারের এই চাহিদা তো বাজারের স্বাভাবিক চাহিদা ছিল নয়। এটা ছিল লুটেরা অর্থপাচারকারীদের ডলার চাহিদা! চুরি-ছেচড়ামো করে হাসিনা এমন বেপরোয়া ছিলেন যে বুঝতেই পারেন নাই এভাবে তেলের দাম বাড়ানো এটা নিজ ফাঁসির আদেশে নিজ স্বাক্ষর!
    ঠিক তাই-ই হয়েছিল! দুবছরের মধ্যে এসব বেপরোয়া চুরির কীর্তির সোজা ফল হল, অর্থনীতি ভেঙ্গে পড়া যার মূল কারণ – ব্যাংক ব্যবস্থাটাই ভেঙ্গে পড়া! যার বাইরের দিকটা হল ২০২৪ সালের বাজেট করার অর্থের সংস্থান নাই!  এর উপর আবার অর্থ আনতে চীন যাবেন  নাকি ইন্ডিয়া (আশ্রয়স্থল নিশ্চিত করা) যাবেন  এই দোটানায় পরার কারণে চীন একেবারেই খালি হাতে বিদায় করে দিছিল তিনদিনের ভিজিট সিডিউলকে একদিনেই খতম করে দিয়ে!

    এরই সোজা ফলাফল হল,  পরের ৩৬ দিনের মধ্যে হাসিনার পতন/পলায়ন! এটাই ‘আগষ্ট বিপদ’ নামে খ্যাত! 
    কিন্তু আমাদের জন্য গুরুত্বপুর্ণ হল, সেই ২০২২ সাল থেকে আমাদের অর্থনীতি আর উঠে দাড়ায় নাই! এটা ২০২৬ সাল, প্রায় ৫ বছর হতে যাচ্ছে!
    আর খলিল সাব আমাদের ধমকাতেছেন? কেন? কোন সাফল্যে????

    তো বলেন খলিল সাব  আমাদের বাজেটের কী হবে? বলেন ৎ দেখি বাজেট করার ক্ষেত্রে আমাদের মূল সমস্যাটা কী? আপনি ত ধমকায়ে দিলেন “আমরা ভিক্ষার থলি নিয়ে যাই নাই। দুই দেশের সম্পর্কে অভিমুখ ঠিক করতে এই সফর।”-মানে যেন এক অবিবাহিত বাউন্ডলে পুরুষের বোকাস্বপ্ন যে  – “হবে ছাওয়াল ডাকবে বাপ তবেই জুড়াইব মনের তাপ”? মানে যার বিয়ে হবে কিনা কোন চাকরি বা কিছুর খবর নাই সে সন্তানের বাপ হলে কী সুখ হবে সেই স্বপ্ন দেখতেছে? বাংলাদেশ যদি নুন্যতম অর্থনৈতিকভাবে খারা হতে না পারে  তবে “চীন-বাংলাদেশের অভিমুখ” –  ঠিক করার লম্বা সময় কী তার হাতে আছে? এটা ত মসকরা! নাকি এর আগেই অর্থনীতি ফেল করবে, দুর্ভিক্ষ অবস্থায় পড়বে, সরকার টিকবে না খবর নাই এটা কী টপ প্রায়োরিটি নয়? আপনি কোন বাস্তবতায় আছেন? আপনি কী চাচ্ছেন বাংলাদেশ-চীনের সম্পর্কটা বাস্তবে না খাড়া হোক – ট্রাম্প বাইডেন দের স্বপ্ন পূরণ হোক? বাস্তবতা অস্বীকার করে  একারণে ধমকাতেছেন?
    ওদিকে বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল সংকট খেলাপী ঋণ উদ্ধার না হওয়া! ইউনুস-খলিল গং পাক্কা দেড়টা বছর এই ইস্যুতে হাতই দেন নাই। কেন? বাংলাদেশ-চীনের সম্পর্কটা যেন ফেল করে? এটাই কী আপনাদের লক্ষ্য? সফর থেকে ফিরেই ইউনুসের কাছে গেছিলেন কেন? রিপোর্টিং করতে?
    তিনি ত নয়া দোকান খুলেছেন “তিনশুন্য” বলে? সেখানে আপনার কী কাম? আর সেখানে যাবার আগে প্রধানমন্ত্রীকে বলে গেছিলেন? ক্ষমতার দেড় বছরে তিনশুন্য কোথায় ছিল? আবার সাথে বেধে নিয়ে গেছিলেন আশিককে? মনে হইতেছে আপনি দুই স্বামীর ঘর করতেছেন! তাই দুজায়গায় রিপোর্টিং?
    আচ্ছা ইউনুস ত মূলত অর্থনীতিবিদ! তিনি কী জানতেন না যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে খাড়া করা না গেলে বাংলাদেশে কিছুই করা সম্ভব নয়? যেখানে মূল সমস্যাটাও হল, খেলাপী ঋণের নামে চুরির কারণে বাংলাদেশের ব্যাংক ব্যবস্থাটাই ভেঙ্গে পড়েছে? তাহলে এনিয়ে তিনি দেড়টা বছর কোন পদক্ষেপ নিলেন না; ফেলে রাখলেন কেন?
    তাহলে আপনি নিশ্চিত বাংলাদেশ-চীনের সম্পর্কটা যেন ফেল করে? আপনি তা ফেল করাবেনই?

    আমি সরি, আপনি পারবেন না? 
    ইউনুস ২০২৫ সালে চীন সফরে গেছিলেন, তারেকের মতই চারদিনের সফরে। তিনি মেলা খাতির পেয়েছিলেন! কিন্তু আজও তিনি জানেনই না কেন পেয়েছিলেন? সেটা এখন আর তেমন কিছুই নাই কেন?
    কিছু সোজা কথায় আসি! চীন-বাংলাদেশ সংযোগ [সড়ক বা ট্রেন] এর আলাপ প্রস্তাব চীন দিয়েছে কেন? কারণ এটাই আপনার মানে আপনাকে টেস্ট কেস?
    আপনি ইতোমধ্যেই এটাকে আপনার (আমেরিকান স্বার্থের আরাকান করিডোর) প্রস্তাব-পরিকল্পনার সাথে কমন পরে গেছে তাই?
    আপনি কী জানেন এই প্রস্তাব নতুন না ২০১৩ সালেরও আগের? যেটা ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ-বার্মা-চীন এই সংযোগ সড়কের আলাপ ছিল? যেটা ইন্ডিয়া ভেঙ্গে দেয়। দিয়ে কেবল, ইন্ডিয়া -বার্মা- বাংলাদেশ করতে চায়?
    আপনি এখানে শিশু! চীনের সক্ষমতা, বুদ্ধির কাছে। চীনারা আগাম গবেষণা চিন্তা-ভাবনা না করে হঠাত করে কিছু বলে না, নিশ্চিত থাকতে পারেন!
    শেষ কথাটা বলে শেষ করি; পরিশেষে  বাংলাদেশ-চীনের সম্পর্কটা হবেই। আপনি ফেল করাতে পারবেন না। তবে ততদিনে আপনি থাকবেন না! তারেক সরকার থাকবে কিনা তা তারেকের বুদ্ধিমত্তা, মানে সঠিক সময়ে সঠিক কাজ করতে পারার উপর নির্ভর করে। এনিয়ে নতুন করে আরও বলার কিছু বাকি নাই! আমি যতটুকু আগামিটা নজর বা আন্দাজ করতে পারি সেই সাপেক্ষে বললাম!
    তবে আপনি কেন বুঝেন না আপনি এখানে এভাবে মিসফিট!

    আপাতত এখানেই……

    নিচের অংশটা নতুন এখন যোগ করছিঃ
    যারা চীনের সাথে আমাদের স্ট্রাটেজিক-সামরিক চুক্তি বিশেষ করে যুদ্ধবিমান পাবার চুক্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন তাদেরকে একটা ইঙ্গিতপুর্ণ কথার যোগসুত্র ধরায় দেই।
    আচ্ছা, বাংলাদেশে ছোট-বড় মিলায়ে প্রায় সাতটা লালমনিরহাট-সহ নয়া বানিজ্যিক এয়ারপোর্টের আলাপ এটা কীভাবে কখন কোন সরকারের আমলে (বা সফরে) হয়েছিল তা কয়জনের জানা আছে?
    আবার আমরা চীনা যুদ্ধবিমান কিনতে যাচ্ছি তা কবে কিভাবে আপনি জানলেন? আর সেটা কোন সফরে চুড়ান্ত হয়েছে?
    আমি নিশ্চিত আপনারা প্রায় কেউই তা সঠিক বলতে পারবেন না। এর এক নাম্বার উত্তরঃ এটা ইউনুসের আমলে কিন্তু ইউনুস এর বিন্দু খানিকটাও জানে না! ব্রডলি কিছুটা আন্দাজ করা ছাড়া।
    আসলে, সামরিক বিষয়ক এমন আলাপ/চুক্তি কখনই আমরা পাবলিকলি করি না। সাধারণত এটা সরকার প্রধানের সফরের সময়কালে ঘটে। তবে্‌ তবে……। আমাদের যে সামরিক প্রতিনিধি এর প্রধান হিসাবে এর সফর করে থাকেন তিনি সরকারি প্রতিনিধির সাথে যানই না। তিনি আলাদা যান। একদিন আগে / পরে আর একদিন আগেই ফিরে আসেন। আর জনগণের সরকার প্রধান হলে, তিনি ডিটেল বা মোটামুটিভাবে জেনে থাকেন। কিন্তু চুক্তির বিষয়টা সামরিক ঘেরটোপের মধ্যেই থেকে যায়।
    যেখানে ছেচড়া র-এর লোকে দেশটা ভর্তি; কে কখন প্রগতিশীলতার নামে কাকে কী তথ্য দিয়ে দেয় সেখানে আমাদের পাবলিকেরও কম কম জেনে থাকাই ত ভাল; মোটামুটি জানলেই ত হয়!
    অতএব যে যাই বলুক সব ঠিক চলছে; আগাচ্ছে! চিন্তার কিছু নাই!

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক

  • প্রধানমন্ত্রী তারেকের পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা

    প্রধানমন্ত্রী তারেকের পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা
    গৌতম দাস
    ২১ এপ্রিল ২০২৬
    https://wp.me/p1sCvy-6yZ

    <<<<প্রধানমন্ত্রী তারেকের পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা>>>>>
    আজ তারেকের এক উপদেষ্টা, তিনি নাকি পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা, আজ পাবলিক প্রেস আয়োজন করে হাজির! তিনি কোন উপদেষ্টা, সেটা জানা-অজানা নিয়ে জনগণের কোন অসুবিধা নাই, হবার কথা না। কিন্তু তিনি যা করেছেন বলেছেন এর ভিত্তিতে তার আসল পরিচয় দাড়িয়েছে “সাফাই উপদেষ্টা” বা “সরকারের সাফাইদাতা উপদেষ্টা”! সমস্যাটা এখানেই। কেন?
    যখন একটা দুর্ভোগের সমাধান দরকার, সঠিক উদ্যোগ দরকার তখন কেন দুর্ভোগ টা হয়েছে সে সাফাইটা সেকেন্ডারী বা তা আপনাতেই অপ্রয়োজনীয় হয়ে যায়!
    কারণ আমরা এক গভীর অর্থনৈতিক সংকটে আটকায় গেছি। সবচেয়ে বড় কথা এটা এমন কী আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ-সংঘাত যদি নাই দুনিয়াতে আসত তবুও এখন আমাদের দেশের জন্য “অর্থনৈতিক সংকট আসন্ন” ছিল।
    এইকথা কীভাবে জেনেছিলামঃ
    এইকথা কীভাবে জেনেছি সে জবাব না দিয়ে বরং বলি কী জেনেছিলাম!
    ইউনুস ক্ষমতা ছাড়ার অন্তত ছয়-আট মাস আগে থেকে অন্তত দুই-দুবার দুই সময়ে (সর্বশেষটা তিনমাস আগে) “কাউকে” জানিয়েছিলেন যে দেশে এই “ব্যাপক অর্থনৈতিক সংকট একটা” আসছেই আর তা পরবর্তি সরকারকেই বইতে হবে। তবে যেটা তিনি বলেন নাই তা হল, এটা তিনি মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছেন কারণ মূলত খেলাপী ঋণ উদ্ধারে (এস আলম থেকে শুরু করে সব লুটেরা চোরদের থেকে) তিনিও ছাড় দিয়েই কাটিয়ে গেছেন, চলেছেন। আর এর ফাঁকে যা যা লুটা যায় তা তিনি পাচারও করেছেন।
    মূলত তাই তিনি একমাত্র জোর দিয়ে চলেছিলেন – “প্রবাসী আয়ে”; মানে এই ডলার জোগাড়ে যেটা হল প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের উপরে আড়াই % বাড়তি অর্থ সব ব্যাঙ্ক-কে দিয়ে দেওয়ার নির্দেশ আর এই লোভ দেখানোতে প্রবাসী আয়ে আপাত সংকট মিটিয়ে সরকার চালিয়ে গেছেন ইউনুস; কিন্তু এতে বড় সংকট টাকে সামনে আরও বড় ব্যাপক হয়ে উঠবার দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে হয়েছে সেদিকটা উপেক্ষা করে গেছেন।

    শুধু সরকারের রিজার্ভে কত (যেটা ৩৮ বিলিয়ন ডলারের আশেপাশে হলেই…. ) অনেককে দেখেছি “বুদ্ধিমান” সেজে ফতোয়া এখনও দিচ্ছেন যে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কোন সংকট নাই বা এটা ইরান যুদ্ধের জন্যই সংকট; অথবা এটা নাকি আমাদের রেগুলার রিজার্ভ দিয়ে সামলানো যাবেই!

     

    পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টাঃ
    আজ সরকারের পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা সহজ স্বীকারোক্তিতে “যা বললেন” সেটা জানার পরও এই বুদ্ধিমানেরা কোন সমস্যাই দেখবেন না হয়ত!
    কিন্তু মনে করায়ে দেই, তারেক সরকারের সমস্যা কিন্তু এটা না যে তার এই আসন্ন গভীর অর্থনৈতিক সংকটে সরকারের হাতে “সাফাইদাতা” নাই। তাই তারেকের এখন দরকার একটা ভাল সাফাই উপদেষ্টা? তা এটা ঠিক তা নয়; এটা কোন সমস্যাই না।

    যেমন ধরেন হাসিনার ২০২৪ সালের জানুয়ারি নির্বাচনের পরের পরিস্তিতি টা যেমন ছিল সেটাই কমবেশি আমাদের এখনকার একই গভীর অর্থনৈতিক সংকট, যার সবচেয়ে বড়দিকটা সরকারের হাতে প্রয়োজনীয় সেই বৈদেশিক মুদ্রা নাই [অর্থমন্ত্রী হাত পাততে IMF, WB, ADB, AIIB, IDB সবার কাছে ইতোমধ্যেই গিয়েছেন অর্থ চেয়েছেন – এটাই সংকটটার সবচেয়ে ভাল প্রমাণ]। ফলে (বিনা অর্থ-সংস্থান অবস্থায়) এক খামোখা বাজেট (২০২৪ এর জুন বাজেট) দিয়ে দায় সারতে হয়েছিল হাসিনাকে। ফলে যদিও সেকালে হাসিনার হাতেও “এক জমজমাট সাফাই” ছিল যে “কোভিড পরবর্তি গ্লোবাল অর্থনীতিতে সংকট” চলছে ! কিন্তু সেই সাফাই বেঁচে হাসিনা ঐ জুলাই-আগষ্টের নিজ উতখাত ও দেশ-ক্ষমতা ছেড়ে পালানো ঠেকাতে পারে নাই! এই পয়েন্ট টা মনে রাখা খুবই জরুরি!

    আবার এটাও মনে করায় বা জানায় দেই যে ইউনুস (আমেরিকা যার পকেটে পকেটে বলে অনেকেরই ধারণা) সরকারও কিন্তু আইএমএফ বা আমেরিকান প্রধান মালিকানা কোন প্রতিষ্ঠান থেকেই কোন ঋণ ছাড় করিয়ে আনতে পারেন নাই তার আমলে। একমাত্র কেবল এই চীনা AIIB (২০২৫ মার্চে) এর থেকে ঋণ হাসিল করেছিলেন।

    ২.১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ-ঋণ-অনুদানের প্রতিশ্রুতি চীনের

    এখন কিছু কথা খাস খাস বলে ফেলি!
    ১. মনে হয় না যে এই পরিস্থতিতে, চীনের থেকে সরকারি ঋণ (জিটুজি) সংগ্রহ (বা যেটা ধরা যাক চীনা AIIB ব্যাংকের নগদ ইউয়ান আমাদেরকে “বাজেট সহায়তা” এই নামে এল ) এসব ছাড়া আমাদের আসন্ন সংকটে কোন বিকল্প আছে। মনে রাখতে হবে আজকের ইরান যুদ্ধ আজকেই সমাপ্ত হয়ে গেলেও আমাদের সংকট যা তাই থেকেই যাবে মানে তাতে অজুহাত-সাফাই-টাই কেবল নাই হয়ে যাবে।
    ২. শোনা যাচ্ছে এজন্য খলিল সাবরে তারেক চীনের মন জয়ের জন্য পাঠাতে যাচ্ছেন অচিরেই। আমার ধারণা, এতে চীনের সাহায্য লাভের যতটুকু সম্ভাবনা এখনও আছে তাও সবটাই শেষ হয়ে যাবে।
    ৩. মনে রাখতে হবে ইউনুসের আমলেই একবার খলিলের চীনা ভিসা বাতিল করেছিল চীন!
    ৪. আমার জানা মতে, সরকারেই জানা থাকার কথা এমুহুর্তে কাকে পাঠালে কাজ হতে পারে। যদি সরকারের তা জানা না থাকে তবে এই ব্যর্থতাই সরকার এখন সবকিছুতে ব্যর্থ হতে থাকবে সে ইঙ্গিত!

    ৫. আবার “তারেক ম্যানেজমেন্ট স্টাইলের” হিসাবে বললে, এটা যদি হয়, খলিল চীন সফরে গিয়ে ফেল করে এলে সেই অজুহাতে তখন তাকে তারেক বাদ দিয়ে দিবেন – তো সরি, এটা আসলে সেই সময় নয়! যেখানে খলিলকে অজুহাত না দেখিয়ে বাদ দিলেও এমন কিছু হবে না। কিন্তু সেটা এখন ইস্যু না। এখন আমাদের সংকটের মূল ইস্যু হল ‘সময়’ কম বা টাইমিং! সময় নষ্ট করা যাবে না। তারেক ইতোমধ্যে ইউনুস-খলিল গংয়ের পাল্লায় পরে মারাত্মক সময় নষ্ট আর বেদিশা অবস্থায় ফেলেছে নিজেকে। এই চক্রের বিচার বা বাদ দেয়া পরেও করা যাবে কিন্রতু এর সাথে চীনকে যতদ্রুত রাজি করানো বা অর্থের সংস্থান করা অনেক জরুরি; ফলে সবকিছুকে মিলায় আগানোর সময় নাই আমাদের, তাতে সেটা আরো বড় ভুল হবে হয়ত!

    স্ট্রাটেজিক উপদেষ্টা কী এতদুর সক্ষম? তিনি তারেককে সেটা বুঝাতে ও একশনে নিতে পারবেন? নাকি তিনি সাফাইদাতা উপদেষ্টা হয়েই থেকে যাবেন; সেটা হতেই প্রেফার করবেন? আমরা ইতোমধ্যেই জানি হাসিনার পতনে তাঁর উপদেষ্টা / সাফাইদাতাদের সবার একই পরিণতি!!!

    _________
    গৌতম দাস

    রাজনৈতিক বিশ্লেষক

  • এবারের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের তামাশাগুলো

    এবারের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের তামাশাগুলো
    গৌতম দাস
    ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫   বিকাল ৫ঃ ১৭
    https://wp.me/p1sCvy-6yb

     

    [এই লেখাটার পিছনে একটা দুঃখের কাহিনী আছে। সংক্ষেপে বললে, এলেখা দুদিন আগে আমার সাপ্তাহিক লেখা হিসাবে দৈনিক যুগান্তরে পেশ করা হয়েছিল, ছাপানোর জন্য। কিন্তু সম্পাদকীয় বিভাগ এটা সেদিন থেকে ছাপতে পারছিল না। অবশেষে আজ বিকালে আমাকে জানায় দিল তারা আর আমার লেখা ছাপতে পারবে না। না আমার এই লেখার বিষয় কী বা শিরোনাম কী ইত্যাদি সেটা কোন প্রশ্নই নয়। প্রশ্ন হল আমি নিজেই।  গৌতম দাসের কোন লেখা তারা ছাপতে পারবে না। অনুমানে যে ধারণা পেলাম কোন রাজনৈতিক দলের আপত্তি! মানে এরা ক্ষমতায় আসীন না হলেও হওয়ার আগেই তারা সেনসরশীপ বা মিডিয়া ডিকটেশন চালু করে দিয়েছে। অর্থাৎ হাসিনা ফিরে না আসলেও ইউনুস ক্ষমতায় থাকতে থাকতেই নয়া হাসিনারা একটিভ হয়ে গেছে! রক্তের ফোঁটা এখনও ঝড়ছেই এর আগেই পুরানা জমানা আসন ফেলে বসে গেছে। এনি ওয়ে। তাই সে লেখাটাই কোন কিছু না বদলিয়ে এখানে এখনই হুবহু ছাপিয়ে দিলাম। ]

     

     

    প্রতিবছর সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহের কয়েকদিন ধরে জাতিসংঘের জেনারেল এসেম্বলি বা সাধারণ পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হবে নির্ধারিতই থাকে।যেকোন আম-সদস্যরাষ্ট্র এখানে এসে ঐসময়েই একমাত্র বক্তব্য রাখতে ইচ্ছা প্রকাশ করলে তা করতে পারেন।
    এটা প্রতিবছর সাধারণত সেপ্টেম্বর মাসের (দেখা যায় মাসের ২০ তারিখের) পরের মঙ্গলবারে চালু হয়ে থাকে। সাধারণ পরিষদ মানে যেখানে (১৯৩ মোট সদস্যরাষ্ট্রের যেকোন) সাধারণ সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধি ঐ সময়েই কেবল উপস্থিতি হয়ে তার বক্তব্য রাখতে পারে। একটু সাথে বলে রাখা ভাল এটা সাধারণ পরিষদ হলেও অন্য এক জাতিসংঘ ফোরাম মানে – “সর্বোচ্চ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের” পরিষদ এটা নয়। সেটা জাতিসংঘেরই আরেকটা ফোরাম / কমিটি আছে যার নাম ‘সিরিউরিটি কাউন্সিল’ বা নিরাপত্তা পরিষদ; যার মোট সদস্য ১৫। এর মধ্যে আবার পাঁচটা স্থায়ী বা ভেটোক্ষমতা-ওয়ালা রাষ্ট্র আর বাকি দশটা ভৌগলিক বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঐ অঞ্চলের সদস্যরাষ্ট্রের সমর্থনে নির্বাচিত প্রতিনিধি এমন সদস্যরাষ্ট্র, যারা রোটেশনে একেক সময়ে একেকটা রাষ্ট্র সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসে। আর ওদের আয়ু থাকে সুনির্দিষ্ট দুই বছর। আর এই নিরাপত্তা পরিষদে দুইটা বৈশিষ্ট মেনে চলতে হয়। এক মোট নয় সদস্য একদিকে হলেই সেই সিদ্ধান্ত বলে গৃহিত হয়েছে ধরা হয়। আর দুই. সেটা হল আরেক সাধারণ বৈশিষ্ট যে, নিরাপত্তা পরিষদের ভেটোক্ষমতার কোন একটা সদস্য যদি ‘না’ করে দেয় তো সেই প্রস্তাব আর আলোচনাই হবে না; সিদ্ধান্ত তো অনেক দুরের কথা। জাতিসংঘের যেকোন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার একক বডি হল এই নিরাপত্তা কাউন্সিল; যার উপর কথা নাই। আজকের মূল প্রসঙ্গ সাধারণ পরিষদ কিন্তু আমি সাথে তুলনার জন্য ‘নিরাপত্তা কাউন্সিল’ এর কথাটাও জানায় রাখলাম।
    আমাদের প্রধান নির্বাহি ডঃ ইউনুস এবার ২১ সেপ্টেম্বর রাতেই ঢাকা ছেড়েছিলেন সে এক বড় লটবহর নিয়ে যা প্রায় হাসিনার মতই। তফাত খালি তিনি ব্যক্তিগত ঘোড়ায় মানে ‘বাংলাদেশ বিমানে’ চড়ে যান নাই যে বাসায় ঢুকার আগে বাইরের দরজায় ঐ সাত / দশদিন খামোখা ঘোড়াটা বেধে রাখবেন। বাণিজ্যিক বিমানেই গিয়েছেন। যদিও তিনি বাংলাদেশ বিমানের বাণিজ্যিক ফ্লাইটে গিয়ে আর কেবল ঘোড়া দরজায় অচল বসিয়ে না রাখলেই হত – এমন করতে পারতেন।
    এছাড়া এবারের সফরসঙ্গির সংখ্যা দৃষ্টকটু আর হাসিনার মত বাহুল্যই মনে হয়েছে। এনিয়ে কথাও শুরু হয়েছে। টিআইবি নামের এনজিও যারা নিজেকে সততার মূল দোকান মনে করে তারা সফরসঙ্গি ১০০ এর কাছাকাছি হওয়াতে সমালোচনা করেছে। যদিও অপরজন দাবি করছেন সংখ্যাটা ৬২ আর সেটাও গত বছরের সংখ্যা ৫৭ – মানে এর চেয়েও বেশি।  এবার ইউনুসের উপদেষ্টা বা সমতুল্য প্রধান সহকারিরা মিলিয়ে প্রায় দশজন সাথে গিয়েছেন।
    এককথায় বললে বাংলাদেশ সরকারের কাজেকর্মে হাসিনা যেসব কুঅভ্যাসে যেসব ভাইস বা পাপের জীবানু ঢুকিয়ে বা চালু করে দিয়ে গেছেন সেটা মন্ত্রণালয়ের ঘুষ থেকে শুরু করে সবকিছুতেই – এর কিছুই পরবর্তি একালে সহজে আমাদের পিছু ছাড়ছে না। বরং সেটাই “মডেল” হয়ে গেছে দেখা যাচ্ছে।

    এদিকে গতকাল ছিল ইউনুসের বক্তব্য রাখার পালা। সেখানে “ত্রি-জিরো” টাইপের উদ্বুদ্ধকরণ প্যাচাল বা মিথ্যা উত্তেজনা তৈরি এবার কমই ছিল বলা যায়। কিন্তু রোহিঙ্গা ইস্যুতে কচলানি, হাতিঘোড়া মারার কথা এবার দূরে থাক দেশে রোহিঙ্গা পালবার যে খরচ এর কিছুই তিনি এখনও জোগাড় করতে সক্ষম হন নাই; স্বভাবতই।
    ইউনুস-খলিল এর বিশেষত মহামান্য খলিল সারাজীবন ইউএন কম্পাউডে চক্কর কাটা লোক হলেও আমেরিকান প্রেসিডেন্টের ঘোষিত পলিসিও স্টাডি করার যোগ্যতা তাঁর নাই; তিনি প্রমাণ করেছেন তিনি এব্যাপারে খামোখা! এরই শোচনীয় পরাজয় আমরা দাড়ায় দাড়ায় দেখেই চলছি। তাদের কাছে আমেরিকা মানে যেন একই আমেরিকা যেটা সেই ১৯৪৫ সাল থেকে চলে আসে আমেরিকা।  আর তাতে আমেরিকা কী খেতে বা খাবলা দিতে ভালবাসে সে অনুযায়ী মন যুগিয়ে বা যোগাড় করে দেওয়াটাই প্রেসিডেন্টের প্রশাসনের চোখে পড়া আর ইউনুস-খলিলদের কেউকেটা হওয়ার সহজ পথ!
    একাজটা যে অনেক সহজেই করা সম্ভব যদি তারা হবু প্রেসিডেন্ট নির্বাচনি প্রচারণার সময় থেকেই যেসব মৌলিক পলিসি বা গাইডলাইন তাঁরা হাজির করেন সেটা স্টাডি করার; আর এটাই সঠিক এক একাদেমিক / প্রফেশনাল এপ্রোচ সেটা ইউনুস বা খলিল কখনও বুঝেছেন তা মনে হয় না। তাদের লাইন হল তারা থিঙ্কট্যাংক, প্রভা্ব ফেলা কর্তকর্তা আর লবির খাতিরদারির জগতেই লেপ্টে থাকতে চান। এর বাইরে প্রেসিডেন্টের পলিসি বুঝবার যে আসল পথ আছে তা কখনও তারা আমল করেছেন মনে হয় না।
    যেমন, ইউনুস-খলিল মনে করেছেন আমেরিকাকে বার্মা-আরাকান দখল করিয়ে দিয়ে তারা আমেরিকার কাছে বিশাল কুতুব-প্রিয়পাত্র হবেন সহজেই! অথচ তাদের যে পলিসি স্টাডিরই মুরোদ নাই তা এখনও টের পেয়েছেন মনে হয় নাই। তারা স্বপ্ন দেখেছেন রোহিঙ্গাদেরকে পরবর্তি ঈদের আগেই তারা ফেরত পাঠিয়ে যার যার বাড়িতে তারা বাবা-মায়ের করব জিয়ারত করার সুযোগ করে দিয়ে পারবেন।
    অথচ কেউ ট্রাম্পের পলিসি স্টাডি দূরে থাকে সেটা খুলেই দেখেন নাই।

    সবাই কান খুলে শুনে রাখতে পারেনঃ ট্রাম্পের প্রকাশিত মৌলিক পলিসি হল তিনি নিজ রাষ্ট্র পরিচালনার খরচ জবরদস্তিতে হলেও কমাবেনই। এরই অংশ হিসাবে তিনি ইউএসএইড যে সরকারী সংস্থা দিয়ে সরকার লিল্লাহে-দান খয়রাত করে সেই সংস্থা প্রায় বন্ধই করে দিয়েছেন। শুরুতেই একবারে বন্ধ করেছেন ‘রিভিউ’ এর নামে। পরবর্তিতে কোন এনজিওকে আগের মত আর দান-খয়রাত ফিরে চালু করেছেন জানা যায় না।
    আর এরই সোজা প্রভাব হল, রোহিঙ্গাদের এখন ফেরত পাঠানো দূরে থাক, তাদেরকে বাংলাদেশ বছরে খাওয়াবার যে বাজেট সেটাই এখন মাত্র ৩৫% আদায় বা প্রতিশ্রুতি যোগাড় করতে পেরেছেন ইউনুস-খলিল!!! আর বাকি অর্থ? ট্রাম্প আর অর্থ দিবেন না জানিয়েছেন। মানে বছরের বাকি দিন কী রোহিঙ্গারা না খেয়ে কাটাবেন? হা বাস্তবতা প্রায় তাই! উলটা এখানে বিশ্বব্যাংক খুবই সদয়(?)! তারা এই লিল্লাহ মহা পুর্ণীর কাজে বাংলাদেশকে ৪০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ অনুমোদন করে দিয়েছে ঝড়ের গতিতে। এখন বাংলাদেশের জনগন নিজে না খেতে পেলেও রোহিঙ্গাদেরকেই বসে বসে খাওয়াবে! কী মজা না? আমরা কত মহান জাতি!!!!

    আমেরিকান দালাল হতেও যে কিছু পড়াশুনা লাগে; সেকাজে ব্যর্থ হওয়া পড়াশুনা না করা ইউনুস-খলিল এর পাল্লায় পরে আজ আমাদের এই দশা! ট্রাম্পের আমেরিকা ইউনুস-খলিলের দালালিতে আরাকান করিডোর, বার্মার “রেয়ার আর্থ মিনারেল” দখল, চীনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বার্মা দখল রুস্তমি ইত্যাদিতে অন্তত ট্রাম্পের আমেরিকার কোন আগ্রহই নাই! সেটা বেচারা ইউনুস-খলিল দেখতেই পান নাই! উলটা এখন রোহিঙ্গা পালার ৪০০ মিলিয়ন ঋণ দায় বাংলাদেশের আম-জনগণের উপরে! সেটা  ইউনুস-খলিলের এক বিরাট সাকসেস তা মানতেই হবে!  ইউনুস    এর পরেও গতকালের বক্তব্যে ক্ষীণভাবে রোহিঙ্গা ইস্যু এনেছেন এমনকি এবারও রোহিঙ্গা নিয়ে এক গ্লোবাল নেতা সমাবেশ ডেকেছেন জাতিসংঘেই!

    কিন্তু, কিন্তু কিন্তু – কী হবে তাতে????
    দুনিয়ার অবস্থা ট্রাম্পের পাগলামির এই কালে কী তা এবারের জাতিসংঘে খোলে-আম প্রকাশিত! ট্রাম্পের ভয়ে সারা ইউরোপই চুপ! মুখে তালা! ইউক্রেন যুদ্ধ থামা দূরে থাক আবার আরো জোরে শুরু করার দিকে! কে কার কথা শুনে? ধনি-গরীব সব রাষ্ট্রই আগে নিজে বাঁচলে বাপের নাম  – অবস্থায়! এই পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা ফেরতের আলোচনা দূরে থাক; রোহিঙ্গাদের বাতসরিক খাওয়া খরচ নিয়েই কোন কমিটমেন্ট করতে ইউরোপ আগ্রহি নয়!
    এই অবস্থায় ইউনুস-খলিলের গো-ধরেছে যে আরেকবার এটা তৃতীয়বার তারা রোহিঙ্গা ইস্যুতে নেতাদের আবার ঢাকবেন, সরকারী অর্থ সময় ব্যয় করবেন। যারা পড়াশুনা করে না; ট্রাম্পের ঘোষিত পলিসি স্টাডি করতে জানে না, নিজ মুরোদ যোগ্যতার খবর নাই কেবল চোখভরা চকচকে লোভ আছে দালালির – আমেরিকান দালাল হবে, কী করে বাংলাদেশকে আরো ভালভাবে আমেরিকার হাতে তুলে দিবে – এদের পরিণতি তো এমনই হবে!!!

    এবার আসি ট্রাম্পের বক্তৃতায়ঃ
    এককথায় বললে এবার ট্রাম্পের ক্ষমতার বা তার পলিসির সার কথাটা হল – রিভার্স মানে উলটা দিকে হাটা। মানে?
    স্টাডি করলে দেখা যাবে পুরা দুই বিশ্বযুদ্ধ জুড়ে আমেরিকান পলিসি ছিল ঠিক কী করলে গ্লোবাল নেতা হয়ে উঠা যায়। আরেকটু ভিতরে গিয়ে বললে – কী করলে আমেরিকার বিপুল সঞ্চিত সারপ্লাস বিনিয়োগ পুঁজি হিসাবে আমাদের মত দেশকে এর গ্রাহক / ক্রেতা বানানো যায়। কিন্তু সেকালে যার সামনে প্রধান বাধা ছিল সারা ইউরোপের মূলত পাঁচ দেশ  যারা সারাদুনিয়াকে কলোনিদখল করে অর্থনৈতিকভাবে স্থবির করে রেখেছে। কারণ কলোনিদখলের লক্ষ্য কেবল আমাদের মত দেশ থেকে বাড়তি সম্পদ যা আমাদের অর্থনীতি জমা কর যাচ্ছিল সেই বাড়তিমূল্য-সারপ্লাস সমূলে নিজ নিজ মাস্টার দেশে পাচার করা; এরই মহোতসব। আর ততই আমাদের মত দেশ স্থবির – অর্থনৈতিক ততপরতা কমে আসছে।
    এককথায় এই পরিস্থিতিটাই ছিল আমেরিকার গ্লোবাল নেতা হবার খায়েস বাস্তবায়নের সঠিক সময়! আমেরিকা  আমাদের মত দেশ কলোনিমুক্ত স্বাধীন করে আমাদেরকে নিজ বিনিয়োগ-পুঁজির ক্রেতা বানাবে – এমনই এক নীতিতে কিন্তু আমেরিকান নেতৃত্ব-প্রভাবের গ্লোবাল ইকোনমিরীক নয়া দুনিয়ার রূপ দেওয়া ছিল আমেরিকান নীতি।  যা ১৯৪৫ সালে যুদ্ধ সকলেই হেরে বা অধীনস্ত গেলে পরে আমেরিকা গ্লোবাল নেতা হয়ে আসন নিয়েছিল – সেই সাথে দুনিয়া থেকে যুদ্ধ যত কমানো যায় (কারণ যেকোন যুদ্ধ মানেই পুঁজি নষ্ট বা ধ্বংস) এই লক্ষ্যে একটা জাতিসংঘ বানিয়েছিল আমেরিকাস্ন উদ্যোগে যাতে গ্লোবাল পলিটিক্যাল ইন্সটিটিউট বলে প্রতিষ্ঠান একটা শুরু করা যায়।
    ফলে স্বভাবতই গ্লোবাল যত দানখয়রাত এর দায়ও একা আমেরিকাকেই নিতে হয়। এর এমনই মাত্র একটা প্রতিষ্ঠান হল জাতিসংঘের অধীনে বিশ্বখাদ্য সংস্থা (ডব্লিউএফও)। লিল্লাহ না খেয়ে থাকা মানুষকে গম বা খাদ্য দিয়ে সহায়তা করে থাকে। আমরাও এই ডব্লিউএফও এর গম খেয়েই শেখের আমলে বেঁচে ছিলাম!

    কিন্তু ট্রাম্পই প্রথম কোন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট যিনি বলছেন তিনি আর দান-দাতব্য প্রতিষ্ঠান চালাবার দায় নিবেন না। কথাটা অন্যভাষায় বললে, আমেরিকা আর গ্লোবাল অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সবকিছুতে নেতা থাকতেই চাইছে না। সেটা ট্রাম্প কতটা কী বুঝে বলছেন তা নিয়্যে সন্দেহ থাকলেই ট্রাম্পের সারকথা – আমেরিকা রাষ্ট্রের খরচ কমাতেই হবে। এটা ৩৪ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণের বোঝা গ্লোবাল বাজার থেকে ইতোমধ্যে নিজ মাথায় নিয়ে ফেলেছে। সাথে গ্লোবাল বাজারে থেকে নয়া ঋণ (সরকারী বন্ড বিক্রি করা) নেয়ার ব্যবস্থাতেও বন্ডের চাহিদা বা কেনার গ্রাহক মারাত্মক কমে গেছে।
    মানে হল, যেটা পড়তি গ্লোবাল অর্থনীতির নেতা আমেরিকা আর উঠতি চীনের পালাবদল কীভাবে ঘটবে তা নিয়ে দুনিয়াতে প্রবল আগ্রহ জন্মে আছে সেখানে আমরা সকলে দেখছি ট্রাম্প আগেই রণেভঙ্গ দিয়ে আমেরিকাকে ফিরিয়ে নিতে চাচ্ছে। না তিনি ঠিক নেতাগিরি ছেড়ে দিতে চান তা মনে করেন না। তার কথা হল, তিনি রাষ্ট্রীয় খরচ কমাতে চাচ্ছেন তাতে এর অন্য যা যা অর্থ যাই হোক! কিন্তু আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি যে ট্রাম্পের এই নীতি-পলিসি গ্লোবাল নেতৃত্বে ব্যাপক পরিবর্তন যেটা এমনিতেই চীনা নেতৃত্বে আসন্ন সেটাকেই আরো ত্বরান্বিত করে ফেলবে। এছাড়া, সবচেয়ে বড় ফাঁদে পড়ে গেছে খোদ ইইউ যারা এখন একেবারেই দুনিয়াতে প্রভাব রাখার মত কোন নেতা এমন “কেউ না” হয়ে গেছে, আরো যাবে? তারা এখন কীভাবে স্ব স্ব রাষ্ট্রকেই টিকাবে (সারা ইইউ নয়) সেদিকে হাটছে। তাই কোন গ্লোবাল দায় দায়ীত্ব নিতে একেবারেই আগ্রহি নয়।

    একারণেই ট্রাম্প যেন নিজেই নিজেকে এক ‘গাধা’ বলে প্রচার শুরু করেছে। যেমন জাতিসংঘ বক্তৃতা দিবার সময় লিমিট ১৫মি. অথচ তিনি এক ঘন্টা নিয়েছেন। এটা পশ্চিমা কালচারে এক আনকুথ স্বভাবের প্রকাশ! এর উপর আবার গত কয়েক মাস ক্ষমতায় থেকে আমেরিকার কী কী উন্নতি তিনি করেছে এর ফিরিস্তি দিতে এসেছেন জাতিসংঘের বক্তৃতায়! এটাকেই বলে আক্কেল জ্ঞানহীনতা!
    সবচেয়ে বড় কথা তিনি যে আমেরিকান ইতিহাস বিশেষ করে ১৯১৪ সালের পর থেকে গ্লোবাল পরিবর্তনে আমেরিকান ভুমিকার ইতিহাস সহ ইউএন এর জন্ম ইতিহাস একেবারেই পড়েন নাই তা তার প্রতিটা কথায় প্রকাশিত!
    ফলে একালে এসে আজ – এই দেশ তো কাল সেই দেশ – দখল করে নিবেন বলে ট্রাম্প হুমকি দেয়া শুরু করেছেন। মনে হয় না তিনি প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের নাম শুনেছেন। জাতিসংঘ জন্ম ঘোষণার প্রথম অনুচ্ছেদটাই হল কেউ (চুক্তিতে স্বাক্ষারকারি যেকেউ) ‘নিজ নিজ দেশের ভুখন্ড বাড়িয়ে নেয়া্র খায়েস অবশ্যই ত্যাগ করবে”।  অথচ দেখেন ট্রাম্প আফগান বাগমার এয়ারপোর্ট প্রকাশ্যে দখলের খায়েশ ব্যক্ত করছেন!

    এবারের সাধারণ পরিষদ তাই যেন এক তামাসার হাট!

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক

    লেখা হয়েছিলঃ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

     

  • ঘরের ভিতরে-বাইরে বড় সংকটে ইন্ডিয়া!

    ঘরের ভিতরে-বাইরে বড় সংকটে ইন্ডিয়া!
    গৌতম দাস
    ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সন্ধ্যা  ০৭ঃ ৪৭
    https://wp.me/p1sCvy-6wC

     

     

    ঘরের ভাঙন

     

     

    গত কয়েকদিন হল, ইন্ডিয়া-আমেরিকার মানে ট্রাম্পের আমেরিকা আর মোদির ইন্ডিয়ার মধ্যে “যুদ্ধ” তুঙ্গে উঠেছে। বিষয়টা হল, ট্রাম্পের ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ বাড়তি শুল্কারোপ কার্যকর হওয়ার ইস্যু। মানে এতদিন যা ছিল প্রস্তুতি পর্ব, এবার সেটি পাগলা ট্রাম্প বাস্তবে শুরু করে দেখিয়েছেন! এর সঙ্গে শুরু হয়েছে  উভয় পক্ষের বাকযুদ্ধ!
    যেমন, ভারতের ওপর ট্রাম্পের নয়া শুল্কনীতি আরোপ কার্যকর হয়েছে ২৭ আগস্ট ২০২৫ বা গত মাসের ২৭ তারিখ থেকে। আর এ ‘‘নতুন নিয়ম চালু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় গণমাধ্যম ‘ব্লুমবার্গ’কে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো।’’

    এ বাড়তি শুল্কারোপ কেন জায়েজ আর তা প্রমাণ করার জন্য ইন্ডিয়া (এখন কত খারাপ) আর মোদি আমেরিকার বিরুদ্ধে কী কী খারাপ কাজ করেছে এর বর্ণনা উল্লেখ করেছেন ট্রাম্পের এই বাণিজ্য উপদেষ্টা। এ নিয়ে আনন্দবাজারের এক বর্ণনাও পাওয়া যাচ্ছে। সেটি হল, ঐ ‘ব্লুমবার্গ’ সাক্ষাৎকারে নয়াদিল্লিকে ‘একগুঁয়ে’ বলে তোপ দাগেন তিনি। পাশাপাশি, ইউক্রেন সংঘাতকে ‘মোদির যুদ্ধ’ বলেও উল্লেখ করেছেন নাভারো।

    আমেরিকার চোখে ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকেই আমেরিকা কোন দেশের রাশিয়ার পণ্য কেনাবেচা নিষিদ্ধ বা অবরোধপ্রাপ্ত বলে ঘোষণা করেছিল। সোজা কথায় রাশিয়ান তেল রপ্তানি / কেনাবেচা বন্ধ। ফলে, আমেরিকার চোখে ইন্ডিয়ার কেনাকাটাটা অন্যায় ও অপরাধ! বিপরীতে ইন্ডিয়া মনে করে, এমন তেল আমদানি-বাণিজ্য এটা তার নিজ বাণিজ্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার “সার্বভৌম অধিকার”। আর এর বিপরীতে আমেরিকার ট্রাম্প বা তার বাণিজ্য উপদেষ্টা নাভারো বলবেন বা মনে করেন, রাশিয়া/ভারতকে বাধা দেওয়াটাও তার অধিকার! সেই অধিকার ফলাতে ট্রাম্প ইন্ডিয়ার উপরে ৫০ শতাংশ শুল্কারোপ করে ঠিক করেছেন!
    এমন পরিস্থিতিতে এ্টাকে  অধিকারের তর্ক করে রাখলে এথেকে কোনো সমাধান আসবে না তা বলাই বাহুল্য! বিশেষ করে সারা ইন্ডিয়ান অর্থনীতির আমেরিকায় রপ্তানি বন্ধ হওয়াতে ইমিডিয়েটলি যখন প্রবল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ইন্ডিয়া! তাই, ইন্ডিয়ার দরকার এখনই সমাধান!

    আসলে প্রশ্নটা এখানে নয়। ২০০১ সালে বুশের ‘মুসলমান কোপানো’ শুরু হয়েছিল ‘ওয়ার অন টেররের’ নামে। আর ইন্ডিয়া তাতে খুবই খুশিতে হাততালি দিয়ে উঠেছিল, এতে চারদিকে নিজের ফায়দার সয়লাব দেখতে পেয়ে! আর সেই থেকেই আমেরিকার কোলে উঠে বসে গলা জড়াজড়ি করে ধরা কঠিন বন্ধু হয়ে উঠার শুরু ইন্ডিয়ার! সেসব কি এখন ইন্ডিয়ার মনে পড়ছে? পড়ছে না!
    বরং পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর কূটনৈতিক জ্ঞানবুদ্ধি ফেলে রেখে এখন এ বাণিজ্য উপদেষ্টা নাভারোকে সামলাতে গেছেন এই বলে যে, মুসলমান ‘এই জাত’ মানে এই ‘এথনিক-জাত গোষ্ঠীটাই খারাপ’ একথা বলে! মানে জয়শঙ্কর  আঙুল তুলে বলছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে এখন পাকিস্তানের সম্পর্ক ভালো কেন? কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর? জয়শঙ্করের চোখে এগুলা হল, ট্রাম্পের মুসলমান প্রীতির নিদর্শন!

    তাই জয়শঙ্কর এবার ব্যাপক ফিরিস্তি দিয়েছেন, “মুসলমান রাষ্ট্রের সঙ্গে আমেরিকার সারা জীবন খাতির ছিল” আর সেকারণেই।আমেরিকা এখন মোদি-জয়শঙ্করদের চোখে খুবই খারাপ দেশ! আর স্বভাবতই তাতে শীর্ষে এসেছে পাকিস্তানের নাম!

    কিন্তু মোদি-জয়শঙ্করের মনে রাখা উচিত, ভারত-আমেরিকার যৌথ উদ্যোগে আইএসের সঙ্গে একালে সম্পর্ক রাখছে, এটা কিন্তু আমরা ভুলিনি! বিশেষ করে আফগানিস্তানে আইএসের (খোরসান) সঙ্গে সম্পর্ক এবং স্যাবোটাজের যৌথ উদ্যোগগুলোতে! পাকিস্তানে চীনা ‘গোয়াদার অবকাঠামো প্রজেক্টে’ হামলা কিংবা সর্বশেষ বেলুচিস্তানে আস্ত একটা ‘প্যাসেঞ্জার-ট্রেন ছিনতাই’-এর মতো ঘটনা; এগুলো কীসের প্রমাণ? একাজে আমেরিকা-ইন্ডিয়ার যৌথ প্রযোজনায় ‘মুসলমান কোপানো’-এটা তো নিশ্চয় খুবই সুস্বাদু লেগেছিল মোদি-জয়শঙ্করের! এভাবে এই আমেরিকারই হাত ধরে এতদিন ফায়দা নিতে?

    তাহলে এটা কেমন মোদি-জয়শঙ্করের হিন্দুত্ববাদ? যেটা খোদ আইএস এর সাথে সম্পর্ক রেখে চলে এমন হিন্দুত্ববাদ?  যেখানে আইএস (খোরসান) বা উইঘুরের বিদ্রোহী মুসলমান; এদেরকে মোদি-জয়শঙ্করেরা নিজেদের অ্যালায়েন্স পার্টনার/বন্ধু হিসাবে কোলে তুলে নেয় কেমন করে? এটা কেমন হিন্দুত্ববাদ?

    যাই হোক, বোঝা যাচ্ছে, এতদিনের ভারত-আমেরিকার বিশেষ অ্যালায়েন্সের মাখন এরা দুই রাষ্ট্র মিলে খেয়ে গিয়েছিল অসুবিধা হয়নি; আর মুসলমান এ ‘এথনিক-জাত গোষ্ঠীটাই খারাপ’ বলে নিজেদের হীন কাজের সাফাই দিয়ে গেয়েছিল, যারা আজ সেই মোদি-জয়শঙ্করের হিন্দুত্ববাদই বিপদে পড়ে গেছে; আমেরিকার সঙ্গে খাতিরদারি সব সম্পর্ক ভেঙেচুরে গেছে, এমনকি উলটা ঘটনাটা হল, মোদি এবার খোদ চীনের কোলে উঠে বসেছে! কেন?

    কারণ, নাভারো বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ তো আসলে ছিল ‘মোদির যুদ্ধ’!

    কিন্তু তাতে এটা মোদি-জয়শঙ্করের কেন এত লেগেছে? কারণ, এটা কোন কূটনৈতিক বাতচিতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা ঝগড়া-বাকযুদ্ধ নয়। এ্টটা একেবারে ভারতীয় অর্থনীতির বিশেষ করে রপ্তানি-বাণিজ্যের ভেঙে পড়ার সংকট! যা সরাসরি ভারতের ভাতের স্বার্থ! যেটি থেকে বের হতে, হিন্দুত্ববাদ বেচে মোদি-জয়শঙ্করেরা কোনো সমাধান বা উপায় বের করতে পারছে না! এমনই গভীর সংকট এটা!

    প্রসঙ্গ দুইঃ
    এদিকে মোদির ইন্ডিয়ার ঘরের বা অভ্যন্তরীণ ইস্যুতেও শান্তি নেই! একের পর এক অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে মোদির সরকার পর্যদুস্ত! যেমন, ভুয়া ভোটার লিস্ট ইস্যু! এটা আর এখন প্রমাণহীন বা প্রমাণ করতে হবে তারপর – না, এমন ইস্যু নয়! বরং একেবারেই মোদি কোণঠাসা! তিনি এখন চেষ্টা করছেন এর দায় যতটা সম্ভব নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপাতে!

    ওদিকে এতদিন মোদির ভাড়াটে মিডিয়া বিবিসি বাংলা এবার মোদিবিরোধী এক রিপোর্ট ছেরেছে। মারাত্মক এর হেডলাইনটা দেখেন –‘ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকার নির্বাচনে জিতেই কি মোদি প্রধানমন্ত্রী।’ এই এক শিরোনামই অনেক কিছু বলে দিচ্ছে। সাথে  ভেতরের উপশিরোনাম –‘ভোট চুরির অভিযোগ, এসআইআর বিতর্ক’। আবার রাহুল গান্ধীর অভিযোগ থেকে উপশিরোনাম, ‘গুজরাট মডেলের ভোট চুরি’। আর সবচেয়ে মারাত্মক রাহুলের এসব অভিযোগের প্রতি ডিএমকে, সমাজবাদী পার্টি, আরজেডি, তৃণমূলের সমর্থন। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী মমতার ভাতিজা তৃণমূল নেতা অভিষেক ব্যানার্জি … দাবি করেছেন, ভোটার তালিকায়… কারেকশন ‘সেটা করতে হবে আর সেই প্রক্রিয়ার সূচনা হতে হবে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের মধ্যে দিয়ে’। মমতাও অনেক জায়গায় ভারত ভেঙে যাবে কিনা সেই সংশয়ের ইঙ্গিত জানিয়ে আজকাল কথা বলতে শুরু করেছেন। এসব শিরোনাম থেকেই পাঠক বুঝতেই পারছেন, কেমন অভ্যন্তরীণ সংকটে পড়েছে মোদি-অমিত শাহেরা!

    ‘পঁচাত্তর বয়সে পা দেওয়া’ বিতর্কঃ
    ওদিকে দ্বিতীয় অভ্যন্তরীণ প্রসঙ্গঃ যেটা আরও বড় সংকটের- সেটা হল, বিজেপি-আরএসএসের নেতাদের ‘পঁচাত্তর বয়সে পা দেওয়া’ বিতর্ক! মোদি ২০১৪ সালে নিয়ম এনেছিলেন, নেতাদের বয়স পঁচাত্তর হয়ে গেলেই প্রধান প্রধান পদ থেকে অবসরে যেতে হবে। এভাবে তিনি আদভানিসহ বড় নেতাদের সরিয়ে নিজে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। আর সেই নিয়মে পড়ে এখন তিনি নিজের ফ্যাসাদ এনেছেন। ওদিকে আরএসএসের প্রধান ভগবতও সেপ্টেম্বরে মোদির ছয় দিন আগে পঁচাত্তর বয়সে পা রাখবেন জানা যাচ্ছে।

    বিজেপি-আরএসএস দ্বন্দ্বটা মূলত ২০২৪ -এর নির্বাচনের সময় থেকে – যখন নিজেদের দ্বন্দ্ব মিটাতে না পেরে আরএসএসের সমর্থন ছাড়াই সেবার (২০২৪) বিজেপি একাই নির্বাচন করবে বলে মোদি-অমিত ঘোষণা দিয়েই নির্বাচন করেছিলেন। আর এখন মোদি অবসরে গেলে কে হবেন প্রধানমন্ত্রী-এ তর্কে মোদির প্রার্থী অমিত শাহ আর আরএসএসের প্রার্থী উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী!

    সর্বশেষ ২৮ আগস্ট এনডিটিভি এর রিপোর্টঃ
    সর্বশেষ ২৮ আগস্ট এনডিটিভি আরএসএসের প্রধান ভগবতের রেফারেন্সে বলেছেন, তিনি কোনো পদত্যাগে যাচ্ছেন না; এসব নিয়ে তিনি কথা বলছেন না। আর এতে এ বক্তব্যের মানে করা হয়েছে এভাবে যে, মোদি পদত্যাগ না করলে, তিনিও পদত্যাগ করবেন না।

    ভারতের জন্য এটাও আরেক বিরাট সংকট! কেন?
    বিজেপি-আরএসএস দ্বন্দ্বটা যে মূল থেকে, তা হল, ১৯৪৭ সাল থেকেই একমাত্র হিন্দুত্ববাদ দিয়ে ভারতকে শাসন বা জবরদস্তিতে এক করে ধরে রাখা এক ভারত রাষ্ট্র থেকে, যেটা শুরু হয়েছিল-এখন এটাই এর শেষের দিনের দিকে যাচ্ছে। তথাকথিত ‘কেন্দ্রের শাসনের’ কথা বলে নেহেরু যেটা (সফট হিন্দুত্ববাদ দিয়ে) শুরু করেছিলেন, সেটা নেহেরুর ১৯৬৪ সালে মৃত্যুর পরে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত টিকতে পেরেছিল। পরের নরসীমার কংগ্রেসি শাসন ছিল যেন বিজেপিকেই প্রস্তুত হয়ে আসার সময় দেওয়া। কাশ্মীরের (১৯৮৯ সালে) খোলাখুলি ভোট চুরি, যা কাশ্মীরের রাজনীতিকে সশস্ত্র পথে পাঠিয়ে এবার সেই থেকে জঙ্গিবাদের অভিযোগ (মুসলমান কোপানো) শুরু করা, ২. বাবরি মসজিদ ধ্বংস, ৩. বাজপেয়ির সীমা পাড় কী আতঙ্কবাদ বলে পাকিস্তানকে দায়ী করে চোটপাট; ৪. আর এরপর থেকেই ক্রমশ উগ্র হিন্দুত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করে মোদির শাসন দিয়ে (২০১৪) ইন্ডিয়া এক করে ধরে রাখার যে প্রচেষ্টা চলতি শতকে শুরু হয়েছিল, সেটাও এবার যেন ২০২৫ সালে এসে মুখ থুবড়ে পড়তে যাচ্ছে!!!

    মূল কথাটা হল, তাতপর্যপুর্ণভাবে, এবার সব ধরনের হিন্দুত্ববাদেরই শেষ হওয়া আসন্ন সম্ভবত! এমন কঠিন ইঙ্গিত, এটাই মুখ্য হয়ে উঠা শুরু করেছে ভারতের চারদিকে!
    আজকে প্রকাশিত ইন্ডিয়া টুডে তে এই রিপোর্ট যা বাংলাদেশে এক মিডিয়ার অনুবাদ দেখেন জনমতের পাল্টা হাওয়া, পতনের মুখে মোদির জনপ্রিয়তা: সমীক্ষা।

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫    সন্ধ্যা ০৭ঃ ৪৮

    [এই লেখাটা এর আগে প্রথম ভার্সানে ছাপা হয়েছিল দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় আমারই লেখা এক কলাম হিসাবে, গত ৩১ আগষ্ট ২০২৫।  আজ এখানে সে লেখাটারই  আরেক বর্ধিত এক নয়া এডিটেড ভার্সান এখানে আমার নিজ সাইটে ছাপা হল। বলাই বাহুল্য এখানে শিরোনামটাই শুধু নতুন নয় বরং এমন অনেক প্রসঙ্গই নয়া এখানে যোগ করা হয়েছে যেটা পত্রিকার ভার্সানে ছিল না। আসলে পত্রিকার কলাম ভার্সান মানে যেটা যুগান্তরের এডিটরিয়াল পলিসি সঠিক মনে করে সেই ভার্সান; এভাবে দেখাটাই সঠিক হবে। আর তুলনায় এটা আমার নিজ পরিবর্ধিত-এডিটেড ভার্সান মনে করলেই সঠিক হবে বলে আমার বিশ্বাস! ]

     

     

  • পড়াশুনা না করা রাজনীতিবিদ এর দিন শেষ!

    পড়াশুনা না করা রাজনীতিবিদ এর দিন শেষ!
    গৌতম দাস
    ২৫ আগষ্ট ২০২৫
    https://wp.me/p1sCvy-6vT

    যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাণিজ্য যুদ্ধ বিশ্বে প্রভাব

    বোমা ফেটেছে! কিন্তু তবু হুঁশ নাই!
    শত প্রমাণ দিলেও বিশ্বাস করে নাই একদল লোক / রাজনীতিবিদ যে, বাংলাদেশের উপর ইন্ডিয়ান আধিপত্যের দিন আর নাই, সেসব নাই হয়ে গেছে। কিন্তু মনের বাঘ থেকে গেছে।  আর সেই সাথে ট্রাম্পের আমেরিকা আর ইন্ডিয়াকে বরকন্দাজ রেখে ও থাকার জন্য বিশেষ সুবিধা দিয়ে বিনিময়ে বাংলাদেশের উপর ইন্ডিয়ার প্রভাব বিস্তারের কারবার আর করবে না, এসবও ছেড়ে  দিয়েছে অনেক আগেই।  কখন থেকে? নিশ্চিতভাবেই  এক. হাসিনার উতখাত আর দুই. ট্রাম্পের নয়া শুল্কনীতি প্লাস অন্যান্য কিছু নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ক্ষমতায় আসীন হবার পর থেকে অন্তত!

    কিছু পরগাছা পোকা আছে ‘এটুলি’ বলে আঞ্চলিকভাবে, এরা পশুর গায়ে লেগে থাকে সহজে খসে বা ঝড়ে পরে যায় না, লেগেই থাকে আর রক্ত চুষতে থাকে। “ইন্ডিয়ান প্রভাব বাংলাদেশের উপর থেকেই আছে ফলে ইন্ডিয়াকে তেল মেরে চলতে হবে” – এই হল সেই এটুলি ধারণা!  এমন ধারণা-মনের কিছু রাজনৈতিক নেতা ও তাদের দল বাংলাদেশে আছে যেমন বিএনপি আর জামায়াত! এদের দলের উপর এটুলি হয়ে লেগে থাকা ধারণা আছে তাদের মনে যে, ইন্ডিয়ার কোলে উঠে বসে থাকতে হবে এই চিন্তা পয়দা হয়ে আছে সেখানে। এমন ধারণার সবচেয়ে বড় হয়ে লেগে থাকা রাজনীতিবিদ হল এখন বিএনপির তারেক জিয়া আর জামায়াত এর টপ তিন নেতা; সাথে অবশ্য কমবেশি আরো অনেকেই আছে। আর ওদিকে ঠিক একই ভাবে আছেন মোদি সাব  – যিনি ভেবেই গেছেন যে উনি “এখনও রাজা আছেন” –  বাংলাদেশের উপরে এই ভাব ছড়িয়ে বসে থাকা ব্যক্তিটা ছিল (ছিল বলতে হচ্ছে কারণ তিনি নিজেই এখন জেনে গেছেন তিনি আর নাই ) নরেন্দ্র মোদি।  ট্রাম্পের নির্বাচনের আগে থেকেই মোদি এবং সাথে হাসিনাও বিরাট আশা নিয়ে ট্রাম্পের জিতা দেখতে বসে ছিলেন যে এবার তাদের আকাঙ্খী বরপুত্র ট্রাম্প জিতে আসতেছেন। উনি এলেই মোদি বাংলাদেশের উপর হারানো সাম্রাজ্য বা আধিপত্য ফিরে পাবেন ফলে ইউনুসকে দেখায় দিবেন, উপড়ে ফেলবেন ইত্যাদি!
    এই আওয়াজ এতই তীব্র ছিল যে হাসিনাও তারা চোরা অনুসারীদের মনোবল বাড়াতে একই সুরে গান ধরেছিলেন যে, ট্রাম্প ক্ষমতায় এলে পরে লীগ ও হাসিনার চোর গংদের ভাগ্য আবার খুলবে! তারা নাকি আবার  বাংলাদেশের ক্ষমতায় ফিরে আসবে!!!!!

    কিন্তু হায় দিন আর কাটে না, তাদের প্রবল কামনার আকাঙ্খাও সত্য হয় না! ফলাফল? ফলাফল নিম্নচাপ!!!  ট্রাম্প ক্ষমতায় আসীন হবার পর আমাদের এ-অঞ্চল থেকে ট্রাম্পের প্রথম ভিজিটির হন মোদি কারণ, তিনি আর ধৈর্য রাখতে পারছিলেন না। কিন্তু ফলাফলে তাতেই ইন্ডিয়ার সব স্বপ্ন-আকাঙ্খা ভেঙ্গে পড়া শুরু হয়ে যায়। মোদি তবু বিশ্বাস করতে পারছিলেন না এই ভেঙ্গে পড়া নিজ চোখে দেখেও। ততোধিক দুরবস্থা তার সাঙ্গপাঙ্গোদের এমনকি তাতে লীগ / হাসিনারও!

    সবশেষ একেবারে মুকখে মারা বোমাঃ
    সবশেষে ট্রাম্প একলাই নিজ-ফয়সালা ঘোষণা  করে দেন যে আমেরিকায় ইন্ডিয়ান রপ্তানির উপর ধার্য শুল্ক হবে ৫০%। এই হল সেই মুকখে মারা বোমা!!!
    কারণ এবার আর ট্রাম্পের আমেরিকার ইন্ডিয়ার প্রতি নীতি-মনোভাব আর মোদি থেকে লুকায় রাখার সুযোগে থাকলেন না, মোদি সবটাই হারালেন। ট্রাম্পেরও সব উদাম হয়ে গেল!

    গত ২০০৬ সালে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট (বাবা বা সন্তান বুশ) জর্জ বুশ কংগ্রেসের আমলে ইন্ডিয়া সফরে এসেছিলেন। গত শতকের ষাটের দশকের পর্‌ কোন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট সেই প্রথম এসেছিলেন ইন্ডিয়াতে। আর সেই থেকে শুরু হয় ইন্ডিয়ান রুস্তমি, বাংলাদেশের উপর চোটপাট আর আধিপত্য নিয়ে জেঁকে বসবার খায়েস ও ততপরতা!  – মুই কী হনু রে! চিনস আমারে!!! – টাইপের হম্বতম্বি!
    পরে এসবের হাত ধরে আমাদের উপরে এসেছিল কুখ্যাত ১/১১!  ফলে আরো রুস্তমি ইন্ডিয়া-রাজ কায়েম করে ছেয়ে ফেলা!! আর তা ইন্ডিয়ান র-এর একেবা্রে বাংলাদেশের সেনা সদরে বসে অফিস খুলে বসা পর্যন্ত ঠেকেছিল! আর কী লাগে?
    আর এতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ দল কে ছিল বা কী হয়েছিল অর্থে, সেটা ছিল বিএনপি আর সেই সাথে ততোধিক খারাপ অবস্থায় ঝড় বয়ে যাওয়া অবস্থার দল জামায়াত – এই দুই দল! সাধারণ ভাবে অবশ্য ইসলামি দল মাত্রই এই দুর্দশায় পড়েছিল!!

    অথচ সেই বাংলাদেশের সেনা সদরে জেঁকে বসা ইন্ডিয়ান র ও বসানোর কারিগর হাসিনা সমুলে উতখাত হয়ে গেল ৫ আগষ্ট ২০২৪ সালে।  কিন্তু তবুও এদুই দল তারেকের বিএনপি আর জামায়াত এখন আরো জোরে সরে সেই ক্ষতবিক্ষত ইন্ডিয়ার ধরেই ক্ষমতায় যেতে হবে বলে আরো শক্ত বিশ্বাসে বসে আছে!! জামায়াত নিজ ঘাড়ের উপর “প্রামাণিকের হিন্দু জোট” কান্ধে নিয়ে হাঁটছে তো হাঁটছেই!  এ কোন তামাসা? সব তামাসাই তামাসা!!!  নাকি মোদির এক ক্যাশিয়ার গৌতম আদানির অর্থ কী এতই সুস্বাদু বা ক্ষমতাবান????
    যার মানে হল, যে তাঁকে গুষ্টিশুদ্ধ তছনছ করে দিল, বউ-সন্তান নিয়ে গেল তাকেই বিএনপি-জামায়াত ভক্তিভরে সালাম দিচ্ছে শুধু না তারই কোলে উঠে আশ্রয় খুঁজছে!!!! কেন?
    এছাড়াও, সর্বশেষ অবশ্য অল্প কিছু জেনারেলও এই পথে! তাদেরকেও মোদির বরকন্দাজ হতেই হবে! হাসিনা নাই তাই নিজেদেরকেও এগিয়ে এসে খেদমতে লাগতে হবে!

    একেবারে মূল কারণ পড়াশুনা না করা রাজনীতিবিদ এরাঃ
    একালের মানে চলতি শতকের [২০০১ +……] শুরু থেকেই দুনিয়া আর আগের মত নাই। অবশ্য এটা সবাই দেখতে পাবে না যদি না এনিয়ে পড়াশুনা কিছু থাকে! এর গোড়া বা রুট-ফ্যাক্টস হল – গ্লোবাল রাজনীতি আর গ্লোবাল অর্থনীতি নতুন করে মোঁচড় নিয়েছে, ১৯৪৫ সালের পরে আবার। যদিও আসলে সেখানে মূল নিয়ামক হল কেবল – গ্লোবাল অর্থনীতি – আর তাথেকে অনুষঙ্গ হিসাবে গ্লোবাল রাজনীতিও সাথে এর সব পুরানা নিয়মকানুনও! আর এদিকটা বুঝতে গেলে এবার পড়াশুনা লাগবেই! এককথায় বললে  পড়াশুনা না করা রাজনীতিবিদ এই চলতি শতকে একেবারে অচলই হবে!!! এমনকি শুধু রাজনীতিবিদই না নিজেকে বড় মনে করা সব একাদেমিশিয়ান / অধ্যাপকও অচল হবে!
    বিএনপি ও জামায়াত এই দুইটা দলই এমন অবুঝের ফাঁদ পড়েছে!  বলে বুঝিয়ে দিলেও বুঝতে পারছে না।
    শুধু তাই না; অবস্থা এখন এরকম যে এতদিন “কট্টর চীনবিরোধিতা দেখিয়ে চলা” খোদ মোদিই এখন চীনের কোলে উঠে বসেছে!   কিন্তু এসব দেখেও তারেক বা তাহের দের হুশ আসছে না!  আসলে তারা কিংকর্তব্যবিমূঢ়! কী করার আছে কী করতে হবে কিছুই বুঝছে না!  এমন অবস্থায়!

    তাহলে রাজনীতিকদের পড়াশুনা বলতে ঠিক কী বুঝাতে চাইছিঃ
    এর সোজা মানে হল, সরাসরি এখনকার চীন ও আমেরিকান প্রেসিডেন্টের নীতি-পলিসি খুঁটিয়ে রিড করার যোগ্যতা। বিশেষতঃ ২০১৩ সাল থেকে চীনের সবকিছুর নীতি-পলিসি! মনে রাখতে হবে চীন আবার তার এমন সমস্ত পলিসিওগুলো সাজিয়েছি কিন্তু খোদ আমেরিকাকে দেখে – অন্তত ১৯৪০ সালের পর থেকে উত্থিত গ্লোবাল নেতা আমেরিকাকে দেখে স্টাডি করে! যাই হোক, নীতি-পলিসি খুঁটিয়ে রিড করার যোগ্যতা – যেটা বলেছি সেটা মিনিমাম! আর সবচেয়ে ভাল হবে যদি  ১৯৪০ এর দশক থেকে আমেরিকান নিজ গ্লোবাল উত্থান  সম্ভব হওয়ার পিছনে কী শক্তি কাজ করেছিল সেটার একটা কম্পিলিট স্টাডি আর বুঝাবুঝি সমাপ্ত করতেই হবে। এখানে মনে রাখতে হবে, আজকের চীন নিজ রাষ্ট্রীয় সমস্ত নীতি-পলিসি ঠিক করার জন্য এই স্টাডি আর বুঝাবুঝি গবেষণাতেই অন্তত ১০টা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা সেন্টার খুলেছে। যাদের সংগৃহিত বুঝাবুঝি এটাই তারা নিজ দেশের পার্টিকে (চীনা ব্যবস্থায় তাদের কমিউনিস্ট পার্টিই সর্বসর্বা) সরবরাহ করে যাচ্ছে যাতে শি জিন পিং এবং সংশ্লিষ্টরা নিজ রাষ্ট্রের জন্য সঠিক নীতি-পলিসি ঠিক করতে পারে। এজন্য তারা অনুমান করে ফেলতে পারে আগাম যে আমেরিকান এরপরের পলিসিগুলো কেমন হতে পারে আর সেক্ষেত্রে চীন রাষ্ট্র কী সিদ্ধান্ত নিবে!!!
    যাই হোক, আমার এখানে সারকথাটা হল,  আমাদের রাজনীতিবিদ / একাদেমিশিয়ানদেরে এনিয়ে পড়াশুনায় প্রবেশ করতে হবেই পুরানা সব চিন্তা ঝেড়ে ফেলে –  যাতে গ্লোবাল এই চেঞ্জ বা পাস ফিরে শোওয়ার মত পালাবদলের এই কালে চীন-আমেরিকান প্রভাব / সিদ্ধান্তের প্রভাব বাংলাদেশের উপর কেমন হবে তা আন্দাজ / অনুমান করতে পারতে হবেই। এটা লাগবেই, এছাড়া নেতৃত্ব অচল হবেই! নেতা নিজে না পারলে অসুবিধা নাই যোগ্য-দক্ষ লোক ভাড়া করেন! কিন্তু নিজের মফস্বলি আন্দাজ দিয়ে পথ চলার দিন শেষ হয়েছে! একথা আমি নিজে অনেক বড় বড় টপ নেতাকে সরাসরি বলেছিও! মনে হয় না তাদের গায়ে লেগেছে বা  নুন্যতম কিছু বুঝেছেন! আসলে আমার কথা থেকে তাঁরা কী আমল করেছেন তা তাদের ততপরতা দেখেই বুঝা যায়!
    মূলকথাটা হল এটা তাদেরকে নিজেই বুঝতে হবে!  দু-একটা মাথুর টাইপের বড় র-এর এজেন্ট ধরা বা খাতির রেখে কোনই কাজ হবে না।

    আচ্ছা র-এর কথা থাক! খোদ মোদির অবস্থাই দেখেন!
    এবার ট্রাম্প যখন অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের নীতি নিয়ে  মোদির সাথে কথা চলেছে বা তুলেছেন তখন মোদির ব্লান্ডার বা মস্ত আকামটা লক্ষ্য করেন!
    মোদি ছুটে গেলেন রাশিয়ার পুতিনের কাছে। অজিত দোভালকে পাঠালেন। আর তাতে পুতিন একটা বিবৃতি দিলেন মোদির পক্ষে, আর ট্রাম্পের বিপক্ষে! বোকা মোদি হাততালি দিয়ে উঠলেন! কারণ,  পুতিন বলেছিলেন, কোন দেশ কার থেকে বা অন্য কোন দেশের মালামাল বাণিজ্যে সামিল থেকে কোথা থেকে কত মালামাল আমদানি-রপ্তানি করবে সেটা তার স্বাধীন সিদ্ধান্ত! এখানে ট্রাম্প অন্য রাষ্ট্রকে ফাঁদে ফেলে জোর খাটিয়ে কেনা-বেচা করতে বাধ্য করতে পারেন না।  মানে পুতিন বলতেছিলেন, ইন্ডিয়ার রাশিয়ার উপর আমেরিকার অবরোধে ভেঙ্গে সস্তার তেল কিনাটা জায়েজ ছিল।
    কিন্তু তাতে কী হল? পরিণতি কী? ইন্ডিয়ায় সস্তায় রাশিয়ান তেল কিনে তা আবার পরিশোধন করে রপ্তানি করার কথাটা সারফেসে আলোচনার টেবিলে এবার সরাসরি উঠে এল!  আর তাতেই ট্রাম্প  এবার ইন্ডিয়ার রাশিয়ান তেল কেনা – আমেরিকান ডলার /বাণিজ্য অবরোধ ভেঙ্গে কিনার অভিযোগে মোদির উপর বাড়তি শুল্ক ৫০% এ নিয়ে ঠেকিয়ে দিলেন!
    এখন গ্লোবাল আইনগত দিক থেকে দেখলে ইন্ডিয়া অবশ্যই স্বাধীন  আর আমরা সবাই তা মানব যে, সে কোন দেশ থেকে কী আমদানি-রপ্তানি করবে এটা ইন্ডিয়ার সার্বভৌম সিদ্ধান্তের ব্যাপার। আর এতে কেউ চাপ দিলে সে অন্যদিকে মানে অন্য দেশের দিকে যেদিকে বেশি সুবিধা পাবে চলে যাবে! কিন্তু সাথে এর বিপরীত কথাটাও আছে। আমেরিকার ট্রাম্প তিনিও তো স্বাধীন – তিনিও তাঁর ক্রেতা কোন দেশের উপর কী শুল্ক ধরবেন এব্যাপারে স্বাধীন! অর্থাৎ মূককথাটা হল, স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ইত্যাদি রাজনৈতিক অধিকারের কথা তুলে দুই রাষ্ট্রের এই স্বার্থদ্বন্দ্বের কোন ফয়সালা নাই, হবে না।
    কিন্তু এতে নিট যেটা পরিণতি হবে সেটা হল, অন্তত ১৯৮০ সাল থেকে চালু ও গড়ে উঠা আন্তর্জাতিক / গ্লোবাল বাণিজ্য ব্যবস্থাটা ভেঙ্গে পড়বেই! এতে আমার বা যারা বুঝে তাদের কোনই সন্দেহ নাই। অর্থাৎ ট্রাম্পের এই বিশেষ বাড়তি যথেচ্ছাচার শুল্কনীতি – এটা বর্তমান আমেরিকান নেতৃত্বের চলমান গ্লোবাল বাণিজ্য ব্যবস্থাটাকেই ভেঙ্গে অচল করে দিবে। যার সোজা মানেটা হল, এর বিকল্প হিসাবে চীনা নেতৃত্ব বা প্রভাবের বিকল্প একটা বাণিজ্য ব্যবস্থা জায়গা করে নিবার পথটাই গোয়ার ট্রাম্প করে দিচ্ছেন!  আর এতে আমেরিকা ছাড়া বাকি দুনিয়া মানে মুখ্যত ‘গ্লোবাল সাউথ’ আর ইইউ এর সমর্থন সেদিকেই  ক্রমশই সবল হয়ে হাটবেই! মূল কারণ, একালে এখন এসে প্রতিটা রাষ্ট্রই একমাত্র টিকে থাকতে পারে ব্যাপক অবাধ আমদানি-রপ্তানি আন্তঃরাষ্ট্রীয় বাণিজ্য  করেই!  দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে কিছু এক্সপেরিমেন্টেরও পরে (আইএমএফ-ভিত্তিক) ১৯৮০ সাল থেকে আমেরিকার নেতৃত্বে যে গ্লোবাল বাণিজ্য ব্যবস্থাটা গড়ে উঠেছিল সেটাই এখন চীনের নেতৃত্বে (ঢেলে সাজানো আইএমএফের জায়গায় ব্রিকসের আইডিয়ায়) পুনর্গঠিত হতে শুরু করবেই ক্রমশ!

    কিন্তু আমাদের মূল প্রসঙ্গ এটা নয়ঃ
    আমাদের মূল প্রসঙ্গ হল, আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব (সাথে একাদেমিশিয়ানেরা) কী এরপরেও ইন্ডিয়ান আধিপত্য যেন আগের মতই আছে এই যুযুর ভয়ে ইন্ডিয়া-লেপ্টে থাকার পক্ষে বোকা বুঝ নিয়েই থাকবে? নাকি পরিস্কার দেখতে পাবে যে আমেরিকা-ইন্ডিয়ান কোন নুন্যতম বিশেষ খাতিরের সম্পর্কটাই  এবার নাই হয়ে গেছে! অন্তত নিকি হ্যালি  করুণ আবেদনটা দেখেও তো তাদের বুঝা উচিত, নাকি?  আর কতদিন বাংলাদেশের রাজনীতিবিদের পড়াশুনা ছাড়া কথিত ইন্ডিয়ান হেজিমনির ভুতের ভয়ে পথ চলবে?????

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   ২৮ আগষ্ট, ২০২৫    সন্ধ্যা ০৭ঃ ৫৪

    [এই লেখাটা এর আগে প্রথম ভার্সানে ছাপা হয়েছিল দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় আমারই লেখা এক কলাম হিসাবে, গত ২৪ আগষ্ট ২০২৫।  আজ এখানে সে লেখাটারই এক আসল বা নিজ বর্ধিত এক নয়া এডিটেড ভার্সান এখানে আমার নিজ সাইটে ছাপা হল। বলাই বাহুল্য এখানে শিরোনামটাই শুধু নতুন নয়। এমন অনেক প্রসঙ্গই নয়া এখানে যোগ করা হয়েছে যেটা পত্রিকার ভার্সানে ছিল না। আসলে পত্রিকার কলাম ভার্সান মানে যেটা যুগান্তরের এডিটরিয়াল পলিসি সঠিক মনে করে সেই ভার্সান; এভাবে দেখাটাই সঠিক হবে। আর তুলনায় এটা আমার নিজ পরিবর্ধিত-এডিটেড ভার্সান মনে করলেই সঠিক হবে বলে আমার বিশ্বাস! ]