Category: CHINA

  • মক্কা জোট নিয়ে বাসনা বনাম বাস্তবতা

    মক্কা জোট নিয়ে বাসনা বনাম বাস্তবতা
    গৌতম দাস
    ০৪ সেপ্টে. ২০২৬
    https://wp.me/p1sCvy-6C5

    এটা আমাদের bdnews24 থেকে নেয়া ছবি। অভিযোগ মোদিকে বাদ দেয়া হয়েছে শাহবাজ শরীফকে মধ্যখানে দেখাতে…..Pakistan crops Modi, Iran’s Pezeshkian from SCO photo to centre Shehbaz

     

    [এটা মক্কা জোট নিয়ে আমার নতুন কোন অবস্থান না, অনেকে কিছু প্রশ্ন রেখেছেন এর ব্যাখ্যা মাত্র! ]

     

    “চাহানা সে হর কৌয়ি আপনা না-হি হোতি” ….
    এক্সপেক্ট বা আশা, বাসনা করলেই সেটা নিজের হয় না; যেটা আমার বাসনা তা আমার ইচ্ছা মোতাবেক বাস্তব হয়ে যায় না। স্বপ্ন-কল্পনা মোতাবেক বাস্তবতা হয় না। কোনটা আমরা কামনা মানে এক স্বপ্ন-কল্পনা মাত্র কিন্তু বাস্তব না – এই হুশ হারানো যাবে না! 

    বুশের ওয়ার অন টেররের যুগটা অন্তত মুসলমানদের কাছে আসলে কী ছিলঃ
    ওয়ার অন টেরর এর যুগ মানে ২০০১ সালের শেষের দিকে সারা দুনিয়ার মুসলমানদের উপর পশ্চিমা বিশেষত আমেরিকান রাষ্ট্র এর দিক থেকে যখন চরম নিপীড়ন নেমে এসেছিল – সেটাই এই ওয়ার অন টেরর এর যুগ। আর এটা চলেছিল বলা যায় ২০২১ সালে আগষ্ট পর্যন্ত। এই সময় পর্যন্ত শেষে (২০২১ সালে) আমেরিকান আর্মি আফগানিস্তানে তালেবানদের সাথে চুক্তি করে পরে কোনমতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে পালিয়েছিল। মোটামুটি এরপরেই বলা যায় দুনিয়ার মুসলমানদের উপর নির্মম নিপীড়ন ক্রমশ কমতে থাকে, তবু এখন একেবারে চলে গেছে তা বলা যাবে না।
    আমেরিকার টুইন টাওয়ারের হামলা বা ৯/১১ এর উসিলায় প্রেসিডেন্ট (জুনিয়র) বুশ এই ওয়ার অন টেরর এর দুনিয়াব্যাপী মুসলমানদের উপর যুদ্ধ-ঘোষণার এক চরম নিপীড়ন এর যাত্রা শুরু করেছিলেন।  সব ক্রিয়ারই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া থাকে!

    ক্রিয়ার বিপরীত ও সমান প্রতিক্রিয়াঃ
    এখানেও তার ব্যতিক্রম হয় নাই! আমেরিকার টুইন টাওয়ারে হামলা বা ৯/১১ এর হামলায় যে সরকারি মামলা হয়েছিল তাতে যাদেরকে আসামি করা হয়েছিল তারা মোট মাত্র ১৯জন। যার মধ্যে সম্ভবত একজনও আফগানি নন! তবু আফগানিস্তানেই প্রথম আমেরিকান সেনারা হামলা করে তা দখল করে নিয়েছিল যা বিশ বছর পরে ২০২১ সালে এসে ছেড়ে যায়।
    এটা আমেরিকান নানান থিঙ্কট্যাঙ্ক এরই বক্তব্য যে,  মামলার ঐ ১৯ আসামিকে দুনিয়ার যেখানে পাওয়া যায় ধরে নিয়ে এসে আমেরিকায় বিচার করলেই ত যথেষ্ট হত। কিন্তু বুশ সেপথে গেলেন না কেন?  কেন ৯/১১ কে ওয়ার অন টেরর এর পথে যাবার উসিলা বানালেন? কারণ, এটা আমাদের না বুঝার কিছু নাই যে “টুইন টাওয়ারে” হামলা মূলত তাদের সম্মান শ্রেষ্ঠত্ববোধে আঘাত দিয়েছে। ঠিক তাও না, বরং এভাবে ব্যাখ্যা করে এক মেরুর দুনিয়া শাসন করতে পারবেন এখন থেকে এই লোভ রিপাবলিকানদের মনে গোপন বাসনা হয়ে জেঁকে বসেছিল। এনিয়ে বিস্তারিত পরে কখনও!
    সেজন্য ঐ ১৯জনকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসাটাই অনেক যথেষ্ট হতে পারত তা জানলেও কিন্তু বুশ সেটাকে প্রতিহিংসায় দুনিয়াব্যাপী মুসলমানদের উপর যুদ্ধ-ঘোষণার এক চরম বিষাক্ত নিপীড়ন এর যাত্রা শুরু করেছিলেন। যেন সেটা ছিল সমগ্র এথনিক মুসলমান ধর্মীয়-জাত এর বিরুদ্ধে লড়াই। এভাবেই প্রেসিডেন্ট বুশ এই নির্মুলের অপরাধ ঘটিয়েছিলেন।  অথচ আমেরিকার নিজস্ব আইন বা কনষ্টিটিশন কোন এথনিক বিভক্তি বা কাউকে এথনিক শত্রুজ্ঞান করা এটা অনুমোদন করে না। অথচ ততদিনে মেজর আমেরিকান জনমত বুশ ততদিনে নিজ নীতির পক্ষে জাগিয়ে ফেলেছিলেন। তাতে আমেরিকান আইন ঐ মামলায় ১৯ জন আসামির বাইরে বিশতম ব্যক্তিকে হত্যা বা বিচারের অনুমোদন দেয় না- তা সত্য হলেও।

    কোন ক্রিয়া যতই ‘জ্ঞানবুদ্ধি-হীন’ যথেষ্ট ‘সাফাই-যুক্তিহীন’ হয় তাতে বিপরীত এর চরমতম প্রতিক্রিয়াও সে রকমই হয়। মূল কারণ কোন হিতাহিত জ্ঞান শুন্য হয়ে সমগ্র মানবজাতির স্বার্থ উপেক্ষা করে কেবল একটা এথনিক-ধর্মীয় গোষ্ঠিকে নির্মুল-উতখাতের পরিণতি কী হয় তা একেবারেই বিবেচনা না নলে তো এমনই হবে।
    আমরা খুব ভাল করেই চিনি এই “এথনিক নির্মুল” শব্দের অর্থ ও পরিণতি কেমন হয়; শাহরিয়ার কবির এখনও আইসিটি কোর্টে পেটে বেল্ট বেধে আসা-যাওয়া করতেছে! সম্ভবত স্বাভাবিক মৃত্যুর আগে পর্যন্ত এটাই তাকে করে যেতে হবে। তাঁর প্রায়শ্চিত্ত হয়ত এভাবেই বেঁচে থাকা অবস্থায় সম্পন্ন হবে! জাতিসংঘের  আইসিসি কোর্টও তাই “এথনিক নির্মুল” বা “এথনিক ক্লিনজিং (ethnic cleansing) বা বাংলা করে বললে, একটা এথনিক মানবগোষ্ঠিকে মুছে ফেলা বা ফেলার চেষ্টা – এই অপরাধকে সর্বোচ্চ শাস্তির অপরাধ গণ্য করেছে। এর মূল কারণ, নির্মুলের ধারণাটা খুবই ছোঁয়াচে। কোন একটা এথনিক গোষ্ঠিকে নির্মুল করার চেষ্টা মানে আত্মরক্ষায় সেও আপনাকে নির্মুল করে বাঁচবার চেষ্টাই করবে। আর একবার যদি এই পরস্পরকে নির্মুল করা শুরু করে দেই তবে এটা দুনিয়াতে আর কোন এথনিক গোষ্ঠি বেঁচে থাকবে না! এমন অবস্থায় দুনিয়া চলে যেতে পারে! আল্লাহর দুনিয়ায় ‘মানব প্রজাতি (human species)’ বলে কিছু আর বেঁচে থাকবে না! এটা এতই ভয়ংকর আর তাই এতই ছোঁয়াচে উস্কানি! কারণ, সোজা যে  যুক্তিটা প্রথমে মানুষের মাথায় কাজ করে যে আমাকে আমার প্রজাতি (এখানে ধর্মীয় এথনিক জাতকে) নির্মুল করতে আসবে আমার তো তাকেই নির্মুল করা ছাড়া রাস্তা নাই। এমনটাই মাথায় আসে। সাথে এটা ভুলে গিয়ে যে এই উস্কানি ভীষণ ছোঁয়াচে যার পরিণতি হবে আল্লাহর দুনিয়ায় ‘মানব প্রজাতি (human species)’ বলে কিছু-কেউ আর বেঁচে থাকবে না! কিন্তু একথা মাথা ঠান্ডা হলে তবেই না চিন্তার সুযোগ আসবে! মানে এখনই আমাকে কেউ তাড়া করছে না একটু সাময়িক বিরতি পেলে তখন চিন্তা করলে হয়ত বুঝা যেতে পারে। কিন্তু সব অঘটন এর আগে শেষ হয়ে যেতে পারে!

    এই হয়ত-টা ঘটে নাই। আমরাও এর প্রতিকার হিসাবে, এক মুসলমানের দুনিয়া বা কেবল মুসলমানের দুনিয়া কায়েম করা ছাড়া অন্য কোন দুনিয়ার কল্পনা আর আমাদের মাথায় কাজ করে নাই।
    এই বোধ এখনও আমাদের মাথায় কাজ করে তবে সময়ে সময়ে, বিশেষ করে যখন আমাদেরকে যে কোন ‘অনিরাপদ-বোধ’ এই চিন্তা আমাদের চিন্তিত করে ফেলতে পারলে!  মাথায় আসলেই এমনটা হয়! এলেই আমাদেরও মনে হতে থাকে – “কেবল এক মুসলমানের দুনিয়া কায়েম করা ছাড়া” আমাদের নিরাপত্তা কোথাও নাই। আমি মুসলমান – মুসলমান হিসাবে এই বাস্তব দুনিয়াটায় আমি নিরাপদ না – এই বোধ আমাদেরকেও একইভাবে ভাবায় এভাবে যে – আমাদের এনিমি হয়ে যে দাড়ায় তাকেই ঐ একইভাবে নির্মুল করা ছাড়া আমাদের ত বাচোয়া নাই এমন উপায়ের দিকে যেতে সাফাই মনে যোগাতে থাকে – উপযুক্ত পরিবেশ  পেলে যা হয়ত আরও বড়ও হয়ে যেতে পারে! আর সেসময় মাথা ঠান্ডা না থাকলে আল্লাহর বিধানের কথাও মাথায় কাজ করে না!

    মক্কা  নিরাপত্তা জোট গঠনঃ
    সাম্প্রতিক মক্কা নিরাপত্তা জোট (The Mecca Joint Defence Agreement is a) গঠন – এটা (সংক্ষেপে “মক্কা জোট” বলব এখানে) আমাদেরকে এসব একটু পিছনে ফেলা স্মৃতি আবার জাগিয়েছে।
    তবে আসলে ঠিক এটাই না, আরো একটা মুল বা প্রধান দিক আছে। সেটা হল, এই মক্কা জোটের বিরুদ্ধে ইন্ডিয়ান অপ্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া। ইন্ডিয়ান ভয়ের প্রসঙ্গ পরে আসতেছি।
    বাংলাদেশের মানুষের কাছে আসলে মূল বিষয় ঠিক ‘মক্কা জোট’ না; এটা পরে এসেছে। আমাদেরকে প্রথম যা উস্কানি দিয়েছে বিশেষ করে আবার মুসলমান হিসাবে নিজের ভিতরে যা ‘অনিরাপদবোধ’ জাগিয়েছে সেটা হল ইন্ডিয়া; ইন্ডিয়ান বিবৃতির প্রতিক্রিয়া। আমরা আবার এমন চিন্তায়ও (যারা কম চিন্তায় অভ্যস্ত) অভ্যস্ত যে যা ইন্ডিয়া আমাদের বিরুদ্ধে বলে বা আমাদের জন্য খারাপ বলে প্রতিক্রিয়া / হুমকি দেয় সেটাই আমাদের জন্য সঠিক ও ভাল! তাই মক্কা জোট নিয়ে ইন্ডিয়ার এই বিরোধী-বিবৃতি এটাই আমাদের প্রথমে ‘পুরানা’ “অনিরাপদবোধ” আবার জাগিয়েছে। আর সেখান থেকেই প্রতিকার হিসাবে আমরা চোখ-বন্ধ করে ‘মক্কা জোটই’ আমাদের এখনকার একমাত্র চাওয়া বলে আমাদেরকে চরমে প্রভাবিত করেছে। বলে আমার অনুমান!
    এই অবস্থায় ব্যক্তি হিসাবে আমার অনুভব হল যে কেন এমনচিন্তা ভুল বা সঠিক তা শুনবার অবস্থায় (চিন্তা করার সুযোগ সুস্থিরতা এরপরের অবস্থা) আমরা কোন কারণে যখন থাকি না তখনই এসব ঘটে। তাই এনিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে কোন নতুন কথা আমি এখন বলব না; সমীচিন না বা সময় ঠিক না বলে আমি বুঝেছি।

    একটা কথা আমরা নিশ্চিত করে মনে রাখতে পারিঃ
    আমার বিচারে আমাদের আম-প্রতিক্রিয়ার শুরুটা ইন্ডিয়ার এই শয়তানি থেকে; মিথ্যা ভয় দেখানে থেকে। তাই এনিয়ে দুইটা বাক্য বলব।
    ইন্ডিয়া আজ অথবা আগামি অন্তত ২০-২৫ বছর বাংলাদেশে সামরিক আক্রমণ ধরণের যেকোন কিছু করার কথা চিন্তাও করবে না; আমি বলতে চাই ইন্ডিয়া সাহসই করবে না। কেন?
    কারণ, বাংলাদেশের সাথে চীনের আগেই কোন সামরিক চুক্তি থেকে থাক আর নাই থাক – ইন্ডিয়ান আক্রমণের পরিস্থিতিতে এর বিরুদ্ধে আমাদের পক্ষে যেদেশ সবার আগে আগায় আসবে সেটা হবে চীন। এবং সেটা কোন দয়া করে না। চীনের নিজস্ব যুদ্ধকৌশলগত (স্ট্রাটেজিক) মৌলিক (core)স্বার্থ এটাই – সেজন্য। বাংলাদেশ ইন্ডিয়ান কবলে চলে গেলে চীনের  ক্ষতি কো অংশে কম হবে না!  তাতে সেক্ষেত্রে ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে আমাদের রক্ষায় চীনা – যেদিন থেকে যুদ্ধে নেমে যাবে সরাসরি অথবা প্রক্সি যুদ্ধে – এর ভিতরেই কবে যে বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে এক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর হয়ে গেছে যা জানা যাবে হয়ত পরে। এছাড়া চীনের স্ট্রাটেজিক এক নাম্বার পার্টনার রাশিয়ার মাধ্যমে যখন মোদিকে আত্মঘাতি না হতে, বিরত থাকতে বার্তা যাবে আমার মনে হয় এটাই মোদির হুশ আনার জন্য যথেষ্ট হয়ে যেতে পারে।

    গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত Shanghai Cooperation Organisation (SCO) এর সম্মেলনঃ
    একটা তথ্য এখানে যোগ করি। Shanghai Cooperation Organisation (SCO) নিয়ে। এই জোট যা ২০০১ সালে মাত্র ৫ দেশীয় জোট শুরুতে ছিল; চীন-রাশিয়া আর সেন্ট্রাল এশিয়ার ৩ দেশ এভাবে চীন, রাশিয়া আর কিরগিজস্তান, কাজাখস্তান, তাজিখস্তান, মোট মাত্র পাঁচ দেশ ফলে এটাকে অনেকে সাংহাই ফাইভ বলেও ডাকত। পরে উজবেকিস্তান যোগ হয়। এমনকি সেকালে আমেরিকাও এটা প্রচ্ছন্নে সমর্থন করেছিল। পরবর্তিকালে এখন ইরান, ইন্ডিয়া পাকিস্তান আর বেলারুশ সহ মোট সদস্য ১০ রাষ্ট্রের SCO। গত সপ্তাহে  কিরগিজস্তান এর রাজধানি বিশকেক এ SCO এর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল।( 2026 Bishkek SCO summit, (31 August to 1 September 2026 in Bishkek, Kyrgyzstan.)
    আর এই SCO জোটকেই তাদের এবারের সম্মেলন থেকেই এটা যেকোন পশ্চিমা জোটের পালটা কেন্দ্র বলা হয়েছে। দেখেন;

    SCO challenges West as diverse group of nations pursues multipolar future

    এমনকি তুরস্কও সেভাবে দেখে। আর এই সম্মেলন থেকেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন আমাদের মূল সমস্যা ইরানের উপর আগ্রাসন। আমার দেশ লিখেছে, (এটা অনেকেই কোট করে আমাকে পাঠিয়েছে তাই) “ শাহবাজ শরীফ বলেন, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার অন্যতম সদস্য ইরান চলতি বছরের শুরুতে হামলার শিকার হয় এবং দেশটির সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘিত হয়”। তাহলে ইরান এই হামলার শিকার হয় কার হাতে? যেটাতে ইরানের “সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘিত” হয়েছে বলে মনে করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী!
    না, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর এই কথা আমার মুখ্য পয়েন্ট নয়। বরং আসেন প্রশ্ন করেন যে, বিশকেক এর এবারের SCO সম্মেলনে মোদি কেন যোগ দিলেন? এককথায় জবাব বাধ্য হয়েছেন। এমনকি উপরে যে শাহবাজ শরীফের বক্তব্যের কথা বললাম সেটা স্টেজে সবাইকে (উপস্থিত মোদিসহ) সামনে রেখেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বলা কথা।

    আসলে মোদি বড় শত্রু হল মক্কা জোটঃ
    আসলে মোদি বড় শত্রু হল মক্কা জোট।
    কিন্তু সবাই যেটা ধরে নিয়েছেন যে এটা মুসলমানদের জোট সেজন্য! এই অনুমান, এই অংশটা ভিত্তিহীন! এর প্রথম কারণ হল,
    ১. মক্কা জোট মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি থেকে উতপত্তি বা জাত। এর বাস্তবায়ক ইসলামি দেশগুলো হলেও ইন্ডিয়ান উদ্বেগ ঠিক সেটা না, অন্তত এখানে।
    ২. ইন্ডিয়ার উদ্বেগের প্রধান কারণ এতে পাকিস্তান আমেরিকার বন্ধু তো ছিলই এখান আরো প্রো-আমেরিকান ইসলামি দেশের দ্বারা সমর্থিত হল পাকিস্তান। এর উপর পাশে তুরস্ক। তুরস্ককে ইন্ডিয়া শত্রু জ্ঞান করে ঠিক মুসলমান দেশ বলে না বরং এই তুরস্ক আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতির অনুসারি – মার্কিন বোমারু উড়োজাহাজের অস্ত্র ও যন্ত্রাংশ উতপাদনকারী! ফলে এই ‘পাকিস্তানের’ কাছে ইন্ডিয়া মৃতপ্রায় তুচ্ছ ত বটেই!
    ৩. তামাশার কথাটা হল, মোদি নিজে কী উপরের কথাওগুলো জানে না? অবশ্যই জানেন। কিন্তু তাহলে এবার বুঝেন সেই মোদির ইন্ডিয়া তাহলে এসময়ে SCO সম্মেলনে গিয়ে আশ্রয় খুঁজতে হয়েছে কেন?
    ৪. কারণ নাহলে আরো কঠিন শত্রু আমেরিকার পাল্লায় (যে তুরস্ক, পাকিস্তানকে সমর্থন করে) পড়তে হবে। মূল কারণ, মোদির ইন্ডিয়া এখন নিশ্চিত যে আমেরিকা আর কখনো ইন্ডিয়ার পক্ষে না আসুক অন্তত ইন্ডিয়াকে আমেরিকা নিজ কৌশলগত মিত্রের মর্যাদা দেক – এটাই দুরস্ত হয়ে গেছে। কখনও  দুনিয়া আর এমন দিন ফিরবে না!  কারণ,  ট্রাম্প পরিস্কার যে মোদিকে তাঁর আর একেবারেই দরকার নাই। অতএব, তুলনায় SCO জোট মোদিকে যতটুকু নিরাপত্তা দিতে পারে (রাশিয়া আছে সেখানে বলে) ততটুকুই মোদির ভরসা। তাতে মোদিকে ইরানের প্রেসিডেন্টের সাথে সাইড লাইনে ওয়ান-টু-ওয়ান মিডিয়ার সামনে কথা বলতে হলেও মোদি নিরুপায়। একইভাবে নিরুপায় একই সম্মেলন মোদিকে দেখতে হচ্ছে, শাহবাজ শরীফ গলা তুলে ইরানকে সমর্থন করে দেখিয়ে দিচ্ছে যে পাকিস্তানকে ট্রাম্প সমর্থন করে তা সত্বেও পাকিস্তান এমন গলা তুলতে পারে! মোদি কত ক্ষুদ্র এক প্রধানমন্ত্রী এটা প্রকাশ হয়ে পড়া সত্বেও ইন্ডিয়াকে SCO সম্মেলনে যেতে হয়েছে! ওথচ আমরা উলটা ইন্ডিয়াকেই তার বিবৃতি দেখে ভয় পাচ্ছি! মনে রাখতে হবে ইন্ডিয়া পাকিস্তানের চেয়েও তুরস্ককে বেশি ভয় পায় বেশি ও বড় নিজ শত্রুজ্ঞান করে কারণ, তুরস্ক পাকিস্তানের চেয়েও অনেক বেশি ট্রাম্পের ফরেনপলিসি ঘনিষ্ট!

    কেন ঢাকার ইরানি রাষ্ট্রদুত এমন কথা বলছেনঃ
    যুদ্ধের ব্যয়ে একেবারেই দিশাহারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প! সে চায় সৌদির মত ন্মধ্যপ্রাচ্যের দেশ তাকে এই যুদ্ধ ব্যয়ের দায়ীত্ব কিছু অন্তত শেয়ার করুক। আমেরিকার দিক থেকে এটাই মক্কা চুক্তি তাদের চোখে! সেখান থেকে মক্কা জোটকে
    সৌদিদের সাহায্যে ট্রাম্প দেখাতে চায়, এই আওয়াজ উঠাতে চায় যে,  ইরান মুসলমানদের কেউ না। কারণ তারা মূলত শিয়া! এখন এই পরিস্থতিতে ইরানি রাষ্ট্রদুত তো বলতে পারে না যে হা আমরা সৌদিদেরকে শত্রু মনে করি। এতে তো ট্রাম্পই জিতে যাবেন। তাই তিনি কৌশলে মনে করিয়ে দিচ্ছেন – ইরান তো সৌদিতে আমেরিকান ঘাটি যেখানে এর বাইরের কোন সৌদি ভুমিতে তো আঘাত করে নাই। মানে আমেরিকা যেখান থেকে গোলা ছুড়তেছে সেই ভুখন্ড অংশটাই কেবল ইরান শত্রু বিবেচনা করে। অর্থাৎ মূল সৌদি আরব ইরানের কোন শত্রুই নয়!   অর্থাত ইরানি রাষ্ট্রদুত (আমার জানামতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে সুন্নি এবং একাদেমিক) এর অবস্থান দাড়ালো যে, “ আমরা মক্কা চুক্তির বিরোধী না (তবে সেটা এই অর্থে যে এই মক্কা চুক্তি যেন ট্রাম্পের ফরেন পলিসি থেকে উতপন্ন নয় ফলে সম্পর্ক নাই এমন মনে করা হোক)। অর্থাৎ এক জবর কূটনৈতিক পরিভাষায় তিনি ইরানের অবস্থান তুলে ধরছেন ঐ SCO সম্মেলনে!  

    শেষে খুব ছোট করে তারেক সরকারের মানে খলিলের অবস্থান নিয়েঃ
    গত প্রায় দুবছর ধরে খলিল-ইউনুসের অবস্থান প্রতিটা ক্ষেত্রে আমেরিকান বা ট্রাম্পের ফরেন-পলিসির অনুগত। অর্থাৎ আমেরিকান ফরেন পলিসির বাইরে তাদের কোন মতামত নাই।  অর্থাৎ ট্রাম্পের সাথে একই অবস্থানে। এখন যেকোন বুঝ থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেকেও আবার এটা মেনে নিয়েছেন; খুব সম্ভবত তাঁর ‘ভারসাম্য’ প্রীতি (ঠিক যেমন ভারসাম্যের পট্টি পরিয়ে বোয়িং কেনানো হয়েছে) এই ভয় নাকি বেকুবি মানে ঐ যে বলে না – বনের বাঘ না মনের বাঘই মানুষকে খায় – এই সুত্রে – খলিল এই সুবিধাটা ফিক্সড করে গেছে তারেকের মনে গেথে দিয়ে। যেটা এখন তাই  হুমায়ন কবিরের প্রকাশ্য অবস্থান।  আর এই সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের উসিলায় আমেরিকায় গেলে দুমিনিটের জন্য ট্রাম্প দেখা দিলে তো তারেক জাত-নেতা হবে এমন লোভও খলিল পেশ করেছে বলে জানি!

    এখানেই শেষ করবঃ তাহলে শত্রু কে?
    কেবল একটাই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে বলব আমার পাঠকদেরকে তাতে বাংলাদেশের আম-মানুষ যার যে অবস্থানই থাকুক। আপনারা যেকারণেই মক্কা চুক্তিকে সম্পর্থন করেন না কেন একবার নিজেকেই জিজ্ঞাসা করে নিবেন তাহলে, আপনার বুঝাবুঝিতে মক্কা চুক্তির শত্রু টা কে? মানে এনিমি টা কে? দয়া করে শত্রু তাহলে কে হল – এটা নিশ্চিত না জেনে বা না হয়ে শুধু আপনি মক্কা চুক্তির পক্ষে (হয়ত তা ইন্ডিয়ার ভয়ে) এই অবস্থান তো অর্থহীন হবে! এটা মনে রাখবেন! ইরানসহ সবাই যদি মক্কা চুক্তির পক্ষে যায় তাহলে শত্রুটাকে? এর জবাব আমাকে দিবার দরকার নাই, নিজেই নিজেকে সন্তুষ্ট করতে পারে এমন জবাব দিয়ে রেখেন।  

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক

    ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

     

  • আজকের দিনটা দাগিয়ে রাখার মত রিমার্কেবল

    আজকের দিনটা দাগিয়ে রাখার মত রিমার্কেবল হয়ে থাকল!
    “তারেক ক্ষমতায় থাকলেও মূল ক্ষমতা আমার হাতেই থাকবে” – সেদিন কী এসে গেল?
    গৌতম দাস
    ২৯ জুলাই ২০২৬
    https://wp.me/p1sCvy-6AO

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, খলিলুর রহমান ও সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস

     

    আজকের দিনটা দাগিয়ে রাখার মত রিমার্কেবল হয়ে থাকল! যদিও বেশিরভাগ জনেরই এটা ত ঠাহরের বাইরে এখনও।
    কিন্তু হলটা কী, হয়েছে টা কী? তা অনেকভাবেই বলা যায়! যেমন বললাম, তারেক রহমানের ন্যানি বদল হয়ে গেছে তিনি জানেন না। ‘ন্যানি’ মানে জানেন নিশ্চয়।  অবস্থাপন্ন লোকেদের স্ত্রীদের নিজহাতে কোলে করে বাচ্চা মানুষ করতেই হয় না। যার কোলে (সে বেতনভুক এক নানি যেন  এমন সহকারি; বাচ্চা পালাই তার কাজ) ওর দেখভালেই বড় হয় বাচ্চা আর সেই-ই ন্যানি। অনেকসময় তাই বাচ্চা বড় হয়ে গেলেও ন্যানির সাথে তার এটাচমেন্ট অনেকদিন বেশি ঘনিষ্টই থেকে যায়। আর আসল মা? সে তো নিজ শরীর আকৃতি ঠিক রাখার জন্য বুকের দুধটাও ঠিকমত খাওয়াতে চায় না। যত কম করে চালানো যায় এভাবেই পার করে দেয় প্রথম দুবছরটা।
    ওদিকে তারেকের দিক থেকে দেখলে, রাজনীতি কী? জিনিষটা ঠিক আসলে কী? কিভাবে তা জানতে বা এর কোন ট্রেনিং, পড়াশুনা ওরিয়েন্টেশন কখনই তারেকের নেয়ার সুযোগ হয় নাই। জন্মগত ভাবেই সে নেতা এসব না জানা, না কোন অভিজ্ঞতা থাকলেও। কাজেই একটা “রাজনৈতিক ন্যানি” তো মাস্ট তাঁর লাগতই। কিন্তু প্রবলেম আরো একটা। ১৭ বছর সে বিদেশে যে সময়টাতে সে তার পরিণত বয়সটা পার করেছে তাই ততদিনে জেনে ফেলার বয়স তখনও অনেক কিছুই। বিশেষ করে রাজনীতিটা। অথচ তাঁর আশেপাশে কেউ নাই, ছিল না। যে তাঁকে সাহায্য করবে! তাই হাসিনা-উত্তর দেশে ফিরে কে তাঁকে নেতৃত্ব মানে একেবারে সরকারের ক্ষমতা বসতে তৈরি জায়গা করে দিবে সেটাই ছিল বিশাল এক বিশাল সমস্যা। আর ঠিক এটারই অফার তাঁর মুখের সামনে নিয়ে এসে তুলে ধরেছিলেন খলিলের মাধ্যমে ইউনুস!
    সেই অর্থে ইউনুস হয়ে যায় তারেক রহমানের ন্যানি!
    পরবর্তিকালের কিছু ঘটনা দেখে অনুমান হয় তারেক সম্ভবত ভেবেছিল আগে রাজা হয়ে তো নেই পরে ন্যানিকে না হয় কিছু “অবসরভাতা’ দিয়ে বিদায় করে দিব!!!
    তারেকের সেই থেকে যে একেবারেই কাঁচা নবিশ আর বিপরীতে ন্যানি ইউনুস যে আমেরিকার ‘ডেমোক্রাট থিঙ্ক ট্যাঙ্ক’ আর সোরেস ফাউন্ডেশন থেকে ট্রেইনড তা মনে হচ্ছে তারেকের ধারণাতেই ছিল না। আজকে তাই সকাল থেকেই (যা কয়েকদিন থেকেই অনুমিত হচ্ছিল) মানে দৃশ্যপটে খলিলুর রহমানের আগমন হওয়া থেকে পুরা পরিস্থিতি এখন খলিল-ইউনুসের হাতের মুঠোয় চলে গেল অনুমান হচ্ছে। এমনকি মোদি (বা তার বাইরের ছবি ঢাকার হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদি) এদের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে সব হারিয়ে মোদিও এই প্রথম ইউনুস-খলিলের পোষাকের আঁচল ধরে হাটা শুরু করেছে; আর উপায়ন্ত সব হারিয়ে এতেই এরা মহা খুশি!
    ত্রিবেদি প্রায় মাস খানেক ঢাকায় এসে থাকছেন তবু আজই প্রথম আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে খলিলের সাথে বিশেষ মোলাকাত করে সে আহ্লাদিত তা জানিয়েছে। মানে যেন আর তারেক কী সিদ্ধান্ত দেয় এই দুশ্চিন্তায় থাকতে হবে না; এখন আসল লোক খলিলকেই পাওয়া গেছে তাই আহ্লাদ হয়েছে!

    ইউনুস সাব আনুষ্ঠানিক সরকারের ক্ষমতা ছেড়েছেন ১৭ ফেব্রু. ২০২৬। এর অন্তত তিনমাস আগে থেকেই তিনি যাকেই তার ঘনিষ্ঠ মনে করেছেন, সামরিক-বেসামরিক সবাইকেই তিনি জানিয়ে গেছেন অবলীলায় যে তারেক ক্ষমতায় এলেও আসল ক্ষমতা আগের মতই তাঁর হাতেই থাকছে। এমনকি একথাগুলো বিশ্বাস করানোর জন্য তিনি এতই কসরত করেন গেছেন যে এর বিস্তারিত বলাটাও বিপদজনক; বিচার বিভাগই ভেঙ্গে পড়তে পারে এমন!  আমি এদের অনেককেই দেখেছি পরের অন্তত তিন-চার মাস পর্যন্ত তারা যে এটা বিশ্বাস করছেন, তখনও করেন সেটাও তখনও তা আমাকে জানিয়েছেন।
    তাই আজকেরদিনের পরে এমন সকলেই এখন ইউনুস-কে কুর্ণীশ করতে চাইবেন; হয়ত এতা ভাববেন যে হুজুরে-ওয়ালা এবার ঠিকই এসে  নাজিল হয়েগেছেন!

    তাহলে আজকের ঘটনাটা ঠিক কী ঘটেছেঃ
    গত প্রায় মাসখানেক ধরেই আমি কামান দাগছিলাম “ভারসাম্য” শব্দটার উপর। ইংরাজিতে যা ব্যালেন্স – এই সম্পর্ক এই কথাটার উপরে। আমি অনুম,আন করেছিলাম তাই বলছিলাম – খলিল-ইউনুস এখন আবার দাবি করবে তারা বাংলাদেশের জন্য এক ভারসাম্যপুর্ণ সম্পর্কের পক্ষে আছেন কাজ করছেন। সুশীলভাবে বলবেন হা চীনকেও দরকার কিন্তু পাশাপাশি আমেরিকার সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্ক রাখতে হবে এজন্যই তারা আমেরিকার জন্য কাজ করতেছেন।
    আমার সেই অনুমানই সঠিক হয়েছে।

    খলিলুর রহমান বলেছেন, “একজনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষতি করে আরেকজনের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি করছে—আমরা কখনও সেটা করবো না। সব দেশের সঙ্গে স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে আমরা সম্পর্ক বৃদ্ধির চেষ্টা করেছি।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, “এটা তো স্ত্রী ও সতিনের মধ্যে মারামারি নয়। এটা হচ্ছে স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক, যেখানে আমাদের স্বার্থ, আমরা সেখানে যাবো।”  – বাংলা ট্রিবিউন ২৯ জূলাই’২৬

    “কূটনীতিতে আমরা আন্দাজে কাজ করি না। আমরা বাস্তবতার ভিত্তিতে কাজ করি—এটা মনে রাখবেন। কারও সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন মানে এই নয় যে আরেকজনের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে। চীনে আমাদের অত্যন্ত ভালো সফর হয়েছে। ভবিষ্যতে যদি ভারতে আমাদের প্রধানমন্ত্রী যান, ভালো। আমরা আশা করবো সেই সফরটিও অত্যন্ত ভালো হোক।”  – বাংলা ট্রিবিউন ২৯ জূলাই’২৬

     “এই যে মার্কিন দূত আসবেন, আমার সঙ্গে সেক্রেটারি অব স্টেটের (Marco Rubio)  দেখা হয়েছে। এই ইন্টারেকশনগুলোর মাধ্যমে আমরা সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চাচ্ছি। বাংলাদেশের সঙ্গে তো একটা দেশের না, বহু দেশের সম্পর্ক আছে। এটা তো স্ত্রী এবং সতিনের মধ্যে মারামারি নয়। এটা হচ্ছে স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক, যেখানে আমাদের স্বার্থ আমরা সেখানে যাবো।” মার্কিন দূতের আগমন ঘিরে কোন চাপ অনুভব করছেন কিনা—এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা কোনও চাপ অনুভব করছি না।”  – উপরের লিঙ্কটাই

    মিডিয়া রিপোর্ট বলছে  খলিল গতকালই আমেরিকা, ফিলিপাইন ও মালদ্বীপ সফর শেষে দেশে ফিরেছেন। আর সকাল থেকে পরিকল্পিতভাবে কাজ শুরু করেছেন।
    আমি আগে যেটা বলছিলাম ভারসাম্য কথাটার মূল অর্থকে বদলে দিয়ে এই শব্দটাকে টুইস্ট করে নতুন অর্থদান করবেন  ইউনুস-খলিল। ঠিক সেটাই হয়েছে। খলিল বলছেন, একজনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষতি করে আরেকজনের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি করছে—আমরা কখনও সেটা করবো না।
     আসলে এটাই তো ওবামা আমল (২০১৬) থেকে চালু আমেরিকা ফরেন পলিসি। যার সারকথা হল, বাংলাদেশের মত দেশ চীনের সাথে (কমসুদের অবকাঠামো) ঋণসহ অন্যান্য সব বাণিজ্যিক সম্পর্কও আর রাখতে পারবে না। রাখতে সব ধরণের বাধা দেয়া হবে। এটাই কালক্রমে শেষে গুছিয়ে নামকরণ কর হয় ইন্দো-প্যাসেফিক পলিসি / স্ট্রাটেজি [IPS]। যেটা এবার ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পরই (ট্রাম্পের প্রথমবারে (২০১৭-২০) তিনি IPS পলিসি অনুসরণ করা সত্বেও এবার তা নয় বরং ) এতে গুরুত্ব না দিয়ে যা ইচ্ছা শুল্ক আরোপে মেতেছেন।
    এখন এই অবস্থায় চীনও তাই একই পলিসিতে তার কাছে কেউ (যেমন বাংলাদেশ) সম্পর্ক করতে গেলে আগে চেক করে যে আমেরিকার সাথে সেই দেশের সম্পর্ক হাল্কা বা দুর্বল আগে হয়ে আছে বা করেছে কিনা। যদি না করে তাহলে চীনও অর্থ ছাড় করার সময় এলেই শ্লথ – ধীরে অগ্রসব হওয়া শুরু করে দেয়। এছাড়া আগেই ব্রিকস, আশিয়ান, RCEP, SCO ইত্যাদি গ্রুপের সদস্য হয়ে আসতে বলে। কারণ চীন জানে এসব সদস্য হওয়া আমেরিকার না পছন্দ!
    তাহলে এই বাস্তবতায় ভারসাম্য কথার কী কোন ব্যবহারিক অর্থ আর থাকে?  এককথায় আমেরিকার (খলিল-ইউনুসের) হাত না ছাড়লে চীন সে দেশের সাথে সম্পর্কের সিরিয়াস স্তরের ভিতরে প্রবেশই করবে না। এটাই আরো উতসাহ ভরে চীন যেন সম্পর্কটাই না হয় সেটা করাই চীনের নীতি হলেও –  ইউনুসের বেলায় ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বাইডেনের সাথে সাক্ষাতের সফরের আগে ইউনুসকে পই পই করে বলে দেয়া হয়েছিল। অথচ তিনি শুরু আমেরিকাকেই কী কী ব্যবসা দেয়া যায় সেই সম্পর্ক অগ্রসর করে এসেছিলেন। পিটার হাস সরকারি চাকরি ছেড়ে কোম্পানির একজিকিউটিভ হয়ে আসেন সেজন্যই।  তবু চীন বাজেট সহায়তা দিয়েছিল বলে ২০২৫ সালের বাজেট দিতে পেরেছিলেন ইউনুস। অথচ নিজ বেইমানি চালিয়ে গেছেন – আমেরিকার পক্ষ নিয়ে নিজ আমেরিকান পাওয়ার লবি শক্ত করেছেন আর বাংলাদেশের সাথে বেইমানি করেছেন।
    এককথায় বললে আমেরিকার IPS পলিসি মানেই চীনের সাথে সম্পর্ক করতে যেন না পারি আমরা। অথচ ভারসাম্যের কথা তুলে মিথ্যা বলছেন খলিলুর। চালায় দিতে চাইছেন যে উনারা নাকি ভারসাম্য করতেছেন তাই আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষতি করে আরেকজনের মানে চীনের সাথে সম্পর্ক করবেন না।

    এছাড়াও এবার আরো একটা এডিশন বা নতুন যোগ আছে। দিনকে দিন মোদি টের পেয়েছেন তারেক তার সাথে ডিল করবে না। তাই উপায় না পেয়ে মোদি এখন ইউনুস-খলিলের নৌকায় উঠেছেন। তাই খলিলুর বলছেন, ভবিষ্যতে যদি ভারতে আমাদের প্রধানমন্ত্রী যান, ভালো। আমরা আশা করবো সেই সফরটিও অত্যন্ত ভালো হোক। অর্থাৎ তিনি ইতোমধ্যে তারেককে মোদি সফরে যেতে উস্কায়ে এসেছেন।  আর তাতে দীনেশ ত্রীবেদি এতই খুশি হয়েছেন যে আজ খলিলের সাথে প্রথমবার পররাষ্ট্র গিয়ে মুলাকাত-ই করে এসেছেন।
    যার মানে হল, আমেরিকা তো তারেকের কান্ধে উঠছেই মানে খলিল তুলে দিলেন সাথে ফেউ হিসাবে ইন্ডিয়াকেও তারেকের কান্ধে! অথচ কেউ খেয়াল করছেন না, এতদিন “আপা ফিরতেছে”-ওয়ালারা মোদির উপর আর ভরসা রাখতে পারছিলেন না; হতাশ হয়ে গেছিলেন। এর অর্থ এখন আজ খলিলের বাণী শুনে আবার লীগের চাপও এখন তারেককে মোকাবিলা করতে হবে।

    সবশেষে আরেকটা দিক দেখাবো। ইউনুস তারেকের উপর  সৃষ্টি করার বা করতে কিছু বাদ রাখেন নাই। আর সেজন্যই কী হবিগঞ্জের এনসিপি-বিএনপির মুখোমুখি হয়ে যাওয়াটা এর প্রমাণ!  মানে ইউনুস এনসিপি কেও রেডি করে তারেকের উপরে চাপ দিয়েছেন? তাঁর কথা না শুনলে কী হবে সেই হুশিয়ারি ছিল কী এটা?

    তাহলে তারেক এখন ভিজা বিড়ালের মত যদি ইউনুস-খলিলের অনুগত হয়ে কোন মতে সবার আগে জিন ক্ষমতা বাচানোতে সব মনোযোগ ঢেলে থাকেন তাহলে এখন আমরা কী দেখব? আমাদের কী হবে?
    ১। ইউনুস যেকথা ক্ষমতা ছাড়ার তিন মাসের  আগে থেকে বলে আসছিলেন যে তারেক প্রধানমন্ত্রী হলেও আসল ক্ষমতা তার হাতেই থাকবে আগের মত সেটাই কী আমরা এখন দেখব?
    ২। অনুমান করা যাক এখান থেকেই চীনের সাথে সম্পর্ক যতটা আগায়ছিল তা এখন থেকেই ফুলষ্টপ হয়ে যাবে। মানে আমরা চীনবিরোধী আমেরিকান নীতি-পলিসির অনুগামি হব?
    ৩।। সেটা যদি হয়ও কিন্তু আমাদের বাজেটে অর্থ “বাজেট সহায়তা” কই পাবো?  অর্থ নাই মানে অর্থনীতিও তলানীতে শেষ হবে।  IMF এর প্রতিশ্রুত সংস্কার  নিজ বাজেটে অর্থ না থাকলে সংস্কার বলে বাস্তবে কিছু কী করা যাবে? মুদ্রস্ফীতি হবার সম্ভাবনা বড় রকমের; ত কোথায় যাব আমরা তখন? আর  কোন বিদেশি বিনিয়োগও তো আসবে না।
    ৪। আজকেই নিউজ হল, যেটুকু প্রাইভেট বিনিয়োগ এসেছে এর ৯২% হল চীনা মালিকদের। তাহলে চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক ঝুঁকে গেছে বা নাই হয়ে গেলে কী এরা থাকবে?

    সারকথায় ইউনুস-খলিল খুশি হবে, নিজেদের বিজয় দেখতে পাবে কিন্তু খোদ বাংলাদেশ অর্থনীতি ভেঙে পড়বে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা, সহিংসতায় সব শেষ হবে।।
    এনসিপি ১১ দলকে যে ইউনুসে সাথে রেখেছেন তাতে ক্ষমতায় কে থাকবে? হাসিনার জাতীয়পার্টি ফর্রমুলাও যদি চিন্তা করি সেটা কী ইউনুসেরা খাড়া করতে সক্ষম হবে?  জাতীয় পার্টিটা কে হবে? পুরাই ১১ দল? মানে হাসিনার মতই সব নির্বাচন হবে! তাই কী?
    সবার উপরে অর্থনীতিই যদি না থাকে রাজনীতিসহ  কোন কিছুই কী  আর দেশে করা যাবে?  এসব জবাব কার কাছে চাইব??

    _
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    ২৯ জুলাই ২০২৬ রাত ১১ঃ৩০
    আপডেটঃ ৩০ জুলাই ২০২৬, ০০ঃ ৪২ এএম

     

  • জরিপ বলছে, ৩৬টা দেশের আমজনতার মনোভাবে আমেরিকার চেয়ে চীন এগিয়ে

    জরিপ বলছে, ৩৬টা দেশে আমজনতার ইতি-মনোভাবে আমেরিকার চেয়ে চীন এগিয়ে
    গৌতম দাস
    ১৬ জুলাই ২০২৬
    https://wp.me/p1sCvy-6A4

     

                                                                   China overtakes US in global favourability: StudyChina overtakes US in global favourability: Study                                                                                                                   বিশ্বজুড়ে বাড়ছে চীনের গ্রহণযোগ্যতা

    এই জনমত জরিপটা করেছেআমেরিকার এক বিশ্বাসযোগ্য(credible) প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টার (PEW RESEARCH CENTER) । যার ব্যাপ্তি ছিল ৩৬টা দেশ জুড়ে। মোট survey of 42,151 people/ অমানে যেতাকে আমরা সার্ভে সাইজ বলি। যেটা মুখ্য জানার ছিল পাবলিক পারসেপশন যে চীন ও আমেরিকার মধ্যে কোন দেশের উপর দুনিয়ার বেশি মানুষ এখনও আস্থা রাখে। যেমন তারা গ্লোবাল প্রয়োজনীয় নিয়টি-পলিসি নেয়া ও তা বাস্তবায়নের জন্য সব প্রচেষ্টা নেওয়ার ক্ষেত্রে জনমত এর চোখে কোন দেশের উপর তাদের আস্থা। নিচের ছবির দিকে দেখেন।  কিভাবে আমেরিকার সরকারের উপর গ্লোবাল জন আস্থা কছিল আর কীভাবে ততই চীনের প্রতি গণ আস্থা বাড়ছিল।   

    উপরের ছবিটা AXIOS এর রিপোর্ট থেকে নেওয়া। লিঙ্ক সাথেঃ

    China surpasses U.S. in global favorability, poll finds
    Rebecca Falconer
    https://www.axios.com/2026/07/16/us-china-pew-survey-popularity
    7 hours ago 160726
    এছাড়া বিবিসি এর রিপোর্টাই TBS ছেপেছে, সেটার লিঙ্ক এখানে।

    তবে একটা ব্যাপারে সাবধান এটা জনমতে কেমন মানে ৩৫টা বিভিন্ন দেশের মানুষের ধারনা (perception) কেমন. আর ধারণা মানে তা বাস্তবের সত্যটাই হুবহু না হতেও পারে। তবে আম-মানুষ বা জনতা কীভাবে এটা দেখে সেটার সঠিক ধারণা পাওয়া যায় অবশ্যই। ঠিক যেমন আমাদের দেশে সরকারি অফিসে ঘুষ দেয়া-নেয়া কেমন পরিমাণ চলে এনিয়ে পাবলিক  ধারনায় (perception)   সেটা হুবহু সত্য নাও হতে পারে। তবে এটা বাস্তব ফিগারের কাছাকাছিও হয় বলে মনে করা হয়।

    কিন্তু কেন আমি এটা নিয়ে এই লেখা ও এই ইস্যুকে গুরুত্ব দিচ্ছিঃ
    আমি  দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকায় নিয়মিত একটানা কলাম লেখা শুরু করেছিলাম ২০১৪ সালের শুরুর দিকে। ২০১২ সালে স্থায়ীভাবে চাকরি শেষ করে দেশে ফেরার পরে ২০১৩ সালের বিখ্যাত ৫ মে শাপলা চত্তর ঐতিহাসিক ঘটনার পর আমি অনুভব করি যে বাস্তব মাঠের ঘটনাবলিতে আমরা এই প্রথম হিন্দুত্ববাদকে ( কথিত ততকালের শাহবাগ আন্দোলন) পরাজিত করেছি ঠিকই কিন্তু আমরা বয়ানের দিক থেকে ততটা আগিয়ে নাই। ফলে, এই বিজয়ের পক্ষে প্রয়োজনীয় ও শক্ত বয়ান হাজির না করতে পারলে আমরা আবার হারিয়ে যাব, পিছিয়ে পড়ব। এসব বিবেচনা থেকে আমার লেখার প্রসঙ্গ নির্ধারণ করি। তখনই আমি প্রথম শাহবাগকে বা প্রগতিশীলতাকে হিন্দুত্ববাদ বলে পরিচিত করানো শুরু করেছিলাম।

    একইভাবেই ছিল আরেকটা যা গ্লোবাল ইস্যুঃ 
    এটাই হল, আমেরিকার গ্লোবাল নেতৃত্ব ঢলে পড়তেছে। যেটা আমার মত ক্ষুদ্র এক ব্যক্তির বক্তব্য অবশ্যই না। ২০০৭ সালে (আনুষ্ঠানিকভাবে ২০০৮ সালে) আমেরিকা নিজেরই করা এক স্টাডির প্রকাশ্য রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল। যেখানে বলা হয়েছিল আমেরিকা আর গ্লোবাল নেতৃত্বে থাকছে না।

    পুঁজি বা ক্যাপিটালঃ
    পুঁজির স্বভাব বা ধর্ম হচ্ছে সারপ্লাস বা বাড়তি মূল্য তৈরি করা। অন্যভাষায় পূঁজির স্বভাব পুঞ্জীভুত বা সঞ্চিত হওয়া (একুমুলেশন accumulation) বা ঘণীভূত হয়ে সাইজ বাড়িয়ে চলা। এটাই এরপর থেকে নাম বদলিয়ে হয় বিনিয়োগ (ইনভেস্টমেন্ট) এর সক্ষমতা। এটা ট্রাডিশনাল নিয়ম যা অনুসরণ করেশুরু হয়েছিল সবদেশেরই ক্যাপিটালিজম। কিন্তু পুরা প্রক্রিয়াটাই আউলায়ে যায় ১৬০৭ সাল থেকে শুরু হওয়া ইউরোপের মুখ্য পাঁচ দেশের কলোনি দখলদারিত্ব। আমাদের মত দেশের ন্যাচারাল ক্যাপিটালিজম থেকে বৃটিশ দখলদারেরা এর সব একুমুলেশন সব সারপ্লাস ও বিনিয়োগ ক্ষমতা সবই লুট হয়ে চলে যায় ইংল্যান্ডে। এর এভাবেই এশিয়া, আফ্রিকা বা ল্যাটিন আমেরিকার  সব সম্পদ লুটে ইউরোপে স্থানান্তর হয়ে গেছিল। কালক্রমে এটা আমেরিকাতেও। এককথায় এটাকেই আমরা পশ্চিম বা পশ্চিমা ক্ষমতা বলে চিনি।
    কিন্তু ২০০৮ সালে প্রকাশিত আমেরিকান স্টাডি রিপোর্টের সারকথা শুরুতেই হাফ পেজে লেখে ছিল। আর তাতেই বলা হয়েছিল,  পশ্চিম থেকে বিনিয়োগ সক্ষমতা বা পুঁজি পুব বা এশিয়ামুখী হয়ে পড়েছে। সাথে আরও ভয়ংকর কথা লেখা ছিল তাতে যে এই এশিয়ামুখি অভিমুখে ধাবমানতা এটা irriversible যার বাংলা মানে হল এটা একমুখী যা আর কখনও উলটা দিকে বা reverse যাবে না। অন্যভাষায়, পশ্চিম অতিরিক্ত সঞ্চিত পুঁজিতে সয়লাব হয়ে গেছে যা আর তা ধারণ করতে পারবে না। এরচেয়ে তুলনায় ভাল বিনিয়োগের স্থান এশিয়া (আফ্রিকা বা অন্য মহাদেশ কারও চেয়ে)। বলাই বাহুল্য এশিয়ার বড় অর্থনীতির নেতা দেশটা চীন বা চীনা অর্থনীতি।

    পরাশক্তি বা সুপার পাওয়ার ধারণায় ভুল বা সীমাবদ্ধতা কী ছিলঃ
    এতদিন মনে করা হল, শক্তি মানে কোন দেশের শক্তি কত এমন প্রশ শক্তি বলতে সামরিক শক্তি বুঝতে হবে। এখন একাদেমিকেরা পরিস্কার যে পুরা পরাশক্তি ধারণায় ভুল অংশটা কী ছিল।
    সংক্ষেপে বললে, বাইরে থেকে দেখে শক্তি বলতে সামরিক শক্তিই বুঝা সঠিক মনে হতে পারে। তবে সামরিক শক্তিটাও আসে বিশাল অর্থনৈতিক শক্তি থেকে। আগে অর্থনৈতিক শক্তিতে বিশাল সঞ্চিত পুঁজি বা বিশাল বিনিয়োগ সক্ষমতা যা শুধু নিজ দেশেই না বাইরে যাকে পছন্দ এমন অভাবি দেশেও এই বিনিয়োগ সক্ষমতা ঐ দেশ ধার দিতে পারে খুবই কম সুদে।  ধরা যাক উঠতি দেশটা এখন চীন।  তাহলে চীনের আমাদের মত দেশকে বিনিয়োগ দিবার যে সক্ষমতা এটাই ক্রমশ চীনের গ্লোবাল অর্থনৈতিক প্রভাব হিসাবে হাজির হবেই। ঠিক যেমন প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকেই আমেরিকা ইউরোপকে মানে বড় সব কলোনিদখলদার দেশকে ধার দেয়ার একমাত্র দেশ হয়ে উঠেছিল। যেটা আরো অর্গানাইজভাবে ১৯৪৫ সালের পর থেকে (জাতিসংঘ, IMF-WB গ্লোবাল প্রাতিষ্ঠানিকতা গড়ে নিয়ে)  সারা দুনিয়ায় একমাত্র গ্লোবাল শক্তি হিসাবে উত্থিত হয়েছিল।

    কিন্তু তবু তা অপরিস্কার ধারণায় ছিলঃ
    কোন ধারণা টা অপরিস্কার ছিল? ধারণা হল, শক্তি মানে কী?  আমেরিকা কী সামরিকভাবেই বড় বা সবচেয়ে শক্তিশালী তাই ১৯৪৫ সালের পরের আমেরিকার শক্তি বলতে বুঝব? নাকি আমেরিকা গ্লোবাল অর্থে সবার উপরের বড় অর্থনৈতিক শক্তি – এটাই আমেরিকার শক্তি কথার অর্থ? অর্থাৎ কম সুদে ধার দেয়ার সক্ষমতা নাকি সামরিক এদুইয়ের মধ্যে কোনটাকে আমেরিকার শক্তি বলে বুঝব?
    এই সন্দেহের পিছনে একতা মূল কারণ ছিল আমেরিকার যে প্রতিদ্বন্দ্বি সেসময়ে মানে (১৯৪৫-৫৩ বা ততপরবর্তি) সে দেশ হল সোভিয়েত ইউনিয়ন। এখন সোভিয়েত ত সমাজতান্ত্রিক মানে, আমেরিকার মত কম সুদে ধার দেয়ার সক্ষমতার দেশ ত সোভিয়েত নয়। তাহলে সোভিয়েত-আমেরিকার দ্বন্দ্ব-প্রতিযোগিতা মানে নিশ্চয় সামরিক শক্তি – এই ধারণাটা (ভুল হলেও) ভিত্তি পেয়ে যায়। এটাকেই আমরা বলি মানে তখন বলতাম কোল্ড ওয়ারের [cold war] যুগ।  কিন্তু সোভিয়েত ১৯৯১ ডিসেম্বরে ভেঙ্গে গেল এরপর আর পরাশক্তি ধারণাটাই অস্পষ্ট বা হারায়ে যেতে থেকেছিল।

    শক্তি মানে সামরিক না অর্থনৈতিক বা অন্যকিছু? আসলে সঠিক ধারণাটা কী?
    আসল কথাটা আগে বলে নেই।
    ফর্মুলাটা হল, সামরিক শক্তি তখনই একটা শক্তি যখন ওর সামরিক খরচ বইবার মত পিছনে একটা ফাংশনাল শক্ত অর্থনীতি কার্যকর আছে। এই শক্তিটা না থাকলে সামরিক শক্তিটা শুরুতে দাঁড়াবেও না বা দাঁড়িয়ে গেলেও টিকবে না। কারণ সামরিক সক্ষমতা নিজে কোন আয়কারী ততপরতা নয় – ফাইন্যান্সিয়াল ভেনচার নয়। বরং সামরিক সক্ষমতা মানেই একপক্ষীয় কেবল খরচ যার কোন সরাসরি রিটার্ণ নাই। যেটা ছিল কলোনিদখল আমলে তেমন তো নয়ই!
    অতএব কোন দেশের গ্লোবাল সামরিক শক্তি হয়ে উঠার প্রথম ধাপতা হল গ্লোবাল অর্থনৈতিক শক্তি হওয়া। এতে ইতোমধ্যেই আমাদের মত দেশে চীনের মত দেশের কম সুদের ঋণ ও বিনিয়োগ দেওয়ায়র সক্ষমতা হাজির হয়ে থাকা মানে এটাই প্রভাব এক গ্লোবাল ক্রমশ বড় হচ্ছে এমন অর্থনৈতিক প্রভাব। বিশেশ করে যখন আবার আগের আমেরিকা যে জায়গাটা দখল করে ছিল সেই আবার এদিকে ততই বিনিয়োগ সক্ষমতা হারানোর পথে!
    পয়েন্ট দুই যখন চীন অর্থনৈতিকভাবে গ্লোবাল অর্থনৈতিক শক্তি তখন থেকে নিজ সামরিক বাহিনীতে ব্যয় করার সক্ষমতা ক্রমশ আমেরিকাকেই ছাড়িয়ে যেতে চাইবে। ঠিক একারণে যেমন চীনের রাডার টেকনোলজি গবেষণা আমেরিকাকে ছাড়িয়েছে। ফোনের ব্যাপারে দেখেন আমেরিকান বেল টেকনোলজি পিছিয়ে কোথায় হারিয়ে গেছে অথচ চীন 5G ছাড়িয়ে  6G বা আরো বিস্তারে। অর্থনৈতিক শক্তিতে দুর্বল থাকলে টেকনোলজিক্যাল গবেষণায় খরচ করার সক্ষমতা সীমিত হতেই থাকবে। ইদানিং একটা ফর্মুলা কেউ কেউ মানে যে পোক্ত গ্লোবাল অর্থনৈতিক শক্তি অর্জন হয়ে গেলে সামরিক শক্তিতেো তার নিজের প্রতিদ্বন্দ্বিদের ছাড়িয়ে যেতে নুন্যতম দশ বছর হলেই হয়!

    এই কথাগুলো বলছি কেন বা তুললাম কেন?
    সরাসরি বলি।
    শুরুর দিকে যখন এই কথাগুলো আমি বলতে শুরু করি সেতা এই ২০১৪ সাল থেকে। কিন্তু এর আগে আমি আএরিকান স্টাডি রিপোর্তটা আমার হাতে এসেছিল ২০০৮ সালের শেষে। কিন্তু এনিয়ে লেখা বারণ ছিল। আমি তখন ঘোরতরভাবে জাতিসংঘ মিশনের স্টাফ। তাই প্রকাশ্যে নিজের নামে কোন রাজনৈরিক লেখালেখি ওয়ার অন টেররের আমলে (সেটা ছিল প্রেসিডেন্ট বুশের আমল) নিষধ ও কঠোর শাস্তি র হুশিয়ারি দিয়ে সারকুলার জারি হয়েছিল। তাই সঙ্গোপনে বেনামে ছদ্মনামে লিখুতাম। অন্তত তিনটা নামে। এসব মিলিয়ে ২০১৪ সালটা ছিল আমার জন্য নয়া স্বাধীনভাবে লিখালিখি শুরুর সময়কাল! ফলে আমি এই আমেরিকার পতন আর চীনের উত্থান – এটাকেই আমি পালাবদলের যুগ বলি  – এনিয়ে প্রথম লেখালিখি শুরু করেছিলাম।
    কিন্তু ক্রমশই দেখলাম এই বিষটে আমার পাঠকদের কোন ধারণাই নাই নতুন বিষয় এর উপর আমার প্রগতিশীলতার প্রভাবে কেউ কেউ আমাকে আড়ালে টিটকারী দেয়া শুরু করেছিল যে আমি চীনের দালাল। কেউ কেউ অর্থ করল আমি প্রাক্তন কমিউনিস্ট সেজন্য চীন ভালবাসি তাই এসব কথা বলছি! একালে তামশার কথা যারা এখন একটা চীনা স্কলারশীপ পাওয়ার জন্য কাঙাল –  হোক না সেটা তিন মাস বা কয়েকবছর হলে তো কথাই নাই – সেসবের লোভে যে কারো পায়ে পড়তে দ্বিধা করছি না দেখছি আমি!

    কোন কোন দেশে আমেরিকা এগিয়েঃ
    ইন্ডিয়া, পোল্যান্ড, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও ইসরায়েল।
    আর, এ বছর ইতালি, স্পেন, কলম্বিয়া, মেক্সিকো, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া ও তুরস্কে চীন সম্পর্কে ইতিবাচক মতামত রেকর্ড সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

    • Representatives for the White House did not immediately respond to Axios’ request for comment.

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    ১৬ জুলাই ২০২৬

     

     

  • তারেক সরকারের চীন সফর; কোথায় দাঁড়ালো? ‘আগষ্ট বিপদ’ কতদূর?

    তারেক সরকারের চীন সফর; কোথায় দাঁড়ালো? ‘আগষ্ট বিপদ’ কতদূর?
    গৌতম দাস
    ২৮ জুন ২০২৬
    https://wp.me/p1sCvy-6zp

    President Xi Jinping meets with Bangladeshi Prime Minister Tarique Rahman 

    বহু আলোচিত, প্রতীক্ষিত তারেক জিয়ার চীন সফর শেষ হয়েছে। বাস্তব পরিস্থিতি মানে দেশি ও বিদেশিস্বার্থগুলো আর মোটের উপর আমাদের পাবলিক আশা-আকাঙ্খা একটা চরম চূড়ায় উঠেছিল এই সফরকে কেন্দ্র করে। মানে এই সফর ফলাফল কী নিয়ে আসে তা সকলের নিজ নিজ বুঝাবুঝির ফ্রেমে ফেলে তা দেখতে, বুঝে নিতে প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। এখন সরাসরি প্রশ্ন হল, এই আকাঙ্খাগুলো কতটা পূরণ বা আশ্বস্ত হল?

    এর জবাব নিয়ে কথা শুরুর আগে দুভাগে ভাগ করে নেই বলবার সুবিধা করার জন্যঃ প্রথমটা যা ‘এখনই আমরা দেখতে চাই’ আর অপরটা হল, যা বুঝি এসব ‘এখনই’ চাওয়ার জিনিষ না তবে এর স্বপক্ষে আশ্বস্ত হওয়ার মত লক্ষণ, বাস্তবতা এই সফর-আলোচনা থেকে উঠে এসেছে এমন অনুভব পেতে চাই! এর মধ্যে আবার প্রবল আগ্রহের ইস্যু ছিল স্ট্রাটেজিক-সামরিক সম্পর্ক বিশেষ করে, আমাদের চীনা বিমান বহর পাওয়া!

    এবার আমি যেভাবে বুঝেছি, এককথায় সে জবাব হল, যা “এখনই দেখতে চাই” সেসব কিছুই এই সফর থেকে আশ্বস্ত হবার মত পাওয়া যায় নাই। পাবলিকলি, আমার জানা নাই! যেমন, এমন ইস্যু হল, সংসদে এখন বাজেট সেশন চলছে – “বাজেট সহায়তা” কি পেয়েছি – পাচ্ছি? এর কোন নগদ প্রতিশ্রুতি?
    আমরা মিডিয়ায় কোথাও এনিয়ে কোন সরাসরি কিছু ত নয়ই বরং ইঙ্গিতও কিছু দেখি নাই। এটা নিশ্চয় লজ্জা পাওয়া বা লজ্জা না-পাবার বিষয়ই নয়, আমাদের ইমিডিয়েট প্রয়োজনের বিষয় নিয়ে চীনের সাথে একফাঁকে সরাসরি আলাপ তোলা – এটাই ত স্বাভাবিক! কিন্তু এমন কোন আলাপের চিহ্ন আমরা কোন সফর ফেরত ব্রিফিংয়ে পাই নাই। উলটা খলিলুর সাবের ধমক – ‘আমরা ভিক্ষার থলি নিয়ে যাই নাই। দুই দেশের সম্পর্কে অভিমুখ ঠিক করতে এই সফর। এটা ঠিক হলে বাকিগুলো ভবিষ্যতে আসবে। একটু আত্মসম্মানবোধ রাখেন। এ ধরনের বিব্রতকর প্রশ্ন করবেন না।‘
    কিংবা তিনি বলছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে সেখানে যাননি। তিনি গেছেন দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা প্রতিষ্ঠার জন্য। আমরা অন্য জায়গায় পৌঁছে গেছি, এটা বিশ্বাস করুন।’
    পেটে ভাত / বাজেট নাই বাস্তবতায় এলিট ভাব ধরা আমেরিকান প্রতিনিধির এভাবে পাবলিককে ধমক নিয়ে নিজ অযোগ্যতা ঢাকবার চেষ্টা স্বাভাবিক মনে হতেই পারে!  নাকি আসলে এটাই তাঁর সাফল্য!!! যে বাংলাদেশকে [হাসিনার মত বাজেট দিতে না পেরে সেই অযোগ্যতার পরিস্থিতিকে রাজাকারের নাতিপুতির মামলা হিসাবে ঘুরায়ে দেয়া আর পরিণতিতে] পলায়ন / পতনে ফেলতে পারছেন বলে হয়ত তিনি অন্তরে খুশিও হতে পারেন! তা এই ভেবে যে খুবই সফল্ভাবে তিনি বাংলাদেশ-চীনের হবু সম্পর্ককে ফেইল করিয়ে দিতে পেরেছেন?  তাই কী?

    খলিলের এধরণের বক্তব্য/ আচরণ খুবই বিরক্তিকর, আপত্তিরও! খলিল সাব কী বলতে চান আমাদের এবারের বাজেট করার মত অর্থ যোগাড়ের কোন সমস্যাই এই সরকারের নাই? নাকি চীন বাদে মানে চীনকে ছাড়াই বিকল্প “বাজেট সহায়তার” অর্থ ম্যান্ডেট খসরু করিতকর্ম দেখিয়ে যোগাড় করে ফেলেছেন??? সত্যি নাকি? বিখ্যাত খলিল সাব কী অস্বীকার করবেন – ২০২৪ সাল থেকে পরপর তিন বছর বাজেট মানে অর্থনীতিতে একটা নুন্যতম বিনিয়োগের অবস্থা কী আমরা এবার তৈরি করেই ফেলেছি?
    খলিল কী জানে, হাসিনা কেন কোন অর্থনীতির ফ্যাক্টরে উতখাত/পতন হয়েছিল? জানা থাকলে তাকে অবশ্যই আমাদের জানাবেন আপনি! কিছু “ধান্দাবাজ ছাত্রনেতা” আমেরিকার প্রতিনিধি ইউনুসকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিয়েছিল আর তাতে বিনা কসরতে আপনারও বিরাট কুতুব হয়ে ঐ সরকারে জেঁকে বসার এই মহান সুযোগ হয়েছিল, এটা সবাই জানে! এতা খাইওতেছেন খাইয়া লন যতদিন পারেন!  তাতে হাসিনা কেন উতখাত হয়েছিলেন তা জানাবুঝা হয়ে যাবে এমন মনে করার সাথে কোন সম্পর্ক নাই! আপনারা আমেরিকার প্রতিনিধি হতে পারেন কিন্তু সেজন্য হাসিনা পতনের অর্থনৈতিক দিকটা আপনাতেই আপনাদের জানা হয়ে যাবে না। এর চেয়েও বড় কথা (জেনে রাখেন) আপনারা ইউনুস-খলিল গং নিজ মুরোদে ২০২৫ সালের বাংলাদেশের বাজেট হাজির করতে পারেন নাই। সেটাও মনে রেখেন! প্রায় আড়াই বিলিয়ন ডলার এই চীনই বাজেট সহায়তা দিয়েছিল; কিন্তু কাদের কথায়???? আজও জানেন না কেবল বাবা আমেরিকার কাছে ক্রেডিট নিছেন। আমেরিকা বা জাপান কারও থেকেই কোন অর্থ আনার মুরোদ হয় নাই আপনারা আমেরিকান স্বার্থের বীরপুঙ্গবদের! কেবল এনজয় করেছিলেন! সর্বোচ্চ আমেরিকান মালিকানা শেয়ারের IMF-WB থেকে মানে আপনাদের পেয়ারের আমেরিকা বাবা থেকেও ত কোন বাজেট সহায়তা আনতে পারেন নাই! কেন?
    ফলে চীন কেন গতবারও বাজেট সহায়তা দিছিল তাও আপনারা শুধু জানতে চান নাই তাইই নয় এটা যে আপনারা ইউনুস-খলিল গংদের আমেরিকান দালালির অযোগ্যতা আর নিজেদের এতে যে একবিন্দু অবদান নাই  – নিজেদের সে অযোগ্যতার বাস্তবতাও উপলব্দি করেন নাই! তাহলে আপনারা বাংলাদেশের জন্য কারা? নিজেকে জিজ্ঞাসা করেন? আর এভাবে বাংলাদেশের ঘাড়ের উপরে বসে আর কয়দিন চুসবেন? নিজ ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করবেন?

    গতকালের সফর ফেরত তারেক সরকারের মানে খলিলুরের ব্রিফিং এর পর থেকে  পুরা বিষয়টাতেই দেশ একেবারেই এমন হতাশ করেছে যা এনিয়ে যেকোন  আলোচনার উপর একটা বড় প্রভাব রাখবে।

    ঘটনা হল, বাংলাদেশের দিক থেকে দেখলে হাসিনা আমাদেরকে ২০২৪ সালে পলায়নে যাবার আগে পর্যন্ত আমাদেরকে কী বিপদে ডুবিয়ে দিয়ে গেছিলেন?
    তারা মনে করেন, আগষ্ট মাস নাকি হাসিনা গংয়ের বাবাদের চোখে নাকি চরম শোকের মাস! তো সেটা তাদেরই থাক; ওনিয়ে আমাদের আগ্রহ নাই! কিন্তু হাসিনার ২০২৪ সালের পলায়ন/ পতনের দিনটাও কিন্তু ঐ আগষ্টের – ৫ আগষ্ট! শুধু তাই না; পাঠকদের মনে করিয়ে দেই হাসিনার পতনের পিছনের মূল অর্থনৈতিক কারণ ছিল জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি – ইউক্রেন যুদ্ধের উসিলায়! তিনি তেলের দাম বাড়িয়েছিলেন প্রায় ৫০%! আর সে ঘটনাও ৫ আগষ্ট ২০২২ তারিখের। আগষ্টের কী মহিমা! মহিমান্বিত!

    হাসিনা-রএর পত্রিকা ডেইলি স্টার পর্যন্ত পরের দিন এনিয়ে এক সম্পাদকীয় লিখেছিল যার শিরোনাম ছিল তেলের দাম বাড়ানোর ইতিহাসের এক কালো দিন! (A black day in the history of fuel prices)। Record hike in fuel prices

    আর এটা ছিল, হাসিনা যেসব উচুদরের চোর পেলে-পুষে চলত তাদের জন্য শেষ খাওয়া/ লুটে নিয়ে পলায়নের নির্দেশ এর মত! আর তা থেকেই তাদের ব্যাংক লুটের মহোৎসব  (পরে ব্যাংকের কাগজপত্রে মিথ্যা করে যা “খেলাপী ঋণ” হিসাবে দেখানো)। যার বাইরের প্রমাণ হল ডলারের দাম ৮৫-১২৯ টাকায় জাম্প করে উঠে যাওয়া! কারণ, ডলারের এই চাহিদা তো বাজারের স্বাভাবিক চাহিদা ছিল নয়। এটা ছিল লুটেরা অর্থপাচারকারীদের ডলার চাহিদা! চুরি-ছেচড়ামো করে হাসিনা এমন বেপরোয়া ছিলেন যে বুঝতেই পারেন নাই এভাবে তেলের দাম বাড়ানো এটা নিজ ফাঁসির আদেশে নিজ স্বাক্ষর!
    ঠিক তাই-ই হয়েছিল! দুবছরের মধ্যে এসব বেপরোয়া চুরির কীর্তির সোজা ফল হল, অর্থনীতি ভেঙ্গে পড়া যার মূল কারণ – ব্যাংক ব্যবস্থাটাই ভেঙ্গে পড়া! যার বাইরের দিকটা হল ২০২৪ সালের বাজেট করার অর্থের সংস্থান নাই!  এর উপর আবার অর্থ আনতে চীন যাবেন  নাকি ইন্ডিয়া (আশ্রয়স্থল নিশ্চিত করা) যাবেন  এই দোটানায় পরার কারণে চীন একেবারেই খালি হাতে বিদায় করে দিছিল তিনদিনের ভিজিট সিডিউলকে একদিনেই খতম করে দিয়ে!

    এরই সোজা ফলাফল হল,  পরের ৩৬ দিনের মধ্যে হাসিনার পতন/পলায়ন! এটাই ‘আগষ্ট বিপদ’ নামে খ্যাত! 
    কিন্তু আমাদের জন্য গুরুত্বপুর্ণ হল, সেই ২০২২ সাল থেকে আমাদের অর্থনীতি আর উঠে দাড়ায় নাই! এটা ২০২৬ সাল, প্রায় ৫ বছর হতে যাচ্ছে!
    আর খলিল সাব আমাদের ধমকাতেছেন? কেন? কোন সাফল্যে????

    তো বলেন খলিল সাব  আমাদের বাজেটের কী হবে? বলেন ৎ দেখি বাজেট করার ক্ষেত্রে আমাদের মূল সমস্যাটা কী? আপনি ত ধমকায়ে দিলেন “আমরা ভিক্ষার থলি নিয়ে যাই নাই। দুই দেশের সম্পর্কে অভিমুখ ঠিক করতে এই সফর।”-মানে যেন এক অবিবাহিত বাউন্ডলে পুরুষের বোকাস্বপ্ন যে  – “হবে ছাওয়াল ডাকবে বাপ তবেই জুড়াইব মনের তাপ”? মানে যার বিয়ে হবে কিনা কোন চাকরি বা কিছুর খবর নাই সে সন্তানের বাপ হলে কী সুখ হবে সেই স্বপ্ন দেখতেছে? বাংলাদেশ যদি নুন্যতম অর্থনৈতিকভাবে খারা হতে না পারে  তবে “চীন-বাংলাদেশের অভিমুখ” –  ঠিক করার লম্বা সময় কী তার হাতে আছে? এটা ত মসকরা! নাকি এর আগেই অর্থনীতি ফেল করবে, দুর্ভিক্ষ অবস্থায় পড়বে, সরকার টিকবে না খবর নাই এটা কী টপ প্রায়োরিটি নয়? আপনি কোন বাস্তবতায় আছেন? আপনি কী চাচ্ছেন বাংলাদেশ-চীনের সম্পর্কটা বাস্তবে না খাড়া হোক – ট্রাম্প বাইডেন দের স্বপ্ন পূরণ হোক? বাস্তবতা অস্বীকার করে  একারণে ধমকাতেছেন?
    ওদিকে বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল সংকট খেলাপী ঋণ উদ্ধার না হওয়া! ইউনুস-খলিল গং পাক্কা দেড়টা বছর এই ইস্যুতে হাতই দেন নাই। কেন? বাংলাদেশ-চীনের সম্পর্কটা যেন ফেল করে? এটাই কী আপনাদের লক্ষ্য? সফর থেকে ফিরেই ইউনুসের কাছে গেছিলেন কেন? রিপোর্টিং করতে?
    তিনি ত নয়া দোকান খুলেছেন “তিনশুন্য” বলে? সেখানে আপনার কী কাম? আর সেখানে যাবার আগে প্রধানমন্ত্রীকে বলে গেছিলেন? ক্ষমতার দেড় বছরে তিনশুন্য কোথায় ছিল? আবার সাথে বেধে নিয়ে গেছিলেন আশিককে? মনে হইতেছে আপনি দুই স্বামীর ঘর করতেছেন! তাই দুজায়গায় রিপোর্টিং?
    আচ্ছা ইউনুস ত মূলত অর্থনীতিবিদ! তিনি কী জানতেন না যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে খাড়া করা না গেলে বাংলাদেশে কিছুই করা সম্ভব নয়? যেখানে মূল সমস্যাটাও হল, খেলাপী ঋণের নামে চুরির কারণে বাংলাদেশের ব্যাংক ব্যবস্থাটাই ভেঙ্গে পড়েছে? তাহলে এনিয়ে তিনি দেড়টা বছর কোন পদক্ষেপ নিলেন না; ফেলে রাখলেন কেন?
    তাহলে আপনি নিশ্চিত বাংলাদেশ-চীনের সম্পর্কটা যেন ফেল করে? আপনি তা ফেল করাবেনই?

    আমি সরি, আপনি পারবেন না? 
    ইউনুস ২০২৫ সালে চীন সফরে গেছিলেন, তারেকের মতই চারদিনের সফরে। তিনি মেলা খাতির পেয়েছিলেন! কিন্তু আজও তিনি জানেনই না কেন পেয়েছিলেন? সেটা এখন আর তেমন কিছুই নাই কেন?
    কিছু সোজা কথায় আসি! চীন-বাংলাদেশ সংযোগ [সড়ক বা ট্রেন] এর আলাপ প্রস্তাব চীন দিয়েছে কেন? কারণ এটাই আপনার মানে আপনাকে টেস্ট কেস?
    আপনি ইতোমধ্যেই এটাকে আপনার (আমেরিকান স্বার্থের আরাকান করিডোর) প্রস্তাব-পরিকল্পনার সাথে কমন পরে গেছে তাই?
    আপনি কী জানেন এই প্রস্তাব নতুন না ২০১৩ সালেরও আগের? যেটা ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ-বার্মা-চীন এই সংযোগ সড়কের আলাপ ছিল? যেটা ইন্ডিয়া ভেঙ্গে দেয়। দিয়ে কেবল, ইন্ডিয়া -বার্মা- বাংলাদেশ করতে চায়?
    আপনি এখানে শিশু! চীনের সক্ষমতা, বুদ্ধির কাছে। চীনারা আগাম গবেষণা চিন্তা-ভাবনা না করে হঠাত করে কিছু বলে না, নিশ্চিত থাকতে পারেন!
    শেষ কথাটা বলে শেষ করি; পরিশেষে  বাংলাদেশ-চীনের সম্পর্কটা হবেই। আপনি ফেল করাতে পারবেন না। তবে ততদিনে আপনি থাকবেন না! তারেক সরকার থাকবে কিনা তা তারেকের বুদ্ধিমত্তা, মানে সঠিক সময়ে সঠিক কাজ করতে পারার উপর নির্ভর করে। এনিয়ে নতুন করে আরও বলার কিছু বাকি নাই! আমি যতটুকু আগামিটা নজর বা আন্দাজ করতে পারি সেই সাপেক্ষে বললাম!
    তবে আপনি কেন বুঝেন না আপনি এখানে এভাবে মিসফিট!

    আপাতত এখানেই……

    নিচের অংশটা নতুন এখন যোগ করছিঃ
    যারা চীনের সাথে আমাদের স্ট্রাটেজিক-সামরিক চুক্তি বিশেষ করে যুদ্ধবিমান পাবার চুক্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন তাদেরকে একটা ইঙ্গিতপুর্ণ কথার যোগসুত্র ধরায় দেই।
    আচ্ছা, বাংলাদেশে ছোট-বড় মিলায়ে প্রায় সাতটা লালমনিরহাট-সহ নয়া বানিজ্যিক এয়ারপোর্টের আলাপ এটা কীভাবে কখন কোন সরকারের আমলে (বা সফরে) হয়েছিল তা কয়জনের জানা আছে?
    আবার আমরা চীনা যুদ্ধবিমান কিনতে যাচ্ছি তা কবে কিভাবে আপনি জানলেন? আর সেটা কোন সফরে চুড়ান্ত হয়েছে?
    আমি নিশ্চিত আপনারা প্রায় কেউই তা সঠিক বলতে পারবেন না। এর এক নাম্বার উত্তরঃ এটা ইউনুসের আমলে কিন্তু ইউনুস এর বিন্দু খানিকটাও জানে না! ব্রডলি কিছুটা আন্দাজ করা ছাড়া।
    আসলে, সামরিক বিষয়ক এমন আলাপ/চুক্তি কখনই আমরা পাবলিকলি করি না। সাধারণত এটা সরকার প্রধানের সফরের সময়কালে ঘটে। তবে্‌ তবে……। আমাদের যে সামরিক প্রতিনিধি এর প্রধান হিসাবে এর সফর করে থাকেন তিনি সরকারি প্রতিনিধির সাথে যানই না। তিনি আলাদা যান। একদিন আগে / পরে আর একদিন আগেই ফিরে আসেন। আর জনগণের সরকার প্রধান হলে, তিনি ডিটেল বা মোটামুটিভাবে জেনে থাকেন। কিন্তু চুক্তির বিষয়টা সামরিক ঘেরটোপের মধ্যেই থেকে যায়।
    যেখানে ছেচড়া র-এর লোকে দেশটা ভর্তি; কে কখন প্রগতিশীলতার নামে কাকে কী তথ্য দিয়ে দেয় সেখানে আমাদের পাবলিকেরও কম কম জেনে থাকাই ত ভাল; মোটামুটি জানলেই ত হয়!
    অতএব যে যাই বলুক সব ঠিক চলছে; আগাচ্ছে! চিন্তার কিছু নাই!

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক

  • প্রধানমন্ত্রী তারেকের পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা

    প্রধানমন্ত্রী তারেকের পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা
    গৌতম দাস
    ২১ এপ্রিল ২০২৬
    https://wp.me/p1sCvy-6yZ

    <<<<প্রধানমন্ত্রী তারেকের পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা>>>>>
    আজ তারেকের এক উপদেষ্টা, তিনি নাকি পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা, আজ পাবলিক প্রেস আয়োজন করে হাজির! তিনি কোন উপদেষ্টা, সেটা জানা-অজানা নিয়ে জনগণের কোন অসুবিধা নাই, হবার কথা না। কিন্তু তিনি যা করেছেন বলেছেন এর ভিত্তিতে তার আসল পরিচয় দাড়িয়েছে “সাফাই উপদেষ্টা” বা “সরকারের সাফাইদাতা উপদেষ্টা”! সমস্যাটা এখানেই। কেন?
    যখন একটা দুর্ভোগের সমাধান দরকার, সঠিক উদ্যোগ দরকার তখন কেন দুর্ভোগ টা হয়েছে সে সাফাইটা সেকেন্ডারী বা তা আপনাতেই অপ্রয়োজনীয় হয়ে যায়!
    কারণ আমরা এক গভীর অর্থনৈতিক সংকটে আটকায় গেছি। সবচেয়ে বড় কথা এটা এমন কী আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ-সংঘাত যদি নাই দুনিয়াতে আসত তবুও এখন আমাদের দেশের জন্য “অর্থনৈতিক সংকট আসন্ন” ছিল।
    এইকথা কীভাবে জেনেছিলামঃ
    এইকথা কীভাবে জেনেছি সে জবাব না দিয়ে বরং বলি কী জেনেছিলাম!
    ইউনুস ক্ষমতা ছাড়ার অন্তত ছয়-আট মাস আগে থেকে অন্তত দুই-দুবার দুই সময়ে (সর্বশেষটা তিনমাস আগে) “কাউকে” জানিয়েছিলেন যে দেশে এই “ব্যাপক অর্থনৈতিক সংকট একটা” আসছেই আর তা পরবর্তি সরকারকেই বইতে হবে। তবে যেটা তিনি বলেন নাই তা হল, এটা তিনি মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছেন কারণ মূলত খেলাপী ঋণ উদ্ধারে (এস আলম থেকে শুরু করে সব লুটেরা চোরদের থেকে) তিনিও ছাড় দিয়েই কাটিয়ে গেছেন, চলেছেন। আর এর ফাঁকে যা যা লুটা যায় তা তিনি পাচারও করেছেন।
    মূলত তাই তিনি একমাত্র জোর দিয়ে চলেছিলেন – “প্রবাসী আয়ে”; মানে এই ডলার জোগাড়ে যেটা হল প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের উপরে আড়াই % বাড়তি অর্থ সব ব্যাঙ্ক-কে দিয়ে দেওয়ার নির্দেশ আর এই লোভ দেখানোতে প্রবাসী আয়ে আপাত সংকট মিটিয়ে সরকার চালিয়ে গেছেন ইউনুস; কিন্তু এতে বড় সংকট টাকে সামনে আরও বড় ব্যাপক হয়ে উঠবার দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে হয়েছে সেদিকটা উপেক্ষা করে গেছেন।

    শুধু সরকারের রিজার্ভে কত (যেটা ৩৮ বিলিয়ন ডলারের আশেপাশে হলেই…. ) অনেককে দেখেছি “বুদ্ধিমান” সেজে ফতোয়া এখনও দিচ্ছেন যে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কোন সংকট নাই বা এটা ইরান যুদ্ধের জন্যই সংকট; অথবা এটা নাকি আমাদের রেগুলার রিজার্ভ দিয়ে সামলানো যাবেই!

     

    পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টাঃ
    আজ সরকারের পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা সহজ স্বীকারোক্তিতে “যা বললেন” সেটা জানার পরও এই বুদ্ধিমানেরা কোন সমস্যাই দেখবেন না হয়ত!
    কিন্তু মনে করায়ে দেই, তারেক সরকারের সমস্যা কিন্তু এটা না যে তার এই আসন্ন গভীর অর্থনৈতিক সংকটে সরকারের হাতে “সাফাইদাতা” নাই। তাই তারেকের এখন দরকার একটা ভাল সাফাই উপদেষ্টা? তা এটা ঠিক তা নয়; এটা কোন সমস্যাই না।

    যেমন ধরেন হাসিনার ২০২৪ সালের জানুয়ারি নির্বাচনের পরের পরিস্তিতি টা যেমন ছিল সেটাই কমবেশি আমাদের এখনকার একই গভীর অর্থনৈতিক সংকট, যার সবচেয়ে বড়দিকটা সরকারের হাতে প্রয়োজনীয় সেই বৈদেশিক মুদ্রা নাই [অর্থমন্ত্রী হাত পাততে IMF, WB, ADB, AIIB, IDB সবার কাছে ইতোমধ্যেই গিয়েছেন অর্থ চেয়েছেন – এটাই সংকটটার সবচেয়ে ভাল প্রমাণ]। ফলে (বিনা অর্থ-সংস্থান অবস্থায়) এক খামোখা বাজেট (২০২৪ এর জুন বাজেট) দিয়ে দায় সারতে হয়েছিল হাসিনাকে। ফলে যদিও সেকালে হাসিনার হাতেও “এক জমজমাট সাফাই” ছিল যে “কোভিড পরবর্তি গ্লোবাল অর্থনীতিতে সংকট” চলছে ! কিন্তু সেই সাফাই বেঁচে হাসিনা ঐ জুলাই-আগষ্টের নিজ উতখাত ও দেশ-ক্ষমতা ছেড়ে পালানো ঠেকাতে পারে নাই! এই পয়েন্ট টা মনে রাখা খুবই জরুরি!

    আবার এটাও মনে করায় বা জানায় দেই যে ইউনুস (আমেরিকা যার পকেটে পকেটে বলে অনেকেরই ধারণা) সরকারও কিন্তু আইএমএফ বা আমেরিকান প্রধান মালিকানা কোন প্রতিষ্ঠান থেকেই কোন ঋণ ছাড় করিয়ে আনতে পারেন নাই তার আমলে। একমাত্র কেবল এই চীনা AIIB (২০২৫ মার্চে) এর থেকে ঋণ হাসিল করেছিলেন।

    ২.১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ-ঋণ-অনুদানের প্রতিশ্রুতি চীনের

    এখন কিছু কথা খাস খাস বলে ফেলি!
    ১. মনে হয় না যে এই পরিস্থতিতে, চীনের থেকে সরকারি ঋণ (জিটুজি) সংগ্রহ (বা যেটা ধরা যাক চীনা AIIB ব্যাংকের নগদ ইউয়ান আমাদেরকে “বাজেট সহায়তা” এই নামে এল ) এসব ছাড়া আমাদের আসন্ন সংকটে কোন বিকল্প আছে। মনে রাখতে হবে আজকের ইরান যুদ্ধ আজকেই সমাপ্ত হয়ে গেলেও আমাদের সংকট যা তাই থেকেই যাবে মানে তাতে অজুহাত-সাফাই-টাই কেবল নাই হয়ে যাবে।
    ২. শোনা যাচ্ছে এজন্য খলিল সাবরে তারেক চীনের মন জয়ের জন্য পাঠাতে যাচ্ছেন অচিরেই। আমার ধারণা, এতে চীনের সাহায্য লাভের যতটুকু সম্ভাবনা এখনও আছে তাও সবটাই শেষ হয়ে যাবে।
    ৩. মনে রাখতে হবে ইউনুসের আমলেই একবার খলিলের চীনা ভিসা বাতিল করেছিল চীন!
    ৪. আমার জানা মতে, সরকারেই জানা থাকার কথা এমুহুর্তে কাকে পাঠালে কাজ হতে পারে। যদি সরকারের তা জানা না থাকে তবে এই ব্যর্থতাই সরকার এখন সবকিছুতে ব্যর্থ হতে থাকবে সে ইঙ্গিত!

    ৫. আবার “তারেক ম্যানেজমেন্ট স্টাইলের” হিসাবে বললে, এটা যদি হয়, খলিল চীন সফরে গিয়ে ফেল করে এলে সেই অজুহাতে তখন তাকে তারেক বাদ দিয়ে দিবেন – তো সরি, এটা আসলে সেই সময় নয়! যেখানে খলিলকে অজুহাত না দেখিয়ে বাদ দিলেও এমন কিছু হবে না। কিন্তু সেটা এখন ইস্যু না। এখন আমাদের সংকটের মূল ইস্যু হল ‘সময়’ কম বা টাইমিং! সময় নষ্ট করা যাবে না। তারেক ইতোমধ্যে ইউনুস-খলিল গংয়ের পাল্লায় পরে মারাত্মক সময় নষ্ট আর বেদিশা অবস্থায় ফেলেছে নিজেকে। এই চক্রের বিচার বা বাদ দেয়া পরেও করা যাবে কিন্রতু এর সাথে চীনকে যতদ্রুত রাজি করানো বা অর্থের সংস্থান করা অনেক জরুরি; ফলে সবকিছুকে মিলায় আগানোর সময় নাই আমাদের, তাতে সেটা আরো বড় ভুল হবে হয়ত!

    স্ট্রাটেজিক উপদেষ্টা কী এতদুর সক্ষম? তিনি তারেককে সেটা বুঝাতে ও একশনে নিতে পারবেন? নাকি তিনি সাফাইদাতা উপদেষ্টা হয়েই থেকে যাবেন; সেটা হতেই প্রেফার করবেন? আমরা ইতোমধ্যেই জানি হাসিনার পতনে তাঁর উপদেষ্টা / সাফাইদাতাদের সবার একই পরিণতি!!!

    _________
    গৌতম দাস

    রাজনৈতিক বিশ্লেষক

  • সৌদি-পাকিস্তান সামরিক চুক্তির কী ক্রমশঃ ‘মুসলিম ন্যাটো’ জোট হয়ে উঠতে পারবে

    সৌদি-পাকিস্তান সামরিক চুক্তির কী ক্রমশঃ মুসলিম ন্যাটো জোট হয়ে উঠতে পারবে
    গৌতম দাস
    ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫   ভোর রাত ০২ঃ ৩৭
    https://wp.me/p1sCvy-6xS

     

     

    সৌদি-পাকিস্তান চুক্তি:

     

    গ্লোবাল প্রভাব ফেলতে পারে এমন এক সামরিক চুক্তিতে সই করেছে সৌদি আরব ও পাকিস্তান গত বুধবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫।  ইতোমধ্যেই তাতেই দুনিয়াজুড়ে বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক স্বার্থের দেশগুলোতে ও আমাদের এ অঞ্চলেও ব্যাপক হইচই পড়ে গেছে। অনেক পশ্চিমা মিডিয়া একে পৃথিবীর ভূমিগঠন কাঠামোতে কয়েকটা ইট খুলে নেওয়ার মতো ‘টেকটনিক’  [Tectonic] পদক্ষেপ বলেছে।

    কী সেই চুক্তিঃ
    আনুষ্ঠানিকভাবে এর নাম ‘কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’ যা ইংরাজিতে ‘স্ট্রাটেজিক মিউচুয়াল ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’ [Strategic Mutual Defense Agreement (SMDA)]। এখানে ‘মিউচুয়াল ডিফেন্স’ [Mutual defence] শব্দগুলো সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ। এককথায় এর অর্থ হচ্ছে, কোনো শত্রুর দ্বারা চুক্তির এক রাষ্ট্র আক্রান্ত হলে সেটা অপর রাষ্ট্র নিজের ওপর আক্রমণ বলে মনে করবে, আর নিজ বন্ধুকে রক্ষায় মোকাবিলায় এগিয়ে সক্রিয় পদক্ষেপ নেবে; দুই. এতে দুই বন্ধুর শত্রুর বিরুদ্ধে যৌথভাবে লড়বে।

    ‘মিউচুয়াল ডিফেন্স’ শব্দটার অর্থ খুবই গভীর। আর তা হওয়ার পেছনে বা এই আইডিয়ার উপরই দাঁড়িয়ে জন্ম নিয়েছিল ও আছে  সেই ১৯৪৯ সালে জন্লম নেয়া থেকে ন্যাটো (নর্থ আটল্যান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন NATO)। ন্যাটোর জন্ম দলিলের বিখ্যাত হল  ‘অনুচ্ছেদ পাঁচ’। এটা লেখা হয়েছে উপরে ‘মিউচুয়াল ডিফেন্স’ ধারণার আলোকে। দুনিয়াতে সেটাই প্রথম মিউচুয়াল ডিফেন্স ধারণার ব্যবহার। বইয়ের ভাষায় একে ‘কালেকটিভ ডিফেন্স প্রিন্সিপালও’ বলা হয়ে থাকে। মোট ৩২ সদস্যের ন্যাটোর কোনো এক সদস্য ন্যাটোর বাইরের কোন দেশ দ্বারা আক্রান্ত হলে এর বিরুদ্ধে ন্যাটো-সদস্যরা সবাই একসঙ্গে প্রতিরোধে নেমে পড়তে বাধ্য।

    এ কারণে অনেকেই সৌদি আরব-পাকিস্তানের এই চুক্তিকে মুসলিম ন্যাটো চুক্তির দিকে এটা যাবে এই প্রেরণা থেকে  উচ্ছ্বসিত হচ্ছে; আর ততই এটা ভারতের জন্য হচ্ছে হতাশার। কারণ সৌদির সঙ্গে অপর দেশটা হল পাকিস্তান,  আবার যে পারমাণবিক শক্তিধর! আর পাকিস্তানের অপর পার্টনার সৌদি আরব বলে এর অর্থ হল, সামরিক প্রস্তুতিতে ব্যয়ের ক্ষেত্রে অর্থ আর বড় কোনো বাধা নয়। এই নিয়ে ইংলিশ বিবিসির শিরোনাম হল, ইন্ডিয়ার কাপাকাপি শুরু হয়ে গিয়েছে [Why the Pakistan-Saudi Arabia defence pact is unsettling India]।  আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কংগ্রেস এটা মোদির ফরেন পলিসির পরাজয় বলে চারদিকে বিবৃতির হৈ চৈ তুলেছে [পাকিস্তান-সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে নরেন্দ্র মোদির ব্যর্থতা দেখছে কংগ্রেস]।
    আর সেই সঙ্গে এখন ক্রমশ জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে যে এই চুক্তিতে শামিল হতে চাইবে পুরো মধ্যপ্রাচ্য বাদশাহশাসিত দেশের ‘জিসিসি [GCC] জোটে’র ছয় দেশ (সৌদি ছাড়াও বাকি পাঁচ দেশ-ইউএই আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহারাইন ও ওমান)। সেই জল্পনাকে আরো উস্কে দিয়েছে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী – তিনি বলেছেন সৌদিদের সাথে চুক্তি করে আমরা তো অন্যদের জন্য দরজা বন্ধ করে দেই নাই। DOOR NOT CLOSED শিরোনামে পাকিস্তানী ডন পত্রিকা সেকথাই লিখেছে। আমেরিকান পয়সায় স্থানীয় থিঙ্কট্যাংক এনজিও চালায় এমন ইন্ডিয়ান ব্রহ্ম চেলানী খুবই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেছেন – সৌদিরা জানত এই চুক্তিকে ইন্ডিয়া নিজের জন্য এক সিকিউরিটি থ্রেট হিসাবে দেখবে / নিবে এরপরেও তারা এদিকে এগিয়েছে” –

    “Riyadh knew India would construe the Saudi-Pakistan pact as a direct threat to its security, yet it went ahead,”
    Brahma Chellaney, an Indian strategist, posted on X. –  BBC

    অনেকে অবশ্য আরেক সম্ভাবনার দিকটা দেখে বলতে শুরু করেছেন যে, এটা হয়তো ইরানকে একঘরে করার সৌদির পরিকল্পনা। না, এটা একেবারেই ভুল ব্যাখ্যা হবে। এটা কার্যত মুসলিম দুনিয়ার রাষ্ট্রগুলোর আন্তঃসম্পর্কের মধ্যে দুর্বলতাগুলোকে বড় করে দেখিয়ে ‘মুসলিম ন্যাটো’ হয়ে ওঠার সম্ভাবনাকে জেনে না জেনে, মুসলমান ফেরকার কথা তুলে নাকচ বা খামোশ করার এক বৃথা চেষ্টা হবে।

    তাহলে এমন দুর্বলের বদলে সবল দিকটা কীঃ
    সারা দুনিয়ায়  এর নানা ভৌগোলিক অঞ্চলের আন্তঃরাষ্ট্রীয় নানা রাষ্ট্রস্বার্থ দ্বন্দ্ব থাকে, থাকবেই। কিন্তু এসবের বাইরেও তবু সবকিছুর ঊর্ধ্বে দেখা যাবে আবার একটাই ‘প্রধান দ্বন্দ্ব’ থাকবে! যেমন, এখনকার দুনিয়ায় সেই প্রধান দ্বন্দ্বটা হল ‘চীন-আমেরিকার স্বার্থদ্বন্দ্বের বিরোধ’! এগুলো মূলত অর্থনৈতিক স্বার্থের দ্বন্দ্ব – মূল কারণ এক পালাবদল মানে একালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নেতৃত্বের পালাবদলের কাল এটা। যদিও ক্রমশই এটা সামরিক, কৌশলগত, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ইত্যাদি এবং সর্বোপরি এক নয়া বয়ান হয়ে সব ফ্রন্টেরও দ্বন্দ্ব হয়ে ক্রমশই ছড়িয়ে পড়বে।

    আর আমরাও বাকি সব রাষ্ট্রই ক্রমশ এই চীন-আমেরিকা দ্বন্দ্বে নিজ নিজ রাষ্ট্রস্বার্থের আগ্রহে বা বিচারে এ দুই রাষ্ট্রের কোনো একটার স্পষ্ট পক্ষভুক্ত হতে থাকব। অনেকে ইতোমধ্যেই হয়ে গেছি বা আছি। যদিও দ্বন্দ্ব-বিকাশিত হওয়ার বর্তমান স্তরে বা পর্যায়ে পরিষ্কার করে আমাদের-হয় আমেরিকা না হয় চীনের পক্ষে দাঁড়িয়ে যাওয়া – এমনটা এখনই দেখা নাও যেতে পারে। এখন হয়তো দেখা যাবে, একটা রাষ্ট্র এখনই ৫০-৮০ শতাংশ যদি চীনের পক্ষভুক্ত হয়ে গিয়েও তবু পাশাপাশি সে রাষ্ট্র আবার আমেরিকার সঙ্গেও অবশিষ্ট মাত্রার ঘনিষ্ঠতা রাখছে। যেমন পাকিস্তান। পাকিস্তানে চীনা বিনিয়োগ ইতোমধ্যেই ২০ বিলিয়ন ঢুকে পড়েছে, আর তা আগাচ্ছে পাইপলাইনে থাকা বাকি অংশের দিকে সবমিলিয়ে তা ৫০ বিলিয়নের আশপাশে যাওয়ার লক্ষ্যে। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে বিশেষ মজার ব্যাপারটা হল এই বিনিয়োগের বেনিফিট ব্যবহারকারী আবার খোদ চীন (একা পাকিস্তান না) নিজেও – আর সেটাই গোয়াদর প্রকল্পকে কেন্দ্র করে (যা শুধু একটা গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্প নয়)। আসলে এটা সাড়ে তিনদিক ল্যান্ডলকড চীন যার আবার পশ্চিমদিক একেবারে সুউচ্চ (হিমালয়) পর্বতমালা দিয়ে ব্লকড। তবু এই পশ্চিম দিকটা দিয়েই পাকিস্তানের সারা বুক চিরে এখন সমুদ্রে ডিপ সি-পোর্টে [গোয়াদর পোর্ট] পৌঁছানোরই অবকাঠামো নির্মাণ করে নেওয়া হয়েছে; যার বৃহৎ ব্যবহারকারী হবে চীন নিজেই। তাই বলা যায়, চীন-পাকিস্তানের সম্পর্ক মূলত অর্থনৈতিক অবকাঠামো বিনিয়োগের উপরে হলেও সব কিছুর উপরে এটা খোদ চীনের স্ট্রাটেজিক স্বার্থ – এক কথায়, চীন নিজ পুবদিকের চীন সাগর ছাড়াও চীন এখন নিজ পশ্চিমদিক দিয়ে সরাসরি আরব সাগরে পৌঁছাতে পারে।

    অথচ এতকিছুর পরও পাকিস্তান আমেরিকার হাতও ছাড়েনি; একটু দুর্বলভাবে হলেও সঙ্গেই ধরে আছে। আবার পাকিস্তানের মূল অর্থনৈতিক সম্পর্কের পুরোটাই চীননির্ভর। আবার এই সৌদি-পাকিস্তান সামরিক চুক্তির পর থেকে পাকিস্তান হয়ে গেল মুসলমান জনসংখ্যাপ্রধান রাষ্ট্রগুলোর চোখে রক্ষাকর্তাঃ অন্য ভাষায় হবু ইসলামি ‘ন্যাটোর’ মধ্যমণি।

    কেন আমেরিকান পরপর প্রেসিডেন্টরা নেতানেয়াহুর খেদমতগারির প্রতিযোগিতায়ঃ
    ইসরাইল ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ফিলিস্তিনিদের জায়গাজমি দখল, তাদের উদ্বাস্তু বানানো থেকে শুরু করে এমনকি ক্রমাগত হত্যা, নির্যাতন করে চলেছে। এর সবই নাকি দখলবাজদের ‘আত্মরক্ষার অধিকারের কাজ’ বলে সাফাই দিয়ে প্রেসিডেন্ট ওবামাসহ সারা পশ্চিমাজগৎ জায়োনিজমকে উসকানি গেছে। এসবই জায়োনিস্ট ইসরাইলের প্রতিষ্ঠা ও বিস্তারের নৃশংস ইতিহাস। বিশ্বযুদ্ধ শেষে বৈশ্বিক নেতা হিসাবে আমেরিকান উত্থান আর ইসরাইল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা একসঙ্গে হাত ধরাধরি করেই চলেছে। এক কথায় ইসরাইলকে প্রটেকশন দিয়ে অন্যের দেশভূমি দখল করে ইসরায়েলের নিজ বিস্তার ঘটানো-প্রটেকটর যেহেতু আমেরিকা, তাই পরিষ্কার করেই বলা যায় যে, দুনিয়া থেকে জায়োনিজমের অবসান ও ইসরাইল রাষ্ট্রের বিলুপ্তি বৈশ্বিক নেতা হিসাবে আমেরিকার পতনের ভেতরই নিহিত। প্রটেকটর আমেরিকার নেতাগিরির পতনের ভেতর দিয়েই একমাত্র ইসরাইলের বিনাশ ঘটতে পারে, তা বলাই বাহুল্য।

    আবার আমেরিকার নেতাগিরির অবসানের মানে হল, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নেতা হিসাবে চীনের উত্থান। এই উত্থানকে ত্বরান্বিত করার অন্তত একটা চাবিকাঠি আবার সৌদি আরবের হাতে আছে। তা হলো, আমেরিকান ডলার বাদে অন্য মুদ্রায় (যেমন ইউয়ানে) সৌদি তেল বিক্রি শুরু করা। কারণ সৌদি তেল বিক্রি যা সর্বোচ্চ তা কেবল আমেরিকান ডলারেই কেনাবেচা হয়। এতে ডলারের কারেন্সি ভ্যালু অটুট রাখার ক্ষেত্রে – একটা বড় ফ্যাক্টর হল কেবল ডলারেই সৌদি তেল বিক্রি করা।

    আর এতে আমেরিকান ডলার এক আধিপত্যশীল কারেন্সি হিসাবে বৈশ্বিক বাণিজ্যে আমেরিকার নেতাগিরি টিকে যাওয়ার প্রধান কারণ। আর আমেরিকান ডলার ডমিনেন্সি টিকে থাকা মানে এটাই ইসরাইলের দানবীয় আচরণ দেখানোর শক্তির উৎস। চীনা মুদ্রা ইউয়ানে সৌদি তেল বিক্রি করা শুরু করলেই এর ফলাফলে ডলার দুর্বল হয়ে যাবে আর এতে আমেরিকা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নেতা থেকে পতন হওয়ার এক বড় ঘটনা হতে পারে সেটা।

    কিন্তু সৌদিরা এটা করতে এপর্যন্ত ভয় পেয়ে এসেছে। বরং সৌদি সরকার ভয়ে ভয়ে কাজ করেছে উলটা; সৌদিরা আমেরিকার কাছেই নিজ নিরাপত্তার গ্যারান্টি চেয়ে বসে আছে। এদিকে চলতি মাসে ৯ সেপ্টেম্বর ইসরাইল সৌদি আরবের সীমান্ত দেশ কাতারেই বোমাহামলা চালায়। বলাই বাহুল্য, এটাকে সৌদিশাসকরা আমেরিকান ‘প্রতিরক্ষার আশ্বাসের’ বরখেলাপ গণ্য করেছিল।

    এখন সেখান থেকে প্রতিক্রিয়ায় সৌদিরা সরাসরি তেল বিক্রিতে ডলার ব্যবহার বন্ধ করতে পারত। কিন্তু তা কঠোর আর ভারী হয়ে যাবে ভেবে সেদিকে না গিয়ে সৌদি শাসকরা এক তুলনামূলক নরম পদক্ষেপ নিয়েছে – এটাই পাকিস্তানের সঙ্গে ‘মিউচুয়াল ডিফেন্স’ চুক্তি করে বসা।

    এদিকে পাকিস্তানের ডন পত্রিকা লিখেছে, এটা দুই দেশের মধ্যকার চুক্তি হলেও এটা জিসিসি সদস্য দেশের মধ্যেও বিস্তার ঘটিয়ে বাকি গালফ দেশকেও একই ‘মিউচুয়াল ডিফেন্স’ চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা নেই। মানে কাতারসহ জিসিসির বাকি দেশগুলোও এ চুক্তিতে একইভাবে সৌদিদের মতো পক্ষভুক্ত হতেই পারে।

    কিন্তু তবু অনেকের মনে খচখচ করতে পারে এই ভেবে, এটা তো ঠিক ‘ইসলামি ন্যাটো’-এর মতো হচ্ছে না। কারণ ইরান বা তুরস্ক এতে শামিল নয় বা সেটা হবে কী করে?

    আমি এখানে একটা সূত্র বলে দেই। এক্ষেত্রে ইরান মুসলিম দেশের মধ্যে সবার আগে চীনের সঙ্গে পক্ষভুক্ত হয়ে গেছে। আর তা পেরে গেছে বলেই ইরান সাহসের সঙ্গে ফিলিস্তিনির পক্ষে হামাস, হিজবুল্লাহসহ অন্যদের সংগঠিত ও সহযোগিতা করে আসছে। ইরানের তেল কেনার জন্য চীন-ইরান ২৫ বছরের চুক্তি করা আছে।

    অতএব, সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ‘মিউচুয়াল ডিফেন্স’ মানেই পাকিস্তান নিজ আরেক হাতে চীনের সঙ্গে সে যুক্ত-এটাও মনে রাখতে হবে। ফলে ইরানও এতে (আপাতত) পরোক্ষে যুক্ত!

    সৌদিদের দিক থেকে এটা হল, আমেরিকাকে দেওয়া হুঁশিয়ারি যে আমেরিকা সংশোধিত না হলে, জায়োনিস্ট রক্ষকের কাজ ত্যাগ না করলে তখন সৌদি শাসকরা সরাসরি ডলারে তেল বিক্রি বন্ধের পথে যাওয়ার কথা ভাববে।

    এক কথায় দিন শেষে এটাই দখলদার জায়োনিস্টদের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক সর্বোচ্চ পদক্ষেপ হয়ে ওঠার পথে হাঁটবেই।

    গৌতম দাস : রাজনৈতিক বিশ্লেষক

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫    


    [এই লেখাটা এর আগে প্রথম ভার্সানে ছাপা হয়েছিল দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় আমারই লেখা এক কলাম হিসাবে, গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫।  আজ এখানে সে লেখাটারই  আরেক বর্ধিত এক নয়া এডিটেড ভার্সান এখানে আমার নিজ সাইটে ছাপা হল। বলাই বাহুল্য এখানে শিরোনামটাই শুধু নতুন নয় বরং এমন অনেক প্রসঙ্গই নয়া এখানে যোগ করা হয়েছে যেটা পত্রিকার ভার্সানে ছিল না। আসলে পত্রিকার কলাম ভার্সান মানে যেটা যুগান্তরের এডিটরিয়াল পলিসি সঠিক মনে করে সেই ভার্সান; এভাবে দেখাটাই সঠিক হবে। আর তুলনায় এটা আমার নিজ পরিবর্ধিত-এডিটেড ভার্সান মনে করলেই সঠিক হবে বলে আমার বিশ্বাস! ]

  • পড়াশুনা না করা রাজনীতিবিদ এর দিন শেষ!

    পড়াশুনা না করা রাজনীতিবিদ এর দিন শেষ!
    গৌতম দাস
    ২৫ আগষ্ট ২০২৫
    https://wp.me/p1sCvy-6vT

    যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাণিজ্য যুদ্ধ বিশ্বে প্রভাব

    বোমা ফেটেছে! কিন্তু তবু হুঁশ নাই!
    শত প্রমাণ দিলেও বিশ্বাস করে নাই একদল লোক / রাজনীতিবিদ যে, বাংলাদেশের উপর ইন্ডিয়ান আধিপত্যের দিন আর নাই, সেসব নাই হয়ে গেছে। কিন্তু মনের বাঘ থেকে গেছে।  আর সেই সাথে ট্রাম্পের আমেরিকা আর ইন্ডিয়াকে বরকন্দাজ রেখে ও থাকার জন্য বিশেষ সুবিধা দিয়ে বিনিময়ে বাংলাদেশের উপর ইন্ডিয়ার প্রভাব বিস্তারের কারবার আর করবে না, এসবও ছেড়ে  দিয়েছে অনেক আগেই।  কখন থেকে? নিশ্চিতভাবেই  এক. হাসিনার উতখাত আর দুই. ট্রাম্পের নয়া শুল্কনীতি প্লাস অন্যান্য কিছু নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ক্ষমতায় আসীন হবার পর থেকে অন্তত!

    কিছু পরগাছা পোকা আছে ‘এটুলি’ বলে আঞ্চলিকভাবে, এরা পশুর গায়ে লেগে থাকে সহজে খসে বা ঝড়ে পরে যায় না, লেগেই থাকে আর রক্ত চুষতে থাকে। “ইন্ডিয়ান প্রভাব বাংলাদেশের উপর থেকেই আছে ফলে ইন্ডিয়াকে তেল মেরে চলতে হবে” – এই হল সেই এটুলি ধারণা!  এমন ধারণা-মনের কিছু রাজনৈতিক নেতা ও তাদের দল বাংলাদেশে আছে যেমন বিএনপি আর জামায়াত! এদের দলের উপর এটুলি হয়ে লেগে থাকা ধারণা আছে তাদের মনে যে, ইন্ডিয়ার কোলে উঠে বসে থাকতে হবে এই চিন্তা পয়দা হয়ে আছে সেখানে। এমন ধারণার সবচেয়ে বড় হয়ে লেগে থাকা রাজনীতিবিদ হল এখন বিএনপির তারেক জিয়া আর জামায়াত এর টপ তিন নেতা; সাথে অবশ্য কমবেশি আরো অনেকেই আছে। আর ওদিকে ঠিক একই ভাবে আছেন মোদি সাব  – যিনি ভেবেই গেছেন যে উনি “এখনও রাজা আছেন” –  বাংলাদেশের উপরে এই ভাব ছড়িয়ে বসে থাকা ব্যক্তিটা ছিল (ছিল বলতে হচ্ছে কারণ তিনি নিজেই এখন জেনে গেছেন তিনি আর নাই ) নরেন্দ্র মোদি।  ট্রাম্পের নির্বাচনের আগে থেকেই মোদি এবং সাথে হাসিনাও বিরাট আশা নিয়ে ট্রাম্পের জিতা দেখতে বসে ছিলেন যে এবার তাদের আকাঙ্খী বরপুত্র ট্রাম্প জিতে আসতেছেন। উনি এলেই মোদি বাংলাদেশের উপর হারানো সাম্রাজ্য বা আধিপত্য ফিরে পাবেন ফলে ইউনুসকে দেখায় দিবেন, উপড়ে ফেলবেন ইত্যাদি!
    এই আওয়াজ এতই তীব্র ছিল যে হাসিনাও তারা চোরা অনুসারীদের মনোবল বাড়াতে একই সুরে গান ধরেছিলেন যে, ট্রাম্প ক্ষমতায় এলে পরে লীগ ও হাসিনার চোর গংদের ভাগ্য আবার খুলবে! তারা নাকি আবার  বাংলাদেশের ক্ষমতায় ফিরে আসবে!!!!!

    কিন্তু হায় দিন আর কাটে না, তাদের প্রবল কামনার আকাঙ্খাও সত্য হয় না! ফলাফল? ফলাফল নিম্নচাপ!!!  ট্রাম্প ক্ষমতায় আসীন হবার পর আমাদের এ-অঞ্চল থেকে ট্রাম্পের প্রথম ভিজিটির হন মোদি কারণ, তিনি আর ধৈর্য রাখতে পারছিলেন না। কিন্তু ফলাফলে তাতেই ইন্ডিয়ার সব স্বপ্ন-আকাঙ্খা ভেঙ্গে পড়া শুরু হয়ে যায়। মোদি তবু বিশ্বাস করতে পারছিলেন না এই ভেঙ্গে পড়া নিজ চোখে দেখেও। ততোধিক দুরবস্থা তার সাঙ্গপাঙ্গোদের এমনকি তাতে লীগ / হাসিনারও!

    সবশেষ একেবারে মুকখে মারা বোমাঃ
    সবশেষে ট্রাম্প একলাই নিজ-ফয়সালা ঘোষণা  করে দেন যে আমেরিকায় ইন্ডিয়ান রপ্তানির উপর ধার্য শুল্ক হবে ৫০%। এই হল সেই মুকখে মারা বোমা!!!
    কারণ এবার আর ট্রাম্পের আমেরিকার ইন্ডিয়ার প্রতি নীতি-মনোভাব আর মোদি থেকে লুকায় রাখার সুযোগে থাকলেন না, মোদি সবটাই হারালেন। ট্রাম্পেরও সব উদাম হয়ে গেল!

    গত ২০০৬ সালে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট (বাবা বা সন্তান বুশ) জর্জ বুশ কংগ্রেসের আমলে ইন্ডিয়া সফরে এসেছিলেন। গত শতকের ষাটের দশকের পর্‌ কোন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট সেই প্রথম এসেছিলেন ইন্ডিয়াতে। আর সেই থেকে শুরু হয় ইন্ডিয়ান রুস্তমি, বাংলাদেশের উপর চোটপাট আর আধিপত্য নিয়ে জেঁকে বসবার খায়েস ও ততপরতা!  – মুই কী হনু রে! চিনস আমারে!!! – টাইপের হম্বতম্বি!
    পরে এসবের হাত ধরে আমাদের উপরে এসেছিল কুখ্যাত ১/১১!  ফলে আরো রুস্তমি ইন্ডিয়া-রাজ কায়েম করে ছেয়ে ফেলা!! আর তা ইন্ডিয়ান র-এর একেবা্রে বাংলাদেশের সেনা সদরে বসে অফিস খুলে বসা পর্যন্ত ঠেকেছিল! আর কী লাগে?
    আর এতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ দল কে ছিল বা কী হয়েছিল অর্থে, সেটা ছিল বিএনপি আর সেই সাথে ততোধিক খারাপ অবস্থায় ঝড় বয়ে যাওয়া অবস্থার দল জামায়াত – এই দুই দল! সাধারণ ভাবে অবশ্য ইসলামি দল মাত্রই এই দুর্দশায় পড়েছিল!!

    অথচ সেই বাংলাদেশের সেনা সদরে জেঁকে বসা ইন্ডিয়ান র ও বসানোর কারিগর হাসিনা সমুলে উতখাত হয়ে গেল ৫ আগষ্ট ২০২৪ সালে।  কিন্তু তবুও এদুই দল তারেকের বিএনপি আর জামায়াত এখন আরো জোরে সরে সেই ক্ষতবিক্ষত ইন্ডিয়ার ধরেই ক্ষমতায় যেতে হবে বলে আরো শক্ত বিশ্বাসে বসে আছে!! জামায়াত নিজ ঘাড়ের উপর “প্রামাণিকের হিন্দু জোট” কান্ধে নিয়ে হাঁটছে তো হাঁটছেই!  এ কোন তামাসা? সব তামাসাই তামাসা!!!  নাকি মোদির এক ক্যাশিয়ার গৌতম আদানির অর্থ কী এতই সুস্বাদু বা ক্ষমতাবান????
    যার মানে হল, যে তাঁকে গুষ্টিশুদ্ধ তছনছ করে দিল, বউ-সন্তান নিয়ে গেল তাকেই বিএনপি-জামায়াত ভক্তিভরে সালাম দিচ্ছে শুধু না তারই কোলে উঠে আশ্রয় খুঁজছে!!!! কেন?
    এছাড়াও, সর্বশেষ অবশ্য অল্প কিছু জেনারেলও এই পথে! তাদেরকেও মোদির বরকন্দাজ হতেই হবে! হাসিনা নাই তাই নিজেদেরকেও এগিয়ে এসে খেদমতে লাগতে হবে!

    একেবারে মূল কারণ পড়াশুনা না করা রাজনীতিবিদ এরাঃ
    একালের মানে চলতি শতকের [২০০১ +……] শুরু থেকেই দুনিয়া আর আগের মত নাই। অবশ্য এটা সবাই দেখতে পাবে না যদি না এনিয়ে পড়াশুনা কিছু থাকে! এর গোড়া বা রুট-ফ্যাক্টস হল – গ্লোবাল রাজনীতি আর গ্লোবাল অর্থনীতি নতুন করে মোঁচড় নিয়েছে, ১৯৪৫ সালের পরে আবার। যদিও আসলে সেখানে মূল নিয়ামক হল কেবল – গ্লোবাল অর্থনীতি – আর তাথেকে অনুষঙ্গ হিসাবে গ্লোবাল রাজনীতিও সাথে এর সব পুরানা নিয়মকানুনও! আর এদিকটা বুঝতে গেলে এবার পড়াশুনা লাগবেই! এককথায় বললে  পড়াশুনা না করা রাজনীতিবিদ এই চলতি শতকে একেবারে অচলই হবে!!! এমনকি শুধু রাজনীতিবিদই না নিজেকে বড় মনে করা সব একাদেমিশিয়ান / অধ্যাপকও অচল হবে!
    বিএনপি ও জামায়াত এই দুইটা দলই এমন অবুঝের ফাঁদ পড়েছে!  বলে বুঝিয়ে দিলেও বুঝতে পারছে না।
    শুধু তাই না; অবস্থা এখন এরকম যে এতদিন “কট্টর চীনবিরোধিতা দেখিয়ে চলা” খোদ মোদিই এখন চীনের কোলে উঠে বসেছে!   কিন্তু এসব দেখেও তারেক বা তাহের দের হুশ আসছে না!  আসলে তারা কিংকর্তব্যবিমূঢ়! কী করার আছে কী করতে হবে কিছুই বুঝছে না!  এমন অবস্থায়!

    তাহলে রাজনীতিকদের পড়াশুনা বলতে ঠিক কী বুঝাতে চাইছিঃ
    এর সোজা মানে হল, সরাসরি এখনকার চীন ও আমেরিকান প্রেসিডেন্টের নীতি-পলিসি খুঁটিয়ে রিড করার যোগ্যতা। বিশেষতঃ ২০১৩ সাল থেকে চীনের সবকিছুর নীতি-পলিসি! মনে রাখতে হবে চীন আবার তার এমন সমস্ত পলিসিওগুলো সাজিয়েছি কিন্তু খোদ আমেরিকাকে দেখে – অন্তত ১৯৪০ সালের পর থেকে উত্থিত গ্লোবাল নেতা আমেরিকাকে দেখে স্টাডি করে! যাই হোক, নীতি-পলিসি খুঁটিয়ে রিড করার যোগ্যতা – যেটা বলেছি সেটা মিনিমাম! আর সবচেয়ে ভাল হবে যদি  ১৯৪০ এর দশক থেকে আমেরিকান নিজ গ্লোবাল উত্থান  সম্ভব হওয়ার পিছনে কী শক্তি কাজ করেছিল সেটার একটা কম্পিলিট স্টাডি আর বুঝাবুঝি সমাপ্ত করতেই হবে। এখানে মনে রাখতে হবে, আজকের চীন নিজ রাষ্ট্রীয় সমস্ত নীতি-পলিসি ঠিক করার জন্য এই স্টাডি আর বুঝাবুঝি গবেষণাতেই অন্তত ১০টা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা সেন্টার খুলেছে। যাদের সংগৃহিত বুঝাবুঝি এটাই তারা নিজ দেশের পার্টিকে (চীনা ব্যবস্থায় তাদের কমিউনিস্ট পার্টিই সর্বসর্বা) সরবরাহ করে যাচ্ছে যাতে শি জিন পিং এবং সংশ্লিষ্টরা নিজ রাষ্ট্রের জন্য সঠিক নীতি-পলিসি ঠিক করতে পারে। এজন্য তারা অনুমান করে ফেলতে পারে আগাম যে আমেরিকান এরপরের পলিসিগুলো কেমন হতে পারে আর সেক্ষেত্রে চীন রাষ্ট্র কী সিদ্ধান্ত নিবে!!!
    যাই হোক, আমার এখানে সারকথাটা হল,  আমাদের রাজনীতিবিদ / একাদেমিশিয়ানদেরে এনিয়ে পড়াশুনায় প্রবেশ করতে হবেই পুরানা সব চিন্তা ঝেড়ে ফেলে –  যাতে গ্লোবাল এই চেঞ্জ বা পাস ফিরে শোওয়ার মত পালাবদলের এই কালে চীন-আমেরিকান প্রভাব / সিদ্ধান্তের প্রভাব বাংলাদেশের উপর কেমন হবে তা আন্দাজ / অনুমান করতে পারতে হবেই। এটা লাগবেই, এছাড়া নেতৃত্ব অচল হবেই! নেতা নিজে না পারলে অসুবিধা নাই যোগ্য-দক্ষ লোক ভাড়া করেন! কিন্তু নিজের মফস্বলি আন্দাজ দিয়ে পথ চলার দিন শেষ হয়েছে! একথা আমি নিজে অনেক বড় বড় টপ নেতাকে সরাসরি বলেছিও! মনে হয় না তাদের গায়ে লেগেছে বা  নুন্যতম কিছু বুঝেছেন! আসলে আমার কথা থেকে তাঁরা কী আমল করেছেন তা তাদের ততপরতা দেখেই বুঝা যায়!
    মূলকথাটা হল এটা তাদেরকে নিজেই বুঝতে হবে!  দু-একটা মাথুর টাইপের বড় র-এর এজেন্ট ধরা বা খাতির রেখে কোনই কাজ হবে না।

    আচ্ছা র-এর কথা থাক! খোদ মোদির অবস্থাই দেখেন!
    এবার ট্রাম্প যখন অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের নীতি নিয়ে  মোদির সাথে কথা চলেছে বা তুলেছেন তখন মোদির ব্লান্ডার বা মস্ত আকামটা লক্ষ্য করেন!
    মোদি ছুটে গেলেন রাশিয়ার পুতিনের কাছে। অজিত দোভালকে পাঠালেন। আর তাতে পুতিন একটা বিবৃতি দিলেন মোদির পক্ষে, আর ট্রাম্পের বিপক্ষে! বোকা মোদি হাততালি দিয়ে উঠলেন! কারণ,  পুতিন বলেছিলেন, কোন দেশ কার থেকে বা অন্য কোন দেশের মালামাল বাণিজ্যে সামিল থেকে কোথা থেকে কত মালামাল আমদানি-রপ্তানি করবে সেটা তার স্বাধীন সিদ্ধান্ত! এখানে ট্রাম্প অন্য রাষ্ট্রকে ফাঁদে ফেলে জোর খাটিয়ে কেনা-বেচা করতে বাধ্য করতে পারেন না।  মানে পুতিন বলতেছিলেন, ইন্ডিয়ার রাশিয়ার উপর আমেরিকার অবরোধে ভেঙ্গে সস্তার তেল কিনাটা জায়েজ ছিল।
    কিন্তু তাতে কী হল? পরিণতি কী? ইন্ডিয়ায় সস্তায় রাশিয়ান তেল কিনে তা আবার পরিশোধন করে রপ্তানি করার কথাটা সারফেসে আলোচনার টেবিলে এবার সরাসরি উঠে এল!  আর তাতেই ট্রাম্প  এবার ইন্ডিয়ার রাশিয়ান তেল কেনা – আমেরিকান ডলার /বাণিজ্য অবরোধ ভেঙ্গে কিনার অভিযোগে মোদির উপর বাড়তি শুল্ক ৫০% এ নিয়ে ঠেকিয়ে দিলেন!
    এখন গ্লোবাল আইনগত দিক থেকে দেখলে ইন্ডিয়া অবশ্যই স্বাধীন  আর আমরা সবাই তা মানব যে, সে কোন দেশ থেকে কী আমদানি-রপ্তানি করবে এটা ইন্ডিয়ার সার্বভৌম সিদ্ধান্তের ব্যাপার। আর এতে কেউ চাপ দিলে সে অন্যদিকে মানে অন্য দেশের দিকে যেদিকে বেশি সুবিধা পাবে চলে যাবে! কিন্তু সাথে এর বিপরীত কথাটাও আছে। আমেরিকার ট্রাম্প তিনিও তো স্বাধীন – তিনিও তাঁর ক্রেতা কোন দেশের উপর কী শুল্ক ধরবেন এব্যাপারে স্বাধীন! অর্থাৎ মূককথাটা হল, স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ইত্যাদি রাজনৈতিক অধিকারের কথা তুলে দুই রাষ্ট্রের এই স্বার্থদ্বন্দ্বের কোন ফয়সালা নাই, হবে না।
    কিন্তু এতে নিট যেটা পরিণতি হবে সেটা হল, অন্তত ১৯৮০ সাল থেকে চালু ও গড়ে উঠা আন্তর্জাতিক / গ্লোবাল বাণিজ্য ব্যবস্থাটা ভেঙ্গে পড়বেই! এতে আমার বা যারা বুঝে তাদের কোনই সন্দেহ নাই। অর্থাৎ ট্রাম্পের এই বিশেষ বাড়তি যথেচ্ছাচার শুল্কনীতি – এটা বর্তমান আমেরিকান নেতৃত্বের চলমান গ্লোবাল বাণিজ্য ব্যবস্থাটাকেই ভেঙ্গে অচল করে দিবে। যার সোজা মানেটা হল, এর বিকল্প হিসাবে চীনা নেতৃত্ব বা প্রভাবের বিকল্প একটা বাণিজ্য ব্যবস্থা জায়গা করে নিবার পথটাই গোয়ার ট্রাম্প করে দিচ্ছেন!  আর এতে আমেরিকা ছাড়া বাকি দুনিয়া মানে মুখ্যত ‘গ্লোবাল সাউথ’ আর ইইউ এর সমর্থন সেদিকেই  ক্রমশই সবল হয়ে হাটবেই! মূল কারণ, একালে এখন এসে প্রতিটা রাষ্ট্রই একমাত্র টিকে থাকতে পারে ব্যাপক অবাধ আমদানি-রপ্তানি আন্তঃরাষ্ট্রীয় বাণিজ্য  করেই!  দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে কিছু এক্সপেরিমেন্টেরও পরে (আইএমএফ-ভিত্তিক) ১৯৮০ সাল থেকে আমেরিকার নেতৃত্বে যে গ্লোবাল বাণিজ্য ব্যবস্থাটা গড়ে উঠেছিল সেটাই এখন চীনের নেতৃত্বে (ঢেলে সাজানো আইএমএফের জায়গায় ব্রিকসের আইডিয়ায়) পুনর্গঠিত হতে শুরু করবেই ক্রমশ!

    কিন্তু আমাদের মূল প্রসঙ্গ এটা নয়ঃ
    আমাদের মূল প্রসঙ্গ হল, আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব (সাথে একাদেমিশিয়ানেরা) কী এরপরেও ইন্ডিয়ান আধিপত্য যেন আগের মতই আছে এই যুযুর ভয়ে ইন্ডিয়া-লেপ্টে থাকার পক্ষে বোকা বুঝ নিয়েই থাকবে? নাকি পরিস্কার দেখতে পাবে যে আমেরিকা-ইন্ডিয়ান কোন নুন্যতম বিশেষ খাতিরের সম্পর্কটাই  এবার নাই হয়ে গেছে! অন্তত নিকি হ্যালি  করুণ আবেদনটা দেখেও তো তাদের বুঝা উচিত, নাকি?  আর কতদিন বাংলাদেশের রাজনীতিবিদের পড়াশুনা ছাড়া কথিত ইন্ডিয়ান হেজিমনির ভুতের ভয়ে পথ চলবে?????

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   ২৮ আগষ্ট, ২০২৫    সন্ধ্যা ০৭ঃ ৫৪

    [এই লেখাটা এর আগে প্রথম ভার্সানে ছাপা হয়েছিল দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় আমারই লেখা এক কলাম হিসাবে, গত ২৪ আগষ্ট ২০২৫।  আজ এখানে সে লেখাটারই এক আসল বা নিজ বর্ধিত এক নয়া এডিটেড ভার্সান এখানে আমার নিজ সাইটে ছাপা হল। বলাই বাহুল্য এখানে শিরোনামটাই শুধু নতুন নয়। এমন অনেক প্রসঙ্গই নয়া এখানে যোগ করা হয়েছে যেটা পত্রিকার ভার্সানে ছিল না। আসলে পত্রিকার কলাম ভার্সান মানে যেটা যুগান্তরের এডিটরিয়াল পলিসি সঠিক মনে করে সেই ভার্সান; এভাবে দেখাটাই সঠিক হবে। আর তুলনায় এটা আমার নিজ পরিবর্ধিত-এডিটেড ভার্সান মনে করলেই সঠিক হবে বলে আমার বিশ্বাস! ]

  • মাইকেল কুগেলম্যান মূলতঃ ইন্ডিয়া-হাসিনার এক অদ্ভুত দালাল। গুজব ছড়াচ্ছে এখনও

    মাইকেল কুগেলম্যান মূলতঃ ইন্ডিয়া-হাসিনার এক অদ্ভুত দালাল। গুজব ছড়াচ্ছে এখনও
    গৌতম দাস
    ৩০ মে ২০২৫  রাত ২২ঃ ২৭
    https://wp.me/p1sCvy-6tu

     

    কুগেলম্যান

     

    [এই লেখাটায় অনেক ইংরাজি উদ্ধৃতি আছে। এতে বাংলা পড়ুয়াদের ঘাবড়াবার কিছু নাই।  সেক্ষেত্রে  যে স্টাইলে পড়তে হবে তা হল, ইংরাজী শব্দ বা বাক্যগুলো সরাসরি এড়িয়ে বা টপকে গেলে কোন অসুবিধাই হবে না পাঠকের একথা মনে রেখে পরে যেতে হবে। কারণ, পাশেই ঐ ইংরাজিটা বাংলায় লেখা পাবেন। তাই ইংরাজী শব্দগুলো যেন নাই এমন মনে করে আগিয়ে যান। তাতে বুঝতে কোনই অসুবিধা হবে না। ]

    এক মাইকেল কুগেলম্যান নিয়ে কথা বলব গত বাইডেনের আমল থেকে এখনও যিনি মূলত ইন্ডিয়াপ্রেমী। সেটা এমন ইন্ডিয়াপ্রেমী যিনি  আদতে মনে করেন –  “আমেরিকার ইন্দো-প্যাসেফিক পলিসি বাস্তবায়িত হতে পারে বাংলাদেশকে ইন্ডিয়ার হাতে তুলে দিলে”।  এককথায় উনার মূল টার্গেট চীনকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ-ছাড়া করা; এটাই আমেরিকার ইন্দো-প্যাসেফিক পলিসির সম্ভাব্য সফলতার পথ; যেটা আরেক ভাষায় বললে, বাংলাদেশকে ইন্দো-প্যাসেফিক পলিসিতে অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়ার একমাত্র উপায়।    চীনের সাথে

    মাইকেল কুগেলম্যান[Michael Kugelman] এক অদ্ভুত আমেরিকান; তিনি এক আমেরিকান থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক “উড্রো উইলশন সেন্টার” [Woodrow Wilson International Center] এর ফেলো। যেখানে ফেলো মানে হল যে বছরে [salary range for this position is $120-135k] অর্থে নিয়োগপ্রাপ্ত এর গবেষক ও লেখক নিয়োগ। তবে কী নিয়ে গবেষণা (বা গবেষণার নামে কি নিয়ে উনি মেতে থাকবেন) আর লিখবেন এটা নির্ভর করবে নিয়োগদাতা ঐ থিঙ্কট্যাঙ্ক আমেরিকা-রাষ্ট্রের কোন নীতি-পলিসি লাইনের প্রবক্তা। সেই লাইন বলতে আবার এরা নিজেরা ডেমোক্রাট না রিপাবলিক  কোন দলের সমর্থক অথবা আবার কখনও বাই-পার্টিজান বা উভয় দলের মিশানো এক গোষ্ঠি কিন্তু সুনির্দিষ্ট একটা ইস্যু বা চিন্তা-কৌশল লাইনের পক্ষে কাজ করার প্রতিজ্ঞা নিয়ে গড়ে উঠা থিঙ্কট্যাঙ্ক হতে পারে।
    এই বিচারে “উড্রো উইলশন সেন্টার” বা সংক্ষেপে “উইলশন সেন্টার” এটাকে বাই পার্টিজান বলা যেতে পারে। তবে এমন মনে করার কারণ হল, সাধারণত থিঙ্কট্যাঙ্ক মানে হল  এরা আমেরিকার নিজস্ব দাতব্য প্রতিষ্ঠান টাইপের হয়ে থাকে মানে, সরকারী ফান্ড সাধারণত এতে থাকে না। দাতব্য অর্থে পরিচালিত হয়ে থাকে।  কিন্তু  “উইলশন সেন্টার” ব্যতিক্রম; এখানে 4০% ফান্ড সরকারী অনুদান। সম্ভবত সেকারণে যখন যে প্রেসিডেন্ট থাকে সে সাধারণত এই থিঙ্কট্যাংক  প্রভাবিত হয়েই থাকে।
    আরো সুনির্দিষ্ট করে এবার বললে, “উইলশন সেন্টার” কম করে হলেও গত প্রায় ১৫ বছর ধরে ওবামা আমল (২০০৯-১৭, দুই টার্ম) থেকেই একট ইস্যু নিয়ে কাজ করছে যেটাকে [China containment] বা চায়না ঠেকানো পলিসি বলা যেতে পারে।  যে পলিসির সবচেয়ে বড় দুর্বল দিক বা বয়ানে খামতির দিকটা হল, এর বাস্তবায়ন সম্ভব কিনা এদিকটা তলিয়ে দেখতে ততধিক অনাগ্রহ।

    এবার সরাসরি আসি। কুগেলম্যান হল বাইডেনের আমলে যখন ইন্দো-প্যাসেফিক গান সর্বোচ্চ স্বরে উঠেছিল সে আমলের সাউথ-ইস্ট এশিয়ায় বাইডেনের কোর লোক। যার এসাইনমেন্ট ছিলঃ
    ১। বাংলাদেশকে চীন ছাড়া করে ইন্দো-প্যাসেফিক কৌশল – এই উদ্যোগের সদস্য বানানো।
    ২। এতে তাদের কোর ইন্টারেস্ট হল আলটিমেটলি বাংলাদেশকে ভারতের কোলে তুলে দেয়া।
    ৩। কিন্তু তারা প্রথম এবং আপাতত কৌশল হিসাবে প্রকাশ্যে উলটা পথে হেটেছিল। ইন্ডিয়াকে দূরে রেখে বাংলাদেশ স্যাংশন আর মানবাধিকারের বুলি আওয়াজ উঠিয়েছিল। যাতে হাসিনার বিরুদ্ধে বিরোধীদলকে চেগানো যায়। এতে হাসিনাকে বিপদে চাপে ফেলে তাকে বাধ্য করে ইন্দো-প্যাসেফিক কৌশল – এই উদ্যোগের সদস্য বানানো পথে ঠেলে দিতে পারে। এই অবস্থাটাই ঘটেছিল ২০২৩ সালের জুনের পরে। বাইডেন তখন থেকে ইন্ডিয়ার মাধ্যমে (ইন্ডিয়াকে সচল করে) হাসিনার সাথে ডিলিংয়ে চলে যায়। আর বিরোধী দল মা-বাপ হীন দিশেহারা হয়ে পড়েছিল।
    এখন থেকে ৭ জানু নির্বাচনে ওয়াকভার এর ইঙ্গিত দিয়ে কেটে পরা শুরু করেছিল বাইডেন প্রশাসন। আর তা থেকে ২০২৪ এর ৭ জানু নির্বাচনের পরে ৫ ফেব্রুয়ারী বাইডেনের হাসিনাকে পাঠানো চিঠি যেখানে বলা ছিল যে, বাইডেন প্রশাসন হাসিনার সাথে একসাথে কাজ করবে।

    এখন উপরে যে এসাইনমেন্টের কথা বললাম এর সত্যতা, নিশ্চয়তা-প্রমাণ কীঃ
    এর প্রমাণ হল, কুগেলম্যানকে ফলো করেন। ফলো করা বলতে???

    ফলো বলতে এই তিন-বছরেরও বেশি সময়ে কুগেলম্যান প্রতি সপ্তাহে আমেরিকান ফরেন পলিসি  পত্রিকায় যে সাপ্তাহিক কলাম লিখে গেছেন, সেগুলো ফলো করেন।
    কিন্তু না এই তিন চার বছরের ফলো মানে অনেক হ্যাপা, অনেক লেখা পড়তে হবে। না তা করতে হবে না। আমি সেখান থেকে বেছে তিন-চারটা আপনাদেরকে পড়তে বলব। আর তাতেই আপনি বাইডেন-ল্যু-কুগেলম্যানদের পুরা পরিকল্পনাটাই জানতে পারবেন।

    ১। কুগেলম্যানের একেবারে প্রথম আলোতে লেখা একটা কলাম, লিখেছিলঃ

    লেখা: মাইকেল কুগেলম্যান।    প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০২১, ২০: ০১

    এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য খারাপও হতে পারে

    এটা ছিল ১০ ডিসেম্বর ২০২১ আন্তর্জাতিক  মানবাধিকার দিবসের পরের দিন; বাইডেন প্রশাসন তার বাংলাদেশ (সাথে আরো কিছু দেশও ছিল) সরকারের উপর  স্যাংশন আর মানবাধিকার লঙ্ঘণের প্রবল অভিযোগ তুলে এই রাজনৈতিক লাইনের যাত্রা শুরু করেছিল সেদিন থেকে পরের তিন বছর ধরে। যাতে বাংলাদেশের বিরোধী দলগুলো হাসিনার বিরুদ্ধে রাস্তায় সরব হয়ে উঠে। কিন্তু লক্ষ করেন এই সময়ে লেখা এই কলামে, কুগেলম্যান উলটা সাবধান করছেন বাইডেন প্রশাসন কে যে বাইডেনের এই সিদ্ধান্ত আমেরিকান স্বার্থের জন্য খারাপও হতে পারে!!!!! কেন? কুগেলম্যানের কেন এই উলটা গান?
    এটা আপাতত নোট করে রাখেন যে আমাদেরকে এর জবাব পেতে হবে।

    ২। পরেরটা বেছে তুলে আনছি এক রিপোর্ট যেটা ইউএনবি (UNB মানে হাসিনার প্রিয় আরেক কেনা নিউজ এজেন্সী) থেকে করা আর যেটা অনেক পত্রিকাই আবার ইউএনবি বরাতে ছেপেছিল ২০২৩ সালের ১৫ জানুয়ারি তে।

    “AL retains significant level of support because of success stories, says South Asia policy analyst Michael Kugelman” 

    ২০২৩ সালের ১৫ জানুয়ারি মানে হাসিনার অর্থনীতি যখন মরণ দশায়। দলের লোক আর চোরা ব্যবসায়ীরা যখন নিজেদের চুরির অর্থ ডলারের কনভার্ট করে পালাতে ব্যস্ত। যা শুরু হয়েছল ২০২১ সালে তেলের দাম বাড়ানো কে কেন্দ্র করে ; যা দেশে ডলারের দাম ৮৫ টাকা থেকে ১২০ টাকার আশেপাশে চলে যায়। অথচ এই কুগেলম্যান দেখেন কীরকম উলটা কথা বলছে, দাবি করছেন হাসিনা নাকি সফলভাবে দেশ পরিচালনা করে যাচ্ছিলেন তখন।

    লিখছেনঃ
    ক)    “We have to keep in mind that the ruling party Awami League has been in power since 2009 and it retains a significant level of support,” [মানে লীগ খুবই গণসমর্থিত দল ও ক্ষমতায় তারা; এটা, সেই ২০০৯ সাল থেকে]   he said, noting that the party has been able to bring success stories on the economic front [অর্থনৈতিক ফ্রন্টে নাকি সফলতায় ছেয়ে ফেলেছে] and in countering terrorism.[আর সেই সাথে জঙ্গিবাদ নির্মুলেও সফলতা দেখিয়ে যাচ্ছে] ” ।

    খ)  “Kugelman said that even if someone talks about all the bad things happening in Bangladesh [বাংলাদেশে খারাপ সব কিছু ঘটছে বলে কেউ কেউ বললেও], the bottom line is that there is still a lot for the government in Bangladesh which helps it sustain a significant level of success [শেষ কথাটা হল, এরপরেও বাংলাদেশ সরকার উল্লেখযোগ্য পর্যায়ের সফলতা দেখাচ্ছে] and there are people who see reasons to support it” [ক্ষমতাসীন দলের প্রতি সমর্থন দেখানোর মত ব্যপক জনগণ এখনও আছে].

    গ) “Responding to a question, Kugelman said Bangladesh has been a regional success story for its economic growth. ‘It’s a global success story.’ ” মানে কুগেলম্যান বাংলাদেশের স্বীকৃত মুদ্রাস্ফীতি ১২-১৪% হয়ে গেলেও রিজার্ভ নিয়ে টানা পোরেন খেজুর, ছোলার মত আইটেম আমদানি করতেও পারে না এমন অর্থনীতিকে প্রশংসা করে বলছেন, এটাই নাকি হাসিনার গ্লোবাল সাকসেস স্টোরি।

    ঘ)  Kugelman, however, said the protests launched by the opposition parties “was not a mass protest” but a partisan protest.   এটা সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং। অর্থাৎ তখনও ঢাকার মাঠে বাইডেন বাংলাদেশে বিরোধীদের উতসাহ নিয়ে মাঠে নামাচ্ছেন।  আর কুগেলম্যান এই জেগে উঠা হাসিনা বিরোধিতাকে কেমন তুচ্ছ চোখে দেখে বর্ণনা করছেন। বলছেন, বিরোধীদের রাস্তার প্রতিবাদ এটা নাকি গণ-প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ নয়। এটা কেবল দলীয় প্রতিবাদ।

    অর্থাৎ সারকথায়,    বাইদেন-ল্যু একদিকে বিরোধী দলকে সমর্থন দিয়ে মাঠে নামিয়ে হাসিনার উপর চাপ সৃষ্টি করলেও কিন্তু এই কুগেলম্যান চালাইতেছে উলটা গান – হাসিনার পক্ষে দাড়িয়ে এই ফ্যাসিজমের ক্ষমতাকে প্রসংসা করে চলছেন। মজা না! কারন, এই ২০২৩ সালের জুনেই বাইডেন-হাসিনা রফা হবে। যেটার প্রশংসা করে কুগেলম্যান লিখছেন, বাংলাদেশে এবার ইন্দোপ্যাসিফিক কৌশলে যোগ দিল। 

    এবার, সবশেষে,  কুগেলম্যান নিয়ে ৫ আগষ্ট মানে হাসিনা পতনের পরের  আর একটা রিপোর্ট পড়াবো পাঠকদের। সেবার কুগেলম্যান একেবারে ঢাকায় এসে হাজির শুধু না। একেবারে ইন্ডিয়ার পক্ষ খোলাখুলি যুক্তি তুলে ধরা শুরু করেছেন।

    দেখেন নিচের রিপোর্টঃ
    Kugelman in panel discussion
    Bangladesh is going to be under pressure to make choices
    Diplomatic Correspondent, Dhaka; Updated: 31 Jan 2025, 17: 59

    কুগেলম্যান বলছেনঃ
    “A growing number of geopolitical rivalries have been present in Bangladesh. There has been India, China, US, and now Russia is joining in. Bangladesh has historically maintained varying degrees of good relations with all four countries. It is a difficult place to be in because Bangladesh is going to be under pressure to make choices if the Trump administration puts pressure on Bangladesh to do less with China” . হাসিনা উতখাতের পরে সব চায়না নিয়ে গেল!

    এবার সরাসরি ইন্ডিয়ার কোলে বসে তিনি বলছেন,
    A)  “……If the Trump administration puts pressure on Bangladesh to do less with China, Bangladesh is going to have to respond to that in some way.”

     B) “Michael Kugelman commented that following the fall of the Hasina government, the interim administration appears to be leaning towards China [হাসিনা পড়ার পরে চীন সব নিয়ে গেল]. It remains uncertain how the Trump administration will respond to this shift.

    C)Regarding Bangladesh’s relations with India, Kugelman noted, “For India, what’s most concerning now is the Jamaat factor and the Pakistan factor, and particularly Bangladesh’s efforts to to build up a better relationship with with Pakistan.” এখানে এসে কুগেলম্যান যে ইন্ডিয়ার দালাল সেটা আর লুকায়ে রাখতে পারলেন না। তিনি বলছে ইন্ডিয়া জামায়াত ফ্যাক্টর আর পাকিস্তান ফ্যাক্টর নিয়ে উদ্বিগ্ন। 

    D) “My sense is that India would like to see an election here sooner rather later. If there is an election anytime in the relatively near future, there’s a good chance that BNP would come back. And I think India might feel that if BNP is serious about ending its alliance with Jamaat, that could create more opportunities for India to actually be comfortable engaging with the government in Dhaka.”

    এই শেষে এসে কুগেলম্যান এবার একেবারে কাছাখোলা। ইন্ডিয়া, ওয়াকার আর তারেকের সুরে তিনি সোজা বলে দিলেন – এখনই নির্বাচন [see an election here sooner rather later]।  এবং তথাকথিত জামায়াত ভীতি। 

    তাহলে যেকথা দিয়ে শুরু করেছিলাম, কুগেলম্যান হল, ইন্ডিয়ান এজেন্ট যিনি ইন্ডিয়ার হাতে আবার বাংলাদেশকে তুলে দিতে চান। আর এতে এখন মৃত [ট্রাম্প ২.০ এর আমলে কথিত ইন্দো-প্যাসেফিক কৌশল অথবা কোয়াড] হলেও কুগেলম্যান এখনও স্বপ্ন দেখতে ভুলতে রাজি না যে  বাংলাদেশকে ইন্ডিয়ার হাতে তুলে দিলে তাতে ইন্দো-প্যাসেফিক কৌশল অথবা কোয়াড আবার জেগে উঠতে পারত! যদিও মানতেছেন ট্রাম্পের কারণ এসব কিছুই হচ্ছে না। তবুওও তিনি এখনকার ইন্ডিয়ার বাংলাদেশের নীতির পক্ষে আছেন সেটা জানাতে দ্বিধা করছেন না, জানিয়ে চলছেন।
    কুগেলম্যান এবার সবশেষে গতকালকে একই ফরেন পলিসি পত্রিকায় তার সাপ্তাহিক কলাম লিখেছেন। সেতার এক বাংলা অনুবাদ কালের কন্ঠ ছেপে দিয়েছে, লিঙ্ক এখানে

    মার্কিন সাময়িকী ফরেইন পলিসির প্রতিবেদন : হট সিটে ড. ইউনূস

    বলা যায় এটা হল কুগেলম্যান ইন্ডিয়াকে দেয়া সর্বশেষ সার্ভিস – সরাসরি এক ময়থ্যা গুজব যে ইউনুস সাহেবের ক্ষমতা নাকি খুব বিপদে আছে। এটা শতভাগ চাপা পিটানো একটা হাইপ!

    শেষ কথাটা হল, এটা অবশ্যই ওয়াকারের জন্য দুঃখের কথা যে তিনি গতকাল থেকে জেনে গেছেন যে বাংলাদেশে তাঁর ইন্ডিয়ার আর বিএনপিকে সাথে নিয়ে গড়া ও করা ততপরতা এটা শুধু ট্রাম্পই অনাগ্রহ বা বিন্দুমাত্র অনাগ্রহীই নয়, খোদ সিআইএ-ও পছন্দ করছে না বলে ওয়াকার ব্লক জানতে পেরে গেছে। বলাই বাহুল্য যেটা একটা হতাশা ডেকে এনেছে তাদের ব্লক মনমানসিকতায়!

     

     

     

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ ৩০ মে, ২০২৫    রাত ১০ঃ ৪৮
    শেষ আপডেটঃ  ৩১ মে, ২০২৫    রাত ১২ঃ ২০

     

  • হাসিনা কী আদৌ চীন সফরে যেতে পারবেন?

    হাসিনা কী আদৌ চীন সফরে যেতে পারবেন?
    গৌতম দাস
    ১০ মে ২০২৪  সন্ধ্যা ১৮ঃ ৫৩
    https://wp.me/p1sCvy-5zZ

     

    আমেরিকা আর ভারত দুই সরকারই ক্ষেপে উঠেছে। এরই মধ্যে ডেইলি স্টারকে দিয়ে বা ডেইলি স্টার একটা রিপোর্ট ছেপেছে যেটাকে “গাছে কাঁঠাল গোফে তেল” – রিপোর্ট বলতে পারে কেউ। মানে এটা একটা হবু বা WOULD BE – রিপোর্ট। যেমন আমি আজ দেশের রাজা হলে কী হত – এধরণের রিপোর্ট। গত ৮মে ২০২৪ এর এই রিপোর্টের শিরোনাম “Beyond Dollar: Bangladesh to seek over 36b yuan in Chinese loans” । শিরোনামের শুরুর দুই শব্দ [Beyond Dollar] বোকামির নিদর্শন। এখানে ধরে নেয়া হয়েছে যে চীনের কাছে হাসিনা ডলার ছাড়িয়ে মানে ডলারে নয় ইউয়ানে ঋণ চাওয়ার কথা ভাবছে। আর এখানে ডলার না চাওয়াটা খারাপ বা নেতি দিক। এমন মন্তব্য জুড়ে দিয়ে বা ইঙ্গিত দিয়ে এমন শিরোনাম দেওয়ার দরকারটা কী?  এটা কী ডেইলিস্তার বুঝাতে চায় যে তারা মূলত ইন্ডিয়ার পোঁ-ধরা মিডিয়া ও এমন ফান্ডে চলা মিডিয়া হলেও সরকারের হয়ে এই রিপোর্টটা করছে বলে যেন কেউ এটা তার “সুনামের” বিরুদ্ধ কিছু বলে না মনে করে? এরকম?
    এখানে দুইটা কথা। এক. এটা সোর্স উল্লেখ করে একটা রিপোর্ট মানে সোর্সের মা-বাপ হীন। তার উপর এটা এখনও হয় নাই হতে পারে ধরণের রিপোর্ট। চীনা ইউয়ানে নগদে পাঁচ বিলিয়ন ডলার সমতুল্য অর্থ আদৌ চীন দিতে রাজি হয়েছে কীনা তা আমরা নিশ্চিত না, স্পষ্টও না।  রিপোর্টটা তা দাবি করেও বলতে পারে নাই। বরং এনিয়ে “হবু কথা ও নিগোশিয়েশনে” বাংলাদেশ কী বলবে তা নিয়েই এই (সোর্স ছাড়া) রিপোর্ট। এমনকি যেখানে চুক্তি করতে বসলেও শেষে চুক্তি নাও হতে পারে।  এই সোর্স হীন রিপোর্টই লিখেছে, Chinese minister said his government in principle agreed to it and asked Ahasanul to proceed. মানে চীনা মন্ত্রী নাকি ঋণদানের প্রস্তাব নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন। কিন্তু একথা আমাদের যে মন্ত্রীর নামে লেখা হচ্ছে তা আমাদের মন্ত্রী পাবলিকলি বলেন নাই – কয়েকজন সাংবাদিকের সামলে বা সাংবাদিক সম্মেলনেও বলেন নাই। ফলে বিশ্বাসযোগ্যতা কম। মানে মন্ত্রী অস্বীকার করলে কিছুই করার নাই।
    কথা দুইঃ বাংলাদেশের রিজার্ভ যে তলানিতে ফলে সংকটে তাতে এটা ইউয়ান না ডলার মুদ্রা তা বাছার অবস্থায় সে নাই। যে ভিক্ষা নিতে বের হয় সেই ভিখারির কাছে চালটা অনেক জরুরি; সেটা ময়মন্সিঙ্ঘ না চট্টগ্রামের চাল তাতে কিছু যায় আসে না। তাইলে ডেইলিস্টারের কাছে ইউয়ান আমাদের সরকারের “ডলার ছাড়াইন্না” চাওয়া কিনা একথা মনে করিয়ে দেয়া কেন? এত ডলার ভক্ত রিপোর্টার তাহলে দেখাক,  নগদ পাঁচ বিলিয়ন ডলার কোন দেশ দিতে সক্ষমতা রাখে? বাজারে ডালের দাম যদি চড়া হয় তবে ভাতের প্লেটে ছোট গর্ত করে এরপর ডাল নিতে হয়। তাই না?
    এখন মুল প্রসঙ্গে ফিরব; এর আগে আমার ব্যক্তিগত অনুমান হল, চীন নগদ ইউয়ানে পাঁচ বিলিয়ন ডলার সমতুল্য অর্থ বাজেট সহায়তা দিতে (নীতিগতভাবেও) রাজী হয়েছে এটা এখনও বিশ্বাস-আস্থায় নিবার মত সংবাদ হয়ই নাই। বরং আগামিতে এর সত্য হবার সম্ভাবনা খুবই কম! চীনের হাত ছেড়ে আবার এখন তার কোলে উঠে বসতে চাইলেই তা ঘটার সম্ভাবনা তো প্রায় নাই-ই হবে!

    এসব সত্বেও ডেইলিস্টারের উড বি রিপোর্টের আগে ও পরে দেখা যাচ্ছে, আমেরিকা আর ভারত দুই সরকারই ক্ষেপে উঠেছে। ভারতের সচিব কোয়েত্রা আর আমেরিকার সহকারিমন্ত্রী ডোনাল্ড ল্যু এদের ঢাকা সফর হাসিনার কথিত চীন সফরকে কেন্দ্র করেই বলে অনুমান হয়। পুরান কথাটা হল, ২০২৩ এর কথিত নির্বাচনের আগে এদুই দেশ একসাথ হয়েছিল; হাসিনাকে অবাধে নির্বাচনি প্রহসন করতে দিয়েছিল। নির্বাচনে যাই হোক, হাসিনা নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করেছিল আর এই দেশদুটো তা আয়েশ করে তা দেখে মজা নিয়েছিল। এদের উদ্দেশ্য একটাই যে, কথিত নির্বাচনের পরে – হাসিনার সাথে চীনের কোন সম্পর্ক, ঋণ, প্রভাব কিছুই থাকবে না; তা বাস্তবায়নের কাজে এদুই শক্তি নেমে পড়েছিল।

    আর হাসিনার জীবনের সবচেয়ে বড় নিজেরই পায়ে কুড়াল মারা কাজটা তিনি করে ফেলেছিলেন তখনই। তিনি সেই টোপ খেয়েছিলেন।  এখন তিন মাস যেতেই সেসব বেড়িয়ে আসছে। হাসিনা এখন হাহাকার করছেন চীন, চীন করে! তিনি নাকি চীন সফরে যাচ্ছেন, অথচ কোনপক্ষের  সরকারী ভাষ্যে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু দেখি নাই। কেবল ভারত বলছে তাই বাংলাদেশে  আমরা জেনেছি, আর জপ করতে দেখছি। ভারত কায়দা করে নিজেদের গুরুত্ব জাহির করতে আমাদের জানিয়েছে  এভাবে যে “চীন সফরে যাবার আগে” হাসিনা ভারতে যাচ্ছেন। তো সেটা “চীন সফরে যাবার আগে” কিনা সেটা কী ভারতের বলার কথা? এর এক্তিয়ারই বা কী? এছাড়া অনেকটা যেন ব্রিফ করতে ও অনুমতি নিতে যাচ্ছেন হাসিনা এমনভাবে কথা ছড়ানো হচ্ছে যে কোন সীমার মধ্যে হাসিনাকে চীনের সাথে কথা বলতে / থাকতে হবে? এছাড়াও হাসিনা যে চীন যাচ্ছেনই তা ভারতকে কে নিশ্চিত করল? কেউ জানে না। এমনকি চীনও কী আশা করছে যে এক্সপেকটেড বা আগ্রহি যে তারা হাসিনাকে অতিথি হিসাবে দেখতে চাচ্ছেন? তাও সরকারিভাবে চীনও তা এখনও নিশ্চিত করে নাই। সম্ভাব্য আলোচনার ইস্যু কী হতে পারে তাও কেউ জানে না। তবে ভারতের মুখ দিয়ে প্রচারিত হচ্ছে যে এটা নাকি হবে তিস্তা প্রকল্পের কথা!

    মনে রাখতে হবে গত ২৮ জানুয়ারি ২০২৪ এর পরে চীনের সাথে আমাদের সরকার প্রধান বা উচ্চমহলে কোন দেখা সাক্ষাত আলাপ হয়েছে এমন কেউ জানে না। কেবল গতমাসে একটাই শীতল আলাপের কথা জানা যায় তাও আমাদের সরকারী মিডিয়া সুত্রে। গত ৩ এপ্রিল ২০২৪, চীনা রাষ্ট্রদুত নাকি প্রধানমন্ত্রীর অফিসে না বাসায় এক আমন্ত্রণে দেখা করতে গেছিলেন। যা নিয়ে সরকারী বাসস এর লেখা একটা ভাষ্য “দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে চীনের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী” – এই শিরোনামে কয়েকটা পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল। সেই বাসসের ভাষ্যেও লেখা আছে যে জবাবে “চীনের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন”। যার অন্তর্নিহীত অর্থ হল, বুরোক্রাসির লাল ফিতা; মানে,  আগে ফরমালি অনুরোধ পাঠান এরপর আমরা লাল ফিতায় বাধা ফাইল চাপা দিয়ে সেটা ফেলে রাখব হয়ত!

    কেন বাসসের এই খবরটায় যা কিছু দাবি করা হয়েছে এর বিশ্বাসযোগ্যতা কম?
    মানে এটা ঘরে বসে বানানো ধরণের। কারণ, এর একটা উপ-শিরোনাম আছে – “পায়রায় একটি গভীর সমুদ্র বন্দর হবে এবং চীন সে সুযোগকে কাজে লাগাতে পারে।” – এটা বাংলাদেশের দিক থেকে বলা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু ফ্যাক্টস হল, পায়রায় কোন গভীর সমুদ্র দূরে থাক – চট্টগ্রামের মত ড্রাফটের ছোট জাহাজের বন্দরের জন্য এই লোকেশন উপযোগী না। সেটা সাবেক অর্থমন্ত্রী মুহিত নিজেই মিডিয়ার সামনে বলে গেছেন। মূল কারণ, ঐ বন্দর এলাকায় পানি নাব্যতা খুবই কম আর এরচেয়েও বড় কথা যতটুকু এখন আছে এটা বজায় রাখতে হলেও সবসময় ড্রেজিং করাতে হবে। এই লোকেশনে বন্দর নির্মানে মূল উতসাহি ছিল ভারত। অথচ বিনিয়োগ দেওয়ার কথা উঠলে ভারত ভেগে যায়। আবার চীনা ঋণ যাতে পায়রা প্রকল্পে না ঢুকে এব্যাপারে ততপর ছিল ভারত। শেষ আমাদের রিজার্ভ ভেঙ্গে এই প্রকল্প শেষ করতে হ্যেছে। এই হল গাছে তুলে মই কেড়ে নেওয়া। তাহলে এই মিছা কথা যে পায়রাতে এখন  গভীর সমুদ্র করার উপযোগী – এই মিছা কথা বলা আর তাতে এখন চীনকে বিনিয়োগের জন্য কথিত ডাকাডাকি এটা কী সত্যি?  আমাদের বিরাট সন্দেহ রাখার সুযোগ আছে।

    যাই হোক হাসিনার কথিত চীন সফর – এনিয়ে ভারতের লাফালাফিটাই বেশ বেশি,  যা অনেকটা এমন যেখানে, যাদের বিয়ে তাদের খবর নাই – অবস্থা। মানে হাসিনার কথিত চীন সফর নিয়ে চীন বা বাংলাদেশের এনিয়ে তেমন সরকারি ভাষ্য নাই অথচ পিনাক রঞ্জনকে দিয়ে এতদিন এতে ভারতের চাহিদা কী তা নিয়ে প্রপাগান্ডা চালানোর [আর আমাদের মানবজমিন এসব গারবেজকে মিথ্যা গুরুত্বের hype তুলে রিপ্রিন্ট করেছে ] পরে; এখন ভারতের পররাষ্ট্র সচিবই বাংলাদেশে হাজির যে তারা চীন সফরের আগে হাসিনাকে ভারত সফরের দাওয়াত দিতে এসেছেন। আর চীনের বদলে তারাই তিস্তা প্রকল্প করে দিতে চান এই প্রস্তাব নিয়েও হাজির।

    হাসিনার এখন তিস্তা প্রকল্প বা এমন কোন প্রকল্প নয় দরকার ৫ বিলিয়নের নগদ ঋণ বা বাজেট সহায়তাঃ
    হাসিনার জন্য এখন কঠিন ও নেতি বাস্তবতাটা হল, তাঁর সরকার চরম রিজার্ভ সংকটে। এছাড়াও আবার আদায় অযোগ্য প্রায় প্রত্যেক আওয়ামি ব্যাংকের খেলাপী ঋণের ভারে ব্যাংকগুলোসহ খোদ অর্থনীতিটাই ভেঙ্গে পড়ার অবস্থায়!  কাজেই হাসিনা সরকারের এখন তিস্তা প্রকল্প বা এমন কোন প্রকল্প নয়, দরকার ৫ বিলিয়নের নগদ ঋণ বা বাজেট সহায়তা। এই সুনির্দিষ্ট দিকটা  ভারত বা আমেরিকার অজানা থাকার কোনই কারণ নাই। অথচ তাদের ভাল-ভনিতা দেখেন!  আবার তারা ভয়ে আছে যদি হাসিনা চীনকে তিস্তা প্রকল্প দেওয়ার শর্তে ঋণ নেয়!    মানে হল, হাসিনার দিক থেকে দেখলে  বৈদেশিক মুদ্রার এই কঠিন সংকটে এখন গত তিন মাসে ভুল ও লোভি সিদ্ধান্তে সব হারানো উপলব্দি করে আবার হাসিনা চীনের কথা তোলাতেই এর প্রতিক্রিয়ায়, ভারত আর আমেরিকা দিশাহারা ছোটাছুটিতে ক্ষেপে উঠেছে। এদিকে তাই ডোনাল্ড ল্যু তিনিও আসতেছেন।
    মূলকথাটা হল, ক্যাশ বা নগদ বৈদেশিক মুদ্রা লাগবে হাসিনার বাংলাদেশের; নুন্যতম ৫বিলিয়ন ডলার; যা দশ বিলিয়ন হলে একটা অর্থনৈতিক পুণরুদ্ধারে দিক থেকে ভাল স্টার্ট হয়।  কিন্তু না আমেরিকা না ভারত এদের সেদিকে মন নাই। আর না আছে তাদের মুরোদ বা যোগ্যতা যে এমন বড় অর্থ তারা দিতে পারে অথবা এমনকি এটা আইএমএফ এরও সামর্থ নাই; কাউকে দিয়েছে এমন রেকর্ড আছে জানা যায় না। তাহলে এরা কেন আসতেছেন? হাসিনা চাহিদা আর এই দুই দেশের আনা-গোনা বকোয়াজি তো এক নয়, এক সুরেরও কথা না।
    সবচেয়ে বড় কথা এদুই দেশ আসতেছে হাসিনাকে চীন যাওয়া ঠেকাতে! অথচ হাসিনা কী আসলেই চীন যেতে পারতেছেন? চীনও কী তাকে স্বাগত জানাতে রাজি হয়েছে? কোনটারই কোন নিশ্চয়তা কোথাও নাই! তবুও ভারতের কোয়াত্রা গেলেন, এবার ল্যু আসতেছেন! আর এদের দুজনের কমন দিকটা হল, কারোরই মুরোদ নাই হাসিনাকে কোন নগদ বৈদেশিক মুদ্রা দিবার।

    এবার বিস্তারিততে যাবঃ
    বাংলাদেশকে চীনের প্রভাবশুণ্য করা মানে বাংলা ভাষায়,  চীন ঠেকানো বা বাংলাদেশ থেকে চীন খেদানো – এই হচ্ছে তাদের বিশেষত আমেরিকার মুখ্য টার্গেট আর এই লক্ষ্য পুরণের উপায় সেই “ঘ্যাগের ওষুধ” নাকি এরা পেয়ে গিয়েছে! আর এই খুশিতে আমেরিকা তার ‘গণতন্ত্র ও মানবাধিকার’ প্রতিষ্ঠা আর সাথে ‘স্যাংশন আরোপ’ এর ফরেন পলিসি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রয়োগ ভুলে গিয়ে, ফেলে দিয়ে বরং আমেরিকা হাসিনাকে অবাধে নির্বাচনি প্রহসন করতে গত বছর শেষের দিকে সেই সুযোগ দেওয়ার রাস্তা ধরেছিল। এভাবেই বাংলাদেশকে আবার ভারতের হাতে তুলে দিয়েছিল।

    অথচ গত ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর থেকে আমেরিকা সারা দুনিয়াকে জানিয়ে বিশাল হুঙ্কার তুলেছিল যে বাংলাদেশে তারা ‘গণতন্ত্র ও মানবাধিকার’ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। একাজ করে আমেরিকা সারা দুনিয়াকেই ফকফকা পরিস্কার করে জানিয়ে দিয়েছিল যে ‘গণতন্ত্র ও মানবাধিকার’ আর সাথে ‘স্যাংশন আরোপ’ এসবই নাকি আমেরিকার টার্গেট।

    অথচ এটা মিথ্যা কথা; এটা বাইডেনের ক্ষমতায় আসার আগে পরে এবং গত দুবছর সবসময়ও ছিল ডাহা মিথ্যা কথা। কারণ, আমেরিকার মূল লক্ষ্য আমাদের মত দেশে দেশ উঠতি চীনের প্রভাব ঠেকানো। অথচ এই চীনের প্রভাব ঠেকানো অসম্ভব কারণ এটা অবজেকটিভ – ঘুর্ণিঝড় জলোচ্ছাসের মত ঘটনা।  ইতিহাসের এক একটা সময়ে একেকটা দেশের অর্থনীতি চরমভাবে উদ্বৃত্বের দেশ বা সারপ্লাসের অর্থনীতির দেশ হিসাবে বেড়ে উঠে্ছে। এই সারপ্লাস সম্পদই সে দেশ তখন অন্যান্য দেশে অবকাঠামো ঋণ-অনুদান দাতা ও বিনিয়োগ দাতা হিসাবে হাজির হয়েই যায় – অপ্রতিরোধ্য ভাবে। এটাই আরেক অর্থে আমরা তখন সেই দেশকে গ্লোবাল নেতা, বা গ্লোবাল প্রভাব-ধারী নেতা, ইত্যাদি নানান ভাবে ডাকি। এভাবে ১৯৪৫ সালের পর থেকে আমেরিকা ছিল সেই গ্লোবাল প্রভাবের নেতা। একইভাবে সময় এসেছিল জাপানেরও একসময়, সেই ১৯৬৫ সালের পর থেকে। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে সে আমেরিকান অনুগত থাকতে বাধ্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপান হারুপার্টি বলে আর পরে এর পুণর্গঠনে আমেরিকান কমসুদের বিনিয়োগ সহায়তার জন্য। তাই জাপানের রাজনৈতিক শক্তির দিক আমরা অনুভব করি নাই। বরং অর্থনৈতিক প্রভাবটাও আমেরিকারই যেন – এভাবেই তা প্রকাশিত ছিল। আমরা এমনকি খেয়ালও করি নাই যে এডিবির [ADB] বড় মালিকানা কার?
    আর একালে একই ভাবে এখন এটাই চীনের উত্থানের কাল! তাতে আমরা আমেরিকাকেই ভালবাসি নাকি চীন-কে সহ্যই করতে পারি কিংবা পারি না,  তাতে কোনটাতেই কিছু আসবে যাবে না। এটা চীনা প্রভাব বিস্তারের কাল, এই হল অবজেকটিভ ফ্যাক্টস। কারণ এটা চীনা ঋণ-বিনিয়োগের কাল। এমনকি বিলিয়ন ডলারের অবকাঠামো প্রকল্প চীন মাঙনা করে দিতে পারে নিজ স্ট্রাটেজিক স্বার্থে ও সুবিধা হবে বলে। যেমন পাকিস্তানের গোয়াদর গভীর সমুদ্র বন্দর এটা আসলে চীনের স্ট্রাটেজিক প্রকল্প। এটা পাকিস্তানকে সে মাঙনায় করে দিলেও চীনের তাতেও অমুল্য সুবিধার স্ট্রাটেজিক লাভ হবে। কারণ, চীনের একমাত্র বন্দর কেবল পুব দিকে যেটা মালাক্কা প্রণালি বন্ধ করে দিলে চীনের সব শেষ। তাই সে পুরা উলটা পশ্চিমদিকে যেটা আসলে ১৮ হাজার ফুট উচু পর্বতমালায় ঘেরা সেটা ফুঁরেও চীন গোয়াদর গভীর সমুদ্র বন্দর ব্যবহারের সুযোগ লাভ করে ফেললো। অথচ আমেরিকাই প্রথম মালাক্কা প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে বলে আলাপ তুলেছিল। নিজ সিনেটে (মানে প্রকাশ্যেই পবেষণা পেপার পড়া হয়েছিল) আলোচনা করেছিল। কিন্ত এতে শেষ কার লাভ হল?

    অথচ আমেরিকা জিদ ধরেছে যে চীনের উত্থিত এই প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতার কালে আমেরিকা তার অর্থনৈতিক মুরোদ নাই হয়ে গেলেও নিজ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করা  ও সামরিক সক্ষমতা দিয়ে নিজ অর্থনৈতিক সক্ষমতা সে পূরণ করতে পারবে!! কিন্তু জিদ আর বাস্তবতা এক না। হাসিনার আজকের দুর্দশা আমেরিকান এই জিদ এর পরিণতি।  গত ২৮ জানুয়ারি থেকে আমেরিকা ভারতকে সাথে নিয়ে হাসিনাকে প্রলুব্ধ করতে পেরেছিল দুইটা জিনিষ দিয়ে। একটা হল খুব সম্ভবত ২০৪৫ সাল পর্যন্ত সম্ভবত তাঁকে ক্ষমতায় রাখার লোভ দেখানো। আর দুই, অর্থনৈতিক সংকট যা আছে (যে সংকটটা নিয়ে হাসিনা পরিপুণ্য সজ্ঞান ছিলেন বলেই এবারের নির্বাচনের পর থেকে ১২-২৮ জানুয়ারি চীনের সাথে সখ্যতা ও সফর নিয়ে কথা বলে গেছিলেন। এমনকি – “বাংলাদেশ রিজার্ভ সংকটে পড়লে পাশে থাকবে চীন— রাষ্ট্রদূত”; এমন কথাও উঠেছিল তখন)। কিন্তু এত সবকিছু জানা থাকা সত্বেও – কথায় আছে লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু দশা হয়েছিল হাসিনার। তিনি সম্ভবত সুখস্বপ্ন দেখেছিলেন যে, ২০১৩-১৮ সাল ধরে যেভাবে তিনি ভারতের মাধ্যমে আমেরিকান চাহিদা মিটিয়েছেন; ডিল করে টিকে থেকেছেন তেমন এক স্বর্ণ না হলেও “তামার যুগে” তিনি আবার আরামে থাকতে পারবেন! অথচ তিনি ভুলে গেছিলেন তার অর্থনীতি সংকটে, যাতে নগদ বৈদেশিক মুদ্রা এক প্রধান চাহিদা! যা স্বচ্ছন্দে পুরণ করে দিতে পারবে চীন! কিন্তু সেই চীন কী আর হাসিনার বাংলাদেশের জন্য আছে? না, হাসিনা নিজে সেই হাসিনা আছেন

    তাই বেশী না মাত্র তিন মাস! এই তিন মাসের মধ্যে হাসিনা আর সাথে ভারত-আমেরিকা সবপক্ষকেই বাংলাদেশের অর্থনীতির দুর্দশার সামনে এখন হাজির করে দিয়েছে।  যেটাকে  ২৮ জানুয়ারির পরে ভারত-আমেরিকা নানান চাপাচুপা মেরে হাসিনাকে ভুলিয়ে প্রলুব্ধ করে রেখে দিতে তখন সক্ষম হয়েছিল ; আর হাসিনাও তাতে মিথ্যা ক্ষমতার স্বর্গসুখে  ‘বহল গয়া’ মানে  আউলায়ে ভেসে গেছিল! কিন্তু এখন? ডোনাল্ড ল্যু আসতেছেন তিনি কী করবেন? তিনি কী হাসিনাকে অন্তত ৫ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা যোগাড় করে দিতে পারবেন? সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউএস-এইড এর কোন প্রকল্প কী এমন বড় পরিমাণের বা যা হাসিনা সরকারের জন্য এখন চালু আছে? আমেরিকা লাস্ট কবে কাকে এমন বড় পরিমানের প্রকল্প দিয়েছে?  মনে রাখতে হবে হাসিনার কিন্তু প্রকল্প দরকার নাই, নগদ বৈদেশিক মুদ্রা যা বাজেট সহায়তা নামে আসে তা হতে হবে। আছে আমেরিকার মুরোদ?
    এর সোজা মানে হল, হাসিনা এবং বাংলাদেশের অর্থনীতি – এরা সকলে ডুবে মরে যায় যাক; আমেরিকার টার্গেট একটাই বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ, ঋণ বা প্রভাব ইত্যাদি এসব সে কিছুই দেখতে চায় না!  সে নিজস্বার্থ, নিজ টার্গেট নিয়েই ব্যস্ত থাকতে থাকবে!!!!

    অথচ আমেরিকা ঠিকই জবরদস্তিতে বা প্রলুব্ধ করে হাসিনাকে চীনের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করাতে চায় এটাই আমেরিকার একমাত্র টার্গেট ও বিদেশনীতি।
    একারণের গত বছর মোটামুটি সেপ্টেম্বর থেকেই তাই দানব হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখে দিলে যদি আমেরিকা মনে করে তার লক্ষ্য হাসিল হবে তো সেই করবে – আর এটাই সে করেছিল! তাতে বিগত দুই বছর সে বিরোধী রাজনৈতিক আন্দোলনকে প্রচ্ছন্নে সমর্থন করে চললেও সে এটা ত্যাগ করে চলে গেছিল!  কারণ, শুরুর দিকে আমেরিকার মনে হয়েছিল হাসিনাকে উতখাত করলে তার বাংলাদেশে ‘চীন ঠেকাও’  – এই লক্ষ্য পূরণ হবে। কিন্তু মোটামুটি সেপ্টেম্বর ২০২৩ সালের পর থেকে আমেরিকা বাংলাদেশকে হাসিনার শাসনেই থাক বলে ফেলে পালিয়েছিল। এটা ভারতের নিরন্তর ঘ্যানর ঘ্যানর এর জন্যই হোক অথবা আমেরিকা নিজ লক্ষ্য অর্জন (‘গণতন্ত্র ও মানবাধিকার’ প্রতিষ্ঠা নয় কিন্তু বরং চীন ঠেকানো) অসম্ভব জ্ঞান করাতে মানে তা যেটাই হোক;  আমেরিকা আমাদের ফেলে পালিয়েছিল।

    এক নিঃশ্বাসে বলা পরের ঘটনাবলী হল, ৭ জানুয়ারির কথিত নির্বাচন, পরে ১১ জানুয়ারির মধ্যেই নয়া এমপি, নয়া মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের শপথ গ্রহণও সমাপ্ত। এরপর থেকে ২৮ জানুয়ারি সকাল পর্যন্ত প্রতিদিনের মিডিয়া হেডলাইন ছিল হাসিনার সাথে চীনের সম্পর্ক নিয়ে। নগদ ডলার (বাজেট সহায়তা) সংকট, তিস্তাসহ নতুন চিনা প্রকল্প ইত্যাদির কিছু বাকি ছিল না যা নিয়ে কথা উঠে নাই। আর এর প্রত্যেকটাতেই চীনারা হাসিনা সরকারকে সহায়তা করতে রাজি – এই ছিল সারকথা। এজন্য এমনকি হাসিনা চীন সফরে যাচ্ছেন এর জন্য চীনা আমন্ত্রণও দেয়া হয়ে গেছিল।
    কিন্তু হায়! ঐ ২৮ জানুয়ারির বিকেল থেকেই পরিস্থতি একেবারে উলটা হয়ে যায়। ঐ সন্ধ্যায় ওবায়দুল কাদেরের সাথে দেখা করেছিলেন ভারতীয় রাষ্ট্রদুত প্রণয় ভার্মা। তিনি আসলে সেদিন একা ভারত না ‘আমেরিকার এডভান্স পার্টি’ হয়েও কথা বলেছিলেন। মানে হল, আমেরিকা আমাদের ফেলে পিছটান দিছিল ভারতের সাথে শলাপরামর্শ করে আর তাতে তারা কী সাব্যস্ত করেছিলেন তা বয়ান করেছিলেন। এরপরের এক সপ্তাহের ঘটনা হল, অজিত দোভালের সরকারিভাবে অস্বীকৃত থেকে যাওয়া ঢাকা সফর আর শেষ ৪ ফেব্রুয়ারি হাসিনাকে লেখা নয়া উদ্যোগে একসাথে কাজ করার আগ্রহ জানিয়ে  বাইডেনের চিঠি -ঢাকায় হস্তান্তর।

    আলী রিয়াজের এসাইনমেন্টঃ
    অনেকদিন পরে দেখলাম তিনি ডিপ্লোম্যাটে লেখা ছেপেছেন গতকাল। যার সারকথা একটাই চীনারা খারাপ!
    পুরানা কথা, চীনা ঋণ কত খারাপ আর পরিশোধ অযোগ্য হয়ে গেছে ইত্যাদি।
    আমার মনে হয় না, আলী রিয়াজ কখনও আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের দেয়া ঋণ তলিয়ে গেছে; কেউ শোধ দিতে পারে নাই – এমন একটা ক্যাটাগরির দেশের লিসট আছে যা তিনি স্টাডিকরেছেন। এর নাম HEAVILY INDEBTED POOR COUNTRIES (HIPC) । নেটে সার্চ দিলে পাবেন। যেমন এমনই একটা সাইট হল, এখানে DEBT RELIEF UNDER THE HEAVILY INDEBTED POOR COUNTRIES (HIPC) INITIATIVE।
    এর কথা এখানে আনার মানে হল, এমন অবকাঠামো ঋণ বিতরণ করতে গিয়ে সবারই ব্যর্থতা আছে। কিন্তু সেজন্য যে ঋণ ব্যবসায়ী বা ঋণের জ্বালে ফাঁসানোর দেশ – এসব প্রপাগান্ডার মানে হয়। মানে আমি বলতে চাই, HIPC এর এক্টিভিটি দেখে আলীরিয়াজ নিশ্চয় বলবেন না যে তাহলে  আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক কোন “ঋণ ব্যবসায়ী বা ঋণের জ্বালে ফাঁসানোর” প্রতিষ্ঠান। হাল্কা মন্তব্য না করাই ভাল।

    আলী রিয়াজের লেখার আরেক সারকথা এখানে,

    “China’s influence on Bangladesh increased remarkably after 2009 when the
    relationship between India and Bangladesh has been described as a “golden era.”
    This development juxtaposed with the upcoming joint military exercise of
    Bangladesh and China, and the possibility of Chinese involvement in the 
    Teesta project, indicates that the geopolitical great game in Bangladesh
    will be more intense.”

    তিনি আসলে আমেরিকান স্বার্থের চোখ দিয়ে দেখে লিখেছেন। নিশ্চয় আমাদের রাষ্ট্রস্বার্থ আলাদা; এর উপর আবার হাসিনা নিজেও নিজের ক্ষমতায় থাকবার স্বার্থও এর মধ্যে পাঞ্চ করবেন।

    চীনা ঋণের সাথে চীনের পলিটিক্যাল এজেন্ডা থাকে তাই এটা খারাপ, আর আমেরিকান ঋণ সুচিশুভ্রঃ
    ব্যাপারটা কী তাই?  চীনা ঋণের সাথে চীনের পলিটিক্যাল এজেন্ডা থাকেই আর আমেরিকান স্বর্ণ যুগে যখন সে একাই দুনিয়ার ঋণদাতা ছিল সেই ঋণ সুচিশুভ্র? কোন পলিটিক্যাল এজেন্ডা ছিল না? তাই কী আলী রিয়াজ বলতে চাইছেন?
    তিনি লিখেছেন,  Loans and investments from China, particularly the former, come with a political agenda of increasing its sphere of influence.
    আমারটাই শ্রেষ্ঠ – এই মনোভাব ধারণ করলে এমন সবাইই নিশ্চিহ্ন হবে। শ্রেষ্ঠত্বই হিটলারিজম। এথনিক নির্মুলের পক্ষে আমাদের নিয়ে ফেলবে। কাজেই সাবধান। ঋণ-বিনিয়োগ দিবার সক্ষমতা নিয়ে উপরে অনেক বলেছি। পরিস্কার করে বলেছি সবধরণের ঋণ-বিনিয়োগ দিবার সক্ষমতা এটাই যেকোন দেশের অন্যের উপর কম-বেশি খারাপ-ভাল এবং তা নানান মাত্রার এটা হাজির হবেই। এখানে রাজনৈতিক প্রভাবের বেলায় আমার হলে সেটা ভাল আর চীনের হলে সেটা খারাপ এটাই শ্রেষ্ঠত্ববোধের সমস্যা হয়ে হাজির হবে।
    তবে মজার কথা হল, এই চীনেরই অর্থনৈতিক শক্তি হিসাবে উত্থান এর পিছনে আছে আমেরিকান বিনিয়োগ – ওয়াল স্টিট বিনিয়োগ – যারা সবচেয়ে বেশী এর সুবিধাভোগী;  এখনও চীনের প্রতি তারা উদার। বিশ্বব্যাংকের সস্কারের প্রস্তাব তাদেরই। চীনের নেতৃত্বে ব্রিকস গঠনের বুদ্ধি পরামর্শ রেকমন্ডেশন ছিল তাদেরই।
    তাহলে তখন নিশ্চয় চীনের উপর আরেরিকারও রাজনৈতিক এজেন্ডা ও প্রভাব ছিল? তাহলে সেগুলোচীন টপকাতেও পেরেছিল! সেটা এভাবে বা সেভাবে? কাজেই এগুলো শেষ কথা নয়। আবার ভাল করেলক্ষ্য করবেন রৃণদাতা আর গ্রহিতার মধ্যকার সম্পর্কও আগের মত না। অনেক বদল এসেছে তাতে। যেমন চীনের এব্যাপারে ডায়লগ হল এটা উইন-উইন সিচুয়েশন। না এতা একদম পবিত্র তা বলা আমার উদ্দেশ্য না। আমি কেবল এটুকু বলছি এটা অন্তত আমেরিকার যুগের মত নয়!
    এখন ঋণ নেয়া ছাড়া আমরা প্রাক্তন কলোনি দেশের বিকল্প কী আছে? যেখানে আমাদের নিজস্ব সারপ্লাস দখলদারের লুটে নিয়ে গেছে। আবার আমাদের শাসকেরা ঋণের নয়ছয় করবে সেতা কতটা কম রাখা যায় এভাবেই আমাদেরকে আগাতে হয়। এছাড়া আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের আমেরিকা-চীনের কিনে নেওয়ার অভ্যাস-রেওয়াজও তো আছেই!

    GOLD BACKED CURRENCY -ইংরাজি কথাটার মানে হল, শুরুতে ডলারসহ সব দেশের মুদ্রাই গোল্ড ব্যাকড ছিল। শুরুতে মানে সব মুদ্রাই জন্ম থেকেই। আর এটা ছিল ফিক্সড মুল্যমানের। মানে, আমেরিকান ডলার এর মান ছিল – এক আউন্স সোনা সমান ২৫ ডলার – এই স্থায়ী মূল্যের। ফলে এখনকার মত আজকের ডলারেররেট কী – এমন প্রশ্ন কেউ করত না। আর ডলার ছাপাবনার আগে সেই ব্যাংককে নিজ ভল্টে প্রতি ২৫ ডলার পরিমান নোট ছাপবার আগে এক আউন্স করে সোনা রাখতেই হত। কারণ যেকোন নোতধারী এসে ব্যাংকে সোনা ফেরত চাইলে তা দিতে বাধ্য থাকতে হত।
    আমি আমেরিকান প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের নামে রেফারেন্স দিয়ে কথা বলেছি বহুবার। আজ আবার একটা দিতে হচ্ছে।  তিনি জিতেছিলেন প্রথম ১৯৩২ সালের নভেম্বরের নির্বাচনে। পরের ১৯৩৩ সালের ২০ জানুয়ারি শপথ নিবার পরে তিনিওই প্রথম প্রেসিডেন্ট ডলারের অবমুল্যায়ন করার ঘোষনা দেন। তাতে এক আউন্স সোনার মূল্য হয় ৩৫ ডলার। তাঁর যুক্তি ছিল কথা সত্যও বটে সারা ইউরোপঅই ইতোমধ্যে নিজ নিজ মুদ্রার অবমূল্যায়ন ঘটিয়ে ফেলে৪ছে। মূলত প্রথম বিশ্বযুদ্ধের খরচ মিটাতে না পেরে। আর তা থেকেই ১৯৩০ সালের দুনিয়াব্যাপী যে প্রথম মহামন্দা দেখা দিয়েছিল তা থেকেই সারা ইউরোপের প্রত্যেকটা দেশ এই অবমূল্যায়ন ঘটিয়েছিল। রুজভেল্টের পয়েন্ট হল, তিনি ইউরোপের মুদ্রাগুলোর সাথে নিজ ডলারকে সামতুল্য করতে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।
    পরে এই মুল্যাও স্থিত্মুল্য হয়ে যায়। এমনকি আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক ১৯৪৫ সালে জন্মের সময়ও এই ৩৫ ডলার স্থায়ীমুল্য ধরে প্রতিষ্ঠান দুটা যাত্রা শুরু করেছিল। কিন্তু ১৯৫৮ সালে এসে হঠাত আমেরিকা ঘোষণা দেয় যে সোনা ভল্টে জমা রাখার নিয়ম বাধ্যবাধকতা সে মানে নাই অনেক দিন ধরেই। আর এখন তার আর কিছুই করার নাই।

    সারা দুনিয়া পড়ে এক বিরাট গর্তে। এরই উপায়হীন সমাধান হিসাবে আসে নয়া নিয়ম, মুদ্রার বাজার দর ব্যবস্থা। মানে প্রতিদিনের (সেকালে টপ লেনদেনের) চারটা কারেন্সির মুল্য গড় করে তা আবার ডলারে প্রকাশের এক ব্যবস্থা চালু হয়। যেটা আবার আইএমএফের কারেন্সি [SDR]তে প্রকাশ করা হয়। প্রতিদিনের আইএমএফের সাইটে পাওয়া যায় আজকের কারেন্সি রেট কী। আর এসব নয়া নিয়ম সামলাতে নতুন করে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক এর ম্যান্ডেট লিখতে হয়েছিল সত্তরের দশকের শুরুতে।
    এখন  আমেরিকা রাষ্ট্রের সারা দুনিয়ার কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ – এটা কী আলী রিয়াজ শুনেছেন কখনও! আমেরিকান এই প্রতারণা নিয়ে তাঁর মন্তব্য কী?

    ১/১১ কী? তা বাংলাদেশের সবাই জানে। কিন্ত্য এই ক্ষমতাদখল ঘটিয়ে আমেরিকা বাংলাদেশকে ভারতের হাতে তুলে দিয়েছিল কেন? তাঁর নিজেরও প্রথম ফেলো হিসাবে নিয়োগ সেসময়কালেরই ঘটনা।  কাজেই বাস্তবসম্মত ও একাদেমিক  থেকে কথা বলাই ভাল। নইলে তো ভাড়াখাটা ভাড়াটে মনে হবে। আলোচনা আর আলোচনা থাকবে না।
    কাজেই আমেরিকা সব সততার দৃষ্টান্ত – এমন মনোভাবে না লিখাই ভাল। অবশ্য আপনাকে লেখার এসাইমেন্ট দিলে আর আপনি কী করবেন!!!!
    কী আর করার; বুদ্ধিমান হন, ঠিক কাজটা করেন!

     

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    [এই লেখা কোন নিউজ নয়, ব্যক্তির নিজস্ব রাজনৈতিক বিশ্লেষণ মাত্র। ফলে পাঠকের এ’লেখা পড়ে কিছুই বহন করা বা মান্য করার বাধ্যবাধকতা নাই। কেবল জানলেন যে এমন একটা মতামত আছে!]

  • “ডোনাল্ড ল্যু ফের…” কোথাও আসেন নাই; আমাদেরকে ভারতের কোলে তুলে দিতে চাইছেন

    “ডোনাল্ড ল্যু ফের…” কোথাও আসেন নাই;
    আমাদেরকে ভারতের কোলে তুলে দিতে চাইছেন

    গৌতম দাস
    ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ সন্ধ্যা ১৯ঃ ৫৮
    https://wp.me/p1sCvy-5pM

    The Indo-Pacific Strategy in Action: Commemorating the Second Anniversary

     

    আপনি যদি হন কোন পাগলা-প্রেমিক যে প্রেমিকা মেয়েটার  মন পাবার জন্য নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে বসে আছেন আর তাতে আবার আপনিই নিজ চোখে যদি দেখতে পান সেই মেয়েটাই আসলে আপনাকে না আরেক পুরুষের মন পাবার জন্য তাঁকে চিঠি মানে আকুল হয়ে প্রেমপত্র লিখছে – তাহলে এর মানে কী বুঝবেন??? এর অর্থ হল আপনি শুধু বেকুব পাগলা না, গাধাও বটে!!! সে “আকুল প্রেমপত্র” খানা আপনার হাতে আসার পরেও যদি আপনি নিজের সাথে প্রতারণা করেন, নিজেকে মিথ্যা প্রবোধ দিতে থাকেন যে আমেরিকার বাইডেন-ল্যু আবার আসবে, এই এলো বলে ইত্যাদি তবে আর আপনাকে আপনারই গড়া মিথ্যা মায়ার জগত ভেঙ্গে বাস্তবের জগতে আপনাকে কেউ আনতে পারবে?
    একারণেই “ডোনাল্ড ল্যু আবার…… ” – এটুকু সংবাদের শিরোনাম শুনলেই বাংলাদেশের বিরোধী-মন ফেসবুকার-সহ সকলে হুটোপটি শুরু করে দিচ্ছে! খুবই বিপদজনক লক্ষণ এটা সন্দেহ নাই!!

    মানুষ জন্মানো শিশু অবস্থায় মায়ের পেট থেকে বাইরের দুনিয়ায় একবার চলে আসা মানে, যেটাকে আমরা জন্ম নেওয়া বলি তা, একবারেরই ঘটনা। একবার জন্ম নেয়া শিশু পরে আবার সে মায়ের গর্ভে ফিরে যেতে পারে না। কোন সুযোগ নাই। আর ফিরা যায় না এমন একমুখিতা বা irreversible ঘটনা এটা! এছাড়া  মায়ের গর্ভেরও সেই পুর্ব-পরিবেশ দশা পরিস্থিতিও আর থাকে না যে সেখানে ফিরে গিয়ে শিশু চাইলেই আবার আশ্রয়-বসবাস করতে পারে! কিন্তু তবু মানুষের মধ্যে কল্পনা থাকে। ফ্যান্টাসি করে মানুষ, মানে কল্পনায় এমন বসবাস করতে চায় মানুষ! আর সেভাবে  চলে যেতে চায়; বুঝতে চায় সে অনুভুতি কেমন, ইত্যাদি। যদিও মানুষ একেবারে পরিস্কারই জানে – মানুষ জানে যে এটা একেবারেই অবাস্তবতা; তবু ফ্যান্টাসিতে করতে চায়! তাই সেখান থেকেই একটা কথ্য-ভাষ্য দেখা যায় “মায়ের গর্ভে ফিরে যাবার মতই অসম্ভব”! কোন একটা ব্যাপার একেবারেই অসম্ভব বুঝাতে তাই অনেকে বলে জন্ম নেওয়া বাচ্চার মায়ের গর্ভে ফিরে যাবার মতই অসম্ভব!

    আবার ইংরাজিতে এমনই আরেকটা বাগধারা শব্দ আছে – ব্যাক টু দা প্যাভেলিয়ন! কথাটা ক্রিকেট খেলায় বেশী ব্যবহৃত হয়।  মানে ব্যাটসম্যান খেলতে নেমে আউট হয়ে যাবার পর ক্রিকেট ফিল্ডের বাইরে চলে আসতে ও নিজ শিবিরে আশ্রয় নিতেই হয়।  আর সারকথায় এর অর্থ হল – “আপনি আউট, আপনি ব্যর্থ তাই আপনার স্থান এখন বাইরে”!!! অথবা এভাবটা বুঝাতে চায় যে – আপনি ব্যর্থ এখন তাই আপনি যেখান থেকে এসেছিলেন সেই প্যাভিলিয়া্নে বা মাঠের বাইরে ফিরে চলে যান। এই অর্থে ব্যাক টু প্যাভেলিয়ান মানে আপনি হেরে গেছেন কথাটাই আসলে একটু সুন্দর করে বলা!

    বাইডেন ব্যাক টু দা প্যাভেলিয়ন!
    হা ঠিকই ধরেছেন কথাগুলো হচ্ছে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে নিয়ে!  বাইডেন ব্যাক টু দা প্যাভেলিয়ন!! মানে বাইডেন, “তুমি হেরে গেছো তাই তুমি এখন মাঠের বাইরে যাও”!!!
    তবে কথাটা আমি বলি নাই! যারা বাইডেনের পরাজয় হয়ে গেছে বুঝে তা এখন আবার তা ঢাকতেও শুরু করেছে অথচ পরাজয় পরবর্তি বাইডেনের সকল ততপরতাই বলে দিচ্ছে যে তিনি হেরে গেছেন!  এমনিতেই বাংলাদেশিদের জন্য বাইডেন যে পরাজিত হয়েছেন তা বুঝে ফেলার ক্ষেত্রে আমরা  সবার চেয়ে একটু আগিয়ে আছি বলতেই হয়। যেমন, বাইডেনের আমেরিকাই দাবি করে জানিয়েছে যে বাংলাদেশে কোন “ফেয়ার ইলেকশন” ঘটে নাই। আর আমরা দেখতেছি  কথিত এই নির্বাচনের পরে হাসিনা-ই আবারও সরকারে আছেন, নতুন করে বসেছেন। তাই ফেয়ার ইলেকশন না হওয়ার কথা তো আর অন্তত ঢাকার কাউকেই বুঝায় বলার কিছু নাই। যার আরেক অর্থ হল, বাইডেনের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার (যেটা নাকি বাইডেনের পররাষ্ট্রনীতির মুখ্য বৈশিষ্ট ও নীতি-পলিসি বলে দাবি করা হয়েছিল তা) এছাড়া এর সাথে বাইডেনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও ভিসা নিষেধাজ্ঞা বিষয়ক যেসব পলিসি ছিল সেসব এখন ভাগাড়ে গেছে,  গোল্লায় গেছে, অকেজো হয়ে কোথায় হারিয়ে গেছে। এটা বাংলাদেশিরা নিজ শরীরি অনুভবেই টের পেয়েছে!

    কিন্তু এঘটনাটা বাইডেন নিজে বা তাঁর অন্তত মন্ত্রী সভাসদ এরা কীভাবে দেখছে? তারা কী এটা খোলাখুলি স্বীকার করেছে?  না করে নাই, করছে না।  কারণ তা করলে এরপর সম্ভবত বাইডেনকেই প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ছেড়ে ভাইস প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতা দিয়ে চলে যেতে হত; এছাড়া সেক্ষেত্রে, শাসনের নৈতিক শক্তি হারানো কোন ক্ষমতা মানে সে তো পরাজিত ক্ষমতাই! তার আর কিছুই অবশিষ্ট  থাকে না বলে স্বীকারের প্রসঙ্গ উঠতে পারছে না! তাহলে?

    যদি মনে রাখি তবে এসবেরই ঘটনা-আলামত শুরু হয়েছিল বলতে পারি –  গত বড়দিন (২৫ ডিসেম্বর ২০২৩) থেকে যখন, পিটার হাস এই বড়দিন এবার পালন করেছিলেন নয়াদিল্লিতে বসে। সেই থেকে আমাদের কাছে আমেরিকার পলায়নের সন্দেহ গভীরে বাড়ছিল কিন্তু একেবারে সুনির্দিষ্ট করে কিছু জানা বা বলা যাচ্ছিল না!  এরপর ৭ জানুয়ারির নির্বাচন হতে দেওয়ার “স্বাভাবিকতা” দেখে এরপর থেকে পরে ঘোষিত ফলাফল আর একেবারে ৪ ফেব্রুয়ারি, বাইডেনের লেখা শেখ হাসিনাকে চিঠি পর্যন্ত আরো সব আলামত ক্রমশ সব প্রকাশিত হচ্ছিল। এরপরেই শুরু হয়েছিল বাইডেনের ইন্দো-প্যাসেফিক স্ট্রাটেজি – একে এক সফল কার্যক্রম বলে প্রচার যা শুরু হয়েছিল ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে যেটা শেষে ১৫ ফেব্রুয়ারিতে ডোনাল্ড ল্যু এর ইন্দো-প্যাসেফিক স্ট্রাটেজির দুবছর কথিত সফল সমাপ্তি উতযাপন দেখলাম আমরা।  আসলে এক আমেরিকান থিঙ্কট্যাঙ্ক হল ” ইউএস ইন্সটিটিউট অফ পিস” মানে, USIP [U.S. Institute of Peace], গত ১৫ ফেব্রুয়ারি এদিন আইপিএস এর দুবছর পুর্তিতে সফলতা উতযাপনে ডোনাল্ড ল্যু কে তারা  আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। আর ঐ সভাতেই ল্যু এর দেয়া বক্তৃতার এক-দুইটা বাক্য মাত্র ছিল বাংলাদেশকে নিয়ে। আর তাতেই বাংলাদেশের মিডিয়াগুলো ঝড় বইয়ে ফেলেছিল। আবার যদিও সেখানে ল্যু বার্মা বলতে ঠিক সেখানে যে বর্তমান সশস্ত্র সংঘাত চলছে এর কথা তুলেন নাই বা বলেন নাই। সাধারণভাবে কথা বলেছিলেন। তিনি ২০১৭ সাল থেকে রোহিঙ্গা সমস্যর দায় বাংলাদেশ বইছে তা নিয়ে তিনি কথা বলেছিলেন।   মজার কথা হল সে অনুষ্ঠান ১৫ ফেব্রুয়ারি হলেও বাংলাদেশে এর প্রতিক্রিয়া হয় ১৮ ফেব্রুয়ারিতে। আর বাংলাদেশ এই শব্দ যোগ করে দিয়ে বলা পুরা কথা থেকে কেবল  ০১ঃ৪৬ মিনিটের বক্তব্যটুকুর ভিডিও এনেছে চ্যানেল ২৪ যা দেখা যাবে এখানে।

    আর যারা ঐ অনুষ্ঠানের পুরা ১ ঘন্টা ৪৬ মিনিটের রেকর্ডিং-টাই পেতে চান তা পাবেন এখানে।  তবে মনে রাখবেন, এর রেকর্ডিং চালুর আবার প্রথম ১৬ মিনিট পরে অনুষ্ঠানটা শুরু হয়েছিল তাই প্রথম ঐ ১৬ মিনিট পেরিয়ে বা বাদ দিয়ে শুরু করতে পারেন। আর শুরুর আবার ২৭ঃ৩৫ মিনিটে গিয়ে ল্যু এর প্রথম বক্তব্য শুরু হয়েছে। কিন্তু দুঃখের কথা এই বক্তৃতায় ল্যু বাংলাদেশ নিয়ে কিছুই বলেন নাই – শব্দটাও উচ্চারণ করেন নাই। এই অংশে তাঁর পুরা বক্তব্যটার প্রসঙ্গ হল কেবল শ্রীলঙ্কা। পরে সেকেন্ড রাউন্ডে সবার বক্তব্য শুরু হলে ল্যু আবার বলার সুযোগ নেন ৫৩ঃ ৫৪ মিনিটে।  আর তখনই তিনি কেবল দেড় মিনিটের বক্তব্যে বাংলাদেশ শব্দ উচ্চারণ করেছিলেন আর সেটাই চ্যানেল২৪ রেকর্ড ক্লিপ এনেছে।

    একটা সোজা কথায় সে প্রশ্নটা করা যাকঃ
    ডোনাল্ড ল্যু নিজের আইপিএস উতযাপন বক্তৃতায় ছোট্ট করে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ এনেছেন। তিনি বলেছেন বার্মা বা রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু ফেরার প্রসঙ্গটা দীর্ঘায়িক হতে পারে; জটিলতা বাড়তেও পারে। তাই বাংলাদেশ আর ভারতকে নাকি সতর্ক থাকতে হবে! কিন্তু কী আশ্চর্য বাইডেন-ল্যু এর বার্মা এক্ট বলে কী জানি একটা ছিল না? যেটা নাকি আমাদের রক্ষকবচ? ল্যু-রা এই বার্মা এক্ট দিয়েই নাকি আমাদেরকে রক্ষা করবেন??? এটাই তো দয়াময়ী বাইডেন-ল্যু এর আশ্বাস বাক্য ছিল না??? তো সেটা এখন কোথায় গেল?? এর তো কোনই হদিসও নাই!!!! আর উলটা ল্যু আমাদেরকে নিজ নিজেই নিজের আত্মরক্ষার কানপড়া দিচ্ছেন কেন??? আমাদের রক্ষাকর্তা হবার সাধ-আল্লাদ ছিল যার সেই আমেরিকা – আহা রে আমেরিকা – আমাদের ত্রাতা আমেরিকা তুমি কোথায় গেলে তাহলে?  

    তাই এবারের আবার ল্যু এর প্রসঙ্গ –  এটা অবশ্যই আমাদের মিডিয়ার সৃষ্টি হৈ চৈ! মানে একটা উচ্ছ্বাস বা হাইপ তোলা যেন পাঠক হৈ চৈ শুরু হয়ে এসব মিডিয়ার হিট বা TRP বাড়ে বা দর্শক আছড়ে পরে তাদের নিউজে – এটা সেধরণের এক নিউজ রিপোর্ট ছিল।
    যেমন মানবজমিনেরটা দেখা যাক – ওর শিরোনাম হল  ডনাল্ড লু ফের দৃশ্যপটে। এই শিরোনামটাই উস্কানিমূলক!  কারণ, বিগত দুবছর বাইডেনের আমেরিকা যেভাবে বাংলাদেশের বিরোধী রাজনীতির পক্ষে, ওর পিছনে দাঁড়িয়ে নিজ নানান পদক্ষেপ বা ঘোষণায় আন্দোলনকে সাহস দিয়ে গেলেও গত সেপ্টেম্বর ২০২৩ থেকে এরাই আবার মাঠ ছেড়ে চলে গেছিল। তবু বিরোধীদলগুলো এখনও আমেরিকান সমর্থন আবার আসবে, আমেরিকা আবার এই এলো বলে ইত্যাদি অনুমান ছড়িয়ে রেখে চলছেই – কিছুই গুটায়ে ফেলে নাই – তাতে করে আম-জনতার মনে একটা গভীর কিন্তু ভুল আশা এখনো জিইয়ে আছেই যে আমেরিকা আবার আসবেই……! !

    অথচ এই বাংলাদেশের বেলাতেই বাইডেন ব্যাক টু দা প্যাভেলিয়ন! কথার আসল অর্থ হল এবার বাইডেন-ল্যু আবার বাংলাদেশকে ভারতের হাতে তুলে দিতে এসেছে! গত ২০০৮ সাল মানে গত ২০০৭ সালে বাংলাদেশে ১/১১ এর ক্ষমতাদখলের পরের বছর যেভাবে আমেরিকা বাংলাদেশকে ভারতের হাতে তুলে দিয়েছিল যেই দগদগে ক্ষত আমাদের ভুলবার নয় – আর যা পরে ২০১৭ সাল নাগাদ ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে তিনি আমেরিকাকে এখন থেকে প্রত্যাহার করে নিলেও কার্যত হাসিনা সরকারের ভারত-নির্ভরতা ও ভারতকে কোলে ধরে রাখার চেষ্টা থেকেই গিয়েছিল। কারণ, বাংলাদেশ বা ভারতে দুদেশেই পুরানা ক্ষমতাসীন সরকারেরাই থেকে গেছিল বলে আমেরিকান প্রত্যাহারের কোনকিছুই প্রকাশ করতে হয় নাই বা প্রকাশ্যে দেখাতে বাধ্য হয় নাই। এছাড়া নানান উসিলায় প্রায়ই নয়া আমেরিকান চাপ আসছিলই! তাই হাসিনা ততই ভারতকে চেপে ধরে রেখে চলছিলেন যা রুটিন ওয়ার্ক  এর মত ডাল-ভাত হয়ে গেছিল!

    আবার এখন বাইডেন-ল্যু এখন ব্যাক টু দা প্যাভেলিয়ন! হয়ে গেলেও তাদের ইন্দো-প্যাসেফিক স্ট্রাটেজি [আইপিএস] একেবারেই অর্থহীন অকেজো আর নুন্যতম ফল দেখাতে পারছে না অথচ সামনে্র নভেম্বর ২০২৪ বাইডেনকে আমেরিকান  নির্বাচনে নিজ জনগণের মুখোমুখি হতে হবে, তাঁর চলতি সরকারের সাফল্য কী এনিয়ে কথা বলতে হবে!  তাই মিথ্যা হলেও এবারের ১৫ ফেব্রুয়ারিতে আইপিএস এর দুবছর পালনের দিন বাইডেন-ল্যু দাবি করছেন যে তারা এক সফল আইপিএস পলিসি যেন দেখিয়েছেন। চিঠি লিখে বাইডেন হাসিনাকে খায়েশ ব্যক্ত করে বলছেন যে বাংলাদেশ-আমেরিকা একসাথে  সফল আইপিএস পলিসি উতযাপন করতে চান!! আর বাস্তবতা হল, হাসিনার লিখিত আইপিএস বাইডেনের থেকে আলাদা!  হাসিনার আইপিএস-এ চীন কোন এনিমি  বা শত্রু নয় বা এভাবে দেখানো হয় নাই। বরং চীনের নামই নেন নাই হাসিনা!

    তাহলে বাইডেন-হাসিনা একসাথে সফল(?) আইপিএস পলিসি উতযাপন করবেন কীভাবে?  আর অন্তত হাসিনা তো বাস্তবে তা করেনও নাই!

    কিন্তু পরাজিত বাইডেন আবার বাংলাদেশকে ভারতের হাতে তুলে দিয়েছেন। এটা করে হলেও বাইডেন নিজেকে সফল বলে দেখাতে চাইছেন!!!! তিনি এতই মরিয়া!! কিন্তু হাসিনা সরকার কী তা মেনে নিয়েছে!!! বা কিভাবে নিয়েছে?
    গত ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের দিনের পরের ১১ জানুয়ারির মধ্যেই হাসিনার নয়া এমপিদের শপথ থেকে শুরু করে নয়া সরকারের মন্ত্রীদেরো শপথ অনুষ্ঠানও শেষ করে ফেলেছিলেন। এরপর ১১-২৭ জানুয়ারি মোটামুটি টানা প্রায় প্রতিদিন আমরা দেখেছি চীনের প্রসঙ্গ আর ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদুতের সাথে নানা দেখা সাক্ষ্যাত, আলোচনা পরিকল্পনা। এমনকি হাসিনার সম্ভাব্য চীন সফরের লক্ষ্যে চীনা দাওয়াত জানানোও ঘটে গিয়েছিল!!
    কিন্তু হায় সব ওলট-পালট! ২৮ জানুয়ারি থেকে ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভিন্ন চিত্র। ৪ ফেব্রুয়ারি বাইডেনের লেখা  হাসিনাকে চিঠি আর এর আগে ভারতের অজিত দোভালের সফর থেকে সব উলটা চিত্র হয়ে যায়। আজও কেউ বা মিডিয়ার কেউ জানে না অজিত দোভাল ঠিক কবে এসেছিলেন, কয়দিন ছিলেন- এছাড়া ঠিক কী নিয়ে আলাপ করতে এসেছিলেন।  সরকারের দিক থেকেও এই সফর সম্পর্কে আজও মিডিয়াকে কিছুই জানানো হয় নাই। তাই বাংলাদেশের মিডিয়ায় যে যতটুকু জানিয়েছে তা মূলত অনুমান-নির্ভর আর নয়ত ভারতের মিডিয়ায় ছাপানো গারবেজ-প্রপাগান্ডার বরাতে যা খুশি লেখা!  অর্থাৎ সবমিলিয়ে  – বাইডেনের হাসিনাকে লেখা চিঠি ছাড়া সব কিছুই অস্পষ্ট। আর প্রবল ইঙ্গিত ছড়ানো হয়েছে যেন বাংলাদেশে ভারতের প্রভাব (আগের ২০২১ সাল বাইডেন ক্রষমতার শপথ নিবার আগের মত”  বাইডেনের গণতন্ত্র-মানবাধিকার পলিসি নিয়ে হাজির হবার আগের মতই যেন আছে!

    আগেই বলেছি গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ছিল বাইডেন-ল্যু এর পেয়ারের কিন্তু অকেজো ইন্দো-প্যাসেফিক স্ট্রাটেজি [আইপিএস] শুরুর দুবছর পুর্তি-সমাপ্তির দিন। যে দিনকে আইপিএসের কথিত সাফল্য এর দিন; আর যা বাইডেন-হাসিনা যৌথভাবে উতযাপনের জন্য প্রস্তাব রেখেছেন বাইডেন। কিন্তু হাসিনা এনিয়ে কোন সাড়া দিয়েছে আমাদের জানা নাই। তিনি নিজের কাজ নিয়ে নিজের মত ব্যস্ত থাকলেও  আমরা ডোনাল্ড ল্যু-কে পাই USIP এই থিঙ্কট্যাঙ্কের সাথে উতযাপন করতে।
    শুধু তাই না, ঐ উতযাপন অনুষ্ঠানে ডোনাল্ড ল্যু – কিছুদিন আগে শ্রীলঙ্কায় অর্থনীতিতে দুর্যোগ বা ভেঙ্গে পড়া ঘটেছিল তা থেকে উঠে জাগার ঘটনাকে আইপিএসের সাফল্য বলে দেখাচ্ছেন। এখানেই শেষ না তিনি একাজে ভারতেরও অংশগ্রহণকে আমেরিকা-ভারতের সাফল্য হিসাবে এই প্রথম তুলে ধরেছেন। যেটা এর আগে কখনই আমরা দেখি নাই শুধু না বরং ভারতেরই অসন্তোষ দেখেছি যে শ্রীলঙ্কায় ভারতের সব প্রভাব সাফল্য একা আমেরিকা নিয়ে গেল বলে। শ্রীলঙ্কায় নগদ অর্থ বা ঋণদান নয়, ভারত বস্তুগতভাবে খাদ্যপণ্য আর জ্বালানি গ্যাসের সিলিন্ডারের সরবরাহ জুগিয়েছিল। তাদের দাবি মত যা নাকি তিন বিলিয়ন ডলার মুল্যমানের মত । কিন্তু ফলাফলে দেখা যায় চীন-ভারত সবাইকে ফেলে শেষে আমেরিকার প্রভাবের সেখান জয়জয়কার হয়। অথচ এখন ল্যু শ্রীলঙ্কার এই অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে আমেরিকা-ভারতের সাফল্য হিসাবে হাজির করেছেন।

    USIP এর ঐ অনুষ্ঠানের ভিডিওতে দেখা যায় কেবল ল্যু-ই নন অন্যান্য আলোচকেরা আবার কোয়াড [QUAD] এর প্রসঙ্গ আনছেন কেন? কোয়াড কী কার্যত মৃত নয়ঃ
    USIP এর ঐ অনুষ্ঠানের ভিডিওতে দেখা যায় কেবল ল্যু-ই নন অন্যান্য আলোচকেরাও এমনভাবে ভারতের প্রসঙ্গ এনেছেন বাইডেনের গত তিন বছরের শাসনামলে যেন বাইডেন খুবই ভারত-ঘনিষ্ট ছিলেন!!!  যেটা বাস্তবে একেবারেই উলটা ছিল!  আর সেটা বাইডেনের চয়েস ছিল না। মূল কারণ, বাইডেন ভারতের উপরও নিজের  গণতন্ত্র-মানবাধিকার পলিসি প্রয়োগ করতে গেছিলেন। প্রতিবছর ভারতের মুসলমানেরা ধর্ম-পালনে ও জীবনযাপনে নিগৃহিত হচ্ছে এই ছিল তাঁর মূল বক্তব্য এবং আমেরিকান প্রশাসনিক সিস্টেমে এক স্বাধীন (ধর্মীয়) কমিশনার আছেন যার কাজই হল এনিয়ে প্রেসিডেন্টকে রিপোর্ট দেয়া যে কোন দেশের মানুষের ধর্ম পালনের অধিকার ক্ষুন্ন হল! তাই বাইডেন এনিয়ে বহুবার মোদির বিরুদ্ধে  সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন। শুধু তাই না বিপরীতে, বাইডেন কংগ্রেসের রাহুলের সাথেও যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। রাহুলদের যেন সুবিধা হয় তাই মোদির জিগরি দোস্ত গৌতম আদানির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছেন। বেচারার শেয়ার মালিকানায় ধ্বস নামিয়ে দিয়েছেন।  হেজ [Hedge] ফান্ড ব্যবসায়ী বা “ওপেন সোসাইটি” এই দাতব্য বা থিঙ্কট্যাঙ্কের মূল ফাইন্যান্সার জর্জ সোরেস-কে দিয়ে বাইডেন মোদির প্রিয় ব্যবসায়ী গৌতম আদানির ব্যবসায়িক সব গুমো্র আর কথিত অপততপরতার ফিরিস্তি দিয়ে শেষ বিচারে শুধু আদানিকেই নয় খোদ, মোদিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন!  বাইডেন নিয়মিত ভারতীয় মুসলমানদেরকে নিপীড়নের জন্য মোদিরকে দায়ী করেছেন। যে কারণে এক পর্যায়ে পুরানা প্রেসিডেন্ট ওবামাও মোদিকে হুশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন মোদির এই মুসলমানবিদ্বেষী নীতির কারণে একদিন ভারত বিভক্ত হয়ে যেতে পারে!  অর্থাৎ গত তিনবছর ধরে বাইডেন তার গণতন্ত্র-মানবাধিকার পলিসির লাইনে মোদিকে আক্রমণ করে গেছিলেন।
    অথচ এখন এবারের ঐ আইপিএস সাফল্য উতযাপন সভায় ভারতের প্রশংসায় সব ভরে উঠেছিল! আবার কোয়াড [QUAD] নিয়েও ভারতের সাথে কাজের স্মৃতি আউড়ানো হয়েছে সেখানে। অথচ কোয়াড কার্যত মৃত! কারণ, অষ্ট্রেলিয়ার আমেরিকান পারমানবিক সাবমেরিন কেনাকে কেন্দ্র করে AUKUS  নিয়ে একপর্যায়ে ভারত জানিয়ে দিয়েছিল যে ভারত কোয়াড বা অন্যকিছুর নামে অন্য দেশ বা জোটে সেটাকে সামরিক জোট বুঝায় বা  এমন ততপরতাও বুঝায় –  এমন কিছুতে ভারত থাকতে চায় না; জড়াবে না। এথেকেই QUAD অকার্যকর হয়েছিল আর AUKUS নিয়ে কিছুদিন চর্চা হয়ে সব শেষ ঠান্ডা হয়েগেছিল। যার মূল কারণ বলা যায়, মোদি সরকারের উপর বাইডেনের গণতন্ত্র-মানবাধিকার পলিসির চাপাচাপি।
    অথচ এখন তাহলে ল্যু এন্ড গংয়ের  আইপিএস সাফল্য উতযাপন সভায় ভারতের প্রশংসা কিভাবে? পুরা পরিস্থতিকে তারা এমন ভাবে তুলে ধরেছেন যেন বাইডেনের তিনবছর ভারতের সাথে সম্পর্ক তার আগের ওবামা আমলে [২০০৮ সালে বুশের সময়েই বাংলাদেশকে ভারতের হাতে তুলে দেয়া হয়েছিল যাতে ভারত বাংলাদেশ নিয়ে যা খুশিকরতে পারে যা পুরা ওবামা আমলেও বজায় ছিল ] যেমন ছিল – (ভারতের হাতে তুলে দেওয়া এক বাংলাদেশ) ঠিক তেমনই যেন আছে।  যা খুবই খারাপ ইঙ্গিতপুর্ণ! যার থেকে আমাদের শঙ্কা যে বাইডেন-ল্যু পিটার হাসেরা আমাদেরকে আবার ভারতের কোলে উঠিয়ে দিতে চাইছে!!!

    এসব কারণেই এই অনুমান জল্পনা-কল্পনা বেড়েছে যে বাইডেন ক্ষমতা শেষ হয়ে যাবার আগে কী নিজ ব্যর্থতা ঢাকতে আবার বাংলাদেশকে ভারতের হাতে সওদা করে দিয়ে যেতে চাচ্ছেন?
    এটা আমাদেরকে আরো স্পষ্ট পরিস্কার করে খুটিনাটি-সহ সব বুঝতে হবে। তবে ইতোমধ্যেই যেটা দৃশ্যমান তা হল হাসিনার মুখ থেকে উঠা চীন এখন আর প্রসঙ্গই নয়। আবার এর মানে বাইডেনের আমেরিকা-ভারত কোন নয়া উদ্যোগ বা অফার পেয়ে কী হাসিনা খুশি? উতফুল্ল? না তাওও নয়! মানে প্রধান দ্বন্দ্ব – গত দুবছরের বাইডেন-ল্যু এর সাথে হাসিনার দুরত্ব আর গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে হাসিনা তা ভুলে এখন বাইডেনের দিকে আগিয়ে আসছেন বলে মনে হচ্ছে না!  আর এসবের পরিণতি হল যেন সবকিছু স্থবির হয়ে গেছে! আর তামাশা হিসাবে বারবার উঠে আসছে বাইডেন-ল্যু এর বোকা বোকা পানিপ্রার্থীর মত সব আচরণ – হাসিনার মান ভাঙ্গানোর নানান কসরত ইংরাজিতে যেটাকে উউ [WOO] বলে! আর ভদ্র তবে সংস্কৃত-ঘেঁষা বাংলায় বলে “প্রণয় ভিক্ষা” চাওয়া! যেগুলোর দিকে তাকানো যায় না এমনই অসহ্য!!! এই হল এখনকার বাইডেনের পরিণতি!!!

    যদিও আগামি একমাসের মধ্যে হাসিনার মধ্যে আবারও যদি চীন সফরে যাবার জন্য ব্যাকুল-উদগ্রীব হতে দেখি তো আমাদের অবাক না হওয়াই সম্ভবত সঠিক হবে! 

    সবশেষে একটা কথাই বলব! বাইডেন-ল্যু এর দশা যদি হয় হাসিনা সরকারের প্রণয় ভিক্ষুক হওয়া; তবে আমাদের বিরোধীদলেরা সেই – বাইডেন-ল্যু এরাই আবার আমাদেরকেও নাকি উদ্ধারে আসবে; এই আসতেছে –  আসতেছে বলে তারাই বা তাহলে কার কাছে কী ভিক্ষা করছে!!! এর কোন জবাব খুঁজে পাই নাই!!! কেবলই বিস্মিত হয়ে আছি, থাকছি! আর বিরোধীদের এ এক অদ্ভুত অসহায়ত্ব দেখে যাচ্ছি!!!

     আপডেটঃ  ১৯ ফেব্রুয়ারি  ২০২৪, সন্ধ্যা সাতটা ১৮
    সর্বশেষ আপডেটঃ  ২০ ফেব্রুয়ারি  ২০২৪, দুপুর দুইটা ৪৫

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com