Author: goutamdas

  • জ্যাক সুলিভান এর ভারত সফর; আমাদের শঙ্কা, কানও খাড়া

    জ্যাক সুলিভান এর ভারত সফর; আমাদের শঙ্কা, কানও খাড়া
    গৌতম দাস
    ০৬ জানুয়ারি ২০২৫     সকাল ১১ঃ ৪৮
    https://wp.me/p1sCvy-69K

    Sullivan & Doval

     

    জ্যাক সুলিভান [Jake Sullivan] , চলতি বাইডেন প্রশাসনের ন্যাশনাল সিকিউরিটি এডভাইজার [NSA]; যারা আর দুসপ্তাহ ক্ষমতায় আছেন।
    সুলিভান বর্তমানে ইন্ডিয়া সফরে আছেন তার ৫-৬ জানুয়ারি ২০২৫ সফর কর্মসুচিতে। প্রশ্ন উঠেছে ক্ষমতা ছাড়ার মাত্র দুসপ্তাহ আগে কেন তিনি ইন্ডিয়া সফরে?

    আমাদের শঙ্কা, কানও খাড়াঃ 
    ইন্ডিয়া-আমেরিকার যে কোন ছোট বা বড় মাখামাখিতে তা সবচেয়ে রুটিন কোন সফর হলেও বাংলাদেশে আমরা কান খাড়া রাখি! আপনাতেই!  কারণ গত ১৬ বছর আমাদেরকে অত্যাচার নির্যাতন, স্বার্থ-অর্থ লুট, বাজার দখল, বিনা পয়সার করিডোর, জঙ্গি নাটক সাজানো; এমনকি বাংলাদেশ রাষ্ট্র বলতে কার্যত যেসব প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রের প্রতীক এমন সেনাসহ সব ধরনের প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি কী নাই যা ইন্ডিয়া ধ্বংস করে দেয় নাই – এসব আমরা দেখেছি। আর ইন্ডিয়া তা করে যেতে পেরেছে কারণ আমেরিকা বাংলাদেশকে ভারতের হাতে তুলে দিয়েছিল এককালে, সেই ২০০৭ সাল থেকে। যদিও এতে পরে ভাটা পরেছে আমেরিকার দিক থেকে, ২০১৬ সালের পর থেকে; মানে, এতে ইন্ডিয়ান আগ্রাসী-পনা কমিয়েছে  হয়ত, যদিও ট্রাম্পের আগের আমলে তা ছেড়ে দেয় নাই। মূল আধিপত্য ইন্ডিয়া কখনও বাংলাদেশের উপর থেকে সরে নাই।  এমনকি ট্রাম্পের পরে বাইডেন প্রশাসন এসে ভাব ধরেছিল তিন বছর ধরে যেন সে হাসিনার ফ্যাসিজম ভাঙতেই স্যাংশন-মানবাধিকারের অস্ত্র ব্যবহার করতেই এসেছে। মানে যাতে এর ফলে বাংলাদেশের মানুষেরা একটা নুন্যতম রাজনৈতিক অধিকার পায়, আমাদের বিরোধীদল রাজনীতির মাঠে বের হতে পারে। আর এই তিন বছর হাসিনা যতটা পারে নিজের ফ্যাসিজমে অটুট থাকার চেষ্টা করে গেছে ইন্ডিয়ার নিরন্তর সমর্থন -সহায়তায়। আর সেই সাথে প্রায় এই তিন বছর (২০২১-২৩) ইন্ডিয়া এই বলে বাইডেন প্রশাসনের কানভাড়ি করে গেছে যে আগের মতই ইন্ডিয়ার মাথায় আমেরিকান হাত থাকলে বিনিময়ে হাসিনা এবার আরও ভালভাবে আমেরিকাকে সেবা দিবে!
    কিন্তু হায়! শেষে তাতেও বাইডেনের আমেরিকা প্রতারণা করেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে  ল্যু-বাইডেন চক্রের নাম ইতিহাসে প্রতারক চক্র হিসাবেই লেখা হয়ে গেছে। মধ্য ২০২৩ সাল থেকে ইন্ডিয়া- ল্যু-বাইডেন চক্র আবার সঙ্গোপনে একজোট ও সক্রিয় হয়, একেবারে ভাই-ভাই!  তাতে হাসিনাকে ক্ষমতাসীন করতে ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচন করতেও সহায়তার এক নয়া ডালি খুলে বসেছিল এই চক্র।

    সব থিওলজিক্যাল “কিতাব” সেখানে  দাজ্জাল বা অনুরূপ দানবের উত্থান ও পরিণতির বর্ণনা আছে যা আসলে দুনিয়ার সাধারণ বা আম-মানুষযারা সারা জীবনে এতশত নির্যাতনের পরেও আত্মহত্যা না করে কষ্ট সহ্য করে হলেও বেঁচে থাকে – কেন? কারণ তাঁদের বাঁচার সাহস ও অনুপ্রেরণা যোগানদার হল এসব দাজ্জালের গল্পকথা! এটাই সাহস যুগিয়ে গেছে সারা জীবন! আর এসব কথার মূল ধারণাটা হল, একদিন না একদিন ডিভাইন-বিচারের দিন আসবে –  অথবা এই দুনিয়াতেই হয়ত আল্লাহ বিচার করে দিবেন; সব দাজ্জাল বা হাসিনার ফ্যাসিজম পরিণতির দিনে পৌছাবে তাতে  – দুনিয়ায় যত অত্যাচারই আসুক এই আশার আলো জাগিয়ে রেখে গেছে এসব মেটাফোরিক্যাল গল্পকথা!  একারণে, এসব সব থিওলজি-কেই বুকভরা শ্রদ্ধা ও সালাম জানাই!

    আর তাতে আমরা সেসময় দেখলাম হাসিনা ৭ জানুয়ারি ইলেকশন ক্য্যারিকেচার করে ফেলেছে  আর সাথে বাইডেনও নির্লজ্জ পল্টি মেরে সেই হাসিনার সাথেই তারা একসাথে কাজ করবে বলে চিঠি পাঠিয়েছিল পিটার হাসের হাত দিয়ে। কিন্তু হায় হায়! দাজ্জাল বা  ভণ্ড মসিহ সাজে যে চরিত্র – এদের দিন ফুরিয়ে এলে বা  হয়ে গেলে কোনকিছুই তা ঠেকাতে পারে না! তাই হাসিনা পলাতক ফ্যাসিস্ট হয়ে যান! আর বাইডেন মুখ লুকিয়েছিল!  আর ইন্ডিয়া????
    সেই থেকে আজও মোদির ইন্ডিয়া পাগলপ্রায় অবস্থায়! কোনকিছুই মানতে পারছে না! ইউনুস এই নাম বা এই সরকার এখন সারা ইন্ডিয়াতে একটা ত্রাস; একটা শত্রু বা এনিমির নাম হয়ে দাড়িয়েছে! আসলে এখানে ইউনুস মানে কি?

    আসলে এখানে ইউনুস মানে কি?
    এখানে ইউনুস মানে হল  যে এক দাজ্জাল প্রতিরোধের প্রতীক; এই দাজ্জাল প্রতিরোধকারী আমরা বাংলাদেশ; এখানে যাদের প্রতীকী নাম হল ইউনুস!!  ইন্ডিয়ান আধিপত্যের বিরুদ্ধে  মানে এই দাজ্জালের বিরুদ্ধে আমাদের সম্মিলিত উঠে দাঁড়ানো আমরা বাংলাদেশের আম-জনগণ! মোদির ইন্ডিয়া – বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের কাহিনী বলে বলে এখন ক্লান্ত; মিথ্যা বাঘ আসছে এই গল্প বলা রাখাল বালক হল মোদি! তিনি হিন্দু নির্যাতনের বানানো কাহিনী  দুনিয়াকে বিশ্বাস করাতে পারেন নাই; আবার ওদিকে চিন্ময়-ইসকন এখন খুনের আসামি হয়ে জেলে! আর এদিকে চিন্ময়ের সাগরেদ যারা আমাদেরকে চিন্ময়ের সাথে তাঁর অস্বস্তিকর মেলামেশা-গলাগলি দেখিয়েছিল – তা ইতিহাস হয়ে থাকবে! কেউ ছাড়া পাবে না! ফলে এই  মোদির-ইন্ডিয়া এখন একেবারেই অসহায়; সবগুলো চালই তাদের ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে ইন্ডিয়ান মিডিয়ার চোখে, বাংলাদেশে তাদের চোখে একনম্বর ভিলেন হল ইউনুস এই নামটা!  যেমন ধরেন বাংলাদেশ থেকে ৫০ জন জেলা জজ পর্যায়ের ব্যক্তি (সম্ভবত এটা ছিল সেকেন্ড ব্যাচ। হাসিনার আমলে, গত ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ইন্ডিয়ার প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড় এর বাংলাদেশ সফর থেকে এর শুরু। বাংলাদেশের বিচারকদেরকে সফরের লোভ দেখিয়ে হিন্দুত্ববাদ-বয়ানের পক্ষে মস্তক ধোলাই এর এক কর্মসুচি ছিল এটা); এদের ইন্ডিয়া সফরে যাওয়া প্রায় ফাইনাল ছিল কিন্তু তা গতকাল বাতিল করা হয়েছে।  তাই এই ক্ষোভে কলকাতার আনন্দবাজারের শিরোনাম দেখেন, “ভারতের খরচেই ভারতে এসে প্রশিক্ষণের কথা ছিল বাংলাদেশি বিচারকদের, আটকাল ইউনূস সরকার”। মানে ইউনুস এই নামটাই ইন্ডিয়ার কাছে এখন এক ত্রাসের নাম; যা সবকিছু আটকে দেয়!!!  মানে ইন্ডিয়ান আধিপত্য রুখে দিবার এক কর্তা এমন নাম-বাচক শব্দ এটা!

    এমন পরিস্থিতিতে  জ্যাক সুলিভান ইন্ডিয়া সফরেঃ
    এমন পরিস্থিতি বলতে – এর মানে কী? এর অর্থ এখানে বুঝতে হবে মোদির ভারত যখন ভাটিতে চলছে বা পশ্চাদ-অপসারণে। যেমন ধরেন, এবার তাদের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি বাংলাদেশ সফরে আসার মূল পরিকল্পনাটা ছিল বাংলাদেশকে ভয় দেখিয়ে কব্জা করার শেষ চেষ্টা। কারণ, গুম-খুন-আয়নাঘর কান্ডে শুধু হাসিনা না সাথে মোদি-ইন্ডিয়াও জড়িত এই প্রমাণ সংগৃহিত হয়ে গেছে। এবং সেই প্রাথমিক রিপোর্ট ইউনুস সরকারের কাছেও আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর করা হয়ে গেছে যা মিডিয়া রিপোর্টও এভেলএবল! ফলে অনুমান করা যায় সেসব দলিল এখন জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের অফিসের দিকে রওনা হবে বা দৌড়াচ্ছে!!!! যেখানে এমনকি বিএনপির নেতা যারা অপহরণ-গুম হয়েছিল তাদেরকেও মোদির র-বাহিনী ম্যানেজ করে ফেলেছে।  বা তারাই এখন বিএনপিতে র-এর স্বার্থ-ইচ্ছার ক্যারিয়ার!  ফলে এটা মোদি-ইন্ডিয়ার জন্য এক বিরাট কেলেঙ্কারির ঘটনা হিসাবে আসতেছে! আর এর সাথে আরও ছিল ২০০৯ সালের বিডিআর হত্যাকান্ড নয়া তদন্ত কমিশন। এদুটাই যেন বাংলাদেশ খাতা-বন্ধ করে রাখে মুলত এনিয়েই আবদার বা দরকষাকষি করতে এসেছিলেন বিক্রম মিশ্রি! কিন্তু শেষ পর্যন্ত মিশ্রির সফর-উত্তর বাংলাদেশ এসব দালালি-প্রলোভন বা ভয় দেখানি অতিক্রম করে গেছে!!!  নিজেদের সংহত করে ফেলেছে যার সোজা মানে ইন্ডিয়ান হেজমনি-বিরোধীরা এখন আবার ফিরে সংহত হয়ে গেছে। ফলে ইন্ডিয়ার চোখে সবকিছু নষ্টের গোড়া এখন একটাই নাম ইউনুস সরকার!!

    তাহলে আবার সেই পুরানা প্রশ্ন, তাহলে জ্যাক সুলিভান ইন্ডিয়া সফরের অর্থ – আমাদের জন্য এর অর্থ কী? কোন বিপদের কী?
    একটা ক্লু দিয়ে শুরু করি। সুলিভানের এবারের ইন্ডিয়া সফরে র সাথে তিনি বাংলাদেশও ঘুরতে আসেন নাই; এমন সিডিউল-পরিকল্পনাও নাই; যেটা এর আগে ল্যু-বাইডেন জমানার এর তিন বছরে বেশিরভাগ সময় ঘটেছে। এর বদলে এখন বরং আলাদা করে ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ মানে দুসপ্তাহ আগেই ইউনূসের সঙ্গে সুলিভানের ফোনালাপ হয়েছে একটা। এটা সিগনাল দেয় যে আমেরিকার ইন্ডিয়ান ডেস্ক বা  এর কায়-কারবার কার্যতই বাংলাদেশ ডেস্ক থেকে আলাদা। নাইলে আমরা দেখতাম ইন্ডিয়া থেকে সুলেভান বাংলাদেশও ঘুরে যাচ্ছেন।

    এছাড়া আরেকটা কড়া কথা বলব। গত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ইউনুসের (জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বার্ষিক বক্তৃতার সফর এর সুযোগে) প্রথম এবং মুখ্যত ইউনুস সরকারের নীতি (আমেরিকা প্রসঙ্গে নীতি কী) তা মুখোমুখি বসে আলাপ করার সুযোগ পেয়েছিল আমেরিকা!
    কোন আমেরিকা????

    এই প্রশ্নটা গুরুত্বপুর্ণ! যেই ল্যু-বাইডেনের আমেরিকা গত  ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ সালের হাসিনার সাথে একসাথে কাজ করবে বলে লিখিত চিঠি দিয়েছিল। আর সেই হাসিনা মানে বাইডেনের পার্টনার হাসিনা সরকারকে  বাংলাদেশের মানুষ উতখাত করে দিয়েছিল বাইডেনের ঐ খায়েসের চারমাসের মধ্যেই!!! মানে প্রথমত আমেরিকান ইন্টেলিজেন্স সব ভুয়া, কাগুজে বাঘ মাত্র! আর এটাই প্রমাণিত হয়েছিল! আর সবচেয়ে বড় কথা এরপরেও আমরা –  ইউনুস সাবকে আমেরিকা পাঠিয়েছি। বাইডেনকে তিনি বলেছেন আর পিছনে না,  সামনের দিকে তাকিয়ে হাঁটতে!!! শুধু তাই না, দেখেন ল্যু-বাইডেনের ইন্দো-প্যাসিফিক পলিসি কেউ খাইলো না। সেটা এখন মৃত! আর বিপরীতে আমরা এর চেয়েও এক বাস্তব প্রস্তাব,  বাংলাদেশ-আমেরিকার উভয়ের স্বার্থ আছে এমন পলিসির প্রস্তাব আমরাই বাইডেনকে জানিয়েছি। সাথে এটাও যেখানে লুকানো নয় যে চীনের সাথে আমাদের ঋণ-বাণিজ্য এবং সস্তায় অস্ত্রদাতা ইত্যাদি সব সম্পর্কও চলবে! যা নিয়ে আমেরিকার ভয় পাবার কিছুই নাই। আমরা আমেরিকান (FDI) প্রাইভেট বিনিয়োগও ওয়েলকাম করব!
    এসব কারণে, আমার দৃঢ় বিশ্বাস আমেরিকা যদি আরেকবার বেকুব হতে না চায় তবে আমেরিকা (যে প্রশাসনেরই হোক) বাংলাদেশ প্রশ্নে ইন্ডিয়াকে দূরে রাখবে! ইন্ডিয়া-আমেরিকা সম্পর্ক যেমন-ই থাক বা না থাক এর ভিতর বাংলাদেশ কোন প্রসঙ্গ হবে না,  আসবে না – এই নীতি-বৈশিষ্ট বজায় রাখবে; এই সীমারেখা মেনে চলবে!
    তাহলে এটাও এখানে বলে রাখা যায় যে আমেরিকা যদি এই – বাংলাদেশকে আলাদা রাখার নীতি-বৈশিষ্ট – মেনে না চলে তবে স্বভাবতই আমরা সারা বাংলাদেশ সরাসরি এন্টি-আমেরিকানও হয়ে যাব!! কোন আমেরিকা? যে আমেরিকা আমাদেরকে ভারতের হাতে তুলে দিয়েছিল ২০০৭ সালে! আমাদেরকে ভারতের করদ রাজ্যে পরিণত করা হয়েছিল তখন থেকে! ইউনুস সরকার গত চার মাসে এই প্রসঙ্গ কখনও বাঁকা-কথা বা রেফারেন্স হিসাবে আনে নাই। কেবল ইন্ডিয়ার আধিপত্যের বিরোধ করে গেছি আমরা ইউনুস সরকারের মাধ্যমে! কিন্তু এবারও আমেরিকা সোজা না হলে, আত্মঘাতি হলে আমরা সরাসরি আমেরিকাবিরোধী দেশ-সরকার হয়ে যাব। সবচেয়ে বড় কথা (আর কোন ভারসাম্য নয়) আমরা সেক্ষেত্রে প্রকাশ্যেই চীনের কোলে গিয়ে উঠবে এমন বাংলাদেশ হব হয়ত! আর এর সম্পুর্ণ দায়দায়িত্ব বর্তাবে আমেরিকার উপর; যা সবাই খোলা চোখেই দেখতে পাবে!!!

    এবার শেষাংশ, এটা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপুর্ণঃ
    আমি মনে করি উপরে যা যা বললাম এসব কারণে সুলিভান এই ইন্ডিয়া সফরে (ফাঁকে-ফোকরেও) বাংলাদেশ প্রসঙ্গ আনবেন না।
    এছাড়া ইতোমধ্যেই সুলেভানের এই সফরের মুল কারণ যা সব প্রধান এজেন্সি মিডিয়াতেই ছাপা হয়েছে বিশেষত রয়টার্স সেখানে সোজা আমেরিকান প্রশাসনের রেফারেন্স দিয়ে বলা হয়েছে এই সফর মূলত [about the impact of Chinese dams,] নদীতে বাঁধ ও বিদ্যুৎ প্রকল্প যেটা চীন নিয়েছে – সে প্রসঙ্গে ভারতের আপত্তিওগুলো কী তা নিয়ে নীতিগত অবস্থানের নৈকট্য কী করা যায় তা নিয়ে।
    এখন আরেকটু ভেঙ্গে বলি। আমাদের দেশে যেটা মূল ব্রহ্মপুত্র নদ নামে পরিচিত [চীনের তিব্বতে ইয়ারলুং জাংবো নদ এটাই ভারত-বাংলাদেশে যার পরিচিতি  ব্রহ্মপুত্র নামে] যা ভারতের আসাম হয়ে কুড়িগ্রাম-ময়মনসিংহ দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে। এই নদী মূলত চীনের মেকং অঞ্চল থেকে শুরু হয়ে চীনের তিব্বত থেকেই ইন্ডিয়ায় (আসামে) প্রবেশ করেছে। পরে আসাম হয়ে বাংলাদেশে। বাংলাদেশে এসে আমরা এটাকে ব্রহ্মপুত্র বলি!  চীন উজানে এই নদিতে নানান জায়গায় বাধ ও জলবিদ্যুত প্রকল্প করেছে। আমেরিকা ভারতের উপর এর প্রতিক্রিয়া প্রভাব নিয়ে কথা বলতে এসেছে […… about the impact of Chinese dams,]...।
    তবে এটা ঠিক নদীর পানি নিয়ে মারামারি নয়; আমেরিকা বুদ্ধিমানের মত এটাকে  পরিবেশ ইস্যু হিসাবে তুলতে চায়। নিচে সুলিভানের ইন্ডিয়া সফর কেন তা নিয়ে আমেরিকান প্রশাসনের মূল বক্তব্যটা কি দিয়েছে তা তুলে দিলাম। এটা রয়টার্স থেকে নেয়া। বাকি সব মিডিয়ার বক্তব্যের সারকথাও এইটাইঃ

    “We’ve certainly seen in many places in the Indo-Pacific that upstream dams that the Chinese have created, including in the Mekong region, can have really potentially damaging environmental but also climate impacts on downstream countries,” a senior U.S. official said ahead of Sullivan’s visit.

    তাহলে সারাংশে বললে, সুলেভানের সফরে বাংলাদেশ কোন প্রসঙ্গই নয়।  এই বিচারে তা নিশ্চিত করেই বলা যায়।
    আর নিশ্চিত করেই আমেরিকান প্রশাসন জানিয়েছে, আলোচনার টপিক হল (civilian nuclear cooperation, artificial intelligence, space, military licensing and Chinese economic overcapacity)এগুলা। অর্থাৎ যার কোনটাই বাংলাদেশ সম্পর্কিত নয়। যদিওও ভারতের কিছু প্রপাগান্ডা মিডিয়া ভয় দেখানো সুত্রহীন রিপোর্ট ছেপেছে।

    Washington also expects that topics such as civilian nuclear cooperation, artificial intelligence, space, military licensing and Chinese economic overcapacity will be brought up in the visit, the U.S. official said

     

    কিন্তু একটা নতুন সুবিধার দুয়ার উন্মোচিতঃ
    ইন্ডিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালোয়ের মুখপাত্র এখন এক রণধীর জয়সোয়াল! [এই অংশটার জন্য দুটো মিডিয়া রিপোর্ট পাঠকের ভাল কাজে লাগবে। একটা হল ভারতের Mint-Livemint আর আরেকটা হল আমাদের ইত্তেফাক। লিঙ্ক সাথে দিয়ে দিলাম। কারণ জয়সোয়ালের মন্তব্য এখানে ভাল কাভার করেছে এরা।  ]
    গত চারমাস তাঁকে আমরা দেখেছি কেবল – বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন চলছে – এনিয়ে কথা বলতে। কিন্তু এবার সুলেভানির সফর নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি নিজে ও ইন্ডিয়ার জন্য এক বিপদ ডেকে এনেছেন।
    কমন নদীর পানিতে ভাটির দেশের সমান অধিকার থাকে। এটাই আন্তর্জাতিক আইন। যে বোধটা এতদিন বাংলাদেশে উপেক্ষিত, সব শাসকের কাছেই।  এই প্রথম বহু কাঠখর পুড়িয়ে ইউনুসের মুখ দিয়ে সামএ আনা গেছে ফেনীতে এবারের বণ্য বা ইন্ডিয়ার বাধ খুলে দেয়া কে কেন্দ্র করে।

    মজার কথা হল, সুলিভানের সফরে চীন-ভারত কমন নদীর পানি ইস্যুতে এই জয়সোয়াল দাবি করেছেন যে তিনি জানেন, যে ভাটির দেশের (মানে ইন্ডিয়ার) এক্ষেত্রে সমান অধিকার আছে।

    রণধীর জয়সোয়াল বলেন, অভিন্ন নদীর ক্ষেত্রে ভাটির দেশেরও কিছু অধিকার আছে। রাজনৈতিক ও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে সেই অধিকারের কথা বারবার জানানো হয়েছে। সেই অধিকার ও স্বার্থের বিষয়ে ভারতের পর্যবেক্ষণ জারি আছে। সরকার সেইমতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও গ্রহণ করবে।

    তাহলে এটা কী আমাদের জন্যও সুযোগ না যে ঠিক একই কারণে আমাদের সাথে ভারতের ৫৪ নদীর পানির হিস্যায় আমাদেরও ভাটির দেশ হিসাবে ইন্ডিয়ার সাথে সমান অধিকার আছে। -এবং এটা তো জয়সোয়াল জানেনই -! সুতরাই নদীর পানি ইস্যুতে আমাদের সমান ও ন্যায্য ভাগীদারির কথাটা এখন আমরা সহজেই তুলতে পারার রাস্তা উন্মোচিত হচ্ছে সেটা এখানে দেখতে পাওয়াটা জরুরি!
    ফলে সে অনুযায়ী আমাদের ফরেন অফিস তার কাজ ও নীতি সামলানো এখন ফরজ!
    এই মাজা ভাঙ্গা উপদেষ্টা যদি এখানে পারফরমেন্স দেখাতে না পারেন তবে তাকে বদলানোর দায়ীত্ব ইউনুস সাহেবের। পাবলিক তৌহিদ সাহেব চিনে না। আমরা একাজে ততপর ফরেন অফিস না দেখতে পেলে কিন্তু আমরা ইউনুস সাহেবকেই দায়ী করব! কাজেই আমাদেরকে এই ইস্যুতে এখনই পদক্ষেপ দেখানোর উপর নির্ভর করছে ইউনুস সরকারের সার্থকতা!!! নাইলে এটা একটা খামোখা সরকার হয়ে দাঁড়াবে!!!

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  বিকাল ০৪ঃ ৩৫    ০৬ জানুয়ারি ২০২৫

     

     

     

     

     

     

     

     

     

     

  • যেকোন রাষ্ট্রদ্রোহী বিবৃতির জবাবঃ এরদোয়ান-একশনঃ হয় মারো নয়ত মরো! 

    যেকোন রাষ্ট্রদ্রোহী বিবৃতির জবাব, এরদোয়ান-একশনঃ হয় মারো নয়ত মরো!
    গৌতম দাস
    ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪  সকাল ০৭ঃ ৫৪
    https://wp.me/p1sCvy-68N

     

     

    তুরস্কে গুলেন পার্টির ব্যর্থ ক্যু – এর পরে এরদোয়ানের একশন; সরকারী এডমিন কর্তা সহ মিলিটারি, বিচার বিভাগ এবং অন্যান্যা ছুটকা…. গ্রেফতার ও বিচার

    বাংলাদেশে গত ২৭ জুলাই বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যসোসিয়েশেনের এক বিবৃতি ছাপা হয়েছে। সোজা বাংলায়, এতে জুলাই-আগষ্টের আন্দোলনকে  লেখা হয়েছে, ছাত্র-জনতার জুলাই-আগষ্ট্রের আন্দোলন হল রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকান্ড। এককথায় এটা ইউনুস সরকারের ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করা। তাহলে এখন!!!!
    এই বিবৃতিতে আসলে আগষ্ট অভ্যুত্থানের আপামর ছাত্র-জনতাকেই রাষ্ট্রদ্রোহি বলেছে, চ্যালেঞ্জ করেছে! একদল সরকারী কর্মচারি হয়ে পাবলিকের অর্থে বেতন নিয়ে পাবলিককেই হুমকি দিচ্ছে!!! 

    গত ২০১৬ সালে জুলাই এরদোয়ানের তুরস্কে গুলেন পার্টিদের (ওবামা প্রশাসনের প্ররোচনায়) এক ব্যর্থ ক্যু ঘটেছিল। সেই ক্যু সামলে নিয়ে ও একে ব্যর্থ করে দেওয়ার পরে জুলাই-নভেম্বর এরদোয়ান যে একশনে গেছিলেন তাতে ১৫,০০০ এডিমিন স্টাফকে তিনি ছাটাই করে দিছিলেন। নিচে টাইম ম্যাগাজিনে সেই সংক্রান্ত নিউজে দেখেন,

    Here’s a Time Line of the Insane Number of People Turkey’s President Has Fired Since July 15

    আর ঐ রিপোর্টের প্রথম লাইন লেখেছিলঃ Turkey fired 15,000 state employees, including soldiers, police officers, tax inspectors, and midwives in the latest round of purges since the failed coup of July 15.

    আর এরদোয়ান তা করেছিলেন স্রেফ দুটা ডিক্রি বা অধ্যাদেশ জারি করে। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এনিয়ে লিখেছিলঃ  এনিয়ে সবর্সাকুল্যে সোয়া লাখ সরকারী এডমিন কর্তা সহ মিলিটারি, বিচার বিভাগ এবং অন্যান্যা ছুটকা সব মিলিয়ে শেষে মোট সোয়া লাখ রাষ্ট্রবিরোধী দালালের বিরুদ্ধে এজকশনে গিয়েছিলেন  এরদোয়ান। [he dismissals, announced in two decrees, bring to more than 125,000 the number of people sacked or suspended in the military, civil service, judiciary and elsewhere since July’s coup attempt. About 36,000 have been jailed pending trial in the crackdown condemned by Western allies and rights groups.] যাদের মধ্যে ৩৬ হাজার এখনও বিচারাধীন।

    রাষ্টক্ষমতা কী সেটা আগে বুঝেন। একই কথা বারবার বলতে বিরক্ত লাগে কিন্তু কী করব! আমাদের এমম্নই কপাল প্রাক্তন এনজিও কর্তারাই বাংলাদেশে নিজেদেরকে স পারে সব বুঝে এমন বিশাল ক্ষমতা বুঝা লোক হিসাবে হাজির হয়ে যায়। এদের ধারণা রাষ্ট্র মানে পাবলিককে সেবা দেওয়া সস্তায় ইলিশ মাছ খাওয়ানো।  রাষ্টড় পাবলিক সেবা দেয় অবশ্যই। কিন্তু সেটা করতে রাষ্ট্রের অধীনে চার-পাচটা শহরে মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনই যথেষ্ট। ক্কিন্তু রাষ্টড় মানে মেয়রগিরি না। এটা আর কয়বার আমাকে স্মরণ করাতে হব্বএ জানি না।

    ক্ষমতা মানে সোজা বাংলায় মার-ধর। আপনার রাষ্ট্রক্ষমতার এনিমি যে তাকে আপনি চিনেনই না;  আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন সে আপনাকে মারবে উতখাত করবে। কাজেই জনগণকে বাঁচাতে যদি ক্ষমতায় থাকতে চান তবে আপনাকেই সবার আগে রাষ্ট্রের শত্রু পড়শি দেশের দালালদেরকে উতখাত করতে হবেই। যদি আপনি এখানে শুশীল থাকেন, উদার বা লিবারেল-গিরি মারাতে যান তাহলে আপনি ক্ষমতায় থাকার অযোগ্য, নিকৃষ্ট কোন প্রাণী!   এক কথায় ক্ষমতার সাথে শুশীল, উদার বা লিবারেল-গিরির সম্পর্ক নাই শুধু নাই, ক্ষমতা মানে ঠিক এর উলটা! ক্ষমতা খুবই নির্মম নৃশংস কিছুই করার নাই। হয় আপনি মারবেই নাহলে ওদের (শত্রুদের) হাতে মরবেন! এখন চয়েজ আপনার! এতে কোন মাফ নাই; একটা পক্ষে আপনাকে যেতেই হবে!

    এরদোয়ান ক্ষমতা রক্ষার কাজটা ঠিক ঠিকভাবেই বুঝেছিলেন। কিন্তু আমরা ?????

    ইউনুস সাহেব, আমাদেরকে দয়া করেন, মাফ করেন! একটা পক্ষ নেন। কারণ আপনি এখন প্রধান ক্ষমতায়!
    জনগণের স্বার্থের মূল ধারক প্রতিষ্ঠানটাই হচ্ছে রাষ্ট্র ও এই রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতায় যিনি আছেন। অর্থাৎ যেটা এখন আপনি। এখন এতে এই বুড়া বয়সে আপনার যদি নির্মম নৃশংসতা ভাল না লাগে তাহলে একটা কেবল ছোট কাজ আছে। কাউকে, ধরেন সেনাপ্রধান বা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এমন কাউকে রাষ্ট্রক্ষমতাকে রক্ষার কাজটা আপনার পক্ষ থেকে অফিসিয়ালি এসাইন করে দেন। আর নিয়মিত ফলাফল কতটুকু হল গেল কেবল সেটুকুর নিয়মিত রিপোর্ট নেন। আর নইলে শেষ উপায় হল, আপনি প্রধান নির্বাহী মানে  প্রধান উপদেষ্টা পদ থেকে সরে আসেন। প্রেসিডেন্ট হতে চাইলে হন। অথবা শুভানুধ্যায়ী হয়ে বাসায় রেষ্ট করেন। কিন্তু দয়া করে বাংলাদেশ রাষ্ট্রক্ষমতাটাকে হাসিনা-মোদির পায়ের নিচে রেখে দিয়েন না।

    পাঠক নিশ্চিয় বুঝতে পারছেন আমি কী বলছি। সরকারী কর্মচারীরা তাদের   এর আগে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যসোসিয়েশেনের বিবৃতি ছাপা হয়েছে। এখন  আপনি ইউনুস সাহেব কী এটা জেনেছেন? 

    অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যসোসিয়েশেনের বিবৃতি

    এটা কোন সরকারী কর্মচারীদের বিবৃতি মনে হয় নাই। মনে হয়েছে এরাই রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী পদের কেউ, মানে প্রধানমন্ত্রী! এমনকি হাসিনা-মোদির যৌথ বিবৃতিও মনে হয়েছে সময়ে!  খোদ বাংলাদেশে যেন তাদের মানি ব্যাগের সম্পত্তি! কিংবা চাকর-বাকর!  ইচ্চছে করলেই যাদেরকে তারা ধমকাতে পারে।  বিবৃতির শুরুটা দেখেনঃ

    কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড,………।।

    মানে কী দাঁড়ালো? ছাত্র-জনতার জুলাই-আগষ্ট্রের আন্দোলন হল রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকান্ড?????  ৫ আগষ্টের হাসিনার পলায়ন ও ৮ আগষ্টে নতুন সরকার গঠনও তো তাহলে মারাত্মক রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড? এমনকি আপনি ইউনুস সাহেব তাহলে  আপনিও সবচেয়ে বেশি অপরাধী কারণ আপনি হাসিনা উতখাত পরবর্তি প্রধান উপদেষ্টা!!!!

    এখন জানতে চাই এই বিবৃতি কী আপনি এখনও দেখেছেন? কোন পদক্ষেপ নিয়েছেন? নাকি যমুনা ভবনে খুন হয়ে যাবার জন্য অপেক্ষা করছেন!!!!!!  রাষ্ট্রক্ষমতার শত্রুদের আগে মারতে হয়, নয়ত নিজে মরতে হয়। সবকিছু শেষ হয়ে যাবার আগে – ক্ষমতা কী – সেটা একটু বুঝেন অন্তত!! নিজেকে রক্ষা করার স্বার্থে!

    এরা  চাকরিরত অবস্থায় অফিসের কাজ ফেলে প্রকাশ্য সমাবেশ করে সরকারকে আলটিমেটাম দিয়েছে। আর ইউনুস সাহেব আপনি উদার – ভেবেছেন না হয় একটু বলেছেই!!!!!
    এরপর সচিবালয়ে আগুন দিয়ে পুরা মন্ত্রণালয়ই সাফা করে দিয়েছে। তাতেই একশন নাই।

    আর তাতে এরা, আপনি ইউনুস সাহেব আপনার ক্ষমতাকেও চ্যালেঞ্জ করেছে!

    এখন??????

     একটাই পথ আমাদের এখন নির্মম “এরদোয়ান একশন” দরকার? অথবা উলটা করে বললে যিনি একশন নিতে পারবেন তিনি হবেন বাংলাদেশের এরদোয়ান; যিনি ওবামাকেও পরোয়া করেন নাই!!!

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  সকাল ৯ঃ ০৭    ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪

  •  “বাংলাদেশে ভারতের কপাল পুড়তেছে” – সুমিত গাঙ্গুলী 

     “বাংলাদেশে ভারতের কপাল পুড়তেছে” – সুমিত গাঙ্গুলী
    গৌতম দাস
    ২৭ ডিসেম্বর ২০২৪  সকাল ১০ঃ ৪১
    https://wp.me/p1sCvy-67F

     

    Sumit Ganguly

     

    চলতি বাইডেন প্রশাসন মানে যার ক্ষমতার আয়ু আগামি ২০ জানুয়ারি ২০২৫,  ট্রাম্পের শপথের মধ্য দিয়ে শেষ হতে যাচ্ছে – সেই বাইডেন প্রশাসনের ফেভরিট মিডিয়া ছিল আমেরিকার “ফরেন পলিসি” পত্রিকাটা; বাইডেন প্রশাসনের গৃহিত নীতি-পলিসি বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে এশিয়ায় আমাদের মত দেশে কী প্রতিক্রিয়া আনছে তা বুঝা ও বাইডেন প্রশাসনের কাছে পক্ষের লোকজনকে পৌছে দেওয়ার জন্য এখানে লেখালেখি করতেন। এই ছিল “ফরেন পলিসি”  এর সাথে এরেঞ্জমেন্ট। আবার এর মাধ্যমে যদি এশিয়ান স্থানীয় জনমতও প্রভাবিত করা যায় সেটাও বাড়তি। যেমন ধরেন এমনই এক থিঙ্কট্যাংক ফেলো কুগেলম্যান; তিনি এখানে প্রতি সপ্তাহে এশিয়াতে বাইডেন প্রশাসনের স্বার্থগুলো কোন দিকে হাঁটছে বা লাইনে আছে কিনা এর আগাম ইঙ্গিত প্রশাসনকে জানাতে নিয়মিত লেখা ছাপতেন তিনি এই ফরেন পলিসি পত্রিকায়।  আরো সুনির্দিষ্ট করে যেমন ধরেন, গত ১০ ডিসেম্বর ২০২২ বিএনপি এক কালজয়ী সমাবেশ করেছিল সায়েদাবাদ-গোলাপবাগ মাঠে; হাসিনার শত বাধা সত্বেও তা উপেক্ষা করে। অথচ এই কুগেলম্যান লিখলেন এটা তেমন কোন সমাবেশই নয়! কারণ, কুগেলম্যান সম্ভবত জানতেন, পরের সাত মাসের মধ্যেই মানে সেপ্টে. ২০২৩ বাইডেন-লু পল্টি মারবেন। বিরোধীদলকে রাস্তায় নামানোর পরে হঠাত তাদের হাত ছেড়ে দিবেন। আর উলটা হাসিনার হাত ধরেই “আমরা একসাথে কাজ করব” বলে হাসিনাকে চিঠি (৫ ফেব্রু.২০২৪) লিখবেন!  আর এসবের আগে, আরেকবার হাসিনাকে (৭ জানু.২০২৪) ভোটচুরির ক্ষমতায় হাসিনাকে আসীনে সহায়তা করবেন। ভোটচুরি দেখেন নাই ভান করবেন!  আশা করি পাঠক এখন বুঝতে পারছেন “ফরেন পলিসি”  কী ও কত প্রকার! তো সেরকমই “ফরেন পলিসি”  তে এমন আরেকজনও  প্রায়ই লিখেন এমন কলামিস্ট ব্যক্তিত্ব হলেন সুমিত গাঙ্গুলী।

    [যারা বিস্তারিত পড়তে চান না তারা নিচের প্যারাটা বাদ দিয়ে পরের প্যারায় চলে যেতে পারেন।]
    সুমিত গাঙ্গুলী নামটা শুনে মনে হতে পারে তিনি ইন্ডিয়ার মানে অন্তত কলকাতায় জন্ম ও বড় হয়েছেন নিশ্চয়! কথাটা আংশিক সত্য! যদিও হ্যা, তাঁর নাম থেকে বুঝা যায় তিনি মানে তাঁর ফ্যামিলি কলকাতার ব্রাহ্মণ কোন পরিবার। কিন্তু  সুমিত গাঙ্গুলীর জন্ম ও বেড়ে উঠা ঠিক কী কলকাতায় বা ইন্ডিয়ায়? না, নেটে খুঁজে তা কোথাও পাওয়া যায় না।  বরং জানলাম তিনি আমেরিকার কেন্টাকি রাজ্যের খুবই সস্তা টিউশন ফি [দানের চাঁদা তুলে চলা বলে] এর এক কলেজ হল Berea College । আর সেখান থেকে গ্রাজুয়েশন-অনার্স  দিয়ে তাঁর একাদেমিক লাইফ শুরু করেছিলেন। আর এখন? এখন তিনি পুরা দস্তুর এক আমেরিকান (ভারতীয় নয়) একাদেমিসিয়ান; আর অন্তত দুডজন ইন্সটিটিউট বা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে তিনি জড়িত।  শুধু আমেরিকান হুভার [Hoover Institution] ইন্সটিটিউট মানে প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কন্ডালিসা রাইস যার ডিরেকটর সেই হুভার ইন্সটিটিউট থেকে সুমিত গাঙ্গুলির যে পরিচয়টা হুভার দিয়েছে সে তথ্য প্রায় আধা পাতা জুড়ে ঠাসা বিশ্ববিদ্যালয় আর ইন্সটিটিউটের নামে। সেই লিঙ্ক এখানে দিলাম আগ্রহিদের জন্য।  তবে সবচেয়ে মজার কথা হল, উইকি যা লিখছে -“Sumit Ganguly is an American political scientist. He is a senior fellow at the Hoover Institution and a professor of political science at Indiana University … “। অর্থাৎ সুমিতের পড়াশুনার ভিত্তি হল পলিটিক্যাল সাইন্স কিন্তু তিনি আমেরিকান (কোন ভারতীয় নন) পলিটিক্যাল সাইনটিস্ট। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় হুভার ইন্সটিটিউটে হান্টিংটন প্রোগ্রাম এর পরিচালক তিনি। আসলে ক্যালিফোর্নিয়ার স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে (খরচ-বাজেটের দিক থেকে নিজস্ব পরিচালনা বোর্ড আছে) এমন যে “হুভার ইন্সটিটিউশন”  যা মূলত এক কনজারভেটিভ থিঙ্কট্যাংক। আর সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ হল, হুভারে তিনি এখানে ইন্ডিয়া-আমেরিকা সম্পর্ক খুবই শক্ত করা যায় কী করলে [Huntington Program on Strengthening US-India Relations] তেমন এক প্রোগ্রাম চালান।
    তবে সম্ভবত আরো বিষ্ময়কর হল ব্লুমিংটন শহরে  যে ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি আছে সেখানে ভারতীয় সংস্কৃতি চর্চার এক টেগোর চেয়ার [নামেই রবীন্দ্র গবেষণা ফান্ড বলতে পারি] এরও বড় কর্তা তিনি।

     

    কেন সুমিত গাঙ্গুলীঃ
    এতক্ষণ ধরে কেন সুমিত গাঙ্গুলীর পরিচয় নিয়ে এত কথা বললাম! এক নম্বর কারণ, তিনি আমেরিকা-ইন্ডিয়ার সম্পর্ক শক্ত রাখার এক গবেষণার বড় কর্তা। আর দুই নম্বর কারণ হল, তিনি ঐ “ফরেন পলিসি”তে গত ১৬ ডিসে. ২০২৪ এক কলাম লিখেছেন যার শিরোনাম হল, “বাংলাদেশে ভারতের কপাল পুড়তেছে” [India’s Fortunes Shift in Bangladesh]। এই একই লেখার বাংলা অনুবাদ করে অবশ্য ছেপেছে আমাদের মানবজমিন ২০ ডিসে. ২০২৪ শিরোনাম, “ঢাকা প্রসঙ্গে বদলাতে পারে ভারতের পররাষ্ট্রনীতি“।

    এখন আমাদের অনেকের নিশ্চয় মনে আছে ট্রাম্পের বিজয়ের পর থেকে মোদির বিজেপি শুধু না খোদ শেখ হাসিনাও খুশিতে নেচে আমাদের ভয় দেখাচ্ছিলেন যে এইবার তাদের ট্রাম্প-ভাইয়া এসে পড়েছেন; আর চিন্তা নাই; তিনি নিশ্চয় এবার মোদিকে দিয়ে বাংলাদেশে হাসিনাকে আবার ক্ষমতায় বসায়ে দিবেন???
    সাথে আরো আছে যে আর চিন্তা কইরেন না তুলসি গাবার্ড [Tulsi Gabbard, এককালে ইসকনের চেলা ও দুবছরের জন্য কংগ্রেস মেম্বার ও ‘র’-এর সাথে কাজ করা]  ট্রাম্প বাবাজি তাঁর নির্বাচনি প্রচার কালে হঠাত করেই তুলসিকে তাঁর দলে ভিড়িয়ে নিয়ে স্টেজে তুলেছিলেন।  দলে ভিড়িয়ে নেয়া বললাম এজন্য যে মোদি যে তুলসি কে চিনতেন তিনি ডেমোক্রাট দলীয়। পরে তিনি ডেমোক্রাট দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। এবং এরপর থেকে ইন্ডিয়া বা র-এর সাথে  তুলসির আর সম্পর্ক আছে কিনা তা জানা যায় না। কিন্তু তবু কর্মিদের চাঙ্গা রাখতে বিজেপি মা মোদি তুলসি আসছে বলে প্রপাগান্ডা শুরু করে দিয়েছে।

    বাংলাদেশে ভারতের কপাল পুড়তেছে – কথার অর্থ তাতপর্য কীঃ
    এমনিতেই মোদির ট্রাম্প ভাইয়া আসতেছে প্রপাগান্ডায় ট্রাম্প আসলে – কী ইন্ডিয়া নীতি – নিয়ে এবার ক্ষমতাসীন হচ্ছেন সেদিকটা মোদি সামনে বা আমাদের জানতে আগ্রহী নন। কিন্তু কঠিন সত্যিটা হল আগামি ২০ জানু ২০২৫ শপথের পরের দিনগুলোতেই ট্রাম্পের ডিপোর্টেশন [deporation] মানে বিদেশি অভিবাসী (শ্রমিক, হোয়াইট কালার সব) খেদানো প্রোগ্রাম শুরু হয়ে যাবে। ইন্ডিয়ার দৈনিকগুলোর শিরোনাম হল প্রথম পর্যায়েই “18,000 Indians At Risk Of Deportation……”  মানে প্রাথমিক ধাক্কায় ১৮ হাজার ইন্ডিয়ানক্র বের করে দেয়া হবে। এটা গত ১৪ ডিসেম্বরের ইন্ডিয়ার প্রধান নিউজ ছিল। তবে এটা মনে করা ভুল যে এটা কেবল ইন্ডিয়ার বেলায়; বরং এটা কমবেশি সব দেশের বেলাতেই সত্য; এমনকি বাংলাদেশি যারা হাসিনার আমল দেখায় এই অজুহাতে আমেরিকা ঢুকেছে তারাও ডিপোর্টেশনের আওতায় আসবেন। আর ওদিকে ল্যাটিন আমেরিকা মেক্সিকো ইত্যাদি তো বটেই এমনকি কানাডার বিশেষ সুবিধা যা ছিল তাতে টান পড়বে (কানাডাকে আমেরিকান রাজ্য হয়ে যেতে বলা) ইত্যাদি এসব কিছু।
    এর সাথে আছে যারা এর আগে আমেরিকায় মাইগ্রেন্ট হয়ে পরে একটা (নাগরিকত্ব নয়) রেসিডেন্ট পারমিট হাতে পেলেই (মানে বসবাস ও কাজে যোগ  দেওয়ার অনুমতি প্রাপ্ত হয়েছে), এরপর এদের কোন সন্তান আমেরিকায় জন্মগ্রহণ করলেই তারা আমেরিকান নাগরিক হয়ে যেত; এই শর্ত এখন ২০ জানু. ২০২৫ থেকে প্রত্যাহার করা হবে।  ফলে বাংলাদেশের যারা আগেভাগে দেশে ছুটে এসে এরা (বিএনপির খেদমতে বিশেষত মিডিয়া জগতে ঢুকে পড়ার জন্য) ডেনপারেট তারা ঠিক হাসিনা পতনের জন্য না ট্রাম্প এসে পড়ছে বলেই তাদের এই আমেরিকা ত্যাগের মরিয়া অবস্থা আর বিএনপির নেতাদের পিছনে লাইন দিয়ে খাড়া হয়ে যাওয়া।  এমনকি H-1B ভিসায় (টেকনোলজি জ্ঞান থাকাদের জন্য যেমন আইটি টেকনোলজি) বিশেষ করে ভারতীয়রা যেমন এতদিন ধরে নিত যে এই H-1B ভিসা থেকে তাদেরকে আমেরিকা সহজে বের করে দিতে পারবে না;  এমন ভিসাধারীরাও এখন একই ভাবে অনিশ্চিত নড়বড়ে হবে। একাজে ট্রাম্পকে বুদ্ধিদাতা আর সবচেয়ে ঘনিষ্ট দোস্ত হল ইলন মাস্ক [Elon Musk] যিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা [AI Tech] টেকনোলজিতে বড় বিনিয়োগকারি।  মানে হল। আইটি প্রোগ্রামার বলে যে পেশাটা আমাদের মত দেশগুলা চিনি এই পেশা বা এরা হল তাদের কাজে প্রোডাক্ট তৈরিতে সবচেয়ে শ্রমঘন লেবার অংশটা  – মানে কোড বসানোর কাজ হল এদের।  আর এটাই এলন মাস্ক মনে করেন AI Tech দিয়ে করানো সম্ভব।   ফলে H-1B ভিসায় টেকনোলজিস্টদের ভারত থেকে আনা আর তত জরুতি থাকবে না।  এই হল ইলন মাসকের দাবি!

    আর এবারের ট্রাম্প প্রশাসনে সবার উপরে  যে মূল নীতি-পলিসি হতে যাচ্ছে এর কেন্দ্রটা হল – টেকনিক্যাল ভাষায় ইকোনমিক ন্যাশনালিজম। [এনিয়ে আমার প্রথম পর্বের ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। পরে আরও দুই ডিটেল পর্ব আসতেছে] । সোজা বাংলায় আমদানি-রপ্তানি কমানো; বিশেষ করে আমদানি; আর সেজন্য অন্য যেকোন দেশের পণ্যের উপরেই নুন্যতম ১০% আমদানি ট্যাক্স বাড়ানো আর চীনের মত দেশের বেলায় নুন্যতম ৬০% ট্যাক্স আরোপের এক অর্থনীতি তিনি চালু করবেন। এক কথায় যাই নিজ দেশের মানুষ ভোগ-ব্যবহার করবে এমন সব পণ্য দেশেই যেন হয় সেই মুখি এক অর্থনীতি! তবে একটা হল সেই কল্পিত আকাঙ্খাটার [imagined aspiration] কথা বললাম। বাস্তবে তা কতদূর কী করা যাবে সেটা আলাদা প্রশ্ন!

    কথাটা শুনে এলেখার বেশির ভাগ পাঠক নীতি হিসাবে এটাকে খুবই ভাল মনে করবেন হয়ত; কারণ আমরা বেশির ভাগ পাঠক আসলে জাতিবাদি – নিজেই কামাবো আর নিজেই খাব এর চেয়ে ভাল আর কী নীতি হতে পারে। ধারণাটা মোটা দাগে এধরণের।  আমরা, আমরা আর আমরাই! কিন্তু আমি সরি; এই নীতি এখন যতই শুনতে ভাল লাগুক না কেন এটা এখন অকেজোই শুধু না বাস্তবায়নও অসম্ভব। স্রেফ এককালের কাগুজে কল্পনা।  বিশেষ করে ১৯৮০ সালের পরে দুনিয়ার অর্থনীতি এ্টা ত্যাগ করে অন্যদিকে চলে গেছে।  এমনই অন্যদিকে যে সেটা আর পুরানা দিনে বা চেহারায় ফেরানো অসম্ভব, ফলে অ-বাস্তবানযোগ্য এক কল্পনা মাত্র।
    কেবল একটা মন্তব্য করব এখানে বিস্তারে যাব না,  কমিউনিজম এর (মার্কসের নয় স্টালিনের বুঝের মার্ক্সবাদি) অর্থনীতি এর বুঝও ছিল ঠিক এটাই। এখন ডোনাল্ড ট্রাম্প যেটা করতে চাইছেন এটা সেটাই। যদিও মিলটা কাকতলীয় মানে, ট্রাম্প কমিউনিস্ট হতে চলেছেন ব্যাপারটা  ঠিক তা নয়। তবে সারকথাটা হল আন্ত-রাষ্ট্রীয় বাণিজ্য অদরকারি জিনিষ!  মনে করা – এমন এই বোকা বোধ! আর একটা লাইনে বলিঃ এর মানে হল, কল্পনা করেন বাংলাদেশ থেকে সব গার্মেন্টস বা লেদার প্রডাক্ট রফতানি বন্ধ ফলে কারখানাও বন্ধ; কিংবা আপনাদের গর্বের পাট রপ্তানি অপ্রয়োজনীয় – এমনটা মবনে করলে যা হবে এটা তাই! বিস্তারে পরে অন্য কোথাও আনবো ইস্যুটা। আর এটাই টেকনিক্যাল ভাষায় ইকোনমিক ন্যাশনালিজম; যেটা ট্রাম্প প্রশাসনের মুখ্য নীতি পলিসি হতে যাচ্ছে। কিন্তু আমাদেরেকে এই লেখার মূল প্রসঙ্গে ফিরে যেতে হবে, ফলে নিচে সেদিকে যাচ্ছি…।

    অর্থাৎ  ইন্ডিয়া -আমেরিকা সম্পর্ক যেটা মুখ্যত ক্রম-উত্থিত গ্লোবাল অর্থনীতির নেতা হয়ে উঠতে চাওয়া চীন, এই চীনকে ঠেকাতে ভারতকে ব্যবহার করা (বিনিময়ে বাংলাদেশকে ইন্ডিয়ার হাতে তুলে দেয়া) – এটাই ছিল এই নয়া শতক ২০০১ সাল থেকে আমেরিকান নীতি। যার আয়ু এখন প্রায় ২৪ বছর; আর এতদিনে এখন আমেরিকান নীতি-নির্ধারণী মহলের অনুভব হল এই নীতি-পলিসি আকামের; এতে কোনই লাভ হয় নাই; সব পন্ডশ্রমে গেছে। তাই ২০০০ সালেরও আগের ইন্ডিয়াবিরোধী (বঙ্গোপসাগর, আন্দামান বা উপরের নর্থ-ইস্ট বা বার্মা ইত্যাদি কেন্দ্রিক) যা কিছু স্ট্রাটেজি আমেরিকার ভাবনায় ছিল (কিন্তু ভারতকে জড়িত করে চীন ঠেকানোর লোভে) পরে  সেসব নীতি কার্পেটের নিচে লুকায় ফেলে রেখেছিল এতদিন আমেরিকা। সেসব নীতি-ইচ্ছা-খায়েশগুলো আমেরিকার এখন বের করে আনছে।

    দুঃখ আর হতাশার কথা সুমিত এখনও কলকাতার হিন্দুত্ববাদী জমিদার ব্রাহ্মণের দৃষ্টিভঙ্গিতেঃ
    উপরে ইন্ডিয়া-আমেরিকা সম্পর্কে যে ব্যাপক পরিবর্তন ট্রাম্প আনতে যাচ্ছেন সে সম্পর্কে সুমিত গাঙ্গুলী টের পেয়েছেন বা জানেন এমন কোন বাক্য বা ধারণার ইঙ্গিত তার পুরা লেখার মধ্যে কোথাও নাই! মূলত াজকের নয়া পরিস্থতিতে মোদি বাংলাদেশের উপর আগের মত আধিপত্য এর কিছুই পাবেন না; সব সে খুইয়েছে। আর এটার কারণেই সুমিতের দেয়া শিরোনাম “বাংলাদেশে ভারতের কপাল পুড়তেছে” এর আসল অর্থ; যদিও তা বুঝে সুমিত এই শিরোনাম দেন নাই। তিনি মূলত বলতেছেনঃ  হাসিনা ইন্ডিয়ার বসানো পুতুল-ক্ষমতা ছিল ফলে ইন্ডিয়ার তাতে সব সুবিধা ছিল কিন্তু হাসিনা এখন উতখাত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন না যে হাসিনা আবার ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন – অতএব একারণেই ভারতের কপাল পুড়েছে।

    সুমিত যিনি প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে আমেরিকায় একাদেমিক জীবনে আছেন এবং বিরাট পদবী ও ক্ষমতায় আমেরিকা-ইন্ডিয়া সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ বলে পরিচিত; অথচ ট্রাম্পের হাত ধরে  আমেরিকা-ইন্ডিয়া সম্পর্ক যে নয়া মোড় উলটা যাত্রা নিচ্ছে; ইন্ডিয়া আর আমেরিকার জন্য অত গুরুত্বপুর্ণ থাকছেনা – (কারণ চায়না কনটেইনমেন্ট  বা গত ২০১০ সাল থেকে নেয়া “চীন ঠেকানোর” আমেরিকান নীতি আজ অকেজো প্রমাণিত) অথচ এদিকটা নিয়ে সুমিত একেবারেই বেখবর? এটা অবিশ্বাস্য এবং এতে তাঁর চিন্তার স্টুপিডিটি বা সীমাবদ্ধতা বাইরে প্রকাশিত! আর এতে ফাইনালি তিনি যে এক ইসলামবিদ্বেষী হিন্দুত্ববাদী জমিদারি আধিপত্যের মধ্যেই আছেন তাও প্রতিভাত!  পঞ্চাশ বছর আমেরিকায় কাটানো একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একাদেমিক  আর  উনার পাশাপাশি একজন যে এই পুরাটা সময় কলকাতা নিবাসী আম-হিন্দুত্ববাদী বাসিন্দা ছিলেন – এমন দুজনকে পাশাপাশি রেখে তুলনা করলে দেখা যাবে  এদের মধ্যে আসলে কোন ফারাকই জন্ম নেয় নাই!!!! অবিশ্বাস্য! ছোট থেকে মা, দাদি-নানির কোলে শুয়ে যে মুসলমানবিদ্বেষী গল্প শুনেছে সেগুলোও একজন আমেরিকা নিবাসী লাগাতর পঞ্চাশবছর রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একাদেমিককে কী এখনও তাড়া করে? কীভাবে? তিনি কীভাবে এসব আবর্জনাকে এখনও তাঁর চিন্তার মূল কাঠামো বানিয়ে রাখতে পারেন???

     পঞ্চাশ বছরের আমেরিকান একাদেমিক লাইফ কাটানো সুমিত বেচারার দুঃখঃ 
    এক. সুমিত লিখছেন, “যারা হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সাহায্য করেছিল তাদের মধ্যে ইসলামপন্থী এবং ভারতবিরোধী দল রয়েছে” ????? আচ্ছা এর মধ্যে অস্বাভাবিক জিনিষটা কী? হাসিনা আর মোদি মিলে যদি বাংলাদেশকে গুম-খুন-অপহরণের আয়নাঘর বানায় রেখে  ১৫ বছর ধরে দেশটা চালায় তো তাতে তো  হাসিনা উতখাতে বাংলাদেশের সব অংশের জনগণের অংশগ্রহণ থাকাটাই স্বাভাবিক; নাকি? ইসলামপন্থি মানে ইসলামি রাজনৈতিক দল হলে এটা অপরাধ হবে? – এটা কেমন বোধ উনার? এটাই তো গভীর মুসলমান ঘৃণা!  কিন্তু উত্তরপ্রদেশের বুলডোজার মুখ্যমন্ত্রী যোগী যাকে ভারতের সুপ্রীমকোর্ট তিরস্কার করেছেন, কাজকে অপরাধের ঘটনা বলে সাব্যস্ত করেছেন অথবা বজরং দলের ততপরতা হলে এসব কী সুনিত দেখতেই পান না?  সব মাফ হাততালি দিবেন উনি? মানুষ হিসাবে নিজের সব ইন্দ্রিয়-বোধ সব ভোতা করে রেখে দিয়েছেন উনি? তাইকি?

    আবার তার আরেক নয়া আবিস্কার দেখেন।
    দুই. তিনি লিখেছেন, “ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে, বাংলাদেশ থেকে অনিয়মিত অভিবাসন সর্বদাই একটি জটিল সমস্যা ছিল-যে সরকারই অফিসে থাকুক না কেন……“।  আমি খুবই সরি, এটা আসলে একটা গাধার বক্তব্য।  অভিবাসন বা মাইগ্রেশন শব্দের  অর্থ উনি বুঝেন না এটা ভাবা আমাদের জন্য কঠিন। কোন একটা দেশ যেমন ইন্ডিয়া তাদের বাড়তি লেবারের চাহিদা থাক আর না থাক সেখানে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের হিন্দুরা প্রবেশ করে বসবাস করে। এখন ১৯৪৭ সালের পর থেকে বাংলাদেশ থেকে হিন্দুরা ভারতে বা মুসলমানেরা বাংলাদেশে আসা – এটা কী কারও শখের অভিবাসন? এটা কে কী অভিবাসন বা ইমিগ্রেশন বলছেন উনি কোন বুদ্ধিতে?  নাকি এটা ফোর্সড বা বাধ্য করার এক সামাজিক অবস্থা।  – যা ১৮১৫ সালের রাজা রাম মোহনের চিন্তাততপরতা থেকে শুরু করে কংগ্রেসের জন্ম ও হিন্দুত্ববাদী ভারত বানানোর ইমাজিনেশন পরিকল্পনারই এক করুণ পরিণতি!!! দ্বিতীয়ত ও সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ ফ্যাক্টস হল,  বাংলাদেশ থেকে মূলত তুলনামূলক অবস্থাপন্ন  হিন্দুরাই ভারতে গিয়েছে অর্থাৎ তারা তাদের সঞ্চিত সম্পদও সাথে নিয়েই গিয়েছে যেটা কলকাতার অর্থনীতিতে বাড়তি পুঁজির সরবরাহের উতস হিসাবে কাজ করেছে। ফলে কোন সংজ্ঞায় – বাংলাদেশ থেকে হিন্দুদের যাওয়া – এটাকে তিনি অভিবাসন বলছেন? আসলে গাধা-গরুর ধরনের চিন্তারও একটা ক্লাস থাকে! আবার ১৯৪৭ এর পরে কলকাতার অর্থনৈতিক পতন হয়েছে পুর্ববাংলা হাতছাড়া হওয়াতে। কারণ পুর্ববাংলার জমিদারেরা তাদের কালেকশন কী ঢাকায় রাখতেন???  না কলকাতায়? এটা বুঝতে কী ডক্টরেট ডিগ্রি লাগে?  আর সেটাই মানে সেই জমিদারিই তো উচ্ছেদ হয়ে যায় পুর্ববাংলা থেকে  পাচার হওয়া সেই বাড়তি সঞ্চিত পুঁজি থেকে বঞ্চিত হয় কলকাতা!!! এখন সুমিত আপনি বলেন, আপনি এজন্য কাকে দায়ী করবেন? এর জন্য দায়ী যারা হিন্দুত্বভিত্তিক অখন্ড ভারত বানাতে চেয়েছিল সেই কংগ্রেস নয় কী? সাহস আছে আপনার? থাকলে চিল্লায় বলেন দেখি?  বুঝা যাচ্ছে যা উনার সাবজেক্ট না, দখল নাই তা নিয়ে তিনি কথা বলছেন!!!

    তিন. তিনি লিখছেন, “…কিছু ভারতীয় প্রতিবেদন বাংলাদেশের মাটিতে পরিস্থিতিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে, কিছু ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ হিসাবে চিত্রিত করা হয়েছে”!  অর্থাৎ তিনি বলতে চাইছেন মোদির এই বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের অভিযোগ – এটাকে তিনি ঠিক মনে করছেন না। ভালো, এটা তিনি বুঝছেন! তাই বলছেন এটা তারা  ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে, তাই কিছু ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ হিসাবে চিত্রিত দেখানোটা ভুল মনে করছেন।

    কিন্তু আবার সেই ঘৃণার লাইনঃ
    লিখেছেন,  “হাসিনা বাংলাদেশের ইসলামপন্থী বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন,
    ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনকে আশ্রয় দেননি এবং ভারতীয় বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে এসেছেন। প্রতিক্রিয়ায়, নয়াদিল্লি হাসিনার অধীনে ঢাকায়  গণতন্ত্রের অভাব উপেক্ষা করতে, ভারতীয় বাজারে প্রবেশাধিকার প্রদান করতে এবং আন্তঃসীমান্ত রেল ও সড়ক যোগাযোগ বাড়াতে ইচ্ছুক ছিল।”
    এর মানে কী এখন বাংলাদেশের “ইসলামপন্থী বাহিনীকে” তাহলে নিয়ন্ত্রণ করছে কে? মোদি??? দেখেন এই লোকের কথার কোন তাল আছে? আবার দেখেন আগে লিখতেছিলেন শুধু ইসলামপন্থী, আর এখন সাথে লিখতেছেন ইসলামপন্থী বাহিনী? সারা দুনিয়াতেই বুশ যদি ওয়ার অন টেরর এর নামে সন্ত্রাস চালায় তো এর প্রতিক্রিয়ায় সারা দুনিয়ায় ইসলামপন্থী বাহিনী বা ইসলামপন্থী  হওয়া ছাড়া আর কী হবে? মানে বাংলাদেশের কেউ বুশের প্রতিবাদ করবে না?   আর বাংলাদেশ কী দুনিয়ার বাইরে?
    এছাড়া আরেকটা মারাত্মক দিক আছে। সুনিত নিজেই বলছেন বাংলাদেশে হাসিনা মোদির সাথে মিলে ঢাকায়  গণতন্ত্রের অভাব উপেক্ষা করেছে – তাহলে এই দোষ কার? আবার মোদি বাংলাদেশকে ইন্ডিয়ার একচেটিয়া বাজার বানিয়েছে আর বিনা পয়সায় করিডোর সুবিধা নিয়ে গেছে – এসব কথা সুমিত নিজেই স্বীকার করছেন। তাহলে বাংলাদেশের মানুষ যেকোন পন্থি হয়ে হাসিনাকে উতখাত তো করবেই, নাকী? তো তাহলে ইসলামপন্থী হওয়াটা অস্বাভাবিক কীভাবে???

    হাসিনা তার শাসন আমলে যত কী তার রাজনৈতিক বিরোধী ছিল তাদেরকে তিনি গুম-খুন আয়নাঘর করেছেন – তাদের গায়ে মিথ্যা ইসলামি জঙ্গীর ট্যাগ লাগিয়ে তাদেরকে নিচা দেখায়ছেন।। মজার কথা হল এটা আমার কথা না। এবার মানে ২০২৩ সালের আমেরিকান সন্ত্রাস বাদ ও প্রতিরোধ রিপোর্ট ২০২৩ যা সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে  এতে বাংলাদেশ চাপ্টারে আমেরিকাই একথা লিখে স্বীকার করেছে।  কিন্তু আমেরিকায় বসে থেকে এই হিন্দুত্ববাদের চেলা কলকাতা বামুন সুমিত গাঙ্গুলী সেটা টের পান নাই; খবর করে নাই! নেন প্রথম আলোর বাংলা করা অংশটাই দিলাম। শিরোনাম দেখেন, …“রাজনৈতিক বিরোধিতাকে সন্ত্রাসবাদ বলে চালিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার“।  আবার এখানে ইংরাজি মূল রিপোর্টটাও দিয়ে রাখলাম সুমিত গাঙ্গুলীর জন্য [Country Reports on Terrorism 2023: Bangladesh] – আমেরিকায় বসে উনি এটা নাও খুঁজে পেতে পারেন!!!

    আসলে এসব সুমিত গাঙ্গুলীরা আমেরিকার জন্যও  কলঙ্ক! এরা এখনও কুয়ার ব্যাঙ হয়ে জমিদার-হিন্দুর বয়ান আগলে ওর উপরে বসে আছে। অথচ সুমিত খোদ আমেরিকান সরকারের বয়ান না পড়ে, আমেরিকাতেই বসে আছে্ন।  আর তীব্র মুসলমানবিদ্বেষী হয়ে আমাদেরকেই ইসলামপন্থী (যারা হাসিনাকে উতখাত করেছে) বলে ট্যাগ লাগাইতেছেন; এছাড়া আমরা নাকি সশস্ত্র এর ইঙ্গিত দিতে  ইসলামপন্থী বাহিনী লিখেছে!!!

    আবার কত নিচা মনের কলকাতার কোন স্টেশনের এক  ফেরিওয়ালা যেন তিনি!!! তাই তার এই লেখা শুরু করেছেন,  কেন বাংলাদেশে পাকিস্তান থেকে বাণিজ্যের মালবাহী জাহাজ কেন বাংলাদেশে ভিড়ল। আবার লিখেছেন …Dhaka has also boosted its acquisition of arms and ammunition from Islamabad। মানে ইউনুস সাহেব পাকিস্তান থেকে নাকি অস্ত্র আমদানি করেছেন। অথচ এই তথ্যের কোন সোর্স কোথাও নাই।  কলকাতার কোন বস্তিবাসীও এমন নাইভ বা ভোতা চিন্তার মানুষও এমন বক্তব্য দিবে না।  অথচ তীব্র মুসলমান ঘৃণা মনে পুষে রেখে স্মিত গাঙ্গুলী –   মুসলমান মানেই খারাপ, মুসলমান মানেই জঙ্গী, মানেই অস্ত্রবাজ এসব হচ্ছে তার বমি!!!! …… সুমিত গাঙ্গুলী একজন স্কলার পেশার লোক এত ঘৃণা আর এত মিথ্যা লিখতে গিয়ে টায়ার্ড হয় না?????

    তবে শেষকথাটা হল, বাংলাদেশে মোদির খবর আছে এইটা যেদিক দিয়েই তিনি বুঝছেন বলে আমাদের জানাইছেন! তাই শিরোনাম দিছেন  [India’s Fortunes Shift in Bangladesh]।

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  বিকাল ৪ঃ ৩২    ২৭ ডিসেম্বর ২০২৪

  • প্রথম আলো পুরানা পথেই; তাহলে সামনে কী!

    প্রথম আলো পুরান পথেই; তাহলে সামনে কী!
    গৌতম দাস
    ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪  সন্ধ্যা ০৬ঃ ৫৫
    https://wp.me/p1sCvy-66Q

     

     

     

     

     

     

     

     

    প্রথম আলো কিছুই বদলায় নাই। মানে শিক্ষা নেয় নাই। আর সে মাপেই তার কথিত ‘কূটনৈতিক প্রতিবেদক” সেও কিছু বদলায় নাই।  রাহিদ-এরা ঝামেলা আছে বুঝলে নাম সরিয়ে পদবী লিখে থাকে। তারা জানে যে এমন কাজ গর্হিত কাজ অপ-সাংবাদিকতা। গত ২১ ডিসেম্বর মানে পরশুদিন এমনই এক কথিত বিশ্লেষণ ছাপা হয়েছে প্রথম আলো তে। শিরোনাম, বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কে নতুন অস্বস্তি সৃষ্টি এড়াতে সচেষ্ট থাকা উচিত এভাবে। প্রথমত ভাসুরের নাম মুখে না নিবার মত করে বলা শব্দ হল অস্বস্তি; মানে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক এর মধ্যে “কোন অস্বস্তি বলে” কোন কিছু আছে তাই বুঝানো হচ্ছে। কিন্তু খাড়া বললে এটা হল ইন্ডিয়া ও মোদি অন্তত  আমাদের “আয়নাঘর” আর বিডিয়ার হত্যা ২০০৯  [এছাড়া আরও কত কী যে অপরাধ আছে] এর সাথে সরাসরি যে সংশ্লিষ্ঠতা আছে তা থেকে বাঁচতে বাংলাদেশের উপর হিন্দু নির্যাতন এর প্রপাগান্ডা দিয়ে ব্যাপক চাপ সৃষ্টির পরিকল্পনা নিয়ে এতদিন আগায় ছিল।যার ভিতরে আচে আবার চিন্ময়-ইসপকন সহ আরো কত কী!!! কিন্তু এসব অপরাধগুলো প্রথম আলো উল্লেখ করতে চায় নাই। তাই ছোট শব্দ অস্বস্তি!    এখন এখানে দেখা যাচ্ছে প্রথম আলো এই সম্পর্কে অস্বস্তি নামক শব্দ টা কী নিয়ে তা বলতে চাচ্ছে না। বরং নিরপেক্ষতার ভান ধরেছে।
    আসলে প্রথম আলো ভারতের স্বার্থের সক্রিয় প্রপাগান্ডা মেশিন হয়ে যেমন ছিল এতদিন ১৬ বছর জুড়ে তেমনই থাকতে চাচ্ছে। মানে কোন শিক্ষা হয় নাই; শিক্ষা নেয়ও নাই।

    বিএনপি (আর তার দেখাদেখি জামায়াতও অনেকটাই) ইন্ডিয়ার দাওয়াত-উস্কানিতে যে বিনিময়ে ইন্ডিয়া তাদেরকে কোলে তুলে নিয়ে ক্ষমতায় বসিয়ে দিবে এমন “নয়া হাসিনা” হবার লোভ সামলাওতে পারে নাই। সেদিকে ছুটছে তো ছুটছেই।  একবারও পিছন ফিরে দেখার কথাও মনে নাই যে খোদ ইন্ডিয়াই বাংলাদেশ থেকে ক্রমশ আউট হয়ে যাচ্ছে; অন্তত  আয়নাঘর ও বিডিআর হত্যাকান্ড এই দুইটা ইস্যুও যদি উল্লেখ করি তাহলেও তো কিছু বুঝা যায়! মানে যা নিয়ে সেনাসদরে বিক্রম সাব আমাদেরকে চাপ দিতে এসেছিল তা এখন পুরাই পাবলিকলি উদাম হয়ে গেছে; কারণ এটা আর হাসিনার বাংলাদেশ নয়। কাজেই চিন্ময়-ইসকন ইস্যু বা কথিত হিন্দু নির্যাতনের প্রপাগান্ডা যা দিয়ে ইন্ডিয়া আমাদেরকে চাপে ফেলে কাজ উদ্ধার করতে, নিজের পাপ-ক্রিমিনালিটি ঢাকতে এসেছিল সেই পাশার দানও উলটে গিয়েছে।
    এর  দুদিন পরেই ইতোমধ্যেই গুম কমিশনের প্রাথমিক রিপোর্ট প্রকাশ হয়ে গেছে যেখানে আয়নাঘর-অপহরণ ইস্যুতে ভারতের সংশ্লিষ্টতা এখন বিবিসিসহ সব দেশি সকল মিডিয়াতেই।  এছাড়া আজ বিডিআর হত্যাকান্ড তদন্তের নয়া কমিশনও গঠিত হয়ে গেছে। আর ইতোমধ্যেই এদুই ইস্যুতেই ইন্টারনাশনাল ক্রাইম ট্রাইবুনালে মামলা দায়েরও হয়ে গেছে।
    কাজেই ভারতকেই এখন রাষ্ট্র হিসাবে আসন্ন এসব ক্রিমিনাল মামলায় সংশ্লিষ্টতা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কেলেঙ্কারি মোকাবিলা কেমন করে করবে সেটাই ইস্যু?  এনিয়ে আসন্ন পরিস্থিতি সামলাবে কী করে সে চিন্তায় মোদির ইন্ডিয়ারই ঘুম হারাম হয়ে যাবে এখন। অথচ প্রথম আলো ও তাদের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের ঘুম ভাঙ্গে নাই।
    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জয়সোয়ালের গলার টোন বদলে গেছে। এটা তো অন্তত কারো না দেখতে পাবার কথা না। তিনি সর্বশেষ এখন বলছেন “দায়ীত্বশীলতার” কথা। বলছেন, “…… আমরা সবাইকে মনে করিয়ে দিতে চাই, প্রকাশ্য মন্তব্য যেন ভেবেচিন্তে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে করা হয়”।

    শুধু তাই না, আগামি জানুয়ারি থেকেই ইন্ডিয়া-আমেরিকান বিরোধ আরো তুঙ্গে উঠবে। ইতোমধ্যেই ইন্ডিয়ার উপর আমেরিকার আরোপিত স্যাংশন আমরা যেন ভুলে না যাই। এর সবকিছুর মানে এই বাইডেন আমলের শেষ কদিন থেকেই সব শুরু হচ্ছে।। মানে হল, হাসিনা সহ সারা ইন্ডিয়ার যারাই তাদের ট্রাম্প ভাইয়া এসে তাদের হাতে আবার বাংলাদেশটাই হাসিনা ও ইন্ডিয়ার হাতে তুলে দিবে বলে প্রকাশ্যেই আশা রেখেছিলেন তাদের অবস্থা কী হবে অনুমেয়! এমনকি আমরা নিজেরাই যদি মোদির ভারতের বিবৃতি দেখি বা অনুসরণ করতে জানি তাহলে দেখব ইতোমধ্যেই মোদির ইন্ডিয়ার আমেরিকার বিরুদ্ধে মোদি ফরমাল অভিযোগ তুলেছেন। বলেছেন “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং শিল্পপতি গৌতম আদানিকে নিশানা করেছে আমেরিকান সরকার”। এটা ৮ ডিসেম্বরের ভারতের মিডিয়ার খবর। যার প্রতিক্রিয়ায় আমেরিকা কড়া ভাবে হতাশা জানিয়েছে।

    আমার অনুমান আগামি জানুয়ারি মাস থেকেই আমেরিকা-ইন্ডিয়া সম্পর্ক তলানিতে ঠেকবে! অথচ এর কোন কোন খবর নাই প্রথম আলো ও তাদের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের। তারা ধরেই নিয়েছেন র-এর অর্থ আসবেই আর তারা বাংলাদেশে বসে ইন্ডিয়ার খেদমত করা লেখা লিখেই চালায় যাবেন – যেন কিছুই বদলায় নাই। বদলাবে না। এবার আগেই এসেছিল ত্রাতা মির্জা আলমগীর! নিজের মান-ইজ্জত বাজি রেখে এর বিনিময়ে খুবই মারাত্মক অভিনয় করে ……আপনারা চিন্তা করতে পারেন বলে তার সেই ডায়লগ ……. আজও ইতিহাস হয়ে আছে। এতে তখনকার মত লাভের লাভে জনরোষ থেকে প্রথম আলো বেঁচে গিয়েছিল।   কিন্তু শেষ রক্ষা হয় নাই।, খোদ মির্জা কেই বাচাতে, উসিলা করে বা যেভাবেই হোক ১২ দিনের জন্য সরে যেতে হয়েছিল। আর রিজভি তিনি কত বড় ইন্ডিয়াবিরোধী সেই ছল-অভিনয় করে হলেও সেই কার্ড শো করতে হয়েছিল। কিন্তু কেউ শিক্ষা নেয় নাই। তাদের কপালে যা আছে তা আমরা দেখব।

    কিন্তু প্রথম আলো নিয়ে কথা বলছি এখানে, তাদের আবার সেই একই কায়দার কু-জার্নালিজম আবার শুরু হয়েছে। শুরুতেই যে লেখাটার কথা বলছিলাম, বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কে নতুন অস্বস্তি সৃষ্টি এড়াতে সচেষ্ট থাকা উচিত, সেটাতে আবার  দালালিশুরু হয়েছে।  লেখার শুরুতেই মাথায় লিখে রেখেছে  এটা নাকি বিশ্লেষণ। কিন্তু ভিতরের বডিতে লেখার স্তাইল সেই পুরানাটাই। গায়েবি রেফারেন্স সুত্রে কথা বলা – এই হল, র-এর দালালির অপ-জার্ণালিজমের বৈশিষ্ট। সেটা এখানেও বর্তমান। তাই এলেখায় অন্তত দুবার লিখেছে বিশ্লেষকেরা বলেছেন; একবার বলেছেন কূটনৈতিক সুত্রে জানা গেছে। আরো একবার বলেছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষক বলেছেন……!!!   এভাবে জার্নালিজমকে পানিতে ফেলে দিয়ে হলেও অর্থ কামাতে হবে, র-এর দালালিই করতে হবে – একাজে প্রথম আলো ও তাদের নানান প্রতিনিধি, বা কথিত কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা আবার ফিরে এসেছে!!! এভাবে এবার আরো কতদিন?
    এবার মির্জা ফকরুল আসবেন না কারণ, আশা করছি আগামি মাস থেকেই সম্ভবত তারা নিজেরাই আছাড় খাওয়া শুরু করবেন!! আর হায় হায় করে উঠে তারা ভাববেন গত তিন মাস কোন গাছে তারা তাদের নৌকা বেঁধেছিলেন? যেই গাছ নিজেই এখন উপড়ে পরে যাচ্ছে……!!!!

    উপদেষ্টা মাহফুজ আলম প্রসঙ্গঃ
    সবশেষে, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম প্রসঙ্গ। রোগ সেই পুরানা কমিউনিস্ট রোগ…! তাতে রোগটা নিজের বা তাদের কমিউনিস্ট গুরুর যারই হোক না কেন তাতে ফলাফল পরিণতি কিন্তু একই!
    বাস্তবের দুনিয়াটা কী?  আর এতে দুনিয়াদারিটা কী ও কেমন এ’সম্পর্কে কমিউনিস্টদের কোন ধারণাই নাই। কোনদিনই ছিল না। আমি অনেকবারই বলেছি, ১৯৪৫ সালের দুনিয়াটায় সবচেয়ে গভীর বদলগুলো কী তা এরা একেবারেই জানে না। তাদের গুরুই স্টালিন-ই জানত না। খেয়াল করেন নাই যে সারা দুনিয়া থেকে কলোনিদখল সব উতখাত হয়ে গেল কেমনে? কোন যাদুতে? আবার  এমনকি স্টালিন; তিনিসহ একাল পর্যন্ত সব কমিউনিস্টেরা মনে করেন দুনিয়া ১৯৪৫ সালের পরে কলোনিমুক্ত হয় নাই। সবচেয়ে আজীব কথাটা হল, খোদ স্টালিন ১৯৪২ সালের ১ জানুয়ারি এক ঐতিহাসিক দলিলে স্বাক্ষর করেছিলেন।  [ততদিনে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের নেতৃত্বের জোটে  স্টালিন হিটলারবিরোধী( এন্ড গং -বিরোধী) এই জোটে যোগ দিয়ে ফেলেছেন] আর ঐ দলিলেই লেখা ছিল যে  হিটলার এন্ড গংয়ের পতন আর এই জোট বিজয়ী হলে নয়া দুনিয়াটা একেবারে কলোনিমুক্ত হয়ে যাবে। মানে যারা রুজভেল্টের পক্ষের শক্তি অথচ যারাই মূলত দুনিয়াতে সবচেয়ে বেশি কলোনিদখলদার দেশ তারাই হিটলারের পরাজয়ের পরে নিজ নিজ দখলদারি ছেড়ে নিজ দখলিকৃত কলোনিগুলোকে আপোষে মুক্ত করে ছেড়ে দিয়ে এরপর সোজা হেঁটে  নিজ নিজে মূল দেশে ফিরে  চলে যাবে। [এভাবেই আর সবার মত বৃটিশ-ইন্ডিয়া মুক্ত হয়েছিল ১৯৪৭ সালে। ] আসতে এই শর্ত বা প্রতিশ্রুতি সব কলোনিদখলদারদের পক্ষ থেকে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিল রুজভেল্টকে দিয়েছিলেন। আর এর বিনিময়ে যুদ্ধের প্রধান খরচের দায়ভার একা আমেরিকা নিজের কাঁধে নিয়েছিল।

    ঘটনা হল, স্টালিন নিজে ঐ ১৯৪২ সালের ১ জানুয়ারির দলিল যেখানে তিনি স্বাক্ষর করেছিলেন তা ডিটেল পরে দেখেন নাই; বলে অনুমান করা হয়। কেবল হিটলার উতখাত হবে – এতটুকুতেই ছিল তার মূল আগ্রহ,  সম্ভবত সেই কারণে। আর ইতিহাসে ১৯৪২ সালের ১ জানুয়ারির ঐ দলিল – এটাই জাতিসংঘের জন্ম ঘোষণার দলিল বলে পরিচিত। ইংরাজিতে [Declaration by the United Nations, January 1, 1942]  আর ঐ দলিলের সারকথা হল, কলোনি দখল হারাম! কোন দুই জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্র কেউ কারো ভুখন্ড দখল বা পুরা দেশটাই দখল করলে ( জাতিসংঘের মোট ১৯৩ রাষ্ট্রের সিংঘভাগ সদস্য রাষ্ট্র দখলকারির বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিবে – ঠিক যেমন অবস্থা শেষ পর্যন্ত হয়েছিল সাদ্দাম হোসেনের কুয়েত দখলে………। সেটাই ঘটবে।  যেকোন দুই রাষ্ট্র যদি তাদের সীমান্ত একসাথে বসে মাপামাপি করে একবার একই দলিল ম্যাপ তৈরি করে নেয়; এরপরে ঐ একই ম্যাপের দুইটা কপি দুই দেশের কাছে থেকে যায় তবে সেই মামলা হবে মারাত্মক! কারণ সেক্ষেত্রে আর কখনও তাদের মধ্যে কোন সীমানা নিয়ে যুদ্ধের সুযোগ থাকবে না।  বৃটিশ ইন্ডিয়াতে বেশির ভাগ সীমান্ত শাসক বৃটিশেরা এমন কমন ম্যাপ করে রেখে গেছে। কিন্তু যেগুলা করদ রাজ্য ছিল সেগুলো বৃটিশেরা এই এলাকা গুলোতে তা করতে পারে নাই এক্তিয়ার ছিল না বলে। তেমনই এক সীমান্ত (করদ রাজ্য কাশ্মীরের অংশ বলে) হল ভারত-চীন এদের লাদাখ এলাকা। যেটা একালে নিজেরা বসে আপোষে করে নিতে হত কিন্তু হয় নাই।

    এখন মূল প্রসঙ্গে প্রবেশ করি – মাহফুজ জানেই (কারণ জানলে করত না) না যে, একজন উপদেষ্টা [সরকারী মন্ত্রী] হওয়া মানে কী? তাঁর প্রতিটা আচরণ উনার ব্যক্তিক আচরণ নয়, বরং রাষ্ট্রীয় আচরণ, সিদ্ধান্ত বলে গণ্য হবে যার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী হবেন এখনকার রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহি যিনি মানে, প্রধান উপদেষ্টা ইউনুস সাহেব!
    মাহফুজ আলম মনের খায়েসে পোলাপান যেভাবে ফেসবুকে কতকিছু করে যার সীমা থাকে না। তিনি বাংলাদেশের বাইরে ভারতের এক বিরাট অংশ সাথে যুক্ত করে এক ম্যাপ ছেপে দিয়েছেন। আবার বলছেন মেলা কাজ নাকি বাকি???? মানে ইঙ্গিত হল সেগুলোও দখল করতে হবে – যেন এর ইঙ্গিত দিচ্ছেন!!!

    আমাদের ভাগ্য ভাল যে এই আচরণের জন্য দিল্লিতে আমাদের রাষ্ট্রদুতকে ভারত সরকার তলব করেন নাই; ব্যাখ্যা চান নাই। কেবল মুখপাত্র জয়সোয়াল তার বিবৃতিতে উল্লেখ করে রেখেছেন!

    কিন্তু কেন হল এরকম?
    কারণ তাদের গুরুরা কমিউনিস্ট; ১৯৪৫ সালের আগেপিছের দুনিয়ার জন্য সবচেয়ে নির্ধারক দুনিয়ার ইতিহাস তারা জানেন না, পড়েন নাই। কারণ স্টালিন-ই ীই দলিলে সই করলেও মনোযোগে পড়ে দেখেন নাই! [এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হল তার নিও-কলোনিজম বলে নয়া নামকরণ করা বা নয়া ভোকাবুলারি এর জন্ম দেয়া] সবচেয়ে বড়কথা জাতিসংঘ! মানে ১৯৪৫ সালের পরে দুনিয়াতে যে একটা গ্লোবাল পলিটিক্যাল সিস্টেম [দয়া করে সিস্টেম শব্দটাকে বন্দোবস্ত পড়বেন না] এটা কোন কমিউনিস্টই এখনও খেয়াল করেছেন জানেন, পড়েছেন – আমি দেখি নাই!  তাদের কথিত “এক সাম্রাজ্যবাদ” বলে এক গালির শব্দ ছাড়া তাদের মাথায় কিছুই নাই। তাও শব্দের ব্যবহারের আগা-মাথা নাই।
    যেমন প্রত্যেক দেশের দেশিয় পর্যায়ে যে পলিটিক্যাল সিস্টেম এটাকেই আমরা নিজ নিজ রাষ্ট্র বলে থাকি!  এমন সদস্য রাষ্টগুলোকে নিয়ে তৈরি হওয়া এক গ্লোবাল পলিটিক্যাল সিস্টেম, এমন প্রতিষ্ঠানের নামই হচ্ছে জাতিসংঘ!  তবে বুঝাবুঝিতে কেবল একটাই সাবধানতা দিয়ে রাখি, জাতিসংঘ ঠিক প্রত্যেক সদস্য রাষ্ট্রের উপরে বাপ-কর্তা ধরনের প্রতিষ্ঠান; ঠিক এমনটা নয়! তাহলেও জাতিসংঘের অনেক বাধ্যবাধকতার অধীনে আমরা, বিশেষ করে যারা আমাদের মত ছোট দেশ!

    সারকথায়, কমিউনিস্টদের কাছে ১৯৪৫ সালের পরের দুনিয়াটা কী? এখানে নয়া কী কী হয়েছে তাতে কী করা যায়; আর কী একেবারেই করা যায় না – রাষ্ট্রের মন্ত্রী দূরে থাক ব্যক্তি নাগরিকও করতে পারে না; সরকারের দায়ীত্ব হয়ে যায় তাকে বাধা দেয়া ইত্যাদি এসব এদিকটা নিয়ে কমিউনিস্টেরা একেবারেই সীমাহীন অন্ধকারে। এগুলো অযোগ্য চিন্তার স্টুপিডিটির অবশ্যই; আর এর কারণে এরকম বিপদে বাংলাদেশও আগে পড়েছে। মজার কথা হল, যেসব কমিউনিস্টেরা এমন কান্ড করে বাংলাদেশকে বিপদে ফেলেছে তারা এতই নাদান যে তারা এখনও ঠিক জানেন না যে তারা কী ও কত বড় অপরাধ করেছে!!!!

    এদেরই কিছু চেলা এখনও আজকাল দেখবেন বাহাদুরি করে লিখে নয়া-উপনিবেশ [ইংরাজিতে Neo-colony]; কেউ কেউ আরো ওস্তাদ। এরা লিখবে বি-উপনিবেশায়ন। ডি-কলোনাইজেশন থিউরি আউরাইবেন। অথচ দুনিয়ায়ে যে একটা গ্লোবাল পলিটিক্যাল সিস্টেম খাড়া হয়ে গেছে; এটা কোথা থেকে কীভাবে ঘটলো এদের খবরই নাই!

    এসবের পরিণতি হল, একেকজন শিষ্য মাহফুজ আলম! মন্ত্রী জানেনই না তিনি কী করতে পারেন না অথবা কী করলে এর পরিণতি কী হয়!!!!!

    যাহোক এলেখায় মূল প্রসঙ্গ হল, প্রথম আলো ও তাদের নানান প্রতিনিধি, যারা আবার একইভাবে র-এর দালালি চালায়ে যেতে শুরু করে দিয়েছেন! কিন্তু সমস্যা হল এবার আর কোন (র-এর হাত ধরে ক্ষমতায় যেতে আগ্রহী ফলে) উদ্ধারকর্তা, মির্জা নামে কাউকে পাওয়া যাবে না!

    আর মাহফুজের কথা লিখতে হল কারণ, প্রথম আলোর লেখাটা শুরু হয়েছিল এভাবেঃ
    “৫ আগস্ট–পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এক টানাপোড়েনের মধ্যে পড়েছে। এমন এক পরিবেশে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি ঢাকায় এসে পররাষ্ট্রসচিব মো. জসীম উদ্দিনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করে গেছেন। দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাসের বিরল এই অস্বস্তি কাটানোর প্রথম ধাপ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে এই সফরকে। পরিবর্তিত পরিস্থিতির নিরিখে সম্পর্কের ইতিবাচক বিবর্তনের এমন এক সময়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারত”।

    সেসব দিন আর একই রকম নাই! তাই এখন বাঁচতে চাইলে প্রথম আলোকে নতুন রাস্তা খুঁজতে হবে! বাকি সিদ্ধান্ত তাদের নিজের! হিন্দুত্ববাদ-চাটা আর এসব অপ-জার্ণালিজম দিকটা বাদ দিলে প্রতিষ্ঠানটা ভাল, সবচেয়ে বড় কথা অনেকজনের মেহনতের ফল এটা!  তবে এটাকে ধ্বংস করে ফেলতে চাইলে কে আর তা ঠেকাতে পারে!!!

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  রাত  ১০ঃ ১৫   ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪

  • ‘দশ ট্রাক অস্ত্র’ নিয়ে একটা একাদেমিক আলোচনা

    কোন রাষ্ট্রে সিভিল আদালতের পাশে সামরিক আদালতও কেন থাকে
    [‘দশ ট্রাক অস্ত্র’ নিয়ে একটা একাদেমিক আলোচনা]
    গৌতম দাস
    ২১ ডিসেম্বর ২০২৪    দুপুর ১২ঃ ১৩
    https://wp.me/p1sCvy-64V

     

     

    ‘দশ ট্রাক অস্ত্র’ মামলা নিয়ে এই আলোচনা, একটা একাদেমিক পর্যায়ের সমাজতাত্বিক আলোচনা। যেমন এর প্রসঙ্গ শুরু করব, একট রাষ্ট্রে কয়টা বিচার বিভাগ থাকে? এখান থেকে!
    এমন প্রশ্ন যে কোন একাদেমিক ব্যক্তিত্ব শুনলেই তিনি বলে উঠবেন এটা তো কোন প্রশ্নই হয় নাই। কারণ, জনগণ সব রাষ্ট্রক্ষমতার উতস -এমন রিপাবলিক বা জনপ্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্র তিনটা প্রধান অঙ্গ থাকে। (প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে) নির্বাহি বিভাগ, ২. আইন সভা বা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিত্বমূলক আইন প্রণয়নের সংসদ আর ৩. বিচার বিভাগ। রাষ্ট্রক্ষমতার মূল অংশ থাকে নির্বাহী বিভাগের হাতে; আর সাথে কিয়দংশ থাকে বাকি দুই বিভাগের কাছে। এখন এই বিচার বিভাগ নিয়ে বিস্তারে কথা তুললে বলতে হয় এর কাঠামোটা আবার সাধারণত পিরামিড ধরনের হয়। মানে সমান্তরাল না। নিম্ন আদালতের রায় ওর চেয়ে উচ্চ আদালতে পর্যালোচনা যোগ্য বা বদলে রিভিউয়ের ক্ষমতা রাখা হয়। আর সবার উপরে থাকে সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগ। সেটাও আবার কয় বিচারক মিলে বেঞ্চ গঠিত এবিচারে ফুল বেঞ্চ এর উপরে আর কিছু নাই। এভাবে!
    যেহেতু যেকোন পর্যায়ের আদালতের রায় ওর উপরের আদালতের আবার পর্যালোচনাযোগ্য রাখা হয়; যার লক্ষ্য অনিচ্ছার ভুল বা অবিচার ঘটে যাবার সম্ভাবনা কমানো। এছাড়া বিচারক ভেদে একই ধরনের অপরাধে দুই ধরনের শাস্তি যেন না হয় তাই পেনাল কোড ব্যবহার করা হয় যেখানে অপরাধ ও শাস্তি দুটাই যতটা সম্ভব আগাম সংজ্ঞায়িত করে রাখা হয়; ইত্যাদি এসব খুটিনাটি অনেক দিকই আছে।  এছাড়া নিম্ন আদালতকে সুপ্রীম কোর্টের ব্যবস্থাপনার অধীনে এবং নজরদারি-তদারকিতে রাখা হয়। এসবের কারণেই বিচার ব্যবস্থাটা পিরামিড কাঠামোর হয়ে যায়।  এসব বিষয়ে আইনজ্ঞরা আরো ভাল ভাল দিক তুলে ধরতে পারবেন। এই হল একটা দেশের একক বিচার বিভাগ এবং তা পিরামিড কাঠামোর এমন বিচার বিভাগ।

    যে কোন রিপাবলিক রাষ্ট্রেই মোটাদাগে উপরের এই ভাগেই রাষ্ট্রক্ষমতা বিন্যাস্ত  থাকতে দেখা যায়। কিন্তু এবার একটা ব্যতিক্রমের কথা বলব। সেটা হল এতসব কিছুর পরেও প্রত্যেক রাষ্ট্রেই আবার সিভিল আদালতের বাইরে একটা করে সামরিক আদালত (Martial Court) থাকতে দেখা যায় যেখানে, মূলত প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের কাজ-ততপরতা ও শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয়গুলো বিচার (court Martial) করা হয়। এবং সবচেয়ে বড় কথা এটা ঐ দেশের রাষ্ট্রীয় সিভিল বিচার বিভাগের এক্তিয়ারের বাইরে রাখা হয়। অর্থাৎ সামরিক আদালতকে পিরামিড কাঠামোর সিভিল বিচার বিভাগের ভিতরে কোথাও রাখা হয় না।  কেন?

    মূল সংজ্ঞাটা সোজাঃ
    আপনি যদি রাষ্ট্রীয় সিভিলিয়ান কর্মী হন তবে আপনি কোন সংজ্ঞায়িত অপরাধে জড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে প্রথমে নিজ বিভাগের [জনপ্রশাসনের যে বিভাগের অধীনে কর্মচারি আপনি সেই বিভাগের জন্য গঠিত শৃঙ্খলা কমিটি] অধীনে বিচারের মুখোমুখি হতে হয় যেটাকে সংক্ষেপে অনেক মিডিয়া শুধু “বিভাগীয়” বিচার শাস্তি বলে লেখা হয়। এমনকি  কিন্তু একইভাবে আপনি যদি কোন প্রতিরক্ষাবাহিনীর সদস্য হন  অথবা ঘটনা বা অপরাধের বিষয়টা রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষাবিষয়ক হয়  সেক্ষেত্রে পুরা বিচার শাস্তির প্রক্রিয়াটাই সামরিক আদালতের এক্তিয়ারে সম্পন্ন করা হয়ে থাকে।

    কিন্তু কেন?
    একটা সোজ উদাহরণ দিয়ে বলা যাক। একজন সৈনিক রাষ্ট্রের সুরক্ষা-প্রতিরক্ষার কাজ করতে গিয়ে কাউকে খুন করে ফেলেছে।  এখন এর বিচার কী সিভিল আদালত দেখবে?

    একটা হাইপথিটিক্যাল বা কল্পিত ঘটনা- মামলা নেই। পদ্মা সেতু নির্মাণের সময় সেখানে [ধরা যাক] প্রচুর ভারতীয় র-বাহিনীর ট্রেইন লোক [যারা বাংলা বলতে পারে না, ভাঙ্গাবাংলা বা হিন্দিতেই কথা বলে] তবে যারা তথ্য সংগ্রহে পারদর্শী; এদের  দিনে-রাতে এমন লোকেদের আনাগোনা ঐ এলাকায় বেড়েছে দেখা গেল! তাদের উদ্দেশ্য হল, ব্রীজ নির্মানের কনট্রাক্টর চীনা কোম্পানি এখানে আবার কী করতেছে এটা নিয়ে ইন্ডিয়ার কালো মনে সন্দেহ এর হাল করা। তাই ইন্ডিয়া রিস্ক নিয়ে হলেও এসব তথ্য সংগ্রহে পারদর্শী লোক পাঠিয়েছিল। বলাই বাহুল্য এমন ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশই বিরাট শাস্তিযোগ্য ও অবৈধ কাজ। এর উপর আবার  মনে রাখতে হবে, আমাদের সরকার ঐ নির্মিয়মান সেতু অঞ্চল-এলাকাকে আগে থেকেই কী-পয়েন্ট ইন্সটলেশন [Key-point instalation বা কেপিআই] বলে ঘোষণা করে রেখেছিল। এই টার্মটার সংজ্ঞা হল রাষ্ট্র যেকোন নির্মাণ-স্থাপনা-কে নিজ রাষ্ট্রস্বার্থের জন্য প্রতিরক্ষা পর্যায়ের গুরুত্বপুর্ণ বলে গণ্য করেছে, এমন ঘোষণা করতে পারে। তাই কেপিআই এলাকা মানে হল যা সামরিক নিয়ন্ত্রণে পাহারা এলাকা হয়ে যাবে সেটা। যেমন আপনার কোন ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় প্রবেশ ও ততপরতা সীমিত করে দেয়া হয়। কেবল উপযুক্ত পরিচয় ও অনুমতি সাপেক্ষেই সেখানে প্রবেশ করা যায়। এককথায় ঐ এলাকাটাতে কোন বিদেশি অন্তর্ঘাতমূলক [subversive activity] কাজে বাধা ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা। [subversive শব্দটা অপরিচিত শুনালেও এর অর্থ কঠিন কিছু নয়। sub মানে অধস্তন অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বকে অমান্য করা; নিচা বা খাটো-অধীনস্ত করে দেখা। আর এমনটা দেখে আমরা শঙ্কিত হই যে রাষ্ট্র ও জনগণের জন্য ক্ষতিকর যেকোন কাজে লিপ্ত হওয়া এখানে ঘটতে পারে। ইন্ডিয়ান ‘র’-এই প্রতিষ্ঠানটা বাই-ডেফিনেশন  ইন্ডিয়ার বাইরে অন্তর্ঘাতমূলক [subversive activity] সংগঠিত করার জন্য প্রতিষ্ঠিত!
    এখান আসেন ঐ পদ্মা সেতু কেপিআই এলাকায় র-বাহিনীর ট্রেইন লোককে  সন্দেহজনক ততপরতা রোধ করতে গিয়ে আমাদের সেনাবাহিনী তাকে ধরা যাক হত্যা করে ফেলেছে। তাহলে এখন প্রশ্ন হল যেহেতু হত্যা মামলা তাহলে এটা নিয়ে কী আমাদের সিভিল আদালতে ৩০২ ধারায় মামলা রুজু করা হবে? করা যাবে?  জবাব হল, কোন মতেই হবে না। যেতে পারে না।  আবার প্রায় একই ধরনের ঘটনায় বাংলাদেশের সাথে কোন (কল্পনা করে বলছি) যুদ্ধে  আমাদের সৈনিকেরা যদি প্রতিপক্ষের সৈন্য হত্যা করে ফেলে সেক্ষেত্রেও কী ঘটনাটা হত্যার  যেহেতু তাই আমাদের সিভিল আদালতে আমাদের সেনাদের বিচার হবে? প্রশ্নই আসে না। এমন হলে আর রাষ্ট্র থাকার দরকার কী?  আমাদেরই প্রতিরক্ষা বাহিনী আমাদেরি রাষ্ট্র সুরক্ষা করতে গেছে আর আমরাই সেজন্য তাঁকে আমাদের সিভিল আদালতের মুখোমুখি করবো?????? এটা ত মাথার দোষ থাকলেও কাউকে করতে দেয়া যাবে না!

    কথা লম্বা না করে সারকথাটা বলে দেই। প্রথমত আমাদের দেশরক্ষা করতে গিয়ে আমাদের সেনাদের হাতে বিদেশি কেউ যদি আহত-নিহত হয় সেটা আমাদে সিভিল আদালতে তোলাই যাবে না। কারণ এক. ওরা বিদেশি এবং শত্রুপক্ষ বলে; মানে আমাদের দেশের নাগরিক নয় বলে। এমনকি আমাদের দেশে ভ্রমণে আসা বিদেশি ব্যক্তি  আহত-নিহত হলেও আমাদের সিভিল আদালতে এর বিচার হবে; সেটা হলেও। কারণ এদুইটা একই ধরনের ঘটনা নয়। এককথায় বাংলাদেশের ভুখন্ডে যেকোন হত্যা অপরাধ হওয়া মানেই তা আমাদের সিভিল আদালতের বিচার্য বিষয় বা এক্তিয়ারে নাও আসতে পারে।  কথাটা আরেক দিক থেকে বললে, ঘটনা যদি রাষ্ট্রের সুরক্ষা-প্রতিরক্ষাবিষয়ক হয় সেক্ষেত্রে যেমন, আমাদের একজন সৈনিক রাষ্ট্রের সুরক্ষা-প্রতিরক্ষার কাজ করতে গিয়ে কাউকে খুন করে ফেলে থাকে এটা সিভিল আদালতের এক্তিয়ারের বাইরের ঘটনা হবে। এনিয়ে যদি কিছু করতেই হবে সেটা সামরিক আদালত তাদের বিবেচনা ও এক্তিয়ার অনুসারে যা করার করবে।
    এখানে প্রুডেন্ট একটা খুব গুরুত্বপুর্ণ ধারণাঃ
    প্রুডেন্ট [Prudent]  বা বাংলায় একে বিচক্ষণ বা দুরদর্শী বলতে পারি; এখন প্রুডেন্ট জাজ  বা বিচক্ষণ বিচারক বলে  বা [juris-prudence বলে যে উপ-সাবজেক্ট ডাক্তারদেরও পড়তে হয়] একটা কথা আছে। বিচক্ষণ জাজ বলতে মূলত যে বুকিশ [bookish] নয়; মানে বইয়ে পড়া কোন ধারণা পেলেই তা সাধারণ আক্কেলজ্ঞান বা বুদ্ধিবিবেচনা ছাড়াই যে প্রয়োগ করতে যায় না! যে আইন দেখলে বা জানলেই চোখ বন্ধ করে তা প্রয়োগ করে না অথবা যেকোন মামলা তার সামনে আনলেই তিনি তা বিচারে বসে যান না।  তা না করে বরং এর সুদুর প্রসারি দিক অথবা পারিপাশ্বিক অন্যান্য বিষয়ও যিনি বিবেচনায় আনেন এরপর বিচারে বসেন তিনি প্রুডেন্ট জাজ। প্রুডেন্ট জাজ বুঝতে পারেন কোন মামলা তাঁর গ্রহণ করাই উচিত না।

    এবার আসি ‘দশ ট্রাক অস্ত্র’ মামলায়ঃ
    এবার আসি ‘দশ ট্রাক অস্ত্র’ মামলায়; সম্প্রতি (১৮ ডিসে. ২০২৪) ‘দশ ট্রাক অস্ত্র’ মামলা নিয়ে  [ডেথ রেফারেন্স বিষয়ক] এক মামলার রায় প্রকাশিত হয়েছে। বলা যায় রাজনৈতিক প্রভাবিত হয়ে  গত ১৬ বছর ধরে চলা বাংলাদেশের আদালত ব্যবস্থা চর্চা হাসিনা উতখাতের পরে এবারই প্রথম  এনিয়ে প্রথম একটা রায় দিল। অনেকের সাজা কমানো হয়েছে, অনেককে খালাস ইত্যাদি দেয়া হয়েছে নতুন রায়ে। কিন্তই সেসব দিক এখানে আলোচনার বিষয়বস্তু নয়।

    মূলত এখানে এটা একটা একাদেমিক আলোচনাঃ
    হা ঠিক তাই, এটা একটা একাদেমিক আলোচনা। সুনির্দিষ্ট কোন মামলা নিয়ে নয়। তবে বাস্তবের উদাহরণ হিসাবে ‘দশ ট্রাক অস্ত্র’ মামলাকে সময়ে রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে। বলা যায় এটা একটা লিগাল-একাদেমিক [legal-academic] আলোচনা। আর অনুমান করি,  ফরমাল আদালতে পেশ করা ডকুমেন্টে খুব সম্ভবত সেখানে চোরাচালান শব্দটা আছে। [আমি নিজে দেখিনাই ফলে আমি নিশ্চিত নই।] কোন কোন মিডিয়া রিপোর্টিংয়ে শব্দটা আছে এভাবে যে “দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান” মামলা এটা।  আসলে এটাই এই মামলায় সব রহস্যের গোড়া!
    যেমন এর মানে কী, এটা চোরাচালানের অপরাধ? এভাবে চোরাচালান না বললে এটাকে অপ্রাধ বলা যাচ্ছে না তাই?  – ‘দশ ট্রাক অস্ত্র’ মামলা – এটা কেন মামলা হতে পারল, এখানে অপরাধ টা কী? কেন সেটা অপরাধ – এটাই এই আলোচনার বিষয়বস্তু।

    কী অপরাধ ঘটানোর জন্য এই মামলাঃ
    প্রথম আলোর রিপোর্ট অনুসারে, “.….. ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল সিইউএফএল ঘাট থেকে আটক করা হয় ১০ ট্রাক ভর্তি অস্ত্রের চালান। এ নিয়ে কর্ণফুলী থানায় ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন ও ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে চোরাচালানের অভিযোগ এনে দুটি মামলা হয়। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পুলিশ দুটি মামলা একসঙ্গে তদন্ত করে। এর বিচারও একসঙ্গে শুরু হয়। অস্ত্র আইনে করা অন্য মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ হয় একই আসামিদের।

    সরকারী মামলা দেওয়ার ক্ষেত্রে সাথে বাড়তি ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা দেখা যাচ্ছে দেয়া হয়েছে তাহলে এর অর্থ হল, মামলাকারি সরকার পক্ষ নিশ্চিত হতে চাইছেন যে -মূল যে অভিযোগে মামলা – তা যদি কোন ত্রুটির কারণে প্রতিষ্ঠাই না করা যায় তবে তাতে যে আসামি খালাস হয়ে বের হয়ে না যায় তাই এই ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা সাথে দিয়ে রাখা হয়েছে বলে মনে করা হয়। অর্থাৎ যে মামলাটা দেয়া হয়েছে এর  মূল অপরাধ হল, অস্ত্রের চোরাচালান।  খোলাখুলি বললে অস্ত্রের চোরাচালানি মানে চোরাচালানি ব্যবসা বা ব্যবসার উদ্দেশ্যে চোরাচালানি পণ্য দশ ট্রাক ভর্তি অস্ত্রপাতিকে দেখা বা গ্রহণ করা এক জিনিষ; যেটাকে আমরা অস্ত্রের চোরাচালানি কাজ বলতে পারি। কিন্তু এটা আর ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন – এদুইটা সামঞ্জস্য নাই। কারণ অস্ত্র আইন টা লেখা হয়েছে বা এটা ডিল করে ব্যক্তি বা কিছু ব্যক্তিবর্গ যদি অস্ত্র হেফাজতে রাখে, বহণ করে, কারও উপর ব্যবহার করে এবং সর্বোপরি সেই অস্ত্রগুলো যে বিনা লাইসেন্সের হয়ে থাকে। ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন মোটামুটি এধরণের মামলাগুলোকে ডিল করার জন্য বানান।
    দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা আর ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন  এদুটোর মধ্যে মৌলিক ফারাক হল, প্রথমটা বাংলাদেশে বিক্রি, ব্যবহারের জন্য নয় তৃতীয় দেশে পাচার বা বিক্রির উদ্দেশ্যে। অর্থাৎ এখানে চোরাচালানি পণ্যটা কী সেটার চেয়ে এটা তৃতীয় দেশে চোরাচালানি – সেটাই মুখ্য। আর একটা দিক হল, এই অস্ত্র বাংলাদেশে বিক্রি বা ব্যবহার এর উদ্দেশ্য নয়। সোজাকথায় এই মোটিভ-গুলোই আসলে বলছে এই মামলা ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন এর অপরাধ হিসাবে পড়ে বা সামলানো বা কাভার করার যায় এমন নয়।  কারণ, অস্ত্রের চোরাচালান সামলানীর জন্য ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন রচনা করা হয় নাই।

    অস্ত্রের চোরাচালান সামলানীর জন্য ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন রচনা করা হয় নাই।

    এটা এই আইনি দুর্বলতার কথা, মামলাদাতা সরকার ও সরকারি লোকেরা জানতেন তা বুঝাই যায়। সেজন্যই কী চোরাচালান শব্দটা জুড়ে দিয়েছেন? কিন্তু দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা কী শ্রেফ একটা চোরাচালানি মামলা?
    এমনিতেই “চোরাচালানী রোধে” – সুনির্দিষ্ট করে অস্ত্রের চোরাচালিনী – এবং তাও আবার বাল্ক [bulk] মানে পাইকারি চোরাচালানির বিরুদ্ধে কোন আইনের কথা আমরা জানি না। সারকথায় দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন দিয়ে কাভার করার দিক থেকে খুবই ছোট। কারণ, এটা পাড়ার একটা ছেলে কয়েকটা পিস্তল কিনে এসেছে বিদেশ থেকে তেমন ঘটনা বা মামলা নয়।
    আর এটা সরকার বা মামলাকারিদের কর্তাদের না জানার কথা না।  তাহলে সমস্যাটা কোথায়???

     

    কী ধরনের আইনি মামলা এটা তা সাব্যস্ত করতে মূল সমস্যাটা কোথায়ঃ
    এটাই হল মূল রহস্য।
    দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা – এটা মূলত রাষ্ট্রের সুরক্ষা-নিরাপত্তা [State Security] সংক্রান্ত মামলা। এটা  সেসময়ের সরকার ও সরকারী কর্তারা সকলেই জানতেন। এটা বুঝতে পারা কঠিন কিছু নয় যে এই অস্ত্র আনার মোটিভ বাংলাদেশে এর বিতরণ একেবারেই নয়। বাংলাদেশের বাইরে কোন বিচ্ছিন্নতাবাদি রাজনৈতিক গোষ্ঠির হাতে পাঠানোর জন্যই তা আনা হয়েছিল। যেটা সরাসরি বাংলাদেশের রাষ্ট্রস্বার্থ, এর  সুরক্ষা-নিরাপত্তা [State Security] হতে পারে এবং সেসুত্রে কিছুটা তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সবমিলিয়ে এসব অর্থে রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা ইস্যু। অতএব এই মামলা বাংলাদেশের সিভিল আদালতে তোলার মত কোন মামলাই নয়। আর এনিয়ে যদি কোন ক্রিমিনাল অপরাধ হয়েছে বলে মনে হয় তবে সেটা আমাদের  সামরিক আদালতই দেখবে আর সেটাই এর সঠিক এক্তিয়ার হত। অথচ ইন্ডিয়া হাসিনাকে ক্ষমতায় বসানোর গ্যারান্টার তাই পুরা মামলাটাকেই সিভিল আদালতে ফেলা হয়েছে। যাতে ইচ্ছা মত এটাতে মোচড় দেয়া যায়!

    অথচ যেখানে এই মামলায় অপরাধ টা আসলে কী? এর সদুত্তর নাই। 

    অথচ যেখানে এই মামলায় অপরাধ টা আসলে কী? এর সদুত্তর নাই।  রাষ্ট্র যেখানে নিজ রাষ্ট্রস্বার্থের প্রয়োজনে দেশের বাইরে আরেক স্থানে অস্ত্র পৌছে দিতে কী পারবে না??? এটাকে অপরাধ হিসাবে সিভিল আদালত দেখবে কোন এক্তিয়ারে? অস্ত্রের চোরাচালান মানে কী চারপাঁচটা পিস্তল নিয়ে এসে নিজ রাজধানী শহরে গুন্ডামি করতে দেয়া  – এটা কী এমন কোন মামলা???

    বাস্তবতা হল, পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদি আন্দোলন আছে আর তাতে ইন্ডিয়া সহায়তা করে থাকে বহু যুগ থেকেই। পাকিস্তানও এর পালটা সেই পাকিস্তান আমল থেকে ভারতের নর্থ-ইস্টে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনগুলোকে সহায়তা দিয়ে থাকে! পাকিস্তানে চীনের [৪০ বিলিয়নের উপরে বিনিয়োগ] গোয়াদর প্রকল্প চলছে যার অনেক অংশ চালুও হয়ে গেছে। সেখানে চীনা উইঘুর সন্ত্রাসবাদীদেরকে দিয়ে প্রশ্রয় দিতে হামলা করিয়ে ১৩ জন চিনা ইঞ্জিনিয়ার মেরে ফেলা হয়েছে। যার পিছন থেকে সহায়তা করেছে আমেরিকা ও ইন্ডিয়া !!! এই হল অভিযোগ।  সারকথায় পরস্পর শ্ত্রুদেশ পরস্পরের দেশের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠিওগুলোকে সহায়তা করার টিট ফত টেট ধরনের ততপরতা এগুলা।

    এগুলো সিভিল আদালতে বিচার্য বিষয়ক মামলাই নয়ঃ
    তাই মূলত এগুলো সিভিল আদালতে তুলে বিচার্য বিষয়ক মামলাই নয়। রাষ্ট্রস্বার্থে রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা-নিরাপত্তা [State Security] সংক্রান্ত ঘটনাবলী এগুলো।  রাষ্ট্র সেকাজে কী নীতি নিবে তা সিভিল আদালতের এক্তিয়ার হতেই পারে না। এই গভীর বিবেচনা এতটুকু প্রুডেন্ট বিচারক তার মানে কী আমাদের নাই???? কারও এই পয়েন্টা মাথাতেই এলো না যে এগুলো কী সিভিল আদালতে তোলার মত মামলা??

    ঠিক যেমন ইন্দির গান্ধীকে ১৯৭৫ সালে আমাদের পাহাড়ীদেরকে আমাদের সরকারের বিরুদ্ধে ট্রেনিং দিয়ে অস্ত্র হাতে বাংলাদেশে উস্কানি দেয় নাই। শেখ মুজিব মরার পরে কাদের সিদ্দিকীর বাহিনীকে ট্রেনিং-অস্ত্র দিয়ে ইন্দিরা কী বাংলাদেশে [subversive activity] তে আমাদের পাবলিক যাত্রী-রেলের পাতি তুলে নিতে পাঠায় নাই? তখন এই আদালত এর মুরুব্বিরা  কোথায় ছিল? তার কিইবা করার ছিল? কী প্রতিকার করেছিল? তারা দেখে নাই শুনে নাই এসব ইতিহাস?

    কাজেই আমাদের আবেদন আমাদের আদালত অন্তত একটু প্রুডেন্ট হোক, সেই চর্চায় আলোকপাত করুক!

    আবার আরেকটা হতে পারে যেমন,   পররাষ্ট্রনীতিতে যেমন ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ একমতের একটা চুক্তি করল, যে তারা একে অপরের দেশে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনকে সহায়তা কার করবে না। কিন্তু সেক্ষেত্রেও লক্ষ্যনীয় এটাও আদালতের ইস্যুই নয়।

    কাজেই আদালত প্রুডেন্ট হলেই সেটা বাস্তবে মহামান্য আদালত হয়ে উঠতে পারে!!!

    এসব বিবেচনা থেকে এসপ্তাহের রায়ে প্রকাশিত বিচার রিভিউটাতে যদি পুরা  (দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা) মামলাটাই খারিজ করে দিতে পারত তবে সেটা বোধহয় বুদ্ধিমানের কাজ হত। নইলে যেমন ধরেন,  এধরণের কাজ তো ভবিষ্যতে আমাদের রাষ্ট্রস্বার্থে করতে হতেও পারে। তখন কী তেমন উতসাহী সাহসী সৈনিকদের কে কী আমরা পাবো??? এখন সেসব কাজের জন্য আমাদের সৈনিকদেরকে যদি সিভিল জেল খাটতে হয় এটা তো খারাপ উদাহরণ, আত্মঘাতি!  সাহসী সৈনিক গড়তে কী কষ্ট তা আমাদের অনুমান করা কী কঠিন?? সেখানে আময়ার এক ডিসকারেজিং উদাহরণ রেখে দিচ্ছি!!! তাই না কী? এই মামলায় অনেক গোয়েন্দা বিভাগের সিনিয়ার অফিসারকেও জেল খাটতে হয়েছে। এটা কাউন্টার প্রডাকটিভ। যদিও এমন প্রধান অফিসারও আছেন যারা অর্থের বিনিময়ে বিক্রি হয়ে এই তথ্য সংশ্লিষ্ট দেশে পাচার করে হারাম-আয় করেছেন। সেটা যতটুকু সত্যি-মিথ্যা যাই হোক, এসবও দেখা সামরিক আদালতের এক্তিয়ার!

    আমরা কী সবাই যার যার স্তরে একটু প্রুডেন্ট হতে পারিনা, পারবোনা কেন!! এই দেশটা তো আমাদেরই!!!

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  দুপুর ০২ঃ ০৭   ২১ ডিসেম্বর ২০২৪

     

  • “আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা নেই”

    “আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা নেই”
    গৌতম দাস
    ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪  রাত ১০ঃ ৪০
    https://wp.me/p1sCvy-65f

     

     

    “আওয়ামী লীগের নাকি  নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো বাধা নেই” এমন ফতোয়া মন্তব্য করেছের নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার। বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে রংপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয় মিলনায়তনে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার বিষয়ে মতবিনিময় সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

    ছাগল দিয়ে ধান মারাই হয় না। এটা বহু পুরানা প্রবাদ। সেই অবস্থা হয়েছে বা করেছে বদিউল আলম মজুমদার। ছাগলের মুরোদ থাকে না ধান মারাই এর মেহনত করার!  নামের পিছে একটা ডক্টরেট থাকলেই তিনি সবকিছু করা বা বলার যোগ্য হয়ে যান না। এটা তো উনার নিজেরই জানা না থাকার কোন কারণ নাই। এছাড়া যে ব্যক্তির নিজের সামর্থ সম্পর্কে কোন স্বচ্ছ ও নির্মোহ ধারণা থাকে না – এটা তো নিজের সাথেই অসততা!!!  সব সমাজেই এমন ঘাটের মরা দুচারজন আসলে থাকেই!!!
    তাবু ইউনুস সাব কথিত এক “নির্বাচন সংস্কার কমিশনের” প্রধান তাঁকেই বানিয়ে দিয়েছেন।  যার পিছনের কারণ অথবা উনার এমন নিয়োগ পাবার যোগ্যতা ক্রেডেনশিয়াল কী?  যোগ্যতা একটাই উনি বদিউল এক এনজিও দোকানের মালিক!!!
    এমনিতেই, এনজিও জগতে যারা ম্যাটেরিয়াল বা বস্তুগত জিনিষ যেমন যেকোন ত্রাণ সামগ্রী বা জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী অথবা এমন কি মাক্রোক্রেডিট (ক্ষুদ্র ঋণ) এমন ফিজিক্যাল জিনিষ বিলি করেন এরা তবু একটা “পদের”  হয়।  কিন্তু যারা চাপা মেরে খায় মানে যা মনে চায় কথা বেচে খায় ; যেমন ধরেন এককালে (আশির দশক পর্যন্ত) ভুমিহীন সংগঠিত করাও একধরেণের এনজিও ততপরতা মানা হত যা এখন একেবারেই বন্ধ; ওর পিছনের অর্থদাতা (ইউরোপীয় সোশাল ডেমোক্রাট রাজনীতিক মারা গেছে) নাই তাই। অর্থাৎ এরাও গরীব মানুষকে
    বস্রংতুগত কোন ত্পুরাণ দিলেন না, চাপাবাজি ছাড়া।  আর এর বদলে আমেরিকার সৌজন্যের আরেক ধরনের চাপা বিক্রেতা এনজিও হাজির হয়েছে। তিনারা নাকি আমাদেরকে জনপ্রশাসন (পাবলিক এডমিনিষ্টেশন) শিখাবেন। যার আরো উপরে মেকআপ দিয়ে চেহারা ছুপানী ভাষ্যটা হল এরা নাকি সুশাসন এর ফেরিওয়ালা। এরাও মনে করে রাজনীতি ছাড়া সুশাসন বিলি করা সম্ভব। এমন কী তাহলে রাষ্ট্র বুঝাবুঝির কী হবে? রাষ্ট্র বুঝাবুঝি ছাড়াই গুড গভর্নেস (সুশাসন) – এটা কায়েম করা কী সম্ভব, তাহলে?? গভর্ণ [govern] মানে তো শাসন। তো তাহলে রাষ্ট্র কী, রাজনীতি কী? আপনি বদিউল বুঝেন?  বুঝলে তো আপনি চিন্তাচর্চার কোন পাঠচক্র বা কোন রাজনৈতিক গ্রুপ কিংবা চাইলে একটা রাজনৈতিক দলই খুলে বসেছেন, দেখতাম! নাকি!!!!  অথচ রাষ্ট্র কী, রাজনীতি কী বুঝাবুঝির খবর নাই; আর  এসব না বুঝেই আপনি বদিউল সুশাসন নামে এনজিও দোকান খুলে বসেছেন? আপনি মানুষকে কী বিতরণ করবেন?  আপনার মাথায় তো কোন মাল-ই নাই! কত কী যে দেখব?
    তো আপনি কী করবেন? অরেঞ্জ রেভেলিউশন? জর্জ সোরেস? ওপেন সোসাইটির ফান্ড? সেই মুরোদও আপনার নাই! দেখা যাচ্ছে আপনি যা পারেন তা হল গুম, খুন, অপহরণের রাষ্ট্র কায়েমকারি হাসিনা লীগের রাষ্ট্র – এই হল আপনার সুশাসন-বোধ???? এনজিওও এর টাকা কী মজা তাই না!!!  আপনার মুরোদ হল তৃতীয় শ্রেণীর আওয়ামি দূঃশাসনের, এমন খুনের রাষ্ট্রের দালাল হওয়া!   
    আর তাই  আপনি চিন্তার স্টুপিডিটিতে ভাবছেন এটা লিবারেলিজম! অতএব   আপনি দাবি করেছেন, “আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো বাধা নেই”।

    আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো বাধা নেই বলে মন্তব্য করেছের নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার। বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে রংপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয় মিলনায়তনে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার বিষয়ে মতবিনিময় সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

    রংপুরে নির্বাচন সংস্কার কমিশন প্রধান

     

    আগামিতে আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো বাধা আছে কিংবা নাই – এটা দেখতেই কী ইউনুস সাহেব বদিউলকে নিয়োগ দিয়েছিলেন।

     

    আসলেই এসব একেকটা বদিউলে্রা কোথা থেকে জনসমাজে উদয় হয়??? সরকারের উচিত এমন ব্যক্তিত্ব এরা যেন আর কখন জনস্বার্থ বিষয়ক কোন কাজে জড়িত হওয়া বা কাছাকাছি হওয়া চিরদিনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়! 

    কাজেই এখন প্রধান উপদেষ্টা ইউনুস সাবের জন্য কাজটা একেবারেই সোজাঃ
    ইউনুস সাহেবকে  এখন জনগণের সামনে জানাতে হবে, যে তিনি  বদিউল আলম মজুমদার কে কী কাজের জন্য নিয়োগ দিছিলেন? সেই ট্রার্মস এন্ড কন্ডিশনে কী ছিল? তা জনগণের সামনে এসব এখন উন্মুক্ত করতে হবে। আর দেখাতে হবে যে সেখানে এবিষয়ে ঐ চুক্তিপত্রে কী লিখাছিল? আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো বাধা আছে কিনা সেটা যাচাইয়ের জন্যই কী বদিউল কমিশন? এনিয়ে আমরা জনগণের অংশ নিজেরা যাচাই করতে চাই এটা কীভাবে সম্ভব হল!!
    আর একই ভাবে বদিউল আলম মজুমদার কেও দেখাতে হবে (তার কনট্টাক্ট বা নিয়োগ ডকুমেন্ট ) এর কোন অধিকার বলে তিনি এই মন্তব্য করেছেন যে  “আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো বাধা নেই”। এটা কী তার ম্যান্ডেট? তার এক্তিয়ারভুক্ত কাজ ও মন্তব্য?

    জনগন জানতে চায়।   আর সবার আগে অবিলম্বে ইউনুস সাবের উচিত নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান পদ থেকে  ড. বদিউল আলম মজুমদার এর নিয়োগ বাতিল ও প্রত্যাহার করে নেওয়া।

    অবিলম্বে ইউনুস সাবের উচিত নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান পদ থেকে  ড. বদিউল আলম মজুমদার এর নিয়োগ বাতিল ও প্রত্যাহার করা।

     

    বদিউল সাবের কথা অনুযায়ী কী তাহলে এখন কোন আদালত হাসিনা বা আওয়ামি লীগকে আগামি নির্বাচনে নিষিদ্ধ ধরনের কোন শাস্তি আর দিতে পারবে না? উনার কথিত কমিশন হাসিনা লীগকে এসব থেকে একেবারে খালাস করে দিয়েছেন কী?
    অবস্থা এখন যেন এমন যে বদিউল সাব একেবারে বিচার বিভাগের উপরেও এক মাতবরি রায় ঘোষণা দিয়েছেন!!!!!
    বদিউল আলম মজুমদার – তিনি আসলে যে কী হয়ে গেছেন, যার কোন আর সীমা নাই! তিনিই সব……।  অথচ এমন যেকোন মন্তব্য করার এক্তিয়ার তাকে কে দিয়েছে???

    তাঁকে এসবের জবাবদিহিতার অধীনে এখন আনতে হবে। এটাকী কোন ষড়যন্ত্র? বদিউল কী এর অংশঃ
    মূল সমস্যা আসলে ইউনুস সাবের মনগঠনে; দেখা যায় এনজিও এর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিত্বের প্রতি তাঁর বাছবিচার-হীন আনুগত্য-পছন্দ!  এরই প্রচন্ড ক্ষতিকারক ফল এখন সারা বাংলাদেশের উপর।
    এই ড. বদিউল আলম মজুমদার এন্ড গং এদের উত্থান এরশাদ আমলের স্থানীয় সরকার প্রশাসন কেমন হওয়া উচিত এ’সংক্রান্ত পরামর্শক কনসালটেন্ট হিসাবে নিয়োগ পেয়ে সেসময় তারা হাজির হয়েছিলেন। প্রশাসন কী জিনিষ আর বিশেষত “ম্যানেজমেন্ট” যা এখানে বিশেষত রাষ্ট্র পরিচালনা এই অর্থে ম্যানেজমেন্ট – এই প্রসঙ্গে; অথচ এসব ব্যক্তিদের এনিয়ে কোনই মৌলিক জ্ঞান-ধারণাই নাই। আর সেকারণের আজকের বাংলাদেশে যে দলবাজির প্রশাসন এর কাঠামোগত ভিত্তি তৈরি  হয়ে গিয়েছে এর আসল নায়ক এক বদিউল সাব। আর উনার সাথে আরো ছিল ডঃ তোফায়েল আহমেদ (সাবেক জনপ্রশাসনের শিক্ষক ঢাবি )। এরাই একটা শ্লোগান এনেছিলেন – “পিপলস পার্টিশিপেশন” – “জন-অংশগ্রহণের প্রশাসন” ।  এটা করতে গিয়ে এই বিজ্ঞরা একেকটা জেলাশহর যেন এমপি দেরকে বন্ধক দিয়ে দেবার ব্যবস্থা করেছিলেন। যেহেতু এমপি মানেই জন নির্বাচিত ফলে উনার হাতেি সর্বময় ক্ষমতা দেয়া মানে যেন ওটাই সেই  “পিপলস পার্টিশিপেশন”  এর প্রশাসন ; এই ছিল তাদের গাধা-গরু মার্কা কনসালটেন্সি চিন্তা।
    অর্থাৎ কেউ জন-নির্বাচিত হলে তাকে আর কোন জবাবদিহিতা বা কোন স্থায়ী (স্টাটিটুরি) আইন কনষ্টিটিউশন ইত্যাদির অধীনে আনার আর দরকার নাই। কার্যত সেজন্য জন-নির্বাচিত শব্দের মানে হয়ে গেছিল সাক্ষাত ভগবান; যা বোধহয় কোন রাজার আমলেও রাজারও এমন হুইম [খেয়ালি] শাসন-চিন্তা ছিল না! আর এতে ডিসি হয়ে উঠেছিল এই সাক্ষাত ভগবানের ক্ষমতার আড়ালে নিজ যথেচ্ছাচার!  যেমন খাস জমি কীভাবে বিতরণ হবে এর যে সরকারী বিজনেস রুল আছে তা পালনের দায় এই জন-নির্বাচিত প্রতিনিধির নাই!  আর ডিসি তো ভগবানের আড়ালে, ফলে ত্রাও আগে যতটুকু জবাবদিহিতা ছিল এখন তাও নাই। এই ছিল বদিউল-তোফায়েলের জনপ্রশাসন এর উন্নতমানের জ্ঞান!!! বাইরে থেকে এটাকের আবার আমরা আওয়ামি লীগের ক্যাডার প্রশাসন বলে চিনে; আর বদিউল-তোফায়েলেরা থেকে যায় আড়ালে! সব দোষ হল রাজনীতিবিদ-দের; এনজিও মালিকদের প্রপাগান্ডাও এতে সবল হয়!
    এসবই হল প্রাক্তন পেটি-চিন্তার কমিউনিস্টদের বোধ-বুদ্ধি বা তাদের প্রভাবে বেড়ে উঠা চিন্তার স্টুপিডিটি। যেন আমলা এটা খুবই একটা খারাপ শব্দ। আমলা শব্দটা পজিটিভ ছিল। অর্থ স্কিল্ড – পোড় খাওয়া বা দক্ষ প্রশাসক। অথচ এই ধারনাটাকে তারা উলটে দিয়েছেন। দুনিয়ার সৎ লোক মানেই যিনি জন-নির্বাচিত??? এমনকি তারও কোন দক্ষতার দরকার নাই যেন!!!!

    ঠিক সেই কাজটাই তিনি এখানেও করেছেন। একটা কাজ কাউকে করতে দিলে এর কী কী এক্তিয়ার তাঁকে দেয়া হয়েছে সেদিকে এদের মনোযোগ নাই।  এটাই যেকোন পেটি-চিন্তার মৌলিক বৈশিষ্ট!   এমনকি টার্ম-কন্ডিশনে না বলা থাকলেও যিনি প্রুডেন্ট [prudent] তাঁর তো নিজেই বুঝা উচিত কোনটা করলে সেটা তাঁর এক্তিয়ারের বাইরের কাজ (সেটা নিয়োগবিধিতে উল্লেখ থাক আর নাই থাক) বলে বিবেচিত হবে। অথচ সেই আক্কেল ইনাদের কে আল্লায় দেয় নাই। এনজিও এর দকান খললেই এরা সব একেকজন দ্বিগগজ সবজান্তা হয়ে উঠেন!!!
    দুর্ভাগ্য আমাদের জনগোষ্ঠির!!!

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   রাত ১১ঃ ১৯     ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪
    সর্বশেষ   আপডেটঃ   রাত ১২ঃ ২৩     ২০ ডিসেম্বর ২০২৪

  • আমার অনুমান সত্য করে, ইউক্রেন ইস্যুতে ইউরোপের সরকারগুলোর পতন শুরু হয়েছে

    Faruk Sobhan
    6h 

    All reactions:
    সাইফুল ইসলাম, Mazharul Islam Roni and 206 others
    25 comments
    1 share

    Mazharul Islam Roni

    দাদা, ইউরোপের এই সরকার পতনে বাংলাদেশের উপর কোন প্রভাব কি পড়বে!?
    Author

    Faruk Sobhan

    Mazharul Islam Roni এমনি এমনি তো ইউনুসের ডাকে ২১ রাষ্ট্রদুত (মোট ২৭ সদস্যদের জোট এটা) ঢাকায় এসে ইউনুসের মিটিং করতে আসে নাই!!! আর সারাহ কুকের কথা তো বলেছিই………
    • Like

       

    • Reply

    5

    <img role=”presentation” src=”data:;base64, ” width=”18″ height=”18″ /><img role=”presentation” src=”data:;base64, ” width=”18″ height=”18″ />

    Omi Ashraf

    Faruk Sobhan দাদা আমেরিকার ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা প্রধান তুলসি গাবার্ড কি সংখ্যালঘু ইস্যু নিয়ে মোদির সাথে মিলে মিশে বাংলাদেশ কে চাপে রাখবে। আর ট্রাম্প কি ওই ইস্যুতে মোদিকে ব্লাঙ্ক চেক দিবে

    Faruk Sobhan

    এখন দয়া করে আমাকে আবার চীনাপন্থি বানায় দিয়েন না, দোহাই লাগে। ঘুর্ণিঝড় আসছে এটা প্রেডিক্ট করে কোন আবহাওয়াবিদ। এর মানে আবহাওয়াবিদ ঘুর্ণিঝড় আনার দালাল নয়, বা ঘুর্ণিঝড়ের দালাল কেউ নয়!

    আগের দিনে এমন ছিল যে কোন রাজা রাজধানী থেকে দূরে কোন যুদ্ধের প্রান্তে প…

    See more
    • Like

       

    • Reply
    • Edited

    23

    Author

    Faruk Sobhan

    বাইডেনের ক্ষমতায় আসার পরে (২০২১) পরিকল্পনা ছিল ইউক্রেন কে সামনে রেখে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ সামনে খাড়া করতে হবে যার পিছনে থাকবে আমেরিকা-ইইউ এর যৌথতা। লক্ষ্য ১। রাশিয়াকে রক্ষা করতে চীন পাশে এসে দাঁড়াবে আর সেই সুযোগে চীনের উত্থান এই অর্থনীতিক নেতা একে যুদ…

    See more
    • Like

       

    • Reply
    • Edited
    ফান্স জার্মানি এরপর?
    Faruk Sobhan replied
     
    1 Reply

    6 hours ago
    দাদা আপনার আন্তজাতিক বিশ্লেষণ অত্যন্ত চমৎকার, আপনি অনেক আগে থেকেই বলে আসছেন যুক্তরাষ্ট্র তার মোড়লিপানার শেষ প্রান্তে আর চীন সূপার পাওয়ার এই বাস্তবতা মেনে নিতে বিশ্বকে প্রস্তুত হতে হবে।
    • Like

       

    • Reply
    • Hide

    2

    <

    Md. Ehsanul Kabir

    দাদা, তাহলে ভারতের সম্ভাব্য আচরন কি হতে পারে চায়না ইস্যুতে? আরাকান আর্মির পিছনে আসলে কারা? চায়না না ভারত?
    • Like

       

    • Reply
    • Hide
    Faruk Sobhan replied
     
    5 Replies

    3 hours ago

    Mojumder Mohi Mohi

    দাদা,
    আমাদের দেশের কথা বলুন,
    জগৎ সেঠ,উমি চাঁদ দের উকি যুকি দেখছি😭😭
    • Like

       

    • Reply
    • Hide
    <img role=”presentation” src=”data:;base64, ” width=”18″ height=”18″ />

    Shahzada Ahsan Habib

    রাইট
    • Like

       

    • Reply
    • Hide

    Saiful Islam

    অনেক ঝুঁকি ঝামেলার মধ্য দিয়ে ইউরোপকে যেতে হবে। ১৫ বছরের বেশি হয়ে গেল এদেশে আছি, মার্কিন নির্বাচনের পরে ব্যবসা পরিস্থিতি যেখানে দাঁড়িয়েছে তাতেই বুঝতে পারি। বিভিন্ন প্রফেসর এবং অনেক গুণীজনদের সঙ্গে নির্বাচনের আগ থেকেই কথা বলেছি, তাঁরা যে ধারণা দিয়েছ…

    See more
    • Like

       

    • Reply
    • Hide

    Abdul Wazed Fahim

    দাদা জেলেনেস্কি কি ইউরুপের সাদ্দাম,গাদ্দাফি ভার্শন?সাদা চামড়া ত পুতিন ও তাহলে হুয়াইট সুপ্রিমেসি জিনিস টা সে কেনো অন্যভাবে নিলো?
    • Like

       

    • Reply
    • Hide

    Rahat Mahfuj

    ট্রাম্প আসলে এই যুদ্ধ যুদ্ধ খেলাটা বন্ধ হবে আশা করা যায়।
    • Like

       

    • Reply
    • Hide
    Faruk Sobhan replied
     
    1 Reply

    11 minutes ago
    জার্মানিতে আস্থা ভোটে হারলেন চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজ
    PROTHOMALO.COM
    জার্মানিতে আস্থা ভোটে হারলেন চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজ

    জার্মানিতে আস্থা ভোটে হারলেন চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজ

    • Like

       

    • Reply
    • Remove Preview

    6

    <img role=”presentation” src=”data:;base64, ” width=”18″ height=”18″ /><img role=”presentation” src=”data:;base64, ” width=”18″ height=”18″ />
    ফ্রান্সে সরকারের পতন, তীব্র রাজনৈতিক সংকট
    PROTHOMALO.COM
    ফ্রান্সে সরকারের পতন, তীব্র রাজনৈতিক সংকট

    ফ্রান্সে সরকারের পতন, তীব্র রাজনৈতিক সংকট

    • Like

       

    • Reply
    • Remove Preview

    7

    <img role=”presentation” src=”data:;base64, ” width=”18″ height=”18″ /><img role=”presentation” src=”data:;base64, ” width=”18″ height=”18″ />

    Facebook

    Facebook

    Facebook

    Facebook

    Facebook

    Facebook

    Facebook

    Facebook

    Facebook

    Facebook

    Facebook

  • কংগ্রেসী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর কান্ধে – গুম-খুনের চটের ব্যাগ না হিন্দুত্ববাদ!

    কংগ্রেসী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর কান্ধে – গুম-খুনের চটের ব্যাগ না হিন্দুত্ববাদ!
    গৌতম দাস
    ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪  বিকাল ০৪ঃ ১০
    https://wp.me/p1sCvy-64l

    ভুল করেন না। ইনি ইন্দিরা গান্ধী নন। ইনি ইন্দিরার ছেলে রাজীব গান্ধীর মেয়ে মানে, ইন্দিরার নাতি প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। রাহুল গান্ধীর ছোট বোন!
    “বাংলাদেশ কে হিন্দুও আউর ঈসাইও কে সাথ খড়ে হো” 

     

     

    বাংলাদেশের কমিউনিস্ট ও প্রগতিশীলদের ধারণা হল একালের মোদি হয়ত খারাপ (হিন্দুত্ববাদী) কিন্তু কংগ্রেস হল একেবারে খাঁটি। এরা সেই নেহেরুর-গান্ধীর আমল থেকেই কংগ্রেসিরা এক্কেবারে প্রগতিশীল! এমনকি নেহেরু তো নাকি সমাজতন্ত্রী ছিলেন?? শুধু তাই না আরও আছে – এরা সেকুলার, অসাম্প্রদায়িক, জাতীয়তাবাদী,  সমাজতন্ত্রী আরও কত কীই না!
    যেমন ধরেন বাংলাদেশে এ’ধরণেরই সমাজতন্ত্রী- প্রগতিশীল একেবারে প্রতীক লোকটা; এমন লোকটা বাংলাদেশে কে? খুব সম্ভবত তাঁর নাম কমিউনিস্টেরা বলবে তিনি হলেন এমিরেটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

    কদিন ধরে ভাবছিলাম এই প্রগতিশীলকে একটু ফুটা করে দেয়া দরকার।  কারণ ইনিই হলেই বিবৃতিবাজ এক নম্বর। প্রগতিশীল-সমাজতন্ত্রী বিবৃতিবাজ বুদ্ধিজীবীতার একনম্বর! আজকাল কিছু ইসলাম-পছন্দ পত্রিকাও দেখি তাঁর লেখা নিবার জন্য লাইন ধরেছে। তিনি এতই  প্রগতিশীল-সমাজতন্ত্রী বিবৃতিবাজ বুদ্ধিজীবী। ইনার নাম থাকে বিবৃতিতে সবার উপরে। কারণ উনার নাম প্রথমেই দেখা গেলে পরে; এরপরে হুটোপটি লেগে যায় কার আগে কে সেখানে নিজের নাম ঢুকাতে হুমড়ি খেয়ে পড়বে!!!
    আড় ইনাদের চোখে কংগ্রেস! ও কংগ্রেস? কংগ্রেস তো হল তাদের সেকুলার এর প্রতীক! কংগ্রেসকে দেখেই তো এই সেকুলার শব্দের জন্ম, এমন অবস্থা! মানে মুসলমান কোপানোর সবচেয়ে যুতসই ধারালো কুড়াল হল – এই কথিত সেকুলার-ধারণা। পড়াশুনা না করা এই ডক্টরেট ডিগ্রীধারীরাই বাংলাদেশে এসব ‘সেকুলার’ সার্টিফিকেট বিলিয়ে বেড়ান।

     

    কিন্তু এরাই আবার কখনও মোদি, আরএসএস-বিজেপি বা তাদের জাগরণ মঞ্চ, কিংবা সনাতনি মঞ্চ, একালের ইসকন এসব সম্পর্কে একেবারে মুখ বন্ধ! মুখে কঠিন তালা দেওয়া। চিন্ময়-ইসকন ইস্যুতে উনারা যেন মৃত!

     

    যাই হোক, সেই প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা! বঢরা নামের এইঅংশটা স্বামীর টাইটেল সুত্রে। ঠিক যেমন হাসিনার নামে ‘শেখ’ থাকার কথা না কারণ ওটা বাপের টাইটেল; আর তিনি সাথে এক সময় স্বামীর টাইটেল ‘ওয়াজেদ’ লিখতেন – এটা তেমনই। 
    উপরের ছবিতে প্রিয়াঙ্কা কাঁধে যে চটের ব্যাগটা সেটাই আলোচনার কেন্দ্র ও বিষয়বস্তু। ওখানে হিন্দিতে (অল্প কোথাও ইংরাজিতেও লেখা আছে )  –বাংলাদেশ কে হিন্দুও আউর ও ঈসাইও কে সাথ খড়ে হো -। মানে হল বাংলাদেশের হিন্দু আর খৃশ্চানদের পক্ষে দাঁড়াও!  

    এখানে চটের ব্যগে ইংরাজিতে লেখা আছে – STAND for MINIRITIES OF BANGLADESH

    অনেকের কাছে মনে হতে হতে পারে, এ আর এমন কী? ভারত সরকারই তো এমন বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন হচ্ছে বলে প্রপাগান্ডায় ভরায় ফেলেছে। সরি, মহাশয়েরা আপনারা মারাত্মক ভুল করলেন।

     

    কংগ্রেস হল পবিত্র আর জিন্নাহ হল পাপী! কংগ্রেস মানে গান্ধী-নেহেরুরা হল পবিত্র, সেকুলার সমাজতন্ত্রী। 

    এই বক্তব্যের অন্যতম পাহারাদার হলেন সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীরা।
    কিন্তু পাঠকদেরকে সাবধান হতে হবে, মিথ্যা থেকে বের হতে হবে – বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন হচ্ছে এই দাবি কিন্তু মোদি ও বিজেপি সরকারের। কিন্তু লক্ষ্য করেন,  মোদি সরকারের দাবি কে মেনে নেওয়া কংগ্রেস এর (সাথে সিপিএম অথবা মমতার তৃণমুল) জন্য বাধ্যতামূলক নয়।

    অথচ আমরা দেখছি রীতিমত চটের ব্যাগ বানিয়ে একে পোস্টারের মত কাঁধে নিয়ে কংগ্রেসিরা সংসদে মিছিল করছে, ফটো সেশনও! মোদি আর কংগ্রেস একাকার! হিন্দুত্ববাদী!!!!!

     

    মোদি কেন এই মিথ্যা প্রপাগান্ডার পথেঃ
    আবার মোদি কেন এই মিথ্যা প্রপাগান্ডা করার পথ ধরেছে? কারণ, বাংলাদেশের হাসিনা আমলের দুইটা ঘটনাঃ
    এক. এখন জানা যাচ্ছে- গুম, খুন অপহরণ ও আয়নাঘর ঘটনায় ইন্ডিয়ার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ আছে!  হাসিনা ইন্ডিয়ার সাথে মিলে এমন আয়নাঘর ততপরতা এমনকি অপহৃত ব্যক্তিকে ইন্ডিয়ার উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার মত কান্ডও ঘটিয়েছে এরা যৌথ ভাবে!!!!
    দুই. ২০০৯ সালের বিডিআর ম্যাসাকার ও আমাদের সৈনিক-অফিসারদের হত্যার সাথে ইন্ডিয়ার সংশ্লিষ্টতা প্রকাশ হয়ে পড়তে পারে!

    এদুই ঘটনাকে চাপা দিতেই বাংলাদেশের উপর প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি এটাই মোদি সরকারের কৌশল ও লক্ষ্য। তাই কথিত এই হিন্দু নির্যাতনের প্রপাগান্ডা।

    তাহলে এখন দাড়ালো কী?
    দাড়ালো যে মোদির বিজেপি আর কংগ্রেস এই প্রশ্নে ভাইভাই!  তাদের ভারত-মাতা কে রক্ষার স্বার্থে কাঁধে ব্যাগ উঠিয়ে নিয়ে মিথ্যা কথা লেখা ও এর মিথ্যা প্রপাগান্ডা – এটাই কংগ্রেসি অপ-ততপরতা!  এই হল কংগ্রেসের পবিত্র সেকুলার ও সমাজতন্ত্রী আচরণ! যেখানে আমরা বাংলাদেশিরা হলাম পাপী – আমরা পাপী মুসলমান বা তাদেরকে সমর্থনকারী!!!

    কাজেই সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে  প্রগতিশীল-সমাজতন্ত্রী বিবৃতিবাজ বুদ্ধিজীবী গণ আপনারা বিবৃতি দিবেন কবে? সেই অপেক্ষায় থাকলাম!!!

     

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ বিকাল ৪ঃ ৪৯   ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪

  • আমি কী কমিউনিস্ট?

    আমি কী কমিউনিস্ট?
    ৮ ডিসেম্বর ২০২৪ [ফেবু-তে পাবলিশ]
    এখানে তুলেছি ১৬ ডিসেম্বর ২০২৪
    গৌতম দাস
    https://wp.me/p1sCvy-626

     

    Faruk Sobhan
    4 days agoShared with Public

    Public

    আমি কী কমিউনিস্ট?

    All reactions:
    Shoriful Islam Shanto, Tanvir Rahman and 143 others
    47 comments

    Faruk Sobhan

    ২। আমি বহুবার লিখিত ঘোষণা দিয়ে বলেছি – আমি কমিউনিস্ট নই। বরং আমাকে বড় জোর “কমিউনিস্ট ক্রিটিক” বা পর্যালোচক ডাকা যেতে পারে। (তা না ডাকলেও আমার অসুবিধা নাই) তবে আমার লেখা বইয়েও সেকথা আছে। সেখানে বলেছি খোদ কার্ল মার্কসের লেখা না পরে যারা সেকেন্ডারি (স্তালিনের) বই পড়েছে মানে খোদ স্তালিন যেভাবে এমন মার্কসবাদী হয়েছেন – এখান থেকে কমিউনিস্ট না হতে, সাবধান হতে বলেছিলাম। কিন্তু কোন লাভ হয় নাই।
    ৩। আমার বুয়েটের ক্লাসমেট দের সবাইকে এড়িয়ে চলতে চলতে এখন তো ফোনও ধরি না। কারণ ২০২১-২৩ সাল ছিল আমাদের ব্যচের সকলেরই সচিব, রাষ্ট্রদুত এমডি, প্রকল্প পরিচালক, কনসালটেন্ট ইত্যাদি হওয়া শেষে রিটায়ার্ডে যাবার কাল। ফলে চোখ বুঝে তারা সব ন্যাংটা হয়ে হাসিনার পা চাটতে শুরু করেছিল। অবসরের আগে যা খেয়ে নেয়া যায় এর মচ্ছব! ফলে তারা তাদের সভায় আড্ডায় আম্মাকে ডাকে নাই বা বাম-হাতে ফুল দিবার মত করে ডেকেছে আর আমিও তাই দাওয়াত পেলেও হয়ত এভয়েড করেছি। এখন হাসিনা খতম ফলে বিপদে পড়ে সবাই ছুটছে আমার কাছে – গৌতম, এখন আমাদের কী হবে বল? তাই আমি এখন একেবারেই তাদের কল এভয়েড করি!
    ৪। গত পরশু এমনই এক (হিন্দু) ক্লাসমেট (ডাকনামটা অন্যের কাছাকাছি বলে খেয়াল না করে ধরে ফেলেছি) যে আবার ভারতকে দেয়া এক করিডোর প্রকল্পে জড়িত! এদিকে প্রকল্প তো এখন বন্ধ। কথা কিছুক্ষণ চলার পরে সে আমাকে “চীনের দালাল” বলায় ফোন রাখতে হল।
    ৫। এই শতকের শুরু থেকেই আমার ঘনিষ্ট একটু ছোট ভাইয়ের মত, আমার বাসায়ই থাকত ইত্যাদি সেও প্রপাগান্ডা করে যে আমি নাকি চীনের দালাল বা চীনপন্থি। অথচ আমিই সেই লোক যে বাংলাদেশে সবাইকে বলেছি – পন্থি দিয়ে রাজনীতি ব্যাখ্যার দিন গত হয়েছে; সেই ১৯৯১-২ সাল থেকে।
    সবার আগে আদর্শ বা ইডিওলজি দিয়ে চিন্তার ক্যাম্প কল্পনা করে নিয়ে এবার যার যার আদর্শিক ক্যাম্পে বসা – তাতেও তেমন বড় সমস্যা না হয়ত। কিন্তু চিন্তা কী; আর চিন্তা কে স্বাধীন খোলা না রেখে কথিত আদর্শ দিয়ে আগেই হাত-পা বেধে দিয়ে এবার চিন্তা করতে গেলে সেটা তো “আদর্শভিত্তিক” ভাড়াটে চিন্তাই হবে! কিন্তু তা আর কেউ বুঝতেই চায় না।
    ৬। এটা হল, চিন্তা যখন জানে না কী করে চিন্তা করতে হয়। চিন্তা অসচেতন, শিখে নাই আনাড়ি এই অবস্থার চিন্তা এগুলা। চিন্তা জানেই না যে সে চিন্তা… বা আসলে চিন্তা কী জিনিষ!!!
    ৭। বর্তমান চীনের চিন্তা বা পার্টির সমস্যা কী, – তা নিয়ে যে ক্রিটিক পর্যালোচক লেখা আমি লিখেছি তাও এরা কেউ পড়ে নাই অথবা পড়ে বুঝে নাই। এরই প্রমাণ হল আমাকে এদের চিনপন্থি ট্যাগ দেয়া!
    ৮। আজ সকালে দেরিতে উঠে ফেবু একাউন্টের নষ্টামি দেখে মেজাজ ভাল নাই। এর মধ্যে আবার আমাকে কমিউনিস্ট বলে খোঁচা – সকাল টাই খারাপ করে দিয়েছে।
    গালি দেন অসুবিধা নাই; কিন্তু কমিউনিস্ট বা চীনপন্থি বলার দরকার কী???
    • Like

       

    • Reply
    • Edited
    23
    Faruk Sobhan কে কি বলে বলুক আপনি আপনার কাজ চালায় যান। মানুষ সমালোচনা করে তার মানে আপনি ভালো কাজ করতেসেন। যেহেতু আপনি আগে জাসদ করতেন তাই আপনাকে কমিউনিস্ট বলে
    Author

    Faruk Sobhan
    Asaduzzaman Tareq এখানেও একটা মারাত্মক ভুল আছে। অযথা জাসদ নিয়ে এই কচকচানি অনেকেই করে আমাকে খোঁচানোর জন্য।

    আমার জীবন এক খোলা কিতাবের মত!
    আমি জাসদ করেছি মাত্র দুবছর তবে সেটা অবিভক্ত জাসদ; মানে প্রথম বাসদ (জামান-মান্নাদের) হবার আগে ১৯৮১ সালে বুয়েটের শেষ সংসদ (ইউকসু) নির্বাচন পর্যন্ত। মানে ১৯৮২ সালে ফেব্রুয়ারিতে এরশাদের ক্ষমতা দখলের আগেই এর সব চিহ্নও শেষ।
    আর ১৯৯১ সালের পরে আমি বুয়েটের পড়াশুনা শেষ করা আর পেশায় গভীর মনোযোগী হয়ে থাকি ২০০০ সাল পর্যন্ত; সক্রিয় রাজনীতির কারও সাথে যোগাযোগ রাখি নাই।
    পরে চলতি (২০০০+) শতকের শুরু থেকেই আমার সুযোগ হয় আফ্রিকার নানান দেশে জাতিসংঘ বা মিশনের সাথে যুক্ত হবার। সেখানে আমার জীবনের সব চেয়ে ঘনিষ্টভাবে মিশবার সুযোগ এসেছিল বাংলাদেশ (তিন সেনা) বাহিনীর সাথেই। সে এক বিরল অভিজ্ঞতা! আমার তখনকার বাসাটা ছিল আমবাগানে ঘেরা এক বিরাট বাসা। যেখানে প্রতিটা শনি-রবিবার হয়ে উঠত -অফিসার সৈনিক সহই- এক মিলন মেলা। এক বাংলাদেশি পিকনিক আড্ডা, দেশেই আছি মনে করে…। এক সময় গুনে দেখেছিলাম ২৬ জন মেজর র‍্যাঙ্কের অফিসার আমার খুবই ঘনিষ্ট এবং শ্রোতা – এছাড়া বাকি উপরের দের কথা বলা যাবে না। বুঝতেই পারেন……।
    পরে ২০১২ সালের শেষে আমি একেবারে দেশে ফিরি। কিন্তু ২০১৩ সালে হাসিনা হয়ে উঠেছিলেন যাকে বলে রাক্ষসী ফলে ঢাকায় এসে সেনাদের সাথে বন্ধুত্ব সম্পর্ক, যোগাযোগ রাখার বাস্তবতা ছিল না। যদিও এদের মধ্যে একজন শে্ষে হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী হাসিনার সুরক্ষা বাহিনীর প্রধান। সব মিলিয়ে ব্যবহারিক কারণেই সেই থেকে আমি নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলাম।
    যাই হোক, যারা আমি এককালে জাসদ করেছি বলে থেমে যায় এরপর আকার ইঙ্গিতে নানান কিছু অনুমান বা বানায়ে বলে তাদের আসলে এমন করার দরকার নাই।
    এসব মনগড়া অনুমান বা গল্প বানায়ে বলে এই যুক্তিতে আমি খারাপ তা বলার দরকার কী? শুধু বললেই হবে যে আমি খারাপ, তাতেই আমি বুঝব। কোন অসুবিধা হবে না।
    Faruk Sobhan স্যার আপনাকে দেয়া অপবাদ গুলোর পরিষ্কার করার জন্য আপনাকে নিয়ে একটা টকশো করতে চাই। সময় হবে কি?
    দাদা ঐদের কথায় কান দেবেন না, শুধু আপনি আপনার চিন্তা ভাবনা গুলো প্রকাশ করতে থাকুন, আমরা আপনার লেখা পড়ে সচেতন হতে পারব
    Author

    Faruk Sobhan

    ১। সকাল থেকে আমার এই একাউন্ট দখল চেষ্টা ছুটাইতে এমনিতেই পেরেসান আছি; খামোখা সময় ব্যয় হচ্ছে। এর মধ্যে একটু ফুরসত হতেই দেখি আমাকে ম্যাসেজ করেছে মানে আমাকে খোঁচা দিয়ে লিখেছে, –
    “আপনার প্রিয় নেতা আসাদ ৫৪ বছর শাসন করলো। রাশিয়া চীনের এই সাম্রাজ্যের পতন হলো” !!!
    এখন আপনারাই বলেন, এটা কী হইলো?
    যে গৌতম দাস গত কয়েক বছর ধরে কমিউনিস্ট -প্রগতিবাদি (আসলে যারা হিন্দুত্ববাদী – জেনে না জেনে) তাদেরকে উঠতে বসতে তুলা ধুনা করছি। ভদ্রভাবেই তাদের এমনকি খোদ কার্ল মার্কসের চিন্তায় কী নাই; কী না থাকা থেকে বা কী থাকা থেকে কমিউনিস্টদের ভুলগুলো সেটাই বর্ণনা করে আসছি; বিশেষ করে ২০১৭ সালের সেকেনড় হাফ থেকে আমি কাছাখোলা কমিউনিস্ট-ক্রিটিক; কোন লুকাছাপা ছাড়াই তাদের ভুলগুলা তুলে ধরি। আর
    প্রগতিবাদি (কমিউনিস্টদের লিবারেল ভার্সান) দেরকে তো একেবারেই সহ্য করি না। উঠতে বসতে এরাই আসল হিন্দুত্ববাদী একেবারে খাস সেকথাই বারবার বলি আসছি।
    অথচ আজ সকালে আসাদের পতন আসন্ন দেখে আমাকে এখন চীন রাশিয়ার দালাল বলে খোঁচা দিচ্ছে।
    এর মানে হয় না!!!

    31

    <img role=”presentation” src=”data:;base64, ” width=”18″ height=”18″ /><img role=”presentation” src=”data:;base64, ” width=”18″ height=”18″ /><img role=”presentation” src=”data:;base64, ” width=”18″ height=”18″ />
    Khalid Bin Jamal replied
     
    1 Reply
    • Like

       

    • Reply
    • Hide

    Alp Arslan Jr.

    পছন্দের কলামিস্ট
    • Like

       

    • Reply
    • Hide

    Aalisha Ashreen

    Faruk Sobhan আপনি এন্টি র‍্যাডিক্যাল পলিটিক্স
    • Like

       

    • Reply
    • Hide

    Mehedi Hasan Murad

    নাহ
    • Like

       

    • Reply
    • Hide

    Muslehuddin Shahed

    দাদা, এগুলো স্প্যাম। এগুলোর জবাব দেবেন না। এর মধ্য দিয়ে আপনার একাউন্ট আবার হ্যাকড হতে পারে।
    • Like

       

    • Reply
    • Hide
    <img role=”presentation” src=”data:;base64, ” width=”18″ height=”18″ />

    Faisal Ahmed

    স্যার…. আপনি তো নিজের বিবেকের কাছে পরিস্কার। যারা ক্ষমতাসীনদের পা চাটতে চাটতে এখন আইডেন্টিটি ক্রাইসিস এ ভুগছে তারা এখন আপনাকে পরাভুত করতে না পেরে আপনাকে কোন না কোন আইডেন্টিটি বা আইডিওলজি ট্যাগ দেতেছে। আপনি তাদের কথায় এত গুরুত্ব দিয়েন না। দূরে বসে মুচকি হাসেন। যদি পারেন তাহলে বাপ মা ছাড়া এইসব এতিম আমলা, কামলাদের পথ দেখানোর জন্য ওয়াজ নসিহত এর আয়োজন করতে পারেন!!!
    • Like

       

    • Reply
    • Hide
    <img role=”presentation” src=”data:;base64, ” width=”18″ height=”18″ />

    Rahat Mahfuj

    সিরিয়া নিয়ে লিখবেন না?
    • Like

       

    • Reply
    • Hide
    Author

    Faruk Sobhan

    Rahat Mahfuj দেখি একটু সময় বের করতে হবে আগে!
    • Like

       

    কমিউনিজম নিয়ে আপনার পর্যালোচনা বিস্তারিত জানতে চাই। কোন আর্টিকেল বা বইয়ের রেফারেন্স দিলে ভালো হয়।
    Author

    Faruk Sobhan

    Azharul Haque আমার নিজের ওয়েব সাইট https://goutamdas.com/
    এখানে গত ২০১৪ সাল থেকে আমার সব লেখা আছে। খুঁজে খুঁজে পড়ে দেখতে পারেন।
    GOUTAM DAS
    GOUTAMDAS.COM
    GOUTAM DAS

    GOUTAM DAS

    • Like

       

    • Reply
    • Remove Preview

    3

    <img role=”presentation” src=”data:;base64, ” width=”18″ height=”18″ /><img role=”presentation” src=”data:;base64, ” width=”18″ height=”18″ />
    •  

    •  

    Manisha Akter Sruti

    আপনি নিজেই বলতে পারবেন। আপনি কী বিলং করেন।
    • Like

       

    • Reply
    • Hide

    Asaduzzaman Tareq

    Faruk Sobhan স্যার সিরিয়া নিয়ে জানতে চাই
    • Like

       

    • Reply
    • Hide
    Author

    Faruk Sobhan

    Asaduzzaman Tareq সময় লাগবে, সম্ভবত পরশুর আগে না, চেষ্টা করব কাল দিন শেষে।
    কিন্তু এর আগে এই যে বাংলাদেশে মেজরিটি দেখছি মনে হচ্ছে খুশি কেন? কেন তারা বাসারের পক্ষে অথবা যারা এর বিপক্ষে সেটাই বা কেন? সেটা কেউ জানতে চায় না বলেই আমার মনে হয়।
    তবে দুপক্ষের কাছেই একটা করে ‘ইসলামিজম’ আছে ফলে এটা যার যার ইসলামিজমের বিজয় হিসাবে দেখছে দু-পক্ষই। এটাও বুঝতে পারছি! তাহলে কোনটা সহি ইসলামিজম? আবার দুটাই কেমন গ্লোবাল ইসলামিজম বলে কল্পনা?
    যদি দেখা যায় আসাদের পতন (হয়ে গেছে বা ঘটাতে যাচ্ছে) টা আমেরিকা ঘটিয়েছে ইসরায়েলকে দিয়ে তবে সেক্ষেত্রে সেটাই বা কেমন ইসলামিজম হবে?
    তাহলে আপনারা সকলের সব পক্ষই সবার আগে নিজ নিজ কল্পনা আকাঙ্খা টাকেই আগে প্রশ্ন করেন – যে কী এটা? এ কেমন কল্পনা? সেখানে ভিত্তিটা কী?
    • Like

       

    • Reply

    5

    <img role=”presentation” src=”data:;base64, ” width=”18″ height=”18″ />

    Asaduzzaman Tareq

    Faruk Sobhan বেশির ভাগ মানুষ মধ্য প্রাচ্য সম্পর্কে জানে না। অনেকের কাছে মধ্যপ্রাচ্য মানে পবিত্র। আর যারা সুচীল তারা কেমন জ্ঞান রাখে আপনি তো জানেন ই। মিডিয়ার কিছু তথ্যের উপর তাদের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে। বুদ্ধিজীবিরা আবার শিয়া সুন্নি দ্বন্দ্ব হিসাবে চালায় দে যেটা পশ্চিমা বয়ান।
    • Like

       

    • Reply
    • Hide
    •  

    •  

    •  

    •  

    মোহাম্মদ আবদুল আওয়াল অপি

    এটি কোন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো?
    • Like

       

    • Reply
    • Hide
    Author

    Faruk Sobhan

    মোহাম্মদ আবদুল আওয়াল অপি সব জবাব নিজে আমার স্বেচ্ছায় লেখা প্রশ্ন ও উত্তরে দেয়া আছে। প্লিজ পড়েন পুরাটাই সময় করে
    • Like

       

    • Reply
    •  

    •  

    Mohammad Mijanur Rahman

    আপনি আমাদের গৌতম দা।
    • Like

       

    • Reply
    • Hide

    Ajaj Jewel

    কমিউনিস্টদের জন্য আতঙ্ক । আমি 2017/18 থেকে আপনার লেখা পড়ছি।
    • Like

       

    • Reply
    • Hide

    Arif Reza Mahmud

    বেহুদা তর্ক করসে আপনারে নিয়া। আমি আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিশ্লেষণ আপনারে দেখেই আগ্রহ পেয়েছি। আপনি গ্লোবাল অর্ডার নিয়ে ক্রিটিক করসেন বাংলা ভাষায় বিপুল। এতে আমরিকা পন্থী বা চীন পন্থী হবার প্রশ্ন নাই। আর্গুমেন্ট আছে। চীনের দুর্বলতার প্রশ্নও আমি আপনাকেই আলোচনা করতে দেখেছি। লেজওয়ালারাই অন্যের লেজ খোঁজে। আর কাম কাজ নাই।
    আপনার রিপাবলিক নিয়ে প্রবন্ধটাই আপনার বেসিক স্টান্ড। এটা পড়ার পর কমি-অকমি এই তর্ক থাকে না।
    • Like

       

    • Reply
    • Hide

    Mustafa Khaliid

    nope, but You are Jamat paid. It will take time to understand your double face.
    • Like

       

    • Reply
    • Hide
    • Edited
    • Like

       

    • Reply
    • Hide
    • Like

       

    • Reply
    • Hide
    Author

    Faruk Sobhan

    উপরে বলেছি, ২০১৭ সালের আগষ্টের পরে আমি কাছাখোলা কমিউনিস্ট-ক্রিটিক আর প্রগতিবাদ=হিন্দুত্ববাদ এই বয়ান এনেছি।
    এটা আমার জীবনে এক গুরুত্বপুর্ণ পালাবদলের সময়।
    পুরানা সাথী বন্ধু ঝেড়ে ফেলার আর তাদের দায় আর না বইবার বা দায় থেকে মুক্ত হবার সময়কাল ছিল সেটা!
    কারণ, এর আগে অনেক কমিউনিস্ট সঙ্গী সাথী ছিল তাদের মুখ চেয়ে খোলাখুলি -কমিউনিস্ট ক্রিটিক – হতে পারি নাই। এই অর্থে সমালোচক হওয়ার শুরু সেটা, যা এর আগে চাইলেও হতে পারছিলাম না।
    তখন এই সক্ষমতা হাতে আসার পিছনের একেবারে মুল কারণ, ঐ সময়ের (২০১৭ আগষ্ট) পরে আমাদের পুরানা সার্কেল একেবারেই ভেঙ্গে যায় – এতে অন্তত একটা ও সবচেয়ে বড় সুবিধা আমি দায়মুক্ত হয়ে যাই। পুরানা সঙ্গী সাথী দের চিন্তার সাথে মিলিয়ে চলার দায়। কেউ যখন বলে আমার সাথে তাঁর চিন্তার পার্থক্য আছে বা হয়ে গেছে – এটারই পজিটিভ দিকটা হল আমি তখন থেকে দায়মুক্ত হয়ে গেছিলাম।
    যদিও কমিউনিস্টদের উপর আমার অনাস্থা শুরু হয় বা তা দানা বাধে সেই ১৮৮৫ সালে, যখন আমি সেকালের ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতা, দশ দফা তৈরির কালপর্ব সেটা। তবু অনাস্থা তৈরি হলেও, আমাকে এর পুরান দায় এর অনেক কিছুই আরো অনেক দিন কাঁধে নিয়ে ঘুরতে হয়েছে। যেটার বড় সুযোগটা পাই ২০১৭ সালের আগষ্টে এসে।
    এর মাঝে প্রথম এর বেশ খানিকটা প্রকাশ করতে সুযোগ নিয়েছিলাম বা পেয়েছিলাম আমার ২০০৯ সালে জর্মান ভাবাদর্শ বইয়ের অনুবাদ বইয়ে। ওতে শুরুতে দেয়া আমার লেখা – এক লম্বা ভুমিকায় তা পাবেন।
    • Like

       

    • Reply
    • Edited

    13

    <img role=”presentation” src=”data:;base64, ” width=”18″ height=”18″ /><img role=”presentation” src=”data:;base64, ” width=”18″ height=”18″ />
    Author

    Faruk Sobhan

    মার্কসের “শ্রেণী ধারণা” সমাজতত্বের এক ক্যাটাগরি হিসাবে আপনি ব্যবহার করতেই পারেন। কিন্তু “শ্রেণীর রাষ্ট্র” কায়েম?
    এবার আপনাকে সাবধান সতর্ক হতে বলব!
    এটাই কার্ল মার্কসের চিন্তায় সবচেয়ে ক্ষতিকারক চিন্তা-অবস্থান!
    এই ছোট পরিসরে কেবল এতটুকুই বলব – হাসিনার ১৬ বছরের রাষ্ট্রটাই হল “শ্রেণীর রাষ্ট্র” এর সবচেয়ে কদর্য উদাহরণ! যদিও হাসিনার কাছে এটা ছিল – শ্রেণীরই রাষ্ট্রই তবে “মুক্তিযোদ্ধা শ্রেণীর রাষ্ট্র”! আর এই মুক্তিযোদ্ধা শ্রেণী কারা? যারা ১৯৭১ সালের যুদ্ধের কথিত “বিজয়ী শ্রেণী”।
    তাই এখান থেকেই – চেতনা, মুক্তিযোদ্ধা, কোটা, মুক্তিযোদ্ধা শ্রেণীর নাতি নাতনি, কোটা, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি, শাহবাগ ইত্যাদি সকল বয়ান ও ধারণার উতপত্তি! হাসিনার পক্ষে এই সাফাই তৈরি করে দিয়েছিল কমিউনিস্টেরা! বিশেষ করে সিপিবির বড় নেতারা মঞ্জুরুল আহসান পর্যন্ত! আসলে তারা চিন্তায় হিন্দুত্ববাদি কিন্তু নামে আজাইরা কমিউনিস্ট!!
    কার্ল মার্কস এর “শ্রেণীর রাষ্ট্র” চিন্তার সবচেয়ে কদর্য ও বাস্তবায়িত রূপ হল গত ১৬ বছরের হাসিনার “মুক্তিযোদ্ধা শ্রেণীর রাষ্ট্র” কায়েম!! যার সপক্ষে প্রধান সাফাই বয়ানদাতা সিপিবি এন্ড গং কমিউনিস্টেরা!
    • Like

       

    • Reply
    • Edited

    11

    <img role=”presentation” src=”data:;base64, ” width=”18″ height=”18″ /><img role=”presentation” src=”data:;base64, ” width=”18″ height=”18″ /><img role=”presentation” src=”data:;base64, ” width=”18″ height=”18″ />

    MD Tufayel Ahmed Fahim

    সবাই কি আপনাকে বুঝতে পারবে? সবাই পারে না। এদের থেকে দূরে তাকোন সার
    • Like

       

    • Reply
    • Hide
    <img role=”presentation” src=”data:;base64, ” width=”18″ height=”18″ />

    Mohammed Masrur

    লিবারাল সোসালিষ্ট?
    • Like

       

    • Reply
    • Hide
    Faruk Sobhan replied
     
    2 Replies

    এ. আলিম

    মনে হয়, তবে আপনি নকশাল সাপোর্টার…
    • Like

       

    • Reply
    • Hide
    • Edited
    <img role=”presentation” src=”data:;base64, ” width=”18″ height=”18″ />
    Author

    Faruk Sobhan

    এ. আলিম আপনি নকশাল কী তা চিনেন-জানেন না, তাই!
    তবে না জেনে বলে ‘মনের সুখ” হয় হয়ত
    • Like

       

    • Reply

    2

    <img role=”presentation” src=”data:;base64, ” width=”18″ height=”18″ />

    এ. আলিম

    Faruk Sobhan না ভাই বর্তমানে আপনি গনতান্ত্রিক। কিন্তু যে ভাবে বামেদের ধোলাই দ্যান তাতে মনে সাবেক নকশালরা ছাড়া এরকম স্বচ্ছ ধারণা কেউ মনে হয় রাখে না।
    • Like

       

    • Reply
    • Hide
    <img role=”presentation” src=”data:;base64, ” width=”18″ height=”18″ />
    Author

    Faruk Sobhan

    তার মানে আপনি নকশাল দেরকে “স্বচ্ছ ধারণার” লোক বলছেন, সেটা কী খেয়াল করেছেন?
    এর পিছনে আমার সাফাই বক্তব্য কী আছে?
    আমি যেখানে মার্কসের চিন্তায় খামতি (চিন্তায় তাঁর ইতিবাচক অবদান সহ) কেন হয়েছে? স্টালিনের ব্যবহারিক ভুল খামতি গুলো কী (একেবারে এখনকার চীনা কমিউনিস্ট পার্টির পর্যন্ত) এসব নিয়ে বিস্তারিত আলাপ তুলছি সেখানে আপনি………
    যদি সিরিয়াস হন তবে আগে বাকি চীন-অনুসারি দলগুলোর সাথে নকশাল কোথায় আলাদা তা খুজেন জানেন বুঝার চেষ্টা করেন? আপনার ভালবাসার কেউ নকশালি থাকতেই পারে! যদিও নকশাল কোথায় আলাদা – তা হয়েও কোন ফারাক পরে নাই। কারণ খোদ মার্কসের চিন্তায় রাষ্ট্র, রিপাবলিক, জনগণ, কনষ্টিটিউশন, জনপ্রতিনিধি, নির্বাচন ইত্যাদি কোন ধারণাই নাই। এক শ্রেণী চিন্তা আছে। যা আসলে একটা গুম খুন অপহরণ এর রাষ্ট্রে পরিণতি পাবেই। বাংলাদেশের ইতিহাসে মার্কসের সেই কমিউনিস্ট চিন্তা বা শ্রেণী চিন্তার সবচেয়ে বাস্তব রূপই ছিল হাসিনার ১৬ বছরের রাষ্ট্র। আর হাসিনার সেই “মুক্তিযোদ্ধা শ্রেণীর রাষ্ট্রের” প্রতি প্রগতিশীল-কমিউনিস্টদের প্রবল মায়া আর সাফাইয়ের উতস এটাই একারণেই!
    • Like

       

    • Reply
    <img role=”presentation” src=”data:;base64, ” width=”18″ height=”18″ />

    এ. আলিম

    Faruk Sobhan না আমি নক্সালদের স্বচ্ছ ধারনার লোক বলি নাই। আমি বলছি সাবেক কমিউনিস্টরা দীর্ঘদিন কমিউনিস্ট চর্চা করে যখন তাদের ভূল বুঝতে পারে তখন তাদের ভূল গুলো সম্বন্ধে স্বচ্ছ ধারনা থাকে। আর আপনি তো আমারও চোখ খুলে দিয়েছেন। আমিও আগে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে শ্রদ্ধার চোখে দেখতাম না। এখন আমার ভূল ভাঙছে। আমি এখন বুঝতে পারছি যে, যেখানেই জনগনের ভোটের সরকার নেই সেটাই পরিনতিতে ফ্যাসিবাদ নইতো রাজত্ব।
    • Like

       

    • Reply
    • Hide
    •  

    •  

  • কোথায় ছিলেন বিক্রম?

    কোথায় ছিলেন বিক্রম?
    গৌতম দাস

    ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪
    https://wp.me/p1sCvy-63H

     

     

     

     

    একঘন্টা কোথায় ছিলেন বিক্রম? – এটা আজ সন্ধ্যার হট কেকে আলোচনা। বিশেষ করে সামাজিক আলোচনার অন্যতম প্ল্যাটফর্ম ফেসবুকে!
    যদিও রাষ্ট্রের গোপন বিষয় বা যেকোন গোপন বা অপ্রকাশ্য বৈঠক নিয়ে আলোচনা তুলে আনা বেশ সীমাবদ্ধতার কাজ । অন্তত এখানে এমন অনেক বিষয়-প্রসঙ্গ থাকে যে চাপ্টারটা জানি বা না-জানি তা নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করা যায় না। তা করা একেবারেই সঠিকও না। কারণ রাষ্ট্রস্বার্থের অনেক কিছু তাতে জড়িয়ে থাকতে পারে। সেটা সামলে রাখাই তো দায়ীত্বপুর্ণ নাগরিকের কাজ!  কাজেই কিছু কিছু রেড লাইন আমরা ক্রশ করতেই পারি না; এমনকি নাগরিক অধিকারের দোহাই দিয়েও না।

    তবুও উপরের এসব দিক আমলে রেখেও কিছু আলোচনা তো করাই যায়! হ্যা, তাই আমরা করার চেষ্টা করব এখানে।
    আমার দেখা তিনটা মানে আসলে দুটা মিডিয়ায় এনিয়ে কিছু আলোকপাত করার চেষ্টা করেছে তারা হল, আউটলুক ও মানবজমিন (জনতার চোখ) । তবে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি আমাদের সেনাপ্রধান ও সাথীদের সাথে কী বিষয়ে কথা হয়েছে এদিক নিয়ে কেউই কোন হদিস এর ইঙ্গিতও দিতে পারে নাই। এই হল সীমাবদ্ধতার দিকটা।

    এখন সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যেই থেকেও মানে এটা স্বীকার করে নিয়েও অনেক কথা বলা যায় তাই এখানে বলব।

    কথা এভাবে সেভাবে যত যাই বলি, ঐ বৈঠকে কথার ইস্যু যা হতে পারে তা দুই ধরনের। এক. এমন ইস্যুতে যেটা আসলে প্রত্যক্ষভাবে কিছু নাগরিক ব্যক্তিস্বার্থ ও অধিকার সম্পর্কিত দিকও আছে বা থেকে গেছে। আবার এমন হতে পারে, দুই. কিছু ইস্যুতে রাষ্ট্রস্বার্থ একেবারেই প্রধান যার অর্থ হল পাবলিক ইন্টারেস্ট বা জনস্বার্থ সেখানেও আছে তবে একটু পরোক্ষে।

    গত মাস খানেকের বেশি হবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন যে বিডিআর বিদ্রোহ মামলা আরো স্বচ্ছ করে খুঁজে দেখার জন্য, অসমাপ্ত এদিকটা সম্পন্ন করতে একটা কমিশন গঠন করা হবে।  যা সেকালে (২০০৯) কোন মতে ধামাচাপা দেয়া হয়েছিল; সেসব এবার খুলে সাফা করা হবে। কিন্তু  আজকে হাইকোর্টে কে অবহিত করতে গিয়ে এটর্ণীর অফিস থেকে আদালতকে জানানো হয়েছে সরকার আপাতত কমিশন গঠন নিয়ে আগাচ্ছে না। এখানে আপাতত কথাটা গুরুত্বপুর্ণ;  এর মানে হল, এখন না হলেও পরে হতে পারবে বা পারে। আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার এমন অবস্থানে পিছনের সাফাই যুক্তিতে জানিয়েছে আদালতে নাকি এ’সংক্রান্ত দুইটা আগের মামলা পেন্ডিং আছে। সেগুলো নিষ্পত্তি হয় নাই তাই সরকার করতে পারছে না। যদিও এই রিট যারা আদালতে করেছিলেন সেই বাদীপক্ষ আজ পাবলিকলি জানিয়েছেন যে  এর আগে এমন পেন্ডিং মামলার পরিস্থিতিতেও শেখ মুজিবের হত্যার মামলা বলেছে যা উদাহরণ বা রেফারেন্স আছে। যার অর্থ সরকারী সাফাই সত্যি বা ভ্যালিড নয়; এই হল বাদীপক্ষের দাবি।

    যাই হোক আমাদের প্রাসঙ্গিক মুলকথাটা হল, এখান থেকেই জল্পনা-কল্পনা উঠেছে তাহলে এটাই কী – একঘন্টা কোথায় ছিলেন বৈঠকের ইস্যু – ছিল? সেকারণে ইউনুস সরকার পিছু হটছে??? এই হল সন্দেহ!!

    তবে একেবারে স্পষ্ট করে বললে, এর পক্ষে কোন কনফার্মেশন কোন নিশ্চয়তা কোথাও কার কাছে এখনও নাই! এই অর্থে এটা জল্পনা-কল্পনা পর্যায়েই এখনও থেকে আছে!
    যাই হোক এটা তবে আমার উপরে বলা সেকেন্ড ইস্যুর উদাহরণ। অর্থাৎ পরোক্ষে সব নাগরিক ক্ষতিগ্রস্থ এখানে, আর দেশের নাগরিকের রাষ্ট্র সেই রাষ্ট্রস্বার্থের ক্ষতিগ্রস্থতার উদাহরণ হবে এটা।

    আর প্রথম উদাহরণটা যেখানে কিছু নাগরিক প্রত্যক্ষ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার মামলা।

    এখন আমার সাফ কথাটা বলবঃ
    মামলা নাগরিকের পরোক্ষে সবার অথবা প্রত্যক্ষ কিছু নাগরিকের স্বার্থ ঘটিত যাই হোক না  – যেটা ঘটবেই তা হল, ঐ একঘন্টা কোথায় ছিলেন বৈঠকের আলোচনায় কোন আপোষ রফা যদি হয়েই থাকে সেক্ষেত্রে কিন্তু এটা নিয়ে যেকোন পাবলিক আদালতের শরাণাপন্ন হবেনই। আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি। অন্তত এখনকার মানের সুপ্রীম কোর্ট যদি থেকে যায়। আর সেক্ষেত্রে কোর্টের রায়  “একঘন্টা কোথায় ছিলেন বৈঠকের” সংশ্লিষ্টরা আর খোদ ইউনুস সরকার সবার জন্যই মারাত্মক বিব্রতকর একটা রায় হবে।
    খোদ ইউনুস সরকারও দায়ী হবেন এজন্য যে ঐ রিপোর্ট বলছে ঐ একঘন্টা কোথায় ছিলেন বৈঠকে যেটাই আলোচনা হোক না কেন তা ইতোমধ্যেই সেনা সদস্যরা ইউনুস সাহেব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবগত বা রিপোর্টেড হয়ে গেছে।

    আর যদি, আগামিতে আদালতের মান বদলে দেয় বা যায় কেউ হাসিনা আমলের ও স্টাইলে চলে যায় আদালত  – তবে বলাই ভাল ক্ষুব্ধ নাগরিক জনগণ আবার এক ৫ আগষ্ট সারা বাংলাদেশ দেখবে!

    কাজেই একঘন্টা কোথায় ছিলেন বৈঠকই কোন শেষ কথা নয়। আমরা বহু পথ পরিক্রমা ইতোমধ্যে পার করে ফেলেছি। পিছন ফিরার পথ আর নাই!

    কাজেই একঘন্টা কোথায় ছিলেন বৈঠকই কোন শেষ কথা নয়।

    আসলে ইউনুস সরকার ইতোমধ্যে একটা কথা উচ্চারণ করে ফেলেছেন। কথাটা হল, ভারতের সাথে সম্পর্ক হতে হবে সম মর্যাদার আর ন্যায্য অধিকার – এদুইয়ের উপর ভিত্তি করে। যারাই এর ব্যত্যয় ঘটাবেন তারা নাগরিক জনগণের কাছে বেঈমান বলে পরিচিত হবেন!

    তাই হবু ক্ষমতার কোন রাজনৈতিক দল, বর্তমান ইউনুস সরকার (সাথে সেনা অংশসহ) কারও পক্ষেই ভারতের সাথে কোন আন্ডারহ্যান্ড ডিল – করতে চাইলেও সেটাই শেষ কথা নয়! হবে না! আমার বিশ্বাস সকল পক্ষই আমার একথাটা মনে রাখবেন!

     

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com