Author: goutamdas

  • কারা NDI-IRI, আর জিল্লুরের CGS এর সাথে এর সম্পর্ক কী?

    কারা NDI-IRI, আর জিল্লুরের CGS এর সাথে এর সম্পর্ক কী?
    গৌতম দাস
    ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
    https://wp.me/p1sCvy-6iE

     

     

     

    NDI-IRIএরা নাকি এক গবেষণা-জরিপ করে পেয়েছিল যে হাসিনা আবার ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি নির্বাচনে আবার বিজয়ী হবে। 
    —” A national survey by International Republican Institute found that Sheikh Hasina remains Bangladesh’s most popular leader
    18-08-2023″ লিঙ্ক এখানে, 
    এই কথিত সার্ভের রিপোর্ট তারা বের করেছিল ১৮ আগষ্ট ২০২৩ সালে। এভাবে হাসিনার প্রতিটা চোরা নির্বাচনের আগে এরা কথিত জরিপ রিপোর্টে বের করে গেছিল। 

    চোর ধরা পড়েছে। এখন মিলিয়ে নেন। এই বাটপার এর কাজ দেখেন নিচের লিঙ্কে।
    আর এই বাটপারি যা আসলে আমেরিকান এনজিও আর ইন্ডিয়ান র-এর মিলিত এক উদ্যোগ।
    চোরের নাম IRI [International Republican Institute ]। অনেক সময় একে পাবেন NDI [National Democratic Institute] এমন নামে।
    অনেক খুজে বের করতে হল।
    https://www.ndi.org/who-we-are

    মূল সহায়তাকারি NED – এই নামের আরেক আমেরিকান এনজিওঃ
    আমেরিকান ফান্ড আনার ব্যাপারে মূল সহায়তাকারি হল, THE NATIONAL ENDOWMENT FOR DEMOCRACY [NED]; এটা আমেরিকায় নিজে থিঙ্কট্যাঙ্ক হলেও ইন্ডিয়াতে ২০০৭ সালের পরে এসে এনজিও হিসাবে রেজিষ্ট্রেশন নেয়।
    সাথে আন্ডারহ্যান্ড ডিল হল,  ইন্ডিয়ান -NED আবার NDI-IRI এর অর্থ আমেরিকা থেকে ইন্ডিয়ায় এনে দেয়। মানে ইন্ডিয়া NDI-IRI  কে কোন কারণে, ইন্ডিয়ায় অর্থ আনার অনুমতি দেয় নাই।
    আর এখান থেকে এই ফান্ড রিপ্যাকেজিং হয়ে NDI-IRI এর ফান্ড নামে কিন্তু র-এর সাথে যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে পরিচালিত হয়। এক কথায় এটা এক বড় র‍্যাকেট! সুইডেন ভিত্তিক এক মিডিয়া এভাবেই চলে National Endowment for Democracy (NED) এর অর্থে।

    এরা ইন্ডিয়ান র-এর সাথে যৌথ ততপরতা শুরু করেছিল ২০০৭ সালের ১/১১ এর পরে যখন আমেরিকা বাংলাদেশকে ইন্ডিয়ার হাতে তুলে দিয়েছিল। তবে  NED অথবা NDI-IRI  এরা ঠিক আমেরিকান সরকারী উদ্যোগ নয়; আমেরিকান এনজিও-নন প্রফিট গ্রুপের নামে উদ্যোগ। তাই আমেরিকান সরকার জানে না টাইপের এড়িয়ে যেন যেতে পারে এমনই এক আমেরিকান এনজিও আর র-এর মিলিত উদ্যোগ।

    কিন্তু ২০১৬ সালের পরে মানে ট্রাম্পের আমলে ২০১৭ সাল থেকে বাকি সব এনজিও গুটিয়ে গেলেও কিছু এমন এই যৌথ প্রযোজনা NDI-IRI থেকেই যায়। যার মাধ্যমে র-এর ততপরতা চলছে বাংলাদেশে।

    জিল্লুরের CGS এই এনজিও দোকানটা এই গ্রুপের।
    https://cgs-bd.com/#
    CGS জানিয়েছে, NDI ওর পার্টনার সংগঠন।
    https://cgs-bd.com/articles/106/PARTNERS

    অনুমান করা হচ্ছেঃ
    NDI-IRI ফান্ডের জোরে জিল্লুরের গলা চড়তেছে। জিল্লুর নতুন বাংলাদেশ চায় না। বাংলাদেশ তালেবানী রাষ্ট্র হয়ে গেল – ইত্যাদি এসব বলে সে নিজেই বিএনপির এক নয়া সালাউদ্দিন আহমেদ  (যখন ইতোমধ্যেই সালাউদ্দিন হতাশ হয়ে থেমে গেছে) হয়ে উঠতে চাইছে!  ইন্ডিয়ান কনসার্ণ, স্বার্থ যেন তাকে এতই চাপ দিয়ে ধরে রেখে তাড়িত করতেছে!
    No description available.

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   ফেব্রুয়ারি  ২০২৫

    সর্বশেষ আপডেটঃ  ফেব্রুয়ারি  ২০২৫

  • ইন্ডিয়ান হেজিমনি উচ্ছেদ হবেই! কোন এনজিও রাজনীতি করতে পারে না!!

    ইন্ডিয়ান হেজিমনি উচ্ছেদ হবেই! কোন এনজিও রাজনীতি করতে পারে না!!
    গৌতম দাস
    ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
    https://wp.me/p1sCvy-6ip

     

    লীগ-সহ বিএনপি, জামায়াত যারা বিভিন্ন মাত্রায় র-প্রভাবিত হয়ে ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে – এই তো ক্ষমতায় চলেই যাচ্ছে ভেবে – লাগতে গেছিল এরা সব শেষ!!

    ৩২ নম্বর ভাঙ্গা দিয়ে শুরু হয়ে এরা সকলে এখন “ডেভিল হান্টে” পলায়নপর দৌড়াচ্ছে, যদি জান বাঁচে!
    এরপরেও এখন আমেরিকান-এনজিও-ফান্ডের [NDI-IRI] নামে, ছলে লুকানো র-প্রভাবিত কিছু লোকাল এনজিও ততপরতা চালু আছে। এরা ভালুকের পোষাক পড়া কিন্তু ক্ষুদ্রপ্রাণী (নরকের কীট) যারা ইউনুস সাবের বগলে আশেপাশেও চলে গেছে, আছে চেহারা লুকিয়ে! এরা হুন্ডিতে অর্থ নিয়ে এসে ইন্ডিয়ান স্বার্থের রাজনৈতিক শ্লোগান দিচ্ছে! এবার এদের উচ্ছেদ হতেই হবে!!!! ইন্ডিয়ান হেজিমনি উচ্ছেদ হবেই!!!!

    মনে রাখতে হবে এরাই বারবার দেশে ভুয়া নির্বাচনের আগে হাসিনাই আবার বিজয়ী হবে বলে মিথ্যা গবেষণা রিপোর্ট দিয়ে গেছিল – এমনই টাউট বাটপার এরা!

    একটা ক্লু দিয়ে রাখি। যারা – “বন্দোবস্ত” – শব্দটা ব্যবহার করে এদের থেকে দূরে থাকেন! এরাও ক্যারিয়ার!

    জেনে না জেনে এই শব্দ ব্যবহার করবেন না, প্লিজ!!

    এখানে বিবৃতিদাতাদের মধ্যে আছে অনেকে – তবে এর বাইরেও আছে।

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  ০৫ঃ ৩৫, ১০ ফেব্রুয়ারি  ২০২৫

    সর্বশেষ আপডেটঃ  ফেব্রুয়ারি  ২০২৫

  • হিউম্যান রাইট ওয়াচ কী হাসিনা বা ইন্ডিয়া প্রভাবিত!

    হিউম্যান রাইট ওয়াচ কী হাসিনা বা ইন্ডিয়া প্রভাবিত!
    গৌতম দাস
    ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫    সন্ধ্যা ১৭ঃ ০৯
    https://wp.me/p1sCvy-6hG

     

    হিউম্যান রাইট ওয়াচ [HRW]

     

    হিউম্যান রাইট ওয়াচ [HRW] এক আমেরিকান মানবাধিকার সংস্থা। আমাদের প্রথম আলো জানাচ্ছে তারা এই বলে বিবৃতি দিয়েছে  যে, “ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ন্যায্য হলেও আইনের লঙ্ঘন ন্যায্য নয়”। যেকথার সোজা মানে হল, “ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কোন আইন লঙ্ঘন করা যাবে না।  তাহলে এখানে আইন লঙ্ঘন মানে কী? ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে কোন গণ-প্রতিরোধ সৃষ্টি করা হলে তাতে পালটা ক্ষমতার জন্ম দিলে তা আইন লঙ্ঘন হয়ে যাবে? যার সোজা মানে হল, যেকোন বিপ্লবই অবৈধ; এমন কাজ এক আইন লঙ্ঘন মাত্র? কার আইন? কোন আইন?

    ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ন্যায্য হলেও আইনের লঙ্ঘন ন্যায্য নয়

    কোন আইন লঙ্ঘন?
    তাহলে যে দেশের মানবাধিকার সংস্থা এই HRW সেই আমেরিকার ১৭৭৬ সালের বিপ্লবও অবৈধ ও আইন লঙ্ঘন; অথবা ধরেন,  বাংলাদেশের ১৯৭১ সাল মুক্তিযূদ্ধ এসবই আইন লঙ্ঘন?   নাকি? কী বলেন? HRW এর জ্ঞানী সাহেবানেরা?
    বলেন তো দেখি,  ১৭৭৬ সালে কী আমেরিকান বিপ্লবীরা অস্ত্র হাতে তুলে নেয় নাই? সেটা কোন আইনে? কোন আইনি ন্যায্যতায়? নাকি HRW বলতে চায় সেটাও অবৈধ ও আইনের লঙ্ঘন???

    জীবন্ত নয়া গণক্ষমতার উত্থানঃ
    প্রধান সুত্রটা হল, কোন নতুন ও জীবন্ত গণক্ষমতার আগে বা উপরে কোন আইন নাই। আগে ক্ষমতা এরপর সেই ক্ষমতার মুরোদ থেকে আইন-কনষ্টিটিউশন জন্ম হতে পারে।
    আসলে এই হল, মানবাধিকার এর নিজ সীমাবদ্ধতা না জানা মানবাধিকার ধারণা!  খাড়া বাংলায় এটাকেই আমরা বেশি বুঝা বুলি!
    ঘটনা হল যেকোন গণ-প্রতিরোধ সৃষ্টি করা হলে তাতে এক পালটা গণক্ষমতার জন্ম হয় যা জীবন্ত! আর যা আগের সকল ক্ষমতা সকল আইন কনষ্টিটিউশনকে নাকচ করে দেয়। পাবলিক নিজেই জীবন্তভাবে গণক্ষমতা নিজে হাজির হয়ে যায়। যার সামনে আগের সকল ক্ষমতা সকল আগের আইন, কনষ্টিটিউশন সব নাকচ হয়ে যায়। নতুন ক্ষমতার সামনে সকল আইন অন্যায্য বাতিল হয়ে যায়। তাতে সেটা ঘোষণা করে আগের কনষ্টিটিউশন বাতিল বলা হোক আর নাই হোক! হাতে গুনে মনে রাখতে হবে সকল নতুন ও জীবন্ত ক্ষমতা থেকে এরপরে সকল আইন নতুন করে শুরু হতে পারে।  সবসময় আগে নতুন ক্ষমতা পরে আসবে সেই সুত্রে আইন। আগে থেকে থেকে থাকা কোন আইন নতুন ক্ষমতা তৈরির পরে আর প্রযোজ্য থাকে না; কার্যকারিতা রাখে না!

    যেমন আমরা কী ১৯৭১ সালের আগে থেকে থাকা (পুর্ববাংলা বা পুর্ব-পাকিস্তানের যাক প্রযোজ্য ছিল) পাকিস্তানের  আইন-কনষ্টিটিউশন মেনে নিয়ে এরপর মুক্তিযুদ্ধ করতে পারতাম? নয়া কোন গণ-ক্ষমতা তৈরি করতে বা জন্ম দিতে পারতাম? পুরান যেকোন আইন-কনষ্টিটিউশন মানলে যেকোন অস্ত্র-ধারণই তো অবৈধ এবং রাষ্ট্রদ্রোহিতা হবে এবং হত?
    এককথায় তাই সোজা ফর্মুলাটা হল, যেকোন নতুন গণ-ক্ষমতা জন্ম নিলে এর পর সে নতুন সব আইনের জন্ম দিতে পারে!  আর গণ-ক্ষমতা জন্ম এর আগের কোন আইন সে মানবে না। ক্ষমতার আগে কোন আইন নাই! নয়া ক্ষমতা থেকেই এবং এর পরেই কেবল নয়া আইন-কনষ্টিটিউশন হতে পারে যা তার জন্য মান্য! ১৭৭৬ সালে কী আমেরিকান বিপ্লবীরাও তাই করেছিল। তারা অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল আর এরপর আগের কোন আইন-কনষ্টিটিউশন তাদের উপর আর প্রযোজ্য নয়, ছিল না; থাকতে পারে না।
    ১৯৭১ সালেও মুক্তিযুদ্ধের গণক্ষমতার আগের কোন আইন-কনষ্টিটিউশন তাদের উপর আর প্রযোজ্য নয়, ছিল না; থাকতে পারে না। ২০২৪ সালের জুলাই-আগষ্ট গণ-অভ্যুত্থান এই গণক্ষমতার উপরে আগের কোন আইন তাদের উপর আর প্রযোজ্য নয়, ছিল না; থাকতে পারে না।  তাহলে তো ফ্যাসিস্ট হাসিনা তার যেসব পুলিশ, আর্মি, হেলিকপ্টা্‌ র‍্যাব আমাদের বিরুদ্ধে পাঠিয়েছিল তাদেরকে গণ প্রতিরোধে প্রতিহত করা [যাতে অনেক খুনি পুলিশ আহত-নিহত হয়েছে]  এটা তো হাসিনার পুরানা আইন-কনষ্টিটিউশন অনুসারে  অন্যায্য ও আইনের লঙ্ঘন! কিন্তু না এতা হতেই পারে না। নয়া গণক্ষমতার উপর আগে থেকে থাকা কোন আইন আর প্রযোজ্য নয়, ছিল না; থাকতে পারে না। এটা যেকোন বিপ্লবী নয়া ক্ষমতার মুখ্য বৈশিষ্ট!

    এখন মানবাধিকারের নামে কোন পুরানা পতিত বা পলাতক শাসক নিজের ন্যায্যতা জেতাতে সামনে আসতে পারে না। ঠিক যেমন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা গত ৫ ফেব্রয়ারির বক্তৃতায় তাঁর  যেসব পুলিশ, আর্মি হেলিকপ্টার র‍্যাব আমাদের বিরুদ্ধে পাঠিয়েছিল তাদের ততপরত্তাকে বৈধ বলে দাবি করেছেন! হাসিনা আমলে যেসব মিথ্যা মামলা মাদের উপর নির্বিচারে দায়ের করে গেছিলেন সেগুলো ইউনুস সরকারের বাতিল করাকে অন্যায্য, অবৈধ বলেছেন!

    এখন তামাশার কথা হল, HRW নিজেও হাসিনার বয়ানে ভাষায় ও ভাষ্য কথা বলছে। দাবি করছে  “লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আইনের লঙ্ঘন ন্যায্য নয়”! আসলেই এ’এক অদ্ভুত মিল! যার সোজা অর্থ হয়েছে এরা যেন হাসিনা নিয়োজিত এক HRW ; এক মানবাধিকার বয়ান! এই মানবাধিকার ফেরিকারকেরা জানে না যে যেকোন আইন কনষ্টিটিউশন  মানে মানবাধিকারের উতস কী? কোথা থেকে এর শুরু? স্থায়ী আইন কনষ্টিটিউশন বলে কিছু নাই! প্রত্যেকটা নয়া জীবন্ত গণক্ষমতার পর থেকে – এথেকেই বারবার নয়া আইন কনষ্টিটিউশন এর জন্ম হবে! 
    এর বাইরে বা উপর থেকে মানবাধিকার ফলাতে চাইলে তা হবে মানবাধিকার ব্যবসায়ীর কাজ!
    জেনে বা না জেনে HRW এই মানবাধিকার ব্যবসায়ীর  মত কাজ করে ফেলেছে! নিজ সীমাবদ্ধতা বা নিজ শুরু কোথা থেকে তা খেয়াল করে নাই! বা কারও খারাপ মতলবে বা হাতে প্ররোচিতও হতে পারে।

    জীবন্ত গণক্ষমতার উত্থানকাল লম্বা বা ছোটও হতে পারেঃ
    আমাদের ২০২৪ জুলাই-আগষ্ট অভ্যুত্থান অনেকের মনে হতে পারে এটা বড় জোর দুমাসের জীবন্ত গণক্ষমতা ছিল! না, এই অনুমান একেবারেই ভুল। একতা বিপ্লবী জীবন্ত গণক্ষমতা জন্মের শুরু আর শেষ বা তা থিতু হলে বছরেরও বেশি লেগে যেতে পারে। খোদ রাশিয়ায় এটা ছিল ১৯১৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর। ১৯৭৯ সালের ইরান বিপ্লবে তো শুরু আর শেষের মাঝে মানে ক্ষমতাধর শাহ উচ্ছেদের পরে পরপর চারটা সরকার গঠিত হয়ে গেছে আর ভেঙ্গে গেছে একই বছরে। আর সবশেষে যেটা খোমেনির বিপ্লব হয়ে থিতু হয়েছিল।  ফলে এর সবটাকেই জীবন্ত ক্ষমতার উত্থানকাল হিসাবে গুনতে হবে, ধরতে হবে!
    কাজেই মানবাধিকার কর্মী বা প্রবক্তা হয়ে হাজির হতে চান তারা সাবধান ও সতর্ক হয়ে যান। বিভ্রান্তি তৈরি করবেন না। হাসিনার বয়ানে কথা বলবেন না। সবার আগে নিজ মানবাধিকার বোধের সীমাবদ্ধতাটা কী সেটা আগে জেনে নিন। বিপ্লবী জীবন্ত গণক্ষমতার সাথে লাগতে আসবেন না। তামাসা করবেন না। নিজ চিন্তার মৌলিক সীমাবদ্ধতা [LIMIT] জেনে-বুঝে এরপর মানবাধিকার মারাতে  আসবেন! জীবন্ত গণক্ষমতার জন্মের আগের কোনই আইন নাই, হতে পারে না যা সে মানতে বাধ্য বা তার উপর প্রযোজ্য! এটাই সংক্ষেপে বললে, আগে ক্ষমতা পরে তা থেকে আইন! উল্টাটা কখনও না!

    সবশেষে একটা পরামর্শঃ
    HRW যদি  নিজ লিমিট খেয়াল করে বলতে পারত রাজনৈতিক সংগ্রামে সহিংসতা দীর্ঘায়িত না করা বা এড়িয়ে চলার কথা; তবে বুঝা যেত তারা নিজ ভাষ্য-বয়ানের লিমিট সম্পর্কে সচেতন! কিন্তু দুভাগ্য আমাদের এরা হাসিনার (ইন্ডিয়ার) ভাষ্যের উপর দাঁড়িয়ে কথা বলতে এসেছে!
    আমেরিকা-ভিত্তিক HRW কে মনে হয় আর একটা কথা মনে করিয়ে দেওয়াই যায়। ট্রাম্পের শপথ নেতা একমাসও হয় নাই। আর এসেই তিনি খোদ জাতিসংঘের ICC কোর্টের বিরুদ্ধেই স্যাংশন আরোপ করেছেন। কারণ কী? অভিযোগ-অযুহাত কী?
    অভিযোগ হল ICC  কেন নেতেনিহাহুর বিরুদ্ধে একশন গ্রেপ্তার এর কথা তুলেছে? দাবী করেছে ইসরায়েল আমেরিকার বন্ধু রাষ্ট্র [our allies]; মজা না? (নিচে ট্রাম্পের ভাষ্যটা দেখে নেন) আমাদের ধারণা,  তিন হাজারের উপর হত্যা, গুম-খুন অপহরণের ১৬ বছরের যথেচ্ছাচারের নায়িকা পতিত হাসিনার জন্য খাড়ানোর চেয়ে তাদের শ্রম-ঘামের বেশি অংশটা সেদিকে দেয়া উচিত! সবার আগে মানবাধিকার ইস্যুটাকে গ্লোবাল ক্ষমতাধর দেশের আজ্ঞাবহ হওয়া, প্রভাবিত হওয়া থেকে বের করার বা হবার উপায় খুঁজেন!

    “This malign conduct in turn threatens to infringe upon the sovereignty of the United States and undermines the critical national security and foreign policy work of the United States government and our allies, including Israel,” he added.

    সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ হল যারা ক্ষমতা বুঝে না – ক্ষমতা ধারণার পিছনের দর্শন বিশেষ করে গণক্ষমতা যেটা জীবন্ত গণক্ষমতার উত্থান যেটা আবার যেকোন রি-পাবলিক ধারণায়  পাবলিক এর ক্ষমতা বা পিপলস পাওয়ার ধারণার মূলভিত্তি  – এসব সম্পর্কিত করে রাজনীতির মাঠে যে জীবন্ত পিপলস পাওয়ারের জন্ম হয় তা সম্পর্কে বেহুশ – এরা মানবাধিকার ধারণা বইবার ধারণ করার জন্য নুন্যতম যোগ্যতা রাখেন না। যদিও বা কেউ রাখেন তবে সেক্ষেত্রে আপনারাই মানবাধিকার ধারণাকে সুশীল মানে, না বুঝা সিভিল সোসাইটি ধরনের মানবাধিকারের দোকান বানাইয়ে রেখে দিছেন! কাজেই সময় থাকতে সাবধান হন! লেজুড় হবেন না!

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  সন্ধ্যা ০৬ঃ ১৩, ০৮ ফেব্রুয়ারি  ২০২৫

    সর্বশেষ আপডেটঃ  সন্ধ্যা ০৭ঃ ৫০, ০৮ ফেব্রুয়ারি  ২০২৫

     

     

  • এখন দুদিন চলবে বয়ানের যুদ্ধঃ এদেরকেও পরাজিত করতেই হবে

    এখন দুদিন চলবে বয়ানের যুদ্ধঃ এদেরকেও পরাজিত করতেই হবে
    গৌতম দাস
    ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, সন্ধ্যা ০৬ঃ ২০
    https://wp.me/p1sCvy-6gk

     

     

     

    হাসিনার বক্তৃতাঃ নিজের ১৬ বছরের গুম-খুমের শাসন, নির্বিচারে সরকারি বা পাবলিক অর্থ সম্পত্তির লুটপাট এর পক্ষে হাসিনা এক সাফাই-বক্তব্য রেখেছেন। আগেই প্রচার করা এই সুচি বলেছিল যে তিনি ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ভার্চুয়ালি অডিওতে আসবেন।
    আর এর বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ছাত্র-জনতা। হাসিনার সকল অপ-শাসন এর সিম্বল বা যেগুলো প্রতীক হয়ে উঠেছিল সেগুলো তারা এর প্রতিক্রিয়ায় ঐদিনই গুড়িয়ে দিয়েছে।
    অর্থাৎ কেবল বস্তুগত স্থাপনা যেগুলা সেসব প্রতীক-ই ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে, ফ্যাসিস্ট হাসিনার গলাবাজি ও সাফাই দিবার চেষ্টার বিরুদ্ধে। কিন্তু কোন প্রাণহানি বা নুন্যতম রক্তপাত না, এখানে ঘটে নাই। টার্গেটও ছিল না।

    গত ৫ ফেব্রুয়ারী ছিল হাসিনার বক্তৃতা ও এর প্রতিক্রিয়ায় ৩২ নম্বর-কে ধুলায় মিশানোর মিশন। এখানে, ৩২ নম্বর (সাথে বিভিন্ন জেলায় ফ্যাসিজমের জেলানেতাদের প্রতীকী স্থাপনা) মানে হল যা হাসিনা বা আওয়ামী ফ্যাসিজমের সিম্বল। ফলে সকল বস্তুগত স্থাপনা ভাঙ্গা ফ্যাসিজমের প্রতীকগুলোর বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আক্রমণ।  এর উদ্দেশ্য ছিল জনগণকে সাথে নিয়ে প্রতীকগুলোকে চিনিয়ে দেওয়া আর তাতে বুঝিয়ে দেয়া যে গণশত্রু কারা কারা! আর আবার বলছি এতে সহিংসতা বা রক্তপাত শব্দ ব্যবহারের কোন সুযোগ না রেখে এগুলো পরিচালিত করা হয়েছে।  এককথায় খুবই প্রতীকীভাবে তাঁদের একাজ সম্পন্ন হয়েছে।

    কিন্তু প্রতিক্রিয়াঃ এরা কারা?
    ছাত্র-জনতার এই ততপরতায় খুবই বিপদে পড়েছে অনেকেই! কিন্তু এই অনেকেই, এরা কারা?
    এদের প্রধান সমস্যা হল, এটা ফ্যাসিজমের প্রতীক যেগুলো কেবল এর উপর আক্রমণ হয়েছে কোন ব্যক্তির উপরে নয়; অর্থাৎ ফ্যাসিজমের প্রতীক  মানে যেগুলো বস্তুগত প্রতীক মানে সরাসরি কোন ব্যক্তি – রক্ত-মাংসের কোন ব্যক্তিমানুষ একেবারেই নয়- আর এটাই এদের জন্য বিরাট সমস্যা হয়ে গেছে। কারণ, মানবাধিকারের কথা এতে আনা যাচ্ছে না!  কেন ছাত্র-জনতা কেবল বস্তুগত বা ফিজিক্যাল স্থাপনা যেগুলো সেসব কিছুকে চিনিয়ে দেয়ায় শেষ করল কেন এই হল তাদের আক্ষেপ!  এমনকি কোন ফ্যাসিস্ট ব্যক্তিকেও আক্রমণ করা হয় নাই। তাই নুন্যতম রক্তপাতও এখানে নাই! একারণের যারা ছুপা যারা, গোপনে নিজ চেহারা আড়ালে রেখে  হাসিনার ফ্যাসিজমের পক্ষে কাজ করতে মাঠে নেমে থাকছিল এতদিন –  এরা খুবই বিপদে পড়েছে। মূল কারণ এখন ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচীর বিরুদ্ধে তারা কী বলবে কীভাবে বলবে? এই বয়ান তাদের কাছে নাই!  বিশেষ করে কোন ব্যক্তি-মানুষের উপর সহিংসতা রক্তপাতও যেখানে নাই!  তাহলে তাদের বয়ান দাঁড়াবে কার উপরে?
    এবার একটু সার করে বলি, তাহলে ৩২ নম্বর-কে ধুলায় মিশানোর মিশন এটা আসলে হল, এক রক্তপাতহীন ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচী ছিল এটা!
    তবে এটা কি ছাত্র-জনতা খুব পরিকল্পিত ভাবে করেছে? না, ঠিক তা বলা ভুল হবে। আসলে তাদের মন স্বচ্ছ ছিল যে কোন রক্তপাত ঘটানো – এটা ঠিক তাদের লক্ষ্য নয়। বস্তুগত প্রতীকের উপর জোর দেয়া – এটাই ছিল তাদের লক্ষ্য এবং মন-ভাবনা!  আর এতেই হাসিনার পক্ষের ছুপা দালালেরা  চরম বিপদে পরে গেছে! মূল কারণ, নুন্যতম এটা সহিংসতা বলেও শক্ত কোন বয়ান তারা দাঁড় করাতে পারছে না! কোন ছদ্ম মানবাধিকারের বয়ান বা ছদ্ম মানবাধিকার ইস্যু তারা খাড়া করতে পারছে না!

    সবচেয়ে বড় হাসিনার ফ্যাসিজম সমর্থক – ইন্ডিয়াঃ
    কারা কারা ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচীতে বিপদে? এর শীর্ষে আছে ইন্ডিয়া!
    ইন্ডিয়ার বিদেশ মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য-বিবৃতিঃ

    আগেই বলেছি যারা ছুপা হাসিনা-স্বার্থের এদের মধ্যে শীর্ষে আছে ইন্ডিয়া! যাদের প্রধান সমস্যা বয়ান-ভাষ্য কী বানাবে যখন রক্তপাতও নাই???

    তাই লক্ষ্য করেন, তারা বলছে ৩২ নম্বর বা শেখ মুজিবের বাড়ি এটা নাকি হল historic residence – মানে ঐতিহাসিক গুরুত্ব থাকা বাড়ি বা বাসস্থান। এটা নাকি “a symbol of the heroic resistance of the people of Bangladesh”. মানে হল, বাংলাদেশের মানুষের বীরত্বপুর্ণ প্রতিরোধের প্রতীক! কিন্তু তাতে ইন্ডিয়া সরকারের কী? এটা কিভাবে ইন্ডিয়ার স্বার্থ বা কথা বলবার এক্তিয়ার? 

    তাই এতে এখন ইন্ডিয়ান সরকারী তামাসাটা দেখেন! গত ১৬ বছর যে ইন্ডিয়া হাসিনার ফ্যাসিজমকে ক্ষমতায় বসায়ে বাংলাদেশ শাসন করে গেছে, হেজমনি বা ইন্ডিয়ান আধিপত্য-দখল চালিয়ে গেছে সেই তারাই এখন বয়ান দিতেছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইতিহাস বা ঐতিহাসিক কোনটা? বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানে র-এর এজেন্ট ঢুকয়ে যারা ১৬ বছর শাসন-আধিপত্য চালিয়ে গেছে যারা এখন পরাজিত (যাদেরকে খুঁজে খুঁজে উপরে ফেলে নির্মুল করা বা বের করে দেওয়া ও মুক্ত করার পথে আমরা এখনকা্র বাংলাদেশ)  সেই পরাজিত ইন্ডিয়া  তারা এখন আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাস বা এর বয়ান কোনটা হবে সেটাও এখন নির্ধারণ করতে চাইছে!

    আসলে  ইন্ডিয়ার মনে রাখা উচিত,  ভাষা আন্দোলন কেবল বাংলাদেশে না, ইন্ডিয়াতেও হয়েছে; বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতে তামিলনারুতে! সে ইতিহাস আমরাও জানি! নেহেরু দক্ষিণ ভারতে হিন্দি ভাষা চাপিয়ে দিতে গিয়ে মার খেয়ে ফেরত এসেছিলেন ১৯৬৪ সালে (বলা হয় এই শোকেই ), সেটা আমরাও জানি!  যা থেকে আজ পর্যন্ত তামিলনারুতে কোন হিন্দি-প্রিয় দল কংগ্রেস বা একালের বিজেপি কখনও রাজ্য সরকারে ক্ষমতায় আসতে পারে নাই। সব থেকে বড় চিহ্ন হল,  সেই থেকে ইন্ডিয়ান কনষ্টিটিউশনে রাষ্ট্রভাষা বলে কিছুই নাই। এবং কিছুই যে নাই সেকথা জানিয়ে ইন্ডিয়ার সুপ্রীম কোর্ট এক রায় দিয়ে রেখেছে।
    তো এখন ইন্ডিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাস কোনটা?  মোদি-কংগ্রেসিরা যে ইন্ডিয়ায় পরাজয়ের ইতিহাস লুকায় রেখেছে সেটা কী এখন আমরা বাংলাদেশিরা দাবি করব যে লুকায় রাখা ইতিহাস এটাই  বা সেটা ইন্ডিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাস???? আমরা নট ইন্টারেস্টেড – ছেচড়ামো আমাদের স্বভাবে নাই।  নানান দেশের ইতিহাস জানার জন্য যতটুকু আগ্রহ থাকা লাগে ততটুকুতেই আমরা সীমাবদ্ধ!

    কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস কী এবং কোনটা কতখানি  – এটা একান্তই বাংলাদেশের; এর নির্ধারক একান্তই বাংলাদেশের জনগণ! ইন্ডিয়ান রাষ্ট্র-সরকারকে আমরা এই হুশিয়ারি জানাই দিয়ে রাখতে চাই! কাজেই আমাদের এই নির্ধারক ক্ষমতার মধ্যে ভাগ বসাতে হাত বাড়ালে সেই হাত জ্বালায় দেয়া হবে! জ্বলে পুড়ে যাবে।  এখানে হাত ঢুকানোর চেষ্টা মানে এটাও আরেক ধরনের ইন্ডিয়ান অযাচিত হস্তক্ষেপ, আধিপত্য দেখানোর চেষ্টা। আমরা ইন্ডিয়ার এই অপ-ততপরতা কে উপড়ে  ফেলে দিব, অবশ্যই! বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস এর বয়ান একমাত্র আমাদের জনগণ দ্বারা নির্ধারিত হবে। কাজেই গতকাল ইন্ডিয়ান সরকারী ভাষ্য-বয়ান আমরা প্রত্যাখান করি, নিন্দা জানাই! বাংলাদেশের বয়ানে হাত ঢুকানো বা হাসিনার পক্ষের বয়ান নিয়ে দাঁড়ানো আমরা অবশ্যই প্রতিহত করবো! এনিয়ে ইন্ডিয়ান সরকারের সীমা লঙ্ঘণ চরমভাবে অগ্রহণযোগ্য, এটা মনে রেখে ইন্ডিয়ার যেকোন সরকারকে চলতে হবে! চলা উচিত!

    ভারতের গার্বেজ যারা কাঁধে নিয়েছে এমন বাংলাদেশি রাজনৈতিক দলঃ
    বাংলাদেশে যারা হবু ক্ষমতায় আসীন হতে স্বপ্ন দেখেন এমন সব রাজনৈতিক দলের দুর্দশা হল এরা প্রায় সকলেই  – ভারতের গার্বেজ বা আবর্জনা এরা নিজের কাঁধে নিয়ে হাঁটা শুরু করে দিয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে। এরা ইন্ডিয়া প্রযোজিত কিছু বাংলাদেশি রাজনৈতিক দল হবার পথে রওনা দিয়েছে। এমন ইন্ডিয়া প্রযোজিত দল সকলেই আজ বয়ান সংকটে পড়েছে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচীর কারণে  এরা এখন বয়ান সংকটে দিশাহারা! এরা যে  ৩২ নম্বরের ঘটনার বিরুদ্ধে, সেটা এরা প্রকাশ করতে পারছে না। এটাই মূলত তাদের ভারত প্রযোজিত দল হিসাবে চিহ্নিত হয়ে পড়ার সংকট!  টানা ২৪ ঘন্টা নিশ্চুপ থাকার পরে ইন্ডিয়া প্রযোজিত দলগুলো বহুকষ্টে এখন তারা বলেছে  ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচী – এই ঘটনার পিছনে ইন্ডিয়া আছে কিনা তাদেরকে দেখতে হবে!!!! হা হা হা !! কী আজিব অর্থহীন কথা!

    কী এক সমস্যা দেখেন!
    ভাষ্য-বয়ান কী দিবে কিছুই খুজে পাচ্ছে না! উল্টা-পাল্টা বকছে! তাতে বয়ানের কোন অর্থ হল কী না হল তাও দেখার অবস্থায়ও নাই!  সে এক মহা দুর্দশা! এটাও বাংলাদেশকে দেখতে হচ্ছে!! এরা নাকি নির্বাচনে ক্ষমতায় যাবার স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশের বড় দলের দাবিদার! তবে (মূল দলীয় ভাষ্য নয় তবে) এই দলের সমর্থক যারা – এই তো তারা ক্ষমতায় যাচ্ছে বলে – স্বপ্ন দ্যাখে এমন ব্যক্তিরা তাদের ফেসবুকে একটা শব্দ খুজে পেয়েছে দেখা যাচ্ছে। শব্দটা হল, অরাজকতা! অর্থাৎ ৫ ফেব্রু. ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচী এটা নাকি এক অরাজকতা ছিল! মানে হল তারা আইনি পথে থাকার লোক! আচ্ছা! কিন্তু এরা কী আইনি-বেআইনি বিষয়টা বুঝে???
    এই ছুপা ইন্ডিয়ান-হাসিনা প্রেমি এরা ভেবেছে এভাবে তারা নিজেদের দালালির স্বার্থ লুকায় রাখতে চলতে পারবে! অথচ এদের আইনি-বেআইনি তর্ক বা রাজকতা বনাম অরাজকতা তর্ক  এটাই তো অর্থহীন! যেমন, এরা ভেবে দেখতে পারে যে, ১৯৭১ সালে যারা মুক্তিযোদ্ধার রাজনৈতিক ভুমিকায় নেমেছিলেন সেটা কী অরাজকতা ছিল না?
    হা অবশ্যই ছিল, তবে সেটা আমাদের সে সময়ের যুদ্ধের প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের মানে, আমাদের শত্রুপক্ষের আইনি বা কনষ্টিটিউশনের দিক থেকে দেখলে তবেই!  পাকিস্তানের আইনি বা কনষ্টিটিউশনের দিক থেকে দেখলে আমরা ছিলাম অরাজক শক্তি! এর সোজা অর্থ হল তাহলে, হাসিনা ও ইন্ডিয়ান আধিপত্যের জায়গায় বসে দেখলে ৫ ফেব্রু. ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচী ছিল অরাজকতা! অর্থাৎ যারা ৫ ফেব্রু. কে অরাজকতা হিসাবে দেখছেন এরা  হাসিনা ও ইন্ডিয়ান স্বার্থের লোক! ঠিক যেমন জুলাই-আগষ্ট্রের আন্দোলনে যারা ছাত্রলীগের গুন্ডা অস্ত্রবাজ, পুলিশ ও হেলিকপ্টারের বিরুদ্ধে বহুকষ্টে লড়ে বিজয় লাভ করেছে আর তাতে শেষে অনেক পুলিশ মারাও গিয়েছে – হাসিনা ৫ ফেব্রুয়ারির বক্তৃতায় এই পুলিশ-ছাত্রলীগকে হিরো মেনেছেন। মেনে যাদের বিরুদ্ধে হাসিনার দেওয়া ভুয়া মামলা ছিল, পুলিশ মারার মামলা ছিল সেগুলা এখন ইউনুস সরকারের ডিসমিস করে দেওয়ার উদ্যোগ বা প্রত্যাহার করে দেওয়া (ইনডেমিনিটি) এসবকে অবৈধ বলেছেন হাসিনা! তাহলে যারা অরাজকতা বলে বয়ান আনতে চাইছেন তাদের উচিত প্রকাশ্যে অবস্থান পরিস্কার করে কথা বলা! তারা কী ছাত্র-জনতাকে হাসিনা-ইন্ডিয়ার মত “অরাজক শক্তি” মনে করেন তা স্পষ্ট করে বলেন! পারবেন? পারলে সামনে আসেন! বুক ফুলায়ে বলেন!!!  পাবলিক আপনাদেরকে দেখুক যে কারা গত ৫ ফেব্রুয়ারি ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচী কে অরাজকতা হিসাবে দেখছেন! এবং কেন দেখছেন???
    একই সমস্যায় ভুগছে জামায়াত!
    কি বলবে?  কথা খুজে না পেয়ে বলেছে, সবাইকে ধৈর্য ধরতে! মানে ইন্ডিয়ান লিঙ্ক ছুটে যায় কীনা সেই দুশ্চিন্তা বিবেচনা প্রবল রেখে কোনমতে একটা ভাষ্য তৈরি করেছে তারা! তাতে এর কোন অর্থ হোক আর নাই হোক!

    এই ফাঁকে আইন সালিসি কেন্দ্রঃ
    এরা আসলে সবসময়  “হাসিনা লীগ টু”!
    কামাল হোসেন এন্ড গং!  মূলত এরা ইন্ডিয়ান হেজিমনি ফেরত আনার পক্ষের শক্তি! কিন্তু ছল নিয়েছে তারা মানবাধিকার কর্মি! এদেরই এক জামাই প্রশ্ন তুলেছেন – “Who is running Bangladesh? Muhammad Yunus?” – যেন বিরাট মানবাধিকার কর্মি! কায়দাটা অসম্ভব ছুপা! এরাই হল অরাজকতা দেখার গোষ্ঠি! অথচ আসলে এরা ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট! ৩২ নম্বর যাদের প্রাণ!  গত ১৬ বছর হাসিনার ফ্যাসিজম তারা দেখেও দেখে না; কিন্তু প্রতীকী এই ৩২ নম্বর একে পবিত্র জ্ঞান করা তাদের বয়ান। হাসিনা তাঁর গুম-খুন লুটপাটের ফ্যসিজম আর ৩২ নম্বর বা শেখের মুর‍্যাল এই প্রতীক সব একাকার করেছিলেন খোদ শেখ হাসিনা! তবু এখন ৩২ নম্বরের সিম্বল এই বয়ান-দৃষ্টিভঙ্গি আর ইন্ডিয়ান স্বার্থ বা তাদেররও বয়ান – এদুটা একজায়গায় মিলেছে। তাই কামাল হোসেন এন্ড গং! এরা আসলে ঘুরে-ফিরে ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট! এরাই ১৯৭১ সালের ঘটনাকে পাকিস্তানের আইন-কনষ্টিটিউশনের জায়গায় বসে দেখলে  (অরাজকতার ভাষ্য ) যেমন হবে এরা সেভাবে দেখার লোক! এরা হাসিনা-ইন্ডিয়ার স্বার্থের জায়গায় বসে এরা ৫ ফেব্রুয়ারি ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচী কে অরাজকতা বলে দেখছেন। আর মানবাধিকার এর মিথ্যা-মোড়কে মুড়িয়ে বয়ান হাজির করার কু-চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

    সাথে আছে চিন্ময়-ইসকন বামপন্থীঃ
    সাথে আরও আছে কিছু প্রগতিশীল বামপন্থী যারা আসলে ইন্ডিয়ান স্বার্থের আরও ঘোরতর এজেন্ট! বিচি আটকে যাওয়া এজেন্ট! কিন্তু নিজেদেরকে ছুপায় রাখতে চায় যে তারা প্রগতিশীল! এরা প্রশ্ন তুলতেছে যে ৩২ নম্বর ভেঙ্গে কী লাভ?
    আসলে প্রগতিশীলদের রূপের শেষ নাই! যদিও সব রূপের কমন দিকটা হল তারা ছুপা ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট!। অথচ এরা নিজেরাও মানতে চায়না যেন জানে না যে এই অবস্থানটা বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে অন্য রাষ্ট্রস্বার্থের দালালি! এদের নয়া সংযুক্তি হল, সাথে বলা এগুলো – “এগুলো ইহুদী-খ্রীষ্টান প্রকল্পের অংশ”। এরা জানে সাধারণভাবে ইসলামিস্টদের কাছে বা এমন রাজনীতিতে –  “ইহুদী-খ্রীষ্টান প্রকল্প বা বয়ানের বিরুদ্ধে তাদের শক্ত ও কমন অবস্থান আছে। তো সেই বয়ান কে ছদ্ম বা ভুয়া স্পর্শ করতে তাদের এই নয়া ছিল। টেনে হিচড়ে কোন ব্যাখ্যা কে আমেরিকান বা সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্ত বা ট্রাম্পের অবস্থান বলে (মিলুক আর নাই মিলে যাক) -এগুলো ইহুদী-খ্রীষ্টান প্রকল্পের অংশ – বলে ট্যাগ দিয়ে এরা হাজির করেছে আজকাল অথচ এরা সরাসরি র-এর মানে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির চক্কড়ে আটকে হানি ট্রাম্পড হওয়া ব্যাক্তি বা গোষ্ঠি-সকল!
    আবার অনেকে বয়ান-যুক্তি দিচ্ছেন ৩২ নম্বর স্থাপনা ভাঙ্গালেও ফ্যাসিজম ভাঙবে না । তাই ৩২ নম্বর ভাইঙ্গো না! অথচ ছাত্র-জনতার কেউ কী দাবি করেছে এটা? নাকি গত ১৬ বছরে এরাই হাসিনাকে ভুল বুঝানো হয়েছে বলেছিল অথবা শাহবাগী জজবা তুলে এরাই হাসিনাকে জঙ্গীবাদবিরোধিতার নামে গুম-খুন হত্যার ফ্যাসিজম কায়েম করতে বয়ান যোগান দিয়েছিল??? অথচ এরাই ৩২ নম্বর স্থাপনা না ভাঙ্গার ফ্যাসিজম শিখাতে এসেছে!  এরা ভুলায় দেতি চায় যে যারা ৩২ নম্বর স্থাপনা ভাঙ্গতে উতসাহ দিয়েছে তারাও তো বলছে এটা প্রতীকগুলোকে ভেঙ্গে দিয়ে ফ্যাসইজম ভাঙ্গতে হবে সেকথাই বলছে, সেই বয়ান খাড়া করেছে!!

    আবার প্রগতিশীলতার কেউ কেউ বলার চেষ্টা করছে যে  ফেব্রুয়ারি ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচী এটা অরাজকথা!  এর চেয়ে আয়নাঘর ভাঙ্গা ভাল! যেন এরা আয়নাঘর ভাঙ্গার নয়া সৈনিক!
    এরা আসলে বাংলাদেশে একটা সেনাবাহিনী থাকুক আর সেটা র-এর এজেন্ট বের করে দেয়া সেনাবাহিনী হোক মুলত এটাই তারা চায় না। খুবই কষ্ট পায় আর ব্যাথা তাদের! এই অর্থে তারাও হাসিনা ও ইন্ডিয়ান স্বার্থের লোক বা রাজনীতি করা লোক!
    বাংলাদেশে ১৯৭৫ সালের পরে শেখ মুজিব উতখাত হওয়াতে সাধারণভাবে আর্মির বিরুদ্ধে এক বয়ান খাড়া করেছিল লীগ-হাসিনা! সাধারণভাবে আর্মি কথাগুলো খেয়াল করেন। বয়ানের মূল কথা হল, আর্মি মানেই এন্টি শেখ মুজিব!
    অথচ আপনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রের পক্ষের হলে তাহলে আর আপনি সাধারণভাবে আর্মির বিরুদ্ধে থাকতে চাইলেও থাকতে পারেন না। থাকলে এর সোজা মানে হবে আপনি খোদ বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে।

    মূলকথাটা হল, হাসিনার ১৬ বছরের আর্মি আর এখনকার আর্মি – এদুটাই তো আর্মি। কিন্তু একই আর্মি নয়! যারা এদুটোকে মিশিয়ে একাকার করে শুধু আর্মি বলবে এরা জেনে না জেনে ইন্ডিয়া-হাসিনার পক্ষের লোক!  আপনাকে অবশ্যই এদুটোকে আলাদা করে বুঝাতে এবার সাথে বিশেষণ লাগিয়ে বলতে হবে। যেমন  হাসিনা আমলের আর্মি  নাকি  হাসিনা উতখাত-পরবর্তি আর্মি!   ফলে যারাই সবকিছুকেই শুধু আর্মি বলে একটা শব্দ ব্যবহার করবে এরাই বাংলাদেশ রাষ্ট্র-বিরোধী এবং ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট(!) হওয়ার সম্ভাবনা ষোলভাগ! জেনে অথবা না জেনে! যদিও অনেক সময় এরা গ্রুপবদ্ধ থাকলে তাদের বেলায়, এদের টপ নেতারা জানে তারা ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট কিন্তু নিচের কর্মিরা না জেনেই ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট!- এই হল ফারাক!
    ফলে আয়নাঘর মানে একে “আর্মি” এই শব্দটাকে সাধারণভাবে মানে বিশেষণ ছাড়া অর্থাৎ আয়নাঘর মানে সাধারণভাবে – আর্মি মাত্রই খারাপ – এই প্রতীকী  ব্যবহার করতে চায় এরা। এজন্য এরা জেনে না জেনে ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট হয়ে থাকছে। হাজির হচ্ছে বা থাকতে চাইছেন। আজ, ৩২ নম্বরের নিচে সাততলা আয়নাঘর এর কথা কথা বলা হচ্ছে, সন্দেহ ও খোঁজাখুজি শুরু হয়েছে। এখন যারা মনে করেন ইউনুস সরকার আয়নাঘর দেখতে দিতে চায় না তারা কী করবেন?  এবার স্বরূপে হাজির হন, হবেন? “৩২ নম্বরের চেয়ে আয়নাঘর ভাঙ্গা ভাল” যারা বলছিলেন; আর কত ছুপা থাকবেন! সাততলায় ঝাপায় পরে খোজাখুজি করে প্রমাণ করেন আপনারা আসলেই কেবল মানবাধিকারের পক্ষের লোক!
    আবার আরেক বিপ্লবী প্রগতিশীলতা আছে  যারা চিন্ময়-ইসকন এর অধিকারের পক্ষে খাড়াইতে চায় (এভাবে র-এর স্বার্থ হাসিলের কর্তা) অথচ নিজেকে নয়া কনষ্টিটুশনের পক্ষের যেন বিপ্লবী এই ভেক ধরে হাজির থাকতে চায়!

    সারকথায়, এখন দুদিন চলবে বয়ানের লড়াই! এই লড়াইয়েও আমাদেরকে অবশ্যই জিততে হবে! হাসিনা ও ইন্ডিয়ান হেজিমনি ফেরত আনার পক্ষের শক্তিকে বয়ানেও পরাজিত করতেই হবে! সবাই সাবধান!
    আর যারা মানবাধিকার ব্যবসা করে  বা এর আড়ালে ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট এর কাজ করে এদের সামনের দিন আরো খারাপ হবে! আর তা থেকে বাঁচতে চাইলে একটাই উপায় – আড়ালে ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট-গিরি তাদের ত্যাগ করতে হবে। যেমন হাসিনার ১৬ বছরে আসক (আইন সালিসি কেন্দ্র) যা যা করে টিকে ছিল হাসিনার গায়ে গুম-খুন মানবাধিকার ভঙ্গের অভিযোগের টোকা লাগতে দেয় নাই – আপনারাও সেসব করে মানবাধিকার ব্যবসায় থাকেন! আর নাইলে উতখাত হয়ে যাবেন। যারাই, পারসোনালি বা হুন্ডিতে বিদেশি অর্থ এনে মানবাধিকারের নামে আড়ালে ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট হতে বা থাকতে চাইছেন এরা সকলে অবশ্যই উতখাত হবেনই! দিনকে দিন এদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের একশন শক্ত হবেই!  আয়নাঘরের বিরুদ্ধে আপনারা এক ভয়েজ যেন এই চেহারার আড়ালে মানবাধিকারের ঝান্ডার আড়ালে অর্থ কামাবেন তা হয়ত করতে পারেন; কিন্তু আর্মি এই শব্দটাকে সাধারণভাবে মানে বিশেষণ ছাড়া ব্যবহার করবেন তাহলে আপনারা উতখাত হবেন!

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   সন্ধ্যা ৭ঃ ২৬ , ০৭ ফেব্রুয়ারি  ২০২৫
    শেষ আপডেটঃ   রাত ৮ঃ ৩৬ , ০৭ ফেব্রুয়ারি  ২০২৫

  • ইন্ডিয়ান বিদেশসচিব মিস্রির চীন সফরের তাতপর্য

    ইন্ডিয়ান বিদেশসচিব মিস্রির চীন সফরের তাতপর্য
    গৌতম দাস
    ২৪ জানুয়ারি ২০২৫
    https://wp.me/p1sCvy-6fT

    INDIA TODAY REPORT

    নিচের লেখাটা আজ (২৪ জানু.২০২৫) আমার ফেসবুক স্টাটাসে কয়েক ঘন্টা আগে লিখেছিলাম; পরপর লেখা দুইটা স্টাটাস যার শিরোনাম বা প্রথম লাইন হলঃ
    ১। ট্রাম্পের প্রথম অর্জন!
    ২। এখন বাংলাদেশে কী দেখব আমরা!
    এদুইটা স্টাটাসকেই আরো গুছিয়ে এবং এডিট করে একটা ভাষ্য বানিয়েছি। 

    ট্রাম্পের প্রথম অর্জন!

    ইন্ডিয়ার পররাষ্ট্র সচিব (২০২০ সালের পরে) এবার চীন সফরে (২৬-২৭ জানু. ২০২৫) যাচ্ছেন।
    অর্থাৎ ট্রাম্প ইন্ডিয়াকে চীনের কোলে ছুড়ে ফেলে দিলেন, ক্ষুব্ধ মহিষের মত!
    ইন্ডিয়ান পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের ভাষ্য হচ্ছে, চীন-ইন্ডিয়া সম্পর্ককে “পরের ধাপে উত্তীর্ণ করতে” ইন্ডিয়ান সচিব মিশ্রি চীনে গিয়ে রাজনৈতিক, ইকোনমিক, সহ সব ইস্যুতে কথা বলবেন।
    ……next steps for India-China relations, including in the political, economic, and people-to-people domains.
    এখন, তামাসার দিকটা হল ইন্ডিয়ান মিডিয়াই জানাচ্ছে যে ইন্ডিয়ান জয়শঙ্কর কোয়াড ফটো সেশন [মানে যেখানে QUAD বা ইন্ডিয়া, জাপান, অষ্ট্রলিয়া, আমেরিকা এই চার পররাষ্ট্রমন্ত্রী একসাথে ট্রাম্পের শপথ অনুষ্টান শেষে একটা ছবি তুলেছিলেন] চীনকে তাইওয়ান আক্রমণের বিরুদ্ধে হুশিয়ারি দিয়েছিলেন; ঠিক এর পরদিনই ইন্ডিয়ার পররাষ্ট্র সচিবের এমন – চীন সফরের কথা ঘোষণা – এসেছে! ফলে বুঝতেই পারছেন, কোন হুমকির আসল অর্থ কী!!!
    এখন তাহলে, বাংলাদেশ নিয়ে ট্রাম্পের নয়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও এর সাথে জয়শঙ্করের কী আদৌও বিশ্বাসযোগ্য ও উল্লেখযোগ্য কোন কথা হয়েছে? মনে হয় না!!!!!!

    ইন্ডিয়ান ভানভনিতার চাপাবাজি! যা ভান করে তাকায় থাকে একদিকে আর ব্যট চালায় আরেকদিকে! এসব আর কত????

    ইন্ডিয়ান কথিত মিডিয়ার খোঁচাখুচির ঠেলায় চীনের পররাষ্ট্র মুখপাত্রও ভারতের মিশ্রির সফর কে “ওয়েলকাম” করে বলে জানিয়ে দিয়েছে।
    China welcomes Indian foreign secretary’s visit, says FM spokesperson
    By Global Times Published: Jan 24, 2025 04:27 PM
    Moving to resume bilateral engagements after the disengagement at the India-China border?!
    ইন্ডিয়া বলছে এটা চীনের সাথে তাদের সম্পর্ক ফিরে শুরু করাঃ
    এখানে resume মানে Moving to resume শব্দ কয়টা খুব গুরুত্বপুর্ণ।
    resume মানে ফিরে শুরু করা। কাকে ফিরে শুরু করা?
    ২০১৮ সালে প্রথম এক বিশেষ ফরম্যাটে শি-মোদির মিটিং হয়েছিল চীনের উহান শহরে যেটা [Wuhan Summit] নামে পরিচিত। ওর বৈশিষ্ট ছিল এই শীর্ষনেতা দুজন সরাসরি (কেবল দুজনই একজনকে করে নিজ নিজ অনুবাদক সাথে নিয়ে) আর এই মিটিং ছিল ইনফরমাল মানে, এই মিটিং যেকোন কথাই বলা যাবে যেকোন ইস্যু তোলা বা প্রশ্ন করা যাবে। কিন্তু সেখানে যা কথা হবে তা পরে কোথাও রেফারেন্স দেয়া যাবে না; যেন বলেই নাই এরকম। তাই এই মিটিঙ্গকে বলা হয় ইনফরমাল।
    এনিয়ে আরো জানতে চাওয়া আগ্রহীরা আমার পুরানা লেখা দেখতে পারেন https://wp.me/p1sCvy-2w6
    এর পালটা পরের বছর ইন্ডিয়াতেও একই ফরম্যাটে সভা হয়েছিল। কিন্তু সেই শেষ।
    একারণে, ভারতের resume শব্দটার ব্যবহার গুরুত্বপুর্ণ!

    উপরের এই ঘটনাবলীর প্রেক্ষিতে, এখন বাংলাদেশে কী দেখব আমরা!

    ট্রাম্পের ক্ষমতায় আসা কেবল আমেরিকা বা চীনে না বরং, এটা সারা দুনিয়া জুড়েই এক বিরাট ওলট-পালটের ঘটনা এনে ফেলবার আগমনী বার্তা!
    এই হল, বড় বা গ্লোবাল দিকটা!
    আর সুনির্দিষ্ট করে বাংলাদেশে এর প্রভাব হবে আগামি ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৫ থেকে পরের মার্চ ২০২৫ মাসের মধ্যে আমরা যা কল্পনাও করি নাই, এমন এক ওলট-পালট এর বাংলাদেশ আমরা দেখতে যাচ্ছি!
    যার মধ্যমনি ঘটনাটা হবে – ইন্ডিয়া বাংলাদেশের কেউ না; সেই বাংলাদেশের কেউ গোনায় ধরছে না ইন্ডিয়াকে!
    ফলে সেই বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের পক্ষে-বিপক্ষের সকলেই (হবু ক্ষমতাসীন ভাবা রাজনৈতিক দল সহ) নয়া প্রেক্ষিতে নিজের অবস্থান ঠিক করে নিবেন বা নিতেই হবে!!
    বিশেষ করে যারা ধরেই নিয়েছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতি-ক্ষমতায় যেতে হলে ইন্ডিয়ার হাতে-পায়ে চুম্মা দিতেই হবে, মেলা কিছু ধরতে হবে – এরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবেন। এমনকি তাদের রাজনৈতিক জীবন এখানেই ইতি হয়ে যেতে পারে!!!!!
    তবে কেবল, একটা সাবধান বাণীঃ
    আমরা কেউ যেন আবার ট্রাম্পভক্ত না হয়ে পড়ি!
    ট্রাম্প নিজেও তার দেশে সবচেয়ে অজনপ্রিয় হয়ে পড়তে যাচ্ছেন আর সেটা ক্ষমতার প্রথম দুবছরের মধ্যেই! এখানে ধরে নিয়েছি তিনি তার নির্বাচনে দেয়া নীতি-পলিসিতেই আটকে থাকবেন। যেটা অর্থনীতিক জাতিবাদি আর ইমপেরিয়াল (পানামা দখলের হুমকির মত)। অতএব বুঝো সুজন!!!

    অনেকে আরো বিস্তারিত করে লিখতে বলেছেনঃ

     আমি বলেছিঃ দেখি! মনে রাখব আপনার কথা!
    তবে আমার লেখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা এসব হবু বা আসন্ন ঘটনাবলীর টাইমিং নির্দিষ্ট করে বলা – এটা খুবই কষ্টকর! তাই আমার কথাগুলো যদি অভিমুখ বা ট্রেন্ড [trend] কোন দিকে সেটা বুঝার দিক থেকে পাঠ করেন তবে আমার বক্তব্যের প্রতি সঠিক বিচার হবে। কারণ, একেবারে সুনির্দিষ্ট করে টাইম বলা খুবই কঠিন! যেমন, এখন ১৫ ফেব্রু-মার্চ মাস পার হয়ে গেলেও যদি এটা সেক্ষেত্রে এরপরেও আরো কয়েক মাস সময় নিতেই পারে। কিন্তু এটাই ঘটতে যাচ্ছে কথাটা অভিমুখ হিসাবে দেখেন তবেই আমার বক্তব্যের প্রতি সঠিক বিচার হবে।
    সাধারণভাবে আমি বেশির ভাগ সময় টাইমিং বলতে গিয়ে বেশি আগের সময় বলে ফেলি, ফেলতে হয়। যেটা বাস্তবে আরো পরে ঘটেছে। যেমন চীন-ইন্ডিয়া য়ুহান সামিট [Wuhan Summit] ২০১৮-১৯ সাল এর সময় থেকেই বলে আসছি যে ইন্ডিয়াকে আল্টিমেটলি চীনের কোলে উঠতেই হবে। কিন্তু সেটা ঘটার আলামত শুরু হচ্ছে এখন। তবে ২০৩০ সাল নাগাদ এটা একেবারেই ফকফকা স্পষ্ট হয়ে যাবে! অন্যভাবে বললে, ২০২৮ সাল পর্যন্ত ট্রাম্পের ক্ষমতাকাল। উনিই সম্ভবত শেষ চীনবিরোধী নীতির প্রেসিডেন্ট! এরপরে, এখন যেমন আমেরিকা- ইংল্যান্ডের সম্পর্ক তেমন (আমেরিকা অনুসারী ইউকে) হয়ে যাবে বা হতে শুরু করবে তখনকার চীন-আমেরিকার সম্পর্ক। মনে রাখতে হবে ইংল্যান্ড ছিল আমেরিকার আগের দুনিয়ার সবচেয়ে বড় নেতা, এই আলোকে!
    কিন্তু সবসময়ই টাইমিং টা “বেশি আগের টাইমিং” হিসাবে বলে ফেলি বেশির ভাগ সময়ই; তা হলেও এর ঘটনা-অভিমুখ কোনদিকে এটা ক্রমশ যাচ্ছে এনিয়ে যেটা বলি সেটা মিলে ভালভাবে বেশিরভাগ সময়। তাই সাবধান আমাকে গণক যেন না বানানো হয়, মনে না করেন। আমি ঘটনা বিশ্লেষক মাত্র! আমি এমন একজন যার দুনিয়ার পুর্বের ইতিহাসের ঘটনার আলোকে একালের ঘটনার অনেক কিছুই ব্যাখ্যা করতে পারি; আগাম দেখতে পাই – এতটুকুই।

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ    জানুয়ারি ২০২৫

  • আদিবাসী বলা না বলা – কেন ও কীসের ভিত্তিতে

    আদিবাসী বলা না বলা – কেন ও কীসের ভিত্তিতে
    গৌতম দাস
    ১৮ জানুয়ারি ২০২৫   দুপুর ১২ঃ ০৭
    https://wp.me/p1sCvy-6eQ

     

     

     

    আদিবাসী বলা না বলা

    শুনতে অবাক লাগলেও কথা সত্যি যে দুনিয়াতে নানান রাষ্ট্র মানেই তা একেকটা এথনিক [Ethnic] জাতির নিজ নিজ ভুখন্ডেই গড়ে নেয়া রাষ্ট্র নয়। আজকের আমেরিকার এথনিক জাত অরিজিন মূলত বৃটিশ (সাধারণভাবে ইউরোপীয়) অথচ তারা আমেরিকা মহাদেশ বা নর্থ আমেরিকায় মাইগ্রেটেড হয়ে গিয়ে সেখানে “নিজেদের” রাষ্ট্র কায়েম করেছেন।  আর উলটা বা সবচেয়ে কমন চিত্র হল যেমন এথনিক পুর্ববঙ্গের বাঙালি নিজ ভুখন্ডেই নিজ রাষ্ট্র গড়েছে।
    এথনিক – শব্দ শুনেই ঘাবড়াবার কিছু নাই।   ইংরাজিতে জাত বলতে দুইটা শব্দ আছে race আর ethnic এভাবে দুইটা। যার প্রথমটা মূলত মানুষের ১০ লাখ বছরেরও আগের যাযাবর জীবনকালের সময়ে একেক মানুষের সাথে অপর মানুষের মধ্যে পরিচয় (identity) বৈশিষ্টে যে ভিন্নতা দেখা যেত; সেটাকে ব্যাখ্যা করে।  যেমন,  সেগুলোকে কে কোন জাত-ক্যাটাগরির যেমন গায়ের রঙ কেমন, চুলের বৈশিষ্ট কী ইত্যাদি দিয়ে বিভক্তি-পরিচয় দাঁড় করানো – এভাবে জাত পরিচয় করাটাকে ইংরাজিতে RACE বা রেস অর্থে জাতি পরিচয় বুঝায়। যেমন আরেক বিভক্তি-চিহ্ন, দুনিয়ার প্রতিটা রেস অর্থে জাতির রক্তের ডিএনএ বৈশিষ্ট আলাদা।
    আর পরেরটা বা অন্য জাতি ধারণাটা হল, এথনিক অর্থে জাতি। এটা মূলত যখন মানুষের যাযাবর বৈশিষ্টের জীবনযাপন এর সুদীর্ঘ মিলিয়ন বছরকালের পরে এর বদলে কৃষিকাজভিত্তিক যে জীবনযাপন শুরু হয়ে গেছিল সেই কালপর্ব সম্পর্কিত হল এথনিক জাতি।  মোটামুটি ছয় হাজার বছর আগে শুরু হয়েছিল এই বৈশিষ্টের জীবন যাপন। আর যার প্রধান বৈশিষ্ট হল যাযাবর-গিরি ছেড়ে ভুমিতে থিতু হয়ে বসবাস; মানে, চাষবাস শিখে ফেলার পরের মানুষ-জীবন। কৃষিকাজভিত্তিক  জীবনযাপনের শুরু, এখান থেকে এথনিক জাত ধারণা মানুষের আবির্ভাব। আমরা কী খাই, কেমনে রেঁধে খাই, কী কালচার, ধর্মবোধ ও পালন ইত্যাদি সব এর অন্তর্ভুক্ত বৈশিষ্ট।  অন্যভাষায় এটাকে আমরা সিভিলাইজেশন এর শুরুও বলি। যেমন আমরা সিন্ধু সভ্যতা (Indus-Valley Civilization) এর অংশ; সেখান থেকে একটা উপ-বিভাগ ‘বাঙালি’; সেই “বাঙালি” এথনিক জাতির অংশ। বাঙালি আমাদের এথনিক জাতিগত নাম।  এবং আমাদের রাষ্ট্র হিসাবে যা পুর্ববঙ্গের বাঙালি সংখ্যাগরিষ্ট; যার এখনকার নাম বাংলাদেশ। আবার রাষ্ট্রগঠনের বিচারে এর ভিতরে অনেক ভিন্ন ভিন্ন এথনিক জনগোষ্ঠি যেমন বাঙালি হিন্দু, বাঙালি মুসলমান এবং অনেক ছোট ছোট মঙ্গোলয়েড [Mongoloid] এথনিক অরিজিনের মানুষ আছে। সাধারণ বিচারে আমরা সবাই সমতলভুমিতে বসবাসকারী অর্থে সমতলি। তবে মঙ্গোলয়েড [Mongoloid] এথনিক অরিজিনের মানুষদের একটা অংশ সমতলি নয় তুলনামূলক তারা পাহাড়ে বাস করে বলে অনেকে তাদের পাহাড়ী বলে থাকে। এরা অন্তত ১৯৯৭ সালের পরে নিজেরাই নিজেদেরকে পাহাড়ী বলেও ডেকেছে।
    রাষ্ট্র মূলত রাজনৈতিক বিচারে ভিত্তিতে গঠন হয় বলে ( মানে কেবল এথনিক বিচারেই নয়) এথনিক সহ আমাদের মধ্যে অন্য যতই ভিন্নতা যাই থাক, একই রাষ্ট্রের ভিতরের আমরা সবাই সম-মর্যাদার ও সম-অধিকারের নাগরিক।

    সবার আগে একটা সাবধানবাণীঃ
    এই আলোচনায় মানুষ যেই এথনিক বা রেসিয়াল [racial] অরিজিনের হোক না কেন কাউকেই কারো চেয়ে উঁচা-নিচা দেখা বা দেখানো যাবে না। ভাবা যাবে না। এটা বড় অপরাধ হবে। এই ভাবনাটা মনের পিছনে সবসময় জাগিয়ে রেখে, জীবন্ত রেখে তাই এই আলোচনাটা পড়তে হবে। এতে অনেক কিছুই ঠিকঠাক বুঝা হবে।

    অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, মঙ্গোলয়েড বলতে তারা প্রধানত পাহাড়ে বা উচু ভুমিতে যাদের শুরুর বসবাস; যদিও লম্বা কালপর্বে তারা ক্রমশ সমতলের দিকে ছড়িয়ে পড়েছিল, এরকম! মঙ্গোলয়েড ধারণাটা যত না ethonic পরিচয় ঘটিত এর চেয়ে এটা রেসিয়াল [racial] বিচার-বৈশিষ্ঠের এক পরিচয়। আসলে এটা কোন ভুগোলে (সমতলে না পাহাড়ে এভাবে কোন ভৌগলিক অবস্থানে) বাস করে সেটাই প্রধান করে দেখে একটা বিচার-বৈশিষ্ট। অক্সফোর্ড ভাষার ডেফিনেশন অনুসারে, এটা – “relating to the broad division of humankind including the indigenous peoples of East Asia, SE Asia, and the Arctic region of North America.”।

    এখানে এই আলোচনাটা শুরু করেছি যেখান থেকে,  সেটা ঠিক এথনিক বা রেসিয়াল অরিজিনের বিচার প্রসঙ্গে না; বরং এর চেয়েও কে কোথায় এই একালে (মানে ১৬০০ সালের পরে) রাষ্ট্র গড়েছে – রাষ্ট্র পত্তন করেছে – সেদিকে ফোকাস রেখে। মানে নিজ এথনিক ভুমিতে  সে রাষ্ট্র গড়েছে তা হ্যা কিংবা না এমন কিনা – এদিকে ফোকাস করে।

    আরেক ধরনের রাষ্ট্র পত্তন; মাস মাইগ্রেশনঃ
    এবার আরেক ধরনের রাষ্ট্র পত্তন বা গড়ার দিকে যাব। এর মূল বৈশিষ্ট হল এরা নিজ এথনিক ভুমির থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে পরিকল্পিত স্থানান্তর [মাইগ্রেশন বা migration] করে অন্য এথনিক জনগোষ্ঠির দেশে নিজ রাষ্ট্র গড়ে নিয়েছিল। এধরণের এখনকার সবচেয়ে ভাল উদাহরণ হল, আমেরিকা, কানাডা, অষ্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ইত্যাদি  রাষ্ট্র!
    যারা সকলেই পুরা লট ধরে এথনিক ইউরোপের বাসিন্দা যার আবার সংখ্যাগরিষ্ট অংশটাই বৃটিশ অরিজিন পরে অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের যারা এতে অংশ নিয়েছিল। ঐতিহাসিক নথিপত্র বলছে, বৃটিশ কোম্পানির জাহাজ ১৬০৭ সালে সর্বপ্রথম নর্থ আমেরিকা মানে এখন যেটা ইউএসএ এর এক অঙ্গরাজ্য ভার্জিনিয়াতে জাহাজ ভর্তি বৃটিশ গরীব কৃষক নিয়ে ল্যান্ড করেছিল। কৃষকদের বলা হয়েছিল মাঙনা আমেরিকায় তাদের নেয়া হবে, প্রচুর চাষাবাদের জমি দেয়া হবে সাথে চাষাবাদি-জীবনযাপনে্র জন্য শুরুর অর্থও দেওয়া হবে। অর্থাৎ উদ্দেশ্য পরিকল্পিত এক এথনিক মাইগ্রেশন।  মাইগ্রেশন এর বাংলা উদ্বাস্তু হলেও এখানে ব্যাপারটা উলটা। মাস (গণ) মাইগ্রেশনের লোকেরা এখন আমেরিকার নায়ক শুধু না, সারা দুনিয়ার নায়ক হয়ে থাকছিল যার প্রভাবই এখনও প্রবল!
    এখানে উভয় পক্ষ মানে, এই মাইগ্রশনে যে নিয়ে যাবার আয়োজন-খরচ করেছে আর যাকে (কৃষক) নিয়ে গেছে উভয়েই মূলত একই এথনিকগোষ্ঠি – বৃটিশ। কিন্তু উভয়ের আসল সম্পর্ক টা ঠিক এথনিক পরিচয়ের নয়। বরং এদুইয়ের বৃটিশ একপক্ষ (সংখ্যায় কম) অন্যের ভুখন্ড-জমিতে হয়েছে কলোনিদখলদার আর অন্য বৃটিশ পক্ষ হল যাদেরকে জাহাজ ভরে ঐ দখলি ভুমিতে নিয়ে ফেলা হয়েছে যাতে তারা চাষাবাদের দখলি জমিতে “প্রজা” হতে পারে!

    তাহলে ১৭৭৬ সালে আমেরিকান স্বাধীনতা, স্বাধীন রাষ্ট্র এসব কথার অর্থ কী?
    এর সোজা অর্থ হল, আমেরিকায় চাষাবাদের জমি দখলদার আর চাষাবাদের জমির প্রজা উভয়ের যারা এথনিকভাবে বৃটিশ তাদের দুই অংশের মধ্যে (প্রায় দেড়শ বছর পরে) পরস্পরের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু হয়েছিল। আর পরিণতিতে চাষাবাদের প্রজাদের বিজয় ঘটেছিল। আর এটাই ১৭৭৬ সালের স্বাধীন আমেরিকা! অর্থাৎ বৃটিশ বা ইউরোপীয় এথনিক অরিজিনের প্রজা কৃষকদের বিজয়-টাকে আমেরিকান স্বাধীনতা বলে আমরা জানি।
    [এই রচনা লিখার সময়ে তা সংক্ষেপ রাখার জন্য অনেক কিছুই বিস্তারে বলি নাই; অবশ্য তা আমার অন্য প্রসঙ্গের লেখায় আছে সেগুলো এড়িয়ে মূল প্রসঙ্গে চলে গেছি।]

    তাহলে স্থানীয় এথনিক – কথিত রেড ইন্ডিয়ান যারা – এরা কোথায় গেলো?
    সেটা বুঝতে গেলে, এই মাইগ্রেশন প্যাটার্ণটা বুঝতে হবে। জাহাজগুলো হবু প্রজাদের দখলিভুমিতে খালাস করে দিবার পরে প্রজারা স্থানীয় জমি বাছাবাছি আর বাড়িঘর স্থাপন চাষাবাদ ইত্যাদি করতে শুরুতে মনোযোগী হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয়রা (যাদেরকে কলোনিদখলদারদের ভাষায় দেয়া নাম রেড ইন্ডিয়ান) যেসব জমিতে আগেই বসবাস করছিল সেগুলা তো সব পরীক্ষিত চাষাবাদের [arable land] জমি। ফলে স্বভাবতই মাইগ্রেন্ট প্রজাদেরকে স্থানীয় রেড ইন্ডিয়ানদের সাথে রক্তক্ষয়ী মারামারিতে জড়িত হতে হয়েছিল, এতে অস্ত্র অবিকশিত বলে স্থানীয়দের পরাজয় ও ফলাফলে আপোষে স্থানীয়রা তাদেরকেই আরো গহীন বনাঞ্চলের দিকে সরে গিয়ে বসতি স্থাপন করা – এটাই ঘটেছিল। আর এটাই এখনকার কানাডা-আমেরিকার অতীত, পিছনকালের মুখ্য বৈশিষ্ট।

    আমরা এখন নর্থ আমেরিকা থেকে ল্যাটিন আমেরিকার দিকে যাব। এগুলো আবার বৃটিশ বা ফ্রেঞ্চ এরা নয় এই পুরা অঞ্চল্টাই স্প্যানিশ নয়ত পর্তুগীজ কলোনি দখলে চলে যায়, প্রায় পাশাপাশিই তবে বৃটিশদের থেকে কিছুটা আগে ১৪৯৩ সালে ক্যারিবীয় দ্বীপগুলো স্পানিশ কলোনি হবার মধ্য দিয়ে এটা শুরু হয়েছিল। যদিও একটা বড় ফারাক আছে এখানে, আসছি সেদিকে।

    বামপন্থিদের কল্যাণে আমরা কলোনি-সম্পর্কিত বিষয় খুব ভাল বুঝি বলে ধারণা আছে; যদিও কথা সত্য না। প্রধানত বৃটিশ সাথে সারা ইউরোপ যখন ব্যাপক কলোনি দখলে মেতে উঠেছিল এর শুরু বলেছি ১৬০৭ সাল। আর একই বৃটিশেরা অবিভক্ত-ইন্ডিয়াকেও কলোনি করার শুরু ১৭৫৭ সাল। মানে, প্রায় দেড়শ বছর পরে।

    তাহলে অবিভক্ত-ইন্ডিয়া কলোনিদখল হয়ে যাওয়া আর নর্থ আমেরিকার কলোনি হওয়া এদুইয়ের মধ্যে কী কোন ফারাক আছে?
    হা আছে। আর এটা খুবই গুরুত্বপুর্ণ ও প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন। এককথায় মূল ফারাক জাহাজ ভরে হবু-প্রজা নিয়ে যাওয়া! – এই ঘটনা-চিহ্ন বৃটিশেরা ইন্ডিয়া দখলের কালে জাহাজ ভরে বৃটিশ- কৃষক বা হবু প্রজা সাথে আনে নাই। অর্থাত নর্থ আমেরিকার ক্ষেত্রে ছিল কলোনিদখল ও মাইগ্রেশন দুটাই একসাথে। আর বৃটিশ-ইন্ডিয়া ছিল কেবল কলোনিদখল।
    এসবের সোজা মানে হল, আমেরিকা, কানাডা, অষ্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ইত্যাদি এরা হল কলোনিদখল ও মাইগ্রেশন দুটাই একসাথে ঘটাবার আদর্শ উদাহরণ। আর স্থানীয় ট্রাইবাল জনগোষ্ঠিকে মেরে কেটে এরা একদম প্রান্তিক মানুষ করে দেয়া হয়েছিল শুধু তাই না তারা মাইগ্রেটেড দখলদারদের গড়া শহরের কেউ না; অস্তিত্ববিহীন এমন করে রেখে দিয়েছিল।

    এদিকে ল্যাটিন আমেরিকা এটা নিজেই সুনির্দিষ্ট কিছুটা আরেকটা ধরনের। যেমন এটা মূলত বৃটিশ-ইন্ডিয়ার মতই; মানে, জাহাজভরা মাইগ্রেশন আনা নয়, কেবল কলোনিদখল। কিন্তু সমস্যা আরেকটা এবং বড় সমস্যা। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আবার দুইটা ধরণ।  এর একদল যারা আমাদের বৃটিশ-ইন্ডিয়ার চোখে নেটিভ এই অর্থে যে স্থানীয় আর যাদের সাথে ছিল বৃটিশদের উঠা-বসা আর উচা-নিচা বজায় রেখেই একই শহরে বসবাস ছিল এরাই নেটিভ তেমন। কিন্তু এর বাইরেও এক বিরাট ট্রাইব জনগোষ্ঠি এবং ততোধিক বনাঞ্চল ও বনাঞ্চলের বাসিন্দা থেকে গেছিল। যারা ঠিক বৃটিশদের বেলায় স্থানীয় নেটিভ বলতে যা বুঝায় ঠিক তা্রা নয়। আর বনাঞ্চলের বাসিন্দা হলেও সংখ্যায় তারা বিরাট!

    আসলে ঘটনা আরেকটু খুলে বলতে হবে। ঘটনাটা হল, আগে বলেছিলামঃ আমেরিকা, কানাডা, অষ্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ইত্যাদি এরা শুধু কলোনিদখল ও মাইগ্রেশন দুটাই একসাথে ঘটাবার আদর্শ উদাহরণই নয়। এরা স্থানীয় ট্রাইবাল জনগোষ্ঠিকে মেরে কেটে এরা একদম প্রান্তিক মানুষ শুধু না তারা মাইগ্রেটেড দখলদারদের গড়া শহরের কেউ না; অস্তিত্ববিহীন করে রেখে দিয়েছিল।
    এর বাইরেও আরো ঘটনা আছে। আর এবার পুরা ঘটনায় শুধু উপরের চার দেশ নয় সাথে ল্যাটিন আমেরিকাকেও সামিল করে বুঝতে হবে। সেই তথ্যটা হল, মাইগ্রেন্টেরা শুধু স্থানিয় রেড ইন্ডিয়ান টাইপের লোকেদের বসতভিটা চাষাবাদের ভাল ও তৈরি জমিই দখল নিয়ে নিয়েছিল তাই না দ্বিতীয় পর্বে তা আরো ব্যাপক হয়েছিল। একটা আগে বলেছি যে তাতে স্থানীয় ট্রাইবাল জনগোষ্ঠিকে আরো প্রান্তিক এলাকায় বনাঞ্চলের গহীনে ঠেলে দিয়েছিল।

    আর এবার দ্বিতীয় পর্বের উচ্ছেদের কথা শুনেন। দু-চারশ বছর পরে কলোনি মাইগ্রেন্টরাই (আমেরিকার মত) রাষ্ট্র বানায় ফেললে এরপর তাদের চোখ পড়ে যে আরো গহীন বনাঞ্চলের মাটির নিচের সম্পদের (তেল বা খনিজ) প্রতি। ফলে একারণে এবার গহীন বনাঞ্চল দখল ও এক্সপ্লোর বা খোড়াখুড়ি করা অঞ্চলের লোভে এবার তারা আবার আরেক ব্যাপক উচ্ছেদ ঘটিয়েছিল।

    এবার আমাদের মূল প্রসঙ্গঃ
    গহীন বনাঞ্চলের মাটির নিচের সম্পদের (তেল বা খনিজ) খোঁজে দ্বিতীয় উচ্ছেদ থেকেই এর পালটা ব্যাপক প্রতিক্রিয়াটাই হয়ে উঠেছিল  গ্লোবাল হয়ে। কারণ ততদিনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে জাতিসংঘ (১৯৪৫) গঠিত হয়ে গেছে।
    তাই মোটামুটি ১৯৫৫ সালের পর থেকেই এমন উচ্ছেদের বিরুদ্ধে কী করা যায় তা জাতিসংঘের আলোচনায় আসতে থাকে। আসলে ল্যাটিন আমেরিকার ক্ষেত্রে সেখানকার ঘটনায় এর প্রতিক্রিয়া হয়েছিল সবচেয়ে বেশি। আর এই প্রসঙ্গটা জাতিসংঘের বিভিন্ন ফোরামে উঠতে থাকে।

    ওদিকে জাতিসংঘের আরেক আভ্যন্তরীণ গঠন সমস্যা ছিল – হিউম্যান রাইট ইস্যুতে। সমস্যার উতস হল, কমিউনিস্ট সদস্য রাষ্ট্রগুলো “হিউম্যান রাইট” মানে না’; এটা তাদের ইস্যু বা তাদের রাষ্ট্রের ইস্যু মনে করে না তারা এই যুক্তিতে। যদিও কমিউনিস্টদেরকেও সাথে নিয়েই তো রুজভেল্ট জাতিসংঘ গড়ে তুলেছিলেন এবং এছাড়াও ১৯৪৮ সালে ইউএন হিউম্যান রাইট চার্টার ঘোষিত হয়েছিল।  তাই এমন বাস্তবতায়  কলোনিদখল ও মাইগ্রেশন ইস্যুতে হাত দিবার আগেই জাতিসংঘ কমিউনিস্ট- ডিফারেন্স যতটা সম্ভব কমানো মানে মেরামত ও কমিয়ে আনতে  উদ্যোগ নিতে হয়েছিল।  সেসব বিস্তারিত দিকে এখানে যাচ্ছি না। তাই প্রতিক্রিয়া আনতে জাতিসংঘের দেরি হয়েছিল।
    এবার এক ঝটকায় বলে দেই অবশেষে ২০০৭ সালে জাতিসংঘের  United Nations Declaration on the Rights of Indigenous Peoples – ঘোষিত হয়েছিল; আর সেটা হয়েছিল অধিকারের দিক থেকে বা বলা যায় ১৯৪৮ সালের হিউম্যান রাইট চার্টারের মত করে। যার মূল উদ্দেশ্য ছিল, কলোনিদখল ও মাইগ্রেশন এককালের এদুই ঘটনা ও এর প্রেক্ষিতে দ্বিতীয় পর্যায়ের  ট্রাইবাল জনগোষ্ঠিকে আরেক উচ্ছেদের হাত থেকে রক্ষা করা।

    এখন যারা আরও বিস্তারে যেতে বুঝতে চান আমি মূল ঘোষণাটার লিঙ্ক দিয়ে রেখেছি উপরে সেখান থেকে দেখে নিতে পারেন। এখন আমি এখানে নিচে কেবল মূলকথাটা নিজ ভাষায় তুলে ধরব।
    উপরের ঘোষণার শিরোনামের মধ্যেই বলা আছে এটা Rights of Indigenous Peoples – বা ইন্ডিজিনিয়াস জনগণের অধিকার সংক্রান্ত ঘোষণা। ফলে প্রথম সমস্যা হল,  ইন্ডিজিনিয়াস [Indigenous] কাদেরকে গণ্য করা হবে। এই Indigenous এর বাংলা অনেকে করেছেন আদিবাসী। অনেকে ভুমিপুত্র ইত্যাদি এমন কিছুওও অনেকে করে থাকেন। বাংলাদেশে চাতুরিটা এখান থেকেই।

    এখানে খেয়াল রাখতে হবে এই Indigenous শব্দটা এসেছে মাইগ্রেশন এর বিপরীত শব্দ হিসাবে – কিন্তু আমেরিকান মাইগ্রেশন সমস্যার প্রেক্ষিতে। কিন্তু বাংলাদেশে এই আমেরিকান মহাদেশীয় কলোনিদখল ও মাইগ্রেশন  – এই বিশেষ প্রেক্ষিত থেকে আলাদা করে আনা হয়েছে। 
    মানে ইউরোপীয়  কলোনিদখল ও মাইগ্রেশন এদুইটা একসাথে চলার কালে যারা সারা আমেরিকাতে (বা এমন ভুখন্ডে) ইউরোপীয় এথনিক মাইগ্রশন যেটা হয়েছিল সেই সাপেক্ষে এই ইন্ডিজিনিয়াস রাইটের সুত্রপাত হলেও বাংলাদেশের পাহাড়িরা আকমেরিকান প্রেক্ষিত ফেলে দিয়েই এটা বাংলাদেশে প্রয়োগ করতে চায়। আবার শুধু কোন ভুখন্ডের আগের বাসিন্দা কারা ছিল সেটা বুঝাতেই এই Indigenous বা যা থেকে বাংলায় আদিবাসী অর্থ করেছেন অনেক।

     

    এখন আমাদের পাহাড়ি জনগোষ্ঠির দাবি তাদেরকে সরকারীভাবে তাদেরকে আদিবাসী বলে পরিচয়ে ডাকতে হবে।
    কিন্তু কেন এমনটা হল? আর তাদের এই দাবি কবে থেকে?

     

    কিন্তু বাংলাদেশে পাহাড়ি জনগোষ্ঠি এই Indigenous অর্থে নিজেদের আদিবাসী বলে দাবি করা শুরু করেছে।  যেখানে ঠিক যেমন এখনকার নর্থ বা আমেরিকা রাষ্ট্রে ইউরোপীয় এথনিক অরিজিনের সাদা আমেরিকান দেরকে  সহজেই  স্বীকার করতেই হবে যে তারা আমেরিকায় Indigenous বলে কেউ নয়।  Indigenous বলতে যে কোন সাদা আমেরিকানকে স্বীকার করতেই হবে যে Indigenous হল একমাত্র রেড ইন্ডিয়ানেরা। কিন্তু এই অবস্থাটা কী বাংলাদেশেও?

    অর্থাৎ জাতিসংঘের Indigenous রাইট ঘোষণা টা যে অর্থে সাদা আমেরিকানেরাও নিজেদের Indigenous মনে করার সুযোগ নাই। কিন্তু সেই একই অর্থে বাংলাদেশের পাহাড়িরা কী Indigenous বা আদিবাসী? কোনভাবেই না। কারণ, বাঙালিরা নিজ এই ভুখন্ডে মাইগ্রেন্ট নয়।  আর সবচেয়ে বড় কথা ইউএন এর Indigenous রাইট ঘোষণা টা যে অর্থে সেই অর্থে বাংলাদেশে না পাহাড়িরা রেড ইন্ডিয়ানদের মত আদিবাসী, না বাঙালিরা সাদা আমেরিকানদের মত ইউরোপীয়ান মাইগ্রেন্ট! 
    অথচ বাংলাদেশে পাহাড়ি জনগোষ্ঠি নিজেদেরকে এই Indigenous অর্থে নিজেদের আদিবাসী দাবি মানে হল আমরা যেন মাইগ্রেন্ট – মাইগ্রেশন করে বাংলাদেশে এসেছি আর পাহাড়িরা হল এর আদিবাসী বা ভুমিপুত্র!!!!!

     

    বাংলাদেশে না পাহাড়িরা রেড ইন্ডিয়ানদের মত আদিবাসী, না বাঙালিরা সাদা আমেরিকানদের মত ইউরোপীয়ান বা কোন মাইগ্রেন্ট! 

     

    কিন্তু সাবধান, সবচেয়ে রহস্যময় জায়গা হল,  পাহাড়িরা তাদেরকে আদিবাসী মানে Indigenous বলে ঘোষণা দিতে বাংলাদেশ সরকারের কাছেই দাবি জানাচ্ছে কেন?
    কারণ, কে Indigenous  এনিয়ে জাতিসংঘের স্বীকৃত কোন সংজ্ঞা নাই। তাই বাংলাদেশ সরকার নিজেই যদি পাহাড়িদের Indigenous জনগোষ্ঠি বলে স্বীকার করে নেয় তবে পাহাড়িরা এবার জাতিসংঘকে তারা আদিবাসী (রেড ইন্ডিয়ানদের মত) সার্টিফিকেট দেখায় কাজটা সহজ করে নিতে পারবে;  ফলে তাদের দাবি বাস্তবায়ন করতে পাহাড়িরা এরপর জাতিসংঘের কাছে দাবি জানাবে সংজ্ঞার সমস্যা মিটে গেছে। তাই  সারা বাংলাদেশ বা এর কোন ভুখন্ড পাহাড়িদের রাষ্ট-ভুখন্ড বলে  (জাতিসংঘ মিশন বসিয়ে) তা বুঝিয়ে দিয়ে যাবে। এই হল পাহাড়িদের মনোবাসনা। কিন্তু বাঙালি এথনিক গোষ্ঠি তারা কেন নিজেদেরকে বাংলাদেশের রেড ইন্ডিয়ান যেনবা তা কেন সাজাবে এর কোন ব্যাখ্যা কারো কাছে নাই!

    সেকারণেই হাসিনা সরকার এসব “ষড়যন্ত্র” থেকে দূরে থাকতে ২০১০ সাল থেকেই (দীপুমনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমল) আদিবাসী বলা যাবে না বলে ইন্টারনাল নির্দেশ জারি করে জাতিসংঘের বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি পর্যন্ত।  যদিও ১৯৯৭ সাল থেকেই জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যাবে বলে সন্তু লারমা এন্ড গং দের পক্ষে এলাইন হয়ে থাকার নীতি চালিয়ে গেছে। আর এই ষড়যন্ত্র বাংলাদেশে এনেছে কথিত রাজা দেবাশীষ লন্ডনে ব্যারিস্টারি পড়তে গিয়ে জেনেছিলেন সেখানকার কিছু ষড়যন্ত্রকারি যাদের বাইরের পরিচয় তারা নাকি মানবাধিকার উকিল!

    কেন ষড়যন্ত্র বলছিঃ
    স্বাধীন বাংলাদেশে হবার পরের থেকে যদি ধরি পাহাড়িরা ইন্ডিয়ানদের কবলে পড়েছে তাদের হাতের পুতুল হয়েছে কমপক্ষে সেই ১৯৭৫ সাল থেকে। শেখ মুজিবের খুনের পরে  ইন্দিরা গান্ধীই শেখ মুজিবের ভুল [তোরা বাঙালি হয়ে যা] ও সৃষ্ট জটিলতাকে ব্যবহার করে পাহাড়িদেরকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলেছিল যা এখনও ইন্ডিয়া ব্যবহার করে চলেছে। আর রাষ্ট্র আর কলোনিদখলের ইতিহাস না জেনে যা কিছুই ইন্ডিয়ান অবস্থান তা নিশ্চয় প্রগতিশীল এই বুঝ থেকে প্রগতিশীলেরা  Indigenous বা আদিবাসী দাবির পক্ষে।  ফলে জেনে না জেনে কথিত প্রগতিশীলেরা এর পক্ষে! যদিও এদের  নেতারা (বিশ্ব শিক্ষক, এনজিও মালিকেরা) কিন্তু জেনেশুনেই ইন্ডিয়ানদের হাতিয়ার এজেন্ট! এরা এখনকার বাংলাদেশে ইন্ডিয়ান আধিপত্য ফিরিয়ে আনা চক্রে অংশ নিয়েছে। ইউনুস সরকারকে ক্রমাগত ডিস্টার্বেন্সের মধ্যে রাখা যার প্রধান উদ্দেশ্য!   আর সাধারণভাবে ইন্ডিয়ার উদ্দেশ্য হল, পাহাড়িরা যেকোন কিছুতে (অস্ত্র-অর্থ সবধরণের) সাপোর্ট করে বাংলাদেশকে বিব্রত করা। ইন্ডিয়ার অনুমান এটা করলে তা ভারতের নর্থ-ইস্ট সামলাতে মাইলেজ পাবে।  অনেক সময় বিনিময় মুল্যও এতে পারে ইত্যাদি!
    মজার কথা হল আজ TIB এর দাবি করেছে Indigenous বা আদিবাসী দাবি না মানাটা নাকি কর্তৃত্ববাদী সরকারের কাজ।

    এমনটা অবশ্য বেশির ভাগ অথাকথিত উদার মানুষের ধারণা, আদিবাসী বলার দাবি এটা যেন বাচ্চাদের চকলেট চাওয়ার কোন আবদার  মানে, – “দিয়ে দাও না, দিলে কী হয়” ধরনের ধারণা।  মানে হল জাতিসংঘের এপ্রসঙ্গে (Indigenous) ও কোন প্রেক্ষিত পটভুমিতে এই ঘোষণা সে  সম্পর্কে তারা ওয়াকিবহাল তা মনে হয় না।  অথবা কেন আমাদের পাহাড়িরা আদিবাসী সরকারী স্বীকৃতি চাচ্ছে তা এরা জানতেীদের কোন কৌতুহলও নাই। সবই উদারতা যেন দিয়ে দেও না কী হয়। অথচ (কর্মিরা না জানলেও) এর নেতারা সকলের জেনেশুনেই ইন্ডিইয়ার এজেন্ডায় দালালিতে।   ফলে এরা বিশেষ করে এই সময়ে এরা জেনে না জেনে কার্যত ইন্ডিয়ান খেদমতগার হয়ে চলছে।
    আবার ১৫ লাখের আশেপাশের এই ভুখন্ড (আমাদের একটা বড় উপজেলার কাছাকাছি) এর অন্যান্য (ভুমি বিতর্ক সহ) যেসব দাবি সেগুলো মিটিয়ে ফেলা এবং একটা শক্ত অর্থনৈতিক ভিত্তির উপর পাহাড়ি জনগোষ্ঠিকে দাড় করিয়ে দেয়া তেমন অমীমাংসেয় কোন সমস্যাই না।  কিন্তু কার সাথে আমরা ডিল করব? যেখানে তথাকথিত জুম্মুল্যান্ডের নামে ভারতীয় হাতের পুতুল হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।  এদিকে ইন্ডিয়া বাংলাদেশে আধিপত্য ফেরত চায় অন্যদিকে তার নর্থ ইস্টের সমস্যায় আমাদের ব্যবহার করতে চায় পাহাড়িদেরকে নিয়ন্ত্রণ করে।

    এখন কিছু কথা একদম সোজাঃ
    পাহাড়িরা যদি একবার মূল্যায়ন করে দেখত এতদিন ধরে একাজে তাদের আন্দোলনের লাভক্ষতি কী হয়েছে।
    এতদিন বলতে কিন্তু এটা অনেক পুরানা সেই ১৯৬২ সালের আশেপাশে আয়ুব খান কাপ্তাই নদীতে বাধ দিয়ে পানিবিদ্যুত বের করার খায়েস থেকে। সেকালে পরিবেশ বলে ধারণা তেমন কিছু ছিল না। আর এতে পরিবেশগত ক্ষতিও কম ছিল না। হ্রদের পানি আটকানোতে পানির স্থায়ী উচ্চতায় রাজার ঘরবাড়ি-সহ লেকের আশেপাশে সব পানির নিচে চলে গেছিল। সব সমসয়া কিন্তু এটুকুর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। যেটুক বাসিন্দা এতে উচ্ছেদ হয়েছিল তাদের টাইবাল-এথনিক অপর অংশ মেঘালয়ের বাসিন্দা বলে বাংলাদেশের অংশ ক্রমশ সেখানে গিয়েই থিতু হয়েছিল। আর এখন ভারতের সুপ্রীম কোর্টের এক রায়ে এনিয়ে কোন বিতর্ক অস্থিরতা এখন আর নাই।
    আর আয়ুবের শখের এই পানিবিদ্যুত ছিল মাত্র ৯০ মেগাওয়াটের যা একালে বাংলাদেশের চাহিদার তুলনায় কিছুই না – জাপার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ কে হাসিনা যে উপহার দিয়ে ঐ নেতাকে কিনে পকেটে রেখেছিল সেটা ছিল ১০০ মেগাওয়াতের এক রেন্টাল বিদ্যুৎ। ফলে কাপ্তাই বাধ এখন ভেঙ্গে দিলেও বাংলাদেশের বিদ্যুতে এর প্রভাব নাই। আর পানি কমে যাওয়াতে এর উতপাদনও এখন তেমন নয়; খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি! কিন্তু কেন বাংলাদেশে এসব কারেকশনে যাবে? আর সবচেয়ে বড়কথা কার সাথে নিগোশিয়েশন করে সব বিতর্ক ও বিবাদ মিটিয়ে ফেলবে??? কারণ, পাহাড়ী নেতারা জুম্মল্যান্ডের স্বপ্নে বিভোর আর ইন্ডিয়ার পুতুল হয়ে থাকার কবলে থাকতেই বেশি পছন্দ।

    যেকথা বলছিলাম পাহাড়িদের এতদিনে লাভ-লোকশান কী?
    তাদের যে ভুমি সমস্যা এটা আগে কোনদিনই ছিল না। এখানে আগে মানে? আগে মানে ১৯৭৫ সালের আগে।
    সোজাকথায়, ১৯৬২ সালে বাধ দেওয়ার সমস্যা মিটাতে গিয়ে এবার তারা নিজ চাষাবাদের জায়গা জমি হারিয়েছে বা বিতর্কিত হয়ে আছে। অর্থাৎ সমস্যা মিটবার বদলে বেড়েছে আর তা অনিশ্চিত হয়েছে। ১৯৭৫ সালের ইন্দিরার প্ররোচনায় বাংলাদেশ ত্যাগ করে ফরে ভারতীয় ট্রেনিং ও অস্ত্রে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে শশস্ত্র আক্রমণ এর পথে তারা গিয়েছে তাতে ইন্ডিয়ার হয়ত লাভ হয়েছে। আর পাহাড়িদের হয়েছে জমি হারানোর ক্ষতি। আবার কাজ ফুরিয়ে গেলে ইন্ডিয়া তাদেরকে বাংলাদেশের হাতে ডাম্প করে দিয়ে গেছে ১৯৯৭ সালে! নিচা হয়ে তাদের চুক্তি করতে হয়েছে। এরপর নিয়মিত তারা বাংলাদেশের কাছে ভাল দায়ীত্বশীল অপরপক্ষ কখনই হতে পারে নাই বা চায় নাই মূলত ভারতের পুতুল হয়ে থাকার কারনে।  ভাল নেতৃত্ব না হবার কারণে, ভুয়া স্বপ্ন দেখা আর ভারতের পুতুল হয়ে আয়েসী জীবনের নেতৃত্ব। এটা খুবই সম্ভব পাহাড়িদের ভুমিসমস্যা একবছরের মধ্যে আইনি দলিল হাতে ধরিয়ে মীমাংসা করে ফেলা, একধণের স্বায়ত্বশাসন, কালচারাল বৈশিষ্ট সংরক্ষণ এবং সর্বোপরি মাত্র ১৫ লাখের মত লোকেদেরকে বাকি ১৬-১৮ কোটি সমতল বাসিন্দাদের সাথে পণ্য-বিনিময় সম্পর্ক গড়ে তুললে কাদের বেশি লাভ হবে?  পনেরো লাখ লোক ১৬ কোটি লোকের বাজার পাবে। কিন্তু কোন দায়ীত্বশীল অপরপক্ষ না থাকলে এর কিছুই হবে না। হচ্ছে না।
    এত কিছু সংঘাতের মাঝেও তারা কেবল চাকমা জনগোষ্ঠির দিকে তাকায় তাহলে বুঝবে শিক্ষা ও পেশায় দক্ষ জনগোষ্ঠি  হিসাবে তাদের উত্থান ও বিকাশ বাকি সকল পাহাড়িদের কাছে ঈর্ষণীয়! এক ৫% কোটার সুবিধা থেকেই তারা স্যাচুরেটেড। ইতোমধ্যেই পাহাড়ি কৃষিপণ্য ঢাকার বাজারে এক বিরাট ঘটনা হয়ে দাড়িয়েছে! সেজন্য আলাপ-আলোচনা দরকার – দায়ীত্বশীল অপরপক্ষ দরকার! কোথায় সেটা?
    সেই বাধের ইস্যু এখন সব পক্ষের কাছে অপ্রয়োজনীয়, কোন ইস্যুই না। কোন ফোকাস-ই নয়। ১৯৭৫ সালে ইন্ডিয়ায় যাওয়া এই সিদ্ধান্ত তাদের যে নেতৃত্ব নিয়েছিল তারা কী এর দায়দায়ীত্ব নিবে?  কিন্তু তা নতুন যেসব ক্ষত তৈরি হয়েছে ক্রমাগত একালের ফোকাস সেখানেই।  এর মানে এককথায় বললে, ১৯৭৫ সালের আগেও তারা এখনকার মত এত ক্ষতিকর ও কঠিন জীবনে ছিল না! তাহলে ইন্ডিয়ায় যাওয়া- সশস্ত্র সংগ্রাম এসবের এই সিদ্ধান্তের মুল্যায়ন কী, পিছন ফিরে দেখার হিম্মত কী তাদের হবে?

    পাহাড়ি নেতারা ভেবেছিল হাসিনা তাদের ত্রাতা কারণ হাসিনা জিয়াউর রহমান বা আমাদের আর্মির বিরুদ্ধে তারা একে অপরকে ব্যবহার করতে পারবে। এখান থেকে পাহাড়ি ইস্যুতে প্রগতিবাদীর প্রবেশ ঘটেছিল। কিন্তু ২০১০ সালের হাসিনা? তিনি এই মামার বাড়ির আব্দারের মত আদিবাসী বলে ডেকে বাংলাদেশ নিজেই নিজ দেশ উদ্বাস্ত বা মাইগ্রেন্টের পরিচয় নিবে – এটা কী হাসিনা করতে রাজি হয়েছিল?

    নিচে ২০২২ সালের এক নোটিশটা পড়ে দেখতে পারেন

    এককথায় পাহাড়ি নেতৃত্ব নিজেও নিজেদেরকে  রিভিউ-মুল্যায়ন করতে অক্ষম। বরং যেন তারা প্রগতিশীলতার নামে হিন্দুত্ববাদী বা ইন্ডিয়ার হাতের পুতুল হয়ে থাকতেই বেশি পছন্দ করে। অথচ পাহাড়ীদের অর্জন কী? তারা এতদিনে আগিয়েছে নাকি ক্রমশ আরো পিছয়ে গেছে???
    পাহাড়ি নেতৃত্বের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা ছাড়াই, বর্তমানের ব্বাংলাদেশে যে ডিস্টার্বেন্স তৈরি এটাও পুরাটাই ইন্ডিয়ার পকেটেই যাবে! কিন্তু কে এসবের মুল্যায়ন করবে????

     

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   সন্ধ্যা ০৭ঃ ৩৯    ১৮  জানুয়ারি ২০২৫

     

     

  • ‘জনগণতন্ত্রী’ কনষ্টিটিউশন সংস্কার কমিটি

    “জনগণতন্ত্রী” কনষ্টিটিউশন সংস্কার কমিটি
    গৌতম দাস
    ১৬ জানুয়ারি ২০২৫  রাত আটটা
    https://wp.me/p1sCvy-6dV

    গতকাল কয়েকটা সংস্কার কমিশন তাদের রিপোর্ট ইউনুস সরকারের কাছে জমা দিয়েছে।  প্রায় তিন মাস আগে সেপ্টেম্বরে ইউনুস  (প্রথম পর্যায়ের) যে ছয়টা কমিশন গঠন করেছিলেন তাদেরই অনেকে গতকাল এমন রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। এগুলোর মধ্যে আলী রীয়াজের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল সংবিধান সংস্কার কমিশন, এরা তাদের একটা।
    “সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ বিবিসি বাংলাকে বলেন, সংস্কারের প্রস্তাবনা তৈরি করার ক্ষেত্রে ক্ষমতার এককেন্দ্রীকরণ রোধ, ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টন, জবাবদিহিতা, রাষ্ট্র পরিচালনায় সবার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার মত বিষয়গুলোকে বিবেচনায় নিয়েছেন তারা”। এই বাক্য থেকে আমরা একটা ধারণা করতে পারি পারে যে তাদের কাজের মূল উদ্দেশ্য-লক্ষ্য কী ছিল!

    অনেক মিডিয়ার ভাষ্য অনুসারে,  সংস্কার এর উল্লেখযোগ্য সুপারিশ মূলত ছয় টাঃ

    উল্লেখযোগ্য সুপারিশ
    • ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ পরিবর্তন করে ‘জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশ’।
    • পাঁচ মূলনীতি হলো সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ ও গণতন্ত্র।
    • দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা, সংসদের মেয়াদ ৪ বছর।
    • নিম্নকক্ষে ১০ শতাংশ আসনে তরুণ-তরুণীদের মধ্য থেকে প্রার্থী। ২১ বছর হলে প্রার্থী হওয়া যাবে।
    • অর্থবিল ছাড়া নিম্নকক্ষের সদস্যরা দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে।
    • নারী আসনেও সরাসরি ভোট।

    যার মধ্যে আবার একটা  দেখা যাচ্ছে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা।
    এখন কথা হচ্ছে এক. দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা জিনিষটা কী ও কেন?
    মানে প্রচলিত জাতীয় সংসদ ছাড়াও আরও একটা ভিন্ন নামে ও পদ্ধতির আলাদা সংসদ। আমেরিকাকে অনুসরণ করলে সাধারণত এর নাম হয় সিনেট। সংস্কার কমিশন কী সিনেট বুঝিয়েছেন? এটা একেবারেই স্পষ্ট নয়। বরং যার যা খুশি ভাবে ব্যাখ্যা পাবার সম্ভাবনাই বেশি। এমনিতেই সাধারণভাবে বললে এই সংস্কার প্রস্তাবে অনেক কিছুই সংস্কার করে তাঁরা নয়া কী করতে চায়, নয়া রূপ কী দিতে চায় ইত্যাদি এনিয়ে অনেক সুপারিশই আছে। কিন্তু যা নাই তা হল সাফাই বা জাস্টিফিকেশন যে কেন এভাবে সংস্কার? এই জবাবটা প্রায় নাই-ই। এতে সংস্কারের সব কথাই খেয়াল [whim] এর কারবার মনে হতে পারে! কারণ, যেকোন সংস্কার সেটা এভাবে কেন – এই কেন এর জবাব সহ না ব্যাখ্যা  বা সংস্কারের প্রস্তাব না করলে সেটা হুইম বা খামখেয়ালি, চটকদার বাক্যবাগীশতাই হয়ে দাঁড়াবে!

    এছাড়া দ্বিতীয় কথা টা হচ্ছে, যেসব সুপারিশ  করা হয়েছে এর প্রতিটা কীভাবে এই সংস্কার কমিটির লক্ষ্য-উদ্দেশ্য [সেটা যদি ক্ষমতার এককেন্দ্রীকরণ রোধ, ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টন, জবাবদিহিতা, রাষ্ট্র পরিচালনায় সবার প্রতিনিধিত্ব ধরে নেই] এর সাথে ও কেন সামঞ্জস্যপুর্ণ? সেটা কী সংস্কার কমিটি ব্যাখ্যা করা দরকার ছিল; ফলে পাঠক এর অভাব বোধ করবে।  যদি উদ্দেশ্যের দিকে লক্ষ্য রেখে তাঁরা যথেষ্ট সাফাই-মূলক বক্তব্য না দেন তবে এই সংস্কার কমিটি খামোখা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

    তাই এসব প্রস্তাব দরকার কেন, সেই কেন এর জবাব সহঃ
    কথাটা সোজা আপনি এমন বা অমন যেকোন সংস্কার প্রস্তাব তো করতেই পারেন। কিন্তু সেটা অর্থপুর্ণ কিনা গুরুত্বপুর্ণ কেন এর জবাব পাবলিককে পেতেই হবে।
    যেমন, এব্যাপারে সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ ইস্যু হল সিনেট বা দ্বিকক্ষ আইনসভা কেন!

    এমনিতেই কমিটির সদস্যরা কে কতটা “সিনেট” বিষয়ে স্টাডি করে নিয়েছেন তানিয়ে আমার ধারণা নাই বা জানা নাই। কারণ, ইস্যুটা যথেষ্ট গভীর, গম্ভীর ও সুনির্দিষ্ট।  যেমন দুনিয়াতে সিনেট ধরনের আইনসভা বা পার্লামেন্ট থাকা রাষ্ট্র বলতে এর সফল ও পরীক্ষিত ধারণার রাষ্ট্র হল আমেরিকা; মানে ১৭৭৬ সালের স্বাধীন ঘোষিত আমেরিকা [USA, United States of America]। বলাই বাহুল্য যে আমেরিকা এটা এক রিপাবলিক স্টেট এর ধারণা এর উপর এটা আসলে আবার এক ফেডারল [Federal] স্টেট এর ধারণা।  ফেডারল এর বাংলা অর্থ হতে পারে একই ধরনের ও সমমর্যাদাপুর্ণ বন্ধু রাজ্য; ফলে – এমন রাজ্যগুলোর রাষ্ট্রই হল ফেডারল (রিপাবলিক) রাষ্ট্র।  যেমন আমরা জানি আমেরিকা স্বায়ত্বশাসিত এবং আলাদা এমন সমমর্যাদার ৫০টা রাজ্যের এক ফেডারল (রিপাবলিক) রাষ্ট্র।

    এখন  ফেডারল রাষ্ট্র হলেই সেখানে সিনেট বলে আলাদা বা দ্বিকক্ষ সংসদের ধারণা থাকতে দেখা যায়। অন্যভাবে বললে, ফেডারল আর সিনেট ধারণা – এদুইয়ের আন্তঃসম্পর্ক টা কী? সংস্কার কমিটি কী এদিকটা নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছেন?
    মনে রাখতে হবে শেখ মুজিবও একটা বাংলাদেশকে ৬১ জেলায় বিভক্ত মানে
    ৬১ টা গভর্ণর শাসিত জেলার বাংলাদেশ ঘোষণা করে গেছিলেন! যার উদ্দেশ্য ছিল কথিত কমিউনিস্ট সংস্কার নামের আড়ালে সবক্ষমতা একেবারে একহাতে কুক্ষিগত করা! কাজেই সব সংস্কার মানেই তা কাজের এবং অর্থপুর্ণ – সেটা নাও হতে পারে!
    আর সংস্কার কমিটির লক্ষ্য যদি হয় ক্ষমতার এককেন্দ্রীকরণ রোধ, ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টন, জবাবদিহিতা, রাষ্ট্র পরিচালনায় সবার প্রতিনিধিত্ব ইত্যাদি – তবে অতি অবশ্যই  এই কমিটিকে বাংলাদেশে একটা  সিনেট বা দ্বিকক্ষ আইনসভা কেন দরকার সেই ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করতেই হবে।  এমন প্রমাণ চিহ্নও যেখানে থাকবে!

    ভয়ের কথা আরো আছেঃ
    ওদিকে ইউরোপ  কখনই ফেডারল ধারণাকে গ্রহণ বা প্রশংসা করে নাই বা নিজেরা ব্যবহার করে নাই। বিশেষ করে যারা সারা দুনিয়ায় “কলোনি দখলদার” রাষ্ট্র (বৃটিশ, ফ্রেঞ্চ, ডাচ, স্প্যানিশ বা পর্তুগীজ) বলে পরিচিত।  যারা অন্যের দেশ-ভুখন্ড দখল করাটা, লুটের শাসন করাটা জায়েজ মনে করে তারা কীভাবে নিজ ভুখন্ডের মধ্যে ফেডারল শাসন দরকার মনে করবে, দিতে চাইবে? খুব সম্ভবত এটাই ইউরোপের ফেডারল ধারণা গ্রহণ না করার কারণ!  আবার আমরা এই -ঐতিহাসিক সত্যও ভুলতে পারিনা  যে দুনিয়াতে রাজতন্ত্রের বিপরীতে পাবলিক বা গণপ্রজাতন্ত্রী শাসন ও সরকার ব্যবস্থা ইউরোপেই (ইংল্যান্ডে) প্রথম শুরু হলেও সেই রিপাবলিক রাষ্ট্রশাসন ব্যবস্থা এর অর্থনৈতিক ভিত্তি ছিল “কলোনিদখল” – নানান ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি – মানে ব্যবসায়িক কোম্পানী খুলে জাহাজ ভাসিয়ে এবার কলোনিদখল ও তাদের সম্পদ লুটপাট! আর এটাই ছিল রিপাবলিক রাষ্ট্রের প্রধান অর্থনীতি! 

    আরেকটা মজার তথ্য হল, আমেরিকা যখন নিজেদেরকে বৃটিশ কলোনিদখলকে (কোম্পানি) উচ্ছেদ করে নিজেরা স্বাধীন হচ্ছে শুধু নাীর সাথে নিজেদের নয়া রাষ্ট্র গড়ছে এক ফেডারল (রিপাবলিক) রাষ্ট্রকাঠামোতে তখনও ইউরোপ মেতে আছে কলোনিদখলের অর্থনীতির উপরে দাঁড়ানো এক জাতিরাষ্ট্রের রিপাবলিক হয়ে! অর্থাৎ আমেরিকা থেকে পিছিয়ে পড়ে ও বেখবর থেকে গিয়ে!

    অথচ এখনও আমাদের দেশে নাদানি তর্ক হল আমরা কী ওয়েস্ট মিনিস্টারি বা প্রেসিডেন্সিয়াল সরকার কাঠামো চাই!
    অতএব আমার সন্দেহ আছে সংস্কার কমিটি কী ভেবে, কতদূর ভেবে দ্বিকক্ষ আইনসভা এর সুপারিশ জানিয়েছে? যদি তারা কেন এই সুপারিশ – এর জবাব সহ পরিস্কার সুপারিশ রাখতে পারে বা করে তখন আমাদের তাদের কথা বা ব্যাখ্যা থেকে তাদের ভাবনা বুঝতে পারতাম! আমরা নিশ্চয় আশা করি না, দ্বিকক্ষ আইনসভা এর সুপারিশ এটা কোন চটকদারি বকোয়াজ হোক!

    সমস্যা অনেকঃ
    আমাদের  সমস্যার শেষ নাই! গত শতকের শেষ চল্লিশ বছরের (১৯৭০-২০০০) কথাই যদি বলি আমরা সেটা সহ এই নয়া শতকে প্রথম  দশকের পরেই কেবল এমন এক ভাবনা ত্যাগ করে খুবই ধীরে ধীরে বের হচ্ছি – যা প্রগতিশীলতা, কমিউনিজম নামে পরিচিত। আর ঐসময়কালের এমন চিন্তায় সমাজে তখন গণ্য হয়ে এসেছিল যে প্রগতিশীলতা, কমিউনিজম নাকি সবচেয়ে অগ্রসর চিন্তা।  অথচ গভীর সমস্যা টা হল, কমিউনিজম তাদের রাষ্ট্র চিন্তায় বা ভোকাবুলারিতে কোন রিপাবলিক ধারণা নাই; বিচারের [Justice] ধারণা নাই! আছে কেবল শ্রেণী বা শ্রেণীর একনায়কতন্ত্র এমনকি কথিত শ্রেণীস্বার্থে গুম-খুন-অপহরণ কে জায়েজের ধারণা!  যার ফলে, আমাদের সংস্কার কমিটিগুলোতেও কমিউনিস্ট বা প্রগতিশীল চিন্তাই  এখনও (ডমিনেটিংলি) আধিপত্য করে আছে, থেকে আছে! যার সোজা মানে যে রিপাবলিক রাষ্ট্রের আলাপ-সংস্কার এরা করতে এসেছেন তাতে তাতে প্রগতিবাদিতা আধিপত্যে; উলটা করে বললে এটাই রিপাবলিক-ফেডারল বোধ বা এমন রাষ্ট্রবোধ ততটাই কম! আপনি তো একই সাথে শ্রেণীর রাষ্ট্র-বোধ আর রিপাবলিক-ফেডারল বোধ (ডানপন্থি) এদুটা একসাথে অনুসারী হতে পারবেন না।  এমনকি যেখানে প্রগতিবাদী এরা রিপাবলিক, ফেডারল বা সংসদ ইত্যাদির ধারণাকে তারা “ডানপন্থী” বা নিচা ধারণা বলে শিখে বিশ্ববিদ্যালয় পার করেছে! এর উপর আবার একালে যখন প্রগতিশীলতা মানে তা আর লুকানো নাই, প্রায় খোলাখুলিই হিন্দুত্ববাদ হয়ে গেছে!

    আবার যেমন ধরেন ভারতের রাজ্য সভা – এটা কী ফেডারেলিজম মানে ফেডারল রাষ্ট্র ব্যবস্থা? কারণ, অনেকেই সাফাই দিতে পারেন যে ওটাও তো দ্বিকক্ষ ব্যবস্থা!!!! তাহলে আমাদের সংস্কার কমিটির প্রস্তাবিত “দ্বিকক্ষ” এটাও কেন রাজ্যসভা ব্যবস্থা নয়?  ইন্ডিয়ান হেজিমনি ফিরিয়ে আনার যে মরিয়া চেষ্টা চলছে যাতে আমাদের অনেক রাজনৈতিক দলও এতে সামিল হয়ে গেছে এরা কী  আমাদের সংস্কার কমিটির প্রস্তাবিত “দ্বিকক্ষ”  প্রস্তাব – এটাকে রাজ্যসভা ধরনের দ্বিকক্ষ-ব্যবস্থা বলে চালিয়ে দিতে মাঠে নেমে যাবে? কারণ, আমাদের এমন অনেক দলের সংস্কার প্রস্তাবেও দ্বিকক্ষ আইনসভা করার কথা আছে!

    আবার আরেক তথ্য হল, ইন্ডিয়া, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান এই তিন দেশের মধ্যে একমাত্র পাকিস্তানেই দ্বিকক্ষ বা “সিনেট” ব্যবস্থা বিদ্যমান। এর জন্ম  বাবা-ভুট্টোর আমলে সেই ১৯৭৩ সালের কনষ্টিটিউশন লেখার সময়ে। আর যদিও পরে সময়ের সাথে এর সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে এখন ১০০ এর কাছাকাছি। কিন্তু হতাশার কথা হল এটা অকেজো, খামোখা হয়ে আছে!!!  এটা খায় না মাথায় দেয়, সেটা জানা নাই এমনই অবস্থায়!

    একটা দুঃখ আর হতাশার কথা বলে শেষ করব!
    “প্রজা”
    শব্দটা নিয়ে সংবিধান সংস্কার কমিটি বিরাট পেরেসানিতে পরেছে, বুঝা যাচ্ছে। উপরে দেখেন লেখা হয়েছে সংস্কার কমিটি – ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ পরিবর্তন করে ‘জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশ’ – চেয়েছে। আমাদের অনেকের ধারণা –প্রজা– “শব্দটার ব্যবহার আমাদের করা উচিত না। আমরা কী কারো প্রজা নাকি? প্রজা মানে তো অধস্তন, সাব-অর্ডিনেট তাই!  এটা খুবই পশ্চাতপদ ধারণা……ইত্যাদি ইত্যাদি!” – এমন প্রশ্নবোমা তাদের আছে!
    অথচ ব্যবাপারটা হয়েছে এরকম যে কারো নাম গোলাম রহমান; তাই নিজেকে বুদ্ধিমান ভাবা কেউ বলতে চাইছেন, গোলাম – এটা কোন নাম হল? অথচ প্রত্যেক শব্দের বা অর্থের একটা পশ্চাৎ-পটভুমি বা প্রেক্ষিত থাকে; থাকে ইতিহাসও! সেসব সেগুলো না জেনে বা পাশ কাটিয়ে আমরা এমন অনেকেই ছদ্ম বুদ্ধিমান সাজতেই পারি! কী আর করা।  অথচ মানুষের নাম গোলাম থাকা মানেই এর অর্থ আল্লাহর গোলাম (বা রহমানুর রহিম এর গোলাম) এমন ধারণা থেকে আসছে!  কাজেই পটভুমি-ইতিহাস-প্রেক্ষিত না জেনে বুঝে এমন মন্তব্য নিজেকেই ছোট করা হবে! এরপরেও তা সমাজে হয় অনেক আসরে!

    প্রজা নিজেই তেমন কান্ডই হয়েছে!
    কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলের অত্যাচারে আমরা খুব কম জনই রিপাবলিক শব্দের উতপত্তির ইতিহাস, ব্যবহার ও তাতপর্য জানি।  খোদ কার্ল মার্কসই রিপাবলিক শব্দ বা এর ধারণা নিজের লেখায় ব্যবহার করেন নাই। অথচ থেকেছেন (1849-1883) ইংল্যান্ডের বৃটিশ লাইব্রেরীতে কাটিয়ে এমন এক সময়ে যখন রিপাবলিক, সার্বজনীন ভোটাধিকার এর ধারণা ইউরোপের আকার নিচ্ছে বলা যায়! সংক্ষেপে ঘটনাটা হল, যখন কোন ভুখন্ডে রাজতন্ত্র চালু আছে প্রবল দাপটে সেই সময়ে সেই রাজা-সম্রাটের শাসনের বিপরীতে মানুষ সমবেত হয়েছিল বিকল্প শাসন ব্যবস্থা কী করা যায় এনিয়ে। ফলে সে আমলে বলে রাজার শাসন বা রাজার তন্ত্রের বিপরীত ধারণা হিসাবে তারা সেকালে কল্পনা করেছিল যে এবার প্রজার শাসন শুরু করলে কেমন হয়????
    যেমন তুলনা করে দেখেন, যে কোন রাজাই বলতে পারবে না যে তাকে শাসন ক্ষমতা কে দিয়েছে? এর বিপরীতে জনগণের  ম্যান্ডেট-অনুমতি-ভোট অর্থাৎ জনপ্রতিনিধিরাই দেশ শাসন করবে, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এবং প্রজাদের অনুমতিতে! আর এটাই ছিল সেই প্রজাতন্ত্র ধারণা। এখান থেকেই ধারনা ও শব্দটা আকার নিয়েছিল প্রজাতন্ত্র হিসাবে রিপাবলিক আকারে! আজ রাজতন্ত্র নাই বলে কনটেক্সট-টা বদলে গেছে তাই বুঝতে কষ্ট হতেই পারে।  আর প্রজার শাসন ধারণার আমলে পাবলিক বা জন অথবা গণ ইত্যাদি ধারণাগুলো তখনো আসে নাই বা স্পষ্ট হয় নাই, এটাও এক বড় কারণ। ফলে যাদের মধ্যে প্রজা শব্দ বদলানোর চুলকানি – বুঝতে হবে সে সম্ভবত কমিউনিস্ট আর নয়ত চটকদারি দেখানোতে পেয়ে বসেছে!

    জনগণতান্ত্রিক কেন কোথা থেকেঃ
    আবার জনগণতান্ত্রিক এই ধারণাটা চীনা কমিউনিস্ট প্রভাবিত!  আমাদের সর্বহারা পার্টি ধরনের যারা  বিশেষত চীনাধারার কমিউনিস্ট পার্টি তারাই এর বেশি ব্যবহার করে থাকে। লক্ষ্য করেন এরা মূল রিপাবলিক ধারণা থেকে অনেক দূরে আর ততটাই গণতন্ত্র ধারণায় প্রবেশ করে গেছে।  অর্থাৎ রিপাবলিক বলব না গণতন্ত্র – এই বিভ্রান্তি এখানে প্রবল! সংস্কার কমিটিতেও এই বিভ্রান্তি প্রবল মনে হয়েছে। আসলে বিভ্রান্তি থেকে এর জন্ম। চীনের মাও রিপাবলিক আর গণতন্ত্রের ঝামেলা মিটাতে ব্যবহার করেছিলেন আরেক শব্দ পিপলস [Peoples]। আর এতে সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ দিকটা হল, তিনি লেনিনের এবিষয়ে  কী অবস্থান বা সে তর্কে না গিয়ে রিপাবলিক মেনে নিছিলেন তবে সাথে একটা বিশেষণ লাগিয়ে দিয়েছিলেন সোভিয়েত – নয়া বিপ্লবী দেশের নাম রেখেছিলেন সোভিয়েত রিপাবলিক [ইউনাইটেড সোভিয়েত সোশালিস্ট রিপাবলিক, USSR]। কিন্তু এটাই মাও এর জন্য অসুবিধাজনক কারণ চীনা বিপ্লব কোন ধরনের সোভিয়েত গড়ে গড়ে সম্পন্ন হয় নাই। [সোভিয়েত শব্দের মুখ্য অর্থ হবে প্রতিরোধ কমিটি বা আমাদের দেশের রাজনৈতিক কালচারের স্টাইলে যেটাকে আমরা সংগ্রাম পরিষদ বলে যা বুঝি, তাই।]   মাও এসব ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকতেই পিপলস শব্দের ব্যবহার শুরু করেন যেমন, তাঁর নয়া বিপ্লবী দেশের নাম  পিপলস রিপাবলিক অব চায়না [PRC]। আর এখান থেকেই ওদের – আমাদের বাংলাদেশে ব্যাংক মানে কেন্দ্রিয় ব্যাংক এর সমতুল্য  চীনা প্রতিষ্ঠানের নাম পিপলস ব্যাংক অব চায়না [PBOC]  । তাই  এখান থেকেই আমাদের  চীনাপন্থিরা মাওয়ের পিপলসের বাংলা করেছিল জনগণতন্ত্র!

    তাহলে, সংস্কার কমিটি কী সচেতনে চীনা ধারণার দিকেই যদি যাবেন তো পিপলস নিলেই ভাল চাইনিজ পন্থা হত হয়ত!!!!
    অর্থাৎ আবার সেই ‘কেন’ এর প্রশ্ন। মানে কেন? এই কেন এর জবাব না দিয়ে কিছুই লুকানো যাবে না যে আপনারদের মনে কী চলতেছে!!! সব খামোখা হয়ে যাবে????

    আর শেষে আবার সেই গোড়ার প্রশ্ন – “কেন” এমন সেই সংস্কার প্রস্তাব এনেছেন আর এতে নিশ্চয়তা কী ও কেন যে এটা ক্ষমতার এককেন্দ্রীকরণ রোধ করতে নয়া হাসিনার উত্থান ঠেকাতে পারবে-???
    আসলে আপনাদের যারা নিজেদের খোলাখুলি ডানপন্থী মনে করতে পারেন না; ডরান; তারা কিছুই পারবেন না। কারণ ঐতিহাসিকভাবে রিপাবলিক গড়ার কাজটা তো বামপন্থীদেরই না; এটা ডানপন্থী কাজ!!! সাহস থাকলে চিল্লায় বলেন!

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   দুপুর ১১ঃ ৩৪    ১৭  জানুয়ারি ২০২৫

  • ১৫% ভ্যাট আইএমএফের চাপঃ কেন? এটা আসলে কাদের চাপ?

    ১৫% ভ্যাট আইএমএফের চাপঃ কেন? এটা আসলে কাদের চাপ?
    গৌতম দাস
    ১৫ জানুয়ারি ২০২৫
    https://wp.me/p1sCvy-6dr

     

     

    ১৫% ভ্যাট আরোপ করতে আইএমএফের চাপ????
    এটা আইএমএফ এর ভারতীয় অরিজিন স্টাফদের এক গোপন কাজ! সুক্ষ্ম কারচুপির মত?
    উদ্দেশ্য কী? ইউনুস সরকার যেন ফেল করে বা আনপপুলার হয়? অর্থনীতি সোজা না হয়???

    আইওএমএফের ভারতীয় অরিজিন স্টাফদের বিরুদ্ধে অভিযোগ টা খুবই কড়া।
    আইএমএফ-ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের বড় শেয়ার মালিক আমেরিকার। ফলে এর সোজা মানে হল,  আমেরিকান সরকারের এখানে অনেক কিছুই বলার আছে, করার আছে। কাজেই এখনই আমেরিকান প্রশাসন যদি এদিকটায় মনোযোগী না হয় যে এখানে কী চলছে তবে এটা ক্রমশ বাংলাদেশকে চীনের ঘনিষ্ট হওয়ার রাস্তায় ঠেলে দিবে। সেটা আমেরিকার ভাল লাগলে ভাল!!!!
    ফলে সিদ্ধান্ত আমেরিকার, সময় থাকতে যা করার করেন আপনারা!
    আর আমরা এই ইস্যুটা নিয়ে ইন্ডিয়া যাদেরকে ক্ষমতায় বসানোর লোভ দেখাচ্ছে এমন বাংলাদেশের দলগুলোর ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে  এটা হুমকির হাতিয়ার করুক, তা হতে দিব না।  দেখতে চাই না। সবাই সাবধান হন! 
    দেখেন ভিডিও ক্লিপ টাঃ
    ভ্যাট মানে কীঃ
    এটা ইংরাজী VAT (Value added tax)  থেকে আমরা বাংলায় ভ্যাট করে নিয়েছি। যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক তার রাজস্ব ( নানান ধরনের ট্যাক্স, শুল্ক) আদায় আমাদের মত দেশের জন্য সবসময় এক বিরাট চ্যালেঞ্জ।  কাজেই দ্রুত কমিউনিস্ট হয়ে যেয়েন নাই। অন্তত বাস্তববাদী হন, তাহলেই হবে। এর সমাধানে কী করা যায় তানিয়ে ভ্যাট হল আইএমএফ-ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের নিয়োজিত এক গবেষণা লব্ধ সুপারিশ ও সমাধান!

    আমাদের মত গরীব দেশে ট্যাক্স আদায় করা খুবই কঠিন। সরকার ট্যাক্স বাড়ায় দিলে চাপটা শেষমেশে ঐ গরীব বা স্বল্প আয়ের মানুষের উপরেই পড়বে!  এদিকে দেশে শিল্পায়ন বড় কারখানাই গড়ে উঠেনি তেমন! এর উপরে এনবিআরের (সরকারের রাজস্ব বোর্ড) অদক্ষতা আর ঘুষ চুরি তো আছেই। ফলে এটা মারাত্মক উভয় সঙ্কট ধরনের। আবার ক্ষমতাসীন সরকার ট্যাক্স আদায় না করতে পারলে নিজ সরকার চালানোর ব্যয় তো আছেই সাথে প্রতিবছরের এডিপি (ADP বা বার্ষিক অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ কর্মসুচীতে) তে ব্যয় করার সামর্থ থাকবে না। বা কমে যাবে। এর সোজা অর্থ সামগ্রিক অর্থনীতিতে বিনিয়োগ কমে যাবে। কাজ সৃষ্টি হবে না এমন আরো কত বিপদ!  অবকাঠামো মানে হল গ্রামে রাস্তাঘাট কালভার্ট ইত্যাদি বিনা পয়সায় সরকার যদি গড়ে দিতে না পারে তবে গ্রামের মানুষটার আয় বাড়বে না; ঐ গ্রামের আমাদের মূল অর্থনীতিরতে অংশ নিতে পারবে না উলটা বোঝা হয়ে থাকবে।  অবকাঠামো কথাটার অর্থই এটা। দুটা জিনিষ এক অর্থনীতিতে ফিজিক্যাল কাঠামো (রাস্তাঘাট ব্রিজ ইত্যাদি) তৈরি আর মানব সম্পদ তৈরিতে বিনিয়োগ (নুন্যতম চিকিতসা ও শিক্ষায় বিনিয়োগ) এগুলোতে সরকার যত অর্থব্যয় বাড়াবে ততই মূল অর্থনীতি দ্রুত বেগে সচল হয়ে উঠবে! কাজ সৃষ্টির রেট বাড়বে!  কাজেই ট্যাক্স আদায় ছাড়া অর্থনীতির চাকা সবলের কোল বিকল্প নাই।
    তাই এই উভয় সঙ্কট সমস্যা সমাধানের বিষয়ে ভ্যাট হল, আইএমএফ-ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের এক গবেষণা লব্ধ সুপারিশ ও সমাধান। যার সারকথা হল, সরকার সব শ্রেণীর ভোক্তা মানুষের উপর দোকানি কেনাবেচায় আড়াই বা ২.৫% ট্যাক্স যদি আরোপ করে তবে একটা ভাল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ হতে পারে সরকারের।
    এটাই সারা দুনিয়াতে আইএমএফ-ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সদস্য গরীব রাষ্ট্রগুলোর উপর প্রযোজ্য শুরু হয়েছিল নব্বই এর দশক থেকে। বাংলাদেশে শুরু হয়েছিল ১৯৯১ সালের খালেদা জিয়া সরকারের সাইফুর রহমানের আমল থেকে।
    আড়াই পার্সেন্ট খুব বড় পরিমাণ নয় বলে এটা নিয়ে কখনই ভোক্তা প্রতিক্রিয়া হয় নাই বা দেখা যায় নাই। কিন্তু এখন ১৫% কেন?
    হাসিনার আরেক চোর অর্থমন্ত্রী লোটাস কামালের বুদ্ধিতে এটাকে নিজে নিজে বাড়িয়ে ৫% করে দেন তিনি। এটাও আইএমএফ-ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের এক গবেষণা লব্ধ রেকমন্ডেশনের বাইরে করা হয়েছিল। কারণ, মনে রাখতে হবে ২.৫% ভ্যাট এটা কেবল বাংলাদেশের জন্য নির্ধারণ করা হয় নাই। এমন সকল আইএমএফ-ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সদস্য যারা গরীব বা স্বল্প আয়ের দেশ ( যারা IDA লোন খাতক যার সুদ .০.৭৫%  অথবা যা্রা মধ্য-আয়ের দেশে প্রবেশ করেছে এমন যারা 2% সুদ দাতা) – এমন সকল সদস্য দেশের উপর প্রযোজ্য!
    অর্থাত সারা দুনিয়াতে আইএমএফ-ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের এক গবেষণা লব্ধ রেকমন্ডেশন ২.৫%। তাই আপনি আফ্রিকাতে যান সেখানেও দেখবেন ২.৫% ভ্যাট।  সারকথা এটা কেবল বাংলাদেশের জন্য আরোপিত কোন কিছু নয়! আর সবচেয়ে বড়কথা এটা ২.৫% এত কম রাখা হয়েছিল যেন এটা গরীব ভোক্তার উপর জুলুম না হয়ে যায়।
    কারণ, মনে রাখতে হবে ভোক্তা মানুষ যদি ব্যয় কমিয়ে দেয় এতেও মূল অর্থনীতি মারাত্মক ভাবে ভেঙ্গে পড়বে, ব্যহত হবে। অর্থাৎ এটা ভারসাম্যপুর্ণ একটা পার্সেন্ট – এই ২.৫% যা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
    অথচ এখন, এই ইউনুস সরকারের আমলে?
    আর এখন এই ভারতীয় অরিজিনের কুতুবগুলা এটাকে এক ধাক্কায় ১৫% করে দিয়েছে! কেন?
    যাতে ইউনুস সরকার আনপপুলার হয়? অর্থনীতি সোজা না হয়???
    এটা তো আইএমএফ-ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের এক গবেষণা লব্ধ রেকমন্ডেশন বা সুপারিশকেই উল্টে দিয়েছে!  এখন ১৫% ভ্যাট-ট্যাক্সের চাপে অর্থনীতির গতি উঠে দাড়ানোর আগেই আবার শ্লথ হয়ে যেতে পারে! এর দায় কে নিবে?

    আমাদের অনেক রাজনৈতিক দল সমালোচনাটা ইউনুসের উপর চাপাচ্ছে – আইএমএফ-ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের নি নীতিবিরুদ্ধ কাজের উপরে না কিংবা এর ভারতীয় স্টাফদের শয়তানির দিকটাতে নয়। কেন?

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   রাত ০৮ঃ ৫৯     ১৪  জানুয়ারি ২০২৫

  • শেখর গুপ্তার ইউনুস পাঠ ভুয়া!

    শেখর গুপ্তার ইউনুস পাঠ ভুয়া!
    গৌতম দাস
    ১৪ জানুয়ারি ২০২৫   বিকাল ০৪ঃ ৪২
    https://wp.me/p1sCvy-6cg

     

    Prof Yunus, ThePrint

    ছবিতে শেখর গুপ্তা

    আজ সকালে ডেইলিস্টারের খবর হল, বিএনপি এবছরের মাঝামাঝিতে নির্বাচন চায় [BNP wants national polls by mid-2025 ]। গতকাল সন্ধ্যায় বিএনপির যে স্থায়ী কমিটির মিটিং ছিল সেখানকার সিদ্ধান্ত এটা। এর চেয়েও বড় খবর হল, কিন্তু তা সত্বেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থায়ী কমিটির সদস্য একথা ডেইলিস্টারকে বলেছে।
    এবার এর সাথে মিলিয়ে দেখেন গতকাল (১৩ জানু.২০২৫) সারাদিনে ইন্ডিয়ান মিডিয়ায় বাংলাদেশে নির্বাচন তারা এবার ঘটাবেই – সবচেয়ে দ্রুত – এমন আক্রমণের এক নয়া উদ্যোগ যেটা শুরু হয়েছে। ইন্ডিয়ান সেনাপ্রধান থেকে শুরু করে ইন্ডিয়ার সকল মিডিয়া ভয়েজ এখন এটাই।
    মোদির ইন্ডিয়া ও র-এর পরিকল্পনা একেবারে ডেস্পারেট (মানে পাগলা হয়া গেছে) বা মরিয়া যে বাংলাদেশে একটা নয়া হাসিনা দল ও সরকার কায়েম তারা এবার করবেই! এতদিন একাজে মোদির মিথ্যা প্রপাগান্ডা-মিডিয়াগুলোকে লাগিয়ে একাজ করছিল; বিশেষত সেই চিন্ময়-ইসকন কান্ড থেকে। এর মানে হল, নয়া হাসিনা আর নয়া হাসিনার দল যাকে মোদি বানাবেন  তা তিনি এবার পেয়ে গেছেন।
    কিন্তু এবার এতে আরো সংযোজন হল একেবারে প্রথম সারির মিডিয়া – দ্যা প্রিন্ট ও এর বর্ষীয়ান সম্পাদক (আসলে তিনি এখন এর সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি ও মালিক) শেখর গুপ্তা।  পাঞ্জাবের কোন এক অখ্যাত গ্রামে ১৯৫৭ সালে জন্ম নেয়া এই গ্রামের ছেলে যার যাত্রা শুরু হয়েছিল আরএসএস পরিচালিত এক প্রাইমারি স্কুল থেকে সেকালে সে ব্যাপারটা শেখর গুপ্তার  নিজেরই ভাষায় বললে, -” আরএসএস এর দুইটা অনুগ্রহের সুযোগ নিয়ে সেই শেখর গুপ্তা নানা পথ পরিক্রমের পরে এখন দ্যা প্রিন্ট এই পত্রিকার 56.39% শেয়ার  বা   ১৩৯ কোটি রুপির শেয়ারের মালিক তিনি এক শেখর গুপ্তা।   এই দ্যা প্রিন্ট এটা একটা   ব্রান্ড নাম বলা যায় যার কোম্পানী নাম প্রিন্টলাইন মিডিয়া । যার অফিসিয়াল জন্ম ২০১৬ সালে।

     

    কিন্তু কেন এত ডিটেইল বলছিঃ
    বলছি এজন্য যে মোদি যখন শেখর গুপ্তাকে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইউনুস, এই ব্যক্তি ও সরকারের বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডা করতে নিয়োগ দিয়ে দিছেন তখন বুঝতে হবে এটা অনেক বড় বাজি ধরা স্টেক। তাহলে কে এই শেখর গুপ্তা?
    অন্যভাবে বললে, এক অর্থে ভারতের মিডিয়ার উত্থান বিকাশ ও শেষে – গোদি মিডিয়া – হয়ে যাওয়া এর সবটাই যেন  শেখর গুপ্তার উত্থান বিকাশ ও গোদি মিডিয়াম্যান হয়ে যাওয়া! প্রায় সমার্থক ঘটনা! যেমন ভারতের মিডিয়া বুঝতে গেলে দুটা টার্ণিং পয়েন্ট আপনাকে মনে রাখতে হবে। অনেক আগেও বলেছি, ভারতের প্রিন্টেড মিডিয়া বাংলাদেশের মত নয় যে এর কোনটাই মালিকের ভর্তুকিতে চলে। মানে বাংলাদেশে যেমন প্রত্যেকটা প্রিন্ট মিডিয়াই মালিকের অন্য ব্যবসার আয় সেখান থেকে আনা লাভ এখানে ভর্তুকি হিসাবে ব্যবহার করে করে বলেই এটা টিকে আছে। আর মালিক বিনিময়ে এই প্রিন্ট মিডিয়াকে ব্যবহার করে থাকে হুমকি দিয়ে অন্যের ক্ষমতাকে ম্যানেজ করতে! বা ক্ষমতাসীন সরকারকে সেবা দিয়ে সন্তুষ্ট করতে! এই হল বাংলাদেশি মিডিয়া ব্যবস্থা!
    বিপরীতে ইন্ডিয়ান প্রিন্ট মিডিয়া নিজে কোম্পানি যে নিজের আয়ব্যয় সামলাতে হয়; যার অনেকগুলো সেই বৃটিশ আমলে জন্ম!  কিন্তু একালে এসে এসব পুরান ভ্যানিটি-গৌরব সব শেষ!  যার প্রথম দুর্যোগটা ২০১৪ সালের শেষে বা ২০১৫ সালের শুরুতে; যা আসলে এককথায় বিজেপির মোদির প্রথমবারের মত ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হবার পরে পরেই। কারণ,  মোদি সরকার ও র-এর প্রকল্প হল, মিডিয়াকে টাকা খাইয়ে ম্যানেজ করা তাই শুরু হয়ে যায় অর্ণব গোস্বামীদের যুগ!  পত্রিকার লাইসেন্স যার নামে তিনি জানেনই না আজ পত্রিকার প্রধান শিরোনাম কী!  তিনি এমন ভাবেই মোদি ও র-এর হাতে ম্যানেজমেন্ট-পরিচালনা ছেড়ে দিয়েছেন। বিনিময়ে নিজ স্বার্থ বুঝে নিয়েছেন।  মোটা দাগে এই হয়ে উঠেছিল ট্রেন্ড।
    এরপর ঘটে আরেক দ্বিতীয় ঘটনা। সেটা হল, কোভিড পরবর্তী ইন্ডিয়া যখন অর্থনীতির সবকিছু ভেঙ্গে পড়েছিল আর এর ঝাপটায় ২০২১ সাল থেকে প্রায় সকল মিডিয়াই কম-বেশি মোদির ভিক্ষায় টিকে থাকা মিডিয়া হয়ে যায়।
    এদুই ঘটনাই বলে দেয় মোদি মিডিয়া কিনে নেওয়া কিভাবে শুরু  হয়েছিল আর তা কত মারাত্মক ছিল। পরের বছর ২০২২ সালে বিবিসি এই প্রসঙ্গে একটা রিপোর্ট করেছিল; শিরোনাম ছিল, ভারতের মূল ধারার মিডিয়া যেভাবে সরকারের বশংবদে পরিণত হচ্ছে। এবং  এই রিপোর্টের মধ্যেই এক উপশিরোনাম আছে – ‘কিনে নাও সব চ্যানেলকেই’– এভাবে।

    এদিকে, ঘটনাক্রমে এই শেখর গুপ্তা খুবই প্রভাবশালী হয়ে উঠেছিলেন সাথে যার একটা তুলনামূলক ক্লিন ইমেজও ছিল অনেককাল। কথাটা এভাবে বলা যায় যতদিন তিনি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকার সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী [CEO] ছিলেন 19 years from 1996 to 2015। তাঁর পেশাদার জীবন সেকালে মূলত এই ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস আর ইন্ডিয়া টুডে তেই কেটেছে। সাথে এক লম্বা সময় প্রায় ১৯ বছর তিনি  ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এর সম্পাদক ছিলেন। এটাই তার ইমেজ শিখরে উঠবার সময় ছিল। বিশেষ করে এনডিটিভি তে তাঁর ওয়াক অন টক [Walk on Talk] এই শিরোনামে ইন্টারভিউ গুলো তাকে পপুলার করেছিল। তিনি সেকালে কত বড় কেউকেটা ছিলেন এনিয়ে কৌতুহলীরা দেখতে পারেন এই লিঙ্কে । যখন তাঁর বাসা-বাড়িটা হয়ে উঠেছিল ক্ষমতার করিডোর!
    কিন্তু ২০১৬ সালের পরে নিজের মালিকানাধীন পত্রিকা দ্যা প্রিন্ট বের করার পর থেকে তিনি আস্তে আস্তে গোদি মিডিয়ার (এলিট অংশ) হয়ে উঠতে শুরু করেন। শুরুতে শেখর গুপ্তা-সহ  এসব মিডিয়া মোগলেরা এদের অজুহাত ও সাফাইয়ে তারা বলত কোভিড কালে কর্মচারিদের বেতন দিতে না পারাতে মোদির সহায়তায় যেতে – এটা করতে হয়েছিল। পরে আমরা দেখি এতে নানান ইস্যুতে শেখর গুপ্তার  ভাষ্য বক্তব্যও বদলাতে শুরু করে। [আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হল, মূলত এসময়কাল থেকেই আমি এরপর থেকে আর এই পত্রিকাটা নিয়মিত ফলো করা থেকে সরে আসি। অথচ আমার অনেক পুরানা লেখায় দেখবেন আমি মূলত দ্যা প্রিন্ট কেই রেফার করেছি। ]। যেমন, তিনি মোদির হিন্দুত্ববাদী বা ইসলামবিদ্বেষী অবস্থানের পক্ষে দাড়াতে শুরু করেন – অপ্রত্যক্ষের ভাব ধরে। তাঁর আরেক বৈশিষ্ট হল, তিনি বড় সম্পাদক হলেও নিয়মিত তিনি কলাম লেখা (বা ভিডিও ক্লিপ তৈরি) চালিয়ে গেছেন। আর তার কলাম প্রকাশিত হত – ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট কলাম – এই নাম দিয়ে।

    আসলে এটাই শেখরের কারসাজিঃ
    জার্নানিজম আর দেশপ্রেমিকতা কী একই জিনিষ? বা একই সাথে করার জিনিষ?   নাকি আগে জার্নানিজম আর পরে দেশপ্রেমিকতা? এই জিনিষটাই গোলমাল পাকিয়ে রেখে দিয়েছেন শেখর গুপ্তা!
    মূল তর্কে গোলমাল পাকানো হয়েছে যেন দেশপ্রেমিক জার্নালিজম বলে কিছু একটা আছে। যেখানে দেশপ্রেমিকতার নামে অপ-জার্নালিজম-কে জায়গা করে দেয়া যায়! এমনকি শেখরের নিজ লেখা কলামের নাম  ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট নাম দেওয়াটাই এর প্রমাণ। মানে তিনি বলতে চাইছেন, যেন তিনি জাতীয় স্বার্থের জার্ণালিস্ট! শুনে আর না বুঝে ব্যাপারটা অনেকের ভালই লাগবে হয়ত! কিন্তু সাবধান! জাতিবাদি হয়ে যেয়েন না এত সহজে। যদি প্রশ্ন করি আপনি কী মোদির স্বার্থের পক্ষে  থাকাটাকে জাতীয়স্বার্থ বলে ভেবে এর পক্ষে থাকবেন নাকি যা সত্যি ফ্যাক্টস অর্থে সত্যি এর পক্ষে থাকবেন? [একই কথা আরেকভাবে বলা যায় যেমন মুসলমান কী মুসলমানের পক্ষে থাকবেই নাকি সবসময় তাকে ইসলাম / না-ইসলাম নির্বিশেষে ইনসাফের পক্ষেই থাকতে হবে?]
    শেখর যেন বলতে চান ন্যায়পরায়ণতা নয় -ইনসাফ নয়, ফ্যাক্টস অর্থে সত্যি ঘটনা নয় বরং কথিত জাতীয় স্বার্থের পক্ষে থাকাটাই জার্নালিজম! আর এটাই নাকি তথাকথিত দেশপ্রেমিকতা!!!! মানে ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট????  অথচ জার্ণালিজম চোখবন্ধ দেশপ্রেমিকতা বা জাতিবাদিতা একেবারেই নয়! বরং এব্যাপারে মুলকথাটাই হল, ন্যায়-ইনসাফ বোধ! অথচ এই ছুপা হিন্দুত্ববাদি দেশপ্রেমিকতা এরা জাতিবাদিতার নামে অসৎ জার্ণালিজম কে জায়েজ করে ফেলতে চায়!  আর এভাবেই তিনি প্রায় দেড়শ কোটি রুপির মালিক!
    কবছর আগে G-20 এর সম্মেলন ইন্ডিয়ায় হলে মোদি এই সম্মলনের একটা সেশন বিতর্কিত কাশ্মীরে অনুষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন। আর তাতে সমর্থন যুগিয়ে সাফাই দিয়েছিলেন এই শেখরগুপ্তা কলাম লিখেছিলেন।

    আর এবার? এবার ইউনুস কোপানির ঠিকাঃ
    এবার শেখর গুপ্তা ইউনুস কোপানির বড় ঠিকা নিয়ে এসেছেন।  তিনি এবার ইউনুস (ব্যক্তি ও ইউনুস সরকার) এদেরকে কোপাবেনই! তাতে খেলার নিয়ম-আইন ভেঙ্গে [বক্সিং খেলায় রিং এর মধ্যে প্লেয়ারেরা একে অপরের তলপেটে হিট করতে পারে না] হলেও শেখর এখন ইউনুস সাব কে কোপানো শুরু করেছেন। কিভাবে?
    শেখর স্বভাবসুলভ এক কলাম লিখেছেন, যার শিরোনামঃ  “প্রফেসর ইউনুসকে লেখা এক খোলা চিঠি” [ছাপা হয়েছে An open letter to Prof Muhammad Yunus দ্যা প্রিন্ট পত্রিকায় ১১ জানু. ২০২৫ । এতে শেখর তাঁর এই কলাম-বক্তব্যের সারকথা নিজেই করে দিয়ে লিখেছেন, “হাসিনা আপনার ব্যাংক [গ্রামীন ব্যাংক বুঝিয়েছেন] নিয়ে গেছে তাই আপনি হাসিনার উপর প্রতিশোধ নিয়েছেন” [Hasina took away your bank and you’ve served revenge.]।

    ঘটনা হল বিষয়টা তা ছিলই না! মানে ইউনুস সাব এক সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন ২০১৬ সালে শেখরকে। সেখানে শেখর সাজেশন রেখে জিজ্ঞাসা করেছিলেন হাসিনা আপনার ব্যাংক নিয়ে নিয়েছেন বলেই কী আপনি প্রতিহিংসায় পশিমা দেশে আপনার ব্যাংক খুলেছেন? সেখানে ইউনুস সাব পরিস্কারই বলেছিলেন, না অবশ্যই প্রতিহিংসাবশত কিছু করি নাই। সেকথা এই কলাম লেখাতেই শেখর উল্লেখ করেছেন। শেখর লিখেছেন, “You said we’re not seeking revenge, but just doing the right thing.”।  তাহলে ইউনুস সাবের এই কথার পরও শেখর কেন লিখছেন এটা প্রতিহিংসা???

     

    আমরা এবার শেখরকে দেয়া এই সাক্ষাৎকারকে পাশে ফেলে রেখে অন্যদিকে মানে, ভিতরে তাকাবোঃ
    শেখরের এসব দাবি শুনে মনে হইয়েছে শেখর ধরেই নিয়েছেন যে, ইউনুস সাহেব যেন ৫ আগষ্ট বিপ্লব বা হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির নেতা! তিনিই মূল নেতা !!! তাই  ইউনুস সাব এখন  তিনি হাসিনার উপর প্রতিহিংসাবশত হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করেছেন!!! অথচ এর চেয়ে হাস্যকর কথা আর হয় না!
    আমি অনেকবার বলেছি, ফ্যাক্টস হল – হাসিনার পতনে ভুমিকা রাখা ফ্যাক্টর তিনটাঃ [যার একটাতেও ইউনুস সাহেব সংশ্লষ্টই নয়] এক. কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ক্রমশ তাতে দেশের হাসিনাবিরোধী জনগণের জনসমর্থন আর এছাড়া, দূর থেকে হলেও রাজনৈতিক দলের সমর্থন এভাবে সব মিলিয়ে এক ছাত্র-জনতার উত্থান – এই ছিল প্রধান ঘটনা। আর এটাকে লক্ষ করে একে কাজে লাগিয়ে সেনাবাহিনীর নিজস্ব আভ্যন্তরীণ ক্ষমতায় (কমান্ডিং ক্ষমতা) বদল ঘটিয়ে নেয় (যারা হাসিনা-মুক্ত হবার চেষ্টায় ছিল অনেকদিন ধরে সেই অংশ)। এরা হল দ্বিতীয় ফ্যাক্টর। এরাই ছাত্র-জনতার সাথে হাত মিলানোতেই তা মিলিতভাবে নিয়ামক নির্ধারক ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছিল। আর তৃতীয় ফ্যাক্টর হল, জাতিসংঘের মানবাধিবাধিকার কমিশন (তাদের নিয়মিত হুশিয়ারি; যার সোজা অর্থ ইউএন মিশন থেকে আমাদের সেনাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায় বের করে দেয়া হতে পারে)।
    এই তিন ফ্যাক্টরের কোনটার সাথে ইউনুসের নুন্যতম সম্পর্ক, যোগাযোগ কিছুই ইউনুসের ছিল না। এছাড়া সেসময় তিনি দেশে নয় ছিলেন আমেরিকায়;  ফিরেছেন ঐ ৮ আগষ্টই যেদিন সন্ধ্যায় ফিরে তিনি ক্ষমতার শপথ নেন!  এককথায় হাসিনার পতন ও পলায়নের আগে ঢাকার কেউই তার সাথে যোগাযোগও করেন নাই। আর এমনিতেই তিনি  রাজনীতিবিমুখ, বিশেষত ১/১১ এর ঘটনার পর থেকে! তাহলে কিসের ভিত্তিতে শেখর গুপ্তার এই ভুয়া অনুমান?  এককথায় বললে যেখানে এটা হাসিনা বনাম ইউনুসের ক্ষমতার পাল্টাপাল্টি ধরণের কিছুই নয়??? হাসিনা পতনের নুন্যতম অবদান রাখা কোন ছোট-বড় নায়ক এর কিছুই নন ইউনুস সাব! আর এমনটা ইউনুস সাহেব কোথাও দাবিওও করেন নাই!
    তাইলে?
    তাহলে, এতে যা দাঁড়িয়েছে তা হল, এতে শেখর গুপ্তার হাসিনা-প্রেম প্রকাশ হয়ে পড়েছে! যা আসলে মোদির হাসিনা প্রেম!!!!  এটা প্রমাণ করে যে শেখর তিনি মোদির বা গোদি মিডিয়ার এসাইমেন্টে নেমেছেন, তাই নয় কী?

    দ্বিতীয়তঃ
    প্রধান উপদেষ্টা হবার পরে ইউনুস সাব গ্রামীণ ব্যাংকের কেউ কী না; অথবা গ্রামীণ ব্যাংকের স্বার্থে তিনি ক্ষমতাকে ব্যবহার করতে চান কিনা – এককথায় গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে তিনি কোন বক্তব্য বা ইস্যু তার মাথায় আছে তা তিনি কোথাও প্রকাশ করেন নাই; কোথাও প্রকাশ পায় নাই। তিনি নিজের পুরানা পরিচয় গত প্রায় ৫ মাসে আলাদা করে রেখে দিতেই সক্ষম হয়েছেন। কাজেই এতে হাসিনার প্রতি ইউনুসের প্রতিহিংসা তো অনেক দুরের কথা! এমনকি কমপক্ষে শপথের পরের প্রথম কয়েক সপ্তাহ তিনি ও তার উপদেষ্টা (মন্ত্রীদের) এটিচ্যুড ছিল হাসিনা বা তার দলের সাথেও কোন সরাসরি সংঘাত ছাড়াই তারা মিলজুল করে বা পাশ কাটিয়ে তাদের কার্যকাল শেষ করে দিতে চান! আর এই নীতি প্রকাশ হয়ে পড়লেই ববং রিভল্ট আসে। এনিয়ে প্রকাশ্যে আমারই কঠোর সমালোচনা আমি লিখেছি কয়েকটা। যার পরে তার সরকার এটা কারেক্ট করে এমনকি এর পরিণতিতে মন্ত্রীসভা ঢেলে সাজানো বা রিসাফল হয়; বিশেষ করে নয়া স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নিয়োজিত হয়। এমনকি পরের সেপ্টেম্বর মাসে ফেনীসহ ঐ অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেওয়ার আগে পর্যন্ত তিনি চেষ্টা করেছেন হাসিনা বা ভারত ইস্যু নিয়ে বিরোধ এড়িয়ে চলতে। প্রত্যক্ষ নাম উল্লেখ না করে কথা বলতে!  কিন্তু মূলত ফেনীর উজানে ত্রিপুরায় বাঁধ খুলে দেয়া থেকেই যখন তাকে ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থা-আপত্তি না তোলার জন্য অভিযুক্ত করা শুরু হয়েছিল (আমিওও কঠোর আপত্তি জানিয়ে তাকে তুলোধনা করেছিলাম) একমাত্র তখনই তিনি প্রকাশ্যে ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছেন। আর সেখান থেকেই ভারতের সাথে কমন নদীর পানির ন্যায্য হিসস্যা; ভাটির দেশের পানির অধিকার, ইন্ডিয়ার সাথে সম-মর্যাদা ও সম-অধিকার – এভাবে বাংলাদেশ ভারতের আচরণ আশা করে -ইত্যাদি সব ভান্ড-পোটলা একসাথে খুলে যায়! ততদিনে ইউনুস সরকারের আয়ু একমাস ও এক সপ্তাহ পার হয়ে গেছিল।
    তাহলে কী দাঁড়ালো? দাঁড়ালো এই যে এটা শেখর গুপ্তার জন্য একটা শিক্ষা! যে এরপর থেকে মোদির এসাইমেন্ট পেলেই দৌড় দিবেন না। আগে একটু পড়াশুনা করে নিবেন মাঝের যেমন ইউনুস সরকার গঠন হবার পরের এক-দুই মাসে বাংলাদেশে কী হয়েছে কীভাবে কেটেছে! আর তা না করলে এই এসাইনমেন্টের জার্নালিজম এটাও সফল দূরে থাক এটাও টিকবে না।
    শেখর গুপ্তা কে বুঝতে হবে ইউনুস বা তাঁর গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে ততপরতার বিরুদ্ধে সমালোচনা কী করে করতে হয় সেটা শেখরকে বাংলাদেশ থেকেই শিখতে জানতে হবে। আমার নিজেরই  এমন বহু সমালোচনামূলক লেখা আছে। কিন্তু সেগুলোর একটাও ইউনুস সরকারের কোন সমালোচনার মধ্যে আনি নাই। আমার বিশ্বাস ইউনুস সাহেব এটা জানেন যে সমাজে গ্রামীণ নিয়ে সমালোচনা আছে যেগুলোকে তিনি তাঁর এখনকার সরকারের গায়ে অযথা লাগিয়ে মাখায় ফেলা ঠিক হবে না। এবং দূরে আলাদা রাখা এটাই তো সঠিক সিদ্ধান্ত। আবার শেখর গুপ্তাকে জেনে রাখতে হবে গ্রামীণ ব্যাংক বা মাইক্রোক্রেডিটের ভাল দিক কী? কেন পশ্চিমাদেশ এটাকে গুরুত্বপুর্ণ মনে করে! পশ্চিমারা নিশ্চয় আবেগী বা বোকা না। আর এছাড়া সারা পশ্চিমে সবাই ক্লিনটন নন!  এমনকি ইন্ডিয়াতে কেন মাইক্রোক্রেডিট চিন্তাটাকে বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসাবে হাজির করানো হল? এদিকটা খোঁজ করেন, আমাদেরকে না নিজেদেরকেই দয়া করেন একাজ করে; আপনাদের অবশ্যই এতে বরকত মিলবে! গ্যারান্টি!!!

    ইন্ডিয়া বাংলাদেশে একটা ফেয়ার নির্বাচন চায় সেটা আবার যতদ্রুত সম্ভবঃ
    কী সাংঘাতিক কথা! তাহলে হাসিনার আমলে কী করেছেন?
    এটা একটা সত্যিই তামাসা যে  ইন্ডিয়া বাংলাদেশে একটা ফেয়ার (অবাধ, সুষ্ঠ কারচুপিহীন) নির্বাচন চায় সেটা আবার যতদ্রুত সম্ভব! আচ্ছা, গত ১৬ বছর আপনারা কোথায় ছিলেন? এমন কথা কখনও বলেন নাই কেন?  ঐসময়ের বিনা নির্বাচনের হাসিনাকে নিয়ে আপনাদের খুশিতে গদগদ থাকা, উতফুল্লতা এসবের পক্ষে  অন্তত একটা সাফাই দেন তো দেখি? আপনারা কীভাবে এখন বাংলাদেশে একটা ফেয়ার ও দ্রুত নির্বাচনের সৈনিক হয়ে গেলেন?? এনিয়ে এখন ইউনুস সরকারকে সবদিক থেকে চাপাচাপির রাস্তা ধরে ফেললেন, কেন? এমন রাতারাতি ফেয়ার ও দ্রুত নির্বাচনের সৈনিক? এটা আমরা বুঝি যে নয়া হাসিনা পার্টি আপনারা খাড়া করে ফেলেছেন; সাথে জামায়াতকেও রেখেছেন। আবার বিভ্রান্ত করতে প্রকাশ্যে জামায়াতের বিরুদ্ধে হিন্দুত্ববাদী গোলাগুলিও ছুড়ছেন, তাও বুঝি! আদানির অর্থ ছড়িয়েও আপনারা বাংলাদেশের দল নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছেন!  তাই বলে কেন ধরে নিচ্ছেন যা চাইবেন তাই পাবেন?
    উল্টাটাও হতে পারে! সাধারণ মানুষ একবার যদি টের পায় যে ইন্ডিয়া বিএনপিকে নয়া হাসিনা বানায়ে বাংলাদেশে ভোটারদের সামনে পেশ করতে চাইছে – তাই ইন্ডিয়ার এত চাপাচাপি এবং ফেয়ার ও দ্রুত নির্বাচনের সৈনিক হয়ে যাওয়া তাহলে এতে সাধারণ মানুষ জাস্ট উলটা দিকে ঘুরে যাবে বলেই আমার ধারণা। হাসিনার অত্যাচারে সাধারণ মানুষের কী পরিমাণ ক্ষুব্ধ এটা বুঝলে আপনাদেরকে থামতে হবে! এত বুদ্ধিমান ভাবা বন্ধ করতে হবে।  সাধারণ মানুষের সবচেয়ে খারাপ প্রতিবাদটা হবে যদি এমন ঘটে যায় যে তারা আর কোন উপায় না পেয়ে (হাসিনা আমলের মত) ভোটকেন্দ্রেই না যায়; ১০-১২% ভোট পরে?
    আপনাদেরকে মনে রাখতে হবে কোন রাজনৈতিক মুল্যবোধ, নুন্যতম মুল্যবোধ আপনাদের নাই – এটাই ইন্ডিয়ার সবচেয়ে বড় অযোগ্যতা! যা যখন ইন্ডিয়ার স্বার্থে আপনারার তখনই তার ভক্ত – এই হল আপনাদের মোদি বা ইন্ডিয়ার নীতি!

    এই কারণে, এখন ফেয়ার ও দ্রুত নির্বাচনের সৈনিক হয়ে যাওয়া অথবা আমাদের কনষ্টিটিউশনে কী আছে কী নাই আপনাদের ইত্যাদি নিয়ে আপনাদের কোন বক্তব্যই আমাদের কারো কাছে পাত্তা পাবে না, কোন গুরুত্ব নাই! কারণ আপনারা নৈতিক ভাবে স্খলিত; নুন্যতম মূল্যবোধ নাই! আপনারা যদি গত ১৬ বছর একবার অন্তত ফেয়ার ও দ্রুত নির্বাচনের সৈনিক বলে হাজির হতেন, আমরা হাসিনা সরকারে যে কনষ্টিটিউশন মানে না এরই অধীনে; বরং হাসিনা ইচ্ছামত আইন নিয়ম বানিয়ে চলছে এসবের বিরুদ্ধে একবার অন্তত কথা তুলতেন! পররাষ্ট্রসচিব সুজাতা সিং এসে ঠিক করে দিতেন না যে আমাদের বিরোধীদল বিএনপি নয় জাতীয় পার্টিই হবে??????

     

    ভারতের পররাষ্ট্রসচিব সুজাতা সিং এসে ঠিক করে দিতেন না যে আমাদের বিরোধীদল বিএনপি নয় জাতীয় পার্টিই হবে! আর আজ তারাই ফেয়ার ও দ্রুত নির্বাচনের সৈনিক! কী সাংঘাতিক!!!!

     

    তাহলে এখন কোনমুখে আপনারা গণতন্ত্রী সাজতেছেন?  ফেয়ার ও দ্রুত নির্বাচনের সৈনিক সেজে কনষ্টিটিউশন শিখাচ্ছেন? বিএনপিকে নয়া হাসিনার দল হিসাবে সাজাতে চাইছেন? আমি নিশ্চিত এতে বিএনপিরই কপাল পুড়বে!  এটা একটা নয়া হাসিনার আওয়ামি লীগ এই ইমেজ পেয়ে বসলে এই দল শেষ!!!! তখন আপনারা কী করবেন??? সেটাও ভাবুন! দুনিয়া এত সহজ নয়! অথচ শেখর গুপ্তার পত্রিকা দ্যা প্রিন্টই আরেকটা ভিডিও ক্লিপ বানিয়েছে ইউনুস কে খাটো দেখানোর জন্য।

    শুনে রাখেন, আপনাদের (বোকার) স্বার্থের দিক থেকে হাসিনা আপনাদের চোখে মডেল হতে পারে!  আর বিএনপিকে হাসিনার জায়গায় বসানোর লোভ দেখাতে পারেন! কিন্তু হায়! হাসিনার খুনী সিদ্ধান্তে মাত্র একমাসের মধ্যে ১২-১৫শত হত্যা, ১০৫ জন দুগ্ধপোষ্য শিশুকে তাদের বিছানায় শুয়ে থাকা অবস্থায় মেরে ফেলা হয়েছে, প্রায় ৭০০-হাজার গুম- অপহরণ করা হয়েছে; জঙ্গী বলে যাকে তাকে হত্যা,   ছাত্রশিবিরের কতগুলো কর্মি যে পায়ে গুলি খাওয়া চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছে এর খবর নাই! আর আনুপাতিকভাবে এবার দশগুণ করেন তবে আনুমানিক আহত দের সংখ্যা পাবেন! যাদের চোখ অথবা হাত-পা নাই!!! এখন বলেন, আমাদের সমাজ-রাজনীতি এসব ভুলে যাবে, এর কোন ইমপ্যাক্ট নাই, পড়বে না?  ভোটের বাক্সেও না?  বা আপনাদের নয়া হাসিনা বানাতে চাওয়া বিএনপির উপরে এর কোনই ছাপ পড়বে না, ছাপ থাকবে না????? সবই ক্ষমতা আর টাকাপয়সা দিয়ে, বিলিয়ে মুখবন্ধ সমাধান করে ফেলবেন!!!

    নিশ্চিত থাকেন আপনারা হেরে যাবেন! কারণ,  আপনাদের পলিটিক্যাল বা থিওলজিক্যাল কোন মূল্যবোধ, নুন্যতম ইথিকস, নীতিকথা ইত্যাদি কোন কিছুর দরকার নাই? মনে করেন, জাস্ট মানুষের কেবল বিষয়-আশয়ের স্বার্থ আছে????  ঘিনঘিনানি স্বার্থ? দুনিয়া এভাবে চলে নাই, এ’পর্যন্ত আসে নাই!!!!! আগামিতেও চলবে না!

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   রাত ০৮ঃ ৫৯     ১৪  জানুয়ারি ২০২৫

  • বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মোদি আবার বিবিসিকে ভাড়া করেছে

    বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মোদি আবার বিবিসিকে ভাড়া করেছে
    গৌতম দাস
    ১০ ডিসেম্বর ২০২৫   বিকাল ০৪ঃ ৩১
    https://wp.me/p1sCvy-6be

     

    দিল্লি-ঢাকা সম্পর্ক 

    গত পরশু আবার বিবিসি বাংলা ভাড়া নিয়েছে মোদি সরকার। হাসিনার পলায়নের পর গত পাঁচ মাসে  এটা হল মোদির তৃতীয়বার বিবিসি ভাড়া নেওয়া। টেম্পো-সিএনজিতে যেমন লেখা থাকে ভাড়ায় চালিত এটা অনেকটা সেরকম। বিবিসি বাংলার উচিত তার নিজের কপালে এমন একটা সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দেয়া যে ভাড়ায় চালিত জার্নালিজম করি আমরা! এখন মোদি ভাড়ায় চালিত জার্নালিজম এর মানে কী, এমনটা তারা পছন্দ করে কেন?
    এর জবাব হল, দায়দায়িত্ব না নিয়ে মিডিয়ায় যা মনে চায় কথা ছড়ানো।  যেমন বিবিসি বাংলায় এধরণের রিপোর্ট করতেছে শুভজ্যোতি ঘোষ যিনি, আমি আগে অনেকবার বলেছি, আরএসএস নেতা তথাগত রায়ের শিষ্য! এতে মোদির সুবিধা হল তিনি দাবি করবেন যে শুভজ্যোতির এই লেখার সাথে আমার সরকারের সম্পর্ক নাই। এটা অনেকটা চিন্ময়-ইসকনকে দিয়ে বাংলাদেশে মোদি সরকারের দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা যেটাকে মোদি সরকার আবার অস্বীকার করবেন যে চিন্ময়-ইসকন মোদি সরকারের কেউ নয়! যদিও চিন্ময় গ্রেফতার হয়ে গেলে তখন কিন্তু মোদি খোলস ছেড়ে ন্যাংটা হয়ে চিন্ময়-ইসকনের পক্ষে বিবৃতি দিবে!  এই হল মোদির ভাড়ায় চালিত চিন্ময়-ইসকন ততপরতা অথবা ভাড়ায় চালিত বিবিসি জার্নালিজম কিনে পরিচালনা!

    এবারের শিরোনামঃ

    দিল্লি কি অবশেষে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক সহজ করতে চাইছে?

    বলাই বাহুল্য বিবিচির এমন রিপোর্টের স্টাইল হবে যেন বাংলাদেশের জন্য এটা সৌভাগ্য যে ইন্ডিয়া যেন দয়া করছে – এভাবে লেখা। যেমন এখানে আমরা দেখছি লেখা হয়েছে – দিল্লি কী (দয়া করে) ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক সহজ করতে চাইছে!  আর ভিতরে মানে রিপোর্টের বডিতে লেখা হয়েছে একটা মৌলিক অনুমানে ধরে নেয়া কথা যেন বাংলাদেশ এক ইন্ডিয়ান কলোনি; ফলে ইন্ডিয়া যা দাবি করবে বাংলাদেশকে সেটাই করতে হবে। এককথায়, বাংলাদেশ যেন ইন্ডিয়ান ডিকটেশন [dictation] বা ফরমানে চলা এক দেশ! অর্থাৎ স্বাধীন-সার্বভৌম কোন দেশ নয়; ফলে এটা ইন্ডিয়ার হুকুমে চলা। তাই এই লেখায় ইন্ডিয়ান যারাই কথা বলেছেন তারা বাংলাদেশ তো ইন্ডিয়ান হুকুমে চলা দেশ এই মিথ্যা ভ্যানিটি বা অনুমানে ধরে নেয়া ভাবনার উপর দাঁড়িয়ে কথা বলে গেছেন। আর যেখানে বিবিসির শুভজ্যোতির কাজ হচ্ছে এমন অনুমানকে প্রশ্ন না করে চলতে দেয়া। মোদির ইন্ডিয়ার এমন খায়েসকে জায়গা করে দেয়া। কারণ, শুভজ্যোতিও তো এক ভাড়ায় চালিত বালক!
    এটা আবার বলা যায় অনেকটা যেন ধরে নেওয়া যে গত ষোল বছরের (ইন্ডিয়ার বসানো) হাসিনা শাসন যেন এখনও আছে, চলছেই!  তাই এই ডিকটেশন স্টাইলে বক্তব্য বা দাবি! এজন্যই যেটাকে আমি ভদ্র ভাষায় বলেছি – এটাই ইন্ডিয়ান হেজিমনি বা আধিপত্যবাদ। এক হিন্দুত্ববাদী আধিপত্য কায়েমের প্রচেষ্টা!  কাজেই বাংলাদেশের আগামি রাজনীতির মুখ্য বৈশিষ্ট  ইন্ডিয়ান আধিপত্য-বিরোধী এটাই হবে!  যদি না হতে পারে যে রাজনীতির ঝোঁক টা বিএনপির মধ্যে উঁকি দিতে দেখা যাচ্ছে এর মুখ্য বৈশিষ্ট হবে ইন্ডিয়ান আধিপত্য এর পক্ষে!

    এবার সোজা আসা যাক মূল প্রসঙ্গেঃ
    বিবিসির এধরণের তৃতীয় রিপোর্ট দিয়ে মোদির ইন্ডিয়া যা বলতে চেয়েছে  তা হল, তারা এখন বাংলাদেশের সাথে দ্রুত সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চায়।  কিন্ততু এতে যেন তারা বাংলাদেশকে একটা বিরাট ফেবার করছে এই ভাব ফুটিয়ে ধরে তাদের ইউজুয়াল কিছু গোয়ার্তুমিও  সাথে রেখেছে যেমন, “তাদেরকে বড় ভাই মানতে হবে”।  যেটা অন্যভাষায় বললে তারা দুটা শর্ত দিয়েছে। বিবিসি লিখেছেঃ

    “ভারতের দিক থেকে এই প্রচেষ্টা হবে পুরোপুরি ‘শর্তাধীন’ – অর্থাৎ ভারতের দেওয়া বিশেষ কয়েকটি শর্ত পূরণ না হলে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে দিল্লি সম্ভবত খুব একটা গরজ দেখাবে না”।
    “…..আর এর মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দু তথা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা কিংবা পরবর্তী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অন্তর্ভুক্ত করার মতো অতি স্পর্শকাতর বিষয়ও থাকতে পারে”।

    এতটুকুই না তবে এটাই মুল দাবি! মানে সাথে খুচরা দাবিও কিছু আছে সেকথায়  পরে আসব।

    তবে ইন্ডিয়ার আগ্রহ যে একেবারে গলে পড়তেছে তার ছাপ-ইঙ্গিত রেখে বিবিসি লিখছেঃ

    “গত তেসরা জানুয়ারি (শুক্রবার) দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিং-এ বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে মুখপাত্র নতুন দু’টো শব্দ যোগ করেন।
    মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল একটি প্রশ্নের জবাবে বলেন, “ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের সাম্প্রতিক ঢাকা সফরের পরই প্রেস বিবৃতির আকারে এই মনোভাব স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, ভারত একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ ও প্রগতিশীল, ইনক্লুসিভ বাংলাদেশকে সমর্থন করে”।”

    বিবিসি এরপরে নিজেই মন্তব্য জুড়ে দিয়ে লিখছেঃ “বছরখানেক আগেকার চেয়ে ভারতের এই বক্তব্যে নতুন শব্দ দু’টো হচ্ছে – গণতান্ত্রিক আর ইনক্লুসিভ (অন্তর্ভুক্তিমূলক)“।

    ইন্ডিয়া আসলে বিশ্বযুদ্ধ-উত্তর রাষ্ট্র ধারণাটা এখনও বুঝল নাঃ
    এভাবে শিরোনামে আ লিখেছি যে “ইন্ডিয়া আসলে বিশ্বযুদ্ধ-উত্তর রাষ্ট্র ধারণাটা এখনও বুঝল না” – ঠিক এটাই বুঝাতে চেয়েছি।  আসলে এখন এটা বলাই যায় যে এখন পর্যন্ত দুনিয়ার ইতিহাসের মোটা দাগে তিনটা পর্যায় দেখা যাচ্ছেঃ এক. বিশ্বযুদ্ধ-পুর্ব কলোনিদখলের দুনিয়া  দুই. কলোনিমুক্ত আমেরিকান নেতৃত্বে গ্লোবাল অর্ডারের দুনিয়া আর তিন. (এটা আসন্ন মানে হবু) চীনের গ্লোবাল অর্থনৈতিক নেতৃত্বে উইন-উইন [win-win] এর দুনিয়া।ীভাবে তিনটা পর্ব ভাগ করেছিল একই কলোনিদখল ধারণাটার ভিত্তিতে। বিশ্বযুদ্ধ-পুর্ব মানে ১৯৪৫ সালের আগের দুনিয়াটা ছিল ছোট বড় পাঁচ (বৃটিশ, ফরাসী, ডাচ, স্পানিশ ও পর্তুগীজ) কলোনিদখলদারের দুনিয়া; যারা সারা দুনিয়ার কোন ভুখন্ড খালি ছিল না সবটাই এই পাঁচ কুতুবের কেউ না কেউ দখল করে রেখেছিল – এমনই সেই দুনিয়াটা। ফলে প্রধান বৈশিষ্ট কোন আন্তঃরাষ্ট্রীয় পণ্য বাণিজ্য বিনিময় নয় (সেখানে ছিল না) বংরং কলোনি দখল আর লুট – আমাদের মত দেশের অর্থনীতির সারপ্লাস বা বাড়তি মূল্য বা সঞ্চয় সব লুট ও নিজ কলোনি মালিক দেশে পাচার – এই ছিল ওর মুখ্য বৈশিষ্ট।
    আর দুইঃ বা দ্বিতীয় ধারার মূল বৈশিষ্ট হল,  অন্যের ভুখন্ড কলোনি করে রাখা অপরাধ মানে একটা কলোনিমুক্ত স্বাধীন রাষ্ট্রের দুনিয়া এবং এমন স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর সকলকে সদস্য করে নিয়ে একটা পুঞ্জীভুত [ইউনাইটেড] রাষ্ট্রপুঞ্জ [United Nations বা জাতিসংঘ] প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থায় গড়া একটা গ্লোবাল অর্ডার [Global Order] দাঁড় করানো।  যার আরেক বৈশিষ্ট হল, আন্তঃরাষ্ট্রীয় পণ্য বাণিজ্য এর গ্লোবাল এক্সচেঞ্জ বা বিনিময় ব্যবস্থা স্থাপন [আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে]। প্রাতিষ্ঠানিকতা হিসাবে মুলত জাতিসংঘ,  আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক; এদের মাধ্যমে আমেরিকার নেতৃত্বে একটা গ্লোবাল অর্ডার (গ্লোবাল সিস্টেম) প্রতিষ্ঠা পায় তাতে যেটা মূলত এক গ্লোবাল পলিটিক্যাল সিস্টেম আর একটা  গ্লোবাল ইকোনমিক সিস্টেম গড়ে তুলেছে।  এভাবে এক
    আর তিনঃ এটাকে বলেছি চীনের গ্লোবাল অর্থনৈতিক নেতৃত্বে উইন-উইন বৈশিষ্টের দুনিয়া। এই পর্বকে বুঝতে হবে আন্তঃরাষ্ট্রীয় পণ্য বাণিজ্য বিনিময়ের দ্বিতীয় পর্যায় হিসাবে। আর এই দ্বিতীয় পর্যায়টাই উইন-উইন পর্যায়।
    অর্থাৎ হবু চীনের নেতৃত্বের দুনিয়াতেও আগে তৈরি হওয়া গ্লোবাল অর্ডারেও আরো পরিবর্তন আসবে। কিন্তু সেটা পলিটিক্যাল ও ইকোনমিক দুই ক্ষেত্রেই নয় বরং মূখ্যত সেটা ইকোনমিক অর্ডার বা সিস্টেমে। মানে গ্লোবাল বিকাশ পর্বের এই তিনটা পর্যায়কে যদি গরীব দেশের অর্থনীতির সারপ্লাস বা বাড়তি মূল্য বা সঞ্চয় সব লুট ও নিজ কলোনি মালিক দেশে পাচার – এই চিন্তা ফ্রেমের মধ্যে থেকে দেখি তবে প্রথম পর্বটা হলঃ সারপ্লাস পশ্চিমে নিয়ে যাওয়া আর যেখানে দ্বিতীয় পর্বটা হল, ঐ সারপ্লাস ফিরে পশ্চিম থেকে পুবে (এশিয়া ও আফ্রিকা ল্যাটিনো ভুখন্ডে) যার নতুন নাম বিনিয়োগ – এই নামে লূট করা সারপ্লাস এর ফিরে আসা।

    তাহলে তৃতীয় পর্বের বৈশিষ্ট কী? উইন-উইন কেন?
    এই পর্বের মূল বৈশিষ্ট হবে ১। স্বীকার করে নেয়া হবে পুরানা তৃতীয় বিশ্ব (বা একালে চীন যেটাকে গ্লোবাল সাউথ বলছে) ধারণার দেশগুলোকে। সেটা এই অর্থে যে গ্লোবাল আন্তঃরাষ্ট্রীয় পণ্য বাণিজ্য বিনিময় ব্যবস্থায় তোমরা আসলে  খুবই গুরুত্বপুর্ণ পার্টনার।   অর্থাৎ আগে যেমন ভাবা হয়েছিল  – তোমরা তৃতীয়বিশ্ব হইলা আমরা যাদের লুট করবো সে আইটেম মাত্র। তোমাদের ভুমিকা হইল নিজেকে লুট হতে দেওয়া। আর সেখান থেকে (দ্বিতীয় পর্ব বলেছি যেটাকে) আমেরিকান নেতৃত্ব যে আন্তঃরাষ্ট্রীয় পণ্য বাণিজ্য বিনিময় এর যাত্রা এতে ইতিবাচক দিকটা হল, আমাদের মত দেশ বিনিয়োগ পেয়ে পুরানা স্থবির অর্থনীতি সচল হয়েছিল। যদিও এই বিনিময়টাই ছিল অসম। তাই তৃতীয় পর্বে এসে এই অসাম্য অনেকটাই কমবে পুরাটা নির্মুল না হলেও। আর সবচেয়ে বড় কথা এখানে গরীবদেশকেই বড়লোকেরা সাহায্য করতে এসেছে তাই তারা দাতা এই ভাবনাটা ঢিলা হয়ে যাবে। এর জায়গা নিবে পার্টনার কনসেপ্ট। যেমন বাংলাদেশ একটা ভাল বিনিয়োগের জায়গা বলেই চিনা বিনিয়োগ গন্তব্য বাংলাদেশ! তাই বাংলাদেশে চীনের কাছেও তার জন্যও দরাকারি এক গুরুত্বপুর্ণ পার্টনার। এটাই একটা বিনিময়ের উভয় প্রান্তের রাষ্ট্রের লাভালাভ এর ধারণা – তাই এটা উইন-উইন! যে বিনিয়োগকারী রাষ্ট্র উইন-উইন দিকটা আমল না করবে সে ব্যবসা-সম্পর্ক হারাবে। এছাড়া শেয়ার্ড ভ্যালু চেন ধরনের এক নয়া উতপাদন ব্যবস্থা আসতেছে। এখানে সেসব দিক বিস্তার করলাম না।   আমাদের মূল প্রসঙ্গে ফিরে যাই।

    কিন্তু ইন্ডিয়া সেই তিমিরেঃ
    যেটা বলছিলাম ইন্ডিয়ান বুঝাবুঝিতে (একাদেমিক বা ব্যবহারিক রাষ্ট্র-সরকারে) সবখানে রাষ্ট্র তাদের কাছে কে কাকে কলোনিদখল করে আধিপত্য প্রভাবে রাখতে পারে এর বেশি কিছুই না। এটাই সেট করে দিয়ে যাওয়া নেহেরুয়ান রাষ্ট্র বুঝাবুঝি। এর সারকথা হল, রাষ্ট্র মানেই কে বুদ্ধি খাটিয়ে কার উপর আধিপত্য খাটাতে পারে যেন এই খেলা একটা। যেটা আসলে শাসক বলতে যদি আপনি বৃটিশ শাসক বুঝেন আর এটাই স্থায়ীভাবে শাসক সম্পর্কে ধারণা জ্ঞান করেন তাহলে যেখানে আপনি পৌছাবেন। কাজেই দুনিয়ার তাবত পরিবর্তনগুলো হচ্তেছে বা আসছে তাতে অন্যকোন দিকে তাকানো যাবে না বরং এতে অন্যরাষ্ট্রকে নিজ কলোনি বা আধিপত্যের ক্ষেত্র হিসাবে ব্যবহারের যেসব সুযোগ যদি দেখতে পাওয়া যায় তবে ঝাপায় পরে গ্রহণ করা -এটাই ইন্ডিয়ায় কংগ্রেস-বিজেপি নির্বিশেষে শাসক চিন্তা যা আসলে তাদের রাষ্ট্র-বোধ!  এটাই আসলে নেহেরুয়ান আধিপত্যকামী এক রাষ্ট্র-চিন্তা!  ইন্ডিয়া তাই সারা দুনিয়াতে না পারুক তার পড়শী এলাকায় এমন হেরুয়ান আধিপত্যকামী এক রাষ্ট্র-চিন্তা দিয়ে পরিচালিত হতে যায়। এটাই তার পররাষ্ট্রনীতি বা বোধ!
    অতএব বাংলাদেশ ইন্ডিয়ার চোখে আধিপত্য কায়েম করে একে নিয়ন্ত্রণ করার এক রাষ্ট্র মাত্র।
    তবে এই সুযোগটা সে পেয়েছিল ২০০৭ সালের আমেরিকা বাংলাদেশকে ইন্ডিয়ার হাতে তার আধিপত্যে আমাদেরকে সঁপে দিয়েছিল বলে। বিনিময়ে ইন্ডিয়া আমেরিকার  চীন ঠেকানী (অর্থনৈতিক উত্থান ঠকানী) হাতিয়ার হতে পারবে এই অনুমানে, এই চুক্তিতে। কিন্তু ধর্মের কল বাতাসে নড়ে!  মানে চীনের প্রভাব (যেটাতা চীনের ঋণ-বিনিয়োগদানের সক্ষমতা থেকে উতসারিত) এটা কমে যাওয়া বা আমেরিকার তা ঠেকিয়ে দেওয়া দূরে থাক কোনই ফয়দা আনে নাই।  বাংলাদেশে চীনা ঠেসে দেওয়া ঋণ-বিনিয়োগ এর বাস্তবতা ও চীনের সক্ষমতাই বলে দেয় আমেরিকার চিন্তা-আকাঙ্খা ছিল অবাস্তব!
    কাজেই বাংলাদেশের উপর ইন্ডিয়ার আধিপত্য খাটানোর কোন বাস্তব সুযোগ অনুপস্থিত!
    কিন্তু এসব বুঝাবুঝি ইন্ডিয়ার একাদেমিক, রাষ্ট্রীয় নীতি বা কূটনীতিক জ্ঞানের মধ্যে অনুপস্থিত।  নেহেরুয়ান রাষ্ট্র বুঝাবুঝি বা ১৯৪৫ সালের পরের দুনিয়াটা আসলে কী সেই বোধ না থাকার জন্য।

    কাজেই আমরা এখন ফিরে যাই বিবিসি যেটা লিখেছে ভারতের “…প্রেস বিবৃতির নিজ মনোভাব আকারে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে,  (বাংলাদেশে) ভারত একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ ও প্রগতিশীল, ইনক্লুসিভ বাংলাদেশকে সমর্থন করে”। আর এই বিবৃতিতে নাকি দুইটা নয়া শব্দ আছে গণতান্ত্রিক আর ইনক্লুসিভ।
    যার অর্থ আবার বিবিসি-ই বলে দিয়েছে সেটা হল মানুষের ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার সে দেশে ক্ষমতায় আসুক, আর দুই বা ইনক্লুসিভের অর্থ হল, – “সমাজজীবনে সংখ্যালঘুদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত” –  আর “রাজনীতিতে সব ধরনের শক্তিকে ঠাঁই দেওয়ার” মানে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে দেওয়া বুঝানো হয়েছে……।

    বাংলাদেশ কীভাবে চলবে সেটা কী ইন্ডিয়া ঠিক করে দিতে পারেঃ
    প্রথম প্রশ্ন হল, বাংলাদেশকে কী ইন্ডিয়ার কথা শুনে চলতে হবে? কেন? বাংলাদেশ কী ইন্ডিয়ার কলোনি?
    ইন্ডিয়া যদি বাংলাদেশের হিন্দুদের রক্ষাকর্তা হিসাবে নিজেকে হাজির করতে চায় তাহলে আমরাও কী ভারতের মুসলমানদের রক্ষাকর্তা হবো না কেন? মোদি সেটা মানবেন না কেন? সবার আগে মোদির ইন্ডিয়ার সবাইকে এর জবাব দিতে হবে।
    দুইঃ এটা বড়ই তামাসার যে ইন্ডিয়া এখন ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার চাইতেছে। কেন? তাহলে গত ১৬ বছর হাসিনা কীভাবে ক্ষমতায় ছিল? তখন কেন এমন শর্ত ইন্ডিয়ার মুখ থেকে বের হয় নাই? তার মানে ইন্ডিয়া আসলে ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার নয় হাসিনাকেই আবার যেকোন ভাবে ক্ষমতায় সরকারে দেখতে চাইছে।
    আসলে হাসিনা ও তার দল আগামি রাজনীতিতে বা নির্বাচনে অংশ নীতে পারবে কিনা সেটা ঠিক হবে আমাদের আদালতে! তাদের উপর যে গুম-খুন, অপহরণের মামলা আছে সেই মামলার রায়ের দ্বারা এটা নির্ধারিত হবে। আর এনিয়ে ইন্ডিয়ার কোন কিছু দাবি করার কোন সুযোগ স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে নাই।
    অথচ বিনা সিক্রি যার জীবিনটা কেটেছে একজন পেশাদার কূটনীতিক হিসাবে তিনি এসব দাবি করছেন। যেন তিনি কূটনীতিক নয় এক দাইনি বুড়ির পরিচয় পেতে চাইছেন!!!

    যেমন শর্ত দিচ্ছেন আমরা পাকিস্তানের সাথে কেমন কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখব। বলছেন, “বাংলাদেশের মাটিকে পাকিস্তান যে কোনওভাবে ভারতের নিরাপত্তা স্বার্থের বিরুদ্ধে বা সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে ব্যবহার করবে না, সেটা নিয়ে শতকরা একশোভাগ নিশ্চিত হতে পারলে তবেই ভারত এই সম্পর্ক নিয়ে এগোতে পারবে”, বলেন ভিনা সিক্রি।  এখন তামাসাটা হল, মোদির ইন্ডিয়া ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক করেছে। এখন বিনা সিক্রির মত আমরা কী ভারতকে ইসরায়েল নিয়ে বলতে গিয়েছি? নাকি বিনা চাচ্ছেন আমরাও ইসরায়্বেল নিয়ে আমরাও মোদিকে পাল্টা শর্ত দেই???
    আবার বিবিসি লিখছে, “…ভিনা সিক্রির কথায়, “যত দ্রুত সম্ভব সে দেশে নির্বাচন আয়োজনের ওপর ভারত জোর দেবে। শুধু তাই নয়, সে নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হতে হবে, এবং তাতে সব দল ও মতাবলম্বীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।”
    আমরা নির্বাচন দ্রুত না দেরিতে করব এনিয়ে বিনা বলার কে? আর সব দল বলতে আমাদের আদালত হাসিনা ও লীগকে বাইরে রাখে কিনা তা ঠিক করবে সেখানে বিনা কথা বলার কে?

    আসলে যেকথা বলছিলাম, ১৯৪৫ সাল পরবর্তী রাষ্ট্র ধারণাটা কোনদিকে গিয়েছে এনিয়ে সারা ইন্ডিয়াতেই বুঝাবুঝি নাই।  তাই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে বিনা সিক্রি কী দাবি করতে পারেন না সেই লাগাম-বোধও তাদের গড়ে উঠে নাই। কাজেই বিনা সিক্রি আপনি পরে আসেন……।

    ইন্ডিয়ান হেজিমনি বা আধিপত্য উচ্ছেদই হবে বাংলাদেশে আগামি রাজনীতির মূল বৈশিষ্ট! এটা হতেই হবে তা আমরা আরো নিশ্চিত হলাম!!!
    আর এমন হলে, মানে ইন্ডিয়া যদি আধিপত্যশীল এক কলোনি-মালিক যেন এমন থাকতেই চায় তবে,   ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক সহজ স্বাভাবিক হবার হবার দরকার কী, সুযোগই বা কৈ? যেখানে সহজ স্বাভাবিক সম্পর্ক মানেই হল ইন্ডিয়ান আধিপত্য! এর কী আমাদের দরকার আছে?

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  সন্ধ্যা  ০৭ঃ ২৫   ১০  জানুয়ারি ২০২৫