Tag: মোদি

  • মোদির র, তারেক ও সাথে আরেক ভাড়াটে মিডিয়া রয়টার্স

    মোদির র, তারেক ও সাথে আরেক ভাড়াটে মিডিয়া রয়টার্স
    গৌতম দাস
    ০১ এপ্রিল ২০২৫ দুপুর ০১ঃ ১৪
    https://wp.me/p1sCvy-6np

     

     

    ডঃ মঈন খান

     

    গতকাল ছিল ঈদের দিন! কিন্তু ষড়যন্ত্রকারী তবে বেকুবেরা বসে ছিল না। মোদির ‘র’ আর তার ফাঁদে আরো বেশি করে আটকে যাওয়া তারেক ও তাঁর বিএনপি এই ততপরতায় সক্রিয়। গতকাল ‘র’ এর দালাল প্রথম আলো একটা খবর ছেপেছে যার শিরোনাম, “নির্বাচন ডিসেম্বরের পরে গেলে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, সতর্ক করল বিএনপি”।
    প্রথম আলো এরকম দালালির আয় দিয়েও পত্রিকাটা চালায় রাখছে জানি আমরা বলে এটা তেমনই একটা কিছু বলে প্রথম চোটে তাই মনে হয়েছিল। কিন্তু এরপর চোখ আটকে যায় সাথের দুটা শব্দে “রয়টার্স নয়াদিল্লি”। শুধু রয়টার্স লিখলেই তো হত সাথে নয়াদিল্লি লিখল কেন? সন্দেহ এখান থেকে ঘনিভুত, আর তা থেকে ভিতরে পড়তে শুরু করি!  এটা বুঝতে যে রয়টার্স তাহলে এবার এক ভাড়াটে রিপোর্ট ছেপেছে! রয়টার্স মূল ইংরাজি নিউজ এর লিঙ্ক এখানে দিয়ে দিলাম। 

    এই গল্পের  সারকথাটা শিরোনাম আকারে আগে বলে নেই।  মোদির ‘র’ আর তার ফাঁদে আটকে যাওয়া তারেকের বিএনপি এক নয়া যৌথ কর্মসুচী নিয়ে মাঠে নেমে গেছে। সেটা হল, বিএনপি সব বড় নেতাগুলাই বেচারা তবু এদের মধ্যে পাতে দেয়া যায় এমন একজন হলেন ডঃ মঈন খান। সেই মঈন খান এখন এই ষড়যন্ত্র কর্মসুচী নিয়ে নিজ দেশ-পরিবার ঈদ ফেলে আমেরিকায় গেছেন। রয়টার্সের এই ভাড়াটে রিপোর্টটা সেই ষড়যন্ত্র পরিকল্পনার কথা আমাদের খোলাখুলি জানিয়েছে। লিখেছে, “বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থানরত মঈন খান বলেন………”। [“……said Khan, speaking from Washington D.C. where he is seeking meetings with U.S. officials to discuss Bangladesh.”]

    “বাংলাদেশের পরিস্থিতি” মানে?
    আসলে মঈনের এই আমেরিকা লবিইং কর্মসুচী থেকে দেখা যাচ্ছে মোদির ‘র’ আর তারেকের বিএনপি – একেবারেই খোলাখুলি এক “যৌথ উদ্যোগে” নেমে পড়েছেন। ব্যাপারটা অনেকটা এই দুপক্ষের যার যা আছে তাই নিয়ে খোলাখুলি নেমে পড়া – হয়ে গেছে। তাতে তারেক বা বিএনপির গায়ে ‘র’-এর স্পষ্ট দাগ লেগে যাবে কিনা এনিয়ে  তারেক বেপরোয়া হতে দেখা যাচ্ছে! যেখানে যার যা হাতিয়ার আছে মানে মোদির ‘র’ এর হাতে আছে “রয়টার্স নয়াদিল্লি” – এটা সাথে নিয়েই মোদির ‘র’ মাঠে নেমে গেছে। এতে ঢাকার প্রথম আলো / স্টার এদের রেট বা ইন্ডিয়ার যেকোন মিডিয়া ভাড়া নেওয়ার রেট এর তুলনায় “রয়টার্স নয়াদিল্লি” এর রেট অনেক মহেঙ্গা – ত্রিশ-চল্লিশ গুণ খরচা বেশি! তবু নিজের ক্ষমতা দেখাতে মোদির ‘র’ এটাই তারেকের জন্য ভাড়া করে দিয়েছেন!

    তো এখন এখানে “বাংলাদেশের পরিস্থিতি” বলতে আমাদেরকে সুনির্দিষ্ট কী বুঝতে হবে?
    এতদিন ‘র’ আর তারেকের যৌথ বয়ান ছিল একঃ
    যে এখনই নির্বাচন” বা তারেকের ভাষায় তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন” দিতে হবে। এই “তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন” এই বুলি টা তারেকের সেই ২০২১ সাল থেকেই যখন বাইডেনের প্রশ্রয়ে মানে, বাইডেন স্যাংশন বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভয় দেখাবেন ফলে আমাদের পক্ষে হাসিনার বিরুদ্ধে রাস্তায় মিছিল ও ব্যাপক জমায়েতের সুযোগ পেয়েছিলাম আমরা। (যদিও ২০২১, ২০২২, ২০২৩ এর মাঝামাঝি এসে বাইডেন পল্টি মেরেছিলেন হাসিনার সাথে একসাথে কাজ করবেন বলে, তবুও সেদিকে এখানে আর যাচ্ছি না)।  তবে সেকালের শুরু থেকেই তারেকের সার বক্তব্য ছিল একটাই ১। হাসিনাকে কে ফেলাবে? কী করে ফেলাবে ক্ষমতাচ্যুত করবে তা আমি জানি না। ২. তবে হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে গেলে (মানে কেউ করে ফেললে) তিনমাসের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে। ৩. আর এই পরিবর্তনের এর মাঝে কোন “সেনাবাহিনী” সংশ্লিষ্ঠতা চলবে না।  এই অবস্থানের সবচেয়ে বড় প্রমাণ হল, ৫ আগষ্ট হাসিনা দেশ ছেড়ে পলায়নের কয়েক ঘন্টা পরের সন্ধ্যায়। তারেকের জাতীয় সরকার গড়তে রাজি না হওয়া আর, তিনমাসের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে দাবি – এর সবচেয়ে ভাল প্রমাণ। এছাড়া সত্যি সত্যি হাসিনা কী করে ক্ষমতাচ্যুত হবে তা তিনি তারেকে একেবারেই সংশ্লষ্ট হতে চান না, এটা মাথাব্যাথা তিনি নিবেন না। সেসব দূরে থাক এমনকি সেনাবাহিনীর কোনই সংশ্লিষ্টতা থাকুক তিনি চান নাই। বারবার নাকচ করেছেন! আজিব ব্যাপারটা হল, যেন সেনাবাহিনীর ভিতরেও একটা আভ্যন্তরীণ পরিবর্তন দরকার নাই বা তাঁর কাম্য নয়; মানে, সেখানে তারেক সিদ্দিকীর পরিচালিত  র-প্রভাবিত অফিসার বনাম এদেরকে পরাজিত করতে চাওয়া বাকি সকল সেনা-অফিসারের লড়াই এবং ফয়সালা ছাড়াই যেনবা হাসিনা ক্ষমতাচ্যুতি সম্ভব ছিল!!!! আর এপ্রসঙ্গে তারেক নিয়মিত বলে চলেছিলেন – হাসিনা ক্ষমতাচ্যুতি (যার সোজা মানে হল, সেনাবাহিনীর ভিতরে ক্ষমতার পালাবদল বা হাসিনা-সিদ্দিকী এন্ড গং বা র-এর দালালদের উচ্ছেদ)  কীভাবে হবে কে করবে এসব তাঁর চিন্তা-বিবেচনার বিষয় না। কিন্তু তিনি কেবল হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি ও তিনমাসের মধ্যে নির্বাচন চান; এই মুখ্য ও নির্ধারক ভাগটা তারেককেই দিতে হবে! এককথায় বললে, তিনি আসলে  হাসিনার জায়গায় নিজেকে প্রতিস্থাপন দেখতে চান!!! কিন্তু কীভাবে তা ঘটবে এর দায় নিবেন না! হেব্বি মজা!!
    আর তাঁর এই অবস্থানটাই মোদির র-এর জন্য খুবই সুইটেবল, ভাল মিলেছে! একারণেই শুধু তোতাপাখির মত ‘দ্রুত নির্বাচন’, ‘এখনই নির্বাচন’ এসবই নয়। সাথে ইন্ডিয়ান কু-ভাষ্যও আছে। যেমন, ইউনুস সরকার হল একটা তত্ববধায়ক সরকার  (মানে ইন্টেরিম বা বাংলায় অন্তর্বর্তিকালীন সরকার নয়)। কেন ইন্ডিয়ার এই ভাষ্য বদল বা শব্দ বদল?
    কারণ, তত্ববধায়ক সরকার মানে তো তিনমাসের সরকার যার কাজ হল একটা নির্বাচন ঘটিয়ে দিয়ে বিদায় নেয়া! কাজেই তিনমাস এর পরেও ইউনুস সরকার বিদায়ে যাচ্ছেন না কেন? এই হল শয়তানি বয়ানটা!

    আসলে র-এর কাজ হল সময়ে বোকা সেজে বসে থাকা! যেমন র-এর দালাল ও চাকর হাসিনা যে  কনষ্টিটিউশন সংশোধন করে বহু আগেই “তত্ববধায়ক সরকার” ধারণাটাই গায়েব করে দিয়েছেন সেটা এখন মোদির ‘র’ সেটা এখন যেন জানেই না – এমন ভাব ধরে বসে গেছে। আর র-এর ভাড়াটে কিছু ব্যক্তিত্ব ও অবসরের পরে ‘র’-এর খেদমত করে দুপয়সা কামানি বিনা সিক্রি এই বয়ান জারি রেখেছে সেদিন থেকে বিবিসি বাংলায় মোদি যেটাকে ভাড়া করে রেখেছে! আর সবচেয়ে বড় কথা, ইউনুস সাবের এই সরকার গঠনের সময় থেকেই নিজেকে  ইন্টেরিম বা বাংলায় অন্তর্বর্তিকালীন সরকার  বলেই চিনিয়েছে ( নিজেদেরকে কখনও কোন তত্ববধায়ক সরকার বলেন নাই)। অন্য কোন কিছু অন্য কোন শব্দ নয়।  আর সবচেয়ে বড় কথা এসব ষড়যন্ত্রকারীরা এসব ঝামেলা পাকাতে চাইবে আমরা জানতাম বলেই (আমি যতটুকু জানি ২০২২ সাল থেকে এটা যে ইন্টেরিম [interim] সরকার বলে গড়তে হবে সে ধারণা পরিস্কার রাখা ছিল। অর্থাৎ কেবল ৫ আগষ্ট ২০২৪ বিকেলে হঠাত করে আমরা ইন্টেরিম [interim] সরকার গড়ি নাই। ) উপরে বলেছি তারেক বা তাঁর বিএনপি তাদের এসব  তো তাদের কনসার্ণ-বিবেচনা ছিল না। সবসময় তারেকের বুঝ ছিল একটাই – তিনমাসের মধ্যে নির্বাচন – দিতে হবে!

    অতি বুদ্ধিমানের গলায় দড়িঃ
    আপনি যখন বলবেন, হাসিনা ক্ষমতাচ্যুতির পরে তিনমাসের মধ্যে নির্বাচন চাই; কিন্তু, হাসিনা কী করে ক্ষমতাচ্যুত হবে সে দায় আপনার নয়, আপনি জানেন না। শুধু তাই নয় হাসিনার পতনে বা অন্তর্বর্তি সময়ে সেনা সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারবে না – তখন আসলে আপনি কী চাচ্ছেন? আসলে কী বললেন? এটা তারেক জিয়া বুঝেন নাই, বুঝতে চান নাই। বুঝার যোগ্যতা নিয়েও আমি সন্দিহান!  এভাবে তারেক আসলে কল্পনা করেছেন যে  যে শক্তি (এক বা একাধিক শক্তির সম্মিলন) হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করবে সেটা তিনি নন শুধু তাই নয় – হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুতকারীরা আবার হবেন ভীষণ বোকা! তাদেরকে বোকা হতেই হবে। না হলে তারা এরপর সেই বিজয়ী ক্ষমতাটা এবার তারেক ও বিএনপির হাতে কেন সঁপে দিবেন???? কেন তারেকের পায়ে সঁপে দিবেন???? কেন? এটাই বোকার, গোয়ারের বুঝ! আমার অভিজ্ঞতা খারাপ! আপনার “পারসোনাল অভিজ্ঞতা” বাসায় রেখে আসেন।  দেশের স্বার্থ, গন ক্ষমতার স্বার্থের কথা বলেন!

    এর সম্ভবত একটা জবাব হতে পারে যে তারেক জিয়াউর রহমানের ছেলে, তারেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে!!! সেজন্য কী? অথবা ধরেন তারেক বড় গুন্ডা অথবা তারেক ঢাকায় কয়েক লাখ লোক জড়ো (যদি এলাও করেন তা করতে) করতে পারেন সেজন্য? কিন্তু সরি! এগুলোই একেবারে অরাজনৈতিক ও বোকা-স্টুপিড চিন্তা!

    আমি বহুবার বলেছি গুন্ডামি আর ক্ষমতা (মানে রাজনৈতিক ক্ষমতা) এক জিনিষ নয়। যে সমন্বিত শক্তি (একাধিক শক্তিগুলা যেমন একটা,  যারা সেনাবাহিনীকে র-মুক্ত করেছে এবং এমন এদেরকে সমস্ত কী-পজিশন থেকে সরিয়ে দিতে পেরেছে, বিচার বা ফোর্স রিটায়ার্ড করিয়ে দিয়েছে যারা আর সাথে আরেক শক্তি বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতার রাস্তাঘাট দখল – জনগণ রাস্তায় নামিয়েছে গণক্ষমতার প্রদর্শন ঘটিয়েছে যারা এই শক্তি আর এরসাথে যারা বুদ্ধি-বিবেচনা খাটিয়ে সময়মত জাতিসংঘকে মানবাধিকার ইস্যুকে নিজের লড়াইয়ের পক্ষে হাজির করতে পেরেছে যারা এরাও আরেক শক্তি) – এই সমন্বিত শক্তি কেন বিজয়ী হবার পরেও তারেক কে নেতা মানবে???? কেন? যে তারেক মনে করে হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি কিভাবে হবে কে করবে তিনি জানেন না! এটা তাঁর দায় না। এতে তারেক মনে করতেই পারেন তার এই অবস্থান খুবই বুদ্ধিমান অবস্থান! কারণ, তিনি গুন্ডামি আর ক্ষমতার ফারাক বুঝেন না। তাই গুন্ডামিকেই ক্ষমতা মনে করেন। আর সাথে তিনি কয়েক লাখ কর্মীর সমাবেশ ঘটাতে পারেন – সেজন্য????
    এর চেয়ে স্টুপিড ভাবনা দুনিয়াতে আর কিছুই হতে পারে না।
    এককথায় যে বা যারা হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারে তারাই এককভাবে ক্ষমতায় আসবেই! এর পাল্টা আমি বড় গুন্ডা (রাজনৈতিক ক্ষমতা কী তা না বুঝা গুন্ডা) অথবা আমার লোক জমায়েতের সামর্থ আছে সক্ষমতা আছে তাই আমি তারেকই ক্ষমতা???? এটা এক স্টুপিড চিন্তা! ক্ষমতা কী এনিয়ে রাজনৈতিক নুন্যতম জ্ঞানশুন্য এক চিন্তা! তারেক কী জানেন যাদের তিনি নিজের কর্মি মনে হয়, ইদানিং তিনি যাদেরকে বেধরক চাদাবাজি করতে উতসাহ দেন অথবা বড় নেতাদেরকে বিভিন্ন হাসিনা-চোরদের সম্পত্তির শেয়ার মালিক বা পুরাই মালিক বানায় দিচ্ছেন তা সত্বেও তারেকের এই নিজস্ব নেতাকর্মিরা তারেককে ছেড়ে চলে যাবে। মুহুর্তের মধ্যেই! কখন???
    যখন বাজারে এই আওয়াজ স্পষ্ট হয়ে যাবে যারা হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারে তারাই ক্ষমতায় আসবেই! তারাই ক্ষমতায় এবং তারাই আগামিতে নির্বাচিত ক্ষমতা হয়েই আসবে, বসবে! সেদিন তারেক হঠাত আবিস্কার করবেন যে তিনি একা!!!!

    তাহলে এখন “বাংলাদেশের পরিস্থিতি” বলতে কী বুঝায়ঃ
    এখন “বাংলাদেশের পরিস্থিতি” বলতে আমেরিকায় বসে মঈন খান  বা তারেক যেটা বুঝাতে চাইছেন তাহল, ইউনুস সাহেব আগামি ডিসেম্বর ২০২৫ নয়ত পরের জুন ২০২৬ সময়কালে যেটা নির্বাচন অনুষ্ঠানের সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ না হলেও যে ধারণা দিয়েছেন সে ধারণাতে ইউনুস সাব যেন ডিসেম্বর ২০২৫ এর মধ্যেই আটকে থাকেন; আরও না সরে যান বা অনির্দিষ্ট না হয়ে যায় – এটা নিয়েই মূলত মঈন খান  বা তারেক এর বড় উদ্বিগ্নতা! বলা যায় এটাই মঈন খান  বা তারেক জিয়ার উদ্বিগ্ন এক “বাংলাদেশের পরিস্থিতি”।

    এথেকে বুঝা যায় তাদের প্রথম অনুসিদ্ধান্ত হল যে,
    মোদির ‘র’ আর তারেকের বিএনপি এরা দুপক্ষই এখন স্বীকার করে নিচ্ছেন যে (তারেকের) তিনমাসের মধ্যে নির্বাচন, বা এখনই নির্বাচন, দ্রুত নির্বাচন ইত্যাদি আর ওদিকে মোদির ‘র’ এর বাংলাদেশের ইন্টেরিম সরকারকে তত্বাবধায়ক সরকার বলে চালিয়ে দেয়া আর তাই তিনমাসের মধ্যেই নির্বাচন (মানে তারেককে ক্ষমতায় বসায় দেয়ার) দাবি আর সেই সাথে ইউনুস সরকারের সাথে মোদির ইন্ডিয়ার কোন সম্পর্ক নয়, পরের নির্বাচিত  (তারেকের) সরকারের সাথেই কেবল তারা সম্পর্ক করবেন যে গোঁ ধরেছিলে এসব সবকিছুই এখন পরাজিত বক্তব্য-বয়ান হয়ে গেছে।
    তাদের দ্বিতীয় অনুসিদ্ধান্ত হল যে,
    তারা দুপক্ষই (মোদির ‘র’ আর তারেকের বিএনপি) শুধু হেরে গেছেন তাই নয় সামনে তাদের আরও বড় পরাজয় অপেক্ষা করছে। আর সেকারণে তারা এখন আরো বেশি করে ঘনিষ্ট হয়েছেন। শুধু তাই না, আরো ঘনিষ্ট হয়ে এবার মোদির র এবার রাজনৈতিক বুদ্ধিশুন্য তারেককে আরেকটা টোপ দিয়েছে। সেটা হল, এবার তারা একসাথে আমেরিকায় গিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনে লবি করবেন যেন ইউনুস সাব আগামি ডিসেম্বরই নির্বাচন দিতে বাধ্য হন (মানে মোদির ‘র’ আর তারেকের বিএনপি এরা দুপক্ষের কপাল খুলে)।
    এখন তাহলে এতে কী দাড়ালো?
    মানে আমরা এবার দেখতে পাচ্ছি ঠিক যেমন হাসিনা কে নানা সময় আমেরিকার কাছে লবি করে দিব বলে মুলা ঝুলিয়ে মোদি-জয়শঙ্কর হাসিনার ফ্যাসিজম দীর্ঘায়িত করে নিজেরা বাংলাদেশকে লুটেছিল ঠিক সেই একই পথে (কেবল হাসিনার জায়গায় তারেককে বসিয়ে) ‘র’-এর সাথে নিজের ভাগ্য বেধে তারেকও এখন হাটছে অজানা উদ্দেশ্যে ও পথে!!! কথা হল, মোদি হাসিনাকে বাচাতে পারে নাই। তারেক কে পারারও কোনই কারণ নাই!

    আমি বারবার বলেছি, এখন আমেরিকায় কে প্রধানমন্ত্রী বা কে রাষ্ট্রপতি কিছু এসে যায় না;  – সারকথাটা হল আমেরিকা-ইন্ডিয়া যে এলায়েন্স গড়ে উঠেছিল ২০০৭ সালে – বাংলাদেশকে ইন্ডিয়ার হাতে তুলে দেওয়ার মাধ্যমে তাহলেও  সেই আমেরিকা-ইন্ডিয়া বুঝাবুঝি বহু আগেই (২০১৬ সালের মধ্যে) নাই হয়ে গেছে। তা সত্বেও ২০১৭ থেকে পরবর্তি আমেরিকান প্রেসিডেন্টেরা ট্রাম্প১ -বাইডেন এই সময়কালে আগের তুলনায় দুর্বল হলেও আমেরিকা-ইন্ডিয়া একটা স্ট্রাটেজিক সম্পর্ক ছিল। যেটা ২০২৪ সালে বাইডেনের হাসিনার সাথে কাজ করার প্রকাশ্য ঘোষিত পলিসি নেয়ার পরের বাইডেন মানেই তিনি তখন থেকেই হাসিনার মতই পরাজিত বাইডেন। এই পরাজিত বাইডেনের দায় আমেরিকান কোন সরকার, পলিসিদাতা, থিঙ্কট্যাঙ্ক ইত্যাদি কেউ আর নিতে চাচ্ছেন না। নেওয়ার কোন কারণ নাই। বরং ইউনুসের মাধ্যমে আমরা তাদেরকে পালানো  আর মুখের কালিমা লুকানোর যে সুযোগ দিয়েছে এবং আমাদের ইউনুস সরকারকে সমর্থনের যে সুযোগ দিয়েছি এতেই তারা কৃতার্থ!
    ওদিকে মোদি ট্রাম্পের সাথে দেখা সাক্ষাত, অস্ত্র কেনার লোভ কিছু দিয়েও বিনিময়ে কোন সম্পর্ক, ট্রাম্পের সাথে নুন্যতম ঘনিষ্ঠতা – কিছুই অর্জন করতে পারেন নাই। এতে সব অর্থ পানিতে গেছে। হাত-পা বেধে ইন্ডিয়ানদের সামরিক প্লেনে তুলে দেয়া, বারবার ইন্ডিয়ান এক্সপোর্টের সবকিছুতে ট্রাক্স আরোপ ইত্যাদি সব কিছুতেই মোদি-জয়শঙ্কর এখন পরাজিত শক্তি। ২০০৭ সাল থেকে আমেরিকান ছাতার নিচে থেকে ইন্ডিয়া বাংলাদেশের উপর রুস্তমির যে সুযোগ এমন সব কিছুই এখন শেষ, আর কোনদিনই যা ফিরে আসবে না। এসব দিনের আলোর মতই পরিস্কার।
    সর্বশেষ তুলসী গাবার্ড কে সাজিয়ে এনে মোদি যা ভাব তৈরি করতে চেয়েছিল সেটাও একেবারে মুখোমুখিতে ট্রাম্পের স্টেট ডিপার্টমেন্টের বিবৃতিতে সব মুছে গেছে; আমরা সবাই দেখেছি। ভাড়াখাটা তুলসী এখন বেকার। মোদির সব অর্থ এরা খেয়ে নিয়েছে, মোদিও বেকার!!

    ঠিক এই অবস্থায় তারেক কেন মোদির র-এর সাথে কোন বুদ্ধিতে নয়া ষড়যন্ত্রে মাততে চাইছে?? যেটা দিবালোকের মত পরিস্কার ট্রাম্পের প্রশাসনকে মোদির প্রভাবিত করার নুন্যতম কোন যোগ্যতা মোদি-জয়শঙ্করের নাই, এটাই তলানিও না এটা শেষ! একমাত্র রাজনৈতিক জ্ঞানশুন্য এক তারেকই এই ছাইয়ের মধ্যেই তবু নিজের ও বিএনপির ভাগ্য খুঁজে ফিরতে পারে। মোদি-জয়শঙ্করেরা তো নিজেরা লবি করতে আমেরিকায় যায় নাই বা নিজেদের কাউকে পাঠায় নাই – তারেকের মঈন খান কে পাঠিয়েছে!!! যাতে এটাও তো ব্যর্থ হবেই। আর ব্যর্থ হলে যাতে তারেক ও তার নিজ কপালকেই দোষারোপ করে চুপচাপ নিজ ব্যর্থতাকে আপন কর্ম বলে মেনে নেয়!
    দুনিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আমার এত পরিস্কার করে বারবার বলার পরেও রাজনীতিক জ্ঞানশুন্যরাই কেবল তবু ঐ মোদি-র-এর গার্বেজের মধ্যেই নিজ ভাগ্য খুঁজে ফিরতে পারে। তারেক নিজ রাজনৈতিক-নেতা জীবনের শেষ স্তর পার করছেন! তিনি এখন কেবল রাজনীতি থেকে একেবারেই উতখাত ফলে প্রভাবশুন্য হবার জন্যই অপেক্ষা করতে পারেন!!

    মোদি যা পারেন তা হল মিথ্যা প্রপাগান্ডাঃ
    তাই তিনি এবার কমপক্ষে দশগুণ বেশি অর্থ দিয়ে রয়টার্স কে ভাড়া করেছেন। এটা দিয়ে তিনি তারেকের মন জয় করতে গেছেন। কিন্তু এতে তারেকের সাথে মোদি ও র-এর ঘনিষ্ঠতার লেভেল কত গভীর তা প্রকাশ হয়ে পড়েছে। আর দ্বিতীয়ত, বিএনপির নেতা-কর্মিরা এখন নিজেই পরিস্কার দেখতে পাবে যে তাদের দলের ভাগ্য এখন কোন গভীর সংকটে। পালানোর কোন পথও নাই!!!

     

    রয়টার্সকে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করতে হবেঃ
    আমি এর আগে সরাসরি ইউনুস সাবকে সতর্ক করে লিখেছিলাম কেন রয়টার্সের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। অথচ আমরা এনিয়ে ইউনুস সাবের কিছুই প্রতিক্রিয়া দেখি নাই। ইউনুস সাহেব কে বুঝতে হবে সব ব্যাপারে ঢিলেঢালা চলে না। গৃহস্থ দেখতেছে চোরে সিঁদ কেটে ঘরে ঢুকেছে। তবুওও তিনি ভাবছেন “দেখি না কী করে”। এরপর চোর বমাল নিয়ে বিদায় নিবার পরে আর কী করবেন???? কাজেই এসব বাদ দেন, একশন চাই! যে মিথ্যা বলে বা ছড়াই তাকে দমন করতেই হবে!

    রয়টার্স এই ভাড়াটে রিপোর্টটা লিখেছে এক বাঙালি হিন্দু কৃষ্ণ এন দাস [Krishna N. Das]; আরেক শয়তান ভাড়াটে রএর দালাল; রুমা পালের যুগ শেষে তাকে সরিয়ে আরেক শয়তান কৃষ্ণ দাস কে তার জায়গায় বসানো হয়েছে। এখন এই কৃষ্ণ তিনি বারবার প্রধান উপদেষ্টা ইউনুস সাবকে প্রধানমন্ত্রী বলে  (লিখেছেন  • Interim PM suggests ) লিখে গেছেন। কেন? নিচা দেখানোর জন্য?? অথচ বাংলাদেশে ইন্টেরিম পিএম বলে তো কেউ নাই!

    দুইঃ
    এরপর  এই কৃষ্ণ দাস নিজ ভাষ্যে এক ভয়ানক প্যারাগ্রাফ লিখেছেনঃ
    “…. An unelected interim government led by Nobel Peace Prize laureate Muhammad Yunus has been running the South Asian country of 173 million since August, after deadly student-led protests forced Prime Minister Sheikh Hasina, a long-time India ally, to flee to New Delhi. ”

    ইউনুস সাহেব নাকি আন-ইলেকটেড!!! দেখেন তিনি নাকি রয়টার্সের রিপোর্টার!!!! কৃষ্ণ দাস মোদির দালালি করছেন? কৃষ্ণ দাস – আপনি কী জানেন স্বাধীন ইন্ডিয়ায় প্রথম কবে কেন্দ্রীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান হয়েছিল? জেনে নিতে পারেন সেটা ছিল ১৯৫১ সাল (25 October 1951)। অথচ নেহেরু তো ক্ষমতায় সেই ১৫ আগষ্ট ১৯৪৭ দিন থেকেই! তাহলে??? তিনি কী তখন ১৯৪৭ সালে নির্বাচিত ছিলেন? তাহলে কী ছিলেন – ইলেকটেড নাকি An unelected?????
    এসব খোঁজ না নিয়ে  বাঁদরামো করতে আসা উচিত না। মোদির  বা ‘র’-এর থেকে অর্থ নিয়েছেন? এই বাদঁরামো করার জন্য?
    আর এই প্যারাগ্রাফ টা আপনি লিখেছেন নিজ ভাষ্যে কারও বরাতে নয়। রয়টার্স এর জার্নালিজমের নীতিতে আপনি কী এমন নিজ ভাষ্য বয়ান লিখতে পারেন???

    আর এখানে রয়টার্স কেও জানিয়ে রাখি, নিজের ফাঁসির দড়ি এভাবে আপনারা নিজের জন্যও তৈরি করলেন!!!

    রয়টার্স কে বলছিঃ কান খুলে শুনে রাখেন। এই যে সব রিপোর্টের শেষ লিখে রাখেনঃ

    Reporting by Krishna N. Das in New Delhi; Editing by Michael Perry
    Our Standards: The Thomson Reuters Trust Principles., opens new tab এভাবে, আপনাদের প্রত্যেকটা রিপোর্টের নিচে লেখা থাকে। এখন বলেন Krishna N. Das এর এই লেখাটা আপনাদের নিজের ঘোষিত স্টান্ডার্ড থমসন রয়টার্স ট্রাস্ট এর প্রিন্সিপাল মেনে কী করা হয়েছে???? নাকি এটাই রয়টার্সের নীতি? এটা জার্নালিজম ?????
    রুমা পালকে নিয়ে আপনাদের কাছে বহুবার লিখেছি। বারবার বলেছি ইন্ডিয়ার ভিতর বসে বাংলাদেশ কাভার করবেন না, এটা বন্ধ করেন! আপনারা কানে শুনেন নাই। এখন আপনাদেরকে বাংলাদেশ থেকেই একেবারে উতখাত করতে হবে। বাংলাদেশের কোন মিডিয়া যেন আপনার ব্যুরো নিউজ কিনতে সাবসক্রাইব না করতে পারে এর ব্যবস্থা করতে হবে আমাদেরকে!!!

    সব শেষে ডঃ মঈন খান সাহেবকে কিছু কথাঃ
    আমার যতটুকু ধারণা ছিল তিনি সম্ভবত সবচেয়ে বয়স্ক ও সিনিয়র নেতার একজন যার খোদ জিয়াউর রহমানের সময়ে জিয়ার সাথে বিএনপিতে কাজ করেছেন অভিজ্ঞতা আছে। কিন্তু তিনি কী বুঝে আমেরিকাতে যেতে রাজি হলেন! আমি বিস্মিত! তারেক সাব বলেছেন আর আপনি রওনা দিয়ে দিলেন? আপনি কী খেয়াল করছেন ইতোমধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আমেরিকার বাংলাদেশ নিয়ে অবস্থান! আপনি কী নজর করেন নাই তুলসী গাবার্ড এর ভরাডুবি! তিনি ইন্ডিয়ায় থাকা অবস্থায় আমেরিকান স্টেট ডিপার্টমেন্ট তার বিরুদ্ধে নিজেদের বাংলাদেশ নীতি প্রকাশ করেছে! এত কী আপনি বুঝেন নাই  আমেরিকায় মোদির দৌড়, প্রভাব ক্ষমতা ইত্যাদি একটা ভুয়া ধারণা! চাপাবাজি!  আর আপনি আর তারেক সেগুলো দেখা-জানা সত্বেও আবার সেই মোদির বগলে সুগন্ধ খুজতে গেছেন??? আমি শুনেছি আপনারই নাকি তারেককে কিছু বুঝিয়ে বলার ব্যক্তিত্ব আছে! তাহলে কোথায় সেগুলা???

    আচ্ছা, আপনি সুস্থ আছেন তো নিশ্চয়! আচ্ছা তাহলে, ইউনুসের সাহেবের বিরুদ্ধে আমেরিকায় লবি করতে যান কোন বুদ্ধিতে? তাও আবার মোদি-জয়শঙ্করের ভরসায়? যাদের নিজেদেরই ভরসা নাই; ট্রাম্পের কাছেই নিজেদের কোন বেইল নাই!!!
    তাহলে আপনি এই বেকুবি ষড়যন্ত্রে শামিল হন কেমনে? আবার দেখেন এটা এমন এক ষড়যন্ত্র যা বেকুবেরা করে। এটা অন্তত আপনাকে নিশ্চয় মানায় নাই! নাকি এটাও বুঝেন না!

    আগামি দিনে বিএনপির ভরাডুবি বা সম্ভবত প্রায়  বিলীন এক মুসলিম লীগ যেন এমন যদি হয় তবে তারেকের পাশে আপনার নামটাও লেখা হয়ে থাকল আজ থেকে!   কোন কিছুর খবর নাই! কীসের নেশায় আপনারা এখনও রাজনীতিক বলে দাবি করে আছেন আমি বুঝতে পারি না!! সরি!! আমি সম্ভবত আমার হতাশাই ব্যক্ত করতে পারি!!!
    আর শেষ কথাটা হল, এই যে আপনি ভুয়া এক হুমকি দিয়েছেন যেন আপনি (সাথে আপনারা) আমেরিকায় গিয়ে কোন এক মহাযজ্ঞ করে ফেলতেছেন বলে ভাব তৈরি করতেছেন বলছেন “নির্বাচন ডিসেম্বরের পরে গেলে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে,  এখন এই কথাগুলো বলে আপনাদের নাড়াচাড়াতেই না আপনাদের প্রিয় নির্বাচনটাই অনির্দিষ্ট হয়ে যায়। এতে হতে পারে এক গণভোটের দাবি সামনে চলে এসেছে। আর সেটাও তো নির্বাচনই! “নির্বাচিত প্রধান উপদেষ্টা” পেয়ে যেতে পারেন হয়ত! তখন কী করবেন? পাবলিক মাইন্ড বুঝতে মনোযোগ প্রচেষ্টা নিয়ে দেখতে পারেন, কান পাতেন!

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

     আপডেটঃ  দুপুর  ০২ঃ ৪০,  ১ এপ্রিল ২০২৫
    সবশেষ আপডেটঃ  দুপুর  ০৪ঃ ১০,  ১ এপ্রিল ২০২৫

     

  • মোদি-হাসিনা দুজনেই কী আসামি হবেন, না ট্রাম্পের বক্তব্য বুঝে হাসিনাকে ত্যাগ করবেন

    মোদি-হাসিনা দুজনেই কী আসামি হবেন, না ট্রাম্পের বক্তব্য বুঝে হাসিনাকে ত্যাগ করবেন

    “মোদি-হাসিনা দুজনেই কী আসামি হবেন,
    না ট্রাম্পের বক্তব্য বুঝে হাসিনাকে ত্যাগ করবেন”
    গৌতম দাস
    ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫   দুপুর ০২ঃ ১৭
    https://wp.me/p1sCvy-6jH

     

     

     

    মোদি-হাসিনাদের দোকান কী এখন বন্ধ হবে? যে দোকান তারা খুলেছিলেন ৫ আগষ্ট ২০২৪ এরপরে?
    গতকাল ১৩ ফেব্রুয়ারি ছিল মোদি-হাসিনাদের বহু আশা -ভরসা দেখা প্রতিক্ষিত ট্রাম্প-মোদি মিটিং।  মোদি-হাসিনাদের মিথ্যা প্রপাগান্ডার জোর এত তীব্র ছিল যে সব ফ্যাক্টস বা সত্য আমরা তুলে দেখালেও আমার বাংলাদেশিদের শঙ্কা যাচ্ছিলই না। কারণ তারা ঘর-পোড়া গরু – সেই ২০০৭ সালের ১/১১ থেকে যখন আমেরিকা বাংলাদেশকে ইন্ডিয়ার হাতে তুলে দেয়া ঘটেছিল তখন থেকেই লাগাতর -এভাবে নয়ত সেভাবে – নির্যাতিত হয়ে আসছে! হিন্দুত্ববাদের দাপট বাংলাদেশে জঙ্গীবাদ হচ্ছে বলে প্রপাগান্ডার আড়ালে তারা এক গুম-খুন-অপহরণ এর রাষ্ট্র কায়েম করেছিল আর সাথে ছিল রাষ্ট্রীয় সম্পদের সীমাহীন লুটপাট!
    ফলে বাংলাদেশের আম-মানুষের শঙ্কা কাটছিলই না বিশেষত মোদি-হাসিনাদের এই শেষ চেষ্টা যে এবার মোদি-ট্রাম্পের মিটিংয়ের পরে  মোদি-হাসিনার হিন্দুত্ববাদী খুনি এলায়েন্স যদি আবার ফিরে আসে???
    আমি মনে করি সেই দিন শেষ হয়েছে।

    সেই বহু প্রতিক্ষিত অপেক্ষা শেষ হয়েছে।  ট্রাম্প পাবলিকলি বাংলাদেশের উপর ইন্ডিয়ার সব অপরাধের দায় মোদির উপরেই চাপিয়ে দিয়েছেন।  নিচে দেখেন র-এর মিডিয়া ডেইলি স্টারের বাংলা রিপোর্ট থেকে  [স্ন্যাপ শর্ট] ছবি তোলা বক্তব্য!

     

    ট্রাম্পের মুখে মারা জবাবঃ
    ইন্ডিয়ান সাংবাদিক নিজেই প্রথম মার্কিন ডিপস্টেট এর প্রসঙ্গ বা শব্দগুলা ব্যবহার করেছিলেন। আর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সপাটে মুখে মেরে এর জবাব দিয়েছেন। বলেছেন, “এ ক্ষেত্রে আমাদের ডিপ স্টেটের কোনো ভূমিকা ছিল না”। সাথে আরো বলেছেন, “এটা এমন একটি বিষয় যেটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী (মোদি) দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন এবং সত্য বলতে, শত শত বছর ধরে এ বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। কিন্তু আমি এটা প্রধানমন্ত্রীর (মোদির জবাব দিবার কিছু থাকলে) হাতে ছেড়ে দিচ্ছি”। এটা অনেক শয়তান অনুবাদক –  ট্রাম্পের এই কথা টা বাংলাদেশকে ইন্ডিয়ার হাতে ছেড়ে দেওয়া বলে মিথ্যা প্রচার করেছেন!

    আসলে ইন্ডিয়ান সাংবাদিকদের হোমওয়ার্ক সবসময় কম থাকতেই দেখা যায়।  প্রশ্নকর্তার বুঝা উচিত ছিল দুই চোর একসাথে চুরি করতে যাওয়ার পর এক চোরের আরেক চোরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা আর চলে না – সুযোগ থাকে না। কারণ, সেক্ষেত্রে দুই চোরই ধরা খাবে। যদি ২০০৭ সালের ১/১১ থেকে কথা তুলি যখন আমেরিকা বাংলাদেশকে ইন্ডিয়ার হাতে তুলে দেয়া ঘটেছিল – এই ঘটনা তুলে সেসময়ের আমেরিকান ভুমিকা বা  মার্কিন ডিপ-স্টেট কে অভিযুক্ত করে কথা অন্তত ইন্ডিয়ার কেউ তুললে সেটা তো নিজেদের পায়ে কুড়াল মারাই হবে। যদিও এটা স্পষ্ট যে সাংবাদিক সরাসরি বাইডেনের নাম নিয়ে সেই রেফারেন্সে  প্রশ্ন করছেন! কিন্তু সেখানেও একই বিপদ-ই থেকে গেছে।
    এটা ঠিক যে বাইডেনের প্রথম তিন বছর (২০২১-২৩) মানে ২০২৩ সালের আগষ্ট-সেপ্টেম্বরের আগে পর্যন্ত  তিনি হাসিনার উপরে মানবাধিকার-স্যাংশনের নীতিতে আগিয়ে গেছিলেন যেটা বাংলাদেশের বিরোধীদল সুবিধা পেয়েছিল আর মোদির ইন্ডিয়া এতে বাইডেনের আমেরিকার সঙ্গী হতে পারে নাই বা সুযোগ ছিল না বলে গোসসা ঘরে খিল দিয়েছিল, এসময়টাতে।  কিন্তু  ২০২৩ সালের আগষ্ট-সেপ্টেম্বর থেকে বাইডেন পল্টি মেরেছিলেন ইন্ডিয়ান প্ররোচনায়; ফলাফলে ল্যু-বাইডেন হাসিনার হাত ধরেছিল আমাদেরকে রাস্তায় ফেলে পালিয়ে!  এই পল্টি মারাতে হাসিনা কথিত তাঁর ৭ জানুয়ারি নির্বাচন করে নিলে বাইডেন চিঠি লিখে জানিয়েছিল এরপর বাইডেন-হাসিনা একসাথে কাজ করবে!!!
    আর এটাই বাইডেন ও তার সিআইএ (যেটাকে এখন ভারতীয় সাংবাদিক মার্কিন ডিপস্টেট বলে ডাকছেন) তাদের একেবারে গাধা বনে যাওয়ার ঘটনা! কারণ, বাইডেনের ৫ ফেব্রুয়ারির চিঠিতে – একসাথে কাজ করার খায়েশ – জানানো মানে, পরবর্তিতে চারমাসের মধ্যেই যে খোদ হাসিনাই গণঅভ্যুত্থানে উচ্ছেদ হয়ে যাচ্ছেন এইটা তারা কোন আগাম আমল – তা করতেই পারেন নাই! যার আরেক অর্থ হল, বাংলাদেশে সিআইএ ততপরতা (বা কথিত মার্কিন ডিপস্টেট ধারণা যেটা) এখন গুটিয়ে ফেলা উচিত। কারণ, তারা প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে কোন আগাম ধারণাই এরা দিতে পারেন নাই বলেই তো বাইডেন বোকার সাহসে হাসিনার হাত ধরার কথা বলেছিলেন!! অর্থাৎ এখান থেকেই – বাংলাদেশে ৫ আগষ্টে যা দাড়িয়েছিল – তা শুধু হাসিনার উচ্ছেদ না এটা তো একই সাথে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে তাঁর নীতিসহ উতখাত; যে বাইডেন নিজেই হাসিনার দোসর সেজে একসাথে কাজ করতে চাওয়া এক গাধা বনে যান মাত্র!!! বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা এই গাধা আর তার সিআইএ টাইপের আর যেসব আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থা আছে সবাইকেই ছুটিতে পাঠায় দিয়েছিল।
    অথচ এরপরও  মোদি-হাসিনা মিলে উলটা গল্প বানিয়েছে যে –  বাইডেনের আমেরিকান ডিপ-স্টেট নাকি হাসিনাকে উতখাত করেছে!!!  যে বাইডেন দাবি করে হাসিনাকে জানিয়েছিল তারা ফেব্রুয়ারি থেকে একসাথে কাজ করবে সেই আমেরিকান বাইডেন তাঁর কথিত ডিপ-স্টেটের ভুমিকা – বলে মোদি আর তার র-এর গল্প – তা বানালেই যে তা গল্প হবে না তা বুঝিয়ে বলার কী আর দরকার আছে??

    তাহলে ট্রাম্প এখন প্রবলভাবে এই কথিত ডিপ-স্টেটের ভুমিকা সরাসরি নাকচ করল কেন?
    মোদি-হাসিনা যে এমন ডিপ-স্টেটের গল্প বানাইতেছে সেটা গত কয়েকমাস থেকে কমবেশি সবাই জানে। কিন্তু এর বাইরে মূল নিয়ামক ছিল ইউনুস সাহেবের সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালে প্রথম আমেরিকা গিয়ে বাইডেনের সাথে সাক্ষাত। সেখানে ইউনুস সাব বুঝায়ে দেন তাঁর বক্তব্যে যে তাঁর সরকার আমেরিকান পুরানা অপরাধে কথা তুলে সেখানেই আটকে থাকতে চায় না। ইউনুসের সরকার পজিটিভলি সামনে তাকাতে চায়। আর ইউনুসের এই কথা আসলে বাইডেন ও তার সাঙ্গপাঙ্গ ল্যু-সহ সকল স্টাফ শুধু না এমনকি আমেরিকান থিঙ্কট্যাঙ্ক, নীতিনির্ধারক গবেষক বা কর্তা সকলেই হাফ ছেড়েছিল যে আমরা তাদেরকে অভিযুক্ত করাতেই আটকে থাকতে চাই নাই! আসলে আমরাই বুদ্ধিমান হয়ে ” পজিটিভলি সামনে তাকানোর আমাদের নীতির” কথা জানিয়েছিলাম। কারণ, এটা না করলে আজ এদের সকলকে আমরা মোদির কোলে উঠে যেতে দেখতাম!  অর্থাৎ ইউনুসের কথায় আমেরিকান কথিত ডিপস্টেটের সকলেই জেনে যায় যে ইউনুস সাব তাদের মাফ করে সামনে আগাতে চাইতেছে। তাহলে রিয়েলিটি কী ছিল?
    বাইডেনের সাথে আমেরিকান সারা ডিপস্টেট-ই তো বাংলাদেশের হাসিনা সাথে সাথে পরাজিত ও উতখাত হয়ে যায়! ফলে কথিত ডিপ-স্টেটের এই নয়া জীবন লাভ এটাই সাধারণ ব্রিফিং হয়ে যায় আর সেই ব্রিফিং-ই ট্রাম্প এবার প্রেসিডেন্ট হবার পরে পেয়েছেন। তাই তিনি সহজেই ফুতকারে মোদি-হাসিনার বয়ান উড়ায় দিছেন। শুধু তাই না মনে করিয়ে দিয়েছেন ইন্ডিয়া গত শত বছর ধরে বাংলাদেশের উপর হেজিমনি-আধিপত্য কায়েমের চেষ্টা করে গেছে। মানে আমেরিকা সব দায় এখন ইন্ডিয়ার উপর চাপিয়ে দিয়েছে। যা নিয়ে আমাদের ব্যস্ত না হলেও চলবে!!!
    যদিও ডেইলিস্টার পুরানা র-এর এসাইন্ড দালালিতে মোদির হাতে ট্রাম্পের মাইক্রোফোন ছেড়ে দেওয়া বা বলার সুযোগ ছেড়ে দেওয়াকে খোদ বাংলাদেশকেই মোদির হাতে ছেড়ে দেওয়ার ইঙ্গিত  বলে  ভুল অনুবাদ করেছে!

    তাহলে দাঁড়ালো কী?
    এককথায়, মোদি-হাসিনার সব প্রপাগান্ডা মেশিন যে ৫ আগষ্ট থেকে সাজিয়েছিল এর সব ফেলড, পরাজিত!  ধর্ম না ন্যায়ের কল বাতাসেই নড় উঠেছে! ঘন্টা বেজে উঠে জানাচ্ছে সবাইকে!
    এতে মোদি-হাসিনার এতদিনের নিয়মিত মিথ্যা আশ্বাস যে এই তো আমেরিকা ইন্ডিয়ার পিছনে দাঁড়াবে আর ইন্ডিয়া-আমেরিকার যৌথ উদ্যোগে আবার হাসিনা ক্ষমতায় ফিরে আসবে!
    এই সাধারণ প্রপাগান্ডা লাইনের অধীনে আবার সাব-প্রপাগান্ডা বা উপ-প্রপাগান্ডা আরেক লাইন এসেছিল নভেম্বর ২০২৪ সালে যে মোদির ট্রাম্প ভাইয়া জিতে গেছে আর মোদি-হাসিনা, তাদের আর  চিন্তা নাই। ট্রাম্পের শপথের পরে এই তো মোদির ট্রাম্পের সাথে এবার দেখা হল বলে!!! হাসিনার সব দুঃখের অবসান হয়ে যাবে বলে মোদি-হাসিনা মিথ্যা আশা ছড়িয়েও প্রপাগান্ডা চালিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এখন সবই পরাজিত হল।
    এরপর জয়শঙ্কর যখন বুঝলেন ট্রাম্প এভাবে গলবার কোন সম্ভাবনা নাই!! মানে হল, এই পেশাদার কূটনীতিকও ট্রাম্পের নির্বাচনি ক্যাম্পেইনের সময় থেকে ঘোষিত নীতি পড়ে বুঝতে অক্ষম ছিলেন যে হবু ট্রাম্প প্রশাসনের মৌলিক নীতি হবেঃ
    ১। আমেরিকা ফার্স্ট
    ২। যেকোন দেশের উপর  ট্রাম্প  আমেরিকায় রপ্তানির উপরে ট্যাক্স বসাবেন

    এসব তো না বুঝার কিছু নাই!!! মানে মোদি-জয়শঙ্কর তবু না বুঝার ভান করে গেছিলেন! আর ভেবেছিলেন এবারের মোদির সফরে আমেরিকান অস্ত্র কিনতে আগ্রহ দেখালে বোধহয় ট্রাম্প মোদি-হাসিনার শয়তানিকে সমর্থন দিবেন। সেসব বোকার স্বর্গে বাস এখন ন্যাংটা হয়ে গেল!

    তাহলে, এখন আর কী হবে? 
    তাহলে, এখন আর কী হবে? ইম্পিকেশন[implication] বা পরিণতি-প্রভাব কী দেখব? জাতিসংঘের রিপোর্ট !!!

    ইতোমধ্যেই একটা মুখে মারা ঘটনাও ঘটে গেছে। মোদি-ট্রাম্প বৈঠকের আগেই জাতিসংঘের রিপোর্ট – গণহত্যার প্রাথমিক অনুসন্ধান রিপোর্ট প্রকাশিত হয়ে গেছে। যার সোজা মানে হল মোদি-হাসিনা এ’দুই দানব-দানবীই এখন দুনিয়ার চোখে আসামির নজরে! ফলাফল এই যে সারা আমেরিকাকে তো পাগলে তাড়া করে নাই যে এই অবস্থায় ট্রাম্প -এই মোদির সাথে – কোন সম্পর্ক জড়াবেন কোন সংসর্গে থাকবেন??? বরং যতটা সম্ভব মোদির ইন্ডিয়ার সাথে আমেরিকান সংশ্লিষ্ঠতা নাই তা দেখানোর ট্রাম্পের জন্য ভাল উপায় হল মোদিকে দূরে রাখা! ট্রাম্প এই নীতিই অনুসরণ শুরু করে দিয়েছেন!  আর এক্ষেত্রে আমরা – আমাদের ইউনুস সরকার কী সেটাই নিশ্চিত করেছেন, যাতে জাতিসংঘ রিপোর্টটা মোদি-ট্রাম্প সাক্ষাতের ঠিক আগের দিন প্রকাশিত হয়? হ্যা করলে করছেন! অসুবিধা কী? আমরা কোন অন্যায় অযাচিত তো কিছু করি নাই! চোরেরা ধরা পড়লে আমাদের আর কী করার আছে????

    তাহলে এখন কী হতে পারে?
    একটা দল এখন গণ-কেস [gone case]! হাসিনা ও তার লীগ আর উঠে দাঁড়াতে পারছে না! ফলে এটাই মানে, জাতিসংঘের রিপোর্ট টা প্রকাশের পরে এটাই আমাদের জন্য সবচেয়ে ভাল সময় যে, এই লীগ দল ও এর নেতাদেরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার। এমন কী জনগণ দেখতে চায় যে অন্য কোন কোন দল এর (লীগ নিষিদ্ধের) বিরোধিতা করতে চাইছে। আমরা দেখতে চাই কোন কোন দল এর বিরোধী। বুক ফুলিয়ে তারা সামনে আসুক!

    তাহলে অন্য আর দুইটাঃ
    আমার অনুমান বাংলাদেশের  হবু ক্ষমতায় যাবার আকাঙ্খি বিএনপি ও জামাত সহ অন্য যে কোন দল যারা ইন্ডিয়ার পকেটে কম-বেশি হাত ঢুকিয়ে চলে নিজেদের বুদ্ধিমান মনে করে এসেছে – তাদের জন্য কঠিন সিদ্ধান্ত নিবার শেষ সুযোগ এখনই! সেই ইস্যুটা হল, ট্রাম্প বা আমেরিকার মোদিকে ছুড়ে ফেলে দেওয়াটা – এটা কী তারা দেখতে পেয়েছেন? পেলেন?
    আমরা জানি না, তবে জেনে যাবো অচিরেই!

    এমন দলগুলো যদি নিজে বাঁচতে চায় তবে তাদের হাতে সময় থাকবে খুবই কম – বড় জোর আগামি সাত দিন!
    এমন দলগুলোকে দেখাতে হবে যে তারা কোন দুরতম সুত্রেও ইন্ডিয়ার উপর আর কোন আশা ভরসা রাখছে না। ইন্ডিয়ার সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্কও সে অনুসারে নাকচ ও তারা এখন দূরে চলে গেছে – এমনটা আবার মনে মনে করলে হবে না; পরিস্কারভাবে সাধারণ মানুষ যেন বুঝতে পারে এমন আচরণ – বক্তব্য তাদের সামনে আসতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা নিজ জনভিত্তি (নিজ রাজনীতি ও নিজ কনষ্টিটুয়েন্সিতে মনোযোগী) গড়তে যে তারা এখন থেকে মনোযোগী হয়ে গেছে এটা পাবলিকের সামনে নিদর্শন হাসির করে চলতে হবে তাদের।

    এখন এরপরেও ‘অতি- বুদ্ধিমান’ দল কেউ থাকতেই পারে! ধরে নিচ্ছি! যদি থাকে তবে তাদের গণবিচ্ছিন্নতার শেষের দিন গোনা শুরু করতে পারে তারা!
    আমার অনুমান এখন থেকে ইন্ডিয়ার সাথে যোগসুত্র থাকা বা রাখা যাদেরই আছে সেটা ঐ দলের জন্য পাবলিকের সামনে নেগেটিভ পয়েন্ট হিসাবে হাজির হবে।

    সারকথায় আগামি অন্তত একমাস এগুলাই বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের মূল ইস্যু হতে যাচ্ছে!

    আজ ভোর বা সকাল থেকেই অনেকেই আমাকে প্রশ্ন রেখেছেন – মোদি-হাসিনাদের দোকান কী এখন বন্ধ হবে?

    আমার স্থির ধারণাঃ হ্যা সেই সময় আজ সকাল থেকে শুরু হয়ে গেল! আমেরিকা অন্তত বাংলাদেশ ইস্যুতে আর মোদির ভারতের সাথে কথা বলবে না।
    আর এর প্রতিক্রিয়ায় খুব সম্ভবত মোদি-জয়শঙ্কর যদি  বুঝমান হন, এখনও কিছু বুদ্ধি-সুদ্ধি যদি তাদের বেঁচে গিয়ে থাকে তবে কত দ্রুত ইউনুসের নেত্বত্বের বাংলাদেশের  কাছে আসা যায় তাদের সে ততপরতা ও নীতি-পলিসি  অচিরেই দেখব আমরা!

    কিন্তু মোদি কী তাঁর আমেরিকা সফরের ম্যাসেজ পাঠ করতে পারবেন? হাসিনার হাত ছেড়ে দিয়ে বিদায় জানাবেন? সেসব দিকগুলো এখন থেকে পরের সাতদিনে তার নড়াচড়া দেখলেই বুঝতে পারব? তবে যেটাই করেন না কেন এই সতেরো বছর পরে বাংলাদেশ থেকে হাত গুটানো এক ইন্ডিয়া  দেখতে পাবো বলে আমার বিশ্বাস! সেই কাউন্টিং এর শুরু আজ থেকে!

    বাড়তি একটা ছোট ইস্যুঃ মাইলেল কুগেলম্যান
    Michael Kugelman, ইনি আরেকজন বাইডেনের সঙ্গী; ডোনাল্ড ল্যু এর মতই। যিনি ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্রাটেজি জবরদস্তিতে হলেও তা কাজ করছে সেটা দেখাবেনই যেন!!! এমনই গাধা ও গোঁয়াড়! কুগেলম্য্যানের এসাইনমেন্ট ছিল, আমেরিকান ম্যাগাজিন ফরেন পলিসি-তে সাপ্তাহিক কলাম লিখা। আর এর মাধ্যমে তিনি বাইডেন প্রশাসনকে সচেতন করতেন যে দক্ষিণ-এশিয়া থেকে ফিডব্যাক ইনফরমেশন ঐ কলামে লিখে দিয়ে। তাই গত ২০২১-২৩ সালে আমাদের দেশে বিরোধীদলের জমায়েতে বাস্তবেই লোক বেশি হয়ে গেলে উনি খামোখা তর্ক জুড়তেন – দশলাখের জায়গায় এক লাখ দাবি করে! কারণ, উনি জানতেন বাইডেন-ল্যু এর পলিসি হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুতি নয় বরং হাসিনার উপর চাপ দিয়ে তাকে চীনের হাত ছাড়তে বাধ্য করা যাতে এই কুচক্রিদের আসল স্বার্থ ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্রাটেজি সফল বলে দাবি করতে পারে। তাই, বাইডেন যে আগষ্ট-সেপ্টেম্বর ২০২৩ সালে পল্টি মারতে যাচ্ছেন তা ইনার লেখা থেকেই আঁচ করা যাচ্ছিল!
    যাহোক, সেই কুগেলম্যান এখন মোদি-ট্রাম্প বৈঠক নিয়ে টুইট করেছেনঃ

    In the trump-Modi presser, Trump was asked for his view on Bangladesh, and interestionly he dumurred, saying “I’ll leave Bangladesh to the Prime Minister”

    এই টুইটে আসল শব্দটা হল,  dumurred যার আসল অর্থ হল ‘আপত্তি’ বা ‘অনিচ্ছা দেখানো’। বলছেন, ভারতীয় সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাব দিয়ে ট্রাম্পের অনিচ্ছা দেখে তিনি মজা পাইছেন।
    আসলে কুগেলম্যানেরা মজা পান আর দুঃখই পান বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা আপনাদের সকলকেই হাসিনা-সহ উতখাত ও উপড়ে ফেলে দিয়েছে! সেটা পারলে স্বীকার করেন!!!

    সাথে আমেরিকান ডিপ্লোম্যাট জন ড্যানিলঃ
    সে যাই হোক, আরেক সাবেক আমেরিকান ডিপ্লোম্যাট জন ড্যানিল (এই নামে আমাদের এখানে বেশি পরিচিত) [Jon F Danilowicz]; তিনি একসময় বাংলাদেশে ডেপুটে এমব্যাসাডর ছিলেন। তিনি কিন্তু কুগেলম্যানদের মত ছলনা করে কথা বলার বিরুদ্ধে। তিনি ট্রাম্পের মোদির দিকে মাইক্রোফোন আগায় দেবার অর্থ করে টুটে লিখেছেন, যারা ভয় পেয়েছিলেন যে মোদি ট্রাম্পকে বাংলাদেশের ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর হতে ট্রাম্পকে রাজি করায় ফেলবেন তারা এখন আয়েসে নিঃশ্বাস ছাড়তে পারেন”। মানে জন বলতে চাইছেন, তাঁর মনে হয়েছে মোদি তা করতে পারেন নাই।
    এছাড়া তিনি আরো যোগ করেছেন, জাতিসংঘের রিপোর্ট [UN OHCHR report]  প্রকাশ আর ইউনুস সাহেবের ট্রাম্পের (এখনকার প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্টভাবে কাজ করা )  বন্ধু ইলন মাস্কের সাথে ফোনে কথা বলে ব্যবসায়িক আলাপ করা  – এদুই টা ইন্টারন্যাসনাল ফ্রন্টে বাংলাদেশকে অনেক আগিয়ে রেখেছে বলে জন বিশ্বাস করেন। এনিয়ে TBS পত্রিকার লিঙ্ক দেখতে পারেন এখানে।

     

     

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  দুপুর ০৩ঃ২০   ১৪ ফেব্রুয়ারি  ২০২৫

    সর্বশেষ আপডেটঃ  বিকাল ০৫ঃ ১১   ১৪ ফেব্রুয়ারি  ২০২৫

  • ইউনুস সাব কী রয়টার্স-কে শেষ ওয়ার্নিং-টা দিবেন?

    ইউনুস সাব কী রয়টার্স-কে শেষ ওয়ার্নিং-টা দিবেন?
    গৌতম দাস
    ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫    দুপুর ১৩ঃ ০৪
    https://wp.me/p1sCvy-6iV

     

    রয়টার্স আবার অসহ্য হয়ে উঠেছে। গতকাল আদানির বিদ্যুৎ নিয়ে রিপোর্ট ছেপেছে রয়টার্স – রুমা পালের কায়দায়।

    Exclusive: Bangladesh seeks full power supply restoration from Adani plant

    পাঠক জানেন, আদানির যেকোন প্রকল্প মানেই তা মোদির বকলমের দোস্ত ভারতের এক বিলিয়নিয়ার গৌতম আদানিকে সুযোগ সুবিধা দিয়ে ব্যবসা করানো যাতে সে বিজেপি দল চালানোর খরচের যোগানদাতা হন এই আদানি।  তবু ঘটনা টা এখনেই থেমে থাকে নাই। আদানির বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে হাসিবার বাংলাদেশকে খাতক বানিয়ে লুটে নিবার প্রকল্প এক্সটেন্ট করা হয়েছে। যাতে বিজেপি-আওয়ামী লীগ দল দুটা আর লীগ নেতাদের লুটপাটের অর্থ এখান থেকে আসে – মানে বাংলাদেশের জনগণের অর্থ লুট করা যায় বিদ্যুৎ কেনাকে কেন্দ্র করে। বিদ্যুৎ মানেই কোন বিদ্যুৎ না দিয়েই ক্যাপাসিটি চার্জের নামে খাড়া লুটপাট। এক্ষেত্রে এর উপর আছে বাজার দরের চেয়ে ৫৫% বেশি রেট […”Adani’s power costs Bangladesh about 55% more than the average of all Indian power sold to Dhaka… Reuters ] ধরা আছে আদানি বিদ্যুতের ক্ষেত্রে. আরো আছে  – দিল্লি মানে মোদি সরকার ট্যাক্স ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশে এই বিদ্যুৎ বিক্রির প্রকল্পে। অথচ সেই সুবিধা আমাদেরকে না দিয়ে আদানি নিয়ে চলেছে […Bangladesh’s interim government accused Adani of breaching the power-purchase agreement by withholding tax benefits that the Jharkhand plant received from New Delhi…… ] ।  তাই বাংলাদেশের হাইকোর্ট চলতি অন্তর্বর্তি সরকারকে আদেশ দিয়েছে এই প্রকল্পকে এক্সপার্টদের নিয়ে মূল্যায়ন করে ঐ চুক্তি সম্পর্কে রিপোর্ট দিয়ে যাতে এই চুক্তি থেকে বের হওয়া যায় আর বাংলাদেশের কারা কিভাবে এই চুক্তি করেছে তা উন্মোচিত করা যায়।

    এই নির্দেশ  নিয়ে সরকারের কাজ চলছে।
    আর এদিকে যতটা সম্ভব আদানি বিদ্যুৎ কম কিনে (অন্য সোর্স খুজে নিয়ে) চলতে পারা যায় এটাই গত কয়েক মাসে ইউনুসের বিদ্যুৎ উপদেষ্টা গৃহিত পলিসি। যাতে অন্তত ৫৫% সহ আর যত বাড়তি মূল্য বাংলাদেশের জনগণকে গুনতে হয় তা যত কম করে রাখা যায়। অন্তত চুক্তিটা এমনভাবে লেখা যে সহজেই কোন কৌশল পুর্ব-প্রস্তুতি স্টাডি না করে এচুক্তি বাতিল করলে উলটা ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে। এনিয়ে কাজ চলছে। এতে আদানির বিদ্যুৎ প্রকল্প অর্ধেক কাপাসিটি বন্ধ করে রাখা ছিল এতদিন।  তবু আবার চলতি ইউনুস সরকারের উপর বকেয়া এক বিরাট দায় হয়ে চেপে বসেই আছে। কারণ, তথাকথিত ক্যাপাসিটি চার্জ সহ জমে থাকা কোন  বকেয়াই হাসিনা সরকার শোধ করে নাই।

    ইতোমধ্যেই, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ ঘাটতিতে আছে যেতা শীওকাল বলে ততটা মারাত্মক হয়ে পাবলিক লেবেলে অনুভুত হয় নাই। কিন্তু সামনে গ্রীষ্মের কাল গরমে বিদ্যুৎ চাহিদা আরো প্রকট হবে। ইউনুস সরকারের ইচ্ছা রমজান মাসটায় আম-মানুষকে পণ্যমুল্যে যতটা সম্ভব স্বস্তি দেয়া ও প্রাপ্যতা বাড়ানো।  তাই অর্ধেক হয়ে থাকা আদানি বিদ্যুৎ ক্রয় সাময়িক (সম্ভবত তিনমাসের জন্য যেটা আবার স্পষ্ট করে উল্লেখও করা হয় নাই) বাড়ানোর জন্য  ইউনুস সরকার আদানি প্রকল্পকে জানিয়েছে।

    আর এটা নিয়েই শুরু হয়েছে রয়টার্স প্রপাগান্ডা। সাথে যোগ দিয়েছে প্রথম আলো, এমনকি এনটিভি সহ আরো অনেকে।
    আর প্রপাগান্দাটা হল যেন বলতে চায় এরা যে ১.  “দেখেছো, হাসিনার আদানি চুক্তি করা সঠিক ছিল!!”  ২. ইন্ডিয়া ছাড়া, বা তারা দয়া না করলে বাংলাদেশের গতি নাই। ৩.  সারকথায় হাসিনার ফ্যাসিজম ঠিক আছে, জাষ্টিফায়েড।

    যদিও এসব কথা তারা সরাসরি না লিখে খবর প্রেজেন্টেশনটা করা হয়েছে সেভাবে। যেমন রয়টার্স বুঝাই যায়, আদানি প্রকল্পের কাছে থেকে বাংলাদেশের চিঠিটা দেখে নিয়েছে। এরপর তারা কথা বলতে চেয়ে প্রশ্ন পাঠিয়েছে বাংলাদেশের পিডিবি এর প্রধানের কাছে। তিনি যতটা সম্ভব জবাব দিয়েছেন কিন্তু,  কেন বিদ্যুৎ ক্রয় বাড়াতে চাইছেন অথবা আদানি-বাংলাদেশ বিরোধ কী এতে মিটে গেল – এজাতীয় রয়টার্সের প্রশ্নের কোন জবাব দেন নাই; এড়িয়ে গেছেন।
    এটাই কী স্বাভাবিক নয়? কেন ইউনুস সরকার তার আদানি বিদ্যুৎ ক্রয় পলিসি যে কাউকে দিয়ে বলাতে দিবে অথবা দিবে না?

    আর বিপরীতে এখন এই পরিস্থিতিতে জবাব না দেওয়াতে যে – বেনিফিট অব ডাউট পেতে পারেন পিডিবি প্রধান – সেটা না দিয়ে রয়টার্স ইউনুসের বাংলাদেশ   হার মেনে গেছে বা আদানিকে মেনে নিয়েছে এমন ইঙ্গিত তৈরি করেছে। যেই রয়টার্সের নিরপেক্ষতা হারানো বা এতে এখান থেকেই অবজেক্টটিভ রিপোর্টার বা রিপোর্টং টা উধাও হয়ে গেছে।
    রয়টার্সের বলা উচিত ছিল যেখানে যে আবার বাংলাদেশ – বিদ্যুৎ ক্রয় বাড়াতে চাইছে – কেন? সেটা এখনই জানা যায় নাই। এতটুকু বক্তব্যই যথেষ্ট নিরপেক্ষ হতে পারত। কিন্তু তা অনুপস্থিত!

    আর এই রিপোর্টের অনুবাদ ছেপেছে প্রথম আলো ।  যদিও এই রিপোর্ট নিজেই লিখছে,…… “(বাংলাদেশ হাইকোর্টের আদেশে) ওই কমিটির প্রতিবেদন এ মাসে সামনে আসতে পারে। তখন আদানির সঙ্গে চুক্তিটি নিয়ে আবার আলোচনা শুরু হতে পারে বলে জানায় রয়টার্স”। তাহলে বাংলাদেশের পিডিবি এর প্রধানের কেন আবার বিদ্যুত কেনা বাড়াতে চাইছে এনিয়ে জল্পনা-কল্পনা ছড়ানোর তো কোন সুযোগই নাই!!!! যেখানে এটাই তো প্রমাণ কোর্টের নিদ্দেশের কাজ-ততপরতাও সমানে চলছে। যার সোজা মানে এই বিদ্যুৎ ক্রয় এক সাময়িক ব্যবস্থা। আর যতদিন আদানি সাথে চুক্তি বাতিল না হচ্ছে ততদিন বাংলাদেশের বিদ্যুৎ কেনা কমাতে-বাড়াতে কোন আইনি বাধা তো নাই! তাহলে???

    এসব কথা এখানে তোলার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ইন্ডিয়ান-রয়টার্স যে ইন্ডিয়ান সরকার ও (র-এর) অধীনস্ত ততপরতা করে এরই প্রমাণ! সেজন্যই কী এটা ইন্ডিয়ান-রয়টার্সের এক্সক্লুসিভ [exclusive]? মানে র-এর সাথে ইন্ডিয়ান-রয়টার্সের এক্সক্লুসিভ সম্পর্কের রিপোর্ট???

    কোন সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার অধীনে থেকে কী জার্নালিজম করা সম্ভবঃ
    হা, এটা এক অদ্ভুত জার্নালিজম; ইন্ডিয়ান সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার অধীনে থাকা এক জার্নালিজম এটা। তাও আবার রয়টার্সের মত এক গ্লোবাল নিউজ এজেন্সীর!  জার্নালিজমের কোন সংজ্ঞাতেই কোন সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার অধীনে থেকে সেটা আর জার্নালিজম হতেই পারে না! হা, এটাই রুমা পাল মার্কা জার্নালিজম! (র-এর) ছাপ মারা মার্কা জার্নালিজম!

    কবে থেকে এটা এমনঃ
    রয়টার্স [REUTERS] সারা দুনিয়ায় গ্লোবাল নিউজ এজেন্সীগুলো মধ্যে অন্যতম বিশ্বাসযোগ্য প্রতিষ্ঠানঅগুলোর মধ্যে একটা। কিন্তু সেটা ইন্ডিয়ান-রয়টার্সকে বাদ দিয়ে বলতে ও বুঝতে হবে!  তারা গ্লোবাল পরিসরে একটা স্টান্ডার্ড মেনে চলার চেষ্টা করে। কিন্তু দুঃখের কথা এটা ততধিক পতিত একটা নিউজ এজেন্সি যখন ও যেসব নিউজের এডিটিং ও এডিটিং ইন্ডিয়ান-রয়টার্স থেকে পরিচালিত হয়। আপনারা অনেকেই তাদের  রুমা পাল [RUMA PAUL] নামে এক রিপোর্টারকে একালে চিনেছেন, কথা শুনেছেন।  যে যেন এক র-এর কর্মচারী – এভাবে  কাজ-ততপরতায় লিপ্ত।
    যদিও যারা রুমা পাল-কে তার ততপরতাকে চিনে তারা জানে বাংলাদেশের সেই (২০২০) করোনা টিকা কেনার সময় থেকে। যখন তিনি মিথ্যা রিপোর্ট করেছিলেন।

    “চীন প্রথমে নাকি বিনা পয়সায় টিকা দিতে চেয়েও পরে অর্থ দাবি করাতে হাসিনার (বেক্সিমকোর  দরবেশকে সামনে দেখায়ে ৪০০ মিলিয়ন ডলারে) চীনকে ত্যাগ করে ইন্ডিয়ান টিকা কিনতে চাওয়া ঘটেছিল” –  এটা রুমার দাবি।  যদিও ঘটনাটা উলটা! র-এর পাল্লায় পরে হাসিনা দরবেশকে দিয়ে ঐ ৪০০ মিলিয়ন ডলারের ব্যবসার লোভে (বাইরে দেখানো হয়েছিল ব্যক্তি দরবেশ ইন্ডিয়া থেকে টিকা কিনে বাংলাদেশ সরকারকে তা বিক্রি করবে; অথচ হাসিনাই দেশের ব্যাংক থেকে ঐ ৪০০ মিলিয়ন ডলার যোগাড় করিয়ে দিয়েছিল) তখন বিনা পয়সার চীনা টিকা কিনপ্তে ছুটেছিল। ইন্ডিয়া বা (-র-) ভেবেছিল এতে চীন-হাসিনা সখ্যতায় ছেদ ঘটিয়ে ফেলবে; হাসিনাও ৪০০ মিলিয়ন ডলার এর লোভে ইন্ডিয়ার পরিকল্পনায় পা দিবে। শেষ কপাল খারাপ রুমা, র-এর কর্তাদের আর খোদ হাসিনার যে ইন্ডিয়া টিকা সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়েছিল। আর হাসিনাকে তখন পাগলের মত চীনের কাছেই ফিরে গিয়ে হাত-পা ধরে নতুন চুক্তিতে (চীনকে স্ট্রাটেজিক সুবিধা দিবার বিনিময়ে) টিকা পেতে হয়েছিল।

    সারকথায়, রুমা পাল হল সেই এলিমেন্ট যে আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বরাতে মিথ্যা রিপোর্ট ছাপিয়ে  র-এর পরিকল্পনার অংশ হয়েছিল।

    কিন্তু কেন এমন হচ্ছেঃ
    কেন রয়টার্সের মত গ্লোবাল নিউজ এজেন্সী ইন্ডিয়াতে এসে কেন এমন বদনাম কামাতে হয়?

    অনেকের কাছে ব্যাপারটা মিলে না বা রহস্যজনক মনে হতে পারে! কিন্তু আসলে ব্যাপারটা একেবারেই সোজা! পশ্চিমা হোয়াইট স্টাফের তুলনায় ইন্ডিয়ান স্টাফ কম পয়সায় ম্যানেজমেন্ট স্টাফ বা কর্মচারি কেনা যায়, রিক্রুট করা যায়।  সময় একজন হোয়াইট ককেশীয় স্টাফের তুলনায় ইন্ডিয়ান স্টাফ ১০ঃ১ অনুপাত কমে রিক্রুট করা যায়। তাই রয়টার্স বোর্ড-মালিক ম্যানেজমেন্ট প্রাইমারি রিপোর্টার সব ইন্ডিয়ান; মানে ফিল্ড রিপোর্টার যেই হোক যে দেশেরই ঘটনা হোক না কেন এটা ইন্ডিয়ার হায়দ্রাবাদের-রয়টার্সের অফিসে বসে তা সংকলন করে দেয় ইন্ডিয়ান স্টাফ। পরে সে মেলে এডিটিং এর জন্য কোন পশ্চিমা-রয়টার্সের অফিসে পাঠিয়ে দেয়। আর সেই অফিস থেকেই এডিটিং শেষে সেটা রয়টার্সের সার্ভারে আপলোড হয়।  এটা আপনিও বুঝতে পারবেন যদি আপনি রয়টার্সের যেকোন রিপোর্টের শেষে কোন কোন ব্যক্তি এতে কাজ করেছে জড়িত ছিল এই অংশটা স্টাডি করেন। রয়টার্স যে টা মেনটেইন করে তাহল যে কোন রিপোর্টের শেষে সংশ্লিষ্টদের সবার পরিচয় উন্মুক্ত করে সেখানে (মাস্ট) দিয়ে রাখে তবে তাদের ফরম্যাটে।

    Reporting by Krishna N. Das in New Delhi; Editing by Jacqueline Wong and Sonali Paul

    উপরের এই স্টাইলটা মনে রাখতে পারেন।

    কেন রয়টার্স (র-এর) শিকারে পরিণত হয়ঃ
    উপরে আমরা দেখলাম কেন ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি বা এজেন্সি ইন্ডিউ=ইয়ান স্টাফ নির্ভরশীল হয়ে যেচে। কেন সুন্দর পিচাই [Google CEO Sundar Pichai] গুগলের টপ পোস্টের অধিকারি হয়ে যান!  কিন্তু সেখানেই শেষ না। এর পর শুরু হয়, “র” কিভাবে এখান থেকে সব রস বের করে নেয়!  অর্থাৎ রয়টার্স স্বনামধণ্য গ্লোবাল নিউজ এজেন্সী হলেও ওর স্টাফের এক বিরাট অংশ ইন্ডিয়ান ফলে ইন্ডিয়াতে রয়টার্সের অফিস বেশ বড়।
    এবার ইন্ডিয়ান সরকার একতা শর্ত আরোপ করে রেখেছে এধরণের অফিস খোলার উপরে  যে নিউজ মিডিয়া বা হিউম্যান রাইটের অফিস ইত্যাদি পশ্চিমা সংস্থা যেই হোক তাকে ইন্ডিয়ায় বসে কোন পাবলিক রিপোর্ট করতে চাইলে তা ইন্ডিয়ান সরকারের ফরেন পলিসিবিরোধী বা এর সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারবে না। আর সাংঘর্ষিক হবে কিনা তা (এসব বিদেশি প্রতিষ্ঠান) তাদেরকে নিজ উদ্যোগে আগাম ইন্ডিয়ান ফরেন অফিস [MEA, Ministry of external Affairs] থেকে জেনে নিতে হবে। আর এই জেনে নিতে গিয়েই তারা ধরা খায়। তারা ইন্ডিয়ান সরকারের (র-এর) ভাষা, শব্দ ও স্বার্থের ক্যারিয়ার বা বহনকারি হয়েই এই শর্তে রিপোর্ট করতে বাধ্য হয়।
    আর এসব বিদেশি প্রতিষ্ঠান ব্যাপারটাকে পজিটিভ বা অনুগত ভাবে দেখতে-করতে মানে, আইন-মানা এক ইন্ডিয়ান-রয়টার্স হিসাবে হাজির হতে চেয়ে এবার ইন্ডিয়ান-রয়টার্স তাদের রুমা পাল নামের স্টাফের জন্ম দেয়।  অথবা আমেরিকান বিরাট ক্ষমতাধর হিউম্যান রাইট ওয়াচ(HRW)  ইন্ডিয়ায় এসে তাদের স্টাফ মীনাক্ষী গাঙ্গুলি র মত (র-এর) দালাল বা বিড়াল এক স্টফের জন্ম দেয়!

    ইন্ডিয়ান সরকারের ফরেন পলিসিবিরোধী বা এর সাথে সাংঘর্ষিক রিপোর্টিং যদি নাই করা যায় তবে কোন জার্নালিজম বা কোন স্বাধীন ইউম্যান রাইট রিপোর্ট কী সম্ভব???? 

    আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাঃ
    ঘটনাচক্রে আমি সরাসরি বহু আগে থেকেই রুমা পালকে নিয়ে রয়টার্সের সাথে কথা বলেছিলাম। পরিস্কার করে জানিয়েছিলাম, আমি অন্য কোন কথা শুনতে চাই না। রয়টার্স বাংলাদেশ কাভার করতে চাইলে তা ইন্ডিয়ান-রয়টার্সের মাধ্যমে বা অধীনস্ততা থেকে বের করে আনুক! এতে হা দেখছি জাতীয় নন-কমিটাল জবাব ছাড়া কোন ফলাফল হয় নাই। এই প্রথম সাবেক এএফপি [AFP] এর শফিকুল আলম বুঝতেছে তারই ভায়রাভাই” রয়টার্স-ইন্ডিয়া আর তার রুমা পাল কী জিনিষ!  এটা এখন একমাত্র কিছু সম্ভব ইউনুস সাহেব যদি হস্তক্ষেপ করেন।  রয়টার্স-কে ডেকে যদি আমাদের আপত্তি ও স্বার্থ মানতে বাধ্য হতে বলেন। নইলে বাংলাদেশের কোন স্থানীয় মিডিয়া রয়টার্সের কোন নিউজ কিনতে / ছাপতে পারবে না বলে নোটিশ জারি করবেন বলে জানিয়ে দিতে পারেন!

    এখন সবকিছু ইউনুস সরকারের একশনের উপর নির্ভর করছে। রয়টার্স কে অবশ্যই ইন্ডিয়ার বাইরে থেকে বাংলাদেশ নিয়ে রিপোর্টিংয়ে বাধ্য করতে হবে! 

     

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   ফেব্রুয়ারি  ২০২৫

    সর্বশেষ আপডেটঃ  ফেব্রুয়ারি  ২০২৫

  • এখন দুদিন চলবে বয়ানের যুদ্ধঃ এদেরকেও পরাজিত করতেই হবে

    এখন দুদিন চলবে বয়ানের যুদ্ধঃ এদেরকেও পরাজিত করতেই হবে
    গৌতম দাস
    ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, সন্ধ্যা ০৬ঃ ২০
    https://wp.me/p1sCvy-6gk

     

     

     

    হাসিনার বক্তৃতাঃ নিজের ১৬ বছরের গুম-খুমের শাসন, নির্বিচারে সরকারি বা পাবলিক অর্থ সম্পত্তির লুটপাট এর পক্ষে হাসিনা এক সাফাই-বক্তব্য রেখেছেন। আগেই প্রচার করা এই সুচি বলেছিল যে তিনি ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ভার্চুয়ালি অডিওতে আসবেন।
    আর এর বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ছাত্র-জনতা। হাসিনার সকল অপ-শাসন এর সিম্বল বা যেগুলো প্রতীক হয়ে উঠেছিল সেগুলো তারা এর প্রতিক্রিয়ায় ঐদিনই গুড়িয়ে দিয়েছে।
    অর্থাৎ কেবল বস্তুগত স্থাপনা যেগুলা সেসব প্রতীক-ই ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে, ফ্যাসিস্ট হাসিনার গলাবাজি ও সাফাই দিবার চেষ্টার বিরুদ্ধে। কিন্তু কোন প্রাণহানি বা নুন্যতম রক্তপাত না, এখানে ঘটে নাই। টার্গেটও ছিল না।

    গত ৫ ফেব্রুয়ারী ছিল হাসিনার বক্তৃতা ও এর প্রতিক্রিয়ায় ৩২ নম্বর-কে ধুলায় মিশানোর মিশন। এখানে, ৩২ নম্বর (সাথে বিভিন্ন জেলায় ফ্যাসিজমের জেলানেতাদের প্রতীকী স্থাপনা) মানে হল যা হাসিনা বা আওয়ামী ফ্যাসিজমের সিম্বল। ফলে সকল বস্তুগত স্থাপনা ভাঙ্গা ফ্যাসিজমের প্রতীকগুলোর বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আক্রমণ।  এর উদ্দেশ্য ছিল জনগণকে সাথে নিয়ে প্রতীকগুলোকে চিনিয়ে দেওয়া আর তাতে বুঝিয়ে দেয়া যে গণশত্রু কারা কারা! আর আবার বলছি এতে সহিংসতা বা রক্তপাত শব্দ ব্যবহারের কোন সুযোগ না রেখে এগুলো পরিচালিত করা হয়েছে।  এককথায় খুবই প্রতীকীভাবে তাঁদের একাজ সম্পন্ন হয়েছে।

    কিন্তু প্রতিক্রিয়াঃ এরা কারা?
    ছাত্র-জনতার এই ততপরতায় খুবই বিপদে পড়েছে অনেকেই! কিন্তু এই অনেকেই, এরা কারা?
    এদের প্রধান সমস্যা হল, এটা ফ্যাসিজমের প্রতীক যেগুলো কেবল এর উপর আক্রমণ হয়েছে কোন ব্যক্তির উপরে নয়; অর্থাৎ ফ্যাসিজমের প্রতীক  মানে যেগুলো বস্তুগত প্রতীক মানে সরাসরি কোন ব্যক্তি – রক্ত-মাংসের কোন ব্যক্তিমানুষ একেবারেই নয়- আর এটাই এদের জন্য বিরাট সমস্যা হয়ে গেছে। কারণ, মানবাধিকারের কথা এতে আনা যাচ্ছে না!  কেন ছাত্র-জনতা কেবল বস্তুগত বা ফিজিক্যাল স্থাপনা যেগুলো সেসব কিছুকে চিনিয়ে দেয়ায় শেষ করল কেন এই হল তাদের আক্ষেপ!  এমনকি কোন ফ্যাসিস্ট ব্যক্তিকেও আক্রমণ করা হয় নাই। তাই নুন্যতম রক্তপাতও এখানে নাই! একারণের যারা ছুপা যারা, গোপনে নিজ চেহারা আড়ালে রেখে  হাসিনার ফ্যাসিজমের পক্ষে কাজ করতে মাঠে নেমে থাকছিল এতদিন –  এরা খুবই বিপদে পড়েছে। মূল কারণ এখন ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচীর বিরুদ্ধে তারা কী বলবে কীভাবে বলবে? এই বয়ান তাদের কাছে নাই!  বিশেষ করে কোন ব্যক্তি-মানুষের উপর সহিংসতা রক্তপাতও যেখানে নাই!  তাহলে তাদের বয়ান দাঁড়াবে কার উপরে?
    এবার একটু সার করে বলি, তাহলে ৩২ নম্বর-কে ধুলায় মিশানোর মিশন এটা আসলে হল, এক রক্তপাতহীন ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচী ছিল এটা!
    তবে এটা কি ছাত্র-জনতা খুব পরিকল্পিত ভাবে করেছে? না, ঠিক তা বলা ভুল হবে। আসলে তাদের মন স্বচ্ছ ছিল যে কোন রক্তপাত ঘটানো – এটা ঠিক তাদের লক্ষ্য নয়। বস্তুগত প্রতীকের উপর জোর দেয়া – এটাই ছিল তাদের লক্ষ্য এবং মন-ভাবনা!  আর এতেই হাসিনার পক্ষের ছুপা দালালেরা  চরম বিপদে পরে গেছে! মূল কারণ, নুন্যতম এটা সহিংসতা বলেও শক্ত কোন বয়ান তারা দাঁড় করাতে পারছে না! কোন ছদ্ম মানবাধিকারের বয়ান বা ছদ্ম মানবাধিকার ইস্যু তারা খাড়া করতে পারছে না!

    সবচেয়ে বড় হাসিনার ফ্যাসিজম সমর্থক – ইন্ডিয়াঃ
    কারা কারা ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচীতে বিপদে? এর শীর্ষে আছে ইন্ডিয়া!
    ইন্ডিয়ার বিদেশ মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য-বিবৃতিঃ

    আগেই বলেছি যারা ছুপা হাসিনা-স্বার্থের এদের মধ্যে শীর্ষে আছে ইন্ডিয়া! যাদের প্রধান সমস্যা বয়ান-ভাষ্য কী বানাবে যখন রক্তপাতও নাই???

    তাই লক্ষ্য করেন, তারা বলছে ৩২ নম্বর বা শেখ মুজিবের বাড়ি এটা নাকি হল historic residence – মানে ঐতিহাসিক গুরুত্ব থাকা বাড়ি বা বাসস্থান। এটা নাকি “a symbol of the heroic resistance of the people of Bangladesh”. মানে হল, বাংলাদেশের মানুষের বীরত্বপুর্ণ প্রতিরোধের প্রতীক! কিন্তু তাতে ইন্ডিয়া সরকারের কী? এটা কিভাবে ইন্ডিয়ার স্বার্থ বা কথা বলবার এক্তিয়ার? 

    তাই এতে এখন ইন্ডিয়ান সরকারী তামাসাটা দেখেন! গত ১৬ বছর যে ইন্ডিয়া হাসিনার ফ্যাসিজমকে ক্ষমতায় বসায়ে বাংলাদেশ শাসন করে গেছে, হেজমনি বা ইন্ডিয়ান আধিপত্য-দখল চালিয়ে গেছে সেই তারাই এখন বয়ান দিতেছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইতিহাস বা ঐতিহাসিক কোনটা? বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানে র-এর এজেন্ট ঢুকয়ে যারা ১৬ বছর শাসন-আধিপত্য চালিয়ে গেছে যারা এখন পরাজিত (যাদেরকে খুঁজে খুঁজে উপরে ফেলে নির্মুল করা বা বের করে দেওয়া ও মুক্ত করার পথে আমরা এখনকা্র বাংলাদেশ)  সেই পরাজিত ইন্ডিয়া  তারা এখন আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাস বা এর বয়ান কোনটা হবে সেটাও এখন নির্ধারণ করতে চাইছে!

    আসলে  ইন্ডিয়ার মনে রাখা উচিত,  ভাষা আন্দোলন কেবল বাংলাদেশে না, ইন্ডিয়াতেও হয়েছে; বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতে তামিলনারুতে! সে ইতিহাস আমরাও জানি! নেহেরু দক্ষিণ ভারতে হিন্দি ভাষা চাপিয়ে দিতে গিয়ে মার খেয়ে ফেরত এসেছিলেন ১৯৬৪ সালে (বলা হয় এই শোকেই ), সেটা আমরাও জানি!  যা থেকে আজ পর্যন্ত তামিলনারুতে কোন হিন্দি-প্রিয় দল কংগ্রেস বা একালের বিজেপি কখনও রাজ্য সরকারে ক্ষমতায় আসতে পারে নাই। সব থেকে বড় চিহ্ন হল,  সেই থেকে ইন্ডিয়ান কনষ্টিটিউশনে রাষ্ট্রভাষা বলে কিছুই নাই। এবং কিছুই যে নাই সেকথা জানিয়ে ইন্ডিয়ার সুপ্রীম কোর্ট এক রায় দিয়ে রেখেছে।
    তো এখন ইন্ডিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাস কোনটা?  মোদি-কংগ্রেসিরা যে ইন্ডিয়ায় পরাজয়ের ইতিহাস লুকায় রেখেছে সেটা কী এখন আমরা বাংলাদেশিরা দাবি করব যে লুকায় রাখা ইতিহাস এটাই  বা সেটা ইন্ডিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাস???? আমরা নট ইন্টারেস্টেড – ছেচড়ামো আমাদের স্বভাবে নাই।  নানান দেশের ইতিহাস জানার জন্য যতটুকু আগ্রহ থাকা লাগে ততটুকুতেই আমরা সীমাবদ্ধ!

    কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস কী এবং কোনটা কতখানি  – এটা একান্তই বাংলাদেশের; এর নির্ধারক একান্তই বাংলাদেশের জনগণ! ইন্ডিয়ান রাষ্ট্র-সরকারকে আমরা এই হুশিয়ারি জানাই দিয়ে রাখতে চাই! কাজেই আমাদের এই নির্ধারক ক্ষমতার মধ্যে ভাগ বসাতে হাত বাড়ালে সেই হাত জ্বালায় দেয়া হবে! জ্বলে পুড়ে যাবে।  এখানে হাত ঢুকানোর চেষ্টা মানে এটাও আরেক ধরনের ইন্ডিয়ান অযাচিত হস্তক্ষেপ, আধিপত্য দেখানোর চেষ্টা। আমরা ইন্ডিয়ার এই অপ-ততপরতা কে উপড়ে  ফেলে দিব, অবশ্যই! বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস এর বয়ান একমাত্র আমাদের জনগণ দ্বারা নির্ধারিত হবে। কাজেই গতকাল ইন্ডিয়ান সরকারী ভাষ্য-বয়ান আমরা প্রত্যাখান করি, নিন্দা জানাই! বাংলাদেশের বয়ানে হাত ঢুকানো বা হাসিনার পক্ষের বয়ান নিয়ে দাঁড়ানো আমরা অবশ্যই প্রতিহত করবো! এনিয়ে ইন্ডিয়ান সরকারের সীমা লঙ্ঘণ চরমভাবে অগ্রহণযোগ্য, এটা মনে রেখে ইন্ডিয়ার যেকোন সরকারকে চলতে হবে! চলা উচিত!

    ভারতের গার্বেজ যারা কাঁধে নিয়েছে এমন বাংলাদেশি রাজনৈতিক দলঃ
    বাংলাদেশে যারা হবু ক্ষমতায় আসীন হতে স্বপ্ন দেখেন এমন সব রাজনৈতিক দলের দুর্দশা হল এরা প্রায় সকলেই  – ভারতের গার্বেজ বা আবর্জনা এরা নিজের কাঁধে নিয়ে হাঁটা শুরু করে দিয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে। এরা ইন্ডিয়া প্রযোজিত কিছু বাংলাদেশি রাজনৈতিক দল হবার পথে রওনা দিয়েছে। এমন ইন্ডিয়া প্রযোজিত দল সকলেই আজ বয়ান সংকটে পড়েছে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচীর কারণে  এরা এখন বয়ান সংকটে দিশাহারা! এরা যে  ৩২ নম্বরের ঘটনার বিরুদ্ধে, সেটা এরা প্রকাশ করতে পারছে না। এটাই মূলত তাদের ভারত প্রযোজিত দল হিসাবে চিহ্নিত হয়ে পড়ার সংকট!  টানা ২৪ ঘন্টা নিশ্চুপ থাকার পরে ইন্ডিয়া প্রযোজিত দলগুলো বহুকষ্টে এখন তারা বলেছে  ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচী – এই ঘটনার পিছনে ইন্ডিয়া আছে কিনা তাদেরকে দেখতে হবে!!!! হা হা হা !! কী আজিব অর্থহীন কথা!

    কী এক সমস্যা দেখেন!
    ভাষ্য-বয়ান কী দিবে কিছুই খুজে পাচ্ছে না! উল্টা-পাল্টা বকছে! তাতে বয়ানের কোন অর্থ হল কী না হল তাও দেখার অবস্থায়ও নাই!  সে এক মহা দুর্দশা! এটাও বাংলাদেশকে দেখতে হচ্ছে!! এরা নাকি নির্বাচনে ক্ষমতায় যাবার স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশের বড় দলের দাবিদার! তবে (মূল দলীয় ভাষ্য নয় তবে) এই দলের সমর্থক যারা – এই তো তারা ক্ষমতায় যাচ্ছে বলে – স্বপ্ন দ্যাখে এমন ব্যক্তিরা তাদের ফেসবুকে একটা শব্দ খুজে পেয়েছে দেখা যাচ্ছে। শব্দটা হল, অরাজকতা! অর্থাৎ ৫ ফেব্রু. ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচী এটা নাকি এক অরাজকতা ছিল! মানে হল তারা আইনি পথে থাকার লোক! আচ্ছা! কিন্তু এরা কী আইনি-বেআইনি বিষয়টা বুঝে???
    এই ছুপা ইন্ডিয়ান-হাসিনা প্রেমি এরা ভেবেছে এভাবে তারা নিজেদের দালালির স্বার্থ লুকায় রাখতে চলতে পারবে! অথচ এদের আইনি-বেআইনি তর্ক বা রাজকতা বনাম অরাজকতা তর্ক  এটাই তো অর্থহীন! যেমন, এরা ভেবে দেখতে পারে যে, ১৯৭১ সালে যারা মুক্তিযোদ্ধার রাজনৈতিক ভুমিকায় নেমেছিলেন সেটা কী অরাজকতা ছিল না?
    হা অবশ্যই ছিল, তবে সেটা আমাদের সে সময়ের যুদ্ধের প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের মানে, আমাদের শত্রুপক্ষের আইনি বা কনষ্টিটিউশনের দিক থেকে দেখলে তবেই!  পাকিস্তানের আইনি বা কনষ্টিটিউশনের দিক থেকে দেখলে আমরা ছিলাম অরাজক শক্তি! এর সোজা অর্থ হল তাহলে, হাসিনা ও ইন্ডিয়ান আধিপত্যের জায়গায় বসে দেখলে ৫ ফেব্রু. ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচী ছিল অরাজকতা! অর্থাৎ যারা ৫ ফেব্রু. কে অরাজকতা হিসাবে দেখছেন এরা  হাসিনা ও ইন্ডিয়ান স্বার্থের লোক! ঠিক যেমন জুলাই-আগষ্ট্রের আন্দোলনে যারা ছাত্রলীগের গুন্ডা অস্ত্রবাজ, পুলিশ ও হেলিকপ্টারের বিরুদ্ধে বহুকষ্টে লড়ে বিজয় লাভ করেছে আর তাতে শেষে অনেক পুলিশ মারাও গিয়েছে – হাসিনা ৫ ফেব্রুয়ারির বক্তৃতায় এই পুলিশ-ছাত্রলীগকে হিরো মেনেছেন। মেনে যাদের বিরুদ্ধে হাসিনার দেওয়া ভুয়া মামলা ছিল, পুলিশ মারার মামলা ছিল সেগুলা এখন ইউনুস সরকারের ডিসমিস করে দেওয়ার উদ্যোগ বা প্রত্যাহার করে দেওয়া (ইনডেমিনিটি) এসবকে অবৈধ বলেছেন হাসিনা! তাহলে যারা অরাজকতা বলে বয়ান আনতে চাইছেন তাদের উচিত প্রকাশ্যে অবস্থান পরিস্কার করে কথা বলা! তারা কী ছাত্র-জনতাকে হাসিনা-ইন্ডিয়ার মত “অরাজক শক্তি” মনে করেন তা স্পষ্ট করে বলেন! পারবেন? পারলে সামনে আসেন! বুক ফুলায়ে বলেন!!!  পাবলিক আপনাদেরকে দেখুক যে কারা গত ৫ ফেব্রুয়ারি ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচী কে অরাজকতা হিসাবে দেখছেন! এবং কেন দেখছেন???
    একই সমস্যায় ভুগছে জামায়াত!
    কি বলবে?  কথা খুজে না পেয়ে বলেছে, সবাইকে ধৈর্য ধরতে! মানে ইন্ডিয়ান লিঙ্ক ছুটে যায় কীনা সেই দুশ্চিন্তা বিবেচনা প্রবল রেখে কোনমতে একটা ভাষ্য তৈরি করেছে তারা! তাতে এর কোন অর্থ হোক আর নাই হোক!

    এই ফাঁকে আইন সালিসি কেন্দ্রঃ
    এরা আসলে সবসময়  “হাসিনা লীগ টু”!
    কামাল হোসেন এন্ড গং!  মূলত এরা ইন্ডিয়ান হেজিমনি ফেরত আনার পক্ষের শক্তি! কিন্তু ছল নিয়েছে তারা মানবাধিকার কর্মি! এদেরই এক জামাই প্রশ্ন তুলেছেন – “Who is running Bangladesh? Muhammad Yunus?” – যেন বিরাট মানবাধিকার কর্মি! কায়দাটা অসম্ভব ছুপা! এরাই হল অরাজকতা দেখার গোষ্ঠি! অথচ আসলে এরা ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট! ৩২ নম্বর যাদের প্রাণ!  গত ১৬ বছর হাসিনার ফ্যাসিজম তারা দেখেও দেখে না; কিন্তু প্রতীকী এই ৩২ নম্বর একে পবিত্র জ্ঞান করা তাদের বয়ান। হাসিনা তাঁর গুম-খুন লুটপাটের ফ্যসিজম আর ৩২ নম্বর বা শেখের মুর‍্যাল এই প্রতীক সব একাকার করেছিলেন খোদ শেখ হাসিনা! তবু এখন ৩২ নম্বরের সিম্বল এই বয়ান-দৃষ্টিভঙ্গি আর ইন্ডিয়ান স্বার্থ বা তাদেররও বয়ান – এদুটা একজায়গায় মিলেছে। তাই কামাল হোসেন এন্ড গং! এরা আসলে ঘুরে-ফিরে ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট! এরাই ১৯৭১ সালের ঘটনাকে পাকিস্তানের আইন-কনষ্টিটিউশনের জায়গায় বসে দেখলে  (অরাজকতার ভাষ্য ) যেমন হবে এরা সেভাবে দেখার লোক! এরা হাসিনা-ইন্ডিয়ার স্বার্থের জায়গায় বসে এরা ৫ ফেব্রুয়ারি ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচী কে অরাজকতা বলে দেখছেন। আর মানবাধিকার এর মিথ্যা-মোড়কে মুড়িয়ে বয়ান হাজির করার কু-চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

    সাথে আছে চিন্ময়-ইসকন বামপন্থীঃ
    সাথে আরও আছে কিছু প্রগতিশীল বামপন্থী যারা আসলে ইন্ডিয়ান স্বার্থের আরও ঘোরতর এজেন্ট! বিচি আটকে যাওয়া এজেন্ট! কিন্তু নিজেদেরকে ছুপায় রাখতে চায় যে তারা প্রগতিশীল! এরা প্রশ্ন তুলতেছে যে ৩২ নম্বর ভেঙ্গে কী লাভ?
    আসলে প্রগতিশীলদের রূপের শেষ নাই! যদিও সব রূপের কমন দিকটা হল তারা ছুপা ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট!। অথচ এরা নিজেরাও মানতে চায়না যেন জানে না যে এই অবস্থানটা বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে অন্য রাষ্ট্রস্বার্থের দালালি! এদের নয়া সংযুক্তি হল, সাথে বলা এগুলো – “এগুলো ইহুদী-খ্রীষ্টান প্রকল্পের অংশ”। এরা জানে সাধারণভাবে ইসলামিস্টদের কাছে বা এমন রাজনীতিতে –  “ইহুদী-খ্রীষ্টান প্রকল্প বা বয়ানের বিরুদ্ধে তাদের শক্ত ও কমন অবস্থান আছে। তো সেই বয়ান কে ছদ্ম বা ভুয়া স্পর্শ করতে তাদের এই নয়া ছিল। টেনে হিচড়ে কোন ব্যাখ্যা কে আমেরিকান বা সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্ত বা ট্রাম্পের অবস্থান বলে (মিলুক আর নাই মিলে যাক) -এগুলো ইহুদী-খ্রীষ্টান প্রকল্পের অংশ – বলে ট্যাগ দিয়ে এরা হাজির করেছে আজকাল অথচ এরা সরাসরি র-এর মানে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির চক্কড়ে আটকে হানি ট্রাম্পড হওয়া ব্যাক্তি বা গোষ্ঠি-সকল!
    আবার অনেকে বয়ান-যুক্তি দিচ্ছেন ৩২ নম্বর স্থাপনা ভাঙ্গালেও ফ্যাসিজম ভাঙবে না । তাই ৩২ নম্বর ভাইঙ্গো না! অথচ ছাত্র-জনতার কেউ কী দাবি করেছে এটা? নাকি গত ১৬ বছরে এরাই হাসিনাকে ভুল বুঝানো হয়েছে বলেছিল অথবা শাহবাগী জজবা তুলে এরাই হাসিনাকে জঙ্গীবাদবিরোধিতার নামে গুম-খুন হত্যার ফ্যাসিজম কায়েম করতে বয়ান যোগান দিয়েছিল??? অথচ এরাই ৩২ নম্বর স্থাপনা না ভাঙ্গার ফ্যাসিজম শিখাতে এসেছে!  এরা ভুলায় দেতি চায় যে যারা ৩২ নম্বর স্থাপনা ভাঙ্গতে উতসাহ দিয়েছে তারাও তো বলছে এটা প্রতীকগুলোকে ভেঙ্গে দিয়ে ফ্যাসইজম ভাঙ্গতে হবে সেকথাই বলছে, সেই বয়ান খাড়া করেছে!!

    আবার প্রগতিশীলতার কেউ কেউ বলার চেষ্টা করছে যে  ফেব্রুয়ারি ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচী এটা অরাজকথা!  এর চেয়ে আয়নাঘর ভাঙ্গা ভাল! যেন এরা আয়নাঘর ভাঙ্গার নয়া সৈনিক!
    এরা আসলে বাংলাদেশে একটা সেনাবাহিনী থাকুক আর সেটা র-এর এজেন্ট বের করে দেয়া সেনাবাহিনী হোক মুলত এটাই তারা চায় না। খুবই কষ্ট পায় আর ব্যাথা তাদের! এই অর্থে তারাও হাসিনা ও ইন্ডিয়ান স্বার্থের লোক বা রাজনীতি করা লোক!
    বাংলাদেশে ১৯৭৫ সালের পরে শেখ মুজিব উতখাত হওয়াতে সাধারণভাবে আর্মির বিরুদ্ধে এক বয়ান খাড়া করেছিল লীগ-হাসিনা! সাধারণভাবে আর্মি কথাগুলো খেয়াল করেন। বয়ানের মূল কথা হল, আর্মি মানেই এন্টি শেখ মুজিব!
    অথচ আপনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রের পক্ষের হলে তাহলে আর আপনি সাধারণভাবে আর্মির বিরুদ্ধে থাকতে চাইলেও থাকতে পারেন না। থাকলে এর সোজা মানে হবে আপনি খোদ বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে।

    মূলকথাটা হল, হাসিনার ১৬ বছরের আর্মি আর এখনকার আর্মি – এদুটাই তো আর্মি। কিন্তু একই আর্মি নয়! যারা এদুটোকে মিশিয়ে একাকার করে শুধু আর্মি বলবে এরা জেনে না জেনে ইন্ডিয়া-হাসিনার পক্ষের লোক!  আপনাকে অবশ্যই এদুটোকে আলাদা করে বুঝাতে এবার সাথে বিশেষণ লাগিয়ে বলতে হবে। যেমন  হাসিনা আমলের আর্মি  নাকি  হাসিনা উতখাত-পরবর্তি আর্মি!   ফলে যারাই সবকিছুকেই শুধু আর্মি বলে একটা শব্দ ব্যবহার করবে এরাই বাংলাদেশ রাষ্ট্র-বিরোধী এবং ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট(!) হওয়ার সম্ভাবনা ষোলভাগ! জেনে অথবা না জেনে! যদিও অনেক সময় এরা গ্রুপবদ্ধ থাকলে তাদের বেলায়, এদের টপ নেতারা জানে তারা ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট কিন্তু নিচের কর্মিরা না জেনেই ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট!- এই হল ফারাক!
    ফলে আয়নাঘর মানে একে “আর্মি” এই শব্দটাকে সাধারণভাবে মানে বিশেষণ ছাড়া অর্থাৎ আয়নাঘর মানে সাধারণভাবে – আর্মি মাত্রই খারাপ – এই প্রতীকী  ব্যবহার করতে চায় এরা। এজন্য এরা জেনে না জেনে ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট হয়ে থাকছে। হাজির হচ্ছে বা থাকতে চাইছেন। আজ, ৩২ নম্বরের নিচে সাততলা আয়নাঘর এর কথা কথা বলা হচ্ছে, সন্দেহ ও খোঁজাখুজি শুরু হয়েছে। এখন যারা মনে করেন ইউনুস সরকার আয়নাঘর দেখতে দিতে চায় না তারা কী করবেন?  এবার স্বরূপে হাজির হন, হবেন? “৩২ নম্বরের চেয়ে আয়নাঘর ভাঙ্গা ভাল” যারা বলছিলেন; আর কত ছুপা থাকবেন! সাততলায় ঝাপায় পরে খোজাখুজি করে প্রমাণ করেন আপনারা আসলেই কেবল মানবাধিকারের পক্ষের লোক!
    আবার আরেক বিপ্লবী প্রগতিশীলতা আছে  যারা চিন্ময়-ইসকন এর অধিকারের পক্ষে খাড়াইতে চায় (এভাবে র-এর স্বার্থ হাসিলের কর্তা) অথচ নিজেকে নয়া কনষ্টিটুশনের পক্ষের যেন বিপ্লবী এই ভেক ধরে হাজির থাকতে চায়!

    সারকথায়, এখন দুদিন চলবে বয়ানের লড়াই! এই লড়াইয়েও আমাদেরকে অবশ্যই জিততে হবে! হাসিনা ও ইন্ডিয়ান হেজিমনি ফেরত আনার পক্ষের শক্তিকে বয়ানেও পরাজিত করতেই হবে! সবাই সাবধান!
    আর যারা মানবাধিকার ব্যবসা করে  বা এর আড়ালে ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট এর কাজ করে এদের সামনের দিন আরো খারাপ হবে! আর তা থেকে বাঁচতে চাইলে একটাই উপায় – আড়ালে ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট-গিরি তাদের ত্যাগ করতে হবে। যেমন হাসিনার ১৬ বছরে আসক (আইন সালিসি কেন্দ্র) যা যা করে টিকে ছিল হাসিনার গায়ে গুম-খুন মানবাধিকার ভঙ্গের অভিযোগের টোকা লাগতে দেয় নাই – আপনারাও সেসব করে মানবাধিকার ব্যবসায় থাকেন! আর নাইলে উতখাত হয়ে যাবেন। যারাই, পারসোনালি বা হুন্ডিতে বিদেশি অর্থ এনে মানবাধিকারের নামে আড়ালে ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট হতে বা থাকতে চাইছেন এরা সকলে অবশ্যই উতখাত হবেনই! দিনকে দিন এদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের একশন শক্ত হবেই!  আয়নাঘরের বিরুদ্ধে আপনারা এক ভয়েজ যেন এই চেহারার আড়ালে মানবাধিকারের ঝান্ডার আড়ালে অর্থ কামাবেন তা হয়ত করতে পারেন; কিন্তু আর্মি এই শব্দটাকে সাধারণভাবে মানে বিশেষণ ছাড়া ব্যবহার করবেন তাহলে আপনারা উতখাত হবেন!

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   সন্ধ্যা ৭ঃ ২৬ , ০৭ ফেব্রুয়ারি  ২০২৫
    শেষ আপডেটঃ   রাত ৮ঃ ৩৬ , ০৭ ফেব্রুয়ারি  ২০২৫

  • বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মোদি আবার বিবিসিকে ভাড়া করেছে

    বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মোদি আবার বিবিসিকে ভাড়া করেছে
    গৌতম দাস
    ১০ ডিসেম্বর ২০২৫   বিকাল ০৪ঃ ৩১
    https://wp.me/p1sCvy-6be

     

    দিল্লি-ঢাকা সম্পর্ক 

    গত পরশু আবার বিবিসি বাংলা ভাড়া নিয়েছে মোদি সরকার। হাসিনার পলায়নের পর গত পাঁচ মাসে  এটা হল মোদির তৃতীয়বার বিবিসি ভাড়া নেওয়া। টেম্পো-সিএনজিতে যেমন লেখা থাকে ভাড়ায় চালিত এটা অনেকটা সেরকম। বিবিসি বাংলার উচিত তার নিজের কপালে এমন একটা সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দেয়া যে ভাড়ায় চালিত জার্নালিজম করি আমরা! এখন মোদি ভাড়ায় চালিত জার্নালিজম এর মানে কী, এমনটা তারা পছন্দ করে কেন?
    এর জবাব হল, দায়দায়িত্ব না নিয়ে মিডিয়ায় যা মনে চায় কথা ছড়ানো।  যেমন বিবিসি বাংলায় এধরণের রিপোর্ট করতেছে শুভজ্যোতি ঘোষ যিনি, আমি আগে অনেকবার বলেছি, আরএসএস নেতা তথাগত রায়ের শিষ্য! এতে মোদির সুবিধা হল তিনি দাবি করবেন যে শুভজ্যোতির এই লেখার সাথে আমার সরকারের সম্পর্ক নাই। এটা অনেকটা চিন্ময়-ইসকনকে দিয়ে বাংলাদেশে মোদি সরকারের দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা যেটাকে মোদি সরকার আবার অস্বীকার করবেন যে চিন্ময়-ইসকন মোদি সরকারের কেউ নয়! যদিও চিন্ময় গ্রেফতার হয়ে গেলে তখন কিন্তু মোদি খোলস ছেড়ে ন্যাংটা হয়ে চিন্ময়-ইসকনের পক্ষে বিবৃতি দিবে!  এই হল মোদির ভাড়ায় চালিত চিন্ময়-ইসকন ততপরতা অথবা ভাড়ায় চালিত বিবিসি জার্নালিজম কিনে পরিচালনা!

    এবারের শিরোনামঃ

    দিল্লি কি অবশেষে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক সহজ করতে চাইছে?

    বলাই বাহুল্য বিবিচির এমন রিপোর্টের স্টাইল হবে যেন বাংলাদেশের জন্য এটা সৌভাগ্য যে ইন্ডিয়া যেন দয়া করছে – এভাবে লেখা। যেমন এখানে আমরা দেখছি লেখা হয়েছে – দিল্লি কী (দয়া করে) ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক সহজ করতে চাইছে!  আর ভিতরে মানে রিপোর্টের বডিতে লেখা হয়েছে একটা মৌলিক অনুমানে ধরে নেয়া কথা যেন বাংলাদেশ এক ইন্ডিয়ান কলোনি; ফলে ইন্ডিয়া যা দাবি করবে বাংলাদেশকে সেটাই করতে হবে। এককথায়, বাংলাদেশ যেন ইন্ডিয়ান ডিকটেশন [dictation] বা ফরমানে চলা এক দেশ! অর্থাৎ স্বাধীন-সার্বভৌম কোন দেশ নয়; ফলে এটা ইন্ডিয়ার হুকুমে চলা। তাই এই লেখায় ইন্ডিয়ান যারাই কথা বলেছেন তারা বাংলাদেশ তো ইন্ডিয়ান হুকুমে চলা দেশ এই মিথ্যা ভ্যানিটি বা অনুমানে ধরে নেয়া ভাবনার উপর দাঁড়িয়ে কথা বলে গেছেন। আর যেখানে বিবিসির শুভজ্যোতির কাজ হচ্ছে এমন অনুমানকে প্রশ্ন না করে চলতে দেয়া। মোদির ইন্ডিয়ার এমন খায়েসকে জায়গা করে দেয়া। কারণ, শুভজ্যোতিও তো এক ভাড়ায় চালিত বালক!
    এটা আবার বলা যায় অনেকটা যেন ধরে নেওয়া যে গত ষোল বছরের (ইন্ডিয়ার বসানো) হাসিনা শাসন যেন এখনও আছে, চলছেই!  তাই এই ডিকটেশন স্টাইলে বক্তব্য বা দাবি! এজন্যই যেটাকে আমি ভদ্র ভাষায় বলেছি – এটাই ইন্ডিয়ান হেজিমনি বা আধিপত্যবাদ। এক হিন্দুত্ববাদী আধিপত্য কায়েমের প্রচেষ্টা!  কাজেই বাংলাদেশের আগামি রাজনীতির মুখ্য বৈশিষ্ট  ইন্ডিয়ান আধিপত্য-বিরোধী এটাই হবে!  যদি না হতে পারে যে রাজনীতির ঝোঁক টা বিএনপির মধ্যে উঁকি দিতে দেখা যাচ্ছে এর মুখ্য বৈশিষ্ট হবে ইন্ডিয়ান আধিপত্য এর পক্ষে!

    এবার সোজা আসা যাক মূল প্রসঙ্গেঃ
    বিবিসির এধরণের তৃতীয় রিপোর্ট দিয়ে মোদির ইন্ডিয়া যা বলতে চেয়েছে  তা হল, তারা এখন বাংলাদেশের সাথে দ্রুত সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চায়।  কিন্ততু এতে যেন তারা বাংলাদেশকে একটা বিরাট ফেবার করছে এই ভাব ফুটিয়ে ধরে তাদের ইউজুয়াল কিছু গোয়ার্তুমিও  সাথে রেখেছে যেমন, “তাদেরকে বড় ভাই মানতে হবে”।  যেটা অন্যভাষায় বললে তারা দুটা শর্ত দিয়েছে। বিবিসি লিখেছেঃ

    “ভারতের দিক থেকে এই প্রচেষ্টা হবে পুরোপুরি ‘শর্তাধীন’ – অর্থাৎ ভারতের দেওয়া বিশেষ কয়েকটি শর্ত পূরণ না হলে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে দিল্লি সম্ভবত খুব একটা গরজ দেখাবে না”।
    “…..আর এর মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দু তথা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা কিংবা পরবর্তী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অন্তর্ভুক্ত করার মতো অতি স্পর্শকাতর বিষয়ও থাকতে পারে”।

    এতটুকুই না তবে এটাই মুল দাবি! মানে সাথে খুচরা দাবিও কিছু আছে সেকথায়  পরে আসব।

    তবে ইন্ডিয়ার আগ্রহ যে একেবারে গলে পড়তেছে তার ছাপ-ইঙ্গিত রেখে বিবিসি লিখছেঃ

    “গত তেসরা জানুয়ারি (শুক্রবার) দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিং-এ বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে মুখপাত্র নতুন দু’টো শব্দ যোগ করেন।
    মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল একটি প্রশ্নের জবাবে বলেন, “ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের সাম্প্রতিক ঢাকা সফরের পরই প্রেস বিবৃতির আকারে এই মনোভাব স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, ভারত একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ ও প্রগতিশীল, ইনক্লুসিভ বাংলাদেশকে সমর্থন করে”।”

    বিবিসি এরপরে নিজেই মন্তব্য জুড়ে দিয়ে লিখছেঃ “বছরখানেক আগেকার চেয়ে ভারতের এই বক্তব্যে নতুন শব্দ দু’টো হচ্ছে – গণতান্ত্রিক আর ইনক্লুসিভ (অন্তর্ভুক্তিমূলক)“।

    ইন্ডিয়া আসলে বিশ্বযুদ্ধ-উত্তর রাষ্ট্র ধারণাটা এখনও বুঝল নাঃ
    এভাবে শিরোনামে আ লিখেছি যে “ইন্ডিয়া আসলে বিশ্বযুদ্ধ-উত্তর রাষ্ট্র ধারণাটা এখনও বুঝল না” – ঠিক এটাই বুঝাতে চেয়েছি।  আসলে এখন এটা বলাই যায় যে এখন পর্যন্ত দুনিয়ার ইতিহাসের মোটা দাগে তিনটা পর্যায় দেখা যাচ্ছেঃ এক. বিশ্বযুদ্ধ-পুর্ব কলোনিদখলের দুনিয়া  দুই. কলোনিমুক্ত আমেরিকান নেতৃত্বে গ্লোবাল অর্ডারের দুনিয়া আর তিন. (এটা আসন্ন মানে হবু) চীনের গ্লোবাল অর্থনৈতিক নেতৃত্বে উইন-উইন [win-win] এর দুনিয়া।ীভাবে তিনটা পর্ব ভাগ করেছিল একই কলোনিদখল ধারণাটার ভিত্তিতে। বিশ্বযুদ্ধ-পুর্ব মানে ১৯৪৫ সালের আগের দুনিয়াটা ছিল ছোট বড় পাঁচ (বৃটিশ, ফরাসী, ডাচ, স্পানিশ ও পর্তুগীজ) কলোনিদখলদারের দুনিয়া; যারা সারা দুনিয়ার কোন ভুখন্ড খালি ছিল না সবটাই এই পাঁচ কুতুবের কেউ না কেউ দখল করে রেখেছিল – এমনই সেই দুনিয়াটা। ফলে প্রধান বৈশিষ্ট কোন আন্তঃরাষ্ট্রীয় পণ্য বাণিজ্য বিনিময় নয় (সেখানে ছিল না) বংরং কলোনি দখল আর লুট – আমাদের মত দেশের অর্থনীতির সারপ্লাস বা বাড়তি মূল্য বা সঞ্চয় সব লুট ও নিজ কলোনি মালিক দেশে পাচার – এই ছিল ওর মুখ্য বৈশিষ্ট।
    আর দুইঃ বা দ্বিতীয় ধারার মূল বৈশিষ্ট হল,  অন্যের ভুখন্ড কলোনি করে রাখা অপরাধ মানে একটা কলোনিমুক্ত স্বাধীন রাষ্ট্রের দুনিয়া এবং এমন স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর সকলকে সদস্য করে নিয়ে একটা পুঞ্জীভুত [ইউনাইটেড] রাষ্ট্রপুঞ্জ [United Nations বা জাতিসংঘ] প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থায় গড়া একটা গ্লোবাল অর্ডার [Global Order] দাঁড় করানো।  যার আরেক বৈশিষ্ট হল, আন্তঃরাষ্ট্রীয় পণ্য বাণিজ্য এর গ্লোবাল এক্সচেঞ্জ বা বিনিময় ব্যবস্থা স্থাপন [আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে]। প্রাতিষ্ঠানিকতা হিসাবে মুলত জাতিসংঘ,  আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক; এদের মাধ্যমে আমেরিকার নেতৃত্বে একটা গ্লোবাল অর্ডার (গ্লোবাল সিস্টেম) প্রতিষ্ঠা পায় তাতে যেটা মূলত এক গ্লোবাল পলিটিক্যাল সিস্টেম আর একটা  গ্লোবাল ইকোনমিক সিস্টেম গড়ে তুলেছে।  এভাবে এক
    আর তিনঃ এটাকে বলেছি চীনের গ্লোবাল অর্থনৈতিক নেতৃত্বে উইন-উইন বৈশিষ্টের দুনিয়া। এই পর্বকে বুঝতে হবে আন্তঃরাষ্ট্রীয় পণ্য বাণিজ্য বিনিময়ের দ্বিতীয় পর্যায় হিসাবে। আর এই দ্বিতীয় পর্যায়টাই উইন-উইন পর্যায়।
    অর্থাৎ হবু চীনের নেতৃত্বের দুনিয়াতেও আগে তৈরি হওয়া গ্লোবাল অর্ডারেও আরো পরিবর্তন আসবে। কিন্তু সেটা পলিটিক্যাল ও ইকোনমিক দুই ক্ষেত্রেই নয় বরং মূখ্যত সেটা ইকোনমিক অর্ডার বা সিস্টেমে। মানে গ্লোবাল বিকাশ পর্বের এই তিনটা পর্যায়কে যদি গরীব দেশের অর্থনীতির সারপ্লাস বা বাড়তি মূল্য বা সঞ্চয় সব লুট ও নিজ কলোনি মালিক দেশে পাচার – এই চিন্তা ফ্রেমের মধ্যে থেকে দেখি তবে প্রথম পর্বটা হলঃ সারপ্লাস পশ্চিমে নিয়ে যাওয়া আর যেখানে দ্বিতীয় পর্বটা হল, ঐ সারপ্লাস ফিরে পশ্চিম থেকে পুবে (এশিয়া ও আফ্রিকা ল্যাটিনো ভুখন্ডে) যার নতুন নাম বিনিয়োগ – এই নামে লূট করা সারপ্লাস এর ফিরে আসা।

    তাহলে তৃতীয় পর্বের বৈশিষ্ট কী? উইন-উইন কেন?
    এই পর্বের মূল বৈশিষ্ট হবে ১। স্বীকার করে নেয়া হবে পুরানা তৃতীয় বিশ্ব (বা একালে চীন যেটাকে গ্লোবাল সাউথ বলছে) ধারণার দেশগুলোকে। সেটা এই অর্থে যে গ্লোবাল আন্তঃরাষ্ট্রীয় পণ্য বাণিজ্য বিনিময় ব্যবস্থায় তোমরা আসলে  খুবই গুরুত্বপুর্ণ পার্টনার।   অর্থাৎ আগে যেমন ভাবা হয়েছিল  – তোমরা তৃতীয়বিশ্ব হইলা আমরা যাদের লুট করবো সে আইটেম মাত্র। তোমাদের ভুমিকা হইল নিজেকে লুট হতে দেওয়া। আর সেখান থেকে (দ্বিতীয় পর্ব বলেছি যেটাকে) আমেরিকান নেতৃত্ব যে আন্তঃরাষ্ট্রীয় পণ্য বাণিজ্য বিনিময় এর যাত্রা এতে ইতিবাচক দিকটা হল, আমাদের মত দেশ বিনিয়োগ পেয়ে পুরানা স্থবির অর্থনীতি সচল হয়েছিল। যদিও এই বিনিময়টাই ছিল অসম। তাই তৃতীয় পর্বে এসে এই অসাম্য অনেকটাই কমবে পুরাটা নির্মুল না হলেও। আর সবচেয়ে বড় কথা এখানে গরীবদেশকেই বড়লোকেরা সাহায্য করতে এসেছে তাই তারা দাতা এই ভাবনাটা ঢিলা হয়ে যাবে। এর জায়গা নিবে পার্টনার কনসেপ্ট। যেমন বাংলাদেশ একটা ভাল বিনিয়োগের জায়গা বলেই চিনা বিনিয়োগ গন্তব্য বাংলাদেশ! তাই বাংলাদেশে চীনের কাছেও তার জন্যও দরাকারি এক গুরুত্বপুর্ণ পার্টনার। এটাই একটা বিনিময়ের উভয় প্রান্তের রাষ্ট্রের লাভালাভ এর ধারণা – তাই এটা উইন-উইন! যে বিনিয়োগকারী রাষ্ট্র উইন-উইন দিকটা আমল না করবে সে ব্যবসা-সম্পর্ক হারাবে। এছাড়া শেয়ার্ড ভ্যালু চেন ধরনের এক নয়া উতপাদন ব্যবস্থা আসতেছে। এখানে সেসব দিক বিস্তার করলাম না।   আমাদের মূল প্রসঙ্গে ফিরে যাই।

    কিন্তু ইন্ডিয়া সেই তিমিরেঃ
    যেটা বলছিলাম ইন্ডিয়ান বুঝাবুঝিতে (একাদেমিক বা ব্যবহারিক রাষ্ট্র-সরকারে) সবখানে রাষ্ট্র তাদের কাছে কে কাকে কলোনিদখল করে আধিপত্য প্রভাবে রাখতে পারে এর বেশি কিছুই না। এটাই সেট করে দিয়ে যাওয়া নেহেরুয়ান রাষ্ট্র বুঝাবুঝি। এর সারকথা হল, রাষ্ট্র মানেই কে বুদ্ধি খাটিয়ে কার উপর আধিপত্য খাটাতে পারে যেন এই খেলা একটা। যেটা আসলে শাসক বলতে যদি আপনি বৃটিশ শাসক বুঝেন আর এটাই স্থায়ীভাবে শাসক সম্পর্কে ধারণা জ্ঞান করেন তাহলে যেখানে আপনি পৌছাবেন। কাজেই দুনিয়ার তাবত পরিবর্তনগুলো হচ্তেছে বা আসছে তাতে অন্যকোন দিকে তাকানো যাবে না বরং এতে অন্যরাষ্ট্রকে নিজ কলোনি বা আধিপত্যের ক্ষেত্র হিসাবে ব্যবহারের যেসব সুযোগ যদি দেখতে পাওয়া যায় তবে ঝাপায় পরে গ্রহণ করা -এটাই ইন্ডিয়ায় কংগ্রেস-বিজেপি নির্বিশেষে শাসক চিন্তা যা আসলে তাদের রাষ্ট্র-বোধ!  এটাই আসলে নেহেরুয়ান আধিপত্যকামী এক রাষ্ট্র-চিন্তা!  ইন্ডিয়া তাই সারা দুনিয়াতে না পারুক তার পড়শী এলাকায় এমন হেরুয়ান আধিপত্যকামী এক রাষ্ট্র-চিন্তা দিয়ে পরিচালিত হতে যায়। এটাই তার পররাষ্ট্রনীতি বা বোধ!
    অতএব বাংলাদেশ ইন্ডিয়ার চোখে আধিপত্য কায়েম করে একে নিয়ন্ত্রণ করার এক রাষ্ট্র মাত্র।
    তবে এই সুযোগটা সে পেয়েছিল ২০০৭ সালের আমেরিকা বাংলাদেশকে ইন্ডিয়ার হাতে তার আধিপত্যে আমাদেরকে সঁপে দিয়েছিল বলে। বিনিময়ে ইন্ডিয়া আমেরিকার  চীন ঠেকানী (অর্থনৈতিক উত্থান ঠকানী) হাতিয়ার হতে পারবে এই অনুমানে, এই চুক্তিতে। কিন্তু ধর্মের কল বাতাসে নড়ে!  মানে চীনের প্রভাব (যেটাতা চীনের ঋণ-বিনিয়োগদানের সক্ষমতা থেকে উতসারিত) এটা কমে যাওয়া বা আমেরিকার তা ঠেকিয়ে দেওয়া দূরে থাক কোনই ফয়দা আনে নাই।  বাংলাদেশে চীনা ঠেসে দেওয়া ঋণ-বিনিয়োগ এর বাস্তবতা ও চীনের সক্ষমতাই বলে দেয় আমেরিকার চিন্তা-আকাঙ্খা ছিল অবাস্তব!
    কাজেই বাংলাদেশের উপর ইন্ডিয়ার আধিপত্য খাটানোর কোন বাস্তব সুযোগ অনুপস্থিত!
    কিন্তু এসব বুঝাবুঝি ইন্ডিয়ার একাদেমিক, রাষ্ট্রীয় নীতি বা কূটনীতিক জ্ঞানের মধ্যে অনুপস্থিত।  নেহেরুয়ান রাষ্ট্র বুঝাবুঝি বা ১৯৪৫ সালের পরের দুনিয়াটা আসলে কী সেই বোধ না থাকার জন্য।

    কাজেই আমরা এখন ফিরে যাই বিবিসি যেটা লিখেছে ভারতের “…প্রেস বিবৃতির নিজ মনোভাব আকারে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে,  (বাংলাদেশে) ভারত একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ ও প্রগতিশীল, ইনক্লুসিভ বাংলাদেশকে সমর্থন করে”। আর এই বিবৃতিতে নাকি দুইটা নয়া শব্দ আছে গণতান্ত্রিক আর ইনক্লুসিভ।
    যার অর্থ আবার বিবিসি-ই বলে দিয়েছে সেটা হল মানুষের ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার সে দেশে ক্ষমতায় আসুক, আর দুই বা ইনক্লুসিভের অর্থ হল, – “সমাজজীবনে সংখ্যালঘুদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত” –  আর “রাজনীতিতে সব ধরনের শক্তিকে ঠাঁই দেওয়ার” মানে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে দেওয়া বুঝানো হয়েছে……।

    বাংলাদেশ কীভাবে চলবে সেটা কী ইন্ডিয়া ঠিক করে দিতে পারেঃ
    প্রথম প্রশ্ন হল, বাংলাদেশকে কী ইন্ডিয়ার কথা শুনে চলতে হবে? কেন? বাংলাদেশ কী ইন্ডিয়ার কলোনি?
    ইন্ডিয়া যদি বাংলাদেশের হিন্দুদের রক্ষাকর্তা হিসাবে নিজেকে হাজির করতে চায় তাহলে আমরাও কী ভারতের মুসলমানদের রক্ষাকর্তা হবো না কেন? মোদি সেটা মানবেন না কেন? সবার আগে মোদির ইন্ডিয়ার সবাইকে এর জবাব দিতে হবে।
    দুইঃ এটা বড়ই তামাসার যে ইন্ডিয়া এখন ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার চাইতেছে। কেন? তাহলে গত ১৬ বছর হাসিনা কীভাবে ক্ষমতায় ছিল? তখন কেন এমন শর্ত ইন্ডিয়ার মুখ থেকে বের হয় নাই? তার মানে ইন্ডিয়া আসলে ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার নয় হাসিনাকেই আবার যেকোন ভাবে ক্ষমতায় সরকারে দেখতে চাইছে।
    আসলে হাসিনা ও তার দল আগামি রাজনীতিতে বা নির্বাচনে অংশ নীতে পারবে কিনা সেটা ঠিক হবে আমাদের আদালতে! তাদের উপর যে গুম-খুন, অপহরণের মামলা আছে সেই মামলার রায়ের দ্বারা এটা নির্ধারিত হবে। আর এনিয়ে ইন্ডিয়ার কোন কিছু দাবি করার কোন সুযোগ স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে নাই।
    অথচ বিনা সিক্রি যার জীবিনটা কেটেছে একজন পেশাদার কূটনীতিক হিসাবে তিনি এসব দাবি করছেন। যেন তিনি কূটনীতিক নয় এক দাইনি বুড়ির পরিচয় পেতে চাইছেন!!!

    যেমন শর্ত দিচ্ছেন আমরা পাকিস্তানের সাথে কেমন কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখব। বলছেন, “বাংলাদেশের মাটিকে পাকিস্তান যে কোনওভাবে ভারতের নিরাপত্তা স্বার্থের বিরুদ্ধে বা সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে ব্যবহার করবে না, সেটা নিয়ে শতকরা একশোভাগ নিশ্চিত হতে পারলে তবেই ভারত এই সম্পর্ক নিয়ে এগোতে পারবে”, বলেন ভিনা সিক্রি।  এখন তামাসাটা হল, মোদির ইন্ডিয়া ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক করেছে। এখন বিনা সিক্রির মত আমরা কী ভারতকে ইসরায়েল নিয়ে বলতে গিয়েছি? নাকি বিনা চাচ্ছেন আমরাও ইসরায়্বেল নিয়ে আমরাও মোদিকে পাল্টা শর্ত দেই???
    আবার বিবিসি লিখছে, “…ভিনা সিক্রির কথায়, “যত দ্রুত সম্ভব সে দেশে নির্বাচন আয়োজনের ওপর ভারত জোর দেবে। শুধু তাই নয়, সে নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হতে হবে, এবং তাতে সব দল ও মতাবলম্বীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।”
    আমরা নির্বাচন দ্রুত না দেরিতে করব এনিয়ে বিনা বলার কে? আর সব দল বলতে আমাদের আদালত হাসিনা ও লীগকে বাইরে রাখে কিনা তা ঠিক করবে সেখানে বিনা কথা বলার কে?

    আসলে যেকথা বলছিলাম, ১৯৪৫ সাল পরবর্তী রাষ্ট্র ধারণাটা কোনদিকে গিয়েছে এনিয়ে সারা ইন্ডিয়াতেই বুঝাবুঝি নাই।  তাই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে বিনা সিক্রি কী দাবি করতে পারেন না সেই লাগাম-বোধও তাদের গড়ে উঠে নাই। কাজেই বিনা সিক্রি আপনি পরে আসেন……।

    ইন্ডিয়ান হেজিমনি বা আধিপত্য উচ্ছেদই হবে বাংলাদেশে আগামি রাজনীতির মূল বৈশিষ্ট! এটা হতেই হবে তা আমরা আরো নিশ্চিত হলাম!!!
    আর এমন হলে, মানে ইন্ডিয়া যদি আধিপত্যশীল এক কলোনি-মালিক যেন এমন থাকতেই চায় তবে,   ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক সহজ স্বাভাবিক হবার হবার দরকার কী, সুযোগই বা কৈ? যেখানে সহজ স্বাভাবিক সম্পর্ক মানেই হল ইন্ডিয়ান আধিপত্য! এর কী আমাদের দরকার আছে?

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  সন্ধ্যা  ০৭ঃ ২৫   ১০  জানুয়ারি ২০২৫

  •  “বাংলাদেশে ভারতের কপাল পুড়তেছে” – সুমিত গাঙ্গুলী 

     “বাংলাদেশে ভারতের কপাল পুড়তেছে” – সুমিত গাঙ্গুলী
    গৌতম দাস
    ২৭ ডিসেম্বর ২০২৪  সকাল ১০ঃ ৪১
    https://wp.me/p1sCvy-67F

     

    Sumit Ganguly

     

    চলতি বাইডেন প্রশাসন মানে যার ক্ষমতার আয়ু আগামি ২০ জানুয়ারি ২০২৫,  ট্রাম্পের শপথের মধ্য দিয়ে শেষ হতে যাচ্ছে – সেই বাইডেন প্রশাসনের ফেভরিট মিডিয়া ছিল আমেরিকার “ফরেন পলিসি” পত্রিকাটা; বাইডেন প্রশাসনের গৃহিত নীতি-পলিসি বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে এশিয়ায় আমাদের মত দেশে কী প্রতিক্রিয়া আনছে তা বুঝা ও বাইডেন প্রশাসনের কাছে পক্ষের লোকজনকে পৌছে দেওয়ার জন্য এখানে লেখালেখি করতেন। এই ছিল “ফরেন পলিসি”  এর সাথে এরেঞ্জমেন্ট। আবার এর মাধ্যমে যদি এশিয়ান স্থানীয় জনমতও প্রভাবিত করা যায় সেটাও বাড়তি। যেমন ধরেন এমনই এক থিঙ্কট্যাংক ফেলো কুগেলম্যান; তিনি এখানে প্রতি সপ্তাহে এশিয়াতে বাইডেন প্রশাসনের স্বার্থগুলো কোন দিকে হাঁটছে বা লাইনে আছে কিনা এর আগাম ইঙ্গিত প্রশাসনকে জানাতে নিয়মিত লেখা ছাপতেন তিনি এই ফরেন পলিসি পত্রিকায়।  আরো সুনির্দিষ্ট করে যেমন ধরেন, গত ১০ ডিসেম্বর ২০২২ বিএনপি এক কালজয়ী সমাবেশ করেছিল সায়েদাবাদ-গোলাপবাগ মাঠে; হাসিনার শত বাধা সত্বেও তা উপেক্ষা করে। অথচ এই কুগেলম্যান লিখলেন এটা তেমন কোন সমাবেশই নয়! কারণ, কুগেলম্যান সম্ভবত জানতেন, পরের সাত মাসের মধ্যেই মানে সেপ্টে. ২০২৩ বাইডেন-লু পল্টি মারবেন। বিরোধীদলকে রাস্তায় নামানোর পরে হঠাত তাদের হাত ছেড়ে দিবেন। আর উলটা হাসিনার হাত ধরেই “আমরা একসাথে কাজ করব” বলে হাসিনাকে চিঠি (৫ ফেব্রু.২০২৪) লিখবেন!  আর এসবের আগে, আরেকবার হাসিনাকে (৭ জানু.২০২৪) ভোটচুরির ক্ষমতায় হাসিনাকে আসীনে সহায়তা করবেন। ভোটচুরি দেখেন নাই ভান করবেন!  আশা করি পাঠক এখন বুঝতে পারছেন “ফরেন পলিসি”  কী ও কত প্রকার! তো সেরকমই “ফরেন পলিসি”  তে এমন আরেকজনও  প্রায়ই লিখেন এমন কলামিস্ট ব্যক্তিত্ব হলেন সুমিত গাঙ্গুলী।

    [যারা বিস্তারিত পড়তে চান না তারা নিচের প্যারাটা বাদ দিয়ে পরের প্যারায় চলে যেতে পারেন।]
    সুমিত গাঙ্গুলী নামটা শুনে মনে হতে পারে তিনি ইন্ডিয়ার মানে অন্তত কলকাতায় জন্ম ও বড় হয়েছেন নিশ্চয়! কথাটা আংশিক সত্য! যদিও হ্যা, তাঁর নাম থেকে বুঝা যায় তিনি মানে তাঁর ফ্যামিলি কলকাতার ব্রাহ্মণ কোন পরিবার। কিন্তু  সুমিত গাঙ্গুলীর জন্ম ও বেড়ে উঠা ঠিক কী কলকাতায় বা ইন্ডিয়ায়? না, নেটে খুঁজে তা কোথাও পাওয়া যায় না।  বরং জানলাম তিনি আমেরিকার কেন্টাকি রাজ্যের খুবই সস্তা টিউশন ফি [দানের চাঁদা তুলে চলা বলে] এর এক কলেজ হল Berea College । আর সেখান থেকে গ্রাজুয়েশন-অনার্স  দিয়ে তাঁর একাদেমিক লাইফ শুরু করেছিলেন। আর এখন? এখন তিনি পুরা দস্তুর এক আমেরিকান (ভারতীয় নয়) একাদেমিসিয়ান; আর অন্তত দুডজন ইন্সটিটিউট বা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে তিনি জড়িত।  শুধু আমেরিকান হুভার [Hoover Institution] ইন্সটিটিউট মানে প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কন্ডালিসা রাইস যার ডিরেকটর সেই হুভার ইন্সটিটিউট থেকে সুমিত গাঙ্গুলির যে পরিচয়টা হুভার দিয়েছে সে তথ্য প্রায় আধা পাতা জুড়ে ঠাসা বিশ্ববিদ্যালয় আর ইন্সটিটিউটের নামে। সেই লিঙ্ক এখানে দিলাম আগ্রহিদের জন্য।  তবে সবচেয়ে মজার কথা হল, উইকি যা লিখছে -“Sumit Ganguly is an American political scientist. He is a senior fellow at the Hoover Institution and a professor of political science at Indiana University … “। অর্থাৎ সুমিতের পড়াশুনার ভিত্তি হল পলিটিক্যাল সাইন্স কিন্তু তিনি আমেরিকান (কোন ভারতীয় নন) পলিটিক্যাল সাইনটিস্ট। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় হুভার ইন্সটিটিউটে হান্টিংটন প্রোগ্রাম এর পরিচালক তিনি। আসলে ক্যালিফোর্নিয়ার স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে (খরচ-বাজেটের দিক থেকে নিজস্ব পরিচালনা বোর্ড আছে) এমন যে “হুভার ইন্সটিটিউশন”  যা মূলত এক কনজারভেটিভ থিঙ্কট্যাংক। আর সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ হল, হুভারে তিনি এখানে ইন্ডিয়া-আমেরিকা সম্পর্ক খুবই শক্ত করা যায় কী করলে [Huntington Program on Strengthening US-India Relations] তেমন এক প্রোগ্রাম চালান।
    তবে সম্ভবত আরো বিষ্ময়কর হল ব্লুমিংটন শহরে  যে ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি আছে সেখানে ভারতীয় সংস্কৃতি চর্চার এক টেগোর চেয়ার [নামেই রবীন্দ্র গবেষণা ফান্ড বলতে পারি] এরও বড় কর্তা তিনি।

     

    কেন সুমিত গাঙ্গুলীঃ
    এতক্ষণ ধরে কেন সুমিত গাঙ্গুলীর পরিচয় নিয়ে এত কথা বললাম! এক নম্বর কারণ, তিনি আমেরিকা-ইন্ডিয়ার সম্পর্ক শক্ত রাখার এক গবেষণার বড় কর্তা। আর দুই নম্বর কারণ হল, তিনি ঐ “ফরেন পলিসি”তে গত ১৬ ডিসে. ২০২৪ এক কলাম লিখেছেন যার শিরোনাম হল, “বাংলাদেশে ভারতের কপাল পুড়তেছে” [India’s Fortunes Shift in Bangladesh]। এই একই লেখার বাংলা অনুবাদ করে অবশ্য ছেপেছে আমাদের মানবজমিন ২০ ডিসে. ২০২৪ শিরোনাম, “ঢাকা প্রসঙ্গে বদলাতে পারে ভারতের পররাষ্ট্রনীতি“।

    এখন আমাদের অনেকের নিশ্চয় মনে আছে ট্রাম্পের বিজয়ের পর থেকে মোদির বিজেপি শুধু না খোদ শেখ হাসিনাও খুশিতে নেচে আমাদের ভয় দেখাচ্ছিলেন যে এইবার তাদের ট্রাম্প-ভাইয়া এসে পড়েছেন; আর চিন্তা নাই; তিনি নিশ্চয় এবার মোদিকে দিয়ে বাংলাদেশে হাসিনাকে আবার ক্ষমতায় বসায়ে দিবেন???
    সাথে আরো আছে যে আর চিন্তা কইরেন না তুলসি গাবার্ড [Tulsi Gabbard, এককালে ইসকনের চেলা ও দুবছরের জন্য কংগ্রেস মেম্বার ও ‘র’-এর সাথে কাজ করা]  ট্রাম্প বাবাজি তাঁর নির্বাচনি প্রচার কালে হঠাত করেই তুলসিকে তাঁর দলে ভিড়িয়ে নিয়ে স্টেজে তুলেছিলেন।  দলে ভিড়িয়ে নেয়া বললাম এজন্য যে মোদি যে তুলসি কে চিনতেন তিনি ডেমোক্রাট দলীয়। পরে তিনি ডেমোক্রাট দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। এবং এরপর থেকে ইন্ডিয়া বা র-এর সাথে  তুলসির আর সম্পর্ক আছে কিনা তা জানা যায় না। কিন্তু তবু কর্মিদের চাঙ্গা রাখতে বিজেপি মা মোদি তুলসি আসছে বলে প্রপাগান্ডা শুরু করে দিয়েছে।

    বাংলাদেশে ভারতের কপাল পুড়তেছে – কথার অর্থ তাতপর্য কীঃ
    এমনিতেই মোদির ট্রাম্প ভাইয়া আসতেছে প্রপাগান্ডায় ট্রাম্প আসলে – কী ইন্ডিয়া নীতি – নিয়ে এবার ক্ষমতাসীন হচ্ছেন সেদিকটা মোদি সামনে বা আমাদের জানতে আগ্রহী নন। কিন্তু কঠিন সত্যিটা হল আগামি ২০ জানু ২০২৫ শপথের পরের দিনগুলোতেই ট্রাম্পের ডিপোর্টেশন [deporation] মানে বিদেশি অভিবাসী (শ্রমিক, হোয়াইট কালার সব) খেদানো প্রোগ্রাম শুরু হয়ে যাবে। ইন্ডিয়ার দৈনিকগুলোর শিরোনাম হল প্রথম পর্যায়েই “18,000 Indians At Risk Of Deportation……”  মানে প্রাথমিক ধাক্কায় ১৮ হাজার ইন্ডিয়ানক্র বের করে দেয়া হবে। এটা গত ১৪ ডিসেম্বরের ইন্ডিয়ার প্রধান নিউজ ছিল। তবে এটা মনে করা ভুল যে এটা কেবল ইন্ডিয়ার বেলায়; বরং এটা কমবেশি সব দেশের বেলাতেই সত্য; এমনকি বাংলাদেশি যারা হাসিনার আমল দেখায় এই অজুহাতে আমেরিকা ঢুকেছে তারাও ডিপোর্টেশনের আওতায় আসবেন। আর ওদিকে ল্যাটিন আমেরিকা মেক্সিকো ইত্যাদি তো বটেই এমনকি কানাডার বিশেষ সুবিধা যা ছিল তাতে টান পড়বে (কানাডাকে আমেরিকান রাজ্য হয়ে যেতে বলা) ইত্যাদি এসব কিছু।
    এর সাথে আছে যারা এর আগে আমেরিকায় মাইগ্রেন্ট হয়ে পরে একটা (নাগরিকত্ব নয়) রেসিডেন্ট পারমিট হাতে পেলেই (মানে বসবাস ও কাজে যোগ  দেওয়ার অনুমতি প্রাপ্ত হয়েছে), এরপর এদের কোন সন্তান আমেরিকায় জন্মগ্রহণ করলেই তারা আমেরিকান নাগরিক হয়ে যেত; এই শর্ত এখন ২০ জানু. ২০২৫ থেকে প্রত্যাহার করা হবে।  ফলে বাংলাদেশের যারা আগেভাগে দেশে ছুটে এসে এরা (বিএনপির খেদমতে বিশেষত মিডিয়া জগতে ঢুকে পড়ার জন্য) ডেনপারেট তারা ঠিক হাসিনা পতনের জন্য না ট্রাম্প এসে পড়ছে বলেই তাদের এই আমেরিকা ত্যাগের মরিয়া অবস্থা আর বিএনপির নেতাদের পিছনে লাইন দিয়ে খাড়া হয়ে যাওয়া।  এমনকি H-1B ভিসায় (টেকনোলজি জ্ঞান থাকাদের জন্য যেমন আইটি টেকনোলজি) বিশেষ করে ভারতীয়রা যেমন এতদিন ধরে নিত যে এই H-1B ভিসা থেকে তাদেরকে আমেরিকা সহজে বের করে দিতে পারবে না;  এমন ভিসাধারীরাও এখন একই ভাবে অনিশ্চিত নড়বড়ে হবে। একাজে ট্রাম্পকে বুদ্ধিদাতা আর সবচেয়ে ঘনিষ্ট দোস্ত হল ইলন মাস্ক [Elon Musk] যিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা [AI Tech] টেকনোলজিতে বড় বিনিয়োগকারি।  মানে হল। আইটি প্রোগ্রামার বলে যে পেশাটা আমাদের মত দেশগুলা চিনি এই পেশা বা এরা হল তাদের কাজে প্রোডাক্ট তৈরিতে সবচেয়ে শ্রমঘন লেবার অংশটা  – মানে কোড বসানোর কাজ হল এদের।  আর এটাই এলন মাস্ক মনে করেন AI Tech দিয়ে করানো সম্ভব।   ফলে H-1B ভিসায় টেকনোলজিস্টদের ভারত থেকে আনা আর তত জরুতি থাকবে না।  এই হল ইলন মাসকের দাবি!

    আর এবারের ট্রাম্প প্রশাসনে সবার উপরে  যে মূল নীতি-পলিসি হতে যাচ্ছে এর কেন্দ্রটা হল – টেকনিক্যাল ভাষায় ইকোনমিক ন্যাশনালিজম। [এনিয়ে আমার প্রথম পর্বের ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। পরে আরও দুই ডিটেল পর্ব আসতেছে] । সোজা বাংলায় আমদানি-রপ্তানি কমানো; বিশেষ করে আমদানি; আর সেজন্য অন্য যেকোন দেশের পণ্যের উপরেই নুন্যতম ১০% আমদানি ট্যাক্স বাড়ানো আর চীনের মত দেশের বেলায় নুন্যতম ৬০% ট্যাক্স আরোপের এক অর্থনীতি তিনি চালু করবেন। এক কথায় যাই নিজ দেশের মানুষ ভোগ-ব্যবহার করবে এমন সব পণ্য দেশেই যেন হয় সেই মুখি এক অর্থনীতি! তবে একটা হল সেই কল্পিত আকাঙ্খাটার [imagined aspiration] কথা বললাম। বাস্তবে তা কতদূর কী করা যাবে সেটা আলাদা প্রশ্ন!

    কথাটা শুনে এলেখার বেশির ভাগ পাঠক নীতি হিসাবে এটাকে খুবই ভাল মনে করবেন হয়ত; কারণ আমরা বেশির ভাগ পাঠক আসলে জাতিবাদি – নিজেই কামাবো আর নিজেই খাব এর চেয়ে ভাল আর কী নীতি হতে পারে। ধারণাটা মোটা দাগে এধরণের।  আমরা, আমরা আর আমরাই! কিন্তু আমি সরি; এই নীতি এখন যতই শুনতে ভাল লাগুক না কেন এটা এখন অকেজোই শুধু না বাস্তবায়নও অসম্ভব। স্রেফ এককালের কাগুজে কল্পনা।  বিশেষ করে ১৯৮০ সালের পরে দুনিয়ার অর্থনীতি এ্টা ত্যাগ করে অন্যদিকে চলে গেছে।  এমনই অন্যদিকে যে সেটা আর পুরানা দিনে বা চেহারায় ফেরানো অসম্ভব, ফলে অ-বাস্তবানযোগ্য এক কল্পনা মাত্র।
    কেবল একটা মন্তব্য করব এখানে বিস্তারে যাব না,  কমিউনিজম এর (মার্কসের নয় স্টালিনের বুঝের মার্ক্সবাদি) অর্থনীতি এর বুঝও ছিল ঠিক এটাই। এখন ডোনাল্ড ট্রাম্প যেটা করতে চাইছেন এটা সেটাই। যদিও মিলটা কাকতলীয় মানে, ট্রাম্প কমিউনিস্ট হতে চলেছেন ব্যাপারটা  ঠিক তা নয়। তবে সারকথাটা হল আন্ত-রাষ্ট্রীয় বাণিজ্য অদরকারি জিনিষ!  মনে করা – এমন এই বোকা বোধ! আর একটা লাইনে বলিঃ এর মানে হল, কল্পনা করেন বাংলাদেশ থেকে সব গার্মেন্টস বা লেদার প্রডাক্ট রফতানি বন্ধ ফলে কারখানাও বন্ধ; কিংবা আপনাদের গর্বের পাট রপ্তানি অপ্রয়োজনীয় – এমনটা মবনে করলে যা হবে এটা তাই! বিস্তারে পরে অন্য কোথাও আনবো ইস্যুটা। আর এটাই টেকনিক্যাল ভাষায় ইকোনমিক ন্যাশনালিজম; যেটা ট্রাম্প প্রশাসনের মুখ্য নীতি পলিসি হতে যাচ্ছে। কিন্তু আমাদেরেকে এই লেখার মূল প্রসঙ্গে ফিরে যেতে হবে, ফলে নিচে সেদিকে যাচ্ছি…।

    অর্থাৎ  ইন্ডিয়া -আমেরিকা সম্পর্ক যেটা মুখ্যত ক্রম-উত্থিত গ্লোবাল অর্থনীতির নেতা হয়ে উঠতে চাওয়া চীন, এই চীনকে ঠেকাতে ভারতকে ব্যবহার করা (বিনিময়ে বাংলাদেশকে ইন্ডিয়ার হাতে তুলে দেয়া) – এটাই ছিল এই নয়া শতক ২০০১ সাল থেকে আমেরিকান নীতি। যার আয়ু এখন প্রায় ২৪ বছর; আর এতদিনে এখন আমেরিকান নীতি-নির্ধারণী মহলের অনুভব হল এই নীতি-পলিসি আকামের; এতে কোনই লাভ হয় নাই; সব পন্ডশ্রমে গেছে। তাই ২০০০ সালেরও আগের ইন্ডিয়াবিরোধী (বঙ্গোপসাগর, আন্দামান বা উপরের নর্থ-ইস্ট বা বার্মা ইত্যাদি কেন্দ্রিক) যা কিছু স্ট্রাটেজি আমেরিকার ভাবনায় ছিল (কিন্তু ভারতকে জড়িত করে চীন ঠেকানোর লোভে) পরে  সেসব নীতি কার্পেটের নিচে লুকায় ফেলে রেখেছিল এতদিন আমেরিকা। সেসব নীতি-ইচ্ছা-খায়েশগুলো আমেরিকার এখন বের করে আনছে।

    দুঃখ আর হতাশার কথা সুমিত এখনও কলকাতার হিন্দুত্ববাদী জমিদার ব্রাহ্মণের দৃষ্টিভঙ্গিতেঃ
    উপরে ইন্ডিয়া-আমেরিকা সম্পর্কে যে ব্যাপক পরিবর্তন ট্রাম্প আনতে যাচ্ছেন সে সম্পর্কে সুমিত গাঙ্গুলী টের পেয়েছেন বা জানেন এমন কোন বাক্য বা ধারণার ইঙ্গিত তার পুরা লেখার মধ্যে কোথাও নাই! মূলত াজকের নয়া পরিস্থতিতে মোদি বাংলাদেশের উপর আগের মত আধিপত্য এর কিছুই পাবেন না; সব সে খুইয়েছে। আর এটার কারণেই সুমিতের দেয়া শিরোনাম “বাংলাদেশে ভারতের কপাল পুড়তেছে” এর আসল অর্থ; যদিও তা বুঝে সুমিত এই শিরোনাম দেন নাই। তিনি মূলত বলতেছেনঃ  হাসিনা ইন্ডিয়ার বসানো পুতুল-ক্ষমতা ছিল ফলে ইন্ডিয়ার তাতে সব সুবিধা ছিল কিন্তু হাসিনা এখন উতখাত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন না যে হাসিনা আবার ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন – অতএব একারণেই ভারতের কপাল পুড়েছে।

    সুমিত যিনি প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে আমেরিকায় একাদেমিক জীবনে আছেন এবং বিরাট পদবী ও ক্ষমতায় আমেরিকা-ইন্ডিয়া সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ বলে পরিচিত; অথচ ট্রাম্পের হাত ধরে  আমেরিকা-ইন্ডিয়া সম্পর্ক যে নয়া মোড় উলটা যাত্রা নিচ্ছে; ইন্ডিয়া আর আমেরিকার জন্য অত গুরুত্বপুর্ণ থাকছেনা – (কারণ চায়না কনটেইনমেন্ট  বা গত ২০১০ সাল থেকে নেয়া “চীন ঠেকানোর” আমেরিকান নীতি আজ অকেজো প্রমাণিত) অথচ এদিকটা নিয়ে সুমিত একেবারেই বেখবর? এটা অবিশ্বাস্য এবং এতে তাঁর চিন্তার স্টুপিডিটি বা সীমাবদ্ধতা বাইরে প্রকাশিত! আর এতে ফাইনালি তিনি যে এক ইসলামবিদ্বেষী হিন্দুত্ববাদী জমিদারি আধিপত্যের মধ্যেই আছেন তাও প্রতিভাত!  পঞ্চাশ বছর আমেরিকায় কাটানো একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একাদেমিক  আর  উনার পাশাপাশি একজন যে এই পুরাটা সময় কলকাতা নিবাসী আম-হিন্দুত্ববাদী বাসিন্দা ছিলেন – এমন দুজনকে পাশাপাশি রেখে তুলনা করলে দেখা যাবে  এদের মধ্যে আসলে কোন ফারাকই জন্ম নেয় নাই!!!! অবিশ্বাস্য! ছোট থেকে মা, দাদি-নানির কোলে শুয়ে যে মুসলমানবিদ্বেষী গল্প শুনেছে সেগুলোও একজন আমেরিকা নিবাসী লাগাতর পঞ্চাশবছর রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একাদেমিককে কী এখনও তাড়া করে? কীভাবে? তিনি কীভাবে এসব আবর্জনাকে এখনও তাঁর চিন্তার মূল কাঠামো বানিয়ে রাখতে পারেন???

     পঞ্চাশ বছরের আমেরিকান একাদেমিক লাইফ কাটানো সুমিত বেচারার দুঃখঃ 
    এক. সুমিত লিখছেন, “যারা হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সাহায্য করেছিল তাদের মধ্যে ইসলামপন্থী এবং ভারতবিরোধী দল রয়েছে” ????? আচ্ছা এর মধ্যে অস্বাভাবিক জিনিষটা কী? হাসিনা আর মোদি মিলে যদি বাংলাদেশকে গুম-খুন-অপহরণের আয়নাঘর বানায় রেখে  ১৫ বছর ধরে দেশটা চালায় তো তাতে তো  হাসিনা উতখাতে বাংলাদেশের সব অংশের জনগণের অংশগ্রহণ থাকাটাই স্বাভাবিক; নাকি? ইসলামপন্থি মানে ইসলামি রাজনৈতিক দল হলে এটা অপরাধ হবে? – এটা কেমন বোধ উনার? এটাই তো গভীর মুসলমান ঘৃণা!  কিন্তু উত্তরপ্রদেশের বুলডোজার মুখ্যমন্ত্রী যোগী যাকে ভারতের সুপ্রীমকোর্ট তিরস্কার করেছেন, কাজকে অপরাধের ঘটনা বলে সাব্যস্ত করেছেন অথবা বজরং দলের ততপরতা হলে এসব কী সুনিত দেখতেই পান না?  সব মাফ হাততালি দিবেন উনি? মানুষ হিসাবে নিজের সব ইন্দ্রিয়-বোধ সব ভোতা করে রেখে দিয়েছেন উনি? তাইকি?

    আবার তার আরেক নয়া আবিস্কার দেখেন।
    দুই. তিনি লিখেছেন, “ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে, বাংলাদেশ থেকে অনিয়মিত অভিবাসন সর্বদাই একটি জটিল সমস্যা ছিল-যে সরকারই অফিসে থাকুক না কেন……“।  আমি খুবই সরি, এটা আসলে একটা গাধার বক্তব্য।  অভিবাসন বা মাইগ্রেশন শব্দের  অর্থ উনি বুঝেন না এটা ভাবা আমাদের জন্য কঠিন। কোন একটা দেশ যেমন ইন্ডিয়া তাদের বাড়তি লেবারের চাহিদা থাক আর না থাক সেখানে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের হিন্দুরা প্রবেশ করে বসবাস করে। এখন ১৯৪৭ সালের পর থেকে বাংলাদেশ থেকে হিন্দুরা ভারতে বা মুসলমানেরা বাংলাদেশে আসা – এটা কী কারও শখের অভিবাসন? এটা কে কী অভিবাসন বা ইমিগ্রেশন বলছেন উনি কোন বুদ্ধিতে?  নাকি এটা ফোর্সড বা বাধ্য করার এক সামাজিক অবস্থা।  – যা ১৮১৫ সালের রাজা রাম মোহনের চিন্তাততপরতা থেকে শুরু করে কংগ্রেসের জন্ম ও হিন্দুত্ববাদী ভারত বানানোর ইমাজিনেশন পরিকল্পনারই এক করুণ পরিণতি!!! দ্বিতীয়ত ও সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ ফ্যাক্টস হল,  বাংলাদেশ থেকে মূলত তুলনামূলক অবস্থাপন্ন  হিন্দুরাই ভারতে গিয়েছে অর্থাৎ তারা তাদের সঞ্চিত সম্পদও সাথে নিয়েই গিয়েছে যেটা কলকাতার অর্থনীতিতে বাড়তি পুঁজির সরবরাহের উতস হিসাবে কাজ করেছে। ফলে কোন সংজ্ঞায় – বাংলাদেশ থেকে হিন্দুদের যাওয়া – এটাকে তিনি অভিবাসন বলছেন? আসলে গাধা-গরুর ধরনের চিন্তারও একটা ক্লাস থাকে! আবার ১৯৪৭ এর পরে কলকাতার অর্থনৈতিক পতন হয়েছে পুর্ববাংলা হাতছাড়া হওয়াতে। কারণ পুর্ববাংলার জমিদারেরা তাদের কালেকশন কী ঢাকায় রাখতেন???  না কলকাতায়? এটা বুঝতে কী ডক্টরেট ডিগ্রি লাগে?  আর সেটাই মানে সেই জমিদারিই তো উচ্ছেদ হয়ে যায় পুর্ববাংলা থেকে  পাচার হওয়া সেই বাড়তি সঞ্চিত পুঁজি থেকে বঞ্চিত হয় কলকাতা!!! এখন সুমিত আপনি বলেন, আপনি এজন্য কাকে দায়ী করবেন? এর জন্য দায়ী যারা হিন্দুত্বভিত্তিক অখন্ড ভারত বানাতে চেয়েছিল সেই কংগ্রেস নয় কী? সাহস আছে আপনার? থাকলে চিল্লায় বলেন দেখি?  বুঝা যাচ্ছে যা উনার সাবজেক্ট না, দখল নাই তা নিয়ে তিনি কথা বলছেন!!!

    তিন. তিনি লিখছেন, “…কিছু ভারতীয় প্রতিবেদন বাংলাদেশের মাটিতে পরিস্থিতিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে, কিছু ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ হিসাবে চিত্রিত করা হয়েছে”!  অর্থাৎ তিনি বলতে চাইছেন মোদির এই বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের অভিযোগ – এটাকে তিনি ঠিক মনে করছেন না। ভালো, এটা তিনি বুঝছেন! তাই বলছেন এটা তারা  ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে, তাই কিছু ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ হিসাবে চিত্রিত দেখানোটা ভুল মনে করছেন।

    কিন্তু আবার সেই ঘৃণার লাইনঃ
    লিখেছেন,  “হাসিনা বাংলাদেশের ইসলামপন্থী বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন,
    ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনকে আশ্রয় দেননি এবং ভারতীয় বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে এসেছেন। প্রতিক্রিয়ায়, নয়াদিল্লি হাসিনার অধীনে ঢাকায়  গণতন্ত্রের অভাব উপেক্ষা করতে, ভারতীয় বাজারে প্রবেশাধিকার প্রদান করতে এবং আন্তঃসীমান্ত রেল ও সড়ক যোগাযোগ বাড়াতে ইচ্ছুক ছিল।”
    এর মানে কী এখন বাংলাদেশের “ইসলামপন্থী বাহিনীকে” তাহলে নিয়ন্ত্রণ করছে কে? মোদি??? দেখেন এই লোকের কথার কোন তাল আছে? আবার দেখেন আগে লিখতেছিলেন শুধু ইসলামপন্থী, আর এখন সাথে লিখতেছেন ইসলামপন্থী বাহিনী? সারা দুনিয়াতেই বুশ যদি ওয়ার অন টেরর এর নামে সন্ত্রাস চালায় তো এর প্রতিক্রিয়ায় সারা দুনিয়ায় ইসলামপন্থী বাহিনী বা ইসলামপন্থী  হওয়া ছাড়া আর কী হবে? মানে বাংলাদেশের কেউ বুশের প্রতিবাদ করবে না?   আর বাংলাদেশ কী দুনিয়ার বাইরে?
    এছাড়া আরেকটা মারাত্মক দিক আছে। সুনিত নিজেই বলছেন বাংলাদেশে হাসিনা মোদির সাথে মিলে ঢাকায়  গণতন্ত্রের অভাব উপেক্ষা করেছে – তাহলে এই দোষ কার? আবার মোদি বাংলাদেশকে ইন্ডিয়ার একচেটিয়া বাজার বানিয়েছে আর বিনা পয়সায় করিডোর সুবিধা নিয়ে গেছে – এসব কথা সুমিত নিজেই স্বীকার করছেন। তাহলে বাংলাদেশের মানুষ যেকোন পন্থি হয়ে হাসিনাকে উতখাত তো করবেই, নাকী? তো তাহলে ইসলামপন্থী হওয়াটা অস্বাভাবিক কীভাবে???

    হাসিনা তার শাসন আমলে যত কী তার রাজনৈতিক বিরোধী ছিল তাদেরকে তিনি গুম-খুন আয়নাঘর করেছেন – তাদের গায়ে মিথ্যা ইসলামি জঙ্গীর ট্যাগ লাগিয়ে তাদেরকে নিচা দেখায়ছেন।। মজার কথা হল এটা আমার কথা না। এবার মানে ২০২৩ সালের আমেরিকান সন্ত্রাস বাদ ও প্রতিরোধ রিপোর্ট ২০২৩ যা সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে  এতে বাংলাদেশ চাপ্টারে আমেরিকাই একথা লিখে স্বীকার করেছে।  কিন্তু আমেরিকায় বসে থেকে এই হিন্দুত্ববাদের চেলা কলকাতা বামুন সুমিত গাঙ্গুলী সেটা টের পান নাই; খবর করে নাই! নেন প্রথম আলোর বাংলা করা অংশটাই দিলাম। শিরোনাম দেখেন, …“রাজনৈতিক বিরোধিতাকে সন্ত্রাসবাদ বলে চালিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার“।  আবার এখানে ইংরাজি মূল রিপোর্টটাও দিয়ে রাখলাম সুমিত গাঙ্গুলীর জন্য [Country Reports on Terrorism 2023: Bangladesh] – আমেরিকায় বসে উনি এটা নাও খুঁজে পেতে পারেন!!!

    আসলে এসব সুমিত গাঙ্গুলীরা আমেরিকার জন্যও  কলঙ্ক! এরা এখনও কুয়ার ব্যাঙ হয়ে জমিদার-হিন্দুর বয়ান আগলে ওর উপরে বসে আছে। অথচ সুমিত খোদ আমেরিকান সরকারের বয়ান না পড়ে, আমেরিকাতেই বসে আছে্ন।  আর তীব্র মুসলমানবিদ্বেষী হয়ে আমাদেরকেই ইসলামপন্থী (যারা হাসিনাকে উতখাত করেছে) বলে ট্যাগ লাগাইতেছেন; এছাড়া আমরা নাকি সশস্ত্র এর ইঙ্গিত দিতে  ইসলামপন্থী বাহিনী লিখেছে!!!

    আবার কত নিচা মনের কলকাতার কোন স্টেশনের এক  ফেরিওয়ালা যেন তিনি!!! তাই তার এই লেখা শুরু করেছেন,  কেন বাংলাদেশে পাকিস্তান থেকে বাণিজ্যের মালবাহী জাহাজ কেন বাংলাদেশে ভিড়ল। আবার লিখেছেন …Dhaka has also boosted its acquisition of arms and ammunition from Islamabad। মানে ইউনুস সাহেব পাকিস্তান থেকে নাকি অস্ত্র আমদানি করেছেন। অথচ এই তথ্যের কোন সোর্স কোথাও নাই।  কলকাতার কোন বস্তিবাসীও এমন নাইভ বা ভোতা চিন্তার মানুষও এমন বক্তব্য দিবে না।  অথচ তীব্র মুসলমান ঘৃণা মনে পুষে রেখে স্মিত গাঙ্গুলী –   মুসলমান মানেই খারাপ, মুসলমান মানেই জঙ্গী, মানেই অস্ত্রবাজ এসব হচ্ছে তার বমি!!!! …… সুমিত গাঙ্গুলী একজন স্কলার পেশার লোক এত ঘৃণা আর এত মিথ্যা লিখতে গিয়ে টায়ার্ড হয় না?????

    তবে শেষকথাটা হল, বাংলাদেশে মোদির খবর আছে এইটা যেদিক দিয়েই তিনি বুঝছেন বলে আমাদের জানাইছেন! তাই শিরোনাম দিছেন  [India’s Fortunes Shift in Bangladesh]।

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  বিকাল ৪ঃ ৩২    ২৭ ডিসেম্বর ২০২৪

  • কংগ্রেসী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর কান্ধে – গুম-খুনের চটের ব্যাগ না হিন্দুত্ববাদ!

    কংগ্রেসী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর কান্ধে – গুম-খুনের চটের ব্যাগ না হিন্দুত্ববাদ!
    গৌতম দাস
    ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪  বিকাল ০৪ঃ ১০
    https://wp.me/p1sCvy-64l

    ভুল করেন না। ইনি ইন্দিরা গান্ধী নন। ইনি ইন্দিরার ছেলে রাজীব গান্ধীর মেয়ে মানে, ইন্দিরার নাতি প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। রাহুল গান্ধীর ছোট বোন!
    “বাংলাদেশ কে হিন্দুও আউর ঈসাইও কে সাথ খড়ে হো” 

     

     

    বাংলাদেশের কমিউনিস্ট ও প্রগতিশীলদের ধারণা হল একালের মোদি হয়ত খারাপ (হিন্দুত্ববাদী) কিন্তু কংগ্রেস হল একেবারে খাঁটি। এরা সেই নেহেরুর-গান্ধীর আমল থেকেই কংগ্রেসিরা এক্কেবারে প্রগতিশীল! এমনকি নেহেরু তো নাকি সমাজতন্ত্রী ছিলেন?? শুধু তাই না আরও আছে – এরা সেকুলার, অসাম্প্রদায়িক, জাতীয়তাবাদী,  সমাজতন্ত্রী আরও কত কীই না!
    যেমন ধরেন বাংলাদেশে এ’ধরণেরই সমাজতন্ত্রী- প্রগতিশীল একেবারে প্রতীক লোকটা; এমন লোকটা বাংলাদেশে কে? খুব সম্ভবত তাঁর নাম কমিউনিস্টেরা বলবে তিনি হলেন এমিরেটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

    কদিন ধরে ভাবছিলাম এই প্রগতিশীলকে একটু ফুটা করে দেয়া দরকার।  কারণ ইনিই হলেই বিবৃতিবাজ এক নম্বর। প্রগতিশীল-সমাজতন্ত্রী বিবৃতিবাজ বুদ্ধিজীবীতার একনম্বর! আজকাল কিছু ইসলাম-পছন্দ পত্রিকাও দেখি তাঁর লেখা নিবার জন্য লাইন ধরেছে। তিনি এতই  প্রগতিশীল-সমাজতন্ত্রী বিবৃতিবাজ বুদ্ধিজীবী। ইনার নাম থাকে বিবৃতিতে সবার উপরে। কারণ উনার নাম প্রথমেই দেখা গেলে পরে; এরপরে হুটোপটি লেগে যায় কার আগে কে সেখানে নিজের নাম ঢুকাতে হুমড়ি খেয়ে পড়বে!!!
    আড় ইনাদের চোখে কংগ্রেস! ও কংগ্রেস? কংগ্রেস তো হল তাদের সেকুলার এর প্রতীক! কংগ্রেসকে দেখেই তো এই সেকুলার শব্দের জন্ম, এমন অবস্থা! মানে মুসলমান কোপানোর সবচেয়ে যুতসই ধারালো কুড়াল হল – এই কথিত সেকুলার-ধারণা। পড়াশুনা না করা এই ডক্টরেট ডিগ্রীধারীরাই বাংলাদেশে এসব ‘সেকুলার’ সার্টিফিকেট বিলিয়ে বেড়ান।

     

    কিন্তু এরাই আবার কখনও মোদি, আরএসএস-বিজেপি বা তাদের জাগরণ মঞ্চ, কিংবা সনাতনি মঞ্চ, একালের ইসকন এসব সম্পর্কে একেবারে মুখ বন্ধ! মুখে কঠিন তালা দেওয়া। চিন্ময়-ইসকন ইস্যুতে উনারা যেন মৃত!

     

    যাই হোক, সেই প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা! বঢরা নামের এইঅংশটা স্বামীর টাইটেল সুত্রে। ঠিক যেমন হাসিনার নামে ‘শেখ’ থাকার কথা না কারণ ওটা বাপের টাইটেল; আর তিনি সাথে এক সময় স্বামীর টাইটেল ‘ওয়াজেদ’ লিখতেন – এটা তেমনই। 
    উপরের ছবিতে প্রিয়াঙ্কা কাঁধে যে চটের ব্যাগটা সেটাই আলোচনার কেন্দ্র ও বিষয়বস্তু। ওখানে হিন্দিতে (অল্প কোথাও ইংরাজিতেও লেখা আছে )  –বাংলাদেশ কে হিন্দুও আউর ও ঈসাইও কে সাথ খড়ে হো -। মানে হল বাংলাদেশের হিন্দু আর খৃশ্চানদের পক্ষে দাঁড়াও!  

    এখানে চটের ব্যগে ইংরাজিতে লেখা আছে – STAND for MINIRITIES OF BANGLADESH

    অনেকের কাছে মনে হতে হতে পারে, এ আর এমন কী? ভারত সরকারই তো এমন বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন হচ্ছে বলে প্রপাগান্ডায় ভরায় ফেলেছে। সরি, মহাশয়েরা আপনারা মারাত্মক ভুল করলেন।

     

    কংগ্রেস হল পবিত্র আর জিন্নাহ হল পাপী! কংগ্রেস মানে গান্ধী-নেহেরুরা হল পবিত্র, সেকুলার সমাজতন্ত্রী। 

    এই বক্তব্যের অন্যতম পাহারাদার হলেন সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীরা।
    কিন্তু পাঠকদেরকে সাবধান হতে হবে, মিথ্যা থেকে বের হতে হবে – বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন হচ্ছে এই দাবি কিন্তু মোদি ও বিজেপি সরকারের। কিন্তু লক্ষ্য করেন,  মোদি সরকারের দাবি কে মেনে নেওয়া কংগ্রেস এর (সাথে সিপিএম অথবা মমতার তৃণমুল) জন্য বাধ্যতামূলক নয়।

    অথচ আমরা দেখছি রীতিমত চটের ব্যাগ বানিয়ে একে পোস্টারের মত কাঁধে নিয়ে কংগ্রেসিরা সংসদে মিছিল করছে, ফটো সেশনও! মোদি আর কংগ্রেস একাকার! হিন্দুত্ববাদী!!!!!

     

    মোদি কেন এই মিথ্যা প্রপাগান্ডার পথেঃ
    আবার মোদি কেন এই মিথ্যা প্রপাগান্ডা করার পথ ধরেছে? কারণ, বাংলাদেশের হাসিনা আমলের দুইটা ঘটনাঃ
    এক. এখন জানা যাচ্ছে- গুম, খুন অপহরণ ও আয়নাঘর ঘটনায় ইন্ডিয়ার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ আছে!  হাসিনা ইন্ডিয়ার সাথে মিলে এমন আয়নাঘর ততপরতা এমনকি অপহৃত ব্যক্তিকে ইন্ডিয়ার উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার মত কান্ডও ঘটিয়েছে এরা যৌথ ভাবে!!!!
    দুই. ২০০৯ সালের বিডিআর ম্যাসাকার ও আমাদের সৈনিক-অফিসারদের হত্যার সাথে ইন্ডিয়ার সংশ্লিষ্টতা প্রকাশ হয়ে পড়তে পারে!

    এদুই ঘটনাকে চাপা দিতেই বাংলাদেশের উপর প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি এটাই মোদি সরকারের কৌশল ও লক্ষ্য। তাই কথিত এই হিন্দু নির্যাতনের প্রপাগান্ডা।

    তাহলে এখন দাড়ালো কী?
    দাড়ালো যে মোদির বিজেপি আর কংগ্রেস এই প্রশ্নে ভাইভাই!  তাদের ভারত-মাতা কে রক্ষার স্বার্থে কাঁধে ব্যাগ উঠিয়ে নিয়ে মিথ্যা কথা লেখা ও এর মিথ্যা প্রপাগান্ডা – এটাই কংগ্রেসি অপ-ততপরতা!  এই হল কংগ্রেসের পবিত্র সেকুলার ও সমাজতন্ত্রী আচরণ! যেখানে আমরা বাংলাদেশিরা হলাম পাপী – আমরা পাপী মুসলমান বা তাদেরকে সমর্থনকারী!!!

    কাজেই সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে  প্রগতিশীল-সমাজতন্ত্রী বিবৃতিবাজ বুদ্ধিজীবী গণ আপনারা বিবৃতি দিবেন কবে? সেই অপেক্ষায় থাকলাম!!!

     

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ বিকাল ৪ঃ ৪৯   ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪

  • হিন্দুত্ববাদের বয়ানের উপর দাঁড়িয়ে যেকোন বিবৃতিই অর্থহীন

    হিন্দুত্ববাদের বয়ানের উপর দাঁড়িয়ে যেকোন বিবৃতিই অর্থহীন
    গৌতম দাস
    ০৮ ডিসেম্বর ২০২৪  দুপুর ০১ঃ ০৮
    https://wp.me/p1sCvy-5Yx

     

    ভারতে হিন্দুত্ববাদী শক্তি ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে বিবৃতি অর্থহীন

    হিন্দুত্ববাদের বয়ানের উপর দাঁড়িয়ে ভারতের কারো উদ্দেশ্যেই দেয়া বিবৃতি অর্থহীন; মানে হল সবার আগে মুখ্যত খেয়াল করতে হবে আপনি কার বয়ানে কথা বলবেন? নিজস্ব নাকি ভারতের হিন্দুত্ববাদের?
    এ’সম্পর্কে আপনার সচেতনতা লাগবে। যে বয়ান-পরিভাষা আপনার জনগণের বিরুদ্ধে সেই পরিভাষাই ব্যবহার করে এবং সেই চিন্তা-কাঠামোই ব্যবহার করে আপনি এই শয়তানি ও অসৎ ততপরতার বিরুদ্ধে লড়তে পারবেন না।

    আমি একটু দেরিতে, ইতোমধ্যে গত ৬ ডিসেম্বর ২০২৪  “ভারতের জনগণের উদ্দেশে ১৪৫ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি শিরোনামে রিপোর্ট ছাপা হয়েছে মিডিয়ায়।
    বাইরের চেহারায় এটা সিপিবি ঘরানার চেয়ে আলাদা মনে হতে পারে কারণ মোদি সরকারের বদলে এখানে “ভারতের জনগণের উদ্দেশ্যে” – বলে বলা হয়েছে। কিন্তু এরপরেও এটা যে কার সেই। কারণ, এক. এটা যারা লিখছে তাদের আলাদা কিছু করার প্রয়াস হয়ত কিন্তু তা মর্ম বদল ঘটাতে পারে নাই। আর দ্বিতীয় কারণ, ইতোমধ্যেই ‘ভারতের জনগণ’ আর ‘সরকার’ বলে একটা ছুপা ভাগ তৈরি করেই কিন্তু র-এর পক্ষে কাজ-ততপরতা করতে আরেক প্রতারক-মানব [imposter] ইতোমধ্যেই নিজেকে ধুর্তভাবে হাজির করে রেখেছে। চিন্ময়ের সাথে প্রকাশ্যে বিসদৃশ্য গলাগলি দেখিয়েছে আর চিন্ময়ের পক্ষে বেপরোয়া সাফাই নিয়ে হাজির হয়ে গেছে।  আবার ‘ভারতের জনগণ’  বলে কী কেউ বিজেপি-মোদির হিন্দুত্ববাদী বয়ানের বাইরে কেউ আছে? বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর নির্যাতন হচ্ছে, শাখা সিন্দুর পড়তে পারছে না ইত্যাদি ডাহা মিথ্যা যে বয়ান মোদি দাঁড় করিয়েছে তা কী খোদ সিপিএম, কংগ্রেস, মমতা ইত্যাদি এরা কী এর বাইরে? নাকি মিথ্যাভাবে একই নির্যাতনের গল্পের বিবৃতিতে সবদলগুলোও ইতোমধ্যেই দিয়েছে? এককথায় ভারতের কোন দলই নাই যে মোদির মিথ্যা ভাষ্যের বাইরে! তাহলে এসবের বাইরে কারা এখন “ভারতের জনগণ” আছেন যাদের কাছে পৌছাতে এই বিবৃতি চেষ্টা করছে? অর্থাৎ এককথায় বিজেপি-মোদির বয়ানের বাইরে ভারতের এখন মোটামুটি কেউই আর অবশিষ্ট নাই। কাজে ফাঁকা কল্পনা করে লাভ কী?

    আসলে মূলকথাটা হল সারা ভারত এখন হিন্দুত্ববাদের বয়ানে ইসলামবিদ্বেষী নেকড়ে হয়ে কাঁপতেছে, যেন ঝাপিয়ে পড়বে বাংলাদেশের উপরে!  আর সেই সময়ে আমরা দেখছি ১৪৫ জনের ভাষ্য বলে এক বিবৃতি যার প্রথম কয়েকটা শব্দ হল  ভারতে হিন্দুত্ববাদী শক্তি ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে – নাকি তারা এই বিবৃতি দিচ্ছে????
    কিন্তু এই সাম্প্রদায়িকতা জিনিষটা কী? কাদের বয়ান ভাষ্য ন্যারেটিভের পরিভাষা এটা? এটা তো হিন্দুত্ববাদেরই পুরানা পরিভাষা!!! তার মানে হিন্দুত্ববাদী পরিভাষা –সাম্প্রদায়িকতা, অসাম্প্রদায়িক ইত্যাদি – এসব  ব্যবহার করে এই বিবৃতিদাতারা হিন্দুত্ববাদ এর বিরুদ্ধে লড়তে চাইছেন!!!!
    এখানে লড়া মানে ফিজিক্যাল লড়াই না বরং বয়ান ভাষ্য সামনে রেখে লড়াই। তাহলে আপনি কার বয়ানে নিজের কথা বলবেন ও লড়বেন? নিজস্ব নাকি ভারতের হিন্দুত্ববাদের?

    ভারতের জনগণের উদ্দেশে ১৪৫ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি


    অবশ্য কথাটা এভাবে লেখায় আমাদের ‘দেশি’ বুঝের  জাতিবাদি মন বলে উঠবে অবশ্যই নিজস্ব!! কিন্তু কীভাবে বুঝবেন বয়ান-ভাষ্য আপনাদের নিজস্ব? এর জবাব অত তড়িৎ কারো মুখ দিয়ে আসবে না।
    কারণ, সেক্ষেত্রে মুখ্য বাস্তবতা ও ফ্যাক্টস হল, আপনার কোন আলাদা বয়ানই নাই। মূলত হিন্দুত্ববাদের বয়ানটাকেই আপনি এতদিন প্রগতিবাদী বয়ান মনে করে এসেছেন আর সেটাই আউরাইতেছেন! এছাড়া বিবৃতিতে এই যে হিন্দুত্ববাদ বলে শব্দ লিখেছেন এটাও তো আপনাদের পরিভাষা শব্দ নয়।
    আপনাদের শিখা পরিভাষা হল সাম্প্রদায়িকতা বা অসাম্প্রদায়িক এগুলা যেগুলা চালু করেছিল প্রথমে জমিদার-হিন্দুরা (১৮০০ সালের পর থেকেই) পরে ছুপা কংগ্রেসিরা (১৮৮৫ সালে)! আর আপনারা হিন্দুত্ববাদ এই শব্দটা শিখতে বাধ্য হয়েছেন শাহবাগের পরে [আগে নয়] অন্তত ২০১৪ সালের পরবর্তী বাংলাদেশ। এখন সমস্যা কী হয়েছে দেখেন! আপনারা বিবৃতিতে একইসাথে “ভারতে হিন্দুত্ববাদী শক্তি” আর “সাম্প্রদায়িকতার” এমন দুটার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। অথচ এদুটা একসাথে ব্যবহারযোগ্য শব্দ নয়।  আপনি যদি সত্যিই হিন্দুত্ববাদের বিরুদ্ধ কিছু হতে চান বুঝেশুনে ফিল করে তবে আপনাকে সাম্প্রদায়িক শব্দের ব্যবহার ত্যাগ করতে হবে। কারণ সাম্প্রদায়িক শব্দটা তো জমিদার-হিন্দুদের চালু বয়ানের শব্দ যা পরে ছুপা (সফট হিন্দুত্ববাদী) কংগ্রেসিরা তুলে নিয়ে তাদের বয়ানে স্থাপন করেছে। যেখান থেকে আপনারা এটা পবিত্র জ্ঞান করে তুলে নিয়েছেন! কোন বয়ান নির্মানে কিছু মার্কামারা বয়ান ভাষ্যের প্রতিনিধি চিহ্নমূলক শব্দ থাকে। সাম্প্রদায়িক এই শব্দ ও পিছনের ধারণাটাতে তা আছে – সাম্প্রদায়িক নিজেই এক হিন্দুত্ববাদি বয়ানের মার্কামারা শব্দ!  আপনি চাইলেই  তাই একই সঙ্গে হিন্দুত্ববাদীবিরোধীতা আবার সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী হতে পারেন না, পারবেন না। 

    এখানে হিন্দুত্ববাদের বয়ান কোনটা?
    মুখ্যত  অসাম্প্রদায়িকতা বা সাম্প্রদায়িক ইত্যাদি এসম্পর্কিত যত শব্দ আছে সবগুলোই – হিন্দুত্ববাদের বয়ান-ভাষ্যের চিহ্ন। বহুবার আমি লিখেছি এটা বাংলাদেশের কারও বয়ান বক্তব্যের শব্দ, ভাষ্য হতে পারে না। জমিদারহিন্দু যারপর নাই ক্ষুব্ধ হয়েছিল ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান কায়েম হওয়াতে। কারণ পাকিস্তান হওয়ার সোজা মানে হল তার জমিদারি উচ্ছেদ। যদিও কথিত শ্রেণী-বোদ্ধা কমিউনিস্টেরা আজও ভান করে যে তারা এই জমিদার শ্রেণির (শ্রেণীস্বার্থের) উচ্ছেদের দিকটা দেখতে পান নাই! ার খাঁড়া কথাটা হল, জমিদারি ব্যবস্থার উচ্ছেদ মানে হল জমিদারি কেন্দ্রিক হিন্দুত্ববাদি সকল রাজনৈতিক, সামাজিক, কালচারাল ক্ষমতা ও আধিপত্যের অবসান।  তাই সেই থেকে জমিদার-হিন্দুর সংগ্রাম হয়ে উঠেছিল, চরম মুসলমান বিদ্বেষ জারি করে এমন বয়ান তৈরি। এর প্রথম পদক্ষেপ তাদের পাক্কা ছলনার এক বয়ান যে এটা যেন মূলত জমিদারি উচ্ছেদ ছিল না, এটা যেন পুর্ব-বঙ্গের সকল হিন্দুদের উচ্ছেদ এভাবে ঘটনাকে উপস্থাপন করেছিল তারা।
    অথচ দেশভাগ ঘটে যাওয়াতে, এরপর যে হিন্দু এবং মুসলমান উভয়কেই – দুদিক থেকে দেশান্তর হতে হয়েছিল। হিন্দু হলে ভারতমুখি মুসলমান হলে পাকিস্তান মুখি এটাই তো হয়ে উঠেছিল সবার ভাগ্যেই! নাকি?

    এভাবে সাধারণ হিন্দু-মুসলমানের ভারত অথবা পাকিস্তানের দিকে যাত্রা এর সাথে পুর্ব-পাকিস্তানে জমিদার উচ্ছেদের সরাসরি কোনই সম্পর্ক নাই। তা সত্বেও জমিদারের স্বার্থ উচ্ছেদ হয়ে যাওয়া এটাকে সকল হিন্দুদের স্বার্থ হিসাবে হাজির করা এটাই জমিদার হিন্দুর শঠতাপুর্ণ বয়ানের সাফল্য! জমিদার হিন্দুর নিজ জমিদারি স্বার্থকে প্রজা হিন্দুরও যেন এটা একই স্বার্থ এভাবে হাজির করে ফেলেছিল। তা কোন বিপ্লবী, কোন শ্রেণীবোধের প্রগতিশীল কেউ খেয়াল করে নাই। বরং পুর্ব-পাকিস্তানের (জমিদার-প্রজা নির্বিশেষে) এমন সকল হিন্দুর স্বার্থ যেন এক  কাজেই পুর্ব-পাকিস্তানের হিন্দু মাত্রই ভিকটিম এই নয়া ভিকটিকহুড এর বয়ানই হল – হিন্দুরা তাহলে ‘সাম্প্রদায়িকতার’ শিকার। আর সাম্প্রদায়িকতা মানেই এর জন্য  অরিজিনাল অভিযুক্ত ও দায়ী হল পুর্ব-পাকিস্তানের মুসলমানেরা…! এটাই তো হিন্দুত্ববাদের বয়ান – সাম্প্রদায়িকতা বয়ানের ভিতরের আসল রহস্য বয়ান এবং  পুর্ব-পাকিস্তানের হিন্দু মাত্রই ভিকটিম এই মিথ্যা ভিকটিমহুড এর বয়ান!
    এসব যে মিথ্যা এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হল, পুর্ব-পাকিস্তানে জমিদারি উচ্ছেদ আইনে কী জমিদারি ব্যবস্থা উচ্ছেদের পরে পুর্ব-পাকিস্তানের মুসলমান প্রজারা যেমন নিজ নিজ চাষের জমির মালিকানা পেয়েছিল একইভাবে সমান সুযোগে  পুর্ব-পাকিস্তানে হিন্দু প্রজারাও কী সমান সুযোগে পায় নাই???
    তাহলে, পুর্ব-পাকিস্তানের হিন্দু মাত্রই ভিকটিম এই নয়া ভিকটিকহুড এই বয়ান ভাষ্য বা এই মিথ্যা অনুমানের ভিত্তি কী? 

    আবার যেমন ধরেন, এক ভারতরত্ন মানে পদ্মভূষণ খ্যাত ডঃ আনিসুজ্জামান তিনি পুর্ব-পাকিস্তানে দেশান্তর হয়ে এসেছিলেন, কেন? পশ্চিমবঙ্গের মুসলমান হিসাবে পুরানা এতদিনের আবাস ছেড়ে পরিবারসহ তাঁদের এদেশে আসার ক্ষেত্রে পুর্ব-পাকিস্তানে জমিদারি ব্যবস্থা উচ্ছেদ বা না-উচ্ছেদ এর কোন সম্পর্কই নাই। আর সবচেয়ে বড় কথা তিনি কী কেন তাঁকে কলকাতা ত্যাগ করে আসতে হয়েছিল সেজন্য কী কখনো কলকাতার হিন্দুদের দোষারোপ বা দায়ী মনে করেন বা করেছেন??? কখনই না; বরং ব্যাপারটাকে কপাল বা ভবিতব্য হিসাবে দেখে থাকেন!  অথচ পুর্ব-পাকিস্তানের হিন্দুরা পুর্বপাকিস্তানের মুসলমানদেরকে দেশভাগের জন্য আজও কঠোরভাবে দায়ী করে থাকেন। আবার বদরুদ্দিন উমরের কথাও ধরতে পারেন! তিনি কী বর্ধমান ছেড়ে ঢাকায় এসেছেন বলে বর্ধমানের হিন্দু জনগোষ্ঠিকে দায়ী করেন?

    মজার কথা হল, আনিসুজ্জামান কিন্তু সাথে মাথায় করে হিন্দুত্ববাদি অসাম্প্রদায়িকতার বয়ানই নিয়ে এসেছিলেন! মুসলমান হিসাবে কলকাতার জমিদার-হিন্দু তাঁকে তার পরিবারকে শিখিয়েছিল হিন্দুদের পাশে বসতে চলতে হলে তাদেরকে অসাম্প্রদায়িক হতে হবে। সারকথায় যা জমিদার-হিন্দুর আধিপত্য এটা মানতে হবে; তাদের সেই বয়ান ভাষ্যমতে মুসলমানদের নিজেকে সাজাতে হবে; তবেই মুসলমানেরা হিন্দুদের পাশে তিনি বসবাস শিক্ষা-চাকরির সুযোগ ইত্যাদি পেতে পারেন!

    আর এই সাম্প্রদায়িকতা কী তাহলে? কে কার উপরে করলো?
    সেটা কী আর বলার অপেক্ষায় আছে? সেটা বলাই বাহুল্য যেহেতু হিন্দু মাত্রই (জমিদার-প্রজা নির্বিশেষে) দেশভাগের ভিকটিম! – এই হল মিথ্যা মূল বয়ান!  যে বয়ানে তার মানে দাবী করা হল, পুর্ব-পাকিস্তানের মুসলমানেরাই যেন (জমিদার-প্রজা নির্বিশেষে) এমন সকল হিন্দুকে ভিকটিম বানিয়েছে ও বানানোর জন্য দায়ী????   তাহলে সাম্প্রদায়িক  -এই শব্দের উতপত্তি বয়ান ভাষ্য কার চালু করা কোথা থেকে? এটা কী প্রথমে জমিদার-হিন্দুরা (১৮০০ সালের পর থেকেই) পরে ছুপা কংগ্রেসিরা (১৮৮৫ সালে) হয়ে এখন মোদির হিন্দুত্ববাদের মুখ্য এক বয়ান ভাষ্য নয়!! আর কোন ফাঁকে এই হিন্দুত্ববাদ-ই আবার সকল কমিউনিস্টদেরও বয়ান ভাষ্য হয়ে গেছে??? ভারত (ফলে বাংলাদেশের) সকল কমিউনিস্টদের !!!  তাহলে সেক্ষেত্রে, এই বিবৃতিদাতারা একইসাথে ভারতে হিন্দুত্ববাদী শক্তি ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সরব হবেন বা হলেন কী করে?? এটা কী সম্ভব???
    সব বিবেচনা তাদের হাতেই তুলে রাখলাম!!!

    শেষে আরেকটা কথা দেশভাগঃ

    যদি আপনাদের চিন্তার মুরোদে কুলায় তাহলে দেশভাগ এর জন্য কাকে দায়ী করতে চান সেদিকে আসেন। যারা দেশভাগে ব্যাথ্যা পেয়েছেন তাদেরকে সাহসের সাথে রাজা রামমোহন রায় পড়তে হবে! এখান থেকেই পড়াশুনা শুরু করতে হবে। সেই ১৮১৫ সালে ফিরতে হবে। কেন রামমোহন ১৮১৫ সালে “আত্মীয় সভা” খুলেছিলেন? কেন সেই ১৮১৫ সালেই তিনি এক ব্রাহ্ম সমাজ বলে নতুন ধর্ম চালু করেছিলেন?
    রামমোহনই প্রথম ব্যক্তি যিনি সেকালে বৃটিশদের রিপাবলিক রাষ্ট্র একে চিনেছিলেন, এক এংলো-ক্যাথলিক বৃটিশ রিপাবলিক বলে।   অর্থাৎ জাতিরাষ্ট্র [নেশন স্টেট বা nation State] মানে আদতে তা কোন না কোন ধর্মের ভিত্তিতে জাত এমন রিপাবলিক রাষ্ট্র-ই হতে হবে, হয়। ফলে সেসময়ের চোখ আগামির অখন্ড ভারত – সেটাও আসলে কোন না কোন ধর্মের ভিত্তিতে জাত এমন রিপাবলিক রাষ্ট্র-ই করতে হবে এই ছিল তাঁর বুঝ ও সিদ্ধান্ত! আর সেখান থেকে অসংখ্য জাতভেদে বিভক্ত হিন্দু সমাজ সহ ভারতের সবাইকেই সবার আগে এক নয়া ধর্ম ‘ব্রাহ্ম’ এই নয়া একেশ্বরবাদি ধর্মে দীক্ষিত করে নিয়ে আগানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। একাজে রামমোহনের সবচেয়ে ঘনিষ্টজনেরা যেমন রবীন্দ্রনাথে দাদা দ্বারকানাথ ঠাকুর সহ ঢাকার সুশোভন সরকারের (বেঙ্গল রেনেসাঁর লেখক) দাদা ইত্যাদি সকলেই পরিবারসহ সবার আগে ব্রাহ্ম হয়ে নিয়েছিলেন। যদিও রামমোহনের এই উদ্যোগ – এটাই পরে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, অরবিন্দ ঘোষ বিবেকানন্দ ইত্যাদি হাত ঘুরে হিন্দুত্ববাদ হয়েছিল – আর এটাই হল ভারতে হিন্দুত্ববাদের আদি ভিত্তি ও বয়ান ভাষ্য!   কাজেই হিন্দুত্ববাদী বয়ানে জিন্নাহ কে ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ বলে সব দায় তাঁর এমনকি এই একালেও বিএনপির মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর ভারত-হিন্দুত্ববাদের স্বার্থে নয়া দালাল হতে প্রথম আলো গং কে বাঁচাতে মির্জার – “চিন্তা করতে পারেন ধর্মের ভিত্তিতে……” বলে মিথ্যা আবেগ তুলে অভিনয় করা এসবই আমাদের ত্যাগ করতে হবে। সবার আগে রাজা রামমোহন রায় পড়েন।
    এর আগেই জমিদার-হিন্দু অথবা হিন্দুত্ববাদের সফট বা কড়া ভার্সান
    এর ভক্ত দালাল নিজ মস্তক-বিক্রি এগুলা আর কইরেন না। এবার ছাড়ান দেন!  দেশভাগ আমাদের ভাগ্যে ছিল অথবা সবদোষ হল জিন্নাহ-র এসব হিন্দুত্ববাদের বয়ান আর কতদিন বইবেন???

    একালে যারা রাজা রামমোহন রায় নিয়ে নতুন করে হিন্দুত্ববাদের বিয়ান ভাষ্যের বাইরে এসে পড়তে চান তাদের সবার জন্য প্রথম চয়েজ হল ইন্টারনেট সার্চ করা – সার্চ করতে শিখেন। এখন এতেও আবার গাইড পেতে গেলে আমার নিজের ওয়েব সাইটে দেখতে পারেন।

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    শেষ আপডেটঃ  দুপুর   ডিসেম্বর  ২০২৪    

     

  • বগলে মোদিকে নিয়ে বাংলাদেশে জাপান যে ফাঁদে

    বগলে মোদিকে নিয়ে বাংলাদেশে জাপান যে ফাঁদে
    গৌতম দাস
    ০৬ ডিসেম্বর ২০২৪ রাত ২১ঃ ১৮
    https://wp.me/p1sCvy-5WO

     

    Bangladesh-India-Japan conclave discusses path……

     

     

     

     

    আজ বণিক বার্তায় একটা রিপোর্ট ছাপা হয়েছে, “বাংলাদেশ-ভারত এর উত্তেজনা” শব্দ ব্যবহার করে। আশা করি এলেখা নিয়ে কিছু আলোচনা করব বলে বণিক বার্তা মাইন্ড করবে না। কারণ আমি কোন  “প্রগতিবাদী” আলোচক নই। এই রিপোর্টে একটা প্রচ্ছন্ন ম্যাসেজ হচ্ছে বাংলাদেশ জাপান এর এডিবি এর নেহায়েতই একটা একটা উন্নয়ন প্রকল্প আছে। কিন্তু “বাংলাদেশ-ভারত এর উত্তেজনায়” সেটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাই আমরা যেব “বাংলাদেশ-ভারত এর উত্তেজনা” কমাই – উন্নয়ন প্রকল্পের খাতিরে।
    সরি, জাপান সরকার লেখক এবং বনিকবার্তাও। আপনাদের এই পারসেপশন অনুমান এবং বর্তমান ঘটনাকে “বাংলাদেশ-ভারত এর উত্তেজনা” হিসাবে দেখা ও দেখানো সঠিক নয়। একেবারে মূল কারণ, জাপান মোদির মতই বাংলাদেশকে চুষতে একটা তথাকথিত কানেকটিভিটি প্রকল্পে ঢুকেছিল। কানেকটিভিটি শব্দটা দেখলেই আমাদের বুঝতে হবে এটা ভারতকে বিনা পয়সায় করিডোর দেয়া আর সাথে এজন্য ভারতকে অবকাঠামো সুবিধা দিতে বাংলাদেশের মানুষের কাঁন্ধে বিদেশি অবকাঠামোঋণের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে বিনা পয়সায় ভারতকে করিডোর দেওয়ার খেলাতার নামই হচ্ছে কানেকটিভিটি।
    এবার জাপান হয়েছিল সেই অবকাঠামো ঋণদাতা যে ভারতের মতই কানেকটিভিটি  এর নামে বাংলাদেশকে চুষবে।  এক্ষেত্রে ভারত ও জাপান দুই সরকারই ধরে নিয়েছিল আসলে বলা উচিত জুয়া-বাজি ধরেছিল যে মোদির বসানো হাসিনা আরো টিকে যাবে ফলে তাদের কানেকটিভিটি ব্যবসাও।  কিন্তু আল্লাহ মেহেরবান বলতেই হবে!
    সব জুয়ার বোর্ড উলটা দিয়ে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা জাপান-ভারতের চোখে অবিশ্বাস্যভাবে হাসিনা কেই উপরে ফেলে দিয়েছে। আর এখন এতে জাপান বণিকবার্তা কিনে নিয়ে নাকি কান্না গাইতে এসেছে নেহায়েতই একটা একটা উন্নয়ন প্রকল্প এর খাতিরে যেন আমরা বাংলাদেশ-ভারত এর উত্তেজনা থামাই…।

    বাংলাদেশ-ভারত উত্তেজনায় দুশ্চিন্তায় জাইকা ও এডিবি

    এলেখা ছাপা হওয়াতে এটা হল সেই চিহ্ন যে, বাংলাদেশ-ভারত এর সম্পর্কটা তৃতীয় দেশের স্বীকার করার মত উত্তেজনা হয়ে হাজির হয়ে গেছে ইতোমধ্যেই।  আর দ্বিতীয়ত, এই তৃতীয় দেশ হল, মোদির প্রিয় জাপান ভাইয়া! কোন জাপান ভাইয়া? নিচে দেখেন।

    মোদির ভাইয়া কেন?  মানে হুদাই চীনবিরোধী সেজে বা দেখায়ে সেইটা বেঁচে আমেরিকার কাছ থেকে কিছু বাড়তি সুবিধা ও আমেরিকান ক্ষমতার এঁটো-উচ্ছিষ্ট লেগে থাকা পাত্রে (মানে খাওয়া হয়ে গেলে সে পাত্রকে এঁটো বা ঝুটা পাত্র জ্ঞান করা হয়) একটু চাটা দিবার সুযোগ পেতেই – এটা হল মোদির ভারতের আমেরিকা প্রীতির লালচামি আর সেটা দেখায়,  নিজ মুরোদ থাক না-থাক, এখান থেকেই বাংলাদেশের উপর আধিপত্য, এটার মোদির রুস্তমির খায়েশ!
    অথচ মোদির ভারত সস্তা বিদেশি ঋণচাহিদার দেশ বা “বিনিয়োগ দরকারের ভারত” এই অর্থে ভারত কিন্তু আমাদের পর্যায়ের বা মানেরই ঋণ চাহিদার দেশ। কাজেই আমেরিকার কাছে ভারতকে চীনবিরোধী দেখায়ে সেই মিথ্যা-চেহারা বেচতে গিয়ে মোদির ভারতের চীনের কাছে থেকে দূর থেকে দূরে মানে তুলনামূলক অনেক সস্তায় যে ঋণ পাবার সুযোগ ছিল চীনের কাছ থেকে  – কিন্তু সেই পথ ভারত নিজেরাই বন্ধ করে ফেলেছে। [যদিও ২০১৪ সালে প্রথম প্রধানমন্ত্রী হবার পর কয়েক বছরে বড় বড় চীনা ঋণপ্রকল্প মোদি নিয়েছিলেন।] কিন্তু এরপর থেকেই  চীনের চেয়ে তুলনামূলক কম সুবিধাদি ও উচ্চসুদের জাপানি ঋণ হয়ে পড়েছে ভারতের একমাত্র ভরসা! এখন মোদির ভারতের  জাপানি ঋণ নিবার অভিমুখ করে পররাষ্ট্রনীতি সাজাতেই পারে – এতে গাড্ডায় পরা বা না-পরা সবই তাদের ইচ্ছা। তাহলে বাংলাদেশে আমরা কেন কথা বলছি?

    করিডোর একটা চরমতম বিতর্কিত শুধু নয় ক্ষতিকর প্রকল্পঃ
    এটা এমনই চরমতম বিতর্কিত প্রকল্প যে কলোনি আমলেও বৃটিশেরা এভাবে আমাদের চুষে নাই। করিডোর নামে যেকোন প্রকল্প এটা ভারতের বাংলাদেশকে খোলাখুলি চুষে নেয়া, খাবলে খাওয়া এক প্রকল্প। বাংলাদেশের উপর দিয়ে ভারতকে অবাধে সবকিছু পরিবহণের তা মাটির নিচে, সড়ক, রেললাইন, পানিপথে  – এভাবে সবধরণের যানবাহনে, যেকোন সীমান্ত দিয়ে যতখুশি এবং সবই বিনা পয়সায় বা নামমাত্র (সময়ে বাংলাদেশিদের চেয়েও কম) মুল্যে নিয়ে এসব করিডোর আমাদের ভারতকে দিতেই হবে – এজন্য এটা ক্ষতিকর প্রকল্প।

    অথচ জাপান এই প্রকল্পে নিজেকে ঘোরতরভাবে জড়িয়েছে, অর্থ ঢেলেছে – বলা হয়েছে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার। এতে জাপান যে ক্ষমার অযোগ্য কাজ করেছে তা হল,
    এক. একেবারেই ভারতের স্বার্থে বাংলাদেশের জনগণের নামে ঋণপ্রকল্প নিবে  বাংলাদেশের হাসিনা চোর-সরকার; আর জাপান সরকার সে প্রকল্পে প্রধান ঋণদাতা হয়ে জড়িয়ে যাবে?  মানে ভারতের স্বার্থে কোন ঋণ প্রকল্পে ঋণ নেয়া আর বাংলাদেশের মানুষকে এই ঋণ এর বোঝা টানতে, পরিশোধ করতে হবে। জাপানের তাতে পরোয়া নাই?  শুধু তাই না ভারত এতে নির্মিত সব অবকাঠামোর মুল ব্যবহারকারি, সকল সুবিধাভোগী হবে; অথচ এমনকি এর যে টোল আসবে সেটাও ভারত বইবে না। টোল দিবেই না বা ভারতের জন্য বিশেষ ছাড় নামমাত্র কিছু একটা হবে। হাসিনার উপদেষ্টা বলেছিলেন ভারতের কাছে টোল বা ট্যাক্স চাওয়াটাই নাকি অভদ্রতা!!!  অথচ  নেয়া ঋণ পরিশোধের দায় ভারত সরকারের না। এমনকি এর সুবিধা ব্যবহারকারি বাংলাদেশি হলেও যে টোল নির্ধারিত হবে সেটাও ভারত পরিশোধ করবে না। চাইলে নাকি সেটা অসভ্যতা হবে! অথচ এসব লুটপাটের খবর চোখের সামনে ঘটবে ঘটেছে সেটা দেখে-জেনেও জাপান এই প্রকল্পে বিনিয়োগ বা ঋণ দিতে এসেছিল।

    কিন্তু তাই বলে বাংলাদেশের ঘাড়ে  মোদির জাপান ভাইয়া প্রকল্প লটকায়ে দিবে?  বিশেষ করে যখন একদিকে, এটা অর্থনৈতিক স্বার্থে দেখে নেয়া প্রকল্প নয়, কথিত স্ট্রাটেজিক স্বার্থ মুখ্য করে দেখে নেয়া মোদির প্রকল্প! আর তাতে জাপান নিজেই নিজেকে সংশ্লিষ্ট করেছে? এর মানে ঋণের অর্থ ভেরত পাবে কী করে সেটা বিবেচনা করে এসব প্রকল্প জাপান নেয় হয় নাই। অন্যদিকে জাপান কী দেখে নাই জানে বরং দেখেও না দেখা করে ফেলে রেখেছে যে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এর মূল সুবিধাভোগী ভারত অথচ ঋণ পরিশোধের ভার বাংলাদেশের জনগণের! এধরণের একটা প্রকল্পে জাপান নিজেকে জড়িয়েছে কেন? আর এখন কান্নাকাটি কেন? 
    এমনকি আরেকটা তথ্য এখানে জানায় রাখি। একটা অবকাঠামো হিসাবে গড়া রাস্তা বা ব্রিজ এর টোল একজন বাংলাদেশির বেলায় যা চার্জ করা হবে একজন বিদেশির বেলায় সবচেয়ে বৈধভাবেই তা হতে হবে এর চেয়ে অনেক বেশি। মূল কারণটা বুঝে রাখেন। কেউ বাংলাদেশি মানেই হল, যুগ যুগ ধরে আমাদের পাবলিকের দেয়া ট্যাক্স এটাই সরকারের সকল আয়-সম্পদের উতস যেখানে ঐ  রাস্তা বা ব্রিজ এই অবকাঠামো সেটাও সরকারের সম্পদ মানে পাবলিকের। তাই বাংলাদেশিরা যাদের দেয়া ট্যাক্সের অর্থ থেকেই সরকার চালানো টিকানো ইত্যাদি সব ব্যয় নির্বাহ করা হয় বলে ঐ সরকার চালানোর অর্থের যে অংশ এই টোল নির্ধারণে যুক্ত হওয়ার কথা তা যুক্ত করা হয় না।বা কম করা হয়। কিন্তু একজন বিদেশি যখন এর ব্যবহারকারী যারা সরকার পরিচালন কাঠামো খাড়া করা ও এর দৈনিন্দিন ব্যয় সেসব খরচের দায় তো তার নয় বা তাঁর থেকে নেয়া হয় নাই। তাই একজন বাংলাদেশি যে তার বাপ-চোদ্দপুরুষ সরকারকে প্রত্যক্ষে-পরোক্ষে ট্যাক্স দিয়ে আসছে যেটা আসলে সব রাষ্ট্রীয় সম্পদের উতস – তার অবদান আর একজন বিদেশির অবদান এক নয় বলেই – অবকাঠামোর টোল বিদেশির বেলায় বেশি ও ভিন্ন হবে।
    আবার সাবধান আপনি ব্যাংককে গিয়ে স্থানীয়দের রেটেই টোল পরিশোধ করতে পারেন। কিন্তু আপনার ভুখন্ড পেরিয়ে যখন একটা বিদেশি-পড়শিদেশের ট্রাক বা ট্রেন পরিচালিত হবে উদাহরণ গুলো এক্ষেত্রে চিন্তা করতে হবে।

    আরেকটা আরও বড় পয়েন্ট হল,  ভারত বাংলাদেশ থেকে এই করিডোর পেলে ওর যা সুবিধা ও অর্থ সাশ্রয় হবে (যেমন নর্থ ইস্ট থেকে কলকাতা যেতে যেখানে পুরাটাই ভারতের ভুখন্ড এর উপর দিয়ে যাত্রা হলে সেক্ষেত্রে যাত্রাপথ হল প্রায় ১৭৫০কিমি আর বাংলাদেশের বুক চিরে গেলে এইপথ নেমে আসবে প্রায় ৩৫০ কিমি।) এই সুবিধা সবটাই একা ভারত নিবে [এর অর্থনৈতিক বেনিফিট এর কিছুই সে বাংলাদেশকে দিবে না]। আবার ভারতকে এই সুবিধা দিতে হলে নয়া পথ-অবকাঠামো তৈরির যে ঋণ নিবে বাংলাদেশ আর তা পরিশোধের দায়ও নিবে বাংলাদেশের জনগণ! কী মজা তাই না? ভারতের জন্য সবই লাভ আর লাভ! আর জাপান এখানে এসেছে এরই মাখনের ভাগ খেতে!
    এখন জাপান কী – এই প্রকল্পের সুবিধাভোগী কে আর দায় পরিশোধ করবে কে এসবের কোন কিছু জানে না?  নাদান সে?  না জেনেই এই প্রকল্পে একেবারে শুধু জাইকা না একেবারে তার প্রভাবিত এডিবি ঋণ এনে জাপান ঝাপিয়ে পড়েছে কী এমনি? এমন ভাবার কোন কারণ নাই!
    এখন কথাটা আসলে খুব সোজা।  জাপান যদি এসব প্রকল্পের অর্থনৈতিক ভায়াবিলিটির [viable বা দায় বইবার যোগ্যতা] যাচাই না করে থাকে বা উপেক্ষা করে থাকে তবে এর দায় কী বাংলাদেশের বা অন্য কারো? নাকি তা সরাসরি জাইকা ও এডিবির হবে; তাই নয় কী? 

    আরো বড় কথা হল, এই পুরা প্রকল্পটা হল,  ভারতে বাংলাদেশের উপর অবৈধ প্রভাব এর উপর দাঁড়ানো হয়ে শুরু হয়েছিল। ভারত বাংলাদেশে জবরদস্তিতে একজন হাসিনাকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিবে আর এই সরকারের উপর দেশি-আন্তর্জাতিক সব ধরণের সমর্থন যোগাড় করে এনে দিবে আর এর বিনিময়ে হাসিনা ভারতকে বৈষয়িক সব ধরণের সুবিধা ও মারাত্মক সব অসম চুক্তি করে সুবিধা দিবে – এই ছিল অবৈধ প্রভাবে ভারতের বসানো এক হাসিনা সরকার।  আর এটা তো জাপান সরকারের অজানা ছিল না। এর আগের যে জাপানি রাষ্ট্রদুত বাংলাদেশে ছিলেন তিনি তো ২০২৩ সালে বাংলাদেশে রাজনীতিতে – অনির্বাচিত অবস্থা নিয়ে – প্রকাশ্যে মুখ খুলেও ফেলেছিলেন একবার।  তাহলে বৈধতার খবর না থাকা অথবা নড়বড়ে থাকা – মোদির বসানো পুতুল হাসিনা সরকারের সাথেই জাপান সরকার কেন ঋণ চুক্তি করেছিল?  এর দায় কী জাপান সরকারের নিজেরই নয়?

    এবার এর রিপোর্টের লেখকের প্রসঙ্গেঃ
    বণিকবার্তায় এই রিপোর্টটা লেখা হয়েছে ভারতের চোখে বা ভারত-জাপানের মিলিত চোখে দেখে লেখা। যেমন কানেকটিভিটি [connectivity] এই একটা বিশেষ শব্দই অনেক কিছু এটা প্রকাশ করে।  এই বিশেষ কানেকটিভিটি শব্দটা ব্যবহার করে কেউ কথা বলে বা লিখলে এর অর্থ হল, তিনি জেনে না-জেনে জবরদস্তিতে ভারতের বাংলাদেশের উপর দিয়ে করিডোর সুবিধা নেওয়ার এক সাফাইমূলক শব্দ ব্যবহার করে কথা বলছেন।    ভারত জানে বিনা পয়সার করিডোর সুবিধার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে কথা উঠবে। তাই আগেভাগে এটাকে শব্দের মারপ্যাচে যেটুকু শুশীল ভদ্র ফেয়ার একটা ইমেজ  – যে বিনা পয়সায় করিডোর নেয়াটা কোন অন্যায্য কাজ হয় নাই – এটা দেখাতেই এই শব্দ। এই শব্দ দিয়ে ভারত (বা তার হাইকমিশনার) বুঝাতে চায় যে আমরা এই অঞ্চলের দেশগুলো একসাথে পারস্পরিক বাণিজ্যিক সুবিধা দেয়ার জন্য যেন এসব করছি – আমরা যেন এক কথিত বাণিজ্যিক কানেকটিভিটি যোগাযোগের বাণিজ্য ব্যবস্থা করতে মেতে উঠেছি।   আসলে ব্যাপারটা এর উলটা। এটা কেবলমাত্র ভারত সরকারকে সুবিধা দিতেই ক্থা হয়েছে। ফলে এতে কোন আঞ্চলিক  বা অনেক রাষ্ট্রের মিলিত উদ্যোগ নয়, এমনকি এটা সবার কোন বাণিজ্যিক উদ্যোগ নয়। কেবলমাত্র  একমুখি  – ভারতের সুবিধা মুখি এই ততপরতা।  বিনিময়ে বাংলাদেশের একজনই এর সুবিধা পেতেন তিনি শেখ হাসিনা। সেটা হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখার নিশ্চয়তা!!!

    কী হতে পারত কোন বাণিজ্যিক করিডোর ব্যবস্থাঃ
    আসেন কল্পনা করি; বাংলাদেশের উপর দিয়ে গড়া একেবারেই বাণিজ্যিক করিডোর ব্যবস্থাটা কী হতে পারত। ভারতের নর্থ ইস্ট এটাই দুনিয়ার শেষ সীমানা নয়। এর ওপারে বা আরো উত্তরে আছে চীনের তিব্বতের একাংশ; এছাড়াও আছে ভারত পেরিয়ে নেপাল ও ভুটান এর ভুখন্ড ইত্যাদি।  এসব ভুখন্ড বা এদিকগুলো একেবারেই ল্যান্ডলকড। কাজেই আসেন ভারতও এসব দেশ-ভুখন্ডকে ভারতের উপর দিয়ে করিডোর দিয়ে দেক। যাতে ভারতের নর্থ ইস্ট সহ যেকোন দেশই বাংলাদেশের উপর দিয়ে তৈরি সব অবকাঠামোই ব্যবহার করতে পারে। তাতে সেটা মাটির নিচে, উপরে রেল সড়ক, নদিতে পোর্ট এমনকি মংলা বন্দর এমনকি আরো বড় আমাদের সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্র বন্দর ইত্যাদি সব ধরণের অবকাঠাম ব্যবহারকারি যেকোন দেশকেই বাংলাদেশ এই সুবিধা দিতে পারে। আর সকলকে সতর্ক ও সাবধান করে দেই। সোনাদিয়া সহ বাংলাদেশের এমন সব অবকাঠামোই হবে একেবারেই বাণিজ্যিক-অর্থনৈতিক বৈশিষ্ঠের। মানে কোন সামরিক-স্ট্রাটেজিক কোন কিছু তাতে থাকবে না, রাখা হবে না। সামরিক ব্যবহার থাকবে না তা বাংলাদেশ প্রতিশ্রুত থাকবে ব্যবহারকারি সবদেশের কাছে।
    এতে ভারত বা জাপান কী রাজি? এদিকটা ভারত বা জাপানের সরকার বা তাদের বিখ্যাত সব এক্সপার্ট এরাকেউই কী চোখ দিয়ে কী দেখেছিল? দেখে নাই কেন?

    উত্তর খুব সহজ। দেখে নাই। বরং জাপানের লোভি চোখ যদি মদির মত হয় –  ভারত যেভাবে হাসিনাকে জবরদস্তিতে ক্ষমতায় বসিয়ে অবৈধ অনির্বাচিত ও গুম-খুনের রাজত্বের এক সরকার রেখে বাংলাদেশের সব লুটতে পারে তবে জাপানও কেন এর ভাগ নিবে না – এটাই ছিল জাপানের চোখ ও অবস্থান। শুধু তাই না, বলা যায় জাপান এই ঋণচুক্তি টা করেছিল এটা ধরেই নিয়ে যে  হাসিনা যেন চিরদিন বাংলাদেশের ক্ষমতায় থেকে যাবে – বাংলাদেশের জনগন চিরদিন যেন এই অবৈধ ভারতের চর হাসিনার ক্ষমতাকে সহ্য করবেই – উপরে ফেলবে না। এটাই ধরে নেয়া ছিল!  যার সোজা অর্থ জাপান সরকার তো কোন ঋণ দানের চুক্তি করে নাই আসলে যেন জুয়া খেলতে বসেছিল। জুয়ার রিস্ক নিয়েছিল যে ভারতের পুতুল হাসিনা ক্ষমতায় থেকেই যাবে.…..!!!  কিন্তু জুয়াখেলার জাপান হেরে গেছে। সেই হার এটা। জাপান সেই জুয়া খেলায় হেরে গেছে। কাজেই বিশ বিলিয়নের ঋণ এর দায় কী কেবল এবং কেবলমাত্র  ভারত-জাপানের নয়? বাংলাদেশের জনগণ এর কোন দায় কেন নিবে?

    এখানে সবচেয়ে ইতরোচিত শব্দ হল ইন্দো-প্যাসেফিকঃ
    লেখক বলছেন এ বিষয়ে জাইকার ওয়েবসাইটে বলা আছে, ‘এ বিষয়ে জাইকার ওয়েবসাইটে বলা আছে, ‘অবাধ ও মুক্ত ইন্দোপ্যাসিফিক নিয়ে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার পরিকল্পনার ভিত্তিতে দ্য বে অব বেঙ্গল-নর্থইস্ট ইন্ডিয়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভ্যালু চেইন ধারণাটিকে সামনে নিয়ে এসেছে জাপান।

    “এ বিষয়ে জাইকার ওয়েবসাইটে বলা আছে, ‘অবাধ ও মুক্ত ইন্দোপ্যাসিফিক নিয়ে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার পরিকল্পনার ভিত্তিতে দ্য বে অব বেঙ্গল-নর্থইস্ট ইন্ডিয়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভ্যালু চেইন ধারণাটিকে সামনে নিয়ে এসেছে জাপান।”

    যার সারার্থ হল, এটা ভারত-জাপান করেছে তাদের ইন্দো-প্যাসিফিক স্বার্থ বাস্তবায়নের কারনে। আর এটাই নাকি তাদের – অবাধ ও মুক্ত ইন্দোপ্যাসিফিক এর ধারণা ও নমুনা!!!
    আমরা উপরে দেখলাম এটা আসলে ছিল জাপান সরকারের এক জুয়া খেলা যে হাসিনা ক্ষমতায় থেকে যাবে আর ভারত-জাপান যোথভাবে বাংলাদেশকে চুষতেই থাকবে……!এখানে হা হা হা করে এক লম্বা হাসি হবে।

    বণিকবার্তা ও এর লেখক এটাকেই অবাধ ও মুক্ত ইন্দোপ্যাসিফিক এর ধারণা ও নমুনা বলে চালিয়ে দিতে এসেছেন?
    উপরে আমরা দেখেছি লেখক এটাকে কানেকটিভিটি বলে চালাতে এসেছিলেন।
    এর সাথে লিখার ভিতর পাবেন ভারতের কথিত লুকইস্ট জাতীয় প্রপাগান্ডা।  আবার দেখেন লেখকও আমাদের বিশ্বাস করতে বলেছে এসব নাকি কোন -“উপ-আঞ্চলিক জোট সাউথ এশিয়া সাবরিজিওনাল ইকোনমিক কো-অপারেশনের (সাসেক)” এর অধীনস্ত প্রকল্প! তো ভারত ছাড়া আর বাকি দেশ কারা ওখানে? মানে কানেকটিভিটা একা ভারতের স্বার্থ নয় এটা সবসময় ভারত তুলে ধরবে এতা অঞ্চলিক আরো অনেক দেশের যেন! অথচ খুজে সুবিধাভোগী হিসাবে ভারত ছাড়া কেউ নাই!
    এর মানে এই রিপোর্টের লেখক (বা হতে পারে খোদ বনিকবার্তাও) জাপান-ভারতের স্বার্থের পক্ষে এক প্রপাগান্ডা করতে এই রিপোর্ট হরেছে। আর নয়ত এরা একেবারেই ন্যাকা-বোকা সরল! সেজন্য জাপানের ওয়েব সাইট খুজে সাফফাই খুজে নিয়ে আসতে গেছে!

    মূল বিষয়টা কিঃ
    শুরুতে ও শিরোনামে – “বাংলাদেশ-ভারত উত্তেজনায়…” বলে যেশব্দ কয়টা লিখেছেন সেটাই মুল বিষয়।  হাসিনাকে পুতুল সরকার বসিয়ে আগে থেকে ভারত পরে তাতে যোগ দেয়া জাপান যাতে তারা বাংলাদেশকে লুটতে পারে। ফলে এখন যেটাকে তারা বাংলাদেশ-ভারত উত্তেজনা বলছেন সেটা আসলে আরো বড় কিছু। এতা আসলে আগামিত্এ মোদির ভারত আবার লুটের ব্যবস্থা চালু করতে একটা সরকার বসাতে পারবে কংবা পারবেই না – এখনকার লট=ড়াই যেটাকে তারা শুধু উত্তেজনা বলছেন  এরই মুল লড়াই। বাংলাদেশে আবার ভারতের আধিপত্যের কোন ১৬ বছরের সরকার কায়েম হবে কি হবেই না এরই লড়াই চলছে। তাতে এটাকে লেখক বাংলাদেশ-ভারত উত্তেজনা বলে লঘু করতে চেয়ে লাভ নাই। এর প্রথম পর্যায়ে জাপান সরকার জুয়ায় হেরেই গেছে! তাই কোন রিপোর্টার এথেকে জাপানকে আর জিতাতে পারবে না!!! সরি জাপান!! হাসিনার বেনিফিসারি লোভি জাপান, সরি!!!

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   ৬ ডিসেম্বর  ২০২৪    রাত ১১ঃ ১৭
    শেষ আপডেটঃ      ২০২৪

     

     

     

     

  • নিকাহ আর তালাক একসাথে করার মত কাজ না

    নিকাহ আর তালাক একসাথে  করার মত কাজ না
    গৌতম দাস
    ০৪ ডিসেম্বর ২০২৪   সন্ধ্যা ০৬ঃ ৩১
    https://wp.me/p1sCvy-5W0

    ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের মধ্যে কোন ভারত ন্যায়  বা সমকক্ষতা এর জায়গা নাই। এটাই ভারতের অবস্থান। কাজেই ভারতের হাত ধরে ক্ষমতায় যেতে চাওয়া আবার পানির ন্যায্য হিস্যা চাওয়া – এদুটো একসাথে চাওয়া যাবে না।
    ঠিক যেমন,  নিকাহ আর তালাক একসাথে  করা যায় না। একসাথে করার কাজ না। এটা কে না জানে?
    দুইটার মধ্যে ঠিক কেবল যেটা চান এমন কেবল একটাই নিতে পারবেন আপনি। একসাথে দুইটাই নিবেন এটা পারবেন না আপনি। হবে না; শত চাইলেই পারবেন না।  পাবেন না।
    কিন্তু বিএনপি বা তারেক জিয়া যেন এমন পরস্পরবিরোধী দুটাই একসাথে চেয়ে ফেলেছে। হয়ত অসর্তকতায়! 

    আমি গত এক সপ্তাহ (বা হয়ত এরও বোধহয় বেশি হবে) ধরে লাগাতর বলে আসছি যে বিএনপি (সাথে জামায়াতও) গত ২০০১-৬ তাদের সরকারের আমলে যদি কিছু মারাত্মক ভুল, অন্যায়, ত্রুটি হয়েই থাকে বলে তাদের এখন উপলব্দি হয়ে থাকে সেটা কোনই সমস্যা না। এজন্য সোজা পথ হল, আপনার কনষ্টিটিউয়েন্সি মানে পাবলিকের কাছে যান যারা আপনাদেরকে আগে নির্বাচিত করেছিল এবং আগামিও করতে পারে – সেই একমাত্র ক্ষমতাবান হল জনগণ, যারা সব ক্ষমতার মূল উতস তাদের কাছে যান। সব খুলে বলেন, কোনই অসুবিধা নাই। এজায়গায় পাবলিক সব বুঝে। কোন দোষটা খাটো করে দেখতে হবে বা কোনটা প্রধান করে বা কোনটা তখনকার মত মাফ করে দিতে হবে ইত্যাদি সব পরিস্কার বুঝতে পারে পাবলিক – একেবারে আম-আদমি মাঠে বা শহরের যারা ওয়ার্কিং ক্লাস – এরা এজায়গায় সব বুঝতে পারে।
    কাজেই সৎ ভবাবে তাদেরকে খুলে বললে তারা সবসময় সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়ে থাকে; ইতিহাসও তাই বলে।  ফলে বিএনপি (সাথে জামায়াতও) তাদের উচিত অবস্থান হতে হবে একমাত্র জনগণের কাছে সারেন্ডার। অন্য কারো কাছে নয়। অনেকে মনে করতে পারে আপনার শত্রুরা এটা নিয়ে মাতম তুলবে তখন কী হবে? আমি মনে করি কিছুই হবে না। আপনি প্রতিশ্রুতি দেন, পাবলিকের মনে বিশ্বাস জন্মানোর মত করে ব্যাখ্যা করেন আপনাদের কিছুই হবে না। বিশেষ করে যখন আপনি দেখাতে পারবেন যে আপনার আরেক ভুয়া আত্মঘাতি বিকল্প ছিল আপনার ভারতের কাছে যাওয়া কিন্তু আপনি যান নাই।
    কারণ,  ভারতের কাছে নিজের দুর্বলতা তুলে ধরে প্রকাশ করে তাদের অধীনে তাদের পায়ে চুমা দিয়ে তাদের খেদমতে তাদের স্বার্থে দেশের স্বার্থ বেচে দেন নাই।  নিজের দুর্বলতা তুলে ধরে প্রকাশ করে ভারত যেন এনিয়ে দেশ-বিদেশে কথা ছড়িয়ে না দিয়ে আপনাকেই যেন ক্ষমতায় ফিরে আসার ব্যবস্থা করে দেন – এই চিন্তা, এই অবস্থান বা কথিত রাজনীতি  দেখিয়ে আপনি আবার কোন চোরের ক্ষমতা তৈরি করতে চান এটা কখনই সৎ ও বাস্তবোচিত পদক্ষেপ হবে না। তাহলে তো হাসিনা টিকেই যেন এভাবেই!!!  কোন মানুষ কারো হাতে ব্ল্যাকমেলের স্বীকার হয়ে তা রেখে দিতে পারে না। এর চেয়ে মৃত্যু হাজার গুনে শ্রেয়! ভারতের অনুগ্রহের ক্যাম্পে যাওয়া মানে  নিজের দুর্বলতা/ভুল তাদের হাতে তুলে দেওয়ার সোজা মানে যারা আপনাকে একপর ব্ল্যাকমেল করবেই আপনি জানেন তাদের হাতেই নিজেকে সঁপে দেওয়া। আপনার কোন বিশেষ মুর্হুর্তের একান্ত পারসোনাল ছবি আপনি কারো হাতেই তুলে দিতে পারেন না। আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি আমরা এভাবে এরপর আজীবন ব্ল্যাকমেলার দের কব্জায় থেকে যাবো।  তাই একমাত্র বিকল্প  ও সোজা রাস্তা হল নিজ জনগণের কাছে যাওয়া।

    কিন্তু বিএনপি ইতোমধ্যেই অনেক দুরেঃ
    কিন্তু বিএনপি ইতোমধ্যেই সে পথে অনেকদুর আগিয়ে গেছে। বিশেষ করে কিন্তু মির্জা ফকরুলকে সামনে দিয়ে তার মুখ দিয়ে বিএনপির মুখ্য নেতারা যা করে ফেলছেন তা ভারতের আধিপত্য ঢেকে আনার পথে অনেকদুর চলে যাওয়া। বিশেষ করে মির্জার  দুইটা কাজ; এক. “আপনারা ভাবতে পারেন ………..” – বলে প্রতারকের আবেগ তুলে যে বক্তৃতা আর দুই. প্রায় ২১ টা রাজনৈতিক দলকে (যারা হবু সংসদের এক-আধটা সদস্য আকাঙ্খীরা সহ যারা ভারত তাদের ক্ষমতায় বসিয়ে দিবে বসে ক্ষমতার স্বপ্ন দেখছে, বিভোর হয়ে গেছে ) সাথে  নিয়ে প্রতীকীভাবে বললে – যার সামনে প্রথম আলো [এটা নাকি এক স্বাধীন সংবাদপত্রের উদাহরণ] আর পিছনে মোদি / র-এর হাত রাখা আছে – এভাবে বাংলাদেশের মেজর রাজনৈতিক দলকে সংগঠিত করে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া।  এতাই আগামিদনের ইতিহাসে এই কালপর্বকে কিভাবে আঁকা হবে সেটারই চিত্র হয়ে গেছে।
    তবে এসব ঘটানার শেষপর্ব এখনও মঞ্চে আসে নাই। যেমন, বিএনপি কী আগামিতে ও বাস্তবে এই অবস্থান কে সংশোধন করে নিয়ে চাইলেই নয়া বিএনপি হয়ে উঠে আসতে পারবে? অথবা কতটা সংশোবিত হয়ে উঠতে পারবে? নাকি আর এমন কিছুই করার সব পথ তারা নিজেরাই বন্ধ করে ফেলেছে ইতোমধ্যেই? এসবই real বা বাস্তবের মাঠে ও সময়ে হাজির কী করে হয় তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। যদিও আমার ব্যক্তিগত ফিলিং হল সব শেষ ও ফাইনাল! গত দুদিন যতজন বড় নেতার সাথে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি মানে তাদের ভাবনা বুঝাবুঝি জানতে পেরেছি তাতে  মনে হয়েছে তারা আর ফিরতেই পারবেন না!  ডিল ডান!!!

    কিন্তু আজকে এলেখার প্রসঙ্গ বাড়তি আরো কিছু, মানে উপরের কথাগুলোরও বাইরেঃ
    বাড়তি প্রসঙ্গটা কী?
    নিচের ভিডিও টা সবার আগে দেখে নিতে পারেন।

    ভারত থেকে পানির নায্য হিস্যা নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক আদালতে লড়াই হবে: তারেক রহমান | BNP

    সাদা চোখে শিরোনাম বা ভিডিও দেখেও মনে হতে পারে যে, আরে, এটাই তো বিএনপির জন্য সঠিক লাইন!! কিন্তু এটা আপতিক। মানে আপাতত অর্থে হয়ত এসব কথা সঠিক! কিন্তু গুঢ় দিক বলে আরেক দিক আছে। সেটা এখানে চাপা পড়ে যাচ্ছে।

    সোজাসাপ্টা একথাটার উত্তর খুজেন, আপনি যদি আপনার পানির হিস্যা এবং ন্যায্য হিস্যা চান তাহলে আবার একইসাথে  কী আপনি  ভারতের সাথে নুন্যতম কোন আপোষ,  ভারতের অধীনে থেকে তাদের তুলে দেওয়া ক্ষমতায় আসীন হওয়ার চিন্তা করতে পারেন?

    আসলে এই হচ্ছে, নিকাহ আর তালাক একসাথে  করার চিন্তা।  অর্থাৎ এগুলো হল, অর্থহীন চিন্তা; কারণ আগের চিন্তা-অবস্থানের সাথে পরের চিন্তা-অবস্থান যে মিল হচ্ছে না সেদিকটা আমল না করে কথা বলার বোকামি!

    এরপরেও আরেকটা তথ্য দেইঃ
    এখানে পাবেন ইমিডিয়েট সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান কী হবে – সে সংক্রান্ত ধারণা।
    আমি সবসময় পাঠক তো বটেই রাজনৈতিক নেতা, নীতি-অবস্থা নির্ধারকদেরকে বলি পড়াশুনা করতে। আপনাদের সময় ও এক্সপার্ট-বোধ নাও থাকতে পারে সেক্ষেত্রে ওস্তাদ পলিটিক্যাল বোধসম্পন্ন লোক ভাড়া করেন। তাতে সমাবেশে হাজার খালেক লোক কম হলেও এর ইমপ্যাক্ট বা বেনিফিট বেশি হবে।
    কিন্তু আবার সাবধান! যেমন মির্জা আলমগীর তিনি কিন্তু ইতোমধ্যেই এমন কিছুটা প্রাকটিস করে থাকেন! তাহলে সমস্যাটা ঠিক কোথায়? তবে তিনি মনে করেন দুনিয়ার ওস্তাদ পলিটিক্যাল বোধসম্পন্ন মানুষ মানেই হল কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলেরা। তাই তিনি কেবল কামাল নামের কমিউনিস্টদের কাছেই যান।  মানে যেতেন  যারা আবার সত্তর দশকের কমিউনিস্ট।  যারা মনে করেন বিএনপি তো একটা নির্বাচন-ক্ষমতার দল। তাই কোন রেডিক্যাল কাজ বিএনপির জন্য হারাম! তো রেডিক্যাল মানে? একেবারে অরিজিনাল মানে হল, আপোষহীন রাস্তার লড়াই-গণ আন্দোলন এগুলো তো বটেই এমনকি সময়ে সেমি-সশস্ত্র বা সশস্ত্র পর্যন্ত যেতে হবে যেয়ে বসবে।  এই কমিউনিস্টেরা আসলে এখন শুধু বাংলাদেশ না, সারা দুনিয়ার জন্য অভিশাপ! আল্লা আএদের যত তাড়াতাড়ি উঠায়ে নেয় ততই দুনিয়ার জন্য মঙ্গল!
    আচ্ছা তাহলে বলেন তো -কমিউনিস্ট মশাই-  আওয়ামি লীগ কী তাহলে রেডিক্যাল  বা বিপ্লবী দল? অথচ বিএনপির মতই (আপনাদের তুচ্ছ চোখে দেখা দল বিএনপি) বুর্জোয়া – নির্বাচন আর ক্ষমতার লোভের ‘নিচা’ দল কী আওয়ামি লীগও নয়????   তাহলে ১৯৭১ সালে সশস্ত্র যুদ্ধের নেতা আওয়ামি লীগ কী করে পারলো হলো???  মানে হল,  যা আওয়ামি লীগের বেলায় হালাল তা বিএনপির বেলায় হারাম,  কেন? এমন প্রগতিশীলতা ভাগাড়ে ফেলে আসেন আগে! এই পরামর্শ তিনি ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর (যেদিন খালেদা জিয়াকে বাসার সামনে বালির ট্রাক দিয়ে……) মির্জাকে দিয়েছিলেন। আর সেজন্য এই কমিউনিস্ট-পরামর্শ মির্জা আলমগীর শুনার পরে নেতিয়ে পরে শুয়ে গেছিলেন। আর এটাই মূল কারণ ঐ দিনের ব্যর্থতার। বহু প্রস্তুতি থাকার পরেও বিএনপি রাস্তাতেই নামে নাই।
    অতএব এখনকার জন্য মূলকথাটা হল, এই ঘটনা থেকে শিক্ষাটা হল,  ওস্তাদ পলিটিক্যাল বোধসম্পন্ন মানুষ অবশ্যই হায়ার করবেন; কিন্তু একটাই শর্ত উনাদের লেজ তুলে চেক করে নিবেন যে মানুষটা কমিউনিস্ট কিনা! হলে সটান বাদ দিতে হবে, এতাই একমাত্র ক্রাইটেরিয়া!

    তারেক জিয়া কথাগুলো বলেছিলেন, একটা সম্ভবত প্রাইভেট বিশ. এর আসরে। একাদেমিক জায়গা হিসাবে বক্তব্য হয়ত ঠিক! কিন্তু যখন আওপনার মাথায় ঢুকে গেছে যে ভারতের সাথে একটা রফা একটা আপোষরফা করেই আপনাকে ক্ষমতা পাবার পথ তখন – এই বক্তব্ব্য স্ববিরোধী বা কনফ্লিক্টিং!
    যেকথা বলছিলাম, আরেকটা তথ্য – এখনকার মোদি / র – এখন থেকে কোন অবস্থান নিয়ে বাংলাদেশের সাথে কথা বলবে দল অথবা সরকারের সাথে এধারণা তারা দিয়ে দিয়েছে ও তাদের প্রকাশিত সেই মনোভাব আছে বিবিসি বাংলার এক লেখায়। তা আমি আগে আলোচনা করেছি সে লেখার শিরোনাম ছিল  – ‘রোড ম্যাপ’ – আসলে কাদের দাবি? ভারতের! এখানে। আর ঐ পুরা লেখাটাই যে রেফারেন্সে লেখা সেটাই হল বিবিসি বাংলায় প্রকাশিত ভারতের পক্ষ থেকে লেখাটা। খুবই মজার শিরোনাম – বিবিসির,

    হিন্দু, হাসিনা, হতাশা : যে সব কারণে দিল্লি ও ঢাকার সম্পর্ক কিছুতেই সহজ হচ্ছে না

    এই লেখার সারকথা হল, ভারতের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে,
    ১।  ভারতের সাথে বাংলাদেশ সমান – এমন সমান মর্যাদা বোধ বা সমকক্ষতা – এটা মেনে কোন সম্পর্ক ভারত বাংলাদেশের সাথে করবে না।
    ২। তাই,  পানির হিস্যা এবং ন্যায্য হিস্যা এজাতীয় কোন ন্যায়  বা সমকক্ষতা এসব ধারণা ভারতের কাছে গ্রহনীয় নয়।
    ৩। ইতোমধ্যে ইউনুস সাহেব ভারতের সাথে পানির হিস্যা এবং ন্যায্য হিস্যা ইতোমধ্যে এসব কথা তুলে মিডিয়ায় বসে ফেলেছেন তাই ভারত ইউনুস সরকার কে স্বীকার করবে না, কোন ডিল করবে না।  আসলে সেই থেকে একারণেই এখন প্রতিদিন ভারতের আগ্রাসী স্টেপ প্রতিদিন বাড়ছে।

    এজন্যই ভারত দ্রুত নির্বাচনী রোড ম্যাপের পক্ষে সমস্ত পথে চাপ সৃষ্ট করে চলছে। যাতে নির্বাচিত বিএনপি-জামাত ইত্যাদি কেউ এসে গেলে ইউনুস ফেলে দিতে ভারত ন্যায়  বা সমকক্ষতা এসব ধারণা ভারত বাইরে রেখেই যেকোন ডিল বা সম্পর্ক করতে পারে।

    তাহলে, এখন এই মুহুর্তে তারেক জিয়ার

    এই বাক্যের প্রতিটা শব্দ বিএনপির ভারতীয় ইস্যুতে মির্জা ফকরুল কে দিয়ে বলানো আগের সব অবস্থানের সাথে কনফ্লিক্টিং।

    তাহলে????
    বিএনপিকে দ্রুত সতর্কতার সাথে এই দুরকম অবস্থান সংশোধন করে নিতে হবে। হয় ভারতের সাথে নিকাহ আর না হয় তালাক এক টাই করতে হবে। অপশন এতটুকুই। একসাথে দুটা করা যাবে না। ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের মধ্যে কোন ন্যায়  বা সমকক্ষতা এর জায়গা নাই।

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  ডিসেম্বর  ২০২৪
    শেষ আপডেটঃ      ২০২৪