Category: MODI

  • চীন-ইন্ডিয়া সম্পর্ক কী ঘনিষ্টতা দিকে; এর কী কোন ভবিষ্যত আছে?

    চীন-ইন্ডিয়া সম্পর্ক কী ঘনিষ্টতা দিকে? এর কী কোন ভবিষ্যত আছে?
    গৌতম দাস
    ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫   রাত ২৩ঃ ৪৩
    https://wp.me/p1sCvy-6wP

     

    A united front at Beijing’s massive military parade as Xi, Putin and Kim meet for first time

     

    শেষের কথাটা আগেই যদি বলি তবে এই শিরোনাম-প্রশ্নের ছোট জবাব হল, না। সম্পর্ককে গভীর ঘনিষ্ঠতা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া মোদির ইন্ডিয়ার পক্ষে সম্ভব হবে না। এত পিছনের মূল কারণ, ইন্ডিয়ার নিজ দোদুল্যমানতা। আসলে বলতে গেলে ইন্ডিয়া এমনই। যেমন তারা বলে বা মনে করে থাকে (সেই ২০১৩ সাল থেকে) যে চীন আর আমেরিকার মাঝে দোল খেয়ে কখনও চীন আর কখনও আমেরিকা এভাবে ভাব ধরে এদের দুদিক থেকেই মাখন খেয়ে যাওয়াই হবে ইন্ডিয়ার কৌশলগত নীতি। এটা তো তাদের ২০১৩ সালের সিদ্ধান্ত, যখন ইন্ডিয়া চীনে অনুষ্ঠিত প্রথম বেল্ট-রোড সম্মেলনে দাওয়াত পেয়েছিল, কিন্তু অংশ না নিয়ে নিজেদের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল; তখন থেকেই ইন্ডিয়া এরকমই দায়দায়িত্বহীন সুবিধা চোষা! ঠিক এ কারণেই এখনকার ট্রাম্পের শুল্ক-বোঝায় পর্যুদস্ত ও মার খাওয়া ইন্ডিয়া এতকিছুতে নাস্তানাবুদ হয়েও আবার ইতোমধ্যেই ওই ট্রাম্পের কোলেই ফিরে গিয়ে আবার আশ্রয় খোঁজা শুরু করেছে; আর তাতে বলাই বাহুল্য, এতে এই ইন্ডিয়া এখন চীনের আস্থা অর্জন পর্যন্তই উঠতে পারছে না, পারবে না।

    এবার আস্তে আস্তে ঘটনাবলির ভিতরে প্রবেশ করা যাক। এটা একদম ঠিক যে এখন চীন- ইন্ডিয়া সম্পর্ক-ঘনিষ্ঠতা নিয়ে মিডিয়ায় আলোচনা তুঙ্গে। এর একটা অন্যতম কারণ হল, ঠিক এখনই এবারের বার্ষিক SCO এসসিও (সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন) সম্মেলনের সময়কাল এটা। ফলে  ট্রাম্পের আমেরিকার  সদ্য ছুড়ে ফেলে দেওয়া মোদির ইন্ডিয়াকে, একেও চীন এবারের এসসিও-তে আন্তরিকভাবেই দাওয়াত দিয়ে কাছে ডেকে নিয়েছিল।

    পাশাপাশি সেই সঙ্গে এই ট্রাম্পও প্রায় সব দেশের ওপর কঠোর শুল্কনীতি প্রয়োগ করেছেন। শুরুতে তা চীনের ওপর ছিল সবচেয়ে বেশি। তিনি চীনকে শুল্ক-আরোপ করে পর্যুদস্ত করে ফেলার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু তাতে বাস্তবে ফলাফল উল্টা আসায় আর সঙ্গে আমেরিকার নিজস্ব সরকারি বন্ড বিক্রির ক্রেতা সংকট বা বাজারে ক্রেতা উধাও হওয়া শুরু হতেই ট্রাম্পকে পিছে হটতে হয়। তিনি বাধ্য হয়ে গত জুন মাসেই অনেক ইস্যুতে সরাসরি চীনের সঙ্গে এক ধরনের আপস করে ফেলেন।

    অনুমান করা যায়, এ ঘটনা থেকেই চীন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবারের এসসিও সম্মেলনটি বিরাট জাঁকজমকপূর্ণ এক সামরিক শো-আপ করে করবেন!


    SCO তে এবার সামরিক শো-আপ কেনঃ
    অনেকেই খেয়াল করেছেন যে এই সামরিক শো-আপে সম্ভবত ২৬ দেশের প্রধান ব্যক্তিত্বদের (রাষ্ট্রপ্রধান নয়ত প্রধান নির্বাহী প্রধানমন্ত্রী অথবা ন্যূনপক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের) একটি দলকে সঙ্গে নিয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি হেঁটে যাচ্ছেন, যার দুপাশে হাঁটছেন একদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন আর অন্যদিকে উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম-জং-উন!

    এসবের মধ্যে আরেক বৈশিষ্ট্য ছিল প্রেসিডেন্ট শির ‘পোশাক’। তিনি পরেছিলেন কমিউনিস্ট পার্টির বিশেষ ড্রেস, যেটা মাও – কেই সবসময় পরতে দেখা যেত। প্রেসিডেন্ট শি একালে নিয়মিত নরমাল পোশাক পরলেও সেদিন ছিলেন একেবারেই পার্টি ড্রেস-কোডে সজ্জিত! এসব থেকেই পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল, বিশেষ ‘অর্থ ও প্রতীকের’ মাধ্যমে এবারের এসসিও সম্মেলন পালন করার পরিকল্পনা নিয়েছিল চীন।

    গত বিশ বছর চীন সামরিক দিক থেকে কী কী খাতে ব্যাপক অর্থ ব্যয় করে নিজেকে সজ্জিত করে চলছিল তা জনসমক্ষে আনেনি; এদিনটা ছিল আসলে সেটারই প্রদর্শনী ও মহড়া। যে মহড়ায় আবার বেশির ভাগ অস্ত্র-সরঞ্জামই হলো নিউক্লিয়ার এনার্জি-সংশ্লিষ্ট!

    এখানে একটা কথা আশা করি অতি-উক্তি হবে না যে, এর ফলে এসসিও পারমাণবিক অস্ত্রের প্রদর্শনীতে পরিণত হয়েছিল ওদিনে। কিন্তু এমন কেন? বিশেষ করে অনেকেরই অজানা হয়ত যে চীন-চীন সাগর/দুই কোরিয়ার উপকূল এলাকাকে অ-পারমাণবিক জোন হিসাবে ঘোষণা করা যায় কিনা এরই একক প্রস্তাবক হল চীন নিজেই!

    তাহলে এখানে এমন চীনা আচরণের ব্যাখ্যা কীঃ
    মনে রাখতে হবে, কোনো রাষ্ট্রের অন্য রাষ্ট্রের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপ (যেখানে গ্লোবাল অর্থনীতির নয়া একালের অভিমুখ হল শুল্ক কমানো, ৮ শতাংশের মধ্যে রাখা) মানেই এটা হল আন্তঃরাষ্ট্রীয় বাণিজ্য যেটা আসলে গ্লোবাল বাণিজ্যের বিকাশ মেন-স্ট্রিম অভিমুখ সেটাকে পাথর চাপা দিয়ে গ্লোবাল বাণিজ্যের আমদানি-রপ্তানির পিঠে সরাসরি ছুরিকাঘাত! যেটা অর্থনৈতিক সংরক্ষণবাদিতা বা অর্থনৈতিক উগ্র-জাতীয়বাদিতা! সর্বোপরি এটা আত্মঘাতী! গত ১৯৮০ সাল থেকে পথচলা শুরু এই বৈশ্বিক বাণিজ্যব্যবস্থায় এখন আর পিছনের দিকে ফেরা বা যেটা অর্থনৈতিক উগ্র-জাতীয়বাদিতা সেদিকে গন্তব্য ঠাউরানোর আর সুযোগ নেই। এতে সবার আগে নিজ রাষ্ট্রের অর্থনীতিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে সবচেয়ে বেশি!

    ট্রাম্পের বাড়তি শুল্কনীতির খাঁড়া – প্রত্যক্ষ অর্থ এটাই! যদিও ট্রাম্প ভাবছেন, আমেরিকাকে ছাড়িয়ে শীর্ষ উদ্বৃত্ত অর্থনীতির দেশ হিসাবে উঠে আসা চীনের অগ্রগতি এভাবেই তিনি ঠেকায় দিতে পারবেন! অথচ তিনি খেয়াল করছেন না, আমেরিকার পিছিয়ে পড়া বা একঘরে হয়ে যাওয়ার পথেই হাঁটছেন তিনি!

    আর এ থেকে চীনের অনুমিত ভয় হল, ট্রাম্প হেরে গিয়ে শেষে পাগলামি করে না  যুদ্ধ লাগিয়ে দেন; অথবা ব্যর্থতা ঢাকার অন্য কোন ব্যর্থ চেষ্টা!

    ফলে আমার অনুমান পাগলা ট্রাম্প যেন সেদিকে যেতে প্ররোচিত না হয়ে যান, তাই আগেই চীন নিজ সামরিক প্রস্তুতির প্রদর্শন করে রাখলেন। বিশেষ করে চীন যেন বোঝাতে চাইল, সামরিক দিক দিয়ে ট্রাম্প ও তার সহচররা পরিচালিত হতে যেন উৎসাহী না হয়ে যায়। আর সেটারই একটা কসরত – এক ইনডাইরেক্ট ফ্রি কিক – যেন মেরে রাখল চীন! যেমন প্রেসিডেন্ট শি নিজের দুপাশে রাশিয়া আর উত্তর কোরিয়া নিয়ে দলবদ্ধ হাঁটার প্রতীকী অর্থ আমার কাছে এমনই মনে হয়েছে। যারা দুদেশ মূলত পারমাণবিক দিক থেকে খুবই সামরিক সজ্জিত!

    এক কথায় এর প্রতীকী সম্ভাব্য উদ্দেশ্য হল, পাগলা ট্রাম্পকে ডিসকারেজ (নিরুৎসাহিতার প্রভাব) করে ফেলা!

    এবার এই আলোচনার দ্বিতীয় অংশঃ
    অথচ চীন সেই সম্মেলনে ভারতকেও আদর করে ডেকেছিল আর তাতে গলে গিয়ে দীর্ঘ সাত বছর পরে এই ওছিলায় খোদ মোদি এবার চীন সফরে গিয়েছিলেন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট শির ওই দলবদ্ধভাবে প্রতীকী হাঁটার মিছিলে শির আশপাশে মোদির স্থান হয়নি।

    বরং বিপরীত পর্দার কথা আমরা এখন জেনে গেছি। আমরা দেখেছিলাম মোদির বাণিজ্যমন্ত্রী পীযুষ গোয়েলকে! কী করেছেন তিনি?

    নভেম্বরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি, ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী

    তিনি আমাদের জানিয়েছেন, ট্রাম্পের সঙ্গেই ইন্ডিয়ার শুল্ক আলাপ নাকি এখনো চলছে। আর তিনি আশা করছেন, মোদির ইন্ডিয়া আবার সেই ট্রাম্পের কোলেই মুখ গোঁজার পরিকল্পনা করছে। আর তাতে তিনি দাবি করেছেন, নভেম্বরের মধ্যেই আমেরিকার সঙ্গেই আবার একটা রফায় পৌঁছাতে পারবেন!

    এই হলো ভারতের মোদি! তিনি ট্রাম্পের কোলে উঠে যাওয়ার ভয় দেখিয়ে চীনের কাছে সুবিধা চাইবেন, আবার পরক্ষণেই চীনের কোলে উঠে যাওয়ার ভয় দেখিয়ে ট্রাম্পের কাছে সুবিধা ভিক্ষা করবেন। এভাবেই তিনি এখনো চলতে চান, এটাই আসল ইন্ডিয়া! গত ২ সেপ্টেম্বর ভারতের ‘ফরচুন ইন্ডিয়া’ পত্রিকার রিপোর্টের শিরোনাম পীযুষ গোয়েল আশা করছেন, আগামী দুমাস নভেম্বরের মধ্যে ট্রাম্পের সঙ্গে একটা রফাতে নয়া শুল্ক-চুক্তিতে পৌঁছানো যাবে!

    কিন্তু বাস্তবতা কি তাই হবে? মনে হচ্ছে না। মূল কারণ এটা ২০১৩ সাল নয়, ২০২৫ সাল! চীন-আমেরিকা দুদিক থেকেই সেকালের মতো মাখন খেয়ে ভারত উপরে উঠে যাবে – সেই তত্ত্ব, এখন আর এত সহজে খাটবে না। এটারই প্রথম প্রতিফলন হল,

    মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রীর ‘ভারত দুই মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষমা চাইবে’

    আর দ্বিতীয়তঃ
    প্রেসিডেন্ট শি দুপাশে পুতিন আর কিমকে নিয়ে হাঁটছেন অথচ আশপাশে মোদির কোনো ছায়াও দেখা যাচ্ছে না- এই প্রতীকী দৃশ্যে!

     

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   ১১  সেপ্টেম্বর ২০২৫    রাত ১১ঃ ৫৪

    [এই লেখাটা এর আগে প্রথম ভার্সানে ছাপা হয়েছিল দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় আমারই লেখা এক কলাম হিসাবে, গত ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫।  আজ এখানে সে লেখাটারই  আরেক বর্ধিত এক নয়া এডিটেড ভার্সান এখানে আমার নিজ সাইটে ছাপা হল। বলাই বাহুল্য এখানে শিরোনামটাই শুধু নতুন নয় বরং এমন অনেক প্রসঙ্গই নয়া এখানে যোগ করা হয়েছে যেটা পত্রিকার ভার্সানে ছিল না। আসলে পত্রিকার কলাম ভার্সান মানে যেটা যুগান্তরের এডিটরিয়াল পলিসি সঠিক মনে করে সেই ভার্সান; এভাবে দেখাটাই সঠিক হবে। আর তুলনায় এটা আমার নিজ পরিবর্ধিত-এডিটেড ভার্সান মনে করলেই সঠিক হবে বলে আমার বিশ্বাস! ]

  • পড়াশুনা না করা রাজনীতিবিদ এর দিন শেষ!

    পড়াশুনা না করা রাজনীতিবিদ এর দিন শেষ!
    গৌতম দাস
    ২৫ আগষ্ট ২০২৫
    https://wp.me/p1sCvy-6vT

    যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাণিজ্য যুদ্ধ বিশ্বে প্রভাব

    বোমা ফেটেছে! কিন্তু তবু হুঁশ নাই!
    শত প্রমাণ দিলেও বিশ্বাস করে নাই একদল লোক / রাজনীতিবিদ যে, বাংলাদেশের উপর ইন্ডিয়ান আধিপত্যের দিন আর নাই, সেসব নাই হয়ে গেছে। কিন্তু মনের বাঘ থেকে গেছে।  আর সেই সাথে ট্রাম্পের আমেরিকা আর ইন্ডিয়াকে বরকন্দাজ রেখে ও থাকার জন্য বিশেষ সুবিধা দিয়ে বিনিময়ে বাংলাদেশের উপর ইন্ডিয়ার প্রভাব বিস্তারের কারবার আর করবে না, এসবও ছেড়ে  দিয়েছে অনেক আগেই।  কখন থেকে? নিশ্চিতভাবেই  এক. হাসিনার উতখাত আর দুই. ট্রাম্পের নয়া শুল্কনীতি প্লাস অন্যান্য কিছু নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ক্ষমতায় আসীন হবার পর থেকে অন্তত!

    কিছু পরগাছা পোকা আছে ‘এটুলি’ বলে আঞ্চলিকভাবে, এরা পশুর গায়ে লেগে থাকে সহজে খসে বা ঝড়ে পরে যায় না, লেগেই থাকে আর রক্ত চুষতে থাকে। “ইন্ডিয়ান প্রভাব বাংলাদেশের উপর থেকেই আছে ফলে ইন্ডিয়াকে তেল মেরে চলতে হবে” – এই হল সেই এটুলি ধারণা!  এমন ধারণা-মনের কিছু রাজনৈতিক নেতা ও তাদের দল বাংলাদেশে আছে যেমন বিএনপি আর জামায়াত! এদের দলের উপর এটুলি হয়ে লেগে থাকা ধারণা আছে তাদের মনে যে, ইন্ডিয়ার কোলে উঠে বসে থাকতে হবে এই চিন্তা পয়দা হয়ে আছে সেখানে। এমন ধারণার সবচেয়ে বড় হয়ে লেগে থাকা রাজনীতিবিদ হল এখন বিএনপির তারেক জিয়া আর জামায়াত এর টপ তিন নেতা; সাথে অবশ্য কমবেশি আরো অনেকেই আছে। আর ওদিকে ঠিক একই ভাবে আছেন মোদি সাব  – যিনি ভেবেই গেছেন যে উনি “এখনও রাজা আছেন” –  বাংলাদেশের উপরে এই ভাব ছড়িয়ে বসে থাকা ব্যক্তিটা ছিল (ছিল বলতে হচ্ছে কারণ তিনি নিজেই এখন জেনে গেছেন তিনি আর নাই ) নরেন্দ্র মোদি।  ট্রাম্পের নির্বাচনের আগে থেকেই মোদি এবং সাথে হাসিনাও বিরাট আশা নিয়ে ট্রাম্পের জিতা দেখতে বসে ছিলেন যে এবার তাদের আকাঙ্খী বরপুত্র ট্রাম্প জিতে আসতেছেন। উনি এলেই মোদি বাংলাদেশের উপর হারানো সাম্রাজ্য বা আধিপত্য ফিরে পাবেন ফলে ইউনুসকে দেখায় দিবেন, উপড়ে ফেলবেন ইত্যাদি!
    এই আওয়াজ এতই তীব্র ছিল যে হাসিনাও তারা চোরা অনুসারীদের মনোবল বাড়াতে একই সুরে গান ধরেছিলেন যে, ট্রাম্প ক্ষমতায় এলে পরে লীগ ও হাসিনার চোর গংদের ভাগ্য আবার খুলবে! তারা নাকি আবার  বাংলাদেশের ক্ষমতায় ফিরে আসবে!!!!!

    কিন্তু হায় দিন আর কাটে না, তাদের প্রবল কামনার আকাঙ্খাও সত্য হয় না! ফলাফল? ফলাফল নিম্নচাপ!!!  ট্রাম্প ক্ষমতায় আসীন হবার পর আমাদের এ-অঞ্চল থেকে ট্রাম্পের প্রথম ভিজিটির হন মোদি কারণ, তিনি আর ধৈর্য রাখতে পারছিলেন না। কিন্তু ফলাফলে তাতেই ইন্ডিয়ার সব স্বপ্ন-আকাঙ্খা ভেঙ্গে পড়া শুরু হয়ে যায়। মোদি তবু বিশ্বাস করতে পারছিলেন না এই ভেঙ্গে পড়া নিজ চোখে দেখেও। ততোধিক দুরবস্থা তার সাঙ্গপাঙ্গোদের এমনকি তাতে লীগ / হাসিনারও!

    সবশেষ একেবারে মুকখে মারা বোমাঃ
    সবশেষে ট্রাম্প একলাই নিজ-ফয়সালা ঘোষণা  করে দেন যে আমেরিকায় ইন্ডিয়ান রপ্তানির উপর ধার্য শুল্ক হবে ৫০%। এই হল সেই মুকখে মারা বোমা!!!
    কারণ এবার আর ট্রাম্পের আমেরিকার ইন্ডিয়ার প্রতি নীতি-মনোভাব আর মোদি থেকে লুকায় রাখার সুযোগে থাকলেন না, মোদি সবটাই হারালেন। ট্রাম্পেরও সব উদাম হয়ে গেল!

    গত ২০০৬ সালে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট (বাবা বা সন্তান বুশ) জর্জ বুশ কংগ্রেসের আমলে ইন্ডিয়া সফরে এসেছিলেন। গত শতকের ষাটের দশকের পর্‌ কোন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট সেই প্রথম এসেছিলেন ইন্ডিয়াতে। আর সেই থেকে শুরু হয় ইন্ডিয়ান রুস্তমি, বাংলাদেশের উপর চোটপাট আর আধিপত্য নিয়ে জেঁকে বসবার খায়েস ও ততপরতা!  – মুই কী হনু রে! চিনস আমারে!!! – টাইপের হম্বতম্বি!
    পরে এসবের হাত ধরে আমাদের উপরে এসেছিল কুখ্যাত ১/১১!  ফলে আরো রুস্তমি ইন্ডিয়া-রাজ কায়েম করে ছেয়ে ফেলা!! আর তা ইন্ডিয়ান র-এর একেবা্রে বাংলাদেশের সেনা সদরে বসে অফিস খুলে বসা পর্যন্ত ঠেকেছিল! আর কী লাগে?
    আর এতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ দল কে ছিল বা কী হয়েছিল অর্থে, সেটা ছিল বিএনপি আর সেই সাথে ততোধিক খারাপ অবস্থায় ঝড় বয়ে যাওয়া অবস্থার দল জামায়াত – এই দুই দল! সাধারণ ভাবে অবশ্য ইসলামি দল মাত্রই এই দুর্দশায় পড়েছিল!!

    অথচ সেই বাংলাদেশের সেনা সদরে জেঁকে বসা ইন্ডিয়ান র ও বসানোর কারিগর হাসিনা সমুলে উতখাত হয়ে গেল ৫ আগষ্ট ২০২৪ সালে।  কিন্তু তবুও এদুই দল তারেকের বিএনপি আর জামায়াত এখন আরো জোরে সরে সেই ক্ষতবিক্ষত ইন্ডিয়ার ধরেই ক্ষমতায় যেতে হবে বলে আরো শক্ত বিশ্বাসে বসে আছে!! জামায়াত নিজ ঘাড়ের উপর “প্রামাণিকের হিন্দু জোট” কান্ধে নিয়ে হাঁটছে তো হাঁটছেই!  এ কোন তামাসা? সব তামাসাই তামাসা!!!  নাকি মোদির এক ক্যাশিয়ার গৌতম আদানির অর্থ কী এতই সুস্বাদু বা ক্ষমতাবান????
    যার মানে হল, যে তাঁকে গুষ্টিশুদ্ধ তছনছ করে দিল, বউ-সন্তান নিয়ে গেল তাকেই বিএনপি-জামায়াত ভক্তিভরে সালাম দিচ্ছে শুধু না তারই কোলে উঠে আশ্রয় খুঁজছে!!!! কেন?
    এছাড়াও, সর্বশেষ অবশ্য অল্প কিছু জেনারেলও এই পথে! তাদেরকেও মোদির বরকন্দাজ হতেই হবে! হাসিনা নাই তাই নিজেদেরকেও এগিয়ে এসে খেদমতে লাগতে হবে!

    একেবারে মূল কারণ পড়াশুনা না করা রাজনীতিবিদ এরাঃ
    একালের মানে চলতি শতকের [২০০১ +……] শুরু থেকেই দুনিয়া আর আগের মত নাই। অবশ্য এটা সবাই দেখতে পাবে না যদি না এনিয়ে পড়াশুনা কিছু থাকে! এর গোড়া বা রুট-ফ্যাক্টস হল – গ্লোবাল রাজনীতি আর গ্লোবাল অর্থনীতি নতুন করে মোঁচড় নিয়েছে, ১৯৪৫ সালের পরে আবার। যদিও আসলে সেখানে মূল নিয়ামক হল কেবল – গ্লোবাল অর্থনীতি – আর তাথেকে অনুষঙ্গ হিসাবে গ্লোবাল রাজনীতিও সাথে এর সব পুরানা নিয়মকানুনও! আর এদিকটা বুঝতে গেলে এবার পড়াশুনা লাগবেই! এককথায় বললে  পড়াশুনা না করা রাজনীতিবিদ এই চলতি শতকে একেবারে অচলই হবে!!! এমনকি শুধু রাজনীতিবিদই না নিজেকে বড় মনে করা সব একাদেমিশিয়ান / অধ্যাপকও অচল হবে!
    বিএনপি ও জামায়াত এই দুইটা দলই এমন অবুঝের ফাঁদ পড়েছে!  বলে বুঝিয়ে দিলেও বুঝতে পারছে না।
    শুধু তাই না; অবস্থা এখন এরকম যে এতদিন “কট্টর চীনবিরোধিতা দেখিয়ে চলা” খোদ মোদিই এখন চীনের কোলে উঠে বসেছে!   কিন্তু এসব দেখেও তারেক বা তাহের দের হুশ আসছে না!  আসলে তারা কিংকর্তব্যবিমূঢ়! কী করার আছে কী করতে হবে কিছুই বুঝছে না!  এমন অবস্থায়!

    তাহলে রাজনীতিকদের পড়াশুনা বলতে ঠিক কী বুঝাতে চাইছিঃ
    এর সোজা মানে হল, সরাসরি এখনকার চীন ও আমেরিকান প্রেসিডেন্টের নীতি-পলিসি খুঁটিয়ে রিড করার যোগ্যতা। বিশেষতঃ ২০১৩ সাল থেকে চীনের সবকিছুর নীতি-পলিসি! মনে রাখতে হবে চীন আবার তার এমন সমস্ত পলিসিওগুলো সাজিয়েছি কিন্তু খোদ আমেরিকাকে দেখে – অন্তত ১৯৪০ সালের পর থেকে উত্থিত গ্লোবাল নেতা আমেরিকাকে দেখে স্টাডি করে! যাই হোক, নীতি-পলিসি খুঁটিয়ে রিড করার যোগ্যতা – যেটা বলেছি সেটা মিনিমাম! আর সবচেয়ে ভাল হবে যদি  ১৯৪০ এর দশক থেকে আমেরিকান নিজ গ্লোবাল উত্থান  সম্ভব হওয়ার পিছনে কী শক্তি কাজ করেছিল সেটার একটা কম্পিলিট স্টাডি আর বুঝাবুঝি সমাপ্ত করতেই হবে। এখানে মনে রাখতে হবে, আজকের চীন নিজ রাষ্ট্রীয় সমস্ত নীতি-পলিসি ঠিক করার জন্য এই স্টাডি আর বুঝাবুঝি গবেষণাতেই অন্তত ১০টা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা সেন্টার খুলেছে। যাদের সংগৃহিত বুঝাবুঝি এটাই তারা নিজ দেশের পার্টিকে (চীনা ব্যবস্থায় তাদের কমিউনিস্ট পার্টিই সর্বসর্বা) সরবরাহ করে যাচ্ছে যাতে শি জিন পিং এবং সংশ্লিষ্টরা নিজ রাষ্ট্রের জন্য সঠিক নীতি-পলিসি ঠিক করতে পারে। এজন্য তারা অনুমান করে ফেলতে পারে আগাম যে আমেরিকান এরপরের পলিসিগুলো কেমন হতে পারে আর সেক্ষেত্রে চীন রাষ্ট্র কী সিদ্ধান্ত নিবে!!!
    যাই হোক, আমার এখানে সারকথাটা হল,  আমাদের রাজনীতিবিদ / একাদেমিশিয়ানদেরে এনিয়ে পড়াশুনায় প্রবেশ করতে হবেই পুরানা সব চিন্তা ঝেড়ে ফেলে –  যাতে গ্লোবাল এই চেঞ্জ বা পাস ফিরে শোওয়ার মত পালাবদলের এই কালে চীন-আমেরিকান প্রভাব / সিদ্ধান্তের প্রভাব বাংলাদেশের উপর কেমন হবে তা আন্দাজ / অনুমান করতে পারতে হবেই। এটা লাগবেই, এছাড়া নেতৃত্ব অচল হবেই! নেতা নিজে না পারলে অসুবিধা নাই যোগ্য-দক্ষ লোক ভাড়া করেন! কিন্তু নিজের মফস্বলি আন্দাজ দিয়ে পথ চলার দিন শেষ হয়েছে! একথা আমি নিজে অনেক বড় বড় টপ নেতাকে সরাসরি বলেছিও! মনে হয় না তাদের গায়ে লেগেছে বা  নুন্যতম কিছু বুঝেছেন! আসলে আমার কথা থেকে তাঁরা কী আমল করেছেন তা তাদের ততপরতা দেখেই বুঝা যায়!
    মূলকথাটা হল এটা তাদেরকে নিজেই বুঝতে হবে!  দু-একটা মাথুর টাইপের বড় র-এর এজেন্ট ধরা বা খাতির রেখে কোনই কাজ হবে না।

    আচ্ছা র-এর কথা থাক! খোদ মোদির অবস্থাই দেখেন!
    এবার ট্রাম্প যখন অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের নীতি নিয়ে  মোদির সাথে কথা চলেছে বা তুলেছেন তখন মোদির ব্লান্ডার বা মস্ত আকামটা লক্ষ্য করেন!
    মোদি ছুটে গেলেন রাশিয়ার পুতিনের কাছে। অজিত দোভালকে পাঠালেন। আর তাতে পুতিন একটা বিবৃতি দিলেন মোদির পক্ষে, আর ট্রাম্পের বিপক্ষে! বোকা মোদি হাততালি দিয়ে উঠলেন! কারণ,  পুতিন বলেছিলেন, কোন দেশ কার থেকে বা অন্য কোন দেশের মালামাল বাণিজ্যে সামিল থেকে কোথা থেকে কত মালামাল আমদানি-রপ্তানি করবে সেটা তার স্বাধীন সিদ্ধান্ত! এখানে ট্রাম্প অন্য রাষ্ট্রকে ফাঁদে ফেলে জোর খাটিয়ে কেনা-বেচা করতে বাধ্য করতে পারেন না।  মানে পুতিন বলতেছিলেন, ইন্ডিয়ার রাশিয়ার উপর আমেরিকার অবরোধে ভেঙ্গে সস্তার তেল কিনাটা জায়েজ ছিল।
    কিন্তু তাতে কী হল? পরিণতি কী? ইন্ডিয়ায় সস্তায় রাশিয়ান তেল কিনে তা আবার পরিশোধন করে রপ্তানি করার কথাটা সারফেসে আলোচনার টেবিলে এবার সরাসরি উঠে এল!  আর তাতেই ট্রাম্প  এবার ইন্ডিয়ার রাশিয়ান তেল কেনা – আমেরিকান ডলার /বাণিজ্য অবরোধ ভেঙ্গে কিনার অভিযোগে মোদির উপর বাড়তি শুল্ক ৫০% এ নিয়ে ঠেকিয়ে দিলেন!
    এখন গ্লোবাল আইনগত দিক থেকে দেখলে ইন্ডিয়া অবশ্যই স্বাধীন  আর আমরা সবাই তা মানব যে, সে কোন দেশ থেকে কী আমদানি-রপ্তানি করবে এটা ইন্ডিয়ার সার্বভৌম সিদ্ধান্তের ব্যাপার। আর এতে কেউ চাপ দিলে সে অন্যদিকে মানে অন্য দেশের দিকে যেদিকে বেশি সুবিধা পাবে চলে যাবে! কিন্তু সাথে এর বিপরীত কথাটাও আছে। আমেরিকার ট্রাম্প তিনিও তো স্বাধীন – তিনিও তাঁর ক্রেতা কোন দেশের উপর কী শুল্ক ধরবেন এব্যাপারে স্বাধীন! অর্থাৎ মূককথাটা হল, স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ইত্যাদি রাজনৈতিক অধিকারের কথা তুলে দুই রাষ্ট্রের এই স্বার্থদ্বন্দ্বের কোন ফয়সালা নাই, হবে না।
    কিন্তু এতে নিট যেটা পরিণতি হবে সেটা হল, অন্তত ১৯৮০ সাল থেকে চালু ও গড়ে উঠা আন্তর্জাতিক / গ্লোবাল বাণিজ্য ব্যবস্থাটা ভেঙ্গে পড়বেই! এতে আমার বা যারা বুঝে তাদের কোনই সন্দেহ নাই। অর্থাৎ ট্রাম্পের এই বিশেষ বাড়তি যথেচ্ছাচার শুল্কনীতি – এটা বর্তমান আমেরিকান নেতৃত্বের চলমান গ্লোবাল বাণিজ্য ব্যবস্থাটাকেই ভেঙ্গে অচল করে দিবে। যার সোজা মানেটা হল, এর বিকল্প হিসাবে চীনা নেতৃত্ব বা প্রভাবের বিকল্প একটা বাণিজ্য ব্যবস্থা জায়গা করে নিবার পথটাই গোয়ার ট্রাম্প করে দিচ্ছেন!  আর এতে আমেরিকা ছাড়া বাকি দুনিয়া মানে মুখ্যত ‘গ্লোবাল সাউথ’ আর ইইউ এর সমর্থন সেদিকেই  ক্রমশই সবল হয়ে হাটবেই! মূল কারণ, একালে এখন এসে প্রতিটা রাষ্ট্রই একমাত্র টিকে থাকতে পারে ব্যাপক অবাধ আমদানি-রপ্তানি আন্তঃরাষ্ট্রীয় বাণিজ্য  করেই!  দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে কিছু এক্সপেরিমেন্টেরও পরে (আইএমএফ-ভিত্তিক) ১৯৮০ সাল থেকে আমেরিকার নেতৃত্বে যে গ্লোবাল বাণিজ্য ব্যবস্থাটা গড়ে উঠেছিল সেটাই এখন চীনের নেতৃত্বে (ঢেলে সাজানো আইএমএফের জায়গায় ব্রিকসের আইডিয়ায়) পুনর্গঠিত হতে শুরু করবেই ক্রমশ!

    কিন্তু আমাদের মূল প্রসঙ্গ এটা নয়ঃ
    আমাদের মূল প্রসঙ্গ হল, আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব (সাথে একাদেমিশিয়ানেরা) কী এরপরেও ইন্ডিয়ান আধিপত্য যেন আগের মতই আছে এই যুযুর ভয়ে ইন্ডিয়া-লেপ্টে থাকার পক্ষে বোকা বুঝ নিয়েই থাকবে? নাকি পরিস্কার দেখতে পাবে যে আমেরিকা-ইন্ডিয়ান কোন নুন্যতম বিশেষ খাতিরের সম্পর্কটাই  এবার নাই হয়ে গেছে! অন্তত নিকি হ্যালি  করুণ আবেদনটা দেখেও তো তাদের বুঝা উচিত, নাকি?  আর কতদিন বাংলাদেশের রাজনীতিবিদের পড়াশুনা ছাড়া কথিত ইন্ডিয়ান হেজিমনির ভুতের ভয়ে পথ চলবে?????

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   ২৮ আগষ্ট, ২০২৫    সন্ধ্যা ০৭ঃ ৫৪

    [এই লেখাটা এর আগে প্রথম ভার্সানে ছাপা হয়েছিল দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় আমারই লেখা এক কলাম হিসাবে, গত ২৪ আগষ্ট ২০২৫।  আজ এখানে সে লেখাটারই এক আসল বা নিজ বর্ধিত এক নয়া এডিটেড ভার্সান এখানে আমার নিজ সাইটে ছাপা হল। বলাই বাহুল্য এখানে শিরোনামটাই শুধু নতুন নয়। এমন অনেক প্রসঙ্গই নয়া এখানে যোগ করা হয়েছে যেটা পত্রিকার ভার্সানে ছিল না। আসলে পত্রিকার কলাম ভার্সান মানে যেটা যুগান্তরের এডিটরিয়াল পলিসি সঠিক মনে করে সেই ভার্সান; এভাবে দেখাটাই সঠিক হবে। আর তুলনায় এটা আমার নিজ পরিবর্ধিত-এডিটেড ভার্সান মনে করলেই সঠিক হবে বলে আমার বিশ্বাস! ]

  • আরএসএস-বিজেপি দ্বন্দ্ব চরমে, বাংলাদেশকে ১৯৭১-এর মত একটি অপারেশন ও হাসিনাকে রক্ষার ব্যর্থতা নিয়ে

    আরএসএস-বিজেপি দ্বন্দ্ব চরমে,
    বাংলাদেশে ১৯৭১-এর মত একটি অপারেশন না চালানো ও হাসিনাকে রক্ষার ব্যর্থতা নিয়ে
    গৌতম দাস
    ০৯ এপ্রিল ২০২৫  দুপুর ০২ঃ ৩২
    https://wp.me/p1sCvy-6oZ

     

     

    শেষাদ্রি চারি [Seshadri Chari] 

    [আরএসএস-বিজেপি দ্বন্দ্ব এনিয়ে আপনাদেরকে আগে ফেসবুকে কিছু ধারণা দিয়েছিলাম। সেটা এখন আরো চরমে উঠেছে। বাংলাদেশের মোদির ইন্ডিয়া হাসিনার পতন ঠেকাতে পারে নাই এমনকি অজিত দোভাল ঠিকমত জানতেও পারে নাই। (আর আমরাও [মানে আমাদের জুনিয়র আর্মি অফিসার সদস্যরা] সেই কাজটাই ভালভাবে করেছিলাম যেন “র”-এই চিত্রটা আমল করতে ব্যর্থ হয়)। আর এতে সবমিলিয়ে হাসিনার উতখাত ও পরিণতিতে মোদির ভারত বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ হারানোতে – এই ইস্যুটাকে এখন বিজেপি সরকার ও মোদির ব্যর্থতা বলে অভিযোগ তুলেছে তাতে আরএসএস-বিজেপি দ্বন্দ্ব টা এক নয়া মাত্রায় চলে যেতে চাইছে। এরই প্রকাশ ঘটেছে আরএসএস নেতা শেষাদ্রি চারি নামের এক নেতা এসব নিয়ে খোলাখুলি দ্যা প্রিন্ট পত্রিকায় এক কলাম লিখেছেন সেখান থেকে এনিয়েই এই রচনা।]

     

    সময়ে ভিডিও এর চেয়েও গদ্যে লিখলে কোন কোন ঘটনায় জমিয়ে আলাপ করা যায়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও রেফারেন্সগুলো পাঠক নিজে দেখে শুনে আরো ফারদার উল্টে-পাল্টে দেখা যায় এমনকি কেউ কেউ যারা আরো গবেষণায় লিপ্ত হতে চায় তাদের কাজ সহজ হয়। তাই আজ প্রথমে এখন লিখে বলব। কিন্তু ইস্যুটা কী?

    এককথায় ইস্যুটার শিরোনাম – “ইউনুস সাবের চীন সফরে” ভারতের জলুনি আর মোদিকে দোষী ঠাউরানোঃ
    কিন্তু তবু এতে শিরোনামে বলা হয় নাই যে এখানে কর্তা কে? মানে –ইন্ডিয়ার জলুনির প্রকাশ আর মোদিকে দোষী বলে রায় দিল কে? তা বলা হয় নাই।
    আর এটাই সবচেয়ে চমকানো তথ্য তা আপনাদেরকে বলব।

    ইন্ডিয়ার জলুনি প্রকাশ আর মোদিকে দোষী বলে রায় দিল আরএসএসঃ
    আরএসএস এর পক্ষ থেকে কে মোদিকে দোষী করল কীভাবে?
    একাজ করেছেন শেষাদ্রী চারি [Seshadri Chari]।  চারি ছিলেন আরএসএস এর এক দলীয় মুখপাত্র পত্রিকা আছে; প্রাচীন পত্রিকা নাম তার “অর্গানাইজার” (হিন্দিতে সংগঠক)।   এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন চারি, এখন নাই। তিনিই প্রায়ই ইন্ডিয়ান (সম্ভবত সর্বশেষ নয়া) প্রভাবশালী ইংরাজী পত্রিকা দ্যা প্রিন্ট [The Print] ; এখানে অনিয়মিতভাবে কলাম লিখেন। সেটা অনেকটা পার্টি আরএসএসের অবস্থানই তা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার না করেই তিনি লিখে থাকেন।  সবাই জানে ও মানে যে এটা আসলে চীনা সরকারী অবস্থানই কিন্তু স্বীকার না করে লেখা ও পরিচালিত চীনা ইংলিশ পত্রিকা [Global Times] যেন।
    এই চারি এবার লিখেছেন যার শিরোনামঃ “Yunus just offered Indian Ocean to China. India must respond to the neighbour’s shenanigans” । বাংলাদেশে “ভিউ- খাওয়া” বা  হাইপ তুলে লাইক খাওয়া যত দৈনিক আছে এরা কেউই এই লেখার মর্ম বুঝে নাই মনে হচ্ছে। তাই সম্ভবত তারা চারির এই লেখা আমল করে নাই। ওদিকে দ্যা প্রন্টের যে ফেসবুক পেজ আছে সেখানে এই লেখার একটা বাংলা অনুবাদ ছাপা হয়েছে পরেরদিন। সেটার লিঙ্ক এখানে দেখতে পারেন।
    তবে চারির লেখা কলামের সারাংশ যা শিরোনামের নিচে লেখা থাকে সেটার অনুবাদ থেকে লেখাটার সারাংশ জানা যায়। সেটার বাংলা ভাব-অনুবাদ করে বললে হয়ঃ ইন্ডিয়ার “প্রতিবেশী সবার আগে” পলিসি মনে হচ্ছে পোতায় গিয়ে পথ হারিয়েছে আর এতে দেখা যাচ্ছে সবচেয়ে নিকট আর দুরের প্রতিবেশীরা চীনের দিকে হেলে পড়তেছে আর এতেই আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্য এলোমেলো প্রভাবে”।
    অর্থাৎ চারি বলতে চাইছেন মোদির অযোগ্যতাতেই ইন্ডিয়ার প্রতিবেশিরা চীন-অভিমুখি হয়ে ছুটছে। যেটা ইন্ডিয়ার দিক থেকে দেখলে আঞ্চলিক ক্ষমতা ভারসাম্য ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে আর চীনের পক্ষে চলে গেছে।

    India’s ‘neighbourhod first’ policy seems to have gone awry
    with most immediate and distant neighbours tilting toward
    China, impacting the regional balance of power.

     

    যার সোজা মানে হল, চারি বা চারির মুখ দিয়ে আরএসএস এবার বিজেপি-মোদিবিরোধী সংগ্রাম অনেক খোলাখুলি আর সামনাসামনি লড়তে চাইছে। এই সার বক্তব্যের একটা বাংলা পেয়েছে ফেসবুকে যেটা আরও মারাত্মক ভাষায়। হিন্দুত্ববাদী আক্রোশে ভর্তি হলেও যে কিছু করতে অক্ষম – এমন ভাষায় লেখা! নিচে দেখেনঃ

    বাংলাদেশের অসহযোগী মনোভাব ও চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কথা বিবেচনা করে ভারতের উচিত বিমসটেক এর সদর দপ্তর ঢাকা থেকে স্থায়ীভাবে সরাতে। একটি চীন-পাকিস্তান-বাংলাদেশ অক্ষ অবশ্যই বিমসটেককে ধ্বংস করবে, যেমন পাকিস্তান-চীন অক্ষ দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক সহযোগিতা সমিতি (সার্ক) কে করেছিল।
    ভারতের ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতি মনে হচ্ছে সবচেয়ে তাৎক্ষণিক এবং দূরবর্তী প্রতিবেশীরা চীনের দিকে ঝুঁকে পড়েছে, যা ক্ষমতার আঞ্চলিক ভারসাম্যকে প্রভাবিত করছে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান, হিন্দুদের বিরুদ্ধে একটি আন্দোলন এবং এখন ইউনূসের এই বিবৃতি সব সরকারের কাছে বিস্ময় হিসাবে এসেছে, একটি গোয়েন্দা ব্যর্থতার প্রস্তাব, অন্তত বলার জন্য। একটি কোর্স সংশোধন সময়মত হবে। একটি শক্তিশালী সামরিক, বিমানবাহিনী, নৌ ও অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে, ভারতকে পূর্ব ও পশ্চিমে প্রতিবেশীদের হিংস্রতার জবাব দিতে হবে, দ্রুত ও সিদ্ধান্তমূলকভাবে, এমনকি যদি এর মানে ১৯৭১-এর মতো একটি অপারেশন হয়। ‘

    বিশেষ করে শেষ কয়েকটা শব্দ দেখেন; যেমন ……“এমনকি যদি এর মানে ১৯৭১-এর মতো একটি অপারেশন হয়”।
    মানে হলো,
    ১। মোদির ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতি অকার্যকর হয়ে গেছে মোদির জন্যই। 
    ২। আমরা ইন্ডিয়ার পাপেট হাসিনাকে উতখাত করেছি সেটা নয়, বরং ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতি ফেল করেছে বলেই আমরা বাংলাদেশ ইন্ডিয়া ফেলে চীন অভিমুখি হয়ে গেছি।
    ৩। আমাদের হাসিনা উতখাত এটা চারির চোখে নাকি একটা – “হিন্দুদের বিরুদ্ধে একটি আন্দোলন” । মনে হচ্ছে চারি লোকটা মাতাল হয়ে গেছে!
    ৪। হাসিনার উতখাত হয়ে যাওয়া আর সেটা মোদির অজিত দোভালের র-এর জানতেই না পারা এটাই চারির চোখে একটি গোয়েন্দা ব্যর্থতা আর এই অভিযোগ তুলের আরএসএস-বিজেপি দ্বন্দ্ব ও যুদ্ধ চরমে উঠেছে।
    ৫। এখন মোদি বা ইন্ডিয়া সরকারকে তাই বাংলাদেশের উপর আক্রমণ চালাতে হবে “১৯৭১-এর মতো একটি অপারেশন” যেন আমাদেরকে একটা উপযুক্ত জবাব দেয়া হয়……

    আরএসএস মানে রাষ্ট্রীয় সমাজসেবক সংঘ; মানে মোদি যেই রাজনৈতিক দলের প্রধানমন্ত্রী সেই বিজেপি দলের উপরের মুরুব্বি সংগঠন হল এই আরএসএস! যার সভাপতি বা (হিন্দিতে)  সর-সঞ্চালক হলেন মোহন ভগত!  কিন্তু এমন বাপ-সন্তান সম্পর্ক সত্বেও আরএসএস-বিজেপি এর দ্বন্দ্ব এখন চরমে শুধু নয় এটা এখন প্রকাশ্যেই। পাঠকের নিশ্চয় মনে আছে পাঁচদিন আগে আরএসএস-বিজেপি এর দ্বন্দ্ব মারাত্মকভাবে প্রকাশিত হয়ে পড়েছিল যখন জানা গেল যে মোদি ৭৫ বছর বয়স পুর্ণ হয়ে যাবার কারণে (মোদির নিজেরই প্রচলন করা নিয়মে) এবার তা মোদির উপরে আরোপিত হচ্ছে আর তিনি সেটা কবুল করতে আরএসএস এর হেডকোয়ার্টার সফরে গিয়ে তিনিই পদত্যাগ ও অবসরে যাচ্ছেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছেন। এই খবর সারা ইন্ডিয়াতে  ছড়িয়ে পড়াতে তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে।
    আর এর পিছনের কথাগুলো,  সংক্ষেপে বললে গত ২০২৪ এপ্রিল-মে এর কেন্দ্রের নির্বাচন আয়োজনকালে আরএসএস-বিজেপি এর দ্বন্দ্ব প্রথম ব্যাপকভাবে গুমড়ে উঠেছিল। কারণ, সবার খেয়াল ও নজরে ছিল যে সেবারের (২০২৪) নির্বাচন শেষে বছর গড়াতেই মোদিকে অবসরে যেতে হবে তাই উত্তরসুরি কে হবেন – সেটাই দুপক্ষের মাথাতেই প্রধান ইস্যুতে ঘুরপাক খাচ্ছিল। এক্ষেত্রে মোদির পছন্দ হল অমিত শাহ (বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক ঠান্ডামাথার খুনী), আর এর বিপরীতে আরএসএসের পছন্দের প্রার্থী হল বর্তমান উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ যোগী (সংক্ষেপে যোগী যিনি চরম মুসলমানবিদ্বেষী ও মুসলমান নিপীড়ক)। ইন্ডিয়ার কেন্দ্রিয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫৪৩ আসনের মধ্যে একা উত্তরপ্রদেশেই ৮০টা আসন; ফলে উত্তরপ্রদেশ খুবই গুরুত্বপুর্ণ। অথচ আগের নির্বাচনের হিসাবে ৭০ এরও বেশি আসন দখলে থাকা বিজেপির ২০২৪ নির্বাচনে সেটা নেমে এসেছিল ৩৩ আসনে। যার পিছনের মূল কারণ উত্তরসুরি কে? অমিত শাহ না যোগী? – এই প্রশ্নে আরএসএস-বিজেপি এর দ্বন্দ্ব চরমে উঠেছিল। এতে এক পর্যায়ে প্রতিটা নির্বাচনে কার অবদান বেশী – আরএসএস না বিজেপির – তা এমন তর্কে গিয়ে ঠেকেছিল আর সেখান থেকেই আরএসএস এর কোন ধরনের সমর্থন ও প্রভাব ছাড়াই সেবার (২০২৪) এর লোকসভা নির্বাচন বিজেপি একাই লড়ে দেখিয়ে দিবে তারা (মানে আরএসএস ছাড়াই বিজেপি) একাই যথেষ্ট – এই কথাটাই ফাইনাল অবস্থান হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। আর পরের (২০২৪) নির্বাচনে আরএসএস একেবারেই নিজেদের প্রত্যাহার করে রেখেছিল, কোথাও অংশ নেয় নাই। [আর এরই বাংলাদেশে প্রতিক্রিয়া ছিল গোবিন্দ প্রামাণিক (যিনি আরএসএসের লোক) আর বিপরীতে রানা দাসগুপ্ত (যিনি মোদি / বিজেপির লোক) এদুজনের আলাদা আলাদা বক্তব্য। গোবিন্দের দাবি ৫ আগষ্টে হাসিনার পলায়নের পরে বাংলাদেশে কোন হিন্দু নির্যাতন ঘটেই নাই; যতটুকু যা হয়েছে তা এরা হাসিনার সঙ্গী প্রকল্পের অর্থ চোর সেও আওয়ামি পরিচয়ের কারণে। আর রানা দাসগুপ্ত মোদির সাথে সুর মিলিয়ে বক্তব্য দেওয়ার পর সেই থেকে দেশ ছাড়া আর নয়তো গভীর আত্মগোপনে।]  আর ওদিকে ইন্ডিয়াতে ঐ আরএসএস-বিজেপি দ্বন্দ্ব থেকেই  ২০২৪ নির্বাচনে বিজেপি জোট হারতে হারতে বেঁচে গিয়েছিল। বিজেপি দল একা সরকার গঠনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা তো পায়ই নাই এমনকি বিজেপি জোট হিসাবে পায় নাই, প্রায় ৩০ আসনের ঘাটতি ছিল। যেটা আরো দুই নগদ পার্টনার দল যোগাড় / কেনাবেচা করে বিজেপি সেই ঐ ঘাটতি পুরণের পরে  মোদি আবার তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হয়ে এখনও সরকার গড়ে আছেন।

    কিন্তু সেই থেকে আরএসএস-বিজেপি দ্বন্দ্ব বাড়ছে তো বাড়ছেই।

    এখান থেকে আমার বলার মূলকথাগুলো কীঃ
    ১। শেষাদ্রি চারি এর এই লেখা হল প্রমাণ যে আরএসএস-বিজেপি দ্বন্দ্ব এমন মারাত্মক জায়গায় চলে গেছে যে এটাই শেষে সম্ভবত ইন্ডিয়াকে ছিন্নভিন্ন করে না ফেলে থামবে না।
    যার সোজা মানে হল, খুব সম্ভবত না বিজেপি না আরএসএস আগামি ইন্ডিয়ান সরকার গড়ার ক্ষেত্রে কোন রাজনৈতিক শক্তি হয়ে থাকতে ব্যার্থ হচ্ছে। এরই সোজা মানে কোন কোয়ালিশন সরকার হয়েও একটা ঠালমাটাল সরকার গড়াই দিন ইন্ডিয়ায় শেষ হয়ে যাবে। যেটা সেই ১৯৯৯ সালের বিজেপির বাজপেয়ির সরকার থেকে কোয়ালিশন সরকারের কালচার গড়ে এতদিন সরকার চলেছে – সেই যুগের সম্ভবত অবসান ঘটতে যাচ্ছে। এটাকে অন্য ভাষায় বলছি ডিস-ইন্টিগ্রেশন বা ভেঙ্গেচুড়ে ফেলা যা নুন্যতম রাজনৈতিক ঐক্য অসম্ভব এমন এই ইন্ডিয়া হয়ে হাজির হওয়া এটা আসন্ন হয়ে উঠার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
    ২। আরএসএস-বিজেপি দ্বন্দ্ব আজ এমন জায়গায় যে গত দশ-বারো বছর কে কী অপরাধ করেছিল আর একে অপরের সেসব অপরাধ লুকায়ে রেখে দিয়েছিল সেগুলো এখন প্রকাশ করে দিবার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ২০১৫ সালে ঢাকার ইন্ডিয়ান এমবেসিতে এক নারী রেপড ও খুন হয়েছিল এর ইতিহাস বলার এই ভিডিও এখন এভেলএবল হয়েছে।
    ৩। মোদির ইন্ডিয়ার সবচেয়ে বড় কুখ্যাতি হল ইসরায়েল রাষ্ট্রের সাথে তার খাতিরদারি – দুই খুনী দানব পরস্পরের খোলাখুলি সঙ্গী। এনিয়ে আলজাজিরাতে প্রকাশিত রিপোর্ট দেখেন যেখানে প্রকাশিত কোন কোন ইন্ডিয়ান অস্ত্র গাজায় নেতানেহায়ু ব্যবহার করেছেন – শিরোনাম দেখেন বুঝবেন –  “India exports rockets, explosives to Israel amid Gaza war, documents reveal“.  আমার অনুমান আরএসএস-বিজেপি দ্বন্দ্ব এর সুযোগে এসব এখন বাইরে সহজেই ন্যাঙ্গটা হয়ে যাচ্ছে। যেগুলো আরো বেশি করে আমাদের প্রচারে নেয়া উচিত।
    ৪। আরএসএস নেতা শেষাদ্রি ইন্ডিয়ান সরকার যেন বাংলাদেশের উপর ১৯৭১ সালের মত আক্রমণ চালায় – এটা দাবি করেছেন। এনিয়ে আমার ছোট কথা হল আমরাও প্রস্তুত। সময়ে ছোট দেশও ইন্ডিয়ার কী ক্ষতি করে ফেলতে পারে দুনিয়া সেই উদাহরণ তাহলে এবার দেখবে!  এটা ঘটলে তা আমাদের জন্য অনেক সুবিধাই নিয়ে আসবে। তাই আমরা এটা দেখতে চাই!!! নুন্যতম কোন ভারতীয় জেনারেলের সাথে আলাপের পরে যেন আরএসএস নেতারা এমন বকোওয়াজ করে; শেষে এই পরামর্শ রাখব।

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com


    আপডেটঃ  দুপুর  ০২ঃ ৫৯,   ০৯ এপ্রিল ২০২৫
    সবশেষ আপডেটঃ  বিকাল ০৫ঃ ১৪,   ০৯ এপ্রিল ২০২৫

     

  • মোদির র, তারেক ও সাথে আরেক ভাড়াটে মিডিয়া রয়টার্স

    মোদির র, তারেক ও সাথে আরেক ভাড়াটে মিডিয়া রয়টার্স
    গৌতম দাস
    ০১ এপ্রিল ২০২৫ দুপুর ০১ঃ ১৪
    https://wp.me/p1sCvy-6np

     

     

    ডঃ মঈন খান

     

    গতকাল ছিল ঈদের দিন! কিন্তু ষড়যন্ত্রকারী তবে বেকুবেরা বসে ছিল না। মোদির ‘র’ আর তার ফাঁদে আরো বেশি করে আটকে যাওয়া তারেক ও তাঁর বিএনপি এই ততপরতায় সক্রিয়। গতকাল ‘র’ এর দালাল প্রথম আলো একটা খবর ছেপেছে যার শিরোনাম, “নির্বাচন ডিসেম্বরের পরে গেলে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, সতর্ক করল বিএনপি”।
    প্রথম আলো এরকম দালালির আয় দিয়েও পত্রিকাটা চালায় রাখছে জানি আমরা বলে এটা তেমনই একটা কিছু বলে প্রথম চোটে তাই মনে হয়েছিল। কিন্তু এরপর চোখ আটকে যায় সাথের দুটা শব্দে “রয়টার্স নয়াদিল্লি”। শুধু রয়টার্স লিখলেই তো হত সাথে নয়াদিল্লি লিখল কেন? সন্দেহ এখান থেকে ঘনিভুত, আর তা থেকে ভিতরে পড়তে শুরু করি!  এটা বুঝতে যে রয়টার্স তাহলে এবার এক ভাড়াটে রিপোর্ট ছেপেছে! রয়টার্স মূল ইংরাজি নিউজ এর লিঙ্ক এখানে দিয়ে দিলাম। 

    এই গল্পের  সারকথাটা শিরোনাম আকারে আগে বলে নেই।  মোদির ‘র’ আর তার ফাঁদে আটকে যাওয়া তারেকের বিএনপি এক নয়া যৌথ কর্মসুচী নিয়ে মাঠে নেমে গেছে। সেটা হল, বিএনপি সব বড় নেতাগুলাই বেচারা তবু এদের মধ্যে পাতে দেয়া যায় এমন একজন হলেন ডঃ মঈন খান। সেই মঈন খান এখন এই ষড়যন্ত্র কর্মসুচী নিয়ে নিজ দেশ-পরিবার ঈদ ফেলে আমেরিকায় গেছেন। রয়টার্সের এই ভাড়াটে রিপোর্টটা সেই ষড়যন্ত্র পরিকল্পনার কথা আমাদের খোলাখুলি জানিয়েছে। লিখেছে, “বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থানরত মঈন খান বলেন………”। [“……said Khan, speaking from Washington D.C. where he is seeking meetings with U.S. officials to discuss Bangladesh.”]

    “বাংলাদেশের পরিস্থিতি” মানে?
    আসলে মঈনের এই আমেরিকা লবিইং কর্মসুচী থেকে দেখা যাচ্ছে মোদির ‘র’ আর তারেকের বিএনপি – একেবারেই খোলাখুলি এক “যৌথ উদ্যোগে” নেমে পড়েছেন। ব্যাপারটা অনেকটা এই দুপক্ষের যার যা আছে তাই নিয়ে খোলাখুলি নেমে পড়া – হয়ে গেছে। তাতে তারেক বা বিএনপির গায়ে ‘র’-এর স্পষ্ট দাগ লেগে যাবে কিনা এনিয়ে  তারেক বেপরোয়া হতে দেখা যাচ্ছে! যেখানে যার যা হাতিয়ার আছে মানে মোদির ‘র’ এর হাতে আছে “রয়টার্স নয়াদিল্লি” – এটা সাথে নিয়েই মোদির ‘র’ মাঠে নেমে গেছে। এতে ঢাকার প্রথম আলো / স্টার এদের রেট বা ইন্ডিয়ার যেকোন মিডিয়া ভাড়া নেওয়ার রেট এর তুলনায় “রয়টার্স নয়াদিল্লি” এর রেট অনেক মহেঙ্গা – ত্রিশ-চল্লিশ গুণ খরচা বেশি! তবু নিজের ক্ষমতা দেখাতে মোদির ‘র’ এটাই তারেকের জন্য ভাড়া করে দিয়েছেন!

    তো এখন এখানে “বাংলাদেশের পরিস্থিতি” বলতে আমাদেরকে সুনির্দিষ্ট কী বুঝতে হবে?
    এতদিন ‘র’ আর তারেকের যৌথ বয়ান ছিল একঃ
    যে এখনই নির্বাচন” বা তারেকের ভাষায় তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন” দিতে হবে। এই “তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন” এই বুলি টা তারেকের সেই ২০২১ সাল থেকেই যখন বাইডেনের প্রশ্রয়ে মানে, বাইডেন স্যাংশন বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভয় দেখাবেন ফলে আমাদের পক্ষে হাসিনার বিরুদ্ধে রাস্তায় মিছিল ও ব্যাপক জমায়েতের সুযোগ পেয়েছিলাম আমরা। (যদিও ২০২১, ২০২২, ২০২৩ এর মাঝামাঝি এসে বাইডেন পল্টি মেরেছিলেন হাসিনার সাথে একসাথে কাজ করবেন বলে, তবুও সেদিকে এখানে আর যাচ্ছি না)।  তবে সেকালের শুরু থেকেই তারেকের সার বক্তব্য ছিল একটাই ১। হাসিনাকে কে ফেলাবে? কী করে ফেলাবে ক্ষমতাচ্যুত করবে তা আমি জানি না। ২. তবে হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে গেলে (মানে কেউ করে ফেললে) তিনমাসের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে। ৩. আর এই পরিবর্তনের এর মাঝে কোন “সেনাবাহিনী” সংশ্লিষ্ঠতা চলবে না।  এই অবস্থানের সবচেয়ে বড় প্রমাণ হল, ৫ আগষ্ট হাসিনা দেশ ছেড়ে পলায়নের কয়েক ঘন্টা পরের সন্ধ্যায়। তারেকের জাতীয় সরকার গড়তে রাজি না হওয়া আর, তিনমাসের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে দাবি – এর সবচেয়ে ভাল প্রমাণ। এছাড়া সত্যি সত্যি হাসিনা কী করে ক্ষমতাচ্যুত হবে তা তিনি তারেকে একেবারেই সংশ্লষ্ট হতে চান না, এটা মাথাব্যাথা তিনি নিবেন না। সেসব দূরে থাক এমনকি সেনাবাহিনীর কোনই সংশ্লিষ্টতা থাকুক তিনি চান নাই। বারবার নাকচ করেছেন! আজিব ব্যাপারটা হল, যেন সেনাবাহিনীর ভিতরেও একটা আভ্যন্তরীণ পরিবর্তন দরকার নাই বা তাঁর কাম্য নয়; মানে, সেখানে তারেক সিদ্দিকীর পরিচালিত  র-প্রভাবিত অফিসার বনাম এদেরকে পরাজিত করতে চাওয়া বাকি সকল সেনা-অফিসারের লড়াই এবং ফয়সালা ছাড়াই যেনবা হাসিনা ক্ষমতাচ্যুতি সম্ভব ছিল!!!! আর এপ্রসঙ্গে তারেক নিয়মিত বলে চলেছিলেন – হাসিনা ক্ষমতাচ্যুতি (যার সোজা মানে হল, সেনাবাহিনীর ভিতরে ক্ষমতার পালাবদল বা হাসিনা-সিদ্দিকী এন্ড গং বা র-এর দালালদের উচ্ছেদ)  কীভাবে হবে কে করবে এসব তাঁর চিন্তা-বিবেচনার বিষয় না। কিন্তু তিনি কেবল হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি ও তিনমাসের মধ্যে নির্বাচন চান; এই মুখ্য ও নির্ধারক ভাগটা তারেককেই দিতে হবে! এককথায় বললে, তিনি আসলে  হাসিনার জায়গায় নিজেকে প্রতিস্থাপন দেখতে চান!!! কিন্তু কীভাবে তা ঘটবে এর দায় নিবেন না! হেব্বি মজা!!
    আর তাঁর এই অবস্থানটাই মোদির র-এর জন্য খুবই সুইটেবল, ভাল মিলেছে! একারণেই শুধু তোতাপাখির মত ‘দ্রুত নির্বাচন’, ‘এখনই নির্বাচন’ এসবই নয়। সাথে ইন্ডিয়ান কু-ভাষ্যও আছে। যেমন, ইউনুস সরকার হল একটা তত্ববধায়ক সরকার  (মানে ইন্টেরিম বা বাংলায় অন্তর্বর্তিকালীন সরকার নয়)। কেন ইন্ডিয়ার এই ভাষ্য বদল বা শব্দ বদল?
    কারণ, তত্ববধায়ক সরকার মানে তো তিনমাসের সরকার যার কাজ হল একটা নির্বাচন ঘটিয়ে দিয়ে বিদায় নেয়া! কাজেই তিনমাস এর পরেও ইউনুস সরকার বিদায়ে যাচ্ছেন না কেন? এই হল শয়তানি বয়ানটা!

    আসলে র-এর কাজ হল সময়ে বোকা সেজে বসে থাকা! যেমন র-এর দালাল ও চাকর হাসিনা যে  কনষ্টিটিউশন সংশোধন করে বহু আগেই “তত্ববধায়ক সরকার” ধারণাটাই গায়েব করে দিয়েছেন সেটা এখন মোদির ‘র’ সেটা এখন যেন জানেই না – এমন ভাব ধরে বসে গেছে। আর র-এর ভাড়াটে কিছু ব্যক্তিত্ব ও অবসরের পরে ‘র’-এর খেদমত করে দুপয়সা কামানি বিনা সিক্রি এই বয়ান জারি রেখেছে সেদিন থেকে বিবিসি বাংলায় মোদি যেটাকে ভাড়া করে রেখেছে! আর সবচেয়ে বড় কথা, ইউনুস সাবের এই সরকার গঠনের সময় থেকেই নিজেকে  ইন্টেরিম বা বাংলায় অন্তর্বর্তিকালীন সরকার  বলেই চিনিয়েছে ( নিজেদেরকে কখনও কোন তত্ববধায়ক সরকার বলেন নাই)। অন্য কোন কিছু অন্য কোন শব্দ নয়।  আর সবচেয়ে বড় কথা এসব ষড়যন্ত্রকারীরা এসব ঝামেলা পাকাতে চাইবে আমরা জানতাম বলেই (আমি যতটুকু জানি ২০২২ সাল থেকে এটা যে ইন্টেরিম [interim] সরকার বলে গড়তে হবে সে ধারণা পরিস্কার রাখা ছিল। অর্থাৎ কেবল ৫ আগষ্ট ২০২৪ বিকেলে হঠাত করে আমরা ইন্টেরিম [interim] সরকার গড়ি নাই। ) উপরে বলেছি তারেক বা তাঁর বিএনপি তাদের এসব  তো তাদের কনসার্ণ-বিবেচনা ছিল না। সবসময় তারেকের বুঝ ছিল একটাই – তিনমাসের মধ্যে নির্বাচন – দিতে হবে!

    অতি বুদ্ধিমানের গলায় দড়িঃ
    আপনি যখন বলবেন, হাসিনা ক্ষমতাচ্যুতির পরে তিনমাসের মধ্যে নির্বাচন চাই; কিন্তু, হাসিনা কী করে ক্ষমতাচ্যুত হবে সে দায় আপনার নয়, আপনি জানেন না। শুধু তাই নয় হাসিনার পতনে বা অন্তর্বর্তি সময়ে সেনা সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারবে না – তখন আসলে আপনি কী চাচ্ছেন? আসলে কী বললেন? এটা তারেক জিয়া বুঝেন নাই, বুঝতে চান নাই। বুঝার যোগ্যতা নিয়েও আমি সন্দিহান!  এভাবে তারেক আসলে কল্পনা করেছেন যে  যে শক্তি (এক বা একাধিক শক্তির সম্মিলন) হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করবে সেটা তিনি নন শুধু তাই নয় – হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুতকারীরা আবার হবেন ভীষণ বোকা! তাদেরকে বোকা হতেই হবে। না হলে তারা এরপর সেই বিজয়ী ক্ষমতাটা এবার তারেক ও বিএনপির হাতে কেন সঁপে দিবেন???? কেন তারেকের পায়ে সঁপে দিবেন???? কেন? এটাই বোকার, গোয়ারের বুঝ! আমার অভিজ্ঞতা খারাপ! আপনার “পারসোনাল অভিজ্ঞতা” বাসায় রেখে আসেন।  দেশের স্বার্থ, গন ক্ষমতার স্বার্থের কথা বলেন!

    এর সম্ভবত একটা জবাব হতে পারে যে তারেক জিয়াউর রহমানের ছেলে, তারেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে!!! সেজন্য কী? অথবা ধরেন তারেক বড় গুন্ডা অথবা তারেক ঢাকায় কয়েক লাখ লোক জড়ো (যদি এলাও করেন তা করতে) করতে পারেন সেজন্য? কিন্তু সরি! এগুলোই একেবারে অরাজনৈতিক ও বোকা-স্টুপিড চিন্তা!

    আমি বহুবার বলেছি গুন্ডামি আর ক্ষমতা (মানে রাজনৈতিক ক্ষমতা) এক জিনিষ নয়। যে সমন্বিত শক্তি (একাধিক শক্তিগুলা যেমন একটা,  যারা সেনাবাহিনীকে র-মুক্ত করেছে এবং এমন এদেরকে সমস্ত কী-পজিশন থেকে সরিয়ে দিতে পেরেছে, বিচার বা ফোর্স রিটায়ার্ড করিয়ে দিয়েছে যারা আর সাথে আরেক শক্তি বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতার রাস্তাঘাট দখল – জনগণ রাস্তায় নামিয়েছে গণক্ষমতার প্রদর্শন ঘটিয়েছে যারা এই শক্তি আর এরসাথে যারা বুদ্ধি-বিবেচনা খাটিয়ে সময়মত জাতিসংঘকে মানবাধিকার ইস্যুকে নিজের লড়াইয়ের পক্ষে হাজির করতে পেরেছে যারা এরাও আরেক শক্তি) – এই সমন্বিত শক্তি কেন বিজয়ী হবার পরেও তারেক কে নেতা মানবে???? কেন? যে তারেক মনে করে হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি কিভাবে হবে কে করবে তিনি জানেন না! এটা তাঁর দায় না। এতে তারেক মনে করতেই পারেন তার এই অবস্থান খুবই বুদ্ধিমান অবস্থান! কারণ, তিনি গুন্ডামি আর ক্ষমতার ফারাক বুঝেন না। তাই গুন্ডামিকেই ক্ষমতা মনে করেন। আর সাথে তিনি কয়েক লাখ কর্মীর সমাবেশ ঘটাতে পারেন – সেজন্য????
    এর চেয়ে স্টুপিড ভাবনা দুনিয়াতে আর কিছুই হতে পারে না।
    এককথায় যে বা যারা হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারে তারাই এককভাবে ক্ষমতায় আসবেই! এর পাল্টা আমি বড় গুন্ডা (রাজনৈতিক ক্ষমতা কী তা না বুঝা গুন্ডা) অথবা আমার লোক জমায়েতের সামর্থ আছে সক্ষমতা আছে তাই আমি তারেকই ক্ষমতা???? এটা এক স্টুপিড চিন্তা! ক্ষমতা কী এনিয়ে রাজনৈতিক নুন্যতম জ্ঞানশুন্য এক চিন্তা! তারেক কী জানেন যাদের তিনি নিজের কর্মি মনে হয়, ইদানিং তিনি যাদেরকে বেধরক চাদাবাজি করতে উতসাহ দেন অথবা বড় নেতাদেরকে বিভিন্ন হাসিনা-চোরদের সম্পত্তির শেয়ার মালিক বা পুরাই মালিক বানায় দিচ্ছেন তা সত্বেও তারেকের এই নিজস্ব নেতাকর্মিরা তারেককে ছেড়ে চলে যাবে। মুহুর্তের মধ্যেই! কখন???
    যখন বাজারে এই আওয়াজ স্পষ্ট হয়ে যাবে যারা হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারে তারাই ক্ষমতায় আসবেই! তারাই ক্ষমতায় এবং তারাই আগামিতে নির্বাচিত ক্ষমতা হয়েই আসবে, বসবে! সেদিন তারেক হঠাত আবিস্কার করবেন যে তিনি একা!!!!

    তাহলে এখন “বাংলাদেশের পরিস্থিতি” বলতে কী বুঝায়ঃ
    এখন “বাংলাদেশের পরিস্থিতি” বলতে আমেরিকায় বসে মঈন খান  বা তারেক যেটা বুঝাতে চাইছেন তাহল, ইউনুস সাহেব আগামি ডিসেম্বর ২০২৫ নয়ত পরের জুন ২০২৬ সময়কালে যেটা নির্বাচন অনুষ্ঠানের সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ না হলেও যে ধারণা দিয়েছেন সে ধারণাতে ইউনুস সাব যেন ডিসেম্বর ২০২৫ এর মধ্যেই আটকে থাকেন; আরও না সরে যান বা অনির্দিষ্ট না হয়ে যায় – এটা নিয়েই মূলত মঈন খান  বা তারেক এর বড় উদ্বিগ্নতা! বলা যায় এটাই মঈন খান  বা তারেক জিয়ার উদ্বিগ্ন এক “বাংলাদেশের পরিস্থিতি”।

    এথেকে বুঝা যায় তাদের প্রথম অনুসিদ্ধান্ত হল যে,
    মোদির ‘র’ আর তারেকের বিএনপি এরা দুপক্ষই এখন স্বীকার করে নিচ্ছেন যে (তারেকের) তিনমাসের মধ্যে নির্বাচন, বা এখনই নির্বাচন, দ্রুত নির্বাচন ইত্যাদি আর ওদিকে মোদির ‘র’ এর বাংলাদেশের ইন্টেরিম সরকারকে তত্বাবধায়ক সরকার বলে চালিয়ে দেয়া আর তাই তিনমাসের মধ্যেই নির্বাচন (মানে তারেককে ক্ষমতায় বসায় দেয়ার) দাবি আর সেই সাথে ইউনুস সরকারের সাথে মোদির ইন্ডিয়ার কোন সম্পর্ক নয়, পরের নির্বাচিত  (তারেকের) সরকারের সাথেই কেবল তারা সম্পর্ক করবেন যে গোঁ ধরেছিলে এসব সবকিছুই এখন পরাজিত বক্তব্য-বয়ান হয়ে গেছে।
    তাদের দ্বিতীয় অনুসিদ্ধান্ত হল যে,
    তারা দুপক্ষই (মোদির ‘র’ আর তারেকের বিএনপি) শুধু হেরে গেছেন তাই নয় সামনে তাদের আরও বড় পরাজয় অপেক্ষা করছে। আর সেকারণে তারা এখন আরো বেশি করে ঘনিষ্ট হয়েছেন। শুধু তাই না, আরো ঘনিষ্ট হয়ে এবার মোদির র এবার রাজনৈতিক বুদ্ধিশুন্য তারেককে আরেকটা টোপ দিয়েছে। সেটা হল, এবার তারা একসাথে আমেরিকায় গিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনে লবি করবেন যেন ইউনুস সাব আগামি ডিসেম্বরই নির্বাচন দিতে বাধ্য হন (মানে মোদির ‘র’ আর তারেকের বিএনপি এরা দুপক্ষের কপাল খুলে)।
    এখন তাহলে এতে কী দাড়ালো?
    মানে আমরা এবার দেখতে পাচ্ছি ঠিক যেমন হাসিনা কে নানা সময় আমেরিকার কাছে লবি করে দিব বলে মুলা ঝুলিয়ে মোদি-জয়শঙ্কর হাসিনার ফ্যাসিজম দীর্ঘায়িত করে নিজেরা বাংলাদেশকে লুটেছিল ঠিক সেই একই পথে (কেবল হাসিনার জায়গায় তারেককে বসিয়ে) ‘র’-এর সাথে নিজের ভাগ্য বেধে তারেকও এখন হাটছে অজানা উদ্দেশ্যে ও পথে!!! কথা হল, মোদি হাসিনাকে বাচাতে পারে নাই। তারেক কে পারারও কোনই কারণ নাই!

    আমি বারবার বলেছি, এখন আমেরিকায় কে প্রধানমন্ত্রী বা কে রাষ্ট্রপতি কিছু এসে যায় না;  – সারকথাটা হল আমেরিকা-ইন্ডিয়া যে এলায়েন্স গড়ে উঠেছিল ২০০৭ সালে – বাংলাদেশকে ইন্ডিয়ার হাতে তুলে দেওয়ার মাধ্যমে তাহলেও  সেই আমেরিকা-ইন্ডিয়া বুঝাবুঝি বহু আগেই (২০১৬ সালের মধ্যে) নাই হয়ে গেছে। তা সত্বেও ২০১৭ থেকে পরবর্তি আমেরিকান প্রেসিডেন্টেরা ট্রাম্প১ -বাইডেন এই সময়কালে আগের তুলনায় দুর্বল হলেও আমেরিকা-ইন্ডিয়া একটা স্ট্রাটেজিক সম্পর্ক ছিল। যেটা ২০২৪ সালে বাইডেনের হাসিনার সাথে কাজ করার প্রকাশ্য ঘোষিত পলিসি নেয়ার পরের বাইডেন মানেই তিনি তখন থেকেই হাসিনার মতই পরাজিত বাইডেন। এই পরাজিত বাইডেনের দায় আমেরিকান কোন সরকার, পলিসিদাতা, থিঙ্কট্যাঙ্ক ইত্যাদি কেউ আর নিতে চাচ্ছেন না। নেওয়ার কোন কারণ নাই। বরং ইউনুসের মাধ্যমে আমরা তাদেরকে পালানো  আর মুখের কালিমা লুকানোর যে সুযোগ দিয়েছে এবং আমাদের ইউনুস সরকারকে সমর্থনের যে সুযোগ দিয়েছি এতেই তারা কৃতার্থ!
    ওদিকে মোদি ট্রাম্পের সাথে দেখা সাক্ষাত, অস্ত্র কেনার লোভ কিছু দিয়েও বিনিময়ে কোন সম্পর্ক, ট্রাম্পের সাথে নুন্যতম ঘনিষ্ঠতা – কিছুই অর্জন করতে পারেন নাই। এতে সব অর্থ পানিতে গেছে। হাত-পা বেধে ইন্ডিয়ানদের সামরিক প্লেনে তুলে দেয়া, বারবার ইন্ডিয়ান এক্সপোর্টের সবকিছুতে ট্রাক্স আরোপ ইত্যাদি সব কিছুতেই মোদি-জয়শঙ্কর এখন পরাজিত শক্তি। ২০০৭ সাল থেকে আমেরিকান ছাতার নিচে থেকে ইন্ডিয়া বাংলাদেশের উপর রুস্তমির যে সুযোগ এমন সব কিছুই এখন শেষ, আর কোনদিনই যা ফিরে আসবে না। এসব দিনের আলোর মতই পরিস্কার।
    সর্বশেষ তুলসী গাবার্ড কে সাজিয়ে এনে মোদি যা ভাব তৈরি করতে চেয়েছিল সেটাও একেবারে মুখোমুখিতে ট্রাম্পের স্টেট ডিপার্টমেন্টের বিবৃতিতে সব মুছে গেছে; আমরা সবাই দেখেছি। ভাড়াখাটা তুলসী এখন বেকার। মোদির সব অর্থ এরা খেয়ে নিয়েছে, মোদিও বেকার!!

    ঠিক এই অবস্থায় তারেক কেন মোদির র-এর সাথে কোন বুদ্ধিতে নয়া ষড়যন্ত্রে মাততে চাইছে?? যেটা দিবালোকের মত পরিস্কার ট্রাম্পের প্রশাসনকে মোদির প্রভাবিত করার নুন্যতম কোন যোগ্যতা মোদি-জয়শঙ্করের নাই, এটাই তলানিও না এটা শেষ! একমাত্র রাজনৈতিক জ্ঞানশুন্য এক তারেকই এই ছাইয়ের মধ্যেই তবু নিজের ও বিএনপির ভাগ্য খুঁজে ফিরতে পারে। মোদি-জয়শঙ্করেরা তো নিজেরা লবি করতে আমেরিকায় যায় নাই বা নিজেদের কাউকে পাঠায় নাই – তারেকের মঈন খান কে পাঠিয়েছে!!! যাতে এটাও তো ব্যর্থ হবেই। আর ব্যর্থ হলে যাতে তারেক ও তার নিজ কপালকেই দোষারোপ করে চুপচাপ নিজ ব্যর্থতাকে আপন কর্ম বলে মেনে নেয়!
    দুনিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আমার এত পরিস্কার করে বারবার বলার পরেও রাজনীতিক জ্ঞানশুন্যরাই কেবল তবু ঐ মোদি-র-এর গার্বেজের মধ্যেই নিজ ভাগ্য খুঁজে ফিরতে পারে। তারেক নিজ রাজনৈতিক-নেতা জীবনের শেষ স্তর পার করছেন! তিনি এখন কেবল রাজনীতি থেকে একেবারেই উতখাত ফলে প্রভাবশুন্য হবার জন্যই অপেক্ষা করতে পারেন!!

    মোদি যা পারেন তা হল মিথ্যা প্রপাগান্ডাঃ
    তাই তিনি এবার কমপক্ষে দশগুণ বেশি অর্থ দিয়ে রয়টার্স কে ভাড়া করেছেন। এটা দিয়ে তিনি তারেকের মন জয় করতে গেছেন। কিন্তু এতে তারেকের সাথে মোদি ও র-এর ঘনিষ্ঠতার লেভেল কত গভীর তা প্রকাশ হয়ে পড়েছে। আর দ্বিতীয়ত, বিএনপির নেতা-কর্মিরা এখন নিজেই পরিস্কার দেখতে পাবে যে তাদের দলের ভাগ্য এখন কোন গভীর সংকটে। পালানোর কোন পথও নাই!!!

     

    রয়টার্সকে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করতে হবেঃ
    আমি এর আগে সরাসরি ইউনুস সাবকে সতর্ক করে লিখেছিলাম কেন রয়টার্সের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। অথচ আমরা এনিয়ে ইউনুস সাবের কিছুই প্রতিক্রিয়া দেখি নাই। ইউনুস সাহেব কে বুঝতে হবে সব ব্যাপারে ঢিলেঢালা চলে না। গৃহস্থ দেখতেছে চোরে সিঁদ কেটে ঘরে ঢুকেছে। তবুওও তিনি ভাবছেন “দেখি না কী করে”। এরপর চোর বমাল নিয়ে বিদায় নিবার পরে আর কী করবেন???? কাজেই এসব বাদ দেন, একশন চাই! যে মিথ্যা বলে বা ছড়াই তাকে দমন করতেই হবে!

    রয়টার্স এই ভাড়াটে রিপোর্টটা লিখেছে এক বাঙালি হিন্দু কৃষ্ণ এন দাস [Krishna N. Das]; আরেক শয়তান ভাড়াটে রএর দালাল; রুমা পালের যুগ শেষে তাকে সরিয়ে আরেক শয়তান কৃষ্ণ দাস কে তার জায়গায় বসানো হয়েছে। এখন এই কৃষ্ণ তিনি বারবার প্রধান উপদেষ্টা ইউনুস সাবকে প্রধানমন্ত্রী বলে  (লিখেছেন  • Interim PM suggests ) লিখে গেছেন। কেন? নিচা দেখানোর জন্য?? অথচ বাংলাদেশে ইন্টেরিম পিএম বলে তো কেউ নাই!

    দুইঃ
    এরপর  এই কৃষ্ণ দাস নিজ ভাষ্যে এক ভয়ানক প্যারাগ্রাফ লিখেছেনঃ
    “…. An unelected interim government led by Nobel Peace Prize laureate Muhammad Yunus has been running the South Asian country of 173 million since August, after deadly student-led protests forced Prime Minister Sheikh Hasina, a long-time India ally, to flee to New Delhi. ”

    ইউনুস সাহেব নাকি আন-ইলেকটেড!!! দেখেন তিনি নাকি রয়টার্সের রিপোর্টার!!!! কৃষ্ণ দাস মোদির দালালি করছেন? কৃষ্ণ দাস – আপনি কী জানেন স্বাধীন ইন্ডিয়ায় প্রথম কবে কেন্দ্রীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান হয়েছিল? জেনে নিতে পারেন সেটা ছিল ১৯৫১ সাল (25 October 1951)। অথচ নেহেরু তো ক্ষমতায় সেই ১৫ আগষ্ট ১৯৪৭ দিন থেকেই! তাহলে??? তিনি কী তখন ১৯৪৭ সালে নির্বাচিত ছিলেন? তাহলে কী ছিলেন – ইলেকটেড নাকি An unelected?????
    এসব খোঁজ না নিয়ে  বাঁদরামো করতে আসা উচিত না। মোদির  বা ‘র’-এর থেকে অর্থ নিয়েছেন? এই বাদঁরামো করার জন্য?
    আর এই প্যারাগ্রাফ টা আপনি লিখেছেন নিজ ভাষ্যে কারও বরাতে নয়। রয়টার্স এর জার্নালিজমের নীতিতে আপনি কী এমন নিজ ভাষ্য বয়ান লিখতে পারেন???

    আর এখানে রয়টার্স কেও জানিয়ে রাখি, নিজের ফাঁসির দড়ি এভাবে আপনারা নিজের জন্যও তৈরি করলেন!!!

    রয়টার্স কে বলছিঃ কান খুলে শুনে রাখেন। এই যে সব রিপোর্টের শেষ লিখে রাখেনঃ

    Reporting by Krishna N. Das in New Delhi; Editing by Michael Perry
    Our Standards: The Thomson Reuters Trust Principles., opens new tab এভাবে, আপনাদের প্রত্যেকটা রিপোর্টের নিচে লেখা থাকে। এখন বলেন Krishna N. Das এর এই লেখাটা আপনাদের নিজের ঘোষিত স্টান্ডার্ড থমসন রয়টার্স ট্রাস্ট এর প্রিন্সিপাল মেনে কী করা হয়েছে???? নাকি এটাই রয়টার্সের নীতি? এটা জার্নালিজম ?????
    রুমা পালকে নিয়ে আপনাদের কাছে বহুবার লিখেছি। বারবার বলেছি ইন্ডিয়ার ভিতর বসে বাংলাদেশ কাভার করবেন না, এটা বন্ধ করেন! আপনারা কানে শুনেন নাই। এখন আপনাদেরকে বাংলাদেশ থেকেই একেবারে উতখাত করতে হবে। বাংলাদেশের কোন মিডিয়া যেন আপনার ব্যুরো নিউজ কিনতে সাবসক্রাইব না করতে পারে এর ব্যবস্থা করতে হবে আমাদেরকে!!!

    সব শেষে ডঃ মঈন খান সাহেবকে কিছু কথাঃ
    আমার যতটুকু ধারণা ছিল তিনি সম্ভবত সবচেয়ে বয়স্ক ও সিনিয়র নেতার একজন যার খোদ জিয়াউর রহমানের সময়ে জিয়ার সাথে বিএনপিতে কাজ করেছেন অভিজ্ঞতা আছে। কিন্তু তিনি কী বুঝে আমেরিকাতে যেতে রাজি হলেন! আমি বিস্মিত! তারেক সাব বলেছেন আর আপনি রওনা দিয়ে দিলেন? আপনি কী খেয়াল করছেন ইতোমধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আমেরিকার বাংলাদেশ নিয়ে অবস্থান! আপনি কী নজর করেন নাই তুলসী গাবার্ড এর ভরাডুবি! তিনি ইন্ডিয়ায় থাকা অবস্থায় আমেরিকান স্টেট ডিপার্টমেন্ট তার বিরুদ্ধে নিজেদের বাংলাদেশ নীতি প্রকাশ করেছে! এত কী আপনি বুঝেন নাই  আমেরিকায় মোদির দৌড়, প্রভাব ক্ষমতা ইত্যাদি একটা ভুয়া ধারণা! চাপাবাজি!  আর আপনি আর তারেক সেগুলো দেখা-জানা সত্বেও আবার সেই মোদির বগলে সুগন্ধ খুজতে গেছেন??? আমি শুনেছি আপনারই নাকি তারেককে কিছু বুঝিয়ে বলার ব্যক্তিত্ব আছে! তাহলে কোথায় সেগুলা???

    আচ্ছা, আপনি সুস্থ আছেন তো নিশ্চয়! আচ্ছা তাহলে, ইউনুসের সাহেবের বিরুদ্ধে আমেরিকায় লবি করতে যান কোন বুদ্ধিতে? তাও আবার মোদি-জয়শঙ্করের ভরসায়? যাদের নিজেদেরই ভরসা নাই; ট্রাম্পের কাছেই নিজেদের কোন বেইল নাই!!!
    তাহলে আপনি এই বেকুবি ষড়যন্ত্রে শামিল হন কেমনে? আবার দেখেন এটা এমন এক ষড়যন্ত্র যা বেকুবেরা করে। এটা অন্তত আপনাকে নিশ্চয় মানায় নাই! নাকি এটাও বুঝেন না!

    আগামি দিনে বিএনপির ভরাডুবি বা সম্ভবত প্রায়  বিলীন এক মুসলিম লীগ যেন এমন যদি হয় তবে তারেকের পাশে আপনার নামটাও লেখা হয়ে থাকল আজ থেকে!   কোন কিছুর খবর নাই! কীসের নেশায় আপনারা এখনও রাজনীতিক বলে দাবি করে আছেন আমি বুঝতে পারি না!! সরি!! আমি সম্ভবত আমার হতাশাই ব্যক্ত করতে পারি!!!
    আর শেষ কথাটা হল, এই যে আপনি ভুয়া এক হুমকি দিয়েছেন যেন আপনি (সাথে আপনারা) আমেরিকায় গিয়ে কোন এক মহাযজ্ঞ করে ফেলতেছেন বলে ভাব তৈরি করতেছেন বলছেন “নির্বাচন ডিসেম্বরের পরে গেলে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে,  এখন এই কথাগুলো বলে আপনাদের নাড়াচাড়াতেই না আপনাদের প্রিয় নির্বাচনটাই অনির্দিষ্ট হয়ে যায়। এতে হতে পারে এক গণভোটের দাবি সামনে চলে এসেছে। আর সেটাও তো নির্বাচনই! “নির্বাচিত প্রধান উপদেষ্টা” পেয়ে যেতে পারেন হয়ত! তখন কী করবেন? পাবলিক মাইন্ড বুঝতে মনোযোগ প্রচেষ্টা নিয়ে দেখতে পারেন, কান পাতেন!

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

     আপডেটঃ  দুপুর  ০২ঃ ৪০,  ১ এপ্রিল ২০২৫
    সবশেষ আপডেটঃ  দুপুর  ০৪ঃ ১০,  ১ এপ্রিল ২০২৫

     

  • মোদি-হাসিনা দুজনেই কী আসামি হবেন, না ট্রাম্পের বক্তব্য বুঝে হাসিনাকে ত্যাগ করবেন

    মোদি-হাসিনা দুজনেই কী আসামি হবেন, না ট্রাম্পের বক্তব্য বুঝে হাসিনাকে ত্যাগ করবেন

    “মোদি-হাসিনা দুজনেই কী আসামি হবেন,
    না ট্রাম্পের বক্তব্য বুঝে হাসিনাকে ত্যাগ করবেন”
    গৌতম দাস
    ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫   দুপুর ০২ঃ ১৭
    https://wp.me/p1sCvy-6jH

     

     

     

    মোদি-হাসিনাদের দোকান কী এখন বন্ধ হবে? যে দোকান তারা খুলেছিলেন ৫ আগষ্ট ২০২৪ এরপরে?
    গতকাল ১৩ ফেব্রুয়ারি ছিল মোদি-হাসিনাদের বহু আশা -ভরসা দেখা প্রতিক্ষিত ট্রাম্প-মোদি মিটিং।  মোদি-হাসিনাদের মিথ্যা প্রপাগান্ডার জোর এত তীব্র ছিল যে সব ফ্যাক্টস বা সত্য আমরা তুলে দেখালেও আমার বাংলাদেশিদের শঙ্কা যাচ্ছিলই না। কারণ তারা ঘর-পোড়া গরু – সেই ২০০৭ সালের ১/১১ থেকে যখন আমেরিকা বাংলাদেশকে ইন্ডিয়ার হাতে তুলে দেয়া ঘটেছিল তখন থেকেই লাগাতর -এভাবে নয়ত সেভাবে – নির্যাতিত হয়ে আসছে! হিন্দুত্ববাদের দাপট বাংলাদেশে জঙ্গীবাদ হচ্ছে বলে প্রপাগান্ডার আড়ালে তারা এক গুম-খুন-অপহরণ এর রাষ্ট্র কায়েম করেছিল আর সাথে ছিল রাষ্ট্রীয় সম্পদের সীমাহীন লুটপাট!
    ফলে বাংলাদেশের আম-মানুষের শঙ্কা কাটছিলই না বিশেষত মোদি-হাসিনাদের এই শেষ চেষ্টা যে এবার মোদি-ট্রাম্পের মিটিংয়ের পরে  মোদি-হাসিনার হিন্দুত্ববাদী খুনি এলায়েন্স যদি আবার ফিরে আসে???
    আমি মনে করি সেই দিন শেষ হয়েছে।

    সেই বহু প্রতিক্ষিত অপেক্ষা শেষ হয়েছে।  ট্রাম্প পাবলিকলি বাংলাদেশের উপর ইন্ডিয়ার সব অপরাধের দায় মোদির উপরেই চাপিয়ে দিয়েছেন।  নিচে দেখেন র-এর মিডিয়া ডেইলি স্টারের বাংলা রিপোর্ট থেকে  [স্ন্যাপ শর্ট] ছবি তোলা বক্তব্য!

     

    ট্রাম্পের মুখে মারা জবাবঃ
    ইন্ডিয়ান সাংবাদিক নিজেই প্রথম মার্কিন ডিপস্টেট এর প্রসঙ্গ বা শব্দগুলা ব্যবহার করেছিলেন। আর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সপাটে মুখে মেরে এর জবাব দিয়েছেন। বলেছেন, “এ ক্ষেত্রে আমাদের ডিপ স্টেটের কোনো ভূমিকা ছিল না”। সাথে আরো বলেছেন, “এটা এমন একটি বিষয় যেটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী (মোদি) দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন এবং সত্য বলতে, শত শত বছর ধরে এ বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। কিন্তু আমি এটা প্রধানমন্ত্রীর (মোদির জবাব দিবার কিছু থাকলে) হাতে ছেড়ে দিচ্ছি”। এটা অনেক শয়তান অনুবাদক –  ট্রাম্পের এই কথা টা বাংলাদেশকে ইন্ডিয়ার হাতে ছেড়ে দেওয়া বলে মিথ্যা প্রচার করেছেন!

    আসলে ইন্ডিয়ান সাংবাদিকদের হোমওয়ার্ক সবসময় কম থাকতেই দেখা যায়।  প্রশ্নকর্তার বুঝা উচিত ছিল দুই চোর একসাথে চুরি করতে যাওয়ার পর এক চোরের আরেক চোরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা আর চলে না – সুযোগ থাকে না। কারণ, সেক্ষেত্রে দুই চোরই ধরা খাবে। যদি ২০০৭ সালের ১/১১ থেকে কথা তুলি যখন আমেরিকা বাংলাদেশকে ইন্ডিয়ার হাতে তুলে দেয়া ঘটেছিল – এই ঘটনা তুলে সেসময়ের আমেরিকান ভুমিকা বা  মার্কিন ডিপ-স্টেট কে অভিযুক্ত করে কথা অন্তত ইন্ডিয়ার কেউ তুললে সেটা তো নিজেদের পায়ে কুড়াল মারাই হবে। যদিও এটা স্পষ্ট যে সাংবাদিক সরাসরি বাইডেনের নাম নিয়ে সেই রেফারেন্সে  প্রশ্ন করছেন! কিন্তু সেখানেও একই বিপদ-ই থেকে গেছে।
    এটা ঠিক যে বাইডেনের প্রথম তিন বছর (২০২১-২৩) মানে ২০২৩ সালের আগষ্ট-সেপ্টেম্বরের আগে পর্যন্ত  তিনি হাসিনার উপরে মানবাধিকার-স্যাংশনের নীতিতে আগিয়ে গেছিলেন যেটা বাংলাদেশের বিরোধীদল সুবিধা পেয়েছিল আর মোদির ইন্ডিয়া এতে বাইডেনের আমেরিকার সঙ্গী হতে পারে নাই বা সুযোগ ছিল না বলে গোসসা ঘরে খিল দিয়েছিল, এসময়টাতে।  কিন্তু  ২০২৩ সালের আগষ্ট-সেপ্টেম্বর থেকে বাইডেন পল্টি মেরেছিলেন ইন্ডিয়ান প্ররোচনায়; ফলাফলে ল্যু-বাইডেন হাসিনার হাত ধরেছিল আমাদেরকে রাস্তায় ফেলে পালিয়ে!  এই পল্টি মারাতে হাসিনা কথিত তাঁর ৭ জানুয়ারি নির্বাচন করে নিলে বাইডেন চিঠি লিখে জানিয়েছিল এরপর বাইডেন-হাসিনা একসাথে কাজ করবে!!!
    আর এটাই বাইডেন ও তার সিআইএ (যেটাকে এখন ভারতীয় সাংবাদিক মার্কিন ডিপস্টেট বলে ডাকছেন) তাদের একেবারে গাধা বনে যাওয়ার ঘটনা! কারণ, বাইডেনের ৫ ফেব্রুয়ারির চিঠিতে – একসাথে কাজ করার খায়েশ – জানানো মানে, পরবর্তিতে চারমাসের মধ্যেই যে খোদ হাসিনাই গণঅভ্যুত্থানে উচ্ছেদ হয়ে যাচ্ছেন এইটা তারা কোন আগাম আমল – তা করতেই পারেন নাই! যার আরেক অর্থ হল, বাংলাদেশে সিআইএ ততপরতা (বা কথিত মার্কিন ডিপস্টেট ধারণা যেটা) এখন গুটিয়ে ফেলা উচিত। কারণ, তারা প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে কোন আগাম ধারণাই এরা দিতে পারেন নাই বলেই তো বাইডেন বোকার সাহসে হাসিনার হাত ধরার কথা বলেছিলেন!! অর্থাৎ এখান থেকেই – বাংলাদেশে ৫ আগষ্টে যা দাড়িয়েছিল – তা শুধু হাসিনার উচ্ছেদ না এটা তো একই সাথে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে তাঁর নীতিসহ উতখাত; যে বাইডেন নিজেই হাসিনার দোসর সেজে একসাথে কাজ করতে চাওয়া এক গাধা বনে যান মাত্র!!! বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা এই গাধা আর তার সিআইএ টাইপের আর যেসব আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থা আছে সবাইকেই ছুটিতে পাঠায় দিয়েছিল।
    অথচ এরপরও  মোদি-হাসিনা মিলে উলটা গল্প বানিয়েছে যে –  বাইডেনের আমেরিকান ডিপ-স্টেট নাকি হাসিনাকে উতখাত করেছে!!!  যে বাইডেন দাবি করে হাসিনাকে জানিয়েছিল তারা ফেব্রুয়ারি থেকে একসাথে কাজ করবে সেই আমেরিকান বাইডেন তাঁর কথিত ডিপ-স্টেটের ভুমিকা – বলে মোদি আর তার র-এর গল্প – তা বানালেই যে তা গল্প হবে না তা বুঝিয়ে বলার কী আর দরকার আছে??

    তাহলে ট্রাম্প এখন প্রবলভাবে এই কথিত ডিপ-স্টেটের ভুমিকা সরাসরি নাকচ করল কেন?
    মোদি-হাসিনা যে এমন ডিপ-স্টেটের গল্প বানাইতেছে সেটা গত কয়েকমাস থেকে কমবেশি সবাই জানে। কিন্তু এর বাইরে মূল নিয়ামক ছিল ইউনুস সাহেবের সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালে প্রথম আমেরিকা গিয়ে বাইডেনের সাথে সাক্ষাত। সেখানে ইউনুস সাব বুঝায়ে দেন তাঁর বক্তব্যে যে তাঁর সরকার আমেরিকান পুরানা অপরাধে কথা তুলে সেখানেই আটকে থাকতে চায় না। ইউনুসের সরকার পজিটিভলি সামনে তাকাতে চায়। আর ইউনুসের এই কথা আসলে বাইডেন ও তার সাঙ্গপাঙ্গ ল্যু-সহ সকল স্টাফ শুধু না এমনকি আমেরিকান থিঙ্কট্যাঙ্ক, নীতিনির্ধারক গবেষক বা কর্তা সকলেই হাফ ছেড়েছিল যে আমরা তাদেরকে অভিযুক্ত করাতেই আটকে থাকতে চাই নাই! আসলে আমরাই বুদ্ধিমান হয়ে ” পজিটিভলি সামনে তাকানোর আমাদের নীতির” কথা জানিয়েছিলাম। কারণ, এটা না করলে আজ এদের সকলকে আমরা মোদির কোলে উঠে যেতে দেখতাম!  অর্থাৎ ইউনুসের কথায় আমেরিকান কথিত ডিপস্টেটের সকলেই জেনে যায় যে ইউনুস সাব তাদের মাফ করে সামনে আগাতে চাইতেছে। তাহলে রিয়েলিটি কী ছিল?
    বাইডেনের সাথে আমেরিকান সারা ডিপস্টেট-ই তো বাংলাদেশের হাসিনা সাথে সাথে পরাজিত ও উতখাত হয়ে যায়! ফলে কথিত ডিপ-স্টেটের এই নয়া জীবন লাভ এটাই সাধারণ ব্রিফিং হয়ে যায় আর সেই ব্রিফিং-ই ট্রাম্প এবার প্রেসিডেন্ট হবার পরে পেয়েছেন। তাই তিনি সহজেই ফুতকারে মোদি-হাসিনার বয়ান উড়ায় দিছেন। শুধু তাই না মনে করিয়ে দিয়েছেন ইন্ডিয়া গত শত বছর ধরে বাংলাদেশের উপর হেজিমনি-আধিপত্য কায়েমের চেষ্টা করে গেছে। মানে আমেরিকা সব দায় এখন ইন্ডিয়ার উপর চাপিয়ে দিয়েছে। যা নিয়ে আমাদের ব্যস্ত না হলেও চলবে!!!
    যদিও ডেইলিস্টার পুরানা র-এর এসাইন্ড দালালিতে মোদির হাতে ট্রাম্পের মাইক্রোফোন ছেড়ে দেওয়া বা বলার সুযোগ ছেড়ে দেওয়াকে খোদ বাংলাদেশকেই মোদির হাতে ছেড়ে দেওয়ার ইঙ্গিত  বলে  ভুল অনুবাদ করেছে!

    তাহলে দাঁড়ালো কী?
    এককথায়, মোদি-হাসিনার সব প্রপাগান্ডা মেশিন যে ৫ আগষ্ট থেকে সাজিয়েছিল এর সব ফেলড, পরাজিত!  ধর্ম না ন্যায়ের কল বাতাসেই নড় উঠেছে! ঘন্টা বেজে উঠে জানাচ্ছে সবাইকে!
    এতে মোদি-হাসিনার এতদিনের নিয়মিত মিথ্যা আশ্বাস যে এই তো আমেরিকা ইন্ডিয়ার পিছনে দাঁড়াবে আর ইন্ডিয়া-আমেরিকার যৌথ উদ্যোগে আবার হাসিনা ক্ষমতায় ফিরে আসবে!
    এই সাধারণ প্রপাগান্ডা লাইনের অধীনে আবার সাব-প্রপাগান্ডা বা উপ-প্রপাগান্ডা আরেক লাইন এসেছিল নভেম্বর ২০২৪ সালে যে মোদির ট্রাম্প ভাইয়া জিতে গেছে আর মোদি-হাসিনা, তাদের আর  চিন্তা নাই। ট্রাম্পের শপথের পরে এই তো মোদির ট্রাম্পের সাথে এবার দেখা হল বলে!!! হাসিনার সব দুঃখের অবসান হয়ে যাবে বলে মোদি-হাসিনা মিথ্যা আশা ছড়িয়েও প্রপাগান্ডা চালিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এখন সবই পরাজিত হল।
    এরপর জয়শঙ্কর যখন বুঝলেন ট্রাম্প এভাবে গলবার কোন সম্ভাবনা নাই!! মানে হল, এই পেশাদার কূটনীতিকও ট্রাম্পের নির্বাচনি ক্যাম্পেইনের সময় থেকে ঘোষিত নীতি পড়ে বুঝতে অক্ষম ছিলেন যে হবু ট্রাম্প প্রশাসনের মৌলিক নীতি হবেঃ
    ১। আমেরিকা ফার্স্ট
    ২। যেকোন দেশের উপর  ট্রাম্প  আমেরিকায় রপ্তানির উপরে ট্যাক্স বসাবেন

    এসব তো না বুঝার কিছু নাই!!! মানে মোদি-জয়শঙ্কর তবু না বুঝার ভান করে গেছিলেন! আর ভেবেছিলেন এবারের মোদির সফরে আমেরিকান অস্ত্র কিনতে আগ্রহ দেখালে বোধহয় ট্রাম্প মোদি-হাসিনার শয়তানিকে সমর্থন দিবেন। সেসব বোকার স্বর্গে বাস এখন ন্যাংটা হয়ে গেল!

    তাহলে, এখন আর কী হবে? 
    তাহলে, এখন আর কী হবে? ইম্পিকেশন[implication] বা পরিণতি-প্রভাব কী দেখব? জাতিসংঘের রিপোর্ট !!!

    ইতোমধ্যেই একটা মুখে মারা ঘটনাও ঘটে গেছে। মোদি-ট্রাম্প বৈঠকের আগেই জাতিসংঘের রিপোর্ট – গণহত্যার প্রাথমিক অনুসন্ধান রিপোর্ট প্রকাশিত হয়ে গেছে। যার সোজা মানে হল মোদি-হাসিনা এ’দুই দানব-দানবীই এখন দুনিয়ার চোখে আসামির নজরে! ফলাফল এই যে সারা আমেরিকাকে তো পাগলে তাড়া করে নাই যে এই অবস্থায় ট্রাম্প -এই মোদির সাথে – কোন সম্পর্ক জড়াবেন কোন সংসর্গে থাকবেন??? বরং যতটা সম্ভব মোদির ইন্ডিয়ার সাথে আমেরিকান সংশ্লিষ্ঠতা নাই তা দেখানোর ট্রাম্পের জন্য ভাল উপায় হল মোদিকে দূরে রাখা! ট্রাম্প এই নীতিই অনুসরণ শুরু করে দিয়েছেন!  আর এক্ষেত্রে আমরা – আমাদের ইউনুস সরকার কী সেটাই নিশ্চিত করেছেন, যাতে জাতিসংঘ রিপোর্টটা মোদি-ট্রাম্প সাক্ষাতের ঠিক আগের দিন প্রকাশিত হয়? হ্যা করলে করছেন! অসুবিধা কী? আমরা কোন অন্যায় অযাচিত তো কিছু করি নাই! চোরেরা ধরা পড়লে আমাদের আর কী করার আছে????

    তাহলে এখন কী হতে পারে?
    একটা দল এখন গণ-কেস [gone case]! হাসিনা ও তার লীগ আর উঠে দাঁড়াতে পারছে না! ফলে এটাই মানে, জাতিসংঘের রিপোর্ট টা প্রকাশের পরে এটাই আমাদের জন্য সবচেয়ে ভাল সময় যে, এই লীগ দল ও এর নেতাদেরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার। এমন কী জনগণ দেখতে চায় যে অন্য কোন কোন দল এর (লীগ নিষিদ্ধের) বিরোধিতা করতে চাইছে। আমরা দেখতে চাই কোন কোন দল এর বিরোধী। বুক ফুলিয়ে তারা সামনে আসুক!

    তাহলে অন্য আর দুইটাঃ
    আমার অনুমান বাংলাদেশের  হবু ক্ষমতায় যাবার আকাঙ্খি বিএনপি ও জামাত সহ অন্য যে কোন দল যারা ইন্ডিয়ার পকেটে কম-বেশি হাত ঢুকিয়ে চলে নিজেদের বুদ্ধিমান মনে করে এসেছে – তাদের জন্য কঠিন সিদ্ধান্ত নিবার শেষ সুযোগ এখনই! সেই ইস্যুটা হল, ট্রাম্প বা আমেরিকার মোদিকে ছুড়ে ফেলে দেওয়াটা – এটা কী তারা দেখতে পেয়েছেন? পেলেন?
    আমরা জানি না, তবে জেনে যাবো অচিরেই!

    এমন দলগুলো যদি নিজে বাঁচতে চায় তবে তাদের হাতে সময় থাকবে খুবই কম – বড় জোর আগামি সাত দিন!
    এমন দলগুলোকে দেখাতে হবে যে তারা কোন দুরতম সুত্রেও ইন্ডিয়ার উপর আর কোন আশা ভরসা রাখছে না। ইন্ডিয়ার সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্কও সে অনুসারে নাকচ ও তারা এখন দূরে চলে গেছে – এমনটা আবার মনে মনে করলে হবে না; পরিস্কারভাবে সাধারণ মানুষ যেন বুঝতে পারে এমন আচরণ – বক্তব্য তাদের সামনে আসতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা নিজ জনভিত্তি (নিজ রাজনীতি ও নিজ কনষ্টিটুয়েন্সিতে মনোযোগী) গড়তে যে তারা এখন থেকে মনোযোগী হয়ে গেছে এটা পাবলিকের সামনে নিদর্শন হাসির করে চলতে হবে তাদের।

    এখন এরপরেও ‘অতি- বুদ্ধিমান’ দল কেউ থাকতেই পারে! ধরে নিচ্ছি! যদি থাকে তবে তাদের গণবিচ্ছিন্নতার শেষের দিন গোনা শুরু করতে পারে তারা!
    আমার অনুমান এখন থেকে ইন্ডিয়ার সাথে যোগসুত্র থাকা বা রাখা যাদেরই আছে সেটা ঐ দলের জন্য পাবলিকের সামনে নেগেটিভ পয়েন্ট হিসাবে হাজির হবে।

    সারকথায় আগামি অন্তত একমাস এগুলাই বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের মূল ইস্যু হতে যাচ্ছে!

    আজ ভোর বা সকাল থেকেই অনেকেই আমাকে প্রশ্ন রেখেছেন – মোদি-হাসিনাদের দোকান কী এখন বন্ধ হবে?

    আমার স্থির ধারণাঃ হ্যা সেই সময় আজ সকাল থেকে শুরু হয়ে গেল! আমেরিকা অন্তত বাংলাদেশ ইস্যুতে আর মোদির ভারতের সাথে কথা বলবে না।
    আর এর প্রতিক্রিয়ায় খুব সম্ভবত মোদি-জয়শঙ্কর যদি  বুঝমান হন, এখনও কিছু বুদ্ধি-সুদ্ধি যদি তাদের বেঁচে গিয়ে থাকে তবে কত দ্রুত ইউনুসের নেত্বত্বের বাংলাদেশের  কাছে আসা যায় তাদের সে ততপরতা ও নীতি-পলিসি  অচিরেই দেখব আমরা!

    কিন্তু মোদি কী তাঁর আমেরিকা সফরের ম্যাসেজ পাঠ করতে পারবেন? হাসিনার হাত ছেড়ে দিয়ে বিদায় জানাবেন? সেসব দিকগুলো এখন থেকে পরের সাতদিনে তার নড়াচড়া দেখলেই বুঝতে পারব? তবে যেটাই করেন না কেন এই সতেরো বছর পরে বাংলাদেশ থেকে হাত গুটানো এক ইন্ডিয়া  দেখতে পাবো বলে আমার বিশ্বাস! সেই কাউন্টিং এর শুরু আজ থেকে!

    বাড়তি একটা ছোট ইস্যুঃ মাইলেল কুগেলম্যান
    Michael Kugelman, ইনি আরেকজন বাইডেনের সঙ্গী; ডোনাল্ড ল্যু এর মতই। যিনি ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্রাটেজি জবরদস্তিতে হলেও তা কাজ করছে সেটা দেখাবেনই যেন!!! এমনই গাধা ও গোঁয়াড়! কুগেলম্য্যানের এসাইনমেন্ট ছিল, আমেরিকান ম্যাগাজিন ফরেন পলিসি-তে সাপ্তাহিক কলাম লিখা। আর এর মাধ্যমে তিনি বাইডেন প্রশাসনকে সচেতন করতেন যে দক্ষিণ-এশিয়া থেকে ফিডব্যাক ইনফরমেশন ঐ কলামে লিখে দিয়ে। তাই গত ২০২১-২৩ সালে আমাদের দেশে বিরোধীদলের জমায়েতে বাস্তবেই লোক বেশি হয়ে গেলে উনি খামোখা তর্ক জুড়তেন – দশলাখের জায়গায় এক লাখ দাবি করে! কারণ, উনি জানতেন বাইডেন-ল্যু এর পলিসি হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুতি নয় বরং হাসিনার উপর চাপ দিয়ে তাকে চীনের হাত ছাড়তে বাধ্য করা যাতে এই কুচক্রিদের আসল স্বার্থ ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্রাটেজি সফল বলে দাবি করতে পারে। তাই, বাইডেন যে আগষ্ট-সেপ্টেম্বর ২০২৩ সালে পল্টি মারতে যাচ্ছেন তা ইনার লেখা থেকেই আঁচ করা যাচ্ছিল!
    যাহোক, সেই কুগেলম্যান এখন মোদি-ট্রাম্প বৈঠক নিয়ে টুইট করেছেনঃ

    In the trump-Modi presser, Trump was asked for his view on Bangladesh, and interestionly he dumurred, saying “I’ll leave Bangladesh to the Prime Minister”

    এই টুইটে আসল শব্দটা হল,  dumurred যার আসল অর্থ হল ‘আপত্তি’ বা ‘অনিচ্ছা দেখানো’। বলছেন, ভারতীয় সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাব দিয়ে ট্রাম্পের অনিচ্ছা দেখে তিনি মজা পাইছেন।
    আসলে কুগেলম্যানেরা মজা পান আর দুঃখই পান বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা আপনাদের সকলকেই হাসিনা-সহ উতখাত ও উপড়ে ফেলে দিয়েছে! সেটা পারলে স্বীকার করেন!!!

    সাথে আমেরিকান ডিপ্লোম্যাট জন ড্যানিলঃ
    সে যাই হোক, আরেক সাবেক আমেরিকান ডিপ্লোম্যাট জন ড্যানিল (এই নামে আমাদের এখানে বেশি পরিচিত) [Jon F Danilowicz]; তিনি একসময় বাংলাদেশে ডেপুটে এমব্যাসাডর ছিলেন। তিনি কিন্তু কুগেলম্যানদের মত ছলনা করে কথা বলার বিরুদ্ধে। তিনি ট্রাম্পের মোদির দিকে মাইক্রোফোন আগায় দেবার অর্থ করে টুটে লিখেছেন, যারা ভয় পেয়েছিলেন যে মোদি ট্রাম্পকে বাংলাদেশের ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর হতে ট্রাম্পকে রাজি করায় ফেলবেন তারা এখন আয়েসে নিঃশ্বাস ছাড়তে পারেন”। মানে জন বলতে চাইছেন, তাঁর মনে হয়েছে মোদি তা করতে পারেন নাই।
    এছাড়া তিনি আরো যোগ করেছেন, জাতিসংঘের রিপোর্ট [UN OHCHR report]  প্রকাশ আর ইউনুস সাহেবের ট্রাম্পের (এখনকার প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্টভাবে কাজ করা )  বন্ধু ইলন মাস্কের সাথে ফোনে কথা বলে ব্যবসায়িক আলাপ করা  – এদুই টা ইন্টারন্যাসনাল ফ্রন্টে বাংলাদেশকে অনেক আগিয়ে রেখেছে বলে জন বিশ্বাস করেন। এনিয়ে TBS পত্রিকার লিঙ্ক দেখতে পারেন এখানে।

     

     

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  দুপুর ০৩ঃ২০   ১৪ ফেব্রুয়ারি  ২০২৫

    সর্বশেষ আপডেটঃ  বিকাল ০৫ঃ ১১   ১৪ ফেব্রুয়ারি  ২০২৫

  • শেখর গুপ্তার ইউনুস পাঠ ভুয়া!

    শেখর গুপ্তার ইউনুস পাঠ ভুয়া!
    গৌতম দাস
    ১৪ জানুয়ারি ২০২৫   বিকাল ০৪ঃ ৪২
    https://wp.me/p1sCvy-6cg

     

    Prof Yunus, ThePrint

    ছবিতে শেখর গুপ্তা

    আজ সকালে ডেইলিস্টারের খবর হল, বিএনপি এবছরের মাঝামাঝিতে নির্বাচন চায় [BNP wants national polls by mid-2025 ]। গতকাল সন্ধ্যায় বিএনপির যে স্থায়ী কমিটির মিটিং ছিল সেখানকার সিদ্ধান্ত এটা। এর চেয়েও বড় খবর হল, কিন্তু তা সত্বেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থায়ী কমিটির সদস্য একথা ডেইলিস্টারকে বলেছে।
    এবার এর সাথে মিলিয়ে দেখেন গতকাল (১৩ জানু.২০২৫) সারাদিনে ইন্ডিয়ান মিডিয়ায় বাংলাদেশে নির্বাচন তারা এবার ঘটাবেই – সবচেয়ে দ্রুত – এমন আক্রমণের এক নয়া উদ্যোগ যেটা শুরু হয়েছে। ইন্ডিয়ান সেনাপ্রধান থেকে শুরু করে ইন্ডিয়ার সকল মিডিয়া ভয়েজ এখন এটাই।
    মোদির ইন্ডিয়া ও র-এর পরিকল্পনা একেবারে ডেস্পারেট (মানে পাগলা হয়া গেছে) বা মরিয়া যে বাংলাদেশে একটা নয়া হাসিনা দল ও সরকার কায়েম তারা এবার করবেই! এতদিন একাজে মোদির মিথ্যা প্রপাগান্ডা-মিডিয়াগুলোকে লাগিয়ে একাজ করছিল; বিশেষত সেই চিন্ময়-ইসকন কান্ড থেকে। এর মানে হল, নয়া হাসিনা আর নয়া হাসিনার দল যাকে মোদি বানাবেন  তা তিনি এবার পেয়ে গেছেন।
    কিন্তু এবার এতে আরো সংযোজন হল একেবারে প্রথম সারির মিডিয়া – দ্যা প্রিন্ট ও এর বর্ষীয়ান সম্পাদক (আসলে তিনি এখন এর সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি ও মালিক) শেখর গুপ্তা।  পাঞ্জাবের কোন এক অখ্যাত গ্রামে ১৯৫৭ সালে জন্ম নেয়া এই গ্রামের ছেলে যার যাত্রা শুরু হয়েছিল আরএসএস পরিচালিত এক প্রাইমারি স্কুল থেকে সেকালে সে ব্যাপারটা শেখর গুপ্তার  নিজেরই ভাষায় বললে, -” আরএসএস এর দুইটা অনুগ্রহের সুযোগ নিয়ে সেই শেখর গুপ্তা নানা পথ পরিক্রমের পরে এখন দ্যা প্রিন্ট এই পত্রিকার 56.39% শেয়ার  বা   ১৩৯ কোটি রুপির শেয়ারের মালিক তিনি এক শেখর গুপ্তা।   এই দ্যা প্রিন্ট এটা একটা   ব্রান্ড নাম বলা যায় যার কোম্পানী নাম প্রিন্টলাইন মিডিয়া । যার অফিসিয়াল জন্ম ২০১৬ সালে।

     

    কিন্তু কেন এত ডিটেইল বলছিঃ
    বলছি এজন্য যে মোদি যখন শেখর গুপ্তাকে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইউনুস, এই ব্যক্তি ও সরকারের বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডা করতে নিয়োগ দিয়ে দিছেন তখন বুঝতে হবে এটা অনেক বড় বাজি ধরা স্টেক। তাহলে কে এই শেখর গুপ্তা?
    অন্যভাবে বললে, এক অর্থে ভারতের মিডিয়ার উত্থান বিকাশ ও শেষে – গোদি মিডিয়া – হয়ে যাওয়া এর সবটাই যেন  শেখর গুপ্তার উত্থান বিকাশ ও গোদি মিডিয়াম্যান হয়ে যাওয়া! প্রায় সমার্থক ঘটনা! যেমন ভারতের মিডিয়া বুঝতে গেলে দুটা টার্ণিং পয়েন্ট আপনাকে মনে রাখতে হবে। অনেক আগেও বলেছি, ভারতের প্রিন্টেড মিডিয়া বাংলাদেশের মত নয় যে এর কোনটাই মালিকের ভর্তুকিতে চলে। মানে বাংলাদেশে যেমন প্রত্যেকটা প্রিন্ট মিডিয়াই মালিকের অন্য ব্যবসার আয় সেখান থেকে আনা লাভ এখানে ভর্তুকি হিসাবে ব্যবহার করে করে বলেই এটা টিকে আছে। আর মালিক বিনিময়ে এই প্রিন্ট মিডিয়াকে ব্যবহার করে থাকে হুমকি দিয়ে অন্যের ক্ষমতাকে ম্যানেজ করতে! বা ক্ষমতাসীন সরকারকে সেবা দিয়ে সন্তুষ্ট করতে! এই হল বাংলাদেশি মিডিয়া ব্যবস্থা!
    বিপরীতে ইন্ডিয়ান প্রিন্ট মিডিয়া নিজে কোম্পানি যে নিজের আয়ব্যয় সামলাতে হয়; যার অনেকগুলো সেই বৃটিশ আমলে জন্ম!  কিন্তু একালে এসে এসব পুরান ভ্যানিটি-গৌরব সব শেষ!  যার প্রথম দুর্যোগটা ২০১৪ সালের শেষে বা ২০১৫ সালের শুরুতে; যা আসলে এককথায় বিজেপির মোদির প্রথমবারের মত ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হবার পরে পরেই। কারণ,  মোদি সরকার ও র-এর প্রকল্প হল, মিডিয়াকে টাকা খাইয়ে ম্যানেজ করা তাই শুরু হয়ে যায় অর্ণব গোস্বামীদের যুগ!  পত্রিকার লাইসেন্স যার নামে তিনি জানেনই না আজ পত্রিকার প্রধান শিরোনাম কী!  তিনি এমন ভাবেই মোদি ও র-এর হাতে ম্যানেজমেন্ট-পরিচালনা ছেড়ে দিয়েছেন। বিনিময়ে নিজ স্বার্থ বুঝে নিয়েছেন।  মোটা দাগে এই হয়ে উঠেছিল ট্রেন্ড।
    এরপর ঘটে আরেক দ্বিতীয় ঘটনা। সেটা হল, কোভিড পরবর্তী ইন্ডিয়া যখন অর্থনীতির সবকিছু ভেঙ্গে পড়েছিল আর এর ঝাপটায় ২০২১ সাল থেকে প্রায় সকল মিডিয়াই কম-বেশি মোদির ভিক্ষায় টিকে থাকা মিডিয়া হয়ে যায়।
    এদুই ঘটনাই বলে দেয় মোদি মিডিয়া কিনে নেওয়া কিভাবে শুরু  হয়েছিল আর তা কত মারাত্মক ছিল। পরের বছর ২০২২ সালে বিবিসি এই প্রসঙ্গে একটা রিপোর্ট করেছিল; শিরোনাম ছিল, ভারতের মূল ধারার মিডিয়া যেভাবে সরকারের বশংবদে পরিণত হচ্ছে। এবং  এই রিপোর্টের মধ্যেই এক উপশিরোনাম আছে – ‘কিনে নাও সব চ্যানেলকেই’– এভাবে।

    এদিকে, ঘটনাক্রমে এই শেখর গুপ্তা খুবই প্রভাবশালী হয়ে উঠেছিলেন সাথে যার একটা তুলনামূলক ক্লিন ইমেজও ছিল অনেককাল। কথাটা এভাবে বলা যায় যতদিন তিনি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকার সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী [CEO] ছিলেন 19 years from 1996 to 2015। তাঁর পেশাদার জীবন সেকালে মূলত এই ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস আর ইন্ডিয়া টুডে তেই কেটেছে। সাথে এক লম্বা সময় প্রায় ১৯ বছর তিনি  ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এর সম্পাদক ছিলেন। এটাই তার ইমেজ শিখরে উঠবার সময় ছিল। বিশেষ করে এনডিটিভি তে তাঁর ওয়াক অন টক [Walk on Talk] এই শিরোনামে ইন্টারভিউ গুলো তাকে পপুলার করেছিল। তিনি সেকালে কত বড় কেউকেটা ছিলেন এনিয়ে কৌতুহলীরা দেখতে পারেন এই লিঙ্কে । যখন তাঁর বাসা-বাড়িটা হয়ে উঠেছিল ক্ষমতার করিডোর!
    কিন্তু ২০১৬ সালের পরে নিজের মালিকানাধীন পত্রিকা দ্যা প্রিন্ট বের করার পর থেকে তিনি আস্তে আস্তে গোদি মিডিয়ার (এলিট অংশ) হয়ে উঠতে শুরু করেন। শুরুতে শেখর গুপ্তা-সহ  এসব মিডিয়া মোগলেরা এদের অজুহাত ও সাফাইয়ে তারা বলত কোভিড কালে কর্মচারিদের বেতন দিতে না পারাতে মোদির সহায়তায় যেতে – এটা করতে হয়েছিল। পরে আমরা দেখি এতে নানান ইস্যুতে শেখর গুপ্তার  ভাষ্য বক্তব্যও বদলাতে শুরু করে। [আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হল, মূলত এসময়কাল থেকেই আমি এরপর থেকে আর এই পত্রিকাটা নিয়মিত ফলো করা থেকে সরে আসি। অথচ আমার অনেক পুরানা লেখায় দেখবেন আমি মূলত দ্যা প্রিন্ট কেই রেফার করেছি। ]। যেমন, তিনি মোদির হিন্দুত্ববাদী বা ইসলামবিদ্বেষী অবস্থানের পক্ষে দাড়াতে শুরু করেন – অপ্রত্যক্ষের ভাব ধরে। তাঁর আরেক বৈশিষ্ট হল, তিনি বড় সম্পাদক হলেও নিয়মিত তিনি কলাম লেখা (বা ভিডিও ক্লিপ তৈরি) চালিয়ে গেছেন। আর তার কলাম প্রকাশিত হত – ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট কলাম – এই নাম দিয়ে।

    আসলে এটাই শেখরের কারসাজিঃ
    জার্নানিজম আর দেশপ্রেমিকতা কী একই জিনিষ? বা একই সাথে করার জিনিষ?   নাকি আগে জার্নানিজম আর পরে দেশপ্রেমিকতা? এই জিনিষটাই গোলমাল পাকিয়ে রেখে দিয়েছেন শেখর গুপ্তা!
    মূল তর্কে গোলমাল পাকানো হয়েছে যেন দেশপ্রেমিক জার্নালিজম বলে কিছু একটা আছে। যেখানে দেশপ্রেমিকতার নামে অপ-জার্নালিজম-কে জায়গা করে দেয়া যায়! এমনকি শেখরের নিজ লেখা কলামের নাম  ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট নাম দেওয়াটাই এর প্রমাণ। মানে তিনি বলতে চাইছেন, যেন তিনি জাতীয় স্বার্থের জার্ণালিস্ট! শুনে আর না বুঝে ব্যাপারটা অনেকের ভালই লাগবে হয়ত! কিন্তু সাবধান! জাতিবাদি হয়ে যেয়েন না এত সহজে। যদি প্রশ্ন করি আপনি কী মোদির স্বার্থের পক্ষে  থাকাটাকে জাতীয়স্বার্থ বলে ভেবে এর পক্ষে থাকবেন নাকি যা সত্যি ফ্যাক্টস অর্থে সত্যি এর পক্ষে থাকবেন? [একই কথা আরেকভাবে বলা যায় যেমন মুসলমান কী মুসলমানের পক্ষে থাকবেই নাকি সবসময় তাকে ইসলাম / না-ইসলাম নির্বিশেষে ইনসাফের পক্ষেই থাকতে হবে?]
    শেখর যেন বলতে চান ন্যায়পরায়ণতা নয় -ইনসাফ নয়, ফ্যাক্টস অর্থে সত্যি ঘটনা নয় বরং কথিত জাতীয় স্বার্থের পক্ষে থাকাটাই জার্নালিজম! আর এটাই নাকি তথাকথিত দেশপ্রেমিকতা!!!! মানে ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট????  অথচ জার্ণালিজম চোখবন্ধ দেশপ্রেমিকতা বা জাতিবাদিতা একেবারেই নয়! বরং এব্যাপারে মুলকথাটাই হল, ন্যায়-ইনসাফ বোধ! অথচ এই ছুপা হিন্দুত্ববাদি দেশপ্রেমিকতা এরা জাতিবাদিতার নামে অসৎ জার্ণালিজম কে জায়েজ করে ফেলতে চায়!  আর এভাবেই তিনি প্রায় দেড়শ কোটি রুপির মালিক!
    কবছর আগে G-20 এর সম্মেলন ইন্ডিয়ায় হলে মোদি এই সম্মলনের একটা সেশন বিতর্কিত কাশ্মীরে অনুষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন। আর তাতে সমর্থন যুগিয়ে সাফাই দিয়েছিলেন এই শেখরগুপ্তা কলাম লিখেছিলেন।

    আর এবার? এবার ইউনুস কোপানির ঠিকাঃ
    এবার শেখর গুপ্তা ইউনুস কোপানির বড় ঠিকা নিয়ে এসেছেন।  তিনি এবার ইউনুস (ব্যক্তি ও ইউনুস সরকার) এদেরকে কোপাবেনই! তাতে খেলার নিয়ম-আইন ভেঙ্গে [বক্সিং খেলায় রিং এর মধ্যে প্লেয়ারেরা একে অপরের তলপেটে হিট করতে পারে না] হলেও শেখর এখন ইউনুস সাব কে কোপানো শুরু করেছেন। কিভাবে?
    শেখর স্বভাবসুলভ এক কলাম লিখেছেন, যার শিরোনামঃ  “প্রফেসর ইউনুসকে লেখা এক খোলা চিঠি” [ছাপা হয়েছে An open letter to Prof Muhammad Yunus দ্যা প্রিন্ট পত্রিকায় ১১ জানু. ২০২৫ । এতে শেখর তাঁর এই কলাম-বক্তব্যের সারকথা নিজেই করে দিয়ে লিখেছেন, “হাসিনা আপনার ব্যাংক [গ্রামীন ব্যাংক বুঝিয়েছেন] নিয়ে গেছে তাই আপনি হাসিনার উপর প্রতিশোধ নিয়েছেন” [Hasina took away your bank and you’ve served revenge.]।

    ঘটনা হল বিষয়টা তা ছিলই না! মানে ইউনুস সাব এক সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন ২০১৬ সালে শেখরকে। সেখানে শেখর সাজেশন রেখে জিজ্ঞাসা করেছিলেন হাসিনা আপনার ব্যাংক নিয়ে নিয়েছেন বলেই কী আপনি প্রতিহিংসায় পশিমা দেশে আপনার ব্যাংক খুলেছেন? সেখানে ইউনুস সাব পরিস্কারই বলেছিলেন, না অবশ্যই প্রতিহিংসাবশত কিছু করি নাই। সেকথা এই কলাম লেখাতেই শেখর উল্লেখ করেছেন। শেখর লিখেছেন, “You said we’re not seeking revenge, but just doing the right thing.”।  তাহলে ইউনুস সাবের এই কথার পরও শেখর কেন লিখছেন এটা প্রতিহিংসা???

     

    আমরা এবার শেখরকে দেয়া এই সাক্ষাৎকারকে পাশে ফেলে রেখে অন্যদিকে মানে, ভিতরে তাকাবোঃ
    শেখরের এসব দাবি শুনে মনে হইয়েছে শেখর ধরেই নিয়েছেন যে, ইউনুস সাহেব যেন ৫ আগষ্ট বিপ্লব বা হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির নেতা! তিনিই মূল নেতা !!! তাই  ইউনুস সাব এখন  তিনি হাসিনার উপর প্রতিহিংসাবশত হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করেছেন!!! অথচ এর চেয়ে হাস্যকর কথা আর হয় না!
    আমি অনেকবার বলেছি, ফ্যাক্টস হল – হাসিনার পতনে ভুমিকা রাখা ফ্যাক্টর তিনটাঃ [যার একটাতেও ইউনুস সাহেব সংশ্লষ্টই নয়] এক. কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ক্রমশ তাতে দেশের হাসিনাবিরোধী জনগণের জনসমর্থন আর এছাড়া, দূর থেকে হলেও রাজনৈতিক দলের সমর্থন এভাবে সব মিলিয়ে এক ছাত্র-জনতার উত্থান – এই ছিল প্রধান ঘটনা। আর এটাকে লক্ষ করে একে কাজে লাগিয়ে সেনাবাহিনীর নিজস্ব আভ্যন্তরীণ ক্ষমতায় (কমান্ডিং ক্ষমতা) বদল ঘটিয়ে নেয় (যারা হাসিনা-মুক্ত হবার চেষ্টায় ছিল অনেকদিন ধরে সেই অংশ)। এরা হল দ্বিতীয় ফ্যাক্টর। এরাই ছাত্র-জনতার সাথে হাত মিলানোতেই তা মিলিতভাবে নিয়ামক নির্ধারক ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছিল। আর তৃতীয় ফ্যাক্টর হল, জাতিসংঘের মানবাধিবাধিকার কমিশন (তাদের নিয়মিত হুশিয়ারি; যার সোজা অর্থ ইউএন মিশন থেকে আমাদের সেনাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায় বের করে দেয়া হতে পারে)।
    এই তিন ফ্যাক্টরের কোনটার সাথে ইউনুসের নুন্যতম সম্পর্ক, যোগাযোগ কিছুই ইউনুসের ছিল না। এছাড়া সেসময় তিনি দেশে নয় ছিলেন আমেরিকায়;  ফিরেছেন ঐ ৮ আগষ্টই যেদিন সন্ধ্যায় ফিরে তিনি ক্ষমতার শপথ নেন!  এককথায় হাসিনার পতন ও পলায়নের আগে ঢাকার কেউই তার সাথে যোগাযোগও করেন নাই। আর এমনিতেই তিনি  রাজনীতিবিমুখ, বিশেষত ১/১১ এর ঘটনার পর থেকে! তাহলে কিসের ভিত্তিতে শেখর গুপ্তার এই ভুয়া অনুমান?  এককথায় বললে যেখানে এটা হাসিনা বনাম ইউনুসের ক্ষমতার পাল্টাপাল্টি ধরণের কিছুই নয়??? হাসিনা পতনের নুন্যতম অবদান রাখা কোন ছোট-বড় নায়ক এর কিছুই নন ইউনুস সাব! আর এমনটা ইউনুস সাহেব কোথাও দাবিওও করেন নাই!
    তাইলে?
    তাহলে, এতে যা দাঁড়িয়েছে তা হল, এতে শেখর গুপ্তার হাসিনা-প্রেম প্রকাশ হয়ে পড়েছে! যা আসলে মোদির হাসিনা প্রেম!!!!  এটা প্রমাণ করে যে শেখর তিনি মোদির বা গোদি মিডিয়ার এসাইমেন্টে নেমেছেন, তাই নয় কী?

    দ্বিতীয়তঃ
    প্রধান উপদেষ্টা হবার পরে ইউনুস সাব গ্রামীণ ব্যাংকের কেউ কী না; অথবা গ্রামীণ ব্যাংকের স্বার্থে তিনি ক্ষমতাকে ব্যবহার করতে চান কিনা – এককথায় গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে তিনি কোন বক্তব্য বা ইস্যু তার মাথায় আছে তা তিনি কোথাও প্রকাশ করেন নাই; কোথাও প্রকাশ পায় নাই। তিনি নিজের পুরানা পরিচয় গত প্রায় ৫ মাসে আলাদা করে রেখে দিতেই সক্ষম হয়েছেন। কাজেই এতে হাসিনার প্রতি ইউনুসের প্রতিহিংসা তো অনেক দুরের কথা! এমনকি কমপক্ষে শপথের পরের প্রথম কয়েক সপ্তাহ তিনি ও তার উপদেষ্টা (মন্ত্রীদের) এটিচ্যুড ছিল হাসিনা বা তার দলের সাথেও কোন সরাসরি সংঘাত ছাড়াই তারা মিলজুল করে বা পাশ কাটিয়ে তাদের কার্যকাল শেষ করে দিতে চান! আর এই নীতি প্রকাশ হয়ে পড়লেই ববং রিভল্ট আসে। এনিয়ে প্রকাশ্যে আমারই কঠোর সমালোচনা আমি লিখেছি কয়েকটা। যার পরে তার সরকার এটা কারেক্ট করে এমনকি এর পরিণতিতে মন্ত্রীসভা ঢেলে সাজানো বা রিসাফল হয়; বিশেষ করে নয়া স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নিয়োজিত হয়। এমনকি পরের সেপ্টেম্বর মাসে ফেনীসহ ঐ অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেওয়ার আগে পর্যন্ত তিনি চেষ্টা করেছেন হাসিনা বা ভারত ইস্যু নিয়ে বিরোধ এড়িয়ে চলতে। প্রত্যক্ষ নাম উল্লেখ না করে কথা বলতে!  কিন্তু মূলত ফেনীর উজানে ত্রিপুরায় বাঁধ খুলে দেয়া থেকেই যখন তাকে ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থা-আপত্তি না তোলার জন্য অভিযুক্ত করা শুরু হয়েছিল (আমিওও কঠোর আপত্তি জানিয়ে তাকে তুলোধনা করেছিলাম) একমাত্র তখনই তিনি প্রকাশ্যে ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছেন। আর সেখান থেকেই ভারতের সাথে কমন নদীর পানির ন্যায্য হিসস্যা; ভাটির দেশের পানির অধিকার, ইন্ডিয়ার সাথে সম-মর্যাদা ও সম-অধিকার – এভাবে বাংলাদেশ ভারতের আচরণ আশা করে -ইত্যাদি সব ভান্ড-পোটলা একসাথে খুলে যায়! ততদিনে ইউনুস সরকারের আয়ু একমাস ও এক সপ্তাহ পার হয়ে গেছিল।
    তাহলে কী দাঁড়ালো? দাঁড়ালো এই যে এটা শেখর গুপ্তার জন্য একটা শিক্ষা! যে এরপর থেকে মোদির এসাইমেন্ট পেলেই দৌড় দিবেন না। আগে একটু পড়াশুনা করে নিবেন মাঝের যেমন ইউনুস সরকার গঠন হবার পরের এক-দুই মাসে বাংলাদেশে কী হয়েছে কীভাবে কেটেছে! আর তা না করলে এই এসাইনমেন্টের জার্নালিজম এটাও সফল দূরে থাক এটাও টিকবে না।
    শেখর গুপ্তা কে বুঝতে হবে ইউনুস বা তাঁর গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে ততপরতার বিরুদ্ধে সমালোচনা কী করে করতে হয় সেটা শেখরকে বাংলাদেশ থেকেই শিখতে জানতে হবে। আমার নিজেরই  এমন বহু সমালোচনামূলক লেখা আছে। কিন্তু সেগুলোর একটাও ইউনুস সরকারের কোন সমালোচনার মধ্যে আনি নাই। আমার বিশ্বাস ইউনুস সাহেব এটা জানেন যে সমাজে গ্রামীণ নিয়ে সমালোচনা আছে যেগুলোকে তিনি তাঁর এখনকার সরকারের গায়ে অযথা লাগিয়ে মাখায় ফেলা ঠিক হবে না। এবং দূরে আলাদা রাখা এটাই তো সঠিক সিদ্ধান্ত। আবার শেখর গুপ্তাকে জেনে রাখতে হবে গ্রামীণ ব্যাংক বা মাইক্রোক্রেডিটের ভাল দিক কী? কেন পশ্চিমাদেশ এটাকে গুরুত্বপুর্ণ মনে করে! পশ্চিমারা নিশ্চয় আবেগী বা বোকা না। আর এছাড়া সারা পশ্চিমে সবাই ক্লিনটন নন!  এমনকি ইন্ডিয়াতে কেন মাইক্রোক্রেডিট চিন্তাটাকে বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসাবে হাজির করানো হল? এদিকটা খোঁজ করেন, আমাদেরকে না নিজেদেরকেই দয়া করেন একাজ করে; আপনাদের অবশ্যই এতে বরকত মিলবে! গ্যারান্টি!!!

    ইন্ডিয়া বাংলাদেশে একটা ফেয়ার নির্বাচন চায় সেটা আবার যতদ্রুত সম্ভবঃ
    কী সাংঘাতিক কথা! তাহলে হাসিনার আমলে কী করেছেন?
    এটা একটা সত্যিই তামাসা যে  ইন্ডিয়া বাংলাদেশে একটা ফেয়ার (অবাধ, সুষ্ঠ কারচুপিহীন) নির্বাচন চায় সেটা আবার যতদ্রুত সম্ভব! আচ্ছা, গত ১৬ বছর আপনারা কোথায় ছিলেন? এমন কথা কখনও বলেন নাই কেন?  ঐসময়ের বিনা নির্বাচনের হাসিনাকে নিয়ে আপনাদের খুশিতে গদগদ থাকা, উতফুল্লতা এসবের পক্ষে  অন্তত একটা সাফাই দেন তো দেখি? আপনারা কীভাবে এখন বাংলাদেশে একটা ফেয়ার ও দ্রুত নির্বাচনের সৈনিক হয়ে গেলেন?? এনিয়ে এখন ইউনুস সরকারকে সবদিক থেকে চাপাচাপির রাস্তা ধরে ফেললেন, কেন? এমন রাতারাতি ফেয়ার ও দ্রুত নির্বাচনের সৈনিক? এটা আমরা বুঝি যে নয়া হাসিনা পার্টি আপনারা খাড়া করে ফেলেছেন; সাথে জামায়াতকেও রেখেছেন। আবার বিভ্রান্ত করতে প্রকাশ্যে জামায়াতের বিরুদ্ধে হিন্দুত্ববাদী গোলাগুলিও ছুড়ছেন, তাও বুঝি! আদানির অর্থ ছড়িয়েও আপনারা বাংলাদেশের দল নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছেন!  তাই বলে কেন ধরে নিচ্ছেন যা চাইবেন তাই পাবেন?
    উল্টাটাও হতে পারে! সাধারণ মানুষ একবার যদি টের পায় যে ইন্ডিয়া বিএনপিকে নয়া হাসিনা বানায়ে বাংলাদেশে ভোটারদের সামনে পেশ করতে চাইছে – তাই ইন্ডিয়ার এত চাপাচাপি এবং ফেয়ার ও দ্রুত নির্বাচনের সৈনিক হয়ে যাওয়া তাহলে এতে সাধারণ মানুষ জাস্ট উলটা দিকে ঘুরে যাবে বলেই আমার ধারণা। হাসিনার অত্যাচারে সাধারণ মানুষের কী পরিমাণ ক্ষুব্ধ এটা বুঝলে আপনাদেরকে থামতে হবে! এত বুদ্ধিমান ভাবা বন্ধ করতে হবে।  সাধারণ মানুষের সবচেয়ে খারাপ প্রতিবাদটা হবে যদি এমন ঘটে যায় যে তারা আর কোন উপায় না পেয়ে (হাসিনা আমলের মত) ভোটকেন্দ্রেই না যায়; ১০-১২% ভোট পরে?
    আপনাদেরকে মনে রাখতে হবে কোন রাজনৈতিক মুল্যবোধ, নুন্যতম মুল্যবোধ আপনাদের নাই – এটাই ইন্ডিয়ার সবচেয়ে বড় অযোগ্যতা! যা যখন ইন্ডিয়ার স্বার্থে আপনারার তখনই তার ভক্ত – এই হল আপনাদের মোদি বা ইন্ডিয়ার নীতি!

    এই কারণে, এখন ফেয়ার ও দ্রুত নির্বাচনের সৈনিক হয়ে যাওয়া অথবা আমাদের কনষ্টিটিউশনে কী আছে কী নাই আপনাদের ইত্যাদি নিয়ে আপনাদের কোন বক্তব্যই আমাদের কারো কাছে পাত্তা পাবে না, কোন গুরুত্ব নাই! কারণ আপনারা নৈতিক ভাবে স্খলিত; নুন্যতম মূল্যবোধ নাই! আপনারা যদি গত ১৬ বছর একবার অন্তত ফেয়ার ও দ্রুত নির্বাচনের সৈনিক বলে হাজির হতেন, আমরা হাসিনা সরকারে যে কনষ্টিটিউশন মানে না এরই অধীনে; বরং হাসিনা ইচ্ছামত আইন নিয়ম বানিয়ে চলছে এসবের বিরুদ্ধে একবার অন্তত কথা তুলতেন! পররাষ্ট্রসচিব সুজাতা সিং এসে ঠিক করে দিতেন না যে আমাদের বিরোধীদল বিএনপি নয় জাতীয় পার্টিই হবে??????

     

    ভারতের পররাষ্ট্রসচিব সুজাতা সিং এসে ঠিক করে দিতেন না যে আমাদের বিরোধীদল বিএনপি নয় জাতীয় পার্টিই হবে! আর আজ তারাই ফেয়ার ও দ্রুত নির্বাচনের সৈনিক! কী সাংঘাতিক!!!!

     

    তাহলে এখন কোনমুখে আপনারা গণতন্ত্রী সাজতেছেন?  ফেয়ার ও দ্রুত নির্বাচনের সৈনিক সেজে কনষ্টিটিউশন শিখাচ্ছেন? বিএনপিকে নয়া হাসিনার দল হিসাবে সাজাতে চাইছেন? আমি নিশ্চিত এতে বিএনপিরই কপাল পুড়বে!  এটা একটা নয়া হাসিনার আওয়ামি লীগ এই ইমেজ পেয়ে বসলে এই দল শেষ!!!! তখন আপনারা কী করবেন??? সেটাও ভাবুন! দুনিয়া এত সহজ নয়! অথচ শেখর গুপ্তার পত্রিকা দ্যা প্রিন্টই আরেকটা ভিডিও ক্লিপ বানিয়েছে ইউনুস কে খাটো দেখানোর জন্য।

    শুনে রাখেন, আপনাদের (বোকার) স্বার্থের দিক থেকে হাসিনা আপনাদের চোখে মডেল হতে পারে!  আর বিএনপিকে হাসিনার জায়গায় বসানোর লোভ দেখাতে পারেন! কিন্তু হায়! হাসিনার খুনী সিদ্ধান্তে মাত্র একমাসের মধ্যে ১২-১৫শত হত্যা, ১০৫ জন দুগ্ধপোষ্য শিশুকে তাদের বিছানায় শুয়ে থাকা অবস্থায় মেরে ফেলা হয়েছে, প্রায় ৭০০-হাজার গুম- অপহরণ করা হয়েছে; জঙ্গী বলে যাকে তাকে হত্যা,   ছাত্রশিবিরের কতগুলো কর্মি যে পায়ে গুলি খাওয়া চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছে এর খবর নাই! আর আনুপাতিকভাবে এবার দশগুণ করেন তবে আনুমানিক আহত দের সংখ্যা পাবেন! যাদের চোখ অথবা হাত-পা নাই!!! এখন বলেন, আমাদের সমাজ-রাজনীতি এসব ভুলে যাবে, এর কোন ইমপ্যাক্ট নাই, পড়বে না?  ভোটের বাক্সেও না?  বা আপনাদের নয়া হাসিনা বানাতে চাওয়া বিএনপির উপরে এর কোনই ছাপ পড়বে না, ছাপ থাকবে না????? সবই ক্ষমতা আর টাকাপয়সা দিয়ে, বিলিয়ে মুখবন্ধ সমাধান করে ফেলবেন!!!

    নিশ্চিত থাকেন আপনারা হেরে যাবেন! কারণ,  আপনাদের পলিটিক্যাল বা থিওলজিক্যাল কোন মূল্যবোধ, নুন্যতম ইথিকস, নীতিকথা ইত্যাদি কোন কিছুর দরকার নাই? মনে করেন, জাস্ট মানুষের কেবল বিষয়-আশয়ের স্বার্থ আছে????  ঘিনঘিনানি স্বার্থ? দুনিয়া এভাবে চলে নাই, এ’পর্যন্ত আসে নাই!!!!! আগামিতেও চলবে না!

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   রাত ০৮ঃ ৫৯     ১৪  জানুয়ারি ২০২৫

  • বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মোদি আবার বিবিসিকে ভাড়া করেছে

    বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মোদি আবার বিবিসিকে ভাড়া করেছে
    গৌতম দাস
    ১০ ডিসেম্বর ২০২৫   বিকাল ০৪ঃ ৩১
    https://wp.me/p1sCvy-6be

     

    দিল্লি-ঢাকা সম্পর্ক 

    গত পরশু আবার বিবিসি বাংলা ভাড়া নিয়েছে মোদি সরকার। হাসিনার পলায়নের পর গত পাঁচ মাসে  এটা হল মোদির তৃতীয়বার বিবিসি ভাড়া নেওয়া। টেম্পো-সিএনজিতে যেমন লেখা থাকে ভাড়ায় চালিত এটা অনেকটা সেরকম। বিবিসি বাংলার উচিত তার নিজের কপালে এমন একটা সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দেয়া যে ভাড়ায় চালিত জার্নালিজম করি আমরা! এখন মোদি ভাড়ায় চালিত জার্নালিজম এর মানে কী, এমনটা তারা পছন্দ করে কেন?
    এর জবাব হল, দায়দায়িত্ব না নিয়ে মিডিয়ায় যা মনে চায় কথা ছড়ানো।  যেমন বিবিসি বাংলায় এধরণের রিপোর্ট করতেছে শুভজ্যোতি ঘোষ যিনি, আমি আগে অনেকবার বলেছি, আরএসএস নেতা তথাগত রায়ের শিষ্য! এতে মোদির সুবিধা হল তিনি দাবি করবেন যে শুভজ্যোতির এই লেখার সাথে আমার সরকারের সম্পর্ক নাই। এটা অনেকটা চিন্ময়-ইসকনকে দিয়ে বাংলাদেশে মোদি সরকারের দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা যেটাকে মোদি সরকার আবার অস্বীকার করবেন যে চিন্ময়-ইসকন মোদি সরকারের কেউ নয়! যদিও চিন্ময় গ্রেফতার হয়ে গেলে তখন কিন্তু মোদি খোলস ছেড়ে ন্যাংটা হয়ে চিন্ময়-ইসকনের পক্ষে বিবৃতি দিবে!  এই হল মোদির ভাড়ায় চালিত চিন্ময়-ইসকন ততপরতা অথবা ভাড়ায় চালিত বিবিসি জার্নালিজম কিনে পরিচালনা!

    এবারের শিরোনামঃ

    দিল্লি কি অবশেষে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক সহজ করতে চাইছে?

    বলাই বাহুল্য বিবিচির এমন রিপোর্টের স্টাইল হবে যেন বাংলাদেশের জন্য এটা সৌভাগ্য যে ইন্ডিয়া যেন দয়া করছে – এভাবে লেখা। যেমন এখানে আমরা দেখছি লেখা হয়েছে – দিল্লি কী (দয়া করে) ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক সহজ করতে চাইছে!  আর ভিতরে মানে রিপোর্টের বডিতে লেখা হয়েছে একটা মৌলিক অনুমানে ধরে নেয়া কথা যেন বাংলাদেশ এক ইন্ডিয়ান কলোনি; ফলে ইন্ডিয়া যা দাবি করবে বাংলাদেশকে সেটাই করতে হবে। এককথায়, বাংলাদেশ যেন ইন্ডিয়ান ডিকটেশন [dictation] বা ফরমানে চলা এক দেশ! অর্থাৎ স্বাধীন-সার্বভৌম কোন দেশ নয়; ফলে এটা ইন্ডিয়ার হুকুমে চলা। তাই এই লেখায় ইন্ডিয়ান যারাই কথা বলেছেন তারা বাংলাদেশ তো ইন্ডিয়ান হুকুমে চলা দেশ এই মিথ্যা ভ্যানিটি বা অনুমানে ধরে নেয়া ভাবনার উপর দাঁড়িয়ে কথা বলে গেছেন। আর যেখানে বিবিসির শুভজ্যোতির কাজ হচ্ছে এমন অনুমানকে প্রশ্ন না করে চলতে দেয়া। মোদির ইন্ডিয়ার এমন খায়েসকে জায়গা করে দেয়া। কারণ, শুভজ্যোতিও তো এক ভাড়ায় চালিত বালক!
    এটা আবার বলা যায় অনেকটা যেন ধরে নেওয়া যে গত ষোল বছরের (ইন্ডিয়ার বসানো) হাসিনা শাসন যেন এখনও আছে, চলছেই!  তাই এই ডিকটেশন স্টাইলে বক্তব্য বা দাবি! এজন্যই যেটাকে আমি ভদ্র ভাষায় বলেছি – এটাই ইন্ডিয়ান হেজিমনি বা আধিপত্যবাদ। এক হিন্দুত্ববাদী আধিপত্য কায়েমের প্রচেষ্টা!  কাজেই বাংলাদেশের আগামি রাজনীতির মুখ্য বৈশিষ্ট  ইন্ডিয়ান আধিপত্য-বিরোধী এটাই হবে!  যদি না হতে পারে যে রাজনীতির ঝোঁক টা বিএনপির মধ্যে উঁকি দিতে দেখা যাচ্ছে এর মুখ্য বৈশিষ্ট হবে ইন্ডিয়ান আধিপত্য এর পক্ষে!

    এবার সোজা আসা যাক মূল প্রসঙ্গেঃ
    বিবিসির এধরণের তৃতীয় রিপোর্ট দিয়ে মোদির ইন্ডিয়া যা বলতে চেয়েছে  তা হল, তারা এখন বাংলাদেশের সাথে দ্রুত সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চায়।  কিন্ততু এতে যেন তারা বাংলাদেশকে একটা বিরাট ফেবার করছে এই ভাব ফুটিয়ে ধরে তাদের ইউজুয়াল কিছু গোয়ার্তুমিও  সাথে রেখেছে যেমন, “তাদেরকে বড় ভাই মানতে হবে”।  যেটা অন্যভাষায় বললে তারা দুটা শর্ত দিয়েছে। বিবিসি লিখেছেঃ

    “ভারতের দিক থেকে এই প্রচেষ্টা হবে পুরোপুরি ‘শর্তাধীন’ – অর্থাৎ ভারতের দেওয়া বিশেষ কয়েকটি শর্ত পূরণ না হলে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে দিল্লি সম্ভবত খুব একটা গরজ দেখাবে না”।
    “…..আর এর মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দু তথা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা কিংবা পরবর্তী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অন্তর্ভুক্ত করার মতো অতি স্পর্শকাতর বিষয়ও থাকতে পারে”।

    এতটুকুই না তবে এটাই মুল দাবি! মানে সাথে খুচরা দাবিও কিছু আছে সেকথায়  পরে আসব।

    তবে ইন্ডিয়ার আগ্রহ যে একেবারে গলে পড়তেছে তার ছাপ-ইঙ্গিত রেখে বিবিসি লিখছেঃ

    “গত তেসরা জানুয়ারি (শুক্রবার) দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিং-এ বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে মুখপাত্র নতুন দু’টো শব্দ যোগ করেন।
    মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল একটি প্রশ্নের জবাবে বলেন, “ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের সাম্প্রতিক ঢাকা সফরের পরই প্রেস বিবৃতির আকারে এই মনোভাব স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, ভারত একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ ও প্রগতিশীল, ইনক্লুসিভ বাংলাদেশকে সমর্থন করে”।”

    বিবিসি এরপরে নিজেই মন্তব্য জুড়ে দিয়ে লিখছেঃ “বছরখানেক আগেকার চেয়ে ভারতের এই বক্তব্যে নতুন শব্দ দু’টো হচ্ছে – গণতান্ত্রিক আর ইনক্লুসিভ (অন্তর্ভুক্তিমূলক)“।

    ইন্ডিয়া আসলে বিশ্বযুদ্ধ-উত্তর রাষ্ট্র ধারণাটা এখনও বুঝল নাঃ
    এভাবে শিরোনামে আ লিখেছি যে “ইন্ডিয়া আসলে বিশ্বযুদ্ধ-উত্তর রাষ্ট্র ধারণাটা এখনও বুঝল না” – ঠিক এটাই বুঝাতে চেয়েছি।  আসলে এখন এটা বলাই যায় যে এখন পর্যন্ত দুনিয়ার ইতিহাসের মোটা দাগে তিনটা পর্যায় দেখা যাচ্ছেঃ এক. বিশ্বযুদ্ধ-পুর্ব কলোনিদখলের দুনিয়া  দুই. কলোনিমুক্ত আমেরিকান নেতৃত্বে গ্লোবাল অর্ডারের দুনিয়া আর তিন. (এটা আসন্ন মানে হবু) চীনের গ্লোবাল অর্থনৈতিক নেতৃত্বে উইন-উইন [win-win] এর দুনিয়া।ীভাবে তিনটা পর্ব ভাগ করেছিল একই কলোনিদখল ধারণাটার ভিত্তিতে। বিশ্বযুদ্ধ-পুর্ব মানে ১৯৪৫ সালের আগের দুনিয়াটা ছিল ছোট বড় পাঁচ (বৃটিশ, ফরাসী, ডাচ, স্পানিশ ও পর্তুগীজ) কলোনিদখলদারের দুনিয়া; যারা সারা দুনিয়ার কোন ভুখন্ড খালি ছিল না সবটাই এই পাঁচ কুতুবের কেউ না কেউ দখল করে রেখেছিল – এমনই সেই দুনিয়াটা। ফলে প্রধান বৈশিষ্ট কোন আন্তঃরাষ্ট্রীয় পণ্য বাণিজ্য বিনিময় নয় (সেখানে ছিল না) বংরং কলোনি দখল আর লুট – আমাদের মত দেশের অর্থনীতির সারপ্লাস বা বাড়তি মূল্য বা সঞ্চয় সব লুট ও নিজ কলোনি মালিক দেশে পাচার – এই ছিল ওর মুখ্য বৈশিষ্ট।
    আর দুইঃ বা দ্বিতীয় ধারার মূল বৈশিষ্ট হল,  অন্যের ভুখন্ড কলোনি করে রাখা অপরাধ মানে একটা কলোনিমুক্ত স্বাধীন রাষ্ট্রের দুনিয়া এবং এমন স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর সকলকে সদস্য করে নিয়ে একটা পুঞ্জীভুত [ইউনাইটেড] রাষ্ট্রপুঞ্জ [United Nations বা জাতিসংঘ] প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থায় গড়া একটা গ্লোবাল অর্ডার [Global Order] দাঁড় করানো।  যার আরেক বৈশিষ্ট হল, আন্তঃরাষ্ট্রীয় পণ্য বাণিজ্য এর গ্লোবাল এক্সচেঞ্জ বা বিনিময় ব্যবস্থা স্থাপন [আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে]। প্রাতিষ্ঠানিকতা হিসাবে মুলত জাতিসংঘ,  আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক; এদের মাধ্যমে আমেরিকার নেতৃত্বে একটা গ্লোবাল অর্ডার (গ্লোবাল সিস্টেম) প্রতিষ্ঠা পায় তাতে যেটা মূলত এক গ্লোবাল পলিটিক্যাল সিস্টেম আর একটা  গ্লোবাল ইকোনমিক সিস্টেম গড়ে তুলেছে।  এভাবে এক
    আর তিনঃ এটাকে বলেছি চীনের গ্লোবাল অর্থনৈতিক নেতৃত্বে উইন-উইন বৈশিষ্টের দুনিয়া। এই পর্বকে বুঝতে হবে আন্তঃরাষ্ট্রীয় পণ্য বাণিজ্য বিনিময়ের দ্বিতীয় পর্যায় হিসাবে। আর এই দ্বিতীয় পর্যায়টাই উইন-উইন পর্যায়।
    অর্থাৎ হবু চীনের নেতৃত্বের দুনিয়াতেও আগে তৈরি হওয়া গ্লোবাল অর্ডারেও আরো পরিবর্তন আসবে। কিন্তু সেটা পলিটিক্যাল ও ইকোনমিক দুই ক্ষেত্রেই নয় বরং মূখ্যত সেটা ইকোনমিক অর্ডার বা সিস্টেমে। মানে গ্লোবাল বিকাশ পর্বের এই তিনটা পর্যায়কে যদি গরীব দেশের অর্থনীতির সারপ্লাস বা বাড়তি মূল্য বা সঞ্চয় সব লুট ও নিজ কলোনি মালিক দেশে পাচার – এই চিন্তা ফ্রেমের মধ্যে থেকে দেখি তবে প্রথম পর্বটা হলঃ সারপ্লাস পশ্চিমে নিয়ে যাওয়া আর যেখানে দ্বিতীয় পর্বটা হল, ঐ সারপ্লাস ফিরে পশ্চিম থেকে পুবে (এশিয়া ও আফ্রিকা ল্যাটিনো ভুখন্ডে) যার নতুন নাম বিনিয়োগ – এই নামে লূট করা সারপ্লাস এর ফিরে আসা।

    তাহলে তৃতীয় পর্বের বৈশিষ্ট কী? উইন-উইন কেন?
    এই পর্বের মূল বৈশিষ্ট হবে ১। স্বীকার করে নেয়া হবে পুরানা তৃতীয় বিশ্ব (বা একালে চীন যেটাকে গ্লোবাল সাউথ বলছে) ধারণার দেশগুলোকে। সেটা এই অর্থে যে গ্লোবাল আন্তঃরাষ্ট্রীয় পণ্য বাণিজ্য বিনিময় ব্যবস্থায় তোমরা আসলে  খুবই গুরুত্বপুর্ণ পার্টনার।   অর্থাৎ আগে যেমন ভাবা হয়েছিল  – তোমরা তৃতীয়বিশ্ব হইলা আমরা যাদের লুট করবো সে আইটেম মাত্র। তোমাদের ভুমিকা হইল নিজেকে লুট হতে দেওয়া। আর সেখান থেকে (দ্বিতীয় পর্ব বলেছি যেটাকে) আমেরিকান নেতৃত্ব যে আন্তঃরাষ্ট্রীয় পণ্য বাণিজ্য বিনিময় এর যাত্রা এতে ইতিবাচক দিকটা হল, আমাদের মত দেশ বিনিয়োগ পেয়ে পুরানা স্থবির অর্থনীতি সচল হয়েছিল। যদিও এই বিনিময়টাই ছিল অসম। তাই তৃতীয় পর্বে এসে এই অসাম্য অনেকটাই কমবে পুরাটা নির্মুল না হলেও। আর সবচেয়ে বড় কথা এখানে গরীবদেশকেই বড়লোকেরা সাহায্য করতে এসেছে তাই তারা দাতা এই ভাবনাটা ঢিলা হয়ে যাবে। এর জায়গা নিবে পার্টনার কনসেপ্ট। যেমন বাংলাদেশ একটা ভাল বিনিয়োগের জায়গা বলেই চিনা বিনিয়োগ গন্তব্য বাংলাদেশ! তাই বাংলাদেশে চীনের কাছেও তার জন্যও দরাকারি এক গুরুত্বপুর্ণ পার্টনার। এটাই একটা বিনিময়ের উভয় প্রান্তের রাষ্ট্রের লাভালাভ এর ধারণা – তাই এটা উইন-উইন! যে বিনিয়োগকারী রাষ্ট্র উইন-উইন দিকটা আমল না করবে সে ব্যবসা-সম্পর্ক হারাবে। এছাড়া শেয়ার্ড ভ্যালু চেন ধরনের এক নয়া উতপাদন ব্যবস্থা আসতেছে। এখানে সেসব দিক বিস্তার করলাম না।   আমাদের মূল প্রসঙ্গে ফিরে যাই।

    কিন্তু ইন্ডিয়া সেই তিমিরেঃ
    যেটা বলছিলাম ইন্ডিয়ান বুঝাবুঝিতে (একাদেমিক বা ব্যবহারিক রাষ্ট্র-সরকারে) সবখানে রাষ্ট্র তাদের কাছে কে কাকে কলোনিদখল করে আধিপত্য প্রভাবে রাখতে পারে এর বেশি কিছুই না। এটাই সেট করে দিয়ে যাওয়া নেহেরুয়ান রাষ্ট্র বুঝাবুঝি। এর সারকথা হল, রাষ্ট্র মানেই কে বুদ্ধি খাটিয়ে কার উপর আধিপত্য খাটাতে পারে যেন এই খেলা একটা। যেটা আসলে শাসক বলতে যদি আপনি বৃটিশ শাসক বুঝেন আর এটাই স্থায়ীভাবে শাসক সম্পর্কে ধারণা জ্ঞান করেন তাহলে যেখানে আপনি পৌছাবেন। কাজেই দুনিয়ার তাবত পরিবর্তনগুলো হচ্তেছে বা আসছে তাতে অন্যকোন দিকে তাকানো যাবে না বরং এতে অন্যরাষ্ট্রকে নিজ কলোনি বা আধিপত্যের ক্ষেত্র হিসাবে ব্যবহারের যেসব সুযোগ যদি দেখতে পাওয়া যায় তবে ঝাপায় পরে গ্রহণ করা -এটাই ইন্ডিয়ায় কংগ্রেস-বিজেপি নির্বিশেষে শাসক চিন্তা যা আসলে তাদের রাষ্ট্র-বোধ!  এটাই আসলে নেহেরুয়ান আধিপত্যকামী এক রাষ্ট্র-চিন্তা!  ইন্ডিয়া তাই সারা দুনিয়াতে না পারুক তার পড়শী এলাকায় এমন হেরুয়ান আধিপত্যকামী এক রাষ্ট্র-চিন্তা দিয়ে পরিচালিত হতে যায়। এটাই তার পররাষ্ট্রনীতি বা বোধ!
    অতএব বাংলাদেশ ইন্ডিয়ার চোখে আধিপত্য কায়েম করে একে নিয়ন্ত্রণ করার এক রাষ্ট্র মাত্র।
    তবে এই সুযোগটা সে পেয়েছিল ২০০৭ সালের আমেরিকা বাংলাদেশকে ইন্ডিয়ার হাতে তার আধিপত্যে আমাদেরকে সঁপে দিয়েছিল বলে। বিনিময়ে ইন্ডিয়া আমেরিকার  চীন ঠেকানী (অর্থনৈতিক উত্থান ঠকানী) হাতিয়ার হতে পারবে এই অনুমানে, এই চুক্তিতে। কিন্তু ধর্মের কল বাতাসে নড়ে!  মানে চীনের প্রভাব (যেটাতা চীনের ঋণ-বিনিয়োগদানের সক্ষমতা থেকে উতসারিত) এটা কমে যাওয়া বা আমেরিকার তা ঠেকিয়ে দেওয়া দূরে থাক কোনই ফয়দা আনে নাই।  বাংলাদেশে চীনা ঠেসে দেওয়া ঋণ-বিনিয়োগ এর বাস্তবতা ও চীনের সক্ষমতাই বলে দেয় আমেরিকার চিন্তা-আকাঙ্খা ছিল অবাস্তব!
    কাজেই বাংলাদেশের উপর ইন্ডিয়ার আধিপত্য খাটানোর কোন বাস্তব সুযোগ অনুপস্থিত!
    কিন্তু এসব বুঝাবুঝি ইন্ডিয়ার একাদেমিক, রাষ্ট্রীয় নীতি বা কূটনীতিক জ্ঞানের মধ্যে অনুপস্থিত।  নেহেরুয়ান রাষ্ট্র বুঝাবুঝি বা ১৯৪৫ সালের পরের দুনিয়াটা আসলে কী সেই বোধ না থাকার জন্য।

    কাজেই আমরা এখন ফিরে যাই বিবিসি যেটা লিখেছে ভারতের “…প্রেস বিবৃতির নিজ মনোভাব আকারে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে,  (বাংলাদেশে) ভারত একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ ও প্রগতিশীল, ইনক্লুসিভ বাংলাদেশকে সমর্থন করে”। আর এই বিবৃতিতে নাকি দুইটা নয়া শব্দ আছে গণতান্ত্রিক আর ইনক্লুসিভ।
    যার অর্থ আবার বিবিসি-ই বলে দিয়েছে সেটা হল মানুষের ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার সে দেশে ক্ষমতায় আসুক, আর দুই বা ইনক্লুসিভের অর্থ হল, – “সমাজজীবনে সংখ্যালঘুদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত” –  আর “রাজনীতিতে সব ধরনের শক্তিকে ঠাঁই দেওয়ার” মানে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে দেওয়া বুঝানো হয়েছে……।

    বাংলাদেশ কীভাবে চলবে সেটা কী ইন্ডিয়া ঠিক করে দিতে পারেঃ
    প্রথম প্রশ্ন হল, বাংলাদেশকে কী ইন্ডিয়ার কথা শুনে চলতে হবে? কেন? বাংলাদেশ কী ইন্ডিয়ার কলোনি?
    ইন্ডিয়া যদি বাংলাদেশের হিন্দুদের রক্ষাকর্তা হিসাবে নিজেকে হাজির করতে চায় তাহলে আমরাও কী ভারতের মুসলমানদের রক্ষাকর্তা হবো না কেন? মোদি সেটা মানবেন না কেন? সবার আগে মোদির ইন্ডিয়ার সবাইকে এর জবাব দিতে হবে।
    দুইঃ এটা বড়ই তামাসার যে ইন্ডিয়া এখন ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার চাইতেছে। কেন? তাহলে গত ১৬ বছর হাসিনা কীভাবে ক্ষমতায় ছিল? তখন কেন এমন শর্ত ইন্ডিয়ার মুখ থেকে বের হয় নাই? তার মানে ইন্ডিয়া আসলে ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার নয় হাসিনাকেই আবার যেকোন ভাবে ক্ষমতায় সরকারে দেখতে চাইছে।
    আসলে হাসিনা ও তার দল আগামি রাজনীতিতে বা নির্বাচনে অংশ নীতে পারবে কিনা সেটা ঠিক হবে আমাদের আদালতে! তাদের উপর যে গুম-খুন, অপহরণের মামলা আছে সেই মামলার রায়ের দ্বারা এটা নির্ধারিত হবে। আর এনিয়ে ইন্ডিয়ার কোন কিছু দাবি করার কোন সুযোগ স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে নাই।
    অথচ বিনা সিক্রি যার জীবিনটা কেটেছে একজন পেশাদার কূটনীতিক হিসাবে তিনি এসব দাবি করছেন। যেন তিনি কূটনীতিক নয় এক দাইনি বুড়ির পরিচয় পেতে চাইছেন!!!

    যেমন শর্ত দিচ্ছেন আমরা পাকিস্তানের সাথে কেমন কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখব। বলছেন, “বাংলাদেশের মাটিকে পাকিস্তান যে কোনওভাবে ভারতের নিরাপত্তা স্বার্থের বিরুদ্ধে বা সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে ব্যবহার করবে না, সেটা নিয়ে শতকরা একশোভাগ নিশ্চিত হতে পারলে তবেই ভারত এই সম্পর্ক নিয়ে এগোতে পারবে”, বলেন ভিনা সিক্রি।  এখন তামাসাটা হল, মোদির ইন্ডিয়া ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক করেছে। এখন বিনা সিক্রির মত আমরা কী ভারতকে ইসরায়েল নিয়ে বলতে গিয়েছি? নাকি বিনা চাচ্ছেন আমরাও ইসরায়্বেল নিয়ে আমরাও মোদিকে পাল্টা শর্ত দেই???
    আবার বিবিসি লিখছে, “…ভিনা সিক্রির কথায়, “যত দ্রুত সম্ভব সে দেশে নির্বাচন আয়োজনের ওপর ভারত জোর দেবে। শুধু তাই নয়, সে নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হতে হবে, এবং তাতে সব দল ও মতাবলম্বীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।”
    আমরা নির্বাচন দ্রুত না দেরিতে করব এনিয়ে বিনা বলার কে? আর সব দল বলতে আমাদের আদালত হাসিনা ও লীগকে বাইরে রাখে কিনা তা ঠিক করবে সেখানে বিনা কথা বলার কে?

    আসলে যেকথা বলছিলাম, ১৯৪৫ সাল পরবর্তী রাষ্ট্র ধারণাটা কোনদিকে গিয়েছে এনিয়ে সারা ইন্ডিয়াতেই বুঝাবুঝি নাই।  তাই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে বিনা সিক্রি কী দাবি করতে পারেন না সেই লাগাম-বোধও তাদের গড়ে উঠে নাই। কাজেই বিনা সিক্রি আপনি পরে আসেন……।

    ইন্ডিয়ান হেজিমনি বা আধিপত্য উচ্ছেদই হবে বাংলাদেশে আগামি রাজনীতির মূল বৈশিষ্ট! এটা হতেই হবে তা আমরা আরো নিশ্চিত হলাম!!!
    আর এমন হলে, মানে ইন্ডিয়া যদি আধিপত্যশীল এক কলোনি-মালিক যেন এমন থাকতেই চায় তবে,   ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক সহজ স্বাভাবিক হবার হবার দরকার কী, সুযোগই বা কৈ? যেখানে সহজ স্বাভাবিক সম্পর্ক মানেই হল ইন্ডিয়ান আধিপত্য! এর কী আমাদের দরকার আছে?

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  সন্ধ্যা  ০৭ঃ ২৫   ১০  জানুয়ারি ২০২৫

  • জ্যাক সুলিভান এর ভারত সফর; আমাদের শঙ্কা, কানও খাড়া

    জ্যাক সুলিভান এর ভারত সফর; আমাদের শঙ্কা, কানও খাড়া
    গৌতম দাস
    ০৬ জানুয়ারি ২০২৫     সকাল ১১ঃ ৪৮
    https://wp.me/p1sCvy-69K

    Sullivan & Doval

     

    জ্যাক সুলিভান [Jake Sullivan] , চলতি বাইডেন প্রশাসনের ন্যাশনাল সিকিউরিটি এডভাইজার [NSA]; যারা আর দুসপ্তাহ ক্ষমতায় আছেন।
    সুলিভান বর্তমানে ইন্ডিয়া সফরে আছেন তার ৫-৬ জানুয়ারি ২০২৫ সফর কর্মসুচিতে। প্রশ্ন উঠেছে ক্ষমতা ছাড়ার মাত্র দুসপ্তাহ আগে কেন তিনি ইন্ডিয়া সফরে?

    আমাদের শঙ্কা, কানও খাড়াঃ 
    ইন্ডিয়া-আমেরিকার যে কোন ছোট বা বড় মাখামাখিতে তা সবচেয়ে রুটিন কোন সফর হলেও বাংলাদেশে আমরা কান খাড়া রাখি! আপনাতেই!  কারণ গত ১৬ বছর আমাদেরকে অত্যাচার নির্যাতন, স্বার্থ-অর্থ লুট, বাজার দখল, বিনা পয়সার করিডোর, জঙ্গি নাটক সাজানো; এমনকি বাংলাদেশ রাষ্ট্র বলতে কার্যত যেসব প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রের প্রতীক এমন সেনাসহ সব ধরনের প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি কী নাই যা ইন্ডিয়া ধ্বংস করে দেয় নাই – এসব আমরা দেখেছি। আর ইন্ডিয়া তা করে যেতে পেরেছে কারণ আমেরিকা বাংলাদেশকে ভারতের হাতে তুলে দিয়েছিল এককালে, সেই ২০০৭ সাল থেকে। যদিও এতে পরে ভাটা পরেছে আমেরিকার দিক থেকে, ২০১৬ সালের পর থেকে; মানে, এতে ইন্ডিয়ান আগ্রাসী-পনা কমিয়েছে  হয়ত, যদিও ট্রাম্পের আগের আমলে তা ছেড়ে দেয় নাই। মূল আধিপত্য ইন্ডিয়া কখনও বাংলাদেশের উপর থেকে সরে নাই।  এমনকি ট্রাম্পের পরে বাইডেন প্রশাসন এসে ভাব ধরেছিল তিন বছর ধরে যেন সে হাসিনার ফ্যাসিজম ভাঙতেই স্যাংশন-মানবাধিকারের অস্ত্র ব্যবহার করতেই এসেছে। মানে যাতে এর ফলে বাংলাদেশের মানুষেরা একটা নুন্যতম রাজনৈতিক অধিকার পায়, আমাদের বিরোধীদল রাজনীতির মাঠে বের হতে পারে। আর এই তিন বছর হাসিনা যতটা পারে নিজের ফ্যাসিজমে অটুট থাকার চেষ্টা করে গেছে ইন্ডিয়ার নিরন্তর সমর্থন -সহায়তায়। আর সেই সাথে প্রায় এই তিন বছর (২০২১-২৩) ইন্ডিয়া এই বলে বাইডেন প্রশাসনের কানভাড়ি করে গেছে যে আগের মতই ইন্ডিয়ার মাথায় আমেরিকান হাত থাকলে বিনিময়ে হাসিনা এবার আরও ভালভাবে আমেরিকাকে সেবা দিবে!
    কিন্তু হায়! শেষে তাতেও বাইডেনের আমেরিকা প্রতারণা করেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে  ল্যু-বাইডেন চক্রের নাম ইতিহাসে প্রতারক চক্র হিসাবেই লেখা হয়ে গেছে। মধ্য ২০২৩ সাল থেকে ইন্ডিয়া- ল্যু-বাইডেন চক্র আবার সঙ্গোপনে একজোট ও সক্রিয় হয়, একেবারে ভাই-ভাই!  তাতে হাসিনাকে ক্ষমতাসীন করতে ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচন করতেও সহায়তার এক নয়া ডালি খুলে বসেছিল এই চক্র।

    সব থিওলজিক্যাল “কিতাব” সেখানে  দাজ্জাল বা অনুরূপ দানবের উত্থান ও পরিণতির বর্ণনা আছে যা আসলে দুনিয়ার সাধারণ বা আম-মানুষযারা সারা জীবনে এতশত নির্যাতনের পরেও আত্মহত্যা না করে কষ্ট সহ্য করে হলেও বেঁচে থাকে – কেন? কারণ তাঁদের বাঁচার সাহস ও অনুপ্রেরণা যোগানদার হল এসব দাজ্জালের গল্পকথা! এটাই সাহস যুগিয়ে গেছে সারা জীবন! আর এসব কথার মূল ধারণাটা হল, একদিন না একদিন ডিভাইন-বিচারের দিন আসবে –  অথবা এই দুনিয়াতেই হয়ত আল্লাহ বিচার করে দিবেন; সব দাজ্জাল বা হাসিনার ফ্যাসিজম পরিণতির দিনে পৌছাবে তাতে  – দুনিয়ায় যত অত্যাচারই আসুক এই আশার আলো জাগিয়ে রেখে গেছে এসব মেটাফোরিক্যাল গল্পকথা!  একারণে, এসব সব থিওলজি-কেই বুকভরা শ্রদ্ধা ও সালাম জানাই!

    আর তাতে আমরা সেসময় দেখলাম হাসিনা ৭ জানুয়ারি ইলেকশন ক্য্যারিকেচার করে ফেলেছে  আর সাথে বাইডেনও নির্লজ্জ পল্টি মেরে সেই হাসিনার সাথেই তারা একসাথে কাজ করবে বলে চিঠি পাঠিয়েছিল পিটার হাসের হাত দিয়ে। কিন্তু হায় হায়! দাজ্জাল বা  ভণ্ড মসিহ সাজে যে চরিত্র – এদের দিন ফুরিয়ে এলে বা  হয়ে গেলে কোনকিছুই তা ঠেকাতে পারে না! তাই হাসিনা পলাতক ফ্যাসিস্ট হয়ে যান! আর বাইডেন মুখ লুকিয়েছিল!  আর ইন্ডিয়া????
    সেই থেকে আজও মোদির ইন্ডিয়া পাগলপ্রায় অবস্থায়! কোনকিছুই মানতে পারছে না! ইউনুস এই নাম বা এই সরকার এখন সারা ইন্ডিয়াতে একটা ত্রাস; একটা শত্রু বা এনিমির নাম হয়ে দাড়িয়েছে! আসলে এখানে ইউনুস মানে কি?

    আসলে এখানে ইউনুস মানে কি?
    এখানে ইউনুস মানে হল  যে এক দাজ্জাল প্রতিরোধের প্রতীক; এই দাজ্জাল প্রতিরোধকারী আমরা বাংলাদেশ; এখানে যাদের প্রতীকী নাম হল ইউনুস!!  ইন্ডিয়ান আধিপত্যের বিরুদ্ধে  মানে এই দাজ্জালের বিরুদ্ধে আমাদের সম্মিলিত উঠে দাঁড়ানো আমরা বাংলাদেশের আম-জনগণ! মোদির ইন্ডিয়া – বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের কাহিনী বলে বলে এখন ক্লান্ত; মিথ্যা বাঘ আসছে এই গল্প বলা রাখাল বালক হল মোদি! তিনি হিন্দু নির্যাতনের বানানো কাহিনী  দুনিয়াকে বিশ্বাস করাতে পারেন নাই; আবার ওদিকে চিন্ময়-ইসকন এখন খুনের আসামি হয়ে জেলে! আর এদিকে চিন্ময়ের সাগরেদ যারা আমাদেরকে চিন্ময়ের সাথে তাঁর অস্বস্তিকর মেলামেশা-গলাগলি দেখিয়েছিল – তা ইতিহাস হয়ে থাকবে! কেউ ছাড়া পাবে না! ফলে এই  মোদির-ইন্ডিয়া এখন একেবারেই অসহায়; সবগুলো চালই তাদের ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে ইন্ডিয়ান মিডিয়ার চোখে, বাংলাদেশে তাদের চোখে একনম্বর ভিলেন হল ইউনুস এই নামটা!  যেমন ধরেন বাংলাদেশ থেকে ৫০ জন জেলা জজ পর্যায়ের ব্যক্তি (সম্ভবত এটা ছিল সেকেন্ড ব্যাচ। হাসিনার আমলে, গত ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ইন্ডিয়ার প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড় এর বাংলাদেশ সফর থেকে এর শুরু। বাংলাদেশের বিচারকদেরকে সফরের লোভ দেখিয়ে হিন্দুত্ববাদ-বয়ানের পক্ষে মস্তক ধোলাই এর এক কর্মসুচি ছিল এটা); এদের ইন্ডিয়া সফরে যাওয়া প্রায় ফাইনাল ছিল কিন্তু তা গতকাল বাতিল করা হয়েছে।  তাই এই ক্ষোভে কলকাতার আনন্দবাজারের শিরোনাম দেখেন, “ভারতের খরচেই ভারতে এসে প্রশিক্ষণের কথা ছিল বাংলাদেশি বিচারকদের, আটকাল ইউনূস সরকার”। মানে ইউনুস এই নামটাই ইন্ডিয়ার কাছে এখন এক ত্রাসের নাম; যা সবকিছু আটকে দেয়!!!  মানে ইন্ডিয়ান আধিপত্য রুখে দিবার এক কর্তা এমন নাম-বাচক শব্দ এটা!

    এমন পরিস্থিতিতে  জ্যাক সুলিভান ইন্ডিয়া সফরেঃ
    এমন পরিস্থিতি বলতে – এর মানে কী? এর অর্থ এখানে বুঝতে হবে মোদির ভারত যখন ভাটিতে চলছে বা পশ্চাদ-অপসারণে। যেমন ধরেন, এবার তাদের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি বাংলাদেশ সফরে আসার মূল পরিকল্পনাটা ছিল বাংলাদেশকে ভয় দেখিয়ে কব্জা করার শেষ চেষ্টা। কারণ, গুম-খুন-আয়নাঘর কান্ডে শুধু হাসিনা না সাথে মোদি-ইন্ডিয়াও জড়িত এই প্রমাণ সংগৃহিত হয়ে গেছে। এবং সেই প্রাথমিক রিপোর্ট ইউনুস সরকারের কাছেও আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর করা হয়ে গেছে যা মিডিয়া রিপোর্টও এভেলএবল! ফলে অনুমান করা যায় সেসব দলিল এখন জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের অফিসের দিকে রওনা হবে বা দৌড়াচ্ছে!!!! যেখানে এমনকি বিএনপির নেতা যারা অপহরণ-গুম হয়েছিল তাদেরকেও মোদির র-বাহিনী ম্যানেজ করে ফেলেছে।  বা তারাই এখন বিএনপিতে র-এর স্বার্থ-ইচ্ছার ক্যারিয়ার!  ফলে এটা মোদি-ইন্ডিয়ার জন্য এক বিরাট কেলেঙ্কারির ঘটনা হিসাবে আসতেছে! আর এর সাথে আরও ছিল ২০০৯ সালের বিডিআর হত্যাকান্ড নয়া তদন্ত কমিশন। এদুটাই যেন বাংলাদেশ খাতা-বন্ধ করে রাখে মুলত এনিয়েই আবদার বা দরকষাকষি করতে এসেছিলেন বিক্রম মিশ্রি! কিন্তু শেষ পর্যন্ত মিশ্রির সফর-উত্তর বাংলাদেশ এসব দালালি-প্রলোভন বা ভয় দেখানি অতিক্রম করে গেছে!!!  নিজেদের সংহত করে ফেলেছে যার সোজা মানে ইন্ডিয়ান হেজমনি-বিরোধীরা এখন আবার ফিরে সংহত হয়ে গেছে। ফলে ইন্ডিয়ার চোখে সবকিছু নষ্টের গোড়া এখন একটাই নাম ইউনুস সরকার!!

    তাহলে আবার সেই পুরানা প্রশ্ন, তাহলে জ্যাক সুলিভান ইন্ডিয়া সফরের অর্থ – আমাদের জন্য এর অর্থ কী? কোন বিপদের কী?
    একটা ক্লু দিয়ে শুরু করি। সুলিভানের এবারের ইন্ডিয়া সফরে র সাথে তিনি বাংলাদেশও ঘুরতে আসেন নাই; এমন সিডিউল-পরিকল্পনাও নাই; যেটা এর আগে ল্যু-বাইডেন জমানার এর তিন বছরে বেশিরভাগ সময় ঘটেছে। এর বদলে এখন বরং আলাদা করে ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ মানে দুসপ্তাহ আগেই ইউনূসের সঙ্গে সুলিভানের ফোনালাপ হয়েছে একটা। এটা সিগনাল দেয় যে আমেরিকার ইন্ডিয়ান ডেস্ক বা  এর কায়-কারবার কার্যতই বাংলাদেশ ডেস্ক থেকে আলাদা। নাইলে আমরা দেখতাম ইন্ডিয়া থেকে সুলেভান বাংলাদেশও ঘুরে যাচ্ছেন।

    এছাড়া আরেকটা কড়া কথা বলব। গত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ইউনুসের (জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বার্ষিক বক্তৃতার সফর এর সুযোগে) প্রথম এবং মুখ্যত ইউনুস সরকারের নীতি (আমেরিকা প্রসঙ্গে নীতি কী) তা মুখোমুখি বসে আলাপ করার সুযোগ পেয়েছিল আমেরিকা!
    কোন আমেরিকা????

    এই প্রশ্নটা গুরুত্বপুর্ণ! যেই ল্যু-বাইডেনের আমেরিকা গত  ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ সালের হাসিনার সাথে একসাথে কাজ করবে বলে লিখিত চিঠি দিয়েছিল। আর সেই হাসিনা মানে বাইডেনের পার্টনার হাসিনা সরকারকে  বাংলাদেশের মানুষ উতখাত করে দিয়েছিল বাইডেনের ঐ খায়েসের চারমাসের মধ্যেই!!! মানে প্রথমত আমেরিকান ইন্টেলিজেন্স সব ভুয়া, কাগুজে বাঘ মাত্র! আর এটাই প্রমাণিত হয়েছিল! আর সবচেয়ে বড় কথা এরপরেও আমরা –  ইউনুস সাবকে আমেরিকা পাঠিয়েছি। বাইডেনকে তিনি বলেছেন আর পিছনে না,  সামনের দিকে তাকিয়ে হাঁটতে!!! শুধু তাই না, দেখেন ল্যু-বাইডেনের ইন্দো-প্যাসিফিক পলিসি কেউ খাইলো না। সেটা এখন মৃত! আর বিপরীতে আমরা এর চেয়েও এক বাস্তব প্রস্তাব,  বাংলাদেশ-আমেরিকার উভয়ের স্বার্থ আছে এমন পলিসির প্রস্তাব আমরাই বাইডেনকে জানিয়েছি। সাথে এটাও যেখানে লুকানো নয় যে চীনের সাথে আমাদের ঋণ-বাণিজ্য এবং সস্তায় অস্ত্রদাতা ইত্যাদি সব সম্পর্কও চলবে! যা নিয়ে আমেরিকার ভয় পাবার কিছুই নাই। আমরা আমেরিকান (FDI) প্রাইভেট বিনিয়োগও ওয়েলকাম করব!
    এসব কারণে, আমার দৃঢ় বিশ্বাস আমেরিকা যদি আরেকবার বেকুব হতে না চায় তবে আমেরিকা (যে প্রশাসনেরই হোক) বাংলাদেশ প্রশ্নে ইন্ডিয়াকে দূরে রাখবে! ইন্ডিয়া-আমেরিকা সম্পর্ক যেমন-ই থাক বা না থাক এর ভিতর বাংলাদেশ কোন প্রসঙ্গ হবে না,  আসবে না – এই নীতি-বৈশিষ্ট বজায় রাখবে; এই সীমারেখা মেনে চলবে!
    তাহলে এটাও এখানে বলে রাখা যায় যে আমেরিকা যদি এই – বাংলাদেশকে আলাদা রাখার নীতি-বৈশিষ্ট – মেনে না চলে তবে স্বভাবতই আমরা সারা বাংলাদেশ সরাসরি এন্টি-আমেরিকানও হয়ে যাব!! কোন আমেরিকা? যে আমেরিকা আমাদেরকে ভারতের হাতে তুলে দিয়েছিল ২০০৭ সালে! আমাদেরকে ভারতের করদ রাজ্যে পরিণত করা হয়েছিল তখন থেকে! ইউনুস সরকার গত চার মাসে এই প্রসঙ্গ কখনও বাঁকা-কথা বা রেফারেন্স হিসাবে আনে নাই। কেবল ইন্ডিয়ার আধিপত্যের বিরোধ করে গেছি আমরা ইউনুস সরকারের মাধ্যমে! কিন্তু এবারও আমেরিকা সোজা না হলে, আত্মঘাতি হলে আমরা সরাসরি আমেরিকাবিরোধী দেশ-সরকার হয়ে যাব। সবচেয়ে বড় কথা (আর কোন ভারসাম্য নয়) আমরা সেক্ষেত্রে প্রকাশ্যেই চীনের কোলে গিয়ে উঠবে এমন বাংলাদেশ হব হয়ত! আর এর সম্পুর্ণ দায়দায়িত্ব বর্তাবে আমেরিকার উপর; যা সবাই খোলা চোখেই দেখতে পাবে!!!

    এবার শেষাংশ, এটা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপুর্ণঃ
    আমি মনে করি উপরে যা যা বললাম এসব কারণে সুলিভান এই ইন্ডিয়া সফরে (ফাঁকে-ফোকরেও) বাংলাদেশ প্রসঙ্গ আনবেন না।
    এছাড়া ইতোমধ্যেই সুলেভানের এই সফরের মুল কারণ যা সব প্রধান এজেন্সি মিডিয়াতেই ছাপা হয়েছে বিশেষত রয়টার্স সেখানে সোজা আমেরিকান প্রশাসনের রেফারেন্স দিয়ে বলা হয়েছে এই সফর মূলত [about the impact of Chinese dams,] নদীতে বাঁধ ও বিদ্যুৎ প্রকল্প যেটা চীন নিয়েছে – সে প্রসঙ্গে ভারতের আপত্তিওগুলো কী তা নিয়ে নীতিগত অবস্থানের নৈকট্য কী করা যায় তা নিয়ে।
    এখন আরেকটু ভেঙ্গে বলি। আমাদের দেশে যেটা মূল ব্রহ্মপুত্র নদ নামে পরিচিত [চীনের তিব্বতে ইয়ারলুং জাংবো নদ এটাই ভারত-বাংলাদেশে যার পরিচিতি  ব্রহ্মপুত্র নামে] যা ভারতের আসাম হয়ে কুড়িগ্রাম-ময়মনসিংহ দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে। এই নদী মূলত চীনের মেকং অঞ্চল থেকে শুরু হয়ে চীনের তিব্বত থেকেই ইন্ডিয়ায় (আসামে) প্রবেশ করেছে। পরে আসাম হয়ে বাংলাদেশে। বাংলাদেশে এসে আমরা এটাকে ব্রহ্মপুত্র বলি!  চীন উজানে এই নদিতে নানান জায়গায় বাধ ও জলবিদ্যুত প্রকল্প করেছে। আমেরিকা ভারতের উপর এর প্রতিক্রিয়া প্রভাব নিয়ে কথা বলতে এসেছে […… about the impact of Chinese dams,]...।
    তবে এটা ঠিক নদীর পানি নিয়ে মারামারি নয়; আমেরিকা বুদ্ধিমানের মত এটাকে  পরিবেশ ইস্যু হিসাবে তুলতে চায়। নিচে সুলিভানের ইন্ডিয়া সফর কেন তা নিয়ে আমেরিকান প্রশাসনের মূল বক্তব্যটা কি দিয়েছে তা তুলে দিলাম। এটা রয়টার্স থেকে নেয়া। বাকি সব মিডিয়ার বক্তব্যের সারকথাও এইটাইঃ

    “We’ve certainly seen in many places in the Indo-Pacific that upstream dams that the Chinese have created, including in the Mekong region, can have really potentially damaging environmental but also climate impacts on downstream countries,” a senior U.S. official said ahead of Sullivan’s visit.

    তাহলে সারাংশে বললে, সুলেভানের সফরে বাংলাদেশ কোন প্রসঙ্গই নয়।  এই বিচারে তা নিশ্চিত করেই বলা যায়।
    আর নিশ্চিত করেই আমেরিকান প্রশাসন জানিয়েছে, আলোচনার টপিক হল (civilian nuclear cooperation, artificial intelligence, space, military licensing and Chinese economic overcapacity)এগুলা। অর্থাৎ যার কোনটাই বাংলাদেশ সম্পর্কিত নয়। যদিওও ভারতের কিছু প্রপাগান্ডা মিডিয়া ভয় দেখানো সুত্রহীন রিপোর্ট ছেপেছে।

    Washington also expects that topics such as civilian nuclear cooperation, artificial intelligence, space, military licensing and Chinese economic overcapacity will be brought up in the visit, the U.S. official said

     

    কিন্তু একটা নতুন সুবিধার দুয়ার উন্মোচিতঃ
    ইন্ডিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালোয়ের মুখপাত্র এখন এক রণধীর জয়সোয়াল! [এই অংশটার জন্য দুটো মিডিয়া রিপোর্ট পাঠকের ভাল কাজে লাগবে। একটা হল ভারতের Mint-Livemint আর আরেকটা হল আমাদের ইত্তেফাক। লিঙ্ক সাথে দিয়ে দিলাম। কারণ জয়সোয়ালের মন্তব্য এখানে ভাল কাভার করেছে এরা।  ]
    গত চারমাস তাঁকে আমরা দেখেছি কেবল – বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন চলছে – এনিয়ে কথা বলতে। কিন্তু এবার সুলেভানির সফর নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি নিজে ও ইন্ডিয়ার জন্য এক বিপদ ডেকে এনেছেন।
    কমন নদীর পানিতে ভাটির দেশের সমান অধিকার থাকে। এটাই আন্তর্জাতিক আইন। যে বোধটা এতদিন বাংলাদেশে উপেক্ষিত, সব শাসকের কাছেই।  এই প্রথম বহু কাঠখর পুড়িয়ে ইউনুসের মুখ দিয়ে সামএ আনা গেছে ফেনীতে এবারের বণ্য বা ইন্ডিয়ার বাধ খুলে দেয়া কে কেন্দ্র করে।

    মজার কথা হল, সুলিভানের সফরে চীন-ভারত কমন নদীর পানি ইস্যুতে এই জয়সোয়াল দাবি করেছেন যে তিনি জানেন, যে ভাটির দেশের (মানে ইন্ডিয়ার) এক্ষেত্রে সমান অধিকার আছে।

    রণধীর জয়সোয়াল বলেন, অভিন্ন নদীর ক্ষেত্রে ভাটির দেশেরও কিছু অধিকার আছে। রাজনৈতিক ও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে সেই অধিকারের কথা বারবার জানানো হয়েছে। সেই অধিকার ও স্বার্থের বিষয়ে ভারতের পর্যবেক্ষণ জারি আছে। সরকার সেইমতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও গ্রহণ করবে।

    তাহলে এটা কী আমাদের জন্যও সুযোগ না যে ঠিক একই কারণে আমাদের সাথে ভারতের ৫৪ নদীর পানির হিস্যায় আমাদেরও ভাটির দেশ হিসাবে ইন্ডিয়ার সাথে সমান অধিকার আছে। -এবং এটা তো জয়সোয়াল জানেনই -! সুতরাই নদীর পানি ইস্যুতে আমাদের সমান ও ন্যায্য ভাগীদারির কথাটা এখন আমরা সহজেই তুলতে পারার রাস্তা উন্মোচিত হচ্ছে সেটা এখানে দেখতে পাওয়াটা জরুরি!
    ফলে সে অনুযায়ী আমাদের ফরেন অফিস তার কাজ ও নীতি সামলানো এখন ফরজ!
    এই মাজা ভাঙ্গা উপদেষ্টা যদি এখানে পারফরমেন্স দেখাতে না পারেন তবে তাকে বদলানোর দায়ীত্ব ইউনুস সাহেবের। পাবলিক তৌহিদ সাহেব চিনে না। আমরা একাজে ততপর ফরেন অফিস না দেখতে পেলে কিন্তু আমরা ইউনুস সাহেবকেই দায়ী করব! কাজেই আমাদেরকে এই ইস্যুতে এখনই পদক্ষেপ দেখানোর উপর নির্ভর করছে ইউনুস সরকারের সার্থকতা!!! নাইলে এটা একটা খামোখা সরকার হয়ে দাঁড়াবে!!!

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  বিকাল ০৪ঃ ৩৫    ০৬ জানুয়ারি ২০২৫

     

     

     

     

     

     

     

     

     

     

  • কংগ্রেসী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর কান্ধে – গুম-খুনের চটের ব্যাগ না হিন্দুত্ববাদ!

    কংগ্রেসী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর কান্ধে – গুম-খুনের চটের ব্যাগ না হিন্দুত্ববাদ!
    গৌতম দাস
    ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪  বিকাল ০৪ঃ ১০
    https://wp.me/p1sCvy-64l

    ভুল করেন না। ইনি ইন্দিরা গান্ধী নন। ইনি ইন্দিরার ছেলে রাজীব গান্ধীর মেয়ে মানে, ইন্দিরার নাতি প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। রাহুল গান্ধীর ছোট বোন!
    “বাংলাদেশ কে হিন্দুও আউর ঈসাইও কে সাথ খড়ে হো” 

     

     

    বাংলাদেশের কমিউনিস্ট ও প্রগতিশীলদের ধারণা হল একালের মোদি হয়ত খারাপ (হিন্দুত্ববাদী) কিন্তু কংগ্রেস হল একেবারে খাঁটি। এরা সেই নেহেরুর-গান্ধীর আমল থেকেই কংগ্রেসিরা এক্কেবারে প্রগতিশীল! এমনকি নেহেরু তো নাকি সমাজতন্ত্রী ছিলেন?? শুধু তাই না আরও আছে – এরা সেকুলার, অসাম্প্রদায়িক, জাতীয়তাবাদী,  সমাজতন্ত্রী আরও কত কীই না!
    যেমন ধরেন বাংলাদেশে এ’ধরণেরই সমাজতন্ত্রী- প্রগতিশীল একেবারে প্রতীক লোকটা; এমন লোকটা বাংলাদেশে কে? খুব সম্ভবত তাঁর নাম কমিউনিস্টেরা বলবে তিনি হলেন এমিরেটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

    কদিন ধরে ভাবছিলাম এই প্রগতিশীলকে একটু ফুটা করে দেয়া দরকার।  কারণ ইনিই হলেই বিবৃতিবাজ এক নম্বর। প্রগতিশীল-সমাজতন্ত্রী বিবৃতিবাজ বুদ্ধিজীবীতার একনম্বর! আজকাল কিছু ইসলাম-পছন্দ পত্রিকাও দেখি তাঁর লেখা নিবার জন্য লাইন ধরেছে। তিনি এতই  প্রগতিশীল-সমাজতন্ত্রী বিবৃতিবাজ বুদ্ধিজীবী। ইনার নাম থাকে বিবৃতিতে সবার উপরে। কারণ উনার নাম প্রথমেই দেখা গেলে পরে; এরপরে হুটোপটি লেগে যায় কার আগে কে সেখানে নিজের নাম ঢুকাতে হুমড়ি খেয়ে পড়বে!!!
    আড় ইনাদের চোখে কংগ্রেস! ও কংগ্রেস? কংগ্রেস তো হল তাদের সেকুলার এর প্রতীক! কংগ্রেসকে দেখেই তো এই সেকুলার শব্দের জন্ম, এমন অবস্থা! মানে মুসলমান কোপানোর সবচেয়ে যুতসই ধারালো কুড়াল হল – এই কথিত সেকুলার-ধারণা। পড়াশুনা না করা এই ডক্টরেট ডিগ্রীধারীরাই বাংলাদেশে এসব ‘সেকুলার’ সার্টিফিকেট বিলিয়ে বেড়ান।

     

    কিন্তু এরাই আবার কখনও মোদি, আরএসএস-বিজেপি বা তাদের জাগরণ মঞ্চ, কিংবা সনাতনি মঞ্চ, একালের ইসকন এসব সম্পর্কে একেবারে মুখ বন্ধ! মুখে কঠিন তালা দেওয়া। চিন্ময়-ইসকন ইস্যুতে উনারা যেন মৃত!

     

    যাই হোক, সেই প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা! বঢরা নামের এইঅংশটা স্বামীর টাইটেল সুত্রে। ঠিক যেমন হাসিনার নামে ‘শেখ’ থাকার কথা না কারণ ওটা বাপের টাইটেল; আর তিনি সাথে এক সময় স্বামীর টাইটেল ‘ওয়াজেদ’ লিখতেন – এটা তেমনই। 
    উপরের ছবিতে প্রিয়াঙ্কা কাঁধে যে চটের ব্যাগটা সেটাই আলোচনার কেন্দ্র ও বিষয়বস্তু। ওখানে হিন্দিতে (অল্প কোথাও ইংরাজিতেও লেখা আছে )  –বাংলাদেশ কে হিন্দুও আউর ও ঈসাইও কে সাথ খড়ে হো -। মানে হল বাংলাদেশের হিন্দু আর খৃশ্চানদের পক্ষে দাঁড়াও!  

    এখানে চটের ব্যগে ইংরাজিতে লেখা আছে – STAND for MINIRITIES OF BANGLADESH

    অনেকের কাছে মনে হতে হতে পারে, এ আর এমন কী? ভারত সরকারই তো এমন বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন হচ্ছে বলে প্রপাগান্ডায় ভরায় ফেলেছে। সরি, মহাশয়েরা আপনারা মারাত্মক ভুল করলেন।

     

    কংগ্রেস হল পবিত্র আর জিন্নাহ হল পাপী! কংগ্রেস মানে গান্ধী-নেহেরুরা হল পবিত্র, সেকুলার সমাজতন্ত্রী। 

    এই বক্তব্যের অন্যতম পাহারাদার হলেন সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীরা।
    কিন্তু পাঠকদেরকে সাবধান হতে হবে, মিথ্যা থেকে বের হতে হবে – বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন হচ্ছে এই দাবি কিন্তু মোদি ও বিজেপি সরকারের। কিন্তু লক্ষ্য করেন,  মোদি সরকারের দাবি কে মেনে নেওয়া কংগ্রেস এর (সাথে সিপিএম অথবা মমতার তৃণমুল) জন্য বাধ্যতামূলক নয়।

    অথচ আমরা দেখছি রীতিমত চটের ব্যাগ বানিয়ে একে পোস্টারের মত কাঁধে নিয়ে কংগ্রেসিরা সংসদে মিছিল করছে, ফটো সেশনও! মোদি আর কংগ্রেস একাকার! হিন্দুত্ববাদী!!!!!

     

    মোদি কেন এই মিথ্যা প্রপাগান্ডার পথেঃ
    আবার মোদি কেন এই মিথ্যা প্রপাগান্ডা করার পথ ধরেছে? কারণ, বাংলাদেশের হাসিনা আমলের দুইটা ঘটনাঃ
    এক. এখন জানা যাচ্ছে- গুম, খুন অপহরণ ও আয়নাঘর ঘটনায় ইন্ডিয়ার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ আছে!  হাসিনা ইন্ডিয়ার সাথে মিলে এমন আয়নাঘর ততপরতা এমনকি অপহৃত ব্যক্তিকে ইন্ডিয়ার উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার মত কান্ডও ঘটিয়েছে এরা যৌথ ভাবে!!!!
    দুই. ২০০৯ সালের বিডিআর ম্যাসাকার ও আমাদের সৈনিক-অফিসারদের হত্যার সাথে ইন্ডিয়ার সংশ্লিষ্টতা প্রকাশ হয়ে পড়তে পারে!

    এদুই ঘটনাকে চাপা দিতেই বাংলাদেশের উপর প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি এটাই মোদি সরকারের কৌশল ও লক্ষ্য। তাই কথিত এই হিন্দু নির্যাতনের প্রপাগান্ডা।

    তাহলে এখন দাড়ালো কী?
    দাড়ালো যে মোদির বিজেপি আর কংগ্রেস এই প্রশ্নে ভাইভাই!  তাদের ভারত-মাতা কে রক্ষার স্বার্থে কাঁধে ব্যাগ উঠিয়ে নিয়ে মিথ্যা কথা লেখা ও এর মিথ্যা প্রপাগান্ডা – এটাই কংগ্রেসি অপ-ততপরতা!  এই হল কংগ্রেসের পবিত্র সেকুলার ও সমাজতন্ত্রী আচরণ! যেখানে আমরা বাংলাদেশিরা হলাম পাপী – আমরা পাপী মুসলমান বা তাদেরকে সমর্থনকারী!!!

    কাজেই সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে  প্রগতিশীল-সমাজতন্ত্রী বিবৃতিবাজ বুদ্ধিজীবী গণ আপনারা বিবৃতি দিবেন কবে? সেই অপেক্ষায় থাকলাম!!!

     

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ বিকাল ৪ঃ ৪৯   ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪

  • চোর নিজেই দাবি করছে চুরি বেড়ে গেছে!!

    চোর নিজেই দাবি করছে চুরি বেড়ে গেছে!!
    গৌতম দাস
    ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪   বিকাল ০৪ঃ ১২
    https://wp.me/p1sCvy-62g

     

     

    এ’এক অদ্ভুত বাংলাদেশে প্রবেশ করেছি আমরা! এখানে চোর নিজেই দাবি করেছে যে চুরি খুবই বাইরা গেছে! এই বলে ভাল সাজতেছে! কিন্তু এভাবে কী পাপ ধুয়ে ফেলা যাবে? না যায়?
    ইংরাজি ডিপ্লোম্যাট, জাপানি ফাইনান্স আমেরিকা থেকে প্রকাশিত এক ম্যাগাজিন; যা মাঝে চীন ঠেকাও এর ঠিকা ভারতকে আমেরিকা দেওয়ার কালে জাপান থেকেও বের হত। সেই ডিপ্লোম্যাটে কলকাতার এক সাংবাদিক নাম স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্য  (প্রাক্তন হিন্দুস্তান টাইমসের লেখক) এক লেখা ছাপানো হয়েছে শিরোনামঃ  বিজেপির হিন্দুত্ববাদী আদর্শের উত্থান ঘটছে বাংলাদেশে [The Rise of the BJP’s Hindutva Ideology in Bangladesh]।

    বিজেপির হিন্দুত্ববাদী আদর্শের উত্থান ঘটছে বাংলাদেশে

    আর সেই লেখাটার বাংলা অনুবাদ করে ছাপিয়েছে প্রথম আলো; বিজেপির হিন্দুত্ববাদী আদর্শের উত্থান ঘটছে বাংলাদেশে।  শিরোনাম দেখে অনেকের মনে হতে পারে যে দেখেছো – প্রথম আলো কত ভাল হয়ে গেছে – একেবারে বিজেপির বিরুদ্ধে শুধু না এমনকি হিন্দুত্ববাদের বিরুদ্ধেও লিখছে…!  এমনকি একটা ফেসবুক স্টাটাস দেখলাম ইতোমধ্যেই লিখেছে – প্রথম আলোর একটি সিগনিফিক্যান্ট নিউজ কাভার! তিনি দেখেছেন।   ফলে চাই কী এখন আমাদের প্রেস সচিব শফিকুল সাহেবও  এসব দেখে ভেবে বসতে পারেন যে তাঁর প্রথম আলো কে ভালবাসাটা কতটাই না সঠিক ও নিখাদ ছিল; কেবল বাঙালি মুসলমানেরাই তা বুঝল না! ওরা ‘ভারতীয় সেকুলার’ নয় বলে বুঝল না!!!!

    তাদের জন্য এবার একটু ভান্ড ফাটাতেই হবে।

    তাদের জন্য এবার একটু ভান্ড ফাটাতেই হবে।

    “On August 9, the day after Nobel Laureate Muhammad Yunus took charge as the head of Bangladesh’s interim government, Hindus, a religious minority making up 8 percent of the Bangladeshi population, started hitting the streets in different parts of the country, including the Shahbag Square in the national capital, Dhaka.

    They protested a series of attacks targeting Hindu homes, businesses, and places of worship during August 5-8, when the country descended into lawlessness following Prime Minister Sheikh Hasina’s resignation and hurried exit from the country.”

    উপরের লেখার অংশটা স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্য এর, উনার ডিপ্লোমেটে লেখা থেকে নেয়া। এখন স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্য  এর লেখায় attacks বলে যে শব্দটা ওর পছনের লিঙ্ক – সেটাই প্রথম আলোতে প্রকাশিত এক রিপোর্ট, সেটাকেই উদ্বৃত করে আনা হয়েছে।  যার সোজা মানে হল They protested a series of attacks targeting Hindu homes, businesses, বা বাংলদেশে হিন্দু নির্যাতন চলছে সেই প্রপাগান্ডা বক্তব্যটারই মূল উতস প্রথম আলোর রিপোর্ট।  নিচে  প্রথম আলোর (ইংরাজি) রিপোর্টই সেটা।

    আর তা পড়ে পিছনের ঘটনা কাহিনী না জেনে আমরাই আবার ফেসবুকে লিখছি  প্রথম আলোর একটি সিগনিফিক্যান্ট নিউজ কাভার!-আজকের!!!!

    চোর নিজেই দাবি করছে চুরি সত্যিই বেড়ে গেছে!!
    আসলেই তাই!!!!!  কী তামসা!!

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক

    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   বিকাল ০৫ঃ ৪৮    ১৪ ডিসেম্বর  ২০২৪
    শেষ আপডেটঃ   ডিসেম্বর  ২০২৪