Category: INDIA

  • আরএসএস-বিজেপি দ্বন্দ্ব চরমে, বাংলাদেশকে ১৯৭১-এর মত একটি অপারেশন ও হাসিনাকে রক্ষার ব্যর্থতা নিয়ে

    আরএসএস-বিজেপি দ্বন্দ্ব চরমে,
    বাংলাদেশে ১৯৭১-এর মত একটি অপারেশন না চালানো ও হাসিনাকে রক্ষার ব্যর্থতা নিয়ে
    গৌতম দাস
    ০৯ এপ্রিল ২০২৫  দুপুর ০২ঃ ৩২
    https://wp.me/p1sCvy-6oZ

     

     

    শেষাদ্রি চারি [Seshadri Chari] 

    [আরএসএস-বিজেপি দ্বন্দ্ব এনিয়ে আপনাদেরকে আগে ফেসবুকে কিছু ধারণা দিয়েছিলাম। সেটা এখন আরো চরমে উঠেছে। বাংলাদেশের মোদির ইন্ডিয়া হাসিনার পতন ঠেকাতে পারে নাই এমনকি অজিত দোভাল ঠিকমত জানতেও পারে নাই। (আর আমরাও [মানে আমাদের জুনিয়র আর্মি অফিসার সদস্যরা] সেই কাজটাই ভালভাবে করেছিলাম যেন “র”-এই চিত্রটা আমল করতে ব্যর্থ হয়)। আর এতে সবমিলিয়ে হাসিনার উতখাত ও পরিণতিতে মোদির ভারত বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ হারানোতে – এই ইস্যুটাকে এখন বিজেপি সরকার ও মোদির ব্যর্থতা বলে অভিযোগ তুলেছে তাতে আরএসএস-বিজেপি দ্বন্দ্ব টা এক নয়া মাত্রায় চলে যেতে চাইছে। এরই প্রকাশ ঘটেছে আরএসএস নেতা শেষাদ্রি চারি নামের এক নেতা এসব নিয়ে খোলাখুলি দ্যা প্রিন্ট পত্রিকায় এক কলাম লিখেছেন সেখান থেকে এনিয়েই এই রচনা।]

     

    সময়ে ভিডিও এর চেয়েও গদ্যে লিখলে কোন কোন ঘটনায় জমিয়ে আলাপ করা যায়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও রেফারেন্সগুলো পাঠক নিজে দেখে শুনে আরো ফারদার উল্টে-পাল্টে দেখা যায় এমনকি কেউ কেউ যারা আরো গবেষণায় লিপ্ত হতে চায় তাদের কাজ সহজ হয়। তাই আজ প্রথমে এখন লিখে বলব। কিন্তু ইস্যুটা কী?

    এককথায় ইস্যুটার শিরোনাম – “ইউনুস সাবের চীন সফরে” ভারতের জলুনি আর মোদিকে দোষী ঠাউরানোঃ
    কিন্তু তবু এতে শিরোনামে বলা হয় নাই যে এখানে কর্তা কে? মানে –ইন্ডিয়ার জলুনির প্রকাশ আর মোদিকে দোষী বলে রায় দিল কে? তা বলা হয় নাই।
    আর এটাই সবচেয়ে চমকানো তথ্য তা আপনাদেরকে বলব।

    ইন্ডিয়ার জলুনি প্রকাশ আর মোদিকে দোষী বলে রায় দিল আরএসএসঃ
    আরএসএস এর পক্ষ থেকে কে মোদিকে দোষী করল কীভাবে?
    একাজ করেছেন শেষাদ্রী চারি [Seshadri Chari]।  চারি ছিলেন আরএসএস এর এক দলীয় মুখপাত্র পত্রিকা আছে; প্রাচীন পত্রিকা নাম তার “অর্গানাইজার” (হিন্দিতে সংগঠক)।   এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন চারি, এখন নাই। তিনিই প্রায়ই ইন্ডিয়ান (সম্ভবত সর্বশেষ নয়া) প্রভাবশালী ইংরাজী পত্রিকা দ্যা প্রিন্ট [The Print] ; এখানে অনিয়মিতভাবে কলাম লিখেন। সেটা অনেকটা পার্টি আরএসএসের অবস্থানই তা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার না করেই তিনি লিখে থাকেন।  সবাই জানে ও মানে যে এটা আসলে চীনা সরকারী অবস্থানই কিন্তু স্বীকার না করে লেখা ও পরিচালিত চীনা ইংলিশ পত্রিকা [Global Times] যেন।
    এই চারি এবার লিখেছেন যার শিরোনামঃ “Yunus just offered Indian Ocean to China. India must respond to the neighbour’s shenanigans” । বাংলাদেশে “ভিউ- খাওয়া” বা  হাইপ তুলে লাইক খাওয়া যত দৈনিক আছে এরা কেউই এই লেখার মর্ম বুঝে নাই মনে হচ্ছে। তাই সম্ভবত তারা চারির এই লেখা আমল করে নাই। ওদিকে দ্যা প্রন্টের যে ফেসবুক পেজ আছে সেখানে এই লেখার একটা বাংলা অনুবাদ ছাপা হয়েছে পরেরদিন। সেটার লিঙ্ক এখানে দেখতে পারেন।
    তবে চারির লেখা কলামের সারাংশ যা শিরোনামের নিচে লেখা থাকে সেটার অনুবাদ থেকে লেখাটার সারাংশ জানা যায়। সেটার বাংলা ভাব-অনুবাদ করে বললে হয়ঃ ইন্ডিয়ার “প্রতিবেশী সবার আগে” পলিসি মনে হচ্ছে পোতায় গিয়ে পথ হারিয়েছে আর এতে দেখা যাচ্ছে সবচেয়ে নিকট আর দুরের প্রতিবেশীরা চীনের দিকে হেলে পড়তেছে আর এতেই আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্য এলোমেলো প্রভাবে”।
    অর্থাৎ চারি বলতে চাইছেন মোদির অযোগ্যতাতেই ইন্ডিয়ার প্রতিবেশিরা চীন-অভিমুখি হয়ে ছুটছে। যেটা ইন্ডিয়ার দিক থেকে দেখলে আঞ্চলিক ক্ষমতা ভারসাম্য ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে আর চীনের পক্ষে চলে গেছে।

    India’s ‘neighbourhod first’ policy seems to have gone awry
    with most immediate and distant neighbours tilting toward
    China, impacting the regional balance of power.

     

    যার সোজা মানে হল, চারি বা চারির মুখ দিয়ে আরএসএস এবার বিজেপি-মোদিবিরোধী সংগ্রাম অনেক খোলাখুলি আর সামনাসামনি লড়তে চাইছে। এই সার বক্তব্যের একটা বাংলা পেয়েছে ফেসবুকে যেটা আরও মারাত্মক ভাষায়। হিন্দুত্ববাদী আক্রোশে ভর্তি হলেও যে কিছু করতে অক্ষম – এমন ভাষায় লেখা! নিচে দেখেনঃ

    বাংলাদেশের অসহযোগী মনোভাব ও চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কথা বিবেচনা করে ভারতের উচিত বিমসটেক এর সদর দপ্তর ঢাকা থেকে স্থায়ীভাবে সরাতে। একটি চীন-পাকিস্তান-বাংলাদেশ অক্ষ অবশ্যই বিমসটেককে ধ্বংস করবে, যেমন পাকিস্তান-চীন অক্ষ দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক সহযোগিতা সমিতি (সার্ক) কে করেছিল।
    ভারতের ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতি মনে হচ্ছে সবচেয়ে তাৎক্ষণিক এবং দূরবর্তী প্রতিবেশীরা চীনের দিকে ঝুঁকে পড়েছে, যা ক্ষমতার আঞ্চলিক ভারসাম্যকে প্রভাবিত করছে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান, হিন্দুদের বিরুদ্ধে একটি আন্দোলন এবং এখন ইউনূসের এই বিবৃতি সব সরকারের কাছে বিস্ময় হিসাবে এসেছে, একটি গোয়েন্দা ব্যর্থতার প্রস্তাব, অন্তত বলার জন্য। একটি কোর্স সংশোধন সময়মত হবে। একটি শক্তিশালী সামরিক, বিমানবাহিনী, নৌ ও অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে, ভারতকে পূর্ব ও পশ্চিমে প্রতিবেশীদের হিংস্রতার জবাব দিতে হবে, দ্রুত ও সিদ্ধান্তমূলকভাবে, এমনকি যদি এর মানে ১৯৭১-এর মতো একটি অপারেশন হয়। ‘

    বিশেষ করে শেষ কয়েকটা শব্দ দেখেন; যেমন ……“এমনকি যদি এর মানে ১৯৭১-এর মতো একটি অপারেশন হয়”।
    মানে হলো,
    ১। মোদির ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতি অকার্যকর হয়ে গেছে মোদির জন্যই। 
    ২। আমরা ইন্ডিয়ার পাপেট হাসিনাকে উতখাত করেছি সেটা নয়, বরং ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতি ফেল করেছে বলেই আমরা বাংলাদেশ ইন্ডিয়া ফেলে চীন অভিমুখি হয়ে গেছি।
    ৩। আমাদের হাসিনা উতখাত এটা চারির চোখে নাকি একটা – “হিন্দুদের বিরুদ্ধে একটি আন্দোলন” । মনে হচ্ছে চারি লোকটা মাতাল হয়ে গেছে!
    ৪। হাসিনার উতখাত হয়ে যাওয়া আর সেটা মোদির অজিত দোভালের র-এর জানতেই না পারা এটাই চারির চোখে একটি গোয়েন্দা ব্যর্থতা আর এই অভিযোগ তুলের আরএসএস-বিজেপি দ্বন্দ্ব ও যুদ্ধ চরমে উঠেছে।
    ৫। এখন মোদি বা ইন্ডিয়া সরকারকে তাই বাংলাদেশের উপর আক্রমণ চালাতে হবে “১৯৭১-এর মতো একটি অপারেশন” যেন আমাদেরকে একটা উপযুক্ত জবাব দেয়া হয়……

    আরএসএস মানে রাষ্ট্রীয় সমাজসেবক সংঘ; মানে মোদি যেই রাজনৈতিক দলের প্রধানমন্ত্রী সেই বিজেপি দলের উপরের মুরুব্বি সংগঠন হল এই আরএসএস! যার সভাপতি বা (হিন্দিতে)  সর-সঞ্চালক হলেন মোহন ভগত!  কিন্তু এমন বাপ-সন্তান সম্পর্ক সত্বেও আরএসএস-বিজেপি এর দ্বন্দ্ব এখন চরমে শুধু নয় এটা এখন প্রকাশ্যেই। পাঠকের নিশ্চয় মনে আছে পাঁচদিন আগে আরএসএস-বিজেপি এর দ্বন্দ্ব মারাত্মকভাবে প্রকাশিত হয়ে পড়েছিল যখন জানা গেল যে মোদি ৭৫ বছর বয়স পুর্ণ হয়ে যাবার কারণে (মোদির নিজেরই প্রচলন করা নিয়মে) এবার তা মোদির উপরে আরোপিত হচ্ছে আর তিনি সেটা কবুল করতে আরএসএস এর হেডকোয়ার্টার সফরে গিয়ে তিনিই পদত্যাগ ও অবসরে যাচ্ছেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছেন। এই খবর সারা ইন্ডিয়াতে  ছড়িয়ে পড়াতে তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে।
    আর এর পিছনের কথাগুলো,  সংক্ষেপে বললে গত ২০২৪ এপ্রিল-মে এর কেন্দ্রের নির্বাচন আয়োজনকালে আরএসএস-বিজেপি এর দ্বন্দ্ব প্রথম ব্যাপকভাবে গুমড়ে উঠেছিল। কারণ, সবার খেয়াল ও নজরে ছিল যে সেবারের (২০২৪) নির্বাচন শেষে বছর গড়াতেই মোদিকে অবসরে যেতে হবে তাই উত্তরসুরি কে হবেন – সেটাই দুপক্ষের মাথাতেই প্রধান ইস্যুতে ঘুরপাক খাচ্ছিল। এক্ষেত্রে মোদির পছন্দ হল অমিত শাহ (বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক ঠান্ডামাথার খুনী), আর এর বিপরীতে আরএসএসের পছন্দের প্রার্থী হল বর্তমান উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ যোগী (সংক্ষেপে যোগী যিনি চরম মুসলমানবিদ্বেষী ও মুসলমান নিপীড়ক)। ইন্ডিয়ার কেন্দ্রিয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫৪৩ আসনের মধ্যে একা উত্তরপ্রদেশেই ৮০টা আসন; ফলে উত্তরপ্রদেশ খুবই গুরুত্বপুর্ণ। অথচ আগের নির্বাচনের হিসাবে ৭০ এরও বেশি আসন দখলে থাকা বিজেপির ২০২৪ নির্বাচনে সেটা নেমে এসেছিল ৩৩ আসনে। যার পিছনের মূল কারণ উত্তরসুরি কে? অমিত শাহ না যোগী? – এই প্রশ্নে আরএসএস-বিজেপি এর দ্বন্দ্ব চরমে উঠেছিল। এতে এক পর্যায়ে প্রতিটা নির্বাচনে কার অবদান বেশী – আরএসএস না বিজেপির – তা এমন তর্কে গিয়ে ঠেকেছিল আর সেখান থেকেই আরএসএস এর কোন ধরনের সমর্থন ও প্রভাব ছাড়াই সেবার (২০২৪) এর লোকসভা নির্বাচন বিজেপি একাই লড়ে দেখিয়ে দিবে তারা (মানে আরএসএস ছাড়াই বিজেপি) একাই যথেষ্ট – এই কথাটাই ফাইনাল অবস্থান হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। আর পরের (২০২৪) নির্বাচনে আরএসএস একেবারেই নিজেদের প্রত্যাহার করে রেখেছিল, কোথাও অংশ নেয় নাই। [আর এরই বাংলাদেশে প্রতিক্রিয়া ছিল গোবিন্দ প্রামাণিক (যিনি আরএসএসের লোক) আর বিপরীতে রানা দাসগুপ্ত (যিনি মোদি / বিজেপির লোক) এদুজনের আলাদা আলাদা বক্তব্য। গোবিন্দের দাবি ৫ আগষ্টে হাসিনার পলায়নের পরে বাংলাদেশে কোন হিন্দু নির্যাতন ঘটেই নাই; যতটুকু যা হয়েছে তা এরা হাসিনার সঙ্গী প্রকল্পের অর্থ চোর সেও আওয়ামি পরিচয়ের কারণে। আর রানা দাসগুপ্ত মোদির সাথে সুর মিলিয়ে বক্তব্য দেওয়ার পর সেই থেকে দেশ ছাড়া আর নয়তো গভীর আত্মগোপনে।]  আর ওদিকে ইন্ডিয়াতে ঐ আরএসএস-বিজেপি দ্বন্দ্ব থেকেই  ২০২৪ নির্বাচনে বিজেপি জোট হারতে হারতে বেঁচে গিয়েছিল। বিজেপি দল একা সরকার গঠনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা তো পায়ই নাই এমনকি বিজেপি জোট হিসাবে পায় নাই, প্রায় ৩০ আসনের ঘাটতি ছিল। যেটা আরো দুই নগদ পার্টনার দল যোগাড় / কেনাবেচা করে বিজেপি সেই ঐ ঘাটতি পুরণের পরে  মোদি আবার তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হয়ে এখনও সরকার গড়ে আছেন।

    কিন্তু সেই থেকে আরএসএস-বিজেপি দ্বন্দ্ব বাড়ছে তো বাড়ছেই।

    এখান থেকে আমার বলার মূলকথাগুলো কীঃ
    ১। শেষাদ্রি চারি এর এই লেখা হল প্রমাণ যে আরএসএস-বিজেপি দ্বন্দ্ব এমন মারাত্মক জায়গায় চলে গেছে যে এটাই শেষে সম্ভবত ইন্ডিয়াকে ছিন্নভিন্ন করে না ফেলে থামবে না।
    যার সোজা মানে হল, খুব সম্ভবত না বিজেপি না আরএসএস আগামি ইন্ডিয়ান সরকার গড়ার ক্ষেত্রে কোন রাজনৈতিক শক্তি হয়ে থাকতে ব্যার্থ হচ্ছে। এরই সোজা মানে কোন কোয়ালিশন সরকার হয়েও একটা ঠালমাটাল সরকার গড়াই দিন ইন্ডিয়ায় শেষ হয়ে যাবে। যেটা সেই ১৯৯৯ সালের বিজেপির বাজপেয়ির সরকার থেকে কোয়ালিশন সরকারের কালচার গড়ে এতদিন সরকার চলেছে – সেই যুগের সম্ভবত অবসান ঘটতে যাচ্ছে। এটাকে অন্য ভাষায় বলছি ডিস-ইন্টিগ্রেশন বা ভেঙ্গেচুড়ে ফেলা যা নুন্যতম রাজনৈতিক ঐক্য অসম্ভব এমন এই ইন্ডিয়া হয়ে হাজির হওয়া এটা আসন্ন হয়ে উঠার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
    ২। আরএসএস-বিজেপি দ্বন্দ্ব আজ এমন জায়গায় যে গত দশ-বারো বছর কে কী অপরাধ করেছিল আর একে অপরের সেসব অপরাধ লুকায়ে রেখে দিয়েছিল সেগুলো এখন প্রকাশ করে দিবার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ২০১৫ সালে ঢাকার ইন্ডিয়ান এমবেসিতে এক নারী রেপড ও খুন হয়েছিল এর ইতিহাস বলার এই ভিডিও এখন এভেলএবল হয়েছে।
    ৩। মোদির ইন্ডিয়ার সবচেয়ে বড় কুখ্যাতি হল ইসরায়েল রাষ্ট্রের সাথে তার খাতিরদারি – দুই খুনী দানব পরস্পরের খোলাখুলি সঙ্গী। এনিয়ে আলজাজিরাতে প্রকাশিত রিপোর্ট দেখেন যেখানে প্রকাশিত কোন কোন ইন্ডিয়ান অস্ত্র গাজায় নেতানেহায়ু ব্যবহার করেছেন – শিরোনাম দেখেন বুঝবেন –  “India exports rockets, explosives to Israel amid Gaza war, documents reveal“.  আমার অনুমান আরএসএস-বিজেপি দ্বন্দ্ব এর সুযোগে এসব এখন বাইরে সহজেই ন্যাঙ্গটা হয়ে যাচ্ছে। যেগুলো আরো বেশি করে আমাদের প্রচারে নেয়া উচিত।
    ৪। আরএসএস নেতা শেষাদ্রি ইন্ডিয়ান সরকার যেন বাংলাদেশের উপর ১৯৭১ সালের মত আক্রমণ চালায় – এটা দাবি করেছেন। এনিয়ে আমার ছোট কথা হল আমরাও প্রস্তুত। সময়ে ছোট দেশও ইন্ডিয়ার কী ক্ষতি করে ফেলতে পারে দুনিয়া সেই উদাহরণ তাহলে এবার দেখবে!  এটা ঘটলে তা আমাদের জন্য অনেক সুবিধাই নিয়ে আসবে। তাই আমরা এটা দেখতে চাই!!! নুন্যতম কোন ভারতীয় জেনারেলের সাথে আলাপের পরে যেন আরএসএস নেতারা এমন বকোওয়াজ করে; শেষে এই পরামর্শ রাখব।

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com


    আপডেটঃ  দুপুর  ০২ঃ ৫৯,   ০৯ এপ্রিল ২০২৫
    সবশেষ আপডেটঃ  বিকাল ০৫ঃ ১৪,   ০৯ এপ্রিল ২০২৫

     

  • মোদির র, তারেক ও সাথে আরেক ভাড়াটে মিডিয়া রয়টার্স

    মোদির র, তারেক ও সাথে আরেক ভাড়াটে মিডিয়া রয়টার্স
    গৌতম দাস
    ০১ এপ্রিল ২০২৫ দুপুর ০১ঃ ১৪
    https://wp.me/p1sCvy-6np

     

     

    ডঃ মঈন খান

     

    গতকাল ছিল ঈদের দিন! কিন্তু ষড়যন্ত্রকারী তবে বেকুবেরা বসে ছিল না। মোদির ‘র’ আর তার ফাঁদে আরো বেশি করে আটকে যাওয়া তারেক ও তাঁর বিএনপি এই ততপরতায় সক্রিয়। গতকাল ‘র’ এর দালাল প্রথম আলো একটা খবর ছেপেছে যার শিরোনাম, “নির্বাচন ডিসেম্বরের পরে গেলে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, সতর্ক করল বিএনপি”।
    প্রথম আলো এরকম দালালির আয় দিয়েও পত্রিকাটা চালায় রাখছে জানি আমরা বলে এটা তেমনই একটা কিছু বলে প্রথম চোটে তাই মনে হয়েছিল। কিন্তু এরপর চোখ আটকে যায় সাথের দুটা শব্দে “রয়টার্স নয়াদিল্লি”। শুধু রয়টার্স লিখলেই তো হত সাথে নয়াদিল্লি লিখল কেন? সন্দেহ এখান থেকে ঘনিভুত, আর তা থেকে ভিতরে পড়তে শুরু করি!  এটা বুঝতে যে রয়টার্স তাহলে এবার এক ভাড়াটে রিপোর্ট ছেপেছে! রয়টার্স মূল ইংরাজি নিউজ এর লিঙ্ক এখানে দিয়ে দিলাম। 

    এই গল্পের  সারকথাটা শিরোনাম আকারে আগে বলে নেই।  মোদির ‘র’ আর তার ফাঁদে আটকে যাওয়া তারেকের বিএনপি এক নয়া যৌথ কর্মসুচী নিয়ে মাঠে নেমে গেছে। সেটা হল, বিএনপি সব বড় নেতাগুলাই বেচারা তবু এদের মধ্যে পাতে দেয়া যায় এমন একজন হলেন ডঃ মঈন খান। সেই মঈন খান এখন এই ষড়যন্ত্র কর্মসুচী নিয়ে নিজ দেশ-পরিবার ঈদ ফেলে আমেরিকায় গেছেন। রয়টার্সের এই ভাড়াটে রিপোর্টটা সেই ষড়যন্ত্র পরিকল্পনার কথা আমাদের খোলাখুলি জানিয়েছে। লিখেছে, “বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থানরত মঈন খান বলেন………”। [“……said Khan, speaking from Washington D.C. where he is seeking meetings with U.S. officials to discuss Bangladesh.”]

    “বাংলাদেশের পরিস্থিতি” মানে?
    আসলে মঈনের এই আমেরিকা লবিইং কর্মসুচী থেকে দেখা যাচ্ছে মোদির ‘র’ আর তারেকের বিএনপি – একেবারেই খোলাখুলি এক “যৌথ উদ্যোগে” নেমে পড়েছেন। ব্যাপারটা অনেকটা এই দুপক্ষের যার যা আছে তাই নিয়ে খোলাখুলি নেমে পড়া – হয়ে গেছে। তাতে তারেক বা বিএনপির গায়ে ‘র’-এর স্পষ্ট দাগ লেগে যাবে কিনা এনিয়ে  তারেক বেপরোয়া হতে দেখা যাচ্ছে! যেখানে যার যা হাতিয়ার আছে মানে মোদির ‘র’ এর হাতে আছে “রয়টার্স নয়াদিল্লি” – এটা সাথে নিয়েই মোদির ‘র’ মাঠে নেমে গেছে। এতে ঢাকার প্রথম আলো / স্টার এদের রেট বা ইন্ডিয়ার যেকোন মিডিয়া ভাড়া নেওয়ার রেট এর তুলনায় “রয়টার্স নয়াদিল্লি” এর রেট অনেক মহেঙ্গা – ত্রিশ-চল্লিশ গুণ খরচা বেশি! তবু নিজের ক্ষমতা দেখাতে মোদির ‘র’ এটাই তারেকের জন্য ভাড়া করে দিয়েছেন!

    তো এখন এখানে “বাংলাদেশের পরিস্থিতি” বলতে আমাদেরকে সুনির্দিষ্ট কী বুঝতে হবে?
    এতদিন ‘র’ আর তারেকের যৌথ বয়ান ছিল একঃ
    যে এখনই নির্বাচন” বা তারেকের ভাষায় তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন” দিতে হবে। এই “তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন” এই বুলি টা তারেকের সেই ২০২১ সাল থেকেই যখন বাইডেনের প্রশ্রয়ে মানে, বাইডেন স্যাংশন বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভয় দেখাবেন ফলে আমাদের পক্ষে হাসিনার বিরুদ্ধে রাস্তায় মিছিল ও ব্যাপক জমায়েতের সুযোগ পেয়েছিলাম আমরা। (যদিও ২০২১, ২০২২, ২০২৩ এর মাঝামাঝি এসে বাইডেন পল্টি মেরেছিলেন হাসিনার সাথে একসাথে কাজ করবেন বলে, তবুও সেদিকে এখানে আর যাচ্ছি না)।  তবে সেকালের শুরু থেকেই তারেকের সার বক্তব্য ছিল একটাই ১। হাসিনাকে কে ফেলাবে? কী করে ফেলাবে ক্ষমতাচ্যুত করবে তা আমি জানি না। ২. তবে হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে গেলে (মানে কেউ করে ফেললে) তিনমাসের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে। ৩. আর এই পরিবর্তনের এর মাঝে কোন “সেনাবাহিনী” সংশ্লিষ্ঠতা চলবে না।  এই অবস্থানের সবচেয়ে বড় প্রমাণ হল, ৫ আগষ্ট হাসিনা দেশ ছেড়ে পলায়নের কয়েক ঘন্টা পরের সন্ধ্যায়। তারেকের জাতীয় সরকার গড়তে রাজি না হওয়া আর, তিনমাসের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে দাবি – এর সবচেয়ে ভাল প্রমাণ। এছাড়া সত্যি সত্যি হাসিনা কী করে ক্ষমতাচ্যুত হবে তা তিনি তারেকে একেবারেই সংশ্লষ্ট হতে চান না, এটা মাথাব্যাথা তিনি নিবেন না। সেসব দূরে থাক এমনকি সেনাবাহিনীর কোনই সংশ্লিষ্টতা থাকুক তিনি চান নাই। বারবার নাকচ করেছেন! আজিব ব্যাপারটা হল, যেন সেনাবাহিনীর ভিতরেও একটা আভ্যন্তরীণ পরিবর্তন দরকার নাই বা তাঁর কাম্য নয়; মানে, সেখানে তারেক সিদ্দিকীর পরিচালিত  র-প্রভাবিত অফিসার বনাম এদেরকে পরাজিত করতে চাওয়া বাকি সকল সেনা-অফিসারের লড়াই এবং ফয়সালা ছাড়াই যেনবা হাসিনা ক্ষমতাচ্যুতি সম্ভব ছিল!!!! আর এপ্রসঙ্গে তারেক নিয়মিত বলে চলেছিলেন – হাসিনা ক্ষমতাচ্যুতি (যার সোজা মানে হল, সেনাবাহিনীর ভিতরে ক্ষমতার পালাবদল বা হাসিনা-সিদ্দিকী এন্ড গং বা র-এর দালালদের উচ্ছেদ)  কীভাবে হবে কে করবে এসব তাঁর চিন্তা-বিবেচনার বিষয় না। কিন্তু তিনি কেবল হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি ও তিনমাসের মধ্যে নির্বাচন চান; এই মুখ্য ও নির্ধারক ভাগটা তারেককেই দিতে হবে! এককথায় বললে, তিনি আসলে  হাসিনার জায়গায় নিজেকে প্রতিস্থাপন দেখতে চান!!! কিন্তু কীভাবে তা ঘটবে এর দায় নিবেন না! হেব্বি মজা!!
    আর তাঁর এই অবস্থানটাই মোদির র-এর জন্য খুবই সুইটেবল, ভাল মিলেছে! একারণেই শুধু তোতাপাখির মত ‘দ্রুত নির্বাচন’, ‘এখনই নির্বাচন’ এসবই নয়। সাথে ইন্ডিয়ান কু-ভাষ্যও আছে। যেমন, ইউনুস সরকার হল একটা তত্ববধায়ক সরকার  (মানে ইন্টেরিম বা বাংলায় অন্তর্বর্তিকালীন সরকার নয়)। কেন ইন্ডিয়ার এই ভাষ্য বদল বা শব্দ বদল?
    কারণ, তত্ববধায়ক সরকার মানে তো তিনমাসের সরকার যার কাজ হল একটা নির্বাচন ঘটিয়ে দিয়ে বিদায় নেয়া! কাজেই তিনমাস এর পরেও ইউনুস সরকার বিদায়ে যাচ্ছেন না কেন? এই হল শয়তানি বয়ানটা!

    আসলে র-এর কাজ হল সময়ে বোকা সেজে বসে থাকা! যেমন র-এর দালাল ও চাকর হাসিনা যে  কনষ্টিটিউশন সংশোধন করে বহু আগেই “তত্ববধায়ক সরকার” ধারণাটাই গায়েব করে দিয়েছেন সেটা এখন মোদির ‘র’ সেটা এখন যেন জানেই না – এমন ভাব ধরে বসে গেছে। আর র-এর ভাড়াটে কিছু ব্যক্তিত্ব ও অবসরের পরে ‘র’-এর খেদমত করে দুপয়সা কামানি বিনা সিক্রি এই বয়ান জারি রেখেছে সেদিন থেকে বিবিসি বাংলায় মোদি যেটাকে ভাড়া করে রেখেছে! আর সবচেয়ে বড় কথা, ইউনুস সাবের এই সরকার গঠনের সময় থেকেই নিজেকে  ইন্টেরিম বা বাংলায় অন্তর্বর্তিকালীন সরকার  বলেই চিনিয়েছে ( নিজেদেরকে কখনও কোন তত্ববধায়ক সরকার বলেন নাই)। অন্য কোন কিছু অন্য কোন শব্দ নয়।  আর সবচেয়ে বড় কথা এসব ষড়যন্ত্রকারীরা এসব ঝামেলা পাকাতে চাইবে আমরা জানতাম বলেই (আমি যতটুকু জানি ২০২২ সাল থেকে এটা যে ইন্টেরিম [interim] সরকার বলে গড়তে হবে সে ধারণা পরিস্কার রাখা ছিল। অর্থাৎ কেবল ৫ আগষ্ট ২০২৪ বিকেলে হঠাত করে আমরা ইন্টেরিম [interim] সরকার গড়ি নাই। ) উপরে বলেছি তারেক বা তাঁর বিএনপি তাদের এসব  তো তাদের কনসার্ণ-বিবেচনা ছিল না। সবসময় তারেকের বুঝ ছিল একটাই – তিনমাসের মধ্যে নির্বাচন – দিতে হবে!

    অতি বুদ্ধিমানের গলায় দড়িঃ
    আপনি যখন বলবেন, হাসিনা ক্ষমতাচ্যুতির পরে তিনমাসের মধ্যে নির্বাচন চাই; কিন্তু, হাসিনা কী করে ক্ষমতাচ্যুত হবে সে দায় আপনার নয়, আপনি জানেন না। শুধু তাই নয় হাসিনার পতনে বা অন্তর্বর্তি সময়ে সেনা সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারবে না – তখন আসলে আপনি কী চাচ্ছেন? আসলে কী বললেন? এটা তারেক জিয়া বুঝেন নাই, বুঝতে চান নাই। বুঝার যোগ্যতা নিয়েও আমি সন্দিহান!  এভাবে তারেক আসলে কল্পনা করেছেন যে  যে শক্তি (এক বা একাধিক শক্তির সম্মিলন) হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করবে সেটা তিনি নন শুধু তাই নয় – হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুতকারীরা আবার হবেন ভীষণ বোকা! তাদেরকে বোকা হতেই হবে। না হলে তারা এরপর সেই বিজয়ী ক্ষমতাটা এবার তারেক ও বিএনপির হাতে কেন সঁপে দিবেন???? কেন তারেকের পায়ে সঁপে দিবেন???? কেন? এটাই বোকার, গোয়ারের বুঝ! আমার অভিজ্ঞতা খারাপ! আপনার “পারসোনাল অভিজ্ঞতা” বাসায় রেখে আসেন।  দেশের স্বার্থ, গন ক্ষমতার স্বার্থের কথা বলেন!

    এর সম্ভবত একটা জবাব হতে পারে যে তারেক জিয়াউর রহমানের ছেলে, তারেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে!!! সেজন্য কী? অথবা ধরেন তারেক বড় গুন্ডা অথবা তারেক ঢাকায় কয়েক লাখ লোক জড়ো (যদি এলাও করেন তা করতে) করতে পারেন সেজন্য? কিন্তু সরি! এগুলোই একেবারে অরাজনৈতিক ও বোকা-স্টুপিড চিন্তা!

    আমি বহুবার বলেছি গুন্ডামি আর ক্ষমতা (মানে রাজনৈতিক ক্ষমতা) এক জিনিষ নয়। যে সমন্বিত শক্তি (একাধিক শক্তিগুলা যেমন একটা,  যারা সেনাবাহিনীকে র-মুক্ত করেছে এবং এমন এদেরকে সমস্ত কী-পজিশন থেকে সরিয়ে দিতে পেরেছে, বিচার বা ফোর্স রিটায়ার্ড করিয়ে দিয়েছে যারা আর সাথে আরেক শক্তি বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতার রাস্তাঘাট দখল – জনগণ রাস্তায় নামিয়েছে গণক্ষমতার প্রদর্শন ঘটিয়েছে যারা এই শক্তি আর এরসাথে যারা বুদ্ধি-বিবেচনা খাটিয়ে সময়মত জাতিসংঘকে মানবাধিকার ইস্যুকে নিজের লড়াইয়ের পক্ষে হাজির করতে পেরেছে যারা এরাও আরেক শক্তি) – এই সমন্বিত শক্তি কেন বিজয়ী হবার পরেও তারেক কে নেতা মানবে???? কেন? যে তারেক মনে করে হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি কিভাবে হবে কে করবে তিনি জানেন না! এটা তাঁর দায় না। এতে তারেক মনে করতেই পারেন তার এই অবস্থান খুবই বুদ্ধিমান অবস্থান! কারণ, তিনি গুন্ডামি আর ক্ষমতার ফারাক বুঝেন না। তাই গুন্ডামিকেই ক্ষমতা মনে করেন। আর সাথে তিনি কয়েক লাখ কর্মীর সমাবেশ ঘটাতে পারেন – সেজন্য????
    এর চেয়ে স্টুপিড ভাবনা দুনিয়াতে আর কিছুই হতে পারে না।
    এককথায় যে বা যারা হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারে তারাই এককভাবে ক্ষমতায় আসবেই! এর পাল্টা আমি বড় গুন্ডা (রাজনৈতিক ক্ষমতা কী তা না বুঝা গুন্ডা) অথবা আমার লোক জমায়েতের সামর্থ আছে সক্ষমতা আছে তাই আমি তারেকই ক্ষমতা???? এটা এক স্টুপিড চিন্তা! ক্ষমতা কী এনিয়ে রাজনৈতিক নুন্যতম জ্ঞানশুন্য এক চিন্তা! তারেক কী জানেন যাদের তিনি নিজের কর্মি মনে হয়, ইদানিং তিনি যাদেরকে বেধরক চাদাবাজি করতে উতসাহ দেন অথবা বড় নেতাদেরকে বিভিন্ন হাসিনা-চোরদের সম্পত্তির শেয়ার মালিক বা পুরাই মালিক বানায় দিচ্ছেন তা সত্বেও তারেকের এই নিজস্ব নেতাকর্মিরা তারেককে ছেড়ে চলে যাবে। মুহুর্তের মধ্যেই! কখন???
    যখন বাজারে এই আওয়াজ স্পষ্ট হয়ে যাবে যারা হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারে তারাই ক্ষমতায় আসবেই! তারাই ক্ষমতায় এবং তারাই আগামিতে নির্বাচিত ক্ষমতা হয়েই আসবে, বসবে! সেদিন তারেক হঠাত আবিস্কার করবেন যে তিনি একা!!!!

    তাহলে এখন “বাংলাদেশের পরিস্থিতি” বলতে কী বুঝায়ঃ
    এখন “বাংলাদেশের পরিস্থিতি” বলতে আমেরিকায় বসে মঈন খান  বা তারেক যেটা বুঝাতে চাইছেন তাহল, ইউনুস সাহেব আগামি ডিসেম্বর ২০২৫ নয়ত পরের জুন ২০২৬ সময়কালে যেটা নির্বাচন অনুষ্ঠানের সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ না হলেও যে ধারণা দিয়েছেন সে ধারণাতে ইউনুস সাব যেন ডিসেম্বর ২০২৫ এর মধ্যেই আটকে থাকেন; আরও না সরে যান বা অনির্দিষ্ট না হয়ে যায় – এটা নিয়েই মূলত মঈন খান  বা তারেক এর বড় উদ্বিগ্নতা! বলা যায় এটাই মঈন খান  বা তারেক জিয়ার উদ্বিগ্ন এক “বাংলাদেশের পরিস্থিতি”।

    এথেকে বুঝা যায় তাদের প্রথম অনুসিদ্ধান্ত হল যে,
    মোদির ‘র’ আর তারেকের বিএনপি এরা দুপক্ষই এখন স্বীকার করে নিচ্ছেন যে (তারেকের) তিনমাসের মধ্যে নির্বাচন, বা এখনই নির্বাচন, দ্রুত নির্বাচন ইত্যাদি আর ওদিকে মোদির ‘র’ এর বাংলাদেশের ইন্টেরিম সরকারকে তত্বাবধায়ক সরকার বলে চালিয়ে দেয়া আর তাই তিনমাসের মধ্যেই নির্বাচন (মানে তারেককে ক্ষমতায় বসায় দেয়ার) দাবি আর সেই সাথে ইউনুস সরকারের সাথে মোদির ইন্ডিয়ার কোন সম্পর্ক নয়, পরের নির্বাচিত  (তারেকের) সরকারের সাথেই কেবল তারা সম্পর্ক করবেন যে গোঁ ধরেছিলে এসব সবকিছুই এখন পরাজিত বক্তব্য-বয়ান হয়ে গেছে।
    তাদের দ্বিতীয় অনুসিদ্ধান্ত হল যে,
    তারা দুপক্ষই (মোদির ‘র’ আর তারেকের বিএনপি) শুধু হেরে গেছেন তাই নয় সামনে তাদের আরও বড় পরাজয় অপেক্ষা করছে। আর সেকারণে তারা এখন আরো বেশি করে ঘনিষ্ট হয়েছেন। শুধু তাই না, আরো ঘনিষ্ট হয়ে এবার মোদির র এবার রাজনৈতিক বুদ্ধিশুন্য তারেককে আরেকটা টোপ দিয়েছে। সেটা হল, এবার তারা একসাথে আমেরিকায় গিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনে লবি করবেন যেন ইউনুস সাব আগামি ডিসেম্বরই নির্বাচন দিতে বাধ্য হন (মানে মোদির ‘র’ আর তারেকের বিএনপি এরা দুপক্ষের কপাল খুলে)।
    এখন তাহলে এতে কী দাড়ালো?
    মানে আমরা এবার দেখতে পাচ্ছি ঠিক যেমন হাসিনা কে নানা সময় আমেরিকার কাছে লবি করে দিব বলে মুলা ঝুলিয়ে মোদি-জয়শঙ্কর হাসিনার ফ্যাসিজম দীর্ঘায়িত করে নিজেরা বাংলাদেশকে লুটেছিল ঠিক সেই একই পথে (কেবল হাসিনার জায়গায় তারেককে বসিয়ে) ‘র’-এর সাথে নিজের ভাগ্য বেধে তারেকও এখন হাটছে অজানা উদ্দেশ্যে ও পথে!!! কথা হল, মোদি হাসিনাকে বাচাতে পারে নাই। তারেক কে পারারও কোনই কারণ নাই!

    আমি বারবার বলেছি, এখন আমেরিকায় কে প্রধানমন্ত্রী বা কে রাষ্ট্রপতি কিছু এসে যায় না;  – সারকথাটা হল আমেরিকা-ইন্ডিয়া যে এলায়েন্স গড়ে উঠেছিল ২০০৭ সালে – বাংলাদেশকে ইন্ডিয়ার হাতে তুলে দেওয়ার মাধ্যমে তাহলেও  সেই আমেরিকা-ইন্ডিয়া বুঝাবুঝি বহু আগেই (২০১৬ সালের মধ্যে) নাই হয়ে গেছে। তা সত্বেও ২০১৭ থেকে পরবর্তি আমেরিকান প্রেসিডেন্টেরা ট্রাম্প১ -বাইডেন এই সময়কালে আগের তুলনায় দুর্বল হলেও আমেরিকা-ইন্ডিয়া একটা স্ট্রাটেজিক সম্পর্ক ছিল। যেটা ২০২৪ সালে বাইডেনের হাসিনার সাথে কাজ করার প্রকাশ্য ঘোষিত পলিসি নেয়ার পরের বাইডেন মানেই তিনি তখন থেকেই হাসিনার মতই পরাজিত বাইডেন। এই পরাজিত বাইডেনের দায় আমেরিকান কোন সরকার, পলিসিদাতা, থিঙ্কট্যাঙ্ক ইত্যাদি কেউ আর নিতে চাচ্ছেন না। নেওয়ার কোন কারণ নাই। বরং ইউনুসের মাধ্যমে আমরা তাদেরকে পালানো  আর মুখের কালিমা লুকানোর যে সুযোগ দিয়েছে এবং আমাদের ইউনুস সরকারকে সমর্থনের যে সুযোগ দিয়েছি এতেই তারা কৃতার্থ!
    ওদিকে মোদি ট্রাম্পের সাথে দেখা সাক্ষাত, অস্ত্র কেনার লোভ কিছু দিয়েও বিনিময়ে কোন সম্পর্ক, ট্রাম্পের সাথে নুন্যতম ঘনিষ্ঠতা – কিছুই অর্জন করতে পারেন নাই। এতে সব অর্থ পানিতে গেছে। হাত-পা বেধে ইন্ডিয়ানদের সামরিক প্লেনে তুলে দেয়া, বারবার ইন্ডিয়ান এক্সপোর্টের সবকিছুতে ট্রাক্স আরোপ ইত্যাদি সব কিছুতেই মোদি-জয়শঙ্কর এখন পরাজিত শক্তি। ২০০৭ সাল থেকে আমেরিকান ছাতার নিচে থেকে ইন্ডিয়া বাংলাদেশের উপর রুস্তমির যে সুযোগ এমন সব কিছুই এখন শেষ, আর কোনদিনই যা ফিরে আসবে না। এসব দিনের আলোর মতই পরিস্কার।
    সর্বশেষ তুলসী গাবার্ড কে সাজিয়ে এনে মোদি যা ভাব তৈরি করতে চেয়েছিল সেটাও একেবারে মুখোমুখিতে ট্রাম্পের স্টেট ডিপার্টমেন্টের বিবৃতিতে সব মুছে গেছে; আমরা সবাই দেখেছি। ভাড়াখাটা তুলসী এখন বেকার। মোদির সব অর্থ এরা খেয়ে নিয়েছে, মোদিও বেকার!!

    ঠিক এই অবস্থায় তারেক কেন মোদির র-এর সাথে কোন বুদ্ধিতে নয়া ষড়যন্ত্রে মাততে চাইছে?? যেটা দিবালোকের মত পরিস্কার ট্রাম্পের প্রশাসনকে মোদির প্রভাবিত করার নুন্যতম কোন যোগ্যতা মোদি-জয়শঙ্করের নাই, এটাই তলানিও না এটা শেষ! একমাত্র রাজনৈতিক জ্ঞানশুন্য এক তারেকই এই ছাইয়ের মধ্যেই তবু নিজের ও বিএনপির ভাগ্য খুঁজে ফিরতে পারে। মোদি-জয়শঙ্করেরা তো নিজেরা লবি করতে আমেরিকায় যায় নাই বা নিজেদের কাউকে পাঠায় নাই – তারেকের মঈন খান কে পাঠিয়েছে!!! যাতে এটাও তো ব্যর্থ হবেই। আর ব্যর্থ হলে যাতে তারেক ও তার নিজ কপালকেই দোষারোপ করে চুপচাপ নিজ ব্যর্থতাকে আপন কর্ম বলে মেনে নেয়!
    দুনিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আমার এত পরিস্কার করে বারবার বলার পরেও রাজনীতিক জ্ঞানশুন্যরাই কেবল তবু ঐ মোদি-র-এর গার্বেজের মধ্যেই নিজ ভাগ্য খুঁজে ফিরতে পারে। তারেক নিজ রাজনৈতিক-নেতা জীবনের শেষ স্তর পার করছেন! তিনি এখন কেবল রাজনীতি থেকে একেবারেই উতখাত ফলে প্রভাবশুন্য হবার জন্যই অপেক্ষা করতে পারেন!!

    মোদি যা পারেন তা হল মিথ্যা প্রপাগান্ডাঃ
    তাই তিনি এবার কমপক্ষে দশগুণ বেশি অর্থ দিয়ে রয়টার্স কে ভাড়া করেছেন। এটা দিয়ে তিনি তারেকের মন জয় করতে গেছেন। কিন্তু এতে তারেকের সাথে মোদি ও র-এর ঘনিষ্ঠতার লেভেল কত গভীর তা প্রকাশ হয়ে পড়েছে। আর দ্বিতীয়ত, বিএনপির নেতা-কর্মিরা এখন নিজেই পরিস্কার দেখতে পাবে যে তাদের দলের ভাগ্য এখন কোন গভীর সংকটে। পালানোর কোন পথও নাই!!!

     

    রয়টার্সকে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করতে হবেঃ
    আমি এর আগে সরাসরি ইউনুস সাবকে সতর্ক করে লিখেছিলাম কেন রয়টার্সের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। অথচ আমরা এনিয়ে ইউনুস সাবের কিছুই প্রতিক্রিয়া দেখি নাই। ইউনুস সাহেব কে বুঝতে হবে সব ব্যাপারে ঢিলেঢালা চলে না। গৃহস্থ দেখতেছে চোরে সিঁদ কেটে ঘরে ঢুকেছে। তবুওও তিনি ভাবছেন “দেখি না কী করে”। এরপর চোর বমাল নিয়ে বিদায় নিবার পরে আর কী করবেন???? কাজেই এসব বাদ দেন, একশন চাই! যে মিথ্যা বলে বা ছড়াই তাকে দমন করতেই হবে!

    রয়টার্স এই ভাড়াটে রিপোর্টটা লিখেছে এক বাঙালি হিন্দু কৃষ্ণ এন দাস [Krishna N. Das]; আরেক শয়তান ভাড়াটে রএর দালাল; রুমা পালের যুগ শেষে তাকে সরিয়ে আরেক শয়তান কৃষ্ণ দাস কে তার জায়গায় বসানো হয়েছে। এখন এই কৃষ্ণ তিনি বারবার প্রধান উপদেষ্টা ইউনুস সাবকে প্রধানমন্ত্রী বলে  (লিখেছেন  • Interim PM suggests ) লিখে গেছেন। কেন? নিচা দেখানোর জন্য?? অথচ বাংলাদেশে ইন্টেরিম পিএম বলে তো কেউ নাই!

    দুইঃ
    এরপর  এই কৃষ্ণ দাস নিজ ভাষ্যে এক ভয়ানক প্যারাগ্রাফ লিখেছেনঃ
    “…. An unelected interim government led by Nobel Peace Prize laureate Muhammad Yunus has been running the South Asian country of 173 million since August, after deadly student-led protests forced Prime Minister Sheikh Hasina, a long-time India ally, to flee to New Delhi. ”

    ইউনুস সাহেব নাকি আন-ইলেকটেড!!! দেখেন তিনি নাকি রয়টার্সের রিপোর্টার!!!! কৃষ্ণ দাস মোদির দালালি করছেন? কৃষ্ণ দাস – আপনি কী জানেন স্বাধীন ইন্ডিয়ায় প্রথম কবে কেন্দ্রীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান হয়েছিল? জেনে নিতে পারেন সেটা ছিল ১৯৫১ সাল (25 October 1951)। অথচ নেহেরু তো ক্ষমতায় সেই ১৫ আগষ্ট ১৯৪৭ দিন থেকেই! তাহলে??? তিনি কী তখন ১৯৪৭ সালে নির্বাচিত ছিলেন? তাহলে কী ছিলেন – ইলেকটেড নাকি An unelected?????
    এসব খোঁজ না নিয়ে  বাঁদরামো করতে আসা উচিত না। মোদির  বা ‘র’-এর থেকে অর্থ নিয়েছেন? এই বাদঁরামো করার জন্য?
    আর এই প্যারাগ্রাফ টা আপনি লিখেছেন নিজ ভাষ্যে কারও বরাতে নয়। রয়টার্স এর জার্নালিজমের নীতিতে আপনি কী এমন নিজ ভাষ্য বয়ান লিখতে পারেন???

    আর এখানে রয়টার্স কেও জানিয়ে রাখি, নিজের ফাঁসির দড়ি এভাবে আপনারা নিজের জন্যও তৈরি করলেন!!!

    রয়টার্স কে বলছিঃ কান খুলে শুনে রাখেন। এই যে সব রিপোর্টের শেষ লিখে রাখেনঃ

    Reporting by Krishna N. Das in New Delhi; Editing by Michael Perry
    Our Standards: The Thomson Reuters Trust Principles., opens new tab এভাবে, আপনাদের প্রত্যেকটা রিপোর্টের নিচে লেখা থাকে। এখন বলেন Krishna N. Das এর এই লেখাটা আপনাদের নিজের ঘোষিত স্টান্ডার্ড থমসন রয়টার্স ট্রাস্ট এর প্রিন্সিপাল মেনে কী করা হয়েছে???? নাকি এটাই রয়টার্সের নীতি? এটা জার্নালিজম ?????
    রুমা পালকে নিয়ে আপনাদের কাছে বহুবার লিখেছি। বারবার বলেছি ইন্ডিয়ার ভিতর বসে বাংলাদেশ কাভার করবেন না, এটা বন্ধ করেন! আপনারা কানে শুনেন নাই। এখন আপনাদেরকে বাংলাদেশ থেকেই একেবারে উতখাত করতে হবে। বাংলাদেশের কোন মিডিয়া যেন আপনার ব্যুরো নিউজ কিনতে সাবসক্রাইব না করতে পারে এর ব্যবস্থা করতে হবে আমাদেরকে!!!

    সব শেষে ডঃ মঈন খান সাহেবকে কিছু কথাঃ
    আমার যতটুকু ধারণা ছিল তিনি সম্ভবত সবচেয়ে বয়স্ক ও সিনিয়র নেতার একজন যার খোদ জিয়াউর রহমানের সময়ে জিয়ার সাথে বিএনপিতে কাজ করেছেন অভিজ্ঞতা আছে। কিন্তু তিনি কী বুঝে আমেরিকাতে যেতে রাজি হলেন! আমি বিস্মিত! তারেক সাব বলেছেন আর আপনি রওনা দিয়ে দিলেন? আপনি কী খেয়াল করছেন ইতোমধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আমেরিকার বাংলাদেশ নিয়ে অবস্থান! আপনি কী নজর করেন নাই তুলসী গাবার্ড এর ভরাডুবি! তিনি ইন্ডিয়ায় থাকা অবস্থায় আমেরিকান স্টেট ডিপার্টমেন্ট তার বিরুদ্ধে নিজেদের বাংলাদেশ নীতি প্রকাশ করেছে! এত কী আপনি বুঝেন নাই  আমেরিকায় মোদির দৌড়, প্রভাব ক্ষমতা ইত্যাদি একটা ভুয়া ধারণা! চাপাবাজি!  আর আপনি আর তারেক সেগুলো দেখা-জানা সত্বেও আবার সেই মোদির বগলে সুগন্ধ খুজতে গেছেন??? আমি শুনেছি আপনারই নাকি তারেককে কিছু বুঝিয়ে বলার ব্যক্তিত্ব আছে! তাহলে কোথায় সেগুলা???

    আচ্ছা, আপনি সুস্থ আছেন তো নিশ্চয়! আচ্ছা তাহলে, ইউনুসের সাহেবের বিরুদ্ধে আমেরিকায় লবি করতে যান কোন বুদ্ধিতে? তাও আবার মোদি-জয়শঙ্করের ভরসায়? যাদের নিজেদেরই ভরসা নাই; ট্রাম্পের কাছেই নিজেদের কোন বেইল নাই!!!
    তাহলে আপনি এই বেকুবি ষড়যন্ত্রে শামিল হন কেমনে? আবার দেখেন এটা এমন এক ষড়যন্ত্র যা বেকুবেরা করে। এটা অন্তত আপনাকে নিশ্চয় মানায় নাই! নাকি এটাও বুঝেন না!

    আগামি দিনে বিএনপির ভরাডুবি বা সম্ভবত প্রায়  বিলীন এক মুসলিম লীগ যেন এমন যদি হয় তবে তারেকের পাশে আপনার নামটাও লেখা হয়ে থাকল আজ থেকে!   কোন কিছুর খবর নাই! কীসের নেশায় আপনারা এখনও রাজনীতিক বলে দাবি করে আছেন আমি বুঝতে পারি না!! সরি!! আমি সম্ভবত আমার হতাশাই ব্যক্ত করতে পারি!!!
    আর শেষ কথাটা হল, এই যে আপনি ভুয়া এক হুমকি দিয়েছেন যেন আপনি (সাথে আপনারা) আমেরিকায় গিয়ে কোন এক মহাযজ্ঞ করে ফেলতেছেন বলে ভাব তৈরি করতেছেন বলছেন “নির্বাচন ডিসেম্বরের পরে গেলে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে,  এখন এই কথাগুলো বলে আপনাদের নাড়াচাড়াতেই না আপনাদের প্রিয় নির্বাচনটাই অনির্দিষ্ট হয়ে যায়। এতে হতে পারে এক গণভোটের দাবি সামনে চলে এসেছে। আর সেটাও তো নির্বাচনই! “নির্বাচিত প্রধান উপদেষ্টা” পেয়ে যেতে পারেন হয়ত! তখন কী করবেন? পাবলিক মাইন্ড বুঝতে মনোযোগ প্রচেষ্টা নিয়ে দেখতে পারেন, কান পাতেন!

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

     আপডেটঃ  দুপুর  ০২ঃ ৪০,  ১ এপ্রিল ২০২৫
    সবশেষ আপডেটঃ  দুপুর  ০৪ঃ ১০,  ১ এপ্রিল ২০২৫

     

  • ইউনুস সরকারের কড়া শক্ত হাতের অবস্থান চাই! 

    ইউনুস সরকারের কড়া শক্ত হাতের অবস্থান চাই!
    গৌতম দাস
    ২১ মার্চ ২০২৫ রাত ০৯ঃ ৩৯
    https://wp.me/p1sCvy-6mH

     

    সময়ে রাত একটার পরের কারও কোন স্টাটাস দেয়া তা একটা দেশকে তোলপাড় করে তুলতে পারে। গতকাল বাংলাদেশ এমনই এক রাত কাটিয়েছে। যতটুকু খবর শুনলাম অনেক গুরুত্বপুর্ণ লোক সারারাত ঘুমান নাই!
    গতকাল (দিনশেষের রাত ১২টার পরের) রাত আড়াইটা থেকে হাসনাত আব্দুল্লাহ-র এক পোস্ট থেকে এই তোলপাড়!
    যদিও সেনাপ্রধানের গত ২৫ ফেব্রুয়ারির ফুলস্টপ বক্তৃতার বক্তব্য থেকেই তার নামে দেয়া হাসনাত এর এমন অভিযোগ যে সত্য হতে পারে এমন সন্দেহ সমাজে বিশেষ করে ফেসবুকে আগে থেকেই তা প্রবল ছিল। এককথায় সেনাপ্রধান (মোটাদাগে) পাবলিক আস্থা,  বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছেন বলে মনে হয়েছে – বিশেষত তাঁর ঐ রাওয়া ক্লাবের বক্তৃতার পর থেকে।

    আবার তার ঐ বক্তৃতার পর থেকে তিনি ঐ ইন্ডিয়ান ব্যাগেজ টানা বা বোঝা বওয়া থেকে বের হয়েছেন তা আমার কখনও মনে হয় নাই। বরং মনে হয়েছে তিনি একের পর একটা ট্রাই করে যাচ্ছেন কিছু একটা থেকে মুক্ত হবার বা বের হতে চাছেন কিন্তু কোন কিছুতেই তাঁর লাক ফেবার করছেন না – দিশার আলো হয়ে হাজির হচ্ছে না।
    এই অর্থে তিনি, ইন্ডিয়ান স্বার্থ আর ক্রমশ বড় খেদমতগার হয়ে উঠে বিএনপি, (জামাতও কিছুটা) ইত্যাদি সকলেরই ভাগ্য যেন এক হয়ে গেছে। সবাই তা থেকে বের হবার পথ খুজছে প্রাণপণ!!

    গতরাতে সবচেয়ে তামসার কান্ড ঘটিয়েছে বিএনপি মানে তাদের মিডিয়া সেল! এটা পরিস্কার গত রাতে হাসনাতের স্টাটাসের পরে বিএনপি ইন্ডিয়ার হাতে প্রতাড়িত হয়েছে এমন এক ফিলিং যেন তাদের হয়েছে এমন আচরণ শুরু করেছিল।
    যেমন রাত ০৩ঃ ৩৫, ২১ মার্চ মানে হাসনাতের স্টাটাসের প্রায় এক ঘন্টা পরে মিডিয়া সেল প্রচার করা শুরু করে এক ভিডিও কার্ডঃ

    আওয়ামী লীগ নামে বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারবে না।
    সেই আওয়াজ আমরা উঠাচ্ছি।
    গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আ. লীগের সাংগঠনিকভাবে বিচার দাবি করছি।
    -সালাহউদ্দিন আহমদ, সদস্য, জাতীয় স্থায়ী কমিটি, বিএনপি।
    ০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

     

    অর্থাৎ মির্জা আলমগীরের সেই কুখ্যাত বাক্য – “জনগণ” আওয়ামী লীগের বিচার করবে বা নিষিদ্ধ করবে বা নির্বাচনে অংশ নিতে দিবে কিনা ইত্যাদি সবই  – জনগণ বিচার করবে  – এই লাইনে যেটা ছিল সেখান থেকেও সরে আসা সালাউদ্দিনের এই বক্তব্য। আর যদিও সালাউদ্দিনের এই বক্তব্য গত ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ মানে প্রায় দুমাস আগের। অথচ  সেটাই কেন গতরাত দুপুরে বিএনপির মিডিয়া সেল কেন আবার প্রচার করতে শুরু করেছে এর কোন ব্যাখ্যা দেয় নাই। এমনকি এর  আরও আধা ঘন্টা পরে (০৩ঃ৫৯ am  ২০২৫) ছাত্রদলও ফেসবুক পেজে একই স্টাটাস দিয়েছিল। এসবের সার কথা যেন এরকম ইন্ডিয়া বিএনপি কে ফেলে পুরানা প্রেমিক আওয়ামী লীগের সাথেই চলে গেছে, তাই গোসসা! আর হাসনাত কথিত অভিযোগের আঙুল যেদিকে সেই সেনা প্রধান (বিএনপি বা তাদের দলের সাথে যতই খাতির আছে বলে শুনা যায় তা শেষ) তিনিই লীগকেই (বিএনপিকে ফেবার করা না ) সামনে এনেছেন তাহলে, পুণর্বাসিত করতে আগিয়ে এসেছেনন – হাসনাতের অভিযোগের সারকথা এমন হয়ে গেছে!।
    যদিও পরে দিনের আলো ফোটার পর থেকে বেলা বাড়তে বাড়তে দুপুরের দিকে রিজভি সাহেব দলের অবস্থান আবার পুরান জায়গায় নিয়ে দাড় করিয়েছেন!

    লীগ নিষিদ্ধ হচ্ছে বা নির্বাচন করতে দেয়া হবে কীঃ
    লীগ নিষিদ্ধ হচ্ছে কিনা বা নির্বাচন করতে দেয়া হবে কী এটা নিয়ে গত সাত মাস জুড়েই প্রবল উদ্যোগ ও উদ্বেগে একচেটিয়া ভাবে  থেকেছে ইন্ডিয়া বা মোদি সরকারের।
    আর ক্রমশ এখন সেটা যারাই ইন্ডিয়ান স্বার্থ / দায় যেটাকে আমি প্রায়শই ইন্ডিয়ার বোঝা  মানে, ব্যাগেজ বা লাগেজ বলে থাকি – এটা যারাই কাধে নিয়েছে তাদের সকলেই নিজ নিজ স্বার্থের সাথে ইন্ডিয়ান স্বার্থকে মাখিয়ে একাকার করে দেখছে; যেখান থেকে মনে হচ্ছে তাদের কারই আর বের হবার বা ত্যাগ করার সুযোগ নাই। বা পারবে না!

    ইন্ডিয়া ক্রমাগত বিদেশী (ভাড়া করা) সাংবাদিক পাঠিয়ে ক্রমাগত ইউনুস সাহেবকে প্রশ্ন করে যাচ্ছে যে –  “লীগ নিষিদ্ধ হচ্ছে বা নির্বাচন করতে দেয়া হবে কী না”। আর ঐ চালাকিটা না বুঝে সরল উত্তর দিতে গিয়ে সকলেই পরিস্থতি জটিল করে তুলেছে। মূলত সকলেরই এমন শঠতা-প্রশ্ন এড়ায় যাওয়া উচিত ছিল যেহেতু ঠোস জবাব তাদের হাতে / কাছে প্রস্তুত নাই। যেমন যদি প্রশ্নের জবাবে বলতেন যে, –  আমরা অন্য কিছু নিয়ে প্রায়োরিটি তে এখন ব্যস্ত আছে। ক্রমশ আমরা এসব নিয়ে কোন সিদ্ধান্ত নিলে মিডিয়াকে জানাবো”  –  এভাবে বলে দিতে পারত।
    কিন্তু সকলেই বিপদে পড়েছে কী হলে  – “লীগ নিষিদ্ধ হচ্ছে বা নির্বাচন করতে দেয়া হবে কী”  – এভাবে সেই “শর্তগুলো” তা বলে জবাব দিতে চেষ্টা করতে গিয়ে!

    এজন্যই র-এর দক্ষতা এখানে বার বার যারাই জবাব দিতে গিয়েছে তাদেরকেই বিপদে ফেলতে পেরেছে। অন্ততপক্ষে সাময়িক!
    বাস্তবত আসলে লীগ নিষিদ্ধ হচ্ছে বা নির্বাচন করতে দেয়া হবে কী – না এই বিষয় টা  – অনেক যদি কিন্তুর পরের পরিস্থতিতে কী হবে এর উপর নির্ভরশীল। এর চেয়েও বড় কথা যেকথা আমার শত্রুদের কৌশল ঠিক করতে সহায়তা করবে তার জবার আমরা সহজ ভাবে দিব কেন????

    আমি অনেইকবার বলেছে আমাদের সমাজ অনেক ছোট; আবার আরেক অর্থে খুবই ভাইব্রেন্ট। মানে পাবলিক একদিকে আছে তার জীবন সংগ্রাম নিয়ে আর রাজনীতি বা ব্যারাক এটা তাদের কাছে আরেক জগত – আমরা এমন না। সামাজিক পর্যায়ে আমরা আমরা খুবই কাছেরই। ব্যারাক আর সিভিল সমাজ সব খবর শেয়ার করি। সে হিসাবে আমার ধারণা, বাইরের সমাজের কিছু উত্তেজনা গত রাত থেকে যার শুরু সেটা ব্যারাকের কিছু উত্তেজনা তৈরি করার কথা। এখন আজ রাত সাড়ে নয়টায় মনে হচ্ছে আপাত সব জগতেই সব শান্ত হয়েছে।

    সবার কাছে আমার একটা পরামর্শ হবে, সেসব সরিয়ে রেখে সব পক্ষই ইউনুস সাবের হাতে সব ছেড়ে দেয়া উচিত। উনার বিবেচনায় যেটা স্থায়ীভাবে সব উত্তেজনা স্তিমিত করে এমন সিদ্ধান্ত তিনি দিবেন – এদিকে পরিস্থতিকে থিতু হতে আগিয়ে দেয়াই সঠিক হবে।  নিশ্চয় আমরা ইন্ডিয়া বা বিদেশি কারও হাতের পুতুল হয়ে আমাদেরকে তারা নাচানোর সুযোগ নেক তা হতে দিতে পারি না।
    গত ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে এটা চলছে কাজেই আর নয়! এবার থামাতে হবে সব পক্ষকে!

    ইউনুস সরকারের কড়া শক্ত হাতের অবস্থান চাই!

    সামনে আমাদের অনেক কাজ পড়ে আছে সেসব দিকে মনোযোগ দিতে হবে!

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

     আপডেটঃ  রাত ১০ঃ ০৫, ২১ মার্চ ২০২৫

     

  • মোদি-হাসিনা দুজনেই কী আসামি হবেন, না ট্রাম্পের বক্তব্য বুঝে হাসিনাকে ত্যাগ করবেন

    মোদি-হাসিনা দুজনেই কী আসামি হবেন, না ট্রাম্পের বক্তব্য বুঝে হাসিনাকে ত্যাগ করবেন

    “মোদি-হাসিনা দুজনেই কী আসামি হবেন,
    না ট্রাম্পের বক্তব্য বুঝে হাসিনাকে ত্যাগ করবেন”
    গৌতম দাস
    ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫   দুপুর ০২ঃ ১৭
    https://wp.me/p1sCvy-6jH

     

     

     

    মোদি-হাসিনাদের দোকান কী এখন বন্ধ হবে? যে দোকান তারা খুলেছিলেন ৫ আগষ্ট ২০২৪ এরপরে?
    গতকাল ১৩ ফেব্রুয়ারি ছিল মোদি-হাসিনাদের বহু আশা -ভরসা দেখা প্রতিক্ষিত ট্রাম্প-মোদি মিটিং।  মোদি-হাসিনাদের মিথ্যা প্রপাগান্ডার জোর এত তীব্র ছিল যে সব ফ্যাক্টস বা সত্য আমরা তুলে দেখালেও আমার বাংলাদেশিদের শঙ্কা যাচ্ছিলই না। কারণ তারা ঘর-পোড়া গরু – সেই ২০০৭ সালের ১/১১ থেকে যখন আমেরিকা বাংলাদেশকে ইন্ডিয়ার হাতে তুলে দেয়া ঘটেছিল তখন থেকেই লাগাতর -এভাবে নয়ত সেভাবে – নির্যাতিত হয়ে আসছে! হিন্দুত্ববাদের দাপট বাংলাদেশে জঙ্গীবাদ হচ্ছে বলে প্রপাগান্ডার আড়ালে তারা এক গুম-খুন-অপহরণ এর রাষ্ট্র কায়েম করেছিল আর সাথে ছিল রাষ্ট্রীয় সম্পদের সীমাহীন লুটপাট!
    ফলে বাংলাদেশের আম-মানুষের শঙ্কা কাটছিলই না বিশেষত মোদি-হাসিনাদের এই শেষ চেষ্টা যে এবার মোদি-ট্রাম্পের মিটিংয়ের পরে  মোদি-হাসিনার হিন্দুত্ববাদী খুনি এলায়েন্স যদি আবার ফিরে আসে???
    আমি মনে করি সেই দিন শেষ হয়েছে।

    সেই বহু প্রতিক্ষিত অপেক্ষা শেষ হয়েছে।  ট্রাম্প পাবলিকলি বাংলাদেশের উপর ইন্ডিয়ার সব অপরাধের দায় মোদির উপরেই চাপিয়ে দিয়েছেন।  নিচে দেখেন র-এর মিডিয়া ডেইলি স্টারের বাংলা রিপোর্ট থেকে  [স্ন্যাপ শর্ট] ছবি তোলা বক্তব্য!

     

    ট্রাম্পের মুখে মারা জবাবঃ
    ইন্ডিয়ান সাংবাদিক নিজেই প্রথম মার্কিন ডিপস্টেট এর প্রসঙ্গ বা শব্দগুলা ব্যবহার করেছিলেন। আর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সপাটে মুখে মেরে এর জবাব দিয়েছেন। বলেছেন, “এ ক্ষেত্রে আমাদের ডিপ স্টেটের কোনো ভূমিকা ছিল না”। সাথে আরো বলেছেন, “এটা এমন একটি বিষয় যেটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী (মোদি) দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন এবং সত্য বলতে, শত শত বছর ধরে এ বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। কিন্তু আমি এটা প্রধানমন্ত্রীর (মোদির জবাব দিবার কিছু থাকলে) হাতে ছেড়ে দিচ্ছি”। এটা অনেক শয়তান অনুবাদক –  ট্রাম্পের এই কথা টা বাংলাদেশকে ইন্ডিয়ার হাতে ছেড়ে দেওয়া বলে মিথ্যা প্রচার করেছেন!

    আসলে ইন্ডিয়ান সাংবাদিকদের হোমওয়ার্ক সবসময় কম থাকতেই দেখা যায়।  প্রশ্নকর্তার বুঝা উচিত ছিল দুই চোর একসাথে চুরি করতে যাওয়ার পর এক চোরের আরেক চোরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা আর চলে না – সুযোগ থাকে না। কারণ, সেক্ষেত্রে দুই চোরই ধরা খাবে। যদি ২০০৭ সালের ১/১১ থেকে কথা তুলি যখন আমেরিকা বাংলাদেশকে ইন্ডিয়ার হাতে তুলে দেয়া ঘটেছিল – এই ঘটনা তুলে সেসময়ের আমেরিকান ভুমিকা বা  মার্কিন ডিপ-স্টেট কে অভিযুক্ত করে কথা অন্তত ইন্ডিয়ার কেউ তুললে সেটা তো নিজেদের পায়ে কুড়াল মারাই হবে। যদিও এটা স্পষ্ট যে সাংবাদিক সরাসরি বাইডেনের নাম নিয়ে সেই রেফারেন্সে  প্রশ্ন করছেন! কিন্তু সেখানেও একই বিপদ-ই থেকে গেছে।
    এটা ঠিক যে বাইডেনের প্রথম তিন বছর (২০২১-২৩) মানে ২০২৩ সালের আগষ্ট-সেপ্টেম্বরের আগে পর্যন্ত  তিনি হাসিনার উপরে মানবাধিকার-স্যাংশনের নীতিতে আগিয়ে গেছিলেন যেটা বাংলাদেশের বিরোধীদল সুবিধা পেয়েছিল আর মোদির ইন্ডিয়া এতে বাইডেনের আমেরিকার সঙ্গী হতে পারে নাই বা সুযোগ ছিল না বলে গোসসা ঘরে খিল দিয়েছিল, এসময়টাতে।  কিন্তু  ২০২৩ সালের আগষ্ট-সেপ্টেম্বর থেকে বাইডেন পল্টি মেরেছিলেন ইন্ডিয়ান প্ররোচনায়; ফলাফলে ল্যু-বাইডেন হাসিনার হাত ধরেছিল আমাদেরকে রাস্তায় ফেলে পালিয়ে!  এই পল্টি মারাতে হাসিনা কথিত তাঁর ৭ জানুয়ারি নির্বাচন করে নিলে বাইডেন চিঠি লিখে জানিয়েছিল এরপর বাইডেন-হাসিনা একসাথে কাজ করবে!!!
    আর এটাই বাইডেন ও তার সিআইএ (যেটাকে এখন ভারতীয় সাংবাদিক মার্কিন ডিপস্টেট বলে ডাকছেন) তাদের একেবারে গাধা বনে যাওয়ার ঘটনা! কারণ, বাইডেনের ৫ ফেব্রুয়ারির চিঠিতে – একসাথে কাজ করার খায়েশ – জানানো মানে, পরবর্তিতে চারমাসের মধ্যেই যে খোদ হাসিনাই গণঅভ্যুত্থানে উচ্ছেদ হয়ে যাচ্ছেন এইটা তারা কোন আগাম আমল – তা করতেই পারেন নাই! যার আরেক অর্থ হল, বাংলাদেশে সিআইএ ততপরতা (বা কথিত মার্কিন ডিপস্টেট ধারণা যেটা) এখন গুটিয়ে ফেলা উচিত। কারণ, তারা প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে কোন আগাম ধারণাই এরা দিতে পারেন নাই বলেই তো বাইডেন বোকার সাহসে হাসিনার হাত ধরার কথা বলেছিলেন!! অর্থাৎ এখান থেকেই – বাংলাদেশে ৫ আগষ্টে যা দাড়িয়েছিল – তা শুধু হাসিনার উচ্ছেদ না এটা তো একই সাথে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে তাঁর নীতিসহ উতখাত; যে বাইডেন নিজেই হাসিনার দোসর সেজে একসাথে কাজ করতে চাওয়া এক গাধা বনে যান মাত্র!!! বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা এই গাধা আর তার সিআইএ টাইপের আর যেসব আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থা আছে সবাইকেই ছুটিতে পাঠায় দিয়েছিল।
    অথচ এরপরও  মোদি-হাসিনা মিলে উলটা গল্প বানিয়েছে যে –  বাইডেনের আমেরিকান ডিপ-স্টেট নাকি হাসিনাকে উতখাত করেছে!!!  যে বাইডেন দাবি করে হাসিনাকে জানিয়েছিল তারা ফেব্রুয়ারি থেকে একসাথে কাজ করবে সেই আমেরিকান বাইডেন তাঁর কথিত ডিপ-স্টেটের ভুমিকা – বলে মোদি আর তার র-এর গল্প – তা বানালেই যে তা গল্প হবে না তা বুঝিয়ে বলার কী আর দরকার আছে??

    তাহলে ট্রাম্প এখন প্রবলভাবে এই কথিত ডিপ-স্টেটের ভুমিকা সরাসরি নাকচ করল কেন?
    মোদি-হাসিনা যে এমন ডিপ-স্টেটের গল্প বানাইতেছে সেটা গত কয়েকমাস থেকে কমবেশি সবাই জানে। কিন্তু এর বাইরে মূল নিয়ামক ছিল ইউনুস সাহেবের সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালে প্রথম আমেরিকা গিয়ে বাইডেনের সাথে সাক্ষাত। সেখানে ইউনুস সাব বুঝায়ে দেন তাঁর বক্তব্যে যে তাঁর সরকার আমেরিকান পুরানা অপরাধে কথা তুলে সেখানেই আটকে থাকতে চায় না। ইউনুসের সরকার পজিটিভলি সামনে তাকাতে চায়। আর ইউনুসের এই কথা আসলে বাইডেন ও তার সাঙ্গপাঙ্গ ল্যু-সহ সকল স্টাফ শুধু না এমনকি আমেরিকান থিঙ্কট্যাঙ্ক, নীতিনির্ধারক গবেষক বা কর্তা সকলেই হাফ ছেড়েছিল যে আমরা তাদেরকে অভিযুক্ত করাতেই আটকে থাকতে চাই নাই! আসলে আমরাই বুদ্ধিমান হয়ে ” পজিটিভলি সামনে তাকানোর আমাদের নীতির” কথা জানিয়েছিলাম। কারণ, এটা না করলে আজ এদের সকলকে আমরা মোদির কোলে উঠে যেতে দেখতাম!  অর্থাৎ ইউনুসের কথায় আমেরিকান কথিত ডিপস্টেটের সকলেই জেনে যায় যে ইউনুস সাব তাদের মাফ করে সামনে আগাতে চাইতেছে। তাহলে রিয়েলিটি কী ছিল?
    বাইডেনের সাথে আমেরিকান সারা ডিপস্টেট-ই তো বাংলাদেশের হাসিনা সাথে সাথে পরাজিত ও উতখাত হয়ে যায়! ফলে কথিত ডিপ-স্টেটের এই নয়া জীবন লাভ এটাই সাধারণ ব্রিফিং হয়ে যায় আর সেই ব্রিফিং-ই ট্রাম্প এবার প্রেসিডেন্ট হবার পরে পেয়েছেন। তাই তিনি সহজেই ফুতকারে মোদি-হাসিনার বয়ান উড়ায় দিছেন। শুধু তাই না মনে করিয়ে দিয়েছেন ইন্ডিয়া গত শত বছর ধরে বাংলাদেশের উপর হেজিমনি-আধিপত্য কায়েমের চেষ্টা করে গেছে। মানে আমেরিকা সব দায় এখন ইন্ডিয়ার উপর চাপিয়ে দিয়েছে। যা নিয়ে আমাদের ব্যস্ত না হলেও চলবে!!!
    যদিও ডেইলিস্টার পুরানা র-এর এসাইন্ড দালালিতে মোদির হাতে ট্রাম্পের মাইক্রোফোন ছেড়ে দেওয়া বা বলার সুযোগ ছেড়ে দেওয়াকে খোদ বাংলাদেশকেই মোদির হাতে ছেড়ে দেওয়ার ইঙ্গিত  বলে  ভুল অনুবাদ করেছে!

    তাহলে দাঁড়ালো কী?
    এককথায়, মোদি-হাসিনার সব প্রপাগান্ডা মেশিন যে ৫ আগষ্ট থেকে সাজিয়েছিল এর সব ফেলড, পরাজিত!  ধর্ম না ন্যায়ের কল বাতাসেই নড় উঠেছে! ঘন্টা বেজে উঠে জানাচ্ছে সবাইকে!
    এতে মোদি-হাসিনার এতদিনের নিয়মিত মিথ্যা আশ্বাস যে এই তো আমেরিকা ইন্ডিয়ার পিছনে দাঁড়াবে আর ইন্ডিয়া-আমেরিকার যৌথ উদ্যোগে আবার হাসিনা ক্ষমতায় ফিরে আসবে!
    এই সাধারণ প্রপাগান্ডা লাইনের অধীনে আবার সাব-প্রপাগান্ডা বা উপ-প্রপাগান্ডা আরেক লাইন এসেছিল নভেম্বর ২০২৪ সালে যে মোদির ট্রাম্প ভাইয়া জিতে গেছে আর মোদি-হাসিনা, তাদের আর  চিন্তা নাই। ট্রাম্পের শপথের পরে এই তো মোদির ট্রাম্পের সাথে এবার দেখা হল বলে!!! হাসিনার সব দুঃখের অবসান হয়ে যাবে বলে মোদি-হাসিনা মিথ্যা আশা ছড়িয়েও প্রপাগান্ডা চালিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এখন সবই পরাজিত হল।
    এরপর জয়শঙ্কর যখন বুঝলেন ট্রাম্প এভাবে গলবার কোন সম্ভাবনা নাই!! মানে হল, এই পেশাদার কূটনীতিকও ট্রাম্পের নির্বাচনি ক্যাম্পেইনের সময় থেকে ঘোষিত নীতি পড়ে বুঝতে অক্ষম ছিলেন যে হবু ট্রাম্প প্রশাসনের মৌলিক নীতি হবেঃ
    ১। আমেরিকা ফার্স্ট
    ২। যেকোন দেশের উপর  ট্রাম্প  আমেরিকায় রপ্তানির উপরে ট্যাক্স বসাবেন

    এসব তো না বুঝার কিছু নাই!!! মানে মোদি-জয়শঙ্কর তবু না বুঝার ভান করে গেছিলেন! আর ভেবেছিলেন এবারের মোদির সফরে আমেরিকান অস্ত্র কিনতে আগ্রহ দেখালে বোধহয় ট্রাম্প মোদি-হাসিনার শয়তানিকে সমর্থন দিবেন। সেসব বোকার স্বর্গে বাস এখন ন্যাংটা হয়ে গেল!

    তাহলে, এখন আর কী হবে? 
    তাহলে, এখন আর কী হবে? ইম্পিকেশন[implication] বা পরিণতি-প্রভাব কী দেখব? জাতিসংঘের রিপোর্ট !!!

    ইতোমধ্যেই একটা মুখে মারা ঘটনাও ঘটে গেছে। মোদি-ট্রাম্প বৈঠকের আগেই জাতিসংঘের রিপোর্ট – গণহত্যার প্রাথমিক অনুসন্ধান রিপোর্ট প্রকাশিত হয়ে গেছে। যার সোজা মানে হল মোদি-হাসিনা এ’দুই দানব-দানবীই এখন দুনিয়ার চোখে আসামির নজরে! ফলাফল এই যে সারা আমেরিকাকে তো পাগলে তাড়া করে নাই যে এই অবস্থায় ট্রাম্প -এই মোদির সাথে – কোন সম্পর্ক জড়াবেন কোন সংসর্গে থাকবেন??? বরং যতটা সম্ভব মোদির ইন্ডিয়ার সাথে আমেরিকান সংশ্লিষ্ঠতা নাই তা দেখানোর ট্রাম্পের জন্য ভাল উপায় হল মোদিকে দূরে রাখা! ট্রাম্প এই নীতিই অনুসরণ শুরু করে দিয়েছেন!  আর এক্ষেত্রে আমরা – আমাদের ইউনুস সরকার কী সেটাই নিশ্চিত করেছেন, যাতে জাতিসংঘ রিপোর্টটা মোদি-ট্রাম্প সাক্ষাতের ঠিক আগের দিন প্রকাশিত হয়? হ্যা করলে করছেন! অসুবিধা কী? আমরা কোন অন্যায় অযাচিত তো কিছু করি নাই! চোরেরা ধরা পড়লে আমাদের আর কী করার আছে????

    তাহলে এখন কী হতে পারে?
    একটা দল এখন গণ-কেস [gone case]! হাসিনা ও তার লীগ আর উঠে দাঁড়াতে পারছে না! ফলে এটাই মানে, জাতিসংঘের রিপোর্ট টা প্রকাশের পরে এটাই আমাদের জন্য সবচেয়ে ভাল সময় যে, এই লীগ দল ও এর নেতাদেরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার। এমন কী জনগণ দেখতে চায় যে অন্য কোন কোন দল এর (লীগ নিষিদ্ধের) বিরোধিতা করতে চাইছে। আমরা দেখতে চাই কোন কোন দল এর বিরোধী। বুক ফুলিয়ে তারা সামনে আসুক!

    তাহলে অন্য আর দুইটাঃ
    আমার অনুমান বাংলাদেশের  হবু ক্ষমতায় যাবার আকাঙ্খি বিএনপি ও জামাত সহ অন্য যে কোন দল যারা ইন্ডিয়ার পকেটে কম-বেশি হাত ঢুকিয়ে চলে নিজেদের বুদ্ধিমান মনে করে এসেছে – তাদের জন্য কঠিন সিদ্ধান্ত নিবার শেষ সুযোগ এখনই! সেই ইস্যুটা হল, ট্রাম্প বা আমেরিকার মোদিকে ছুড়ে ফেলে দেওয়াটা – এটা কী তারা দেখতে পেয়েছেন? পেলেন?
    আমরা জানি না, তবে জেনে যাবো অচিরেই!

    এমন দলগুলো যদি নিজে বাঁচতে চায় তবে তাদের হাতে সময় থাকবে খুবই কম – বড় জোর আগামি সাত দিন!
    এমন দলগুলোকে দেখাতে হবে যে তারা কোন দুরতম সুত্রেও ইন্ডিয়ার উপর আর কোন আশা ভরসা রাখছে না। ইন্ডিয়ার সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্কও সে অনুসারে নাকচ ও তারা এখন দূরে চলে গেছে – এমনটা আবার মনে মনে করলে হবে না; পরিস্কারভাবে সাধারণ মানুষ যেন বুঝতে পারে এমন আচরণ – বক্তব্য তাদের সামনে আসতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা নিজ জনভিত্তি (নিজ রাজনীতি ও নিজ কনষ্টিটুয়েন্সিতে মনোযোগী) গড়তে যে তারা এখন থেকে মনোযোগী হয়ে গেছে এটা পাবলিকের সামনে নিদর্শন হাসির করে চলতে হবে তাদের।

    এখন এরপরেও ‘অতি- বুদ্ধিমান’ দল কেউ থাকতেই পারে! ধরে নিচ্ছি! যদি থাকে তবে তাদের গণবিচ্ছিন্নতার শেষের দিন গোনা শুরু করতে পারে তারা!
    আমার অনুমান এখন থেকে ইন্ডিয়ার সাথে যোগসুত্র থাকা বা রাখা যাদেরই আছে সেটা ঐ দলের জন্য পাবলিকের সামনে নেগেটিভ পয়েন্ট হিসাবে হাজির হবে।

    সারকথায় আগামি অন্তত একমাস এগুলাই বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের মূল ইস্যু হতে যাচ্ছে!

    আজ ভোর বা সকাল থেকেই অনেকেই আমাকে প্রশ্ন রেখেছেন – মোদি-হাসিনাদের দোকান কী এখন বন্ধ হবে?

    আমার স্থির ধারণাঃ হ্যা সেই সময় আজ সকাল থেকে শুরু হয়ে গেল! আমেরিকা অন্তত বাংলাদেশ ইস্যুতে আর মোদির ভারতের সাথে কথা বলবে না।
    আর এর প্রতিক্রিয়ায় খুব সম্ভবত মোদি-জয়শঙ্কর যদি  বুঝমান হন, এখনও কিছু বুদ্ধি-সুদ্ধি যদি তাদের বেঁচে গিয়ে থাকে তবে কত দ্রুত ইউনুসের নেত্বত্বের বাংলাদেশের  কাছে আসা যায় তাদের সে ততপরতা ও নীতি-পলিসি  অচিরেই দেখব আমরা!

    কিন্তু মোদি কী তাঁর আমেরিকা সফরের ম্যাসেজ পাঠ করতে পারবেন? হাসিনার হাত ছেড়ে দিয়ে বিদায় জানাবেন? সেসব দিকগুলো এখন থেকে পরের সাতদিনে তার নড়াচড়া দেখলেই বুঝতে পারব? তবে যেটাই করেন না কেন এই সতেরো বছর পরে বাংলাদেশ থেকে হাত গুটানো এক ইন্ডিয়া  দেখতে পাবো বলে আমার বিশ্বাস! সেই কাউন্টিং এর শুরু আজ থেকে!

    বাড়তি একটা ছোট ইস্যুঃ মাইলেল কুগেলম্যান
    Michael Kugelman, ইনি আরেকজন বাইডেনের সঙ্গী; ডোনাল্ড ল্যু এর মতই। যিনি ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্রাটেজি জবরদস্তিতে হলেও তা কাজ করছে সেটা দেখাবেনই যেন!!! এমনই গাধা ও গোঁয়াড়! কুগেলম্য্যানের এসাইনমেন্ট ছিল, আমেরিকান ম্যাগাজিন ফরেন পলিসি-তে সাপ্তাহিক কলাম লিখা। আর এর মাধ্যমে তিনি বাইডেন প্রশাসনকে সচেতন করতেন যে দক্ষিণ-এশিয়া থেকে ফিডব্যাক ইনফরমেশন ঐ কলামে লিখে দিয়ে। তাই গত ২০২১-২৩ সালে আমাদের দেশে বিরোধীদলের জমায়েতে বাস্তবেই লোক বেশি হয়ে গেলে উনি খামোখা তর্ক জুড়তেন – দশলাখের জায়গায় এক লাখ দাবি করে! কারণ, উনি জানতেন বাইডেন-ল্যু এর পলিসি হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুতি নয় বরং হাসিনার উপর চাপ দিয়ে তাকে চীনের হাত ছাড়তে বাধ্য করা যাতে এই কুচক্রিদের আসল স্বার্থ ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্রাটেজি সফল বলে দাবি করতে পারে। তাই, বাইডেন যে আগষ্ট-সেপ্টেম্বর ২০২৩ সালে পল্টি মারতে যাচ্ছেন তা ইনার লেখা থেকেই আঁচ করা যাচ্ছিল!
    যাহোক, সেই কুগেলম্যান এখন মোদি-ট্রাম্প বৈঠক নিয়ে টুইট করেছেনঃ

    In the trump-Modi presser, Trump was asked for his view on Bangladesh, and interestionly he dumurred, saying “I’ll leave Bangladesh to the Prime Minister”

    এই টুইটে আসল শব্দটা হল,  dumurred যার আসল অর্থ হল ‘আপত্তি’ বা ‘অনিচ্ছা দেখানো’। বলছেন, ভারতীয় সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাব দিয়ে ট্রাম্পের অনিচ্ছা দেখে তিনি মজা পাইছেন।
    আসলে কুগেলম্যানেরা মজা পান আর দুঃখই পান বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা আপনাদের সকলকেই হাসিনা-সহ উতখাত ও উপড়ে ফেলে দিয়েছে! সেটা পারলে স্বীকার করেন!!!

    সাথে আমেরিকান ডিপ্লোম্যাট জন ড্যানিলঃ
    সে যাই হোক, আরেক সাবেক আমেরিকান ডিপ্লোম্যাট জন ড্যানিল (এই নামে আমাদের এখানে বেশি পরিচিত) [Jon F Danilowicz]; তিনি একসময় বাংলাদেশে ডেপুটে এমব্যাসাডর ছিলেন। তিনি কিন্তু কুগেলম্যানদের মত ছলনা করে কথা বলার বিরুদ্ধে। তিনি ট্রাম্পের মোদির দিকে মাইক্রোফোন আগায় দেবার অর্থ করে টুটে লিখেছেন, যারা ভয় পেয়েছিলেন যে মোদি ট্রাম্পকে বাংলাদেশের ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর হতে ট্রাম্পকে রাজি করায় ফেলবেন তারা এখন আয়েসে নিঃশ্বাস ছাড়তে পারেন”। মানে জন বলতে চাইছেন, তাঁর মনে হয়েছে মোদি তা করতে পারেন নাই।
    এছাড়া তিনি আরো যোগ করেছেন, জাতিসংঘের রিপোর্ট [UN OHCHR report]  প্রকাশ আর ইউনুস সাহেবের ট্রাম্পের (এখনকার প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্টভাবে কাজ করা )  বন্ধু ইলন মাস্কের সাথে ফোনে কথা বলে ব্যবসায়িক আলাপ করা  – এদুই টা ইন্টারন্যাসনাল ফ্রন্টে বাংলাদেশকে অনেক আগিয়ে রেখেছে বলে জন বিশ্বাস করেন। এনিয়ে TBS পত্রিকার লিঙ্ক দেখতে পারেন এখানে।

     

     

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  দুপুর ০৩ঃ২০   ১৪ ফেব্রুয়ারি  ২০২৫

    সর্বশেষ আপডেটঃ  বিকাল ০৫ঃ ১১   ১৪ ফেব্রুয়ারি  ২০২৫

  • ইউনুস সাব কী রয়টার্স-কে শেষ ওয়ার্নিং-টা দিবেন?

    ইউনুস সাব কী রয়টার্স-কে শেষ ওয়ার্নিং-টা দিবেন?
    গৌতম দাস
    ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫    দুপুর ১৩ঃ ০৪
    https://wp.me/p1sCvy-6iV

     

    রয়টার্স আবার অসহ্য হয়ে উঠেছে। গতকাল আদানির বিদ্যুৎ নিয়ে রিপোর্ট ছেপেছে রয়টার্স – রুমা পালের কায়দায়।

    Exclusive: Bangladesh seeks full power supply restoration from Adani plant

    পাঠক জানেন, আদানির যেকোন প্রকল্প মানেই তা মোদির বকলমের দোস্ত ভারতের এক বিলিয়নিয়ার গৌতম আদানিকে সুযোগ সুবিধা দিয়ে ব্যবসা করানো যাতে সে বিজেপি দল চালানোর খরচের যোগানদাতা হন এই আদানি।  তবু ঘটনা টা এখনেই থেমে থাকে নাই। আদানির বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে হাসিবার বাংলাদেশকে খাতক বানিয়ে লুটে নিবার প্রকল্প এক্সটেন্ট করা হয়েছে। যাতে বিজেপি-আওয়ামী লীগ দল দুটা আর লীগ নেতাদের লুটপাটের অর্থ এখান থেকে আসে – মানে বাংলাদেশের জনগণের অর্থ লুট করা যায় বিদ্যুৎ কেনাকে কেন্দ্র করে। বিদ্যুৎ মানেই কোন বিদ্যুৎ না দিয়েই ক্যাপাসিটি চার্জের নামে খাড়া লুটপাট। এক্ষেত্রে এর উপর আছে বাজার দরের চেয়ে ৫৫% বেশি রেট […”Adani’s power costs Bangladesh about 55% more than the average of all Indian power sold to Dhaka… Reuters ] ধরা আছে আদানি বিদ্যুতের ক্ষেত্রে. আরো আছে  – দিল্লি মানে মোদি সরকার ট্যাক্স ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশে এই বিদ্যুৎ বিক্রির প্রকল্পে। অথচ সেই সুবিধা আমাদেরকে না দিয়ে আদানি নিয়ে চলেছে […Bangladesh’s interim government accused Adani of breaching the power-purchase agreement by withholding tax benefits that the Jharkhand plant received from New Delhi…… ] ।  তাই বাংলাদেশের হাইকোর্ট চলতি অন্তর্বর্তি সরকারকে আদেশ দিয়েছে এই প্রকল্পকে এক্সপার্টদের নিয়ে মূল্যায়ন করে ঐ চুক্তি সম্পর্কে রিপোর্ট দিয়ে যাতে এই চুক্তি থেকে বের হওয়া যায় আর বাংলাদেশের কারা কিভাবে এই চুক্তি করেছে তা উন্মোচিত করা যায়।

    এই নির্দেশ  নিয়ে সরকারের কাজ চলছে।
    আর এদিকে যতটা সম্ভব আদানি বিদ্যুৎ কম কিনে (অন্য সোর্স খুজে নিয়ে) চলতে পারা যায় এটাই গত কয়েক মাসে ইউনুসের বিদ্যুৎ উপদেষ্টা গৃহিত পলিসি। যাতে অন্তত ৫৫% সহ আর যত বাড়তি মূল্য বাংলাদেশের জনগণকে গুনতে হয় তা যত কম করে রাখা যায়। অন্তত চুক্তিটা এমনভাবে লেখা যে সহজেই কোন কৌশল পুর্ব-প্রস্তুতি স্টাডি না করে এচুক্তি বাতিল করলে উলটা ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে। এনিয়ে কাজ চলছে। এতে আদানির বিদ্যুৎ প্রকল্প অর্ধেক কাপাসিটি বন্ধ করে রাখা ছিল এতদিন।  তবু আবার চলতি ইউনুস সরকারের উপর বকেয়া এক বিরাট দায় হয়ে চেপে বসেই আছে। কারণ, তথাকথিত ক্যাপাসিটি চার্জ সহ জমে থাকা কোন  বকেয়াই হাসিনা সরকার শোধ করে নাই।

    ইতোমধ্যেই, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ ঘাটতিতে আছে যেতা শীওকাল বলে ততটা মারাত্মক হয়ে পাবলিক লেবেলে অনুভুত হয় নাই। কিন্তু সামনে গ্রীষ্মের কাল গরমে বিদ্যুৎ চাহিদা আরো প্রকট হবে। ইউনুস সরকারের ইচ্ছা রমজান মাসটায় আম-মানুষকে পণ্যমুল্যে যতটা সম্ভব স্বস্তি দেয়া ও প্রাপ্যতা বাড়ানো।  তাই অর্ধেক হয়ে থাকা আদানি বিদ্যুৎ ক্রয় সাময়িক (সম্ভবত তিনমাসের জন্য যেটা আবার স্পষ্ট করে উল্লেখও করা হয় নাই) বাড়ানোর জন্য  ইউনুস সরকার আদানি প্রকল্পকে জানিয়েছে।

    আর এটা নিয়েই শুরু হয়েছে রয়টার্স প্রপাগান্ডা। সাথে যোগ দিয়েছে প্রথম আলো, এমনকি এনটিভি সহ আরো অনেকে।
    আর প্রপাগান্দাটা হল যেন বলতে চায় এরা যে ১.  “দেখেছো, হাসিনার আদানি চুক্তি করা সঠিক ছিল!!”  ২. ইন্ডিয়া ছাড়া, বা তারা দয়া না করলে বাংলাদেশের গতি নাই। ৩.  সারকথায় হাসিনার ফ্যাসিজম ঠিক আছে, জাষ্টিফায়েড।

    যদিও এসব কথা তারা সরাসরি না লিখে খবর প্রেজেন্টেশনটা করা হয়েছে সেভাবে। যেমন রয়টার্স বুঝাই যায়, আদানি প্রকল্পের কাছে থেকে বাংলাদেশের চিঠিটা দেখে নিয়েছে। এরপর তারা কথা বলতে চেয়ে প্রশ্ন পাঠিয়েছে বাংলাদেশের পিডিবি এর প্রধানের কাছে। তিনি যতটা সম্ভব জবাব দিয়েছেন কিন্তু,  কেন বিদ্যুৎ ক্রয় বাড়াতে চাইছেন অথবা আদানি-বাংলাদেশ বিরোধ কী এতে মিটে গেল – এজাতীয় রয়টার্সের প্রশ্নের কোন জবাব দেন নাই; এড়িয়ে গেছেন।
    এটাই কী স্বাভাবিক নয়? কেন ইউনুস সরকার তার আদানি বিদ্যুৎ ক্রয় পলিসি যে কাউকে দিয়ে বলাতে দিবে অথবা দিবে না?

    আর বিপরীতে এখন এই পরিস্থিতিতে জবাব না দেওয়াতে যে – বেনিফিট অব ডাউট পেতে পারেন পিডিবি প্রধান – সেটা না দিয়ে রয়টার্স ইউনুসের বাংলাদেশ   হার মেনে গেছে বা আদানিকে মেনে নিয়েছে এমন ইঙ্গিত তৈরি করেছে। যেই রয়টার্সের নিরপেক্ষতা হারানো বা এতে এখান থেকেই অবজেক্টটিভ রিপোর্টার বা রিপোর্টং টা উধাও হয়ে গেছে।
    রয়টার্সের বলা উচিত ছিল যেখানে যে আবার বাংলাদেশ – বিদ্যুৎ ক্রয় বাড়াতে চাইছে – কেন? সেটা এখনই জানা যায় নাই। এতটুকু বক্তব্যই যথেষ্ট নিরপেক্ষ হতে পারত। কিন্তু তা অনুপস্থিত!

    আর এই রিপোর্টের অনুবাদ ছেপেছে প্রথম আলো ।  যদিও এই রিপোর্ট নিজেই লিখছে,…… “(বাংলাদেশ হাইকোর্টের আদেশে) ওই কমিটির প্রতিবেদন এ মাসে সামনে আসতে পারে। তখন আদানির সঙ্গে চুক্তিটি নিয়ে আবার আলোচনা শুরু হতে পারে বলে জানায় রয়টার্স”। তাহলে বাংলাদেশের পিডিবি এর প্রধানের কেন আবার বিদ্যুত কেনা বাড়াতে চাইছে এনিয়ে জল্পনা-কল্পনা ছড়ানোর তো কোন সুযোগই নাই!!!! যেখানে এটাই তো প্রমাণ কোর্টের নিদ্দেশের কাজ-ততপরতাও সমানে চলছে। যার সোজা মানে এই বিদ্যুৎ ক্রয় এক সাময়িক ব্যবস্থা। আর যতদিন আদানি সাথে চুক্তি বাতিল না হচ্ছে ততদিন বাংলাদেশের বিদ্যুৎ কেনা কমাতে-বাড়াতে কোন আইনি বাধা তো নাই! তাহলে???

    এসব কথা এখানে তোলার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ইন্ডিয়ান-রয়টার্স যে ইন্ডিয়ান সরকার ও (র-এর) অধীনস্ত ততপরতা করে এরই প্রমাণ! সেজন্যই কী এটা ইন্ডিয়ান-রয়টার্সের এক্সক্লুসিভ [exclusive]? মানে র-এর সাথে ইন্ডিয়ান-রয়টার্সের এক্সক্লুসিভ সম্পর্কের রিপোর্ট???

    কোন সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার অধীনে থেকে কী জার্নালিজম করা সম্ভবঃ
    হা, এটা এক অদ্ভুত জার্নালিজম; ইন্ডিয়ান সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার অধীনে থাকা এক জার্নালিজম এটা। তাও আবার রয়টার্সের মত এক গ্লোবাল নিউজ এজেন্সীর!  জার্নালিজমের কোন সংজ্ঞাতেই কোন সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার অধীনে থেকে সেটা আর জার্নালিজম হতেই পারে না! হা, এটাই রুমা পাল মার্কা জার্নালিজম! (র-এর) ছাপ মারা মার্কা জার্নালিজম!

    কবে থেকে এটা এমনঃ
    রয়টার্স [REUTERS] সারা দুনিয়ায় গ্লোবাল নিউজ এজেন্সীগুলো মধ্যে অন্যতম বিশ্বাসযোগ্য প্রতিষ্ঠানঅগুলোর মধ্যে একটা। কিন্তু সেটা ইন্ডিয়ান-রয়টার্সকে বাদ দিয়ে বলতে ও বুঝতে হবে!  তারা গ্লোবাল পরিসরে একটা স্টান্ডার্ড মেনে চলার চেষ্টা করে। কিন্তু দুঃখের কথা এটা ততধিক পতিত একটা নিউজ এজেন্সি যখন ও যেসব নিউজের এডিটিং ও এডিটিং ইন্ডিয়ান-রয়টার্স থেকে পরিচালিত হয়। আপনারা অনেকেই তাদের  রুমা পাল [RUMA PAUL] নামে এক রিপোর্টারকে একালে চিনেছেন, কথা শুনেছেন।  যে যেন এক র-এর কর্মচারী – এভাবে  কাজ-ততপরতায় লিপ্ত।
    যদিও যারা রুমা পাল-কে তার ততপরতাকে চিনে তারা জানে বাংলাদেশের সেই (২০২০) করোনা টিকা কেনার সময় থেকে। যখন তিনি মিথ্যা রিপোর্ট করেছিলেন।

    “চীন প্রথমে নাকি বিনা পয়সায় টিকা দিতে চেয়েও পরে অর্থ দাবি করাতে হাসিনার (বেক্সিমকোর  দরবেশকে সামনে দেখায়ে ৪০০ মিলিয়ন ডলারে) চীনকে ত্যাগ করে ইন্ডিয়ান টিকা কিনতে চাওয়া ঘটেছিল” –  এটা রুমার দাবি।  যদিও ঘটনাটা উলটা! র-এর পাল্লায় পরে হাসিনা দরবেশকে দিয়ে ঐ ৪০০ মিলিয়ন ডলারের ব্যবসার লোভে (বাইরে দেখানো হয়েছিল ব্যক্তি দরবেশ ইন্ডিয়া থেকে টিকা কিনে বাংলাদেশ সরকারকে তা বিক্রি করবে; অথচ হাসিনাই দেশের ব্যাংক থেকে ঐ ৪০০ মিলিয়ন ডলার যোগাড় করিয়ে দিয়েছিল) তখন বিনা পয়সার চীনা টিকা কিনপ্তে ছুটেছিল। ইন্ডিয়া বা (-র-) ভেবেছিল এতে চীন-হাসিনা সখ্যতায় ছেদ ঘটিয়ে ফেলবে; হাসিনাও ৪০০ মিলিয়ন ডলার এর লোভে ইন্ডিয়ার পরিকল্পনায় পা দিবে। শেষ কপাল খারাপ রুমা, র-এর কর্তাদের আর খোদ হাসিনার যে ইন্ডিয়া টিকা সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়েছিল। আর হাসিনাকে তখন পাগলের মত চীনের কাছেই ফিরে গিয়ে হাত-পা ধরে নতুন চুক্তিতে (চীনকে স্ট্রাটেজিক সুবিধা দিবার বিনিময়ে) টিকা পেতে হয়েছিল।

    সারকথায়, রুমা পাল হল সেই এলিমেন্ট যে আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বরাতে মিথ্যা রিপোর্ট ছাপিয়ে  র-এর পরিকল্পনার অংশ হয়েছিল।

    কিন্তু কেন এমন হচ্ছেঃ
    কেন রয়টার্সের মত গ্লোবাল নিউজ এজেন্সী ইন্ডিয়াতে এসে কেন এমন বদনাম কামাতে হয়?

    অনেকের কাছে ব্যাপারটা মিলে না বা রহস্যজনক মনে হতে পারে! কিন্তু আসলে ব্যাপারটা একেবারেই সোজা! পশ্চিমা হোয়াইট স্টাফের তুলনায় ইন্ডিয়ান স্টাফ কম পয়সায় ম্যানেজমেন্ট স্টাফ বা কর্মচারি কেনা যায়, রিক্রুট করা যায়।  সময় একজন হোয়াইট ককেশীয় স্টাফের তুলনায় ইন্ডিয়ান স্টাফ ১০ঃ১ অনুপাত কমে রিক্রুট করা যায়। তাই রয়টার্স বোর্ড-মালিক ম্যানেজমেন্ট প্রাইমারি রিপোর্টার সব ইন্ডিয়ান; মানে ফিল্ড রিপোর্টার যেই হোক যে দেশেরই ঘটনা হোক না কেন এটা ইন্ডিয়ার হায়দ্রাবাদের-রয়টার্সের অফিসে বসে তা সংকলন করে দেয় ইন্ডিয়ান স্টাফ। পরে সে মেলে এডিটিং এর জন্য কোন পশ্চিমা-রয়টার্সের অফিসে পাঠিয়ে দেয়। আর সেই অফিস থেকেই এডিটিং শেষে সেটা রয়টার্সের সার্ভারে আপলোড হয়।  এটা আপনিও বুঝতে পারবেন যদি আপনি রয়টার্সের যেকোন রিপোর্টের শেষে কোন কোন ব্যক্তি এতে কাজ করেছে জড়িত ছিল এই অংশটা স্টাডি করেন। রয়টার্স যে টা মেনটেইন করে তাহল যে কোন রিপোর্টের শেষে সংশ্লিষ্টদের সবার পরিচয় উন্মুক্ত করে সেখানে (মাস্ট) দিয়ে রাখে তবে তাদের ফরম্যাটে।

    Reporting by Krishna N. Das in New Delhi; Editing by Jacqueline Wong and Sonali Paul

    উপরের এই স্টাইলটা মনে রাখতে পারেন।

    কেন রয়টার্স (র-এর) শিকারে পরিণত হয়ঃ
    উপরে আমরা দেখলাম কেন ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি বা এজেন্সি ইন্ডিউ=ইয়ান স্টাফ নির্ভরশীল হয়ে যেচে। কেন সুন্দর পিচাই [Google CEO Sundar Pichai] গুগলের টপ পোস্টের অধিকারি হয়ে যান!  কিন্তু সেখানেই শেষ না। এর পর শুরু হয়, “র” কিভাবে এখান থেকে সব রস বের করে নেয়!  অর্থাৎ রয়টার্স স্বনামধণ্য গ্লোবাল নিউজ এজেন্সী হলেও ওর স্টাফের এক বিরাট অংশ ইন্ডিয়ান ফলে ইন্ডিয়াতে রয়টার্সের অফিস বেশ বড়।
    এবার ইন্ডিয়ান সরকার একতা শর্ত আরোপ করে রেখেছে এধরণের অফিস খোলার উপরে  যে নিউজ মিডিয়া বা হিউম্যান রাইটের অফিস ইত্যাদি পশ্চিমা সংস্থা যেই হোক তাকে ইন্ডিয়ায় বসে কোন পাবলিক রিপোর্ট করতে চাইলে তা ইন্ডিয়ান সরকারের ফরেন পলিসিবিরোধী বা এর সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারবে না। আর সাংঘর্ষিক হবে কিনা তা (এসব বিদেশি প্রতিষ্ঠান) তাদেরকে নিজ উদ্যোগে আগাম ইন্ডিয়ান ফরেন অফিস [MEA, Ministry of external Affairs] থেকে জেনে নিতে হবে। আর এই জেনে নিতে গিয়েই তারা ধরা খায়। তারা ইন্ডিয়ান সরকারের (র-এর) ভাষা, শব্দ ও স্বার্থের ক্যারিয়ার বা বহনকারি হয়েই এই শর্তে রিপোর্ট করতে বাধ্য হয়।
    আর এসব বিদেশি প্রতিষ্ঠান ব্যাপারটাকে পজিটিভ বা অনুগত ভাবে দেখতে-করতে মানে, আইন-মানা এক ইন্ডিয়ান-রয়টার্স হিসাবে হাজির হতে চেয়ে এবার ইন্ডিয়ান-রয়টার্স তাদের রুমা পাল নামের স্টাফের জন্ম দেয়।  অথবা আমেরিকান বিরাট ক্ষমতাধর হিউম্যান রাইট ওয়াচ(HRW)  ইন্ডিয়ায় এসে তাদের স্টাফ মীনাক্ষী গাঙ্গুলি র মত (র-এর) দালাল বা বিড়াল এক স্টফের জন্ম দেয়!

    ইন্ডিয়ান সরকারের ফরেন পলিসিবিরোধী বা এর সাথে সাংঘর্ষিক রিপোর্টিং যদি নাই করা যায় তবে কোন জার্নালিজম বা কোন স্বাধীন ইউম্যান রাইট রিপোর্ট কী সম্ভব???? 

    আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাঃ
    ঘটনাচক্রে আমি সরাসরি বহু আগে থেকেই রুমা পালকে নিয়ে রয়টার্সের সাথে কথা বলেছিলাম। পরিস্কার করে জানিয়েছিলাম, আমি অন্য কোন কথা শুনতে চাই না। রয়টার্স বাংলাদেশ কাভার করতে চাইলে তা ইন্ডিয়ান-রয়টার্সের মাধ্যমে বা অধীনস্ততা থেকে বের করে আনুক! এতে হা দেখছি জাতীয় নন-কমিটাল জবাব ছাড়া কোন ফলাফল হয় নাই। এই প্রথম সাবেক এএফপি [AFP] এর শফিকুল আলম বুঝতেছে তারই ভায়রাভাই” রয়টার্স-ইন্ডিয়া আর তার রুমা পাল কী জিনিষ!  এটা এখন একমাত্র কিছু সম্ভব ইউনুস সাহেব যদি হস্তক্ষেপ করেন।  রয়টার্স-কে ডেকে যদি আমাদের আপত্তি ও স্বার্থ মানতে বাধ্য হতে বলেন। নইলে বাংলাদেশের কোন স্থানীয় মিডিয়া রয়টার্সের কোন নিউজ কিনতে / ছাপতে পারবে না বলে নোটিশ জারি করবেন বলে জানিয়ে দিতে পারেন!

    এখন সবকিছু ইউনুস সরকারের একশনের উপর নির্ভর করছে। রয়টার্স কে অবশ্যই ইন্ডিয়ার বাইরে থেকে বাংলাদেশ নিয়ে রিপোর্টিংয়ে বাধ্য করতে হবে! 

     

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   ফেব্রুয়ারি  ২০২৫

    সর্বশেষ আপডেটঃ  ফেব্রুয়ারি  ২০২৫

  • কারা NDI-IRI, আর জিল্লুরের CGS এর সাথে এর সম্পর্ক কী?

    কারা NDI-IRI, আর জিল্লুরের CGS এর সাথে এর সম্পর্ক কী?
    গৌতম দাস
    ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
    https://wp.me/p1sCvy-6iE

     

     

     

    NDI-IRIএরা নাকি এক গবেষণা-জরিপ করে পেয়েছিল যে হাসিনা আবার ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি নির্বাচনে আবার বিজয়ী হবে। 
    —” A national survey by International Republican Institute found that Sheikh Hasina remains Bangladesh’s most popular leader
    18-08-2023″ লিঙ্ক এখানে, 
    এই কথিত সার্ভের রিপোর্ট তারা বের করেছিল ১৮ আগষ্ট ২০২৩ সালে। এভাবে হাসিনার প্রতিটা চোরা নির্বাচনের আগে এরা কথিত জরিপ রিপোর্টে বের করে গেছিল। 

    চোর ধরা পড়েছে। এখন মিলিয়ে নেন। এই বাটপার এর কাজ দেখেন নিচের লিঙ্কে।
    আর এই বাটপারি যা আসলে আমেরিকান এনজিও আর ইন্ডিয়ান র-এর মিলিত এক উদ্যোগ।
    চোরের নাম IRI [International Republican Institute ]। অনেক সময় একে পাবেন NDI [National Democratic Institute] এমন নামে।
    অনেক খুজে বের করতে হল।
    https://www.ndi.org/who-we-are

    মূল সহায়তাকারি NED – এই নামের আরেক আমেরিকান এনজিওঃ
    আমেরিকান ফান্ড আনার ব্যাপারে মূল সহায়তাকারি হল, THE NATIONAL ENDOWMENT FOR DEMOCRACY [NED]; এটা আমেরিকায় নিজে থিঙ্কট্যাঙ্ক হলেও ইন্ডিয়াতে ২০০৭ সালের পরে এসে এনজিও হিসাবে রেজিষ্ট্রেশন নেয়।
    সাথে আন্ডারহ্যান্ড ডিল হল,  ইন্ডিয়ান -NED আবার NDI-IRI এর অর্থ আমেরিকা থেকে ইন্ডিয়ায় এনে দেয়। মানে ইন্ডিয়া NDI-IRI  কে কোন কারণে, ইন্ডিয়ায় অর্থ আনার অনুমতি দেয় নাই।
    আর এখান থেকে এই ফান্ড রিপ্যাকেজিং হয়ে NDI-IRI এর ফান্ড নামে কিন্তু র-এর সাথে যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে পরিচালিত হয়। এক কথায় এটা এক বড় র‍্যাকেট! সুইডেন ভিত্তিক এক মিডিয়া এভাবেই চলে National Endowment for Democracy (NED) এর অর্থে।

    এরা ইন্ডিয়ান র-এর সাথে যৌথ ততপরতা শুরু করেছিল ২০০৭ সালের ১/১১ এর পরে যখন আমেরিকা বাংলাদেশকে ইন্ডিয়ার হাতে তুলে দিয়েছিল। তবে  NED অথবা NDI-IRI  এরা ঠিক আমেরিকান সরকারী উদ্যোগ নয়; আমেরিকান এনজিও-নন প্রফিট গ্রুপের নামে উদ্যোগ। তাই আমেরিকান সরকার জানে না টাইপের এড়িয়ে যেন যেতে পারে এমনই এক আমেরিকান এনজিও আর র-এর মিলিত উদ্যোগ।

    কিন্তু ২০১৬ সালের পরে মানে ট্রাম্পের আমলে ২০১৭ সাল থেকে বাকি সব এনজিও গুটিয়ে গেলেও কিছু এমন এই যৌথ প্রযোজনা NDI-IRI থেকেই যায়। যার মাধ্যমে র-এর ততপরতা চলছে বাংলাদেশে।

    জিল্লুরের CGS এই এনজিও দোকানটা এই গ্রুপের।
    https://cgs-bd.com/#
    CGS জানিয়েছে, NDI ওর পার্টনার সংগঠন।
    https://cgs-bd.com/articles/106/PARTNERS

    অনুমান করা হচ্ছেঃ
    NDI-IRI ফান্ডের জোরে জিল্লুরের গলা চড়তেছে। জিল্লুর নতুন বাংলাদেশ চায় না। বাংলাদেশ তালেবানী রাষ্ট্র হয়ে গেল – ইত্যাদি এসব বলে সে নিজেই বিএনপির এক নয়া সালাউদ্দিন আহমেদ  (যখন ইতোমধ্যেই সালাউদ্দিন হতাশ হয়ে থেমে গেছে) হয়ে উঠতে চাইছে!  ইন্ডিয়ান কনসার্ণ, স্বার্থ যেন তাকে এতই চাপ দিয়ে ধরে রেখে তাড়িত করতেছে!
    No description available.

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   ফেব্রুয়ারি  ২০২৫

    সর্বশেষ আপডেটঃ  ফেব্রুয়ারি  ২০২৫

  • ইন্ডিয়ান হেজিমনি উচ্ছেদ হবেই! কোন এনজিও রাজনীতি করতে পারে না!!

    ইন্ডিয়ান হেজিমনি উচ্ছেদ হবেই! কোন এনজিও রাজনীতি করতে পারে না!!
    গৌতম দাস
    ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
    https://wp.me/p1sCvy-6ip

     

    লীগ-সহ বিএনপি, জামায়াত যারা বিভিন্ন মাত্রায় র-প্রভাবিত হয়ে ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে – এই তো ক্ষমতায় চলেই যাচ্ছে ভেবে – লাগতে গেছিল এরা সব শেষ!!

    ৩২ নম্বর ভাঙ্গা দিয়ে শুরু হয়ে এরা সকলে এখন “ডেভিল হান্টে” পলায়নপর দৌড়াচ্ছে, যদি জান বাঁচে!
    এরপরেও এখন আমেরিকান-এনজিও-ফান্ডের [NDI-IRI] নামে, ছলে লুকানো র-প্রভাবিত কিছু লোকাল এনজিও ততপরতা চালু আছে। এরা ভালুকের পোষাক পড়া কিন্তু ক্ষুদ্রপ্রাণী (নরকের কীট) যারা ইউনুস সাবের বগলে আশেপাশেও চলে গেছে, আছে চেহারা লুকিয়ে! এরা হুন্ডিতে অর্থ নিয়ে এসে ইন্ডিয়ান স্বার্থের রাজনৈতিক শ্লোগান দিচ্ছে! এবার এদের উচ্ছেদ হতেই হবে!!!! ইন্ডিয়ান হেজিমনি উচ্ছেদ হবেই!!!!

    মনে রাখতে হবে এরাই বারবার দেশে ভুয়া নির্বাচনের আগে হাসিনাই আবার বিজয়ী হবে বলে মিথ্যা গবেষণা রিপোর্ট দিয়ে গেছিল – এমনই টাউট বাটপার এরা!

    একটা ক্লু দিয়ে রাখি। যারা – “বন্দোবস্ত” – শব্দটা ব্যবহার করে এদের থেকে দূরে থাকেন! এরাও ক্যারিয়ার!

    জেনে না জেনে এই শব্দ ব্যবহার করবেন না, প্লিজ!!

    এখানে বিবৃতিদাতাদের মধ্যে আছে অনেকে – তবে এর বাইরেও আছে।

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  ০৫ঃ ৩৫, ১০ ফেব্রুয়ারি  ২০২৫

    সর্বশেষ আপডেটঃ  ফেব্রুয়ারি  ২০২৫

  • হিউম্যান রাইট ওয়াচ কী হাসিনা বা ইন্ডিয়া প্রভাবিত!

    হিউম্যান রাইট ওয়াচ কী হাসিনা বা ইন্ডিয়া প্রভাবিত!
    গৌতম দাস
    ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫    সন্ধ্যা ১৭ঃ ০৯
    https://wp.me/p1sCvy-6hG

     

    হিউম্যান রাইট ওয়াচ [HRW]

     

    হিউম্যান রাইট ওয়াচ [HRW] এক আমেরিকান মানবাধিকার সংস্থা। আমাদের প্রথম আলো জানাচ্ছে তারা এই বলে বিবৃতি দিয়েছে  যে, “ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ন্যায্য হলেও আইনের লঙ্ঘন ন্যায্য নয়”। যেকথার সোজা মানে হল, “ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কোন আইন লঙ্ঘন করা যাবে না।  তাহলে এখানে আইন লঙ্ঘন মানে কী? ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে কোন গণ-প্রতিরোধ সৃষ্টি করা হলে তাতে পালটা ক্ষমতার জন্ম দিলে তা আইন লঙ্ঘন হয়ে যাবে? যার সোজা মানে হল, যেকোন বিপ্লবই অবৈধ; এমন কাজ এক আইন লঙ্ঘন মাত্র? কার আইন? কোন আইন?

    ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ন্যায্য হলেও আইনের লঙ্ঘন ন্যায্য নয়

    কোন আইন লঙ্ঘন?
    তাহলে যে দেশের মানবাধিকার সংস্থা এই HRW সেই আমেরিকার ১৭৭৬ সালের বিপ্লবও অবৈধ ও আইন লঙ্ঘন; অথবা ধরেন,  বাংলাদেশের ১৯৭১ সাল মুক্তিযূদ্ধ এসবই আইন লঙ্ঘন?   নাকি? কী বলেন? HRW এর জ্ঞানী সাহেবানেরা?
    বলেন তো দেখি,  ১৭৭৬ সালে কী আমেরিকান বিপ্লবীরা অস্ত্র হাতে তুলে নেয় নাই? সেটা কোন আইনে? কোন আইনি ন্যায্যতায়? নাকি HRW বলতে চায় সেটাও অবৈধ ও আইনের লঙ্ঘন???

    জীবন্ত নয়া গণক্ষমতার উত্থানঃ
    প্রধান সুত্রটা হল, কোন নতুন ও জীবন্ত গণক্ষমতার আগে বা উপরে কোন আইন নাই। আগে ক্ষমতা এরপর সেই ক্ষমতার মুরোদ থেকে আইন-কনষ্টিটিউশন জন্ম হতে পারে।
    আসলে এই হল, মানবাধিকার এর নিজ সীমাবদ্ধতা না জানা মানবাধিকার ধারণা!  খাড়া বাংলায় এটাকেই আমরা বেশি বুঝা বুলি!
    ঘটনা হল যেকোন গণ-প্রতিরোধ সৃষ্টি করা হলে তাতে এক পালটা গণক্ষমতার জন্ম হয় যা জীবন্ত! আর যা আগের সকল ক্ষমতা সকল আইন কনষ্টিটিউশনকে নাকচ করে দেয়। পাবলিক নিজেই জীবন্তভাবে গণক্ষমতা নিজে হাজির হয়ে যায়। যার সামনে আগের সকল ক্ষমতা সকল আগের আইন, কনষ্টিটিউশন সব নাকচ হয়ে যায়। নতুন ক্ষমতার সামনে সকল আইন অন্যায্য বাতিল হয়ে যায়। তাতে সেটা ঘোষণা করে আগের কনষ্টিটিউশন বাতিল বলা হোক আর নাই হোক! হাতে গুনে মনে রাখতে হবে সকল নতুন ও জীবন্ত ক্ষমতা থেকে এরপরে সকল আইন নতুন করে শুরু হতে পারে।  সবসময় আগে নতুন ক্ষমতা পরে আসবে সেই সুত্রে আইন। আগে থেকে থেকে থাকা কোন আইন নতুন ক্ষমতা তৈরির পরে আর প্রযোজ্য থাকে না; কার্যকারিতা রাখে না!

    যেমন আমরা কী ১৯৭১ সালের আগে থেকে থাকা (পুর্ববাংলা বা পুর্ব-পাকিস্তানের যাক প্রযোজ্য ছিল) পাকিস্তানের  আইন-কনষ্টিটিউশন মেনে নিয়ে এরপর মুক্তিযুদ্ধ করতে পারতাম? নয়া কোন গণ-ক্ষমতা তৈরি করতে বা জন্ম দিতে পারতাম? পুরান যেকোন আইন-কনষ্টিটিউশন মানলে যেকোন অস্ত্র-ধারণই তো অবৈধ এবং রাষ্ট্রদ্রোহিতা হবে এবং হত?
    এককথায় তাই সোজা ফর্মুলাটা হল, যেকোন নতুন গণ-ক্ষমতা জন্ম নিলে এর পর সে নতুন সব আইনের জন্ম দিতে পারে!  আর গণ-ক্ষমতা জন্ম এর আগের কোন আইন সে মানবে না। ক্ষমতার আগে কোন আইন নাই! নয়া ক্ষমতা থেকেই এবং এর পরেই কেবল নয়া আইন-কনষ্টিটিউশন হতে পারে যা তার জন্য মান্য! ১৭৭৬ সালে কী আমেরিকান বিপ্লবীরাও তাই করেছিল। তারা অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল আর এরপর আগের কোন আইন-কনষ্টিটিউশন তাদের উপর আর প্রযোজ্য নয়, ছিল না; থাকতে পারে না।
    ১৯৭১ সালেও মুক্তিযুদ্ধের গণক্ষমতার আগের কোন আইন-কনষ্টিটিউশন তাদের উপর আর প্রযোজ্য নয়, ছিল না; থাকতে পারে না। ২০২৪ সালের জুলাই-আগষ্ট গণ-অভ্যুত্থান এই গণক্ষমতার উপরে আগের কোন আইন তাদের উপর আর প্রযোজ্য নয়, ছিল না; থাকতে পারে না।  তাহলে তো ফ্যাসিস্ট হাসিনা তার যেসব পুলিশ, আর্মি, হেলিকপ্টা্‌ র‍্যাব আমাদের বিরুদ্ধে পাঠিয়েছিল তাদেরকে গণ প্রতিরোধে প্রতিহত করা [যাতে অনেক খুনি পুলিশ আহত-নিহত হয়েছে]  এটা তো হাসিনার পুরানা আইন-কনষ্টিটিউশন অনুসারে  অন্যায্য ও আইনের লঙ্ঘন! কিন্তু না এতা হতেই পারে না। নয়া গণক্ষমতার উপর আগে থেকে থাকা কোন আইন আর প্রযোজ্য নয়, ছিল না; থাকতে পারে না। এটা যেকোন বিপ্লবী নয়া ক্ষমতার মুখ্য বৈশিষ্ট!

    এখন মানবাধিকারের নামে কোন পুরানা পতিত বা পলাতক শাসক নিজের ন্যায্যতা জেতাতে সামনে আসতে পারে না। ঠিক যেমন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা গত ৫ ফেব্রয়ারির বক্তৃতায় তাঁর  যেসব পুলিশ, আর্মি হেলিকপ্টার র‍্যাব আমাদের বিরুদ্ধে পাঠিয়েছিল তাদের ততপরত্তাকে বৈধ বলে দাবি করেছেন! হাসিনা আমলে যেসব মিথ্যা মামলা মাদের উপর নির্বিচারে দায়ের করে গেছিলেন সেগুলো ইউনুস সরকারের বাতিল করাকে অন্যায্য, অবৈধ বলেছেন!

    এখন তামাশার কথা হল, HRW নিজেও হাসিনার বয়ানে ভাষায় ও ভাষ্য কথা বলছে। দাবি করছে  “লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আইনের লঙ্ঘন ন্যায্য নয়”! আসলেই এ’এক অদ্ভুত মিল! যার সোজা অর্থ হয়েছে এরা যেন হাসিনা নিয়োজিত এক HRW ; এক মানবাধিকার বয়ান! এই মানবাধিকার ফেরিকারকেরা জানে না যে যেকোন আইন কনষ্টিটিউশন  মানে মানবাধিকারের উতস কী? কোথা থেকে এর শুরু? স্থায়ী আইন কনষ্টিটিউশন বলে কিছু নাই! প্রত্যেকটা নয়া জীবন্ত গণক্ষমতার পর থেকে – এথেকেই বারবার নয়া আইন কনষ্টিটিউশন এর জন্ম হবে! 
    এর বাইরে বা উপর থেকে মানবাধিকার ফলাতে চাইলে তা হবে মানবাধিকার ব্যবসায়ীর কাজ!
    জেনে বা না জেনে HRW এই মানবাধিকার ব্যবসায়ীর  মত কাজ করে ফেলেছে! নিজ সীমাবদ্ধতা বা নিজ শুরু কোথা থেকে তা খেয়াল করে নাই! বা কারও খারাপ মতলবে বা হাতে প্ররোচিতও হতে পারে।

    জীবন্ত গণক্ষমতার উত্থানকাল লম্বা বা ছোটও হতে পারেঃ
    আমাদের ২০২৪ জুলাই-আগষ্ট অভ্যুত্থান অনেকের মনে হতে পারে এটা বড় জোর দুমাসের জীবন্ত গণক্ষমতা ছিল! না, এই অনুমান একেবারেই ভুল। একতা বিপ্লবী জীবন্ত গণক্ষমতা জন্মের শুরু আর শেষ বা তা থিতু হলে বছরেরও বেশি লেগে যেতে পারে। খোদ রাশিয়ায় এটা ছিল ১৯১৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর। ১৯৭৯ সালের ইরান বিপ্লবে তো শুরু আর শেষের মাঝে মানে ক্ষমতাধর শাহ উচ্ছেদের পরে পরপর চারটা সরকার গঠিত হয়ে গেছে আর ভেঙ্গে গেছে একই বছরে। আর সবশেষে যেটা খোমেনির বিপ্লব হয়ে থিতু হয়েছিল।  ফলে এর সবটাকেই জীবন্ত ক্ষমতার উত্থানকাল হিসাবে গুনতে হবে, ধরতে হবে!
    কাজেই মানবাধিকার কর্মী বা প্রবক্তা হয়ে হাজির হতে চান তারা সাবধান ও সতর্ক হয়ে যান। বিভ্রান্তি তৈরি করবেন না। হাসিনার বয়ানে কথা বলবেন না। সবার আগে নিজ মানবাধিকার বোধের সীমাবদ্ধতাটা কী সেটা আগে জেনে নিন। বিপ্লবী জীবন্ত গণক্ষমতার সাথে লাগতে আসবেন না। তামাসা করবেন না। নিজ চিন্তার মৌলিক সীমাবদ্ধতা [LIMIT] জেনে-বুঝে এরপর মানবাধিকার মারাতে  আসবেন! জীবন্ত গণক্ষমতার জন্মের আগের কোনই আইন নাই, হতে পারে না যা সে মানতে বাধ্য বা তার উপর প্রযোজ্য! এটাই সংক্ষেপে বললে, আগে ক্ষমতা পরে তা থেকে আইন! উল্টাটা কখনও না!

    সবশেষে একটা পরামর্শঃ
    HRW যদি  নিজ লিমিট খেয়াল করে বলতে পারত রাজনৈতিক সংগ্রামে সহিংসতা দীর্ঘায়িত না করা বা এড়িয়ে চলার কথা; তবে বুঝা যেত তারা নিজ ভাষ্য-বয়ানের লিমিট সম্পর্কে সচেতন! কিন্তু দুভাগ্য আমাদের এরা হাসিনার (ইন্ডিয়ার) ভাষ্যের উপর দাঁড়িয়ে কথা বলতে এসেছে!
    আমেরিকা-ভিত্তিক HRW কে মনে হয় আর একটা কথা মনে করিয়ে দেওয়াই যায়। ট্রাম্পের শপথ নেতা একমাসও হয় নাই। আর এসেই তিনি খোদ জাতিসংঘের ICC কোর্টের বিরুদ্ধেই স্যাংশন আরোপ করেছেন। কারণ কী? অভিযোগ-অযুহাত কী?
    অভিযোগ হল ICC  কেন নেতেনিহাহুর বিরুদ্ধে একশন গ্রেপ্তার এর কথা তুলেছে? দাবী করেছে ইসরায়েল আমেরিকার বন্ধু রাষ্ট্র [our allies]; মজা না? (নিচে ট্রাম্পের ভাষ্যটা দেখে নেন) আমাদের ধারণা,  তিন হাজারের উপর হত্যা, গুম-খুন অপহরণের ১৬ বছরের যথেচ্ছাচারের নায়িকা পতিত হাসিনার জন্য খাড়ানোর চেয়ে তাদের শ্রম-ঘামের বেশি অংশটা সেদিকে দেয়া উচিত! সবার আগে মানবাধিকার ইস্যুটাকে গ্লোবাল ক্ষমতাধর দেশের আজ্ঞাবহ হওয়া, প্রভাবিত হওয়া থেকে বের করার বা হবার উপায় খুঁজেন!

    “This malign conduct in turn threatens to infringe upon the sovereignty of the United States and undermines the critical national security and foreign policy work of the United States government and our allies, including Israel,” he added.

    সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ হল যারা ক্ষমতা বুঝে না – ক্ষমতা ধারণার পিছনের দর্শন বিশেষ করে গণক্ষমতা যেটা জীবন্ত গণক্ষমতার উত্থান যেটা আবার যেকোন রি-পাবলিক ধারণায়  পাবলিক এর ক্ষমতা বা পিপলস পাওয়ার ধারণার মূলভিত্তি  – এসব সম্পর্কিত করে রাজনীতির মাঠে যে জীবন্ত পিপলস পাওয়ারের জন্ম হয় তা সম্পর্কে বেহুশ – এরা মানবাধিকার ধারণা বইবার ধারণ করার জন্য নুন্যতম যোগ্যতা রাখেন না। যদিও বা কেউ রাখেন তবে সেক্ষেত্রে আপনারাই মানবাধিকার ধারণাকে সুশীল মানে, না বুঝা সিভিল সোসাইটি ধরনের মানবাধিকারের দোকান বানাইয়ে রেখে দিছেন! কাজেই সময় থাকতে সাবধান হন! লেজুড় হবেন না!

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  সন্ধ্যা ০৬ঃ ১৩, ০৮ ফেব্রুয়ারি  ২০২৫

    সর্বশেষ আপডেটঃ  সন্ধ্যা ০৭ঃ ৫০, ০৮ ফেব্রুয়ারি  ২০২৫

     

     

  • এখন দুদিন চলবে বয়ানের যুদ্ধঃ এদেরকেও পরাজিত করতেই হবে

    এখন দুদিন চলবে বয়ানের যুদ্ধঃ এদেরকেও পরাজিত করতেই হবে
    গৌতম দাস
    ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, সন্ধ্যা ০৬ঃ ২০
    https://wp.me/p1sCvy-6gk

     

     

     

    হাসিনার বক্তৃতাঃ নিজের ১৬ বছরের গুম-খুমের শাসন, নির্বিচারে সরকারি বা পাবলিক অর্থ সম্পত্তির লুটপাট এর পক্ষে হাসিনা এক সাফাই-বক্তব্য রেখেছেন। আগেই প্রচার করা এই সুচি বলেছিল যে তিনি ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ভার্চুয়ালি অডিওতে আসবেন।
    আর এর বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ছাত্র-জনতা। হাসিনার সকল অপ-শাসন এর সিম্বল বা যেগুলো প্রতীক হয়ে উঠেছিল সেগুলো তারা এর প্রতিক্রিয়ায় ঐদিনই গুড়িয়ে দিয়েছে।
    অর্থাৎ কেবল বস্তুগত স্থাপনা যেগুলা সেসব প্রতীক-ই ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে, ফ্যাসিস্ট হাসিনার গলাবাজি ও সাফাই দিবার চেষ্টার বিরুদ্ধে। কিন্তু কোন প্রাণহানি বা নুন্যতম রক্তপাত না, এখানে ঘটে নাই। টার্গেটও ছিল না।

    গত ৫ ফেব্রুয়ারী ছিল হাসিনার বক্তৃতা ও এর প্রতিক্রিয়ায় ৩২ নম্বর-কে ধুলায় মিশানোর মিশন। এখানে, ৩২ নম্বর (সাথে বিভিন্ন জেলায় ফ্যাসিজমের জেলানেতাদের প্রতীকী স্থাপনা) মানে হল যা হাসিনা বা আওয়ামী ফ্যাসিজমের সিম্বল। ফলে সকল বস্তুগত স্থাপনা ভাঙ্গা ফ্যাসিজমের প্রতীকগুলোর বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আক্রমণ।  এর উদ্দেশ্য ছিল জনগণকে সাথে নিয়ে প্রতীকগুলোকে চিনিয়ে দেওয়া আর তাতে বুঝিয়ে দেয়া যে গণশত্রু কারা কারা! আর আবার বলছি এতে সহিংসতা বা রক্তপাত শব্দ ব্যবহারের কোন সুযোগ না রেখে এগুলো পরিচালিত করা হয়েছে।  এককথায় খুবই প্রতীকীভাবে তাঁদের একাজ সম্পন্ন হয়েছে।

    কিন্তু প্রতিক্রিয়াঃ এরা কারা?
    ছাত্র-জনতার এই ততপরতায় খুবই বিপদে পড়েছে অনেকেই! কিন্তু এই অনেকেই, এরা কারা?
    এদের প্রধান সমস্যা হল, এটা ফ্যাসিজমের প্রতীক যেগুলো কেবল এর উপর আক্রমণ হয়েছে কোন ব্যক্তির উপরে নয়; অর্থাৎ ফ্যাসিজমের প্রতীক  মানে যেগুলো বস্তুগত প্রতীক মানে সরাসরি কোন ব্যক্তি – রক্ত-মাংসের কোন ব্যক্তিমানুষ একেবারেই নয়- আর এটাই এদের জন্য বিরাট সমস্যা হয়ে গেছে। কারণ, মানবাধিকারের কথা এতে আনা যাচ্ছে না!  কেন ছাত্র-জনতা কেবল বস্তুগত বা ফিজিক্যাল স্থাপনা যেগুলো সেসব কিছুকে চিনিয়ে দেয়ায় শেষ করল কেন এই হল তাদের আক্ষেপ!  এমনকি কোন ফ্যাসিস্ট ব্যক্তিকেও আক্রমণ করা হয় নাই। তাই নুন্যতম রক্তপাতও এখানে নাই! একারণের যারা ছুপা যারা, গোপনে নিজ চেহারা আড়ালে রেখে  হাসিনার ফ্যাসিজমের পক্ষে কাজ করতে মাঠে নেমে থাকছিল এতদিন –  এরা খুবই বিপদে পড়েছে। মূল কারণ এখন ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচীর বিরুদ্ধে তারা কী বলবে কীভাবে বলবে? এই বয়ান তাদের কাছে নাই!  বিশেষ করে কোন ব্যক্তি-মানুষের উপর সহিংসতা রক্তপাতও যেখানে নাই!  তাহলে তাদের বয়ান দাঁড়াবে কার উপরে?
    এবার একটু সার করে বলি, তাহলে ৩২ নম্বর-কে ধুলায় মিশানোর মিশন এটা আসলে হল, এক রক্তপাতহীন ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচী ছিল এটা!
    তবে এটা কি ছাত্র-জনতা খুব পরিকল্পিত ভাবে করেছে? না, ঠিক তা বলা ভুল হবে। আসলে তাদের মন স্বচ্ছ ছিল যে কোন রক্তপাত ঘটানো – এটা ঠিক তাদের লক্ষ্য নয়। বস্তুগত প্রতীকের উপর জোর দেয়া – এটাই ছিল তাদের লক্ষ্য এবং মন-ভাবনা!  আর এতেই হাসিনার পক্ষের ছুপা দালালেরা  চরম বিপদে পরে গেছে! মূল কারণ, নুন্যতম এটা সহিংসতা বলেও শক্ত কোন বয়ান তারা দাঁড় করাতে পারছে না! কোন ছদ্ম মানবাধিকারের বয়ান বা ছদ্ম মানবাধিকার ইস্যু তারা খাড়া করতে পারছে না!

    সবচেয়ে বড় হাসিনার ফ্যাসিজম সমর্থক – ইন্ডিয়াঃ
    কারা কারা ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচীতে বিপদে? এর শীর্ষে আছে ইন্ডিয়া!
    ইন্ডিয়ার বিদেশ মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য-বিবৃতিঃ

    আগেই বলেছি যারা ছুপা হাসিনা-স্বার্থের এদের মধ্যে শীর্ষে আছে ইন্ডিয়া! যাদের প্রধান সমস্যা বয়ান-ভাষ্য কী বানাবে যখন রক্তপাতও নাই???

    তাই লক্ষ্য করেন, তারা বলছে ৩২ নম্বর বা শেখ মুজিবের বাড়ি এটা নাকি হল historic residence – মানে ঐতিহাসিক গুরুত্ব থাকা বাড়ি বা বাসস্থান। এটা নাকি “a symbol of the heroic resistance of the people of Bangladesh”. মানে হল, বাংলাদেশের মানুষের বীরত্বপুর্ণ প্রতিরোধের প্রতীক! কিন্তু তাতে ইন্ডিয়া সরকারের কী? এটা কিভাবে ইন্ডিয়ার স্বার্থ বা কথা বলবার এক্তিয়ার? 

    তাই এতে এখন ইন্ডিয়ান সরকারী তামাসাটা দেখেন! গত ১৬ বছর যে ইন্ডিয়া হাসিনার ফ্যাসিজমকে ক্ষমতায় বসায়ে বাংলাদেশ শাসন করে গেছে, হেজমনি বা ইন্ডিয়ান আধিপত্য-দখল চালিয়ে গেছে সেই তারাই এখন বয়ান দিতেছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইতিহাস বা ঐতিহাসিক কোনটা? বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানে র-এর এজেন্ট ঢুকয়ে যারা ১৬ বছর শাসন-আধিপত্য চালিয়ে গেছে যারা এখন পরাজিত (যাদেরকে খুঁজে খুঁজে উপরে ফেলে নির্মুল করা বা বের করে দেওয়া ও মুক্ত করার পথে আমরা এখনকা্র বাংলাদেশ)  সেই পরাজিত ইন্ডিয়া  তারা এখন আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাস বা এর বয়ান কোনটা হবে সেটাও এখন নির্ধারণ করতে চাইছে!

    আসলে  ইন্ডিয়ার মনে রাখা উচিত,  ভাষা আন্দোলন কেবল বাংলাদেশে না, ইন্ডিয়াতেও হয়েছে; বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতে তামিলনারুতে! সে ইতিহাস আমরাও জানি! নেহেরু দক্ষিণ ভারতে হিন্দি ভাষা চাপিয়ে দিতে গিয়ে মার খেয়ে ফেরত এসেছিলেন ১৯৬৪ সালে (বলা হয় এই শোকেই ), সেটা আমরাও জানি!  যা থেকে আজ পর্যন্ত তামিলনারুতে কোন হিন্দি-প্রিয় দল কংগ্রেস বা একালের বিজেপি কখনও রাজ্য সরকারে ক্ষমতায় আসতে পারে নাই। সব থেকে বড় চিহ্ন হল,  সেই থেকে ইন্ডিয়ান কনষ্টিটিউশনে রাষ্ট্রভাষা বলে কিছুই নাই। এবং কিছুই যে নাই সেকথা জানিয়ে ইন্ডিয়ার সুপ্রীম কোর্ট এক রায় দিয়ে রেখেছে।
    তো এখন ইন্ডিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাস কোনটা?  মোদি-কংগ্রেসিরা যে ইন্ডিয়ায় পরাজয়ের ইতিহাস লুকায় রেখেছে সেটা কী এখন আমরা বাংলাদেশিরা দাবি করব যে লুকায় রাখা ইতিহাস এটাই  বা সেটা ইন্ডিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাস???? আমরা নট ইন্টারেস্টেড – ছেচড়ামো আমাদের স্বভাবে নাই।  নানান দেশের ইতিহাস জানার জন্য যতটুকু আগ্রহ থাকা লাগে ততটুকুতেই আমরা সীমাবদ্ধ!

    কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস কী এবং কোনটা কতখানি  – এটা একান্তই বাংলাদেশের; এর নির্ধারক একান্তই বাংলাদেশের জনগণ! ইন্ডিয়ান রাষ্ট্র-সরকারকে আমরা এই হুশিয়ারি জানাই দিয়ে রাখতে চাই! কাজেই আমাদের এই নির্ধারক ক্ষমতার মধ্যে ভাগ বসাতে হাত বাড়ালে সেই হাত জ্বালায় দেয়া হবে! জ্বলে পুড়ে যাবে।  এখানে হাত ঢুকানোর চেষ্টা মানে এটাও আরেক ধরনের ইন্ডিয়ান অযাচিত হস্তক্ষেপ, আধিপত্য দেখানোর চেষ্টা। আমরা ইন্ডিয়ার এই অপ-ততপরতা কে উপড়ে  ফেলে দিব, অবশ্যই! বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস এর বয়ান একমাত্র আমাদের জনগণ দ্বারা নির্ধারিত হবে। কাজেই গতকাল ইন্ডিয়ান সরকারী ভাষ্য-বয়ান আমরা প্রত্যাখান করি, নিন্দা জানাই! বাংলাদেশের বয়ানে হাত ঢুকানো বা হাসিনার পক্ষের বয়ান নিয়ে দাঁড়ানো আমরা অবশ্যই প্রতিহত করবো! এনিয়ে ইন্ডিয়ান সরকারের সীমা লঙ্ঘণ চরমভাবে অগ্রহণযোগ্য, এটা মনে রেখে ইন্ডিয়ার যেকোন সরকারকে চলতে হবে! চলা উচিত!

    ভারতের গার্বেজ যারা কাঁধে নিয়েছে এমন বাংলাদেশি রাজনৈতিক দলঃ
    বাংলাদেশে যারা হবু ক্ষমতায় আসীন হতে স্বপ্ন দেখেন এমন সব রাজনৈতিক দলের দুর্দশা হল এরা প্রায় সকলেই  – ভারতের গার্বেজ বা আবর্জনা এরা নিজের কাঁধে নিয়ে হাঁটা শুরু করে দিয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে। এরা ইন্ডিয়া প্রযোজিত কিছু বাংলাদেশি রাজনৈতিক দল হবার পথে রওনা দিয়েছে। এমন ইন্ডিয়া প্রযোজিত দল সকলেই আজ বয়ান সংকটে পড়েছে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচীর কারণে  এরা এখন বয়ান সংকটে দিশাহারা! এরা যে  ৩২ নম্বরের ঘটনার বিরুদ্ধে, সেটা এরা প্রকাশ করতে পারছে না। এটাই মূলত তাদের ভারত প্রযোজিত দল হিসাবে চিহ্নিত হয়ে পড়ার সংকট!  টানা ২৪ ঘন্টা নিশ্চুপ থাকার পরে ইন্ডিয়া প্রযোজিত দলগুলো বহুকষ্টে এখন তারা বলেছে  ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচী – এই ঘটনার পিছনে ইন্ডিয়া আছে কিনা তাদেরকে দেখতে হবে!!!! হা হা হা !! কী আজিব অর্থহীন কথা!

    কী এক সমস্যা দেখেন!
    ভাষ্য-বয়ান কী দিবে কিছুই খুজে পাচ্ছে না! উল্টা-পাল্টা বকছে! তাতে বয়ানের কোন অর্থ হল কী না হল তাও দেখার অবস্থায়ও নাই!  সে এক মহা দুর্দশা! এটাও বাংলাদেশকে দেখতে হচ্ছে!! এরা নাকি নির্বাচনে ক্ষমতায় যাবার স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশের বড় দলের দাবিদার! তবে (মূল দলীয় ভাষ্য নয় তবে) এই দলের সমর্থক যারা – এই তো তারা ক্ষমতায় যাচ্ছে বলে – স্বপ্ন দ্যাখে এমন ব্যক্তিরা তাদের ফেসবুকে একটা শব্দ খুজে পেয়েছে দেখা যাচ্ছে। শব্দটা হল, অরাজকতা! অর্থাৎ ৫ ফেব্রু. ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচী এটা নাকি এক অরাজকতা ছিল! মানে হল তারা আইনি পথে থাকার লোক! আচ্ছা! কিন্তু এরা কী আইনি-বেআইনি বিষয়টা বুঝে???
    এই ছুপা ইন্ডিয়ান-হাসিনা প্রেমি এরা ভেবেছে এভাবে তারা নিজেদের দালালির স্বার্থ লুকায় রাখতে চলতে পারবে! অথচ এদের আইনি-বেআইনি তর্ক বা রাজকতা বনাম অরাজকতা তর্ক  এটাই তো অর্থহীন! যেমন, এরা ভেবে দেখতে পারে যে, ১৯৭১ সালে যারা মুক্তিযোদ্ধার রাজনৈতিক ভুমিকায় নেমেছিলেন সেটা কী অরাজকতা ছিল না?
    হা অবশ্যই ছিল, তবে সেটা আমাদের সে সময়ের যুদ্ধের প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের মানে, আমাদের শত্রুপক্ষের আইনি বা কনষ্টিটিউশনের দিক থেকে দেখলে তবেই!  পাকিস্তানের আইনি বা কনষ্টিটিউশনের দিক থেকে দেখলে আমরা ছিলাম অরাজক শক্তি! এর সোজা অর্থ হল তাহলে, হাসিনা ও ইন্ডিয়ান আধিপত্যের জায়গায় বসে দেখলে ৫ ফেব্রু. ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচী ছিল অরাজকতা! অর্থাৎ যারা ৫ ফেব্রু. কে অরাজকতা হিসাবে দেখছেন এরা  হাসিনা ও ইন্ডিয়ান স্বার্থের লোক! ঠিক যেমন জুলাই-আগষ্ট্রের আন্দোলনে যারা ছাত্রলীগের গুন্ডা অস্ত্রবাজ, পুলিশ ও হেলিকপ্টারের বিরুদ্ধে বহুকষ্টে লড়ে বিজয় লাভ করেছে আর তাতে শেষে অনেক পুলিশ মারাও গিয়েছে – হাসিনা ৫ ফেব্রুয়ারির বক্তৃতায় এই পুলিশ-ছাত্রলীগকে হিরো মেনেছেন। মেনে যাদের বিরুদ্ধে হাসিনার দেওয়া ভুয়া মামলা ছিল, পুলিশ মারার মামলা ছিল সেগুলা এখন ইউনুস সরকারের ডিসমিস করে দেওয়ার উদ্যোগ বা প্রত্যাহার করে দেওয়া (ইনডেমিনিটি) এসবকে অবৈধ বলেছেন হাসিনা! তাহলে যারা অরাজকতা বলে বয়ান আনতে চাইছেন তাদের উচিত প্রকাশ্যে অবস্থান পরিস্কার করে কথা বলা! তারা কী ছাত্র-জনতাকে হাসিনা-ইন্ডিয়ার মত “অরাজক শক্তি” মনে করেন তা স্পষ্ট করে বলেন! পারবেন? পারলে সামনে আসেন! বুক ফুলায়ে বলেন!!!  পাবলিক আপনাদেরকে দেখুক যে কারা গত ৫ ফেব্রুয়ারি ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচী কে অরাজকতা হিসাবে দেখছেন! এবং কেন দেখছেন???
    একই সমস্যায় ভুগছে জামায়াত!
    কি বলবে?  কথা খুজে না পেয়ে বলেছে, সবাইকে ধৈর্য ধরতে! মানে ইন্ডিয়ান লিঙ্ক ছুটে যায় কীনা সেই দুশ্চিন্তা বিবেচনা প্রবল রেখে কোনমতে একটা ভাষ্য তৈরি করেছে তারা! তাতে এর কোন অর্থ হোক আর নাই হোক!

    এই ফাঁকে আইন সালিসি কেন্দ্রঃ
    এরা আসলে সবসময়  “হাসিনা লীগ টু”!
    কামাল হোসেন এন্ড গং!  মূলত এরা ইন্ডিয়ান হেজিমনি ফেরত আনার পক্ষের শক্তি! কিন্তু ছল নিয়েছে তারা মানবাধিকার কর্মি! এদেরই এক জামাই প্রশ্ন তুলেছেন – “Who is running Bangladesh? Muhammad Yunus?” – যেন বিরাট মানবাধিকার কর্মি! কায়দাটা অসম্ভব ছুপা! এরাই হল অরাজকতা দেখার গোষ্ঠি! অথচ আসলে এরা ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট! ৩২ নম্বর যাদের প্রাণ!  গত ১৬ বছর হাসিনার ফ্যাসিজম তারা দেখেও দেখে না; কিন্তু প্রতীকী এই ৩২ নম্বর একে পবিত্র জ্ঞান করা তাদের বয়ান। হাসিনা তাঁর গুম-খুন লুটপাটের ফ্যসিজম আর ৩২ নম্বর বা শেখের মুর‍্যাল এই প্রতীক সব একাকার করেছিলেন খোদ শেখ হাসিনা! তবু এখন ৩২ নম্বরের সিম্বল এই বয়ান-দৃষ্টিভঙ্গি আর ইন্ডিয়ান স্বার্থ বা তাদেররও বয়ান – এদুটা একজায়গায় মিলেছে। তাই কামাল হোসেন এন্ড গং! এরা আসলে ঘুরে-ফিরে ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট! এরাই ১৯৭১ সালের ঘটনাকে পাকিস্তানের আইন-কনষ্টিটিউশনের জায়গায় বসে দেখলে  (অরাজকতার ভাষ্য ) যেমন হবে এরা সেভাবে দেখার লোক! এরা হাসিনা-ইন্ডিয়ার স্বার্থের জায়গায় বসে এরা ৫ ফেব্রুয়ারি ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচী কে অরাজকতা বলে দেখছেন। আর মানবাধিকার এর মিথ্যা-মোড়কে মুড়িয়ে বয়ান হাজির করার কু-চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

    সাথে আছে চিন্ময়-ইসকন বামপন্থীঃ
    সাথে আরও আছে কিছু প্রগতিশীল বামপন্থী যারা আসলে ইন্ডিয়ান স্বার্থের আরও ঘোরতর এজেন্ট! বিচি আটকে যাওয়া এজেন্ট! কিন্তু নিজেদেরকে ছুপায় রাখতে চায় যে তারা প্রগতিশীল! এরা প্রশ্ন তুলতেছে যে ৩২ নম্বর ভেঙ্গে কী লাভ?
    আসলে প্রগতিশীলদের রূপের শেষ নাই! যদিও সব রূপের কমন দিকটা হল তারা ছুপা ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট!। অথচ এরা নিজেরাও মানতে চায়না যেন জানে না যে এই অবস্থানটা বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে অন্য রাষ্ট্রস্বার্থের দালালি! এদের নয়া সংযুক্তি হল, সাথে বলা এগুলো – “এগুলো ইহুদী-খ্রীষ্টান প্রকল্পের অংশ”। এরা জানে সাধারণভাবে ইসলামিস্টদের কাছে বা এমন রাজনীতিতে –  “ইহুদী-খ্রীষ্টান প্রকল্প বা বয়ানের বিরুদ্ধে তাদের শক্ত ও কমন অবস্থান আছে। তো সেই বয়ান কে ছদ্ম বা ভুয়া স্পর্শ করতে তাদের এই নয়া ছিল। টেনে হিচড়ে কোন ব্যাখ্যা কে আমেরিকান বা সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্ত বা ট্রাম্পের অবস্থান বলে (মিলুক আর নাই মিলে যাক) -এগুলো ইহুদী-খ্রীষ্টান প্রকল্পের অংশ – বলে ট্যাগ দিয়ে এরা হাজির করেছে আজকাল অথচ এরা সরাসরি র-এর মানে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির চক্কড়ে আটকে হানি ট্রাম্পড হওয়া ব্যাক্তি বা গোষ্ঠি-সকল!
    আবার অনেকে বয়ান-যুক্তি দিচ্ছেন ৩২ নম্বর স্থাপনা ভাঙ্গালেও ফ্যাসিজম ভাঙবে না । তাই ৩২ নম্বর ভাইঙ্গো না! অথচ ছাত্র-জনতার কেউ কী দাবি করেছে এটা? নাকি গত ১৬ বছরে এরাই হাসিনাকে ভুল বুঝানো হয়েছে বলেছিল অথবা শাহবাগী জজবা তুলে এরাই হাসিনাকে জঙ্গীবাদবিরোধিতার নামে গুম-খুন হত্যার ফ্যাসিজম কায়েম করতে বয়ান যোগান দিয়েছিল??? অথচ এরাই ৩২ নম্বর স্থাপনা না ভাঙ্গার ফ্যাসিজম শিখাতে এসেছে!  এরা ভুলায় দেতি চায় যে যারা ৩২ নম্বর স্থাপনা ভাঙ্গতে উতসাহ দিয়েছে তারাও তো বলছে এটা প্রতীকগুলোকে ভেঙ্গে দিয়ে ফ্যাসইজম ভাঙ্গতে হবে সেকথাই বলছে, সেই বয়ান খাড়া করেছে!!

    আবার প্রগতিশীলতার কেউ কেউ বলার চেষ্টা করছে যে  ফেব্রুয়ারি ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচী এটা অরাজকথা!  এর চেয়ে আয়নাঘর ভাঙ্গা ভাল! যেন এরা আয়নাঘর ভাঙ্গার নয়া সৈনিক!
    এরা আসলে বাংলাদেশে একটা সেনাবাহিনী থাকুক আর সেটা র-এর এজেন্ট বের করে দেয়া সেনাবাহিনী হোক মুলত এটাই তারা চায় না। খুবই কষ্ট পায় আর ব্যাথা তাদের! এই অর্থে তারাও হাসিনা ও ইন্ডিয়ান স্বার্থের লোক বা রাজনীতি করা লোক!
    বাংলাদেশে ১৯৭৫ সালের পরে শেখ মুজিব উতখাত হওয়াতে সাধারণভাবে আর্মির বিরুদ্ধে এক বয়ান খাড়া করেছিল লীগ-হাসিনা! সাধারণভাবে আর্মি কথাগুলো খেয়াল করেন। বয়ানের মূল কথা হল, আর্মি মানেই এন্টি শেখ মুজিব!
    অথচ আপনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রের পক্ষের হলে তাহলে আর আপনি সাধারণভাবে আর্মির বিরুদ্ধে থাকতে চাইলেও থাকতে পারেন না। থাকলে এর সোজা মানে হবে আপনি খোদ বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে।

    মূলকথাটা হল, হাসিনার ১৬ বছরের আর্মি আর এখনকার আর্মি – এদুটাই তো আর্মি। কিন্তু একই আর্মি নয়! যারা এদুটোকে মিশিয়ে একাকার করে শুধু আর্মি বলবে এরা জেনে না জেনে ইন্ডিয়া-হাসিনার পক্ষের লোক!  আপনাকে অবশ্যই এদুটোকে আলাদা করে বুঝাতে এবার সাথে বিশেষণ লাগিয়ে বলতে হবে। যেমন  হাসিনা আমলের আর্মি  নাকি  হাসিনা উতখাত-পরবর্তি আর্মি!   ফলে যারাই সবকিছুকেই শুধু আর্মি বলে একটা শব্দ ব্যবহার করবে এরাই বাংলাদেশ রাষ্ট্র-বিরোধী এবং ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট(!) হওয়ার সম্ভাবনা ষোলভাগ! জেনে অথবা না জেনে! যদিও অনেক সময় এরা গ্রুপবদ্ধ থাকলে তাদের বেলায়, এদের টপ নেতারা জানে তারা ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট কিন্তু নিচের কর্মিরা না জেনেই ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট!- এই হল ফারাক!
    ফলে আয়নাঘর মানে একে “আর্মি” এই শব্দটাকে সাধারণভাবে মানে বিশেষণ ছাড়া অর্থাৎ আয়নাঘর মানে সাধারণভাবে – আর্মি মাত্রই খারাপ – এই প্রতীকী  ব্যবহার করতে চায় এরা। এজন্য এরা জেনে না জেনে ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট হয়ে থাকছে। হাজির হচ্ছে বা থাকতে চাইছেন। আজ, ৩২ নম্বরের নিচে সাততলা আয়নাঘর এর কথা কথা বলা হচ্ছে, সন্দেহ ও খোঁজাখুজি শুরু হয়েছে। এখন যারা মনে করেন ইউনুস সরকার আয়নাঘর দেখতে দিতে চায় না তারা কী করবেন?  এবার স্বরূপে হাজির হন, হবেন? “৩২ নম্বরের চেয়ে আয়নাঘর ভাঙ্গা ভাল” যারা বলছিলেন; আর কত ছুপা থাকবেন! সাততলায় ঝাপায় পরে খোজাখুজি করে প্রমাণ করেন আপনারা আসলেই কেবল মানবাধিকারের পক্ষের লোক!
    আবার আরেক বিপ্লবী প্রগতিশীলতা আছে  যারা চিন্ময়-ইসকন এর অধিকারের পক্ষে খাড়াইতে চায় (এভাবে র-এর স্বার্থ হাসিলের কর্তা) অথচ নিজেকে নয়া কনষ্টিটুশনের পক্ষের যেন বিপ্লবী এই ভেক ধরে হাজির থাকতে চায়!

    সারকথায়, এখন দুদিন চলবে বয়ানের লড়াই! এই লড়াইয়েও আমাদেরকে অবশ্যই জিততে হবে! হাসিনা ও ইন্ডিয়ান হেজিমনি ফেরত আনার পক্ষের শক্তিকে বয়ানেও পরাজিত করতেই হবে! সবাই সাবধান!
    আর যারা মানবাধিকার ব্যবসা করে  বা এর আড়ালে ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট এর কাজ করে এদের সামনের দিন আরো খারাপ হবে! আর তা থেকে বাঁচতে চাইলে একটাই উপায় – আড়ালে ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট-গিরি তাদের ত্যাগ করতে হবে। যেমন হাসিনার ১৬ বছরে আসক (আইন সালিসি কেন্দ্র) যা যা করে টিকে ছিল হাসিনার গায়ে গুম-খুন মানবাধিকার ভঙ্গের অভিযোগের টোকা লাগতে দেয় নাই – আপনারাও সেসব করে মানবাধিকার ব্যবসায় থাকেন! আর নাইলে উতখাত হয়ে যাবেন। যারাই, পারসোনালি বা হুন্ডিতে বিদেশি অর্থ এনে মানবাধিকারের নামে আড়ালে ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট হতে বা থাকতে চাইছেন এরা সকলে অবশ্যই উতখাত হবেনই! দিনকে দিন এদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের একশন শক্ত হবেই!  আয়নাঘরের বিরুদ্ধে আপনারা এক ভয়েজ যেন এই চেহারার আড়ালে মানবাধিকারের ঝান্ডার আড়ালে অর্থ কামাবেন তা হয়ত করতে পারেন; কিন্তু আর্মি এই শব্দটাকে সাধারণভাবে মানে বিশেষণ ছাড়া ব্যবহার করবেন তাহলে আপনারা উতখাত হবেন!

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   সন্ধ্যা ৭ঃ ২৬ , ০৭ ফেব্রুয়ারি  ২০২৫
    শেষ আপডেটঃ   রাত ৮ঃ ৩৬ , ০৭ ফেব্রুয়ারি  ২০২৫

  • আদিবাসী বলা না বলা – কেন ও কীসের ভিত্তিতে

    আদিবাসী বলা না বলা – কেন ও কীসের ভিত্তিতে
    গৌতম দাস
    ১৮ জানুয়ারি ২০২৫   দুপুর ১২ঃ ০৭
    https://wp.me/p1sCvy-6eQ

     

     

     

    আদিবাসী বলা না বলা

    শুনতে অবাক লাগলেও কথা সত্যি যে দুনিয়াতে নানান রাষ্ট্র মানেই তা একেকটা এথনিক [Ethnic] জাতির নিজ নিজ ভুখন্ডেই গড়ে নেয়া রাষ্ট্র নয়। আজকের আমেরিকার এথনিক জাত অরিজিন মূলত বৃটিশ (সাধারণভাবে ইউরোপীয়) অথচ তারা আমেরিকা মহাদেশ বা নর্থ আমেরিকায় মাইগ্রেটেড হয়ে গিয়ে সেখানে “নিজেদের” রাষ্ট্র কায়েম করেছেন।  আর উলটা বা সবচেয়ে কমন চিত্র হল যেমন এথনিক পুর্ববঙ্গের বাঙালি নিজ ভুখন্ডেই নিজ রাষ্ট্র গড়েছে।
    এথনিক – শব্দ শুনেই ঘাবড়াবার কিছু নাই।   ইংরাজিতে জাত বলতে দুইটা শব্দ আছে race আর ethnic এভাবে দুইটা। যার প্রথমটা মূলত মানুষের ১০ লাখ বছরেরও আগের যাযাবর জীবনকালের সময়ে একেক মানুষের সাথে অপর মানুষের মধ্যে পরিচয় (identity) বৈশিষ্টে যে ভিন্নতা দেখা যেত; সেটাকে ব্যাখ্যা করে।  যেমন,  সেগুলোকে কে কোন জাত-ক্যাটাগরির যেমন গায়ের রঙ কেমন, চুলের বৈশিষ্ট কী ইত্যাদি দিয়ে বিভক্তি-পরিচয় দাঁড় করানো – এভাবে জাত পরিচয় করাটাকে ইংরাজিতে RACE বা রেস অর্থে জাতি পরিচয় বুঝায়। যেমন আরেক বিভক্তি-চিহ্ন, দুনিয়ার প্রতিটা রেস অর্থে জাতির রক্তের ডিএনএ বৈশিষ্ট আলাদা।
    আর পরেরটা বা অন্য জাতি ধারণাটা হল, এথনিক অর্থে জাতি। এটা মূলত যখন মানুষের যাযাবর বৈশিষ্টের জীবনযাপন এর সুদীর্ঘ মিলিয়ন বছরকালের পরে এর বদলে কৃষিকাজভিত্তিক যে জীবনযাপন শুরু হয়ে গেছিল সেই কালপর্ব সম্পর্কিত হল এথনিক জাতি।  মোটামুটি ছয় হাজার বছর আগে শুরু হয়েছিল এই বৈশিষ্টের জীবন যাপন। আর যার প্রধান বৈশিষ্ট হল যাযাবর-গিরি ছেড়ে ভুমিতে থিতু হয়ে বসবাস; মানে, চাষবাস শিখে ফেলার পরের মানুষ-জীবন। কৃষিকাজভিত্তিক  জীবনযাপনের শুরু, এখান থেকে এথনিক জাত ধারণা মানুষের আবির্ভাব। আমরা কী খাই, কেমনে রেঁধে খাই, কী কালচার, ধর্মবোধ ও পালন ইত্যাদি সব এর অন্তর্ভুক্ত বৈশিষ্ট।  অন্যভাষায় এটাকে আমরা সিভিলাইজেশন এর শুরুও বলি। যেমন আমরা সিন্ধু সভ্যতা (Indus-Valley Civilization) এর অংশ; সেখান থেকে একটা উপ-বিভাগ ‘বাঙালি’; সেই “বাঙালি” এথনিক জাতির অংশ। বাঙালি আমাদের এথনিক জাতিগত নাম।  এবং আমাদের রাষ্ট্র হিসাবে যা পুর্ববঙ্গের বাঙালি সংখ্যাগরিষ্ট; যার এখনকার নাম বাংলাদেশ। আবার রাষ্ট্রগঠনের বিচারে এর ভিতরে অনেক ভিন্ন ভিন্ন এথনিক জনগোষ্ঠি যেমন বাঙালি হিন্দু, বাঙালি মুসলমান এবং অনেক ছোট ছোট মঙ্গোলয়েড [Mongoloid] এথনিক অরিজিনের মানুষ আছে। সাধারণ বিচারে আমরা সবাই সমতলভুমিতে বসবাসকারী অর্থে সমতলি। তবে মঙ্গোলয়েড [Mongoloid] এথনিক অরিজিনের মানুষদের একটা অংশ সমতলি নয় তুলনামূলক তারা পাহাড়ে বাস করে বলে অনেকে তাদের পাহাড়ী বলে থাকে। এরা অন্তত ১৯৯৭ সালের পরে নিজেরাই নিজেদেরকে পাহাড়ী বলেও ডেকেছে।
    রাষ্ট্র মূলত রাজনৈতিক বিচারে ভিত্তিতে গঠন হয় বলে ( মানে কেবল এথনিক বিচারেই নয়) এথনিক সহ আমাদের মধ্যে অন্য যতই ভিন্নতা যাই থাক, একই রাষ্ট্রের ভিতরের আমরা সবাই সম-মর্যাদার ও সম-অধিকারের নাগরিক।

    সবার আগে একটা সাবধানবাণীঃ
    এই আলোচনায় মানুষ যেই এথনিক বা রেসিয়াল [racial] অরিজিনের হোক না কেন কাউকেই কারো চেয়ে উঁচা-নিচা দেখা বা দেখানো যাবে না। ভাবা যাবে না। এটা বড় অপরাধ হবে। এই ভাবনাটা মনের পিছনে সবসময় জাগিয়ে রেখে, জীবন্ত রেখে তাই এই আলোচনাটা পড়তে হবে। এতে অনেক কিছুই ঠিকঠাক বুঝা হবে।

    অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, মঙ্গোলয়েড বলতে তারা প্রধানত পাহাড়ে বা উচু ভুমিতে যাদের শুরুর বসবাস; যদিও লম্বা কালপর্বে তারা ক্রমশ সমতলের দিকে ছড়িয়ে পড়েছিল, এরকম! মঙ্গোলয়েড ধারণাটা যত না ethonic পরিচয় ঘটিত এর চেয়ে এটা রেসিয়াল [racial] বিচার-বৈশিষ্ঠের এক পরিচয়। আসলে এটা কোন ভুগোলে (সমতলে না পাহাড়ে এভাবে কোন ভৌগলিক অবস্থানে) বাস করে সেটাই প্রধান করে দেখে একটা বিচার-বৈশিষ্ট। অক্সফোর্ড ভাষার ডেফিনেশন অনুসারে, এটা – “relating to the broad division of humankind including the indigenous peoples of East Asia, SE Asia, and the Arctic region of North America.”।

    এখানে এই আলোচনাটা শুরু করেছি যেখান থেকে,  সেটা ঠিক এথনিক বা রেসিয়াল অরিজিনের বিচার প্রসঙ্গে না; বরং এর চেয়েও কে কোথায় এই একালে (মানে ১৬০০ সালের পরে) রাষ্ট্র গড়েছে – রাষ্ট্র পত্তন করেছে – সেদিকে ফোকাস রেখে। মানে নিজ এথনিক ভুমিতে  সে রাষ্ট্র গড়েছে তা হ্যা কিংবা না এমন কিনা – এদিকে ফোকাস করে।

    আরেক ধরনের রাষ্ট্র পত্তন; মাস মাইগ্রেশনঃ
    এবার আরেক ধরনের রাষ্ট্র পত্তন বা গড়ার দিকে যাব। এর মূল বৈশিষ্ট হল এরা নিজ এথনিক ভুমির থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে পরিকল্পিত স্থানান্তর [মাইগ্রেশন বা migration] করে অন্য এথনিক জনগোষ্ঠির দেশে নিজ রাষ্ট্র গড়ে নিয়েছিল। এধরণের এখনকার সবচেয়ে ভাল উদাহরণ হল, আমেরিকা, কানাডা, অষ্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ইত্যাদি  রাষ্ট্র!
    যারা সকলেই পুরা লট ধরে এথনিক ইউরোপের বাসিন্দা যার আবার সংখ্যাগরিষ্ট অংশটাই বৃটিশ অরিজিন পরে অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের যারা এতে অংশ নিয়েছিল। ঐতিহাসিক নথিপত্র বলছে, বৃটিশ কোম্পানির জাহাজ ১৬০৭ সালে সর্বপ্রথম নর্থ আমেরিকা মানে এখন যেটা ইউএসএ এর এক অঙ্গরাজ্য ভার্জিনিয়াতে জাহাজ ভর্তি বৃটিশ গরীব কৃষক নিয়ে ল্যান্ড করেছিল। কৃষকদের বলা হয়েছিল মাঙনা আমেরিকায় তাদের নেয়া হবে, প্রচুর চাষাবাদের জমি দেয়া হবে সাথে চাষাবাদি-জীবনযাপনে্র জন্য শুরুর অর্থও দেওয়া হবে। অর্থাৎ উদ্দেশ্য পরিকল্পিত এক এথনিক মাইগ্রেশন।  মাইগ্রেশন এর বাংলা উদ্বাস্তু হলেও এখানে ব্যাপারটা উলটা। মাস (গণ) মাইগ্রেশনের লোকেরা এখন আমেরিকার নায়ক শুধু না, সারা দুনিয়ার নায়ক হয়ে থাকছিল যার প্রভাবই এখনও প্রবল!
    এখানে উভয় পক্ষ মানে, এই মাইগ্রশনে যে নিয়ে যাবার আয়োজন-খরচ করেছে আর যাকে (কৃষক) নিয়ে গেছে উভয়েই মূলত একই এথনিকগোষ্ঠি – বৃটিশ। কিন্তু উভয়ের আসল সম্পর্ক টা ঠিক এথনিক পরিচয়ের নয়। বরং এদুইয়ের বৃটিশ একপক্ষ (সংখ্যায় কম) অন্যের ভুখন্ড-জমিতে হয়েছে কলোনিদখলদার আর অন্য বৃটিশ পক্ষ হল যাদেরকে জাহাজ ভরে ঐ দখলি ভুমিতে নিয়ে ফেলা হয়েছে যাতে তারা চাষাবাদের দখলি জমিতে “প্রজা” হতে পারে!

    তাহলে ১৭৭৬ সালে আমেরিকান স্বাধীনতা, স্বাধীন রাষ্ট্র এসব কথার অর্থ কী?
    এর সোজা অর্থ হল, আমেরিকায় চাষাবাদের জমি দখলদার আর চাষাবাদের জমির প্রজা উভয়ের যারা এথনিকভাবে বৃটিশ তাদের দুই অংশের মধ্যে (প্রায় দেড়শ বছর পরে) পরস্পরের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু হয়েছিল। আর পরিণতিতে চাষাবাদের প্রজাদের বিজয় ঘটেছিল। আর এটাই ১৭৭৬ সালের স্বাধীন আমেরিকা! অর্থাৎ বৃটিশ বা ইউরোপীয় এথনিক অরিজিনের প্রজা কৃষকদের বিজয়-টাকে আমেরিকান স্বাধীনতা বলে আমরা জানি।
    [এই রচনা লিখার সময়ে তা সংক্ষেপ রাখার জন্য অনেক কিছুই বিস্তারে বলি নাই; অবশ্য তা আমার অন্য প্রসঙ্গের লেখায় আছে সেগুলো এড়িয়ে মূল প্রসঙ্গে চলে গেছি।]

    তাহলে স্থানীয় এথনিক – কথিত রেড ইন্ডিয়ান যারা – এরা কোথায় গেলো?
    সেটা বুঝতে গেলে, এই মাইগ্রেশন প্যাটার্ণটা বুঝতে হবে। জাহাজগুলো হবু প্রজাদের দখলিভুমিতে খালাস করে দিবার পরে প্রজারা স্থানীয় জমি বাছাবাছি আর বাড়িঘর স্থাপন চাষাবাদ ইত্যাদি করতে শুরুতে মনোযোগী হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয়রা (যাদেরকে কলোনিদখলদারদের ভাষায় দেয়া নাম রেড ইন্ডিয়ান) যেসব জমিতে আগেই বসবাস করছিল সেগুলা তো সব পরীক্ষিত চাষাবাদের [arable land] জমি। ফলে স্বভাবতই মাইগ্রেন্ট প্রজাদেরকে স্থানীয় রেড ইন্ডিয়ানদের সাথে রক্তক্ষয়ী মারামারিতে জড়িত হতে হয়েছিল, এতে অস্ত্র অবিকশিত বলে স্থানীয়দের পরাজয় ও ফলাফলে আপোষে স্থানীয়রা তাদেরকেই আরো গহীন বনাঞ্চলের দিকে সরে গিয়ে বসতি স্থাপন করা – এটাই ঘটেছিল। আর এটাই এখনকার কানাডা-আমেরিকার অতীত, পিছনকালের মুখ্য বৈশিষ্ট।

    আমরা এখন নর্থ আমেরিকা থেকে ল্যাটিন আমেরিকার দিকে যাব। এগুলো আবার বৃটিশ বা ফ্রেঞ্চ এরা নয় এই পুরা অঞ্চল্টাই স্প্যানিশ নয়ত পর্তুগীজ কলোনি দখলে চলে যায়, প্রায় পাশাপাশিই তবে বৃটিশদের থেকে কিছুটা আগে ১৪৯৩ সালে ক্যারিবীয় দ্বীপগুলো স্পানিশ কলোনি হবার মধ্য দিয়ে এটা শুরু হয়েছিল। যদিও একটা বড় ফারাক আছে এখানে, আসছি সেদিকে।

    বামপন্থিদের কল্যাণে আমরা কলোনি-সম্পর্কিত বিষয় খুব ভাল বুঝি বলে ধারণা আছে; যদিও কথা সত্য না। প্রধানত বৃটিশ সাথে সারা ইউরোপ যখন ব্যাপক কলোনি দখলে মেতে উঠেছিল এর শুরু বলেছি ১৬০৭ সাল। আর একই বৃটিশেরা অবিভক্ত-ইন্ডিয়াকেও কলোনি করার শুরু ১৭৫৭ সাল। মানে, প্রায় দেড়শ বছর পরে।

    তাহলে অবিভক্ত-ইন্ডিয়া কলোনিদখল হয়ে যাওয়া আর নর্থ আমেরিকার কলোনি হওয়া এদুইয়ের মধ্যে কী কোন ফারাক আছে?
    হা আছে। আর এটা খুবই গুরুত্বপুর্ণ ও প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন। এককথায় মূল ফারাক জাহাজ ভরে হবু-প্রজা নিয়ে যাওয়া! – এই ঘটনা-চিহ্ন বৃটিশেরা ইন্ডিয়া দখলের কালে জাহাজ ভরে বৃটিশ- কৃষক বা হবু প্রজা সাথে আনে নাই। অর্থাত নর্থ আমেরিকার ক্ষেত্রে ছিল কলোনিদখল ও মাইগ্রেশন দুটাই একসাথে। আর বৃটিশ-ইন্ডিয়া ছিল কেবল কলোনিদখল।
    এসবের সোজা মানে হল, আমেরিকা, কানাডা, অষ্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ইত্যাদি এরা হল কলোনিদখল ও মাইগ্রেশন দুটাই একসাথে ঘটাবার আদর্শ উদাহরণ। আর স্থানীয় ট্রাইবাল জনগোষ্ঠিকে মেরে কেটে এরা একদম প্রান্তিক মানুষ করে দেয়া হয়েছিল শুধু তাই না তারা মাইগ্রেটেড দখলদারদের গড়া শহরের কেউ না; অস্তিত্ববিহীন এমন করে রেখে দিয়েছিল।

    এদিকে ল্যাটিন আমেরিকা এটা নিজেই সুনির্দিষ্ট কিছুটা আরেকটা ধরনের। যেমন এটা মূলত বৃটিশ-ইন্ডিয়ার মতই; মানে, জাহাজভরা মাইগ্রেশন আনা নয়, কেবল কলোনিদখল। কিন্তু সমস্যা আরেকটা এবং বড় সমস্যা। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আবার দুইটা ধরণ।  এর একদল যারা আমাদের বৃটিশ-ইন্ডিয়ার চোখে নেটিভ এই অর্থে যে স্থানীয় আর যাদের সাথে ছিল বৃটিশদের উঠা-বসা আর উচা-নিচা বজায় রেখেই একই শহরে বসবাস ছিল এরাই নেটিভ তেমন। কিন্তু এর বাইরেও এক বিরাট ট্রাইব জনগোষ্ঠি এবং ততোধিক বনাঞ্চল ও বনাঞ্চলের বাসিন্দা থেকে গেছিল। যারা ঠিক বৃটিশদের বেলায় স্থানীয় নেটিভ বলতে যা বুঝায় ঠিক তা্রা নয়। আর বনাঞ্চলের বাসিন্দা হলেও সংখ্যায় তারা বিরাট!

    আসলে ঘটনা আরেকটু খুলে বলতে হবে। ঘটনাটা হল, আগে বলেছিলামঃ আমেরিকা, কানাডা, অষ্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ইত্যাদি এরা শুধু কলোনিদখল ও মাইগ্রেশন দুটাই একসাথে ঘটাবার আদর্শ উদাহরণই নয়। এরা স্থানীয় ট্রাইবাল জনগোষ্ঠিকে মেরে কেটে এরা একদম প্রান্তিক মানুষ শুধু না তারা মাইগ্রেটেড দখলদারদের গড়া শহরের কেউ না; অস্তিত্ববিহীন করে রেখে দিয়েছিল।
    এর বাইরেও আরো ঘটনা আছে। আর এবার পুরা ঘটনায় শুধু উপরের চার দেশ নয় সাথে ল্যাটিন আমেরিকাকেও সামিল করে বুঝতে হবে। সেই তথ্যটা হল, মাইগ্রেন্টেরা শুধু স্থানিয় রেড ইন্ডিয়ান টাইপের লোকেদের বসতভিটা চাষাবাদের ভাল ও তৈরি জমিই দখল নিয়ে নিয়েছিল তাই না দ্বিতীয় পর্বে তা আরো ব্যাপক হয়েছিল। একটা আগে বলেছি যে তাতে স্থানীয় ট্রাইবাল জনগোষ্ঠিকে আরো প্রান্তিক এলাকায় বনাঞ্চলের গহীনে ঠেলে দিয়েছিল।

    আর এবার দ্বিতীয় পর্বের উচ্ছেদের কথা শুনেন। দু-চারশ বছর পরে কলোনি মাইগ্রেন্টরাই (আমেরিকার মত) রাষ্ট্র বানায় ফেললে এরপর তাদের চোখ পড়ে যে আরো গহীন বনাঞ্চলের মাটির নিচের সম্পদের (তেল বা খনিজ) প্রতি। ফলে একারণে এবার গহীন বনাঞ্চল দখল ও এক্সপ্লোর বা খোড়াখুড়ি করা অঞ্চলের লোভে এবার তারা আবার আরেক ব্যাপক উচ্ছেদ ঘটিয়েছিল।

    এবার আমাদের মূল প্রসঙ্গঃ
    গহীন বনাঞ্চলের মাটির নিচের সম্পদের (তেল বা খনিজ) খোঁজে দ্বিতীয় উচ্ছেদ থেকেই এর পালটা ব্যাপক প্রতিক্রিয়াটাই হয়ে উঠেছিল  গ্লোবাল হয়ে। কারণ ততদিনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে জাতিসংঘ (১৯৪৫) গঠিত হয়ে গেছে।
    তাই মোটামুটি ১৯৫৫ সালের পর থেকেই এমন উচ্ছেদের বিরুদ্ধে কী করা যায় তা জাতিসংঘের আলোচনায় আসতে থাকে। আসলে ল্যাটিন আমেরিকার ক্ষেত্রে সেখানকার ঘটনায় এর প্রতিক্রিয়া হয়েছিল সবচেয়ে বেশি। আর এই প্রসঙ্গটা জাতিসংঘের বিভিন্ন ফোরামে উঠতে থাকে।

    ওদিকে জাতিসংঘের আরেক আভ্যন্তরীণ গঠন সমস্যা ছিল – হিউম্যান রাইট ইস্যুতে। সমস্যার উতস হল, কমিউনিস্ট সদস্য রাষ্ট্রগুলো “হিউম্যান রাইট” মানে না’; এটা তাদের ইস্যু বা তাদের রাষ্ট্রের ইস্যু মনে করে না তারা এই যুক্তিতে। যদিও কমিউনিস্টদেরকেও সাথে নিয়েই তো রুজভেল্ট জাতিসংঘ গড়ে তুলেছিলেন এবং এছাড়াও ১৯৪৮ সালে ইউএন হিউম্যান রাইট চার্টার ঘোষিত হয়েছিল।  তাই এমন বাস্তবতায়  কলোনিদখল ও মাইগ্রেশন ইস্যুতে হাত দিবার আগেই জাতিসংঘ কমিউনিস্ট- ডিফারেন্স যতটা সম্ভব কমানো মানে মেরামত ও কমিয়ে আনতে  উদ্যোগ নিতে হয়েছিল।  সেসব বিস্তারিত দিকে এখানে যাচ্ছি না। তাই প্রতিক্রিয়া আনতে জাতিসংঘের দেরি হয়েছিল।
    এবার এক ঝটকায় বলে দেই অবশেষে ২০০৭ সালে জাতিসংঘের  United Nations Declaration on the Rights of Indigenous Peoples – ঘোষিত হয়েছিল; আর সেটা হয়েছিল অধিকারের দিক থেকে বা বলা যায় ১৯৪৮ সালের হিউম্যান রাইট চার্টারের মত করে। যার মূল উদ্দেশ্য ছিল, কলোনিদখল ও মাইগ্রেশন এককালের এদুই ঘটনা ও এর প্রেক্ষিতে দ্বিতীয় পর্যায়ের  ট্রাইবাল জনগোষ্ঠিকে আরেক উচ্ছেদের হাত থেকে রক্ষা করা।

    এখন যারা আরও বিস্তারে যেতে বুঝতে চান আমি মূল ঘোষণাটার লিঙ্ক দিয়ে রেখেছি উপরে সেখান থেকে দেখে নিতে পারেন। এখন আমি এখানে নিচে কেবল মূলকথাটা নিজ ভাষায় তুলে ধরব।
    উপরের ঘোষণার শিরোনামের মধ্যেই বলা আছে এটা Rights of Indigenous Peoples – বা ইন্ডিজিনিয়াস জনগণের অধিকার সংক্রান্ত ঘোষণা। ফলে প্রথম সমস্যা হল,  ইন্ডিজিনিয়াস [Indigenous] কাদেরকে গণ্য করা হবে। এই Indigenous এর বাংলা অনেকে করেছেন আদিবাসী। অনেকে ভুমিপুত্র ইত্যাদি এমন কিছুওও অনেকে করে থাকেন। বাংলাদেশে চাতুরিটা এখান থেকেই।

    এখানে খেয়াল রাখতে হবে এই Indigenous শব্দটা এসেছে মাইগ্রেশন এর বিপরীত শব্দ হিসাবে – কিন্তু আমেরিকান মাইগ্রেশন সমস্যার প্রেক্ষিতে। কিন্তু বাংলাদেশে এই আমেরিকান মহাদেশীয় কলোনিদখল ও মাইগ্রেশন  – এই বিশেষ প্রেক্ষিত থেকে আলাদা করে আনা হয়েছে। 
    মানে ইউরোপীয়  কলোনিদখল ও মাইগ্রেশন এদুইটা একসাথে চলার কালে যারা সারা আমেরিকাতে (বা এমন ভুখন্ডে) ইউরোপীয় এথনিক মাইগ্রশন যেটা হয়েছিল সেই সাপেক্ষে এই ইন্ডিজিনিয়াস রাইটের সুত্রপাত হলেও বাংলাদেশের পাহাড়িরা আকমেরিকান প্রেক্ষিত ফেলে দিয়েই এটা বাংলাদেশে প্রয়োগ করতে চায়। আবার শুধু কোন ভুখন্ডের আগের বাসিন্দা কারা ছিল সেটা বুঝাতেই এই Indigenous বা যা থেকে বাংলায় আদিবাসী অর্থ করেছেন অনেক।

     

    এখন আমাদের পাহাড়ি জনগোষ্ঠির দাবি তাদেরকে সরকারীভাবে তাদেরকে আদিবাসী বলে পরিচয়ে ডাকতে হবে।
    কিন্তু কেন এমনটা হল? আর তাদের এই দাবি কবে থেকে?

     

    কিন্তু বাংলাদেশে পাহাড়ি জনগোষ্ঠি এই Indigenous অর্থে নিজেদের আদিবাসী বলে দাবি করা শুরু করেছে।  যেখানে ঠিক যেমন এখনকার নর্থ বা আমেরিকা রাষ্ট্রে ইউরোপীয় এথনিক অরিজিনের সাদা আমেরিকান দেরকে  সহজেই  স্বীকার করতেই হবে যে তারা আমেরিকায় Indigenous বলে কেউ নয়।  Indigenous বলতে যে কোন সাদা আমেরিকানকে স্বীকার করতেই হবে যে Indigenous হল একমাত্র রেড ইন্ডিয়ানেরা। কিন্তু এই অবস্থাটা কী বাংলাদেশেও?

    অর্থাৎ জাতিসংঘের Indigenous রাইট ঘোষণা টা যে অর্থে সাদা আমেরিকানেরাও নিজেদের Indigenous মনে করার সুযোগ নাই। কিন্তু সেই একই অর্থে বাংলাদেশের পাহাড়িরা কী Indigenous বা আদিবাসী? কোনভাবেই না। কারণ, বাঙালিরা নিজ এই ভুখন্ডে মাইগ্রেন্ট নয়।  আর সবচেয়ে বড় কথা ইউএন এর Indigenous রাইট ঘোষণা টা যে অর্থে সেই অর্থে বাংলাদেশে না পাহাড়িরা রেড ইন্ডিয়ানদের মত আদিবাসী, না বাঙালিরা সাদা আমেরিকানদের মত ইউরোপীয়ান মাইগ্রেন্ট! 
    অথচ বাংলাদেশে পাহাড়ি জনগোষ্ঠি নিজেদেরকে এই Indigenous অর্থে নিজেদের আদিবাসী দাবি মানে হল আমরা যেন মাইগ্রেন্ট – মাইগ্রেশন করে বাংলাদেশে এসেছি আর পাহাড়িরা হল এর আদিবাসী বা ভুমিপুত্র!!!!!

     

    বাংলাদেশে না পাহাড়িরা রেড ইন্ডিয়ানদের মত আদিবাসী, না বাঙালিরা সাদা আমেরিকানদের মত ইউরোপীয়ান বা কোন মাইগ্রেন্ট! 

     

    কিন্তু সাবধান, সবচেয়ে রহস্যময় জায়গা হল,  পাহাড়িরা তাদেরকে আদিবাসী মানে Indigenous বলে ঘোষণা দিতে বাংলাদেশ সরকারের কাছেই দাবি জানাচ্ছে কেন?
    কারণ, কে Indigenous  এনিয়ে জাতিসংঘের স্বীকৃত কোন সংজ্ঞা নাই। তাই বাংলাদেশ সরকার নিজেই যদি পাহাড়িদের Indigenous জনগোষ্ঠি বলে স্বীকার করে নেয় তবে পাহাড়িরা এবার জাতিসংঘকে তারা আদিবাসী (রেড ইন্ডিয়ানদের মত) সার্টিফিকেট দেখায় কাজটা সহজ করে নিতে পারবে;  ফলে তাদের দাবি বাস্তবায়ন করতে পাহাড়িরা এরপর জাতিসংঘের কাছে দাবি জানাবে সংজ্ঞার সমস্যা মিটে গেছে। তাই  সারা বাংলাদেশ বা এর কোন ভুখন্ড পাহাড়িদের রাষ্ট-ভুখন্ড বলে  (জাতিসংঘ মিশন বসিয়ে) তা বুঝিয়ে দিয়ে যাবে। এই হল পাহাড়িদের মনোবাসনা। কিন্তু বাঙালি এথনিক গোষ্ঠি তারা কেন নিজেদেরকে বাংলাদেশের রেড ইন্ডিয়ান যেনবা তা কেন সাজাবে এর কোন ব্যাখ্যা কারো কাছে নাই!

    সেকারণেই হাসিনা সরকার এসব “ষড়যন্ত্র” থেকে দূরে থাকতে ২০১০ সাল থেকেই (দীপুমনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমল) আদিবাসী বলা যাবে না বলে ইন্টারনাল নির্দেশ জারি করে জাতিসংঘের বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি পর্যন্ত।  যদিও ১৯৯৭ সাল থেকেই জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যাবে বলে সন্তু লারমা এন্ড গং দের পক্ষে এলাইন হয়ে থাকার নীতি চালিয়ে গেছে। আর এই ষড়যন্ত্র বাংলাদেশে এনেছে কথিত রাজা দেবাশীষ লন্ডনে ব্যারিস্টারি পড়তে গিয়ে জেনেছিলেন সেখানকার কিছু ষড়যন্ত্রকারি যাদের বাইরের পরিচয় তারা নাকি মানবাধিকার উকিল!

    কেন ষড়যন্ত্র বলছিঃ
    স্বাধীন বাংলাদেশে হবার পরের থেকে যদি ধরি পাহাড়িরা ইন্ডিয়ানদের কবলে পড়েছে তাদের হাতের পুতুল হয়েছে কমপক্ষে সেই ১৯৭৫ সাল থেকে। শেখ মুজিবের খুনের পরে  ইন্দিরা গান্ধীই শেখ মুজিবের ভুল [তোরা বাঙালি হয়ে যা] ও সৃষ্ট জটিলতাকে ব্যবহার করে পাহাড়িদেরকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলেছিল যা এখনও ইন্ডিয়া ব্যবহার করে চলেছে। আর রাষ্ট্র আর কলোনিদখলের ইতিহাস না জেনে যা কিছুই ইন্ডিয়ান অবস্থান তা নিশ্চয় প্রগতিশীল এই বুঝ থেকে প্রগতিশীলেরা  Indigenous বা আদিবাসী দাবির পক্ষে।  ফলে জেনে না জেনে কথিত প্রগতিশীলেরা এর পক্ষে! যদিও এদের  নেতারা (বিশ্ব শিক্ষক, এনজিও মালিকেরা) কিন্তু জেনেশুনেই ইন্ডিয়ানদের হাতিয়ার এজেন্ট! এরা এখনকার বাংলাদেশে ইন্ডিয়ান আধিপত্য ফিরিয়ে আনা চক্রে অংশ নিয়েছে। ইউনুস সরকারকে ক্রমাগত ডিস্টার্বেন্সের মধ্যে রাখা যার প্রধান উদ্দেশ্য!   আর সাধারণভাবে ইন্ডিয়ার উদ্দেশ্য হল, পাহাড়িরা যেকোন কিছুতে (অস্ত্র-অর্থ সবধরণের) সাপোর্ট করে বাংলাদেশকে বিব্রত করা। ইন্ডিয়ার অনুমান এটা করলে তা ভারতের নর্থ-ইস্ট সামলাতে মাইলেজ পাবে।  অনেক সময় বিনিময় মুল্যও এতে পারে ইত্যাদি!
    মজার কথা হল আজ TIB এর দাবি করেছে Indigenous বা আদিবাসী দাবি না মানাটা নাকি কর্তৃত্ববাদী সরকারের কাজ।

    এমনটা অবশ্য বেশির ভাগ অথাকথিত উদার মানুষের ধারণা, আদিবাসী বলার দাবি এটা যেন বাচ্চাদের চকলেট চাওয়ার কোন আবদার  মানে, – “দিয়ে দাও না, দিলে কী হয়” ধরনের ধারণা।  মানে হল জাতিসংঘের এপ্রসঙ্গে (Indigenous) ও কোন প্রেক্ষিত পটভুমিতে এই ঘোষণা সে  সম্পর্কে তারা ওয়াকিবহাল তা মনে হয় না।  অথবা কেন আমাদের পাহাড়িরা আদিবাসী সরকারী স্বীকৃতি চাচ্ছে তা এরা জানতেীদের কোন কৌতুহলও নাই। সবই উদারতা যেন দিয়ে দেও না কী হয়। অথচ (কর্মিরা না জানলেও) এর নেতারা সকলের জেনেশুনেই ইন্ডিইয়ার এজেন্ডায় দালালিতে।   ফলে এরা বিশেষ করে এই সময়ে এরা জেনে না জেনে কার্যত ইন্ডিয়ান খেদমতগার হয়ে চলছে।
    আবার ১৫ লাখের আশেপাশের এই ভুখন্ড (আমাদের একটা বড় উপজেলার কাছাকাছি) এর অন্যান্য (ভুমি বিতর্ক সহ) যেসব দাবি সেগুলো মিটিয়ে ফেলা এবং একটা শক্ত অর্থনৈতিক ভিত্তির উপর পাহাড়ি জনগোষ্ঠিকে দাড় করিয়ে দেয়া তেমন অমীমাংসেয় কোন সমস্যাই না।  কিন্তু কার সাথে আমরা ডিল করব? যেখানে তথাকথিত জুম্মুল্যান্ডের নামে ভারতীয় হাতের পুতুল হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।  এদিকে ইন্ডিয়া বাংলাদেশে আধিপত্য ফেরত চায় অন্যদিকে তার নর্থ ইস্টের সমস্যায় আমাদের ব্যবহার করতে চায় পাহাড়িদেরকে নিয়ন্ত্রণ করে।

    এখন কিছু কথা একদম সোজাঃ
    পাহাড়িরা যদি একবার মূল্যায়ন করে দেখত এতদিন ধরে একাজে তাদের আন্দোলনের লাভক্ষতি কী হয়েছে।
    এতদিন বলতে কিন্তু এটা অনেক পুরানা সেই ১৯৬২ সালের আশেপাশে আয়ুব খান কাপ্তাই নদীতে বাধ দিয়ে পানিবিদ্যুত বের করার খায়েস থেকে। সেকালে পরিবেশ বলে ধারণা তেমন কিছু ছিল না। আর এতে পরিবেশগত ক্ষতিও কম ছিল না। হ্রদের পানি আটকানোতে পানির স্থায়ী উচ্চতায় রাজার ঘরবাড়ি-সহ লেকের আশেপাশে সব পানির নিচে চলে গেছিল। সব সমসয়া কিন্তু এটুকুর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। যেটুক বাসিন্দা এতে উচ্ছেদ হয়েছিল তাদের টাইবাল-এথনিক অপর অংশ মেঘালয়ের বাসিন্দা বলে বাংলাদেশের অংশ ক্রমশ সেখানে গিয়েই থিতু হয়েছিল। আর এখন ভারতের সুপ্রীম কোর্টের এক রায়ে এনিয়ে কোন বিতর্ক অস্থিরতা এখন আর নাই।
    আর আয়ুবের শখের এই পানিবিদ্যুত ছিল মাত্র ৯০ মেগাওয়াটের যা একালে বাংলাদেশের চাহিদার তুলনায় কিছুই না – জাপার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ কে হাসিনা যে উপহার দিয়ে ঐ নেতাকে কিনে পকেটে রেখেছিল সেটা ছিল ১০০ মেগাওয়াতের এক রেন্টাল বিদ্যুৎ। ফলে কাপ্তাই বাধ এখন ভেঙ্গে দিলেও বাংলাদেশের বিদ্যুতে এর প্রভাব নাই। আর পানি কমে যাওয়াতে এর উতপাদনও এখন তেমন নয়; খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি! কিন্তু কেন বাংলাদেশে এসব কারেকশনে যাবে? আর সবচেয়ে বড়কথা কার সাথে নিগোশিয়েশন করে সব বিতর্ক ও বিবাদ মিটিয়ে ফেলবে??? কারণ, পাহাড়ী নেতারা জুম্মল্যান্ডের স্বপ্নে বিভোর আর ইন্ডিয়ার পুতুল হয়ে থাকার কবলে থাকতেই বেশি পছন্দ।

    যেকথা বলছিলাম পাহাড়িদের এতদিনে লাভ-লোকশান কী?
    তাদের যে ভুমি সমস্যা এটা আগে কোনদিনই ছিল না। এখানে আগে মানে? আগে মানে ১৯৭৫ সালের আগে।
    সোজাকথায়, ১৯৬২ সালে বাধ দেওয়ার সমস্যা মিটাতে গিয়ে এবার তারা নিজ চাষাবাদের জায়গা জমি হারিয়েছে বা বিতর্কিত হয়ে আছে। অর্থাৎ সমস্যা মিটবার বদলে বেড়েছে আর তা অনিশ্চিত হয়েছে। ১৯৭৫ সালের ইন্দিরার প্ররোচনায় বাংলাদেশ ত্যাগ করে ফরে ভারতীয় ট্রেনিং ও অস্ত্রে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে শশস্ত্র আক্রমণ এর পথে তারা গিয়েছে তাতে ইন্ডিয়ার হয়ত লাভ হয়েছে। আর পাহাড়িদের হয়েছে জমি হারানোর ক্ষতি। আবার কাজ ফুরিয়ে গেলে ইন্ডিয়া তাদেরকে বাংলাদেশের হাতে ডাম্প করে দিয়ে গেছে ১৯৯৭ সালে! নিচা হয়ে তাদের চুক্তি করতে হয়েছে। এরপর নিয়মিত তারা বাংলাদেশের কাছে ভাল দায়ীত্বশীল অপরপক্ষ কখনই হতে পারে নাই বা চায় নাই মূলত ভারতের পুতুল হয়ে থাকার কারনে।  ভাল নেতৃত্ব না হবার কারণে, ভুয়া স্বপ্ন দেখা আর ভারতের পুতুল হয়ে আয়েসী জীবনের নেতৃত্ব। এটা খুবই সম্ভব পাহাড়িদের ভুমিসমস্যা একবছরের মধ্যে আইনি দলিল হাতে ধরিয়ে মীমাংসা করে ফেলা, একধণের স্বায়ত্বশাসন, কালচারাল বৈশিষ্ট সংরক্ষণ এবং সর্বোপরি মাত্র ১৫ লাখের মত লোকেদেরকে বাকি ১৬-১৮ কোটি সমতল বাসিন্দাদের সাথে পণ্য-বিনিময় সম্পর্ক গড়ে তুললে কাদের বেশি লাভ হবে?  পনেরো লাখ লোক ১৬ কোটি লোকের বাজার পাবে। কিন্তু কোন দায়ীত্বশীল অপরপক্ষ না থাকলে এর কিছুই হবে না। হচ্ছে না।
    এত কিছু সংঘাতের মাঝেও তারা কেবল চাকমা জনগোষ্ঠির দিকে তাকায় তাহলে বুঝবে শিক্ষা ও পেশায় দক্ষ জনগোষ্ঠি  হিসাবে তাদের উত্থান ও বিকাশ বাকি সকল পাহাড়িদের কাছে ঈর্ষণীয়! এক ৫% কোটার সুবিধা থেকেই তারা স্যাচুরেটেড। ইতোমধ্যেই পাহাড়ি কৃষিপণ্য ঢাকার বাজারে এক বিরাট ঘটনা হয়ে দাড়িয়েছে! সেজন্য আলাপ-আলোচনা দরকার – দায়ীত্বশীল অপরপক্ষ দরকার! কোথায় সেটা?
    সেই বাধের ইস্যু এখন সব পক্ষের কাছে অপ্রয়োজনীয়, কোন ইস্যুই না। কোন ফোকাস-ই নয়। ১৯৭৫ সালে ইন্ডিয়ায় যাওয়া এই সিদ্ধান্ত তাদের যে নেতৃত্ব নিয়েছিল তারা কী এর দায়দায়ীত্ব নিবে?  কিন্তু তা নতুন যেসব ক্ষত তৈরি হয়েছে ক্রমাগত একালের ফোকাস সেখানেই।  এর মানে এককথায় বললে, ১৯৭৫ সালের আগেও তারা এখনকার মত এত ক্ষতিকর ও কঠিন জীবনে ছিল না! তাহলে ইন্ডিয়ায় যাওয়া- সশস্ত্র সংগ্রাম এসবের এই সিদ্ধান্তের মুল্যায়ন কী, পিছন ফিরে দেখার হিম্মত কী তাদের হবে?

    পাহাড়ি নেতারা ভেবেছিল হাসিনা তাদের ত্রাতা কারণ হাসিনা জিয়াউর রহমান বা আমাদের আর্মির বিরুদ্ধে তারা একে অপরকে ব্যবহার করতে পারবে। এখান থেকে পাহাড়ি ইস্যুতে প্রগতিবাদীর প্রবেশ ঘটেছিল। কিন্তু ২০১০ সালের হাসিনা? তিনি এই মামার বাড়ির আব্দারের মত আদিবাসী বলে ডেকে বাংলাদেশ নিজেই নিজ দেশ উদ্বাস্ত বা মাইগ্রেন্টের পরিচয় নিবে – এটা কী হাসিনা করতে রাজি হয়েছিল?

    নিচে ২০২২ সালের এক নোটিশটা পড়ে দেখতে পারেন

    এককথায় পাহাড়ি নেতৃত্ব নিজেও নিজেদেরকে  রিভিউ-মুল্যায়ন করতে অক্ষম। বরং যেন তারা প্রগতিশীলতার নামে হিন্দুত্ববাদী বা ইন্ডিয়ার হাতের পুতুল হয়ে থাকতেই বেশি পছন্দ করে। অথচ পাহাড়ীদের অর্জন কী? তারা এতদিনে আগিয়েছে নাকি ক্রমশ আরো পিছয়ে গেছে???
    পাহাড়ি নেতৃত্বের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা ছাড়াই, বর্তমানের ব্বাংলাদেশে যে ডিস্টার্বেন্স তৈরি এটাও পুরাটাই ইন্ডিয়ার পকেটেই যাবে! কিন্তু কে এসবের মুল্যায়ন করবে????

     

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   সন্ধ্যা ০৭ঃ ৩৯    ১৮  জানুয়ারি ২০২৫