Category: INDIA

  • মক্কা জোট নিয়ে বাসনা বনাম বাস্তবতা

    মক্কা জোট নিয়ে বাসনা বনাম বাস্তবতা
    গৌতম দাস
    ০৪ সেপ্টে. ২০২৬
    https://wp.me/p1sCvy-6C5

    এটা আমাদের bdnews24 থেকে নেয়া ছবি। অভিযোগ মোদিকে বাদ দেয়া হয়েছে শাহবাজ শরীফকে মধ্যখানে দেখাতে…..Pakistan crops Modi, Iran’s Pezeshkian from SCO photo to centre Shehbaz

     

    [এটা মক্কা জোট নিয়ে আমার নতুন কোন অবস্থান না, অনেকে কিছু প্রশ্ন রেখেছেন এর ব্যাখ্যা মাত্র! ]

     

    “চাহানা সে হর কৌয়ি আপনা না-হি হোতি” ….
    এক্সপেক্ট বা আশা, বাসনা করলেই সেটা নিজের হয় না; যেটা আমার বাসনা তা আমার ইচ্ছা মোতাবেক বাস্তব হয়ে যায় না। স্বপ্ন-কল্পনা মোতাবেক বাস্তবতা হয় না। কোনটা আমরা কামনা মানে এক স্বপ্ন-কল্পনা মাত্র কিন্তু বাস্তব না – এই হুশ হারানো যাবে না! 

    বুশের ওয়ার অন টেররের যুগটা অন্তত মুসলমানদের কাছে আসলে কী ছিলঃ
    ওয়ার অন টেরর এর যুগ মানে ২০০১ সালের শেষের দিকে সারা দুনিয়ার মুসলমানদের উপর পশ্চিমা বিশেষত আমেরিকান রাষ্ট্র এর দিক থেকে যখন চরম নিপীড়ন নেমে এসেছিল – সেটাই এই ওয়ার অন টেরর এর যুগ। আর এটা চলেছিল বলা যায় ২০২১ সালে আগষ্ট পর্যন্ত। এই সময় পর্যন্ত শেষে (২০২১ সালে) আমেরিকান আর্মি আফগানিস্তানে তালেবানদের সাথে চুক্তি করে পরে কোনমতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে পালিয়েছিল। মোটামুটি এরপরেই বলা যায় দুনিয়ার মুসলমানদের উপর নির্মম নিপীড়ন ক্রমশ কমতে থাকে, তবু এখন একেবারে চলে গেছে তা বলা যাবে না।
    আমেরিকার টুইন টাওয়ারের হামলা বা ৯/১১ এর উসিলায় প্রেসিডেন্ট (জুনিয়র) বুশ এই ওয়ার অন টেরর এর দুনিয়াব্যাপী মুসলমানদের উপর যুদ্ধ-ঘোষণার এক চরম নিপীড়ন এর যাত্রা শুরু করেছিলেন।  সব ক্রিয়ারই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া থাকে!

    ক্রিয়ার বিপরীত ও সমান প্রতিক্রিয়াঃ
    এখানেও তার ব্যতিক্রম হয় নাই! আমেরিকার টুইন টাওয়ারে হামলা বা ৯/১১ এর হামলায় যে সরকারি মামলা হয়েছিল তাতে যাদেরকে আসামি করা হয়েছিল তারা মোট মাত্র ১৯জন। যার মধ্যে সম্ভবত একজনও আফগানি নন! তবু আফগানিস্তানেই প্রথম আমেরিকান সেনারা হামলা করে তা দখল করে নিয়েছিল যা বিশ বছর পরে ২০২১ সালে এসে ছেড়ে যায়।
    এটা আমেরিকান নানান থিঙ্কট্যাঙ্ক এরই বক্তব্য যে,  মামলার ঐ ১৯ আসামিকে দুনিয়ার যেখানে পাওয়া যায় ধরে নিয়ে এসে আমেরিকায় বিচার করলেই ত যথেষ্ট হত। কিন্তু বুশ সেপথে গেলেন না কেন?  কেন ৯/১১ কে ওয়ার অন টেরর এর পথে যাবার উসিলা বানালেন? কারণ, এটা আমাদের না বুঝার কিছু নাই যে “টুইন টাওয়ারে” হামলা মূলত তাদের সম্মান শ্রেষ্ঠত্ববোধে আঘাত দিয়েছে। ঠিক তাও না, বরং এভাবে ব্যাখ্যা করে এক মেরুর দুনিয়া শাসন করতে পারবেন এখন থেকে এই লোভ রিপাবলিকানদের মনে গোপন বাসনা হয়ে জেঁকে বসেছিল। এনিয়ে বিস্তারিত পরে কখনও!
    সেজন্য ঐ ১৯জনকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসাটাই অনেক যথেষ্ট হতে পারত তা জানলেও কিন্তু বুশ সেটাকে প্রতিহিংসায় দুনিয়াব্যাপী মুসলমানদের উপর যুদ্ধ-ঘোষণার এক চরম বিষাক্ত নিপীড়ন এর যাত্রা শুরু করেছিলেন। যেন সেটা ছিল সমগ্র এথনিক মুসলমান ধর্মীয়-জাত এর বিরুদ্ধে লড়াই। এভাবেই প্রেসিডেন্ট বুশ এই নির্মুলের অপরাধ ঘটিয়েছিলেন।  অথচ আমেরিকার নিজস্ব আইন বা কনষ্টিটিশন কোন এথনিক বিভক্তি বা কাউকে এথনিক শত্রুজ্ঞান করা এটা অনুমোদন করে না। অথচ ততদিনে মেজর আমেরিকান জনমত বুশ ততদিনে নিজ নীতির পক্ষে জাগিয়ে ফেলেছিলেন। তাতে আমেরিকান আইন ঐ মামলায় ১৯ জন আসামির বাইরে বিশতম ব্যক্তিকে হত্যা বা বিচারের অনুমোদন দেয় না- তা সত্য হলেও।

    কোন ক্রিয়া যতই ‘জ্ঞানবুদ্ধি-হীন’ যথেষ্ট ‘সাফাই-যুক্তিহীন’ হয় তাতে বিপরীত এর চরমতম প্রতিক্রিয়াও সে রকমই হয়। মূল কারণ কোন হিতাহিত জ্ঞান শুন্য হয়ে সমগ্র মানবজাতির স্বার্থ উপেক্ষা করে কেবল একটা এথনিক-ধর্মীয় গোষ্ঠিকে নির্মুল-উতখাতের পরিণতি কী হয় তা একেবারেই বিবেচনা না নলে তো এমনই হবে।
    আমরা খুব ভাল করেই চিনি এই “এথনিক নির্মুল” শব্দের অর্থ ও পরিণতি কেমন হয়; শাহরিয়ার কবির এখনও আইসিটি কোর্টে পেটে বেল্ট বেধে আসা-যাওয়া করতেছে! সম্ভবত স্বাভাবিক মৃত্যুর আগে পর্যন্ত এটাই তাকে করে যেতে হবে। তাঁর প্রায়শ্চিত্ত হয়ত এভাবেই বেঁচে থাকা অবস্থায় সম্পন্ন হবে! জাতিসংঘের  আইসিসি কোর্টও তাই “এথনিক নির্মুল” বা “এথনিক ক্লিনজিং (ethnic cleansing) বা বাংলা করে বললে, একটা এথনিক মানবগোষ্ঠিকে মুছে ফেলা বা ফেলার চেষ্টা – এই অপরাধকে সর্বোচ্চ শাস্তির অপরাধ গণ্য করেছে। এর মূল কারণ, নির্মুলের ধারণাটা খুবই ছোঁয়াচে। কোন একটা এথনিক গোষ্ঠিকে নির্মুল করার চেষ্টা মানে আত্মরক্ষায় সেও আপনাকে নির্মুল করে বাঁচবার চেষ্টাই করবে। আর একবার যদি এই পরস্পরকে নির্মুল করা শুরু করে দেই তবে এটা দুনিয়াতে আর কোন এথনিক গোষ্ঠি বেঁচে থাকবে না! এমন অবস্থায় দুনিয়া চলে যেতে পারে! আল্লাহর দুনিয়ায় ‘মানব প্রজাতি (human species)’ বলে কিছু আর বেঁচে থাকবে না! এটা এতই ভয়ংকর আর তাই এতই ছোঁয়াচে উস্কানি! কারণ, সোজা যে  যুক্তিটা প্রথমে মানুষের মাথায় কাজ করে যে আমাকে আমার প্রজাতি (এখানে ধর্মীয় এথনিক জাতকে) নির্মুল করতে আসবে আমার তো তাকেই নির্মুল করা ছাড়া রাস্তা নাই। এমনটাই মাথায় আসে। সাথে এটা ভুলে গিয়ে যে এই উস্কানি ভীষণ ছোঁয়াচে যার পরিণতি হবে আল্লাহর দুনিয়ায় ‘মানব প্রজাতি (human species)’ বলে কিছু-কেউ আর বেঁচে থাকবে না! কিন্তু একথা মাথা ঠান্ডা হলে তবেই না চিন্তার সুযোগ আসবে! মানে এখনই আমাকে কেউ তাড়া করছে না একটু সাময়িক বিরতি পেলে তখন চিন্তা করলে হয়ত বুঝা যেতে পারে। কিন্তু সব অঘটন এর আগে শেষ হয়ে যেতে পারে!

    এই হয়ত-টা ঘটে নাই। আমরাও এর প্রতিকার হিসাবে, এক মুসলমানের দুনিয়া বা কেবল মুসলমানের দুনিয়া কায়েম করা ছাড়া অন্য কোন দুনিয়ার কল্পনা আর আমাদের মাথায় কাজ করে নাই।
    এই বোধ এখনও আমাদের মাথায় কাজ করে তবে সময়ে সময়ে, বিশেষ করে যখন আমাদেরকে যে কোন ‘অনিরাপদ-বোধ’ এই চিন্তা আমাদের চিন্তিত করে ফেলতে পারলে!  মাথায় আসলেই এমনটা হয়! এলেই আমাদেরও মনে হতে থাকে – “কেবল এক মুসলমানের দুনিয়া কায়েম করা ছাড়া” আমাদের নিরাপত্তা কোথাও নাই। আমি মুসলমান – মুসলমান হিসাবে এই বাস্তব দুনিয়াটায় আমি নিরাপদ না – এই বোধ আমাদেরকেও একইভাবে ভাবায় এভাবে যে – আমাদের এনিমি হয়ে যে দাড়ায় তাকেই ঐ একইভাবে নির্মুল করা ছাড়া আমাদের ত বাচোয়া নাই এমন উপায়ের দিকে যেতে সাফাই মনে যোগাতে থাকে – উপযুক্ত পরিবেশ  পেলে যা হয়ত আরও বড়ও হয়ে যেতে পারে! আর সেসময় মাথা ঠান্ডা না থাকলে আল্লাহর বিধানের কথাও মাথায় কাজ করে না!

    মক্কা  নিরাপত্তা জোট গঠনঃ
    সাম্প্রতিক মক্কা নিরাপত্তা জোট (The Mecca Joint Defence Agreement is a) গঠন – এটা (সংক্ষেপে “মক্কা জোট” বলব এখানে) আমাদেরকে এসব একটু পিছনে ফেলা স্মৃতি আবার জাগিয়েছে।
    তবে আসলে ঠিক এটাই না, আরো একটা মুল বা প্রধান দিক আছে। সেটা হল, এই মক্কা জোটের বিরুদ্ধে ইন্ডিয়ান অপ্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া। ইন্ডিয়ান ভয়ের প্রসঙ্গ পরে আসতেছি।
    বাংলাদেশের মানুষের কাছে আসলে মূল বিষয় ঠিক ‘মক্কা জোট’ না; এটা পরে এসেছে। আমাদেরকে প্রথম যা উস্কানি দিয়েছে বিশেষ করে আবার মুসলমান হিসাবে নিজের ভিতরে যা ‘অনিরাপদবোধ’ জাগিয়েছে সেটা হল ইন্ডিয়া; ইন্ডিয়ান বিবৃতির প্রতিক্রিয়া। আমরা আবার এমন চিন্তায়ও (যারা কম চিন্তায় অভ্যস্ত) অভ্যস্ত যে যা ইন্ডিয়া আমাদের বিরুদ্ধে বলে বা আমাদের জন্য খারাপ বলে প্রতিক্রিয়া / হুমকি দেয় সেটাই আমাদের জন্য সঠিক ও ভাল! তাই মক্কা জোট নিয়ে ইন্ডিয়ার এই বিরোধী-বিবৃতি এটাই আমাদের প্রথমে ‘পুরানা’ “অনিরাপদবোধ” আবার জাগিয়েছে। আর সেখান থেকেই প্রতিকার হিসাবে আমরা চোখ-বন্ধ করে ‘মক্কা জোটই’ আমাদের এখনকার একমাত্র চাওয়া বলে আমাদেরকে চরমে প্রভাবিত করেছে। বলে আমার অনুমান!
    এই অবস্থায় ব্যক্তি হিসাবে আমার অনুভব হল যে কেন এমনচিন্তা ভুল বা সঠিক তা শুনবার অবস্থায় (চিন্তা করার সুযোগ সুস্থিরতা এরপরের অবস্থা) আমরা কোন কারণে যখন থাকি না তখনই এসব ঘটে। তাই এনিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে কোন নতুন কথা আমি এখন বলব না; সমীচিন না বা সময় ঠিক না বলে আমি বুঝেছি।

    একটা কথা আমরা নিশ্চিত করে মনে রাখতে পারিঃ
    আমার বিচারে আমাদের আম-প্রতিক্রিয়ার শুরুটা ইন্ডিয়ার এই শয়তানি থেকে; মিথ্যা ভয় দেখানে থেকে। তাই এনিয়ে দুইটা বাক্য বলব।
    ইন্ডিয়া আজ অথবা আগামি অন্তত ২০-২৫ বছর বাংলাদেশে সামরিক আক্রমণ ধরণের যেকোন কিছু করার কথা চিন্তাও করবে না; আমি বলতে চাই ইন্ডিয়া সাহসই করবে না। কেন?
    কারণ, বাংলাদেশের সাথে চীনের আগেই কোন সামরিক চুক্তি থেকে থাক আর নাই থাক – ইন্ডিয়ান আক্রমণের পরিস্থিতিতে এর বিরুদ্ধে আমাদের পক্ষে যেদেশ সবার আগে আগায় আসবে সেটা হবে চীন। এবং সেটা কোন দয়া করে না। চীনের নিজস্ব যুদ্ধকৌশলগত (স্ট্রাটেজিক) মৌলিক (core)স্বার্থ এটাই – সেজন্য। বাংলাদেশ ইন্ডিয়ান কবলে চলে গেলে চীনের  ক্ষতি কো অংশে কম হবে না!  তাতে সেক্ষেত্রে ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে আমাদের রক্ষায় চীনা – যেদিন থেকে যুদ্ধে নেমে যাবে সরাসরি অথবা প্রক্সি যুদ্ধে – এর ভিতরেই কবে যে বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে এক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর হয়ে গেছে যা জানা যাবে হয়ত পরে। এছাড়া চীনের স্ট্রাটেজিক এক নাম্বার পার্টনার রাশিয়ার মাধ্যমে যখন মোদিকে আত্মঘাতি না হতে, বিরত থাকতে বার্তা যাবে আমার মনে হয় এটাই মোদির হুশ আনার জন্য যথেষ্ট হয়ে যেতে পারে।

    গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত Shanghai Cooperation Organisation (SCO) এর সম্মেলনঃ
    একটা তথ্য এখানে যোগ করি। Shanghai Cooperation Organisation (SCO) নিয়ে। এই জোট যা ২০০১ সালে মাত্র ৫ দেশীয় জোট শুরুতে ছিল; চীন-রাশিয়া আর সেন্ট্রাল এশিয়ার ৩ দেশ এভাবে চীন, রাশিয়া আর কিরগিজস্তান, কাজাখস্তান, তাজিখস্তান, মোট মাত্র পাঁচ দেশ ফলে এটাকে অনেকে সাংহাই ফাইভ বলেও ডাকত। পরে উজবেকিস্তান যোগ হয়। এমনকি সেকালে আমেরিকাও এটা প্রচ্ছন্নে সমর্থন করেছিল। পরবর্তিকালে এখন ইরান, ইন্ডিয়া পাকিস্তান আর বেলারুশ সহ মোট সদস্য ১০ রাষ্ট্রের SCO। গত সপ্তাহে  কিরগিজস্তান এর রাজধানি বিশকেক এ SCO এর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল।( 2026 Bishkek SCO summit, (31 August to 1 September 2026 in Bishkek, Kyrgyzstan.)
    আর এই SCO জোটকেই তাদের এবারের সম্মেলন থেকেই এটা যেকোন পশ্চিমা জোটের পালটা কেন্দ্র বলা হয়েছে। দেখেন;

    SCO challenges West as diverse group of nations pursues multipolar future

    এমনকি তুরস্কও সেভাবে দেখে। আর এই সম্মেলন থেকেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন আমাদের মূল সমস্যা ইরানের উপর আগ্রাসন। আমার দেশ লিখেছে, (এটা অনেকেই কোট করে আমাকে পাঠিয়েছে তাই) “ শাহবাজ শরীফ বলেন, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার অন্যতম সদস্য ইরান চলতি বছরের শুরুতে হামলার শিকার হয় এবং দেশটির সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘিত হয়”। তাহলে ইরান এই হামলার শিকার হয় কার হাতে? যেটাতে ইরানের “সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘিত” হয়েছে বলে মনে করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী!
    না, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর এই কথা আমার মুখ্য পয়েন্ট নয়। বরং আসেন প্রশ্ন করেন যে, বিশকেক এর এবারের SCO সম্মেলনে মোদি কেন যোগ দিলেন? এককথায় জবাব বাধ্য হয়েছেন। এমনকি উপরে যে শাহবাজ শরীফের বক্তব্যের কথা বললাম সেটা স্টেজে সবাইকে (উপস্থিত মোদিসহ) সামনে রেখেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বলা কথা।

    আসলে মোদি বড় শত্রু হল মক্কা জোটঃ
    আসলে মোদি বড় শত্রু হল মক্কা জোট।
    কিন্তু সবাই যেটা ধরে নিয়েছেন যে এটা মুসলমানদের জোট সেজন্য! এই অনুমান, এই অংশটা ভিত্তিহীন! এর প্রথম কারণ হল,
    ১. মক্কা জোট মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি থেকে উতপত্তি বা জাত। এর বাস্তবায়ক ইসলামি দেশগুলো হলেও ইন্ডিয়ান উদ্বেগ ঠিক সেটা না, অন্তত এখানে।
    ২. ইন্ডিয়ার উদ্বেগের প্রধান কারণ এতে পাকিস্তান আমেরিকার বন্ধু তো ছিলই এখান আরো প্রো-আমেরিকান ইসলামি দেশের দ্বারা সমর্থিত হল পাকিস্তান। এর উপর পাশে তুরস্ক। তুরস্ককে ইন্ডিয়া শত্রু জ্ঞান করে ঠিক মুসলমান দেশ বলে না বরং এই তুরস্ক আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতির অনুসারি – মার্কিন বোমারু উড়োজাহাজের অস্ত্র ও যন্ত্রাংশ উতপাদনকারী! ফলে এই ‘পাকিস্তানের’ কাছে ইন্ডিয়া মৃতপ্রায় তুচ্ছ ত বটেই!
    ৩. তামাশার কথাটা হল, মোদি নিজে কী উপরের কথাওগুলো জানে না? অবশ্যই জানেন। কিন্তু তাহলে এবার বুঝেন সেই মোদির ইন্ডিয়া তাহলে এসময়ে SCO সম্মেলনে গিয়ে আশ্রয় খুঁজতে হয়েছে কেন?
    ৪. কারণ নাহলে আরো কঠিন শত্রু আমেরিকার পাল্লায় (যে তুরস্ক, পাকিস্তানকে সমর্থন করে) পড়তে হবে। মূল কারণ, মোদির ইন্ডিয়া এখন নিশ্চিত যে আমেরিকা আর কখনো ইন্ডিয়ার পক্ষে না আসুক অন্তত ইন্ডিয়াকে আমেরিকা নিজ কৌশলগত মিত্রের মর্যাদা দেক – এটাই দুরস্ত হয়ে গেছে। কখনও  দুনিয়া আর এমন দিন ফিরবে না!  কারণ,  ট্রাম্প পরিস্কার যে মোদিকে তাঁর আর একেবারেই দরকার নাই। অতএব, তুলনায় SCO জোট মোদিকে যতটুকু নিরাপত্তা দিতে পারে (রাশিয়া আছে সেখানে বলে) ততটুকুই মোদির ভরসা। তাতে মোদিকে ইরানের প্রেসিডেন্টের সাথে সাইড লাইনে ওয়ান-টু-ওয়ান মিডিয়ার সামনে কথা বলতে হলেও মোদি নিরুপায়। একইভাবে নিরুপায় একই সম্মেলন মোদিকে দেখতে হচ্ছে, শাহবাজ শরীফ গলা তুলে ইরানকে সমর্থন করে দেখিয়ে দিচ্ছে যে পাকিস্তানকে ট্রাম্প সমর্থন করে তা সত্বেও পাকিস্তান এমন গলা তুলতে পারে! মোদি কত ক্ষুদ্র এক প্রধানমন্ত্রী এটা প্রকাশ হয়ে পড়া সত্বেও ইন্ডিয়াকে SCO সম্মেলনে যেতে হয়েছে! ওথচ আমরা উলটা ইন্ডিয়াকেই তার বিবৃতি দেখে ভয় পাচ্ছি! মনে রাখতে হবে ইন্ডিয়া পাকিস্তানের চেয়েও তুরস্ককে বেশি ভয় পায় বেশি ও বড় নিজ শত্রুজ্ঞান করে কারণ, তুরস্ক পাকিস্তানের চেয়েও অনেক বেশি ট্রাম্পের ফরেনপলিসি ঘনিষ্ট!

    কেন ঢাকার ইরানি রাষ্ট্রদুত এমন কথা বলছেনঃ
    যুদ্ধের ব্যয়ে একেবারেই দিশাহারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প! সে চায় সৌদির মত ন্মধ্যপ্রাচ্যের দেশ তাকে এই যুদ্ধ ব্যয়ের দায়ীত্ব কিছু অন্তত শেয়ার করুক। আমেরিকার দিক থেকে এটাই মক্কা চুক্তি তাদের চোখে! সেখান থেকে মক্কা জোটকে
    সৌদিদের সাহায্যে ট্রাম্প দেখাতে চায়, এই আওয়াজ উঠাতে চায় যে,  ইরান মুসলমানদের কেউ না। কারণ তারা মূলত শিয়া! এখন এই পরিস্থতিতে ইরানি রাষ্ট্রদুত তো বলতে পারে না যে হা আমরা সৌদিদেরকে শত্রু মনে করি। এতে তো ট্রাম্পই জিতে যাবেন। তাই তিনি কৌশলে মনে করিয়ে দিচ্ছেন – ইরান তো সৌদিতে আমেরিকান ঘাটি যেখানে এর বাইরের কোন সৌদি ভুমিতে তো আঘাত করে নাই। মানে আমেরিকা যেখান থেকে গোলা ছুড়তেছে সেই ভুখন্ড অংশটাই কেবল ইরান শত্রু বিবেচনা করে। অর্থাৎ মূল সৌদি আরব ইরানের কোন শত্রুই নয়!   অর্থাত ইরানি রাষ্ট্রদুত (আমার জানামতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে সুন্নি এবং একাদেমিক) এর অবস্থান দাড়ালো যে, “ আমরা মক্কা চুক্তির বিরোধী না (তবে সেটা এই অর্থে যে এই মক্কা চুক্তি যেন ট্রাম্পের ফরেন পলিসি থেকে উতপন্ন নয় ফলে সম্পর্ক নাই এমন মনে করা হোক)। অর্থাৎ এক জবর কূটনৈতিক পরিভাষায় তিনি ইরানের অবস্থান তুলে ধরছেন ঐ SCO সম্মেলনে!  

    শেষে খুব ছোট করে তারেক সরকারের মানে খলিলের অবস্থান নিয়েঃ
    গত প্রায় দুবছর ধরে খলিল-ইউনুসের অবস্থান প্রতিটা ক্ষেত্রে আমেরিকান বা ট্রাম্পের ফরেন-পলিসির অনুগত। অর্থাৎ আমেরিকান ফরেন পলিসির বাইরে তাদের কোন মতামত নাই।  অর্থাৎ ট্রাম্পের সাথে একই অবস্থানে। এখন যেকোন বুঝ থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেকেও আবার এটা মেনে নিয়েছেন; খুব সম্ভবত তাঁর ‘ভারসাম্য’ প্রীতি (ঠিক যেমন ভারসাম্যের পট্টি পরিয়ে বোয়িং কেনানো হয়েছে) এই ভয় নাকি বেকুবি মানে ঐ যে বলে না – বনের বাঘ না মনের বাঘই মানুষকে খায় – এই সুত্রে – খলিল এই সুবিধাটা ফিক্সড করে গেছে তারেকের মনে গেথে দিয়ে। যেটা এখন তাই  হুমায়ন কবিরের প্রকাশ্য অবস্থান।  আর এই সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের উসিলায় আমেরিকায় গেলে দুমিনিটের জন্য ট্রাম্প দেখা দিলে তো তারেক জাত-নেতা হবে এমন লোভও খলিল পেশ করেছে বলে জানি!

    এখানেই শেষ করবঃ তাহলে শত্রু কে?
    কেবল একটাই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে বলব আমার পাঠকদেরকে তাতে বাংলাদেশের আম-মানুষ যার যে অবস্থানই থাকুক। আপনারা যেকারণেই মক্কা চুক্তিকে সম্পর্থন করেন না কেন একবার নিজেকেই জিজ্ঞাসা করে নিবেন তাহলে, আপনার বুঝাবুঝিতে মক্কা চুক্তির শত্রু টা কে? মানে এনিমি টা কে? দয়া করে শত্রু তাহলে কে হল – এটা নিশ্চিত না জেনে বা না হয়ে শুধু আপনি মক্কা চুক্তির পক্ষে (হয়ত তা ইন্ডিয়ার ভয়ে) এই অবস্থান তো অর্থহীন হবে! এটা মনে রাখবেন! ইরানসহ সবাই যদি মক্কা চুক্তির পক্ষে যায় তাহলে শত্রুটাকে? এর জবাব আমাকে দিবার দরকার নাই, নিজেই নিজেকে সন্তুষ্ট করতে পারে এমন জবাব দিয়ে রেখেন।  

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক

    ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

     

  • কেন ইন্ডিয়া সাথে ইউনুসের চেয়ে একা তারেক কাম্য ভাবছে?

    কেন ইন্ডিয়া সাথে ইউনুসের চেয়ে একা তারেক কাম্য ভাবছে?
    গৌতম দাস
    ০২ আগষ্ট ২০২৬
    https://wp.me/p1sCvy-6BC

    এমন একটা প্রশ্ন তৈরি করে জবাব দেওয়ার উসিলায় এই লেখা।
    কেন ইন্ডিয়া তারেকের সাথে ক্ষমতার ভাগীদারি ইউনুসের চেয়ে একা তারেক বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী থাকুক এটা তাদের জন্য ভাল ফলে কাম্য ভাবছে?  এই প্রশ্নটা এরকমই প্রায় তবে অন্য  নিজভাষায় সাজিয়ে আমার এক পাঠক ফেসবুঝে দিয়েছিল। সেখানে ওর জবাব দিয়েছি। কিন্তু প্রশ্নটা আরও সাধারণের প্রশ্ন হলে কেমন হত সেই কল্পনা করে এই প্রশ্নোত্তর এখানে!
    অরিজিনাল প্রশ্নটা ছিল অনেকটা ম্যাথামেটিক্যালঃ তার মানে ভারতের জন্য তারেক+চায়না বেটার দেন ইউনুস+ আমেরিকা? দাদা ভারত ঠিক কি কারনে চায়না থেকে আমেরিকাকে বেশী ঝামেলার মনে করে?

    জবাবটা এখান থেকেঃ
    বাংলাদেশের উপর ইন্ডিয়ার আধিপত্যের রুস্তমি চালায় যেতে ইন্ডিয়া মনে করে তার সেসব পাওয়ার স্বর্ণযুগ ছিল ২০০৭-১৬ সাল যা আমেরিকা তাকে তখন দিয়েছিল। আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইন্সটিটিউট নামের এক আমেরিকান থিঙ্কট্যাংকের আয়োজিত ইন্টারনাল সভা থেকে, ২০০৭ সালের জুনের আগে আগে। যেখানে আমেরিকার দিক থেকে উপস্থিত বড়কর্তা ছিলেন (আমাদের ভাষায় যেটা মন্ত্রণালয় সচিব) আন্ডার সেক্রেটারি  R. Nicholas Burns (served until March 2008)।বাংলাদশের দিক থেকে দেখলে, এটাই ২০০৭ সালের ১/১১ বা ১১ জানুয়ারির ক্যু; যেটা ছিল মঈন-ফকরুদ্দিনের  আমেরিকার হয়ে এক ক্ষমতাদখল ঘটিয়ে দেয়া।  এরই পরবর্তি ছয় মাসের মধ্যকার ঘটনা!
    এটা ছিল আবার ইন্ডিয়ার দিক থেকে দেখলে, আমেরিকার বাংলাদেশ দখল করে ইন্ডিয়াকে পাইয়ে দেয়া – বাংলাদশের উপর ইন্ডিয়ার এমন মাঙনা কর্তৃত্ব হেজিমনি বা আধিপত্য যার রুস্তমি ইন্ডিয়ার কেউ বাপের জন্মেও চিন্তা করে নাই। তাই এটা এখন ট্রাম্প-২ এর আমলে এসে একেবারেই নাই হয়ে গেলেও কংগ্রেস-বিজেপি সবার কাছেই পুরানা স্মৃতিটা এখনও এমন চির-কাম্য যেন এককালে মামার বাড়ি গিয়ে কিছু খাওয়া যা আজীবন মোচে লেগে আছে এমনই এক সুখ স্বপ্ন-অনুভুতি! যা ইন্ডিয়ার মুরোদে আগে স্বপ্নেও ছিল না।
    বাংলাদেশের (পুর্ব-পাকিস্তানের) উপর দিয়ে কখনও নেহেরু-গান্ধিকে করিডোর নিতে হবে এটা তাদের স্বপ্নেও ছিল নাঃ
    নেহেরু-গান্ধী কেন (এমন ইন্ডিয়া-পাকিস্তানের ভাগ মেনে নিছিলেন কোন আওয়াজ ছাড়াই) যেটা ইন্ডিয়ার পুরা নর্থ-ইস্ট জুড়ে [বাংলাদেশের মাথার উপরে একদিকে আসাম থেকে অন্যদিকে নিচে ত্রিপুরা / উপরে নাগাল্যান্ড] একমাত্র শিলিগুড়ির চিকেন নেক দিয়ে বাকি ইন্ডিয়ার সাথে কানেক্ট থাকুক এটাই চেয়েছিলেন এবং এটা মেনে নিয়েই ১৯৪৭ এর ইন্ডিয়া-পাকিস্তান ভাগাভাগি হয়েছিল। সবচেয়ে বড় কথা নেহেরু-গান্ধি তাদের সারা জীবনে কখনও কোন কথা বলে নাই। ক্ষোভ, আগ্রহ বা চাহিদা প্রকাশ করেন নাই। শিলিগুড়ির চিকেন নেক দিয়েই নর্থ-ইস্ট সংযুক্ত থাকুক ও থাকবে – এনিয়ে তেরে জীবিতক্লে কোন কথাই তুলেন নাই। উলটা করে বললে, বাংলাদেশের উপর দিয়ে ইন্ডিয়ার করিডোর লাগবে না, সেটা কোন কাজে লাগবে?  এমন একটা ধারণা তাদের ছিল। এছাড়াও এরচেয়ে কম চাহিদার, কম পরিচিত আর এক কোনে পড়ে থাকার আসাম-ত্রিপুরার নর্থ-ইস্ট (আনন্দবাজারের ভাষায় শান্তির পিসফুলনেস আসাম-ত্রিপুরার নর্থ-ইস্ট) হলে বরং ভাল; সেটা ভেবেই তো (চিকেন নেক সংযুক্তিই ইন্ডিয়ার জন্য সবচেয়ে ভাল আর সেফ) এটাই চেয়েছিলেন। তাহলে ২০০৭ সালের পরে ইন্ডিয়ার বাংলাদেশের দেশের উপর দিয়েই করিডোর লাগবে, বাংলাদেশের সমুদ্র বন্দর লাগবেই এই চাহিদার ললা বের হচ্ছে কোথা থেকে? এটাই মাঙনা পেলে ডাকাতের আলকাতরাও খেতে চাওয়া।
    এটাই এশিয়ায় ইন্ডিয়ার আমেরিকান-প্রিয়তার শুরু!
    প্রেসিডেন্ট বুশের সেকেন্ড (২০০৫-৮) টার্ম সেটা।  আর ২০০৭ সালেই প্রেসিডেন্ট (ইনফরমালি) জেনে যায় যে চীন অর্থনৈতিক গ্লোবাল নেতা হিসাবে উঠে আসতেছে। এনিয়ে আমেরিকার নিজস্ব স্টাডির রিপোর্টটা প্রকাশিত হয়েছিল ২০০৮ সালে। সেখান থেকেই পাল্টা প্রতিকার হিশাবে প্রোগ্রামের  চীন ঠেকানো [Containment of China]। যদিও ঐ রিপোর্টেই সাবধান করা ছিল এই উত্থান ঠেকানোর অযোগ্য [irreversible]। কিন্তু সেকথা কানে না নিয়ে বুশ এগিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আর সেখান থেকেই ইন্ডিয়া আমেরিকাকে এশিয়ায় চীন ঠেকায়ে দিতে সহায়তা হবে চিন্তা করেছিল – আমেরিকার প্রেসিডেন্ট! সেখান থেকেই একটা হাসিনা-পুতুল বসায়ে দিয়ে ইন্ডিয়ার ১৭ বছরের বাংলাদেশ দখল!
    কিন্তু আমেরিকা ২০১৬ সাল থেকেই টের পেয়ে যায় যে  ইন্ডিয়াকে এই দেয়াথুয়ায় আমেরিকান কোন লাভ হচ্ছে না। তাই পরের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প-১ এর আমলে ২০১৭ সাল থেকেই ইন্ডিয়াকে আগে দেয়া সকল সুবিধা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। এরচেয়ে বঙ্গোসাগরে আমেরিকান নৌ-উপস্থিতির নিশ্চিত করা ছিল আমেরিকান অনেক পুরান স্বপ্ন, বেশি প্রয়োজনীয় মনে করে আসত সেটা সামনে আসে। যেটা প্রেসিডেন্ট বুশ এতদিন পাশে সরিয়ে রেখেছিল; ২০০৪ সাল থেকেই ইন্ডিয়ার সাথে খাতিরের সম্পর্ক শুরু করে পারমানবিক টেক দেয়া শুরু হয়। ২০০৬ সালে তিনি নিজেই ইন্ডিয়া সফরেও গেছিলেন।  কিন্তু ২০১৬ সালের পর থেকে যেক্ষেত্রে আবার আমেরিকার-ইন্ডিয়ার মধ্যকার সবচেয়ে পুরানা বিবাদ বা চাহিদা-সংঘাত সঙ্গোপনে হাজির হতে থাকে। যদিও উপরে আরেকটা নয়াপর্দা তখনও টাঙ্গিয়ে দেয়া হয়েছিল। ইন্ডিয়াও লোভি তো হয়েই ছিল!
    তাই বাস্তবে, ২০১৭ সাল থেকে আমেরিকার বাংলাদেশ ইন্ডিয়াকে দিয়ে দেয়া সমর্থন করে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেলেও পরের আরো দশবছর ইন্দো-প্যাসেফিক স্ট্রাটেজি (IPS) বা কোয়াডের(QUAD) এসব নানান নামে আমেরিকার-ইন্ডিয়ার কেবল স্ট্রাটেজিক সম্পর্ক ধরে রেখেছিল। কিন্তু সেটাও তেমন কোন ফল দিচ্ছে না বলে আমেরিকান মনে করা পারসেপশন শুরু হয়েছিল। কারণ, আমেরিকা এসব স্ট্রাটেজিক সম্পর্ক থেকে একটা সামরিক জোটে এটাকে রুপান্তরের পদক্ষেপ নিতে চাচ্ছিল। আর তা থেকেই তাল কেটে যাওয়া শুরু হয়। তাই ট্রাম্প আমলে এসে এসব শেষ। উলটা ট্রাম্পের ৫০-১০০% শুল্ক ছাড়া কথা নাই। তবু ইন্ডিয়ার স্বপ্নের পোলাও হয়ে থেকে গেছে সেই ২০০৭-১৬ সালের দিনগুলো যদি ফেরত পাওয়া যেত!!! এর পিছনের বড় কারণ হল ২০১৩ সাল থেকে ইন্ডিয়ার ধরেই নিয়েছিল নীতি-পলিসি সাজিয়ে ফেলেছিল (এমনকি কোন কোন স্কুলে বাচ্চাদের শিখিয়েও ফেলেছিল তাদের প্রধান শত্রু এখন পাকিস্তান নয় চীন) যে  রাইজিং চীনের সাথে ইন্ডিয়ার আর সম্পর্ক-ব্যবসা-ঋণ লাগবে না। তাই এই উলটা প্রকাশ্য বিরোধিতা করত এই ভেবে যে  এটা করে দেখাতে পারলে আমেরিকা খুশি হয়ে আবার যদি ফিরে!!!  সেই কল্পনা-লোভ ইন্ডিয়ার চোখে চকচক করে উঠে! যদি তা কল্পনা মাত্র!
    এখনকার বাংলাদেশে ‘আমেরিকান রাষ্ট্রস্বার্থ প্রতিনিধির নাম ইউনুসঃ এটা ইন্ডিয়ার জন্য অকল্পনীয়
    এখন একালে এসেও যদি সেই আমেরিকা বলতে আমেরিকান রাষ্ট্রস্বার্থ প্রতিনিধির নাম ইউনুস হয়যে বাংলাদেশের পরিচালক (আধা ক্ষমতার হলেও) হয়ে ফিরে আসে? যদি বলে আসামসহ ইন্ডিয়ার নর্থ-ইস্টকে বঙ্গোপসাগরে যেতে হলে আমাদের সাথে কথা বলতে হবে; কারণ আমরা বঙ্গোপসাগরের গার্ডিয়ান!!!!
    সেক্ষেত্রে স্বভাবতই মোদি এই নয়া ইউনুস ঠেকাতে বলবে বাবা তারেক তুমিই আমার আসল বাবা,তুমিই একমাত্র বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর হকদার হয়েই থাকো; আর আমি তো আছিই তোমার সাথে। আর তুমি বললে ত আমি কালকেই হাসিনাকে ইন্ডিয়া থেকে বের করে দিচ্ছি তুমি চিন্তা করো না। আর মনে মনে ইন্ডিয়া নিজেকে বলছে কল্পনা করছে এই আমেরিকান ইউনুস-খলিল যেন বাংলাদেশের ত্রিসীমানায় না দেখি! সেটা কী আল্লাহ দিবে?
    তবু কথা শেষ হয় নাই। ইন্ডিয়ার আবার ভয়ও হয় যদি ইউনুসের প্রভাবের সামনে না তারেক পা পারে, ফেল করে, পেরে না উঠে?

    এই চিন্তা করে দীনেশ ত্রীবেদীর সার্গিও গরের সাথে দেখা করে একটা অনুরোধ – বাংলাদেশে যাই করেন ওস্তাদ – ইউনুস-খলিলের এই দুজনকে বাংলাদেশের ক্ষমতার সাথে রেখে কোন ব্যবস্থার চিন্তা কইরেন না! আপয়ার দোহাই লাগে…..

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    ০২ আগষ্ট ২০২৬

     

  • আজকের দিনটা দাগিয়ে রাখার মত রিমার্কেবল

    আজকের দিনটা দাগিয়ে রাখার মত রিমার্কেবল হয়ে থাকল!
    “তারেক ক্ষমতায় থাকলেও মূল ক্ষমতা আমার হাতেই থাকবে” – সেদিন কী এসে গেল?
    গৌতম দাস
    ২৯ জুলাই ২০২৬
    https://wp.me/p1sCvy-6AO

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, খলিলুর রহমান ও সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস

     

    আজকের দিনটা দাগিয়ে রাখার মত রিমার্কেবল হয়ে থাকল! যদিও বেশিরভাগ জনেরই এটা ত ঠাহরের বাইরে এখনও।
    কিন্তু হলটা কী, হয়েছে টা কী? তা অনেকভাবেই বলা যায়! যেমন বললাম, তারেক রহমানের ন্যানি বদল হয়ে গেছে তিনি জানেন না। ‘ন্যানি’ মানে জানেন নিশ্চয়।  অবস্থাপন্ন লোকেদের স্ত্রীদের নিজহাতে কোলে করে বাচ্চা মানুষ করতেই হয় না। যার কোলে (সে বেতনভুক এক নানি যেন  এমন সহকারি; বাচ্চা পালাই তার কাজ) ওর দেখভালেই বড় হয় বাচ্চা আর সেই-ই ন্যানি। অনেকসময় তাই বাচ্চা বড় হয়ে গেলেও ন্যানির সাথে তার এটাচমেন্ট অনেকদিন বেশি ঘনিষ্টই থেকে যায়। আর আসল মা? সে তো নিজ শরীর আকৃতি ঠিক রাখার জন্য বুকের দুধটাও ঠিকমত খাওয়াতে চায় না। যত কম করে চালানো যায় এভাবেই পার করে দেয় প্রথম দুবছরটা।
    ওদিকে তারেকের দিক থেকে দেখলে, রাজনীতি কী? জিনিষটা ঠিক আসলে কী? কিভাবে তা জানতে বা এর কোন ট্রেনিং, পড়াশুনা ওরিয়েন্টেশন কখনই তারেকের নেয়ার সুযোগ হয় নাই। জন্মগত ভাবেই সে নেতা এসব না জানা, না কোন অভিজ্ঞতা থাকলেও। কাজেই একটা “রাজনৈতিক ন্যানি” তো মাস্ট তাঁর লাগতই। কিন্তু প্রবলেম আরো একটা। ১৭ বছর সে বিদেশে যে সময়টাতে সে তার পরিণত বয়সটা পার করেছে তাই ততদিনে জেনে ফেলার বয়স তখনও অনেক কিছুই। বিশেষ করে রাজনীতিটা। অথচ তাঁর আশেপাশে কেউ নাই, ছিল না। যে তাঁকে সাহায্য করবে! তাই হাসিনা-উত্তর দেশে ফিরে কে তাঁকে নেতৃত্ব মানে একেবারে সরকারের ক্ষমতা বসতে তৈরি জায়গা করে দিবে সেটাই ছিল বিশাল এক বিশাল সমস্যা। আর ঠিক এটারই অফার তাঁর মুখের সামনে নিয়ে এসে তুলে ধরেছিলেন খলিলের মাধ্যমে ইউনুস!
    সেই অর্থে ইউনুস হয়ে যায় তারেক রহমানের ন্যানি!
    পরবর্তিকালের কিছু ঘটনা দেখে অনুমান হয় তারেক সম্ভবত ভেবেছিল আগে রাজা হয়ে তো নেই পরে ন্যানিকে না হয় কিছু “অবসরভাতা’ দিয়ে বিদায় করে দিব!!!
    তারেকের সেই থেকে যে একেবারেই কাঁচা নবিশ আর বিপরীতে ন্যানি ইউনুস যে আমেরিকার ‘ডেমোক্রাট থিঙ্ক ট্যাঙ্ক’ আর সোরেস ফাউন্ডেশন থেকে ট্রেইনড তা মনে হচ্ছে তারেকের ধারণাতেই ছিল না। আজকে তাই সকাল থেকেই (যা কয়েকদিন থেকেই অনুমিত হচ্ছিল) মানে দৃশ্যপটে খলিলুর রহমানের আগমন হওয়া থেকে পুরা পরিস্থিতি এখন খলিল-ইউনুসের হাতের মুঠোয় চলে গেল অনুমান হচ্ছে। এমনকি মোদি (বা তার বাইরের ছবি ঢাকার হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদি) এদের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে সব হারিয়ে মোদিও এই প্রথম ইউনুস-খলিলের পোষাকের আঁচল ধরে হাটা শুরু করেছে; আর উপায়ন্ত সব হারিয়ে এতেই এরা মহা খুশি!
    ত্রিবেদি প্রায় মাস খানেক ঢাকায় এসে থাকছেন তবু আজই প্রথম আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে খলিলের সাথে বিশেষ মোলাকাত করে সে আহ্লাদিত তা জানিয়েছে। মানে যেন আর তারেক কী সিদ্ধান্ত দেয় এই দুশ্চিন্তায় থাকতে হবে না; এখন আসল লোক খলিলকেই পাওয়া গেছে তাই আহ্লাদ হয়েছে!

    ইউনুস সাব আনুষ্ঠানিক সরকারের ক্ষমতা ছেড়েছেন ১৭ ফেব্রু. ২০২৬। এর অন্তত তিনমাস আগে থেকেই তিনি যাকেই তার ঘনিষ্ঠ মনে করেছেন, সামরিক-বেসামরিক সবাইকেই তিনি জানিয়ে গেছেন অবলীলায় যে তারেক ক্ষমতায় এলেও আসল ক্ষমতা আগের মতই তাঁর হাতেই থাকছে। এমনকি একথাগুলো বিশ্বাস করানোর জন্য তিনি এতই কসরত করেন গেছেন যে এর বিস্তারিত বলাটাও বিপদজনক; বিচার বিভাগই ভেঙ্গে পড়তে পারে এমন!  আমি এদের অনেককেই দেখেছি পরের অন্তত তিন-চার মাস পর্যন্ত তারা যে এটা বিশ্বাস করছেন, তখনও করেন সেটাও তখনও তা আমাকে জানিয়েছেন।
    তাই আজকেরদিনের পরে এমন সকলেই এখন ইউনুস-কে কুর্ণীশ করতে চাইবেন; হয়ত এতা ভাববেন যে হুজুরে-ওয়ালা এবার ঠিকই এসে  নাজিল হয়েগেছেন!

    তাহলে আজকের ঘটনাটা ঠিক কী ঘটেছেঃ
    গত প্রায় মাসখানেক ধরেই আমি কামান দাগছিলাম “ভারসাম্য” শব্দটার উপর। ইংরাজিতে যা ব্যালেন্স – এই সম্পর্ক এই কথাটার উপরে। আমি অনুম,আন করেছিলাম তাই বলছিলাম – খলিল-ইউনুস এখন আবার দাবি করবে তারা বাংলাদেশের জন্য এক ভারসাম্যপুর্ণ সম্পর্কের পক্ষে আছেন কাজ করছেন। সুশীলভাবে বলবেন হা চীনকেও দরকার কিন্তু পাশাপাশি আমেরিকার সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্ক রাখতে হবে এজন্যই তারা আমেরিকার জন্য কাজ করতেছেন।
    আমার সেই অনুমানই সঠিক হয়েছে।

    খলিলুর রহমান বলেছেন, “একজনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষতি করে আরেকজনের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি করছে—আমরা কখনও সেটা করবো না। সব দেশের সঙ্গে স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে আমরা সম্পর্ক বৃদ্ধির চেষ্টা করেছি।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, “এটা তো স্ত্রী ও সতিনের মধ্যে মারামারি নয়। এটা হচ্ছে স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক, যেখানে আমাদের স্বার্থ, আমরা সেখানে যাবো।”  – বাংলা ট্রিবিউন ২৯ জূলাই’২৬

    “কূটনীতিতে আমরা আন্দাজে কাজ করি না। আমরা বাস্তবতার ভিত্তিতে কাজ করি—এটা মনে রাখবেন। কারও সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন মানে এই নয় যে আরেকজনের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে। চীনে আমাদের অত্যন্ত ভালো সফর হয়েছে। ভবিষ্যতে যদি ভারতে আমাদের প্রধানমন্ত্রী যান, ভালো। আমরা আশা করবো সেই সফরটিও অত্যন্ত ভালো হোক।”  – বাংলা ট্রিবিউন ২৯ জূলাই’২৬

     “এই যে মার্কিন দূত আসবেন, আমার সঙ্গে সেক্রেটারি অব স্টেটের (Marco Rubio)  দেখা হয়েছে। এই ইন্টারেকশনগুলোর মাধ্যমে আমরা সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চাচ্ছি। বাংলাদেশের সঙ্গে তো একটা দেশের না, বহু দেশের সম্পর্ক আছে। এটা তো স্ত্রী এবং সতিনের মধ্যে মারামারি নয়। এটা হচ্ছে স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক, যেখানে আমাদের স্বার্থ আমরা সেখানে যাবো।” মার্কিন দূতের আগমন ঘিরে কোন চাপ অনুভব করছেন কিনা—এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা কোনও চাপ অনুভব করছি না।”  – উপরের লিঙ্কটাই

    মিডিয়া রিপোর্ট বলছে  খলিল গতকালই আমেরিকা, ফিলিপাইন ও মালদ্বীপ সফর শেষে দেশে ফিরেছেন। আর সকাল থেকে পরিকল্পিতভাবে কাজ শুরু করেছেন।
    আমি আগে যেটা বলছিলাম ভারসাম্য কথাটার মূল অর্থকে বদলে দিয়ে এই শব্দটাকে টুইস্ট করে নতুন অর্থদান করবেন  ইউনুস-খলিল। ঠিক সেটাই হয়েছে। খলিল বলছেন, একজনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষতি করে আরেকজনের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি করছে—আমরা কখনও সেটা করবো না।
     আসলে এটাই তো ওবামা আমল (২০১৬) থেকে চালু আমেরিকা ফরেন পলিসি। যার সারকথা হল, বাংলাদেশের মত দেশ চীনের সাথে (কমসুদের অবকাঠামো) ঋণসহ অন্যান্য সব বাণিজ্যিক সম্পর্কও আর রাখতে পারবে না। রাখতে সব ধরণের বাধা দেয়া হবে। এটাই কালক্রমে শেষে গুছিয়ে নামকরণ কর হয় ইন্দো-প্যাসেফিক পলিসি / স্ট্রাটেজি [IPS]। যেটা এবার ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পরই (ট্রাম্পের প্রথমবারে (২০১৭-২০) তিনি IPS পলিসি অনুসরণ করা সত্বেও এবার তা নয় বরং ) এতে গুরুত্ব না দিয়ে যা ইচ্ছা শুল্ক আরোপে মেতেছেন।
    এখন এই অবস্থায় চীনও তাই একই পলিসিতে তার কাছে কেউ (যেমন বাংলাদেশ) সম্পর্ক করতে গেলে আগে চেক করে যে আমেরিকার সাথে সেই দেশের সম্পর্ক হাল্কা বা দুর্বল আগে হয়ে আছে বা করেছে কিনা। যদি না করে তাহলে চীনও অর্থ ছাড় করার সময় এলেই শ্লথ – ধীরে অগ্রসব হওয়া শুরু করে দেয়। এছাড়া আগেই ব্রিকস, আশিয়ান, RCEP, SCO ইত্যাদি গ্রুপের সদস্য হয়ে আসতে বলে। কারণ চীন জানে এসব সদস্য হওয়া আমেরিকার না পছন্দ!
    তাহলে এই বাস্তবতায় ভারসাম্য কথার কী কোন ব্যবহারিক অর্থ আর থাকে?  এককথায় আমেরিকার (খলিল-ইউনুসের) হাত না ছাড়লে চীন সে দেশের সাথে সম্পর্কের সিরিয়াস স্তরের ভিতরে প্রবেশই করবে না। এটাই আরো উতসাহ ভরে চীন যেন সম্পর্কটাই না হয় সেটা করাই চীনের নীতি হলেও –  ইউনুসের বেলায় ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বাইডেনের সাথে সাক্ষাতের সফরের আগে ইউনুসকে পই পই করে বলে দেয়া হয়েছিল। অথচ তিনি শুরু আমেরিকাকেই কী কী ব্যবসা দেয়া যায় সেই সম্পর্ক অগ্রসর করে এসেছিলেন। পিটার হাস সরকারি চাকরি ছেড়ে কোম্পানির একজিকিউটিভ হয়ে আসেন সেজন্যই।  তবু চীন বাজেট সহায়তা দিয়েছিল বলে ২০২৫ সালের বাজেট দিতে পেরেছিলেন ইউনুস। অথচ নিজ বেইমানি চালিয়ে গেছেন – আমেরিকার পক্ষ নিয়ে নিজ আমেরিকান পাওয়ার লবি শক্ত করেছেন আর বাংলাদেশের সাথে বেইমানি করেছেন।
    এককথায় বললে আমেরিকার IPS পলিসি মানেই চীনের সাথে সম্পর্ক করতে যেন না পারি আমরা। অথচ ভারসাম্যের কথা তুলে মিথ্যা বলছেন খলিলুর। চালায় দিতে চাইছেন যে উনারা নাকি ভারসাম্য করতেছেন তাই আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষতি করে আরেকজনের মানে চীনের সাথে সম্পর্ক করবেন না।

    এছাড়াও এবার আরো একটা এডিশন বা নতুন যোগ আছে। দিনকে দিন মোদি টের পেয়েছেন তারেক তার সাথে ডিল করবে না। তাই উপায় না পেয়ে মোদি এখন ইউনুস-খলিলের নৌকায় উঠেছেন। তাই খলিলুর বলছেন, ভবিষ্যতে যদি ভারতে আমাদের প্রধানমন্ত্রী যান, ভালো। আমরা আশা করবো সেই সফরটিও অত্যন্ত ভালো হোক। অর্থাৎ তিনি ইতোমধ্যে তারেককে মোদি সফরে যেতে উস্কায়ে এসেছেন।  আর তাতে দীনেশ ত্রীবেদি এতই খুশি হয়েছেন যে আজ খলিলের সাথে প্রথমবার পররাষ্ট্র গিয়ে মুলাকাত-ই করে এসেছেন।
    যার মানে হল, আমেরিকা তো তারেকের কান্ধে উঠছেই মানে খলিল তুলে দিলেন সাথে ফেউ হিসাবে ইন্ডিয়াকেও তারেকের কান্ধে! অথচ কেউ খেয়াল করছেন না, এতদিন “আপা ফিরতেছে”-ওয়ালারা মোদির উপর আর ভরসা রাখতে পারছিলেন না; হতাশ হয়ে গেছিলেন। এর অর্থ এখন আজ খলিলের বাণী শুনে আবার লীগের চাপও এখন তারেককে মোকাবিলা করতে হবে।

    সবশেষে আরেকটা দিক দেখাবো। ইউনুস তারেকের উপর  সৃষ্টি করার বা করতে কিছু বাদ রাখেন নাই। আর সেজন্যই কী হবিগঞ্জের এনসিপি-বিএনপির মুখোমুখি হয়ে যাওয়াটা এর প্রমাণ!  মানে ইউনুস এনসিপি কেও রেডি করে তারেকের উপরে চাপ দিয়েছেন? তাঁর কথা না শুনলে কী হবে সেই হুশিয়ারি ছিল কী এটা?

    তাহলে তারেক এখন ভিজা বিড়ালের মত যদি ইউনুস-খলিলের অনুগত হয়ে কোন মতে সবার আগে জিন ক্ষমতা বাচানোতে সব মনোযোগ ঢেলে থাকেন তাহলে এখন আমরা কী দেখব? আমাদের কী হবে?
    ১। ইউনুস যেকথা ক্ষমতা ছাড়ার তিন মাসের  আগে থেকে বলে আসছিলেন যে তারেক প্রধানমন্ত্রী হলেও আসল ক্ষমতা তার হাতেই থাকবে আগের মত সেটাই কী আমরা এখন দেখব?
    ২। অনুমান করা যাক এখান থেকেই চীনের সাথে সম্পর্ক যতটা আগায়ছিল তা এখন থেকেই ফুলষ্টপ হয়ে যাবে। মানে আমরা চীনবিরোধী আমেরিকান নীতি-পলিসির অনুগামি হব?
    ৩।। সেটা যদি হয়ও কিন্তু আমাদের বাজেটে অর্থ “বাজেট সহায়তা” কই পাবো?  অর্থ নাই মানে অর্থনীতিও তলানীতে শেষ হবে।  IMF এর প্রতিশ্রুত সংস্কার  নিজ বাজেটে অর্থ না থাকলে সংস্কার বলে বাস্তবে কিছু কী করা যাবে? মুদ্রস্ফীতি হবার সম্ভাবনা বড় রকমের; ত কোথায় যাব আমরা তখন? আর  কোন বিদেশি বিনিয়োগও তো আসবে না।
    ৪। আজকেই নিউজ হল, যেটুকু প্রাইভেট বিনিয়োগ এসেছে এর ৯২% হল চীনা মালিকদের। তাহলে চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক ঝুঁকে গেছে বা নাই হয়ে গেলে কী এরা থাকবে?

    সারকথায় ইউনুস-খলিল খুশি হবে, নিজেদের বিজয় দেখতে পাবে কিন্তু খোদ বাংলাদেশ অর্থনীতি ভেঙে পড়বে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা, সহিংসতায় সব শেষ হবে।।
    এনসিপি ১১ দলকে যে ইউনুসে সাথে রেখেছেন তাতে ক্ষমতায় কে থাকবে? হাসিনার জাতীয়পার্টি ফর্রমুলাও যদি চিন্তা করি সেটা কী ইউনুসেরা খাড়া করতে সক্ষম হবে?  জাতীয় পার্টিটা কে হবে? পুরাই ১১ দল? মানে হাসিনার মতই সব নির্বাচন হবে! তাই কী?
    সবার উপরে অর্থনীতিই যদি না থাকে রাজনীতিসহ  কোন কিছুই কী  আর দেশে করা যাবে?  এসব জবাব কার কাছে চাইব??

    _
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    ২৯ জুলাই ২০২৬ রাত ১১ঃ৩০
    আপডেটঃ ৩০ জুলাই ২০২৬, ০০ঃ ৪২ এএম

     

  • চীন-ইন্ডিয়া সম্পর্ক কী ঘনিষ্টতা দিকে; এর কী কোন ভবিষ্যত আছে?

    চীন-ইন্ডিয়া সম্পর্ক কী ঘনিষ্টতা দিকে? এর কী কোন ভবিষ্যত আছে?
    গৌতম দাস
    ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫   রাত ২৩ঃ ৪৩
    https://wp.me/p1sCvy-6wP

     

    A united front at Beijing’s massive military parade as Xi, Putin and Kim meet for first time

     

    শেষের কথাটা আগেই যদি বলি তবে এই শিরোনাম-প্রশ্নের ছোট জবাব হল, না। সম্পর্ককে গভীর ঘনিষ্ঠতা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া মোদির ইন্ডিয়ার পক্ষে সম্ভব হবে না। এত পিছনের মূল কারণ, ইন্ডিয়ার নিজ দোদুল্যমানতা। আসলে বলতে গেলে ইন্ডিয়া এমনই। যেমন তারা বলে বা মনে করে থাকে (সেই ২০১৩ সাল থেকে) যে চীন আর আমেরিকার মাঝে দোল খেয়ে কখনও চীন আর কখনও আমেরিকা এভাবে ভাব ধরে এদের দুদিক থেকেই মাখন খেয়ে যাওয়াই হবে ইন্ডিয়ার কৌশলগত নীতি। এটা তো তাদের ২০১৩ সালের সিদ্ধান্ত, যখন ইন্ডিয়া চীনে অনুষ্ঠিত প্রথম বেল্ট-রোড সম্মেলনে দাওয়াত পেয়েছিল, কিন্তু অংশ না নিয়ে নিজেদের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল; তখন থেকেই ইন্ডিয়া এরকমই দায়দায়িত্বহীন সুবিধা চোষা! ঠিক এ কারণেই এখনকার ট্রাম্পের শুল্ক-বোঝায় পর্যুদস্ত ও মার খাওয়া ইন্ডিয়া এতকিছুতে নাস্তানাবুদ হয়েও আবার ইতোমধ্যেই ওই ট্রাম্পের কোলেই ফিরে গিয়ে আবার আশ্রয় খোঁজা শুরু করেছে; আর তাতে বলাই বাহুল্য, এতে এই ইন্ডিয়া এখন চীনের আস্থা অর্জন পর্যন্তই উঠতে পারছে না, পারবে না।

    এবার আস্তে আস্তে ঘটনাবলির ভিতরে প্রবেশ করা যাক। এটা একদম ঠিক যে এখন চীন- ইন্ডিয়া সম্পর্ক-ঘনিষ্ঠতা নিয়ে মিডিয়ায় আলোচনা তুঙ্গে। এর একটা অন্যতম কারণ হল, ঠিক এখনই এবারের বার্ষিক SCO এসসিও (সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন) সম্মেলনের সময়কাল এটা। ফলে  ট্রাম্পের আমেরিকার  সদ্য ছুড়ে ফেলে দেওয়া মোদির ইন্ডিয়াকে, একেও চীন এবারের এসসিও-তে আন্তরিকভাবেই দাওয়াত দিয়ে কাছে ডেকে নিয়েছিল।

    পাশাপাশি সেই সঙ্গে এই ট্রাম্পও প্রায় সব দেশের ওপর কঠোর শুল্কনীতি প্রয়োগ করেছেন। শুরুতে তা চীনের ওপর ছিল সবচেয়ে বেশি। তিনি চীনকে শুল্ক-আরোপ করে পর্যুদস্ত করে ফেলার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু তাতে বাস্তবে ফলাফল উল্টা আসায় আর সঙ্গে আমেরিকার নিজস্ব সরকারি বন্ড বিক্রির ক্রেতা সংকট বা বাজারে ক্রেতা উধাও হওয়া শুরু হতেই ট্রাম্পকে পিছে হটতে হয়। তিনি বাধ্য হয়ে গত জুন মাসেই অনেক ইস্যুতে সরাসরি চীনের সঙ্গে এক ধরনের আপস করে ফেলেন।

    অনুমান করা যায়, এ ঘটনা থেকেই চীন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবারের এসসিও সম্মেলনটি বিরাট জাঁকজমকপূর্ণ এক সামরিক শো-আপ করে করবেন!


    SCO তে এবার সামরিক শো-আপ কেনঃ
    অনেকেই খেয়াল করেছেন যে এই সামরিক শো-আপে সম্ভবত ২৬ দেশের প্রধান ব্যক্তিত্বদের (রাষ্ট্রপ্রধান নয়ত প্রধান নির্বাহী প্রধানমন্ত্রী অথবা ন্যূনপক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের) একটি দলকে সঙ্গে নিয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি হেঁটে যাচ্ছেন, যার দুপাশে হাঁটছেন একদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন আর অন্যদিকে উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম-জং-উন!

    এসবের মধ্যে আরেক বৈশিষ্ট্য ছিল প্রেসিডেন্ট শির ‘পোশাক’। তিনি পরেছিলেন কমিউনিস্ট পার্টির বিশেষ ড্রেস, যেটা মাও – কেই সবসময় পরতে দেখা যেত। প্রেসিডেন্ট শি একালে নিয়মিত নরমাল পোশাক পরলেও সেদিন ছিলেন একেবারেই পার্টি ড্রেস-কোডে সজ্জিত! এসব থেকেই পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল, বিশেষ ‘অর্থ ও প্রতীকের’ মাধ্যমে এবারের এসসিও সম্মেলন পালন করার পরিকল্পনা নিয়েছিল চীন।

    গত বিশ বছর চীন সামরিক দিক থেকে কী কী খাতে ব্যাপক অর্থ ব্যয় করে নিজেকে সজ্জিত করে চলছিল তা জনসমক্ষে আনেনি; এদিনটা ছিল আসলে সেটারই প্রদর্শনী ও মহড়া। যে মহড়ায় আবার বেশির ভাগ অস্ত্র-সরঞ্জামই হলো নিউক্লিয়ার এনার্জি-সংশ্লিষ্ট!

    এখানে একটা কথা আশা করি অতি-উক্তি হবে না যে, এর ফলে এসসিও পারমাণবিক অস্ত্রের প্রদর্শনীতে পরিণত হয়েছিল ওদিনে। কিন্তু এমন কেন? বিশেষ করে অনেকেরই অজানা হয়ত যে চীন-চীন সাগর/দুই কোরিয়ার উপকূল এলাকাকে অ-পারমাণবিক জোন হিসাবে ঘোষণা করা যায় কিনা এরই একক প্রস্তাবক হল চীন নিজেই!

    তাহলে এখানে এমন চীনা আচরণের ব্যাখ্যা কীঃ
    মনে রাখতে হবে, কোনো রাষ্ট্রের অন্য রাষ্ট্রের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপ (যেখানে গ্লোবাল অর্থনীতির নয়া একালের অভিমুখ হল শুল্ক কমানো, ৮ শতাংশের মধ্যে রাখা) মানেই এটা হল আন্তঃরাষ্ট্রীয় বাণিজ্য যেটা আসলে গ্লোবাল বাণিজ্যের বিকাশ মেন-স্ট্রিম অভিমুখ সেটাকে পাথর চাপা দিয়ে গ্লোবাল বাণিজ্যের আমদানি-রপ্তানির পিঠে সরাসরি ছুরিকাঘাত! যেটা অর্থনৈতিক সংরক্ষণবাদিতা বা অর্থনৈতিক উগ্র-জাতীয়বাদিতা! সর্বোপরি এটা আত্মঘাতী! গত ১৯৮০ সাল থেকে পথচলা শুরু এই বৈশ্বিক বাণিজ্যব্যবস্থায় এখন আর পিছনের দিকে ফেরা বা যেটা অর্থনৈতিক উগ্র-জাতীয়বাদিতা সেদিকে গন্তব্য ঠাউরানোর আর সুযোগ নেই। এতে সবার আগে নিজ রাষ্ট্রের অর্থনীতিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে সবচেয়ে বেশি!

    ট্রাম্পের বাড়তি শুল্কনীতির খাঁড়া – প্রত্যক্ষ অর্থ এটাই! যদিও ট্রাম্প ভাবছেন, আমেরিকাকে ছাড়িয়ে শীর্ষ উদ্বৃত্ত অর্থনীতির দেশ হিসাবে উঠে আসা চীনের অগ্রগতি এভাবেই তিনি ঠেকায় দিতে পারবেন! অথচ তিনি খেয়াল করছেন না, আমেরিকার পিছিয়ে পড়া বা একঘরে হয়ে যাওয়ার পথেই হাঁটছেন তিনি!

    আর এ থেকে চীনের অনুমিত ভয় হল, ট্রাম্প হেরে গিয়ে শেষে পাগলামি করে না  যুদ্ধ লাগিয়ে দেন; অথবা ব্যর্থতা ঢাকার অন্য কোন ব্যর্থ চেষ্টা!

    ফলে আমার অনুমান পাগলা ট্রাম্প যেন সেদিকে যেতে প্ররোচিত না হয়ে যান, তাই আগেই চীন নিজ সামরিক প্রস্তুতির প্রদর্শন করে রাখলেন। বিশেষ করে চীন যেন বোঝাতে চাইল, সামরিক দিক দিয়ে ট্রাম্প ও তার সহচররা পরিচালিত হতে যেন উৎসাহী না হয়ে যায়। আর সেটারই একটা কসরত – এক ইনডাইরেক্ট ফ্রি কিক – যেন মেরে রাখল চীন! যেমন প্রেসিডেন্ট শি নিজের দুপাশে রাশিয়া আর উত্তর কোরিয়া নিয়ে দলবদ্ধ হাঁটার প্রতীকী অর্থ আমার কাছে এমনই মনে হয়েছে। যারা দুদেশ মূলত পারমাণবিক দিক থেকে খুবই সামরিক সজ্জিত!

    এক কথায় এর প্রতীকী সম্ভাব্য উদ্দেশ্য হল, পাগলা ট্রাম্পকে ডিসকারেজ (নিরুৎসাহিতার প্রভাব) করে ফেলা!

    এবার এই আলোচনার দ্বিতীয় অংশঃ
    অথচ চীন সেই সম্মেলনে ভারতকেও আদর করে ডেকেছিল আর তাতে গলে গিয়ে দীর্ঘ সাত বছর পরে এই ওছিলায় খোদ মোদি এবার চীন সফরে গিয়েছিলেন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট শির ওই দলবদ্ধভাবে প্রতীকী হাঁটার মিছিলে শির আশপাশে মোদির স্থান হয়নি।

    বরং বিপরীত পর্দার কথা আমরা এখন জেনে গেছি। আমরা দেখেছিলাম মোদির বাণিজ্যমন্ত্রী পীযুষ গোয়েলকে! কী করেছেন তিনি?

    নভেম্বরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি, ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী

    তিনি আমাদের জানিয়েছেন, ট্রাম্পের সঙ্গেই ইন্ডিয়ার শুল্ক আলাপ নাকি এখনো চলছে। আর তিনি আশা করছেন, মোদির ইন্ডিয়া আবার সেই ট্রাম্পের কোলেই মুখ গোঁজার পরিকল্পনা করছে। আর তাতে তিনি দাবি করেছেন, নভেম্বরের মধ্যেই আমেরিকার সঙ্গেই আবার একটা রফায় পৌঁছাতে পারবেন!

    এই হলো ভারতের মোদি! তিনি ট্রাম্পের কোলে উঠে যাওয়ার ভয় দেখিয়ে চীনের কাছে সুবিধা চাইবেন, আবার পরক্ষণেই চীনের কোলে উঠে যাওয়ার ভয় দেখিয়ে ট্রাম্পের কাছে সুবিধা ভিক্ষা করবেন। এভাবেই তিনি এখনো চলতে চান, এটাই আসল ইন্ডিয়া! গত ২ সেপ্টেম্বর ভারতের ‘ফরচুন ইন্ডিয়া’ পত্রিকার রিপোর্টের শিরোনাম পীযুষ গোয়েল আশা করছেন, আগামী দুমাস নভেম্বরের মধ্যে ট্রাম্পের সঙ্গে একটা রফাতে নয়া শুল্ক-চুক্তিতে পৌঁছানো যাবে!

    কিন্তু বাস্তবতা কি তাই হবে? মনে হচ্ছে না। মূল কারণ এটা ২০১৩ সাল নয়, ২০২৫ সাল! চীন-আমেরিকা দুদিক থেকেই সেকালের মতো মাখন খেয়ে ভারত উপরে উঠে যাবে – সেই তত্ত্ব, এখন আর এত সহজে খাটবে না। এটারই প্রথম প্রতিফলন হল,

    মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রীর ‘ভারত দুই মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষমা চাইবে’

    আর দ্বিতীয়তঃ
    প্রেসিডেন্ট শি দুপাশে পুতিন আর কিমকে নিয়ে হাঁটছেন অথচ আশপাশে মোদির কোনো ছায়াও দেখা যাচ্ছে না- এই প্রতীকী দৃশ্যে!

     

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   ১১  সেপ্টেম্বর ২০২৫    রাত ১১ঃ ৫৪

    [এই লেখাটা এর আগে প্রথম ভার্সানে ছাপা হয়েছিল দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় আমারই লেখা এক কলাম হিসাবে, গত ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫।  আজ এখানে সে লেখাটারই  আরেক বর্ধিত এক নয়া এডিটেড ভার্সান এখানে আমার নিজ সাইটে ছাপা হল। বলাই বাহুল্য এখানে শিরোনামটাই শুধু নতুন নয় বরং এমন অনেক প্রসঙ্গই নয়া এখানে যোগ করা হয়েছে যেটা পত্রিকার ভার্সানে ছিল না। আসলে পত্রিকার কলাম ভার্সান মানে যেটা যুগান্তরের এডিটরিয়াল পলিসি সঠিক মনে করে সেই ভার্সান; এভাবে দেখাটাই সঠিক হবে। আর তুলনায় এটা আমার নিজ পরিবর্ধিত-এডিটেড ভার্সান মনে করলেই সঠিক হবে বলে আমার বিশ্বাস! ]

  • ঘরের ভিতরে-বাইরে বড় সংকটে ইন্ডিয়া!

    ঘরের ভিতরে-বাইরে বড় সংকটে ইন্ডিয়া!
    গৌতম দাস
    ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সন্ধ্যা  ০৭ঃ ৪৭
    https://wp.me/p1sCvy-6wC

     

     

    ঘরের ভাঙন

     

     

    গত কয়েকদিন হল, ইন্ডিয়া-আমেরিকার মানে ট্রাম্পের আমেরিকা আর মোদির ইন্ডিয়ার মধ্যে “যুদ্ধ” তুঙ্গে উঠেছে। বিষয়টা হল, ট্রাম্পের ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ বাড়তি শুল্কারোপ কার্যকর হওয়ার ইস্যু। মানে এতদিন যা ছিল প্রস্তুতি পর্ব, এবার সেটি পাগলা ট্রাম্প বাস্তবে শুরু করে দেখিয়েছেন! এর সঙ্গে শুরু হয়েছে  উভয় পক্ষের বাকযুদ্ধ!
    যেমন, ভারতের ওপর ট্রাম্পের নয়া শুল্কনীতি আরোপ কার্যকর হয়েছে ২৭ আগস্ট ২০২৫ বা গত মাসের ২৭ তারিখ থেকে। আর এ ‘‘নতুন নিয়ম চালু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় গণমাধ্যম ‘ব্লুমবার্গ’কে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো।’’

    এ বাড়তি শুল্কারোপ কেন জায়েজ আর তা প্রমাণ করার জন্য ইন্ডিয়া (এখন কত খারাপ) আর মোদি আমেরিকার বিরুদ্ধে কী কী খারাপ কাজ করেছে এর বর্ণনা উল্লেখ করেছেন ট্রাম্পের এই বাণিজ্য উপদেষ্টা। এ নিয়ে আনন্দবাজারের এক বর্ণনাও পাওয়া যাচ্ছে। সেটি হল, ঐ ‘ব্লুমবার্গ’ সাক্ষাৎকারে নয়াদিল্লিকে ‘একগুঁয়ে’ বলে তোপ দাগেন তিনি। পাশাপাশি, ইউক্রেন সংঘাতকে ‘মোদির যুদ্ধ’ বলেও উল্লেখ করেছেন নাভারো।

    আমেরিকার চোখে ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকেই আমেরিকা কোন দেশের রাশিয়ার পণ্য কেনাবেচা নিষিদ্ধ বা অবরোধপ্রাপ্ত বলে ঘোষণা করেছিল। সোজা কথায় রাশিয়ান তেল রপ্তানি / কেনাবেচা বন্ধ। ফলে, আমেরিকার চোখে ইন্ডিয়ার কেনাকাটাটা অন্যায় ও অপরাধ! বিপরীতে ইন্ডিয়া মনে করে, এমন তেল আমদানি-বাণিজ্য এটা তার নিজ বাণিজ্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার “সার্বভৌম অধিকার”। আর এর বিপরীতে আমেরিকার ট্রাম্প বা তার বাণিজ্য উপদেষ্টা নাভারো বলবেন বা মনে করেন, রাশিয়া/ভারতকে বাধা দেওয়াটাও তার অধিকার! সেই অধিকার ফলাতে ট্রাম্প ইন্ডিয়ার উপরে ৫০ শতাংশ শুল্কারোপ করে ঠিক করেছেন!
    এমন পরিস্থিতিতে এ্টাকে  অধিকারের তর্ক করে রাখলে এথেকে কোনো সমাধান আসবে না তা বলাই বাহুল্য! বিশেষ করে সারা ইন্ডিয়ান অর্থনীতির আমেরিকায় রপ্তানি বন্ধ হওয়াতে ইমিডিয়েটলি যখন প্রবল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ইন্ডিয়া! তাই, ইন্ডিয়ার দরকার এখনই সমাধান!

    আসলে প্রশ্নটা এখানে নয়। ২০০১ সালে বুশের ‘মুসলমান কোপানো’ শুরু হয়েছিল ‘ওয়ার অন টেররের’ নামে। আর ইন্ডিয়া তাতে খুবই খুশিতে হাততালি দিয়ে উঠেছিল, এতে চারদিকে নিজের ফায়দার সয়লাব দেখতে পেয়ে! আর সেই থেকেই আমেরিকার কোলে উঠে বসে গলা জড়াজড়ি করে ধরা কঠিন বন্ধু হয়ে উঠার শুরু ইন্ডিয়ার! সেসব কি এখন ইন্ডিয়ার মনে পড়ছে? পড়ছে না!
    বরং পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর কূটনৈতিক জ্ঞানবুদ্ধি ফেলে রেখে এখন এ বাণিজ্য উপদেষ্টা নাভারোকে সামলাতে গেছেন এই বলে যে, মুসলমান ‘এই জাত’ মানে এই ‘এথনিক-জাত গোষ্ঠীটাই খারাপ’ একথা বলে! মানে জয়শঙ্কর  আঙুল তুলে বলছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে এখন পাকিস্তানের সম্পর্ক ভালো কেন? কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর? জয়শঙ্করের চোখে এগুলা হল, ট্রাম্পের মুসলমান প্রীতির নিদর্শন!

    তাই জয়শঙ্কর এবার ব্যাপক ফিরিস্তি দিয়েছেন, “মুসলমান রাষ্ট্রের সঙ্গে আমেরিকার সারা জীবন খাতির ছিল” আর সেকারণেই।আমেরিকা এখন মোদি-জয়শঙ্করদের চোখে খুবই খারাপ দেশ! আর স্বভাবতই তাতে শীর্ষে এসেছে পাকিস্তানের নাম!

    কিন্তু মোদি-জয়শঙ্করের মনে রাখা উচিত, ভারত-আমেরিকার যৌথ উদ্যোগে আইএসের সঙ্গে একালে সম্পর্ক রাখছে, এটা কিন্তু আমরা ভুলিনি! বিশেষ করে আফগানিস্তানে আইএসের (খোরসান) সঙ্গে সম্পর্ক এবং স্যাবোটাজের যৌথ উদ্যোগগুলোতে! পাকিস্তানে চীনা ‘গোয়াদার অবকাঠামো প্রজেক্টে’ হামলা কিংবা সর্বশেষ বেলুচিস্তানে আস্ত একটা ‘প্যাসেঞ্জার-ট্রেন ছিনতাই’-এর মতো ঘটনা; এগুলো কীসের প্রমাণ? একাজে আমেরিকা-ইন্ডিয়ার যৌথ প্রযোজনায় ‘মুসলমান কোপানো’-এটা তো নিশ্চয় খুবই সুস্বাদু লেগেছিল মোদি-জয়শঙ্করের! এভাবে এই আমেরিকারই হাত ধরে এতদিন ফায়দা নিতে?

    তাহলে এটা কেমন মোদি-জয়শঙ্করের হিন্দুত্ববাদ? যেটা খোদ আইএস এর সাথে সম্পর্ক রেখে চলে এমন হিন্দুত্ববাদ?  যেখানে আইএস (খোরসান) বা উইঘুরের বিদ্রোহী মুসলমান; এদেরকে মোদি-জয়শঙ্করেরা নিজেদের অ্যালায়েন্স পার্টনার/বন্ধু হিসাবে কোলে তুলে নেয় কেমন করে? এটা কেমন হিন্দুত্ববাদ?

    যাই হোক, বোঝা যাচ্ছে, এতদিনের ভারত-আমেরিকার বিশেষ অ্যালায়েন্সের মাখন এরা দুই রাষ্ট্র মিলে খেয়ে গিয়েছিল অসুবিধা হয়নি; আর মুসলমান এ ‘এথনিক-জাত গোষ্ঠীটাই খারাপ’ বলে নিজেদের হীন কাজের সাফাই দিয়ে গেয়েছিল, যারা আজ সেই মোদি-জয়শঙ্করের হিন্দুত্ববাদই বিপদে পড়ে গেছে; আমেরিকার সঙ্গে খাতিরদারি সব সম্পর্ক ভেঙেচুরে গেছে, এমনকি উলটা ঘটনাটা হল, মোদি এবার খোদ চীনের কোলে উঠে বসেছে! কেন?

    কারণ, নাভারো বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ তো আসলে ছিল ‘মোদির যুদ্ধ’!

    কিন্তু তাতে এটা মোদি-জয়শঙ্করের কেন এত লেগেছে? কারণ, এটা কোন কূটনৈতিক বাতচিতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা ঝগড়া-বাকযুদ্ধ নয়। এ্টটা একেবারে ভারতীয় অর্থনীতির বিশেষ করে রপ্তানি-বাণিজ্যের ভেঙে পড়ার সংকট! যা সরাসরি ভারতের ভাতের স্বার্থ! যেটি থেকে বের হতে, হিন্দুত্ববাদ বেচে মোদি-জয়শঙ্করেরা কোনো সমাধান বা উপায় বের করতে পারছে না! এমনই গভীর সংকট এটা!

    প্রসঙ্গ দুইঃ
    এদিকে মোদির ইন্ডিয়ার ঘরের বা অভ্যন্তরীণ ইস্যুতেও শান্তি নেই! একের পর এক অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে মোদির সরকার পর্যদুস্ত! যেমন, ভুয়া ভোটার লিস্ট ইস্যু! এটা আর এখন প্রমাণহীন বা প্রমাণ করতে হবে তারপর – না, এমন ইস্যু নয়! বরং একেবারেই মোদি কোণঠাসা! তিনি এখন চেষ্টা করছেন এর দায় যতটা সম্ভব নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপাতে!

    ওদিকে এতদিন মোদির ভাড়াটে মিডিয়া বিবিসি বাংলা এবার মোদিবিরোধী এক রিপোর্ট ছেরেছে। মারাত্মক এর হেডলাইনটা দেখেন –‘ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকার নির্বাচনে জিতেই কি মোদি প্রধানমন্ত্রী।’ এই এক শিরোনামই অনেক কিছু বলে দিচ্ছে। সাথে  ভেতরের উপশিরোনাম –‘ভোট চুরির অভিযোগ, এসআইআর বিতর্ক’। আবার রাহুল গান্ধীর অভিযোগ থেকে উপশিরোনাম, ‘গুজরাট মডেলের ভোট চুরি’। আর সবচেয়ে মারাত্মক রাহুলের এসব অভিযোগের প্রতি ডিএমকে, সমাজবাদী পার্টি, আরজেডি, তৃণমূলের সমর্থন। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী মমতার ভাতিজা তৃণমূল নেতা অভিষেক ব্যানার্জি … দাবি করেছেন, ভোটার তালিকায়… কারেকশন ‘সেটা করতে হবে আর সেই প্রক্রিয়ার সূচনা হতে হবে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের মধ্যে দিয়ে’। মমতাও অনেক জায়গায় ভারত ভেঙে যাবে কিনা সেই সংশয়ের ইঙ্গিত জানিয়ে আজকাল কথা বলতে শুরু করেছেন। এসব শিরোনাম থেকেই পাঠক বুঝতেই পারছেন, কেমন অভ্যন্তরীণ সংকটে পড়েছে মোদি-অমিত শাহেরা!

    ‘পঁচাত্তর বয়সে পা দেওয়া’ বিতর্কঃ
    ওদিকে দ্বিতীয় অভ্যন্তরীণ প্রসঙ্গঃ যেটা আরও বড় সংকটের- সেটা হল, বিজেপি-আরএসএসের নেতাদের ‘পঁচাত্তর বয়সে পা দেওয়া’ বিতর্ক! মোদি ২০১৪ সালে নিয়ম এনেছিলেন, নেতাদের বয়স পঁচাত্তর হয়ে গেলেই প্রধান প্রধান পদ থেকে অবসরে যেতে হবে। এভাবে তিনি আদভানিসহ বড় নেতাদের সরিয়ে নিজে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। আর সেই নিয়মে পড়ে এখন তিনি নিজের ফ্যাসাদ এনেছেন। ওদিকে আরএসএসের প্রধান ভগবতও সেপ্টেম্বরে মোদির ছয় দিন আগে পঁচাত্তর বয়সে পা রাখবেন জানা যাচ্ছে।

    বিজেপি-আরএসএস দ্বন্দ্বটা মূলত ২০২৪ -এর নির্বাচনের সময় থেকে – যখন নিজেদের দ্বন্দ্ব মিটাতে না পেরে আরএসএসের সমর্থন ছাড়াই সেবার (২০২৪) বিজেপি একাই নির্বাচন করবে বলে মোদি-অমিত ঘোষণা দিয়েই নির্বাচন করেছিলেন। আর এখন মোদি অবসরে গেলে কে হবেন প্রধানমন্ত্রী-এ তর্কে মোদির প্রার্থী অমিত শাহ আর আরএসএসের প্রার্থী উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী!

    সর্বশেষ ২৮ আগস্ট এনডিটিভি এর রিপোর্টঃ
    সর্বশেষ ২৮ আগস্ট এনডিটিভি আরএসএসের প্রধান ভগবতের রেফারেন্সে বলেছেন, তিনি কোনো পদত্যাগে যাচ্ছেন না; এসব নিয়ে তিনি কথা বলছেন না। আর এতে এ বক্তব্যের মানে করা হয়েছে এভাবে যে, মোদি পদত্যাগ না করলে, তিনিও পদত্যাগ করবেন না।

    ভারতের জন্য এটাও আরেক বিরাট সংকট! কেন?
    বিজেপি-আরএসএস দ্বন্দ্বটা যে মূল থেকে, তা হল, ১৯৪৭ সাল থেকেই একমাত্র হিন্দুত্ববাদ দিয়ে ভারতকে শাসন বা জবরদস্তিতে এক করে ধরে রাখা এক ভারত রাষ্ট্র থেকে, যেটা শুরু হয়েছিল-এখন এটাই এর শেষের দিনের দিকে যাচ্ছে। তথাকথিত ‘কেন্দ্রের শাসনের’ কথা বলে নেহেরু যেটা (সফট হিন্দুত্ববাদ দিয়ে) শুরু করেছিলেন, সেটা নেহেরুর ১৯৬৪ সালে মৃত্যুর পরে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত টিকতে পেরেছিল। পরের নরসীমার কংগ্রেসি শাসন ছিল যেন বিজেপিকেই প্রস্তুত হয়ে আসার সময় দেওয়া। কাশ্মীরের (১৯৮৯ সালে) খোলাখুলি ভোট চুরি, যা কাশ্মীরের রাজনীতিকে সশস্ত্র পথে পাঠিয়ে এবার সেই থেকে জঙ্গিবাদের অভিযোগ (মুসলমান কোপানো) শুরু করা, ২. বাবরি মসজিদ ধ্বংস, ৩. বাজপেয়ির সীমা পাড় কী আতঙ্কবাদ বলে পাকিস্তানকে দায়ী করে চোটপাট; ৪. আর এরপর থেকেই ক্রমশ উগ্র হিন্দুত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করে মোদির শাসন দিয়ে (২০১৪) ইন্ডিয়া এক করে ধরে রাখার যে প্রচেষ্টা চলতি শতকে শুরু হয়েছিল, সেটাও এবার যেন ২০২৫ সালে এসে মুখ থুবড়ে পড়তে যাচ্ছে!!!

    মূল কথাটা হল, তাতপর্যপুর্ণভাবে, এবার সব ধরনের হিন্দুত্ববাদেরই শেষ হওয়া আসন্ন সম্ভবত! এমন কঠিন ইঙ্গিত, এটাই মুখ্য হয়ে উঠা শুরু করেছে ভারতের চারদিকে!
    আজকে প্রকাশিত ইন্ডিয়া টুডে তে এই রিপোর্ট যা বাংলাদেশে এক মিডিয়ার অনুবাদ দেখেন জনমতের পাল্টা হাওয়া, পতনের মুখে মোদির জনপ্রিয়তা: সমীক্ষা।

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫    সন্ধ্যা ০৭ঃ ৪৮

    [এই লেখাটা এর আগে প্রথম ভার্সানে ছাপা হয়েছিল দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় আমারই লেখা এক কলাম হিসাবে, গত ৩১ আগষ্ট ২০২৫।  আজ এখানে সে লেখাটারই  আরেক বর্ধিত এক নয়া এডিটেড ভার্সান এখানে আমার নিজ সাইটে ছাপা হল। বলাই বাহুল্য এখানে শিরোনামটাই শুধু নতুন নয় বরং এমন অনেক প্রসঙ্গই নয়া এখানে যোগ করা হয়েছে যেটা পত্রিকার ভার্সানে ছিল না। আসলে পত্রিকার কলাম ভার্সান মানে যেটা যুগান্তরের এডিটরিয়াল পলিসি সঠিক মনে করে সেই ভার্সান; এভাবে দেখাটাই সঠিক হবে। আর তুলনায় এটা আমার নিজ পরিবর্ধিত-এডিটেড ভার্সান মনে করলেই সঠিক হবে বলে আমার বিশ্বাস! ]

     

     

  • পড়াশুনা না করা রাজনীতিবিদ এর দিন শেষ!

    পড়াশুনা না করা রাজনীতিবিদ এর দিন শেষ!
    গৌতম দাস
    ২৫ আগষ্ট ২০২৫
    https://wp.me/p1sCvy-6vT

    যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাণিজ্য যুদ্ধ বিশ্বে প্রভাব

    বোমা ফেটেছে! কিন্তু তবু হুঁশ নাই!
    শত প্রমাণ দিলেও বিশ্বাস করে নাই একদল লোক / রাজনীতিবিদ যে, বাংলাদেশের উপর ইন্ডিয়ান আধিপত্যের দিন আর নাই, সেসব নাই হয়ে গেছে। কিন্তু মনের বাঘ থেকে গেছে।  আর সেই সাথে ট্রাম্পের আমেরিকা আর ইন্ডিয়াকে বরকন্দাজ রেখে ও থাকার জন্য বিশেষ সুবিধা দিয়ে বিনিময়ে বাংলাদেশের উপর ইন্ডিয়ার প্রভাব বিস্তারের কারবার আর করবে না, এসবও ছেড়ে  দিয়েছে অনেক আগেই।  কখন থেকে? নিশ্চিতভাবেই  এক. হাসিনার উতখাত আর দুই. ট্রাম্পের নয়া শুল্কনীতি প্লাস অন্যান্য কিছু নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ক্ষমতায় আসীন হবার পর থেকে অন্তত!

    কিছু পরগাছা পোকা আছে ‘এটুলি’ বলে আঞ্চলিকভাবে, এরা পশুর গায়ে লেগে থাকে সহজে খসে বা ঝড়ে পরে যায় না, লেগেই থাকে আর রক্ত চুষতে থাকে। “ইন্ডিয়ান প্রভাব বাংলাদেশের উপর থেকেই আছে ফলে ইন্ডিয়াকে তেল মেরে চলতে হবে” – এই হল সেই এটুলি ধারণা!  এমন ধারণা-মনের কিছু রাজনৈতিক নেতা ও তাদের দল বাংলাদেশে আছে যেমন বিএনপি আর জামায়াত! এদের দলের উপর এটুলি হয়ে লেগে থাকা ধারণা আছে তাদের মনে যে, ইন্ডিয়ার কোলে উঠে বসে থাকতে হবে এই চিন্তা পয়দা হয়ে আছে সেখানে। এমন ধারণার সবচেয়ে বড় হয়ে লেগে থাকা রাজনীতিবিদ হল এখন বিএনপির তারেক জিয়া আর জামায়াত এর টপ তিন নেতা; সাথে অবশ্য কমবেশি আরো অনেকেই আছে। আর ওদিকে ঠিক একই ভাবে আছেন মোদি সাব  – যিনি ভেবেই গেছেন যে উনি “এখনও রাজা আছেন” –  বাংলাদেশের উপরে এই ভাব ছড়িয়ে বসে থাকা ব্যক্তিটা ছিল (ছিল বলতে হচ্ছে কারণ তিনি নিজেই এখন জেনে গেছেন তিনি আর নাই ) নরেন্দ্র মোদি।  ট্রাম্পের নির্বাচনের আগে থেকেই মোদি এবং সাথে হাসিনাও বিরাট আশা নিয়ে ট্রাম্পের জিতা দেখতে বসে ছিলেন যে এবার তাদের আকাঙ্খী বরপুত্র ট্রাম্প জিতে আসতেছেন। উনি এলেই মোদি বাংলাদেশের উপর হারানো সাম্রাজ্য বা আধিপত্য ফিরে পাবেন ফলে ইউনুসকে দেখায় দিবেন, উপড়ে ফেলবেন ইত্যাদি!
    এই আওয়াজ এতই তীব্র ছিল যে হাসিনাও তারা চোরা অনুসারীদের মনোবল বাড়াতে একই সুরে গান ধরেছিলেন যে, ট্রাম্প ক্ষমতায় এলে পরে লীগ ও হাসিনার চোর গংদের ভাগ্য আবার খুলবে! তারা নাকি আবার  বাংলাদেশের ক্ষমতায় ফিরে আসবে!!!!!

    কিন্তু হায় দিন আর কাটে না, তাদের প্রবল কামনার আকাঙ্খাও সত্য হয় না! ফলাফল? ফলাফল নিম্নচাপ!!!  ট্রাম্প ক্ষমতায় আসীন হবার পর আমাদের এ-অঞ্চল থেকে ট্রাম্পের প্রথম ভিজিটির হন মোদি কারণ, তিনি আর ধৈর্য রাখতে পারছিলেন না। কিন্তু ফলাফলে তাতেই ইন্ডিয়ার সব স্বপ্ন-আকাঙ্খা ভেঙ্গে পড়া শুরু হয়ে যায়। মোদি তবু বিশ্বাস করতে পারছিলেন না এই ভেঙ্গে পড়া নিজ চোখে দেখেও। ততোধিক দুরবস্থা তার সাঙ্গপাঙ্গোদের এমনকি তাতে লীগ / হাসিনারও!

    সবশেষ একেবারে মুকখে মারা বোমাঃ
    সবশেষে ট্রাম্প একলাই নিজ-ফয়সালা ঘোষণা  করে দেন যে আমেরিকায় ইন্ডিয়ান রপ্তানির উপর ধার্য শুল্ক হবে ৫০%। এই হল সেই মুকখে মারা বোমা!!!
    কারণ এবার আর ট্রাম্পের আমেরিকার ইন্ডিয়ার প্রতি নীতি-মনোভাব আর মোদি থেকে লুকায় রাখার সুযোগে থাকলেন না, মোদি সবটাই হারালেন। ট্রাম্পেরও সব উদাম হয়ে গেল!

    গত ২০০৬ সালে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট (বাবা বা সন্তান বুশ) জর্জ বুশ কংগ্রেসের আমলে ইন্ডিয়া সফরে এসেছিলেন। গত শতকের ষাটের দশকের পর্‌ কোন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট সেই প্রথম এসেছিলেন ইন্ডিয়াতে। আর সেই থেকে শুরু হয় ইন্ডিয়ান রুস্তমি, বাংলাদেশের উপর চোটপাট আর আধিপত্য নিয়ে জেঁকে বসবার খায়েস ও ততপরতা!  – মুই কী হনু রে! চিনস আমারে!!! – টাইপের হম্বতম্বি!
    পরে এসবের হাত ধরে আমাদের উপরে এসেছিল কুখ্যাত ১/১১!  ফলে আরো রুস্তমি ইন্ডিয়া-রাজ কায়েম করে ছেয়ে ফেলা!! আর তা ইন্ডিয়ান র-এর একেবা্রে বাংলাদেশের সেনা সদরে বসে অফিস খুলে বসা পর্যন্ত ঠেকেছিল! আর কী লাগে?
    আর এতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ দল কে ছিল বা কী হয়েছিল অর্থে, সেটা ছিল বিএনপি আর সেই সাথে ততোধিক খারাপ অবস্থায় ঝড় বয়ে যাওয়া অবস্থার দল জামায়াত – এই দুই দল! সাধারণ ভাবে অবশ্য ইসলামি দল মাত্রই এই দুর্দশায় পড়েছিল!!

    অথচ সেই বাংলাদেশের সেনা সদরে জেঁকে বসা ইন্ডিয়ান র ও বসানোর কারিগর হাসিনা সমুলে উতখাত হয়ে গেল ৫ আগষ্ট ২০২৪ সালে।  কিন্তু তবুও এদুই দল তারেকের বিএনপি আর জামায়াত এখন আরো জোরে সরে সেই ক্ষতবিক্ষত ইন্ডিয়ার ধরেই ক্ষমতায় যেতে হবে বলে আরো শক্ত বিশ্বাসে বসে আছে!! জামায়াত নিজ ঘাড়ের উপর “প্রামাণিকের হিন্দু জোট” কান্ধে নিয়ে হাঁটছে তো হাঁটছেই!  এ কোন তামাসা? সব তামাসাই তামাসা!!!  নাকি মোদির এক ক্যাশিয়ার গৌতম আদানির অর্থ কী এতই সুস্বাদু বা ক্ষমতাবান????
    যার মানে হল, যে তাঁকে গুষ্টিশুদ্ধ তছনছ করে দিল, বউ-সন্তান নিয়ে গেল তাকেই বিএনপি-জামায়াত ভক্তিভরে সালাম দিচ্ছে শুধু না তারই কোলে উঠে আশ্রয় খুঁজছে!!!! কেন?
    এছাড়াও, সর্বশেষ অবশ্য অল্প কিছু জেনারেলও এই পথে! তাদেরকেও মোদির বরকন্দাজ হতেই হবে! হাসিনা নাই তাই নিজেদেরকেও এগিয়ে এসে খেদমতে লাগতে হবে!

    একেবারে মূল কারণ পড়াশুনা না করা রাজনীতিবিদ এরাঃ
    একালের মানে চলতি শতকের [২০০১ +……] শুরু থেকেই দুনিয়া আর আগের মত নাই। অবশ্য এটা সবাই দেখতে পাবে না যদি না এনিয়ে পড়াশুনা কিছু থাকে! এর গোড়া বা রুট-ফ্যাক্টস হল – গ্লোবাল রাজনীতি আর গ্লোবাল অর্থনীতি নতুন করে মোঁচড় নিয়েছে, ১৯৪৫ সালের পরে আবার। যদিও আসলে সেখানে মূল নিয়ামক হল কেবল – গ্লোবাল অর্থনীতি – আর তাথেকে অনুষঙ্গ হিসাবে গ্লোবাল রাজনীতিও সাথে এর সব পুরানা নিয়মকানুনও! আর এদিকটা বুঝতে গেলে এবার পড়াশুনা লাগবেই! এককথায় বললে  পড়াশুনা না করা রাজনীতিবিদ এই চলতি শতকে একেবারে অচলই হবে!!! এমনকি শুধু রাজনীতিবিদই না নিজেকে বড় মনে করা সব একাদেমিশিয়ান / অধ্যাপকও অচল হবে!
    বিএনপি ও জামায়াত এই দুইটা দলই এমন অবুঝের ফাঁদ পড়েছে!  বলে বুঝিয়ে দিলেও বুঝতে পারছে না।
    শুধু তাই না; অবস্থা এখন এরকম যে এতদিন “কট্টর চীনবিরোধিতা দেখিয়ে চলা” খোদ মোদিই এখন চীনের কোলে উঠে বসেছে!   কিন্তু এসব দেখেও তারেক বা তাহের দের হুশ আসছে না!  আসলে তারা কিংকর্তব্যবিমূঢ়! কী করার আছে কী করতে হবে কিছুই বুঝছে না!  এমন অবস্থায়!

    তাহলে রাজনীতিকদের পড়াশুনা বলতে ঠিক কী বুঝাতে চাইছিঃ
    এর সোজা মানে হল, সরাসরি এখনকার চীন ও আমেরিকান প্রেসিডেন্টের নীতি-পলিসি খুঁটিয়ে রিড করার যোগ্যতা। বিশেষতঃ ২০১৩ সাল থেকে চীনের সবকিছুর নীতি-পলিসি! মনে রাখতে হবে চীন আবার তার এমন সমস্ত পলিসিওগুলো সাজিয়েছি কিন্তু খোদ আমেরিকাকে দেখে – অন্তত ১৯৪০ সালের পর থেকে উত্থিত গ্লোবাল নেতা আমেরিকাকে দেখে স্টাডি করে! যাই হোক, নীতি-পলিসি খুঁটিয়ে রিড করার যোগ্যতা – যেটা বলেছি সেটা মিনিমাম! আর সবচেয়ে ভাল হবে যদি  ১৯৪০ এর দশক থেকে আমেরিকান নিজ গ্লোবাল উত্থান  সম্ভব হওয়ার পিছনে কী শক্তি কাজ করেছিল সেটার একটা কম্পিলিট স্টাডি আর বুঝাবুঝি সমাপ্ত করতেই হবে। এখানে মনে রাখতে হবে, আজকের চীন নিজ রাষ্ট্রীয় সমস্ত নীতি-পলিসি ঠিক করার জন্য এই স্টাডি আর বুঝাবুঝি গবেষণাতেই অন্তত ১০টা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা সেন্টার খুলেছে। যাদের সংগৃহিত বুঝাবুঝি এটাই তারা নিজ দেশের পার্টিকে (চীনা ব্যবস্থায় তাদের কমিউনিস্ট পার্টিই সর্বসর্বা) সরবরাহ করে যাচ্ছে যাতে শি জিন পিং এবং সংশ্লিষ্টরা নিজ রাষ্ট্রের জন্য সঠিক নীতি-পলিসি ঠিক করতে পারে। এজন্য তারা অনুমান করে ফেলতে পারে আগাম যে আমেরিকান এরপরের পলিসিগুলো কেমন হতে পারে আর সেক্ষেত্রে চীন রাষ্ট্র কী সিদ্ধান্ত নিবে!!!
    যাই হোক, আমার এখানে সারকথাটা হল,  আমাদের রাজনীতিবিদ / একাদেমিশিয়ানদেরে এনিয়ে পড়াশুনায় প্রবেশ করতে হবেই পুরানা সব চিন্তা ঝেড়ে ফেলে –  যাতে গ্লোবাল এই চেঞ্জ বা পাস ফিরে শোওয়ার মত পালাবদলের এই কালে চীন-আমেরিকান প্রভাব / সিদ্ধান্তের প্রভাব বাংলাদেশের উপর কেমন হবে তা আন্দাজ / অনুমান করতে পারতে হবেই। এটা লাগবেই, এছাড়া নেতৃত্ব অচল হবেই! নেতা নিজে না পারলে অসুবিধা নাই যোগ্য-দক্ষ লোক ভাড়া করেন! কিন্তু নিজের মফস্বলি আন্দাজ দিয়ে পথ চলার দিন শেষ হয়েছে! একথা আমি নিজে অনেক বড় বড় টপ নেতাকে সরাসরি বলেছিও! মনে হয় না তাদের গায়ে লেগেছে বা  নুন্যতম কিছু বুঝেছেন! আসলে আমার কথা থেকে তাঁরা কী আমল করেছেন তা তাদের ততপরতা দেখেই বুঝা যায়!
    মূলকথাটা হল এটা তাদেরকে নিজেই বুঝতে হবে!  দু-একটা মাথুর টাইপের বড় র-এর এজেন্ট ধরা বা খাতির রেখে কোনই কাজ হবে না।

    আচ্ছা র-এর কথা থাক! খোদ মোদির অবস্থাই দেখেন!
    এবার ট্রাম্প যখন অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের নীতি নিয়ে  মোদির সাথে কথা চলেছে বা তুলেছেন তখন মোদির ব্লান্ডার বা মস্ত আকামটা লক্ষ্য করেন!
    মোদি ছুটে গেলেন রাশিয়ার পুতিনের কাছে। অজিত দোভালকে পাঠালেন। আর তাতে পুতিন একটা বিবৃতি দিলেন মোদির পক্ষে, আর ট্রাম্পের বিপক্ষে! বোকা মোদি হাততালি দিয়ে উঠলেন! কারণ,  পুতিন বলেছিলেন, কোন দেশ কার থেকে বা অন্য কোন দেশের মালামাল বাণিজ্যে সামিল থেকে কোথা থেকে কত মালামাল আমদানি-রপ্তানি করবে সেটা তার স্বাধীন সিদ্ধান্ত! এখানে ট্রাম্প অন্য রাষ্ট্রকে ফাঁদে ফেলে জোর খাটিয়ে কেনা-বেচা করতে বাধ্য করতে পারেন না।  মানে পুতিন বলতেছিলেন, ইন্ডিয়ার রাশিয়ার উপর আমেরিকার অবরোধে ভেঙ্গে সস্তার তেল কিনাটা জায়েজ ছিল।
    কিন্তু তাতে কী হল? পরিণতি কী? ইন্ডিয়ায় সস্তায় রাশিয়ান তেল কিনে তা আবার পরিশোধন করে রপ্তানি করার কথাটা সারফেসে আলোচনার টেবিলে এবার সরাসরি উঠে এল!  আর তাতেই ট্রাম্প  এবার ইন্ডিয়ার রাশিয়ান তেল কেনা – আমেরিকান ডলার /বাণিজ্য অবরোধ ভেঙ্গে কিনার অভিযোগে মোদির উপর বাড়তি শুল্ক ৫০% এ নিয়ে ঠেকিয়ে দিলেন!
    এখন গ্লোবাল আইনগত দিক থেকে দেখলে ইন্ডিয়া অবশ্যই স্বাধীন  আর আমরা সবাই তা মানব যে, সে কোন দেশ থেকে কী আমদানি-রপ্তানি করবে এটা ইন্ডিয়ার সার্বভৌম সিদ্ধান্তের ব্যাপার। আর এতে কেউ চাপ দিলে সে অন্যদিকে মানে অন্য দেশের দিকে যেদিকে বেশি সুবিধা পাবে চলে যাবে! কিন্তু সাথে এর বিপরীত কথাটাও আছে। আমেরিকার ট্রাম্প তিনিও তো স্বাধীন – তিনিও তাঁর ক্রেতা কোন দেশের উপর কী শুল্ক ধরবেন এব্যাপারে স্বাধীন! অর্থাৎ মূককথাটা হল, স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ইত্যাদি রাজনৈতিক অধিকারের কথা তুলে দুই রাষ্ট্রের এই স্বার্থদ্বন্দ্বের কোন ফয়সালা নাই, হবে না।
    কিন্তু এতে নিট যেটা পরিণতি হবে সেটা হল, অন্তত ১৯৮০ সাল থেকে চালু ও গড়ে উঠা আন্তর্জাতিক / গ্লোবাল বাণিজ্য ব্যবস্থাটা ভেঙ্গে পড়বেই! এতে আমার বা যারা বুঝে তাদের কোনই সন্দেহ নাই। অর্থাৎ ট্রাম্পের এই বিশেষ বাড়তি যথেচ্ছাচার শুল্কনীতি – এটা বর্তমান আমেরিকান নেতৃত্বের চলমান গ্লোবাল বাণিজ্য ব্যবস্থাটাকেই ভেঙ্গে অচল করে দিবে। যার সোজা মানেটা হল, এর বিকল্প হিসাবে চীনা নেতৃত্ব বা প্রভাবের বিকল্প একটা বাণিজ্য ব্যবস্থা জায়গা করে নিবার পথটাই গোয়ার ট্রাম্প করে দিচ্ছেন!  আর এতে আমেরিকা ছাড়া বাকি দুনিয়া মানে মুখ্যত ‘গ্লোবাল সাউথ’ আর ইইউ এর সমর্থন সেদিকেই  ক্রমশই সবল হয়ে হাটবেই! মূল কারণ, একালে এখন এসে প্রতিটা রাষ্ট্রই একমাত্র টিকে থাকতে পারে ব্যাপক অবাধ আমদানি-রপ্তানি আন্তঃরাষ্ট্রীয় বাণিজ্য  করেই!  দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে কিছু এক্সপেরিমেন্টেরও পরে (আইএমএফ-ভিত্তিক) ১৯৮০ সাল থেকে আমেরিকার নেতৃত্বে যে গ্লোবাল বাণিজ্য ব্যবস্থাটা গড়ে উঠেছিল সেটাই এখন চীনের নেতৃত্বে (ঢেলে সাজানো আইএমএফের জায়গায় ব্রিকসের আইডিয়ায়) পুনর্গঠিত হতে শুরু করবেই ক্রমশ!

    কিন্তু আমাদের মূল প্রসঙ্গ এটা নয়ঃ
    আমাদের মূল প্রসঙ্গ হল, আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব (সাথে একাদেমিশিয়ানেরা) কী এরপরেও ইন্ডিয়ান আধিপত্য যেন আগের মতই আছে এই যুযুর ভয়ে ইন্ডিয়া-লেপ্টে থাকার পক্ষে বোকা বুঝ নিয়েই থাকবে? নাকি পরিস্কার দেখতে পাবে যে আমেরিকা-ইন্ডিয়ান কোন নুন্যতম বিশেষ খাতিরের সম্পর্কটাই  এবার নাই হয়ে গেছে! অন্তত নিকি হ্যালি  করুণ আবেদনটা দেখেও তো তাদের বুঝা উচিত, নাকি?  আর কতদিন বাংলাদেশের রাজনীতিবিদের পড়াশুনা ছাড়া কথিত ইন্ডিয়ান হেজিমনির ভুতের ভয়ে পথ চলবে?????

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   ২৮ আগষ্ট, ২০২৫    সন্ধ্যা ০৭ঃ ৫৪

    [এই লেখাটা এর আগে প্রথম ভার্সানে ছাপা হয়েছিল দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় আমারই লেখা এক কলাম হিসাবে, গত ২৪ আগষ্ট ২০২৫।  আজ এখানে সে লেখাটারই এক আসল বা নিজ বর্ধিত এক নয়া এডিটেড ভার্সান এখানে আমার নিজ সাইটে ছাপা হল। বলাই বাহুল্য এখানে শিরোনামটাই শুধু নতুন নয়। এমন অনেক প্রসঙ্গই নয়া এখানে যোগ করা হয়েছে যেটা পত্রিকার ভার্সানে ছিল না। আসলে পত্রিকার কলাম ভার্সান মানে যেটা যুগান্তরের এডিটরিয়াল পলিসি সঠিক মনে করে সেই ভার্সান; এভাবে দেখাটাই সঠিক হবে। আর তুলনায় এটা আমার নিজ পরিবর্ধিত-এডিটেড ভার্সান মনে করলেই সঠিক হবে বলে আমার বিশ্বাস! ]

  • মাইকেল কুগেলম্যান মূলতঃ ইন্ডিয়া-হাসিনার এক অদ্ভুত দালাল। গুজব ছড়াচ্ছে এখনও

    মাইকেল কুগেলম্যান মূলতঃ ইন্ডিয়া-হাসিনার এক অদ্ভুত দালাল। গুজব ছড়াচ্ছে এখনও
    গৌতম দাস
    ৩০ মে ২০২৫  রাত ২২ঃ ২৭
    https://wp.me/p1sCvy-6tu

     

    কুগেলম্যান

     

    [এই লেখাটায় অনেক ইংরাজি উদ্ধৃতি আছে। এতে বাংলা পড়ুয়াদের ঘাবড়াবার কিছু নাই।  সেক্ষেত্রে  যে স্টাইলে পড়তে হবে তা হল, ইংরাজী শব্দ বা বাক্যগুলো সরাসরি এড়িয়ে বা টপকে গেলে কোন অসুবিধাই হবে না পাঠকের একথা মনে রেখে পরে যেতে হবে। কারণ, পাশেই ঐ ইংরাজিটা বাংলায় লেখা পাবেন। তাই ইংরাজী শব্দগুলো যেন নাই এমন মনে করে আগিয়ে যান। তাতে বুঝতে কোনই অসুবিধা হবে না। ]

    এক মাইকেল কুগেলম্যান নিয়ে কথা বলব গত বাইডেনের আমল থেকে এখনও যিনি মূলত ইন্ডিয়াপ্রেমী। সেটা এমন ইন্ডিয়াপ্রেমী যিনি  আদতে মনে করেন –  “আমেরিকার ইন্দো-প্যাসেফিক পলিসি বাস্তবায়িত হতে পারে বাংলাদেশকে ইন্ডিয়ার হাতে তুলে দিলে”।  এককথায় উনার মূল টার্গেট চীনকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ-ছাড়া করা; এটাই আমেরিকার ইন্দো-প্যাসেফিক পলিসির সম্ভাব্য সফলতার পথ; যেটা আরেক ভাষায় বললে, বাংলাদেশকে ইন্দো-প্যাসেফিক পলিসিতে অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়ার একমাত্র উপায়।    চীনের সাথে

    মাইকেল কুগেলম্যান[Michael Kugelman] এক অদ্ভুত আমেরিকান; তিনি এক আমেরিকান থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক “উড্রো উইলশন সেন্টার” [Woodrow Wilson International Center] এর ফেলো। যেখানে ফেলো মানে হল যে বছরে [salary range for this position is $120-135k] অর্থে নিয়োগপ্রাপ্ত এর গবেষক ও লেখক নিয়োগ। তবে কী নিয়ে গবেষণা (বা গবেষণার নামে কি নিয়ে উনি মেতে থাকবেন) আর লিখবেন এটা নির্ভর করবে নিয়োগদাতা ঐ থিঙ্কট্যাঙ্ক আমেরিকা-রাষ্ট্রের কোন নীতি-পলিসি লাইনের প্রবক্তা। সেই লাইন বলতে আবার এরা নিজেরা ডেমোক্রাট না রিপাবলিক  কোন দলের সমর্থক অথবা আবার কখনও বাই-পার্টিজান বা উভয় দলের মিশানো এক গোষ্ঠি কিন্তু সুনির্দিষ্ট একটা ইস্যু বা চিন্তা-কৌশল লাইনের পক্ষে কাজ করার প্রতিজ্ঞা নিয়ে গড়ে উঠা থিঙ্কট্যাঙ্ক হতে পারে।
    এই বিচারে “উড্রো উইলশন সেন্টার” বা সংক্ষেপে “উইলশন সেন্টার” এটাকে বাই পার্টিজান বলা যেতে পারে। তবে এমন মনে করার কারণ হল, সাধারণত থিঙ্কট্যাঙ্ক মানে হল  এরা আমেরিকার নিজস্ব দাতব্য প্রতিষ্ঠান টাইপের হয়ে থাকে মানে, সরকারী ফান্ড সাধারণত এতে থাকে না। দাতব্য অর্থে পরিচালিত হয়ে থাকে।  কিন্তু  “উইলশন সেন্টার” ব্যতিক্রম; এখানে 4০% ফান্ড সরকারী অনুদান। সম্ভবত সেকারণে যখন যে প্রেসিডেন্ট থাকে সে সাধারণত এই থিঙ্কট্যাংক  প্রভাবিত হয়েই থাকে।
    আরো সুনির্দিষ্ট করে এবার বললে, “উইলশন সেন্টার” কম করে হলেও গত প্রায় ১৫ বছর ধরে ওবামা আমল (২০০৯-১৭, দুই টার্ম) থেকেই একট ইস্যু নিয়ে কাজ করছে যেটাকে [China containment] বা চায়না ঠেকানো পলিসি বলা যেতে পারে।  যে পলিসির সবচেয়ে বড় দুর্বল দিক বা বয়ানে খামতির দিকটা হল, এর বাস্তবায়ন সম্ভব কিনা এদিকটা তলিয়ে দেখতে ততধিক অনাগ্রহ।

    এবার সরাসরি আসি। কুগেলম্যান হল বাইডেনের আমলে যখন ইন্দো-প্যাসেফিক গান সর্বোচ্চ স্বরে উঠেছিল সে আমলের সাউথ-ইস্ট এশিয়ায় বাইডেনের কোর লোক। যার এসাইনমেন্ট ছিলঃ
    ১। বাংলাদেশকে চীন ছাড়া করে ইন্দো-প্যাসেফিক কৌশল – এই উদ্যোগের সদস্য বানানো।
    ২। এতে তাদের কোর ইন্টারেস্ট হল আলটিমেটলি বাংলাদেশকে ভারতের কোলে তুলে দেয়া।
    ৩। কিন্তু তারা প্রথম এবং আপাতত কৌশল হিসাবে প্রকাশ্যে উলটা পথে হেটেছিল। ইন্ডিয়াকে দূরে রেখে বাংলাদেশ স্যাংশন আর মানবাধিকারের বুলি আওয়াজ উঠিয়েছিল। যাতে হাসিনার বিরুদ্ধে বিরোধীদলকে চেগানো যায়। এতে হাসিনাকে বিপদে চাপে ফেলে তাকে বাধ্য করে ইন্দো-প্যাসেফিক কৌশল – এই উদ্যোগের সদস্য বানানো পথে ঠেলে দিতে পারে। এই অবস্থাটাই ঘটেছিল ২০২৩ সালের জুনের পরে। বাইডেন তখন থেকে ইন্ডিয়ার মাধ্যমে (ইন্ডিয়াকে সচল করে) হাসিনার সাথে ডিলিংয়ে চলে যায়। আর বিরোধী দল মা-বাপ হীন দিশেহারা হয়ে পড়েছিল।
    এখন থেকে ৭ জানু নির্বাচনে ওয়াকভার এর ইঙ্গিত দিয়ে কেটে পরা শুরু করেছিল বাইডেন প্রশাসন। আর তা থেকে ২০২৪ এর ৭ জানু নির্বাচনের পরে ৫ ফেব্রুয়ারী বাইডেনের হাসিনাকে পাঠানো চিঠি যেখানে বলা ছিল যে, বাইডেন প্রশাসন হাসিনার সাথে একসাথে কাজ করবে।

    এখন উপরে যে এসাইনমেন্টের কথা বললাম এর সত্যতা, নিশ্চয়তা-প্রমাণ কীঃ
    এর প্রমাণ হল, কুগেলম্যানকে ফলো করেন। ফলো করা বলতে???

    ফলো বলতে এই তিন-বছরেরও বেশি সময়ে কুগেলম্যান প্রতি সপ্তাহে আমেরিকান ফরেন পলিসি  পত্রিকায় যে সাপ্তাহিক কলাম লিখে গেছেন, সেগুলো ফলো করেন।
    কিন্তু না এই তিন চার বছরের ফলো মানে অনেক হ্যাপা, অনেক লেখা পড়তে হবে। না তা করতে হবে না। আমি সেখান থেকে বেছে তিন-চারটা আপনাদেরকে পড়তে বলব। আর তাতেই আপনি বাইডেন-ল্যু-কুগেলম্যানদের পুরা পরিকল্পনাটাই জানতে পারবেন।

    ১। কুগেলম্যানের একেবারে প্রথম আলোতে লেখা একটা কলাম, লিখেছিলঃ

    লেখা: মাইকেল কুগেলম্যান।    প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০২১, ২০: ০১

    এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য খারাপও হতে পারে

    এটা ছিল ১০ ডিসেম্বর ২০২১ আন্তর্জাতিক  মানবাধিকার দিবসের পরের দিন; বাইডেন প্রশাসন তার বাংলাদেশ (সাথে আরো কিছু দেশও ছিল) সরকারের উপর  স্যাংশন আর মানবাধিকার লঙ্ঘণের প্রবল অভিযোগ তুলে এই রাজনৈতিক লাইনের যাত্রা শুরু করেছিল সেদিন থেকে পরের তিন বছর ধরে। যাতে বাংলাদেশের বিরোধী দলগুলো হাসিনার বিরুদ্ধে রাস্তায় সরব হয়ে উঠে। কিন্তু লক্ষ করেন এই সময়ে লেখা এই কলামে, কুগেলম্যান উলটা সাবধান করছেন বাইডেন প্রশাসন কে যে বাইডেনের এই সিদ্ধান্ত আমেরিকান স্বার্থের জন্য খারাপও হতে পারে!!!!! কেন? কুগেলম্যানের কেন এই উলটা গান?
    এটা আপাতত নোট করে রাখেন যে আমাদেরকে এর জবাব পেতে হবে।

    ২। পরেরটা বেছে তুলে আনছি এক রিপোর্ট যেটা ইউএনবি (UNB মানে হাসিনার প্রিয় আরেক কেনা নিউজ এজেন্সী) থেকে করা আর যেটা অনেক পত্রিকাই আবার ইউএনবি বরাতে ছেপেছিল ২০২৩ সালের ১৫ জানুয়ারি তে।

    “AL retains significant level of support because of success stories, says South Asia policy analyst Michael Kugelman” 

    ২০২৩ সালের ১৫ জানুয়ারি মানে হাসিনার অর্থনীতি যখন মরণ দশায়। দলের লোক আর চোরা ব্যবসায়ীরা যখন নিজেদের চুরির অর্থ ডলারের কনভার্ট করে পালাতে ব্যস্ত। যা শুরু হয়েছল ২০২১ সালে তেলের দাম বাড়ানো কে কেন্দ্র করে ; যা দেশে ডলারের দাম ৮৫ টাকা থেকে ১২০ টাকার আশেপাশে চলে যায়। অথচ এই কুগেলম্যান দেখেন কীরকম উলটা কথা বলছে, দাবি করছেন হাসিনা নাকি সফলভাবে দেশ পরিচালনা করে যাচ্ছিলেন তখন।

    লিখছেনঃ
    ক)    “We have to keep in mind that the ruling party Awami League has been in power since 2009 and it retains a significant level of support,” [মানে লীগ খুবই গণসমর্থিত দল ও ক্ষমতায় তারা; এটা, সেই ২০০৯ সাল থেকে]   he said, noting that the party has been able to bring success stories on the economic front [অর্থনৈতিক ফ্রন্টে নাকি সফলতায় ছেয়ে ফেলেছে] and in countering terrorism.[আর সেই সাথে জঙ্গিবাদ নির্মুলেও সফলতা দেখিয়ে যাচ্ছে] ” ।

    খ)  “Kugelman said that even if someone talks about all the bad things happening in Bangladesh [বাংলাদেশে খারাপ সব কিছু ঘটছে বলে কেউ কেউ বললেও], the bottom line is that there is still a lot for the government in Bangladesh which helps it sustain a significant level of success [শেষ কথাটা হল, এরপরেও বাংলাদেশ সরকার উল্লেখযোগ্য পর্যায়ের সফলতা দেখাচ্ছে] and there are people who see reasons to support it” [ক্ষমতাসীন দলের প্রতি সমর্থন দেখানোর মত ব্যপক জনগণ এখনও আছে].

    গ) “Responding to a question, Kugelman said Bangladesh has been a regional success story for its economic growth. ‘It’s a global success story.’ ” মানে কুগেলম্যান বাংলাদেশের স্বীকৃত মুদ্রাস্ফীতি ১২-১৪% হয়ে গেলেও রিজার্ভ নিয়ে টানা পোরেন খেজুর, ছোলার মত আইটেম আমদানি করতেও পারে না এমন অর্থনীতিকে প্রশংসা করে বলছেন, এটাই নাকি হাসিনার গ্লোবাল সাকসেস স্টোরি।

    ঘ)  Kugelman, however, said the protests launched by the opposition parties “was not a mass protest” but a partisan protest.   এটা সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং। অর্থাৎ তখনও ঢাকার মাঠে বাইডেন বাংলাদেশে বিরোধীদের উতসাহ নিয়ে মাঠে নামাচ্ছেন।  আর কুগেলম্যান এই জেগে উঠা হাসিনা বিরোধিতাকে কেমন তুচ্ছ চোখে দেখে বর্ণনা করছেন। বলছেন, বিরোধীদের রাস্তার প্রতিবাদ এটা নাকি গণ-প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ নয়। এটা কেবল দলীয় প্রতিবাদ।

    অর্থাৎ সারকথায়,    বাইদেন-ল্যু একদিকে বিরোধী দলকে সমর্থন দিয়ে মাঠে নামিয়ে হাসিনার উপর চাপ সৃষ্টি করলেও কিন্তু এই কুগেলম্যান চালাইতেছে উলটা গান – হাসিনার পক্ষে দাড়িয়ে এই ফ্যাসিজমের ক্ষমতাকে প্রসংসা করে চলছেন। মজা না! কারন, এই ২০২৩ সালের জুনেই বাইডেন-হাসিনা রফা হবে। যেটার প্রশংসা করে কুগেলম্যান লিখছেন, বাংলাদেশে এবার ইন্দোপ্যাসিফিক কৌশলে যোগ দিল। 

    এবার, সবশেষে,  কুগেলম্যান নিয়ে ৫ আগষ্ট মানে হাসিনা পতনের পরের  আর একটা রিপোর্ট পড়াবো পাঠকদের। সেবার কুগেলম্যান একেবারে ঢাকায় এসে হাজির শুধু না। একেবারে ইন্ডিয়ার পক্ষ খোলাখুলি যুক্তি তুলে ধরা শুরু করেছেন।

    দেখেন নিচের রিপোর্টঃ
    Kugelman in panel discussion
    Bangladesh is going to be under pressure to make choices
    Diplomatic Correspondent, Dhaka; Updated: 31 Jan 2025, 17: 59

    কুগেলম্যান বলছেনঃ
    “A growing number of geopolitical rivalries have been present in Bangladesh. There has been India, China, US, and now Russia is joining in. Bangladesh has historically maintained varying degrees of good relations with all four countries. It is a difficult place to be in because Bangladesh is going to be under pressure to make choices if the Trump administration puts pressure on Bangladesh to do less with China” . হাসিনা উতখাতের পরে সব চায়না নিয়ে গেল!

    এবার সরাসরি ইন্ডিয়ার কোলে বসে তিনি বলছেন,
    A)  “……If the Trump administration puts pressure on Bangladesh to do less with China, Bangladesh is going to have to respond to that in some way.”

     B) “Michael Kugelman commented that following the fall of the Hasina government, the interim administration appears to be leaning towards China [হাসিনা পড়ার পরে চীন সব নিয়ে গেল]. It remains uncertain how the Trump administration will respond to this shift.

    C)Regarding Bangladesh’s relations with India, Kugelman noted, “For India, what’s most concerning now is the Jamaat factor and the Pakistan factor, and particularly Bangladesh’s efforts to to build up a better relationship with with Pakistan.” এখানে এসে কুগেলম্যান যে ইন্ডিয়ার দালাল সেটা আর লুকায়ে রাখতে পারলেন না। তিনি বলছে ইন্ডিয়া জামায়াত ফ্যাক্টর আর পাকিস্তান ফ্যাক্টর নিয়ে উদ্বিগ্ন। 

    D) “My sense is that India would like to see an election here sooner rather later. If there is an election anytime in the relatively near future, there’s a good chance that BNP would come back. And I think India might feel that if BNP is serious about ending its alliance with Jamaat, that could create more opportunities for India to actually be comfortable engaging with the government in Dhaka.”

    এই শেষে এসে কুগেলম্যান এবার একেবারে কাছাখোলা। ইন্ডিয়া, ওয়াকার আর তারেকের সুরে তিনি সোজা বলে দিলেন – এখনই নির্বাচন [see an election here sooner rather later]।  এবং তথাকথিত জামায়াত ভীতি। 

    তাহলে যেকথা দিয়ে শুরু করেছিলাম, কুগেলম্যান হল, ইন্ডিয়ান এজেন্ট যিনি ইন্ডিয়ার হাতে আবার বাংলাদেশকে তুলে দিতে চান। আর এতে এখন মৃত [ট্রাম্প ২.০ এর আমলে কথিত ইন্দো-প্যাসেফিক কৌশল অথবা কোয়াড] হলেও কুগেলম্যান এখনও স্বপ্ন দেখতে ভুলতে রাজি না যে  বাংলাদেশকে ইন্ডিয়ার হাতে তুলে দিলে তাতে ইন্দো-প্যাসেফিক কৌশল অথবা কোয়াড আবার জেগে উঠতে পারত! যদিও মানতেছেন ট্রাম্পের কারণ এসব কিছুই হচ্ছে না। তবুওও তিনি এখনকার ইন্ডিয়ার বাংলাদেশের নীতির পক্ষে আছেন সেটা জানাতে দ্বিধা করছেন না, জানিয়ে চলছেন।
    কুগেলম্যান এবার সবশেষে গতকালকে একই ফরেন পলিসি পত্রিকায় তার সাপ্তাহিক কলাম লিখেছেন। সেতার এক বাংলা অনুবাদ কালের কন্ঠ ছেপে দিয়েছে, লিঙ্ক এখানে

    মার্কিন সাময়িকী ফরেইন পলিসির প্রতিবেদন : হট সিটে ড. ইউনূস

    বলা যায় এটা হল কুগেলম্যান ইন্ডিয়াকে দেয়া সর্বশেষ সার্ভিস – সরাসরি এক ময়থ্যা গুজব যে ইউনুস সাহেবের ক্ষমতা নাকি খুব বিপদে আছে। এটা শতভাগ চাপা পিটানো একটা হাইপ!

    শেষ কথাটা হল, এটা অবশ্যই ওয়াকারের জন্য দুঃখের কথা যে তিনি গতকাল থেকে জেনে গেছেন যে বাংলাদেশে তাঁর ইন্ডিয়ার আর বিএনপিকে সাথে নিয়ে গড়া ও করা ততপরতা এটা শুধু ট্রাম্পই অনাগ্রহ বা বিন্দুমাত্র অনাগ্রহীই নয়, খোদ সিআইএ-ও পছন্দ করছে না বলে ওয়াকার ব্লক জানতে পেরে গেছে। বলাই বাহুল্য যেটা একটা হতাশা ডেকে এনেছে তাদের ব্লক মনমানসিকতায়!

     

     

     

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ ৩০ মে, ২০২৫    রাত ১০ঃ ৪৮
    শেষ আপডেটঃ  ৩১ মে, ২০২৫    রাত ১২ঃ ২০

     

  • তাহলে আওয়ামী লীগ / হাসিনার বিচার ও নিষিদ্ধ কী হচ্ছে? আসন্ন?

    তাহলে কী আওয়ামী লীগ  নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছে আর সাথে হাসিনার বিচার শুরুও কী হচ্ছে? আসন্ন?
    গৌতম দাস
    ০৯ মে ২০২৫     দুপুর ১১ঃ ৫১
    https://wp.me/p1sCvy-6sz

    May be an image of 8 people, dais and text that says 'গণহত্যার দায়ে আ' ''লীগকে বিচারের আওতায় আনা হোক "আওয়ামী লীগকে বিচারের আওতায় আনার দাবি আমরা প্রকাশ্যে করেছি, লিখিতভাবে করেছি, সরকারকে জানিয়েছি। আমরা চাই আওয়ামী লীগকে গণহত্যার মানবতাবিরোধী ধী অপরাধের দায়ে বিচারের আওতায় আনা হোক। এজন্য সংবিধানের ধানের 89 অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইন করা যায় এবং আইন সংশোধন করা যায়। সালাউদ্দিন আহমেদ এপ্রিল ২০২৫ ছেফা জতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের পর। BИP PMERIACEL ΜΕBΙΑ CELL f0ro0d RIRLK'

     

     

    তাহলে আওয়ামী লীগ / হাসিনার বিচার ও নিষিদ্ধ কী হচ্ছে? আসন্ন?

    সালহউদ্দিন আহমেদ, দ্যা বস (above Mirza fokrul) এবং দ্যা ‘র’ – পক্ষ থেকে অথরাইজার; তিনি এক বক্তব্য দিয়েছেন। খাস বক্তব্য ধরে নিচ্ছি কারণ এটা বিএনপির মিডিয়া সেল ফেসবুক পেজ থেকে ছাপানো প্রচার হয়েছে (লিঙ্ক এখানে) আধা ঘন্টা আগে।
    ইদানিং আমি সালহউদ্দিন আহমেদকে দেখে মানে ফেস রিডিংয়ে নিশ্চিত হচ্ছি, মনে ভিন্ন মতলব থাকলে সেটা ফেস বা মুখে প্রতিফলিত হবেই!  বেচারা!!

    কিন্তু এত তাড়াতাড়ি বিএনপি ভচকায়ে যাবে???? তাহলে কীসের ভরসায় জনগণ বিচার করবে বলে  অবস্থান নিয়েছিল? জাস্ট র-এর হুকুম, নির্দেশ? বেচারা তারেক জিয়া ও তার বিএনপি! গতকাল দেখলাম প্রণয় ভার্মা তাকে রবীন্দ্রনাথ গিলিয়েছে একটা বিবৃতি আদায় করে নিয়েছে! যা বিএনপি তাঁর বাবা জিয়াউর রহমানের আমন থেকে কখনই এমন রবীন্দ বয়ান দেয় নাই! দেওয়ার কথাও না! কালকেও প্রণয় ভার্মা রবীন্দ্রনাথের মুখোশ পরে বাংলাদেশের উপর ইন্ডিয়ান আধিপত্য কায়েমের বক্তৃতা দিয়েছে!

    May be an image of 8 people, dais and text that says 'গণহত্যার দায়ে আ' ''লীগকে বিচারের আওতায় আনা হোক "আওয়ামী লীগকে বিচারের আওতায় আনার দাবি আমরা প্রকাশ্যে করেছি, লিখিতভাবে করেছি, সরকারকে জানিয়েছি। আমরা চাই আওয়ামী লীগকে গণহত্যার মানবতাবিরোধী ধী অপরাধের দায়ে বিচারের আওতায় আনা হোক। এজন্য সংবিধানের ধানের 89 অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইন করা যায় এবং আইন সংশোধন করা যায়। সালাউদ্দিন আহমেদ এপ্রিল ২০২৫ ছেফা জতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের পর। BИP PMERIACEL ΜΕBΙΑ CELL f0ro0d RIRLK'

    তাহলে কী দাঁড়ালো? মির্জা আলমগীর সাব?
    আপনার জনগণ বিচার করবে – এই মহান বক্তব্য এখন কোথায়? সবই র-এর খেলা, অনুমোদন! আর আপনারা র-এর হাতের পুতুল!!!!

    এই বুড়া বয়সেও আপনার আক্কেল হল না। আত্মসম্মান? সবই ক্ষমতা আর অর্থের লোভ! এভাবে নিজে অপমানিত হলেন তাতে কী? তাই না? ক্ষমতা তো পাবেনই; তাই ভাবছেন তো? সেটাও পাবেন না। বাংলাদেশের মানুষের চোখে আপনারা নিকৃষ্ট ইন্ডিয়ার দালাল! সেটা কী টের পাচ্ছেন?

    গতরাত থেকেই মুখ্য প্রায় সব ছাত্র সংগঠন ও তাদের সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল ইউনুসের যমুনা বাসা / অফিস এর সামনে অবস্থান নিয়েছে; অন্য অনেক রাজনৈতিক দলও সেখানে উপস্থিত ছিল। আজ সকালে জামায়াতও অন্তত বিএনপি মানে র-এর সাথে পুরানা অবস্থানে থাকে নাই; তারা মিছিল পাঠিয়েছে, মানে সংহতি জানিয়েছে ধরে নিতে পারি।

    কথিত বামপন্থি?
    আসলে যারা বামপন্থার নামে মূলত হিন্দুত্ববাদী ও মোদির ফলোয়ার তারা এখন কী করবে? সিপিবি-বাসদ ঘরানা? আপনাদেরকেও কী র-অনুমোদন দিবে? আনতে পারবেন? না নিজেই নখড়া করবেন?

    একটা সময় আসে যখন ভয়ে সব দালালি / চাটুকারিতা হিন্দুত্ববাদী ভন্ডামি সব কিছুর লেবাস খুলে যায়! সব ন্যাংটা দেখা যায়? সবই খোলা মাঠ!

    সকাল থেকে দেখি প্রথম আলোর সুরও বদলে গিয়েছে!

    তাহলে কী সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ জিন্দাবাদ? তিনি ন্যাংটা হয়ে আমাদের চোখ খুলে দিলেন? ঘটনা লারায় দিলেন?  কিন্তু আমরা তো দেখছি র-এর দালাল গুলাই ন্যাংটা হয়ে ডিগবাজি দিচ্ছে! সত্যি দেখার মত এ-এক   র-অনুমোদিত খেলাধুলা!!!!!

     

    আবার পল্টিঃ
    তিন ঘন্টা যেতে না যেতেই আবার পল্টি!
    তিন ঘন্টা আগে প্রচার করলোঃ
    আমরা চাই আওয়ামী লীগকে গণহত্যার ও মানবট্কাতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিচারের আওতায় আনা হোক!

    6h 
    “আওয়ামী লীগকে বিচারের আওতায় আনার দাবি আমরা প্রকাশ্যে করেছি, লিখিতভাবে করেছি, সরকারকে জানিয়েছি।
    আমরা চাই আওয়ামী লীগকে গণহত্যার ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিচারের আওতায় আনা হোক। এজন্য সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইন করা যায় এবং আইন সংশোধন করা যায়।”

    আর এখন বলতেছেঃ
    আমরা বিএনপি হিসেবে তো, এই সিদ্ধান্ত নেয়ার মালিক নই।

    1h 

    যার সোজা মানে হল, 
    আমরা বিএনপি মোদি বাবার র-এর কাছে তাদের কোলের এক নম্বর পার্টি হয়ে থাকতে চাই।
    May be an image of 3 people and text that says 'ਦ ENIAS GHASN ਆন S আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন ও সরকার নিতে পারে। বিএনপি এই সিদ্ধান্ত নেয়ার মালিক না। -ড. আবদুল মইন খান উ্জ্ারবার, ৯. ২০২৫, যুক্তরা্তরভিিন্তক দা কার্টার সেন্টারের পরতিনিধি দলের সাথে বিএনপির বৈরঠক বৈংক শেষে। •NF MIBIA ELL f08000'

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  , দুপুর ১২ঃ ১৫   ৯ মে  ২০২৫
    শেষ আপডেটঃ  , বিকাল ০৪ঃ ৪৯   ৯ মে  ২০২৫

     

     

  • প্রতি বিপ্লব কী? ওয়াকার ম্যাজিক?

    প্রতি বিপ্লব কী? ওয়াকার ম্যাজিক?
    গৌতম দাস
    ২৭ এপ্রিল ২০২৫  সন্ধ্যা ০৬ঃ ৫১
    https://wp.me/p1sCvy-6rH

     

    আমার অবজারভেশন এটাই প্রতি-বিপ্লব বহনের চিহ্ন, ছবিটা বাংলা নিউজ / কালের কন্ঠ থেকে নেয়া

    দুর্ভাগ্যবশত আমাদের দেশে বিপ্লব শব্দটা যতটা পরিচিত; আর এটাও বুঝি বা-বুঝি এটা ব্যবহার করতে দেখি আমরা অনেককেই এবং অতি সহজেই। বিশেষ করে এটা যখন “জুলাইয়ের বিপ্লব” বা “আগষ্ট বিপ্লব” বা “২৪ এর বিপ্লব” এর যুগ বা কাল পার হচ্ছি আমরা। কিন্তু ঠিক তার দ্বিগুণ হল আমাদের অজ্ঞতা বা বেখবর!!! কিন্তু কী নিয়ে? সেটা হল বিপ্লব না হয় যা হয় বুঝলাম; তাহলে প্রতি-বিপ্লব, সেটা আবার কী? এমনিতে বিপ্লব এই কথা বা ধারণাটাকে কমিউনিস্ট-প্রগিতির লোকেরা নিজেদের একচেটিয়া মনে করে থাকে। তারাই সবচেয়ে ভাল বুঝে এমনও মনে করে থাকে। তবুও তাদের মধ্যেও দেখা যায় প্রতই-বিপ্লব জিনিষটা কী? কেন তা আসে? কখন আসে? – এসব প্রশ্নে খুব স্বচ্ছ ধারণা রাখেন না। যদিও তারা প্রতি-বিপ্লব কথাটা শুনেছেন এমন দাবি করে থাকে।

    তত্ব কথা প্রতি-বিপ্লব কে বুঝানো যায়; বুঝাবও অবশ্যই। কিন্তু আগে প্রাকটিক্যালি দেখাবো। এর মূল কারণ, আমরা সকলে প্রগতি বুঝি কিংবা ইসলামিজম বুঝি অথবা আম-জনতা যাই হই না যেন বিপ্লব কী তা ৫ আগষ্টের পর থেকে আমরা সবাই বলব আমরা বুঝি। কারণ এটা বাস্তবে আমাদের সবাইকে দেখায়ে দিছে; আগে না জানলেও এখন জেনে গেছি বিপ্লব কী!
    তাহলে প্রতি-বিপ্লব কী?
    এর ইংরাজি হল,  কাউন্টার-রেভেলিউশন [counter revolution] । বুঝাই যাচ্ছে কাউন্টার মানে একটা ঘটে যাওয়া ঘটনাকে উলটা দিকে ঘুরানো।  অর্থাৎ হাসিনা উতখাত উপড়ে ফেলা যদি বিপ্লব তবে এখানে প্রতিবিপ্লব হচ্ছে হাসিনাকে ফিরে ক্ষমতায় বসানো! হা ব্যাপারটা তাই এখানে একটু টুইস্ট বা মোচড় আছে। হাসিনা ক্ষমতায় ছিল ১৬ বছর ইন্ডিয়ান আধিপত্যের প্রতিনিধি হিসাবে। তাহলে হাসিনার উতখাত মানে আসলে তা সেই ইন্ডিয়ান আধিপত্যেরও উতখাত। তাহলে এখানে প্রতিবিপ্লব মানে কেবল হাসিনাকে নয় মূলত একেবারেও মূল শক্তি হচ্ছে ইন্ডিয়ান আধিপত্য একেই পুনঃপ্রতিষ্ঠা মানে ইন্ডিয়ান আধিপত্যের পুনঃপ্রতিষ্ঠা এটাই হল মৌলিক দিক!
    আর সেখান থেকেই এতে আরো কিছু ভিন্নতা থাকবে বা দেখব আমরা। অর্থাৎ কেবল ঠিক হাসিনার পুনঃপ্রতিষ্ঠা নয় এর বদলে আমরা দেখব মূল শক্তি  ইন্ডিয়ান আধিপত্যের পুনঃপ্রতিষ্ঠা তাই।  এটাই প্রতি-বিপ্লব ও প্রতি-বিপ্লবী চিহ্ন বা মূল প্রতীক।

    এবার আর ইন্ডিয়ান আধিপত্যের পুনঃপ্রতিষ্ঠা এর সাথে আরো দেখব – তারেক জিয়ার বিএনপি, স্পষ্ট করে জামায়াত, ফাঁকে কান্নি মারছে এমন হাসিনার লীগ ইত্যাদি আর সবার উপরে ভাসবে তাদের সমন্বয়ক ওয়াকার।  আর সব মিলিয়ে এরাই হতে যাচ্ছে সম্ভাব্য প্রতিবিপ্লবী শক্তি!

    এবার আরেকটু সার করে বলিঃ তাহলে ৫ আগষ্ট কে যদি ধরি হাসিনার সাজানো সেনাবাহিনী এর অর্ডার ভেঙ্গে দিয়ে এই সেনা প্রতিষ্ঠানেরই (ওয়াকার বাদে) বাকীদের (মূলত জুনিয়র অফিসারদের) আধিপত্যের বিজয় (যেখানে অসহায় ওয়াকার পুরানা পদপদবীসহই ব্যক্তি মাত্র); আর এটাই মূলত হাসিনার উতখাত ও পলায়নের মূল চালিকা শক্তি। আর পরবর্তিতে এই ঘটনাটাই ৫ আগষ্ট ২০২৪ থেকে ছাত্র-জনতার দ্বারা এন্ডোর্সড বা অনুমোদিত হয়ে যাওয়াতে  পুরা পরিবর্তন টাই একটা বিপ্লব; একটা বিল্পবী চরিত্র নিজে হাজির হয়ে যেতে পেরেছিল। যদিও ভিতরে নানান পকেটে অনেক ধরনের দুর্বলতাও থেকে গেছিল। যেমন ওয়াকারকে উপরে প্রতীকী হলেও রেখে দেওয়া। বাওইরে থেকে ইউনুস সাহেব-কে এনে সরকার প্রধান করে বসানো ইত্যাদি অনেকগুলো দুর্বল-পকেট এতে থেকে গেছিল।

    তবুও অর্থ তৈরির দিক থেকে আবেগ-উচ্ছাসে এটা সবার দিক থেকে এটা একটা বিপ্লবই গন্য হয়েছিল ।   আর এই বিপ্লব ও এই বিপ্লবের বিরুদ্ধে প্রথম বিরুদ্ধচারণ শুরু করেছিল ইন্ডিয়া ও মোদি। এদিকটা খেয়াল করলেই ব্যাপারটা বুঝা যাবে। এতবড় সধিপয়ত্য হারানো মূল শক্তি প্রতিবিপ্লব বা বিরোধিতার মূল হাল ধরবে তা বলাই বাহুল্য! কিন্তু এর সাথে সহযোগী হবে তারেকের বিএনপি, আগা-পিছা করা জামায়াত (যার শুরুটা হয়েছিল ইসকন-চিন্ময় আর এদের গলা জড়িয়ে ধরে চুমা দেয়াদের কে দিয়ে)। ওদিকে সেনা প্রতিষ্ঠানের ভিতর বিজয়ী শক্তিরো যতটা সম্ভব খামতি পূরণ করে পয়লা স্ত্র পেরিয়ে নিজেদের সংহত হয়ে দারাতেই নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ লেগে যায়।
    কিন্তু সবচেয়ে বড় আরেক দুর্বলতা ক্রমশ বড় হয়ে উঠতে থাকে। সেটা হল, খো ইউনুস সাব, আসিফ নজরুল ও অন্যেরা। এদের কাজটা ইনোসেন্ট বা নিস্পাপ অজ্ঞতা বলবেন হয়ত অনেকে। কিন্তু এটা আসলে বাচ্চাদের আপাত নির্দোষ পুকুরে ঢিল মআরা যেটা পুকুরের ব্যাঙের দিক থেকে প্রাণঘাতি, এরকম।  না ইউনুস না তার মন্ত্রীসভা (উপদেষ্টারা) কেউই প্রতি-বিপ্লব ব্যাপারটা কী তা আমল করেন নাই শুধু তাই না প্রায় অযোগ্যও বটে। কিন্তু এটা যে গণমানুষ রাষ্ট্রস্বার্থের দিক থেকে বাঁচামরার সেখবর তাদের নাই। এরই প্রমাণ হল, মুজিবের ছবি অবলীলায় মাথার উপরে টাঙাতে অসুবিধাবোধ না করা, লীগেরও রাজনৈতিক অধিকার দিতে ব্রি. শাখাওয়াত প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাচাল কথাবার্তা ও অপসারিত হওয়া অয়থবা ধরেন খোদ ইউনুস সাবের সস্তায় ইলিশ মাছ খাওয়ার রাষ্টড় ও সরকার প্রধান হয়ে থাকার লক্ষ্য নির্ধারণ……!!!  আমাকে বারবার লিখতে হপ্যেছে ক্ষমতা কী? রাষ্ট্রক্ষমতা মানে মারো নাহলে নিজে মরো! ফ্রেন্ড-এনিমি টনটনে বোধ! আগেই আপনাকে নির্মম্ভাবে আপনার ক্ষমতার এনিমি কে মারতে হবে নইলে পরে শত্রুর হাতেই নিজে উতখাত হতে হবে!! ক্ষমতা মানে এটাই।
    এটাই বিপ্লব কে রক্ষা করা! ফলে হয় মারো নয়ত মরো! বিপ্লব কে সুরক্ষা দাও আর নয়ত প্রতি-বিপ্লবে মারা যাও!  একথাতাই কখনও ইউনুস সাবকে পরিস্কার বুঝানো যায় নাই আধা-বুঝ ভাবে উনি থেকে গেছেন। আর ততই উনি মটিভেশন আর স্পিচ নিয়ে নিজের ক্যারিসমা দিয়ে সব জয় করতে রওনা দিয়েছেন। প্রতিবিপ্লব বুঝাতে যান নাই।  এমনকি আমি বলে আপনি নিজেও মারা পড়তে পারেন এই ভাল-ভালাইয়াতে! ক্ষমতা ভাল-ভালাইয়ার জিনিষ নয়।

    যাই হোক, আজ “জেনারেল ওয়াকার ম্যাজিকে গণমানুষের উচ্চাশা” – এই শিরোনামে যে আর্টিকেল ছাপা হয়েছে কালেরকন্ঠ সহ বসুন্ধরা, বাংলাভিষন ও এলাইক মিডিয়াতে একযোগে এতাকে আমি মনে করি আরো ঘনিভুল হয়ে আবার দাড়ানো এক প্রতিবিপ্লবী পরিকল্পনা হিসাবে। ষড়যন্ত্র পরিকল্পনা বলবেন হয়ত অনেকে।

    সরকার প্রধান হওয়া তুলনামূলক সহজ কিন্তু যদি আপনার প্রতি-বিপ্লব ঠেকানো কাজটা কী ও কেন? – এমন ধারণা নাই থেকে থাকে ?????
    তবে আপনি নিজে ব্যক্তিগতভাবে নিজের জন্য, দেশের ও গণস্বার্থ রক্ষার দিক থেকে বিপদজনক! তাই আপনার উচিত এদিকটা রাষ্ট্রক্ষমতা রক্ষা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য  “উপযুক্ত” যাকে ইউনুস সাব আপনার কম্পাটাবল মনে হয়;  তাকে বিশেষ এসাইনমেন্ট ক্ষমতাপ্রাপ্ত করে দিতেই পারেন। বলাই বাহুল্য তিনি ওয়াকার সাব নন! নির্দিষ্ট সময়-অন্তে এর রিভিউ ও অগ্রগতি মনিটর মিটিংয়ের ব্যবস্থাও রাখতে পারেন।


    লেখকঃ

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com


    সবশেষ আপডেটঃ  সন্ধ্যা ০৭ঃ ৩৫,    ২৭ এপ্রিল ২০২৫

  • বার্মা-আরাকান নিয়ে ইন্ডিয়ান প্রপাগান্ডায় মেতে উঠার কিছু নাই

    বার্মা-আরাকান নিয়ে ইন্ডিয়ান প্রপাগান্ডায় মেতে উঠার কিছু নাই
    গৌতম দাস
    ২০ এপ্রিল ২০২৫
    https://wp.me/p1sCvy-6pT

     

    আরাকান আর্মি, bbc থেকে নেওয়া

     

     

    মাতবর-তালেবরে দুনিয়া তো বটেই ফলে বাংলাদেশও ভরে উঠেছে। ঘটনা হল ইউটিউব-কে নিয়ে।
    ইউটিউবকে কীভাবে দেখব?
    ইউটিউব আরেক ধরনের মিডিয়া যেটা সোশাল মিডিয়া; মানে হল যা মেইন স্ট্রিম মিডিয়া নয়।
    যদিও অনেক সময় মেইনস্ট্রিম মিডিয়া ভিডিও ক্লিপ নিউজ বের করে থাকে।

    আসলে মুল ফারাকটা হল, মেইনস্ট্রিম মিডিয়া মানে হল যা জার্নালিজমের নীতি মেনে চলে। কোন জিনিষ নিউজ বা মিডিয়া রিপোর্ট হতে গেলে যে জার্নালিজমের নীতি মেনে চলতেই হয়। এছাড়া নিউজ, ভিউজ বা এনালাইসিস এর ফারাক যে বজায় রাখে ও পাঠক-দর্শককে সতর্ক করে রাখে। নিউজের মধ্যে যে নিজের (রিপোর্টারের) ভিউজ বা মন্তব্য ঢুকিয়ে না দেয়। ইত্যাদি…।  আর সবার উপরে এটা প্রাতিষ্ঠানিক জার্নালিজম হতেই হয়। যেমন সেখানে একজন দায়ীত্ব দেয়া দায়ীত্ববান এডিটর থাকতেই হয়। রিপোর্টার কিছু লিখে দিলেই তা কোন এডিটর পাশ করে দিবেন না। লেখায় লিখিত অক্ষরে যা দেখা যায় তাই সত্যি না; সত্যি বলে দাবি করা যাবে না – এই নীতি মেনে সম্পাদককে কাজ করতে হয়।

    বিপরীতে সোশাল মিডিয়া (মানে ফেসবুক, এক্স বা ইউটিউব ইত্যাদি) যার এসবের বালাই নাই।  এর মূল কারণ, এটা ব্যক্তি যেভাবে সমাজে কথা বলে; পরিচিত ও বন্ধুবান্ধব বা সার্কেলে যেভাবে কথা বলে এটা তাই। মূল কথা সোশাল মিডিয়ায় এসব বক্তব্যকে জার্নালিজমের নিয়মরীতি বা দায় মেনে বলতে হয় না।

    কিন্তু সোশাল মিডিয়ায় অংশ নেয়া অনেক অসচেতন ব্যক্তি দুই মিডিয়ার এই সীমারেখা খেয়ালই রাখেন না। এর উপর লেখায় লিখিত অক্ষরে যা দেখা যায় তাই সত্যি বলে মনে করার অসচেতনতা ও ব্যাধি আছে তাদের!

    আরেকটু পরিস্কার করে বলিঃ এনালাইসিস আর রিপোর্ট এর ফারাক
    ইউটিউবার এর এনালাইসিস বা এনালাইটিক্যাল লেখা যদি হয় তো শোনা যায়, যার যা পছন্দ অনুসারে তা আমরা ফলো করতে পারি, করিও!
    কিন্তু রিপোর্ট? মানে ইউটুবার এর এ নিয়ে “রিপোর্ট”?
    সরি এবার এর বিশ্বাসযোগ্যতা লাগবে, এটা জার্নালিজম হতে হবে ইত্যাদি……; যা ইউটিউবারের থাকে না।
    আর এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মিথ্যা প্রচারের রমরমা কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে ইউটিউব বা ফেসবুক!
    গরীব রাষ্ট্র ইন্ডিয়া সামরিক বা ফাইন্যান্সিয়াল ব্যয় করার সামর্থ নাই এমন ইন্ডিয়ার তাই নানান সোশাল মিডিয়া বা ছুপা (গদি মিডিয়া খুলে) মিডিয়া প্রপাগান্ডায় লিপ্ত হতে দেখা যায়। এটা হল গরীবের ফাইভ স্টার হোটেল যাপনের কল্পনার মত!
    এমন ইন্ডিয়ার কথা মনে রেখে আমাদেরকে মিডিয়া কোনটা কী তা মনে রাখতেই হবে, সচেতনতা থাকতেই হবে!

    সম্প্রতি,
    “মিয়ানমারের রাখাইন বা আরাকান রাজ্যকে ঘিরে ভূ-রাজনীতির এক চক্রের মধ্যে পড়ে গেছে বাংলাদেশের কূটনীতি ?
    পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে অভ্যন্তরীণ, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতির এক গোলক ধাঁধায় পড়ে এ থেকে বের হয়ে সহজ পথ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে। বাংলাদেশের জন্য এই সমস্যার একদিকে আছে আরসা ও রোহিঙ্গারা এবং আরাকান আর্মি ও জান্তা সরকার, অন্যদিকে আছে চার বৈশ্বিক পরাশক্তি। এমন পরিস্থিতিতে ছায়া যুদ্ধ কি আসন্ন” – মোটামুটি এমন সারকথায় এক ব্যাপক প্রপাগান্ডা ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
    এর মাদার প্রপাগান্ডাটা হল, (সাবেক র-অফিসারের সন্তান) চন্দন নন্দীর লেখা। কাজ যোগাড় করতে না পেরে এটাই তার পেশা হয়ে দাড়িয়েছে। তাই তাঁর এক লেখা হল এর মূল মিথ্যা খবরটা।  যার সার মিথ্যা দাবিটা হল, ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশ আর্মি কে দিয়ে বার্মা বা আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে এক প্রক্সি যুদ্ধের পরিকল্পনা নিচ্ছে। আর সেজন্যই নাকি আমেরিকার দুই স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্তা বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন।- এই হল সারকথায় মিথ্যা বক্তব্যটা!

    এদিকে এনিয়ে আপনার মতামত জানতে চেয়ে ইনবক্স করেছে। চুপ ছিলাম সাড়া দিতে চাই নাই।

    আজ এখানে এনিয়ে একটু সাড়া দিচ্ছিঃ
    ১। বটম লাইন হল, ট্রাম্পের নীতি বলছে তারা নতুন করে দুনিয়ার কোন বিবাদে কোন পক্ষের সাথে জড়াবে না যেখানে ট্রাম্প প্রশাসনকে অর্থ ঢালতে হয়।
    কাজেই বার্মায় আরেকটা যুদ্ধের ফ্রন্ট খুলা (মানে অর্থ ঢালা শুরু করা) ট্রাম্পের নীতি-পলিসিই নয়।

    ২। কাজেই আমার কাছে এমন রিপোর্ট (?) এখনও প্রো-ইন্ডিয়ান জল্পনা-কল্পনাই। যার নুন্যতম কোন ফর্মাল বা মেইনস্ট্রিম মিডিয়া রিপোর্ট নাই। আমি দেখি নাই। ইন্ডিয়ার প্রায় সব মিডিয়ায় এখন মোদির অর্থ খাবার জন্য ভিখারি। তবুও এমন রিপোর্ট সেখানে দেখি নাই।
    বাংলাদেশে যারা সফরে এসেছে তাদের কী কোন ফর্মাল বক্তব্য কী কোথাও ছাপা হয়েছে? হদিস নাই……।।

    ৩। সবচেয়ে বিরক্তিকর দুইটা মন্তব্য হল ১। ড. ইউনূসের চীনে গিয়ে ‘যা চান সব দিয়ে দেব’ ধরণের বশ্যতা দেখানো ২।  সর্বশেষ জেনারেল ওয়াকার রাশিয়া সফরের নেপথ্য ঘটনা
    এর প্রথম বাক্যটা হল, ইন্ডিয়ান জলুনি। এমন কোন বক্তব্য ড. ইউনূস চীন সফরে করেন নাই। আমি নিশ্চিত। আসলে এই সাজানো বাণী থেকে বুঝাই যাচ্ছে এটা ইন্ডিয়া সরকার বা র-এর ক্ষোভ বা অসহায়ত্বের ভাষা!
    আর দ্বিতীয় বাক্যে ওয়াকার সাহেব যেখানেই ঘুরতে যান না কেন তিনি বাংলাদেশ আর্মিকে (as a whole) প্রতিনিধিত্ব করে করেন নাই। এভাবে বুঝলে তা সঠিক হবে বলে মনে করি।

    ৪। এবারের ট্রাম্প প্রশাসনের স্টেট ডিপার্টমেন্ট (পররাষ্ট্র) বা পেন্টাগনেরও এমন খায়েশ থাকতেই পারে। কিন্তু তা মানে, তেমন খায়েশ পুরণ করতে হলে যখনই এমন ফাইল হোয়াইট হাউজ বা ট্রাম্পের অফিস টেবিলে এরা পৌছাতে যাবে ট্রাম্প সেসব ফাইলে ডাস্টবিনে ফেলে রেখেদিবেন। এটাই ট্রাম্পের নীতি-পলিসি। এই একই কাজ ট্রাম্প তার আগের (ট্রাম্প-১) প্রশাসনের আমলেও করেছিলেন।
    ৫। যদিও আগের  বাইডেন প্রশাসন “বার্মা এক্ট” বা আরাকান আর্মি তে হাত ঢুকানো ইত্যাদি নিয়ে অনেক কিছু আগিয়ে ছিলেন।  কিন্তু এবারের ট্রাম্প তার অর্থব্যয় কমানোর নীতির কারণে সেসব দিকে আকর্ষণ রাখেন না।
    ৬। একটা বুঝাবুঝির চিহ্ন দিয়ে / জানিয়ে রাখি। যারা পরাশক্তি এই শব্দটা ব্যবহার করে তারা নাদান ইন্ডিয়ান। সোভিয়েত রাষ্ট্রের (১৯৯১) পতন এর পরে “পরাশক্তি” বলে কিছু নাই। এটা সেকালের একটা ভুল শব্দ মাত্র!  আর যারা ইন্ডিয়াকে যারা চার পরাশক্তির একটা ভাবে এরা গাধা; বোধশক্তি-বুদ্ধি প্রতিবন্ধি!!

    কাজেই নুন্যতম মেইনস্ট্রিম নিউজে কিছু না পাওয়া পর্যন্ত; আর তাতে ট্রাম্পের পরিস্কার কোন মনোভাব যাতে প্রতিফলিত; তা না হওয়া পর্যন্ত এসব কিছুকে ইন্ডিয়ান র-এর প্রপাগান্ডার অধিক কিছু ভাবতে পারছি না। সরি!

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com


    সবশেষ আপডেটঃ  ,   এপ্রিল ২০২৫