Tag: সুবীর ভৌমিক

  • নির্বাচন হয়েই যেতে পারে, এনিয়ে ভারতই ভীত! কেন?

     

    নির্বাচন হয়েই যেতে পারে, এনিয়ে ভারতই ভীত! কেন?
    গৌতম দাস
    ০২ জানুয়ারী ২০২৪  রাত   ২০ঃ ২৬
    https://wp.me/p1sCvy-5fN

    বিবিসি থেকে নেয়া

     

     

    খুবই তাজ্জব সব ঘটনা! ‘র’-এর প্রপাগান্ডা মুখপাত্র সেজে চলা সুবীর ভৌমিক এক নয়া লেখা ছেপেছেন গতকাল। এতদিনের বাংলাদেশ নিয়ে ‘র’-এর হয়ে প্রপাগান্ডা (যেমন সুবীর, আবদি বা চন্দন নন্দী ইত্যাদি) মুখপাত্রদের অবস্থান ছিল আমেরিকান স্যাংশন ও চাপে বাংলাদেশের নির্বাচনে হাসিনার আবার জিতে আসা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তাহলে ভারতের স্বার্থের কী হবে!!! এনিয়ে সরাসরি নাকি-কান্নায় সবচেয়ে আগিয়ে ছিলেন আবদি! আর এবার সেই তুলনায় একেবারে উল্টারথ অবস্থানে সুবীর ভৌমিক! তিনি হাসিনার নির্বাচন সম্পন্ন যেন না হয় সহানুভুতি ঘুরিয়ে দিয়েছেন। আর এই সহানুভুতি ঘুরানোর পক্ষের কিছু উদাহরণ টানতেই বাংলাদেশে আর্মি ইলেকশনের ডিউটিতে যেতে চাচ্ছে না দাবি করে এবার তাঁর লেখা লিখেছেন। যদিও সুবীরের লেখার সত্য-মিথ্যা আমরা জানি না।

    কাজেই সুবীরের লেখার মুডটা আমাদের জন্য প্রধান ইস্যু!  সেটা হল যে, হাসিনার নির্বাচন আরামে সম্পন্ন হয়ে যাক এর পক্ষে তো নয়ই বরং বিপরীতে, মানে হাসিনার “এমন করাটা ভাল হবে না” এমন ইঙ্গিত দিয়ে তিনি কথা বলেছেন। তিনি বলছেন,  বাংলাদেশে আর্মি ইলেকশনের ডিউটিতে না যেতে চাওয়া মনোভাব নাকি বাড়ছে। যুক্তি হল নাকি, এই নির্বাচন বিতর্কিত। দেশে-বিদেশে সরকার ও সাংবাদিকেরা এর অগ্রহণযোগ্যতা নিয়ে ক্রমাগত লিখে চলেছে। ফলে সরকারের এমন জনস্বার্থবিরোধী ততপরতার কারণে এর সাথে আর্মি প্রতিষ্ঠানটাও কালার হয়ে বা দাগ লেগে যাবে। এনিয়েই তারা উদ্বিগ্ন”। সুবীরের কথা সত্য-মিথ্যা আমরা জানি না। অন্তত প্রকাশ্যে বা মিডিয়ায় এমন নিউজ চোখে পড়ে নাই।
    যদিও এটা বুঝা কঠিন না যে বাংলাদেশ আর্মির একটা উভয় সংকট আছে। তা হল, একদিকে সরকার নির্বাচনে তাদেরকে নিয়োগ চাইছে এর কী হবে? আর বিপরীতে এতে কী তাদের এই বিতর্কিত নির্বাচনে অংশগ্রহণ হয়ে যাবে? দেখা হবে? যেখানে, জাতিসংঘের দিক থেকে সাধারণভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কাজে আমাদের বাহিনীকে সংশ্লিষ্ট হতে সতর্ক করা আছে! তা কী লঙ্ঘন বলে দেখা হবে? এমনিতেই এই নির্বাচন নিয়ে নিয়ে জাতিসংঘ এটাকে খুবই নেগেটিভ মার্কিং ও মূল্যায়ন করছে ও আরো করবে। আর এটা এখন প্রকাশ্য যে, ইতোমধ্যেই জাতিসংঘ আমাদের নির্বাচনে নিজ সহায়তা বা সংশ্লিষ্ঠতা বুঝায় এমন সব কাজ থেকে দূরে সরে গেছে। এই অবস্থায় এটা জাতিসংঘের কাছে আমাদের সেনাদের ইমেজ ভাল হবে না এমন শঙ্কা জোরদার করবে সন্দেহ নাই।  আর অনেকেই বোধহয় জানেন যে জাতিসংঘের কাছে আমাদের রাষ্ট্রের গত ১৫ বছরের গুম-খুন-অপহরণ ঘটার অভিযোগ আর অন্যদিকে তাতে আমাদের বাহিনীর সংশ্লিষ্ঠতার অভিযোগের কারণে এখনকার জাতিসংঘের কড়া নির্দেশ হল, কোন মানবাধিকার লঙ্ঘনের কাজে আমাদের বাহিনী সংশ্লিষ্ট হতে পারবে না। হলে এতে মিশন তাদের জন্য আন-ওয়েলকাম বা  মিশন তাদেরকে চাচ্ছে না এমন হয়ে যেতে পারে। এই হল অনুমান।
    সুবীর  এই বাস্তবতাটাকেই কাজে লাগিয়েছে।  দাবি করেছেন, এঅবস্থায় এই নির্বাচনে ইলেকশনের ডিউটি করা মানে জবরদস্তিতে হাসিনা সরকারের নির্বাচন করে নেয়া ও আবার ক্ষমতায় থেকে যাওয়া কাজের মূল সহায়ক খুঁটি হিসাবে দেখবে দেশে-বিদেশে, এমন কথাও বলে বসেছেন। এটাকেই আমি বলছি সুবীর ভৌমিকের পল্টি দেওয়া। যারা এতদিন কেন আমেরিকা স্যাংশন দিয়ে হাসিনার সম্ভাবনা কমাচ্ছে এর পক্ষে যুক্তি দিত! কিন্তু এবার এমনকি আগের জেনারেল আজিজের ২০১৮ সালের রাতের ভোটের নির্বাচনের ঘটনা-কর্তা হিসাবেও তার সাথে তুলনাও করেছেন। আর তা করে এখনকার বাহিনী যেন তা না করুক এমন সেদিকে সুবীরের কামনা ও সমর্থন দেখিয়ে তিনি এলেখা লিখেছেন। আর এটাই সবচেয়ে বিস্ময়কর ঘটনা। এককথায় তা বললে, ইন্ডিয়া বা ‘র’-এর অবস্থান স্পষ্টত বদলে গেছে! তারা কী হাসিনার এই নির্বাচন ভন্ডুলের পক্ষে যেতে চাচ্ছে? সুবীরের এই লেখার ইঙ্গিত সেটাই!! সেই ইঙ্গিত যাই হোক – মুল প্রশ্ন হল, কেন? কেন এই বদলের আমরা দেখছি? ইন্ডিয়া বা ‘র’-এতদিনের কামনা, এত প্রিয় হাসিনার বিজয়ে এই অনিহা কেন?

    সাথে অন্যদিকে আবার বিবিসির বোমাঃ 
    এককথায় বললে এটা এক আনলাইক বিবিসি রিপোর্ট। এবং মনে রাখতে হবে, ইংলিশ বিবিসি-র রিপোর্ট এটা। আনলাইক বিবিসি মানে বিবিসি এমন করে লেখে না, এটা ব্যতিক্রম।
    আর বাংলা বিবিসির গুরুত্ব নাই কেন? মানে এই ইংলিশ রিপোর্টটা বাংলায় হলেও এত গুরুত্ব দেওয়ার কিছু ছিল না। বা দিতাম না! কেন?
    বাংলা বিবিসি – অর্থ-রাজস্ব আয়ের দিক থেকে মূল বিবিসির এক লুজিং কনসার্ণ। বাংলা বিবিসি এর স্টাটাস হল মূল ইংরাজি বিবিসিরও অন্যান্য আঞ্চলিক ভাষায় প্রচারিত এক প্রোগ্রাম। ঠিক যেমন উর্দু বিবিসি। কিন্তু এই ভেঞ্চারটা লাভজনক নয় এখন। সরকারের পক্ষে ভর্তুকি দিয়ে দিয়ে এটা চালানোতে তারা ক্ষমা দিতে চায়! এজন্য অনেক ছাটাইও হয়েছে।  আর সেটা করতে গিয়ে এর নীতিতেও কিছু বদল এসেছে। যেমন হাসিনা সরকার বা র-এর পক্ষে প্রপাগান্ডা ছাপিয়ে আয় বাড়ানো। এমন নীতিবিরুদ্ধে কাজে বাংলাকে ছাড় দেয়া আছে। তবু যদি টিকে থাকতে পারে, এই ভেবে! এটা বাংলা বিবিসির বেলায় ছাড় কিন্তু ইংরাজি বিবিসি এটা নীতিগত কারণে করবেই না। অর্থাৎ বাংলা বিবিসি রিপোর্ট অর্থের লোভে প্রপাগান্ডা নিউজ হওয়াটাই বেশী সম্ভাবনা ও সুযোগ!  তাই, এই বিচারে বললাম এটা ইংলিশ বিবিসি তাই এই রিপোর্টের গুরুত্ব বেশী! এমনকি ইংলিশ বিবিসি – এতে বৃটিশ সরকারের অবস্থান প্রতিফলিত হয় এমন রিপোর্ট হবার সম্ভাবনা অনেক বেশী! যদিও তা অপ্রকাশ্যে হবে এবং কাকতলীয় ভাবে হয়েছে ভাব ধরে তা দেখানো হবে!

    আলোচিত বিবিসির এই [রিপোর্ট দেখা যাবে এই লিঙ্কে] এর শিরোনামটাই অনেক সাহসী।  বাংলায় বললে শিরোনাম হল, “বাংলাদেশঃ যে নির্বাচন এক-নারীর নাটক হয়ে দাড়িয়েছে” । [Bangladesh: The election that has turned into a one-woman show]।
    যথেষ্ট ঠেস-মারা ভাষায় এই শিরোনাম। আর পুরা রিপোটটা হল, হাসিনার বিরুদ্ধে সব (মানবাধিকার বা রাজনৈতিক-রিপাবলিক-রাষ্ট্রের নর্মস বা আচার ভঙ্গের) অভিযোগগুলো এক সংকলন। আর সবশেষে ব্যতিক্রমি দুইটা প্যারা যেখানে আরো কড়া ভাষায় ইন্ডিয়ার কানমলে দেয়া হয়েছে। কিন্তু এই দু’কথাই হাজার কথার সংকলন হয়ে গেছে।

    বিবিসির ভারত ধোলাইয়ের দুইটা প্যারাঃ
    মানুষের শোয়ার ঘরের ভিতরে একটা হাতি ঢুকে গেল কেমন হবে? কল্পনা করেন! সেটা হবে একটা তান্ডব ও বিশৃঙ্খলা হিসাবে। কারণ হাতিটা ঘরের ভিতর নুন্যতম নড়াচড়া করলেই একেকটা দেয়ালের সাথে ধাক্কা খাবে তাতে ঘরটাই ভেঙ্গে যেতে পারে। সেটা না হলেও অন্তত ঘরে আসবাব বলতে কিছু থাকবে না। তাই, কারো কারো উপস্থিতির কারণে ঘটনাস্থল একটা তান্ডব হাজির হয়েছে বুঝাতে ঘরের ভিতর হাতির তুলনাটা ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশের নির্বাচন ঘটনাবলিতে ভারতের অবস্থান-উপস্থিতিকে বিবিসি তাই  ঘরে হাতির ঢুকার  মত বলে তুলনা করেছে। লিখেছে  The elephant in the room is neighbouring India, which opposes…। যে ভারত বাংলাদেশের ভিতরে কোন পরিবর্তন-সংশোধন করে নেওয়ার বিরোধী। এমনকি ভারত এটাও চায় বিনা-পয়সায় বাংলাদেশের রাস্তা ও নদি দিয়ে ভারতের নর্থ-ইস্টের অবাধ চলাচল চালু থাকুক! এমনই এর আবদার! – ভারতের এমন খারাপ মতলবের কথাও বিবিসি প্রকাশ্যে লিখে দিয়েছে!

    The elephant in the room is neighbouring India, which opposes
    any coercive action against Bangladesh.
    Delhi wants road and
    river transport access
    for its seven north-eastern states through Bangladesh.

    যদিও শেষে একটু সহানুভুতির সুরে লিখেছে, Officials in Delhi are afraid it is strategically vulnerable in any potential conflict with India’s rival, China. বাংলাকরে বললে,  দিল্লিতে ভারতীয় কর্তারা নাকি চীনের ভয়ে চিন্তিত যে যে চীনের চাপে ভারতের বড় – কৌশলগত দুর্দশা – দেখা দিতে পারে। এতে কথাটার মানে হয়ে গেছে যেন চীনের কাছে ভারতের  কৌশলগত দুর্দশা কাটানোর জন্যই হলেও জবরদস্তিতে বাংলাদেশ থেকে ভারতের করিডোর সুবিধা জায়েজ বা ভারতকে তা পাইয়ে দিতে হবে…।
    এই হল পশ্চিমা সমস্যা। মনে করে তাদের এই দালালি আমরা ধরে ফেলব না।

    এতদিন মানে ধরেন চলতি নয়া শতক যার এখন ২৩ বছর পার হল। এই তেইশ বছরে দুনিয়ার সচেতন সবাই মনে করেছিল দুনিয়ার প্রধান দ্বন্দ্ব এখন আমেরিকা বনাম চীন। মানে গ্লোবাল নেতৃত্বের এক পালাবদল হতে যাচ্ছে; আর এই পালাবদলকে কেন্দ্র করে এই দ্বন্দ্ব।  আবার দুনিয়ার কিছু অবুঝ বেদিশ বা নাদান এটাকে অর্থহীন এক শব্দ -ভূরাজনীতি [geo-politics]  – বলেও ব্যাখ্যা করে থাকে! যাই হোক এখন দুনিয়া মানে হল, আমেরিকা-চীনের দ্বন্দ্ব এর দুনিয়া! আর এই দ্বন্দ্ব কাঠামোর মধ্যে ভারত তার কথিত চীনবিরোধিতা দেখানোর উসিলায় আমেরিকার কোলে চড়ে বসতে চেয়ে গেছে অন্তত ২০০৭ সাল থেকে। এটাই আমরা দেখতাম। ভারতের লক্ষ্য আমেরিকা যেন আবার তাকে চীন ঠেকানোর ঠিকা দেক! সেই ঠিকা বা এসাইনমেন্ট যেটা মোটামুটি ২০১৭ সাল থেকেই আমেরিকা  প্রত্যাহার করে নিয়েছে। যদিও চীনবরোধী কোন ইস্যু থাকলে ভারত-আমেরিকা তা নিয়ে পরস্পর সমন্ব্য় করে কাছে থাকার চেষ্টা অব্যহত রাখে।

    বাংলাদেশের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সব পক্ষ-বিপক্ষ এলোমেলোঃ 
    চীন-আমেরিকার দ্বন্দ্ব ইস্যুতে এটা দেখে এতদিন মনে হতে পারে ভারত তো আমেরিকার কোলেই আছে। যদিও বাংলাদেশে আমেরিকান স্যাংশন আর ভিসা নিষেধাজ্ঞা প্রবল হয়ে উঠলে ভারত ছটপট করে উঠছিল। প্রকাশ্যেই তাদের লোকজন বলত যে তাহলে তো স্যাংশনের কারণে ভারতের অধীনে থাকা খেদমতগার হাসিনা আর জিতে আসতে পারবে না।  বাংলাদেশে ১৫ বছর ধরে ভারতের লুটেপুটে খাওয়ার স্বার্থের কী হবে তাহলে? কিন্তু তা সত্বেও কোথায় যেন একটা নিজেই আস্থা পেত এই বলে যে  শেষে আমেরিকা নিশ্চয় ভারতের স্বার্থকেও একোমডেট মানে ভারতের জন্য লুটের কিছু একটা জায়গা করে দিবে! সরকথায় শেষে আমেরিকা বা আঙ্কেল স্যাম ভারতকে বাঁচাবে! এমন একটা বোধ তাদের মধ্যে কাজ করত!

    কিন্তু নাঃ
    ভারত এখন টের পেয়েছে বিরাট ওলটপালট হয়ে গেছে! কেন?
    ব্যাপারটা আগে অতটা বুঝা যায় নাই। কিন্তু এখন যতই ৭ জানুয়ারি এগিয়ে আসছে ততই এক নয়া বাস্তবতা সবাই অনুভব করছে। যেটা এর আগে পর্যন্ত সবাই আঙ্কেল স্যাম এর উপর ভরসা করে বসেছিল। নিশ্চয় তিনি একটা কিছু করবেন যা সকলের জন্যই ভাল হয়! কিন্তু হায়!!!
    এটা ঠিক এক নয়া বাস্তবতা হাজির হয়েছে অবশ্যই।  যা আর অস্বীকারের উপায় নাই! তাই ভারত অস্থির হয়ে উঠেছে!
    আর ব্যাপারটা এসেছে এভাবে –  দেখি না কী করে! – সেই গল্পের মত এই ঘটনা! যে গৃহস্তের বাসায় চোর এসেছে আর গৃহস্ত ভাবছে দেখি না চোর কী করে – একেবারে শেষে ধরব! আর এটা করতে করতে চোর তার কাজকর্ম প্রায় শেষ আর বমাল নিয়ে চলে যাবার অবস্থায়…!  আঙ্কেল স্যাম এর উপর ভারতসহ সকলের ভরসারই পরিণতি হল যেন এটা!

    এখন ভারতের কাছেও পরিস্কার যে ৭ জানুয়ারি দিন শেষ সন্ধ্যা থেকেই হাসিনা দাবি করতে থাকবে যে সে বিজয়ী হয়ে গেছে!  এর চেয়েও বড়কথা এক বাস্তবতা সম্ভবত হবে এরকম যে  দুই থেকে দশদিনের মধ্যে হাসিনা চীনের সাথে  চুক্তি আলাপ আলোচনায় বসে যাবে। মানে যেতে হবেই মূলত এজন্য যে এর মুখ্য কারণ দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা তলানিতে, মোটা আর নগদ ডলার লাগবে। পাঠকদের কাছে চীন ভাল না মন্দ, চীন পছন্দ করেন কিনা এসব বিবেচনা এখানে একেবারেই অপ্রয়োজনীয়, গুরুত্বহীন। বাস্তবতা হল, এমন নগদ অর্থ (প্রজেক্ট-প্রকল্প নয়) দিবার সম্ভাব্য দাতা যাদের কাছেই একমাত্র হাসিনার একসেস আছে, চাইতে পারে ও তারা দিতেও পারে সেটা হল চীন।
    এককথায় বললে, বাংলাদেশে নির্বাচন নামে কিছু একটা হয়েছে আর হাসিনা তাতে নির্রচিত বলে দাবি করতে পারলেই, হাসিনা চীনের কোলে শক্ত হয়ে বসে যাবার সম্ভাবনা প্রায় ষোল আনা!  এবং ইন্ডিয়ার তোয়াক্কা না করে, চীন একে পায়ের নিচে রেখে হাসিনার থেকে সবকিছু আদায় করে নিবার এরচেয়ে ভাল সুযোগ চীন আগে কখনই পায় নাই। এই অবস্থাটা তৈরি হবে সেখানে অবলীলায়! অনেকটা টিকা-ইস্যুতে যেমন হয়েছিল!  অতএব এখন ইন্ডিয়ার কানে পানি গেছে! কিন্তু তার কিছু করার নাই!

    ফলাফলঃ তাই সুবীর ভৌমিক মানে ইন্ডিয়া বা রএর অবস্থান হল তাই হাসিনার নির্বাচন হয়ে যাকে  তারা এর বিরোধী!  সবচেয়ে তামাশার কথা ২০২১ সাল থেকে ভারত বাংলাদেশে আমেরিকার অবরোধ দেওয়ার বিরোধীতা করে গেছে, হাসিনা তাদের কত পেয়ারের বা হাসিনা ছাড়া বাচবে না – এনিয়ে তারা নাকি কান্না প্রদর্শন করে গেছে। মানে এতদিন তারা একটা প্রহসনের নির্বাচনেরই পক্ষে দ্বিধাহীন সমর্থক ছিল এটাই প্রকাশ্যে স্বীকার ও লিখে বলে করে চলেছিল। অথচ এখন উলটা?

    একটা তামাসা দেখেনঃ
    ভারতের গোয়েন্দা-গুষ্টির সবাইএখন যারপরনাই হাসিনার নির্বাচনবিরোধী! কিন্তু  সেটা কেমনে কী?
    সুবীর ভৌমিক এলেখায় আমাদেরকে আরেক ভারতীয়ের সাথে পরিচয় করিয়েছেন। যা্র নাম শুখরঞ্জন দাসগুপ্ত [ Sukhoranjan Dasgupta ]। একে তিনি পরিচয় করিয়েছেন এক Bangladesh analyst বলে। আসলে তিনি অনেক পুরানা মানে সেই শেখের আমলের ‘র’-এর এজেন্ট। যখন তার বাইরের পরিচয় ছিল তিনি আনন্দবাজার পত্রিকার ঢাকার সংবাদদাতা। পরে তিনি আনন্দবাজার ছেড়ে দেন আর কেবল ‘র’-এর এজেন্ট-ই থেকে যান। বাংলাদেশ তার খবর সোর্স এমন সংগ্রহের উতস অনেক। তিনি বাংলাদেশের বিডিনিউজ২৪ কলাম লিখেন, সাথের মাঝে মধ্যে অন্য অনেক বাংলাদেশি ‘প্রগতিশীল’ পত্রিকাতেও। তার বরাতে এবার সুবীর বলছেন,  “সক্রিয় ও কার্যকর গণতন্ত্রিক চর্চার ব্যতিক্রম ঘটিয়ে বাংলাদেশে ৭ জানুয়ারির যে নির্বাচনটা হচ্ছে তা পুরানা সংসদটা ভেঙ্গে না দিয়ে আর তাতে মন্ত্রী ও এমপিদের  পদাধিকার বহাল থেকে গেছে। ফলে এই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে তারা প্রভাবিত করার সব সুবিধা সাথে নিয়েই নির্বাচন করছে”।

    এই বক্তব্য (ইংরাজিটা নিচে দেখেন) সুবীর আর সুখরঞ্জনের বাংলাদেশের প্রতি এক দারুণ সার্ভিস!!! যেন আমরা এটা জানতামই না।
    কিন্তু ঘটনা হল, ভারতের গোয়েন্দা-প্রবরেরা এতদিন এটা তারাই জানত না ভান করে চেপে থাকত।  কিন্তু এখন কেন? এই পল্টি দেয়া কেন?
    হাসিনাকে ছাড়া তাদের চলবেই না কিংবা আমেরিকান স্যাংশন্ ভুয়া সেসব কান্না কাটি তারা তাহলে কেন করছিলেন এতদিন?

    “Unlike in most functional democracies, Bangladesh is going into the
    January 7 polls with a prorogued and not a dissolved parliament which
    allows ruling party ministers and MPs to influence the poll process…” – 

    বাংলাদেশের জন্য একটা ভাল নির্বাচন দেখতে চাওয়ার ভারতীয় আকাঙ্খা! তা ভাল কিন্তু এতদিন উলটা গান গেয়ে চলছিলেন আপনারা??? আগে সেটা বলেন।  না। পুণ্যি করলেই কেবল এমনটা দেখতে পাওয়া যেতে পারে!
    যদিও এর নীট অর্থ কী? সেটা হল, বাংলাদেশের নির্বাচন পন্ড হয়ে যাক এটাই এখন বদলে যাওয়া ভারতীয় আকাঙ্খা…! মজা না???

    ঘটনাটা কিছু শুনেছিলাম অনেকেই বলছিলেন, পিটার হাসের ভারত সফরের ঘটনা। সেখানে ভারতের সাথে কোন আনুষ্ঠানিক কিছু ছিল না। আর সেটা প্রটোকলেও পড়বে না। তবে ভারতে পিটার হাস বেড়াতে গেলে এমবেসিতে বড়দিনের ডিনার বলে ২৫ ডিসেম্বরের সামাজিক সাক্ষাত তো হতেই পারে! আর সাথে কথায় কথায় সেখানে কিছু তিক্ত কথাবার্তাও নাকি উঠে এসেছিল। যার প্রসঙ্গ ছিল চীন! ভারতের অভিযোগ বাংলাদেশে ভারতের স্ট্রাটেজিক স্বার্থ দেখা হচ্ছে না; আমেরিকা দেখছে না। অথচ ভারত তো নাকি এক আঞ্চলিক ‘মহারাজা’। তাসি এটা তো তার অপমান! …! শেষে আলোচনা – কে কত চীনবিরোধী তা জানা আছে, হয়ে গেছে –  টাইপের উদাহরণ দেয়ার দিকে নেয়া যায়। আর তা থেকেই ভারত বুঝে যায় সে একা হয়ে গেছে! বাংলাদেশে কোথাও বা বাংলাদেশকে নিয়ে কোথাও তার বেল নাই…! বলা কথাগুলো শুনেছিলাম সম্ভবত ২৮ ডিসেম্বর!  তবে সাবধান কেউ এগুলোকে হুবহু এরকমই হুবহু ভাষ্য হিসাবে নিবেন না। এটা একজন থেকে আরেকজনেরে এভাবে ছড়ানো কথা!  আমিও শুনেছি দেশের বাইরের বক্তা থেকে। তিনিও শুনেছেন আমেরিকান সোর্স থেকে, এভাবে।
    কথাগুলো পরে ভুলেই গেছিলাম। এবার বিবিসির এই রিপোর্টটা পড়ে মনে হচ্ছে পশ্চিমারা এমনি এমনি ইন্ডিয়াকে তান্ডব মানে ঘরের ভিতর হাতি এমন আপদের সাথে তুলনা করে নাই???

     

     

    সর্বশেষ আপডেটঃ  ০৩ জানুয়ারি   ২০২৪, মধ্যরাত ১২ঃ ৩৫

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

  • রোহিঙ্গা ইস্যুতে সব হারা ভারত এখন চীন-ভক্ত!

    রোহিঙ্গা ইস্যুতে সব হারা ভারত এখন চীন-ভক্ত!

    গৌতম দাস
    ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭, বুধবার, ০০:০৩

    https://wp.me/p1sCvy-2oJ

    ভারতের আমলা-গোয়েন্দা প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে চলেন অথবা বলা যায় তাদের ভাষ্য দরকার-মত মিডিয়ায় হাজির করে দেন এমন এক ভারতীয় ব্যক্তিত্ব হলেন সুবীর ভৌমিক। এ সার্ভিস দিতে তিনি বাংলাদেশ অথবা পড়শি কোনো দেশের প্রিন্ট বা অনলাইন মিডিয়ায় প্রায়ই বিভিন্ন অ্যাসাইনমেন্ট বয়ান লিখে নিয়ে হাজির পাওয়া যায় তাঁকে। এমন ধরনের এক নিবন্ধ লিখেছেন সুবীর ভৌমিক গত ৫ ডিসেম্বর, হংকংয়ের প্রভাবশালী এক অনলাইন মিডিয়া ‘এশিয়া টাইমস’ ম্যাগাজিনে। এ লেখাটিকে বলা যায়, রোহিঙ্গা ইস্যু কিভাবে শেখ হাসিনার বাংলাদেশের নির্বাচন জেতার উপায় হিসেবে হাজির হয়েছে। ফলে শেখ হাসিনা একে কিভাবে ব্যবহার করতে পারেন, তিনি সেই পরামর্শ দিচ্ছেন।

    সবার কাছে আজ স্পষ্ট, রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত হল শেখ হাসিনা সরকারকে চাপের মুখে রাখা সেই পরামর্শদাতা, যার প্রভাবে পড়ে  শুরুর দিকে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সেটা আবার শুধু এবার ২০১৭ সালেই নয়, গত ২০১২ সালেও মিয়ানমার থেকে একইভাবে জাতিগত নির্মূল অভিযানের মুখে রোহিঙ্গা খেদানোর সময়ও বাংলাদেশ সরকার নিজ সীমান্ত সিল করে রাখার নীতি নিয়েছিল। সে সময় বলা হত, এটা ভারতের পরামর্শে করা হয়েছিল। ঠিক যেমন এবারেরটা, যদিও এবারের (শুরুর দিকের) বাংলাদেশের সীমান্ত বন্ধ রাখার পক্ষের নীতির প্রতি ভারতের অবস্থান একেবারেই প্রকাশ্য। আর এবারের আরও বিশেষত্ব হল, বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের পক্ষে প্রবল আভ্যন্তরীণ জনমতের চাপ সহ্য করতে না পেরে শেষেমেশে সীমান্ত খুলে দিতে বাধ্য হয়েছিল। তাতে ভারতকেও প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়ে নিজের রোহিঙ্গা নীতি ও মোদীর বার্মা সফরকালীন  বিবৃতি সংশোধন করে নিতে হয়েছিল। তবে ততদিনে মোদীর মিয়ানমার সফর, গণহত্যার পক্ষে সু চি-কে দেয়া মোদীর সার্ভিস সমাপ্ত করে তিনি নিজ দেশে ফিরে গেছেন। ফলে মোদীর ফেরার পরে  বাংলাদেশের ওই সিদ্ধান্তে সীমান্ত খুলে দেয়ায় মোদীকে সু চির কাছে তেমন বেইজ্জতি হতে হয়নি বলে ভারত মনে করে। মনে রাখতে হবে, ভারতের রাজনীতিক আর আমলা-গোয়েন্দার প্রশাসন মিয়ানমারের কাছে সব সময় ক্রেডিট নিয়ে থাকে যে, বাংলাদেশের নেয়া সিদ্ধান্তগুলো যেন মিয়ানমারের পক্ষে থাকে এভাবে আনার ক্ষেত্রে মিয়ানমারকে সার্ভিস দিতে ভারতই একমাত্র সাপ্লায়ার; মানে ভারত বলতে চায় এখানে চীনের কোনো শেয়ার নেই। আর যেহেতু বাংলাদেশকে যেন ভারতই চালায় অথবা বাংলাদেশের ওপর ভারতের বিরাট প্রভাব আছে, এ কথা বলে ভারত মিয়ানমারের কাছে নিয়মিত ক্রেডিট নিয়ে থাকে আর নিজের দাম বাড়ায়।

    তবে ভৌমিকের এবারের লেখায় তিনি নিজের সাথে নিজেই এক ভাল তামাশা করেছেন আমরা দেখতে পাই। যেমন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের নীতি যে সব সময় ‘রোহিঙ্গাদের আশ্রয় না দেয়ার’ পক্ষে, আর ভারতের এই নীতির পক্ষে থাকতে ‘বাংলাদেশকে ঠেসে ধরা’ – এ কথা বেশ কায়দা করে ভৌমিক ভুলে থাকতে চেয়েছেন। তিনি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় না দেয়ার নীতির কথা বেমালুম ভুলে গিয়ে  উল্টো এবার ভৌমিক দাবি করছেন – শেখ হাসিনা হলেন একমাত্র রোহিঙ্গা আশ্রয় দেয়ার পক্ষের নেত্রী, এই বলে প্রশংসা শুরু করেছে। ফলে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় না দেয়ার পক্ষে ২০১২ সালে আর এবারের শুরুতে কারা বাংলাদেশকে প্ররোচিত করেছিল ও মিয়ানমারের কাছ থেকে এর ক্রেডিট নিয়েছিল, তা আর এখন ভৌমিকের লেখায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বরং রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার পক্ষে নেত্রীর সিদ্ধান্ত নেয়ার কারণে কী কী ফজিলত সৃষ্টি হয়েছে, শেখ হাসিনার জন্য কী কী পাকা ফল তৈরি হয়েছে তা জানাতেই তিনি এ লেখা লিখেছেন। এ ধরনের লোকদের বলা হয় অনৈতিক, দায়িত্বজ্ঞানহীন ও সুযোগসন্ধানী। সব দিকেই তারা সব সময় লাভের ভেতর থাকতে চায়। এ হলো সেই তামাশার দিক। এরা শেখ হাসিনাকে তাদের স্বার্থের পক্ষে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। অথচ সেই সিদ্ধান্তের পরিণতি, দায়দায়িত্ব বা ক্ষয়ক্ষতি এসব দিকগুলোর দায় কেবল শেখ হাসিনা বা বাংলাদেশের। আর ভৌমিকের ভারত ঝাড়া হাত-পা; তার কোনোই দায় নেই। কোনো দিক বিবেচনায় এটা কোনো দায়িত্বশীল নেতৃত্বের কাজ বা আচরণ হতে পারে না।

    তবু সুবীরের ধারণা, রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের এই কূটনৈতিক দেউলিয়াত্ব আমরা দেখতে পাচ্ছি না।
    গত ২৫ আগস্ট কথিত এক সশস্ত্র হামলাকে উছিলা করে মিয়ানমার সরকারের রোহিঙ্গা নির্মূল ও খেদানো শুরু হয়েছিল। এর মাত্র ১০ দিনের মাথায় মোদী মিয়ানমার সফরে যান এ জন্য যে, এই সময় তিনি ‘সু চির পাশে থাকতে চান’ সে কথার প্রচার-প্রপাগান্ডা ও ক্রেডিট নিতে চান। আমরা স্মরণ করতে পারি, গত সেপ্টেম্বরে মোদীর ঐ সফরকালে সেই সময় সুবীর ভৌমিকের অ্যাসাইনমেন্ট কী ছিল? ছিল খোলাখুলি ভাষায় গায়ে পড়ে এ কথা মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়া যে, চীনের সাথে প্রতিযোগিতা করে ভারত দেখাতে চায়, সে বেশি মিয়ানমার-ঘনিষ্ঠ। মোদীর মিয়ানমার সফর ছিল ৫-৭ সেপ্টেম্বর, সু চির সাথে সাক্ষাতের শিডিউল ছিল ৬ সেপ্টেম্বর। আর ৫ তারিখ দিন শেষে তিনি মিয়ানমার পৌঁছেছিলেন। অন্য দিকে মোদীর পৌঁছানোর আগে ৫ সেপ্টেম্বর সকালেই বিবিসি বাংলায় একটি রিপোর্ট ছেপেছিল।  “রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত কেন মিয়ানমারের পাশে?” – এই শিরোনামের ঐ রিপোর্টের পুরোটাই ছিল সুবীর ভৌমিকের ভাষ্যে লিখিত। আর সুবীর তাতে যেচে পড়ে মোদীর সফরের অর্থ তাতপর্য, ভারতের প্রশাসন যা দিতে চায় তাই দিয়ে সাজিয়েছিল।

    যেমন বিবিসি লিখেছিল – “কলকাতায় বিবিসির সাবেক সাংবাদিক সুবীর ভৌমিক, যিনি বর্তমানে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনে রয়েছেন, বলছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির সফরের ঠিক আগে দিল্লির পক্ষ থেকে এসব বক্তব্য-বিবৃতির মূল উদ্দেশ্য বৌদ্ধ অধ্যুষিত মিয়ানমারের সাথে অধিকতর ঘনিষ্ঠতা।’ [এখানে ঐ বিবৃতি বলতে ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয়ের দেয়া বিবৃতি যে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ভারত সব সময় মিয়ানমারের পাশে থাকবে – এটা বুঝানো হয়েছিল।]  …… “সংখ্যাগরিষ্ঠ বার্মিজদের রোহিঙ্গাবিরোধী কট্টর মনোভাবের সাথে একাত্ম হতে চাইছে ভারত। মি ভৌমিক বলেছেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে চীনের মৌনতার সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছে বিজেপি সরকার। …সুবীর ভৌমিক বলেছেন, ভারতের মূল উদ্দেশ্য মিয়ানমারে চীনের প্রভাববলয়ে ফাটল ধরানো”। এভাবে প্রতিটি বাক্য একেকটি ওই রিপোর্ট থেকে তুলে আনা বাক্য।

    এককথায় সুবীর বলেছিলেন, মোদির সফরের উদ্দেশ্য চীনের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা করে মিয়ানমারের অধিকতর ঘনিষ্ঠতা অর্জন, এটাই ভারতের উদ্দেশ্য।
    আর তাহলে এখন কী বলছেন সুবীর ভৌমিক?

    ভোল পাল্টে ভৌমিক এখন বলছেন – এক. রোহিঙ্গা ক্রাইসিস সামলাতে গিয়ে নাকি শেখ হাসিনা ‘ভুল জায়গায় পা দিয়ে’ ফাঁদে পড়ে গিয়েছিলেন। [The Rohingya crisis initially caught the Awawi League on the wrong foot, presenting a political opportunity to BNP to criticize its handling of the massive influx refugees………]
    কিন্তু ঘটনা হল এই যে, ভারতের চাপে ও পরামর্শে শেখ হাসিনা সীমান্ত বন্ধ রেখেছিলেন আর সুবীর এখন সেসব কথা ভুলে সে সিদ্ধান্তকে হাসিনার “ভুল জায়গায় পা” বলেছেন। কিন্তু এই ভুলটা আসলে কার? এমনকি ভারতেও আশ্রিত কথিত ৪০ হাজার রোহিঙ্গাকেও ভারত সু চির মন পেতে  ভারতও নিজেকে মুসলমান-বিদ্বেষী দানব তা প্রমাণ করেছিল; তাই ভারতও  সে সময় কথিত রোহিঙ্গা বের করে দেয়ার প্রক্রিয়া চালিয়েছিল। আর, যা থেকে ভারতের নীতি কী ছিল তা পরিষ্কার। এ ছাড়া এই একই নীতি বাংলাদেশেও পালিত হোক, তাহলে সু চির কাছে ভারতের ইমেজ বাড়বে – এই ছিল ভারতের নীতি ও আকাঙ্খা। এ’হল কে কত সু চির মতই মুসলমান-বিদ্বেষী এর প্রতিযোগিতা করে তাঁর মন পাওয়ার চেষ্টা।  সুবীর এখন সে ‘ভুলের’ দায় পু্রাটাই শেখ হাসিনার কাঁধে তুলে দিচ্ছেন। সুবীর নিজের ও ভারতের কোনো দোষ তো দেখলেনই না, উল্টা আবার বিএনপি কেন শেখ হাসিনাকে ‘রোহিঙ্গা ইস্যু সামলানোর ব্যর্থতা নিয়ে’ সমালোচনার সুযোগ নিল – দায় সেদিকে ঠেলে দিয়েছেন।

    ০২.  মোদীর বার্মা সফরের সময়ে সুবীর ৫ সেপ্টেম্বরে খুবই জোর দিয়ে বলেছিলেন, ‘ভারতের মূল উদ্দেশ্য মিয়ানমারে চীনের প্রভাব বলয়ে ফাটল ধরানো।’ [“সুবীর ভৌমিক বলছেন, ভারতের মূল উদ্দেশ্য মিয়ানমারে চীনের প্রভাব বলয়ে ফাটল ধরানো” – বিবিসি।]  তো সে উদ্দেশ্য এখন কোথায়, কদ্দূর সফল হলো, তা কী অবস্থায়? অল্পকথায় তা বুঝবার জন্য ভাল উপায় হবে আনন্দবাজার পত্রিকা।  এ’প্রসঙ্গে গত ২৪ নভেম্বর কলকাতার আনন্দবাজার লিখেছে – ‘রোহিঙ্গায় গোল চীনের, সুযোগ হারিয়ে পেছনের সারিতে দিল্লি।’ এই এক শিরোনামের মধ্যেই সব আছে। অর্থাৎ মিয়ানমার-চীন সম্পর্কে ফাটল ধরানো দূরে থাক এখন ভারত নিজেই গুরুত্বহীন হয়ে গেছে, আর তা নিজেরাই বলছে। গায়ে মানে না আপনি মোড়লদের এ দশাই হওয়ার কথা। সু চির মন পেতে মোদী নিজেকে সবচেয়ে বড় মুসলমান-বিদ্বেষী নির্মম দানব প্রমাণ করার পরেও এ হল ফলাফল; তবে শুধু তাই নয় আরো আছে।

    ঘটনা হল, আমেরিকা মিয়ানমার জেনারেলদের গণহত্যার অভিযোগে কাঠগড়ায় তোলার হুমকি দেয়া এবং কিছুটা তৎপর হওয়ার পর আমেরিকার ওই বক্তব্য ও পদক্ষেপের প্রভাবকে ঠাণ্ডা ও লঘু করতে চীন এগিয়ে এসেছিল। চীনের লক্ষ্য নিজের আপন ক্লায়েন্ট বার্মার জেনারেলদের পিঠ বাঁচানোর জন্য কিছু উদ্যোগ নেয়া।  নামকাওয়াস্তে হলেও চীনের মধ্যস্থতায় জেনারেলরা রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে বাংলাদেশের সাথে এক চুক্তি করেছে। এনিয়ে বিস্তারে যাওয়ার আগে আমাদের একটা কথা পরিস্কার থাকতে হবে। চীনের প্রস্তাবের সারকথা রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে জেনারেলদের রাজি করানো। কিন্তু কোনভাবেই এটা যারা রোহিঙ্গাদের উপরে যারা গণহত্যা চালিয়েছে তাদের সেই অপরাধকে লঘু করবে না। কারণ দুটা দুই জিনিষ। এককথায়, এখন রোহিঙ্গাদের সকলকে পুরা ফেরত নিলেও তাতে গণহত্যার অভিযোগে কেটে যাবে না, লঘু হবে না। এছাড়া সবচেয়ে বড় কথা এই চুক্তির কোনো সুফল হিসেবে রোহিঙ্গারা আদৌও কী ফেরত যাবে? জেনারেলেরা  কোন দিন রোহিঙ্গাদের ফেরত নিবে কি না, এই ব্যাপারটাই এখনো পুরাপুরি  সন্দেহজনক হয়েই আছে। ফলে আস্থা রাখার কোন বিশেষ কিছু এখনও তৈরিই হয় নাই। বিশেষ করে এ চুক্তি দায়সারা, এটা বাস্তবায়নের কোনো সময়সীমা নেই। আর অসংখ্য ফাঁকফোকরে ভর্তি; ‘যদি কিন্তু’তে ভরপুর। যেমন সব কিছুতে মূল ব্যাপারটা হল রোহিঙ্গাদেরকে ডকুমেন্টে নাগরিক প্রমাণ করতে হবে আগে। কেউ আগে বার্মিজ নাগরিক প্রমাণ হলে “তবেই”…। এই হল সেই বিরাট যদি কিন্তু…। তো নাগরিক প্রমাণ হলে তবেই না এরপর ফেরতের প্রসঙ্গ।

    যা হোক, খোদ সুবীর ভৌমিক বা ভারত এখন প্রমাণ করেছে রোহিঙ্গা বা মিয়ানমার ইস্যুতে ভারতের সু চিকে তেলানির ফলাফল শুন্য। এরপর ভারতের আর কোনো পদক্ষেপ বা ভূমিকা এখন শূন্য। তাই চীন-মিয়ানমার সম্পর্ককে ‘ফাটল ধরাতে’ চাওয়া সেই ভারতই এখন উপায়ন্ত হারিয়ে পল্টি মেরে চীনা মধ্যস্থতায় তৈরি ওই চুক্তির একনিষ্ঠ সমর্থক বনে গেছে। অর্থাৎ মিয়ানমার বা রোহিঙ্গা ইস্যুতে ফাটল ধরাতে আসা ভারত এখন রামভক্ত হনুমানের মত ‘চীন-ভক্ত হনুমান’ হয়েছে।

    শুধু তাই না, ভৌমিক এখন দাবি করছেন, এই পুরো ঘটনায় হাসিনার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া আর চীনা মধ্যস্থতায় মিয়ানমারের সাথে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন চুক্তি করে ফেলায় তাঁর ইমেজ এখন এত বেড়েছে যে, সেটা কাজে লাগিয়ে শেখ হাসিনা নির্বাচনে জিতে আসতে পারেন। এই হলো সুবীর ভৌমিকের লেটেস্ট টাউটারি বা ইমেজ বাড়ছে এই লোভ দেখানোর হকারিতে নেমে পড়া। [Hasina now winning praise both in the West and Islamic countries for her comparatively compassionate approach to a crisis that has hit Myanmar’s global image while lifting Bangladesh’s.]। অর্থাৎ সুবীর এখন উলটা বার্মাবিরোধী সার্টিফিকেট বিলি করে বলছেন, বার্মার গ্লোবাল ইমেজ ডুবতেছে আর বাংলাদেশেরটা বাড়ছে। বুঝা যাচ্ছে এটা এখন সুবীরের নতুন প্রজেক্ট। সে জানে চীনের এই প্রত্যাবর্তন চুক্তির কোন ভবিষ্যত নাই। তবু সে চীনের এই প্রত্যাবর্তন চুক্তি ও এর ‘সুফল’ ফেরি করতে নেমেছে।অন্যদের কথা বাদ দিয়ে খোদ আনন্দবাজার চীনের এই প্রত্যাবর্তন চুক্তি নিয়ে মার্কিন সেক্রেটারি অব স্টেট রেক্স টিলারসনের আস্থাহীন ও বাঁকা মন্তব্য কীভাবে পড়েছে তা দেখা যাক। আনন্দবাজার লিখছে, “যদিও চিনের এই প্রস্তাব নিয়ে সন্দিহান মার্কিন প্রশাসন। মার্কিন বিদেশ দফতর বিবৃতিতে বলেছে— চিনের বিদেশমন্ত্রীর প্রস্তাব রাখাইনের জটিল পরিস্থিতির তুলনায় খুবই সহজ-সরল। সামরিক অভিযানের নামে রাখাইনে ‘জাতি নিধন’ চলছে বলে বিদেশসচিব রেক্স টিলারসন যে আগেই মন্তব্য করেছেন, বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে তা-ও বলা হয়েছে।” অর্থাৎ আনন্দবাজার স্পষ্ট বুঝলেও সুবীর এখন ‘সুফল’ ফেরি করার মুডে আছে ।

    সুবীর নিজের বক্তব্যের স্বপক্ষে আর এক উদ্যোগ নিয়েছে; এক ভারতীয় থিংকট্যাংকের কিছু ব্যক্তিত্ব ও এর কিছু তৎপরতার তথ্য আমাদের দিয়েছেন। কলকাতাভিত্তিক সেই ভারতীয় থিঙ্কট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠানের নাম ইন্ডিয়ান সোস্যাল কালচারাল স্টাডিজ (আইএসসিএস) আর  থিঙ্কট্যাঙ্ক-সংশ্লিষ্ট সেই ব্যক্তির নাম অরিন্দম মুখার্জি। তিনি বলছেন, “China, India, Japan and the Asean countries all seem to agree that solving the Rohingya crisis is a must for regional stability and both Hasina and Suu Kyi are crucial to make that happen,” said Arindam Mukherjee ।  সুবীর আমাদের আরও জানাচ্ছেন, সম্প্রতি আইএসসিএস মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনে এক সেমিনার করেছে, যেখানে ভারত সরকারের বিদেশে গোয়েন্দাগিরির প্রতিষ্ঠান ‘র’-এর সাবেক প্রধান রাজিন্দর খান্না গিয়েছিলেন।

    খান্না সেখানে বলেছেন, বাংলাদেশের হাসিনা সরকার ও মিয়ানমারের সু চি দুই নেতাকে আগলে রাখতে হবে কারণ এরা এই রিজিয়নে দুটা খোটা (stake) টিকে গেছে। রাখাইনকে আমরা আফগানিস্তান হতে দিতে পারি না। [“The region has developed a stake in seeing these two regimes survive. We don’t want Rakhine to be another Afghanistan,” said Rajinder Khanna] এ কথা থেকে খান্নাকে এক আপাদমস্তক মুসলিমবিদ্বেষী অন্ধ-বোকা ছাড়া অন্য কিছু ভাবা যাচ্ছে না। রোহিঙ্গাদের উপর গণহত্যা ও তাদের খেদিয়ে রিফিউজি বানানোর ঘটনা কোন দিক থেকে আফগানিস্তানের সাথে তুলনীয়? মুসলমান বলে? তাই তাঁর চোখে আফগানের সাথে তুল্য উদাহরণ মনে হল?  যেখানে খোদ আমেরিকা মনে করছে এটা গণহত্যার ঘটনা। য়ামেরিকা দেখছে, “সেখানে গণহত্যা হয়েছে, ফলে যারা এটা করেছে সেসব ব্যক্তি ও জেনারেলদের কাঠগড়ায় তুলতে” হবে। জাতিসঙ্ঘও কমবেশি তাই মনে করে। বিশেষ মানবাধিকার সম্মেলনের সংখ্যাগরিষ্ঠের অভিমতে প্রকাশিত বক্তব্য কমবেশি এমনই। অর্থাৎ এখানে ঘটনা ব্যাখ্যার মুখ্য শব্দ রোহিঙ্গাদের উপর চালানো ‘গণহত্যা’। স্বপ্নে দেখা কোন টেররিজম না। তাহলে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ইস্যুকে কিভাবে তার চোখে তিনি দেখলেন, এটা আফগান ইস্যুর সমতুল্য?

    বর্মী জনগোষ্ঠির মধ্যে ইসলাম-ফোবিয়া, ঘৃণা জাগানোর চেষ্টা বার্মার জেনারেলদের আছে। এটাই তাদের রাজনীতি বলে তারা সাব্যস্ত করেছে। আর  সু চি -সহ সেই জেনারেলদের মন পেতে, মন যোগাতে তাদের এই বীভৎস ইসলাম-ফোবিয়াকে নিন্দা করার বদলে চীন আর ভারত তারা উভয়েই বর্মীজ শাসকদের ‘টেররিজমের গল্প’ ফেরি করছে, তাল দিয়ে বেড়াচ্ছে।  যদি তর্কের খাতিরে ধরেও নেই যে রোহিঙ্গারা টেররিস্ট তবুও যে প্রশ্নের জবাব নাই তা হল –  কোনটা আগে ঘটেছে – রোহিঙ্গা নিধন, দেশ থেকে বের করে দেওয়া, নির্যাতন ইত্যাদি আগে ঘটেছে নাকি রোহিঙ্গারা আগে কোন প্রতিরোধে আগিয়ে এসেছে? রোহিঙ্গা নিধন, রিফুইজি করা আগে না ঘটলে তারা কী প্রতিরোধ করতে এসেছিল? এই সহজ প্রশ্নের উত্তর খুজলে যে কেউ নিজেই জানতে পারে। কাজেই বলা বাহুল্য রোহিঙ্গা নিধন, খেদানোর ইসলাম বিদ্বেষ – এগুলোই সবার আগে ঘটানো ঘটনা। এমনকি এখনও রোহিঙ্গা নিধন, খেদানো এসবের প্রতিবাদে রোহিঙ্গাদের তেমন কোন প্রতিরোধ ঘটে নাই যাকে পশ্চিমাভাষায় ‘টেররিজম’ বলা যায়। আফগানের মত রাখাইনে আগে থেকে কোন আল-কায়েদা ছিল না যে সেটার কারণে এটাকে টেররিজম বলার সুযোগ নেয়া যাবে। এখানকার ইস্যু গণহত্যা, ক্লিনজিং। রোহিঙ্গারা যার ভিকটিম। তবে ভিকটিককে নির্যাতনে প্রতিকারহীন ফেলে রাখলে এমন হতেই পারে,  সেই ক্ষেত্রে এটা বড় জোর একটা ‘হবু (would-be) টেররিজম’ পরিস্থিতি, এখনও মানে হয় নাই । কিন্তু তা বলে আগাম একে টেররিজম বলে ডাকছেন কেন?  আসলে রোহিঙ্গাদের দুর্দশাকে আফগান পরিস্থিতির তুল্য ঘটনা বলে খান্না সাহেবও বর্মী জেনারেলদের ও সু চির মত করে তাদেরই মন পেতে তাদেরই ইসলাম-ফোবিয়াকে নিজের ভিতর লালন করা শুরু করছেন দেখা যাচ্ছে; হয়ত জেনে বা না জেনে।

    তবে এটা ঠিক যে মুসলমান-নিধনের ইচ্ছা, নিজের ‘অপর’ হলেই খান্না সাহেবকে এই ভিন্নতা নিরসন করতেই হবে এবং তা করতে হবে নিধন করেই – এটাই খাঁটি জাতবিদ্বেষ, রেসিজম। এগুলো যার মাথায় গিজগিজ করে তিনিই কল্পনা করেন যে রোহিঙ্গাদেরকে  ‘আফগানিস্তানের মত করে দেখানোর’ সুযোগ পেয়ে গেলে তাঁর কাজ কত সহজ হয়ে যেত। বর্মী জেনারেলেরা নব-উদ্যোগে এই কাজ ১৯৮২ সাল থেকে করে আসছে যাতে রোহিঙ্গাদের জঙ্গী প্রমাণ করে নিজের ক্লিনজিং এর পক্ষে সাফাই যোগাড় করা যায়। মনে হচ্ছে খান্না সাহেব তাদেরই আর একজন হতে চাইছেন এই শেষ বেলায়।

    মানুষ ঘুমিয়ে থাকতে পারে, ভুলে থাকতে পারে বড়জোর মনে মনে দেখাটাকেই চোখের দেখা ভাবতে পারে। কিন্তু ভারত-মিয়ানমার মিলে মুসলমান জনগোষ্ঠীকে নির্মূল করার ঐক্য – এটা এক বর্ণবাদী ঐক্য। ‘অপর’ যে আপনার চেয়ে দেখতে ভিন্ন সেই জনগোষ্ঠিকে সাফা করে ফেলার ঐক্য। আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি যে আজ অথবা কাল এটা তাদের জন্য খুবই চড়ামূল্যের হবে, তা এখনই বলে দেয়া যায়।

    লেখক : রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    [এই লেখাটা এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর ২০১৭ দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকার অনলাইনে (প্রিন্টে পরের দিন) রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীনের নৌকায় ভারত’ শিরোনামে ছাপা হয়েছিল। পরবর্তিতে সে লেখাটাই এখানে  আরও নতুন তথ্যসহ বহু আপডেট করা হয়েছে।  ফলে  সেটা নতুন করে সংযোজিত ও এডিটেড এক সম্পুর্ণ নতুন ভার্সান হিসাবে এখানে ছাপা হল। ]