Tag: ভারত

  • সৌদি-পাকিস্তান সামরিক চুক্তির কী ক্রমশঃ ‘মুসলিম ন্যাটো’ জোট হয়ে উঠতে পারবে

    সৌদি-পাকিস্তান সামরিক চুক্তির কী ক্রমশঃ মুসলিম ন্যাটো জোট হয়ে উঠতে পারবে
    গৌতম দাস
    ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫   ভোর রাত ০২ঃ ৩৭
    https://wp.me/p1sCvy-6xS

     

     

    সৌদি-পাকিস্তান চুক্তি:

     

    গ্লোবাল প্রভাব ফেলতে পারে এমন এক সামরিক চুক্তিতে সই করেছে সৌদি আরব ও পাকিস্তান গত বুধবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫।  ইতোমধ্যেই তাতেই দুনিয়াজুড়ে বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক স্বার্থের দেশগুলোতে ও আমাদের এ অঞ্চলেও ব্যাপক হইচই পড়ে গেছে। অনেক পশ্চিমা মিডিয়া একে পৃথিবীর ভূমিগঠন কাঠামোতে কয়েকটা ইট খুলে নেওয়ার মতো ‘টেকটনিক’  [Tectonic] পদক্ষেপ বলেছে।

    কী সেই চুক্তিঃ
    আনুষ্ঠানিকভাবে এর নাম ‘কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’ যা ইংরাজিতে ‘স্ট্রাটেজিক মিউচুয়াল ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’ [Strategic Mutual Defense Agreement (SMDA)]। এখানে ‘মিউচুয়াল ডিফেন্স’ [Mutual defence] শব্দগুলো সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ। এককথায় এর অর্থ হচ্ছে, কোনো শত্রুর দ্বারা চুক্তির এক রাষ্ট্র আক্রান্ত হলে সেটা অপর রাষ্ট্র নিজের ওপর আক্রমণ বলে মনে করবে, আর নিজ বন্ধুকে রক্ষায় মোকাবিলায় এগিয়ে সক্রিয় পদক্ষেপ নেবে; দুই. এতে দুই বন্ধুর শত্রুর বিরুদ্ধে যৌথভাবে লড়বে।

    ‘মিউচুয়াল ডিফেন্স’ শব্দটার অর্থ খুবই গভীর। আর তা হওয়ার পেছনে বা এই আইডিয়ার উপরই দাঁড়িয়ে জন্ম নিয়েছিল ও আছে  সেই ১৯৪৯ সালে জন্লম নেয়া থেকে ন্যাটো (নর্থ আটল্যান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন NATO)। ন্যাটোর জন্ম দলিলের বিখ্যাত হল  ‘অনুচ্ছেদ পাঁচ’। এটা লেখা হয়েছে উপরে ‘মিউচুয়াল ডিফেন্স’ ধারণার আলোকে। দুনিয়াতে সেটাই প্রথম মিউচুয়াল ডিফেন্স ধারণার ব্যবহার। বইয়ের ভাষায় একে ‘কালেকটিভ ডিফেন্স প্রিন্সিপালও’ বলা হয়ে থাকে। মোট ৩২ সদস্যের ন্যাটোর কোনো এক সদস্য ন্যাটোর বাইরের কোন দেশ দ্বারা আক্রান্ত হলে এর বিরুদ্ধে ন্যাটো-সদস্যরা সবাই একসঙ্গে প্রতিরোধে নেমে পড়তে বাধ্য।

    এ কারণে অনেকেই সৌদি আরব-পাকিস্তানের এই চুক্তিকে মুসলিম ন্যাটো চুক্তির দিকে এটা যাবে এই প্রেরণা থেকে  উচ্ছ্বসিত হচ্ছে; আর ততই এটা ভারতের জন্য হচ্ছে হতাশার। কারণ সৌদির সঙ্গে অপর দেশটা হল পাকিস্তান,  আবার যে পারমাণবিক শক্তিধর! আর পাকিস্তানের অপর পার্টনার সৌদি আরব বলে এর অর্থ হল, সামরিক প্রস্তুতিতে ব্যয়ের ক্ষেত্রে অর্থ আর বড় কোনো বাধা নয়। এই নিয়ে ইংলিশ বিবিসির শিরোনাম হল, ইন্ডিয়ার কাপাকাপি শুরু হয়ে গিয়েছে [Why the Pakistan-Saudi Arabia defence pact is unsettling India]।  আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কংগ্রেস এটা মোদির ফরেন পলিসির পরাজয় বলে চারদিকে বিবৃতির হৈ চৈ তুলেছে [পাকিস্তান-সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে নরেন্দ্র মোদির ব্যর্থতা দেখছে কংগ্রেস]।
    আর সেই সঙ্গে এখন ক্রমশ জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে যে এই চুক্তিতে শামিল হতে চাইবে পুরো মধ্যপ্রাচ্য বাদশাহশাসিত দেশের ‘জিসিসি [GCC] জোটে’র ছয় দেশ (সৌদি ছাড়াও বাকি পাঁচ দেশ-ইউএই আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহারাইন ও ওমান)। সেই জল্পনাকে আরো উস্কে দিয়েছে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী – তিনি বলেছেন সৌদিদের সাথে চুক্তি করে আমরা তো অন্যদের জন্য দরজা বন্ধ করে দেই নাই। DOOR NOT CLOSED শিরোনামে পাকিস্তানী ডন পত্রিকা সেকথাই লিখেছে। আমেরিকান পয়সায় স্থানীয় থিঙ্কট্যাংক এনজিও চালায় এমন ইন্ডিয়ান ব্রহ্ম চেলানী খুবই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেছেন – সৌদিরা জানত এই চুক্তিকে ইন্ডিয়া নিজের জন্য এক সিকিউরিটি থ্রেট হিসাবে দেখবে / নিবে এরপরেও তারা এদিকে এগিয়েছে” –

    “Riyadh knew India would construe the Saudi-Pakistan pact as a direct threat to its security, yet it went ahead,”
    Brahma Chellaney, an Indian strategist, posted on X. –  BBC

    অনেকে অবশ্য আরেক সম্ভাবনার দিকটা দেখে বলতে শুরু করেছেন যে, এটা হয়তো ইরানকে একঘরে করার সৌদির পরিকল্পনা। না, এটা একেবারেই ভুল ব্যাখ্যা হবে। এটা কার্যত মুসলিম দুনিয়ার রাষ্ট্রগুলোর আন্তঃসম্পর্কের মধ্যে দুর্বলতাগুলোকে বড় করে দেখিয়ে ‘মুসলিম ন্যাটো’ হয়ে ওঠার সম্ভাবনাকে জেনে না জেনে, মুসলমান ফেরকার কথা তুলে নাকচ বা খামোশ করার এক বৃথা চেষ্টা হবে।

    তাহলে এমন দুর্বলের বদলে সবল দিকটা কীঃ
    সারা দুনিয়ায়  এর নানা ভৌগোলিক অঞ্চলের আন্তঃরাষ্ট্রীয় নানা রাষ্ট্রস্বার্থ দ্বন্দ্ব থাকে, থাকবেই। কিন্তু এসবের বাইরেও তবু সবকিছুর ঊর্ধ্বে দেখা যাবে আবার একটাই ‘প্রধান দ্বন্দ্ব’ থাকবে! যেমন, এখনকার দুনিয়ায় সেই প্রধান দ্বন্দ্বটা হল ‘চীন-আমেরিকার স্বার্থদ্বন্দ্বের বিরোধ’! এগুলো মূলত অর্থনৈতিক স্বার্থের দ্বন্দ্ব – মূল কারণ এক পালাবদল মানে একালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নেতৃত্বের পালাবদলের কাল এটা। যদিও ক্রমশই এটা সামরিক, কৌশলগত, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ইত্যাদি এবং সর্বোপরি এক নয়া বয়ান হয়ে সব ফ্রন্টেরও দ্বন্দ্ব হয়ে ক্রমশই ছড়িয়ে পড়বে।

    আর আমরাও বাকি সব রাষ্ট্রই ক্রমশ এই চীন-আমেরিকা দ্বন্দ্বে নিজ নিজ রাষ্ট্রস্বার্থের আগ্রহে বা বিচারে এ দুই রাষ্ট্রের কোনো একটার স্পষ্ট পক্ষভুক্ত হতে থাকব। অনেকে ইতোমধ্যেই হয়ে গেছি বা আছি। যদিও দ্বন্দ্ব-বিকাশিত হওয়ার বর্তমান স্তরে বা পর্যায়ে পরিষ্কার করে আমাদের-হয় আমেরিকা না হয় চীনের পক্ষে দাঁড়িয়ে যাওয়া – এমনটা এখনই দেখা নাও যেতে পারে। এখন হয়তো দেখা যাবে, একটা রাষ্ট্র এখনই ৫০-৮০ শতাংশ যদি চীনের পক্ষভুক্ত হয়ে গিয়েও তবু পাশাপাশি সে রাষ্ট্র আবার আমেরিকার সঙ্গেও অবশিষ্ট মাত্রার ঘনিষ্ঠতা রাখছে। যেমন পাকিস্তান। পাকিস্তানে চীনা বিনিয়োগ ইতোমধ্যেই ২০ বিলিয়ন ঢুকে পড়েছে, আর তা আগাচ্ছে পাইপলাইনে থাকা বাকি অংশের দিকে সবমিলিয়ে তা ৫০ বিলিয়নের আশপাশে যাওয়ার লক্ষ্যে। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে বিশেষ মজার ব্যাপারটা হল এই বিনিয়োগের বেনিফিট ব্যবহারকারী আবার খোদ চীন (একা পাকিস্তান না) নিজেও – আর সেটাই গোয়াদর প্রকল্পকে কেন্দ্র করে (যা শুধু একটা গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্প নয়)। আসলে এটা সাড়ে তিনদিক ল্যান্ডলকড চীন যার আবার পশ্চিমদিক একেবারে সুউচ্চ (হিমালয়) পর্বতমালা দিয়ে ব্লকড। তবু এই পশ্চিম দিকটা দিয়েই পাকিস্তানের সারা বুক চিরে এখন সমুদ্রে ডিপ সি-পোর্টে [গোয়াদর পোর্ট] পৌঁছানোরই অবকাঠামো নির্মাণ করে নেওয়া হয়েছে; যার বৃহৎ ব্যবহারকারী হবে চীন নিজেই। তাই বলা যায়, চীন-পাকিস্তানের সম্পর্ক মূলত অর্থনৈতিক অবকাঠামো বিনিয়োগের উপরে হলেও সব কিছুর উপরে এটা খোদ চীনের স্ট্রাটেজিক স্বার্থ – এক কথায়, চীন নিজ পুবদিকের চীন সাগর ছাড়াও চীন এখন নিজ পশ্চিমদিক দিয়ে সরাসরি আরব সাগরে পৌঁছাতে পারে।

    অথচ এতকিছুর পরও পাকিস্তান আমেরিকার হাতও ছাড়েনি; একটু দুর্বলভাবে হলেও সঙ্গেই ধরে আছে। আবার পাকিস্তানের মূল অর্থনৈতিক সম্পর্কের পুরোটাই চীননির্ভর। আবার এই সৌদি-পাকিস্তান সামরিক চুক্তির পর থেকে পাকিস্তান হয়ে গেল মুসলমান জনসংখ্যাপ্রধান রাষ্ট্রগুলোর চোখে রক্ষাকর্তাঃ অন্য ভাষায় হবু ইসলামি ‘ন্যাটোর’ মধ্যমণি।

    কেন আমেরিকান পরপর প্রেসিডেন্টরা নেতানেয়াহুর খেদমতগারির প্রতিযোগিতায়ঃ
    ইসরাইল ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ফিলিস্তিনিদের জায়গাজমি দখল, তাদের উদ্বাস্তু বানানো থেকে শুরু করে এমনকি ক্রমাগত হত্যা, নির্যাতন করে চলেছে। এর সবই নাকি দখলবাজদের ‘আত্মরক্ষার অধিকারের কাজ’ বলে সাফাই দিয়ে প্রেসিডেন্ট ওবামাসহ সারা পশ্চিমাজগৎ জায়োনিজমকে উসকানি গেছে। এসবই জায়োনিস্ট ইসরাইলের প্রতিষ্ঠা ও বিস্তারের নৃশংস ইতিহাস। বিশ্বযুদ্ধ শেষে বৈশ্বিক নেতা হিসাবে আমেরিকান উত্থান আর ইসরাইল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা একসঙ্গে হাত ধরাধরি করেই চলেছে। এক কথায় ইসরাইলকে প্রটেকশন দিয়ে অন্যের দেশভূমি দখল করে ইসরায়েলের নিজ বিস্তার ঘটানো-প্রটেকটর যেহেতু আমেরিকা, তাই পরিষ্কার করেই বলা যায় যে, দুনিয়া থেকে জায়োনিজমের অবসান ও ইসরাইল রাষ্ট্রের বিলুপ্তি বৈশ্বিক নেতা হিসাবে আমেরিকার পতনের ভেতরই নিহিত। প্রটেকটর আমেরিকার নেতাগিরির পতনের ভেতর দিয়েই একমাত্র ইসরাইলের বিনাশ ঘটতে পারে, তা বলাই বাহুল্য।

    আবার আমেরিকার নেতাগিরির অবসানের মানে হল, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নেতা হিসাবে চীনের উত্থান। এই উত্থানকে ত্বরান্বিত করার অন্তত একটা চাবিকাঠি আবার সৌদি আরবের হাতে আছে। তা হলো, আমেরিকান ডলার বাদে অন্য মুদ্রায় (যেমন ইউয়ানে) সৌদি তেল বিক্রি শুরু করা। কারণ সৌদি তেল বিক্রি যা সর্বোচ্চ তা কেবল আমেরিকান ডলারেই কেনাবেচা হয়। এতে ডলারের কারেন্সি ভ্যালু অটুট রাখার ক্ষেত্রে – একটা বড় ফ্যাক্টর হল কেবল ডলারেই সৌদি তেল বিক্রি করা।

    আর এতে আমেরিকান ডলার এক আধিপত্যশীল কারেন্সি হিসাবে বৈশ্বিক বাণিজ্যে আমেরিকার নেতাগিরি টিকে যাওয়ার প্রধান কারণ। আর আমেরিকান ডলার ডমিনেন্সি টিকে থাকা মানে এটাই ইসরাইলের দানবীয় আচরণ দেখানোর শক্তির উৎস। চীনা মুদ্রা ইউয়ানে সৌদি তেল বিক্রি করা শুরু করলেই এর ফলাফলে ডলার দুর্বল হয়ে যাবে আর এতে আমেরিকা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নেতা থেকে পতন হওয়ার এক বড় ঘটনা হতে পারে সেটা।

    কিন্তু সৌদিরা এটা করতে এপর্যন্ত ভয় পেয়ে এসেছে। বরং সৌদি সরকার ভয়ে ভয়ে কাজ করেছে উলটা; সৌদিরা আমেরিকার কাছেই নিজ নিরাপত্তার গ্যারান্টি চেয়ে বসে আছে। এদিকে চলতি মাসে ৯ সেপ্টেম্বর ইসরাইল সৌদি আরবের সীমান্ত দেশ কাতারেই বোমাহামলা চালায়। বলাই বাহুল্য, এটাকে সৌদিশাসকরা আমেরিকান ‘প্রতিরক্ষার আশ্বাসের’ বরখেলাপ গণ্য করেছিল।

    এখন সেখান থেকে প্রতিক্রিয়ায় সৌদিরা সরাসরি তেল বিক্রিতে ডলার ব্যবহার বন্ধ করতে পারত। কিন্তু তা কঠোর আর ভারী হয়ে যাবে ভেবে সেদিকে না গিয়ে সৌদি শাসকরা এক তুলনামূলক নরম পদক্ষেপ নিয়েছে – এটাই পাকিস্তানের সঙ্গে ‘মিউচুয়াল ডিফেন্স’ চুক্তি করে বসা।

    এদিকে পাকিস্তানের ডন পত্রিকা লিখেছে, এটা দুই দেশের মধ্যকার চুক্তি হলেও এটা জিসিসি সদস্য দেশের মধ্যেও বিস্তার ঘটিয়ে বাকি গালফ দেশকেও একই ‘মিউচুয়াল ডিফেন্স’ চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা নেই। মানে কাতারসহ জিসিসির বাকি দেশগুলোও এ চুক্তিতে একইভাবে সৌদিদের মতো পক্ষভুক্ত হতেই পারে।

    কিন্তু তবু অনেকের মনে খচখচ করতে পারে এই ভেবে, এটা তো ঠিক ‘ইসলামি ন্যাটো’-এর মতো হচ্ছে না। কারণ ইরান বা তুরস্ক এতে শামিল নয় বা সেটা হবে কী করে?

    আমি এখানে একটা সূত্র বলে দেই। এক্ষেত্রে ইরান মুসলিম দেশের মধ্যে সবার আগে চীনের সঙ্গে পক্ষভুক্ত হয়ে গেছে। আর তা পেরে গেছে বলেই ইরান সাহসের সঙ্গে ফিলিস্তিনির পক্ষে হামাস, হিজবুল্লাহসহ অন্যদের সংগঠিত ও সহযোগিতা করে আসছে। ইরানের তেল কেনার জন্য চীন-ইরান ২৫ বছরের চুক্তি করা আছে।

    অতএব, সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ‘মিউচুয়াল ডিফেন্স’ মানেই পাকিস্তান নিজ আরেক হাতে চীনের সঙ্গে সে যুক্ত-এটাও মনে রাখতে হবে। ফলে ইরানও এতে (আপাতত) পরোক্ষে যুক্ত!

    সৌদিদের দিক থেকে এটা হল, আমেরিকাকে দেওয়া হুঁশিয়ারি যে আমেরিকা সংশোধিত না হলে, জায়োনিস্ট রক্ষকের কাজ ত্যাগ না করলে তখন সৌদি শাসকরা সরাসরি ডলারে তেল বিক্রি বন্ধের পথে যাওয়ার কথা ভাববে।

    এক কথায় দিন শেষে এটাই দখলদার জায়োনিস্টদের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক সর্বোচ্চ পদক্ষেপ হয়ে ওঠার পথে হাঁটবেই।

    গৌতম দাস : রাজনৈতিক বিশ্লেষক

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫    


    [এই লেখাটা এর আগে প্রথম ভার্সানে ছাপা হয়েছিল দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় আমারই লেখা এক কলাম হিসাবে, গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫।  আজ এখানে সে লেখাটারই  আরেক বর্ধিত এক নয়া এডিটেড ভার্সান এখানে আমার নিজ সাইটে ছাপা হল। বলাই বাহুল্য এখানে শিরোনামটাই শুধু নতুন নয় বরং এমন অনেক প্রসঙ্গই নয়া এখানে যোগ করা হয়েছে যেটা পত্রিকার ভার্সানে ছিল না। আসলে পত্রিকার কলাম ভার্সান মানে যেটা যুগান্তরের এডিটরিয়াল পলিসি সঠিক মনে করে সেই ভার্সান; এভাবে দেখাটাই সঠিক হবে। আর তুলনায় এটা আমার নিজ পরিবর্ধিত-এডিটেড ভার্সান মনে করলেই সঠিক হবে বলে আমার বিশ্বাস! ]

  • প্রতি বিপ্লব কী? ওয়াকার ম্যাজিক?

    প্রতি বিপ্লব কী? ওয়াকার ম্যাজিক?
    গৌতম দাস
    ২৭ এপ্রিল ২০২৫  সন্ধ্যা ০৬ঃ ৫১
    https://wp.me/p1sCvy-6rH

     

    আমার অবজারভেশন এটাই প্রতি-বিপ্লব বহনের চিহ্ন, ছবিটা বাংলা নিউজ / কালের কন্ঠ থেকে নেয়া

    দুর্ভাগ্যবশত আমাদের দেশে বিপ্লব শব্দটা যতটা পরিচিত; আর এটাও বুঝি বা-বুঝি এটা ব্যবহার করতে দেখি আমরা অনেককেই এবং অতি সহজেই। বিশেষ করে এটা যখন “জুলাইয়ের বিপ্লব” বা “আগষ্ট বিপ্লব” বা “২৪ এর বিপ্লব” এর যুগ বা কাল পার হচ্ছি আমরা। কিন্তু ঠিক তার দ্বিগুণ হল আমাদের অজ্ঞতা বা বেখবর!!! কিন্তু কী নিয়ে? সেটা হল বিপ্লব না হয় যা হয় বুঝলাম; তাহলে প্রতি-বিপ্লব, সেটা আবার কী? এমনিতে বিপ্লব এই কথা বা ধারণাটাকে কমিউনিস্ট-প্রগিতির লোকেরা নিজেদের একচেটিয়া মনে করে থাকে। তারাই সবচেয়ে ভাল বুঝে এমনও মনে করে থাকে। তবুও তাদের মধ্যেও দেখা যায় প্রতই-বিপ্লব জিনিষটা কী? কেন তা আসে? কখন আসে? – এসব প্রশ্নে খুব স্বচ্ছ ধারণা রাখেন না। যদিও তারা প্রতি-বিপ্লব কথাটা শুনেছেন এমন দাবি করে থাকে।

    তত্ব কথা প্রতি-বিপ্লব কে বুঝানো যায়; বুঝাবও অবশ্যই। কিন্তু আগে প্রাকটিক্যালি দেখাবো। এর মূল কারণ, আমরা সকলে প্রগতি বুঝি কিংবা ইসলামিজম বুঝি অথবা আম-জনতা যাই হই না যেন বিপ্লব কী তা ৫ আগষ্টের পর থেকে আমরা সবাই বলব আমরা বুঝি। কারণ এটা বাস্তবে আমাদের সবাইকে দেখায়ে দিছে; আগে না জানলেও এখন জেনে গেছি বিপ্লব কী!
    তাহলে প্রতি-বিপ্লব কী?
    এর ইংরাজি হল,  কাউন্টার-রেভেলিউশন [counter revolution] । বুঝাই যাচ্ছে কাউন্টার মানে একটা ঘটে যাওয়া ঘটনাকে উলটা দিকে ঘুরানো।  অর্থাৎ হাসিনা উতখাত উপড়ে ফেলা যদি বিপ্লব তবে এখানে প্রতিবিপ্লব হচ্ছে হাসিনাকে ফিরে ক্ষমতায় বসানো! হা ব্যাপারটা তাই এখানে একটু টুইস্ট বা মোচড় আছে। হাসিনা ক্ষমতায় ছিল ১৬ বছর ইন্ডিয়ান আধিপত্যের প্রতিনিধি হিসাবে। তাহলে হাসিনার উতখাত মানে আসলে তা সেই ইন্ডিয়ান আধিপত্যেরও উতখাত। তাহলে এখানে প্রতিবিপ্লব মানে কেবল হাসিনাকে নয় মূলত একেবারেও মূল শক্তি হচ্ছে ইন্ডিয়ান আধিপত্য একেই পুনঃপ্রতিষ্ঠা মানে ইন্ডিয়ান আধিপত্যের পুনঃপ্রতিষ্ঠা এটাই হল মৌলিক দিক!
    আর সেখান থেকেই এতে আরো কিছু ভিন্নতা থাকবে বা দেখব আমরা। অর্থাৎ কেবল ঠিক হাসিনার পুনঃপ্রতিষ্ঠা নয় এর বদলে আমরা দেখব মূল শক্তি  ইন্ডিয়ান আধিপত্যের পুনঃপ্রতিষ্ঠা তাই।  এটাই প্রতি-বিপ্লব ও প্রতি-বিপ্লবী চিহ্ন বা মূল প্রতীক।

    এবার আর ইন্ডিয়ান আধিপত্যের পুনঃপ্রতিষ্ঠা এর সাথে আরো দেখব – তারেক জিয়ার বিএনপি, স্পষ্ট করে জামায়াত, ফাঁকে কান্নি মারছে এমন হাসিনার লীগ ইত্যাদি আর সবার উপরে ভাসবে তাদের সমন্বয়ক ওয়াকার।  আর সব মিলিয়ে এরাই হতে যাচ্ছে সম্ভাব্য প্রতিবিপ্লবী শক্তি!

    এবার আরেকটু সার করে বলিঃ তাহলে ৫ আগষ্ট কে যদি ধরি হাসিনার সাজানো সেনাবাহিনী এর অর্ডার ভেঙ্গে দিয়ে এই সেনা প্রতিষ্ঠানেরই (ওয়াকার বাদে) বাকীদের (মূলত জুনিয়র অফিসারদের) আধিপত্যের বিজয় (যেখানে অসহায় ওয়াকার পুরানা পদপদবীসহই ব্যক্তি মাত্র); আর এটাই মূলত হাসিনার উতখাত ও পলায়নের মূল চালিকা শক্তি। আর পরবর্তিতে এই ঘটনাটাই ৫ আগষ্ট ২০২৪ থেকে ছাত্র-জনতার দ্বারা এন্ডোর্সড বা অনুমোদিত হয়ে যাওয়াতে  পুরা পরিবর্তন টাই একটা বিপ্লব; একটা বিল্পবী চরিত্র নিজে হাজির হয়ে যেতে পেরেছিল। যদিও ভিতরে নানান পকেটে অনেক ধরনের দুর্বলতাও থেকে গেছিল। যেমন ওয়াকারকে উপরে প্রতীকী হলেও রেখে দেওয়া। বাওইরে থেকে ইউনুস সাহেব-কে এনে সরকার প্রধান করে বসানো ইত্যাদি অনেকগুলো দুর্বল-পকেট এতে থেকে গেছিল।

    তবুও অর্থ তৈরির দিক থেকে আবেগ-উচ্ছাসে এটা সবার দিক থেকে এটা একটা বিপ্লবই গন্য হয়েছিল ।   আর এই বিপ্লব ও এই বিপ্লবের বিরুদ্ধে প্রথম বিরুদ্ধচারণ শুরু করেছিল ইন্ডিয়া ও মোদি। এদিকটা খেয়াল করলেই ব্যাপারটা বুঝা যাবে। এতবড় সধিপয়ত্য হারানো মূল শক্তি প্রতিবিপ্লব বা বিরোধিতার মূল হাল ধরবে তা বলাই বাহুল্য! কিন্তু এর সাথে সহযোগী হবে তারেকের বিএনপি, আগা-পিছা করা জামায়াত (যার শুরুটা হয়েছিল ইসকন-চিন্ময় আর এদের গলা জড়িয়ে ধরে চুমা দেয়াদের কে দিয়ে)। ওদিকে সেনা প্রতিষ্ঠানের ভিতর বিজয়ী শক্তিরো যতটা সম্ভব খামতি পূরণ করে পয়লা স্ত্র পেরিয়ে নিজেদের সংহত হয়ে দারাতেই নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ লেগে যায়।
    কিন্তু সবচেয়ে বড় আরেক দুর্বলতা ক্রমশ বড় হয়ে উঠতে থাকে। সেটা হল, খো ইউনুস সাব, আসিফ নজরুল ও অন্যেরা। এদের কাজটা ইনোসেন্ট বা নিস্পাপ অজ্ঞতা বলবেন হয়ত অনেকে। কিন্তু এটা আসলে বাচ্চাদের আপাত নির্দোষ পুকুরে ঢিল মআরা যেটা পুকুরের ব্যাঙের দিক থেকে প্রাণঘাতি, এরকম।  না ইউনুস না তার মন্ত্রীসভা (উপদেষ্টারা) কেউই প্রতি-বিপ্লব ব্যাপারটা কী তা আমল করেন নাই শুধু তাই না প্রায় অযোগ্যও বটে। কিন্তু এটা যে গণমানুষ রাষ্ট্রস্বার্থের দিক থেকে বাঁচামরার সেখবর তাদের নাই। এরই প্রমাণ হল, মুজিবের ছবি অবলীলায় মাথার উপরে টাঙাতে অসুবিধাবোধ না করা, লীগেরও রাজনৈতিক অধিকার দিতে ব্রি. শাখাওয়াত প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাচাল কথাবার্তা ও অপসারিত হওয়া অয়থবা ধরেন খোদ ইউনুস সাবের সস্তায় ইলিশ মাছ খাওয়ার রাষ্টড় ও সরকার প্রধান হয়ে থাকার লক্ষ্য নির্ধারণ……!!!  আমাকে বারবার লিখতে হপ্যেছে ক্ষমতা কী? রাষ্ট্রক্ষমতা মানে মারো নাহলে নিজে মরো! ফ্রেন্ড-এনিমি টনটনে বোধ! আগেই আপনাকে নির্মম্ভাবে আপনার ক্ষমতার এনিমি কে মারতে হবে নইলে পরে শত্রুর হাতেই নিজে উতখাত হতে হবে!! ক্ষমতা মানে এটাই।
    এটাই বিপ্লব কে রক্ষা করা! ফলে হয় মারো নয়ত মরো! বিপ্লব কে সুরক্ষা দাও আর নয়ত প্রতি-বিপ্লবে মারা যাও!  একথাতাই কখনও ইউনুস সাবকে পরিস্কার বুঝানো যায় নাই আধা-বুঝ ভাবে উনি থেকে গেছেন। আর ততই উনি মটিভেশন আর স্পিচ নিয়ে নিজের ক্যারিসমা দিয়ে সব জয় করতে রওনা দিয়েছেন। প্রতিবিপ্লব বুঝাতে যান নাই।  এমনকি আমি বলে আপনি নিজেও মারা পড়তে পারেন এই ভাল-ভালাইয়াতে! ক্ষমতা ভাল-ভালাইয়ার জিনিষ নয়।

    যাই হোক, আজ “জেনারেল ওয়াকার ম্যাজিকে গণমানুষের উচ্চাশা” – এই শিরোনামে যে আর্টিকেল ছাপা হয়েছে কালেরকন্ঠ সহ বসুন্ধরা, বাংলাভিষন ও এলাইক মিডিয়াতে একযোগে এতাকে আমি মনে করি আরো ঘনিভুল হয়ে আবার দাড়ানো এক প্রতিবিপ্লবী পরিকল্পনা হিসাবে। ষড়যন্ত্র পরিকল্পনা বলবেন হয়ত অনেকে।

    সরকার প্রধান হওয়া তুলনামূলক সহজ কিন্তু যদি আপনার প্রতি-বিপ্লব ঠেকানো কাজটা কী ও কেন? – এমন ধারণা নাই থেকে থাকে ?????
    তবে আপনি নিজে ব্যক্তিগতভাবে নিজের জন্য, দেশের ও গণস্বার্থ রক্ষার দিক থেকে বিপদজনক! তাই আপনার উচিত এদিকটা রাষ্ট্রক্ষমতা রক্ষা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য  “উপযুক্ত” যাকে ইউনুস সাব আপনার কম্পাটাবল মনে হয়;  তাকে বিশেষ এসাইনমেন্ট ক্ষমতাপ্রাপ্ত করে দিতেই পারেন। বলাই বাহুল্য তিনি ওয়াকার সাব নন! নির্দিষ্ট সময়-অন্তে এর রিভিউ ও অগ্রগতি মনিটর মিটিংয়ের ব্যবস্থাও রাখতে পারেন।


    লেখকঃ

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com


    সবশেষ আপডেটঃ  সন্ধ্যা ০৭ঃ ৩৫,    ২৭ এপ্রিল ২০২৫

  • কারা NDI-IRI, আর জিল্লুরের CGS এর সাথে এর সম্পর্ক কী?

    কারা NDI-IRI, আর জিল্লুরের CGS এর সাথে এর সম্পর্ক কী?
    গৌতম দাস
    ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
    https://wp.me/p1sCvy-6iE

     

     

     

    NDI-IRIএরা নাকি এক গবেষণা-জরিপ করে পেয়েছিল যে হাসিনা আবার ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি নির্বাচনে আবার বিজয়ী হবে। 
    —” A national survey by International Republican Institute found that Sheikh Hasina remains Bangladesh’s most popular leader
    18-08-2023″ লিঙ্ক এখানে, 
    এই কথিত সার্ভের রিপোর্ট তারা বের করেছিল ১৮ আগষ্ট ২০২৩ সালে। এভাবে হাসিনার প্রতিটা চোরা নির্বাচনের আগে এরা কথিত জরিপ রিপোর্টে বের করে গেছিল। 

    চোর ধরা পড়েছে। এখন মিলিয়ে নেন। এই বাটপার এর কাজ দেখেন নিচের লিঙ্কে।
    আর এই বাটপারি যা আসলে আমেরিকান এনজিও আর ইন্ডিয়ান র-এর মিলিত এক উদ্যোগ।
    চোরের নাম IRI [International Republican Institute ]। অনেক সময় একে পাবেন NDI [National Democratic Institute] এমন নামে।
    অনেক খুজে বের করতে হল।
    https://www.ndi.org/who-we-are

    মূল সহায়তাকারি NED – এই নামের আরেক আমেরিকান এনজিওঃ
    আমেরিকান ফান্ড আনার ব্যাপারে মূল সহায়তাকারি হল, THE NATIONAL ENDOWMENT FOR DEMOCRACY [NED]; এটা আমেরিকায় নিজে থিঙ্কট্যাঙ্ক হলেও ইন্ডিয়াতে ২০০৭ সালের পরে এসে এনজিও হিসাবে রেজিষ্ট্রেশন নেয়।
    সাথে আন্ডারহ্যান্ড ডিল হল,  ইন্ডিয়ান -NED আবার NDI-IRI এর অর্থ আমেরিকা থেকে ইন্ডিয়ায় এনে দেয়। মানে ইন্ডিয়া NDI-IRI  কে কোন কারণে, ইন্ডিয়ায় অর্থ আনার অনুমতি দেয় নাই।
    আর এখান থেকে এই ফান্ড রিপ্যাকেজিং হয়ে NDI-IRI এর ফান্ড নামে কিন্তু র-এর সাথে যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে পরিচালিত হয়। এক কথায় এটা এক বড় র‍্যাকেট! সুইডেন ভিত্তিক এক মিডিয়া এভাবেই চলে National Endowment for Democracy (NED) এর অর্থে।

    এরা ইন্ডিয়ান র-এর সাথে যৌথ ততপরতা শুরু করেছিল ২০০৭ সালের ১/১১ এর পরে যখন আমেরিকা বাংলাদেশকে ইন্ডিয়ার হাতে তুলে দিয়েছিল। তবে  NED অথবা NDI-IRI  এরা ঠিক আমেরিকান সরকারী উদ্যোগ নয়; আমেরিকান এনজিও-নন প্রফিট গ্রুপের নামে উদ্যোগ। তাই আমেরিকান সরকার জানে না টাইপের এড়িয়ে যেন যেতে পারে এমনই এক আমেরিকান এনজিও আর র-এর মিলিত উদ্যোগ।

    কিন্তু ২০১৬ সালের পরে মানে ট্রাম্পের আমলে ২০১৭ সাল থেকে বাকি সব এনজিও গুটিয়ে গেলেও কিছু এমন এই যৌথ প্রযোজনা NDI-IRI থেকেই যায়। যার মাধ্যমে র-এর ততপরতা চলছে বাংলাদেশে।

    জিল্লুরের CGS এই এনজিও দোকানটা এই গ্রুপের।
    https://cgs-bd.com/#
    CGS জানিয়েছে, NDI ওর পার্টনার সংগঠন।
    https://cgs-bd.com/articles/106/PARTNERS

    অনুমান করা হচ্ছেঃ
    NDI-IRI ফান্ডের জোরে জিল্লুরের গলা চড়তেছে। জিল্লুর নতুন বাংলাদেশ চায় না। বাংলাদেশ তালেবানী রাষ্ট্র হয়ে গেল – ইত্যাদি এসব বলে সে নিজেই বিএনপির এক নয়া সালাউদ্দিন আহমেদ  (যখন ইতোমধ্যেই সালাউদ্দিন হতাশ হয়ে থেমে গেছে) হয়ে উঠতে চাইছে!  ইন্ডিয়ান কনসার্ণ, স্বার্থ যেন তাকে এতই চাপ দিয়ে ধরে রেখে তাড়িত করতেছে!
    No description available.

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   ফেব্রুয়ারি  ২০২৫

    সর্বশেষ আপডেটঃ  ফেব্রুয়ারি  ২০২৫

  • ইন্ডিয়ান হেজিমনি উচ্ছেদ হবেই! কোন এনজিও রাজনীতি করতে পারে না!!

    ইন্ডিয়ান হেজিমনি উচ্ছেদ হবেই! কোন এনজিও রাজনীতি করতে পারে না!!
    গৌতম দাস
    ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
    https://wp.me/p1sCvy-6ip

     

    লীগ-সহ বিএনপি, জামায়াত যারা বিভিন্ন মাত্রায় র-প্রভাবিত হয়ে ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে – এই তো ক্ষমতায় চলেই যাচ্ছে ভেবে – লাগতে গেছিল এরা সব শেষ!!

    ৩২ নম্বর ভাঙ্গা দিয়ে শুরু হয়ে এরা সকলে এখন “ডেভিল হান্টে” পলায়নপর দৌড়াচ্ছে, যদি জান বাঁচে!
    এরপরেও এখন আমেরিকান-এনজিও-ফান্ডের [NDI-IRI] নামে, ছলে লুকানো র-প্রভাবিত কিছু লোকাল এনজিও ততপরতা চালু আছে। এরা ভালুকের পোষাক পড়া কিন্তু ক্ষুদ্রপ্রাণী (নরকের কীট) যারা ইউনুস সাবের বগলে আশেপাশেও চলে গেছে, আছে চেহারা লুকিয়ে! এরা হুন্ডিতে অর্থ নিয়ে এসে ইন্ডিয়ান স্বার্থের রাজনৈতিক শ্লোগান দিচ্ছে! এবার এদের উচ্ছেদ হতেই হবে!!!! ইন্ডিয়ান হেজিমনি উচ্ছেদ হবেই!!!!

    মনে রাখতে হবে এরাই বারবার দেশে ভুয়া নির্বাচনের আগে হাসিনাই আবার বিজয়ী হবে বলে মিথ্যা গবেষণা রিপোর্ট দিয়ে গেছিল – এমনই টাউট বাটপার এরা!

    একটা ক্লু দিয়ে রাখি। যারা – “বন্দোবস্ত” – শব্দটা ব্যবহার করে এদের থেকে দূরে থাকেন! এরাও ক্যারিয়ার!

    জেনে না জেনে এই শব্দ ব্যবহার করবেন না, প্লিজ!!

    এখানে বিবৃতিদাতাদের মধ্যে আছে অনেকে – তবে এর বাইরেও আছে।

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  ০৫ঃ ৩৫, ১০ ফেব্রুয়ারি  ২০২৫

    সর্বশেষ আপডেটঃ  ফেব্রুয়ারি  ২০২৫

  • এখন দুদিন চলবে বয়ানের যুদ্ধঃ এদেরকেও পরাজিত করতেই হবে

    এখন দুদিন চলবে বয়ানের যুদ্ধঃ এদেরকেও পরাজিত করতেই হবে
    গৌতম দাস
    ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, সন্ধ্যা ০৬ঃ ২০
    https://wp.me/p1sCvy-6gk

     

     

     

    হাসিনার বক্তৃতাঃ নিজের ১৬ বছরের গুম-খুমের শাসন, নির্বিচারে সরকারি বা পাবলিক অর্থ সম্পত্তির লুটপাট এর পক্ষে হাসিনা এক সাফাই-বক্তব্য রেখেছেন। আগেই প্রচার করা এই সুচি বলেছিল যে তিনি ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ভার্চুয়ালি অডিওতে আসবেন।
    আর এর বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ছাত্র-জনতা। হাসিনার সকল অপ-শাসন এর সিম্বল বা যেগুলো প্রতীক হয়ে উঠেছিল সেগুলো তারা এর প্রতিক্রিয়ায় ঐদিনই গুড়িয়ে দিয়েছে।
    অর্থাৎ কেবল বস্তুগত স্থাপনা যেগুলা সেসব প্রতীক-ই ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে, ফ্যাসিস্ট হাসিনার গলাবাজি ও সাফাই দিবার চেষ্টার বিরুদ্ধে। কিন্তু কোন প্রাণহানি বা নুন্যতম রক্তপাত না, এখানে ঘটে নাই। টার্গেটও ছিল না।

    গত ৫ ফেব্রুয়ারী ছিল হাসিনার বক্তৃতা ও এর প্রতিক্রিয়ায় ৩২ নম্বর-কে ধুলায় মিশানোর মিশন। এখানে, ৩২ নম্বর (সাথে বিভিন্ন জেলায় ফ্যাসিজমের জেলানেতাদের প্রতীকী স্থাপনা) মানে হল যা হাসিনা বা আওয়ামী ফ্যাসিজমের সিম্বল। ফলে সকল বস্তুগত স্থাপনা ভাঙ্গা ফ্যাসিজমের প্রতীকগুলোর বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আক্রমণ।  এর উদ্দেশ্য ছিল জনগণকে সাথে নিয়ে প্রতীকগুলোকে চিনিয়ে দেওয়া আর তাতে বুঝিয়ে দেয়া যে গণশত্রু কারা কারা! আর আবার বলছি এতে সহিংসতা বা রক্তপাত শব্দ ব্যবহারের কোন সুযোগ না রেখে এগুলো পরিচালিত করা হয়েছে।  এককথায় খুবই প্রতীকীভাবে তাঁদের একাজ সম্পন্ন হয়েছে।

    কিন্তু প্রতিক্রিয়াঃ এরা কারা?
    ছাত্র-জনতার এই ততপরতায় খুবই বিপদে পড়েছে অনেকেই! কিন্তু এই অনেকেই, এরা কারা?
    এদের প্রধান সমস্যা হল, এটা ফ্যাসিজমের প্রতীক যেগুলো কেবল এর উপর আক্রমণ হয়েছে কোন ব্যক্তির উপরে নয়; অর্থাৎ ফ্যাসিজমের প্রতীক  মানে যেগুলো বস্তুগত প্রতীক মানে সরাসরি কোন ব্যক্তি – রক্ত-মাংসের কোন ব্যক্তিমানুষ একেবারেই নয়- আর এটাই এদের জন্য বিরাট সমস্যা হয়ে গেছে। কারণ, মানবাধিকারের কথা এতে আনা যাচ্ছে না!  কেন ছাত্র-জনতা কেবল বস্তুগত বা ফিজিক্যাল স্থাপনা যেগুলো সেসব কিছুকে চিনিয়ে দেয়ায় শেষ করল কেন এই হল তাদের আক্ষেপ!  এমনকি কোন ফ্যাসিস্ট ব্যক্তিকেও আক্রমণ করা হয় নাই। তাই নুন্যতম রক্তপাতও এখানে নাই! একারণের যারা ছুপা যারা, গোপনে নিজ চেহারা আড়ালে রেখে  হাসিনার ফ্যাসিজমের পক্ষে কাজ করতে মাঠে নেমে থাকছিল এতদিন –  এরা খুবই বিপদে পড়েছে। মূল কারণ এখন ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচীর বিরুদ্ধে তারা কী বলবে কীভাবে বলবে? এই বয়ান তাদের কাছে নাই!  বিশেষ করে কোন ব্যক্তি-মানুষের উপর সহিংসতা রক্তপাতও যেখানে নাই!  তাহলে তাদের বয়ান দাঁড়াবে কার উপরে?
    এবার একটু সার করে বলি, তাহলে ৩২ নম্বর-কে ধুলায় মিশানোর মিশন এটা আসলে হল, এক রক্তপাতহীন ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচী ছিল এটা!
    তবে এটা কি ছাত্র-জনতা খুব পরিকল্পিত ভাবে করেছে? না, ঠিক তা বলা ভুল হবে। আসলে তাদের মন স্বচ্ছ ছিল যে কোন রক্তপাত ঘটানো – এটা ঠিক তাদের লক্ষ্য নয়। বস্তুগত প্রতীকের উপর জোর দেয়া – এটাই ছিল তাদের লক্ষ্য এবং মন-ভাবনা!  আর এতেই হাসিনার পক্ষের ছুপা দালালেরা  চরম বিপদে পরে গেছে! মূল কারণ, নুন্যতম এটা সহিংসতা বলেও শক্ত কোন বয়ান তারা দাঁড় করাতে পারছে না! কোন ছদ্ম মানবাধিকারের বয়ান বা ছদ্ম মানবাধিকার ইস্যু তারা খাড়া করতে পারছে না!

    সবচেয়ে বড় হাসিনার ফ্যাসিজম সমর্থক – ইন্ডিয়াঃ
    কারা কারা ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচীতে বিপদে? এর শীর্ষে আছে ইন্ডিয়া!
    ইন্ডিয়ার বিদেশ মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য-বিবৃতিঃ

    আগেই বলেছি যারা ছুপা হাসিনা-স্বার্থের এদের মধ্যে শীর্ষে আছে ইন্ডিয়া! যাদের প্রধান সমস্যা বয়ান-ভাষ্য কী বানাবে যখন রক্তপাতও নাই???

    তাই লক্ষ্য করেন, তারা বলছে ৩২ নম্বর বা শেখ মুজিবের বাড়ি এটা নাকি হল historic residence – মানে ঐতিহাসিক গুরুত্ব থাকা বাড়ি বা বাসস্থান। এটা নাকি “a symbol of the heroic resistance of the people of Bangladesh”. মানে হল, বাংলাদেশের মানুষের বীরত্বপুর্ণ প্রতিরোধের প্রতীক! কিন্তু তাতে ইন্ডিয়া সরকারের কী? এটা কিভাবে ইন্ডিয়ার স্বার্থ বা কথা বলবার এক্তিয়ার? 

    তাই এতে এখন ইন্ডিয়ান সরকারী তামাসাটা দেখেন! গত ১৬ বছর যে ইন্ডিয়া হাসিনার ফ্যাসিজমকে ক্ষমতায় বসায়ে বাংলাদেশ শাসন করে গেছে, হেজমনি বা ইন্ডিয়ান আধিপত্য-দখল চালিয়ে গেছে সেই তারাই এখন বয়ান দিতেছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইতিহাস বা ঐতিহাসিক কোনটা? বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানে র-এর এজেন্ট ঢুকয়ে যারা ১৬ বছর শাসন-আধিপত্য চালিয়ে গেছে যারা এখন পরাজিত (যাদেরকে খুঁজে খুঁজে উপরে ফেলে নির্মুল করা বা বের করে দেওয়া ও মুক্ত করার পথে আমরা এখনকা্র বাংলাদেশ)  সেই পরাজিত ইন্ডিয়া  তারা এখন আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাস বা এর বয়ান কোনটা হবে সেটাও এখন নির্ধারণ করতে চাইছে!

    আসলে  ইন্ডিয়ার মনে রাখা উচিত,  ভাষা আন্দোলন কেবল বাংলাদেশে না, ইন্ডিয়াতেও হয়েছে; বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতে তামিলনারুতে! সে ইতিহাস আমরাও জানি! নেহেরু দক্ষিণ ভারতে হিন্দি ভাষা চাপিয়ে দিতে গিয়ে মার খেয়ে ফেরত এসেছিলেন ১৯৬৪ সালে (বলা হয় এই শোকেই ), সেটা আমরাও জানি!  যা থেকে আজ পর্যন্ত তামিলনারুতে কোন হিন্দি-প্রিয় দল কংগ্রেস বা একালের বিজেপি কখনও রাজ্য সরকারে ক্ষমতায় আসতে পারে নাই। সব থেকে বড় চিহ্ন হল,  সেই থেকে ইন্ডিয়ান কনষ্টিটিউশনে রাষ্ট্রভাষা বলে কিছুই নাই। এবং কিছুই যে নাই সেকথা জানিয়ে ইন্ডিয়ার সুপ্রীম কোর্ট এক রায় দিয়ে রেখেছে।
    তো এখন ইন্ডিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাস কোনটা?  মোদি-কংগ্রেসিরা যে ইন্ডিয়ায় পরাজয়ের ইতিহাস লুকায় রেখেছে সেটা কী এখন আমরা বাংলাদেশিরা দাবি করব যে লুকায় রাখা ইতিহাস এটাই  বা সেটা ইন্ডিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাস???? আমরা নট ইন্টারেস্টেড – ছেচড়ামো আমাদের স্বভাবে নাই।  নানান দেশের ইতিহাস জানার জন্য যতটুকু আগ্রহ থাকা লাগে ততটুকুতেই আমরা সীমাবদ্ধ!

    কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস কী এবং কোনটা কতখানি  – এটা একান্তই বাংলাদেশের; এর নির্ধারক একান্তই বাংলাদেশের জনগণ! ইন্ডিয়ান রাষ্ট্র-সরকারকে আমরা এই হুশিয়ারি জানাই দিয়ে রাখতে চাই! কাজেই আমাদের এই নির্ধারক ক্ষমতার মধ্যে ভাগ বসাতে হাত বাড়ালে সেই হাত জ্বালায় দেয়া হবে! জ্বলে পুড়ে যাবে।  এখানে হাত ঢুকানোর চেষ্টা মানে এটাও আরেক ধরনের ইন্ডিয়ান অযাচিত হস্তক্ষেপ, আধিপত্য দেখানোর চেষ্টা। আমরা ইন্ডিয়ার এই অপ-ততপরতা কে উপড়ে  ফেলে দিব, অবশ্যই! বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস এর বয়ান একমাত্র আমাদের জনগণ দ্বারা নির্ধারিত হবে। কাজেই গতকাল ইন্ডিয়ান সরকারী ভাষ্য-বয়ান আমরা প্রত্যাখান করি, নিন্দা জানাই! বাংলাদেশের বয়ানে হাত ঢুকানো বা হাসিনার পক্ষের বয়ান নিয়ে দাঁড়ানো আমরা অবশ্যই প্রতিহত করবো! এনিয়ে ইন্ডিয়ান সরকারের সীমা লঙ্ঘণ চরমভাবে অগ্রহণযোগ্য, এটা মনে রেখে ইন্ডিয়ার যেকোন সরকারকে চলতে হবে! চলা উচিত!

    ভারতের গার্বেজ যারা কাঁধে নিয়েছে এমন বাংলাদেশি রাজনৈতিক দলঃ
    বাংলাদেশে যারা হবু ক্ষমতায় আসীন হতে স্বপ্ন দেখেন এমন সব রাজনৈতিক দলের দুর্দশা হল এরা প্রায় সকলেই  – ভারতের গার্বেজ বা আবর্জনা এরা নিজের কাঁধে নিয়ে হাঁটা শুরু করে দিয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে। এরা ইন্ডিয়া প্রযোজিত কিছু বাংলাদেশি রাজনৈতিক দল হবার পথে রওনা দিয়েছে। এমন ইন্ডিয়া প্রযোজিত দল সকলেই আজ বয়ান সংকটে পড়েছে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচীর কারণে  এরা এখন বয়ান সংকটে দিশাহারা! এরা যে  ৩২ নম্বরের ঘটনার বিরুদ্ধে, সেটা এরা প্রকাশ করতে পারছে না। এটাই মূলত তাদের ভারত প্রযোজিত দল হিসাবে চিহ্নিত হয়ে পড়ার সংকট!  টানা ২৪ ঘন্টা নিশ্চুপ থাকার পরে ইন্ডিয়া প্রযোজিত দলগুলো বহুকষ্টে এখন তারা বলেছে  ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচী – এই ঘটনার পিছনে ইন্ডিয়া আছে কিনা তাদেরকে দেখতে হবে!!!! হা হা হা !! কী আজিব অর্থহীন কথা!

    কী এক সমস্যা দেখেন!
    ভাষ্য-বয়ান কী দিবে কিছুই খুজে পাচ্ছে না! উল্টা-পাল্টা বকছে! তাতে বয়ানের কোন অর্থ হল কী না হল তাও দেখার অবস্থায়ও নাই!  সে এক মহা দুর্দশা! এটাও বাংলাদেশকে দেখতে হচ্ছে!! এরা নাকি নির্বাচনে ক্ষমতায় যাবার স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশের বড় দলের দাবিদার! তবে (মূল দলীয় ভাষ্য নয় তবে) এই দলের সমর্থক যারা – এই তো তারা ক্ষমতায় যাচ্ছে বলে – স্বপ্ন দ্যাখে এমন ব্যক্তিরা তাদের ফেসবুকে একটা শব্দ খুজে পেয়েছে দেখা যাচ্ছে। শব্দটা হল, অরাজকতা! অর্থাৎ ৫ ফেব্রু. ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচী এটা নাকি এক অরাজকতা ছিল! মানে হল তারা আইনি পথে থাকার লোক! আচ্ছা! কিন্তু এরা কী আইনি-বেআইনি বিষয়টা বুঝে???
    এই ছুপা ইন্ডিয়ান-হাসিনা প্রেমি এরা ভেবেছে এভাবে তারা নিজেদের দালালির স্বার্থ লুকায় রাখতে চলতে পারবে! অথচ এদের আইনি-বেআইনি তর্ক বা রাজকতা বনাম অরাজকতা তর্ক  এটাই তো অর্থহীন! যেমন, এরা ভেবে দেখতে পারে যে, ১৯৭১ সালে যারা মুক্তিযোদ্ধার রাজনৈতিক ভুমিকায় নেমেছিলেন সেটা কী অরাজকতা ছিল না?
    হা অবশ্যই ছিল, তবে সেটা আমাদের সে সময়ের যুদ্ধের প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের মানে, আমাদের শত্রুপক্ষের আইনি বা কনষ্টিটিউশনের দিক থেকে দেখলে তবেই!  পাকিস্তানের আইনি বা কনষ্টিটিউশনের দিক থেকে দেখলে আমরা ছিলাম অরাজক শক্তি! এর সোজা অর্থ হল তাহলে, হাসিনা ও ইন্ডিয়ান আধিপত্যের জায়গায় বসে দেখলে ৫ ফেব্রু. ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচী ছিল অরাজকতা! অর্থাৎ যারা ৫ ফেব্রু. কে অরাজকতা হিসাবে দেখছেন এরা  হাসিনা ও ইন্ডিয়ান স্বার্থের লোক! ঠিক যেমন জুলাই-আগষ্ট্রের আন্দোলনে যারা ছাত্রলীগের গুন্ডা অস্ত্রবাজ, পুলিশ ও হেলিকপ্টারের বিরুদ্ধে বহুকষ্টে লড়ে বিজয় লাভ করেছে আর তাতে শেষে অনেক পুলিশ মারাও গিয়েছে – হাসিনা ৫ ফেব্রুয়ারির বক্তৃতায় এই পুলিশ-ছাত্রলীগকে হিরো মেনেছেন। মেনে যাদের বিরুদ্ধে হাসিনার দেওয়া ভুয়া মামলা ছিল, পুলিশ মারার মামলা ছিল সেগুলা এখন ইউনুস সরকারের ডিসমিস করে দেওয়ার উদ্যোগ বা প্রত্যাহার করে দেওয়া (ইনডেমিনিটি) এসবকে অবৈধ বলেছেন হাসিনা! তাহলে যারা অরাজকতা বলে বয়ান আনতে চাইছেন তাদের উচিত প্রকাশ্যে অবস্থান পরিস্কার করে কথা বলা! তারা কী ছাত্র-জনতাকে হাসিনা-ইন্ডিয়ার মত “অরাজক শক্তি” মনে করেন তা স্পষ্ট করে বলেন! পারবেন? পারলে সামনে আসেন! বুক ফুলায়ে বলেন!!!  পাবলিক আপনাদেরকে দেখুক যে কারা গত ৫ ফেব্রুয়ারি ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচী কে অরাজকতা হিসাবে দেখছেন! এবং কেন দেখছেন???
    একই সমস্যায় ভুগছে জামায়াত!
    কি বলবে?  কথা খুজে না পেয়ে বলেছে, সবাইকে ধৈর্য ধরতে! মানে ইন্ডিয়ান লিঙ্ক ছুটে যায় কীনা সেই দুশ্চিন্তা বিবেচনা প্রবল রেখে কোনমতে একটা ভাষ্য তৈরি করেছে তারা! তাতে এর কোন অর্থ হোক আর নাই হোক!

    এই ফাঁকে আইন সালিসি কেন্দ্রঃ
    এরা আসলে সবসময়  “হাসিনা লীগ টু”!
    কামাল হোসেন এন্ড গং!  মূলত এরা ইন্ডিয়ান হেজিমনি ফেরত আনার পক্ষের শক্তি! কিন্তু ছল নিয়েছে তারা মানবাধিকার কর্মি! এদেরই এক জামাই প্রশ্ন তুলেছেন – “Who is running Bangladesh? Muhammad Yunus?” – যেন বিরাট মানবাধিকার কর্মি! কায়দাটা অসম্ভব ছুপা! এরাই হল অরাজকতা দেখার গোষ্ঠি! অথচ আসলে এরা ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট! ৩২ নম্বর যাদের প্রাণ!  গত ১৬ বছর হাসিনার ফ্যাসিজম তারা দেখেও দেখে না; কিন্তু প্রতীকী এই ৩২ নম্বর একে পবিত্র জ্ঞান করা তাদের বয়ান। হাসিনা তাঁর গুম-খুন লুটপাটের ফ্যসিজম আর ৩২ নম্বর বা শেখের মুর‍্যাল এই প্রতীক সব একাকার করেছিলেন খোদ শেখ হাসিনা! তবু এখন ৩২ নম্বরের সিম্বল এই বয়ান-দৃষ্টিভঙ্গি আর ইন্ডিয়ান স্বার্থ বা তাদেররও বয়ান – এদুটা একজায়গায় মিলেছে। তাই কামাল হোসেন এন্ড গং! এরা আসলে ঘুরে-ফিরে ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট! এরাই ১৯৭১ সালের ঘটনাকে পাকিস্তানের আইন-কনষ্টিটিউশনের জায়গায় বসে দেখলে  (অরাজকতার ভাষ্য ) যেমন হবে এরা সেভাবে দেখার লোক! এরা হাসিনা-ইন্ডিয়ার স্বার্থের জায়গায় বসে এরা ৫ ফেব্রুয়ারি ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচী কে অরাজকতা বলে দেখছেন। আর মানবাধিকার এর মিথ্যা-মোড়কে মুড়িয়ে বয়ান হাজির করার কু-চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

    সাথে আছে চিন্ময়-ইসকন বামপন্থীঃ
    সাথে আরও আছে কিছু প্রগতিশীল বামপন্থী যারা আসলে ইন্ডিয়ান স্বার্থের আরও ঘোরতর এজেন্ট! বিচি আটকে যাওয়া এজেন্ট! কিন্তু নিজেদেরকে ছুপায় রাখতে চায় যে তারা প্রগতিশীল! এরা প্রশ্ন তুলতেছে যে ৩২ নম্বর ভেঙ্গে কী লাভ?
    আসলে প্রগতিশীলদের রূপের শেষ নাই! যদিও সব রূপের কমন দিকটা হল তারা ছুপা ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট!। অথচ এরা নিজেরাও মানতে চায়না যেন জানে না যে এই অবস্থানটা বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে অন্য রাষ্ট্রস্বার্থের দালালি! এদের নয়া সংযুক্তি হল, সাথে বলা এগুলো – “এগুলো ইহুদী-খ্রীষ্টান প্রকল্পের অংশ”। এরা জানে সাধারণভাবে ইসলামিস্টদের কাছে বা এমন রাজনীতিতে –  “ইহুদী-খ্রীষ্টান প্রকল্প বা বয়ানের বিরুদ্ধে তাদের শক্ত ও কমন অবস্থান আছে। তো সেই বয়ান কে ছদ্ম বা ভুয়া স্পর্শ করতে তাদের এই নয়া ছিল। টেনে হিচড়ে কোন ব্যাখ্যা কে আমেরিকান বা সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্ত বা ট্রাম্পের অবস্থান বলে (মিলুক আর নাই মিলে যাক) -এগুলো ইহুদী-খ্রীষ্টান প্রকল্পের অংশ – বলে ট্যাগ দিয়ে এরা হাজির করেছে আজকাল অথচ এরা সরাসরি র-এর মানে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির চক্কড়ে আটকে হানি ট্রাম্পড হওয়া ব্যাক্তি বা গোষ্ঠি-সকল!
    আবার অনেকে বয়ান-যুক্তি দিচ্ছেন ৩২ নম্বর স্থাপনা ভাঙ্গালেও ফ্যাসিজম ভাঙবে না । তাই ৩২ নম্বর ভাইঙ্গো না! অথচ ছাত্র-জনতার কেউ কী দাবি করেছে এটা? নাকি গত ১৬ বছরে এরাই হাসিনাকে ভুল বুঝানো হয়েছে বলেছিল অথবা শাহবাগী জজবা তুলে এরাই হাসিনাকে জঙ্গীবাদবিরোধিতার নামে গুম-খুন হত্যার ফ্যাসিজম কায়েম করতে বয়ান যোগান দিয়েছিল??? অথচ এরাই ৩২ নম্বর স্থাপনা না ভাঙ্গার ফ্যাসিজম শিখাতে এসেছে!  এরা ভুলায় দেতি চায় যে যারা ৩২ নম্বর স্থাপনা ভাঙ্গতে উতসাহ দিয়েছে তারাও তো বলছে এটা প্রতীকগুলোকে ভেঙ্গে দিয়ে ফ্যাসইজম ভাঙ্গতে হবে সেকথাই বলছে, সেই বয়ান খাড়া করেছে!!

    আবার প্রগতিশীলতার কেউ কেউ বলার চেষ্টা করছে যে  ফেব্রুয়ারি ফ্যাসিজম চিনিয়ে দেওয়ার কর্মসুচী এটা অরাজকথা!  এর চেয়ে আয়নাঘর ভাঙ্গা ভাল! যেন এরা আয়নাঘর ভাঙ্গার নয়া সৈনিক!
    এরা আসলে বাংলাদেশে একটা সেনাবাহিনী থাকুক আর সেটা র-এর এজেন্ট বের করে দেয়া সেনাবাহিনী হোক মুলত এটাই তারা চায় না। খুবই কষ্ট পায় আর ব্যাথা তাদের! এই অর্থে তারাও হাসিনা ও ইন্ডিয়ান স্বার্থের লোক বা রাজনীতি করা লোক!
    বাংলাদেশে ১৯৭৫ সালের পরে শেখ মুজিব উতখাত হওয়াতে সাধারণভাবে আর্মির বিরুদ্ধে এক বয়ান খাড়া করেছিল লীগ-হাসিনা! সাধারণভাবে আর্মি কথাগুলো খেয়াল করেন। বয়ানের মূল কথা হল, আর্মি মানেই এন্টি শেখ মুজিব!
    অথচ আপনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রের পক্ষের হলে তাহলে আর আপনি সাধারণভাবে আর্মির বিরুদ্ধে থাকতে চাইলেও থাকতে পারেন না। থাকলে এর সোজা মানে হবে আপনি খোদ বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে।

    মূলকথাটা হল, হাসিনার ১৬ বছরের আর্মি আর এখনকার আর্মি – এদুটাই তো আর্মি। কিন্তু একই আর্মি নয়! যারা এদুটোকে মিশিয়ে একাকার করে শুধু আর্মি বলবে এরা জেনে না জেনে ইন্ডিয়া-হাসিনার পক্ষের লোক!  আপনাকে অবশ্যই এদুটোকে আলাদা করে বুঝাতে এবার সাথে বিশেষণ লাগিয়ে বলতে হবে। যেমন  হাসিনা আমলের আর্মি  নাকি  হাসিনা উতখাত-পরবর্তি আর্মি!   ফলে যারাই সবকিছুকেই শুধু আর্মি বলে একটা শব্দ ব্যবহার করবে এরাই বাংলাদেশ রাষ্ট্র-বিরোধী এবং ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট(!) হওয়ার সম্ভাবনা ষোলভাগ! জেনে অথবা না জেনে! যদিও অনেক সময় এরা গ্রুপবদ্ধ থাকলে তাদের বেলায়, এদের টপ নেতারা জানে তারা ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট কিন্তু নিচের কর্মিরা না জেনেই ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট!- এই হল ফারাক!
    ফলে আয়নাঘর মানে একে “আর্মি” এই শব্দটাকে সাধারণভাবে মানে বিশেষণ ছাড়া অর্থাৎ আয়নাঘর মানে সাধারণভাবে – আর্মি মাত্রই খারাপ – এই প্রতীকী  ব্যবহার করতে চায় এরা। এজন্য এরা জেনে না জেনে ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট হয়ে থাকছে। হাজির হচ্ছে বা থাকতে চাইছেন। আজ, ৩২ নম্বরের নিচে সাততলা আয়নাঘর এর কথা কথা বলা হচ্ছে, সন্দেহ ও খোঁজাখুজি শুরু হয়েছে। এখন যারা মনে করেন ইউনুস সরকার আয়নাঘর দেখতে দিতে চায় না তারা কী করবেন?  এবার স্বরূপে হাজির হন, হবেন? “৩২ নম্বরের চেয়ে আয়নাঘর ভাঙ্গা ভাল” যারা বলছিলেন; আর কত ছুপা থাকবেন! সাততলায় ঝাপায় পরে খোজাখুজি করে প্রমাণ করেন আপনারা আসলেই কেবল মানবাধিকারের পক্ষের লোক!
    আবার আরেক বিপ্লবী প্রগতিশীলতা আছে  যারা চিন্ময়-ইসকন এর অধিকারের পক্ষে খাড়াইতে চায় (এভাবে র-এর স্বার্থ হাসিলের কর্তা) অথচ নিজেকে নয়া কনষ্টিটুশনের পক্ষের যেন বিপ্লবী এই ভেক ধরে হাজির থাকতে চায়!

    সারকথায়, এখন দুদিন চলবে বয়ানের লড়াই! এই লড়াইয়েও আমাদেরকে অবশ্যই জিততে হবে! হাসিনা ও ইন্ডিয়ান হেজিমনি ফেরত আনার পক্ষের শক্তিকে বয়ানেও পরাজিত করতেই হবে! সবাই সাবধান!
    আর যারা মানবাধিকার ব্যবসা করে  বা এর আড়ালে ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট এর কাজ করে এদের সামনের দিন আরো খারাপ হবে! আর তা থেকে বাঁচতে চাইলে একটাই উপায় – আড়ালে ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট-গিরি তাদের ত্যাগ করতে হবে। যেমন হাসিনার ১৬ বছরে আসক (আইন সালিসি কেন্দ্র) যা যা করে টিকে ছিল হাসিনার গায়ে গুম-খুন মানবাধিকার ভঙ্গের অভিযোগের টোকা লাগতে দেয় নাই – আপনারাও সেসব করে মানবাধিকার ব্যবসায় থাকেন! আর নাইলে উতখাত হয়ে যাবেন। যারাই, পারসোনালি বা হুন্ডিতে বিদেশি অর্থ এনে মানবাধিকারের নামে আড়ালে ইন্ডিয়ান স্বার্থের এজেন্ট হতে বা থাকতে চাইছেন এরা সকলে অবশ্যই উতখাত হবেনই! দিনকে দিন এদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের একশন শক্ত হবেই!  আয়নাঘরের বিরুদ্ধে আপনারা এক ভয়েজ যেন এই চেহারার আড়ালে মানবাধিকারের ঝান্ডার আড়ালে অর্থ কামাবেন তা হয়ত করতে পারেন; কিন্তু আর্মি এই শব্দটাকে সাধারণভাবে মানে বিশেষণ ছাড়া ব্যবহার করবেন তাহলে আপনারা উতখাত হবেন!

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   সন্ধ্যা ৭ঃ ২৬ , ০৭ ফেব্রুয়ারি  ২০২৫
    শেষ আপডেটঃ   রাত ৮ঃ ৩৬ , ০৭ ফেব্রুয়ারি  ২০২৫

  • যেকোন রাষ্ট্রদ্রোহী বিবৃতির জবাবঃ এরদোয়ান-একশনঃ হয় মারো নয়ত মরো! 

    যেকোন রাষ্ট্রদ্রোহী বিবৃতির জবাব, এরদোয়ান-একশনঃ হয় মারো নয়ত মরো!
    গৌতম দাস
    ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪  সকাল ০৭ঃ ৫৪
    https://wp.me/p1sCvy-68N

     

     

    তুরস্কে গুলেন পার্টির ব্যর্থ ক্যু – এর পরে এরদোয়ানের একশন; সরকারী এডমিন কর্তা সহ মিলিটারি, বিচার বিভাগ এবং অন্যান্যা ছুটকা…. গ্রেফতার ও বিচার

    বাংলাদেশে গত ২৭ জুলাই বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যসোসিয়েশেনের এক বিবৃতি ছাপা হয়েছে। সোজা বাংলায়, এতে জুলাই-আগষ্টের আন্দোলনকে  লেখা হয়েছে, ছাত্র-জনতার জুলাই-আগষ্ট্রের আন্দোলন হল রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকান্ড। এককথায় এটা ইউনুস সরকারের ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করা। তাহলে এখন!!!!
    এই বিবৃতিতে আসলে আগষ্ট অভ্যুত্থানের আপামর ছাত্র-জনতাকেই রাষ্ট্রদ্রোহি বলেছে, চ্যালেঞ্জ করেছে! একদল সরকারী কর্মচারি হয়ে পাবলিকের অর্থে বেতন নিয়ে পাবলিককেই হুমকি দিচ্ছে!!! 

    গত ২০১৬ সালে জুলাই এরদোয়ানের তুরস্কে গুলেন পার্টিদের (ওবামা প্রশাসনের প্ররোচনায়) এক ব্যর্থ ক্যু ঘটেছিল। সেই ক্যু সামলে নিয়ে ও একে ব্যর্থ করে দেওয়ার পরে জুলাই-নভেম্বর এরদোয়ান যে একশনে গেছিলেন তাতে ১৫,০০০ এডিমিন স্টাফকে তিনি ছাটাই করে দিছিলেন। নিচে টাইম ম্যাগাজিনে সেই সংক্রান্ত নিউজে দেখেন,

    Here’s a Time Line of the Insane Number of People Turkey’s President Has Fired Since July 15

    আর ঐ রিপোর্টের প্রথম লাইন লেখেছিলঃ Turkey fired 15,000 state employees, including soldiers, police officers, tax inspectors, and midwives in the latest round of purges since the failed coup of July 15.

    আর এরদোয়ান তা করেছিলেন স্রেফ দুটা ডিক্রি বা অধ্যাদেশ জারি করে। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এনিয়ে লিখেছিলঃ  এনিয়ে সবর্সাকুল্যে সোয়া লাখ সরকারী এডমিন কর্তা সহ মিলিটারি, বিচার বিভাগ এবং অন্যান্যা ছুটকা সব মিলিয়ে শেষে মোট সোয়া লাখ রাষ্ট্রবিরোধী দালালের বিরুদ্ধে এজকশনে গিয়েছিলেন  এরদোয়ান। [he dismissals, announced in two decrees, bring to more than 125,000 the number of people sacked or suspended in the military, civil service, judiciary and elsewhere since July’s coup attempt. About 36,000 have been jailed pending trial in the crackdown condemned by Western allies and rights groups.] যাদের মধ্যে ৩৬ হাজার এখনও বিচারাধীন।

    রাষ্টক্ষমতা কী সেটা আগে বুঝেন। একই কথা বারবার বলতে বিরক্ত লাগে কিন্তু কী করব! আমাদের এমম্নই কপাল প্রাক্তন এনজিও কর্তারাই বাংলাদেশে নিজেদেরকে স পারে সব বুঝে এমন বিশাল ক্ষমতা বুঝা লোক হিসাবে হাজির হয়ে যায়। এদের ধারণা রাষ্ট্র মানে পাবলিককে সেবা দেওয়া সস্তায় ইলিশ মাছ খাওয়ানো।  রাষ্টড় পাবলিক সেবা দেয় অবশ্যই। কিন্তু সেটা করতে রাষ্ট্রের অধীনে চার-পাচটা শহরে মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনই যথেষ্ট। ক্কিন্তু রাষ্টড় মানে মেয়রগিরি না। এটা আর কয়বার আমাকে স্মরণ করাতে হব্বএ জানি না।

    ক্ষমতা মানে সোজা বাংলায় মার-ধর। আপনার রাষ্ট্রক্ষমতার এনিমি যে তাকে আপনি চিনেনই না;  আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন সে আপনাকে মারবে উতখাত করবে। কাজেই জনগণকে বাঁচাতে যদি ক্ষমতায় থাকতে চান তবে আপনাকেই সবার আগে রাষ্ট্রের শত্রু পড়শি দেশের দালালদেরকে উতখাত করতে হবেই। যদি আপনি এখানে শুশীল থাকেন, উদার বা লিবারেল-গিরি মারাতে যান তাহলে আপনি ক্ষমতায় থাকার অযোগ্য, নিকৃষ্ট কোন প্রাণী!   এক কথায় ক্ষমতার সাথে শুশীল, উদার বা লিবারেল-গিরির সম্পর্ক নাই শুধু নাই, ক্ষমতা মানে ঠিক এর উলটা! ক্ষমতা খুবই নির্মম নৃশংস কিছুই করার নাই। হয় আপনি মারবেই নাহলে ওদের (শত্রুদের) হাতে মরবেন! এখন চয়েজ আপনার! এতে কোন মাফ নাই; একটা পক্ষে আপনাকে যেতেই হবে!

    এরদোয়ান ক্ষমতা রক্ষার কাজটা ঠিক ঠিকভাবেই বুঝেছিলেন। কিন্তু আমরা ?????

    ইউনুস সাহেব, আমাদেরকে দয়া করেন, মাফ করেন! একটা পক্ষ নেন। কারণ আপনি এখন প্রধান ক্ষমতায়!
    জনগণের স্বার্থের মূল ধারক প্রতিষ্ঠানটাই হচ্ছে রাষ্ট্র ও এই রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতায় যিনি আছেন। অর্থাৎ যেটা এখন আপনি। এখন এতে এই বুড়া বয়সে আপনার যদি নির্মম নৃশংসতা ভাল না লাগে তাহলে একটা কেবল ছোট কাজ আছে। কাউকে, ধরেন সেনাপ্রধান বা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এমন কাউকে রাষ্ট্রক্ষমতাকে রক্ষার কাজটা আপনার পক্ষ থেকে অফিসিয়ালি এসাইন করে দেন। আর নিয়মিত ফলাফল কতটুকু হল গেল কেবল সেটুকুর নিয়মিত রিপোর্ট নেন। আর নইলে শেষ উপায় হল, আপনি প্রধান নির্বাহী মানে  প্রধান উপদেষ্টা পদ থেকে সরে আসেন। প্রেসিডেন্ট হতে চাইলে হন। অথবা শুভানুধ্যায়ী হয়ে বাসায় রেষ্ট করেন। কিন্তু দয়া করে বাংলাদেশ রাষ্ট্রক্ষমতাটাকে হাসিনা-মোদির পায়ের নিচে রেখে দিয়েন না।

    পাঠক নিশ্চিয় বুঝতে পারছেন আমি কী বলছি। সরকারী কর্মচারীরা তাদের   এর আগে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যসোসিয়েশেনের বিবৃতি ছাপা হয়েছে। এখন  আপনি ইউনুস সাহেব কী এটা জেনেছেন? 

    অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যসোসিয়েশেনের বিবৃতি

    এটা কোন সরকারী কর্মচারীদের বিবৃতি মনে হয় নাই। মনে হয়েছে এরাই রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী পদের কেউ, মানে প্রধানমন্ত্রী! এমনকি হাসিনা-মোদির যৌথ বিবৃতিও মনে হয়েছে সময়ে!  খোদ বাংলাদেশে যেন তাদের মানি ব্যাগের সম্পত্তি! কিংবা চাকর-বাকর!  ইচ্চছে করলেই যাদেরকে তারা ধমকাতে পারে।  বিবৃতির শুরুটা দেখেনঃ

    কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড,………।।

    মানে কী দাঁড়ালো? ছাত্র-জনতার জুলাই-আগষ্ট্রের আন্দোলন হল রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকান্ড?????  ৫ আগষ্টের হাসিনার পলায়ন ও ৮ আগষ্টে নতুন সরকার গঠনও তো তাহলে মারাত্মক রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড? এমনকি আপনি ইউনুস সাহেব তাহলে  আপনিও সবচেয়ে বেশি অপরাধী কারণ আপনি হাসিনা উতখাত পরবর্তি প্রধান উপদেষ্টা!!!!

    এখন জানতে চাই এই বিবৃতি কী আপনি এখনও দেখেছেন? কোন পদক্ষেপ নিয়েছেন? নাকি যমুনা ভবনে খুন হয়ে যাবার জন্য অপেক্ষা করছেন!!!!!!  রাষ্ট্রক্ষমতার শত্রুদের আগে মারতে হয়, নয়ত নিজে মরতে হয়। সবকিছু শেষ হয়ে যাবার আগে – ক্ষমতা কী – সেটা একটু বুঝেন অন্তত!! নিজেকে রক্ষা করার স্বার্থে!

    এরা  চাকরিরত অবস্থায় অফিসের কাজ ফেলে প্রকাশ্য সমাবেশ করে সরকারকে আলটিমেটাম দিয়েছে। আর ইউনুস সাহেব আপনি উদার – ভেবেছেন না হয় একটু বলেছেই!!!!!
    এরপর সচিবালয়ে আগুন দিয়ে পুরা মন্ত্রণালয়ই সাফা করে দিয়েছে। তাতেই একশন নাই।

    আর তাতে এরা, আপনি ইউনুস সাহেব আপনার ক্ষমতাকেও চ্যালেঞ্জ করেছে!

    এখন??????

     একটাই পথ আমাদের এখন নির্মম “এরদোয়ান একশন” দরকার? অথবা উলটা করে বললে যিনি একশন নিতে পারবেন তিনি হবেন বাংলাদেশের এরদোয়ান; যিনি ওবামাকেও পরোয়া করেন নাই!!!

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  সকাল ৯ঃ ০৭    ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪

  • ‘দশ ট্রাক অস্ত্র’ নিয়ে একটা একাদেমিক আলোচনা

    কোন রাষ্ট্রে সিভিল আদালতের পাশে সামরিক আদালতও কেন থাকে
    [‘দশ ট্রাক অস্ত্র’ নিয়ে একটা একাদেমিক আলোচনা]
    গৌতম দাস
    ২১ ডিসেম্বর ২০২৪    দুপুর ১২ঃ ১৩
    https://wp.me/p1sCvy-64V

     

     

    ‘দশ ট্রাক অস্ত্র’ মামলা নিয়ে এই আলোচনা, একটা একাদেমিক পর্যায়ের সমাজতাত্বিক আলোচনা। যেমন এর প্রসঙ্গ শুরু করব, একট রাষ্ট্রে কয়টা বিচার বিভাগ থাকে? এখান থেকে!
    এমন প্রশ্ন যে কোন একাদেমিক ব্যক্তিত্ব শুনলেই তিনি বলে উঠবেন এটা তো কোন প্রশ্নই হয় নাই। কারণ, জনগণ সব রাষ্ট্রক্ষমতার উতস -এমন রিপাবলিক বা জনপ্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্র তিনটা প্রধান অঙ্গ থাকে। (প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে) নির্বাহি বিভাগ, ২. আইন সভা বা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিত্বমূলক আইন প্রণয়নের সংসদ আর ৩. বিচার বিভাগ। রাষ্ট্রক্ষমতার মূল অংশ থাকে নির্বাহী বিভাগের হাতে; আর সাথে কিয়দংশ থাকে বাকি দুই বিভাগের কাছে। এখন এই বিচার বিভাগ নিয়ে বিস্তারে কথা তুললে বলতে হয় এর কাঠামোটা আবার সাধারণত পিরামিড ধরনের হয়। মানে সমান্তরাল না। নিম্ন আদালতের রায় ওর চেয়ে উচ্চ আদালতে পর্যালোচনা যোগ্য বা বদলে রিভিউয়ের ক্ষমতা রাখা হয়। আর সবার উপরে থাকে সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগ। সেটাও আবার কয় বিচারক মিলে বেঞ্চ গঠিত এবিচারে ফুল বেঞ্চ এর উপরে আর কিছু নাই। এভাবে!
    যেহেতু যেকোন পর্যায়ের আদালতের রায় ওর উপরের আদালতের আবার পর্যালোচনাযোগ্য রাখা হয়; যার লক্ষ্য অনিচ্ছার ভুল বা অবিচার ঘটে যাবার সম্ভাবনা কমানো। এছাড়া বিচারক ভেদে একই ধরনের অপরাধে দুই ধরনের শাস্তি যেন না হয় তাই পেনাল কোড ব্যবহার করা হয় যেখানে অপরাধ ও শাস্তি দুটাই যতটা সম্ভব আগাম সংজ্ঞায়িত করে রাখা হয়; ইত্যাদি এসব খুটিনাটি অনেক দিকই আছে।  এছাড়া নিম্ন আদালতকে সুপ্রীম কোর্টের ব্যবস্থাপনার অধীনে এবং নজরদারি-তদারকিতে রাখা হয়। এসবের কারণেই বিচার ব্যবস্থাটা পিরামিড কাঠামোর হয়ে যায়।  এসব বিষয়ে আইনজ্ঞরা আরো ভাল ভাল দিক তুলে ধরতে পারবেন। এই হল একটা দেশের একক বিচার বিভাগ এবং তা পিরামিড কাঠামোর এমন বিচার বিভাগ।

    যে কোন রিপাবলিক রাষ্ট্রেই মোটাদাগে উপরের এই ভাগেই রাষ্ট্রক্ষমতা বিন্যাস্ত  থাকতে দেখা যায়। কিন্তু এবার একটা ব্যতিক্রমের কথা বলব। সেটা হল এতসব কিছুর পরেও প্রত্যেক রাষ্ট্রেই আবার সিভিল আদালতের বাইরে একটা করে সামরিক আদালত (Martial Court) থাকতে দেখা যায় যেখানে, মূলত প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের কাজ-ততপরতা ও শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয়গুলো বিচার (court Martial) করা হয়। এবং সবচেয়ে বড় কথা এটা ঐ দেশের রাষ্ট্রীয় সিভিল বিচার বিভাগের এক্তিয়ারের বাইরে রাখা হয়। অর্থাৎ সামরিক আদালতকে পিরামিড কাঠামোর সিভিল বিচার বিভাগের ভিতরে কোথাও রাখা হয় না।  কেন?

    মূল সংজ্ঞাটা সোজাঃ
    আপনি যদি রাষ্ট্রীয় সিভিলিয়ান কর্মী হন তবে আপনি কোন সংজ্ঞায়িত অপরাধে জড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে প্রথমে নিজ বিভাগের [জনপ্রশাসনের যে বিভাগের অধীনে কর্মচারি আপনি সেই বিভাগের জন্য গঠিত শৃঙ্খলা কমিটি] অধীনে বিচারের মুখোমুখি হতে হয় যেটাকে সংক্ষেপে অনেক মিডিয়া শুধু “বিভাগীয়” বিচার শাস্তি বলে লেখা হয়। এমনকি  কিন্তু একইভাবে আপনি যদি কোন প্রতিরক্ষাবাহিনীর সদস্য হন  অথবা ঘটনা বা অপরাধের বিষয়টা রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষাবিষয়ক হয়  সেক্ষেত্রে পুরা বিচার শাস্তির প্রক্রিয়াটাই সামরিক আদালতের এক্তিয়ারে সম্পন্ন করা হয়ে থাকে।

    কিন্তু কেন?
    একটা সোজ উদাহরণ দিয়ে বলা যাক। একজন সৈনিক রাষ্ট্রের সুরক্ষা-প্রতিরক্ষার কাজ করতে গিয়ে কাউকে খুন করে ফেলেছে।  এখন এর বিচার কী সিভিল আদালত দেখবে?

    একটা হাইপথিটিক্যাল বা কল্পিত ঘটনা- মামলা নেই। পদ্মা সেতু নির্মাণের সময় সেখানে [ধরা যাক] প্রচুর ভারতীয় র-বাহিনীর ট্রেইন লোক [যারা বাংলা বলতে পারে না, ভাঙ্গাবাংলা বা হিন্দিতেই কথা বলে] তবে যারা তথ্য সংগ্রহে পারদর্শী; এদের  দিনে-রাতে এমন লোকেদের আনাগোনা ঐ এলাকায় বেড়েছে দেখা গেল! তাদের উদ্দেশ্য হল, ব্রীজ নির্মানের কনট্রাক্টর চীনা কোম্পানি এখানে আবার কী করতেছে এটা নিয়ে ইন্ডিয়ার কালো মনে সন্দেহ এর হাল করা। তাই ইন্ডিয়া রিস্ক নিয়ে হলেও এসব তথ্য সংগ্রহে পারদর্শী লোক পাঠিয়েছিল। বলাই বাহুল্য এমন ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশই বিরাট শাস্তিযোগ্য ও অবৈধ কাজ। এর উপর আবার  মনে রাখতে হবে, আমাদের সরকার ঐ নির্মিয়মান সেতু অঞ্চল-এলাকাকে আগে থেকেই কী-পয়েন্ট ইন্সটলেশন [Key-point instalation বা কেপিআই] বলে ঘোষণা করে রেখেছিল। এই টার্মটার সংজ্ঞা হল রাষ্ট্র যেকোন নির্মাণ-স্থাপনা-কে নিজ রাষ্ট্রস্বার্থের জন্য প্রতিরক্ষা পর্যায়ের গুরুত্বপুর্ণ বলে গণ্য করেছে, এমন ঘোষণা করতে পারে। তাই কেপিআই এলাকা মানে হল যা সামরিক নিয়ন্ত্রণে পাহারা এলাকা হয়ে যাবে সেটা। যেমন আপনার কোন ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় প্রবেশ ও ততপরতা সীমিত করে দেয়া হয়। কেবল উপযুক্ত পরিচয় ও অনুমতি সাপেক্ষেই সেখানে প্রবেশ করা যায়। এককথায় ঐ এলাকাটাতে কোন বিদেশি অন্তর্ঘাতমূলক [subversive activity] কাজে বাধা ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা। [subversive শব্দটা অপরিচিত শুনালেও এর অর্থ কঠিন কিছু নয়। sub মানে অধস্তন অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বকে অমান্য করা; নিচা বা খাটো-অধীনস্ত করে দেখা। আর এমনটা দেখে আমরা শঙ্কিত হই যে রাষ্ট্র ও জনগণের জন্য ক্ষতিকর যেকোন কাজে লিপ্ত হওয়া এখানে ঘটতে পারে। ইন্ডিয়ান ‘র’-এই প্রতিষ্ঠানটা বাই-ডেফিনেশন  ইন্ডিয়ার বাইরে অন্তর্ঘাতমূলক [subversive activity] সংগঠিত করার জন্য প্রতিষ্ঠিত!
    এখান আসেন ঐ পদ্মা সেতু কেপিআই এলাকায় র-বাহিনীর ট্রেইন লোককে  সন্দেহজনক ততপরতা রোধ করতে গিয়ে আমাদের সেনাবাহিনী তাকে ধরা যাক হত্যা করে ফেলেছে। তাহলে এখন প্রশ্ন হল যেহেতু হত্যা মামলা তাহলে এটা নিয়ে কী আমাদের সিভিল আদালতে ৩০২ ধারায় মামলা রুজু করা হবে? করা যাবে?  জবাব হল, কোন মতেই হবে না। যেতে পারে না।  আবার প্রায় একই ধরনের ঘটনায় বাংলাদেশের সাথে কোন (কল্পনা করে বলছি) যুদ্ধে  আমাদের সৈনিকেরা যদি প্রতিপক্ষের সৈন্য হত্যা করে ফেলে সেক্ষেত্রেও কী ঘটনাটা হত্যার  যেহেতু তাই আমাদের সিভিল আদালতে আমাদের সেনাদের বিচার হবে? প্রশ্নই আসে না। এমন হলে আর রাষ্ট্র থাকার দরকার কী?  আমাদেরই প্রতিরক্ষা বাহিনী আমাদেরি রাষ্ট্র সুরক্ষা করতে গেছে আর আমরাই সেজন্য তাঁকে আমাদের সিভিল আদালতের মুখোমুখি করবো?????? এটা ত মাথার দোষ থাকলেও কাউকে করতে দেয়া যাবে না!

    কথা লম্বা না করে সারকথাটা বলে দেই। প্রথমত আমাদের দেশরক্ষা করতে গিয়ে আমাদের সেনাদের হাতে বিদেশি কেউ যদি আহত-নিহত হয় সেটা আমাদে সিভিল আদালতে তোলাই যাবে না। কারণ এক. ওরা বিদেশি এবং শত্রুপক্ষ বলে; মানে আমাদের দেশের নাগরিক নয় বলে। এমনকি আমাদের দেশে ভ্রমণে আসা বিদেশি ব্যক্তি  আহত-নিহত হলেও আমাদের সিভিল আদালতে এর বিচার হবে; সেটা হলেও। কারণ এদুইটা একই ধরনের ঘটনা নয়। এককথায় বাংলাদেশের ভুখন্ডে যেকোন হত্যা অপরাধ হওয়া মানেই তা আমাদের সিভিল আদালতের বিচার্য বিষয় বা এক্তিয়ারে নাও আসতে পারে।  কথাটা আরেক দিক থেকে বললে, ঘটনা যদি রাষ্ট্রের সুরক্ষা-প্রতিরক্ষাবিষয়ক হয় সেক্ষেত্রে যেমন, আমাদের একজন সৈনিক রাষ্ট্রের সুরক্ষা-প্রতিরক্ষার কাজ করতে গিয়ে কাউকে খুন করে ফেলে থাকে এটা সিভিল আদালতের এক্তিয়ারের বাইরের ঘটনা হবে। এনিয়ে যদি কিছু করতেই হবে সেটা সামরিক আদালত তাদের বিবেচনা ও এক্তিয়ার অনুসারে যা করার করবে।
    এখানে প্রুডেন্ট একটা খুব গুরুত্বপুর্ণ ধারণাঃ
    প্রুডেন্ট [Prudent]  বা বাংলায় একে বিচক্ষণ বা দুরদর্শী বলতে পারি; এখন প্রুডেন্ট জাজ  বা বিচক্ষণ বিচারক বলে  বা [juris-prudence বলে যে উপ-সাবজেক্ট ডাক্তারদেরও পড়তে হয়] একটা কথা আছে। বিচক্ষণ জাজ বলতে মূলত যে বুকিশ [bookish] নয়; মানে বইয়ে পড়া কোন ধারণা পেলেই তা সাধারণ আক্কেলজ্ঞান বা বুদ্ধিবিবেচনা ছাড়াই যে প্রয়োগ করতে যায় না! যে আইন দেখলে বা জানলেই চোখ বন্ধ করে তা প্রয়োগ করে না অথবা যেকোন মামলা তার সামনে আনলেই তিনি তা বিচারে বসে যান না।  তা না করে বরং এর সুদুর প্রসারি দিক অথবা পারিপাশ্বিক অন্যান্য বিষয়ও যিনি বিবেচনায় আনেন এরপর বিচারে বসেন তিনি প্রুডেন্ট জাজ। প্রুডেন্ট জাজ বুঝতে পারেন কোন মামলা তাঁর গ্রহণ করাই উচিত না।

    এবার আসি ‘দশ ট্রাক অস্ত্র’ মামলায়ঃ
    এবার আসি ‘দশ ট্রাক অস্ত্র’ মামলায়; সম্প্রতি (১৮ ডিসে. ২০২৪) ‘দশ ট্রাক অস্ত্র’ মামলা নিয়ে  [ডেথ রেফারেন্স বিষয়ক] এক মামলার রায় প্রকাশিত হয়েছে। বলা যায় রাজনৈতিক প্রভাবিত হয়ে  গত ১৬ বছর ধরে চলা বাংলাদেশের আদালত ব্যবস্থা চর্চা হাসিনা উতখাতের পরে এবারই প্রথম  এনিয়ে প্রথম একটা রায় দিল। অনেকের সাজা কমানো হয়েছে, অনেককে খালাস ইত্যাদি দেয়া হয়েছে নতুন রায়ে। কিন্তই সেসব দিক এখানে আলোচনার বিষয়বস্তু নয়।

    মূলত এখানে এটা একটা একাদেমিক আলোচনাঃ
    হা ঠিক তাই, এটা একটা একাদেমিক আলোচনা। সুনির্দিষ্ট কোন মামলা নিয়ে নয়। তবে বাস্তবের উদাহরণ হিসাবে ‘দশ ট্রাক অস্ত্র’ মামলাকে সময়ে রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে। বলা যায় এটা একটা লিগাল-একাদেমিক [legal-academic] আলোচনা। আর অনুমান করি,  ফরমাল আদালতে পেশ করা ডকুমেন্টে খুব সম্ভবত সেখানে চোরাচালান শব্দটা আছে। [আমি নিজে দেখিনাই ফলে আমি নিশ্চিত নই।] কোন কোন মিডিয়া রিপোর্টিংয়ে শব্দটা আছে এভাবে যে “দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান” মামলা এটা।  আসলে এটাই এই মামলায় সব রহস্যের গোড়া!
    যেমন এর মানে কী, এটা চোরাচালানের অপরাধ? এভাবে চোরাচালান না বললে এটাকে অপ্রাধ বলা যাচ্ছে না তাই?  – ‘দশ ট্রাক অস্ত্র’ মামলা – এটা কেন মামলা হতে পারল, এখানে অপরাধ টা কী? কেন সেটা অপরাধ – এটাই এই আলোচনার বিষয়বস্তু।

    কী অপরাধ ঘটানোর জন্য এই মামলাঃ
    প্রথম আলোর রিপোর্ট অনুসারে, “.….. ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল সিইউএফএল ঘাট থেকে আটক করা হয় ১০ ট্রাক ভর্তি অস্ত্রের চালান। এ নিয়ে কর্ণফুলী থানায় ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন ও ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে চোরাচালানের অভিযোগ এনে দুটি মামলা হয়। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পুলিশ দুটি মামলা একসঙ্গে তদন্ত করে। এর বিচারও একসঙ্গে শুরু হয়। অস্ত্র আইনে করা অন্য মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ হয় একই আসামিদের।

    সরকারী মামলা দেওয়ার ক্ষেত্রে সাথে বাড়তি ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা দেখা যাচ্ছে দেয়া হয়েছে তাহলে এর অর্থ হল, মামলাকারি সরকার পক্ষ নিশ্চিত হতে চাইছেন যে -মূল যে অভিযোগে মামলা – তা যদি কোন ত্রুটির কারণে প্রতিষ্ঠাই না করা যায় তবে তাতে যে আসামি খালাস হয়ে বের হয়ে না যায় তাই এই ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা সাথে দিয়ে রাখা হয়েছে বলে মনে করা হয়। অর্থাৎ যে মামলাটা দেয়া হয়েছে এর  মূল অপরাধ হল, অস্ত্রের চোরাচালান।  খোলাখুলি বললে অস্ত্রের চোরাচালানি মানে চোরাচালানি ব্যবসা বা ব্যবসার উদ্দেশ্যে চোরাচালানি পণ্য দশ ট্রাক ভর্তি অস্ত্রপাতিকে দেখা বা গ্রহণ করা এক জিনিষ; যেটাকে আমরা অস্ত্রের চোরাচালানি কাজ বলতে পারি। কিন্তু এটা আর ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন – এদুইটা সামঞ্জস্য নাই। কারণ অস্ত্র আইন টা লেখা হয়েছে বা এটা ডিল করে ব্যক্তি বা কিছু ব্যক্তিবর্গ যদি অস্ত্র হেফাজতে রাখে, বহণ করে, কারও উপর ব্যবহার করে এবং সর্বোপরি সেই অস্ত্রগুলো যে বিনা লাইসেন্সের হয়ে থাকে। ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন মোটামুটি এধরণের মামলাগুলোকে ডিল করার জন্য বানান।
    দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা আর ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন  এদুটোর মধ্যে মৌলিক ফারাক হল, প্রথমটা বাংলাদেশে বিক্রি, ব্যবহারের জন্য নয় তৃতীয় দেশে পাচার বা বিক্রির উদ্দেশ্যে। অর্থাৎ এখানে চোরাচালানি পণ্যটা কী সেটার চেয়ে এটা তৃতীয় দেশে চোরাচালানি – সেটাই মুখ্য। আর একটা দিক হল, এই অস্ত্র বাংলাদেশে বিক্রি বা ব্যবহার এর উদ্দেশ্য নয়। সোজাকথায় এই মোটিভ-গুলোই আসলে বলছে এই মামলা ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন এর অপরাধ হিসাবে পড়ে বা সামলানো বা কাভার করার যায় এমন নয়।  কারণ, অস্ত্রের চোরাচালান সামলানীর জন্য ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন রচনা করা হয় নাই।

    অস্ত্রের চোরাচালান সামলানীর জন্য ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন রচনা করা হয় নাই।

    এটা এই আইনি দুর্বলতার কথা, মামলাদাতা সরকার ও সরকারি লোকেরা জানতেন তা বুঝাই যায়। সেজন্যই কী চোরাচালান শব্দটা জুড়ে দিয়েছেন? কিন্তু দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা কী শ্রেফ একটা চোরাচালানি মামলা?
    এমনিতেই “চোরাচালানী রোধে” – সুনির্দিষ্ট করে অস্ত্রের চোরাচালিনী – এবং তাও আবার বাল্ক [bulk] মানে পাইকারি চোরাচালানির বিরুদ্ধে কোন আইনের কথা আমরা জানি না। সারকথায় দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন দিয়ে কাভার করার দিক থেকে খুবই ছোট। কারণ, এটা পাড়ার একটা ছেলে কয়েকটা পিস্তল কিনে এসেছে বিদেশ থেকে তেমন ঘটনা বা মামলা নয়।
    আর এটা সরকার বা মামলাকারিদের কর্তাদের না জানার কথা না।  তাহলে সমস্যাটা কোথায়???

     

    কী ধরনের আইনি মামলা এটা তা সাব্যস্ত করতে মূল সমস্যাটা কোথায়ঃ
    এটাই হল মূল রহস্য।
    দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা – এটা মূলত রাষ্ট্রের সুরক্ষা-নিরাপত্তা [State Security] সংক্রান্ত মামলা। এটা  সেসময়ের সরকার ও সরকারী কর্তারা সকলেই জানতেন। এটা বুঝতে পারা কঠিন কিছু নয় যে এই অস্ত্র আনার মোটিভ বাংলাদেশে এর বিতরণ একেবারেই নয়। বাংলাদেশের বাইরে কোন বিচ্ছিন্নতাবাদি রাজনৈতিক গোষ্ঠির হাতে পাঠানোর জন্যই তা আনা হয়েছিল। যেটা সরাসরি বাংলাদেশের রাষ্ট্রস্বার্থ, এর  সুরক্ষা-নিরাপত্তা [State Security] হতে পারে এবং সেসুত্রে কিছুটা তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সবমিলিয়ে এসব অর্থে রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা ইস্যু। অতএব এই মামলা বাংলাদেশের সিভিল আদালতে তোলার মত কোন মামলাই নয়। আর এনিয়ে যদি কোন ক্রিমিনাল অপরাধ হয়েছে বলে মনে হয় তবে সেটা আমাদের  সামরিক আদালতই দেখবে আর সেটাই এর সঠিক এক্তিয়ার হত। অথচ ইন্ডিয়া হাসিনাকে ক্ষমতায় বসানোর গ্যারান্টার তাই পুরা মামলাটাকেই সিভিল আদালতে ফেলা হয়েছে। যাতে ইচ্ছা মত এটাতে মোচড় দেয়া যায়!

    অথচ যেখানে এই মামলায় অপরাধ টা আসলে কী? এর সদুত্তর নাই। 

    অথচ যেখানে এই মামলায় অপরাধ টা আসলে কী? এর সদুত্তর নাই।  রাষ্ট্র যেখানে নিজ রাষ্ট্রস্বার্থের প্রয়োজনে দেশের বাইরে আরেক স্থানে অস্ত্র পৌছে দিতে কী পারবে না??? এটাকে অপরাধ হিসাবে সিভিল আদালত দেখবে কোন এক্তিয়ারে? অস্ত্রের চোরাচালান মানে কী চারপাঁচটা পিস্তল নিয়ে এসে নিজ রাজধানী শহরে গুন্ডামি করতে দেয়া  – এটা কী এমন কোন মামলা???

    বাস্তবতা হল, পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদি আন্দোলন আছে আর তাতে ইন্ডিয়া সহায়তা করে থাকে বহু যুগ থেকেই। পাকিস্তানও এর পালটা সেই পাকিস্তান আমল থেকে ভারতের নর্থ-ইস্টে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনগুলোকে সহায়তা দিয়ে থাকে! পাকিস্তানে চীনের [৪০ বিলিয়নের উপরে বিনিয়োগ] গোয়াদর প্রকল্প চলছে যার অনেক অংশ চালুও হয়ে গেছে। সেখানে চীনা উইঘুর সন্ত্রাসবাদীদেরকে দিয়ে প্রশ্রয় দিতে হামলা করিয়ে ১৩ জন চিনা ইঞ্জিনিয়ার মেরে ফেলা হয়েছে। যার পিছন থেকে সহায়তা করেছে আমেরিকা ও ইন্ডিয়া !!! এই হল অভিযোগ।  সারকথায় পরস্পর শ্ত্রুদেশ পরস্পরের দেশের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠিওগুলোকে সহায়তা করার টিট ফত টেট ধরনের ততপরতা এগুলা।

    এগুলো সিভিল আদালতে বিচার্য বিষয়ক মামলাই নয়ঃ
    তাই মূলত এগুলো সিভিল আদালতে তুলে বিচার্য বিষয়ক মামলাই নয়। রাষ্ট্রস্বার্থে রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা-নিরাপত্তা [State Security] সংক্রান্ত ঘটনাবলী এগুলো।  রাষ্ট্র সেকাজে কী নীতি নিবে তা সিভিল আদালতের এক্তিয়ার হতেই পারে না। এই গভীর বিবেচনা এতটুকু প্রুডেন্ট বিচারক তার মানে কী আমাদের নাই???? কারও এই পয়েন্টা মাথাতেই এলো না যে এগুলো কী সিভিল আদালতে তোলার মত মামলা??

    ঠিক যেমন ইন্দির গান্ধীকে ১৯৭৫ সালে আমাদের পাহাড়ীদেরকে আমাদের সরকারের বিরুদ্ধে ট্রেনিং দিয়ে অস্ত্র হাতে বাংলাদেশে উস্কানি দেয় নাই। শেখ মুজিব মরার পরে কাদের সিদ্দিকীর বাহিনীকে ট্রেনিং-অস্ত্র দিয়ে ইন্দিরা কী বাংলাদেশে [subversive activity] তে আমাদের পাবলিক যাত্রী-রেলের পাতি তুলে নিতে পাঠায় নাই? তখন এই আদালত এর মুরুব্বিরা  কোথায় ছিল? তার কিইবা করার ছিল? কী প্রতিকার করেছিল? তারা দেখে নাই শুনে নাই এসব ইতিহাস?

    কাজেই আমাদের আবেদন আমাদের আদালত অন্তত একটু প্রুডেন্ট হোক, সেই চর্চায় আলোকপাত করুক!

    আবার আরেকটা হতে পারে যেমন,   পররাষ্ট্রনীতিতে যেমন ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ একমতের একটা চুক্তি করল, যে তারা একে অপরের দেশে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনকে সহায়তা কার করবে না। কিন্তু সেক্ষেত্রেও লক্ষ্যনীয় এটাও আদালতের ইস্যুই নয়।

    কাজেই আদালত প্রুডেন্ট হলেই সেটা বাস্তবে মহামান্য আদালত হয়ে উঠতে পারে!!!

    এসব বিবেচনা থেকে এসপ্তাহের রায়ে প্রকাশিত বিচার রিভিউটাতে যদি পুরা  (দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা) মামলাটাই খারিজ করে দিতে পারত তবে সেটা বোধহয় বুদ্ধিমানের কাজ হত। নইলে যেমন ধরেন,  এধরণের কাজ তো ভবিষ্যতে আমাদের রাষ্ট্রস্বার্থে করতে হতেও পারে। তখন কী তেমন উতসাহী সাহসী সৈনিকদের কে কী আমরা পাবো??? এখন সেসব কাজের জন্য আমাদের সৈনিকদেরকে যদি সিভিল জেল খাটতে হয় এটা তো খারাপ উদাহরণ, আত্মঘাতি!  সাহসী সৈনিক গড়তে কী কষ্ট তা আমাদের অনুমান করা কী কঠিন?? সেখানে আময়ার এক ডিসকারেজিং উদাহরণ রেখে দিচ্ছি!!! তাই না কী? এই মামলায় অনেক গোয়েন্দা বিভাগের সিনিয়ার অফিসারকেও জেল খাটতে হয়েছে। এটা কাউন্টার প্রডাকটিভ। যদিও এমন প্রধান অফিসারও আছেন যারা অর্থের বিনিময়ে বিক্রি হয়ে এই তথ্য সংশ্লিষ্ট দেশে পাচার করে হারাম-আয় করেছেন। সেটা যতটুকু সত্যি-মিথ্যা যাই হোক, এসবও দেখা সামরিক আদালতের এক্তিয়ার!

    আমরা কী সবাই যার যার স্তরে একটু প্রুডেন্ট হতে পারিনা, পারবোনা কেন!! এই দেশটা তো আমাদেরই!!!

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  দুপুর ০২ঃ ০৭   ২১ ডিসেম্বর ২০২৪

     

  • কংগ্রেসী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর কান্ধে – গুম-খুনের চটের ব্যাগ না হিন্দুত্ববাদ!

    কংগ্রেসী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর কান্ধে – গুম-খুনের চটের ব্যাগ না হিন্দুত্ববাদ!
    গৌতম দাস
    ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪  বিকাল ০৪ঃ ১০
    https://wp.me/p1sCvy-64l

    ভুল করেন না। ইনি ইন্দিরা গান্ধী নন। ইনি ইন্দিরার ছেলে রাজীব গান্ধীর মেয়ে মানে, ইন্দিরার নাতি প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। রাহুল গান্ধীর ছোট বোন!
    “বাংলাদেশ কে হিন্দুও আউর ঈসাইও কে সাথ খড়ে হো” 

     

     

    বাংলাদেশের কমিউনিস্ট ও প্রগতিশীলদের ধারণা হল একালের মোদি হয়ত খারাপ (হিন্দুত্ববাদী) কিন্তু কংগ্রেস হল একেবারে খাঁটি। এরা সেই নেহেরুর-গান্ধীর আমল থেকেই কংগ্রেসিরা এক্কেবারে প্রগতিশীল! এমনকি নেহেরু তো নাকি সমাজতন্ত্রী ছিলেন?? শুধু তাই না আরও আছে – এরা সেকুলার, অসাম্প্রদায়িক, জাতীয়তাবাদী,  সমাজতন্ত্রী আরও কত কীই না!
    যেমন ধরেন বাংলাদেশে এ’ধরণেরই সমাজতন্ত্রী- প্রগতিশীল একেবারে প্রতীক লোকটা; এমন লোকটা বাংলাদেশে কে? খুব সম্ভবত তাঁর নাম কমিউনিস্টেরা বলবে তিনি হলেন এমিরেটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

    কদিন ধরে ভাবছিলাম এই প্রগতিশীলকে একটু ফুটা করে দেয়া দরকার।  কারণ ইনিই হলেই বিবৃতিবাজ এক নম্বর। প্রগতিশীল-সমাজতন্ত্রী বিবৃতিবাজ বুদ্ধিজীবীতার একনম্বর! আজকাল কিছু ইসলাম-পছন্দ পত্রিকাও দেখি তাঁর লেখা নিবার জন্য লাইন ধরেছে। তিনি এতই  প্রগতিশীল-সমাজতন্ত্রী বিবৃতিবাজ বুদ্ধিজীবী। ইনার নাম থাকে বিবৃতিতে সবার উপরে। কারণ উনার নাম প্রথমেই দেখা গেলে পরে; এরপরে হুটোপটি লেগে যায় কার আগে কে সেখানে নিজের নাম ঢুকাতে হুমড়ি খেয়ে পড়বে!!!
    আড় ইনাদের চোখে কংগ্রেস! ও কংগ্রেস? কংগ্রেস তো হল তাদের সেকুলার এর প্রতীক! কংগ্রেসকে দেখেই তো এই সেকুলার শব্দের জন্ম, এমন অবস্থা! মানে মুসলমান কোপানোর সবচেয়ে যুতসই ধারালো কুড়াল হল – এই কথিত সেকুলার-ধারণা। পড়াশুনা না করা এই ডক্টরেট ডিগ্রীধারীরাই বাংলাদেশে এসব ‘সেকুলার’ সার্টিফিকেট বিলিয়ে বেড়ান।

     

    কিন্তু এরাই আবার কখনও মোদি, আরএসএস-বিজেপি বা তাদের জাগরণ মঞ্চ, কিংবা সনাতনি মঞ্চ, একালের ইসকন এসব সম্পর্কে একেবারে মুখ বন্ধ! মুখে কঠিন তালা দেওয়া। চিন্ময়-ইসকন ইস্যুতে উনারা যেন মৃত!

     

    যাই হোক, সেই প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা! বঢরা নামের এইঅংশটা স্বামীর টাইটেল সুত্রে। ঠিক যেমন হাসিনার নামে ‘শেখ’ থাকার কথা না কারণ ওটা বাপের টাইটেল; আর তিনি সাথে এক সময় স্বামীর টাইটেল ‘ওয়াজেদ’ লিখতেন – এটা তেমনই। 
    উপরের ছবিতে প্রিয়াঙ্কা কাঁধে যে চটের ব্যাগটা সেটাই আলোচনার কেন্দ্র ও বিষয়বস্তু। ওখানে হিন্দিতে (অল্প কোথাও ইংরাজিতেও লেখা আছে )  –বাংলাদেশ কে হিন্দুও আউর ও ঈসাইও কে সাথ খড়ে হো -। মানে হল বাংলাদেশের হিন্দু আর খৃশ্চানদের পক্ষে দাঁড়াও!  

    এখানে চটের ব্যগে ইংরাজিতে লেখা আছে – STAND for MINIRITIES OF BANGLADESH

    অনেকের কাছে মনে হতে হতে পারে, এ আর এমন কী? ভারত সরকারই তো এমন বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন হচ্ছে বলে প্রপাগান্ডায় ভরায় ফেলেছে। সরি, মহাশয়েরা আপনারা মারাত্মক ভুল করলেন।

     

    কংগ্রেস হল পবিত্র আর জিন্নাহ হল পাপী! কংগ্রেস মানে গান্ধী-নেহেরুরা হল পবিত্র, সেকুলার সমাজতন্ত্রী। 

    এই বক্তব্যের অন্যতম পাহারাদার হলেন সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীরা।
    কিন্তু পাঠকদেরকে সাবধান হতে হবে, মিথ্যা থেকে বের হতে হবে – বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন হচ্ছে এই দাবি কিন্তু মোদি ও বিজেপি সরকারের। কিন্তু লক্ষ্য করেন,  মোদি সরকারের দাবি কে মেনে নেওয়া কংগ্রেস এর (সাথে সিপিএম অথবা মমতার তৃণমুল) জন্য বাধ্যতামূলক নয়।

    অথচ আমরা দেখছি রীতিমত চটের ব্যাগ বানিয়ে একে পোস্টারের মত কাঁধে নিয়ে কংগ্রেসিরা সংসদে মিছিল করছে, ফটো সেশনও! মোদি আর কংগ্রেস একাকার! হিন্দুত্ববাদী!!!!!

     

    মোদি কেন এই মিথ্যা প্রপাগান্ডার পথেঃ
    আবার মোদি কেন এই মিথ্যা প্রপাগান্ডা করার পথ ধরেছে? কারণ, বাংলাদেশের হাসিনা আমলের দুইটা ঘটনাঃ
    এক. এখন জানা যাচ্ছে- গুম, খুন অপহরণ ও আয়নাঘর ঘটনায় ইন্ডিয়ার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ আছে!  হাসিনা ইন্ডিয়ার সাথে মিলে এমন আয়নাঘর ততপরতা এমনকি অপহৃত ব্যক্তিকে ইন্ডিয়ার উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার মত কান্ডও ঘটিয়েছে এরা যৌথ ভাবে!!!!
    দুই. ২০০৯ সালের বিডিআর ম্যাসাকার ও আমাদের সৈনিক-অফিসারদের হত্যার সাথে ইন্ডিয়ার সংশ্লিষ্টতা প্রকাশ হয়ে পড়তে পারে!

    এদুই ঘটনাকে চাপা দিতেই বাংলাদেশের উপর প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি এটাই মোদি সরকারের কৌশল ও লক্ষ্য। তাই কথিত এই হিন্দু নির্যাতনের প্রপাগান্ডা।

    তাহলে এখন দাড়ালো কী?
    দাড়ালো যে মোদির বিজেপি আর কংগ্রেস এই প্রশ্নে ভাইভাই!  তাদের ভারত-মাতা কে রক্ষার স্বার্থে কাঁধে ব্যাগ উঠিয়ে নিয়ে মিথ্যা কথা লেখা ও এর মিথ্যা প্রপাগান্ডা – এটাই কংগ্রেসি অপ-ততপরতা!  এই হল কংগ্রেসের পবিত্র সেকুলার ও সমাজতন্ত্রী আচরণ! যেখানে আমরা বাংলাদেশিরা হলাম পাপী – আমরা পাপী মুসলমান বা তাদেরকে সমর্থনকারী!!!

    কাজেই সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে  প্রগতিশীল-সমাজতন্ত্রী বিবৃতিবাজ বুদ্ধিজীবী গণ আপনারা বিবৃতি দিবেন কবে? সেই অপেক্ষায় থাকলাম!!!

     

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ বিকাল ৪ঃ ৪৯   ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪

  • চোর নিজেই দাবি করছে চুরি বেড়ে গেছে!!

    চোর নিজেই দাবি করছে চুরি বেড়ে গেছে!!
    গৌতম দাস
    ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪   বিকাল ০৪ঃ ১২
    https://wp.me/p1sCvy-62g

     

     

    এ’এক অদ্ভুত বাংলাদেশে প্রবেশ করেছি আমরা! এখানে চোর নিজেই দাবি করেছে যে চুরি খুবই বাইরা গেছে! এই বলে ভাল সাজতেছে! কিন্তু এভাবে কী পাপ ধুয়ে ফেলা যাবে? না যায়?
    ইংরাজি ডিপ্লোম্যাট, জাপানি ফাইনান্স আমেরিকা থেকে প্রকাশিত এক ম্যাগাজিন; যা মাঝে চীন ঠেকাও এর ঠিকা ভারতকে আমেরিকা দেওয়ার কালে জাপান থেকেও বের হত। সেই ডিপ্লোম্যাটে কলকাতার এক সাংবাদিক নাম স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্য  (প্রাক্তন হিন্দুস্তান টাইমসের লেখক) এক লেখা ছাপানো হয়েছে শিরোনামঃ  বিজেপির হিন্দুত্ববাদী আদর্শের উত্থান ঘটছে বাংলাদেশে [The Rise of the BJP’s Hindutva Ideology in Bangladesh]।

    বিজেপির হিন্দুত্ববাদী আদর্শের উত্থান ঘটছে বাংলাদেশে

    আর সেই লেখাটার বাংলা অনুবাদ করে ছাপিয়েছে প্রথম আলো; বিজেপির হিন্দুত্ববাদী আদর্শের উত্থান ঘটছে বাংলাদেশে।  শিরোনাম দেখে অনেকের মনে হতে পারে যে দেখেছো – প্রথম আলো কত ভাল হয়ে গেছে – একেবারে বিজেপির বিরুদ্ধে শুধু না এমনকি হিন্দুত্ববাদের বিরুদ্ধেও লিখছে…!  এমনকি একটা ফেসবুক স্টাটাস দেখলাম ইতোমধ্যেই লিখেছে – প্রথম আলোর একটি সিগনিফিক্যান্ট নিউজ কাভার! তিনি দেখেছেন।   ফলে চাই কী এখন আমাদের প্রেস সচিব শফিকুল সাহেবও  এসব দেখে ভেবে বসতে পারেন যে তাঁর প্রথম আলো কে ভালবাসাটা কতটাই না সঠিক ও নিখাদ ছিল; কেবল বাঙালি মুসলমানেরাই তা বুঝল না! ওরা ‘ভারতীয় সেকুলার’ নয় বলে বুঝল না!!!!

    তাদের জন্য এবার একটু ভান্ড ফাটাতেই হবে।

    তাদের জন্য এবার একটু ভান্ড ফাটাতেই হবে।

    “On August 9, the day after Nobel Laureate Muhammad Yunus took charge as the head of Bangladesh’s interim government, Hindus, a religious minority making up 8 percent of the Bangladeshi population, started hitting the streets in different parts of the country, including the Shahbag Square in the national capital, Dhaka.

    They protested a series of attacks targeting Hindu homes, businesses, and places of worship during August 5-8, when the country descended into lawlessness following Prime Minister Sheikh Hasina’s resignation and hurried exit from the country.”

    উপরের লেখার অংশটা স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্য এর, উনার ডিপ্লোমেটে লেখা থেকে নেয়া। এখন স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্য  এর লেখায় attacks বলে যে শব্দটা ওর পছনের লিঙ্ক – সেটাই প্রথম আলোতে প্রকাশিত এক রিপোর্ট, সেটাকেই উদ্বৃত করে আনা হয়েছে।  যার সোজা মানে হল They protested a series of attacks targeting Hindu homes, businesses, বা বাংলদেশে হিন্দু নির্যাতন চলছে সেই প্রপাগান্ডা বক্তব্যটারই মূল উতস প্রথম আলোর রিপোর্ট।  নিচে  প্রথম আলোর (ইংরাজি) রিপোর্টই সেটা।

    আর তা পড়ে পিছনের ঘটনা কাহিনী না জেনে আমরাই আবার ফেসবুকে লিখছি  প্রথম আলোর একটি সিগনিফিক্যান্ট নিউজ কাভার!-আজকের!!!!

    চোর নিজেই দাবি করছে চুরি সত্যিই বেড়ে গেছে!!
    আসলেই তাই!!!!!  কী তামসা!!

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক

    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   বিকাল ০৫ঃ ৪৮    ১৪ ডিসেম্বর  ২০২৪
    শেষ আপডেটঃ   ডিসেম্বর  ২০২৪

  • হিন্দুত্ববাদের বয়ানের উপর দাঁড়িয়ে যেকোন বিবৃতিই অর্থহীন

    হিন্দুত্ববাদের বয়ানের উপর দাঁড়িয়ে যেকোন বিবৃতিই অর্থহীন
    গৌতম দাস
    ০৮ ডিসেম্বর ২০২৪  দুপুর ০১ঃ ০৮
    https://wp.me/p1sCvy-5Yx

     

    ভারতে হিন্দুত্ববাদী শক্তি ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে বিবৃতি অর্থহীন

    হিন্দুত্ববাদের বয়ানের উপর দাঁড়িয়ে ভারতের কারো উদ্দেশ্যেই দেয়া বিবৃতি অর্থহীন; মানে হল সবার আগে মুখ্যত খেয়াল করতে হবে আপনি কার বয়ানে কথা বলবেন? নিজস্ব নাকি ভারতের হিন্দুত্ববাদের?
    এ’সম্পর্কে আপনার সচেতনতা লাগবে। যে বয়ান-পরিভাষা আপনার জনগণের বিরুদ্ধে সেই পরিভাষাই ব্যবহার করে এবং সেই চিন্তা-কাঠামোই ব্যবহার করে আপনি এই শয়তানি ও অসৎ ততপরতার বিরুদ্ধে লড়তে পারবেন না।

    আমি একটু দেরিতে, ইতোমধ্যে গত ৬ ডিসেম্বর ২০২৪  “ভারতের জনগণের উদ্দেশে ১৪৫ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি শিরোনামে রিপোর্ট ছাপা হয়েছে মিডিয়ায়।
    বাইরের চেহারায় এটা সিপিবি ঘরানার চেয়ে আলাদা মনে হতে পারে কারণ মোদি সরকারের বদলে এখানে “ভারতের জনগণের উদ্দেশ্যে” – বলে বলা হয়েছে। কিন্তু এরপরেও এটা যে কার সেই। কারণ, এক. এটা যারা লিখছে তাদের আলাদা কিছু করার প্রয়াস হয়ত কিন্তু তা মর্ম বদল ঘটাতে পারে নাই। আর দ্বিতীয় কারণ, ইতোমধ্যেই ‘ভারতের জনগণ’ আর ‘সরকার’ বলে একটা ছুপা ভাগ তৈরি করেই কিন্তু র-এর পক্ষে কাজ-ততপরতা করতে আরেক প্রতারক-মানব [imposter] ইতোমধ্যেই নিজেকে ধুর্তভাবে হাজির করে রেখেছে। চিন্ময়ের সাথে প্রকাশ্যে বিসদৃশ্য গলাগলি দেখিয়েছে আর চিন্ময়ের পক্ষে বেপরোয়া সাফাই নিয়ে হাজির হয়ে গেছে।  আবার ‘ভারতের জনগণ’  বলে কী কেউ বিজেপি-মোদির হিন্দুত্ববাদী বয়ানের বাইরে কেউ আছে? বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর নির্যাতন হচ্ছে, শাখা সিন্দুর পড়তে পারছে না ইত্যাদি ডাহা মিথ্যা যে বয়ান মোদি দাঁড় করিয়েছে তা কী খোদ সিপিএম, কংগ্রেস, মমতা ইত্যাদি এরা কী এর বাইরে? নাকি মিথ্যাভাবে একই নির্যাতনের গল্পের বিবৃতিতে সবদলগুলোও ইতোমধ্যেই দিয়েছে? এককথায় ভারতের কোন দলই নাই যে মোদির মিথ্যা ভাষ্যের বাইরে! তাহলে এসবের বাইরে কারা এখন “ভারতের জনগণ” আছেন যাদের কাছে পৌছাতে এই বিবৃতি চেষ্টা করছে? অর্থাৎ এককথায় বিজেপি-মোদির বয়ানের বাইরে ভারতের এখন মোটামুটি কেউই আর অবশিষ্ট নাই। কাজে ফাঁকা কল্পনা করে লাভ কী?

    আসলে মূলকথাটা হল সারা ভারত এখন হিন্দুত্ববাদের বয়ানে ইসলামবিদ্বেষী নেকড়ে হয়ে কাঁপতেছে, যেন ঝাপিয়ে পড়বে বাংলাদেশের উপরে!  আর সেই সময়ে আমরা দেখছি ১৪৫ জনের ভাষ্য বলে এক বিবৃতি যার প্রথম কয়েকটা শব্দ হল  ভারতে হিন্দুত্ববাদী শক্তি ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে – নাকি তারা এই বিবৃতি দিচ্ছে????
    কিন্তু এই সাম্প্রদায়িকতা জিনিষটা কী? কাদের বয়ান ভাষ্য ন্যারেটিভের পরিভাষা এটা? এটা তো হিন্দুত্ববাদেরই পুরানা পরিভাষা!!! তার মানে হিন্দুত্ববাদী পরিভাষা –সাম্প্রদায়িকতা, অসাম্প্রদায়িক ইত্যাদি – এসব  ব্যবহার করে এই বিবৃতিদাতারা হিন্দুত্ববাদ এর বিরুদ্ধে লড়তে চাইছেন!!!!
    এখানে লড়া মানে ফিজিক্যাল লড়াই না বরং বয়ান ভাষ্য সামনে রেখে লড়াই। তাহলে আপনি কার বয়ানে নিজের কথা বলবেন ও লড়বেন? নিজস্ব নাকি ভারতের হিন্দুত্ববাদের?

    ভারতের জনগণের উদ্দেশে ১৪৫ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি


    অবশ্য কথাটা এভাবে লেখায় আমাদের ‘দেশি’ বুঝের  জাতিবাদি মন বলে উঠবে অবশ্যই নিজস্ব!! কিন্তু কীভাবে বুঝবেন বয়ান-ভাষ্য আপনাদের নিজস্ব? এর জবাব অত তড়িৎ কারো মুখ দিয়ে আসবে না।
    কারণ, সেক্ষেত্রে মুখ্য বাস্তবতা ও ফ্যাক্টস হল, আপনার কোন আলাদা বয়ানই নাই। মূলত হিন্দুত্ববাদের বয়ানটাকেই আপনি এতদিন প্রগতিবাদী বয়ান মনে করে এসেছেন আর সেটাই আউরাইতেছেন! এছাড়া বিবৃতিতে এই যে হিন্দুত্ববাদ বলে শব্দ লিখেছেন এটাও তো আপনাদের পরিভাষা শব্দ নয়।
    আপনাদের শিখা পরিভাষা হল সাম্প্রদায়িকতা বা অসাম্প্রদায়িক এগুলা যেগুলা চালু করেছিল প্রথমে জমিদার-হিন্দুরা (১৮০০ সালের পর থেকেই) পরে ছুপা কংগ্রেসিরা (১৮৮৫ সালে)! আর আপনারা হিন্দুত্ববাদ এই শব্দটা শিখতে বাধ্য হয়েছেন শাহবাগের পরে [আগে নয়] অন্তত ২০১৪ সালের পরবর্তী বাংলাদেশ। এখন সমস্যা কী হয়েছে দেখেন! আপনারা বিবৃতিতে একইসাথে “ভারতে হিন্দুত্ববাদী শক্তি” আর “সাম্প্রদায়িকতার” এমন দুটার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। অথচ এদুটা একসাথে ব্যবহারযোগ্য শব্দ নয়।  আপনি যদি সত্যিই হিন্দুত্ববাদের বিরুদ্ধ কিছু হতে চান বুঝেশুনে ফিল করে তবে আপনাকে সাম্প্রদায়িক শব্দের ব্যবহার ত্যাগ করতে হবে। কারণ সাম্প্রদায়িক শব্দটা তো জমিদার-হিন্দুদের চালু বয়ানের শব্দ যা পরে ছুপা (সফট হিন্দুত্ববাদী) কংগ্রেসিরা তুলে নিয়ে তাদের বয়ানে স্থাপন করেছে। যেখান থেকে আপনারা এটা পবিত্র জ্ঞান করে তুলে নিয়েছেন! কোন বয়ান নির্মানে কিছু মার্কামারা বয়ান ভাষ্যের প্রতিনিধি চিহ্নমূলক শব্দ থাকে। সাম্প্রদায়িক এই শব্দ ও পিছনের ধারণাটাতে তা আছে – সাম্প্রদায়িক নিজেই এক হিন্দুত্ববাদি বয়ানের মার্কামারা শব্দ!  আপনি চাইলেই  তাই একই সঙ্গে হিন্দুত্ববাদীবিরোধীতা আবার সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী হতে পারেন না, পারবেন না। 

    এখানে হিন্দুত্ববাদের বয়ান কোনটা?
    মুখ্যত  অসাম্প্রদায়িকতা বা সাম্প্রদায়িক ইত্যাদি এসম্পর্কিত যত শব্দ আছে সবগুলোই – হিন্দুত্ববাদের বয়ান-ভাষ্যের চিহ্ন। বহুবার আমি লিখেছি এটা বাংলাদেশের কারও বয়ান বক্তব্যের শব্দ, ভাষ্য হতে পারে না। জমিদারহিন্দু যারপর নাই ক্ষুব্ধ হয়েছিল ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান কায়েম হওয়াতে। কারণ পাকিস্তান হওয়ার সোজা মানে হল তার জমিদারি উচ্ছেদ। যদিও কথিত শ্রেণী-বোদ্ধা কমিউনিস্টেরা আজও ভান করে যে তারা এই জমিদার শ্রেণির (শ্রেণীস্বার্থের) উচ্ছেদের দিকটা দেখতে পান নাই! ার খাঁড়া কথাটা হল, জমিদারি ব্যবস্থার উচ্ছেদ মানে হল জমিদারি কেন্দ্রিক হিন্দুত্ববাদি সকল রাজনৈতিক, সামাজিক, কালচারাল ক্ষমতা ও আধিপত্যের অবসান।  তাই সেই থেকে জমিদার-হিন্দুর সংগ্রাম হয়ে উঠেছিল, চরম মুসলমান বিদ্বেষ জারি করে এমন বয়ান তৈরি। এর প্রথম পদক্ষেপ তাদের পাক্কা ছলনার এক বয়ান যে এটা যেন মূলত জমিদারি উচ্ছেদ ছিল না, এটা যেন পুর্ব-বঙ্গের সকল হিন্দুদের উচ্ছেদ এভাবে ঘটনাকে উপস্থাপন করেছিল তারা।
    অথচ দেশভাগ ঘটে যাওয়াতে, এরপর যে হিন্দু এবং মুসলমান উভয়কেই – দুদিক থেকে দেশান্তর হতে হয়েছিল। হিন্দু হলে ভারতমুখি মুসলমান হলে পাকিস্তান মুখি এটাই তো হয়ে উঠেছিল সবার ভাগ্যেই! নাকি?

    এভাবে সাধারণ হিন্দু-মুসলমানের ভারত অথবা পাকিস্তানের দিকে যাত্রা এর সাথে পুর্ব-পাকিস্তানে জমিদার উচ্ছেদের সরাসরি কোনই সম্পর্ক নাই। তা সত্বেও জমিদারের স্বার্থ উচ্ছেদ হয়ে যাওয়া এটাকে সকল হিন্দুদের স্বার্থ হিসাবে হাজির করা এটাই জমিদার হিন্দুর শঠতাপুর্ণ বয়ানের সাফল্য! জমিদার হিন্দুর নিজ জমিদারি স্বার্থকে প্রজা হিন্দুরও যেন এটা একই স্বার্থ এভাবে হাজির করে ফেলেছিল। তা কোন বিপ্লবী, কোন শ্রেণীবোধের প্রগতিশীল কেউ খেয়াল করে নাই। বরং পুর্ব-পাকিস্তানের (জমিদার-প্রজা নির্বিশেষে) এমন সকল হিন্দুর স্বার্থ যেন এক  কাজেই পুর্ব-পাকিস্তানের হিন্দু মাত্রই ভিকটিম এই নয়া ভিকটিকহুড এর বয়ানই হল – হিন্দুরা তাহলে ‘সাম্প্রদায়িকতার’ শিকার। আর সাম্প্রদায়িকতা মানেই এর জন্য  অরিজিনাল অভিযুক্ত ও দায়ী হল পুর্ব-পাকিস্তানের মুসলমানেরা…! এটাই তো হিন্দুত্ববাদের বয়ান – সাম্প্রদায়িকতা বয়ানের ভিতরের আসল রহস্য বয়ান এবং  পুর্ব-পাকিস্তানের হিন্দু মাত্রই ভিকটিম এই মিথ্যা ভিকটিমহুড এর বয়ান!
    এসব যে মিথ্যা এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হল, পুর্ব-পাকিস্তানে জমিদারি উচ্ছেদ আইনে কী জমিদারি ব্যবস্থা উচ্ছেদের পরে পুর্ব-পাকিস্তানের মুসলমান প্রজারা যেমন নিজ নিজ চাষের জমির মালিকানা পেয়েছিল একইভাবে সমান সুযোগে  পুর্ব-পাকিস্তানে হিন্দু প্রজারাও কী সমান সুযোগে পায় নাই???
    তাহলে, পুর্ব-পাকিস্তানের হিন্দু মাত্রই ভিকটিম এই নয়া ভিকটিকহুড এই বয়ান ভাষ্য বা এই মিথ্যা অনুমানের ভিত্তি কী? 

    আবার যেমন ধরেন, এক ভারতরত্ন মানে পদ্মভূষণ খ্যাত ডঃ আনিসুজ্জামান তিনি পুর্ব-পাকিস্তানে দেশান্তর হয়ে এসেছিলেন, কেন? পশ্চিমবঙ্গের মুসলমান হিসাবে পুরানা এতদিনের আবাস ছেড়ে পরিবারসহ তাঁদের এদেশে আসার ক্ষেত্রে পুর্ব-পাকিস্তানে জমিদারি ব্যবস্থা উচ্ছেদ বা না-উচ্ছেদ এর কোন সম্পর্কই নাই। আর সবচেয়ে বড় কথা তিনি কী কেন তাঁকে কলকাতা ত্যাগ করে আসতে হয়েছিল সেজন্য কী কখনো কলকাতার হিন্দুদের দোষারোপ বা দায়ী মনে করেন বা করেছেন??? কখনই না; বরং ব্যাপারটাকে কপাল বা ভবিতব্য হিসাবে দেখে থাকেন!  অথচ পুর্ব-পাকিস্তানের হিন্দুরা পুর্বপাকিস্তানের মুসলমানদেরকে দেশভাগের জন্য আজও কঠোরভাবে দায়ী করে থাকেন। আবার বদরুদ্দিন উমরের কথাও ধরতে পারেন! তিনি কী বর্ধমান ছেড়ে ঢাকায় এসেছেন বলে বর্ধমানের হিন্দু জনগোষ্ঠিকে দায়ী করেন?

    মজার কথা হল, আনিসুজ্জামান কিন্তু সাথে মাথায় করে হিন্দুত্ববাদি অসাম্প্রদায়িকতার বয়ানই নিয়ে এসেছিলেন! মুসলমান হিসাবে কলকাতার জমিদার-হিন্দু তাঁকে তার পরিবারকে শিখিয়েছিল হিন্দুদের পাশে বসতে চলতে হলে তাদেরকে অসাম্প্রদায়িক হতে হবে। সারকথায় যা জমিদার-হিন্দুর আধিপত্য এটা মানতে হবে; তাদের সেই বয়ান ভাষ্যমতে মুসলমানদের নিজেকে সাজাতে হবে; তবেই মুসলমানেরা হিন্দুদের পাশে তিনি বসবাস শিক্ষা-চাকরির সুযোগ ইত্যাদি পেতে পারেন!

    আর এই সাম্প্রদায়িকতা কী তাহলে? কে কার উপরে করলো?
    সেটা কী আর বলার অপেক্ষায় আছে? সেটা বলাই বাহুল্য যেহেতু হিন্দু মাত্রই (জমিদার-প্রজা নির্বিশেষে) দেশভাগের ভিকটিম! – এই হল মিথ্যা মূল বয়ান!  যে বয়ানে তার মানে দাবী করা হল, পুর্ব-পাকিস্তানের মুসলমানেরাই যেন (জমিদার-প্রজা নির্বিশেষে) এমন সকল হিন্দুকে ভিকটিম বানিয়েছে ও বানানোর জন্য দায়ী????   তাহলে সাম্প্রদায়িক  -এই শব্দের উতপত্তি বয়ান ভাষ্য কার চালু করা কোথা থেকে? এটা কী প্রথমে জমিদার-হিন্দুরা (১৮০০ সালের পর থেকেই) পরে ছুপা কংগ্রেসিরা (১৮৮৫ সালে) হয়ে এখন মোদির হিন্দুত্ববাদের মুখ্য এক বয়ান ভাষ্য নয়!! আর কোন ফাঁকে এই হিন্দুত্ববাদ-ই আবার সকল কমিউনিস্টদেরও বয়ান ভাষ্য হয়ে গেছে??? ভারত (ফলে বাংলাদেশের) সকল কমিউনিস্টদের !!!  তাহলে সেক্ষেত্রে, এই বিবৃতিদাতারা একইসাথে ভারতে হিন্দুত্ববাদী শক্তি ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সরব হবেন বা হলেন কী করে?? এটা কী সম্ভব???
    সব বিবেচনা তাদের হাতেই তুলে রাখলাম!!!

    শেষে আরেকটা কথা দেশভাগঃ

    যদি আপনাদের চিন্তার মুরোদে কুলায় তাহলে দেশভাগ এর জন্য কাকে দায়ী করতে চান সেদিকে আসেন। যারা দেশভাগে ব্যাথ্যা পেয়েছেন তাদেরকে সাহসের সাথে রাজা রামমোহন রায় পড়তে হবে! এখান থেকেই পড়াশুনা শুরু করতে হবে। সেই ১৮১৫ সালে ফিরতে হবে। কেন রামমোহন ১৮১৫ সালে “আত্মীয় সভা” খুলেছিলেন? কেন সেই ১৮১৫ সালেই তিনি এক ব্রাহ্ম সমাজ বলে নতুন ধর্ম চালু করেছিলেন?
    রামমোহনই প্রথম ব্যক্তি যিনি সেকালে বৃটিশদের রিপাবলিক রাষ্ট্র একে চিনেছিলেন, এক এংলো-ক্যাথলিক বৃটিশ রিপাবলিক বলে।   অর্থাৎ জাতিরাষ্ট্র [নেশন স্টেট বা nation State] মানে আদতে তা কোন না কোন ধর্মের ভিত্তিতে জাত এমন রিপাবলিক রাষ্ট্র-ই হতে হবে, হয়। ফলে সেসময়ের চোখ আগামির অখন্ড ভারত – সেটাও আসলে কোন না কোন ধর্মের ভিত্তিতে জাত এমন রিপাবলিক রাষ্ট্র-ই করতে হবে এই ছিল তাঁর বুঝ ও সিদ্ধান্ত! আর সেখান থেকে অসংখ্য জাতভেদে বিভক্ত হিন্দু সমাজ সহ ভারতের সবাইকেই সবার আগে এক নয়া ধর্ম ‘ব্রাহ্ম’ এই নয়া একেশ্বরবাদি ধর্মে দীক্ষিত করে নিয়ে আগানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। একাজে রামমোহনের সবচেয়ে ঘনিষ্টজনেরা যেমন রবীন্দ্রনাথে দাদা দ্বারকানাথ ঠাকুর সহ ঢাকার সুশোভন সরকারের (বেঙ্গল রেনেসাঁর লেখক) দাদা ইত্যাদি সকলেই পরিবারসহ সবার আগে ব্রাহ্ম হয়ে নিয়েছিলেন। যদিও রামমোহনের এই উদ্যোগ – এটাই পরে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, অরবিন্দ ঘোষ বিবেকানন্দ ইত্যাদি হাত ঘুরে হিন্দুত্ববাদ হয়েছিল – আর এটাই হল ভারতে হিন্দুত্ববাদের আদি ভিত্তি ও বয়ান ভাষ্য!   কাজেই হিন্দুত্ববাদী বয়ানে জিন্নাহ কে ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ বলে সব দায় তাঁর এমনকি এই একালেও বিএনপির মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর ভারত-হিন্দুত্ববাদের স্বার্থে নয়া দালাল হতে প্রথম আলো গং কে বাঁচাতে মির্জার – “চিন্তা করতে পারেন ধর্মের ভিত্তিতে……” বলে মিথ্যা আবেগ তুলে অভিনয় করা এসবই আমাদের ত্যাগ করতে হবে। সবার আগে রাজা রামমোহন রায় পড়েন।
    এর আগেই জমিদার-হিন্দু অথবা হিন্দুত্ববাদের সফট বা কড়া ভার্সান
    এর ভক্ত দালাল নিজ মস্তক-বিক্রি এগুলা আর কইরেন না। এবার ছাড়ান দেন!  দেশভাগ আমাদের ভাগ্যে ছিল অথবা সবদোষ হল জিন্নাহ-র এসব হিন্দুত্ববাদের বয়ান আর কতদিন বইবেন???

    একালে যারা রাজা রামমোহন রায় নিয়ে নতুন করে হিন্দুত্ববাদের বিয়ান ভাষ্যের বাইরে এসে পড়তে চান তাদের সবার জন্য প্রথম চয়েজ হল ইন্টারনেট সার্চ করা – সার্চ করতে শিখেন। এখন এতেও আবার গাইড পেতে গেলে আমার নিজের ওয়েব সাইটে দেখতে পারেন।

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    শেষ আপডেটঃ  দুপুর   ডিসেম্বর  ২০২৪