Tag: দিল্লী

  • প্রতি বিপ্লব কী? ওয়াকার ম্যাজিক?

    প্রতি বিপ্লব কী? ওয়াকার ম্যাজিক?
    গৌতম দাস
    ২৭ এপ্রিল ২০২৫  সন্ধ্যা ০৬ঃ ৫১
    https://wp.me/p1sCvy-6rH

     

    আমার অবজারভেশন এটাই প্রতি-বিপ্লব বহনের চিহ্ন, ছবিটা বাংলা নিউজ / কালের কন্ঠ থেকে নেয়া

    দুর্ভাগ্যবশত আমাদের দেশে বিপ্লব শব্দটা যতটা পরিচিত; আর এটাও বুঝি বা-বুঝি এটা ব্যবহার করতে দেখি আমরা অনেককেই এবং অতি সহজেই। বিশেষ করে এটা যখন “জুলাইয়ের বিপ্লব” বা “আগষ্ট বিপ্লব” বা “২৪ এর বিপ্লব” এর যুগ বা কাল পার হচ্ছি আমরা। কিন্তু ঠিক তার দ্বিগুণ হল আমাদের অজ্ঞতা বা বেখবর!!! কিন্তু কী নিয়ে? সেটা হল বিপ্লব না হয় যা হয় বুঝলাম; তাহলে প্রতি-বিপ্লব, সেটা আবার কী? এমনিতে বিপ্লব এই কথা বা ধারণাটাকে কমিউনিস্ট-প্রগিতির লোকেরা নিজেদের একচেটিয়া মনে করে থাকে। তারাই সবচেয়ে ভাল বুঝে এমনও মনে করে থাকে। তবুও তাদের মধ্যেও দেখা যায় প্রতই-বিপ্লব জিনিষটা কী? কেন তা আসে? কখন আসে? – এসব প্রশ্নে খুব স্বচ্ছ ধারণা রাখেন না। যদিও তারা প্রতি-বিপ্লব কথাটা শুনেছেন এমন দাবি করে থাকে।

    তত্ব কথা প্রতি-বিপ্লব কে বুঝানো যায়; বুঝাবও অবশ্যই। কিন্তু আগে প্রাকটিক্যালি দেখাবো। এর মূল কারণ, আমরা সকলে প্রগতি বুঝি কিংবা ইসলামিজম বুঝি অথবা আম-জনতা যাই হই না যেন বিপ্লব কী তা ৫ আগষ্টের পর থেকে আমরা সবাই বলব আমরা বুঝি। কারণ এটা বাস্তবে আমাদের সবাইকে দেখায়ে দিছে; আগে না জানলেও এখন জেনে গেছি বিপ্লব কী!
    তাহলে প্রতি-বিপ্লব কী?
    এর ইংরাজি হল,  কাউন্টার-রেভেলিউশন [counter revolution] । বুঝাই যাচ্ছে কাউন্টার মানে একটা ঘটে যাওয়া ঘটনাকে উলটা দিকে ঘুরানো।  অর্থাৎ হাসিনা উতখাত উপড়ে ফেলা যদি বিপ্লব তবে এখানে প্রতিবিপ্লব হচ্ছে হাসিনাকে ফিরে ক্ষমতায় বসানো! হা ব্যাপারটা তাই এখানে একটু টুইস্ট বা মোচড় আছে। হাসিনা ক্ষমতায় ছিল ১৬ বছর ইন্ডিয়ান আধিপত্যের প্রতিনিধি হিসাবে। তাহলে হাসিনার উতখাত মানে আসলে তা সেই ইন্ডিয়ান আধিপত্যেরও উতখাত। তাহলে এখানে প্রতিবিপ্লব মানে কেবল হাসিনাকে নয় মূলত একেবারেও মূল শক্তি হচ্ছে ইন্ডিয়ান আধিপত্য একেই পুনঃপ্রতিষ্ঠা মানে ইন্ডিয়ান আধিপত্যের পুনঃপ্রতিষ্ঠা এটাই হল মৌলিক দিক!
    আর সেখান থেকেই এতে আরো কিছু ভিন্নতা থাকবে বা দেখব আমরা। অর্থাৎ কেবল ঠিক হাসিনার পুনঃপ্রতিষ্ঠা নয় এর বদলে আমরা দেখব মূল শক্তি  ইন্ডিয়ান আধিপত্যের পুনঃপ্রতিষ্ঠা তাই।  এটাই প্রতি-বিপ্লব ও প্রতি-বিপ্লবী চিহ্ন বা মূল প্রতীক।

    এবার আর ইন্ডিয়ান আধিপত্যের পুনঃপ্রতিষ্ঠা এর সাথে আরো দেখব – তারেক জিয়ার বিএনপি, স্পষ্ট করে জামায়াত, ফাঁকে কান্নি মারছে এমন হাসিনার লীগ ইত্যাদি আর সবার উপরে ভাসবে তাদের সমন্বয়ক ওয়াকার।  আর সব মিলিয়ে এরাই হতে যাচ্ছে সম্ভাব্য প্রতিবিপ্লবী শক্তি!

    এবার আরেকটু সার করে বলিঃ তাহলে ৫ আগষ্ট কে যদি ধরি হাসিনার সাজানো সেনাবাহিনী এর অর্ডার ভেঙ্গে দিয়ে এই সেনা প্রতিষ্ঠানেরই (ওয়াকার বাদে) বাকীদের (মূলত জুনিয়র অফিসারদের) আধিপত্যের বিজয় (যেখানে অসহায় ওয়াকার পুরানা পদপদবীসহই ব্যক্তি মাত্র); আর এটাই মূলত হাসিনার উতখাত ও পলায়নের মূল চালিকা শক্তি। আর পরবর্তিতে এই ঘটনাটাই ৫ আগষ্ট ২০২৪ থেকে ছাত্র-জনতার দ্বারা এন্ডোর্সড বা অনুমোদিত হয়ে যাওয়াতে  পুরা পরিবর্তন টাই একটা বিপ্লব; একটা বিল্পবী চরিত্র নিজে হাজির হয়ে যেতে পেরেছিল। যদিও ভিতরে নানান পকেটে অনেক ধরনের দুর্বলতাও থেকে গেছিল। যেমন ওয়াকারকে উপরে প্রতীকী হলেও রেখে দেওয়া। বাওইরে থেকে ইউনুস সাহেব-কে এনে সরকার প্রধান করে বসানো ইত্যাদি অনেকগুলো দুর্বল-পকেট এতে থেকে গেছিল।

    তবুও অর্থ তৈরির দিক থেকে আবেগ-উচ্ছাসে এটা সবার দিক থেকে এটা একটা বিপ্লবই গন্য হয়েছিল ।   আর এই বিপ্লব ও এই বিপ্লবের বিরুদ্ধে প্রথম বিরুদ্ধচারণ শুরু করেছিল ইন্ডিয়া ও মোদি। এদিকটা খেয়াল করলেই ব্যাপারটা বুঝা যাবে। এতবড় সধিপয়ত্য হারানো মূল শক্তি প্রতিবিপ্লব বা বিরোধিতার মূল হাল ধরবে তা বলাই বাহুল্য! কিন্তু এর সাথে সহযোগী হবে তারেকের বিএনপি, আগা-পিছা করা জামায়াত (যার শুরুটা হয়েছিল ইসকন-চিন্ময় আর এদের গলা জড়িয়ে ধরে চুমা দেয়াদের কে দিয়ে)। ওদিকে সেনা প্রতিষ্ঠানের ভিতর বিজয়ী শক্তিরো যতটা সম্ভব খামতি পূরণ করে পয়লা স্ত্র পেরিয়ে নিজেদের সংহত হয়ে দারাতেই নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ লেগে যায়।
    কিন্তু সবচেয়ে বড় আরেক দুর্বলতা ক্রমশ বড় হয়ে উঠতে থাকে। সেটা হল, খো ইউনুস সাব, আসিফ নজরুল ও অন্যেরা। এদের কাজটা ইনোসেন্ট বা নিস্পাপ অজ্ঞতা বলবেন হয়ত অনেকে। কিন্তু এটা আসলে বাচ্চাদের আপাত নির্দোষ পুকুরে ঢিল মআরা যেটা পুকুরের ব্যাঙের দিক থেকে প্রাণঘাতি, এরকম।  না ইউনুস না তার মন্ত্রীসভা (উপদেষ্টারা) কেউই প্রতি-বিপ্লব ব্যাপারটা কী তা আমল করেন নাই শুধু তাই না প্রায় অযোগ্যও বটে। কিন্তু এটা যে গণমানুষ রাষ্ট্রস্বার্থের দিক থেকে বাঁচামরার সেখবর তাদের নাই। এরই প্রমাণ হল, মুজিবের ছবি অবলীলায় মাথার উপরে টাঙাতে অসুবিধাবোধ না করা, লীগেরও রাজনৈতিক অধিকার দিতে ব্রি. শাখাওয়াত প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাচাল কথাবার্তা ও অপসারিত হওয়া অয়থবা ধরেন খোদ ইউনুস সাবের সস্তায় ইলিশ মাছ খাওয়ার রাষ্টড় ও সরকার প্রধান হয়ে থাকার লক্ষ্য নির্ধারণ……!!!  আমাকে বারবার লিখতে হপ্যেছে ক্ষমতা কী? রাষ্ট্রক্ষমতা মানে মারো নাহলে নিজে মরো! ফ্রেন্ড-এনিমি টনটনে বোধ! আগেই আপনাকে নির্মম্ভাবে আপনার ক্ষমতার এনিমি কে মারতে হবে নইলে পরে শত্রুর হাতেই নিজে উতখাত হতে হবে!! ক্ষমতা মানে এটাই।
    এটাই বিপ্লব কে রক্ষা করা! ফলে হয় মারো নয়ত মরো! বিপ্লব কে সুরক্ষা দাও আর নয়ত প্রতি-বিপ্লবে মারা যাও!  একথাতাই কখনও ইউনুস সাবকে পরিস্কার বুঝানো যায় নাই আধা-বুঝ ভাবে উনি থেকে গেছেন। আর ততই উনি মটিভেশন আর স্পিচ নিয়ে নিজের ক্যারিসমা দিয়ে সব জয় করতে রওনা দিয়েছেন। প্রতিবিপ্লব বুঝাতে যান নাই।  এমনকি আমি বলে আপনি নিজেও মারা পড়তে পারেন এই ভাল-ভালাইয়াতে! ক্ষমতা ভাল-ভালাইয়ার জিনিষ নয়।

    যাই হোক, আজ “জেনারেল ওয়াকার ম্যাজিকে গণমানুষের উচ্চাশা” – এই শিরোনামে যে আর্টিকেল ছাপা হয়েছে কালেরকন্ঠ সহ বসুন্ধরা, বাংলাভিষন ও এলাইক মিডিয়াতে একযোগে এতাকে আমি মনে করি আরো ঘনিভুল হয়ে আবার দাড়ানো এক প্রতিবিপ্লবী পরিকল্পনা হিসাবে। ষড়যন্ত্র পরিকল্পনা বলবেন হয়ত অনেকে।

    সরকার প্রধান হওয়া তুলনামূলক সহজ কিন্তু যদি আপনার প্রতি-বিপ্লব ঠেকানো কাজটা কী ও কেন? – এমন ধারণা নাই থেকে থাকে ?????
    তবে আপনি নিজে ব্যক্তিগতভাবে নিজের জন্য, দেশের ও গণস্বার্থ রক্ষার দিক থেকে বিপদজনক! তাই আপনার উচিত এদিকটা রাষ্ট্রক্ষমতা রক্ষা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য  “উপযুক্ত” যাকে ইউনুস সাব আপনার কম্পাটাবল মনে হয়;  তাকে বিশেষ এসাইনমেন্ট ক্ষমতাপ্রাপ্ত করে দিতেই পারেন। বলাই বাহুল্য তিনি ওয়াকার সাব নন! নির্দিষ্ট সময়-অন্তে এর রিভিউ ও অগ্রগতি মনিটর মিটিংয়ের ব্যবস্থাও রাখতে পারেন।


    লেখকঃ

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com


    সবশেষ আপডেটঃ  সন্ধ্যা ০৭ঃ ৩৫,    ২৭ এপ্রিল ২০২৫

  • বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মোদি আবার বিবিসিকে ভাড়া করেছে

    বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মোদি আবার বিবিসিকে ভাড়া করেছে
    গৌতম দাস
    ১০ ডিসেম্বর ২০২৫   বিকাল ০৪ঃ ৩১
    https://wp.me/p1sCvy-6be

     

    দিল্লি-ঢাকা সম্পর্ক 

    গত পরশু আবার বিবিসি বাংলা ভাড়া নিয়েছে মোদি সরকার। হাসিনার পলায়নের পর গত পাঁচ মাসে  এটা হল মোদির তৃতীয়বার বিবিসি ভাড়া নেওয়া। টেম্পো-সিএনজিতে যেমন লেখা থাকে ভাড়ায় চালিত এটা অনেকটা সেরকম। বিবিসি বাংলার উচিত তার নিজের কপালে এমন একটা সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দেয়া যে ভাড়ায় চালিত জার্নালিজম করি আমরা! এখন মোদি ভাড়ায় চালিত জার্নালিজম এর মানে কী, এমনটা তারা পছন্দ করে কেন?
    এর জবাব হল, দায়দায়িত্ব না নিয়ে মিডিয়ায় যা মনে চায় কথা ছড়ানো।  যেমন বিবিসি বাংলায় এধরণের রিপোর্ট করতেছে শুভজ্যোতি ঘোষ যিনি, আমি আগে অনেকবার বলেছি, আরএসএস নেতা তথাগত রায়ের শিষ্য! এতে মোদির সুবিধা হল তিনি দাবি করবেন যে শুভজ্যোতির এই লেখার সাথে আমার সরকারের সম্পর্ক নাই। এটা অনেকটা চিন্ময়-ইসকনকে দিয়ে বাংলাদেশে মোদি সরকারের দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা যেটাকে মোদি সরকার আবার অস্বীকার করবেন যে চিন্ময়-ইসকন মোদি সরকারের কেউ নয়! যদিও চিন্ময় গ্রেফতার হয়ে গেলে তখন কিন্তু মোদি খোলস ছেড়ে ন্যাংটা হয়ে চিন্ময়-ইসকনের পক্ষে বিবৃতি দিবে!  এই হল মোদির ভাড়ায় চালিত চিন্ময়-ইসকন ততপরতা অথবা ভাড়ায় চালিত বিবিসি জার্নালিজম কিনে পরিচালনা!

    এবারের শিরোনামঃ

    দিল্লি কি অবশেষে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক সহজ করতে চাইছে?

    বলাই বাহুল্য বিবিচির এমন রিপোর্টের স্টাইল হবে যেন বাংলাদেশের জন্য এটা সৌভাগ্য যে ইন্ডিয়া যেন দয়া করছে – এভাবে লেখা। যেমন এখানে আমরা দেখছি লেখা হয়েছে – দিল্লি কী (দয়া করে) ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক সহজ করতে চাইছে!  আর ভিতরে মানে রিপোর্টের বডিতে লেখা হয়েছে একটা মৌলিক অনুমানে ধরে নেয়া কথা যেন বাংলাদেশ এক ইন্ডিয়ান কলোনি; ফলে ইন্ডিয়া যা দাবি করবে বাংলাদেশকে সেটাই করতে হবে। এককথায়, বাংলাদেশ যেন ইন্ডিয়ান ডিকটেশন [dictation] বা ফরমানে চলা এক দেশ! অর্থাৎ স্বাধীন-সার্বভৌম কোন দেশ নয়; ফলে এটা ইন্ডিয়ার হুকুমে চলা। তাই এই লেখায় ইন্ডিয়ান যারাই কথা বলেছেন তারা বাংলাদেশ তো ইন্ডিয়ান হুকুমে চলা দেশ এই মিথ্যা ভ্যানিটি বা অনুমানে ধরে নেয়া ভাবনার উপর দাঁড়িয়ে কথা বলে গেছেন। আর যেখানে বিবিসির শুভজ্যোতির কাজ হচ্ছে এমন অনুমানকে প্রশ্ন না করে চলতে দেয়া। মোদির ইন্ডিয়ার এমন খায়েসকে জায়গা করে দেয়া। কারণ, শুভজ্যোতিও তো এক ভাড়ায় চালিত বালক!
    এটা আবার বলা যায় অনেকটা যেন ধরে নেওয়া যে গত ষোল বছরের (ইন্ডিয়ার বসানো) হাসিনা শাসন যেন এখনও আছে, চলছেই!  তাই এই ডিকটেশন স্টাইলে বক্তব্য বা দাবি! এজন্যই যেটাকে আমি ভদ্র ভাষায় বলেছি – এটাই ইন্ডিয়ান হেজিমনি বা আধিপত্যবাদ। এক হিন্দুত্ববাদী আধিপত্য কায়েমের প্রচেষ্টা!  কাজেই বাংলাদেশের আগামি রাজনীতির মুখ্য বৈশিষ্ট  ইন্ডিয়ান আধিপত্য-বিরোধী এটাই হবে!  যদি না হতে পারে যে রাজনীতির ঝোঁক টা বিএনপির মধ্যে উঁকি দিতে দেখা যাচ্ছে এর মুখ্য বৈশিষ্ট হবে ইন্ডিয়ান আধিপত্য এর পক্ষে!

    এবার সোজা আসা যাক মূল প্রসঙ্গেঃ
    বিবিসির এধরণের তৃতীয় রিপোর্ট দিয়ে মোদির ইন্ডিয়া যা বলতে চেয়েছে  তা হল, তারা এখন বাংলাদেশের সাথে দ্রুত সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চায়।  কিন্ততু এতে যেন তারা বাংলাদেশকে একটা বিরাট ফেবার করছে এই ভাব ফুটিয়ে ধরে তাদের ইউজুয়াল কিছু গোয়ার্তুমিও  সাথে রেখেছে যেমন, “তাদেরকে বড় ভাই মানতে হবে”।  যেটা অন্যভাষায় বললে তারা দুটা শর্ত দিয়েছে। বিবিসি লিখেছেঃ

    “ভারতের দিক থেকে এই প্রচেষ্টা হবে পুরোপুরি ‘শর্তাধীন’ – অর্থাৎ ভারতের দেওয়া বিশেষ কয়েকটি শর্ত পূরণ না হলে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে দিল্লি সম্ভবত খুব একটা গরজ দেখাবে না”।
    “…..আর এর মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দু তথা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা কিংবা পরবর্তী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অন্তর্ভুক্ত করার মতো অতি স্পর্শকাতর বিষয়ও থাকতে পারে”।

    এতটুকুই না তবে এটাই মুল দাবি! মানে সাথে খুচরা দাবিও কিছু আছে সেকথায়  পরে আসব।

    তবে ইন্ডিয়ার আগ্রহ যে একেবারে গলে পড়তেছে তার ছাপ-ইঙ্গিত রেখে বিবিসি লিখছেঃ

    “গত তেসরা জানুয়ারি (শুক্রবার) দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিং-এ বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে মুখপাত্র নতুন দু’টো শব্দ যোগ করেন।
    মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল একটি প্রশ্নের জবাবে বলেন, “ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের সাম্প্রতিক ঢাকা সফরের পরই প্রেস বিবৃতির আকারে এই মনোভাব স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, ভারত একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ ও প্রগতিশীল, ইনক্লুসিভ বাংলাদেশকে সমর্থন করে”।”

    বিবিসি এরপরে নিজেই মন্তব্য জুড়ে দিয়ে লিখছেঃ “বছরখানেক আগেকার চেয়ে ভারতের এই বক্তব্যে নতুন শব্দ দু’টো হচ্ছে – গণতান্ত্রিক আর ইনক্লুসিভ (অন্তর্ভুক্তিমূলক)“।

    ইন্ডিয়া আসলে বিশ্বযুদ্ধ-উত্তর রাষ্ট্র ধারণাটা এখনও বুঝল নাঃ
    এভাবে শিরোনামে আ লিখেছি যে “ইন্ডিয়া আসলে বিশ্বযুদ্ধ-উত্তর রাষ্ট্র ধারণাটা এখনও বুঝল না” – ঠিক এটাই বুঝাতে চেয়েছি।  আসলে এখন এটা বলাই যায় যে এখন পর্যন্ত দুনিয়ার ইতিহাসের মোটা দাগে তিনটা পর্যায় দেখা যাচ্ছেঃ এক. বিশ্বযুদ্ধ-পুর্ব কলোনিদখলের দুনিয়া  দুই. কলোনিমুক্ত আমেরিকান নেতৃত্বে গ্লোবাল অর্ডারের দুনিয়া আর তিন. (এটা আসন্ন মানে হবু) চীনের গ্লোবাল অর্থনৈতিক নেতৃত্বে উইন-উইন [win-win] এর দুনিয়া।ীভাবে তিনটা পর্ব ভাগ করেছিল একই কলোনিদখল ধারণাটার ভিত্তিতে। বিশ্বযুদ্ধ-পুর্ব মানে ১৯৪৫ সালের আগের দুনিয়াটা ছিল ছোট বড় পাঁচ (বৃটিশ, ফরাসী, ডাচ, স্পানিশ ও পর্তুগীজ) কলোনিদখলদারের দুনিয়া; যারা সারা দুনিয়ার কোন ভুখন্ড খালি ছিল না সবটাই এই পাঁচ কুতুবের কেউ না কেউ দখল করে রেখেছিল – এমনই সেই দুনিয়াটা। ফলে প্রধান বৈশিষ্ট কোন আন্তঃরাষ্ট্রীয় পণ্য বাণিজ্য বিনিময় নয় (সেখানে ছিল না) বংরং কলোনি দখল আর লুট – আমাদের মত দেশের অর্থনীতির সারপ্লাস বা বাড়তি মূল্য বা সঞ্চয় সব লুট ও নিজ কলোনি মালিক দেশে পাচার – এই ছিল ওর মুখ্য বৈশিষ্ট।
    আর দুইঃ বা দ্বিতীয় ধারার মূল বৈশিষ্ট হল,  অন্যের ভুখন্ড কলোনি করে রাখা অপরাধ মানে একটা কলোনিমুক্ত স্বাধীন রাষ্ট্রের দুনিয়া এবং এমন স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর সকলকে সদস্য করে নিয়ে একটা পুঞ্জীভুত [ইউনাইটেড] রাষ্ট্রপুঞ্জ [United Nations বা জাতিসংঘ] প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থায় গড়া একটা গ্লোবাল অর্ডার [Global Order] দাঁড় করানো।  যার আরেক বৈশিষ্ট হল, আন্তঃরাষ্ট্রীয় পণ্য বাণিজ্য এর গ্লোবাল এক্সচেঞ্জ বা বিনিময় ব্যবস্থা স্থাপন [আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে]। প্রাতিষ্ঠানিকতা হিসাবে মুলত জাতিসংঘ,  আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক; এদের মাধ্যমে আমেরিকার নেতৃত্বে একটা গ্লোবাল অর্ডার (গ্লোবাল সিস্টেম) প্রতিষ্ঠা পায় তাতে যেটা মূলত এক গ্লোবাল পলিটিক্যাল সিস্টেম আর একটা  গ্লোবাল ইকোনমিক সিস্টেম গড়ে তুলেছে।  এভাবে এক
    আর তিনঃ এটাকে বলেছি চীনের গ্লোবাল অর্থনৈতিক নেতৃত্বে উইন-উইন বৈশিষ্টের দুনিয়া। এই পর্বকে বুঝতে হবে আন্তঃরাষ্ট্রীয় পণ্য বাণিজ্য বিনিময়ের দ্বিতীয় পর্যায় হিসাবে। আর এই দ্বিতীয় পর্যায়টাই উইন-উইন পর্যায়।
    অর্থাৎ হবু চীনের নেতৃত্বের দুনিয়াতেও আগে তৈরি হওয়া গ্লোবাল অর্ডারেও আরো পরিবর্তন আসবে। কিন্তু সেটা পলিটিক্যাল ও ইকোনমিক দুই ক্ষেত্রেই নয় বরং মূখ্যত সেটা ইকোনমিক অর্ডার বা সিস্টেমে। মানে গ্লোবাল বিকাশ পর্বের এই তিনটা পর্যায়কে যদি গরীব দেশের অর্থনীতির সারপ্লাস বা বাড়তি মূল্য বা সঞ্চয় সব লুট ও নিজ কলোনি মালিক দেশে পাচার – এই চিন্তা ফ্রেমের মধ্যে থেকে দেখি তবে প্রথম পর্বটা হলঃ সারপ্লাস পশ্চিমে নিয়ে যাওয়া আর যেখানে দ্বিতীয় পর্বটা হল, ঐ সারপ্লাস ফিরে পশ্চিম থেকে পুবে (এশিয়া ও আফ্রিকা ল্যাটিনো ভুখন্ডে) যার নতুন নাম বিনিয়োগ – এই নামে লূট করা সারপ্লাস এর ফিরে আসা।

    তাহলে তৃতীয় পর্বের বৈশিষ্ট কী? উইন-উইন কেন?
    এই পর্বের মূল বৈশিষ্ট হবে ১। স্বীকার করে নেয়া হবে পুরানা তৃতীয় বিশ্ব (বা একালে চীন যেটাকে গ্লোবাল সাউথ বলছে) ধারণার দেশগুলোকে। সেটা এই অর্থে যে গ্লোবাল আন্তঃরাষ্ট্রীয় পণ্য বাণিজ্য বিনিময় ব্যবস্থায় তোমরা আসলে  খুবই গুরুত্বপুর্ণ পার্টনার।   অর্থাৎ আগে যেমন ভাবা হয়েছিল  – তোমরা তৃতীয়বিশ্ব হইলা আমরা যাদের লুট করবো সে আইটেম মাত্র। তোমাদের ভুমিকা হইল নিজেকে লুট হতে দেওয়া। আর সেখান থেকে (দ্বিতীয় পর্ব বলেছি যেটাকে) আমেরিকান নেতৃত্ব যে আন্তঃরাষ্ট্রীয় পণ্য বাণিজ্য বিনিময় এর যাত্রা এতে ইতিবাচক দিকটা হল, আমাদের মত দেশ বিনিয়োগ পেয়ে পুরানা স্থবির অর্থনীতি সচল হয়েছিল। যদিও এই বিনিময়টাই ছিল অসম। তাই তৃতীয় পর্বে এসে এই অসাম্য অনেকটাই কমবে পুরাটা নির্মুল না হলেও। আর সবচেয়ে বড় কথা এখানে গরীবদেশকেই বড়লোকেরা সাহায্য করতে এসেছে তাই তারা দাতা এই ভাবনাটা ঢিলা হয়ে যাবে। এর জায়গা নিবে পার্টনার কনসেপ্ট। যেমন বাংলাদেশ একটা ভাল বিনিয়োগের জায়গা বলেই চিনা বিনিয়োগ গন্তব্য বাংলাদেশ! তাই বাংলাদেশে চীনের কাছেও তার জন্যও দরাকারি এক গুরুত্বপুর্ণ পার্টনার। এটাই একটা বিনিময়ের উভয় প্রান্তের রাষ্ট্রের লাভালাভ এর ধারণা – তাই এটা উইন-উইন! যে বিনিয়োগকারী রাষ্ট্র উইন-উইন দিকটা আমল না করবে সে ব্যবসা-সম্পর্ক হারাবে। এছাড়া শেয়ার্ড ভ্যালু চেন ধরনের এক নয়া উতপাদন ব্যবস্থা আসতেছে। এখানে সেসব দিক বিস্তার করলাম না।   আমাদের মূল প্রসঙ্গে ফিরে যাই।

    কিন্তু ইন্ডিয়া সেই তিমিরেঃ
    যেটা বলছিলাম ইন্ডিয়ান বুঝাবুঝিতে (একাদেমিক বা ব্যবহারিক রাষ্ট্র-সরকারে) সবখানে রাষ্ট্র তাদের কাছে কে কাকে কলোনিদখল করে আধিপত্য প্রভাবে রাখতে পারে এর বেশি কিছুই না। এটাই সেট করে দিয়ে যাওয়া নেহেরুয়ান রাষ্ট্র বুঝাবুঝি। এর সারকথা হল, রাষ্ট্র মানেই কে বুদ্ধি খাটিয়ে কার উপর আধিপত্য খাটাতে পারে যেন এই খেলা একটা। যেটা আসলে শাসক বলতে যদি আপনি বৃটিশ শাসক বুঝেন আর এটাই স্থায়ীভাবে শাসক সম্পর্কে ধারণা জ্ঞান করেন তাহলে যেখানে আপনি পৌছাবেন। কাজেই দুনিয়ার তাবত পরিবর্তনগুলো হচ্তেছে বা আসছে তাতে অন্যকোন দিকে তাকানো যাবে না বরং এতে অন্যরাষ্ট্রকে নিজ কলোনি বা আধিপত্যের ক্ষেত্র হিসাবে ব্যবহারের যেসব সুযোগ যদি দেখতে পাওয়া যায় তবে ঝাপায় পরে গ্রহণ করা -এটাই ইন্ডিয়ায় কংগ্রেস-বিজেপি নির্বিশেষে শাসক চিন্তা যা আসলে তাদের রাষ্ট্র-বোধ!  এটাই আসলে নেহেরুয়ান আধিপত্যকামী এক রাষ্ট্র-চিন্তা!  ইন্ডিয়া তাই সারা দুনিয়াতে না পারুক তার পড়শী এলাকায় এমন হেরুয়ান আধিপত্যকামী এক রাষ্ট্র-চিন্তা দিয়ে পরিচালিত হতে যায়। এটাই তার পররাষ্ট্রনীতি বা বোধ!
    অতএব বাংলাদেশ ইন্ডিয়ার চোখে আধিপত্য কায়েম করে একে নিয়ন্ত্রণ করার এক রাষ্ট্র মাত্র।
    তবে এই সুযোগটা সে পেয়েছিল ২০০৭ সালের আমেরিকা বাংলাদেশকে ইন্ডিয়ার হাতে তার আধিপত্যে আমাদেরকে সঁপে দিয়েছিল বলে। বিনিময়ে ইন্ডিয়া আমেরিকার  চীন ঠেকানী (অর্থনৈতিক উত্থান ঠকানী) হাতিয়ার হতে পারবে এই অনুমানে, এই চুক্তিতে। কিন্তু ধর্মের কল বাতাসে নড়ে!  মানে চীনের প্রভাব (যেটাতা চীনের ঋণ-বিনিয়োগদানের সক্ষমতা থেকে উতসারিত) এটা কমে যাওয়া বা আমেরিকার তা ঠেকিয়ে দেওয়া দূরে থাক কোনই ফয়দা আনে নাই।  বাংলাদেশে চীনা ঠেসে দেওয়া ঋণ-বিনিয়োগ এর বাস্তবতা ও চীনের সক্ষমতাই বলে দেয় আমেরিকার চিন্তা-আকাঙ্খা ছিল অবাস্তব!
    কাজেই বাংলাদেশের উপর ইন্ডিয়ার আধিপত্য খাটানোর কোন বাস্তব সুযোগ অনুপস্থিত!
    কিন্তু এসব বুঝাবুঝি ইন্ডিয়ার একাদেমিক, রাষ্ট্রীয় নীতি বা কূটনীতিক জ্ঞানের মধ্যে অনুপস্থিত।  নেহেরুয়ান রাষ্ট্র বুঝাবুঝি বা ১৯৪৫ সালের পরের দুনিয়াটা আসলে কী সেই বোধ না থাকার জন্য।

    কাজেই আমরা এখন ফিরে যাই বিবিসি যেটা লিখেছে ভারতের “…প্রেস বিবৃতির নিজ মনোভাব আকারে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে,  (বাংলাদেশে) ভারত একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ ও প্রগতিশীল, ইনক্লুসিভ বাংলাদেশকে সমর্থন করে”। আর এই বিবৃতিতে নাকি দুইটা নয়া শব্দ আছে গণতান্ত্রিক আর ইনক্লুসিভ।
    যার অর্থ আবার বিবিসি-ই বলে দিয়েছে সেটা হল মানুষের ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার সে দেশে ক্ষমতায় আসুক, আর দুই বা ইনক্লুসিভের অর্থ হল, – “সমাজজীবনে সংখ্যালঘুদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত” –  আর “রাজনীতিতে সব ধরনের শক্তিকে ঠাঁই দেওয়ার” মানে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে দেওয়া বুঝানো হয়েছে……।

    বাংলাদেশ কীভাবে চলবে সেটা কী ইন্ডিয়া ঠিক করে দিতে পারেঃ
    প্রথম প্রশ্ন হল, বাংলাদেশকে কী ইন্ডিয়ার কথা শুনে চলতে হবে? কেন? বাংলাদেশ কী ইন্ডিয়ার কলোনি?
    ইন্ডিয়া যদি বাংলাদেশের হিন্দুদের রক্ষাকর্তা হিসাবে নিজেকে হাজির করতে চায় তাহলে আমরাও কী ভারতের মুসলমানদের রক্ষাকর্তা হবো না কেন? মোদি সেটা মানবেন না কেন? সবার আগে মোদির ইন্ডিয়ার সবাইকে এর জবাব দিতে হবে।
    দুইঃ এটা বড়ই তামাসার যে ইন্ডিয়া এখন ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার চাইতেছে। কেন? তাহলে গত ১৬ বছর হাসিনা কীভাবে ক্ষমতায় ছিল? তখন কেন এমন শর্ত ইন্ডিয়ার মুখ থেকে বের হয় নাই? তার মানে ইন্ডিয়া আসলে ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার নয় হাসিনাকেই আবার যেকোন ভাবে ক্ষমতায় সরকারে দেখতে চাইছে।
    আসলে হাসিনা ও তার দল আগামি রাজনীতিতে বা নির্বাচনে অংশ নীতে পারবে কিনা সেটা ঠিক হবে আমাদের আদালতে! তাদের উপর যে গুম-খুন, অপহরণের মামলা আছে সেই মামলার রায়ের দ্বারা এটা নির্ধারিত হবে। আর এনিয়ে ইন্ডিয়ার কোন কিছু দাবি করার কোন সুযোগ স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে নাই।
    অথচ বিনা সিক্রি যার জীবিনটা কেটেছে একজন পেশাদার কূটনীতিক হিসাবে তিনি এসব দাবি করছেন। যেন তিনি কূটনীতিক নয় এক দাইনি বুড়ির পরিচয় পেতে চাইছেন!!!

    যেমন শর্ত দিচ্ছেন আমরা পাকিস্তানের সাথে কেমন কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখব। বলছেন, “বাংলাদেশের মাটিকে পাকিস্তান যে কোনওভাবে ভারতের নিরাপত্তা স্বার্থের বিরুদ্ধে বা সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে ব্যবহার করবে না, সেটা নিয়ে শতকরা একশোভাগ নিশ্চিত হতে পারলে তবেই ভারত এই সম্পর্ক নিয়ে এগোতে পারবে”, বলেন ভিনা সিক্রি।  এখন তামাসাটা হল, মোদির ইন্ডিয়া ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক করেছে। এখন বিনা সিক্রির মত আমরা কী ভারতকে ইসরায়েল নিয়ে বলতে গিয়েছি? নাকি বিনা চাচ্ছেন আমরাও ইসরায়্বেল নিয়ে আমরাও মোদিকে পাল্টা শর্ত দেই???
    আবার বিবিসি লিখছে, “…ভিনা সিক্রির কথায়, “যত দ্রুত সম্ভব সে দেশে নির্বাচন আয়োজনের ওপর ভারত জোর দেবে। শুধু তাই নয়, সে নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হতে হবে, এবং তাতে সব দল ও মতাবলম্বীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।”
    আমরা নির্বাচন দ্রুত না দেরিতে করব এনিয়ে বিনা বলার কে? আর সব দল বলতে আমাদের আদালত হাসিনা ও লীগকে বাইরে রাখে কিনা তা ঠিক করবে সেখানে বিনা কথা বলার কে?

    আসলে যেকথা বলছিলাম, ১৯৪৫ সাল পরবর্তী রাষ্ট্র ধারণাটা কোনদিকে গিয়েছে এনিয়ে সারা ইন্ডিয়াতেই বুঝাবুঝি নাই।  তাই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে বিনা সিক্রি কী দাবি করতে পারেন না সেই লাগাম-বোধও তাদের গড়ে উঠে নাই। কাজেই বিনা সিক্রি আপনি পরে আসেন……।

    ইন্ডিয়ান হেজিমনি বা আধিপত্য উচ্ছেদই হবে বাংলাদেশে আগামি রাজনীতির মূল বৈশিষ্ট! এটা হতেই হবে তা আমরা আরো নিশ্চিত হলাম!!!
    আর এমন হলে, মানে ইন্ডিয়া যদি আধিপত্যশীল এক কলোনি-মালিক যেন এমন থাকতেই চায় তবে,   ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক সহজ স্বাভাবিক হবার হবার দরকার কী, সুযোগই বা কৈ? যেখানে সহজ স্বাভাবিক সম্পর্ক মানেই হল ইন্ডিয়ান আধিপত্য! এর কী আমাদের দরকার আছে?

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  সন্ধ্যা  ০৭ঃ ২৫   ১০  জানুয়ারি ২০২৫

  • কেন বাংলাদেশ বারবার হিন্দুত্ববাদের কাছে হেরে যায়!

    কেন বাংলাদেশ বারবার হিন্দুত্ববাদের কাছে হেরে যায়
    গৌতম দাস
    ২৭ নভেম্বর ২০২৪ বিকেল ০৪ঃ ১১
    https://wp.me/p1sCvy-5QA

    বুধবার দুপুরে নগরের টাইগারপাস মোড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিক্ষোভ সমাবেশ হয়- সমকাল

    প্রথমে নিচের  (উপরেরটা নয়) ছবিটার দিকে দেখেন। পরামর্শ হল, “বন্ধু দেশের জন্য তো অনেক লড়ছো এবার ধর্মের জন্য লড়াই করতে প্রস্তুত হও”। এটা একজনের ফেসবুক থেকে নেওয়া।

    যা সারকথায় “দেশ অনেক হয়েছে এখন আসো ধর্মের জন্য লড়ি”। এভাবে দেশ-রাষ্ট্র বোধ আর বিপরীতে ধর্মের মধ্যে  গন্ডগোল করে ফেলা – এটার মূলে আছে আমাদের রাষ্ট্রস্বার্থ-বোধ-হীনতা।
    রাষ্ট্র বনাম মুসলমানিত্ব (ধর্ম) – আসলে আমরা কোনটা পেয়েছি? এই বিভ্রান্তির শুরু সেই ১৯৪৭ সাল থেকে।  যার মূল হল রাষ্ট্রবোধ হীনতা। বা রাষ্ট্রস্বার্থ-বোধ হীনতা।
    আর এই রাষ্ট্রস্বার্থ-বোধ হীনতা যেটা আসলে রাষ্ট্র কী ও রাজনীতি কী এর বোধহীনতা – এটার কারণেই আমরা বাংলাদেশ বারবার হিন্দুত্ববাদের কাছে হেরে যাবো ও গিয়েছি।

    একারণেই বারবার প্রথম আলোর পক্ষে কোন একদল ‘৩৪ জন’ বিবৃতি
    দাতা জুটে যাচ্ছে, গিয়েছে সব সময়!
    অথচ এযুগে বিশেষ করে ২০০১ সালের পরে জঙ্গী-ইসলামিস্ট ট্যাগ এড়িয়ে মানে সুযোগ না দিয়ে আর নিজ নিজ রাষ্ট্রস্বার্থবোধের উপর দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক লড়াই করার কাল এটা।  ধর্মীয় জাতিবাদ বোধ এখানে পিছনে রাখতে হবে নইলে ট্যাগের শিকার হবেন আপনি।  অথচ এসব বিবেচনা ভুলে ধর্মযুদ্ধ যেন সেসব ইঙ্গিত প্রকট করে তুলতে চেয়ে বসছি আমরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে; এটাই প্রধান ধারা হয়ে যায় বলে বহু জেনুইন উদ্যোগ মাঝপথেই মারা যায়!

    ১৯৪৭ সালের  পাকিস্তান কায়েমকে কী করে দেখাবো বা দেখবোঃ 
    ১৯৪৭ সালের পাকিস্তান কায়েমকে কী করে দেখবো? মানে সেটা কী রাষ্ট্র পেয়েছি না ধর্ম (ইসলাম / মুসলমান) পেয়েছি? এই বিভ্রান্তি আসলে সেই থেকে। এর উত্তর হল, মুসলমান জনগোষ্ঠির প্রায় সকলে মনে করেছিল তারা নাকি ধর্ম মানে ইসলাম / মুসলমান হতে পেরেছে যেমন সেটা এই অর্থে যে তারা নাকি এখন খোলা বাতাসে শ্বাস নিয়ে বলতে পারবে তারা মুসলমান! কিন্তু তাই যদি হবে তাহলে রাষ্ট্র জিনিষটা কী? বা আরো প্রত্যক্ষ প্রশ্ন, নয়া এমন কি হল যে এখন তারা খোলা বাতাসে শ্বাস নিয়ে নিজেদের মুসলমান ভাববার সুযোগ পাবে? যেমন ধরেন তাহলে জিন্নাহ কে? আর পাকিস্তানই বা কী? কেন পাকিস্তানের ফরমাল নাম “ইসলামি রিপাবলিক অব পাকিস্তান”?
    সরাসরি জিজ্ঞাসা করলে যেমন, পাকিস্তান কী তাহলে? এটা অন্তত কিছু একটা নয়া প্রতিষ্ঠান তা তো বুঝাই যাচ্ছে; কিন্তু  এর কী দরকার? জবাবটা হল, এই নয়া প্রতিষ্ঠান এটারই নামই হল রাষ্ট্র যা এর জনগোষ্ঠির (যাদেরকে নাগরিক বলা হয়) স্বার্থ আকাঙ্খা বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু রাষ্ট্র (!) সেটা আবার কী? এটা খায় না মাথায় দেয়  – এই ছিল আমাদের বোধের অবস্থা!

    এই অবস্থাটাই এখনও আছে। তাই উপরে দেখেন আমরা অবলীলায় বলে চলছি – এটা একজনের গতকালের  এই উপলব্দি / স্টাটাস। তিনি বলছেন যে  “বন্ধু দেশের জন্য তো অনেক লড়ছো এবার ধর্মের জন্য লড়াই করতে প্রস্তুত হও”!! যেখানে দেশের লড়াই আর ধর্মের লড়াই একেবারেই আলাদা?????
    কিন্তু আসলে সেকালে কায়েম হওয়া নয়া রাষ্ট্র পাকিস্তান – এর হাজির হওয়ার মূল তাতপর্য ছিলঃ পাকিস্তান এক নয়া রাষ্ট্র  আর এটাই ছিল ঐ ভুখন্ড অন্তর্গত জনগোষ্ঠির প্রধান ‘রাজনৈতিক’ প্রতিষ্ঠান ও ‘রাজনৈতিক ক্ষমতার’ প্রতিষ্ঠান।  কিন্তু এই রাজনৈতিক এর মানে?
    যা হওয়ার কথা ছিল কাম্য ছিল কিন্তু আজও হয় নাই এই আইডিয়াল ধারণাটা হল, নয়া পাকিস্তানের জনগণ এক নয়া রাজনৈতিক জনগোষ্ঠি [পলিটিক্যাল কমিউনিটি বা POLITY] হিসাবে নিজেদের রাজনৈতিকভাবে গঠন [constitute]  করে নিবে, সে অনুসারে তাদের নয়া কনষ্টিটিউশন, নয়া জনআকাঙ্খার প্রকাশ হিসাবে নির্বাচন ও সরকার গঠন করে নিবে।
    কিন্তু হতাশার কথা হল, এসবই হয়ে থেকে গেছিল আইডিয়াল কথাবার্তা  বা বইয়ের কথা;   যা এর বিপরীতে রিয়েল [real] বা বাস্তব হয়ে উঠতে পারে নাই কখনই। এর মূল সমস্যাটা হল রাষ্ট্রবোধ শুণ্যতা। আর বিপরীতে যেন পাকিস্তান পাওয়া বা কায়েম যেন ছিল এক ধর্মযুদ্ধ আর সেই ধর্মযুদ্ধে জয়লাভের ঘটনা – এই বোধটাই প্রধান বা আধিপত্যশীল ধারণা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।  যদিও রাষ্ট্রবোধের উপর দাঁড়িয়ে এক পাকিস্তান রাষ্ট্র কায়েম  হলে সেই রাষ্ট্রই জনগণের বৈষয়িক স্বার্থ ও স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার রাষ্ট্র এবং একই সাথে  মুসলমানসহ সকল জনগোষ্ঠির নিজ নিজ ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ধর্মপালনে স্বাধীনতা রক্ষার রাষ্ট্র হওয়ার কথা ছিল।
    বাস্তবের পাকিস্তানে যার কোনটাই হয় নাই।

    বরং এরপরেও আবার আরেক বিতর্ক যে পাকিস্তান হওয়াতে আমরা কী ইসলাম পেলাম নাকি ভালো মুসলমান হওয়ার সুযোগ পেলাম, এভাবে রাজনীতিক বা পলিটিক্যাল হওয়ার মানে কী, তা অস্পষ্ট হয়ে থাকায় এসব অপ্রাসঙ্গিক তর্কে সমাজ ডুবে যেতে থাকে। এর সাথে আরো নয়া তর্ক যে কোন ব্যাখ্যার (ফেকড়া বা মাজহাব) ইসলামটা সহি এনিয়ে এক অনন্ত ভেদাভেদের তর্কে আমরা বিভক্ত হয়ে ডুবে যেতে থাকলাম! অথচ রাজনৈতিক হওয়া বা – রাজনৈতিক কমিউনিটি- হয়ে উঠার সাথে নিজ মুসলমান পরিচয় ঢিলা হয়ে যাওয়া বা হারানোর কোন সম্পর্ক না থাকলেও রাজনীতি ও রাষ্ট্র জিনিষটা কী তা আজও সমস্ত বোধ-হুশজ্ঞান থেকে দূর থেকে দুরস্তেই চলে যেতে থেকেছিল। যার প্রভাব এখনও।

    “জীবনে কোন দিন নামাজ পড়া ত দূর কি বাত,পশ্চিম দিকে উষ্ঠা না খাওয়া কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর কাছে মুসলিমরা আজীবন ঋণী থাকবে
    দু’দুটো স্বাধীন মুসলিম ভূখন্ডের জন্য। বৃটিশ আর হিন্দুত্ববাদীদের গ্রাস থেকে এই জমিন আমরা পেয়েছি যার অবদানে তাকে ভুলে গেলে চলবে না। ৪৭ তাই এখনও প্রাসঙ্গিক।”

    গতকালের ঘটনা-প্রতিক্রিয়ায় এটা আরেকজনের ফেসবুক প্রতিক্রিয়া, যা ছিল এরকম উপরের এই দুই লাইন। শুনতে ভাল লাগলেও আমার মনে হয় না কথাটা সঠিক। যেমন জিন্নাহর কাছে মুসলিমরা আজীবন ঋণী থাকবে কেন? কেবল, স্বাধীন মুসলিম ভূখন্ডের জন্য? পাকিস্তান রাষ্ট্র পাওয়াটা তাহলে কিছু না? অর্থাৎ এখানে রাষ্ট্র ও রাজনীতি বোধ বাদ দিয়ে বা পাশ কাটিয়ে কেবল “মুসলমান” এর অপ্রাসঙ্গিক জয়গান?? এ’এক না-বুঝ অবুঝ জয়গান! এভাবে এই বোধ নিয়ে কী চলা যাবে আর কতদিন চলা যাবে?
    ইতিহাস বলছে না এভাবে একটুও চলে নাই।

    ইতিহাস বলছে – না এভাবে চলে নাইঃ
    ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান কায়েমের পরে মাত্র সাত বছর পাকিস্তানের ১৯৫৪ সালের প্রথম নির্বাচনেই সব সাফা – পাকিস্তান কায়েমের নায়ক বিপ্লবী মুসলিম লীগ ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যায়, অন্তত পুর্ব-পাকিস্তান থেকে।  যুক্তফ্রন্ট যা পরে ক্রমশ দশ বছরের মধ্যে আওয়ামি লীগ হয়ে হাজির হয়ে যায়।
    এভাবে মাত্র সাত বছরের মধ্যে ইসলাম বা মুসলমানের ভুখন্ড পাওয়া গর্ব এর (রাষ্ট্রবোধ শূন্যতা) পাকিস্তান – সেটা ১৯৫৪ সালের নির্বাচনেই হাওয়ায় মিলিয়ে যায়।
    একটা মজার তথ্য দেই।

    জমিদারি ব্যবস্থাঃ
    ১৯৪৭ সালের আগের বৃটিশ-ইন্ডিয়ার বেঙ্গলে পুর্ববঙ্গও সারা বেঙ্গলের মতই জমিদারি ভূমি মালিকানা ব্যবস্থার অন্তর্গত ছিল। ফলে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান কায়েম হওয়ার  পরের নয়া সোজাসাপ্টা অর্থ হল, পুর্ব পাকিস্তানের হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সকল প্রজা কৃষকের  আর জমিদার-হিন্দুর প্রজা থেকে যাওয়া নয়; কার্যত এথেকে মুক্ত হয়ে গেছিল তারা। একেবারে জমিদারি উচ্ছেদ হয়ে যাওয়া আর সেই প্রথম সমাজের সবচেয়ে নিচে পড়ে থাকা অসহায় উপেক্ষিত তুচ্ছ ‘মুসলমান চাষা’ এই প্রজা-মুসলমান পরিচয় ঘুচিয়ে তাদের এই প্রথম ভূমি মালিক মুসলমান হওয়া, এই ছিল পাকিস্তান কায়েমের মুখ্য তাতপর্য।  আর আইনগতভাবে তা ঘটেছিল ১৯৫১ সালে নয়া প্রজাস্বত্ব আইন [সরকারি কাগজে এই নামে – রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০] ।  

    এখন আমাদের নিজেরাই নিজেদের সাথে কেমন তামাসা করেছি দেখেন। গ্রামের গরীব মুসলমানেরা এই আইনের কারণে, [আসলে জমিদার হিন্দুকে খাজনা দেয়া মাঠে বন্ধ হয়ে যায় ১৯৪৭ সালের পর থেকেই, শুধু তাই না পরে ১৯৫১ সালে  জমিদারি উচ্ছেদ ও নিজে  ভূমি মালিক মুসলমান হওয়ার পক্ষে আইনি দলিল হাতে পায়]; তাই এই প্রথম নিজেদের জীবন-মান উন্নতির পথে যাত্রার দিশা পেয়েছিল। ফলে স্বভাবতই এবার প্রান্তিক মুসলমান চাষা ভূমি মালিক মুসলমান হওয়ার  যার সোজা মানে হল তখন থেকে অনেক প্রান্তিক মুসলমানের ছেলেরাও তাদের বাপের অর্থে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যেতে পারে।

    অথচ  ভূমি মালিক মুসলমান এই নয়া শ্রেণীই পরের বছর মানে ১৯৫২ সালে আরেক রূপে হাজির হয়েছিল।  ভাষা আন্দোলন ইস্যুতে সেই প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পাঠানো তাঁর সন্তানের উপর কেন গুলি চালানো হলে এটা তাঁর আগামি তাঁর স্বপ্নের পথে বাধা গণ্য করে সেবার থেকে সে শাসক মুসলিম লীগ এর হাত ছেড়ে দিয়েছিল। আর সেই থেকে  বা তাই থেকে; ক্রমশ কমিউনিস্ট-প্রগতিশীল বয়ানের চক্করে পড়ে এই নয়া শিক্ষিত মুসলমান মধ্যবিত্তের ঝোঁক বাড়তে থাকে কথিত প্রগতিশীলতার ঝান্ডা ধরার। এডুকেটেড মুসলমানেই এর অর্থ হয়ে যায়, হয়ে দাড়ায় যে – কিসের জিন্নাহ কিসের পাকিস্তান ইত্যাদি সব ফেলে দেও; আর হয়ে যাও জেনে না জেনে প্রত্যক্ষে-পরোক্ষে “প্রগতিশীল”।  প্রগতিশীলতাই যে আসলে হিন্দুত্ববাদ তা আজও শিক্ষিত মুসলমানের মধ্যে তাই স্পষ্ট সচেতনা নাই এই অবস্থা হয়ে যায়।

    অনেকে আমার উপরের এই বাক্য শুনে মনে করবেন বা মিথ্যা প্রপাগান্ডা করবেন বা করতে পারেন যে আমি বোধহয় হিন্দুত্ববাদের কথা তুলে শিক্ষিত মুসলমানদেরকে ইসলামিস্ট (জঙ্গি) হতে উস্কানি দিলাম! তাই, কী করে বুঝবেন আমি ঠিক কী বলেছি?
    কথাটা বুঝা একদম সোজা। আমি বলতে চেয়েছি আপনাকে যা হতে হবেঃ

    আপনি বাংলাদেশি নয়া শিক্ষিত মুসলমান (হিন্দুসহ সকলেই) জনগোষ্ঠি যারা অন্তত আর
    ১। কলকাতাকে কেবলা মনে করেন না।
    ২। তারা মুসলমান হয়েই পাপ করেছেন
    এমন কোন ধারণা মনে জায়গা দেন না;
    ৩।  বরং তারাও কলকাতার চেয়ে ভিন্ন আরেক ধরণের বাঙালি যারা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে ফলে নয়া রাজধানি ঢাকা-কেন্দ্রিক তাদের
    এক নয়া বৈশিষ্টের বাঙালি তাঁরা ও তাদের বাংলা ভাষা; এরা তাই কলকাতা বাঙালি জনগোষ্ঠির কাউকে ফলো করে না, চলে না।
    ৪। তাই তাদের কালচারাল প্রকাশ নয়া, আগের সবার চেয়ে ভিন্ন। ৫। কলকাতার
    জমিদার-হিন্দুর প্রভাবের হাতে আকার পাওয়া কালচার তা, কোন সুত্রেই এটা তাদের পুর্বপ্রজন্ম নয়। ফলে এর আনুগত্য তাদের জন্য হারাম। কলকাতাকে আমাদের পুর্বপুরুষ গণ্য করে আবার নিজে মুসলমান বলে মনে কোনভাবেই কোন পাপবোধে কলকাতা তাদের নমস্য বা অনুকরণীয় ইত্যাদি এসব কথা কঠোর ভাবে মনে থেকে বের করে দিতে হবে –
    এনিয়ে কোন ধরণের হীনমন্নতাবোধ যেন জায়গা পায়। এই হলো মূল ফ্রেম বা চিন্তা কাঠামোটা।

     

    এরপর বাংলাদেশের এই নয়া জনগোষ্ঠি্র মধ্যকার কে কে আধুনিক হবে, তাতে পশ্চিমা অনুসরণ করবে বা একেবারেই করবে না; কে অল্প বা বিস্তর ভাবে সাথে মুসলমান পরিচয়ও ধারণ করবেঃ এমনকি কী মাত্রায় ইসলামিস্ট হবে বা একেবারেই হবে না ইত্যাদি এসবের যে কোনটা পছন্দ করবার স্বাধীনতা তাদের যার যার।  কথা একটাই কোনভাবেই কলকাতার কালচারাল আনুগত্য নয় বা ভারতের আধিপত্যের আনুগত্য নয় – এব্যাপারে কঠোর হারাম জ্ঞান ভিতরে জাগাতে হবে। এককথায় এটা হতে হবে এডুকেটেড মুসলমান এবং এডুকেটেড যে কোন বাংলাদেশির নয়া রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অভিমুখ।

    যেমন লক্ষ্য করেন, এখনকার সাদা আমেরিকানেরা, এরা আর বৃটিশেরা উভয়েই একই বৃটিশ (আমেরিকার বেশির ভাগ) এথনিক অরিজিনের মানুষ। মানে উভয়ের এথনিক অরিজিন একই।  কিন্তু তা হওয়া সত্বেও ১৭৭৬ সালের [১৭৭৬ সালে আমেরিকা বৃটিশবিরোধী, বৃটিশ কলোনিশাসন বিরোধী এক স্বাধীন রাষ্ট্র হয়ে যায়] পরের স্বাধীন আমেরিকা (যেমন তাদের পুরানা এথনিক পরিচয় যে তারা) বৃটিশ- এংলো এটা পরিত্যাগ করে নিজেদের নয়া যেন এক এথনিক পরিচয় ধারণ করেছিল যে তারা স্বাধীন আমেরিকান; (আসলে বাস্তবে সেটা হয়েছিল আর কোন এথনিক-ই নয় বরং রাজনৈতিক পরিচয়) এমন এক নয়া পরিচয় প্রতিষ্ঠা করেছিল;  আমাদেরকেও সেটাই বা তেমনই একটা কিছু করতে হবে। ফলে বুঝতেই পারছেন ভারতের আধিপত্য এর বিরোধিতা ও কলকাতার কালচারাল আধিপত্য এদুটাকে ত্যাগ করে নিজেদেরকে নয়া ভাবে উঠে গড়া – আমি এর কথাই বলছি। বলাই বাহুল্য এটা কোন সুনির্দিষ্ট ইসলামিজম বা ধর্মীয় কোন কিছুই নয়।  ভারতের আধিপত্য এবং কলকাতার কালচারাল আধিপত্যকে অস্বীকার ও বিরোধিতা করতে বলা মানেই আমি কোন ইসলামিজমের কথা বলছি না।  যদিও বুদ্ধিমান হলে, ইসলামিজমকে একেবারেই অন্তরের, ভিতরের বিষয় করে সাথে রাখতে পারেন। নইলে না।

    এই কথাগুলো যতক্ষণ আমরা রিয়েলাইজ বা অনুভব না করব ততক্ষণ আমরা বারবার হারতেই থাকবো। প্রথম আলো-রা ফাঁকফোকড় দিয়ে টিকে যাবে। বারবার ৩৪জন করে হিন্দুত্ববাদি=প্রগতিবাদিরা প্রথম আলোদের পক্ষে বিবৃতি দিয়ে উঠে দাঁড়াবে আর অভিযোগ করবে যে যারা প্রথম আলোর বিরুদ্ধে তারা নাকি  –“সাম্প্রদায়িক উসকানি ও বিভেদ (আসলে কলকাতা থেকে বিভেদ)”  ছড়াচ্ছে তাই তাদের এই বিবৃতি।
    এধরণের সাফাই চলতেই থাকবে যতদিন আমাদের রাষ্ট্রস্বার্থ বোধ কাজ না করবে। সবকিছুকেই যেন ধর্মযুদ্ধ – এমন ধর্মীয় বয়ানে নিজেদের হাজির করতে থাকবো ততবার এটা এসব ৩৪ বুদ্ধিহারানোদের বিবৃতি আসতেই থাকবে ও তাদেরকে সুবিধা করে দেয়া হবে। আর তাদেরকে বিরোধিতা করা মানেই আমরা “ইসলামিস্ট” ততপরতা করছি  বা তাদের ভাষায় ‘সাম্প্রদায়িক’ বা ‘মৌলবাদি’ কাজ করছি ইত্যাদি এসব বয়ান দিয়ে তাদেরকেই শক্তিশালী করা হবে। তা আমরা না চাইলেও। এই ফাঁক দিয়ে তারা ভারতীয় দালালি ও ভারতীয় বয়ানের আড়ালে নিজেদের লুকিয়ে রাখার জায়গা করে নিবে।
    আর একারণেই ইসকন নিয়ে তাদেরকে কোন অসুবিধা বা অস্বস্তি বোধ করতে দেখবেন না। ইসকন বা চিন্ময়দের ততপরতা এমনকি এরা সরকারী পিপি কে হত্যা এটা কোন ব্যাপারই হবে না কোন ইস্যু হবে না তাদের কাছে। বরং উলটা চিন্ময়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে দাবী করবে যে আমাদের ইসকনের বিরোধিতা নাকি – “আত্মঘাতী সাম্প্রদায়িক রাজনীতি” -এভাবে খোলাখুলি ভারতের দালালি শুরু করেছে ও করে যাবে এরা। যেমন ফকরুল বলতে চাচ্ছেন – আসুন, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মুক্তির দাবীতে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকি ।

    এখন আমার একটা দুঃখের কথা বলিঃ
    ইদানিং দেখলাম, অনেকে ফেসবুকে তর্ক তুলছেন যে পাকিস্তান কায়েম হয়েছিল তাতে আমার প্রধান অর্জন কোনটা এনিয়ে। তারা দাবী করছেন যে এখন মানে পাকিস্তান কায়েমের পর থেকে তারা কোরবানি দেওয়া (গরু কোরবানি বা জবেহ দেওয়া) দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বাধীনতা ভোগ করা শুরু করেছেন।
    ঠিক এটাই আমার দুঃখ যে পাকিস্তান কায়েমের ফলে আমাদের প্রধান অর্জন হল জমিদারি উচ্ছেদ। যা না হলে, আমরা এখন গরীর প্রান্তিক ও সমাজের সবচেয়ে নিচু জাতের ( চরম জাতপ্রথা চিন্তায় দুষ্ট হিন্দুধর্মীয় সবচেয়ে নিচের জাত বলে চিহ্নিত যে মুসলমানের অবস্থান ছিল) এই অবস্থানে থাকা প্রজা মুসলমানেরা কোনদিনই এই সামাজিক অবস্থান থেকে মুক্তি পেত না – কোনদিনই নিজ চাষের জমির মালিক নিজেই হতে পারত না। যেই মুসলমান জনগোষ্ঠিই এখন সেই থেকে আপন উত্থান আমার মুক্তির দুয়ার খুলতে খুলতে আজ ৫০ বিলিয়নের ডলারের এক্সপোর্ট ব্যবসা সামলানোর মত ম্যানেজমেন্ট তারা দক্ষ হয়ে উঠেছে – আমাদের সেই মুসলমান চাষা জনগোষ্ঠিই। (কারণ মনে রাখতে হবে এই রপ্তানি মানে হল, যেদিন যতটার সময়ের মধ্যে মাল পৌছানোর কথা থাকবে তা ঘটাতে না পারলে ঐ সমস্ত মালামাল বিদেশি আমদানিকারক-গ্রহিতারা আর গ্রহণ করবেন না। তাই দক্ষতায় উতকর্ষ না হলে আপনি এই উতপাদন ব্যবস্থায় টিকতে পারবেন না। )   তাই এটা অকল্পনীয় উন্নতি, সুযোগ দিলে দাবিয়ে রাখা এই চাষা মুসলমান কত উপরে উঠতে পারে এর এক চমকপ্রদ উদাহরণ এটা। অথচ আমরাই মানে আমাদের একাংশ দাবী করছে পাকিস্তান কায়েমের ফলে আমাদের উন্নতি বা অগ্রগতির মাপকাঠি হল  কোরবানি দেওয়ার স্বাধীনতা অর্জন……!!!!!
    আর ওদিকে আমাদের এই চিন্তা-কৌশল ও নিজেকে উপস্থাপনের এই ব্যর্থতার দশা – এটাকে দেখিয়েই প্রথম আলো-রা দেখায় যে আমরা পশ্চাতপদ, আমরা জঙ্গী, ইসলামিস্ট! এসব আঙুল তুলবার সুযোগ নিয়ে প্রগতিবাদের নামে ভারতের আধ্যিপত্যের দালালেরা নিজেদের অপরাধ লুকিয়ে ফেলার সুযোগ নেয়, কত শত ৩৪জনও জুটে যায় তাদের পক্ষে বিবৃতি দেওয়ার জন্য!!!!!

    বলস [balls] – এই বল মানে মূলত খেলাধুলার বল। কিন্তু এই একই শব্দের একটা স্ল্যাং ব্যবহারও আছে। বহুবচনে ‘বলস’ বলা হয় তখন।  আমি প্রায়শই -মুরোদ- বলে একটা শব্দ ব্যবহার করে থাকি।  কথাটা মুলত ক্ষমতা – মানে যেমন আপনার “ক্ষমতা” আছে  কিনা এটা বুঝাতে ব্যবহার করি। এই মুরোদ বা ক্ষমতা আছে কিনা তা বুঝাতেও স্ল্যাং শব্দ হিসাবে ‘বলস’ ব্যবহার দেখা যায়।   যেমন আপনার ‘বলস’ আছে? মানে আপনার মুরোদ আছে? অথবা ধরেন বলা হল, ‘বলস’ কাকে দিয়ে আসছেন? মানে হল, কার দালালি করতে, কার মুঠোর মধ্যে আপনার বলস দিয়ে এসেছেন বা আপনার সমস্ত ক্ষমতা আটকে রেখে আসছেন?

    তো ইদানিং ঢাকায় এমন আরেকটা কথার প্রচলন বাড়ছে। যেমন, আজকাল “র-এর হাতে বলস আটকে যাওয়া” লোকের সংখ্যা বাড়ছে বা বেশি দেখা যাচ্ছে। মানে শুধু র-এর প্রভাবের প্রথম-আলো বা ডেইলিস্টারের মত প্রতিষ্ঠানই না, এমন প্রভাবের ব্যক্তির সংখ্যা বা কথিত বুদ্ধিজীবির সংখ্যাও বাড়ছে। এরা এমনকি এটাও লিখছেন – “আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা বাংলাদেশের পক্ষে নয়”। তাই দালালি করতে হবে, দালালিটা জায়েজ ইত্যাদি! অথচ অন্তত বিশ বছর আগে এরাই ক্ষমতাসীন সরকারের সাথে জেএমবির সম্পর্ক করিয়ে দেয়াকে সেকালে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী বিপ্লবীপনা গণ্য করেছিলেন।
    অর্থাৎ এদের এখন নিজের বলস র-এর হাতে আটকে পড়ার কারণে বা ছেড়ে দিয়ে আসার কারণে সবহারিয়ে এরাই এখন এসব বলে মানে করছেন যে – তখন বাস্তবতা নাকি “আমাদের  জেএমবির পক্ষে” ছিল, এখন নাই!!!!  তাই তিনি সব ধ্বংস করে নিজে ধ্বংস হয়ে এখন ইসকন-চিন্ময়-ভারতীয় আধিপত্যের পক্ষে নিজের বলস ভাড়া দিয়েছেন।

    সবচেয়ে মজার কথা হল, বলস আটকা পড়াদের এই লেখা দেখে অনেকে আবার এর মধ্যে বিরাট জ্ঞানের কথা আবিস্কার করেছেন। এটা নাকি  – তুলসি গ্যাবার্ড [Tulsi Gabbard] a Samoan American এর সঙ্গে সদ্ভাব করে আমাদের এখন বাঁচবার নাকি একমাত্র পথ বলে এসব নয়া মুরিদ অর্থ বের করেছেন। তাই চিন্ময়ের পায়ে ধরে মাফ চাইতে হবে – আর এটাই সঠিক লাইন – বলে দাবী করছেন। বলস আটকা পড়া বুদ্ধিবীচিদের পক্ষে সাফাই যোগাড় করে দিচ্ছেন। বুঝেন অবস্থা!

    কিন্তু তুলসি গ্যাবার্ড – এটা আবার কেঃ
    আসলে ‘র’ এখন – তাদের হাতে এসব বলস আটকানো লোকের মাধ্যমে আমাদেরকে জুজুর ভয় দেখাতে নেমে পড়েছে। আর এই ফাঁকে এসব পতিতরা ভারতীয় দালালিটা হালাল করে নিতে চাচ্ছেন।
    এদের কয়জন তুলসি গাবার্ডকে চিনেন কবে থেকে? কী জানেন তার সম্পর্কে?

    তুলসি আসলে আমেরিকার এক সাবেক নারী লেঃ কর্ণেল; মানে আমেরিকার দ্বীপ রাজ্য হাওয়াই এর মিলিটারিতে ছিলেন তিনি সেখান থেকে এই পদবী। পরে ২০১৮ সালে দুবছরের জন্য কংগ্রেস সদস্যও হয়েছিলেন।  এদের দাবী তুলসির মা সাদা চামড়ার হলেও তিনি নাকি হিন্দুত্ব নিয়েছেন। তবে তুলসি নন। কিন্তু তুলসির সাথে মোদির  ফলে আরএসএস ও ইসকন এর সাথে তিনি সম্পর্কিত।  সবচেয়ে মজার কথা হল যারা তুলসিকে নিয়ে আমাদেরকে ভয় দেখাচ্ছেন বা এই সুযোগে নিজেদের দালালি হালাল করতে চাচ্ছেন তারা কী জানেন তুলসি আমেরিকার কোন দলের সাথে সম্পর্কিত – ডেমোক্রাট নাকি রিপাবলিক?

    এবারের আমেরিকান নির্বাচনকালে সেপ্টেম্বরে ট্রাম্পের নির্বাচন-প্রচার কালে হঠাত তুলসি ট্রাম্পের পক্ষে প্রচারণায় প্রথম অংশ নিতে শুরু করেন। যার মানে হল, তুলসি আগে ডেমোক্রাট ছিলেন; মানে যতদিন ইসকনে ছিলেন তুখন তিনি আসলে ট্রাম্পের দলে না বরং বিপরীতে ডেমোক্রাট দলের লোক ছিলেন। এবং মোদির অর্থে প্রতিপালিত হতেন (এনিয়ে বিস্তারিত আমার পুরানা লেখা দেখতে পারেন, প্রিয়া সাহা- ইসকন ইস্যুতে)।
    কিন্তু এবার তিনি পুরানা দলসহ সবকিছু ছেড়ে ট্রাম্পের রিপাবলিকে যোগ দিয়েছেন। আর ট্রাম্প তাকেই নিজের আগামি প্রশাসনে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর উপরে কো-অর্ডিনেটর প্রধান হিসাবে বসাতে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখন যদি আমেরিকান দুই হাউজ এটা অনুমোদন করে।

    আর এটা শুনেই মোদি এন্ড গং আগেই প্রপাগান্ডা শুরু করে দিয়েছেন যে ট্রাম্প নাকি মোদির পক্ষে চলে গেছে? কিন্তু কীভাবে, এর কোন হদিস বা ব্যাখ্যা দিতে তারা রাজি না।  শুধু তাই নয়; এর মাধ্যমে ট্রাম্প নাকি একেবারে ইসকনকেই কোলে তুলে নিয়েছে। আসলে প্রপাগান্ডা গল্প বানাতে হয় কী করে তা যেন আমরা র-এর কাছ থেকে একটু শিখি, কানে কানে বলে মিথ্যা প্রচার কী জিনিষ তা যেন একটু শিখি জানি।

    তুলসি ডেমোক্রাট বা বাইডেনকে ছেড়েছিলেন ২০২০ সালে তিনি নিজেই প্রথম যখন সেবার ডেমোক্রাট প্রাইমারিতেই নিজেকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী করতে খায়েশ করেছিলেন, এর পরপরেই। স্বভাবতই এতে প্রথম ধাপই তিনি পার হতে পারেন নাই।  আর পরে বাইডেনের সাথে তাঁর মৌলিক বিরোধ বাধে যখন তিনি হঠাত যুদ্ধবিরোধী বলে নিজেকে হাজির করেন; ফলে বিশেষ করে ইউক্রেনের যুদ্ধ এর। এথেকে তিনি ডেমোক্রাট দলত্যাগ করে বসেছিলেন। আর ট্রাম্প তাকেই এবার নির্বাচনি প্রচারের শেষের দিকে তুলে নেন মূলত তুলসির যুদ্ধবিরোধি অবস্থান এটাকেই তিনি ব্যবহার করতে চান তাই। আমাদের মনে রাখতে হবে ট্রাম্পের নির্বাচনি নীতি হল – বিজয়ী হলে তার আমলে আমেরিকা কোন যুদ্ধে মেতে উঠবে না। মূলত এটা ট্রাম্পের রাষ্ট্রের ব্যয় সংকোচনের নীতি, তাই। তাই বেকার বসে থাকা তুলসিকে একাজে ব্যবহারের   ইচ্ছা থেকেই তুলসির আবার দৃশ্যপটে হাজির হওয়া। কিন্তু ট্রাম্পের বাকি সব নীতি কী প্রো-ইন্ডিয়ান?
    না বরং একেবারেই উলটা। আর তুলসি কী এখনও মোদি-ইসকনের সাথে যোগাযোগ রাখেন? জবাব হল দেখা যায় নাই, জানা যায় না।
    তার মানে মূলত ট্রাম্পের ভারত ইস্যুতে আসল অবস্থান কী দাড়ায় (ট্রাম্পের নীতির বেশির ভাগই ভারতের স্বার্থবিরোধি বলে প্রকাশিত) এর উপর সুযোগ হবে তুলসি ভারতের আদৌও কোন কাজে লাগে কিনা।  অথচ এখনই র-এর হাতে বলস ছেড়ে দেওয়া লোকেরা নিজেদের ভারতীয় দালালি হালাল করতে এখনই এরা তুলসি প্রপাগান্ডা হাজির করে দিয়েছে।

    এখন আসল কথায় আসি। ধরা যাক আগামিতে ট্রাম্প-তুলসি মিলেই ইসকনকে জাপ্টায় ধরলো। সেক্ষেত্রে বা সেজন্য কী আমরা আগেই এখন থেকেই ইসকন-চিন্ময়-ভারতীয় আধিপত্যের পায়ে চুম্মা দেয়া শুরু করবো?
    আর কেউ যদি বুদ্ধিবীচি না হন, তিনি কী আমাদেরকে এখনই পদচুম্বনে শরিক করাতে মাঠে নেমে যেতে পারেন? আহবান জানাতে পারেন?
    নাকি এসবের বিপরীতে আমাদের এখনই আমাদের স্বার্থের ভিত্তিতে ভারতীয় আধিপত্যবিরোধী মেরুকরণে মাঠে নেমে যাওয়ার কৌশলের পথে চলে যেতে হবে? কোন যুক্তিতেই কী আমরা বাংলাদেশে আবার ১৬ বছরের ভারতীয় র-এর আধিপত্য ডেকে আনতে পারি? পারি না। আমেরিকা সহ সারা পশ্চিমও যদি আরেকবার তা চায় সেক্ষেত্রে আমাদের এর প্রাণপণ বিরোধিতার নেমে পড়া ছাড়া আর কী করার আছে????
    একমাত্র ভারতীয় দালাল ও যাদের বলস আটকে গেছে র-এর হাতে এমন ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান তারাই কেবল তাদের নিজেদের দালালির পক্ষে সাফাই যোগাড়ের জন্য আমাদের বিরোধিতা করতে পারে…।

    সব শেষে  আজ বিএনপি-জামায়াত কী নিয়ে ব্যস্তঃ
    তারা ব্যস্ত যে সরকারী পিপি সাইফুল ইসলাম আলিফ কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে – সে কী বিএনপি নাকি জামায়েতের সমর্থক লোক? এই হল, তাদের গতকাল থেকেই ব্যস্ততার মূল ইস্যু। কারণ সাইফুলের বাডী লোহাগড়া জামায়াতের শাহজাহান চৌধুরি এর কনস্টিটুয়েন্সি। একই দাবী বিএনপির। অর্থাৎ সব বিবেচনা এখন লোহাগড়ার কনষ্টিটুয়েন্সি কেন্দ্রিক – আগামি নির্বাচনি বক্তৃতায় কে কী বলবেন, তাই। এই হল তাদের ইস্যু। তাই দুপক্ষই দলিল দস্তাবেজ বের করে সাইফুলকে তাদের লোক প্রমাণ করতে। কাজেই সব কী সুন্দর তাই না?

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  সন্ধ্যা ০৬ঃ ১০   ২৭ নভেম্বর  ২০২৪
    শেষ আপডেটঃ   সকাল ১১ঃ ৩০   ৩০ নভেম্বর ২০২৪

  • আমেরিকা পলাইতে নিলে তখন কী করে

    আমরা কী জানি না,
    আমেরিকা পলাইতে নিলে তখন কী করে

    গৌতম দাস
    https://wp.me/p1sCvy-5i1

    খুবই তাতপর্যপুর্ণ হিন্দুস্তান টাইমসের এই কার্টুন যা ছাপা হয়েছে এক রিপোর্টের সাথে। সারকথায় যা I WON! আর  BANGLADESH LOST! মানে হল  ইন্ডিয়ান অন্তত এই মিডিয়া আর হাসিনার সাথে নাই! 

     

     

    আমি বিরক্ত! যারপরনাই বিরক্ত! আমরা কী জানি না,
    আমেরিকা পলাইতে নিলে তখন কী করে? তাহলে?
    [যারা মনে করেন – “আমেরিকা পালাবে? আমার বিশ্বাস হয় না!” – আমি তাদের ধারণাকে সম্মান জানাচ্ছি। আর আপাতত আমরা দেখি ঘটনা কোন দিকে যায়। এর আগে পাশাপাশি থাকতে আমি অসুবিধার কিছু দেখছি না।]

    হাসিনা তো এই প্রথম নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করল না, এসব তো সে আগেও করেছে ফলে সেদিক থেকে নতুন কিছু না, সেসব। ফলে আমাদের অজানা নয়!

    কিন্তু বিরোধীরা মানে, যেমন ধরেন সুনির্দিষ্ট করে ফেসবুক-ভিত্তিক কিছু সরকারবিরোধীদের কথাই যদি ধরি – এদের মধ্যে কিছু লোক যারা বাস্তবতা ফেস করতে পারছেন না।  আচ্ছা বলেন ত – আমেরিকা পলাইতে নিলে তখন কী করে এটা কী আমরা জানি না!  দেখি নাই কখনো? তাই কী এখন  অনেকে বুঝতে পারছে না যে কী হইতেছে! আমাদের উচিত হবে আমেরিকা পলাইতে নিলে এর আগে (২০১৮ নির্বাচনের পরে) আমরা কী দেখেছিলাম সেই স্মৃতি হাতড়ানো! সব খুঁজে বের করা।

    এমনিতে যারা সহজে ভাবতে পারছেন না, সমস্যা তাদের একটা না অনেক। এই সমস্যা মনোগঠনগত! যেমন বাস্তব কী, রিয়েল [real]  কি – এটা তাদের কাছে অস্পষ্ট। মনে করেন বুঝেছেন কিন্তু আসলে না। আইডিয়েল কেই তারা রিয়েল মনে করেন তাই এরা কনফিউজড বা বিভ্রান্ত, আইডিয়াল [ideal] এর সাথে রিয়েলের ফারাক করে বুঝতে হবে।  আইডিয়েল মানে যা হওয়া উচিত জ্ঞান করে ব্যাপারটা জেনেছিলেন বা শিখেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে তা হয় নাই। কারণ বাস্তবে যা হয় ওটাই তো সত্যি, বাস্তব অর্থে সত্য [reality]!
    অথচ আমাদের সরকারবিরোধী সমর্থকেরা এদের অনেকে হল এমন, যা তারা দেখতে চায় না যেন সেটা বাস্তবে ঘটতে পারবে না বা ঘটেই নাই; ঘটবে না – এমন মনে করা ব্যক্তি বা চিন্তা করে এমন ব্যক্তিত্ব!
    এটাকেই অনেকে পুষ্ট না-হওয়া মানসিক বিকাশ বলবেন হয়ত তা বলুক!  তবে  এদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতাটা দেখা যায় যখন সাময়িক পরাজয় আসে! আর তাতে এরা আরো বাস্তবতা বিমুখ হতে শুরু করে। আর এতে সাধারণত সবচেয়ে ক্ষতিটা হয়, এরা আবার দ্রুত উঠে দাড়াতে পারে না!

    ভগ্নদুত কীঃ
    পুরানা বা সংস্কৃত ঘেষা বাংলায় একতা শব্দ আছে ‘ভগ্নদুত’ বলে। আগেরকার রাজাদের দিনে, যেখানে কোন যুদ্ধ চলতে তা থেকে রাজধানী বা রাজার আবাসস্থল অনেক দুরেই হত। এখন সেসব যুদ্ধের খবরাখবর দেয়া-নেয়ার জন্য বিশেষ দক্ষ বিশ্বস্ত রাজদুত ছিল। তাদের মাধ্যম্বের রাজা যুদ্ধের খবরাখবর নিতেন। এখন কোন যুদ্ধে রাজার পক্ষ যদি পরাজিত হত তো সেই খবরও তো রাজার কাছে পৌছাতে হত, কেবল সাফল্যের খবরগুলোই রাজার কাছে পাঠাত তা তো না! কিন্তু সমস্যা বাধত তখনই!
    দুনিয়াতে মাথাগরম গাধার মত বোকা রাজার সংখ্যাও তো কম ছিল না। তো তেমনই রাজারা অনেকে যে কান্ডটা করে বসত তা হল, রাজার পক্ষের পরাজয়ের বার্তা বয়ে আনতে যে রাজদুত, রাজা পরাজয়ের বার্তা শুনে তাকেই খুন করে ফেলত। যেন বিরাট বিরত্ব দেখিয়েছেন ভাবত। আর এতে মানে দাড়াতো যেন দুত নেহায়ত খবরটাই ক্যারিয়ার বা বাহক নন। ঐ বাহক-ই যেন রাজাকে যুদ্ধে হারিয়েছেন! মানে হল, পরাজয়ের বার্তা যে বয়ে আনছেন আর রাজা যুদ্ধে হেরেছেন যে কারণে এদুটা যে একই জিনিষ না তা এসব গাধার বুদ্ধির রাজারা বুঝতে চাইত না। আর কিছু চামচা পারিষদ এতে তাল দিত যে দেখেছো তাদের রাজা কত সেনসেটিভ এই বলে তেল মারত।
    তো বাংলাদেশে এখন হয়েছে তাই। যারা বিরোধীদের খবর স্বীকার করে কথা বলছে তাদেরকেই দায়ী করা লোকের সংখ্যা বাড়ছেই। ভগ্ন দুত-কে হত্যা করাটাই এখন বীরত্ব! আশা করি এখন এমন বীরত্ব তারা ত্যাগ করবেন!

     

    আচ্ছা, আমেরিকা হেরে গেলে পরে, কী করে থাকেঃ
    প্রথম কথা হল, আমেরিকা হেরে গেলে কী করে? মানে পলায় কেমনে?
    তা আমরা কী আগে দেখি  নাই? মানে বলতে চাচ্ছি, এই ২০২৪ সালের আগে দেখি নাই?

    যেমন ধরেম ২০১৮ সালের নির্বাচনে, যখন বিএনপিকে সাত আসন পাইতে দেওয়া হয়; বিশেষ করে সে নির্বাচনের পরে কী হয়েছিল?
    সাহস করে নিজেকে জিজ্ঞাসা করেন তো দেখি, কার আশ্বাসে বিরোধীরা সেবার নির্বাচনে গেছিল? সেবার হঠাত বিরোধীরা “নির্বাচনে যাবার কৌশল” – এপথ নেয় নাই নিশ্চয়!
    আমেরিকার কোন আশ্বাস ছাড়া তো সেটা হয় নাই! যেটা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যাই হোক! এখন হতেই পারে সে আশ্বাসের বাহক ছিল কামাল হোসেন! অথবা বিরোধীদলগুলো নিজেই যে যার মত বাড়তিভাবে আমেরিকান কর্তা বা দুতাবাসের সাথে কথা বলে নিয়েছিল! মিনিমাম এতটুকু না হলে তো সেবার নির্বাচন কৌশল ওমন হয় নাই! তা বলাই বাহুল্য!

    তাহলে এখন আসেন। ঐ নির্বাচনের দিন সকালে উঠে যখন সকলে জানতে পারল যে ভোট আগের রাতে হয়ে গেছে – এমনকি জেনেছি তখনকার আমেরিকান রাষ্ট্রদুত রবার্ট মিলার [Earl R. Miller]তিনিও এর বাইরের নন! এখন বলেন তিনি কেন আম জনতার মত সকালে উঠে জানলেন? আগে কেন জানতে পারলেন না?
    আসলে কথার পিঠে কথা আসে। এই রবার্ট মিলার কোথা থেকে দৃশ্যপটে আসলেন? রাষ্ট্রদুত তো ছিল মার্শা বার্ণিকাট। হা, আমাদের ২০১৮ সালের নির্বাচনের ঠিক ৪২ দিন আগে আমেরিকা, বাংলাদেশে তার রাষ্ট্রদুত বদল করেছিল। বার্ণিকাটের বদলে মিলারকে এনেছিল।
    আর পাঠক এটা নিশ্চয় জানেন আমেরিকা কখন মাঝপথে তার রাষ্ট্রদুত বদল করে দেয়? সরকারের রানিং পলিসি আচমকা বদলে গেলে মানে আমেরিকা বদলালে  তারা পরিস্থিতি সামলাতে সাথে রাষ্ট্রদুতও বদলে দেয়। এমনকি এর আগেও ২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেনের ঘটক রাষ্ট্রদুত বিউটিনিস-কে ১/১১ ঘটনার ছয়মাসের মধ্যে প্রত্যাহার করে বদলে দিয়েছিল আমেরিকা!  তাহলে আমেরিকা পলাইতে নিলে তখন কী করে – এটা তো আমরা কিছু এক্সপেরিয়েন্স রাখি! অভ্যস্ত আমরা। তাহলে এখন বাস্তবতাকে মানতে না চাওয়া কেন?
    বরং, এখনকার প্রধান করণীয় তো বাস্তবতা বা রিয়েলিটিকে আপন করে নিয়ে আবার উঠে দাড়াতে চান যারা তারা মুল্যায়নে বসেন নয়া রাস্তা খুজেন।

    কাউকে দেবতা বানানোটা নিজেরই ভুলঃ
    এধরণের বহু বাণী আমরা জানি যে – কারো উপর এত আস্থা রেখেন না যেন সে নিজেই নিজেকে দেবতা গণ্য করতে থাকে। আমাদের এমন অসচেতনাতেই আমাদের কেউ কেউ আমেরিকাকে দেবতা গণ্য করে নিয়েছিল। আর বলাই বাহুল্য সেটা বিরাট ভুল। আর তা বুঝতে আর এই ভুল কাটাতেও তাদের বেশী সময় লাগছে বা লাগবে। এর একনম্বর ভুলটা হল, আমেরিকা হল মানবাধিকার-গণতন্ত্রের রক্ষক – পাহারাদার গণ্য করার পর্যায়ে নিয়ে গেছিলাম বুঝে না বুঝে কেউ কেউ।  এর বাস্তব দিকটা বুঝতেই চাই নাই। এভাবে বুঝতেই চাই নাই যে মানবাধিকার-গণতন্ত্রের রক্ষক আমেরিকা যে নয় তা সে নিজেও জানে। সে এসেছিল এটাকে ব্যবহার করতে, এখনকার প্রেসিডেন্ট বাইডেন তার অনুসৃত পররাষ্ট্রনীতিতে এটাকে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন; এতটুকুই। আমরা কী জানতাম না যে গত পনেরো বছর ধরে আমেরিকান সমর্থনেই জঙ্গী তাড়ানোর অজুহাতে হাসিনা সরকার দানব হয়েছে? এমনকি দুমাস আগেও ইইউ এর নেতারা (অন্তত তিনটা দেশ) তর্ক করেছে যে হাসিনা তো ভালই নাকি জঙ্গী তাড়িয়েছে! সুতরাই তাকে সরাতে চাই কেন আমরা? হাসিনা যে কিছু হলেই জঙ্গী তাড়ানোর নামে তার সব রাজনৈতিক-বিরোধীদের নির্মুল করে দিয়েছে এটা কী আমেরিকা-ইইউ জানত না, দেখে নাই?
    কাজেই আমাদের পুরা ভার ছেড়ে দিয়ে এত আস্থা রাখা কেন? এজন্যই গত দুবছরের আমাদের মাঠের ততপরতার উপর  আমেরিকা-ইইউ এর যদি নয়া কোন সমর্থন দিয়ে থাকে সেটাকে তাদের কাফফারা হিসাবে দেখা আমাদের জন্য সবচেয়ে সঠিক হত।  যদিও বড় বিরোধী দলগুলো এপথের চেয়ে বরং পুর্ণ ভক্তি দেখিয়ে “আমরা এবিষয়ে আমেরিকান অবস্থান সমর্থন করি” ধরণের বয়ান দিয়ে গেছে আমরা দেখেছি।

    তবে এমন চিন্তার ভুল বাংলাদেশে বহুদিনের। যেমন ধরেন, বাংলাদেশ সার্বভৌম কিনা! এনিয়ে সবচেয়ে বেশী করে নিজের অজ্ঞতা দেখিয়ে থাকে কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলেরা। আর এদেরই প্রভাবে বেশ খানিকটা গত দুবছরের মাঠের বিএনপি।
    যেমন ধরেন, জাতিসংঘকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয়, আচ্ছা বাংলাদেশ কী সার্বভৌম? তাতে ঐ কর্তা বলবে অবশ্য অবশ্যই। চাই কী তিনি জাতিসংঘের ম্যান্ডেট খুলেও দেখায় দিতে পারেন যে জাতিসংঘের চোখে বাংলাদেশ সার্বভৌম। কিন্তু এবার যদি সেই কর্তার কাছে আবার দাবি করেন যে আমি যে আমাদের দেশের জন্য যেকোন সার্বভৌম সিদ্ধান্ত  নিতে যে ক্ষমতা লাগবে সে ক্ষমতা আমারটা আমাকে বুঝায়ে দেন! তাহলে কী হবে?
    এবার সেই কর্তা বলবে আমি বিনয়ের সাথে বলছি, আসলে সার্বভৌম নিজেই হয়ে উঠতে হয়, আপনার সার্বভৌমত্ব অন্য কেউ গুনে গুনে আপনাকে আপনার সার্বভৌমত্ব বুঝিয়ে বা ফিরে দিতে পারে না! মানে নিজেই উঠে দাড়াতে হয়।

    এবারও তাই হয়েছে, আমরা বুঝেছি উল্টা। আর ওদিকে আমেরিকা চেয়েছিল আপনাদের মানবাধিকার-গণতন্ত্র ফেরত দিবার অজুহাতে এই অঞ্চলে তার কিছু এজেন্ডা ছিল ভেবেছিল তা কতটা পরিপুরণ করে নিতে পারে।  কিন্তু আপনারা সেদিকটা না খেয়াল করে যারা যারা তাকে দেবতার আসনে বসিয়ে ছিলেন তাদের এখন সেখান থেকে বের হতে একটু সময় লাগবে, লাগছে হয়ত। কিন্তু বের হতেই হবে কারণ এটাই বাস্তবতা!
    আবার এখন এসব কথা তুলছি বলে ফিরে এক প্রান্ত থেকে উলটা আরেক প্রান্ত মানে চীনকে দেবতা মানতে শুরু করে দিয়েন না!

    তাহলে এখন কী হবেঃ
    এখন যা হবে তা সবই মূলত রুটিন। সারকথায় সবাই জানাবে হাসিনা খুবই খারাপ! অন্যজনও বলবে হা সে তো অবশ্যই খারাপ!
    হাসিনা আমাদের উত্তর কোরিয়া বানায়ে ছাড়বে অথবা বাংলাদেশ একদলীয় দেশ হয়ে যাবে ইত্যাদি কথা উঠবে।
    হ্যা অবশ্যই সন্দেহ নাই। কার্যত তাই হওয়া শুরুওও হয়েছে। যদিও এর কোন প্রভাব হাসিনাকে থামাবে না বা তারা থামাতে আসবেও না।

    তবে এবার কথিত যে সংসদ কায়েম হল, তাতে ৬১ জনের বেশী স্বতন্ত্র হিসাবে বিজয়ের দাবিদার। এদের মধ্যে আবার ৯৫% এর মত হবেন যারা এখনও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কমিটির সক্রিয় সদস্য। মানি সক্রিয় আওয়ামী লীগার! তাই আগামিতে আর জাতীয় পার্টি নয়। বিরোধীদল বানাবার এবারের নয়া ফর্মুলা হবে এসব স্বতন্ত্র (আধা- মূলত আওয়ামী লীগারেরা) এরাই এবার এক সংসদে বসেই সংসদীয় বিরোধী-জোট বানায় নিবে। আর এবাই বিরোধী দলের আইনি মর্যাদা, সুযোগ-সুবিধা দাবি করবে। এরকমই একটা ‘বিরোধীদল’ হতে যাচ্ছে খুব সম্ভবত।  এতে হাসিনাও বাঁচবে; আর কত! বার বার এই নির্বাচন আসলেই দরাদরি  আর জাপা তারা আজকাল অনেক ডাট মারে এমনকি মাঙনা বিদ্যুতকেন্দ্র রেন্টাল বিদ্যুৎ এর মালিকানা চেয়ে বসে; সেগুলো আর কত হাসিনা সহ্য করবেন?  এছাড়া এদের জন্য হাসিনাকেও ভারতের হাত-পা ধরতে হয় যেন (জাপা) কাদেরদেরকে একটু বলে বা বকে দেয়! তাই এবারই সেসবের বালাই শেষ। এখন থেকে সবাই স্বাধীন!
    আর বাকিরা  মানে বিদেশিরা কি করবে? তারা সকলেই একটা করে বিবৃতি দিয়ে তাদের দায় শেষ করবে।

    আমেরিকান বিবৃতিঃ
    রুটিন যেভাবে বলে থাকে – মার্কিন  পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, “যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে একমত যে, এই নির্বাচন অবাধ বা সুষ্ঠু হয়নি। নির্বাচনে সব দল অংশগ্রহণ না করায় আমরা হতাশ”। ফলে বুঝতেই পারছেন আমেরিকা এখন কী সুবিধায় আছে। মানে হল এখন উলটা দাঁড়ালো যেন বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় আমেরিকা হতাশ! কী তামসা! সাথে বিরোধীদলের প্রতি পরামর্শও রেখেছে আমেরিকা – “সব দলের প্রতি সহিংসতাকে পরিহার করারও আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন” – কিন্তু কেন এমন পরামর্শ?
    কারণ এখন আবার বিরোধীরা কোন আন্দোলন করতে গিয়ে যদি হতাহত খুনোখুনি মৃত্যু হয় তাই, আগেভাগেই আমেরিকা হাত ধুয়ে নিল যে আমেরিকা কিন্তু এতে নাই!

    আরও আছে কিছু কথার কথা, নিচে দেখেনঃ

    “যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে একটি অবাধ ও মুক্ত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় (ইন্দো–প্যাসিফিক) অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অভিন্ন
    লক্ষ্যে কাজ করা, বাংলাদেশে মানবাধিকার সুরক্ষা ও নাগরিক সমাজের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখা এবং দুই দেশের
    জনগণের মধ্যে ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

     এর প্রথমে আছে বাইডেনের হারু প্রোগ্রাম IPS বা ইন্দো-প্যাসেফিক স্ট্রাটেজি। যেটার বা এই ব্যর্থতার নেতা স্পেশালিস্ট  ডোনাল্ড ল্যু এর গলার এই হারু-মালা চড়ায়ে দেয়া ছাড়া এর আর কোন মূল্য নাই। বাইডেনের IPS এর ঘন্টা বেজে গেছে। এই কঠিন কথাগুলো বলছি এজন্য যে একবার তাকায় দেখেন যে এগারোটা দেশ হাসিনাকে তাঁর বিজয়ে গতকালই অভিনন্দন জানিয়েছে এই প্রথম সাত রাষ্ট্র কারা?

    শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানালেন যে ৭ দেশের রাষ্ট্রদূতেরাঃ
    লিঙ্ক এখানে
    । এই সাত দেশের মধ্যে চীন, রাশিয়া, ভুটান ও ভারত – এই চারজন হল হাসিনা বা চীনের ঘরের লোক! মানে এরা এ তো হোনাই থা ধরনের! কিন্তু বাকি তিন রাষ্ট্র ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর ও শ্রীলঙ্কা – এরা তো এখনকার খোদ আমেরিকার প্রত্যক্ষ স্ট্রাটেজিক প্রভাবের দেশ! যার মধ্যে আবার ফিলিপাইনো???? কি সাংঘাতিক?? কোল্ডওয়ার যুগের ফ্যাসিস্ট জেনারেল মার্কোস এর ছেলের ফিলিপাইন? মানে মার্কসের ছেলে যার বর্তমান প্রেসিডেন্ট! শুধু তাই না! এই যে একটু আগে আমরা আমেরিকান বিবৃতিতে একটি অবাধ ও মুক্ত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় (ইন্দো–প্যাসিফিক) অঞ্চল প্রতিষ্ঠার খায়েস পুনঃব্যক্ত হতে দেখলাম সে খায়েসের এখনকার প্রধান রাষ্ট্রই হল এই ফিলিপাইন। ফিলিপাইনকে দিয়ে আমেরিকা নিয়মিত চীনের সঙ্গে ফিলিপাইনের সমুদ্রসীমা বিষয়ক বিবাদ জীবন্ত রেখে চলেছে। তাহলে সেই ফিলিপাইন হাসিনার সমর্থনের প্রায় এক নম্বরে সমর্থন জানাতে এসে পড়েছে, সেটা কি কারণে? তাহলে বাইডেনের আমেরিকা কোথায়? তারা ফিলিপাইনকে এলাও করল কেন???

    সব আউলাইনা লাগতেছে! জেনারেল মার্কোসের ছেলে বর্তমান প্রেসিডেন্ট বংবং মার্কোস [Bongbong Marcos] আমেরিকার বাইরে এসে এ’কোন খেলা!!!

    আবার দেখেন বৃটেন। নির্বাচনের আগের তিনমাস আমার কান ঝালাপালা দেশি-বিদেশি মানবাধিকার কর্মীদেরকে বারবার তিনদেশের নাম শুনতে হচ্ছিল – বৃটেন (যুক্তরাষ্ট্র) ফ্রান্স ও জর্মানির। এদের কথা হল, হাসিনা নাকি ভালই জঙ্গি তাড়িয়েছে তাহলে আমরা হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি চাই কেন? ইত্যাদি। আর আজ দেখেন কী তামসা! রাত না পোহাতেই আমেরিকান বিবৃতি অনুসরণে সাথে সাথে বিবৃতি বাংলাদেশের নির্বাচন গণতান্ত্রিক হয়নি: যুক্তরাজ্য! মানে এরা সবদিকেই আছে লিপ সার্ভিস নিয়ে।
    আবার নিরুত্তর প্রশ্নো আছে। যেমন ধরেন এখন মানে আট জানুয়ারি তারা জানাচ্ছে  –নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠায়নি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডা। অথচ এই খবরটা আগে মানে নির্বাচনের জানায় নাই কেন? বাংলাদেশে স্ব স্ব দেশের এমবেশী কী করছিল? অথচ নির্বাচনের পরে বলাতে এসব ভুয়া পর্যবেক্ষক তারা যা করতে এসেছিল এর সবটাই পুরণ করে ফেলেছে। এমনকি গতকাল বিকেলের সাংবাদিক সম্মেলন করে আরো বিভ্রান্তি ছড়ানো পর্যন্ত! আমরা এজন্য কাকে দায়ী করব?

    কিছুক্ষণ আগের, নয়া ১৯ দেশের অভিনন্দনঃ
    এই সমর্থন-অভিনন্দন গুলোর অর্থ হচ্ছে যে আপনাদের দেশে একটা নির্বাচন হয়েছে কিনা আমি আগ্রহী নই। কিন্তু আমি আপনারদেশের সাথে ব্যবস্থা চাই। আর এই উনিশ দেশের মধ্যে আছে, সৌদি আরব আর জাপান। জাপান মানে? হা এটা চীনবিরোধী আমেরিকান সবচেয়ে বড় স্ট্রাটেজিক মিত্র! আমরা তাই জানতাম। অন্তত ইন্দো-প্যাসিফিক ইস্যু বা অন্তত এশিয়ায় আমেরিকার চীন বিরোধীতার প্রশ্নে। অথচ হায় হায় তাহলে এ আমরা কী দেখছি? কেন?  আরো মেট্রো রেল বা সমুদ্রবন্দর প্রকল্প!!! সব চীন পেয়ে যাবে এই ভয়ে? ভাগ পেতে?
     সৌদি নয়া তেলশোধনাগার প্রকল্প! বাকিটা পাঠক বুঝে নেন।

    আসেন এখন “জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক” প্রধানঃ
    এটা নতুন না যে জাতিসংঘের বইয়ে বা দলিলে যাই থাক, জাতিসংঘ গলা চড়ায় ততটা যতটা আমেরিকা তাদের চাবকায়! গত ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশ গুম-খুন-অপহরণের রাষ্ট্র হয়ে আছে “জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক” প্রধান এর তো তাতে কোন খবর ছিল না। তবে গত একদেড় বছর আমেরিকা চাবকিয়েছে তাই তাদের কিছু চিৎকার শুনেছি। এখন “জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক” প্রধান – হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক; এটাই তার সম্ভবত শেষ চিৎকার!  যদিও জোশের ঠেলায় একটু বেশী বলে ফেলেছেন। বলেছেন, “পথ পাল্টান, সত্যিকার অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্রের পরিবেশ তৈরি করুন”! 

    কথাগুলো শুনতে খুবই ভাল লেগেছে সন্দেহ নাই। কিন্তু পরক্ষণেই মনে হল হাসিনাকে কী পাগলা কুত্তায় কাটছে? তিনি এসব করবেন কেন? তার ঠেকা লাগছে? তার তো কোন ঠেকা নাই!

    তাহলে কী হবে, ঠিক কী বলতে চাইঃ
    কথা খুব সহজ! যার মাথা ব্যাথ্যা তাকেই ওষুধ খুঁজে আনতে হবে। সেই মুরোদও লাগবে! মুরোদ যার ক্ষমতা তারই হবে, তার কাছে ফিরে আসতে পারে তা!!!
    এভিন্ন সবকিছুতেই রুটিন বিবৃতিই চলতে থাকবে!

     

     

    সর্বশেষ আপডেটঃ  ০৯ জানুয়ারি   ২০২৪,

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

     

     

     

  • চীন ভাইসাবের সমস্যা

    চীন ভাইসাবের সমস্যা
    গৌতম দাস
    ১৬ জুন ২৩  মধ্যরাত  ০০: ০৪
    https://wp.me/p1sCvy-4CP

           আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে আমরা প্রস্তুত: চীন। [চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন]

    চীনা এমবেশির ফেসবুক পেজ থেকে গতকাল মিডিয়ার কিছু খোরাক এসেছিল [মুল ইংরাজিটা এখানে]। এরপর সবাই নিজ নিজ মত করে ফোকাস সাজিয়ে সে খবর মিডিয়ায় এনেছে। এর মধ্যে সবাইকে ছাড়ানো ফোকাসে প্রথম আলোও তা হাজির করেছে। তাতে মনে হইয়েছে চীন এবার বোধহয় যেন  হাসিনার বাংলাদেশকে সাথে নিয়ে আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামবে। দুনিয়াকে সব অনাচার থেকে মুক্ত করবে ইত্যাদি এমনই বোধহয় এর শপথ!
    না বাস্তবতা একেবারেই তা নয়। আমরা একসাথে কাজ করব এতটুকু তো বলাই যাই। কিন্তু পরের শব্দটা যখন নীতিগতভাবে, মানে মূলত কমন পলিসিতে তহ্ন একথার একরকম মানে হবে। আর যখন সরাসরি বা আকার ইঙ্গিতে বলা হবে যুদ্ধের বা বলপ্রয়োগের কথা তাহলে সেটা অন্যরকম! অনেকেই চীনাদের কথাটা –  “We stand ready to work together with Bangladesh and other countries to oppose all forms of hegemonism and power politics,…।” কথাটাকে নীতিগত সমর্থনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেন নাই। বাইরে নিতে চেয়ে ইঙ্গিত রেখে মানে করেছেন। তাতেই এটা সাংঘাতিক শুনাচ্ছে। খুব সম্ভবত এটাই ভারতের ইচ্ছা যেকারণে প্রথম আলো এসব কথার এক্সট্রিম অর্থের ইঙ্গিত এনেছে।

    কিন্তু কোর ফ্যাক্টস-টা মানে মর্মশাসটা হল, আমেরিকা হাসিনাকে সরাতে পারলে, মোদিকেও সরাতে পারলে এতে লাভের গুড়ের এক বড় অংশ যাবে চীনের পক্ষে আর তা কিছুই না করেই!

    আমাদের উচিত হবে, “একসাথে কাজ” বলতে এইটারে নীতিগত পর্যায়ে রাখা ও বুঝা পর্যন্তই; তা ছাড়িয়ে ফিজিক্যাল যুদ্ধ, বা পাশে দাড়ায় যুদ্ধ এসবের ইঙ্গিত দেয়াটা হল উস্কানি তোলার চেষ্টা – এটা যেন মনে রাখি।

    এখন তাহলে চীন ভাইসাবের সমস্যাটা কীঃ
    চীনের মুখপাত্র অভিযোগ করেছেন, যে আমেরিকা “hegemonism and power politics”করে।
    আচ্ছা, চীনই কী প্রথম বা এবারই প্রথম যে আমেরিকার “hegemonism and power politics” এর নিন্দা করে কথা বলছে বা তুলছে?

    মোটেও না, একেবারেই না। এমনকি ১৯৫৩ সাল থেকে একেবারে আনুষ্ঠানিকভাবে আমেরিকা একাজ করে চলেছে। সেবারই প্রথম সিআইএ বাহিনী পাঠিয়ে ইরানের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে শাহের রাজতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিল আমেরিকা। এটা দুনিয়া সকলেই জানে শুধু তাই নয়, এটা একালে আমেরিকা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকারও করে নিয়েছে। পরে একালে ২০১৩ সালে এই স্বীকারোক্তি নিয়ে নিউজ রিপোর্ট এখানে CIA admits role in 1953 Iranian coup

    । 
    কিতু তামাশা হল আমেরিকার এসব বিশেষ স্বভাব পরিচয় জানার পরও আজকের চীন [১৯৫৮ সাল থেকে মাওয়ের সাংস্কৃতিক বিপ্লবের নামে ঢেলে সাজানো যে চীন]  সেও কী সেই আমেরিকার সাথে ঘনিষ্ঠতম সুসম্পর্ক করে নাই; আর সেটা অন্তত ২০১০ সাল পর্যন্ত????
    শুধু তাই না এই চীন-আমেরিকা হানিমুন এমনই হানি-ময় ছিল হবু বাংলাদেশকে বিক্রি করে দিয়ে আমেরিকা-চীন এর সখ্যতা কী তখন ঘোষণা দিয়ে  এরা একসাথে সেসময়ের (১৯৭১) পাকিস্তানের আয়ুব-ইয়াহিয়ার পক্ষ নেয় নাই?
    আর তখন কী আমেরিকা  hegemonism and power politics নীতিতে ছিল না??? আমি নিশ্চিত কোনপক্ষই এটা অস্বীকার করবে না।  এমনকি ২০১০ সালের পর থেকে আজকের আবার আমেরিকা-চীন প্রতিযোগিতা প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ক্রমশ এটা মুখোমুখি সংঘাতের সম্ভাবনা হাজর করার দিকে যাচ্ছে – এটাই তো বাস্তবতা!

    কাজেই আজকে হঠাত আমেরিকাকে আবার hegemonism and power politics এর কর্তা বলে আবিস্কার কেন? এটা পরিস্কার করে বলা উচিত ছিল চীনা মুখপাত্রের। এটাই সেই ফ্যাক্টস যে আজ আমেরিকাকে আবার hegemonism and power politics এর জন্য দায়ী করে কথা তোলা এটা চীনের এখনকার বাংলাদেশ নীতি! আবার এটাই সত্য কাল যদি আর কোন দৈব দুর্বিপাকে হাসিনা ক্ষমতা হারায় ফেলেন তাহলে আবার তখনও চীনা অবস্থান আবার বদলে যাবে, আর সেটাও স্বাভাবিকই হবে!
    সারকথায় তাহলে মূল বিষয়টা হল চীনা স্বার্থ। এটাই সবক্ষেত্রেই সবকিছুর নির্ণায়ক আর তাই এর মধ্যে আমেরিকা ভাল কী খারাপ কিংবা hegemonism and power politics কিনা সেটা খোজা অর্থহীন।কাজেই বাংলাদেশেও তো রাজনৈতিক ধারাগুলোর স্বার্থ – এর অন্তত দুইটা পক্ষ তো আছে আমরা ধরে নিতে পারি যে তারা হল – “প্রো  আর এন্টি” – হাসিনা। চীন যেমন তার যখন যেমন স্বার্থ সে ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে তেমনই  তারাও তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ মোতাবেক অবস্থান নিবে, কোনটাকে সঠিক বা কোনটাকে বেঠিক বলবে! তাই না? এটাই তো স্বাভাবিক!

    কথা আরও আছে খানিকটাঃ
    এই যে চীন আজ হাসিনার পক্ষে দাঁড়িয়ে আমেরিকার hegemonism and power politics বলে খারাচ্ছে [নীতিগতভাবে] – তাতে, চীন নিশ্চয় জানে এটা কোন ক্ষমতার হাসিনা!

    ওয়ান-ইলেভেন বা ২০০৭ সালে বাংলাদেশে যে নয়া (অ্যামেরিকান) ক্ষমতার উদয় হয়েছিল এর সরাসরি সুবিধাভোগী এবং সরাসরি সেই ততপরতার গন্তব্য ও পরিণতিই তো হাসিনা ক্ষমতাসীন হয়ে উঠে যেটা আজ পনেরো বছর ধরে বহাল। এটা কী চীনের অজানা? তা তো নয়। তাহলে সেটাও তো এই আমেরিকারই hegemonism and power politics এর এক সদম্ভ প্রকাশই ছিল। অথচ চীন কী তখন এই আমেরিকারই অথবা আমেরিকার কোলে উঠে ক্ষমতা নেওয়ার জন্য কী হাসিনা সরকারের কোন সমালোচনা করেছিলেন? কোন অ্যামেরিকান hegemonism and power politics তখন চীন দেখতে পায় নাই কেন????

    বরং চীন কী করেছিল?
    ২০১০ সাল থেকেই চীন শুধু হাসিনা সরকারই নয়, পার্টি টু পার্টির কথা বলে আওয়ামী লীগের সাথে বিশেষ সম্পর্ক শুরু করেছিল। ঐ বছরের ঈদের ছুটিতে ততকালীন লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম চীন সফরে গেছিলেন। আর চীন সরকার তক্কে তক্কে ছিল কীভাবে বিশ্বব্যাংকের পাশ দিয়ে হলেও অবকাঠামো ঋণদাতা হিশাবে বাংলাদেশে ঢুকা যায় কিভাবে। বহু কাঠখড় পুড়িয়ে তা পেতে চীনের (বিশেষত ভারতীয় বাধা পেরিয়ে) ২০১৬ সাল লেগে যায়। কিন্তু কখনই চীন বাংলাদেশ প্রসঙ্গে অ্যামেরিকান হেজিমনির (hegemonism and power politics) সমালোচনা করেই নাই। কেন? হোপ চীন এই সত্যের সাথে একমত হবে।
    তাহলে এখানেও সারকথা হল চীন যেটাকে তখন স্বার্থ মনে করেছিল সেটাই ছিল নির্ণায়ক! তাতে আমেরিকা hegemonism and power politics এর শক্তিধর – সেটা হ্যা কিংবা না তাতে কিছু আসে যায় নাই।

    তাহলে এখন শেষ কথাটা চীনকে শুনতে হবেঃ।
    তাহলে এখন সেই আমেরিকারই একই হাসিনা সরকারের উপর স্যাংশন দেয়া – এটা আসলে কী?

    সম্ভবত বাংলাদেশের মেজরিটি মানুষ বলবে এটা কাফফারা! আমেরিকার ২০০৭ সালে আমাদেরকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া এই অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত! তবে স্বভাবতই এগুলো আমজনতার ভাষা যারা থিওলজি বা ম্যাটোফোরে [matafor] কথা বলে থাকে তাই! – ঠিক রাজনৈতিক ভাষা বা ভাষ্য হয়ত নয় তা বলতে পারেন!

    তাহলে রাজনৈতিক ব্যাখ্যা বা পরিভাষাটা কী?
    সেটা হল, এখন অ্যামেরিকান স্বার্থ হল এশিয়ায় একটা ওলটপাল্ট বা ঢেলে সাজানো। গত ২৩ বছর ধরে অনুসৃত অ্যামেরিকান এশিয়া নীতি ঢেলে সাজানো। আর এই নয়ানীতিতে বাইডেন প্রশাসন  এখন আর হাসিনাকে আর দেখতে চাইছে না। কেন?

    কম করে বললেও এতে একটা সংযোগ হল ভারত মানে মোদির ভারতের! সেখানেও বাইডেন মোদিকে দেখতে চাইছে না। খাড়া ভাবে (ব্যক্তি বাদ দিয়ে) বললে, গত ২৩ বছর আমেরিকা ভারতের পিঠে হাত রেখেছিল, চীন ঠেকানোতে ভারতকে ব্যবহার করবে বলে। আর এরই মজুরি ছিল বাংলাদেশকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া।
    কিন্তু এখন সময়টা হল অ্যামেরিকান বদল যাওয়ার –  মানে গত ২০০১ সালে ওয়ার অন টেরর বা এর কিছু আগে যার শুরু হয়েছিল সেই নীতি-পলিসির পল্টে যাওয়া বা পল্টানি শুরু হয়েছে এখন। যখন প্রেসিডেন্ট বুশ ভারত এনপিটি [NPT] এর সদস্য না হওয়া সত্বেও তাকে পরমানুর কাচামাল পাওয়া, পরমানু এনরিচমেন্ট ইত্যাদিয়ে সাহায্য করে ভারতের মন জয় করে বুশের আমেরিকা ঘনিষ্ঠ হতে শুরু করেছিলেন। কাশ্মীর নির্বাচনি ব্যবস্থা রাজীব থেকে বাজপেয়ি সকলেই ভেঙ্গে দিয়ে কাশ্মীরকে সশস্ত্র আন্দোলনের ভুমি এই নতুন দিকে ঠেলে দিলেন অথচ বুশ এটাকে মুসলমানদেরই দোষ, সশস্ত্রতা – কথিত “জঙ্গীবাদই” সমস্যা বলে সুর মিলিয়েছিলেন সেই সময়ে।

    ঘটনা হল আমেরিকা এখন হায় হায় করছে পুরানা সেই নীতি নেওয়াটা ভুল মনে করছে, সেটা মুখে না বললেও এক্ষণকার পদক্ষেপগুলো তা বলছে। তারা মনে করে ভারতের পিঠে হার রাখার জন্যই ভারত যেন ‘বেয়াদব’ হয়ে গেছে ভুয়া পরাশক্তির দাবিদার হয়ে গেছে। তুলনায় আমেরিকার খুব একটা কোন লাভ হয় নাই। এটাই পরোক্ষে সেসময়ের নীতি-পলিসিটা ভুল বলা হয়ে যাচ্ছে – কারণ তা বলেই না তা এখন বদলে দিতে চাচ্ছে।   তাই এখনকার অ্যামেরিকান লক্ষ্যকে ভারতের শব্দে বললে এটা যেন আমেরিকার “ভারতকে আওকাত শিখানোর” সময় এটা। কথাটা জামা পড়িয়ে বললে এককথায়, এক সাব-অর্ডিনেট বা অধীনস্ত ভারত দেখতে চায় আমেরিকা। যেটা সারকথায় কোন চীন-রাশিয়া-ভারত জোট এর হয়ে আমেরিকার বিরুদ্ধে দাড়াবার হুমকি দিবে না। যদিও আপাতদৃষ্টিতে চীনের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভারতের প্রপাগান্ডা যাতে ভারত মানে করে থাকে চীনই তার প্রধান শত্রু – এধরণের কথাই আমরা এখনও দেখছি। কিন্তু অ্যামেরিকান চাপ যত বাড়বে তাতে ভারত চীনের কোলে গিয়ে উঠবে এটাই সবার স্থির অনুমান!

    মোদি বাইডেনের দাওয়াতেঃ
    মজার কথা হল এমাসেই ২১-২৪ জুন  মোদি বাইডেনের আমন্ত্রণে আমেরিকা যাচ্ছেন। সেখানে বাইডেন ভারতকে নিয়ে যেন তোলায় তোলার সুযোগ নিবে; দরদামে নিবদ্ধ হবে।  সারকথায় বাইডেন সম্ভবত মোদিকেই বলবেন, সাব-অর্ডিনেট হয়ে ভারতকে তেমন সাইজে ছোট হয়ে যেতে। না হলে তিনি রাহুলের পক্ষ হয়েই  নিশ্চিত দাঁড়াবেন।
    বিপরীতে মোদি চাইবেন তাকে জিততে দিতে আর জিতবার পর ভারত-আমেরিকা এক কমন স্টাটেজিক দোস্ত হবেই এই ওয়াদা করতে চাইবেন তা যত গভীরে সম্ভব এমনটাই হতে পারবেন তিনি। এমনকি, এটা বলাও বিচিত্র নয় যে মোদি বলবেন বাকি সবদেশের সাথে সম্পর্কের উপর আমেরিকার সাথে সম্পর্ককে তিনি জায়গা দিতে চান ইত্যাদি।
    স্বভাবতই মোদি একবার নির্বাচন করে ফেললে আর মোদিকে আটকানোর কোন সুযোগ আমেরিকার হাতে থাকবে না, তাই বলাই বাহুল্য  যা করার আমেরিকাকে আগেই করতে হবে। কাজেই এই আলাপ থেকে কোন ডিলে বা রফায় এবারে পৌছানোর সম্ভাবনা ক্ষীণ। প্রায় তা  যাবে না।
    তবে বাইডেনের দিক থেকে এটা মোদিকে একবার শেষ বাজিয়ে দেখা বা নেওয়া যে মোদির দিকে গেলে বাইডেনের জন্য কোন ভাল ডিল ছিল না –  এখন ২৪ জুনের পরে এব্যাপারে বাইডেন নিশ্চিত হয়ে যাবেন হয়ত। এবং দেখা যাচ্ছে বাইডেনের গন্তব্য ক্রমশ  মোদিবিরোধীদের দিকে, মানে  রাহুলের দিকে! এদিকে শেষে যাবে হয়ত!
    তাহলে সেক্ষেত্রে এই পুরা প্রক্রিয়ায় শেষে ভারতের আসল সাইজ সক্ষমতাটা কী সেটাই উদোম হওয়ার দিকেই যাচ্ছে। এভাবে ভারতের সক্ষমতাটা প্রকাশ্য হয়ে যাওয়াটা এতে তো তা চীনের জন্যও কম লাভজনক হচ্ছে না- তাই নয় কী???
    তবে আমার কথা হল, ঘটনাটাক যেদিকেই যাক মোদি বা রাহুল বা মোদিবিরোধী জোট যাদের হাতেই ক্ষমতা গিয়ে শেষে ঠেকুক – ভারতরাষ্ট্র এতে এক্ষণকার চেয়ে মারাত্মকভাবে সক্ষমতায় এক দুর্বল ভারত হিশাবে পরিণত হবেই। ভাই পিঠে হাত রেখেছিল বলে এত দিনকার সব রোয়াবি পরাশক্তির ভাব সব চুপসে যাবে! আর এথেকে পরে পাওয়া চার আনা আসবে বাংলাদেশের পকেটে! এছাড়াও এতে সেই নয়া ভারতও কী চীনের দিক থেকে এক কাম্য-ভারত নয়, হবে না!! অবশ্যই!
    তার মানে আমেরিকার নীতি-অবস্থান চীনের জন্যও লাভজনক হতে পারে!

    তাহলে বাংলাদেশে আমেরিকা যদি কোন প্রায়শ্চিত্য করতে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে তাতে চীনের বিরোধী অবস্থান অপ্রয়োজনীয়; বাংলাদেশের কেউ কেউ এরমধ্যে এটা তার পক্ষের মনে করে দাঁড়িয়ে যাবে, এটাই স্বাভাবিক, তাই না! সময় দুনিয়ার ঘটনাবলী ঘুর্ণিঝড় ভুমিকম্প ইত্যাদির মত করে অবজেকটিভলি দেখাও খারাপ হয় না!

    শেষকথাঃ
     এবিষয়ে আমার নিজের রিডিং নিয়ে দুটা কথা বলব।
    এক. আমি মনে করি এই মন্তব্য বাংলাদেশ বা হাসিনার নাম ধরে চীন বললেও এর টার্গেট বাংলাদেশ নয়। এর টার্গেট হল গ্লোবাল শ্রোতা এই অর্থে যে যেন বলা যে, চীন নয় আমেরিকাই এশিয়াকে আউলা ঝাউলা [প্লানডার বা plunder] করছে।  তোমরা অযথাই সবকিছুতে চীনকে দোষী করছো [বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসেফিক স্ট্রাটেজির কথা যদি মনে রাখি।]। চ্চীন এটা বলবারই মওকা নিয়েছে – বাংলাদেশ ইস্যু বা এই ইস্যুর মাথায় দাঁড়াবার সুযোগ নিয়ে। কাজেই এসব চীনা কথা বার্তায় বাংলাদেশ ঠিক কোন প্রসঙ্গই না।

    দুইঃ দুনিয়াতে হিউম্যান রাইট ইস্যুটা ইস্যু হতে পেরেছে এই সেদিন, জাতিসংঘের জন্মেরও পরে ১৯৪৮ সালে। তাও কমিউনিস্ট রাষ্ট্রগুলো এখনও জাতিসংঘ এর হিউম্যান রাইট বিষয়ক কোন কথায় মানে না আমল করে না; তা মানে না। মূল কারণ কমিউনিস্ট চিন্তায় রাজনীতিতে হিউম্যান রাইট বলে কিছু নাই।  বিপরীতে জাতিসংঘের ভিতরের যেকোন ফোরামে কোনটাই ইস্যু হিশাবে উঠাবে হবে কোনটা হবে না, এসবের চেয়েও বড় কথা কতটা গুরুত্ব দিয়ে কোন ইস্যুকে উঠানো হবে এসব ব্যাপারে আমেরিকা এখনও একলাই রাজা।  সে আগ্রহ দেখালে হবে না হলে কিছুই হবে অথবা দাফনায় দেয়া হবে – এই হল বাস্তবতা! এসবই আমেরিকাকে নির্ণায়কের এক বশাল ভুমিকা দিয়ে রেখেছে। কাজেই যখন আমেরিকা কোন হিউম্যান রাইট ইস্যু তুললে তাতেআমেরিকা যদি নিজের কোন স্বার্থ দেখে কেবল  তখনই সে উঠবে; নইলে দাফন হয়ে যাবে। যেমন দেখেন হাসিনার গুম খুন তো প্রথম পর্বে সবচেয়ে একচেটিয়া ছিল ২০১৬ সাল পর্যন্ত। অথচ সবকিছু আমেরিকার জানা সত্বেও তা কোথাও এক চিলতেও ইস্যু হয় নাই। কারণ আমেরিকা আগ্রহী ছিল না, ইস্যু মনে করে নাই যা তার কাজে লাগবে!  আজ মনে করছে বলেই তো এটা বিরাট ইস্যু! এসব দিক দিয়েই ইস্যুটা বুঝতে হবে।
    আবার উল্টা কথাটা হল, এবারর বাইডেনের আমলে এসে ইইউ শেষ বেলায় বাইডেনের নীতির মধ্যে মিশে গেল। এটা যদি না হত তাহলে কী দেখতাম?
    আমরা দেখতাম ইইউ এর পাঠশালায় চীন হিউম্যান রাইট এর  ক্লাস করছে। এবিষয়ে আরো বিস্তারিত জানতে আমার ২০১৯ সালের পুরানা লেখা এখানে দেখতে পারেন আগ্রহীরা।   এব্যাপারটা দুদুবারের চীন-ইইউ যৌথ ঘোষণাতেও উল্লেখ আছে। কাজেই হিউম্যান রাইট যদি কোন ইস্যুই নয় বা বাজে কথা হয় – তা নিশ্চয় নয়; তাহলে তো চীন ইইউ এর পরামর্শ নিত না। সমস্যাটা হিউম্যান রাইট ইস্যু কী গুরুত্বপুর্ণ ইস্যু নয় না বা তা নিয়ে অন্যদেয়াশ কথা বলতে পারবে সেটাই বরং বাজে কথা। সবাইওই বলতে পারবে। কিন্তু ইস্যু হল বলবে কিনা। আর কোন রাষ্ট্র তখনই বলবে পক্ষে অথবা বিপক্ষে যেদিকে নিজের স্বার্থ দেখব। এই হল বটম লাইন!

    আপডেটঃ ১৬ জুন ২০২৩  ভোর রাত ০১ঃ ৩৭
    আপডেটঃ ১৭ জুন ২০২৩  বিকাল ০৫ঃ ৩৫

    >>>>
    গৌতম দাস

    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

  • আবার সুবীর ভৌমিক!

    আবার সুবীর ভৌমিক!
    গৌতম দাস

    ২ জুন ২০২৩
    https://wp.me/p1sCvy-4yv

             Why Did the United States Just Sanction Bangladesh – FP

     

    আবার সুবীর ভৌমিক! তিনি আবার একটা লেখা পয়দা করেছেন, একই ফেডারেল পত্রিকায়। তবে এবার সম্ভবত শ্রীরাধা দত্তের দ্বারা সুবীর উদ্বুদ্ধ হয়েছেন যে – “ভারত এক পরাশক্তি”, এমন ভাব দেখানিতে সামিল হয়ে।  স্বপ্নে পোলাও খাবার মত এই ভাব ধরে কল্পিত ধারণার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ নিয়ে আরো কত কী তো লেখা সম্ভব!! অসম্ভবএর কী আছে? আর এতে মোদির ভারতের ইমেজ অনেকটাই ফাও ফাও বাড়িয়ে নিবার অনেক সুযোগ আছে। তাই সুবীর মনে হচ্ছে এবার সে লাইনে আবার একটা লেখা পয়দা করেছেন।

    লেখার শিরোনামঃ “India intervenes to douse tempers in US-Bangladesh spat” মানে হল – “আমেরিকা-বাংলাদেশের মধ্যে গরম হয়ে যাওয়া কথাবার্তায় ভারতীয় হস্তক্ষেপ, উত্তেজনার পারদ নামাতে”।

    তার মানে সারকথা হল, ভারত এক বিরাট পরাশক্তি আর মোদি তার বিরাট নেতা – এই প্রপাগান্ডা করতে এসেছেন সুবীরও। এতে তিনি মোদিকে এতই বিরাট নেতা বানাচ্ছেন যে তিনি যেন দুপক্ষকে শান্ত করেছেন [নিচে মূল ইংরাজিটা দেখতে পারেন।]। এই অভিনয়ের উপর দাঁড়িয়ে সুবীর কথা সাজিয়েছেন। আবার সুবীর নিজেই এক সাফাইও হাজির করেছেন যে কেন ভারত গুরুত্বপুর্ণ হল। সুবীর বলছেন, ভারত নাকি “উভয় পক্ষকে সহনশীল সংযত [advising moderation] হতে পরামর্শ দিয়েছে”। কিন্তু কেন দিতে গেল আর কেন আর কী সুত্রে ওরা উভয়পক্ষ ভারতের কথিত পরামর্শ গ্রহণ করল বা ভারতকে পরামর্শ দিবার জায়গা করে দিল? এনিয়ে সুবীর নিজেই ব্যাখ্যা দিয়ে বলছেন, কারণ আমেরিকা নাকি ভারতের কৌশলগত পার্টনার আর বাংলাদেশের কাছে ভারত হল সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু , তাই।

    “India has played a vital role by advising moderation
    on both sides since it is close to both the US(its strategic partner)
    and Bangladesh (its most trusted friend in South Asia).”

    সমস্যা হল, বাংলাদেশের মানুষ জানে যে এটা একটা শতভাগ মিথ্যা কথা। কারণ, স্বামী প্রাক্তন হয়ে গেলে তাকে কী আর স্বামী বলে চালায় দেয়া যায়? আমেরিকার সাথে ভারতের স্ট্রেটেজিক মিল অবস্থানের যে সম্পর্ক ছিল সেটা আর কার্যত নাই। বাইডেন মোদি-বিহীন ভারত চাওয়া শুরু করলে কী আর পুরানা এসব সম্পর্ক এখনও জিন্দা আছে বলে চালিয়ে দেয়া সম্ভব?? আবার  অন্যটা, মানে হাসিনা সরকার? ভারত যে সুযোগ পেলে হাসিনা সরকারকে বেঁচে দিয়ে হলেও পরবর্তি সরকারের সাথে সম্পর্ক বা খাতির জমানো করতে পিছপা হবে না সেটা তো কারও অজানা থাকার কোন কারণ নাই! তাহলে কেন সুবোর এদিকটা আড়াল করতে চাইছেন?

    আর ইতোমধ্যেই ভারত যে এমন বেচাবিক্রির জন্য প্রস্তুত হয়ে গেছে এর প্রমাণ সুবীর তার এই লেখাতেই রেখেচেন। সেখানে যাচ্ছি একটু বাদে। তার আগে, সবচেয়ে আজিব বাত হল, সুবীর নিজেই জানাচ্ছেন “……  R&AW chief Samant Goel to Dhaka,” – মানে র-এর চীফ নিজেই ঢাকা-ইন্ডিয়া দৌড়াদৌড়ি করতেছেন। প্রথমত সুবীর কেন সামন্ত গোয়েলের এই গোপন ততপরতা পাবলিক করে দিচ্ছেন? সুবীরের হয়ত ধারণা এতে হাসিনা সরকার খুশি হবে? অথবা র-এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে আবছায় থাকবে! তাই কী? না হলে, গোয়েলের এই গোপন ততপরতা পাবলিক করে দিবার কোন লাভজনক কারণ তো দেখা যাচ্ছে না!
    তবে অন্যদিকে,  সুবীর কী জানেন না যে এই কথাটা বাংলাদেশের আম-মানুষ সবচেয়ে অপছন্দ করবে????? যেখানে বাংলাদেশের  আম-মানুষের ভারতীয় ততপরতা নিয়ে সবসময় উদ্বেগের মধ্যে থাকে; অবিশ্বাস করে!  অন্যভাবে বললে, R&AW অথবা এর chief এর প্রতি বাংলাদেশের আম মানুষের নুন্যতম সহানুভুতি নাই, থাকার কোনও কারণও নাই! কারণ, গত ১৫ বছর ভারত বাংলাদেশিদের স্বার্থের এদিকটায় কোন আমলই করে নাই! তাহলে সুবীরের এই বেপরোয়া ভাবটা কেন?  সামন্ত গোয়েল বা প্রণয় ভার্মা-রা বিরাট দৌড়াদৌড়ি করছেন এই তথ্য কী হাসিনা সরকারের পক্ষে যাবে, তার জন্য ভাল হবে? প্রশ্নই আসে না, পাবলিকের চোখে ভাল হবে না বরং নেগেটিভ হবেই! তাহলে সুবীরের এসব পাকামো কেন? এর একটাই কারণ হতে পারে যে মোদি ও তার ভারত যে বিরাট পরাশক্তি হয়ে গেছে – সেই ফাঁপা আর শতভাগ মিথ্যা হলেও সেই কথাটাকেই ফুটানি দেখানোর জন্য ব্যবহার করা!!

    এটাই আসলে হাসিনা সরকার মরুক আর বাচুক জাহান্নামে যাক এই সরকারকে এখন বেচা দিয়ে হলেও সামন্ত গোয়েল বা মোদির স্বার্থ উদ্ধার মনে হচ্ছে তাদের প্রধান লক্ষ্য!

    আবার লেখার শুরুর প্যারাতেই সুবীর হাসিনা সরকার সম্পর্কে লিখছেন Bangladesh has promised ………who are linked to electoral fraud.
    মানে সুবীর বলছেন, – অ্যামেরিকা বলেছে যারা নির্বাচনী প্রতারণা বা কারচুপিতে সংশ্লিষ্ট তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে, এজন্য সরকার সুষ্ঠ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।  আবার পরে সুবীর আরো বলেছেন, ২০১৪ আর ২০১৮ এর নির্বাচনে যারা ভোটচুরিতে দুবারই ব্যাপারটাকে আবর্জনা বানিয়ে ফেলেছিল তাদের উপর আমেরিকা খুবই ক্ষুব্ধ। [it feels, has marred two successive national elections in 2014 and 2018.]
    আবার সুবীর সাথে জুড়ে দিয়েছেন হাসিনা সরকার এসব কারচুপির কথা ঝেড়ে অস্বীকার করেছে……। তাই কী করার কথা না? সরকার স্বীকার করার পরে কী আর সরকার থাকে?

    আচ্ছা সুবীর সাব এত পিছলা-পিছলি করতাছেন কেন? যেমন,  ২০১৪ সালের কথাই ধরেন, ভারত সরকার বা তার গোয়েন্দা বিভাগের কাছে ফাস্ট-হ্যান্ড ইনফরমেশনই আছে?  নাই কী? ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং-কে দিয়ে ভারত সরকার যে এসাইনমেন্টে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল তা কী তামাম ভারতীয় সরকারি পক্ষের কাছে অজানা? সেখানে বিএনপি বাদ আর এরশাদকে বিরোধী দল সাজিয়ে নির্বাচন পার হতে হবে – এই ছিল সুজাতার এসাইনমেন্ট তা তো সেই সময়ই এরশাদ ঐ সময়ের সুজাতার সাথে এরশাদ তাঁর মিটিং থেকে বের হয়েই ভারতের এই সিদ্ধান্তের কথা সরাসরি সাংবাদিকদের জানিয়ে দিয়েছিলেন। একালেও চলতি বছরে সংসদে জাতীয় পার্টিও সেসব পুরানা ভারতীয় প্রতারণার কথা তারা নিজেরাই স্বীকার করে আবার আমাদের জানিয়েছে, এখানে দেখুন।  কাজেই এসব তো সুবীর সাবের কিছুই অজানা নয়। তাহলে এখন এমন ঢং করে নিঃস্পাপ সাজা – এটা তো বাংলাদেশের আজ-জনতার জন্য বিরক্তিকর নেকামোই ঠেকবে! নাকি?

    আবার র‍্যাবের উপর অ্যামেরিকান স্যাংশনের জন্য হাসিনার যেসব দুর্বল সাফাই – যে র‍্যাব কথিত জঙ্গিবাদ দমন করেছে – বলেছেন সেগুলোকেই সুবীর আঁকড়ে ধরে আবার হাজির করেছেন এখানে। কিন্তু কথা হল সুবীরের টার্গেট শ্রোতা কে? আমেরিকা? বাংলাদেশের আম-জনতা? এদের কারও কাছেই তো এই সাফাই গ্রহণীয় নয়। তাহলে কে টার্গেট শ্রোতা? ভারতের সরকার অথবা হাসিনা সরকার? সেটা তো ঘরে ডেকে নিয়ে বললেও হত! এর প্রয়োজন কী? কার ভোগে লাগবে এই প্রকাশ্য চামচামি?

    সোজা কথায় আমরা দেখছি এবার সুবোর ভৌমিক খুবই অস্থির বেচাইন; কথার তালমিল রাখতে পাচ্ছেন না।
    তবে সুবীরকে যা মনে রাখতে হবে তা হল এটা ২০১৩-১৪ সাল নয়। এটা ২০২৩ সাল। ফলে নানার আমলে ঘি খাইছিলেন সেই গল্প হাজির করে এখন তুড়ি বাজাতে চাইলে তো আর বাজবে না। এখন আমেরিকান অবস্থান আর ভারতের অবস্থান এক নয়, স্ট্রাটেজিক মিলের গল্প সে তো বহু দূর, যা বহু আগেই ছিঁড়ে গেছে; এশিয়ায় ভারত-আমেরিকা এখন যার যার তার তার আর সর্বপরি খোদ মোদিকেই ক্ষমতাচ্যুতি বা অপসারণ এখন অন্তত বাইডেনের কামনা!  কাজেই পরাশক্তি ভাবধরা মোদির চেয়ে এক অধীনস্ত ইন্ডিয়া –  এটাই  বাইডেনের এশিয়া নীতির সাথে সামঞ্জস্যপুর্ণ।  সেটাকে অধীনস্ত বা বাইডেন-রাহুল ডিল যাই বলি না কেন!   আদতে সবকিছুই মোউলিক জায়গায় আসলে বদলে গেছে। কাজেই খামোখা মোদিকে পরাশক্তি বা বাংলাদেশের ত্রাতা ভাব ধরে লাভ নাই। আমেরিকা ভারতের এখনও স্ট্রাটেজিক বন্ধু বলে মিথ্যা ভাব ধরেও লাভ নাই! এতে মোদির গুরুত্ব বাড়ারও কোন কারণ নাই! এমনকি তা হাসিনা সরকারের কাছেও না!

    কে মিথ্যা বলছেন সুবীর না শ্রীরাধাঃ
    আবার সবচেয়ে বড় কথা শ্রীরাধা দত্ত [যাকে নিয়ে গত সপ্তাহেই লিখেছি এখানে দেখেন] অফিসিয়ালি আরএসএস এর সাথে যুক্ত মানে আরএসএস এর এক থিঙ্কট্যাঙ্কের ভিআইএফ [VIF] এর এক কর্ণাধর। বিপরীতে সুবীর ভৌমিক আপনি যা কিছুই হন না কেন অফিসিয়ালি ভারত সরকারের কেউ না।
    এখন  শ্রীরাধা দত্ত বিবিসি-কে বলে গেছেন ভারত সরকার হাসিনার জন্য কিছু করবে না। আর সুবীর আপনি বলছেন উল্টাটা। কী হল তাহলে?
    আবার হাসিনা সরকার টিকানোর পক্ষেই নাকি র-এর প্রধান সামন্ত গোয়েলের ঢাকা সফর ছিল বলে গল্প দিচ্ছেন! মানে এসেছিলেন এটা আপনিই সাক্ষ্য দিয়ে বলছেন তাই এটা আমাদের অস্বীকারের কিছু নাই। কিন্তু সরকার টিকানোর জন্য কী এসেছিলেন? না উল্টাটা, আমরা বিভ্রান্ত! তাহলে আসলটা কী?  ঠিক কোনটা আসল তা নিয়ে আপনার উপর আস্থা রাখা যাচ্ছে না! তাই,  খুব সম্ভবত শ্রীরাধা নয়,  সুবীর আপনি একদম ডাহা মিথ্যা বলছেন।

    কথা বেশি বললে চাপাবাজি সব বের হয়ে পড়ে!!! এত বারবার একেক কথা দিয়ে আপনার হাজিরাটাই সব অস্থিরতারই ইঙ্গিত!
    আর স্বভাবতই এতে, বাংলাদেশে ভারত সরকার বা মোদি বা সুবীর ভৌমিক ইত্যাদি এদের সকলেরই বিশ্বাসযোগ্যতা শুণ্যের কোঠায় ডুবে যাচ্ছে! অসৎ লোকে দুনিয়াটা ভারি হয়ে উঠছে!

    +++

    আপডেটেডঃ ০২ জুন ২০২৩ দুপুর  ১০ঃ ৫৮ ১১

    গৌতম দাস,
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক

    goutamdas1958@hotmail.com

     

     

  • বিবিসি ও শ্রীরাধা দত্ত

     

     

    বিবিসি ও শ্রীরাধা দত্ত
    গৌতম দাস

    ৩০ মে ২০২৩
    https://wp.me/p1sCvy-4xe

     

            মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞার হুমকি সামলানোর

     

     

    কোন নিউজ বা মিডিয়া গ্রুপ যখন কথিত “ফাইনান্সিশিয়াল সংকটে” পড়ে তখন যে সে কত ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে তা আমরা দেখেছি। বিশেষ করে সে দুনিয়াতে যদি মোদি আর তার গোয়েন্দাবিভাগ হাজির থাকে।  ভারতের ভিতরে অথবা বাইরে  অঘোষিতভাবে ভারতের (গোয়েন্দা বিভাগের) মিডিয়া কন্ট্রোল প্রতিষ্ঠান এর নাম হল এএনআই (ANI) যে নিজেই এক ‘বেসরকারি সংবাদ সংস্থা-ই’ যেন অন্য কিছু নয়, এই ভাব ধরে থাকে। অথচ এ’হলো ভারতে সরকারি প্রটেকশনে  ব্যক্তিমালিকানাধীন নিউজ এজেন্সী যে আমাদের বাসসের মত পর্যায়ের হয়ে উঠেছে কিন্তু কাজ করে সরকারি গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠানের বাড়ানো হাত যেন! শুধু তাই নয়, ভারতের প্রধান সরকারি নিউজ এজেন্সি প্রতিষ্ঠান পিটিআই [PTI] এর চেয়েও ভারত সরকারের কাছে অগ্রাধিকার প্রাপ্ত নিউজ এজেন্সি এটা;  অথচ লিগ্যাল স্টাটাসে সে বেসরকারি সংবাদ সংস্থা মাত্র। আর তা দিয়েই কথিত সংকটে পড়া মিডিয়া গ্রুপগুলো তাদের ফাইনান্সিল খারাপ সময়ে অভাবকে ব্বযবহার করে অর্থালোভি হয়ে উঠলে তাদেরকে শিকারে নেমে পড়ার প্রতিষ্ঠান হল এই এএনআই। কথিত অর্থ-সংকটে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর খুবই কাছের বন্ধু হয়ে উঠে এই এএনআই। এমনকি সে ঘটনা বাংলাদেশের বেলাতেও একই, সত্য! বাংলাদেশের প্রথম আলোর ক্ষেত্রে দেখেছি  তার বন্ধু হয়েছে এএনআই। এভাবে বন্ধু হয়ে জার্নালিজমের বেসিক নীতি ত্যাগ করে হলেও ভারতীয়দের আকাট পাকিস্তানবিরোধী প্রপাগান্ডায় নেমে পড়েছিল ো পরে প্রায়ই এই প্রথম আলো,  স্রেফ কিছু নগদ অর্থ কামানোর জন্য।  এগুলো ২০২১ সালের শেষের দিকে সবচেয়ে বেশি ঘটেছিল; এই উসিলায় যে করোনাকালে নাকি কর্মচারীদের ঠিকমত বেতন দিতে পারে নাই বা আয় কমে গেছে – মালিক বকা দিবে – এই ছিল সম্পাদকদের অজুহাতে।

    সম্প্রতিক বছরগুলোতে বিবিসিরও অর্থসংকট, ছাটাই ইত্যাদির কথা অনেকদিন ধরে কানে আসছে আমাদের। বিশেষ করে এসময়ে বিবিসি বাংলাকে প্রায়ই “এএনআই-এর এসাইমেন্ট ধরণের” নিউজ করতে দেখছি। একালের  বিবিসি বাংলার এই  ফেনোমেনাটা হল বিজেপি-আরএসএস এর আইটি চীফ অমিত মালব্যর অনুগত-রিপোর্ট করা; যেটা মালব্য-রা লাগাতর পয়সা খরচ করে মিডিয়া কিনে প্রপাগান্ডা  তৈরি করে – সেখান থেকে এটা এএনআই পর্যন্ত বিস্তৃত এই ততপরতা। এবিষয়ে এএনআইয়ের সিন্ডিকেটেড রিপোর্ট  – যা ছাপলে উলটা মিডিয়াগুলো পয়সা পায় – এমন কুখ্যাত ততপরতা এর ভাল প্রমাণ। রিপোর্টে কলমের একটা আচড়ও বসায় না অথচ সেটা নিউজ বা জার্নালিজম বলে ছেপে দেয় এরা নগদ পয়সা পাওয়ার লোভে।  যারা অমিত মালব্যকে চিনেন নাই তারা জেনে রাখতে পারেন, ভারত-বাংলাদেশ জুড়ে ফেসবুক যার নিয়ন্ত্রণে; প্রান্তীয় পর্যায়ে  যেকোন প্রোফাইল-একাউন্ট গায়েব করে দেয়া যার কাছে তুড়ি বাজানো…।  এছাড়াও ভারতীয় অরিজিন ফেসবুকে কাজ করা স্টাফদের সবার উপরের অলিখিত কর্তাব্যক্তিটার নাম হল যেন অমিত মালব্য।  তবে এসবের বাইরেও অনেক ঘটনা আছে যেমন পুরানা যারা কলকাতা অরিজিন বিবিসি বাংলার স্টাফ যেমন, শুভজ্যোতি ঘোষ আর সে আমলে কলকাতা আরএসএসের তথাগত রায় যখন বাংলার প্রধান ব্যক্তিত্ব – এরা ছিল দুজনে দুজনার।

    গত দুদিন ধরে তেমনই এক ততপরতা আমরা দেখছি বিবিসি -বাংলায়। সেটা হল ভারতের (গোয়েন্দা বিভাগের) তরফে কিন্তু ফ্রন্টাল ফেস যেমন, ডঃ শ্রীরাধা দত্ত-কে সামনে এনে তাঁর বয়ানে ভারত ও মোদিকে বিরাট পরাশক্তিগত নেতা হিশাবে তুলে ধরার এক প্রপাগান্ডা চালিয়েছে বিবিসি।  এই নারীকে বাংলাদেশের ত্রাতা বা বাপ-মা হিসাবে তুলে ধরারও প্রকল্প এটা। কে এই শ্রীরাধা দত্ত?  ফরমালি তিনি বিবেকানন্দ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন [VIF] নামের যেটা সরাসরি আরএসএস এর এক থিঙ্কট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠান, তার সিনিয়র ফেলো শ্রীরাধা।  এছাড়া ভারত আরএসএস প্রভাবিত নানান একাদেমিক / কমার্সিয়াল কিন্তু দলীয় প্রতিষ্ঠানের সাথে তিনি জড়িত।  বাংলাদেশে প্রায়ই তিনি সিপিডি [CPD] ভিজিট করে থাকেন।
    সবমিলিয়ে মানে হল, তাঁর RSS  এর সাথে খোলাখুলি যুক্ত থাকা বা সংশ্লিষ্টতা আমাদেরকে তাঁর সম্পর্ক কিছু বিশেষ ধারণা দেয়।  সেখান থেকে অনেকে মনে করেন,  মোদি-আরএসএস এর দুনিয়াব্যাপী হিন্দুত্ববাদ ছড়ানোর যে স্বপ্ন-কল্পনা আছে তা বাস্তবায়নের কর্মী একজন তিনি।  তাই কার্যত ভিআইএফ (VIF), থিঙ্কট্যাঙ্কের নামে আরএসএস এর গ্লোবাল হিন্দুত্ববাদ প্রতিষ্ঠার এক প্রপাগান্ডা প্রতিষ্ঠান হয়েছে মনে করা ভুল হবে না; যার কান্ডারি তিনি।  যেমন  এই প্রসঙ্গ বিবিসিসহ অনেক অনেক ইউটিউব ভিডিও-ও ছাড়া হয়েছে সব জায়গায় একই প্রপাগান্ডা তুলে ধরা হয়েছে; যার প্রধান কাজ হচ্ছে  শ্রীরাধার তুলে ধরছেন – বাংলাদেশে মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞা চাপানোর পরে যেন মোদি হলেন হাসিনার বাংলাদেশের ত্রাতা যে মোদি চাইলেই হাসিনা সরকারকে উদ্বার করে দিতে পারেন অথবা হাসিনা সরকারের এখনকার পরিত্রাণ যেন কথিত এক ক্ষমতাধর পরাশক্তি ভারত ও এটা মোদির ইচ্ছা বা ভাল মুডের উপর নির্ভরশীল।
    এটা ফুটিয়ে তোলা মত এক উপস্থাপক হচ্ছেন শ্রীরাধা দত্ত ও তাঁর কারিশমা; আর ওদিকে তা বাজারের ছড়িয়ে দিবার দায়ীত্ব-ঠিকাদারি পেয়েছে যেন বিবিসি বাংলা!

    বিবিসির রিপোর্টের নামে এক গারবেজের প্রসঙ্গঃ
    বিবিসির রিপোর্টের নামে এই গারবেজের শিরোনাম হল, “মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞার হুমকি সামলানোর উপায় কী হাসিনা সরকারের”, যার রিপোর্টার হলেন শাকিল আনোয়ার।
    আচ্ছা এমন শিরোনাম কেন?  মানে রিপোর্টার এখানে এটাকে একটা ‘হুমকি’ বলে ধরে নিয়েছেন কেন? কী দেখে নিশ্চিত হয়েছেন? আর ধরে নিয়েছেন যে “মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞা” এটা বাংলাদেশ সরকারের উপর এক “হুমকি”?   কিন্তু  এন্থনি ব্লিঙ্কেনের টুইট বা ডোনাল্ড লু এর বাংলাদেশি টিভিতে গিয়ে ব্যাখ্যাদানের পরে হাসিনা  সরকার ও সরকারি দলের প্রতিক্রিয়া কী ? নেগেটিভ ? তা তো নয়। এমনকি   আওয়ামি লীগ, বিএনপি এমনকি জাতীয় পার্টি – এর নেতারা কেউই একে নেতিবাচক ভাবে দেখে নাই, নেয় নাই। অন্তত তাদের অফিসিয়াল ভার্সানে এটা তাই। পরেরদিন রাষ্ট্রদুত পিটার হাস এই তিন দলের প্রতিনিধিদেরকে ডেকে কথা বললে তারা কেউই “মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞা” নিয়ে কোন নেগেটিভ প্রতিক্রিয়া দেখান নাই।
    আবার ওবায়দুল কাদের এর প্রতিক্রিয়া দেখুন। সরকারি বাসস-এর রিপোর্ট লিখছে – “মার্কিন ভিসা নীতি নিয়ে বেকায়দায় বিএনপিঃ  ওবায়দুল কাদের”  অর্থাৎ আওয়ামি লীগ এর জন্য কোন বিপদ ঘটে নাই বরং বিএনপি এই নিষেধাজ্ঞায় বিপদে পড়েছে বলে দাবি করছেন তিনি।  অথবা আবার দেখেন,  একই বাসস কিন্তু আরও এক রিপোর্টে লিখছে – “নতুন মার্কিন ভিসা নীতিতে অগ্নিসংযোগ বন্ধ হবেঃ মোমেনের আশাবাদ“। তাহলে কিসের ভিত্তিতে শাকিল আনোয়ার এটাকে হুমকি বলে চিহ্নিত ও  প্রচার করছেন? সেটা কী এই যে এটাকে হুমকি বলে  প্রচার না করলে শ্রীরাধা দত্ত বা তার মহাজন মোদিকে –  হাসিনা সরকারের এক ত্রাতা ও বীর হিশাবে তুলে ধরা যাবে না??? বাঃ বেশ ভাল কায়দা তো!  আর সেক্ষেত্রে  হয়ত বিবিসির ক্লায়েন্ট এসাইনমেন্টের বিল সেক্ষেত্রে পে করবে না, তাই কি? তার মানে বিবিসির এই এসাইমেন্টের ফোকাস হল, মোদিকে এক বিরাট ত্রাতা আর মোদির ভারতকে একটা পরাশক্তি হিশাবে তুলে ধরা!! সেটা কতটা সত্যি – এই প্রশ্নটাকে মাথায় রেখে আমরা বিবিসির রিপোর্ট পড়ব।

    রিপোর্টের শুরুতেই বিবিসি এক গায়েবি কূটনীতিকের কথা এনেছে। নাম না আনা এই কূটনীতিক বলেছেন, “……এই রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক চাপ সামাল দিতে তলে তলে আমেরিকার সাথে দেন-দরবার দর-কষাকষির পথে যাবে সরকার“। আচ্ছা ভাইসাব,  কূটনীতিক ট্যাগ দিলেই কী কারো নামে যা খুশি লেখা বা চালানো যায়; জায়েজ?  আমেরিকার সাথে হাসিনার কোন ডিল বা রফা করতে গেলে একটা দেয়া-নেয়া লাগবে, এটা তো কোন গুঢ় জ্ঞান না, এটা সবাই জানে। এখন প্রশ্ন হল হাসিনার হাতে এমন কি আছে যেটা আমেরিকার কাছে লোভনীয় ফলে যা সে কামনা করে?  এমন কিছুই নাই, যেটুকু ছিল তা আগেই দেয়া হয়ে গেছে। আর দ্বিতীয়ত, হাসিনার সাথে আমেরিকার কোন ডিলে জড়ানোর মানে হল হাসিনার প্রথম চয়েজ তাকে আরও এক টার্ম ক্ষমতায় রাখতে হবে – আর এর দায় আমেরিকাকে নিতে হবে। কিন্তু আমেরিকা ইতোমধ্যে প্রতিটা কথাতে জুড়ে দিয়ে বলেই যাচ্ছে যে একটা ফেয়ার ইলেকশন হতেই হবে। তাহলে এখানে বটম লাইনটা হল, একটা ফেয়ার ইলেকশন আর হাসিনাও আবার ক্ষমতায় – এদুটো একসাথে ঘটাতে হবে ; কিন্নোতু সরি এদুটো একসাথে সম্ভব নয়। কোন ম্যাজিকেও সম্ভব নয়! তাহলে এসব “তলে তলে বা দর কষাকষি টাইপের” বুকিস মুখস্ত কথা বিবিসি ঐ কথিত কূটনীতিকের মুখ দিয়ে বলাচ্ছে কেন?

    তাহলে,  রিপোর্ট-টাকে কী বিবিসি কোন রহস্য উপন্যাস বানাতে চেয়েছিল ?? অবশ্য না হলে মোদি ত্রাতা, মোদি পরাশক্তির মত ক্ষমতাধর এই গল্প কিভাবে আনা যাবে? ব্যাপারটা তো তাই, তাই না?

    দুইঃ
    দেখা গেল বিবিসি এভাবে প্রথম পর্ব জমাতে পারল না। এখন পরের পর্ব। এবার প্রকাশ্যে সাবেক কূটনীতিক তৌহিদ হোসেন বলছেন “বাংলাদেশে এক সামরিক ঘাটির” কথা। যদিও তিনি নিজেই তা শুরু করেছেন এটা একটা গুজব একথা বলে।
    প্রথমত এটা গুজব নয়, এটা আমেরিকানদের একটা খায়েস যে তারা তাদের সপ্তম নৌবহর বাংলাদেশের জলসীমায় নোঙ্গর করতে পারলে তাদের শান্তি লাগত, এতে এশিয়ায় তাদের গায়ে বল বল ঠেকত। খায়েস তো মানুষের কত রকম থাকে! যেমন এই শতকের শুরুর আগে থেকেই অর্থহীন “ইসলাম কোপানিতে” লেগে পড়া ভারত-আমেরিকার দোস্তালির ইস্যুতে ভারতের  (তখন সেটা বাজপেয়ীর ভারত) সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অ্যামেরিকান প্রশাসন গ্রহণের পর থেকেই এই ঘাটি বানাবার খায়েস তারা লুকিয়ে ফেলেছিল, কোন ঘরের চালে গুজে রেখে চলছিল। কারণ, অ্যামেরিকান এই খায়েসের ইস্যুতে এর বিরুদ্ধে চীনের চেয়েও কোর আরও বড় বিরোধি হল ভারত। অর্থাৎ ভারত-ঘনিষ্ঠতা চাওয়ার আগেই আমেরিকাকে এই খায়েস ডেড করে তুলে রাখতে হত তাই করেছিল আমেরিকা। আর তাই সেটা সেই থেকে তোলাই আছে। অর্থাৎ খায়েস টা একেবারেই কোন গুজব নয়, তবে তুলে রাখা আছে, এক্টিভ নয় এই আরকি!
    কিন্তু আমেরিকান এই খায়েস নিয়ে আমাদের কী করার আছে?
    সেটা এবার এককথায় বললে, অ্যামেরিকান এই খায়েস ঠেকানো এটা আমাদের চেয়েও ভারত ও চীন এদুই শক্তির জন্য আরো বড় ইস্যু; সেটা এতই বড় যে এরা দুই রাষ্ট্রই তাদের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে তা ঠেকাতে প্রস্তুত। কাজেই আমাদের ভুমিকা এখানে এতটুকু হলেই যথেষ্ট হবে যে বাংলাদেশকে ওদের লড়াইয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে হওয়ানো যাবে না। বরং না হয়ে ওদের পায়ের পারার নিচে চাপা পড়ে মরতে না চাইলে আমাদের ভুমিকাটা খুবই ছোট্ট! তা হল, এই ইস্যুতে কোনপক্ষের সাথে না গিয়ে কোন খাতির জমানোর ইস্যু বলে বিবেচনাই না করা  – যেটাকে বলে – এটা আমাদের জন্য NO GO ইস্যু! যদি তা না মানি তাহলে এই ইস্যুর কারণে, আমেরিকা আসার আগেই ভারত ও চীনের দুদিক থেকে আক্রমণে আমরা শেষ হয়ে যাব।  মানে এটা হাসিনা বা কারও ক্ষমতায় আসা বা ক্ষমতার আয়ু বাড়ানোর কোন ইচ্ছার আইটেমই নয়! দরকষাকষির ইস্যু নয় বা এভাবে দেখা হারাম! এই কথাটা মনে রাখতেই হবে!।   কাজেই কূটনীতিক বলে নয় যেকারোই ভাব ধরে এনিয়ে কিছু বলা বা ভয় দেখানো অর্থহীন, অমূলক!

    আচ্ছা দুনিয়াতে আমেরিকার আর একটা সামরিক ঘাটি করা না করাতেই বা কী হয়েছে? কী হতে পারে? গত ২০১৬ সালে আমেরিকা অষ্ট্রেলিয়াতে কোস্টাল এরিয়ায় একটা সামরিক ঘাটি চালু করেছে। তাতে কী হয়েছে? আমেরিকা চীনের উপর বিজয়লাভ করেছে নাকি কোন অতিরিক্ত সুবিধা পেয়েছে? কিছুই পায়নি। মনে রাখতে হবে কড়া ভাবে যে  একালে  আমেরিকা-চীনের প্রতিযোগিতা প্রতিদ্বন্দ্বিতা এটা কোনভাবেই সামরিক চরিত্রের নয় সামরিকও নয়, এটা অর্থনৈতিক। আরো স্পষ্ট করে বললে, কার অর্থনীতি  এই মুহুর্তের দুনিয়ায় নিজ অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশি সারপ্লাস একুমুলেশন  বা অতিরিক্ত সম্পদ জমা করতে সক্ষম  হয়ে উঠেছে তারই প্রকাশের লড়াই । যদিও এটা তো প্রতিযোগিতার ইস্যু নয়, অবজেকটিভ ঘটনা। অর্থনীতিতে এই বাড়তি সম্পদ এটাই অন্যদেশের  উপর আমেরিকা বা চীনের প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতা হয়ে দেখা দিতে সক্ষম এবং হয়ও তাই।  যেখানে আমেরিকা দ্রুত তার পুরানা প্রভাব-বিস্তারের  সক্ষমতা হারাচ্ছে আর বিপরীতে চীন জাগছে। তাই আমেরিকা এটাকে সামরিক সক্ষমতা হিশাবে উলটে দিবার বা হাজির করে দেখানোর প্রাণপন চেষ্টা করছে। যে সামরিক ফিল্ডে আমেরিকা এখনও চীনের চেয়ে ছয়গুণ বেশি সক্ষম। কিন্তু আমেরিকা চাইলেই তা হচ্ছে না। কারণ, কোনদেশই সামরিক সংঘাত চাচ্ছে না, যদিও চীনের সাথে অনেক পড়শি দেশেরই সীমানা বিতর্ক  বিরোধ আছে। কিন্তু তাই বলে আমেরিকার কোলে উঠে চীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেতে কেউ আগ্রহি নয়; এটা গাধামি এটুকু সকলেই বুঝে। তাই আমেরিকা বার বার ফেল করছে এখানেই।   আর তাতে কী হয়েছে?  হয়েছে এই যে অষ্টেলিয়ায় বানানো অ্যামেরিকান সামরিক ঘাঁটি কারই অন্তত এখনই কোন কাজে আসছে না। বিনিয়োগটা খামোখা হয়ে বসে আছে!

    ভারত পাশে দাঁড়াবে?- এর গল্পঃ
    ভারত পাশে দাঁড়াবে – একথা শুনলে আজকাল আর হাসিনাও খুশি হয় না। কারণ, মোদি ও ভারত মুরোদহীন, উত্থানরহিত এক ব্যক্তি বা শক্তি! আর এই মিথ্যা কথা কে বিশ্বাস করে!
    এরপরেও বিবিসি ও শাকিল আনোয়ার এসেছেন আসলে তাদের সাবজেক্ট বা এসাইনমেন্ট নিয়ে যে – ভারত পাশে দাঁড়াবে? ! আচ্ছা একালে ভারত কবে থেকে কারও পাশে দাড়ানোর মত পরাশক্তি হয়ে গেছে? আর কিভাবে সেটা? যখন একাল বলতে গ্লোবাল নেতৃত্বের পালাবদলে আমেরিকা-চীনের রেষারেষি, লড়াই বা প্রতিযোগিতা তুঙ্গে উঠার কাল বলে এটাকে বুঝতে হবে। একালে ভারত তাহলে কী কেউ?? অবশ্যই না।  তবে ভারত বড়জোর কখনও  আমেরিকা অথবা চীনের পক্ষে তাদের কারও থেকে আলগা খেপ-মারার মত কাজ বা এসাইনমেন্ট পেয়ে গেলে সীমিত অর্থে ভারত নিজেকে কিছু ক্ষেত্রে পাওয়ারফুল বোধ করতেও পারে। যা সে আগে করেছেও; বাংলাদেশকে ভারতের হাতে আমেরিকার তুলে দিবার পরে!

    আমাদের ওয়ান-ইলেভেন ছিল ২০০৭ সালের তেমনই একটা ঘটনা।  আমেরিকার চাওয়া ছিল এশিয়ায়  চীন-ঠেকানোর ঠিকাদারির কিছু কাজ ভারতকে দিয়ে করিয়ে নেয়।  আর তাতেই বিনিময়ে বাংলাদেশকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার মত পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। কিন্তু সেই মাখন আমেরিকা কিছুই খেতে পারেনি বরং তার চেয়ে পিঠার আসল ভাগটা গিয়েছে ভারতের মুখে! আর তাতেই ২০১৪ সালের শুরু থেকেই আমেরিকাই সরাসরি বাংলাদেশের সাথে যোগাযোগ ও চাওয়া-পাওয়ার  সকল ক্ষমতা ও সুযোগ হারিয়ে ফেলেছিল। আর এতে  ভারত তখন বাংলাদেশকে একেবারে লুটে আর চুষে সব খেয়ে ফেলার ভুমিকায় হাজির হয়েছিল। এখন এটাকেই কী শাকিল বলছেন – এটাই কী ভারতের পাশে দাঁড়ানো?   বিবিসি বা শাকিলের উচিত শব্দের ওজন, অর্থ জেনে মেপে এরপর ব্যবহার করা! আর এটা আমার বলার বা মনে করিয়ে দিবার কথা না, তাদের নিজেদেরই জেনে আসারই কথা!

    আরএসএসের আছে একটা গ্লোবাল স্বপ্ন-প্রকল্পঃ
    আরএসএসের একটা গ্লোবাল স্বপ্ন-প্রকল্প আছে। যেটা হিন্দুত্ববাদের ভিত্তিতে শুধু একটা অখন্ড ভারত কায়েম নয়; বরং সারা দুনিয়া জুড়ে হিন্দুত্ববাদ কায়েম করার স্বপ্ন। আর মোদি হলেন সেই স্বপ্ন-প্রকল্পের এখনকার প্রধান কান্ডারি। আমার একথার সবচেয়ে ভাল প্রমাণ মিলবে আমেরিকার বিভিন্ন রাজ্যে বিশেষত যেসব রাজ্যে প্রবাসী ভারতীয়দের সংখ্যা বলার মত একটা চাঙ্ক! সেসব রাজ্যের দেখা যাবে ক্যালেন্ডারে আরএসএস ঘোষিত হিন্দুত্বের চোখে পালনীয় দিন, মানে সরকারি ছুটির দিন নয় – যেমন একালের রামনমমী পালনের নামে অ-হিন্দুদের কোপানোর দিন হয়ে উঠেছে; এসব দিনে আমেরিকায় বসে এরা হিন্দুত্বের জয়গান গেয়ে মিছিল-সমাবেশ করছে। মনে রাখতে হবে অ্যামেরিকান হিন্দু ফাউন্ডেশন বলে তাদের সংগঠন আছে।
    কাজেই এমন লক্ষ্য ও ততপরতার অংশ হিশাবে – বাংলাদেশের উপর অ্যামেরিকান ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এই উসিলায় ত্রাতা ও বীর মোদির ভারতকে একটা পরাশক্তি হিশাবে তুলে ধরা আর মোদি কী ত্রাতা হবেন –  এভাবে এমন মুরোদবিহীন কিন্তু উস্কানিমূলক প্রশ্ন তুলে  এরপর এরই জবাব দেওয়া বা নেওয়ার উসিলায় শ্রীরাধার কাছে গেছে বিবিসি। এটাই মোদি-আরএসএসের পক্ষে প্রোপাগান্ডা করার জন্য বিবিসিকে দেয়া এসাইমেন্ট!

    কেন কথাগুলো এত কঠোরভাবে বলছিঃ
    লেটেস্ট বাস্তবতার দিকে তাকাতে হবে। সেটা হল বাইডেন এখন ভারতকে কিভাবে দেখছে তা বুঝতে হবে।  অন্তত এই ২০২৩ সালের শুরু থেকেই পুরানা – ভারত-আমেরিকা যতটুকু যা এলায়েন্স খাতির অথবা চীন-ঠেকানোর চুক্তি এবং হাতে হাত ধরে ওয়ার্কিং রিলেশন যা আগে তৈরি ছিল – এর সবটাই ফুল স্টপ হয়ে যায়। এর বহু আগেই অবশ্য ট্রাম্পের আমলেই ২০১৭ সালে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলারের আমেরিকায় এক্সপোর্ট  এর বিশেষ সুবিধা বাতিল হয়েছিল। আবার একালে কোয়াড [] শুকিয়ে অকেজো হয়ে গেলে অথবা  ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়ান তেল, কয়লা ইত্যাদি পুণঃরপ্তানি শুরু সহ নানাবিধ প্রকাশ বলছে যে দুপক্ষই অঘোষিতভাবে স্ট্রাটেজিক সম্পর্ক সমাপ্তি টেনেছে। ভারতের সাবেক কূটনীতিকেরা আমাদের জানাচ্ছে যে ভারত এখনও স্ট্রাটেজিক এলায়েন্সটা ফিরে চায়। মানে হল আমেরিকা চায় না। এসবের কারণে, আমরা বুঝতে পারি যে চীনের সামনে ভারতের অসহায়বোধ  আরও বেড়েছে। আর সর্বোপরি – আমেরিকা বড় ভাই তার পিঠে হাত রেখেছে – এতে ভারতের গা-গরম ভাবভঙ্গি ভারত সেটা গত ২৩ বছর ধরে দুনিয়ার বাজারে বিক্রি করে চলেছিল তা বন্ধ হয়ে আছে। – আর এখান থেকেই মিথ্যা আর ফাঁপা হলেও মোদির যে পরাশক্তি ভাবদেখানো এর উৎস হিশাবে আবার আমেরিকার সাথে সম্পর্ক নাই কিন্তু আছে দেখাতে মোদি-রা এখনও উদগ্রীব যদিও সেসব দেখানোটা এখন একেবারেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেছে!
    তবু স্ট্রাটেজিক এলায়েন্স টা যে নাই তা  বাস্তবে দেখা ঘটনা, সিম্পটম বা ইঙ্গিত দেখে বলা ঘটনা-ই, কারণ সরকারি বা ঘোষিতভাবে দুপক্ষের কেউ তা বলে নাই।  তাই এবার কিছু সরাসরি ইঙ্গিত-প্রমাণ নিয়ে কথা বলব।

    ভারত-আমেরিকার ডিভোর্সঃ
    ভারত-আমেরিকার ডিভোর্স মানে আসলে স্ট্রাটেজিক ডিভোর্স – মানে স্ট্রাটেজিক এলায়েন্সে যে দীর্ঘ কমপক্ষে ২২ বছরের সমপর্ক ছিল এর অবসান ঘটা। এর প্রমাণ হিশাবে একালে আমেরিকার বার্মা দখল বা রেজিম চেঞ্জ এর ইচ্ছা নিয়ে যতটুকু যা প্রকাশিত তা যথেষ্ট ভাল প্রমাণ অবশ্যই। কারণ এটাই অ্যামেরিকার নয়া এশিয়ান স্ট্রাটেজির বেজ বা মূল অংশ, অবশ্যই আর তা ভারতবিরোধী বা ভারতের স্বার্থকে আমল বা কেয়ার না করে হাজির করা হয়েছে। কিন্তু আমি এর কথা  এখানে এখন টানবো না। কারণ আরও বড় প্রমাণ-লক্ষণও হাজির হয়ে আছে তাই। কী সেটা?

    এককথায় এটা হল, ভারতকে সাইজ করে ছোট করা বা আসল সাইজে আনা –  বলতে পারি। মানে হল আমেরিকা যেন বলতে চাইছে গত তেইশ বছর আমার প্রভাবে থেকে ফুলে উঠা ভাব করেছো -পরাশক্তি মারাও? তাই এখন তোমাকে সাইজ করবে আমি। তোমার আসল সাইজে তোমারে ফিরিয়ে আনব।  এসব ভাব-ইঙ্গিতের বক্তব্যেরই বাইরের মানে হল –  ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর আমেরিকা-বাইডেন প্রশাসন আর মোদির শাসন দেখতে চায় না। তবে এক্ষেত্রে পরোক্ষে এবং আইন মানা সব ততপরতায় আমেরিকা ভারতের বিরোধীদলদের সুবিধা হয় সুবিধা পায় এমন সব পদক্ষেপ নিবে। এটা ইতোমধ্যেই আমেরিকা শুরু করে দিয়েছে। বলা যায় গুজরাত-ফাইল বা গুজরাতে মুসলমান নিধন এর ডকুমেন্টারি বিবিসিতে প্রচার দিয়ে এর শুরু। পরে আদানিকে ডুবিয়ে দেয়া যেটা মোদির সব ততপরতার অর্থনৈতিক উৎস ও সাপোর্ট যেখান থেকে পেত সেটাকে ধবংস করে দেয়া; রাহুল গান্ধীকে বিকল্প হিশাবে প্রমোট করা ইত্যাদি। এভাবে বিরোধী সকল দলকে ম্যাসেজ দেয়া যে রাহুলের পিছনে তারা যেন দাঁড়ায় আর নিজেদের নানান স্বার্থগুলো এলাইন করা এক রাস্তা ধরে সহযোগিতা করে সাজিয়ে নেয় যাতে তাদের সকলেরই আমেরিকার সহায়তা পেতে সুবিধা হয়, আমেরিকারও কাজগুলো সবার জন্য এফেকটিভ হয়। স্টেট ডিপার্টমেন্টের ছোট্ট একটা কথা – যা এর মুখপাত্র বেদান্ত প্যাটেল যখন বলেন ‘আমরা সব মনিটর করছি” –  তা অনেক কথারই স্বল্পকথা আসলে।
    আবার লক্ষ্য করেন সম্প্রতি ফেসবুকে ভারতীয় স্টাফদেরকে যে সমুলে ছাটাই করা হয়েছে সেটাও বাইফ+ডেনের দিক থেকে মোদিবিরোধিদেরকে দেয়া উপহার। এটা যে মোদির ঘরে আঁচ ও আগুন লেগেছে এর কিছু নমুনা দেখতে পারেন এখানে। এই পত্রিকাটা আরএসএসের স্বরাজ -উইংয়ের পত্রিকা।

    মজার কথা হল, বাইডেন যতই এক্টিভ বা এগ্রেসিভ হচ্ছেন যা জন্মের পর থেকে ভারতের রাজনীতিতে কখনই উপস্থিত ছিল না ততই যেন মোদি পিছু হটছেন; মানে হয়ে গেছে যেন তাই করছেন বাইডেন। আমেরিকার হেফাজতে থাকা ভারতের আভ্যন্তরীণ প্রসঙ্গে যত গোয়েন্দা রিপোর্ট ডকু আছে [যেমন পুলোওয়ামায় পাকিস্তানের সাথে কোন বোমাবাজি ঘটেই নাই, সেতাই আমেরিকা মোদির পছন্দের লোক কাশ্মীরে মীদি যাকে প্রতিনিধি বা গভর্নর করে পাঠিয়েছিলেন সেই সত্য মালিক তা ফাঁস করে দিয়েছেন।] এর সবগুলো যেন বাইডেন ভারতের বিরোধীদলের সামনে খুলে দিয়েছে, এক্সেস দিয়ে দিয়েছেন।  অথচ প্রতিক্রিয়ায় মোদি ততই কুকড়ে নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছে, সরে যাচ্ছেন – সর্বপরি এড়িয়ে প্রতিরোধ অবস্থান ত্যাগ করে চলে যাচ্ছেন। যেন মোদি বুঝে গেছেন যে  প্রতিরোধ অবস্থানে গেলে তাঁর আরো বেশি ক্ষতি হবে, ন্যাংটা হয়ে যাবে্ন!
    এটা এক অদ্ভুত খেলা যেন! ওদিকে সর্বশেষ অনেক বাধা পেরিয়ে রাহুল তার নিজের জন্য একটা সাধারণ পাশপোর্ট ইস্যু করাতে পেরেছেন তাও সেটা আবার মাত্র তিন বছরের জন্য – বাকি আগের সব পাশপোর্ট সারেন্ডার বা বাতিল করেছে মোদি সরকার। আর এই পাশপোর্ট নিয়েই আগামি মাসে রাহুল আমেরিকা যাচ্ছেন। বাজারের অনুমান এটাই মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের সাথে তার ফাইনাল ডিল মানে – কাজের লক্ষ্য কী হবে, কে কী করার দায়ীত্ব নিবে ইত্যাদি এসবেরই ফাইনাল হবে সেখানে।   বাস্তবে কী হবে না হবে সে আমরা আগামিতে দেখতেই পাবো অবশ্যই।
    কিন্তু আসল কথাটা হল,  ভারত-আমেরিকার সম্পর্ক যে এখন ডিভোর্সির  – স্ট্রাটেজিক এলায়েন্স থেকে পতিত হয়ে স্ট্রাটেজিক ডিভোর্স – এর একথা তো অন্তত বিবিসির কাছে কোন কিছুতে অজানা নয়! ছিল না। কারণ গুজরাত ডকু তো তারাই প্রচার করেছে! তাহলে???

    একালে ভারতের নিজের সক্ষমতায় বাংলাদেশের পাশে দাড়ানো, কিংবা আমেরিকার কাছে বাংলাদেশের জন্য  সুপারিশ করা ইত্যাদি কোন কিছুই হচ্ছে না, কারণ মোদির তা করার মুরোদ নাই, শেষ। তা নাই এবং ছিলও না যতটুকু যা ভারত দেখিয়েছিল আগে সেটুকুও  মোদি ফুলিয়ে ফাপিয়ে নিজেকে পরাশক্তি কল্পনায় দেখিয়েছে – এসবের পিছনের কারণ ভারতের পিঠে কিছুটা সময় হাত রেখেছিল আমেরিকা – সে কারণে। অর্থাৎ অ্যামেরিকান স্বার্থে সে ভারতকে যতটুকু মাতবর বলে দাবি করার সুযোগ দিয়েছিল সেটাই। সবচেয়ে বড় কথা সেটা আর এখন একেবারেই নাই। অথচ এটাকেই মোদি ভারত পরাশক্তি হয়ে গেছে বলে চালাবার দেখাবার প্রাণান্ত চেষ্টা করে গেছে। যার সর্বশেষ প্রচেষ্টার নাম হল বিবিসি ও শ্রীরাধা দত্ত এদের ক্যারিকেচার!  তাহলে ভারত বাংলাদেশের পাশে দাড়ানো বা না দাঁড়াতে চাওয়া নিয়ে জল্পনাওকল্পনা ছড়ানো এর সবকিছুই ডাহা মিথ্যা। মোদির ইমেজ তৈরির প্রপাগান্ডা মাত্র!

    আসল কথাটা হল, যে মোদির ভারতের এখন বাইডেনের আমেরিকার কাছে নিজেদেরই বেইল নাই  – না ভারতের না মোদির – সেই মোদি কিভাবে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে পারে? হাসিনার হয়ে বাইডেনের কাছে সুপারিশ নিয়ে যেতে পারে, কে তিনি?????

    অথচ এ পুরা ব্যাপারটাই ডিটেইল অন্তত বিবিসির নিজের জানা থাকার পরও   দিল্লি কি তাদের সেই কূটনৈতিক-অর্থনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে – হাসিনাকে উদ্ধার টাইপের রিপোর্ট তাহলে কী করে করতে পারল??
    এটাই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতের হয়ে নেয়া বিবিসির এসাইনমেন্ট!

    বিবিসি একালে অনেক এক্টিভ একাজে। বিবিসি যদি এমন চালাতেই থাকে তবে আগামিতে হাসিনার যুগ শেষে তাকে কেউ বাঁচাতে পারবে না।  বাংলাদেশে  গণধিকৃত মিডিয়া হিশাবে পরিচিত হবে! নিজের ভাগ্য নিজে বেছে নেওয়ার অধিকার তো অবশ্যই বিবিসি বা শাকিল আনোয়ারের!   মানুষ নিজেই নিজের ভাগ্য গড়ে থাকে!

    আপডেটেডঃ ৩১ মে ২০২৩, দুপুরঃ ১০ঃ৩৯


    গৌতম দাস,
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক

    goutamdas1958@hotmail.com

     

  • ভারতীয় সুবীর ভৌমিক এর লেখাটা

    ভারতীয় সুবীর ভৌমিক এর লেখাটা
    গৌতম দাস

    ২২ মে, ২০২৩   ০০ঃ০৩
    https://wp.me/p1sCvy-4ul

           Wary Delhi watching Dhaka 

    ভারতীয় সুবীর ভৌমিক আবার একটা লেখা ছাপিয়েছেন – ‘দ্যা ফেডারল’ [The Federal], এই নামের দক্ষিণ-ভারতীয় পত্রিকায়। বাংলাদেশের পাঠককুল সাধারণত  সুবীরকে ধরে নেন যে তিনি ভারত সরকারের (গোয়েন্দাবিভাগ) এক অঘোষিত মুখপাত্র। বা উলটা করে বললে শুরুর দিকে সুবীরও যেন এটাই চেয়েছিলেন যার নতিজা এটা। তবে যেকোন সরকারের নানান মুখপাত্র থাকে; আর মুখপাত্র ব্যাপারটা হল,  কোন ঘটনায় সরকারের মানে সরকারি ভাষ্যটা কী তা জানাতেই এই পদের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকগুলো সরকারি প্রতিনিধি বা কর্মচারির মধ্যে  কার কথাটা সরকারের অবস্থান বলে সরকার মনে করে সেটার নির্ধারক হল কাকে মুখপাত্র বলে সরকার আগেই পরিচয় করিয়েছে।  যেমন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরও এক মুখপাত্র থাকে; সম্প্রতি বাংলাদেশেও এই প্রথম এমন পদে একজন মুখপাত্র নিয়োগ দিয়েছে। কিন্তু এর বাইরেও এমন কিছু মুখপাত্র দরকার হয় যারা সরকারের অফিসিয়াল বা ঘোষিত মুখপাত্র নয় বা থাকেন না; অথচ তাদের মুখ দিয়ে সরকার নিজ অবস্থানও জানায় রাখতে চান। অর্থাৎ অফিসিয়ালি তাঁকে মুখপাত্র বলে স্বীকার না করেও সরকার বিভিন্ন ইস্যুতে নিজ অবস্থান জানানোর এক ব্যবস্থা করে থাকে, যেখানে পাঠক আর সরকার – এরা উভয় পক্ষই এই অঘোষিত ব্যবস্থা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকেন। অর্থাৎ ইনফরমালি এক ফরমাল ব্যবস্থা যেন! সুবীরকে তেমনই এক মুখপাত্র মনে করা হয়!
    আবার এমন ব্যবস্থা চীনেরও আছে, যদিও তা আরেকটু গোছানো। চীনের বেশিরভাগ খবর প্রকাশিত হয় জিনহুয়া  [Xinhua] নিউজ এজেন্সি থেকে তবে তা চীনে সারা দেশের নানান নামের পত্রিকায়। কিন্তু চীনা গ্লোবাল টাইমস [Global Times] হল সরকারি অবস্থান প্রকাশ করার আলাদা এক পত্রিকা তবে সে কথাটাও অঘোষিতই থাকে। মানে কোথাও তা উল্লেখ নাই; তবুও পাঠক অনুমান করে নেয় বা ধরে নেয় যে এটাই চীনের অফিসিয়াল ভার্সান।

    সুবীরদের এই লেখার শিরোনামটাই অদ্ভুত – “নির্বাচনের আগে হাসিনা যেমন ঢাকার উত্তাপ টের পাচ্ছে দিল্লিও এক কোনায় পড়ে নিজেও তা টের পাচ্ছে” [As Hasina faces heat in Dhaka ahead of polls, Delhi finds itself in a corner too]। মানে সারকথায় সুবীর যেন বলতে চাইছেন,  বাংলাদেশের হাসিনা যেমন  আমেরিকান চাপ থেকে বের হবার পথ না পেয়ে মোদির সহায় হয়েছিলেন; মোদিও তাতে ব্যর্থতা অসহায়ত্ব দেখিয়ে ফেলে পালাতে বা কেটে পড়তে চাইছেন!

    এতদিনের ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক বা মোদি-হাসিনার সম্পর্কের কথা পাশে সরিয়ে রেখে যদি কেবল এবারেরটা মানে গত মাসে ২৫ এপ্রিল হাসিনা সরকারের জাপান সফর থেকেই আমলনামা শুরু করি – তাহলে বলতে হয় জাপান সফরটা মূলত ছিল মোদির ভারতের জন্য কিছু করে দিবার সফর। যাতে আমাদের সরকার মোদির জন্য কিছু করে দিলে  মোদি সরকারও আমাদের সরকারের জন্য গুরুত্বপুর্ণ কিছু করে দিবেন!  যেমন এক, বাংলাদেশ জাপানি লোনের ভার নিজ কাঁধে নিয়ে ভারতের নর্থ-ইস্টকে শুধু সমুদ্র বন্দর না একেবারে একটা (মাতারবাড়িতে) গভীর সমুদ্র বন্দরের ব্যবস্থা পাইয়ে দিতে জাপান সফরে গেছেন।  আর দুইঃ যদিও  মোদির ভারত ক্রমান্বয়ে নিজেকে এক পরাশক্তি বলে এক শতভাগ মিথ্যা দাবি বা আচরণ করে চলে –  যেন কোন মানুষ যখন অলীক সব স্বপ্ন-কল্পনাকে বাস্তবে তা আছে বলে মনে করে বিশ্বাস করা শুরু করে আর সেসবকে তাঁর স্মৃতি বলে চালিয়ে দিতে চায়, এটা সেরকম। যা বাস্তবে নাই ঘটেই নাই তা কারো স্মৃতি হয় কেমনে?  যেখানে বাস্তবের ভারত হল এমন এক অর্থনীতির নাম যার প্রচুর অবকাঠামো ঋণ আর এফডিআই- এদুই ধরণের বিনিয়োগ ঋণের ঘাটতিতে আছে বা থাকছে; মানে একটা বিদেশি ঋণচাহিদায় থাকা দেশ। উদ্বৃত্বের অর্থনৈতিক দেশ ভারত নয়। ফলে তার ঋণ প্রয়োজন যেটা সে সবাইকে জানিয়ে চীনের (যে এখন ঋণদাতা হিশাবে শীর্ষে) কাছ থেকে সংগ্রহ করতে পারে না। তার অহঙ্কার-ভ্যানিটিতে লাগবেই যদি সে নিজ পুর্ণ ক্ষমতায় বিকশিত হয়ে উঠতে চায়। কিন্তু মোদির ভারতের আবার চীন-এলার্জি আছে বলে – মানে হলে হুদাই মোদি হল এক কঠোর জাতিবাদি স্বরাজ্য-জ্ঞানসম্পন্ন শক্তি হিশাবে দেখিয়ে পাবলিকের কাছে ভোট চেয়ে ফেলেছে; ফলে যেখান থেকে সে আর এখন বের হতে পারবে না –  অতএব চীন তার বিনিয়োগ চাহিদা মিটাতে পারলেও মোদিকে এখন চীনের একটা বিকল্প খুঁজতে নেমে পড়তে হয়েছে। ভারত সেই বিকল্প হিশাবে সে পেতে চায় জাপানকে। যদিও ভারত জানে এটা তেমন জুতের না; কারণ এটা আবার পায়ে জুতার কাটার মত খচখচ করে লাগে। কারণ জাপানি ঋণের খরচ তুলনায় বেশি; এছাড়া জাপানি শিল্প ভারতকে সাব-অর্ডিনেট বা অধীনস্ত করার ঝোঁক প্রবল বেশি। তবে মাঙনা যদি কিছু জাপান থেকে আসে তো খারাপ কী! এটাও ঠিক! হাসিনার সফরকে আমরা এখান থেকে দেখতে পারি!

    সমস্যা হল মোদির ভারতের অর্থনীতিবিষয়ক স্বপ্ন আসলে এক অলীক স্বপ্ন। কারণ, মোদি বা আরএসএস এর রাজনীতি এক উগ্র জাতিবাদী ধারণা বলে, তাদের অর্থনীতি জ্ঞান ও ধারনাও উগ্র জাতিবাদ প্রসুত! কিন্তু এর মানে কী? মানে হল এই চিন্তা্র শাসকেরা বাস্তবে কখনও আরেক দেশের সাথে শেষবিচারে লেনদেন বা বাণিজ্য-অর্থনীতিতে লিপ্ত হয়ে পারে না, পারবে না। কেননা এমন উগ্র জাতিবাদ মনে করে আমার দেশের মানুষ যাকিছু উতপণ্য ভোগ-ব্যবহার করব তা কেবল নিজ-দেশের উতপাদনই হতে হবে। আমিও রপ্তানি করব অন্যদেশেও আমার দেশে রপ্তানি করবে – না এমন নীতিতে উগ্র জাতিবাদ বিশ্বাস করে না। এটা কার্যত ওয়ানওয়ে  মানে কেবল একদিকে আমিই কেবল রপ্তানি করব এমন হতে হবে। এমনকি তা যদি তা সোজা আঙ্গুলে না হয় (বাস্তবে তা না হওয়ারই কথা) তবে শঠতা, প্রতারণা করে হয়েও আগাতে হবে। ভুয়াভাবে এমন বিশ্বাস আছে তা দেখাতে হবে আর এই দেখানোটা জায়েজ মনে করতে হবে। যেটা অনেকটা ছলনাময় ও চতুর কলোনিদখলদার ব্যবসায়ী বৃটিশদের মত, তাদের পররাষ্ট্রনীতির মত;  আর এটাই উগ্র জাতিবাদিদের অর্থনৈতিক মডেল।  একারণে গত একদশকেরও বেশি এই জাপান-ভারতের সম্পর্ক এক স্বপ্ন-কল্পনাই হয়ে চলছে যার তেমন কোন বাস্তবায়ন অগ্রগতি নাই। যদিও তাতে উচ্ছ্বাসে কমতি নাই। যেকারণে,  যাকিছুর নামে সাথে স্বরাজ অথবা জাগরণ ধরণের শব্দ আছে বুঝতে হবে সেসবগুলো আসলে আরএসএস এর প্রকল্প। তাই স্বরাজ্য-মাগ ম্যাগাজিনে জাপানকে নিয়ে উচ্ছাস দেখা যাবে যারা বলতে চাইবে এই তো চীনের বিকল্প এক বিড়াল হিশাবে জাপানকে পেয়ে গেছি আর চিন্তা নাই। কিন্তু এটা যে মাঙনায় পাওয়া হাসিনা সরকারের দেয়া জাপান থেকে হবু সুবিধা তা উগ্র জাতিবাদিরা পরিস্কার করে বলবে না।

    কিন্তু হাসিনা সরকার তাহলে এর বিনিময়ে নিজে কী পাবে ভেবেছিল? সেটা অনেকটা –  “দেখেন তো ভাইজান কিছু করতে পারেন কিনা – আমেরিকার ঘেরাও এর ভিতর থেকে আমাকে উদ্ধারে কিছু করতে পারেন কিনা” – ধরণের কিছু।
    এমনকি গত সপ্তাহে বাংলাদেশের হোস্ট করা (১২-১৩ মে) ভারত মহাসাগর কনফারেন্স নামে যেটা হল সেটাও ছিল আরেক রাজভেট – ভারতকে দেয়া আমাদের উপহার। সেটা আবার কী? এছাড়া এই সম্মেলনের তাতপর্যই বা কী?

    সেটা বুঝাতে একটু পিছন থেকে বলি। আগেও  অনেকবার বলেছি যে গ্লোবাল নেতৃত্বের পালাবদলের একালের সকল প্রতিযোগিতার  ফোকাস-ভুখন্ড হবে (আসলে হয়ে গেছে) এশিয়া; আর যা  নুন্যতম আগামি তিনদশকের জন্য। অর্থাৎ একথাটাই আবার ভুখন্ডের দিক থেকে না বলে এর বদলে, মহাসাগর এর দিক থেকে বললে তা হল, ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগর জুড়ে সমুদ্র-অঞ্চল হল এর ফোকাস এরিয়া ।  আমেরিকা নিজের সেই সমুদ্র-কেন্দ্রিক ততপরতার ফোকাস করেছে  – সমুদ্রপথে চীনের প্রবেশমুখ যেটা – সাউথ চায়না সি বলে ইতোমধ্যেই পরিচিত; তাকে কেন্দ্র করে তবে তা, অবশ্যই দুই মহাসাগর জুড়ে হৈ চৈ করে শুরু করে দিয়েছে।  চীনও কমবেশি তা করেছে তবে প্রোফাইল লো রেখে এবং সেও অবশ্যই দুই মহাসাগর জুড়েই সেটা শুরু করেছে। যেমন, আমাদের কক্সবাজর কেন্দ্রিক চীনের উপস্থিতি ও সব ততপরতা হল সেগুলোই।

    কিন্তু ‘পরাশক্তি’ নামের ভাঁড় ভারত, তার খায়েসের কী হবে? তারও একটা কিছু দেখানো যে লাগবেই! যাতে মনে হয় নকল হলেও সেও একটা পরাশক্তি! তাই এ যেন -পোলাও মনে করে গরীবের চালভাজা- খাওয়ার সুখ! আর সেটাই হাসিনার কান্ধে চড়ে এবারের ভারত মহাসাগর কনফারেন্স এর হোস্ট ভারত করে নিয়েছে বাংলাদেশকে। এটা করে, ভারত দেখাতে চাইলো সেও কম যায় না। এদিকে,  কূটনৈতিক রেওয়াজ হল কোন কনফারেন্সের গুরুত্বের মাত্রা বুঝার একটা তরিকা হল তাতে আগত বিভিন্ন দেশের কারা প্রতিনিধিত্ব করতে এসেছে তা দিয়ে। মানে এরই একটা মাপকাঠি মানা হয় হল  – রাষ্ট্র বা সরকার প্রধান কতজন সেখানে এসেছেন। তাতে ভারতকে দেখা গেল তবু একজন রাষ্ট্রপতিকে আনতে পেরেছেন। কিন্তু কে তিনি? তিনি হচ্ছেন মরিশাসের রাষ্ট্রপতি! মহাদেশ-হিসাবে যা আফ্রিকায়; মানে আফ্রিকার পাদদেশে যে মাদাগাস্কার দ্বীপ আছে তারও আরও পুবে খুবই  ছোট্ট একদ্বীপ। মোট জনসংখ্যা যার মাত্র ১২ লাখ, মানে আমাদের মাঝারি মানের একটা উপজেলার জনসংখ্যা যেমন। আর মরিশাসের ৬৭% জনসংখ্যা আবার ভারতীয় অরিজিন। কেন এমন? কারণ,  যাদেরকে সস্তা শ্রমিক হিশাবে বৃটিশ কলোনিদখলদারেরা সেকালের বৃটিশ-ইন্ডিয়া থেকে মাইগ্রেট করে নিয়ে গেছিল, তারাই। যেমন অনেকেই লক্ষ্য করেছেন বাংলাদেশে এসে এই মরিশাস প্রেসিডেন্ট – নাম পৃথ্বীরাজসিং রূপম – তিনি  সস্ত্রীক আমাদের ঢাকেশ্বরী মন্দির দর্শন করতে গেছিলেন। সারকথায়, এজন্য এটা এক ভারত-নির্ভরশীল দ্বীপ-রাষ্ট্র। এই হল সেই একমাত্র প্রেসিডেন্টের নমুনা! দাবি করা হয়েছে পঁচিশটা দেশের প্রতিনিধি এতে উপস্থিত ছিল যার প্রায় সবই ভারতের আমন্ত্রণে বা ভারতের কূটনৈতিক জোরে।  আর বাংলাদেশ কেবল হোস্ট মাত্র যার মাধ্যমে ভারত বাংলাদেশকে সদ-ব্যবহার করে দেখাতে পারে সে বাংলাদেশে অনেক প্রভাবশালী! ভারতের ‘এরিয়া অফ ইনফ্লুয়েন্সেই’,  “আমার তালুকেই”যেন বাংলাদেশ অবস্থিত!

    বিনিময়ে বাংলাদেশ সরকার কী পেলঃ
    কিন্তু এসব করার বিনিময়ে বাংলাদেশ সরকার কী পেল? হা; সেকথাটাই যেন আমাদেরকে জানাতে মোদি সরকার সুবীর ভৌমিকের আর্টিকেল্টা প্রকাশিত কররার ব্ছেযবস্থা করেছে। যেমন শিরোনাম থেকেই শুরু হয়েছে এটা বলে যে “বাংলাদেশ সরকার (অ্যামেরিকান) “চাপের” তাপ বুঝতেছে আর তাতে দিল্লিও কোণার চিপায় পড়ে গিয়েছে”। কিন্তু এতে তো ভারতকেও বিপদে পড়া দেখানো হয়ে গেল, তা কেন? কারণ এখন ভারতের খাই-দাই শেষ; মানে আমাদের সরকার ভারতের জন্য যা যোগাড় করে দিয়েছিল! ফলে এখন ভারতও নিজেকে অসহায় কোণার চিপায় পড়া দেখালেই তো দায়িত্ব শেষ – যেন বলতে চাচ্ছে, “অনেক চেষ্টা করলাম, আর পারি নাই ভাই!”  এমন বলে হলেও তো খালাস পেতে হবে!!!

    সাথে আবার সুবীরের আরও অজুহাতও আছে। এমনকি এতে খোদ ভারতই বিপদে আছে বলে সে আড়াল নিতেও চেয়েছে। একাজে, ভারতকে অসহায় দেখানোটাও জরুরি মনে করেছেন সুবীর! যেমন সাব-হেডিং দিয়েছেন, “খোদ ভারতই এক শক্ত-ঠেলার মধ্যে” [India in a tight spot] পড়েছে। এরপর বলছেন, এবারের পরিস্থতিতে দুইটা জিনিষ নাকি ভারতের বিপক্ষে, নাহলে ভারত হাসিনার জন্য কতকিছু করে দেখায় দিত!
    সে দুটা অসুবিধা কী? সুবীর বলছেন এক হল, জাতিসংঘে ভারতের হাতে চীনের মত ভেটোক্ষমতা নাই যে যেকোন অ্যামেরিকান প্রস্তাবে বিরুদ্ধে সে ভেটো মেরে দিতে পারত। আচ্ছা সুবীর সাব, আমেরিকা কী হাসিনার বিরুদ্ধে জাতিসংঘে কোন প্রস্তাব এনে হাসিনাকে চাপে রেখেছে? তা তো বাস্তবতা নয়! তাহলে এসব অপ্রাসঙ্গিক কথা কেন বলেন? বাস্তবতা হল,  আমেরিকা  নিজ-রাষ্ট্র-ক্ষমতাবলেই নানান স্যাংশন দিয়ে রেখেছে? শুধু তাই না। এখনও জাতিসংঘের যেকোন ফোরামে অ্যামেরিকান প্রভাব সবার চেয়ে বেশি। এই প্রভাবের অর্থ হল অন্যান্য ভেটো হোল্ডার সদস্যদের (চীন বা রাশিয়ার) এতে তেমন কিছুই করার নাই।  আজ জাতিসংঘ গঠন প্রায় আশি বছর হয়ে গেল তবুও গ্লোবাল নেতা আমেরিকা ঢলে পড়ার যুগে  আজ প্রবেশ করলেও  আমেরিয়ান প্রভাব এখনও একক; আমেরিকা চাইলেই কেবল জাতিসংঘের হিউম্যান রাইট [OHCHR] এজেন্সি সংগঠনে যেকোন প্রস্তাব সহজে নড়েচড়ে উঠতে পারে।  ফলে ভারতের অযোগ্যতা, অসহায়ত্ব তো নতুন নয়। এমনকি আজ ভারত ভেটো ক্ষমতা পেলেও তাতে কিছুই হবে না। কারণ, এখনই আমেরিকা ছাড়াও আরও চার ভেটোক্ষমতা-ওয়ালা দেশ আছে। যার মধ্যে দুজন হল বৃটিশ ও ফরাসিরা। কই জাতিসংঘে তাদের উদ্যোগে বা চাপ কী হাসিনার বিরুদ্ধে কিছু আছে??? কাজেই ভারতের আলগা মাতবরি দেখানোর ত এখানের কিছু নাই!!! সোজা কথাটা হল, ভারতের হাতে ভেটোক্ষমতা থাকলেও সেটা হাসিনা সরকারের উপর আমেরিকান চাপের  বিরুদ্ধে কিছুই করতে পারত না। কাজেই ভারতের আলগা ভাব নিবার কী আছে এখানে???
    সুবীর ভৌমিক দ্বিতীয় আরেক ওজুহাত সুনিয়েছেন হাসিনা-কে। তিনি বলছেন ২০১৪ সালের নির্বাচনের কথা। সেসময় নির্বাচনের আগের ডিসেম্বরে (২০১৩) ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিংকে ভারত পাঠিয়েছিল। প্রকাশ্যেই তিনি বলে গেছিলেন, বিএনপি ছাড়াই (কারচুপির) নির্বাচন হবে কোন সমস্যা হবে না কারণ এরশাদ না চাইলেও জাতীয় পার্টিকেই গৃহপালিত বিরোধী দল করে নেয়া হবে – যেটা সুজাতার সঙ্গে এরশাদ মিটিং শেষে বেড়িয়েই মিডিয়ার সামনে সব উদাম করে দিয়েছিলেন এরশাদ। মজাটা হল,  সে ঘটনাটা সুবীর ভৌমিক এখন স্মরণ করছেন আমেরিকার বিরুদ্ধে ভারতের বিরাট কৃতিত্ব বলে দাবি করে।
    অথচ ফ্যাক্টস হল, দুনিয়ায় গ্লোবাল নেতা ও এর মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী দেশের ক্ষমতা সবই তখনও এককভাবে সবই আমেরিকার দখলে ছিল। আর আজকের চেয়ে তা আরও ভাল ভাবে। যার কাছে ভারত তুচ্ছাতিতুচ্ছই ছিল। কিন্তু ঐ ভারতকে আমেরিকা এশিয়ায় চীন ঠেকানোর ঠিকাদারি বরকন্দাজ বানিয়ে রেখেছিল বলে তাতে ভারতের কিছু “ভয়েস অর্থে ক্ষমতা” তৈরি হয়েছিল যা আমেরিকা সদয় হলে ভারতকে সময়ে আমল করত। [মনে রাখতে হবে সেই ক্ষমতাটুকুও এখন ভারতের নাই]  কারণ আমেরিকা বাংলাদেশকে ভারতের হাতেই তুলে দিয়েছিল বলেই সুজাতা সিং অ্যামেরিকান ক্ষমতার উপর ভর করেই ওসব মাতব্বরি কথা সেকালে বলে যেতে পেরেছিল।  সুবীরের ধারণা এগুলো কেউ জানে না,  বা তার চাপাবাজি কেউ ধরতে বা বুঝতে পারবে না। পুওর সুবীর!! সুবীর তাই এবার লিখছে সুজাতার এই খেল এসবই নাকি ভানুমতির খেল  আর সেই আসলে ভানুমতি ছিলেন প্রণব মুখার্জি। যিনি এখন মারা গেছেন বলেই নাকি এবার আর হাসিনাকে অ্যামেরিকান চাপ থেকে উদ্ধারে মোদি কিছু করতে পারল না।!!!!
    মিঃ সুবীর, মিথ্যা কথা বলতে গেলেও তো কিছু নিয়ম মানতে হয়, নাকি?? সুবীর সেটাও বুঝে না। অথচ এবারের লেখাতেই সুবীর স্বীকার করে নিয়েছেন যে সুজাতার সেসময়ের ক্ষমতার অপ-ব্যবহারের ও অবৈধ হস্তক্ষেপের ক্ষমতাটাই ছিল আমেরিকারর ক্ষমতাই। সুবীর সেসব কথা স্বীকার করছে এভাবে আর লিখেছে,    its (India’s) strategic alliance with the US to take on China – মানে  চীন ঠেকানোর বরকন্দাজি সুত্রে আমেরিকার সাথে ভারতের যে স্ট্রাটেজিক এলায়্যেন্স ছিল সেটাই সেসময়ের ভারতের সুজাতার ক্ষমতার উৎস। মানে এটা ব্যক্তি প্রণব মুখার্জির কোন ক্যারিসমা বলতে কিছু ছিল না। কিন্তু তবুও সুবীর এই লেখায় দাবি করেছে [India now also lacks someone like Pranab Mukherjee……… ] – আজ প্রণব বেঁচে থাকলে ভারত আমেরিকাকে দেখায় দিতে পারত, হাসিনার বিরুদ্ধে অ্যামেরিকান চাপ থেকে হাসিনাকে উদ্ধার করে দিতে পারত!
    সুবীর এরপর আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেন নাই। প্রণব মুখার্জির ক্ষমতা সম্পর্কে আরো লিখে দাবি করে বসেছেন যে ….. [প্রণব].who battled it out with the US to ask the military-backed caretaker to stand down.  মানে প্রণব এতই ক্ষমতাবান যে তিনি খোদ আমেরিকার সাথে লড়ে বাংলাদেশের  সেনাবাহিনীকে সরে দাঁড়িয়ে হাসিনাকে ক্ষমতা দিবার ব্যবস্থা করে দিতে আমেরিকাকে বাধ্য করতে পেরেছিলেন।  আর এটাই এখন মোদি সরকার হাসিনার জন্য কিছু করতে পারছেন না; কারণ প্রণব মুখার্জি এই একটাই রত্ন ছিল ভারতের, তিনি তো মরে গেছেন!!

    তার মানে দাড়ালো যে প্রণব মরার পর ভারত আর হাসিনার সরকারের জন্য কিছুই করতে পারবে না। তাহলে তো ভারতের সবকথা এখানেই শেষ হয়ে যাবার কথা, নাকি?
    না, সুবীর মিথ্যা বলতেছেন।  তাই এসব বলার পরেই তিনি এবার ভারতের এখনকার মনের শঙ্কা হাজির করছেন। সেই আশঙ্কা নিচে ছবি আকারে দিয়েছি।  কথাগুলো সুবীরের লেখা থেকে নেয়া। যা বাংলা করলে হয় যে, কী হবে যদি খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে এতদিন যাকিছু হাসিনা সরকারকে দিয়ে চুক্তি করে ভারত পেয়ে নিয়েছে তার সবকিছু পুণর্মুল্যায়ন করে খালেদা যদি ওসব চুক্তি বাতিল করে দেন – এই হুমকির কী হবে???

    কিন্তু এই আশঙ্কা কেন? হাসিনা সরকার আর ভারতের মধ্যে কী কোন আন্ডারহ্যান্ড অসম বা আনফেয়ার ডিল করা হয়েছে? সুবীর সেতাই কী পরোক্ষে স্বীকার করে নিচ্ছেন না!  এই বাক্যটা লিখে সুবীর ভৌমিক সেই আশঙ্কা তার বাংলাদেশি পাঠকের মনে নিজেই স্বগোক্তিতে প্রবেশ করিয়ে দিলেন!  যখন বাংলাদেশের বিগ মেজরিটি মানুষ বিশেষ করে তরুণদের মনে “ভারত অগ্রহণযোগ্যতা” এখন সর্বোচ্চ!  বাংলাদেশে “ভারত অগ্রহণযোগ্যতা” ও নেতি লুটেরা ধারণা এর আগে কখনও এমন তুঙ্গে উঠে নাই! এই বাস্তবতায় এটাই কী তাহলে প্রণব মুখার্জির বাংলাদেশ ডিলিং এর নতিজা নয় কী?  – প্রণবের এসব শঠতা এটা কী আসলেই ভারতের জন্য খুবই ভাল কিছু হয়েছে? ইতোমধ্যেই যা কিছু প্রকাশিত হয়ে গেছে তা আসলেই ভারতের বিপক্ষে চলে যায় নাই, যাবার কারণ নয়? মানে আমরা যেটাকে – লাভের গুড় পিপড়াতে খেয়ে গেছে অবস্থার কথা বলি ! এটা কী তাই নয়?   সুবীর ভৌমিক সহ ভারতের নীতি নির্ধারকদের জন্য ব্যাপারটা তাদের জন্য রিভিউয়ের খোরাক হতে পারে- যদি সতভাবে চিন্তা করতে পারে তবে এই ভিউ পয়েন্ট তাদেরকে আগ্রহি করতেও পারে!

    কিন্তু এর পরেও ইতোমধ্যে আরো কিছু খারাপ ডেভেলবমেন্ট তৈরি হয়ে গেছে। আগামিতে কী হতে পারে তা নিয়ে সুবীর এক সার্ভে রিপোর্টের বরাতে অনেক কিছুই বলেছেন। আর এর সাথে  সুবীর ভৌমিকের মুখ দিয়ে আরও কিছু ভারতের নয়া খায়েস-ফরমায়েস হাজির হয়ে গেছে। সুবীর  হাসিনা সরকারের কাজে নয়া আরও চাহিদা হাজির করতে দ্বিধা করেন নাই। একাজে সুবীরের  নয়া উপশিরোনাম হল, হাসিনাকে যা করতে হবে [What Hasina needs to do]। মানে হল, ভারত যা করল তাতে হাসিনা এখন শেষ হয়ে যাচ্ছেন; অথচ সেদিকে সুবীরের কোন দৃষ্টি নাই। বরং ভারত এখনও আছে কেবল নিজ সংকীর্ণস্বার্থ নিয়ে। তাই বলতে চেয়েছেন,  নিজ স্বার্থ ভুলে হাসিনা সরকারকে এখনও এরপরেও যা করতে হবে তার  এক তালিকা দিয়েছেন সুবীর।

    এটা বেশ ইন্টারেস্টিং যে সুবিরের বরাতে আমরা জানছি যে ভারতের অবস্থান হল, বটম লাইনটা হল, “হাসিনাকে চীনের সংস্পর্শ ত্যাগ করতে হবে। কিন্তু এর সাথে যেটা বলা নাই তা হল, কেন হাসিনাকে তা করতে হবে? হাসিনার স্বার্থ বা লাভ কী এতে? এর কোন হদিস রাখেন নাই। যেন এটা ভারতের একক স্বার্থের নির্দেশ!!! ভারতের প্রেজেন্টেশন এমন সবসময় সবকিছুতে ভীষণ স্বার্থপর ও সংকীর্ণ – যেখানে সেটা হল ও মডেলটা হল কলোনিদখলদারের মডেল। যেটাপ্রথম কপি ও চালু করেছিলেন জওয়াহরলাল নেহেরু, আর তা এখনও চর্চায় ভারতের প্রধান ধারা। ব্যাপারটা সত্যিই দুঃখজনক এবং করুণার… কেন?

    কারণ, সুবীর এক আজিব ও অবিশ্বাস্য কথা বলেছেন, যেন ভুতের মুখে রামনামঃ

    Delhi wants to see the Awami League return to power but through a fair election
    that can shut up the Western nitpickers and prevent Bangladesh’s slide
    into a one-party rule that will augment Chinese influence.

    সোজা ভাষায় বলছেন,  ভারত দেখতে চায় হাসিনা আবার ক্ষমতায় ফিরুক কিন্তু একটা ফেয়ার নির্বাচনের মাধ্যমে। যদিও এই ফেয়ার নির্বাচনের মানে কী  সেটা সুবীর পরিস্কেকার করেন নাই। আবার গত কোন নির্বাচন ফেয়ার হয়েছে কিনা সেটা নিয়ে ভারত কখনও কিছুই বলতে চায় নাই, পাশ কাটিয়ে গেছে, তাই এনিয়ে ভারতের কোন উদ্বেগ ছিল না। একমাত্র উদ্বেগ ছিল নিজ স্বার্থ হাসিল, তা যেভাবেই হোক। তাহলে আজ  ফেয়ার নির্বাচনের কথা কেন?  আগে (সুজাতা সিংয়ের কেসের আমলে) ফেয়ার নির্বাচন না করার ফর্মুলা দিয়ে যাওয়া –  মানে সেটা কী তাহলে ভুল হয়েছিল? বলে এখন স্বীকার করছে? যদি তাই হয় তো  ভারত কী এর দায় নিবে?
    ঐ সার্ভে রেজাল্টের বরাতে সুবীর অনেক চেষ্টা করেও হাসিনার দলকে জিতবে বা সে সুযোগ আসবে তা দেখাতে পারে নাই। শুরু করেছিলেন যে হাসিনার লীগ দল 32 to 47 seats পাবে বলে।  পরে নানান শর্তে সেটা  83–117 seats হতে পারে বলেছেন। আর সবশেষে ১৪০ আসনের উপরে আর তুলতে পারেন নাই।  
    কিন্তু তবু, যে ফর্মুলা দিয়েছে এর সোজা মানে, আ লীগের ভিতরে যুদ্ধ শুরু করতে হবে। অপর গ্রুপকে চীনাপন্থি নামে লেভেল লাগিয়ে তাদেরকে দলছাড়া করতে হবে। এমনকি বেচারা মোমেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়ে ভারতকে স্বামী মেনেও নিজে আজ চীনাপন্থি তকমা পেয়েছেন। ভারত তার উতখাত চায়। এমন মন্ত্রণালয়ের নামও দিয়ে দিয়েছেন সুবীর এরা হল -” home, finance, foreign, information, industry, commerce, and water resources” ইত্যাদি।
    এই ব্যাপারটা বা ভারতের কামনার পার্জিং [purging]; বাংলায় বললে তা দলে বিভক্তি আনতে সুপারিশ করা। অর্থাৎ ভারত এখন লীগকেই চীনাপন্থি নামে লেভেল  আরেক ভাগ করতে চায়। মানে ভারতীয় হস্তক্ষেপ কত গভীরে চলে গেছে এর চিহ্ন।  সম্ভবত এর আরো বড় চিহ্ন হল, কালবেলা পত্রিকায় আরেক প্রপাগান্ডা লেখা; যার শিরোনাম আরও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আসছে, প্রস্তুত সরকার এই মিথ্যা জল্পনা-কল্পনা ওয়ালা রিপোর্ট ছাপা হয়েছে।  সেই রিপোটটা আওয়ামি লীগ দলে বিভক্তি আনার আরও বিস্তারিত ভারতীয় উদ্যোগ বলে মনে করছেন অনেকে।  কারণ, আমেরিকার আরও স্যাংশন দেওয়ার আর কোন কারণই নাই। কারণ সেক্ষেত্রে স্যাংশন খেয়ে হলেও হাসিনা সরকারের জন্য তো ভালই। আর সেটা এই অর্থে যে এটা হাসিনা সরকার থেকে যেতে পারে, সে সম্ভাবনা বাড়াবে!

    এখন ফিরে আবার সুবীর ভৌমিকের লেখার শিরোনাম টা মনে করা যাক  – নির্বাচনের আগে হাসিনা যেমন উত্তাপ টের পাচ্ছে দিল্লিও এক কোনায় পড়ে নিজেও তা টের পাচ্ছে।
    হাসিনা সরকার একা নয়, বাংলাদেশ ইস্যুতে সাথে ভারতও চরম বিপদে পড়েছে।  সুবীর সেই দুর্দশার একাউন্টগুলো আমাদের সামনে খুলে ফেলেছেন!

    +++++
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক

  • বাংলাদেশ ভারতের পক্ষ নিবে না

     চীন-ভারত সংঘাতে

    বাংলাদেশ ভারতের পক্ষ নিবে না

    গৌতম দাস

    ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০৬ সোমবার

    https://wp.me/p1sCvy-3PL

    _

    [সার-সংক্ষেপঃ   চীন-ভারত সামরিক সংঘাত আসন্ন কোন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ কার পক্ষ নিবে? চীন না ভারতের পক্ষে? নাকি নিজেরই একটা পক্ষে? সম্প্রতিকালে এসব নিয়ে ‘অনুমিত’ দৃশ্যকল্প এঁকে নিয়ে এর আলাপ তুঙ্গে নিয়েছে মূলত ভারত। আর তাতে ভারতের মন রক্ষার্থে সাথে তাল দেয়া শুরু করেছে আমেরিকাও। এনিয়ে এদিক সেদিক, কার মনে কী আছে তা নামে-বেনামে এমন প্রচুর লেখা ছাপা হচ্ছে। আমেরিকা যদিও ভাব ধরেছে যে সে ভারতকে সাপোর্ট করতে নাকি এই প্রসঙ্গে প্রবেশ করে নাই। আমেরিকা বরং নাকি “ভারতের চোখ দিয়ে বাংলাদেশ দেখা” ছেড়ে দিতে বাংলাদেশকে ভারত থেকে আলাদা নিজের এক পররাষ্ট্র ডেস্ক সাজিয়েছে যেখান  থেকে এখন বাংলাদেশ ইস্যু দেখাশুনা করার পরিকল্পনা নিয়েছে – এসব চাপাবাজি-মূলক বক্তব্য এক সাক্ষাতকারে প্রকাশ করেছে। অথচ ফরেন পলিসি পত্রিকার এই আর্টিকেল উলটা সাক্ষ্য দেয় যে খাসিলত বদলায় নাই, বদলাবেও না।
    কিন্তু এসময়ে হঠাত চীন-ভারত সংঘাতের কথা উঠছে কেন? এটা আমেরিকা বা ভারত স্পষ্ট উচ্চারণ না করে এড়িয়ে যাচ্ছে যদিও তা করা হচ্ছে “যেন সংঘাত আসন্ন” এমনটা (given) ধরে নিয়ে। তবে ভারত পরোক্ষে এক আর্টিকেল ছাপিয়ে তা বলেছে। সেখানেও আগাম (given) ধরে নেয়া ঘটনাটা হল ভারত তো জীবনেও তিস্তার পানি দিবে না ফলে এক চীনা তিস্তা প্রকল্প যেহেতু বাংলাদেশ ভাবছে; তা ভাববেই স্বাভাবিক। সেটা হলে এর উলটা প্রভাবে ভারত কী কী হারাবে তা নিয়ে এক এজেন্সি রিপোর্ট ছাপিয়েছিল আমেরিকার ভোয়া বাংলায় মতিউর রহমান চৌধুরী। যেখানে ভারতের পক্ষে এক “ছায়া-ব্যক্তিত্ব”  অংশ নিয়েছিল। যেখানে বেপরোয়া ভয়াবহ সব কথা লেখা হয়েছে। যেমন, বাংলাদেশকে ভারতের সাথে চুক্তি করতে হবে যাতে চীন-ভারত যুদ্ধের সময় ভারত বাংলাদেশের উপর দিয়ে সামরিক যান চলাচল করতে পারে। যেমন লিখেছে – “… বাংলাদেশের সাথে একটি চুক্তি সই করা, যে চুক্তিবলে সংঘর্ষের সময় সামরিক, বেসামরিক এবং ট্রাফিক ক্যারি করা যাবে”। মানে এক ন্যাংটা খোকার মামা বাড়ির আলাপ আর কাকে বলে!!!
    এমন এসব এজেন্সী ততপরতায় বাংলাদেশ ভরে গেছে। ডেইলি স্টার এমন  আরেক রিপোর্ট এখানে। এক পুরানা এজেন্ট সিপিডি (CPD) এবার ভারতের আরআইএস (RIS) নামের এক ছুপা থিঙ্কট্যাংকের সাথে যৌথ সেমিনার করেছে ঢাকায়।  ছুপা এজন্য যে এরা একদিকে দাবি করছে তারা স্বাধীন থিঙ্কট্যাংক প্রতিষ্ঠান। অথচ এর পরিচালনা পরিষদ বা গভর্ণিং বডিতে দেখা যাচ্ছে  ভারত সরকারের পাঁচ মন্ত্রণালয়ের সচিব (পররাষ্ট্র, বাণিজ্য, অর্থনীতি ইত্যাদি) এবং সাথে আর এছাড়াও আরএসএস নেতা ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ডিরেকটরেই পরিপুর্ণ।  আর এমন RIS এই প্রতিষ্ঠানের সাথে CPD যৌথভাবে বাংলাদেশের ৫০ বছর পালন করেছে ঢাকায়! কী করে?? সিপিডির রেহমান সোবহান ভারতকে করিডোর দেওয়ার পক্ষের এজেন্সীর হয়ে ২০০৭ সাল থেকে সোচ্চার এবং বিরোধীতাকারীদের মুর্খ ও অশিক্ষিত বলেছিলেন তিনি। আবার এখন   ভারতের রাষ্ট্রপতির বাংলাদেশ সফর নিয়ে কিছু লোক অতি উতসাহে আলোড়ন তোলার চেষ্টা হচ্ছে কিন্তু তা অনাগ্রহে গণবিচ্ছিন্ন আড়ম্বরেই আটকে থেকে যাচ্ছে।

    আসলে সিপিডি  এমনই ভারত অনুগত যে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু প্রসঙ্গ নিয়ে কথা উঠায় কিন্তু সারা ভারতে গত আট বছর ধরে একটা প্রবল হিন্দুত্ববাদের যোয়াড় বইতেছে আর ভারতের এই বন্ধু হওয়া সত্বেও বাইডেন এই প্রসঙ্গে কথা তোলা ছাড়ে নাই। অথচ আমাদের সেকুলার রেহমান সোবহান সাহেব মুখে কুলুপ দিয়েছেন; কি জানি মহাজন রাগ করে নাকি!!  এমন যতই আনুগত্য [subordination] বা অধীনস্ততা দেখাক এথেকে ভারত কোন কিছু অর্জন করতে পারবে না।

    তবু নিশ্চিত বলা যায় যত  প্রচেষ্টাই নেয়া হোক, চীন-ভারতের কোন কল্পিত যুদ্ধে বাংলাদেশ ভারতের পক্ষ নিবে না। এর কোন সুযোগই আর নাই। বাংলাদেশ ভারতের পক্ষ তো নিবেই না এডিশনালি সাথে বাংলাদেশের নিজের সার্বভৌম বুঝের কোন অবস্থানও থাকতে পারে।  এমনকি তা হাসিনার নেতৃত্বের বাংলাদেশেও না।  মনে রাখা যেতে পারে, কোন শর্তে বা চাপে ফেলেও বাংলাদেশকে কোনদিকে নেওয়ার দিন শেষ, সেই পরিস্থিতিটাই লুপ্ত  হয়ে গেছে। এটা ভারত যত তাড়াতাড়ি  বুঝবে ততই সেটা ভারতের জন্য মঙ্গল হবে। তবে এর আগে নানা গণবিচ্ছিন্ন আড়ম্বর অথবা বহু চাটুকার বা এজেন্টদের ততপরতা  আমরা চলতে দেখব অবশ্যই। আর হাইকমিশনকেও আমাদের মিডিয়া কিনার জন্য আরো বহুদিন ফান্ড ঢেলে যেতে দেখব। ]

    DON’T LOOK AT BANGLADESH WITH INDIAN PRISM : USA MEDIA

     

     

    ‘ফরেন পলিসি’ (Foreign Policy Magazine), ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই আমেরিকান পত্রিকা; দীর্ঘ দিন ধরে এটা মূলত ডিপ্লোমেসি ও রাজনীতিক ইস্যু নিয়ে চর্চার এক ম্যাগাজিন। আর বলাবাহুল্য, এ’কাজ তারা আমেরিকান স্বার্থের দিক থেকে তাকিয়ে করে থাকে। আর বাইডেন ক্ষমতায় আসার আগে এই ম্যাগাজিনের অনুসৃত লাইন যাই থাক, চলতি বছর থেকে এটা এখন বাইডেনের বড় ‘একটিভ সাপোর্টিং’ পত্রিকা; বিশেষ করে সাউথ এশিয়ার জন্য আর তা কাভার করার দিক থেকে। মাইকেল কুগেলম্যান [Michael Kugelman] ‘উড্রো উইলসন সেন্টার’ [Wilson Center] এই আমেরিকান থিংকট্যাংকের ডেপুটি প্রোগাম ডিরেক্টর ও সিনিয়র ফেলো। তিনি এখন ফরেন পলিসি পত্রিকায় নিয়মিত এক সাপ্তাহিক ‘সাউথ এশিয়া ব্রিফ’ লেখার তত্ত্বাবধান ও প্রকাশ করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত যেটা আসলে বাইডেনের সাউথ এশিয়া নীতির ছাপে ও পক্ষে এই অঞ্চলের বার্নিং ইস্যুগুলোতে তাদের অবস্থান মেলে ধরে। আর তাতে এ অঞ্চলের খুঁটিনাটি ইস্যুতে বাইডেন প্রশাসনের মনোভাব সম্পর্কেও কিছু  আঁচ পাওয়া যায়। এছাড়া অনেক সময় এ’অঞ্চলের মিডিয়াগুলো কী লিখেছে তার ছোটখাটো রিভিউও দেখতে পাওয়া যায় এই ‘সাউথ এশিয়া ব্রিফে’। অর্থাৎ বাইডেনের পক্ষেরই যেন এটি একটা আলাদা ভার্সন কিন্তু যারা বাইডেন প্রশাসনের সাথে অ-সরকারিভাবে ও ইনফরমালি যুক্ত।

    বুড়া সিংহ আমেরিকাঃ
    এদিকে চলতি শতক থেকে প্রায়ই আমেরিকান প্রশাসনকে অনেকে ‘বুড়া সিংহ’ বলে থাকে। টানা পঁচাত্তর বছর ধরে আমেরিকা দুনিয়াকে ভালো-মন্দ যাই হোক একভাবে দাবড়িয়ে নেতৃত্ব দিয়ে এসেছে। কিন্তু তার সেসব বহু সক্ষমতাই আজ গত হয়েছে; সোজা নাই হয়ে গেছে; বিগত যৌবন হয়ে গেছে। ফলে যেন এটা এখনো সিংহ বটে তবে চামড়া ঢলে পড়া বুড়া সিংহ হয়ে গেছে।

    গত ১৯৪৫ সালকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে একটা ভাল ‘জংশনের বছর’ বলা যায়। এই জংশন হল, এক দিকে  বিশ্বযুদ্ধে দুনিয়ায় ভেঙে পড়া পুরনো অসংলগ্ন [discrete] রাজনৈতিক অর্ডার মানে যেটুকু রাজনৈতিক সিস্টেম ছিল তা ভেঙ্গে, পরে ওর অবশিষ্ট নিয়ম শৃঙ্খলাগুলো ক্রমেই সে ত্যাগ করছে আর অন্যদিকে নতুন এক অর্ডারে এক সুষম সংগঠিত ও গ্লোবাল রাজনৈতিক সিস্টেমে দুনিয়া পুনর্গঠিত করে  নিজে চলতে শুরু করার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। নতুন সেই গ্লোবাল রাজনৈতিক সিস্টেমে এর  গ্লোবাল ইন্টারন্যাশনাল অর্ডার বা এই নয়াবিধি ‘ব্যবস্থা’ শুরু হচ্ছে মূলত জাতিসঙ্ঘকে কেন্দ্রে রেখে [এটাই প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের ড্রিম]  এবং অন্তত তিনটা বহুরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে নিয়ে। এই বিগত অর্ডারটাকে যদি বলি কলোনি যুগ বা কলোনি ক্যাপিটালিজমের কাল তবে, নতুন যা সেসময়ে গড়ে উঠছে তা আমেরিকান নেতৃত্বে এক গ্লোবাল ক্যাপিটালিজম।  যদিও সোভিয়েত কমিউনিজম, যা তখন ইতোমধ্যে ২৮ বছর বয়স্ক, সে এটা সরাসরি স্বীকার করতে চায়নি। কেবল জাতিসঙ্ঘ গঠনের সময়ে নিজের ভেটো সদস্যপদটা ঠিকঠাক থাকে তা বুঝে নিয়ে বাকি ব্যাপারে  প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টকে তালে তাল দিয়ে গেছে। অর্থাৎ   আমেরিকা যা করে করুক, পরোক্ষে এভাবে মেনে নিয়েছিল। আর অন্য দিকে আন্তঃরাষ্ট্রীয় ব্যাপক কোন বাণিজ্য যেটা ১৯৪৫ এর আগের দুনিয়ায় যা কোনদিন ছিল না  তা এবার পূরণে এক বিশাল গ্লোবাল বাণিজ্য বিনিময় ব্যবস্থা চালু করতে বা তার নিয়ন্ত্রক বহুরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসাবে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক এদের জন্ম দেয়া হোক;  আর  তা আমেরিকা গড়ে তুলুক এটাই ইউরোপ মনেপ্রাণে চেয়ে ও সাপোর্ট করে গেছিল। তাই আমেরিকা এভাবে এক গ্লোবাল পলিটিক্যাল সিস্টেম চালু করে নিতে পেরেছিল।
    আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক জন্মের টানা ২২ দিনের জন্মসভার হোটেলে বসবাসে সোভিয়েত ইউনিয়নও আমন্ত্রিত হয়ে উপস্থিত থেকেছিল; অংশ নিয়েছিল। কিন্তু ১৯৪৫ সাল থেকে এর প্রাতিষ্ঠানিক কার্যকারিতা শুরু হয়ে গেলে তখন সোভিয়েত ইউনিয়ন আর চাঁদা দিয়ে সদস্যপদ নেয় নাই বা নিতে আসে নাই। আবার কোনো বাধাও দেয়নি। কেন কী হয়েছিল, কেন সোভিয়েত ইউনিয়নের এমন সিদ্ধান্ত তা প্রকাশ্যে, স্টালিন তখনো জীবিত ও ক্ষমতাসীন- তা সত্ত্বেও কোথাও তিনি তা জানাননি। লিখিত কিচ্ছু নেই। তবে আমেরিকা তার নয়া গ্লোবাল অর্ডার নিয়ে  ঠিকই এগিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সেই থেকে টানা পঁচাত্তর বছর পরে আমেরিকা এখন এক বুড়া সিংহ যার যৌবন কেটেছে ‘রুস্তমি’ করে। যখন সে কোন কিছু চেয়েছে জানলেই তখন অনেক কিছু হয়ে যেত। সেসব দিন আর নাই। এর বড় কারণ এখন আমেরিকা কাউকে দুর্নীতির  অজুহাতে ধরে অনুগত করতে বেকায়দায় ফেললে এটাই সুযোগ হয়ে উঠে – এই সুযোগে চীন বিপুল অনকাঠামো নিয়ে সে দেশে প্রবেশ করে যেতে পারে। বিশ্বব্যাংকই একমাত্র ও একচেটিয়া বিকল্পহীন সেসব দিন আর নাই। ওদিকে ইতোমধ্যে আমেরিকান আমাদের মত দেশকে অবকাঠামো বিনিয়োগ দিবে সেই সক্ষমতাও শুকিয়ে আসে।

    চলতি শতক বা দুই হাজার সাল থেকে আমেরিকার অর্থনৈতিক সক্ষমতা যে ঢলে পড়ছে তা আর লুকিয়ে রাখা যায়নি। বিশেষ করে আফগানিস্তানে ফলহীন যুদ্ধে একতরফা অর্থ ঢালার পর থেকে আরো মারাত্মকভাবে। আর এর বিপরীতে চীনের উত্থান এবং সমৃদ্ধ ও প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে চীন সেই নেতৃত্বের জায়গা নিতে উঠে আসা, সেটাও স্পষ্ট হতে শুরু করেছিল।
    মজার কথা হলো, ওবামা আমল (২০০৯-২০১৬) পর্যন্ত যত প্রেসিডেন্ট তারা কেউ স্বীকার করেননি যে, চীন উঠে আসছে, আমেরিকা বুড়া সিংহ হচ্ছে। এই বাস্তব সত্য স্বীকার না করাটাই যেন আমেরিকান সব প্রশাসনের অফিসিয়াল অবস্থান। একমাত্র কিছু ব্যতিক্রম দেখা যায় জিবিগনিউ ব্রেজনিস্কি যিনি চীন-আমেরিকা সম্পর্ককে প্রথম (১৯৭৮) পারস্পরিক স্বীকৃতির রূপ দিতে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিলেন, তার বেলায়। যখন তিনি ছিলেন (১৯৭৭-৮১) প্রেসিডেন্ট কার্টারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA)। তিনি খোলাখুলি চীনা উত্থান প্রসঙ্গে নিজের বইয়ে লিখেছেন। এমনকি ওবামাও আমেরিকান নেতৃত্ব আরো বজায় থাকবে কি না এ নিয়ে সেকালেই যেসব প্রশ্ন উঠে গেছিল তা তিনি মানেন না দেখাতে উলটা দাবি করে বেড়াতেন যে, আমেরিকাই আরো বহুদিন গ্লোবাল নেতৃত্বে থেকে যাবে।

    কিন্তু কেন এখানে চীনের গ্লোবাল নেতৃত্বে উত্থান বা আমেরিকান বুড়া সিংহ হয়ে যাওয়ার স্বীকার-অস্বীকার নিয়ে কথা তুলছি?
    কারণ উপরে উল্লিখিত ‘ফরেন পলিসি’ ম্যাগাজিনে এবারের ‘সাউথ এশিয়া ব্রিফে’ কুগেলম্যানের সাথে যৌথভাবে লেখা একটি আর্টিকেল ছাপা হয়েছে। ওতে সহলেখকের নাম আনু আনোয়ার [Anu Anwar], জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির যিনি পিএইচডি প্রার্থী। আর ঐ লেখার শিরোনাম হল “আমেরিকার বাংলাদেশকে নিয়ে বাজি ধরা উচিত” [America Should Bet on Bangladesh]। আর উল্লেখ্য যে এ’লেখায় চীনের চেয়ে আমেরিকা অক্ষম হয়ে পড়েছে এর স্বীকারোক্তি করা হয়েছে। সেসব প্রসঙ্গে ঢুকব এখন।

     কিন্তু লেখার প্রসঙ্গ কেন এমন?
    গত মাসে, মানে নভেম্বরের মাঝমাঝি এক আমেরিকান ডেপুটি সহকারী মন্ত্রী (সাউথ এশিয়া) কেলি কেইডারলিং [Kelly Keiderling] বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন কোনো এক বহুরাষ্ট্রীয় সভায় যোগ দিতে। ফিরে যাওয়ার আগে তিনি ডেইলি স্টারকে এক সাক্ষাৎকার দেন যার প্রসঙ্গ হল – তিনি দাবি করেন, আমেরিকান স্টেট ডিপার্টমেন্টে বাংলাদেশ আলাদা গুরুত্ব লাভ করেছে, যে কারণে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ এখন থেকে আর ভারতের সাথে একই ডেস্ক থেকে দেখাশোনা করা হবে না। এতে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছিল যে, বাংলাদেশকে আর ‘ভারতের চোখ দিয়ে’  দেখা আমেরিকা  বন্ধ করেছে। তাই কুগেলম্যান ও আনু আনোয়ারের যৌথ লেখাটা হল, সেই বক্তব্যের গুরুত্ব আরো বিস্তারিত একটা সাফাইয়ে তুলে ধরা।
    ওই যৌথ লেখা নিয়ে কোন সেন্সিবল বাংলাদেশের যে প্রতিক্রিয়া হবে সবার আগে তা শিরোনাম আকারে বলে রাখি। বাস্তবে ফরেন পলিসির এই আর্টিকেল ভারতের চোখ দিয়ে আমেরিকার দেখার অভ্যাস ত্যাগ করা দূরে থাক, বরং আরো পোক্তভাবে ভারতের তথাকথিত নিরাপত্তাস্বার্থের চোখ দিয়েই বাংলাদেশকে দেখেছে। মানে ভারতের তথাকথিত নিরাপত্তাস্বার্থ বাংলাদেশ কতটা দেখবে অথবা না, সেই আলোচনাই ওখানে করা হয়েছে।

    আগাম অনুমান  
    কোন লেখা শুরু করার আগে লেখকের কিছু আগাম অনুমান সেখানে থেকে থাকে। সেই অনুমানটা আমরা এখানে দেখব। যেমন আনুদের লেখাটা সে অনুমানের উপর দাঁড়িয়ে আছে তা এখানে আমরা পাব। আনু লিখছেন, “ভবিষ্যতের কোনো সঙ্কটে বাংলাদেশ যদি চীন অথবা ভারত কোনোটার পক্ষ নিতে হয় অথবা  কোনো নিজস্ব ভূমিকায় হাজির হয়, তা সামরিক অথবা কূটনীতিক যাই হোক না কেন, তাহলে তা এঅঞ্চল বিপদে পড়ার মত ভূরাজনৈতিক পরিণতি ডেকে আনবে [If Bangladesh were to take the side of China or India, or to exert any role, whether diplomatic or military, in future crises, there would be considerable geopolitical consequences for the region. অর্থাৎ মূলকথা বাংলাদেশের নিজের ভুমিকা নেওয়াটাই ভারতের জন্য হবে মারাত্মক – এটাই তিনি বলতে চাইছেন।

    “If Bangladesh were to take the side of China or India, or to exert any role, whether diplomatic or military, in future crises, there would be considerable geopolitical consequences for the region.”

    এখানে একটি কথা বলে রাখি। এ লেখাটায় জিও-পলিটিক্যাল [geopolitical] এই অস্বচ্ছ শব্দটা যথেচ্ছ ব্যবহার করা হয়েছে একেবারে বিরক্তির পর্যায়ে।  এমনিতেই যারা ‘জিও-পলিটিক্স’ শব্দ ব্যবহার করেন তাদের ওপর ভীষণ বিরক্তি লাগে। মনে হয় এসব মানুষের যখন কোনো কিছু বুঝতে বা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নিজের ক্ষমতা টের দেয়, তখন এরা সোজা সেখানে জিও-পলিটিক্স শব্দটা ব্যবহার করে পার পেতে চায়। ফলে এক অর্থহীনতা তৈরি করে। অথচ তারা কোথাও কোন রাষ্ট্রের (কূটনৈতিক) সিদ্ধান্তগুলো বা ততপরতার কারণে যখন  তার স্থানীয় পড়শি রাষ্ট্রের উপরে এর প্রভাব পড়া শুধু নয়, তাতে শুধু আঞ্চলিকও নয় একেবারে গ্লোবাল পর্যায়েও প্রভাব পড়ে – এরা সেই গ্লোবাল প্রভাব কথাটাকে বুঝতে বুঝাতে না পেরে সম্ভবত সেটাকে “জিও-পলিটিক্স” বলে চালাতে চেয়ে থাকে।
    এর পেছনের মূল কারণ দুনিয়ায় ক্রমেই গ্লোবাল হয়ে ওঠা অর্থনীতি। এতে সব কিছুই এখন গ্লোবাল; মানে কোনো কিছুই আর স্থানীয় থাকছে না যেহেতু বাণিজ্য এখন গ্লোব-জুড়ে মানে গ্লোবাল হয়ে উঠেছে; ফলে পণ্য-বিনিময়ও গ্লোবাল রূপ নিয়েছে। তাই একটি ভূগোলে (জিও) কিছু একটা ঘটলে এর প্রভাব-পরিণতি স্থানীয় থাকছে না, বরং স্বতঃই তা গ্লোবাল হয়ে উঠছে।

    ঠিক আছে, তাহলে লেখক এখন কী নিয়ে উদ্বিগ্ন? বাংলাদেশের সামর্থ্যবান হয়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন?  সেটাই বা কেন? কারণ প্রধান প্রশ্ন, তা হলে এর মধ্যে আমেরিকান স্বার্থটা কী? বাংলাদেশ সামর্থবান হলে যদি ভারতের ক্ষতি হয়ে যায় তার মধ্যে আমেরিকান স্বার্থটা কী? এবং কোথায়?

    আসলে এখানে আমেরিকার সরাসরি কোনো স্বার্থ নেই। স্বার্থটা মূলত ভারতের আর এটিই আমেরিকার উদ্বেগের কারণ। এই হলো আমেরিকার ধরে নেয়া অনুমান বা নিজের স্বার্থসংক্রান্ত বুঝ। মানে আবার বোঝা যাচ্ছে তা হলে, আমেরিকার বাংলাদেশের জন্যও কোনো উদ্বেগ নেই।

    নিজের নয়, কিন্তু ভারতের স্বার্থ নিয়ে আমেরিকা উদ্বিগ্ন কেন? জবাব হল, আমেরিকা চীনের বিরুদ্ধে যা কিছু ভারতীয় স্বার্থ, এসব নিয়ে উদ্বিগ্ন।

    তাহলে দাঁড়াল যে, এই আর্টিকেলটা বাংলাদেশ নিয়ে মনে হলেও আসলে এটা ভারতের স্বার্থরক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন আমেরিকার পক্ষে লেখা এক আর্টিকেল। তার মানে, সেই একই পুরান কথাটাই হল যে, এখানেও আসলে আমেরিকার ভারতীয় প্রিজমের ভেতর দিয়ে বাংলাদেশকে দেখছে – সেই পুরনো অভ্যাসের ধারাবাহিকতা। সেই ২০০৭ সাল থেকে চলে আসা আমেরিকার পুরনো কায়দাটাই।
    তা হলে যে কথা দিয়ে শুরু করেছিলাম, ‘বাংলাদেশ যদি চীন অথবা ভারত কোনোটার পক্ষ নেয় মানে নিজের কোনো ভূমিকা নিয়ে হাজির হয়,…তো খারাপ ভূরাজনৈতিক পরিণতি ডেকে আনবে’  – এর মধ্যে সারকথাটা হল, বাংলাদেশ যদি চীনের পক্ষ নেয় বা আরও নিজের কোনো ভূমিকা নিয়ে হাজির হয় – এসব ক্ষেত্রে এক উদ্বিগ্ন আমেরিকাকে আমরা দেখতে পাচ্ছি।

    অথচ কথাটা একেবারেই সোজা।  চীন-ভারত দ্বন্দ্বের ইস্যুতে এমন দুটোর মধ্যে বাংলাদেশ ঠিক কী করবে তা যাই করুক সেটা তো বাংলাদেশের একান্ত সিদ্ধান্ত এবং স্বভাবতই বাংলাদেশ চাইবে তার সার্বভৌম সিদ্ধান্ত নিজের কাছে রেখে দিতে। এমনিতেই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে সঠিক অবস্থান হবে কোন দুপক্ষের বিবাদে কোনই পক্ষ না নেয়া; এ বিষয়ে তাদের উভয় থেকে দূরে থাকা।

    আর এখানে আবার আমেরিকা চাচ্ছে আমরা যেন ভারতের পক্ষে থাকি, যেটা অ্যাবসার্ড ও অলীক। আর সেটা কোন ভারত বা কোন আমেরিকা? যে আমেরিকা বাংলাদেশকে ভারতের হাতে তুলে দিয়েছে?  আহা রে কিউট বাবুটা! সত্যি এ এক অদ্ভুত আবদার!

    এ ছাড়া এই প্রসঙ্গে আরেকটা মজার দৃশ্যপট পরীক্ষা করা যাক। আসলেই কি চীন-ভারত কোনো সঙ্ঘাতে খোদ আমেরিকাই ভারতের পক্ষে দাঁড়াবে? যুদ্ধ করবে? সত্যি?  এটা তো সুখে কান্না চলে আসার মত বেবি!  আচ্ছা, দুই বছর আগে লাদাখে চীন-ভারত সীমান্ত সঙ্ঘাতে কমপক্ষে ২০ ভারতীয় সৈন্য নিহত ও বহু আহত হয়েছিল (যখনিকার ভারতীয় সৈন্যদের কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকা বা কান্নার দৃশ্যের ভিডিও নেটে প্রায়ই প্রকাশিত হতে দেখি আমরা), সেই উত্তেজনার সময়েও কি আমেরিকা ভারতের পক্ষে দাঁড়িয়েছিল? প্রশ্নই আসে না। আমেরিকা আসেনি। এমনকি আমেরিকার পক্ষ থেকে ভারতকে কোন সান্ত্বনাবাণী দানের কথাও আমরা জানি না। তাহলে? আমেরিকা আসলে কার পক্ষে? আর আমরা কোন পক্ষ নিব তা নিয়ে আমেরিকা উদ্বিগ্ন হওয়া কী সাজে???  টু উ উ মাচ!

    এ নিয়ে ইদানীংকালের প্রশাসন, বাইডেন প্রশাসনের দুর্গতি আরো ভয়াবহ। একালের এই আমেরিকা এখন সব ব্যাপারে আসলে লিম্ব মানে ঝুলে থাকে, কোনো পরিস্থিতিতে কোন  দিকে নড়ে না। যেমন আমেরিকান (Countering America’s Adversaries Through Sanctions Act) বা CAATSA আইনে কেউ রাশিয়ান এস-৪০০ মিসাইল কিনলে সেই রাষ্ট্রের উপর আমেরিকান অবরোধ আরোপ হবে। সে বিচারে এমন মিসাইল কেনায় ভারতের উপরে অবরোধ আরোপ হয়ে যাবার কথা। কিন্তু তা কী স্টাটাস অবস্থায় আছে কেউ ঠিক জানে না- ব্যাপারটা ‘লিম্ব’ হয়ে ঝুলে আছে।
    আবার ওদিকে তাইওয়ান নিয়ে অযথা খোঁচাখুঁচি ব্যাপারটা আবারো একেবারে ছেচড়ামোর পর্যায়ে নেয়া হয়েছে। “এক চীননীতি” [One china policy] মানে হল তাইওয়ান আলাদা দেশ নয়;  বরং একই চীনা ভূখণ্ডের অংশ – এটা কোন রাষ্ট্র না মানলে সে রাষ্ট্রের সাথে চীন কূটনৈতিক সম্পর্ক করে না। সেই বিচারে ১৯৭১-৭৭ সাল পর্যন্ত নানান ইস্যুতে দীর্ঘ আপস আলোচনার পরে আমেরিকার এক চীননীতি মেনে নিয়েই চীন-আমেরিকা কূটনৈতিক সম্পর্ক শুরু করেছিল ১৯৭৮ সালের শুরু থেকে।
    এভাবেই দীর্ঘ পথ চলার পরে  ট্রাম্পের আমলে এসে তিনিই প্রথম এক চীননীতি মানি-মানি না টাইপের লিম্ব তৈরি  করেন। । শেষে এবছর গত  অক্টোবর মাসে এসে চীন তাইওয়ান ইস্যুতে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করলে বাইডেন এবার তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা সুলেভানিকে দ্রুত চীনের সাথে বৈঠকে বসেই সোজা ১৯৭৮ সালের এক চীননীতিটাই বাইডেনের আমেরিকা এখনো বজায় রেখেছে বলে ঘোষণা দিয়ে দিলেন। এভাবে চীনের সব ক্ষোভ মিটিয়ে দিলেন। কিন্তু আবার গত দুই সপ্তাহ ধরে পুরানা চুলকানি! বাইডেন তার ‘গণতন্ত্র সম্মেলনে’ এবার তাইওয়ানকেও রাষ্ট্র হিসেবে দাওয়াত করেছেন।  অথচ তাইওয়ান জাতিসংঘের সদস্য নয় ঐ ১৯৭১ সাল থেকে। যখন থেকে সেটা কেড়ে নিয়ে মাওয়ের চীনকে আসল চীন বলে ভেটোসহ ঐ সদস্যের হকদার বলে মানা হয়েছিল। তাই মূল চীনাভুখন্ডের একচীন নীতি জাতিসংঘের চোখেও ভ্যালিড। এটা স্রেফ কোন গোয়ার্তুমি নয়। )  তাই আবার খামোখা টেনশন! অর্থাৎ এ কালের  বুড়া সিংহ  আমেরিকা  যে মুরোদ হারাচ্ছে তার আরেক প্রমাণ হল এসব ছেচরামো। এরই আরেক প্রকাশ হল, সিদ্ধান্ত নিয়ে বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বারবার ঝুলে থাকতে সবচেয়ে ভালো পারে!

    বাংলাদেশ কেন চীনের বিনিয়োগ পাওয়ার দিকে ঝুঁকেছে তা বর্ণনা করতে গিয়ে আনু নিজেই বলছেন, “চীনের অল্প সময়ের ভেতর বিপুল বিনিয়োগ সমাবেশ ঘটানো বা জোগাড়ের ক্ষমতা এবং তাও আবার তুলনামূলক অল্প কিছু শর্তে। যেটা নয়াদিল্লি তো বটেই ওয়াশিংটনেরও কম্ম নয়, তাদের এমন মুরোদ নেই” [Bangladesh, like many countries housing BRI investments, is attracted to Beijing’s ability to quickly deploy large amounts of capital with relatively few conditions. This is not something that New Delhi—or, for that matter, Washington—is able to do.]”।

    “Bangladesh, like many countries housing BRI investments, is attracted to Beijing’s ability to quickly deploy large amounts of capital with relatively few conditions. This is not something that New Delhi—or, for that matter, Washington—is able to do.”

    আমার মনে হয়, লেখক আনু আনোয়ারের  এত খোলাখুলিভাবে চীনের চেয়ে আমেরিকার অক্ষমতার কথা এই কঠিন সত্যকে প্রকাশ করা, কোনো আমেরিকান লেখায় আগে আসেনি। এ্ইটা বুড়া সিংহের নিজেকে বুড়া হিসাবে  এক আপন স্বীকারোক্তি!

    তবু লেখক এখানেই থামেননি। পরামর্শ দিয়েছেন আমেরিকাকে আবার তার যৌবন কালের মতো নয়া অবকাঠামো বিনিয়োগ বাংলাদেশে আনতে [By funnelling more investments into Bangladesh……]। কারণ একথাটা অবাস্তব তিনি জানেন। কিন্তু এটা বলা ছাড়া তার লেখাটাই দাড়ায় না, অর্থহীন হয়ে দাড়ায়।  সবাই জানে, আমেরিকার সে ‘ব্যবসা’ মানে যোগ্যতা চলে গেছে বহু বছর আগেই। তবু ‘গপ্প ফলিয়ে বেড়ানো’ আমেরিকা ত্যাগ করেনি। গত জি-৭’ বৈঠকে সবাইকে সাথে নিয়ে তারা নতুন উদ্যোগে অবকাঠামো বিনিয়োগ আনবেন, যেটা নাকি আবার চীনা বেল্ট-রোডেরও প্রতিদ্বন্দ্বী হবে। কিন্তু এসবই গল্প যা এখন পর্যন্ত কোনো রকমের বাস্তব প্রকল্প হিসেবে শোনা যায়নি। তাই শেষে আনু নিজেই স্বীকার করে নিচ্ছেন যে, ‘চীনের মতো দ্রুত আর বিশাল বিনিয়োগ সমাবেশ ঘটানোর মুরোদ আমেরিকার নেই”।

    তাই সারকথায় ফরেন পলিসি ম্যাগাজিনের এই আর্টিকেলটা লেখা অথবা বাংলাদেশের আলাদা ডেস্কের কথা বলে লোভ দেখানো  – এসবই আসলে লিপ সার্ভিস বা কথার কথা। সিংহ বুড়া হয়ে গেলে তারা আর কী করে?  তবু তাদেরকে এসব চাপাবাজি করে যেতেই হয়। তাই এসব করেই চীনের বিরুদ্ধে “ভারত নাকি পরাশক্তি” একথা বলেই পরিচয় করিয়ে দিতে হয় আমেরিকাকে।

    খামোখা কূটনৈতিক শোডাউনঃ
    গত মাসের শেষ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত এদিকে আরেক চাপাবাজি চলবে, একই কারণে। মানে ফরেন পলিসির আর্টিকেলের সাথে ঢাকায় ভারতের কূটনৈতিক নড়াচড়া সম্পর্কিত ঘটনা ততপরতার কথা বলছি। যেমন, দোরাইস্বামীর প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ, বিদেশ সচিব হর্ষবর্ধনের ৭ ডিসেম্বরে ঢাকা সফর  –  আর এসবই আগামী ১৬ ডিসেম্বর ভারতের প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফর উপলক্ষে।

    “বাংলাদেশ ভারতের সৃষ্টি, ভারতেরই ফসল, কাজেই বাংলাদেশ ভারতের প্রভাব বলয়ের বাইরে যায় কী করে” – ভারত যখন মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কোনো কথা উচ্চারণ করে তখন অলক্ষ্যে এ খামোখা বয়ানটাই তার কূটনীতিকরা তাই মনে মনে আওড়াতে থাকেন। অতএব চীন-ভারতের কোনো সঙ্ঘাতে বাংলাদেশ তো ভারতেরই, ভারতের প্রভাব বলয়ের জবাইযোগ্য এক নধর খাসি যেন!  কাজেই বাংলাদেশ আর যাবে কোথায়! এই দুই সপ্তাহ ধরে ভারতীয় স্বার্থগুলো এসব বয়ানেরই জপ করতে থাকবে।

    কিন্তু তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল, মানে কোন রিটার্ন কী আসবে? না, আসবে না। বরং ফলাফল একদম হবে শূন্য। এমনকি বর্তমান  হাসিনার বাংলাদেশও ভারতের পক্ষে যাবে না, মুভ করার সে সুযোগটুকুও নেই। বাস্তবতা এমনই। কিন্তু তাই বলে সে বাস্তবতার কথা আবার সরকারের দিক থেকে ভারতের কাছে মুখে উচ্চারণও করা হবে না। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা ঢাকা সফর উপলক্ষে আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিডিয়াকে বলছেন, “আমি ঢাকায় থাকলে তার সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ হতে পারে”। কাজেই কী পরিমাণ প্রাণহীনভাবে এ’দুই সপ্তাহ কাটবে, এখান থেকে অনুমেয়; অর্থাৎ কেবল মুখেই বলা হবে না যে, বাংলাদেশ ভারতের পক্ষে নেই। আর কার্যত এটা ভারতেরও পরিস্কার করেই অজানা নয়। তা হলে ভারত চীনের কাছে তার ‘হবু ও কথিত’ শিলিগুড়ি করিডোর অথবা সাত রাজ্য হারানোর কথা যে লেখক আনু তুলেছেন, তার কী হবে?

    আমেরিকান থিংকট্যাংকের দিগগজেরা আর কথিত ‘পরাশক্তি’ ভারত কী করে নিজেদের রক্ষা করবে, তা তো তাদেরই বিষয়। সাধারণভাবে বললে, এটা তাদের জবরদস্তিতে তোলা ইস্যুতে  খানিক এক ভীষণ উত্তেজনা মাত্র। আর বাস্তব বুদ্ধিসম্পন্ন কোন মানুষ এর ভেতরে নিজেকে সংশ্লিষ্ট করে না। তাই সাধারণ মানুষের কাছে এটা মৃত এক ভারতীয় উদ্বেগ যাকে চাবুক মেরে জাগানোর চেষ্টা দেখছি আমরা। এমনকি যার শেখ হাসিনা সরকারের কাছেও কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। সত্য নয়।

    তবুও ঢাকায় দুই সপ্তাহ ধরে নয়াদিল্লি-ঢাকা কত কাছাকাছি, কত নিকটাত্মীয় ও বাংলাদেশ ভারতের প্রভাবাধীন তা প্রদর্শনের এ ধরনের কিছু ইমেজ ফাঁপা ডেকোরেটেড উত্তেজনা তৈরি করা হতে দেখব অবশ্যই!

    লেখক : রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

     

    এই লেখাটা  গত  ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকার ওয়েবে ও পরদিন প্রিন্টে   “বাংলাদেশ ভারতের পক্ষে যাবে না”  – এই শিরোনামে  ছাপা হয়েছিল।   নয়াদিগন্তে ছাপা হওয়া লেখাগুলোকে আমার লেখার ‘ফার্স্ট ড্রাফট’ বলা যায়।  আর আমার এই নিজস্ব সাইটের লেখাটাকে সেকেন্ড ভার্সান হিসাবে এবং  থিতু ভাষ্য বলে পাঠক গণ্য করতে পারেন। পরবর্তিতে ‘ফার্স্ট ড্রাফট’ লেখাটাকেই এখানে আরও অনেক নতুন তথ্যসহ বহু আপডেট করা হয়েছে। ফলে সেটা নতুন করে সংযোজিত ও এডিটেড এক সম্পুর্ণ নতুন ভার্সান হিসাবে ও নতুন শিরোনামে এখানে আজ ছাপা হল। ]

  • মোদির পরাজয় ঘটাতে মমতা, সাথে পিকের কৌশল

    মোদির পরাজয় ঘটাতে মমতা, সাথে পিকের কৌশল

    গৌতম দাস

    ২৯ নভেম্বর ২০২১, ০০:০৬ সোমবার

    –

    For India’s opposition to recover, the Gandhis should quit

    [সার-সংক্ষেপঃ উপরের বা সাথে দেয়া ছবিটা লন্ডন ইকোনমিস্ট পত্রিকার চলতি সংখ্যায় এক আর্টিকেলের প্রচ্ছদ। যদিও আমার এলেখার প্রসঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ও তার দল। ইকোনমিস্টের  ঐ আর্টিকেলের সারকথা হল, ভারতের বিরোধী দলকে জোটবদ্ধ হতে পিছিয়ে দিয়েছে  ও দিচ্ছে এই গান্ধী পরিবার।  আর ঠিক এজায়গায় প্রত্যক্ষ না হওয়া সত্বেও বিপরীতে মমতা নিজেকে উত্থিত করার যে চেষ্টা করছেন তা সম্পর্কিত।  ইকোনমিস্ট সরাসরি বলেছে গান্ধী পরিবারের ভারতের রাজনীতিকে এভাবে স্থবির করে রাখা “ত্যাগ করা উচিত” । শিরোনামেই সেকথা বলেছে যে “গান্ধীদের ত্যাগ করা উচিত” [Gandhis should quit]।
    কিন্তু ততদিন কী তাহলে মমতা অপেক্ষা করবেন? গান্ধী পরিবার কী করে তা দেখার জন্য? একেবারেই না। ভারতের মিডিয়া এনিয়ে অনেক কথা লিখেছে। যেমন যা লেখা শুরু করেছে তা হল,  “দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্রমশই নিজেকে মোদী-বিরোধী শিবিরের ‘মুখ’ করে তুলছেন”।  এমন নেতা  হিসাবে নিজেকে হাজির করার কাজে মমতা অনেক দূর আগিয়ে গেছেন।  আর এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ দল হচ্ছে গান্ধীদের কংগ্রেস।
    আরেক পত্রিকা লিখছে, “আঞ্চলিক দলের তকমা ঝেড়ে তৃণমূল এখন সর্বভারতীয় হয়ে ওঠার পথে। চব্বিশের লোকসভা ভোটে মোদিবিরোধী জোটে সোনিয়া, রাহুল কিংবা প্রিয়াঙ্কা নন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই এখন মুখ”।
    কেন?  কারণ, মমতার নিজেকে এই প্রধান মুখ হিসাবে উপস্থাপনে বিভিন্ন দল ভেঙ্গে বিভিন্ন ব্যক্তি ও গ্রুপ দল বেধে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জন্য যোগাযোগ শুরু করেছে। অনেকে সরাসরি যোগদান করছে।  চলতি নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে মমতার দিল্লি সফরে একটা অন্যতম কর্মসুচি ছিল এমন যোগদানগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘটিয়ে তা দেখানো।  আর এবার মিডিয়া লিখছে এভাবেঃ “একের পর এক উইকেট পড়ছে কংগ্রেসে। দেশের প্রাচীনতম দলটি ক্রমেই জাতীয় রাজনীতিতে তার গুরুত্ব হারিয়ে ফেলছে”। অর্থাৎ অনেক দল থেকে লোক আসছে তৃণমূলে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি যে দল ভেঙ্গে লোক মমতার দলে যোগ দিচ্ছে সেদলটা হল গান্ধী পরিবারের কংগ্রেস।
    কোন কোন পত্রিকা তাদের রিপোর্টে ব্যাখ্যা করা শুরু করেছে কেন আভ্যন্তরীণভাবে কংগ্রেস স্থবির ও অগোছালো। যার মূলকথাটা হল, গান্ধী পারিবারিক নেতৃত্বটাই এর মুল কারণ। এই পরিবার এটা কংগ্রেসের তরুণ নেতাদের আকাঙ্খা দাবায় রাখার প্রতীক হয়ে গেছে। আবার কংগ্রেসের বয়স্ক বা পরীক্ষিত নেতারাও মনে করছে তাদের পোটেনশিয়ালিটি বা সম্ভাবনা সব এই পরিবারের জন্যই স্বীকৃতি পাচ্ছে না। মিডিয়ায় লেখা হয়েছে, রাহুল গান্ধীকে দলে অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না।  আর এতেই ফলাফলে সবকিছুই স্থবির হয়ে বসে থাকা। আর ঠিক এ’জিনিষটার দিকে নজর ঢেলেছেন পিকে মানে প্রশান্ত কিশোর । যিনি আসলে মমতার পক্ষে ও মমতার নিয়োগকৃত  রাজনৈতিক দলের জন্য  পেশাদার এক  “ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্ট”; ভারতের আনন্দবাজারি ভাষায় “ভোটকুশলী”।  যদিও শব্দটা হবে সম্ভবত ভোটকৌশলী এক্সপার্ট। বাংলায় প্রকৌশলী শব্দের “কৌশলী” শব্দটা যেখান থেকে।

    এছাড়া ওদিকে ঠিক বিজেপি না, আরএসএসে আভ্যন্তরীণ বিরোধের টেনশনে্র কথা শুনা যাচ্ছে মোদিকে তৃতীয়বার প্রার্থী না করার ব্যাপারে ফলে আরএসএসের মমতার প্রতি তাদের কিছু আগ্রহের খবরও বাজারে এসেছে দেখা যাচ্ছে। ]

     

    মমতার তৃণমূল কংগ্রেস রাইজিংঃ
    অসময়ে তৃণমূল কংগ্রেস ও এর নেতা মমতা ব্যানার্জি নিয়ে আজকের প্রসঙ্গ। অসময়ে এজন্য যে, এটা পশ্চিমবঙ্গের কোনো নির্বাচনের আগের অথবা অব্যবহিত পরের সময় অবশ্যই একেবারেই নয়। আবার যদিও একটা পৌরসভা  (ওদের ভাষায় পুরভোট)  বা মেয়র নির্বাচন আসন্ন। তবে  এর রাজনৈতিক গুরুত্ব তেমন নেই। সাধারণত যতটুকু একটি পৌর নির্বাচনের থাকে, এবার তাও নেই। এর মূল কারণ গত   ২০২১ সালের মার্চ-এপ্রিলে মমতা শুধু নিজে ও দলকে টানা তৃতীয়বার রাজ্যের ক্ষমতায় বিজয়ী হয়ে নিয়ে এসেছেন সে জন্য নয়। আসলে এই নির্বাচন ছিল হেভিওয়েট বিজেপি পুরা দলকেই কলকাতা থেকে পুরো উৎখাত করে ফেলা। অথবা বলা যায়, সারা ভারতের বিরোধীরা যখন মোদির সামনে শিশু বা বামন হয়ে যায়, কেবল সেখানে একা মমতা নিজ ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্ব দিয়ে লড়ে প্রমাণ করে দিলেন, এক প্রধানমন্ত্রী মোদির ইমেজের ওপর দাঁড়ানো চালু এদলটিও তার সামনে কিছুই না। ফলে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের আগে যে ভিত্তিহীন প্রপাগান্ডার ঝড় বিজেপি তুলেছিল, সেটাসহ মোদি বা বিজেপি কোনো কিছুকেই মমতা আস্ত রাখেননি। উপড়ে ফেলেছেন। এরপর যারা নির্বাচনের আগ দিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন, তাদের এবার বিজেপি ছেড়ে আবার একমাত্র দল মমতার তৃণমূলেই ফেরতের হিড়িক পড়ে যায়; যেন সবাইকেই ফিরে যেতে হবে, বড় ক্ষতি হয়ে গেছে।  এছাড়া “দ্রুত অনুগ্রহ যোগাড় করে” কার আগে কে ফিরে জায়গা নেবে যেন এর প্রতিযোগিতাও শুরু করাতে পেরেছিলেন মমতা।

    তবে বছরের শুরুতে মার্চ-এপ্রিল ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের পরেও আবার ওরই  উপনির্বাচনও ইতোমধ্যে হয়ে গেছে অনেক আসনে; কারণ করোনার জন্য আটকে থাকা, শিডিউলে থাকা অনেক উপনির্বাচন দীর্ঘ দিন হতে পারেনি।  আর সেই উপ-নির্বাচনেও বিজেপি আরেক দফা আরো তুচ্ছ হয়ে যায়।
    এসব কারণে এখন পৌর নির্বাচনের গুরুত্ব এবার আরো কম বা নাই; কারণ গত ৩০ সেপ্টেম্বরে, ছয় মাসের মধ্যে ঐ উপ-নির্বাচন হয়েছিল। আর এবার সুযোগ পেয়ে একসাথে সারা ভারতেও অনেক উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে। আর তা ছিল ভারতের ১৩টি রাজ্যের লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভা মিলিয়ে মোট ২৮টি আসনে উপনির্বাচন। এতে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার আসন ছিল চারটি। আর ওদিন আরো তিন রাজ্যের তিন লোকসভা আসনে উপনির্বাচন হয়। রাজ্য তিনটি হলো – হিমাচল, মধ্যপ্রদেশ ও কেন্দ্রশাসিত রাজ্য দাদরা ও নগর হাভেলি; যার  মধ্যে বিজেপি জিতেছিল কেবল মধ্যপ্রদেশে; আর বাকি দুই রাজ্যে বিজেপি হেরে যায়। এ বছরের কলকাতায় মমতার রাজ্য নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের পর থেকে সেই জোয়ার এতই তীব্র  উঠেছিল যে, এই উপনির্বাচনে ছয় মাসের ব্যবধানে এক লাখেরও বেশি ভোটে উল্টো বিজেপি প্রার্থীরা এবার হেরে যান। আর বিজেপি প্রার্থী প্রায় সবার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

    পশ্চিমবঙ্গে মোদির এই ব্যাপক হার গত প্রায় আট বছরের মোদির শাসনামলে এই প্রথম, যা তার বিজেপি দলসহ তাকে এই প্রথম সমূলে এত বড় আঘাত হেনেছে মনে করা হচ্ছে। একটা পত্রিকা লিখেছিল,

    উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বিজেপি শিবিরে প্রচণ্ড উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে যেভাবে বিজেপিবিরোধী তৃণমূলের পালে হাওয়া লেগেছে, তাতে মনে করা হচ্ছে, সেই হাওয়ায় সত্যিই এবার বিজেপির বাগান তছনছ হয়ে যেতে পারে?

    এ ছাড়াও প্রথমে মনে করা হয়েছিল, মোদির ওপর এ আঘাত বোধহয় কেবল পশ্চিমবঙ্গেই। কিন্তু এখন একেবারেই পরিষ্কার, এটা ভারতজুড়েই বিরাট ছাপ ফেলেছে।
    আসলে এটা এক ‘আন্ডার কারেন্ট’ যেখানে সেটা নদীর যত তলদেশে ততই সেখানে স্রোতের বেগ তত বেশি। অথচ পুরো ব্যাপারটা বাইরে থেকে তেমন বোঝাই যায়নি। কিন্তু কী সেটা?
    বিজেপি বা মোদিবিরোধী সব বিরোধী দলের অভ্যন্তরেই প্রচণ্ড অভ্যন্তরীণ সঙ্ঘাত ও ক্ষোভ বর্তমান। এসব ক্ষুব্ধ ভগ্নাংশ বা গ্রুপগুলোতে অভ্যন্তরীণ সঙ্ঘাত এতই তীব্র কিন্তু তারা দল ছাড়ার কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে সেদিকে ফায়সালার পথ বেছে নেবে, তা ঘটছিল না। সম্ভবত তাদের দ্বিধার মূল কারণ, এসব ক্ষুব্ধ গ্রুপ ভেঙে বেরিয়ে যেতে চাইলেও তারা কোথায় যাবে কোন দিকে বা গন্তব্যে? এটা স্পষ্ট খুঁজে না পাওয়ায়ই তারা উদ্দেশ্যহীন হয়ে পুরনো নিজ দলের সাথে লেপ্টে থেকে গিয়েছিল।

    কিন্তু দেখা যাচ্ছে আজ এটা প্রমাণিত যে, তৃণমূলের মমতা হলেন সেই হ্যামিলনের বংশীবাদক যার বাঁশির পেছনে ওসব ক্ষুব্ধ গ্রুপ একেবারে সদলে এসে একের পর এক যোগদান শুরু করেছে এখন। আর তাতে রাতারাতি মমতার তৃণমূল দল এক আঞ্চলিক দলের পরিচয় থেকে বেরিয়ে সর্বভারতীয় দলের পরিচয় ধারণ করতে যাচ্ছে।

    ‘সর্বভারতীয় দল’ মানে কীঃ
    ভারতে এখন ছোট-বড় মিলিয়ে মোট রাজ্যের সংখ্যা ২৮টা। কোনো একটা রাজনৈতিক দলের প্রত্যেকটা রাজ্যেই বা বেশির ভাগ রাজ্যেই উপস্থিতি মানে কমিটি থাকলে সাধারণত চলতি অভ্যাসে তাকে “সর্বভারতীয়” দল বলে বুঝানো হয়ে থাকে। তবে স্বভাবতই এটা আইনি বা নির্বাচন কমিশন প্রদত্ত সংজ্ঞা নয়। কমিশনের মতে, তাদের কতগুলোর শর্তের একটা পূরণ করলেই সেটা ভারতের পরিপ্রেক্ষিতে ‘জাতীয় রাজনৈতিক দলের’ মর্যাদা লাভ করে থাকে। এছাড়াও সময়ে সময়ে নির্বাচন কমিশন এই মর্যাদা কোন দলের জন্য সে দল “প্রাপ্ত বা কেড়ে নেয়া” হল বলে ঘোষণা দিয়ে থাকে।

    যেমন এমন কিছু শর্তগুলো হল, দলটাকে ভারতের যেকোনো তিন রাজ্য থেকে লোকসভার (কেন্দ্রীয় সরকার গঠনের লক্ষ্যে যেটা) নির্বাচনে মোট ভোটারের কমপক্ষে ২ শতাংশ পেতে হবে। অথবা দলটিকে লোকসভা বা বিধানসভা (রাজ্য সরকার গঠনের লক্ষ্যে) নির্বাচনে যেকোনো চার বা ততোধিক রাজ্য থেকে মোট ভোটের ৬ শতাংশ পেতে হবে। আর সাথে আরো চারটি লোকসভা আসন জিততে হবে। অথবা দলটাকে চার রাজ্যের যেকোনো একটাতে ‘রাজ্য দল’ হিসেবে স্বীকৃতি পেতে হবে।

    যেমন, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ থেকে কমিশন ঘোষিতভাবে ভারতে আটটা ‘জাতীয় রাজনৈতিক দলের’ মর্যাদাপ্রাপ্ত দল আছে যদিও সম্প্রতি এদের চারটির অবস্থা খারাপ যে, সম্ভবত তারা নয়া রিভিউয়ে বাদ পড়বে। তবে তৃণমূল কংগ্রেস কখনো ‘জাতীয় রাজনৈতিক দলের’ মর্যাদাপ্রাপ্ত দল নয়; যদিও গত ২০০১ সালের রাজ্য নির্বাচনের সময় থেকে তৃণমূল খুবই কঠোর চেষ্টা শুরু করেছে। আর আগামী বছর মানে সারা ২০২২ সালে পাঁচটি রাজ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এগুলো হল – গোয়া, মনিপুর, উত্তরখণ্ড, পাঞ্জাব ও উত্তর প্রদেশ। এতে একমাত্র উত্তর প্রদেশের নির্বাচন হবে মে মাসে আর বাকি চারটি নির্বাচনই হবে মার্চ মাসের বিভিন্ন সময়ে। বাংলা ভাষায় এগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বিধানসভার নির্বাচন’ বলে পরিচিত। ইংরেজিতে যা ‘লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলি’ বা সংক্ষেপে শুধু “অ্যাসেম্বলি” নির্বাচন বলার চল আছে।
    আর সার কথাটা হল, তৃণমূল কংগ্রেস এখনো ‘জাতীয় রাজনৈতিক দলের’ মর্যাদাপ্রাপ্ত নয়। তৃণমূল মূলত আঞ্চলিক দল মানে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যভিত্তিক দল।

    তাহলে ২০২১ সালের মার্চ-এপ্রিলের নির্বাচনের পর এবার তৃণমূলকে নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বাইরেও হইচই ওঠার কারণ কী?
    এক কথায় বললে, পশ্চিমবঙ্গের গত এপ্রিল নির্বাচন হয়েছিল মোদির নামে, মোদির সুনাম বা ক্রেডিটকে দেখিয়ে, তাঁকে সামনে রেখে। এমনকি বিজেপি দলের চেয়েও মোদির নাম এগিয়ে রাখা হয়ে থাকে সবসময় ঠিক যেমন গত সাত বছর ধরে বিজেপি একা মোদির নাম ও ক্রেডিটের উপরে নির্বাচন করে যাচ্ছিল। সবচেয়ে বড় কথা, এতে কলকাতায় এমন প্রপাগান্ডা ঝড় তারা তুলেছিল যেন নির্বাচনের পরে সারা পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ছাড়া “আর কোনো দল থাকছে না”। ফলে অন্যান্য দল থেকে সুযোগসন্ধানীদের মধ্যে দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়ে যায় যে, নিজ নিজ দল ছেড়ে কার আগে কে বিজেপিতে যোগ দেবে। অথচ ফলাফল প্রকাশের পরে পেলে দেখা গেল, কিছুই বাস্তব-সত্য নয়, সব প্রপাগান্ডা। পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২১৩টিতে জিতেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপি পায় ৭৭টি আসন। অথচ মোদি-অমিত আওয়াজ দিয়েছিলেন বিজেপি নাকি ২০০ এর বেশি আসন পাবে। বাস্তবে  তাও আবার সেই ৭৭ এখন ৭২ হয়ে গেছে। অর্থাৎ  ঐ পাঁচজন তৃণমূলে আবার ফেরত গেছেন।

    শুধু তা-ই নয়, বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের জোটের সাথে ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা ‘সেক্যুলার ফ্রন্ট’ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক দল  জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু পীরজাদার দলের একটা আসন পাওয়া ছাড়া এই পুরো দল বা জোট এবার আর কোনো আসন পায়নি। অনেকে এটাকে ব্যাখ্যা করেছিলেন, এটা গত ২০১৯ সালের কেন্দ্র নির্বাচনে সিপিএমের নিজ কর্মের শাস্তি বা প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে। কেন?
    সিপিএমের বামফ্রন্ট ২০১১ সালে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে কংগ্রেসের সাথে জোট করে নির্বাচন লড়ে আসছে। কিন্তু যেহেতু মমতাই তাদের ৩০ বছরের সাজানো দুর্গ ২০১১ ভেঙে দিয়ে প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হন, তাই মমতার দলই তাদের প্রধান শত্রু ও বিরোধী তা আজও এরা মনে করে থাকে। তাতে ভারতের কেন্দ্রে ক্ষমতায় যে দলই থাক। কিন্তু এখানে ফাঁকিটা হল, এতে ক্ষমতাসীন মোদি কমিউনিস্টদের ভাবধারার অলক্ষ্যে এবং একথা তারা মুখে না বললেও পরোক্ষে  সিপিএমের দোস্ত হয়ে উঠেছে। এরই চরম অবস্থাটা আমরা দেখে ২০১৯ সালের কেন্দ্রের নির্বাচনে। তারা বিজেপির সাহায্য নিয়ে মমতা উৎখাতের পরিকল্পনা করে ভোটকেন্দ্রে বিজেপির পক্ষে কাজ করে দিয়েছিল। এই কৌশল বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মত বয়স্ক নেতারা পছন্দ না করলেও সেবার তারা পাত্তা পাননি। তাদের আপত্তি দলের কেউ শুনে নাই।  আর তাতে হঠাৎ বিজেপি তিন আসন থেকে এক লাফে ১৮ আসন লাভ করেছিল যেখানে মোট পশ্চিমবঙ্গের ভাগে মোট আসন ৪২টা আর তৃণমূল একাই প্রায় সবটা পেয়ে থাকে। এ কারণেই ২০২১ সালের রাজ্য নির্বাচনে একটা সিটও না পাওয়াকে সিপিএমের কর্মের শাস্তি বলা হচ্ছে। এ ছাড়া তারা পীরজাদাকে জোটের সাথে নিয়ে মূসলমান ভোট ভাগ করতে চেয়েছেন, যাতে বিজেপির সুবিধা হয়। কিন্তু মুসলমান ভোটাররাই সব রুখে দেন, তারা ভোট ভাগ হতে দেননি। মমতার এত আসন পাওয়া বা বাম-কংগ্রেস সাথে পীরজাদার জোট মাত্র একটিই আসন পাওয়ার ঘটনাকে এভাবেই ব্যাখ্যা করা হয়ে থাকে।

    এ তো গেল শুধু পশ্চিমবঙ্গের হিসাব, সাথে এখন তৃণমূলের বিস্তৃতি বাইরের রাজ্যেও। সর্বভারতীয় দল হিসেবে তৃণমূল নিজের নতুন কেন্দ্রিয় কমিটি সাজিয়ে নিয়েছে। আর এতে একেক করে অন্যান্য রাজ্যের দলের নেতাকর্মীরা যোগ দেয়া শুরু করেছেন; যার মধ্যে গোয়া আর ত্রিপুরা সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তুলেছে।

    এবার গত সপ্তাহে (২৫ নভেম্বর) মমতা দিল্লি সরকারি সফরে গিয়েছিলেন। কিন্তু আসলে এর ফাঁকে নিজ দলের শুভযাত্রার অনেক কাজ করে এসেছেন তিনি, যাতে অন্তত তৃণমূলকে এখন এক সর্বভারতীয় দল মনে হয়। আসলে বিভিন্ন দল থেকে মমতার দলে যোগদান করতে আসছেন; এরই এক অনুষ্ঠান ছিল এবারের মুখ্য আকর্ষণ। যেসব রাজ্য থেকে পুরনো দল ছেড়ে নেতারা (সাবেক বা বর্তমান) এমপিরা তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন এদের মধ্যে আছেন উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ত্রিপুরা, মেঘালয়সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে; বলা হচ্ছে হিন্দি বলয়ের তিন সাবেক সাংসদ কীর্তি আজাদ, অশোক তনওয়ার ও পবন বর্মা যোগ দিয়েছেন। কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা লিখছে, “দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্রমেই নিজেকে মোদিবিরোধী শিবিরের ‘মুখ’ করে তুলছেন।”

    আসলে বলা যায়, এটাই হল মমতার মুখ্য মেসেজ। অর্থাৎ মোদিবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর জোট গড়তে গেলে এর সম্ভাব্য নেতা কে কে হতে পারেন – এই বিচারে মমতা নিজেকে সর্বভারতীয় নেতার ইমেজ দিয়ে রাখলেন। কিন্তু কেন এটা?

    প্রশান্ত কিশোর বা পিকেঃ
    রাজনীতিতে কনসালটেন্সি বা ভারতে একালের ভোটযুদ্ধে দলের পক্ষ থেকে প্রফেশনাল এক্সপার্ট নিয়োগ দিয়ে নির্বাচনে পরিকল্পনা করে ভোটে নামা শুরু হয়েছে। ভারতের রাজনীতি ষোলোআনাই নির্বাচননির্ভর। তাই “ভারতে রাজ্যের বা কেন্দ্রের নির্বাচনের আগেই কেবল রাজনীতি করো। বাকি সময় দলের বাতি ধরে রাখলেই হবে”। এই হলো ভারতের রাজনীতি। ফলে দলের হয়ে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করা, লড়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আসলে যেহেতু এটা ‘পরিচালনা’ মানে ডিরেকশন বা নির্দেশনা দেয়া; কাজেই ব্যাপারটা আসলে একটা ম্যানেজমেন্ট বিষয়ক কাজ যার এক বাংলা করতে পারি পরিচালনা বা ম্যানেজ করা বা সামলানো। কাজেই এজন্যই তো “ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্ট” নিয়োগ। তাই না?

    বিহারের প্রশান্ত কিশোর (পিকে) হচ্ছেন আপাতত ভারতের একমাত্র এমন পলিটিক্যাল কনসাল্ট্যান্ট। এটা আসলে জনমত যাচাই, পাবলিক মনোভাব আগাম বুঝা, নির্বাচনে ভোটারদের মুখ্য আশা-আকাঙ্খা কী, কী হলে তারা খুবই খুশি হবে, দলের সবচেয়ে খারাপ দিক কোনটা, দলের পজিটিভ-নেগেটিভ সব জেনে নেয়া ইত্যাদি সবকিছুই এর কাজের মধ্যে পড়ে। এসব কাজের জন্য একেবারে স্যাম্পল ডাটা সংগ্রহ করে গবেষণা স্টাডিতে নেমে পড়া; আর সে স্টাডির ফলাফল অনুসারে দলকে পরিচালিত হতে, নড়াচড়া করতে নির্দেশ দেয়া, এটাই কনসালটেন্টের কাজ। পিকে এর আগে পুরান পেশা হিসাবে পেশাদার কনসাল্ট্যান্ট হিসেবে জাতিসঙ্ঘে এমন স্টাডি গবেষণার কাজ করতেন। এরপর কী খেয়ালে সেসব ছেড়ে এখনকার কাজে নেমে এসেছেন। এ’পর্যন্ত কোনো দলের সাথে (ও পক্ষে) পরামর্শদানের চুক্তি করে সে দল কখন ঐ নির্বাচনে হারেনি। ফলে এটা তার এক ভালো রেকর্ড। এককালে বিজেপিকেও এমন পরামর্শ দিয়েছেন। কংগ্রেসকেও। বর্তমান অন্ধ্রপ্রদেশের ক্ষমতাসীন রাজ্য সরকারকেও। আবার পাঞ্জাবসহ এমন অনেক রাজ্যকেই। মমতার সাথে  তাঁর  সম্পর্কের শুরু ঐ ২০১৯ সালে; সেবারের কেন্দ্র নির্বাচনে খারাপ ফলাফলের প্রেক্ষিতে এরপর থেকেই মমতা পিকে-কে নিয়োগদান করেছিলেন; যার ফলাফল পরেরবার মমতার ২০২১ সালের রাজ্য নির্বাচনে মোদি হারানোর জয়জয়কার লাভ করেন। কিন্তু এরপর থেকেই কেন্দ্রের নির্বাচনে মমতার দলের পক্ষে নেমে পড়া, নতুন চুক্তি হাতে নেন পিকে। আনন্দবাজারের ভাষায় এটাই ‘ভোট-কুশলীর কাজ’। শব্দটা ইংরেজি স্ট্রাটেজিস্ট শব্দটার বাংলা কৌশলী আর সেখান থেকে ব্যক্তি কুশলী। এটা কুশল বিনিময়ের কুশল নয়। আসলে, এটা প্রকৌশলী লিখতে যে কৌশল শব্দ ব্যবহার করি সেই কৌশল শব্দ থেকে কৌশলী হবে।

    পিকে তার কাজের শুরুতেঃ
    গত মে মাস থেকে কাজে নেমেই পিকে ‘বিরোধী জোটের ঐক্য’ গড়া দিয়ে কাজ শুরু করতে চেয়েছিলেন। ঘোষণাও করেছিলেন, কংগ্রেসকে সাথে নেয়া ছাড়া এ কাজ শুরু করার মানে নেই; এ ধরনের বক্তব্যও দিয়েছিলেন। কিন্তু কিছু দিনের মাথাতেই অগ্রগতি না দেখে এবার আবিষ্কার করেন যে, খোদ কংগ্রেস দল ও এর অভ্যন্তরীণ বর্তমান দশাই সব সমস্যার উৎস। আর এরপর থেকেই তিনি প্রকাশ্যেই কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো কী তা বিভিন্ন ঘটনার সময় প্রকাশ্যেই তুলে ধরতে শুরু করেন। ইঙ্গিত দিতে থাকেন কংগ্রেস যোগ্য দল নয়; তাই সে নেতৃত্ব দিতে পারবে না। এর পরই তিনি মমতাকে নেতা হিসেবে ‘প্রজেক্ট’ করা শুরু করে দেন। খুব সম্ভবত তারই পরিকল্পনায় মমতার এবারের দিল্লি সফর।

    ঘটনা যতটুকুই যা, তা সঠিক হোক বা না; বাস্তবতা হলো পিকের কৌশলে মোদিবিরোধী জোট গড়তে এখনো অগ্রসর হতে পারেন আর না পারেন, মমতাই যে কিছু করার ক্ষমতা রাখেন, এই ইমেজ তিনি (পিকের মাধ্যমে) চার দিকে ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছেন, সন্দেহ নেই। এরই সোজা মানে হল, পিকে সঠিকই ধরেছেন, মোদিবিরোধী দল বা কর্মীরা কোন নেতা, কোন পরিকল্পনা, কোন দল ও জোট ইত্যাদি, এমন সব কিছু আছে এমন একটা জায়গা যে খুঁজে ফিরছে – তা পিকে ধরে ফেলেছেন। আর সেজায়গাটাই হতে যাচ্ছে মমতার তৃণমূল।  বিভিন্ন দল ও গ্রুপে তারা যে এখন পুরান দল ছেড়ে বের হয়ে আসবে, সাহস করবে, মমতাকে দেখে তারা পথ খুঁজে পেয়েছে মনে করবে –  তা ফল দেয়া শুরু করেছে। আর এ কাজটা করতেই রাহুল বা সোনিয়ার নেতৃত্বের কংগ্রেস আনফিট, সেটিই সম্ভবত প্রমাণ হতে যাচ্ছে। ইকোনমিস্ট সেকথাটাই বলেছে।

    বাংলাদেশের বাংলা ট্রিবিউনে তাদের কলকাতা প্রতিনিধি লিখেছেন শিরোনাম দিল্লি দখলের পথে মমতা!। বলছেন, ‘একের পর এক উইকেট পড়ছে কংগ্রেসে। দেশের প্রাচীনতম দলটি ক্রমেই জাতীয় রাজনীতিতে তার গুরুত্ব হারিয়ে ফেলছে। অন্য দিকে বাংলার বুকে কংগ্রেস ভেঙে তৈরি হওয়া তৃণমূল আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে দেশে বিজেপিবিরোধী রাজনীতিতে শক্ত অবস্থানে। আঞ্চলিক দলের তকমা ঝেড়ে তৃণমূল এখন সর্বভারতীয় হয়ে ওঠার পথে। চব্বিশের লোকসভা ভোটে মোদিবিরোধী জোটে সোনিয়া, রাহুল কিংবা প্রিয়াঙ্কা নন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই এখন মুখ্য। এমনটিই বলছে রাজনৈতিক মহল। তবে কী ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর ‘মহামিশন ২০২৪’-এর গেমপ্ল্যানকে লক্ষ্য করে এখন দিল্লি দখলের পথে মমতা!”।
    কথা সঠিক; এখন পর্যন্ত যে দলটা সবচেয়ে বেশি ভেঙে দলে দলে নেতাকর্মী বের হয়ে তৃণমূলে যোগ দিচ্ছে এদের বেশির ভাগই পুরনো কংগ্রেস দলের।

    তবে আমাদের অতি উচ্ছ্বসিত হওয়ার কিছু নেই। আপাতত মনোযোগে পর্যবেক্ষণই আমাদের কাজ বোধ করি!

    লেখক : রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

     

    এই লেখাটা  গত  ২৭ নভেম্বর ২০২১, দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকার ওয়েবে ও পরদিন প্রিন্টে   “মোদির পরাজয় ঘটাতে মমতা ও পিকে”  – এই শিরোনামে  ছাপা হয়েছিল।   নয়াদিগন্তে ছাপা হওয়া লেখাগুলোকে আমার লেখার ‘ফার্স্ট ড্রাফট’ বলা যায়।  আর আমার এই নিজস্ব সাইটের লেখাটাকে সেকেন্ড ভার্সান হিসাবে এবং  থিতু ভাষ্য বলে পাঠক গণ্য করতে পারেন। পরবর্তিতে ‘ফার্স্ট ড্রাফট’ লেখাটাকেই এখানে আরও অনেক নতুন তথ্যসহ বহু আপডেট করা হয়েছে। ফলে সেটা নতুন করে সংযোজিত ও এডিটেড এক সম্পুর্ণ নতুন ভার্সান হিসাবে ও নতুন শিরোনামে এখানে আজ ছাপা হল। ]