Category: Pravin Sawhney

  • প্রথম আলো পুরানা পথেই; তাহলে সামনে কী!

    প্রথম আলো পুরান পথেই; তাহলে সামনে কী!
    গৌতম দাস
    ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪  সন্ধ্যা ০৬ঃ ৫৫
    https://wp.me/p1sCvy-66Q

     

     

     

     

     

     

     

     

    প্রথম আলো কিছুই বদলায় নাই। মানে শিক্ষা নেয় নাই। আর সে মাপেই তার কথিত ‘কূটনৈতিক প্রতিবেদক” সেও কিছু বদলায় নাই।  রাহিদ-এরা ঝামেলা আছে বুঝলে নাম সরিয়ে পদবী লিখে থাকে। তারা জানে যে এমন কাজ গর্হিত কাজ অপ-সাংবাদিকতা। গত ২১ ডিসেম্বর মানে পরশুদিন এমনই এক কথিত বিশ্লেষণ ছাপা হয়েছে প্রথম আলো তে। শিরোনাম, বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কে নতুন অস্বস্তি সৃষ্টি এড়াতে সচেষ্ট থাকা উচিত এভাবে। প্রথমত ভাসুরের নাম মুখে না নিবার মত করে বলা শব্দ হল অস্বস্তি; মানে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক এর মধ্যে “কোন অস্বস্তি বলে” কোন কিছু আছে তাই বুঝানো হচ্ছে। কিন্তু খাড়া বললে এটা হল ইন্ডিয়া ও মোদি অন্তত  আমাদের “আয়নাঘর” আর বিডিয়ার হত্যা ২০০৯  [এছাড়া আরও কত কী যে অপরাধ আছে] এর সাথে সরাসরি যে সংশ্লিষ্ঠতা আছে তা থেকে বাঁচতে বাংলাদেশের উপর হিন্দু নির্যাতন এর প্রপাগান্ডা দিয়ে ব্যাপক চাপ সৃষ্টির পরিকল্পনা নিয়ে এতদিন আগায় ছিল।যার ভিতরে আচে আবার চিন্ময়-ইসপকন সহ আরো কত কী!!! কিন্তু এসব অপরাধগুলো প্রথম আলো উল্লেখ করতে চায় নাই। তাই ছোট শব্দ অস্বস্তি!    এখন এখানে দেখা যাচ্ছে প্রথম আলো এই সম্পর্কে অস্বস্তি নামক শব্দ টা কী নিয়ে তা বলতে চাচ্ছে না। বরং নিরপেক্ষতার ভান ধরেছে।
    আসলে প্রথম আলো ভারতের স্বার্থের সক্রিয় প্রপাগান্ডা মেশিন হয়ে যেমন ছিল এতদিন ১৬ বছর জুড়ে তেমনই থাকতে চাচ্ছে। মানে কোন শিক্ষা হয় নাই; শিক্ষা নেয়ও নাই।

    বিএনপি (আর তার দেখাদেখি জামায়াতও অনেকটাই) ইন্ডিয়ার দাওয়াত-উস্কানিতে যে বিনিময়ে ইন্ডিয়া তাদেরকে কোলে তুলে নিয়ে ক্ষমতায় বসিয়ে দিবে এমন “নয়া হাসিনা” হবার লোভ সামলাওতে পারে নাই। সেদিকে ছুটছে তো ছুটছেই।  একবারও পিছন ফিরে দেখার কথাও মনে নাই যে খোদ ইন্ডিয়াই বাংলাদেশ থেকে ক্রমশ আউট হয়ে যাচ্ছে; অন্তত  আয়নাঘর ও বিডিআর হত্যাকান্ড এই দুইটা ইস্যুও যদি উল্লেখ করি তাহলেও তো কিছু বুঝা যায়! মানে যা নিয়ে সেনাসদরে বিক্রম সাব আমাদেরকে চাপ দিতে এসেছিল তা এখন পুরাই পাবলিকলি উদাম হয়ে গেছে; কারণ এটা আর হাসিনার বাংলাদেশ নয়। কাজেই চিন্ময়-ইসকন ইস্যু বা কথিত হিন্দু নির্যাতনের প্রপাগান্ডা যা দিয়ে ইন্ডিয়া আমাদেরকে চাপে ফেলে কাজ উদ্ধার করতে, নিজের পাপ-ক্রিমিনালিটি ঢাকতে এসেছিল সেই পাশার দানও উলটে গিয়েছে।
    এর  দুদিন পরেই ইতোমধ্যেই গুম কমিশনের প্রাথমিক রিপোর্ট প্রকাশ হয়ে গেছে যেখানে আয়নাঘর-অপহরণ ইস্যুতে ভারতের সংশ্লিষ্টতা এখন বিবিসিসহ সব দেশি সকল মিডিয়াতেই।  এছাড়া আজ বিডিআর হত্যাকান্ড তদন্তের নয়া কমিশনও গঠিত হয়ে গেছে। আর ইতোমধ্যেই এদুই ইস্যুতেই ইন্টারনাশনাল ক্রাইম ট্রাইবুনালে মামলা দায়েরও হয়ে গেছে।
    কাজেই ভারতকেই এখন রাষ্ট্র হিসাবে আসন্ন এসব ক্রিমিনাল মামলায় সংশ্লিষ্টতা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কেলেঙ্কারি মোকাবিলা কেমন করে করবে সেটাই ইস্যু?  এনিয়ে আসন্ন পরিস্থিতি সামলাবে কী করে সে চিন্তায় মোদির ইন্ডিয়ারই ঘুম হারাম হয়ে যাবে এখন। অথচ প্রথম আলো ও তাদের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের ঘুম ভাঙ্গে নাই।
    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জয়সোয়ালের গলার টোন বদলে গেছে। এটা তো অন্তত কারো না দেখতে পাবার কথা না। তিনি সর্বশেষ এখন বলছেন “দায়ীত্বশীলতার” কথা। বলছেন, “…… আমরা সবাইকে মনে করিয়ে দিতে চাই, প্রকাশ্য মন্তব্য যেন ভেবেচিন্তে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে করা হয়”।

    শুধু তাই না, আগামি জানুয়ারি থেকেই ইন্ডিয়া-আমেরিকান বিরোধ আরো তুঙ্গে উঠবে। ইতোমধ্যেই ইন্ডিয়ার উপর আমেরিকার আরোপিত স্যাংশন আমরা যেন ভুলে না যাই। এর সবকিছুর মানে এই বাইডেন আমলের শেষ কদিন থেকেই সব শুরু হচ্ছে।। মানে হল, হাসিনা সহ সারা ইন্ডিয়ার যারাই তাদের ট্রাম্প ভাইয়া এসে তাদের হাতে আবার বাংলাদেশটাই হাসিনা ও ইন্ডিয়ার হাতে তুলে দিবে বলে প্রকাশ্যেই আশা রেখেছিলেন তাদের অবস্থা কী হবে অনুমেয়! এমনকি আমরা নিজেরাই যদি মোদির ভারতের বিবৃতি দেখি বা অনুসরণ করতে জানি তাহলে দেখব ইতোমধ্যেই মোদির ইন্ডিয়ার আমেরিকার বিরুদ্ধে মোদি ফরমাল অভিযোগ তুলেছেন। বলেছেন “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং শিল্পপতি গৌতম আদানিকে নিশানা করেছে আমেরিকান সরকার”। এটা ৮ ডিসেম্বরের ভারতের মিডিয়ার খবর। যার প্রতিক্রিয়ায় আমেরিকা কড়া ভাবে হতাশা জানিয়েছে।

    আমার অনুমান আগামি জানুয়ারি মাস থেকেই আমেরিকা-ইন্ডিয়া সম্পর্ক তলানিতে ঠেকবে! অথচ এর কোন কোন খবর নাই প্রথম আলো ও তাদের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের। তারা ধরেই নিয়েছেন র-এর অর্থ আসবেই আর তারা বাংলাদেশে বসে ইন্ডিয়ার খেদমত করা লেখা লিখেই চালায় যাবেন – যেন কিছুই বদলায় নাই। বদলাবে না। এবার আগেই এসেছিল ত্রাতা মির্জা আলমগীর! নিজের মান-ইজ্জত বাজি রেখে এর বিনিময়ে খুবই মারাত্মক অভিনয় করে ……আপনারা চিন্তা করতে পারেন বলে তার সেই ডায়লগ ……. আজও ইতিহাস হয়ে আছে। এতে তখনকার মত লাভের লাভে জনরোষ থেকে প্রথম আলো বেঁচে গিয়েছিল।   কিন্তু শেষ রক্ষা হয় নাই।, খোদ মির্জা কেই বাচাতে, উসিলা করে বা যেভাবেই হোক ১২ দিনের জন্য সরে যেতে হয়েছিল। আর রিজভি তিনি কত বড় ইন্ডিয়াবিরোধী সেই ছল-অভিনয় করে হলেও সেই কার্ড শো করতে হয়েছিল। কিন্তু কেউ শিক্ষা নেয় নাই। তাদের কপালে যা আছে তা আমরা দেখব।

    কিন্তু প্রথম আলো নিয়ে কথা বলছি এখানে, তাদের আবার সেই একই কায়দার কু-জার্নালিজম আবার শুরু হয়েছে। শুরুতেই যে লেখাটার কথা বলছিলাম, বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কে নতুন অস্বস্তি সৃষ্টি এড়াতে সচেষ্ট থাকা উচিত, সেটাতে আবার  দালালিশুরু হয়েছে।  লেখার শুরুতেই মাথায় লিখে রেখেছে  এটা নাকি বিশ্লেষণ। কিন্তু ভিতরের বডিতে লেখার স্তাইল সেই পুরানাটাই। গায়েবি রেফারেন্স সুত্রে কথা বলা – এই হল, র-এর দালালির অপ-জার্ণালিজমের বৈশিষ্ট। সেটা এখানেও বর্তমান। তাই এলেখায় অন্তত দুবার লিখেছে বিশ্লেষকেরা বলেছেন; একবার বলেছেন কূটনৈতিক সুত্রে জানা গেছে। আরো একবার বলেছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষক বলেছেন……!!!   এভাবে জার্নালিজমকে পানিতে ফেলে দিয়ে হলেও অর্থ কামাতে হবে, র-এর দালালিই করতে হবে – একাজে প্রথম আলো ও তাদের নানান প্রতিনিধি, বা কথিত কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা আবার ফিরে এসেছে!!! এভাবে এবার আরো কতদিন?
    এবার মির্জা ফকরুল আসবেন না কারণ, আশা করছি আগামি মাস থেকেই সম্ভবত তারা নিজেরাই আছাড় খাওয়া শুরু করবেন!! আর হায় হায় করে উঠে তারা ভাববেন গত তিন মাস কোন গাছে তারা তাদের নৌকা বেঁধেছিলেন? যেই গাছ নিজেই এখন উপড়ে পরে যাচ্ছে……!!!!

    উপদেষ্টা মাহফুজ আলম প্রসঙ্গঃ
    সবশেষে, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম প্রসঙ্গ। রোগ সেই পুরানা কমিউনিস্ট রোগ…! তাতে রোগটা নিজের বা তাদের কমিউনিস্ট গুরুর যারই হোক না কেন তাতে ফলাফল পরিণতি কিন্তু একই!
    বাস্তবের দুনিয়াটা কী?  আর এতে দুনিয়াদারিটা কী ও কেমন এ’সম্পর্কে কমিউনিস্টদের কোন ধারণাই নাই। কোনদিনই ছিল না। আমি অনেকবারই বলেছি, ১৯৪৫ সালের দুনিয়াটায় সবচেয়ে গভীর বদলগুলো কী তা এরা একেবারেই জানে না। তাদের গুরুই স্টালিন-ই জানত না। খেয়াল করেন নাই যে সারা দুনিয়া থেকে কলোনিদখল সব উতখাত হয়ে গেল কেমনে? কোন যাদুতে? আবার  এমনকি স্টালিন; তিনিসহ একাল পর্যন্ত সব কমিউনিস্টেরা মনে করেন দুনিয়া ১৯৪৫ সালের পরে কলোনিমুক্ত হয় নাই। সবচেয়ে আজীব কথাটা হল, খোদ স্টালিন ১৯৪২ সালের ১ জানুয়ারি এক ঐতিহাসিক দলিলে স্বাক্ষর করেছিলেন।  [ততদিনে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের নেতৃত্বের জোটে  স্টালিন হিটলারবিরোধী( এন্ড গং -বিরোধী) এই জোটে যোগ দিয়ে ফেলেছেন] আর ঐ দলিলেই লেখা ছিল যে  হিটলার এন্ড গংয়ের পতন আর এই জোট বিজয়ী হলে নয়া দুনিয়াটা একেবারে কলোনিমুক্ত হয়ে যাবে। মানে যারা রুজভেল্টের পক্ষের শক্তি অথচ যারাই মূলত দুনিয়াতে সবচেয়ে বেশি কলোনিদখলদার দেশ তারাই হিটলারের পরাজয়ের পরে নিজ নিজ দখলদারি ছেড়ে নিজ দখলিকৃত কলোনিগুলোকে আপোষে মুক্ত করে ছেড়ে দিয়ে এরপর সোজা হেঁটে  নিজ নিজে মূল দেশে ফিরে  চলে যাবে। [এভাবেই আর সবার মত বৃটিশ-ইন্ডিয়া মুক্ত হয়েছিল ১৯৪৭ সালে। ] আসতে এই শর্ত বা প্রতিশ্রুতি সব কলোনিদখলদারদের পক্ষ থেকে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিল রুজভেল্টকে দিয়েছিলেন। আর এর বিনিময়ে যুদ্ধের প্রধান খরচের দায়ভার একা আমেরিকা নিজের কাঁধে নিয়েছিল।

    ঘটনা হল, স্টালিন নিজে ঐ ১৯৪২ সালের ১ জানুয়ারির দলিল যেখানে তিনি স্বাক্ষর করেছিলেন তা ডিটেল পরে দেখেন নাই; বলে অনুমান করা হয়। কেবল হিটলার উতখাত হবে – এতটুকুতেই ছিল তার মূল আগ্রহ,  সম্ভবত সেই কারণে। আর ইতিহাসে ১৯৪২ সালের ১ জানুয়ারির ঐ দলিল – এটাই জাতিসংঘের জন্ম ঘোষণার দলিল বলে পরিচিত। ইংরাজিতে [Declaration by the United Nations, January 1, 1942]  আর ঐ দলিলের সারকথা হল, কলোনি দখল হারাম! কোন দুই জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্র কেউ কারো ভুখন্ড দখল বা পুরা দেশটাই দখল করলে ( জাতিসংঘের মোট ১৯৩ রাষ্ট্রের সিংঘভাগ সদস্য রাষ্ট্র দখলকারির বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিবে – ঠিক যেমন অবস্থা শেষ পর্যন্ত হয়েছিল সাদ্দাম হোসেনের কুয়েত দখলে………। সেটাই ঘটবে।  যেকোন দুই রাষ্ট্র যদি তাদের সীমান্ত একসাথে বসে মাপামাপি করে একবার একই দলিল ম্যাপ তৈরি করে নেয়; এরপরে ঐ একই ম্যাপের দুইটা কপি দুই দেশের কাছে থেকে যায় তবে সেই মামলা হবে মারাত্মক! কারণ সেক্ষেত্রে আর কখনও তাদের মধ্যে কোন সীমানা নিয়ে যুদ্ধের সুযোগ থাকবে না।  বৃটিশ ইন্ডিয়াতে বেশির ভাগ সীমান্ত শাসক বৃটিশেরা এমন কমন ম্যাপ করে রেখে গেছে। কিন্তু যেগুলা করদ রাজ্য ছিল সেগুলো বৃটিশেরা এই এলাকা গুলোতে তা করতে পারে নাই এক্তিয়ার ছিল না বলে। তেমনই এক সীমান্ত (করদ রাজ্য কাশ্মীরের অংশ বলে) হল ভারত-চীন এদের লাদাখ এলাকা। যেটা একালে নিজেরা বসে আপোষে করে নিতে হত কিন্তু হয় নাই।

    এখন মূল প্রসঙ্গে প্রবেশ করি – মাহফুজ জানেই (কারণ জানলে করত না) না যে, একজন উপদেষ্টা [সরকারী মন্ত্রী] হওয়া মানে কী? তাঁর প্রতিটা আচরণ উনার ব্যক্তিক আচরণ নয়, বরং রাষ্ট্রীয় আচরণ, সিদ্ধান্ত বলে গণ্য হবে যার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী হবেন এখনকার রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহি যিনি মানে, প্রধান উপদেষ্টা ইউনুস সাহেব!
    মাহফুজ আলম মনের খায়েসে পোলাপান যেভাবে ফেসবুকে কতকিছু করে যার সীমা থাকে না। তিনি বাংলাদেশের বাইরে ভারতের এক বিরাট অংশ সাথে যুক্ত করে এক ম্যাপ ছেপে দিয়েছেন। আবার বলছেন মেলা কাজ নাকি বাকি???? মানে ইঙ্গিত হল সেগুলোও দখল করতে হবে – যেন এর ইঙ্গিত দিচ্ছেন!!!

    আমাদের ভাগ্য ভাল যে এই আচরণের জন্য দিল্লিতে আমাদের রাষ্ট্রদুতকে ভারত সরকার তলব করেন নাই; ব্যাখ্যা চান নাই। কেবল মুখপাত্র জয়সোয়াল তার বিবৃতিতে উল্লেখ করে রেখেছেন!

    কিন্তু কেন হল এরকম?
    কারণ তাদের গুরুরা কমিউনিস্ট; ১৯৪৫ সালের আগেপিছের দুনিয়ার জন্য সবচেয়ে নির্ধারক দুনিয়ার ইতিহাস তারা জানেন না, পড়েন নাই। কারণ স্টালিন-ই ীই দলিলে সই করলেও মনোযোগে পড়ে দেখেন নাই! [এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হল তার নিও-কলোনিজম বলে নয়া নামকরণ করা বা নয়া ভোকাবুলারি এর জন্ম দেয়া] সবচেয়ে বড়কথা জাতিসংঘ! মানে ১৯৪৫ সালের পরে দুনিয়াতে যে একটা গ্লোবাল পলিটিক্যাল সিস্টেম [দয়া করে সিস্টেম শব্দটাকে বন্দোবস্ত পড়বেন না] এটা কোন কমিউনিস্টই এখনও খেয়াল করেছেন জানেন, পড়েছেন – আমি দেখি নাই!  তাদের কথিত “এক সাম্রাজ্যবাদ” বলে এক গালির শব্দ ছাড়া তাদের মাথায় কিছুই নাই। তাও শব্দের ব্যবহারের আগা-মাথা নাই।
    যেমন প্রত্যেক দেশের দেশিয় পর্যায়ে যে পলিটিক্যাল সিস্টেম এটাকেই আমরা নিজ নিজ রাষ্ট্র বলে থাকি!  এমন সদস্য রাষ্টগুলোকে নিয়ে তৈরি হওয়া এক গ্লোবাল পলিটিক্যাল সিস্টেম, এমন প্রতিষ্ঠানের নামই হচ্ছে জাতিসংঘ!  তবে বুঝাবুঝিতে কেবল একটাই সাবধানতা দিয়ে রাখি, জাতিসংঘ ঠিক প্রত্যেক সদস্য রাষ্ট্রের উপরে বাপ-কর্তা ধরনের প্রতিষ্ঠান; ঠিক এমনটা নয়! তাহলেও জাতিসংঘের অনেক বাধ্যবাধকতার অধীনে আমরা, বিশেষ করে যারা আমাদের মত ছোট দেশ!

    সারকথায়, কমিউনিস্টদের কাছে ১৯৪৫ সালের পরের দুনিয়াটা কী? এখানে নয়া কী কী হয়েছে তাতে কী করা যায়; আর কী একেবারেই করা যায় না – রাষ্ট্রের মন্ত্রী দূরে থাক ব্যক্তি নাগরিকও করতে পারে না; সরকারের দায়ীত্ব হয়ে যায় তাকে বাধা দেয়া ইত্যাদি এসব এদিকটা নিয়ে কমিউনিস্টেরা একেবারেই সীমাহীন অন্ধকারে। এগুলো অযোগ্য চিন্তার স্টুপিডিটির অবশ্যই; আর এর কারণে এরকম বিপদে বাংলাদেশও আগে পড়েছে। মজার কথা হল, যেসব কমিউনিস্টেরা এমন কান্ড করে বাংলাদেশকে বিপদে ফেলেছে তারা এতই নাদান যে তারা এখনও ঠিক জানেন না যে তারা কী ও কত বড় অপরাধ করেছে!!!!

    এদেরই কিছু চেলা এখনও আজকাল দেখবেন বাহাদুরি করে লিখে নয়া-উপনিবেশ [ইংরাজিতে Neo-colony]; কেউ কেউ আরো ওস্তাদ। এরা লিখবে বি-উপনিবেশায়ন। ডি-কলোনাইজেশন থিউরি আউরাইবেন। অথচ দুনিয়ায়ে যে একটা গ্লোবাল পলিটিক্যাল সিস্টেম খাড়া হয়ে গেছে; এটা কোথা থেকে কীভাবে ঘটলো এদের খবরই নাই!

    এসবের পরিণতি হল, একেকজন শিষ্য মাহফুজ আলম! মন্ত্রী জানেনই না তিনি কী করতে পারেন না অথবা কী করলে এর পরিণতি কী হয়!!!!!

    যাহোক এলেখায় মূল প্রসঙ্গ হল, প্রথম আলো ও তাদের নানান প্রতিনিধি, যারা আবার একইভাবে র-এর দালালি চালায়ে যেতে শুরু করে দিয়েছেন! কিন্তু সমস্যা হল এবার আর কোন (র-এর হাত ধরে ক্ষমতায় যেতে আগ্রহী ফলে) উদ্ধারকর্তা, মির্জা নামে কাউকে পাওয়া যাবে না!

    আর মাহফুজের কথা লিখতে হল কারণ, প্রথম আলোর লেখাটা শুরু হয়েছিল এভাবেঃ
    “৫ আগস্ট–পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এক টানাপোড়েনের মধ্যে পড়েছে। এমন এক পরিবেশে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি ঢাকায় এসে পররাষ্ট্রসচিব মো. জসীম উদ্দিনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করে গেছেন। দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাসের বিরল এই অস্বস্তি কাটানোর প্রথম ধাপ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে এই সফরকে। পরিবর্তিত পরিস্থিতির নিরিখে সম্পর্কের ইতিবাচক বিবর্তনের এমন এক সময়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারত”।

    সেসব দিন আর একই রকম নাই! তাই এখন বাঁচতে চাইলে প্রথম আলোকে নতুন রাস্তা খুঁজতে হবে! বাকি সিদ্ধান্ত তাদের নিজের! হিন্দুত্ববাদ-চাটা আর এসব অপ-জার্ণালিজম দিকটা বাদ দিলে প্রতিষ্ঠানটা ভাল, সবচেয়ে বড় কথা অনেকজনের মেহনতের ফল এটা!  তবে এটাকে ধ্বংস করে ফেলতে চাইলে কে আর তা ঠেকাতে পারে!!!

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  রাত  ১০ঃ ১৫   ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪

  • “আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা নেই”

    “আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা নেই”
    গৌতম দাস
    ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪  রাত ১০ঃ ৪০
    https://wp.me/p1sCvy-65f

     

     

    “আওয়ামী লীগের নাকি  নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো বাধা নেই” এমন ফতোয়া মন্তব্য করেছের নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার। বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে রংপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয় মিলনায়তনে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার বিষয়ে মতবিনিময় সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

    ছাগল দিয়ে ধান মারাই হয় না। এটা বহু পুরানা প্রবাদ। সেই অবস্থা হয়েছে বা করেছে বদিউল আলম মজুমদার। ছাগলের মুরোদ থাকে না ধান মারাই এর মেহনত করার!  নামের পিছে একটা ডক্টরেট থাকলেই তিনি সবকিছু করা বা বলার যোগ্য হয়ে যান না। এটা তো উনার নিজেরই জানা না থাকার কোন কারণ নাই। এছাড়া যে ব্যক্তির নিজের সামর্থ সম্পর্কে কোন স্বচ্ছ ও নির্মোহ ধারণা থাকে না – এটা তো নিজের সাথেই অসততা!!!  সব সমাজেই এমন ঘাটের মরা দুচারজন আসলে থাকেই!!!
    তাবু ইউনুস সাব কথিত এক “নির্বাচন সংস্কার কমিশনের” প্রধান তাঁকেই বানিয়ে দিয়েছেন।  যার পিছনের কারণ অথবা উনার এমন নিয়োগ পাবার যোগ্যতা ক্রেডেনশিয়াল কী?  যোগ্যতা একটাই উনি বদিউল এক এনজিও দোকানের মালিক!!!
    এমনিতেই, এনজিও জগতে যারা ম্যাটেরিয়াল বা বস্তুগত জিনিষ যেমন যেকোন ত্রাণ সামগ্রী বা জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী অথবা এমন কি মাক্রোক্রেডিট (ক্ষুদ্র ঋণ) এমন ফিজিক্যাল জিনিষ বিলি করেন এরা তবু একটা “পদের”  হয়।  কিন্তু যারা চাপা মেরে খায় মানে যা মনে চায় কথা বেচে খায় ; যেমন ধরেন এককালে (আশির দশক পর্যন্ত) ভুমিহীন সংগঠিত করাও একধরেণের এনজিও ততপরতা মানা হত যা এখন একেবারেই বন্ধ; ওর পিছনের অর্থদাতা (ইউরোপীয় সোশাল ডেমোক্রাট রাজনীতিক মারা গেছে) নাই তাই। অর্থাৎ এরাও গরীব মানুষকে
    বস্রংতুগত কোন ত্পুরাণ দিলেন না, চাপাবাজি ছাড়া।  আর এর বদলে আমেরিকার সৌজন্যের আরেক ধরনের চাপা বিক্রেতা এনজিও হাজির হয়েছে। তিনারা নাকি আমাদেরকে জনপ্রশাসন (পাবলিক এডমিনিষ্টেশন) শিখাবেন। যার আরো উপরে মেকআপ দিয়ে চেহারা ছুপানী ভাষ্যটা হল এরা নাকি সুশাসন এর ফেরিওয়ালা। এরাও মনে করে রাজনীতি ছাড়া সুশাসন বিলি করা সম্ভব। এমন কী তাহলে রাষ্ট্র বুঝাবুঝির কী হবে? রাষ্ট্র বুঝাবুঝি ছাড়াই গুড গভর্নেস (সুশাসন) – এটা কায়েম করা কী সম্ভব, তাহলে?? গভর্ণ [govern] মানে তো শাসন। তো তাহলে রাষ্ট্র কী, রাজনীতি কী? আপনি বদিউল বুঝেন?  বুঝলে তো আপনি চিন্তাচর্চার কোন পাঠচক্র বা কোন রাজনৈতিক গ্রুপ কিংবা চাইলে একটা রাজনৈতিক দলই খুলে বসেছেন, দেখতাম! নাকি!!!!  অথচ রাষ্ট্র কী, রাজনীতি কী বুঝাবুঝির খবর নাই; আর  এসব না বুঝেই আপনি বদিউল সুশাসন নামে এনজিও দোকান খুলে বসেছেন? আপনি মানুষকে কী বিতরণ করবেন?  আপনার মাথায় তো কোন মাল-ই নাই! কত কী যে দেখব?
    তো আপনি কী করবেন? অরেঞ্জ রেভেলিউশন? জর্জ সোরেস? ওপেন সোসাইটির ফান্ড? সেই মুরোদও আপনার নাই! দেখা যাচ্ছে আপনি যা পারেন তা হল গুম, খুন, অপহরণের রাষ্ট্র কায়েমকারি হাসিনা লীগের রাষ্ট্র – এই হল আপনার সুশাসন-বোধ???? এনজিওও এর টাকা কী মজা তাই না!!!  আপনার মুরোদ হল তৃতীয় শ্রেণীর আওয়ামি দূঃশাসনের, এমন খুনের রাষ্ট্রের দালাল হওয়া!   
    আর তাই  আপনি চিন্তার স্টুপিডিটিতে ভাবছেন এটা লিবারেলিজম! অতএব   আপনি দাবি করেছেন, “আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো বাধা নেই”।

    আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো বাধা নেই বলে মন্তব্য করেছের নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার। বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে রংপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয় মিলনায়তনে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার বিষয়ে মতবিনিময় সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

    রংপুরে নির্বাচন সংস্কার কমিশন প্রধান

     

    আগামিতে আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো বাধা আছে কিংবা নাই – এটা দেখতেই কী ইউনুস সাহেব বদিউলকে নিয়োগ দিয়েছিলেন।

     

    আসলেই এসব একেকটা বদিউলে্রা কোথা থেকে জনসমাজে উদয় হয়??? সরকারের উচিত এমন ব্যক্তিত্ব এরা যেন আর কখন জনস্বার্থ বিষয়ক কোন কাজে জড়িত হওয়া বা কাছাকাছি হওয়া চিরদিনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়! 

    কাজেই এখন প্রধান উপদেষ্টা ইউনুস সাবের জন্য কাজটা একেবারেই সোজাঃ
    ইউনুস সাহেবকে  এখন জনগণের সামনে জানাতে হবে, যে তিনি  বদিউল আলম মজুমদার কে কী কাজের জন্য নিয়োগ দিছিলেন? সেই ট্রার্মস এন্ড কন্ডিশনে কী ছিল? তা জনগণের সামনে এসব এখন উন্মুক্ত করতে হবে। আর দেখাতে হবে যে সেখানে এবিষয়ে ঐ চুক্তিপত্রে কী লিখাছিল? আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো বাধা আছে কিনা সেটা যাচাইয়ের জন্যই কী বদিউল কমিশন? এনিয়ে আমরা জনগণের অংশ নিজেরা যাচাই করতে চাই এটা কীভাবে সম্ভব হল!!
    আর একই ভাবে বদিউল আলম মজুমদার কেও দেখাতে হবে (তার কনট্টাক্ট বা নিয়োগ ডকুমেন্ট ) এর কোন অধিকার বলে তিনি এই মন্তব্য করেছেন যে  “আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো বাধা নেই”। এটা কী তার ম্যান্ডেট? তার এক্তিয়ারভুক্ত কাজ ও মন্তব্য?

    জনগন জানতে চায়।   আর সবার আগে অবিলম্বে ইউনুস সাবের উচিত নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান পদ থেকে  ড. বদিউল আলম মজুমদার এর নিয়োগ বাতিল ও প্রত্যাহার করে নেওয়া।

    অবিলম্বে ইউনুস সাবের উচিত নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান পদ থেকে  ড. বদিউল আলম মজুমদার এর নিয়োগ বাতিল ও প্রত্যাহার করা।

     

    বদিউল সাবের কথা অনুযায়ী কী তাহলে এখন কোন আদালত হাসিনা বা আওয়ামি লীগকে আগামি নির্বাচনে নিষিদ্ধ ধরনের কোন শাস্তি আর দিতে পারবে না? উনার কথিত কমিশন হাসিনা লীগকে এসব থেকে একেবারে খালাস করে দিয়েছেন কী?
    অবস্থা এখন যেন এমন যে বদিউল সাব একেবারে বিচার বিভাগের উপরেও এক মাতবরি রায় ঘোষণা দিয়েছেন!!!!!
    বদিউল আলম মজুমদার – তিনি আসলে যে কী হয়ে গেছেন, যার কোন আর সীমা নাই! তিনিই সব……।  অথচ এমন যেকোন মন্তব্য করার এক্তিয়ার তাকে কে দিয়েছে???

    তাঁকে এসবের জবাবদিহিতার অধীনে এখন আনতে হবে। এটাকী কোন ষড়যন্ত্র? বদিউল কী এর অংশঃ
    মূল সমস্যা আসলে ইউনুস সাবের মনগঠনে; দেখা যায় এনজিও এর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিত্বের প্রতি তাঁর বাছবিচার-হীন আনুগত্য-পছন্দ!  এরই প্রচন্ড ক্ষতিকারক ফল এখন সারা বাংলাদেশের উপর।
    এই ড. বদিউল আলম মজুমদার এন্ড গং এদের উত্থান এরশাদ আমলের স্থানীয় সরকার প্রশাসন কেমন হওয়া উচিত এ’সংক্রান্ত পরামর্শক কনসালটেন্ট হিসাবে নিয়োগ পেয়ে সেসময় তারা হাজির হয়েছিলেন। প্রশাসন কী জিনিষ আর বিশেষত “ম্যানেজমেন্ট” যা এখানে বিশেষত রাষ্ট্র পরিচালনা এই অর্থে ম্যানেজমেন্ট – এই প্রসঙ্গে; অথচ এসব ব্যক্তিদের এনিয়ে কোনই মৌলিক জ্ঞান-ধারণাই নাই। আর সেকারণের আজকের বাংলাদেশে যে দলবাজির প্রশাসন এর কাঠামোগত ভিত্তি তৈরি  হয়ে গিয়েছে এর আসল নায়ক এক বদিউল সাব। আর উনার সাথে আরো ছিল ডঃ তোফায়েল আহমেদ (সাবেক জনপ্রশাসনের শিক্ষক ঢাবি )। এরাই একটা শ্লোগান এনেছিলেন – “পিপলস পার্টিশিপেশন” – “জন-অংশগ্রহণের প্রশাসন” ।  এটা করতে গিয়ে এই বিজ্ঞরা একেকটা জেলাশহর যেন এমপি দেরকে বন্ধক দিয়ে দেবার ব্যবস্থা করেছিলেন। যেহেতু এমপি মানেই জন নির্বাচিত ফলে উনার হাতেি সর্বময় ক্ষমতা দেয়া মানে যেন ওটাই সেই  “পিপলস পার্টিশিপেশন”  এর প্রশাসন ; এই ছিল তাদের গাধা-গরু মার্কা কনসালটেন্সি চিন্তা।
    অর্থাৎ কেউ জন-নির্বাচিত হলে তাকে আর কোন জবাবদিহিতা বা কোন স্থায়ী (স্টাটিটুরি) আইন কনষ্টিটিউশন ইত্যাদির অধীনে আনার আর দরকার নাই। কার্যত সেজন্য জন-নির্বাচিত শব্দের মানে হয়ে গেছিল সাক্ষাত ভগবান; যা বোধহয় কোন রাজার আমলেও রাজারও এমন হুইম [খেয়ালি] শাসন-চিন্তা ছিল না! আর এতে ডিসি হয়ে উঠেছিল এই সাক্ষাত ভগবানের ক্ষমতার আড়ালে নিজ যথেচ্ছাচার!  যেমন খাস জমি কীভাবে বিতরণ হবে এর যে সরকারী বিজনেস রুল আছে তা পালনের দায় এই জন-নির্বাচিত প্রতিনিধির নাই!  আর ডিসি তো ভগবানের আড়ালে, ফলে ত্রাও আগে যতটুকু জবাবদিহিতা ছিল এখন তাও নাই। এই ছিল বদিউল-তোফায়েলের জনপ্রশাসন এর উন্নতমানের জ্ঞান!!! বাইরে থেকে এটাকের আবার আমরা আওয়ামি লীগের ক্যাডার প্রশাসন বলে চিনে; আর বদিউল-তোফায়েলেরা থেকে যায় আড়ালে! সব দোষ হল রাজনীতিবিদ-দের; এনজিও মালিকদের প্রপাগান্ডাও এতে সবল হয়!
    এসবই হল প্রাক্তন পেটি-চিন্তার কমিউনিস্টদের বোধ-বুদ্ধি বা তাদের প্রভাবে বেড়ে উঠা চিন্তার স্টুপিডিটি। যেন আমলা এটা খুবই একটা খারাপ শব্দ। আমলা শব্দটা পজিটিভ ছিল। অর্থ স্কিল্ড – পোড় খাওয়া বা দক্ষ প্রশাসক। অথচ এই ধারনাটাকে তারা উলটে দিয়েছেন। দুনিয়ার সৎ লোক মানেই যিনি জন-নির্বাচিত??? এমনকি তারও কোন দক্ষতার দরকার নাই যেন!!!!

    ঠিক সেই কাজটাই তিনি এখানেও করেছেন। একটা কাজ কাউকে করতে দিলে এর কী কী এক্তিয়ার তাঁকে দেয়া হয়েছে সেদিকে এদের মনোযোগ নাই।  এটাই যেকোন পেটি-চিন্তার মৌলিক বৈশিষ্ট!   এমনকি টার্ম-কন্ডিশনে না বলা থাকলেও যিনি প্রুডেন্ট [prudent] তাঁর তো নিজেই বুঝা উচিত কোনটা করলে সেটা তাঁর এক্তিয়ারের বাইরের কাজ (সেটা নিয়োগবিধিতে উল্লেখ থাক আর নাই থাক) বলে বিবেচিত হবে। অথচ সেই আক্কেল ইনাদের কে আল্লায় দেয় নাই। এনজিও এর দকান খললেই এরা সব একেকজন দ্বিগগজ সবজান্তা হয়ে উঠেন!!!
    দুর্ভাগ্য আমাদের জনগোষ্ঠির!!!

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   রাত ১১ঃ ১৯     ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪
    সর্বশেষ   আপডেটঃ   রাত ১২ঃ ২৩     ২০ ডিসেম্বর ২০২৪

  • দ্বিতীয় পর্বঃ সিরিয়ায় কী হচ্ছে; আবার ওবামা-হিলারির নাটক?

    দ্বিতীয় পর্বঃ সিরিয়ায় কী হচ্ছে; আবার ওবামা-হিলারির নাটক?
    গৌতম দাস
    ১২ ডিসেম্বর ২০২৪   বিকাল ০৪ঃ ১৭
    https://wp.me/p1sCvy-61D

    HILARY, OBAMA & Joe Biden 

    দ্বিতীয় পর্বঃ সিরিয়ায় কী হচ্ছে; আবার ওবামা-হিলারির নাটক?

    সবার আগে খবরের সোর্স নিয়ে দুটাকথা বলে নেইঃ
    সিরিয়ায় ক্ষমতায় পালাবদল এসেছে এতে সবপক্ষকেই আমাদের সবার পছন্দ-অপছন্দ যাই থাক একে বাস্তব বা রিয়েলিটি বলে না মানার আর সুযোগ নাই।
    কিন্তু  সিরিয়ায় তাহলে হলটা কী তা বুঝার জন্য আমি আসলে অপেক্ষা করছিলাম মুখ্যত দুইটা ভাষ্য পাবার এক. ইরান মানে আসলে খামেনী [Ali Khamenei] এর বক্তব্য-ব্যাখ্যার জন্য । কারণ, ক্ষমতার এই পালাবদলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ইরানের গ্লোবাল স্ট্রাটেজি। আর দুই. এরদোয়ান (যে লাভবান হয়েছে সবচেয়ে বেশি; অন্তত আপাতত চোখে) অথবা এর বিকল্প আমেরিকান প্রশাসনের কোন বক্তব্য পাবার জন্য। ইতোমধ্যে রাশিয়ারটা জানা গেছে।

    গতকাল বুধবার খামেনীর বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল তিনি দিয়েছেন। যেখানে তিনি এরদোয়ান বা তুরস্ক সরকারকে অভিযুক্ত করে বক্তব্য দিয়েছেন, যদিও দেশের নাম নেন নাই, সিরিয়ার পড়শি দেশ বলেছেন।  এপ্রসঙ্গ ভাল কাভারেজ আছে রয়টার্সে আর একেবারে গভীরের  কিছু খবর আছে লন্ডন টেলিগ্রাফে। আর সাথে বাড়তি কিছু আছে লন্ডন গার্ডিয়ানে। আসলে আমি অন্তত ইরান বা খামেনীর বক্তব্য পাবার জন্য সিরিয়া নিয়ে লিখতে দেরি করছিলাম। আর আরেকটা অসুবিধা ছিল ইরানের ক্ষতি হল (যেটা উলটে বললে তুরস্ক-আমেরিকা লাভবান) বলে এই প্রসঙ্গে আমেরিকান (বা সাধারণভাবে পশ্চিমা) নিউজ এজেন্সি খবর দিতে পারবে না বা চাইবে না; তা বুঝতে পারছিলাম। সেজন্যই সিরিয়ান খবর মানে তা হয়ে উঠেছিল  বিদ্রোহি এলায়েন্স [কেউ অবশ্য আগ্রহি না যে এরাই নয়া নামে পুরান আই এস] কে বিজয়ী দেখানো  হিরোগিরি যেন তারাই বীর, ঘটনার আসল নায়ক বলে প্রচারের খবর। সেটাকে আমি প্রথম পর্বে বাংলাদেশে এরশাদের পতনে কথিত বিজয়ীদের দাবির সাথে তুলনা করেছি। এসব মিলিয়েই এককথায় বললে কোন আমেরিকান নিউজ এজেন্সির কাছে কোন মিনিংফুল খবর নাই; বা অন্যভাবে বলা যায়, সব খবরের সোর্স হয়ে উঠেছে লন্ডন। ওদিকে ফাঁকে, আল জাজিরা থাকলেও তারা [মানে আসলে কাতার সরকার] ইরান বা তুরস্ক কারো বিরুদ্ধেই যেতে চায় না  প্লাস কাতারে আমেরিকার বড় সামরিক ঘাটি বলে বাসারের সিরিয়াবিরোধী অনেক কাজ তাদের এতদিন করে দিতে হয়েছে। অতএব নয়া ঝামেলা এড়ানো লাইনে তাদের খবরের ফোকাস হল, ঘন্টায় ঘন্টায় দামাস্কাস শহরে কী হল বা নতুন সরকারে কে এল – এসব সাধারণ বর্ণনার নিউজ!
    রয়টার্স লিখেছে, আসাদ চলে যাবার পরে তারই নিয়োজিত প্রধানমন্ত্রী [With Syria’s Assad gone, his PM agrees to hand power to rebel administration] ক্ষমতা হস্তান্তরে আগ্রহি ও রাজি, এটা ১০ ডিসেম্বরে। মানে হল, আসাদ একাজে রাজি; এই সুত্রে তাহলে রাশিয়াও রাজি!  এখান থেকেই এটা একটা পর্দার আড়ালে বিরোধের আপোষ-সমাধান। সে খবর এখান থেকে ডালপালা ছড়াবে স্বাভাবিক। আর এই গল্পটা তুলে ধরতে গিয়েই  বিদ্রোহি কোয়ালিশন [rebel-led Salvation] ধারণাটার আমদানি। আর এটাই সিরিয়ার বর্তমান পরিবর্তনে হাতঢুকানোর হাতিয়ার বা টুলস যার সামনের দেশ হিসাবে আছে তুরস্ক আর এরও পিছনে আছে আমেরিকা; ফলে আরও পিছনে ইসরায়েল!
    আর খামেনীর বুধবারের বক্তব্য নিয়ে বোমা ফেলেছে লন্ডন টেলিগ্রাফ ও গার্ডিয়ান। গার্ডিয়ান এর শিরোনাম খামেনীর দাবিঃ “আসাদের ক্ষমতাচ্যুতি আমেরিকা ও ইসরায়েলের পরিকল্পনায় ঘটেছে”  [Assad downfall was planned by US and Israel, claims Iran’s supreme leader]।  আসলে তিনি মুখ্য বা ফ্রন্টাল প্রতিনিধি মেনে নাম করতে চেয়েছেন তুরস্কের। তুরস্ক বুঝাতে বলেছেন, “Yes, a neighbouring government” – এভাবে আরো বলেছেন, এই পড়শী সরকার… in Syria plays an obvious role in this regard, and is still playing it – everyone sees this…সকলেই এর ততপরতা দেখেছে। এরই বাংলা অনুবাদ আমাদের ইত্তেফাক ছেপেছে।

    সংক্ষিপ্ত ঘটনা বর্ণনাঃ
    যাদেরকে বিদ্রোহি কোয়ালিশন [এইচ-টি-এস Hayat Tahrir al-Sham.] নাম বলা হচ্ছে  হঠাত তাদের ততপরতার গল্প প্রেসিডেন্ট আসাদের কানে দেয়া হয়। এই ইন্টেলিজেন্স তথ্য যাদের সমন্বয়ে তৈরি হয় তার মধ্যে ইরানের কুদস ফোর্সের লোক ও রাশিয়ান ইন্টেলিজেন্স এর লোকও। সেটা এতই ভয়ার্তভাবে আসাদের সামনে তারা তুলে ধরেছিল যে আসাদ দেশত্যাগে রাজি হয়ে যায়। বলা হয়েছিল, এই HTS বাহিনী এসে গেল বলে আর ওরা এলে আসাদ আটকে পড়বেন তাই তাঁর আগে থেকে দেশত্যাগ করা ভাল। এতে এরপরে আসাদ পুতিনের সাথে ফোনে পরামর্শ করলে পুতিন জানান আপনি দেশত্যাগ করতে চাইলে সে সিদ্ধান্ত আপনার তবে আমরা আপনাকে এটা বাস্তবায়নে আপনাকে আশ্রয় দিব সাহায্য করব।  এরপরে আসাদ নিজ জেট বিমানে দেশত্যাগ করেন – আর সেটা সিরিয়াতেই এক রাশিয়ান মিলিটারি ঘাঁটির উদ্দেশ্যে। মনে করা হচ্ছে সেখান থেকে বিমান বদল করে রাশিয়ান সামরিক বিমানে তিনি রাশিয়া পৌছান সপরিবারে।

     লন্ডন টেলিগ্রাফ ১১ ডিসেম্বর লিখছে, “According to Sergey Markov, a pro-Kremlin commentator on Telegram, Moscow’s rescue of Assad proved that its government had already been successfully negotiating with the Syrian rebels. বাংলা করে বললে, রাশিয়ান সরকার প্রসঙ্গে মন্তব্য করে থাকেন এমন কমেন্টটেটর বলেছেন মস্কোর আসাদ কে উদ্ধার করে আনা – এর অর্থ হল, রাশিয়া ইতোমধ্যেই সিরিয়া বিদ্রোহি গোষ্ঠির সাথে কোন আপোষ-রফায় এক মীমাংসা করে ফেলেছে!”

    লন্ডনের গার্ডিয়ান সহ অনেকেই বলেছে, আসাদের দেশত্যাগ ইরানের জন্য এক বিরাট ধাক্কা।
    তবে লন্ডন টেলিগ্রাফের গভীরে গিয়ে রিপোর্টিং রিপোর্ট সেটা হল, ইরানের Islamic Revolutionary Guard Corps (IRGC) এর দুই সিনিয়র কর্তার বরাতে এক রিপোর্ট। যেখানে ওদুই কর্তা আলাদা আলাদা করে অনেক তথ্য জানিয়েছেন। যার সারকথা হল, ইরানি এই গার্ড বাহিনীর ভিতরে আসাদের পতন কে কেন্দ্র করে একে অপরকে দোষারোপ আর হতাশায় নিজের মাথার চুল ছিড়ে ফেলার দশায় পরেছে। নেতা খামেনী তা নিয়ন্ত্রণ ও ঠান্ডা করার আপ্রান চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এমন খবরের লন্ডন টেলিগ্রাফ এর ৯ ডিসেম্বরের শিরোনাম দেয়া হয়েছে,Iran’s armed forces ‘at war with themselves’ over fall of Assad। বলা হয়েছে ইরানের কাছে ঠিক আসাদ নয়, মূলত লেবাননের হিজবুল্লাহকে সামরিক রসদ ইত্যাদি [main route for supplying Hezbollah] সরবরাহ আর অন্যদিকে ইসরায়েল এর পৌছানোর সুযোগ নেয়া – এবং সে ভিত্তিতে ইরানের নিজেকে সাজানো এই ছিল বিপ্লবী ইরানের কাছে আসাদের গুরুত্ব!

    “No one ever imagined seeing Assad fleeing, as the focus for 10 years had been only on keeping him in power. And it was not because we were in love with him, it was because we wanted to maintain proximity to Israel and Hezbollah.”

    কিন্তু ট্রাজিক কথাটা হল, লন্ডন গার্ডিয়ান খবর দিচ্ছে – আসাদের পতনে হামাস এই পতনের পক্ষে বিবৃতি দিয়েছে – .…..Hamas, the leaders of the Palestinian resistance in Gaza, has welcomed the fall of Iran’s ally Assad. ওদিকে আবার কাতার সেও – কাতার নয়া সিরিয়াতে এখন এমবেসি খোলার কথা জানিয়েছে। .…..Qatar, a country that refused to recognise Assad, is due to reopen its embassy shortly, and is likely to be a key player in trying to persuade the Sunni HTS …।

    HTS সম্পর্কে তথ্যঃ 
    এই তথ্য দিচ্ছে রয়টার্স তার আর্কাইভ থেকে। লিখেছে, জাতিসংঘের চোখে HTS এখনো এক টেররিস্ট গ্রুপ! মূল অকারণ, এর ইরাকে প্রথমে আল কায়েদার হয়ে পরে আইএস এর হয়ে টেররিস্ট ততপরতা। এর নেতা গোলানি [Golani] দীর্ঘদিন আমেরিকান কারাগারে আটক ছিলেন। HTS is still designated as a terrorist group by the United Nations, but has spent years trying to soften its image to reassure foreign states and minority groups within Syria. The group’s leader Golani, who spent years in U.S. custody as an insurgent in Iraq but later broke with al Qaeda and Islamic State, has vowed to rebuild Syria.
    সেখান থেকেই কী তাঁর আমেরিকার সাথে সম্পর্ক যোগাযোগ ও বিকাশে আজকের অবস্থায়?

    আমেরিকার এই কালো অধ্যায়েরঃ
    আমেরিকার এই কালো অধ্যায়ের নাম ও কালপর্ব হল, ২০০৯-১২ সালের ওবামা-হিলারি প্রশাসন; তাদের হাতে আসলে আইএস এর জন্ম। তিনারাই  Abu Musab al-Zarqawi [আবু মুসাব আল-জারকাউই] কে নিয়োগ দিছিলেন। সেটা আল-কায়েদা অনেক দেরিতে টের পায় বলে এর আগে তাকে (জারকাউই মূলত জর্দানি, আলকায়েদা তার ঘরানা নয়, গুরুও নয়) রীতিমত বায়াত নিয়ে পরে ইরাকে আল-কায়েদা, ইরাক এভাবে সংগঠন খুলতে দেয়া হয়েছিল। তার গ্রুপ কে ওবামা প্রথম নিয়োগ দিয়েছিলেন ইরাকে; মূলত শিয়া-সুন্নি বিভক্তি আনতে ঘটাতে। যদিও এর আগেই  আমেরিকা জারকাউই কে বিমান থেকে গুলি করে মেরে ফেলেছিল; খুব সম্ভবত আলকায়েদা ঘটনা সব জেনে ফেলেছিল বলে। পরের ঘটনা সংক্ষেপ করে বললে, পরে (জারকাউই বাদে) এই গ্রুপকেই ওবামা-হিলারি নিয়োগ দিছিলেন লিবিয়ার বেনাগাজিতে বসে গাদ্দাফি কে বধ করার জন্য। তারা কাজ করে দিয়েছিল ঠিকই। পরে এই গ্রুপকেই সিরিয়ার আসাদকে উতখাত হত্যার এসাইমেন্ট দিয়েছিল। এবার ততদিনে তারা বিট্রে করে বা নিজের পথে নিজ নামে (আইএস) নিজেরা আত্মবিকাশ ঘটিয়ে রওনা দিয়েছিল। আর তখনই কেবল তারা নিজেরা যে নাম নিয়েছিল সেটাই আইএস বা (ISIL)।  সেসময় যা যা ঘটিয়েছিল ১। গাদ্দাফিকে হত্যা করার পরে তাদের একটা গ্রুপ লম্বা গাড়িবহরে লিবিয়ান অস্রত্র বোঝাই করে আফ্রিকার মালি তে চলে যায়। ২। বেনগাজিতে আমেরিকান রাষ্ট্রদুতের অফিসেই রাষ্ট্রদুত সহ সকল স্টাফকেই মেরে ফেলে যায় তাঁরা। ৩। কিন্তু এর আগেই আমেরিকাই এই গ্রুপকেই সিরিয়ায় আসাদকে উতখাতে এসাইমেন্ট দিয়ে বিমানে করে অস্ত্রসহ পৌছানোর  ব্যবস্থা করে দিয়েছিল। ৪। আসলে সিরিয়ায় পৌছানোর পরে নিজেরা সংহত হয়ে নিয়ে এরপরেই প্রথম আইওএস নামে আত্মপ্রকাশ করেছিল । আর এর চেয়েও বড় কাজ ও কথা হল, তারা সিরিয়া থেকে রওনা দিয়ে ইরাকে আইএস নামে সশস্ত্র লড়াইয়ে ঝাপিয়ে পরছিল।

    সেটাও ওবামার দ্বিতীয়বারের প্রেসিডেন্টের আমল। তিনি ততদিনে ইরাক-আফগানিস্তান থেকে আমেরিকান সৈন্য ফিরিয়ে নিয়ে গেছিলেন (২০১৪ সালের ডিসেম্বরে) আমেরিকান অর্থনৈতিক সামর্থ যুদ্ধের খরচ বইবার মত আর না থাকার কারণে। কাজেই ওবামার নিজের হাতেই জন্ম দেয়া সশস্ত্র গ্রুপ যাদের তিনি সিরিয়ায় এনেছিলেন তারাই বোগদাদি খলিফা প্রতিষ্ঠা করে  ইরাকী আইএস নামে আত্মপ্রকাশ করে ফেলেছে।  কী তামসা!!!
    আর ওবামা বোকা হয়ে গেছেন তার আমেরিকান সৈন্য তিনি ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছেন সেই ২০১৪ সালের আগেই!!!  অতএব এখান থেকেই এবার ইরাকী আইএস  খেদাতে ইরানের সরকারের শরণাপন্ন হন; যদি তারা ইরাকী আইএস খেদায়ে দেয়। ফলে ইরানের সরকারের সাথ ওবামার আমেরিকা প্রশাসন এক চুক্তিতে আসে এটাই ইরানের সাথে পরমাণু চুক্তি! নামে খ্যাত। ঠাট্টা করে বললে এটাই ওবামা-হিলারির বেশি বুদ্ধিমান হতে চাওয়া আই-এস এর জন্ম দান আর এর অন্তত  ইরাকী আইএস অংশটাকে হত্যা করা। ইরান ওবামার সাথে চুক্তি মোতাবেক  নিজের IRGC বাহিনী দিয়ে ইরাকী আইএস কে ইরাক থেকে নির্মুল করে দিয়েছিল।

    তাহলে এখন সিরিয়ায় যেটা হচ্ছে, সেটা কী?
    এটাই কী আবার প্রাক্তন আইএস দেরই প্রতিশোধ? তবে নতুন নামে! ইরানের উপর প্রতিশোধ? 
    কিন্তু সেটা আবার পুরান আইএস – তাদেরই নয়া নামে কিন্তু সেই পুরানা দোস্ত আমেরিকারই হাত ধরে?
    তাদেরই এখন নয়া নাম বিদ্রোহি কোয়ালিশন বা  এইচ-টি-এস [ Hayat Tahrir al-Sham]। আমেরিকান এখনকার কী হবে?  শ্লোগান হবে জয় হোক HTS, এভাবে!!!! নাকি জয় হোক ISIL, এভাবে!!!!
    আবার তুরস্কও তাদের পক্ষে, রাশিয়ায় পাইপ লাইনে???  

    হেব্বি সব মজার কাহিনী, তাই না!!!!

    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ    ১৪ ডিসেম্বর  ২০২৪
    শেষ আপডেটঃ   ডিসেম্বর  ২০২৪

  • আমাদের প্রেস সচিব শফিকুল আলম, বেচারা!

    সবার আগে সেকুলার শব্দটা কবর দিয়ে নেন; এটা অপ্রয়োজনীয়!
    আমাদের প্রেস সচিব শফিকুল আলম, বেচারা!
    গৌতম দাস
    ০৯ ডিসেম্বর ২০২৪
    https://wp.me/p1sCvy-5Zk

     

     

     

     

    সবার আগে সেকুলার শব্দটা কবর দিয়ে নেন; এটা অপ্রয়োজনীয়!
    আমাদের প্রেস সচিব শফিকুল আলম কোন বেচারা নন, অবশ্যই। কিন্তু না হলেও তিনি তাই হয়ে পড়েছেন। মানে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এর কথাই বলছি। তাকে এখন বেচারা-ই মনে হয়! গ্রাম দেশের এক প্রবাদে আছে, তাঁতি তাঁত বুনে দিব্বি সেই আয়র উপর আরামে খাইতেছিল; কিন্তু কাল হল মানে সর্বোনাশ হল তাঁর জমি কিনার পরে!  শফিক সাহেব ঢাকায় ‘বার্তা সংস্থা এএফপির বাংলাদেশ ব্যুরো চিফ’ হিসাবে হেসে খেলে তার সময় আরামেই যাচ্ছিল। কিন্তু তিনিও তাঁতির মত জিমি কিনলেন!  আর এখন? এর পরে!!!!

    এখন তিনি বুঝতেছেন কী ভুলটাই না করেছেন!! কথিত সেকুলারিজম কেই বাপ ডাকতেছেন! অথচ কোন লাভ হচ্ছে না; তবু কোন কুল্কিনারা বনাই। তিনি সেক্যুলার সংবাদপত্র ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে আহবান বা আশ্রয় করে   উঠে দাঁড়াতে চাইছেন।
    এমনকি কোন কোন সংগঠন সেক্যুলার সেই সার্টিফিকেটও বিতিরণ শুরু করে দিয়েছেন তিনি।

    “…আসক একটি সেক্যুলার (ধর্মনিরপেক্ষ) গ্রুপ, বছরের পর বছর ধরে যেটির নেতৃত্বে ছিলেন আওয়ামী লীগের একজন অপরাধ স্বীকারকারী। এর বর্তমান চেয়ারম্যান হলেন মানবাধিকারবাদী আইনজীবী জেড আই খান পান্না। যিনি স্থানীয় মিডিয়াকে বলেছেন যে তিনি বিচারে গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাকে রক্ষা করতে আগ্রহী হবেন।”
    “….The ASK is a secular group, which for years was headed by an Awami League apologist. Its current chairman is lawyer ZI Khan Panna, a human rights defender who has told local media that he would be interested in defending mass murderer Sheikh Hasina in trials.”

    এই হল সার্টিফিকেট বিতরণ। কিন্তু ফ্যাক্টস হল, আইন ও সালিশী কেন্দ্র (আসক) এটা কামাল হোসেন এন্ড গং মূলত এই পরিবারের গড়ে তোলা এক এনজিও। খাঁড়া ভাবে টেক্কা কে টেক্কাই বললে এটা হল, হিন্দুত্ববাদের ভিত্তিতে বাংলাদেশের হিন্দুদের স্বার্থ [কথিত ভিকটিমের স্বার্থ] দেখতে হবে – এমন চিন্তা কাঠামোতে তৈরি করা  বা দাঁড়ানো এক এনজিও প্রতিষ্ঠান। একে সফট হিন্দুত্ববাদের এক আওয়ামি লীগ প্রতিষ্ঠানও বলা যেতে পারে। অথচ শফিকুল আলম এটাকেই সেক্যুলার  গ্রুপ বলেসার্টিফিকেট দিচ্ছেন আমরা দেখছি। আসলে সেই সেকুলারিজমই হল হিন্দুত্ববাদ চিন্তা কাঠামোর উপরে দাঁড়ানো এক চিন্তা!   আর সেকারণেই এই সেক্যুলার আর হিন্দুত্ববাদের মধ্যে কোন ফারাক নাই!

    কিন্তু তামাসাটা হল, প্রেস সচিব শফিকুল আলম এখন তার জীবনের শ্রেষ্ঠ বিপদের মুখোমুখি। কারণ খোদ মোদি সরকার তাঁর হিন্দুত্ববাদ কান্ধে নিয়া জীবনের একবড় বাজিতে নেমেছেন যে চরম মিথ্যা বয়ান দিয়ে হলেও মোদি চাইছেন – “বাংলাদেশে কথিত হিন্দু নির্যাতন হচ্ছে” – এই ডাহামিথ্যা বয়ানটাকে যেভাবেই হোক প্রতিষ্ঠা করবেনই!!! [এই মিথ্যা বয়ানটা প্রতিষ্ঠা করতেই মোদি চিন্ময়- ইসকন নাটক বাংলাদেশে নামিয়েছেন। ]  আর এদিকে চিন্ময়কে বিসদৃশ্যভাবে কোলাকুলি করে থ্যাঙ্ক জানায় (পরে চিন্ময় গ্রেফতার হলে পরে) সে ভান ও ভনিতার  প্রতারক (imposter) এবার দাবী করছে যে চিন্ময়েরও এমন মিথ্যা বয়ান হাজির করার অধিকার আছে!  হিন্দুত্ববাদের জজবা তুলে আঙুন লাগানোর অধিকার তো মোদির অবশ্যই আছে তাই না???? কী বলেন?
    আর এখন শফিকুলের দায় হয়ে উঠেছে কথিত বাংলাদেশের হিন্দু নির্যাতন নিয়ে  মোদির ডাহা প্রপাগান্ডার বিরুদ্ধে লড়াই করে ইউনুস সরকারকে রক্ষা করা।

    আমি নিশ্চিত শফিকুল আলম সাহেব জীবনেও চিন্তা করেন নাই যে কথিত এই সেক্যুলারিজম টা কী? এটা খায় না মাথায় দেয় – এনিয়ে কখনও গভীর ভাবে উল্টাপাল্টে দেখতে গেছিলেন!  এমনকি হিন্দুত্ববাদ এটাই বা কী জিনিষ? এটাই তেমন গভীরে নেমে তাঁর দেখা হয় নাই! এএফপির ব্যুরো প্রধান হতে বা সে জীবনে এসব কখনও এত গুরুত্বপুর্ণ হয়ে আসেই নাই!
    যেমন ধরেন এই কথিত সেকুলারিজম এটা আমেরিকান কনষ্টিটিউশনে নাই। বরং উলটা ধর্ম পালনকে নাগরিক অধিকার মনে করে রাষ্ট্র। দুনিয়ার তিনটা রাষ্ট্র এমন শয়তানি সেক্যুলারের কথা বলে। বৃটিশ, ফরাসী রাষ্ট্র আর ইন্ডিয়াতেই এই শয়তানি আছে। তিনটারই উদ্দেশ্য মুসলমান কোপানো!  তাই এথেকে অর্থহীন দাবী রাষ্ট্র থেকে ধর্ম আলাদা করতে হবে!  যে শয়তানির চিহ্নটাই হল ১৯২৩ সালের পরে তুরস্কের কামাল তুলে কামাল কিয়ার সেকুলার!
    অথচ খো বৃটিশ রাষ্ট্রটাকেই দেখেন, এটা এংলো-ক্যাথলিক ধর্মীয় জাতিরাষ্ট্র। ক্যাথলিক মানে ক্রিশ্চানিটির মূল অর্থডক্স ভার্সানের পরের বড় মাজহাব হল ক্যাথলিক ক্রিশ্চান ধারা। এখন যে সে ক্যাথলিক হলে হবে না।  বৃটিশ রাজ-পরিবার যে ধারা বা ব্যাখ্যার ক্যাথলিসিজম মানেন অনুসরণ করেন সেই ক্যাথলিক মানে এংলো বা ইংলিশ রাজার অনুসৃত ক্যাথলিকই হতে হবে। আর এই এংলো-ক্যাথলিক ক্রিশ্চানিটি ধারার ধর্মের প্রধান বা গুরু হলেন বৃটিশ রাজপরিবারের প্রধান (রাজা বা রাণী)। আবার এই রাজা-রাণীই হলেই বৃটিশ রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক বা সাংবিধানিক প্রধান! তাহলে এবার বৃটিশ রাষ্ট্রটা আসলে কী দাড়ালো?
    আর এই বৃটিশ রাষ্ট্রটাই সেকুলারিজম ফেরি করতে এসেছে? দাবী করছে রাষ্ট্র থেকে ধর্ম আলাদা করতে হবে?????
    আমার মনে হয় না শফিকুল আলম কখনও এতদুর তলায় হাত দিয়ে দেখেন নাই যযে সেকুলার জনিষটা কী??
    আবার দেখেন ভারতের বেলায়। এতা মনে করার কারণ আছে যে ১৯৪৯ সালে ভারতের কনষ্টিটুশন রচনার সময় নেহেরু-গান্ধী জানতেন তারা হিন্দুত্ববাদ – এর উপরে একটা টোপর পরিয়ে ঢেকে ঢুকে একটা ভারত রাষ্ট্র খাড়া করতে যাচ্ছেন। যেটা আসলে হিন্দু-ধর্মীয় জাতবা নেশন বোধ এর উপর দাঁড়ানো এক হিন্দুধর্ম ভিত্তিক জাত-রাষ্ট্র। এক হিন্দু রিপাবলিক! তাই সযত্নে সেক্যলার শব্দটা কোথাও কনষ্টিটিউশনে আনেন নাই।  এটা আসলে ধুর্ত কিন্তু বোকা ইন্দিরা গান্ধীর কাজ। তিনি ১৯৭৬ সালে এই সেকুল্যার শব্দ ভারতের কনষ্টিটিউশনে প্রথম ঢুকিয়েছেন – বাংলাদেশ স্বাধীনহবার পরে মানে বাংলাদেশকে সেকুলার বলে ল্যাজ কেটে দিবার পরে!

    তাহলে সেকুলারিজম ধারণাটাই সৎ নয়? সদ -নয়? কোন সদ-অর্থ কীঃ
    এই নকল বা ইসলাম কোপানী সেকুলার ধারণার বাইরে অবশ্যই একটা সদ-অর্থ এমন ধারণা আছে।
    যারা এনিয়ে একাদেমিক গভীরে নামতে চান তাদের জন্যঃ 1648 westphalia  ended the 30 years war  – এধরণের শব্দগুলা লিখে গুগল সার্চ দিতে পারেন।
    এতে যা যা আসে সে সব আপনার সামর্থ ও সময়ে যা কুলায় পড়ে বুঝবার চেষ্টা করতে পারেন।
    ইউরোপে এক গৃহযুদ্ধ বা ধর্মযুদ্ধ বা যা আসলে খ্রিশ্চানিটির ভিতরেরই নানান ব্যাখ্যা বা ফেকড়ার যুদ্ধ হয়েছিল চলেছিল ১৬১৮-১৬৪৮ এই ত্রিশ বছর; কোথাও কোথাও যা আশি বছর ধরে চলেছিল। আর  ওয়েস্টফিলিয়া জার্মানির এক শহরের নাম যেখানে ১৬৪৮ সালে বসে এই গৃহযুদ্ধের পরিসমাপ্তি টানা হয়েছিল বা খুজে পাওয়া গেছিল। কিন্তু কী সেই ফর্মুলা???

    ধরা যাক কোন মুসলমান রাজা তিনি যে ফেকড়া-মজহাব বা ব্যাখ্যা-ধারার [interpretation] অনুসারি সেই রাজা কী কেবল তার মতই অনুসারি মুসলমান প্রজাকেই বেশি ফেবার করবেন, বেশি সুবিধাদি দিবেন? মানে বাকি প্রজাদের তুলনায়? ফেকড়া-মজহাব এর ভিত্তিতে প্রজাদের মধ্যে বৈষম্য প্রতিষ্ঠা করবেন?

    এই হচ্ছে মূল তর্কটা।
    আর “ওয়েস্টফিলিয়া ১৬৪৮” সম্মেলন কীসের ভিত্তিতে সব গৃহযুদ্ধের অবসান করেছিল?
    সেতা বুঝে নেওয়া খুবই জরুরি।
    সমাধানটা ছিল আসলে খুবই সহজ। আমি উদাহরণে মুসলমান রাজা বললেও ইউরোপে এটা ছিল খ্রিশ্চানিটি। তবে সবার ক্ষেত্রেই এক। সমাধানটা ছিল, রাজা বা শাসক যে ধর্মের যে ফেকড়া-মজহাব এরই অনুসারি হন না কেন যেকোন ফেকড়া-মজহাব অনুসারি সব প্রজাকেই তিনি বৈষম্যহীন ভাবে দেখবেন বা সুবিধাদি দিবেন বা আইন করবেন।  ফেকড়া-মজহাব নির্বিশেষেই শাসন পরিচালনা করবেন।  এটাই বৈষম্যহীন শাসন – এটাই যেকোন অধিকার ভিত্তিক (মানে ধর্ম বা জাতভিত্তিক জাতিবাদি নয়) রিপাবলিকেরও মৌলিক কথা!

    কাজেই বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বৈষম্যহীন কথাটার তাতপর্য এখন জুলাই-আগষ্ট বিপ্লব বা ৫ আগষ্ট বিপ্লবের মধ্যেই উঠে এলেও এর তাতপর্য অনেক গভীরে!
    যেমন ধরেন ওয়েস্টফিলিয়ার ঐ সমাধান বাইরে থেকে ওতা শুধু খ্রিশ্চনিটির সমাজের মধ্যে প্রযোজ্য তা একেবারেই নয়।
    যেমন রাজা,শাসক বা প্রধানমন্ত্রী শুধু খ্রিশ্চানিটির ফেকড়া-মজহাব এর প্রশ্ন নয় যেকোন ধর্মের যেকোন পরিচয়ের নাগরিকের প্রতি বৈষম্যহীন আচরণ করবেন এমন সমাধান তো এখান থেকে টানা যায়। এজন্যই আমি বলি এটা অধিকার ভিত্তিক রিপাবলিক; জাত-ধর্ম ভিত্তিক নয়। এতা সম্ভব। এটাকেই ক্লাসিক্যাল অর্থে রাষ্ট্রে নাগরিক সাম্যতা (অনেক সময় এটা শুধু ‘সাম্য’ লিখা হয়) বা রাজনৈতিক সাম্যের রিপাবলিক – বলে বুঝতে হবে। মজার কথা এটাই হল বাস্তব ও ক্লাসিক্যাল সেকুলার ধারণা।   আরও তাতপর্য হল এটা এই রাজনৈতিক সাম্য  বাস্তবায়ন করতে রাষ্ট্রের কনষ্টিটিউশনে সেকুলার বলে (আসলে মুসলমানবিদ্বেষী) কোন শব্দ রাখারও দরকারই নাই।

    আমি নিশ্চিত এত গভীর জায়গা থেকে শফিকুল আলম চিন্তা করেন নাই আগে!
    অসুবিধা নাই। এখন থেকে যেটা জেনে রাখলেন, অবশ্যই তা আগামিতে কাজ লাগবে!

    সেক্যুলার মিডিয়া বলে কিছু নাইঃ
    আসলেই নাই, সেকুলার মিডিয়া সেটা আবার কী?

    কিন্তু তিনি লিখেছেনঃ

    প্রেস সচিব বলেন, ‘আমরা আশা করি, শীর্ষস্থানীয় সেক্যুলার ও উদারপন্থী সংবাদপত্রগুলো সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে কথিত সহিংসতার ঘটনাগুলো নিয়ে তাদের নিজস্ব তদন্ত করবে……”।

    এমন বাক্য লিখে তিনি আসলে নিজেকেই বোকা বানিয়েছেন। তিনি যা বলতে ছেয়েছেন তা হল বৈষম্যহীনতা; বৈষম্যহীন সাম্য এভাবে সকলের রাজনৈতিক অধিকার। কিন্তু তার এই সেকুলার এর অর্থ হয়েছে বৃটিশ, ফরাসি বা ভারত রাষ্ট্রগুলোর বিশেষ করে ভারতীয় ইসলামবিদ্বেষ এর হিন্দুত্ববাদ যেটাকে এরা সেকুলার বলে ঢাকা দিয়ে চলতে চায় সেই সেকুলারিজম হয়ে দাড়িয়েছে। বা দাড়াবেই। তাই সোজা পথ এই কথিত শব্দটাই ব্যবহার না করা। রাজনৈতিক অধিকারে সাম্য বা শুধু ছোট করে সাম্য – এই শব্দে প্রকাশ করাটাই অনেক ভাল। যাতে হিন্দুত্ববাডেড় খপ্পরে না পড়তে হয়। আর হিন্দুত্ববাদের বিরোধী লড়াইয়ে “রাজনৈতিক সাম্য” এর পক্ষের লোক হওয়া, এটাই তো হতেই হবে।  বৈষম্যহীনতার পক্ষে ধারণা স্বচ্ছ রাখতে হবে!
    যারা মোদির পক্ষের মিডিয়া বা প্রতিষ্ঠান তারা হিন্দুত্ববাদী এভাবে তাদেরকে চিহ্নিত করাই ভাল নয় কী!  মানুষের সমান অধিকারের পক্ষের মিডিয়াও বলতে পারেন; এটাই তো “রাজনৈতিক সাম্য” এর পক্ষের মিডিয়া!  ধর্ম, এথনিক পরিচয়, পাহাড়ী-সমতলি, নারী-পুরুষ, সাদা-কালো চামড়া ইত্যাদি যেকোন বিভাজন ও বৈষম্যমূলক চিন্তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অধিকারে সাম্য! এটাই আপনি সম্ভবত বলতে চেয়েছিলেন!
    কিন্তু অসতর্কতায় বারবার এটা হিন্দুত্ববাদের কবলে ও তাদের পকেটে চলে যাচ্ছিল! কনসেপ্ট পরিস্কার রাখা এজন্য সব পেশার লোকের জন্যই খুব গুরুত্বপুর্ণ!
    প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম কে জানাই 
    তাঁর সকল লড়াইয়ে সফলতা, এই  শুভ কামনা!  হিন্দুত্ববাদ – এই হিটলারিজমের বিরুদ্ধে লড়াই অবশ্যই কঠিন!

     

     

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    শেষ আপডেটঃ  দুপুর   ডিসেম্বর  ২০২৪    

     

  • হিন্দুত্ববাদের বয়ানের উপর দাঁড়িয়ে যেকোন বিবৃতিই অর্থহীন

    হিন্দুত্ববাদের বয়ানের উপর দাঁড়িয়ে যেকোন বিবৃতিই অর্থহীন
    গৌতম দাস
    ০৮ ডিসেম্বর ২০২৪  দুপুর ০১ঃ ০৮
    https://wp.me/p1sCvy-5Yx

     

    ভারতে হিন্দুত্ববাদী শক্তি ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে বিবৃতি অর্থহীন

    হিন্দুত্ববাদের বয়ানের উপর দাঁড়িয়ে ভারতের কারো উদ্দেশ্যেই দেয়া বিবৃতি অর্থহীন; মানে হল সবার আগে মুখ্যত খেয়াল করতে হবে আপনি কার বয়ানে কথা বলবেন? নিজস্ব নাকি ভারতের হিন্দুত্ববাদের?
    এ’সম্পর্কে আপনার সচেতনতা লাগবে। যে বয়ান-পরিভাষা আপনার জনগণের বিরুদ্ধে সেই পরিভাষাই ব্যবহার করে এবং সেই চিন্তা-কাঠামোই ব্যবহার করে আপনি এই শয়তানি ও অসৎ ততপরতার বিরুদ্ধে লড়তে পারবেন না।

    আমি একটু দেরিতে, ইতোমধ্যে গত ৬ ডিসেম্বর ২০২৪  “ভারতের জনগণের উদ্দেশে ১৪৫ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি শিরোনামে রিপোর্ট ছাপা হয়েছে মিডিয়ায়।
    বাইরের চেহারায় এটা সিপিবি ঘরানার চেয়ে আলাদা মনে হতে পারে কারণ মোদি সরকারের বদলে এখানে “ভারতের জনগণের উদ্দেশ্যে” – বলে বলা হয়েছে। কিন্তু এরপরেও এটা যে কার সেই। কারণ, এক. এটা যারা লিখছে তাদের আলাদা কিছু করার প্রয়াস হয়ত কিন্তু তা মর্ম বদল ঘটাতে পারে নাই। আর দ্বিতীয় কারণ, ইতোমধ্যেই ‘ভারতের জনগণ’ আর ‘সরকার’ বলে একটা ছুপা ভাগ তৈরি করেই কিন্তু র-এর পক্ষে কাজ-ততপরতা করতে আরেক প্রতারক-মানব [imposter] ইতোমধ্যেই নিজেকে ধুর্তভাবে হাজির করে রেখেছে। চিন্ময়ের সাথে প্রকাশ্যে বিসদৃশ্য গলাগলি দেখিয়েছে আর চিন্ময়ের পক্ষে বেপরোয়া সাফাই নিয়ে হাজির হয়ে গেছে।  আবার ‘ভারতের জনগণ’  বলে কী কেউ বিজেপি-মোদির হিন্দুত্ববাদী বয়ানের বাইরে কেউ আছে? বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর নির্যাতন হচ্ছে, শাখা সিন্দুর পড়তে পারছে না ইত্যাদি ডাহা মিথ্যা যে বয়ান মোদি দাঁড় করিয়েছে তা কী খোদ সিপিএম, কংগ্রেস, মমতা ইত্যাদি এরা কী এর বাইরে? নাকি মিথ্যাভাবে একই নির্যাতনের গল্পের বিবৃতিতে সবদলগুলোও ইতোমধ্যেই দিয়েছে? এককথায় ভারতের কোন দলই নাই যে মোদির মিথ্যা ভাষ্যের বাইরে! তাহলে এসবের বাইরে কারা এখন “ভারতের জনগণ” আছেন যাদের কাছে পৌছাতে এই বিবৃতি চেষ্টা করছে? অর্থাৎ এককথায় বিজেপি-মোদির বয়ানের বাইরে ভারতের এখন মোটামুটি কেউই আর অবশিষ্ট নাই। কাজে ফাঁকা কল্পনা করে লাভ কী?

    আসলে মূলকথাটা হল সারা ভারত এখন হিন্দুত্ববাদের বয়ানে ইসলামবিদ্বেষী নেকড়ে হয়ে কাঁপতেছে, যেন ঝাপিয়ে পড়বে বাংলাদেশের উপরে!  আর সেই সময়ে আমরা দেখছি ১৪৫ জনের ভাষ্য বলে এক বিবৃতি যার প্রথম কয়েকটা শব্দ হল  ভারতে হিন্দুত্ববাদী শক্তি ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে – নাকি তারা এই বিবৃতি দিচ্ছে????
    কিন্তু এই সাম্প্রদায়িকতা জিনিষটা কী? কাদের বয়ান ভাষ্য ন্যারেটিভের পরিভাষা এটা? এটা তো হিন্দুত্ববাদেরই পুরানা পরিভাষা!!! তার মানে হিন্দুত্ববাদী পরিভাষা –সাম্প্রদায়িকতা, অসাম্প্রদায়িক ইত্যাদি – এসব  ব্যবহার করে এই বিবৃতিদাতারা হিন্দুত্ববাদ এর বিরুদ্ধে লড়তে চাইছেন!!!!
    এখানে লড়া মানে ফিজিক্যাল লড়াই না বরং বয়ান ভাষ্য সামনে রেখে লড়াই। তাহলে আপনি কার বয়ানে নিজের কথা বলবেন ও লড়বেন? নিজস্ব নাকি ভারতের হিন্দুত্ববাদের?

    ভারতের জনগণের উদ্দেশে ১৪৫ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি


    অবশ্য কথাটা এভাবে লেখায় আমাদের ‘দেশি’ বুঝের  জাতিবাদি মন বলে উঠবে অবশ্যই নিজস্ব!! কিন্তু কীভাবে বুঝবেন বয়ান-ভাষ্য আপনাদের নিজস্ব? এর জবাব অত তড়িৎ কারো মুখ দিয়ে আসবে না।
    কারণ, সেক্ষেত্রে মুখ্য বাস্তবতা ও ফ্যাক্টস হল, আপনার কোন আলাদা বয়ানই নাই। মূলত হিন্দুত্ববাদের বয়ানটাকেই আপনি এতদিন প্রগতিবাদী বয়ান মনে করে এসেছেন আর সেটাই আউরাইতেছেন! এছাড়া বিবৃতিতে এই যে হিন্দুত্ববাদ বলে শব্দ লিখেছেন এটাও তো আপনাদের পরিভাষা শব্দ নয়।
    আপনাদের শিখা পরিভাষা হল সাম্প্রদায়িকতা বা অসাম্প্রদায়িক এগুলা যেগুলা চালু করেছিল প্রথমে জমিদার-হিন্দুরা (১৮০০ সালের পর থেকেই) পরে ছুপা কংগ্রেসিরা (১৮৮৫ সালে)! আর আপনারা হিন্দুত্ববাদ এই শব্দটা শিখতে বাধ্য হয়েছেন শাহবাগের পরে [আগে নয়] অন্তত ২০১৪ সালের পরবর্তী বাংলাদেশ। এখন সমস্যা কী হয়েছে দেখেন! আপনারা বিবৃতিতে একইসাথে “ভারতে হিন্দুত্ববাদী শক্তি” আর “সাম্প্রদায়িকতার” এমন দুটার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। অথচ এদুটা একসাথে ব্যবহারযোগ্য শব্দ নয়।  আপনি যদি সত্যিই হিন্দুত্ববাদের বিরুদ্ধ কিছু হতে চান বুঝেশুনে ফিল করে তবে আপনাকে সাম্প্রদায়িক শব্দের ব্যবহার ত্যাগ করতে হবে। কারণ সাম্প্রদায়িক শব্দটা তো জমিদার-হিন্দুদের চালু বয়ানের শব্দ যা পরে ছুপা (সফট হিন্দুত্ববাদী) কংগ্রেসিরা তুলে নিয়ে তাদের বয়ানে স্থাপন করেছে। যেখান থেকে আপনারা এটা পবিত্র জ্ঞান করে তুলে নিয়েছেন! কোন বয়ান নির্মানে কিছু মার্কামারা বয়ান ভাষ্যের প্রতিনিধি চিহ্নমূলক শব্দ থাকে। সাম্প্রদায়িক এই শব্দ ও পিছনের ধারণাটাতে তা আছে – সাম্প্রদায়িক নিজেই এক হিন্দুত্ববাদি বয়ানের মার্কামারা শব্দ!  আপনি চাইলেই  তাই একই সঙ্গে হিন্দুত্ববাদীবিরোধীতা আবার সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী হতে পারেন না, পারবেন না। 

    এখানে হিন্দুত্ববাদের বয়ান কোনটা?
    মুখ্যত  অসাম্প্রদায়িকতা বা সাম্প্রদায়িক ইত্যাদি এসম্পর্কিত যত শব্দ আছে সবগুলোই – হিন্দুত্ববাদের বয়ান-ভাষ্যের চিহ্ন। বহুবার আমি লিখেছি এটা বাংলাদেশের কারও বয়ান বক্তব্যের শব্দ, ভাষ্য হতে পারে না। জমিদারহিন্দু যারপর নাই ক্ষুব্ধ হয়েছিল ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান কায়েম হওয়াতে। কারণ পাকিস্তান হওয়ার সোজা মানে হল তার জমিদারি উচ্ছেদ। যদিও কথিত শ্রেণী-বোদ্ধা কমিউনিস্টেরা আজও ভান করে যে তারা এই জমিদার শ্রেণির (শ্রেণীস্বার্থের) উচ্ছেদের দিকটা দেখতে পান নাই! ার খাঁড়া কথাটা হল, জমিদারি ব্যবস্থার উচ্ছেদ মানে হল জমিদারি কেন্দ্রিক হিন্দুত্ববাদি সকল রাজনৈতিক, সামাজিক, কালচারাল ক্ষমতা ও আধিপত্যের অবসান।  তাই সেই থেকে জমিদার-হিন্দুর সংগ্রাম হয়ে উঠেছিল, চরম মুসলমান বিদ্বেষ জারি করে এমন বয়ান তৈরি। এর প্রথম পদক্ষেপ তাদের পাক্কা ছলনার এক বয়ান যে এটা যেন মূলত জমিদারি উচ্ছেদ ছিল না, এটা যেন পুর্ব-বঙ্গের সকল হিন্দুদের উচ্ছেদ এভাবে ঘটনাকে উপস্থাপন করেছিল তারা।
    অথচ দেশভাগ ঘটে যাওয়াতে, এরপর যে হিন্দু এবং মুসলমান উভয়কেই – দুদিক থেকে দেশান্তর হতে হয়েছিল। হিন্দু হলে ভারতমুখি মুসলমান হলে পাকিস্তান মুখি এটাই তো হয়ে উঠেছিল সবার ভাগ্যেই! নাকি?

    এভাবে সাধারণ হিন্দু-মুসলমানের ভারত অথবা পাকিস্তানের দিকে যাত্রা এর সাথে পুর্ব-পাকিস্তানে জমিদার উচ্ছেদের সরাসরি কোনই সম্পর্ক নাই। তা সত্বেও জমিদারের স্বার্থ উচ্ছেদ হয়ে যাওয়া এটাকে সকল হিন্দুদের স্বার্থ হিসাবে হাজির করা এটাই জমিদার হিন্দুর শঠতাপুর্ণ বয়ানের সাফল্য! জমিদার হিন্দুর নিজ জমিদারি স্বার্থকে প্রজা হিন্দুরও যেন এটা একই স্বার্থ এভাবে হাজির করে ফেলেছিল। তা কোন বিপ্লবী, কোন শ্রেণীবোধের প্রগতিশীল কেউ খেয়াল করে নাই। বরং পুর্ব-পাকিস্তানের (জমিদার-প্রজা নির্বিশেষে) এমন সকল হিন্দুর স্বার্থ যেন এক  কাজেই পুর্ব-পাকিস্তানের হিন্দু মাত্রই ভিকটিম এই নয়া ভিকটিকহুড এর বয়ানই হল – হিন্দুরা তাহলে ‘সাম্প্রদায়িকতার’ শিকার। আর সাম্প্রদায়িকতা মানেই এর জন্য  অরিজিনাল অভিযুক্ত ও দায়ী হল পুর্ব-পাকিস্তানের মুসলমানেরা…! এটাই তো হিন্দুত্ববাদের বয়ান – সাম্প্রদায়িকতা বয়ানের ভিতরের আসল রহস্য বয়ান এবং  পুর্ব-পাকিস্তানের হিন্দু মাত্রই ভিকটিম এই মিথ্যা ভিকটিমহুড এর বয়ান!
    এসব যে মিথ্যা এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হল, পুর্ব-পাকিস্তানে জমিদারি উচ্ছেদ আইনে কী জমিদারি ব্যবস্থা উচ্ছেদের পরে পুর্ব-পাকিস্তানের মুসলমান প্রজারা যেমন নিজ নিজ চাষের জমির মালিকানা পেয়েছিল একইভাবে সমান সুযোগে  পুর্ব-পাকিস্তানে হিন্দু প্রজারাও কী সমান সুযোগে পায় নাই???
    তাহলে, পুর্ব-পাকিস্তানের হিন্দু মাত্রই ভিকটিম এই নয়া ভিকটিকহুড এই বয়ান ভাষ্য বা এই মিথ্যা অনুমানের ভিত্তি কী? 

    আবার যেমন ধরেন, এক ভারতরত্ন মানে পদ্মভূষণ খ্যাত ডঃ আনিসুজ্জামান তিনি পুর্ব-পাকিস্তানে দেশান্তর হয়ে এসেছিলেন, কেন? পশ্চিমবঙ্গের মুসলমান হিসাবে পুরানা এতদিনের আবাস ছেড়ে পরিবারসহ তাঁদের এদেশে আসার ক্ষেত্রে পুর্ব-পাকিস্তানে জমিদারি ব্যবস্থা উচ্ছেদ বা না-উচ্ছেদ এর কোন সম্পর্কই নাই। আর সবচেয়ে বড় কথা তিনি কী কেন তাঁকে কলকাতা ত্যাগ করে আসতে হয়েছিল সেজন্য কী কখনো কলকাতার হিন্দুদের দোষারোপ বা দায়ী মনে করেন বা করেছেন??? কখনই না; বরং ব্যাপারটাকে কপাল বা ভবিতব্য হিসাবে দেখে থাকেন!  অথচ পুর্ব-পাকিস্তানের হিন্দুরা পুর্বপাকিস্তানের মুসলমানদেরকে দেশভাগের জন্য আজও কঠোরভাবে দায়ী করে থাকেন। আবার বদরুদ্দিন উমরের কথাও ধরতে পারেন! তিনি কী বর্ধমান ছেড়ে ঢাকায় এসেছেন বলে বর্ধমানের হিন্দু জনগোষ্ঠিকে দায়ী করেন?

    মজার কথা হল, আনিসুজ্জামান কিন্তু সাথে মাথায় করে হিন্দুত্ববাদি অসাম্প্রদায়িকতার বয়ানই নিয়ে এসেছিলেন! মুসলমান হিসাবে কলকাতার জমিদার-হিন্দু তাঁকে তার পরিবারকে শিখিয়েছিল হিন্দুদের পাশে বসতে চলতে হলে তাদেরকে অসাম্প্রদায়িক হতে হবে। সারকথায় যা জমিদার-হিন্দুর আধিপত্য এটা মানতে হবে; তাদের সেই বয়ান ভাষ্যমতে মুসলমানদের নিজেকে সাজাতে হবে; তবেই মুসলমানেরা হিন্দুদের পাশে তিনি বসবাস শিক্ষা-চাকরির সুযোগ ইত্যাদি পেতে পারেন!

    আর এই সাম্প্রদায়িকতা কী তাহলে? কে কার উপরে করলো?
    সেটা কী আর বলার অপেক্ষায় আছে? সেটা বলাই বাহুল্য যেহেতু হিন্দু মাত্রই (জমিদার-প্রজা নির্বিশেষে) দেশভাগের ভিকটিম! – এই হল মিথ্যা মূল বয়ান!  যে বয়ানে তার মানে দাবী করা হল, পুর্ব-পাকিস্তানের মুসলমানেরাই যেন (জমিদার-প্রজা নির্বিশেষে) এমন সকল হিন্দুকে ভিকটিম বানিয়েছে ও বানানোর জন্য দায়ী????   তাহলে সাম্প্রদায়িক  -এই শব্দের উতপত্তি বয়ান ভাষ্য কার চালু করা কোথা থেকে? এটা কী প্রথমে জমিদার-হিন্দুরা (১৮০০ সালের পর থেকেই) পরে ছুপা কংগ্রেসিরা (১৮৮৫ সালে) হয়ে এখন মোদির হিন্দুত্ববাদের মুখ্য এক বয়ান ভাষ্য নয়!! আর কোন ফাঁকে এই হিন্দুত্ববাদ-ই আবার সকল কমিউনিস্টদেরও বয়ান ভাষ্য হয়ে গেছে??? ভারত (ফলে বাংলাদেশের) সকল কমিউনিস্টদের !!!  তাহলে সেক্ষেত্রে, এই বিবৃতিদাতারা একইসাথে ভারতে হিন্দুত্ববাদী শক্তি ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সরব হবেন বা হলেন কী করে?? এটা কী সম্ভব???
    সব বিবেচনা তাদের হাতেই তুলে রাখলাম!!!

    শেষে আরেকটা কথা দেশভাগঃ

    যদি আপনাদের চিন্তার মুরোদে কুলায় তাহলে দেশভাগ এর জন্য কাকে দায়ী করতে চান সেদিকে আসেন। যারা দেশভাগে ব্যাথ্যা পেয়েছেন তাদেরকে সাহসের সাথে রাজা রামমোহন রায় পড়তে হবে! এখান থেকেই পড়াশুনা শুরু করতে হবে। সেই ১৮১৫ সালে ফিরতে হবে। কেন রামমোহন ১৮১৫ সালে “আত্মীয় সভা” খুলেছিলেন? কেন সেই ১৮১৫ সালেই তিনি এক ব্রাহ্ম সমাজ বলে নতুন ধর্ম চালু করেছিলেন?
    রামমোহনই প্রথম ব্যক্তি যিনি সেকালে বৃটিশদের রিপাবলিক রাষ্ট্র একে চিনেছিলেন, এক এংলো-ক্যাথলিক বৃটিশ রিপাবলিক বলে।   অর্থাৎ জাতিরাষ্ট্র [নেশন স্টেট বা nation State] মানে আদতে তা কোন না কোন ধর্মের ভিত্তিতে জাত এমন রিপাবলিক রাষ্ট্র-ই হতে হবে, হয়। ফলে সেসময়ের চোখ আগামির অখন্ড ভারত – সেটাও আসলে কোন না কোন ধর্মের ভিত্তিতে জাত এমন রিপাবলিক রাষ্ট্র-ই করতে হবে এই ছিল তাঁর বুঝ ও সিদ্ধান্ত! আর সেখান থেকে অসংখ্য জাতভেদে বিভক্ত হিন্দু সমাজ সহ ভারতের সবাইকেই সবার আগে এক নয়া ধর্ম ‘ব্রাহ্ম’ এই নয়া একেশ্বরবাদি ধর্মে দীক্ষিত করে নিয়ে আগানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। একাজে রামমোহনের সবচেয়ে ঘনিষ্টজনেরা যেমন রবীন্দ্রনাথে দাদা দ্বারকানাথ ঠাকুর সহ ঢাকার সুশোভন সরকারের (বেঙ্গল রেনেসাঁর লেখক) দাদা ইত্যাদি সকলেই পরিবারসহ সবার আগে ব্রাহ্ম হয়ে নিয়েছিলেন। যদিও রামমোহনের এই উদ্যোগ – এটাই পরে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, অরবিন্দ ঘোষ বিবেকানন্দ ইত্যাদি হাত ঘুরে হিন্দুত্ববাদ হয়েছিল – আর এটাই হল ভারতে হিন্দুত্ববাদের আদি ভিত্তি ও বয়ান ভাষ্য!   কাজেই হিন্দুত্ববাদী বয়ানে জিন্নাহ কে ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ বলে সব দায় তাঁর এমনকি এই একালেও বিএনপির মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর ভারত-হিন্দুত্ববাদের স্বার্থে নয়া দালাল হতে প্রথম আলো গং কে বাঁচাতে মির্জার – “চিন্তা করতে পারেন ধর্মের ভিত্তিতে……” বলে মিথ্যা আবেগ তুলে অভিনয় করা এসবই আমাদের ত্যাগ করতে হবে। সবার আগে রাজা রামমোহন রায় পড়েন।
    এর আগেই জমিদার-হিন্দু অথবা হিন্দুত্ববাদের সফট বা কড়া ভার্সান
    এর ভক্ত দালাল নিজ মস্তক-বিক্রি এগুলা আর কইরেন না। এবার ছাড়ান দেন!  দেশভাগ আমাদের ভাগ্যে ছিল অথবা সবদোষ হল জিন্নাহ-র এসব হিন্দুত্ববাদের বয়ান আর কতদিন বইবেন???

    একালে যারা রাজা রামমোহন রায় নিয়ে নতুন করে হিন্দুত্ববাদের বিয়ান ভাষ্যের বাইরে এসে পড়তে চান তাদের সবার জন্য প্রথম চয়েজ হল ইন্টারনেট সার্চ করা – সার্চ করতে শিখেন। এখন এতেও আবার গাইড পেতে গেলে আমার নিজের ওয়েব সাইটে দেখতে পারেন।

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    শেষ আপডেটঃ  দুপুর   ডিসেম্বর  ২০২৪    

     

  • নিকাহ আর তালাক একসাথে করার মত কাজ না

    নিকাহ আর তালাক একসাথে  করার মত কাজ না
    গৌতম দাস
    ০৪ ডিসেম্বর ২০২৪   সন্ধ্যা ০৬ঃ ৩১
    https://wp.me/p1sCvy-5W0

    ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের মধ্যে কোন ভারত ন্যায়  বা সমকক্ষতা এর জায়গা নাই। এটাই ভারতের অবস্থান। কাজেই ভারতের হাত ধরে ক্ষমতায় যেতে চাওয়া আবার পানির ন্যায্য হিস্যা চাওয়া – এদুটো একসাথে চাওয়া যাবে না।
    ঠিক যেমন,  নিকাহ আর তালাক একসাথে  করা যায় না। একসাথে করার কাজ না। এটা কে না জানে?
    দুইটার মধ্যে ঠিক কেবল যেটা চান এমন কেবল একটাই নিতে পারবেন আপনি। একসাথে দুইটাই নিবেন এটা পারবেন না আপনি। হবে না; শত চাইলেই পারবেন না।  পাবেন না।
    কিন্তু বিএনপি বা তারেক জিয়া যেন এমন পরস্পরবিরোধী দুটাই একসাথে চেয়ে ফেলেছে। হয়ত অসর্তকতায়! 

    আমি গত এক সপ্তাহ (বা হয়ত এরও বোধহয় বেশি হবে) ধরে লাগাতর বলে আসছি যে বিএনপি (সাথে জামায়াতও) গত ২০০১-৬ তাদের সরকারের আমলে যদি কিছু মারাত্মক ভুল, অন্যায়, ত্রুটি হয়েই থাকে বলে তাদের এখন উপলব্দি হয়ে থাকে সেটা কোনই সমস্যা না। এজন্য সোজা পথ হল, আপনার কনষ্টিটিউয়েন্সি মানে পাবলিকের কাছে যান যারা আপনাদেরকে আগে নির্বাচিত করেছিল এবং আগামিও করতে পারে – সেই একমাত্র ক্ষমতাবান হল জনগণ, যারা সব ক্ষমতার মূল উতস তাদের কাছে যান। সব খুলে বলেন, কোনই অসুবিধা নাই। এজায়গায় পাবলিক সব বুঝে। কোন দোষটা খাটো করে দেখতে হবে বা কোনটা প্রধান করে বা কোনটা তখনকার মত মাফ করে দিতে হবে ইত্যাদি সব পরিস্কার বুঝতে পারে পাবলিক – একেবারে আম-আদমি মাঠে বা শহরের যারা ওয়ার্কিং ক্লাস – এরা এজায়গায় সব বুঝতে পারে।
    কাজেই সৎ ভবাবে তাদেরকে খুলে বললে তারা সবসময় সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়ে থাকে; ইতিহাসও তাই বলে।  ফলে বিএনপি (সাথে জামায়াতও) তাদের উচিত অবস্থান হতে হবে একমাত্র জনগণের কাছে সারেন্ডার। অন্য কারো কাছে নয়। অনেকে মনে করতে পারে আপনার শত্রুরা এটা নিয়ে মাতম তুলবে তখন কী হবে? আমি মনে করি কিছুই হবে না। আপনি প্রতিশ্রুতি দেন, পাবলিকের মনে বিশ্বাস জন্মানোর মত করে ব্যাখ্যা করেন আপনাদের কিছুই হবে না। বিশেষ করে যখন আপনি দেখাতে পারবেন যে আপনার আরেক ভুয়া আত্মঘাতি বিকল্প ছিল আপনার ভারতের কাছে যাওয়া কিন্তু আপনি যান নাই।
    কারণ,  ভারতের কাছে নিজের দুর্বলতা তুলে ধরে প্রকাশ করে তাদের অধীনে তাদের পায়ে চুমা দিয়ে তাদের খেদমতে তাদের স্বার্থে দেশের স্বার্থ বেচে দেন নাই।  নিজের দুর্বলতা তুলে ধরে প্রকাশ করে ভারত যেন এনিয়ে দেশ-বিদেশে কথা ছড়িয়ে না দিয়ে আপনাকেই যেন ক্ষমতায় ফিরে আসার ব্যবস্থা করে দেন – এই চিন্তা, এই অবস্থান বা কথিত রাজনীতি  দেখিয়ে আপনি আবার কোন চোরের ক্ষমতা তৈরি করতে চান এটা কখনই সৎ ও বাস্তবোচিত পদক্ষেপ হবে না। তাহলে তো হাসিনা টিকেই যেন এভাবেই!!!  কোন মানুষ কারো হাতে ব্ল্যাকমেলের স্বীকার হয়ে তা রেখে দিতে পারে না। এর চেয়ে মৃত্যু হাজার গুনে শ্রেয়! ভারতের অনুগ্রহের ক্যাম্পে যাওয়া মানে  নিজের দুর্বলতা/ভুল তাদের হাতে তুলে দেওয়ার সোজা মানে যারা আপনাকে একপর ব্ল্যাকমেল করবেই আপনি জানেন তাদের হাতেই নিজেকে সঁপে দেওয়া। আপনার কোন বিশেষ মুর্হুর্তের একান্ত পারসোনাল ছবি আপনি কারো হাতেই তুলে দিতে পারেন না। আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি আমরা এভাবে এরপর আজীবন ব্ল্যাকমেলার দের কব্জায় থেকে যাবো।  তাই একমাত্র বিকল্প  ও সোজা রাস্তা হল নিজ জনগণের কাছে যাওয়া।

    কিন্তু বিএনপি ইতোমধ্যেই অনেক দুরেঃ
    কিন্তু বিএনপি ইতোমধ্যেই সে পথে অনেকদুর আগিয়ে গেছে। বিশেষ করে কিন্তু মির্জা ফকরুলকে সামনে দিয়ে তার মুখ দিয়ে বিএনপির মুখ্য নেতারা যা করে ফেলছেন তা ভারতের আধিপত্য ঢেকে আনার পথে অনেকদুর চলে যাওয়া। বিশেষ করে মির্জার  দুইটা কাজ; এক. “আপনারা ভাবতে পারেন ………..” – বলে প্রতারকের আবেগ তুলে যে বক্তৃতা আর দুই. প্রায় ২১ টা রাজনৈতিক দলকে (যারা হবু সংসদের এক-আধটা সদস্য আকাঙ্খীরা সহ যারা ভারত তাদের ক্ষমতায় বসিয়ে দিবে বসে ক্ষমতার স্বপ্ন দেখছে, বিভোর হয়ে গেছে ) সাথে  নিয়ে প্রতীকীভাবে বললে – যার সামনে প্রথম আলো [এটা নাকি এক স্বাধীন সংবাদপত্রের উদাহরণ] আর পিছনে মোদি / র-এর হাত রাখা আছে – এভাবে বাংলাদেশের মেজর রাজনৈতিক দলকে সংগঠিত করে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া।  এতাই আগামিদনের ইতিহাসে এই কালপর্বকে কিভাবে আঁকা হবে সেটারই চিত্র হয়ে গেছে।
    তবে এসব ঘটানার শেষপর্ব এখনও মঞ্চে আসে নাই। যেমন, বিএনপি কী আগামিতে ও বাস্তবে এই অবস্থান কে সংশোধন করে নিয়ে চাইলেই নয়া বিএনপি হয়ে উঠে আসতে পারবে? অথবা কতটা সংশোবিত হয়ে উঠতে পারবে? নাকি আর এমন কিছুই করার সব পথ তারা নিজেরাই বন্ধ করে ফেলেছে ইতোমধ্যেই? এসবই real বা বাস্তবের মাঠে ও সময়ে হাজির কী করে হয় তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। যদিও আমার ব্যক্তিগত ফিলিং হল সব শেষ ও ফাইনাল! গত দুদিন যতজন বড় নেতার সাথে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি মানে তাদের ভাবনা বুঝাবুঝি জানতে পেরেছি তাতে  মনে হয়েছে তারা আর ফিরতেই পারবেন না!  ডিল ডান!!!

    কিন্তু আজকে এলেখার প্রসঙ্গ বাড়তি আরো কিছু, মানে উপরের কথাগুলোরও বাইরেঃ
    বাড়তি প্রসঙ্গটা কী?
    নিচের ভিডিও টা সবার আগে দেখে নিতে পারেন।

    ভারত থেকে পানির নায্য হিস্যা নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক আদালতে লড়াই হবে: তারেক রহমান | BNP

    সাদা চোখে শিরোনাম বা ভিডিও দেখেও মনে হতে পারে যে, আরে, এটাই তো বিএনপির জন্য সঠিক লাইন!! কিন্তু এটা আপতিক। মানে আপাতত অর্থে হয়ত এসব কথা সঠিক! কিন্তু গুঢ় দিক বলে আরেক দিক আছে। সেটা এখানে চাপা পড়ে যাচ্ছে।

    সোজাসাপ্টা একথাটার উত্তর খুজেন, আপনি যদি আপনার পানির হিস্যা এবং ন্যায্য হিস্যা চান তাহলে আবার একইসাথে  কী আপনি  ভারতের সাথে নুন্যতম কোন আপোষ,  ভারতের অধীনে থেকে তাদের তুলে দেওয়া ক্ষমতায় আসীন হওয়ার চিন্তা করতে পারেন?

    আসলে এই হচ্ছে, নিকাহ আর তালাক একসাথে  করার চিন্তা।  অর্থাৎ এগুলো হল, অর্থহীন চিন্তা; কারণ আগের চিন্তা-অবস্থানের সাথে পরের চিন্তা-অবস্থান যে মিল হচ্ছে না সেদিকটা আমল না করে কথা বলার বোকামি!

    এরপরেও আরেকটা তথ্য দেইঃ
    এখানে পাবেন ইমিডিয়েট সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান কী হবে – সে সংক্রান্ত ধারণা।
    আমি সবসময় পাঠক তো বটেই রাজনৈতিক নেতা, নীতি-অবস্থা নির্ধারকদেরকে বলি পড়াশুনা করতে। আপনাদের সময় ও এক্সপার্ট-বোধ নাও থাকতে পারে সেক্ষেত্রে ওস্তাদ পলিটিক্যাল বোধসম্পন্ন লোক ভাড়া করেন। তাতে সমাবেশে হাজার খালেক লোক কম হলেও এর ইমপ্যাক্ট বা বেনিফিট বেশি হবে।
    কিন্তু আবার সাবধান! যেমন মির্জা আলমগীর তিনি কিন্তু ইতোমধ্যেই এমন কিছুটা প্রাকটিস করে থাকেন! তাহলে সমস্যাটা ঠিক কোথায়? তবে তিনি মনে করেন দুনিয়ার ওস্তাদ পলিটিক্যাল বোধসম্পন্ন মানুষ মানেই হল কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলেরা। তাই তিনি কেবল কামাল নামের কমিউনিস্টদের কাছেই যান।  মানে যেতেন  যারা আবার সত্তর দশকের কমিউনিস্ট।  যারা মনে করেন বিএনপি তো একটা নির্বাচন-ক্ষমতার দল। তাই কোন রেডিক্যাল কাজ বিএনপির জন্য হারাম! তো রেডিক্যাল মানে? একেবারে অরিজিনাল মানে হল, আপোষহীন রাস্তার লড়াই-গণ আন্দোলন এগুলো তো বটেই এমনকি সময়ে সেমি-সশস্ত্র বা সশস্ত্র পর্যন্ত যেতে হবে যেয়ে বসবে।  এই কমিউনিস্টেরা আসলে এখন শুধু বাংলাদেশ না, সারা দুনিয়ার জন্য অভিশাপ! আল্লা আএদের যত তাড়াতাড়ি উঠায়ে নেয় ততই দুনিয়ার জন্য মঙ্গল!
    আচ্ছা তাহলে বলেন তো -কমিউনিস্ট মশাই-  আওয়ামি লীগ কী তাহলে রেডিক্যাল  বা বিপ্লবী দল? অথচ বিএনপির মতই (আপনাদের তুচ্ছ চোখে দেখা দল বিএনপি) বুর্জোয়া – নির্বাচন আর ক্ষমতার লোভের ‘নিচা’ দল কী আওয়ামি লীগও নয়????   তাহলে ১৯৭১ সালে সশস্ত্র যুদ্ধের নেতা আওয়ামি লীগ কী করে পারলো হলো???  মানে হল,  যা আওয়ামি লীগের বেলায় হালাল তা বিএনপির বেলায় হারাম,  কেন? এমন প্রগতিশীলতা ভাগাড়ে ফেলে আসেন আগে! এই পরামর্শ তিনি ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর (যেদিন খালেদা জিয়াকে বাসার সামনে বালির ট্রাক দিয়ে……) মির্জাকে দিয়েছিলেন। আর সেজন্য এই কমিউনিস্ট-পরামর্শ মির্জা আলমগীর শুনার পরে নেতিয়ে পরে শুয়ে গেছিলেন। আর এটাই মূল কারণ ঐ দিনের ব্যর্থতার। বহু প্রস্তুতি থাকার পরেও বিএনপি রাস্তাতেই নামে নাই।
    অতএব এখনকার জন্য মূলকথাটা হল, এই ঘটনা থেকে শিক্ষাটা হল,  ওস্তাদ পলিটিক্যাল বোধসম্পন্ন মানুষ অবশ্যই হায়ার করবেন; কিন্তু একটাই শর্ত উনাদের লেজ তুলে চেক করে নিবেন যে মানুষটা কমিউনিস্ট কিনা! হলে সটান বাদ দিতে হবে, এতাই একমাত্র ক্রাইটেরিয়া!

    তারেক জিয়া কথাগুলো বলেছিলেন, একটা সম্ভবত প্রাইভেট বিশ. এর আসরে। একাদেমিক জায়গা হিসাবে বক্তব্য হয়ত ঠিক! কিন্তু যখন আওপনার মাথায় ঢুকে গেছে যে ভারতের সাথে একটা রফা একটা আপোষরফা করেই আপনাকে ক্ষমতা পাবার পথ তখন – এই বক্তব্ব্য স্ববিরোধী বা কনফ্লিক্টিং!
    যেকথা বলছিলাম, আরেকটা তথ্য – এখনকার মোদি / র – এখন থেকে কোন অবস্থান নিয়ে বাংলাদেশের সাথে কথা বলবে দল অথবা সরকারের সাথে এধারণা তারা দিয়ে দিয়েছে ও তাদের প্রকাশিত সেই মনোভাব আছে বিবিসি বাংলার এক লেখায়। তা আমি আগে আলোচনা করেছি সে লেখার শিরোনাম ছিল  – ‘রোড ম্যাপ’ – আসলে কাদের দাবি? ভারতের! এখানে। আর ঐ পুরা লেখাটাই যে রেফারেন্সে লেখা সেটাই হল বিবিসি বাংলায় প্রকাশিত ভারতের পক্ষ থেকে লেখাটা। খুবই মজার শিরোনাম – বিবিসির,

    হিন্দু, হাসিনা, হতাশা : যে সব কারণে দিল্লি ও ঢাকার সম্পর্ক কিছুতেই সহজ হচ্ছে না

    এই লেখার সারকথা হল, ভারতের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে,
    ১।  ভারতের সাথে বাংলাদেশ সমান – এমন সমান মর্যাদা বোধ বা সমকক্ষতা – এটা মেনে কোন সম্পর্ক ভারত বাংলাদেশের সাথে করবে না।
    ২। তাই,  পানির হিস্যা এবং ন্যায্য হিস্যা এজাতীয় কোন ন্যায়  বা সমকক্ষতা এসব ধারণা ভারতের কাছে গ্রহনীয় নয়।
    ৩। ইতোমধ্যে ইউনুস সাহেব ভারতের সাথে পানির হিস্যা এবং ন্যায্য হিস্যা ইতোমধ্যে এসব কথা তুলে মিডিয়ায় বসে ফেলেছেন তাই ভারত ইউনুস সরকার কে স্বীকার করবে না, কোন ডিল করবে না।  আসলে সেই থেকে একারণেই এখন প্রতিদিন ভারতের আগ্রাসী স্টেপ প্রতিদিন বাড়ছে।

    এজন্যই ভারত দ্রুত নির্বাচনী রোড ম্যাপের পক্ষে সমস্ত পথে চাপ সৃষ্ট করে চলছে। যাতে নির্বাচিত বিএনপি-জামাত ইত্যাদি কেউ এসে গেলে ইউনুস ফেলে দিতে ভারত ন্যায়  বা সমকক্ষতা এসব ধারণা ভারত বাইরে রেখেই যেকোন ডিল বা সম্পর্ক করতে পারে।

    তাহলে, এখন এই মুহুর্তে তারেক জিয়ার

    এই বাক্যের প্রতিটা শব্দ বিএনপির ভারতীয় ইস্যুতে মির্জা ফকরুল কে দিয়ে বলানো আগের সব অবস্থানের সাথে কনফ্লিক্টিং।

    তাহলে????
    বিএনপিকে দ্রুত সতর্কতার সাথে এই দুরকম অবস্থান সংশোধন করে নিতে হবে। হয় ভারতের সাথে নিকাহ আর না হয় তালাক এক টাই করতে হবে। অপশন এতটুকুই। একসাথে দুটা করা যাবে না। ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের মধ্যে কোন ন্যায়  বা সমকক্ষতা এর জায়গা নাই।

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  ডিসেম্বর  ২০২৪
    শেষ আপডেটঃ      ২০২৪

  • আসলে সিপিএম এর সাথে মমতাও হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিতে

    আসলে সিপিএম এর সাথে মমতাও হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিতে
    গৌতম দাস
    ০৩ ডিসেম্বর ২০২৪   দুপুর ১২ঃ ৩৩
    https://wp.me/p1sCvy-5UX

     

    বাংলাদেশে জাতিসংঘের শান্তি সেনা পাঠানো হোক, চান মমতা

     

    গতকাল ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার অফিসে হামলা হয়েছে। যার সোহা বাংলাটা হল, মোদি-জয়শঙ্কর এর গ্রাম্য মোড়লের মত চিন্তায় এই হামলা করিয়েছেন, হতে দিয়েছেন। আবার ঘটনা ঘটানোর পরে মাফ চাইতেছেন।
    মোদি-জয়শঙ্কর কে গ্রাম্য মোড়লের বোকা-চিন্তা বললাম এজন্য যে যেন এরা ধরে নিয়েছেন যে ঢাকার মানুষেরা ভারতীয় হাইকমিশনের অফিস কোথায় চিনে না, ঢাকায় প্রণয় ভার্মা কোন বাসাতে থাকেন তা ঢাকার মানুষেরা জানে না! অথবা মোদি-জয়শঙ্কর এর মত এসব স্থানগুলোতে একটা হামলা ঘটিয়ে দিয়ে এরপর আমাদের পররাষ্ট্র  উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বোধহয় কম নাটুকেপনা করতে পারবেন!!!
    একমাত্র মোদি-জয়শঙ্কর এর মত মফস্বলি চিন্তার লোকেরাই এমন ভাবতে পারে।  বিশেষ করে মফস্বলি রাজনীতিতে বিজেপি-আরএসএস এর ট্রেনিং পাওয়া মোদি এমনটা ভাবতে পারেন। কিন্তু জয়শঙ্কর??? উনি তো পেশাদার কূটনীতিক ক্যাডার ছিলেন! কাজেই উনার তো জেনেভা কনভেনশনের আইন-নিয়মকানুন না জানার কোন সুযোগই নাই! এর অর্থ তিনিও নিজ পদমর্যাদা ভুলে মোদির পা-চাটার জন্য মোদির মফস্বলি খায়েশ পূরণে সম্মতি দিয়েছেন???
    আগরতলায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার অফিস মানে জেনেভা কনভেনশন অনুসারে ওটা বাংলাদেশ-ভুখন্ড সমতুল্য গন্য করতেই হবে; এই স্থাপনা যেকোন ভারতীয়ের আক্রমণ দূরে থাক স্পর্শ থেকেও দূরে রাখতে হবে ভারত সরকারকে। সেকাজে যা যা নিরাপত্তা লাগে সব যোগান ভারত-সরকার দিতে বাধ্য, এমন লিখিত প্রতিশ্রুতির পরে বাংলাদেশে সেদেশে গিয়েছে!  কাজেই এখানে সরি বলবারও কোন অবকাশ নাই!
    মোদি-জয়শঙ্কর যদি মনে না রাখেন যে এপর্যন্ত প্রতিবার এমন ঘটনাগুলোতে বাংলাদেশ সরকার তার নিজ জনগণকে মটিভেট করে যেকোন ভারতের উস্কানিতে শান্ত থেকেছে। গত ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রামে সরকারের কর্মি আদালতে সরকার নিজ বা বাদিপক্ষের বক্তব্য উপস্থাপনে আদালতে নিয়োজিত কর্মী যাকে পাবলিক প্রসিকিউটর বা সংক্ষেপে পিপি নামে ডাকা হয় – সেই পিপি সাইফুল ইসলাম আলিফ কেন আদালতে ইসকনের চিন্ময় এর জামিনের বিরোধিতা করল এই অজুহাতে আলিফ কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এসব গুন্ডামি কী বাংলাদেশের মানুষ কম জানে? কিন্তু বাংলাদেশের সরকার ও আম-জনগণ এরপরেও নিজেদের সংযত রেখেছে – পরেরদিনের চারচারটা জানাজার আয়োজন করেছে চট্টগ্রামবাসী; এভাবে তাদের মনের ক্ষোভ, দুঃখ বেদনা মানসিক চাপ ইত্যাদি সবকিছুকে ঐ জানাজার মধ্যে দাফন করে দিয়ে আম-জনগোষ্ঠির এক  জন-ঐক্য  সৃষ্টি  ও দায়ীত্বপুর্ণ আচরণে সবাইকে পরিচালিত করে আমরা উঠে দাড়িয়েছিলাম – এক অনন্য নজির করেছিল সেদিন!

    অথচ মোদি-জয়শঙ্কর এর মফস্বলি আচরণের মত একটু ইশারাই কী যথেষ্ট ছিল না?  – মুহুর্তের মধ্যে ইসকন-চিন্ময় গং চিহ্ন লোপাট হয়ে যেত না? রক্তের বন্যায় আমরা এরপরে কোনপক্ষই আর কেউ নিজেদের কাছেই মানুষ হিসাবে মুখ দেখাতে পারতাম না!  কিন্তু আমরা সেসব দিকে যাই নাই, সেসবের কিছুই করি নাই!  নিজেদের সংযত রেখেছি। যদিও বারবার মোদি-জয়শঙ্কর আমাদেরকে উস্কানি দিয়ে যাচ্ছে! আমরা ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে সব বিদেশি কূটনীতিকদের মাধ্যমে সারা দুনিয়াকে সব ঘটনাই জানিয়েছি।  মোদি-জয়শঙ্কর আপনারা কিছু পেটি-স্বার্থে আর কত নিচে নামবেন? বাংলাদেশ আপনাদের কোন হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি বা স্বার্থের কাছে মাথা ঝুকাবে না!
    এখানে সবচেয়ে বড় তামাশাটা হল, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলেরা যারা প্রতি মুহুর্তে গত দুশ বছর ধরে মুসলমান মানেই নিচা মানুষ, এরা জঙ্গি পশ্চাদপদ ইত্যাদি তাই মুসলমানকে তাদের পায়ের নিচে দাবায় রাখতে হবে বলে প্রোপাগান্ডা-বয়ান খাড়া করে গেছে – যে প্রপাগান্ডার মুখ্য শব্দ বা কয়েন করা শব্দ হল সাম্প্রদায়িকতা – কিছু হলেই হিন্দুত্ববাদ যাকিছুই অপরাধ করুক উস্কানি দেক না কেন আমাদের হিন্দুত্ববাদকেই রক্ষা করতে হবে মানে  আমাদেরকেই তথাকথিত অ-সাম্প্রদায়িক হয়ে থাকতে হবে। মানে হিন্দুত্ববাদ এর কোন দোষ-অপরাধ নাই, ওর এর গায়ে টোকাও দেয়া যাবে না, উল্টা রক্ষা করে যেতে হবে। আর এটাই কমিউনিস্ট-প্রগতিশীল অ-সাম্প্রদায়িকতা রাজনীতি ও অবস্থান!  এতে আসলে প্রমাণ হয় যে কমিউনিস্ট-প্রগতিশীল নামের আড়ালে এরাই প্রকৃত হিন্দুত্ববাদী।  একারণেই এরা সবাই এখন মোদি-জয়শঙ্করের ভারতের মফস্বলি আচরণ ও উস্কানির বিরুদ্ধে কোন টু-শব্দ নাই; প্রথম আলো নিঃশ্চুপ, এই ইস্যুতে কমিউনিস্ট-প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবী [কোন ৩৪জন বুদ্ধিজীবীর প্যাকেজ] এদেরকে আর দেখা যাচ্ছে না। এরা মুখে তালা দিয়ে কোথায় যেন লুকিয়ে বসে আছে!!! কী সুন্দর  বাংলাদেশ তাই না!!!  যেখানে কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলেরা মোদির হিন্দুত্ববাদের পক্ষে দাঁড়িয়ে ততপর থাকে! 

    এটা কী সুন্দর  বাংলাদেশ তাই না!!!  যেখানে কমিউনিস্ট-প্রগতিশীলেরা অবলীলালায় মোদির হিন্দুত্ববাদের পক্ষে দাঁড়িয়ে ততপর থাকে! আর উলটা আমাদেরকেই কথিত ‘অসাম্প্রদায়িক’ থাকবার বাণী শোনায়!!!!  

    আরেক মফস্বলি মমতা বন্দোপাধ্যায়ঃ
    কলকাতার আরেক মফস্বলি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়, তিনি বাংলাদেশকে জাতিসংঘ শান্তিবাহিনীর অধীনে নিতে চান! এখানে দেখেন বিবিসির নিউজ। 
    আরে ভাই আগে  জাতিসংঘ কী, শান্তিবাহিনী কী – এগুলো কী খায় না মাথায় দেয় – সেটা জানেন! জানার পরেই না হয় মুখ খুলেন? নাকি?
    এখন বাংলাদেশের মিডিয়া স্বাধীনতা মানে হল হিট বাড়ানোর জন্য সত্য-মিথ্যার পরোয়ার দরকার নাই। জার্নালিজমের নীতি মানা হচ্ছে কিনা পরোয়ার দরকার নাই!  কারণ, ওয়েবে যত বেশি দর্শক-পাঠক কে উস্কানি তুলে ডেকে নিয়ে আসো কোন অসুবিধা নাই, আর এটাই তো এভাবে হিট বাড়িয়ে অর্থ কামানোর সহজ পথ!  এই হল, এখনকার বাংলাদেশের মিডিয়া স্বাধীনতা  আর প্রথম আলো যেখানে যার আদর্শ ও মডেল! শুধু তাই নাই আমাদের বিখ্যাত রাজনীতিবিদ মির্জা ফকরুল এখন খোলাখুলি র-এর এজেন্সি নিয়েছেন। তিনিওই আগামি সংসদের যারা আসন ভিক্ষা করেন এমন সবদলকে আসন ভিক্ষা দিবার নেতা কারণ তার হাতে র-এর এজেন্সি এসে গিয়েছি। আর তাই এমন সম্ভবত ২১টা মানে প্রায় সব নির্বাচনি দল এখন ফকরুলের নেতৃত্বে এমন এই প্রথম আলো মার্কা  বাংলাদেশের মিডিয়া স্বাধীনতার পক্ষে খাঁড়ায় গেছে। এটা হল পাঠকে বিক্রি করে দেওয়ার মিডিয়া স্বাধীনতা। তার মানে, এরা কী সাংঘাতিক গণতন্ত্রী! আপনারা চিন্তা করতে পারেন……।
    তো বাংলাদেশের এমন দুই “স্বাধীন মিডিয়া” – প্রথম আলো আর মানবজমিন – তাদের আবার আজকাল নাকি কলকাতার সংবাদদাতাও আছে!  ফলে মমতার বক্তব্যকে কত সেনসেটিভ বা হাইপ তুলে রিপোর্টটা করা যায় সেদিকে এরা ব্যস্ত হয়ে উঠে। এমন জব্বর খবর – এই পয়সার মাল –  এটা নিয়ে উত্তেজনা উঠানোর (মানে অঢেল অর্থ বা হিট কামানোর) সুযোগ তো হাতছাড়া করা যায় না?
    কিন্তু এতে সবই হয়েছে আর খোদ জার্নালিজম টাই বাদ হয়ে গেছে!

    প্রথম কথা হল, এই মিডিয়া স্বাধীনতা ওয়ালারা খেয়ালই করেন নাই যে – মমতার কথাগুলো অসামঞ্জস্যপুর্ণ। বাংলায় যেটাকে আমরা বলে কথার মধ্যে তাল নাই। একেকবার একেক অর্থ করে কথা বলেছেন। উনি কার কথা কাকে নিয়ে বলছেন তাই আউলায়ে ফেলেছেন। অথচ এদিকটা  সেটাই কেউ সামনে আনে নাই, গুরুত্ব দেয় নাই। প্রথম আলো আর মানবজমিন  এর নিউজ পাবেন এখানে।
    সবার আগে মমতার কথাগুলো যে অসামঞ্জস্যপুর্ণ তা নিয়ে অন্তত একটা বাক্য খরচ করেছে বিবিসি বাংলা।

    “……এ জাতীয় ঘটনা (সহিংসতার) ঘটতে থাকে তাহলে আমরা আমাদের লোকেদের ফিরিয়ে আনব। সরকার উদ্যোগ নেবে। তারা ফিরে আসলে থাকার, খাওয়ার কোনও সমস্যা হবে না। কোনও ভারতীয়ের উপর অত্যাচার হবে সেটা আমরা হতে দিতে পারি না।”

    উপরের এই বাক্যগুলো ছিল মমতার মূল কোট-আনকোট বক্তব্য। এখানে মমতার ধারণা বাংলাদেশে গত ৫ আগষ্টের কথিত হিন্দু নির্যাতন হচ্ছে মোদি, ইসকন ইত্যাদি এদের যে প্রপাগান্ডা ভারত সরকার করছে তাতে মমতার ধারণা কথিত যে নির্যাতন তা ভারতীয় হিন্দুদের উপর হচ্ছে।  এখন এতে যে বিভ্রান্ত তা হল,
    এক. নির্যাতিতরা ভারতীয় হিন্দু হলে তারা বাংলাদেশে বসে থেকে নির্যাতন খাইতেছে কেন?
    দুই. মমতা তো কথিত নির্যাতিতদেরকে  “আমাদের লোকেদের  বলেছেন। আমাদের লোকেদের ফিরিয়ে আনব – বলেছেন???? আরো পরিস্কার করে পরের বাক্যে বলেছেন, ভারতীয়ের উপর অত্যাচার হবে সেটা আমরা হতে দিতে পারি না। তাহলে?
    তিন. মমতা আসলে বেদিশ [বেদিশা] হয়ে গেছেন! সেক্ষেত্রে বাংলাদেশে ভারতীয় হিন্দুরা এদের থাকাটাই তো অপরাধ! নাকি? এর কী হবে?
    চার. নাকি মমতা মোদি-বিজেপি-আরএসএস এর ভক্ত হয়ে উঠেছেন?  সেটা এই কারণে যে – “সারা দুনিয়ার হিন্দুদের (তিনি যে দেশেরই নাগরিক হন না কেন, সে হিন্দুর) রক্ষকর্তা একমাত্র মোদি, মোদির সরকার – ইদানিক এই বক্তব্য রেখেছে তারা বিবিসির এক রিপোর্টে; এখন মমতা কী সেই বক্তব্যের ভিক্ত অনুসারি হয়ে উঠেছেন? আর সেকারণেই বাংলাদেশে কথিত নির্যাতিত হিন্দু সে বাংলাদেশি / ভারতীয় সকলের রক্ষাকর্তার দায়ীত্ব তো মহান ভারত ও মহান মোদি নিয়েছে – ফলে এখন মমতাও মহান মমতা হয়ে সেই দায় বোধ করে কথা বলছেন! তাই কী????

    এসবেরই সারকথা, একটা ইস্যুতে কোন ঘটনা-বিবরণ না জেনেই লাঠি হাকিয়ে দেয়া বলতে যা বুঝায় মমতা তাই করে স্টুপিড হয়ে গেছেন!
    আর সেকারণেই ব্যাপারটা নজর করেছে বিবিসি তারা বুঝাতে চাইছে মমতার এই স্টুপিডিটি এই বিবৃতির সাথে বিবিসি নাই; তার এর কোন দায় নিচ্ছেনা।
    আর তাই ঐ রিপোর্টে বিবিসির মন্তব্য বা সতর্কবার্তা লিখাছে যে  ‘ভারতীয়দের উপর অত্যাচার’ বলতে তিনি কাদের বুঝিয়েছেন, তা ওই বক্তব্যে পরিষ্কার করেননি। মানে বিবিসি এই “কথা হয় না কথার” কোন দায় নেয় নাই। 

    অথচ আমাদের বাংলার স্বাধীন মিডিয়া এসব বাদ দিয়ে মমতা শান্তি রক্ষী বাহিনী দেয়েছে এদিকে পাটয়হককে নিয়ে গেলেন। অথচ, বাংলাদেশি পত্রিকা হিসাবে মমতা কে দেখার ও তার বক্তব্য-চিন্তার মধ্যে বাংলাদেশ সম্পর্কে যে স্টুপিড চিন্তা কাজ করছে সেদিকে চোখ ফেলে নাই। মমতার কথা যে মৌলিকভাবে অসামঞ্জস্যপুর্ণ এদিকটা যেন তারা দেখেই নাই অথবা এদিকটা নিজ নিজ পত্রিকা পাঠককে সাবধান করে দেয়া যেন তাদের দায়ীত্ব না। সলে তারা আছে হিট কামাতে আর এতে পরোক্ষে হিন্দুত্ববাদের  অসাম্প্রদায়িকতা জাগিয়ে রাখতে।
    তবে প্রথম আলোর কলকাতা রিপোর্টার একটা বাড়তি তথ্য দিয়েছেন সেকথা আসছি।

    মমতা কেন এমন পোলাপানি বিবৃতি দিতে গেলেনঃ
    পুরা কলকাতায় তো বটেই ভারতের এখনকার রাজনীতিতে হিন্দুত্ববাদকে প্রধান করে তুলেএনেছেন মোদি সরকার এন্ড গং।  আর বাকি দলগুলো এই হিন্দুত্ববাদ করে সাজানো মোদির নির্বাচনি রাজনীতিকে আপন করে নিয়েছেন বা আত্মাহুতি দিয়েছেন। এর পিছনের মূল কারণ ভারতের রাজনীতিটাই গড়ে উঠেছে সেই ১৮১৫ সাল থেকে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষে, কখনও আবছা বা স্পষ্ট করে, মূলত হিন্দুত্ববাদ কে কেন্দ্র করে।  ভারতের সব রাজনীতিই কমবেশি হিন্দুত্ববাদ প্রভাবিত। যেমন এথেকে কমিউনিস্ট সিপিএমও এর বাইরে না। বরং সবসময় হিন্দুত্ববাদকেই সামনে আনার ক্ষেত্রে শীর্ষভুমিকা পালন করে গেছে। অনেকের শুনে অবাক লাগতে পারে কথাটা। কিন্তু এনিয়ে একটা রেফারেন্সই যথেষ্ট।  সেটা হল, কেন সুশোভন সরকার বেঙ্গল রেনেসাঁ নামে বইটা বের করেছিলেন? [বইটার গুগল পিডিএফ-ও পাওয়া যায় নেটে তবে ইংরাজিতে ] আর কেন এই বইটায় খোদ কমিউনিস্ট পার্টি (যার একচুয়াল ততপরতা ১৯৩৫ সাল থেকে শুরু হয়েছিল) সেকালে সাপোর্ট দিয়েছিল, পার্টি সেক্রেটারি পিসি যোশী একটা ভুমিকা লিখে দিয়েছিলেন? কেন? আর ঐ বইয়ে কী আছে? বিশেষ করে হিন্দুমেলার চাপ্টারটা?? এটা কজন পড়েছেন?
    এটা প্রমাণ করে খোদ কমিউনিস্ট পার্টি টা শুরুই হচ্ছে হিন্দুত্ববাদকে সাথে নিয়ে।

    যাই সেকথা, প্রথম আলো মমতা নিয়ে লিখেছে, “……গত ২৮ নভেম্বর সিপিআইএমের পলিটব্যুরো বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ শান্তি সেনা পাঠানোর প্রস্তাব করলেন”।
    এটাই হল সেই গুরুত্বপুর্ণ দিক। মমতা মনে করেন কলকাতার ভোটের রাজনীতিতে তার প্রধান বয়ান-রাজনীতি বা ইডিওওলজির দিক থেকে প্রধান প্রতিপক্ষ-এনিমি হল সিপিএম। এর পাল্টা সিপিএম আরো বেশি করে মনে করে মোদি-বিজেপি নয়, সারা ভারতে তাদের প্রধান রাজনীতির এনিমি হল মমতা। কারণ মমতাই তাদের ৩০ বছরের কলকাতার ক্ষমতা থেকে উপড়ে ফেলে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমতায়। শুধু তান না একারণে, সিপিএম তার ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের প্রশ্নে মোদির কোলে উঠে বসতেও বা অপ্রকাশ্য এলায়েন্স করতেও রাজি। করেছেও তাই।
    আর সেকারণেই তারা মোদির হিন্দুত্ববাদি রাজনীতির পক্ষে সিপিএম এই মিথ্যা দাবিতে মোদি সরকারের অনুরূপ বিবৃতি দিয়েছে। দেখতে যায় নাই যে বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের এই উন্মাদনা কেন সত্যি না। সেটা ইনডিপেন্ডেন্টলি ভেরিভাই করতে যায় নাই, চাই নাই। এতে সারা ভারত হিন্দু ভোটের লোভে মোদি যেন হিন্দুত্বের শুরসুরি দিয়ে সব নিয়ে যা যায় সেটা ঠেকাতে তারা সকলে কংগ্রেসের প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, সিপিএম ও মমতা ইত্যাদি লাইন ধরে হিন্দুত্ববাদের রাজনীতিকে আপন করে নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। সত্য-মিথ্যা বা ফ্যাক্টসের ধার ধারে নাই। মূলত সিপিওএম এর বিবৃতির পরে মমতাও বিবৃতি দিতে অস্থির হয়ে পড়েন।

    এমনকি যেখানে দুদিন আগেও মমতা বলেছিলেন্, এটা কেন্দ্রের মানে কেন্দ্রীয় মোদি সরকারের দেখভালের ইস্যু। তাই তিনি এনিয়ে তেমন কিছু বলতে চান না। অথচ নিজের বক্তব্যের বিরোধিতা করেই তিনি শান্তিবাহিনী ডাকার বিবৃতি দফিয়ে ফেলেছেন। যেন শান্তিবাহিনী হিন্দুসেনা সব!!!!! ডাক দিলেই এসে যাবে!  প্রথম কথা এই শান্তিবাহিনী বসানোর অর্থ কী ভারত দিবে? বইতে রাজি আছে? বাজারে ডালের দাম না জেনে প্লেটের ভাতে বিরাট এক গর্ত করেছে ডাল নিবে বলে………!!! এদেরকে আর কী বলব?

    সারকথায়, যতদিন ভারতের যেকোন দল, কেন হিন্দুত্ববাদ বিরোধিতা করতে হবে, আর তা কী করে এনিয়ে চিন্তা-ততপরতায় সোচ্চার না হবে ততদিন এদের কারো মুক্তি নাই। ভারত ভাঙনের দিকে এগিয়ে যাবেই। এথনিক জাত শ্রেষ্ঠত্ববাদী চিন্তার  হিটলারের উতখাত ছাড়া যেমন জর্মানির প্রতিবেশি কোন ইউরোপীয় রাষ্ট্রে শান্তি  তো বটেই সারা দুনিয়ায় শান্তি আসে নাই, দুনিয়াতে শান্তি আসে নাই; ঠিক সেরকম মোদির ভারতও এশিয়ার হিটলারই হয়ে উঠবে ক্রমশ!
    আর ২৯% মুসলমান ভোটের উপর দাঁড়ানো মমতাও কেবল হারতেই থাকবেন; উলটাপালটা বকবেন তাতে কোন লাভ হবে না!

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

     ০৩ ডিসেম্বর ২০২৪  দুপুর ০১ঃ ২৩  

    আপডেটঃ    ২০২৪  

  • তরুণ উপদেষ্টা মাহফুজ আলম!

     তরুণ উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের কান্ড!
    গৌতম দাস
    ২৯ নভেম্বর ২০২৪  সন্ধ্যা ০৭ঃ ১৬
    https://wp.me/p1sCvy-5Tb

    সব দল ও অংশীজনের সঙ্গে বসে দেশের উত্তেজনা সমাধানের আশা মাহফুজ আলমের

    ইউনুস সাহেবের চোখে বুঝাবুঝিতে যিনি শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক মাস্টারমাইন্ড এমনকি বিল ক্লিনটনের সামনে যাকে এভাবে ইউনুস সাহেব এভাবে পরিচয় করিয়েছেন তিনি হলেন উপদেষ্টা মাহফুজ আলম!
    তিনি বর্তমানে কোন মন্ত্রণালয় বিহীন মন্ত্রী (উপদেষ্টা)। মানে তিনি হচ্ছেন রাজনৈতিক উপদেষ্টা তাই কোন একটা মন্ত্রণালয়ের তিনি নন – এমনই একটা অর্থ এখানে উহ্য আছে।   তা হতেই পারে এটা কোন ইস্যু না।

    কিন্তু গতকালের প্রথম আলোর এক শিরোনাম হল, “সব দল ও অংশীজনের সঙ্গে বসে দেশের উত্তেজনা সমাধানের আশা মাহফুজ আলমের“।
    এমনিতেই অংশীজন খুব বিপদজনক বা উলটাপালটা ব্যবহারের শব্দ। এর চেয়েও এটা পেটি-এনজিও-কর্তা যারা অনেক সময় শব্দের অর্থ তাতপর্য যথেষ্ট বুঝাবুঝি না সেরে পশ্চিমের শব্দ ব্যহার করে ক্ষতিকর বা আত্মঘাতি কাজ করে ফেলেন। এটা ইংরাজি [stakeholder] স্টেক-হোল্ডার (মানে সংশ্লিষ্ট যাদের স্বার্থ আছে এমন স্বার্থ-জনদের) থেকে পশ্চিমা নিয়েছে। যার রূট আবার জুয়ার বোর্ড সংশ্লিষ্ট। জুয়ার আসরে প্রবেশ ও বসতে গেলে আগে কয়েন বা টিকেট কিনতে হয় যা অনেক সময় ক্যারামের গুটির মত প্লাস্টিকের চাকা বা কয়েনের মত হয়। আর তা নিয়ে এবার তা থাক থাক করে সাজিয়ে জুয়ার আসরে পাসে নিয়ে বসতে হয়। এভাবে সাজিয়ে বসাটাই স্টেক আর জুয়ারি ব্যক্তিটা হল এর মালিক বা স্টেকের মালিক বা হোল্ডার। এ’অর্থে জুয়ায় অর্থলগ্নি করাটারই স্টেকহোল্ডার হওয়া।
    এরই কাছাকাছি এমনই আরেক শব্দ আছে। সেটা হল, অংশীদারি নেয়া বা পিপলস পার্টিশিপেশন [people’s praticipation]  বা জনগণের অংশগ্রহণ।  মানে প্রশাসনে ‘জনগণের অংশগ্রহণ’ – আমলার বদলে জনপ্রতিনিধি কর্তৃত্বে প্রশাসন। তবে সাবধান এটা হল খায়েশের কথা। বাস্তব এর কথা নয়।   পিপলস পার্টিশিপেশন এই শব্দটা এনজিও-আঁতেল [বদিউল আলম মজুমদার, ডঃ তোফায়েল আহমেদ ধরণের ব্যক্তিবর্গ ] এদের আবিস্কার এরশাদের আমলে ৪৬০ উপজেলা চালু করাকে কেন্দ্র করে। কিছুই না বুঝেই এরা – আমলা সরিয়ে জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা এই শ্লোগানের আড়ালে ‘পিপলস পার্টিশিপেশন’ ঘটাতে যাচ্ছেন মনে করেছিলেন। আর এরই পরিণতি হচ্ছে আজকের দলবাজি শুধু না একেবারে দলীয় ক্যাডার দিয়ে সাজানো প্রশাসন। (বিএনপিরও আছে তবে সর্বোচ্চটা হাসিনার) আমলা প্রশাসন আর এমপি-দের তান্ডবের প্রশাসন। যার জেরে ইউনুস সরকার এখন হয়রান; আমলাদের কাকে ছেড়ে কাকে কোন পদে বসাবে – আজ পর্যন্ত তারা ডিসি বদলের কাজে হাত-ই দিতে পারেন নাই।
    কাজেই অংশি- বলে এসব মুখস্ত বিদ্যায় সবখানে মুখস্ত শব্দ ‘অংশীজন’ বলে যত্রতত্র ব্যবহার না করাই ভাল বলে আমার মনে হয়। অংশী – এটুকু শুনলেই তাই  আমি সতর্ক হয়ে যাই!

    গত ১৯৮৩-৮৪ সালে ডঃ তোফায়েল আহমেদ ছিলেন ঢাবি’র পাবলিক এডমিনিস্ট্রেশনের শিক্ষকমাত্র। কনসালটেন্সি ব্যবসা – বলে কিছু তখনও ঢাকার বাজারে চালু ছিল না। তাই শিক্ষকমাত্র বলছি। অথচ তিনি হয়েগেছিলেন ওয়ার্ল্ডব্যাংক এর স্থানীয় সরকার (মানে উপজেলা) প্রজেক্টের কনসালটেন্ট। আর তাঁর সাথে এনজিওকর্তা জুটেছিল বদিউল মজুমদার ধরণের ব্যক্তিরা।  মজার কথা হল, এই ব্যক্তিবর্গেরা আজও জানেনই না যে আমলা শাসন সরিয়ে উপজেলায় চেয়ারম্যান বা জেলায় এমপির কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে দিলেই সেটাতে আমলার খবরদারি সরিয়ে অংশীদারি নেয়া বা পিপলস পার্টিশিপেশন ঘটে যাবে – এই ছিল তাদের বিপ্লবী (এনজিও নেতারা ডমিনেটিংলি প্রাক্তন কমিউনিস্ট বা প্রভাবিত) বুঝ। অথচ আজও তারা জানলেনই না যে আজ আওয়ামি ক্যাডারে ভর্তি তিন জেনারেশনের পুলিশসহ সিভিল প্রশাসন আমরা দেখছি; একে দলবাজি বা ক্যাডার বাজি বলছি – এর ভিত্তি গেড়ে দিয়েছিলেন এরাই! এই “পিপলস পার্টিশিপেশন” ওয়ালারাই!

    এখন আসেন মূল প্রসঙ্গেঃ
    “দেশের উত্তেজনা” সমাধানের আশা করছেন মাহফুজ আলম! তো এই – দেশের উত্তেজনা – এটা কী জিনিষ? প্রথম আলো লিখছে, ……উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেন, বাংলাদেশে একধরনের – সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা – আছে। ইসকন ও তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেকে এখানে জড়িয়ে পড়েছেন”।

    এখন দেখেন কান্ড! তাহলে “দেশের উত্তেজনা” বলতে এর মানে তিনি বুঝায়েছেন  “সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা”।   কি সাংঘাতিক! এই জ্ঞানবুদ্ধি দিয়ে রাজনৈতিক উপদেষ্টা থাকা যাবে?
    “সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা” মানে কী? চিন্ময়-ইসকন দের ততপরতা এটা কী বাংলাদেশে হিন্দু-মুসলমানের উত্তেজনা??? নাকি এটা ভারতীয় আধিপত্য গত ১৬ বছরের মতই আবার ভারত বিএনপিকে ক্ষমতায় বসানোর লোভ দেখিয়ে আগামি ১৬ বছরের ভারতীয় আধিপত্যের আবার এক বাংলাদেশ হবে কী হবে না এরই লড়াই? আর ‘র’ সেই কাজে   তাদের অগ্রগামি দল হিসাবে চিন্ময়-ইসকন কে পাঠিয়েছে বলেই এই উত্তেজনা?  অর্থাৎ র-এর পরিকল্পনার পক্ষেও আমরা যাব কী যাবো না এর উত্তেজনা এটা – যেখানে, ভারতের পক্ষে লিড নিয়েছে বিএনপি। এসবের সোজা মানে হল, চিন্ময়-ইসকন ইস্যু এটা কোন হিন্দু-মুসলমান বা এর কথিত শব্দ সাম্প্রদায়িকতার নামীয় ইস্যুই না। এটা ভারতের দখল বা হেজিমনির পক্ষ-বিপক্ষের উত্তেজনা এভাবে বলা যেতে পারে।

    কাজেই এখানে মাহফুজের সমস্যা বা রাজনৈতিক চিন্তায় মারাত্মক খামতি হল দুইটা। এক. ভারতের বাংলাদেশ দখল বা হেজিমনি প্রতিষ্ঠার পক্ষ-বিপক্ষের উত্তেজনা – এদিকটাকে দেখতে না পেয়ে একে  হিন্দু-মুসলমান বা কথিত শব্দ সাম্প্রদায়িকতার ইস্যু বলে চালায় দেয়া।  আর দুই. এতে বরং চিন্ময়-ইসকন বা প্রথম আলোরই লাভালাভ হল। কারণ তাদের প্রজেক্ট হল, ভারতের বাংলাদেশ দখল বা হেজিমনি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা  এই অপরাধকে লঘু করতে এটা বাংলাদেশের এক আভ্যন্তরীণ হিন্দু-মুসলমান এর লড়াই বা ইস্যু হিসাবে উপদেষ্টা মাহফুজই যদি হাজির করে দেন তাহলে তো ভারতের উপস্থিতি ও হস্তক্ষেপের হাতটাই আড়াল পেয়ে গেল। অর্থাৎ প্রথম আলো এবার ভারতের বাংলাদেশ দখল বা হেজিমনি প্রতিষ্ঠার চেষ্টাকে আমাদের বিরোধিতা ও লড়াইকে আমরা সাম্প্রদায়িকতা করছি বলে কালি লাগায়ে প্রপাগান্ডা শুরু করবে।

    এরচেয়েও আরেক ভয়াবহ দিক হল, সাম্প্রদায়িকতা এটা আবার কী?
    এককথায় এটা হিন্দুত্ববাদি এক বয়ান, মুসলমান কোপানো বা কোনঠাসা করার জন্য জমিদার-হিন্দু যে ধারণার  মূল উদগাতা।
    সাম্প্রদায়িকতা এটা কোনদিনই কোন একাদেমিক ট্রার্ম  বা বিশ্ববিদ্যালয়ে এনথ্রপলজি ফ্যাকাল্টির কোন ক্যাটাগরি ছিল না, নয়। এটা হিন্দুত্ববাদের আধিপত্য ও এর বয়ানের শব্দ ও ধারণা। যদি মুরোদে কুলায় তাহলে বলতে হবে, এটা কোন সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বলে কিছু নাই বা নয়। চিন্ময়-ইসকন চাইছে একটা এথনিক উত্তেজনা কায়েম হোক!  তবে আরও ভেঙ্গে বলা যেত এটা হিন্দু-মুসলমান এই এথনিক-জাত বিষয়ক উত্তেজনা তৈরির অপচেষ্টা। কিন্তু মনে রাখতে হবে এখানে বাস্তবে কোন এথনিক উত্তেজনা তারা তৈরি করাতে চেয়েও পারে নাই। ২৭ নভেম্বর সারা চট্টগ্রামে (আগের দিন পিপি সাইফুল ইসলাম আলিফকে নৃশংস হত্যা করে উত্তেজনা তৈরি করার পরেও চিন্ময়-ইসকন দের আকাঙ্খা মত আমরা কোন পালটা সহিংসতায় জড়াই নাই। কেবল চার চারটা জানাজা – ব্যাপক লোক সমাগমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে – আর আমরা বুদ্ধিমানের মত সবকিছুর উর্ধে উঠে আমাদের সমস্ত রাগ, ক্ষোভ, অন্তরের রক্তক্ষরণ, দুঃখকে ঐ জানাজার দোয়ার মধ্যে সামিল করেছি; দাফনায় দিয়েছি  – যার চেয়ে ইতিবাচক, দায়ীত্বশীল ভাবে ক্ষুব্দ ক্ষোভ কে সামলিয়ে এর প্রকাশ আর হতে পারে না।  এভাবেই আমরা  আসলে যেটা ছিল ভারতীয় হেজিমনি ঠেকানো – এর সপক্ষে জনগণের লড়াই! তা সম্মুন্নত রেখেছি!

    “দুই দলই তাঁকে (ইউনুসকে) ইতিবাচক প্রস্তাব” দিয়েছেঃ
    এই বক্তব্য মিথ্যা ও মাহফুজের আত্মহত্যা মূলক কাজ! গত ২৭ নভেম্বর মির্জা সাব ইউনুসের সঙ্গের সাক্ষাত করা নিয়ে খোদ প্রথম আলো যখন রিপোর্ট করেছে,

    [ইউনুস-মির্জা] বৈঠকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সংগঠন ‘ইসকন’ ও বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ ওঠে।
    তাঁকে গ্রেপ্তারের কারণও তাঁরা জানতে চান। ইতিমধ্যে বিভিন্ন দল ও সংগঠন ইসকনকে নিষিদ্ধ করার যে দাবি তুলেছে, এর সঙ্গে বিএনপি দ্বিমত জানিয়েছে;
    বরং তারা ইসকনকে আলোচনায় ডেকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারকে। বিশেষ করে দুটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমের
    ওপর আক্রমণ, বিভাজন সৃষ্টি ও বিদ্বেষ ছড়ানোর বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে বলেছে বিএনপি।

    এর সোজা মানে হল, মির্জার বেইমানির দায়ভার প্রথম আলো নিতে চায় নাই; যদিও প্রথম আলো মির্জার এই বক্তব্য-অবস্থানের বেনিফিসিয়ারি, তা সত্বেও। সারকথায় মির্জা সোজা চিন্ময়-ইসকন দের পক্ষ নিয়েছেন। গিয়ে ওদের মুক্ত করে দিতে দাবী করেছেন। এমনই বিএনপির ক্ষমতায় যাবার লোভে ভারতের দালালি ও চাটাচাটি! অর্থাৎ মির্জা আসলে আপোষ করতে প্রস্তাব রেখেছেন অথচ মাহফুজ আলম দাবী করছেন তারা নাকি ইতিবাচক প্রস্তাব রেখেছেন!!!!!

    কেন?
    কেন এই লুকোছাপা? মাহফুজ কাকে লুকাতে চাইছেন?
    ইউনুস সরকার যে  চিন্ময়-ইসকন ইস্যুতে মির্জার বিপরীত অবস্থানে সেটা তো সরকারের চিন্ময় কে গ্রেফতার করার সাহস দেখানোই শুধু না – এই গংয়ের ব্যাংক হিসাব তলব পর্যন্ত চলে গেছে সরকার  – আর ওদিকে পিপি আলিফকে খুনের মামলার আসামির দের খুঁজে বের করে পুলিশের কাস্টডিতে নেয়া ইত্যাদি অনেক ভিতরে হাত দিয়ে দিছেন। যদিও এখনও তা যথেষ্ট নয় বা আসল জায়গায় সরকার পৌছায় নাই, আরও যেতে হবে। তবু প্রশাসন যা ইতোমধ্যে করেছে তা মির্জার অবস্থানের ১৮০ ডিগ্রি উলটা দিকে। কাজেই এসব কাজ-অবস্থান ও সরকারের ততপরতা তো ইউনুস সরকারের একশন মানে আপনি মাহফুজ যে সরকারের অংশ  – সুতরাং এর বাইরে বা উলটা প্রলেপ দেয়া কোন বক্তব্য ত আপনি দিতে পারেন না। তাহলে আপনি কাকে লুকাতে বা সেভ করাতে চাইছেন? আবার, কেঁচো খুড়তে গিয়ে সাপ বের করে আনার মত করে বলছেন –  “শুধু ইসকন ইস্যু নয়, মাজারেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। মাজারে হামলার ঘটনাও সরকারের নজরে আছে”। এসবের মানে কী তত্বগুরুর কোলে উঠবেন না তাকেই হাজতে ঢুকাবেন? নাকি নিজেই ছাটাই হবেন?
    সেটা যাই হোকনা কেন আপনি এখানে ইউনুস সরকারের অবস্থানের বহু পিছনে পড়ে গেছেন। মানে রাজনৈতিক উপদেষ্টা নিজেই কাঙ্খিত অবস্থানে থাকতে পারেন নাই। বিপরীত লাইনে চলে গেছেন।

    সবচেয়ে মারাত্মক যে আকাম করেছেন – সব দল ও অংশীজনের সঙ্গে বসে দেশের উত্তেজনা সমাধানের আশা-  বলছেন; প্রথম যেটাকে হেডিং করেছে। এসবের অর্থ কী?
    সব দল মানে মির্জাকেও সাথে নিয়েই (মানে যিনি র-এর পক্ষে বা চিন্ময়-ইস্কনের পক্ষে আগেই পতাকা উড়ায়ে দিয়েছেন) তাকেও সাথে নিয়েই আপনি দেশের উত্তেজনা সমাধানের আশা  করছেন????
    এটা তো আপনার দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে মানে ভারতের খেদমতে চলে যাবার অপরাধের পর্যায়ে চলে যাওয়া হয়ে গেল! তাই না কী?  যে ভারত আধিপত্য চায় আর মির্জা যার সঙ্গি এদের সাথে আপনি কী আপোষ করে নিবেন????

    ষ্পষ্ট করে বললে আপনি সরকারের মাঠের একশনে প্রকাশিত অবস্থানের বাইরে চলে গেছেন।
    মির্জাদের সাথে আপনি (বা সরকার) একসাথে থাকার পৌছানোর পথ বের করতে পারেন কিনা সে নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে এ অবস্থায় এনিয়ে প্রসঙ্গ তুলে কথা বলতে যাওয়াটাই তো আলগা মাতব্বরি; যার সমাধান আপনার হাতে এখনই নাই; কাজেই এনিয়ে কথা বলতে যাবার আপনার কী প্রয়োজন?

    আপনি আসলে পলিটিক্স কী তা বুঝা – পলিটিক্যাল হওয়া, পলিটিক্যাল উপদেষ্টা ইত্যাদির অযোগ্য হবার দিকে নিজেকে নিয়ে তুলছেন; ঠেলে দিয়েছেন!!! আমরা জানি না এর পিছনে কী হেতু!
    যদিও আমরা জানি না আপনি নিজেকে এখন সংশোধিত করে নিবার সুযোগ পাবেন বা তা আদৌ নিবেন কিনা! আসলে এই আউলানো দশা-পরিস্থতি!
    আগামি রোববার সকাল থেকেই দেশের অবস্থা কোন দিকে যাবে এমন বহু সিদ্ধান্ত দিতে হবে এর আগেই, এই সরকারকে!

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  নভেম্বর  ২০২৪
    শেষ আপডেটঃ      ২০২৪

  • জামায়াতের উপর আনন্দবাজারি ইসলামিবিদ্বেষ

    জামায়াতের উপর আনন্দবাজারি ইসলামিবিদ্বেষ
    গৌতম দাস
    ২২ নভেম্বর ২০২৪ বিকাল ১৭ঃ ৫২
    https://wp.me/p1sCvy-5OI

     

     

     

    ১।  রাজনীতি আর চালাকি এক জিনিষ না। এক করে দেখলে খেসারত দিতেই হবে।
    ২। দাওয়া পার্টি (ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার সংগঠন) আর রাজনৈতিক দল একেবারেই এক নয়।  তাতে আপনারা দাওয়া পার্টিওই থেকে যাবেন, রাজনৈতিক দল কখনই হতে পারবেন না।
    ৩। সবার আগে রাজনীতি বা পলিটিক্স ধারণাটার অর্থ তাতপর্য কী তা ভাল করে বুঝে নেন।  বিশেষ করে রাজনীতি বলতে কী কী না – তা স্পষ্ট করে বুঝে নেন।

    এমন তিনটা প্রশ্নের জবাব নিয়ে সব ইসলামি দলের আগে কিছু হোমওয়ার্ক করে নেয়া উচিত!

    জামায়াতের কেন্দ্রিয় সভাপতি ডাঃ শফিকুর রহমানের উপর কিছু একটা খারাপ প্রভাব ভর করেছে, মনে হচ্ছে।  নইলে তিনি কলকাতার ইসলামবিদ্বেষী পত্রিকায় সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হবেন কেন???
    কলকাতার  আনন্দবাজার পত্রিকা (যেটা ইসলামবিদ্বেষ ছাড়া একটা বাক্য লিখতে পারে না এমন প্রবল হিন্দুত্ববাদী) সেই পত্রিকা ডাঃ শফিক সাহেবের সাক্ষাৎকার ছেপেছে।  সবচেয়ে বড় কথা তাদের করা প্রশ্ন এটা কোন সাংবাদিকতা বা জার্নালিজমের নীতিমালায় পরে না।

    যেমন প্রশ্নগুলো দেখেনঃ
    ১। জামায়াতে ইসলামীর ভারত-বিরোধিতা সর্বজনপরিচিত। কী বলবেন?

    ২। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীকে দেখা হয় কট্টর ইসলামি সংস্থা হিসাবে, অন্যান্য ইসলামি রাষ্ট্রে যে ‘ইসলামিক ব্রাদারহুড’ রয়েছে তার অংশ হিসাবে। নিজেদের সংগঠনকে কী ভাবে দেখেন?

    ৩। কিন্তু বিএনপি-র একটি অংশ আপনাদের কট্টরপন্থী মনোভাব নিয়ে অস্বস্তিতে। কী বলবেন?

    ৪। অন্তর্বর্তী সরকার আসার পর থেকেই সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় তাদের বিরুদ্ধে হিংসার প্রতিবাদে সরব। কী ভরসা দেবেন?

    ৫। শেখ হাসিনা সরকারের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। আপনারা সরকারে এলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক কোন দিকে যাবে?

    ৬। একটা আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার এবং জামায়াত মিলিমিশে আওয়ামী লীগের পর এ বার বিএনপি-কেও সরিয়ে দিতে চাইছে। দুই বড় রাজনৈতিক দলকে বাইরে রেখে নতুন শক্তির উত্থান হবে। কতটা ঠিক?

    অর্থাৎ আনন্দবাজার এটা আসলে কোন মিডিয়া না। এটা  নিজেই -“আরেকটা রাজনৈতিক সত্বা বা এনটিটি” – যার আবার বাংলাদেশ নিয়ে এক হিন্দুত্ববাদি অবস্থান আছে।
    আর জামায়াতের সভাপতিকে এখন সেই হিন্দুত্ববাদি আক্রমণ ভেদ করে নিজের কথা বলার জায়গা বের করতে হবে!!!

    প্রস্তুতিহীন জামায়াত সভাপতিঃ
    সবার আগে বলি, এবার ৫ আগষ্টের পরে জামায়াতের ভিতর এক স্ফুর্তি দেখা যাচ্ছে যেন দলের রাজনীতি ও অবস্থান কিছুই ঠিক না করে শুধু গলার জোরে বা চালাকি-পুর্ণ বাকচাতুরি দিয়ে সবার মন জয় করে ফেলবে। এমনকি যেন হিন্দুত্ববাদি মনের ভারতেরও!  অথচ সবার আগে নিজেদের কোন কোন অবস্থান-বক্তব্যগুলো দুর্বল তা কাটানো নিয়ে কোন হোমওয়ার্ক করেন নাই জামায়াত গত ১৬ বছর; যা  তাদের এখনকার কাজ-ততপরতায় ছাপ ফেলে চলেছে। কিন্তু কোন রিয়েলাইজেশন বা আত্ম-উপলব্দি নাই।

    যেমন ধরেন,  ৫ আগষ্টের পরে বিশেষ করে এবারের দুর্গাপুজা-কেন্দ্রিক মন্দির স্থাপনায় কমিউনিটি-পাহারায় জামায়াতের অংশ নেয়া – এপর্যন্ত ঠিক আছে। বরং ভারতীয় প্রপাগান্ডার বিরুদ্ধে এটা বড় ইতিবাচক জবাব তো বটেই সাথে যাকে বলে ঠেসে চড় মারার মত জবাব, অবশ্যই!
    কিন্তু এর পরে কোথায় থামতে হবে তারা সে আক্কেল দেখাতে ব্যর্থ হলেন। তারা জামায়াতের হিন্দু শাখা খুলে বসতে গেলেন। সবচেয়ে মারাত্মক করলেন পুজা মন্ডপ পাহারায় গিয়ে জোশের ঠেলায় ওটা ইসলামের দাওয়া বা প্রচার ছড়ানোর জায়গা মনে করলেন সেটাকে। ‘ইসলামি সঙ্গিত’ পরিবেশন করে আসলেন। কী এক জটিল অবস্থা! ফলাফল বুঝতেই পারেন যা ক্রেডিট এতদিন জামায়াত কামিয়েছিল তা সব পানিতে গেল!

    আচ্ছা উপরে  আনন্দবাজারের অগ্নি রায়ের প্রশ্নগুলো দেখেন। এটা দেখার পরে এখন জামায়াতের নেতারা কী বুঝেছেন যে বাংলাদেশে তাদের পুজা বা হিন্দু সার্ভিস দেওয়ার কায়দা ও এর নতিজা কী? কোন ইতিবাচক প্রভাব কী আছে আনন্দবাজারিদের তাদের প্রশ্নের মধ্যে??? নাকি এটা আরো আক্রমাণাত্মক এক হিন্দুত্ববাদের মুখোমুখি হয়েছিলেন সভাপতি ডাঃ শফিক??
    যার সোজা মানে হল, কোন কাজ কীভাবে করতে হবে, হিন্দুত্ববাদি মনকে ডিল করবেন কীভাবে? এর জন্য এক ভাল ও আগাম প্রস্তুতি লাগবেই! যতদিন তা রপ্ত না হয় ততদিন নিজেদের বিরত রাখেন, ওদের এড়ায়ে চলেন – এটাই একমাত্র পথ! ৫ আগষ্টের পরের জোশে, সব জয় করে ফেলতে পারবেন বলে বিনা প্রস্তুতিতে আগায় যাওয়া ঘটালে এর চেয়ে বড় আত্মহত্যা আর কী হতে পারে?

    আরেকটা দিক হল, জানায়াত নেতাদের মধ্যে এক অদ্ভুত ধারণা। তা হল, তারা এখন ইন্ডিয়ান রাজনীতি মানে, মোদি সরকার, র-এর প্রতিনিধি, বা কোন হিন্দুত্ববাদি নেতা এমন যে কারো সাথে তারা এখন বোধহয় খুবই আপন হয়ে গেছেন!!!!!  এটা হতে পারে কোন র-এর লোকের সাথে কথা হয়েছে আপনাদের, তাদের মিঠা মিঠা কথা ছিল যেখানে ধরা যাক – আওয়ামি লীগের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ না তুললে বা উচ্চবাচ্য না করলে – সদয় আচরণ প্রকাশ করলে বোধহয় তারা জামায়াতকে এখন থেকে অনেক আপন করে নিবে!!! সহাবস্থান তৈরি হবে? তাই কী??? কাজেই জামায়াতের এত উতফুল্ল খোশ-মেজাজের কারণ কী?

    সম্প্রতিকালে অর্থহীন ও কোন ব্যাখ্যা বিহীনভাবে জামায়াতের আওয়ামি লীগ ও ভারতের প্রতি উদারতা প্রকাশ বাংলাদেশের রাজনীতির পরিসরে ব্যাপক সন্দেহ ও ক্ষোভ তৈরি করেছে। তা তো জামায়াত নেতৃত্বের অগোচরে থাকার কথা নয়!  যে উদ্দেশ্য  আওয়ামি লীগ বা ভারত প্রীতি দেখানো – এতে ফলাফল কী একেবারে উলটা হয়ে যায় নাই, উলটা আসে নাই? লাভ দূরে থাক বদনাম আর গায়ে লাগা কালি কী তার চেয়ে বেশি হয় নাই?

    সর্বোপরি, কথিত এই সাক্ষাতকার কী প্রমাণ করে?
    এই হিন্দুত্ববাদি মিডিয়া জামায়াত দল ও এর সভাপতিকে নুন্যতম মর্যাদা দিয়ে কথা বলেছে? উত্তর হল যে, না।
    তাহলে এথেকে জামায়াত দল ও এর নেতারা কী শিক্ষা নিলেন বা নিবেন?
    হিন্দুত্ববাদি ভারতের কারও কথায় পটতে হয় না – তাতে তিনি  মিডিয়ার লোক কিংবা র-এর লোক যেই হন না কেন! তাই নয় কী? আর সবার উপরে নিজের সম্মান রক্ষা করতে হয় সবার আগে নিজেকে। কখনও অন্যের হাতে তা ছেড়ে দেয়া যায় না!

    জামায়াত ও বিএনপির জন্য কিছু শিক্ষা রেখে গেছেঃ
    সবচেয়ে বড় কথা বিএনপি ও জামায়াত কে মনে রাখা দরকার তাদের এই হিন্দুত্ববাদি রাজনীতির সরকারের সাথে অবস্থান থেকে তাদের মিডিয়া ও তাদের আম জনতার অবস্থান এসব কিছু পক্ষে কখনই -বিএনপি ও জামায়াত – বিশেষ করে জামায়াতকে তাদের দরকার কারণ  তাদের সাফাই বা জাস্টিফিকেশন দরকার যে কেন তারা নিজেরা এমন উগ্র হিন্দুত্ববাদি একরোখা? অন্যভাবে বললে, তারা জানে তাদের হিন্দুত্ববাদি রাজনীতির বিরুদ্ধে অজস্র মানুষ প্রশ্ন তুলে থাকে যার জবাব তাদের কাছে নাই। আর সেই ঘাটতি পূরণ  করতে তারা  -বিএনপি ও জামায়াত- কে বাঁকা ভাবে হাজির করবেই। যাতে এটা তাদের অসৎ কাজের সাফাই হয়ে হাজির হয়!!!
    কাজেই বিএনপি-জামায়াতের শীর্ষ নেতারা যারা ভাবছেন – ভারতের সমর্থন পিছনে নিয়ে (র-এর লোকেরা মিঠা আশ্বাস দিয়েছে )  বা পিছনে থাকলে তাদের আগামি নির্বাচনে বড় আসন নিয়ে সংসদে হাজির হওয়া প্রায় সমাগত – এই তো একটু দূরে – এমন তাদের সকলের জন্য আনন্দবাজারের এই কথিত সাকক্ষাতকার হল এক কঠিন শিক্ষা! যে গ্রহণ করবে, বুঝবে এটা তার জন্য শিক্ষণীয়; আর যে বুঝবে না তার জন্য এটা তেজপাতা!!!
    এরা মুখে যা আশ্বাসই দিক না কেন তারা ইসলামবিদ্বেষের জায়গা থেকে বিএনপি ও জামায়াত এর নেতাদের সুযোগ পেলে অপমান করবেই!
    অন্তত জামায়াত নেতাদের এতে কী কোন আক্কেল হবে???

    ভারতীয় মিডিয়াকে মোকাবিলা করতে কিছু পরামর্শঃ
    প্রথম প্রশ্নটার ক্ষেত্রেই দেখা যাক।

    এর জবাবে বলা যেতে পারত যেমন, আমরা ভারত-বিরোধিতা না বরং আমরা বাংলাদেশে ভারতের আধিপত্যের খায়েসের বিরোধিতা করি –
    এতে ওদের তোলা বয়ানকে ফুটো করে  তা ফিরে ওদেরই মুখে মারা হতে পারত!
    সাথে আরেকটা বলা যেত যে ব্যাপারটা – সর্বজনপরিচিত যদি হয়েই গিয়ে থাকে তাহলে আর প্রশ্ন করতে এসেছেন কেন?

    পরের প্রশ্নঃ জামায়াত কে নিয়ে এই প্রশ্ন প্রায়ই আমাদের দেশেও প্রগতিবাদই=হিন্দুত্ববাদিদের থেকে  উঠতে দেখা যায় যা খুবই বিরক্তিকর। প্রশ্নটা হল যেমন – “জামায়াতে ইসলামীকে দেখা হয় কট্টর ইসলামি সংস্থা” বা জামায়াত একক কট্টর সংগঠন বা অনেক বলে এক জঙ্গি সংগঠন!

    এর জবাব হতে পারত যা তা নিয়ে কথা।  আসলে জামায়াত কখনও এসব ফালতু অভিযোগ কে চ্যলেঞ্জ করে নাই বা করতে পারে নাই।  অথচ জামায়াতের উচিত সোজা পালটা চ্যালেঞ্জ করা। দেখাতে বলা যে কোন ঘটনার কারণে কট্টর, জঙ্গী বা এজাতীয় বিশেষনের প্রমাণ কী? বা  এটা বলতে কী বুঝাতে চাইছেন? জামায়াত কী কোন সশস্ত্র সংগঠন? কেন এসব বিশেষণ ব্যবহার করা হুচ্ছে? বাংলাদেশের রাজনৈতিক কালচারে যা পারমিশেবল (মানে চলে বা গ্রহণযোগ্য) যেমন ককটেল, লাঠি, ইট ইত্যাদি বড়জোর কখনও দেশি পিস্তল  বিশেষ করে তা ছাত্র সংগঠন পর্যায়ে লীগ, বিএনপি, জাসদ ইত্যাদি সকলেই করে থাকে। জামায়াতও এসবের বাইরে না। কিন্তু গত ১৬ বছরের ছাত্রলীগ যেভাবে পেটোয়া বাহিনী, হেলমেট লীগ, বা পুলিশের  হাত ধরে পাশাপাশি অস্ত্র হাতে বিরোধিদলের মিছিলে আক্রমণ, খুন করে ফেলা ইত্যাদি করে গেছে – আর যারা এসবের দিকে নজর করে নাই এরা সকলেই হিন্দুত্ববাদি…! মিলিয়ে দেখেন।  এরকম পালটা জবাবে রুখে দাঁড়ানো যেত!
    সোজাকথা, আমাদের গড়ে উঠা নিজের রাজনীতির কালচার অনুযায়ী লীগ, বিএনপি, জাসদ ইত্যাদি যা করে জামায়াত কখনই এর বাইরে নয়; বাইরে যায় নাই। কাজেই এসব কট্টর বা জঙ্গী শব্দের ব্যবহার কেন? বরং এসব প্রশ্নের বিরুদ্ধে পালটা অভিযোগ করা যায় যে আপনি কী উতরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগীর কট্টরতা (মুসলমান হলেই তাঁর বাড়িঘর বুলডোজ করায় চ্যাম্পিয়ান) ও নৃশংসতার সাথে তুলনা করে কথা বলছেন?
    যেমন আমাদের এক নারী উপদেষ্টা একইভাবে – বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন প্রসঙ্গে জবাব দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, যে না তেমন কিছু না। অন্তত ভারতে বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার সাথে যে তান্ডব ঘটেছিল এর তুলনায় কিছুই হয় নাই বাংলাদেশে!

    তিন নম্বর প্রশ্নটা দেখেন। বলছে, – বিএনপি-র একটি অংশ আপনাদের কট্টরপন্থী মনোভাব নিয়ে অস্বস্তিতে আছে – এরপালটা জবাবে বলা যেত যেমন, আপনি কী বিএনপির সাথে আমাদের ঝগড়া লাগিয়ে দেবার চেষ্টা করছেন? কিন্তু সেটা কী আপনার কাজ? আপনার এসব হাইপথিটিক্যাল (কল্পনা করে নেয়া প্রশ্ন) প্রশ্ন আনবেন না প্লিজ! সরি আপনার প্রশ্ন ঠিক নাই। এই বলে এই প্রশ্নের আর কোন কথা বলতেন না, এমন করা যেত!

    চতুর্থ প্রশ্নঃ ……অন্তর্বর্তী সরকার আসার পর থেকেই সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় তাদের বিরুদ্ধে হিংসার প্রতিবাদে সরব। কী ভরসা দেবেন?
    জবাবে বলা যেতঃ আপনার প্রশ্নটাই কী বলছে না যে এটা আপনাদের উস্কানি! না হলে, “অন্তর্বর্তী সরকার আসার পর থেকেই” – এভাবে বলছেন কেন? আমাদের বর্তমান অন্তর্বর্তি সরকার বহুবার বলেছে এটা বাড়িয়ে বলা ভারতের প্রপাগান্ডা। এনিয়ে অন্তত আপনাদের প্রিয় বিবিসি বাংলার রিপোর্ট টা দেখে নিয়েন! তারা কেন এটাকে প্রপাগান্দা বলেছে দেখে নিতে পারেন!

    পঞ্চম প্রশ্নঃ শেখ হাসিনা সরকারের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। আপনারা সরকারে এলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক কোন দিকে যাবে?
    এখানে বলা যেত, এর মানে তাহলে,  হাসিনার ১৬ বছরের ফ্যাসিজম ও এই গুম-খুনের শাসনের পিছনে ও সহায়তায় যে ভারত ছিল তা স্বীকার করে নিচ্ছেন? তবে আপনার প্রশ্নের জবাব হল, এটা ভারতের উপরই নির্ভর করে। ভারত যদি আবার হাসিনা মত ঘনিষ্ট কাউকে তার পেতেই হবে বলে খুঁজে এর দায়ভার ও পরিণতি ভারতকেই নিতে হবে! তাই না?

    ষষ্ঠ প্রশ্নঃ
    একটা আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার এবং জামায়াত মিলিমিশে আওয়ামী লীগের পর এ বার বিএনপি-কেও সরিয়ে দিতে চাইছে। দুই বড় রাজনৈতিক দলকে বাইরে রেখে নতুন শক্তির উত্থান হবে। কতটা ঠিক?
    এর জবাব হতে পারত এভাবে –  এটা আপনার  সীমা ছাড়ানি এক কল্পিত বা হাইপথিটিক্যাল প্রশ্ন ? আপনি নিজেই তো এখনও নিশ্চিত হন নাই যে আপনার কথা-অনুমান সঠিক কিনা। তাই না? তো আগে সিওর হয়ে নেন এর পরে না এই প্রশ্ন করবেন?

    সারকথায়, জামায়াতের প্রতি আনন্দবাজারি এই ঘৃণ্য আচরণ থেকে বিএনপিও চাইলে শিক্ষা নিতে পারে। যারাই ভারতের মোদির সাথে ঘনিষ্ট হতে যাবে, সবকিছুকে খুব সহজ মনে করবে তাদের সবার জন্য এই একই ফলাফল অপেক্ষা করছে!  ভারতকে ডমিনেট বা আধিপত্য করতে দেয়া, বাংলাদেশের বাপ-মা হয়ে উঠতে চাওয়া – এটা নিয়ে যে কেউ নিশ্চিত থাকতে পারে যে যা দেখছেন এটাই এর পরিণতি হবে। আর এটাকেই তো আমরা নাম দিয়েছে ইন্ডিয়ান হেজিমনি বা ভারতীয় আধিপত্য!!!
    এমনকি হাসিনাও  – “ভারতকে আমি যা কিছু দিয়েছি ……” ডায়লগটা স্মরণ করতে পারেন, যদি না ইতোমধ্যেই অন্ধ না হয়ে গিয়ে থাকেন! আর বাংলাদেশের পাবলিক!!!
    ইতোমধ্যেই জনপরিসরে আপনাদের ইজ্জতের কী হয়েছে তা সাহস করে একটু খবর নিতে পারেন। যা সামনে আপনাদেরকে আরো ছিন্নভিন্ন করে দিবে!!!  চুড়ান্ত গণবিচ্ছিন্ন হবেন আপনারা!! – যদি চান, চাইতেই থাকেন!!!

    লেখকঃ
    গৌতম দাস, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  সন্ধ্যা ০৬ঃ ৪০   ২২ নভেম্বর  ২০২৪
    শেষ আপডেটঃ      ২০২৪

  • কাজে লাগাতে জানলে চীন অ্যাসেট, না হলে দায়

    কাজে লাগাতে জানলে চীন এসেট, না হলে দায়

    গৌতম দাস

    ১৩ জুলাই ২০২০, ০০:০৬  সোমবার

    https://wp.me/p1sCvy-35Y

     

    RESET CN-IND Relation – GTimes

    কখনো কখনো এমন সময় আসে যখন বাইরে মার খেয়ে এলেও ঘরে এসে তা বলে না। এতে আরো ক্ষতি কম হবে এটাই থাকে  পিছনের বুঝাবুঝি। নরেন্দ্র মোদীর অবস্থা এখন সেরকমই। তাঁর – আমাকে কেউ মারে নাই; ভূমি বা বর্ডার-পোস্ট কেউ দখল নেয় নাই ধরণের বক্তব্যটা সে রকমের। তবে ওটুকু বলাতেই ব্যাপারটা মিটে যায়নি। ইতোমধ্যে এর আরো বর্ধিত রূপও এসে গেছে। তাতে ভ্যানিটি বা অহঙ্কার আরো যা ছিল তা-ও ফুটা হয়ে, মাথা নিচু হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। গত ৬ জুলাই সকাল থেকেই পরিষ্কার প্রকাশ হয়ে পড়ে যে, লাদাখে গালওয়ান উপত্যকা এটা পুরাই চীনের অংশ বলে মোদী মেনে নিয়েছেন। তাতে মাথা যত নিচে গিয়েই ঠেকুক, চীন তাঁর হাত-পা বেধে ফেলেছে, তাই। আর এই মেনে নেয়ার বিনিময়েই ডিসএনগেজমেন্ট বা উভয়পক্ষের সেনা প্রত্যাহারের আপসটা সম্পন্ন হতে পেয়েছে। দু’পক্ষই সেনা প্রত্যাহার করে নিতে একমত হলে এর প্রথম পর্বের বাস্তবায়নও ইতোমধ্যে সমাপ্ত হয়ে গেছে।

    মোদীর ‘মন কী বাত’ মিথ্যাঃ
    ভারতীয় আর্মির সাবেক এক আর্টিলারি  অফিসার প্রবীন সায়নি [Pravin Sawhney], এখনকার সময়ে তিনি একজন খুবই পরিচিত প্রতিরক্ষা বিষয়ক অ্যানালিস্ট, ‘ফোর্স’ নামে এক ভারতীয় প্রতিরক্ষাবিষয়ক মাসিক ম্যাগাজিনের সম্পাদক ও কিছু বই লেখক। এছাড়া এককালের জেন্স ইন্টারন্যাশনাল সাপ্তাহিক ডিফেন্স ম্যাগাজিনের দিল্লিস্থ দক্ষিণ এশিয়া সংবাদদাতা ছিলেন। চলতি এই সময়ে তাঁর প্রতি লোকজনের আগ্রহের মূল কারণ হল, তাঁর খাড়া কথা খাড়া বলতে পারা এবং “জাতীয় স্বার্থের নামে মিথ্যা অপেশাদারিত্বের আবেগ”-এর বাইরে চীন-ভারত সামরিক উত্তেজনাকর পরিস্থিতি মূল্যায়ন এক পদ্ধতি ধরে এগিয়ে চলা। তিনি নিয়মিত ওয়েবে প্রকাশিত ‘ওয়্যার’ (WIRE) পত্রিকায় আর্টিকেল লিখছেন। সেখানে তিনি প্রশ্ন তুলে লিখেছেন, লাদাখে চীন-ভারতের এলএসি (LAC, Line of Actual Control) নামের সীমানা ঠিক কোনটা? কারণ, এর সবচেয়ে পুরনো এলএসি টা হল ১৯৫৯-৬০ সালেরটা। এছাড়া পরে ১৯৯৩, ১৯৯৬, ২০০৫, ২০১২, ২০১৫ সালের বলে ইত্যাদি আরও অনেক আছে। প্রভীন বলছেন, চীন এবার সেই ১৯৫৯-৬০ সালেরটার ভিত্তিতেই সব এলাকা মাপছে আর ওই ম্যাপ অনুসারে এলাকা নিজের দখলে নিয়েছে। তবে এটাও অস্থায়ী সীমানা। আর অস্থায়ী সীমানা মানেই এলএসি।
    এলএসি [LAC] শব্দের ‘এ’ হল, এটা ‘অ্যাকচুয়াল’ শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ, যার অর্থ ‘এখন যেভাবে যার দখলে’ আছে। সবচেয়ে বড় কথা, চীন ভারতকে এবার ১৯৫৯-৬০ সালের ভিত্তিকেই সীমানা মানতে চাপ দিয়ে আসছিল। আর মোদী চীনের সেই দাবি মেনে নিয়ে এখন বলছেন, আমাদের কোনো ভূখণ্ড কেউ নেয়নি। আমাদের এলএসি আমাদের ঠিকই আছে। কিন্তু সেটি কী করে সত্যি হয়? তাই  প্রভীন সোয়ানি লিখছেন, “মোদী ভারতে একটা ধারণার আবহ তৈরি করে চলতি জটিলতা পার হয়ে যেতে চান। সে প্রসঙ্গে দুটো কথা  হল, “১. এলএসি অমান্য করা যায় না। আর ২. ভারতের কোনো ভূখণ্ড চীনা সেনাদের কাছে ভারত হারায়নি”। কিন্তু এই বক্তব্যের মধ্যে এবার মোদীর কথায় ফাঁকির দিকটা উন্মোচন করছেন প্রবীন।  বলছেন, “তাতে সেটা অবশ্য আরেক কথা যে, কে আর এরপরে জিজ্ঞাসা করতে আসছেযে , এই “লাইন” মানে এলএসির লাইন, এটা কোন সালেরটা? ১৯৯৩ সালের এলএসি লাইন নাকি ১৯৬০ সালের দাবি করা চীনের এলএসি লাইন?” – কোনটা? [It’s another matter that no one bothered to ask which ‘line’ he was referring to — the 1993 LAC, China’s 1960 claim line or the one that is going beyond that.] এই প্রশ্নটাকে উহ্য রেখেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর অভ্যন্তরীণ ভোটার বা শ্রোতাদের সাথে চাতুরীটা করেছেন। কারণ, তিনি আসলে এলএসির লাইন বলতে চীনের কাছে ১৯৬০ সালের হিসাবে গলওয়ান উপত্যকা ছেড়ে দিয়ে এসেছেন। কিন্তু ভাব ধরছেন যেন এটা ১৯৯৩ সালের এলএসির লাইন বুঝাচ্ছেন! অথচ কথাটা সত্যি না।
    এভাবে আপাতত নিজের মুখ রক্ষা করেছেন। তাই তিনি গালওয়ান উপত্যকা ও টহল দেয়ার ভূখণ্ডপথ ছেড়ে চলে এসেছেন। কেবল মুখরক্ষার একটা কথা বলে বেড়াচ্ছেন যে, এটা ‘সাময়িক’, অস্থায়ী। তবে প্রভীন এমনকি আরো একটা মারাত্মক তথ্যের কথা বলছেন যে, মোদীর যে নিয়মিত মাসিক রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কী বাত’, সেখানেও গত ২৮ জুন মোদি দাবি করেছেন- ‘গালওয়ান যুদ্ধ জয় করা গেছে’, মুখের উপর উপযুক্ত জবাব দেয়া গেছে ইত্যাদি সেই ; “A befitting reply has been given to those who cast an evil eye on Indian territory in Ladakh. Our brave soldiers have shown that they will never allow the honour of mother India to be hurt,” । আর বেশির ভাগ মিডিয়াই সরকারের ‘এই লাইন’ তোতা পাখির মতো আউড়িয়ে যাচ্ছে।
    গত ৬ জুলাই বেলা ১:২০টায় প্রবীন সায়নির টুইটারে আর বিকেলে ওয়্যার ওয়েব পত্রিকায় তার লেখা আর্টিকেলে তিনি পরিষ্কার করে এসব কথা লিখেছেন। মোদীর এসব চাপাবাজি কাণ্ড ফাঁস করে দিয়েছেন।

    হতাশা বাড়ছেঃ
    এতে আমরা না হয় সবাই সত্যটা জানলাম। কিন্তু এরপর কী? বলাই বাহুল্য, এরপরের ঘটনা হল – নিম্নচাপ বা ডিপ্রেশন। মানে প্রবল হতাশা নেমে আসা, আর তা এসেছে। এতে ভারতীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হতাশায় প্রভাবিত অংশ হল সাংবাদিক আর পড়ালেখা জানাদের মধ্যে যারা এই খবরাখবরগুলো রাখেন তারা।
    আর সাধারণ মানুষের মধ্যে যে হতাশা তা কাটাতে অন্তত কিছু ক্ষোভ প্রকাশের একটা ব্যবস্থা করা হয়েছে। তা হল চীনের তৈরি প্রায় ৫৯টা মোবাইল ‘অ্যাপ’ বা অ্যাপ্লিকেশন ভারতের সরকার ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। আর এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে প্রপাগান্ডা হয়েছে এমন যেন, এই নিষেধাজ্ঞা দিয়েই চীনের ওপর কিছু ‘গোলাবর্ষণ করা গেছে’। যদিও এতে সবচেয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া এসেছে টিকটক অ্যাপ বন্ধ হওয়াতে। কারণ, এটা ব্যবহার করে ছোট ছোট ভিডিও ক্লিপ বাসায় বসে তৈরি করা যেত, যা ফেসবুকে প্রকাশ করলে ওর বিজ্ঞাপনের আয় থেকে তরুণেরা হাতখরচের পয়সা জোগাড় করতে পারত। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় তারা বলতে চেয়েছে, দেশের যুদ্ধ বা স্বার্থ নিয়ে সরকারের যা মন চায় করুক তাদের কোনো আপত্তি নেই; কিন্তু তারা যা থেকে কিছু অর্থ আয় করত তার ওপর হাত দেয়া কেন? সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় তাদের স্বার্থের কথা কেউ আমলে নেয়নি কেন? এছাড়া মোদী নিজেই চীনা সোশাল মিডিয়া এপ উইবো ব্যবহার করতেন আর তা নিষেধাজ্ঞা জারির পরে ছেড়েছেন বলে এটা নিয়ে রিপোর্ট মানুষের ক্ষোভ প্রকাশের একটা উপায় হয়ে হাজির হয়েছিল। ওদিকে প্রাচীন দক্ষিণী ইংরাজি দৈনিক ‘দ্যা হিন্দু’ ” নিষিদ্ধ (ডিলিট) করেন না, নিয়ন্ত্রণ করেন” শিরোনামে  সম্পাদকীয় লিখে মন্তব্য করেছে। সারকথায় বললে, মোদীর পারফরমেন্স প্রশংসিত হয় নাই বা আপ-টু-দা-মার্ক নয়।

    কেন মোদী আজকের অবস্থায় পৌছালোঃ
    এক কথায় বললে মোদীর এমন অবস্থায় পৌঁছানোর পেছনের মূল কারণ, এক ‘নেশন’ ধারণ। কিছু বাতিওল হয়ে পড়া ধারণা। যেমন, হিন্দু জাতিরাষ্ট্রের ধারণা, যা হিন্দুত্ববাদ বা উগ্র জাতিবাদ এর উতস। এছাড়া এর অনুরূপ কিছু অর্থনীতিগত ধারণা যেমন কথিত ‘স্বদেশি’ বা একালের শব্দ “আত্মনির্ভর” এসব ধারণাগুলো অবসলিট বা অচল ধারণা। উলটা ফল দিবে এমন ধারণা।
    কিন্তু কেন মোদীর কাছে এগুলো জরুরি? তাঁর কাছে এটা শুধু জরুরিই নয়, এর ওপরই মোদীর রাজনীতি ও ক্ষমতা নির্ভরশীল করে সাজানো এবং সামগ্রিকভাবে নির্বাচনে ভোট জোগাড়, পোলারাইজেশন সব কিছু এমন জাতিবাদনির্ভর। এটাই তো হিন্দুত্ব।  যেমন, কাশ্মিরের ৩৭০ ধারা বাতিল করে দিয়ে জবরদস্তি একে ‘ভারতের অংশ’ বলে দখল করে নেয়া – এর একদম রুট কারণ হল হিন্দুর নামে একজোটে ভোট নেয়া, হিন্দু পোলারাইজেশন, হিন্দুত্বের মহিমা বিক্রি করে ক্ষমতায় যাওয়া ইত্যাদি এগুলো সব করা যায় এতে আর  তাতে সত্যমিথ্যা সবকিছুই বলা যায়। সে কারণে সংসদে অমিত শাহ দাবি করে বলে দিলেন যে, পাকিস্তান ও চীনের অংশের কাশ্মিরও ভারত দখল করবে। মোদী-অমিত তা করতে যান আর নাই যান বেপরোয়াভাবে তারা এটা বলে ফেলতে পারলেন।
    আসলে কাশ্মির সমস্যার রূট বা সার কথা হল, এতে কাশ্মির কার অথবা এর সীমানা কার অংশ বা এটা স্বাধীন রাষ্ট্র কি না এসব অমীমাংসিত থেকে যাওয়া। কাশ্মির পুরা ব্রিটিশ আমলজুড়ে করদরাজ্য ছিল বলে কখনোই পড়শির সাথে এর কোনো সীমানাই  চিহ্নিত করা হয়নি, পরস্পর বুঝে নেয়া, কমন ম্যাপ আঁকা হয় নাই। আর এ থেকে কাশ্মিরের ভারত-চীন-পাকিস্তান অংশ কখনোই এদের মধ্যেও পারস্পরিক স্বীকৃত সীমানা নয়। তাই এখন বলা হচ্ছে, এর বাউন্ডারি নেই। যার যা “দখলে” (অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলে) আছে, এই হল সীমানার ভিত্তি। সেখান থেকেই তো LAC, Line of Actual Control ধরণের ধারণার উতপত্তি।
    কিন্তু তবু আরেকটা ইতিবাচক বিরাট অর্জনও ছিল। ১৯৬০ সালের পর থেকে কাশ্মিরের সীমানা নিয়ে আর বড় বদবদল হয়নি। বিশেষ করে ২০১৯ সালের আগস্টে ভারতের সংসদে বসে ৩৭০ ধারা উঠিয়ে কাশ্মিরকে ভারতের অংশ বলে দাবি করার আগে পর্যন্ত।ীকারণে ৩৭০ ধারা উঠানো – এই পদক্ষেপ এটাই তাই বাকি দুই রাষ্ট্রের কাছে ছিল ভারতের সবচেয়ে আস্থাভঙ্গের মেসেজ; যে গত ৬০ বছরের যার যার দখলে থাকা সীমানায় বড় কোনো ভাঙচুর হয়নি, এটাই ৬০ বছরের এক ধরনের আস্থাটা ছিল যে তিন টুকরা হওয়ার পরেও কাশ্মির আর যেন ভাঙবে না। কিন্তু মোদী-অমিত যেমন হিন্দুর নামে ভোট পাওয়ার জন্য যা ইচ্ছা তাই বলা কোনো ব্যাপার নয়, ঠিক তেমনি পাকিস্তান ও চীনের থেকেও তাদের কাশ্মির অংশ ছিনিয়ে নিব অথবা একক-ইচ্ছায় যেকোন পদক্ষেপ নিতে পারে ভারত – এক কথাটাই অবলীলায় এটা বলে বসেন। চীন এ থেকে কী মেসেজ নেবে সেদিক সম্পর্কে তারা বেপরোয়া, এটাই মোদি-অমিত জানিয়ে দিয়েছিলেন। তাই ১৯৬০ সালের এলএসি ভুমি আবার ফিরে দাবি করে চীন যেন বুঝিয়ে দিল চীনও তাহলে ফিরে আবার যা খুশি অংশ দাবি করতেই পারে।
    আমরা লক্ষ করলে দেখব, কোথাও কোন দেশে সরকার বদল হলে বিশেষত সামরিক আইনের সরকার বা বিপ্লবীদের ক্ষমতা দখলের ক্ষেত্রে দখলকারীরা ক্ষমতায় এসে প্রথমে যে ঘোষণাটা দেন তা হল, তার ক্ষমতাকে দেশের কোন আদালতে চ্যালেঞ্জ করা নিষিদ্ধ (এটা আগে করতেই হয়)। আর দ্বিতীয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হল, তার রাষ্ট্র এর আগে অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে বিভিন্ন সময়ে যেসব চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল তার নতুন সরকার সেসব চুক্তি মেনে চলতে অঙ্গীকার করছে। এমন ঘোষণার মূল কারণ অন্য রাষ্ট্রের আস্থা অর্জন যে নতুন সরকার আইন-নিয়ম মানে। তাই আগে যা কিছু কৃত চুক্তি ও আস্থা স্থাপন হয়ে আছে সে সেটার ধারাবাহিকতা মেনে চলতে চায়।, তা মেনে চলার অঙ্গীকার করার মানে এ থেকে ইচ্ছা মত এবং একতরফা সরে আসা যায় না – এই আন্তর্জাতিক নীতির সাথে নতুন সরকার একমত। তাই কেউ যেন সন্দেহবশত বিরূপ আচরণ না করে। নতুন সরকার কোনো ঝামেলা চাচ্ছে না। কিন্তু এর মানে কী সে কিছুই বদলাতে পারবে না?
    অবশ্যই পারবে। কিন্তু ধাপগুলো হল, প্রথমত পুরনো সব চুক্তি মানতেই হয়। আর এরপর উপযুক্ত আইন ও সম্পর্করক্ষার পদ্ধতি মেনে (খামখেয়ালি নয়, একপক্ষীয় নয়) নোটিশ দিয়ে উভয়পক্ষের আলোচনাকারীকে ডেকে বসার পর সেখানে প্রস্তাব করে অবশ্যই পুরনো যেকোনো চুক্তি রদ করা যাবে, ইচ্ছা করা যাবে। আন্তর্জাতিক আইনকানুন মেনেই তা করতে হবে। সোজা কথা ক্ষমতায় থাকাকালে খামখেয়ালি নয়, একপক্ষীয় নয় এমন কাজ করা নিষিদ্ধ যা থেকে প্রতিপক্ষ ভুল মেসেজ পাবে। কিন্তু ঠিক এই নাদানিটাই করেছিলেন মোদি-অমিত।
    অথচ তাঁরা আচরণ করেছে ঠিক যেমন মোদী-অমিতের ইচ্ছা হল তো তাদের জন্য কোন মুসলমান নাগরিককে ‘জয়শ্রীরাম বলতে বাধ্য করানো’ এটা কোন ব্যাপারই নয়। ্স্বভাবতই, ঐ নাগরিক তা করতে কথা শুনতে রাজি হবে না। এরপর তখন তাকে মাটিতে শুইয়ে ফেলে সেই শরীরের ওপর লাফ দিয়ে ওর বুকের ওপর চড়ে বসা, বুকের হাড়গোড় ভেঙে দেয়া – এগুলো কোনো ব্যাপারই নয় যেন। কোন আদালত, কোন পুলিশ কোথাও এর কোন রেকর্ড হবে না। তারা যা ইচ্ছা তাই করতে পারবেন। কোথাও কিচ্ছু হবে না। ক্ষমতাকে তারা এতই সহজ হাতের মোয়া মনে করেন। তাই মোদী-অমিত বলে দিয়েছিলেন, তেমনি সহজ করেই অবলীলায় বলে দিয়েছিলেন যে চীন ও পাকিস্তানের কাশ্মির অংশও তারা দখল করবেনই। তাতে এটা যে তাদের কথার কথা; আর পাঁচটা কথার মতোই চাপাবাজি তা তো চীন মানেনি, এ দিকটাও তারা আমল করেননি। রাষ্ট্র বা ক্ষমতা খুবই হালকা জিনিস, তাদের কাছে মুসলমানকে জবরদস্তিতে “জয়শ্রীরাম বলানোর” মতই সহজ!
    কিন্তু মোদী কী এখন বুঝেছেন কেন চীন আজ হঠাৎ বা কোন ইচ্ছায় ১৯৬০ সালের এলএসি, সেটাই মানতে বাধ্য করাচ্ছে আর কোন খেয়ালে? তার চেয়েও বড় কথা, মোদি এখন কাকে জিজ্ঞাসা করবেন চীন কেন খামখেয়ালি আচরণ করছে? আসলে মানতেই হচ্ছে এটাই মোদীর প্রাপ্য ছিল। কারণ, মোদি কি নিজ দেশের কনস্টিটিউশন অথবা আন্তর্জাতিক আইন বা রীতি রেওয়াজ মেনে চলতে অভ্যস্ত রাজনৈতিক নেতা? মোদি বা তার দল কি এটা দাবি করতে পারবেন? দুনিয়াটা ‘হিন্দুত্ব’ দিয়ে, কিংবা খামখেয়ালি দিয়ে চলে; এটাই ভেবেছিলেন মোদী!
    তবু সেই হিন্দুত্ব এখনো বর্তমান এবং মোদী-অমিতের একমাত্র আশ্রয়। তাই হতাশ ভারত, হতাশ রাজনৈতিক নেতারা এখন আরো ভয়ঙ্কর হতে চাইবে। নিজের হতাশায় তারা আরও ডুবে যাবার মত পদক্ষেপ নিয়ে বসতে পারে। তবু আগামী বছরের এপ্রিলের আগে সম্ভবত ভারতের কোনো রাজ্য নির্বাচন হচ্ছে না, কোভিড পরিস্থিতিও এর আরেক কারণ। এটাই হয়ত সাময়িক একটু স্বস্তি। না হলে জনগোষ্ঠীগত হতাশা আরো বাড়িয়ে মোদির তাণ্ডব ভোটের বাজার কাঁপাত।

    না, তবু এত ভরসা করার কিছু নেই। কেন?
    কারণ, ইতোমধ্যে আরেক ভীষণ আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত- এই নেশন স্টেট বা জাতিবাদীরা নিয়ে বসে আছেন। উপরে টিকটক এপ বন্ধ করে দেয়াতে তাদের কথিত গর্বের কথা বলছি। মোদির আরেক হামবড়া ভুয়া গর্বের সিদ্ধান্তের কথা জানা যাচ্ছে। তা হল, নানা দেশের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন আঞ্চলিক বা বাণিজ্যিক জোট হতে দেখা যায়।
    কিন্তু মোদী সম্প্রতি তাঁর নেয়া এমনই এক সিদ্ধান্তের কথা জানাচ্ছেন যে, কোনো বাণিজ্যিক জোট যেখানে চীন সদস্যরাষ্ট্র হয়ে আছে এমন হলে ভারত ওই জোটে আর সদস্য হবে না। অথচ এই সিদ্ধান্তটাই প্রমাণ করে, এটা আগা-পাশতলা না ভেবে নেয়া জিদের সিদ্ধান্ত।  যেমন কেউ কম্বলের লোম বাছবার আর তা বেছে তুলে ফেলে দিয়ে এরপর তা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিতে যায় না, এটা তেমনি অবিবেচক সিদ্ধান্ত। মোদীর এই সিদ্ধান্তের অর্থ কি তাহলে – ব্রিকস [BRICS] ব্যাংক উদ্যোগ, এআইআইবি [AIIB] ব্যাংক অথবা সাংহাই করপোরেশন অর্গানাইজেশন [SCO] ইত্যাদি সব সাংগঠনিক উদ্যোগ থেকে ভারত এখন বের হয়ে আসবে? যদিও ভারত এখনো কোথাও তা পরিষ্কার করে বলেনি। এ ছাড়া ভারতের অবকাঠামো খাতে যত বিদেশী ঋণ নেয়া আছে, এর বেশির ভাগ হল চীনা ঋণ। এগুলোর কী হবে? নিশ্চয় ভারত কোনো অর্থপূর্ণ সিদ্ধান্তই নিতে চাচ্ছে আমরা ধরে নিতে পারি। মানে বলতে চাচ্ছি – ঝোল খাবো, কিন্তু গোশত খাবো না – ধরনের হাস্যকর বা নামকাওয়াস্তে কোনো সিদ্ধান্ত নিশ্চয় হবে না!  এছাড়া আরও আছে। চীনা পণ্য ভারতে আমদানি বছরে প্রায় পঞ্চাশ বিলিয়ন, আর চীনে রফতানি প্রায় ১৫ বিলিয়ন। এগুলোতেও যদি মোদীর কথা মেনে চলা হয় তবে দু’পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে তা বলাই বাহুল্য।
    কিন্তু চীনা সস্তা পণ্যের উপর, গড়ে প্রায় ৪০ ভাগের মতো কাঁচামাল বা তৈরি পণ্যে ভারতের নির্ভরশীলতা তাতে খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হবে ভারত। ব্যাপারটা মেনে চলা একেবারেই সহজ হবে না। মূলত এ ব্যাপারে ‘নেশন’ বা জাতিরাষ্ট্রবাদীদের ধারণাটাই গড়বড়ে; তা একেবারেই প্র্যাকটিক্যাল নয়, বরং ফ্যান্টাসিতে ভরা। এর বিকল্প মোদীর হিন্দুত্ববাদী আরেক অচল স্লোগান হলো ‘আত্মনির্ভরশীলতা’। এটাও একটা ফ্যান্টাসি, অবিবেচক ও হুদাই গা-গরম করা ধারণা। কারণ, আপনি সারা দিন যা ভোগ করেন তার সবই নিজেই উৎপাদন করে নেয়া হতে হবে এমন জিদ ধরতে পারেন না।  কারণ এই স্লোগান খুবই অ্যাবসার্ড, বাস্তবায়ন অযোগ্য আর ফ্যান্টাসিতে ভরপুর, অবিবেচক ধারণা। এর চেয়ে বরং আরো বেশি করে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা ও পণ্য বিনিময়ের সম্পর্ক- এমন পারস্পরিক নির্ভরশীলতাই উত্তম সমাধান, যাতে কেউ খেয়ালে যা ইচ্ছা করে তাই সিদ্ধান্ত না নিতে পারে। “স্বদেশী পণ্যের” ধারণা আজীবনই অকার্যকর ও অপরীক্ষিত ধারণা ছিল।
    সেকালের বৃটিশ আমলে খুবই অবিকশিত বিনিময় লেনদেন ব্যবস্থা থাকায় ছিল বলে সাময়িক কিছু ফল দেখা দিয়েছিল। কিন্তু একালে এটা একেবারেই অসম্ভব, অচল। ‘কোল্ড ওয়ার’ আমলে আমেরিকা-সোভিয়েত এভাবে দুই ব্লক রাজনীতি চলতে পেরেছিল। এর মূল কারণ এ দুই ব্লকের দেশের মধ্যে কোন কমন লেনদেন-বিনিময় বাণিজ্য শুরু থেকেই চালু ছিল না। অর্থাৎ শুরুরও আগে থেকেই কোনো নির্ভরশীলতাই ছিল না বলেই এটা ৪০ বছর চলতে পেরেছিল। যেমন খুব কম লোকই খেয়াল করেছেন যে, একালে পুতিনের রাশিয়া আর সোভিয়েত ইউনিয়নের মতন একেবারেই নয়। সেটা এ জন্য নয় যে, রাশিয়া ‘পুঁজিবাদী কী পুঁজিবাদী নয়’। বরং এই পুজিবাদী কিনা এগুলো নিজেই খুবই অবুঝের প্রশ্ন। বিষয়টা হলো রাশিয়া কী গ্লোবাল লেনদেন-বিনিময় বাণিজ্য ব্যবস্থা (যেটা সোভিয়েত ব্লকের দেসাহগুলোকে বাইরে রেখেই দাঁড়িয়ে গেছিল এখনকার রাশিয়া এখন এর কোন সদস্যরাষ্ট্র হয়ে যেতে পেরেছে না বাইরেই আছে – এই হলো মুখ্য প্রশ্ন। রাশিয়া, সোভিয়েত ভেঙ্গে যাবার পরের রাশিয়া এখন গ্লোবাল বিনিময় লেনদেন চলে এমন ব্যবস্থার ভেতরের রাষ্ট্র। যদিও তা হওয়া সত্ত্বেও অনেক পরে আবার আমেরিকা রাশিয়ার ওপর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে, ফলে রাশিয়া ডলারে কেনাবেচা করতে পারে না। এটুকুই বাধা আছে।
    কিন্তু তবুও ওদিকে সারা ইউরোপে রাশিয়ার গ্যাস বেচে চলেছে। এতে ব্রিটিশ সম্পদ, শেয়ার বা নানান তৈরি পণ্য কিনে মালিক হচ্ছে পুতিনের রাশিয়া। এতে রাশিয়া যতটুকু অন্য রাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল হতে পেরেছে, বিকশিত করতে পেরেছে ততই রাশিয়ানদের জীবনযাপন সহজ হয়েছে, হওয়ারই কথা। কারণ, সোজা ফর্মুলাটা হলো যত “পারস্পরিক নির্ভরশীলতা” [inter-dependent] ততই জীবন সহজ। ততই আপনার শ্রম দক্ষ, ততই বেশি উতপাদন, বেশি ভোগ। যদিও আবার এটাও ভোলা যাবে না যে, ইউরোপে বেচতে পারে, বাজার চাহিদা আছে বলেই সাইবেরিয়ার গ্যাসের মূল্য আছে। চাহিদা ইউরোপে আছে বলেই গ্যাস বেচা যায় বা বেচে অর্থ পাওয়া যায়। এছাড়া আবার আপনাকে গ্লোবাল বাজার-বিনিময় ব্যবস্থার বাইরে বের করে দেয়নি বলেই এখনো গ্যাস বেচতে পারেন।
    নইলে একেবারেই একঘরে হয়ে কোনায় পড়ে থাকতেন। স্বদেশিয়ানা বা ‘আত্মম্ভরিতার’ নামে নিজে নিজেই একঘরে হয়ে থাকা খুবই আদর্শ বলে মনে হলেও পুতিনের রাশিয়া বা একালের ইরান নিশ্চয় খুশিও হত! তা তো নয়। বাণিজ্যবিনিময় ব্যবস্থার এই গ্লোবাল দিকটা ব্যবহারিক কমিউনিস্টরা কখনো বুঝতে পারেনি। বরং এদের না বোঝাটাই গান্ধীর স্বদেশিয়ানা বা বিজেপি-আরএসএসের স্বয়ংসম্পূর্ণতার মিথ্যা ধারণাটাকে অপরীক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও টিকে থাকতে সাহায্য করে চলেছে। হিন্দু হলেই কেউ হিন্দুত্ব কিংবা ‘আত্মম্ভরিতা’ বা আত্মনির্ভরশীলতা বুঝি বলে দাবি করতে পারে সহজেই। কিন্তু তাতে গ্লোবাল বিনিময়ব্যবস্থা বোঝা আর হয় না! ভারতের অন্তত দুটা প্রফেশনাল ব্যক্তিত্ব মোদীকে চীনের সাথে বাণিজ্য সম্পর্ক ত্যাগ আর আত্মনির্ভরতার নামে গ্লোবাল বাণিজ্যবিনিময় ব্যবস্থা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে মোদীকে সাবধান করেছেন। এদের একজন ভারতের পরিকল্পনা কমিশনের প্রাক্তন ভাইসচেয়ারম্যান অরবিন্দ পানাগোরিয়া। তিনি সুনির্দিষ্ট করে চীনের সাথে কোন বাণিজ্যযুদ্ধের শুরু করার বিপদ থেকে সাবধান করে দিয়েছেন। এনিয়ে তাঁর সাক্ষাতকার এখানে পড়া যেতে পারে। আর দ্বিতীয়জন অর্থনীতিবিদ স্বামীনাথন আয়ার। তিনি ভারতের ইকনমিক টাইমসেরও পরামর্শদাতা সম্পাদক। তিনি অনেক আগে থেকেই বলছেন নেহেরুর ভুল দ্বিতীয়বার যেন মোদী আবার না করে বসেন। তিনিই পরিস্কার করে বলছেন, অথাকথিত আত্মনির্ভরতা ভুল, এর বদলে পরস্পরের উপর পরস্পরের নির্ভরশীলতা এটা সঠিক পথ [This means no self-sufficiency, it means interdependence]। তাঁর বক্তব্য পাওয়া যাবে এখানে।

    জয়শঙ্কর নয়, দোভাল – এর তাতপর্য কীঃ
    গত ১৫ জুন অন্তত ২০ ভারতীয় সেনা চীনের হাতে মারা যাবার পর থেকে চীন-ভারত পরস্পর ভাল-মন্দ বা কূট কথা চালাচালি করে আসছিল দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে। ভারতের জয়শঙ্করকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ঈ-এর সাথে তিতা বড়ির শর্ত মেনেই  কথা চালিয়ে যেতে হচ্ছিল। কিন্তু ৬ জুলাইয়ের ডিসএনগেজমেন্টের আপোষ রফায় দেখা গেল এবার এই রফা করা হয়েছে ভারতের নতুন মুখ অজিত দোভালের মাধ্যমে, জয়শঙ্কর নাই। আগের লেখায় বলেছিলাম জয়শঙ্কর হল মোদীর আমেরিকার পকেটে পৌছানোর হাতিয়ার। তাই অনেকের মতে, জয়শঙ্কর আমেরিকান লো্ক, তারা এভাবে বলেন। এর মানে দাঁড়ালো মোদী গলওয়ান উপত্যকা চীনকে ছেড়ে দেওয়ার রফা টা করলেন অজিত দোভালের মাধ্যমে। অর্থাৎ মোদী এই জায়গায় এসে আমেরিকাকেই এড়ালেন! এন্টি-আমেরিকান প্রাক্তন কূটনীতিক ভদ্রকুমারের মতে, দোভালই এখানে সঠিক লোক। ভদ্রকুমারও আস্থা রাখেন দোভালের উপর, কারণ তাঁর যুক্তি, দোভাল জাতিবাদি আবেগী নন, দেশের প্রাকটিক্যাল স্বার্থ ব্যাপারটা মাঠের চোখে বুঝেন।  কিন্তু ভদ্রকুমার একটা কড়া কথা লিখেছেন, এই আপোষনামার ব্যাখ্যা কী হবে তা  ঠিক করে দিবার চেষ্টা করছে আমেরিকান লবিস্টরা [ US lobbyists set the Indian narrative on China border]।

    যা হোক, চীনের সাথে ভারতের বাণিজ্য-সম্পর্কহীনতাবিষয়ক চিন্তা, এককথায় অবিবেচক ও অভিমানঘটিত চিন্তার অধিক কিছু নয়। ফলে এটা অবাস্তব, আর ভারতীয়দের জীবনযাপনকে আরো কষ্ট করে তোলার এক চিন্তার নামান্তর। তবে এটা এড়ানোর একটা সহজ পথ আছে। যেমন, মোদী বলেছেন বলেই তিনি তা আসলে বাস্তবায়ন করবেনই তা তো বলেননি, এমন মানে করে বসতে পারে্ন তিনি। ব্যাপারটা কেবল প্রপাগান্ডা বা ক্যাম্পেইন হিসেবে থেকে গেলেই, মোদী এভাবেই তাঁর সব দিক সামলানো সহজ করে ফেলতে পারেন! কে বলতে পারে যে, এটা এমনই হবে না?

    তাই সারকথা, কাজে লাগাতে জানলে ভারতের কাছে চীন অ্যাসেট হবে, না হলে দায়; কিন্তু কী হবে মোদীই জানে!

    লেখক : রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

     

    [এই লেখাটা  গত ১১ জুলাই ২০২০, দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকার ওয়েবে ও  পরদিনই প্রিন্টেও  “কাজে লাগাতে জানলে সম্পর্ক অ্যাসেট, না হলে দায়“– এই শিরোনামে উপ-সম্পাদকীয়তে ছাপা হয়েছিল।  পরবর্তিতে সে লেখাটাই এখানে আরও নতুন তথ্যসহ বহু আপডেট করা হয়েছে। ফলে সেটা নতুন করে সংযোজিত ও এডিটেড এক সম্পুর্ণ নতুন ভার্সান হিসাবে এখানে আজ ছাপা হল। ]