Category: Politics

  • সৌদি-পাকিস্তান সামরিক চুক্তির কী ক্রমশঃ ‘মুসলিম ন্যাটো’ জোট হয়ে উঠতে পারবে

    সৌদি-পাকিস্তান সামরিক চুক্তির কী ক্রমশঃ মুসলিম ন্যাটো জোট হয়ে উঠতে পারবে
    গৌতম দাস
    ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫   ভোর রাত ০২ঃ ৩৭
    https://wp.me/p1sCvy-6xS

     

     

    সৌদি-পাকিস্তান চুক্তি:

     

    গ্লোবাল প্রভাব ফেলতে পারে এমন এক সামরিক চুক্তিতে সই করেছে সৌদি আরব ও পাকিস্তান গত বুধবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫।  ইতোমধ্যেই তাতেই দুনিয়াজুড়ে বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক স্বার্থের দেশগুলোতে ও আমাদের এ অঞ্চলেও ব্যাপক হইচই পড়ে গেছে। অনেক পশ্চিমা মিডিয়া একে পৃথিবীর ভূমিগঠন কাঠামোতে কয়েকটা ইট খুলে নেওয়ার মতো ‘টেকটনিক’  [Tectonic] পদক্ষেপ বলেছে।

    কী সেই চুক্তিঃ
    আনুষ্ঠানিকভাবে এর নাম ‘কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’ যা ইংরাজিতে ‘স্ট্রাটেজিক মিউচুয়াল ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’ [Strategic Mutual Defense Agreement (SMDA)]। এখানে ‘মিউচুয়াল ডিফেন্স’ [Mutual defence] শব্দগুলো সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ। এককথায় এর অর্থ হচ্ছে, কোনো শত্রুর দ্বারা চুক্তির এক রাষ্ট্র আক্রান্ত হলে সেটা অপর রাষ্ট্র নিজের ওপর আক্রমণ বলে মনে করবে, আর নিজ বন্ধুকে রক্ষায় মোকাবিলায় এগিয়ে সক্রিয় পদক্ষেপ নেবে; দুই. এতে দুই বন্ধুর শত্রুর বিরুদ্ধে যৌথভাবে লড়বে।

    ‘মিউচুয়াল ডিফেন্স’ শব্দটার অর্থ খুবই গভীর। আর তা হওয়ার পেছনে বা এই আইডিয়ার উপরই দাঁড়িয়ে জন্ম নিয়েছিল ও আছে  সেই ১৯৪৯ সালে জন্লম নেয়া থেকে ন্যাটো (নর্থ আটল্যান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন NATO)। ন্যাটোর জন্ম দলিলের বিখ্যাত হল  ‘অনুচ্ছেদ পাঁচ’। এটা লেখা হয়েছে উপরে ‘মিউচুয়াল ডিফেন্স’ ধারণার আলোকে। দুনিয়াতে সেটাই প্রথম মিউচুয়াল ডিফেন্স ধারণার ব্যবহার। বইয়ের ভাষায় একে ‘কালেকটিভ ডিফেন্স প্রিন্সিপালও’ বলা হয়ে থাকে। মোট ৩২ সদস্যের ন্যাটোর কোনো এক সদস্য ন্যাটোর বাইরের কোন দেশ দ্বারা আক্রান্ত হলে এর বিরুদ্ধে ন্যাটো-সদস্যরা সবাই একসঙ্গে প্রতিরোধে নেমে পড়তে বাধ্য।

    এ কারণে অনেকেই সৌদি আরব-পাকিস্তানের এই চুক্তিকে মুসলিম ন্যাটো চুক্তির দিকে এটা যাবে এই প্রেরণা থেকে  উচ্ছ্বসিত হচ্ছে; আর ততই এটা ভারতের জন্য হচ্ছে হতাশার। কারণ সৌদির সঙ্গে অপর দেশটা হল পাকিস্তান,  আবার যে পারমাণবিক শক্তিধর! আর পাকিস্তানের অপর পার্টনার সৌদি আরব বলে এর অর্থ হল, সামরিক প্রস্তুতিতে ব্যয়ের ক্ষেত্রে অর্থ আর বড় কোনো বাধা নয়। এই নিয়ে ইংলিশ বিবিসির শিরোনাম হল, ইন্ডিয়ার কাপাকাপি শুরু হয়ে গিয়েছে [Why the Pakistan-Saudi Arabia defence pact is unsettling India]।  আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কংগ্রেস এটা মোদির ফরেন পলিসির পরাজয় বলে চারদিকে বিবৃতির হৈ চৈ তুলেছে [পাকিস্তান-সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে নরেন্দ্র মোদির ব্যর্থতা দেখছে কংগ্রেস]।
    আর সেই সঙ্গে এখন ক্রমশ জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে যে এই চুক্তিতে শামিল হতে চাইবে পুরো মধ্যপ্রাচ্য বাদশাহশাসিত দেশের ‘জিসিসি [GCC] জোটে’র ছয় দেশ (সৌদি ছাড়াও বাকি পাঁচ দেশ-ইউএই আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহারাইন ও ওমান)। সেই জল্পনাকে আরো উস্কে দিয়েছে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী – তিনি বলেছেন সৌদিদের সাথে চুক্তি করে আমরা তো অন্যদের জন্য দরজা বন্ধ করে দেই নাই। DOOR NOT CLOSED শিরোনামে পাকিস্তানী ডন পত্রিকা সেকথাই লিখেছে। আমেরিকান পয়সায় স্থানীয় থিঙ্কট্যাংক এনজিও চালায় এমন ইন্ডিয়ান ব্রহ্ম চেলানী খুবই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেছেন – সৌদিরা জানত এই চুক্তিকে ইন্ডিয়া নিজের জন্য এক সিকিউরিটি থ্রেট হিসাবে দেখবে / নিবে এরপরেও তারা এদিকে এগিয়েছে” –

    “Riyadh knew India would construe the Saudi-Pakistan pact as a direct threat to its security, yet it went ahead,”
    Brahma Chellaney, an Indian strategist, posted on X. –  BBC

    অনেকে অবশ্য আরেক সম্ভাবনার দিকটা দেখে বলতে শুরু করেছেন যে, এটা হয়তো ইরানকে একঘরে করার সৌদির পরিকল্পনা। না, এটা একেবারেই ভুল ব্যাখ্যা হবে। এটা কার্যত মুসলিম দুনিয়ার রাষ্ট্রগুলোর আন্তঃসম্পর্কের মধ্যে দুর্বলতাগুলোকে বড় করে দেখিয়ে ‘মুসলিম ন্যাটো’ হয়ে ওঠার সম্ভাবনাকে জেনে না জেনে, মুসলমান ফেরকার কথা তুলে নাকচ বা খামোশ করার এক বৃথা চেষ্টা হবে।

    তাহলে এমন দুর্বলের বদলে সবল দিকটা কীঃ
    সারা দুনিয়ায়  এর নানা ভৌগোলিক অঞ্চলের আন্তঃরাষ্ট্রীয় নানা রাষ্ট্রস্বার্থ দ্বন্দ্ব থাকে, থাকবেই। কিন্তু এসবের বাইরেও তবু সবকিছুর ঊর্ধ্বে দেখা যাবে আবার একটাই ‘প্রধান দ্বন্দ্ব’ থাকবে! যেমন, এখনকার দুনিয়ায় সেই প্রধান দ্বন্দ্বটা হল ‘চীন-আমেরিকার স্বার্থদ্বন্দ্বের বিরোধ’! এগুলো মূলত অর্থনৈতিক স্বার্থের দ্বন্দ্ব – মূল কারণ এক পালাবদল মানে একালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নেতৃত্বের পালাবদলের কাল এটা। যদিও ক্রমশই এটা সামরিক, কৌশলগত, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ইত্যাদি এবং সর্বোপরি এক নয়া বয়ান হয়ে সব ফ্রন্টেরও দ্বন্দ্ব হয়ে ক্রমশই ছড়িয়ে পড়বে।

    আর আমরাও বাকি সব রাষ্ট্রই ক্রমশ এই চীন-আমেরিকা দ্বন্দ্বে নিজ নিজ রাষ্ট্রস্বার্থের আগ্রহে বা বিচারে এ দুই রাষ্ট্রের কোনো একটার স্পষ্ট পক্ষভুক্ত হতে থাকব। অনেকে ইতোমধ্যেই হয়ে গেছি বা আছি। যদিও দ্বন্দ্ব-বিকাশিত হওয়ার বর্তমান স্তরে বা পর্যায়ে পরিষ্কার করে আমাদের-হয় আমেরিকা না হয় চীনের পক্ষে দাঁড়িয়ে যাওয়া – এমনটা এখনই দেখা নাও যেতে পারে। এখন হয়তো দেখা যাবে, একটা রাষ্ট্র এখনই ৫০-৮০ শতাংশ যদি চীনের পক্ষভুক্ত হয়ে গিয়েও তবু পাশাপাশি সে রাষ্ট্র আবার আমেরিকার সঙ্গেও অবশিষ্ট মাত্রার ঘনিষ্ঠতা রাখছে। যেমন পাকিস্তান। পাকিস্তানে চীনা বিনিয়োগ ইতোমধ্যেই ২০ বিলিয়ন ঢুকে পড়েছে, আর তা আগাচ্ছে পাইপলাইনে থাকা বাকি অংশের দিকে সবমিলিয়ে তা ৫০ বিলিয়নের আশপাশে যাওয়ার লক্ষ্যে। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে বিশেষ মজার ব্যাপারটা হল এই বিনিয়োগের বেনিফিট ব্যবহারকারী আবার খোদ চীন (একা পাকিস্তান না) নিজেও – আর সেটাই গোয়াদর প্রকল্পকে কেন্দ্র করে (যা শুধু একটা গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্প নয়)। আসলে এটা সাড়ে তিনদিক ল্যান্ডলকড চীন যার আবার পশ্চিমদিক একেবারে সুউচ্চ (হিমালয়) পর্বতমালা দিয়ে ব্লকড। তবু এই পশ্চিম দিকটা দিয়েই পাকিস্তানের সারা বুক চিরে এখন সমুদ্রে ডিপ সি-পোর্টে [গোয়াদর পোর্ট] পৌঁছানোরই অবকাঠামো নির্মাণ করে নেওয়া হয়েছে; যার বৃহৎ ব্যবহারকারী হবে চীন নিজেই। তাই বলা যায়, চীন-পাকিস্তানের সম্পর্ক মূলত অর্থনৈতিক অবকাঠামো বিনিয়োগের উপরে হলেও সব কিছুর উপরে এটা খোদ চীনের স্ট্রাটেজিক স্বার্থ – এক কথায়, চীন নিজ পুবদিকের চীন সাগর ছাড়াও চীন এখন নিজ পশ্চিমদিক দিয়ে সরাসরি আরব সাগরে পৌঁছাতে পারে।

    অথচ এতকিছুর পরও পাকিস্তান আমেরিকার হাতও ছাড়েনি; একটু দুর্বলভাবে হলেও সঙ্গেই ধরে আছে। আবার পাকিস্তানের মূল অর্থনৈতিক সম্পর্কের পুরোটাই চীননির্ভর। আবার এই সৌদি-পাকিস্তান সামরিক চুক্তির পর থেকে পাকিস্তান হয়ে গেল মুসলমান জনসংখ্যাপ্রধান রাষ্ট্রগুলোর চোখে রক্ষাকর্তাঃ অন্য ভাষায় হবু ইসলামি ‘ন্যাটোর’ মধ্যমণি।

    কেন আমেরিকান পরপর প্রেসিডেন্টরা নেতানেয়াহুর খেদমতগারির প্রতিযোগিতায়ঃ
    ইসরাইল ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ফিলিস্তিনিদের জায়গাজমি দখল, তাদের উদ্বাস্তু বানানো থেকে শুরু করে এমনকি ক্রমাগত হত্যা, নির্যাতন করে চলেছে। এর সবই নাকি দখলবাজদের ‘আত্মরক্ষার অধিকারের কাজ’ বলে সাফাই দিয়ে প্রেসিডেন্ট ওবামাসহ সারা পশ্চিমাজগৎ জায়োনিজমকে উসকানি গেছে। এসবই জায়োনিস্ট ইসরাইলের প্রতিষ্ঠা ও বিস্তারের নৃশংস ইতিহাস। বিশ্বযুদ্ধ শেষে বৈশ্বিক নেতা হিসাবে আমেরিকান উত্থান আর ইসরাইল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা একসঙ্গে হাত ধরাধরি করেই চলেছে। এক কথায় ইসরাইলকে প্রটেকশন দিয়ে অন্যের দেশভূমি দখল করে ইসরায়েলের নিজ বিস্তার ঘটানো-প্রটেকটর যেহেতু আমেরিকা, তাই পরিষ্কার করেই বলা যায় যে, দুনিয়া থেকে জায়োনিজমের অবসান ও ইসরাইল রাষ্ট্রের বিলুপ্তি বৈশ্বিক নেতা হিসাবে আমেরিকার পতনের ভেতরই নিহিত। প্রটেকটর আমেরিকার নেতাগিরির পতনের ভেতর দিয়েই একমাত্র ইসরাইলের বিনাশ ঘটতে পারে, তা বলাই বাহুল্য।

    আবার আমেরিকার নেতাগিরির অবসানের মানে হল, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নেতা হিসাবে চীনের উত্থান। এই উত্থানকে ত্বরান্বিত করার অন্তত একটা চাবিকাঠি আবার সৌদি আরবের হাতে আছে। তা হলো, আমেরিকান ডলার বাদে অন্য মুদ্রায় (যেমন ইউয়ানে) সৌদি তেল বিক্রি শুরু করা। কারণ সৌদি তেল বিক্রি যা সর্বোচ্চ তা কেবল আমেরিকান ডলারেই কেনাবেচা হয়। এতে ডলারের কারেন্সি ভ্যালু অটুট রাখার ক্ষেত্রে – একটা বড় ফ্যাক্টর হল কেবল ডলারেই সৌদি তেল বিক্রি করা।

    আর এতে আমেরিকান ডলার এক আধিপত্যশীল কারেন্সি হিসাবে বৈশ্বিক বাণিজ্যে আমেরিকার নেতাগিরি টিকে যাওয়ার প্রধান কারণ। আর আমেরিকান ডলার ডমিনেন্সি টিকে থাকা মানে এটাই ইসরাইলের দানবীয় আচরণ দেখানোর শক্তির উৎস। চীনা মুদ্রা ইউয়ানে সৌদি তেল বিক্রি করা শুরু করলেই এর ফলাফলে ডলার দুর্বল হয়ে যাবে আর এতে আমেরিকা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নেতা থেকে পতন হওয়ার এক বড় ঘটনা হতে পারে সেটা।

    কিন্তু সৌদিরা এটা করতে এপর্যন্ত ভয় পেয়ে এসেছে। বরং সৌদি সরকার ভয়ে ভয়ে কাজ করেছে উলটা; সৌদিরা আমেরিকার কাছেই নিজ নিরাপত্তার গ্যারান্টি চেয়ে বসে আছে। এদিকে চলতি মাসে ৯ সেপ্টেম্বর ইসরাইল সৌদি আরবের সীমান্ত দেশ কাতারেই বোমাহামলা চালায়। বলাই বাহুল্য, এটাকে সৌদিশাসকরা আমেরিকান ‘প্রতিরক্ষার আশ্বাসের’ বরখেলাপ গণ্য করেছিল।

    এখন সেখান থেকে প্রতিক্রিয়ায় সৌদিরা সরাসরি তেল বিক্রিতে ডলার ব্যবহার বন্ধ করতে পারত। কিন্তু তা কঠোর আর ভারী হয়ে যাবে ভেবে সেদিকে না গিয়ে সৌদি শাসকরা এক তুলনামূলক নরম পদক্ষেপ নিয়েছে – এটাই পাকিস্তানের সঙ্গে ‘মিউচুয়াল ডিফেন্স’ চুক্তি করে বসা।

    এদিকে পাকিস্তানের ডন পত্রিকা লিখেছে, এটা দুই দেশের মধ্যকার চুক্তি হলেও এটা জিসিসি সদস্য দেশের মধ্যেও বিস্তার ঘটিয়ে বাকি গালফ দেশকেও একই ‘মিউচুয়াল ডিফেন্স’ চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা নেই। মানে কাতারসহ জিসিসির বাকি দেশগুলোও এ চুক্তিতে একইভাবে সৌদিদের মতো পক্ষভুক্ত হতেই পারে।

    কিন্তু তবু অনেকের মনে খচখচ করতে পারে এই ভেবে, এটা তো ঠিক ‘ইসলামি ন্যাটো’-এর মতো হচ্ছে না। কারণ ইরান বা তুরস্ক এতে শামিল নয় বা সেটা হবে কী করে?

    আমি এখানে একটা সূত্র বলে দেই। এক্ষেত্রে ইরান মুসলিম দেশের মধ্যে সবার আগে চীনের সঙ্গে পক্ষভুক্ত হয়ে গেছে। আর তা পেরে গেছে বলেই ইরান সাহসের সঙ্গে ফিলিস্তিনির পক্ষে হামাস, হিজবুল্লাহসহ অন্যদের সংগঠিত ও সহযোগিতা করে আসছে। ইরানের তেল কেনার জন্য চীন-ইরান ২৫ বছরের চুক্তি করা আছে।

    অতএব, সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ‘মিউচুয়াল ডিফেন্স’ মানেই পাকিস্তান নিজ আরেক হাতে চীনের সঙ্গে সে যুক্ত-এটাও মনে রাখতে হবে। ফলে ইরানও এতে (আপাতত) পরোক্ষে যুক্ত!

    সৌদিদের দিক থেকে এটা হল, আমেরিকাকে দেওয়া হুঁশিয়ারি যে আমেরিকা সংশোধিত না হলে, জায়োনিস্ট রক্ষকের কাজ ত্যাগ না করলে তখন সৌদি শাসকরা সরাসরি ডলারে তেল বিক্রি বন্ধের পথে যাওয়ার কথা ভাববে।

    এক কথায় দিন শেষে এটাই দখলদার জায়োনিস্টদের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক সর্বোচ্চ পদক্ষেপ হয়ে ওঠার পথে হাঁটবেই।

    গৌতম দাস : রাজনৈতিক বিশ্লেষক

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫    


    [এই লেখাটা এর আগে প্রথম ভার্সানে ছাপা হয়েছিল দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় আমারই লেখা এক কলাম হিসাবে, গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫।  আজ এখানে সে লেখাটারই  আরেক বর্ধিত এক নয়া এডিটেড ভার্সান এখানে আমার নিজ সাইটে ছাপা হল। বলাই বাহুল্য এখানে শিরোনামটাই শুধু নতুন নয় বরং এমন অনেক প্রসঙ্গই নয়া এখানে যোগ করা হয়েছে যেটা পত্রিকার ভার্সানে ছিল না। আসলে পত্রিকার কলাম ভার্সান মানে যেটা যুগান্তরের এডিটরিয়াল পলিসি সঠিক মনে করে সেই ভার্সান; এভাবে দেখাটাই সঠিক হবে। আর তুলনায় এটা আমার নিজ পরিবর্ধিত-এডিটেড ভার্সান মনে করলেই সঠিক হবে বলে আমার বিশ্বাস! ]

  • ফেসবুকে আমার পাঠকের একটা ভাল প্রশ্ন থেকে

    ‘মুসলিম জাতিবাদি’ প্রসঙ্গঃ
    ফেসবুকে আমার পাঠকের একটা ভাল প্রশ্ন থেকে
    গৌতম দাস
    ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
    https://wp.me/p1sCvy-6xH

    আজ আমার এক পাঠক প্রশ্ন করেছেঃ

    দাদা,
    জামাত যদি ৪০% লিবারেল হয় তাহলে কি “মুসলিম জাতিবাদি” হতে পারবে না??
    এ নিয়ে আমার লেখা বুঝিয়ে বলা জবাবটা নিচে দেখুনঃ
    প্রশ্নটা % এর নয় যে কত পার্সেন্ট! “রিপাবলিক” ধারণাটা বুঝতে হবে। এই ধারণাটা থেকেই রাষ্ট্র, জনগণ, গণস্বার্থ, পাবলিক, নাগরিক, অধিকার, পিপলস, জন-প্রতিনিধিত্ব, ভোট, ইত্যাদির ধারণার এমনকি খোদ ‘রাজনীতি’; এসব ধারণার উতস বা ভিত্তি হল রিপাবলিক বা প্রজাতন্ত্র ধারণা।
    রিপাবলিক হল রাজতন্ত্রের বিপরীত, বা সম্রাটতন্ত্র মানে সাম্রাজ্য আর সেই সুত্র বাদশা, আমীরতন্ত্র বা আমিরাত শাসন ধারণা; এগুলোর একেবারে উতখাতের পর এর বিপরীত জনগণের শাসনের ধারণাই হল রিপাবলিক রাষ্ট্র!
    এছাড়া পরিস্কার করে মনে রাখেন আমি রিপাবলিক এর কথা বলছি।  এটা গণতন্ত্র ধারণা নয়। রিপাবলিক মানে ঠিক গণতন্ত্র একেবারেই নয়!  তবে একটা রিপাবলিক রাষ্ট্র এর মধ্যে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার যা রাষ্ট্র গঠনের পরও সরকার তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না – এমন অলঙ্ঘনীয় কিছু অধিকারের যে তালিকা এটাকে শুধু এটাকে আমেরিকানেরা “গণতন্ত্র” বলে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছিল। তাও আবার এর আসল কারণ হল,  মূল কনষ্টিটিউশন ১৭৭৬ সালের লেখার পরেও তাতে এই অংশটা ভুলে বাদ পরে গিয়েছিল বলে এর পনের বছর পরে ১৭৯১ সালে ফাষ্ট এমেন্ডমেন্ড বা প্রথম সংশোধনী হিসাবে তাদের কনষ্টিটিউশনে অনুর্ভুক্ত করে নেয়া বা ভুল সংশোধন করে নিয়েছিল আমেরিকান (ফেডারল) রিপাবলিক রাষ্ট্র। আর সেই থেকে রিপাবলিক আর গণতন্ত্র আলাদা ধারণা বলে একটা ভুয়া হলেও ভিত্তি পেয়ে যায়।
    ওদিকে রাজনীতিবিদ বিশেষ করে বোকা কমিউনিস্টেরা রিপাবলিক (যা তাদের মানে খোদ মার্কসের ভোকাবুলারি বা ডিকশনারীর শব্দ / ধারণা নয় বলে) শব্দের বদলে গুণতন্ত্র শব্দের ব্যবহারে প্রাব্যল্য নিয়ে আসে। সেই সাথে গণতন্ত্র নামে মৌলিক অধিকার নয়, গণতন্ত্র মানে কেবল ভোট এই অর্থ করা শুরু করেছিল যা এখন গাধা মির্জার প্রিয় ভাষ্য!
    এখন কেউ খেলাফতের রাজনীতি করতে চায় মানে যেমন ধরেন, এরদোয়ানকে (এক ভিনদেশি প্রেসিডেন্টকে নিজের নেতা মনে করা) আপনার খলিফা মনে করে কালো কলেমা তৈয়বার পতাকা উড়াতেই পারেন! বা আরেকজন সৌদি বাদশা বা নবগঠিত তালেবান আমিরি শাসনের ভক্ত বলে নিজের দাবি করতে পারেন। কিন্তু তাতে আপনি রিপাবলিক ধারণার অনুসারি হয়ে যাবেন না আর থাকবেন না বরং আরো একেবারেই দূরে উলটা দিকে চলে যাবেন।  কারণ, সেটা হল সোনার-পাথরের বাটি। যা সোনার বাটি তা কেবল সোনার তাই, সেটা একই সাথে আবার পাথরেরও বাটি হয়ে যাবে না। সম্ভাবনাই নাই। কিন্তু তবু আপনি গো-ধরে বসে থাকলে যা হয় তাই এটা!
    কিন্তু আপনি যবরদস্তিতে সেটা নাবুঝে দাবি করতে থাকলেন যে নবীর আমলেও “রাজনীতির” ধারণা ছিল, সৌদিতে “জনগণ” বা “নাগরিক” ধারণা আছে ইত্যাদি এই আর কী – এসব বোকা বোকা কথা আপনি অহেতুক বলতেই পারেন!
    সার কথায় জামায়াত রাজনীতিতে রিপাবলিক ধারণা, বোধ এগুলার কিছুই নাই। কেবল ভোট ধারণাটা অন্য ঘরাণা থেকে আমদানি করে চালাচ্ছে। কারণ বাদশা বা খলিফাগিরি অবশ্যই রিপাবলিক বা জনগণ বা অধিকার ধারণার সাথে এর কোন সম্পর্কই নাই।
    আসলে রিপাবলিক ধারণাটা পচায় দিয়েছে খোদ কার্ল মার্কসঃ
    তাঁর শ্রেণীবোধ এই শ্রেণী ধারণাটাই তাঁর সব পটেনশিয়াল শেষ হয়ে যাবার পিছনের মূল কারণ! তবুও শ্রেণী ধারণাটা তিনি যদি সমাজ ব্যাখ্যার (সোশাল ক্লাস বা গ্রুপ হিসাবে) করার একটা টুলস হিসাবে রেখে দিতেন তাহলেও হয়ত চলত। কিন্তু তিনি এটা দিয়ে একেবারে রাষ্ট্র (রিপাবলিক রাষ্ট্র) ধারণাটাকে আঘাত করে বসেন।  কারণযখন বলে শ্রেণীর রাষ্ট্র! আবার এক শ্রেণির অপর শ্রেণীকে উতখাত এর ধারণা পর্যন্ত হয়ত চলে! কিন্তু তিনি যোগ করলেন এই উতখাত করতে গিয়ে একে অপরকে গুম, খুন, হত্যা অপহরণ থেকে আয়নাঘর, বুডিগঙ্গায় নিয়ে গুলি করে মাথার তরতাজা গরম ঘেলু হাতের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার উত্তাপের অনুভব ইত্যাদি মানসিক জিঘাংসা সব জায়েজ – শুধু তাই না লেনিন এর উপর বাড়তি যোগ করে দিলেন এটা একনায়কতন্ত্র এবং এটা জায়েজ?????
    এতে সব শেষ হয়ে গেল, বিশেষ করে আমাদের মত দেশে যারা কেবল কলোনি্মুক্ত থেকে স্বাধীন হয়ে কেমন রাষ্ট্র গড়ব কোন পথে যাব ভাবছি তারা চরমতম বিভ্রান্ত হয়ে গেলাম।
    এত প্রধান ক্ষতি হল নাগরিক ধারণাটা আর বুঝলাম না, আমল করলাম না। দেশের সকল নাগরিককে ‘মৌলিক অধিকার’ দিতে হবে স্বীকার করতে হবে রাষ্ট্র ও শাসককে – এসব চিন্তা কর্তব্য সব উবে গেল। সব নাগরিক কিন্তু মানে, বিশেষ শ্রেণীবোধের শ্রেণী না সকল নাগরিকের নাগরিক অধিকার রক্ষার দায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে রাষ্ট্র ও শাসক এই ধারণাটা আর বিকশিত হল না।
    যারা বিদ্যুৎ গতিতে কওমি থেকে কথিত মর্ডান বা সেকুলার হয়ে গেছেন বলে সুখবোধ করতেছেন তারা কী এসব বুঝবেন? জীবনে কোনদিন শুনেছেন? শ্রেণীর রাষ্ট্র আসলে এক সাইকোপ্যাথ ধারণা – মানে মানুষকে কষ্ট দিয়ে যারা সুখবোধ করে।
    ওকে এখন ফাইনাল ব্যাক্যটা সবাই শুনে রাখেনঃ
    কার্ল মার্কসের চিন্তায় – ন্যায়বিচার [justice] বা ইনসাফ ধারণাটাই নাই । কারণ শ্রেণীর ধারণা মানে শ্রেণীর একনায়কতন্ত্র ধারণা এটা ত জিঘাংসা এক সাইকোপ্যাথ ধারনা! এর নিচে চাপা পরে গেছে ইনসাফের ধারণা!  প্রত্যেকটা ধর্মতত্বে ন্যায়, ন্যায়বিচার বা ইনসাফের ধারণা একেবারে সেন্ট্রাল ধারণা।  ইনসাফ যেকোন সমাজের ফাউন্ডেশনাল ধারণা। কোরান শরীফে কতবার আল্লাহর ‘রহম’, ‘রহমানুর রহিম’ ধারণা আছে কাউন্ট করে দেখেন। হিংসার বিপরীতে, ইনসাফের পক্ষে এই ধারণা যা মানুষেরও মৌলিক বৈশিষ্টের ইঙ্গিত – আল্লাহর গুণ, সম্ভবত সিফাত বা সাফায়াত বলেন; আপনারা ভাল জানেন!

     

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫    

  • নেপালি ‘রিপাবলিক’ এর স্বপ্ন কী একেবারেই ব্যর্থ হল!

    নেপালি ‘রিপাবলিক’ এর স্বপ্ন কী একেবারেই ব্যর্থ হল!
    গৌতম দাস

    ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
    https://wp.me/p1sCvy-6xb

     

    নেপালের তরুণদেরকে গ্লোবাল ভাষায় জেন-জি বা জেন-জেড নামে ডাকা হচ্ছে।  তারা মূলত নেপালের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় দুর্নীতি আর স্বজনপ্রীতি বিরুদ্ধে বিদ্রোহি উত্থান ঘটিয়েছেন।  এরাই নেপো-কিডস [NEPO-KIDS] -দের বিরুদ্ধে উঠে দাঁড়িয়েছে। নেপো- শব্দটা নেয়া হয়েছে ইংরাজি নেপোটিজম [Nepotism] থেকে। যার বাংলামানে হল, যারা জনগণের নামে ক্ষমতা নিয়ে ক্ষমতায় থেকে নিজ সন্তান বা আত্দেমীয় পরিজনদেরকে চরম অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় অর্থ-সুবিধাদি দিয়ে পৃষ্ঠপোষকতা কর চলে। নেপালের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিকেরা শুধু একাজই করেন নাই। তাদের নেপো-গুষ্ঠি আর তাদের সন্তানরা ক্রমাগত বড়লোকি ফুটানি প্রকাশ করে সোশাল মিডিয়া ভারী করে রেখেছিল। আর এসবের বিরুদ্ধে নেপালের তরুণেরা সোশাল মিডিয়ায় প্রথমদিকে কঠোর সমালোচনাকে কেন্দ্র করে জড়ো হতে শুরু করেছিল।  কিন্তু ক্ষমতাসীনেরা তা টের পেয়ে এই সমালোচনাকে দমন করার জন্য একটা কৌশল করেছিল। তারা আদালতে এসব সোশাল মিডিয়া যেমন ফেসবুক, এক্স থেকে শুরু করে এমনকি সিগনাল এপ (খুবই নিরাপত্তা চাদরে ঢাকা একটা কথোপকথনের এপ।) এসব কিছুর উপর আদালতের এক নির্দেশনা নিয়ে এসেছিল তাতে এসব  সোশাল মিডিয়াকে নতুন করে নিয়ম মেনে সাতদিনের মধ্যে রেজিষ্ট্রেশনের নির্দেশ নিয়ে আস্তে হবে। এসব কড়াকড়ির জন্য এক টিকটিক ছাড়া উল্লেখযোগ্য বেশির ভাগ সোশাল মিডিয়াই নতুন করে রেজিষ্টার্ড হতে ব্যর্থ হয়। ফলে এসব এপ এর নেপালে উপস্থিতি নিষিদ্ধ হয়ে যায়। এতে এইবার নেপালী তরুণেরা এমন সমস্ত রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে এদেরকে উপড়ে ফেলার জন্য বিদ্রোহ আর গণ-উত্থান ঘটিয়ে দিয়েছিল। এমনিতেই নেপাল গ্লোবাল মিডিয়ায় তেমন উপস্থতি থাকে না। তাই এই খবরটা বাইরের মিডিয়া প্রচার করেছিল যে নেপাল থেকে কেবল ফেসবুক ব্যবহার করা যাচ্ছে না বলে এই বিক্ষোভ। অর্থাৎ এসবের পিছনের মূল কারণ যে নেপালের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় দুর্নীতি আর স্বজনপ্রীতি সেই মূলকথাটাই চাপা পরে গিয়েছিল।
    যাহোক, নেপালের এই নেপো-কিডস কারা এনিয়ে একটা রিপোর্ট আমরা বাংলায় পেয়েছি বাংলাদেশের  যুগান্তরে অনুমান করি এটা কোন ইন্ডিয়ান পত্রিকা থেকে নেয়া। যুগান্তরে এটা ১২ সেপ্টেম্বর ছাপা হয়েছে এখানে লিঙ্ক দিলাম। শিরোনাম “নেপালে আন্দোলনের নেপথ্যে ‘নেপো কিডস’, কারা এরা?”। এছাড়া নেপালের কাটমান্ডু পোস্ট পত্রিকা পাঁচ প্রশ্নের উত্তর  দিতে গিয়ে সংক্ষেপে এই প্রশ্ন নিয়ে নাড়াচারা করেছে।


    আইডিওলজির বিচারে  ২০০৬ সাল থেকেই নেপালের রাজনীতিতে রাজতন্ত্র উচ্ছেদ করার আন্দোলনের সময় থেকে কমিউনিস্ট ঘরানা আধিপত্য শুরু হয়ে যায় যা এখনও বর্তমান!  আর সম্ভবত সেটাই একালে এসে নেপালের তরুণের সংগঠিত বিদ্রোহী উত্থানের পেছনের এক কারণ। নেপালের প্রধান তিনটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে বড় প্রভাবের দুটি দলই কমিউনিস্ট আর তৃতীয়টি ইন্ডিয়ান কংগ্রেস অনুকরণে যার নাম ‘নেপালি কংগ্রেস’। প্রথম দুই কমিউনিস্ট দলের একটি হলো গত প্রধানমন্ত্রী কে পি অলির বা খড়্গ প্রসাদ শর্মা অলির দল নেপাল কমিউনিস্ট পার্টি (একীভূত মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী) [সিপিএন ইউএমএল] এভাবে নামে ডাকতে পছন্দ করেন। আর অন্য কমিউনিস্ট পার্টিটা হল, পুষ্প কমল দাহালের [সশস্ত্র সংগ্রামের সময় দেওয়া যার ছদ্মনাম ছিল প্রচন্ড] আরেক ‘নেপাল কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী কেন্দ্র)’।

    মজা হল, কোনো কারণে ২০০৬ সালে নেপালের রাজতন্ত্র উৎখাতের আন্দোলনের পরে ২০০৯ সালে যখন প্রথম নয়া রিপাবলিক নেপাল রাষ্ট্র গঠনের প্রচেষ্টা নেওয়া হয়, তাতে ভোটের ফলাফলে দেখা গিয়েছিল, কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। আর সেটি শুধু ২০০৯ সালের প্রথম নির্বাচনের (গণপরিষদ বা কনস্টিটিউশন প্রণয়নের প্রতিনিধি নির্বাচন) সময়ই নয়, বরং এরপরের এ পর্যন্ত সব নির্বাচনের ফলাফল একই; মানে তিন দলের মধ্যে আসন বিভক্ত। এর মধ্যে নেপালি কংগ্রেস হয়তো সবচেয়ে কম আর অলির কমিউনিস্ট হয়তো সবার চেয়ে বেশি। কিন্তু কোনো দলই কখনো পঞ্চাশ ভাগের বেশি আসন পায়নি। নেপালের রাজনীতি বোঝার জন্য এ বাস্তবতার দিকে খেয়ালে রাখা খুব জরুরি। এ তিনটা মূলদলের বাইরে নেপালে আরও অন্তত গোটা দশেক ছোট দল আছে, যাদের বেশিরভাগই নানা কিসিমের কমিউনিস্ট দল।

    ইন্ডিয়া ২০০৯-২০১৫ পর্যন্ত সম্ভব সবরকমভাবে নেপালে একটা নয়া রিপাবলিক রাষ্ট্র গঠনের বিরুদ্ধে সব কায়দায় সর্বোচ্চ বাধা তৈরি করে গিয়েছিল, যাতে নেপালে কোনো ‘রিপাবলিক কনস্টিটিউশনাল রাষ্ট্র’ হিসাবে পুনঃগঠিত হতে না পারে। কিন্তু তা ততধিক খারাপভাবেই কেবল ব্যর্থ হয়নি; ইন্ডিয়ার এই ততপরতা এতে নেপাল এক চরম ভারতবিরোধী নেপালে পরিণত হয়। সফল হয়ে উঠে দাড়িয়েছিল।  ফলে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে নেপালের নয়া কনস্টিটিউশনের ‘প্রোক্লেমেশন’ বা ঘোষণা সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু সেই শেষ! এর পরের নেপাল গত দশ বছরে ক্রমশ এ’তিন দলেরই দুর্নীতি আর স্বজনপ্রীতির দেশ ও সরকারে পরিণত হয়। আর সেটারই পরিণতি আমরা দেখছি এবারের নেপালের তরুণদের গণ-উত্থান!

    আমি মনে করি, মাত্র দশ বছরেই এমন পরিণতি হওয়ার পেছনের প্রধান কারণ নেপালের রাজনীতিতে প্রকাশিত কমিউনিস্ট আধিপত্য। মনে রাখতে হবে, নেপালে রাজতন্ত্রের বিকল্প হিসাবে রিপাবলিক নেপাল গড়ার প্রধান কারিগর হলেন দাহাল প্রচন্ড, এবং তার সাথে ছিলেন মূলত তাঁরই বিদেশি তবে ইতিবাচক সাপোর্টিংয়ের একাডেমিক বন্ধু বা সিনিয়র একাদেমিক -এরা।

    এতে অনেকের মনে হতে পারে, এটা ভালোই তো হয়েছে। সেটা হয়ত। কিন্তু এর স্ববিরোধটা আমাদের খেয়াল করতে হবে। সেটা হল, একদিকে দাহাল মৌলিকভাবে – মাওবাদী কমিউনিস্ট। তাহলে তিনি নিজ ‘শ্রেণির রাষ্ট্রচিন্তা’ ফেলে এক ‘রিপাবলিক রাষ্ট্র’ গড়ার ভক্ত হন কেমন করে? অনেকেই হয়তো এদিকটা খেয়াল করেননি। মনে রাখতে হবে, মার্কস বা লেনিনের ‘শ্রেণির রাষ্ট্রচিন্তায়’ জনগণ বলে কোনো ধারণা নেই; কোনো চিহ্ন পর্যন্ত নেই!

    জনগণ শব্দটা ইংরেজি ‘পাবলিক’ শব্দের বাংলা। যদিও ‘পিউপল’ শব্দের অন্তর্ভুক্তি মার্কস বা লেনিনের নয়; এটি বরং চীনা মাওয়ের। মাও মোটা দাগে স্টালিনিস্ট (মানে মার্কস বা লেনিনকে নিজের মত করে বুঝা বা রপ্তকারী স্টালিন) হলেও ট্রাডিশনাল ‘শ্রেণির রাষ্ট্রচিন্তা’ থেকে কিছুটা বের হয়ে জনগণ ধারণার দিকে নিজ আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। কিন্তু সব ক্ষেত্রে নয়। শেষ বিচারে মাও-ও ‘শ্রেণি’ না ‘পাবলিক’-কার পক্ষ নেবেন, সে ফয়সালা করতে পারেননি! আবার বলা যায়, পারেননি বলেই চীন এখনো ‘শ্রেণিবোধের কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বের’ চীন হয়েই আছে! পাবলিকের রাষ্ট্র (মানে রিপাবলিক রাষ্ট্র) ধারণার ‘মর্ম উপলব্ধ কোনো চীন’ হতে পারেনি, এখনো।

    বিশেষতঃ, পাবলিক মানে নাগরিক জনগণকে শ্রেণী নির্বিশেষে  মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার এক রিপাবলিক রাষ্ট্র, অধিকার ভিত্তিক এক রাষ্ট্রই আয়েম করতে হবে – এতদুর এখনও মাও বা দেং জিয়াও পিং -এর এখনকার চীন পৌছাতে পারে নাই! অস্পষ্টতায় আছে! যদিও গ্লোবাল হিয়ম্যান রাইট ইস্যুতে একালের চীনের আগেহ ক্রমশ বাড়তেছে!       

     

    আসলে শ্রেণি আর পাবলিক ধারণার মূল ফারাকটা কোথায়ঃ
    রাষ্ট্র মানে মূলত নাকি কোনো না কোনো একটা শ্রেণির রাষ্ট্র; এ কথা বলে মার্কস থেমেছিলেন। লেনিন সেটাকে আরও চরমে নিয়ে বলেছেন, রাষ্ট্র মানে মূলত কোনো না কোনো শ্রেণির একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্র। লেনিনের যুক্ত করা বাড়তি শব্দটা হল – একনায়কতান্ত্রিক; যা মার্কসের বলা অন্তর্নিহিত অর্থটাকে স্পষ্ট করে সামনে নিয়ে এসে বলা। কিন্তু সেটা যাই হোক, মার্কস বা লেনিন কারও ধারণাই ‘পাবলিক’ ধারণাটাকে আপন করে নেয় না।ধারে কাছেও যায় নাই। 

    পাবলিক মানে হলো দেশের ‘এনিবডি’ বা শ্রেণী নির্বিশেষে যে কেউ, যে নাগরিক; এবং তাদের কমন স্বার্থ এটাই পাবলিক বা পাবলিক ইন্টারেস্ট, বাংলায় যা জনস্বার্থ।

    তুলনায় মার্কসের কাছে ‘জনগণ’ বলে কোনো ধারণা-ই নেই। সবই একটা শ্রেণির ধারণা আর এক শ্রেণির বিরুদ্ধে অপর একটা শ্রেণি ধারণা। এবং সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ দিকটা হল, জনগণ বা পাবলিক ধারণাটা এক রাজনৈতিক ধারণা। রাজনৈতিক ধারণা মানে? মানে হল, এটা যেমন এটা রাজনৈতিক অধিকারের ধারণা; যা মার্কসের অভিধানে নেই। বরং ১৯৬৬ সালে এসে এটা বড়জোর অর্থনৈতিক বা বৈষয়িক স্বার্থের ধারণা যেমন – অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিতসা ও বাসস্থানের ধারণা।    পাবলিক শব্দটা যেমন নাগরিক মাত্রই এবং দেশের সবার ন্যূনতম ও কমন এবং সমান অধিকারের ধারণা; এর বিপরীতে শ্রেণি ধারণায় সমাজের কেবল একটা শ্রেণি এবং কেবল তার আধিপত্যের পক্ষে সব সাফাই দেওয়া; সেটা এমনকি তাকে একনায়ক বানানো পর্যন্ত!

    মনে রাখতে হবে, এর সুবিধা নিয়েই আমাদের দেশে ‘চেতনা ব্যবসা’ হাসিনা এত জাঁকজমক করে নিয়েছিলেন – নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা শ্রেণির নেতা বলে ঘোষণা দিয়ে। এতে তিনি বিশেষ ক্ষমতাবান শ্রেণির ক্ষমতার রাষ্ট্রনায়ক দাবি করতেন, আর যারা যাকেই তার বিপরীত শ্রেণি (রাজাকার শ্রেণি) বলে ট্যাগ, লেবেল বা ঘোষণা করে দিতেন, তার আর কোনো নাগরিক অধিকার থাকত না, নাই হয়ে যেত। ফলে তাকে গুম, আয়নাঘর বা গুলি করা  সব জায়েজ হয়ে যেত। এই হল, নাগরিক অধিকারের বিপরীতে শ্রেণিচিন্তার ব্যবহারিক তাণ্ডব এবং পরিণতি।

    তাহলে এবার প্রাসঙ্গিক করে বলি। নেপালের মাওবাদী দাহাল প্রচন্ড, তিনি রিপাবলিক নেপাল গড়লেও তিনি তো আসলে কমিউনিস্ট, শ্রেণিচিন্তার কমিউনিস্ট। ফলে ডিপ অন্তর থেকে  ‘পাবলিক’ ধারণায় কোনো নাগরিক অধিকার ধারণার নেতা তিনি নন! আসলে মৌলিকভাবে ‘রিপাবলিক’ ধারণার নেতাই তিনি নন। তাহলে ‘রিপাবলিক’ ধারণার আবার আলাদা বৈশিষ্ট্য কী? রিপাবলিক বুঝতে গেলে ‘রাজতন্ত্র’ বুঝতে হবে। কারণ রাজতন্ত্র উপড়ে ফেলা, এর বিকল্প নতুন ও এর বিপরীত শাসনব্যবস্থার চিন্তা থেকেই রিপাবলিক (প্রজাতন্ত্র) ধারণার উৎপত্তি। রাজা উতখাত করে বিপরীতে প্রজাদের শাসন!  যেমন রাজার বিপরীতে শাসন ক্ষমতার উৎস কী হবে? শাসককে ক্ষমতা কে দেবে? এরই জবাব হল জনগণ বা পাবলিক দিবে।


    পাবলিক সব ক্ষমতার উৎস। তাই পাবলিকের প্রতিনিধি মানে জনপ্রতিনিধি রাষ্ট্রশাসন করবে। তাই রাজা, সম্রাট, আমির, বাদশার বিপরীতে কোনো ‘নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিই’ কেবল রাষ্ট্রশাসন করবে। এ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির (কোনো শ্রেণির প্রতিনিধি নয়) শাসন সিস্টেমই হলো রিপাবলিক রাষ্ট্র!

    কমিউনিস্ট চিন্তা মাত্রই আইডিয়ালঃ
    আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা মনে রাখতে হবে, কমিউনিস্ট চিন্তা মাত্রই আইডিয়াল [ideal]। মানে “হওয়া উচিত” অর্থে একটা ধারণা। মানে বাস্তবে বাস্তবায়িত করে দেখানো কোন ধারণা নয়! তাই কমিউনিস্টদের প্র্যাকটিসটাই এমন যে, সেটা আসলে কমিউনিস্ট হিসাবে ‘কী হওয়া উচিত’-এরই বয়ান। মানে এটা বাস্তবে বাস্তবায়িত করে দেখানো, কতটা হয়েছে, হওয়া সম্ভব সেই ধারণা একেবারেই নয়। আর এ কারণের দাহালেরা  দশ বছরের ব্যবহারিক শাসন ক্ষমতা চালানোর মধ্যেই একেবারে ব্যর্থ শুধু নয়, চরমভাবে তরুণদের চাহিদা আর হাহাকার বুঝাবুঝি থেকেই বিচ্ছিন্ন!

    এর সঙ্গে রয়েছে দুর্নীতি আর স্বজনপ্রীতিতে ডুবে যাওয়া। আর এখান থেকেই এককালে রাজনীতিবিদদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অ্যাকশন দেখানো সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি তরুণদের প্রধান চয়েজ, তিনি নির্বাহী প্রধানের ক্ষমতায় শপথ নিয়েছেন। আর সেই সঙ্গে প্রধান তিন দলের ছয় সিনিয়র নেতাকে রাজনীতি থেকে অবসরের প্রস্তাবের বাস্তবায়ন চলছে : ‘আমরা ছয়জন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে একটি যৌথ বিবৃতি পাওয়ার জন্য কাজ করছি, যাতে তাদের অবসর নেওয়ার এবং দেশকে নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।’

    তরুণদের এ আপসটা বাস্তবোচিত। কারণ, প্রধান তিনটি দলকেই উচ্ছেদ করে দিলে নতুন রাজনীতির সাময়িক নেতা কে হবে? নয়া নেতা গড়ে উঠতে তো সময় লাগবে! আর এর সঙ্গে দুর্নীতি আর স্বজনপ্রীতি একেবারে নির্মুল না হোক নাগাম টেনে ধরা সহজ কাজ নয়; এছাড়া তা করতে সময় তো লাগবেই!

     

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   ১৯  সেপ্টেম্বর ২০২৫     ভোর রাত ০২ঃ ৫৫

    [এই লেখাটা এর আগে প্রথম ভার্সানে ছাপা হয়েছিল দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় আমারই লেখা এক কলাম হিসাবে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫।  আজ এখানে সে লেখাটারই  আরেক বর্ধিত এক নয়া এডিটেড ভার্সান এখানে আমার নিজ সাইটে ছাপা হল। বলাই বাহুল্য এখানে শিরোনামটাই শুধু নতুন নয় বরং এমন অনেক প্রসঙ্গই নয়া এখানে যোগ করা হয়েছে যেটা পত্রিকার ভার্সানে ছিল না। আসলে পত্রিকার কলাম ভার্সান মানে যেটা যুগান্তরের এডিটরিয়াল পলিসি সঠিক মনে করে সেই ভার্সান; এভাবে দেখাটাই সঠিক হবে। আর তুলনায় এটা আমার নিজ পরিবর্ধিত-এডিটেড ভার্সান মনে করলেই সঠিক হবে বলে আমার বিশ্বাস! ]

  • চীন-ইন্ডিয়া সম্পর্ক কী ঘনিষ্টতা দিকে; এর কী কোন ভবিষ্যত আছে?

    চীন-ইন্ডিয়া সম্পর্ক কী ঘনিষ্টতা দিকে? এর কী কোন ভবিষ্যত আছে?
    গৌতম দাস
    ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫   রাত ২৩ঃ ৪৩
    https://wp.me/p1sCvy-6wP

     

    A united front at Beijing’s massive military parade as Xi, Putin and Kim meet for first time

     

    শেষের কথাটা আগেই যদি বলি তবে এই শিরোনাম-প্রশ্নের ছোট জবাব হল, না। সম্পর্ককে গভীর ঘনিষ্ঠতা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া মোদির ইন্ডিয়ার পক্ষে সম্ভব হবে না। এত পিছনের মূল কারণ, ইন্ডিয়ার নিজ দোদুল্যমানতা। আসলে বলতে গেলে ইন্ডিয়া এমনই। যেমন তারা বলে বা মনে করে থাকে (সেই ২০১৩ সাল থেকে) যে চীন আর আমেরিকার মাঝে দোল খেয়ে কখনও চীন আর কখনও আমেরিকা এভাবে ভাব ধরে এদের দুদিক থেকেই মাখন খেয়ে যাওয়াই হবে ইন্ডিয়ার কৌশলগত নীতি। এটা তো তাদের ২০১৩ সালের সিদ্ধান্ত, যখন ইন্ডিয়া চীনে অনুষ্ঠিত প্রথম বেল্ট-রোড সম্মেলনে দাওয়াত পেয়েছিল, কিন্তু অংশ না নিয়ে নিজেদের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল; তখন থেকেই ইন্ডিয়া এরকমই দায়দায়িত্বহীন সুবিধা চোষা! ঠিক এ কারণেই এখনকার ট্রাম্পের শুল্ক-বোঝায় পর্যুদস্ত ও মার খাওয়া ইন্ডিয়া এতকিছুতে নাস্তানাবুদ হয়েও আবার ইতোমধ্যেই ওই ট্রাম্পের কোলেই ফিরে গিয়ে আবার আশ্রয় খোঁজা শুরু করেছে; আর তাতে বলাই বাহুল্য, এতে এই ইন্ডিয়া এখন চীনের আস্থা অর্জন পর্যন্তই উঠতে পারছে না, পারবে না।

    এবার আস্তে আস্তে ঘটনাবলির ভিতরে প্রবেশ করা যাক। এটা একদম ঠিক যে এখন চীন- ইন্ডিয়া সম্পর্ক-ঘনিষ্ঠতা নিয়ে মিডিয়ায় আলোচনা তুঙ্গে। এর একটা অন্যতম কারণ হল, ঠিক এখনই এবারের বার্ষিক SCO এসসিও (সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন) সম্মেলনের সময়কাল এটা। ফলে  ট্রাম্পের আমেরিকার  সদ্য ছুড়ে ফেলে দেওয়া মোদির ইন্ডিয়াকে, একেও চীন এবারের এসসিও-তে আন্তরিকভাবেই দাওয়াত দিয়ে কাছে ডেকে নিয়েছিল।

    পাশাপাশি সেই সঙ্গে এই ট্রাম্পও প্রায় সব দেশের ওপর কঠোর শুল্কনীতি প্রয়োগ করেছেন। শুরুতে তা চীনের ওপর ছিল সবচেয়ে বেশি। তিনি চীনকে শুল্ক-আরোপ করে পর্যুদস্ত করে ফেলার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু তাতে বাস্তবে ফলাফল উল্টা আসায় আর সঙ্গে আমেরিকার নিজস্ব সরকারি বন্ড বিক্রির ক্রেতা সংকট বা বাজারে ক্রেতা উধাও হওয়া শুরু হতেই ট্রাম্পকে পিছে হটতে হয়। তিনি বাধ্য হয়ে গত জুন মাসেই অনেক ইস্যুতে সরাসরি চীনের সঙ্গে এক ধরনের আপস করে ফেলেন।

    অনুমান করা যায়, এ ঘটনা থেকেই চীন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবারের এসসিও সম্মেলনটি বিরাট জাঁকজমকপূর্ণ এক সামরিক শো-আপ করে করবেন!


    SCO তে এবার সামরিক শো-আপ কেনঃ
    অনেকেই খেয়াল করেছেন যে এই সামরিক শো-আপে সম্ভবত ২৬ দেশের প্রধান ব্যক্তিত্বদের (রাষ্ট্রপ্রধান নয়ত প্রধান নির্বাহী প্রধানমন্ত্রী অথবা ন্যূনপক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের) একটি দলকে সঙ্গে নিয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি হেঁটে যাচ্ছেন, যার দুপাশে হাঁটছেন একদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন আর অন্যদিকে উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম-জং-উন!

    এসবের মধ্যে আরেক বৈশিষ্ট্য ছিল প্রেসিডেন্ট শির ‘পোশাক’। তিনি পরেছিলেন কমিউনিস্ট পার্টির বিশেষ ড্রেস, যেটা মাও – কেই সবসময় পরতে দেখা যেত। প্রেসিডেন্ট শি একালে নিয়মিত নরমাল পোশাক পরলেও সেদিন ছিলেন একেবারেই পার্টি ড্রেস-কোডে সজ্জিত! এসব থেকেই পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল, বিশেষ ‘অর্থ ও প্রতীকের’ মাধ্যমে এবারের এসসিও সম্মেলন পালন করার পরিকল্পনা নিয়েছিল চীন।

    গত বিশ বছর চীন সামরিক দিক থেকে কী কী খাতে ব্যাপক অর্থ ব্যয় করে নিজেকে সজ্জিত করে চলছিল তা জনসমক্ষে আনেনি; এদিনটা ছিল আসলে সেটারই প্রদর্শনী ও মহড়া। যে মহড়ায় আবার বেশির ভাগ অস্ত্র-সরঞ্জামই হলো নিউক্লিয়ার এনার্জি-সংশ্লিষ্ট!

    এখানে একটা কথা আশা করি অতি-উক্তি হবে না যে, এর ফলে এসসিও পারমাণবিক অস্ত্রের প্রদর্শনীতে পরিণত হয়েছিল ওদিনে। কিন্তু এমন কেন? বিশেষ করে অনেকেরই অজানা হয়ত যে চীন-চীন সাগর/দুই কোরিয়ার উপকূল এলাকাকে অ-পারমাণবিক জোন হিসাবে ঘোষণা করা যায় কিনা এরই একক প্রস্তাবক হল চীন নিজেই!

    তাহলে এখানে এমন চীনা আচরণের ব্যাখ্যা কীঃ
    মনে রাখতে হবে, কোনো রাষ্ট্রের অন্য রাষ্ট্রের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপ (যেখানে গ্লোবাল অর্থনীতির নয়া একালের অভিমুখ হল শুল্ক কমানো, ৮ শতাংশের মধ্যে রাখা) মানেই এটা হল আন্তঃরাষ্ট্রীয় বাণিজ্য যেটা আসলে গ্লোবাল বাণিজ্যের বিকাশ মেন-স্ট্রিম অভিমুখ সেটাকে পাথর চাপা দিয়ে গ্লোবাল বাণিজ্যের আমদানি-রপ্তানির পিঠে সরাসরি ছুরিকাঘাত! যেটা অর্থনৈতিক সংরক্ষণবাদিতা বা অর্থনৈতিক উগ্র-জাতীয়বাদিতা! সর্বোপরি এটা আত্মঘাতী! গত ১৯৮০ সাল থেকে পথচলা শুরু এই বৈশ্বিক বাণিজ্যব্যবস্থায় এখন আর পিছনের দিকে ফেরা বা যেটা অর্থনৈতিক উগ্র-জাতীয়বাদিতা সেদিকে গন্তব্য ঠাউরানোর আর সুযোগ নেই। এতে সবার আগে নিজ রাষ্ট্রের অর্থনীতিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে সবচেয়ে বেশি!

    ট্রাম্পের বাড়তি শুল্কনীতির খাঁড়া – প্রত্যক্ষ অর্থ এটাই! যদিও ট্রাম্প ভাবছেন, আমেরিকাকে ছাড়িয়ে শীর্ষ উদ্বৃত্ত অর্থনীতির দেশ হিসাবে উঠে আসা চীনের অগ্রগতি এভাবেই তিনি ঠেকায় দিতে পারবেন! অথচ তিনি খেয়াল করছেন না, আমেরিকার পিছিয়ে পড়া বা একঘরে হয়ে যাওয়ার পথেই হাঁটছেন তিনি!

    আর এ থেকে চীনের অনুমিত ভয় হল, ট্রাম্প হেরে গিয়ে শেষে পাগলামি করে না  যুদ্ধ লাগিয়ে দেন; অথবা ব্যর্থতা ঢাকার অন্য কোন ব্যর্থ চেষ্টা!

    ফলে আমার অনুমান পাগলা ট্রাম্প যেন সেদিকে যেতে প্ররোচিত না হয়ে যান, তাই আগেই চীন নিজ সামরিক প্রস্তুতির প্রদর্শন করে রাখলেন। বিশেষ করে চীন যেন বোঝাতে চাইল, সামরিক দিক দিয়ে ট্রাম্প ও তার সহচররা পরিচালিত হতে যেন উৎসাহী না হয়ে যায়। আর সেটারই একটা কসরত – এক ইনডাইরেক্ট ফ্রি কিক – যেন মেরে রাখল চীন! যেমন প্রেসিডেন্ট শি নিজের দুপাশে রাশিয়া আর উত্তর কোরিয়া নিয়ে দলবদ্ধ হাঁটার প্রতীকী অর্থ আমার কাছে এমনই মনে হয়েছে। যারা দুদেশ মূলত পারমাণবিক দিক থেকে খুবই সামরিক সজ্জিত!

    এক কথায় এর প্রতীকী সম্ভাব্য উদ্দেশ্য হল, পাগলা ট্রাম্পকে ডিসকারেজ (নিরুৎসাহিতার প্রভাব) করে ফেলা!

    এবার এই আলোচনার দ্বিতীয় অংশঃ
    অথচ চীন সেই সম্মেলনে ভারতকেও আদর করে ডেকেছিল আর তাতে গলে গিয়ে দীর্ঘ সাত বছর পরে এই ওছিলায় খোদ মোদি এবার চীন সফরে গিয়েছিলেন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট শির ওই দলবদ্ধভাবে প্রতীকী হাঁটার মিছিলে শির আশপাশে মোদির স্থান হয়নি।

    বরং বিপরীত পর্দার কথা আমরা এখন জেনে গেছি। আমরা দেখেছিলাম মোদির বাণিজ্যমন্ত্রী পীযুষ গোয়েলকে! কী করেছেন তিনি?

    নভেম্বরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি, ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী

    তিনি আমাদের জানিয়েছেন, ট্রাম্পের সঙ্গেই ইন্ডিয়ার শুল্ক আলাপ নাকি এখনো চলছে। আর তিনি আশা করছেন, মোদির ইন্ডিয়া আবার সেই ট্রাম্পের কোলেই মুখ গোঁজার পরিকল্পনা করছে। আর তাতে তিনি দাবি করেছেন, নভেম্বরের মধ্যেই আমেরিকার সঙ্গেই আবার একটা রফায় পৌঁছাতে পারবেন!

    এই হলো ভারতের মোদি! তিনি ট্রাম্পের কোলে উঠে যাওয়ার ভয় দেখিয়ে চীনের কাছে সুবিধা চাইবেন, আবার পরক্ষণেই চীনের কোলে উঠে যাওয়ার ভয় দেখিয়ে ট্রাম্পের কাছে সুবিধা ভিক্ষা করবেন। এভাবেই তিনি এখনো চলতে চান, এটাই আসল ইন্ডিয়া! গত ২ সেপ্টেম্বর ভারতের ‘ফরচুন ইন্ডিয়া’ পত্রিকার রিপোর্টের শিরোনাম পীযুষ গোয়েল আশা করছেন, আগামী দুমাস নভেম্বরের মধ্যে ট্রাম্পের সঙ্গে একটা রফাতে নয়া শুল্ক-চুক্তিতে পৌঁছানো যাবে!

    কিন্তু বাস্তবতা কি তাই হবে? মনে হচ্ছে না। মূল কারণ এটা ২০১৩ সাল নয়, ২০২৫ সাল! চীন-আমেরিকা দুদিক থেকেই সেকালের মতো মাখন খেয়ে ভারত উপরে উঠে যাবে – সেই তত্ত্ব, এখন আর এত সহজে খাটবে না। এটারই প্রথম প্রতিফলন হল,

    মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রীর ‘ভারত দুই মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষমা চাইবে’

    আর দ্বিতীয়তঃ
    প্রেসিডেন্ট শি দুপাশে পুতিন আর কিমকে নিয়ে হাঁটছেন অথচ আশপাশে মোদির কোনো ছায়াও দেখা যাচ্ছে না- এই প্রতীকী দৃশ্যে!

     

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   ১১  সেপ্টেম্বর ২০২৫    রাত ১১ঃ ৫৪

    [এই লেখাটা এর আগে প্রথম ভার্সানে ছাপা হয়েছিল দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় আমারই লেখা এক কলাম হিসাবে, গত ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫।  আজ এখানে সে লেখাটারই  আরেক বর্ধিত এক নয়া এডিটেড ভার্সান এখানে আমার নিজ সাইটে ছাপা হল। বলাই বাহুল্য এখানে শিরোনামটাই শুধু নতুন নয় বরং এমন অনেক প্রসঙ্গই নয়া এখানে যোগ করা হয়েছে যেটা পত্রিকার ভার্সানে ছিল না। আসলে পত্রিকার কলাম ভার্সান মানে যেটা যুগান্তরের এডিটরিয়াল পলিসি সঠিক মনে করে সেই ভার্সান; এভাবে দেখাটাই সঠিক হবে। আর তুলনায় এটা আমার নিজ পরিবর্ধিত-এডিটেড ভার্সান মনে করলেই সঠিক হবে বলে আমার বিশ্বাস! ]

  • ঘরের ভিতরে-বাইরে বড় সংকটে ইন্ডিয়া!

    ঘরের ভিতরে-বাইরে বড় সংকটে ইন্ডিয়া!
    গৌতম দাস
    ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সন্ধ্যা  ০৭ঃ ৪৭
    https://wp.me/p1sCvy-6wC

     

     

    ঘরের ভাঙন

     

     

    গত কয়েকদিন হল, ইন্ডিয়া-আমেরিকার মানে ট্রাম্পের আমেরিকা আর মোদির ইন্ডিয়ার মধ্যে “যুদ্ধ” তুঙ্গে উঠেছে। বিষয়টা হল, ট্রাম্পের ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ বাড়তি শুল্কারোপ কার্যকর হওয়ার ইস্যু। মানে এতদিন যা ছিল প্রস্তুতি পর্ব, এবার সেটি পাগলা ট্রাম্প বাস্তবে শুরু করে দেখিয়েছেন! এর সঙ্গে শুরু হয়েছে  উভয় পক্ষের বাকযুদ্ধ!
    যেমন, ভারতের ওপর ট্রাম্পের নয়া শুল্কনীতি আরোপ কার্যকর হয়েছে ২৭ আগস্ট ২০২৫ বা গত মাসের ২৭ তারিখ থেকে। আর এ ‘‘নতুন নিয়ম চালু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় গণমাধ্যম ‘ব্লুমবার্গ’কে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো।’’

    এ বাড়তি শুল্কারোপ কেন জায়েজ আর তা প্রমাণ করার জন্য ইন্ডিয়া (এখন কত খারাপ) আর মোদি আমেরিকার বিরুদ্ধে কী কী খারাপ কাজ করেছে এর বর্ণনা উল্লেখ করেছেন ট্রাম্পের এই বাণিজ্য উপদেষ্টা। এ নিয়ে আনন্দবাজারের এক বর্ণনাও পাওয়া যাচ্ছে। সেটি হল, ঐ ‘ব্লুমবার্গ’ সাক্ষাৎকারে নয়াদিল্লিকে ‘একগুঁয়ে’ বলে তোপ দাগেন তিনি। পাশাপাশি, ইউক্রেন সংঘাতকে ‘মোদির যুদ্ধ’ বলেও উল্লেখ করেছেন নাভারো।

    আমেরিকার চোখে ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকেই আমেরিকা কোন দেশের রাশিয়ার পণ্য কেনাবেচা নিষিদ্ধ বা অবরোধপ্রাপ্ত বলে ঘোষণা করেছিল। সোজা কথায় রাশিয়ান তেল রপ্তানি / কেনাবেচা বন্ধ। ফলে, আমেরিকার চোখে ইন্ডিয়ার কেনাকাটাটা অন্যায় ও অপরাধ! বিপরীতে ইন্ডিয়া মনে করে, এমন তেল আমদানি-বাণিজ্য এটা তার নিজ বাণিজ্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার “সার্বভৌম অধিকার”। আর এর বিপরীতে আমেরিকার ট্রাম্প বা তার বাণিজ্য উপদেষ্টা নাভারো বলবেন বা মনে করেন, রাশিয়া/ভারতকে বাধা দেওয়াটাও তার অধিকার! সেই অধিকার ফলাতে ট্রাম্প ইন্ডিয়ার উপরে ৫০ শতাংশ শুল্কারোপ করে ঠিক করেছেন!
    এমন পরিস্থিতিতে এ্টাকে  অধিকারের তর্ক করে রাখলে এথেকে কোনো সমাধান আসবে না তা বলাই বাহুল্য! বিশেষ করে সারা ইন্ডিয়ান অর্থনীতির আমেরিকায় রপ্তানি বন্ধ হওয়াতে ইমিডিয়েটলি যখন প্রবল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ইন্ডিয়া! তাই, ইন্ডিয়ার দরকার এখনই সমাধান!

    আসলে প্রশ্নটা এখানে নয়। ২০০১ সালে বুশের ‘মুসলমান কোপানো’ শুরু হয়েছিল ‘ওয়ার অন টেররের’ নামে। আর ইন্ডিয়া তাতে খুবই খুশিতে হাততালি দিয়ে উঠেছিল, এতে চারদিকে নিজের ফায়দার সয়লাব দেখতে পেয়ে! আর সেই থেকেই আমেরিকার কোলে উঠে বসে গলা জড়াজড়ি করে ধরা কঠিন বন্ধু হয়ে উঠার শুরু ইন্ডিয়ার! সেসব কি এখন ইন্ডিয়ার মনে পড়ছে? পড়ছে না!
    বরং পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর কূটনৈতিক জ্ঞানবুদ্ধি ফেলে রেখে এখন এ বাণিজ্য উপদেষ্টা নাভারোকে সামলাতে গেছেন এই বলে যে, মুসলমান ‘এই জাত’ মানে এই ‘এথনিক-জাত গোষ্ঠীটাই খারাপ’ একথা বলে! মানে জয়শঙ্কর  আঙুল তুলে বলছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে এখন পাকিস্তানের সম্পর্ক ভালো কেন? কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর? জয়শঙ্করের চোখে এগুলা হল, ট্রাম্পের মুসলমান প্রীতির নিদর্শন!

    তাই জয়শঙ্কর এবার ব্যাপক ফিরিস্তি দিয়েছেন, “মুসলমান রাষ্ট্রের সঙ্গে আমেরিকার সারা জীবন খাতির ছিল” আর সেকারণেই।আমেরিকা এখন মোদি-জয়শঙ্করদের চোখে খুবই খারাপ দেশ! আর স্বভাবতই তাতে শীর্ষে এসেছে পাকিস্তানের নাম!

    কিন্তু মোদি-জয়শঙ্করের মনে রাখা উচিত, ভারত-আমেরিকার যৌথ উদ্যোগে আইএসের সঙ্গে একালে সম্পর্ক রাখছে, এটা কিন্তু আমরা ভুলিনি! বিশেষ করে আফগানিস্তানে আইএসের (খোরসান) সঙ্গে সম্পর্ক এবং স্যাবোটাজের যৌথ উদ্যোগগুলোতে! পাকিস্তানে চীনা ‘গোয়াদার অবকাঠামো প্রজেক্টে’ হামলা কিংবা সর্বশেষ বেলুচিস্তানে আস্ত একটা ‘প্যাসেঞ্জার-ট্রেন ছিনতাই’-এর মতো ঘটনা; এগুলো কীসের প্রমাণ? একাজে আমেরিকা-ইন্ডিয়ার যৌথ প্রযোজনায় ‘মুসলমান কোপানো’-এটা তো নিশ্চয় খুবই সুস্বাদু লেগেছিল মোদি-জয়শঙ্করের! এভাবে এই আমেরিকারই হাত ধরে এতদিন ফায়দা নিতে?

    তাহলে এটা কেমন মোদি-জয়শঙ্করের হিন্দুত্ববাদ? যেটা খোদ আইএস এর সাথে সম্পর্ক রেখে চলে এমন হিন্দুত্ববাদ?  যেখানে আইএস (খোরসান) বা উইঘুরের বিদ্রোহী মুসলমান; এদেরকে মোদি-জয়শঙ্করেরা নিজেদের অ্যালায়েন্স পার্টনার/বন্ধু হিসাবে কোলে তুলে নেয় কেমন করে? এটা কেমন হিন্দুত্ববাদ?

    যাই হোক, বোঝা যাচ্ছে, এতদিনের ভারত-আমেরিকার বিশেষ অ্যালায়েন্সের মাখন এরা দুই রাষ্ট্র মিলে খেয়ে গিয়েছিল অসুবিধা হয়নি; আর মুসলমান এ ‘এথনিক-জাত গোষ্ঠীটাই খারাপ’ বলে নিজেদের হীন কাজের সাফাই দিয়ে গেয়েছিল, যারা আজ সেই মোদি-জয়শঙ্করের হিন্দুত্ববাদই বিপদে পড়ে গেছে; আমেরিকার সঙ্গে খাতিরদারি সব সম্পর্ক ভেঙেচুরে গেছে, এমনকি উলটা ঘটনাটা হল, মোদি এবার খোদ চীনের কোলে উঠে বসেছে! কেন?

    কারণ, নাভারো বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ তো আসলে ছিল ‘মোদির যুদ্ধ’!

    কিন্তু তাতে এটা মোদি-জয়শঙ্করের কেন এত লেগেছে? কারণ, এটা কোন কূটনৈতিক বাতচিতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা ঝগড়া-বাকযুদ্ধ নয়। এ্টটা একেবারে ভারতীয় অর্থনীতির বিশেষ করে রপ্তানি-বাণিজ্যের ভেঙে পড়ার সংকট! যা সরাসরি ভারতের ভাতের স্বার্থ! যেটি থেকে বের হতে, হিন্দুত্ববাদ বেচে মোদি-জয়শঙ্করেরা কোনো সমাধান বা উপায় বের করতে পারছে না! এমনই গভীর সংকট এটা!

    প্রসঙ্গ দুইঃ
    এদিকে মোদির ইন্ডিয়ার ঘরের বা অভ্যন্তরীণ ইস্যুতেও শান্তি নেই! একের পর এক অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে মোদির সরকার পর্যদুস্ত! যেমন, ভুয়া ভোটার লিস্ট ইস্যু! এটা আর এখন প্রমাণহীন বা প্রমাণ করতে হবে তারপর – না, এমন ইস্যু নয়! বরং একেবারেই মোদি কোণঠাসা! তিনি এখন চেষ্টা করছেন এর দায় যতটা সম্ভব নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপাতে!

    ওদিকে এতদিন মোদির ভাড়াটে মিডিয়া বিবিসি বাংলা এবার মোদিবিরোধী এক রিপোর্ট ছেরেছে। মারাত্মক এর হেডলাইনটা দেখেন –‘ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকার নির্বাচনে জিতেই কি মোদি প্রধানমন্ত্রী।’ এই এক শিরোনামই অনেক কিছু বলে দিচ্ছে। সাথে  ভেতরের উপশিরোনাম –‘ভোট চুরির অভিযোগ, এসআইআর বিতর্ক’। আবার রাহুল গান্ধীর অভিযোগ থেকে উপশিরোনাম, ‘গুজরাট মডেলের ভোট চুরি’। আর সবচেয়ে মারাত্মক রাহুলের এসব অভিযোগের প্রতি ডিএমকে, সমাজবাদী পার্টি, আরজেডি, তৃণমূলের সমর্থন। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী মমতার ভাতিজা তৃণমূল নেতা অভিষেক ব্যানার্জি … দাবি করেছেন, ভোটার তালিকায়… কারেকশন ‘সেটা করতে হবে আর সেই প্রক্রিয়ার সূচনা হতে হবে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের মধ্যে দিয়ে’। মমতাও অনেক জায়গায় ভারত ভেঙে যাবে কিনা সেই সংশয়ের ইঙ্গিত জানিয়ে আজকাল কথা বলতে শুরু করেছেন। এসব শিরোনাম থেকেই পাঠক বুঝতেই পারছেন, কেমন অভ্যন্তরীণ সংকটে পড়েছে মোদি-অমিত শাহেরা!

    ‘পঁচাত্তর বয়সে পা দেওয়া’ বিতর্কঃ
    ওদিকে দ্বিতীয় অভ্যন্তরীণ প্রসঙ্গঃ যেটা আরও বড় সংকটের- সেটা হল, বিজেপি-আরএসএসের নেতাদের ‘পঁচাত্তর বয়সে পা দেওয়া’ বিতর্ক! মোদি ২০১৪ সালে নিয়ম এনেছিলেন, নেতাদের বয়স পঁচাত্তর হয়ে গেলেই প্রধান প্রধান পদ থেকে অবসরে যেতে হবে। এভাবে তিনি আদভানিসহ বড় নেতাদের সরিয়ে নিজে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। আর সেই নিয়মে পড়ে এখন তিনি নিজের ফ্যাসাদ এনেছেন। ওদিকে আরএসএসের প্রধান ভগবতও সেপ্টেম্বরে মোদির ছয় দিন আগে পঁচাত্তর বয়সে পা রাখবেন জানা যাচ্ছে।

    বিজেপি-আরএসএস দ্বন্দ্বটা মূলত ২০২৪ -এর নির্বাচনের সময় থেকে – যখন নিজেদের দ্বন্দ্ব মিটাতে না পেরে আরএসএসের সমর্থন ছাড়াই সেবার (২০২৪) বিজেপি একাই নির্বাচন করবে বলে মোদি-অমিত ঘোষণা দিয়েই নির্বাচন করেছিলেন। আর এখন মোদি অবসরে গেলে কে হবেন প্রধানমন্ত্রী-এ তর্কে মোদির প্রার্থী অমিত শাহ আর আরএসএসের প্রার্থী উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী!

    সর্বশেষ ২৮ আগস্ট এনডিটিভি এর রিপোর্টঃ
    সর্বশেষ ২৮ আগস্ট এনডিটিভি আরএসএসের প্রধান ভগবতের রেফারেন্সে বলেছেন, তিনি কোনো পদত্যাগে যাচ্ছেন না; এসব নিয়ে তিনি কথা বলছেন না। আর এতে এ বক্তব্যের মানে করা হয়েছে এভাবে যে, মোদি পদত্যাগ না করলে, তিনিও পদত্যাগ করবেন না।

    ভারতের জন্য এটাও আরেক বিরাট সংকট! কেন?
    বিজেপি-আরএসএস দ্বন্দ্বটা যে মূল থেকে, তা হল, ১৯৪৭ সাল থেকেই একমাত্র হিন্দুত্ববাদ দিয়ে ভারতকে শাসন বা জবরদস্তিতে এক করে ধরে রাখা এক ভারত রাষ্ট্র থেকে, যেটা শুরু হয়েছিল-এখন এটাই এর শেষের দিনের দিকে যাচ্ছে। তথাকথিত ‘কেন্দ্রের শাসনের’ কথা বলে নেহেরু যেটা (সফট হিন্দুত্ববাদ দিয়ে) শুরু করেছিলেন, সেটা নেহেরুর ১৯৬৪ সালে মৃত্যুর পরে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত টিকতে পেরেছিল। পরের নরসীমার কংগ্রেসি শাসন ছিল যেন বিজেপিকেই প্রস্তুত হয়ে আসার সময় দেওয়া। কাশ্মীরের (১৯৮৯ সালে) খোলাখুলি ভোট চুরি, যা কাশ্মীরের রাজনীতিকে সশস্ত্র পথে পাঠিয়ে এবার সেই থেকে জঙ্গিবাদের অভিযোগ (মুসলমান কোপানো) শুরু করা, ২. বাবরি মসজিদ ধ্বংস, ৩. বাজপেয়ির সীমা পাড় কী আতঙ্কবাদ বলে পাকিস্তানকে দায়ী করে চোটপাট; ৪. আর এরপর থেকেই ক্রমশ উগ্র হিন্দুত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করে মোদির শাসন দিয়ে (২০১৪) ইন্ডিয়া এক করে ধরে রাখার যে প্রচেষ্টা চলতি শতকে শুরু হয়েছিল, সেটাও এবার যেন ২০২৫ সালে এসে মুখ থুবড়ে পড়তে যাচ্ছে!!!

    মূল কথাটা হল, তাতপর্যপুর্ণভাবে, এবার সব ধরনের হিন্দুত্ববাদেরই শেষ হওয়া আসন্ন সম্ভবত! এমন কঠিন ইঙ্গিত, এটাই মুখ্য হয়ে উঠা শুরু করেছে ভারতের চারদিকে!
    আজকে প্রকাশিত ইন্ডিয়া টুডে তে এই রিপোর্ট যা বাংলাদেশে এক মিডিয়ার অনুবাদ দেখেন জনমতের পাল্টা হাওয়া, পতনের মুখে মোদির জনপ্রিয়তা: সমীক্ষা।

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫    সন্ধ্যা ০৭ঃ ৪৮

    [এই লেখাটা এর আগে প্রথম ভার্সানে ছাপা হয়েছিল দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় আমারই লেখা এক কলাম হিসাবে, গত ৩১ আগষ্ট ২০২৫।  আজ এখানে সে লেখাটারই  আরেক বর্ধিত এক নয়া এডিটেড ভার্সান এখানে আমার নিজ সাইটে ছাপা হল। বলাই বাহুল্য এখানে শিরোনামটাই শুধু নতুন নয় বরং এমন অনেক প্রসঙ্গই নয়া এখানে যোগ করা হয়েছে যেটা পত্রিকার ভার্সানে ছিল না। আসলে পত্রিকার কলাম ভার্সান মানে যেটা যুগান্তরের এডিটরিয়াল পলিসি সঠিক মনে করে সেই ভার্সান; এভাবে দেখাটাই সঠিক হবে। আর তুলনায় এটা আমার নিজ পরিবর্ধিত-এডিটেড ভার্সান মনে করলেই সঠিক হবে বলে আমার বিশ্বাস! ]

     

     

  • পড়াশুনা না করা রাজনীতিবিদ এর দিন শেষ!

    পড়াশুনা না করা রাজনীতিবিদ এর দিন শেষ!
    গৌতম দাস
    ২৫ আগষ্ট ২০২৫
    https://wp.me/p1sCvy-6vT

    যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাণিজ্য যুদ্ধ বিশ্বে প্রভাব

    বোমা ফেটেছে! কিন্তু তবু হুঁশ নাই!
    শত প্রমাণ দিলেও বিশ্বাস করে নাই একদল লোক / রাজনীতিবিদ যে, বাংলাদেশের উপর ইন্ডিয়ান আধিপত্যের দিন আর নাই, সেসব নাই হয়ে গেছে। কিন্তু মনের বাঘ থেকে গেছে।  আর সেই সাথে ট্রাম্পের আমেরিকা আর ইন্ডিয়াকে বরকন্দাজ রেখে ও থাকার জন্য বিশেষ সুবিধা দিয়ে বিনিময়ে বাংলাদেশের উপর ইন্ডিয়ার প্রভাব বিস্তারের কারবার আর করবে না, এসবও ছেড়ে  দিয়েছে অনেক আগেই।  কখন থেকে? নিশ্চিতভাবেই  এক. হাসিনার উতখাত আর দুই. ট্রাম্পের নয়া শুল্কনীতি প্লাস অন্যান্য কিছু নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ক্ষমতায় আসীন হবার পর থেকে অন্তত!

    কিছু পরগাছা পোকা আছে ‘এটুলি’ বলে আঞ্চলিকভাবে, এরা পশুর গায়ে লেগে থাকে সহজে খসে বা ঝড়ে পরে যায় না, লেগেই থাকে আর রক্ত চুষতে থাকে। “ইন্ডিয়ান প্রভাব বাংলাদেশের উপর থেকেই আছে ফলে ইন্ডিয়াকে তেল মেরে চলতে হবে” – এই হল সেই এটুলি ধারণা!  এমন ধারণা-মনের কিছু রাজনৈতিক নেতা ও তাদের দল বাংলাদেশে আছে যেমন বিএনপি আর জামায়াত! এদের দলের উপর এটুলি হয়ে লেগে থাকা ধারণা আছে তাদের মনে যে, ইন্ডিয়ার কোলে উঠে বসে থাকতে হবে এই চিন্তা পয়দা হয়ে আছে সেখানে। এমন ধারণার সবচেয়ে বড় হয়ে লেগে থাকা রাজনীতিবিদ হল এখন বিএনপির তারেক জিয়া আর জামায়াত এর টপ তিন নেতা; সাথে অবশ্য কমবেশি আরো অনেকেই আছে। আর ওদিকে ঠিক একই ভাবে আছেন মোদি সাব  – যিনি ভেবেই গেছেন যে উনি “এখনও রাজা আছেন” –  বাংলাদেশের উপরে এই ভাব ছড়িয়ে বসে থাকা ব্যক্তিটা ছিল (ছিল বলতে হচ্ছে কারণ তিনি নিজেই এখন জেনে গেছেন তিনি আর নাই ) নরেন্দ্র মোদি।  ট্রাম্পের নির্বাচনের আগে থেকেই মোদি এবং সাথে হাসিনাও বিরাট আশা নিয়ে ট্রাম্পের জিতা দেখতে বসে ছিলেন যে এবার তাদের আকাঙ্খী বরপুত্র ট্রাম্প জিতে আসতেছেন। উনি এলেই মোদি বাংলাদেশের উপর হারানো সাম্রাজ্য বা আধিপত্য ফিরে পাবেন ফলে ইউনুসকে দেখায় দিবেন, উপড়ে ফেলবেন ইত্যাদি!
    এই আওয়াজ এতই তীব্র ছিল যে হাসিনাও তারা চোরা অনুসারীদের মনোবল বাড়াতে একই সুরে গান ধরেছিলেন যে, ট্রাম্প ক্ষমতায় এলে পরে লীগ ও হাসিনার চোর গংদের ভাগ্য আবার খুলবে! তারা নাকি আবার  বাংলাদেশের ক্ষমতায় ফিরে আসবে!!!!!

    কিন্তু হায় দিন আর কাটে না, তাদের প্রবল কামনার আকাঙ্খাও সত্য হয় না! ফলাফল? ফলাফল নিম্নচাপ!!!  ট্রাম্প ক্ষমতায় আসীন হবার পর আমাদের এ-অঞ্চল থেকে ট্রাম্পের প্রথম ভিজিটির হন মোদি কারণ, তিনি আর ধৈর্য রাখতে পারছিলেন না। কিন্তু ফলাফলে তাতেই ইন্ডিয়ার সব স্বপ্ন-আকাঙ্খা ভেঙ্গে পড়া শুরু হয়ে যায়। মোদি তবু বিশ্বাস করতে পারছিলেন না এই ভেঙ্গে পড়া নিজ চোখে দেখেও। ততোধিক দুরবস্থা তার সাঙ্গপাঙ্গোদের এমনকি তাতে লীগ / হাসিনারও!

    সবশেষ একেবারে মুকখে মারা বোমাঃ
    সবশেষে ট্রাম্প একলাই নিজ-ফয়সালা ঘোষণা  করে দেন যে আমেরিকায় ইন্ডিয়ান রপ্তানির উপর ধার্য শুল্ক হবে ৫০%। এই হল সেই মুকখে মারা বোমা!!!
    কারণ এবার আর ট্রাম্পের আমেরিকার ইন্ডিয়ার প্রতি নীতি-মনোভাব আর মোদি থেকে লুকায় রাখার সুযোগে থাকলেন না, মোদি সবটাই হারালেন। ট্রাম্পেরও সব উদাম হয়ে গেল!

    গত ২০০৬ সালে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট (বাবা বা সন্তান বুশ) জর্জ বুশ কংগ্রেসের আমলে ইন্ডিয়া সফরে এসেছিলেন। গত শতকের ষাটের দশকের পর্‌ কোন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট সেই প্রথম এসেছিলেন ইন্ডিয়াতে। আর সেই থেকে শুরু হয় ইন্ডিয়ান রুস্তমি, বাংলাদেশের উপর চোটপাট আর আধিপত্য নিয়ে জেঁকে বসবার খায়েস ও ততপরতা!  – মুই কী হনু রে! চিনস আমারে!!! – টাইপের হম্বতম্বি!
    পরে এসবের হাত ধরে আমাদের উপরে এসেছিল কুখ্যাত ১/১১!  ফলে আরো রুস্তমি ইন্ডিয়া-রাজ কায়েম করে ছেয়ে ফেলা!! আর তা ইন্ডিয়ান র-এর একেবা্রে বাংলাদেশের সেনা সদরে বসে অফিস খুলে বসা পর্যন্ত ঠেকেছিল! আর কী লাগে?
    আর এতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ দল কে ছিল বা কী হয়েছিল অর্থে, সেটা ছিল বিএনপি আর সেই সাথে ততোধিক খারাপ অবস্থায় ঝড় বয়ে যাওয়া অবস্থার দল জামায়াত – এই দুই দল! সাধারণ ভাবে অবশ্য ইসলামি দল মাত্রই এই দুর্দশায় পড়েছিল!!

    অথচ সেই বাংলাদেশের সেনা সদরে জেঁকে বসা ইন্ডিয়ান র ও বসানোর কারিগর হাসিনা সমুলে উতখাত হয়ে গেল ৫ আগষ্ট ২০২৪ সালে।  কিন্তু তবুও এদুই দল তারেকের বিএনপি আর জামায়াত এখন আরো জোরে সরে সেই ক্ষতবিক্ষত ইন্ডিয়ার ধরেই ক্ষমতায় যেতে হবে বলে আরো শক্ত বিশ্বাসে বসে আছে!! জামায়াত নিজ ঘাড়ের উপর “প্রামাণিকের হিন্দু জোট” কান্ধে নিয়ে হাঁটছে তো হাঁটছেই!  এ কোন তামাসা? সব তামাসাই তামাসা!!!  নাকি মোদির এক ক্যাশিয়ার গৌতম আদানির অর্থ কী এতই সুস্বাদু বা ক্ষমতাবান????
    যার মানে হল, যে তাঁকে গুষ্টিশুদ্ধ তছনছ করে দিল, বউ-সন্তান নিয়ে গেল তাকেই বিএনপি-জামায়াত ভক্তিভরে সালাম দিচ্ছে শুধু না তারই কোলে উঠে আশ্রয় খুঁজছে!!!! কেন?
    এছাড়াও, সর্বশেষ অবশ্য অল্প কিছু জেনারেলও এই পথে! তাদেরকেও মোদির বরকন্দাজ হতেই হবে! হাসিনা নাই তাই নিজেদেরকেও এগিয়ে এসে খেদমতে লাগতে হবে!

    একেবারে মূল কারণ পড়াশুনা না করা রাজনীতিবিদ এরাঃ
    একালের মানে চলতি শতকের [২০০১ +……] শুরু থেকেই দুনিয়া আর আগের মত নাই। অবশ্য এটা সবাই দেখতে পাবে না যদি না এনিয়ে পড়াশুনা কিছু থাকে! এর গোড়া বা রুট-ফ্যাক্টস হল – গ্লোবাল রাজনীতি আর গ্লোবাল অর্থনীতি নতুন করে মোঁচড় নিয়েছে, ১৯৪৫ সালের পরে আবার। যদিও আসলে সেখানে মূল নিয়ামক হল কেবল – গ্লোবাল অর্থনীতি – আর তাথেকে অনুষঙ্গ হিসাবে গ্লোবাল রাজনীতিও সাথে এর সব পুরানা নিয়মকানুনও! আর এদিকটা বুঝতে গেলে এবার পড়াশুনা লাগবেই! এককথায় বললে  পড়াশুনা না করা রাজনীতিবিদ এই চলতি শতকে একেবারে অচলই হবে!!! এমনকি শুধু রাজনীতিবিদই না নিজেকে বড় মনে করা সব একাদেমিশিয়ান / অধ্যাপকও অচল হবে!
    বিএনপি ও জামায়াত এই দুইটা দলই এমন অবুঝের ফাঁদ পড়েছে!  বলে বুঝিয়ে দিলেও বুঝতে পারছে না।
    শুধু তাই না; অবস্থা এখন এরকম যে এতদিন “কট্টর চীনবিরোধিতা দেখিয়ে চলা” খোদ মোদিই এখন চীনের কোলে উঠে বসেছে!   কিন্তু এসব দেখেও তারেক বা তাহের দের হুশ আসছে না!  আসলে তারা কিংকর্তব্যবিমূঢ়! কী করার আছে কী করতে হবে কিছুই বুঝছে না!  এমন অবস্থায়!

    তাহলে রাজনীতিকদের পড়াশুনা বলতে ঠিক কী বুঝাতে চাইছিঃ
    এর সোজা মানে হল, সরাসরি এখনকার চীন ও আমেরিকান প্রেসিডেন্টের নীতি-পলিসি খুঁটিয়ে রিড করার যোগ্যতা। বিশেষতঃ ২০১৩ সাল থেকে চীনের সবকিছুর নীতি-পলিসি! মনে রাখতে হবে চীন আবার তার এমন সমস্ত পলিসিওগুলো সাজিয়েছি কিন্তু খোদ আমেরিকাকে দেখে – অন্তত ১৯৪০ সালের পর থেকে উত্থিত গ্লোবাল নেতা আমেরিকাকে দেখে স্টাডি করে! যাই হোক, নীতি-পলিসি খুঁটিয়ে রিড করার যোগ্যতা – যেটা বলেছি সেটা মিনিমাম! আর সবচেয়ে ভাল হবে যদি  ১৯৪০ এর দশক থেকে আমেরিকান নিজ গ্লোবাল উত্থান  সম্ভব হওয়ার পিছনে কী শক্তি কাজ করেছিল সেটার একটা কম্পিলিট স্টাডি আর বুঝাবুঝি সমাপ্ত করতেই হবে। এখানে মনে রাখতে হবে, আজকের চীন নিজ রাষ্ট্রীয় সমস্ত নীতি-পলিসি ঠিক করার জন্য এই স্টাডি আর বুঝাবুঝি গবেষণাতেই অন্তত ১০টা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা সেন্টার খুলেছে। যাদের সংগৃহিত বুঝাবুঝি এটাই তারা নিজ দেশের পার্টিকে (চীনা ব্যবস্থায় তাদের কমিউনিস্ট পার্টিই সর্বসর্বা) সরবরাহ করে যাচ্ছে যাতে শি জিন পিং এবং সংশ্লিষ্টরা নিজ রাষ্ট্রের জন্য সঠিক নীতি-পলিসি ঠিক করতে পারে। এজন্য তারা অনুমান করে ফেলতে পারে আগাম যে আমেরিকান এরপরের পলিসিগুলো কেমন হতে পারে আর সেক্ষেত্রে চীন রাষ্ট্র কী সিদ্ধান্ত নিবে!!!
    যাই হোক, আমার এখানে সারকথাটা হল,  আমাদের রাজনীতিবিদ / একাদেমিশিয়ানদেরে এনিয়ে পড়াশুনায় প্রবেশ করতে হবেই পুরানা সব চিন্তা ঝেড়ে ফেলে –  যাতে গ্লোবাল এই চেঞ্জ বা পাস ফিরে শোওয়ার মত পালাবদলের এই কালে চীন-আমেরিকান প্রভাব / সিদ্ধান্তের প্রভাব বাংলাদেশের উপর কেমন হবে তা আন্দাজ / অনুমান করতে পারতে হবেই। এটা লাগবেই, এছাড়া নেতৃত্ব অচল হবেই! নেতা নিজে না পারলে অসুবিধা নাই যোগ্য-দক্ষ লোক ভাড়া করেন! কিন্তু নিজের মফস্বলি আন্দাজ দিয়ে পথ চলার দিন শেষ হয়েছে! একথা আমি নিজে অনেক বড় বড় টপ নেতাকে সরাসরি বলেছিও! মনে হয় না তাদের গায়ে লেগেছে বা  নুন্যতম কিছু বুঝেছেন! আসলে আমার কথা থেকে তাঁরা কী আমল করেছেন তা তাদের ততপরতা দেখেই বুঝা যায়!
    মূলকথাটা হল এটা তাদেরকে নিজেই বুঝতে হবে!  দু-একটা মাথুর টাইপের বড় র-এর এজেন্ট ধরা বা খাতির রেখে কোনই কাজ হবে না।

    আচ্ছা র-এর কথা থাক! খোদ মোদির অবস্থাই দেখেন!
    এবার ট্রাম্প যখন অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের নীতি নিয়ে  মোদির সাথে কথা চলেছে বা তুলেছেন তখন মোদির ব্লান্ডার বা মস্ত আকামটা লক্ষ্য করেন!
    মোদি ছুটে গেলেন রাশিয়ার পুতিনের কাছে। অজিত দোভালকে পাঠালেন। আর তাতে পুতিন একটা বিবৃতি দিলেন মোদির পক্ষে, আর ট্রাম্পের বিপক্ষে! বোকা মোদি হাততালি দিয়ে উঠলেন! কারণ,  পুতিন বলেছিলেন, কোন দেশ কার থেকে বা অন্য কোন দেশের মালামাল বাণিজ্যে সামিল থেকে কোথা থেকে কত মালামাল আমদানি-রপ্তানি করবে সেটা তার স্বাধীন সিদ্ধান্ত! এখানে ট্রাম্প অন্য রাষ্ট্রকে ফাঁদে ফেলে জোর খাটিয়ে কেনা-বেচা করতে বাধ্য করতে পারেন না।  মানে পুতিন বলতেছিলেন, ইন্ডিয়ার রাশিয়ার উপর আমেরিকার অবরোধে ভেঙ্গে সস্তার তেল কিনাটা জায়েজ ছিল।
    কিন্তু তাতে কী হল? পরিণতি কী? ইন্ডিয়ায় সস্তায় রাশিয়ান তেল কিনে তা আবার পরিশোধন করে রপ্তানি করার কথাটা সারফেসে আলোচনার টেবিলে এবার সরাসরি উঠে এল!  আর তাতেই ট্রাম্প  এবার ইন্ডিয়ার রাশিয়ান তেল কেনা – আমেরিকান ডলার /বাণিজ্য অবরোধ ভেঙ্গে কিনার অভিযোগে মোদির উপর বাড়তি শুল্ক ৫০% এ নিয়ে ঠেকিয়ে দিলেন!
    এখন গ্লোবাল আইনগত দিক থেকে দেখলে ইন্ডিয়া অবশ্যই স্বাধীন  আর আমরা সবাই তা মানব যে, সে কোন দেশ থেকে কী আমদানি-রপ্তানি করবে এটা ইন্ডিয়ার সার্বভৌম সিদ্ধান্তের ব্যাপার। আর এতে কেউ চাপ দিলে সে অন্যদিকে মানে অন্য দেশের দিকে যেদিকে বেশি সুবিধা পাবে চলে যাবে! কিন্তু সাথে এর বিপরীত কথাটাও আছে। আমেরিকার ট্রাম্প তিনিও তো স্বাধীন – তিনিও তাঁর ক্রেতা কোন দেশের উপর কী শুল্ক ধরবেন এব্যাপারে স্বাধীন! অর্থাৎ মূককথাটা হল, স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ইত্যাদি রাজনৈতিক অধিকারের কথা তুলে দুই রাষ্ট্রের এই স্বার্থদ্বন্দ্বের কোন ফয়সালা নাই, হবে না।
    কিন্তু এতে নিট যেটা পরিণতি হবে সেটা হল, অন্তত ১৯৮০ সাল থেকে চালু ও গড়ে উঠা আন্তর্জাতিক / গ্লোবাল বাণিজ্য ব্যবস্থাটা ভেঙ্গে পড়বেই! এতে আমার বা যারা বুঝে তাদের কোনই সন্দেহ নাই। অর্থাৎ ট্রাম্পের এই বিশেষ বাড়তি যথেচ্ছাচার শুল্কনীতি – এটা বর্তমান আমেরিকান নেতৃত্বের চলমান গ্লোবাল বাণিজ্য ব্যবস্থাটাকেই ভেঙ্গে অচল করে দিবে। যার সোজা মানেটা হল, এর বিকল্প হিসাবে চীনা নেতৃত্ব বা প্রভাবের বিকল্প একটা বাণিজ্য ব্যবস্থা জায়গা করে নিবার পথটাই গোয়ার ট্রাম্প করে দিচ্ছেন!  আর এতে আমেরিকা ছাড়া বাকি দুনিয়া মানে মুখ্যত ‘গ্লোবাল সাউথ’ আর ইইউ এর সমর্থন সেদিকেই  ক্রমশই সবল হয়ে হাটবেই! মূল কারণ, একালে এখন এসে প্রতিটা রাষ্ট্রই একমাত্র টিকে থাকতে পারে ব্যাপক অবাধ আমদানি-রপ্তানি আন্তঃরাষ্ট্রীয় বাণিজ্য  করেই!  দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে কিছু এক্সপেরিমেন্টেরও পরে (আইএমএফ-ভিত্তিক) ১৯৮০ সাল থেকে আমেরিকার নেতৃত্বে যে গ্লোবাল বাণিজ্য ব্যবস্থাটা গড়ে উঠেছিল সেটাই এখন চীনের নেতৃত্বে (ঢেলে সাজানো আইএমএফের জায়গায় ব্রিকসের আইডিয়ায়) পুনর্গঠিত হতে শুরু করবেই ক্রমশ!

    কিন্তু আমাদের মূল প্রসঙ্গ এটা নয়ঃ
    আমাদের মূল প্রসঙ্গ হল, আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব (সাথে একাদেমিশিয়ানেরা) কী এরপরেও ইন্ডিয়ান আধিপত্য যেন আগের মতই আছে এই যুযুর ভয়ে ইন্ডিয়া-লেপ্টে থাকার পক্ষে বোকা বুঝ নিয়েই থাকবে? নাকি পরিস্কার দেখতে পাবে যে আমেরিকা-ইন্ডিয়ান কোন নুন্যতম বিশেষ খাতিরের সম্পর্কটাই  এবার নাই হয়ে গেছে! অন্তত নিকি হ্যালি  করুণ আবেদনটা দেখেও তো তাদের বুঝা উচিত, নাকি?  আর কতদিন বাংলাদেশের রাজনীতিবিদের পড়াশুনা ছাড়া কথিত ইন্ডিয়ান হেজিমনির ভুতের ভয়ে পথ চলবে?????

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   ২৮ আগষ্ট, ২০২৫    সন্ধ্যা ০৭ঃ ৫৪

    [এই লেখাটা এর আগে প্রথম ভার্সানে ছাপা হয়েছিল দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় আমারই লেখা এক কলাম হিসাবে, গত ২৪ আগষ্ট ২০২৫।  আজ এখানে সে লেখাটারই এক আসল বা নিজ বর্ধিত এক নয়া এডিটেড ভার্সান এখানে আমার নিজ সাইটে ছাপা হল। বলাই বাহুল্য এখানে শিরোনামটাই শুধু নতুন নয়। এমন অনেক প্রসঙ্গই নয়া এখানে যোগ করা হয়েছে যেটা পত্রিকার ভার্সানে ছিল না। আসলে পত্রিকার কলাম ভার্সান মানে যেটা যুগান্তরের এডিটরিয়াল পলিসি সঠিক মনে করে সেই ভার্সান; এভাবে দেখাটাই সঠিক হবে। আর তুলনায় এটা আমার নিজ পরিবর্ধিত-এডিটেড ভার্সান মনে করলেই সঠিক হবে বলে আমার বিশ্বাস! ]

  • সংক্ষেপে কিছু খাড়া কথা

    সংক্ষেপে কিছু খাড়া কথা
    গৌতম দাস
    ০৭ আগষ্ট ২০২৫   দুপুর ১ঃ ৪৬
    https://wp.me/p1sCvy-6v7

     

    অধ্যাপক ইউনূসের সাথে তারেক রহমানের বৈঠক হয় লন্ডনে – ছবি বিবিসি থেকে নেয়া

     

    ইউনুস সাব  ৫ আগষ্ট বর্ষপুর্তি পালন করেছেন, বৃষ্টিতে ভিজে অনুষ্ঠান করে। ঐরাতেই টিভিতে এক ভাষণও দিয়েছেন। যেখানে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে রমজানের আগেই নির্বাচন হবে ঘোষণা করেছেন।
    এগুলো হল বাইরে দেখতে পাওয়া কথা।  আর ভিতরে?

    এটা পরিস্কার যে একাজগুলো করতে তিনি বিএনপির তারেককে সবচেয়ে বেশি আদর করেছেন কোলে নিয়েছেন। কেন? কারণ এভাবেই তিনি নিজ একক রচিত ‘জুলাই সনদ’ ঘোষণা এবং সাথে ‘জুলাই ঘোষণা’ করতে গিয়ে তিনি এটাকেই উপায় হিসাবে ব্যবহার করেছেন। মানে এই  কথিত – সনদ বা ঘোষণা – কোনটাই তার পক্ষে এটা ছাড়া সম্ভব হচ্ছিল না। মুল সমস্যাটা হল, মূল তিন-চারটা দলকেও তিনি ডেকে নিলেই এদের সব আলাদা আলাদা অবস্থান-গুলো বাইরে চলে আসত; ফলে ভাব নিয়েছেন এটা তিনি নিজের ক্ষমতায় করলেন। কিন্তু আসলে?
    আসলে তিনি (১) তারেককে দুবছরের সময় ঘুষ দিয়েছেন। মানে ‘জুলাই ঘোষণা’ বলে যা তিনি -কথিত সংস্কার- রচিত করেছেন তা এখনই মানে কোন নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগেই আইনী ভিত্তি দিতে হবেই না। যার সোজা মানে আগে আইনি ভিত্তি পরে সেই ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান, এমনটা করতে হবে না।  অর্থাৎ এগুলোর কোন কনষ্টিটিউশনাল ভিত্তি এখনই দিতে হবে না। আগে নির্বাচন হয়ে যাবে হাওয়ার উপর দাঁড়িয়ে  মানে কোন আইনি ভিত্তি ছাড়া আর পরে যেই ক্ষমতায় আসবে সে পরে এটা সংসদে পাশ করে নিবে। এর আবার সোজা মানে হল, নয়া ক্ষমতাসীন দল সেটা না করলে বা ইচ্ছা-মনমত বদল করে নিয়ে করলেও চলবে! এটাকেই আমি দুবছর তারেককে ঘুষ দেয়া বলছি।

    তবে পাঠকেরা সাবধান!   
    উপরের উল্লেখ করা ইউনুসের বক্তৃতায়, দুইটা জিনিষ অস্পষ্ট বা ফাঁক রাখা আছে। আপনারা ধরে নিয়েছেন সেটা আপনারা যা বুঝেছেন তাই-ই লেখা আছে। কিন্তু না! যেমন ইউনুসের টিভিতে দেয়া স্পিচ যেটা অনেক পত্রিকাই টেক্সট করে ছাপিয়েছে সেখানে নির্বাচন হবে একথা বলা হয়েছে সব জায়গায় কিন্তু কোন নির্বাচন? প্রেসিডেন্সিয়াল শাসনের প্রেসিডেন্ট (যেমন জিয়ার প্রেসিডেন্ট হওয়ার নির্বাচন, যেটা হয়েছিল রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ১৯৭৮, ৩ জুন ১৯৭৮ সালে) নির্বাচন নাকি জাতীয় সংসদ এর নির্বাচন সেটা স্পষ্ট করা নাই। জিয়ার আমলে আগে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ১৯৭৮ হয়েছিল  আর পরে দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১৯৭৯, বাংলাদেশে ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯ সালে অনুষ্ঠিত হয়।
    আর, দ্বিতীয় অস্পষ্ট বা ফাঁক রাখা ইস্যুটা হল, তাহলে নির্বাচন হচ্ছে ইউনুস সরকারের অধীনে! তাই কী? অর্থাৎ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আদালতের দ্বারা জীবিত (ও অস্পষ্ট) হয়ে  থাকলেও এর কথা আর কেউ এখন তুলছে না। এই এখন মানে? এখন মানে হল, ৫ আগষ্ট্রের ইউনুসের ভাষনের পরে।

    ইতোমধ্যে আগেই আমি বলেছিল্লাম ইউনুস (নির্বাহী ক্ষমতার প্রেসিডেন্ট, প্রেসিডেন্ট জিয়ার মত) প্রেসিডেন্ট হতে চান! এমনকি সাথে এনসিপির কেউ কেউ তার সাথে মন্ত্রী থাকতে চান সেকথাও উল্লেখ করেছিলেন!
    এখন যেটা বিস্ময়কর তা হল, এনসিপি ইউনুসের ৫ আগষ্ট্রের টিভি স্পিচকে স্বাগত জানিয়েছে, বিচ্ছিন্নভাবে। তবে গতকাল ৬ আগষ্ট সেক্রেটারি আখতার হোসেন যে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন তাতেও এমন কথা নাই যে আগে কনষ্টিটিউশনাল  আইনি ভিত্তি পরে সেই ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান – এভাবে পরিস্কার করে কিছু বলা হয় নাই। তবে ঐক্যমত্য কমিশনে যা যা নিয়ে ঐক্যমত হয়েছে তা বাস্তবায়ন এর নিশ্চয়তা কোথায় ও কীভাবে হবে এনিয়ে সাধারণ প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আবার তাদের দল নয়া কনষ্টিটিউশন চাওয়ার দল সেটাই কেবল উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ না কনষ্টিটিউশন না হলে অথবা সংস্কার শেষ হওয়া ও এর আইনি ভিত্তি না থাকলে এনসিপি নির্বাচনে যাবে এমন সোজাসাপ্টা কিছুই সেখানে বলা হয় নাই।   মানে এর এমন মানে করা সম্ভব যে আরেকবার বলিলেই খাইব!  শেষ পর্যন্ত সামনে যাই ঘটুক (আগাম নিশ্চয়তা কিছু পেলে!) আমরা কথিত ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নির্বাচনে অংশ নিবই!!! – এমন অর্থ বের করার সুযোগ রেখে দেয়া আছে – জেনে বা না জেনে!
    আর জামায়াতঃ জামায়াতই প্রথম থেকে নির্বাচনের সময়ের তত্বাবধায়ক সরকারের আইনি ভিত্তি না থাকলে “মানবেন না” তা অনেক স্পষ্ট করে বলেছিল।  আর এখন মানে ইউনুসের বক্তৃতার পরে অতটা জোর দিয়ে বলছেন না; যদিও বলেছেন এমনকি নরম করে হলেও না হলে আন্দোলনে যাবেন তা উল্লেখ করেছেন।

    “পিআর পদ্ধতি ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলেও জানান তাহের।…..
    সংস্কার, গণহত্যার বিচার ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশার কথা জানান আবদুল্লাহ মো. তাহের। তিনি বলেন,
    দাবি না মেনে নির্বাচন দিলে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে জামায়াত।”

    আর হাত পাখা ইসলামি আন্দোলন তাদের প্রতিক্রিয়া পাওয়া একটা ভিডিও ক্লিপ পাওয়া যাচ্ছে। তাতে দেখা যায় তাদের ডাকে নাই, মানে ইউনুস একা একাই সব ঘোষণা করেছেন এনিয়ে তাদের আপত্তি আছে ইত্যাদি।

    তাহলে যে কথা দিয়ে শুরু করেছিলাম, ইউনুস সাব বুঝেছিলেন যে ঐক্যমত্য কমিশনে কিছুই ঐক্যমত হবেই না। এর চেয়ে কাউকে দুবছরের ঘুষ দিয়ে কাউকে অন্য কিছু বা এককথায় পক্ষগুলোর সাথে আলাদা আলাদা একটা ডিল করে এগিয়ে যেতে হবে। এবং এভাবেই তিনি এপর্যস্নত আগষ্ট পার হয়ে চলেছেন।

    তাহলে কী তিনি সব সমাধান করে ফেললেন?
    এমন বাক্যে জটিলতা টা হল, কোন নির্বাচন হচ্ছে তাহলে ইউনুসকে প্রেসিডেন্ট না তারেককে প্রধানমন্ত্রী? নাকি এর মানে ইউনুস প্রেসিডেন্ট আর তারেক ছোটভাই এমন নয়ত????? এর পরিস্কার ধারণা পাওয়া যায় না। যদিও তারেকের সাথে পশ্চিমা দেশের কূটনীতিকেরা লন্ডন উড়ে গিয়ে দেখা করছেন – এমন খবরে বিএনপি সমর্থকেরা উতফুল্ল হয়ে উঠেছে! এদিকটা এখনই একেবারেই পরিস্কার নয়। আরো সময় লাগবে!

    কিন্তু একটা গভীরতম কাঁটা মানে একটা পক্ষ এখনও উপরের আলোচনার বাইরেঃ
    সেটা হল আর্মি!
    যতদুর জানা যায় ওয়াকারের মূল সমস্যা বা ব্যক্তিগত স্বার্থ হল, ১৪০০+ মৃত্যুর মুল হুকুমদাতা হাসিনার প্রথম বাস্তবায়ক (বা সেনাদেরকে প্রধান কমান্ড রেস্পনসিবিলিটির দায়) হিসাবে বিচার; যেটা আবার জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের পাঠানো সংশ্লিষ্টদের তালিকা ও বিচারের অনুরোধ এবং বিচার শেষে রিপোর্ট পাঠানোর আদেশ / অনুরোধ / পরামর্শ! এখান থেকে মুক্ত হওয়া খুবই কঠিন। যদিও কথিত ধারণা এখন চলছে যে ইউনুসের আকাঙ্খার নির্বাচন টা সমাপ্ত করে দিতে পারলে ওয়াকারকে স্বেচ্ছা অবসর নিয়ে তিনি সম্ভবত আমেরিকায় তাঁর মেয়ের কাছে চলে যেতে দিবেন!  কিন্তু নিশ্চয়তা?  সেটা এক আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে একেবারেই নাই! কারণ, দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক অনেক ধরনের ফ্যাক্টর এখানে জড়িত!
    এদিকে তাঁর সঙ্গিসাথীরা মানে ৪৫০ জনের বাকীরা? বিশেষ করে এই গ্রুপের লিডার সিনিয়ার আর্মিরা? এদের ভাগ্য কী হবে সেক্ষেত্রে?  এনিয়ে ইউনুসের কোন ভাবনা / পরিকল্পনা আছে জানা যায় না। সম্ভবত তা নাই!   তাহলে তাঁরা নিউট্রাল বা স্থির হবে কী প্রকারে???? যদিও মুরোদের কথা এদিক থেকে ভাবলে যতটুকু জানা যায় এরা বিদ্রোহ করা বা একটা ক্যাওয়াজ গন্ডগোল লাগাতে পারবে হয়ত কিন্তু সফলতার কোন সম্ভাবনা নাই! এদের অনেকে আবার এখনও ইন্ডিয়ার সাথে সম্পর্কিত; সেকারণে অনেকে মনে করে ইউনুসের পরিকল্পনায় ইন্ডিয়ার ভাগে কিছুই যদি না আসে তবে এসব কথিত বিদ্রোহিরা নিজেদের শক্তিশালী অনুভব করতে পারে। কিন্তু আসল কথাটা যদিও  শক্তিশালী অনুভব আর বাস্তবে শক্তিশালী হওয়া এদুটো এক কথা না!  বরং আকাশ-পাতালের ফারাক!
    যাহোক, সারকথাটা হল, এটা একটা ফ্যাক্টর!
    এখন এই সুত্রে আরেক অংশ মানে ওয়াকার-বিরোধী, এরাও আরো বড় ফ্যাক্টর। কিন্তু আমার জানা মতে এদের অবস্থান মনোচাব কনসার্ণ বা বক্তব্য নিয়ে ইউনুস আমল করেছেন বা করছেন তা আমার জানা নাই। বরং তিনি ধরেই নিয়েছেন যেন ওরা তো আছেই তাঁকে সমর্থন দিয়ে যাবে মানে তিনি যা করবেন তাতেই!!!!!
    কিন্তু এই অনুমান একেবারেই ভিত্তিহীন!  সারকথায় বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায়, আমেরিকা তাও আবার সেয়ান পাগলা ট্রাম্পের আমেরিকা বাংলাদেশকে যেভাবে দেখতে ছাইবে সাজাতে চাইবে  সেদিন আর নাই। আমেরিকা আমাদেরকে ইন্ডিয়ার হাতে তুলে দিয়েছিল যাতে ইন্ডিয়া আমাদেরকে নিয়ে যা খুশি করতে পারে। সেদিনও নাই, আমেরিকার সে মুরোদও নাই। সর্বোপরি আমেরিকার সেই আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে অপমান আমরা ভুলবো না শুধু তাই নয় বরং সেই সুত্রে তৈরি হওয়া ইন্ডিয়ান দানব হাসিনার ফ্যাসিজমের উত্থান ঘটেছিল। আর সেই ইন্ডিয়াসহ সেই দানবকে আমরা উপড়ে ফেলে দিয়েছি। ফলে আবার সেই আমেরিকার কোলে এবার সরাসরি বাংলাদেশকে তুলে দিবার চেষ্টা হলে ইউনুসের দশা-পরিণতি হবে হাসিনার চেয়েও খারাপ! তা বলাই বাহুল্য! একথাটা ইউনুস সাবকে মনে রাখতে হবে!!!! যদিও ইদানিং তার মুভমেন্টে এর ঘাটতি দেখছি আমরা!

    এবার হেড লাইনে সারকথাঃ
    ১। ফেব্রুয়ারিতে কী নির্বাচন হবে? আমরা তো এখনও নিশ্চিত জানি না সেটা কিসের নির্বাচন –  নির্বাহি প্রেসিডেন্টের নাকি জাতীয় সংসদের? সেটা এখনও কেউ জানে না। ফলে অনিশ্চিত!
    ২। আমেরিকা রাষ্ট্রদুত ট্রেসি লন্ডনে তারেককে বুঝাতে গিয়েছিল ইউনুসের হয়ে, সেটা এই বলে যে তারেক যেন ইউনুস সাবের সাথে “ক্ষমতার ছোট ভাই” হয়ে থাকে; কিন্তু সেটা কী তারেক রাজি হবে, পালন করতে? তাই এটাও অনিশ্চিত!
    ৩।  ইউনুস সাবের বাংলাদেশকে একচেটিয়া আমেরিকার কাছে বন্ধক রাখার চেষ্টা কী তিনি সংবরণ করবেন? থামবেন? এটাও অনিশ্চিত! যদিও আরও একটু বাড়লে তিনি উতখাত হওয়ার রিস্ক নিবেন তা বলা যায়!
    ৪। উনি নির্বাহি প্রেসিডেন্ট হতে হলে আইনি ভিত্তি কোথায় পাবেন? যেখানে এখনও কথিত ফেব্রুয়ারী নির্বাচনেরই কোন আইনি ভিত্তি নাই এবং তা অনিশ্চিত?
    ৫। এতদিন পর্যন্ত ইউনুস সাব ‘আর্মি ফ্যাক্টরকে’  উপেক্ষা বা আন্ডার-এস্টিমেট করে চলছেন বলে আমার বুঝাবুঝি! অথচ একচেটিয়াভাবে না আমেরিকা, না চীন এর কোলে উঠানো যাবে না। যারাই বাংলাদেশকে উঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টাকরতে যাবেন এমন চেষ্টা কে “আর্মি ফ্যাক্টর” প্রতিহত করবেই নিজ স্বার্থে – এটা ইউনুস সাবের বুঝতে পারা উচিত! আর এবিষয়ে সেটা যদি ইন্ডিয়া হয় তো এনিয়ে আর্মির অবস্থান হাসিনাকে উপড়ে ফেলা দেখে যে কারো আগেই বুঝে যাওয়া উচিত! এসব কারণে, যেকোন সময় ইউনুস সাবের ভুলে বা সীমা ছাড়ালে তিনি নিজে ক্ষমতাকে অনিশ্চিত  করে ফেলতে পারেন!

    তাই,  কথিত ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হচ্ছে কিনা-সহ আমাদের জন্য সামনের দিনগুলো সবই অনিশ্চিত!

     

     

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ   ০৭ আগষ্ট, ২০২৫    রাত ০৮ঃ৪৮
     

     

     

     

     

  • আগামি সেপ্টেম্বরে মোদির পঁচাত্তরে পা দেয়া; এর তাতপর্য আর আমাদের লাভ কী?

    আগামি সেপ্টেম্বরে মোদির পঁচাত্তরে পা দেয়া; এর তাতপর্য আর আমাদের লাভ কী?
    গৌতম দাস
    ১১ জুলাই ২০২৫
    https://wp.me/p1sCvy-6ur

     

     

     

     

     

    আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক ; শেষ আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৫ ১৬:২৯

     

    বুঝতে পারছিলাম বাংলাদেশের জন্য ভাল দিন আসতে শুরু করেছে; গত চার মাস থেকে যা প্রেডিক্ট করেছিলাম, তাই!
    কথাটা ছিল, ইন্ডিয়ান আধিপত্য বা হেজিমনিতে অতিষ্ট বাংলাদেশের পাবলিক ক্রমান্বয়ে ফুঁসে উঠতেছে। মোদির পুতুল হাসিনাকে ২০২৪, ৫ আগষ্ট উতখাত করে ফেলে দেওয়ার পরেও সেই পুরানা অত্যাচার ফিরে পাবার জন্য মোদি আরও মরিয়া হয়েছে যা চিন্ময়-ইসকন পর্ব দিয়ে শুরু হয়েছিল।
    তাই “বলেছিলাম চলতি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইন্ডিয়ায় আরএসএস-বিজেপি এর মধ্যে গভীর সংঘাত শুরু হয়ে যাবে”।
    কারণ মোদির ৭৫ বছর পুর্ণ করবেন সেপ্টেম্বরেই, তাই তখন! মনে হচ্ছে সেটা শুরু হতে যাচ্ছে!

    আমি ফেসবুকে গত ২ এপ্রিল ২০২৫, লিখেছিলামঃ
    Faruk Sobhan
    “পিছনের পটভুমি হল, মোদি ২০১৪ সালে যখন প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন তখন থেকে তিনি একটা নিয়ম চালু করেছিলেন যে দলে নেতৃত্বের বয়স লিমিট থাকতে হবে, যার পরে সে আর মূল নেতা থাকতে পারবে না। এটা তিনি করেছিলেন মূলত আদবানী, যোশী ইত্যাদি সিনিয়র নেতাদের অবসরে পাঠিয়ে নিজেই সব নেতা হবেন। সেসময় মোদি-ই উদ্যোগ নিয়ে এভাবে নেতাদের বয়স লিমিট করে দেয়া হয়েছিল – ৭৫ বছরে। ফলে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দাবিদার আদবানী একেবারেই ম্লান হয়ে সরে পড়েন।

    এতে মূল নেতা হয়ে যায় মোদি আর তাঁর সহযোগী (ইঙ্গিতে পরের নেতা) অমিত শাহ।
    সেই আইনটাই এখন মোদির উপর প্রয়োগ হতে যাচ্ছে।” –

    এই হিসাবে আর দুমাসের মধ্যেই সেপ্টেম্বরেই নরেন্দ্র মোদি ৭৫ বছর পুর্ণ করতে যাচ্ছেন।
    ইতোমধ্যেই আল্লাহ’র ইশারা বা ধর্মের কলের ঘন্টা যেন বেজে উঠা শুরু করেছে।
    নিচের এই মন্তব্য আরএসএস নেতা ভগতের, তিনি মোদিকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে

    “৭৫-এর শাল গায়ে পড়লে সরে দাঁড়ানো উচিত!
    আরএসএস প্রধানের মন্তব্যে কি ৭৪-এর মোদীকেই ইঙ্গিত? জল্পনা শুরু

    নাগপুরের একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে অবসরের বয়স নিয়ে মন্তব্য করেছেন সঙ্ঘপ্রধান মোহন ভাগবত। জানিয়েছেন, ৭৫ বছরের পর সরে দাঁড়ানো উচিত। তবে তিনি কারও নাম করেননি।”

    উপরের এই উদ্বৃতি গতকাল আনন্দবাজারের শিরোনাম থেকে নেয়া আর ফটোকার্ড করে এই লেখায় ছবি হিসাবে যুক্ত করেছি।

    এরপর ঐ এপ্রিল ২০২৫ সালের আরেকটা লেখা দিয়েছিলাম আমিঃ

    [আরএসএস-বিজেপি দ্বন্দ্ব চরমে,
    বাংলাদেশে ১৯৭১-এর মত একটি অপারেশন না চালানো ও হাসিনাকে রক্ষার ব্যর্থতা নিয়ে
    গৌতম দাস
    ০৯ এপ্রিল ২০২৫  দুপুর ০২ঃ ৩২
    https://wp.me/p1sCvy-6oZ]

    এতে পরিস্কার হয়ে উঠেছিল তাদের এই দ্বন্দ্ব কত মারাত্মক হয়ে উঠছে যা সহজেই মিটোতেছে না।

    সোজা মূল তথ্য হিসাবে বলেছিলেম একালে ঘটনার শুরু গত ২০২৪ মে মাসে ইন্ডিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচনের সময় থেকে। আরো সুনির্দিষত করে বললে প্রার্থী ঠিক করতে গিয়ে আরএসএস অরিজিন যাদের তাদেককে পিছনে ঠেলে দেয়া থেকে। আর এর শীর্ষে ছিল সবচেয়ে বড় রাজ্য উত্তর প্রদেশ (যার কেন্দ্র সংসদে আসন ৮০টা; তুলনায় আর কেউ নাই। বরং এর পরের বড় আসন সংখ্যার রাজ্যগুলো ৪০-৪২ এর মধ্যেই )। এর কুখ্যাত মুখ্যমন্ত্রী হলেন যোগী আদিত্যনাথ। তিনি আবার অরিজিন হিসাবে না বিজেপির, না আরএসএস এর কেউ। আদিত্যনাথের গুরুই ছিলেন বিজেপি-আরএসএস এর বাইরের। কিন্তু এটা সত্বেও আরএসএস যোগীকে তাদের লোক হিসাবে আপন করে নেয় জায়গা দিয়েছিল। আর তা থেকে ২০১৪ সালের পরে তিনিই বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী ও বিজয়ী হয়ে উঠেছিলেন। আর তা থেকেই বিজেপি-আরএসএস দ্বন্দ্ব বড় হতে শুরু করে। মোদি ২০১৪ সালের নির্বাচনে প্রথম একা বিজেপির ভোটে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়া থেকেই মোদির এক নম্বর সাগরেদ বা ডুপলিকেট ছিলেন অমিত শাহ। যিনি এর আগে গুজরাটের তিন বারের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সঙ্গী ও স্বরাষ্টমন্ত্রীর দায়িত্বে নিয়ে মুসলমানদেরকে গুম-খুন-হত্যার উতসর শুরু করেছিলেন। তিনিওই আবার ২০১৪ সালের মে মাসে মোদি প্রধানমন্ত্রী হবার পরে কোন মন্ত্রীত্ব না নিয়ে ছিলেন বিজেপির সেক্রেটারি। তা এই ক্ষমতাতেই পরের উওত্তর প্রদেশ রাজ্য নির্বাচনে বিজেপিকে মোত ৮০ আসনের মধ্যে ৭২ আসনে জয়লাভ করিয়ে আনেন মুসলমান হত্যা ও ভয় দিয়ে আর সাথে নিচা-জাতের হিন্দুদের সাথে এলায়েন্স করে। কিন্তু মুকগ্যমন্ত্রী হয়ে যায় যোগী আদিত্যনাথ। এখান থেকেই দ্বন্দ্ব চরমে উঠতে উঠতে এই দশা!

    মোদি-অমিত জানতেন ২০২৫ সালে তিনি পচাত্তরে পা দিবেন মানে তিনি নিজের তৈরি নিয়ম অনুসারে দলের বড় বা শীর্ষ পদ ছেড়ে চলে য্বেতে হবে। তাই তার পছন্দের প্রার্থী হলেন অমিত শাহ! কিন্তু ততদিনে আরএসএস এর প্রিয় মোদির পরের প্রার্থী হয়ে উঠেন যোগী!

    একারণের গত বছরের কেন্দ্রীয় নির্বাচনে কে কত প্রভাবশালী ফলে অমিত না যোগী কার প্রার্থী প্রাধান্য পাবে এনিয়ে ঝগড়া এমত তুওঙ্গে উঠেছিল যে সেটার আপাত সমাধান তারা করিছিল আরেকএক এর সমর্থন ছাড়াই বিজেপি ২০২৪ এর কেন্দ্রীয় নির্বাচন লড়বে। সাথে এথেকে যাতে বুঝা যায় আরএসএস এর অবদান কতখানি। যার সারকথা হল বিজেপির আর আরএসএস কে দরকার নাই ।  আর একারণে, ২০২৪ সালের নির্বাচনের ফলাফলে বিজেপি নিজ দলের জোটের ভোট বা আসন একসাথে করেন সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাই নাই; ৩০ এর মত আসনের ঘাটতি ছিল। যা তারা তাদের জোটের বাইরের দুইটা দলের সাথে চিক্তি করে জোটে ভিড়িয়ে এখনকার কোয়ালিশন সরকার চালাচ্ছে। যে কোয়ালিশনের প্রধানমন্ত্রী মোদি-ই!

    এসব ঘটনা মিলিয়ে এখন আগামি সেপ্টেম্বর (মোদির পচাত্তরে পাদেতা কে কেন্দ্র করে) কে হবেন মোদির উত্তরসুরি  অমিত শাহ না যোগী আদিত্যনাথ? এই হলো এবারেই চরমতম লড়াইয়ের মাস এর মূল ইস্যু। আর এটাকেই উস্কে দিয়ে বা মনে করিয়ে দিয়ে আরএসএস প্রধান মোহন ভগবত মোদিকে চ্যালেঞ্জ দিলেন বা মনে করিয়ে দিলেন। এটাই আনন্দবাজার এর রিপোর্টের সারকথা!

    এতে আমাদের কী লাভ হতে পারেঃ
    স্বভাবতই ইন্ডিয়ান হেজিমনি উতখাতে উন্মুখ আমরা আম বাংলাদেশি। (যদিও ওদিকে আবার তারেক আউট, ইউনুস ইন ঘটেছে আর তা পোক্ত হবার পথে)।
    সেটা যাই হোক বিজেপি-আরএসএস এর এই লড়াই এর সারপরিণতি হবে ইন্ডিয়ার আর নির্বাচনে শক্ত একক সরকার গড়াস্র দিন শেষ হতে শুরু করবে আগামি সেপ্টেম্বর ২০২৫ এর পর থেকে। তাতে বিজেপি-আরএসএস এর যুদ্ধ যেখানে গিয়েই শেষ হোক! থিতু হোক না কেন!

    অর্থাৎ যেই প্তধানমন্ত্রী হয়ে আসুক তিনি হবেন এক দুর্বল কোয়ালিশনের ক্রেন্দ্রীয় সরকার, দুর্বল কেন্দ্রীয় ক্ষমতা। কারণ, প্রত্যেকটা কোয়ালিশন বা রাজ পার্টনার এটা সেটা পেতে যখন তখন ডিমান্ড বাড়াতেই থাকবে। পরিণতিতে কোয়ালিশন প্রধানমন্ত্রী বেশিরভাগ সময় সিদ্ধান্তহীন হয়ে বসে থাকবেন। কারণ, তার সিদ্ধান্ত একটা কোয়ালিশন পার্টনারকে ফেবার করলে অন্য পার্টনার গোসসা করবে, চাপ দিতে থাকবে।

    এরই সারকথা হল, সবচেয়ে দুর্বলতম প্রতিষ্ঠান হতে যাচ্ছে ‘র’ [RAW] কারণ প্রযোজন ও সময়মত সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী হয়ে থাকবেন সবচেয়ে বড় দুর্বল!!!  আর এর কারণে, ইন্ডিয়ার হেজিমনি চালানো টিকিয়ে রাখার ক্ষমতা এখন দিন কে দিন কমতে থাকবে!!! জাস্ট মনে করে দেখেন সালাহউদ্দিনের অপহরণ সেটা ছিল আন্তঃরাষ্ট্রীয় এক গুম ও অপহরণ; যা গত ১৫ বছর হয়ে উঠেছিল দাল-ভাত (বর্তমান গুম কমিশনের দ্বিতীয় পর্বের রিপোর্ট দেখেন। বা এটা ইয়্বে মিডিয়া রিপোর্টে দেখেন)। আন্তঃরাষ্ট্রীয় এক গুম ও অপহরণ – এই কাজে দুই প্রধানমন্ত্রীরই স্বাক্ষর লাগে এটুকু কেবল মনে করে রাখেন!!!!!

    বাকি কত কী আপনারা নিজে চিন্তা করতে থাকেন!!!!!
    আর সেই সাথ যারা “ইউনুস এর মোদির কোলে উঠা “ইন ঘটেছে” বলে আহ্লাদিত তাদের জন্যও এটা অশনি সংকেত! ইউনুস-সহ  তাদের অবস্থা এখন হবে মোদির দালাল হয়ে কোন লাভ তো হলই না উলটা জাত-সুনাম যেটুকু ছিল তাও গেল!  

     

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com


    আপডেটঃ  দুপুর  ,    ২০২৫
    সবশেষ আপডেটঃ  বিকাল ০৫ঃ ১৪,   

     

     

     

  • মাইকেল কুগেলম্যান মূলতঃ ইন্ডিয়া-হাসিনার এক অদ্ভুত দালাল। গুজব ছড়াচ্ছে এখনও

    মাইকেল কুগেলম্যান মূলতঃ ইন্ডিয়া-হাসিনার এক অদ্ভুত দালাল। গুজব ছড়াচ্ছে এখনও
    গৌতম দাস
    ৩০ মে ২০২৫  রাত ২২ঃ ২৭
    https://wp.me/p1sCvy-6tu

     

    কুগেলম্যান

     

    [এই লেখাটায় অনেক ইংরাজি উদ্ধৃতি আছে। এতে বাংলা পড়ুয়াদের ঘাবড়াবার কিছু নাই।  সেক্ষেত্রে  যে স্টাইলে পড়তে হবে তা হল, ইংরাজী শব্দ বা বাক্যগুলো সরাসরি এড়িয়ে বা টপকে গেলে কোন অসুবিধাই হবে না পাঠকের একথা মনে রেখে পরে যেতে হবে। কারণ, পাশেই ঐ ইংরাজিটা বাংলায় লেখা পাবেন। তাই ইংরাজী শব্দগুলো যেন নাই এমন মনে করে আগিয়ে যান। তাতে বুঝতে কোনই অসুবিধা হবে না। ]

    এক মাইকেল কুগেলম্যান নিয়ে কথা বলব গত বাইডেনের আমল থেকে এখনও যিনি মূলত ইন্ডিয়াপ্রেমী। সেটা এমন ইন্ডিয়াপ্রেমী যিনি  আদতে মনে করেন –  “আমেরিকার ইন্দো-প্যাসেফিক পলিসি বাস্তবায়িত হতে পারে বাংলাদেশকে ইন্ডিয়ার হাতে তুলে দিলে”।  এককথায় উনার মূল টার্গেট চীনকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ-ছাড়া করা; এটাই আমেরিকার ইন্দো-প্যাসেফিক পলিসির সম্ভাব্য সফলতার পথ; যেটা আরেক ভাষায় বললে, বাংলাদেশকে ইন্দো-প্যাসেফিক পলিসিতে অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়ার একমাত্র উপায়।    চীনের সাথে

    মাইকেল কুগেলম্যান[Michael Kugelman] এক অদ্ভুত আমেরিকান; তিনি এক আমেরিকান থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক “উড্রো উইলশন সেন্টার” [Woodrow Wilson International Center] এর ফেলো। যেখানে ফেলো মানে হল যে বছরে [salary range for this position is $120-135k] অর্থে নিয়োগপ্রাপ্ত এর গবেষক ও লেখক নিয়োগ। তবে কী নিয়ে গবেষণা (বা গবেষণার নামে কি নিয়ে উনি মেতে থাকবেন) আর লিখবেন এটা নির্ভর করবে নিয়োগদাতা ঐ থিঙ্কট্যাঙ্ক আমেরিকা-রাষ্ট্রের কোন নীতি-পলিসি লাইনের প্রবক্তা। সেই লাইন বলতে আবার এরা নিজেরা ডেমোক্রাট না রিপাবলিক  কোন দলের সমর্থক অথবা আবার কখনও বাই-পার্টিজান বা উভয় দলের মিশানো এক গোষ্ঠি কিন্তু সুনির্দিষ্ট একটা ইস্যু বা চিন্তা-কৌশল লাইনের পক্ষে কাজ করার প্রতিজ্ঞা নিয়ে গড়ে উঠা থিঙ্কট্যাঙ্ক হতে পারে।
    এই বিচারে “উড্রো উইলশন সেন্টার” বা সংক্ষেপে “উইলশন সেন্টার” এটাকে বাই পার্টিজান বলা যেতে পারে। তবে এমন মনে করার কারণ হল, সাধারণত থিঙ্কট্যাঙ্ক মানে হল  এরা আমেরিকার নিজস্ব দাতব্য প্রতিষ্ঠান টাইপের হয়ে থাকে মানে, সরকারী ফান্ড সাধারণত এতে থাকে না। দাতব্য অর্থে পরিচালিত হয়ে থাকে।  কিন্তু  “উইলশন সেন্টার” ব্যতিক্রম; এখানে 4০% ফান্ড সরকারী অনুদান। সম্ভবত সেকারণে যখন যে প্রেসিডেন্ট থাকে সে সাধারণত এই থিঙ্কট্যাংক  প্রভাবিত হয়েই থাকে।
    আরো সুনির্দিষ্ট করে এবার বললে, “উইলশন সেন্টার” কম করে হলেও গত প্রায় ১৫ বছর ধরে ওবামা আমল (২০০৯-১৭, দুই টার্ম) থেকেই একট ইস্যু নিয়ে কাজ করছে যেটাকে [China containment] বা চায়না ঠেকানো পলিসি বলা যেতে পারে।  যে পলিসির সবচেয়ে বড় দুর্বল দিক বা বয়ানে খামতির দিকটা হল, এর বাস্তবায়ন সম্ভব কিনা এদিকটা তলিয়ে দেখতে ততধিক অনাগ্রহ।

    এবার সরাসরি আসি। কুগেলম্যান হল বাইডেনের আমলে যখন ইন্দো-প্যাসেফিক গান সর্বোচ্চ স্বরে উঠেছিল সে আমলের সাউথ-ইস্ট এশিয়ায় বাইডেনের কোর লোক। যার এসাইনমেন্ট ছিলঃ
    ১। বাংলাদেশকে চীন ছাড়া করে ইন্দো-প্যাসেফিক কৌশল – এই উদ্যোগের সদস্য বানানো।
    ২। এতে তাদের কোর ইন্টারেস্ট হল আলটিমেটলি বাংলাদেশকে ভারতের কোলে তুলে দেয়া।
    ৩। কিন্তু তারা প্রথম এবং আপাতত কৌশল হিসাবে প্রকাশ্যে উলটা পথে হেটেছিল। ইন্ডিয়াকে দূরে রেখে বাংলাদেশ স্যাংশন আর মানবাধিকারের বুলি আওয়াজ উঠিয়েছিল। যাতে হাসিনার বিরুদ্ধে বিরোধীদলকে চেগানো যায়। এতে হাসিনাকে বিপদে চাপে ফেলে তাকে বাধ্য করে ইন্দো-প্যাসেফিক কৌশল – এই উদ্যোগের সদস্য বানানো পথে ঠেলে দিতে পারে। এই অবস্থাটাই ঘটেছিল ২০২৩ সালের জুনের পরে। বাইডেন তখন থেকে ইন্ডিয়ার মাধ্যমে (ইন্ডিয়াকে সচল করে) হাসিনার সাথে ডিলিংয়ে চলে যায়। আর বিরোধী দল মা-বাপ হীন দিশেহারা হয়ে পড়েছিল।
    এখন থেকে ৭ জানু নির্বাচনে ওয়াকভার এর ইঙ্গিত দিয়ে কেটে পরা শুরু করেছিল বাইডেন প্রশাসন। আর তা থেকে ২০২৪ এর ৭ জানু নির্বাচনের পরে ৫ ফেব্রুয়ারী বাইডেনের হাসিনাকে পাঠানো চিঠি যেখানে বলা ছিল যে, বাইডেন প্রশাসন হাসিনার সাথে একসাথে কাজ করবে।

    এখন উপরে যে এসাইনমেন্টের কথা বললাম এর সত্যতা, নিশ্চয়তা-প্রমাণ কীঃ
    এর প্রমাণ হল, কুগেলম্যানকে ফলো করেন। ফলো করা বলতে???

    ফলো বলতে এই তিন-বছরেরও বেশি সময়ে কুগেলম্যান প্রতি সপ্তাহে আমেরিকান ফরেন পলিসি  পত্রিকায় যে সাপ্তাহিক কলাম লিখে গেছেন, সেগুলো ফলো করেন।
    কিন্তু না এই তিন চার বছরের ফলো মানে অনেক হ্যাপা, অনেক লেখা পড়তে হবে। না তা করতে হবে না। আমি সেখান থেকে বেছে তিন-চারটা আপনাদেরকে পড়তে বলব। আর তাতেই আপনি বাইডেন-ল্যু-কুগেলম্যানদের পুরা পরিকল্পনাটাই জানতে পারবেন।

    ১। কুগেলম্যানের একেবারে প্রথম আলোতে লেখা একটা কলাম, লিখেছিলঃ

    লেখা: মাইকেল কুগেলম্যান।    প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০২১, ২০: ০১

    এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য খারাপও হতে পারে

    এটা ছিল ১০ ডিসেম্বর ২০২১ আন্তর্জাতিক  মানবাধিকার দিবসের পরের দিন; বাইডেন প্রশাসন তার বাংলাদেশ (সাথে আরো কিছু দেশও ছিল) সরকারের উপর  স্যাংশন আর মানবাধিকার লঙ্ঘণের প্রবল অভিযোগ তুলে এই রাজনৈতিক লাইনের যাত্রা শুরু করেছিল সেদিন থেকে পরের তিন বছর ধরে। যাতে বাংলাদেশের বিরোধী দলগুলো হাসিনার বিরুদ্ধে রাস্তায় সরব হয়ে উঠে। কিন্তু লক্ষ করেন এই সময়ে লেখা এই কলামে, কুগেলম্যান উলটা সাবধান করছেন বাইডেন প্রশাসন কে যে বাইডেনের এই সিদ্ধান্ত আমেরিকান স্বার্থের জন্য খারাপও হতে পারে!!!!! কেন? কুগেলম্যানের কেন এই উলটা গান?
    এটা আপাতত নোট করে রাখেন যে আমাদেরকে এর জবাব পেতে হবে।

    ২। পরেরটা বেছে তুলে আনছি এক রিপোর্ট যেটা ইউএনবি (UNB মানে হাসিনার প্রিয় আরেক কেনা নিউজ এজেন্সী) থেকে করা আর যেটা অনেক পত্রিকাই আবার ইউএনবি বরাতে ছেপেছিল ২০২৩ সালের ১৫ জানুয়ারি তে।

    “AL retains significant level of support because of success stories, says South Asia policy analyst Michael Kugelman” 

    ২০২৩ সালের ১৫ জানুয়ারি মানে হাসিনার অর্থনীতি যখন মরণ দশায়। দলের লোক আর চোরা ব্যবসায়ীরা যখন নিজেদের চুরির অর্থ ডলারের কনভার্ট করে পালাতে ব্যস্ত। যা শুরু হয়েছল ২০২১ সালে তেলের দাম বাড়ানো কে কেন্দ্র করে ; যা দেশে ডলারের দাম ৮৫ টাকা থেকে ১২০ টাকার আশেপাশে চলে যায়। অথচ এই কুগেলম্যান দেখেন কীরকম উলটা কথা বলছে, দাবি করছেন হাসিনা নাকি সফলভাবে দেশ পরিচালনা করে যাচ্ছিলেন তখন।

    লিখছেনঃ
    ক)    “We have to keep in mind that the ruling party Awami League has been in power since 2009 and it retains a significant level of support,” [মানে লীগ খুবই গণসমর্থিত দল ও ক্ষমতায় তারা; এটা, সেই ২০০৯ সাল থেকে]   he said, noting that the party has been able to bring success stories on the economic front [অর্থনৈতিক ফ্রন্টে নাকি সফলতায় ছেয়ে ফেলেছে] and in countering terrorism.[আর সেই সাথে জঙ্গিবাদ নির্মুলেও সফলতা দেখিয়ে যাচ্ছে] ” ।

    খ)  “Kugelman said that even if someone talks about all the bad things happening in Bangladesh [বাংলাদেশে খারাপ সব কিছু ঘটছে বলে কেউ কেউ বললেও], the bottom line is that there is still a lot for the government in Bangladesh which helps it sustain a significant level of success [শেষ কথাটা হল, এরপরেও বাংলাদেশ সরকার উল্লেখযোগ্য পর্যায়ের সফলতা দেখাচ্ছে] and there are people who see reasons to support it” [ক্ষমতাসীন দলের প্রতি সমর্থন দেখানোর মত ব্যপক জনগণ এখনও আছে].

    গ) “Responding to a question, Kugelman said Bangladesh has been a regional success story for its economic growth. ‘It’s a global success story.’ ” মানে কুগেলম্যান বাংলাদেশের স্বীকৃত মুদ্রাস্ফীতি ১২-১৪% হয়ে গেলেও রিজার্ভ নিয়ে টানা পোরেন খেজুর, ছোলার মত আইটেম আমদানি করতেও পারে না এমন অর্থনীতিকে প্রশংসা করে বলছেন, এটাই নাকি হাসিনার গ্লোবাল সাকসেস স্টোরি।

    ঘ)  Kugelman, however, said the protests launched by the opposition parties “was not a mass protest” but a partisan protest.   এটা সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং। অর্থাৎ তখনও ঢাকার মাঠে বাইডেন বাংলাদেশে বিরোধীদের উতসাহ নিয়ে মাঠে নামাচ্ছেন।  আর কুগেলম্যান এই জেগে উঠা হাসিনা বিরোধিতাকে কেমন তুচ্ছ চোখে দেখে বর্ণনা করছেন। বলছেন, বিরোধীদের রাস্তার প্রতিবাদ এটা নাকি গণ-প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ নয়। এটা কেবল দলীয় প্রতিবাদ।

    অর্থাৎ সারকথায়,    বাইদেন-ল্যু একদিকে বিরোধী দলকে সমর্থন দিয়ে মাঠে নামিয়ে হাসিনার উপর চাপ সৃষ্টি করলেও কিন্তু এই কুগেলম্যান চালাইতেছে উলটা গান – হাসিনার পক্ষে দাড়িয়ে এই ফ্যাসিজমের ক্ষমতাকে প্রসংসা করে চলছেন। মজা না! কারন, এই ২০২৩ সালের জুনেই বাইডেন-হাসিনা রফা হবে। যেটার প্রশংসা করে কুগেলম্যান লিখছেন, বাংলাদেশে এবার ইন্দোপ্যাসিফিক কৌশলে যোগ দিল। 

    এবার, সবশেষে,  কুগেলম্যান নিয়ে ৫ আগষ্ট মানে হাসিনা পতনের পরের  আর একটা রিপোর্ট পড়াবো পাঠকদের। সেবার কুগেলম্যান একেবারে ঢাকায় এসে হাজির শুধু না। একেবারে ইন্ডিয়ার পক্ষ খোলাখুলি যুক্তি তুলে ধরা শুরু করেছেন।

    দেখেন নিচের রিপোর্টঃ
    Kugelman in panel discussion
    Bangladesh is going to be under pressure to make choices
    Diplomatic Correspondent, Dhaka; Updated: 31 Jan 2025, 17: 59

    কুগেলম্যান বলছেনঃ
    “A growing number of geopolitical rivalries have been present in Bangladesh. There has been India, China, US, and now Russia is joining in. Bangladesh has historically maintained varying degrees of good relations with all four countries. It is a difficult place to be in because Bangladesh is going to be under pressure to make choices if the Trump administration puts pressure on Bangladesh to do less with China” . হাসিনা উতখাতের পরে সব চায়না নিয়ে গেল!

    এবার সরাসরি ইন্ডিয়ার কোলে বসে তিনি বলছেন,
    A)  “……If the Trump administration puts pressure on Bangladesh to do less with China, Bangladesh is going to have to respond to that in some way.”

     B) “Michael Kugelman commented that following the fall of the Hasina government, the interim administration appears to be leaning towards China [হাসিনা পড়ার পরে চীন সব নিয়ে গেল]. It remains uncertain how the Trump administration will respond to this shift.

    C)Regarding Bangladesh’s relations with India, Kugelman noted, “For India, what’s most concerning now is the Jamaat factor and the Pakistan factor, and particularly Bangladesh’s efforts to to build up a better relationship with with Pakistan.” এখানে এসে কুগেলম্যান যে ইন্ডিয়ার দালাল সেটা আর লুকায়ে রাখতে পারলেন না। তিনি বলছে ইন্ডিয়া জামায়াত ফ্যাক্টর আর পাকিস্তান ফ্যাক্টর নিয়ে উদ্বিগ্ন। 

    D) “My sense is that India would like to see an election here sooner rather later. If there is an election anytime in the relatively near future, there’s a good chance that BNP would come back. And I think India might feel that if BNP is serious about ending its alliance with Jamaat, that could create more opportunities for India to actually be comfortable engaging with the government in Dhaka.”

    এই শেষে এসে কুগেলম্যান এবার একেবারে কাছাখোলা। ইন্ডিয়া, ওয়াকার আর তারেকের সুরে তিনি সোজা বলে দিলেন – এখনই নির্বাচন [see an election here sooner rather later]।  এবং তথাকথিত জামায়াত ভীতি। 

    তাহলে যেকথা দিয়ে শুরু করেছিলাম, কুগেলম্যান হল, ইন্ডিয়ান এজেন্ট যিনি ইন্ডিয়ার হাতে আবার বাংলাদেশকে তুলে দিতে চান। আর এতে এখন মৃত [ট্রাম্প ২.০ এর আমলে কথিত ইন্দো-প্যাসেফিক কৌশল অথবা কোয়াড] হলেও কুগেলম্যান এখনও স্বপ্ন দেখতে ভুলতে রাজি না যে  বাংলাদেশকে ইন্ডিয়ার হাতে তুলে দিলে তাতে ইন্দো-প্যাসেফিক কৌশল অথবা কোয়াড আবার জেগে উঠতে পারত! যদিও মানতেছেন ট্রাম্পের কারণ এসব কিছুই হচ্ছে না। তবুওও তিনি এখনকার ইন্ডিয়ার বাংলাদেশের নীতির পক্ষে আছেন সেটা জানাতে দ্বিধা করছেন না, জানিয়ে চলছেন।
    কুগেলম্যান এবার সবশেষে গতকালকে একই ফরেন পলিসি পত্রিকায় তার সাপ্তাহিক কলাম লিখেছেন। সেতার এক বাংলা অনুবাদ কালের কন্ঠ ছেপে দিয়েছে, লিঙ্ক এখানে

    মার্কিন সাময়িকী ফরেইন পলিসির প্রতিবেদন : হট সিটে ড. ইউনূস

    বলা যায় এটা হল কুগেলম্যান ইন্ডিয়াকে দেয়া সর্বশেষ সার্ভিস – সরাসরি এক ময়থ্যা গুজব যে ইউনুস সাহেবের ক্ষমতা নাকি খুব বিপদে আছে। এটা শতভাগ চাপা পিটানো একটা হাইপ!

    শেষ কথাটা হল, এটা অবশ্যই ওয়াকারের জন্য দুঃখের কথা যে তিনি গতকাল থেকে জেনে গেছেন যে বাংলাদেশে তাঁর ইন্ডিয়ার আর বিএনপিকে সাথে নিয়ে গড়া ও করা ততপরতা এটা শুধু ট্রাম্পই অনাগ্রহ বা বিন্দুমাত্র অনাগ্রহীই নয়, খোদ সিআইএ-ও পছন্দ করছে না বলে ওয়াকার ব্লক জানতে পেরে গেছে। বলাই বাহুল্য যেটা একটা হতাশা ডেকে এনেছে তাদের ব্লক মনমানসিকতায়!

     

     

     

    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ ৩০ মে, ২০২৫    রাত ১০ঃ ৪৮
    শেষ আপডেটঃ  ৩১ মে, ২০২৫    রাত ১২ঃ ২০

     

  • ওয়াকার এন্ড গং, দিনশেষে কোথায় দাঁড়ালো?

    ওয়াকার এন্ড গং, দিনশেষে কোথায় দাঁড়ালো?
    গৌতম দাস
    ২৫ মে, ২০২৫   মধ্যরাত ১২ঃ ৩৯
    https://wp.me/p1sCvy-6t4

     

    দিন শেষে কী দাঁড়ালো?
    ওয়াকার ইস ওভার! এ নেম ফর আ লষ্ট গেম!
    এন্ড দ্যা উইনার ইস ডঃ ইউনুস!

    সরি, ওয়াকার সাব এভাবেই লিখতে হল। কারণ, আপনি নিজেই এক পরিচয় বেছে নিয়েছেন যেখানে আপনি সেনাপ্রধান কম, পলিটিক্যাল জগতে এন্ট্রুডার [intruder]  বেশি; মানে সীমা ক্রশ করা অনুপ্রবেশকারী হয়ে গেছেন। হয়ত জেনে বা না-জেনে! এক অবিবেচক রিস্ক টেকার হওয়াতে আপনাকে এখন খেসারত দিতে হবেই!

    এটাই ঘটবে তা আমি গতকাল সন্ধ্যা থেকে যারাই আমাকে নক করেছিল তাদের সবাইকে বলেছিলাম! বেশিরভাগই বিশ্বাস করে নাই। আজ কেবল বিকালের পর থেকে করেছে, করতে শুরু করেছিল।
    কারণ, আমি বুঝেছিলাম ওয়াকার সাব নিজ সক্ষমতা কতটা যেটাকে বলে “এসেসমেন্ট অফ সেলফ স্ট্রেন্থ” – সেটা তিনি করেনই নাই। অথবা তা করেন নাই জেনেও করা ছাড়াই আবেগী সিদ্ধান্তে চলে গেছেন! আপনি তো একজন সৈনিক! কিন্তু এটাই আপনার জীবনের সবচেয়ে অসৈনিক-সুলভ আচরণ করেছেন! যা আপনার অনিচ্ছায় অজান্তে প্রমাণিত যে আপনি সৈনিকই নন!

    আপনার স্ট্রেন্থ এর ঘাটতি মানে আপনার ক্ষমতার মুরোদের ঘাটতি টা আপনি ভেবেছিলেন ব্যারাকের বাইরের শক্তি যেমন, বিএনপির মত দল আর র-এর দালাল মিডিয়াগুলোকে দিয়ে কাভার করে ফেলতে পারবেন!!!  কিন্তু হায় ওয়াকার! এটা কী করলেন আপনি!!!
    সামরিক বা ফিজিক্যাল সক্ষমতার ঘাটতি প্রপাগান্ডা মিডিয়া দিয়ে পূরণ হয় না! বুঝা যাচ্ছে এটা আপনাকে কেউ শিখায় নাই! খুব সম্ভবত নিয়মিত লেগে থাকা র-এর উস্কানি আপনাকে এই পথে এই আত্মঘাতি পথে ঠেলে দিয়েছে! কারণ, তাদের কাছে আপনি মরলে কী এসে যায়? তারা তো দুদন্ড না থেমেই আপনাকে ফেলে সোজা হাটা দিয়ে অন্য একটা শিকার ধরতে চলে যাবে বা গেছে অলরেডী! কিন্তু এখন আপনার কী হবে???

    এখন আপনার অপশন কী? কী আর বাকী হবে???
    অপশন একঃ
    সৈনিক মর্যাদাবোধ কিছু যদি অবশিষ্ট থাকে তবে স্বচ্বচ্ছায় পদত্যাগ করে বেনিফিটগুলো নিশ্চিত করে আর সম্মান নিশ্চিত করে বিদায় নিতে পারেন।
    অপশন দুইঃ
    আরো বড় বোকা হয়ে হাজির হতে পারেন। বুডা হাড়ে লড়ে যাবার বোকামি মাথায় চেপে বসে গেলে মানুষের যা হয় তেমন আর কি! যার শেষটা অবশ্যই হবে খুবই নির্মম; যা আপনার কল্পনাকেও ছাড়িয়ে যাবে। নিশ্চিত থাকতে পারেন।  সবচেয়ে বড়কথা সেক্ষেত্রে নিজেকে চরমতম অসম্মান করবেন; অসম্মানের মধ্যে ফেলে দিবেন। যাকে বলে লষ্ট ইওর টোটাল মাইন্ড!

    তবে ওয়াকার সাব এটা বুঝে গিয়েছিলেন দুপুর থেকেই – একেবারে ঘরে-বাইরে! ঘরের কথাটা থাক। বাইরেরটাই মানে আম-মানুষের পরিচিত দিকটা নিয়েই বলি!

    এর প্রধান চিহ্নটা হল, শান্তনা রহমান। ওরফে (alias) মতিউর রহমান চৌধুরীর সীমা ছাড়ানি উদ্ধত্বপুর্ণ শিরোনাম – “পদত্যাগ নয়, নতুন করে ঘুঁটি সাজানো হচ্ছে” এর লেখাটা।
    বোকা মতি শেষ জীবনে এসে এতটাই ডেসপারেট আর অবুঝ রিস্ক নিয়ে বসলেন যে ওয়াকারকে তিনি খাড়া করবেনই! অর্থাৎ তিনি ধরে নিলেন ওয়াকার জিতবেনই; তাই তিনিও। অথচ মতি সাবের নুন্যতম এনালাইটিক্যাল পাওয়ার কখনই ছিল না নাই যা দিয়ে তিনি বুঝবেন বা বুঝে নিলেন কীসের ভরসায় যে কেন ওয়াকার সাব জিতবেন?
    তাই মনে হচ্ছে বুঝাবুঝি না, নিজ জীবনের বড় খুব কিছু হতে না পারার হতাশা থেকেই যেন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে ওয়াকার সাবকে নিয়ে বাজী ধরার যায়। যেন ওয়াকার সাবকে মিথ্যা মিডিয়া প্রপাগান্ডা সার্ভিস দিয়েই তিনি বাজি লুটবেন – তিনি জিতবেনই!
    ওয়াকার সাবও ডেসপারেট, কেউ বুদ্ধি দিল ওসব ফেসবুকীয় নাইন সার্ভিস কিনে সেখানেই লেপ্টে থাকার জন্য এর কারণেই তাঁর সাফল্য আসছে না।তাই সেখান থেকে মেইনস্ট্রিম সার্ভিস কিনে নিবার ডেসপারেট সিদ্ধান্তে যেতে ঝাপিয়ে পরেন। কারণ, তিনিও ততক্ষণে বুঝে গেছিলেন তার সময় ফুরিয়ে আসছে – বেশি সময় আর পাবেন না। তিনি হেরে যাচ্ছেন। অতএব এই ডেসপারেট সিদ্ধান্ত – মানবজমিন সার্ভিস কিনতে ঝাপিয়ে পড়া।
    আসলে যে কথা বলছিলাম,
    লেখাটা মনে হবে চরম আক্রমণ করতে এগিয়ে যাচ্ছেন ওয়াকার-মতি জোট! কিন্তু না! আসলে মরবে জেনেও আগানো এমন মরিয়া দশা বা ফেজ সেটা!
    এর চিহ্নটা হল, মতি সাবের শিরোনামটা দেখেন!
    “পদত্যাগ নয়, নতুন করে ঘুঁটি সাজানো হচ্ছে” !!!!!
    আচ্ছা মতি সাব না হয় আদেশপ্রপ্ত লোক কিন্তু ওয়াকার? তিনি কী জানতেন না যে প্রথমদিনের শেষ রাতেই ইউনুস সাব পদত্যাগের ফাইল আবার ক্লোজ করে ফেলেছেন? এর স্পবক্ষে লোক সমর্থক জড়ো করে ফেলেছেন?  এই তথ্য ওয়াকার সাবের অজানা থাকতেই পারে না। তাঁর নিজস্ব (ইন্ডিপেন্ডেন্ট) ইন্টেজিন্স এম আই [M I] কী তাকে বলে নাই একথা???? তাই এটা অবিশ্বাস্য যে ওয়াকার সাব এটা জানলেন না।

    তাহলে তিনি সেটা জেনেও গতকাল দুপুরে কী করে মতি সাব কে এই শিরোনাম দিতে বলেন যে “পদত্যাগ নয়, নতুন করে ঘুঁটি সাজানো হচ্ছে”???কারণ গতকাল মানে তো আটচল্লিশ ঘন্টা পরের শিরোনাম এটা!!
    এছাড়া ঘুটি শব্দের ব্যবহার ওয়াকার-মতির জন্য আত্মঘাতি যা তাঁরা জেনেও ব্যবহার করেছেন শুধু না। হেরে যাবার আগে এটা বিরাট উস্কানিমূলক! নিজ অপরাধ স্বীকারের ইঙ্গিত না দিয়ে উলটা চোর কোতয়ালকে বকা দিচ্ছে যেন! এটা একেবারেই অপ্রয়োজনীয়, কিন্তু এক আগ্রাসী এটিচ্যুড! নিবুদ্ধিতার! 

    অতেব সারকথায়, ওয়াকার লস্ট দা হোল গেম!

    আর বিপরীতে ইউনুস সাহেব শুধু জিতেছেন তাই নয়। এখন পুরা পরিস্থতি ইউনুস সাবের মুঠোয় চলে গেছে। গতকাল উনার উপদেষ্ট পরিষদের বিবৃতি [

    দায়িত্ব পালন অসম্ভব করে তুললে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার

    ]ফলো করতে পারেন!

    আসলে ওয়াকারের সাথে মতি চৌধুরীও জীবনের শেষ বড় ভুল করে শেষ হয়ে গেলেন। মানবজমিন এখন টিস্যু পেপার হয়ে গেল – কালবেলার চেয়েও নিচা মানের!!!

    লেখকঃ
    গৌতম দাস
    রাজনৈতিক বিশ্লেষক
    goutamdas1958@hotmail.com

    আপডেটঃ  , মধ্যরাত ১২ঃ ৪৫   ২৫ মে  ২০২৫
    শেষ আপডেটঃ  ,